(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
الحسبة في الإسلام   (المراغي، أحمد بن مصطفى)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: الحسبة في الإسلام

المؤلف: أحمد مصطفى المراغي

تصحيح: محمد عبد الرحمن الشاغول - مكتب الروضة الشريفة للبحث العلمي

الناشر: الجزيرة للنشر والتنوزيع

عام النشر: 2005 م

عدد الصفحات: 37

أعده للشاملة: مركز المحتسب http://almohtasb.com

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1440

ইসলামে আল-হিসবাহ   (আল-মারাগী, আহমদ বিন মুস্তফা)

বিভাগ: শরিয়াহ-ভিত্তিক রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা


বই: ইসলামে আল-হিসবাহ

লেখক: আহমদ মুস্তফা আল-মারাগী

সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আল-শাগূল - মাকতাবুর রওজাতুশ শরিফাহ লিল-বাহসিল ইলমি

প্রকাশক: আল-জাজিরা পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

প্রকাশকাল: ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আল-মুহতাসিব সেন্টার http://almohtasb.com

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৪০ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
الحسبة في الإسلام

 

بقلم

صاحب الفضيلة: أحمد مصطفى المراغي

أستاذ الشريعة الإسلامية بدار العلوم رحمه الله تعالى

 

تصحيح

محمد عبد الرحمن الشاغول

مكتب الروضة الشريفة للبحث العلمي
ইসলামে আল-হিসবাহ

 

রচনায়

ফজিলতুত শায়খ: আহমদ মুস্তফা আল-মারাগি

দারুল উলুমের ইসলামি শরিয়াহর অধ্যাপক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)

 

সংশোধন (تصحيح)

মুহাম্মদ আবদুর রহমান আল-শাগল

মাকতাবাতুর রওজাতুশ শরিফাহ লিল বাহাসিল ইলমি
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الحسبة في الإسلام

طلب إلى عزيز لدى أن أكتب كلمة في ذلكم الموضوع الخطير (الحسبة في الإسلام) تجلو حقيقتها، وتشرح أغراضها، ومقاصدها في الدين الإسلامي خاتم الأديان السماوية والشريعة الصالحة لكل زمان ومكان، فأجبته لبيك وسعديك فالموضوع شائق والبحث عنه فيه متعة شائق لأنه يمت بصلة إلى التاريخ الإسلامي في تلك الحقبة من عصور الإسلام الأولى، إلى ما له من رحم واشجة بحكمة التشريع الإسلامي؛ وفيه متعة لأنه يدلي بنسب إلى شرعة التعاون والتناصر بين بني آدم وهم تلك السلائل التي ورثت آدم خليفة الله في أرضه، ويستمتع بها هو وبنوه ويستعمرونها في المدى الذي قدر لبقاء العالم في تلك الدنيا.

وإنا لنطرق في كلامنا المباحث الآتية:

‌‌عناصر البحث

الحسبة لغة. الحسبة شرعاً. فيم كانت الحسبة أولا، وإلام صار أمرها آخراً. سبب إحداث الحسبة. الأمر بالمعروف والنهى عن المنكر.

الشروط التي يجب أن تتوافر فيمن يتولى القيام بهما. المحتسب. أصناف المحتسب. الفرق بن المحتسب وقاضي المظالم (القاضي الجنائي) وبين قاضي الحقوق (القاضي المدني). شروط المحتسب. أعمال المحتسب. الفرق بين المتسبب
ইসলামে আল-হিসবাহ

জনৈক প্রিয় ব্যক্তিত্ব আমার নিকট এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে (ইসলামে আল-হিসবাহ) কিছু লেখার অনুরোধ করেছেন, যা এর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করবে এবং আসমানি ধর্মসমূহের সর্বশেষ ও সকল কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী শরিয়ত (شريعة) তথা ইসলাম ধর্মে এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা করবে। আমি তাঁর আহ্বানে সানন্দে সাড়া দিয়েছি; কারণ বিষয়টি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং এ বিষয়ে গবেষণা অত্যন্ত আনন্দদায়ক। এটি চিত্তাকর্ষক এই কারণে যে, এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট এবং ইসলামি আইন প্রণয়নের প্রজ্ঞার সাথে এর গভীর যোগসূত্র রয়েছে। আর এটি আনন্দদায়ক এই কারণে যে, এটি বনী আদমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার নীতির সাথে সম্পর্কিত—যারা পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি (خليفة) হিসেবে আদমের উত্তরসূরি এবং পৃথিবীতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বসবাস ও একে আবাদ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত।

আমরা আমাদের আলোচনায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করব:

গবেষণার উপাদানসমূহ

শাব্দিক (لغة) অর্থে হিসবাহ। শরিয়ত (شرعاً) পরিভাষায় হিসবাহ। হিসবাহ শুরুতে কী অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তীতে এর রূপ কী দাঁড়িয়েছে। হিসবাহ প্রবর্তনের কারণ। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)।

যারা এই দুই দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত হবেন, তাঁদের মধ্যে যেসব শর্ত থাকা আবশ্যক। মুহতাসিব (المحتسب)। মুহতাসিবের প্রকারভেদ। মুহতাসিব ও মাজালিম বিচারক (ফৌজদারি বিচারক) এবং সাধারণ বিচারকের (দেওয়ানি বিচারক) মধ্যে পার্থক্য। মুহতাসিব হওয়ার শর্তাবলি। মুহতাসিবের কার্যাবলি। মুতাসাব্বিব (المتسبب) এর মধ্যে পার্থক্য...
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
المولى والمحتسب المتطوع. هل للحاكم أن يسعر على الناس في الأسواق. حكم الفندق والحمام والمخبز. التدليس في الدين وحكمه. أعمال أخرى للمحتسب. الوظائف الدينية في عصر الفاطميين. الوظائف الدينية في الدولة الأيوبية وعصر المماليك بمصر. العقوبات الشرعية. عقوبة التعزير، وعقوبة الحد، والفرق بينهما. التعزير بالعقوبات المالية. جواز التصدق بالسلع المغشوشة على الفقراء. الأصل في المثوبة والعقوبة في التشريع الإسلامي.

‌‌الحسبة في اللغة

الحسبة لغة كما في لسان العرب اسم من الاحتساب وهو البدار إلى طلب الأجر وتحصيله بالأخذ بأنواع البر والخير، والقيام بها على الوجه المرسوم ابتغاء الأجر المرجو منها، وفي حديث عمر: أيها الناس احتسبوا أمالكم فإن من احتسب عمله كتب له أجر عمله وأجر حسبته؛ واسم الفاعل المحتسب؛ أي: طالب الأجر.

وفي "القاموس": واحتسب عليه الأمر إذا أنكره عليه؛ ومنه المحتسب. فظاهر عبارة اللسان تدل على أن المحتسب مأخوذ من احتسب أجراً عند الله إذا اعتده وادخره، وصريح عبارة "القاموس" ترشد إلى أنه من احتسب عليه الأمر إذا أنكره عليه، ومن البين أن المناسبة جلية في أخذه من المعنى الأول كما أشار إليه صاحب "اللسان" إذ طلب الأجر أسبق في الفكر لدى المحتسب من
মওলা এবং স্বেচ্ছাসেবী মুহতাসিব। শাসক কি জনগণের জন্য বাজারে মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন? হোটেল, হাম্মাম এবং রুটি প্রস্তুতকারক কারখানার বিধান। দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রতারণা (تدليس) এবং এর বিধান। মুহতাসিবের অন্যান্য কার্যাবলী। ফাতেমি যুগে ধর্মীয় পদসমূহ। আইয়ুবী রাষ্ট্র এবং মিশরের মামলুক আমলে ধর্মীয় পদসমূহ। শরয়ি দণ্ডবিধি। তা’জির (تعزير) দণ্ড এবং হদ (حد) দণ্ড, এবং এ দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য। আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে তা’জির (تعزير)। দরিদ্রদের মাঝে ভেজাল পণ্য সদকা করার বৈধতা। ইসলামি বিধানে পুরস্কার ও দণ্ডের মূলনীতি।

‌‌ভাষাগতভাবে হিসবাহ-এর পরিচয়

লিসানুল আরব অভিধান অনুযায়ী ভাষাগতভাবে হিসবাহ শব্দটি ‘আল-ইহতিসাব’ থেকে নির্গত একটি বিশেষ্য, যার অর্থ হলো সওয়াব বা প্রতিদান লাভের উদ্দেশ্যে দ্রুত সচেষ্ট হওয়া এবং বিভিন্ন প্রকার পুণ্য ও কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে তা অর্জন করা এবং প্রত্যাশিত সওয়াবের আশায় নির্ধারিত পদ্ধতিতে তা সম্পাদন করা। উমরের একটি হাদিসে এসেছে: হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের আমলের সওয়াব প্রত্যাশা করো; কেননা যে ব্যক্তি তার আমলের সওয়াব প্রত্যাশা করে, তার জন্য তার আমলের সওয়াব এবং তার সওয়াব কামনার (حسبة) প্রতিদান লিখে রাখা হয়। আর এর কর্তাবাচক বিশেষ্য হলো মুহতাসিব; অর্থাৎ সওয়াব অন্বেষণকারী।

‘আল-কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যখন কেউ কোনো বিষয়ের প্রতিবাদ বা সমালোচনা করে, তখন বলা হয় ‘ইহতাসাবা আলাইহিল আমর’; আর এ থেকেই মুহতাসিব শব্দের উৎপত্তি। লিসানুল আরবের বর্ণনাভঙ্গি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ‘মুহতাসিব’ শব্দটি আল্লাহর নিকট সওয়াব প্রত্যাশা করা থেকে গৃহীত, যখন সে তা গণনা করে ও সঞ্চয় করে রাখে। আর ‘আল-কামুস’-এর সুস্পষ্ট বর্ণনা এই নির্দেশনা দেয় যে, এটি কোনো বিষয়কে প্রত্যাখ্যান বা প্রতিবাদ করা থেকে এসেছে। এটি স্পষ্ট যে, প্রথম অর্থের সাথে এর সম্পর্ক অত্যন্ত সুপ্রকট, যেমনটি ‘লিসান’ প্রণেতা ইঙ্গিত করেছেন; কারণ একজন মুহতাসিবের নিকট সওয়াব অন্বেষণের বিষয়টি চিন্তায় অগ্রগামী থাকে এর চেয়ে (من) যে...
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
إنكار عمل غيره ومنعه من فعله، وإن كان هذا يحصل تبعاً وعرضاً لا قصداً أولياً من العمل.

‌‌معنى الحسبة شرعاً

أصل الحسبة الشرعية مشارفة السوق والنظر في مكابيله وموازينه، ومنع الغش والتدليس فيما يباع ويشترى من مأكول ومصنوع، ورفع الضرر عن الطريق بدفع الحرج عن السابلة من الغادين والرائحين، وتنظيف الشوارع والحارات والأزقة إلى نحو ذلك من الوظائف التي تقوم بها الآن المجالس البلدية.

ومفتشو الصحة ومفتشو الطب البيطري، ومصلحة المكاييل والموازين وقلم المرور، ورجال الشرطة الموكول إليهم المحافظة على الآداب العامة إلى غير ذلك.

ثم اتسعت أعمالها فيما بعد حتى كانت من أهم الشئون التي عنى بها الخلفاء والسلاطين، وصار لها ولاية خاصة (مصلحة خاصة) شملت كل أمر بالمعروف، ونهي عن المنكر، كإقامة الصلاة في مواقيتها والنظر في أحوال أئمة المساجد والمؤذنين وإلزامهم بأداء وظائفهم على حسب مقتضى الشرع، ومن ثم قال بعض العلماء: الحسبة أمر بمعروف ظهر تركه، ونهي عن منكر ظهر فعله، وإصلاح بين الناس. وأول من أحدثها في الإسلام عمر بن الخطاب- رضي الله عنه فقد ولى عبد الله بن عقبة على النظر في الأسواق والتفتيش على المكاييل والموازين ومنع الغش فيما يباع ويشترى. وقد كان الخلفاء والولاة في
অন্যের কাজের অস্বীকৃতি জানানো এবং তাকে তা হতে বিরত রাখা, যদিও এটি কর্মের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হিসেবে নয় বরং আনুষঙ্গিকভাবে ও প্রাসঙ্গিকভাবে ঘটে থাকে।

‌‌শরয়ি পরিভাষায় হিসবাহ-এর অর্থ

শরয়ি হিসবাহ-এর মূল ভিত্তি হলো বাজার তদারকি করা এবং এর ওজন ও পরিমাপের যন্ত্রপাতির ওপর নজর রাখা; খাদ্যদ্রব্য ও উৎপাদিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতারণা ও জালিয়াতি (تدليس) রোধ করা; পথচারীদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা; এবং রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা ও গলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। এগুলো সেই সব কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত যা বর্তমানে পৌরসভাগুলো সম্পাদন করে থাকে।

স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পশুচিকিৎসা পরিদর্শক, ওজন ও পরিমাপ বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগ এবং জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী ইত্যাদিও এর অন্তর্ভুক্ত।

পরবর্তীকালে এর কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত হয়, এমনকি এটি খলিফা ও সুলতানদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে পরিণত হয়। এর জন্য একটি বিশেষ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ (বিশেষ বিভাগ) গঠিত হয়, যা যাবতীয় সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন—নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং শরয়ি বিধান অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা। এই প্রেক্ষিতেই কোনো কোনো আলেম বলেছেন: হিসবাহ হলো এমন সৎকাজের আদেশ দেওয়া যার বর্জন দৃশ্যমান হয়েছে এবং এমন মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা যার চর্চা প্রকাশ পেয়েছে, সেই সাথে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করা। ইসলামে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সর্বপ্রথম এটি প্রবর্তন করেন; তিনি আবদুল্লাহ বিন উকবাহকে বাজার তদারকি, ওজন ও পরিমাপ পরীক্ষা এবং ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতারণা রোধের দায়িত্ব প্রদান করেন। খলিফা ও গভর্নরগণ...
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
الصدر الأول يباشرون أعمالها بأنفسهم يبتغون إصلاح الرعية، ويرجون جزيل الثواب، فقد كان عمر يقوم بوظائف المحتسب، ويشارف السوق ويراقب المكاييل والموازين، ويأمر بإماطة الأذى عن الطريق روى المسيب بن دارم قال: رأيت عمر بن الخطاب- رضي الله عنه يضرب حمالاً، ويقول: حملت جملك ما لا يطيق (مفتش قلم المرور الآن والرفق بالحيوان).

وفي "كنز العمال": عن زيد بن فياض عن رجل من أهل المدينة قال دخل عمر- رضي الله عنه السوق وهو راكب فرأى دكاناً (دكة) قد أحدث في السوق فكسره.

‌‌الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر

الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر دعامة من دعائم الدين، وبه بعث الله النبيين أجمعين، ولولاه لنشطت الضلالة، وعمت الجهالة، وانتشر الفساد، وخربت البلاد، وهلك العباد.

وإنا لنرى الناس الآن بعد أن استولت على قلوبهم مداهنة الخلق وضعف مراقبة الخالق، قد استرسلوا في الشهوات وركنوا إلى اللذات، وقل أن تجد مؤمنا صادقا لا تأخذه في الله لومة لائم، فمن شمر عن ساعد الجد وسد هذه الثغرة وأدى عمل الحسبة ابتغاء مرضاة ربه أو قلد وظيفتها وقام بأعبائها مراقبا ربه؛
প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গ প্রজাসাধারণের সংশোধনের উদ্দেশ্যে এবং মহান প্রতিদানের প্রত্যাশায় নিজেরাই এসব কার্যাবলি পরিচালনা করতেন। উমর (রা.) মুহতাসিবের (বাজার নিয়ন্ত্রক) দায়িত্ব পালন করতেন; তিনি বাজার তদারকি করতেন, ওজন ও পরিমাপ পর্যবেক্ষণ করতেন এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতেন। আল-মুসাইয়িব ইবনে দারিম বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন: "আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে একজন মালবাহককে প্রহার করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: 'তুমি তোমার উটের ওপর এমন বোঝা চাপিয়েছ যা বহন করার সাধ্য তার নেই' (যা বর্তমানে ট্রাফিক পরিদর্শক এবং প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের সদৃশ)।"

এবং "কানযুল উম্মাল" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: জায়েদ ইবনে ফায়্যাদ হতে মদিনার জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: উমর (রা.) আরোহী অবস্থায় বাজারে প্রবেশ করলেন এবং বাজারে একটি নতুন দোকান (চৌকি) তৈরি করা হয়েছে দেখে সেটি ভেঙে ফেললেন।

‌‌সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)

সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) দ্বীনের অন্যতম একটি স্তম্ভ; এর মাধ্যমেই আল্লাহ সকল নবীগণকে প্রেরণ করেছেন। যদি এটি না থাকত, তবে ভ্রষ্টতা সক্রিয় হতো, মূর্খতা পরিব্যাপ্ত হতো, বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ত, দেশসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত এবং বান্দারা বিনাশ প্রাপ্ত হতো।

আমরা এখন মানুষকে দেখছি যে, সৃষ্টির প্রতি তোষামোদ এবং স্রষ্টার পর্যবেক্ষণের দুর্বলতা তাদের অন্তরকে গ্রাস করার পর তারা প্রবৃত্তির তাড়নায় গা ভাসিয়ে দিয়েছে এবং ভোগবিলাসে মত্ত হয়েছে। এখন এমন সত্যবাদী মুমিন খুব কমই খুঁজে পাওয়া যায়, যে আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করে না। অতএব, যে ব্যক্তি ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সচেষ্ট হয়েছে এবং এই শূন্যস্থান পূরণ করেছে এবং তার রবের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হিজবাহর দায়িত্ব পালন করেছে অথবা এর পদে অধিষ্ঠিত হয়ে আপন রবের পর্যবেক্ষণে থেকে এর দায়ভার বহন করেছে;
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
فقد قام بقسط وافر في خدمة دينه ونال رضوان ربه {ورضوان من الله أكبر} [التوبة: 72].

‌‌سبب إحداث الحسبة

السر في إيجاد الحسبة في الإسلام أن الناس لا تتم مصالحهم إلا بالاجتماع والتعاون على جلب المنافع، والتناصر على دفع المضار، ومن ثم قيل: الإنسان مدنى بالطبع.

وبالاجتماع لابد لهم من أمور يفعلونها يجلبون بها الخير لأنفسهم وأمور يجتنبونها لما فيها من الضرر عليهم.

ولابد لهم من طاعة الآمر بالمنافع الناهي عن المفاسد، كما قال تعالى في صفة نبيه: {يأمرهم بالمعروف وينهاهم عن المنكر ويحل لهم الطيبات ويحرم عليهم الخبائث} [الأعراف: 157] وروي عن النبي صلى الله عليه وسلم "مثلي ومثل الأنبياء كمثل رجل بني داراً فأتمها وأكملها إلا موضع لبنة (طوبة) فكان الناس يطيفون بها، ويعجبون من حسنها ويقولون لولا موضع اللبنة، فأنا تلك اللبنة".

وقد وصف الله الأمة الإسلامية بما وصف به نبيها فقال: {كنتم خير أمة أخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر} [آل عمران: 110]، وقال عز اسمه: {والمؤمنون والمؤمنات بعضهم أولياء بعض يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر} [التوبة: 71]، وقال عز من قائل: {ولتكن
নিশ্চয়ই তিনি তাঁর দ্বীনের সেবায় এক বিশাল অবদান রেখেছেন এবং তাঁর রবের সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন, {আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ} [আত-তাওবাহ: ৭২]।

‌‌হিসবাহ ব্যবস্থা প্রবর্তনের কারণ

ইসলামে হিসবাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার গূঢ় রহস্য হলো এই যে, সামাজিক সংহতি এবং উপকার লাভের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ক্ষতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করা ব্যতীত মানুষের কল্যাণ সাধিত হয় না। আর একারণেই বলা হয়েছে: মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই সামাজিক জীব।

আর এই সামাজিক সম্মিলনের কারণে তাদের জন্য এমন কিছু কাজ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে যা করার মাধ্যমে তারা নিজেদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং এমন কিছু বিষয় বর্জন করা আবশ্যক হয় যার মধ্যে তাদের জন্য ক্ষতি রয়েছে।

তাদের জন্য কল্যাণকর কাজের আদেশদাতা এবং অনিষ্টকর কাজের নিষেধকারীর আনুগত্য করা অপরিহার্য। যেমন মহান আল্লাহ তাঁর নবীর গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: {তিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন এবং অসৎকাজে বাধা দেন; তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করেন} [আল-আরাফ: ১৫৭]। আর নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে (روي): "আমার এবং পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি গৃহ নির্মাণ করল এবং তাকে সুসম্পন্ন ও সুশোভিত করল, কেবল একটি ইটের স্থান ছাড়া। মানুষ এর চারদিকে ঘুরে দেখতে লাগল এবং এর সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল, যদি এই ইটের স্থানটি পূর্ণ করা হতো! আমিই হলাম সেই ইট।"

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সেই গুণেই গুণান্বিত করেছেন যা দ্বারা তিনি তাঁর নবীকে গুণান্বিত করেছেন। তিনি বলেছেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত যাদের মানুষের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজে নিষেধ করো} [আল-ইমরান: ১১০]। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও বলেছেন: {আর মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজে নিষেধ করে} [আত-তাওবাহ: ৭১]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
منكم أمة يدعون إلى الخير ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر وأولئك هم المفلحون} [آل عمران: 104]، وقال: {لا خير في كثير من نجواهم إلا من أمر بصدقة أو معروف أو إصلاح بين الناس ومن يفعل ذلك ابتغاء مرضات الله فسوف نؤتيه أجراً عظيماً} [النساء: 114]. وجاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو على المنبر فقال: من خير الناس يا رسول الله؟ قال: "أمرهم بالمعروف وأنهاهم عن المنكر وأتقاهم لله وأوصلهم لله"، وقال عليه السلام: "مروا بالمعروف وإن لم تعملوا به كله، وانهوا عن المنكر وإن لم تنتهوا عنه كله".

وقال على بن أبي طالب- رضي الله عنه: أفضل الجهاد الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وسباب المنافقين، فمن أمر بالمعروف شد ظهر المؤمنين، ومن نهي عن المنكر أرغم أنف المنافقين، ومن أبغض الفاسق وغضب لله غضب الله له.

وقال أبو الدرداء: لتأمرن بالمعروف ولتنهون عن المنكر أو ليسلطن الله عليكم سلطاناً ظالماً لا يجل كبيركم ولا يرحم صغيركم، ويدعو خياركم فلا يستجاب لهم وتستغفرون فلا يغفر لكم، وتستنصرون فلا تنصرون. وقال عليه الصلاة والسلام: "إياكم والجلوس في الطرقات" قالوا: ما لنا بد إنما هي مجالسنا نتحدث فيها، قال: "فإن أبيتم إلا ذاك فأعطوا الطريق حقه". قالوا:
তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (النهي عن المنكر) করবে; আর তারাই সফলকাম। [আলে ইমরান: ১০৪], এবং তিনি বলেছেন: তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে দান-খয়রাত, সৎ কাজ (معروف) অথবা মানুষের মধ্যে সংশোধনের আদেশ দেয় তার কথা ভিন্ন। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তা করবে, আমি তাকে শীঘ্রই মহা পুরস্কার দান করব। [নিসা: ১১৪]। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন যখন তিনি মিম্বারের উপর ছিলেন। সে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি বললেন: "তাদের মধ্যে যে সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (النهي عن المنكر) সবচেয়ে বেশি দেয়, যে আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াসম্পন্ন (أتقى) এবং যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট।" এবং আলাইহিস সালাম বলেছেন: "তোমরা সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দাও যদিও তোমরা এর সবটুকু আমল না করো, এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (النهي عن المنكر) করো যদিও তোমরা এর সবটুকু থেকে বিরত না থাকো।"

আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: সর্বোত্তম জিহাদ হলো সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف), অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (النهي عن المنكر) এবং মুনাফিকদের নিন্দা করা। সুতরাং যে সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দিল সে মুমিনদের পিঠ মজবুত করল, আর যে অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (النهي عن المنكر) করল সে মুনাফিকদের নাক ধূলিসাৎ করল। আর যে ফাসিক (الفاسق) ব্যক্তিকে ঘৃণা করল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাগান্বিত হলো, আল্লাহও তার পক্ষে রাগান্বিত হন।

আবু দারদা বলেছেন: তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দিবে এবং অবশ্যই অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (النهي عن المنكر) করবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের উপর এমন এক জালিম শাসককে চাপিয়ে দেবেন যে তোমাদের বড়দের সম্মান করবে না এবং ছোটদের প্রতি দয়া করবে না। তখন তোমাদের মধ্যকার নেককার ব্যক্তিরা দোয়া করবে কিন্তু তাদের দোয়া কবুল করা হবে না, তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করবে কিন্তু তোমাদের ক্ষমা করা হবে না এবং তোমরা সাহায্য চাইবে কিন্তু তোমাদের সাহায্য করা হবে না। এবং আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "তোমরা রাস্তার ধারে বসা থেকে বিরত থাকো।" তারা বলল: আমাদের তো এছাড়া কোনো উপায় নেই, এগুলো আমাদের বসার স্থান যেখানে আমরা কথাবার্তা বলি। তিনি বললেন: "যদি তোমরা সেখানে বসতেই চাও, তবে রাস্তার হক আদায় করো।" তারা বলল:
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
وما حق الطريق؟ قال: "غض البصر، ورد السلام، وأمر بمعروف ونهي عن منكر"، وروى البخاري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من رأى منكم منكراً فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، وهذا أضعف الإيمان".

وروى الحسن البصري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أفضل شهداء أمتي رجل قام إلى إمام جائر فأمره بالمعروف ونهاه عن المنكر فقتله على ذلك، فذلك الشهيد منزلته في الجنة بين حمزة (عمه) وجعفر (ابن أخي على)."

الشروط التي يجب أن تتوافر فيمن يتولى القيام بهما:

الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أفضل القرب وأكثرها ثواباً وقبولاً عند الله تعالى، وله شروط إذا لم تتوافر لا تنتج الثمرة المطلوبة.

(1) أن يعمل الواعظ بما ينصح، لا أن يكون قوله مخالفا لفعله؛ وإلا دخل في الذم، وكان ممن يصدق عليه قول الله تعالى: {أتأمرون الناس بالبر وتنسون أنفسكم} [البقرة: 44].

وروي أن رسول الله صلى الله قال: "رأيت ليلة أسري بي رجالا تقرض شفاههم بالمقاريض، فقلت: من هؤلاء يا جبريل؟ قال: خطباء أمتك الذين يأمرون الناس بالبر وينسون أنفسهم".
আর রাস্তার হক কী? তিনি বললেন: "দৃষ্টি অবনত রাখা, সালামের উত্তর দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজের (منكر) নিষেধ করা।" বুখারি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অসৎ কাজ (منكر) দেখে, তবে সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দ্বারা; আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দ্বারা; আর এটি হলো ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল (أضعف) স্তর।"

হাসান বসরি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ শহীদ হলো সেই ব্যক্তি, যে কোনো জালেম শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের (منكر) নিষেধ করল এবং সে কারণে শাসক তাকে হত্যা করল। জান্নাতে সেই শহীদের মর্যাদা হবে হামজা (তাঁর চাচা) এবং জাফর (আলীর ভ্রাতুষ্পুত্র)-এর মাঝখানে।"

যারা এই দুই দায়িত্ব পালনের ভার গ্রহণ করবেন, তাঁদের মধ্যে যে শর্তাবলি থাকা আবশ্যক:

সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের (منكر) নিষেধ করা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় এবং সওয়াব ও কবুলিয়তের দিক থেকে অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ। এর এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যা পূরণ না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হয় না।

(১) উপদেশদাতা যা নসিহত করবেন, নিজে তা আমল করবেন; তাঁর কথা যেন তাঁর কাজের পরিপন্থী না হয়। অন্যথায় তিনি নিন্দার পাত্র হবেন এবং তাঁর ওপর আল্লাহ তাআলার এই বাণী প্রযোজ্য হবে: {তোমরা কি মানুষকে সৎ কাজের নির্দেশ দিচ্ছ অথচ নিজেদের কথা ভুলে যাচ্ছ?} [আল-বাকারা: ৪৪]।

বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মিরাজের রাতে আমি এমন কিছু লোক দেখলাম যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা আপনার উম্মতের সেই খতিববৃন্দ (বক্তা), যারা মানুষকে সৎ কাজের নির্দেশ দিত কিন্তু নিজেদের কথা ভুলে যেত।"
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
(2) أن يكون العمل طاعة لله ورسوله، وهو العمل المشروع المأمور به إيجاباً أو استحبابا، وضده المعصية والفجور والظلم والسيئة.

(3) أن يكون خالصاً لوجه الله تعالى، فالله لا يقبل من الأعمال إلا ما يراد به وجهه فقد روى أن النبي صلى الله عليه وسلم قال يقول الله: "أنا أغنى الشركاء عن الشرك، من عمل عملا أشرك فيه غيري، فأنا بريء منه، وهو كله للذي أشرك"، وهذا هو أساس الإسلام والعمود الذي عليه بنى الدين، فحق الله على عباده أن يعبده ولا يشركوا به شيئا، ومن ثم كان عمر بن الخطاب- رضي الله عنه يقول في دعائه: اللهم اجعل عملي كله صالحاً، واجعله لوجهك خالصاً، ولا تجعل لأحد فيه شيئا.

وإذا كان العمل خالصا نشر الله عليه رداء القبول وصادف التوفيق وقدر لفاعله في القلب مهابةً وجلالاً، وتقبل الناس قوله بالسمع والطاعة وقد قال صلى الله عليه وسلم: "من أرضي الناس بسخط الله وكله إليهم، ومن أرضى الله بسخط الناس كفاه شرهم، ومن أحسن فيما بينه وبين الله أحسن فيما بينه وبين الناس، ومن أصلح سريرته أصلح الله علانيته، ومن عمل لآخرته كفاه الله أمر دنياه".

ومما يؤثر في هذا الباب أن أتابك سلطان دمشق طلب محتسبا فذكر له رجل من العلماء فأمر بإحضاره، فلما مثل بين يديه قال له: إني وليتك أمر الحسبة على الناس، فقال له: إن كنت تريدني لما تقول فقم عن هذا الفراش وارفع هذا المتكأ فإنهما من حرير، واخلع هذا الخاتم فإنه من ذهب، وقد قال صلى الله عليه وسلم: "هذان حرامان على ذكور أمتي، حل لإناثها"
(2) আমলটি যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যস্বরূপ হয়। আর এটি হচ্ছে সেই শরয়ি আমল যা পালন করার জন্য ওয়াজিব (إيجاباً) বা মুস্তাহাব (استحباباً) হিসেবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এর বিপরীত বিষয়সমূহ হলো নাফরমানি (المعصية), পাপাচার (الفجور), জুলুম (الظلم) এবং মন্দ কাজ (السيئة)।

(3) আমলটি যেন একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ (خالصاً) হয়। কেননা আল্লাহ কেবল সেই আমলই কবুল করেন যা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়। বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি অংশীদারদের শিরক (الشرك) থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে ও তার শিরককে বর্জন করি।" এটিই ইসলামের মূল ভিত্তি এবং সেই স্তম্ভ যার ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত। বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। এই কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর দোয়ায় বলতেন: হে আল্লাহ! আমার সমস্ত আমলকে নেক (صالحاً) আমল বানিয়ে দিন, আর তা আপনার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ (خالصاً) করে দিন এবং এতে অন্য কারও জন্য কোনো অংশ রাখবেন না।

যখন কোনো আমল একনিষ্ঠ (خالصاً) হয়, আল্লাহ তার ওপর কবুলিয়তের চাদর বিছিয়ে দেন, সে তাওফিক (التوفيق) লাভ করে এবং আমলকারীর জন্য মানুষের অন্তরে প্রভাব ও গাম্ভীর্য সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। মানুষ শ্রবণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে তার কথা গ্রহণ করে নেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করল, আল্লাহ তাকে মানুষের ওপরই সোপর্দ করেন। আর যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করল, আল্লাহ তাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে ব্যক্তি তার ও আল্লাহর মধ্যকার বিষয় সুন্দর করে, আল্লাহ তার ও মানুষের মধ্যকার বিষয় সুন্দর করে দেন। যে ব্যক্তি তার গোপন বিষয় সংশোধন করে, আল্লাহ তার প্রকাশ্য বিষয় সংশোধন করে দেন। আর যে ব্যক্তি তার আখেরাতের জন্য আমল করে, আল্লাহ তার দুনিয়াবি বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।"

এ প্রসঙ্গে আরও বর্ণিত আছে যে, দামেস্কের আতাবেগ সুলতান একজন মুহতাসিব (المحتسب - তদারককারী) অনুসন্ধান করছিলেন। তাঁর কাছে একজন আলেমের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি তাঁকে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। যখন তিনি সুলতানের সামনে উপস্থিত হলেন, সুলতান তাঁকে বললেন: আমি আপনাকে জনগণের ওপর 'হিসবাহ' (তদারকি) বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করলাম। তখন সেই আলেম বললেন: আপনি যা বলছেন তার জন্য যদি আমাকে চান, তবে এই বিছানা থেকে উঠুন এবং এই হেলান দেওয়ার বালিশটি সরিয়ে নিন, কারণ এগুলো রেশমের তৈরি; আর এই আংটিটি খুলে ফেলুন কারণ এটি স্বর্ণের। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এই দুটি বস্তু আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম (حراماً) এবং তাদের নারীদের জন্য হালাল (حل)।"
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
فقال السلطان: سمعا وطاعة، ونهض عن الفراش، وأمر برفع المتكأ، وخلع الخاتم من إصبعه، وقال: ضممت إليك أمر الشرطة (حكمدار بوليس .. )؛ فما رأى الناس محتسباً أهيب منه.

(4) أن يأمر عن معرفة وعلم وفقه بالدين، وإلا كان العمل جهلا وضلالا واتباعا للهوى كما قال عمر بن عبد العزيز: من عبد الله بغير علم كان ما يفسد أكثر مما يصلح، وكما قال معاذ بن جبل: العلم إمام العمل، والعمل تابعه.

(5) أن يكون النصح برفق والتؤدة حتى يؤتي ثمرته المرجوة، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "يا عائشة عليك بالرفق فإنه ما كان في شيء إلا زانه وما نزع من شيء إلا شأنه"، وقال أيضاً: "إن الله رفيق يحب الرفق في الأمر كله، ويعطي عليه ما لا يعطي على العنف".

ومن نوادر المحتسبين وبارع قصصهم: أن رجلا دخل على المأمون وأمره بمعروف ونهاه عن منكر وأغلظ له في القول فقال له المأمون: يا هذا إن الله أرسل من هو خير منك لمن هو شر مني، فقال لموسى وهارون: {فقولا له قولاً ليناً لعله يتذكر أو يخشى} [طه: 44] ثم أعرض عنه ونأى بجانبه.

(6) أن يكون الناصح حليما صبورا على الأذى إذ العادة قد جرت بأن يناله الأذى من جراء عمله، فإن لم يحلم ويصبر كان الضرر أكثر من النفع كما قال لقمان لابنه وهو يعظه: {وأمر بالمعروف وأنه عن المنكر واصبر
সুলতান বললেন: "আমি শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।" তিনি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালেন, হেলান দেওয়ার বালিশ সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন, নিজের আঙুল থেকে আংটিটি খুলে নিলেন এবং বললেন: "আমি তোমার ওপর পুলিশের (পুলিশ কমিশনার...) দায়িত্ব অর্পণ করলাম।" এরপর মানুষ তার চেয়ে অধিক প্রভাবশালী আর কোনো তদারককারী (محتسب) দেখেনি।

(৪) সৎ কাজের আদেশ হতে হবে দ্বীনের মারিফাত, ইলম ও গভীর বুৎপত্তি (فقه) থেকে। অন্যথায় সেই কাজ হবে অজ্ঞতা, পথভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ। যেমনটি উমর ইবনুল আজিজ বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়া আল্লাহর ইবাদত করে, সে সংশোধনের চেয়ে অনিষ্টই বেশি করে।" মুয়াজ ইবনে জাবাল বলেছেন: "জ্ঞান হলো কর্মের ইমাম, আর কর্ম হলো তার অনুসারী।"

(৫) উপদেশ হতে হবে নম্রতা ও ধীরস্থিরতার সাথে, যাতে এটি কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আয়েশা! তুমি নম্রতা অবলম্বন করো। কেননা কোনো কাজে যখন নম্রতা থাকে, তখন তা সেটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে, আর কোনো কাজ থেকে নম্রতা ছিনিয়ে নেওয়া হলে তা তাকে কলঙ্কিত করে।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল, তিনি প্রতিটি বিষয়ে কোমলতা পছন্দ করেন এবং কঠোরতার বিপরীতে তিনি যা দান করেন, তা অন্য কিছুর মাধ্যমে দান করেন না।"

তদারককারীদের (محتسب) বিরল ও চমৎকার ঘটনাবলির মধ্যে একটি হলো: এক ব্যক্তি খলিফা মামুনের কাছে প্রবেশ করে তাকে সৎ কাজের (معروف) আদেশ ও মন্দ কাজের (منكر) নিষেধ করলেন এবং তার সাথে কঠোর ভাষায় কথা বললেন। তখন মামুন তাকে বললেন: "হে ব্যক্তি! আল্লাহ তাআলা তোমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে আমার চেয়েও নিকৃষ্ট ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি মুসা ও হারুনকে বলেছিলেন: {তোমরা তার সাথে নরম ভাষায় কথা বলো, হয়তো সে শিক্ষা গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে} [ত্বহা: ৪৪]।" এরপর তিনি তার থেকে বিমুখ হলেন এবং তাকে এড়িয়ে চললেন।

(৬) উপদেশদাতাকে সহনশীল ও কষ্টের ওপর ধৈর্যশীল (صبر) হতে হবে। কারণ সাধারণত এই কাজের দরুন তাকে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। যদি সে সহনশীলতা ও ধৈর্য (صبر) ধারণ না করে, তবে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হবে। যেমন লোকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন: {সৎ কাজের আদেশ দাও, মন্দ কাজের (منكر) নিষেধ করো এবং বিপদে ধৈর্য (صبر) ধারণ করো...}
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
على ما أصابك إن ذلك من عزم الأمور} [لقمان: 17] وهم القادة الآمرون بالمعروف الناهون عن المنكر بالاعتصام بالصبر كما قال تعالى لنبيه في بدء رسالته: {يا أيها المدثر قم فانذر وربك فكبر وثيابك فطهر والرجز فاهجر ولا تمنن تستكثر ولربك فاصبر} [المدثر: 7] فاختتم الأمر بالإنذار وهو الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بطلب الصبر منه.

وقد جاء هذا الطلب في مواضع عدة كقوله تعالى: {واصبر لحكم ربك فإنك بأعيننا} [الطور: 48]، وقوله: {فاصبر كما صبر أولوا العزم من الرسل} [الأحقاف: 35]، وقوله: {فاصبر حكم ربك ولا تكن كصاحب لحوت} [القلم: 48]، وقوله: {واصبر وما صبرك إلا بالله} [النحل: 127].

فجماع الأمر بالمعروف ثلاثة: علم قبله، ورفق معه، وصبر بعده، وهذا معنى مجتهد يروى عن بعض السلف: لا يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر إلا من كان فقيهاً فيما يأمر به، فقيهاً فيما ينهى عنه، رفيقا فيما ينهي عنه، حليماً فيما يأمر به، حليكماً فيما ينهى عنه.

(7) ألا يتضمن الأمر بالمعروف فوات ما هو أكثر منه نفعاً أو حصول منكر فوقه، وألا يتضمن النهي عن المنكر حصول ما هو أنكر منه أو فوات معروف أرجح منه، ولأجل هذا سكت النبي صلى الله عليه وسلم عن عبد
যা তোমার ওপর আপতিত হয়, নিশ্চয় এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজ’ [লুকমান: ১৭]। তাঁরা হলেন সেই সকল নেতা যারা ধৈর্যের সাথে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধকারী (الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر); যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে তাঁর রিসালাতের শুরুতে বলেছিলেন: ‘হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, সতর্ক করুন, আপনার রবের মহিমা ঘোষণা করুন, আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন, অপবিত্রতা বর্জন করুন, অধিক পাওয়ার আশায় দান করবেন না এবং আপনার রবের সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করুন’ [মুদ্দাসসির: ১-৭]। সুতরাং সতর্ক করার নির্দেশ—যা মূলত সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজে নিষেধ (النهي عن المنكر)—তা শেষ করা হয়েছে তাঁর নিকট ধৈর্য প্রার্থনার মাধ্যমে।

এই নির্দেশটি বিভিন্ন স্থানে এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ‘আপনি আপনার রবের ফয়সালার জন্য ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয় আপনি আমার চোখের সামনেই আছেন’ [তূর: ৪৮]। এবং তাঁর বাণী: ‘অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেভাবে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ (أولوا العزم) রাসূলগণ’ [আহকাফ: ৩৫]। এবং তাঁর বাণী: ‘অতএব আপনি আপনার রবের ফয়সালার জন্য ধৈর্য ধারণ করুন এবং মাছওয়ালার (ইউনুস আ.) মতো হবেন না’ [কলম: ৪৮]। এবং তাঁর বাণী: ‘আর আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, আপনার ধৈর্য তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে’ [নাহল: ১২৭]।

সৎকাজের আদেশের সারসংক্ষেপ তিনটি বিষয়: তার পূর্বে জ্ঞান, তার সাথে নম্রতা এবং তার পরে ধৈর্য। এটি সালাফদের (السلف) কারো কারো থেকে বর্ণিত একটি ইজতিহাদলব্ধ (مجتهد) অর্থ: ‘সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ কেবল সেই ব্যক্তিই করবে, যে বিষয়ে সে আদেশ দিচ্ছে তাতে সে ফকিহ (فقيه) হবে এবং যা থেকে সে নিষেধ করছে সে বিষয়েও ফকিহ (فقيه) হবে; যা থেকে সে নিষেধ করছে সে বিষয়ে নম্র হবে, আর যা সে আদেশ করছে সে বিষয়ে ধৈর্যশীল এবং যা থেকে সে নিষেধ করছে সে বিষয়ে প্রজ্ঞাবান হবে।’

(৭) সৎকাজের আদেশের (الأمر بالمعروف) ফলে যেন তার চেয়ে অধিক কোনো কল্যাণ হাতছাড়া না হয় অথবা তার চেয়ে বড় কোনো মন্দ (منكر) সৃষ্টি না হয়। আর অসৎকাজের নিষেধ যেন এর চেয়েও জঘন্য কোনো মন্দ (منكر) ঘটার কারণ না হয় অথবা এর চেয়ে অগ্রগণ্য কোনো সৎকাজ (معروف) ছুটে যাওয়ার কারণ না হয়। একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে...
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
الله بن أبي وأمثاله من أئمة النفاق والفجور لما كان لهم من الأعوان، فلو أزال المنكر بعقاب هؤلاء غضب قومهم وأخذتهم الحمية حمية الجاهلية فينفرون منه حين يسمعون أن محمدا يقتل أصحابه، والمشاهدة التي أرانا الله إياها في الآفاق وفي أنفسنا تدل على أن المعاصي سبب المصائب، والطاعة سبب النعمة كما قال تعالى: {ما أصابك من حسنة فمن الله وما أصابك من سيئة فمن نفسك} [النساء: 79]، وقال: {إن الذين تولوا منكم يوم التقى الجمعان إنما استزلهم الشيطان ببعض ما كسبوا ولقد عفا الله عنهم} [آل عمران: 155] وقال: {أو لما أصابتكم مصيبة قد أصبتم مثليها قلتم أنى هذا قل هو من عند أنفسكم} [آل عمران: 165].

وإذا كان الفسوق والعصيان من أسباب الشر والعدوان فقد يذنب الرجل أو الطائفة من الناس ويسكت الآخرون عن أمرهم بالمعروف ونهيهم عن المنكر فيكون محسوبا عليهم من ذنوبهم، أو ينكرون عليهم إنكارا منهيا عنه فيكون ذلك من ذنوبهم أيضا؛ بسبب ذلك يحصل التفرقة والفساد، وهذا من أعظم الشرور والفتن في القديم والحديث.

وإن من تدبر ما وقع من الفتن بين أمراء الأمة وعلمائها علم أن منشأ ذلك إتباع الأهواء والشهوات، والميل إلى البدع والفجور.

আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার মতো মুনাফিকি (نفاق) ও পাপাচারের ইমামদের যখন অনেক সাহায্যকারী ছিল, তখন যদি তাদের শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে কোনো মন্দ (منكر) বিষয় দূর করা হতো, তবে তাদের গোত্রীয় লোকেরা ক্ষুব্ধ হতো এবং তাদের মাঝে জাহেলি যুগের পক্ষপাতের উন্মাদনা জেগে উঠত। ফলে তারা যখন শুনতে পেত যে, মুহাম্মদ তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করছেন, তখন তারা তাঁর থেকে দূরে সরে যেত। আর দিগন্ত জুড়ে এবং আমাদের নিজেদের মাঝে আল্লাহ আমাদের যে চাক্ষুষ নিদর্শন দেখিয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে, পাপাচারই হলো বিপদের কারণ এবং আনুগত্য হলো নিয়ামতের কারণ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা অকল্যাণ পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে} [আন-নিসা: ৭৯]। তিনি আরও বলেছেন: {যেদিন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তোমাদের মধ্য থেকে যারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, শয়তান তাদের অর্জিত কিছু কর্মের কারণে তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল, আর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন} [আলে ইমরান: ১৫৫]। তিনি আরও বলেছেন: {তোমাদের ওপর যখন বিপদ এল, অথচ তোমরা তো (শত্রুদের ওপর) এর দ্বিগুণ বিপদ এনেছিলে, তখন তোমরা বললে, ‘এ কোত্থেকে এল?’ বল, ‘এ তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে’} [আলে ইমরান: ১৬৫]।

যখন পাপাচার ও অবাধ্যতা অনিষ্ট ও শত্রুতার অন্যতম কারণ হয়, তখন কোনো ব্যক্তি বা একদল মানুষ পাপ করতে পারে এবং অন্যরা তাদের সৎকাজের আদেশ দিতে ও মন্দ (منكر) কাজ থেকে নিষেধ করতে বিরত থেকে চুপ থাকতে পারে, ফলে এটি তাদেরও পাপ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অথবা তারা তাদের এমন পন্থায় নিষেধ করল যা শরয়িভাবে নিষিদ্ধ, তবে সেটিও তাদের পাপাচারের অন্তর্ভুক্ত হবে। এর মাধ্যমেই বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং এটিই প্রাচীন ও বর্তমান কালের অন্যতম বড় অনিষ্ট ও ফিতনা (فتنة)।

উম্মাহর শাসক ও আলেমদের মাঝে যে সকল ফিতনা (فتنة) সংঘটিত হয়েছে, সে সম্পর্কে যারা গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তারা জানতে পারবেন যে, এর মূল উৎস হলো কুপ্রবৃত্তি ও লালসার অনুসরণ এবং বিদআত (بدعة) ও পাপাচারের প্রতি ঝোঁক।

(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌أصناف المحتسب

المحتسب صنفان:

‌‌(1) محتسب يعينه السلطان أو نائبه للنظر في شئون الرعية والكشف عن أعمالهم فيأمر بما يوافق الشرع، وينهى عما يخالفه.

‌‌(2) محتسب متطوع يرى المنكر فينكره، أو يأمر بمعروف يرى الناس قد تركوه، وبينهما فرق من جهات عدة:

أ- أن الأمر والنهى فرض عين على الأول بحكم ولايته، وفرض كفاية على الثاني، فإذ قام به غيره سقط عنه الحرج والإثم كصلاة الجنازة ورد السلام على غيره.

ب- أن قيام الأول به من واجبات عمله التي لا يجوز أن يتشاغل عنها بغيرها، وقيام الثاني به من النوافل التي يجوز أن يتشاغل عنها بغيرها.

جـ- أن الأول له أن يتخذ على الإنكار أعوانا لأنه عمل هو منصوب وإليه مندوب، وليكون أقدر على القهر والغلبة- وليس كذلك الثاني.

د- أن الأول له أن يعزز في المنكرات الظاهرة بضرب ونحوه، ولا يتجاوز بها حيث تصل إلى الحدود الشرعية المقدرة وليس للثاني ذلك.
মুহতাসিবের (তদারককারী) প্রকারভেদ

মুহতাসিব দুই প্রকার:

(১) এমন মুহতাসিব যাকে সুলতান অথবা তার প্রতিনিধি প্রজাসাধারণের বিষয়াবলী দেখাশোনা এবং তাদের কর্মকাণ্ড তদারকি করার জন্য নিযুক্ত করেন। ফলে তিনি শরিয়তসম্মত কাজের আদেশ প্রদান করেন এবং শরিয়ত পরিপন্থী কাজ থেকে নিষেধ করেন।

(২) স্বেচ্ছাসেবী মুহতাসিব, যিনি কোনো অন্যায় (منكر) দেখলে তা প্রতিহত করেন, অথবা এমন কোনো সৎকাজের আদেশ দেন যা মানুষ বর্জন করেছে বলে তিনি দেখতে পান। এই দুই প্রকার মুহতাসিবের মধ্যে বেশ কিছু দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে:

ক- প্রথম মুহতাসিবের জন্য তার অর্পিত দায়িত্বের কারণে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين), আর দ্বিতীয় জনের জন্য তা সামষ্টিক আবশ্যিক কর্তব্য (فرض كفاية)। সুতরাং যদি অন্য কেউ তা সম্পাদন করে, তবে তার উপর থেকে দায় ও গুনাহ রহিত হয়ে যায়; যেমন জানাজার নামাজ এবং অন্যের পক্ষ থেকে সালামের উত্তর প্রদানের মতো।

খ- প্রথম জনের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পালন করা তার পেশাগত আবশ্যিক কাজের অন্তর্ভুক্ত, যা ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া তার জন্য বৈধ নয়। আর দ্বিতীয় জনের ক্ষেত্রে এটি নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, যা ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া তার জন্য বৈধ।

গ- প্রথম মুহতাসিব অন্যায় (منكر) প্রতিরোধের জন্য সাহায্যকারী গ্রহণ করতে পারেন; কারণ তিনি এই কাজের জন্যই নিয়োজিত এবং আদিষ্ট, যাতে তিনি অপরাধ দমনে ও নিয়ন্ত্রণে অধিক সক্ষম হন—কিন্তু দ্বিতীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়।

ঘ- প্রথম মুহতাসিব প্রকাশ্য অন্যায়সমূহের (منكرات) ক্ষেত্রে প্রহার বা অনুরূপ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিবেচনামূলক শাস্তি (تعزير) প্রদান করতে পারেন, তবে তা যেন শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট দণ্ডসীমা (حدود) পর্যন্ত না পৌঁছায়। কিন্তু দ্বিতীয় মুহতাসিবের এই অধিকার নেই।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
و‌‌الفرق بين المحتسب والقاضي:

أنه لا يجوز للمحتسب النظر في الدعاوى الخارجة عن ظواهر المنكرات، فلا ينظر في العقود والقروض ونحو ذلك، إلا إذا كان معترفاً بها، أما ما يداخله الإنكار والجحد ويحتاج إلى البينة أو شهادة الشهود، فهذا وظيفة القاضي لا وظيفة المحتسب؛

ويزيد على القاضي من وجوه عدة:

(1) أن له أن يتعرض للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وإن لم يحضر خصم يطلب منه ذلك، وليس للقاضي أن يتعرض لذلك إلا بحضور خصم يشتكي، ولو تعرض لذلك خرج عن حدود وظيفته.

(2) أن له من القوة والجبروت ما ليس للقاضي، لأن الحسبة موضوعة على الرهبة والتخويف، فإذا أغلظ المحتسب في القول وكان سليط اللسان لا يعد هذا منه خروجا عن عمله.

(3) أن له يبحث عن المنكرات التي ترتكب علانية ليقوم بأداء وظيفته بإنكارها، وليس ذلك لغيره.

ويوافق عمل القاضي من ناحيتين:

(1) أنه يجوز تقديم الشكوى إليه وسماعه دعوى المشتكي في حقوق العباد التي تتعلق ببخس في ثمن، أو تطفيف في كيل أو وزن، أو تدليس في مبيع أو ثمن، أو تأخير دين مستحق مع إمكان دفعه.
و‌‌মুহতাসিব এবং কাজীর মধ্যে পার্থক্য:

মুহতাসিবের জন্য এমন সব অভিযোগের বিচার করা বৈধ নয় যা প্রকাশ্য অপকর্মসমূহের (منكرات) বহির্ভূত। সুতরাং তিনি চুক্তি, ঋণ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো দেখবেন না, যদি না তা স্বীকৃত হয়। তবে যেসব বিষয়ে অস্বীকৃতি ও অস্বীকার বিদ্যমান এবং যা অকাট্য প্রমাণ (بينة) বা সাক্ষীদের সাক্ষ্যের মুখাপেক্ষী, তা কাজীর দায়িত্ব, মুহতাসিবের দায়িত্ব নয়।

মুহতাসিব বেশ কিছু দিক থেকে কাজীর চেয়ে অতিরিক্ত ক্ষমতার অধিকারী:

(1) তাঁর সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করার অধিকার রয়েছে, যদিও কোনো বিবাদী তাঁর কাছে এসে সেই দাবি না করে। কিন্তু অভিযোগকারী বিবাদীর উপস্থিতি ছাড়া কাজীর পক্ষে এমন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়; যদি তিনি তা করেন তবে তিনি তাঁর কর্মপরিধির সীমা লঙ্ঘন করবেন।

(2) তাঁর এমন শক্তি ও প্রতাপ রয়েছে যা কাজীর নেই; কারণ আল-হিসবাহ (الحسبة) বিষয়টি ভীতি প্রদর্শন এবং সতর্ককরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং যদি মুহতাসিব কঠোর ভাষায় কথা বলেন কিংবা কটুভাষী হন, তবে তা তাঁর কর্মপরিধির বাইরে বলে গণ্য হবে না।

(3) প্রকাশ্যে সংঘটিত অপকর্মসমূহ (منكرات) অনুসন্ধান করার অধিকার তাঁর রয়েছে যাতে তিনি সেগুলো প্রতিরোধের মাধ্যমে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে পারেন; যা অন্য কারো জন্য বৈধ নয়।

দুটি দিক থেকে তাঁর কাজ কাজীর কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ:

(1) তাঁর কাছে অভিযোগ পেশ করা এবং বান্দার হকের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর দাবি শোনা বৈধ, যা মালের দাম কমানো, ওজন বা পরিমাপে কম দেওয়া, বিক্রিত পণ্য বা মূল্যে প্রতারণা (تدليس) করা কিংবা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিশোধযোগ্য ঋণ আদায়ে বিলম্ব করার সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
فهذه كلها منكرات ظاهرة وظيفته إزالتها، إذ من أعمال الحسببة إيصال الحقوق إلى ذويها، والمعونة على استيفائها.

أن له أن يلزم المدعى عليه بدفع الحق الذي وجب عليه اعتراف أو إقرار مع وجود اليسار، لأن في تأخيره له منكرا لقوله عليه الصلاة والسلام: "مطل الغني ظلم".

والفرق بين المحتسب وقاضي المظالم (القاضي الجنائي) أن النظر في المظالم يكون فيما يعجز عنخ القاضي، والحسبة فيما يرفه عن القاضي.

ويشتركان في أعمال كل منهما مبنى على الرهبة المستمدة من سلطان الحكومة، وأن كلا منهما لا تعرض إلا لعدوان ظاهر لا خفاء فيه.

‌‌المحتسب المولى:

هو من نصبه السلطان أو نائبه للنظر في أمور الرعية، يأمرهم بما يوافق الشرع وينهاهم عم يخالفه، في أعمالهم الدينية والدنيوية مما ليس من اختصاص القضاة والولاة والجباة، وهو داخل في باب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فله النظر في كل ما يهم المسلمين في أسواقهم ومجتمعاتهم ومعاملاتهم بعضهم مع بعض وويعين من يراه أهلا لذلك من الأعوان، فهو يبحث عن المنكرات ويعزر عليها (يعاقب) بحسب أهميتها ومقدارها وعلى حسب منزلة مرتكبها، كما سيأتي تفصيل ذلك بعد.
এগুলো সবই প্রকাশ্য অন্যায় (منكرات) যা দূর করা তাঁর দায়িত্ব; কারণ হিসবাহ-এর অন্যতম কাজ হলো হকদারদের কাছে তাদের অধিকার পৌঁছে দেওয়া এবং তা আদায়ে সহায়তা করা।

সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও স্বীকৃতি বা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে যে পাওনা আবশ্যক হয়েছে, তা পরিশোধ করতে তিনি বিবাদীকে বাধ্য করতে পারেন। কারণ এটি আদায়ে বিলম্ব করা একটি অন্যায় (منكر), যেহেতু নবী কারীম (সা.) বলেছেন: "ধনী ব্যক্তির পক্ষ থেকে পাওনা পরিশোধে গড়িমাসি করা একটি জুলুম।"

মুহতাসিব এবং কাজি আল-মাজালিম (ফৌজদারি বিচারক)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, মাজালিম বা জুলুম সংক্রান্ত বিচার করা হয় সেই সব ক্ষেত্রে যা সাধারণ কাজির ক্ষমতার বাইরে, আর হিসবাহ হলো সেই সব বিষয় যা কাজির কার্যভারকে লাঘব করে।

তাঁদের উভয়ের কাজের ক্ষেত্র সরকারি ক্ষমতার প্রভাব ও প্রতিপত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁরা কেবল প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করেন।

‌‌নিযুক্তকৃত মুহতাসিব:

তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যাকে সুলতান বা তাঁর প্রতিনিধি প্রজাসাধারণের বিষয়াবলি তদারকির জন্য নিযুক্ত করেছেন। তিনি তাদেরকে শরিয়তসম্মত কাজের আদেশ দেন এবং শরিয়ত পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত রাখেন—এমন সব দ্বীনি ও পার্থিব বিষয়ে যা বিচারক, প্রশাসক বা রাজস্ব আদায়কারীদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এটি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বাজার, সমাজ এবং মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় তদারকি করার অধিকার তাঁর রয়েছে এবং তিনি এই কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সহকারী নিয়োগ করতে পারেন। তিনি অন্যায় (منكرات) বিষয়সমূহ অনুসন্ধান করেন এবং অপরাধের গুরুত্ব ও পরিমাণ এবং অপরাধীর পদমর্যাদা অনুযায়ী এর জন্য দণ্ড (تعزير) প্রদান করেন, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
وشرط المنكر الذي يكون للمحتسب التعرض له أن يفعل علانية على مرأى من الناس ومسمع. فمن ارتكب معصية خفية في داره وأغلق عليه بابه لا يجوز للمحتسب أن يتجسس عليه، إلا أن يكون ذلك في انتهاك محرم بدئ في الشروع فيه ولم يتم بعد، كما إذا أخبره من يثق بصدقه أن رجلا خلا بامرأة ليزني بها، فيجوز له حينئذ أن يتجسس ويبحث حذرا من فوات ما لا يستدرك من انتهاك المحارم وارتكاب المحظورات.

‌‌شروط المحتسب

للمحتسب شروطا لا يمكنه أن يقوم بعمله دونها:

‌‌(1) أن يكون بالغا، فلا يجب عليه الأمر بالمعروف إلا إذا كان كذلك، أما إمكانه وجوازه فلا يستدعى إلا العقل فالصبي المراهق (القريب من البلوغ) وإن لم يكن مكلفاً، له إنكار المنكر، فله أن يريق الخمور ويكسر أدوات الملاهي، إذا فعل ذلك يثاب عليه ولم يكن لأحد منعه، إذ هي قربة وهو من أهل القرب كالصلاة وغيرها من القرب.

‌‌(2) أن يكون مسلما، لأن الأمر بالمعروف نصرة الدين، فالخارج عليه لا يمكن أن ينصره- إلى ما فيه من التحكم في المسلمين؛ والكافر لا يستحق ذلك كما قال تعالى: {ولن يجعل الله الكافرين على المؤمنين سبيلاً} [النساء: 141].
মুহতাসিব যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন তার শর্ত হলো, তা প্রকাশ্যে লোকচক্ষুর সামনে এবং মানুষের কর্ণগোচর হয় এমনভাবে সংঘটিত হতে হবে। সুতরাং কেউ যদি তার নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে গোপনে কোনো পাপে লিপ্ত হয়, তবে মুহতাসিবের জন্য তার ওপর গোয়েন্দাগিরি করা বৈধ নয়। তবে যদি তা এমন কোনো হারাম কাজ লঙ্ঘনের উপক্রম হয় যা শুরু হয়েছে কিন্তু এখনও সম্পন্ন হয়নি—যেমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি যদি তাকে সংবাদ দেন যে, এক ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে নির্জনে অবস্থান করছে—তবে সে ক্ষেত্রে অপূরণীয় কোনো হারাম কাজ বা নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য মুহতাসিবের পক্ষে অনুসন্ধান ও গোয়েন্দাগিরি করা বৈধ।

‌‌মুহতাসিবের শর্তাবলী

মুহতাসিবের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে যা ব্যতিরেকে তিনি তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন না:

‌‌(১) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, সুতরাং প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর 'আমর বিল মারুফ' (সৎ কাজের আদেশ) ওয়াজিব হয় না। তবে এর সক্ষমতা ও বৈধতার জন্য কেবল বিচারবুদ্ধি (আকল) থাকাই যথেষ্ট। ফলে কোনো কিশোর (যে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি), যদিও সে শরয়ী বিধান পালনে বাধ্য (مكلف) নয়, তবুও তার জন্য অন্যায় কাজ প্রতিহত করার অধিকার রয়েছে। সে মদ ঢেলে ফেলে দিতে পারে এবং বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলতে পারে; যদি সে তা করে তবে সে সওয়াব পাবে এবং কেউ তাকে বাধা দিতে পারবে না। কেননা এটি একটি নেক আমল এবং সে সালাত ও অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় নেক আমল করার যোগ্য।

‌‌(২) মুসলিম হওয়া, কারণ 'আমর বিল মারুফ' হলো দ্বীনকে সাহায্য করা, আর যে দ্বীনের বাইরে সে দ্বীনকে সাহায্য করতে পারে না—তাছাড়া এতে মুসলিমদের ওপর কর্তৃত্ব করার বিষয়ও রয়েছে; আর কোনো কাফির এর যোগ্য নয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আল্লাহ কখনোই মুমিনদের ওপর কাফিরদের জন্য কোনো পথ রাখবেন না।" [সূরা আন-নিসা: ১৪১]।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌(3) أن يكون ذا رأي وصرامة وخشونة في دينه، عارفا بأحكام الشريعة ليعلم ما يأمر به وينهى عنه، إذ لا دخل للعقول في بيان المنكر أو المعروف، ورب جاهل يستحسن بعقله ما قبحه الشرع ويرتكب المحذور وهو غير عارف به، من ثم كان طلب العلم فريضة على كل مسلم.

‌‌أعمال المحتسب

المحتسب من رجال الضبطية القضائية باصطلاح العصر الحديث، أو هو مفتش بالمجالس المحلية ينظر في كل ما يهم المسلمين، ويعين من يراه أهلا لذلك من الأعوان، ويبحث عن المنكرات التي يفعلها الناس ويأمر بالمعروف الذي يتركه الناس.

ومن ذلك:

‌‌(1) أن يأمر العامة بأداء الصلوات الخمس في مواقيتها، ويعاقب من لم يصل بالضرب أو بالحبس لا بالقتل، ويتعاهد الأئمة والمؤذنين، فمن فرط منهم في أداء وظيفته ألزمه أدائها، واستعان على ذلك بقاضي المظالم (القاضي الجنائي) إذا عجز عن القيام بعمله، وذلك أن الصلاة عمود الإسلام وأعظم مناسكه وهي آخر ما وصى به النبي عليه الصلاة والسلام، وقد خصها الله تعالى بالذكر في مواضع من كتابه وحث عليها كثيرا فقال في
‌‌(৩) তাকে বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন, কঠোর এবং স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে দৃঢ়চেতা হতে হবে, শরীয়তের বিধানাবলি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে যাতে তিনি জানতে পারেন কিসের আদেশ করবেন এবং কিসের নিষেধ করবেন। কেননা মন্দ (منكر) বা ভালো (معروف) নিরূপণে নিছক বুদ্ধিবৃত্তির কোনো স্থান নেই। অনেক সময় একজন অজ্ঞ ব্যক্তি তার বুদ্ধিবলে এমন কাজকে ভালো মনে করে যা শরীয়ত মন্দ সাব্যস্ত করেছে এবং সে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয় অথচ সে তা জানে না। এ কারণেই জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ।

‌‌মুহতাসিবের কার্যাবলি

মুহতাসিব আধুনিক পরিভাষায় বিচারবিভাগীয় প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত, অথবা তিনি স্থানীয় পরিষদের একজন পরিদর্শক যিনি মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তদারকি করেন। তিনি তার সহযোগীদের মধ্য থেকে যাকে যোগ্য মনে করেন তাকে নিযুক্ত করেন এবং মানুষ যেসব মন্দ (منكرات) কাজ করে তা অনুসন্ধান করেন এবং মানুষ যেসব ভালো (معروف) কাজ বর্জন করে তা পালনের নির্দেশ দেন।

তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌(১) সাধারণ জনগণকে যথাসময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার নির্দেশ প্রদান করা, এবং যে সালাত আদায় করে না তাকে প্রহার বা কারাদণ্ডের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা, তবে মৃত্যুদণ্ড নয়। তিনি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের তদারকি করবেন; তাদের কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাকে তা পালনে বাধ্য করবেন। যদি তিনি তার কাজ সম্পন্ন করতে অক্ষম হন তবে এ ক্ষেত্রে তিনি অন্যায় বিচার ট্রাইব্যুনাল বা ফৌজদারি বিচারকের (القاضي الجنائي) সহায়তা নেবেন। কারণ সালাত হলো ইসলামের স্তম্ভ এবং এর মহান ইবাদতসমূহের অন্যতম। এটিই নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রদান করা সর্বশেষ অসিয়ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে বিশেষভাবে সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর প্রতি অত্যন্ত তাগিদ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি ইরশাদ করেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
مدح المؤمنين المخبتين: {والذين يمسكون بالكتاب وأقاموا الصلاة إنا لا نضيع أجر المصلحين} [الأعراف: 170] وطلب إلى المؤمنين أن يستعينوا على القيام في أداء أعمالهم بالصبر والصلاة. وقال عزمن قائل مبيناً فضلها وشديد العناية بها: {إن الصلاة كانت على المؤمنين كتاباً موقوتاً} [النساء: 103]. ومن ثم كان أمير المؤمنين عمر بن الخطاب- رضي الله عنه يكتب إلى عماله: إن أهم أمركم عندي الصلاة من حفظها وحافظ عليها حفظ دينه، ومن ضيعها كان لما سواها أشد إضاعة.

‌‌(2) أن يأمر بإقامة الجمعة والجماعات لإظهار معالم الدين وشهر شعائر الإسلام، ولأجل هذا شدد صلى الله عليه وسلم في المحافظة عليها لبيان فضلها فقال: "لا صلاة لجار المسجد إلا في المسجد" يقصد نفي الكمال عن صلاته إذ هي صحيحة على ما بها من نقص؛ وفي الحديث: "صلاة الجماعة تفضل صلاة الفذ (المنفرد) بسبع وعشرين درجة".

‌‌(3) أن ينظر في شئون الوعاظ فلا يمكن أحدا من التصدي لهذه المهمة الشريفة إلا إذا كان مشهورا بالصلاح والتقوى والخير والفضيلة، مع معرفته للعلوم الشرعية واللسانية وأخبار سلف الأمة الصالح، إلى ما له من فصاحة لسان
বিনীত মুমিনদের প্রশংসা করা হয়েছে: {আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং নামাজ কায়েম করে, আমি অবশ্যই সংশোধনকারীদের প্রতিদান নষ্ট করি না} [আরাফ: ১৭০]। এবং মুমিনদের নিকট আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা তাদের কার্যাবলী সম্পাদনে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করে। মহান আল্লাহ নামাজের মর্যাদা এবং এর প্রতি গভীর গুরুত্বারোপ করে ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ করা হয়েছে} [নিসা: ১০৩]। এজন্যই আমিরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তার গভর্নরদের নিকট লিখে পাঠাতেন: আমার কাছে তোমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ; যে ব্যক্তি তা হিফাজত করল ও নিয়মিত আদায় করল, সে তার দ্বীনকে হিফাজত করল। আর যে তা নষ্ট করল, সে অন্যান্য বিষয়কে আরও বেশি বিনষ্ট করবে।

(২) দ্বীনের নিশানাসমূহ প্রকাশ এবং ইসলামের নিদর্শনাবলিকে সুপরিচিত করার লক্ষ্যে জুমা ও জামাত কায়েমের নির্দেশ প্রদান করা, আর এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজের মর্যাদা বর্ণনায় তা পালনে কঠোর গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং বলেছেন: "মসজিদের প্রতিবেশীর নামাজ মসজিদ ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ হয় না"। এখানে নামাজের পূর্ণাঙ্গতা অস্বীকার করা হয়েছে, যদিও ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তা সঠিক (صحيح) হিসেবে গণ্য হয়; এবং হাদিসে এসেছে: "জামাতের সাথে নামাজ একাকী (منفرد) আদায় করা নামাজের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।"

(৩) ওয়ায়েজ বা বক্তাদের বিষয়াবলি তদারকি করা, সুতরাং নেককার, পরহেজগার এবং কল্যাণ ও ফযিলতের অধিকারী হিসেবে প্রসিদ্ধ না হলে কাউকে এই মহান কাজের দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না, পাশাপাশি তাকে শরয়ি ইলম, ভাষাজ্ঞান এবং উম্মতের পূর্বসূরি নেককার সালাফদের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞাত হতে হবে এবং তাকে বাগ্মী হতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وعذوبة بيان كما قال تعالى في شأن داود {وشددنا ملكه وآتيناه الحكمة وفصل الخطاب} [ص: 20].

فإذا كان مجيدا لكل هذا أقره على عمله وإلا منعه كما اختبر على بن أبي طالب الحسن البصري- رحمه الله وهو يتكلم على المنبر فقال له: ما عماد الدين؟ قال: الورع؛ قال: ما آفته؟ قال: الطمع؛ قال: تكلم إذا.

وقد كانت مرتبة الوعظ من المراتب الشريفة في الصدر الأول وكفى بها منقبة أن النبي صلى الله عليه وسلم صعد على المنبر ووعظ، وصعد عليه الخلفاء الراشدون والملوك والولاة وكل ذي شأن خطير في الأمة.

وقد كان لا يرقى المنبر إلا رجلين: رجل عظيم الشأن يصعد المنبر واعظاً للناس مبشراً ومنذراً حاثاً على العمل الصالح ومحذراً من ارتكاب العمل الطالح، أو خطيب مسجد مولى من قبل الخليفة وقد كان الفقهاء والأدباء يسمون الوعاظ قصاصاً، والآن قامت وزارة الأوقاف بأداء هذه المهمة، فقسم المساجد يمتحن الوعاظ ويختار منهم الصالحين لأداء هذه المهمة ويوزعهم في أرجاء البلاد، وقد كان لهم أثر نافع في صلاح حال العامة في الديار المصرية، فهم يجوسون خلال الديار مذكرين مبشرين ومنذرين. لا يخفى ما للذكرى من أثر نافع في قلوب المؤمنين {وذكر فإن الذكرى تنفع المؤمنين} [الذاريات: 55] فيها تلين القلوب وترقرق الدموع على الخدود.
এবং বাচনভঙ্গির মাধুর্য, যেমনটি আল্লাহ তাআলা দাউদ (আ.)-এর শানে বলেছেন: "আমি তার সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করেছিলাম এবং তাকে হিকমত ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা দান করেছিলাম।" [সুরা সাদ: ২০]।

অতএব, যদি তিনি এই সব বিষয়ে পারদর্শী হতেন, তবে তাকে তার কাজে বহাল রাখা হতো; অন্যথায় তাকে তা থেকে বিরত রাখা হতো। যেমনটি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) হাসান বসরী (রহ.)-কে পরীক্ষা করেছিলেন যখন তিনি মিম্বরে কথা বলছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "দীনের স্তম্ভ কী?" তিনি বললেন: "পরহেজগারি (الورع)।" তিনি বললেন: "এর ব্যাধি কী?" তিনি উত্তর দিলেন: "লোভ (الطمع)।" তখন তিনি বললেন: "এখন আপনি কথা বলুন।"

ইসলামের প্রথম যুগে ওয়াজ বা নসিহতের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চস্তরের ছিল। এর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করে নসিহত করেছেন এবং খুলাফায়ে রাশেদিন, রাজা-বাদশাহ, গভর্নর ও উম্মাহর সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ মিম্বরে আরোহণ করেছেন।

মিম্বরে সাধারণত কেবল দুই ধরনের ব্যক্তি আরোহণ করতেন: হয় কোনো সুমহান মর্যাদাবান ব্যক্তি যিনি মিম্বরে আরোহণ করে মানুষকে নসিহতকারী, সুসংবাদদাতা (مبشر) ও সতর্ককারী (منذر) হিসেবে নেক আমলের প্রতি উৎসাহ দিতেন এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিতেন; অথবা খলিফা কর্তৃক নিযুক্ত কোনো মসজিদের খতিব। ফকিহগণ (الفقهاء) এবং সাহিত্যিকগণ ওয়াজকারীদের কিসসা বর্ণনাকারী (قصاص) হিসেবে অভিহিত করতেন। বর্তমানে ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এই দায়িত্ব পালন করছে। মসজিদের বিভাগটি ওয়াজকারীদের পরীক্ষা নেয় এবং এই কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়। মিশরের সাধারণ মানুষের অবস্থা সংশোধনে তাদের উপকারী প্রভাব রয়েছে। তারা দেশের সর্বত্র বিচরণ করেন এবং মানুষকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেন ও সুসংবাদ ও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেন। মুমিনদের হৃদয়ে উপদেশের যে হিতকর প্রভাব রয়েছে তা কারও অজানা নয়; আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।" [সুরা আয-যারিয়াত: ৫৫]। এর মাধ্যমেই অন্তরগুলো কোমল হয় এবং গাল বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌(4) وعليه أن يأمر الناس بأداء الأمانات والنهي عن المنكرات من الكذب والخيانة، ومن ذلك تطفيف المكيال والميزان كما قال تعالى: {ويل للمطففين الذين إذا اكتالوا على الناس يستوفون وإذا كالوهم أو وزنوهم يخسرون ألا يظن أولئك أنهم مبعوثون ليوم عظيم يوم يقوم الناس لرب العالمين} [المطففين 1: 6]، وقد قص علينا نبأ شعيب مع قومه وحضه إياهم على العدل في الكيل والميزان فقال: {أوفوا الكيل ولا تكونوا من المخسرين وزنوا بالقسطاس المستقيم} [الشعراء من 181: 182] ومنه أيضاً التدليس في البيع والشراء بكتمان العيوب بأن يكون ظاهر المبيع خيراً من باطنه ففي "صحيح مسلم": أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر على صبرة طعام فأدخل يده فيها فنالت أصابعه بللا فقال: "ما هذا يا صاحب الطعام؟ " فقال: أصابته السماء (المطر) يا رسول الله، قال: "أفلا جعلته فوق الطعام كي يراه الناس. من غشنا فليس منا"؛ فقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم بأن الغاش ليس بمؤمن حقا فلا يستحق الثواب والنجاة من العقاب وإن كان معه أصل الإيمان الذي يفارق به الكفار وفي الصحيحين عن حكم بن حزم: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: البيعان (البائع والمشتري) بالخيار ما لم يتفرقا، فإن صدقا وبينا بورك في بيعهما، وإن كتما كذبا محقت بركة بيعهما".
‌(৪) তাঁর কর্তব্য হলো মানুষকে আমানত আদায় করার নির্দেশ প্রদান করা এবং মিথ্যা ও খিয়ানতের মতো মন্দ কাজ (منكرات) থেকে নিষেধ করা, আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মাপে ও ওজনে কম দেওয়া, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {ধ্বংস সেইসব মাপে কম দানকারীদের জন্য, যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে, আর যখন তাদের মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয়, তখন তারা কম দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা এক মহাদিবসে পুনরুত্থিত হবে? যেদিন সমস্ত মানুষ রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে দণ্ডায়মান হবে} [আল-মুতাফফিফিন ১: ৬]। আর তিনি আমাদের নিকট তাঁর কওমের সাথে শুআইব-এর বৃত্তান্ত বর্ণনা করেছেন এবং মাপে ও ওজনে ন্যায়বিচার করার প্রতি তাঁদের উৎসাহিত করে বলেছেন: {তোমরা মাপে পূর্ণ দাও এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। আর তোমরা সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো} [আশ-শুআরা ১৮১: ১৮২]। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দোষত্রুটি গোপন করার মাধ্যমে তথ্যগোপন (التدليس), যাতে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের বাহ্যিক দিকটি তার অভ্যন্তরীণ দিকের চেয়ে উত্তম প্রতীয়মান হয়। যেমন সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শস্যের একটি স্তূপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাতে হাত প্রবেশ করালেন, ফলে তাঁর আঙুলগুলো সিক্ততা অনুভব করল। তিনি বললেন: “হে শস্যের মালিক, এটি কী?” সে বলল: “হে আল্লাহর রাসূল! এতে আকাশের পানি (বৃষ্টি) লেগেছে।” তিনি বললেন: “তবে কেন তুমি তা খাদ্যের উপরে রাখলে না যাতে মানুষ তা দেখতে পায়? যে আমাদের ধোঁকা দেয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রতারক ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়; তাই সে সাওয়াব প্রাপ্তি ও আজাব থেকে মুক্তির যোগ্য নয়, যদিও তার নিকট ঈমানের সেই মূল ভিত্তি থাকে যার মাধ্যমে সে কাফিরদের থেকে পৃথক হয়। আর সহীহাইনে হাকাম বিন হাযাম থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ক্রেতা ও বিক্রেতা (বিক্রেতা ও ক্রেতা) যতক্ষণ একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার থাকে। যদি তারা সত্য বলে এবং স্পষ্ট বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত দান করা হয়। আর যদি তারা গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়।”
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن الغش (النجش) وهو أن يزيد في ثمن السلعة من لا يريد شراءها، وذلك مكر وخديعة لمن يشتري.

ومنه تصرية الدابة اللبون (حبس اللبن في ضرعها يوماً أو يومين قبل بيعها).

ومنه تلقى السلع قبل أن تدخل في السوق لما في ذلك من التغرير بالبائع، إذ يشترى منه المشترى بما دون القيمة، ومن أجل هذا يثبت له الخيار في إمضاء البيع أو عدم إمضائه إذا هبط إلى السوق.

ومن ذلك أيضا أن يبيع البائع بسعر للماكس وسعر للمسترسل الذي لا يماكس أو الجاهل بحقيقة السعر. وقد ورد في الأثر: "غبن المسترسل ربا".

وكذلك احتكار ما يحتاج إليه الناس لما روى أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا يحتكر إلا خاطئ" لما في ذلك من ظلم المشترين بحبس الطعام وإغلائه عليهم؛ ولهذا كان الحاكم أن يكره الناس على بيع ما عندهم بقيمة المثل عند الضرورة الملحة، وقد قال العلماء: من اضطر إلى طعام عند غيره أخذه منه بغير اختياره بقيمة مثله، ولو امتنع من بيعه إلا بأكثر من سعره لم يستحق إلا سعره.
প্রতারণার (غش) একটি রূপ হলো দালালি (النجش), যা হলো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যে তা ক্রয় করতে চায় না। আর এটি ক্রেতার সাথে এক প্রকার চাতুরতা ও ধোঁকাবাজি।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো দুধেল পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা (تصرية), যা হলো বিক্রয়ের এক বা দুই দিন পূর্বে পশুর ওলানে দুধ আটকে রাখা।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো বাজারে পৌঁছানোর আগেই পণ্যবাহী কাফেলার সাথে সাক্ষাৎ করে পণ্য ক্রয় করা (تلقي السلع), কারণ এতে বিক্রেতাকে প্রতারিত করার (تغرير) আশঙ্কা থাকে। কেননা ক্রেতা তার থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য ক্রয় করে নেয়। এই কারণে বিক্রেতা যখন বাজারে পৌঁছাবে, তখন তার জন্য ক্রয়-বিক্রয় বহাল রাখা বা বাতিল করার ইখতিয়ার (خيار) সাব্যস্ত হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত এও যে, বিক্রেতা দরদামকারী ব্যক্তির কাছে এক দামে এবং যে দরদাম করে না (مسترسل) অথবা প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞ, তার কাছে ভিন্ন দামে পণ্য বিক্রয় করবে। বর্ণিত আছে যে: "সরল ও অজ্ঞ ক্রেতাকে ঠকানো (غبن المسترسل) হলো সুদের (ربا) নামান্তর।"

অনুরূপভাবে মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুতদারি (احتكار) করাও নিষিদ্ধ। কেননা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পাপী (خاطئ) ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুতদারি করে না।" কারণ এতে খাদ্যদ্রব্য আটকে রেখে দাম বাড়িয়ে দিয়ে ক্রেতাদের ওপর জুলুম করা হয়। এই কারণে তীব্র সংকটের সময় শাসক লোকজনকে তাদের নিকট গচ্ছিত পণ্য ন্যায্য মূল্যে (قيمة المثل) বিক্রয় করতে বাধ্য করতে পারেন। উলামায়ে কেরাম বলেছেন: কেউ যদি অন্যের কাছে থাকা খাদ্যের চরম মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে, তবে সে তার থেকে মালিকের অসম্মতি সত্ত্বেও ন্যায্য মূল্যে তা গ্রহণ করতে পারবে। আর মালিক যদি ন্যায্য মূল্যের চেয়ে বেশি দাম ছাড়া তা বিক্রয় করতে অস্বীকার করে, তবে সে কেবল ন্যায্য মূল্য পাওয়ারই যোগ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌هل للحاكم أن يسعر على الناس في الأسواق

تسعير السلع على ضرين:

(1) أن يكون للناس سعر غال فيأتي بائع فيبيع بأغلى منه. فهذا يصح منعه إغلاء السعر في مذهب مالك، وكذلك يمنع إذا نقصه عند مالك والشافعي وأحمد مجتمعين بما روى أن عمر بن الخطاب مر بحاطب بن أبي بلتعة وهو يبيع زبيبا بالسوق فقال له عمر: إما أن تزيد في السعر وإما أن ترفع من سوقنا.

وسر هذا أنه إذا انفرد واحد منهم بسعر خيف من حصول الشغب والفتنة في السوق، هذا إذا كانت السلعة غير مجلوبة من الخارج، فإن كانت كذلك فلا بأس من البيع بما دون الناس.

وكل هذا فيما عدا الحبوب كالقمح والشعير ونحوهما فإن الجالب لهما يبيع كيف يشاء وإن كثر عدد من رخص السعر، قيل للباقين إما أن تبيعوا كبيعهم وإما أن تخرجوا من السوق.

(2) أن يحدد الحاكم ابتداء سعرا خاصا للناس لا يتجاوزونه فهل مثل هذا يجوز؟ جمهور العلماء على منع ذلك وإليه ذهب مالك، وحجتهم في ذلك أن أبا هريرة روى أن رجلا جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقال: يا رسول الله سعر لنا فقال: "بل ادعوا الله يرفع ويخفض، وإني لأرجو أن ألقى الله وليس لأحد عندي مظلمة".
‌বাজারে জনগণের জন্য মূল্য নির্ধারণ করার অধিকার কি শাসকের আছে?

পণ্যের মূল্য নির্ধারণ দুই প্রকারের হতে পারে:

(১) বাজারে জনগণের জন্য একটি উচ্চমূল্য নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও কোনো বিক্রেতা এসে তার চেয়েও বেশি মূল্যে বিক্রি করা। ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী মূল্য বৃদ্ধি রোধে তাকে এমনটি করতে বাধা দেওয়া বৈধ। একইভাবে, ইমাম মালিক, শাফেঈ এবং আহমাদ একমত যে, যদি কেউ মূল্য কমিয়ে বিক্রি করে তবে তাকেও বাধা দেওয়া হবে। এর স্বপক্ষে বর্ণিত রয়েছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হাতিব বিন আবি বালতাআহ-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি বাজারে কিশমিশ বিক্রি করছিলেন। তখন উমর (রা.) তাকে বললেন: "হয় তুমি মূল্য বৃদ্ধি করো, না হয় আমাদের বাজার থেকে চলে যাও।"

এর রহস্য হলো, যদি বিক্রেতাদের মধ্যে কেউ একজন আলাদা মূল্যে পণ্য বিক্রি করে, তবে বাজারে বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা (فتنة) সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এটি তখন প্রযোজ্য যখন পণ্যটি বাইরে থেকে আমদানিকৃত না হয়। আর যদি পণ্যটি আমদানিকৃত হয়, তবে অন্যদের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করাতে কোনো দোষ নেই।

আর এই সবকিছুই শস্যদানা যেমন গম, বার্লি এবং এই জাতীয় পণ্য ব্যতীত অন্য পণ্যের ক্ষেত্রে। কেননা আমদানিকারক শস্যদানা যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারে। আর যদি মূল্য হ্রাসকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে অবশিষ্ট বিক্রেতাদের বলা হবে, হয় তোমরা তাদের মতো মূল্যে বিক্রি করো অথবা বাজার থেকে চলে যাও।

(২) শাসক প্রারম্ভিক পদক্ষেপ হিসেবে জনগণের জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া যা তারা অতিক্রম করতে পারবে না—এরূপ করা কি বৈধ? সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমগণ এটি নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষপাতি এবং ইমাম মালিকও এই মত পোষণ করেছেন। তাদের দলিল হলো, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী করীম (সা.)-এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে দিন। তখন তিনি বললেন: "বরং তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করো, তিনিই মূল্য বৃদ্ধি করেন ও হ্রাস করেন। আমি আশা করি যে, আমি যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করব, তখন আমার বিরুদ্ধে কারো প্রতি কোনো অবিচার (مظلمة) করার অভিযোগ থাকবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأجازه سعيد بن المسيب وهو رواية أشهب عن مالك خوفاً من إغلاء السعر على الناس، لكن لا يجبر البائع على البيع بالسعر الذي حدد، بل يمنع من البيع بغيره مراعاة لمصلحة البائع والمشتري فلا يمنع البائع الربح ولا يسوغ له ما يضر الناس؛ وأبو حنيفة لا يرى التسعير من السلطان إلا إذا تعلق به ضرر العامة بأن احتكر أحد طعاماً، ورفع أمره إلى القاضي، وعندئذ يأمره ببيع ما فضل من قوته وقوت عياله، فإن لم يمتثل عزره زجراً له، فإن عجز القاضي عن صيانة مصالح المسلمين إلا بالتسعير سعر بمشورة أهل الرأي والبصيرة، فإذا تعدى هذا السعر أحد بعد ذلك أجبره على البيع.

‌‌حكم الفندق والحمام والمخبز

إذا احتاج الناس إلى الانتفاع بالفندق والحمام وكان صاحبهما قد صنعهما للتجارة لكنه أبي أن يدخل الناس إلا بأجر مرتفع قد حدده وهم في حاجة إلى استعمالهما، ألزمه القاضي بإباحة الانتفاع بأجر المثل والتسعير لا وكس ولا شطط، ومثل ذلك الخباز وبائع الدقيق ونحوهما إن أبيا ذلك حتى لا يتضرر الناس.
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব একে বৈধতা দিয়েছেন এবং এটি মালিক থেকে আশহাবের বর্ণনা (رواية), যা মানুষের ওপর মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় করা হয়েছে। তবে বিক্রেতাকে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করা হবে না, বরং বিক্রেতা ও ক্রেতার স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে নির্ধারিত মূল্য ব্যতীত অন্য মূল্যে বিক্রি করতে নিষেধ করা হবে; ফলে বিক্রেতাকে মুনাফা থেকে বঞ্চিত করা হবে না এবং তাকে এমন কিছুর সুযোগও দেওয়া হবে না যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। আবু হানিফা শাসকের পক্ষ থেকে মূল্য নির্ধারণ (التسعير) করা বৈধ মনে করেন না, যদি না এতে জনসাধারণের ক্ষতি সংশ্লিষ্ট থাকে—যেমন কেউ খাদ্যদ্রব্য মজুদ (احتكر) করল এবং বিষয়টি বিচারকের (قاضي) নিকট উত্থাপিত হলো; তখন বিচারক তাকে তার নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় খাদ্যের অতিরিক্ত অংশ বিক্রি করার নির্দেশ দেবেন। যদি সে তা পালন না করে, তবে তিনি তাকে নিবৃত্ত করার জন্য শাস্তিমূলক দণ্ড (تعزير) দেবেন। যদি বিচারক (قاضي) মূল্য নির্ধারণ (التسعير) ব্যতীত মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় অক্ষম হন, তবে তিনি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের (أهل الرأي والبصيرة) পরামর্শক্রমে মূল্য নির্ধারণ (التسعير) করবেন। এরপর যদি কেউ এই নির্ধারিত মূল্য লঙ্ঘন করে, তবে তিনি তাকে বিক্রয় করতে বাধ্য করবেন।

‌‌হোটেল, গণ-গোসলখানা ও রুটির দোকানের বিধান

যদি মানুষের হোটেল ও গণ-গোসলখানা ব্যবহারের প্রয়োজন হয় এবং এগুলোর মালিক ব্যবসার উদ্দেশ্যেই তা নির্মাণ করে থাকে, কিন্তু সে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করে মানুষকে প্রবেশে বাধা দেয় অথচ মানুষের তা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা থাকে; তবে বিচারক (قاضي) তাকে সমমূল্যের পারিশ্রমিক (أجر المثل) এবং সঠিক মূল্য নির্ধারণ (التسعير)—যাতে কোনো লোকসান (وكس) বা অন্যায্য আধিক্য (شطط) নেই—এর ভিত্তিতে তা ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য করবেন। রুটি বিক্রেতা, আটা বিক্রেতা এবং এই জাতীয় অন্যদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে যদি তারা তা করতে অস্বীকার করে, যাতে মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌التدليس في الدين - حكمه

إذا أحدث الشخص بدعة كالمكاء والتصدية في مساجد المسلمين، أو تكذيب أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم التي تلقاها أهل العلم بالقبول، أو رواية الأحاديث المفتراة على النبي صلى الله عليه وسلم، أو إظهار خزعبلات سحرية أو شعوذة يضاهي بها كرامات الأولياء ومعجزات الأنبياء ليصد بها عن سبيل الله؛ وجب على المحتسب منعه وعقوبته على ذلك بالتعزير قولا وفعلا، فإن تمادى جازت عقوبته بقتل أو جلد على حسب ما يرى القاضي من العقوبة.

‌‌أعمال أخرى للمحتسب

للمحتسب أن يمنع الحمالين وأرباب السفن من الإكثار من حمل الدواب والسفن خوفاً من الخطر على الناس والحيوان (مفتش قلم المرور الآن)، وله أن يأمر أرباب المباني المتداعية للسقوط بهدمها خوفا من ضرر متوقع منها على السابلة (عمل مصلحة التنظيم الآن).
দ্বীনের মধ্যে কারচুপি (التدليس) - এর বিধান

যদি কোনো ব্যক্তি মুসলিমদের মসজিদে শিস দেওয়া বা তালি বাজানোর মতো কোনো নব-উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة) প্রবর্তন করে, অথবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন সব হাদিসকে অস্বীকার করে যা ইলম অর্জনকারীগণ (আলেম সমাজ) গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যারোপকৃত (مفتراة) হাদিস বর্ণনা করে, কিংবা জাদুটোনা বা ভেল্কিবাজির মতো ভিত্তিহীন বিষয় প্রদর্শন করে যার মাধ্যমে সে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে ওলিদের কারামাত এবং নবীদের মুজিজার সাথে সাদৃশ্য প্রকাশ করতে চায়; তবে মুহতাসিবের (ধর্মীয় পরিদর্শক) ওপর আবশ্যক হলো তাকে বাধা দেওয়া এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে তাকে বিচারক নির্ধারিত শাস্তি (تعزير) প্রদান করা। যদি সে সীমালঙ্ঘন চালিয়ে যায়, তবে বিচারক শাস্তির বিষয়ে যা সমীচীন মনে করবেন, সেই অনুযায়ী তাকে মৃত্যুদণ্ড বা বেত্রাঘাত করা বৈধ হবে।

মুহতাসিবের অন্যান্য কার্যাবলি

মানুষ ও পশুর প্রাণের ঝুঁকির আশঙ্কায় মুহতাসিব মালবাহী শ্রমিক এবং নৌযানের মালিকদের অতিরিক্ত বোঝা বহন করা থেকে বিরত রাখতে পারেন (যা বর্তমানে ট্রাফিক পরিদর্শকের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত), এবং পথচারীদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি জরাজীর্ণ ও পতনোন্মুখ ভবনের মালিকদের সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিতে পারেন (যা বর্তমানে নগর পরিকল্পনা দপ্তরের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত)।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وله أن يراقب المعلمين في المكاتب وغيرها حتى لا يبالغوا في ضرب الصبية، ولا يعاملوهم بالقسوة (عمل وزارة المعارف الآن).

وله ختم اللحوم والنظر في صلا حيتها للأكل أو عدم صلاحيتها (عمل مصلحة الطب البيطري)، وله أيضا النظر في الأطبخة التي تقدم في الأسواق والفنادق لمعرفة حالها جودةً ورداءةً (عمل وزارة الصحة الآن).

كذلك له النظر في ملاحظة السير في الأسواق والشوارع والأزقة حتى لا تتحصل مضايقة للمارة والسابلة (عمل الشرطة الآن).

وله أن يأمر السقائين بتغظية المياه التي في الروايا بالأكسية حتى لا يعلق عليها غبار ولا أوساخ (مفتش الصحة الآن).

ويطلب إليهم تحديد مقدار الماء الذي يكون في كل قرية وختم عيارها (مصلحة المكاييل والموازين)، وكذلك يطلب إليهم إلا يلبسوا السراويلات القصيرة الضابطة للعورة (بوليس حفظ الآداب).

وقد كان المحتسب أو نائبه يذهب إلى دار العيار (مصلحة المكاييل والموازين) التي تعير فيها الموازين بأسرها، وكذلك الصنجات ويستدعي جميع الباعة إلى هذه الدار ومعهم موازينهم وصنجاتهم ومكاييلهم لتغير بين فترة وأخرى؛ فإن وجد بها نقص استهلكت وأخذت من صاحبها وألزم بشيء نظيرها بالثمن المقدر لها وقد كان ينفق على هذه الدار من الديوان السلطاني
মক্তব ও অন্যান্য স্থানের শিক্ষকদের পর্যবেক্ষণ করার অধিকার তার রয়েছে, যাতে তারা শিশুদের প্রহারে বাড়াবাড়ি না করে এবং তাদের সাথে কঠোর আচরণ না করে (বর্তমানে যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ)।

তার জন্য মাংসের ওপর সীলমোহর প্রদান এবং তা ভক্ষণের উপযোগী কি না তা পরীক্ষা করার অধিকার রয়েছে (বর্তমানে পশুচিকিৎসা বিভাগের কাজ)। এছাড়া বাজার ও হোটেলগুলোতে পরিবেশিত খাবারের গুণগত মান ও অবস্থা যাচাই করার ক্ষমতাও তার রয়েছে (বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ)।

অনুরূপভাবে, বাজার, রাস্তাঘাট এবং অলিগলিতে যাতায়াতের বিষয়টি তদারকি করা তার দায়িত্ব, যাতে পথচারী ও পথিকদের কোনো বিড়ম্বনা বা সংকীর্ণতার সম্মুখীন হতে না হয় (বর্তমানে পুলিশের কাজ)।

তিনি পানি সরবরাহকারীদের নির্দেশ দিতে পারেন যেন তারা মশকের পানি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে, যাতে তাতে ধুলোবালি বা ময়লা না লাগে (বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিদর্শকের কাজ)।

তিনি তাদের থেকে প্রতিটি মশকের পানির পরিমাণ নির্দিষ্ট করা এবং পরিমাপের সঠিকতা যাচাই করে সীলমোহর প্রত্যাশা করেন (মাপ ও ওজন বিভাগ), এবং তাদের এমন সংক্ষিপ্ত পোশাক পরিধান না করার নির্দেশ দেন যা সতর বা লজ্জাস্থানকে সঠিকভাবে আবৃত করে না (শিষ্টাচার রক্ষা পুলিশ)।

মুহতাসিব (জননিরাপত্তা পরিদর্শক) বা তার প্রতিনিধি 'দারুল আয়ার' (পরিমাপ যাচাই কেন্দ্র - বর্তমানে মাপ ও ওজন বিভাগ) পরিদর্শনে যেতেন, যেখানে যাবতীয় দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা যাচাই করা হতো। তিনি সকল বিক্রেতাকে তাদের দাঁড়িপাল্লা, বাটখারা ও মাপকাঠি সহ এই কেন্দ্রে তলব করতেন যাতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেগুলো পুনরায় পরীক্ষা করা যায়; যদি সেগুলোতে কোনো ঘাটতি পাওয়া যেত, তবে তা বাতিল করা হতো এবং মালিকের কাছ থেকে নিয়ে নিয়ে তাকে নির্ধারিত মূল্যে সমমানের সঠিক সরঞ্জাম গ্রহণে বাধ্য করা হতো। এই কেন্দ্রের যাবতীয় ব্যয়ভার সুলতানি দেওয়ান বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হতো।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
(الحكومة) فيما تحتاج إليه من الأصناف كالنحاس والحديد والزجاج، وغير ذلك من الأدوات.

ولا يعول على الوزن إلا إذا أمضاه المحتسب، فإن لم يكن مضبوطاً أعاده إلى دار العيار لضبطه.

هكذا الحال في مصر في العهد الفاطمي، فلما استولى صلاح الدين الأيوبي على السلطة أقرها وجعلها وقفاً على سوق القاهرة؛ ذكر ذلك المقريزي في خططه.

‌‌الوظائف الدينية في عصر الفاطميين

على هذا الصلة التي تقدمت نذكر لك الوظائف الدينية التي كانت في عهد الفاطميين وهي:

(1) قاضي القضاة، وله النظر في الأحكام الشرعية ودور ضرب النقود وتحديد عيارها، وربما جمع له قضاة الديار المصرية والشام والمغرب الأقصى.

(2) داعى الدعاة، وهو يتلو في الرتبة قاضي القضاة ويتزيا بزيه ويلبس كملبسه، وعليه يدرس مذهب أهل البيت (مذهب الشيعة) تعرف بدار العلم، ويأخذ العهد على من ينتقل إلى مذهبهم.
(সরকার) তামা, লোহা ও কাঁচ এবং এই জাতীয় অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করত।

ওজনের ক্ষেত্রে পরিদর্শক (المحتسب) কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর নির্ভর করা হতো না। যদি তা সঠিক (مضبوط) না হতো, তবে পরিমাপের বিশুদ্ধতার জন্য তা মানদণ্ড কেন্দ্রে (دار العيار) ফেরত পাঠানো হতো।

ফাতেমীয় আমলে মিশরের অবস্থা এমনই ছিল। অতঃপর যখন সালাহউদ্দীন আইয়ুবি ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন তিনি তা বহাল রাখেন এবং কায়রোর বাজারের জন্য তা ওয়াকফ হিসেবে নির্ধারণ করেন; মাকরিজি তাঁর খিতাত গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

‌‌ফাতেমীয় যুগের ধর্মীয় পদমর্যাদাসমূহ

পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা ফাতেমীয় আমলের ধর্মীয় পদমর্যাদাসমূহ উল্লেখ করছি, যা হলো:

(১) প্রধান বিচারপতি (قاضي القضاة); শরয়ি বিধানাবলি (الأحكام الشرعية), মুদ্রা তৈরির কারখানা পরিচালনা এবং মুদ্রার মান নির্ধারণের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল। অনেক সময় তাঁর অধীনে মিশর, সিরিয়া ও সুদূর মরক্কোর বিচারপতিদের দায়িত্বও ন্যস্ত করা হতো।

(২) প্রধান দাঈ (داعي الدعاة); পদমর্যাদায় তিনি প্রধান বিচারপতির ঠিক পরেই ছিলেন এবং তাঁর বেশভূষা ও পোশাক-পরিচ্ছদ প্রধান বিচারপতির সদৃশ ছিল। 'দারুল ইলম' নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানে আহলে বাইতের মাজহাব (مذهب) (শিয়া মাজহাব (مذهب)) শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর এবং যারা তাদের মাজহাবে (مذهب) দীক্ষিত হতো, তিনি তাদের কাছ থেকে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
(3) المحتسب، وكان يختار من وجوه العدول وأعيانهم، وإذا خلع عليه قرئ سجله (مرسوم تولتيه) بمصر والقاهرة على المنبر، وتطلق يده في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ويقيم نواباً عنه في القاهرة ومصر، ويجلس جامعي القاهرة ومصر في هذا يوماً وفي الثاني يوماً وهكذا دواليك. وقد تضاف أعمال الحسبة إلى صاحب الشرطة فيهما.

(4) وكالة بيت المال (وزارة المالية) وتسند إلى ذي الهيبة والعدل والرأي الصائب، ويفوض إليه الخليفة بيع ما يرى بيعه من أملاك الدولة، ويجوز التصرف فيه شرعاً، وكذلك عتق المماليك وتزويج الإماء وشراء ما يحتاج إلى شرائه، وإنشاء ما يراد إنشاؤه من السفن وغيرها.

(5) النائب، وهو الذي يتلقى الوفود الواردة على الخليفة ويترل كلا منهم للمكان الذي يليق به، ولا يمكن أحداً من الاجتماع بهم، ويذكر صحاب الباب بهم (كبير الأمناء الآن) ويسعى في إنجاز أعمالهم، وهو الذي يقدمهم إلى الخليفة أو الوزير ويستأذن لهم.

(6) القراء وهم الذين يقرءون بحضرة الخليفة في مجالسه وركوبه في المواكب ويسمون قراء الحضرة، وأحياناً يزيدون على عشرة بآيات تناسب المقام وتقع موقع الاستحسان عد الخليفة والحاضرين مجلسه.
(3) আল-মুহতাসিব: তাকে সমাজের বিশিষ্ট ও ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হতো। যখন তাকে দায়িত্বের সম্মানসূচক পোশাক পরিধান করানো হতো, তখন মিসর ও কায়রোর মিম্বরগুলোতে তার নিয়োগপত্র (নিয়োগ আদেশ) পাঠ করা হতো। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তাকে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করা হতো। তিনি কায়রো ও মিসরে নিজের পক্ষ থেকে নায়েব বা প্রতিনিধি নিয়োগ করতেন। তিনি কায়রো ও মিসরের জামে মসজিদগুলোতে একদিন এখানে ও অন্যদিন ওখানে এভাবে পর্যায়ক্রমে বসতেন। কখনও কখনও এই দুই শহরে হিসবাহর দায়িত্ব পুলিশ প্রধানের দায়িত্বের সাথে যুক্ত করা হতো।

(4) বাইতুল মালের প্রতিনিধিত্ব (অর্থ মন্ত্রণালয়): এই দায়িত্ব এমন ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করা হতো যিনি প্রভাবশালী, ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী। খলিফা তাকে রাষ্ট্রের সেই সকল সম্পদ বিক্রির দায়িত্ব প্রদান করতেন যা বিক্রি করা তিনি সমীচীন মনে করতেন এবং শরিয়তসম্মতভাবে যার নিষ্পত্তি বৈধ ছিল। তদ্রূপ দাসদের মুক্তিদান, দাসীদের বিবাহ দেওয়া, প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় এবং জাহাজ বা অন্য যা কিছু নির্মাণের প্রয়োজন তা সম্পন্ন করার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হতো।

(5) আন-নায়েব (প্রতিনিধি): তিনি খলিফার নিকট আগত প্রতিনিধি দলগুলোকে গ্রহণ করতেন এবং তাদের প্রত্যেককে উপযুক্ত স্থানে অবস্থান করাতেন। তিনি অন্য কাউকেই তাদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দিতেন না। তিনি সাহিবুল বাব-কে (বর্তমান প্রধান প্রটোকল অফিসার) তাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং তাদের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করতেন। তিনিই তাদের খলিফা বা উজিরের নিকট উপস্থাপন করতেন এবং তাদের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করতেন।

(6) আল-কুররা (ক্বারীগণ): তারা খলিফার মজলিসে এবং রাজকীয় শোভাযাত্রার সময় খলিফার উপস্থিতিতে তিলাওয়াত করতেন; তাদেরকে 'কুররাউল হাদরা' (দরবারের ক্বারী) বলা হতো। কখনও কখনও তাদের সংখ্যা দশের অধিক হতো। তারা পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়াত পাঠ করতেন যা খলিফা এবং তার মজলিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের নিকট অত্যন্ত প্রশংসিত ও সমাদৃত হতো।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الوظائف الدينية في الدولة الأيوبية وعصر المماليك بمصر

(1) من له مجلس بالحضرة السلطانية؛ وهم خمسة.

(2) من ليسله مجلس بها؛ ولا حصر لهم.

والأولون هم:

(1) قاضى القضاة، وهو الذي ينفذ الأحكام الشرعية ويفصل بين الخصوم، وينصب النواب فيما يعسر عليه مباشرة أعماله بنفسه من المراكز أو البلاد النائية عنه: ووظيفته أرقى الوظائف الدينية وأعلاها قدراً وأجلها رتبة. وكان القاضي واحداً حتى جاء الظاهر بيبرس سنة (663) هـ فجعل القضاة أربعة على مذاهب الأئمة الأربعة: الشافعي ومالك وأبي حنيفة وأحمد بن حنبل. وأضاف إلى القاضي الشافعي النظر في مال الأيتام والأوقاف؛ وكل واحد من هؤلاء ينصب نواباً عنه يقضون بمذهبه، ويزيد القاضي الشافعي عليهم بأنه ينيب عنه النواب في الوجهين القبلي والبحري ولا يشاركه في ذلك غيره من القضاة.

(2) قاضي العسكر، ويحضر بدار العدل (وزارة الحقانية) مع القضاة المذكورين آنفاً، ويسافر مع السلطان إذا سافر؛ وكان لكل مذهب من المذاهب الثلاثة الشافعي والحنفي والمالكي قاضي عسكر رتبته أقل من الأربعة السابقين.
আইয়ুবী সালতানাত এবং মিশরের মামলুক যুগে ধর্মীয় পদমর্যাদাসমূহ

(১) যাদের সুলতানি দরবারে মজলিস (مجلس) বা বসার সুযোগ ছিল; তাঁরা সংখ্যায় পাঁচজন।

(২) যাদের সেখানে মজলিস (مجلس) ছিল না; তাঁদের সংখ্যা অগণিত।

প্রথমোক্তরা হলেন:

(১) প্রধান বিচারপতি (قاضى القضاة), তিনি শরয়ি বিধানসমূহ কার্যকর করতেন এবং বিবাদীদের মধ্যে মীমাংসা করতেন। যেসব প্রশাসনিক কেন্দ্র বা দূরবর্তী জনপদে সরাসরি কাজ পরিচালনা করা তাঁর জন্য দুরূহ হতো, সেখানে তিনি প্রতিনিধি (نواب) নিয়োগ করতেন। তাঁর পদটি ছিল ধর্মীয় পদমর্যাদাসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, মর্যাদাপূর্ণ এবং উচ্চতর স্তরের। ৬৬৩ হিজরি সাল পর্যন্ত বিচারক (قاضي) একজনই থাকতেন; অতঃপর সুলতান জহির বাইবার্স চার ইমামের মাযহাব অনুযায়ী চারজন বিচারক নিযুক্ত করেন: শাফিঈ, মালিকি, হানাফি ও হাম্বলি। তিনি শাফিঈ বিচারকের কর্তব্যের সাথে এতিমদের সম্পদ এবং ওয়াকফ (أوقاف) তত্ত্বাবধানের দায়িত্বটিও যুক্ত করে দেন। এঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ মাযহাব অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি (نواب) নিয়োগ করতেন। তবে শাফিঈ বিচারক অন্যদের তুলনায় এই অতিরিক্ত অধিকার রাখতেন যে, তিনি উত্তর ও দক্ষিণ মিশরে তাঁর প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারতেন এবং এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিচারক তাঁর অংশীদার হতেন না।

(২) সেনাবাহিনীর বিচারক (قاضي العسكر), তিনি পূর্বোক্ত বিচারকদের সাথে বিচারালয়ে (دار العدل) উপস্থিত থাকতেন এবং সুলতান যখন সফরে বের হতেন তখন তাঁর সফরসঙ্গী হতেন। শাফিঈ, হানাফি এবং মালিকি—এই তিন মাযহাবের প্রত্যেকের জন্য একজন করে সেনাবাহিনীর বিচারক (قاضي العسكر) নির্ধারিত ছিল, যাঁদের পদমর্যাদা পূর্বোক্ত চার বিচারকের তুলনায় কম ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
(3) وكيل بيت المال (وزير المالية)، وعمله النظر فيما يتعلق بمبيعات بيت المال ومشترياته من ضياع وعقار، ولا يولي هذه الوظيفة إلا أهل العلم والدين. ومجلسه بدار العدل، وتارة يكون دون المحتسب وأخرى فوقه بحسب رفع قدر كل منهما في نفسه.

(4) المحتسب، وعمله الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في المعايش والصناعات، والأخذ على يد الخارج عن طريق الصلاح في معيشته وصناعته.

وكان بالحضرة السلطانية محتسبان أحدهما: بالقاهرة وهو أعظمهما قدراً وأرفعهما شأنا، وله الحكم وتولية النواب بالوجهين القبلي والبحري خلا الإسكندرية فإن لها محتسباً خاصاً.

وثانيهما: بالفسطاط، وهو دون الأول مرتبة، وله النظر في الوجه القبلي.

والذي يجلس منها بدار العدل (وزارة الحقانية) أيام المواكب والمواسم هو محتسب القاهرة فقط ومرتبته دون وكيل بيت المال، وربما جلس قبله إذا كان أرفع منه بعلم أو فضل.

ووظائف الصنف الثاني إما تكون مختصة بشخص واحد أو غير مختصة وأرباب الأولى هم:

(1) نقيب الأشراف، وعمله النظر في أحوال الأشراف من أولاد على من فاطمة البتول بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم بالفحص عن
(৩) বায়তুল মালের প্রতিনিধি (বা অর্থমন্ত্রী), তার কাজ হলো বায়তুল মালের স্থাবর সম্পত্তি ও জমিজমার ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়সমূহ তদারকি করা। কেবল ইলম ও দ্বীনদারির অধিকারী ব্যক্তিদেরই এই পদে নিযুক্ত করা হতো। তার বসার স্থান ছিল 'দারুল আদল'-এ; ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও উচ্চমর্যাদার ভিত্তিতে কখনো তার অবস্থান মুহতাসিবের নিচে হতো, আবার কখনো তার উপরে।

(৪) মুহতাসিব, তার দায়িত্ব হলো জীবনযাত্রা ও শিল্প-পেশার ক্ষেত্রে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা এবং জীবিকা ও পেশার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হয় তাকে প্রতিহত করা।

সুলতানি দরবারে দুইজন মুহতাসিব নিযুক্ত থাকতেন। তাদের একজন: কায়রোতে, যিনি ছিলেন উভয়ের মধ্যে অধিক প্রভাবশালী ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আলেকজান্দ্রিয়া ব্যতীত উচ্চ মিশর এবং নিম্ন মিশর উভয় অঞ্চলের বিচারকার্য পরিচালনা এবং প্রতিনিধি নিযুক্ত করার ক্ষমতা তার হাতে ন্যস্ত ছিল; কারণ আলেকজান্দ্রিয়ার জন্য একজন স্বতন্ত্র মুহতাসিব ছিলেন।

দ্বিতীয়জন: ফুসতাতে অবস্থান করতেন, যার পদমর্যাদা ছিল প্রথমজনের নিচে এবং তিনি উচ্চ মিশর অঞ্চলের বিষয়াদি তদারকি করতেন।

রাষ্ট্রীয় শোভাযাত্রা ও উৎসবের দিনগুলোতে যিনি 'দারুল আদল' (ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়)-এ বসতেন, তিনি কেবল কায়রোর মুহতাসিব। তার পদমর্যাদা বায়তুল মালের প্রতিনিধির নিচে ছিল, তবে ইলম কিংবা ফযিলতের দিক থেকে তিনি শ্রেষ্ঠ হলে অনেক সময় তার আগেই বসতেন।

দ্বিতীয় শ্রেণীর পদসমূহ হয় নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত ছিল অথবা অনির্ধারিত ছিল। প্রথমোক্ত শ্রেণীর পদাধিকারীগণ হলেন:

(১) নাকীবুল আশরাফ, তার কাজ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতেমা আল-বাতুলের বংশধর তথা আলী (রা.)-এর সন্তানদের অবস্থা তদারকি করা এবং তাদের বংশ পরিচয় অনুসন্ধান করা...