(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: -)
سفر السعادة للفيروزابادي   (الفيروزآبادي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: من هدي الرسول صلى الله عليه وسلم المسمى «سفر السعادة»

المؤلف: أبو طاهر مجد الدين محمد بن يعقوب الفيروزابادي (ت 816 هـ)

ضبط وتحقيق: أحمد عبد الرحيم السايح، عمر يوسف حمزة

الناشر: مركز الكتاب للنشر، القاهرة - جمهورية مصر العربية

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 279

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 ربيع الآخر 1440

আল-ফিরোজাবাদীর সিফরুস সাআদাহ   (আল-ফিরোজাবাদী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াত সংকলন, যার নাম «সিফরুস সাআদাহ»

লেখক: আবু তাহের মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদী (মৃত্যু ৮১৬ হি.)

সম্পাদনা ও তাহকিক: আহমাদ আব্দুর রহিম আস-সায়িহ, ওমর ইউসুফ হামযাহ

প্রকাশক: মার্কাজুল কিতাব পাবলিকেশন্স, কায়রো - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৯

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মার্কাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজিহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ রবিউস সানি ১৪৪০

(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: -)
من هدي الرسول صلى الله عليه وسلم المسمى سفر السعادة

 

تأليف

العلامة الشيخ

أبي طاهر مجد الدين محمد بن يعقوب الفيروزابادي

(المتوفى سنة 816 هـ)

 

ضبط وتحقيق

الدكتور: أحمد عبد الرحيم السايح

الدكتور: عمر يوسف حمزة
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়েত বা দিকনির্দেশনা থেকে সংকলিত, যার নাম সফরুস সায়াদাহ (সৌভাগ্যের সফর)

 

রচনা করেছেন

আল্লামা শায়খ

আবু তাহের মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি

(মৃত্যু ৮১৬ হিজরি)

 

সম্পাদনা ও তাহকিক

ডক্টর আহমদ আব্দুর রহিম আল-সায়েহ

ডক্টর উমর ইউসুফ হামজা
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة

 

الطبعة الأولى

1417 هـ - 1997 م

 

مركز الكتاب للنشر

مصر الجديدة: 21 شارع الخليفة المأمون - القاهرة

ت: 2908203 - 2906250 - فاكس: 2906250

مدينة نصر: 71 شارع ابن النفيس - المنطقة السادسة - ت: 2723398
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

 

মার্কাজুল কিতাব প্রকাশনী

মাসরুল জাদিদাহ: ২১ খালিফাতুল মামুন সড়ক - কায়রো

টেলিফোন: ২৯০৮২০৩ - ২৯০৬২৫০ - ফ্যাক্স: ২৯০৬২৫০

মদিনাতুন নাসর: ৭১ ইবনুন নাফিস সড়ক - ষষ্ঠ অঞ্চল - টেলিফোন: ২৭২৩৩৯৮
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمة

الحمد لله رب العالمين. الذي هدى السالكين طريق الحق إلى اليقين، وفتح أمام عباده أبواب الرحمة، ووهب الإنسان ما به أشرقت على النفس أسرار الوجودات.

والصلاة والسلام على محمد رسول الله المبعوث رحمة للعالين، وهداية للناس أجمعين. قدوة أهل الحق، والباحثين عن اليقين.

أما بعد

فإن من شأن النابهين، والباحثين عن العلوم، والدارسين للذخائر الإسلامية، وما تركه العلماء المسلمون، وأئمة الهدى. أن يقفوا على هذه الأعمال، التى عمرت بها قلوب، وجاهدت في سبيلها نفوس.

وإن الأمة الإسلامية، وهى تتطلع إلى مجد مشرق - إن شاء الله - لابد وأن تخطو وهي على بصيرة من أمرها. فتنظر إلى ما خلفه الأسلاف، من تراث منير. في ذكر حال رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل نزول الوحي، وبعد نزوله: من عبادة، ومعاملة، ومعالجة أمراض القلوب، ومداواة الأجسام.

لقد أضاء الرسول صلوات الله وسلامه عليه، كل الجوانب، بسلوكه، وخلقه، وعمله، وتوجيهاته. لأنه قدوة أهل الحق. قال تعالى في سورة الأحزاب: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب: 21].

ولهذا انطلق العلماء، وأئمة الخير، يبحثون في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وشمائله وأحواله، ويؤلفون فيها المصنفات الشامخة. لتكون العلامات الضيئة في الطريق.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। যিনি সত্যের পথিকদের হকের পথ থেকে নিশ্চিত বিশ্বাসের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের সামনে রহমতের দ্বারসমূহ উন্মোচন করেছেন, আর মানুষকে এমন কিছু দান করেছেন যার মাধ্যমে আত্মার ওপর অস্তিত্বের রহস্যসমূহ উদ্ভাসিত হয়েছে।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর, যাকে জগতসমূহের জন্য রহমত এবং সকল মানুষের জন্য হেদায়েত স্বরূপ পাঠানো হয়েছে। তিনি সত্যপন্থীদের এবং নিশ্চিত সত্যের সন্ধানীদের আদর্শ।

অতঃপর

নিশ্চয়ই প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিবর্গ, জ্ঞানান্বেষী এবং ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডার ও মুসলিম মণীষী ও হেদায়েতের ইমামগণ যা রেখে গিয়েছেন সে সবের পাঠকদের বৈশিষ্ট্য হলো—এইসব কর্মের স্বরূপ উপলব্ধি করা, যার মাধ্যমে অন্তরসমূহ আবাদ হয়েছে এবং যার পথে আত্মাসমূহ প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

আর ইসলামী উম্মাহ যখন এক উজ্জ্বল গৌরবের প্রত্যাশা করছে—ইনশাআল্লাহ—তখন তাকে অবশ্যই দূরদর্শিতার সাথে অগ্রসর হতে হবে। তাই তাকে পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া আলোকিত ঐতিহ্যের দিকে তাকাতে হবে। যেখানে ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ও পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে: তাঁর ইবাদত, লেনদেন, অন্তরের ব্যাধির চিকিৎসা এবং দেহের আরোগ্য বিধানের ক্ষেত্রে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আচরণ, চরিত্র, কর্ম এবং দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সকল দিক আলোকিত করেছেন। কারণ তিনি সত্যপন্থীদের আদর্শ। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আহজাবে ইরশাদ করেছেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে (২১)} [আল-আহজাব: ২১]।

এ কারণেই উলামায়ে কেরাম এবং কল্যাণের ইমামগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত, তাঁর বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা সম্পর্কে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেছেন এবং এই বিষয়ে সুউচ্চ গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন, যাতে তা পথের উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৪)
وأمة تملك هذا الرصيد الضخم، من سيطرة الرسول صلى الله عليه وسلم وسلوكه، وأحواله، وعمله .. لابد وأن تعود إلى رشدها، ورشادها. عندما تتحسس طريق الرسول، وتسترشد فيه الرشاد والحكمة.

ويعلم الله سبحانه وتعالى أنما الأمة الإسلامية - وقد تكالبت عليها قوى مسعورة - في أشد الحاجة، إلى أن تعود إلى سيرة الرسول صلوات الله وسلامه عليه، وعلى آله وصحبه.

فكان لابد من مطالعة السيرة، في أصولها التي تفيض بالعطاء والتجديد، وتأخذ بنا إلى طريق النجاة والفلاح.

إننا مطالبون بأن نقتدي برسول الله صلى الله عليه وسلم، لنتمكن من جني ثمار هذا الاقتداء، الذي يأخذ بالمسلمين إلى الجد الذي نحن في أشد الحاجة إليه.

ولا يخفى أن الانتكاسات التي أصابت المجتمعات الإسلامية، ما كانت إلا نتيجة حتمية، لابتعاد المجتمعات، عن السلوك العملي، الذي كان عليه الرسول، صلوات الله وسلامه عليه.

وإن أمة تخطو على مجد مشرقي، لابد وأن تعود إلى سيرة رسولها، تلتقط منها ما يناسبها لتعيش حركة حية، ووعيًا تامًا.

وإن الصحوة العملية التي تنتشر في المجتمعات الإسلامية، لابد وأن يصاحبها وعي، بحركة الرسول صلى الله عليه وسلم، حتى لا تتعرض هذه الصحوة لهزات الأعداء والعملاء، الذين يتربصون لكل عمل إسلامي، يأخذ بالمسلمين إلى طريق الوحدة والتضامن والأخوة.

حقا: إن كتاب: (سفر السعادة) للعلامة: الفيروزابادي، من الكتب النافعة المفيدة، والتي نحن في أشد الحاجة إلى التداوي بها، والاطلاع عليها.
আর যে উম্মত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্তৃত্ব, তাঁর আচার-আচরণ, তাঁর অবস্থা এবং তাঁর কর্মের এই বিশাল ভাণ্ডারের অধিকারী, তাকে অবশ্যই তার সুবুদ্ধি ও সঠিক পথের দিকে ফিরে আসতে হবে; যখন সে রাসূলের পথকে উপলব্ধি করবে এবং তাতে সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রজ্ঞা অন্বেষণ করবে।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানেন যে, ইসলামী উম্মত—যার ওপর হিংস্র শক্তিগুলো হামলে পড়েছে—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের সীরাতের দিকে ফিরে আসার অত্যন্ত মুখাপেক্ষী।

তাই সীরাতকে তার সেই মূল উৎসসমূহ থেকে পাঠ করা অপরিহার্য ছিল, যা দান ও নবায়নে সমৃদ্ধ এবং যা আমাদের মুক্তি ও সফলতার পথে নিয়ে যায়।

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণে আদিষ্ট, যাতে আমরা এই অনুকরণের সুফল ভোগ করতে পারি, যা মুসলমানদের সেই নিষ্ঠার দিকে নিয়ে যাবে যার আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন।

এটি স্পষ্ট যে, মুসলিম সমাজগুলোর ওপর যে বিপর্যয়গুলো নেমে এসেছে, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাস্তব কর্মপন্থা থেকে সমাজগুলোর দূরে সরে যাওয়ারই এক অনিবার্য পরিণতি।

আর যে উম্মত এক উজ্জ্বল গৌরবের দিকে অগ্রসর হতে চায়, তাকে অবশ্যই তার রাসূলের সীরাতের দিকে ফিরে আসতে হবে এবং সেখান থেকে নিজের উপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে যাতে সে এক প্রাণবন্ত কর্মতৎপরতা ও পূর্ণ সচেতনতার সাথে টিকে থাকতে পারে।

আর মুসলিম সমাজগুলোতে যে জাগরণ ছড়িয়ে পড়ছে, তার সাথে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা থাকতে হবে; যাতে এই জাগরণ শত্রু ও তাদের অনুচরদের ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়, যারা প্রতিটি ইসলামী কর্মতৎপরতার বিরুদ্ধে ওঁত পেতে থাকে যা মুসলমানদের ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের পথে পরিচালিত করে।

প্রকৃতপক্ষে, আল্লামা ফিরোজাবাদীর ‘সিফরুস সাআদাহ’ গ্রন্থটি এমন একটি উপকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থ, যার মাধ্যমে প্রতিকার লাভ করা এবং যা অধ্যয়ন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৫)
لقد دفع بنا إلى تحقيق هذا الكتاب القيم، ما رأيناه من حاجة المجتمعات الإسلامية، إلى رؤية هذا النبراس المضئ، الذي يحمل مشاعل النصر، والسداد لمن أراد النصر والسداد.

لقد اطلعنا على مخطوطات الكتاب، لنعود إلى الأصول الأصلية، وكان لهذا فائدته في تصحيح الكثير من العبارات.

وعملنا قدر الإمكان، على تخريج الآيات القرآنية، والأحاديث النبوية الشريفة، وهذا كله اقتضى جهدا، ومعايشة تامة، لأمهات كتب التفسير، والأحاديث النبوية، والمعاجم اللغوية.

ولا يخفى: أن الرحلة التي قضيناها، في تحقيق كتاب "سفر السعادة" كانت وبحمد الله تعالى رحلة علمية رائعة، رغم ما لقينا فيها من صبر، وجهد.

وإن المرء الذي يقلب بطون أمهات الكتب، باحثًا، ودارسًا، يجد نفسه في قمة السعادة، لأنه يعثر على كنوز دفينة، من حقها أن تبرز إلى القارئين، والدارسين، والباحثين. ليفيدوا منها فيما يقولون، ويتناولون.

ومن شأن الأمة الإسلامية، وهي تتطلع إلى حضارة تربط بين ماض أصيل، وحاضر يحتاج إلى جهود. أن تعرف هذه الكتب الراسخة.

نسأل الله عز وجل أن ينفع به. وهو ولي التوفيق

الدكتور/ أحمد عبد الرحيم السايح

الدكتور/ عمر يوسف حمزة
এই মূল্যবান গ্রন্থটি সম্পাদনা করার পেছনে আমাদের যে বিষয়টি তাড়িত করেছে তা হলো মুসলিম সমাজসমূহের প্রয়োজনীয়তা; তারা এই প্রদীপ্ত মশালটি প্রত্যক্ষ করতে চায়, যা বিজয় ও সঠিক পথের মশাল বহন করে—সেই ব্যক্তির জন্য যে বিজয় ও সঠিক পথ প্রত্যাশা করে।

আমরা মূল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি, যা বহু বাক্য ও শব্দ সংশোধনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

আমরা সাধ্যমতো কুরআনের আয়াত এবং হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ করার কাজ করেছি। এই পুরো প্রক্রিয়াটির জন্য তাফসিরের মূল গ্রন্থসমূহ, হাদিস এবং ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রচুর শ্রমের প্রয়োজন হয়েছে।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, "সফরুস সাআদাত" গ্রন্থটি সম্পাদনায় আমরা যে সময় অতিবাহিত করেছি, তা মহান আল্লাহর প্রশংসায় এক চমৎকার ইলমি সফর ছিল; যদিও এতে প্রচুর ধৈর্য ও পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়েছে।

একজন ব্যক্তি যখন গবেষক ও শিক্ষার্থী হিসেবে মূল গ্রন্থসমূহের পৃষ্ঠা উল্টান, তখন তিনি নিজেকে পরম সুখের শিখরে খুঁজে পান; কারণ তিনি এমন সব লুকায়িত ধনভাণ্ডার খুঁজে পান যা পাঠক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সামনে প্রকাশ পাওয়া একান্ত প্রয়োজন, যাতে তারা তাদের কথা ও আলোচনায় তা থেকে উপকৃত হতে পারেন।

মুসলিম উম্মাহ যখন এমন এক সভ্যতার প্রত্যাশা করছে যা গৌরবোজ্জ্বল অতীতের সাথে বর্তমানের প্রচেষ্টাকে সংযুক্ত করবে, তখন তাদের জন্য এই সুপ্রতিষ্ঠিত গ্রন্থগুলো সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। আর তিনিই সফলতাদাতা।

ডক্টর আহমাদ আব্দুর রাহিম আস-সায়িহ

ডক্টর উমর ইউসুফ হামযাহ
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفيروزآبادي

الفيروزآبادي، مؤلف كتاب (سفر السعادة) علم من الأعلام المشهورين، الذين ظهروا في أوائل القرن الثامن الهجرى. في وقت كانت الحاجة إليهم ماسة. وهو الإمام الشيخ: أبو طاهر محمد، بن يعقوب، بن إبراهيم، بن عمر، بن أبي بكر، بن محمود، بن إدريس، بن فضل الله، بن الشيخ أبي إسحاق إبراهيم بن علي، بن يوسف قاضي القضاة مجد الدين الصديقي الفيروزآبادي الشيرازي، اللغوي.

قال الحافظ ابن حجر: (وكان يرفع نسبة إلى أبي بكر الصديق رضي الله عنه، ولم يكن مرفوعًا فيما قاله .... ).

ولد الفيروزآبادي (بكارزين) سنة 729 من هجرة الرسول صلى الله عليه وسلم ونشأ بكارزين. وفيها حفظ القرآن الكريم وهو ابن سبع سنين. وكان - كما يحكى عنه -: سريع الحفظ. ويروى أنه قال: (لا أنام حتى أحفظ مائتي سطر).

وانتقل من (كارزين) إلى (شيراز) وهو ابن ثمان سنين، وأخذ العلم عن والده، وعن العلامة عبد الله بن محمود، وغيرهما من علماء (شيراز) وانتقل إلى العراق. فدخل (واسط) و (بغداد). وأخذ عن قاضيها، ومدرس المدرسة النظامية بها: الشرف عبد الله بن بكتاس. وجال البلاد الشرقية والشامية، ودخل بلاد الروم، والهند، وسافر إلى مصر، وأخذ عن علمائها، ولقى الجمع الغفير من أعيان الفضلاء. وأخذ عنهم علمًا وفيرًا.

والفيروزآبادي، كان بارعًا في الفنون العلمية المختلفة، ولاسيما اللغة العربية، فقد برز فيها، وفاق الأقران.

تقول المعاجم عنه: (لقد اطلع على النوادر، وجود الخط، وتوسع في الحديث، والتفسير).
আল-ফিরোজাবাদি

'সাফারুস সাআদাহ' গ্রন্থের রচয়িতা আল-ফিরোজাবাদি হলেন অষ্টম হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে আবির্ভূত হওয়া একজন প্রসিদ্ধ ও খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। এমন এক সময়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন যখন তাঁদের মতো ব্যক্তিত্বদের বিশেষ প্রয়োজন ছিল। তিনি হলেন ইমাম শাইখ আবু তাহের মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম বিন উমর বিন আবি বকর বিন মাহমুদ বিন ইদ্রিস বিন ফজলুল্লাহ বিন শাইখ আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলি বিন ইউসুফ, প্রধান বিচারক মাজদুদ্দিন সিদ্দিকি ফিরোজাবাদি শিরাজী, যিনি একজন বিশিষ্ট ভাষাবিদ।

হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: (তিনি তাঁর বংশপরম্পরা আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে যুক্ত করতেন, তবে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বংশপরম্পরার পূর্ণ ধারা সংরক্ষিত ছিল না...)।

ফিরোজাবাদি ৭২৯ হিজরিতে কারজিনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। সাত বছর বয়সে তিনি সেখানেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন। তাঁর সম্পর্কে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি অত্যন্ত দ্রুত মুখস্থ করতে পারতেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন: (আমি দুইশত লাইন মুখস্থ না করে ঘুমাতাম না)।

আট বছর বয়সে তিনি কারজিন থেকে শিরাজ-এ চলে যান এবং তাঁর পিতা ও আল্লামা আবদুল্লাহ বিন মাহমুদসহ শিরাজী অন্যান্য আলেমদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন। এরপর তিনি ইরাকে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি ওয়াসিত ও বাগদাদে প্রবেশ করেন। তিনি বাগদাদের বিচারক এবং সেখানকার নিজামিয়া মাদরাসার শিক্ষক শরাফ আবদুল্লাহ বিন বকতাস-এর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি প্রাচ্যের দেশসমূহ এবং শাম (সিরিয়া) অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি রোম ও ভারত সফর করেন এবং মিশরে গমন করে সেখানকার আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি বহু সংখ্যক বিশিষ্ট ও প্রথিতযশা মনিষীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিকট থেকে প্রভূত ইলম অর্জন করেন।

ফিরোজাবাদি বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, বিশেষ করে আরবি ভাষায় তিনি বিশেষ বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।

অভিধানসমূহ তাঁর সম্পর্কে বলে: (তিনি দুর্লভ বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তাঁর হস্তাক্ষর ছিল উৎকৃষ্ট এবং তিনি হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রে ব্যাপক পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন)।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৮)
وبذل جهدًا في خدمة السلطان: (أبا يزيد بن السلطان مراد العثماني) وقرأ عليه، وأكسبه مالًا عريضًا، وجاها عظيمًا. ثم دخل (زبيد) في رمضان سنة 796 هـ. فتلقاه الملك (الأشرف إسماعيل)، وبالغ في إكرامه، وصرف له ألف دينار، وأمر صاحب (عدن) أن يجهز بألف دينار أخرى، وتولى قضاء اليمن كله.

واستمر القاضي الفيروزآبادي بزبيد عشرين سنة، وقدم مكة مرارًا. وجاور بها، وأقام بالمدينة المنورة، وبالطائف، وعمل بها مآثر حسنة. وما دخل بلدة إلا أكرمه أهلها ومتوليها.

وبالغ في تعظيمه وتقديره: شاه منصور بأن شاه شجاع في (تبريز). والأشرف صاحب مصر، وأبي يزيد صاحب الروم، وابن إدريس في بغداد، وتيمورلنك، وغيرهم.

وقد كان (تيمورلنك) مع عتوه، يبالغ في تعظيم الفيروزآبادي.

وكان العلامة (الفيروزآبادي) واسع الرواية. سمع من محمد بن يوسف الزرندي المدني صحيح البخاري. وسمع من ابن الخباز، وابن قيم الجوزية، وابن الحموي، وأحمد بن عبد الرحمن المرادوي، وأحمد بن مظفر النابلسي.

والتقى بالشيخ السبكي، وولده: التاج، ويحيى بن علي الحداد، وغيرهم بدمشق. وفي القدس أخذ من العلائي، والفارقي، والعز بن جماعة، وابن جهيل، وغيرهم كثير، وفي شيوخه كثرة.

وللفيروزآبادي تصانيف كثيرة، كلها نافعة، وفائقة، ومفيدة .. منها:

- (القاموس المحيط) وهو كتاب عجيب في موضوعه.

- (بصائر ذوي التمييز في لطائف الكتاب العزيز) طبعة المجلس الأعلى للشئون الإسلامية بالقاهرة منذ سنوات، محققا في ست مجلدات.

- (تنوير المقياس في تفسير ابن عباس) طبع بإدارة التراث الإسلامي بدولة قطر منذ عدة سنوات.
তিনি সুলতান (উসমানীয় সুলতান মুরাদের পুত্র আবু ইয়াজিদ)-এর সেবায় যথেষ্ট প্রচেষ্টা ব্যয় করেন এবং তাঁকে পাঠ দান করেন; এর বিনিময়ে তিনি বিপুল সম্পদ ও মহান মর্যাদা অর্জন করেন। অতঃপর তিনি ৭৯৬ হিজরির রমজান মাসে (জাবিদ) শহরে প্রবেশ করেন। বাদশাহ (আল-আশরাফ ইসমাইল) তাঁকে অভ্যর্থনা জানান এবং তাঁকে সম্মান প্রদর্শনে কোনো ত্রুটি করেননি। তিনি তাঁকে এক হাজার দিনার প্রদান করেন এবং (আদন)-এর শাসনকর্তাকে আরও এক হাজার দিনার প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি সমগ্র ইয়েমেনের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কাজি ফিরোজাবাদী জাবিদে বিশ বছর অবস্থান করেন এবং বারবার মক্কায় গমন করেন। সেখানে তিনি অবস্থান (জাওয়ার) করেন। এছাড়াও তিনি মদিনা মুনাওয়ারা ও তায়েফে অবস্থান করেন এবং সেখানে উত্তম কীর্তি রেখে যান। তিনি যে জনপদেই প্রবেশ করেছেন, সেখানের অধিবাসী ও প্রশাসকগণ তাঁকে পরম শ্রদ্ধায় বরণ করে নিয়েছেন।

তাবরিজে শাহ শুজার পুত্র শাহ মনসুর, মিশরের অধিপতি আল-আশরাফ, রুমের অধিপতি আবু ইয়াজিদ, বাগদাদে ইবনে ইদ্রিস, তৈমুর লং এবং আরও অনেকে তাঁর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করতেন।

তৈমুর লং অত্যন্ত উদ্ধত ও কঠোর প্রকৃতির হওয়া সত্ত্বেও ফিরোজাবাদীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে অতিশয় যত্নশীল ছিলেন।

আল্লামা ফিরোজাবাদী বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আজ-জারান্দি আল-মাদানির নিকট সহিহ বুখারি শ্রবণ করেন। এছাড়াও তিনি ইবনুল খাব্বাজ, ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ, ইবনুল হামাউয়ি, আহমদ বিন আবদুর রহমান আল-মুরাদাউয়ি এবং আহমদ বিন মুজাফফর আন-নাবুলসির নিকট থেকে পাঠ গ্রহণ ও শ্রবণ করেন।

দামেস্কে তিনি শায়খ সুবকি এবং তাঁর পুত্র তাজ, ইয়াহিয়া বিন আলী আল-হাদ্দাদ ও অন্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। জেরুজালেমে তিনি আলাঈ, ফারিকি, ইজ্জ বিন জামায়াহ, ইবনে জুহাইল এবং আরও অনেকের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন; তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা অনেক।

ফিরোজাবাদীর অসংখ্য সংকলন রয়েছে, যার প্রতিটিই অত্যন্ত উপকারী, অনন্য এবং জ্ঞানগর্ভ। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- (আল-কামুস আল-মুহিত), এটি স্বীয় বিষয়ে একটি বিস্ময়কর গ্রন্থ।

- (বাসাইরু জাবিত তাময়িজ ফি লাতাইফিল কিতাবিল আজিজ), যা কায়রোর ইসলামি বিষয়ক উচ্চতর পরিষদ কর্তৃক কয়েক বছর আগে ছয় খণ্ডে সম্পাদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

- (তানভিরুল মিকইয়াস ফি তাফসিরি ইবনি আব্বাস), যা কাতার রাষ্ট্রের ইসলামি ঐতিহ্য বিভাগ কর্তৃক কয়েক বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৯)
- (تفسير فاتحة الإهاب في تفسير فاتحة الكتاب).

- (الدر النظيم المرشد إلى مقاصد القرآن الكريم).

- (حاصل كورة الخلاص في فضائل سورة الإخلاص).

- (عدة الحكام في شرح عمدة الأحكام).

- (المغانم المطابة، في معالم طابة).

- (سفر السعادة).

وغير ذلك من مطول ومختصر. لقد ترك للمكتبة الإسلامية عشرات الكتب والرسائل في مختلف العلوم والفنون.

وقد توفي رحمه الله بمدينة (زبيد) في ليلة الثلاثاء الموفية عشرين من شوال سنة سبع أو ست عشرة وثمانمائة من الهجرة، ودفن بتربة الشيخ إسماعيل الجبرتي، أسكنه الله فسيح جناته.

* * *
- (তাফসীরু ফাতিহাতিল ইহাব ফী তাফসীরি ফাতিহাতিল কিতাব)।

- (আদ-দুররুন নাজিমুল মুরশিদ ইলা মাকাসিদিল কুরআনিল কারিম)।

- (হাসিলু কুরাতিল খালাস ফী ফাদায়িলি সুরাতিল ইখলাস)।

- (উদ্দাতুল হুক্কাম ফী শারহি উমদাতিল আহকাম)।

- (আল-মাগানিমুল মুতাবা ফী মাআলিমি তাবা)।

- (সাফারুস সাআদাহ)।

এরূপ আরও অনেক বিশদ ও সংক্ষিপ্ত রচনা রয়েছে। তিনি ইসলামি গ্রন্থাগারের জন্য বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখায় বহু গ্রন্থ ও পুস্তিকা রেখে গেছেন।

তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আটশ ষোলো বা সতেরো হিজরি সনের বিশে শাওয়াল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জাবিদ শহরে ইন্তেকাল করেন এবং শেখ ইসমাইল আল-জাবারতির সমাধিস্থলে সমাহিত হন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানসমূহে স্থান দান করুন।

* * *
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تقديم كتاب "سفر السعادة"

كتاب (سفر السعادة) للفيروزآبادي. كتاب جليل القدر. عظيم الفائدة. جعله صاحبه محتويا على فاتحة، وأبواب تحتوي على فصول.

وقد وضعه (الفيروزآبادي) انطلاقا من قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "الدين النصيحة" فكان أن لجأ إلى امتثال إجابة ملتمس كبير، من الذرية المقدسة النبوية ونبعة من الدوحة المكرمة المصطفوية، في إثبات أبواب، ثبتت في صحاح الأخبار المقدسة، من الطريقة الأنيقة المحمدية، والسنة السنية النبوية.

يقول الفيروزآبادي: (فأجرينا القلم بها - بالسنة - لتكون دستورًا لمن أراد دلك هذه السعادة. فليعتمد عليها، في باب العبادات، اعتمادًا كليا).

والكتاب (سفر السعادة) الذي اعتمد فيه مؤلفه على أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم. ينأى بالمسلمين عن الخلاف والاختلاف. والذي ابتليت به بعض فئات المجتعات الإسلامية.

إن هذا (السفر الجليل) انطلاقة كبرى بالعابدين، وعباد الرحمن، الذين يلتزمون بمنهجية الرسول، صلوات الله وسلامه عليه، في الأخذ بالتيسير، والأيسر.

إن الكتاب يأخذك إلى حال الرسول، وطهارته، وصلاته، وقيامه، وخطبه، وصلاته العيد، وعاداته في حال قراءة القرآن، وسماعه، وبكائه. وعادته في تفقد المريض. كما ينبهك إلى صيامه صلوات الله وسلامه عليه، وحجه. والسنة النبوية في العقيقة. ويبين لك حقيقة أذكار النبي صلى الله عليه وسلم في الأذن، والسلام، والاستئذان، والسفر.

ويوضح لك عموم أحوال الرسول صلوات الله وسلامه عليه ومعاشه: من اللباس، ومعاشرة الزوجات، والنوم، والركوب، وعلاج الطاعون، والوباء، والاستسقاء، وذات الجنب، وإصلاح الطعام والشراب، وعلاج
"সাফরুস সাআদাহ" কিতাবের ভূমিকা

ফিরোজাবাদীর (লিখিত) 'সাফরুস সাআদাহ' কিতাবটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ। এর লেখক একে একটি মুখবন্ধ এবং কয়েকটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে বিন্যস্ত করেছেন, যে অধ্যায়গুলো আবার বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত।

ফিরোজাবাদী এটি রচনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "দীন হলো কল্যাণকামিতা"-এর আলোকে। পবিত্র নববীয় বংশধারা এবং সম্মানিত মুস্তফাবীয় বৃক্ষের এক মহান ব্যক্তিত্বের অনুরোধ রক্ষা করতেই তিনি এমন কিছু অধ্যায় সংকলন করেছেন, যা পবিত্র বিশুদ্ধ বর্ণনাসমূহ দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে এবং যা মুহাম্মদী আদর্শ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন নববীয় সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।

ফিরোজাবাদী বলেন: (আমি সুন্নাহর বিষয়ে কলম ধরেছি যাতে এটি সেই ব্যক্তির জন্য একটি জীবনবিধান হিসেবে কাজ করে যে এই সৌভাগ্যের পথে চলতে চায়। সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে তার উচিত হবে এর ওপর পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ভর করা)।

এই 'সাফরুস সাআদাহ' কিতাবটিতে লেখক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ওপর নির্ভর করেছেন। এটি মুসলমানদেরকে সেই সব মতবিরোধ ও বিভেদ থেকে দূরে রাখে, যা মুসলিম সমাজের কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই মহান গ্রন্থটি সেই সব ইবাদতকারী এবং রহমানের বান্দাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা, যারা সহজসাধ্য ও সহজতর বিষয়টি গ্রহণের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মানহাজ বা কর্মপন্থা অনুসরণ করেন।

এই কিতাবটি আপনাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা, তাঁর পবিত্রতা অর্জন, নামাজ, কিয়াম, খুতবা, ঈদের নামাজ এবং কুরআন তিলাওয়াত, শ্রবণ ও ক্রন্দনের সময়কার অভ্যাসসমূহ সম্পর্কে অবগত করবে। এছাড়াও অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর নিয়মাবলী সম্পর্কে জানাবে। পাশাপাশি এটি আপনাকে তাঁর রোজা, হজ এবং আকিকা সংক্রান্ত নববীয় সুন্নাহর প্রতিও সজাগ করবে। এটি কানের জন্য জিকির, সালাম আদান-প্রদান, অনুমতি প্রার্থনা এবং সফর সংক্রান্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিকিরসমূহের প্রকৃত রূপ বর্ণনা করে।

এটি আপনার সামনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামগ্রিক অবস্থা ও জীবনযাপন স্পষ্ট করে তুলবে: যেমন পোশাক-পরিচ্ছদ, স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা, ঘুম, সওয়ারি হওয়া, প্লেগ ও মহামারি চিকিৎসা, ইস্তিসকা, ফুসফুসের আবরণীর প্রদাহের চিকিৎসা, পানাহারের সংশোধন এবং রোগের প্রতিকার...
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ১২)
السم، والمعالجة بالأدوية الروحانية، والطبيعية، وعلاج الكرب، والغم، والهم، والحزن.

ويحكى لك الكتاب (سفر السعادة) العادة النبوية، والجماع، والباه، والقرض، والسلف، ومشيه صلى الله عليه وسلم، وكلامه، وسكوته، وضحكه، وبكائه. وهناك الكثير من فصول الكتاب التي تفرعت عن فصول أخرى.

إن الكتاب موسوعة شاملة، وذخيرة من الذخائر. وقد ختمه الفيروزآبادي بخاتمة سماها: (خاتمة الكتاب).

وخاتمة الكتاب: فريدة في موضوعها. وقد بدأها بقوله: (في الإشارة إلى أبواب روى فيها أحاديث، وليس منها شئ صحيح، ولم يثبت منها عند جهابذة علماء الحديث، وإن كانت في غاية الاختصار. لكنها تشتمل على علوم تدخل في حد الإكثار).

والخاتمة التي وضعها العلامة الفيروزآبادي، لكتابه: (سفر السعادة) وضعت الأمور في مواضعها. من قضايا يدور حولها اختلاف، وخلاف، ويشغل الناس أنفسهم بهذه الخلافات، التي تبعثر جهود الدعوة الإسلامية، والدعاة.

وتأمل ما جاء في هذه الخاتمة من قضايا تجد عجبا. والتي منها على سبيل المثال:

* لا ينبغي أن يعلم أن باب الإيمان. وما هو مشهور. كالإيمان قول وعمل، ويزيد وينقص، والايمان لا يزيد ولا ينقص. لم يثبت عن حضرة الرسول فيه حديث).

* (وباب كلام الله قديم غير مخلوق. وفي هذا المعنى وردت أحاديث بألفاظ مختلفة. ولم يصح عن حضرة صاحب الرسالة فيها شيء).

* (باب فضائل القرآن: من قرأ ورة كذا فله كذا. مجموع ذلك مفترى
বিষ, আধ্যাত্মিক ও প্রাকৃতিক ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা, এবং অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার প্রতিকার।

'সফরুস সাআদাহ' নামক এই বইটি আপনার কাছে বর্ণনা করবে নববী অভ্যাসসমূহ, দাম্পত্য মিলন, কামশক্তি, ঋণ প্রদান, অগ্রিম অর্থ প্রদান (সালাফ), তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চলাফেরা, তাঁর কথা বলা, তাঁর নীরবতা, তাঁর হাসি এবং তাঁর ক্রন্দন। এই বইটিতে আরও অনেক অধ্যায় রয়েছে যা অন্যান্য প্রধান অধ্যায় থেকে শাখা হিসেবে বিন্যস্ত হয়েছে।

এই গ্রন্থটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ এবং অমূল্য রত্নভাণ্ডার সমূহের একটি। আল্লামা ফিরোজাবাদী বইটির শেষে একটি পরিশিষ্ঠ যুক্ত করেছেন, যার নামকরণ করেছেন: 'গ্রন্থের উপসংহার'।

এই গ্রন্থের উপসংহারটি তার আলোচ্য বিষয়ের দিক থেকে অনন্য। তিনি এটি শুরু করেছেন এই কথা বলে: (এমন সব অধ্যায়ের প্রতি ইঙ্গিত করার ক্ষেত্রে যেগুলোতে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর কোনটিই সহিহ নয় এবং হাদিস শাস্ত্রের বিজ্ঞ পণ্ডিতদের নিকট সেগুলোর কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি; যদিও তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। কিন্তু এতে এমন সব জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা আধিক্যের সীমানায় প্রবেশ করে)।

আল্লামা ফিরোজাবাদী তাঁর 'সফরুস সাআদাহ' বইয়ের জন্য যে উপসংহারটি রচনা করেছেন, তা প্রতিটি বিষয়কে তার সঠিক স্থানে স্থাপন করেছে। এমন সব বিষয় সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হয়েছে যা নিয়ে মতভেদ ও বিবাদ আবর্তিত হয়, এবং মানুষ নিজেদেরকে এই সব বিরোধে লিপ্ত রাখে, যা ইসলামী দাওয়াত ও দাঈদের প্রচেষ্টাকে লক্ষ্যচ্যুত করে দেয়।

এই উপসংহারে বর্ণিত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আপনি বিস্ময়কর সব তথ্য পাবেন। যার মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ কিছু হলো:

* (এটি জানা থাকা উচিত যে, ইমান সংক্রান্ত অধ্যায়—যেমনটি প্রসিদ্ধ আছে যে—ইমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়, আবার ইমান বৃদ্ধিও পায় না হ্রাসও পায় না; এই মর্মে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো হাদিস প্রমাণিত নয়)।

* (আল্লাহর কালাম বা বাণী অনাদি (কাদিম) এবং তা সৃষ্টি নয়—এই অধ্যায় সম্পর্কে; এই অর্থে বিভিন্ন শব্দে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু রিসালাতের অধিপতি [রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)]-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কিছুই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়)।

* (কুরআনের ফজিলত সংক্রান্ত অধ্যায়: যে ব্যক্তি অমুক সূরা পাঠ করবে তার জন্য অমুক সওয়াব রয়েছে। এই সব বর্ণনার সমষ্টিই বানোয়াট বা মিথ্যা)।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ১৩)
وموضوع بإجماع أهل الحديث. والذي صح من باب فضائل القرآن". كذا وكذا. وقد بينه.

* (وباب القنوت في الفجر والوتر. لم يصح فيه حديث).

* (وباب زكاة الحلي لم يثبت فيه شيء).

ونحن لا نريد أن نسترسل، في ذكر الأمثال .. فخاتمة كتاب (سفر السعادة)، مليئة بالإشارة، إلى هذه الأمور التي يدور حولها اختلاف بن شبابنا وليست هي من الدين بل هي كمال قال الفيروزآبادي: (من وضع الزنادقة) والمفترين، والوضاعين.

إن الكتاب: (سفر السعادة) جد ثمين، ومفيد في موضوعه. وسوف يجد فيه كل مسلم مبتغاه.

* * *
এবং মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্যে এটি বানোয়াট। আর 'কুরআনের ফজিলত' অধ্যায় থেকে যা সহীহ তা হলো অমুক অমুক। এবং তিনি তা স্পষ্ট করেছেন।

* (এবং ফজর ও বিতর সালাতে কুনুত পাঠের অধ্যায়। এ বিষয়ে কোনো হাদিস সহীহ নয়)।

* (এবং অলঙ্কারের জাকাত সংক্রান্ত অধ্যায়। এ বিষয়ে কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়)।

আমরা উদাহরণের বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রতা করতে চাই না... কারণ (সফরুস সা’আদাহ) গ্রন্থের সমাপ্তি এমন সব বিষয়ের ইশারায় ভরপুর যেগুলোকে কেন্দ্র করে আমাদের যুবকদের মাঝে মতপার্থক্য আবর্তিত হয়। অথচ এগুলো দ্বীনের অংশ নয়, বরং ফিরোজাবাদী যেমনটি বলেছেন: (এগুলো জিন্দিক), মিথ্যাচারী এবং হাদিস জালকারীদের সৃষ্টি।

নিশ্চয়ই (সফরুস সা’আদাহ) গ্রন্থটি অত্যন্ত মূল্যবান এবং এর আলোচ্য বিষয়ে অত্যন্ত উপকারী। প্রত্যেক মুসলিম এতে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু খুঁজে পাবে।

* * *
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ১৪)
اللوحة الخطية التي تحمل اسم الكتاب "سفر السعادة"
কিতাবের নাম "সিফরুস সা’আদাহ" সংবলিত ক্যালিগ্রাফিক প্যানেল।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ১৫)
اللوحة الأولى من مخطوط "سفر السعادة"
"সাফারুস সাআদাহ" পাণ্ডুলিপির প্রথম ফলক।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ১৬)
اللوحة ما قبل الأخيرة من مخطوط "سفر السعادة"
"সাফারুস সাআদাহ" পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার পূর্ববর্তী পাতা।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ১৭)
اللوحة الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপিটির সর্বশেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المؤلف

بعد الحمد والثناء على حضرة ذي الكبرياء، والصلاة بلا نهاية على رئيس الأنبياء، وخلاصة الأصفياء، وآله وأصحابه الأتقياء، وعلى أرواح التابعين من الصالحين الأولياء.

فلتعلم طائفة الأحباب والأصحاب، وزمرة العقلاء من ذوي الألباب، أن طريق الحق، الذي هو الصراط المستقيم، من أجل أن غاية ذلك هو الحق جل شأنه، أشرف الطرق وأجلها، وأنور السبل، وأكملها، وسلوكها بغير متابعة هاد ماهر، وخريت (1) باهر، لا يمكن بل لا يتصور. لا جرم أن من تشرف بدرك هذا المعنى، علم أن اتباع سيرة رئيس الهداة، وكبير من اختير من حضرة الرحمن محمد المصطفى صلى الله عليه وسلم، والاهتداء بسنة جنابه المقدس، هو سبب النجاة الأبدية، وموجب القرب والوصول إلى الحضرة الربانية.

ولا وسيلة منها أشرف ولا طريقة منها أقرب، ومصداق ما قلنا قوله تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (31)} (2) ومفهوم الكلمة الجامعة النبوية "الدين النصيحة" (3) ألجأني إلى امتثال إجابة ملتمس كبير من الذرية المقدسة النبوية،

--------------------------------------------

(1) الخريت: الدليل الحاذق بالدلالة. كأنه ينظر إلى خرت الإبرة. قال رؤبة العجاج:

أرمي بأيدي العيس إذ هويت … في بلدة يعيا بها الخريت

(2) سورة آل عمران آية رقم 31.

(3) أخرجه مسلم في صحيحه برقم (55)، وأخرجه أبو داود في سننه برقم (4944)، أخرجه النسائي في سننه (ج 7 ص 156)، وأورده النووي في رياض الصالحين (ص 124 برقم 1/ 181). والحديث أخرجه مسلم وغيره كاملًا بلفظ: "الدين النصيحة" قلنا لمن؟ قال: "لله ولكتابه لرسول ولأئمة المسلمين وعامتهم" عن تميم بن أوس الداري.

وأخرجه البخاري في صحيحه في كتاب الإيمان (باب قول النبي صلى الله عليه وسلم): "الدين النصيحة لله ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم … (ج 1 ص 22) عن زيادة بن علاقة. بنحو ما أخرجه مسلم، وأخرجه من وجه آخر عن قيس أبي حازم، عن جرير.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌লেখকের ভূমিকা

মহান মহিমাময় সত্তার যথাযোগ্য প্রশংসা ও স্তুতির পর, এবং নবীকুল শিরোমণি, মনোনীতদের নির্যাস—তাঁর প্রতি এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও মুত্তাকী সাহাবীগণ এবং পুণ্যবান ওলী তাবেয়ীগণের রূহের প্রতি অবারিত সালাত ও সালামের পর।

সুহৃদ ও সঙ্গী দল এবং বুদ্ধিমান ও বিবেকবান ব্যক্তিবর্গ জেনে রাখুন যে, হকের পথ—যা হলো সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল পথ)—যেহেতু এর পরম লক্ষ্য স্বয়ং মহান আল্লাহ, তাই এটি সমস্ত পথের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সুমহান এবং সমস্ত রাস্তার মধ্যে উজ্জ্বলতম ও পূর্ণতম। আর কোনো দক্ষ ও বিজ্ঞ পথপ্রদর্শকের অনুসরণ ব্যতিরেকে এই পথে চলা অসম্ভব বরং অচিন্তনীয়। নিঃসন্দেহে যে ব্যক্তি এই সত্য অনুধাবনের সৌভাগ্য লাভ করেছে, সে জেনেছে যে হিদায়েতকারীদের সর্দার এবং পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকে মনোনীতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ—মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত অনুসরণ করা এবং তাঁর পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমে হিদায়েত লাভ করাই হলো চিরন্তন মুক্তির উপায় এবং রব্বানী দরবারে নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের অমোঘ মাধ্যম।

এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো মাধ্যম নেই এবং এর চেয়ে নিকটতর কোনো পথ নেই। আমাদের এই কথার সত্যতার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, “তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ করো; ফলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন।” আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (৩১)} এবং নববী সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ বাণী "দীন হলো কল্যাণকামিতা"-এর মর্মার্থ আমাকে পবিত্র নববীয় বংশধরদের মধ্য থেকে এক মহান ব্যক্তির অনুরোধ রক্ষা করতে বাধ্য করেছে।

--------------------------------------------

(১) খিররীত: পথপ্রদর্শনে অত্যন্ত দক্ষ পথপ্রদর্শক। যেন সে সুঁইয়ের ছিদ্রের দিকে তাকিয়ে পথ চলে। রউবা আল-আজ্জাজ বলেন:

আমি দ্রুতগামী উটগুলোর সাহায্যে পথ পাড়ি দিই এমন জনপদে যেখানে দক্ষ পথপ্রদর্শকও পরিশ্রান্ত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।

(২) সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৩১।

(৩) ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে ৫৫ নম্বরে এটি বর্ণনা করেছেন; ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনানে ৪৯৪৪ নম্বরে বর্ণনা করেছেন; ইমাম নাসায়ী তাঁর সুনানে (৭ম খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠা) বর্ণনা করেছেন; এবং ইমাম নববী রিয়াদুস সালিহীন গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৪, নম্বর ১/১৮১) এটি উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা পূর্ণাঙ্গভাবে "দীন হলো কল্যাণকামিতা" শব্দে বর্ণনা করেছেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, "কার জন্য?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের ইমামদের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য।" এটি তামীম বিন আউস আদ-দারী থেকে বর্ণিত।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'ঈমান' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন (পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "দীন হলো আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুসলিমদের ইমাম ও তাদের সাধারণ জনগণের জন্য কল্যাণকামিতা"...) (১ম খণ্ড, ২২ পৃষ্ঠা) যিয়াদ বিন ইলাকা থেকে, ইমাম মুসলিমের বর্ণনার অনুরূপ। তিনি এটি কায়স আবু হাযিম-এর সূত্রে জারীর থেকেও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২০)
ونبعة من الدرجة المكرمة المصطفوية في إثبات أبواب ثبتت في صحاح الأخبار المقدسة، من الطريقة الأنيقة المحمدية، والسنة السنية النبوية، فأجرينا القلم بها لتكون دستورًا لمن أراد دروك هذه السعادة، فليعتمد عليها في باب العبادات اعتمادًا كليًا ولا يعبأ بخلاف زيد وعمرو.

فإن هذه المسائل ستكسب على وجه ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بأسانيد صحيحة، وكل متعبد أتم لسلوك هذا المنهج المستقيم، بطريق الإخلاص أمكن يد طلبه التعلق بطرف مقصوده وتخلقت طينته الطيبة بالأخلاق المقدسة النبوية إن شاء الله تعالى.

وهذا سفر (1) السعادة جعلناه محتويًا على فاتحة. وخاتمة. وأبواب تحتوي على فصول ونأمل أن تحيط أنوار أسراره بالكافة. وتكتنف (العامة) إن شاء الله تعالى.

* * *

--------------------------------------------

(1) السفر: بالكسر الكتاب والجمع (أسفار)، قال الله تعالى: {كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا} سورة الجمعة آية 5. وانظر مختار الصحاح (ص 300).
এটি সম্মানিত মুস্তফাবীয় মর্যাদা থেকে উৎসারিত একটি ঝর্ণাধারা, যা পবিত্র ও বিশুদ্ধ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত বিভিন্ন পরিচ্ছেদ সাব্যস্ত করার বিষয়ে রচিত; যা মার্জিত মুহাম্মাদী পদ্ধতি এবং মহান নববী সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। আমরা এ বিষয়ে কলম চালনা করেছি যেন এটি সেই ব্যক্তির জন্য একটি পাথেয় হয় যে এই সৌভাগ্য অর্জন করতে চায়। অতএব, ইবাদতের ক্ষেত্রে সে যেন এর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে এবং যায়েদ ও আমরের (তথা অন্যদের) মতপার্থক্যের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে।

কেননা এই বিষয়গুলো এমনভাবে সংকলিত হবে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত। আর প্রত্যেক ইবাদতকারী যে ইখলাসের সাথে এই সরল পথ অনুসরণে নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োজিত করবে, তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পথ সুগম হবে এবং ইনশাআল্লাহ তার পবিত্র সত্তা নববী পবিত্র চরিত্রে সুশোভিত হবে।

এটি হলো 'সিফরুস সাআদাত' (সৌভাগ্যের গ্রন্থ), যাকে আমরা একটি ভূমিকা, একটি উপসংহার এবং বিভিন্ন পরিচ্ছেদ সংবলিত কতগুলো অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। আমরা আশা করি যে, এর রহস্যের জ্যোতিসমূহ সকলকে পরিবেষ্টন করবে এবং ইনশাআল্লাহ সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে।

* * *

--------------------------------------------

(১) আস-সিফর: যার অর্থ হলো গ্রন্থ, এর বহুবচন হলো 'আসফার'। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "যেমন গাধা কিতাবসমূহ বহন করে" (সূরা জুমুআ, আয়াত ৫)। দেখুন: মুখতারুস সিহাহ (পৃষ্ঠা ৩০০)।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌فاتحة الكتاب في ذكر حال سيدنا رسول الله صلي الله عليه وسلم قبل نزول الوحي وبيان عباداته في تلك الأيام

لما بلغ صلى الله عليه وسلم سبع سنين، وتوفي جده عبد المطلب، وافتخر عمه أبو طالب بشرف كفالته وتربيته، أمر الله تعالى - شأنه - إسرافيل عليه الصلاة والسلام أن يقوم بملازمته، فكان قرينه دائما إلى أن أتم إحدى عشر سنة، ثم أمر جبريل عليه الصلاة والسلام بملازمته تسعا وعشرين سنة، بطريق المرافقة والمقاربة، لكن لم يظهر له.

وفي بعض الروايات الصحيحة: أن إسرافيل ظهر له في ملازمته مرارًا وكلمه بكلمة وكلمتين، وقبل نزول الوحي بمدة خمس عشر سنة، كان يسمع صوتًا أحيانًا، ولا يرى شخصًا. وسبع سنين كان يرى نورًا، وكان به مسرورًا ولم ير شيئًا غير ذلك.

ولما قربت أيام الوحي أحب الخلوة، والانفراد فكان يتخلى في جبل حراء وهو على ثلاثة أميال (1) من الكعبة، وبه غار صغير، طوله أربعة أذرع وعرضه ذراع وثلث في بعض الواضع، وفى بعضها أقل. واختار محل الخلوة هناك.

وللعلماء في عبادته في خلوته قولان: قال بعضهم: كانت عبادته بالفكر، وقال بعضهم بالذكر، وهذا القول الصحيح، ولا تعريج على الأول ولا التفات إليه، لأن خلوة طلاب طريق الحق على أنواع:

الأول: أن تكون خلوتهم لطلب مزيد علم الحق من الحق، لا بطريق النظر والفكر، وهذا غاية مقاصد أهل الحق، لأن من خاطب في خلوته كونًا من

--------------------------------------------

(1) اختلاؤه في غار حراء أورده كثير من أهل العلم والمحققين انظر: صحيح البخاري بشرح فتح الباري (ج 1 ص 21) وانظر الجزء العاشر من فتاوى الشيخ ابن تيمية رحمه الله، وعيون الآثار لابن سيد الناس (ج 1 ص 53)، وانظر تاريخ الطبري (ج 5 ص 498).
কিতাবের ভূমিকা: ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা এবং সেই দিনগুলোতে তাঁর ইবাদতের বর্ণনা প্রসঙ্গে

যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বয়স সাত বছর পূর্ণ হলো এবং তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করলেন, আর তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর লালন-পালন ও অভিভাবকত্বের সম্মানে গৌরবান্বিত হলেন, তখন আল্লাহ তাআলা—তাঁর শান সুমহান—ইসরাফিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে তাঁর সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিলেন। ফলে তিনি এগারো বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সর্বদা তাঁর সঙ্গী ছিলেন। এরপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে ঊনত্রিশ বছর পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো সাহচর্য ও সান্নিধ্যের মাধ্যমে, তবে তিনি তাঁর কাছে প্রকাশ পাননি।

কিছু সহীহ বর্ণনায় এসেছে: ইসরাফিল আলাইহিস সালাম তাঁর সঙ্গে থাকাকালীন কয়েকবার তাঁর সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে একটি বা দুটি কথা বলেছিলেন। ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পনেরো বছর আগে থেকে তিনি মাঝে মাঝে শব্দ শুনতে পেতেন, কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে দেখতে পেতেন না। আর সাত বছর পর্যন্ত তিনি নূর (আলো) দেখতে পেতেন এবং তাতে আনন্দিত হতেন, এছাড়া আর কিছু দেখতেন না।

যখন ওহী অবতীর্ণ হওয়ার দিনগুলো ঘনিয়ে এল, তখন তিনি নির্জনতা ও একাকীত্ব প্রিয় হয়ে উঠলেন। তিনি হেরা পাহাড়ে নির্জনে অবস্থান করতেন, যা কাবা থেকে তিন মাইল (১) দূরে অবস্থিত। সেখানে একটি ছোট গুহা রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য চার হাত এবং কোনো কোনো স্থানে প্রস্থ এক হাত ও হাতের তিন ভাগের এক ভাগ, আবার কোনো কোনো জায়গায় তার চেয়েও কম। তিনি সেখানেই তাঁর নির্জনবাসের স্থান নির্বাচন করেছিলেন।

তাঁর নির্জনবাসের ইবাদত সম্পর্কে আলেমদের দুটি মত রয়েছে: তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: তাঁর ইবাদত ছিল চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে, আবার কেউ কেউ বলেছেন যিকিরের মাধ্যমে। আর এটিই সঠিক মত; প্রথম মতটির ওপর কোনো নির্ভরতা নেই এবং তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করারও প্রয়োজন নেই। কারণ সত্যের পথের অন্বেষণকারীদের নির্জনবাস বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে:

প্রথমত: তাঁদের নির্জনবাস হবে আল্লাহর নিকট থেকে আল্লাহ সম্পর্কিত আরও জ্ঞান অর্জনের জন্য, চিন্তা ও গবেষণার পথে নয়; আর এটিই সত্যপন্থীদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য। কারণ যে ব্যক্তি তার নির্জনবাসে সৃষ্টিজগতের কোনো সত্তার সাথে কথা বলে...

--------------------------------------------

(১) হেরা গুহায় তাঁর নির্জনবাসের বিষয়টি অনেক আলেম ও গবেষক উল্লেখ করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী (১ম খণ্ড, ২১ পৃষ্ঠা), শায়খ ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহর ফাতাওয়া সংকলনের দশম খণ্ড, ইবনে সাইয়্যেদুন নাস রচিত উইউনুল আসার (১ম খণ্ড, ৫৩ পৃষ্ঠা) এবং তারিখুত তাবারী (৫ম খণ্ড, ৪৯৮ পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২২)
الأكوان، أو فكر فيه فليمس هو في خلوة. قال شخص من طلاب الطريق لبعض الأكابر: اذكرني عند ربك في خلوتك. قال: إذا ذكرتك فلست معه في خلوة، ومن ثم يعلم سر "أنا جليس من ذكرني" (1)، وشرط هذه الخلوة، أن يذكر بنفسه وروحه لا بنفسه ولسانه.

الثاني: أن تكون خلوتهم لصفاء الفكر، لكي يصح نظرهم في طلب المعلومات، وهذه الخلوة لقوم يطلبون العلم، من ميزان العقل، وذلك الميزان في غاية اللطافة وهو بأدنى هوى يخرج عن الاستقامة.

وطلاب طريق الحق لا يدخلون في مثل هذه الخلوة، بل تكون خلوتهم بالذكر، وليس للفكر عليهم قدرة ولا سلطان. ومهما وجد الفكر طريقًا إلى صاحب الخلوة، فينبغى أن يعلم أنه ليس من أهل الخلوة، ويخرج من الخلوة، ويعلم أنه ليس من أهل العلم الصحيح الإلهى، إذ لو كان من أهل ذلك لحالت العناية الإلهية بينه وبين دوران رأسه بالفكر.

الثالث: خلوة يفعلها جماعة لدفع الوحشة، من مخالطة غير الجنس، والاشتغال بما لا يعني، فإنهم إذا رأوا الخلق انقبضوا. فلذلك اختاروا الخلوة.

الرابع: خلوة لطلب زيادة لذة، توجد في الخلوة، وخلوة حضرة صاحب الرسالة من القسم الأول، وكان بعيدًا جدًّا من جميع المخالطات، حتى من الأهل، والمال، وذات اليد، واستغرق في بحر الأذكار القلبية، وانقطع عن الأضداد بالكلية، وظهر له الأنس والجلوة، بتذكر من لأجله الخلوة، ولم يزل في ذلك الأنس، ومرآة الوحي، تزداد من الصفاء والصقال، حتى بلغ أقصى درجات الكمال، فظهرت تباشير صبح الوحي، وأشرقت وانتشرت بروق السعادة وتألقت، فكان لا يمر بشجر، ولا حجر، إلا قال بلسان فصيح: السلام عليكم يا رسول الله.

--------------------------------------------

(1) أخرج الشيخان حديثًا بنحوه ولفظه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يقول الله أنا عند ظن عبدي بي، وأنا معه إذا ذكرني فإن ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإن ذكرني في ملاء ذكرته في ملاء خير منهم" متفق عليه أخرجه البخاري (ج 13 ص 325، 326)، ومسلم برقم (2675)، وأخرجه الترمذي برقم (3598).
জগতসমূহ, অথবা যে ব্যক্তি এ সম্পর্কে চিন্তা করে সে যেন নির্জনে থাকে। তরিকতের সন্ধানীগণের মধ্য হতে একজন জনৈক বড় বুজুর্গকে বললেন: আপনার নির্জনবাসে আপনার রবের নিকট আমাকে স্মরণ করবেন। তিনি বললেন: আমি যদি তোমাকে স্মরণ করি, তবে আমি তাঁর সাথে নির্জনে নেই। আর এখান থেকেই 'আমি তার সঙ্গী যে আমাকে স্মরণ করে' (১) — এই বাণীর রহস্য জানা যায়। আর এই নির্জনবাসের শর্ত হলো সে যেন তার নিজ সত্তা ও রূহ দ্বারা স্মরণ করে, কেবল নিজ সত্তা ও জিহ্বা দ্বারা নয়।

দ্বিতীয়: তাদের নির্জনবাস যেন চিন্তার নির্মলতার জন্য হয়, যাতে তথ্য অনুসন্ধানে তাদের পর্যবেক্ষণ সঠিক হয়। আর এই নির্জনবাস ঐ সম্প্রদায়ের জন্য যারা বিবেকের মানদণ্ড হতে জ্ঞান অন্বেষণ করে। আর সেই মানদণ্ড অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যা সামান্যতম খেয়াল-খুশিতেই সঠিক পথ হতে বিচ্যুত হয়ে যায়।

আর সত্য পথের অভিযাত্রীরা এ জাতীয় নির্জনবাসে লিপ্ত হন না, বরং তাদের নির্জনবাস হয় জিকিরের মাধ্যমে। আর চিন্তার তাদের ওপর কোনো ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব থাকে না। নির্জনবাসকারী ব্যক্তির মাঝে যখনই চিন্তার অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন বুঝতে হবে যে সে নির্জনবাসের যোগ্য নয়। এমতাবস্থায় সে নির্জনবাস থেকে বেরিয়ে আসবে এবং জানবে যে সে সঠিক ইলাহি জ্ঞানের অধিকারী নয়; কেননা যদি সে তার যোগ্য হতো, তবে ইলাহি কৃপা তার এবং চিন্তায় মগ্ন হওয়ার মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়াত।

তৃতীয়: একদল লোক নির্জনবাস করে একাকিত্বের ভীতি দূর করতে, ভিন্ন প্রকৃতির মানুষের সাথে মেলামেশা বর্জন করতে এবং অনর্থক কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচতে। কেননা তারা যখন সৃষ্টিজগতকে দেখে তখন সংকুচিত হয়ে যায়। তাই তারা নির্জনবাস বেছে নিয়েছে।

চতুর্থ: নির্জনবাসের মাধ্যমে অর্জিত স্বাদে প্রবৃদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে নির্জনবাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্জনবাস ছিল প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সমস্ত প্রকার মেলামেশা, এমনকি পরিবার, সম্পদ এবং নিজের হাতের কাছে থাকা বৈষয়িক বস্তু থেকেও অত্যন্ত দূরে ছিলেন। তিনি কলবি জিকিরের সমুদ্রে নিমজ্জিত ছিলেন এবং সকল বৈপরীত্য থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। আর যাঁর উদ্দেশ্যে এই নির্জনবাস, তাঁর স্মরণের বরকতে তাঁর নিকট পরম সান্নিধ্য ও জ্যোতি প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি সেই সান্নিধ্যেই রত ছিলেন, আর ওহির দর্পণ উত্তরোত্তর স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল হচ্ছিল, যতক্ষণ না তিনি পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখরে উপনীত হলেন। ফলে ওহির প্রভাতের শুভ লক্ষণসমূহ প্রকাশিত হলো এবং সৌভাগ্যের বিদ্যুৎপ্রভা আলোকিত ও বিচ্ছুরিত হলো। অতঃপর তিনি কোনো গাছ বা পাথরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে তা স্পষ্ট ভাষায় বলত: 'আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসুল'।

--------------------------------------------

(১) শায়খাইন এ জাতীয় একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যার শব্দরূপ হলো: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটবর্তী যেমন সে আমার প্রতি পোষণ করে। সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথেই থাকি। সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। আর সে যদি আমাকে কোনো মজলিশে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম কোনো মজলিশে স্মরণ করি।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। এটি ইমাম বুখারি (১৩শ খণ্ড, ৩২৫-৩২৬ পৃষ্ঠা), ইমাম মুসলিম (হাদিস নং ২৬৭৫) এবং ইমাম তিরমিজি (হাদিস নং ৩৫৯৮) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২৩)
فكان ينظر يمينا وشمالًا، ولا يرى شخصا ولا خيالا، فبينما هو في بعض الأيام قائم على جبل حراء، إذ ظهر له شخص فقال: أبشر أنا جبريل وأنت رسول الله لهذه الأمة، ثم أخرج له قطعة نمط من حرير مرصع بالجواهر ووضعها في يده صلى الله عليه وسلم وقال: اقرأ. قال: "والله ما أنا بقارئ ولا أرى في هذه الرسالة كتابة" (1) قال: فضمنى إليه وغطنى حتى بلغ منى الجهد ثم أطلقنى وقال: اقرأ: فقلت: "لست بقارئ" فغطنى حتى بلغ منى الجهد. فعل بى ذلك ثلاثا وهو يأمرنى بالقراءة.

ثم قال: [اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الًاكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَالَمْ يَعْلَمْ (5)] (2) ثم قال: انزل عن الجبل، فنزلت معه إلى قرار الأرض، فأجلسنى على درنوك وعليه ثوبان أخضران، ثم ضرب برجله الأرض فنبعت عين ماء فتوضأ جبريل منها: تمضمض واستنشق وغسل كل عضو ثلاثا، وأمر النبي صلى الله عليه وسلم أن يفعل كفعله. فلما تم وضوؤه أخذ جبريل كفا من ماء يفرش به وجه الرسول، ثم قام وصلى ركعتين والرسول مقتد به ثم قال: الصلاة هذا.

ولما فرغ من الوضوء والصلاة والتعليم غاب جبريل، وجاء الرسول إلى مكة وقص على خديجة القصة، وعلمها الوضوء والصلاة (3). فناسب بعد تمهيد هذه الفاتحة أن نبتدئ أبواب العبادات النبوية بذكر كيفية الوضوء والصلاة، ونلحق بها الصيام، والأدعية وغيرها من العبادات إن شاء الله الكريم.

--------------------------------------------

(1) هذا جزء من حديث طويل أخرجه الشيخان وغيرهما بتمامه، انظر صحيح البخاري كتاب الحيل، باب التعبير (ج 8 ص 67)، ومواضع أخرى انظر فتح الباري لابن حجر (ج 12 ص 351 - 352) و (ج 1 ص 22)، (ج 8 ص 715، 722) وأخرجه مسلم في صحيحه، كتاب الإيمان، باب بدء الوحي (ج 1 ص 139).

(2) سورة العلق: 1 - 5.

(3) ما ورد في الصحيحين فيه اختلاف في بعض ألفاظ الحديث الذي أورده المصنف في كتابه، وبعد البحث لم أجد الفاظ المصنف بعينها في كتب الحديث إلا أن أصل الحديث بنحو الفاظ المصنف قد ورد في دواوين السنة انظر: صحيح البخاري (ج 8 ص 67) وصحيح مسلم (1/ 139).
তিনি ডানে ও বামে তাকাতেন, কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা অবয়ব দেখতে পেতেন না। একদিন তিনি যখন হেরা পাহাড়ে অবস্থান করছিলেন, হঠাৎ তাঁর কাছে এক ব্যক্তি আবির্ভূত হলেন এবং বললেন: "সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আমি জিবরাঈল এবং আপনি এই উম্মতের জন্য আল্লাহর রাসূল।" এরপর তিনি তাঁর কাছে মণি-মুক্তা খচিত রেশমের এক টুকরো কাপড় বের করলেন এবং তা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতে রাখলেন এবং বললেন: "পাঠ করুন।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তো পাঠ করতে জানি না এবং এই পত্রে কোনো লেখা দেখতে পাচ্ছি না।" (১) তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আমাকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলেন এবং সজোরে চাপ দিলেন, যাতে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: "পাঠ করুন।" আমি বললাম: "আমি পাঠকারী নই।" তিনি পুনরায় আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং সজোরে চাপ দিলেন যাতে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এভাবে তিনি আমার সাথে তিনবার করলেন এবং আমাকে পাঠ করার নির্দেশ দিলেন।

এরপর তিনি বললেন: [পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন (১) তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাটবদ্ধ রক্ত থেকে (২) পাঠ করুন এবং আপনার রব মহিমান্বিত (৩) যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন (৪) তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না (৫)] (২) এরপর তিনি বললেন: "পাহাড় থেকে নিচে নামুন।" আমি তাঁর সাথে সমতলে নেমে আসলাম। তিনি আমাকে একটি গালিচার ওপর বসালেন যার ওপর দুটি সবুজ চাদর ছিল। এরপর তিনি নিজের পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন, ফলে একটি পানির ঝরনা প্রবাহিত হলো। জিবরাঈল তা থেকে ওজু করলেন: তিনি কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধুলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর মতো করার নির্দেশ দিলেন। যখন ওজু শেষ হলো, জিবরাঈল এক আঁজলা পানি নিলেন এবং তা দিয়ে রাসূলের মুখে ছিটিয়ে দিলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন এবং রাসূল তাঁর অনুসরণ করলেন। এরপর তিনি বললেন: "নামাজ এভাবেই।"

যখন ওজু, নামাজ এবং শিক্ষা প্রদান শেষ হলো, জিবরাঈল অদৃশ্য হয়ে গেলেন। রাসূল মক্কায় ফিরে আসলেন এবং খাদিজার কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করলেন এবং তাঁকে ওজু ও নামাজ শিক্ষা দিলেন (৩)। সুতরাং, এই ভূমিকার পর এখন আমাদের জন্য এটিই সমীচীন যে, আমরা নবীজির ইবাদতসমূহের অধ্যায়গুলো ওজু এবং নামাজের পদ্ধতি বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করব এবং এর সাথে রোজা, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতসমূহ যুক্ত করব, ইনশাআল্লাহ।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যান্যরা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: সহীহ বুখারি, কিতাবুল হিয়াল, বাবুত তাবীর (খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৬৭) এবং অন্যান্য স্থান। দেখুন: ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী (খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৩৫১-৩৫২) এবং (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২), (খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৭১৫, ৭২২)। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ঈমান, বাবু বাদইল ওহী (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৯)।

(২) সূরা আলাক: ১-৫।

(৩) সহীহাইন-এ যা বর্ণিত হয়েছে, তাতে লেখক তাঁর কিতাবে যে শব্দগুলো উল্লেখ করেছেন তার সাথে কিছু পার্থক্য রয়েছে। অনুসন্ধানের পর আমি লেখকের ব্যবহৃত নির্দিষ্ট শব্দগুলো হাদিসের কিতাবসমূহে পাইনি, তবে লেখকের শব্দের অনুরূপ মূল হাদিসটি সুন্নাহর সংকলনগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: সহীহ বুখারি (খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৬৭) এবং সহীহ মুসলিম (১/১৩৯)।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌باب طهارة حضرة صاحب الرسالة صلى الله عليه وسلم -

كان في غالب الأوقات، يتوضأ لكل فريضة من الصلاة، وفى بعض الأوقات يصلي بوضوء واحد عدة من الصلوات، ومقدار الماء الذي كان يصرفه في الوضوء دون الرطلين، وكان لا يزيد على أربعة أرطال، وربما توضأ بنحو ثلاثة أرطال. وكان يبالغ في الأمر بتقليل الماء ويبالغ في النهى عن كثرة استعماله.

وقال: "إن للوضوء شيطانا اسمه ولهان فاحترزوا من وسوسته" (1)، ومر صلى الله عليه وسلم بسعد بن أبي وقاص وهو يتوضأ فقال: "لا تسرف في الماء". قال سعد: وهل في الماء إسراف؟ قال: "نعم وإن كنت على نهر جار" (2) وصح عنه صلى الله عليه وسلم أنه توضأ وغسل أعضاء الوضوء مرّة مرّة ولم يزد، وتوضأ وغسلها مرتين مرتين، وتوضأ وغسلها ثلاثا ثلاثا (3)، وتوضأ فغسل بعضها مرتين، وبعضها ثلاثا، وتضمض واستنشق بغرفة وبغرفتين، وبثلاث، استعمل نصف الغرفة في المضمضة، ونصفها في الاستنشاق، فعل ذلك متصلا في الصور الثلاث.

ولم يرد في شيء من الأحاديث الفصل، وحديث طلحة بن مصرف عن أبيه عن جده. أنه شاهد الفصل في إسناده ضعف، وكان يستنشق باليمنى

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي (1/ 76، 77) في باب كراهية الإسراف في الماء، وابن ماجة برقم (421)، وأحمد في المسند (5/ 136) وانظر ضعيف الجامع (2271).

(2) روى هذا الحديث الحكيم الترمذي في كتاب (الأكياس والمغتربين) قال: مر رسول الله صلى الله عليه وسلم على سعد وهو يتوضأ. فقال: "ما هذا السرف يا سعد؟ " فقال: أفي الوضوء سرف يا رسول الله؟ قال: "نعم وإن كنت على شاطئ نهر" انظر: الأكياس والمغتربين، وقد علم نهيه صلى الله عليه وسلم عن الإسراف في الماء وإخباره أنه سيأتي قوم يعتدون في الوضوء فمن جاوز ما قال الشارع: إنه يجزئ: فقد أسرف فيحرم، وعن أنس رضي الله عنه قال: كان رسول صلى الله عليه وسلم يتوضأ بالمد ويغتسل بالصاع، إلى خمسة أمداد". متفق عليه. رواه البخاري في كتاب الوضوء باب (47) الوضوء بالمد حديث (1، 2) (ج 1/ 304).

(3) جاءت الأحاديث الصحيحة بالغسل مرّة مرّة ومرتين مرتين وثلاثا ثلاثا وبعض الأعضاء ثلاثا وبعضها مرتين، والاختلاف دليل على جواز ذلك كله وإن الثلاث هي الكمال والواحده تجزئ وقد روى هذه الأحاديث التي تدل على جواز ذلك الأئمة أحمد والبخاري ومسلم وأبو داود وابن ماجة. انظر نيل الأوطار للإمام الشوكاني (ج 1 ص - 172، 173).
‌‌রিসালাতের অধিকারী মহান সত্তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্রতা অর্জন সংক্রান্ত অধ্যায়-

তিনি অধিকাংশ সময় প্রতিটি ফরয নামাযের জন্য ওযু করতেন। আবার কোনো কোনো সময় এক ওযুতে একাধিক নামায আদায় করতেন। ওযুর ক্ষেত্রে তিনি যে পরিমাণ পানি ব্যয় করতেন তা ছিল দুই রতলের কম, এবং তা চার রতলের অধিক হতো না; মাঝে মাঝে তিনি প্রায় তিন রতলের মতো পানি দিয়ে ওযু করতেন। তিনি পানির পরিমাণ কমিয়ে ব্যবহারের ব্যাপারে অত্যন্ত তাগিদ দিতেন এবং এর অত্যধিক ব্যবহারের ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন।

তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ওযুর জন্য ওলহান নামক এক শয়তান রয়েছে, সুতরাং তোমরা তার কুমন্ত্রণা হতে সতর্ক থাকো" (১)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি ওযু করছিলেন, তখন তিনি বললেন: "পানিতে অপচয় করো না।" সা’দ বললেন: পানিতেও কি অপচয় হয়? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদিও তুমি কোনো প্রবাহিত নদীর তীরে থাকো" (২)। তাঁর থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ওযু করেছেন এবং ওযুর অঙ্গসমূহ একবার করে ধৌত করেছেন ও তার অধিক করেননি। আবার ওযু করেছেন এবং অঙ্গসমূহ দুইবার করে ধৌত করেছেন। ওযু করেছেন এবং তিনবার করে ধৌত করেছেন (৩)। তিনি ওযু করেছেন এবং কোনো কোনো অঙ্গ দুইবার ও কোনো কোনো অঙ্গ তিনবার ধৌত করেছেন। তিনি এক আজলা, দুই আজলা এবং তিন আজলা পানি দিয়ে কুলি করেছেন ও নাকে পানি দিয়েছেন; তিনি এক আজলা পানির অর্ধেক কুলিতে এবং অর্ধেক নাকে পানি দিতে ব্যবহার করতেন, এই তিন পদ্ধতিতেই তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে এটি করেছেন।

কোনো হাদিসেই কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার মাঝে পৃথক করার বর্ণনা পাওয়া যায়নি; আর তালহা ইবনে মুসাররিফ-এর তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদিসটিতে—যেখানে তিনি পৃথক করার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে উল্লেখ আছে—সেটির সনদে দুর্বলতা রয়েছে। আর তিনি ডান হাত দিয়ে নাকে পানি দিতেন।

--------------------------------------------

(১) অত্র হাদিসটি তিরমিযী (১/৭৬, ৭৭) ‘পানিতে অপচয় অপছন্দনীয় হওয়া’ অধ্যায়ে, ইবনে মাজাহ হাদিস নং ৪২১, এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৫/১৩৬) বর্ণনা করেছেন; দেখুন জয়ীফুল জামি’ (২২৭১)।

(২) এই হাদিসটি হাকীম তিরমিযী তাঁর ‘আল-আকিয়াস ওয়াল মুগতারিীন’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি ওযু করছিলেন। তিনি বললেন: "হে সা’দ, এই অপচয় কেন?" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ওযুতেও কি অপচয় আছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদিও তুমি নদীর তীরে থাকো।" দেখুন: আল-আকিয়াস ওয়াল মুগতারিীন। পানিতে অপচয় সম্পর্কে তাঁর নিষেধ সুপরিচিত এবং তাঁর এই সংবাদও যে, এমন এক সম্প্রদায় আসবে যারা ওযুর ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করবে। সুতরাং শরীয়ত প্রণেতা যে পরিমাণকে পর্যাপ্ত বলেছেন, যে ব্যক্তি তা অতিক্রম করবে সে অপচয় করল, যা হারাম। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ পানি দিয়ে ওযু করতেন এবং এক সা' থেকে পাঁচ মুদ পানি দিয়ে গোসল করতেন।" মুত্তাফাকুন আলাইহি। ইমাম বুখারী ওযুর কিতাবে, অনুচ্ছেদ ৪৭, হাদিস নং ১ ও ২ (খণ্ড ১/৩০৪) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) একবার করে, দুইবার করে এবং তিনবার করে ধৌত করা, আবার কোনো অঙ্গ তিনবার ও কোনো অঙ্গ দুইবার ধৌত করা সম্পর্কে সহীহ হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। এই বিভিন্নতা প্রমাণ করে যে এই সবকটিই বৈধ, তবে তিনবার ধৌত করা হলো পূর্ণতা আর একবার ধৌত করা হলো পর্যাপ্ত। ইমাম আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ এই হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন যা এর বৈধতা প্রমাণ করে। দেখুন ইমাম শাওকানী-এর নাইলুল আওতার (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭২, ১৭৩)।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২৫)
ويستنثر باليسرى ويمسح جميع رأسه مرّة لا يكرر. وروى التكرار في حديث لكنه ضعيف.

وحيثما اقتصر على مسح بعض الرأس أتم على العمامة، ولم يترك المضمضة والاستنشاق أبدًا، ولم يرو أحد عنه ذلك أبدًا. وكان يتوضأ مرتبًا متواليا، ولم يخل بالترتيب والتوالي أبدًا. وكان يمسح جميع رأسه أحيانًا، وأحيانا يمسح على العمامة، وأحيانًا يمسح على الناصية (1) والعمامة.

ولم يقتصر على مسح بعض الرأس أبدًا، وكان يمسح الأذن ظاهرًا وباطنًا، ولم يثبت في مسح الرقبة حديث، وحيث لم يكن في رجله خف غسل وإلا مسح والأحاديث الواردة في أذكار الوضوء لم يصح منها شيء، والذي صح أنه كان يقول في أول الوضوء: "بسم الله! وفى آخر: "أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله" (2) "اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين (3) سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت استغفرك وأتوب إليك" (4).

قال أبو موسى الأشعري: جئت بماء الوضوء لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتوضأ وسمعته يقول: "اللهم اغفر لي ذنبي ووسع لي في داري وبارك لي في رزقي" (5) قال: قلت: يا رسول الله سمعتك تدعو بكذا وكذا قال: "وهل تركت مني شيء؟ ". ولم يكن ينشف أعضاءه بعد الوضوء بمنديل، ولا منشفة. وإن أحضروا له شيئا من ذلك أبعده. والحديث المروى عن عائشة

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه: "أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ فمسح ناصيته، وعلى العمامة والخفين". أخرجه مسلم في صحيحه في كتاب الطهارة باب رقم (23) حديث رقم (275) (1/ 231).

(2) أخرجه مسلم في صحيحه برقم (234)، وأورده الترمذي في رياض الصالحين (ص 431 برقم 9/ 1032).

(3) أخرج هذه الزيادة الإمام الترمذي في سننه برقم (55) وزيادة الترمذي حسنه، وانظر رياض الصالحين (431) ورواه ابن ماجة في حديث أنس وابن السني في عمل اليوم والليلة وغيرهما.

(4) أخرج هذا الحديث الإمام الحاكم في المستدرك من حديث أبي سعيد بزيادة في آخره. لم يذكرها المصنف. وصحح النسائي أنه موقوف. وانظر سبل السلام (ج 1 ص 117).

(5) لم أقف عليه. قال النووي: الأدعية أثناء الوضوء لا أصل لها ولم يذكرها المتقدمون.
তিনি বাম হাত দিয়ে নাক ঝাড়তেন এবং একবার পূর্ণ মাথা মাসাহ করতেন, তা পুনরাবৃত্তি করতেন না। একটি হাদিসে পুনরাবৃত্তির বর্ণনা এসেছে তবে সেটি দুর্বল।

আর যখনই তিনি মাথার কিছু অংশ মাসাহ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতেন, তখন পাগড়ির উপর মাসাহ পূর্ণ করতেন। তিনি কখনোই কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া ত্যাগ করেননি, আর কেউ তাঁর থেকে এমনটি বর্ণনাও করেননি। তিনি ধারাবাহিকভাবে এবং বিরতিহীনভাবে অজু করতেন, তিনি কখনোই ধারাবাহিকতা ও বিরতিহীনতার খেলাপ করেননি। তিনি কখনো পূর্ণ মাথা মাসাহ করতেন, কখনো পাগড়ির ওপর মাসাহ করতেন, আবার কখনো কপালের ওপরের চুল (১) ও পাগড়ির ওপর মাসাহ করতেন।

তিনি কখনোই কেবল মাথার কিছু অংশ মাসাহ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি কানের ভেতরের ও বাইরের অংশ মাসাহ করতেন। ঘাড় মাসাহ করার ব্যাপারে কোনো হাদিস প্রমাণিত নয়। আর যখন তাঁর পায়ে মোজা থাকত না তখন তিনি পা ধৌত করতেন, অন্যথায় মাসাহ করতেন। অজুর জিকিরসমূহ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলোর কোনটিই সহিহ নয়। তবে যা সহিহ তা হলো, তিনি অজুর শুরুতে বলতেন: "আল্লাহর নামে শুরু করছি!" এবং শেষে বলতেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল" (২)। "হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন (৩)। হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি" (৪)।

আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য অজুর পানি নিয়ে এলাম, তিনি অজু করলেন এবং আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: "হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার ঘর প্রশস্ত করে দিন এবং আমার রিজিকের বরকত দান করুন" (৫)। তিনি বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে এমন এমন দোয়া করতে শুনেছি। তিনি বললেন: "এগুলো কি কোনো কিছু বাদ রেখেছে?" তিনি অজুর পর তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রুমাল বা তোয়ালে দিয়ে মুছতেন না। যদি তাঁর কাছে এমন কিছু আনা হতো, তিনি তা সরিয়ে দিতেন। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসটি—

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুগিরা ইবনে শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করলেন এবং তাঁর কপালের ওপরের চুল, পাগড়ি ও মোজা দুটির ওপর মাসাহ করলেন।" মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থের পবিত্রতা অধ্যায়ে ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে, ২৭৫ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন (১/২৩১)।

(২) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে ২৩৪ নম্বরে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি এটি রিয়াদুস সালিহিন গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৪৩১, নম্বর ৯/১০৩২) উল্লেখ করেছেন।

(৩) ইমাম তিরমিজি এই অতিরিক্ত অংশটি তাঁর সুনান গ্রন্থে ৫৫ নম্বরে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজির এই বর্ধিত অংশটি হাসান। দেখুন: রিয়াদুস সালিহিন (৪৩১)। এটি ইবনে মাজাহ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে এবং ইবনুস সুন্নি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৪) ইমাম হাকেম এই হাদিসটি মুসতাদরাক গ্রন্থে আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যার শেষে অতিরিক্ত অংশ রয়েছে, যা লেখক উল্লেখ করেননি। নাসায়ি এটিকে মাওকুফ হিসেবে সহিহ বলেছেন। দেখুন: সুবুলুস সালাম (১ম খণ্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা)।

(৫) আমি এটি খুঁজে পাইনি। ইমাম নববী বলেন: অজুর মাঝখানের দোয়াগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং পূর্ববর্তীগণ তা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২৬)
رضي الله تعالى عنها: "كانت له نشافة ينشف بها بعد الوضوء (1). وحديث معاذ في معناه (2) كلاهما ضعيف، وفي حالة الوضوء، لم يصب الماء عليه أحد إلا في وقت ضرورة.

والحديث الوارد في تخليل اللحية قَبِله بعض أهل الحديث ورده البعض، وأما تخليل الأصابع فكان يفعله أحيانًا، وورد تحريك الخاتم في حديث ضعيف.

 

فصل

ثبت في الأخبار الصحيحة: أن النبي صلى الله عليه وسلم مسح على الخفين في السفر والحضر، ومدة الحضر يوم وليلة، فيما أمر، وثلاثة أيام ولياليها في السفر، وكان يمسح على ظاهر الخف (3) وورد في مسح أسفله حديث ضعيف، ولم يثبت في الصحيح، وكان يمسح على الجورب. وحديث الجرموق رواه الترمذي وصححه وضعفه جماعة من الحفاظ، وكان لا يقصد المسح ولا الغسل، لكن إن كان في حالة قصد الوضوء لابسًا، مسح وإلا غسل، ولم يكن يلبس ليمسح ولا ينزع ليغسل، ولما كان للعلماء أقوال في أفضلية المسح أو الغسل بينا ليعلم أن أحسن الأقوال هذا الذي وافق العادة النبوية.

 

فصل

كلما تيمم صلى الله عليه وسلم ضرب ضربة بكفيه المباركتين على الأرض الطاهرة ومسح بهما وجهه وظاهر كفيه (4)، ولم يرد في الحديث الصحيح أنه ضرب ضربتين

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي وفيه أبو معاذ وهو ضعيف، وقال الترمذي: بعد أن روى الحديث ليس بالقائم ولا يصح فيه شيء. انظر: الترمذي في أبواب الطهارة، باب (41 - ج 1 ص 76 وما بعدها).

(2) أخرجه الحاكم في المستدرك، والترمذي في سننه، أبواب الطهارة باب (41 - 1/ 76).

(3) انظر صحيح البخاري في كتاب الوضوء باب (49) حديث رقم (206 - 1/ 309، ومسلم في كتاب الطهارة باب (22) المسح على الخفين، وأحمد (2/ 358 و 4/ 245 - 255).

(4) انظر صحيح البخاري في كتاب التيمم، باب (8) التيمم ضربة، حديث رقم (347) فتح الباري (1/ 455 - 456) ومسلم في كتاب الحيض، باب التيمم حديث رقم (368 - 1/ 380 - 381)، وأبى داود في كتاب الطهارة، باب التيمم حديث رقم (321 - 87 - 88)، والنسائي (1/ 70) في كتاب الطهارة، باب تيمم الجنب.
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন: তাঁর একটি রুমাল ছিল যা দিয়ে তিনি ওযুর পর অঙ্গসমূহ মুছতেন (১)। মু’আজের হাদিসটিও একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে (২), উভয় হাদিসই দুর্বল। আর ওযুর ক্ষেত্রে, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অন্য কেউ তাঁর ওপর পানি ঢেলে দেননি।

দাড়ি খিলাল করার ব্যাপারে যে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, কিছু হাদিস বিশারদ তা গ্রহণ করেছেন এবং অন্যেরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে আঙুল খিলাল করার বিষয়টি তিনি মাঝে মাঝে করতেন। আর আংটি নড়াচড়া করার কথা একটি দুর্বল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

 

পরিচ্ছেদ

সহিহ হাদিসসমূহে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফর এবং ঘরে থাকা অবস্থায় মোজার ওপর মাসাহ করেছেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ঘরে থাকার সময় এর মেয়াদ একদিন ও একরাত, আর সফরের সময় তিন দিন ও তিন রাত। তিনি মোজার উপরিভাগে মাসাহ করতেন (৩)। মোজার নিচের অংশে মাসাহ করার বিষয়ে একটি দুর্বল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। তিনি সাধারণ মোজার (জওরাব) ওপরও মাসাহ করতেন। জারমুকের হাদিসটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ বলেছেন, তবে একদল হাফেজ একে দুর্বল বলেছেন। তিনি মাসাহ বা ধোয়ার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য রাখতেন না; বরং ওযুর সময় যদি মোজা পরিহিত থাকতেন তবে মাসাহ করতেন, অন্যথায় ধুয়ে নিতেন। তিনি মাসাহ করার জন্য মোজা পরিধান করতেন না এবং ধোয়ার জন্য তা খুলতেনও না। মাসাহ নাকি ধোয়া উত্তম—এই বিষয়ে আলেমদের মাঝে একাধিক অভিমত থাকায় আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করেছি যাতে জানা যায় যে, নববী আদর্শের সাথে মিল থাকা মতটিই সর্বোত্তম।

 

পরিচ্ছেদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই তায়াম্মুম করতেন, তাঁর বরকতময় দুই হাতের তালু পবিত্র মাটিতে একবার আঘাত করতেন এবং তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের পিঠ মাসাহ করতেন (৪)। সহিহ হাদিসে দুইবার আঘাত করার কথা বর্ণিত হয়নি।

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবু মু’আজ নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি দুর্বল। তিরমিজি হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: এটি নির্ভরযোগ্য নয় এবং এ বিষয়ে কোনো কিছু সহিহ নয়। দেখুন: তিরমিজি, তাহারাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ (৪১ - খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৬ ও পরবর্তী)।

(২) হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’-এ এবং তিরমিজি তাঁর ‘সুনান’-এ বর্ণনা করেছেন, তাহারাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ (৪১ - ১/৭৬)।

(৩) দেখুন: সহিহ বুখারি, ওযু অধ্যায়, পরিচ্ছেদ (৪৯), হাদিস নং (২০৬ - ১/৩০৯); মুসলিম, তাহারাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ (২২), মোজার ওপর মাসাহ; আহমদ (২/৩৫৮ এবং ৪/২৪৫-২৫৫)।

(৪) দেখুন: সহিহ বুখারি, তায়াম্মুম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ (৮), তায়াম্মুম একবার আঘাত করা, হাদিস নং (৩৪৭), ফাতহুল বারি (১/৪৫৫-৪৫৬); মুসলিম, হায়েজ অধ্যায়, তায়াম্মুম পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৩৬৮ - ১/৩৮০-৩৮১); আবু দাউদ, তাহারাত অধ্যায়, তায়াম্মুম পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৩২১ - ৮৭-৮৮); নাসায়ি (১/৭০), তাহারাত অধ্যায়, জুনুব ব্যক্তির তায়াম্মুম পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২৭)
على التراب، ولم يرد أنه مسح إلى المرفقين، وما ورد من الأحاديث على خلاف ما قلناه فجميعه ضعيف.

وكان يتيمم من الأرض التي يقصد الصلاة عليها ولا يفرق بين التراب والرمل وغير ذلك، وقال: "حيثما أدركت رجلا من أمتي الصلاة فعنده مسجده وطهوره" (1) وهذا الحديث صريح في أن جنس الأرض طهور، ولم نجد في حديث صحيح أنه تيمم لكل فريضة تيمما جديدًا، بل أمر به مطلقًا، وأقامه مقام الوضوء، والله تعالى أعلم.

--------------------------------------------

(1) راجع مصادر السنة السابقة فقد ذكرت هذا الحديث الذي ذكر منه المصنف طرقًا.
মাটির উপর, এবং এটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি কনুই পর্যন্ত মাসেহ করেছেন; আর আমরা যা বলেছি তার বিপরীতে যে সকল হাদিস বর্ণিত হয়েছে তার সবগুলিই দুর্বল।

তিনি সেই জমিন থেকে তায়াম্মুম করতেন যেখানে তিনি সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতেন এবং তিনি মাটি, বালু ও এই জাতীয় অন্যান্য জিনিসের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি যেখানেই সালাতের সময় পাবে, সেখানেই তার জন্য সালাতের স্থান এবং পবিত্রতার মাধ্যম বিদ্যমান রয়েছে" (১)। এই হাদিসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে জমিনের প্রকৃতিই হলো পবিত্রকারী, এবং আমরা কোনো সহিহ হাদিসে পাইনি যে তিনি প্রতিটি ফরজ সালাতের জন্য নতুনভাবে তায়াম্মুম করেছেন, বরং তিনি সাধারণভাবে এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে ওযুর স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) সুন্নাহর পূর্ববর্তী উৎসসমূহ দেখুন, যেখানে গ্রন্থকার বর্ণিত এই হাদিসটির বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌باب في صلاة الرسول صلى الله عليه وسلم -

كان إذا قام إلى الصلاة قال: "الله أكبر" ولم يرو عنه التكلم بلفظ النية. وكان يرفع يديه مع التكبير حتى يحاذي (1) بهما أذنيه، وأحيانا يحاذي بهما كتفيه، ثم يضع يمينه علي يساره فوق صدره كذا في صحيح ابن خزيمة ثم يشرع في دعاء الاستفتاح، وذلك مروي من عدة وجوه صحيحة.

الأول: رواية أمير المؤمنين علي رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة قال: "وجهت وجهي للذي فطر السموات والأرض حنيفا مسلما وما أنا من المشركين إن صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين، لا شريك له وبذلك أمرت وأنا أول المسلمين، اللهم إنك أنت الله الملك لا إله إلا أنت، أنت ربي وأنا عبدك ظلمت نفسى واعترفت بذنبى فاغفر لي ذنوبى جميعًا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت، واهدنى لأحسن الأخلاق لا يهدي لأحسنها إلا أنت، واصرف عني سيئها لا يصرف عني سيئها إلا أنت، لبيك وسعديك والخير كله بيدك، والشر ليس إليك، أنا بك وإليك، تباركت وتعاليت أستغفرك وأتوب إليك" (2).

الثاني: حديث أبي هريرة رضي الله تعالي عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسكت بين التكبير والقراءة، فقلت بأبي وأمي أسكاتك بين التكبير والقراءة ما تقول؟ قال: أقول: "اللهم باعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب، الله نقني من خطاياي كما ينقي الثوب الأبيض من الدنس، اللهم اغسلني من خطاياي بالماء والثلج والبرد" (3).

--------------------------------------------

(1) انظر صحيح البخاري بشرح فتح الباري (ج 2 ص 503 وما بعدها)، وأبو داود (ج 1 ص 194 وما بعدها)، والترمذي في أبواب الصلاة، باب ما جاء في وصف الصلاة حديث رقم (304 - 305).

(2) الحديث أخرجه مسلم بمثله في كتاب صلاة المسافرين وقصرها، باب (26) باب الدعاء في صلاة الليل وقيامه حديث (771 - 1/ 534 - 536)، والنسائي (2/ 129) في الافتتاح، باب نوع آخر من الدعاء.

(3) رواه البخاري في كتاب الأذان، باب ما يقول بعد التكبير حديث (744 - 2/ 127)، ومسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب ما يقال بين تكبيرة الإحرام حديث رقم (598 ج 1 ص 419) وأبو داود في كتاب الصلاة. باب السكتة عند الافتتاح حديث رقم (781 ج 1 ص 207). والنسائي (2/ 128 - 291) باب الدعاء بين التكبيرة والقرآن.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত বিষয়ক অধ্যায়-

তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন বলতেন: "আল্লাহু আকবার", আর তাঁর থেকে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। তিনি তাকবীরের সাথে তাঁর দুই হাত উঠাতেন এমনকি তা তাঁর কান বরাবর হতো (১), আবার কখনো তা তাঁর দুই কাঁধ বরাবর হতো। অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের ওপর বুকের ওপর রাখতেন—যেমনটি সহীহ ইবনে খুজাইমাতে রয়েছে। এরপর তিনি সানা বা প্রারম্ভিক দুআ পাঠ শুরু করতেন, যা একাধিক সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

প্রথমটি: আমীরুল মুমিনীন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন বলতেন: "আমি একনিষ্ঠভাবে ও মুসলিম হয়ে আমার চেহারা সেই সত্তার দিকে ফিরালাম যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সারা জাহানের রব আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই আদিষ্ট হয়েছি আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। হে আল্লাহ, আপনিই অধিপতি, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমার প্রতিপালক এবং আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং আমার অপরাধ স্বীকার করছি, অতএব আপনি আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। আপনি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করুন, আপনি ছাড়া কেউ উত্তম চরিত্রের দিকে পথ দেখাতে পারে না। আর আপনি আমার থেকে মন্দ চরিত্রকে সরিয়ে দিন, আপনি ছাড়া কেউ মন্দ চরিত্র সরিয়ে দিতে পারে না। আমি আপনার দরবারে হাজির ও উপস্থিত এবং সকল কল্যাণ আপনার হাতে, আর অকল্যাণ আপনার দিকে সম্বন্ধযুক্ত নয়। আমি আপনার দ্বারাই এবং আপনারই দিকে। আপনি বরকতময় এবং সুউচ্চ। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি" (২)।

দ্বিতীয়টি: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর এবং কিরাআতের মাঝে কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন। আমি বললাম, আমার পিতা ও মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোক, তাকবীর ও কিরাআতের মাঝে আপনার এই নীরবতার সময় আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: আমি বলি: "হে আল্লাহ, আমার ও আমার পাপের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ, আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ, আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে ধৌত করে দিন" (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল বারীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ বুখারী (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫০৩ এবং পরবর্তী), আবু দাউদ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৪ এবং পরবর্তী), তিরমিযী সালাত অধ্যায়, সালাতের বর্ণনার পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৩০৪ - ৩০৫)।

(২) হাদিসটি ইমাম মুসলিম অনুরূপভাবে মুসাফিরের সালাত ও কসর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ (২৬) রাতের সালাতে দুআ ও কিয়াম, হাদিস (৭৭১ - ১/ ৫৩৪ - ৫৩৬); এবং নাসায়ী (২/ ১২৯) প্রারম্ভিক দুআ অধ্যায়ে, অন্য প্রকার দুআ পরিচ্ছেদে।

(৩) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন আযান অধ্যায়ে, তাকবীরের পর যা বলা হয় পরিচ্ছেদে, হাদিস (৭৪৪ - ২/ ১২৭); এবং মুসলিম মাসজিদ ও সালাতের স্থান অধ্যায়ে, তাকবীরে তাহরীমার পর যা বলা হয় পরিচ্ছেদে, হাদিস নং (৫৯৮ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১৯); এবং আবু দাউদ সালাত অধ্যায়ে, শুরুর নীরবতা পরিচ্ছেদে, হাদিস নং (৭৮১ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৭); এবং নাসায়ী (২/ ১২৮ - ১২৯) তাকবীর ও কিরাআতের মাঝে দুআ পরিচ্ছেদে।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ২৯)
الثالث: حديث عائشة رضي الله تعالى عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا استفتح الصلاة قال: "سبحانك اللهم وبحمدك تبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك" (1).

الرابع: ورد في حديث آخر أنه كان يقول: "الله أكبر الله أكبر الله أكبر، الحمد لله كثيرًا الحمد لله كثيرًا الحمد لله كثيرا، سبحان الله بكرة وأصيلا، سبحان الله بكرة وأصيلا، سبحان الله بكرة وأصيلا، اللهم إني أعوذ بك من الشيطان الرجيم ومن همزه ونفخه ونفثه" (2).

الخامس: ورد في رواية أخرى: "الله أكبر" عشر مرات ثم يسبح عشرًا ثم يحمد عشرًا ويهلل عشرًا ويستغفر عشرًا ثم يقول: "اللهم اغفر لي واهدني وارزقني" عشرًا ثم يقول: "اللهم إني أعوذ بك من ضيق المقام يوم القيامة" عشرًا (3).

السادس: ورد في رواية صحيحة أنه كان يقول بعد التكبير: "اللهم باعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم اغسلني من خطاياي بالماء والثلج والبرد، اللهم نقنى من الذنوب والخطايا كما ينقى الثوب الأبيض من الدنس" (4).

السابع: "اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل فاطر السموات والأرض

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم بسند منقطع، ورواه الدارقطني موصولا وموقوفًا، ورواه الترمذي في أبواب الصلاة باب ما يقول عند افتتاح الصلاة حديث رقم (243 - 2/ 11)، وأبو داود في كتاب الصلاة، باب من رأي الاستفتاح بسبحانك اللهم وبحمدك حديث رقم (776 - 1/ 206)، ورواه الدارقطني في كتاب الصلاة، باب دعاء الاستفتاح بعد التكبير حديث رقم (6 - 7 - 8 - 9 - ج 1/ 299 - 300).

(2) رواه أبو داود بنحوه في كتاب الصلاة، باب من رأي الاستفتاح بسبحانك اللهم وبحمدك حديث (775 - ج 1 ص 206).

(3) لم نجده بهذا اللفظ الذي أورده المصنف. وأورد الترمذي قريبًا منه (ج 2 ص 11) وأبو داود (ج 1 ص 206)، والدارقطنى (1/ 206).

(4) متفق عليه، رواه البخاري في كتاب الأذان (ج 2 ص 127 - 744). ومسلم (ج 1 ص 419)، وأبو داود (ج 1 ص 207)، والنسائي (1/ 207).
তৃতীয়: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি, আপনার নাম বরকতময় এবং আপনার মর্যাদা সুউচ্চ আর আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই" (১)।

চতুর্থ: অন্য একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: "আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহর জন্য অনেক অনেক প্রশংসা, আল্লাহর জন্য অনেক অনেক প্রশংসা, আল্লাহর জন্য অনেক অনেক প্রশংসা; সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে এবং তার প্ররোচনা, অহঙ্কার ও কুমন্ত্রণা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি" (২)।

পঞ্চম: অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "আল্লাহু আকবার" (আল্লাহ সবচেয়ে বড়) দশ বার, অতঃপর দশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), অতঃপর দশ বার তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), দশ বার তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), দশ বার ইসতিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পাঠ করতেন। অতঃপর বলতেন: "হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে হিদায়াত দান করুন এবং আমাকে রিযিক দান করুন" দশ বার। অতঃপর বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি কিয়ামত দিবসের সংকীর্ণ স্থান হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি" দশ বার (৩)।

ষষ্ঠ: একটি সহীহ বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি তাকবীরের পর বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার পাপসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন যেমন দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপসমূহ হতে পানি, বরফ ও শিলা দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে গুনাহ ও পাপসমূহ হতে এমনভাবে স্বচ্ছ করে দিন যেমনভাবে সাদা কাপড় ময়লা হতে স্বচ্ছ করা হয়" (৪)।

সপ্তম: "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) সনদে বর্ণনা করেছেন, এবং দারাকুতনী এটি মাওসুল (সংযুক্ত) ও মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী এটি সালাত অধ্যায়ে, 'সালাত শুরুর সময় যা বলতে হয়' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (২৪৩ - ২/ ১১)। আবু দাউদ সালাত কিতাবে, 'সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা দ্বারা সালাত শুরু করা যার অভিমত' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (৭৭৬ - ১/ ২০৬)। দারাকুতনী এটি সালাত কিতাবে, 'তাকবীরের পর ইস্তিফতাহ দুআ' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (৬ - ৭ - ৮ - ৯ - খণ্ড ১/ ২৯৯ - ৩০০)।

(২) আবু দাউদ এর সমার্থবোধক হাদীস সালাত কিতাবে, 'সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা দ্বারা সালাত শুরু করা যার অভিমত' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (৭৭৫ - খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৬)।

(৩) লেখক যেভাবে উল্লেখ করেছেন, সেই শব্দে আমরা এটি খুঁজে পাইনি। তবে তিরমিযী (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১১), আবু দাউদ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৬) এবং দারাকুতনী (১/ ২০৬) এর কাছাকাছি শব্দে উল্লেখ করেছেন।

(৪) মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম ঐক্যমত পোষণ করেছেন), ইমাম বুখারী এটি আযান কিতাবে বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২৭ - ৭৪৪)। মুসলিম (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১৯), আবু দাউদ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৭), এবং নাসাঈ (১/ ২০৭)।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৩০)
عالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك فإنك تهدى من تشاء إلى صراط مستقيم" (1).

الثامن: من الروايات أنه كان يقول بعد التكبير: "اللهم لك الحمد أنت نور السموات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت ملك السموات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت الحق ووعدك الحق وقولك حق والجنة حق والنار حق والنبيون حق والساعة حق" (2).

وبعد هذه الأذكار يقول: "أعوذ بالله من الشيطان الرجيم ثم يقرأ الفاتحة وكان يجهر بالبسملة في بعض الأوقات، ويخفيها في بعض الأوقات، وكان يقرأ مرتبا مرتلًا، ويقف عند آخر الكلمة ويقول: آمين بعد فراغ الفاتحة يجهر بها في الصلاة الجهرية، ويخفيها في السرية، ويوافقه في التأمين المقتدون بأسرهم، وكان يراعى سكتتين في الصلاة، سكتة بين التكبيرة وقراءة الفاتحة، وسكتة ثانية بين فراغه من الفاتحة وقراءة السورة.

وجاء في بعض الروايات أنه كان يسكت بين القراءة والركوع، فتكون هذه سكتة ثالثة. لكنها كانت في غاية اللطف والقلة، وكان يقرأ في صلاة الصبح بعد الفاتحة سورة مطولة مقدار ستين آية أو مائة آية، وأحيانا يقرأ سورة ق، وأحيانا يقرأ سورة الروم، وأحيانا يخفف إلى حد أنه كان يقتصر على قراءة {إِذَا زُلْزِلَتِ} وأحيانا بالمعوذتين.

وكان في السفر يقرأ أحيانا: {إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ} وكان يقرأ في صلاة فجر يوم الجمعة سورة: {الم (1) تَنْزِيلُ} السجدة في الركعة الأولى، {هَلْ أَتَى} في الركعة الثانية، وتخصيص يوم الجمعة، بقراءة هاتين السورتين، لأنهما اشتملتا علي ذكر المبدأ والمعاد، ودخول الجنة، وهذه المعاني تكون في يوم الجمعة، لأن القيامة تكون فيه فلا جرم أن يذكر الأمة هذا المعنى بقراءة هاتين السورتين.

--------------------------------------------

(1) انظر صحيح مسلم (ج 1 ص 534 - 536)، والنسائي (2/ 129) في الافتتاح، باختلاف عما أورده المصنف.

(2) انظر نيل الأوطار للشوكاني (2/ 129) وما بعدها.
অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাতা, আপনিই আপনার বান্দাদের মাঝে সেই বিষয়ের ফয়সালা করেন যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করত। আপনার অনুমতিক্রমে সত্যের ব্যাপারে যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দান করেন। (১)।

অষ্টম: বর্ণনাগুলোতে এসেছে যে, তিনি তাকবীরের পর বলতেন: "হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এদের মাঝে যা কিছু আছে তাদের নূর। সকল প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এদের মাঝে যা কিছু আছে তাদের মালিক। সকল প্রশংসা আপনারই, আপনিই সত্য, আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য, আপনার বাণী সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য এবং কিয়ামত সত্য" (২)।

এই যিকিরসমূহের পর তিনি বলতেন: "আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি", এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। তিনি কখনো বিসমিল্লাহ উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করতেন এবং কখনো নিচু স্বরে। তিনি সুবিন্যস্ত ও ধীরস্থিরভাবে পাঠ করতেন এবং আয়াতের শেষে বিরতি দিতেন। সূরা ফাতিহা শেষ করার পর তিনি 'আমীন' বলতেন; সশব্দ সালাতে তা উচ্চৈঃস্বরে এবং নিঃশব্দ সালাতে তা নিচু স্বরে বলতেন। সকল মুক্তাদিও আমীন বলার ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে তাঁর অনুগামী হতেন। তিনি সালাতে দুটি বিরতি (সাকতাহ) বজায় রাখতেন: একটি বিরতি তাকবীর ও সূরা ফাতিহা পাঠের মাঝে এবং দ্বিতীয় বিরতি ফাতিহা পাঠ শেষ করা ও পরবর্তী সূরা পাঠের মাঝে।

কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি কিরাত ও রুকুর মাঝেও বিরতি নিতেন, যা তৃতীয় বিরতি হিসেবে গণ্য। তবে এটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও মৃদু। তিনি ফজরের সালাতে সূরা ফাতিহার পর দীর্ঘ কিরাত পাঠ করতেন, যার পরিমাণ ছিল ষাট থেকে একশ আয়াতের মতো। কখনো তিনি সূরা ক্বাফ পাঠ করতেন, কখনো সূরা রূম, আবার কখনো এতটা সংক্ষেপ করতেন যে কেবল 'ইযা যুলযিলাত' কিংবা 'মুআওবিযাতাইন' পাঠের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন।

সফর অবস্থায় তিনি কখনো 'ইযাশ শামসু কুউয়িরাত' পাঠ করতেন। জুমার দিনের ফজরের সালাতে তিনি প্রথম রাকাতে 'আলিফ লাম মীম তানযীল' (সূরা সাজদাহ) এবং দ্বিতীয় রাকাতে 'হাল আতা' (সূরা ইনসান) পাঠ করতেন। জুমার দিনে এই দুটি সূরা পাঠের বিশেষত্ব হলো, এগুলোতে সৃষ্টিতত্ত্ব, পরকাল ও জান্নাতে প্রবেশের বর্ণনা রয়েছে। আর এই বিষয়গুলো জুমার দিনেই সংঘটিত হবে, যেহেতু কিয়ামত জুমার দিনেই কায়েম হবে। তাই উম্মতকে এই বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এই সূরা দুটির কিরাত নির্ধারিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সহীহ মুসলিম (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৪-৫৩৬), এবং নাসাঈ (২/১২৯) ইফতিতাহ অধ্যায়; লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে কিঞ্চিৎ ভিন্নতা সহ।

(২) দেখুন: শাওকানী প্রণীত নাইলুল আওতার (২/১২৯) এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৩১)
كما أنه كان يقرأ المحافل الكبار، والمجامع المعظمة سورة ق، واقتربت، وأمثال ذلك. وأما صلاة الظهر فكان يطولها بحيث أنه كان في بعض الأحيان بعد إقامة صلاة الظهر، يسير الماشى إلى قباء، ويرجع إلى الصلاة، ولم يكن يركع في الركعة الأولى، وكان يقرأ أحيانا في الركعة الأولى، مقدار {الم (1) تَنْزِيلُ} السجدة، وحينا {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى}، أو {وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ} أو والليل، أو الانشقاق، أو والطارق، وما أشبه ذلك.

وأما صلاة العصر فكانت مقدار نصف صلاة الظهر في الطول، وأحيانا أخف من ذلك، وأما صلاة المغرب فكان يطولها أحيانًا بحيث أنه كان يقرأ سورة الأعراف في الركعتين، يقرأ في كل ركعة نصفًا، وحينا يقرأ الصافات، وسورة حم الدخان، وحينا سبح اسم ربك الأعلى، وحينًا والتين، وحينًا المعوذتين، وحينًا المرسلات، وحينًا قصار المفصل. وقد صحت الروايات بهذا المجموعة، والسنة أن لا يواظب على نمط واحد من تطويل، وتقصير، بل يطول حينًا، ويقصر حينًا بحسب الحال والوقت (1).

وأما صلاة العشاء فقد عين لمعاذ سورة والشمس، وسبح اسم ربك الأعلى، أو والليل، ومنعه من قراءة البقرة ونحوها وزجره، وقال له صلى الله عليه وسلم: "أفتان أنت يا معاذ؟ " (2). وفى بعض الأحاديث عين له والسموات، يعنى: {إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ}، والبروج، والطارق.

وأما صلاة الجمعة فإنه كان يقرأ في الأول سورة الجمعة. وفي الثانية سورة المنافقين، وحين التخفيف يقرأ: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى}، والغاشية، وأما قراءة آخر سورة الجمعة في الركعة الأولى، وآخر سورة المنافقين في الثانية فمخالف للسنة.

وأما صلاة العيد، فكان يقرأ فيها سورة ق، وسورة اقتربت، وقد يقرأ

--------------------------------------------

(1) ورد ما أشار إليه المصنف في كتب السنة انظر على سبيل المثال: صحيح البخاري في كتاب الأذان، باب (107) حديث رقم (776 - ج 2 ص 360)، ومسلم في الصلاة، باب القراءة في الظهر والعصر (ج 1 ص 333)، وأبي داود في كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر (ج 1 ص 212) والنسائي (ج 2 ص 165).

(2) متفق عليه رواه البخاري ومسلم، وأورده الشوكاني في نيل الأوطار (ج 2 ص 235).
তেমনি তিনি বড় বড় সমাবেশ ও সম্মানিত মজমাগুলোতে সূরা ক্বাফ, সূরা ইক্বতারাওয়াত (আল-ক্বামার) এবং অনুরূপ সূরাসমূহ পাঠ করতেন। আর যোহরের সালাত সম্পর্কে কথা হলো, তিনি সেটিকে এত দীর্ঘ করতেন যে, অনেক সময় যোহরের সালাতের ইক্বামত হওয়ার পর কোনো পদচারী ব্যক্তি কুবা পর্যন্ত গিয়ে সালাতে ফিরে আসতে পারত, তখনও তিনি প্রথম রাকাতে রুকু করতেন না। তিনি কখনো প্রথম রাকাতে আলিফ-লাম-মীম তানযীলুস সাজদাহ পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন, আবার কখনো সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা, অথবা ওয়াস সামায়ি যাতিিল বুরূজ, অথবা ওয়াল লাইল, অথবা আল-ইনশিক্বাক্ব, অথবা ওয়াত ত্বারিক্ব এবং এই জাতীয় সূরা পাঠ করতেন।

আর আসরের সালাত দৈর্ঘ্যে যোহরের সালাতের অর্ধেক পরিমাণের হতো, আবার কখনো তার চেয়েও হালকা হতো। আর মাগরিবের সালাত সম্পর্কে কথা হলো, তিনি কখনো একে দীর্ঘ করতেন, যেমন তিনি দুই রাকাতে সূরা আল-আরাফ পাঠ করতেন—প্রত্যেক রাকাতে অর্ধেক করে। কখনো সূরা আস-সাফফাত এবং সূরা হা-মীম আদ-দুখান, কখনো সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা, কখনো ওয়াত তীন, কখনো মুআওয়িযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস), কখনো আল-মুরসালাত এবং কখনো ক্বিসারে মুফাসসাল (ছোট সূরাসমূহ) পাঠ করতেন। এই সমস্ত বর্ণনাই সহীহ সূত্রে প্রমাণিত। সুন্নাত হলো দীর্ঘ করা বা সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির ওপর সর্বদা অবিচল না থাকা, বরং অবস্থা ও সময় অনুযায়ী কখনো দীর্ঘ করা এবং কখনো সংক্ষিপ্ত করা (১)।

আর এশার সালাতের ক্ষেত্রে তিনি মুআযের জন্য সূরা ওয়াশ শামস, সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা অথবা ওয়াল লাইল-কে নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তিনি তাকে সূরা আল-বাক্বারাহ বা এই জাতীয় দীর্ঘ সূরা তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেন এবং তাকে ধমক দিয়ে বলেন: "হে মুআয! তুমি কি ফিতনাকারী?" (২)। কোনো কোনো হাদীসে তার জন্য ওয়াস সামাওয়াত—অর্থাৎ ইযাস সামাউন ফাত্বরাত, আল-বুরূজ এবং আত-ত্বারিক্ব সূরাগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন।

আর জুমুআর সালাত সম্পর্কে কথা হলো, তিনি প্রথম রাকাতে সূরা আল-জুমুআ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করতেন। আর সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে তিনি সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা এবং আল-গাশিয়াহ পাঠ করতেন। তবে প্রথম রাকাতে সূরা জুমুআর শেষ অংশ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা মুনাফিকুনের শেষ অংশ পাঠ করা সুন্নাতের পরিপন্থী।

আর ঈদের সালাতের ক্ষেত্রে তিনি তাতে সূরা ক্বাফ এবং সূরা ইক্বতারাওয়াত (আল-ক্বামার) পাঠ করতেন, আবার কখনো...

--------------------------------------------

(১) লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা সুন্নাহর কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ দেখুন: সহীহ বুখারী, কিতাবুল আযান, অনুচ্ছেদ (১০৭), হাদীস নং (৭৭৬ - খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৬০); মুসলিম, কিতাবুস সালাত, যোহর ও আসরে তিলাওয়াত অনুচ্ছেদ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৩৩); আবূ দাউদ, কিতাবুস সালাত, যোহরে তিলাওয়াত অনুচ্ছেদ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১২) এবং নাসায়ী (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬৫)।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি, এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং শাওকানী 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩৫) এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সাফারুস সাআদাহ লিল-ফাইরূযাবাদি (পৃষ্ঠা: ৩২)
سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى، والغاشية (1)، وعلى هذا واظب إلى آخر عمره.

لا جرم أن الخلفاء الراشدين ساروا علي طريقه فكان الصديق رضي الله تعالى عنه يقرأ في صلاة الصبح سورة البقرة، وأمير المؤمنين عمر رضي الله تعالى عنه كان يصلي الصبح حينًا بيوسف، والنحل، وحينًا بهود وبني إسرائيل.

ولو نسخت إطالة الصلاة لما فعلها الخلفاء الراشدون. وفى حديث أنس كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أخف الناس صلاة في تمام. والمراد من هذا الحديث أن طول صلاته بالنسبة إلى صلاة غيره كان قليلا في الغاية كمعاذ مثلا، فإنه كان يقرأ في صلاة العشاء سورة البقرة، والتخفيف أمر نسبى، وفى سنن النسائى ثابت أن ابن عمر رضي الله تعالي عنهما قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمرنا بالتخفيف ويأمنا بالصافات) (2). فقراءة والصافات، في الصلاة من باب التخفيف الذي أمر به الصحابة، ولم يعين شيئا من السور، لشئ من الصلوات سوي الجمعة والعيدين.

قال عبد الله بن عمر: ما من سورة من طوال المفصل وقصاره إلا وقد سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأها في صلاة الفريضة، وكان يقرأ السورة بتمامها غالبًا وفي النادر كان يقرأ بعض السور لبيان الجواز، وحيثما اقتصر على بعض السورة كان أولها فأما قراءة آخر السورة وأوسطها فإنه لم يرد، وكان يطول الركعة الأولى على الثانية دائمًا، وكان يطيل صلاة الصبح علي ما سواها من الصلوات، لأن النزول الربانى في ثلث الليل الأخير، باق إلى انقضاء صلاة الصبح، وبعضهم يقول إلى طلوع الفجر وكلاهما مروي.

وبعض المشايخ يقول: لما كان في عدد ركعات الصبح نقص كمل بالتطويل أو لأنها وقعت بعد الراحة بنوم الليل، أو لأنها وقت ليس فيه اشتغال بأمر المعاش والدنيا، وفيه يتواطأ القلب واللسان والسمع، ويسهل فيه تدبر القرآن، لا جرم تعين صرف تمام العناية إلي التطويل والتكميل.

--------------------------------------------

(1) انظر صحيح البخاري باب (99 - ج 2 ص 347)، ومسلم في كتاب الصلاة، باب القراءة في الصبح (436 - ج 1 ص 338)، وأبي داود في كتاب الصلاة، باب قدر القراءة في المغرب حديث (811 - ج 1 ص 214)، والنسائي (ج 2 ص 169) والموطأ (ج 1 ص 78).

(2) انظر: سبل السلام (ج 1 ص 360)، ونيل الأوطار (ج 2 ص 235).
'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা' এবং 'আল-গাশিয়াহ' (১), এবং তিনি আমৃত্যু এর ওপর অবিচল ছিলেন।

নিঃসন্দেহে খুলাফায়ে রাশেদীন তাঁর পথ অনুসরণ করেছিলেন। তাই সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) ফজরের সালাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করতেন এবং আমীরুল মু'মিনীন উমর (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) কখনো সূরা ইউসুফ ও আন-নাহল এবং কখনো সূরা হূদ ও বনী ইসরাঈল দ্বারা ফজরের সালাত আদায় করতেন।

সালাত দীর্ঘ করা যদি রহিত হয়ে যেত, তবে খুলাফায়ে রাশেদীন তা করতেন না। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত পূর্ণাঙ্গ করার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষেপে সালাত আদায়কারী ছিলেন। এই হাদীসের উদ্দেশ্য হলো যে, অন্যের সালাতের তুলনায় তাঁর সালাতের দৈর্ঘ্য অত্যন্ত কম ছিল, যেমন মু'আয (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উদাহরণ দেওয়া যায়, তিনি এশার সালাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করতেন। সংক্ষিপ্তকরণ একটি আপেক্ষিক বিষয়। সুনানে আন-নাসায়ীতে প্রমাণিত আছে যে, ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি সূরা আস-সাফফাত দিয়ে আমাদের ইমামতি করতেন" (২)। সুতরাং সালাতে সূরা আস-সাফফাত পাঠ করা সেই সংক্ষিপ্তকরণেরই অন্তর্ভুক্ত যার নির্দেশ সাহাবীদের দেওয়া হয়েছিল। তিনি জুমুআ ও দুই ঈদ ব্যতীত অন্য কোনো সালাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা নির্ধারণ করেননি।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: মুফাসসাল সূরার দীর্ঘ ও ছোট সূরাগুলোর মধ্যে এমন কোনো সূরা নেই যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ফরয সালাতে পাঠ করতে শুনিনি। তিনি অধিকাংশ সময় পূর্ণ সূরা পাঠ করতেন এবং কদাচিৎ জায়েয হওয়ার বর্ণনার জন্য সূরার কিছু অংশ পাঠ করতেন। যখনই তিনি সূরার কিছু অংশের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন, তা হতো সূরার প্রথমাংশ। আর সূরার শেষাংশ বা মধ্যাংশ পাঠ করার কথা বর্ণিত হয়নি। তিনি সর্বদা দ্বিতীয় রাকআতের তুলনায় প্রথম রাকআত দীর্ঘ করতেন এবং অন্য সকল সালাতের তুলনায় ফজরের সালাত দীর্ঘ করতেন। কারণ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে রবের অবতরণ ফজরের সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে। কেউ কেউ বলেন ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত, আর উভয়টিই বর্ণিত আছে।

কোনো কোনো মাশায়েখ বলেন: যেহেতু ফজরের রাকআত সংখ্যায় কম, তাই দীর্ঘ কিরাত দ্বারা তা পূর্ণ করা হয়েছে। অথবা যেহেতু তা রাতের ঘুমের প্রশান্তির পর সংঘটিত হয়। অথবা যেহেতু এটি এমন একটি সময় যখন জীবিকা বা দুনিয়াবী কাজে ব্যস্ততা থাকে না এবং এতে অন্তর, জিহ্বা ও শ্রবণের মধ্যে সমন্বয় ঘটে এবং কুরআনে গভীর চিন্তা করা সহজ হয়। তাই পূর্ণ মনোযোগ দীর্ঘ করা এবং পূর্ণতা প্রদানের দিকে নিবদ্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন সহীহ বুখারী অধ্যায় (৯৯ - খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৭), মুসলিম সালাত অধ্যায়, ফজরে কিরাত পাঠ পরিচ্ছেদ (৪৩৬ - খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৩৮), আবু দাউদ সালাত অধ্যায়, মাগরিবে কিরাতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ, হাদীস (৮১১ - খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১৪), নাসায়ী (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬৯) এবং মুয়াত্ত্তা (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৮)।

(২) দেখুন: সুবুলুস সালাম (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬০) এবং নাইলুল আওতার (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩৫)।