(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: -)
نسبة ومنسوب القسم: الأنساب
الكتاب: نسبة ومنسوب
المؤلف: مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني
الناشر: بدون ناشر
الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م
عدد الصفحات: 832
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1440
নিসবাহ ওয়া মানসুব বিভাগ: বংশবিদ্যা
বই: নিসবাহ ওয়া মানসুব
লেখক: মারজুক বিন হাইয়াস আল মারজুক আল-জাহরানী
প্রকাশক: প্রকাশকহীন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৩২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১)
ممم زيادة ممم
الإهداء
إلى أصحاب الفضيلة أساتذة كلية الحديث الزملاء من الرعيل الأول الذين سعدت بمشاركتهم في بناء كلية الحديث هذا الصحرح العلمي المنير في الجامعة الأسلامية المباركة، وإلى من تلاهم من الزملاء والأبناء الذين سعدت بخدمتهم إدارة وتعليما، أحببتهم ولا زلت على ذلك، ملتمسا منهم العفو والدعاء، وليتقبلوا مني هذا الإهداء لأنهم أهل الحديث:
أهل الحديث هم الخيار من الأمم
… الذائدون عن العقيدة والشيم
وهم الراواة لسنة نبوية
… ينفون عنها كل قول متهم
قد زاد حبي للحديث وأهله
… فهم الأحبة لا عدمت وجودهم
أهل الحديث هم الذين تملكوا
… ودي فكري ليس يبرح عندهم
أنصار دين الله حين بدا الجفا
… واسْوَدَّ أفق بالجهالة وادلهم
يجلون للأبصار كل حقيقة
… جاءت على سنن الصراط المنتطم
لهم الثبات على العقيدة والهدى
… ليست لهم أطوار فكرة أو تهم
تأبى النفوس الشم كل دنية
… إذ نحوها الرعديد يسعى في نهم
صلى الإله على ندى أرواحهم
… فلربهم نذروا الحياة وموتهم
وأقر أعينهم بصحبة أحمد
… في جنة المأوى بها كل النعم
সংযোজন
উৎসর্গ
হাদীস অনুষদের সেই সকল ফযীলাতপূর্ণ প্রথম প্রজন্মের সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দের প্রতি, মোবারক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উজ্জ্বল জ্ঞানসৌধ 'হাদীস অনুষদ' নির্মাণে যাদের সাথে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত হয়েছি। এবং তাঁদের পরবর্তী সেই সকল সহকর্মী ও সন্তানদের প্রতি, যাদেরকে প্রশাসনিক ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে সেবা করতে পেরে আমি ধন্য হয়েছি। আমি তাঁদের ভালোবেসেছি এবং এখনও বাসি; তাঁদের নিকট ক্ষমা ও দোয়ার প্রত্যাশা করছি। তাঁরা যেন আমার এই উৎসর্গ গ্রহণ করেন, কারণ তাঁরাই হলেন আহলে হাদীস:
আহলে হাদীসরাই জাতিসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ
… তাঁরা আকিদা ও উত্তম চরিত্রের অতন্দ্র প্রহরী।
তাঁরাই হলেন নববী সুন্নাহর বর্ণনাকারী
… তাঁরা সুন্নাহ থেকে প্রতিটি অভিযুক্ত উক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেন।
হাদীস ও তার অনুসারীদের প্রতি আমার মহব্বত বৃদ্ধি পেয়েছে
… তাঁরাই প্রিয়জন, আমি যেন তাঁদের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত না হই।
আহলে হাদীসরাই তাঁরা যারা অধিকার করে নিয়েছেন
… আমার ভালোবাসা ও চিন্তা, যা সদা তাঁদের কাছেই নিবিষ্ট থাকে।
তাঁরা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী যখন বিমুখতা দেখা দেয়
… এবং মূর্খতায় দিগন্ত কালো ও ঘোর অন্ধকার হয়ে যায়।
তাঁরা চোখের সামনে প্রতিটি সত্যকে উন্মোচিত করেন
… যা সুশৃঙ্খল সরল পথের পন্থায় এসেছে।
আকিদা ও হিদায়াতের ওপর তাঁদের রয়েছে অটল দৃঢ়তা
… তাঁদের চিন্তায় কোনো অস্থিরতা বা সন্দেহ নেই।
উন্নত আত্মা সকল হীনতাকে প্রত্যাখ্যান করে
… যখন কাপুরুষেরা লালসার সাথে সেদিকে ধাবিত হয়।
আল্লাহ তাঁদের পবিত্র রুহগুলোর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
… কেননা তাঁরা তাঁদের জীবন ও মরণকে তাঁদের রবের জন্যই উৎসর্গ করেছেন।
আর জান্নাতুল মাওয়ায়—যেখানে সকল নেয়ামত বিদ্যমান—সেখানে আহমাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্যের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁদের চক্ষু শীতল করুন।
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১)
المقدمةالحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، هذا أحلى ما تنطق به الأسن، وتُدونه الأقلام، وتُشنّف به الأسماع، فالحمد الله على نعمه المتواترة، والشكر الدائم له عز وجل على آلائه وفضائلة، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد المخصوص بالكرامة، وعلى آله، ومن صحبه في السفر والإقامة، والتابعين له بإحسان، ومن تبعهم إلى يوم القيامة، صلوات ربي عليهم أجمعين عدد ما حنّ غريب إلى وطنه، وغرّد عندليب على فننه، وأُدرج راحل في كفنه.
وبعد: فإن خير ما به يُشْغِل المرء نفسه عمل صالح، بدءًا من المحافظة على ما فرض الله عليه، وانتهاءًا بالأعمال الصالحة، ومن أجلِّها الانقطاع إلى البحث والنظر، وقد صدق أبو هريرة رضي الله عنه حين قال: "باب من العلم نتعلمه أحب إلينا من ألف ركعة تطوعا، وباب نعلمه عملنا به أو لم نعمل به أحب إلينا من مائة ركعة تطوعا" وقال هو وأبو ذر رضي الله عنهما: سمعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا جاء طالبَ العلم الموتُ وهو على هذه الحال مات وهو شهيد» (1)، وأجاد المتنبي رحمه الله حين قال:
أعز مكان في الدنيا سرج سابح
… وخير جليس في الزمان كتاب
وقد أصاب عين الحقيقة، فلا صديق أخلص من الكتاب، يُكْتَسَبُ منه خير كثير في كل الأبواب، أما البشر فالكثيرون منهم لا تجود صداقتهم إلا في اللهو والعبث، وكم شكا الأئمة الفضلاء من عدم وفاء الكثيرين من أصدقاء مقتبل العمر، وكم ندموا وتحسروا على ضياع أثمن الأوقات معهم؛ زهرة الشباب خرجوا منها بعد فوات الأوان نادمين، التزام منهج أهل الفضل والصلاح في نقد الأصدقاء وتمحيص من زعم أنه الوفي منهم، وكم نظم الأدباء والعلماء في ذلك، وصدق أبو العتاهية رحمه الله حين كتب إلى بعض إخوانه يحدد له الصديق الحق قال:
--------------------------------------------
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে নেক আমলসমূহ পূর্ণতা পায়; জিহ্বা যা উচ্চারণ করে, কলম যা লিপিবদ্ধ করে এবং কান যা দিয়ে শোভাবর্ধন করে, তার মধ্যে এটিই সর্বাপেক্ষা মধুর। সুতরাং আল্লাহর নিরন্তর নেয়ামতসমূহের জন্য তাঁরই প্রশংসা এবং তাঁর দান ও অনুগ্রহের জন্য মহিয়ান ও গরিয়ান আল্লাহর প্রতি চিরন্তন কৃতজ্ঞতা। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক, যাঁকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে; এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সফর ও আবাসে তাঁর সাহচর্য দানকারী সঙ্গীগণ, নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সকলের ওপর। আমার রবের রহমত বর্ষিত হোক তাঁদের সকলের ওপর—যতবার একজন প্রবাসী তার স্বদেশের জন্য ব্যাকুল হয়, যতবার বুলবুলি পাখি তার ডালে বসে গান গায় এবং যতবার একজন বিদেহী যাত্রীকে কাফনে আবৃত করা হয়।
অতঃপর: মানুষ নিজেকে যে কাজে লিপ্ত রাখতে পারে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো নেক আমল; যার শুরু হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজকৃত বিষয়গুলোর যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে এবং সমাপ্তি ঘটে নেক আমলসমূহের দ্বারা। আর সেগুলোর মধ্যে অন্যতম মহান কাজ হলো গবেষণা ও পর্যালোচনায় আত্মনিয়োগ করা। আবু হুরায়রা (রা.) সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "ইলমের একটি অধ্যায় যা আমরা শিখি, তা আমাদের কাছে এক হাজার রাকাত নফল নামাজের চেয়েও বেশি প্রিয়; আর ইলমের একটি অধ্যায় যা আমরা শিক্ষা দেই—তা অনুযায়ী আমরা আমল করি বা না করি—তা আমাদের কাছে একশ রাকাত নফল নামাজের চেয়েও বেশি প্রিয়।" তিনি এবং আবু যর (রা.) উভয়েই বলেছেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «ইলম অন্বেষণকারীর মৃত্যু যদি এই অবস্থায় আসে, তবে সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে» (১)। আল-মুতানাব্বি (রহ.) চমৎকার বলেছেন:
দুনিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত স্থান হলো দ্রুতগামী ঘোড়ার পিঠ
… আর কালের পরিক্রমায় সর্বোত্তম সঙ্গী হলো বই।
তিনি সত্যেরই সন্ধান পেয়েছেন; কারণ বইয়ের চেয়ে একনিষ্ঠ বন্ধু আর নেই, যা থেকে প্রতিটি বিষয়ে প্রভূত কল্যাণ অর্জিত হয়। অন্যদিকে মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের অনেকের বন্ধুত্বই কেবল আমোদ-প্রমোদ এবং অনর্থক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বরণীয় ইমামগণ জীবনের প্রারম্ভিক সময়ের বন্ধুদের অনেকেরই বিশ্বস্ততার অভাব নিয়ে কত অভিযোগই না করেছেন! তাদের সাথে মূল্যবান সময় অপচয় করার কারণে তাঁরা কতই না অনুতপ্ত ও ব্যথিত হয়েছেন; যৌবনের বসন্ত শেষে তাঁরা যখন সেখান থেকে বের হয়ে এসেছেন, তখন কেবল অনুতাপই অবশিষ্ট ছিল। বন্ধুদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে এবং যারা নিজেদের বিশ্বস্ত বলে দাবি করে তাদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নেককার ও গুণীজনদের পথ অনুসরণ করা আবশ্যক। এ বিষয়ে সাহিত্যিক ও আলিমগণ কত পঙক্তিই না রচনা করেছেন। আবুল আতাহিয়া (রহ.) সত্যই বলেছেন যখন তিনি তাঁর জনৈক ভাইকে প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে লিখেছিলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২)
صديقي من يقاسمني همومي
… ويرمي بالعداوة من رماني
ويحفظني إذا ما غبت عنه
… وأرجوه لنائبة الزمان (1).
نعم هذا هو الصديق، ومن لك به في هذا العصر الذي أصبح فيه وزن الرجل ما يملك من مال، ولو كان أجهل من حمار أهله، وقد قال بعضهم نثرا: صديقي من يَصْدُقني، وتصفو نيته لي، ويريد الخير بي، لا من تسره مساءتي، وتعجبه شقاوتي، وإذا رأيت البؤس من أحبابي فأرجو الرضى من أعدائي، وإذا كان الداء من جهة الدواء تراخت أسباب الشفاء، وإلى أخيه يفزع الإنسان، وبالماء يَستظهِر الغصان، فاذا شرق بالماء فبم يستغيث، وإذا أتي المرء من أخيه فبمن يستعين" (2).
قلت: يستعين بالله، ثم بما أرشد إليه إليه المتنبي رحمه الله، وخير الكتب كتاب الله عز وجل، ونعم العوض من أصدقاء اللهو والخوض والتنابز كتاب الله عز وجل، وقد قلّ الوفاء من القريب فضلا عن البعيد، فكان ذلك خيرا لي، توجهت إلى النظر في بعض ما سطره العلماء، الذين لم يكن همهم الخوض مع الخائضين، ولا التلذذ بالألفاظ المضحكة، ولا ضياع الوقت في الملاعب الملهية عن ذكر الله عز وجل، فاستغنيت عن ماض ندمت على ضياع كثير من وقتي فيه، والحمد لله الذي هداني لهذا وما كنت لأهتدي لولا أن هداني الله عز وجل، وكان مما نظرت فيه كتاب معجم البلدان للإمام العلامة ياقوت الحموي رحمه الله، إنه موسوعة جمع فيه كثيرا من العلوم، يستطيع الناظر فيه استخلاص العدد الوافر من الكتب، فرأيت معايشة هذا الكتاب العظيم، واستخلاص ما ورد فيه من نسبة ومنسوب، بتصرف مني، ولم ألتزم ذكر جميع من نسب، ولا الغالب منهم، بل أكتفي بمن ذكرهم ياقوت رحمه الله، وقد لا يذكر إلا الفرد والفردين أحيانا، وكذلك لم ألتزم ذكر جميع المواضع المشتركة في اسم واحد، وهي في عدة أمصار، بل أذكر الموضع الذي تمت النسبة إليه، وليعلم أن تسمية المدن والقرى والقلاع والأودية وأوصافها هي مذكورة بما كان في عهد ياقوت رحمه الله، ومن سبقه من المؤرخين واصفي البلدان، وذلك من القرن
--------------------------------------------
আমার বন্ধু সেই, যে আমার দুঃখগুলো ভাগ করে নেয়
… এবং যে আমাকে শত্রুতা করে তাকে সে শত্রুরূপে গণ্য করে।
সে আমাকে রক্ষা করে যখন আমি তার থেকে অনুপস্থিত থাকি
… এবং সময়ের বিপদে আমি তার নিকট সাহায্যের আশা করি (১)।
হ্যাঁ, এটিই হলো প্রকৃত বন্ধু। কিন্তু বর্তমান যুগে আপনি এমন বন্ধুর সন্ধান কোথায় পাবেন, যেখানে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার অর্জিত অর্থের দ্বারা; যদিও সে তার পরিবারের গাধার চেয়েও অধিক মূর্খ হয়। জনৈক ব্যক্তি গদ্যাকারে বলেছেন: "আমার বন্ধু সেই, যে আমার প্রতি সত্যনিষ্ঠ (একনিষ্ঠ), যার নিয়ত আমার জন্য স্বচ্ছ এবং যে আমার কল্যাণ কামনা করে। সে নয়, যার নিকট আমার অমঙ্গল আনন্দদায়ক এবং যার কাছে আমার দুর্ভাগ্যে চমৎকৃত লাগে। যখন আমি আমার প্রিয়জনদের পক্ষ থেকে দুঃখ পাই, তখন শত্রুদের সন্তুষ্টির আশা করি। আর যখন ব্যাধি খোদ ওষুধের পক্ষ থেকেই আসে, তখন আরোগ্যের উপায়সমূহ শিথিল হয়ে পড়ে। বিপদে মানুষ তার ভাইয়ের কাছেই ছুটে যায়, আর পানি দিয়েই কণ্ঠরোধকারী (তৃষ্ণার্ত) ব্যক্তি সাহায্য পায়। কিন্তু কেউ যদি পানিতেই কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে সে কার কাছে ফরিয়াদ জানাবে? আর মানুষ যদি তার ভাইয়ের পক্ষ থেকেই আক্রান্ত হয়, তবে সে কার সাহায্য গ্রহণ করবে?" (২)।
আমি বলি: সে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে, অতঃপর ইমাম মুতানাব্বী (রহিমাহুল্লাহ) যেদিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তা অনুসরণ করবে। আর সর্বোত্তম কিতাব হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কিতাব। ক্রীড়া-কৌতুক, অসার আলোচনা ও মন্দ নামে ডাকার মতো বন্ধুদের পরিবর্তে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কিতাবই হলো উত্তম বিনিময়। নিকটজনদের পক্ষ থেকে বিশ্বস্ততা কমে গিয়েছে, দূরবর্তীদের কথা তো বলাই বাহুল্য। তবে এটি আমার জন্য কল্যাণকর হয়েছে যে, আমি উলামায়ে কেরাম যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা পর্যবেক্ষণে মনোনিবেশ করেছি; যাদের লক্ষ্য অসার আলোচনায় লিপ্ত হওয়া ছিল না, না ছিল হাস্যকর শব্দাবলীতে আনন্দ খোঁজা, আর না ছিল আল্লাহর যিকির হতে বিমুখকারী ক্রীড়াস্থলে সময় নষ্ট করা। সুতরাং আমি এমন অতীত থেকে অমুখাপেক্ষী হলাম যার পেছনে আমি আমার অনেক সময় অপচয় করার জন্য অনুতপ্ত। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এই পথ দেখিয়েছেন এবং আল্লাহ আমাকে হেদায়েত না দিলে আমি এই পথের দিশা পেতাম না। আমি যা কিছু পর্যবেক্ষণ করেছি তার মধ্যে একটি হলো ইমাম আল্লামা ইয়াকুত আল-হামাভী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'মু'জামুল বুলদান'। এটি একটি বিশাল বিশ্বকোষ যাতে তিনি অনেক জ্ঞান একত্রিত করেছেন। একজন পাঠক এখান থেকে বিপুল সংখ্যক কিতাবের নির্যাস গ্রহণ করতে সক্ষম। তাই আমি এই মহান কিতাবের সাথে নিবিড় সময় কাটানোর এবং এতে বর্ণিত বংশনাম ও নিসবতসমূহ আমার নিজস্ব কিছু সম্পাদনা সহকারে উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। আমি প্রতিটি নিসবতধারী বা তাদের অধিকাংশকে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখিনি, বরং ইমাম ইয়াকুত (রহিমাহুল্লাহ) যাদের উল্লেখ করেছেন তাদের বর্ণনার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি; অনেক ক্ষেত্রে তিনি মাত্র একজন বা দুজনের কথা উল্লেখ করেছেন। একইভাবে আমি সমনামধারী সকল স্থানের কথা উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখিনি, যা বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে আছে; বরং আমি কেবল সেই নির্দিষ্ট স্থানটিই উল্লেখ করেছি যার সাথে নিসবত বা সম্বন্ধ করা হয়েছে। আর এটি জেনে রাখা উচিত যে, শহর, গ্রাম, দুর্গ এবং উপত্যকার নামকরণ ও তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ ইমাম ইয়াকুত (রহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর পূর্ববর্তী ইতিহাসবিদ ও ভূগোলবিদদের যুগে যা বিদ্যমান ছিল সে আলোকেই বর্ণিত হয়েছে; যা মূলত সেই শতাব্দী থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ৩)
السادس وما سبقه، وقد تغيرت أسماؤها وتغيرت أحوالها وأوصافها، ومنها ما آل إلى الخراب بسبب ما لحقها من الحروب، وما ابتعلته المدن بتحولها من قرى مجاورة للمدن إلى أحياء في المدن، وقد رتبت النِّسب على حروف المعجم من الألف إلى الياء، وكل حرف ترتب المعلومات الواردة فيه على حروف المعجم أيضا، هكذا: حرف الألف مع الألف، ومع الباء، وهلم جرا إلى الياء، قاصدا بهذا العمل إفادة الغير، ليُعلم كيف صنع الفاتحون رجالا في تلك المدن والقرى التي أوصلوا إليها نور الإسلام، أو اختطوها وبنوا فيها المدن والقرى والحصون، فأناروا القلوب والعقول بدراسة العلوم وتدريسها، وتداولوها قرونا عديدة، ونحن اليوم نعيش في القرن الخامس عشر من هجرة سيدنا ونبينا محمد صلى الله عليه وسلم نعيش مع أولئك الجهابذة الأخيار حياتهم العلمية لحظة بلحظة، وكأننا نزاحمهم على المقاعد، وإن كان طواهم الزمن، وطوى الكثير من آثارهم وممالكهم، ومدنهم وقراهم، ومدارسهم التي قد لا يكون بقي منها إلا الاسم دون الرسم، وزالت إما بالخراب، وإما بابتلاع المدن لها حتى أصبحت من أحيائها ومحلاتها، أو بتغير أسمائها، فلم يبق منها إلا ما سطره الجهابذة من صفاتها وأحوالها، وحدودها، وتواريخها، وما مَثلي مع أولئك العلماء العظماء إلا كما قال الأديب غانم بن الوليد المخزومي:
ومن عجب أني أحنّ إليهم
… وأسأل عنهم من لقيت وهم معي
وتطلبهم عيني وهم في سوادها
… ويشتاقهم قلبي وهم بين أضلعي.
وكل ما سنقف عليه من النسبة والمنسوب، يتكون من أسماء مدن وقرى وقلاع، وحصون وسكك فتحها الرعيل الأول من المسلمين، أو أنشؤوها واسكنوها الجنود الفاتحين، وساد فيها الإسلام وأهله قرونا حتى نزلت بهم الفواجع ومنها فاجعة التتر، فقد جرى في سنة (617) وسنة (618) من التتر الواردين من أرض الصين ما لو استمرّوا في زحفهم لملكوا الدنيا كلها في أعوام يسيرة، فإنهم ساروا من أوائل أرض الصين إلى أن خرجوا من باب الأبواب، وقد ملكوا وخرّبوا من البلاد الإسلامية ما يقارب نصفها، لأنهم ملكوا ما وراء النهر، وخراسان، وخوارزم، وبلاد سجستان، ونواحي غزنة، وقطعة من السند، وقومس، وأرض
ষষ্ঠ শতাব্দী এবং তার পূর্ববর্তী কালসমূহ, যার নামগুলো পরিবর্তিত হয়েছে এবং সেগুলোর অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যও বদলে গিয়েছে। সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু তো যুদ্ধের কবলে পড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং কিছু শহরগুলোর বিস্তৃতির কারণে সেগুলোতে বিলীন হয়ে গিয়েছে; অর্থাৎ নিকটবর্তী গ্রাম থেকে সেগুলো বর্তমানে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় রূপান্তরিত হয়েছে। আমি নিসবতগুলোকে (নামের বংশীয় বা আঞ্চলিক পরিচয়) অভিধানের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী আলিফ থেকে ইয়া পর্যন্ত সাজিয়েছি। প্রতিটি বর্ণের অধীনে তথ্যগুলোকেও পুনরায় বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি এভাবে: আলিফের সাথে আলিফ, এরপর বা, এবং এভাবেই ইয়া পর্যন্ত। এই কাজের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো অন্যদের উপকৃত করা, যাতে মানুষ জানতে পারে যে বিজেতারা কীভাবে সেই সব শহর ও গ্রামে মহামনীষীদের গড়ে তুলেছিলেন যেখানে তাঁরা ইসলামের আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন কিংবা নতুন শহর ও গ্রাম পত্তন করেছিলেন এবং সেখানে দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। তাঁরা জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানের মাধ্যমে মানুষের অন্তর ও মস্তিষ্ককে আলোকিত করেছিলেন এবং বহু শতাব্দী ধরে তা অব্যাহত রেখেছিলেন। আজ আমরা আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের পঞ্চদশ শতাব্দীতে অবস্থান করছি এবং সেই সব শ্রেষ্ঠ বিদগ্ধ পণ্ডিতদের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের সাথে প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করছি, যেন আমরা তাঁদের সাথে বসার আসনগুলোতে ভিড় করছি; যদিও মহাকাল তাঁদের এবং তাঁদের অনেক নিদর্শন, সাম্রাজ্য, শহর, গ্রাম ও মাদরাসাগুলোকে বিলীন করে দিয়েছে। সেগুলোর নাম ছাড়া আজ আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। সেগুলো হয় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, নয়তো বড় বড় শহরগুলো সেগুলোকে গ্রাস করে নিয়েছে এবং বর্তমানের জনপদ ও মহল্লায় পরিণত করেছে, অথবা সেগুলোর নাম পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। ফলে সেই সব পণ্ডিতদের লেখনীতে সংরক্ষিত বর্ণনা, অবস্থা, সীমানা এবং ইতিহাস ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। সেই মহান আলেমদের সাথে আমার অবস্থা ঠিক কবি গানিম বিন ওয়ালিদ আল-মাখজুমীর পঙক্তির মতো:
আশ্চর্যের বিষয় হলো আমি তাঁদের জন্য ব্যাকুল হই
… অথচ যাঁদের সাথেই দেখা হয় তাঁদের কাছে আমি তাঁদের কথা জিজ্ঞেস করি, অথচ তাঁরা আমার সাথেই আছেন।
আমার চোখ তাঁদের খুঁজে ফেরে অথচ তাঁরা চোখের মণি হয়ে আছেন
… এবং আমার হৃদয় তাঁদের বিরহে কাতর অথচ তাঁরা আমার পাঁজরের মাঝেই বাস করছেন।
আমরা নিসবত ও মানসুবের (যাদের সম্বন্ধ করা হয়েছে) বর্ণনায় যা কিছুরই সম্মুখীন হব, তা মূলত সেই সব শহর, গ্রাম, দুর্গ, কেল্লা এবং জনপদ যা ইসলামের প্রথম প্রজন্মের মুসলিমগণ জয় করেছিলেন অথবা যা তাঁরা নির্মাণ করেছিলেন এবং যেখানে বিজয়ী সৈন্যরা বসতি স্থাপন করেছিলেন। সেখানে বহু শতাব্দী ধরে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রাধান্য ছিল, যতক্ষণ না তাতারীদের মহাবিপদ সহ বিভিন্ন বিপর্যয় তাঁদের ওপর আপতিত হয়। ৬১৭ হিজরি ও ৬১৮ হিজরিতে চীন ভূমি থেকে আসা তাতারীদের পক্ষ থেকে যা ঘটেছিল, তারা যদি তাদের অভিযান অব্যাহত রাখত তবে অল্প কয়েক বছরেই পুরো পৃথিবী দখল করে নিত। কারণ তারা চীন সীমান্তের শুরু থেকে বাবুল আবওয়াব পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। তারা মুসলিম দেশগুলোর প্রায় অর্ধেক জয় ও ধ্বংস করেছিল; কেননা তারা মা-ওয়ারাউন নাহার, খুরাসান, খাওয়ারিজম, সিজিস্তান ভূখণ্ড, গজনীর পার্শ্ববর্তী এলাকা, সিন্ধুর একাংশ, কুমাস এবং ভূমি...
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ৪)
الجبل بأسره غير أصبهان وطبرستان وأذربيجان وأرّان وبعض أرمينية وخرجوا من الدربند، كلّ ذلك في أقل من عامين.
وقتلوا أهل كل مدينة ملكوها، ثم خذلهم الله وردهم من حيث جاءوا، ثم إنّهم بعد خروجهم من الدربند ملكوا بلاد الخزر، واللان، وروس، وسقسين، ومن ذلك الوقت المرير وقوة المسلمين تنحسر في تلك الأنحاء، وفي العالم كله (1)، ومن أبرز أسباب ضعف المسلمين، وخراب ما ملك آباؤهم وما شيدوا من المدن والقرى انغماس الولاة والقواد والمترفين في الشهوات، من النساء والشراب، والقناطير المقنطرة من الأصفر والأبيض، وكل ما هو ثمين، وقلّ العدل وانتشر الظلم، وكثرت الملل والنحل التي انتشرت بأسبابٍ سياسية وعرقية وعصبية، وأفكار بدعية يزعمون أنها من طلب الدين، بل زعم البعض أنها الدين كله، ولا حظ في الدين لمن لا يعتقدها، ويدعو إليها ويجاهد لنشرها، كما هو الحال فيما تقوم به الرافضة اليوم، وهو امتداد لأصولها من أيام معاوية رضي الله عنه، وقد خرب بسبب العصبية بين الرافضة وأتباع المذاهب الأربعة كثير من المدن والقرى المملوكة بالفتح الإسلامي، وكانت أسبابا لخرابها أو استعادتها من المسلمين، كما هو الحال في الري وغيرها كثير (2)، قال ياقوت رحمه الله عن الري: كانت مدينة عظيمة خرب أكثرها، واتفق أنّني اجتزت في خرابها في سنة (617) وأنا منهزم من التتر فرأيت حيطان خرابها قائمة ومنابرها باقية وتزاويق الحيطان بحالها لقرب عهدها بالخراب إلّا أنّها خاوية على عروشها، فسألت رجلا من عقلائها عن السبب في ذلك فقال: أمّا السبب فضعيف ولكن الله إذا أراد أمرا بلغه، كان أهل المدينة ثلاث طوائف: شافعية وهم الأقل، وحنفية وهم الأكثر، وشيعة وهم السواد الأعظم، لأن أهل البلد كان نصفهم شيعة وأما أهل الرستاق (3)
فليس فيهم إلّا شيعة وقليل من الحنفيين ولم يكن فيهم من الشافعيّة أحد، فوقعت العصبيّة بين السنّة والشيعة فتضافر عليهم الحنفية والشافعيّة وتطاولت بينهم الحروب حتى لم يتركوا من
--------------------------------------------
ইস্পাহান, তাবারিস্তান, আজারবাইজান, আররান এবং আর্মেনিয়ার কিছু অংশ ব্যতীত পুরো জিবাল অঞ্চল এবং তারা দরবান্দ থেকে বের হয়ে গিয়েছিল; এসবই ঘটেছিল দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে।
তারা তাদের বিজিত প্রতিটি শহরের বাসিন্দাদের হত্যা করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করেন এবং যেখান থেকে তারা এসেছিল সেখানেই ফিরিয়ে দেন। তারপর দরবান্দ থেকে বের হওয়ার পর তারা খাজার, আলান, রুশ ও সাকসিন অঞ্চলগুলো দখল করে নেয়। সেই তিক্ত সময় থেকে মুসলিমদের শক্তি সেসব অঞ্চলে এবং সমগ্র বিশ্বে হ্রাস পেতে থাকে (১)। মুসলিমদের দুর্বলতা এবং তাদের পূর্বপুরুষদের অধিকৃত ও নির্মিত শহর ও গ্রামসমূহের ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল শাসক, সেনাপতি এবং বিলাসীদের প্রবৃত্তির লালসা—নারী ও পানীয়—এবং সোনা ও রূপার স্তূপ তথা মূল্যবান সম্পদে নিমজ্জিত হওয়া। ন্যায়বিচার কমে গিয়েছিল এবং জুলুম ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজনৈতিক, জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক কারণে বিভিন্ন দল ও উপদলের আবির্ভাব ঘটেছিল এবং এমন সব বিদআতি চিন্তাধারা ছড়িয়ে পড়েছিল যেগুলোকে তারা দ্বীনের অন্বেষণ বলে দাবি করত; বরং কেউ কেউ তো মনে করত এটাই পুরো দ্বীন এবং যারা এতে বিশ্বাস করে না, এর দিকে দাওয়াত দেয় না এবং তা প্রসারে জিহাদ করে না, তাদের দ্বীনের মধ্যে কোনো অংশ নেই—যেমনটি বর্তমানে রাফেজীদের কর্মকাণ্ডে দেখা যায়, যা মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়কার তাদের মূলনীতিরই বিস্তৃতি। রাফেজী এবং চার মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক গোঁড়ামির কারণে অনেক শহর ও গ্রাম ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যা ইসলামী বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল। এটিই ছিল সেগুলো ধ্বংস হওয়ার অথবা মুসলিমদের হাত থেকে হাতছাড়া হওয়ার কারণ, যেমনটি রেই এবং আরও অনেক জায়গায় ঘটেছে (২)। ইয়াকুত (রহিমাহুল্লাহ) রেই সম্পর্কে বলেছেন: এটি ছিল একটি বিশাল শহর যার অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে ৬১৭ হিজরিতে তাতারদের নিকট পরাজিত হয়ে পলায়নকালে আমি এর ধ্বংসাবশেষ অতিক্রম করেছিলাম। আমি এর ধ্বংসপ্রাপ্ত দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, মিম্বরগুলো তখনও অবশিষ্ট ছিল এবং দেয়ালের কারুকার্যগুলোও ঠিকঠাক ছিল কারণ ধ্বংসের ঘটনাটি ছিল অতি সাম্প্রতিক; তবে শহরটি ছিল জনশূন্য ও বিধ্বস্ত। আমি সেখানকার একজন বুদ্ধিমান লোককে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: কারণটি যদিও তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু আল্লাহ যখন কোনো বিষয়ে ইচ্ছা করেন তা কার্যকর করেন। শহরের অধিবাসীরা তিন দলে বিভক্ত ছিল: শাফেয়ী—যারা ছিল সংখ্যালঘু, হানাফী—যারা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ, এবং শিয়া—যারা ছিল এক বিশাল জনগোষ্ঠী। কেননা শহরের অর্ধেক লোকই ছিল শিয়া। আর গ্রাম্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে (৩)
তাদের মধ্যে শিয়া এবং অল্প কিছু হানাফী ছাড়া আর কেউ ছিল না, সেখানে শাফেয়ীদের কেউ ছিল না। ফলে সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক গোঁড়ামি শুরু হয়। এরপর হানাফী ও শাফেয়ীরা তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয় এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘকাল যুদ্ধ চলতে থাকে যতক্ষণ না তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ৫)
الشيعة من يعرف، فلمّا أفنوهم وقعت العصبيّة بين الحنفية والشافعيّة ووقعت بينهم حروب كان الظفر في جميعها للشافعيّة هذا مع قلّة عدد الشافعيّة إلّا أن الله نصرهم عليهم، وكان أهل الرستاق، وهم حنفية، يجيئون إلى البلد بالسلاح الشاك ويساعدون أهل نحلتهم فلم يغنهم ذلك شيئا حتى أفنوهم، فهذه المحالّ الخراب التي ترى هي محالّ الشيعة والحنفية، وبقيت هذه المحلة المعروفة بالشافعية وهي أصغر محالّ الرّيّ، ولم يبق من الشيعة والحنفية إلّا من يخفي مذهبه، ووجدت دورهم كلها مبنية تحت الأرض، ودروبهم التي يسلك بها إلى دورهم على غاية الظلمة وصعوبة المسلك، فعلوا ذلك لكثرة ما يطرقهم من العساكر بالغارات، ولولا ذلك لما بقي فيها أحد.
قلت: وهذا الصراع حتى لو كان سياسيا سببه عدم فهم الإسلام الصحيح، ولاسيما لدى الرافضة، فإنهم مثار كل فتنة بين المسلمين، بسبب ما يدّعون من محبة آل البيت، وولايتهم عليهم السلام، وكفّروا الصحابة رضي الله عنهم، وكل من لا يقول بوَلاية علي وذريته رضي الله عنهم، لأن الوَلاية عند الرافضة ركن في الإيمان، وقالوا بوجوب قتل من لا يقول بها، واستباحة دمه وماله وعرضه، لذلك ترى تظافر أتباع الأئمة الأربعة ضدهم، إلا من خالفهم في الاعتقاد وغالى في التشيع، فإنه يوالي الرافضة، كما حدث من بعض الحنفية إذ وقفوا مع الرافضة ضد الشافعية أهل السنة، ولو التزم مراجع الرافضة منهج آل البيت عليهم السلام في فهم الإسلام الصحيح، واقتصروا على أحقية علي رضي الله عنه بالخلافة، من غير تكفير للصحابة وسائر الأمة الذين يرون ترتيب الخلفاء الراشدين في الفضل، لو فعلوا ذلك لما انتثر عقد الوحدة الإسلامية، ولكن الرافضة أبو إلا الرفض لغاية يطلبونها طلبا حثيثا وهي استعادة أمجاد الفرس، تحت غطاء الولاية وحب آل البيت وهم برآء من ذلك، براءة الذئب من دم يوسف عليه السلام.
أما ما بقي من أمجاد المسلمين في تلك الديار فشيء قليل، نتعزى به حيث قصرت همم الدول عن المحافظة عليه، فلما ضاع عجز التالون عن استعادة شيء منه، فجزى الله عنا الفاتحين خير الجزاء، والحمد الله الذي أغنانا بذكرهم عن الكثيرين من الأحياء، فإنه مدبر الأمور على مر الأيام والشهور والدهو. المؤلف
শিয়ারা পরিচিত ছিল, যখন তাদের নির্মূল করা হলো, তখন হানাফি ও শাফেয়িদের মধ্যে দলাদলি দেখা দিল এবং তাদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হলো। সকল যুদ্ধে শাফেয়িরাই বিজয়ী হলো, যদিও শাফেয়িদের সংখ্যা কম ছিল, তবে আল্লাহ তাদের সাহায্য করেছিলেন। গ্রাম অঞ্চলের লোকেরা, যারা হানাফি ছিল, তারা সুসজ্জিত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শহরে আসত এবং তাদের মতাদলম্বীদের সাহায্য করত, কিন্তু তা তাদের কোনো উপকারে আসেনি যতক্ষণ না তারা নিঃশেষ হয়ে গেল। সুতরাং, আপনি যে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলো দেখছেন, সেগুলো শিয়া ও হানাফিদের এলাকা। এখন শুধুমাত্র শাফেয়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি টিকে আছে, যা রাই শহরের ক্ষুদ্রতম এলাকাগুলোর একটি। শিয়া ও হানাফিদের মধ্যে কেবল তারাই অবশিষ্ট আছে যারা তাদের মাযহাব গোপন রাখে। আমি তাদের সমস্ত ঘরবাড়ি মাটির নিচে নির্মিত পেয়েছি এবং তাদের ঘরে প্রবেশের পথগুলো অত্যন্ত অন্ধকার ও দুর্গম। তারা এটি করেছিল তাদের ওপর বারবার আক্রমণকারী সৈন্যদের লুণ্ঠন ও অভিযানের আধিক্যের কারণে। এটি না হলে সেখানে কেউ অবশিষ্ট থাকত না।
আমি বলি: এই সংঘাত যদি রাজনৈতিকও হয়ে থাকে, তবে এর কারণ হলো সঠিক ইসলাম সম্পর্কে বুঝের অভাব, বিশেষ করে রাফেযিদের ক্ষেত্রে। কারণ তারাই মুসলমানদের মধ্যে প্রতিটি ফিতনার মূল কারণ, তাদের আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের নেতৃত্বের দাবির কারণে। তারা সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) এবং যারা আলী ও তার বংশধরদের (আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) নেতৃত্বের কথা বলে না, তাদের কাফের সাব্যস্ত করেছে। কারণ রাফেযিদের নিকট নেতৃত্ব বা বিলায়াত ঈমানের একটি রুকন। যারা এটি মানে না, তাদের হত্যা করা এবং তাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান লুণ্ঠন বৈধ বলে তারা দাবি করেছে। এজন্যই আপনি চার ইমামের অনুসারীদের তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখেন, কেবল তারা ব্যতীত যারা আকিদার ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করেছে এবং শিয়া মতবাদে চরমপন্থা অবলম্বন করেছে; তারা রাফেযিদের সাথে বন্ধুত্ব করে। যেমনটি কিছু হানাফিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে যখন তারা সুন্নি শাফেয়িদের বিরুদ্ধে রাফেযিদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। যদি রাফেযি পণ্ডিতরা সঠিক ইসলাম বোঝার ক্ষেত্রে আহলে বাইতের পদ্ধতি অনুসরণ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য উম্মতকে কাফের সাব্যস্ত না করে কেবল আলীর (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) খিলাফতের অধিকতর যোগ্য হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন—যাঁরা খোলাফায়ে রাশেদীনের শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমধারা অনুসরণ করেন—তবে ইসলামী ঐক্যের বন্ধন ছিন্ন হতো না। কিন্তু রাফেযিরা কেবল বিচ্ছেদের পথই বেছে নিয়েছে এক বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য, আর তা হলো বিলায়াত ও আহলে বাইতের ভালোবাসার আবরণে পারস্যের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা। অথচ আহলে বাইত এসব থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র, যেমনটি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর রক্ত থেকে নেকড়ে বাঘ পবিত্র ছিল।
সেই সব জনপদে মুসলমানদের গৌরবের যা অবশিষ্ট আছে তা খুবই সামান্য, যা দেখে আমরা সান্ত্বনা পাই। রাষ্ট্রগুলোর সংকল্পের অভাবে সেগুলো রক্ষায় অবহেলা করা হয়েছে। যখন তা হারিয়ে গেল, পরবর্তী প্রজন্ম তার কিছুই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলো না। আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জীবিত অনেকের আলোচনার পরিবর্তে আমাদের তাদের স্মরণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি দিন, মাস ও মহাকালের আবর্তনে সকল বিষয়ের পরিচালক। — লেখক।
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ৬)
تنبيهكثيرا ما يورد ياقوت وصف المنسوب بالصوفي، أو شيخ الصوفية، أو شيخ الطائفة الصوفية، أو شيخ الطريقة، أو العارف، أو صاحب الكرامات، أو له مشهد يزار، وربما قال: رأيته وغير ذلك، ولا غرابة في ذلك فقد كان ما قبل هذا التاريخ الذي مات فيه المنسوب، وما بعده سوقا راج فيها الفكر الصوفي، ولكن ليس على وتيرة واحدة فمنها ما هو مقبول، ومنها ما هو بدعة منكرة، ومنها ما هو غلو قد يهلك صاحبه، ومنها ما هو كفر وإلحاد وضلال.
فالمقبول: ما قاد الى معرفة الله تعالى وتصفية النفس بالطاعة، والتجرد من شهوات الدنيا، والحذر من الاغترار بها، وهذا سلوك حسن معتمده قول الله تعالى: {اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ} (1)، وهذا مبدأ عند جميع فرق الصوفية لكنهم اختلفوا في التطبيق، فأخذ قوم من التصوف مجرد الاعتناء بالظاهر، فالتزموا هيئة معينة في اللباس كالعمامة، والجبة، والمسبحة، والعصا والسجادة، ولا يعتبر هذا من الابتداع في الدين، وقد يكره إذا أدى إلى الشهرة.
وأما ما هو بدعة منكرة، فكمن يفهم التصوف على أنه انقطاع عن الدنيا، واشتغال بالعبادة، وترك ما أباح الله منها، وإنما قلنا: بدعة منكرة، لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يعلم أصحابه هذا السلوك، بل أنكر على الثلاثة الذين تقالُّوا عبادتهم، فقالوا: وأين نحن من النبي صلى الله عليه وسلم؟ ! قد غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر، قال أحدهم: أما أنا فإني أصلي الليل أبدا، وقال آخر: أنا أصوم الدهر ولا أفطر، وقال آخر: أنا أعتزل النساء فلا أتزوج أبدا، فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم إليهم، فقال: «أنتم الذين قلتم كذا وكذا، أما والله إني لأخشاكم لله وأتقاكم له، لكني أصوم وأفطر، وأصلي وأرقد، وأتزوج النساء، فمن رغب عن سنتي فليس مني» (2)، وكذلك فيه مخالفة
--------------------------------------------
সতর্কতাইয়াকুত প্রায়শই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সূফী, সূফীগণের শাইখ, সূফী সম্প্রদায়ের শাইখ, তরীকার শাইখ, আরিফ (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী), কারামতওয়ালা বা তাঁর এমন মাযার রয়েছে যা যিয়ারত করা হয়—এরূপ বিশেষণে ভূষিত করেন। কখনও কখনও তিনি বলেন: "আমি তাকে দেখেছি" ইত্যাদি। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ এই ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্ব ও পরবর্তী সময়টি ছিল এমন এক যুগ যেখানে সূফী চিন্তা-চেতনার ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। তবে তা এক ধাঁচের ছিল না; এর মধ্যে কিছু ছিল গ্রহণযোগ্য, কিছু ছিল গর্হিত বিদআত, কিছু ছিল চরমপন্থা যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়, আর কিছু ছিল কুফর, নাস্তিকতা ও পথভ্রষ্টতা।
গ্রহণযোগ্য অংশটি হলো: যা মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ এবং আনুগত্যের মাধ্যমে নফসের পরিশুদ্ধি, দুনিয়ার নশ্বর ভোগবিলাস থেকে নিস্পৃহ থাকা এবং এর প্রতারণা থেকে সতর্ক হওয়ার পথে পরিচালিত করে। এটি একটি উত্তম আচরণ যার ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা জেনে রাখ যে, পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা, তামাশা, জাঁকজমক, পারস্পরিক অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্য লাভের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উদাহরণ হলো বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন শস্য কৃষকদের আনন্দিত করে, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটোয় পরিণত হয়। আর পরকালে রয়েছে কঠিন আযাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর পার্থিব জীবন তো ধোঁকার উপকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়} (১)। এটি সূফীদের সকল দলের নিকট একটি মূলনীতি ছিল, কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা মতভেদ করেছে। একদল সূফীবাদ বলতে কেবল বাহ্যিক পোশাক-আশাকের যত্ন নেওয়াকে বুঝেছে। তারা বিশেষ ধরণের লেবাস যেমন—পাগড়ি, জুব্বা, তসবিহ, লাঠি ও জায়নামাজ ব্যবহার করাকে আবশ্যক করে নিয়েছে। দ্বীনের ক্ষেত্রে একে বিদআত বলা যায় না, তবে লোকচক্ষুর সামনে প্রসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে হলে তা অপছন্দনীয় হতে পারে।
আর যা গর্হিত বিদআত, তা হলো সূফীবাদকে দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়া, কেবল ইবাদতে মগ্ন থাকা এবং আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা ত্যাগ করা হিসেবে গণ্য করা। আমরা একে 'গর্হিত বিদআত' বলেছি কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণকে এজাতীয় আচরণ শিক্ষা দেননি। বরং তিনি সেই তিন ব্যক্তির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন যারা নিজেদের ইবাদতকে নবীজির ইবাদতের তুলনায় তুচ্ছ মনে করেছিল। তারা বলেছিল: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তুলনায় আমরা কোথায়! তাঁর তো পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।" তাদের একজন বলল: "আমি সারা রাত জেগে সালাত আদায় করব।" অন্যজন বলল: "আমি সারা বছর রোজা রাখব, কখনও বিরতি দেব না।" আর অপরজন বলল: "আমি নারীসঙ্গ ত্যাগ করব এবং কখনও বিবাহ করব না।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: «তোমরাই কি সেই সব লোক যারা এমন কথা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি; তবুও আমি রোজা রাখি এবং রোজা ভঙ্গও করি, সালাত আদায় করি এবং নিদ্রাও যাই, আর আমি নারীদের বিবাহও করি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়» (২)। অনুরূপভাবে এতে বিরোধিতা রয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ৭)
لقول الله تعالى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} (1)، وينكر عليهم استحسان ما لم يستحسن الله عز وجل، ورسوله صلى الله عليه وسلم.
وأما ما هو غلو قد يهلك صاحبه، فكمن يرى التصوف أداء الفرائض دون الرواتب، والنوافل كصلاة التراويح والقيام، ويرون السعي إلى الحقيقة بالاشتغال بالتفكر في ذات الله عز وجل، ولا يخلوا سرهم من ذكر الله عز وجل، وهؤلاء إفترقوا عن سابقيهم بترك ما عدا الفرئض، وقلنا: إنه غلو لأن الرواتب والنوافل لم يتركها رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلا الرواتب في السفر، عدا الوتر وركعتي الفجر، بل حرص عليها فقال صلى الله عليه وسلم: «ما من عبد مسلم يصلي لله كل يوم ثنتي عشرة ركعة تطوعا، غير فريضة، إلا بنى الله له بيتا في الجنة، أو إلا بُني له بيت في الجنة» (2)، ولأنهم والله أعلم يبحثون عن حقيقة يزعمون أنها توصلهم إلى الرتبة النورية التالية.
وأما ما هو كفر وإلحاد وضلال فكمن يرى التصوف الحصول على الصفات الحميدة، بالتزام مراقبة النفس، والتزام التوكل على الله عز وجل، فلا يسعون إلى كسب، يعيشون على ما يقدمه الغير تبركا بصلاحهم، فهم يزعمون أنهم في شوق وتسليم يصلون بذلك كله إلى أن يكشف لهم الحجاب النوري، فيرون أنهم تأهلوا لظهور الكرامات، وجلب الخير لأتباعهم، ودفع الضرر عمن التجأ إليهم، وهذا ما أدى بالكثيرين منهم إلى القول بالحلول والاتحاد وهو الكفر الصريح، لأنهم بعد أن رأوا لأنفسهم حق التصرف في الكون، بل ادعوا سقوط التكاليف عنهم.
وأول من وقع في هذا الكفر الروافض فإنهم ادعوا الحلول في ذوات أئمتهم، وكم نسمع عبر الفضائيات اليوم أن عليا رضي الله عنه يتصرف في الكون، وكذلك الأئمة من ذريته رضي الله عنهم، وهي مزاعم كفر وضلال من الرافضة الأئمة برآء من ذلك، هم عباد
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিযিক বের করেছেন তা কে হারাম করেছে? বলুন, এগুলি পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য এবং কিয়ামতের দিন কেবল তাদেরই জন্য। এভাবে আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি।} (১), আর তিনি তাদের সেই বিষয়কে উত্তম মনে করার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম মনে করেননি।
আর যা চরমপন্থা এবং যা তার অধিকারীকে ধ্বংস করে দিতে পারে, তা হলো ঐ ব্যক্তির মতো যে তাসাউফকে সুন্নাত (রাওয়াতীব) ও নফলসমূহ যেমন তারাবিহ ও কিয়ামুল লাইল বর্জন করে কেবল ফরজসমূহ আদায় করা মনে করে। তারা মনে করে আল্লাহর সত্তা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হওয়ার মাধ্যমে হাকিকত সন্ধান করাই কাজ, অথচ তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির থেকে খালি থাকে না। এরা ফরজ ছাড়া অন্য সব কিছু বর্জনের মাধ্যমে তাদের পূর্ববর্তীদের থেকে পৃথক হয়েছে। আমরা বলেছি: এটি একটি চরমপন্থা, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর ব্যতীত সুন্নাত ও নফলসমূহ ত্যাগ করেননি, সফরের ক্ষেত্রে কেবল বিতর ও ফজরের দুই রাকাত ছাড়া। বরং তিনি এগুলোর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, যেমন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে কোনো মুসলিম বান্দা প্রতিদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ফরজ ব্যতীত বারো রাকাত নফল সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন অথবা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মিত হবে” (২)। আর আল্লাহই ভালো জানেন, তারা এমন এক হাকিকত সন্ধান করে যা তাদের দাবি অনুযায়ী পরবর্তী নূরানী স্তরে পৌঁছে দেয়।
আর যা কুফর, ইলহাদ (ধর্মদ্রোহিতা) ও গোমরাহি, তা হলো ঐ ব্যক্তির মতো যে মনে করে তাসাউফ হলো নফস বা আত্মার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে প্রশংসনীয় গুণাবলি অর্জন করা। তাই তারা উপার্জনের চেষ্টা করে না, বরং তাদের নেক আমলের বরকতে অন্যরা যা প্রদান করে তার ওপর জীবন ধারণ করে। তারা দাবি করে যে তারা ব্যাকুলতা ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেখানে তাদের সামনে থেকে নূরানী পর্দা উন্মোচিত হয়। তখন তারা মনে করে তারা কারামত প্রদর্শনের এবং তাদের অনুসারীদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনা ও যারা তাদের আশ্রয় নেয় তাদের থেকে ক্ষতি দূর করার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটিই তাদের অনেককে হুলুল (সৃষ্টিতে স্রষ্টার অনুপ্রবেশ) এবং ইত্তিহাদ (সৃষ্ট ও স্রষ্টা এক হয়ে যাওয়া) মতবাদের দিকে নিয়ে গেছে, যা স্পষ্ট কুফর। কারণ তারা নিজেদের জন্য মহাবিশ্বের ওপর পরিচালনার অধিকার দেখতে পেয়েছে, এমনকি তারা নিজেদের থেকে শরিয়তের বিধান রহিত হয়ে যাওয়ার দাবিও করেছে।
আর যারা এই কুফরি মতবাদে প্রথম পতিত হয়েছে তারা হলো রাফেজিরা, তারা তাদের ইমামদের সত্তার মধ্যে আল্লাহর অনুপ্রবেশের (হুলুল) দাবি করেছে। আজ আমরা স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে কতই না শুনি যে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু মহাবিশ্ব পরিচালনা করেন, এবং একইভাবে তাঁর বংশধর ইমামগণও (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। এগুলো রাফেজিদের কুফরি ও গোমরাহিমূলক দাবি, যা থেকে ইমামগণ সম্পূর্ণ মুক্ত। তাঁরা তো আল্লাহর বান্দা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ৮)
مكرمون رضي الله عنهم، ولا أحكم على أحد من المنسوبين وصف بالصوفي لا أحكم عليه بشيء من هذا المختصر، فقد أفضوا إلى ما اعتقدوا، والله لطيف بعباده.
أما الكرامات: فقد تغايرت أقوال الطوائف في أمر الكرامات: نفاها طائفة وهم والمعتزلة والجهمية، فأنكروا ما هو ثابت بالكتاب والسنة، فكان قولهم مخالفة للنص.
وأثبتها طائفة لكن بغلو، ومنهم الصوفية بالغوا في إظهار الكرامات، حتى بالسحر والشعوذة، واستمالوا بها عقول العوام، فكانت سببا للشرك والضلال، حتى شُدت الرحال من بلد إلى آخر لزيارة من زعموه وليا، مستغيثين به، في قضاء الحاجات، وتفريج الكربات، فأدى ذلك إلى الشرك الصريح، ودعوة غير الله عز وجل، كما هو الحال في كثير من بلاد المسلمين اليوم، وأشهر دليل على هذا ما يذاع في الفضائيات من أعمال يقوم بها الرافضة من الزحف لزيارة القبور، وفي مقدمتها قبر الحسين وقبور آل البيت رضي الله عنهم، وغيرهم.
وطائفة نجت من الضلال بالاعتدال في عدم نفي الكرامات، وعدم الغلو فيها، فكانت وسطا بين التفريط والإفراط، وهم أهل السنة والجماعة، وذلك أنهم نظروا إلى الأولياء على الحقيقة فوجدوهم قوما اتّبعوا النبي صلى الله عليه وسلم، فكانت منازلهم في التقوى والصلاح دون منازل الأنبياء، فرزقوا الكرامات التي تقصر عن المعجزات، لأن المعجزات خاصة بالرسل عليهم السلام، فصار وجود الكرامات في حق الأولياء الملتزمين بالمنهج النبوي كوجود المعجزة في حق الرسول المخبر بشيء من الغيب، وكما أن الولي لا يبلغ قدر النبي ومكانته في الفضل والثوب والدرجة، فكذلك الكرامات لا تبلغ حد المعجزات، في الاخبار بشيء من الغيب، ولا تكسب الولي عصمة على الإطلاق، ولكنها تدل على الصلاح وحسن الاعتقاد، ما لم تظهر عليها قرائن الدجل والشعوذة كما هو الحال لدى من يدعي الكرامات ومخالفته للكتاب والسنة ظاهرة كظهور الشمس، والله الهادي إلى سواء السبيل.
সম্মানিত (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), আর সুফি হিসেবে বর্ণিত কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে আমি এই সংক্ষিপ্তসারে কোনো ফয়সালা দিচ্ছি না। তাঁরা যা বিশ্বাস করতেন সেই অভিমুখে তাঁরা চলে গেছেন, আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু।
আর কারামত প্রসঙ্গে: কারামতের বিষয়ে বিভিন্ন দলের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। একদল এটি অস্বীকার করেছে, তারা হলো মুতাজিলা ও জাহমিয়া। তারা কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা যা প্রমাণিত তা অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের বক্তব্য ছিল অহি-র বাণীর পরিপন্থী।
অন্য একদল এটি সাব্যস্ত করেছে কিন্তু চরমপন্থার সাথে; তাদের অন্তর্ভুক্ত সুফিরা কারামত প্রকাশে বাড়াবাড়ি করেছে, এমনকি জাদু ও ভেলকিবাজির আশ্রয় নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছে। ফলে তা শিরক ও গোমরাহির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমনকি এক দেশ থেকে অন্য দেশে সফর করা হয়েছে এমন ব্যক্তির জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাকে তারা অলি বলে দাবি করেছে; প্রয়োজন পূরণ ও বিপদ মুক্তির জন্য তারা তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত। এর ফলে তা প্রকাশ্য শিরক এবং আল্লাহ (যিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) ব্যতীত অন্যের নিকট প্রার্থনার দিকে নিয়ে গেছে, যেমনটি আজ মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে দেখা যায়। এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ প্রমাণ হলো স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত রাফেজিদের সেই সব কর্মকাণ্ড যেখানে তারা কবরের জিয়ারতের উদ্দেশ্যে হামাগুড়ি দিয়ে চলে, যার শীর্ষে রয়েছে হুসাইনের কবর এবং আহলে বাইতের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সদস্য ও অন্যদের কবর।
আর একদল কারামত অস্বীকার না করে এবং সে বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করে মধ্যপন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে গোমরাহি থেকে রক্ষা পেয়েছে। তারা অবহেলা ও বাড়াবাড়ির মাঝে মধ্যবর্তী অবস্থানে ছিল, আর তারা হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত। কেননা তারা প্রকৃত অলিদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছে এবং দেখেছে যে তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর অনুসরণ করেছেন। ফলে তাকওয়া ও নেক আমলের ক্ষেত্রে তাঁদের মর্যাদা ছিল নবীদের মর্যাদার নিচে। তাই তাঁদের এমন কারামত দান করা হয়েছে যা মুজিজার স্তরে পৌঁছায় না। কারণ মুজিজা কেবল রাসুলদের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) জন্য নির্দিষ্ট। ফলে নববী মানহাজের অনুসারী অলিদের ক্ষেত্রে কারামতের অস্তিত্ব থাকাটা অনেকটা গায়বি বিষয়ের সংবাদ প্রদানকারী রাসুলের ক্ষেত্রে মুজিজা থাকার মতোই একটি বিষয়। আর অলি যেমন ফজিলত, সওয়াব ও মর্যাদার দিক থেকে নবীর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না, তেমনি কারামতও গায়বি সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে মুজিজার স্তরে পৌঁছাতে পারে না। কারামত অলিকে কোনোভাবেই নিষ্পাপত্ব প্রদান করে না, বরং এটি নেককার হওয়া ও সঠিক আকিদার প্রমাণ দেয়; যতক্ষণ না সেখানে দাজ্জালি ও ভেলকিবাজির কোনো আলামত প্রকাশ পায়, যেমনটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে যে কারামতের দাবি করে অথচ কিতাব ও সুন্নাহর সাথে তার বিরোধিতা সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট। আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি।
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله نبدأ ونسأله التمام على الوجه الذي يرضيه.
العشر الأول من شعبان لعام 1433 من الهجرة النبوية
(1) النسبة: الآبري، نسبة إلى آبُر: بفتح الهمزة وسكون الألف وضمّ الباء الموحدة وراء: قرية من قرى سجستان.
المنسوب: أبو الحسن محمد بن الحسين بن إبراهيم بن عاصم الآبري.
شيخ من أئمة الحديث، له كتاب نفيس كبير في أخبار الإمام أبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعي رحمه الله، أجاد فيه كل الإجادة، وكان رحل إلى مصر، والشام، والحجاز، والعراق، وخراسان.
من شيوخه: أبو بكر بن خزيمة، والربيع بن سليمان الجيزي، وكان يعدّ في الحفّاظ.
من تلاميذه: علي بن بشرى السجستاني، توفي في رجب سنة (363) (1).
(2) النسبة: الأبرينَقي، نسبة إلى أَبْرينَق: بفتح الهمزة وسكون الباء، وكسر الراء، وياء ساكنة، ونون مفتوحة، وقاف، من قرى مرو.
والمنسوب: أبو الحسن عليّ بن محمد الدّهّان الأبرينقي، كان فقيها صالحا.
من شيوخه: أبو القاسم عبد الرحمن بن محمد بن أحمد الفوراني، الفقيه وغيره من شيوخ مرو.
من تلاميذه: أبو الحسن عليّ بن محمد الشهرستاني بمكة، وكان من أهل الورع والعلم. مات سنة (523) (2).
(3) النسبة: الآبسكوني، نسبة إلى آبَسْكُون: بفتح الهمزة، وسكون الألف، وفتح الباء الموحدة، والسين المهملة ساكنة، وكاف مضمومة، وواو ساكنة، ونون، بليدة على ساحل بحر طبرستان، بينها وبين جرجان ثلاثة أيام.
والمنسوب: أبو العلاء احمد بن صالح بن محمد بن صالح التميمي الآبسكوني، كان ينزل بصور على ساحل بحر الشام (3).
--------------------------------------------
আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁর কাছে এমন পূর্ণতা প্রার্থনা করছি যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে।
হিজরি ১৪৩৩ সনের শাবান মাসের প্রথম দশক
(১) নিসবাত: আল-আবরী, যা আবুর-এর দিকে সম্পর্কিত: হামযাহ-তে ফাতহা, আলিফ সাকিন, বা-তে দম্মা এবং শেষে রা: এটি সিজিস্তানের গ্রামসমূহের একটি গ্রাম।
যার নিসবাত করা হয়েছে: আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন ইবরাহিম বিন আসিম আল-আবরী।
তিনি হাদিসের ইমামগণের মধ্যে একজন শায়খ। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীর উপর তাঁর একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও বৃহৎ গ্রন্থ রয়েছে, যাতে তিনি পূর্ণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। তিনি মিসর, শাম, হিজাজ, ইরাক ও খুরাসান সফর করেছেন।
তাঁর শায়খদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর বিন খুযাইমাহ এবং আর-রাবি বিন সুলাইমান আল-জিযী। তাঁকে হাফিজদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আলী বিন বুশরা আস-সিজিস্তানী। তিনি ৩৬৩ হিজরির রজব মাসে ইন্তেকাল করেন (১)।
(২) নিসবাত: আল-আবরিয়েনাকী, যা আবরিয়েনাক-এর দিকে সম্পর্কিত: হামযাহ-তে ফাতহা, বা সাকিন, রা-তে কাসরা, ইয়া সাকিন, নুন ফাতহা এবং শেষে কাফ; এটি মার্ভের গ্রামসমূহের একটি।
যার নিসবাত করা হয়েছে: আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আদ-দাহহান আল-আবরিয়েনাকী। তিনি একজন নেককার ফকিহ ছিলেন।
তাঁর শায়খদের মধ্যে রয়েছেন: ফকিহ আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফাওরানী এবং মার্ভের অন্যান্য শায়খগণ।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: মক্কায় অবস্থানকারী আবু হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আশ-শাহরিস্তানী। তিনি পরহেজগারি ও ইলমওয়ালা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ৫২৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (২)।
(৩) নিসবাত: আল-আবাসকুনী, যা আবাসকুন-এর দিকে সম্পর্কিত: হামযাহ-তে ফাতহা, আলিফ সাকিন, বা-তে ফাতহা, সিন সাকিন, কাফ-এ দম্মা, ওয়াও সাকিন এবং শেষে নুন। এটি তাবারিস্থান সমুদ্রের তীরে অবস্থিত একটি ছোট শহর, যেটির ও জুরজানের মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন দিনের পথ।
যার নিসবাত করা হয়েছে: আবুল আলা আহমদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ বিন সালিহ আত-তামীমী আল-আবাসকুনী। তিনি শামের সমুদ্র উপকূলীয় শহর সূরে বসবাস করতেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১০)
(4) النسبة: الآبلي، نسبة إلى آبِل القَمْح: قرية من نواحي بانياس، من أعمال دمشق بين دمشق والساحل.
وآبل أيضا، آبل السّوق: قرية كبيرة في غوطة دمشق، من ناحية الوادي.
والمنسوب: أبو طاهر الحسين بن محمد بن الحسين بن عامر بن أحمد، يعرف بابن خراشة الأنصاري، الخزرجي، المقري الآبلي، إمام جامع دمشق.
من شيوخه: أبو المظفّر الفتح بن برهان الأصبهاني، قرأ عليه القرآن.
من تلاميذه: أبو علي الحسين بن إبراهيم بن جابر، يعرف بابن أبي الزّمزم الفرائضي، وأبو بكر عبد الله بن محمد بن عبد الله بن هلال الحنّائي، وأحمد بن محمد المؤذّن أبو القاسم، وأبو بكر الميانجي، وأبو عبد الله محمد بن عبد الله بن ذكوان، وأبو همّام محمد بن إبراهيم بن عبد الله الحافظ، وأبو عبد الله بن أبي الحديد، ومحمد بن أحمد بن أبي الصّفر الأنباري، وأبو سعد السّمّان، وأبو محمد عبد العزيز الكتّاني وقال: توفي شيخنا أبو طاهر الآبلي في سابع عشر ربيع الآخر سنة (428) وكان ثقة نبيلا مأمونا (1).
(5) النسبة: الآبي، نسبة إلى آبَهْ: بالباء الموحدة، من قرى أصبهان، وقيل: إن آبه قرية من قرى ساوه، قال ياقوت رحمه الله: أما آبه، بليدة تقابل ساوه تعرف بين العامّة بآوه، فلا شكّ فيها، وأهلها شيعة، وأهل ساوه سنّية، لا تزال الحروب بين البلدين قائمة على المذهب.
والمنسوب: جرير بن عبد الحميد الآبي سكن الري، نسب إلى آبة أصبهان. والوزير أبو سعد منصور بن الحسين الآبي.
ولّي أعمالا جليلة، وصحب الصاحب ابن عبّاد ثم وزر لمجد الدولة رستم بن فخر الدولة ابن ركن الدولة بن بويه، وكان أديبا شاعرا مصنّفا، وهو مؤلّف كتاب: نثر الدرر، وتاريخ الري، وغير ذلك.
وأخوه أبو منصور محمد كان من عظماء الكتّاب وجلّة الوزراء، وزر لملك طبرستان.
قال القاضي أبو نصر أحمد بن العلاء الميمندي، من مدن أذربيجان
--------------------------------------------
(৪) নিসবাত (পরিচয়): আল-আবেলি, এটি আবেল আল-কামহের দিকে সম্বন্ধযুক্ত: যা দামেস্কের প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্গত বানিয়াসের উপকণ্ঠের একটি গ্রাম, এটি দামেস্ক ও উপকূলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত.
আর আবেল বলতে আবেল আস-সুক-ও বোঝায়: এটি দামেস্কের গুতা (উপত্যকা) অঞ্চলের পার্শ্বস্থ একটি বড় গ্রাম।
সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি: আবু তাহের আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আমির বিন আহমাদ, যিনি ইবনে খুরাশাহ আল-আনসারি, আল-খাজরাজি, আল-মুকরি আল-আবেলি নামে পরিচিত, তিনি দামেস্কের জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন.
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল মুজাফফর আল-ফাতহ বিন বুরহান আল-আসবাহানি, যাঁর নিকট তিনি কুরআন পাঠ করেছেন।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আলী আল-হুসাইন বিন ইব্রাহিম বিন জাবির, যিনি ইবনে আবিয যামযাম আল-ফারাইদি নামে পরিচিত; আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিলাল আল-হান্নায়ি; আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াযযিন আবুল কাসিম; আবু বকর আল-মিয়ানাযি; আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যাকওয়ান; আবু হাম্মাম মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ; আবু আব্দুল্লাহ বিন আবিল হাদিদ; মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আবিল সাফর আল-আনবারি; আবু সাদ আস-সাম্মান; এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ আল-কাত্তানি। তিনি (আল-কাত্তানি) বলেন: আমাদের শাইখ আবু তাহের আল-আবেলি ৪২৮ হিজরি সনের ১৭ই রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। তিনি বিশ্বস্ত, মহৎ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। (১)।
(৫) নিসবাত (পরিচয়): আল-আবি, এটি আবাহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: এখানে ‘বা’ বর্ণটি এক নুকতাহ বিশিষ্ট। এটি আসবাহানের (ইসফাহান) একটি গ্রাম। বলা হয়ে থাকে যে: আবাহ হলো সাওয়াহ-র একটি গ্রাম। ইয়াকুত (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আবাহ হলো সাওয়াহ-র বিপরীতে অবস্থিত একটি ছোট শহর যা সাধারণ মানুষের নিকট আওয়াহ নামে পরিচিত, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখানকার অধিবাসীরা শিয়া এবং সাওয়াহ-র অধিবাসীরা সুন্নি, মাযহাবগত কারণে এই দুই শহরের মধ্যে সর্বদা যুদ্ধ বিগ্রহ বিদ্যমান থাকে.
সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি: জারির বিন আব্দুল হামিদ আল-আবি, তিনি রাই শহরে বসবাস করতেন, আসবাহানের আবাহ-র দিকে তাঁর নিসবাত করা হয়। এবং উজির আবু সাদ মানসুর বিন আল-হুসাইন আল-আবি.
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আস-সাহিব ইবনে আব্বাদের সাহচর্য লাভ করেছেন। অতঃপর তিনি মাজদুদ্দৌলা রুস্তম বিন ফাখরুদ্দৌলা বিন রুকনুদ্দৌলা বিন বুওয়াইহ-এর উজির (মন্ত্রী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক, কবি ও গ্রন্থকার। তিনি ‘নাশরুদ দুরার’, ‘তারিখে রাই’ এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা।
এবং তাঁর ভাই আবু মানসুর মুহাম্মদ ছিলেন শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন এবং শীর্ষস্থানীয় উজিরদের অন্তর্ভুক্ত; তিনি তাবারিস্তানের বাদশাহর উজির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কাযী আবু নাসর আহমাদ বিন আল-আলা আল-মায়মান্দি বলেছেন, এটি আজারবাইজানের শহরগুলোর একটি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقائلة أتبغض أهل آبه
… وهم أعلام نظم والكتابة؟
فقلت: إليك عنّي إنّ مثلي
… يعادي كلّ من عادى الصّحابه
يقصد آبة الشيعية (1).
(6) النسبة: الآجرّي، نسبة إلى الآجُر: بضم الجيم، وتشديد الراء: بلغة أهل مصر الطوّب، وبلغة أهل الشام القرميد. درب الآجرّ: محلّة كانت ببغداد من محالّ نهر طابق بالجانب الغربي، سكنها غير واحد من أهل العلم.
والمنسوب: أبو بكر محمد بن الحسين بن عبد الله، الآجرّي، الفقيه، الشافعي.
من شيوخه: أبو شعيب الحرّاني، وأبو مسلم الكجي، وكان ثقة، صنّف تصانيف كثيرة، حدّث ببغداد، ثم انتقل إلى مكة فسكنها إلى أن مات بها في محرّم سنة (360).
(7) النسبة: الآجنقاني، نسبة إلى آجِنْقان: بالجيم المكسورة، والنون الساكنة، وقاف، وألف، ونون: قرية من قرى سرخس، والعجم يسمونها آجنكان.
والمنسوب: أبو الفضل محمد بن عبدالواحد الآجنقاني.
(8) النسبة: الآخُري، نسبة إلى آخُر: بضم الخاء المعجمة، والراء: قصبة (2) ناحية دهستان، بين جرجان وخوارزم، وقيل: آخر قرية بدهستان نسب.
والمنسوب: أبو الفضل العبّاس بن أحمد بن الفضل الزاهد، وكان إمام المسجد العتيق بدهستان، وأبو الفضل خزيمة بن علي بن عبدالرحمن الآخري الدهستاني، المعتزلي (3)، كان فقيها، أديبا، لغويّا، سمع بدهستان.
من شيوخه: أبو الفتيان عمر بن عبد الكريم الرّوّاسي، وبندار بن عبد الواحد الدهستاني، وغيرهما، مات بمرو في صفر سنة (548) وإسماعيل بن أحمد بن محمد بن أحمد بن حفص بن عمر أبو القاسم الآخري، الراوي عن أبي إسحاق
--------------------------------------------
জনৈক নারী বললেন, আপনি কি আবা-বাসীদের অপছন্দ করেন?
… অথচ তারা কাব্য ও লেখনীর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব?
আমি বললাম, আমার কাছ থেকে দূরে থাকো; কারণ আমার মতো ব্যক্তি
… সাহাবীগণের সাথে শত্রুতাকারীদের শত্রুতা করে।
এখানে শিয়া-অধ্যুষিত আবা অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে (১)।
(৬) নিসবত (সম্বন্ধ): আল-আজুররি; এটি 'আজুর' শব্দের সাথে সম্পর্কিত। জীম-এ পেশ এবং রা-তে তাশদীদ সহকারে: মিশরীয়দের ভাষায় এর অর্থ 'তুব' (ইট), আর সিরিয়াবাসীদের ভাষায় 'কুরমিদ' (পোড়া মাটি বা খাপরা)। দারেব আল-আজুর: এটি বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বে নহর-ই তাবিক এলাকার একটি মহল্লা ছিল, যেখানে একাধিক আলেম বসবাস করতেন।
এবং এর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি হলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ, আল-আজুররি, ফকিহ, শাফেয়ী।তার উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবু শুআইব আল-হাররানি এবং আবু মুসলিম আল-কাজ্জি। তিনি বিশ্বস্ত (সিকাহ) ছিলেন এবং অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি বাগদাদে হাদিস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর মক্কায় চলে যান এবং সেখানে ৩৬০ হিজরির মুহররম মাসে মৃত্যু পর্যন্ত বসবাস করেন।
(৭) নিসবত (সম্বন্ধ): আল-আজানকানি; এটি 'আজানকান'-এর সাথে সম্পর্কিত। জীম-এ কাসরা (জের), নুন সাকিন, ক্বাফ, আলিফ ও নুন সহকারে: এটি সারখাস অঞ্চলের অন্যতম একটি গ্রাম, অনারবীয়রা একে 'আজানকান' (ফারসি উচ্চারণে) বলে থাকে।
এবং এর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি হলেন: আবু ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-আজানকানি।(৮) নিসবত (সম্বন্ধ): আল-আখুরি; এটি 'আখুর' শব্দের সাথে সম্পর্কিত। খা-তে পেশ এবং রা সহকারে: এটি দাহিস্তান অঞ্চলের প্রধান জনপদ (২), যা জুরজান ও খোয়ারিজমের মধ্যস্থলে অবস্থিত। কেউ কেউ বলেছেন এটি দাহিস্তানের সর্বশেষ গ্রাম।
এবং এর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিগণ হলেন: আবু ফজল আব্বাস বিন আহমদ বিন আল-ফজল আল-জাহিদ, যিনি দাহিস্তানের প্রাচীন মসজিদের ইমাম ছিলেন। এবং আবু ফজল খুজাইমা বিন আলী বিন আব্দুর রহমান আল-আখুরি আদ-দাহিস্তানি, আল-মুতাজিলি (৩), যিনি ফকিহ, সাহিত্যিক ও ভাষাবিদ ছিলেন; তিনি দাহিস্তানে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তার উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবু ফিতিয়ান উমর বিন আব্দুল কারিম আর-রাওয়াসি, বুন্দার বিন আব্দুল ওয়াহিদ আদ-দাহিস্তানি এবং আরও অনেকে। তিনি ৫৪৮ হিজরির সফর মাসে মার্ভ-এ মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ইসমাইল বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাফস বিন উমর আবু কাসিম আল-আখুরি, যিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১২)
إبراهيم بن محمد الخوّاص بربض آمد، عن الحسن بن الصّبّاح الزعفراني، حديثا منكرا حمل فيه على الخوّاص.
من تلاميذه: الحافظ حمزة بن يوسف السّهمي.
وآخُر: قرية بين سمنان ودامغان، بينها وبين سمنان تسعة فراسخ "49 كم" تقريبا، سمع بها الحافظ أبو عبد الله بن النّجّار.
(9) النسبة: الأذرمي، نسبة إلى آذَرْمُة: من أعمال نصيبي.
المنسوب: أبو عبد الرحمن عبدالله بن محمد ابن إسحاق الآذرمي النصيبيني.
(10) النسبة: الآذيوخاني، نسبة إلى آذِيوَخَان: بكسر الذال المعجمة، وياء ساكنة، وواو مفتوحة، وخاء معجمة، وألف، ونون: قرية من قرى نهاوند.
والمنسوب: أبو سعيد الفضل بن عبد الله بن عليّ بن عمر بن عبد الله بن يوسف الآذيوخاني.
(11) النسبة: الآزاذاني، نسبة إلى آزَاذَان: بالزاي، والذال المعجمة، وألف، ونون: قرى هراة، بها قبر الشيخ أبي الوليد أحمد بن أبي رجا شيخ البخاري، وقرية من قرى أصبهان (1).
والمنسوب: أبو عبد الرحمن قتيبة بن مهران المقري الآزاذاني، من الأصبهانية.
(12) النسبة: الآزاذواري، نسبة إلى آزَاذْوَار: بعد الألف زاي، وألف، وذال معجمة، وواو، وألف، وراء: بليدة في أول كورة (2) جوين، من جهة قومس، من أعمال نيسابور.
--------------------------------------------
ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-খাওওয়াস আমিদ প্রান্তরে, হাসান ইবনে সাবাহ আল-জাফরানি থেকে এমন একটি মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন যাতে আল-খাওওয়াসকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তাঁর শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ হামজাহ ইবনে ইউসুফ আস-সাহমি।
আখুর: সেমনান এবং দামগানের মধ্যবর্তী একটি গ্রাম, যা সেমনান থেকে প্রায় নয় ফারসাখ (প্রায় ৪৯ কিমি) দূরে অবস্থিত। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আন-নাজ্জার এখানে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
(৯) নিসবাহ (সম্পর্কিত নাম): আল-আজারমি; এটি আজারমাহ-এর সাথে সম্পর্কিত, যা নাসিবাইনের আওতাধীন।
এই নিসবাহযুক্ত ব্যক্তি: আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-আজারমি আন-নাসিবিনি।
(১০) নিসবাহ: আল-আজিউখানি; এটি আজিউখানের সাথে সম্পর্কিত: নুক্তাযুক্ত 'জাল' অক্ষরে কাসরা (জের), 'ইয়া' সাকিন, 'ওয়াও' অক্ষরে ফাতহা (জবর), নুক্তাযুক্ত 'খা', আলিফ এবং নূন সহযোগে; এটি নাহাওয়ান্দ অঞ্চলের একটি গ্রাম।
এই নিসবাহযুক্ত ব্যক্তি: আবু সাঈদ আল-ফজল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-আজিউখানি।
(১১) নিসবাহ: আল-আজাদানি; এটি আজাদানের সাথে সম্পর্কিত: 'যা', নুক্তাযুক্ত 'জাল', আলিফ এবং নূন সহযোগে; এটি হেরাতের অন্তর্গত গ্রামসমূহ, যেখানে বুখারির উস্তাদ শেখ আবুল ওয়ালিদ আহমদ ইবনে আবি রাজা-এর কবর অবস্থিত এবং এটি ইসফাহানেরও একটি গ্রামের নাম (১)।
এই নিসবাহযুক্ত ব্যক্তি: আবু আব্দুর রহমান কুতাইবাহ ইবনে মিহরান আল-মুকরি আল-আজাদানি, তিনি ইসফাহানবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
(১২) নিসবাহ: আল-আজাদওয়ারি; এটি আজাদওয়ারের সাথে সম্পর্কিত: আলিফের পর 'যা', এরপর আলিফ, নুক্তাযুক্ত 'জাল', 'ওয়াও', আলিফ এবং 'রা' সহযোগে; এটি জুওয়াইনের প্রশাসনিক অঞ্চলের (২) শুরুতে কওমিসের দিক থেকে অবস্থিত একটি ছোট শহর, যা নিশাপুরের আওতাধীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والمنسوب: إبراهيم بن عبد الرحمن بن سهل، الآزاذواري، يكنى أبا موسى.
(13) النسبة: الآغزوني، نسبة إلى آغْزُون: الغين معجمة ساكنة، يلتقي معها ساكنان، والزاي معجمة مضمومة، والواو ساكنة، ونون: من قرى بخارى.
والمنسوب: أبو عبد الله عبد الواحد بن محمد بن عبد الله بن أيمن بن عبد الله بن مرّة بن الأحنف بن قيس التميمي الآغزوني. وليس الأغذوني بالذال.
(14) النسبة: الآفراني، نسبة إلى آفُرَان: بضم الفاء وآخره نون: قرية بينها وبين نسف فرسخان "11 كم" بما وراء النهر، أخرجت طائفة من أهل العلم قديما وحديثا.
والمنسوب: أبو موسى الوثير بن المنذر بن جنك بن زمانة الآفراني النسفي.
(15) النسبة: الآلوزاني، نسبة إلى آلُوزَان: بضم اللام، وسكون الواو، وزاي، وألف، ونون: من قرى سرخس (1).
والمنسوب: سورة بن الحسن الآلوزاني.
من شيوخه: محمد بن الحسن صاحب أبي حنيفة.
(16) النسبة: الآليني، نسبة إلى آلِين: بكسر اللام، وياء ساكنة، ونون: من قرى مرو على أسفل نهر خارقان.
والمنسوب: فرات بن النضر الآليني، وأبو سدّاد الآليني.
من شيوخه: الإمام عبد الله بن المبارك، ومحمد بن عمر أخو أبي سدّاد الآليني.
(17) النسبة: الآمدي، نسبة إلى آمِد: بكسر الميم: لها في العربية أصل حسن لأن الأمد الغاية، وينسب إلى آمد خلق من أهل العلم في كل فنّ.
والمنسوب: أبو القاسم الحسن بن بشر الآمدي الأديب، كان بالبصرة يكتب بين يدي القضاة بها، وله تصانيف في الأدب مشهورة، منها كتاب المؤتلف والمختلف في أسماء الشعراء، وكتاب الموازنة بين أبي تمام والبحتري، وغير ذلك، ومات في سنة (370) ومن المتأخرين أبو المكارم محمد بن الحسين الآمدي، شاعر بغدادي مكثر مجيد، مدح جمال الدين الأصبهاني وزير الموصل، مات أبو المكارم--------------------------------------------
এবং এই নিসবতধারী হলেন: ইবরাহিম বিন আবদুর রহমান বিন সাহল আল-আজাধোয়ারি, তার উপনাম (কুনিয়া) আবু মুসা.
(১৩) নিসবত: আল-আঘজুনি, যা আঘজুন-এর সাথে সম্পর্কিত: গাইন বর্ণটি নুকতাযুক্ত ও সাকিন, যার সাথে অন্য দুটি সাকিন মিলিত হয়েছে, এবং জা বর্ণটি নুকতাযুক্ত ও পেশ বিশিষ্ট, ওয়াও সাকিন এবং শেষে নুন: এটি বুখারার একটি গ্রাম.
এবং এই নিসবতধারী হলেন: আবু আবদুল্লাহ আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আয়মান বিন আবদুল্লাহ বিন মুররাহ বিন আল-আহনাফ বিন কাইস আত-তামিমি আল-আঘজুনি। আর এটি 'জাল' বর্ণ দিয়ে আল-আঘযুনি নয়.
(১৪) নিসবত: আল-আফরানি, যা আফরান-এর সাথে সম্পর্কিত: ফা বর্ণে পেশ এবং শেষে নুন: এটি মা-ওয়ারা-উন-নাহর অঞ্চলের এমন একটি গ্রাম যার এবং নাসাফ শহরের মধ্যকার দূরত্ব দুই ফারসাখ (১১ কি.মি.), এখান থেকে প্রাচীন ও আধুনিককালে একদল আলেম বের হয়েছেন.
এবং এই নিসবতধারী হলেন: আবু মুসা আল-ওয়াসির বিন আল-মুনজির বিন জাঙ্ক বিন জামানাহ আল-আফরানি আন-নাসাফি.
(১৫) নিসবত: আল-আলুজানি, যা আলুজান-এর সাথে সম্পর্কিত: লাম বর্ণে পেশ, ওয়াও সাকিন, জা, আলিফ এবং নুন: এটি সারাখস শহরের একটি গ্রাম (১).
এবং এই নিসবতধারী হলেন: সুরাহ বিন আল-হাসান আল-আলুজানি.
তার উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম আবু হানিফার সাথী মুহাম্মদ বিন আল-হাসান।
(১৬) নিসবত: আল-আলিনি, যা আলিন-এর সাথে সম্পর্কিত: লাম বর্ণে যের, ইয়া সাকিন এবং নুন: এটি মার্ভ শহরের একটি গ্রাম যা খারকান নদীর নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত.
এবং এই নিসবতধারী হলেন: ফুরাত বিন আন-নাজর আল-আলিনি এবং আবু সাদ্দাদ আল-আলিনি.
তার উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক এবং আবু সাদ্দাদ আল-আলিনির ভাই মুহাম্মদ বিন উমর।
(১৭) নিসবত: আল-আমিদি, যা আমিদ-এর সাথে সম্পর্কিত: মিম বর্ণে যের: আরবি ভাষায় এর চমৎকার মূল অর্থ রয়েছে, কারণ 'আামাদ' মানে হলো লক্ষ্য বা শেষ সীমা। আর আমিদের সাথে প্রতিটি শাস্ত্রের অসংখ্য আলেম সম্বন্ধিত.
এবং এই নিসবতধারী হলেন: সাহিত্যিক আবু আল-কাসিম আল-হাসান বিন বিশর আল-আমিদি, তিনি বসরায় বিচারকদের সামনে লিখতেন এবং সাহিত্যে তার বিখ্যাত কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে কবিদের নামের ক্ষেত্রে 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' এবং আবু তাম্মাম ও বুহতুরির কাব্যপ্রতিভার তুলনামূলক গ্রন্থ 'আল-মুওয়াজানা' অন্যতম। তিনি ৩৭০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। আর পরবর্তীকালের আলেমদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-মাকারিম মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-আমিদি, তিনি বাগদাদের একজন দক্ষ ও বহু কবিতা রচনাকারী কবি ছিলেন, তিনি মসুলের উজির জামাল উদ্দিন আল-আসফাহানির প্রশংসা করে কবিতা লিখেছেন। আবু আল-মাকারিম ইন্তেকাল করেছেন--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا سنة (552) وقد جاوز ثمانين سنة عمرا (1).
(18) النسبة: الآملي، نسبة إلى آمُل: بضم الميم، واللام: اسم أكبر مدينة بطبرستان في السهل، لأن طبرستان سهل وجبل.
والمنسوب: أحمد بن هارون الآملي (2).
من شيوخه: سعيد الحدثاني، ومحمد بن بشّار بندار الحكم بن نافع وغيرهما.
من تلاميذه: أبو أحمد عبد الله بن عدي الحافظ، وأحمد بن محمد بن المشاجر، وزرعة بن أحمد بن محمد بن هشام أبو عاصم الآملي، حدّث بجرجان، عن أبي سعيد العدوي.
وإسماعيل بن أبي القاسم بن أحمد السّنّي الدّيلمي، أجاز لأبي سعد السمعاني ومات سنة (527) وقيل: سنة (529).
وآمل أيضا مدينة مشهورة في غربي جيحون على طريق القاصد إلى بخارا من مرو، ويقابلها في شرقي جيحون فربر التي ينسب إليها الفربري راوية كتاب البخاري، وقد أخرجت آمل هذه، جماعة من أهل العلم وافرة، وفرق المحدّثون بينهم وبين آمل طبرستان. فمن هذه:
عبد الله بن حمّاد بن أيوب بن موسى أبو عبد الرحمن الآملي.
من شيوخه: عبد الغفّار بن داود الحرّاني، وأبو جماهر محمد بن عثمان الدمشقي، ويحيى بن معين، وغيرهم.
من تلاميذه: محمد بن إسماعيل البخاري، عن يحيى بن معين حديثا، وعن سليمان بن عبد الرحمن حديثا آخر، والهيثم بن كليب الشاشي، ومحمد بن المنذر بن سعيد الهروي وغيرهم، ومات في ربيع الآخر سنة (269).
وعبد الله بن علي أبو محمد الآملي.
من شيوخه: محمد بن منصور الشاشي عن سليمان الشاذ كوهي.
من تلاميذه: أبو القاسم بن الثّلاج ذكر أنه حدّثهم في سوق يحيى سنة (338).
وخلف بن محمد الخيّام الآملي، وأحمد بن عبدة الآملي.
--------------------------------------------
এটি ৫৫২ হিজরি সালের ঘটনা এবং তাঁর বয়স আশি বছর অতিক্রম করেছিল (১)।
(১৮) সম্বন্ধবাচক নাম: আল-আমুলি, যা আমুল-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: মীম বর্ণে পেশ এবং লাম বর্ণসহ। এটি তাবারিস্তানের সমতলে অবস্থিত বৃহত্তম শহরের নাম, কারণ তাবারিস্তান সমতল এবং পাহাড়ি উভয় অঞ্চল নিয়ে গঠিত।.
এই সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি হলেন: আহমদ ইবনে হারুন আল-আমুলি (২)।
তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে রয়েছেন: সাঈদ আল-হাদাসানি, মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার বুন্দার, আল-হাকাম ইবনে নাফি এবং আরও অনেকে।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আহমদ আবদুল্লাহ ইবনে আদি আল-হাফিজ, আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুশাজির এবং যুরআহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম আবু আসিম আল-আমুলি; তিনি জুরজানে আবু সাঈদ আল-আদাবি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
এবং ইসমাইল ইবনে আবিল কাসিম ইবনে আহমদ আস-সুন্নি আদ-দাইলামি; তিনি আবু সা'দ আস-সামআনিকে (বর্ণনার) অনুমতি প্রদান করেছিলেন এবং ৫২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ৫২৯ হিজরিতে।
আমুল জাইহুন নদীর পশ্চিমে অবস্থিত একটি বিখ্যাত শহরও বটে, যা মার্ভ থেকে বুখারার উদ্দেশ্যে যাত্রাকারীর পথে পড়ে। এর বিপরীতে জাইহুন নদীর পূর্ব তীরে ফারাবর অবস্থিত, যার সাথে বুখারি শরিফের বর্ণনাকারী আল-ফারাবরিকে সম্বন্ধ করা হয়। এই আমুল শহর থেকে এক বিশাল ইলম অন্বেষী জামাত বের হয়েছে এবং মুহাদ্দিসগণ তাদের ও তাবারিস্তানের আমুলের অধিবাসীদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তাদের মধ্য থেকে রয়েছেন:
আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাদ ইবনে আইয়ুব ইবনে মুসা আবু আবদুর রহমান আল-আমুলি।
তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে রয়েছেন: আবদুল গাফফার ইবনে দাউদ আল-হাররানি, আবু জাম্মাহির মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আদ-দিমাশকি, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আরও অনেকে।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি; তিনি তাঁর মাধ্যমে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে একটি হাদিস এবং সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান থেকে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও রয়েছেন আল-হাইসাম ইবনে কুলাইব আশ-শাশী, মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুনযির ইবনে সাঈদ আল-হারাভি এবং আরও অনেকে। তিনি ২৬৯ হিজরির রবিউস সানি মাসে ইন্তেকাল করেন।
এবং আবদুল্লাহ ইবনে আলী আবু মুহাম্মাদ আল-আমুলি।
তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর আশ-শাশী, তিনি সুলাইমান আশ-শাযকুহি থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আল-কাসিম ইবনে আস-সাল্লাজ; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৩৩৮ হিজরিতে সুক ইয়াহইয়া নামক স্থানে তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
এবং খালাফ ইবনে মুহাম্মাদ আল-খাইয়াম আল-আমুলি এবং আহমদ ইবনে আবদাহ আল-আমুলি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
من شيوخه: عبد الله بن عثمان بن جبلة، المعروف بعبدان المروزي، وغيره.
من تلاميذه: الفضل بن محمد بن علي، وأبو داود سليمان بن الأشعث، وجماعة.
وموسى بن الحسن الآملي.
من شيوخه: أبو رجاء قتيبة بن سعيد البغلاني، وعبد الله بن محمود السعدي، وغيرهما.
من تلاميذه: أبو محمد عمر بن إسحاق الأسدي البخاري.
والفضل بن سهل بن أحمد الآملي.
من شيوخه: سعيد بن النضر بن شبرمة.
وأبو سعيد محمد بن أحمد بن علوية الآملي.
وأحمد بن محمد بن إسحاق ابن هارون الآملي.
وإسحاق بن يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم بن إسحاق أبو يعقوب الآملي.
من تلاميذه: ابن الثّلّاج، ذكر أنه قدم بغداد حاجّا وحدّثهم عن محمد بن إبراهيم بن سعيد البوشنجي.
وأبو سعيد محمد بن أحمد بن عليّ الآملي.
من شيوخه: أبو العباس الفضل بن أحمد الآملي، روى عنه غنجار (1).
(19) النسبة: الأَبي، نسبة إلى أَبّ: بالفتح والتشديد: الزرع، في قوله تعالى:
… {وَفَاكِهَةً وَأَبًّا} (2) وهي بليدة باليمن، يكسرون الهمزة.
والمنسوب: أبو محمد عبد الله بن الحسن بن الفيّاض الهاشمي.
(20) النسبة: الأبّدي، نسبة إلى أُبَّدَة: بالضم، ثم الفتح والتشديد: اسم مدينة بالأندلس من كورة (3) جيّان، تعرف بأبّدة العرب.
اختطّها عبدالرحمن بن الحكم بن هشام بن عبدالرحمن بن معاوية بن هشام بن عبدالملك، وتمّمها ابنه محمد بن عبدالرحمن.
--------------------------------------------
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন জাবালাহ, যিনি আবদান আল-মারওয়াযি নামে পরিচিত, এবং অন্যান্যরা।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আল-ফাদল বিন মুহাম্মদ বিন আলী, আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস এবং একদল ছাত্র।
এবং মুসা বিন আল-হাসান আল-আমুলি।
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবু রাজা কুতাইবা বিন সাঈদ আল-বাগলানি, আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ আস-সাদি এবং অন্যান্যরা।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু মুহাম্মদ উমর বিন ইসহাক আল-আসাদি আল-বুখারি।
এবং আল-ফাদল বিন সাহল বিন আহমদ আল-আমুলি।
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: সাঈদ বিন আন-নাদর বিন শুবরুমা।
এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলুয়্যাহ আল-আমুলি।
এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক ইবনে হারুন আল-আমুলি।
এবং ইসহাক বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন ইসহাক আবু ইয়াকুব আল-আমুলি।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুস সাল্লাজ, উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাগদাদে এসেছিলেন এবং তাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সাঈদ আল-বুশানজি থেকে বর্ণনা করেছিলেন।
এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আল-আমুলি।
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল আব্বাস আল-ফাদল বিন আহমদ আল-আমুলি, গুঞ্জার (১) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(১৯) নিসবত (সম্বন্ধসূচক নাম): আল-আববি, এটি ‘আব’ (আলিফে ফাতহা এবং বা-তে তাশদিদ)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যার অর্থ চারণভূমি বা ঘাস; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে:
… {এবং ফলমূল ও ঘাস} (২)। এটি ইয়ামেনের একটি ছোট শহর, তারা আলিফে কাসরা (জের) দিয়েও উচ্চারণ করে থাকে।
এবং এই নিসবতে পরিচিত ব্যক্তি: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আল-ফায়্যাদ আল-হাশেমি।
(২০) নিসবত (সম্বন্ধসূচক নাম): আল-উব্বাদি, এটি ‘উব্বাদা’ (আলিফে যম্মাহ, এরপর ফাতহা ও তাশদিদ)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: এটি আন্দালুসের জিয়ান প্রদেশের (৩) একটি শহরের নাম, যা উব্বাদাতুল আরব নামে পরিচিত।
এটি নির্মাণ করেন আবদুর রহমান বিন আল-হাকাম বিন হিশাম বিন আবদুর রহমান বিন মুয়াবিয়া বিন হিশাম বিন আব্দুল মালিক, এবং এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والمنسوب: أبو العباس أحمد بن البنيّ الأبّدي بجزيرة ميورقة.
(21) النسبة: الأبرقوهي، أَبَرْقُوه: بفتح أوله، وثانيه، وسكون الراء، وضم القاف، والواو ساكنة، وهاء محضة: وأهل فارس يسمّونها وركوه، ومعناه: فوق الجبل، بليدة بنواحي أصبهان على عشرين فرسخا "111 كم تقريبا" منها.
والمنسوب: أبو الحسن هبة الله بن الحسن بن محمد، الأبرقوهي، الفقيه.
من شيوخه: أبو القاسم عبد الرحمن بن أبي عبيدة بن مندة، حدث عنه بالكثير (1).
من تلاميذه: الحافظ أبو موسى محمد بن عمر المديني الأصبهاني.
مات في حدود سنة (518) (2).
وإلى أبرقوه هذه ينسب الوزير أبو القاسم علي بن أحمد الأبرقوهي وزير بهاء الدولة بن عضد الدولة بن بويه (3).
(22) النسبة: الأبزاري، نسبة إلى أَبْزار: بفتح الهمزة، وسكون الباء، وزاي، وألف، وراء: قرية بينها وبين نيسابور فرسخان "11 كم، و 80 م" نسب إليها قوم من أهل العلم.
والمنسوب: حامد بن موسى الأبزاري.
من شيوخه: إسحاق بن راهويه، وغيره.
وإبراهيم بن محمد بن أحمد بن رجاء، الأبزاري، الوراق.
من شيوخه: طلب الحديث على كثير، فسمع بنيسابور، ونسا، ورحل إلى العراق، فسمع بها عبد الله بن محمد بن عبد العزيز، وكتب بالجزيرة، عن أبي عروبة الحرّاني، وبالشام عن مكحول البيروتي، وعامر بن خزيم المرّي، وأبي الحسن بن جوصا، وسمع بخراسان الحسن بن سفيان، ومسعود بن قطن، وجعفر بن أحمد الحافظ، وببغداد أبا القاسم البغوي، ومحمد بن محمد الباغندي، وغيرهم.
من تلاميذه: الحاكم أبو عبد الله، وأبو عبد الرحمن السّلمي، وأبو عبد الله بن مندة، وأبو منصور عبد القاهر بن طاهر البغدادي.
--------------------------------------------
যার নিসবত করা হয়: আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আল-বুন্নি আল-আববাদি, মায়োরকা দ্বীপের অধিবাসী।(২১) নিসবত: আল-আবারকুহি। আবরকুহ: প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহাহ, রা-এ সুকুন, ক্বফ-এ যম্মাহ, ওয়াও সুকুন এবং শেষে স্পষ্ট হা সহ। পারস্যের অধিবাসীরা একে 'ওয়ারকুহ' বলে ডাকে, যার অর্থ: পাহাড়ের উপরে। এটি ইসফাহানের উপকণ্ঠের একটি ছোট শহর, যা সেখান থেকে বিশ ফারসাখ (প্রায় ১১১ কিমি) দূরে অবস্থিত।যার নিসবত করা হয়: আবুল হাসান হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-আবারকুহি, আল-ফকিহ (আইনবিদ)।তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আল-কাসেম আবদুর রহমান ইবনে আবি উবাইদাহ ইবনে মানদাহ; তিনি তাঁর নিকট থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন (১)।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-মাদিনি আল-আসফাহানি।
তিনি ৫১৮ হিজরির কাছাকাছি সময়ে মৃত্যুবরণ করেন (২)।
এই আবরকুহের দিকেই উজির আবু আল-কাসেম আলি ইবনে আহমাদ আল-আবারকুহিকে নিসবত করা হয়, যিনি বাহাউদ্দৌলা ইবনে আযুদুদ্দৌলা ইবনে বুয়াইহ-এর উজির ছিলেন (৩)।
(২২) নিসবত: আল-আবজারি। এটি আবজার-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: হামযায় ফাতহাহ, বা-এ সুকুন, যায়, আলিফ এবং রা সহ। এটি একটি গ্রাম, যার ও নিশাপুরের মধ্যবর্তী দূরত্ব দুই ফারসাখ (১১ কিমি ৮০ মিটার)। একদল আলেমকে এই স্থানের দিকে নিসবত করা হয়।যার নিসবত করা হয়: হামিদ ইবনে মুসা আল-আবজারি।তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং অন্যান্যরা।
এবং ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে রাজা আল-আবজারি আল-ওয়াররাক।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: তিনি প্রচুর হাদিস অন্বেষণ করেছেন, ফলে তিনি নিশাপুর ও নাসায় হাদিস শুনেছেন এবং ইরাকের উদ্দেশ্যে সফর করে সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি জাজিরায় আবু আরুবাহ আল-হাররানির নিকট থেকে, সিরিয়ায় মাকহুল আল-বাইরুতি, আমির ইবনে খুজাইম আল-মুররি এবং আবু আল-হাসান ইবনে জাওসা-এর নিকট থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। খোরাসানে তিনি আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান, মাসউদ ইবনে কুতন ও জাফর ইবনে আহমাদ আল-হাফিজের নিকট এবং বাগদাদে আবু আল-কাসেম আল-বাগাওয়ি, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগিন্দি ও অন্যান্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ এবং আবু মনসুর আব্দুল কাহের ইবনে তাহির আল-বাগদাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
جمع الحديث الكثير، وعمّر حتى احتاجوا إليه (1).
ومات في خامس رجب سنة (364) عن ست أو سبع وتسعين سنة.
(23) النسبة: الأبغري، نسبة إلى أَبْغَر: بالفتح، ثم السكون، والغين المعجمة مفتوحة، وراء: من قرى سمرقند، وقيل هي ناحية بسمرقند ذات قرى متّصلة.
والمنسوب: أبو يزيد خالد بن كردة الأبغري، السّمرقندي، وأبو عبد الله محمد بن محمد بن عمران الأبغري، كاتب الإنشاء في أيام دولة السامانية، وكان من البلغاء (2).
(24) النسبة: الأبلي، نسبة إلى الأبُلَّة: بضم أوله، وثانيه، وتشديد اللام وفتحها، بلدة على شاطئ دجل نسب إليها جماعة من رواة العلم.
والمنسوب: شيبان بن فرّوخ الأبليّ.
وحفص بن عمر بن إسماعيل الأبلي.
من شيوخه: الثوري، ومسعر بن كدام، ومالك بن أنس، وابن أبي ذئب، وابنه إسماعيل بن حفص، أبو بكر الأبلي، وأبو هاشم كثير بن سليم الأبلي من أهلها، وهو الذي يقال له: كثير بن عبد الله يضع الحديث على أنس ويرويه عنه، لا تحلّ رواية حديثه (3).
(25) النسبة: الأُبّيّ، نسبة إلى أُبَّة: بضم أوله، وتشديد ثانيه، والهاء: اسم مدينة بإفريقية، بينها وبين القيروان ثلاثة أيام، وهي من ناحية الأربس، موصوفة بكثرة الفواكه وإنبات الزعفران.
والمنسوب: أبو القاسم عبد الرحمن بن عبد المعطي بن أحمد الأنصاري الأبّيّ.
من شيوخه: أبو حفص عمر بن إسماعيل البرقي، كتب عنه أبو جعفر أحمد بن يحيى الجارودي بمصر.
وأبو العباس أحمد بن محمد الأُبّيّ، أديب شاعر سافر إلى اليمن، ولقي الوزير
--------------------------------------------
তিনি প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন এবং দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন, এমনকি মানুষ তাঁর মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছিল (১)।
তিনি ৩৬৪ হিজরি সনের ৫ই রজব তারিখে ৯৬ বা ৯৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
(২৩) নিসবাত: আল-আবগারি। এটি 'আবগার'-এর দিকে সম্বন্ধিত। প্রথম অক্ষরে ফাতহাহ, এরপর সুকুন, এরপর মু'জামাহ গাইন-এ ফাতহাহ এবং শেষে 'রা'। এটি সমরকন্দের একটি গ্রাম। বলা হয়, এটি সমরকন্দের একটি অঞ্চল যেখানে অনেকগুলো গ্রাম পরস্পর সংলগ্ন রয়েছে।
এবং এই নিসবাতযুক্ত ব্যক্তিগণ হলেন: আবু ইয়াজিদ খালিদ বিন কুরদাহ আল-আবগারি আস-সামারকন্দি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইমরান আল-আবগারি। তিনি সামানিয়া আমলের রাজকীয় পত্রলেখক (কাতিবুল ইনশা) ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত বাগ্মী ছিলেন (২)।
(২৪) নিসবাত: আল-উবুল্লি। এটি 'আল-উবুল্লাহ'-এর দিকে সম্বন্ধিত। প্রথম ও দ্বিতীয় অক্ষরে পেশ (যম্মাহ), লাম বর্ণে তাশদিদ ও ফাতহাহ (যবর)। এটি দজলা নদীর তীরে অবস্থিত একটি শহর। ইলম অর্জনকারী বর্ণনাকারীদের একটি দল এই শহরের দিকে সম্বন্ধিত হয়েছেন।
এবং এই নিসবাতযুক্ত ব্যক্তি হলেন: শাইবান বিন ফাররুখ আল-উবুল্লি।এবং হাফস বিন উমর বিন ইসমাইল আল-উবুল্লি।
তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে রয়েছেন: আস-সাওরি, মিসআর বিন কিদাম, মালিক বিন আনাস এবং ইবনু আবি জিব। তাঁর পুত্র ইসমাইল বিন হাফস আবু বকর আল-উবুল্লি। আরও রয়েছেন সেখানকার অধিবাসী আবু হাশিম কাসির বিন সুলাইম আল-উবুল্লি; তাঁকে কাসির বিন আব্দুল্লাহও বলা হয়। সে আনাস (রা.)-এর নামে জাল হাদিস তৈরি করত এবং তা বর্ণনা করত। তার বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করা বৈধ নয় (৩)।
(২৫) নিসবাত: আল-উব্বি। এটি 'উব্বাহ'-এর দিকে সম্বন্ধিত। প্রথম অক্ষরে পেশ, দ্বিতীয় অক্ষরে তাশদিদ এবং শেষে 'হা'। এটি আফ্রিকার একটি শহরের নাম, যা কায়রোয়ান থেকে তিন দিনের দূরত্বে অবস্থিত। এটি আরবাস অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রচুর ফলমূল ও জাফরান উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ।
এবং এই নিসবাতযুক্ত ব্যক্তি হলেন: আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন আব্দুল মু'তি বিন আহমাদ আল-আনসারি আল-উব্বি।তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে রয়েছেন: আবু হাফস উমর বিন ইসমাইল আল-বারকি। মিশরে তাঁর নিকট থেকে আবু জাফর আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-জারুদি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন।
এবং আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-উব্বি; তিনি একজন সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন, ইয়ামেন সফর করেছিলেন এবং উজিরের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
العيدي، ورجع إلى مصر فأقام بها إلى أن مات في سنة (598) (1).
(26) النسبة: البويطي، نسبة إلى أَبْوَيْط: بالفتح، ثم السكون، وفتح الواو، وياء ساكنة، وطاء مهملة: قرية قرب بردنيس في شرقي النيل، من أعمال الصعيد الأدنى، من كورة (2) الأسيوطية، وأكثر ما يقال بغير همزة.
والمنسوب: البويطي الفقيه، نذكره في باب الباء، إن شاء الله تعالى.
وأبويط أيضا: قرية قرب بوصير قوريدس، وقيل إليها ينسب البويطي. والله أعلم.
(27) النسبة: الأبياري، نسبة إلى أَبْيَار: بفتح أوله، وسكون ثانيه بلفظ جمع البئر، مخفّف الهمزة: اسم قرية بجزيرة بني نصر بين مصر والاسكندرية.
والمنسوب: أبو الحسن عليّ بن إسماعيل بن أسد الربعي الأبياري.
من شيوخه: محمد بن علي بن يحيى الدّقّاق، حدث عنه أبو طاهر أحمد بن محمد السلفي بالاجازة، توفي سنة (518).
وأبو الحسن عليّ بن إسماعيل بن عليّ بن حسن بن عطيّة التّلكاني، ثم الأبياري، فقيه المالكية بالاسكندرية.
من شيوخه: أبو طاهر بن عوف وأبو القاسم مخلوف بن عليّ، ومولده تقريبا سنة (557) (3).
(28) النسبة: الأبيوردي، نسبة إلى أَبِيوَرْد: بفتح أَوله، وكسر ثانيه، وياء ساكنة، وفتح الواو، وسكون الراء، ودال مهملة: مدينة بخراسان بين سرخس ونسا.
والمنسوب: الأديب أبو المظفّر محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد الأموي المعاوي الشاعر، وأصله من كوفن، قرية من قرى أبيورد، كان إماما في كل فنّ من العلوم، عارفا بالنحو واللغة والنسب والأخبار، ويده باسطة في البلاغة والإنشاء، وله تصانيف في جميع ذلك، وشعره سائر مشهور، مات بأصبهان في العشرين من شهر ربيع الأول سنة (507) (4).
--------------------------------------------
আল-ঈদী, এবং তিনি মিশরে ফিরে যান এবং সেখানে ৫৯৮ হিজরি সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন (১)।
(২৬) নিসবত (সম্বন্ধনাম): আল-বুইতি, এটি আবুয়িত-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: প্রথম অক্ষরে ফাতহা, এরপর সুকুন, ওয়াও-তে ফাতহা, ইয়া-তে সুকুন এবং একটি মুহমালাহ 'তা' (ত্বা): এটি নীল নদের পূর্ব তীরে বারদানিস-এর নিকটবর্তী একটি গ্রাম, যা আস-সাঈদ আল-আদনা (নিম্ন সাঈদ) অঞ্চলের আসিউতিয়্যাহ জেলার (২) অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে হামযাহ ব্যতীত উচ্চারিত হয়।
যিনি এই নিসবতে পরিচিত: আল-বুইতি আল-ফকিহ, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা চাইলে আমরা তাঁর কথা 'বা' অধ্যায়ে উল্লেখ করব.
আর আবুয়িত নামে আরও একটি গ্রাম রয়েছে যা বুসির কুরিদিস-এর নিকটবর্তী, এবং বলা হয় যে আল-বুইতি সেই গ্রামের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(২৭) নিসবত (সম্বন্ধনাম): আল-আবিয়ারি, এটি আবিয়ার-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: এর প্রথম অক্ষরে ফাতহা, দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন, এটি 'বি'র' (কূপ) শব্দের বহুবচন শব্দের মতো উচ্চারিত হয়, হামযাহর উচ্চারণ লঘু করা হয়েছে: এটি বানি নাসর দ্বীপে অবস্থিত একটি গ্রামের নাম যা মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
যিনি এই নিসবতে পরিচিত: আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল ইবনে আসাদ আর-রুবায়ী আল-আবিয়ারি।তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দাক্কাক, আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সিলাফি তাঁর থেকে ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি ৫১৮ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।
আর আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আত-তিলকানি, অতঃপর আল-আবিয়ারি, তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার মালিকি ফকিহ ছিলেন।
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবু তাহের ইবনে আওফ এবং আবুল কাসিম মাখলুফ ইবনে আলী, এবং তাঁর জন্ম আনুমানিক ৫৫৭ হিজরি সালে (৩)।
(২৮) নিসবত (সম্বন্ধনাম): আল-আবিওয়ার্দি, এটি আবিওয়ার্দ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: এর প্রথম অক্ষরে ফাতহা, দ্বিতীয় অক্ষরে কাসরা, ইয়া-তে সুকুন, ওয়াও-তে ফাতহা, রা-তে সুকুন এবং মুহমালাহ 'দাল': এটি খুরাসানের একটি শহর যা সারখাস ও নাসা-র মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
যিনি এই নিসবতে পরিচিত: প্রথিতযশা সাহিত্যিক আবু আল-মুজাফফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-উমাবি আল-মুয়াবি কবি, তাঁর মূল নিবাস হলো কুফান, যা আবিওয়ার্দের গ্রামসমূহের একটি, তিনি সকল প্রকার ইলমি শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন, নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (অভিধান), নিসবত (বংশবিদ্যা) ও ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ছিলেন, অলঙ্কারশাস্ত্র ও রচনাশৈলীতে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল এবং এই সকল বিষয়ে তাঁর বহু রচনা রয়েছে, তাঁর কবিতা অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রচলিত, তিনি ৫০৭ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের বিশ তারিখে ইসফাহানে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(29) النسبة: الأثاربي، نسبة إلى الأَثارِب: كأنه جمع أثرب، من الثّرب، وهو الشّحم الذي قد غشي الكرش، يقال: أثرب الكبش إذا زاد شحمه، وهي قلعة معروفة بين حلب وأنطاكية، بينها وبين حلب نحو ثلاثة فراسخ "16 كم، و 632 م".
والمنسوب: أبو المعالي محمد بن هيّاج بن مبادر بن علي الأثاربي الأنصاري.
وحمدان بن عبد الرحيم الأثاربي الطّبيب، متأدّب وله شعر وأدب، وصنّف تاريخا كان في أيام طغند كين صاحب دمشق بعد الخمسمائة (1).
(30) النسبة: الأجدابي، نسبة إلى أَجْدَابيَة: بالفتح، ثم السكون، ودال مهملة، وبعد الألف، باء موحدة، وياء خفيفة، وهاء، بلد بين برقة وطرابلس الغرب، بينه وبين زويلة نحو شهر سيرا.
والمنسوب: أبو إسحاق إبراهيم بن إسماعيل بن أحمد بن عبد الله، الطرابلسي، يعرف بابن الأجدابي، كان أديبا فاضلا، له تصانيف حسنة، منها كفاية المتحفظ (2)، وهو مختصر في اللغة مشهور، مستعمل جيد، وكتاب الأنواء وغير ذلك.
(31) النسبة: الأحصبي، نسبة إلى الأَحْصَبَان: تثنية الأحصب، من الأرض الحصباء، وهي الحصى الصغار، موضع باليمن.
المنسوب: أبو الفتح أحمد بن عبدالرحمن بن الحسين، الأحصبي، الورّاق، نزل الأحصبين (3).
(32) النسبة: الأحصّي، نسبة إلى الأَحَصّ: بالفتح، وتشديد الصاد المهملة، يقال: رجل أحصّ، بيّن الحصص أي قليل شعر الرأس، وبنجد موضعان يقال لهما: الأحصّ وشبيث، وبالشام من نواحي حلب موضعان يقال لهما: الأحصّ وشبيث (4).
والمنسوب إلى أحصّ حلب، شاعر يعرف بالناشي الأحصّي، كان في أيام سيف الدولة أبي الحسن علي بن حمدان، قال ياقوت رحمه الله: له خبر ظريف، أنا--------------------------------------------
(২৯) নিসবাহ: আল-আসারিবী, আসারিব-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: এটি যেন আসারাব-এর বহুবচন, যা 'সারাব' থেকে উদ্ভূত; আর তা হলো সেই চর্বি যা পাকস্থলীকে আবৃত করে রাখে। বলা হয় 'আসারাবাল কাবশু' যখন ভেড়ার চর্বি বেড়ে যায়। এটি হালব এবং আনতাকিয়ার মধ্যবর্তী একটি সুপরিচিত দুর্গ। হালব থেকে এর দূরত্ব প্রায় তিন ফারসাখ (১৬ কিমি ৬৩২ মিটার).
এই নিসবাহযুক্ত ব্যক্তি হলেন: আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ ইবনে হাইয়াজ ইবনে মুবাদির ইবনে আলী আল-আসারিবী আল-আনসারী.
এবং হামদান ইবনে আবদুর রহিম আল-আসারিবী চিকিৎসক; তিনি একজন সাহিত্যমনা ব্যক্তি ছিলেন এবং তার কাব্য ও সাহিত্য রয়েছে। তিনি একটি ইতিহাস গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন যা পাঁচশত হিজরির পরে দামেস্কের অধিপতি তুগতেকিনের আমলে রচিত (১)।
(৩০) নিসবাহ: আল-আজদাবী, আজদাবিয়া-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: জিম বর্ণে ফাতহাহ, এরপর সুকুন, দাল বর্ণটি নুকতাহীন, আলিফের পর এক নুকতাহীন বা, এবং হালকা ইয়া ও হা; এটি বারকা এবং পশ্চিম ত্রিপোলির মধ্যবর্তী একটি শহর। এর এবং জুওয়াইলাহ-এর মধ্যবর্তী দূরত্ব পায়ে হেঁটে প্রায় এক মাসের পথ.
এই নিসবাহযুক্ত ব্যক্তি হলেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-তরাবুলুসি, যিনি ইবনে আল-আজদাবী নামে পরিচিত। তিনি একজন গুণী সাহিত্যিক ছিলেন এবং তার চমৎকার কিছু রচনা রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কিফায়াতুল মুতাহাফ্ফিয (২), যা ভাষাবিজ্ঞানের উপর একটি সুপরিচিত, বহুল ব্যবহৃত ও উত্তম সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ; এছাড়াও রয়েছে কিতাবুল আনওয়া এবং অন্যান্য।
(৩১) নিসবাহ: আল-আহসাবী, আল-আহসাবান-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: যা আল-আহসাব-এর দ্বিবচন। এটি 'হাসবা' (কাঁকরময়) ভূমি থেকে এসেছে, আর তা হলো ছোট ছোট পাথর। এটি ইয়ামেনের একটি স্থান.
এই নিসবাহযুক্ত ব্যক্তি হলেন: আবু আল-ফাতহ আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-হুসাইন আল-আহসাবী আল-ওয়াররাক। তিনি আহসাবাইন নামক স্থানে বসবাস করতেন (৩).
(৩২) নিসবাহ: আল-আহাসসী, আল-আহাসস-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত: হামজায় ফাতহাহ এবং নুকতাহীন সাদ বর্ণে তাশদিদ। বলা হয় মাথায় কম চুলবিশিষ্ট ব্যক্তি। নজদ অঞ্চলে দুটি স্থান রয়েছে যাদেরকে আল-আহাসস ও শাবিস বলা হয়; আর সিরিয়ার হালব অঞ্চলেও আল-আহাসস ও শাবিস নামক দুটি স্থান রয়েছে (৪).
হালবের আল-আহাসস-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি হলেন একজন কবি, যিনি আল-নাশী আল-আহাসসী নামে পরিচিত। তিনি সাইফুদ্দৌলা আবু আল-হাসান আলী ইবনে হামদানের শাসনামলে ছিলেন। ইয়াকুত (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তার একটি চমৎকার কাহিনী রয়েছে, আমি--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২০)
مورده ههنا، وإن لم أكن على ثقة منه (1)، وهو أن هذا الشاعر الأحصّي دخل على سيف الدولة، فأنشده قصيدة له فيه، فاعتذر سيف الدولة بضيق اليد يومئذ، وقال له: أعذر فما يتأخر عنا حمل المال إلينا، فإذا بلغك ذلك فأتنا لنضاعف جائزتك، ونحسن إليك. فخرج من عنده فوجد على باب سيف الدولة كلابا تذبح لها السّخال وتطعم لحومها، فعاد إلى سيف الدولة فأنشده هذه الأبيات:
رأيت بباب داركم كلابا
… تغذّيها وتطعمها السّخالا
فما في الأرض أدبر من أديب
… يكون الكلب أحسن منه حالا
ثم اتفق أن حمل إلى سيف الدولة أموال من بعض الجهات على بغال، فضاع منها بغل بما عليه، وهو عشرة آلاف دينار، وجاء هذا البغل حتى وقف على باب الناشي الشاعر بالأحصّ، فسمع حسّه، فظنّه لصّا، فخرج إليه بالسلاح، فوجده بغلا موقرا بالمال، فأخذ ما عليه من المال وأطلقه، ثم دخل حلب، ودخل على سيف الدولة وأنشده قصيدة له يقول فيها:
ومن ظنّ أن الرّزق يأتي بحيلة
… فقد كذّبته نفسه، وهو آثم
يفوت الغنى من لا ينام عن السّرى
… وآخر يأتي رزقه وهو نائم
فقال له سيف الدولة: بحياتي! وصل إليك المال الذي كان على البغل؟ فقال: نعم. فقال: خذه بجائزتك مباركا لك فيه. فقيل لسيف الدولة: كيف عرفت ذلك؟ قال عرفته من قوله: وآخر يأتي رزقه وهو نائم، بعد قوله: يكون الكلب أحسن منه حالا (2).
(33) النسبة: الأخسيكثي، نسبة إلى أَخْسِيكَث: بالفتح، ثم السكون، وكسر السين المهملة، وياء ساكنة، وكاف وثاء مثلثة، وبعضهم يقوله بالتاء المثناة، وهو الأولى، لأن المثلثة ليست من حروف العجم: اسم مدينة بما وراء النهر، هي قصبة ناحية فرغانة، على شاطئ نهر الشاش على أرض مستوية، بينها وبين الجبال نحو من فرسخ "24 كم" على شمالي النهر، وقد خرج منها جماعة من أهل العلم والأدب.
والمنسوب أبو الوفاء محمد بن محمد بن القاسم الأخسيكثي، كان إماما في اللغة--------------------------------------------
এর উল্লেখ এখানে করা হলো, যদিও আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নই (১)। তা হলো, এই আহাসি কবি সাইফুদ দাওলার দরবারে প্রবেশ করেন এবং তাকে একটি কাসিদা শোনান। তখন সাইফুদ দাওলা সেই সময়ে তাঁর হাতের সংকীর্ণতার (আর্থিক অনটন) ওজর পেশ করলেন এবং তাকে বললেন: "ক্ষমা করবেন, আমাদের নিকট সম্পদ বহন করে নিয়ে আসা বিলম্বিত হচ্ছে না; সুতরাং যখন আপনি সেই সংবাদ পাবেন তখন আমাদের নিকট আসবেন যাতে আমরা আপনার পুরস্কার দ্বিগুণ করে দিতে পারি এবং আপনার প্রতি সদয় আচরণ করতে পারি।" এরপর তিনি তাঁর নিকট থেকে বেরিয়ে সাইফুদ দাওলার দরজায় কিছু কুকুর দেখতে পেলেন যাদের জন্য বকরির বাচ্চা জবাই করা হচ্ছে এবং সেগুলোর গোশত তাদের খাওয়ানো হচ্ছে। তখন তিনি সাইফুদ দাওলার নিকট ফিরে এলেন এবং এই পঙক্তিগুলো পাঠ করলেন:
আমি আপনাদের বাড়ির দরজায় কিছু কুকুর দেখেছি
… যাদের আপনারা বকরির বাচ্চা খাইয়ে পুষ্ট করছেন।
এই যমীনে ঐ সাহিত্যিকের চেয়ে হতভাগ্য আর কেউ নেই
… যার অবস্থার চেয়ে কুকুরের অবস্থাও ভালো।
অতঃপর ঘটনাচক্রে কোনো এক দিক থেকে খচ্চরের পিঠে করে সাইফুদ দাওলার নিকট কিছু সম্পদ পাঠানো হচ্ছিল। তার মধ্য থেকে একটি খচ্চর তার পিঠের মালসহ হারিয়ে গেল, যাতে দশ হাজার দিনার ছিল। এই খচ্চরটি এসে আহাসি অঞ্চলের কবি নাশি-র দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। তিনি এর পায়ের শব্দ শুনতে পেয়ে চোর মনে করলেন। তাই তিনি অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে এলেন। কিন্তু তিনি দেখলেন যে এটি সম্পদে বোঝাই একটি খচ্চর। তিনি এর পিঠের সম্পদ রেখে দিয়ে সেটিকে ছেড়ে দিলেন। এরপর তিনি হালাব শহরে প্রবেশ করলেন এবং সাইফুদ দাওলার দরবারে গিয়ে তাকে একটি কাসিদা শোনালেন যাতে তিনি বলছিলেন:
যে ব্যক্তি ধারণা করে যে রিযিক কোনো কৌশলে আসে
… তার প্রবৃত্তি তাকে মিথ্যা বলেছে এবং সে একজন পাপিষ্ঠ।
প্রাচুর্য তাকে ছেড়ে চলে যায় যে রাতের ভ্রমণে নির্ঘুম থাকে
… আর অন্যজনের কাছে রিযিক চলে আসে যখন সে ঘুমিয়ে থাকে।
তখন সাইফুদ দাওলা তাকে বললেন: "আমার জীবনের কসম! খচ্চরের পিঠে থাকা সম্পদ কি আপনার নিকট পৌঁছেছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "এটি আপনার পুরস্কার হিসেবে গ্রহণ করুন, এতে আপনার জন্য বরকত হোক।" সাইফুদ দাওলাকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনি এটি কীভাবে জানলেন?" তিনি বললেন: "তার এই উক্তি থেকে বুঝেছি: 'আর অন্যজনের কাছে রিযিক চলে আসে যখন সে ঘুমিয়ে থাকে', তার পূর্বের এই উক্তির পর যে: 'কুকুরের অবস্থাও তার চেয়ে ভালো' (২)।
(৩৩) নিসবত: আল-আখসিকাসি, এটি আখসিকাস (أَخْسِيكَث) এর সাথে সম্পর্কিত: হামযাহ-তে ফাতহাহ, এরপর সুকুন, সিন বর্ণে কাসরাহ, এরপর সাকিন ইয়া, এবং কাফ ও তিন নুকতা বিশিষ্ট সা। কেউ কেউ একে দুই নুকতা বিশিষ্ট তা দিয়েও বলেন, আর এটিই অধিকতর সঠিক; কারণ তিন নুকতা বিশিষ্ট সা অনারবীয় বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি মা-ওয়ারাউন নাহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চলের একটি শহরের নাম, যা ফারগানা অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র। এটি শাশ নদীর তীরে একটি সমতল ভূমিতে অবস্থিত। এর এবং পাহাড়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় এক ফারসাখ (২৪ কিমি) এবং এটি নদীর উত্তর দিকে অবস্থিত। এখান থেকে একদল জ্ঞানবান ও সাহিত্যিক ব্যক্তিত্বের উদ্ভব হয়েছে।
যিনি এই নিসবত যুক্ত তিনি হলেন আবুল ওয়াফা মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-আখসিকাসি, তিনি ভাষাবিজ্ঞানের একজন ইমাম ছিলেন।--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২১)
والتاريخ، توفي بعد سنة (520).
وأخوه أبو رشاد أحمد بن محمد بن القاسم، كان أديبا فاضلا شاعرا، وكان مقامهما بمرو وبها ماتا.
ونوح بن نصر بن محمد بن أحمد بن عمرو بن الفضل بن العباس بن الحارث الفرغاني الأخسيكثي أبو عصمة، قدم همذان سنة (415).
من شيوخه: بكر بن فارس الناطفي، وأحمد بن محمد بن أحمد الهروي، وغيرهما، حدث عنه أبو بكر الصندوقي، ذكره الحافظ أبو القاسم وقال: في حديثه نكارة، وهو مكثر، وسمع بالعراق والشام وخراسان (1).
(34) النسبة: الأدفوي، نسبة إلى أَدْفُو: بضم الهمزة، وسكون الدال، وضم الفاء، وسكون الوأو اسم قرية بصعيد مصر الأعلى، بين أسوان وقوص.
والمنسوب: أبو بكر محمد بن علي الأدفوي، الأديب المقري صاحب النحّاس، له كتاب في تفسير القرآن المجيد في خمسة مجلدات كبار، وله غير ذلك من كتب الأدب، راجع معجم الأدباء (2).
(35) النسبة: الأذرعيّ، نسبة إلى أَذْرِعاتُ: بالفتح، ثم السكون، وكسر الراء، وعين مهملة، وألف وتاء. كأنه جمع أذرعة، جمع ذراع جمع قلة: وهو بلد في أطراف الشام، يجاور أرض البلقاء وعمّان (3)، خرج منها طائفة من أهل العلم.
والمنسوب: إسحاق بن إبراهيم الأذرعي بن هشام بن يعقوب بن إبراهيم بن عمرو بن هاشم بن أحمد، ويقال: ابن إبراهيم بن زامل أبو يعقوب النّهدي، أحد الثقات من عباد الله الصالحين، رحل وحدث.
من شيوخه: محمد بن الخضر بن علي الرافعي، ويحيى بن أيوب بن ناوي العلّاف، وأبو زيد يوسف بن يزيد القراطيسي، وأحمد بن حماد بن عيينة، وأبو زرعة، وأبو عبد الرحمن النسائي، وخلق كثير غير هؤلاء.
من تلاميذه: أبو علي محمد بن هرون بن شعيب، وتمّام بن محمد الرازي، وأبو
--------------------------------------------
এবং ইতিহাস, তিনি (৫২০) হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং তাঁর ভাই আবু রাশাদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম, তিনি ছিলেন একজন গুণী সাহিত্যিক ও কবি। মার্ভে তাঁদের অবস্থান ছিল এবং সেখানেই তাঁরা মৃত্যুবরণ করেন।
এবং নুহ বিন নাসর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আমরু বিন আল-ফাদল বিন আল-আব্বাস বিন আল-হারিস আল-ফারগানি আল-আখসিকাসি আবু ইসমা, তিনি (৪১৫) হিজরিতে হামাদানে আগমন করেন।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: বকর বিন ফারিস আন-নাতিফি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হারাউই এবং আরও অনেকে। তাঁর থেকে আবু বকর আস-সানদুকি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আবু আল-কাসিম তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর বর্ণিত হাদিসে অসংগতি (নাকারা) রয়েছে, তবে তিনি প্রচুর হাদিস সংগ্রহকারী ছিলেন। তিনি ইরাক, সিরিয়া এবং খুরাসানে হাদিস শ্রবণ করেছেন (১)।
(৩৪) নিসবাহ (সম্বন্ধসূচক নাম): আল-আদফুয়ি; এটি আদফু-এর সাথে সম্পর্কিত: হামযাহ-তে পেশ, দাল-এ সাকিন, ফা-তে পেশ এবং ওয়াও-তে সাকিন যোগে। এটি উচ্চ মিশরের সাইদ অঞ্চলের একটি গ্রামের নাম, যা আসওয়ান ও কুস-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
এই সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি হলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলি আল-আদফুয়ি; তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, ক্বারি এবং আন-নাহহাসের সহচর। পবিত্র কুরআনের তাফসির বিষয়ে তাঁর একটি কিতাব রয়েছে যা পাঁচটি বড় খণ্ডে সমাপ্ত। এছাড়া সাহিত্য বিষয়ে তাঁর আরও কিতাব রয়েছে; দেখুন: মু'জামুল উদাবা (২)।
(৩৫) নিসবাহ (সম্বন্ধসূচক নাম): আল-আজরিয়ি; এটি আজরিআত-এর সাথে সম্পর্কিত: (আলিফে) ফাতহাহ, এরপর (জালে) সাকিন, র-তে কাসরাহ, এরপর আইন, আলিফ ও তা। এটি যেন 'অজরিআহ'-এর বহুবচন, যা 'জিরা'-এর স্বল্পতাবোধক বহুবচন (জামউ কিল্লাত)। এটি সিরিয়ার সীমান্তবর্তী একটি শহর, যা বালকা ও আম্মান ভূখণ্ডের নিকটবর্তী (৩)। সেখান থেকে একদল আলেম বের হয়েছেন।
এই সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি হলেন: ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-আজরিয়ি বিন হিশাম বিন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন আমরু বিন হাশিম বিন আহমদ; তাঁকে ইবনে ইবরাহিম বিন যামিল আবু ইয়াকুব আন-নাহদি-ও বলা হয়। তিনি আল্লাহর নেক বান্দাদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ব্যক্তি ছিলেন। তিনি জ্ঞান অর্জনে সফর করেছেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন।তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ বিন আল-খিজর বিন আলি আর-রাফেয়ি, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব বিন নাউয়ি আল-আল্লাফ, আবু যায়েদ ইউসুফ বিন ইয়াজিদ আল-কারাতিসি, আহমদ বিন হাম্মাদ বিন উইয়াইনাহ, আবু যুরআহ, আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ি এবং এছাড়া আরও অসংখ্য ব্যক্তি।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আলি মুহাম্মদ বিন হারুন বিন শুয়াইব, তাম্মাম বিন মুহাম্মদ আর-রাজি এবং আবু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحسين بن جميع، وعبد الوهاب الكلابي، وأبو عبد الله بن مندة، وأبو الحسن الرازي وغيرهم، كان الأذرعيّ من أجلّة أهل دمشق وعبّادها وعلمائها، ومات يوم عيد الأضحى سنة (344) عن نيف وتسعين سنة.
ومحمد بن الزّعيزعة الأذرعي.
ومحمد بن عثمان بن خراش أبو بكر الأذرعي.
من شيوخه: محمد بن عقبة العسقلاني، ويعلى بن الوليد الطبراني، وأبي عبيد محمد بن حسان البسري، ومحمد بن عبد الله بن موسى القراطيسي، والعباس بن الوليد بن يوسف بن يونس الجرجاني، ومسلمة بن عبدالحميد.
من تلاميذه: أبو يعقوب الأذرعي، وأبو الخير أحمد بن محمد بن أبي الخير، وأبو بكر محمد بن إبراهيم بن أسد القنوي، وأبو الحسن عليّ بن جعفر بن محمد الرازي وغيرهم. وعبد الوهاب بن عبد الله بن عمر بن أيوب بن المعمّر بن قعنب بن يزيد بن كثير بن مرة بن مالك أبو نصر المرّي الإمام الحافظ الشروطي يعرف بابن الأذرعي وبابن الجبّان.
من شيوخه: أبو القاسم الحسن بن عليّ البجلي، وأبو عليّ بن أبي الزمام، والمظفر بن حاجب بن أركين، وأبو الحسن الدارقطني وخلق كثير لا يحصون.
من تلاميذه: أبو الحسن بن السمسار، وأبو عليّ الأهوازي، وعبد العزيز الكنّاني وجماعة كثيرة، وكان ثقة، وقال عبد العزيز الكناني: مات شيخنا وأستاذنا عبد الوهاب المرّي في شوّال سنة (425) وصنف كتبا كثيرة، وكان يحفظ شيئا من علم الحديث (1).
(36) النسبة: الأذني، أَذَنَةُ: بفتح أوله، وثانيه، ونون، بوزن حسنة نسب إليها جماعة من أهل العلم.
والمنسوب: أبو بكر محمد بن عليّ بن أحمد بن داود، الكتّاني، الأذني.
وعديّ بن أحمد بن عبد الباقي بن يحيى بن يزيد بن إبراهيم بن عبد الله أبو عمير الأذني.
--------------------------------------------
আল-হুসাইন ইবনে জামি', আবদুল ওয়াহহাব আল-কিলাবি, আবু আবদুল্লাহ ইবনে মানদাহ, আবু আল-হাসান আল-রাজি এবং অন্যান্যরা। আল-আজরুয়ি ছিলেন দামেস্কের অধিবাসীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, তাদের ইবাদতগুজার এবং আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ৩৪৪ হিজরি সনের ঈদুল আযহার দিন নব্বই বছরের কিছু বেশি বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং মুহাম্মদ বিন আল-জাইজাআ আল-আজরুয়ি।
এবং মুহাম্মদ বিন উসমান বিন খিরাশ আবু বকর আল-আজরুয়ি।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ বিন উকবা আল-আসকালানি, ইয়ালা বিন আল-ওয়ালিদ আল-তাবারানি, আবু উবায়েদ মুহাম্মদ বিন হাসান আল-বিসরি, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুসা আল-কারাতিসি, আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ বিন ইউসুফ বিন ইউনুস আল-জোরজানি এবং মাসলামা বিন আবদুল হামিদ।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু ইয়াকুব আল-আজরুয়ি, আবু আল-খায়ের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-খায়ের, আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আসাদ আল-কানাবি, আবু আল-হাসান আলী বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-রাজি এবং অন্যান্যরা। আর আবদুল ওয়াহহাব বিন আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আইয়ুব বিন আল-মুয়াম্মার বিন কানাব বিন ইয়াজিদ বিন কাসির বিন মুররা বিন মালিক আবু নাসর আল-মুররি, যিনি ইমাম, হাফেজ এবং আশ-শুরুতি হিসেবে পরিচিত; তিনি ইবনুল আজরুয়ি এবং ইবনুল জাব্বান নামেও পরিচিত ছিলেন।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আল-কাসিম আল-হাসান বিন আলী আল-বাজালি, আবু আলী বিন আবি আল-জিমাম, আল-মুজাফফর বিন হাজিব বিন আরকিন, আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি এবং অসংখ্য মানুষ যাদের গণনা করা সম্ভব নয়।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আল-হাসান বিন আস-সিমসার, আবু আলী আল-আহওয়াজি, আবদুল আজিজ আল-কিনানি এবং এক বিশাল জামাত। তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। আবদুল আজিজ আল-কিনানি বলেন: আমাদের শায়খ এবং উস্তাদ আবদুল ওয়াহহাব আল-মুররি ৪২৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অনেক কিতাব রচনা করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রের অনেক কিছু তাঁর মুখস্থ ছিল (১)।
(৩৬) নিসবত: আল-আদানি। আদানা: প্রথম বর্ণে ফাতহা, দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা এবং এরপর নুন, ‘হাসানাহ’ শব্দের ওজনে; একদল আলেম এই স্থানের দিকে নিজেদের নিসবত করেছেন।
এবং এই নিসবত যুক্ত ব্যক্তি হলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন দাউদ, আল-কাত্তানি, আল-আদানি।এবং আদি বিন আহমদ বিন আবদুল বাকি বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াজিদ বিন ইব্রাহিম বিন আবদুল্লাহ আবু উমাইর আল-আদানি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
من شيوخه: أبو القاسم يحيى بن عبد الباقي الأذني، وأبو عطية عبد الرحيم بن محمد بن عبد الله بن محمد الفزاري.
من تلاميذه: أبو بكر أحمد بن عبد الكريم بن يعقوب الحلبي، وأبو الطّيّب عبدالمنعم بن عبد الله بن غلبون المغربي، وأبو حفص عمر بن عليّ بن الحسن الأنطاكي، مات في سنة (337).
والقاضي عليّ ابن الحسين بن بندار بن عبيدالله بن جبر أبو الحسن الأذني قاضي أذنة.
من شيوخه: أبو بكر عبدالرحمن بن محمد بن العباس بن الذّرفس، سمع منه لدمشق، وأبو عروبة الحرّاني، وعلي بن عبدالحميد الغضائري، ومكحولا البيروتي، وسمع بحرّان، وطرسوس، ومصر، وغيرها.
من تلاميذه: عبد الغني بن سعيد وغيره، مات سنة (385) (1).
(37) النسبة: الأذوني، نسبة إلى أَذُون: بالفتح، ثم الضم، وسكون الواو، وآخره نون: قرية من نواحي الري.
المنسوب: أبو العباس أحمد بن الحسين بن بابا الزيدي، سمع منه أبو سعد (2).
(38) النسبة: الأرّاني، نسبة إلى أَرَّان: بالفتح وتشديد الراء وألف ونون: اسم لولاية واسعة وبلاد كثيرة، وبين أذربيجان وأرّان نهر يقال له: الرس، كل ما جاوره من ناحية المغرب والشمال، فهو من أرّان، وما كان من جهة المشرق فهو من أذربيجان.
والمنسوب: الفقيه عبدالخالق بن أبي المعالي بن محمد الأرّاني الشافعي، قدم الموصل وتفقّه على أبي حامد بن يونس، وكان كثيرا ما ينشد قول أبي المعالي الجويني الإمام:بلاد الله واسعة فضاها
… ورزق الله في الدنيا فسيح
فقل للقاعدين على هوان:
… إذا ضاقت بكم أرض فسيحوا
--------------------------------------------
তাঁর শায়খগণ: আবুল কাসেম ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল বাকি আল-আযানি এবং আবু আতিয়্যাহ আবদুর রহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফাযারি।
তাঁর ছাত্রগণ: আবু বকর আহমদ ইবনে আবদুল কারিম ইবনে ইয়াকুব আল-হালাবি, আবুত্তাইয়িব আবদুল মুনইম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে গালবুন আল-মাগরিবি এবং আবু হাফস উমর ইবনে আলি ইবনে আল-হাসান আল-আনতাকি, তিনি (৩৩৭) হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং কাজি আলি ইবনুল হুসাইন ইবনে বান্দার ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে জাবর আবুল হাসান আল-আযানি, যিনি আযানাহর কাজি ছিলেন।
তাঁর শায়খগণ: আবু বকর আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস ইবনে আয-যারফাস, তিনি দামেস্কে তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন; এবং আবু আরুবাহ আল-হাররানি, আলি ইবনে আবদুল হামিদ আল-গাদাইরি এবং মাকহুল আল-বাইরুতি। তিনি হাররান, তারসুস, মিসর ও অন্যান্য স্থানে শ্রবণ করেছেন।
তাঁর ছাত্রগণ: আবদুল গানি ইবনে সাইদ ও অন্যান্যরা, তিনি (৩৮৫) হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (১)।
(৩৭) নিসবাত: আল-আযুনি; এটি 'আযুন'-এর দিকে সম্বন্ধিত: আ-এর ওপর ফাতহাহ, এরপর যম্মাহ, ওয়াও সাকিন এবং শেষে নুন; এটি রাই অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম।
এই নিসবাতযুক্ত ব্যক্তি: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে বাবা আয-যাইদি, তাঁর নিকট থেকে আবু সাদ শ্রবণ করেছেন (২)।
(৩৮) নিসবাত: আল-আররানি; এটি 'আররান'-এর দিকে সম্বন্ধিত: আলিফের ওপর ফাতহাহ, র-এর ওপর তাশদিদ এবং এরপর আলিফ ও নুন; এটি একটি বিশাল প্রদেশ ও বহু জনপদের নাম। আযারবাইজান ও আররানের মধ্যবর্তী স্থানে একটি নদী প্রবাহিত যাকে 'আর-রাস' বলা হয়; এর পশ্চিম ও উত্তর দিকের পার্শ্ববর্তী সকল অঞ্চল আররানের অন্তর্ভুক্ত, আর যা পূর্ব দিকে অবস্থিত তা আযারবাইজান।
এই নিসবাতযুক্ত ব্যক্তি: ফকিহ আবদুল খালিক ইবনে আবুল মাআলি ইবনে মুহাম্মাদ আল-আররানি আশ-শাফিয়ি; তিনি মোসেলে আগমন করেন এবং আবু হামিদ ইবনে ইউনুসের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি প্রায়শই ইমাম আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনির এই পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করতেন:আল্লাহর জমিনের দিগন্ত অতি বিস্তৃত... এবং দুনিয়াতে আল্লাহর রিজিক প্রশস্ত।
সুতরাং হীনতার সাথে বসে থাকাদের বলো: ... যখন কোনো ভূমি তোমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়, তখন তোমরা দেশভ্রমণে বেরিয়ে পড়ো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(39) النسبة: الأربسي، نسبة إلى الأُرْبُس: بالضم، ثم السكون، والباء الموحدة مضمومة، وسين مهملة: مدينة وكورة (1) بافريقية.
والمنسوب: أبو طاهر الأربسي الشاعر من أهل مصر.
ويعلى بن إبراهيم الأربسي شاعر مجوّد، وفاته بمصر في سنة (418) وقد أربى على الستين (2).
(40) النسبة: الأربقي، نسبة إلى أَرْبَق بالفتح، ثم السكون، وباء مفتوحة موحدة، وقد تضمّ، وقاف، ويقال: بالكاف مكان القاف، من نواحي رامهرمز من نواحي خوزستان.
والمنسوب: أبو طاهر علي بن أحمد بن الفضل الرامهرمزي الأربقي. وأبو الحسن أحمد بن الحسن الأربقي، وكان رجلا فاضلا، قاضي البلد، وخطيبه وإمامه في شهر رمضان.
(41) النسبة: الإربلي، نسبة إلى إِرْبِل: بالكسر، ثم السكون، وباء موحدة مكسورة، ولام، بوزن إثمد، قلعة حصينة، ومدينة كبيرة، في فضاء من الأرض واسع، نسب إليها جماعة من أهل العلم والحديث.
والمنسوب: أبو احمد القاسم بن المظفّر الشهرزوري الشيباني الإربلي وغيره (3).
(42) النسبة: الأربنجني، أَرْبِنجَنُ: بالفتح، ثم السكون، وكسر الباء الموحدة، وسكون النون، وفتح الجيم، وآخره نون: بليدة من نواحي الصغد، ثم من أعمال سمرقند.
والمنسوب: أبو بكر أحمد بن محمد بن موسى بن رجاء الأربنجني، كان فقيها حنفيا، مات سنة (369).
(43) النسبة: الأرتاحي، نسبة إلى أَرْتاح: بالفتح، ثم السكون، وتاء فوقها نقطتان، وألف، وحاء مهملة: اسم حصن منيع، كان من العواصم من أعمال حلب.
--------------------------------------------
(৩৯) নিসবাহ (সম্বন্ধ): আল-আরবাসি; এটি আরবাস থেকে আগত: আলিফে পেশ, এরপর সুকুন, বা-তে পেশ এবং বিন্দুহীন সিন: এটি ইফ্রিকিয়ার একটি শহর ও প্রদেশ (১)।
সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি: আবু তাহির আল-আরবাসি, তিনি মিশরের একজন কবি ছিলেন।
এবং ইয়ালা বিন ইব্রাহিম আল-আরবাসি একজন সুদক্ষ কবি ছিলেন, ৪১৮ হিজরি সনে মিশরে তার মৃত্যু হয় এবং তিনি ষাট বছর অতিক্রম করেছিলেন (২)।
(৪০) নিসবাহ: আল-আরবাকি; এটি আরবাক থেকে আগত: আলিফে জবর, এরপর সুকুন এবং বা-তে জবর, কখনও বা-তে পেশও দেওয়া হয় এবং শেষে ক্বাফ। বলা হয়: ক্বাফ এর স্থলে কাফ দিয়েও এটি উচ্চারিত হয়। এটি খুজেস্তানের রামাহুরমুজ অঞ্চলের একটি এলাকা।
সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি: আবু তাহির আলি বিন আহমাদ বিন আল-ফাদল আল-রামাহুরমুজি আল-আরবাকি। এবং আবুল হাসান আহমাদ বিন আল-হাসান আল-আরবাকি; তিনি একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি, শহরের বিচারক (কাযি), খতিব এবং রমজান মাসে ইমাম ছিলেন।
(৪১) নিসবাহ: আল-ইরবিলি; এটি ইরবিল থেকে আগত: আলিফে যের, এরপর সুকুন, বা-তে যের এবং লাম, এটি ‘ইসমাদ’ শব্দের ওজনে। এটি একটি সুরক্ষিত দুর্গ এবং বড় শহর, যা একটি প্রশস্ত সমভূমিতে অবস্থিত। একদল আলেম ও মুহাদ্দিস এই স্থানের সাথে সম্বন্ধিত হয়েছেন।
সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি: আবু আহমাদ আল-কাসিম বিন আল-মুজাফফর আল-শাহরাজুরি আল-শায়বানি আল-ইরবিলি এবং আরও অনেকে (৩)।
(৪২) নিসবাহ: আল-আরবানজানি; আরবানজান: আলিফে জবর, এরপর সুকুন, বা-তে যের, নুনে সুকুন, জিমে জবর এবং শেষে নুন: এটি সোগদ অঞ্চলের একটি ছোট শহর, যা পরবর্তীতে সমরকন্দের শাসনভুক্ত হয়।
সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তি: আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন রাজা আল-আরবানজানি; তিনি একজন হানাফি ফকিহ ছিলেন, ৩৬৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(৪৩) নিসবাহ: আল-আরতাহি; এটি আরতাহ থেকে আগত: আলিফে জবর, এরপর সুকুন, উপরে দুই বিন্দু বিশিষ্ট তা, আলিফ এবং বিন্দুহীন হা: এটি একটি দুর্ভেদ্য দুর্গের নাম, যা সিরিয়ার আলেপ্পোর সীমান্তবর্তী শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والمنسوب: الحسين بن عبد الله الأرتاحي.
من شيوخه: عبد الله بن حبيق.
وأبو عليّ الحسن بن عليّ بن الحسن بن شوّاس الكناني الأرتاحي، المقرئ المعدّل أصله من أرتاح: وتولى الإشراف على وقوف جامع دمشق.
من شيوخه: الفضل بن جعفر، ويوسف بن القاسم الميانجي، وأبو العباس أحمد بن محمد البرذعي.
من تلاميذه: أبو علي الأهوازي وهو من أقرانه، مات سنة (439).
وفي تاريخ دمشق عليّ بن عبد الواحد بن الحسن بن عليّ بن الحسن بن شوّاس أبو الحسن بن أبي الفضل بن أبي عليّ المعدّل أصلهم من أرتاح. سمع أبا العباس بن قبيس وأبا القاسم بن أبي العلاء والفقيه أبا الفتح نصر بن إبراهيم، وكان أمينا على المواريث ووقف الأشراف، وكان ذا مروءة، قال ابن عساكر: سمعت منه وكان ثقة لم يكن الحديث من صناعته، توفي في ثالث عشر ربيع الآخر سنة (523) وأبو عبد الله محمد بن أحمد بن حامد بن مفرّج بن غياث الأرتاحي.
روى بالإجازة عن أبي الحسن عليّ بن الحسين بن عمر الفرّاء وهو آخر من حدّث بها في الدنيا، مات سنة (601) (1).
(44) النسبة: الأرجاني، نسبة إلى أَرَّجَان: بفتح أوله، وتشديد الراء، وجيم وألف ونون، وعامّة العجم يسمّونها أرغان، مدينة كبيرة كثيرة الخير، وهي بريّة بحرية، سهليّة جبليّة، بينها وبين البحر مرحلة "96 كم" وبينها وبين شيراز ستون فرسخا "332 كم" ينسب إلى أرجان جماعة كثيرة من أهل العلم.
والمنسوب: أبو سهل أحمد بن سهل الأرجاني.
من شيوخه: أبو محمد زهير بن محمد البغدادي.
من تلاميذه: أبو محمد عبدالله بن محمد الإصطخري.
وأبو عبدالله محمد بن الحسن الأرجاني.
من شيوخه: أبو خليفة الفضل بن الحباب الجمحي.
--------------------------------------------
এবং যার সম্বন্ধ করা হয়: আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আরতাহি.
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে হুবাইক।
এবং আবু আলি আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে আল-হাসান ইবনে শাওওয়াস আল-কিনানি আল-আরতাহি, আল-মুকারি (কুরআন পাঠ বিশেষজ্ঞ) ও আল-মুআদ্দাল (নির্ভরযোগ্য সাক্ষী), যাঁর আদি নিবাস ছিল আরতাহ থেকে। তিনি দামেস্কের জামে মসজিদের ওয়াকফসমূহের পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আল-ফাদল ইবনে জাফর, ইউসুফ ইবনে আল-কাসিম আল-মিয়ানাজি এবং আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বারযা’য়ি।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আলি আল-আহওয়াযি, যিনি তাঁর সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ৪৩৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং 'তারিখু দামেশক' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আলি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে আল-হাসান ইবনে শাওওয়াস আবু আল-হাসান ইবনে আবি আল-ফাদল ইবনে আবি আলি আল-মুআদ্দাল, যাঁদের আদি নিবাস ছিল আরতাহ থেকে। তিনি আবু আল-আব্বাস ইবনে কুবাইস, আবু আল-কাসিম ইবনে আবিল আলা এবং ফকিহ আবু আল-ফাতহ নাসর ইবনে ইব্রাহিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি উত্তরাধিকার সম্পদ ও অভিজাতদের ওয়াকফ সম্পত্তির বিশ্বস্ত রক্ষক ছিলেন এবং অত্যন্ত সচ্চরিত্রবান ব্যক্তি ছিলেন। ইবনে আসাকির বলেছেন: আমি তাঁর থেকে হাদিস শুনেছি এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন; তবে হাদিস শাস্ত্র তাঁর প্রধান পেশা ছিল না। তিনি ৫২৩ হিজরির তেরোই রবিউল আখির মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া রয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামিদ ইবনে মুফাররিজ ইবনে গিয়াস আল-আরতাহি।
তিনি আবু আল-হাসান আলি ইবনে আল-হুসাইন ইবনে উমর আল-ফাররা থেকে ইজাযতের (অনুমতি) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং তিনিই পৃথিবীতে তাঁর থেকে বর্ণনাদানকারী সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ৬০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
(৪৪) সম্বন্ধ (নিসবাহ): আল-আরজানি, আররাজান-এর দিকে সম্বন্ধিত: প্রথম অক্ষরে ফাতহাহ (যবর), রা-তে তাশদীদ, জিম, আলিফ এবং নুন যোগে। পারস্যের সাধারণ মানুষ একে আরগান বলে ডাকে। এটি একটি বিশাল ও সম্পদশালী শহর; এটি স্থল ও সমুদ্রবেষ্টিত, সমতল ও পাহাড়ি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এই শহর ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক মারহালা (৯৬ কি.মি.) এবং এটি ও শিরাজের মধ্যবর্তী দূরত্ব ষাট ফারসাখ (৩৩২ কি.মি.)। ইলম অন্বেষণকারী এক বিশাল দল আররাজানের দিকে সম্বন্ধিত।.
এবং যার সম্বন্ধ করা হয়: আবু সাহল আহমদ ইবনে সাহল আল-আরজানি.
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবু মুহাম্মদ যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদি।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-ইস্তাখরি।
এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-আরজানি।
তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবু খলিফা আল-ফাদল ইবনে আল-হুবাব আল-জুমাহি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من تلاميذه: محمد بن عبدالله بن باكويه الشيرازي.
وأبو سعد أحمد بن محمد بن أبي نصر الضرير الأرجاني الجلكي الأصبهاني.
من شيوخه: فاطمة الجوزدانية، ومات في شهر ربيع الأول سنة (606).
والقاضي أبو بكر أحمد بن محمد بن الحسين الأرجاني الشاعر المشهور، كان قاضي تستر، ولد في حدود سنة (460) ومات في سنة (544) (1).
(45) النسبة: الأرجذوني، نسبة إلى أُرْجُذُونَة: بالضم، ثم السكون، وضم الجيم، والذال المعجمة، وسكون الواو، وفتح النون، وهاء: مدينة بالأندلس.
والمنسوب: عمرو بن حفصويه الخارج على بني أميّة (2).
(46) النسبة: الأرخسي، نسبة إلى أُرُخْس: بضم أوله، وثانيه، وسكون الخاء المعجمة، وسين مهملة: قرية من ناحية شاوذار من نواحي سمرقند عند الجبال، بينها وبين سمرقند أربعة فراسخ"22 كم"
والمنسوب: العباس بن عبدالله الأرخسي، ويقال: الرّخسي (3).
(47) النسبة: الأردبيلي، نسبة إلى أَرْدَبِيل: بالفتح، ثم السكون، وفتح الدال، وكسر الباء، وياء ساكنة، ولام: من أشهر مدن أذربيجان ينسب إليها خلق كثير من أهل العلم في كل فنّ.
والمنسوب: حفص بن عمر الأردبيلي: قال: جلس سعيد بن عمرو البرذعي في منزله وأغلق بابه وقال: ما أحدّث الناس فإن الناس قد تغيّروا، فاستعان عليه أصحاب الحديث بمحمد بن مسلم بن وارة الرازي، فدخل عليه وسأله أن يحدثهم، فقال: ما أفعل، فقال: بحقي عليك إلّا حدّثتهم، فقال: وأيّ حق لك عليّ؟ فقال: أخذت يوما بركابك، فقال: قضيت حقّا لله عليك وليس لك عليّ حقّ، فقال: إن قوما اغتابوك فرددت عنك، فقال: هذا أيضا يلزمك لجماعة المسلمين، قال: فإني عبرت بك يوما في ضيعتك فتعلّقت بي إلى طعامك فأدخلت على قلبك سرورا، فقال: أما هذه فنعم، فأجابه إلى ما أراد.
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বাকুয়াইহ আশ-শিরাজি।
এবং আবু সাদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবি নাসর আদ-দারির আল-আরজানি আল-জালকি আল-আসফাহানি।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: ফাতিমা আল-জাওযদানিয়্যাহ, এবং তিনি (৬০৬) হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং কাজি আবু বকর আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-হুসাইন আল-আরজানি, যিনি একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন। তিনি তুসতারের কাজি ছিলেন, (৪৬০) হিজরি সনের কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং (৫৪৪) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
(৪৫) নিসবত: আল-আরজুযুনি; এটি আরজুযুনাহ-এর দিকে সম্পৃক্ত: হামযার ওপর পেশ, এরপর সুকুন, জিম-এর ওপর পেশ, নুকতাহযুক্ত যাল, ওয়াও-এর ওপর সুকুন, নুন-এর ওপর জবর এবং শেষে গোল হা; এটি আন্দালুসের একটি শহর।
এবং এই নিসবতধারী হলেন: আমর ইবন হাফসুওয়াইহ, যিনি উমাইয়া বংশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন (২)।
(৪৬) নিসবত: আল-আরখাসি; এটি উরুখস-এর দিকে সম্পৃক্ত: প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণের ওপর পেশ, এরপর নুকতাহযুক্ত খা-এর ওপর সুকুন এবং এরপর সিন; এটি সমরকন্দের অন্তর্ভুক্ত শাওযার অঞ্চলের পাহাড়ের নিকটবর্তী একটি গ্রাম, যা সমরকন্দ থেকে চার ফারসাখ "২২ কিমি" দূরে অবস্থিত
এবং এই নিসবতধারী হলেন: আল-আব্বাস ইবন আবদুল্লাহ আল-আরখাসি, তাঁকে আর-রাখাসিও বলা হয় (৩)।
(৪৭) নিসবত: আল-আরদাবিলি; এটি আরদাবিল-এর দিকে সম্পৃক্ত: হামযার ওপর জবর, এরপর সুকুন, দাল-এর ওপর জবর, বা-এর নিচে যের, এরপর সাকিন ইয়া এবং লাম; এটি আজারবাইজানের অন্যতম বিখ্যাত শহর, যার দিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার অসংখ্য আলিম নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন।
এবং এই নিসবতধারী হলেন: হাফস ইবন উমর আল-আরদাবিলি: তিনি বলেন: সাঈদ ইবন আমর আল-বারযাঈ নিজের বাড়িতে অবস্থান নিলেন এবং দরজা বন্ধ করে দিলেন। তিনি বললেন, “আমি মানুষের কাছে হাদিস বর্ণনা করব না, কারণ মানুষ বদলে গেছে।” তখন মুহাদ্দিসগণ মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন ওয়ারা আর-রাযির সাহায্য প্রার্থনা করলেন। তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তাঁদের কাছে হাদিস বর্ণনা করার অনুরোধ করলেন। তিনি উত্তর দিলেন, “আমি তা করব না।” তিনি বললেন, “আমার হকের দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি অবশ্যই তাঁদের কাছে হাদিস বর্ণনা করবেন।” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার ওপর আপনার কী হক আছে?” তিনি বললেন, “একদিন আমি আপনার সওয়ারির রেকাব ধরেছিলাম (আপনাকে আরোহণে সাহায্য করেছিলাম)।” তিনি বললেন, “আপনি আল্লাহর জন্য একটি হক আদায় করেছেন, আমার ওপর আপনার কোনো হক নেই।” তিনি পুনরায় বললেন, “একদল লোক আপনার গিবত (পরনিন্দা) করছিল, আমি আপনার পক্ষ থেকে তার প্রতিবাদ করেছিলাম।” তিনি বললেন, “এটিও সাধারণ মুসলিমদের প্রতি আপনার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।” তিনি বললেন, “একদিন আমি আপনার খামারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আপনি আমাকে খাবার খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে আপনি আমার মনে আনন্দ দিয়েছিলেন।” তখন তিনি বললেন, “হ্যাঁ, এটি ঠিক।” অতঃপর তিনি তাঁর আবেদন গ্রহণ করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نصر السروي الأردبيلي.
وأبو عياش الأردبيلي (1).
(48) النسبة: الأردستاني، نسبة إلى أَرْدِسْتَان: بالفتح، ثم السكون، وكسر الدال المهملة، وسكون السين المهملة، وتاء مثناة من فوقها، وألف، ونون، مدينة بين قاشان وأصبهان، بينها وبين أصبهان ثمانية عشر فرسخا "100" تقريبا، ينسب إليها طائفة كثيرة من أهل العلم في كلّ فنّ.
والمنسوب: القاضي أبو طاهر زيد بن عبد الوهّاب بن محمد الأردستاني الأديب الشاعر، قدم نيسابور وسمع من أصحاب الأصمّ.
من تلاميذه: عبد الغافر الفارسي، وذِكْره في صلة تاريخ نيسابور.
وأبو جعفر محمد بن إبراهيم بن داود بن سليمان الأردستاني الأديب.
من شيوخه: محمد بن عبيد النهرديري.
من تلاميذه: أحمد بن محمد الجرّاد، وكتب عنه بأصبهان، ومات في ذي القعدة سنة (415).
وأبو محمد عبدالله بن يوسف بن أحمد بن بابويه الأردستاني نزيل نيسابور، توفي سنة (409) (2).
(49) النسبة: الأردني، نسبة إلى الأُرْدُنّ: بالضم ثم السكون، وضم الدال المهملة، وتشديد النون، هو البلد المعروف اليوم، نسب إليه جماعة وافرة من العلماء.
والمنسوب: الوليد بن مسلمة الأردني.
من شيوخه: يزيد بن حسان ومسلمة بن عدي.
من تلاميذه: العباس بن الفضل الدمشقي، ومحمد بن هرون الرازي.
وعبد الله بن نعيم الأردني.
من شيوخه: الضحاك بن عبدالرحمن بن عرزب.
من تلاميذه: يحيى بن عبدالعزيز الأردني.
--------------------------------------------
নাসর আস-সারুবি আল-আরদাবিলি।
এবং আবু আইয়্যাশ আল-আরদাবিলি (১)।
(৪৮) নিসবত: আল-আরদিস্থানি, আরদিস্থান-এর সাথে সম্পর্কিত: হামযা-তে ফাতহাহ (জবর), এরপর সুকুন (জযম), দাল-এর নিচে কাসরাহ (যের), সিন-এ সুকুন, উপরে দুই নুকতা বিশিষ্ট তা, আলিফ এবং নুন। এটি কাশান ও আসফাহানের মধ্যবর্তী একটি শহর। এর এবং আসফাহানের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় আঠারো ফারসাখ (প্রায় "১০০")। জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় এক বিশাল আলেমগোষ্ঠী এই শহরের দিকে নিজেদের নিসবত করেন।
যিনি সম্পৃক্ত: কাজি আবু তাহির জাইদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ আল-আরদিস্থানি, তিনি একজন সাহিত্যিক ও কবি। তিনি নিশাপুরে আগমন করেন এবং আল-আসামের অনুসারীদের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন।তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল গাফির আল-ফারিসি; তাঁর কথা 'সিলাতি তারিখি নিশাপুর'-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
এবং সাহিত্যিক আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন দাউদ বিন সুলায়মান আল-আরদিস্থানি।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মাদ বিন উবাইদ আন-নাহরদিরি।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-জাররাদ, তিনি আসফাহানে তাঁর থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি ৪১৫ হিজরি সনের জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আহমাদ বিন বাবুওয়াইহ আল-আরদিস্থানি, যিনি নিশাপুরে বসবাস করতেন। তিনি ৪০৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (২)।
(৪৯) নিসবত: আল-উরদুন্নি, আল-উরদুন (জর্ডান)-এর সাথে সম্পর্কিত: হামযা-তে যম্মাহ (পেশ), এরপর সুকুন, দাল-এ যম্মাহ এবং নুন-এ তাশদিদ। এটি বর্তমানে সুপরিচিত একটি দেশ। এক বিশাল আলেমগোষ্ঠী এর দিকে নিজেদের নিসবত করেন।
যিনি সম্পৃক্ত: আল-ওয়ালিদ বিন মাসলামাহ আল-উরদুন্নি।তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াজিদ বিন হাসসান এবং মাসলামাহ বিন আদিয়।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আব্বাস বিন ফজল আদ-দিমাশকি এবং মুহাম্মাদ বিন হারুন আর-রাজি।
এবং আব্দুল্লাহ বিন নুআইম আল-উরদুন্নি।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: দহ্হাক বিন আব্দুর রহমান বিন আরযাব।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াহইয়া বিন আব্দুল আজিজ আল-উরদুন্নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নিসবাহ ওয়া মানসুব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأبو سلمة الحكم بن عبد الله بن خطّاف الأردني، والعباس بن محمد الأردني المرادي.
من شيوخه: مالك بن أنس، وخليد بن دعلج، وعبادة بن نسيّ الأردني، ومحمد بن سعيد المصلوب الأردني مشهور وله عدّة ألقاب يدلّس بها، وعلي بن إسحاق الأردني.
من شيوخه: محمد بن يزيد المستملي.
ونعيم بن سلامة الأردني.
من شيوخه: ابن عمر سمعه وسأله، وروى عن رجل من الصحابة من بني سليم، وكان على خاتم سليمان بن عبد الملك، وعمر بن عبد العزيز.
من تلاميذه: أبو عبيد صاحب سليمان بن عبد الملك، ورجاء بن حياة، والأوزاعي، وعطاء الخراساني، ومحمد بن يحيى بن حبّان، وعتبة بن حكيم أبو العباس الهمداني الأردني، ثم الطبراني.
من شيوخه: مكحول، وسليمان بن موسى، وعطاء الخراساني، وعباس بن نسي، وقتادة بن دعامة، وعبد الرحمن بن أبي ليلى، وابنه عيسى بن عبد الرحمن، وابن جريج وغيرهم.
من تلاميذه: يحيى بن حمزة الدمشقي، ومسلمة بن علي، ومحمد بن شعيب بن شابور، وإسماعيل بن عباس، وبقية بن الوليد، وعبد الله بن المبارك، وعبد الله بن لهيعة وغيرهم، قال ابن معين: هو ثقة، وكذلك أبو زرعة الدمشقي.
مات بصور سنة (147) (1).
(50) النسبة: الأرزكاني، نسبة إلى أَرْزَكان: بالفتح، ثم السكون، وفتح الزاي، وكاف، وألف، ونون: من قرى فارس.
والمنسوب: أبو عبد الرحمن عبد الله بن جعفر بن أبي جعفر الأرزكاني.
من شيوخه: يعقوب بن سفيان، وشاذان، والزيادآباذي، وكان من الثقات الزهاد،
--------------------------------------------
আবু সালামা আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ বিন খাত্তাফ আল-উর্দুনী এবং আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আল-উর্দুনী আল-মুরাদী।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: মালিক বিন আনাস, খুলাইদ বিন দ'লাজ, উবাদাহ বিন নুসাই আল-উর্দুনী, মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-মাসলুব আল-উর্দুনী—যিনি সুপরিচিত এবং তাঁর একাধিক উপাধি রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি তাদলীস করতেন—এবং আলী বিন ইসহাক আল-উর্দুনী।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ আল-মুস্তামলী।
এবং নুআইম বিন সালামাহ আল-উর্দুনী।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে উমর, যাঁর নিকট থেকে তিনি শুনেছেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করেছেন। তিনি বনু সুলাইম গোত্রের একজন সাহাবীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক এবং উমর বিন আব্দুল আযীযের সিলমোহর সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের সহচর আবু উবাইদ, রাজা বিন হাইওয়াহ, আল-আওযায়ী, আতা আল-খুরাসানী, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাব্বান, উতবাহ বিন হাকীম আবু আল-আব্বাস আল-হামদানী আল-উর্দুনী এবং পরবর্তীতে আত-তাবারানী।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: মাকহুল, সুলাইমান বিন মুসা, আব্বাস বিন নুসাই, কাতাদাহ বিন দিআমাহ, আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা, তাঁর পুত্র ঈসা বিন আব্দুর রহমান, ইবনে জুরাইজ এবং অন্যান্যরা।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াহইয়া বিন হামযাহ আদ-দিমাশকী, মাসলামাহ বিন আলী, মুহাম্মদ বিন শুআইব বিন শাবুর, ইসমাঈল বিন আব্বাস, বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালীদ, আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক, আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়াহ এবং আরও অনেকে। ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, এবং আবু যুরআহ আদ-দিমাশকীও অনুরূপ বলেছেন।
তিনি (১৪৭) হিজরীতে সুর নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
(৫০) নিসবত: আল-আরযাকানী, আরযাকান-এর দিকে সম্পর্কিত; আরযাকান হলো: শুরুতে ফাতহা (যবর), এরপর সুকুন, যায়-তে ফাতহা (যবর), কাফ, আলিফ ও নুন সহযোগে গঠিত: এটি পারস্যের অন্যতম একটি গ্রাম।
এবং যাঁর নিসবত করা হয়েছে: তিনি হলেন আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আবি জাফর আল-আরযাকানী।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াকুব বিন সুফিয়ান, শাযান এবং আয-যিয়াদআবাদী। তিনি নির্ভরযোগ্য ও যাহিদ (সংসারবিরাগী) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
--------------------------------------------