(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: -)
قرينة السياق ودورها في التقعيد النحوي والتوجيه الإعرابي في كتاب سيبويه القسم: النحو والصرف
الكتاب: قرينة السياق ودورها في التقعيد النحوي والتوجيه الإعرابي في كتاب سيبويه
إعداد الطالب: إيهاب عبد الحميد عبد الصادق سلامة
رسالة: دكتوراة، قسم اللغة العربية، كلية البنات للآداب والعلوم والتربية، جامعة عين شمس
إشراف: الأستاذة الدكتورة: أميرة أحمد يوسف (أستاذ النحو والصرف)، الأستاذة الدكتورة: حسنة الزهار (أستاذ علم اللُّغَة)
عام النشر: 2016 م
عدد الصفحات: 402
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 صفر 1440
সিবওয়াইহ-এর কিতাবে নাহু শাস্ত্রীয় মূলনীতি প্রণয়ন ও ইরাব সংক্রান্ত নির্দেশনায় প্রাসঙ্গিকতার ভূমিকা বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
বই: সিবওয়াইহ-এর কিতাবে নাহু শাস্ত্রীয় মূলনীতি প্রণয়ন ও ইরাব সংক্রান্ত নির্দেশনায় প্রাসঙ্গিকতার ভূমিকা
শিক্ষার্থীর নাম: ইহাব আব্দুল হামিদ আব্দুল সাদিক সালামা
থিসিস: ডক্টরেট, আরবি ভাষা বিভাগ, নারী শিক্ষা, বিজ্ঞান ও কলা অনুষদ (কুল্লিয়াতুল বানাত), আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়
তত্ত্বাবধায়কগণ: প্রফেসর ডক্টর: আমিরা আহমদ ইউসুফ (নাহু ও সরফের অধ্যাপক), প্রফেসর ডক্টর: হাসনা আল-জাহহার (ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক)
প্রকাশের বছর: ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ সফর ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১)
جامعة عين شمس
كلية البنات للآداب والعلوم والتربية
قسم اللغة العربية
قرينة السياق ودورها في التقعيد النحوي والتوجيه الإعرابي في كتاب سيبويه
رسالة لنيل درجة الدكتوراة
إعداد الطالب
إيهاب عبد الحميد عبد الصادق سلامة
تحت إشراف
الأستاذة الدكتورة: أميرة أحمد يوسف (أستاذ النحو والصرف)
الأستاذة الدكتورة: حسنة الزهار (أستاذ علم اللُّغَة)
আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়
মহিলা কলা, বিজ্ঞান ও শিক্ষা অনুষদ
আরবি ভাষা বিভাগ
সিবওয়াইহের কিতাবে ব্যাকরণগত মূলনীতি নির্ধারণ ও ই’রাবগত নির্দেশনায় প্রসঙ্গের সূত্র এবং এর ভূমিকা
পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র
গবেষক ছাত্র
ইহাব আব্দুল হামিদ আব্দুল সাদিক সালামাহ
তত্ত্বাবধানে
প্রফেসর ডক্টর: আমিরা আহমদ ইউসুফ (নাহু ও সরফ বিষয়ের প্রফেসর)
প্রফেসর ডক্টর: হাসনা আল-জাহার (ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ের প্রফেসর)
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقدمةالحمد لله كثيرا، ولا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، يحيي ويميت، وهو على كل شيء قدير، اللهم لا مانع لما أعطيت، ولا معطي لما منعت. اللهم إنِّي أعوذ بك من علم لا ينفع، ومن دعاء لا يُسمع، ومن قلب لا يخشع، ومن نفس لا تشبع.
وصلِّ اللهم وسلم وبارك على نبيِّنا ومصطفانا محمدٍ ــ صلى الله عليه وسلم ــ في الأوَّلين والآخرين، وصلِّ اللهم عليه في كل وقت وحين.
يُعَدُّ علم النحو من أهم العلوم اللُّغَوِيَّة في العربِيَّة، فهو عَصَبُها، وركنها الرَّكين، وله في خدمة العربِيَّة القِدْحُ المُعَلَّى، والقدمُ الأولى، وهو من الفضل عليها بأعلى مناط العِقدِ. وقد كان على مرِّ الأزمان أحد خطوط الدفاع الأولى التي حَمَتِ العربِيَّة، وحافظت عليها على مدار الأعوام والسنين؛ فَسَلِمَت الأجيالُ للإعراب، وتَقَوَّمَت الألسن من هُجْنَة اللحن وخطأ القول. إِنَّه العلم الذي زاد عن حياضِ العربية الجهلاءَ أعداءَ اللهِ والدِّين؛ فكانت به عزيزة الجانب، منيعة الحَوْزَة حصينة الناحية.
وقد أحببنا علم النحو، وأحببنا دراسته، وأخذ الشغفُ به بمجامع قلوبنا، منذ أَنْ قَدَّرَ الله أَنْ نلتقي بأساتذة أجلَّاء غرسوا فينا هذا الحبَّ، وكشفوا لنا عن علاقته بكتاب الله وسُنَّةِ نبِيِّه ــ صلى الله عليه وسلم ــ. وزاد هذا الحبُّ وتعمَّق فينا أكثر وأكثر عندما أوقفنا أسلافُ أُمَّتِنا على فضله، فقالوا:
- قال الخليل: «النحو للسان بمنزلة الطعام للأبدان») (1).
- وقال الزُّهْرِيُّ: «ما أحدث الناسُ مروءةً أحبَّ إليَّ من طلب النحو») (2).
- وقال حَمَّادُ بنُ سَلَمَةَ: «من يطلب الحديث ولا يعرف النحو، مثل الحمار عليه مخلاة ليس فيها شعير») (3).
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—যিনি অগণিত প্রশংসার যোগ্য; আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁরই; তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান, আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এমন জ্ঞান থেকে যা কোনো উপকারে আসে না, এমন দোয়া থেকে যা শোনা হয় না, এমন অন্তর থেকে যা বিনীত হয় না এবং এমন আত্মা থেকে যা তৃপ্ত হয় না।
হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নবী ও মনোনীত মুহাম্মদ—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল যুগে সালাত, সালাম ও বরকত নাজিল করুন এবং প্রতিটি সময়ে ও মুহূর্তে তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
নাহু শাস্ত্র (ব্যাকরণ) আরবি ভাষার ভাষাতাত্ত্বিক বিদ্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এটি ভাষার স্নায়ু এবং এর সুদৃঢ় স্তম্ভ। আরবি ভাষার সেবায় এর মর্যাদা সর্বোচ্চ এবং এটি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে। ভাষার প্রতি এর অবদান নক্ষত্রমন্ডলীর সর্বোচ্চ চূড়ার মতো। যুগ যুগ ধরে এটি আরবি ভাষাকে রক্ষার প্রথম প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে কাজ করেছে এবং বছরের পর বছর একে সংরক্ষিত রেখেছে। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মসমূহ ব্যাকরণগত নির্ভুলতা অর্জন করেছে এবং ভাষার অশুদ্ধতা ও ভুল উচ্চারণ থেকে জিহ্বা সংরক্ষিত হয়েছে। এটি সেই বিদ্যা যা আল্লাহর শত্রু ও দ্বীনের শত্রুদের মূর্খতা থেকে আরবির চত্বরকে রক্ষা করেছে; যার ফলে ভাষাটি হয়েছে প্রতাপশালী, সুরক্ষিত এবং দুর্ভেদ্য।
আমরা নাহু শাস্ত্রকে ভালোবেসেছি এবং এর অধ্যয়নকে পছন্দ করেছি। এর প্রতি গভীর অনুরাগ আমাদের হৃদয়কে আচ্ছন্ন করেছে সেই সময় থেকে, যখন আল্লাহ আমাদের এমন সব মহান শিক্ষকের সান্নিধ্য পাওয়ার তাওফিক দিয়েছিলেন যারা আমাদের মধ্যে এই ভালোবাসা বপন করেছেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর সুন্নাহর সাথে এই শাস্ত্রের সম্পর্ক আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছেন। এই ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমাদের গভীরে প্রোথিত হয়েছে যখন আমাদের উম্মাহর পূর্বসূরিরা এর শ্রেষ্ঠত্ব আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলেছেন:
- খলীল বলেন: «জিহ্বার জন্য নাহু ঠিক তেমনি, যেমন শরীরের জন্য খাদ্য» (১)।
- যুহরী বলেন: «মানুষ যে সকল শিষ্টাচার ও সুরুচি তৈরি করেছে, তার মধ্যে নাহু অন্বেষণের চেয়ে প্রিয় আমার কাছে আর কিছু নেই» (২)।
- হাম্মাদ বিন সালামাহ বলেন: «যে ব্যক্তি হাদিস অন্বেষণ করে অথচ নাহু জানে না, সে সেই গাধার মতো যার পিঠে খাবারের থলি আছে কিন্তু তাতে কোনো বার্লি নেই» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
- وروي عن الأصمعيِّ أنَّه قال: «أخوف ما أخاف على طالب العلم إذا لم يعرف النحو أَنْ يَدخُلَ في جُمْلةِ قولِ النبي ــ صلى الله عليه وسلم ــ: ((منْ كذب عليّ متعمِّدًا فليتبوأ مقعده من النار)) (1)؛ لأَنَّه [صلى الله عليه وسلم] لم يكن يلحن، فمهما رَوَيْتَ عنه ولحنت فقد كذبت عليه» (2).
- ومن نفائس أقوال الإمام الشافعي ــ رحمه الله ــ عن هذا العلم الجليل قوله: «من تبحّر في النحو اهتدى إلى جميع العلوم»، وقوله: «لا أُسْأَلُ عن مسألة في الفقه إلّا أجبت عنها من قواعد النحو» (3).
ويضيق المقام بتتَبُّع هذه الأقوال، فهي أكثر من تحصى، أو يأتي عليها العد. وجميعها توضح أهمِيَّة هذا العلم الجليل.
وإبَّانُ الدراسة الجامعية وجَّه نظرَنا أستاذُنا الدكتور كمال بشر إلى علم مُهِمّ من العلوم اللُّغَوِيَّة الحديثة التي تدرس اللُّغَة، ذاك هو علم اللُّغَة الاجتماعِيّ، ونبَّهنا سيادته إلى أهمِيَّة هذا العلم وأهمِيَّة البعد الاجتماعِيّ والسِّياقي في دراسة اللُّغَة، وأظهر لنا العلاقة الوثيقة بين المجتمع واللُّغَة، وأنَّه من الخطأ البَيِّنِ إهمال هذا البعد الاجتماعِيّ في دراسة اللُّغَة.
كان من نتيجة هذه الدراسة لعلم اللُّغَة الاجتماعِيّ مع أستاذنا د. كمال بشر أَنْ وَقَر في الذهن أهمِيَّة هذا الربط؛ ومدى الفوائد القيِّمة التي تعود على اللُّغَة من ذلك؛ فتولدت الأمنيةُ والرغبةُ الشديدةُ لدي الباحث في متابعة الدراسة في هذا المجال، مجال ربط السِّياق بدراسة اللُّغَة وبخاصة قواعدها؛ وقَطَعَ الباحثُ بينه وبين نفسه العزمَ على المضي قُدُما في استكناه هذه العلاقة، وأمضى النيَّة أَنْ يكون هذا مجال بحثه.
وسعينا راجين من الله التوفيق. ولما كانت الدوريات والمجلات اللُّغَوِيَّة والأدبيَّة مظانَّ لأفكار كثيرة يكتبها المتخصِّصون في مختلف الفروع اللُّغَوِيَّة فقد اتجه الباحث إلى هذه الدوريَّات، وبالأخص منها مجلة مجمع اللُّغَة العربِيَّة بالقاهرة، عساه أَنْ يجد فكرة هنا أو هناك في مقال من مقالاتها القيِّمة ترضي الرغبة في دراسة علاقة السِّياق بالقواعد النحوِيَّة.
--------------------------------------------
আসমাঈ থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: «একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর ব্যাপারে আমি যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো, সে যদি নাহু (ব্যাকরণ) না জানে তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে: ((যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়)) (১); কারণ তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কখনো ব্যাকরণগত ভুল করতেন না। সুতরাং আপনি যখন তাঁর থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করবেন এবং তাতে ব্যাকরণগত ভুল করবেন, তখন মূলত আপনি তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করলেন» (২)।
- এই মহান ইলম সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ী — রাহিমাহুল্লাহ — এর অন্যতম মূল্যবান উক্তি হলো: «যে ব্যক্তি নাহু শাস্ত্রে গভীরতা অর্জন করে, সে সমস্ত ইলমের পথ খুঁজে পায়», এবং তাঁর আরও একটি উক্তি হলো: «ফেকাহর এমন কোনো মাসআলা সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়নি যার উত্তর আমি নাহুর মূলনীতি থেকে দিইনি» (৩)।
এই ধরনের উক্তিগুলো বিস্তারিত আলোচনা করার স্থান এখানে সংকীর্ণ, কারণ এগুলো গণনার অতীত। এই সব উক্তিই এই মহান ইলমের গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমাদের শিক্ষক ডক্টর কামাল বিশর আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখার প্রতি যা ভাষা নিয়ে কাজ করে, সেটি হলো সমাজভাষাবিজ্ঞান। তিনি আমাদের এই বিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং ভাষা অধ্যয়নে সামাজিক ও প্রেক্ষাপটগত মাত্রার গুরুত্ব সম্পর্কে সজাগ করেছিলেন। তিনি আমাদের সামনে সমাজ ও ভাষার মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরেছিলেন এবং দেখিয়েছিলেন যে, ভাষা অধ্যয়নে এই সামাজিক মাত্রাকে উপেক্ষা করা একটি সুস্পষ্ট ভুল।
আমাদের শিক্ষক ডক্টর কামাল বিশরের কাছে সমাজভাষাবিজ্ঞানের এই অধ্যয়নের ফলে মনের মধ্যে এই সংযোগের গুরুত্ব এবং এর থেকে ভাষার প্রতি অর্জিত মূল্যবান উপকারিতার বিষয়টি দৃঢ়মূল হয়েছিল। এর ফলে গবেষকের মনে এই ক্ষেত্রে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা জন্মায়, বিশেষ করে ভাষার ব্যাকরণের সাথে প্রেক্ষাপটকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে। গবেষক নিজের মনে এই সম্পর্কের গভীর রহস্য উন্মোচনে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে এটিই হবে তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র।
আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক কামনায় সচেষ্ট হয়েছি। যেহেতু ভাষাগত ও সাহিত্যিক সাময়িকী এবং জার্নালগুলো বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিক শাখার বিশেষজ্ঞদের লেখা অনেক চিন্তাধারার উৎস, তাই গবেষক এই সাময়িকীগুলোর দিকে মনোনিবেশ করেন, বিশেষ করে কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমির জার্নালের প্রতি। আশা করা যায় এর কোনো না কোনো মূল্যবান প্রবন্ধে এমন কোনো ধারণা পাওয়া যাবে যা ব্যাকরণিক নিয়মের সাথে প্রেক্ষাপটের সম্পর্কের গবেষণার আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
وكان من فضل الله أَنْ عثرنا على مقال بعنوان ((الجملة في كتاب سيبويه)) للأستاذ الدكتور عبد الرحمن الحاج صالح، ووقفنا فيها على بعض العبارات المُهِمَّة لسيادته عن كتاب سيبويه قال
فيها:
«
… الملاحظات كثيرة جدا في الكتاب، وهي تخص أحوال الخطاب مقترنا بأحوال المخاطب: علم المخاطب وجهله واستحالة الإخبار عن منكور، اللهم إلا إذا احتاج المخاطب إلى تحديد هذا المنكور بأنْ يعين حلية خاصة به تميزه عن غيره. ويمكن بالدراسة المتعمقة لهذه الملاحظات أَنْ تُسْتَخرج قوانينُ التخاطب الحقيقيَّة») (1).
ويشير في موضع ثانٍ من مقالته:
«
… ولا بد أَنْ نُنَبِّه القارئ الكريم أَنَّ مثل هذا الكلام عن ((علم المخاطب)) وسائر أحواله لا يمكن أَنْ نعثر عليه في كتب الآخرين؛ فالقواعد الجامدة الخاطئة أحيانا قد حلت محل الملاحظات العلميَّة، (تكلموا مثلا عن شروط الابتداء بالنكرة فقط وبدون أَنْ يفسروا ظواهر الخطاب بالكيفية العلميَّة الوصفيَّة والتعليليِّة معا)» (2).
كانت جملة د. عبد الرحمن الحاج صالح في نصه السابق: «الملاحظات كثيرة جدا في الكتاب، وهي تخص أحوال الخطاب مقترنا بأحوال المخاطب: علم المخاطب وجهله واستحالة الإخبار عن منكور» باعثة على التفكير والتأَمُّل، ودفعت في ذهن الباحث بالسؤال الآتي: أليست أحوال الخطاب المقترنة بأحوال المخاطب ــ على حد تعبير د. عبد الرحمن ــ تدلُّ على وقوف سيبويه على علاقة ما بين السِّياق والقاعدة النحوِيَّة التي يقعد لها؟ والإجابة بعد تحليل عبارة د. عبد الرحمن: بلى، إِنَّ كلامه يشير إلى وجود تلك العلاقة، ويشير كلامه أيضا أَنَّ النُّحَاة من بعد سيبويه لم يلتفتوا إلى تلك العلاقة.
هنا عثر الباحث على طِلْبَته التي كان يبحث عنها، ووضع يده على ما يحقق رغبته العلميَّة وبعد تفكير ليس بالطويل ظهر موضوع البحث، وهو: «قرينة السِّياق ودورها في التَّقْعِيد النَّحْوِيّ والتوجيه الإعرابِيّ في كتاب سيبويه».
كان هذا هو الموضوع الذي أمُلت أَنْ أقع على مثله بحثا ودراسة، وأَنْ أقضي فيه بعضا من وقتِيّ مشبعا لرغبتي في بحث العلاقة بين السِّياق والقواعد النحوِيَّة.
--------------------------------------------
এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল যে আমরা প্রফেসর ডক্টর আব্দুর রহমান আল-হাজ সালেহ রচিত «সিবওয়াইহের কিতাবে বাক্য» শীর্ষক একটি প্রবন্ধ খুঁজে পেয়েছি এবং সেখানে সিবওয়াইহের কিতাব সম্পর্কে তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি সেখানে বলেছেন
সেখানে:
«
... কিতাবটিতে পর্যবেক্ষণসমূহ অত্যন্ত অধিক এবং সেগুলো সম্বোধিতের অবস্থার সাথে যুক্ত সম্বোধনের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট: সম্বোধিতের জ্ঞান ও অজ্ঞতা এবং কোনো অনির্দিষ্ট (নাকিরা) বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের অসম্ভবতা; তবে যদি সম্বোধিত ব্যক্তি সেই অনির্দিষ্ট বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন বোধ করে এমন একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের মাধ্যমে যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। এই পর্যবেক্ষণগুলোর গভীর অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রকৃত কথোপকথনের নিয়মাবলি আহরণ করা সম্ভব। » (১)।
তিনি তাঁর প্রবন্ধের দ্বিতীয় এক স্থানে ইঙ্গিত করেছেন:
«
... আমাদের অবশ্যই সম্মানিত পাঠককে সতর্ক করতে হবে যে, ‘সম্বোধিতের জ্ঞান’ এবং তার অন্যান্য অবস্থা সম্পর্কে এই ধরণের আলোচনা অন্যদের কিতাবে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়; কারণ কখনও কখনও ত্রুটিপূর্ণ ও স্থবির নিয়মগুলো বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে (উদাহরণস্বরূপ, তারা কেবল অনির্দিষ্ট বিশেষ্য বা নাকিরা দিয়ে বাক্য শুরু করার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন, কিন্তু সম্বোধনের বাহ্যিক রূপগুলোকে বৈজ্ঞানিক বর্ণনামূলক ও কারণতাত্ত্বিক উভয় পদ্ধতিতে একসাথে ব্যাখ্যা করেননি)। » (২)।
ডক্টর আব্দুর রহমান আল-হাজ সালেহ-এর পূর্বোক্ত পাঠের এই বাক্যটি: «কিতাবটিতে পর্যবেক্ষণসমূহ অত্যন্ত অধিক এবং সেগুলো সম্বোধিতের অবস্থার সাথে যুক্ত সম্বোধনের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট: সম্বোধিতের জ্ঞান ও অজ্ঞতা এবং অনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের অসম্ভবতা» চিন্তা ও গবেষণার উদ্রেককারী ছিল এবং গবেষকের মনে নিম্নলিখিত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল: ডক্টর আব্দুর রহমানের ভাষায় সম্বোধিতের অবস্থার সাথে যুক্ত সম্বোধনের অবস্থাগুলো কি সিবওয়াইহের প্রেক্ষাপট (সিয়াক) এবং তাঁর প্রণীত ব্যাকরণিক নিয়মের মধ্যবর্তী কোনো সম্পর্কের উপলব্ধিকে নির্দেশ করে না? ডক্টর আব্দুর রহমানের বক্তব্য বিশ্লেষণের পর উত্তর হলো: হ্যাঁ, তাঁর কথা সেই সম্পর্কের অস্তিত্বের দিকেই ইঙ্গিত করে এবং তাঁর কথা আরও নির্দেশ করে যে সিবওয়াইহের পরবর্তী ব্যাকরণবিদগণ সেই সম্পর্কের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি।
এখানে গবেষক তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তুর সন্ধান পান এবং এমন একটি বিষয়ের ওপর হাত রাখেন যা তাঁর বৈজ্ঞানিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে। খুব দীর্ঘ সময় চিন্তা না করেই গবেষণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর তা হলো: «সিবওয়াইহের কিতাবে প্রেক্ষাপটের (সিয়াক) প্রমাণ এবং ব্যাকরণিক নিয়ম প্রণয়ন ও ইরাব সংক্রান্ত নির্দেশনায় এর ভূমিকা।»
এটিই ছিল সেই বিষয় যার মতো একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা ও অধ্যয়নের আশা আমি করেছিলাম এবং যেখানে আমি আমার সময়ের কিছু অংশ ব্যয় করে প্রেক্ষাপট ও ব্যাকরণিক নিয়মাবলির মধ্যকার সম্পর্ক অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে চেয়েছিলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
وعند الشروع في الدراسة، ومرور الوقت، والتعمُّق في هذا الموضوع ازداد التعلُّق به، وانكشفت للباحث جوانب مُهِمَّة عن أهمِّيَّته دَلَّت على توفيق الله لنا ــ وله الحمد والشكر ــ في اختياره موضوعا للبحث والدراسة.
ومن جوانب الأهمية التي بدَتْ للباحث قبل الشروع في دراسة الموضوع:
1 ــ الحقيقة النحوِيَّة ــ كأَيَّة حقيقة أخرى ــ لها أبعاد مختلفة، وجوانب متعددة، منها الجانب الاجتماعِيّ، وليس من الموضوعية في شيء أَنْ يُنْظَر إلى الصورة من زاوية واحدة وتُتْرَك بقية الزوايا.
2 ــ التعمُّق في هذا الموضوع يضع أيدينا على قوانين التخاطب الحقيقيَّة، ويُوقِفُنَا على بعض القواعد الجامدة الخاطئة التي حلَّت محل الملحوظات العلمية كما أشار د. عبد الرحمن صالح في مقالته السابقة.
3 ــ أن البحث سيكون مع عَلَم من أعلام النحو العربي وإمام من أئمتهم، وكتابه «أصل الكتب المُصَنَّفَة في النحو واللغة» كما يقول السيوطي في الاقتراح، وإثبات وجود علاقة بين السِّياق والقاعدة النحوِيَّة عند هذا العَلَم أمرٌ سيثير سؤلا مهمًّا هو: لماذا لم يهتم النحاة بهذا الجانب الاجتماعي بشكل أوضح في مؤلفاتهم؟ ولماذا كان الاهتمام منصبًّا على نظرية العامل؟
4 ــ دراسة هذا الموضوع ستضع أيدينا على كيفية استغلال السياق في الجوانب التعليميَّة
والأدبيَّة.
وبعد الاستقرار على عنوان هذا البحث بدأ الباحثُ رحلة القراءة في كتاب سيبويه، وأخذ الباحث على نفسه أَنْ يُدارس الكتاب في وَنَاءٍ وعلى مَهَلٍ مدارسةً متقنةً جادّةً غير هازلة، مشحوذةً بالتنبُّه، مصقولةً بحسن التمييز والتدبُّر، قدر استطاعته وقدر ما وسعه الجُهْد. ويعلم الله كم كانت هذه الرحلة وهذه القراءة شاقَّة وعسيرة، وكم من الصعوبات التي لقيها الباحث في أثناء تتَبُّعه لعبارات الكتاب محاولا فك معاقدها ومطاويها! وما زال الباحث يذكر كيف كان يقضي سحابة نهاره واقفا أمام نصّ واحد من نصوص الكتاب يحاول فهم ما يريده سيبويه.
لقد حاول الباحث على مُكْثٍ تحليل نصوص الكتاب تحليلا متأنِّيًا، محاولا أَنْ يسوس عبارات الكتاب حتى تُفضي إليه بذات معناها، وتمنحه بعض إِتَائِها، وما تحتقِبُه من دلالات، لقد قرأ الباحث نصوص الكتاب متأمِّلا ومقلبا لها يمنة ويسرة؛ فيخرجُ وقد نجح حينا، أو يخرجُ خاوي الوفاض أحيانا أخرى، وفي أثناء هذه الوقفات فهم الباحث بشكل أعمق وأثبتَ الأمرَ عن معاينة: لماذا كان العلماء يَعُدُّون من مناقبهم قراءتَهم لكتاب سيبويه، أو شرحهم له؟
অধ্যয়ন শুরু করার পর, সময়ের আবর্তনে এবং এই বিষয়ে গভীরতা অর্জনের সাথে সাথে এর প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। গবেষকের সামনে এর গুরুত্বের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচিত হয়েছে যা গবেষণার বিষয় হিসেবে এটি নির্বাচনে আমাদের প্রতি আল্লাহর তাওফীক বা অনুগ্রহের পরিচায়ক—সকল প্রশংসা ও শুকরিয়া তাঁরই প্রাপ্য।
বিষয়টির অধ্যয়ন শুরু করার আগেই গবেষকের নিকট এর গুরুত্বের যে দিকগুলো প্রতীয়মান হয়েছিল:
১ ــ ব্যাকরণিক বাস্তবতা—অন্য যেকোনো বাস্তবতার মতোই—এর বিভিন্ন মাত্রা ও বহুমুখী দিক রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো সামাজিক দিক। কোনো চিত্রকে কেবল একটি কোণ থেকে দেখা এবং অন্য কোণগুলো উপেক্ষা করা মোটেও বস্তুনিষ্ঠতা নয়।
২ ــ এই বিষয়ে গভীরতা অর্জন আমাদের হাতকে যোগাযোগের প্রকৃত নিয়মনীতির ওপর স্থাপন করে এবং আমাদেরকে এমন কিছু স্থবির ও ভুল নিয়মের মুখোমুখি করে যা বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল, যেমনটি ড. আব্দুর রহমান সালেহ তাঁর পূর্ববর্তী নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন।
৩ ــ এই গবেষণাটি হবে আরবি ব্যাকরণের অন্যতম এক দিকপাল ও তাঁদের ইমামদের একজন ইমামকে নিয়ে। তাঁর কিতাবটি হলো "ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্বের ওপর রচিত গ্রন্থসমূহের মূল ভিত্তি", যেমনটি সুয়ূতী 'আল-ইকতিরাহ' গ্রন্থে বলেছেন। এই মনীষীর নিকট প্রেক্ষাপট ও ব্যাকরণিক নিয়মের মধ্যে সম্পর্কের অস্তিত্ব প্রমাণ করা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উদ্রেক করবে যে: কেন ব্যাকরণবিদগণ তাঁদের রচনাবলীতে এই সামাজিক দিকটি আরও স্পষ্টভাবে গুরুত্ব দেননি? এবং কেন তাঁদের সমস্ত মনোযোগ কেবল কারক-তত্ত্বের ওপর নিবদ্ধ ছিল?
৪ ــ এই বিষয়ের অধ্যয়ন শিক্ষামূলক
ও সাহিত্যিক ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ব্যবহারের পদ্ধতির ওপর আমাদের হাতকে স্থাপন করবে।
গবেষণার শিরোনাম নির্ধারিত হওয়ার পর গবেষক সীবাওয়াইহ-র কিতাব পাঠের সফর শুরু করেন। গবেষক নিজের ওপর এই অঙ্গীকার করেন যে, তিনি এই কিতাবটি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে, ধৈর্য ও মনোযোগের সাথে, গভীরভাবে ও গুরুত্ব সহকারে অধ্যয়ন করবেন। এই অধ্যয়ন হবে সজাগ দৃষ্টিতে এবং সাধ্যমতো বিচার-বুদ্ধি ও চিন্তাশীলতার সাথে মার্জিত। আল্লাহ জানেন এই সফর এবং এই পাঠ কতটা কষ্টসাধ্য ও কঠিন ছিল! কিতাবের বাক্যগুলোর রহস্য উন্মোচন এবং এর জটিল গ্রন্থিগুলো খোলার প্রচেষ্টায় গবেষককে কতই না সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে! গবেষক আজও স্মরণ করেন, কীভাবে তিনি কিতাবের একটিমাত্র পাঠ্যের সামনে দাঁড়িয়ে সীবাওয়াইহ কী বোঝাতে চেয়েছেন তা অনুধাবনের চেষ্টায় দিনের পুরোটা সময় ব্যয় করতেন।
গবেষক দীর্ঘ সময় নিয়ে কিতাবের পাঠ্যসমূহ অত্যন্ত ধীরলয়ে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি কিতাবের বাক্যগুলোকে বশ করার চেষ্টা করেছেন যেন সেগুলো তাদের প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করে এবং এর অন্তর্নিহিত জ্ঞান ও তাৎপর্য দান করে। গবেষক কিতাবের পাঠ্যগুলো গভীরভাবে চিন্তা করে এবং ডানে-বামে উল্টে-পাল্টে পাঠ করেছেন; কখনও তিনি সফল হয়েছেন, আবার কখনও রিক্তহস্তে ফিরে এসেছেন। এই যাত্রাপথে গবেষক আরও গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন এবং চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন যে: কেন উলামায়ে কেরাম সীবাওয়াইহ-র কিতাব পাঠ করা বা এর ব্যাখ্যা করাকে তাঁদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণাবলি বা কৃতিত্ব হিসেবে গণ্য করতেন?
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وبعد قراءتي لكتاب سيبويه أعتقد أَنَّه ما زال ثَرِيًّا بالأفكار، وأنَّ تلك الأفكار تنتظر من يُخرجها.
•
الدراسات السابقة:رُزِق كتاب سيبويه القبول من علماء الأمة وأئِمَّتِها، فكثرت حوله الدراسات والشروح والأبحاث التي لا يعلم عددها إلا الله، فهي من الكثرة بحيث تندُّ عن الحصر والإحصاء.
ولعلَّ أقرب الدراسات التي وقعت بين يدي وقريبة من بحثنا الأبحاث التالية:
1 ــ عناصر النظَرِيَّة النحوِيَّة في كتاب سيبويه محاولة لإعادة التشكيل في ضوء الاتجاه المعجمي الوظيفي، د. سعيد بحيري، مكتبة الأنجلو، ط 1، 1989 م
2 ــ التراكيب النحوِيَّة في كتاب سيبويه، محمد عطية محمد، رسالة دكتوراة، دار العلوم، 2002 م.
3 ــ ما خرج عن الفصحى في كتاب سيبويه وعلاقته بالأصول النحوِيَّة، متولي محمد، ماجستير دار العلوم، 2001 م.
4 ــ المسائل النحوِيَّة والصَّرْفِيَّة التي تحتمل وجهين أو أكثر في كتاب سيبويه: دراسة وتحليل ونقد رشيد بن حويل، دكتوراة، دار العلوم، 2003 م.
تلك أهم الدراسات التي وقعت بين يديَّ، وكما تشير عناوين هذه الأبحاث والرسائل فهي بعيدة بشكل ما عن موضوعنا.
•
منهج البحث في أثناء الدراسة:كانت الخطة التي انتهجتها لنفسي في عملي هنا هي أنَّني في أثناء جمع المادة العلميَّة أتَّبِعُ منهجا إِحْصَائِيًّا تجميعيًّا تصنيفيًّا تحليليًّا. فعند قراءتي للكتاب كنت أقف عند النصوص التي ألمح فيها علاقة بموضوع بحثي، وأحاول جُهْدي التثبُّتَ من صواب فهمي لهذا النَّصِّ أو ذاك ومدى ارتباطه بالبحث من خلال شرح المحقِّق حينا أو من الشروح التي وضعت للكتاب أحيانًا أخرى. وبعد الانتهاء من تحديد النصوص وإحصائها صنَّفْتُ كلَّ مجموعة نصوص مترابطة ومتشابهة مع بعضها بحسب
خطة البحث الموضوعة، ثُمَّ تحليل نصوص كلِّ مجموعة على حدى لاستخلاص أهم النتائج.
• خطة البحث:
تبدأ هذه الرسالة بتمهيد تناولت فيه التعريف بسيبويه: نشأته، وأسفاره العلميَّة، ووفاته. والتعريف بكتاب سيبويه ووقت تأليفه، والقيمة العلميَّة له، ومنهج سيبويه في هذا الكتاب كما لاحظه العلماءُ السابقون الذين درسوا الكتاب. كما تناول التمهيد أيضا تحديدَ أهمِّ المصطلحات المستخدمة
সিবওয়াইহ-এর কিতাবটি পড়ার পর আমি মনে করি যে, এটি এখনও চিন্তা ও ধারণায় সমৃদ্ধ এবং সেই ধারণাগুলো এমন কাউকে খুঁজছে যে তা উন্মোচন করবে।
•
পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:সিবওয়াইহ-এর কিতাবটি উম্মাহর আলেম ও ইমামদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, ফলে একে কেন্দ্র করে অসংখ্য অধ্যয়ন, ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও গবেষণা রচিত হয়েছে যার সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এগুলো এতই অধিক যে তা গণনা বা পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বে।
সম্ভবত আমার হাতে আসা এবং আমাদের গবেষণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিকটতম অধ্যয়নগুলো হলো নিম্নরূপ:
১ ── কিতাবু সিবওয়াইহ-এ ব্যাকরণতত্ত্বের উপাদানসমূহ: আভিধানিক-কার্যকরী ধারার আলোকে পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা, ড. সাঈদ বুহাইরি, মাকতাবাতুল আংলো, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ।
২ ── কিতাবু সিবওয়াইহ-এ ব্যাকরণিক গঠনশৈলী, মুহাম্মদ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ, পিএইচডি থিসিস, দারুল উলুম, ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ।
৩ ── কিতাবু সিবওয়াইহ-এ যা প্রমিত ভাষার (ফুসহা) বাইরে এবং ব্যাকরণিক মূলনীতির সাথে তার সম্পর্ক, মুতাওয়াল্লি মুহাম্মদ, মাস্টার্স থিসিস, দারুল উলুম, ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ।
৪ ── কিতাবু সিবওয়াইহ-এ ব্যাকরণিক ও রূপমূলতাত্ত্বিক মাসয়ালাসমূহ যা দুই বা ততোধিক দিক বহন করে: একটি পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ ও সমালোচনা, রাশিদ বিন হাইয়্যিল, পিএইচডি, দারুল উলুম, ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ।
এগুলোই আমার হাতে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যয়নসমূহ, এবং এই গবেষণা ও থিসিসগুলোর শিরোনাম যেমনটি নির্দেশ করছে, তা কোনো না কোনোভাবে আমাদের বিষয়বস্তু থেকে কিছুটা ভিন্ন।
•
অধ্যয়নকালীন গবেষণা পদ্ধতি:এখানে আমার কাজের ক্ষেত্রে আমি যে পরিকল্পনাটি গ্রহণ করেছি তা হলো, তথ্য সংগ্রহের সময় আমি একটি পরিসংখ্যানমূলক, সংগ্রহমূলক, শ্রেণিবিন্যাসগত এবং বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। কিতাবটি পড়ার সময় আমি সেই সব পাঠ্যের (নস) ওপর থেমেছি যেগুলোতে আমার গবেষণার বিষয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক লক্ষ্য করেছি। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এই বা সেই পাঠ্যটি সম্পর্কে আমার বোঝার সঠিকতা নিশ্চিত করতে এবং কখনো মুহাক্কিকের (সম্পাদক) ব্যাখ্যার মাধ্যমে আবার কখনো কিতাবটির ওপর লিখিত অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে গবেষণার সাথে এর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করতে। পাঠ্যগুলো নির্ধারণ ও পরিসংখ্যান শেষ করার পর, নির্ধারিত গবেষণা পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি প্রতিটি আন্তঃসম্পর্কিত ও সদৃশ পাঠ্যসমষ্টিকে শ্রেণিবিন্যস্ত করেছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো বের করার জন্য প্রতিটি সমষ্টির পাঠ্যগুলোকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করেছি।
• গবেষণা পরিকল্পনা:
এই থিসিসটি একটি উপক্রমণিকা দিয়ে শুরু হয়েছে যেখানে আমি সিবওয়াইহ-এর পরিচয় তুলে ধরেছি: তাঁর বেড়ে ওঠা, তাঁর জ্ঞানগর্ভ সফরসমূহ এবং তাঁর মৃত্যু। সেই সাথে সিবওয়াইহ-এর কিতাবটির পরিচয় ও এর রচনার সময়কাল, এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব এবং এই কিতাবে সিবওয়াইহ-এর অনুসৃত পদ্ধতি—যেমনটি কিতাবটি অধ্যয়নকারী পূর্ববর্তী আলেমগণ লক্ষ্য করেছেন—তা বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া উপক্রমণিকায় ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাসমূহ নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
في البحث: «السِّياق»، و «التَّقْعِيد النَّحْوِيّ»، و «التوجيه النَّحْوِيّ»، و «الأصل»، و «الغالب، الكثير القليل، الضعيف، الشاذ، الردئ». كما تناول بالمعالجة والبيان أهمِيَّة اعتبار السِّياق عند التَّقْعِيد لِلُّغَة وأهميته كذلك للتوجيه الإعرابِيّ، والنصوص المعتمد عليها في التَّقْعِيد عند سيبويه، والقواعد العلميَّة التي يجب مراعاتها عند القيام بالتَّقْعِيد عامة.
وكان من اللازم ابتداء عند إبراز دور السِّياق في التَّقْعِيد النَّحْوِيّ والتوجيه الإعرابِيّ عند سيبويه أَنْ نجيب أولا عن السؤال التالي: «هل كان سيبويه يقوم بتقعيده النَّحْوِيّ وتوجيهه الإعرابِيّ من خلال نصوص مكتوبة أم مسموعة؟ هل كان يقوم بهاتين العمليتين من خلال المطالعة لدواوين الشعراء وقراءة المصحف مثلا؟ أم كان يقوم بهاتين العمليتن من خلال السماع ومعايشة الحدث الكلامي نطقا وإنشادا؟ »، بعبارة أخرى: «ما الظروف والملابسات التي أحاطت بسيبويه عند تقعيده
وتوجيهه؟ ».
وإذا كان هذا التَّقْعِيد يتمُّ من خلال اللُّغَة الحَيَّة المنطوقة، فهل كان سيبويه يعتبر السِّياق الذي نُطقت فيه هذه النصوص أم لا؟ هل كان يعتمد على نظَرِيَّة العامل بشكل أساسي في كل قواعده؟ أم كانت هناك فسحةٌ لتدخُّل السِّياق في هذا التَّقْعِيد؟ وإذا كان هناك تدخلٌ للسياق في تقعيد سيبويه للقاعدة، فما الإجراءات التي كان يتبعها عند هذا التَّقْعِيد المرتبط بالسِّياق؟ وبعبارة أُخرى: ما المنهج الذي اتَّبَعه سيبويه عند تقعيده وتوجيهه؟
من خلال هذه الأسئلة وهذا التصور جاء عنوان الفصل الأول من موضوع البحث: «السياق والمنهج عند سيبويه»، المبحث الأول فيه بعنوان «سيبويه والسِّياق»، والمبحث الثاني «خطوات إجرائِيَّة ومنهجِيَّة قبل التَّقْعِيد النَّحْوِيّ والتوجيه الإعرابِيّ عند سيبويه».
وبإثبات أَنَّ سيبويه تَأَثَّرَ بالسِّياق عند تقعيده وتوجيهه؛ كان لا بد من تقديم أدلة علمِيَّة من كتاب سيبويه تثبت هذا التأثُّر على مستوى التوجيه وعلى مستوى التَّقْعِيد، فجاءت الفصول «الثاني والثالث والرابع» لتقديم هذه الإثباتات. فكان الفصل الثاني بعنوان «دور السِّياق في التوجيه الإعرابِيّ» وجاء الفصل الثالث بعنوان: «دور السِّياق في التَّقْعِيد النَّحْوِيّ عند سيبويه»، وتجمعت بين يدي الباحث مادة معقولة توضح تأثيرًا للسياق على الجانب الصَّرْفِيّ؛ فظهر الفصل الرابع من هذا البحث
بعنوان: «السِّياق والقواعد الصَّرْفِيَّة».
ومن أهم الفوائد العَمَلِيَّة التي يمكن أَنْ نخرج بها من إبراز علاقة سيبويه بالسِّياق تقعيدا وتوجيها، وذكر العديد من الأمثلة والنماذج من الكتاب التي تثبت هذه العلاقة ــ أهمِيَّةُ الدعوة إلى إعادة النظر في نظرية العامل وتضافر جهود العلماء لوضع نظَرِيَّة نحوِيَّة للعربية يكون لُحمتُها وسُدَاها السِّياق؛ لذلك أتى الفصل الخامس متضمنا هذه الدعوة، وكان عنوانه «السِّياق وسيبويه والنظَرِيَّة النحوِيَّة».
গবেষণায় আলোচিত হয়েছে: ‘প্রসঙ্গ’ (সিয়াক), ‘ব্যাকরণিক নিয়মায়ন’, ‘ব্যাকরণিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ’, ‘মূল ভিত্তি’, এবং ‘প্রবল, বহু-ব্যবহৃত, স্বল্প-ব্যবহৃত, দুর্বল, ব্যতিক্রমী ও নিকৃষ্ট’। পাশাপাশি ভাষার নিয়মায়নের ক্ষেত্রে প্রসঙ্গের গুরুত্ব এবং ব্যাকরণিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে এর গুরুত্ব, সিবওয়াইহ-এর নিয়মায়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত পাঠসমূহ এবং সাধারণ নিয়মায়নের সময় অনুসরণীয় বৈজ্ঞানিক মূলনীতিসমূহ আলোচনা ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সিবওয়াইহ-এর ব্যাকরণিক নিয়মায়ন ও কারকগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে প্রসঙ্গের ভূমিকা তুলে ধরার শুরুতে প্রথমেই নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আবশ্যক ছিল: ‘সিবওয়াইহ কি তাঁর ব্যাকরণিক নিয়মায়ন ও কারকগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ লিখিত পাঠের মাধ্যমে করতেন নাকি শ্রুত পাঠের মাধ্যমে? তিনি কি কবিদের কাব্যগ্রন্থ পাঠ এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই দুটি কাজ সম্পাদন করতেন? নাকি শ্রবণ এবং বাচনিক ও আবৃত্তিমূলক ভাষিক ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই কাজগুলো করতেন?’, অন্য কথায়: ‘সিবওয়াইহ-এর নিয়মায়ন ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সময়কার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট কী ছিল?’
যদি এই নিয়মায়ন জীবন্ত মৌখিক ভাষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে সিবওয়াইহ কি এই পাঠগুলো উচ্চারিত হওয়ার প্রেক্ষাপট বা প্রসঙ্গ বিবেচনা করতেন কি না? তিনি কি তাঁর সমস্ত নিয়মে মূলত ‘আমিল’ বা কারক-প্রদাতা তত্ত্বের ওপর নির্ভর করতেন? নাকি এই নিয়মায়নে প্রসঙ্গের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ ছিল? সিবওয়াইহ-এর নিয়মায়নে যদি প্রসঙ্গের কোনো প্রভাব থেকে থাকে, তবে প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট এই নিয়মায়নের ক্ষেত্রে তিনি কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেন? অন্য কথায়: সিবওয়াইহ তাঁর নিয়মায়ন ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন?
এই প্রশ্নাবলী ও ধারণার ভিত্তিতেই গবেষণার প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম নির্ধারিত হয়েছে: ‘সিবওয়াইহ-এর নিকট প্রসঙ্গ ও পদ্ধতি’, এর প্রথম পরিচ্ছেদের শিরোনাম ‘সিবওয়াইহ ও প্রসঙ্গ’ এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের শিরোনাম ‘সিবওয়াইহ-এর নিকট ব্যাকরণিক নিয়মায়ন ও কারকগত ব্যাখ্যার পূর্বে অনুসৃত পদ্ধতিগত ও প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপসমূহ’।
সিবওয়াইহ তাঁর নিয়মায়ন ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে প্রসঙ্গের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন—এটি প্রমাণের জন্য সিবওয়াইহ-এর ‘কিতাব’ থেকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য ছিল যা ব্যাখ্যা ও নিয়মায়ন উভয় স্তরেই এই প্রভাবকে প্রমাণ করে। ফলে এই প্রমাণাদি উপস্থাপনের জন্য ‘দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ’ অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম ছিল ‘কারকগত ব্যাখ্যায় প্রসঙ্গের ভূমিকা’ এবং তৃতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম ছিল: ‘সিবওয়াইহ-এর ব্যাকরণিক নিয়মায়নে প্রসঙ্গের ভূমিকা’। গবেষকের নিকট রূপতাত্ত্বিক (সারফ) ক্ষেত্রেও প্রসঙ্গের প্রভাব স্পষ্টকারী যথেষ্ট উপাদান একত্রিত হয়েছে; ফলে এই গবেষণার চতুর্থ অধ্যায়টি ‘প্রসঙ্গ ও রূপতাত্ত্বিক নিয়মাবলী’ শিরোনামে আত্মপ্রকাশ করেছে।
নিয়মায়ন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রসঙ্গের সাথে সিবওয়াইহ-এর সম্পর্ক তুলে ধরা এবং ‘আল-কিতাব’ থেকে এই সম্পর্ক প্রমাণকারী অসংখ্য উদাহরণ ও নমুনা উল্লেখ করার মাধ্যমে আমরা যেসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক সুফল পেতে পারি, তার মধ্যে অন্যতম হলো—‘আমিল’ বা কারক-প্রদাতা তত্ত্বটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো এবং আরবী ভাষার জন্য এমন একটি ব্যাকরণিক তত্ত্ব প্রণয়নে পণ্ডিতদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে উদ্বুদ্ধ করা যার মূল ভিত্তি ও কাঠামো হবে ‘প্রসঙ্গ’। একারণেই পঞ্চম অধ্যায়টি এই আহ্বান সম্বলিত হয়েছে এবং এর শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘প্রসঙ্গ, সিবওয়াইহ এবং ব্যাকরণিক তত্ত্ব’।
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كان هذا هو المخطط العام للرسالة، والتصور الذي بنى عليه الباحثُ خطته، وعليه جاءت خطة الرسالة كما يلي:
- التمهيد: وشمل:
• ترجمة لسيبويه ومنزلة كتابه.
• أهم المصطلحات العلميَّة المستخدمة في البحث.
• أهمِيَّة اعتبار السِّياق عند تحليل اللُّغَة ودراستها.
• النصوص المعتمد عليها في التَّقْعِيد.
• القواعد العلميَّة المراعاة عند التَّقْعِيد.
- الفصل الأول: «السياق والمنهج عند سيبويه»: وشمل مبحثين:
• الأول: سيبويه والسِّياق.
• والثاني: خطوات إجرائِيَّة ومنهجِيَّة قبل التوجيه الإعرابِيّ والتَّقْعِيد النَّحْوِيّ عند سيبويه.
- الفصل الثاني: «دور السِّياق في التوجيه الإعرابِيّ عند سيبويه»: ويشمل ثلاثة مباحث:
• الأول: أهمِيَّة السِّياق في التوجيهات النحوِيَّة عند سيبويه.
• الثاني: إثراء السِّياق للتوجيهات الإعرابِيّة والدِّلالِيَّة.
• الثالث: تَحَرُّك سيبويه بحُرِّيَّة في توجيهاته النحوِيَّة في حالة عدم اللَّبس.
- الفصل الثالث: «دور السِّياق في التَّقْعِيد النَّحْوِيّ عند سيبويه»: ويشمل خمسة مباحث:
• الأول: السِّياق والجملة الاسمِيَّة.
• والثاني: السِّياق والجملة الفعلِيَّة.
• الثالث: السِّياق والتوابع.
• الرابع: السِّياق والأساليب النحوِيَّة.
• الخامس: السِّياق والأدوات النحوِيَّة.
• السادس: سياق الحال والتنوين والتنكير والتعريف:
- الفصل الرابع: «السِّياق والقواعد الصَّرْفِيَّة»: ويشمل مبحثين:
• الأول: السِّياق ودلالة الفعل والمصادر والمشتقات.
• والثاني: السِّياق ومعاني الأوزان الصَّرْفِيَّة.
- الفصل الخامس: «السِّياق وسيبويه والنظَرِيَّة النحوِيَّة»: ويشمل مبحثين:
• الأول: تعريف مصطلح النظَرِيَّة.
• والثاني: النظَرِيَّة النحوِيَّة السِّياقِيَّة.
এটিই ছিল গবেষণাপত্রটির সাধারণ রূপরেখা এবং গবেষক যার ওপর ভিত্তি করে তাঁর পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী গবেষণাপত্রটির পরিকল্পনা নিম্নরূপ:
- উপক্রমণিকা: যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
• সিবওয়াইহ-এর জীবনী এবং তাঁর কিতাবের মর্যাদা।
• গবেষণায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় পরিভাষাসমূহ।
• ভাষা বিশ্লেষণ ও অধ্যয়নের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট বিবেচনার গুরুত্ব।
• ব্যাকরণিক নিয়ম প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য মূল পাঠ্যসমূহ।
• ব্যাকরণিক নিয়ম প্রণয়নের সময় অনুসৃত বৈজ্ঞানিক মূলনীতিসমূহ।
- প্রথম অধ্যায়: «সিবওয়াইহ-এর নিকট প্রেক্ষাপট ও কর্মপদ্ধতি»: এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
• প্রথম: সিবওয়াইহ এবং প্রেক্ষাপট।
• দ্বিতীয়: সিবওয়াইহ-এর নিকট ইরাবগত বিশ্লেষণ এবং ব্যাকরণিক নিয়ম প্রণয়নের পূর্ববর্তী কার্যপ্রণালী ও পদ্ধতিগত ধাপসমূহ।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: «সিবওয়াইহ-এর নিকট ইরাবগত বিশ্লেষণে প্রেক্ষাপটের ভূমিকা»: এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
• প্রথম: সিবওয়াইহ-এর নিকট ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে প্রেক্ষাপটের গুরুত্ব।
• দ্বিতীয়: ইরাবগত ও অর্থগত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটের সমৃদ্ধি।
• তৃতীয়: অস্পষ্টতা না থাকার ক্ষেত্রে সিবওয়াইহ-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বিচরণ।
- তৃতীয় অধ্যায়: «সিবওয়াইহ-এর নিকট ব্যাকরণিক নিয়ম প্রণয়নে প্রেক্ষাপটের ভূমিকা»: এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
• প্রথম: প্রেক্ষাপট ও নামবাচক বাক্য।
• দ্বিতীয়: প্রেক্ষাপট ও ক্রিয়াবাচক বাক্য।
• তৃতীয়: প্রেক্ষাপট ও অনুসারী শব্দসমূহ।
• চতুর্থ: প্রেক্ষাপট ও ব্যাকরণিক রীতিসমূহ।
• পঞ্চম: প্রেক্ষাপট ও ব্যাকরণিক অব্যয়সমূহ।
• ষষ্ঠ: অবস্থা, তানউইন, অনির্দিষ্টকরণ ও নির্দিষ্টকরণের প্রেক্ষাপট:
- চতুর্থ অধ্যায়: «প্রেক্ষাপট ও রূপমূলতত্ত্বের নিয়মাবলী»: এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
• প্রথম: প্রেক্ষাপট এবং ক্রিয়া, ক্রিয়ামূল ও উদ্ভূত শব্দসমূহের অর্থগত তাৎপর্য।
• দ্বিতীয়: প্রেক্ষাপট ও রূপমূলতাত্ত্বিক কাঠামোর অর্থসমূহ।
- পঞ্চম অধ্যায়: «প্রেক্ষাপট, সিবওয়াইহ এবং ব্যাকরণিক তত্ত্ব»: এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
• প্রথম: তত্ত্ব পরিভাষার সংজ্ঞা।
• দ্বিতীয়: প্রেক্ষাপট-ভিত্তিক ব্যাকরণিক তত্ত্ব।
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد بذل الباحثُ جُهْدَهُ في أَنْ يكون بنيان الرسالة سَوِيَّ الخَلْق ومترابط الأجزاء قدر
استطاعته.
وفي ختام كلامي، أسأل الله أَنْ أكون قد وفقت في بحثي هذا، وأَنْ يكون من العلم الذي يُنتفع به، وينفع الإسلام وأهله.
الطالب / إيهاب عبد الحميد عبد الصادق سلامة.
গবেষক তাঁর সাধ্যমতো এই গবেষণাপত্রের কাঠামোকে সুঠাম এবং এর অংশসমূহকে সুসংগত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তাঁর
সামর্থ্য অনুযায়ী।
আমার বক্তব্যের শেষে, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন আমি আমার এই গবেষণায় সফল হতে পারি এবং এটি যেন এমন এক ইলম হয় যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে পারে এবং যা ইসলাম ও এর অনুসারীদের কল্যাণে আসে।
ছাত্র / ইহাব আব্দুল হামিদ আব্দুল সাদিক সালামা।
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تمهيد
- ترجمة سيبويه:
o الاسم والنشأة والوفاة.
o أسفاره العلمِيَّة.
o شيوخه.
o منزلة سيبويه العلميَّة.
o كتاب سيبويه:
••وقت تأليفه.
••القيمة العلميَّة للكتاب.
••منهج الكتاب.
- أهم المصطلحات المستخدمة في البحث.
- أهمِيَّة اعتبار سياق الحال عند تحليل اللُّغَة ودراستها.
- النصوص المعتمد عليها في التَّقْعِيد.
- القواعد العلميَّة المراعاة عند تقعيد القاعدة.
প্রারম্ভিকা
- সিবওয়াইহ-এর জীবনী:
o নাম, জন্ম ও মৃত্যু।
o তাঁর জ্ঞানার্জনের সফরসমূহ।
o তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
o সিবওয়াইহ-এর জ্ঞানগত মর্যাদা।
o কিতাবু সিবওয়াইহ:
••রচনাকাল।
••গ্রন্থটির জ্ঞানগত গুরুত্ব।
••গ্রন্থের পদ্ধতি।
- গবেষণায় ব্যবহৃত প্রধান পরিভাষাসমূহ।
- ভাষা বিশ্লেষণ ও অধ্যয়নের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনার গুরুত্ব।
- মূলনীতি নির্ধারণে নির্ভরকৃত ভাষ্যসমূহ।
- মূলনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অনুসৃত ইলমি নিয়মাবলি।
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تمهيد-
ترجمة سيبويهo
الاسم والنشأة والوفاة:هو عمرو بن عثمان بن قَنْبَر، كنيته أبو بشر) أو أبو الحسن (، ولقبه سيبويه.
لم تُحَدِّد كتبُ التراجم عامَ مولده، وتذكر أَنَّهُ ولد في قرية يقال لها «البيضاء من قرى شيراز من عَمَل فارس» (1)، وأنَّه «قدِم البصرة وهو غلام» (2)، وكان «منشؤه بها» (3).
واضطربت المصادر في تحديد وقت وفاة سيبويه، وفي المكان الذي تُوفِّي فيه، وفي عمره وقت الوفاة:
- ففي العام الذي توفِّي فيه قيل إِنَّهُ توفِّي في «177 هـ» (4)، وقيل: «180 هـ» (5)، وقيل:
«160 هـ، وقيل: 188 هـ، وقيل: 194 هـ» (6). والأصوب أَنَّ تاريخ الوفاة هو 180 هـ؛ لأَنَّ «سيبويه مات قبل يُونُس، ويُونُس مات سنة 183 هـ» (7).
- وفي مكان وفاته، قيل: توفي في «البيضاء، وقيل: بالبصرة، وقيل: بساوة» (8).
--------------------------------------------
ভূমিকা-
সিবাওয়াইহের জীবনীo
নাম, জন্ম ও মৃত্যু:তিনি হলেন আমর ইবনে উসমান ইবনে কানবার, তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) হলো আবু বিশর (অথবা আবু হাসান) এবং তাঁর উপাধি সিবাওয়াইহ।
জীবনীগ্রন্থসমূহ তাঁর জন্মসাল নির্দিষ্ট করেনি, তবে উল্লেখ করে যে, তিনি "পারস্যের শিরাজ প্রদেশের আল-বায়দা নামক একটি গ্রামে" জন্মগ্রহণ করেন (১), এবং তিনি "বালক থাকাকালীন বসরায় আসেন" (২), এবং তাঁর "বেড়ে ওঠা সেখানেই" (৩)।
সিবাওয়াইহের মৃত্যুর সময়, স্থান এবং মৃত্যুর সময় তাঁর বয়সের ব্যাপারে উৎসসমূহে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়:
- তাঁর মৃত্যুর বছরের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তিনি "১৭৭ হিজরিতে" মৃত্যুবরণ করেন (৪), আবার বলা হয়েছে: "১৮০ হিজরি" (৫), এবং আরও বলা হয়েছে:
"১৬০ হিজরি, কেউ বলেছেন: ১৮৮ হিজরি, আবার কেউ বলেছেন: ১৯৪ হিজরি" (৬)। সঠিক মত হলো তাঁর মৃত্যুর তারিখ ১৮০ হিজরি; কারণ "সিবাওয়াইহ ইউনুসের পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আর ইউনুস মৃত্যুবরণ করেন ১৮৩ হিজরিতে" (৭)।
- তাঁর মৃত্যুর স্থানের ব্যাপারে বলা হয়েছে: তিনি মৃত্যুবরণ করেন "আল-বায়দাতে, আবার বলা হয়েছে: বসরায়, আবার কেউ বলেছেন: সাওয়াহ-তে" (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
- وأما عن عمره وقت وفاته فقيل: «توفي عن 32 عاما، وقيل: توفي وله نَيِّف
وأربعون» (1). وقد صحَّح ياقوتُ التحديدَ الأخير (2).
o
أسفاره العلميَّة:لعلَّه من المفيد لبحثنا تتَبُّع البيئة) أو البيئات (العلميَّة التي نشأ فيها سيبويه، وتردَّد عليها فلا شك أَنَّ البيئة العلميَّة بما فيها من خلفيَّات ثقافيَّة وفكرية تؤثِّر في مَنْ يحيا بها، وتؤثر بالضرورة في إنتاجه العلمي، وكما يقول الفلاسفة: «إِنَّهُ لا سبيل لنا إلى فهم تاريخ الأعمال إِنْ لم نرجع أولا وقبل كل شيء إلى تاريخ الأفكار» (3).
تشير كتب التراجم إلى ثلاثة أماكن تردَّدَ بينها سيبويه ولم تذكر سواها، وهي:
1 ــ البيضاء من قرى شِيراز من عَمَل فارس. وتلك القرية شهدت مولده وفترة قصيرة من صباه، وشهدت أيضا ختام حياته ووفاته.
2 ــ البصرة، وهي المدينة التي «قدِم إليها وهو غلام، وبها أكمل دراساته وأتمَّ كتابه» (4)، فالبصرة هي المدينة التي «نشأ بها» (5)، وقضى بها جلَّ عمره؛ بل إِنَّ القِفْطِي نقل عن أحد العلماء قوله أَنَّهُ «من أهل البصرة» (6)؛ وهذا يعني أَنَّ تكوينه العلميّ والثقافيّ اكتمل واختمر بالبصرة.
وقد تميزت البصرة بخصوصية جغرافية أدَّت إلى «تَفَرُّدِها» بطابع ثقافيّ مُعَيَّن؛ فقد «أفاد نحاة البصرة من موقع مدينتهم أعظم إفادة؛ فكانوا يرحلون إلى البادية تارة، ويستقبلون الأعراب القادمين من البادية إلى مدينتهم تارة أخرى
… أَمَّا قدوم الأعراب من البادية إلى البصرة فقد ظهر في صور متعددة، فمنهم من كان يمكث فترة قصيرة، ومنهم من كان يمكث فترة طويلة، ثُمَّ يعود إلى باديته، ومنهم من كان يطيب له المقام فلا يعود، وكان طلاب اللُّغَة وآدابها يُقْبلون على هؤلاء الأعراب للاستماع إليهم، وأخذ اللُّغَة عنهم» (7).
--------------------------------------------
আর তাঁর মৃত্যুর সময়ের বয়স সম্পর্কে বলা হয়েছে: «তিনি ৩২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, আবার বলা হয়েছে: তিনি চল্লিশের কিছু বেশি বছর বয়সে মারা যান» (১)। ইয়াকুত শেষোক্ত নির্ধারণটিকেই সঠিক বলে গণ্য করেছেন (২)।
o
তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরসমূহ:আমাদের গবেষণার প্রয়োজনে সম্ভবত সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশ বা পরিবেশসমূহ অনুসন্ধান করা ফলপ্রসূ হবে যেগুলোতে সিবওয়াইহ বেড়ে উঠেছেন এবং যেখানে তিনি যাতায়াত করেছেন। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাংস্কৃতিক ও চিন্তাগত পটভূমিসহ জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশ সেখানে বসবাসকারীর ওপর প্রভাব ফেলে এবং অনিবার্যভাবে তার জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডের ওপরও প্রভাব বিস্তার করে। যেমনটি দার্শনিকরা বলেন: «কর্মের ইতিহাস বোঝার জন্য আমাদের কাছে কোনো পথ নেই যদি না আমরা সর্বপ্রথম এবং প্রধানত চিন্তার ইতিহাসের দিকে ফিরে না যাই» (৩)।
জীবনসংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ (তরাজিম) তিনটি স্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে যেগুলোর মধ্যে সিবওয়াইহ যাতায়াত করেছেন এবং সেগুলো ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের কথা উল্লেখ করেনি; সেগুলো হলো:
১ ــ বায়দা: এটি পারস্যের (ফারস) অন্তর্গত শিরাজের গ্রামগুলোর মধ্যে একটি। এই গ্রামটি তাঁর জন্ম এবং শৈশবের একটি স্বল্প সময়ের সাক্ষী ছিল, এবং এটি তাঁর জীবনের সমাপ্তি ও মৃত্যুরও সাক্ষী ছিল।
২ ــ বসরা: এটি সেই শহর যেখানে তিনি «বালক বয়সে এসেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর পড়াশোনা সম্পন্ন করেছিলেন ও তাঁর কিতাব সমাপ্ত করেছিলেন» (৪)। বসরা হলো সেই শহর যেখানে তিনি «বেড়ে উঠেছেন» (৫) এবং তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছেন; বরং আল-কিফতি জনৈক আলেমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে, তিনি «বসরার অধিবাসী ছিলেন» (৬); এর অর্থ হলো তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক গঠন বসরাতেই পূর্ণতা ও পরিপক্কতা লাভ করেছিল।
বসরা এক ভৌগোলিক বিশেষত্বের কারণে স্বতন্ত্র ছিল, যা তাকে একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যে «অনন্য» করে তুলেছিল; «বসরার ব্যাকরণবিদগণ তাঁদের শহরের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ ফায়দা গ্রহণ করেছিলেন; তাঁরা কখনো মরুভূমির (বাদিয়া) দিকে সফর করতেন, আবার কখনো মরুভূমি থেকে তাঁদের শহরে আসা বেদুইনদের অভ্যর্থনা জানাতেন
… মরুভূমি থেকে বসরায় বেদুইনদের আগমনের বিষয়টি বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেয়েছিল; তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করত, আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পর নিজের মরুভূমিতে ফিরে যেত, আর কারো কাছে সেখানে বসবাস করাটি মনোরম মনে হতো বিধায় সে আর ফিরে যেত না। ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীরা এই বেদুইনদের কাছে তাদের কথা শোনার জন্য এবং তাদের কাছ থেকে ভাষা গ্রহণ করার জন্য আসত» (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكانت البصرة «مرفأ تجاريًّا للعراق على الخليج العربي؛ فنزلتها عناصر أجنبيَّة كثيرة، ساعدت على اتصالها بالثقافات الأجنبية، وبفلسفة اليونان، وما وضعه أرسططاليس من المنطق وحدوده وأقيسته
… ؛ وعلى ذلك كان طبيعِيًّا أَنْ تختلط الدراسات اللُّغَوِيَّة بمباحث الفلسفة، وأَنْ يهتمَّ النَّحْوِيّون بالجانب الفلسفي المنطقي في وضع قواعدهم») (1).
ولأمر ما «سُمِّيَ نحاةُ البصرة بأهل المنطق، ولهذه التسمية ما لها من دلالة») (2). ويقرِّرُ الأستاذ أحمد أمين أَنَّ العراقيين ــ بوجه عام ــ «بزُّوا الحجازيِّين في الرأي وهو ما يسمى القياس») (3)، وأنَّ القياس قد لعب «دورا كبيرا في العصر العباسيّ، وشغل حيزا كبير من العلوم؛ فالقياس في أصول الفقه، وفي فقه اللُّغَة وفي النحو وفي المنطق»، كما توسعوا في «التعليل العقلي والتوسع في الاستنباط، والدِّقَّة في استخراج وجوه الشبه ووجوه الفروق») (4). وقد ظهر تأثيرٌ واضحٌ وجليٌّ لبيئة البصرة على سيبويه، تأثيرٌ له أماراته الجليَّة وآياته الظاهرة وشواهده الصادقة لمن تأمَّلَ ودقَّقَ في الكتاب.
3 ــ بغداد، وكانت زيارته لها زيارة عابرة؛ إذ وفدها «يطلب الشهرة في دار الخلافة؛ فناظره الكسائي مؤدِّب الأمين بن الرشيد في مسألة الزنبور وغلبه الكسائي؛ فعاد إلى وطنه فارس ومات
هناك» (5).
o
شيوخه:لا تضم قائمة أسماء شيوخ سيبويه كثيرا من الأسماء، وتحدثنا كتب التراجم أَنَّ منهم:
«حَمَّادَ بنَ سَلَمَة، يُونُس بن حبيب، أبا الخطاب الأخفش الكبير، عيسى بن عمر الثَّقَفِي») (6).
--------------------------------------------
এবং বসরা ছিল "পারস্য উপসাগরে ইরাকের একটি বাণিজ্যিক বন্দর; ফলে সেখানে অনেক বিদেশি উপাদানের আগমন ঘটেছিল, যা তাকে বিদেশি সংস্কৃতি, গ্রিক দর্শন এবং এরিস্টটল কর্তৃক প্রণীত যুক্তিবিদ্যা (মনতিক), এর সীমা ও অনুমানসমূহের (কিয়াস) সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করেছিল...; আর একারণেই ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যয়নের সাথে দার্শনিক আলোচনার সংমিশ্রণ ঘটা স্বাভাবিক ছিল, এবং ব্যাকরণবিদদের তাদের নিয়মাবলি প্রণয়নে দার্শনিক ও যৌক্তিক দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করাও ছিল স্বাভাবিক") (১)।
এবং কোনো এক বিশেষ কারণে "বসরার ব্যাকরণবিদদের যুক্তিবিদ হিসেবে অভিহিত করা হতো, আর এই নামকরণের একটি নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে") (২)। এবং অধ্যাপক আহমদ আমিন স্থির করেছেন যে ইরাকিরা —সাধারণভাবে— "মতামতের ক্ষেত্রে হিজাজিদের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল, যাকে কিয়াস (অনুমান) বলা হয়") (৩)। এবং এই কিয়াস "আব্বাসীয় যুগে এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছিল এবং বিজ্ঞানের একটি বড় অংশ দখল করেছিল; কারণ কিয়াস উসুলুল ফিকহ, ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ এবং যুক্তিবিদ্যায় বিদ্যমান ছিল", যেমন তারা "যৌক্তিক কারণ নির্ণয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিস্তার, আর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো বের করার ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতার প্রসার ঘটিয়েছিলেন") (৪)। সিবওয়াইহর ওপর বসরার পরিবেশের এক স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান প্রভাব ফুটে উঠেছে, যে প্রভাবের সুস্পষ্ট লক্ষণ, প্রকাশ্য নিদর্শন এবং সত্য সাক্ষ্য বিদ্যমান রয়েছে তাদের জন্য যারা 'আল-কিতাব' (সিবওয়াইহর বই) নিয়ে গভীর চিন্তা ও গবেষণা করেন।
৩ — বাগদাদ, সেখানে তার সফর ছিল সংক্ষিপ্ত; যেহেতু তিনি "খিলাফতের রাজধানীতে প্রসিদ্ধি অর্জনের উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন; তখন রশীদের পুত্র আমীনের শিক্ষক আল-কিসাঈ 'যুনবুর' (ভিমরুল) মাসআলা নিয়ে তার সাথে বিতর্ক করেন এবং কিসাঈ জয়লাভ করেন; ফলে তিনি তার স্বদেশ পারস্যে ফিরে যান এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেন"
সেখানেই" (৫)।
o
তাঁর উস্তাদবৃন্দ:সিবওয়াইহর উস্তাদদের নামের তালিকায় খুব বেশি নাম নেই, এবং জীবনীগ্রন্থগুলো আমাদের জানায় যে তাদের মধ্যে রয়েছেন:
"হাম্মাদ বিন সালামাহ, ইউনুস বিন হাবীব, আবুল খাত্তাব আল-আখফাশ আল-কাবীর, ঈসা বিন উমর আস-সাকাফী") (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
ويمكن أَنْ نفسر اقتصار كتب التراجم على ذكر هؤلاء العلماء كشيوخ لسيبويه بسببين:
- إمَّا لقِلَّة أسفار سيبويه العلميَّة، ومحدوديَّة تنقلاته كما أسلفنا.
- وإمَّا أَنَّ هؤلاء العلماء والأشياخ هم أكثر من لازمهم سيبويه، وأكثر من جلس إليهم، وهذا هو الراجح؛ إذ المادة العلميَّة التي في الكتاب مادة ضخمة ناضجة، تحتاج إلى جهد عدد كبير من العلماء؛ فلا بدَّ من أَنَّه قد جالس غيرهم.
على أَنَّ أعظم شيوخه قاطبةً الخليل بن أحمد الفُرهودي، فيلسوف دولة الإسلام كما قال
ياقوت (1). وتُحدِّثُنا كتب التراجم أَنَّ العلاقة توثَّقَت بين الرجلين، وكان سيبويه أحبَّ تلاميذه إليه، يحسن استقباله قائلا: «مرحبًا بزائر لا يُمَلُّ» (2)، لا يقولها إلا إليه. وسمح هذا الحبُّ أَنْ يلازم سيبويهُ الخليلَ، وأن «يصنِّف كتابا من ألف ورقة من علم الخليل» (3)، وأَنْ يكون «أثبت من حمل عن الخليل بن أحمد» (4)، بل أَنْ يكون أبرع تلامذة الخليل في النحو (5).
وكان تأثير الخليل على سيبويه وكتابه عظيما، ولقد نقل العلماء جانبا من هذا التأثير فقالوا:
1 ــ «سيبويه حامل علم الخليل وأوثق الناس في الحكاية عنه» (6).
2 ــ «عامة الحكاية في كتاب سيبويه عن الخليل» (7).
3 ــ «كان سيبويه الفارسي أشهر تلاميذ الخليل، ومصنِّف أول كتاب جمع ما ابتكره الخليل إلى محصول الباحثين السابقين» (8).
--------------------------------------------
জীবনীগ্রন্থগুলোতে সিবওয়াইহের শিক্ষক হিসেবে কেবল এই আলেমদের উল্লেখ থাকার সীমাবদ্ধতাকে আমরা দুটি কারণে ব্যাখ্যা করতে পারি:
- প্রথমত, সিবওয়াইহের ইলমী সফরের স্বল্পতা এবং তার যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
- অথবা এই আলেম ও শিক্ষকগণ ছিলেন তারা, যাদের সাথে সিবওয়াইহ অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন এবং যাদের মজলিসে তিনি বেশি বসেছেন। আর এটাই অধিক যুক্তিযুক্ত; কেননা 'আল-কিতাব'-এ বিদ্যমান ইলমী উপাদানসমূহ অত্যন্ত বিশাল ও পরিপক্ক, যা বিপুল সংখ্যক আলেমের প্রচেষ্টার মুখাপেক্ষী; সুতরাং নিশ্চিতভাবেই তিনি অন্যদের মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন।
তবে তার সকল শিক্ষকের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন খলীল ইবন আহমদ আল-ফুরাহীদী, যাকে ইয়াকুত 'ইসলামী রাষ্ট্রের দার্শনিক' হিসেবে অভিহিত করেছেন (১)। জীবনীগ্রন্থগুলো আমাদের জানায় যে, এই দুই ব্যক্তির মাঝে অত্যন্ত সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সিবওয়াইহ ছিলেন তার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র; তিনি তাকে এই বলে উত্তমরূপে অভ্যর্থনা জানাতেন: «স্বাগতম এমন এক দর্শনার্থীকে, যার উপস্থিতিতে বিরক্তি আসে না» (২)। তিনি কেবল সিবওয়াইহকেই এটি বলতেন। এই ভালোবাসাই সিবওয়াইহকে খলীলের সাথে সার্বক্ষণিক লেগে থাকার সুযোগ করে দেয় এবং তিনি «খলীলের ইলম থেকে এক হাজার পৃষ্ঠার একটি কিতাব সংকলন করেন» (৩)। তিনি ছিলেন «খলীল ইবন আহমদ থেকে বর্ণনা ও ইলম গ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য» (৪), বরং নাহু শাস্ত্রে খলীলের ছাত্রদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে দক্ষ (৫)।
সিবওয়াইহ এবং তার কিতাবের ওপর খলীলের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। আলেমগণ এই প্রভাবের কিছু দিক বর্ণনা করে বলেছেন:
১ ــ «সিবওয়াইহ হলেন খলীলের ইলমের বাহক এবং তার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য» (৬)।
২ ــ «সিবওয়াইহের কিতাবের অধিকাংশ বর্ণনা খলীলের পক্ষ থেকে» (৭)।
৩ ــ «সিবওয়াইহ আল-ফারিসী ছিলেন খলীলের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছাত্র এবং তিনি প্রথম এমন একটি কিতাব সংকলনকারী, যা খলীলের উদ্ভাবনসমূহকে পূর্ববর্তী গবেষকদের অর্জিত জ্ঞানের সাথে সমন্বিত করেছে» (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
4 ــ «
… زعموا أَنَّ للخليل ثلاثة أياد عند العرب كبار لم يسدِ مثلها إليهم عربيٌّ منهم: أحدها ما نهج لتلميذه سيبويه من التأتي لتأليف كتابه حتى علّمه كيف يفرّق جمهور النحو أبوابا، وتُجَنَّسُ الأبوابُ أجناسا، ثُمَّ تنوع الأجناس أنواعا حتى أخرجه معجز التأليف؛ فَقَيَّدَ به على العرب منطقهم؛ حتى سلم أعقابهم للإعراب وتقويم اللسان من هُجْنَة اللحن وخطأ القول» (1).
5 ــ «اجتمع على صنعة كتاب سيبويه اثنان وأربعون إنسانا منهم سيبويه، والأصول والمسائل للخليل» (2).
ومجموع هذه النقول وخاصة الأخير منها يُعَبِّر عن «حقيقة علمِيَّة حتمية، وهي أَنَّ كتاب سيبويه إِنَّمَا هو لقاح جهود النُّحَاة الذين سبقوه؛ إذ لا يعقل أَنْ يبدع سيبويه هذا العلم المتكامل دون أَنْ يفيد من تلك الجهود الأصيلة التي رسمت كثيرا من أصول النحو ومسائله ومقاييسه وعلله» (3).
وقد سجل سيبويه بنفسه بعض الحوارات التي دارت بينه وبين الخليل، فكان سيبويه يسأل والخليل يجيب، ولعل أطول هذه الحوارات الحوار الذي دار في الكتاب في باب النداء) (4).
وإثبات العلماء لهذا التأثير ونصِّهم عليه أمر له تَبِعاته العلميَّة، فما يُسْتخلَص من نتائج في هذا البحث لن يكون خالصا لسيبويه من دون الخليل، والمقولة الخطيرة التي أوردها ياقوت في نصه السابق من نهج الخليل الطريق لكتاب سيبويه تؤكد على أحقيته في هذه النتائج، وأنَّه سبب فيها.
o
منزلة سيبويه العلميَّة:كان سيبويه نسيجَ وحدِهِ، منقطع النظير، لا تُفْتَحُ العينُ على مثله، من أعلم الناس باللُّغَة؛ قال الزجاج: «إذا تأملت الأمثلة في كتاب سيبويه تبيَّنت أَنَّهُ أعلم الناس باللُّغَة» (5). وكان «غاية الخلق في النحو» (6)؛ قال ابن خلكان: «كان أعلم المتقدمين والمتأخرين بالنحو، ولم يوضع فيه مثل كتابه. وذكره الجاحظ يوما فقال: لم يكتب الناس في النحو مثله، وجميع كتب الناس عليه
--------------------------------------------
৪ ــ «
… তারা দাবি করেন যে, আরবদের নিকট খলীলের তিনটি বড় অবদান রয়েছে যার সমতুল্য কোনো আরব ব্যক্তি তাদের নিকট পেশ করতে পারেনি: তার একটি হলো, তিনি তার ছাত্র সিবওয়াইহ-কে তার কিতাব রচনার পথ দেখিয়ে দেন, এমনকি তাকে শিখিয়ে দেন কীভাবে নাহুর মূল বিষয়গুলোকে অধ্যায়ে বিভক্ত করতে হয় এবং অধ্যায়গুলোকে শ্রেণিতে বিন্যস্ত করতে হয়, অতঃপর শ্রেণিগুলোকে উপ-শ্রেণিতে বৈচিত্র্যময় করতে হয়, যতক্ষণ না এটি একটি অলৌকিক রচনা হিসেবে প্রকাশ পায়; এর মাধ্যমে তিনি আরবদের ভাষাগত যুক্তিকে সুসংহত করেন; যার ফলে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম ই’রাব এবং জিহ্বা সংশোধনের ক্ষেত্রে ভাষাগত জড়তা ও বাচনিক ত্রুটি থেকে রক্ষা পায়» (১)।
৫ ــ «সিবওয়াইহ-এর কিতাবটি তৈরির কাজে সিবওয়াইহসহ বিয়াল্লিশ জন মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন, আর এর মূলনীতি ও মাসআলাসমূহ ছিল খলীলের পক্ষ থেকে» (২)।
এই সকল উদ্ধৃতি এবং বিশেষ করে শেষোক্তটি একটি «অপরিহার্য বৈজ্ঞানিক সত্য প্রকাশ করে, আর তা হলো সিবওয়াইহ-এর কিতাব মূলত তার পূর্ববর্তী নাহুবিদদের প্রচেষ্টার ফসল; কেননা সিবওয়াইহ-এর পক্ষে সেই সকল মৌলিক প্রচেষ্টা থেকে উপকৃত না হয়ে এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান সৃষ্টি করা অসম্ভব ছিল, যা নাহুর অনেক মূলনীতি, মাসআলা, পরিমাপক ও কারণসমূহ নির্ধারণ করে দিয়েছিল» (৩)।
সিবওয়াইহ নিজেই তার এবং খলীলের মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু কথোপকথন লিপিবদ্ধ করেছেন; সিবওয়াইহ প্রশ্ন করতেন এবং খলীল উত্তর দিতেন। সম্ভবত এসব কথোপকথনের মধ্যে দীর্ঘতমটি হলো কিতাব-এর 'বাবুন্ নিদা' (সম্বোধন অধ্যায়)-তে বর্ণিত কথোপকথনটি (৪)।
আলেমদের এই প্রভাবের স্বীকৃতি এবং এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য একটি বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বহন করে। সুতরাং এই গবেষণায় যে ফলাফলগুলো পাওয়া যাবে তা খলীলকে বাদ দিয়ে কেবল সিবওয়াইহ-এর একার হবে না। ইয়াকুত তার পূর্বোক্ত পাঠ্যে খলীল সিবওয়াইহ-এর কিতাবের পথ দেখিয়েছেন বলে যে গুরুত্বপূর্ণ উক্তিটি করেছেন, তা এই ফলাফলগুলোতে তার অধিকারকে নিশ্চিত করে এবং প্রমাণ করে যে তিনি এর নেপথ্য কারণ।
o
সিবওয়াইহ-এর বৈজ্ঞানিক মর্যাদা:সিবওয়াইহ ছিলেন অনন্য ও অতুলনীয়, যার সমকক্ষ কারো দিকে চোখ পড়ে না, তিনি ছিলেন ভাষাতত্ত্বে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী; আজ-জাজ্জাজ বলেন: «যদি তুমি সিবওয়াইহ-এর কিতাবের উদাহরণগুলো পর্যবেক্ষণ করো, তবে তোমার কাছে স্পষ্ট হবে যে তিনি ভাষাতত্ত্বে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী» (৫)। তিনি ছিলেন «নাহুশাস্ত্রে সৃষ্টির চূড়ান্ত শিখর» (৬); ইবনুন খাল্লিকান বলেন: «তিনি নাহুশাস্ত্রে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিলেন এবং এর ওপর তার কিতাবের মতো আর কিছু রচিত হয়নি। জাহিজ একদিন তার কথা উল্লেখ করে বলেন: নাহুশাস্ত্রে মানুষ তার মতো কিছু লেখেনি এবং মানুষের সকল কিতাব এর ওপর নির্ভরশীল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عيال» (1). وأصبح اسمه بمرور الأيام «صفة غير محضة» ــ إِنْ جاز هذا التعبير ــ على من برع في النحو؛ فيقال عنه «هو سيبويه عصره» (2).
وكان ثقة صدوقا يتثبَّت من أحكامه قبل أَنْ يلقيها (3)؛ فعندما سُئِل الأخفش سعيد بن مسعدة عن الثقة المأمون المقدم من أصحاب الخليل الذي يوثق بعلمه قال: «النَّضْر بن شُمَيْل، وسيبويه، ومُؤَرِّج السَّدُوسي» (4).
o
كتاب سيبويه:لا يجوز أَنْ يكون هناك حديث عن سيبويه ولا يُتَصَوَّرُ أَنْ يكون هناك حديث يصاحب ذلك عن مُؤَلَّفِهِ «الكتاب» وخاصة أَنَّ عليه المُعْتَمَد في دراستنا هنا. هذا المُؤَلَّفُ الذي استوعب أصول علم النحو، وأحاط بفروعه أو كاد، لم يُصَنَّف في بابه أجمع منه، ولا أرصف تعبيرا، ولا أمتن سردا.
•
وقت تأليفه:من المهم أَنْ نقف على وقت تأليف الكتاب؛ لأَنَّ لذلك قيمة علمِيَّة؛ فليس ما يكتبه العلماء في الشَّبِيبَة والحداثة مثل ما يكتبونه في مختتم أعمارهم.
ولا نجد أَيَّةَ إشارة تعيننا على تحديد وقت مُحَدَّد لتأليف الكتاب. ولكن من خلال التأمُّل في نصوص الكتاب نفسه، وما ضممتُه إليها من بعض المعلومات التاريخِيَّة من كتب التراجم يمكن أَنْ نستنبط أَنَّهُ كتبه في أواخر حياته، أو على الأَقَلّ في آخر خمس سنوات منها (5).
--------------------------------------------
পরিবারভুক্ত ব্যক্তি (১)। দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তার নামটি—যদি এই অভিব্যক্তিটি ব্যবহার করা যায়—ব্যাকরণ শাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তিদের জন্য একটি ‘পরোক্ষ গুণবাচক বিশেষণে’ পরিণত হয়েছে; ফলে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়, ‘তিনি তার যুগের সিবওয়াইহ’ (২)।
তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন এবং কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের পূর্বে তা যাচাই করে নিতেন (৩)। যখন আখফাশ সাঈদ বিন মাসআদাহকে খলিলের সাথীদের মধ্যে এমন নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত এবং অগ্রগণ্য ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার ইলমের ওপর আস্থা রাখা যায়, তখন তিনি বলেছিলেন: ‘আন-নাদর বিন শুমাইল, সিবওয়াইহ এবং মুআররিজ আস-সাদুসি’ (৪)।
o
কিতাব সিবওয়াইহ:সিবওয়াইহ সম্পর্কে আলোচনা হবে অথচ তার রচিত গ্রন্থ ‘আল-কিতাব’ সম্পর্কে কোনো আলোচনা থাকবে না—এমনটি হতে পারে না এবং তা কল্পনাও করা যায় না; বিশেষত আমাদের বর্তমান এই গবেষণায় এর ওপরই নির্ভর করা হয়েছে। এই গ্রন্থটি ব্যাকরণ শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহকে আত্মস্থ করেছে এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলোকে প্রায় পরিপূর্ণভাবে বেষ্টন করে নিয়েছে। এই বিষয়ের ওপর এর চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ, প্রকাশভঙ্গিতে এর চেয়ে অধিক সুনিপুণ এবং বর্ণনাশৈলীতে এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি।
•
এটি রচনার সময়কাল:এই গ্রন্থটি রচনার সময়কাল সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এর একটি বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মূল্য রয়েছে। কেননা উলামায়ে কেরাম যৌবনকালে ও জীবনের শুরুতে যা লিখেন, তা জীবনের শেষভাগে রচিত গ্রন্থের মতো হয় না।
এই গ্রন্থটি রচনার সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার জন্য আমরা কোনো ইঙ্গিত খুঁজে পাই না। তবে খোদ গ্রন্থের পাঠ্যবিষয় এবং এর সাথে জীবনীগ্রন্থগুলো থেকে সংগৃহীত কিছু ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, তিনি এটি জীবনের শেষভাগে অথবা অন্তত জীবনের শেষ পাঁচ বছরের মধ্যে লিখেছিলেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذا يعني أَنَّ الكتاب ألفه صاحبه وهو في قمة نضجه العلمي والفكري، وضمَّنه لما وقف عليه من شتيت الفوائد، ومنثور المسائل، وما بدا له من أصول وفروع، وتمحيص الحقائق واستبطان الدخائل؛ فأتى الكتاب محكم السبك مستوٍ على سوقه يعجب من يقرؤه.
وكان هذا التأليف بعد موت الخليل، بدليل إشارة سيبويه في كتابه: «وحدَّثني من لا أتَّهم عن الخليل
… ») (1). ففي هذا القول دليل على أَنَّ تأليف الكتاب كان بعد وفاة الخليل ــ رحمه الله ــ؛ إذ لو كان حيا وقتها لراجعه في هذه المسألة التي كان يبحثها. ويستنبط د. على النجدي من خلال بعض الإشارات في الكتاب استنباطا غير مؤكد أَنَّ سيبويه بدأ تأليف الكتاب في حياة الخليل وأكمله بعد وفاته) (2).
•
القيمة العلميَّة للكتاب:نال «الكتاب» من مدائح العلماء وثنائهم الكثير والكثير، فقد أفرغه صاحبه في قالب الكمال، ولا تُفْتَحُ العين على أتمَّ منه حسنًا في بابه، وأصبحت كلمة «الكتاب» ــ كما يقول الزَّمَخْشَرِيّ ــ إذا أفردت بالحديث علمًا على «كتاب سيبويه») (3)؛ وقد قال العلماء فيه:
1 ــ قال السيرافي: «عمل سيبويه كتابه الذي لم يسبقه إلى مثله أحد» (4).
2 ــ وكان المُبَرد يقول لمن أراد أَنْ يقرأ عليه كتاب سيبويه «أركبت البحر؟ » (5) تعظيما واستصعابا
3 ــ وذكر صاعد بن أحمد الجُبَّائِي ــ من أهل الأندلس ــ: «لا أعرف كتابا أُلف في علم من العلوم قديمها وحديثها؛ فاشتمل على جميع ذلك العلم وأحاط بأجزاء ذلك الفن غير ثلاثة كتب
… والثالث: كتاب سيبويه» (6).
--------------------------------------------
এর অর্থ হলো, কিতাবটি এর লেখক এমন এক সময়ে রচনা করেছেন যখন তিনি তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতার শীর্ষে ছিলেন। তিনি এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন তাঁর নিকট স্পষ্ট হওয়া বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত ফায়দা, ছড়িয়ে থাকা মাসআলা এবং এর মূল ও শাখা বিষয়সমূহ। পাশাপাশি এতে সত্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও রহস্যের উদঘাটন ঘটেছে; ফলে কিতাবটি অত্যন্ত সুসংহতভাবে তৈরি হয়েছে এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা পাঠকারীকে মুগ্ধ করে।
আর এই রচনা ছিল খলীলের মৃত্যুর পর, যার প্রমাণ সীবাওয়াইহ-এর কিতাবের এই ইশারা: «এবং খলীল থেকে আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যাকে আমি অভিযুক্ত করি না
… » (১)। এই বক্তব্যের মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, কিতাবটির রচনা ছিল খলীল—রহিমাহুল্লাহ—এর মৃত্যুর পরে; কেননা তিনি যদি তখন জীবিত থাকতেন, তবে সীবাওয়াইহ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন তাতে তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন। ড. আলী আন-নাজদী কিতাবের কিছু ইশারা থেকে একটি অনিশ্চিত অনুমান করেছেন যে, সীবাওয়াইহ কিতাবটি রচনা শুরু করেছিলেন খলীলের জীবদ্দশায় এবং তা সম্পন্ন করেছেন তাঁর মৃত্যুর পর (২)।
•
কিতাবটির জ্ঞানতাত্ত্বিক মূল্য:«আল-কিতাব» উলামায়ে কেরামের প্রচুর প্রশংসা ও গুণকীর্তন লাভ করেছে। এর লেখক একে পূর্ণতার ছাঁচে ঢেলে সাজিয়েছেন এবং এই বিষয়ে এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কোনো কিতাব চোখ পড়ে না। আর «আল-কিতাব» শব্দটি—যেমনটি আয-যামাখশারী বলেন—যখন কোনো আলোচনায় নির্দিষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা «সীবাওয়াইহ-এর কিতাব»-এরই পারিভাষিক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে (৩); উলামায়ে কেরাম এই কিতাব সম্পর্কে বলেছেন:
১ ــ আস-সিরাফী বলেন: «সীবাওয়াইহ তাঁর এমন এক কিতাব রচনা করেছেন যার মতো কেউ আগে করতে পারেনি» (৪)।
২ ــ আর আল-মুবাররাদ তাকে বলতেন যে তাঁর কাছে সীবাওয়াইহ-এর কিতাব পড়তে চাইত: «তুমি কি সমুদ্রে আরোহণ করেছ?» (৫)—এর মাহাত্ম্য ও কাঠিন্য বোঝানোর জন্য।
৩ ــ সাঈদ বিন আহমাদ আল-জুব্বায়ী—যিনি আন্দালুসের অধিবাসী—উল্লেখ করেছেন: «আমি প্রাচীন ও আধুনিক কোনো জ্ঞানশাখায় এমন কোনো কিতাব জানি না যা সংশ্লিষ্ট ইলমের যাবতীয় বিষয়কে শামিল করেছে এবং সেই শিল্পের সকল অংশকে আয়ত্ত করেছে, তিনটি কিতাব ছাড়া
… এবং তৃতীয়টি হলো: সীবাওয়াইহ-এর কিতাব» (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
4 ــ قال ياقوت: «لأهل البصرة ثلاثة كتب يفتخرون بها على الأرض: كتاب النحو لسيبويه، وكتاب الحيوان للجاحظ، وكتاب أبي حاتم في القراءات» (1).
5 ــ قال كارل بروكلمان: «كتاب سيبويه أقدم مصنف جمع مسائل النحو العربي كافة، وقد زاد المتأخرون كثيرا من تحديد مقاصد النحو، وتبيين حدوده، ولَكِنَّهم لم يكادوا يضيفون إليه شيئا ذا بال من الملاحظات الهامة والأنظار الجديدة» (2).
6 ــ ويقول د. على النجدي ناصف: «وأحسب أَنْ لو وزن الكتاب بكتب النحو كافة لرجحها وزنا، وأربى عليها قيمة، لا من الناحية التاريخِيَّة وحدها، ولكن من الناحية العلميَّة قبلها، ففيه كل ما فيها وزيادة، من النفائس المصونة والكنوز المذخورة») (3).
7 ــ وقال د. شوقي ضيف: إِنَّ «الكتاب يُعَدُّ آية خارقة من آيات العقل العربي؛ حتى سمَّاه بعضهم قرآن النحو») (4) و «كتاب سيبويه لا يُعَلِّمُ العربِيَّة وقواعدها فحسب، بل يُعَلِّم أيضا أساليبها ودقائقها التعبيرية») (5).
لقد أقام هذا العبقري الفَذّ هذا السِفر العظيم في ساحة الخلد أثرا، وأرسله مع الأيام ذكرا، وادخره للعربية كنزا، وندبه في العالمين شاهدا على براعته في العربِيَّة، ونفاذه إلى أسرارها، وإمامته في الاشتراع لها.
•
منهج الكتاب:لا شك ولاجدال أَنَّ سيبويه كان يسير على «منهج» في كتابه. ومن الأهمِيَّة بمكان ــ فيما أعتقد ــ الوقوف على هذا المنهج وآلياته التي كان سيبويه ينتهجها ويعمل وفقها؛ لأَنَّ هذا يمكننا من الفهم الدقيق لأقواله.
--------------------------------------------
৪ — ইয়াকুত বলেন: «বসরাবাসীদের তিনটি গ্রন্থ রয়েছে যা নিয়ে তারা সারা বিশ্বের সামনে গর্ব করে: সিবওয়াইহ-এর নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক গ্রন্থ, জাহিজ-এর কিতাবুল হায়াওয়ান (প্রাণী বিষয়ক গ্রন্থ) এবং কিরাআত বিষয়ে আবু হাতিমের গ্রন্থ» (১)।
৫ — কার্ল ব্রোকলম্যান বলেন: «সিবওয়াইহ-এর গ্রন্থটি আরবি ব্যাকরণের সমস্ত বিষয়বস্তু সংকলিত প্রাচীনতম রচনা। পরবর্তী পণ্ডিতগণ নাহুর উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং এর পরিধি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অনেক কিছু সংযোজন করেছেন বটে, তবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তারা উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই যোগ করতে পারেননি» (২)।
৬ — ড. আলী আন-নাজদি নাসিফ বলেন: «আমি মনে করি, যদি এই গ্রন্থটিকে নাহুর অন্যান্য সমস্ত গ্রন্থের সাথে পাল্লায় পরিমাপ করা হয়, তবে ওজনে এটিই ভারী হবে এবং মূল্যের দিক থেকেও সেগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে। এটি কেবল ঐতিহাসিক দিক থেকেই নয়, বরং তার আগে বৈজ্ঞানিক বা তাত্ত্বিক দিক থেকেও শ্রেষ্ঠ। কারণ এতে অন্য সব গ্রন্থের বিষয়বস্তু এবং তার অতিরিক্ত আরও সংরক্ষিত অমূল্য রত্ন ও গচ্ছিত ভাণ্ডার বিদ্যমান») (৩)।
৭ — ড. শাওকি দাইফ বলেন: «এই ‘কিতাব’ (সিবওয়াইহ-এর গ্রন্থ) আরবীয় মেধার এক অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত; এমনকি কেউ কেউ একে 'নাহুর কুরআন' নামেও অভিহিত করেছেন») (৪) এবং «সিবওয়াইহ-এর গ্রন্থটি কেবল আরবি ভাষা ও তার নিয়মাবলীই শেখায় না, বরং এটি তার প্রকাশভঙ্গি ও সূক্ষ্ম অলঙ্কারসমূহও শেখায়») (৫)।
এই অনন্য প্রতিভা অমরত্বের প্রাঙ্গণে এই মহান গ্রন্থটিকে এক চিরস্থায়ী নিদর্শন হিসেবে স্থাপন করেছেন, একে সময়ের স্রোতে এক অবিস্মরণীয় স্মারক হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আরবি ভাষার জন্য এক অমূল্য ভাণ্ডার হিসেবে সঞ্চিত রেখেছেন এবং আরবি ভাষায় তাঁর দক্ষতা, এর রহস্য উদঘাটনে তাঁর গভীর প্রবেশাধিকার এবং এর নিয়ম-নীতি প্রণয়নে তাঁর নেতৃত্বের সাক্ষী হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে একে উপস্থাপন করেছেন।
•
গ্রন্থের পদ্ধতি:এতে কোন সন্দেহ বা বিতর্কের অবকাশ নেই যে, সিবওয়াইহ তাঁর গ্রন্থে একটি নির্দিষ্ট «পদ্ধতি» অনুসরণ করেছেন। আমার বিশ্বাস মতে, এই পদ্ধতি এবং সিবওয়াইহ যে কৌশলগুলো অবলম্বন করেছেন ও যার ভিত্তিতে কাজ করেছেন, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি আমাদের তাঁর বক্তব্যগুলো নির্ভুলভাবে বুঝতে সক্ষম করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد قسمت حديثي عن منهج سيبويه إلى قسمين يُكمل بعضهما بعضا:
- قسم أخذته من أقوال العلماء.
- وقسم آخر من واقع دراستي الشخصيَّة لنصوص الكتاب نفسها) (1).
أما القسم الأول فإِنَّهُ من خلال النصوص التي جمعتُها من أقوال العلماء وإشاراتهم يمكن تحديد أركان هذا المنهج في النقاط التالية:
أتوثيق الرواية والتثبت فيما ينقله من كلام العرب وكلام العلماء:
بنى سيبويه كتابه على التوثيق والتثبُّت، فهو «يتحرَّى الدِّقَّةَ في العرض، ويُعنَى بتمييز الصريح من المشوب، والتنبيه على ما يصادف من المنحول») (2). ويظهر هذا جليًّا في إشارات متفرقة للعلماء في كتب التراجم التي ترجمت له، من هذه الإشارات:
- قوله: «حدَّثني من أثق بعربِيَّته» (3)، ومثل قوله: «أخبرني الثقة» (4).
- قول الأخفش عن سيبويه: «كان سيبويه إذا وضع شيئا من كتابه عرضه على» (5).
- وحينما قيل ليُونُس بعد موت سيبويه: «إِنَّ سيبويه صنَّف كتابا في ألف ورقة من علم
الخليل؛ فقال: ومتى سمع سيبويه هذا كله من الخليل؟ ! جيئوني بكتابه. فلما رآه قال: يجب أَنْ يكون قد صدق فيما حكاه عن الخليل؛ كما صدق فيما حكاه عني» (6).
- قال البغدادي) ت 1093 هـ (: «ويؤخذ من هذا أنَّ الشاهد المجهول قائله وتتمته إنْ صدر من ثقة يعتمد عليه قُبل؛ وإلا فلا. ولهذا كانت أبيات سيبويه أصحَّ الشواهد، اعتمد عليها خلفٌ بعد سلف، مع أنَّ فيها أبياتا عديدة جُهل قائلوها، وما عِيب بها ناقلوها، وقد خرج كتابه إلى الناس والعلماء كثير، والعناية بالعلم وتهذيبه وكيدة») (7).
--------------------------------------------
সিবওয়াইহ-এর পদ্ধতি সম্পর্কিত আমার আলোচনাকে আমি দুই ভাগে ভাগ করেছি, যা একে অপরের পরিপূরক:
- এক ভাগ আমি আলিমদের বক্তব্য থেকে গ্রহণ করেছি।
- এবং অন্য ভাগটি কিতাবটির মূল পাঠ্যসমূহের ওপর আমার ব্যক্তিগত অধ্যয়নের বাস্তবতা থেকে (১)।
প্রথম ভাগের ক্ষেত্রে, আমি আলিমদের বক্তব্য ও তাঁদের ইশারা-ইঙ্গিত থেকে যেসব পাঠ্য সংগ্রহ করেছি, তার মাধ্যমে এই পদ্ধতির মূল ভিত্তিগুলো নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোতে নির্ধারণ করা সম্ভব:
(ক) বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং আরবদের কথা ও আলিমদের বক্তব্যের মধ্য থেকে তিনি যা উদ্ধৃত করেছেন তার সত্যতা যাচাই করা:
সিবওয়াইহ তাঁর কিতাবটি প্রামাণিকতা ও সত্যতা যাচাইয়ের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন; কেননা তিনি "উপস্থাপনায় সূক্ষ্মতা অনুসন্ধান করেন, এবং মিশ্রিত বিষয় থেকে খাঁটি বিষয়কে পৃথক করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেন, আর যেসব জাল বা বানোয়াট বিষয় তাঁর সামনে আসে সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেন" (২)। তাঁর জীবনী সম্পর্কিত কিতাবসমূহে আলিমদের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ইশারা-ইঙ্গিতে এটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যার মধ্যে রয়েছে:
- তাঁর উক্তি: "আমাকে এমন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যার আরব্য ভাষার জ্ঞানের ওপর আমার আস্থা রয়েছে" (৩), এবং তাঁর এই উক্তির ন্যায়: "আমাকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন" (৪)।
- সিবওয়াইহ সম্পর্কে আখফাশ-এর উক্তি: "সিবওয়াইহ যখন তাঁর কিতাবের কোনো অংশ লিখতেন, তখন তা আমার কাছে উপস্থাপন করতেন" (৫)।
- সিবওয়াইহ-এর মৃত্যুর পর যখন ইউনুসকে বলা হলো: "সিবওয়াইহ খালিলের ইলম থেকে এক হাজার পৃষ্ঠার একটি কিতাব সংকলন করেছেন"; তখন তিনি বললেন: "সিবওয়াইহ কখন খালিলের কাছ থেকে এই সব শুনলেন?! তাঁর কিতাবটি আমার কাছে নিয়ে এসো।" অতঃপর যখন তিনি তা দেখলেন, তখন বললেন: "অবশ্যই তিনি খালিলের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে সত্যবাদী প্রমাণিত হয়েছেন; ঠিক যেমন তিনি আমার পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে সত্যবাদী ছিলেন" (৬)।
- আল-বাগদাদী (মৃত্যু ১০৯৩ হিজরি) বলেন: "এ থেকে এটি গ্রহণ করা যায় যে, অজ্ঞাত পরিচয় কবির কাব্যিক সাক্ষ্য (শাহিদ) এবং তার অবশিষ্টাংশ যদি এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয় যার ওপর আস্থা রাখা যায়, তবে তা গ্রহণ করা হবে; অন্যথায় নয়। এ কারণেই সিবওয়াইহ-এর উদ্ধৃত কবিতাগুলো সর্বাধিক বিশুদ্ধ সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়েছে, যার ওপর পূর্বসূরিদের পরে উত্তরসূরিরা নির্ভর করেছেন। যদিও সেগুলোর মধ্যে অনেক কবিতা রয়েছে যাদের রচয়িতা অজ্ঞাত, তবুও সেগুলোর বর্ণনাকারীদের দোষারোপ করা হয়নি। তাঁর কিতাবটি এমন এক সময়ে মানুষের মাঝে প্রকাশিত হয়েছে যখন আলিমদের সংখ্যা ছিল অনেক এবং ইলমের প্রতি যত্ন ও তা পরিমার্জনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম" (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويبدو أَنَّ هذا التثبُّت والتوثيق فيما ينقله أو يعرضه نابع من تَأَثُّره بأهل الحديث ومنهجهم، فقد كان سيبويه سُنِّيًا على السُّنَّةِ، و «سيبويه كان في أول أمره يطلب الحديث» (1)، و «يطلب الآثار والفقه» (2)، وكان «يصحب الفقهاء» (3). بل إِنَّ له رواية للحديث، قال السيوطي: «أسندنا حديثه في الطبقات الكبرى، وتكرر في جمع الجوامع» (4).
وله مناظراته ومراجعاته العلميَّة مع أهل هذا الفن (5).
إِنَّ وقوفنا على هذا الجانب عند سيبويه ومدى تَثَبُّتِهِ فيما ينقل يجعلنا نطمئن أَنَّهُ كان يعتمد على اللُّغَة كما قيلت عن أشخاص محددين في سياقات محددة، وهو بذلك يفيدنا في الدراسة التي نحن بصددها.
ب الاعتماد على المشهور:
من المعلومات القيِّمة التي ذكرها الإمام السيوطي معلومة أشار فيها إلى عنصر من عناصر منهج سيبويه، وتُلَخِّصُ جزءًا كبيرا من طريقته في تأليف كتابه، يقول: «
… ؛ ولذلك لم يُودِع) سيبويه (في أبواب الكتاب إلا المشهور الذي لا يُشَكُّ في صحته» (6).
لقد كان سيبويه يجمع نصوص اللُّغَة ويدرسها ويصنِّفها، ثُمَّ يصدر فيها أحكاما، يدرس
«أساليب الكلام في الأمثلة والنصوص؛ ليكشف عن الرأي فيها صحة وخطأ، أو حسنا وقبحا» (7)
إن اعتماد سيبويه على المشهور في كتابه يتفق مع ما تُقِرُّهُ المدارس اللُّغَوِيَّة الحديثة؛ فما كثر شيوعه وزادت نسبة وروده يُقاس عليه، وتؤسس عليه القاعدة، ويستنبط منها الصحيح المقبول
«وتلك هي الطريقة العلميَّة الحديثة في تقعيد القواعد، واستخراج مسائل اللُّغَة» (8).
--------------------------------------------
মনে হয় যে, তিনি যা বর্ণনা করেন বা উপস্থাপন করেন তার ক্ষেত্রে এই যাচাই-বাছাই এবং নির্ভরযোগ্যতা এসেছে আহলে হাদিস এবং তাদের মানহাজ (পদ্ধতি) দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে। কেননা সিবওয়াইহ সুন্নাহর অনুসারী সুন্নি ছিলেন, এবং "সিবওয়াইহ প্রাথমিক অবস্থায় হাদিস অন্বেষণ করতেন" (১), এবং "তিনি আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) ও ফিকহ অন্বেষণ করতেন" (২), এবং তিনি "ফকিহদের সংস্রবে থাকতেন" (৩)। এমনকি হাদিস শাস্ত্রে তাঁর বর্ণনাও রয়েছে। সুয়ূতী বলেন: "আমরা 'তাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থে তাঁর বর্ণিত হাদিস সংকলন করেছি এবং এটি 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে বারবার এসেছে" (৪)।
এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সাথে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্ক এবং পর্যালোচনাও রয়েছে (৫)।
সিবওয়াইহ-র এই দিকটি এবং তিনি যা বর্ণনা করেন সে বিষয়ে তাঁর যাচাই-বাছাইয়ের গভীরতা পর্যবেক্ষণ করলে আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত হই যে, তিনি সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত ভাষার ওপর নির্ভর করতেন। আর এর মাধ্যমে তিনি আমাদের বর্তমান গবেষণায় উপকৃত করছেন।
খ. মাশহুর (প্রসিদ্ধ)-এর ওপর নির্ভরতা:
ইমাম সুয়ূতী বর্ণিত মূল্যবান তথ্যাবলির মধ্যে একটি তথ্য এমন রয়েছে যেখানে তিনি সিবওয়াইহ-র মানহাজের একটি উপাদানের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা তাঁর কিতাব রচনার পদ্ধতির একটি বড় অংশকে সংক্ষেপিত করে। তিনি বলেন: "…; আর এই কারণেই সিবওয়াইহ (তার কিতাবের অধ্যায়গুলোতে) কেবল মাশহুর বা প্রসিদ্ধ বিষয়গুলোই সন্নিবেশিত করেছেন যেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই" (৬)।
সিবওয়াইহ ভাষাতাত্ত্বিক পাঠসমূহ সংগ্রহ করতেন, সেগুলো অধ্যয়ন করতেন এবং শ্রেণিবিন্যাস করতেন। অতঃপর সেগুলোর ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন। তিনি অধ্যয়ন করতেন—
"উদাহরণ এবং পাঠসমূহের বাকশৈলী; যাতে এগুলোর শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা কিংবা সৌন্দর্য ও কদর্যতা সম্পর্কে মতামত উন্মোচিত হয়" (৭)
সিবওয়াইহ তাঁর কিতাবে মাশহুর বা প্রসিদ্ধের ওপর যে নির্ভরতা দেখিয়েছেন, তা আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক স্কুলগুলোর স্বীকৃত নীতির সাথে সংগতিপূর্ণ। কারণ যা বহুল প্রচলিত এবং যার ব্যবহারের হার বেশি, তাকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখান থেকেই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য বিষয়টি আহরণ করা হয়।
"আর ব্যাকরণের নিয়মাবলি প্রণয়ন এবং ভাষার মাসআলাসমূহ আহরণের ক্ষেত্রে এটাই হলো আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি" (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إن الاعتماد على المشهور من التراكيب اللُّغَوِيَّة يعني موافقة الجماعة اللُّغَوِيَّة على هذا التركيب، وهذه الموافقة تعني أَنَّ هذا التركيب «يُقَرر ويثبت
… ويجد طريقه إلى نظام اللُّغَة» (1).
ت الاعتماد على سياق الحال في التَّقْعِيد:
هذا العنصر استنبطناه من نصّ أورده الزبيدي والقفطي، كلٌّ في كتابه عن أبي العباس أحمد بن يحيي ثعلب، يقول فيه:
«العربُ تُخرجُ الإعرابَ على اللَّفظ دون المعاني، ولا يفسِد الإعرابُ المعنى، فإذا كان الإعرابُ يُفسد المعنى فليس من كلام العرب. وإنَّما صحَّ قول الفرَّاء؛ لأنَّهُ عمل العربِيَّة والنحو على كلام العرب، فقال: كلُّ مسألة وافق إعرابُها معناها، ومعناها إعرابَها فهو الصحيح. وإِنَّمَا لَحِق سيبويه الغلطُ لأنَّهُ حمل كلامَ العرب على المعاني، وخلَّى عن الألفاظ، ولم يوجدْ في كلام العرب ولا أشعار الفحول إلا ما المعنى فيه مطبّق
للإعراب، والإعراب مطبّقٌ للمعنى. وما نقله هشام عن الكِسائيِّ فلا مطعَن فيه، وما قاسه فقد لحِقه الغمْز؛ لأنَّهُ سلك بعضَ سبيل سيبويه، فعمل العربِيَّة على المعاني وتركَ الألفاظ؛ والفرَّاء حمَل العربِيَّة على الألفاظ والمعاني فبَرع واستحقَّ التَّقْدِمة، وذلك كقولك: ((مات زيدٌ))؛ فلو عاملت المعنى لوجب أَنْ تقول: ((مات زيدًا))؛ لأَنَّ الله هو الذي أماته، ولكنك عاملت اللفظ، فأردتَ: سكنتْ حركاتُ زيد» (2).
يهمنا في هذا النَّصّ كلمة «المعاني» التي وردت على لسان ثعلب، ومن خلال السِّياق الذي وردت فيه هذه الكلمة؛ فَإِنَّ معنى كلمة «المعاني» تشير إلى أَنَّهُ يقصد بها «سياق الحال» بدليل
قوله: «فلو عاملت المعنى لوجب أَنْ تقول: ((مات زيدًا))؛ لأَنَّ الله هو الذي أماته)). فثعلب يشير أَنَّنا لو أخذنا بالمعنى) وهو إماتة الله للعبد (لوجب أَنْ نقول كذا؛ فهو يربط المعنى بشيء خارج اللُّغَة وهي الخلفيَّة الثقافيَّة) العَقِيدِيّة (عند المسلمين Background knowledge، وهذه الخلفيَّة من مكونات سياق الحال. فثعلب ينعَى على سيبويه ــ بغض النظر عن صحة وجهة نظر ثعلب أم لا ــ لجوئه للمعاني) سياق الحال (.
ث اعتماد القياس:
وهذا العنصر مستخلص من قول الجَرْمِي: «أنا منذ ثلاثين سنة أفتي الناس في الفقه من كتاب سيبويه؛ فقيل له: وكيف ذاك؟ قال: أنا رجل مكثر من الحديث، وكتاب سيبويه يعلمني القياس،
--------------------------------------------
ভাষাগত কাঠামোর মধ্যে প্রসিদ্ধ বা সুপরিচিত বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করার অর্থ হলো সেই কাঠামোর ওপর ভাষাগত গোষ্ঠীর একমত হওয়া। আর এই ঐকমত্যের অর্থ হলো এই কাঠামোটি «সুনির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত হয় … এবং ভাষার নিয়মতান্ত্রিক ধারায় নিজের পথ খুঁজে পায়» (১)।
ত. নীতি নির্ধারণে অবস্থার প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভরতা:
এই উপাদানটি আমরা জুবাইদি এবং কিফতি কর্তৃক উদ্ধৃত একটি পাঠ থেকে আহরণ করেছি, যা তাঁরা উভয়েই আবু আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া সা’লাব সম্পর্কে নিজ নিজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন:
«আরবরা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণকে শব্দের গঠনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করে, অর্থের ওপর নয়। আর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ কখনো অর্থকে নষ্ট করে না; যদি কোনো ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ অর্থকে বিকৃত করে, তবে তা আরবদের বক্তব্য নয়। আর ফাররার বক্তব্যই সঠিক হয়েছে; কারণ তিনি আরবি ভাষা ও ব্যাকরণকে আরবদের বাচনভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করেছেন। তিনি বলেছেন: প্রতিটি বিষয় যার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ তার অর্থের সাথে এবং অর্থ তার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, সেটিই সঠিক। অন্যদিকে সিবওয়াইহ ভুল করেছেন কারণ তিনি আরবদের কথাকে অর্থের ওপর ভিত্তি করে বিচার করেছেন এবং শব্দের গঠনকে উপেক্ষা করেছেন। অথচ আরবদের কথা কিংবা শ্রেষ্ঠ কবিদের কবিতায় এমন কিছুই পাওয়া যায় না যেখানে অর্থ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের সাথে
এবং ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ অর্থের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হিশাম কিসায়ি থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে কোনো ত্রুটি নেই, তবে তিনি যা তুলনা করেছেন তাতে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে; কারণ তিনি সিবওয়াইহ-এর কিছু পথ অনুসরণ করেছেন এবং আরবি ভাষাকে অর্থের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করে শব্দকে বর্জন করেছেন। আর ফাররা আরবি ভাষাকে শব্দ এবং অর্থ উভয়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করেছেন, যার ফলে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং অগ্রগণ্য হওয়ার যোগ্যতা লাভ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়: ((জায়েদ মারা গেছে)); এখানে যদি আপনি অর্থের অনুসরণ করতেন, তবে আপনার বলা উচিত ছিল: ((জায়েদকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে)); কারণ আল্লাহই তাকে মৃত্যু দিয়েছেন। কিন্তু আপনি শব্দের গঠনের অনুসরণ করেছেন, যার অর্থ হলো: জায়েদের নড়াচড়া স্থির হয়ে গেছে» (২)।
এই পাঠে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো «অর্থসমূহ» শব্দটি যা সা’লাব ব্যবহার করেছেন। এই শব্দটি যে প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় যে «অর্থসমূহ» শব্দ দ্বারা তিনি মূলত «অবস্থার প্রেক্ষাপট» বুঝিয়েছেন, যার প্রমাণ হিসেবে
তাঁর এই উক্তি: «যদি তুমি অর্থের অনুসরণ করতে তবে তোমার বলা উচিত ছিল: ((জায়েদকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে)); কারণ আল্লাহই তাকে মৃত্যু দিয়েছেন»। এখানে সা’লাব ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আমরা যদি অর্থ (অর্থাৎ আল্লাহ কর্তৃক বান্দার মৃত্যু ঘটানো) গ্রহণ করতাম, তবে আমাদের এভাবে বলা প্রয়োজন হতো। তিনি এখানে অর্থকে ভাষার বাইরের একটি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করছেন, যা হলো মুসলমানদের সাংস্কৃতিক (আকিদাহগত) পটভূমি (পূর্বজ্ঞান), আর এই পটভূমিই হলো অবস্থার প্রেক্ষাপটের অন্যতম উপাদান। সা’লাব মূলত সিবওয়াইহ-এর সমালোচনা করছেন—সা’লাবের দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক হোক বা না হোক—অর্থের (অবস্থার প্রেক্ষাপট) ওপর তাঁর নির্ভর করার কারণে।
থ. কিয়াস বা তুলনার ওপর নির্ভরতা:
এই উপাদানটি জারমি-র একটি উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে: «আমি ত্রিশ বছর যাবত সিবওয়াইহ-এর কিতাব থেকে মানুষকে ফিকহ বিষয়ে ফতোয়া দিচ্ছি। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: তা কীভাবে সম্ভব? তিনি বললেন: আমি এমন একজন ব্যক্তি যে অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনা করি, আর সিবওয়াইহ-এর কিতাব আমাকে কিয়াস বা তুলনামূলক বিচার শেখায়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأنا أقيس الحديث وأفتي به» (1). وفي رواية الزجاجي: «وذاك أَنَّ أبا عمر كان صاحب حديث، فلما علم كتاب سيبويه تفقه في الدين والحديث، إذ كان ذلك يتعلم منه النظر والتفتيش» (2).
والذي يُفهَم من النَّصّ أَنَّ سيبويه اعتمد على القياس في كتابه، وأنَّ الجرمي أخذ طريقته في القياس وطبقها على فتاويه في الفقه. وهنا سؤال: ما خطوات هذا القياس التي كان يقوم بها الجرمي التي أخذها من سيبويه؟ يمكن أَنْ نجتهد في الإجابة عن هذا السؤال، ونكون بإجابتنا عنه قد أجبنا ضمنا عن: ما المقصود بالقياس وطريقته عند سيبويه؟ .
إِنَّ القياس لغة «تقدير شيء على مثال شيء آخر وتسويته به»، واصطلاحا عند الأصوليين:
«حمل فرع على أصل في إثبات حكم لهما، أو نفيه عنهما بجامع بينهما هو العلة» (3)، وعند الفقهاء: «إلحاق أصل بفرع في الحكم لاتحادهما في العلة» (4)، وعند النُّحَاة: «حمل غير المنقول على المنقول إذا كان في معناه» (5). فالمعنى اللغويّ والاصطلاحي قريبان من بعضهما، وعليه يمكن فهم القياس في عبارة الجرمي كما يلي: تجميع الأحاديث التي تدور حول موضوع واحد لتخصيص العام منها، وتوضيح المجمل، ثُمَّ استخلاص «علة الحكم» التي تطبق على كل حالة إفتاء مشابهة. وإذا طبقنا هذا على سيبويه يمكننا القول إِنَّهُ: يجمع الجمل ذات التراكيب المتشابهة بتوثيق وتثبت بسياقاتها التي تقال فيها) إذ لا كلام بدون سياق (، ثُمَّ استخلاص «تركيب ما» مستنبط من مجموع هذه الجمل المتشابهة، مع ذكر البدائل المختلفة لهذا التركيب. هذا التركيب المستخلص هو «العلة» التي يقاس إليها غيرها من الكلام) (6).
--------------------------------------------
এবং আমি হাদিসের ওপর কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) করি এবং সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করি" (১)। আজ-জাজ্জাজির বর্ণনায় রয়েছে: "আর তা এজন্য যে, আবু উমর হাদিসের পণ্ডিত ছিলেন। যখন তিনি সিবওয়াইহ-এর কিতাব পাঠ করলেন, তখন তিনি দীন ও হাদিসের ক্ষেত্রে গভীর পাণ্ডিত্য (ফিকহ) অর্জন করলেন; কেননা এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের পদ্ধতি শেখা যায়" (২)।
এই পাঠ্য থেকে যা বোঝা যায় তা হলো, সিবওয়াইহ তাঁর কিতাবে কিয়াসের ওপর নির্ভর করেছেন এবং আল-জারমি তাঁর কিয়াসের পদ্ধতিটি গ্রহণ করে ফিকহি ফতোয়ার ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করেছেন। এখানে একটি প্রশ্ন জাগে: কিয়াসের সেই ধাপগুলো কী কী যা আল-জারমি সিবওয়াইহ-এর কাছ থেকে গ্রহণ করে সম্পাদন করতেন? আমরা এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতে পারি এবং এর উত্তরের মাধ্যমে আমরা পরোক্ষভাবে এই উত্তরও পেয়ে যাব যে: সিবওয়াইহ-এর নিকট কিয়াস ও তার পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?
ভাষাগতভাবে কিয়াস হলো "এক বস্তুকে অন্য বস্তুর আদলে পরিমাপ করা এবং উভয়ের মধ্যে সমতা বিধান করা"। আর উসুলবিদদের পরিভাষায়:
"উভয়ের মধ্যবর্তী কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে কোনো বিধান সাব্যস্ত করা বা নাকচ করার ক্ষেত্রে শাখাকে (ফারআ) মূলের (আসল) ওপর প্রয়োগ করা" (৩)। ফকিহদের মতে: "কারণের (ইল্লত) ঐক্যের কারণে বিধানের ক্ষেত্রে মূলকে শাখার সাথে যুক্ত করা" (৪)। আর বৈয়াকরণদের মতে: "অশ্রুত বা অমৌলিক বিষয়কে শ্রুত বা মৌলিক বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা যদি সেটি সমার্থবোধক হয়" (৫)। সুতরাং ভাষাগত ও পারিভাষিক অর্থ একে অপরের নিকটবর্তী। এর ভিত্তিতে আল-জারমির বক্তব্যে কিয়াসের বিষয়টি এভাবে বোঝা যেতে পারে: কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোকে একত্রিত করা যাতে সেগুলোর মধ্য থেকে সাধারণ বিষয়গুলোকে বিশেষায়িত করা যায় এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করা যায়, এরপর "বিধানের কারণ" (ইল্লত আল-হুকম) উদ্ঘাটন করা যা প্রতিটি সদৃশ ফতোয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে। আমরা যদি এটি সিবওয়াইহ-এর ওপর প্রয়োগ করি, তবে বলতে পারি যে তিনি: সমজাতীয় গঠনের বাক্যগুলোকে সেগুলোর প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপটসহ (যেহেতু প্রেক্ষাপট ছাড়া কোনো কথা হয় না) প্রামাণিকভাবে একত্রিত করেন, এরপর এই সদৃশ বাক্যগুলোর সমষ্টি থেকে একটি "নির্দিষ্ট গঠন" বা কাঠামো নিরূপণ করেন এবং সেই কাঠামোর বিভিন্ন বিকল্পও উল্লেখ করেন। এই নিরূপিত কাঠামোটিই হলো "ইল্লত" বা কারণ, যার ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য বক্তব্যের কিয়াস করা হয় (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ج الميل للشعر عند التَّقْعِيد:
اعتمد سيبويه في كتابه على مادة تتكون من:
1 ــ عبارات مروِيَّة، وأخرى غير مروِيَّة.
2 ــ ومفردات عربيَّة وأخرى أعجميَّة، خالصة أو معربة.
3 ــ مسائل مفترضة قيست على نظائر لها في اللُّغَة.
4 ــ شواهد من القرآن وأخرى من الشعر والرجز) (1).
ولقد مال سيبويه ــ كما لا حظ د. إبراهيم أنيس ــ للشواهد الشعرِيَّة «اعتقادا منه أَنَّ رواية الشعر أدق من رواية النثر، وأَنْ تذكر المنظوم أيسر من تذكر المنثور، وأنَّ احتمال التغيير والتبديل في الشعر أقل من احتماله في المروي من النثر» (2)، ومن يحصِ الشواهد المروية في الكتاب يجد «عدد شواهد الكتاب الشعرية ألفا وخمسين شاهدا) 1050 (، وعدد الأمثال مع الأساليب والنماذج النحوية) أعني الشواهد النثرية (الواردة في الكتاب ثلاث مئة وخمسين. هذا عن كلام العرب. أمَّا القرآن الكريم فعدد الآيات المستشهد بها في الكتاب أربع مئة وسبع وأربعون آية، والأحاديث الشريفة فيه ثمانية
… أي أن هناك) 1050 (شاهدا من الشعر مقابل) 805 (شواهد من كل ما عداه. فإذا اتخذنا «الكتاب» مثلا للمؤلفات اللغوية ــ وإنَّه لكذلك في غير متن اللغة والدلالة ــ فإن هذا البيان لنوعيَّات الشواهد، وعدد كل منها فيه، يثبت اعتماد الأحكام اللغوية في جمهورها الأعظم على الشعر») (3).
إن الاحتجاج بالشعر ــ ليس عند سيبويه فقط بل في غالب المؤلفات النحوية ــ «أفشى وأشيع كثيرا من الاحتجاج بكلام العرب النثري، ولعل هذا سببه شيوع حفظ الشعر») (4).
--------------------------------------------
গ. নিয়মবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে কাব্যের প্রতি ঝোঁক:
সিবওয়াইহ তাঁর কিতাবে এমন সব উপাদানের ওপর নির্ভর করেছেন যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:
১ ــ বর্ণিত উক্তিসমূহ এবং অন্যান্য অবর্ণিত উক্তি।
২ ــ এবং আরবি শব্দাবলি ও অন্যান্য অনারব শব্দাবলি, যেগুলো বিশুদ্ধ অথবা আরবিকৃত।
৩ ــ অনুমিত মাসআলাসমূহ যা ভাষায় বিদ্যমান অনুরূপ দৃষ্টান্তের ওপর কিয়াস বা অনুমান করা হয়েছে।
৪ ــ কুরআন থেকে সংগৃহীত প্রমাণ এবং কাব্য ও রাজায ছন্দ থেকে নেওয়া অন্যান্য প্রমাণ (১)।
সিবওয়াইহ — যেমনটি ড. ইব্রাহিম আনিস লক্ষ করেছেন — কাব্যিক প্রমাণের দিকে ঝুঁকেছেন এই বিশ্বাস থেকে যে, «গদ্য বর্ণনার চেয়ে কাব্য বর্ণনা অধিক নির্ভুল, এবং গদ্যের চেয়ে পদ্য মুখস্থ রাখা সহজতর, আর গদ্যে পরিবর্তন ও পরিমার্জনের যে সম্ভাবনা থাকে, কাব্যে সেই সম্ভাবনা অনেক কম» (২)। কিতাবে বর্ণিত প্রমাণাদি যে গণনা করবে সে দেখতে পাবে, «কিতাবে কাব্যিক প্রমাণের সংখ্যা এক হাজার পঞ্চাশটি (১০৫০), এবং আরব্য প্রবাদ-প্রবচনসহ ব্যাকরণগত পদ্ধতি ও মডেলসমূহ (অর্থাৎ গদ্য থেকে সংগৃহীত প্রমাণসমূহ) যা কিতাবে বর্ণিত হয়েছে তার সংখ্যা তিনশ পঞ্চাশটি। এটি তো গেল আরবদের বক্তব্যের কথা। আর পবিত্র কুরআনের কথা বললে, কিতাবে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত আয়াতের সংখ্যা চারশ সাতচল্লিশটি, আর এতে হাদিসে নববী রয়েছে আটটি
… অর্থাৎ সেখানে কাব্য থেকে (১০৫০)টি প্রমাণ রয়েছে এবং কাব্য ব্যতীত অন্য সকল উৎস থেকে (৮০৫)টি প্রমাণ রয়েছে। যদি আমরা 'আল-কিতাব'-কে ভাষাগত রচনার একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করি — আর এটি ভাষাতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্বের বাইরেও প্রকৃত অর্থে তাই — তবে প্রমাণের এই শ্রেণিবিভাগ এবং তাতে বিদ্যমান সংখ্যাগত উপাত্ত এটিই প্রমাণ করে যে, অধিকাংশ ভাষাগত বিধানের ভিত্তি কাব্যের ওপরই প্রতিষ্ঠিত» (৩)।
কাব্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করা — কেবল সিবওয়াইহর ক্ষেত্রেই নয় বরং অধিকাংশ ব্যাকরণগ্রন্থেই — «আরবদের গদ্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করার চেয়ে অনেক বেশি প্রসারিত ও প্রচলিত, আর সম্ভবত এর কারণ হলো কাব্য মুখস্থ রাখার ব্যাপক প্রচলন» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ولا نعتقد أَنَّ سيبويه في اعتماده على الشعر سيكون بعيدا عما هو مرتبط به، فالشعر كفَنٍّ «صدى للبيئة التي يعيش فيها، ومرآة تنعكس عليها ظروفها وأحداثها، ما دام الفن جانبا حيويا من جوانب الحياة، يتصل بها، ويؤثِّر فيها، ويتَاَثَّرَ بها، ولا يعيش بمعزل عنها. ولا نكاد نتصور أَنَّ الفن ــ مهما يؤمن أصحابه بأنَّه للفن ــ يعيش في برج عاجي أو في منطقة معزولة، بعيدا عن قانون التأثر والتأثير، أو تعبير عن شخصيات أصحابه فحسب دون أَنْ يكون تعبيرا عن البيئة أيضا؛ فالفن ــ كما نراه ــ تعبير عن الشخصيَّة والبيئة معا، أو ــ بتعبير أدق ــ تعبير عن تَأَثُّر الشخصيَّة بالبيئة أو تأثير البيئة في الشخصيَّة» (1).
****
-
أهم المصطلحات المستخدمة في البحث:من الأمور التي يجب أَنْ نشير إليها، وتحثُّنا عليها طبيعة البحث العلمي ــ تحديدُ أهم المصطلحات المستخدمة في البحث.
والمصطلح Term ــ كما تعرفه المعاجم اللُّغَوِيَّة ــ هو: «كلمة أو مجموعة كلمات phrase من خلالها يُعَبِّر عن شيء ثابت ومُحَدَّد») (2). ويعرفه بعض العلماء ب أَنَّه: «اللفظ أو الرمز اللغويّ الذي يستخدم للدلالة على مفهوم علمِيّ أو عَمَلِيّ أو فنِيّ أو أي موضوع ذي طبيعة خاصة») (3).
ويتفق العلماء على أهمِيَّة توحيد معني المصطلح وعلى أهمِيَّة معرفة مصطلح علم من العلوم؛ لأَنَّ ذلك من شأنه أَنْ «يُوَحِّدَ بساط البحث الذي من الممكن أَنْ يلتقي عليه العلماء ، وتسهم بشكل فعَّال في التنسيق بين مختلف أبحاثهم ودراساتهم. كما أنَّها تزيد من اتصال القارئ العادي غير المتخصص بهذا العلم أو ذاك نتيجة القضاء على الاضطراب المصطلحي؛ وبالتالي البلبلة
الفكرية») (4).
من هذا المنطلق سنحدد أهم المصطلحات التي سنتكئ عليها في بحثنا هنا، وفيما يلي أهمها:
--------------------------------------------
আমরা মনে করি না যে সিবওয়াইহ তাঁর কবিতানির্ভরতায় এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকবেন; কারণ শিল্প হিসেবে কবিতা হলো 'যে পরিবেশে সে (কবি) বাস করে তার প্রতিধ্বনি এবং এমন এক দর্পণ যাতে সেখানকার পরিস্থিতি ও ঘটনাবলি প্রতিফলিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত শিল্প জীবনের একটি প্রাণবন্ত দিক হিসেবে গণ্য হবে, যা জীবনের সাথে যুক্ত থাকে, জীবনকে প্রভাবিত করে এবং জীবন দ্বারা প্রভাবিত হয়, ততক্ষণ তা জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না। শিল্পীরা শিল্পকে কেবল শিল্পের জন্যই মনে করলেও, শিল্প যে প্রভাব গ্রহণ ও প্রদানের নিয়মের বাইরে কোনো গজদন্ত মিনার বা বিচ্ছিন্ন জনপদে বাস করে—তা আমরা কল্পনা করতে পারি না। শিল্প কেবল তার স্রষ্টাদের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ নয়, বরং তা পরিবেশেরও প্রকাশ; কারণ শিল্প—আমাদের দৃষ্টিতে—ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশ উভয়েরই প্রকাশ, অথবা আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে—পরিবেশ দ্বারা ব্যক্তিত্বের প্রভাবিত হওয়া অথবা ব্যক্তিত্বের ওপর পরিবেশের প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।' (১)।
****
-
গবেষণায় ব্যবহৃত প্রধান পরিভাষাগুলো:বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রকৃতি আমাদের যে বিষয়গুলোর প্রতি নির্দেশ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং যা উল্লেখ করা আবশ্যক, তা হলো—গবেষণায় ব্যবহৃত প্রধান পরিভাষাগুলোর নির্ধারণ।
পরিভাষা (Term)—যেমনটি ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানসমূহ সংজ্ঞায়িত করেছে—হলো: «একটি শব্দ বা শব্দসমষ্টি (phrase) যার মাধ্যমে কোনো স্থির ও সুনির্দিষ্ট বিষয়কে প্রকাশ করা হয়» (২)। কিছু আলিম একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো: «এমন শব্দ বা ভাষাগত প্রতীক যা কোনো বৈজ্ঞানিক, ব্যবহারিক বা শৈল্পিক ধারণা অথবা বিশেষ প্রকৃতির কোনো বিষয় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়» (৩)।
আলিমগণ পরিভাষার অর্থের অভিন্নতা এবং কোনো শাস্ত্রের পরিভাষা জানার গুরুত্বের ওপর একমত পোষণ করেছেন; কারণ এটি «গবেষণার এমন এক ক্ষেত্রকে ঐক্যবদ্ধ করে যেখানে গবেষকগণ সমবেত হতে পারেন এবং এটি তাঁদের বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যালোচনার মধ্যে সমন্বয় সাধনে কার্যকর অবদান রাখে। তেমনিভাবে এটি এই বা ওই শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন সাধারণ পাঠকের যোগাযোগ বৃদ্ধি করে, যার ফলে পরিভাষাগত বিশৃঙ্খলা এবং ফলস্বরূপ বুদ্ধিবৃত্তিক
বিভ্রান্তি দূর হয়» (৪)।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমরা এখানে আমাদের গবেষণার প্রধান পরিভাষাগুলো নির্ধারণ করব যার ওপর আমরা নির্ভর করব। নিচে সেগুলোর মধ্যে প্রধানতমগুলো দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
-
المصطلح الأول (( … السِّياق)):مصطلح السِّياق من أهم المصطلحات في بحثنا هنا، وعلى أساسه سيجري كثيرٌ من النقاش والتأسيس لبعض الجوانب العلميَّة؛ لذلك علينا أَنْ نستوفي كُلَّ الأمور المتعلقة به، ونُثْبِتُها على مُكْثٍ، ليس فقط من حيث التعريف والتحديد لمعناه، بل لا بد أَنْ نتطرق معه إلى:
أتأثير سياق الحال على اللُّغَة / الكلام.
ب اهتمام علمائنا الأقدمين بالسِّياق.
ت مكونات سياق الحال وما يشتمل عليه.
وتنبع أهمِيَّة هذا «الحديث» من أَنَّهُ سيكون «الخلفيَّة العلميَّة» التي تُعِيننا على حسن التَّهَدِّي لموضوعنا، ومنطلقا ننطلق منه ونحتكم إليه ونسير في ضوئه عند بحثنا لدور سياق الحال في التَّقْعِيد النَّحْوِيّ والتوجيه الإعرابِيّ عند سيبويه.
• تعريف السِّياق:
إذا تتبَّعنا معنى كلمة «السِّياق context» في المعاجم اللُّغَوِيَّة العامَّة نجد أنَّها تشير إلى معنيين:
أمعنى عام يشمل اللُّغَة وغيرها:
تقول بعض هذه المعاجم إِنَّ السِّياق هو «البيئة أو الظروف أو الحقائق والوقائع المحيطة التي تساعد على إعطاء صورة شاملة عن شيء ما» (1)، أو «تؤثر على شيء ما» (2). أو إِنَّهُ:
«الموقف الذي فيه يحدث شيءٌ ما أو الذي يتسبَّبُ في حدوث شيء ما» (3).
ب ومعنى خاص مرتبط باللُّغَة:
والمعنى الثاني الذي تعطيه المعاجم اللُّغَوِيَّة العامَّة وبعض المعاجم المتخصِّصَة هو معنى مرتبط باللُّغَة خاصة، فتقول: إِنَّهُ «سياق الكلام» (4).
أو «بيئة الكلام ومحيطه وقرائنه» (5)،
--------------------------------------------
প্রথম পরিভাষা (( … প্রেক্ষাপট)):আমাদের এই গবেষণায় 'প্রেক্ষাপট' পরিভাষাটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা। এর ওপর ভিত্তি করেই অনেক আলোচনা পরিচালিত হবে এবং কিছু বৈজ্ঞানিক বিষয়ের ভিত্তি স্থাপন করা হবে। তাই আমাদের উচিত এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা করা এবং ধীরস্থিরভাবে তা সাব্যস্ত করা; কেবল এর সংজ্ঞা প্রদান ও অর্থ নির্ধারণের দিক থেকেই নয়, বরং এর সাথে আমাদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করতে হবে:
ক. ভাষা বা বক্তব্যের ওপর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটের প্রভাব।
খ. প্রেক্ষাপটের প্রতি আমাদের পূর্বসূরি আলেমগণের গুরুত্বারোপ।
গ. পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটের উপাদানসমূহ এবং এটি যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করে।
এই আলোচনার গুরুত্ব এখান থেকে উদ্ভূত হয় যে, এটি একটি 'তাত্ত্বিক পটভূমি' হিসেবে কাজ করবে যা আমাদের মূল বিষয়ের সঠিক দিশা পেতে সাহায্য করবে। এটি এমন একটি প্রারম্ভবিন্দু হবে যেখান থেকে আমরা যাত্রা শুরু করব, যাকে আমরা মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করব এবং যার আলোকে সিবাহওয়াই-এর নিকট নাহু শাস্ত্রের নিয়ম প্রণয়ন ও ইরাবগত নির্দেশনার ক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করব।
• প্রেক্ষাপটের সংজ্ঞা:
আমরা যদি সাধারণ ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানগুলোতে 'প্রেক্ষাপট' (Context) শব্দের অর্থ অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাই যে এটি দুটি অর্থের দিকে নির্দেশ করে:
ক. সাধারণ অর্থ যা ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
এই অভিধানগুলোর কোনো কোনটি বলে যে, প্রেক্ষাপট হলো «পরিবেশ বা পরিস্থিতি অথবা পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা ও ঘটনাবলি যা কোনো বিষয় সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র প্রদানে সাহায্য করে» (১), অথবা «যা কোনো বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে» (২)। অথবা এটি হলো:
«এমন এক পরিস্থিতি যার মধ্যে কোনো কিছু ঘটে অথবা যা কোনো কিছু ঘটার কারণ হয়ে দাঁড়ায়» (৩)।
খ. ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ অর্থ:
সাধারণ ভাষাতাত্ত্বিক অভিধান এবং কিছু বিশেষায়িত অভিধান যে দ্বিতীয় অর্থটি প্রদান করে, তা বিশেষভাবে ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট। তারা বলে: এটি হলো «বক্তব্যের প্রেক্ষাপট» (৪)।
অথবা «বক্তব্যের পরিবেশ, এর পরিমণ্ডল এবং এর সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ» (৫),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أو هو «الكلمات التي تأتي قبل) أو بعد (كلمة أو عبارة أو جملة، وتساعد على فهم معناها» (1).
هذا السِّياق المرتبط باللُّغَة قسمه علماء اللُّغَة المتخصِّصون إلى قسمين:
- سياق لغوي Linguistic context ــ Verbal context .
- سياق غير لغوي contextNon-linguistic) (2) .
أما السِّياق اللغويّ فـ «يتمثَّلُ في الأصوات والكلمات والجمل كما تتتابع في حدث كلامِيّ معين أو نصّ لغوي» (3). فالوحدات الدِّلالِيَّة المكونة لكلام أو نصّ ما «تقع في مجاورة وحدات أخرى وإنَّ معاني هذه الوحدات لا يمكن وصفها أو تحديدها إلا بملاحظة الوحدات الأخرى التي تقع مجاورة لها» (4).
أما السِّياق غير اللغويّ أو سياق الحال Context of situation فإِنَّهُ يعني «الجو الخارجيّ الذي يحيط بالكلام من ظروف وملابسات» (5). أو هو «البيئة غير اللُّغَوِيَّة لكلام ما» (6).
ويُزِيد ديفيد كريستال David Crystal هذا المصطلح إيضاحا في معجمه «A Dictionary Of Linguistics And Phonetics» فيقول: «إِنَّ سياق الحال يشير إلى كُلِّ جوانب هيئة العالم الخارجيّ التي يجب أَنْ تؤخذ في الاعتبار عند تحليل «كلام ما» إلى مستوياته) الأصوات، القواعد الدِّلَالَة (لوثاقة هذه الجوانب بهذا التحليل» (7). ويقول في موضع ثان: «وفي أوسع معنى لسياق
--------------------------------------------
অথবা এটি হলো «ঐ শব্দসমূহ যা কোনো শব্দ, বাক্যাংশ বা বাক্যের আগে অথবা পরে আসে এবং তার অর্থ বুঝতে সাহায্য করে» (১)।
ভাষাসংশ্লিষ্ট এই প্রসঙ্গের (সিয়াক) বিষয়টি বিশেষজ্ঞ ভাষাবিদগণ দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:
- ভাষাগত প্রসঙ্গ (Linguistic context বা Verbal context)।
- অ-ভাষাগত প্রসঙ্গ (Non-linguistic context) (২)।
ভাষাগত প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তা «ধ্বনি, শব্দ এবং বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় যা একটি নির্দিষ্ট কথ্য ঘটনা বা ভাষাগত পাঠে ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত থাকে» (৩)। সুতরাং কোনো কথা বা পাঠের গঠনকারী অর্থবোধক এককসমূহ «অন্যান্য এককের নিকটবর্তী অবস্থানে থাকে এবং এই এককগুলোর অর্থ বর্ণনা বা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না তার পার্শ্ববর্তী এককসমূহকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে» (৪)।
অ-ভাষাগত প্রসঙ্গ বা অবস্থা-সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গের (Context of situation) অর্থ হলো «কথোপকথনকে ঘিরে থাকা পারিপার্শ্বিক বাহ্যিক পরিবেশ এবং আনুষঙ্গিক অবস্থাসমূহ» (৫)। অথবা এটি হলো «কোনো বক্তব্যের অ-ভাষাগত পরিবেশ» (৬)।
ডেভিড ক্রিস্টাল (David Crystal) তাঁর অভিধান «এ ডিকশনারি অফ লিঙ্গুইস্টিকস অ্যান্ড ফোনেটিকস» (A Dictionary Of Linguistics And Phonetics)-এ এই পরিভাষাটির আরও ব্যাখ্যা প্রদান করে বলেন: «অবস্থা-সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ (Context of situation) বাহ্যিক জগতের কাঠামোর সেই সমস্ত দিককে নির্দেশ করে যা কোনো ‘বক্তব্য’-এর বিশ্লেষণকালে (ধ্বনিবিদ্যা, ব্যাকরণ ও শব্দার্থতত্ত্বের স্তরে) বিবেচনায় নেওয়া আবশ্যক, কারণ এই বিশ্লেষণের সাথে উক্ত দিকগুলোর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে» (৭)। তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: «এবং প্রসঙ্গের ব্যাপকতম অর্থে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الحال فإِنَّهُ يشمل الخلفيَّة غير اللُّغَوِيَّة لنص أو كلام ما كاملة وبكل ما فيها، ويشمل ذلك الموقف الحالي الذي يستخدم فيه النَّصّ أو الكلام، ووعي المُتَكَلِّم والسامع لما قيل قبلُ، وأَيَّة معتقدات أو افتراضات سابقة خارِجِيَّة» (1). إِنَّ سياق الحال «يمثِّله العالم الخارج عن اللُّغَة بما له من صلة بالحدث اللغويّ أو النَّصّ، ويتمثل في الظروف الاجتِماعِيَّة والنفسِيَّة والثقافيَّة للمتكلم والمشتركين في الكلام أيضا» (2).
والمصطلحات التي تعبر عن السِّياق غير اللغويّ أو سياق الحال كثيرة) (3).
--------------------------------------------
হাল (পরিস্থিতি) বলতে কোনো পাঠ্য বা বক্তব্যের সম্পূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক বহির্ভূত প্রেক্ষাপটকে তার অন্তর্ভুক্ত সবকিছুসহ বোঝায়। এটি সেই বর্তমান পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে পাঠ্য বা বক্তব্যটি ব্যবহৃত হয় এবং বক্তা ও শ্রোতার ইতিপূর্বে যা বলা হয়েছে সে সম্পর্কে সচেতনতা এবং যেকোনো প্রাসঙ্গিক বাহ্যিক বিশ্বাস বা পূর্বকল্পনাও এর অন্তর্গত (১)। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট (সিয়াকুল হাল) «ভাষার বাইরের জগত দ্বারা প্রতিনিধিত্ব লাভ করে যা ভাষাগত ঘটনা বা পাঠ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি বক্তা ও কথোপকথনে অংশগ্রহণকারীদের সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিফলিত হয়» (২)।
অ-ভাষাতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট বা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট প্রকাশকারী পারিভাষিক শব্দ অনেক (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কারীনাতুস সিয়াক ওয়া দাওরুহা ফিত তাকঈদ আন-নাহওয়ী ওয়াত তাওজীহিল ই’রাবী ফী কিতাবি সীবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------