(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: -)
روايات البغوي في تفسيره معالم التنزيل عن شيخه عبد الواحد المليحي "تخريج ودراسة" القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: روايات البغوي في تفسيره معالم التنزيل عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ «تخريج ودراسة»
إعداد الطالب: عبد الحميد عبد الرازق شيخون محمد
رسالة: ماجستير، قسم اللغة العربية وآدابها شعبة الدراسات الإسلامية كلية الآداب، جامعة الإسكندرية - مصر
إشراف: أ. د شحات السيد زغلول، أ. د السعيد بيومي الورقي، د ماجدة أحمد سليمان
عام النشر: 1435 هـ - 2014 م
عدد الصفحات: 707
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 صفر 1440
বাগাওয়ীর তার তাফসীর 'মাআলিমুত তানজীল'-এ তার শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো "তাকরীজ ও গবেষণা" বিভাগ: তাকরীজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: বাগাওয়ীর তার তাফসীর 'মাআলিমুত তানজীল'-এ তার শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো «তাকরীজ ও গবেষণা»
শিক্ষার্থী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত: আব্দুল হামিদ আব্দুল রাজ্জাক শেখুন মুহাম্মদ
থিসিস: মাস্টার্স, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইসলামি শিক্ষা শাখা, কলা অনুষদ, আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় - মিশর
তত্ত্বাবধানে: প্রফেসর ড. শাহাত আস-সাইয়্যিদ যাগলুল, প্রফেসর ড. আস-সাঈদ বায়ূমী আল-ওয়ারাকী, ড. মাজেদা আহমদ সুলাইমান
প্রকাশের বছর: ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৯ সফর ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١)
جامعة الإسكندرية
كلية الآداب
قسم اللغة العربية وآدابها
شعبة الدراسات الإسلامية
روايات البغوي في تفسيره معالم التنزيل عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ
"تخريج ودراسة"
بحث مقدم لاستكمال متطلبات الحصول على درجة الماجستير في الآداب بنظام الساعات المعتمدة
إعداد الطالب/ عبد الحميد عبد الرازق شيخون محمد
تحت إشراف
أ. د/ شحات السيد زغلول
أ. د/ السعيد بيومي الورقي
د/ ماجدة أحمد سليمان
العام الدراسي
1435 هـ
… -
… 2014 م
আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
কলা অনুষদ
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
ইসলামি শিক্ষা শাখা
তাঁর শিক্ষক আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি হতে ইমাম বাগাওয়ীর স্বীয় তাফসির মা'আলিমুত তানজিলে বর্ণিত বর্ণনাগুলো
"তাকরিজ ও পর্যালোচনা"
ক্রেডিট আওয়ার পদ্ধতিতে আর্টস-এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের শর্তাবলী পূরণের লক্ষ্যে পেশকৃত একটি গবেষণা পত্র
উপস্থাপনায় ছাত্র/ আব্দুল হামিদ আব্দুল রাজিক শেখুন মুহাম্মদ
তত্ত্বাবধানে
অধ্যাপক ড. শাহাত আস-সায়্যিদ জাদলুল
অধ্যাপক ড. আস-সাঈদ বায়ূমি আল-ওয়াররাকি
ড. মাজিদা আহমদ সুলাইমান
শিক্ষাবর্ষ
১৪৩৫ হিজরি
… -
… ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١)
المقدمة:إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أما بعد:
فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: " مَن يُرد اللَّه به خيرًا يُفَقِّهه في الدِّين" (1)؛ فجعل النبي صلى الله عليه وسلم الخيرية في التفقه في الدين ليتسابق إليه الخيرون، وجعلهم ورثة الأنبياء، وجعلهم من أوفر الناس حظًا؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: "إن العلماء ورثة الأنبياء، إن الأنبياء لم يورثوا دينارًا ولا درهمًا، إنما ورثوا العلم، فمن أخذ به أخذ بحظ وافر" (2).
ومن بركات هذا العلم: أنه يلحق العامل به من عمله وحسناته بعد موته؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: " إن مما يلحق المؤمن من عمله وحسناته بعد موته علمًا علمه ونشره ..... الحديث" (3).
أسأل الله العظيم أن يجعلني وإياكم من هؤلاء المهتمين بنشره ابتغاء رضا الله عز وجل.
ولما كان الأمر كذلك صار حريًا أن ننهض للعلم وطلبه والسعي إليه، ونبذل الغالي والنفيس من أجله، وكان من هذا السعي: جهدي في إعداد هذا البحث، عسى الله تبارك وتعالى أن يكتب له القبول والتوفيق.
حيث وقع اختياري على كتاب تفسير: "معالم التنزيل" المعروف بتفسير البغوي، لمؤلفه: الحسين بن مسعود البغوي؛ وذلك باستخراج روايات البغوي المرفوعة عن شيخه عبد الواحد بن أحمد المَلِيْحِيّ التي رواها بسنده إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وآثاره، وذلك في تفسيره
--------------------------------------------
ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ ও আমাদের কর্মসমূহের অমঙ্গল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। এরপর:
নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন" (১); নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনকে কল্যাণের মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যাতে কল্যাণকামী ব্যক্তিরা এর দিকে ধাবিত হয়। তিনি জ্ঞান অন্বেষণকারীদের নবীদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন এবং তাদের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা রেখে গেছেন ইলম (জ্ঞান)। অতএব যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে পূর্ণ অংশ লাভ করল" (২)।
এই ইলমের অন্যতম বরকত হলো: এটি মৃত্যুর পর আমলকারীর আমল ও পুণ্য হিসেবে তাঁর সাথে যুক্ত হতে থাকে। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও পুণ্য থেকে যা তার সাথে যুক্ত হয় তা হলো—এমন জ্ঞান যা সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে... (হাদীসটি শেষ পর্যন্ত)" (৩)।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে এবং আপনাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ইলম প্রচারে মনোযোগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
যেহেতু বিষয়টি এমন, তাই ইলম অর্জন, তা অন্বেষণ ও এর জন্য সচেষ্ট হওয়া এবং এর জন্য মূল্যবান সবকিছু ব্যয় করা সমীচীন। এই প্রচেষ্টারই অংশ হলো—এই গবেষণাটি প্রস্তুত করার পেছনে আমার শ্রম; আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা যেন এটি কবুল করেন এবং এতে সফলতা দান করেন।
আমি গবেষণার বিষয় হিসেবে তাফসীরের কিতাব: "মাআলিমুত তানজীল", যা তাফসীরে বাগভী নামে পরিচিত, তাকে বেছে নিয়েছি এবং এর লেখক হলেন: আল-হুসাইন বিন মাসউদ আল-বাগভী। আমার উদ্দেশ্য হলো ইমাম বাগভী তাঁর শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহী থেকে যে মারফূ রেওয়ায়েতগুলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর আছারসমূহ তাঁর এই তাফসীর থেকে উদ্ধার করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
كله. حيث بلغت هذه الروايات في هذا الكتاب: خمسمائة وستة وأربعين حديثًا مرفوعًا وما في حكمه، وهي التي سوف تشملها الدراسة التطبيقية.
أولًا: أهمية الموضوع:1 - العلم بالقرآن وتفسيره من أجل العلوم وأشرفها، ولا يمكن معرفة وفهم وتدبر القرآن إلا بمعرفة الحديث الشريف المبيّن، والمخصص، والمفسّر له، وعليه صار لا بُدّ من تمييز صحيح الحديث من سقيمه في هذا الكتاب.
2 - يعد تفسير البغوي من أمهات كتب التفسير، فهو يروي بسنده الأحاديث إلى النبي صلى الله عليه وسلم؛ لذلك يعد من كتب التخريج الرئيسة.
3 - يعد طريق عبد الواحد بن أحمد المَلِيْحِيّ من أهم الطرق التي روى من خلاله صحيح البخاري ومصنف عبد الرازق ومسند علي بن الجعد، وغيره.
ثانيا: أسباب الاختيار:1 - رغبتي في التوسع وزيادة التمكن من علم دراسة الأسانيد، والحكم عليها بما يناسبها.
2 - رغبتي في اختيار موضوع يفيدني، وطلاب العلم.
3 - لم يطرق هذا الموضوع من قبل فيما أعلم.
ثالثا: أهداف البحث:1 - جمع الأحاديث - المرفوعة وما في حكمها -، والآثار الواردة من طريق عبد الواحد المَلِيْحِيّ من كتاب تفسير البغوي.
2 - معرفة وتمييز الأحاديث المقبولة من المردودة من مرويات المَلِيْحِيّ، وهو أمر له بالغ الأثر في معرفة التفسير الصحيح.
3 - التعريف بالإمام البغوي، وبجهوده في علمي الحديث والتفسير بشكل خاص.
رابعا: الدراسات السابقة:وتشمل ثلاثة موضوعات:
الأول: وهو ما يتعلق بالإمام البغوي.
পুরোটাই। যেখানে এই গ্রন্থে এই বর্ণনাগুলো পৌঁছেছে: পাঁচশত ছেচল্লিশটি মারফু হাদীস এবং যা তার সমপর্যায়ের, আর এগুলোই এই প্রায়োগিক গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হবে।
প্রথমত: বিষয়ের গুরুত্ব:১ - কুরআন এবং এর তাফসীর সংক্রান্ত জ্ঞান হলো মহান এবং শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর কুরআন জানা, বোঝা এবং অনুধাবন করা সম্ভব নয় হাদীস শরীফ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ছাড়া, যা কুরআনের বর্ণনাকারী, সুনির্দিষ্টকারী এবং ব্যাখ্যাকারী। তাই এই কিতাবে সহীহ হাদীসকে দুর্বল হাদীস থেকে পৃথক করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
২ - তাফসীরে বাগাবী হলো তাফসীরের মূল গ্রন্থগুলোর অন্যতম। তিনি এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পর্যন্ত তাঁর নিজের সনদে হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন; তাই এটি হাদীস যাচাই ও উৎসের সন্ধান (তাখরীজ)-এর প্রধান কিতাবগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হয়।
৩ - আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ আল-মালিহীর সূত্রটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত, যার মাধ্যমে সহীহ বুখারী, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এবং মুসনাদে আলী ইবনুল জা'দ ও অন্যান্য গ্রন্থ বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: নির্বাচনের কারণসমূহ:১ - সনদ পর্যালোচনা শাস্ত্রে জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং যথাযথভাবে সেগুলোর মান নির্ণয়ে অধিকতর পারদর্শিতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা।
২ - এমন একটি বিষয় নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা যা আমার এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের উপকারে আসবে।
৩ - আমার জানামতে ইতিপূর্বে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা বা কাজ করা হয়নি।
তৃতীয়ত: গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:১ - তাফসীরে বাগাবী থেকে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহীর সূত্রে বর্ণিত মারফু হাদীস (ও সমজাতীয় হাদীস) এবং আসারসমূহ সংগ্রহ করা।
২ - মালিহীর বর্ণিত বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় হাদীসগুলো চেনা ও পৃথক করা; সঠিক তাফসীর জানার ক্ষেত্রে যার গুরুত্ব অপরিসীম।
৩ - ইমাম বাগাবীর পরিচয় তুলে ধরা এবং বিশেষ করে হাদীস ও তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর অবদানের বিবরণ প্রদান করা।
চতুর্থত: পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:এটি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম: যা ইমাম বাগাবীর সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
والثاني: ما يتعلق بكتاب التفسير والأحاديث الواردة فيه.
والثالث: فيما يتعلق بالأحاديث والآثار التي رواها البغوي عن شيخه عبد الواحد بن أحمد المَلِيْحِيّ.
أولًا: ما يتعلق بالإمام البغوي:لم تفرد له مصنفات تعنى بترجمته، لكن ترجم له ضمن دراسات عملت على مصنفاته: كشرح السنة، ومعالم التنزيل، فقد توسع واستفاض في ترجمته الباحث/ أحمد محمد سعيد النقلة في رسالته المقدمة لنيل درجة الماجستير في الحديث من جامعة غزة بعنوان: "زوائد كتاب شرح السنة للبغوي على الكتب الستة"، حيث درس عصر الإمام البغوي وحياته وآثاره بشكل واسع ومستفيض.
ثانيًا: ما يتعلق بكتاب التفسير:فمن الباحثين من درس منهجه استقلالًا: كعفاف عبدالغفور حميد في مؤلفها (البغوي ومنهجه في التفسير)، فقد درست تفسيره ومصادره ومنهجه ومباحث علوم القرآن فيه.
ومنهم من حققه وقارن بين نسخه المخطوطة كمحمد عبدالله النمر، وعثمان جمعة ضميرية، وسليمان مسلم الحرش في طبعة لدار طيبة، حيث قاموا بتخريج أحاديثه والحكم عليها. وكذلك فعل عبد الرازق المهدي في تحقيقه، وكلاهما اعتنيا بالحكم على المتن بشكل أكبر من اعتنائهم بالحكم على إسناد البغوي ذاته، وهو ما سيكون صلب دراستي الإسنادية.
ثالثًا: فيما يتعلق بالأحاديث والآثار التي رواها البغوي عن شيخه عبد الواحد بن أحمد المَلِيْحِيّ.
بعد البحث والاستفسار عن طريق سؤال شيوخي وأساتذتي الأفاضل، وبالبحث في العديد من قواعد المعلومات الخاصة بالرسائل الجامعية، والبحث على شبكة المعلومات "الإنترنت"، تبين أنه لا توجد دراسة مستقلة حول الأحاديث التي رواها البغوي عن شيخه عبد الواحد بن أحمد المَلِيْحِيّ؛ لذا فقد اخترت هذا الموضوع ليكون صلب دراستي.
দ্বিতীয়ত: যা তাফসীর গ্রন্থ এবং তাতে বর্ণিত হাদীসসমূহ সংশ্লিষ্ট।
তৃতীয়ত: ঐ সকল হাদীস ও আছার (পূর্বসূরীদের বাণী) সংশ্লিষ্ট যা বাগাবী তাঁর শাইখ আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মালিহী থেকে বর্ণনা করেছেন।
প্রথমত: ইমাম বাগাবী সংশ্লিষ্ট:তাঁর জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি, তবে তাঁর গ্রন্থসমূহ—যেমন: শারহুস সুন্নাহ এবং মাআলিমুত তানজীল—নিয়ে করা গবেষণার অংশ হিসেবে তাঁর জীবনী আলোচিত হয়েছে। গবেষক আহমাদ মুহাম্মদ সাঈদ আন-নাকলা গাজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদীস শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশকৃত তাঁর "বাগাবীর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থের জাওয়ায়েদ আল-কুতুব আস-সিত্তাহ" শীর্ষক থিসিসে তাঁর জীবনীর ওপর বিস্তারিত ও বিশদ আলোকপাত করেছেন। সেখানে তিনি ইমাম বাগাবীর যুগ, তাঁর জীবন এবং তাঁর কর্মসমূহ নিয়ে ব্যাপক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেছেন।
দ্বিতীয়ত: তাফসীর গ্রন্থ সংশ্লিষ্ট:গবেষকদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্রভাবে তাঁর মানহাজ (পদ্ধতি) নিয়ে গবেষণা করেছেন: যেমন আফাফ আবদুল গফুর হামিদ তাঁর "আল-বাগাবী ওয়া মানহাজুহু ফিত তাফসীর" গ্রন্থে তাঁর তাফসীর, এর উৎসসমূহ, মানহাজ এবং এতে বিদ্যমান উলূমুল কুরআনের বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আবার কেউ কেউ এর তাহকীক (সম্পাদনা) করেছেন এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন, যেমন মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন-নামির, উসমান জুমআহ যামীরিয়্যাহ এবং সুলাইমান মুসলিম আল-হারশ—যাঁরা দারুত তাইয়িবাহ থেকে প্রকাশিত সংস্করণে কাজ করেছেন। তাঁরা এর হাদীসসমূহের তাখরীজ করেছেন এবং সেগুলোর মান নির্ধারণ করেছেন। আব্দুর রাজ্জাক আল-মাহদীও তাঁর তাহকীকের কাজে অনুরূপ করেছেন। তাঁরা উভয়ই স্বয়ং ইমাম বাগাবীর সনদের মান নির্ধারণের চেয়ে মাতনের (মূল পাঠ) মান নির্ধারণের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, আর এটিই হবে আমার সনদভিত্তিক গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য।
তৃতীয়ত: ঐ সকল হাদীস ও আছার সংশ্লিষ্ট যা বাগাবী তাঁর শাইখ আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মালিহী থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমার সম্মানিত শাইখ ও শিক্ষকদের নিকট জিজ্ঞাসার মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিস সংক্রান্ত ডাটাবেস ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে তল্লাশি করার পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইমাম বাগাবী তাঁর শাইখ আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মালিহী থেকে যে সকল হাদীস বর্ণনা করেছেন সেগুলোর ওপর কোনো স্বতন্ত্র গবেষণা নেই; তাই আমি এই বিষয়টিকে আমার গবেষণার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচন করেছি।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
خامسا: منهج البحث:يعتمد هذا البحث على المنهج الاستقرائي التحليلي، والذي تمثّل في التالي:
1 - استخرجت الأحاديث والآثار التي أوردها البغوي في كتاب التفسير عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ، وقد سبق ذكر عددها.
استخرجت هذه الأحاديث والآثار عن طريق:
أالنظر في جميع أحاديث كتاب التفسير واستخراج ما رواه البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ من هذه الأحاديث، وذلك بواسطة الحاسوب.
ب الاستعانة بمن سبقني في خدمة هذا الكتاب.
ج الاستعانة بكتب التخريج.
2 - خرجت الأحاديث تخريجًا يساعد في معرفة درجة الحديث والحكم عليه.
3 - ترجمت لرجال الإسناد: وذلك بذكر اسم الراوي، وكنيته، وسنة وفاته، ما عدا رجال البخاري في الأحاديث التي رواها البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ بسنده عن محمد بن إسماعيل البخاري؛ حيث إن عبد الواحد المَلِيْحِيّ حدَّث بصّحيح البخاري عن النُّعَيْميّ عن الفِرَبْريّ.
4 - الأرقام التي تلي أسماء الرواة والأعلام، هي تاريخ الوفاة، والتواريخ مثبتة بالتقويم القمري الهجري، وما سوى ذلك فأشير إليه.
5 - لم أترجم للصحابة، إلا المختلف فيهم، وغير المشهورين.
6 - جمعت أقوال أئمة الجرح والتعديل في الرواة المختلف فيهم للاجتهاد في الوصول إلى خلاصة القول فيهم.
7 - الرواة المتفق عليهم جرحًا أو تعديلًا ترجمت لهم ترجمة مجملة مع الإشارة إلى مواضع الترجمة، وأكتفي بقولي فلان ثقة، أو أجمعوا على توثيقه، أو ضعيف.
8 - من لم أجد له ذكر في كتب التراجم، بينت ذلك بقولي: لم أجده.
9 - من وجدته في كتب التراجم، ولم أجد قولًا للنقاد فيه، بينت ذلك بقولي: لم أقف على قولٍ للنقاد فيه.
10 - عملت مقارنة بين المتون التي ثبتت صحتها أو حسنها أو ضعفها.
পঞ্চম: গবেষণার পদ্ধতি:এই গবেষণাটি আরোহী ও বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল, যা নিম্নরূপ:
১ - ইমাম বাগাভী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে তাঁর শায়খ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে যে সকল হাদীস ও আসার উদ্ধৃত করেছেন, আমি সেগুলো নিরূপণ করেছি; যার সংখ্যা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হাদীস ও আসারসমূহ আমি নিম্নোক্ত উপায়ে বের করেছি:
ক. কম্পিউটারের সাহায্যে তাফসীর গ্রন্থের সকল হাদীস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা এবং বাগাভী তাঁর শায়খ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে যে হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন তা পৃথক করা।
খ. ইতিপূর্বে যারা এই গ্রন্থের কাজ করেছেন তাদের সহায়তা গ্রহণ করা।
গ. তাখরীজ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সাহায্য গ্রহণ করা।
২ - আমি হাদীসগুলোর এমনভাবে তাখরীজ করেছি যা হাদীসের মান এবং এর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।
৩ - আমি বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করেছি: এক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর নাম, উপনাম (কুনিয়ত) এবং মৃত্যুসন উল্লেখ করেছি; তবে ইমাম বাগাভী তাঁর শায়খ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী-এর মাধ্যমে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী পর্যন্ত যে সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সেই বুখারীর বর্ণনাকারীদের জীবনী এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী মূলত নুআইমী ও ফিরাবরীর মাধ্যমে সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন।
৪ - বর্ণনাকারী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামের পরে যে সংখ্যাগুলো রয়েছে তা হলো তাদের মৃত্যুসন। এই তারিখগুলো চান্দ্র হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে, এর ব্যতিক্রম হলে আমি তা নির্দেশ করেছি।
৫ - আমি সাহাবীগণের জীবনী উল্লেখ করিনি, তবে যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে অথবা যারা প্রসিদ্ধ নন তাদের বিষয়টি স্বতন্ত্র।
৬ - বিতর্কিত বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে জারাহ ও তা'দীলের ইমামগণের উক্তিগুলো সংগ্রহ করেছি যাতে তাদের সম্পর্কে একটি নির্যাস সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা যায়।
৭ - যাদের ব্যাপারে জারাহ বা তা'দীলের ক্ষেত্রে ঐকমত্য রয়েছে, তাদের জন্য আমি সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি এবং মূল জীবনীগ্রন্থের উৎসগুলো নির্দেশ করেছি। এক্ষেত্রে আমি কেবল 'অমুক নির্ভরযোগ্য' বা 'তার নির্ভরযোগ্যতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে' অথবা 'দুর্বল' বলা যথেষ্ট মনে করেছি।
৮ - জীবনীগ্রন্থে যাদের কোনো উল্লেখ আমি পাইনি, তাদের ক্ষেত্রে আমি 'তাকে পাইনি' বলে উল্লেখ করেছি।
৯ - জীবনীগ্রন্থে যাদের নাম পাওয়া গেছে কিন্তু তাদের সম্পর্কে সমালোচকদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তাদের ক্ষেত্রে আমি বলেছি: 'তাদের ব্যাপারে সমালোচকদের কোনো মন্তব্যের সন্ধান আমি পাইনি'।
১০ - যে সকল মতন (মূল পাঠ) সহীহ, হাসান বা যয়ীফ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আমি তুলনামূলক পর্যালোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
11 - نقلت أحكام النقاد - المتقدمين والمتأخرين - على الأحاديث التي قمت بدراسة أسانيدها بحسب الحاجة، مع بيان حكمي الخاص بذلك ما استطعت.
12 - ما اتفق عليه البخاري ومسلم قلت فيه: صحيح؛ اتفق على إخراجه الشيخان، وما أخرجه البغوي من طريق محمد بن إسماعيل البخاري تركت الحكم عليه، وما رُوي من غير هذا الطريق اجتهدت في بيان الحكم عليه مع الاستعانة بأحكام النقاد في ذلك.
13 - رتبت الأحاديث في الدراسة التطبيقية حسب ورودها في التفسير، ذاكرًا السورة التي وردت ضمنها الأحاديث والآثار.
14 - ترجمت للأعلام والأنساب والألقاب، وعرفت بالأماكن والبلدان.
15 - عملت فهارس للآيات والأحاديث والرواة والمصادر والمراجع والموضوعات.
16 - اخترت المراجع الحديثة المحققة قدر الإمكان، والمذيلة بأحكام المحققين؛ وذلك لتسهيل نقل أحكام المحققين دون الحاجة إلى تكرار العزو.
17 - استعنت بطبعتين لتفسير البغوي، وهما: طبعة دار طيبة، وهي التي أعزو الأحاديث والآثار إليها، وطبعة دار إحياء التراث العربي؛ حيث لجأت إليها في تصحيح بعض الأخطاء الناتجة عن التحقيق في طبعة دار طيبة.
18 - التزمت بالمنهجية العلمية المتعلقة بكتابة البحوث العلمية في مثل هذا البحث العلمي، كالتبويب، وعلامات الترقيم، والحواشي، والفهارس، ونحوها.
سادسًا: خطة البحث:وتشتمل على مقدمة وتمهيد وثلاثة فصول وخاتمة.
تشتمل المقدمة على: أهمية الموضوع وبواعث اختياره، وأهداف البحث، والدراسات السابقة، ومنهج البحث وطبيعة العمل، وخطة البحث.
التمهيد: ويشتمل على:
• التعريف بالإمام البغوي ومكانته العلمية.
• التعريف بكتاب تفسير البغوي وأهميته.
১১ - আমি প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সকল হাদিসের ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমালোচকদের সিদ্ধান্তগুলো উদ্ধৃতি দিয়েছি যেগুলোর সানাদ আমি অধ্যয়ন করেছি, সাথে সাধ্যমতো সেই বিষয়ে আমার নিজস্ব সিদ্ধান্তও ব্যক্ত করেছি।
১২ - বুখারি ও মুসলিম যে হাদিসের ওপর একমত হয়েছেন, সেটির ক্ষেত্রে আমি বলেছি: সহিহ; শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর ইমাম বাগাউয়ি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন, সেটির ওপর হুকুম প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছি। তবে এই সূত্র ব্যতীত যা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর ওপর হুকুম বর্ণনায় আমি সচেষ্ট হয়েছি এবং এক্ষেত্রে সমালোচকদের সিদ্ধান্তের সহায়তা গ্রহণ করেছি।
১৩ - প্রয়োগমূলক অধ্যয়নে আমি হাদিসগুলোকে তাফসিরের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি এবং সেই সাথে ওই হাদিস ও আসারগুলো যে সূরার অধীনে এসেছে তাও উল্লেখ করেছি।
১৪ - আমি ব্যক্তিবর্গ, বংশপরিচয় ও উপাধিগুলোর জীবনী লিখেছি এবং স্থান ও দেশসমূহের পরিচয় প্রদান করেছি।
১৫ - আমি আয়াত, হাদিস, বর্ণনাকারী, মূল উৎস, সহায়ক গ্রন্থ এবং বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।
১৬ - আমি যথাসম্ভব আধুনিক তাহকিককৃত এবং মুহাক্কিকদের সিদ্ধান্ত সংবলিত তথ্যসূত্রগুলো নির্বাচন করেছি; যেন বারবার উদ্ধৃতি প্রদানের প্রয়োজন ছাড়াই মুহাক্কিকদের সিদ্ধান্তগুলো সহজে উল্লেখ করা যায়।
১৭ - আমি তাফসিরে বাগাউয়ির দুটি মুদ্রণের সাহায্য নিয়েছি, সেগুলো হলো: দারু তাইয়িবা সংস্করণ—যেখান থেকে আমি হাদিস ও আসারগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছি—এবং দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি সংস্করণ; দারু তাইয়িবা সংস্করণের তাহকিকের ফলে সৃষ্ট কিছু ভুল সংশোধনের জন্য আমি দ্বিতীয়টির সাহায্য নিয়েছি।
১৮ - আমি এ ধরনের গবেষণাপত্র রচনার সাথে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাডেমিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যেমন পরিচ্ছেদ বিন্যাস, বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, টীকা, নির্ঘণ্ট এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
ষষ্ঠত: গবেষণা পরিকল্পনা:এটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত।
ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত হলো: বিষয়ের গুরুত্ব ও তা নির্বাচনের কারণ, গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, পূর্ববর্তী গবেষণাগুলো, গবেষণার পদ্ধতি ও কাজের ধরন এবং গবেষণা পরিকল্পনা।
উপক্রমণিকা: এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ধারণ করে:
• ইমাম বাগাউয়ির পরিচয় ও তাঁর ইলমি মর্যাদা।
• তাফসিরে বাগাউয়ি কিতাবটির পরিচয় ও এর গুরুত্ব।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
- الفصل الأول: منهج الإمام البغوي الحديثي من خلال القسم المخرّج: وفيه أربعة مباحث:
• المبحث الأول: منهج البغوي في الرواية عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ.
• المبحث الثاني: منهجه في إيراد الأحاديث.
• المبحث الثالث: منهجه في تخريج الأحاديث.
• المبحث الرابع: نقد الأسانيد والحكم على الأحاديث عند البغوي.
- الفصل الثاني: موارد الإمام البغوي في تفسيره وأهداف ورود الحديث عنده: وفيه مبحثان:
• المبحث الأول: موارد الإمام البغوي عن شيخه المَلِيْحِيّ في التفسير.
• المبحث الثاني: أهداف ورود الحديث عند الإمام البغوي.
الفصل الثالث: مرويات البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ في معالم التنزيل "دراسة تطبيقية"
ويشتمل على الأحاديث والآثار التي أخرجها البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ في تفسيره كله.
الخاتمة: وتشتمل على أهم النتائج.
الفهارس: وتشتمل على:
- فهرس الآيات القرآنية.
- فهرس الأحاديث والآثار.
- فهرس الرواة المُتَرْجَم لهم.
- فهرس المصادر والمراجع.
- فهرس الموضوعات.
- প্রথম পরিচ্ছেদ: তাখরীজকৃত অংশের আলোকে ইমাম বগবীর হাদীস বিষয়ক কর্মপদ্ধতি: এতে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
• প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বগবীর পদ্ধতি।
• দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: হাদীস উল্লেখ করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি।
• তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: হাদীসের তাখরীজ করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি।
• চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: বগবীর নিকট সনদ পর্যালোচনা এবং হাদীসের ওপর হুকুম প্রদান।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম বগবীর তাফসীরের উৎসসমূহ এবং তাঁর নিকট হাদীস আসার উদ্দেশ্য: এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
• প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তাফসীরের ক্ষেত্রে তাঁর উস্তাদ আল-মালিহী থেকে ইমাম বগবীর সংগৃহীত উৎসসমূহ।
• দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ইমাম বগবীর নিকট হাদীস উল্লেখ করার উদ্দেশ্যসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: 'মাআলিমুত তানযীল'-এ তাঁর উস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে বগবীর বর্ণিত বর্ণনাগুলো: "ব্যবহারিক গবেষণা"
এতে সেই সমস্ত হাদীস ও আছার (পূর্বসূরীদের বাণী) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা বগবী তাঁর সম্পূর্ণ তাফসীরে তাঁর উস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে বর্ণনা করেছেন।
উপসংহার: এতে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্ঘণ্টসমূহ: এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
- হাদীস ও আছারসমূহের নির্ঘণ্ট।
- যে সকল বর্ণনাকারীর জীবনী বর্ণিত হয়েছে তাদের নির্ঘণ্ট।
- উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।
- বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
التمهيد: ويشتمل على:
• التعريف بالإمام البغوي ومكانته العلمية.
• التعريف بكتاب تفسير البغوي وأهميته.
উপক্রমণিকা: এবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
• ইমাম বাগাবী এবং তাঁর ইলমি মর্যাদার পরিচিতি।
• তাফসিরে বাগাবী গ্রন্থ এবং এর গুরুত্বের পরিচিতি।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
التمهيد:•
التعريف بالإمام البغوي ومكانته العلمية:
أولا: التعريف بالإمام البغوي
اسمه: الحسين بن مسعود بن محمد المعروف بالفراء، والفراء (1)
نسبة إلى عمل الفراء وبيعه (2).
نسبه: البغوي؛ نسبة إلى بلدة من بلاد خراسان بين مرو وهراة، يقال لها: بغ، وبغشور (3)،
كنيته: أبو محمد (4)،
لقبه: محي السنة، وظهير الدين (5).
مولده: ولد رحمه الله في جمادى الأولى سنة ثلاث وثلاثين وأربعمائة (6).
خلقه: كان رحمه الله دينًا ورعًا قانعًا زاهدًا مقتصدًا في لباسه، على منهاج السلف حالًا وعقدًا، وكان يأكل الخبز البحت (7)، فلامه بعضهم في ذلك؛ فصار يأكل الخبز مع الزيت، وكان لا يلقى الدرس إلا على طهارة، وماتت له زوجة فلم يأخذ من ميراثها شيئًا (8).
وفاته: توفي رحمه الله عام ستة عشر وخمسمائة (9)، ودفن عند شيخه
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা:•
ইমাম বাগাওয়ীর পরিচিতি ও তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা:
প্রথমত: ইমাম বাগাওয়ীর পরিচিতি
তাঁর নাম: আল-হুসাইন বিন মাসউদ বিন মুহাম্মদ, যিনি আল-ফাররা নামে সুপরিচিত। আর 'আল-ফাররা' (১)
সংযুক্ত পশমি পোশাক বা ফারওয়া তৈরি ও বিক্রয়ের পেশার সাথে (২)।
বংশ পরিচয়: আল-বাগাওয়ী; যা খুরাসান অঞ্চলের মার্ভ ও হেরাতের মধ্যবর্তী একটি জনপদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যাকে 'বাগ' বা 'বাঘশূর' বলা হয় (৩)।
উপনাম (কুনিয়াত): আবু মুহাম্মদ (৪)।
উপাধি (লকব): মুহয়িস সুন্নাহ এবং জাহিরুদ্দিন (৫)।
জন্ম: তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি চারশত তেত্রিশ হিজরী সালের জমাদিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন (৬)।
চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য: তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, পরহেজগার, অল্পেতুষ্ট, দুনিয়াবিমুখ এবং পোশাক-পরিচ্ছদে মিতব্যয়ী ছিলেন। আমল ও আকিদার ক্ষেত্রে তিনি সালাফদের মানহাজের অনুসারী ছিলেন। তিনি শুধু শুকনো রুটি খেতেন (৭), এ ব্যাপারে কেউ তাঁকে অনুযোগ করলে পরবর্তীতে তিনি রুটির সাথে জয়তুনের তেল ব্যবহার করতে শুরু করেন। তিনি পবিত্রতা (অজু) ছাড়া পাঠদান করতেন না। তাঁর স্ত্রীর ইন্তেকালের পর তিনি তাঁর মীরাস (উত্তরাধিকার) থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি (৮)।
মৃত্যু: তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি পাঁচশত ষোলো হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (৯) এবং তাঁকে তাঁর শায়খের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
القاضي حسين بن محمد بمقبرة الطالقان (1).
ثانيًا: مكانة الإمام البغوي العلمية:بدأ الإمام البغوي سماعاته بعد سنة أربعمائة وستين (2)، وكان إِمَامًا جَلِيلًا ورعًا زاهدًا فَقِيهًا مُحدثًا مُفَسرًا جَامعًا بَين الْعلم وَالْعَمَل سالكا سَبِيل السّلف لَهُ فِي الْفِقْه الْيَد الباسطة (3)، وبورك له في تصانيفه، ورُزِقَ فيها القبول؛ لحسن قصده وصدق نيَّته (4).
1 - الإمام البغوي المحدث:لم يكن الإمام البغوي صاحب مصنفات في الحديث وعلومه فحسب، بل كان رحمه الله محدثًا، ففي سوقه الأحاديث بالأسانيد المتصلة من لدنه إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وفي تأليفه في الحديث وعلومه، وفي كلامه على بعض الرواة، وعلى بعض الأحاديث ما يدل على أنه محدث، وقد وصفه ابن خلكان (5) بالمحدث، ووصفه الذهبي: بالحافظ ومحيي السنة (6)، والمطّلع على مصنفات البغوي في الحديث يجد نفسه أمام عالم بالحديث وعلومه؛ ففي مقدمته لكتاب شرح السنة يقول: فهذا كتاب في شرح السنة، يتضمن كثيرًا من علوم الأحاديث، وفوائد الأخبار المروية عن رسول الله، ولم أودع هذا الكتاب من الأحاديث إلا ما اعتمده أئمة السلف الذين هم أهل الصنعة، المسلّم لهم الأمر من أهل عصرهم، وما أودعوه كتبهم، فأما ما أعرضوا عنه من المقلوب والموضوع والمجهول، واتفقوا على تركه، فقد صنت الكتاب عنها (7)، وهو ما يؤكد براعة شيخنا في علم الحديث.
--------------------------------------------
কাজী হুসাইন ইবন মুহাম্মাদকে তালকান কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে (১)।
দ্বিতীয়ত: ইমাম বাগাবীর ইলমী মর্যাদা:ইমাম বাগাবী ৪৬০ হিজরীর পর হাদীস শ্রবণ শুরু করেন (২)। তিনি ছিলেন একজন মহান ইমাম, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ, ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির। তিনি ইলম ও আমলের সার্থক সমন্বয়কারী এবং সালাফদের পথ অনুসরণকারী ছিলেন। ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর বিস্তৃত হাত (অগাধ পাণ্ডিত্য) ছিল (৩)। তাঁর রচিত কিতাবসমূহে বরকত দান করা হয়েছে এবং তাঁর উত্তম উদ্দেশ্য ও সদিচ্ছার কারণে তা সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে (৪)।
১ - মুহাদ্দিস হিসেবে ইমাম বাগাবী:ইমাম বাগাবী কেবল হাদীস ও হাদীস বিজ্ঞানের কিতাব রচয়িতাই ছিলেন না, বরং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) নিজে একজন মুহাদ্দিস ছিলেন। তাঁর হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) সনদের ব্যবহার, হাদীস ও হাদীস বিজ্ঞানের উপর তাঁর রচনাশৈলী এবং কিছু বর্ণনাকারী ও হাদীসের ওপর তাঁর পর্যবেক্ষণ—এসবই প্রমাণ করে যে তিনি একজন মুহাদ্দিস ছিলেন। ইবনে খাল্লিকান (৫) তাঁকে 'মুহাদ্দিস' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আয-যাহাবী তাঁকে 'হাফিয' ও 'মুহয়িস সুন্নাহ' (সুন্নাহর পুনর্জীবিতকারী) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন (৬)। হাদীস শাস্ত্রে বাগাবীর কিতাবসমূহ পর্যালোচনাকারী নিজেকে হাদীস ও হাদীস বিজ্ঞানের একজন বিদগ্ধ পণ্ডিতের সামনে দেখতে পাবেন। 'শারহুস সুন্নাহ' কিতাবের ভূমিকায় তিনি বলেন: "এটি সুন্নাহর ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি কিতাব, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অনেক হাদীস বিজ্ঞান ও খবরের ফায়দা বহন করে। আমি এই কিতাবে কেবল সেই হাদীসগুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি যা সালাফদের ইমামগণ—যারা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ এবং সমসাময়িকদের কাছে যাদের কর্তৃত্ব স্বীকৃত—ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহে স্থান দিয়েছেন। আর যে সকল মাকলুব (উলট-পালট), মাউজু (বানোয়াট) ও মাজহুল (অজ্ঞাত) বর্ণনা তারা এড়িয়ে গেছেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে বর্জন করেছেন, আমি এই কিতাবকে সেগুলো থেকে পবিত্র রেখেছি (৭)"। এটি হাদীস শাস্ত্রে আমাদের শায়খের পারদর্শিতারই প্রমাণ বহন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
2 - شيوخه وتلاميذه (1):
- شيوخه:
أخذ الأمام البغوي العلم على عدد من المشايخ منهم:
1 - أبو عمر عبد الواحد المَلِيْحِيّ، سمع منه صحيح البخاري.
2 - أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد الدَّاوُدِيّ.
3 - أَحْمَد بن عَبْد اللَّه الصَّالِحِيّ.
4 - أبو الحسن محمد بن محمد الشِّيرَازِيّ.
5 - أبو بكر محمد بن الهيثم التُّرَابِيّ.
6 - أحمد بن نصر الكوفانىّ.
7 - حسان المنيعيّ.
8 - حسين بن محمد، القاضيّ صاحب التعليق على المهذب وحدّث عنه.
9 - على بن يوسف الْجُوَيْنِيّ.
10 - يعقوب بن أحمد الصَّيْرَفِيّ.
وغيرهم كثر روى عنهم البغوي في تفسيره المبارك.
- تلاميذه:
ومن تلامذته رحمه الله:
1 - أبو منصور محمد بن اسعد العطاوي (المعروف بحضرة الطوسي).
2 - ابو الفتوح محمد بن محمد الطائي.
3 - أبو المكارم فضل الله بن محمد النوقاني.
4 - عبد الرحمن بن عبدالله النيهي.
3 - مصنفاته.
-
مصنفاته في القرآن وعلومه:1 - معالم التنزيل (2)، المعروف بتفسير البغوي (وهو الذى بين أيدينا).
--------------------------------------------
২ - তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ (১):
- শিক্ষকগণ:
ইমাম বাগভী বেশ কিছু সংখ্যক মাশায়েখের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আবু ওমর আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী, তাঁর নিকট থেকে সহীহ আল-বুখারী শ্রবণ করেছেন।
২ - আবুল হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আদ-দাউদী।
৩ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালিহী।
৪ - আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আশ-শিরাজি।
৫ - আবু বকর মুহাম্মদ বিন হাইসাম আত-তুরাবি।
৬ - আহমদ বিন নাসর আল-কুফানী।
৭ - হাসান আল-মানিঈ।
৮ - হুসাইন বিন মুহাম্মদ, আল-মুহাযযাব গ্রন্থের টিকা (আত-তালিক) রচয়িতা বিচারক (কাজী), তিনি তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৯ - আলী বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনী।
১০ - ইয়াকুব বিন আহমদ আস-সাইরাফী।
এবং আরও অনেকে, যাঁদের থেকে বাগভী তাঁর বরকতময় তাফসীরে বর্ণনা করেছেন।
- ছাত্রগণ:
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখযোগ্য হলেন:
১ - আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আসআদ আল-আতাওয়ী (হাদরাতে তুসী নামে পরিচিত)।
২ - আবুল ফুতুহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তাঈ।
৩ - আবুল মাকারিম ফদলুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আন-নাওকানী।
৪ - আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আন-নায়হী।
৩ - তাঁর গ্রন্থাবলি।
-
কুরআন ও কুরআন সংশ্লিষ্ট উলূম বিষয়ে তাঁর গ্রন্থসমূহ:১ - মাআলিমুত তানযীল (২), যা তাফসীরে বাগভী নামে পরিচিত (যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
2 - الكفاية في علم القراءة (1).
-
مصنفاته في الحديث وعلومه:ومن مصنفاته رحمه الله في الحديث وعلومه ما يلي:
1 - شرح السنة.
2 - مصابيح السنة.
3 - الجمع بين الصحيحين (البخاري ومسلم) (2).
4 - الأنوار في شمائل النبي المختار.
5 - الأربعون حديثًا (3).
-
مصنفاته في الفقه:1 - التهذيب في الفقه، لخصه من تعليق شيخه الحسين بن محمد، وهو تصنيف متين محرر عار عن الأدلة (4).
2 - شرح المختصر (5).
3 - الفتاوى (6).
4 - الكفاية في الفقه، وهو باللغة الفارسية (7).
5 - التهذيب في الفروع (8).
4 - ثناء العلماء عليه:حظيّ البغوي رحمه الله بثناء الكثير من العلماء ممن ترجموا له، فقال عنه
--------------------------------------------
২ - কিরায়াত শাস্ত্রে আল-কিফায়াহ (১)।
-
হাদীস ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর রচনাবলী:এবং হাদীস ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) রচনাবলী নিম্নরূপ:
১ - শারহুস সুন্নাহ।
২ - মাসাবিহুস সুন্নাহ।
৩ - আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন (বুখারী ও মুসলিম) (২)।
৪ - আল-আনোয়ার ফি শামায়িলিন নাবিয়্যিল মুখতার।
৫ - আল-আরবাউন হাদিসান (চল্লিশটি হাদীস) (৩)।
-
ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলী:১ - আত-তাহযীব ফিল ফিকহ; তিনি এটি তাঁর উস্তাদ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদের টীকা থেকে সংক্ষেপ করেছেন, এটি একটি সুসংহত ও সুবিন্যস্ত সংকলন যা দলীলসমূহ বর্জিত (৪)।
২ - শারহুল মুখতাসার (৫)।
৩ - আল-ফাতাওয়া (৬)।
৪ - আল-কিফায়াহ ফিল ফিকহ, যা ফারসি ভাষায় রচিত (৭)।
৫ - আত-তাহযীব ফিল ফুরু’ (৮)।
৪ - তাঁর সম্পর্কে আলিমগণের প্রশংসা:আল-বাগভী (রাহিমাহুল্লাহ) বহু আলিমগণের প্রশংসা লাভ করেছেন যারা তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ياقوت الحموي: "الفقيه العالم المشهور صاحب التصانيف" (1)، وقال ابن خلكان: "
… الملقب ظهير الدين، الفقيه الشافعي المحدث المفسر، كان بحرًا من العلوم" (2)، وقال الذهبي: "الإمام الحافظ الفقيه المجتهد محي السنة" (3)، وقال عنه أيضًا: "الشيخ العلامة القدوة الحافظ شيخ الإسلام" (4)، وقال الصفدي: "
… الفقيه الشافعي المحدث المفسر، كان بحرا من العلوم" (5) وقال تاج الدين السبكي: "
… كان إمامًا جليلًا ورعًا زاهدًا فقيهًا مفسرًا، جامعًا بين العلم والعمل، سالكًا سبيل السلف، له في الفقه اليد الباسطة" (6)، وقال ابن كثير: "
… وبرع في هذه العلوم، وكان علَّامَة زمانه فيها، وكان دَيِّنًا وَرِعًا زَاهدًا عابداً صالحاً" (7)، وقال السيوطي: "كان إمامًا في الحديث إمامًا في الفقه" (8).
•
التعريف بكتاب تفسير البغوي وأهميته:
أولًا: التعريف بكتاب تفسير البغوي:يعد تفسير البغوي من أهم كتب التفسير بالمأثور؛ حيث حرص الإمام البغوي فيه على النقل والبعد عن الرأي، فقد أخرج فيه الأحاديث بسنده إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وقد كان يتحرَّى الصحة فيما يسنده إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، ويعرض عن المناكير وما لا يليق بالتفسير، وقد أوضح هذا في مقدمة كتابه فقال: "وما ذكرت من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في أثناء الكتاب على وفاق آية أو بيان حكم فإن الكتاب يُطلَب بيانه من السُنَّة. وعليها مدار الشرع وأُمور الدين؛ فهي من الكتب المسموعة للحُفَّاظ وأئمة الحديث، وأعرضت عن ذكر المناكير وما لا يليق بحال التفسير" (9)، كما اعتنى فيه ببعض الأحكام
--------------------------------------------
ইয়াকুত আল-হামাউয়ী: "সুপ্রসিদ্ধ ফকীহ, আলিম এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা" (১), এবং ইবনে খাল্লিকান বলেন: "
… যাঁর উপাধি জহীরুদ্দীন, শাফেয়ী ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির; তিনি ছিলেন ইলমের এক সমুদ্র" (২), এবং আয-যাহাবী বলেন: "ইমাম, হাফিজ, ফকীহ, মুজতাহিদ এবং সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী" (৩), তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: "শাইখ, আল্লামা, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, হাফিজ এবং শাইখুল ইসলাম" (৪), এবং আস-সাফাদী বলেন: "
… শাফেয়ী ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির; তিনি ইলমের এক সমুদ্র ছিলেন" (৫), এবং তাজউদ্দীন আস-সুবকী বলেন: "
… তিনি ছিলেন একজন মহান ইমাম, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ, ফকীহ ও মুফাসসির; ইলম ও আমলের সমন্বয়কারী, সালাফদের পথের অনুসারী; ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য" (৬), এবং ইবনে কাসীর বলেন: "
… তিনি এই ইলমসমূহে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের আল্লামা; তিনি ছিলেন দ্বীনদার, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার ও পুণ্যবান" (৭), এবং আস-সুয়ূতী বলেন: "তিনি ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের ইমাম এবং ফিকহ শাস্ত্রের ইমাম" (৮)।
•
তাফসীরে বাগভী গ্রন্থের পরিচিতি ও এর গুরুত্ব:
প্রথমত: তাফসীরে বাগভী গ্রন্থের পরিচিতি:তাফসীরে বাগভী 'তাফসীর বিল মাসূর' (বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে পরিগণিত। কেননা ইমাম বাগভী এতে বর্ণনার উদ্ধৃতি দিতে এবং ব্যক্তিগত রায় বা মতামত থেকে দূরে থাকতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত তাঁর নিজের সনদসহ হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তিনি যা কিছু সম্বন্ধ করেছেন, তার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে তিনি অত্যন্ত সজাগ ছিলেন এবং ভিত্তিহীন বর্ণনা ও তাফসীরের জন্য অনুপযুক্ত বিষয়সমূহ পরিহার করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় এটি স্পষ্ট করে বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ থেকে যা কিছু আমি এই গ্রন্থে কোনো আয়াতের অনুকূলে বা কোনো বিধানের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি, তা এ কারণে যে কিতাবুল্লাহর ব্যাখ্যা সুন্নাহ থেকেই অন্বেষণ করতে হয়। আর সুন্নাহর উপরই শরীয়ত ও দ্বীনি বিষয়াদির আবর্তন। এটি হাফিজ ও হাদীসের ইমামদের নিকট শ্রুত কিতাবসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে; আর আমি ভিত্তিহীন বর্ণনা এবং তাফসীরের মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন বিষয় উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি" (৯)। এছাড়াও তিনি এতে কিছু বিধানের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الفقهية، وتعرض لمباحث علوم القرآن، فبين المكي والمدني، وأسباب النزول، وفضائل السور، إضافة إلى حكمه على بعض الأحاديث التي أخرجها.
ثانيًا: أهمية تفسير البغوي:تكمن أهمية تفسير البغوي في كونه مصدرًا أصيلًا من مصادر التفسير بالمأثور، فقد اعتمد فيه البغوي على النقل، ونبذ الرأي، وتحرى الصحة، وأعرض عن المناكير.
وصفه الخازن فى مقدمة تفسيره بأنه: "من أجل المصنفات في علم التفسير وأعلاها، وأنبلها وأسناها، جامع للصحيح من الأقاويل، عار عن الشبُه والتصحيف والتبديل، محلَّى بالأحاديث النبوية، مطرَّز بالأحكام الشرعية، موشَّى بالقصص الغريبة، وأخبار الماضين العجيبة، مرصَّع بأحسن الإشارات، مُخَرَّج بأوضح العبارات، مُفَرَّغ في قالب الجمال بأفصح مقال" (1).
وسئل شيخ الإسلام ابن تيمية: أي التفاسير أقرب إلى الكتاب والسنة: الزمخشري أم القرطبي أم البغوي (2)، فأجاب رحمه الله: وأما التفاسير الثلاثة المسؤول عنها فأسلمها من البدعة والأحاديث الضعيفة البغوي، ولكنه مختصر من تفسير الثعلبي، وحذف منه الأحاديث الموضوعة والبدع التي فيه (3).
ومما يبين أهمية هذا الكتاب ما قاله البغوي نفسه: "كتابًا وسطًا بين الطويل الممل والقصير المخل" (4).
--------------------------------------------
ফিকহী বিষয়সমূহ এবং এতে তিনি উলূমুল কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন; ফলে মাক্কী ও মাদানী বর্ণনা করেছেন, আসবাবুন নুযূল (নাযিলের প্রেক্ষাপট), সূরাসমূহের ফযীলত এবং তাঁর বর্ণিত কিছু হাদীসের ওপর তাঁর হুকুমের (বিশুদ্ধতা বিচারের) বিষয়টিও এতে যুক্ত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: তাফসীরে বাগাবীর গুরুত্ব:তাফসীরে বাগাবীর গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এটি 'তাফসীর বিল মাসূর' (সনদভিত্তিক তাফসীর)-এর একটি মৌলিক উৎস হওয়ার মাঝে। ইমাম বাগাবী এতে বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন, ব্যক্তিগত মতামত বর্জন করেছেন, বিশুদ্ধতা যাচাই করেছেন এবং ভিত্তিহীন বর্ণনাগুলো থেকে বিরত থেকেছেন।
আল-খাযিন তাঁর তাফসীরের ভূমিকায় এটিকে বর্ণনা করেছেন এভাবে: "এটি ইলমে তাফসীরের অন্যতম সুমহান ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন রচনা, এবং অত্যন্ত মহৎ ও উজ্জ্বল। এটি বিশুদ্ধ উক্তিগুলোর সংকলন, যা সংশয়, বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে মুক্ত। এটি নববী হাদীস দ্বারা সুশোভিত, শরয়ী বিধান দ্বারা সুসজ্জিত, দুর্লভ কিসসা ও পূর্ববর্তীদের বিস্ময়কর খবরে অলঙ্কৃত। এটি চমৎকার ইশারা দ্বারা খচিত, অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ব্যাখ্যায়িত এবং প্রাঞ্জল বর্ণনার মাধ্যমে সৌন্দর্যের ছাঁচে ঢালাই করা।" (১)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কুরআন ও সুন্নাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী তাফসীর কোনটি: যামাখশারী, কুরতুবী নাকি বাগাবী? (২)। উত্তরে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জিজ্ঞাসিত এই তিনটি তাফসীরের মধ্যে বিদআত ও যয়ীফ হাদীস থেকে সবচেয়ে মুক্ত হলো বাগাবীর তাফসীর। তবে এটি সালাবীর তাফসীরের সংক্ষেপিত রূপ, যেখানে তিনি জাল হাদীস এবং তাতে বিদ্যমান বিদআতগুলো বাদ দিয়েছেন।" (৩)।
এই কিতাবের গুরুত্ব প্রকাশকারী বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্বয়ং ইমাম বাগাবীর বক্তব্য: "এটি বিরক্তিকর দীর্ঘ এবং অসম্পূর্ণ সংক্ষিপ্ততার মাঝামাঝি একটি গ্রন্থ।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الفصل الأول: منهج الإمام البغوي الحديثي من خلال القسم المخرّج:• المبحث الأول: منهج البغوي في الرواية عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ.
• المبحث الثاني: منهجه في إيراد الأحاديث.
• المبحث الثالث: منهجه في تخريج الأحاديث.
• المبحث الرابع: نقد الأسانيد والحكم على الأحاديث عند البغوي.
প্রথম অধ্যায়: তাখরীজকৃত অংশের আলোকে ইমাম বগভীর হাদীস বিষয়ক কর্মপন্থা:• প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর শায়খ আবদুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বগভীর কর্মপন্থা।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদীসসমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপন্থা।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদীসসমূহের তাখরীজের ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপন্থা।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বগভীর নিকট সনদসমূহের সমালোচনা এবং হাদীসের মান নির্ধারণ।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
المبحث الأول: منهج البغوي في الرواية عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ:بلغ عدد ما رواه الإمام البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ في تفسيره كله: خمسمائة وستة وأربعين حديثًا مرفوعًا وما في حكمه، ولقد كان للإمام البغوي -كمحدث له باع في علم الحديث- منهجه، ومن أبرز معالم منهجه في روايته عن شيخه ما يلي:
•
التنويع في ذكر اسم شيخه:نوّع البغوي في ذكر شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ، فنجده يذكره بكنيته واسمه ونسبه في موضع واحد وهو في بداية تفسيره في الحديث رقم (10)، حيث قال (1): أخبرنا أبو عمرو عبد الْوَاحِد بن أحمد المَلِيْحِيّ، وفي مواضع كثيرة يذكر اسمه ونسبه دون كنيته، كما في الحديث رقم (2)، حيث قال: أخبرنا عبد الْوَاحِد بن أحمد المَلِيْحِيّ، وكذا في الأحاديث (7، 17، 19، 20، 21، 23، 26، 27، 28، 29، 31،
… وغيرها)، وفي أكثر كتابه يقول: أخبرنا عبد الواحد المَلِيْحِيّ، كما في الحديث رقم (1)، وكذا في الأحاديث (3، 4، 5، 6، 8، 9، 11، 13، 14، 15، 16، 18،
… وغيرها)، وربما هدفه في ذلك التعريف بشيخه تارة والاختصار تارة أخرى.
•
بيان طرق التحمل عن شيخه:من دراسة الأحاديث التي رواها البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ نجده يميّز بين صيغ التحمل والأداء؛ فقد روى في هذا البحث (541) حديثًا، بصيغة "أخبرنا"، وروى ثلاثة أحاديث (حديث رقم 275، 278، 279) بصيغة "أنبأنا"، وهما صيغتان تدلان على السماع من لفظ الشيخ، وهما من أرفع صيغ التحمل عند الجمهور (2)، وقد شاع تخصيص لفظ "أخبرنا" بما قرئ على الشيخ، ثم يتلو قول " أخبرنا " قول "أنبأنا" (3)، كما روى البغوي حديثين (حديث رقم 117، 172) بصيغة
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহীর নিকট থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে বাগাওয়ীর মানহাজ বা পদ্ধতি:ইমাম বাগাওয়ী তাঁর পূর্ণ তাফসীরে তাঁর শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার মোট সংখ্যা হলো: পাঁচশত ছেচল্লিশটি মারফূ' হাদীস এবং এর সমপর্যায়ের বর্ণনা। ইমাম বাগাওয়ী—হাদীসশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী একজন মুহাদ্দিস হিসেবে—একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতির অধিকারী ছিলেন। তাঁর শাইখ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
•
তাঁর শাইখের নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য প্রদান:বাগাওয়ী তাঁর শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহীর নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এনেছেন। আমরা তাঁকে তাঁর তাফসীরের শুরুতে ১০ নম্বর হাদীসে একবার তাঁর উপনাম, নাম এবং বংশপরিচয়সহ উল্লেখ করতে দেখি, যেখানে তিনি বলেছেন (১): "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহী"। আবার অনেক স্থানে তিনি তাঁর উপনাম ব্যতিরেকে শুধু নাম এবং বংশপরিচয় উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ২ নম্বর হাদীসে দেখা যায়, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহী"। অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে হাদীস নং (৭, ১৭, ১৯, ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১... এবং অন্যান্যগুলোতে)। তাঁর কিতাবের অধিকাংশ স্থানে তিনি বলেন: "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী", যেমনটি ১ নম্বর হাদীসে দেখা যায় এবং অনুরূপ রয়েছে হাদীস নং (৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮... এবং অন্যান্যগুলোতে)। সম্ভবত এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য কখনো শাইখের পূর্ণ পরিচয় প্রদান করা এবং কখনো সংক্ষেপ করা।
•
তাঁর শাইখের নিকট থেকে হাদীস গ্রহণের পদ্ধতিসমূহের বর্ণনা:বাগাওয়ী তাঁর শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী থেকে যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন তা অধ্যয়ন করলে আমরা দেখি যে, তিনি হাদীস গ্রহণ ও প্রদানের শব্দগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি এই গবেষণায় (৫৪১)টি হাদীস "আখবারানা" শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং তিনটি হাদীস (হাদীস নং ২৭৫, ২৭৮, ২৭৯) "আনবাআনা" শব্দে বর্ণনা করেছেন। এই দুটি শব্দই শাইখের মুখ থেকে সরাসরি শোনার প্রমাণ বহন করে এবং জুমহুর বা সংখ্যাগুরু আলিমদের মতে এগুলো হাদীস গ্রহণের সর্বোচ্চ শব্দমালার অন্তর্ভুক্ত (২)। সাধারণত "আখবারানা" শব্দটি শাইখের সামনে পাঠ করা হয়েছে এমন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা প্রসিদ্ধ, এরপর "আখবারানা" শব্দের পরে আসে "আনবাআনা" (৩)। বাগাওয়ী আরও দুটি হাদীস (হাদীস নং ১১৭, ১৭২) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
"سمعت"، وهي من أرفع العبارات في ذلك أيضًا (1)، إلا أنها تأتي في مرتبة متأخرة بعد أخبرنا وأنبأنا وحدثنا، كما يرى ابن الصلاح، حيث يقول (2): "حدثنا، وأخبرنا" أرفع من "سمعت" من جهة أخرى، وهي أنه ليس في "سمعت" دلالة على أن الشيخ رواه الحديث وخاطبه به، وفي "حدثنا، وأخبرنا" دلالة على أنه خاطبه به ورواه له، أو هو ممن فعل به ذلك.
واستخدام البغوي لهذه الصيغ في روايته عن شيخه يدل على دقته في الرواية، واتباعه لقواعد الرواية المتعارف عليها لدى المحدثين آنذاك.
--------------------------------------------
"আমি শুনেছি", যা এই ক্ষেত্রে অন্যতম উচ্চতর অভিব্যক্তি (১), তবে ইবনে আস-সালাহ-এর মতে এটি "তিনি আমাদের অবহিত করেছেন", "তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" এবং "তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" শব্দগুলোর পরে পরবর্তী স্তরে আসে। যেমনটি ইবনে আস-সালাহ মনে করেন, তিনি বলেন (২): "অন্য এক দিক থেকে 'তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' এবং 'তিনি আমাদের অবহিত করেছেন' শব্দদ্বয় 'আমি শুনেছি' অপেক্ষা উচ্চতর। এর কারণ হলো, 'আমি শুনেছি' শব্দটির মাঝে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে শাইখ হাদীসটি বর্ণনা করার সময় তাকে সরাসরি সম্বোধন করেছেন। পক্ষান্তরে 'তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' এবং 'তিনি আমাদের অবহিত করেছেন' শব্দগুলোতে এই প্রমাণ রয়েছে যে তিনি তাকে সম্বোধন করে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, অথবা তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে।"
শাইখের নিকট থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-বাগাওয়ীর এই পরিভাষাগুলোর ব্যবহার তাঁর বর্ণনার সূক্ষ্মতা এবং তৎকালীন মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রচলিত বর্ণনার নিয়মাবলি অনুসরণের প্রমাণ দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
المبحث الثاني: منهجه في إيراد الأحاديث:تبرز ملامح منهج البغوي في إيراد الأحاديث فيما يلي:
أولًا: إيراد الحديث بإسناده ومتنه كاملًا:درج الإمام البغوي على إيراد الحديث بإسناده ومتنه كاملًا وهو ما نراه في عدد (543 من 546 حديثًا شملتهم هذه الدراسة)، حتى في حال الحاجة لتكرار الحديث، كان البغوي يورد الحديث - في الغالب- بإسناده ومتنه كاملًا، مثال ذلك الحديث رقم (74، 221 مكرر) أورده في موضع آخر بسنده ومتنه كاملًا، وكذلك في الأحاديث (رقم 19 مكرر برقم 105 - ورقم 100 مكرر برقم 425 - ورقم 84 مكرر برقم 451 - ورقم 10 مكرر برقم 467 - ورقم 233 مكرر برقم 521 - ورقم 205 مكرر برقم 527).
ثانيًا: التحويل بين الأسانيد:جمع البغوي بين الأسانيد المتعددة لمتن واحد عن طريق التحويل بين الأسانيد فإذا كان للحديث إسنادان، أو أكثر، فإنه يضع عند الانتقال من إسناد إلى إسناد حاء التحويل (1) (ح)، وهي حاء مفردة مهملة.
مثال حديث رقم (277)، قال البغوي: أخبرنا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ المَلِيْحِيّ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْميّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بن يُوسُفَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ (حَ) قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَقَالَ لِي خَلِيفَةُ الْعُصْفُرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بن زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ وَهِشَامٌ. قَالَا حَدَّثَنَا قَتَادَةُ (حَ) عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ رضي الله عنه أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، حَدَّثَهُمْ عَنْ لَيْلَةِ أُسْرِيَ بِهِ، (حَ) قَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ أَبُو ذَرٍّ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (حَ)، وَأَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْقَاهِرِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الْغَافِرِ بن محمد الْفَارِسِيُّ أَنْبَأَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الْجُلُودِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بن مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনায় তাঁর কর্মপদ্ধতি:হাদিস বর্ণনায় ইমাম বাগভীর কর্মপদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপে ফুটে ওঠে:
প্রথমত: হাদিসকে পূর্ণাঙ্গ সনদ ও মতনসহ উল্লেখ করা:ইমাম বাগভী হাদিসকে তার পূর্ণাঙ্গ সনদ (বর্ণনাধারা) ও মতন (মূল পাঠ) সহ উল্লেখ করার রীতি অনুসরণ করেছেন, যা আমরা এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত ৫৪৬টি হাদিসের মধ্যে ৫৪৩টিতে দেখতে পাই। এমনকি হাদিস পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন হলেও বাগভী সাধারণত হাদিসটিকে পূর্ণাঙ্গ সনদ ও মতনসহ উল্লেখ করতেন। উদাহরণস্বরূপ: ৭৪ ও ২২১ (পুনরাবৃত্ত) নম্বর হাদিসটি তিনি অন্য স্থানে পূর্ণাঙ্গ সনদ ও মতনসহ বর্ণনা করেছেন। একইভাবে হাদিস নম্বরসমূহ (১০৫ নম্বরে পুনরাবৃত্ত ১৯ নম্বর হাদিস - ৪২৫ নম্বরে পুনরাবৃত্ত ১০০ নম্বর হাদিস - ৪৫১ নম্বরে পুনরাবৃত্ত ৮৪ নম্বর হাদিস - ৪৬৭ নম্বরে পুনরাবৃত্ত ১০ নম্বর হাদিস - ৫২১ নম্বরে পুনরাবৃত্ত ২৩৩ নম্বর হাদিস - ৫২৭ নম্বরে পুনরাবৃত্ত ২০৫ নম্বর হাদিস)।
দ্বিতীয়ত: সনদসমূহের মধ্যে রূপান্তর (তাহউয়িল):বাগভী একটি মতনের একাধিক সনদকে 'তাহউয়িল' বা রূপান্তরের মাধ্যমে একত্রিত করেছেন। যদি কোনো হাদিসের দুই বা ততোধিক সনদ থাকে, তবে তিনি এক সনদ থেকে অন্য সনদে যাওয়ার সময় রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে 'হা' (১) (হা) অক্ষরটি ব্যবহার করেন; এটি একটি একক ও নুকতাহীন 'হা'।
উদাহরণস্বরূপ ২৭৭ নম্বর হাদিস, বাগভী বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মালিহি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুদবাহ ইবনে খালিদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ (হা)। বুখারি বলেন: এবং আমাকে বলেছেন খলিফাহ আল-উসফুরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে জুরাই, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ও হিশাম। তাঁরা উভয়ই বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ (হা), মালিক ইবনে সা’সাআহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের নিকট তাঁর মি’রাজের রাত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন (হা)। বুখারি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস, ইউনূস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করতেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন (হা)। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ ইসমাইল ইবনে আব্দুল কাহির, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আব্দুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি, তিনি বলেন আমাদের অবহিত করেছেন আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-জুলুদি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইবান ইবনে ফাররুখ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ -دَخْلَ حَدِيثُ بَعْضِهِمْ فِي بَعْضٍ- قَالَ أَبُو ذَرٍّ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: فُرِّجَ عَنِّي سَقْفُ بَيْتِي .... الحديث.
وكذا في الحديث رقم (145، 371).
ثالثًا: تعدد المتون لسند واحد:حيث يروي بسند واحد عدة متون مختلفة، فيروي الحديث الأول بسنده ومتنه، ثم يقول وبهذا الإسناد، ويذكر متن الحديث الثاني، وورد في هذه الدراسة ثلاثة شواهد.
مثال ذلك: حديث رقم (103)، قال البغوي: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ المَلِيْحِيّ، أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي شُرَيْحٍ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْبَغَوِيُّ، أَنَا عَلِيُّ بن الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ: سَمِعْتُ زَهْدَمَ بْنَ مضرب بن عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "خَيْرُكُمْ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ". قَالَ عِمْرَانُ: لَا أَدْرِي أَذَكَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ قَرْنِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا وَقَالَ: إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَخُونُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ وَيَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ وَيُنْذِرُونَ وَلَا يُوفُونَ وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ".
ثم قال البغوي عقب الحديث: وَبِهَذَا الْإِسْنَادِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْجَعْدِ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ ذَكْوَانَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ".
وكذا في الحديث رقم (291، 497).
হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত আল-বুনানি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—একজনের হাদিস অন্যজনের সাথে মিলে গেছে—আবু যার (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমার ঘরের ছাদ বিদীর্ণ করা হলো... (হাদিস)।
অনুরূপভাবে ১৪৫ ও ৩৭১ নম্বর হাদিসেও রয়েছে।
তৃতীয়ত: এক সনদে একাধিক মতন (মূল পাঠ):যেখানে একটিমাত্র সনদের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন মতন বর্ণিত হয়। প্রথম হাদিসটি তার সনদ ও মতনসহ বর্ণনা করা হয়, এরপর বলা হয় ‘এই একই সনদে’, এবং দ্বিতীয় হাদিসের মতনটি উল্লেখ করা হয়। এই গবেষণায় এর তিনটি দৃষ্টান্ত পাওয়া গেছে।
এর উদাহরণ: ১০৩ নম্বর হাদিস। আল-বাগাভি বলেন: আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ আল-মালিহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবু শুরাইহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম আল-বাগাভি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আলি ইবনুল জাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, শু’বাহ আবু হামজাহ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আমি জাহদাম ইবনে মুদাররিব ইবনে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী।" ইমরান (রা.) বলেন: আমি জানি না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যুগের পর দুইবার না তিনবার (পরবর্তী যুগের কথা) উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের পরে এমন এক কওম আসবে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং তাদের বিশ্বাস করা হবে না, তারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের সাক্ষ্য দিতে বলা হবে না, তারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না এবং তাদের মাঝে স্থূলতা প্রকাশ পাবে।"
অতঃপর আল-বাগাভি এই হাদিসের পর বলেন: এবং এই একই সনদে আলি ইবনুল জাদ থেকে বর্ণিত, শু’বাহ ও আবু মুয়াবিয়া আমাশ থেকে, তিনি যাকওয়ান থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করে, তবুও তাদের কারো এক মুদ (এক আঁজলা) বা তার অর্ধেক সমপরিমাণ সওয়াবে পৌঁছাতে পারবে না।"
অনুরূপভাবে ২৯১ ও ৪৯৭ নম্বর হাদিসেও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
المبحث الثالث: منهجه في تخريج الأحاديث:بدراسة الأحاديث والآثار التي رواها البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ يتضح أن أغلبها مما اتفق عليه البخاري ومسلم، وجزء منها مما رواه أحد الشيخين، ولاسيما أن عبد الواحد المَلِيْحِيّ حدَّث بصّحيح البخاري عن النُّعَيْميّ عن الفِرَبْريّ، وجزء آخر مما رواه أصحاب السنن، والقليل منها أحاديث زائدة على الكتب الستة، وقد بلغت تلك الزائدة اثنين وعشرين حديثًا.
وقد عمد البغوي إلى تخريج بعض الأحاديث والآثار في تفسيره، إلا أن تخريجه لم يكن مقصودًا لذاته، بل كان مقصوده من ذلك بيان صحة الحديث تارة، ولبيان معنى يعمد إليه تارة، وتارة أخرى يكون مقصوده زيادة في لفظ الحديث وبالتالي زيادة في معناه، ومع ذلك فالأحاديث التي خرجها البغوي لتلك الأسباب قليلة جدًا، فلم تزد عن أحد عشر حديثًا من جملة ما تناولته هذه الدراسة.
أمثلة تبيّن منهج البغوي في التخريج:
أولًا: تخريج الحديث لبيان صحته:مثال ذلك حديث رقم (260)، قال البغوي: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ المَلِيْحِيّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ السَّمْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّيَانِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُوْيَه حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى وَأَبُو نُعَيْمٍ قَالَا حَدَّثَنَا قَطْرٌ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا".
وقال عقبه (1): رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ قَطْرٍ وَقَالَ: إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا.
فالحديث لم يكن في إسناده أحد الشيخين؛ ولأن الحديث في صحيح البخاري، أخرجه البغوي من طريقه لبيان صحته.
وكذا الأحاديث (2) (1، 68، 245، 280).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস তাখরিজ করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি:ইমাম বাগাওয়ি তাঁর উস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহীর সূত্রে যেসব হাদিস ও আসার বর্ণনা করেছেন তা অধ্যয়ন করলে স্পষ্ট হয় যে, সেগুলোর অধিকাংশ ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের ঐক্যমত্যপূর্ণ বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, এবং কিছু অংশ এমন যা দুই শায়খের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী আন-নুআইমীর সূত্রে এবং আল-ফিরাবরীর মাধ্যমে সহিহ বুখারি বর্ণনা করেছেন। অন্য একটি অংশ সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন, আর কুতুবে সিত্তাহ বা ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থের অতিরিক্ত হাদিস খুবই সামান্য, যার সংখ্যা মাত্র বাইশটি।
ইমাম বাগাওয়ি তাঁর তাফসির গ্রন্থে কিছু হাদিস ও আসারের তাখরিজ করেছেন, তবে এই তাখরিজ করা তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল না। বরং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কখনো হাদিসের বিশুদ্ধতা প্রকাশ করা, কখনো কোনো নির্দিষ্ট অর্থের ব্যাখ্যা করা, আবার কখনো হাদিসের শব্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থের সম্প্রসারণ ঘটানো। তা সত্ত্বেও, বাগাওয়ি যেসব হাদিস এই কারণগুলোর জন্য তাখরিজ করেছেন তা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য; যা এই গবেষণার আলোচিত হাদিসগুলোর মধ্য থেকে এগারোটির বেশি নয়।
তাখরিজের ক্ষেত্রে ইমাম বাগাওয়ির পদ্ধতির উদাহরণসমূহ:
প্রথমত: হাদিসের বিশুদ্ধতা প্রকাশের জন্য তাখরিজ করা:এর উদাহরণ হলো ২৬০ নম্বর হাদিস। বাগাওয়ি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আস-সামআনী, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু জাফর আর-রাইয়ানি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হুমাইদ ইবনে জানজুয়াহ, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ইয়ালা ও আবু নুআইম, তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাতার, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে ব্যক্তি প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয় যে কেবল সমান প্রতিদান দেয়, বরং প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হলেও সে তা পুনরায় জোড়া দেয়।"
এর পরপরই তিনি (১) বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল এটি মুহাম্মাদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি কাতার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "যখন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়, সে তা পুনরায় জোড়া দেয়।"
এই হাদিসটির সনদে দুই শায়খের (বুখারি ও মুসলিম) কেউ ছিলেন না; কিন্তু যেহেতু হাদিসটি সহিহ বুখারিতে রয়েছে, তাই ইমাম বাগাওয়ি এর বিশুদ্ধতা প্রমাণের জন্য তাঁর নিজস্ব সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
একইভাবে (২) নং (১, ৬৮, ২৪৫, ২৮০) হাদিসসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ثانيًا: تخريج الحديث لبيان معنى يقصده:مثال ذلك حديث رقم (107)، قال البغوي: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ المَلِيْحِيّ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْميّ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ وَمَعَهُ رَجُلَانِ يُقَاتِلَانِ عَنْهُ عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بِيضٌ كَأَشَدِّ الْقِتَالِ مَا رَأَيْتُهُمَا قَبْلُ وَلَا بَعْدُ.
وقال عقبه (1): وَرَوَاه مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ وَأَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعْدٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: "رَأَيْتُ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ شِمَالِهِ يَوْمَ أُحُدٍ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بيض ما رأيتهما قَبْلُ وَلَا بَعْدُ" يَعْنِي: جِبْرِيل وَمِيكَائِيل.
فالرجلان اللذان كانا يقاتلان عن يمين رسول الله صلى الله عليه وسلم وعن شماله هما جبريل وميكائيل عليهما السلام، وهذا المعنى مفهوم من الزيادة التي تضمنتها رواية مسلم وهي من كلام سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه؛ لذا خرّج البغوي الحديث من رواية مسلم لإبراز هذا المعنى.
وكذا في الحديث (2) (405).
ثالثًا: تخريج الحديث لزيادة في لفظه:مثال ذلك حديث رقم (306) قال البغوي: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ المَلِيْحِيّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْميّ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ أَخْبَرَنَا أَبِي أَنْبَأَنَا الْأَعْمَشُ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "يُؤْتَى بِالْمَوْتِ كَهَيْئَةِ كَبْشٍ أَمْلَحَ فَيُنَادِي مُنَادٍ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ فَيُشْرِفُونَ وَيَنْظُرُونَ فَيَقُولُ: هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ، وَكُلُّهُمْ قَدْ رَآهُ، ثُمَّ يُنَادِي يَا أَهْلَ النَّارِ فَيُشْرِفُونَ وَيَنْظُرُونَ فَيَقُولُ: هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ، وَكُلُّهُمْ قَدْ رَآهُ، فَيُذْبَحُ، ثُمَّ يَقُولُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُودٌ فَلَا مَوْتَ، وَيَا أَهْلَ النَّارِ
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে হাদিসের তাখরিজ করা:উদাহরণস্বরূপ হাদিস নম্বর (১০৭), বাগাউয়ি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ আল-মালিহি, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আন-নুআইমি, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে সাদ, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "আমি ওহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তাঁর সাথে দুইজন লোক ছিল যারা তাঁর পক্ষ হয়ে লড়াই করছিল। তাদের পরনে ছিল সাদা কাপড় এবং তারা অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করছিল। আমি তাদের আগে কখনো দেখিনি এবং পরেও দেখিনি।"
এবং এর পরপরই তিনি (১) বলেন: এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে বিশর এবং আবু উসামাহ, তারা মিসআর থেকে, তিনি সাদ ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি সাদ অর্থাৎ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "আমি ওহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডানে ও বামে সাদা কাপড় পরিহিত দুইজন লোককে দেখেছি, যাদের আমি আগে কখনো দেখিনি এবং পরেও দেখিনি।" অর্থাৎ: জিবরাইল ও মিকাইল আলাইহিস সালাম।
সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডানে ও বামে যে দুইজন লোক যুদ্ধ করছিলেন তারা হলেন জিবরাইল ও মিকাইল আলাইহিস সালাম। এই অর্থটি মুসলিমের বর্ণিত হাদিসের অতিরিক্ত অংশ থেকে বোঝা যায়, যা সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি। এ কারণেই ইমাম বাগাউয়ি এই অর্থটি ফুটিয়ে তোলার জন্য মুসলিমের বর্ণনা থেকে হাদিসটি তাখরিজ করেছেন।
একইভাবে হাদিস (২) (৪০৫)-এর ক্ষেত্রেও।
তৃতীয়ত: শব্দের বৃদ্ধির (অতিরিক্ত অংশের) কারণে হাদিসের তাখরিজ করা:উদাহরণস্বরূপ হাদিস নম্বর (৩০৬), বাগাউয়ি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আন-নুআইমি, আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, আমাদের খবর দিয়েছেন আমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস, আমাদের খবর দিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আমাশ, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু সালিহ, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মৃত্যুকে একটি সাদা-কালো রঙের ভেড়ার আকৃতিতে আনা হবে। তখন একজন ঘোষণাকারী ডেকে বলবেন: হে জান্নাতবাসী! তারা উঁকি দেবে এবং তাকাবে। তখন তিনি বলবেন: তোমরা কি একে চেনো? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটি মৃত্যু; এবং তাদের সবাই তা দেখেছে। অতঃপর তিনি ডেকে বলবেন: হে জাহান্নামীরা! তারা উঁকি দেবে এবং তাকাবে। তখন তিনি বলবেন: তোমরা কি একে চেনো? তারা বলবে: হ্যাঁ, এটি মৃত্যু; এবং তাদের সবাই তা দেখেছে। এরপর তা জবাই করা হবে। তারপর তিনি বলবেন: হে জান্নাতবাসী, এখন অনন্তকাল, আর কোনো মৃত্যু নেই; এবং হে জাহান্নামীরা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
خُلُودٌ فَلَا مَوْتَ، ثُمَّ قَرَأَ: {وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ} (1).
وقال عقبه (2): وَرَوَاهُ أَبُو عِيسَى عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مَنِيعٍ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَنِ الْأَعْمَشِ بِهَذَا الْإِسْنَادِ، وَزَادَ: "فَلَوْلَا أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَضَى لِأَهْلِ الْجَنَّةِ الْحَيَاةَ وَالْبَقَاءَ لَمَاتُوا فَرَحًا وَلَوْلَا أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَضَى لِأَهْلِ النَّارِ الْحَيَاةَ وَالْبَقَاءَ لَمَاتُوا تَرَحًا".
فالزيادة التي أوردها أبو عيسى التِّرْمِذِيّ لم ترد في رواية البخاري؛ لذا خرّج البغوي الحديث من رواية التِّرْمِذِيّ لإبراز هذه الزيادة.
وكذا في الأحاديث (3) (110، 274).
--------------------------------------------
অনন্তকাল, আর কোনো মৃত্যু নেই। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {আর আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দিন যখন সকল বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে, অথচ তারা গাফিলতির মধ্যে রয়েছে এবং তারা ঈমান আনছে না} (১)।
এবং তিনি এর পরপরই বলেছেন (২): আবু ঈসা এটি আহমাদ ইবনে মানী থেকে, তিনি নাদর ইবনে ইসমাঈল থেকে, তিনি আ’মাশ থেকে এই সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ তাআলা যদি জান্নাতবাসীদের জন্য জীবন ও স্থায়িত্বের ফয়সালা না করতেন, তবে তারা আনন্দে মারা যেত। আর আল্লাহ তাআলা যদি জাহান্নামবাসীদের জন্য জীবন ও স্থায়িত্বের ফয়সালা না করতেন, তবে তারা দুঃখে মারা যেত।"
সুতরাং আবু ঈসা তিরমিযী যে অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করেছেন তা বুখারীর বর্ণনায় আসেনি; এজন্য বাগাভী হাদীসটি তিরমিযীর বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত করেছেন যাতে এই অতিরিক্ত অংশটি প্রকাশ পায়।
এবং অনুরূপ হাদীসসমূহেও (৩) (১১০, ২৭৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
المبحث الرابع: نقد الأسانيد والحكم على الأحاديث عند البغوي:تعلقت هذه الدراسة الأحاديث والآثار التي رواها البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ فقط، وهو ما سيكون حائلًا عن الوقوف على المنهج العام في نقد الأسانيد والحكم على الأحاديث، إلا أنه يمكن إبراز أهم ملامح هذا المنهج في النقاط التالية:
1 - التعليق على إسناد الحديث.
2 - وصف الحديث بالإرسال.
3 - وصف الحديث بالصحة.
أولا: التعليق على إسناد الحديث:لم يستهدف البغوي الحكم على الأسانيد في كتابه "معالم التنزيل" إلا أنه علّق على إسناد واحد بقوله: في إسناده نظر، ففي الحديث رقم (442)، قال البغوي: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ المَلِيْحِيّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُرْوَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِشْكَابَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بن سَوَّارٍ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ عَنْ أَبِي خَبَّابٍ عَنْ أَبِي سُلَيْمٍ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنْ سَرَّكَ أَنْ تَكُونَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَإِنَّ قَوْمًا يتنحلون حبك يقرؤون الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، نَبَزَهُمُ الرَّافِضَةُ، فَإِنْ أَدْرَكْتَهُمْ فَجَاهِدْهُمْ فَإِنَّهُمْ مُشْرِكُونَ".
ثم قال البغوي عقب الحديث (1): فِي إِسناد هذا الحديث نظر، وهو ما يشير إلى تضعيفه للحديث، دون الخوض في مسألة بيان ضعفه؛ ربما ذلك لأن كتاب التفسير ليس موضعًا للبحث في أسباب ضعف الحديث، فاكتفى بالإشارة إلى تضعيفه بالصيغة السابقة، وبدراسة الحديث تبين أن إسناده ضعيف؛ لضعف أبي خَبَّاب، وسيأتي في موضعه - إن شاء الله -.
ثانيًا: وصف الحديث بالإرسال:وصف البغوي من أحاديث الدراسة حديثًا واحدًا بالإرسال، وهو الحديث رقم
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বাগাওয়ীর নিকট সনদ সমালোচনা ও হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান:এই গবেষণাটি শুধুমাত্র সেই হাদিস এবং আছারসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট যা বাগাওয়ী তাঁর শাইখ আবদুল ওয়াহিদ আল-মালিহি থেকে বর্ণনা করেছেন, যা সনদ সমালোচনা ও হাদিসের হুকুম প্রদানের সাধারণ পদ্ধতির পর্যবেক্ষণে একটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে; তবে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে এই পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা সম্ভব:
১ - হাদিসের সনদের ওপর মন্তব্য করা।
২ - হাদিসকে 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণনা করা।
৩ - হাদিসকে 'সহিহ' হিসেবে বর্ণনা করা।
প্রথমত: হাদিসের সনদের ওপর মন্তব্য করা:বাগাওয়ী তাঁর 'মাআলিমুত তানজিল' গ্রন্থে সনদসমূহের ওপর হুকুম প্রদানের লক্ষ্য রাখেননি, তবে তিনি একটি মাত্র সনদের ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: 'এর সনদে আপত্তি (নাযার) আছে'। হাদিস নম্বর (৪৪২)-এ বাগাওয়ী বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আজ-জাফরানি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইশকাবে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ফুদাইল ইবনে মারজুক, আবু খাব্বাব থেকে, তিনি আবু সালিম আল-হামদানি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি তোমাকে জান্নাতবাসী হওয়া আনন্দিত করে, তবে জেনে রাখো, একটি সম্প্রদায় তোমার ভালোবাসার দাবি করবে, তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, তাদের উপাধি হলো 'রাফিযাহ'। তুমি যদি তাদের পাও তবে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো, কেননা তারা মুশরিক।"
অতঃপর বাগাওয়ী হাদিসের শেষে (১) বলেন: এই হাদিসের সনদে আপত্তি আছে, যা হাদিসটির দুর্বলতার (যঈফ) প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, যদিও তিনি দুর্বলতার কারণগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেননি; সম্ভবত এর কারণ হলো তাফসির গ্রন্থ হাদিসের দুর্বলতার কারণসমূহ অনুসন্ধানের জায়গা নয়। তাই তিনি পূর্বোক্ত শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। হাদিসটি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে যে এর সনদ দুর্বল; আবু খাব্বাবের দুর্বলতার কারণে, যা ইনশাআল্লাহ তার নির্দিষ্ট স্থানে আসবে।
দ্বিতীয়ত: হাদিসকে 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণনা করা:বাগাওয়ী এই গবেষণার হাদিসসমূহের মধ্য থেকে একটি হাদিসকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো হাদিস নম্বর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
(350)، قال البغوي: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ المَلِيْحِيّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن شَاذَانَ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَزِيدَ حَاتِمُ بْنُ مَحْبُوبٍ الشَّامِيُّ، أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ الْمَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ الْجَرَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بن مَيْمُونٍ الْأَوْدِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِرَجُلٍ: وَهُوَ يَعِظُهُ: "اغْتَنَمَ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ"
ثم قال عقب الحديث (1): "الْحَدِيث مُرسَل".
ثالثًا: وصف الحديث بالصحة:بيّن البغوي صحة بعض الأحاديث من خلال: الحكم على الحديث بالصحة مع تخريجه إذا كان في البخاري أو مسلم، أو الحكم عليه بالصحة مباشرة دون عزوه إلى البخاري أو مسلم، أو نقل كلام أبي عيسى التِّرْمِذِيّ عنه.
فمن الأول: الحديث رقم (1)، قال البغوي: أَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ المَلِيْحِيّ، أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي شُرَيْحٍ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ أَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ قَالَ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عُثْمَانَ قَالَ شُعْبَةُ: قُلْتُ: عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: " خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ"
وقال عقب الحديث (2): هذا حَدِيث صَحِيح أَخْرَجَه الْبُخَارِيّ عَن الْحَجَّاج بن مِنْهَال عن شُعْبَة.
ومن الثاني: الحديث رقم (4) قال البغوي: أَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ المَلِيْحِيّ أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي شُرَيْحٍ أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بن الْجَعْدِ أَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " مَثَلُ الْمَاهِرِ بِالْقُرْآنِ مَثَلُ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَمَثَلُ الَّذِي يَقْرَؤُهُ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ".
--------------------------------------------
(৩৫০), আল-বাগাভী বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াযিদ হাতিম ইবনে মাহবুব আল-শামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন আল-মারওয়াযি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবনে বুরকান, যিয়াদ ইবনে জাররাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে উপদেশ দেওয়ার সময় বললেন: "পাঁচটি বিষয় আসার আগে পাঁচটি বিষয়ের সুযোগ গ্রহণ করো: তোমার বার্ধক্যের আগে তোমার যৌবনকে, তোমার অসুস্থতার আগে তোমার সুস্থতাকে, তোমার দারিদ্র্যের আগে তোমার স্বচ্ছলতাকে, তোমার ব্যস্ততার আগে তোমার অবসরকে এবং তোমার মৃত্যুর আগে তোমার জীবনকে।"
অতঃপর তিনি হাদিসের শেষে বলেন (১): "হাদিসটি মুরসাল।"
তৃতীয়ত: হাদিসকে সহিহ হিসেবে অভিহিত করা:আল-বাগাভী কিছু হাদিসের বিশুদ্ধতা এভাবে বর্ণনা করেছেন: হাদিসটিকে সহিহ হিসেবে বিচার করার সাথে সাথে তার তখরিজ উল্লেখ করা যদি সেটি বুখারি বা মুসলিমে থাকে, অথবা সরাসরি সহিহ হিসেবে হুকুম লাগানো কিন্তু বুখারি বা মুসলিমের দিকে নিসবত না করা, অথবা আবু ঈসা তিরমিযীর বক্তব্য উদ্ধৃত করা।
প্রথম প্রকারের উদাহরণ: হাদিস নম্বর (১), আল-বাগাভী বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আযীয আল-বাগাভী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল জাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি বলেন: আমি সাদ ইবনে উবাইদাহকে আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি উসমান থেকে বর্ণনা করেন। শু'বাহ বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (রাসূল) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং তা শিক্ষা দেয়।"
তিনি হাদিসের শেষে (২) বলেন: এটি একটি সহিহ হাদিস, যা বুখারি হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ: হাদিস নম্বর (৪), আল-বাগাভী বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আযীয আল-বাগাভী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল জাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি সাদ ইবনে হিশাম থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআনে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত পুণ্যবান ফিরিশতাদের (ভ্রমণকারী বার্তাবাহক) সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وقال البغوي عقب الحديث (1): صَحِيحٌ.
ومن الثالث: الحديث رقم (5)، قال البغوي: أَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ المَلِيْحِيّ أَنَا أَبُو مَنْصُورٍ السَّمْعَانِيُّ ثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الزَّيَّاتِيُّ ثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُوْيَه ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمٍ، يَعْنِي ابْنَ بَهْدَلَةَ، عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ: وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا"
قال البغوي عقب الحديث: قَال أَبُو عِيسَى هَذَا حديث صحيح حسن.
--------------------------------------------
এবং আল-বাগাউই হাদিসটির শেষে বলেছেন (১): সহিহ।
তৃতীয় প্রকার থেকে: ৫ নম্বর হাদিস, আল-বাগাউই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আস-সামআনি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আজ-জাইয়াতি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুমাইদ ইবনে জানজুইয়াহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আসিম থেকে—অর্থাৎ ইবনে বাহদালাহ—তিনি জির থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "কুরআনের সাথীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং উপরে উঠতে থাকো, আর তারতিল সহকারে (স্পষ্ট ও ধীরস্থিরভাবে) পাঠ করো যেভাবে তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পাঠ করা সর্বশেষ আয়াতের নিকট।"
আল-বাগাউই হাদিসটির শেষে বলেছেন: আবু ঈসা বলেছেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
-
الفصل الثاني: موارد الإمام البغوي في تفسيره وأهداف ورود الحديث عنده:• المبحث الأول: موارد الإمام البغوي عن شيخه المَلِيْحِيّ في التفسير.
• المبحث الثاني: أهداف ورود الحديث عند الإمام البغوي.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম বাগাবীর তাফসীরের উৎসসমূহ এবং তাঁর নিকট হাদীস উল্লেখের লক্ষ্যসমূহ:• প্রথম অনুচ্ছেদ: তাফসীরের ক্ষেত্রে ইমাম বাগাবীর তাঁর শাইখ আল-মালিহী হতে প্রাপ্ত উৎসসমূহ।
• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম বাগাবীর নিকট হাদীস উল্লেখের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ।
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
المبحث الأول: موارد الإمام البغوي عن شيخه المَلِيْحِيّ في التفسير:لقد أكثر الإمام البغوي من رواية أحاديث بإسناده المتصل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذه الأحاديث جلها مما دوَنه العلماء في مصنفات لهم منذ عصر التدوين، أو ما يعرف بالعصر الذهبي لتدوين السنة النبوية، فقد أصبحت في الغالب رواية الحديث منذ ذلك العصر رواية كتب.
ومن المصنفات التي روى عنها البغوي عن شيخه عبد الواحد المَلِيْحِيّ بإسناده ما يلي:
1 - صحيح البخاري
2 - كتاب الترغيب والترهيب لحميد بن زَنْجُوْيَه
3 - مسند علي بن الجعد
4 - المصنف لعبدالرزاق الصنعاني
أولًا: صحيح البخاري:
وإسناده عن البخاري رواه عن عبد الْوَاحِد بن أَحْمَد المَلِيْحِيّ عن أَحْمَد بن عبد اللَّه النُّعَيْميّ عن مُحَمَّد بن يُوسُف عنه.
عبد الواحد بن أحمد المَلِيْحِيّ (ت 463 هـ):
عبد الواحد بن أحمد بن أبي القاسم الهروي، أبو عمر المَلِيْحِيّ، ومَلِيح: قرية بهَرَاة (1)، قال عنه الذهبي: محدِّث هَرَاة في وقته ومُسْنِدُها (2)، وقال الصفدي: من أهل الأدب والحديث (3)، وقال السّاجيّ: كان ثقة صالحًا قديم المولد. سمع " الْبُخَارِيّ "
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাফসিরে ইমাম বাগাবি তাঁর শায়খ আল-মালিহির নিকট থেকে যা গ্রহণ করেছেন:ইমাম বাগাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সনদে প্রচুর সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসগুলোর অধিকাংশই সেই সকল গ্রন্থভুক্ত যা আলেমগণ সংকলন যুগের শুরু থেকে—অর্থাৎ যাকে সুন্নাহ সংকলনের স্বর্ণযুগ বলা হয়—তখন থেকে নিজ নিজ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন। মূলত সেই যুগ থেকেই হাদিস বর্ণনা অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রন্থভিত্তিক বর্ণনায় পরিণত হয়েছে।
ইমাম বাগাবি তাঁর শায়খ আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহির মাধ্যমে তাঁর সনদসহ যেসব গ্রন্থ থেকে বর্ণনা করেছেন তা হলো নিম্নরূপ:
১ - সহিহ বুখারি
২ - হুমাইদ ইবনে জানজুয়াহ রচিত কিতাবুত তারগিব ওয়াত তারহিব
৩ - মুসনাদে আলি ইবনুল জাদ
৪ - আব্দুর রাজ্জাক আস-সানআনি রচিত আল-মুসান্নাফ
প্রথমত: সহিহ বুখারি:বুখারি থেকে তাঁর সনদ হলো: তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহি থেকে, তিনি আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ থেকে, আর তিনি ইমাম বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহি (মৃত্যু ৪৬৩ হি.):আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ বিন আবুল কাসিম আল-হারাউয়ি, আবু উমর আল-মালিহি; আর 'মালিহ' হলো হারাতের একটি গ্রাম (১)। ইমাম জাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের হারাতের মুহাদ্দিস এবং সেখানকার সর্বোচ্চ সনদধারী বা মুসনিদ (২)। আস-সাফাদি বলেছেন: তিনি সাহিত্য ও হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (৩)। আস-সাজি বলেছেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও নেককার ব্যক্তি এবং অনেক পূর্বের জন্ম তাঁর। তিনি "বুখারি" শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিওয়ায়াতুল বাগাবী ফী তাফসিরিহী মায়ালিমুত তানযীল আন শায়খিহী আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী - তাখরীজ ওয়া দিরাসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
بقراءة أَبِي الفتح بن أَبِي الفوارس (1).
سمع أبا محمد المخلدي، وأبا الحسين الخفاف، وعبد الرَّحْمَن بن أَبِي شُرَيْح، ومحمد بْن محمد بْن سمعان، وأبا عَمْرو الفُراتي، وأبا حامد النُّعَيْميّ، وغيرهم. وحدَّث بالصّحيح عن النُّعَيْميّ، عن الفِرَبْريّ.
رَوَى عَنْه محيي السُّنَّة أَبُو مُحَمَّد البَغَوِي، وخَلَف بْن عطاء المَاوَرْدِي، وإسماعيل بن مَنْصُور المقرئ، ومحمد بْن إِسْمَاعِيل الفُضَيْلي، وغيرهم.
تُوُفّي فِي جُمَادَى الآخرة، وقيل: مولده سنة سبْع وستّين وثلاثمائة؛ فَعُمْره ست وتسعون سنة (2).
أحمد بن عبد اللَّه النُّعَيْميّ (ت 386 هـ):
أبو حامد أحمد بن عبد الله بن نعيم بن الخليل النُّعَيْميّ السرخسي، نزيل هراة (3).
قال عنه السمعاني: كان من الحفاظ المجودين والفقهاء المبرزين، وكان يحدث من حفظه (4)، وقال الذهبي: الإمام، المسند (5).
راوي (الصحيح) عن محمد بن يوسف الفربري، وسمع أيضًا: أبا العباس محمد بن عبد الرحمن الدغولي، والحسين بن محمد بن مصعب، وإبراهيم بن حمدويه السلمي، وأحمد بن إسحاق بن مزيز السرخسي بفتح الميم، وجماعة.
حدث عنه: أبو يعقوب القراب، وأبو الفتح بن أبي الفوارس، وأبو بكر البرقاني، وأبو حازم العبدوي، وأبو منصور الكرابيسي، وأبو عمر عبد الواحد بن أحمد المَلِيْحِيّ، وآخرون.
--------------------------------------------
আবু ফাতহ বিন আবু আল-ফাওয়ারিসের পাঠ অনুযায়ী (১)।
তিনি আবু মুহাম্মদ আল-মুখাল্লাদি, আবু আল-হুসাইন আল-খাফফাফ, আবদুর রহমান বিন আবি শুরাইহ, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সামআন, আবু আমর আল-ফুরাতি, আবু হামিদ আন-নুআইমি এবং অন্যদের নিকট থেকে শুনেছেন। আর তিনি আন-নুআইমির সূত্রে আল-ফিরাবরি থেকে সহিহ্ বর্ণনা করেছেন।
তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন মুহিউস সুন্নাহ আবু মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী, খালাফ বিন আতা আল-মাওয়ার্দি, ইসমাইল বিন মানসুর আল-মুকরি, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ফুদাইলি এবং অন্যরা।
তিনি জুমাদিউল আখিরা মাসে ইন্তেকাল করেন। বলা হয়: তাঁর জন্ম ৩৬৭ হিজরিতে; ফলে তাঁর বয়স ছিল ৯৬ বছর (২)।
আহমদ বিন আবদুল্লাহ আন-নুআইমি (মৃত্যু ৩৮৬ হি.):আবু হামিদ আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন নুআইম বিন আল-খলিল আন-নুআইমি আস-সারখাসি, হেরাতের বাসিন্দা (৩)।
আস-সামআনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন দক্ষ হাফেজ ও বিশিষ্ট ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত, আর তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন (৪)। আর আদ-দাহাবি বলেছেন: ইমাম, আল-মুসনিদ (৫)।
মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরির সূত্রে তিনি (সহিহ্)-এর বর্ণনাকারী। এছাড়াও তিনি শুনেছেন: আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আদ-দাগুলি, হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মাসআব, ইব্রাহিম বিন হামদুয়াহ আস-সুলামি, আহমদ বিন ইসহাক বিন মাজিজ আস-সারখাসি (মীম হরফের উপর জবর যোগে) এবং এক জামাত আলেম থেকে।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু ইয়াকুব আল-কাররাব, আবু ফাতহ বিন আবি আল-ফাওয়ারিস, আবু বকর আল-বারকানি, আবু হাজিম আল-আবদুওয়ি, আবু মনসুর আল-কারাবিসি, আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহি এবং অন্যরা।
--------------------------------------------