(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: -)
جهد المحتفي في أمر العالم المختفي   (مرزوق بن هياس الزهراني)

القسم: العقيدة


الكتاب: جهد المحتفي في أمر العالم المختفي

المؤلف: مرزوق بن هيّاس آل مرزوق الزهراني، الأستاذ المشارك بكلية الحديث الشريف والدراسات الإسلامية بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الناشر: بدون ناشر

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 66

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1440

অদৃশ্য জগতের বিষয়ে যত্নশীল ব্যক্তির প্রচেষ্টা   (মারযূক বিন হাইয়াস আয-যাহরানী)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: অদৃশ্য জগতের বিষয়ে যত্নশীল ব্যক্তির প্রচেষ্টা

লেখক: মারযূক বিন হাইয়াস আল-মারযূক আয-যাহরানী, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক

প্রকাশক: কোনো প্রকাশক নেই

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হি. - ২০০৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১)
جهد المحتفي

في أمر العالم المختفي

1425 هـ ـ 2005 م

 

جهد المحتفي

في أمر العالم المختفي

 

تأليف

مرزوق بن هيّاس آل مرزوق الزهراني

الأستاذ المشارك في قسم علوم الحديث

بكلية الحديث والدراسات الإسلامية

بالمدينة النبوية

 

طبع على نفقة فاعل خير نسال الله لنا وله القبول وجزيل الثواب.
অনুসন্ধিৎসুর প্রচেষ্টা

প্রচ্ছন্ন আলিমের বিষয়ে

১৪২৫ হিজরি — ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

 

অনুসন্ধিৎসুর প্রচেষ্টা

প্রচ্ছন্ন আলিমের বিষয়ে

 

রচনা

মারজুক ইবনে হায়াস আল-মারজুক আল-জাহরানি

হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ

মদিনা মুনাওয়ারা

 

জনৈক সৎকর্মশীল ব্যক্তির অর্থায়নে মুদ্রিত; আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের ও তাঁর জন্য কবুলিয়াত এবং মহা-প্রতিদান প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২)
جهد المحتفي

في أمر العالم المختفي

1425 هـ ـ 2005 م

 

جهد المحتفي

في أمر العالم المختفي

 

تأليف

مرزوق بن هيّاس آل مرزوق الزهراني

الأستاذ المشارك في قسم علوم الحديث

بكلية الحديث والدراسات الإسلامية

بالمدينة النبوية
সম্মান প্রদর্শনকারীর প্রচেষ্টা

অপ্রকাশিত আলিম সম্পর্কে

১৪২৫ হিজরি — ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

 

সম্মান প্রদর্শনকারীর প্রচেষ্টা

অপ্রকাশিত আলিম সম্পর্কে

 

রচনায়

মারজুক বিন হায়্যাস আল মারজুক আজ-জাহরানি

হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ

মদিনা মুনাওয়ারা
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ৫)
جهد المحتفي

في أمر العالم المختفي

1425 هـ ـ 2005 م

 

جهد المحتفي

في أمر العالم المختفي

 

تأليف

مرزوق بن هيّاس آل مرزوق الزهراني

الأستاذ المشارك في قسم علوم الحديث

بكلية الحديث والدراسات الإسلامية

بالمدينة النبوية
সম্মানপ্রদর্শনকারীর প্রচেষ্টা

নিভৃতচারী আলেম সম্পর্কে

১৪২৫ হিজরি — ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

 

সম্মানপ্রদর্শনকারীর প্রচেষ্টা

নিভৃতচারী আলেম সম্পর্কে

 

রচনা

মারযুক বিন হাইয়াস আল মারযুক আয-যাহরানি

হাদীস বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

হাদীস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ

মদিনা মুনাওয়ারা
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ৬)
ح: مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني، 1425 هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر.

الزهراني، مرزوق بن هياس آل مرزوق.

جهد المحتفي في أمر العالم المختفي/ مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني، المدينة المنورة، 1425 هـ

ص؛ .. سم. ـ (رسائل دعوة وتوجيه؛ 6)

ردمك: 8 ـ 896 ـ 46 ـ 9960

1 ـ الشياطين والجان أ. العنوان ب. السلسلة

ديوي 243 … 6560/ 1425

رقم الإيداع: 6560/ 1425

ردمك: 8 ـ 896 ـ 46 ـ 9960

ــ

حقوق الطبع محفوظة.

الطبعة الأولى: ص: 65 - 21×14، 1425 هـ 2005 م

الناشر: المؤلف … جوال: 0505306304

مطابع أضواء المنتدى الإسلامي ـ الرياض
মারজুক বিন হাইয়াস আল মারজুক আজ-জাহরানি, ১৪২৫ হিজরি।

প্রকাশনাধীন কিং ফাহাদ জাতীয় লাইব্রেরির ক্যাটালগিং।

আজ-জাহরানি, মারজুক বিন হাইয়াস আল মারজুক।

জুহদুল মুহতাফি ফি আমরিল আলমিল মুখতাফি/ মারজুক বিন হাইয়াস আল মারজুক আজ-জাহরানি, মদিনা মুনাওয়ারা, ১৪২৫ হিজরি।

পৃষ্ঠা; .. সেমি. — (দাওয়াত ও নির্দেশনা রিসালাহ সিরিজ; ৬)

আইএসবিএন: ৮-৮৯৬-৪৬-৯৯৬০

১- শয়তান ও জিন ক. শিরোনাম খ. সিরিজ

ডিউই ২৪৩ … ৬৫৬০/ ১৪২৫

জমাদান নম্বর: ৬৫৬০/ ১৪২৫

আইএসবিএন: ৮-৮৯৬-৪৬-৯৯৬০

—

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

প্রথম সংস্করণ: পৃষ্ঠা: ৬৫ - ২১×১৪, ১৪২৫ হিজরি ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ।

প্রকাশক: লেখক … মোবাইল: ০৫০৫৩০৬৩০৪

আদওয়াউল মুনতাদাল ইসলামি প্রেস — রিয়াদ।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الإهداء

إلى إخواني المسلمين أجمعين الذين جعلوا كتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم مستمسكا لعبادتهم ونهجهم القويم في شؤون الدنيا والآخرة، أقدم هذا الجهد احتفاء بكل مسلم ومسلمة، رجاء أن يزدادوا وثوقا بكتاب ربهم وسنة نبيهم، ليصفو اعتقادهم، وتقوى عزائمهم في توحيد الله عز وجل وإفراده بالعبادة وحده لا شريك له، وإفراد رسوله صلى الله عليه وسلم بالطاعة والإتباع، والتمسك بما أمر، واجتناب ما عنه نهى وزجر، وغلق كل ثغرة يفتحها عليهم شياطين الإنس والجن، فإنه يوحي بعضهم إلى بعض زخرف القول غرورا، وعدم الاغترار بالدنيا وشهواتها فما هي إلا متاع الغرور، وعليهم الأخذ بالأحوط وعدم التفريط فيما أمروا به، كيما تزكو نفوسهم ويكونوا من عباد الله المخلصين {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} (1)،

--------------------------------------------

(1) (من الآية (40) من سورة الحج.
উৎসর্গ

আমার সেই সকল মুসলিম ভাইদের প্রতি, যারা মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে তাঁদের ইবাদতের মূলভিত্তি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কার্যাবলীতে সঠিক পথ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আমি প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর সম্মানে এই শ্রমটুকু নিবেদন করছি। এই প্রত্যাশায় যে, তাঁদের প্রতিপালকের কিতাব এবং তাঁদের নবীর সুন্নাহর প্রতি তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে, যাতে তাঁদের আকিদা বিশুদ্ধ হয় এবং মহান আল্লাহর তাওহীদ ও ইবাদতে তাঁকে একক সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে—যাঁর কোনো অংশীদার নেই—তাঁদের সংকল্প সুদৃঢ় হয়। আর যেন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য ও অনুসরণে একনিষ্ঠ হওয়া যায়, তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা যায় এবং যা থেকে তিনি নিষেধ ও বারণ করেছেন তা বর্জন করা যায়; সেইসাথে মানুষ ও জিন শয়তানরা তাঁদের জন্য প্রবঞ্চনার যে সকল ছিদ্রপথ উন্মুক্ত করে তা যেন রুদ্ধ করা যায়, কেননা তারা একে অপরকে প্রতারণামূলক চাকচিক্যময় কথার মাধ্যমে প্ররোচিত করে। আর তাঁরা যেন দুনিয়া ও এর ভোগ-বিলাসে মোহাচ্ছন্ন না হন, কেননা তা তো কেবল প্রতারণার সামগ্রী। তাঁদের কর্তব্য হলো অধিকতর সতর্কতামূলক পন্থা অবলম্বন করা এবং তাঁদের যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে অবহেলা না করা, যাতে তাঁদের আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং তাঁরা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। {এবং আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন যে তাঁকে সাহায্য করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।} (১),

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হজ-এর ৪০ নম্বর আয়াতের অংশ বিশেষ।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌منهج البحث

قبل تحديد خطوات البحث تجدر الإشارة إلى أنني سأقتصر في المنهج على ما يلي:

في توثيق المعلومات على الكتاب والسنة: فكتاب الله العزيز أعذب الموارد، وهو الصافي الذي لا يشوبه كدر، كتاب الله فيه نبأ ما قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، وهو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، وهو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، هو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق عن كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه، هو الذي لم تنته الجن إذ سمعته حتى قالوا: {قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا (1) يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا} (1)، من قال به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم) (2)، والسنة النبوية الغراء، ممثلة فيما هو في الصحيحين: صحيح البخاري، وصحيح مسلم، أو أحدهما، وأزيد ما دعت إليه الحاجة،

--------------------------------------------

(1) (الآيتان (1، 2) من سورة الجن.

(2) (مقتبس، انظر (الترمذي 3070) وفي إسناده كلام، ومعناه صحيح.
গবেষণা পদ্ধতি

গবেষণার পদক্ষেপগুলো নির্ধারণ করার পূর্বে এটি উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, আমি আমার পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব:

তথ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর উপর নির্ভর করা: কেননা মহান আল্লাহর কিতাব হলো সবচেয়ে সুমিষ্ট উৎস, এবং এটি এমন স্বচ্ছ যাতে কোনো আবিলতা নেই। আল্লাহর কিতাবে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিরোধের ফয়সালা। এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, কোনো কৌতুক নয়। যে স্বৈরাচারী একে বর্জন করবে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেবেন, আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত সন্ধান করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, প্রজ্ঞাপূর্ণ স্মরণিকা এবং সরল পথ। এটি এমন কিতাব যার প্রভাবে প্রবৃত্তিগুলো সত্য বিচ্যুত হয় না, ভাষাগুলো বিভ্রান্তিতে পড়ে না, আলেমরা এটি পাঠ করে তৃপ্ত হন না, বারবার পাঠেও এটি পুরোনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলো শেষ হয় না। এটি এমন কিতাব যা শোনার পর জিনেরা বিরত হতে পারেনি, যতক্ষণ না তারা বলেছিল: {বলুন, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, জিনের একটি দল মনোযোগ দিয়ে কুরআন শুনেছে এবং বলেছে: আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, (১) যা সঠিক পথের দিশা দেয়। সুতরাং আমরা এতে ঈমান এনেছি এবং আমরা কখনও আমাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করব না।} (১), যে ব্যক্তি এই কিতাব অনুযায়ী কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে আমল করবে সে পুরস্কৃত হবে, যে এর দ্বারা বিচার করবে সে ইনসাফ করবে এবং যে এর দিকে আহ্বান জানাবে সে সরল পথের দিশা পাবে।) (২), এবং উজ্জ্বল সুন্নাতে নববী, যা মূলত সহীহাইন (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) অথবা এই দুটির কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত; আর প্রয়োজনে আমি এর অতিরিক্ত হাদীসও উল্লেখ করব।

--------------------------------------------

(১) (সূরা আল-জিনের ১ ও ২ নম্বর আয়াত।

(২) (উদ্ধৃত, দেখুন (তিরমিযী ৩০৭০); এর সনদে পর্যালোচনা রয়েছে, তবে এর অর্থ সঠিক।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ৯)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ألا إنِّي أوتيت الكتاب ومثله معه، لا يوشك رجلٌ شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن؛ فما وجدتم فيه من حلالٍ فأحلوه وما وجدتم فيه من حرامٍ فحرموه … ) (1)، وما كان في غيرهما من أمر يلزم تدوينه لأهميته في البحث، وتوثيق المعلومات، فلا أغفله وبمصدره أوصله.

 

‌‌خطة البحث

ارتأيت أن يكون البحث في مقدمة، وعشرة مباحث هي:

المبحث الأول: تعريف الجن:

المبحث الثاني: أصل خلقهم.

المبحث الثالث: صورهم وتشكلهم.

المبحث الرابع: مشابهتهم

المبحث الخامس: حياتهم ومعاشهم.

المبحث السادس: أقسامهم.

المبحث السابع: منافعهم وحرفهم.

المبحث الثامن: مضارهم.

المبحث التاسع: التعامل معهم.

المبحث العاشر: تسلطهم على بني آدم؟ .

--------------------------------------------

(1) (أخرجه أبو داود حديث (4604).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক পেটভরা লোক দেখা যাবে যে তার আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে বসে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল জ্ঞান করবে এবং এতে যা হারাম পাবে তাকেই হারাম হিসেবে গণ্য করবে … " (১), এ দুটি ব্যতীত অন্য যা কিছু গবেষণার গুরুত্ব এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার জন্য লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন, আমি তা উপেক্ষা করিনি বরং তার মূল উৎসের সাথে যুক্ত করে দিয়েছি।

 

‌‌গবেষণার রূপরেখা

আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা এবং দশটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা সমীচীন মনে করেছি, যা নিম্নরূপ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জিনের পরিচয়:

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের সৃষ্টির উৎস।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের আকৃতি ও রূপান্তর।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদের সাদৃশ্যতা

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাদের জীবন ও জীবিকা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাদের প্রকারভেদ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাদের উপকারিতা ও পেশা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাদের অপকারিতা।

নবম পরিচ্ছেদ: তাদের সাথে আচরণ।

দশম পরিচ্ছেদ: আদম সন্তানের উপর তাদের আধিপত্য?

--------------------------------------------

(১) (আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৪৬০৪)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المقدمة

في ليلة الاثنين 19/ 5/ 1423 هـ كنت في زيارة لأحد الأصدقاء، وشاهدت مقابلة في قناة الجزيرة، مع الدكتور/ جمال أبو غسان، عضو هيئة التدريس بجامعة الزرقاء الأهلية، وقد أعلن عبرها إنكاره لتلبس الجان بالإنسان، وقال: لا يوجد دليل من كتاب ولا سنة يؤيد تلبس الجان للإنسان، ورد ذلك إلى أوهام وخرافات، وزعم أن ابن تيمية لبّس عليه بعض الصالحين أشياء، صدقها ونشرها في كتبه، وعنه نقل ابن باز، وتأول الآية {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ} (1)، بالوسوسة، ومعلوم أن الأمثال في لغة العرب تعبر عن شيء واقع ومحسوس، فهي وسيلة إيضاح لتقوية الذهن على استيعاب الخبر وإدراكه، ومعنى يتخبطه: يتملكه ويصرعه، والوسوسة لا تحدث صرعا، والوسوسة يجدها الإنسان في تفكيره وفيما تحدثه به نفسه، ولا يسمعها بخطاب خارج عن ذاته، ولو فهم العلماء غير هذا لوقع خلط وخلل كبير في كثير من النصوص، والأمر الذي استغربته جدا قول د/ جمال: "يجب أن

--------------------------------------------

(1) (الآية (275) من سورة البقرة.
ভূমিকা

১৯/০৫/১৪২৩ হিজরি সোমবার রাতে আমি এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম এবং আল-জাজিরা চ্যানেলে আজ-জারকা আহলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ সদস্য ডক্টর জামাল আবু গাসসানের একটি সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম। তিনি সেখানে মানুষের ওপর জিনের ভর করা বা প্রবেশ করাকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: মানুষের শরীরে জিনের প্রবেশের স্বপক্ষে কুরআন বা সুন্নাহ থেকে কোনো দলিল নেই। তিনি বিষয়টিকে বিভ্রম ও কুসংস্কার বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ইবনে তাইমিয়্যাহর কাছে কিছু নেককার ব্যক্তি কিছু বিষয় অস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন যা তিনি বিশ্বাস করে নিজের কিতাবসমূহে প্রচার করেছেন, এবং তাঁর থেকেই ইবনে বায তা বর্ণনা করেছেন। তিনি এই আয়াতের—"যারা সুদ খায় তারা কেবল সেই ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ (আল-মাস) দ্বারা আচ্ছন্ন করে দেয়" (১)—ব্যাখ্যা করেছেন 'কুপ্ররোচনা' (ওয়াসওয়াসা) দিয়ে। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, আরবি ভাষায় উপমাগুলো কোনো বাস্তব ও অনুভূত বিষয়কে প্রকাশ করে; আর এটি সংবাদটি অনুধাবন ও আত্মস্থ করার জন্য মেধাকে শক্তিশালী করার একটি সুস্পষ্ট মাধ্যম। 'ইয়াতাখাব্বাতুহু' শব্দের অর্থ হলো: তাকে গ্রাস করা বা আচ্ছন্ন করে ধরাশায়ী করা। আর কুপ্ররোচনা কাউকে আচ্ছন্ন বা ধরাশায়ী করে না। কুপ্ররোচনা তো মানুষ তার চিন্তায় এবং নিজের মনের অভ্যন্তরীণ কথোপকথনে অনুভব করে; সে নিজের সত্তার বাইরে থেকে আসা কোনো সম্বোধন হিসেবে তা শুনতে পায় না। আলেমগণ যদি এর ভিন্ন কোনো অর্থ বুঝতেন, তবে অনেক ধর্মতাত্ত্বিক ভাষ্যে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও ত্রুটি সৃষ্টি হতো। আর আমি যে বিষয়টি দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি তা হলো ড. জামালের কথা: "অবশ্যই...

--------------------------------------------

(১) (সূরা আল-বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াত)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১১)
نفهم السنة على ضوء القرآن، ولا عكس" وهذا كلام خطير أيضا، أما علم الدكتور أن السنة الصحيحة قاضية على الكتاب، ومفسرة لنصوصه؟ ! ، وأنها مصدر للتشريع ينفصل عن الكتاب بالحكم الزائد، كما في تحريم الجمع بين المرأة وعمتها، الوارد في قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا يجمع بين المرأة وعمتها، ولا بين المرأة وخالتها) (1)، وتحديد الصلوات الخمس، من حيث التسمية والعدد، ووقت الأداء، ففي تحديد الوقت روى أبو موسى رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، "أنه أتاه سائل يسأله عن مواقيت الصلاة، فلم يرد عليه شيئا، قال: فأقام الفجر حين انشق الفجر، والناس لا يكاد يعرف بعضهم بعضا، ثم أمره فأقام بالظهر، حين زالت الشمس، والقائل يقول: قد انتصف النهار، وهو كان أعلم منهم، ثم أمره فأقام بالعصر والشمس مرتفعة، ثم أمره فأقام بالمغرب حين وقعت الشمس، ثم أمره فأقام العشاء حين غاب الشفق، ثم أخر الفجر من الغد حتى انصرف منها والقائل يقول: قد طلعت الشمس أو كادت، ثم أخر الظهر حتى كان قريبا من وقت العصر بالأمس، ثم أخر العصر حتى انصرف منها، والقائل يقول قد احمرت الشمس، ثم أخر المغرب حتى كان عند سقوط الشفق، ثم أخر العشاء حتى كان ثلث الليل الأول، ثم أصبح

--------------------------------------------

(1) (أخرجه البخاري حديث (4820) ..
"আমরা সুন্নাহকে কুরআনের আলোকে বুঝব, এর উল্টোটি নয়" - এটিও একটি বিপজ্জনক কথা। ডক্টর কি জানেন না যে, সহীহ সুন্নাহ কিতাবুল্লাহর (কুরআনের) ওপর সিদ্ধান্তদানকারী এবং এর ভাষ্যসমূহের ব্যাখ্যাকারী? এবং এটি শরীয়তের এমন একটি উৎস যা কিতাবুল্লাহর অতিরিক্ত বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। যেমন স্ত্রী ও তার ফুফুকে একত্রে বিবাহ করা হারাম হওয়ার বিধান, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: (একই সাথে কোনো নারী ও তার ফুফুকে এবং কোনো নারী ও তার খালাকে বিবাহ বন্ধনে রাখা যাবে না) (১)। তদ্রূপ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নামকরণ, সংখ্যা এবং তা আদায়ের সময় নির্ধারণের বিষয়গুলোও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। সময় নির্ধারণের বর্ণনায় আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে সালাতের ওয়াক্তসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এল, কিন্তু তিনি তাকে কোনো উত্তর দিলেন না। রাবী বলেন: এরপর যখন ভোর হলো তখন তিনি ফজরের সালাত কায়েম করলেন, তখন অন্ধকার এমন ছিল যে মানুষ একে অপরকে চিনতে পারছিল না। অতঃপর সূর্য ঢলে পড়ার পর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং যোহরের সালাত কায়েম করলেন, তখন কেউ কেউ বলছিল: মাত্র দুপুর হয়েছে, অথচ তিনি তাদের চেয়ে অধিক অবগত ছিলেন। অতঃপর সূর্য যখন উঁচুতে ছিল তখন তিনি নির্দেশ দিলেন এবং আসরের সালাত কায়েম করলেন। অতঃপর সূর্য ডুবে যাওয়ার পর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মাগরিবের সালাত কায়েম করলেন। অতঃপর সান্ধ্যকালীন লালিমা অদৃশ্য হয়ে গেলে তিনি নির্দেশ দিলেন এবং এশার সালাত কায়েম করলেন। পরদিন তিনি ফজরের সালাত দেরি করে পড়লেন এবং যখন সালাত শেষ করলেন তখন কেউ কেউ বলছিল যে সূর্য উদিত হয়ে গেছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরপর যোহরকে বিলম্বিত করলেন এমনকি তা গতদিনের আসরের সময়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর আসরকে বিলম্বিত করলেন এবং যখন সালাত শেষ করলেন তখন কেউ কেউ বলছিল যে সূর্য লাল বর্ণ ধারণ করেছে। এরপর মাগরিবকে বিলম্বিত করলেন এমনকি তা সান্ধ্যকালীন লালিমা অদৃশ্য হওয়ার সময় পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছাল। এরপর এশাকে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করলেন, অতঃপর ভোর হলো।

--------------------------------------------

(১) (বুখারী কর্তৃক সংগৃহীত, হাদীস নং ৪৮২০) ..
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১২)
فدعا السائل فقال: الوقت بين هذين" (1)، وكذلك قصر الرباعية، قال: أنس رضي الله عنه: "صلى النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة الظهر أربعا، والعصر بذي الحليفة ركعتين" (2)، وكذلك صلاة الخوف طبقت عمليا بالسنة قال: جابر رضي الله عنه: "غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قوما من جهينة، فقاتلونا قتالا شديدا، فلما صلينا الظهر قال المشركون: لو ملنا عليهم ميلة لاقتطعناهم، فأخبر جبريل رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك، فذكر ذلك لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: وقالوا: إنه ستأتيهم صلاة هي أحب إليهم من الأولاد، فلما حضرت العصر، قال: صفّنا صفّين، والمشركون بيننا وبين القبلة، قال فكبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وكبرنا، وركع فركعنا، ثم سجد وسجد معه الصف الأول، فلما قاموا سجد الصف الثاني، ثم تأخر الصف الأول، وتقدم الصف الثاني، فقاموا مقام الأول، فكبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وكبرنا، وركع فركعنا، ثم سجد وسجد معه الصف الأول، وقام الثاني، فلما سجد الصف الثاني، ثم جلسوا جميعا، سلم عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " (3) ومن أين عرفنا السنن الراتبة إلا من السنة، والسنن الراتبة هي: ركعتين قبل صلاة الفجر، لقول عائشة رضي الله عنها: "لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم، على شيء من النوافل، أشد منه تعاهدا على ركعتي

--------------------------------------------

(1) (أخرجه مسلم حديث (614).

(2) (أخرجه البخاري حديث (1443) ..

(3) (أخرجه مسلم حديث (840).
অতঃপর তিনি প্রশ্নকারীকে ডাকলেন এবং বললেন: "সময় হলো এই দুইয়ের মধ্যবর্তী।" (১), অনুরূপভাবে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের কসর করার বিষয়টিও। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় জোহরের নামাজ চার রাকাত পড়েছেন এবং যুল-হুলাইফায় আসরের নামাজ দুই রাকাত পড়েছেন।" (২), অনুরূপভাবে ভয়কালীন নামাজ (সালাতুল খাওফ) সুন্নাহর মাধ্যমে বাস্তবিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে জুহাইনা গোত্রের এক কওমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলাম। তারা আমাদের সাথে কঠোর যুদ্ধ করল। যখন আমরা জোহরের নামাজ পড়লাম, তখন মুশরিকরা বলল: 'যদি আমরা তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করতাম, তবে তাদের একদম শেষ করে দিতে পারতাম।' তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিষয়টি অবহিত করলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে তা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: 'তারা বলেছে: শীঘ্রই তাদের নিকট এমন এক নামাজ আসবে যা তাদের কাছে তাদের সন্তানদের চেয়েও অধিক প্রিয়।' যখন আসরের নামাজের সময় হলো, তখন তিনি আমাদের দুই সারিতে বিন্যস্ত করলেন, আর মুশরিকরা ছিল আমাদের এবং কিবলার মাঝখানে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর দিলেন এবং আমরাও তাকবীর দিলাম। তিনি রুকু করলেন এবং আমরাও রুকু করলাম। অতঃপর তিনি সিজদা করলেন এবং প্রথম সারি তাঁর সাথে সিজদা করল। যখন তারা দাঁড়িয়ে গেল, তখন দ্বিতীয় সারি সিজদা করল। এরপর প্রথম সারি পেছনে চলে গেল এবং দ্বিতীয় সারি সামনে এগিয়ে এল, ফলে তারা প্রথম সারির স্থানে দাঁড়াল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর দিলেন এবং আমরাও তাকবীর দিলাম। তিনি রুকু করলেন এবং আমরাও রুকু করলাম। অতঃপর তিনি সিজদা করলেন এবং প্রথম সারি তাঁর সাথে সিজদা করল আর দ্বিতীয় সারি দাঁড়িয়ে থাকল। এরপর যখন দ্বিতীয় সারি সিজদা করল, অতঃপর তারা সকলে একসাথে বসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন।" (৩) আর আমরা সুন্নাহ ছাড়া আর কোথা থেকেই বা নিয়মিত সুন্নাত নামাজগুলো (সুন্নানে রাতিবাহ) জানতে পারতাম? নিয়মিত সুন্নাত নামাজগুলো হলো: ফজর নামাজের পূর্বের দুই রাকাত, কারণ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নফল নামাজের মধ্যে ফজরের দুই রাকাতের চেয়ে অন্য কোনটির প্রতি অধিক যত্নবান ছিলেন না..."

--------------------------------------------

(১) (মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস ৬১৪)।

(২) (বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস ১৪৪৩) ..

(৩) (মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস ৮৪০)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الفجر" (1)، وقولها: "كان يصلي في بيتي قبل الظهر أربعا. ثم يخرج فيصلي بالناس. ثم يدخل فيصلي ركعتين. وكان يصلي بالناس المغرب. ثم يدخل فيصلي ركعتين. ويصلي بالناس العشاء، ويدخل بيتي فيصلي ركعتين" (2) وما ورد في حديث ابن عمر رضي الله عنه قال: "صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل الظهر سجدتين، وبعدها سجدتين، وبعد المغرب سجدتين، وبعد العشاء سجدتين، وبعد الجمعة سجدتين، فأما المغرب والعشاء والجمعة، فصليت مع النبي في بيته" (3)، وقد عبر بالسجدتين وهو يعني ركعتين، فيكون المجموع (12) ثنتي عشرة ركعة في اليوم والليلة، وهو ما ورد في حديث أم حبيبة أنها تقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من صلى اثنتي عشرة ركعة في يوم وليلة، بني له بهن بيت في الجنة) قالت أم حبيبة: "فما تركتهن منذ سمعتهن من رسول الله صلى الله عليه وسلم".

وقال ابن عنبسة: "فما تركتهن منذ سمعتهن من أم حبيبة.

وقال عمرو بن أوس: ما تركتهن منذ سمعتهن من عنبسة".

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري حديث (1116).

(2) أخرجه مسلم حديث (730).

(3) أخرجه مسلم حديث (729) ..
...ফজর" (১), এবং তাঁর উক্তি: "তিনি আমার ঘরে যোহরের আগে চার রাকাত পড়তেন। তারপর বের হয়ে মানুষকে নিয়ে নামাজ পড়তেন। এরপর (ঘরে) প্রবেশ করে দুই রাকাত পড়তেন। তিনি মানুষকে নিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়তেন, এরপর প্রবেশ করে দুই রাকাত পড়তেন। তিনি মানুষকে নিয়ে ইশার নামাজ পড়তেন এবং আমার ঘরে প্রবেশ করে দুই রাকাত পড়তেন" (২) এবং যা ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যোহরের আগে দুই সিজদা, এবং এর পরে দুই সিজদা, মাগরিবের পরে দুই সিজদা, ইশার পরে দুই সিজদা এবং জুমার পরে দুই সিজদা আদায় করেছি। তবে মাগরিব, ইশা ও জুমা আমি নবীর সাথে তাঁর ঘরে আদায় করেছি" (৩)। তিনি এখানে 'দুই সিজদা' শব্দ ব্যবহার করেছেন যা দ্বারা তিনি দুই রাকাত বুঝিয়েছেন। সুতরাং দিন ও রাতে মোট বারো (১২) রাকাত হয়। আর এটিই উম্মে হাবীবার হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে বারো রাকাত নামাজ পড়বে, এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে)। উম্মে হাবীবা বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এটি শোনার পর থেকে আর কখনো তা বর্জন করিনি।"

ইবনে আনবাসা বলেন: "আমি উম্মে হাবীবার কাছ থেকে এটি শোনার পর থেকে আর কখনো তা বর্জন করিনি।

আমর ইবনে আওস বলেন: "আমি আনবাসার কাছ থেকে এটি শোনার পর থেকে আর কখনো তা বর্জন করিনি।"

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (১১১৬)।

(২) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (৭৩০)।

(৩) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (৭২৯) ..
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال النعمان بن سالم: "ما تركتهن منذ سمعتهن من عمرو بن أوس" (1)، وكذلك صفة الوضوء إلا من حديث عثمان وغيره وكذلك تحريم بعض المطعومات كالحمر الأهلية، وكذلك تحريم المتعة، كما في حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن المتعة عام خيبر، وعن لحوم الحُمُر الإنسية" (2)، وغير ذلك كثير، ولا أشك في أنها معلومة للدكتور جمال، وظنّي أن قوله ذلك هفوة لسان، وفقنا الله وإياه للصواب.

نعم قد يكون بعض ما يقع من الناس أوهام وترهات، ولكن ليس ذلك مبررا لنفي التلبس، وما يقع من أذى الجان لبني الإنسان، ولا ننكر ما يقع من أذى من بني الإنسان للجان، سيما من لا يذكر الله عز وجل قبل أي عمل، ولذلك أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بإنذار العوامر: الحيات والثعابين والعقارب التي تسكن البيوت، فقال صلى الله عليه وسلم: (إن بالمدينة نفرا من الجن قد أسلموا، فمن رأى شيئا من هذه العوامر فليؤذنه ثلاثا، فإن بدا له بعد فليقتله، فإنه شيطان) (3)، فلم نتهم علماءنا بالغباء؟ ، وهم من أذكى الأذكياء، كابن تيمية وابن باز وغيرهما من الأئمة الكبار، ونقول: إن ابن تيمية لبّس عليه بعض الصالحين

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم حديث (728).

(2) أخرجه البخاري حديث (5203).

(3) أخرجه مسلم حديث (2236).
নুমান ইবনে সালেম বলেছেন: "আমি যখন থেকে আমর ইবনে আউস থেকে এই বাক্যগুলো শুনেছি, তখন থেকে কখনো তা বর্জন করিনি।" (১), একইভাবে ওযুর পদ্ধতি যা উসমান ও অন্যদের হাদিস থেকে জানা যায়। তেমনিভাবে গৃহপালিত গাধার মতো কিছু খাদ্যদ্রব্যের হারাম হওয়া এবং মুত'আ (সাময়িক বিবাহ) নিষিদ্ধ হওয়া। যেমন আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের বছর মুত'আ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত হারাম করেছেন।" (২), এ রকম আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে এবং আমার কোনো সন্দেহ নেই যে এগুলো ডক্টর জামালের জানা আছে। আমার মনে হয় তার এই উক্তিটি কেবলই অনিচ্ছাকৃত জিহ্বার স্খলন। আল্লাহ আমাদের এবং তাকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।

হ্যাঁ, মানুষের পক্ষ থেকে যা ঘটে তার কিছু হয়তো বিভ্রম বা আজেবাজে কথা হতে পারে, তবে এটি জিনের আছর এবং মানুষের ওপর জিনের উপদ্রব অস্বীকার করার কোনো যুক্তি হতে পারে না। আমরা মানুষের মাধ্যমে জিনদের কষ্ট দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করি না, বিশেষ করে যারা কোনো কাজ শুরুর আগে মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করে না। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘরে বসবাসকারী প্রাণী যেমন সাপ ও বিচ্ছুদের সতর্ক করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই মদিনায় জিনের একটি দল ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাই কেউ যদি এই ঘরে বসবাসকারীদের কাউকে দেখে, তবে সে যেন তাকে তিন দিন সতর্ক করে। এরপরও যদি তার সামনে তা প্রকাশ পায়, তবে যেন সে তাকে হত্যা করে, কারণ সে শয়তান।) (৩), তবে কেন আমরা আমাদের আলেমদের নির্বুদ্ধিতার অপবাদ দেব? অথচ তারা ছিলেন শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের অন্তর্ভুক্ত, যেমন ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনে বাজ এবং অন্যান্য মহান ইমামগণ। আর আমরা কি এ কথা বলব যে, ইবনে তাইমিয়াহর কাছে কিছু নেককার লোক সত্যকে অস্পষ্ট করে উপস্থাপন করেছিল?

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক সংকলিত, হাদিস (৭২৮)।

(২) বুখারী কর্তৃক সংকলিত, হাদিস (৫২০৩)।

(৩) মুসলিম কর্তৃক সংকলিত, হাদিস (২২৩৬)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১৫)
أشياء، صدّقها ونشرها في كتبه، وعنه نقل ابن باز، فيكون ابن تيمية ساذجا لا يفكر فيما يقال له، فيتلقى دون وعي، ويدرج ما سمع في مصنفاته دون تمحيص، وهو الإمام الذي لم نعلم من عصره إلى يومنا هذا من تجاوزه في العلم والذكاء وكثرة التدقيق والتحقيق، ولم يسلم ابن باز من التهمة بما اتّهم به ابن تيمية، فقد علمنا شيخنا الإمام عبد العزيز بصيرا ناقدا متحريا، ملتزما بالسنة رحم الله الجميع رحمة واسعة.

ولما ذكرت خطر لي أن أكتب في هذا الأمر ما تيسر ليكون بيانا لما هو الحق إن شاء الله تعالى، كيما ينتفع به من طالعه، وتأنّى وتدبّر، سيما وقد كثر الدجّالون، وقلّ المخلصون، واختلط على الناس الحابل بالنابل، فتعلق الكثيرون بغير الله عز وجل، خوفا من الجان وشرورهم، فانفتح بذلك باب واسع للاحتيال والكسب المحرّم، ومارس الكثيرون الشعوذة باسم الرقية والتعويذة، وقد حال ضعف الهمة وكثرة المشاغل دون تحقيق ما رمت عمله، وكنت أدوّن على مهل ما تيسر لي، إلى أن تمّ لي بعض ما أردت، ليكون موعظة وذكرى، ونحن دائما نحتاج إلى الموعظة والتذكير بما ينفعنا في الدنيا والآخرة، أسأل الله أن يجعله عملا صالحا متقبلا، يثقّل به الموازين يوم القدوم عليه، بفضله ورحمته وهو أرحم الراحمين.
বিষয়গুলো তিনি সত্য বলে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর গ্রন্থসমূহে প্রচার করেছেন, আর তাঁর নিকট থেকে ইবনে বাজ তা বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায় ইবনে তায়মিয়্যাহ কি এমন একজন সরলমনা প্রতিপন্ন হবেন যিনি তাঁকে যা বলা হতো তা নিয়ে চিন্তা করতেন না, বরং অসচেতনভাবে তা গ্রহণ করতেন এবং কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই যা শুনতেন তা-ই নিজের কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত করতেন? অথচ তিনি এমন একজন ইমাম, যাঁর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত জ্ঞান, মেধা এবং অধিকতর সূক্ষ্মতা ও গবেষণায় তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন এমন কাউকে আমরা জানি না। ইবনে তায়মিয়্যাহকে যে অপবাদে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা থেকে ইবনে বাজও নিষ্কৃতি পাননি। অথচ আমরা আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজকে অত্যন্ত দূরদর্শী, সমালোচক, অনুসন্ধানী এবং সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে জেনেছি। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।

যখন আমি বিষয়টি উল্লেখ করলাম, তখন আমার মনে হলো এ বিষয়ে সাধ্যমতো কিছু লিখব যাতে আল্লাহ চাহেন তো তা সত্যের এক সুস্পষ্ট বর্ণনা হয়, যেন যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে এবং ধীরস্থিরভাবে চিন্তা-ভাবনা করবে সে উপকৃত হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমানে যখন প্রতারকদের সংখ্যা বেড়েছে, একনিষ্ঠ মানুষের অভাব দেখা দিয়েছে এবং মানুষের কাছে সত্য-মিথ্যা ও ভালো-মন্দ একাকার হয়ে গেছে। ফলে জিন ও তাদের অনিষ্টের ভয়ে অনেক মানুষ মহান আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রতারণা ও হারাম উপার্জনের এক বিশাল দরজা খুলে গেছে এবং অনেকেই রুকইয়াহ ও ঝাড়ফুঁকের নামে জাদুটোনার আশ্রয় নিচ্ছে। দুর্বল সংকল্প এবং কাজের ব্যস্ততা আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি ধীরগতিতে সাধ্যমতো লিখে যাচ্ছিলাম, যতক্ষণ না আমার উদ্দেশ্যের একাংশ পূর্ণ হলো, যাতে তা নসিহত ও স্মারক হিসেবে কাজে লাগে। আর দুনিয়া ও আখিরাতে যা আমাদের উপকারে আসবে, সেই নসিহত ও উপদেশের প্রয়োজনীয়তা আমাদের সবসময় রয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একটি কবুলযোগ্য নেক আমল হিসেবে গ্রহণ করেন, যার মাধ্যমে তাঁর নিকট ফিরে যাওয়ার দিনে নেকির পাল্লা ভারী হবে; তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে, আর তিনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الأول: تعريف الجن:

هم من خلق الله عز وجل الذين كلّفوا بعبادته سبحانه، شأنهم في ذلك شأن الإنس، خلقوا للابتلاء فهم داخلون في الخطاب بقوله تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} (1)، وهم أجسام عاقلة خفية، يرون الإنس ولا يراهم الإنس إلا بتمثل منهم، قال تعالى: {إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ} (2)، وهم مجزيّون على أعمالهم، فقد خلقوا لعبادة الله عز وجل، قال تعالى: {لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ} (3)، وقد أرسل الله إليهم رسلا قال تعالى: {يَامَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ

--------------------------------------------

(1) (من الآية (2) من سورة الملك.

(2) (الآية (27) من سورة الأعراف.

(3) (الآية (56) من سورة الرحمن.
প্রথম পরিচ্ছেদ: জিনের সংজ্ঞা:

তাঁরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সৃষ্টিজগতের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে তাঁর ইবাদত করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থা মানুষের অবস্থার মতোই। তাঁদেরকে পরীক্ষার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ} (১)। তাঁরা বুদ্ধিমান ও অদৃশ্য দেহবিশিষ্ট সত্তা; তাঁরা মানুষকে দেখতে পায় কিন্তু মানুষ তাঁদের দেখতে পায় না, তবে তাঁরা কোনো আকৃতি ধারণ করলে ভিন্ন কথা। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই সে এবং তার দল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না} (২)। তাঁরা তাঁদের কৃতকর্মের প্রতিদান ও শাস্তি লাভ করবেন, কেননা তাঁদেরকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {যাদেরকে ইতিপূর্বে কোনো মানুষ কিংবা জিন স্পর্শ করেনি} (৩)। আল্লাহ তাঁদের নিকট রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন; মহান আল্লাহ বলেন: {হে জিন ও মানুষের দল, তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেনি?

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মুলক-এর ২ নম্বর আয়াতের অংশ।

(২) (সূরা আল-আ’রাফ-এর ২৭ নম্বর আয়াত।

(৩) (সূরা আর-রাহমান-এর ৫৬ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১৭)
يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنْفُسِنَا} (1)، وقال تعالى: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ} (2)، وهم مخاطبون بنبوة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم شأنهم شأن الإنس، قال الله سبحانه تعالى: {قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا (1) يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا} (3)، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن بالمدينة نفرا من الجن قد أسلموا، فمن رأى شيئا من هذه العوامر

--------------------------------------------

(1) (الآية (130) من سورة الأنعام.

(2) (الآية (29) من سورة الأحقاف.

(3) (الآية (1، 2) من سورة الجن.
যারা তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করত এবং তোমাদের আজকের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করত? তারা বলবে, ‘আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি।’} (১), এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং স্মরণ করো, যখন আমি তোমার প্রতি জিনদের একটি দলকে পরিচালিত করেছিলাম যারা কুরআন শ্রবণ করছিল; অতঃপর যখন তারা সেখানে উপস্থিত হলো, তখন তারা বলল, ‘চুপ করে শোনো’। এরপর যখন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা নিজ সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।} (২), এবং মানুষের ন্যায় তারাও আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়তের মাধ্যমে আদিষ্ট; তাদের অবস্থা মানুষের মতোই। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন: {বলুন, আমার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়েছে যে, জিনদের একটি দল শ্রবণ করেছে। অতঃপর তারা বলল, ‘নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি (১), যা সঠিক পথের দিশা দেয়, ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা কখনও আমাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করব না।’} (৩), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই মদিনায় জিনদের একটি দল ইসলাম গ্রহণ করেছে; সুতরাং যে ব্যক্তি এই বসতবাড়িতে বসবাসকারী প্রাণীদের কাউকে দেখবে...

--------------------------------------------

(১) (সূরা আল-আনআ-মের ১৩০ নং আয়াত।

(২) (সূরা আল-আহকা-ফের ২৯ নং আয়াত।

(৩) (সূরা আল-জিনের ১ ও ২ নং আয়াত।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১৮)
فليؤذنه ثلاثا، فإن بدا له بعد فليقتله، فإنه شيطان) (1)، تلا عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: {أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} (2)، قال: "نزلت في نفر من العرب كانوا يعبدون نفرا من الجن، فأسلم الجنيون، والإنس الذين كانوا يعبدونهم لا يشعرون" (3)، فمن الجن مسلمون مؤمنون يعبدون الله عز وجل، على ملة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.

والجن فيهم رحمة لبعضهم البعض، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن لله مئة رحمة، أنزل منها رحمة واحدة بين الجن والإنس، والبهائم والهوام، فبها يتعاطفون، وبها يتراحمون) (4)، ومنهم قرناء لبني آدم، وليسوا مسلمين، إلا قرين رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ما منكم من أحد إلا وقد وكل به قرينه من الجن، قالوا: وإياك يا رسول الله؟ ! ، قال: وإياي إلا أن الله أعانني عليه فأسلم، فلا يأمرني إلا بخير) (5)، وليس لهم سلطان على عباد الله الصالحين، قال تعالى: {إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم حديث (2236) ..

(2) الآية (57) من سورة الإسراء.

(3) أخرجه مسلم حديث (3030).

(4) أخرجه مسلم حديث (2752).

(5) أخرجه مسلم حديث (2814).
তাকে তিনবার সতর্ক করবে, তারপরও যদি সে প্রকাশ পায় তবে তাকে হত্যা করবে, কারণ সে শয়তান। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তিলাওয়াত করলেন: "তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের জন্য মাধ্যম তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে, তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয়ই তোমার রবের আযাব ভীতিপ্রদ।" তিনি বলেন: "এটি আরবের একদল লোক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা একদল জিনের ইবাদত করত। অতঃপর জিনেরা ইসলাম গ্রহণ করে, কিন্তু যে মানুষগুলো তাদের ইবাদত করত তারা তা উপলব্ধি করতে পারেনি।" সুতরাং জিনদের মধ্যে মুসলিম ও মুমিন রয়েছে যারা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র ইবাদত করে।

এবং জিনদের মধ্যেও একে অপরের প্রতি দয়া-মায়া রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর একশত রহমত রয়েছে, তার মধ্য থেকে তিনি একটি রহমত জিন, মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু ও কীটপতঙ্গের মধ্যে অবতীর্ণ করেছেন। এর মাধ্যমেই তারা একে অপরের প্রতি মমতা প্রদর্শন করে এবং এর মাধ্যমেই তারা একে অপরকে দয়া করে।" আর তাদের মধ্যে মানুষের জন্য নির্ধারিত সহচর (কারিন) রয়েছে এবং তারা মুসলিম নয়—কেবল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহচর ব্যতীত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে একজন জিন সহচর নিযুক্ত করে দেওয়া হয়নি।" তারা জিজ্ঞাসা করল: "হে আল্লাহর রাসূল, আপনার সাথেও কি?" তিনি বললেন: "আমার সাথেও, তবে আল্লাহ তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করেছে, ফলে সে আমাকে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কোনো নির্দেশ দেয় না।" এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর তাদের কোনো আধিপত্য নেই। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার..."

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (২২৩৬)।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াত (৫৭)।

(৩) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (৩০৩০)।

(৪) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (২৭৫২)।

(৫) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (২৮১৪)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ১৯)
عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ} (1)، وقال تعالى: {إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} (2)، وقال الله سبحانه وتعالى: {إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ وَكَفَى بِرَبِّكَ وَكِيلًا} (3)، فلا سبيل إلى السلامة من سلطان الشيطان على الإنسان إلا بالإيمان بالله عز وجل واتباع شرعه، والتوكل عليه تعالى في كل الأمور، وقد تكفل رب العزة والجلال لهؤلاء بالحفظ والسلامة.

 

‌‌المبحث الثاني: أصل خلقهم:

أبان القرآن الكريم أن أصل خلق الجن، من مارج من نار قال تعالى: {وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نَارِ السَّمُومِ} (4)، وقال تعالى: {وَخَلَقَ الْجَانَّ مِنْ

--------------------------------------------

(1) الآية (42) من سورة الحجر.

(2) الآية (99) من سورة النحل.

(3) الآية (65) من سورة الإسراء.

(4) الآية (27) من سورة الحجر.
"তাদের ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না, তবে তাদের ছাড়া যারা পথভ্রষ্টদের মধ্য থেকে তোমার অনুসরণ করবে" (১), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের ওপর ভরসা করে, তাদের ওপর তার কোনো কর্তৃত্ব নেই" (২), এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই এবং কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট" (৩)। সুতরাং মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনা, তাঁর শরিয়তের অনুসরণ করা এবং সকল বিষয়ে তাঁর ওপর ভরসা করা ছাড়া মানুষের ওপর শয়তানের কর্তৃত্ব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো পথ নেই। আর মহান রব্বুল ইজ্জত ওয়াল জালাল এদের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের সৃষ্টির উৎস:

কুরআনুল কারীম স্পষ্ট করেছে যে, জিন সৃষ্টির উৎস হলো প্রজ্বলিত অগ্নিশিখা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং এর আগে আমি জিনকে সৃষ্টি করেছি প্রচণ্ড উত্তপ্ত আগুন থেকে" (৪), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং তিনি জিনকে সৃষ্টি করেছেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হিজরের ৪২ নং আয়াত।

(২) সূরা আন-নাহলের ৯৯ নং আয়াত।

(৩) সূরা আল-ইসরা’র ৬৫ নং আয়াত।

(৪) সূরা আল-হিজরের ২৭ নং আয়াত।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২০)
مَارِجٍ مِنْ نَارٍ} (1)، وقد ورد ذلك في محاجّة إبليس لرب العزة والجلال، وتكبره عن السجود لآدم عصيانا منه لربه تعالى، واحتقارا لآدم عليه السلام وذريته، {قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} (2)، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (خُلقت الملائكة من نور، وخُلق الجان من مارج من نار، وخُلق آدم مما وصف لكم) (3)، وقد كان مع الملائكة وليس منهم فإنهم؛ لأن الملائكة {لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} (4)، وهو من الجن ففسق ولم يطع قال الله سبحانه وتعالى: {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ

--------------------------------------------

(1) الآية (15) من سورة الرحمن.

(2) الآية (12) من سورة الأعراف، والآية (76) من سورة ص.

(3) أخرجه مسلم حديث (2996).

(4) الآية (6) من سورة التحريم.
অগ্নিশিখা থেকে} (১), এবং এটি বর্ণিত হয়েছে ইবলিসের তার মহান ও মহিমান্বিত রবের সাথে তর্কে, এবং তার রবের অবাধ্য হয়ে আদমের প্রতি সিজদা করার ক্ষেত্রে তার অহংকার প্রদর্শনে, এবং আদম (আলাইহিস সালাম) ও তার বংশধরদের তুচ্ছজ্ঞান করার ক্ষেত্রে, {সে বলল, আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদা থেকে} (২), রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (ফেরেশতাদের নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, জিনদের অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর আদমকে তা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে যা তোমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে) (৩), আর সে ফেরেশতাদের সাথে ছিল কিন্তু তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না; কারণ ফেরেশতারা {আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দেন তা তারা অমান্য করেন না এবং তারা যা আদিষ্ট হন তাই পালন করেন} (৪), এবং সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সে অবাধ্য হলো এবং আনুগত্য করল না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {এবং স্মরণ করুন যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমের প্রতি সিজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সকলেই সিজদা করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সে তার রবের আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করছ, অথচ তারা

--------------------------------------------

(১) সূরা আর-রাহমান, আয়াত (১৫)।

(২) সূরা আল-আরাফ, আয়াত (১২), এবং সূরা সদ, আয়াত (৭৬)।

(৩) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস (২৯৯৬)।

(৪) সূরা আত-তাহরীম, আয়াত (৬)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২১)
لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا} (1)، فبذلك الفسوق استحق غضب الله ولعنته إلى يوم الدين، قال الله سبحانه وتعالى: {قَالَ يَاإِبْلِيسُ مَا لَكَ أَلَّا تَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ (32) قَالَ لَمْ أَكُنْ لِأَسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُ مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ (33) قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ (34) وَإِنَّ عَلَيْكَ اللَّعْنَةَ إِلَى يَوْمِ الدِّينِ (35)} (2)، فطلب من الرب سبحانه الإمهال إلى يوم البعث، واستحكمت عداوته لآدم وذريته، وتوعد بإضلالهم عن طريق الهدى أجمعين، باستثناء القليل وهم عباد الله المخلصون، وقد ذكر الله هذا في كتابه العزيز فقال: {قَالَ رَبِّ فَأَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ (36) قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ (37) إِلَى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُومِ (38) قَالَ رَبِّ بِمَا

--------------------------------------------

(1) الآية (50) من سورة الكهف.

(2) الآيات (32 ــ 35) من سورة الحجر ..
...তোমাদের শত্রু; জালেমদের জন্য এটি কতই না নিকৃষ্ট বিনিময়} (১), সেই পাপাচারের কারণে সে বিচার দিবস পর্যন্ত আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপের যোগ্য হলো। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি বললেন, ‘হে ইবলিস! তোমার কী হলো যে তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে না?’ (৩২) সে বলল, ‘আমি এমন কোনো মানবকে সিজদা করার নই যাকে আপনি পচা কাদা হতে প্রস্তুতকৃত শুষ্ক ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন’ (৩৩) তিনি বললেন, ‘তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত’ (৩৪) ‘আর নিশ্চয়ই বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার ওপর অভিশাপ রইল’ (৩৫)} (২), অতঃপর সে মহান রবের কাছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ প্রার্থনা করল। আর আদম ও তাঁর সন্তানদের প্রতি তার শত্রুতা সুদৃঢ় হলো এবং সে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা স্বরূপ অল্প কতিপয় লোক ব্যতীত তাদের সকলকেই হেদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত করার হুমকি দিল। আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: {সে বলল, ‘হে আমার রব! তবে আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন’ (৩৬) তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত’ (৩৭) ‘নির্ধারিত সময়ের দিন পর্যন্ত’ (৩৮) সে বলল, ‘হে আমার রব! যেহেতু আপনি...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাহফের ৫০ নম্বর আয়াত।

(২) সূরা আল-হিজরের ৩২ ــ ৩৫ নম্বর আয়াতসমূহ।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২২)
أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ (39) إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ} (1).

 

‌‌المبحث الثالث: صورهم وتشكلهم:

خلق الله الجن على هيئة أقدرهم فيها على التلون والتشكل، يظهرون في أي صورة شاؤوا في أشكال الحيات مثلا، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن بالمدينة نفرا من الجن قد أسلموا، فمن رأى شيئا من هذه العوامر فليؤذنه ثلاثا، فإن بدا له بعد فليقتله، فإنه شيطان) (2)، والعوامر هي الحيات والثعابين مما يسكن البيوت وغيرها، قال عبد الله بن عمر رضي الله عنهما: (فبينا أنا أطارد حية لأقتلها، فناداني أبو لبابة: لا تقتلها، فقلت: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أمر بقتل الحيات. قال: إنه نهى بعد ذلك عن ذوات البيوت، وهي العوامر) (3).

ومما يدل على تشكل الجان حديث أبي ذر رضي الله عنه قال رسول الله: (إذا قام أحدكم يصلي، فإنه يستره إذا كان بين يديه مثل آخرة الرحل، فإذا لم يكن بين يديه مثل آخرة الرحل، فإنه يقطع صلاته الحمار والمرأة والكلب الأسود، قلت: يا أبا ذر، ما بال الكلب الأسود من الكلب

--------------------------------------------

(1) (الآيات (36 ــ 40) من سورة الحجر.

(2) (أخرجه مسلم حديث (2236).

(3) (أخرجه البخاري حديث (3123).
(আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন) সেজন্য আমি অবশ্যই তাদের কাছে পৃথিবীতে (মন্দ কাজকে) শোভনীয় করে তুলব এবং তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব (৩৯) তবে তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত (৪০)। (১)

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের আকৃতি ও রূপান্তর:

আল্লাহ জিনদের এমন এক প্রকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তাদের রূপ পরিবর্তন ও বিভিন্ন আকার ধারণ করার ক্ষমতা দিয়েছেন। তারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারে, যেমন সাপের আকৃতি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই মদিনায় জিনদের একটি দল রয়েছে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই ঘরোয়া প্রাণীদের (সাপ) কোনোটি দেখবে, সে যেন তাকে তিন দিন সতর্ক করে। এরপরও যদি তা তার সামনে প্রকাশ পায়, তবে সে যেন তাকে হত্যা করে, কারণ সে শয়তান) (২)। 'আওয়ামির' হলো সেই সব সাপ ও অজগর যা ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থানে বসবাস করে। আবদুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: (একদা আমি একটি সাপকে মারার জন্য তাড়া করছিলাম, তখন আবু লুবাবা আমাকে ডেকে বললেন: একে হত্যা করো না। আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো সাপ হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন: তিনি পরবর্তীতে ঘরের বাসিন্দাদের (সাপ) হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, আর তারা হলো 'আওয়ামির') (৩)।

জিনদের রূপান্তরের প্রমাণ সম্বলিত হাদিসসমূহের মধ্যে আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন তার সামনে যদি উটের হাওদার পিছনের কাঠের মতো কোনো বস্তু থাকে তবে তা তাকে আড়াল করবে। আর যদি তার সামনে উটের হাওদার পিছনের কাঠের মতো কোনো বস্তু না থাকে, তবে গাধা, নারী এবং কালো কুকুর তার নামাজ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। আমি বললাম: হে আবু যার, সাধারণ কুকুরের তুলনায় কালো কুকুরের বৈশিষ্ট্য কী?

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-হিজরের ৩৬-৪০ নং আয়াত।

(২) (মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং ২২৩৬)।

(৩) (বুখারি কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং ৩১২৩)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২৩)
الأحمر من الكلب الأصفر؟ قال: يا ابن أخي، سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم كما سألتني فقال: الكلب الأسود شيطان) (1).

ويتكونون في صور بني آدم، الذكور والإناث على حدّ سواء قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: (إن الشيطان ليتمثل في صورة الرجل. فيأتي القوم فيحدثهم بالحديث من الكذب. فيتفرقون. فيقول الرجل منهم: سمعت رجلا أعرف وجهه، ولا أدري ما اسمه، يحدث) (2).

وكذلك المرأة الفاجرة التي تعرض مفاتنها للناس يستغلها الشيطان لزيادة الفتنة والإيقاع فيها قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن المرأة تقبل في صورة شيطان، وتدبر في صورة شيطان، فإذا أبصر أحدكم امرأة فليأت أهله. فإن ذلك يرد ما في نفسه) (3)، ومعنى هذا أن الشيطان يكون في صورة المرأة، حينما تخرج عن الآداب الشرعية، فتكون في صورة شيطان ليغري بها الفساق الناهجين نهجها سييئا.

 

‌‌المبحث الرابع: مشابهتهم:

ذكرنا أن الجن خلقهم الله قادرين على التشكل، والتشبه بغيرهم، وهم يشبهون الملائكة من حيث القدرة على

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم حديث (1510).

(2) أخرجه مسلم المقدمة حديث (7).

(3) أخرجه مسلم حديث (1403).
লাল কুকুর কি হলুদ কুকুরের চেয়ে (আলাদা)? তিনি বললেন: হে আমার ভাতিজা, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যেমনটি তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করলে, তখন তিনি বলেছিলেন: কালো কুকুর হলো শয়তান) (১)।

আর তারা আদম সন্তানদের আকৃতি ধারণ করে, নারী এবং পুরুষ উভয়ই সমানভাবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: (নিশ্চয়ই শয়তান পুরুষের রূপ ধারণ করে। অতঃপর সে কোনো কওমের কাছে আসে এবং তাদের কাছে মিথ্যা কথা বলে। এরপর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন তাদের মধ্য থেকে কোনো লোক বলে: আমি এমন এক ব্যক্তিকে কথা বলতে শুনেছি যার চেহারা আমি চিনি কিন্তু তার নাম জানি না) (২)।

অনুরূপভাবে সেই পাপাচারী নারী যে মানুষের সামনে নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে, শয়তান তাকে ফিতনা বৃদ্ধি করার জন্য এবং মানুষকে তাতে লিপ্ত করার জন্য ব্যবহার করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই নারী শয়তানের আকৃতিতে সামনে আসে এবং শয়তানের আকৃতিতে প্রস্থান করে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে দেখে, তখন সে যেন তার স্ত্রীর কাছে আসে। কারণ এটি তার মনের কুপ্রবৃত্তিকে দূর করে দেয়) (৩), আর এর অর্থ হলো শয়তান নারীর আকৃতিতে থাকে যখন সে শরয়ী শিষ্টাচার থেকে বিচ্যুত হয়, ফলে সে শয়তানের আকৃতি ধারণ করে যাতে সেই সব পাপাচারীদের প্রলুব্ধ করতে পারে যারা তার মতো মন্দ পথ অবলম্বন করে।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদের সাদৃশ্য:

আমরা উল্লেখ করেছি যে, আল্লাহ জিনদের সৃষ্টি করেছেন অন্যদের রূপ ধারণ এবং সাদৃশ্য গ্রহণের ক্ষমতা দিয়ে। তারা ফেরেশতাদের সাথে সাদৃশ্য রাখে সেই সক্ষমতার দিক থেকে...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস (১৫১০)।

(২) এটি মুসলিম তার মুকাদ্দিমায় বর্ণনা করেছেন, হাদিস (৭)।

(৩) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস (১৪০৩)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২৪)
التشكل في غير الصورة الحقيقية، ويفارقهم الملائكة بأنهم لا يتشبهون بالدواب والهوام، فلا يتشبهون إلا بالصورة الحسنة، ولا يصدر منهم الأذى لغيرهم، على خلاف حال الجن، وقد جاء جبريل عليه السلام كما في حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: حدثني أبي عمر بن الخطاب، قال: " بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم، إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر، لا يرى عليه أثر السفر، ولا يعرفه منا أحد، حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه، وقال: يا محمد، أخبرني عن الإسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت، إن استطعت إليه سبيلا، قال: صدقت ـ قال: فعجبنا له، يسأله ويصدقه ـ قال: فأخبرني عن الإيمان، قال: أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره، قال: صدقت، قال: فأخبرني عن الإحسان، قال: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه، فإنه يراك، قال: فأخبرني عن الساعة، قال: ما المسؤول عنها بأعلم من السائل، قال: فأخبرني عن أمارتها، قال: أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان، قال ثم انطلق، فلبثت مليا ثم قال لي: يا عمر، أتدري من السائل؟ ، قلت: الله ورسوله أعلم، قال: فإنه

প্রকৃত আকৃতি ছাড়া অন্য রূপ ধারণ করা; আর ফেরেশতারা তাদের (জিনদের) থেকে পৃথক এই দিক থেকে যে, তারা চতুষ্পদ জন্তু বা পোকামাকড়ের রূপ ধারণ করে না। তারা কেবল সুন্দর রূপই ধারণ করে এবং তাদের পক্ষ থেকে অন্যের কোনো ক্ষতি সাধিত হয় না, যা জিনদের অবস্থার বিপরীত। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এসেছিলেন, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: আমার পিতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, "একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম। হঠাৎ আমাদের সামনে অত্যন্ত ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো চুলের একজন লোক উপস্থিত হলেন। তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনতেও পারছিল না। অবশেষে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বসলেন এবং তাঁর দুই হাঁটু নবীজির দুই হাঁটুর সাথে মিলালেন এবং তাঁর দুই হাতের তালু নবীজির দুই উরুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে বিস্মিত হলাম যে, তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার তাঁর উত্তর সত্যায়নও করছেন। তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত নন। তিনি বললেন: তাহলে এর আলামতগুলো সম্পর্কে বলুন। নবীজি বললেন: দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে এবং তুমি দেখতে পাবে যে, নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, অভাবী মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। আমি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলাম। এরপর নবীজি আমাকে বললেন: হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি বললেন: তিনি তো...

(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২৫)
جبريل أتاكم يعلمكم دينكم" (1)، وقد جاء عليه السلام في صورة حسنة، وقد يأتي الملك في صورة مرتين في صفتين مختلفتين: كما في قصة النفر الثلاثة وذلك "إن ثلاثة في بني إسرائيل: أبرص وأقرع وأعمى، بدا لله أن يبتليهم، فبعث إليهم ملكا، فأتى الأبرص فقال: أي شيء أحب إليك؟ قال: لون حسن، وجلد حسن، قد قذرني الناس، قال: فمسحه فذهب عنه، فأعطي لونا حسنا، وجلدا حسنا، فقال: أي المال أحب إليك؟ قال: الإبل ـ أو قال البقر: هو شك في ذلك: أن الأبرص والأقرع: قال أحدهما: الإبل، وقال الأخر: البقر ـ فأعطي ناقة عشراء، فقال: يبارك لك فيها، وأتى الأقرع فقال: أي شيء أحب إليك؟ قال: شعر حسن، ويذهب عني هذا، قد قذرني الناس، قال: فمسحه فذهب، وأعطي شعرا حسنا، قال: فأي المال أحب إليك؟ قال: البقر، قال: فأعطاه بقرة حاملا، وقال يبارك لك فيها. وأتى الأعمى فقال: أي شيء أحب إليك؟ قال: يرد الله إلي بصري، فأبصر به الناس، قال: فمسحه فرد الله إليه بصره، قال: فأي المال أحب إليك؟ قال: الغنم، فأعطاه شاة والدا، فأنتج هذان وولد هذا، فكان لهذا واد من إبل، ولهذا واد من بقر، ولهذا واد من غنم، ثم إنه أتى الأبرص في صورته وهيئته، فقال: رجل مسكين، تقطّعت بي الحبال في سفري، فلا بلاغ اليوم إلا بالله ثم

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم حديث (8) ..
"জিবরীল তোমাদের নিকট এসেছিলেন তোমাদের দ্বীন শেখাতে" (১), আর তিনি (আলাইহিস সালাম) সুন্দর অবয়বে এসেছিলেন। ফেরেশতা কখনো কখনো দুই ভিন্ন অবস্থায় একই অবয়বে দুইবার আসতে পারেন: যেমনটি তিন ব্যক্তির কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো: "বনী ইসরাঈলের তিন জন ব্যক্তি ছিল: একজন ধবল রোগী, একজন টাকওয়ালা এবং একজন অন্ধ। আল্লাহর ইচ্ছা হলো যে তিনি তাদের পরীক্ষা করবেন, তাই তিনি তাদের নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা ধবল রোগীর নিকট এসে বললেন: তোমার নিকট কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রিয়? সে বলল: সুন্দর রঙ এবং সুন্দর চামড়া, কারণ মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। তিনি তাকে স্পর্শ করলেন, ফলে তার সেই অবস্থা দূর হয়ে গেল এবং তাকে সুন্দর রঙ ও সুন্দর চামড়া দান করা হলো। ফেরেশতা বললেন: তোমার নিকট কোন সম্পদ সবচেয়ে বেশি প্রিয়? সে বলল: উট — অথবা তিনি (বর্ণনাকারী) এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন যে: ধবল রোগী এবং টাকওয়ালার মধ্যে একজন বলেছিল উট এবং অন্যজন বলেছিল গরু — অতঃপর তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উটনী দেওয়া হলো এবং তিনি বললেন: আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দিন। এরপর তিনি টাকওয়ালার নিকট আসলেন এবং বললেন: তোমার নিকট কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রিয়? সে বলল: সুন্দর চুল এবং আমার এই অবস্থা যেন দূর হয়ে যায়, কারণ মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। তিনি তাকে স্পর্শ করলেন এবং তার টাক চলে গেল, আর তাকে সুন্দর চুল দান করা হলো। তিনি বললেন: তোমার নিকট কোন সম্পদ সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: গরু। তিনি তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দিলেন এবং বললেন: আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দিন। এরপর তিনি অন্ধ ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং বললেন: তোমার নিকট কোন জিনিসটি সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: আল্লাহ যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন যাতে আমি মানুষকে দেখতে পাই। তিনি তাকে স্পর্শ করলেন এবং আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: কোন সম্পদ তোমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল: ছাগল। তখন তিনি তাকে একটি বাচ্চা প্রসবকারী ছাগী দান করলেন। এরপর উট ও গরু বংশবৃদ্ধি করল এবং ছাগলটিও বাচ্চা দিল। ফলে একজনের জন্য এক উপত্যকা উট হলো, অন্যজনের জন্য এক উপত্যকা গরু হলো এবং অপরজনের জন্য এক উপত্যকা ছাগল হলো। এরপর তিনি (ফেরেশতা) ধবল রোগীর নিকট তার পূর্বের রূপ ও অবয়বে আসলেন এবং বললেন: আমি এক মিসকিন ব্যক্তি, সফরে আমার সমস্ত সম্বল শেষ হয়ে গেছে, আজ আল্লাহ ছাড়া এবং অতঃপর (আপনার সাহায্য ছাড়া) গন্তব্যে পৌঁছানোর আর কোনো উপায় নেই...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস (৮)।।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২৬)
بك، أسألك بالذي أعطاك اللون الحسن والجلد الحسن والمال، بعيرا أتبلغ عليه في سفري. فقال له: إن الحقوق كثيرة، فقال له: كأني أعرفك، ألم تكن أبرص يقذرك الناس فقيرا فأعطاك الله؟ فقال: لقد ورثت لكابر عن كابر، فقال: إن كنت كاذبا فصيرك الله إلى ما كنت. وأتى الأقرع في صورته وهيئته، فقال له مثل ما قال لهذا، فرد عليه مثل ما رد عليه هذا، فقال: إن كنت كاذبا صيرك الله إلى ما كنت.

وأتى الأعمى في صورته، فقال: رجل مسكين وابن سبيل، وتقطعت بي الحبال في سفري، فلا بلاغ اليوم إلا بالله ثم بك، أسألك بالذي رد عليك بصرك شاة أتبلغ بها في سفري، فقال: قد كنت أعمى فرد الله بصري، وفقيرا فقد أغناني، فخذ ما شئت، فو الله لا أجهدك اليوم بشيء أخذته لله، فقال: أمسك مالك، فإنما ابتليتم، فقد رضي الله عنك، وسخط على صاحبيك" (1)، فقد جاء الملك الثلاثة في صورة حسنة، تخالف حال كل منهم، وجاء كلا منهم في المرة الثانية على الحال التي كان عليها كل واحد منهم، وقد يأتي الملك في صورة طائر، كما في قصة شق بطن النبي صلى الله عليه وسلم، قال صلى الله عليه وسلم: (فأقبل طائران أبيضان كأنهما نسران، فقال أحدهما لصاحبه: أهو هو؟ قال الآخر: نعم، فأقبلا يبتدراني فأخذاني فبطحاني للقفا، فشقا بطني) (2)، وقد ظهر جبريل عليه السلام مرتين في صورته الحقيقية، ورآه نبينا

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري حديث (3464).

(2) أخرجه الدارمي، حديث (13).
আপনার কাছে, আমি সেই সত্তার নামে প্রার্থনা করছি যিনি আপনাকে সুন্দর বর্ণ, সুন্দর চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন, একটি উট যা দিয়ে আমি আমার সফরে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি। সে তাকে বলল: নিশ্চয়ই (আমার ওপর) অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তখন তিনি তাকে বললেন: আমার মনে হচ্ছে আমি আপনাকে চিনি; আপনি কি সেই কুষ্ঠরোগী ছিলেন না যাকে মানুষ ঘৃণা করত এবং আপনি নিঃস্ব ছিলেন, অতঃপর আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন? সে বলল: আমি তো এই সম্পদ বড়দের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। তিনি বললেন: যদি আপনি মিথ্যাবাদী হন, তবে আল্লাহ আপনাকে আপনার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিন। অতঃপর তিনি টাকওয়ালা ব্যক্তির নিকট তার সেই (পূর্বের) রূপ ও আকৃতিতে আসলেন এবং তাকেও তাই বললেন যা প্রথম ব্যক্তিকে বলেছিলেন। সেও তাকে তাই উত্তর দিল যা প্রথম ব্যক্তি দিয়েছিল। তিনি বললেন: যদি আপনি মিথ্যাবাদী হন, তবে আল্লাহ আপনাকে আপনার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিন।

অতঃপর তিনি অন্ধ ব্যক্তির নিকট তার সেই (অন্ধ) রূপে আসলেন এবং বললেন: আমি একজন নিঃস্ব ও মুসাফির ব্যক্তি, আমার সফরের যাবতীয় উপায়-উপকরণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ আল্লাহর সাহায্য এবং তারপর আপনার সাহায্য ছাড়া গন্তব্যে পৌঁছানোর আর কোনো পথ নেই। আমি আপনার কাছে সেই সত্তার নামে একটি ছাগল চাচ্ছি যিনি আপনার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, যেন আমি আমার সফরে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি। সে বলল: নিশ্চয়ই আমি অন্ধ ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং আমি নিঃস্ব ছিলাম, তিনি আমাকে ধনী করেছেন। সুতরাং আপনি যা ইচ্ছা গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনি যা গ্রহণ করবেন, তার জন্য আজ আমি আপনাকে কোনো প্রকার বাধা বা কষ্ট দেব না। তখন তিনি বললেন: আপনার সম্পদ আপনার কাছেই রাখুন। নিশ্চয়ই আপনাদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে আল্লাহ আপনার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আপনার সঙ্গীদ্বয়ের ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। (১), ফেরেশতা এই তিনজনের নিকট এমন এক সুন্দর রূপ নিয়ে এসেছিলেন যা তাদের প্রত্যেকের অবস্থার বিপরীত ছিল, আর দ্বিতীয়বার তিনি তাদের প্রত্যেকের নিকট সেই অবস্থায় এসেছিলেন যা তাদের প্রত্যেকের মূল অবস্থা ছিল। আবার ফেরেশতা কখনও পাখির রূপ ধারণ করেও আসেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (দুটি সাদা পাখি এগিয়ে আসল যেন তারা দুটি শকুন। তাদের একজন তার সঙ্গীকে বলল: এ কি সেই ব্যক্তি? অপরজন বলল: হ্যাঁ। অতঃপর তারা দ্রুত আমার দিকে এগিয়ে আসল এবং আমাকে ধরে চিৎ করে শুইয়ে দিল, তারপর তারা আমার পেট বিদীর্ণ করল।) (২), আর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম দুইবার তাঁর প্রকৃত আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং আমাদের নবী তাঁকে দেখেছেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, হাদীস নং (৩৪৬৪)।

(২) দারেমী কর্তৃক বর্ণিত, হাদীস নং (১৩)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২৭)
محمد صلى الله عليه وسلم عليها: مرة عند سدرة المنتهى، كما في قوله تعالى: {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى} (1)، ومرة ثانية وهو في غار حراء كما في قول عائشة رضي الله عنها: "ذاك جبريل، كان يأتيه في صورة الرجل، وإن أتاه هذه المرة في صورته التي هي صورته، فسدّ الأفق" (2)، والملائكة خلقهم الله عز وجل من نور، والجان من مارج من نار، وابن آدم من طين، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (خلقت الملائكة من نور، وخلق الجان من مارج من نار، وخلق آدم مما وصف لكم) (3)، فسبحان العليم الحكيم، يصنع ما يشاء ويفعل ما يريد.

 

‌‌المبحث الخامس: حياتهم ومعاشهم:

معلوم أن كل المخلوقات تحتاج إلى ما تقوم به حياتها من غذاء وتزاوج وغير ذلك، وقد جعل الله عز وجل من ذلك لكل مخلوق ما يناسبه، فالإنس والجن مكلفون ومقومات الحياة تتشابه بينهم إلى حد كبير، فالجن كالإنس مكلفون بفرائض الإسلام، وهم يعيشون على ظهر الأرض، وليسوا في باطنها كما يعتقد العوام، ويتزاوجون، كالإنس في الحاجة إلى مقومات الحياة فهم يأكلون، قال

--------------------------------------------

(1) (الآية (13) من سورة النجم.

(2) (أخرجه البخاري (3063).

(3) (أخرجه مسلم حديث (2996).
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (জিবরীলকে তাঁর আসল আকৃতিতে) দেখেছেন: একবার সিদরাতুল মুনতাহার নিকট, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন} (১), এবং দ্বিতীয়বার যখন তিনি হেরা গুহায় ছিলেন, যেমনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর উক্তিতে এসেছে: "তিনি ছিলেন জিবরীল, তিনি তাঁর নিকট মানুষের আকৃতিতে আসতেন, আর এইবার তিনি তাঁর সেই আকৃতিতে এসেছিলেন যা তাঁর প্রকৃত রূপ, ফলে তিনি দিগন্তকে আবৃত করে ফেলেছিলেন" (২)। আর ফেরেশতাদেরকে মহান আল্লাহ নূর (আলো) থেকে সৃষ্টি করেছেন, জিনদের আগুনের শিখা থেকে এবং আদম সন্তানকে মাটি থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর থেকে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে যার বর্ণনা তোমাদের নিকট দেওয়া হয়েছে) (৩)। অতএব সেই মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় সত্তা অতি পবিত্র, তিনি যা ইচ্ছা তা-ই নির্মাণ করেন এবং যা চান তা-ই করেন।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁদের জীবন ও জীবনযাপন:

এটি সুবিদিত যে, সকল সৃষ্টিরই জীবন ধারণের জন্য আহার, প্রজনন এবং অন্যান্য বিষয়ের প্রয়োজন হয়। মহান আল্লাহ প্রতিটি সৃষ্টির জন্য তার উপযোগী জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মানুষ ও জিন উভয়ই শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ (মুকাল্লাফ) এবং তাদের জীবন ধারণের মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে অনেকখানি সাদৃশ্য রয়েছে। জিনেরা মানুষের মতোই ইসলামের ফরজ বিধানসমূহ পালনে আদিষ্ট। তারা পৃথিবীর উপরিভাগেই বসবাস করে, মাটির অভ্যন্তরে নয়—যেমনটি সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে থাকে। তারা বিবাহ-বন্ধন ও বংশবিস্তার করে। জীবন ধারণের উপকরণের প্রয়োজনীয়তায় তারা মানুষের মতোই, তাই তারা আহারও গ্রহণ করে। তিনি বলেন

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাজম-এর ১৩ নং আয়াত।

(২) (এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন (৩০৬৩)।

(৩) (এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (২৯৯৬)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২৮)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تستنجوا بالروث ولا بالعظام، فإنه زاد إخوانكم من الجن) (1)، وهم يشربون وغير المسلم منهم يتناول ذلك بشماله، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إذا أكل أحدكم فليأكل بيمينه، وإذا شرب فليشرب بيمينه، فإن الشيطان يأكل بشماله ويشرب بشماله) (2)، واسمع هذه القصة عن حذيفة رضي الله عنه قال: "كنا إذا حضرنا مع النبي صلى الله عليه وسلم طعاما لم نضع أيدينا، حتى يبدأ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيضع يده، وإنا حضرنا معه، مرة، طعاما، فجاءت جارية كأنها تدفع، فذهبت لتضع يدها في الطعام، فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيدها، ثم جاء أعرابي كأنما يدفع، فأخذ بيده، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إن الشيطان يستحل الطعام أن لا يذكر اسم الله عليه، وإنه جاء بهذه الجارية ليستحل بها، فأخذت بيدها، فجاء بهذا الأعرابي ليستحل به، فأخذت بيده، والذي نفسي بيده، إن يده في يدي مع يدها) (3)، وكذلك قول جابر بن محشي رضي الله عنه: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم جالساً ورجلٌ يأكل، فلم يُسَمِّ حتى لم يبق من طعامه إلا لقمةٌ، فلما رفعها إلى فيه قال: بسم الله أوله وآخره، فضحك النبيّ صلى الله عليه وسلم ثم قال: (ما زال الشيطان يأكل معه، فلما ذكر اسم الله عز وجل استقاء ما في بطنه) (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم حديث (150).

(2) أخرجه مسلم حديث (2019).

(3) أخرجه مسلم حديث (2017) ..

(4) أخرجه أبو داود حديث (3768).
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা গোবর বা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করো না; কারণ এটি তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য) (১)। তারা পানীয় পান করে এবং তাদের মধ্যে যারা অমুসলিম, তারা বাম হাত দিয়ে তা গ্রহণ করে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমাদের কেউ যখন আহার করে, সে যেন ডান হাতে আহার করে এবং যখন পান করে, তখন যেন ডান হাতে পান করে; কারণ শয়তান বাম হাতে আহার করে এবং বাম হাতে পান করে) (২)। হুজায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত এই ঘটনাটি শুনুন, তিনি বলেন: "আমরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কোনো খাবারে উপস্থিত হতাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুরু করার এবং তাঁর হাত রাখার আগে আমরা আমাদের হাত দিতাম না। একবার আমরা তাঁর সাথে খাবারে উপস্থিত ছিলাম, তখন একটি বালিকা এমনভাবে আসল যেন তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে নিয়ে আসছে। সে খাবারের মধ্যে হাত দিতে গেল, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত ধরে ফেললেন। এরপর এক বেদুইন আসল, তাকেও যেন কেউ ধাক্কা দিয়ে নিয়ে আসছে, তখন তিনি তার হাতও ধরে ফেললেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (নিশ্চয়ই শয়তান সেই খাবারকে নিজের জন্য হালাল করে নিতে চায় যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না। আর সে এই বালিকার মাধ্যমে তা হালাল করতে এসেছিল, তাই আমি তার হাত ধরলাম। এরপর সে এই বেদুইনের মাধ্যমে তা হালাল করতে এসেছিল, তাই আমি তার হাত ধরলাম। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই বালিকার হাতের সাথে শয়তানের হাতটিও আমার হাতের মধ্যে রয়েছে) (৩)। একইভাবে জাবির ইবনে মাহশি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসা ছিলেন এবং এক ব্যক্তি আহার করছিল, সে আল্লাহর নাম বলেনি যতক্ষণ না খাবারের মাত্র এক লোকমা অবশিষ্ট রইল। যখন সে তা মুখের কাছে তুলল, তখন বলল: বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু (শুরু ও শেষে আল্লাহর নামে)। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসলেন এবং বললেন: (শয়তান অনবরত তার সাথে আহার করছিল, কিন্তু যখন সে মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করল, তখন শয়তান তার পেটে যা ছিল তা বমি করে দিল) (৪)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (১৫০)।

(২) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (২০১৯)।

(৩) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (২০১৭)।

(৪) আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস (৩৭৬৮)।
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ২৯)
هذه من معجزات رسول الله إذ أعلمه الله ذلك الحدث، فالتسمية واجبة، ومن تركها عامدا فقد عصى الله ورسوله.

والجن يطبخون على نار، ولهم آنية وآثار كغيرهم من الإنس، وفيهم علماء، ومنهم جهال، وهم عموما لا يعلمون الغيب قال الله سبحانه وتعالى في قصة موت سليمان عليه السلام: {فَلَمَّا خَرَّ تَبَيَّنَتِ الْجِنُّ أَنْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ الْغَيْبَ مَا لَبِثُوا فِي الْعَذَابِ الْمُهِينِ} (1)، ويعتريهم ما يعتري الإنس من الخوف والمرض والهرم والموت، إلا إبليس {قَالَ رَبِّ فَأَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ} (2)، فقد أنظره الله عز وجل إلى يوم الوقت المعلوم وبناء على هذا التقارب بين الإنس والجن الخيّرين من الطرفين، فإن للجن المسلمين على الإنس حقوقا منها: اعتبارهم إخوانا لهم كما نطق بذلك رسول الله (فإنه زاد إخوانكم من الجن) (3)، والمراد أخوة الإيمان بالله تعالى، وهذا يستلزم عدم إيذائهم بأي شكل من الأذى، وكيف يتم لنا ذلك ونحن لا نراهم؟ ، يتم

--------------------------------------------

(1) الآية (14) من سورة سبأ.

(2) الآية (36) من سورة الحجر.

(3) أخرجه مسلم حديث (150)
এগুলো আল্লাহর রাসূলের মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু আল্লাহ তাঁকে এই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সুতরাং (খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া বা বিসমিল্লাহ বলা) ওয়াজিব; আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা বর্জন করে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করল।

আর জিনেরা আগুনের ওপর রান্না করে এবং মানুষের মতো তাদেরও পাত্র ও অন্যান্য চিহ্নাদি রয়েছে। তাদের মধ্যে যেমন আলেম বা বিদ্বান রয়েছে, তেমনি তাদের মধ্যে মূর্খও রয়েছে। তারা সাধারণভাবে অদৃশ্যের খবর (গায়েব) জানে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুলায়মান আলাইহিস সালামের মৃত্যুর ঘটনায় ইরশাদ করেছেন: “অতঃপর যখন সে (সুলায়মান) পড়ে গেল, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে, যদি তারা অদৃশ্যের খবর জানত, তবে তারা এই লাঞ্ছনাকর শাস্তির মধ্যে আবদ্ধ থাকত না।” (১), আর মানুষের মতো তাদের ওপরও ভয়, রোগ, বার্ধক্য ও মৃত্যু আপতিত হয়, কেবল ইবলিস ব্যতীত; (ইবলিস) বলেছিল: “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।” (২), অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে নির্ধারিত সময়ের দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন। উভয় পক্ষের (মানুষ ও জিন) পুণ্যবানদের মধ্যকার এই নৈকট্যের ভিত্তিতে মানুষের ওপর মুসলিম জিনদের কিছু অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: তাদেরকে ভাই হিসেবে গণ্য করা, যেমনটি আল্লাহর রাসূল ব্যক্ত করেছেন: “নিশ্চয় তা তোমাদের জিন ভাইদের পাথেয়।” (৩), আর এখানে উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানগত ভ্রাতৃত্ব। এটি দাবি করে যে, তাদেরকে কোনো প্রকার কষ্ট দেওয়া যাবে না। কিন্তু এটি আমাদের জন্য কীভাবে সম্ভব হবে যখন আমরা তাদের দেখতে পাই না? তা সম্ভব হবে...

--------------------------------------------

(১) সূরা সাবার ১৪ নম্বর আয়াত।

(২) সূরা হিজরের ৩৬ নম্বর আয়াত।

(৩) এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (১৫০)
(খণ্ড: ১) জুহদুল মুহতাফী ফী আমরিল আলিমিল মুখতাফী (পৃষ্ঠা: ৩০)
لنا ذلك بالحرص على التسمية في كل شأن من شؤوننا، فإنها حرز للجن المسلمين من أذى إخوانهم من الإنس، فإذا قال ذلك الإنسان تنحى عنه الجنى وابتعد عن الأذى، وهي أيضا حرز للإنسان المسلم من أذى فسقة الجن ومردة الشياطين، الذين لا يستجيبون لداعي التسمية، قال علقمة رحمه الله: "أنا سألت ابن مسعود. فقلت: هل شهد أحد منكم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة الجن؟ ، قال: لا، ولكنا كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة. ففقدناه.

فالتمسناه في الأودية والشعاب، فقلنا: استطير أو اغتيل، قال فبتنا بشر ليلة بات بها قوم، فلما أصبحنا إذا هو جاء من قبل حراء، قال فقلنا: يا رسول الله، فقدناك فطلبناك فلم نجدك، فبتنا بشر ليلة بات بها قوم، فقال: أتاني داعي الجن، فذهبت معه فقرأت عليهم القرآن، قال: فانطلق بنا فأرانا آثارهم وآثار نيرانهم، وسألوه الزاد، فقال: لكم كل عظم ذكر اسم الله عليه، يقع في أيديكم أوفر ما يكون لحما، وكل بعرة علف لدوابكم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فلا تستنجوا بهما فإنهما طعام إخوانكم) (1) ففي التسمية منافع عظيمة للإنس والجن على حد سواء، ولا يعني هذا أنهم لا يطعمون إلا هذا، فقد ثبت في قصة أبي هريرة رضي الله عنه الآتية مع الشيطان الذي قبض عليه وهو يسرق من الطعام، فلعلهم أرادوا مشاركة الإنس في أرزاقهم، فكان جوابه صلى الله عليه وسلم على نحو

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم حديث (150).
আমাদের প্রতিটি কাজে আল্লাহর নাম (তাসমিয়াহ) উচ্চারণে যত্নবান হওয়ার মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়; কেননা এটি মুসলিম জিনদের জন্য তাদের মানব ভাইদের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষাস্বরূপ। যখন কোনো মানুষ তা পাঠ করে, তখন জিন তার থেকে সরে যায় এবং কষ্ট দেওয়া থেকে দূরে থাকে। এটি মুসলিম মানুষের জন্যও পাপাচারী জিন ও বিদ্রোহী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষাস্বরূপ, যারা আল্লাহর নামের আহ্বানে সাড়া দেয় না। আলকামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমি ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনাদের মধ্যে কেউ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে 'জিনদের রাতে' উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন: না, তবে আমরা এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। তারপর আমরা তাঁকে হারিয়ে ফেললাম।

তখন আমরা তাঁকে উপত্যকা ও গিরিপথগুলোতে খুঁজলাম এবং বললাম: তাঁকে কি কোনো জিন উড়িয়ে নিয়ে গেল অথবা তাঁকে কি গুপ্তহত্যা করা হলো? তিনি বললেন: আমরা অত্যন্ত দুঃসহ ও উদ্বেগের সাথে এমন এক রাত কাটালাম যা কোনো জাতি আগে কখনো কাটায়নি। যখন সকাল হলো, তখন দেখা গেল তিনি হেরা গুহার দিক থেকে আসছেন। তিনি বলেন, আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং অনেক খুঁজেছি কিন্তু আপনাকে পাইনি, ফলে আমরা অত্যন্ত দুঃসহ রাত কাটিয়েছি। তিনি বললেন: আমার কাছে জিনদের একজন আহ্বানকারী এসেছিল, ফলে আমি তার সাথে গেলাম এবং তাদের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করলাম। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে গেলেন এবং আমাদের তাদের পদচিহ্ন ও তাদের আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাঁর কাছে খাবারের পাথেয় চেয়েছিল, তখন তিনি বললেন: তোমাদের জন্য সেই প্রতিটি হাড় (খাদ্য) যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে; তা যখন তোমাদের হাতে পড়বে তখন প্রচুর গোশতযুক্ত হয়ে পড়বে, আর প্রতিটি লাদি তোমাদের পশুদের খাদ্য হবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: অতএব তোমরা এই দুটি বস্তু দিয়ে ইস্তিঞ্জা (পবিত্রতা অর্জন) করো না, কারণ এগুলো তোমাদের ভাইদের খাদ্য। (১) সুতরাং আল্লাহর নাম উচ্চারণের মধ্যে মানুষ ও জিন উভয়ের জন্যই সমানভাবে মহা কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এর মানে এই নয় যে, তারা কেবল এগুলোই খেয়ে থাকে, কারণ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরবর্তী সেই কাহিনীতে প্রমাণিত হয়েছে যে শয়তানকে তিনি খাদ্য চুরি করার সময় ধরেছিলেন। সম্ভবত তারা মানুষের রিযিকে অংশীদার হতে চেয়েছিল, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তরটি ছিল এরূপ...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস (১৫০)।