(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
القطوف الدانية فيما انفرد به الدارمي عن الثمانية القسم: كتب السنة
الكتاب: القطوف الدانية فيما انفرد به الدارمي عن الثمانية
جمع وتحقيق: الدكتور مرزوق بن هياس الزهراني
هذه الطبعة: وقف على طلبة العلم
الناشر: بدون ناشر
عام النشر: 1428 هـ
عدد الصفحات: 471
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1440
পক্ক ফলের গুচ্ছ: আটজন ইমামের বিপরীতে ইমাম দারেমি যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: পক্ক ফলের গুচ্ছ: আটজন ইমামের বিপরীতে ইমাম দারেমি যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন
সংকলন ও সম্পাদনা: ডক্টর মারজুক বিন হাইয়াস আয-যাহরানি
এই সংস্করণ: ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য ওয়াকফ
প্রকাশক: কোনো প্রকাশক নেই
প্রকাশকাল: ১৪২৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাক্রম মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١)
المقدمةلفت نظري وأنا أقرأ في مسند الدارمي جملة من الأحاديث والآثار المسندة انفرد بها الدارمي رحمه الله عن غيره، ولما كانت أمهات الرواية السائرة بأيدي العلماء وطلاب العلم هي الكتب التسعة: صحيح البخاري، وصحيح مسلم، والسنن لأبي داود، والسنن للترمذي، والسنن للنسائي، والسنن لابن ماجه، ومسند أحمد وموطأ مالك هذه الثمانية، وتاسعها مسند الدارمي، رأيت أن أنسخ منه ما زاد عن الكتب الثمانية المذكورة، وأبين من خلال الدراسة والتخريج الصحيح منها والحسن والضعيف، ولم أجد في ذلك حديثا موضوعا، سوى حديثين اختلف النقاد في الحكم عليهما، فمنهم من حكم عليهما بالوضع:
الأول: (من لم يمنعه عن الحج حاجة ظاهرة، أو سلطان جائر، أو مرض حابس، فمات ولم يحج فليمت إن شاء يهوديا، وإن شاء نصرانيا) (1).
--------------------------------------------
ভূমিকামুসনাদ আদ-দারিমি পাঠ করার সময় আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, সেখানে বেশ কিছু সনদযুক্ত হাদিস ও আছার (বর্ণনা) রয়েছে যা ইমাম দারিমি (রহিমাহুল্লাহ) অন্যান্যদের তুলনায় এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যেহেতু আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট প্রচলিত বর্ণনার মূল উৎসসমূহ হলো নয়টি গ্রন্থ: সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, সুনান আত-তিরমিজি, সুনান আন-নাসায়ি, সুনান ইবনে মাজাহ, মুসনাদ আহমাদ এবং মুওয়াত্তা মালিক—এই আটটি, এবং নবমটি হলো মুসনাদ আদ-দারিমি; তাই আমি এটি সমীচীন মনে করেছি যে, উল্লিখিত আটটি গ্রন্থের অতিরিক্ত যা কিছু এতে রয়েছে তা আমি অনুলিপি করি এবং গবেষণা ও তাখরিজের মাধ্যমে সেগুলোর মধ্য থেকে সহিহ, হাসান ও জয়িফ (দুর্বল) বর্ণনাগুলো স্পষ্ট করি। আমি এর মধ্যে কোনো ‘মাওজু’ (জাল) হাদিস পাইনি, কেবল দুটি হাদিস ব্যতীত যেগুলোর হুকুমের ব্যাপারে সমালোচকগণ মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ এই দুটিকে জাল হওয়ার হুকুম দিয়েছেন:
প্রথমটি: (যাকে কোনো প্রকাশ্য প্রয়োজন, কোনো জালেম শাসক কিংবা কোনো প্রতিবন্ধক ব্যাধি হজ থেকে বিরত রাখেনি, অথচ সে হজ না করে মৃত্যুবরণ করল, সে চাইলে ইহুদি হয়ে মরুক অথবা নাসারা হয়ে মরুক।) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١)
والثاني: (إذا وضع الطعام فاخلعوا نعالكم، فإنه أروح لأقدامكم) (1).
وقد أورد الدارمي مما تفرد به عن الثمانية (1508) أحاديث من مجموع (3578) أوردها في المسند، وهذا العدد الذي تفرد به فيه من الصحيح، والصحيح لغيره، والحسن لذاته، والحسن لغيره كثير، وقليل فيه المرسل والمقطوع، والضعيف جدا، وقد حفظ لنا هذا الإمام قدرا زائدا على التسعة رويات صالحة للاحتجاج والعمل إلا ما ندر، وقد خرّجت الأحاديث من المصادر المثبتة، وحكمت عليها، مستنيرا بأقوال النقاد، وما لم أذكر تخريجه فهو مما لم أقف عليه عند غير المصنف فيما اطلعت عليه من مظنات البحث، أسأل الله أن يجعله عملا نافعا في الدنيا والآخرة، ولا أزعم أنني أتيت بما لم تستطعه الأوائل، بل أعترف أنه من جهد المقل، الراغب فيما عند الله من سعة الفضل والرحمة.
--------------------------------------------
এবং দ্বিতীয়টি: (যখন খাবার সামনে রাখা হয়, তখন তোমরা তোমাদের জুতো খুলে ফেলো, কারণ এটি তোমাদের পায়ের জন্য আরামদায়ক) (১)।
আর দারেমী সেই আটটি গ্রন্থ থেকে এককভাবে ১৫০৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা তিনি তাঁর মুসনাদে বর্ণিত মোট ৩৫৭৮টি হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। এই এককভাবে বর্ণিত সংখ্যাটির মধ্যে সহীহ, সহীহ লি-গাইরিহি, হাসান লি-যাতিহি এবং হাসান লি-গাইরিহি হাদিস অনেক রয়েছে; আর এর মধ্যে মুরসাল, মাকতু এবং অত্যন্ত যঈফ হাদিস সামান্যই আছে। এই ইমাম আমাদের জন্য নয়টি গ্রন্থের অতিরিক্ত এমন অনেক বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন যা দলীল হিসেবে গ্রহণ ও আমল করার যোগ্য, কেবল দুর্লভ কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত। আমি নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে হাদিসগুলোর তাখরীজ করেছি এবং সমালোচকগণের বক্তব্যের আলোকে সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান করেছি। আর যেগুলোর তাখরীজ আমি উল্লেখ করিনি, তা আমার অনুসন্ধানে লেখক ছাড়া অন্য কারো নিকট পাওয়া যায়নি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটিকে দুনিয়া ও আখিরাতে একটি উপকারী আমল হিসেবে কবুল করেন। আমি এমন কোনো দাবি করছি না যে আমি এমন কিছু করেছি যা পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হননি; বরং আমি স্বীকার করছি যে এটি এক স্বল্পজ্ঞানী ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র, যে আল্লাহর নিকট তাঁর প্রশস্ত অনুগ্রহ ও রহমতের প্রত্যাশী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
ترجمة الدارمي
نسبه:عبد الله بن عبد الرحمن بن الفضل بن بهرام بن عبد الله (1).
كنيته: أبو محمد.
نسبته: الدارمي، التميمي، السمرقندي، نسبة إلى دارم بن مالك بن حنضلة بن زيد بن مناة بن تميم (2)، فنسب إلى الجدين: دارم وتميم.
ولادته: ولد سنة (118) إحدى وثمانين ومائة من الهجرة (3)، قال الدارمي: ولدت في سنة مات بن المبارك سنة إحدى وثمانين ومائة (4).
بلده: سمرقند، وقد نسب إليها كغيره من الأئمة الذين نشاؤوا في هذه البلدة العظيمة، وهي مدينة خلف بخارى، ورد فيها عن حذيفة مرفوعا (فيها عين من عيون الجنة، وقبر من قبور الأنبياء،
--------------------------------------------
আদ-দারিমীর জীবনী
তাঁর বংশপরিচয়:আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-ফাদল ইবনে বাহরাম ইবনে আবদুল্লাহ (১)।
তাঁর উপনাম: আবু মুহাম্মদ।
তাঁর নিসবত: আদ-দারিমী, আত-তামীমী, আস-সামারকান্দী। দারিম বিন মালিক বিন হানজালা বিন যায়িদ বিন মানাহ বিন তামীমের (২) সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার কারণে তাঁকে তাঁর দুই পূর্বপুরুষ দারিম এবং তামীম—উভয়ের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়।
তাঁর জন্ম: তিনি হিজরী ১৮১ (একশ একাশি) সালে জন্মগ্রহণ করেন (৩)। আদ-দারিমী বলেন: আমি ইবনুল মুবারকের মৃত্যুর বছর অর্থাৎ একশ একাশি সালে জন্মগ্রহণ করেছি (৪)।
তাঁর দেশ: সামারকান্দ। এই মহান শহরে বেড়ে ওঠা অন্যান্য ইমামদের মতো তাঁর নিসবতও এই শহরের দিকে করা হয়েছে। এটি বুখারার পরবর্তী একটি শহর। এই শহর সম্পর্কে হুযায়ফা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "এতে জান্নাতের ঝর্ণাসমূহের একটি ঝর্ণা এবং নবীদের কবরসমূহের একটি কবর রয়েছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
وروضة من رياض الجنة، تحشر موتاهم يوم القيامة مع الشهداء
… ) (1).
سعيه في طلب العلم:لم أقف على ما يتعلق بالنشأة وبداية الطلب، ولكنه مستفاد مما أعتاده المسلمون في ذلك الزمان من الاعتناء بأبنائهم، وتعليمهم بادئ ذي بدء القراءة وحفظ القرآن، وهو أمر معلوم في المجتمع المسلم، حتى الأيتام يُعتنى بهم من قبل الأمهات، والأوصياء من الأقارب وغيرهم، ولا إخال الدارمي إلا سالكا ما سلك القوم، ويؤيد هذا ما ورد في أمر رحلته في طلب العلم.
رحلاته: كان أحد الرحالين في الحديث والموصوفين بجمعه وحفظه والإتقان له مع الثقة (2)، فرحل إلى العراق، والشام، ومصر، وأخذ عن أعلام علمائها، وبيان ذلك في ذكر بعض شيوخه، وسكن بغداد، وكان يقول: كان يقرع عليّ بابي ببغداد فأقول: من ذا؟ فيقول يحيى بن حسان، نعم الإدام الخل (3)، لتفرد الدارمي برواية هذا الحديث.
من أشهر شيوخه:شيوخه كثيرون منهم كثيرون من الجيل الثالث أتباع التابعين، أئمة ثقات، من أمثال: يزيد بن هارون، وعبد الله بن موسى، ومحمد بن يوسف الفريابي، ويعلى بن عبيد، وجعفر بن عون، ويحيى بن حسان التنيسي، وأبي المغيرة الحمصي الخولاني، والحكم بن نافع
--------------------------------------------
(এবং জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান, কিয়ামতের দিন তাদের মৃতদের শহীদদের সাথে পুনরুত্থিত করা হবে... ) (১)।
ইলম অন্বেষণে তাঁর প্রচেষ্টা:তাঁর শৈশব এবং জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা সম্পর্কে আমি বিশেষ কিছু জানতে পারিনি, তবে সেই সময়ের মুসলমানদের সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার রীতি এবং প্রথম থেকেই তাদের পঠন ও কুরআন হিফজ করানোর অভ্যাস থেকে এটি অনুমান করা যায়। এটি মুসলিম সমাজে একটি সুপরিচিত বিষয় ছিল, এমনকি এতিমদেরও মায়েরা এবং আত্মীয়-স্বজন বা অন্যান্য অভিভাবকরা দেখাশোনা করতেন। আমি মনে করি দারেমিও সেই যুগের লোকেদের পথই অনুসরণ করেছিলেন। ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরের বিবরণ থেকেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।
তাঁর সফরসমূহ: তিনি হাদীস সংগ্রহের জন্য দেশভ্রমণকারী এবং হাদীস সংকলন, মুখস্থকরণ ও নির্ভরযোগ্যতার সাথে পারদর্শিতার জন্য সুপরিচিত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন (২)। তিনি ইরাক, সিরিয়া এবং মিশরে সফর করেছেন এবং সেখানকার শীর্ষস্থানীয় উলামাদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর কয়েকজন উস্তাদের বর্ণনায় এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং বলতেন: "বাগদাদে কেউ একজন আমার দরজায় টোকা দিত, আমি বলতাম: কে? তখন তিনি বলতেন: ইয়াহইয়া বিন হাসসান, 'সিরকা কতই না উত্তম সালন' (৩)।" এই হাদীসটি বর্ণনায় দারেমির একক বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি এটি বলতেন।
তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ:তাঁর উস্তাদগণ সংখ্যায় অনেক, যাদের মধ্যে অনেকে তৃতীয় প্রজন্মের অনুগামী তাবিঈ (তাবউত তাবিঈন) এবং নির্ভরযোগ্য ইমাম ছিলেন। যেমন: ইয়াযিদ বিন হারুন, আব্দুল্লাহ বিন মুসা, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরয়াবি, ইয়ালা বিন উবাইদ, জাফর বিন আউন, ইয়াহইয়া বিন হাসসান আত-তিন্নিসি, আবু মুগিরা আল-হিমসি আল-খাওলানি এবং হাকাম বিন নাফে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
البهراني، وعثمان بن عمر ابن فارس، وسعيد بن عامر الضبعي، وعبد الصمد بن عبد الوارث، وأحمد ابن إسحاق الحضرمي، وأشهل بن حاتم، وزكريا بن عدى، وأبى صالح كاتب الليث بن سعد (1) والنضر بن شميل، ووهب بن جرير، وطبقتهم بالحرمين، وخراسان، والشام، والعراق، ومصر (2) وسمع بدمشق أبا مسهر الغساني، ومروان بن محمد، وعبد الوهاب بن سعيد المفتي، وزيد بن يحيى بن عبيد الدمشقي، ومحمد بن المبارك الصوري، وعبد الله بن جعفر الرقي، ودحيما، وأحمد بن عبد الرحمن، والقاسم بن كثير، وعبيد الله بن عبد المجيد الحنفي، وأخيه أبي بكر عبد الكبير، ومحمد بن بكر البرساني، ومحمد بن كثير المصيصي، وعبدان بن عثمان، ويحيى بن حماد، وبشر ابن عمر الزهراني، وأبي نعيم الفضل بن دكين، وخالد بن مخلد العطواني، ومحمد بن القاسم الأسدي، وسهل بن حماد الدلال، وأبي عاصم، والأسود بن عامر شاذان، وأبي عبد الرحمن المقرئ، وقبيصة بن عقبة، وعبيد الله بن موسى، وأبي النضر هاشم بن القاسم، ويونس بن محمد المؤدب، وعفان، ويعلى بن أسد، وأبي الوليد الطيالسي، ومنصور بن سلمة الخزاعي، وخلق سواهم (3)، وينزل إلى دحيم وخليفة ابن خياط (السير 12/ 225) وقد شارك الكبار البخاري ومسلم وأحمد وغيرهم في شوخهم.
حالته الاجتماعية:كان فتا نبيها ذا همة عالية، حتى عدّ رابع أربعة اشتهروا بالفتوة في المكارم وطلب لعلم، فقيل: فتيان خراسان أربعة: الدارمي،
--------------------------------------------
আল-বাহরানি, উসমান ইবনে উমর ইবনে ফারিস, সাঈদ ইবনে আমির আদ-দাবায়ি, আবদুল সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস, আহমদ ইবনে ইসহাক আল-হাদরামি, আশহাল ইবনে হাতিম, যাকারিয়া ইবনে আদি, লাইস ইবনে সা’দের লেখক আবু সালিহ (১), আন-নাদর ইবনে শুমাইল, ওয়াহাব ইবনে জারির এবং হারামাইন, খুরাসান, শাম, ইরাক ও মিসরে অবস্থানরত তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ (২)। তিনি দামেশকে আবু মুসহির আল-গাসসানি, মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ, আবদুল ওয়াহহাব ইবনে সাঈদ আল-মুফতি, যায়েদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদ আদ-দিমাশকি, মুহাম্মদ ইবনে আল-মুবারক আস-সুরি, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাক্কি, দাহিম, আহমদ ইবনে আবদুর রহমান, আল-কাসিম ইবনে কাসির, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল মাজিদ আল-হানাফি, তাঁর ভাই আবু বকর আবদুল কাবীর, মুহাম্মদ ইবনে বকর আল-বুরসানি, মুহাম্মদ ইবনে কাসির আল-মাসসিসি, আবদান ইবনে উসমান, ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ, বিশর ইবনে উমর আজ-যাহরানি, আবু নুয়াইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন, খালিদ ইবনে মাখলাদ আল-আটওয়ানি, মুহাম্মদ ইবনে আল-কাসিম আল-আসাদি, সাহল ইবনে হাম্মাদ আদ-দাল্লাল, আবু আসিম, আল-আসওয়াদ ইবনে আমির শাযান, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, কাবিদাহ ইবনে উকবা, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, আবুল নাদর হাশিম ইবনে আল-কাসিম, ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব, আফফান, ইয়ালা ইবনে আসাদ, আবু ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি, মানসুর ইবনে সালামা আল-خুজায়ি এবং তারা ব্যতীত আরও অনেকের থেকে বর্ণনা শুনেছেন (৩)। এছাড়া তিনি দাহিম এবং খলিফা ইবনে খাইয়াতের নিকট থেকেও বর্ণনা করেছেন (আস-সিয়ার ১২/২২৫)। তিনি বড় বড় ইমাম যেমন বুখারী, মুসলিম, আহমদ এবং অন্যদের সাথে তাঁদের শায়খদের নিকট ইলম অর্জনে শরিক ছিলেন।
তাঁর সামাজিক অবস্থা:তিনি ছিলেন একজন বুদ্ধিমান ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবক, এমনকি মহানুভবতা ও ইলম অন্বেষণের ক্ষেত্রে ফুতুওয়াত বা বীরত্বের জন্য প্রসিদ্ধ চারজনের মধ্যে তাকে চতুর্থ গণ্য করা হতো। বলা হতো: খুরাসানের যুবক চারজন: আদ-দারিমী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
والبخاري، وزكريا اللؤلئي، والحسن بن شجاع (1)، ولم أقف على الحالة الخاصة فيما يتعلق بالأسرة، سواء منهم الأصول أو الفروع.
من تلاميذه:روى عنه خلق كثير بعضهم من شيوخه وأقرانه، منهم: مسلم، وأبو داود، والترمذي، وعبد بن حميد وهو أقدم منه، ورجاء بن مرجي الحافظ، والحسن بن الصباح البزار، ومحمد بن بشار بندار، ومحمد بن يحيى: وهم أكبر منه، وروى الترمذي أيضا عن محمد بن إسماعيل البخاري عنه، وبقي بن مخلد، وأبو زرعة، وأبو حاتم، وإبراهيم بن أبي طالب، وجعفر بن أحمد بن فارس، وجعفر الفريابي، وعمر بن محمد بن بجير، ومحمد بن النضر الجارودي، وعيسى بن عمر السمرقندي راوي مسنده عنه، وآخرون، ومحمد بن يحيى الذهلي، وقدم بغداد وحدث بها فروى عنه من أهلها: صالح بن محمد المعروف بجزرة، وعبد الله بن أحمد بن حنبل، ومحمد بن عبدوس بن كامل السراج، وروى عنه أيضا محمد بن عبد الله الحضرمي مطين، قال الخطيب: وأراه سمع منه ببغداد وبالكوفة (2) ووروى عنه النسائي خارج سننه، وحفص بن أحمد بن فارس الأصبهاني، وعيسى بن عمر السمرقندي (3) وغيرهم كثير.
--------------------------------------------
...এবং বুখারি, যাকারিয়া আল-লু’লুয়ি এবং হাসান ইবনে শুজা (১)। আমি তাঁর পরিবার সংশ্লিষ্ট বিশেষ কোনো অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারিনি, চাই তা তাঁর পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রে হোক কিংবা উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রে।
তাঁর ছাত্রদের মধ্য থেকে:তাঁর নিকট থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন তাঁর শিক্ষক এবং সমসাময়িক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, আবদ ইবনে হুমাইদ—যিনি তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন, হাফেজ রাজা ইবনে মুরজি, হাসান ইবনে সাবাহ আল-বাযযার, মুহাম্মদ ইবনে বাশশার বুন্দার এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া—তাঁরা তাঁর চেয়ে বড় ছিলেন। তিরমিযি তাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির মাধ্যমেও বর্ণনা করেছেন। আরও রয়েছেন বাকি ইবনে মাখলাদ, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, ইব্রাহিম ইবনে আবি তালিব, জাফর ইবনে আহমদ ইবনে ফারিস, জাফর আল-ফিরয়াবি, উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুজাইর, মুহাম্মদ ইবনে নাদর আল-জারুদি, ঈসা ইবনে উমর আস-সামারকান্দি—যিনি তাঁর নিকট থেকে তাঁর মুসনাদ বর্ণনা করেছেন, এবং আরও অনেকে। এ ছাড়াও মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলি। তিনি বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে হাদিস বর্ণনা করেন। ফলে বাগদাদবাসীদের মধ্যে তাঁর থেকে যাঁরা বর্ণনা করেছেন তাঁরা হলেন: সালিহ ইবনে মুহাম্মদ (যিনি জাযরাহ নামে পরিচিত), আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুস ইবনে কামিল আস-সাররাজ। তাঁর নিকট থেকে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাদরামি (মুতাইয়্যিন)-ও বর্ণনা করেছেন। আল-খাতিব বলেন: আমার ধারণা, তিনি বাগদাদে এবং কুফায় তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন (২)। ইমাম নাসায়ি তাঁর সুনান গ্রন্থের বাইরে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফস ইবনে আহমদ ইবনে ফারিস আল-আসবাহানি, ঈসা ইবনে উমর আস-সামারকান্দি (৩) এবং আরও অনেকে প্রচুর সংখ্যক বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
مكانته العلمية:كان إماما حافظا، ثقة فاضلا، أثنى عليه العلماء الكبار بما هو أهله قال محمد بن بشار، وهو من شيوخ وتلاميذ الدارمي: حفاظ الدنيا أربعة: أبو زرعة بالري، ومسلم بنيسابور، وعبد الله بن عبدالرحمن بسمرقند، ومحمد بن إسماعيل ببخاري، كان بندار يفتخر بكونهم حملوا عنه (1) وقال رجاء بن مرجي وهو من تلاميذه أيضا: رأيت سليمان الشاذكوني وإسحاق بن راهويه وسمى جماعة فما رأيت أحفظ من عبد الله الدارمي، وقال أبو حاتم الرازي: محمد بن إسماعيل أعلم من دخل العراق، ومحمد بن يحيى أعلم من بخراسان اليوم، ومحمد بن أسلم أورعهم، وعبد الله بن عبد الرحمن أثبتهم (2) وهنا نلاحظ أن أبا حاتم يرى الدارمي أثبت من البخاري وشيخه محمد بن يحيى الذهلي، وهما إمامان عظيمان، ولاسيما البخاري، وليس في هذا مبالغة من أبي حاتم، فالدارمي معدود من الأئمة الكبار بشهادة الأئمة أنفسهم، يقول أبو حامد بن الشرقي: إنما أخرجت خراسان من أئمة الحديث خمسة: محمد بن يحيى، ومحمد بن إسماعيل، وعبد الله بن عبد الرحمن، ومسلم بن الحجاج، وإبراهيم بن أبي طالب (3) فالأول البخاري، والثاني الذهلي، والثالث الدارمي، والرابع مسلم بن الحجاج، وقال إسحاق بن داود السمرقندي: قدم قريب لي من الشاش فقال: أتيت ابن حنبل فجعلت أصف له ابن المنذر، وجعلت أمدحه، فقال ابن حنبل: لا أعرف هذا، قد طالت غيبة إخواننا عنا، ولكن أين أنت عن عبد الله بن عبد الرحمن؟ عليك بذاك السيد، عليك
--------------------------------------------
তাঁর ইলমী মাকাম বা মর্যাদা:তিনি ছিলেন একজন ইমাম, হাফেজ এবং নির্ভরযোগ্য ও ফদিলতপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। বড় বড় উলামায়ে কেরাম তাঁর যোগ্য মর্যাদা অনুযায়ী তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দারেমীর অন্যতম উস্তাদ ও ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে বাশশার বলেন: পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হাফেজ হলেন চারজন: রেই শহরে আবু জুরআহ, নিশাপুরে মুসলিম, সমরকন্দে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান এবং বুখারায় মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল। বুন্দার (মুহাম্মদ ইবনে বাশশার) এই বলে গর্ব করতেন যে, তাঁরা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। (১) তাঁর অন্যতম ছাত্র রাজা ইবনে মুরজী বলেন: আমি সুলাইমান আশ-শাযকুনী এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহসহ একদল আলেমকে দেখেছি, কিন্তু আবদুল্লাহ আদ-দারেমীর চেয়ে বড় হাফেজ আমি আর কাউকে দেখিনি। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন: ইরাকে প্রবেশকারীদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল (বুখারী) সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, বর্তমানে খোরাসানে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া সবচেয়ে বড় আলেম, মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান (দারেমী) তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য। (২) এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, আবু হাতিম দারেমীকে বুখারী এবং তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলীর চেয়েও বেশি সুদৃঢ় (আসবাত) মনে করেন। অথচ তাঁরা দুজনেই মহান ইমাম ছিলেন, বিশেষ করে বুখারী। আবু হাতিমের এই মূল্যায়নে কোনো অতিরঞ্জন নেই, কারণ ইমামদের নিজস্ব সাক্ষ্য অনুযায়ী দারেমী বড় ইমামদের কাতারভুক্ত ছিলেন। আবু হামিদ ইবনে আশ-শারকী বলেন: খোরাসান হাদিসের ইমামদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে সৃষ্টি করেছে: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এবং ইব্রাহিম ইবনে আবি তালিব। (৩) প্রথম জন হলেন বুখারী, দ্বিতীয় জন যুহলী, তৃতীয় জন দারেমী এবং চতুর্থ জন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ। ইসহাক ইবনে দাউদ আস-সামারকান্দী বলেন: শাশ থেকে আমার এক আত্মীয় এসে বললেন: আমি ইবনে হাম্বলের কাছে গিয়ে ইবনুল মুনযিরের বর্ণনা দিয়ে তাঁর প্রশংসা করতে লাগলাম। তখন ইবনে হাম্বল বললেন: আমি তাকে চিনি না, আমাদের ভাইদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ অনেক দিন বিচ্ছিন্ন। কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমানের ব্যাপারে তোমার কী রায়? তুমি সেই মহান ব্যক্তির পথ ধরো, তুমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
بذاك السيد، عليك بذاك السيد: عبد الله بن عبد الرحمن، وقال رجاء بن جابر المرجَّى: رأيت ابن حنبل، وإسحاق، وبن المديني، والشاذكونى، فما رأيت أحفظ من عبد الله يعني: الدارمي، وقال: ما أعلم أحدا أعلم بحديث النبي صلى الله عليه وسلم من عبد الله بن عبد الرحمن (1) وقال عبد الصمد ابن سليمان الأعرج البلخي: سألت أحمد بن حنبل عن الحماني فقال: تركناه بقول عبد الله بن عبد الرحمن السمرقندي؛ لأنه إمام (2) وقال محمد بن عبد الله بن المبارك المخرمي ببغداد: يا أهل خراسان، ما دام عبد الله بن عبد الرحمن بين أظهركم فلا تشتغلوا بغيره (3) وقال أبو سعيد الأشج: عبد الله بن عبد الرحمن إمامنا (4)، وقال عثمان بن أبي شيبة: أمر عبد الله بن عبد الرحمن أعظم من ذاك، فيما يقولون من البصر والحفظ وصيانة النفس عافاه الله (5)، وقال محمد بن عبد الله بن نمير: غلبنا عبد الله بن عبد الرحمن بالحفظ والورع (6) وقال أبو حاتم: عبد الله بن عبد الرحمن السمرقندي إمام أهل زمانه (7) وكان يقصده الحفاظ لحديث "نعم الإدام الخل" وهو حديث صحيح غريب فرد على شرط الشيخين وانفرد مسلم به ورواه أيضا أبو عيسى في جامعه كلاهما عن أبي محمد الدارمي تفرد
--------------------------------------------
সেই নেতার সাথে থাকো, সেই নেতার সাথে থাকো: তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান। রাজা ইবনে জাবির আল-মুরুজ্জা বলেন: আমি ইবনে হানবল, ইসহাক, ইবনুল মাদিনী এবং আশ-শাযকুনিকে দেখেছি; তবে আমি আবদুল্লাহ অর্থাৎ আদ-দারিমি অপেক্ষা বড় হাফেজ (স্মৃতিধর) কাউকে দেখিনি। তিনি আরও বলেন: আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমানের চেয়ে অধিক বিজ্ঞ কাউকে জানি না (১)। আবদুস সামাদ ইবনে সুলাইমান আল-আরাজ আল-বালখি বলেন: আমি আহমাদ বিন হানবলকে আল-হিমানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সামারকান্দির কথার ভিত্তিতে তাকে বর্জন করেছি; কারণ তিনি একজন ইমাম (২)। বাগদাদে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুবারক আল-মাখরামি বলেন: হে খোরাসানবাসী, যতক্ষণ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান তোমাদের মাঝে আছেন, ততক্ষণ তোমরা অন্য কাউকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ো না (৩)। আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের ইমাম (৪)। উসমান ইবনে আবি শাইবাহ বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমানের বিষয়টি তার চেয়েও মহান, যা তারা তাঁর দূরদর্শিতা, মুখস্থশক্তি এবং আত্মসংযম সম্পর্কে বলে থাকে—আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন (৫)। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান মুখস্থশক্তি ও পরহেজগারির মাধ্যমে আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন (৬)। আবু হাতিম বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সামারকান্দি তাঁর সমসাময়িকদের ইমাম (৭)। হাফেজগণ 'সিরকা কতই না চমৎকার তরকারি'—এই হাদিসটির জন্য তাঁর কাছে আসতেন। এটি একটি সহিহ, গারিব ও ফারদ (একক সূত্রে বর্ণিত) হাদিস যা শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সঠিক। ইমাম মুসলিম এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু ঈসা তাঁর জামে গ্রন্থেও এটি বর্ণনা করেছেন; উভয়ই আবু মুহাম্মদ আদ-দারিমি থেকে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
به، قال الدارمي: فكان يدق عليّ الباب وأنا ببغداد فأقول من ذا؟ فيقول: يحيى بن حسان، نعم الإدام الخل (1).
عقيدته:لم يغمز الدارمي في عقيدته، فهو من أئمة السلف، خيار عدل رحمه الله، ولذلك أثنى عليه الإمام أحمد وهو إمام أهل السنة بدون منازع، قال لأحد زواره قدم من الشاش: أين أنت عن عبد الله بن عبد الرحمن؟ عليك بذاك السيد، عليك بذاك السيد، عليك بذاك السيد، وهذه تزكية من أحمد رحمه الله، إذ لا يسوّد أهل البدع، ولو كانوا متأولين، ومن زكاه أحمد فقد جاز القنطرة إن شاء الله تعالى.
ذكر بعض صفاته:لم أقف على شيء من صفاته الخِلقة، وهيئته الذاتيه، لكنه حضي بغاية الوصف الخُلقي والعلمي، والسيرة الحسنة، قال الذهبي: قد كان الدارمي ركنا من أركان الدين (2) وكان على غاية العقل، وفي نهاية الفضل، يضرب به المثل في الديانة، والحلم والرزانة، والاجتهاد والعبادة، والتقلل والزهادة (3)، وكان ثقة زيادة، أثنى العلماء عليه خيرا (4) وكان من أهل الصدق والورع والزهد (5) قال الإمام أحمد بن حنبل وذكر عبد الله بن عبد الرحمن: هو ذاك السيد، ثم قال: عرض عليّ الكفر فلم أقبل (6) وعرض عليه الدنيا
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে; আদ-দারিমী বলেন: আমি যখন বাগদাদে ছিলাম, তখন তিনি আমার দরজায় করাঘাত করতেন। আমি জিজ্ঞেস করতাম: কে? তিনি বলতেন: ইয়াহইয়া বিন হাসান; সিরকা কতই না চমৎকার সালন! (১)।
তাঁর আকিদাহ (বিশ্বাস):আদ-দারিমীর আকিদাহ বা বিশ্বাসের ব্যাপারে কোনো দোষারোপ করা হয়নি। তিনি সালাফদের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত এবং একজন উত্তম ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। এই কারণেই ইমাম আহমাদ—যিনি আহলুস সুন্নাহর অবিসংবাদিত ইমাম—তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি শাশ থেকে আসা তাঁর এক দর্শনার্থীকে বলেছিলেন: "তুমি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান সম্পর্কে কী জানো? তোমার উচিত সেই নেতার কাছে যাওয়া, তোমার উচিত সেই নেতার কাছে যাওয়া, তোমার উচিত সেই নেতার কাছে যাওয়া।" এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে একটি প্রশংসা ও সাক্ষ্য প্রদান; কারণ তিনি বিদআতিদের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতেন না, যদিও তারা অপব্যাখ্যাকারী হতো। আর ইমাম আহমাদ যার প্রশংসা করেছেন, সে ইনশাআল্লাহ (পরকালের) পুল পার হয়ে গেছে।
তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ:আমি তাঁর শারীরিক গঠন বা বাহ্যিক আকৃতি সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে পারিনি, তবে তিনি নৈতিক ও ইলমী গুণাবলী এবং সুন্দর জীবনচরিতের সর্বোচ্চ শিখরে আসীন ছিলেন। আয-যাহাবী বলেন: "আদ-দারিমী ছিলেন দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ (২)। তিনি চরম প্রজ্ঞাবান এবং শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন। দ্বীনদারী, সহনশীলতা, গাম্ভীর্য, কঠোর পরিশ্রম, ইবাদত, অল্পে তুষ্টি এবং দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রবাদতুল্য (৩)। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং উলামায়ে কেরাম তাঁর প্রভূত প্রশংসা করেছেন (৪)। তিনি ছিলেন সত্যবাদিতা, পরহেজগারি ও দুনিয়াবিমুখতার অধিকারী (৫)।" ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমানের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন: "তিনি সেই নেতা।" এরপর তিনি বললেন: "আমার সামনে কুফর পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু আমি তা গ্রহণ করিনি (৬)। আর তাঁর সামনে দুনিয়া পেশ করা হয়েছিল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
فلم يقبل (1) وقال محمد بن عبدالله بن نمير: غلبنا عبد الله بن عبد الرحمن بالحفظ والورع (2) وقال محمد بن إبراهيم بن منصور الشيرازي: كان عبدالله على غاية من العقل والديانة، ممن يضرب به المثل في الحلم، والدراية والحفظ والعبادة والزهادة، أظهر علم الحديث والآثار بسمرقند، وذب عنها الكذب، وكان مفسرا كاملا، وفقيها عالما (3) وقال أبو حاتم بن حبان: كان الدارمي من الحفاظ المتقنين، وأهل الورع في الدين، ممن حفظ وجمع وتفقه، وصنف وحدث وأظهر السنة ببلده، ودعا إليها وذب عن حريمها، وقمع من خالفها (4).
ألقابه العلمية:الإمام، الحافظ، شيخ الإسلام بسمرقند، عالم سمرقند (5).
مناصبه:استقضي على سمرقند فأبا، فالحّ عليه السلطان حتى تقلده وقضى قضية واحدة، ثم استعفى فأعفى (6).
مؤلفاته:صنف المسند والتفسير والجامع (7) ومسنده المذكور عالي السند، وهو في طبقة منتخب مسند عبد بن حميد (8) قال أحمد بن سيار
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি তা গ্রহণ করেননি (১)। মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমায়র বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান মুখস্থশক্তি এবং খোদাভীতিতে আমাদের ছাড়িয়ে গিয়েছেন (২)। মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মনসুর আশ-শিরাজি বলেন: আব্দুল্লাহ বুদ্ধিমত্তা এবং দ্বীনদারিতে চরম শিখরে ছিলেন, তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদেরকে ধৈর্য, প্রজ্ঞা, মুখস্থশক্তি, ইবাদত এবং দুনিয়া বিমুখতায় উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়। তিনি সমরকন্দে হাদিস শাস্ত্র এবং আছার প্রকাশ করেছেন এবং এর থেকে মিথ্যাকে বিতাড়িত করেছেন। তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ মুফাসসির এবং বিজ্ঞ ফকিহ ছিলেন (৩)। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন: আদ-দারিমি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে পরহেজগার লোকদের শামিল। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা মুখস্থ করেছেন, সংগ্রহ করেছেন, ফিকহ অর্জন করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন, হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং নিজ শহরে সুন্নাহকে প্রকাশ করেছেন, এর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, এর পবিত্রতা রক্ষা করেছেন এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের দমন করেছেন (৪)।
তাঁর ইলমি উপাধিগুলো:ইমাম, হাফেজ, সমরকন্দের শায়খুল ইসলাম, সমরকন্দের আলেম (৫)।
তাঁর পদমর্যাদা:তাঁকে সমরকন্দের বিচারক নিযুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান করা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। অতঃপর সুলতান তাঁকে পিড়াপিড়ি করতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি তা গ্রহণ করেন এবং মাত্র একটি মামলার ফয়সালা করেন। এরপর তিনি অব্যাহতির আবেদন করেন এবং তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয় (৬)।
তাঁর রচনাবলি:তিনি মুসনাদ, তাফসির এবং জামি গ্রন্থ রচনা করেছেন (৭)। তাঁর উল্লেখিত মুসনাদটি উচ্চ স্তরের সনদ বিশিষ্ট এবং এটি আবদ বিন হুমাইদের মুনতাখাব মুসনাদ-এর সমপর্যায়ের (৮)। আহমাদ বিন সাইয়ার বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
المروزي الحافظ: كان الدارمي حسن المعرفة قد دون المسند والتفسير (1)، وله الثلاثيات (2).
وفاته:توفي الدارمي رحمه الله تعالى في سنة خمس وخمسين ومأتين، يوم التروية بعد العصر، ودفن يوم عرفة، وذلك في يوم الجمعة، وهو ابن خمس وسبعين سنة (3)، وقال أحمد بن ماهان البلخي الحافظ: مات عبد الله بن عبد الرحمن السمرقندي يوم عرفة، وذلك يوم الخميس ودفن يوم الجمعة، سنة خمس وخمسين ومائتين (4) وقال إسحاق بن أحمد بن خلف: كنا عند محمد بن إسماعيل البخاري، فورد عليه كتاب فيه نعي عبدالله بن عبدالرحمن، فنكس رأسه ثم رفع واسترجع، وجعل تسيل دموعه على خديه، ثم أنشأ يقول:
إن تبق تفجع بالأحبة كلهم
… وفناء نفسك لا أبا لك أفجع
ثم قال إسحاق: ما سمعناه ينشد إلا يجيء في الحديث (5).
قلت: هذه مكانة الدارمي عند البخاري، رحمهم الله رحمة واسعة، ونسأله تعالى أن يرحمنا معهم بمنه وكرمه وهو أرحم الراحمين.
--------------------------------------------
হাফেজ আল-মারওয়াযী বলেন: আদ-দারিমী ইলম ও জ্ঞানের গভীরতায় অনন্য ছিলেন, তিনি আল-মুসনাদ এবং আত-তাফসীর সংকলন করেছেন (১), এবং তাঁর সুলাসিয়্যাত (তিন রাবী বিশিষ্ট হাদীসসমূহ) রয়েছে (২)।
তাঁর মৃত্যু:আদ-দারিমী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) দুইশত পঞ্চান্ন হিজরীর ইয়াউমুত তারবিয়াহ (৮ই যিলহজ) আসরের পর ইন্তেকাল করেন এবং ইয়াউমে আরাফাহ (৯ই যিলহজ) জুমুয়াহর দিনে তাঁকে দাফন করা হয়; সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল পঁচাত্তর বছর (৩)। হাফেজ আহমদ বিন মাহান আল-বালখী বলেন: আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সামারকান্দী ইয়াউমে আরাফাহর দিন মৃত্যুবরণ করেন, যা ছিল বৃহস্পতিবার এবং তাঁকে জুমুয়াহর দিনে দাফন করা হয়, দুইশত পঞ্চান্ন হিজরীতে (৪)। ইসহাক বিন আহমদ বিন খালাফ বলেন: আমরা মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর নিকট ছিলাম, তখন তাঁর কাছে একটি চিঠি আসল যাতে আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমানের মৃত্যু সংবাদ ছিল। তিনি তাঁর মাথা নিচু করলেন, এরপর মাথা তুললেন এবং ইন্না লিল্লাহ পাঠ করলেন, তখন তাঁর দুই গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। অতঃপর তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন:
যদি তুমি বেঁচে থাকো তবে সকল প্রিয়জনদের বিয়োগব্যথায় তুমি শোকার্ত হবেই
… আর তোমার নিজের বিনাশই হে সম্বোধিত, আরও বেশি শোকাবহ।
এরপর ইসহাক বলেন: আমরা তাঁকে কবিতা আবৃত্তি করতে শুনতাম না কেবল যদি তা হাদীসে আসত (৫)।
আমি বলছি: ইমাম বুখারীর নিকট আদ-দারিমীর মর্যাদা ছিল এমনই। আল্লাহ তাঁদের সকলকে প্রশস্ত রহমত দান করুন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদেরকেও তাঁদের সাথে রহমত দান করেন, আর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
1/ 1 - باب ما كان عليه الناس قبل مبعث النبي صلى الله عليه وسلم من الجهل والضلالة1/ 2 - (1) أخبرنا الوليد بن النضر الرملي، عن مسرّة بن معبد - من بني الحارث بن أبي الحرام من لخم - عن الوضين: أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، إنا كنا أهل جاهلية وعبادة أوثان، فكنا نقتل الأولاد وكانت عندي بنت لي، فلما أجابت (1) وكانت مسرورة بدعائي إذا دعوتها، دعوتها يوما فاتبعتني فمررت حتى أتيت بئرا من أهلي غير بعيد، فأخذت بيدها فردّيت بها (2) في البئر، وكان آخر عهدي بها أن تقول: يا أبتاه، يا أبتاه، فبكى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى وكف دمع عينيه فقال: له رجل من جلساء رسول الله صلى الله عليه وسلم: أحزنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال له: كف، فإنه يسأل عما أهمه، ثم قال له: أعد عليّ حديثك، فأعاده فبكى حتى وكف (3) الدمع من عينيه على لحيته، ثم قال له: (إن الله قد وضع عن الجاهلية ما عملوا فاستأنف عملك) (4).
2 - (2) أخبرنا هارون بن معاوية، عن إبراهيم بن سليمان
--------------------------------------------
১/ ১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বে মানুষ যে মূর্খতা ও ভ্রষ্টতার মধ্যে ছিল সেই সম্পর্কিত অধ্যায়১/ ২ - (১) আল-ওয়ালিদ ইবনুন নাদর আর-রামলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাসাররাহ ইবনু মা‘বাদ থেকে—যিনি লাখম গোত্রের বনু হারিস ইবনু আবিল হারাম শাখার অন্তর্ভুক্ত—তিনি আল-ওয়াদিন থেকে বর্ণনা করেন যে: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা জাহেলিয়াতের যুগের মানুষ ছিলাম এবং মূর্তিপূজা করতাম। আমরা সন্তানদের হত্যা করতাম। আমার একটি কন্যা সন্তান ছিল। যখন সে কথা বুঝতে শেখার বয়সে উপনীত হলো (১) এবং আমি তাকে ডাকলে সে অত্যন্ত আনন্দিত হতো, তখন একদিন আমি তাকে ডাকলাম এবং সে আমার পিছু নিল। আমি পথ চলতে চলতে আমার পরিবারের নিকটবর্তী একটি কূপের কাছে আসলাম। তখন আমি তার হাত ধরলাম এবং তাকে কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করলাম (২)। তার সাথে আমার শেষ স্মৃতি ছিল তার এই আর্তনাদ: হে আব্বাজান! হে আব্বাজান! এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে কাঁদলেন যে তাঁর দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি লোকটিকে বললেন: তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ব্যথিত করলে। তিনি তাকে বললেন: থামো, সে তার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। এরপর তিনি লোকটিকে বললেন: তোমার ঘটনাটি পুনরায় আমার নিকট বর্ণনা করো। লোকটি পুনরায় তা বর্ণনা করলে তিনি এত কাঁদলেন যে তাঁর দু’চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে (৩) তাঁর দাড়ি মোবারকের উপর পড়ল। এরপর তিনি তাকে বললেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহেলিয়াতের যুগে কৃতকর্মসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, সুতরাং তুমি পুনরায় নতুন করে আমল শুরু করো) (৪)।
২ - (২) হারুন ইবনু মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম ইবনু সুলাইমান থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
المؤدب، عن الأعمش، عن مجاهد قال: حدثني مولاي (1) أن أهله بعثوا معه بقدح فيه زبد ولبن إلى آلهتهم، قال: فمنعني أن آكل الزبد لمخافتها (2) قال: فجاء كلب فأكل الزبد وشرب اللبن، ثم بال على الصنم: وهو إساف ونائلة، قال هارون: كان الرجل في الجاهلية إذا سافر حمل معه أربعة أحجار، ثلاثة لقدره (3) والرابع يعبده، ويربي كلبه، ويقتل ولده (4).
3/ 4 - (3) حدثنا مجاهد بن موسى قال: حدثنا ريحان هو ابن سعيد السامي، ثنا عباد هو ابن منصور، عن أبي الرجاء قال: كنا في الجاهلية إذا أصبنا حجرا حسنا عبدناه، وإن لم نصب حجرا جمعنا كثبة من رمل، ثم جئنا بالناقة الصفي فتفاجّ عليها فتحلبها على الكثبة حتى نرويها، ثم نعبد تلك الكثبة (5) ما أقمنا بذلك المكان (6).
قال أبو محمد: الصفي: الكثيرة الألبان، فتفاجّ: يعني الناقة إذا فرجت بين رجليها للحالب، والفج الطريق الواسع وجمعه فجاج.
--------------------------------------------
আল-মুয়াদ্দিব থেকে, আ'মাশ থেকে, মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার মনিব (১) আমাকে বলেছেন যে, তাঁর পরিবার তাঁর সাথে তাদের উপাস্যদের জন্য মাখন ও দুধ ভর্তি একটি পাত্র পাঠিয়েছিল। তিনি বললেন: সেগুলোর (মূর্তিগুলোর) ভয়ে আমি মাখন খেতে সাহস পাইনি (২)। তিনি বলেন: তখন একটি কুকুর এসে মাখন খেয়ে ফেলল এবং দুধ পান করল, এরপর মূর্তির ওপর প্রস্রাব করে দিল—আর মূর্তিটি ছিল ইসাফ ও নায়েলা। হারুন বলেন: জাহেলি যুগে কোনো ব্যক্তি যখন সফরে যেত, তখন সে নিজের সাথে চারটি পাথর বহন করত; তিনটি তার হাঁড়ি রাখার জন্য (৩) এবং চতুর্থটি সে পূজা করত। আর সে তার কুকুরকে লালন-পালন করত কিন্তু নিজের সন্তানকে হত্যা করত (৪)।
৩/ ৪ - (৩) মুজাহিদ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রায়হান ইবনে সাঈদ আস-সামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনে মনসুর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু রাজা থেকে, তিনি বলেন: আমরা জাহেলিয়াত যুগে যখন কোনো সুন্দর পাথর পেতাম, তখন সেটির পূজা করতাম। আর যদি কোনো পাথর না পেতাম, তবে বালুর একটি স্তূপ জমা করতাম। এরপর আমরা একটি 'সাফি' (অধিক দুগ্ধবতী) উটনী নিয়ে আসতাম এবং সেটিকে সেই স্তূপের ওপর পা ফাঁক করে দাঁড় করাতাম। এরপর সেটির দুধ সেই বালুর স্তূপের ওপর দোহন করতাম যতক্ষণ না সেটি সিক্ত হতো। এরপর যতক্ষণ আমরা সেই স্থানে অবস্থান করতাম, ততক্ষণ সেই বালুর স্তূপের পূজা করতাম (৫) (৬)।
আবু মুহাম্মদ বলেন: 'সাফি' হলো সেই উটনী যার প্রচুর দুধ হয়। আর 'তাফাজ্জা' অর্থ হলো উটনী যখন দোহনকারীর জন্য তার দুই পা ফাঁক করে। 'ফাজ্জ' অর্থ প্রশস্ত পথ, আর এর বহুবচন হলো 'ফিজাজ'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
2/ 2 - باب صفة النبي صلى الله عليه وسلم في الكتب قبل مبعثه4/ 5 - (1) أخبرنا الحسن بن الربيع قال: حدثنا أبو الأحوص، عن الأعمش، عن أبي صالح قال: قال كعب: نجد مكتوبا، محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا فظ ولا غليظ، ولا صخاب بالأسواق، ولا يجزي بالسيئة السيئة، ولكن يعفو ويغفر، وأمته الحمّادون يكبرون الله، على كل نجد (1)، ويحمدونه في كل منزلة، ويتأزرون على أنصافهم، ويتوضئون على أطرافهم، مناديهم ينادي في جو السماء صفهم في القتال وصفهم في الصلاة سواء، لهم بالليل دوي كدوي النحل، مولده بمكة ومهاجره بطابة، وملكه بالشام (2).
5/ 6 - (2) عبد الله بن صالح قال: حدثني الليث، حدثني قال: خالد - هو ابن يزيد - عن سعيد - هو ابن أبي هلال - عن هلال بن أسامة، عن عطاء بن يسار، عن ابن سلام أنه كان يقول: "إنا لنجد صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم، إنا أرسلناك شاهدا، ومبشرا ونذيرا، وحرزا للأميين (3)، أنت عبدي ورسولي، سميته (4) المتوكل،
--------------------------------------------
২/ ২ - অধ্যায়: নবুয়ত লাভের পূর্বে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলির বর্ণনা৪/ ৫ - (১) হাসান ইবনুর রাবী' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আহওয়াস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কা'ব বলেছেন: আমরা (পূর্ববর্তী কিতাবে) লিখিত পাই যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; তিনি কর্কশভাষী নন, কঠোর হৃদয়ের নন, বাজারে উচ্চৈঃস্বরে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বিনিময়ে মন্দ করেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হবে অধিক প্রশংসাকারী; তারা প্রতিটি উঁচু স্থানে (১) আল্লাহর তাকবীর পাঠ করবে এবং প্রতিটি অবস্থানে তাঁর প্রশংসা করবে। তারা তাদের দেহের অর্ধাংশ পর্যন্ত লুঙ্গি পরিধান করবে এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে ওযু করবে। তাদের আহ্বানকারী আকাশের শূন্যলোকে আহ্বান জানাবে। যুদ্ধে তাদের কাতার এবং সালাতে তাদের কাতার একই সমান। রাতে তাদের (যিকরের) আওয়াজ মৌমাছির গুঞ্জনের মতো। তাঁর জন্ম মক্কায়, হিজরতস্থল তাবাহ (মদীনা) এবং তাঁর রাজত্ব শামে (২)।
৫/ ৬ - (২) আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ বলেন: লাইস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালিদ—যিনি ইবনে ইয়াযীদ—সাঈদ থেকে—যিনি ইবনে আবু হিলাল—তিনি হিলাল ইবনে উসামা থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: "নিশ্চয়ই আমরা (তাওরাতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলি পাই—নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং নিরক্ষরদের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে প্রেরণ করেছি (৩); আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল, আমি তাঁর নাম রেখেছি (৪) আল-মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহর ওপর ভরসাকারী),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ليس بفظ ولا غليظ، ولا سخّاب (1) بالأسواق، ولا يجزي السيئة مثلها، ولكن يعفو ويتجاوز، ولن أقبضه حتى يقيم الملة المتعوجة (2) بأن يشهد أن لا إله إلا الله، نفتح به أعينا عميا، وآذانا صما، وقلوبا غلفا (3).
6/ 6 م - (3) قال عطاء بن يسار: وأخبرني أبو واقد الليثي: أنه سمع كعبا يقول: مثل ما قال ابن سلام (4).
7/ - (4) أخبرنا زيد بن عوف قال: ثنا أبو عوانة، عن عبد الملك بن عمير، عن ذكوان بن أبي صالح، عن كعب: في السطر الأول (5) محمد رسول الله، عبدي المختار، لا فظ ولا غليظ، ولا سخّاب في الأسواق، ولا يجزي بالسيئة السيئة، ولكن يعفو ويغفر، مولده بمكة وهجرته بطيبة، وملكه بالشام، وفي السطر الثاني (6) محمد رسول الله، أمته الحمّادون، يحمدون الله في السراء والضراء، يحمدون الله في كل منزلة، ويكبرونه على كل شرف (7)، رعاة الشمس (8) يصلون الصلاة إذا جاء وقتها، ولو
--------------------------------------------
তিনি কর্কশ নন, কঠোর হৃদয়ের নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের প্রতিফল মন্দ দ্বারা দেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আমি তাকে মৃত্যু দেব না যতক্ষণ না তিনি বক্র মিল্লাতকে (ধর্মাদর্শ) সোজা করেন—এই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। এর মাধ্যমে আমি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং আবৃত হৃদয়সমূহ উন্মুক্ত করব।
৬/ ৬ ম - (৩) আতা ইবনে ইয়াসার বলেন: আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি কাব (আল-আহবার)-কে ইবনে সালাম যা বলেছেন অনুরূপ বলতে শুনেছেন।
৭/ - (৪) যায়েদ ইবনে আউফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি যাকওয়ান ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন: প্রথম পঙক্তিতে আছে (৫) মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আমার মনোনীত বান্দা; তিনি কর্কশ নন, কঠোর হৃদয়ের নন, বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে নেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তার জন্ম মক্কায়, হিজরত তাইবায় (মদীনায়) এবং তার রাজত্ব শামে। এবং দ্বিতীয় পঙক্তিতে আছে (৬) মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তার উম্মত প্রচুর প্রশংসা আদায়কারী; তারা সুখে ও দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা করে, তারা প্রত্যেক অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করে এবং প্রত্যেক উচ্চ স্থানে তাঁর মাহাত্ম্য (তাকবীর) ঘোষণা করে। তারা সূর্যের প্রতি নজর রাখে (৮) এবং সালাতের ওয়াক্ত হলে তারা সালাত আদায় করে, যদিও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
كانوا على رأس كناسة (1)، ويأتزرن على أوساطهم، ويوضئون أطرافهم، وأصواتهم بالليل في جو السماء كصوت النحل) (2).
8/ 8 - (5) أخبرنا مجاهد بن موسى قال: ثنا معن - هو ابن عيسى - ثنا معاوية بن صالح، عن أبي فروة، عن ابن عباس، أنه سأل كعب الأحبار كيف تجد نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة؟ فقال كعب: نجده محمد بن عبد الله، يولد بمكة، ويهاجر إلى طابة، ويكون ملكه بالشام، وليس بفحّاش، ولا سخّاب في الأسواق، ولا يكافيء بالسيئة السيئة، ولكن يعفو ويغفر، أمته الحمّادون، يحمدون الله في كل سراء، ويكبرون الله على كل نجد، يوضئون أطرافهم، ويأتزرون في أوساطهم، يصفون في صلواتهم، كما يصفون في قتالهم، دويهم في مساجدهم كدوي النحل، يستمع مناديهم في جو السماء (3).
9/ 9 - (6) أخبرنا حيوة بن شريح، ثنا بقية بن الوليد الميتمي، ثنا بحير بن سعد، عن خالد بن معدان، عن جبير بن نفير الحضرمي: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لقد جاءكم رسول إليكم، ليس بوهن ولا كسل، ليختن (4) قلوبا غلفا، ويفتح أعينا عميا،
--------------------------------------------
তারা আবর্জনার স্তূপের উপরে থাকলেও (সালাত আদায় করত), তারা তাদের কোমরে লুঙ্গি পরিধান করত, তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করত (অজু করত), এবং রাতের বেলা আসমানি দিগন্তে তাদের আওয়াজ ছিল মৌমাছির গুঞ্জনের মতো। (২)।
৮/ ৮ - (৫) মুজাহিদ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মা'ন—যিনি ইবনে ঈসা—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ফারওয়া থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি কা'ব আল-আহবারকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: তাওরাতে আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি কেমন পেয়েছেন? তখন কা'ব বললেন: আমরা তাঁকে পাই মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ হিসেবে, যাঁর জন্ম হবে মক্কায়, হিজরত করবেন তাবাহ-তে (মদিনায়) এবং তাঁর রাজত্ব হবে সিরিয়ায়। তিনি অশ্লীলভাষী নন, বাজারে উচ্চস্বরে চিৎকারকারী নন এবং মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে নেন না; বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হবে অত্যধিক প্রশংসাকারী, তারা প্রতিটি সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং প্রতিটি উচ্চভূমিতে আল্লাহর মহানত্ব ঘোষণা (তাকবির পাঠ) করবে। তারা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করবে, কোমরে লুঙ্গি পরিধান করবে, তাদের সালাতে কাতারবদ্ধ হবে যেমনভাবে তারা যুদ্ধের ময়দানে কাতারবদ্ধ হয়। তাদের মসজিদে তাদের আওয়াজ হবে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো, আর আসমানি দিগন্তে তাদের আহ্বানকারীর আওয়াজ শোনা যাবে। (৩)।
৯/ ৯ - (৬) হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ আল-মাইতামি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, বুহাইর ইবনে সাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন খালিদ ইবনে মা'দান থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফাইর আল-হাদরামি থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের কাছে তোমাদেরই একজন রাসূল এসেছেন, যিনি দুর্বল বা অলস নন; তিনি আবরণযুক্ত অন্তরসমূহকে উন্মোচন করার জন্য এবং অন্ধ চোখসমূহকে উন্মুক্ত করার জন্য এসেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ويسمع آذانا صما، ويقيم ألسنة عوجاء، حتى يقال: لا إله إلا الله وحده) (1).
10/ 10 - (7) أخبرنا محمد بن يزيد الحزامي، ثنا إسحاق بن سليمان، عن عمرو بن أبي قيس، عن عطاء، عن عامر قال: كان رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم له إليه حاجة، فمشى معه حتى دخل قال: فإحدى رجليه في البيت والأخرى خارجه، كأنه يناجي فالتفت فقال: «أتدري من كنت أكلم؟ ، إن هذا ملك لم أره قط قبل يومي هذا، استأذن ربه أن يسلم عليّ، قال: إنا آتيناك - أو أنزلنا - القرآن فصلا، والسكينة صبرا، والفرقان وصلا» (2).
11/ 11 - (8) أخبرنا قال: مجاهد بن موسى، ثنا ريحان هو ابن سعيد، ثنا عباد هو ابن منصور، عن أيوب، عن أبي قلابة، عن عطية: أنه سمع ربيعة الجرشي يقول: أتي نبي الله صلى الله عليه وسلم، فقيل له: لتنم عينك، ولتسمع أذنك، وليعقل قلبك، قال: (فنامت عيني وسمعت أذناي، وعقل قلبي قال: فقيل لي: سيد بنى دارا فصنع مأدبة، وأرسل داعيا فمن أجاب دخل الدار، وأكل من المأدبة، ورضي عنه السيد، ومن لم يجب الداعي، لم يدخل الدار، ولم يطعم من المأدبة، وسخط عليه السيد قال: فالله السيد والداعي محمد، والدار الإسلام، والمأدبة الجنة) (3).
--------------------------------------------
এবং তিনি (এর মাধ্যমে) বধির কানকে শ্রবণ করান এবং বক্র জিহ্বাকে সোজা করেন, যতক্ষণ না বলা হয়: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক।) (১)।
১০/ ১০ - (৭) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-হিযামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আবি কায়স থেকে, আতা থেকে, আমের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির তাঁর নিকট কোনো প্রয়োজন ছিল। তিনি তাঁর সাথে হাঁটলেন যতক্ষণ না তিনি (নবী) প্রবেশ করলেন। তিনি বলেন: তখন তাঁর একটি পা ঘরের ভেতরে ছিল এবং অন্যটি বাইরে, যেন তিনি কানে কানে কথা বলছিলেন। অতঃপর তিনি মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: «তুমি কি জানো আমি কার সাথে কথা বলছিলাম? নিশ্চয়ই এই ফেরেশতাকে আমি আজকের দিনের পূর্বে কখনো দেখিনি। তিনি তাঁর রবের নিকট আমার ওপর সালাম পেশ করার অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে প্রদান করেছি - অথবা অবতীর্ণ করেছি - কুরআনকে মীমাংসাকারী হিসেবে, প্রশান্তিকে ধৈর্য হিসেবে এবং ফুরকানকে সংযোগ হিসেবে» (২)।
১১/ ১১ - (৮) তিনি বলেন, মুজাহিদ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রায়হান অর্থাৎ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ অর্থাৎ ইবনে মনসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব থেকে, আবু কিলাবাহ থেকে, আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত: তিনি রাবিআ আল-জুরাশিকে বলতে শুনেছেন যে: আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসা হলো এবং তাঁকে বলা হলো: আপনার চোখ যেন ঘুমায়, আপনার কান যেন শোনে এবং আপনার অন্তর যেন বুঝতে পারে। তিনি বললেন: (অতঃপর আমার চোখ ঘুমাল, আমার কানদ্বয় শুনল এবং আমার অন্তর অনুধাবন করল। তিনি বলেন: অতঃপর আমাকে বলা হলো: জনৈক সরদার একটি ঘর নির্মাণ করলেন এবং ভোজের আয়োজন করলেন। এরপর তিনি একজন আহ্বানকারীকে পাঠালেন। যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিল সে ঘরে প্রবেশ করল, ভোজ গ্রহণ করল এবং সরদার তার ওপর সন্তুষ্ট হলেন। আর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিল না, সে ঘরেও প্রবেশ করল না এবং ভোজ থেকেও আহার করল না এবং সরদার তার ওপর রাগান্বিত হলেন। তিনি বললেন: আল্লাহ হলেন সরদার, আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মদ, ঘর হলো ইসলাম এবং ভোজ হলো জান্নাত) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
3/ 3 - باب كيف كان أول شأن النبي صلى الله عليه وسلم -
12/ 14 - (1) أخبرنا عبد الله بن عمران، ثنا أبو داود قال: ثنا جعفر (1) بن عثمان القرشي، عن عثمان بن عروة بن الزبير، عن أبيه، عن أبي ذر الغفاري رضي الله عنه قال: قلت: يا رسول الله، كيف علمت أنك نبي حتى استيقنت؟ ، فقال: «يا أبا ذر، أتاني ملكان وأنا ببعض بطحاء مكة، فوقع أحدهما إلى الأرض، وكان الآخر بين السماء والأرض، فقال أحدهما لصاحبه: أهو هو؟ ، قال: نعم، قال: فزنه برجل، فوزنت به فوزنته، ثم قال: فزنه بعشرة، فوزنت بهم فرجحتهم، ثم قال: زنه بمائة، فوزنت بهم فرجحتهم، ثم قال: زنه بألف، فوزنت بهم فرجحتهم، كأني أنظر إليهم، ينتثرون عليّ من خفة الميزان، قال: فقال أحدهما لصاحبه: لو وزنته بأمته لرجحها» (2).
13/ 15 - (2) أخبرنا إسماعيل بن خليل، أنا علي بن مسهر، أنا الأعمش، عن أبي صالح قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يناديهم «يا أيها الناس إنما أنا رحمة مهداة» (3).
--------------------------------------------
৩/ ৩ - অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল-
১২/ ১৪ - (১) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইমরান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জাফর (১) ইবনে উসমান আল-কুরাশি, উসমান ইবনে উরওয়া ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু যার আল-গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কীভাবে জানলেন যে আপনি একজন নবী, এমনকি আপনি বিষয়টি সুনিশ্চিত হলেন? তিনি বললেন: «হে আবু যার, আমার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসলেন যখন আমি মক্কার উপত্যকার কোনো এক স্থানে ছিলাম। তাদের একজন জমিনে অবতরণ করলেন এবং অন্যজন আসমান ও জমিনের মাঝে রইলেন। তখন তাদের একজন তার সাথীকে বললেন: ইনিই কি তিনি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাকে একজন মানুষের সাথে ওজন করো। তখন আমাকে তার সাথে ওজন করা হলো এবং আমি তার চেয়ে ভারী হলাম। তারপর তিনি বললেন: তাকে দশজনের সাথে ওজন করো। আমি তাদের সাথে ওজন হলাম এবং আমি তাদের চেয়েও ভারী হলাম। এরপর তিনি বললেন: তাকে একশ জনের সাথে ওজন করো। আমি তাদের সাথে ওজন হলাম এবং আমি তাদের চেয়েও ভারী হলাম। এরপর তিনি বললেন: তাকে এক হাজার জনের সাথে ওজন করো। আমি তাদের সাথে ওজন হলাম এবং আমি তাদের চেয়েও ভারী হলাম। যেন আমি তাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম, পাল্লা হালকা হওয়ার কারণে তারা আমার ওপর ছড়িয়ে পড়ছিল। তিনি (নবী) বলেন: তখন তাদের একজন তার সাথীকে বললেন: যদি আপনি তাকে তার পুরো উম্মতের সাথেও ওজন করেন, তবে তিনি তাদের সবার চেয়েও ভারী হবেন» (২)।
১৩/ ১৫ - (২) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে খলিল, আমাদের খবর দিয়েছেন আলী ইবনে মুশহির, আমাদের খবর দিয়েছেন আমাশ, আবু সালেহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ডেকে বলতেন: «হে লোকসকল, আমি তো কেবল একজন উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমত» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
4/ 4 - باب ما أكرم الله به نبيه من إيمان الشجر به والبهائم والجن14/ 16 - (1) أخبرنا محمد بن طريف، ثنا محمد بن فضيل، ثنا أبو حيان، عن عطاء، عن ابن عمر قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فأقبل أعرابي، فلما دنا منه قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: أين تريد؟ ، قال: إلى أهلي، قال: هل لك في خير؟ ، قال: وما هو؟ ، قال: تشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله، فقال: ومن يشهد على ما تقول؟ ، قال: هذه السلمة (1) فدعاها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي بشاطيء الوادي، فأقبلت تخد الأرض خدا (2)، حتى قامت بين يديه، فاستشهدها ثلاثا، فشهدت ثلاثا أنه كما قال، ثم رجعت إلى منبتها، ورجع الأعرابي إلى قومه وقال: إن اتبعوني آتيتك بهم، وإلا رجعت فكنت معك (3).
15/ 22 - (2) أخبرنا محمد بن يوسف، ثنا سفيان، عن الأعمش، عن شمر بن عطية، عن رجل من مزينة - أو جهينة - قال: صلّى رسول الله صلى الله عليه وسلم الفجر، فإذا هو بقريب من مائة ذئب قد
--------------------------------------------
৪/ ৪ - পরিচ্ছেদ: গাছপালা, চতুষ্পদ জন্তু এবং জিনদের তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবীকে যে সম্মান দান করেছেন১৪/ ১৬ - (১) মুহাম্মাদ বিন তারিফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন ফুদাইল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু হাইয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন আতা থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম, তখন এক বেদুইন আসলো। যখন সে তাঁর নিকটবর্তী হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছ?" সে বলল: "আমার পরিবারের কাছে।" তিনি বললেন: "তোমার কি কল্যাণের প্রতি আগ্রহ আছে?" সে বলল: "সেটি কী?" তিনি বললেন: "তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।" সে বলল: "আপনি যা বলছেন সে বিষয়ে কে সাক্ষ্য দেবে?" তিনি বললেন: "এই সালামাহ গাছটি।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিকে ডাকলেন যখন সেটি উপত্যকার কিনারায় ছিল। সেটি মাটি চিরে অগ্রসর হয়ে তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল। তিনি সেটির কাছে তিনবার সাক্ষ্য চাইলেন, আর সেটি তিনবারই সাক্ষ্য দিল যে বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন। এরপর সেটি তার নিজের জায়গায় ফিরে গেল। আর সেই বেদুইন তার কওমের কাছে ফিরে গেল এবং বলল: "যদি তারা আমার অনুসরণ করে তবে আমি তাদের নিয়ে আপনার কাছে আসব, অন্যথায় আমি ফিরে এসে আপনার সাথেই থাকব।"
১৫/ ২২ - (২) মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি শামির বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি মুজাইনাহ - অথবা জুহাইনার - এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজ আদায় করলেন, হঠাৎ দেখা গেল প্রায় একশ নেকড়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
اقعين (1) وفود الذياب، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: ترضخون (2) لهم شيئا من طعامكم، وتأمنون على ما سوى ذلك، فشكوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الحاجة، قال: فآذنوهن (3)، قال: فآذنوهن، فخرجن ولهن عواء (4).
5/ 6 - باب ما أكرم النبي صلى الله عليه وسلم بحنين المنبر16/ 38 - (1) أخبرنا مسلم بن إبراهيم، ثنا الصّعِق قال: سمعت الحسن يقول: لما أن قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة جعل يسند ظهره إلى خشبة ويحدث الناس، فكثروا حوله، فأراد النبي صلى الله عليه وسلم أن يسمعهم، فقال: ابنوا لي شيئا أرتفع عليه، قالوا: كيف يا نبي الله؟ ، قال: عريش كعريش موسى، فلما أن بنوا له، قال الحسن: حنّت - والله - الخشبة قال الحسن: سبحان الله هل تبتغى (5) قلوب قوم سمعوا (6). قال أبو محمد: يعني هذا.
--------------------------------------------
নেকড়েদের প্রতিনিধি দল দুপায়ে ভর দিয়ে বসেছিল (১)। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের (সাহাবীদের) বললেন: "তোমরা তোমাদের খাবার থেকে তাদের সামান্য কিছু দাও (২), তাহলে তোমরা অন্য সব বিষয়ে তাদের থেকে নিরাপদ থাকবে।" তারা (সাহাবীরা) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিজেদের অভাব ও প্রয়োজনের কথা জানালেন। তিনি বললেন: "তাহলে তাদের (নেকড়েদের) তা জানিয়ে দাও (৩)।" বর্ণনাকারী বলেন: তারা তাদের জানিয়ে দিল, ফলে তারা চিৎকার করতে করতে চলে গেল (৪)।
৫/ ৬ - পরিচ্ছেদ: মিম্বারের আর্তনাদের মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যে সম্মান প্রদান করা হয়েছে১৬/ ৩৮ - (১) মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আস-সাইক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসান (বসরি)-কে বলতে শুনেছি: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় আসলেন, তখন তিনি একটি কাঠের খুঁটিতে পিঠ ঠেকিয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন। তাঁর চারপাশে মানুষের ভিড় বেড়ে গেল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাইলেন যেন তিনি তাদের শোনাতে পারেন, তাই তিনি বললেন: "আমার জন্য এমন কিছু তৈরি করো যার ওপর আমি উঠতে পারি।" তারা বললেন: "হে আল্লাহর নবী! তা কেমন হবে?" তিনি বললেন: "মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ছাপরার মতো একটি ছাপরা।" যখন তারা তাঁর জন্য সেটি নির্মাণ করল, তখন হাসান বলেন: আল্লাহর কসম, সেই কাঠটি আর্তনাদ করে কেঁদে উঠল। হাসান বলেন: সুবহানাল্লাহ! যারা এই ঘটনা শুনেছে তাদের অন্তর কি আর বিভ্রান্ত হতে পারে (৫)? আবু মুহাম্মদ (আদ-দারিমি) বলেন: তিনি এটাই বুঝিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
6/ 8 - باب ما أعطي النبي صلى الله عليه وسلم من الفضل17/ 47 - (1) أخبرنا إسحاق بن إبراهيم، أنبأ يزيد بن أبي حكيم قال: حدثني الحكم بن أبان، عن عكرمة، عن ابن عباس قال: إن الله فضّل محمدا صلى الله عليه وسلم على الأنبياء، وعلى أهل السماء، فقالوا: يا أبا عباس بم فضّله على أهل السماء؟ ، قال: إن الله قال لأهل السماء: {وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ} (1) وقال الله لمحمد صلى الله عليه وسلم: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا} (2) قالوا: فما فضله على الأنبياء؟ ، قال: قال الله عز وجل: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (3) وقال الله عز وجل لمحمد صلى الله عليه وسلم: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} (4) فأرسله إلى الجن والإنس (5).
18/ 48 - (2) أخبرنا عبيد الله بن عبد المجيد، ثنا زمعة، عن
--------------------------------------------
৬/ ৮ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যে মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে সেই অধ্যায়১৭/ ৪৭ - (১) ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ইয়াযীদ ইবনে আবী হাকীম আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: হাকাম ইবনে আবান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সকল নবী এবং আসমানবাসীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তারা জিজ্ঞেস করল: হে আবু আব্বাস! কিসের ভিত্তিতে তিনি তাঁকে আসমানবাসীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে যে বলবে যে, ‘আমিই তিনি ব্যতীত ইলাহ’, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব। এভাবেই আমি যালিমদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।} (১) আর আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।} (২) তারা জিজ্ঞেস করল: তবে নবীদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কী? তিনি বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (৩) আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} (৪) ফলে তিনি তাঁকে জিন ও ইনসান (সকলের) প্রতি প্রেরণ করেছেন (৫)।
১৮/ ৪৮ - (২) উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মাজীদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যাম'আ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
سلمة، عن عكرمة، عن ابن عباس قال: جلس ناس من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ينتظرونه، فخرج حتى إذا دنا منهم سمعهم يتذاكرون، فتسمّع حديثهم، فإذا بعضهم يقول: عجبا إن الله اتخذ من خلقه خليلا، فإبراهيم خليله، وقال آخر: ماذا بأعجب من: وكلم الله موسى تكليما {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} (1).
19/ 50 - (3) أخبرنا عبد الله بن عبد الحكم المصري، ثنا بكر بن مضر، عن جعفر بن ربيعة، عن صالح - هو ابن عطاء بن خباب مولى بني الدئل - عن عطاء بن أبي رباح، عن جابر بن عبد الله أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (أنا قائد المرسلين ولا فخر، وأنا خاتم النبيين ولا فخر، وأنا أول شافع وأول مشفع ولا فخر) (2).
20/ 54 - (4) أخبرنا عبد الله بن صالح قال: حدثني معاوية، عن يونس بن ميسرة، عن أبي إدريس الخولاني، عن ابن غنم قال: "نزل جبريل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فشق بطنه، ثم قال جبريل: قلب وكيع فيه أذنان سميعتان، وعينان بصيرتان، محمد رسول الله المقفى الحاشر، خلقك قيم، ولسانك صادق، ونفسك مطمئنة" (3).
قال أبو محمد: وكيع يعني: شديدا.
21/ 55 - (5) أخبرنا عبد الله بن صالح قال: حدثني معاوية، عن عروة بن رويم، عن عمرو بن قيس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
--------------------------------------------
সালামাহ থেকে, ইকরিমা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী তাঁর অপেক্ষায় বসে ছিলেন। তিনি বের হয়ে যখন তাঁদের কাছে পৌঁছালেন, তখন শুনতে পেলেন তাঁরা পরস্পর আলোচনা করছেন। তিনি তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তাঁদের কেউ বলছিলেন: আশ্চর্যের বিষয় হলো, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে একজনকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আর ইব্রাহিম হলেন তাঁর খলীল। অন্য একজন বলছিলেন: এর চেয়ে আশ্চর্যের আর কী হতে পারে যে, আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন— {আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} (১)।
১৯/ ৫০ - (৩) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম আল-মিসরি, বকর বিন মুদার থেকে, তিনি জাফর বিন রাবিআহ থেকে, তিনি সালেহ থেকে—যিনি বনী দাইল গোত্রের মুক্ত দাস আতা বিন খাব্বাবের পুত্র—তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি সকল রাসুলের নেতা, এতে কোনো গর্ব নেই; আমি শেষ নবী, এতে কোনো গর্ব নেই; এবং আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম যাঁর সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, এতে কোনো গর্ব নেই) (২)।
২০/ ৫৪ - (৪) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন সালিহ, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া, ইউনুস বিন মাইসারা থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি ইবনে গানম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "জিবরাঈল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবতরণ করলেন এবং তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। এরপর জিবরাঈল বললেন: এটি এক সুদৃঢ় অন্তর, যাতে রয়েছে শ্রবণকারী দুটি কান এবং দর্শনকারী দুটি চোখ; মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, যিনি সর্বশেষ নবী এবং যাঁর কাছে মানুষকে একত্রিত করা হবে; আপনার গঠন সুঠাম, আপনার জিহ্বা সত্যবাদী এবং আপনার আত্মা প্রশান্ত" (৩)।
আবু মুহাম্মদ বলেন: ওয়াকি অর্থ হলো সুদৃঢ়।
২১/ ৫৫ - (৫) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন সালিহ, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া, উরওয়া বিন রুয়াইম থেকে, তিনি আমর বিন কাইস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
«إن الله أدرك بي الأجل المرحوم (1)، واختصر لي اختصارا فنحن الآخرون، ونحن السابقون يوم القيامة، وإني قائل قولا غير فخر، إبراهيم خليل الله، وموسى صفي الله، وأنا حبيب الله، ومعي لواء الحمد يوم القيامة، وإن الله وعدني في أمتي وأجارهم من ثلاث: لا يعمهم بسنة (2)، ولا يستأصلهم عدو، ولا يجمعهم على ضلالة» (3).
7/ 10 - باب في حسن النبي صلى الله عليه وسلم -
22/ 59 - (1) أخبرنا إبراهيم بن المنذر، ثنا عبد العزيز بن أبي ثابت الزهري قال: حدثني إسماعيل بن إبراهيم بن أخي موسى، عن عمه موسى بن عقبة، عن كريب، عن ابن عباس قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أفلج الثنيتين، إذا تكلم رئي كالنور يخرج من بين ثناياه" (4).
23/ 60 - (2) أخبرنا محمود بن غيلان، ثنا يزيد بن هارون قال: أنبأ مسعر، عن عبد الملك ابن عمير قال: قال ابن عمر: "ما رأيت أحدا أنجد ولا أجود ولا أشجع ولا أوضأ (5) من رسول
--------------------------------------------
«নিশ্চয় আল্লাহ আমার মাধ্যমে রহমতপূর্ণ সময়কাল (১) পূর্ণ করেছেন এবং আমার জন্য তা সংক্ষিপ্ত করেছেন। অতএব আমরা শেষে আগমনকারী এবং কিয়ামতের দিন আমরাই অগ্রগামী হব। আমি গর্ব না করেই বলছি, ইব্রাহিম আল্লাহর খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু), মুসা আল্লাহর সফী (মনোনীত) এবং আমি আল্লাহর হাবীব (প্রিয়তম)। কিয়ামতের দিন প্রশংসার পতাকা (লিওয়াউল হামদ) আমার সাথে থাকবে। আল্লাহ আমার উম্মতের ব্যাপারে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তাদের তিনটি বিষয় থেকে সুরক্ষা দিয়েছেন: তিনি তাদের সকলকে দুর্ভিক্ষ (২) দিয়ে গ্রাস করবেন না, কোনো শত্রু তাদের সমূলে বিনাশ করতে পারবে না এবং তিনি তাদের ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ করবেন না» (৩)।
৭/ ১০ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৌন্দর্য বিষয়ক অধ্যায় -
২২/ ৫৯ - (১) ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে আবু সাবিত আল-জুহরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আখি মুসা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর চাচা মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনের দুই দাঁতের মাঝে ফাঁকা ছিল; যখন তিনি কথা বলতেন, মনে হতো যেন তাঁর দাঁতগুলোর মাঝখান থেকে নূর (আলো) বের হচ্ছে" (৪)।
২৩/ ৬০ - (২) মাহমুদ ইবনে গায়লান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মিসআর আমাদের খবর দিয়েছেন, আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে উমর বলেছেন: "আমি রাসূলুল্লাহ... এর চেয়ে বেশি সাহায্যকারী, দানশীল, সাহসী কিংবা উজ্জ্বল চেহারার (৫) আর কাউকে দেখিনি"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الله صلى الله عليه وسلم " (1).
24/ 61 - (3) أخبرنا إبراهيم بن المنذر الحزامي، ثنا عبد الله بن موسى، ثنا أسامة بن زيد، عن أبي عبيدة بن محمد بن عمار بن ياسر قال: قلت للربيع بنت معوذ بن عفراء: صفي لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، قالت يا بني لو رأيته رأيت الشمس طالعة (2).
25/ 64 - (4) أخبرنا محمد بن يزيد الرفاعي، ثنا أبو بكر، عن حبيب بن خدرة قال: حدثني رجل (3) من بني حريش قال: كنت مع أبي حين رجم رسول الله صلى الله عليه وسلم ماعز بن مالك، فلما أخذته الحجارة أرعبت، فضمني إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فسال عليّ من عرق إبطه مثل ريح المسك (4).
26/ 66 - (5) أخبرنا يزيد بن هارون، أنبأ شريك، عن الأعمش عن إبراهيم قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرف بالليل بطيب الريح (5).
27/ 67 - (6) أخبرنا مالك بن إسماعيل، ثنا إسحاق بن الفضل بن عبد الرحمن الهاشمي، أنبأ المغيرة بن عطية، عن أبي
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।" (১).
২৪/ ৬১ - (৩) ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির আল-হিযামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনু মুসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উসামা ইবনু যায়েদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু উবাইদাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আম্মার ইবনু ইয়াসির থেকে, তিনি বলেন: আমি রুবাই বিনতে মুআউওয়িয ইবনু আফরাকে বললাম, আপনি আমাদের কাছে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রূপ বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, হে প্রিয় বৎস! তুমি যদি তাকে দেখতে, তবে মনে হতো যেন তুমি উদীয়মান সূর্য দেখছ। (২)।
২৫/ ৬৪ - (৪) মুহাম্মদ ইবনু ইয়াযিদ আর-রিফাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাবিব ইবনু খাদরা থেকে, তিনি বলেন: বনু হারীশ গোত্রের এক ব্যক্তি (৩) আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতার সাথে ছিলাম যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মায়েয ইবনু মালিককে পাথর ছুড়ে মারার (রজম) নির্দেশ কার্যকর করছিলেন। যখন পাথর তাকে আঘাত করতে শুরু করল, আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। তখন তাঁর বগলের ঘাম আমার ওপর প্রবাহিত হলো যা ছিল কস্তুরীর ঘ্রাণের মতো। (৪)।
২৬/ ৬৬ - (৫) ইয়াযিদ ইবনু হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শারিক আমাদের খবর দিয়েছেন আ’মাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাতে তাঁর চমৎকার সুগন্ধির মাধ্যমে চেনা যেত। (৫)।
২৭/ ৬৭ - (৬) মালিক ইবনু ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনুল ফাদল ইবনু আবদুর রহমান আল-হাশেমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুগিরা ইবনু আতিয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الزبير، عن جابر: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يسلك طريقا - أو لا يسلك طريقا - فيتبعه أحد إلا عرف أنه قد سلكه، من طيب عرفه، - أو قال من ريح عرفه - (1).
8/ 12 - باب في سخاء النبي صلى الله عليه وسلم -
28/ 72 - (1) أخبرنا عبد الله بن عمران، ثنا أبو داود الطيالسي، عن زمعة، عن أبي حازم، عن سهل بن سعد قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم حييا، لا يسأل شيئا إلا أعطاه (2).
29/ 63 - (2) أخبرنا محمد بن أحمد بن أبي خلف، ثنا عبد الرحمن بن محمد، عن محمد بن إسحاق قال: حدثني عبد الله بن أبي بكر، عن رجل من العرب قال: زحمت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين، وفي رجلي نعل كثيفة، فوطئت على رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم، فنفحني (3) نفحة بسوط في يده وقال: بسم الله أوجعتني، قال: فبت لنفسي لائما أقول: أوجعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فبت بليلة كما يعلم
--------------------------------------------
যুবাইর, জাবির থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো পথে চলতেন - অথবা তিনি কোনো পথে চললে - তাঁর সুগন্ধি থেকে - অথবা তিনি বলেন তাঁর ঘামের ঘ্রাণ থেকে - কেউ তাঁর অনুসরণ করলে বুঝতে পারতেন যে তিনি এই পথে চলেছেন (১)।
৮/ ১২ - অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দানশীলতা সম্পর্কে-
২৮/ ৭২ - (১) আবদুল্লাহ ইবনে ইমরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যামআহ থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত লাজুক ছিলেন; তাঁর কাছে কোনো কিছু চাওয়া হলে তিনি তা দিয়ে দিতেন (২)।
২৯/ ৬৩ - (২) মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ বিন আবি খালাফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আরবদের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি বলেন: হুনাইনের দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ভিড়ের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম, আর আমার পায়ে ছিল একটি শক্ত জুতো। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়ের ওপর পা দিয়ে ফেলেছিলাম। ফলে তিনি তাঁর হাতে থাকা ছড়ি দিয়ে আমাকে আঘাত (৩) করলেন এবং বললেন: 'বিসমিল্লাহ, তুমি আমাকে ব্যথা দিয়েছ'। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এরপর আমি সারারাত নিজেকে তিরস্কার করতে থাকলাম এই বলে যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দিয়েছি। তিনি বলেন: আমি এমন এক রাত অতিবাহিত করলাম যা আল্লাহই জানেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الله، فلما أصبحنا إذا رجل يقول: أين فلان؟ قال: قلت: هذا والله الذي كان مني بالأمس، قال: فانطلقت وأنا متخوف، فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنك وطئت بنعلك على رجلي بالأمس، فأوجعتني، فنفحتك نفحة بالسوط، فهذه ثمانون نعجة فخذها بها (1).
30/ 74 - (3) أخبرنا يعقوب بن حميد، ثنا عبد العزيز بن محمد، عن ابن أخي الزهري، عن الزهري قال: إن جبريل: قال ما في الأرض أهل عشرة أبيات إلا قلبتهم، فما وجدت أحدا أشد إنفاقا لهذا المال من رسول الله صلى الله عليه وسلم (2).
9/ 14 - باب في وفاة النبي صلى الله عليه وسلم -
31/ 76 - (1) حدثنا سليمان بن حرب، ثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن عكرمة قال: قال العباس رضي الله تعالى عنه: (لأعلمن ما بقاء النبي صلى الله عليه وسلم فينا؟ فقال: يا رسول الله إني أراهم قد آذوك وآذاك غبارهم، فلو اتخذت عريشا تكلمهم منه، فقال: لا أزال بين أظهرهم يطؤن عقبي، وينازعوني ردائي، حتى يكون الله هو الذي يريحني منهم، قال: فعلمت أن بقاءه فينا قليل (3).
32/ 77 - (2) أخبرنا الحكم بن موسى، ثنا يحيى بن حمزة، عن الأوزاعي، عن داود بن علي قال: قيل: يا رسول الله ألا نحجبك؟ قال: لا دعوهم يطؤن عقبي، وأطأ أعقابهم، حتى يريحني الله
--------------------------------------------
আল্লাহ, যখন সকাল হলো তখন এক ব্যক্তি বলছিল: অমুক কোথায়? তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, এই তো সেই লোক যার সাথে গতকাল আমার ঘটনা ঘটেছিল। তিনি বলেন: অতঃপর আমি ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রওয়ানা হলাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: গতকাল তুমি তোমার জুতো দিয়ে আমার পায়ের ওপর পাড়া দিয়েছিলে, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছিল, ফলে আমি তোমাকে চাবুক দিয়ে একটি আঘাত করেছিলাম। সুতরাং এই নাও আশিটি ভেড়া, এর বিনিময়ে এগুলো গ্রহণ করো (১)।
৩০/ ৭৪ - (৩) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াকুব বিন হুমাইদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ, তিনি যুহরীর ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: যমীনে এমন দশ ঘরবিশিষ্ট কোনো জনপদ নেই যা আমি তন্ন তন্ন করে তালাশ করিনি, কিন্তু এই সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে অধিক দানশীল আমি আর কাউকেও পাইনি (২)।
৯/ ১৪ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাত বিষয়ক পরিচ্ছেদ-
৩১/ ৭৬ - (১) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন হারব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেছেন: (আমি অবশ্যই জেনে নেব আমাদের মাঝে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আর কতকাল অবস্থান করবেন?) অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি দেখছি যে তারা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে এবং তাদের ধুলোবালি আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। আপনি যদি একটি মাচা বা কুঁড়েঘর তৈরি করে নিতেন যেখান থেকে আপনি তাদের সাথে কথা বলতেন (তবে ভালো হতো)। তখন তিনি বললেন: আমি তাদের মাঝেই অবস্থান করতে থাকব, তারা আমার গোড়ালি মাড়াবে এবং আমার চাদর ধরে টানাটানি করবে, যতক্ষণ না আল্লাহ স্বয়ং আমাকে তাদের থেকে স্বস্তি দান করেন। তিনি (আব্বাস) বলেন: তখন আমি বুঝতে পারলাম যে আমাদের মাঝে তাঁর অবস্থানকাল অল্পই অবশিষ্ট আছে (৩)।
৩২/ ৭৭ - (২) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাকাম বিন মুসা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন হামযা, তিনি আওযায়ী থেকে, তিনি দাউদ বিন আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করব না? তিনি বললেন: না, তাদের ছেড়ে দাও, তারা আমার গোড়ালি মাড়াবে এবং আমি তাদের গোড়ালি মাড়াব, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে স্বস্তি দান করেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
منهم (1).
33/ 80 - (3) أخبرنا سعيد بن سليمان، عن عباد بن العوام، عن هلال بن خباب، عن عكرمة، عن ابن عباس قال: لما نزلت: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} 1 دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاطمة فقال: قد نعيت إلي نفسي، فبكت، فقال: لا تبكي فإنك أول أهلي لاحق بي، فضحكت فرآها بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم: فقلن: يا فاطمة رأيناك بكيت ثم ضحكت، قالت: إنه أخبرني أنه قد نعيت إليه نفسه فبكيت، فقال لي: لا تبكي فإنك أول أهلي لاحق بي فضحكت (2).
34/ 84 - (4) أخبرنا سليمان بن حرب، ثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن عكرمة قال: توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين، فحبس بقية يومه وليلته والغد، حتى دفن ليلة الأربعاء وقالوا: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يمت، ولكنه عرج بروحه كما عرج بروح موسى، فقام عمر فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يمت، ولكن عرج بروحه كما عرج بروح موسى، والله لا يموت رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يقطع أيدي أقوام وألسنتهم (3)، فلم يزل عمر يتكلم حتى أزبد شدقاه مما يوعد ويقول، فقام العباس فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد مات وإنه لبشر، وإنه يأسن (4) كما يأسن البشر، أي قوم فادفنوا صاحبكم فإنه أكرم على الله من أن يميته إماتتين، أيميت أحدكم إماتة ويميته
--------------------------------------------
তাদের মধ্য থেকে (১)।
৩৩/ ৮০ - (৩) সাঈদ ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আব্বাদ ইবনে আওয়াম থেকে, তিনি হিলাল ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন অবতীর্ণ হলো: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} ১, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতিমাকে ডাকলেন এবং বললেন: আমার কাছে আমার মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়েছে। তখন তিনি (ফাতিমা) কাঁদতে লাগলেন। এরপর তিনি বললেন: কেঁদো না, কারণ তুমিই আমার পরিবারের প্রথম ব্যক্তি যে আমার সাথে মিলিত হবে। তখন তিনি হাসলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক স্ত্রী তাঁকে দেখলেন এবং বললেন: হে ফাতিমা, আমরা তোমাকে কাঁদতে দেখলাম, এরপর হাসতে দেখলাম। তিনি বললেন: তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর কাছে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়েছে, তাই আমি কেঁদেছি। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: কেঁদো না, কারণ তুমিই আমার পরিবারের প্রথম ব্যক্তি যে আমার সাথে মিলিত হবে, তাই আমি হেসেছি (২)।
৩৪/ ৮৪ - (৪) সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবার ইন্তেকাল করেন। তাঁকে সেই দিনের অবশিষ্ট অংশ, রাত এবং তার পরের দিন রাখা হলো, এমনকি বুধবার রাতে তাঁকে দাফন করা হলো। লোকেরা বলতে লাগল: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা যাননি, বরং তাঁর রূহ ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেমন মুসার রূহ ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন উমর দাঁড়িয়ে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা যাননি, বরং তাঁর রূহ ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেমন মুসার রূহ ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ততক্ষণ পর্যন্ত মারা যাবেন না যতক্ষণ না তিনি কিছু সম্প্রদায়ের হাত ও জিহ্বা কেটে ফেলেন (৩)। উমর ক্রমাগত কথা বলতে থাকলেন এমনকি তাঁর প্রতিশ্রুত হুমকি ও কথার কারণে তাঁর চোয়ালের দুই প্রান্তে ফেনা জমে গেল। তখন আব্বাস দাঁড়িয়ে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা গেছেন এবং তিনি একজন মানুষ ছিলেন। আর মানুষের যেমন দেহের পরিবর্তন ঘটে (৪), তাঁরও তেমনই ঘটবে। হে সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদের সঙ্গীকে দাফন করো, কারণ তিনি আল্লাহর কাছে এর চেয়েও অধিক সম্মানিত যে আল্লাহ তাঁকে দুইবার মৃত্যু দেবেন। তিনি কি তোমাদের কাউকে একবার মৃত্যু দেবেন আর তাঁকে কি দুইবার মৃত্যু দেবেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
إماتتين، وهو أكرم على الله من ذاك، أي قوم فادفنوا صاحبكم فإن يك كما تقولون: فليس بعزيز على الله أن يبحث عنه التراب: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم والله ما مات حتى ترك السبيل نهجا واضحا، فأحل الحلال، وحرم الحرام، ونكح وطلق، وحارب وسالم، ما كان راعي غنم يتبع بها صاحبها رؤوس الجبال، يخبط عليها العضاه (1) بمخبطه، ويمدر (2) حوضها بيده بأنصب (3) ولا أدأب (4)
من رسول الله صلى الله عليه وسلم كان فيكم، أي قوم فادفنوا صاحبكم، قال: وجعلأم أيمن تبكي، فقيل لها: يا أم أيمن تبكي على رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قالت: إني والله ما أبكي على رسول الله صلى الله عليه وسلم أن لا أكون أعلم أنه قد ذهب إلى ما هو خير له من الدنيا، ولكني أبكي على خبر السماء انقطع، قال حماد: خنقت العبرة أيوب حين بلغ ههنا (5).
35/ 86 - (5) أخبرنا أبو نعيم فطر، عن عطاء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إذا أصاب أحدكم مصيبة، فليذكر مصابه بي فإنها من أعظم المصائب) (6).
36/ 87 - (6) حدثنا محمد بن أحمد بن أبي خلف، ثنا سفيان، عن عمر بن محمد، عن أبيه قال: ما سمعت ابن عمر يذكر النبي
--------------------------------------------
দুইটি মৃত্যু, তিনি আল্লাহর কাছে এর চেয়েও অধিক সম্মানিত। হে কওম, তোমরা তোমাদের সঙ্গীকে দাফন করো। যদি তা-ই হয় যা তোমরা বলছ, তবে মাটি খুঁড়ে তাকে বের করে আনা আল্লাহর জন্য কোনো কঠিন বিষয় নয়। আল্লাহর শপথ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না তিনি পথকে এক স্পষ্ট রাজপথ হিসেবে রেখে গিয়েছেন। তিনি হালালকে হালাল করেছেন এবং হারামকে হারাম করেছেন। তিনি বিয়ে করেছেন এবং তালাক দিয়েছেন। তিনি যুদ্ধ করেছেন এবং সন্ধি করেছেন। কোনো মেষপালক যে তার মেষ নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় তার সঙ্গীর অনুসরণ করে, লাঠি দিয়ে কাঁটাযুক্ত গাছের পাতা পাড়ে এবং নিজ হাতে পানির আধার কাদা দিয়ে মেরামত করে, সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে বেশি পরিশ্রমি বা একনিষ্ঠ ছিল না যখন তিনি তোমাদের মাঝে ছিলেন। হে লোকসকল, তোমাদের সঙ্গীকে দাফন করো।
বর্ণনাকারী বলেন: উম্মে আয়মান কাঁদতে লাগলেন। তাকে বলা হলো: হে উম্মে আয়মান, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কাঁদছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একারণে কাঁদছি না যে আমি জানি না তিনি দুনিয়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো স্থানে গিয়েছেন। বরং আমি কাঁদছি কারণ আকাশের ওহী আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হাম্মাদ বলেন: আইয়ুব যখন এখানে পৌঁছালেন তখন কান্নায় তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল।
৩৫/ ৮৬ - (৫) আবু নুআইম ফিতর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতা থেকে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যখন তোমাদের কেউ কোনো বিপদে আক্রান্ত হয়, সে যেন আমার বিয়োগজনিত বিপদকে স্মরণ করে; কেননা এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিপদ)।
৩৬/ ৮৭ - (৬) মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি খালাফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উমর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা উল্লেখ করতে শুনিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমী আনিল সামানিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
قط إلا بكى (1).
37/ 90 - (7) حدثنا عبد الله بن مطيع، ثنا هشيم، عن أبي عبد الجليل، عن أبي حريز الأزدي قال: قال عبد الله بن سلام للنبي صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله إنا نجدك يوم القيامة قائما عند ربك وأنت محمارة وجنتاك، مستحي من ربك مما أحدثت أمتك من بعدك (2).
38/ 91 - (8) أخبرنا القاسم بن كثير قال: سمعت عبد الرحمن بن شريح يحدث، عن أبي الأسود القرشي، عن أبي فروة مولى أبي جهل، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم: إن هذه السورة لما أنزلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم
… {وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا} (3) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ليخرجن منه أفواجا كما دخلوه أفواجا) (4).
39/ 92 - (9) قال: أخبرني أبو بكر المصري، عن سليمان بن أبي أيوب الخزاعي، عن يحيى بن سعيد الأموي، عن معروف بن خربوذ المكي، عن خالد بن معدان قال: دخل عبد الله بن الأهتم على عمر بن عبد العزيز مع العامة، فلم يفجأ عمر إلا وهو بين يديه يتكلم، فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: أما بعد فإن الله خلق الخلق غنيا عن طاعتهم، آمنا لمعصيتهم، والناس يومئذ في المنازل والرأي مختلفون، فالعرب بشر تلك المنازل، أهل الحجر وأهل الوبر وأهل الدبر، تجتاز دونهم طيبات الدنيا ورخاء
--------------------------------------------
কখনও কাঁদেননি এমন হয়নি (১)।
৩৭/ ৯০ - (৭) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুতী‘, তিনি হুশাইম থেকে, তিনি আবু আবদিল জলীল থেকে, তিনি আবু হারীয আল-আযদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামতের দিন আমরা আপনাকে আপনার রবের নিকট দণ্ডায়মান অবস্থায় পাব, এমতাবস্থায় যে আপনার গণ্ডদ্বয় রক্তিম হয়ে থাকবে, আপনার উম্মত আপনার পরে যা কিছু উদ্ভাবন করেছে সে কারণে আপনি আপনার রবের কাছে লজ্জিত থাকবেন (২)।
৩৮/ ৯১ - (৮) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাসিম বিন কাসীর, তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান বিন শুরাইহকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবু আল-আসওয়াদ আল-কুরাশী থেকে, তিনি আবু জাহলের মুক্তদাস আবু ফারওয়াহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: নিশ্চয়ই এই সূরাটি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হলো... "আর আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন" (৩), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: (তারা অবশ্যই এ থেকে দলে দলে বেরিয়ে যাবে, যেমন তারা এতে দলে দলে প্রবেশ করেছিল) (৪)।
৩৯/ ৯২ - (৯) তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-মিসরী, তিনি সুলাইমান বিন আবি আইয়ুব আল-খুযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-উমাবী থেকে, তিনি মা’রূফ বিন খারবূয আল-মাক্কী থেকে, তিনি খালিদ বিন মা’দান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আল-আহতাম সাধারণ মানুষের সাথে উমর বিন আবদুল আযীযের কাছে প্রবেশ করলেন। উমর হঠাৎ লক্ষ্য করলেন যে সে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। সে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলো, তারপর বললো: অতঃপর নিশ্চয়ই আল্লাহ মাখলুকাতকে সৃষ্টি করেছেন তাদের আনুগত্য থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে এবং তাদের নাফরমানি থেকে নিরাপদ থেকে। সেদিন মানুষ বিভিন্ন অবস্থানে এবং বিভিন্ন মতের ছিল। আরবরা ছিল সেই সব অবস্থানের মধ্যে নিকৃষ্টতম; পাথুরে ঘরের বাসিন্দা, পশমের তাঁবুর বাসিন্দা এবং গবাদিপশুর পালের অনুসারী যাযাবর; দুনিয়ার উত্তম ও সুখের বিষয়গুলো তাদের নাগালের বাইরে দিয়ে চলে যেত
--------------------------------------------