(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: -)
الخطاب القرآني لأهل الكتاب وموقفهم منه قديما وحديثا   (هود محمد أبو راس)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الخطاب القرآني لأهل الكتاب وموقفهم منه قديماً وحديثاً

المؤلف: هود محمد منصور قُباص أبو راس

رسالة: دكتوراه، قسم القرآن والحديث - أكاديمية الدراسات الإسلامية جامعة ملايا - كوالالمبور- ماليزيا

عام النشر: 1431 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 333

تاريخ النشر بالشاملة: 9 صفر 1440

আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনের সম্বোধন এবং এর প্রতি তাদের অতীত ও বর্তমান অবস্থান   (হূদ মুহাম্মদ আবু রাস)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


বই: আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনের সম্বোধন এবং এর প্রতি তাদের অতীত ও বর্তমান অবস্থান

লেখক: হূদ মুহাম্মদ মনসুর কুবাস আবু রাস

গবেষণাপত্র: পিএইচডি, কুরআন ও হাদিস বিভাগ - একাডেমি অব ইসলামিক স্টাডিজ, মালায়া বিশ্ববিদ্যালয় - কুয়ালালামপুর- মালয়েশিয়া

প্রকাশকাল: ১৪৩১ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৩

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৯ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ১)
الخطاب القرآني لأهل الكتاب وموقفهم منه قديماً وحديثاً

 

هود محمد منصور قُباص أبوراس

 

بحث مقدم لنيل درجة الدكتوراه

 

قسم القرآن والحديث

أكاديمية الدراسات الإسلامية

جامعة ملايا

كوالالمبور-ماليزيا

2011 م
আহলে কিতাবের প্রতি কুরআনি সম্বোধন এবং এর প্রতি তাদের প্রাচীন ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি

 

হুদ মুহাম্মদ মানসুর কুবাস আবু রাস

 

ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য উপস্থাপিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ

 

কুরআন ও হাদিস বিভাগ

একাডেমি অব ইসলামিক স্টাডিজ

মালায়া বিশ্ববিদ্যালয়

কুয়ালালামপুর-মালয়েশিয়া

২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২)
(Quranic Message to the People of the Book and their Stance in the Past and Present)

 

Hood mohmmed mansoor qabas aboras

 

Department of Al-Quran dan Al-Hadith

Akademi Pengajian Islam

Universiti Malaya

Kuala Lumpur Malaysia

2011
(আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনিক বার্তা এবং অতীত ও বর্তমানে তাদের অবস্থান)

 

হুদ মুহাম্মদ মানসুর কাবাস আবোরাস

 

আল-কুরআন ও আল-হাদিস বিভাগ

ইসলামি শিক্ষা একাডেমি

ইউনিভার্সিটি মালায়া

কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া

২০১১
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩)
{يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَنْ يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ}. [المائدة: 15 - 17].
{হে আহলে কিতাব! অবশ্যই তোমাদের নিকট আমাদের রাসূল এসেছেন, যিনি কিতাবের এমন অনেক বিষয় তোমাদের কাছে প্রকাশ করছেন যা তোমরা গোপন করতে এবং অনেক বিষয় তিনি উপেক্ষা করেন। অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট একটি জ্যোতি ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যে তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তিনি নিজ অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন মারইয়াম পুত্র মসীহ। আপনি বলুন, যদি আল্লাহ মারইয়াম পুত্র মসীহকে, তার মাতাকে এবং জমিনে যারা আছে তাদের সকলকে ধ্বংস করতে চান, তবে আল্লাহর বিপরীতে কারো কি সামান্যতম ক্ষমতা আছে? আর আসমানসমূহ, জমিন ও এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সবকিছুর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং আল্লাহ সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।} [আল-মায়িদাহ: ১৫ - ১৭]।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৪)
UNIVERSITI MALAYA

ORIGINAL LITERARY WORK DECLARATION

 

Name of candidate: hood mohammed (I.C/Passport No: … )

Registration/Matric No: IHA

Name of degree: PhD

Title of Project Paper/Research Report/Dissertation/Thesis ("this Work"):

الخطاب القرآني لأهل الكتاب وموقفهم منه قديماً وحديثاً

Field of Study:

I do solemnly and sincerely declare that:

1) I am the sole author/writer of this Work;

2) This Work is original;

3) Any use of any work in which copyright exists was done by way of fair dealing and for permitted purposes and any excerpt or extract from، or reference to or reproduction of any copyright work has been disclosed expressly and sufficiently and the title of the Work and its authorship have been acknowledged in this Work;

4) I do not any actual knowledge nor do I ought reasonably to know that the making of this work constitutes an infringement of any copyright work;

5) I hereby assign all and every rights in the copyright to this Work to the University Malaya ("UM")، who henceforth shall be owner of the copyright in this Work and that any reproduction or use in any form or any means whatsoever is prohibited without the written consent of UM having been first had and obtain;

6) I am fully aware that if in the course of making this Work I have infringed any copyright whether intentionally or otherwise، I may be subject to legal action or any other action as may be determined by UM.

 

Candidate's Signature … Date

 

Subscribed and solemnly declared before،

 

Witness's Signature … Date

Name:

Designation:
ইউনিভার্সিটি মালায়া

মৌলিক সাহিত্যকর্মের ঘোষণা

 

প্রার্থীর নাম: হুদ মোহাম্মদ (পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট নং: … )

রেজিস্ট্রেশন/মেট্রিক নং: আইএইচএ

ডিগ্রির নাম: পিএইচডি

প্রকল্প পত্র/গবেষণা প্রতিবেদন/প্রবন্ধ/থিসিসের শিরোনাম ("এই কাজ"):

আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনের সম্বোধন এবং এর প্রতি তাদের প্রাচীন ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি

অধ্যয়নের ক্ষেত্র:

আমি গাম্ভীর্যের সাথে এবং আন্তরিকভাবে ঘোষণা করছি যে:

১) আমিই এই কাজের একমাত্র লেখক/রচয়িতা;

২) এই কাজ মৌলিক;

৩) কপিরাইট বিদ্যমান এমন কোনো কাজের ব্যবহার ন্যায্য লেনদেন এবং অনুমোদিত উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং কোনো উদ্ধৃতি বা সারাংশ, অথবা কোনো কপিরাইটযুক্ত কাজের রেফারেন্স বা পুনরুৎপাদন স্পষ্টভাবে এবং পর্যাপ্তভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং কাজের শিরোনাম ও তার লেখকত্ব এই কাজে স্বীকৃত হয়েছে;

৪) আমার প্রকৃত কোনো জ্ঞান নেই এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে জানার কথাও নেই যে এই কাজটি সম্পাদন কোনো কপিরাইট কাজের লঙ্ঘন বলে গণ্য হয়;

৫) আমি এতদ্বারা এই কাজের কপিরাইটের সমস্ত এবং প্রতিটি অধিকার ইউনিভার্সিটি মালায়াকে ("ইউএম") প্রদান করছি, যারা এখন থেকে এই কাজের কপিরাইটের মালিক হবে এবং ইউএম-এর লিখিত সম্মতি পূর্বে গ্রহণ করা ব্যতিরেকে যে কোনো আকারে বা যে কোনো উপায়ে এর যে কোনো পুনরুৎপাদন বা ব্যবহার নিষিদ্ধ;

৬) আমি পূর্ণ সচেতন যে এই কাজ করার সময় যদি আমি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অন্য কোনোভাবে কোনো কপিরাইট লঙ্ঘন করে থাকি, তবে আমি আইনি ব্যবস্থা বা ইউএম কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারি।

 

প্রার্থীর স্বাক্ষর … তারিখ

 

সাক্ষাতে স্বাক্ষরিত এবং গাম্ভীর্যের সাথে ঘোষিত,

 

সাক্ষীর স্বাক্ষর … তারিখ

নাম:

পদবি:
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৫)
ABSTRAK TESIS

Kajian ini bertujuan menganalisis nas-nas Al-Quran yang ditujukan kepada ahli kitab yang terdahulu dan sekarang، serta menerangkan pendirian mereka terhadap nas-nas tersebut. Pendekatan Deskriptif dan Induktif telah digunakan، dimana tersebut telah dianalisis untuk mengenal pasti fakta dan fenomena yang berkaitan. Hasil kajian ini telah memperolehi beberapa fakta berikut: Teks Al-Quran adalah ditujukan kepada seluruh manusia di dunia ini telah menghuraikan seluruh aspek yang berkaitan dengan ahli kitab، dan ia telah menunjukkan jalan penyelesaian yang mudah bagi segala masalah mereka. Kajian juga mendapati bahawa ahli kitab sekarang mempunyai persamaan dengan ahli kitab yang terdahulu dari segi agama، akhlak dan tingkah laku. Mereka juga mempunyai pendirian yang negatif terhadap Al-Quran، sebab itulah mereka tidak mematuhi segala suruhan Allah Didapati juga Yahudi dan Nasrani masa kini lebih sesat berbanding moyang-moyang mereka terdahulu، sama ada dalam aspek syirik، mencela para nabi، memungkiri janji، dan bersikap melampau. Hasil kajian juga mendapati bahawa Yahudi dan Nasrani hingga hari ini masih mengubah teks Injil dan Taurah mereka، ini menyebabkan timbulnya perselisihan dan permusuhan di antara mereka. Injil dan Taurah mereka juga bercanggah dengan penemuan sains، berbeza dengan Al-Quran yang dijamin pemeliharaannya hingga kiamat oleh Allah S.W.T. walaupun mereka cuba untuk mengubahnya، tetapi gagal.

Kajian juga mendapati bahawa orang awam ahli kitab telah dipesongkan oleh pendita-pendita mereka، serta memburukkan kepada mereka agama Islam، hingga ramai yang hidup ateisme dan sekular. Sebenarnya mereka memerlukan dakwah lslamiah yang sejati، yang menerangkan kepada mereka tentang hakikat dan kepentingan Islam، agama seluruh para nabi dan rasul.
থিসিসের সারসংক্ষেপ

এই গবেষণার লক্ষ্য হলো পূর্ববর্তী ও বর্তমান আহলে কিতাবদের প্রতি সম্বোধিত কুরআনের বাণীসমূহ বিশ্লেষণ করা এবং সেই সব বাণীর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করা। এই গবেষণায় বর্ণনামূলক ও আরোহী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিষয়াবলী চিহ্নিত করার জন্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই গবেষণার মাধ্যমে নিম্নোক্ত তথ্যগুলো পাওয়া গেছে: কুরআনের বাণীসমূহ এই বিশ্বের সমস্ত মানুষের প্রতি সম্বোধিত, যা আহলে কিতাব সংশ্লিষ্ট সকল দিক বিস্তারিত বর্ণনা করেছে এবং তাদের সকল সমস্যার সহজ সমাধানের পথ প্রদর্শন করেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, বর্তমানের আহলে কিতাবদের সাথে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের ধর্মীয়, নৈতিক এবং আচরণগত দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে। কুরআনের প্রতি তাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, আর একারণেই তারা আল্লাহর সকল আদেশ পালন করে না। আরও দেখা গেছে যে, বর্তমান যুগের ইহুদি ও নাসারারা তাদের পূর্বপুরুষদের তুলনায় অধিক পথভ্রষ্ট, তা শিরক, নবীদের নিন্দা করা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং সীমালঙ্ঘন করার ক্ষেত্রেই হোক না কেন। গবেষণার ফলাফলে আরও দেখা গেছে যে, ইহুদি ও নাসারারা আজও তাদের ইঞ্জিল ও তাওরাতের পাঠ্য পরিবর্তন করে চলেছে, যা তাদের মধ্যে বিরোধ ও শত্রুতার সৃষ্টি করছে। তাদের ইঞ্জিল ও তাওরাত বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথেও সাংঘর্ষিক, পক্ষান্তরে আল-কুরআন এমন এক কিতাব যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন; তারা এটি পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, আহলে কিতাবদের সাধারণ মানুষ তাদের ধর্মযাজকদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছে এবং তাদের সামনে ইসলাম ধর্মকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে তাদের অনেকে নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতায় জীবন অতিবাহিত করছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের জন্য এমন বিশুদ্ধ ইসলামী দাওয়াতের প্রয়োজন, যা তাদের সামনে ইসলামের হাকিকত ও গুরুত্ব এবং এটি যে সকল নবী ও রাসূলদের ধর্ম তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করবে।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৬)
Abstract

The study discussed the Quranic discourses that bounded for the people of the book in the ancient and modern ages. It aimed to clarify their positions from those discourses، approach them to the obviously true way of Allah، and obey His commands and prohibitions. The study used the analytical and inductive methods; it studied the Quranic discourses in substantive analytical method to see its related phenomena. The study came out with several finding: It assured that Quranic discourses are universal and comprehensive for all human kind; it addressed all significant sorts which related to people of the book، and it also found the suitable solutions for their problems easily. The study showed that the beliefs of people of the book in modern age are same with the beliefs of their ancestors in term of treatments and behaviors; it found that the positions of Quranic discourses were negative attitude، they did not accomplish their commitments towards the God، that led the descendents of Jews and Christians in modern age more worst than their ancestors in terms of shirk، revenge from the messengers، denunciation of the covenant، exaggeration، distortion and sedition to their generation. The study also showed that the people of book practice the distortion and hiding books until these day; these distortions created the enmity and hatred among themselves that show a contradictory in their book with modern sciences in term of its context and content. Unlike the Holy Quran; it's the true word of Allah that He promised to save until the judgment day.

However the people of the book attempted to distort the Quran، but their attempts failed utterly. The study also showed that the ordinary people of the book received their religion erroneously from their rabbis and monks، as well as they received Islam that led most of them to leave the spirit of belonging to any religion; they moved to atheism and secularism. Today، they need a pure Islamic approach to clarify for them the real Islam، expose to them the greatness of Islam، emphasize that Islam is eternal religion of God and religion of all messengers and prophets.
সারসংক্ষেপ

গবেষণাটি প্রাচীন ও আধুনিক যুগে আহলে কিতাবদের প্রতি নির্দেশিত কুরআনিক সম্বোধনসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে। এর লক্ষ্য ছিল সেই সব সম্বোধনের প্রেক্ষিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা, আল্লাহর সুস্পষ্ট সত্য পথের দিকে তাদের আহ্বান করা এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। গবেষণাটি বিশ্লেষণধর্মী ও আরোহী পদ্ধতি ব্যবহার করেছে; এটি সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি পর্যালোচনার জন্য বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতিতে কুরআনিক সম্বোধনগুলো অধ্যয়ন করেছে। গবেষণাটি বেশ কিছু ফলাফলে উপনীত হয়েছে: এটি নিশ্চিত করেছে যে, কুরআনিক সম্বোধনগুলো বিশ্বজনীন এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য ব্যাপক; এটি আহলে কিতাব সংশ্লিষ্ট সকল গুরুত্বপূর্ণ দিককে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অত্যন্ত সহজভাবে তাদের সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পেয়েছে। গবেষণাটি দেখিয়েছে যে, আচরণ ও আচরণের ক্ষেত্রে আধুনিক যুগের আহলে কিতাবদের বিশ্বাস তাদের পূর্বপুরুষদের বিশ্বাসের অনুরূপ; এটি দেখতে পেয়েছে যে, কুরআনিক সম্বোধনের প্রতি তাদের অবস্থান ছিল নেতিবাচক, তারা আল্লাহর প্রতি তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করেনি, যার ফলে আধুনিক যুগের ইহুদি ও খ্রিস্টান বংশধররা শিরক, রাসুলদের প্রতি প্রতিহিংসা, অঙ্গীকার ভঙ্গ, বাড়াবাড়ি, বিকৃতি এবং তাদের প্রজন্মের মধ্যে ফিতনা ছড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের চেয়েও জঘন্য হয়ে উঠেছে। গবেষণাটি আরও দেখিয়েছে যে, আহলে কিতাবরা আজও কিতাব বিকৃতি এবং তা গোপন করার চর্চা অব্যাহত রেখেছে; এই বিকৃতিগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা তৈরি করেছে, যা বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপটের দিক থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে তাদের কিতাবের বিরোধকে ফুটিয়ে তোলে। পবিত্র কুরআনের বিষয়টি ভিন্ন; এটি আল্লাহর সত্য বাণী যা তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যদিও আহলে কিতাবরা কুরআন বিকৃত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। গবেষণাটি আরও দেখিয়েছে যে, আহলে কিতাবদের সাধারণ মানুষ তাদের যাজক ও সন্ন্যাসীদের কাছ থেকে ভুলভাবে তাদের ধর্ম গ্রহণ করেছে, একইভাবে তারা ইসলাম সম্পর্কেও ভুল ধারণা পেয়েছে, যা তাদের অধিকাংশকে কোনো ধর্মের প্রতি আনুগত্যের চেতনা ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে; তারা নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের দিকে ধাবিত হয়েছে। আজ তাদের সামনে প্রকৃত ইসলামকে স্পষ্ট করতে, ইসলামের মাহাত্ম্য উন্মোচন করতে এবং ইসলাম যে আল্লাহর শাশ্বত ধর্ম এবং সকল রাসুল ও নবীর ধর্ম—তা জোর দিয়ে বলার জন্য একটি বিশুদ্ধ ইসলামি কর্মপন্থা প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ملخص البحث

تناولت هذه الدراسة الخطاب القرآني الموجه لأهل الكتاب والمتعلق بسلوكهم قديماً وحديثاً، واستهدفت الدراسة بيان مواقفهم من ذلك الخطاب قديماً وحديثاً، ودعوتهم إلى منهج الله الواضح القويم، والنزول عند أمره ونهيه، وقد اتبعت في هذه الدراسة المنهج الاستقرائي التحليلي، حيث قمت بجمع الآيات القرآنية التي اشتملت على الخطاب القرآني الموجه لأهل الكتاب، ثم قمت بدراسة تلك الخطابات دراسة تحليلية موضوعية؛ لمعرفة الظواهر والأخلاق التي كان هدف الخطاب القرآني المتعلق بأهل الكتاب التحذير منها وتقويمها، وقد توصلت من خلال ذلك إلى النتائج التالية: أن الخطاب القرآني هو خطاب عالميٌّ شامل لجميع البشر، فقد تناول جميع الجوانب المتعلقة بسلوك أهل الكتاب وصفاتهم، ووصف الطرق المناسبة التي تقي منها وتدحض أكاذيب أهل الكتاب وغدرهم وأخلاقهم بأسلوب بليغ سهل ميسر، وأن معتقدات أهل الكتاب حديثاً لا تختلف عن معتقدات أسلافهم قديماً، وأنهم لا يزالون في شتى عقائدهم وعباداتهم ومعاملاتهم وأخلاقهم على ما كانوا عليه قديماً، وأن موقفهم من الخطاب القرآني كان موقفاً سلبياً؛ كونهم لم يحققوا الالتزام بما أمر الله به، فهم شر خلف لشر سلف، فالشرك والنيل من الرسل ونقض العهود والمواثيق، والغلو والتحريف تعتبر أوصافاً لازمة لهم، فهم فتنة الأجيال قديماً وحديثاً، وأن أهل الكتاب ما فتأوا يمارسون التحريف والإخفاء للكتب السماوية المنزلة عليهم إلى يومنا هذا، وهذا الأمر أوجد بينهم العداوة والبغضاء، وجعل كتبهم تخرج متناقضة شكلاً وموضوعاً مع العلم الحديث في الجوانب المختلفة، وذلك بخلاف القرآن الكريم كلام الله الحق الذي تكفل الله بحفظه إلى يوم القيامة، فباءت بالفشل الذريع كل محاولاتهم البائسة لتحريفه، وأن عوام أهل الكتاب وصلهم الدين الإلهي عموماً محرفاً مشوهاً من قبل أحبارهم ورهبانهم، وكذلك وصلهم دين الإسلام مشوهاً؛ فسبَّب ذلك لأكثرهم النفور من

التدين وترك الانتماء إلى الدين جملةً، وانتقلوا إلى الإلحاد والعلمانية اللادينية، وهم اليوم بحاجة إلى دعوة الإسلام العظيم التي تبين لهم حقيقته المثلى، وتكشف لهم أهميته العظمى، وأنه دين الله الخاتم الذي جاء به جميع رسل الله وأنبيائه عليهم السلام.
গবেষণার সারসংক্ষেপ

এই গবেষণাটি আহলে কিতাবদের প্রতি নির্দেশিত এবং তাদের অতীত ও বর্তমান আচরণের সাথে সংশ্লিষ্ট কুরআনি বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছে। গবেষণার লক্ষ্য হলো উক্ত বক্তব্যের প্রতি তাদের অতীত ও বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করা এবং তাদেরকে আল্লাহর সুস্পষ্ট ও সঠিক পথের দিকে আহ্বান জানানো এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের অনুগত করা। এই গবেষণায় আরোহী বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে আমি সেই সমস্ত কুরআনি আয়াতসমূহ সংগ্রহ করেছি যেগুলোতে আহলে কিতাবদের প্রতি সম্বোধন রয়েছে। এরপর আমি সেই বক্তব্যসমূহকে একটি বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে অধ্যয়ন করেছি; যাতে সেই সমস্ত প্রবণতা ও নৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা যায় যেগুলোকে আহলে কিতাবদের সাথে সংশ্লিষ্ট কুরআনি বক্তব্য সতর্ক করা ও সংশোধনের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে আমি নিম্নোক্ত ফলাফলসমূহ লাভ করেছি: কুরআনের বক্তব্য হলো সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি বিশ্বজনীন ও ব্যাপক বক্তব্য; এটি আহলে কিতাবদের আচরণ ও বৈশিষ্ট্য সংশ্লিষ্ট সকল দিক নিয়ে আলোচনা করেছে এবং একটি সাবলীল ও সহজবোধ্য অলঙ্কারপূর্ণ শৈলীতে তাদের মিথ্যাচার, বিশ্বাসঘাতকতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচার এবং সেগুলো খণ্ডন করার উপযুক্ত উপায়সমূহ বর্ণনা করেছে। আধুনিক যুগের আহলে কিতাবদের বিশ্বাস তাদের পূর্বসূরিদের অতীত বিশ্বাস থেকে ভিন্ন কিছু নয়; তারা তাদের বিভিন্ন বিশ্বাস, ইবাদত, লেনদেন ও নৈতিকতায় এখনও তেমনই রয়েছে যেমনটি তারা অতীতে ছিল। কুরআনের বক্তব্যের প্রতি তাদের অবস্থান ছিল নেতিবাচক; কারণ তারা আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারেনি, ফলে তারা হলো মন্দ পূর্বসূরিদের মন্দ উত্তরসূরি। সুতরাং শিরক, রাসূলদের অবমাননা করা, অঙ্গীকার ও চুক্তি ভঙ্গ করা, চরমপন্থা এবং বিকৃতি সাধন করা তাদের জন্য অনিবার্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য, আর তারা অতীত ও বর্তমানের সকল প্রজন্মের জন্য এক বিপর্যয়। আহলে কিতাবরা তাদের প্রতি অবতীর্ণ আসমানি কিতাবসমূহে আজ পর্যন্ত বিকৃতি ও তথ্য গোপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে; এই বিষয়টিই তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ তৈরি করেছে এবং তাদের কিতাবসমূহকে বিভিন্ন দিক থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে গঠন ও বিষয়বস্তুর বিচারে স্ববিরোধী করে তুলেছে। এটি পবিত্র কুরআন তথা আল্লাহর সত্য বাণীর সম্পূর্ণ বিপরীত, যার সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন, ফলে একে বিকৃত করার জন্য তাদের সকল হীন প্রচেষ্টা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আহলে কিতাবদের সাধারণ মানুষের কাছে ঐশী দ্বীন সাধারণত তাদের পন্ডিত ও যাজকদের মাধ্যমে বিকৃত ও বিকলাঙ্গ রূপে পৌঁছেছে, একইভাবে ইসলাম ধর্মও তাদের কাছে বিকৃতভাবে পৌঁছেছে; ফলে এটি তাদের অধিকাংশের মধ্যে ধার্মিকতার প্রতি অনীহা সৃষ্টি করেছে এবং তারা সামগ্রিকভাবে ধর্মের সাথে সম্পৃক্ততা ত্যাগ করে নাস্তিকতা ও ধর্মহীন ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে ধাবিত হয়েছে। তারা আজ মহান ইসলামের দাওয়াতের মুখাপেক্ষী যা তাদের সামনে ইসলামের আদর্শ স্বরূপকে তুলে ধরবে এবং তাদের কাছে এর মহান গুরুত্ব উন্মোচন করবে যে, এটিই আল্লাহর চূড়ান্ত ধর্ম যা আল্লাহর সকল রাসূল ও নবী আলাইহিমুস সালাম নিয়ে এসেছিলেন।

(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الشكر والتقدير

أشكر الله سبحانه وتعالى أن وفقني لإتمام كتابة هذا البحث، وأسال الله أن يكتب له القبول، وأن يجعل أعمالنا خالصة لوجه الكريم، وأن يكتب لنا القبول في الأرض إنه ولي ذلك والقادر عليه، كما أتقدم بخالص شكري وتقديري لمشرفي الفاضل البروفيسور/ ذو الكفل الحاج محمد يوسف على كل ما بذله معي من جهد، وعلى سعة صدره أثناء عرضي عليه خطة البحث، وأثناء قراءته عليه فما رأيت منه إلا حسن التوجيه، وتذليل كل الصعاب أمامي حتى استطعت أن أخرج البحث بهذه الصورة، فله مني بالغ الشكر والتقدير، وأسال المولى عز وجل أن يحفظه، وأن يأخذ بيده وأمثاله إلى كل خير، وكما أتقدم بالشكر والعرفان لوالدنا الكريم الشيخ/ عبد المجيد بن عزيز الزنداني بتعليمه لنا في جامعة الإيمان خلال سبع سنوات مليئة بالخير والعطاء، وغرس في نفوسنا معاني الإيمان والإخاء نسأل الله أن يتولاه بحفظه، وأن يبارك له في عمره، وكما أتقدم بالشكر والتقدير لقسم القرآن والحديث في جامعة ملايا على قبولهم لنا بالدراسة لديهم، وأسال الله أن يوفقنا وإياهم إلى كل خير، وأن يوفقنا جميعاً إلى ما فيه رضاه، ولا أنسى شكري وتقديري للأخوين الفاضليين الشيخ محمد قاسم كرش والشيخ محمد أحمد النهاري اللذين بذلا معي جهديهما الواسع في مراجعة هذا البحث وإصلاحه.
কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন

আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাকে এই গবেষণা কর্মটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এটি কবুল করেন এবং আমাদের সকল আমলকে একান্তই তাঁর মহান চেহারার জন্য নিবেদিত করেন। আর তিনি যেন জমিনে আমাদের জন্য কবুলিয়াত লিখে দেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বশক্তিমান। পাশাপাশি আমি আমার শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. জুলকিফলি আল-হাজ মুহাম্মদ ইউসুফের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, তিনি আমার জন্য যে শ্রম দিয়েছেন এবং গবেষণার রূপরেখা পেশ করার সময় ও তা পাঠকালে যে প্রশস্ত হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য। আমি তাঁর থেকে সর্বদা উত্তম দিকনির্দেশনা এবং সকল বাধা সহজ করে দেওয়ার অভিজ্ঞতাই লাভ করেছি, যার ফলে আমি এই গবেষণাটি এই রূপে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাঁর প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। আমি মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁকে হিফাজত করেন এবং তাঁর ও তাঁর মতো ব্যক্তিদের হাত ধরে সকল কল্যাণের দিকে পরিচালিত করেন। সেই সাথে আমি আমাদের সম্মানিত পিতা শায়খ আবদুল মাজিদ বিন আজিজ আল-জিন্দানির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি ঈমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত বছর ধরে আমাদের পাঠদানের জন্য, যা ছিল কল্যাণ ও অবদানে সমৃদ্ধ এবং আমাদের অন্তরে ঈমান ও ভ্রাতৃত্বের মর্মার্থ গেঁথে দেওয়ার জন্য; আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে তাঁর হেফাজতে রাখেন এবং তাঁর হায়াতে বরকত দান করেন। তদ্রূপ আমি মালায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও হাদিস বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাদের অধীনে আমাদের অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়ার জন্য। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং তাদেরকে সকল কল্যাণের তৌফিক দান করেন এবং আমাদের সকলকে তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করার তাওফিক দেন। এছাড়া আমি দুই সম্মানিত ভাই শায়খ মুহাম্মদ কাসেম কারাশ এবং শায়খ মুহাম্মদ আহমদ আন-নাহারিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলছি না, যারা এই গবেষণাটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের ক্ষেত্রে আমার সাথে ব্যাপক শ্রম দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الإهداء

إلى من أمرني الله بطاعتهما، وأمرني بالإحسان إليهما، وأمرني أن أدعوا لهما أن يرحمهما كما ربياني صغيراً ........ أبي رحمه الله وأسكنه فسيح جناته، وأمي حفظها الله وأطال في عمرها.

إلى الغالية التي وقفت بجانبي، وأعانتني على إكمال هذا البحث، وساندتني معنوياً ..... زوجتي وشريكة حياتي.

 

إلى الكرام الذين أعانوني أثناء دراستي، وقدموا لي النصح والمشورة … إخوتي وأخواتي.

 

إلى الأمل المشرق الذي أسال الله أن يحفظهم ويرعاهم في حياتي وبعد موتي ....... بناتي وأبنائي.

 

إلى كل من أرشدني ورباني وعلمني ولو مسألة واحدة ..... مشائخي … وزملائي.

إلى الجميع أهدي هذا البحث المتواضع ، سائلاً المولى عز وجل أن يكتب لنا القبول عنده، وأن يكتب لنا القبول بين عباده، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم.

 

هود محمد منصور

كوالالمبور-ماليزيا

1431 هـ-2011 م
উৎসর্গ

তাঁদের প্রতি, যাঁদের আনুগত্য করার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তাঁদের প্রতি সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর নির্দেশ দিয়েছেন আমি যেন তাঁদের জন্য এই বলে দোয়া করি—হে আমার রব, আপনি তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন ........ আমার পিতা, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে স্থান দান করুন; এবং আমার মা, আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন এবং তাঁর দীর্ঘায়ু দান করুন।

সেই প্রিয়তমার প্রতি, যিনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেছেন এবং আমাকে মানসিকভাবে সমর্থন যুগিয়েছেন ..... আমার স্ত্রী ও জীবনসঙ্গিনী।

 

সেই সকল সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি, যাঁরা আমার অধ্যয়নকালীন আমাকে সাহায্য করেছেন এবং আমাকে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান করেছেন … আমার ভাই ও বোনেরা।

 

সেই উজ্জ্বল আশার প্রতি, যাঁদের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমার জীবনে এবং আমার মৃত্যুর পর তাঁদের হিফাজত ও দেখাশোনা করেন ....... আমার কন্যারা ও পুত্ররা।

 

ঐ প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি, যিনি আমাকে পথ দেখিয়েছেন, গড়ে তুলেছেন এবং শিক্ষা দিয়েছেন, হোক তা একটি মাত্র মাসআলা ..... আমার শায়খগণ … ও সহকর্মীবৃন্দ।

সকলের প্রতি আমি আমার এই বিনম্র গবেষণাটি উৎসর্গ করছি; মহান রবের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন এটি তাঁর নিকট কবুল করেন এবং তাঁর বান্দাদের মাঝে এর গ্রহণযোগ্যতা দান করেন, আর একে যেন একমাত্র তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন।

 

হুদ মুহাম্মদ মানসুর

কুয়ালালামপুর-মালয়েশিয়া

১৪৩১ হিজরী-২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تقديم القاضي العلامة محمد بن إسماعيل العمراني
আল-কাজী আল-আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানী-এর উপস্থাপনা
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌مقدمة البحث، وفيها:

التمهيد.

مشكلة البحث.

التساؤلات.

أهداف البحث.

فرضيات البحث.

منهجية البحث.

أسباب اختيار الموضوع.

الدراسات السابقة.

هيكل البحث.
গবেষণার ভূমিকা, এতে রয়েছে:

উপক্রমণিকা।

গবেষণার সমস্যা।

জিজ্ঞাসাসমূহ।

গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ।

গবেষণার প্রকল্পসমূহ।

গবেষণার পদ্ধতি।

বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ।

পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ।

গবেষণার কাঠামো।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المقدمة:

الحمد لله رب العالمين، نحمده تعالى ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد:

فإن الله تعالى لما أرسل رسله عليهم أفضل الصلاة والسلام أيدهم بالبينات والمعجزات الواضحة التي بسببها آمن الناس برسالتهم، وأنزل معهم الكتاب ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه، قال تعالى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} (1).

فموسى عليه السلام أرسله الله إلى بني إسرائيل، وأنزل معه التوراة فيها حكم الله، فحكم بها المؤمنون فنالوا بذلك رضوان الله، ثم خلف من بعدهم خلف انحرفوا عن الطريق، وحرفوا الكتاب، وضيعوا الميثاق، فحل بهم غضب الله. قال تعالى: {فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا الأدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِن يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مُّثْلُهُ يَأْخُذُوهُ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِم مِّيثَاقُ الْكِتَابِ أَن لَاّ يِقُولُوا عَلَى اللهِ إِلَاّ الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ وَالدَّارُ الآخِرَةُ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} (2).

وأرسل الله سبحانه وتعالى عيسى عليه السلام إلى بني إسرائيل، وأنزل معه الإنجيل ليحكم بين الناس بالحق، ومؤكداً لصدق رسالة موسى عليه السلام المتمثلة في التوراة، فحكم به المؤمنون فنالوا رضوان الله، وحرفه المغالون، وزادوا فيه حتى جعلوا عيسى عليه السلام إلهاً مع الله، فحلت بهم النقمة والتفرق والاختلاف، ولم يفارقهم عيسى عليه السلام حينما أراد اليهود قتله لكن الله رفعه إلى السماء وقد بشرهم بمجيء الرسول الخاتم محمد صلى الله عليه وسلم الذي يكشف لهم ما وقع في كتبهم من الخلاف والتحريف، فجاءت بعد ذلك فترة انقطاع للوحي والرسل، فاختلف فيها الناس فيما بينهم، وكثرت النزاعات، وأصبحت البشرية بلا دستور ينظم شؤون حياتها، ويربطها بخالقها؛ لتعود إلى فطرتها التي فطرها الله عليها، فأرسل الله بعد ذلك خاتم الأنبياء والمرسلين محمد صلى الله عليه وسلم إلى الناس كافة، وأنزل معه القرآن الكريم ليبين لهم الذي اختلفوا فيه، وليكشف لهم حقيقة الاختلاف والتحريف الذي اُرتكب في كتبهم من قبل أحبارهم ورهبانهم، ويبين لهم ما أخفوه من الآيات والأحكام، ليجتمع الناس بذلك على كلمة سواء في

--------------------------------------------

(1) سورة الحديد الآية: (25).

(2) سورة الأعراف الآية: (169).
ভূমিকা:

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছেই হেদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

মহান আল্লাহ যখন তাঁর রাসূলগণকে (তাঁদের ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রেরণ করেছেন, তখন তাঁদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও মুজিযা দিয়ে শক্তিশালী করেছেন যার কারণে মানুষ তাঁদের রিসালাতের ওপর ঈমান এনেছে। তিনি তাঁদের সাথে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ লিপ্ত হতো তার ফয়সালা করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন: "অবশ্যই আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।" (১)।

অতঃপর মূসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ বনী ইসরাঈলের নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁর সাথে তাওরাত অবতীর্ণ করেন যাতে আল্লাহর বিধান ছিল। মুমিনগণ তা দিয়ে ফয়সালা করতেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতেন। অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব ঘটে যারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, কিতাব বিকৃত করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, ফলে তাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ নেমে আসে। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তাদের পরে এমন এক উত্তরসূরিরা আসলো যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হলো; তারা এই তুচ্ছ পার্থিব সম্পদ গ্রহণ করে এবং বলে, আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যদি তাদের সামনে অনুরূপ সম্পদ উপস্থিত হয় তবে তাও তারা গ্রহণ করে। তাদের থেকে কি কিতাবের এই অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা কিতাবে যা আছে তা পাঠ করেছে। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালীন নিবাসই উত্তম। তোমরা কি অনুধাবন করবে না?" (২)।

এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বনী ইসরাঈলের নিকট ঈসা আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করেন এবং মানুষের মাঝে সত্যের মাধ্যমে ফয়সালা করার জন্য তাঁর সাথে ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেন, যা মূসা আলাইহিস সালামের আনীত তাওরাতের বার্তার সত্যতা নিশ্চিতকারী ছিল। মুমিনগণ তা দিয়ে ফয়সালা করতেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতেন। কিন্তু বাড়াবাড়িকারীরা তা বিকৃত করে ফেলে এবং এতে অনেক কিছু বৃদ্ধি করে, এমনকি তারা ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর সাথে ইলাহ বানিয়ে নেয়। ফলে তাদের ওপর নেমে আসে আজাব, বিচ্ছিন্নতা ও দলাদলি। ইয়াহূদীরা যখন ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিল, তখন তিনি তাদের ছেড়ে চলে যাননি, বরং আল্লাহ তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। আর তিনি তাদের কাছে সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, যিনি তাদের কিতাবে ঘটে যাওয়া বিরোধ ও বিকৃতিগুলো তাদের কাছে উন্মোচন করবেন। এরপর ওহী ও রাসূল আসার ধারাবাহিকতায় এক বিরতি আসে, যে সময়ে মানুষ নিজেদের মাঝে মতভেদে লিপ্ত হয়, বিবাদ বেড়ে যায় এবং মানবজাতি এমন এক জীবনব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে যা তাদের জীবন পরিচালনা করবে এবং তাদের স্রষ্টার সাথে সম্পৃক্ত করবে; যাতে তারা সেই ফিতরাতের (প্রকৃতি) দিকে ফিরে আসে যার ওপর আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আল্লাহ সমগ্র মানবজাতির নিকট সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেন এবং তাঁর সাথে কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ করেন যাতে তাদের মধ্যকার মতভেদগুলো স্পষ্ট করে দেওয়া হয় এবং তাদের আহবার (পণ্ডিত) ও রহবানদের (পুরোহিত) দ্বারা তাদের কিতাবে সম্পাদিত বিকৃতি ও বিরোধের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করা যায়। এছাড়া তিনি তাদের নিকট সেসব আয়াত ও বিধান স্পষ্ট করে দেন যা তারা গোপন করেছিল, যাতে মানুষ এর মাধ্যমে একটি অভিন্ন কথার ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: (২৫)।

(২) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: (১৬৯)।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২৪)
اعتقادهم مع غيرهم، وهي كلمة التوحيد، كما قال تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} (1).

فكانت رسالة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم رحمة للعالمين، وخاتمة لرسالة النبيين، وعامة لجميع البشر دون استثناء، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيراً وَنَذِيراً وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} (2) ، وقال تعالى: {مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} (3) أي: فلا نبي بعده.

فكان صلى الله عليه وسلم مصدقاً لما جاء به مَن قبله من الرسل والأنبياء، وناسخاً ومتمماً لشرائعهم، قال تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ} (4).

وبين الله لعباده أنه لا يقبل من أحد ديناً غير دين الإسلام دين جميع الأنبياء والمرسلين، قال تعالى: {وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِيناً فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (5).

وقال صلى الله عليه وسلم: {وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بيده لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ من هذه الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ ولا نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ ولم يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إلا كان من أَصْحَابِ النَّار} (6).

وقد كان المتوقع من أهل الكتاب اليهود والنصارى أن يؤمنوا بمحمد رسول الله وينصروه بحسب العهد والميثاق المأخوذ عليهم؛ كونه قد بشر به أنبياؤهم في كتبهم، وذكروا لهم من صفاته وبلده وزمنه وصفات أصحابه ما يقتضي أن يعرفوه فيتبعوه؛ لكن الذي حدث من أكثرهم عكس ذلك، فإنهم ناصبوه العداء طوال حياتهم، وكذبوه وأذوه كما فعلوا بمن قبله من الرسل والأنبياء، ويشهد لذلك قصة

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران الآية: (64).

(2) سورة سبأ الآية: (28).

(3) سورة الأحزاب الآية: (40).

(4) سورة المائدة الآية: (48).

(5) سورة آل عمران الآية: (85).

(6) أخرجه مسلم، باب وجوب الإيمان برسالة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم إلى جميع الناس ونسخ الْمِلَلِ بِمِلَّتِهِ، (1/ 134) رقم: (153) المؤلف: الإمام مسلم بن الحجاج أبو الحسين القشيري النيسابوري، الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي.
অন্যদের সাথে তাদের বিশ্বাস, আর তা হলো তাওহীদের বাণী, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা এমন একটি বাণীর দিকে আসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; যেন আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করি এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করি এবং আমাদের কেউ আল্লাহকে ছেড়ে পরস্পরকে রব হিসেবে গ্রহণ না করি। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম।} (১)।

সুতরাং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত ছিল বিশ্বজগতের জন্য রহমত, নবীদের রিসালাতের সমাপ্তি এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সকল মানুষের জন্য ব্যাপক। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না} (২), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারো পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী} (৩) অর্থাৎ: তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পূর্ববর্তী রাসূল ও নবীদের আনীত বিষয়ের সত্যায়নকারী এবং তাঁদের শরীয়তসমূহের রহিতকারী ও পূর্ণতাদানকারী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর রক্ষক} (৪)।

আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি ইসলাম ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে কোনো দ্বীন কবুল করবেন না, যা সকল নবী ও রাসূলদের দ্বীন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তা কখনোই তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (৫)।

এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, এই উম্মতের যে কেউ—সে ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান—আমার কথা শুনবে, অতঃপর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (৬)।

আহলে কিতাব ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে এটিই প্রত্যাশিত ছিল যে, তারা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের প্রতি ঈমান আনবে এবং তাদের থেকে নেওয়া অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁকে সাহায্য করবে; যেহেতু তাদের নবীরা তাদের কিতাবসমূহে তাঁর সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং তাদের কাছে তাঁর গুণাবলি, তাঁর শহর, তাঁর সময় এবং তাঁর সাহাবীদের গুণাবলি এমনভাবে বর্ণনা করেছিলেন যা তাদের তাঁকে চিনে নিতে এবং তাঁর অনুসরণ করতে বাধ্য করত; কিন্তু তাদের অধিকাংশের পক্ষ থেকে যা ঘটেছে তা ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা তাঁর সারা জীবন তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে এবং তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে ও কষ্ট দিয়েছে, যেমনটি তারা তাঁদের পূর্ববর্তী রাসূল ও নবীদের সাথে করেছিল। এর সাক্ষ্য দেয় সেই গল্প...

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: (৬৪)।

(২) সূরা সাবা, আয়াত: (২৮)।

(৩) সূরা আহযাব, আয়াত: (৪০)।

(৪) সূরা মায়িদাহ, আয়াত: (৪৮)।

(৫) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: (৮৫)।

(৬) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের ওপর সকল মানুষের ঈমান আনার আবশ্যকতা এবং তাঁর মিল্লাতের মাধ্যমে অন্যান্য ধর্ম রহিত হওয়া, (১/ ১৩৪) নম্বর: (১৫৩) লেখক: ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ আবু আল-হুসাইন আল-কুশাইরি আন-নিশাবুরি, প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি - বৈরুত, তাহকীক: মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২৫)
ياسر بن أخطب وأخيه حيي بن أخطب (1) عندما سمعا بمجيء النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة وأتياه ليتبينا صفاته، فوجداه كما وُصف في كتبهم، فقد روى ابن إسحاق أن أم المؤمنين صفية بنت حيي قالت: سمعت عمي ياسر وهو يقول لأبي حيي بن أخطب: {أهو هو.

قال: نعم والله.

قال: أتعرفه وتثبته.

قال: نعم.

قال: فما في نفسك منه.

قال: عداوته والله ما بقيت! } (2).

بل تجاوزوا ذلك إلى اتهامه بهتاناً بالضلال، ويدل على ذلك أن مجموعة من يهود بني النضير (3) قدموا على مكة كما جاء في الأثر [[فلما قدموا على قريش، قالوا: هؤلاء أحبار يهود وأهل العلم بالكتب الأولى، فاسألوهم أدينكم خير! أم دين محمد فسألوهم فقالوا: دينكم خير دين من دينه، وأنتم أهدى منه وممن اتبعه! فأنزل الله قوله تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا هَؤُلاء أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا سَبِيلاً} (4)]] (5).

وكانوا يعلمون أن القرآن الكريم هو الكتاب الحق المبين، وأنه النور الذي جاء به الصادق الأمين صلى الله عليه وسلم قال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيراً مِّمَّا كُنتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو

--------------------------------------------

(1) حيي بن أخطب النضري، أدرك الإسلام وآذى المسلمين، فأسروه يوم قريظة، ثم قتلوه. انظر: البداية والنهاية، (3/ 212) المؤلف: أبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي، الناشر: مكتبة المعارف بيروت بلا تاريخ طبعة.

(2) انظر: السيرة النبوية لابن هشام، (3/ 53) المؤلف: عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري المعافري أبو محمد، الناشر: دار الجيل بيروت الطبعة: الأولى، عام 1411 هـ، تحقيق: طه عبد الرءوف سعد، ودلائل النبوة للبيهقي (2/ 533) تحقيق: وثق أصوله وخرج أحاديثه وعلق عليه الدكتور: عبد المعطي قلعجي، الناشر: دار الكتب العلمية ـ ودار الريان للتراث، الطبعة الأولى عام (1408 هـ / 1988 م) ، والخصائص الكبرى للسيوطي، (ص: 326) المؤلف: أبو الفضل جلال الدين عبد الرحمن أبي بكر السيوطي، الناشر: دار الكتب العلمية بيروت 1405 هـ 1985 م.

(3) روي عن ابن عباس رضي الله عنه أنهم: حيي بن أخطب، وسلام بن أبي الحقيق، وأبو رافع، والربيع بن أبي الحقيق، وأبو عمارة، وهوذه بن قيس، انظر: لباب النقول في أسباب النزول، (ص: 71) المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد السيوطي، الناشر: دار إحياء العلوم بيروت.

(4) سورة النساء الآية: (51).

(5) انظر: لباب النقول في أسباب النزول، (ص: 71) نفس المصدر.
ইয়াসির বিন আখতাব এবং তার ভাই হুয়াই বিন আখতাব (১) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় আগমনের কথা শুনলেন এবং তাঁর গুণাবলি যাচাই করার জন্য তাঁর নিকট আসলেন, তখন তাঁরা তাঁকে তাঁদের কিতাবসমূহে বর্ণিত গুণের অনরূপই পেলেন। ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, উম্মুল মুমিনীন সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই বলেছেন: আমি আমার চাচা ইয়াসিরকে আমার পিতা হুয়াই বিন আখতাবকে বলতে শুনেছি: "তিনি কি সেই ব্যক্তি?

তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ।

তিনি বললেন: আপনি কি তাঁকে চিনতে পেরেছেন এবং নিশ্চিত হয়েছেন?

তিনি বললেন: হ্যাঁ।

তিনি বললেন: তাহলে তাঁর ব্যাপারে আপনার মনে কী আছে?

তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি যতদিন বেঁচে আছি তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করব!" (২)।

বরং তারা এর সীমা অতিক্রম করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদের মাধ্যমে পথভ্রষ্টতার দোষারোপ পর্যন্ত করল। এর প্রমাণ হলো বনু নাজিরের (৩) একদল ইহুদি মক্কায় এসেছিল যেমনটি আছারে বর্ণিত হয়েছে [[যখন তারা কুরাইশদের নিকট পৌঁছাল, তারা (কুরাইশরা) বলল: এরা হলো ইহুদি আলেম এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের বিজ্ঞজন। অতএব তাদের জিজ্ঞাসা করো যে, তোমাদের ধর্ম কি শ্রেষ্ঠ? নাকি মুহাম্মদের ধর্ম? সুতরাং তারা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল: তোমাদের ধর্মই তাঁর ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, এবং তোমরাই তাঁর এবং তাঁর অনুসারীদের চেয়ে অধিক সঠিক পথে আছ! তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণী অবতীর্ণ করেন: {তুমি কি তাদের দেখোনি যাদের কিতাবের এক অংশ দেওয়া হয়েছে, তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং কাফিরদের সম্পর্কে বলে যে, তারা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথে রয়েছে} (৪)]] (৫)।

তারা জানত যে পবিত্র কুরআন হলো সত্য ও সুস্পষ্ট কিতাব এবং এটিই সেই নূর যা সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে এসেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {হে আহলে কিতাবগণ, তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন, তিনি কিতাবের এমন অনেক বিষয় তোমাদের কাছে স্পষ্ট করছেন যা তোমরা গোপন করতে আর তিনি অনেক কিছু মার্জনা করেন...

--------------------------------------------

(১) হুয়াই বিন আখতাব আন-নাদরি, তিনি ইসলামের যুগ পেয়েছিলেন কিন্তু মুসলিমদের কষ্ট দিতেন। অতঃপর কুরাইজা যুদ্ধের দিন তারা তাঁকে বন্দি করে এবং পরে তাঁকে হত্যা করা হয়। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, (৩/ ২১২) লেখক: আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির আল-কুরাশি, প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ বৈরুত, তারিখবিহীন সংস্করণ।

(২) দেখুন: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ লি ইবনি হিশাম, (৩/ ৫৩) লেখক: আবদুল মালিক বিন হিশাম বিন আইয়ুব আল-হিময়ারি আল-মাআফিরি আবু মুহাম্মদ, প্রকাশক: দারুল জিল বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৪১১ হিজরি, তাহকিক: তাহা আব্দুর রউফ সাদ; এবং দালায়েলুন নুবুওয়াহ লিল বায়হাকি (২/ ৫৩৩) তাহকিক: ডক্টর আব্দুল মুতি কালাজি এর মূল পাণ্ডুলিপি যাচাই, হাদিস তাখরিজ ও টীকা প্রদানকৃত, প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ এবং দারুর রায়ান লিত-তুরাছ, প্রথম সংস্করণ (১৪০৮ হিজরি / ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ); এবং আল-খাসায়েসুল কুবরা লিস-সুয়ুতি, (পৃষ্ঠা: ৩২৬) লেখক: আবুল ফজল জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান আবি বকর আস-সুয়ুতি, প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত ১৪০৫ হিজরি ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ।

(৩) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে তারা হলেন: হুয়াই বিন আখতাব, সাল্লাম বিন আবিল হুকাইক, আবু রাফি, রাবি বিন আবিল হুকাইক, আবু আম্মারা এবং হাওজাহ বিন কায়েস। দেখুন: লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযুল, (পৃষ্ঠা: ৭১) লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ আস-সুয়ুতি, প্রকাশক: দারু ইহয়াইল উলুম বৈরুত।

(৪) সূরা আন-নিসা আয়াত: (৫১)।

(৫) দেখুন: লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযুল, (পৃষ্ঠা: ৭১) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২৬)
عَن كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيم} (1).

ولذلك فقد خاطب الله تعالى أهل الكتاب في كتابه بخطابات كثيرة تتعلق بجوانب متعددة في التوحيد، والإيمان، وفي العبادات، والمعاملات، والأخلاق، وغير ذلك من آيات الخطاب التي تحدثت عن طبيعتهم قديماً وحديثاً، وبينت مواقفهم السابقة واللاحقة في تعاملهم مع ربهم، ومع ما جاء به رسلهم؛ حتى يكون الناس على بينة من أمرهم في التعامل معهم.

وسنقوم في البحث بجمع آيات الخطاب القرآني لأهل الكتاب، ونقوم بتقسيمها إلى مواضيع رئيسة، ثم نبين ما قاله أهل العلم والتفسير فيها، ونقوم بربطها بأهل الكتاب قديماً وحديثاً لنبين موقفهم من الخطاب القرآني، وما يتعلق به من الإيمان بالله وبالرسول، وبالكتاب حديثاً، وذلك بحسب ما ييسره الله تعالى لنا، وسيكون هذا البحث خادماً لهذا الموضوع، ومساهماً في توضيحه إن شاء الله.

 

‌‌مشكلة الدراسة:

أما المشكلة التي يعالجها البحث فهي كما يلي:

1 - يدعي بعض الناس أن التوراة والإنجيل صحيحة ولم تحرف ألفاظها، وإنما حرفت معانيها، وأن القرآن الكريم شاهد على صدقها، وأن أهل الكتاب حديثاً غير أهل الكتاب قديماً في معتقداتهم وتعاملاتهم.

2 - إلى إي مدى ينطبق الخطاب القرآني على أهل الكتاب حديثاً كما انطبق على أسلافهم قديماً، وما مدى العلاقة التي تربط بين أهل الكتاب قديماً، وأهل الكتاب حديثاً، في معتقداتهم (الأيدلوجية (2))؟

3 - ما مدى التزام أهل الكتاب حديثاً بالخطاب القرآني الموجه إليهم أمراً ونهياً، وهل تعاملوا مع ما جاء فيه إيجاباً أم سلباً.

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة الآية: (15 - 16).

(2) الايدولوجيا: هي نسق من الآراء والأفكار التي يؤمن بها الإنسان في مجالات السياسة والتشريع والأخلاق والجمال والدين والفلسفة الخ … ، انظر: مبادئ في نظرية الشعر والجمال، (ص: 204) المؤلف: عقيل الظاهري، المكتبة الشاملة الإصدار الرابع.
...অনেক বিষয় থেকে। তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। (১৫) এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর নির্দেশে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। (১)।

আর একারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আহলে কিতাবদের অনেক সম্বোধনে সম্বোধন করেছেন যা তাওহিদ, ঈমান, ইবাদত, লেনদেন, নৈতিকতা এবং আরও অনেক বিষয়ের বিবিধ দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা তাদের অতীত ও বর্তমানের প্রকৃতি বর্ণনা করেছে এবং তাদের প্রতিপালক ও তাঁদের কাছে আসা রাসুলদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের অতীত ও পরবর্তী অবস্থানসমূহ স্পষ্ট করেছে; যাতে মানুষ তাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকতে পারে।

আমরা এই গবেষণায় আহলে কিতাবদের প্রতি কোরআনিক সম্বোধনের আয়াতসমূহ সংগ্রহ করব এবং সেগুলোকে প্রধান প্রধান বিষয়ে বিভক্ত করব। অতঃপর এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেম ও মুফাসসিরগণের বক্তব্য তুলে ধরব এবং সেগুলোকে প্রাচীন ও বর্তমানের আহলে কিতাবদের সাথে সম্পৃক্ত করব, যাতে কোরআনিক সম্বোধনের প্রতি তাদের অবস্থান এবং বর্তমান সময়ে আল্লাহ, রাসুল ও কিতাবের প্রতি ঈমান সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়। এটি আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য যতটা সহজ করে দেন সে অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। ইনশাআল্লাহ এই গবেষণাটি এই বিষয়ের একটি খিদমত হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি স্পষ্ট করতে অবদান রাখবে।

 

‌‌গবেষণার সমস্যা:

এই গবেষণাটি যে সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করবে তা নিম্নরূপ:

১ - কিছু লোক দাবি করে যে, তাওরাত ও ইঞ্জিল সঠিক আছে এবং এর শব্দাবলী বিকৃত করা হয়নি, বরং কেবল এর অর্থ বিকৃত করা হয়েছে। আর পবিত্র কোরআন এগুলোর সত্যতার সাক্ষী। তারা আরও দাবি করে যে, বর্তমানের আহলে কিতাবরা তাদের বিশ্বাস ও আচরণের ক্ষেত্রে প্রাচীন আহলে কিতাবদের মতো নয়।

২ - কোরআনিক সম্বোধন বর্তমানের আহলে কিতাবদের ওপর কতটুকু প্রযোজ্য যেমনটা তাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের ওপর প্রযোজ্য হয়েছিল? এবং প্রাচীন ও বর্তমানের আহলে কিতাবদের আকিদা বা আদর্শিক (২) ক্ষেত্রে সম্পর্কের মাত্রা কতটুকু?

৩ - বর্তমানের আহলে কিতাবরা তাদের প্রতি নির্দেশিত আদেশ ও নিষেধ সংবলিত কোরআনিক সম্বোধনের প্রতি কতটুকু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে তারা ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক আচরণ করেছে?

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: (১৫-১৬)।

(২) আইডিওলজি: এটি হলো কতগুলো মতাদর্শ ও চিন্তাধারার বিন্যাস যা একজন মানুষ রাজনীতি, আইন প্রণয়ন, নৈতিকতা, নন্দনতত্ত্ব, ধর্ম ও দর্শন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশ্বাস করে... দেখুন: মাবাদিউ ফি নাজারিয়্যাতিশ শি’রি ওয়াল জামাল, (পৃষ্ঠা: ২০৪), লেখক: আকিল আদ-দাহিরি, মাকতাবাতুশ শামিলা চতুর্থ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২৭)
4 - ما جدوى التعامل مع أهل الكتاب حديثاً في حواراتهم، وهل من جدوى في التعامل معهم في عهودهم ومواثيقهم! أم أنهم سينقضونها كما نقضوها مع رب العالمين، ومع رسل الله أجمعين؟ وهل علاقة النصارى في عصرنا الحديث مع اليهود لا تزال باقية كما كانت قديماً أم أنها تغيرت.

5 - هل لا يزال أهل الكتاب في عصرنا الحاضر يمارسون التحريف لما تبقى من الكتب كأسلافهم؟ وما هي الأسباب الداعية لذلك؟

6 - هل يمثل الخطاب القرآني بالنسبة لأهل الكتاب حديثاً أي تغير إذا التزموا بما جاء فيه؟

 

‌‌التساؤلات:

1 - ما موقف أهل الكتاب من رسالة محمد صلى الله عليه وسلم حينما أرسله الله تعالى، وكيف كان تعاملهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ، ومع القرآن الكريم؟

2 - ما هو موقف أهل الكتاب من الخطاب القرآني الموجه إليهم، وكيف تعاملوا معه سلباً أو إيجاباً؟

3 - كيف كان موقف الذين آمنوا من أهل الكتاب بالرسول وبالقرآن، وما هي الأسباب التي جعلتهم يؤمنوا ويصدقوا؟

4 - كيف كان موقف كافر أهل الكتاب ومعاندهم من الخطاب القرآني، وما هي الأسباب التي جعلتهم يعاندون ويكذبون، وهل الأسباب التي جعلتهم يكذبون قديماً هي الأسباب التي جعلتهم حديثاً يستمرون على كفرهم وعنادهم.

5 - ما هي الأسباب التي جعلت أهل الكتاب يقومون بتحريف الكتب السماوية قديماً، وهل لا يزال التحريف يمارس حديثاً.

أهداف البحث:

وأما الهدف من هذا البحث فانه يتمثل فيما يلي:

1 - بيان خطاب القرآن الكريم لأهل الكتاب فيما يتعلق بغلوهم في دينهم، وتحريفهم كتب ربهم، ونقضهم لعهودهم ومواثيقهم قديماً وحديثاً، وربطه بهم لمعرفة صفاتهم على حقيقتها في كل زمان ومكان.
4 - বর্তমান যুগে আহলে কিতাবদের সাথে তাদের সংলাপের ক্ষেত্রে সম্পর্কের কার্যকারিতা কী, এবং তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তির ক্ষেত্রে তাদের সাথে লেনদেন করার কোনো উপযোগিতা আছে কি? নাকি তারা এগুলোকে সেভাবেই ভঙ্গ করবে যেভাবে তারা বিশ্বজগতের প্রতিপালক এবং আল্লাহর সকল রাসুলগণের সাথে ভঙ্গ করেছিল? আর বর্তমান যুগে নাসারাদের সাথে ইহুদিদের সম্পর্ক কি আগের মতোই বিদ্যমান আছে নাকি তা পরিবর্তিত হয়েছে।

5 - বর্তমান যুগেও কি আহলে কিতাবরা তাদের পূর্বসূরিদের মতো কিতাবসমূহের অবশিষ্টাংশের বিকৃতি অব্যাহত রেখেছে? আর এর পেছনের কারণগুলো কী?

6 - কুরআনি সম্বোধন কি বর্তমান যুগে আহলে কিতাবদের জন্য কোনো পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে যদি তারা এতে যা এসেছে তা মেনে চলে?

 

‌‌জিজ্ঞাসাসমূহ:

1 - মহান আল্লাহ যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেন, তখন তাঁর রিসালাতের প্রতি আহলে কিতাবদের অবস্থান কী ছিল এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও পবিত্র কুরআনের সাথে তাদের আচরণ কেমন ছিল?

2 - আহলে কিতাবদের প্রতি নির্দেশিত কুরআনি সম্বোধনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান কী ছিল এবং তারা নেতিবাচক বা ইতিবাচকভাবে এর সাথে কেমন আচরণ করেছিল?

3 - আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা রাসুল ও কুরআনের প্রতি ঈমান এনেছিলেন তাদের অবস্থান কেমন ছিল এবং তাদের ঈমান আনা ও সত্যয়ন করার কারণগুলো কী ছিল?

4 - কুরআনি সম্বোধনের ব্যাপারে আহলে কিতাবদের মধ্যকার কাফির ও হঠকারীদের অবস্থান কেমন ছিল এবং তাদের হঠকারিতা ও মিথ্যারোপ করার কারণগুলো কী ছিল? অতীতে যে কারণগুলো তাদের মিথ্যারোপ করতে প্ররোচিত করেছিল, বর্তমান যুগেও কি সেই একই কারণগুলো তাদের কুফর ও হঠকারিতার ওপর অটল রেখেছে?

5 - অতীতে আহলে কিতাবদের আসমানি কিতাবসমূহ বিকৃত করার কারণগুলো কী ছিল এবং বর্তমানেও কি এই বিকৃতি চর্চা করা হচ্ছে?

গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:

আর এই গবেষণার উদ্দেশ্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে নিহিত:

1 - দ্বীনের ব্যাপারে আহলে কিতাবদের বাড়াবাড়ি, তাদের প্রতিপালকের কিতাবসমূহের বিকৃতি এবং অতীত ও বর্তমানে তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তি ভঙ্গের বিষয়ে তাদের প্রতি পবিত্র কুরআনের সম্বোধন স্পষ্ট করা এবং একে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করা যাতে প্রতিটি যুগে ও স্থানে তাদের প্রকৃত বৈশিষ্ট্যগুলো জানা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২৮)
2 - بيان موقف القرآن الكريم من أهل الكتاب، وتقسيمه لهم إلى مؤمن متبع، وكافر معاند، وتحذير المسلمين من التخلق بأخلاقهم المذمومة التي نهانا القرآن الكريم عنها.

3 - معرفة موقف منصفي أهل الكتاب من القرآن الكريم، ومن الرسول محمد صلى الله عليه وسلم.

4 - بيان أيدلوجية أهل الكتاب في تحريفهم للكتب السماوية السابقة بشهادة أهل الكتاب أنفسهم، وأنه لا يصح نسبتها إلى الله تعالى أو القول بأنها من كلام الله؛ لأنهم مارسوا عليها التحريف قديماً، ويمارسونه حديثاً.

5 - التأكيد أن دين الإسلام هو دين جميع الأنبياء، وأن رسالة الرسول صلى الله عليه وسلم هي للناس كافة وناسخة لما قبلها ومهيمنة عليها.

 

‌‌أهمية وجدوى هذه الدراسة:

أما أهمية دراسة الخطاب القرآني لأهل الكتاب في هذا البحث فتتجلى من خلال ما يلي:

1 - تكرار الخطاب القرآني لأهل الكتاب بألفاظه المتنوعة وأساليبه المختلفة.

2 - من خلال اهتمام الرسول صلى الله عليه وسلم بدعوتهم، والصحابة والتابعين من بعده، وبعض الدعاة المؤمنين في عصرنا الحديث.

3 - وتتجلى أهمية هذا البحث في إظهار وإبراز موقف الخطاب القرآني من أهل الكتاب، وموقف أهل الكتاب المعادي للقرآن ولما جاء فيه.

4 - هناك تصورات خاطئة من أهل الكتاب حديثاً حول فهمهم لنصوص الخطاب القرآني الموجه إليهم في إيجاده الحلول المناسبة لمشاكلهم المتراكمة؛ بسبب جهلهم بما جاء في القرآن الكريم.

5 - تجدد الدعوات التي تشكك بصدق القرآن الكريم، وتدعي أنه الكتاب المحرف، وأن محمداً صلى الله عليه وسلم هو الذي قام بتأليفه.

6 - تكرار ظاهرة الاستهزاء بالرسل من قبل الغرب بنشر الرسوم الكاريكاتيرية الساخرة، والأفلام المضللة وخاصة في السنوات الأخيرة من قبل الصحف الدنمركية، والفرنسية، والألمانية، وكذلك الأمريكية.

7 - معرفة مدى صدق الدعوات في عصرنا الحديث التي تدعوا إلى أهمية الحوار بين الحضارات، وعلى رأسها الديانات السماوية، والتي تقابل أحياناً بالقبول وأحياناً بالرفض.
২ - আহলে কিতাবদের প্রতি পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা এবং তাদেরকে অনুসারী মুমিন ও হঠকারী কাফিরে বিভক্ত করা এবং মুসলমানদেরকে তাদের সেই নিন্দনীয় চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া থেকে সতর্ক করা যা থেকে পবিত্র কুরআন আমাদের নিষেধ করেছে।

৩ - পবিত্র কুরআন এবং রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা ইনসাফকারী তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানা।

৪ - আহলে কিতাবদের নিজেদের সাক্ষ্য অনুযায়ী পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে তাদের বিকৃতির আদর্শিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা, এবং এটি যে আল্লাহ তায়ালার দিকে নিসবত করা বা আল্লাহর কালাম বলা সঠিক নয়; কারণ তারা অতীতেও এতে বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং বর্তমানেও ঘটাচ্ছে।

৫ - এই কথা সুনিশ্চিত করা যে ইসলাম ধর্মই সকল নবীর ধর্ম, এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাত সকল মানুষের জন্য এবং এটি পূর্ববর্তী সকল বিধানের রহিতকারী ও সেগুলোর ওপর প্রাবল্য বিস্তারকারী।

 

‌‌এই গবেষণার গুরুত্ব ও উপযোগিতা:

এই গবেষণায় আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনিক সম্বোধন পর্যালোচনার গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:

১ - আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনিক সম্বোধন বিভিন্ন শব্দ ও বিচিত্র পদ্ধতিতে বারবার আসা।

২ - রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরবর্তী সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীন এবং আধুনিক যুগের কিছু মুমিন দাঈদের পক্ষ থেকে তাদেরকে দাওয়াত দেওয়ার গুরুত্বের মাধ্যমে।

৩ - এই গবেষণার গুরুত্ব আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনিক সম্বোধনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কুরআনের প্রতি ও তাতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি আহলে কিতাবদের শত্রুতামূলক অবস্থান প্রকাশ ও ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে ফুটে ওঠে।

৪ - পবিত্র কুরআনে যা এসেছে সে সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে, বর্তমানে আহলে কিতাবদের মধ্যে তাদের পুঞ্জীভূত সমস্যাবলির উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পেতে তাদের প্রতি নির্দেশিত কুরআনিক সম্বোধনের পাঠগুলো বোঝার ক্ষেত্রে কিছু ভুল ধারণা বিদ্যমান।

৫ - পবিত্র কুরআনের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণকারী এবং এটি একটি বিকৃত কিতাব ও মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে এটি রচনা করেছেন বলে দাবি করা দাওয়াতগুলোর পুনরুত্থান।

৬ - পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ এবং বিভ্রান্তিকর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রাসূলদের উপহাস করার প্রবণতার পুনরাবৃত্তি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি এবং আমেরিকার সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে।

৭ - আধুনিক যুগে সভ্যতাগুলোর মধ্যে এবং প্রধানত আসমানী ধর্মগুলোর মধ্যে সংলাপের গুরুত্বের যে আহ্বান জানানো হয়, যার কোনোটি গ্রহণ করা হয় আবার কোনোটি প্রত্যাখ্যান করা হয়, তার সত্যতার মাত্রা যাচাই করা।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌منهجية البحث:

أما منهجية البحث التي اتبعتها في هذا البحث فهي على النحو التالي:

1 - المنهج الاستقرائي: الذي بدأت فيه بجمع آيات الخطاب القرآني الموجه لأهل الكتاب وقمت بدراستها ثم قمت بربطها بمواقف أهل الكتاب قديماً وحديثاً، وقد أوصلتني إلى قواعد عامة في تعامل أهل الكتاب مع خالقهم، ومع رسلهم، ومع عباد الله طوال الزمن.

2 - المنهج التحليلي: جمع آيات الخطاب القرآني الموجه لأهل الكتاب وتحليلها حيث قمت بالكشف عن دلالات الخطاب في القرآن الكريم المتعلقة بأهل الكتاب، ودراسة ما يتعلق بموضوعها قديماً وحديثاً، وتحليلها تحليلاً كمياً من حيث تقسيمنا لآيات الخطاب إلى عدة مواضيع، وتناولت تكرار ورودها إما مباشرة من الله، وإما عن طريق رسله أو بواسطة عباده المؤمنين، وتناولت تكرار ذكرهم في القرآن الكريم بأسمائهم المتعددة كأهل الكتاب، وبني إسرائيل، واليهود، والنصارى، وأهل الإنجيل، وقوم موسى، والذين هادوا، وتقسيمها بحسب مواضعها فما كان خاصاً باليهود بيناه، وما كان خاصاً بالنصارى بيناه، وما كان يعمهم جميعاً بيناه، وتتجلى هذه المنهجية في الفصل الأول أثناء الجمع لآيات الخطاب وتعدادها ومعرفة الأساليب التي تتعلق بالخطاب القرآني وأنواعها، والتعريف باليهود والنصارى وفرقهم، وكم ورد ذكرهم في القرآن، ومعرفة الأسماء التي تم مخاطبهم بها بأنواعها وأساليبها. وأما التحليل الكيفي فيتجلى من خلال الفصل الرابع والخامس الذي عرضت فيه موقفهم من الخطاب القرآني، وتحريفهم كتب ربهم قديماً وحديثاً، وتكذيبهم لما جاء به رسل ربهم، ونقضهم لعهودهم ومواثيقهم، وأن الخيانة أصبحت من أساس بنيتهم وهي الأصل في حقهم، وأن خُلق الوفاء هو النادر عندهم الذي لا يمكن الحكم به عليهم والنادر لا حكم له.

3 - المنهج التفسيري: الذي اعتمدت فيه على تفسير وتوضيح الظواهر المتعلقة بخطاب أهل الكتاب في القرآن الكريم وتوضيحها من حيث، أسباب النزول وتوجيه الخطاب، ومعرفة مدى استجابتهم لدعوة الله بالإيمان وإتباع الرسل، ومعرفة مدى الالتزام بما جاء في كتب ربهم قديماً وحديثاً، ومعرفة مواقف مؤمنهم وكافرهم، ويتجلى هذا المنهج في الفصل الأول والثاني من خلال أقوال المفسرين في تفسير الآيات، وأسباب نزولها، لمعرفة مدى الاستجابة من أهل
গবেষণা পদ্ধতিবিদ্যা:

এই গবেষণায় আমি যে গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা নিম্নরূপ:

১ - আরোহী পদ্ধতি: যেখানে আমি আহলে কিতাবদের প্রতি নির্দেশিত কুরআনের সম্বোধনমূলক আয়াতগুলো সংগ্রহের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছি এবং সেগুলো অধ্যয়ন করেছি। অতঃপর আমি সেগুলোকে প্রাচীন ও আধুনিককালে আহলে কিতাবদের অবস্থানের সাথে সংযুক্ত করেছি। এটি আমাকে সর্বকালে আহলে কিতাবদের তাদের স্রষ্টা, তাদের রাসূলগণ এবং আল্লাহর বান্দাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ মূলনীতিতে উপনীত করেছে।

২ - বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি: আহলে কিতাবদের প্রতি নির্দেশিত কুরআনের সম্বোধনমূলক আয়াতসমূহ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা; যেখানে আমি পবিত্র কুরআনে আহলে কিতাব সংশ্লিষ্ট সম্বোধনের নির্দেশকসমূহ উন্মোচন করেছি এবং প্রাচীন ও আধুনিককালে তাদের বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট দিকগুলো অধ্যয়ন করেছি। আমি সেগুলোকে পরিমাণগতভাবে বিশ্লেষণ করেছি এভাবে যে, সম্বোধনমূলক আয়াতগুলোকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিভক্ত করেছি এবং সেগুলোর পুনরাবৃত্তির বিষয়টি আলোচনা করেছি—চাই তা সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে হোক, কিংবা তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে অথবা তাঁর মুমিন বান্দাদের মাধ্যমে। এছাড়া পবিত্র কুরআনে তাদের বিভিন্ন নামে যেমন: আহলে কিতাব, বনী ইসরাঈল, ইহুদি, নাসারা, ইঞ্জিলওয়ালা, মূসার সম্প্রদায় এবং যারা ইহুদি হয়েছে—এই নামে তাদের উল্লেখের পুনরাবৃত্তি এবং তাদের অবস্থান অনুযায়ী বিভাজন নিয়ে আলোচনা করেছি। যা ইহুদিদের জন্য সুনির্দিষ্ট ছিল তা আমরা স্পষ্ট করেছি, যা নাসারাদের জন্য সুনির্দিষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করেছি এবং যা তাদের সকলের জন্য সাধারণ ছিল তাও স্পষ্ট করেছি। এই পদ্ধতিটি প্রথম অধ্যায়ে সম্বোধনমূলক আয়াতসমূহ সংগ্রহ ও গণনার সময়, কুরআনি সম্বোধন সংশ্লিষ্ট রীতি ও ধরনগুলো জানার ক্ষেত্রে এবং ইহুদি ও নাসারা এবং তাদের দল-উপদলসমূহের পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে ফুটে উঠেছে। এছাড়া কুরআনে তাদের কতবার উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের যে সকল নামে সম্বোধন করা হয়েছে তার প্রকার ও রীতিসমূহ জানার ক্ষেত্রেও এটি প্রকাশ পেয়েছে। আর গুণগত বিশ্লেষণের বিষয়টি চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ে ফুটে উঠেছে, যেখানে আমি কুরআনি সম্বোধনের প্রতি তাদের অবস্থান, প্রাচীন ও আধুনিককালে তাদের প্রতিপালকের কিতাবসমূহে তাদের করা বিকৃতি, তাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা অস্বীকার করা এবং তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তি ভঙ্গের বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। আরও আলোচনা করেছি যে, বিশ্বাসঘাতকতা তাদের কাঠামোর একটি ভিত্তি এবং তাদের ক্ষেত্রে এটিই মূল স্বভাবে পরিণত হয়েছে; আর অঙ্গীকার রক্ষা করার গুণটি তাদের মধ্যে অত্যন্ত বিরল, যার দ্বারা তাদের ওপর বিচার করা সম্ভব নয়, আর যা বিরল তার কোনো বিধান নেই।

৩ - ব্যাখ্যামূলক পদ্ধতি: যেখানে আমি পবিত্র কুরআনে আহলে কিতাবদের সম্বোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের ওপর নির্ভর করেছি। এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), সম্বোধনের দিকনির্দেশনা, ঈমান আনা ও রাসূলগণের অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর দাওয়াতে তাদের সাড়াদানের মাত্রা জানা, প্রাচীন ও আধুনিককালে তাদের প্রতিপালকের কিতাবসমূহে যা এসেছে তা মানার ক্ষেত্রে তাদের অঙ্গীকারের মাত্রা এবং তাদের মধ্যে মুমিন ও কাফিরদের অবস্থান জানার প্রেক্ষিতে। এই পদ্ধতিটি প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায়ে আয়াতের ব্যাখ্যা ও শানে নুযূল বর্ণনায় মুফাসসিরগণের মতামতের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে, যাতে আহলে কিতাবদের সাড়াদানের মাত্রা জানা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩০)
الكتاب لما جاء في الخطاب بالقبول أو الرفض من خلال الكلام عنها في التوحيد والإيمان، والجدال معهم في هذه الأصول وغيرها.

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع.

1 - مساهمة مني في خدمة الإسلام والمسلمين في جمع وترتيب آيات الخطاب القرآني لأهل الكتاب في مكان واحد، وربطها بهم قديماً وحديثاً.

2 - وجود من يدعي أن التوراة والإنجيل صحيحة، ولم تحرف ألفاظها، وإنما حرفت معانيها، وأن القرآن الكريم شاهد على صدقها.

3 - مساهمة في الدفاع عن القرآن الكريم ممن يشككون في صدقه.

4 - القيام بواجب الدفاع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ممن استهزؤوا به من خلال إثبات صدقه، وصدق ما جاء به.

5 - التأكيد أن أهل الكتاب حديثاً هم خلف أسوأ لسلف سيّئ في كل شيء كما وصفهم الله في الخطاب القرآني.

 

‌‌الدراسات السابقة.

أما بالنسبة للدراسات السابقة فقد اطلعت على بعض الدراسات التي تناولت جزءاً من خطاب القرآن الكريم لأهل الكتاب أو تحدثت عن بعض الجوانب التي يتصف بها أهل الكتاب ومن أهم تلك الدراسات المتعلقة بموضوع البحث ما يلي:

1 - موسوعة اليهود واليهودية والصهيونية، تأليف: الدكتور عبد الوهاب المسيري، الناشر: دار الشروق القاهرة، الطبعة الثانية عام 2005 م، وقد تحدثت الموسوعة عن اليهود واليهودية والصهيونية، وعن الجماعات اليهودية وتأريخها، وعن بعض المفاهيم العقدية التي تتعلق بطبيعة اليهود وعنصريتهم قديماً وحديثاً، وعن إرهابهم في عصرنا الحاضر وتحدثت عن بعض الأخلاق اليهودية في نقض العهود والمواثيق، وقد استفدت منها بالتعريف باليهود واليهودية في عصرنا الحاضر من حيث معرفة جماعاتهم، وأماكن تواجدهم وتعدادهم، ومدى تأثيرهم على النصارى حديثاً، ومعرفة علاقاتهم بالصهيونية المسيحية.

2 - القرآن ونقض مطاعن الرهبان، تأليف: الدكتور صلاح عبد الفتاح الخالدي، الناشر: دار القلم دمشق، الطبعة الأولى عام (1428 هـ 2007 م) ، وقد ذكر المؤلف الكثير من شبهات أهل الكتاب حديثاً التي تشكك بصدق القرآن الكريم وتحاول تحريف معانيه وألفاظه، وقد
কিতাব, যেহেতু তাতে তাওহীদ ও ঈমানের আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ বা বর্জনের সম্বোধন এসেছে এবং এই সকল মূলনীতি ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের সাথে বিতর্কের বর্ণনা এসেছে।

 

‌‌বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ.

১ - আহলে কিতাবের প্রতি কুরআনের সম্বোধন সম্বলিত আয়াতসমূহ এক স্থানে সংকলন ও বিন্যস্ত করার মাধ্যমে এবং প্রাচীন ও বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে তাদের সাথে সেগুলোর যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় আমার পক্ষ থেকে একটি অবদান রাখা।

২ - এমন কিছু লোকের অস্তিত্ব যারা দাবি করে যে তাওরাত ও ইনজিল সঠিক এবং এগুলোর শব্দগত কোনো বিকৃতি ঘটেনি, বরং কেবল অর্থগত বিকৃতি ঘটেছে এবং কুরআনুল কারীম এগুলোর সত্যতার সাক্ষী।

৩ - যারা কুরআনুল কারীমের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, তাদের বিরুদ্ধে একে রক্ষার ক্ষেত্রে একটি অবদান রাখা।

৪ - যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে উপহাস করে, তাঁর সত্যতা এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার সত্যতা প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর পক্ষাবলম্বন ও রক্ষার দায়িত্ব পালন করা।

৫ - এই বিষয়টি নিশ্চিত করা যে, বর্তমান সময়ের আহলে কিতাবরা সব দিক দিয়েই তাদের মন্দ পূর্বসূরিদের এক নিকৃষ্ট উত্তরসূরি, যেমনটি আল্লাহ তাআলা কুরআনের সম্বোধনে তাদের বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ.

পূর্ববর্তী গবেষণার ক্ষেত্রে, আমি এমন কিছু গবেষণার ওপর দৃষ্টিপাত করেছি যা আহলে কিতাবের প্রতি কুরআনুল কারীমের সম্বোধনের কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা করেছে অথবা আহলে কিতাবদের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছে। এই গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

১ - ইহুদি, ইহুদি ধর্ম ও জায়নবাদ বিশ্বকোষ, লেখক: ডক্টর আব্দুল ওয়াহাব আল-মিসিরি, প্রকাশক: দারুশ শুরূক কায়রো, দ্বিতীয় সংস্করণ ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ। এই বিশ্বকোষে ইহুদি, ইহুদি ধর্ম ও জায়নবাদ এবং ইহুদি গোষ্ঠী ও তাদের ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রাচীন ও আধুনিক যুগে ইহুদিদের প্রকৃতি ও বর্ণবাদ সংক্রান্ত কিছু আকিদাগত ধারণা এবং বর্তমান যুগে তাদের সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এটি প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার ভঙ্গের ক্ষেত্রে ইহুদিদের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও আলোচনা করেছে। আমি এখান থেকে বর্তমান যুগে ইহুদি ও ইহুদি ধর্মের পরিচয়, যেমন তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠী, তাদের অবস্থান ও সংখ্যা, বর্তমান যুগে খ্রিষ্টানদের ওপর তাদের প্রভাবের মাত্রা এবং খ্রিষ্টীয় জায়নবাদের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে উপকৃত হয়েছি।

২ - আল-কুরআন ও পাদ্রিদের অপবাদের খণ্ডন, লেখক: ডক্টর সালাহ আব্দুল ফাত্তাহ আল-খালিদি, প্রকাশক: দারুল কালাম দামেস্ক, প্রথম সংস্করণ (১৪২৮ হিজরি ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ)। লেখক এখানে বর্তমান সময়ের আহলে কিতাবদের অনেক সংশয় উল্লেখ করেছেন যা কুরআনুল কারীমের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং এর অর্থ ও শব্দ বিকৃত করার চেষ্টা করে, এবং...
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩১)
استفدت منه في الرد على تلك الشبهات وتفنيدها من بعض اليهود والنصارى حديثاً، وأثبت الكثير من الأدلة على تحريف كتبهم (التوراة والإنجيل) لفظاً ومعنى، وأثبت بطلان كل ما يدعونه.

3 - الموسوعة الميسرة في الأديان والمذاهب المعاصرة، تأليف: الدكتور مانع بن حماد الجهني، الناشر: دار الندوة العالمية للطباعة والنشر، الطبعة الرابعة عام 1420 هـ، وقد تحدثت هذه الموسوعة عن الأديان السماوية، وتحدثت عن الديانة اليهودية وما تفرع عنها من فرق وطوائف وأحزاب، وكذلك عن الديانة النصرانية بفرقها العديدة ومذاهبها المختلفة، وعن أماكن تواجدهم حديثاً، وتحدثت عن بعض الأحزاب المعاصرة التي تنتسب إلى الديانة اليهودية والنصرانية حديثاً، وقد استفدت من هذه الموسوعة في التعريف بالفرق والطوائف والأحزاب اليهودية والنصرانية، ومعرفة بعض الألفاظ والمعاني الغريبة التي تتعلق بمعتقداتهم.

4 - كتاب إسرائيل حرفت الأناجيل واخترعت أسطورة السامية، تأليف: اللواء أحمد عبد الوهاب، الناشر: مكتبة وهبة القاهرة، الطبعة الثانية عام (1997 م) ، وقد تحدث المؤلف عن تحريف أهل الكتاب لكتبهم حديثاً بعد الاتفاق على وثيقة التبرئة بين اليهود والنصارى، وذكر الخطة التي اعتمد عليها أهل الكتاب في التحريف، وقد استفدت منه بعض الأمثلة عن التحريف في كتبهم ومقارنتها بالنسخ الإسرائيلية الموجودة حديثاً وتحريفها بالزيادة فيها والحذف منها، واستفدت منها أيضاً نقل أمثلة جديدة في كتبهم الحديثة تحتوي على جميع أنواع التحريف اللفظي والمعنوي كالتبديل والإخفاء والتأويل والنقص.

5 - تنوع خطاب القرآن الكريم في العهد المدني (دراسة لغوية) ، الباحث: صالح عبد الله منصور مسود العولقي، رسالة مقدمة إلى قسم اللغة العربية بكلية التربية بجامعة عدن اليمن لنيل درجة الماجستير عام 1429 هـ 2008 م، وقد تحدث الباحث عن الخطاب القرآني من الناحية اللغوية، ولكنه لم يتحدث عن ما يتعلق بآيات الخطاب القرآني الموجه لأهل الكتاب كون بحثه يتعلق بالجوانب اللغوية، ولكني استفدت من الرسالة بعض الأساليب والأنواع المتعلقة بالخطاب القرآني لأهل الكتاب في العهد المدني.

6 - إظهار الحق، المؤلف: رحمة الله بن خليل الرحمن الكيرانوي الهندي، الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى عام: 1415 هـ، تحقيق محمد أحمد عبد القادر ملكاوي، وقد تحدث المؤلف عن كتب أهل الكتاب
আমি আধুনিক যুগে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সংশয়গুলোর জবাব দিতে এবং সেগুলো খণ্ডন করতে এই গ্রন্থটি থেকে উপকৃত হয়েছি। এটি তাদের কিতাবসমূহের (তাওরাত ও ইঞ্জিল) শব্দগত ও অর্থগত বিকৃতির বহু প্রমাণ সাব্যস্ত করেছে এবং তাদের সকল দাবির অসারতা প্রমাণ করেছে।

৩ - আল-মাউসুআতুল মুয়াসসারা ফিল আদইয়ানি ওয়াল মাজাহিবিল মুয়াসিরা (সমকালীন ধর্ম ও মতবাদ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ), রচনা: ডক্টর মানে' ইবনে হাম্মাদ আল-জুহানি, প্রকাশক: দারুন নাদওয়াহ আল-আলামিয়্যাহ লিত-তিবাআহ ওয়ান-নাশর, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪২০ হিজরি। এই বিশ্বকোষটি আসমানি ধর্মসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে এবং ইহুদি ধর্ম ও তা থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন দল, উপদল ও গোষ্ঠী সম্পর্কে আলোচনা করেছে। একইভাবে খ্রিস্টধর্ম, এর অসংখ্য উপদল ও বিভিন্ন মতবাদ এবং বর্তমান যুগে তাদের অবস্থান সম্পর্কেও আলোচনা করেছে। এটি বর্তমানের এমন কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দল সম্পর্কেও আলোচনা করেছে যারা আধুনিক যুগে ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের সাথে সম্পৃক্ত। আমি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিভিন্ন দল, উপদল ও গোষ্ঠীর পরিচয় লাভ করতে এবং তাদের আকিদা-বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু অপরিচিত শব্দ ও অর্থ সম্পর্কে জানতে এই বিশ্বকোষটি থেকে উপকৃত হয়েছি।

৪ - কিতাবু ইসরাইলা হাররাফাতিল আনাজিলা ওয়াখতারাআত উসতুরাতাস সামিয়্যাহ (ইসরায়েল ইঞ্জিলসমূহ বিকৃত করেছে এবং সেমিটিকবাদের উপকথা উদ্ভাবন করেছে), রচনা: মেজর জেনারেল আহমদ আব্দুল ওয়াহহাব, প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবা, কায়রো, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ। লেখক এখানে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে নির্দোষিতা দলিল (ডকুমেন্ট অফ অ্যাবজল্যুশন) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আধুনিক যুগে আহলে কিতাবদের কিতাব বিকৃতির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি আহলে কিতাবরা বিকৃতির ক্ষেত্রে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তাও উল্লেখ করেছেন। আমি তাদের কিতাবসমূহে বিকৃতির কিছু উদাহরণ পেতে এবং সেগুলোকে বর্তমানে বিদ্যমান ইসরায়েলি পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তুলনা করে তাতে যে সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে তা জানতে এটি থেকে উপকৃত হয়েছি। এছাড়াও তাদের আধুনিক কিতাবসমূহ থেকে নতুন কিছু উদাহরণ গ্রহণে আমি এটি থেকে উপকৃত হয়েছি, যেগুলোতে শব্দগত ও অর্থগত সকল প্রকার বিকৃতি যেমন—পরিবর্তন, গোপন করা, অপব্যাখ্যা এবং হ্রাসকরণ বিদ্যমান।

৫ - তানাউউ খিতাবিল কুরআনিল কারিম ফিল আহদিল মাদানি: দিরাসাতুন লুগাবিয়্যাহ (মাদানি যুগে কুরআনুল কারিমের সম্বোধনের বৈচিত্র্য: একটি ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যয়ন), গবেষক: সালিহ আব্দুল্লাহ মনসুর মাসওয়াদ আল-আওলাকি, ইয়েমেনের এডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদের আরবি ভাষা বিভাগে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির জন্য উপস্থাপিত থিসিস, ১৪২৯ হিজরি / ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ। গবেষক এখানে ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের সম্বোধন নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে আহলে কিতাবদের প্রতি নির্দেশিত কুরআনের সম্বোধনমূলক আয়াতসমূহ নিয়ে তিনি আলোচনা করেননি, কারণ তার গবেষণাটি ভাষাতাত্ত্বিক দিকগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। কিন্তু আমি এই থিসিসটি থেকে মাদানি যুগে আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনের সম্বোধনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু শৈলী ও প্রকারভেদ সম্পর্কে উপকৃত হয়েছি।

৬ - ইজহারুল হক, লেখক: রহমতুল্লাহ ইবনে খলিলুর রহমান আল-কাইরানাভি আল-হিন্দি, প্রকাশক: ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়, সৌদি আরব রাজ্য, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৫ হিজরি, তাহকিক: মুহাম্মদ আহমদ আব্দুল কাদির মালকাভি। লেখক এখানে আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩২)
المتعلقة بالعهد القديم والجديد (التوراة والإنجيل) واثبت وقوع التحريف في جميع نسخها، واثبت صدق القرآن الكريم وصدق رسالة محمد صلى الله عليه وسلم ، وقد استفدت منه الكثير من الأمثلة والأدلة في إبطال عقيدة التثليث عند النصارى من واقع كتبهم الموجودة بين أيديهم، ومعرفة الكثير من النسخ غير المعتبرة عند الكثير من فرق أهل الكتاب عبر العصور والأزمان كالنسخة العبرية والسامرية واليونانية، واثبت وقوع التحريف من أهل الكتاب لكتبهم بجميع أنواعه وأشكاله.

7 - اتفاقية رودس بين العرب وإسرائيل عام (1948 م) ، المؤلف: الدكتور محمود متولي، الناشر: مطبوعات مركز وثائق وتاريخ مصر المعاصر، مطابع الهيئة المصرية العامة للكتاب لعام (1974 م) ، وقد ذكر المؤلف بعض الاتفاقيات التي نقضها اليهود والنصارى حديثاً، وقد استفدت منه إضافة بعض الأدلة المتعلقة بوجوه النقض لكثير من اتفاقيات الهدنة من اليهود والنصارى حديثاً، وقمت بمقارنتها بعهود ومواثيق قديمة تم نقضها من قبلهم، وأكدت بالأدلة أن اليهود والنصارى سيمارسون نقض العهود والمواثيق عبر العصور والأزمان.

8 - كتب الأستاذ احمد ديدات، وقد نُقل فيها الكثير من المناظرات بينه وبين العديد من القسس والرهبان من أهل الكتاب، وإفحامهم ببطلان دعوتهم إلى التثليث، ونقض أدلتهم وتفنيدها من واقع كتبهم، وإثباته فقدان بعض كتبهم كإنجيل عيسى أو إنجيل برنابا، ولكن تلك الكتب لم تجمع المناظرات بحسب المواضيع المتعلقة بكل مناظرة في مكان واحد، واستفدت منها نقل بعض المناظرات الشهيرة وبيان موضع الشاهد فيما يتعلق بتلك المناظرات ومعرفة الشبهات التي تتعلق بالمناظرة والرد عليها.

فهذه مجموعة من الدراسات السابقة التي تكلمت عن جزء من محتوى بحثي، وقد قمت بجمع آيات الخطاب القرآني لأهل الكتاب في مكان واحد، ولقد قمت بتقسيمها في هذا البحث بحسب موضوعاتها، وقمت بربطها بما يتعلق بأوصاف أهل الكتاب قديماً وحديثاً؛ لبيان موقفهم من الخطاب القرآني الموجه إليهم سلباً وإيجاباً.

- أما الفصل الأول فقد ذكرت فيه ألفاظ الخطاب القرآني لأهل الكتاب بأساليبه المتنوعة، وألفاظه المختلفة، وعرفت الخطاب الموجه لأهل الكتاب، وقمت بالتعريف باليهود واليهودية والنصارى والنصرانية قديماً وحديثاً.

- وأما الفصل الثاني فقمت بذكر الخطاب القرآني لأهل الكتاب فيما يتعلق بدعوتهم إلى الدين من حيث دعوتهم إلى الإيمان بالله وتوحيده، وذكرت آيات الخطاب القرآني التي تحذرهم من
যা পুরাতন ও নতুন নিয়ম (তাওরাত ও ইঞ্জিল) সংক্রান্ত এবং এর সকল সংস্করণে বিকৃতি ঘটার বিষয়টি প্রমাণ করেছে, আর পবিত্র কুরআন ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের সত্যতা প্রমাণ করেছে। আমি এটি থেকে খ্রিস্টানদের কাছে বিদ্যমান তাদের কিতাবসমূহের বাস্তবতা থেকে ত্রিত্ববাদী আকিদা বাতিলের বিষয়ে অনেক উদাহরণ ও প্রমাণাদি গ্রহণ করে উপকৃত হয়েছি। এছাড়া যুগ যুগ ধরে আহলে কিতাবদের বিভিন্ন দলের কাছে অনির্ভরযোগ্য অনেক সংস্করণ যেমন হিব্রু, সামেরীয় ও গ্রীক সংস্করণ সম্পর্কে জানতে পেরেছি এবং আহলে কিতাবদের মাধ্যমে তাদের কিতাবসমূহে সব ধরণের ও সব পদ্ধতির বিকৃতি সংঘটিত হওয়ার বিষয়টিও এটি প্রমাণ করেছে।

৭ - ১৯৪৮ সালের আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে রোডস চুক্তি, লেখক: ডক্টর মাহমুদ মুতাওয়াল্লি, প্রকাশক: সমকালীন মিশরের নথিপত্র ও ইতিহাস কেন্দ্রের প্রকাশনা, জেনারেল ইজিপ্টিয়ান বুক অর্গানাইজেশন প্রেস, ১৯৭৪ সাল। লেখক এখানে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের দ্বারা সম্প্রতি ভঙ্গ করা কিছু চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। আমি এটি থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের দ্বারা সাম্প্রতিককালের অনেক যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘনের ধরণ সম্পর্কিত কিছু অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে উপকৃত হয়েছি এবং সেগুলোকে তাদের দ্বারা ইতিপূর্বে ভঙ্গ করা প্রাচীন প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির সাথে তুলনা করেছি। আমি প্রমাণসহ নিশ্চিত করেছি যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা যুগ যুগ ধরে প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি ভঙ্গ করতে থাকবে।

৮ - উস্তাদ আহমেদ দিদাতের বইসমূহ, যাতে তার এবং আহলে কিতাবদের অনেক যাজক ও সন্ন্যাসীদের মধ্যে হওয়া বহু বিতর্ক উদ্ধৃত হয়েছে। তাদের ত্রিত্ববাদের দাওয়াত বাতিল হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা হয়েছে এবং তাদের কিতাবসমূহের বাস্তবতা থেকেই তাদের দলীলসমূহ খণ্ডন ও বাতিল করা হয়েছে। এতে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর ইঞ্জিল বা বার্নাবাসের ইঞ্জিলের মতো তাদের কিছু কিতাব হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি প্রমাণ করেছেন। তবে সেই বইগুলোতে প্রতিটি বিতর্ক সংশ্লিষ্ট বিষয় অনুযায়ী এক জায়গায় জমা করা হয়নি। আমি সেগুলো থেকে কিছু প্রসিদ্ধ বিতর্ক উদ্ধৃত করা এবং সেই বিতর্কগুলোর ক্ষেত্রে মূল সাক্ষ্য বা দলীলের বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং বিতর্ক সংশ্লিষ্ট সংশয়সমূহ জানা ও সেগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি।

এগুলো হলো পূর্ববর্তী কিছু গবেষণার সমষ্টি যা আমার গবেষণার বিষয়বস্তুর অংশবিশেষ নিয়ে আলোচনা করেছে। আমি আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনী সম্বোধনের আয়াতসমূহ এক জায়গায় জমা করেছি এবং এই গবেষণায় সেগুলোকে তাদের বিষয়বস্তু অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি। আহলে কিতাবদের প্রতি সরাসরি কুরআনী সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য আমি সেগুলোকে প্রাচীন ও আধুনিককালের আহলে কিতাবদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত করেছি।

- প্রথম অধ্যায়ে আমি আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনী সম্বোধনের শব্দাবলী তার বৈচিত্র্যময় পদ্ধতি ও বিভিন্ন শব্দসহ উল্লেখ করেছি। এছাড়া আহলে কিতাবদের প্রতি নির্দেশিত সম্বোধনটি সংজ্ঞায়িত করেছি এবং প্রাচীন ও আধুনিক ইহুদি, ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টান ও খ্রিস্টধর্মের পরিচয় প্রদান করেছি।

- আর দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি আহলে কিতাবদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত সংক্রান্ত কুরআনী সম্বোধনগুলো উল্লেখ করেছি, যেখানে তাদেরকে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর তাওহীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আমি কুরআনী সম্বোধনের সেই আয়াতগুলো উল্লেখ করেছি যা তাদেরকে সতর্ক করে...
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الغلو في دينهم، مع بيان غلوهم حديثاً، وذكرت آيات الخطاب في جواز جدالهم ومناظرتهم حديثاً، وذكرت أمثلة على جدالهم قديماً وحديثاً، وما ترتب على ذلك من ثمار.

- وأما الفصل الثالث فقد ذكرت فيه الخطاب القرآني الموجه لأهل الكتاب فيما يتعلق بدعوتهم للإيمان بالقرآن الكريم وتصديقه خصوصاً، والإيمان بالكتب السابقة عموماً، وذكرت آيات الخطاب التي تحذرهم من الكفر بها، وذكرت فيه بعضاً من شهادات أهل الكتاب قديماً وحديثاً على صدق القرآن الكريم، وذكرت بعض المحاولات الآثمة التي حاولت أن تقوم بتحريف القرآن الكريم في عصرنا الحديث.

- أما الفصل الرابع فقد ذكرت فيه التحريف بأنواعه، وذمه في جميع الكتب السابقة، وذكرت أمثلة تثبت تحريف أهل الكتاب للكتب السماوية قديماً وحديثاً، وبينت استمرار التحريف في كتبهم إلى يومنا هذا، وقمت بذكر بعضاً من شهادات كبار علمائهم ودوائرهم المعتمدة على ممارستهم هذا التحريف قديماً وحديثاً.

- أما الفصل الخامس فقد قمت بذكر خطاب القرآن الكريم الذي حذرهم من ممارسة بعض الأخلاق الذميمة مع رب العالمين، ومع عباد الله الصالحين في كل زماناً ومكان كنقضهم للعهود والمواثيق، وذكرت مجموعة من الأدلة على ممارستهم الأخلاق الذميمة حديثاً.
তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে চরমপন্থা, সাথে বর্তমানে তাদের চরমপন্থার বর্ণনা; আর বর্তমানে তাদের সাথে বিতর্ক ও বাহাস করার বৈধতা বিষয়ক সম্বোধনমূলক আয়াতসমূহ উল্লেখ করেছি এবং প্রাচীন ও বর্তমান যুগে তাদের সাথে বিতর্কের উদাহরণসমূহ এবং এর ফলে অর্জিত ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি।

- আর তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি আহলে কিতাবদের প্রতি নির্দেশিত কুরআনী সম্বোধন উল্লেখ করেছি, যা বিশেষভাবে কুরআনুল কারীমের প্রতি ঈমান আনা ও তাকে সত্যায়ন করা এবং সাধারণভাবে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত সংশ্লিষ্ট। আর আমি সেই সম্বোধনমূলক আয়াতগুলো উল্লেখ করেছি যা তাদের সেই কিতাবগুলো অস্বীকার করার ব্যাপারে সতর্ক করে। আরও উল্লেখ করেছি কুরআনুল কারীমের সত্যতার ওপর প্রাচীন ও বর্তমান যুগের আহলে কিতাবদের কিছু সাক্ষ্য। এবং আমাদের বর্তমান যুগে কুরআনুল কারীম বিকৃত করার জন্য পরিচালিত কিছু পাপপূর্ণ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছি।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি সকল প্রকার বিকৃতি এবং পূর্ববর্তী সকল কিতাবে এর নিন্দার কথা উল্লেখ করেছি। প্রাচীন ও বর্তমান যুগে আহলে কিতাবদের আসমানী কিতাবসমূহ বিকৃত করার প্রমাণস্বরূপ কিছু উদাহরণ পেশ করেছি। তাদের কিতাবসমূহে আজ পর্যন্ত বিকৃতি অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। এবং প্রাচীন ও বর্তমান সময়ে তাদের এই বিকৃতি সাধনের বিষয়ে তাদের বড় বড় পণ্ডিত ও নির্ভরযোগ্য সংস্থাগুলোর কিছু স্বীকৃতি উল্লেখ করেছি।

- পঞ্চম পরিচ্ছেদে আমি কুরআনুল কারীমের সেই সম্বোধনসমূহ উল্লেখ করেছি, যা তাদের রাব্বুল আলামীনের সাথে এবং সকল কালের ও সকল স্থানের আল্লাহর নেক বান্দাদের সাথে কিছু নিন্দনীয় আচরণ করা থেকে সতর্ক করেছে, যেমন তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তি ভঙ্গ করা। আর বর্তমান যুগে তাদের এই নিন্দনীয় আচরণ চর্চার একগুচ্ছ প্রমাণাদি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الفصل الأول
প্রথম পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الفصل الأول التمهيدي، في المقدمات والتعريفات، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الخطاب لغة واصطلاحاً.

المبحث الثاني: الألفاظ والأساليب المتعلقة بالخطاب القرآني لأهل الكتاب.

المبحث الثالث: التعريف بأهل الكتاب قديماً وحديثاً.
প্রথম প্রারম্ভিক অধ্যায়: ভূমিকা ও সংজ্ঞাসমূহ প্রসঙ্গে, এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে খিতাব (সম্বোধন)-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে কিতাবদের প্রতি কুরআনিক সম্বোধন সংশ্লিষ্ট শব্দাবলী ও শৈলীসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাচীন ও আধুনিক প্রেক্ষাপটে আহলে কিতাবদের পরিচয়।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌المبحث الأول: تعريف الخطاب لغة واصطلاحاً، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف الخطاب لغة.

المطلب الثاني: تعريف الخطاب اصطلاحاً.
প্রথম পরিচ্ছেদ: খিতাবের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: খিতাবের আভিধানিক সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: খিতাবের পারিভাষিক সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌المطلب الأول: تعريف الخطاب لغة.

قال ابن فارس (1): "خطب: الخاء والطاء والباء أصلان: أحدهما الكلامُ بين اثنين، يقال خاطبهُ يُخاطِبه خِطاباً، والخُطْبة من ذلك … " (2).

وقال ابن دريد (3): "والخطاب مصدر خاطبته مخاطبة وخطاباً" (4).

وقال ابن سيده (5): "والخِطَابُ: مُرَاجَعَةُ الكلام" (6).

وقال الزبيدي (7): "والخَطْبُ: الأَمْرُ الذي يَقَعُ فيه المُخَاطَبَة" (8).

--------------------------------------------

(1) أحمد بن فارس بن زكريا أبو الحسن اللغوي المالكي الهمداني، توفي سنة (395 هـ) وقيل: سنة (390 هـ)، من تصانيفه: معجم مقاييس اللغة، واختلاف النحاة، وأخلاق النبي، والانتصار لثعلب، وحلية الفقهاء. انظر: هدية العارفين أسماء المؤلفين وآثار المصنفين (1/ 36)، المؤلف: مصطفى بن عبد الله القسطنطيني الرومي الحنفي، دار الكتب العلمية بلا، وشذرات الذهب في أخبار من ذهب (3/ 132) مرجع سابق.

(2) انظر: معجم مقاييس اللغة (2/ 198) لأبي الحسين أحمد بن فارس بن زكريا، الناشر: دار الفكر، الطبعة: 1399 هـ 1979 م. المحقق: عبد السلام محمد هارون.

(3) محمد بن الحسن بن دريد بن عتاهية ابن خيثم العربي البصري، أبو بكر اللغوي الشافعي الأديب، نزيل بغداد، الشهير بابن دريد، ولد سنة (223 هـ) وتوفي سنة (321 هـ)، من مصنفاته: أدب الكاتب، وأسماء القبائل، وآمالي في العربية، وتقويم اللسان، والجمهرة في اللغة. انظر: هدية العارفين (1/ 462) مرجع سابق.

(4) انظر: جمهرة اللغة (1/ 291) المؤلف: محمد بن الحسن بن دريد بن عتاهية ابن خيثم العربي البصري، أبو بكر اللغوي الشافعي الأديب، الناشر: دار العلم للملايين بيروت 1987 م، الطبعة: الأولى، تحقيق: رمزي منير بعلبكي.

(5) علي بن إسماعيل، المعروف بابن سيده، أبو الحسن النحوي الأندلسي الضرير، كان إمام زمانه في اللغة والنحو، من مصنفاته: المحكم، وشرح إصلاح المنطق، وشرح الحماسة، وغيرها مات سنة 458 هـ. انظر: سير أعلام (35/ 127) مرجع سابق، إنباه الرواة على أنباه النحاة، (2/ 226) ، المؤلف: جمال الدين أبو الحسن علي بن يوسف القفطي (المتوفى: 646 هـ) الناشر: المكتبة العنصرية، بيروت الطبعة: الأولى، 1424 هـ.

(6) انظر: المحيط في اللغة (4/ 293) المؤلف: الصاحب الكافي الكفاة أبا القاسم إسماعيل ابن عباد ابن العباس ابن أحمد ابن إدريس الطالقاني، الناشر: عالم الكتب بيروت/لبنان، الطبعة: الأولى. عام: 1414 هـ 1994 م تحقيق: الشيخ محمد حسن آل ياسين.

(7) مرتضى الزبيدي: هو أبو الفيض محمد بن محمد بن محمد بن عبد الرزاق الحسيني الزبيدي، الملقب بمرتضى، ولد بالهند عام (1145 هـ)، وتوفي عام (1205 هـ) من مؤلفاته: تاج العروس في شرح القاموس، وإتحاف السادة المتقين بشرح إحياء علوم للغزالي، انظر: الأعلام للزركلي (7/ 70) مرجع سابق.

(8) انظر: تاج العروس من جواهر القاموس (2/ 370) ، المؤلف: محمّد بن محمّد بن عبد الرزّاق الحسيني، أبو الفيض، الملقّب بمرتضى الزَّبيدي، الناشر: دار الهداية.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে খিতাব-এর সংজ্ঞা.

ইবনে ফারিস (১) বলেন: "খাতাবা (খ-ত্ব-ব): খা, ত্বা এবং বা—এই বর্ণ তিনটি দুটি মূল অর্থ প্রদান করে। এর মধ্যে একটি হলো দুই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথন। বলা হয়ে থাকে: সে তার সাথে সম্বোধন করেছে (খাতাবাহু), সে তাকে সম্বোধন করছে (ইউখাত্বিবুহু), যার মাসদার (ক্রিয়ামূল) হলো 'খিতাব'। আর 'খুতবাহ' (ভাষণ) শব্দটি এখান থেকেই এসেছে … " (২)।

ইবনে দুরিদ (৩) বলেন: "খিতাব শব্দটি হলো 'খাতাবতুহু' (আমি তাকে সম্বোধন করেছি)-এর মাসদার, যা 'মুখাতাবাহ' এবং 'খিতাব' উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়" (৪)।

ইবনে সিদাহ (৫) বলেন: "খিতাব হলো কথার আদান-প্রদান বা পুনরাবৃত্তি" (৬)।

আল-জুবায়দি (৭) বলেন: "খাতব্ হলো এমন একটি বিষয় বা ঘটনা যার মধ্যে সম্বোধন বা কথোপকথন সংঘটিত হয়" (৮)।

--------------------------------------------

(১) আহমদ ইবনে ফারিস ইবনে জাকারিয়া আবুল হাসান আল-লুগাভী আল-মালিকি আল-হামাদানি, মৃত্যু (৩৯৫ হিজরি), কারো মতে ৩৯০ হিজরি। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো: মু'জামু মাকাইয়িসিল লুগাহ, ইখতিলাফুন নুহাত, আখলাকুন নবী, আল-ইনতিসার লি-সা'লাব এবং হিলয়াতুল ফু্কাহা। দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফিন আসমাউল মুয়াল্লিফিন ওয়া আসারুল মুসান্নিফিন (১/৩৬), লেখক: মুস্তাফা ইবনে আবদুল্লাহ আল-কুস্তান্তিনী আল-রুমি আল-হানাফি, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ; এবং শাজারাতুজ জাহাব ফি আখবারি মান জাহাব (৩/১৩২), পূর্বোক্ত উৎস।

(২) দেখুন: মু'জামু মাকাইয়িসিল লুগাহ (২/১৯৮), আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে ফারিস ইবনে জাকারিয়া রচিত; প্রকাশক: দারুল ফিকর, সংস্করণ: ১৩৯৯ হিজরি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ; মুহাক্কিক: আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন।

(৩) মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে দুরিদ ইবনে আতাহিয়া ইবনে খাইসাম আল-আরাবি আল-বাসরি, আবু বকর আল-লুগাভী আশ-শাফিয়ী আল-আদিব, যিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং ইবনে দুরিদ নামে পরিচিত। তিনি ২২৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আদাবুল কাতিব, আসমাউল কাবায়িল, আমালি ফিল আরাবিয়্যাহ, তাকভীমূল লিসান এবং আল-জামহারাহ ফিল লুগাহ। দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফিন (১/৪৬২), পূর্বোক্ত উৎস।

(৪) দেখুন: জামহারাতুল লুগাহ (১/২৯১), লেখক: মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে দুরিদ ইবনে আতাহিয়া ইবনে খাইসাম আল-আরাবি আল-বাসরি, আবু বকর আল-লুগাভী আশ-শাফিয়ী আল-আদিব; প্রকাশক: দারুল ইলম লিল-মালাঈন বৈরুত ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ, প্রথম সংস্করণ; সম্পাদনা: রামজি মুনির বা'লাবাক্কি।

(৫) আলী ইবনে ইসমাঈল, ইবনে সিদাহ নামে পরিচিত, আবু হাসান আন-নাহভী আল-আন্দালুসি আদ-দারির। তিনি তাঁর সমসাময়িক ভাষাতত্ত্ব ও ব্যাকরণের ইমাম ছিলেন। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আল-মুহকাম, শারহু ইসলাহিল মানতিক, শারহুল হামাসাহ ইত্যাদি। তিনি ৪৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৩৫/১২৭), পূর্বোক্ত উৎস; ইনবাহুর রুওয়াত আলা আনবাহিন নুহাত (২/২২৬), লেখক: জামালুদ্দিন আবু হাসান আলী ইবনে ইউসুফ আল-কিফতি (মৃত্যু: ৬৪৬ হিজরি); প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৪২৪ হিজরি।

(৬) দেখুন: আল-মুহিত ফিল লুগাহ (৪/২৯৩), লেখক: আস-সাহিব আল-কাফি আল-কুফাত আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে আব্বাদ ইবনে আব্বাস ইবনে আহমদ ইবনে ইদ্রিস আত-তালিকানি; প্রকাশক: আলিমুল কুতুব বৈরুত/লেবানন, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ; সম্পাদনা: শেখ মুহাম্মদ হাসান আল-ইয়াসিন।

(৭) মুরতাজা আল-জুবায়দি: তিনি হলেন আবুল ফায়েজ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাজ্জাক আল-হুসাইনি আল-জুবায়দি, যিনি মুরতাজা নামে উপাধিপ্রাপ্ত। তিনি ১১৪৫ হিজরিতে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: তাজুল আরুস ফি শারহিল কামুস এবং ইত্তিফাউস সাদাতিল মুত্তাকীন বি-শারহি ইহয়ায়ি উলুমিদ দীন। দেখুন: আল-আ'লাম লিয-যিরিকলি (৭/৭০), পূর্বোক্ত উৎস।

(৮) দেখুন: তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস (২/৩৭০), লেখক: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাজ্জাক আল-হুসাইনি, আবুল ফায়েজ, উপাধিপ্রাপ্ত মুরতাজা আল-জুবায়দি; প্রকাশক: দারুল হিদায়াহ।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وقال في موضع آخر: "والخِطاب هو توجيه الكلام نحو الغير للإفهام" (1)

فتبين من التعريفات اللغوية أن الخطاب يرجع إلى توجيه الكلام للإفهام، وأن ذلك يكون بين طرفين أحدهما هو المخاطِب -بالكسر والثاني هو المخَاطب - بالفتح وهو خطاب لأن فيه مراجعة في الكلام، وخَطْبٌ أيضاً لأنه أمر تقع فيه المخاطبة.

 

‌‌المطلب الثاني: تعريف الخطاب اصطلاحاً:

الخطاب المراد تعريفه هنا: هوخطاب الله في القرآن الكريم لأهل الكتاب، ولذا فإننا سنأخذ تعريف الأصوليين للخطاب؛ لأنهم يتكلمون عن خطاب الشرع الموجه للمكلفين، وهذا الخطاب هو القرآن والسنة وما استنبط منهما.

وأما تعريف الخطاب في الاصطلاح فهو: مأخوذ من تعريفه في اللغة.

قال العلامة المناوي (2): " الخطاب هو القول الذي يفهم المخاطَب منه شيئاً" (3).

وعرفه ابن النجار (4) رحمه الله بقوله: "والخطاب قول يفهم منه من سمعه شيئاً مفيداً مطلقاً" (5).

--------------------------------------------

(1) انظر: تاج العروس (1/ 70) مرجع سابق.

(2) محمد عبد الرؤوف بن تاج العارفين ابن علي بن زين العابدين الحدادي ثم المناوي القاهري، زين الدين، عاش في الفترة بين عامي 952 - 1031 هـ، عاش في القاهرة، وتوفي بها. له نحو ثمانين مصنفا، منها: كنوز الحقائق والتيسير شرح الجامع الصغير. انظر: معجم المؤلفين (10/ 166) ، الأعلام للزركلي (6/ 204) مرجع سابق.

(3) انظر: التعاريف (1/ 316).

(4) هو أبو البقاء محمد بن شهاب الدين أحمد بن عبد العزيز بن علي الفتوحي المصري الحنبلي الشهير بابن النجار، الفقيه الثبت الأصولي اللغوي من مصنفاته: منتهى الإرادات في جمع المقنع مع التنقيح وزيادات وغيره، ولد حوالي 898 هـ توفي سنة 972 هـ. انظر: المدخل إلى مذهب الإمام أحمد، (ص: 237) المؤلف: ابن بدران، الأعلام للزركلي (4/ 128) مرجع سابق، ومعجم المؤلفين (6/ 128).

(5) انظر: شرح الكوكب المنير (1/ 339) المؤلف: تقي الدين أبو البقاء محمد بن أحمد بن عبد العزيز بن علي الفتوحي المعروف بابن النجار (المتوفى: 972 هـ) ، المحقق: محمد الزحيلي ونزيه حماد، الناشر: مكتبة العبيكان، الطبعة: الطبعة الثانية 1418 هـ 1997 م.
তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: "আর খিতাব (সম্বোধন) হলো অন্যকে বুঝানোর উদ্দেশ্যে তার দিকে কথাকে ধাবিত করা।" (১)

শাব্দিক সংজ্ঞাসমূহ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, 'খিতাব' এর মূল বিষয় হলো বুঝানোর উদ্দেশ্যে কথাকে ধাবিত করা; এবং এটি দুই পক্ষের মধ্যে হয়ে থাকে, যার একজন হলো 'মুখাতিব' (সম্বোধনকারী - 'তা' বর্ণে কাসরা বা যের সহ) এবং দ্বিতীয়জন হলো 'মুখাতাব' (যাকে সম্বোধন করা হয়েছে - 'তা' বর্ণে ফাতহা বা যবর সহ)। একে 'খিতাব' বলা হয় কারণ এতে কথার আদান-প্রদান ঘটে, এবং এটি 'খাতবুন' (গুরুত্বপূর্ণ বিষয়) হিসেবেও গণ্য, কারণ এটি এমন এক বিষয় যেখানে পারস্পরিক সম্বোধন সংঘটিত হয়।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে খিতাবের সংজ্ঞা:

এখানে যে খিতাবের সংজ্ঞা প্রদান করা উদ্দেশ্য তা হলো: পবিত্র কুরআনে আহলে কিতাবদের প্রতি আল্লাহর সম্বোধন। এই কারণে আমরা উসুলবিদদের (উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রবিদ) প্রদত্ত খিতাবের সংজ্ঞাটি গ্রহণ করব; কারণ তাঁরা শরিয়তের সেই সম্বোধন নিয়ে আলোচনা করেন যা মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর শরিয়তের বিধান প্রযোজ্য) প্রতি নির্দেশিত। আর এই সম্বোধন হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং এ দুটি থেকে যা ইস্তিম্বাত (উৎসারিত) করা হয়েছে।

আর পারিভাষিক অর্থে খিতাবের সংজ্ঞা হলো: এটি এর শাব্দিক অর্থ থেকেই গৃহীত।

আল্লামা মুনাভী (২) বলেন: "খিতাব হলো এমন কথা যার মাধ্যমে সম্বোধিত ব্যক্তি কোনো কিছু বুঝতে পারে।" (৩)।

ইবনে নাজ্জার (৪) রহিমাহুল্লাহ এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেন: "খিতাব হলো এমন কথা যা থেকে শ্রবণকারী স্পষ্টভাবে কোনো উপকারী বিষয় বুঝতে পারে।" (৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাজুল আরুস (১/ ৭০) পূর্বোক্ত সূত্র।

(২) মুহাম্মদ আব্দুর রউফ বিন তাজুল আরিফিন বিন আলি বিন জয়নুল আবেদিন আল-হাদ্দাদি অতঃপর আল-মুনাভী আল-কাহিরি, জয়নুদ্দিন। তিনি ৯৫২ - ১০৩১ হিজরি সময়কালে বসবাস করেছেন। তিনি কায়রোতে বাস করতেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রায় আশিটি গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: কুনুযুল হাকায়িক এবং আত-তাইসির শারহুল জামিউস সাগির। দেখুন: মুজামুল মুআল্লিফিন (১০/ ১৬৬), আল-আলাম লিয যিরিকলি (৬/ ২০৪) পূর্বোক্ত সূত্র।

(৩) দেখুন: আত-তারিফাত (১/ ৩১৬)।

(৪) তিনি হলেন আবু আল-বাকা মুহাম্মদ বিন শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আলি আল-ফুতুহি আল-মিসরি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনে নাজ্জার নামে পরিচিত। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ফকিহ, উসুলবিদ ও ভাষাবিদ। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মায়াত তানকিহ ওয়া যিয়াদাত এবং অন্যান্য। তিনি আনুমানিক ৮৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯৭২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমদ (পৃষ্ঠা: ২৩৭), লেখক: ইবনে বদরান; আল-আলাম লিয যিরিকলি (৪/ ১২৮) পূর্বোক্ত সূত্র; এবং মুজামুল মুআল্লিফিন (৬/ ১২৮)।

(৫) দেখুন: শারহুল কাওকাবুল মুনির (১/ ৩৩৯), লেখক: তাকিউদ্দিন আবু আল-বাকা মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আলি আল-ফুতুহি যিনি ইবনে নাজ্জার নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৯৭২ হিজরি), গবেষক: মুহাম্মদ আয-যুহাইলি এবং নাযিহ হাম্মাদ, প্রকাশক: মাকতাবাতুল উবাইকান, সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১৮ হিজরি ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وقال الآمدي (1): " قد قيل فيه: هو الكلام الذي يفهم المستمع منه شيئاً. ثم قال رحمه الله: "وهو غير مانع، فإنه يدخل فيه الكلام الذي لم يقصد المتكلم به إفهام المستمع، فإنه على ما ذكر من الحد، وليس خطاباً، وقال: والحق أنه اللفظ المتواضَع عليه المقصود به إفهام من هو متهيئ لفهمه.

_ثم شرح ذلك فقال_: (فاللفظ) احتراز عما وقعت المواضعة عليه من الحركات والإشارات المفهمة، و (المتواضَع عليه) احتراز عن الألفاظ المهملة، و (المقصود به الإفهام) احتراز عما ورد على الحد الأول، وقولنا: (لمن هو متهيئ لفهمه) احتراز عن الكلام لمن لا يفهم، كالنائم والمغمى عليه ونحوه" (2).

والذي يظهر أن التعريف الذي اختاره الإمام الآمدي رحمه الله هو التعريف الصحيح؛ وذلك لما ذكره في شرح التعريف من الاحتراز عن الحركات والإشارات المفهمة؛ لأن القرآن الكريم كلام الله تعالى الذي خاطب به عباده، وشأن ذلك لله تعالى طريقها التوقيف، وترك الخوض فيما زاد على ذلك إثباتاً أو نفياً.

والإشارات المفهمة المحترز عنها هي إشارات اليد ونحوها مما يتفاهم به المتخاطبون، وليس المقصود الاحتراز عن دلالة الإشارة التي يتكلم عنها البيانيون وأهل الأصول، وذلك الاحتراز عن الألفاظ المهملة ونحوها؛ لإن القرآن الكريم منزه عن ذلك.

وكذلك ما احترز عنه بقوله: (المقصود به الإفهام) فإن خطاب أهل الكتاب في القرآن الكريم مقصود به إفهامهم، لأنهم يعلمون ما في الكتب السابقة من البشارات بالدين الجديد الكامل، وبالنبي الخاتم وصفاته، وأنه سيكشف الخلاف للذين يؤمنون بشريعة الله. وكذلك ما احترز عنه بقوله: (لمن

--------------------------------------------

(1) الآمدي: هو أبو الحسن علي بن أبي علي بن محمد بن سالم سيف الدين الآمدي، ولد بعد الخمسين وخمسمائة بيسير، ومات سنة (631 هـ) له عدة مؤلفات منها: الإحكام في أصول الأحكام. انظر: طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة (2/ 80)، المؤلف: أبي بكر بن أحمد بن محمد بن عمر بن قاضي شهبة، الناشر: عالم الكتب بيروت، الطبعة الأولى 1407 م، تحقيق د: الحافظ عبد العليم خان، وطبقات الشافعية الكبرى (8/ 306)، المؤلف: تاج الدين عبد الوهاب بن علي بن عبد الكافي السبكي، دار هجر للطباعة والنشر والتوزيع الطبعة الثانية 1413 هـ، تحقيق د: محمود محمد الطناحي، ود: عبد الفتاح محمد الحلو.

(2) انظر: الإحكام في أصول الأحكام، (1/ 136) المؤلف: علي بن أحمد بن حزم الأندلسي أبو محمد، الناشر: دار الحديث القاهرة 1404، الطبعة: الأولى.
এবং আমেদী (১) বলেছেন: "এই বিষয়ে বলা হয়েছে: এটি এমন কথা যা থেকে শ্রোতা কোনো কিছু বুঝতে পারে।" অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর এটি (সংজ্ঞাটি) যথেষ্ট প্রতিরোধক নয়; কারণ এর মধ্যে এমন কথা অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যার মাধ্যমে বক্তা শ্রোতাকে কোনো কিছু বুঝানোর উদ্দেশ্য করেনি, তবে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই সংজ্ঞানুযায়ী এটি কথা (কালাম) হিসেবে গণ্য হলেও তা সম্বোধন (খিতাব) নয়।" তিনি আরও বলেছেন: "সঠিক হলো এই যে, এটি এমন এক প্রচলিত শব্দ যা দ্বারা এমন ব্যক্তিকে কোনো কিছু বুঝানোর উদ্দেশ্য করা হয় যে তা বুঝতে প্রস্তুত।"

_অতঃপর তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন_: "(শব্দ) দ্বারা ঐ সকল প্রচলিত অর্থবোধক নড়াচড়া ও ইশারা-ইঙ্গিত থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য, আর (প্রচলিত শব্দ) দ্বারা ঐ সকল শব্দ থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য যার কোনো অর্থ নেই। এবং (বুঝানোর উদ্দেশ্য) দ্বারা ঐ সকল বিষয় থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য যা প্রথম সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আপতিত হয়েছিল। আর আমাদের কথা (যে ব্যক্তি তা বুঝতে প্রস্তুত) দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করা থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য যে বুঝে না, যেমন- ঘুমন্ত ব্যক্তি, অচেতন ব্যক্তি এবং এই জাতীয় ব্যক্তি" (২)।

যা প্রকাশ পায় তা হলো, ইমাম আমেদী (রহিমাহুল্লাহ) যে সংজ্ঞাটি পছন্দ করেছেন সেটিই সঠিক সংজ্ঞা; এর কারণ হলো সংজ্ঞার ব্যাখ্যায় অর্থবোধক নড়াচড়া ও ইশারা-ইঙ্গিত থেকে বেঁচে থাকার যে বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন তা প্রণিধানযোগ্য। কেননা পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর কথা যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের সম্বোধন করেছেন। আর আল্লাহর ক্ষেত্রে এই বিষয়টির পদ্ধতি হলো অহি-নির্ধারিত (তওকিফ); তাই এর অতিরিক্ত কোনো কিছু সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তর্কে লিপ্ত হওয়া বর্জন করা হয়েছে।

যে সকল অর্থবোধক ইশারা থেকে বেঁচে থাকার কথা বলা হয়েছে, তা হলো হাতের ইশারা বা এই জাতীয় বিষয় যার মাধ্যমে পরস্পর কথোপকথনকারীরা ভাববিনিময় করে। এর উদ্দেশ্য অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ ও উসুলবিদগণ যে ইঙ্গিতপূর্ণ অর্থ (দালালাতুল ইশারা) নিয়ে আলোচনা করেন তা থেকে বেঁচে থাকা নয়। বরং এটি অর্থহীন শব্দ এবং এই জাতীয় বিষয় থেকে বেঁচে থাকার জন্য; কেননা পবিত্র কুরআন তা থেকে পবিত্র।

অনুরূপভাবে তিনি (বুঝানোর উদ্দেশ্য) কথাটি দ্বারা যা থেকে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন, তা হলো- পবিত্র কুরআনে আহলে কিতাবদের প্রতি যে সম্বোধন করা হয়েছে তা তাদের বুঝানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। কারণ তারা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ থেকে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ দ্বীন এবং সর্বশেষ নবী ও তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে যে সুসংবাদ রয়েছে তা জানত। এবং তারা জানত যে, তিনি (নবী) আল্লাহর শরীয়তের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীদের নিকট মতভেদগুলো স্পষ্ট করে দেবেন। একইভাবে তিনি (কার জন্য) কথাটি দ্বারা যা থেকে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) আমেদী: তিনি হলেন আবুল হাসান আলী বিন আবি আলী বিন মুহাম্মদ বিন সালিম সাইফুদ্দীন আমেদী। তিনি ৫৫০ হিজরীর কিছু পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম। দেখুন: ইবনে ক্বাযী শুহবার তাবাক্বাতুশ শাফিইয়্যাহ (২/ ৮০), লেখক: আবু বকর বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন ক্বাযী শুহবা, প্রকাশক: আলমুল কুতুব বৈরুত, প্রথম সংস্করণ ১৪০৭ খ্রি., তাহক্বীক্ব ড.: হাফেজ আব্দুল আলীম খান, এবং তাবাক্বাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৮/ ৩০৬), লেখক: তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহাব বিন আলী বিন আব্দুল কাফী আস-সুবকী, দারু হাজার মুদ্রণ ও প্রকাশনী, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১৩ হি., তাহক্বীক্ব ড.: মাহমুদ মুহাম্মদ আত-তানাহি এবং ড.: আব্দুল ফাত্তাহ মুহাম্মদ আল-হুলু।

(২) দেখুন: আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, (১/ ১৩৬) লেখক: আলী বিন আহমদ বিন হাযম আল-আন্দালুসী আবু মুহাম্মদ, প্রকাশক: দারুল হাদীস কায়রো ১৪০৪, সংস্করণ: প্রথম।
(খণ্ড: ১) আল-খিতাবুল কুরআনী লি-আহলিল কিতাব ওয়া মাওকিফুহুম মিনহু কদীমান ওয়া হাদীসান (পৃষ্ঠা: ৪০)
هو متهيئ لفهمه) فإن خطاب أهل الكتاب في القرآن متوجه لمن هو متهيئ للفهم منهم في كل زمانٍ ومكان، قال تعالى: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ} (1).

ولذلك ينبغي لأهل الكتاب أن يصغوا للخطاب القرآني الموجه إليهم فإنه إما أمر من الله لهم أراد منهم أن يعملوه أو نهي أراد الله منهم أن يجتنبوه.

--------------------------------------------

(1) سورة العنكبوت الآية: (43).
সেটি বোঝার জন্য প্রস্তুত) কারণ কুরআনে আহলে কিতাবদের প্রতি সম্বোধন সর্বকাল ও সর্বস্থানে তাদের মধ্য থেকে যারা তা বোঝার জন্য প্রস্তুত তাদের উদ্দেশ্যেই নিবদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এই উদাহরণগুলো আমি মানুষের জন্য পেশ করি, কিন্তু জ্ঞানীগণ ব্যতীত কেউ তা বোঝে না} (১)।

আর একারণেই আহলে কিতাবদের উচিত তাদের প্রতি নিবদ্ধ কুরআনি সম্বোধনের প্রতি কর্ণপাত করা; কেননা তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কোনো আদেশ যা তিনি চান তারা পালন করুক, অথবা কোনো নিষেধ যা আল্লাহ চান তারা বর্জন করুক।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: (৪৩)।