(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: -)
إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك - ت بو طاهر   (الونشريسي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك (مع دراسة لحياة المؤلف وآثاره وعصره)

المؤلف: أبو العباس أحمد بن يحيى الونشريسى

المحقق: أحمد بو طاهر الخطابي، خريج دار الحديث الحسنية - الرباط

أصل التحقيق: دراسة جامعية لنيل دبلوم الدراسات العليا في العلوم الإسلامية من دار الحديث الحسنية بالرباط

الناشر: مطبعة فضالة - المحمدية (المغرب)

عام النشر: 1400 هـ - 1980 م

طبع هذا الكتاب: بإشراف اللجنة المشتركة لنشر التراث الإسلامي بين حكومة المملكة المغربية وحكومة دولة الإمارات العربية المتحدة

عدد الصفحات: 423

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1440

ইমাম মালিকের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট পথ - সম্পাদনা: বু তাহির   (আল-ওয়ানশারিসি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: ইদাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক (লেখকের জীবনী, কর্ম এবং তাঁর যুগ নিয়ে গবেষণাসহ)

লেখক: আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি

সম্পাদক: আহমদ বু তাহির আল-খাত্তাবি, স্নাতক, দারুল হাদিস আল-হাসানিয়া - রাবাত

মূল সম্পাদনা: রাবাতের দারুল হাদিস আল-হাসানিয়া থেকে ইসলামিক সায়েন্সে উচ্চতর শিক্ষা ডিপ্লোমা অর্জনের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা

প্রকাশক: মাতবাআতু ফাদালা - মুহাম্মাদিয়া (মরক্কো)

প্রকাশের বছর: ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

এই গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে: মরক্কো রাজতন্ত্রের সরকার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের যৌথ ইসলামী ঐতিহ্য প্রকাশনা কমিটির তত্ত্বাবধানে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৩

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং সৌজন্যে (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহয়ান চ্যারিটেবল এন্ডোমেন্ট)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১)
بمناسبة مطلع

القرن الخامس عشر الهجرى

بسم الله الرحمن الرحيم

{اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ

الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ}

صندوق إحياء التراث الإسلامي

المشترك بين

المملكة المغربية والإمارات العربية

المتحدة

إيضاح المسالك

إلى قواعد الإمام مالك

تأليف:

أبي العباس أحمد بن يحيى الونشريسى

تحقيق

أحمد بو طاهر الخطابي

خريج دار الحديث الحسنية - الرباط

مع

دراسة لحياة المؤلف وآثاره وعصره

طبع هذا الكتاب

بإشراف اللجنة المشتركة لنشر التراث الإسلامي

بين حكومة المملكة المغربية وحكومة دولة الإمارات العربية المتحدة

الرباط - 1400 هـ - 1980 م
হিজরি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রারম্ভ

উপলক্ষে

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

{পাঠ করুন এবং আপনার পালনকর্তা মহামহিমান্বিত,

যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন}

ইসলামিক ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ তহবিল

যৌথ উদ্যোগে

মরক্কো রাজতন্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত

রাষ্ট্রের

ইদাহুল মাসালিক

ইলা কাওয়ায়িদি ইমাম মালিক

রচনায়:

আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি

সম্পাদনা

আহমদ বু তাহের আল-খাত্তাবি

দারুল হাদিস আল-হাসানিয়া - রাবাত-এর স্নাতক

সাথে

লেখকের জীবনী, তাঁর রচনাবলি এবং তাঁর যুগ বিষয়ক আলোচনা

এই গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে

ইসলামিক ঐতিহ্য প্রকাশের যৌথ কমিটির তত্ত্বাবধানে

মরক্কো রাজতান্ত্রিক সরকার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রাষ্ট্রের সরকারের মধ্যে

রাবাত - ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

تقديم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحابته أجمعين.

أما بعد فإن كتاب "إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك". لمؤلفه العلامة الشهير أبي العباس أحمد بن يحيى بن محمد بن عبد الواحد بن علي الونشريسي تغمده الله برحمته، الذي نقدمه للقراء الكرام يعتبر بحق من أبرز وأنفس وأثمن وأجمع كتب الفقه المالكي التي اهتمت اهتماما بالغا بدراسة موضوعات قواعد فقه المذهب المالكي فهو ذخيرة علمية تضاف إلى لبنات ذخائر فقهنا الإسلامي الهادف، الذي تزدان بمختلف فروعه مكتباتنا الإسلامية زيادة على أنه قد جمع بين التحقيق والتدقيق والتنقيح والبيان والإحاطة في العمق والشمول لعدد غير قليل من الأصول والنوازل والفروع والقواعد والشروح والتنبيهات الفرضية منها والكلية.

فرسم بذلك لهذه المعلمة الفقهية المالكية صورة واضحة المعالم والمنهج مستنبطة من كتاب الله عز وجل أولا، ومن سنة رسوله صلى الله عليه وسلم ثانيا.

يلمس ذلك القارئ من خلال تتبعه لهذا الكتاب كما يلمس بوضوح وجلاء ما للمغاربة القدامى من تضلع وتمكن في هذا الفن بالذات وسبر لأغواره عبر التاريخ مخلفين كشاهد على
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের শেষ প্রতিনিধি আমাদের সরদার মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, "ইজাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমাম মালিক" গ্রন্থটি—এর রচয়িতা প্রখ্যাত আল্লামা আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আলী আল-ওয়ানশারীসী (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন)—যা আমরা সম্মানিত পাঠকদের জন্য পেশ করছি, এটি মালিকি ফিকহশাস্ত্রের অন্যতম প্রধান, মূল্যবান, অমূল্য এবং ব্যাপক সংকলন হিসেবে যথার্থই গণ্য, যা মালিকি মাযহাবের ফিকহী উসূল বা নিয়মাবলী আলোচনার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। এটি একটি ইলমী ভাণ্ডার যা আমাদের লক্ষ্যভিত্তিক ইসলামি ফিকহের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার বিভিন্ন শাখা দ্বারা আমাদের ইসলামি গ্রন্থাগারগুলো সুশোভিত। অধিকন্তু, এটি অনেক মূলনীতি (উসূল), সমসাময়িক মাসয়ালা (নাওয়াযিল), শাখা-প্রশাখা (ফুরু), নিয়মাবলী (কাওয়াইদ), ব্যাখ্যা এবং আনুমানিক ও সামগ্রিক সতর্কবার্তাগুলোর ক্ষেত্রে তাহকীক, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, পরিমার্জন, স্পষ্টীকরণ এবং গভীর ও ব্যাপক আলোচনার সমন্বয় ঘটিয়েছে।

এর মাধ্যমে এই মালিকি ফিকহী নিদর্শনের জন্য এমন এক সুস্পষ্ট রূপরেখা ও মানহাজ অঙ্কন করা হয়েছে যা প্রথমত মহান আল্লাহর কিতাব এবং দ্বিতীয়ত তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে উৎসারিত।

পাঠক এই গ্রন্থটি পাঠের মাধ্যমে তা অনুভব করতে পারবেন, যেমনটি তিনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন এই বিশেষ শাস্ত্রে প্রাচীন মাগরেববাসীদের গভীর পাণ্ডিত্য ও পারদর্শিতা এবং ইতিহাসের পরিক্রমায় এর গভীর রহস্য উন্মোচনের বিষয়টি, যা তারা সাক্ষী হিসেবে রেখে গেছেন...
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৫)
ذلك مجلدات كثيرة تزخر بها مكتباتنا الفقهية العامة منها والخاصة.

واعتبارا لما ذكر في هذه العجالة عن الكتاب وأهميته البالغة وقيمة موضوعاته العلمية والفقهية النادرة وأثرها في هذا التراث المتألق في سماء موقعنا الغربي الإسلامي وما أنجبه هذا الغرب الإسلامي من عباقرة شوامخ في هذه الحلبة وفي غيرها ما يزال واسطة عقد القلادة في فقه هذا المذهب المالكي بهذه الديار.

من أجل ذلك ارتأت وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية المغربية أن تقدم هذه الدراسة كاملة في كتاب تضعه كباقة فواحة العبير شهية الأخذ والتناول لعشاق هذا الفن الإسلامي هدية بمناسبة مطلع القرن الخامس عشر الهجري، بعد اتفاقها مع الأستاذ أحمد بو طاهر الخطابي على نشر هذه الدراسة الجامعية التي قدمها لنيل دبلوم الدراسات العليا في العلوم الإسلامية من دار الحديث الحسنية بالرباط - ومنحت لها لجنة المناقشة ميزة "حسن جدا" تقديرا لما بذله الأستاذ من جهود مضنية في إخراج كتاب "الإيضاح".

فريد نوعه في الكيف والمضمون والنوع.

وتم الطبع تحت إشراف اللجنة المشتركة لنشر التراث الإسلامي بين حكومة المملكة المغربية وحكومة دولة الإمارات العربية المتحدة.

صندوق إحياء التراث الإسلامي المشترك

بين المملكة المغربية ودولة الإمارات العربية المتحدة

الرباط في عام 1400 هـ

موافق 1980 م
সেটি অনেকগুলো খণ্ডের সমষ্টি, যাতে আমাদের সরকারি ও বেসরকারি ফিকহী পাঠাগারসমূহ সমৃদ্ধ।

এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বইটির গুরুত্ব, এর বিরল বৈজ্ঞানিক ও ফিকহী বিষয়বস্তুর মান এবং আমাদের ইসলামি পশ্চিমাঞ্চলের আকাশে এই উজ্জ্বল ঐতিহ্যের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই বিবেচনায়—এবং এই ইসলামি পশ্চিমাঞ্চল এই ক্ষেত্রসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যেসব সুউচ্চ প্রতিভাধর ব্যক্তিদের জন্ম দিয়েছে—এটি এই জনপদে মালিকি মাযহাবের ফিকহের কণ্ঠহারের মধ্যমণি হয়েই রয়েছে।

এই কারণেই মরক্কোর আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পূর্ণাঙ্গ গবেষণাটি একটি বই আকারে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা এই ইসলামি শিল্পের অনুরাগীদের জন্য পঞ্চদশ হিজরি শতাব্দীর সূচনালগ্নে একটি সুগন্ধি উপহার হিসেবে পেশ করা হয়েছে। এটি প্রফেসর আহমদ আবু তাহের আল-খাত্তাবীর সাথে চুক্তির পর প্রকাশিত হয়েছে, যিনি রাবাতের দারুল হাদিস আল-হাসানিয়া থেকে ইসলামি বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিপ্লোমা অর্জনের জন্য এই গবেষণাপত্রটি পেশ করেছিলেন—এবং বিচারক কমিটি আল-ইজাহ গ্রন্থটি প্রকাশে প্রফেসরের অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ একে অত্যন্ত উত্তম মান প্রদান করেছিল।

এটি গুণগত মান, বিষয়বস্তু এবং বৈশিষ্ট্যে অনন্য।

মরক্কো রাজতন্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের যৌথ ইসলামি ঐতিহ্য প্রকাশনা কমিটির তত্ত্বাবধানে এটি মুদ্রিত হয়েছে।

যৌথ ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন তহবিল

মরক্কো রাজতন্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর মধ্যে

রাবাত, ১৪০০ হিজরি

১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের মোতাবেক
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تمهيد

الحمد لله حمدا يليق بجماله وجلاله، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وآله وصحبه

إن من نعم الله الكبرى على الأمة الإسلامية، تكريمها بالرسالة المحمدية، الخاتمة للشرائع السماوية، الجامعة للمصالح البشرية، الواردة بالأصول الكلية -لطفا منه سبحانه ورحمة بعباده- لتستنبط منها الأحكام الملائمة لكل جيل وبيئة، تاركة المجال فسيحا لذوي المؤهلات الاجتهادية، مواصلة التشريع الفرعي والجزئي لكل نازلة. وإيجاد حلول شرعية لمختلف القضايا المتجددة، في نطاق النصوص الكلية للشريعة السمحة، دون الخروج عن أهدافها العامة، ومقاصدها السامية.

وقد طبق -عمليا- خدام الشريعة هذه المنهجية السليمة عبر المراحل التي مر فيها الفقه الاسلامي، الذي بلغ القمة في عهد الأئمة الكبار، انطلاقا من ظهور مدارسه التي تبلورت إلى مذاهب، كل له منهاجه في الاستنباط، وتلاميذه وأتباعه، يمدهم بالرواية والدراية الفقهية، ويدرس النوازل الواقعة، بل منهم من تناول الفرضية منها، والكل يستنطق الينبوع الأساسي للتشريع الإسلامي کتاب الله أولا، وسنة رسول الله -ثانيا، ثم المصادر الأخرى- ثالثا. وهنا اختلفت الآراء إلا أن الاختلاف لم يكن -في الواقع- في ذات الدين، ولا في لب

 

- أ -
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর সৌন্দর্য ও মহিমার যোগ্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

নিশ্চয়ই মুসলিম উম্মাহর ওপর আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো একে মুহাম্মাদী রিসালাতের মাধ্যমে সম্মানিত করা; যা আসমানী শরীয়তসমূহের পরিসমাপ্তি দানকারী, মানবজাতির কল্যাণসমূহকে ধারণকারী এবং মৌলিক নীতিমালার সাথে অবতীর্ণ—যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি একান্ত অনুগ্রহ ও দয়া—যাতে তা থেকে প্রতিটি প্রজন্ম ও পরিবেশের উপযোগী বিধানসমূহ উদ্ভাবন করা যায়। এটি ইজতিহাদী যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রতিটি উদ্ভূত সমস্যার শাখা ও আংশিক বিধান প্রদানের পথ প্রশস্ত রেখেছে, যাতে উদার শরীয়তের মৌলিক ভাষ্যসমূহের গণ্ডির মধ্যে থেকে এর সাধারণ লক্ষ্য ও উচ্চতর উদ্দেশ্যসমূহ থেকে বিচ্যুত না হয়ে বিভিন্ন নতুন সমস্যার শরয়ী সমাধান খুঁজে বের করা যায়।

শরীয়তের সেবকগণ ইসলামী ফিকহ অতিক্রান্ত বিভিন্ন স্তরে বাস্তবিকভাবেই এই সঠিক কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন, যা মহান ইমামগণের যুগে পূর্ণতা লাভ করেছিল। এর সূচনা হয়েছিল বিভিন্ন চিন্তাধারার আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে যা পরবর্তীতে মাযহাবে রূপ নেয়; যার প্রত্যেকের উদ্ভাবন পদ্ধতির নিজস্ব মূলনীতি ছিল এবং ছিল একদল ছাত্র ও অনুসারী। তাঁরা তাঁদেরকে ফিকহী বর্ণনা ও প্রজ্ঞা দ্বারা সমৃদ্ধ করতেন এবং বাস্তবে ঘটে যাওয়া সমস্যাবলি নিয়ে গবেষণা করতেন, এমনকি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কাল্পনিক বা সম্ভাব্য সমস্যাগুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন। আর সকলে ইসলামী শরীয়তের মৌলিক উৎসসমূহ থেকে সমাধান খুঁজতেন; প্রথমত আল্লাহর কিতাব, দ্বিতীয়ত আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ এবং তৃতীয়ত অন্যান্য উৎসসমূহ। আর এখানেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তবে বাস্তবে এই মতপার্থক্য দ্বীনের মৌলিক সত্তা কিংবা মূল নির্যাস নিয়ে ছিল না।

 

- ক -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৭)
الشريعة، وإنما اختلاف في فهم نصوصها، وتطبيق كلياتها على الفروع، وأخذ كل بما استقام في نظره، وبما رآه جديرا أن يعتبر كمصدر، فمنهم من وسع في هذا الشأن، ومنهم من اقتصر، ومما لا ريب فيه أن البيئة الطبيعية، والاجتماعية، والسياسية - التي كانت تحيط بكل إمام- لعبت دورا بارزا في اختلاف النظر الى الوقائع، وفي تقدير الأدلة وفهمها وتأويلها مما أدى إلى تعدد المذاهب.

 

‌‌أهم المذاهب الفقهية

يمكن تقسيم المذاهب الفقهية عموما إلى نوعين سني، وغير سني، وكل نوع يتفرع إلى عدة فروع، ويهمنا منها النوع السني الذي يتفرع بدوره -باعتبار الانتشار والاندثار- إلى ثلاثة فروع

أ - فرع نشأ لكنه لم يكتب له البقاء والانتشار، كمذهب محمد بن ابي ليلى (ت 148 هـ)، ومذهب سفيان الثوري (ت 161 هـ)، ومذهب الليث بن سعد (ت 175 هـ)، ومذهب سفيان بن عيينة (ت 198 هـ)، وغيرها من المذاهب التي اندثرت بموت أصحابها.

ب - فرع تكون واستمر لوقت محدود، كمذهب عبد الرحمان الأوزاعي (ت 136 هـ)، ومذهب داوود الظاهري (ت 170 هـ). ومذهب محمد بن جرير الطبري (ت 310 هـ).

ج - أما الفرع الثالث الذي أسعده الحظ في الاستمرار والانتشار، ووقف التقليد عنده في سائر الأقطار -إلى حد الآن- فينحصر في المذاهب التالية

 

‌‌1 - المذهب الحنفي

وإمامه أبو حنيفة النعمان، ولد بالكوفة (80 هـ) وتوفي ببغداد (150 هـ)، وقد انتشر مذهبه بالكوفة والعراق، والشام، ومصر، والجزيرة

 

- ب -
শরিয়ত (নয়), বরং এর নাসসমূহ (নصوص) অনুধাবন, শাখা-প্রশাখায় এর মূলনীতিসমূহের প্রয়োগ এবং প্রত্যেকে তার দৃষ্টিতে যা সঠিক মনে হয়েছে ও যাকে উৎস হিসেবে গণ্য করার যোগ্য মনে করেছেন তা গ্রহণের মধ্যেই এই পার্থক্য নিহিত। ফলে তাঁদের কেউ কেউ এই বিষয়ে প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন, আবার কেউ সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রাকৃতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশ—যা প্রতিটি ইমামকে ঘিরে ছিল—বাস্তব ঘটনাবলির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যে এবং দলীলসমূহের মূল্যায়ন, অনুধাবন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছে, যা মাযহাবসমূহের বহুত্বের দিকে নিয়ে গেছে।

 

‌‌প্রধান ফিকহী মাযহাবসমূহ

সাধারণভাবে ফিকহী মাযহাবসমূহকে সুন্নি ও অ-সুন্নি—এই দুই প্রকারে ভাগ করা সম্ভব। প্রতিটি প্রকার আবার বেশ কিছু শাখায় বিভক্ত। আমাদের কাছে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুন্নি প্রকারটি, যা প্রচার ও বিলুপ্তির বিচারে আবার তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে:

ক - এমন একটি শাখা যা উদ্ভূত হয়েছিল কিন্তু তার টিকে থাকা ও প্রসার লাভ ভাগ্যে জুটেনি; যেমন মুহাম্মদ ইবনে আবি লায়লা (মৃত্যু ১৪৮ হি.), সুফিয়ান আস-সাওরি (মৃত্যু ১৬১ হি.), লাইস বিন সাদ (মৃত্যু ১৭৫ হি.), এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনা (মৃত্যু ১৯৮ হি.)-এর মাযহাব এবং অন্যান্য মাযহাব যা তাদের প্রবক্তাদের মৃত্যুর সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

খ - এমন একটি শাখা যা গঠিত হয়েছিল এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টিকে ছিল; যেমন আবদুর রহমান আল-আওযায়ী (মৃত্যু ১৩৬ হি.), দাউদ আজ-জাহেরি (মৃত্যু ১৭০ হি.) এবং মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারী (মৃত্যু ৩১০ হি.)-এর মাযহাব।

গ - আর তৃতীয় শাখাটি, যার ভাগ্যে টিকে থাকা ও প্রসার লাভ জুটেছে এবং সমস্ত জনপদে যার অনুসরণ (তাকলীদ) আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে, তা নিম্নোক্ত মাযহাবগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ:

 

‌১ - হানাফী মাযহাব

এর ইমাম হলেন আবু হানিফা আন-নুমান। তিনি কুফায় জন্মগ্রহণ করেন (৮০ হি.) এবং বাগদাদে ইন্তেকাল করেন (১৫০ হি.)। তাঁর মাযহাব কুফা, ইরাক, সিরিয়া, মিশর এবং জাযিরায় ছড়িয়ে পড়েছে।

 

- খ -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৮)
العربية، وشمال إفريقيا، وغيرها من البلدان الَّتِي كان منفردا فيها، إلا أنه سرعان ما نافسته المذاهب الأخرى حينما بزغت، فتقلص في بعضها، واضمحل في بعضها الآخر، ورغم ذلك فلا زال معمولا به في العراق مطلقا، وفي الفتيا والقضاء -فقط- في جل البلدان الَّتِي كانت خاضعة للدولة العثمانية، كمصر، وسوريا، ولبنان … كما لازال مذهب الأغلبية- في الأمور الدينية- لدى مسلمي تركيا، وباكستان، وأفغانستان، والهند، وروسيا، وغيرها من البلدان الَّتِي لا زال له فيها اتباع- عدا المغرب، رغم أنه من أولى المذاهب الَّتِي دخلت إليه.

 

‌‌2 - المذهب المالكي

وإمامه مالك بن أنس، ولد بالمدينة المنورة (93 هـ)، وبها توفي (179 هـ)، وهو مستغن بشهرته عن التعريف به، وقد أورد القاضي عياض في "المدارك"، والسيوطي في "تزيين المسالك"، والزواوي في "مناقب مالك" وغيرهم، من ثناء الأئمة عليه علما، ودينا، وورعا، وثباتا .. ما فيه كفاية.

وقد انتشر مذهبه في الحجاز، ومصر، والسودان، والكويت، والبحرين، وتونس، والجزائر، والأندلس، والمغرب الأقصى - البلد الوحيد الذي أضحى فيه بدون منافس، وله أتباع في جل البلدان الإسلامية الأخرى.

 

‌‌3 - المذهب الشافعي

وإمامه محمد بن إدريس الشافعي، ولد بغزة (150 هـ) ونشأ بمكة، وربي بهذيل، وتوفي بمصر (204 هـ). وانتشر مذهبه الثاني في مصر، والأردن، وسوريا، ولبنان، وفلسطين، وباكستان، والهند، واندنيسيا، ولدى السنيين في إيران، واليمن، وغيرها من البلدان الَّتِي لا زال له فيها أتباع - عدا المغرب.

 

- جـ -
আরব দেশসমূহ, উত্তর আফ্রিকা এবং অন্যান্য দেশ যেখানে এটি এককভাবে বিদ্যমান ছিল, তবে অন্যান্য মাযহাবের উদ্ভব ঘটলে শীঘ্রই এটি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়। ফলে কিছু অঞ্চলে এর প্রভাব সংকুচিত হয় এবং অন্য কিছু অঞ্চলে এটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও, ইরাকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রয়েছে এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনস্থ অধিকাংশ দেশে—যেমন মিসর, সিরিয়া এবং লেবানন—শুধুমাত্র ফতোয়া ও বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটি এখনও প্রচলিত ... যেমন তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশের মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় বিষয়ে এটি এখনও সংখ্যাগুরুদের মাযহাব হিসেবে টিকে আছে, যেখানে এখনও এর অনুসারী রয়েছে—মরক্কো ব্যতীত, যদিও এটি সেখানে প্রবেশ করা প্রথম মাযহাবগুলোর একটি ছিল।

 

‌‌২ - মালিকি মাযহাব

এর ইমাম হলেন মালিক ইবনে আনাস, তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন (৯৩ হিজরি) এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন (১৭৯ হিজরি)। তিনি তার ব্যাপক খ্যাতির কারণে পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নন। কাজী ইয়াজ 'আল-মাদারিক' গ্রন্থে, সুয়ূতী 'তাযয়ীনুল মাসালিক' গ্রন্থে, এবং যাওয়াবি 'মানাকিব মালিক' গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা তার জ্ঞান, দ্বীনদারিতা, পরহেযগারি এবং দৃঢ়তার বিষয়ে ইমামগণের যে প্রশংসা উল্লেখ করেছেন তা যথেষ্ট।

তার মাযহাব হিজাজ, মিসর, সুদান, কুয়েত, বাহরাইন, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, আন্দালুস এবং মরক্কোতে ছড়িয়ে পড়ে—মরক্কো একমাত্র দেশ যেখানে এটি প্রতিদ্বন্দ্বীহীন হয়ে পড়েছে, এবং অন্যান্য অধিকাংশ মুসলিম দেশেও এর অনুসারী রয়েছে।

 

‌‌৩ - শাফেয়ী মাযহাব

এর ইমাম হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফেয়ী, তিনি গাজায় জন্মগ্রহণ করেন (১৫০ হিজরি) এবং মক্কায় বেড়ে ওঠেন, হুযায়ল গোত্রে লালিত-পালিত হন এবং মিসরে মৃত্যুবরণ করেন (২০৪ হিজরি)। তার দ্বিতীয় মাযহাবটি মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং ইরানের সুন্নিদের মাঝে, ইয়েমেন এবং অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে এখনও এর অনুসারী রয়েছে—মরক্কো ব্যতীত।

 

- জ -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌4 - المذهب الحنبلي

وإمامه أحمد بن حنبل، ولد وتوفي ببغداد (164 - 241) وكان إماما في الحديث بدون منازع، وانتشر مذهبه في المشرق عموما، غير أنه مع مر الأيام كاد أن يندثر -حيث لم يبق له حتى في البلدان الَّتِي انتشر فيها غير صدي خافت- لو لم يحيه محمد بن عبد الوهاب في القرن الثاني عَشر الهجري، ومنذئذ انتعش، وأصبح له أتباع في بعض البلدان الإسلامية كالحجاز، والشام .... عدا المغرب.

من هذا يتضح أن المذاهب الفقهية السنية الَّتِي كتب لها البقاء، كانت -ولا زالت- منتشرة ومتنافسة في جل البلدان الإسلامية، باستثناء المغرب الأقصى الذي تسنم عرشه المذهب المالكي منذ أن تقلده المغاربة، رغم محاولة بعض ملوك الموحدين القضاء عليه- لكن بدون جدوى، الشيء الذي يدعو إلى طرح الأسئلة التالية لماذا انفرد المذهب المالكي بالنفوذ في المغرب؟ وما هي البواعث الَّتِي دفعت أهله إلى التمسك به تمسك الرضيع بأمه؟ وهل ذلك عن اختيار واقتناع بصلاحيته؟ أم فرض عليهم بالقوة- كما يدعي البعض؟ أم أن ذلك كان كنتيجة حتمية لعدم تعرفهم على المذاهب الأخرى؟

وأن المستنطق لتاريخ المغاربة سيجد أنهم كانوا يتسمون بالصلابة في الرأي، والتروي في اتخاذ المواقف الحاسمة، وعدم إقبالهم -بلهفة على كل جديد، وعدم تأثرهم بسرعة بكل وارد -كما هو ملاحظ اليوم- إلا بعد اختبارهم إياه، والتثبت منه بأنه يتلاءم مع مزاجهم، وبيئتهم الاجتماعية والعرفية، والعقلية والنفسية … وهذا الموقف نفسه وقفوه ازاء الإسلام حيث لم يعتنقوه اعتناقا صادقا، وآمنوا به إيمانا عميقا امتزج بدمهم ولحمهم، إلا في الكرة الثانية عشرة- كما يذكر ذلك ابن أبي زيد القيرواني- حينما تيقنوا أنه ليس له مثيل،

 

- د -
৪ - হাম্বলী মাযহাব

এর ইমাম হলেন আহমদ বিন হাম্বল। তিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন (১৬৪ - ২৪১ হিজরি)। তিনি হাদিস শাস্ত্রে অবিসংবাদিত ইমাম ছিলেন। তাঁর মাযহাব সাধারণভাবে প্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে কালক্রমে তা বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল—এমনকি যেসব দেশে এটি বিস্তার লাভ করেছিল, সেখানেও একটি অস্পষ্ট প্রতিধ্বনি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না—যদি না দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব একে পুনরুজ্জীবিত করতেন। এরপর থেকে এটি সজীব হয়ে ওঠে এবং হিজাজ ও শামসহ কিছু মুসলিম দেশে এর অনুসারী তৈরি হয়... তবে মাগরেব (মরক্কো অঞ্চল) ব্যতীত।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, সুন্নি ফিকহি মাযহাবগুলোর মধ্যে যেগুলো টিকে আছে, সেগুলো অধিকাংশ মুসলিম দেশে বিস্তৃত ছিল এবং এখনো রয়েছে এবং একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কেবল মাগরেবে আকসা (সুদূর মরক্কো) ব্যতীত, যেখানে মালেকি মাযহাব তার সিংহাসন অলঙ্কৃত করে আছে যখন থেকে মরক্কোবাসী এটি গ্রহণ করেছে। যদিও মুওয়াহহিদুন বংশের কিছু রাজা একে নির্মূল করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি। এই বিষয়টি নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো উত্থাপন করার দাবি রাখে: কেন মালেকি মাযহাব মরক্কোতে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করল? এবং কোন অনুপ্রেরণাগুলো সেখানকার অধিবাসীদের এই মাযহাবকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যেমন একটি শিশু তার মাকে আঁকড়ে ধরে? আর এটি কি এর উপযোগিতার বিষয়ে স্বেচ্ছায় নির্বাচন ও দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে হয়েছিল? নাকি এটি তাদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল—যেমনটি কেউ কেউ দাবি করে থাকেন? নাকি এটি অন্যান্য মাযহাব সম্পর্কে তাদের পরিচিতি না থাকার এক অনিবার্য ফলাফল ছিল?

মরক্কোবাসীদের ইতিহাস অনুসন্ধানকারী দেখতে পাবেন যে, তারা মতামতের ক্ষেত্রে দৃঢ়তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তারা প্রতিটি নতুন বিষয়ের প্রতি ব্যাকুল হয়ে ছুটে যেতেন না এবং বাইরে থেকে আসা প্রতিটি বিষয়ের দ্বারা দ্রুত প্রভাবিত হতেন না—যেমনটি আজ লক্ষ্য করা যায়। বরং তারা সেটি পরীক্ষা করতেন এবং নিশ্চিত হতেন যে তা তাদের মেজাজ, সামাজিক ও প্রথাগত পরিবেশ এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলামের ক্ষেত্রেও তারা একই অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তারা একে অকৃত্রিমভাবে গ্রহণ করেননি এবং এর প্রতি গভীর বিশ্বাস স্থাপন করেননি যা তাদের রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে গিয়েছিল, যতক্ষণ না দ্বাদশ প্রচেষ্টায়—যেমনটি ইবনে আবি জায়েদ আল-কায়রাওয়ানি উল্লেখ করেছেন—তারা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে এর কোনো সমকক্ষ নেই।

 

- দ -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১০)
ومنذئذ لم يرضوا به بديلا، وصاروا يدافعون عنه -ولا زالوا- بكل ما أوتوا من قوة، وكفاهم فخرا أنهم كانوا في طليعة الناشرين له في أوربا وأفريقيا.

وإذا كان هذا موقفهم مع الإسلام، فليس بصحيح ما ادعاه ابن حزم من أن المذهب المالكي لم ينتشر في الأندلس والمغرب إلا بالسلطة، ويفند زعمه هذا بالنسبة للمغرب ما قام به بعض ملوك الموحدين، وخاصة يعقوب المنصور من محاولات لمحو المذهب المالكي منه، بإحراق كتبه بالجملة، وإلزام المغاربة بالتخلي عنه رهبة، إلا أن النتيجة كانت عكسية، حيث ازداد المغاربة تمسكا به، نعم قد تكون السلطة سببا مكملا لحماية الإرادة الشعبية من تشكيكها في عقيدتها الأشعرية ووحدتها المذهبية، والعمل على تنقيتها من الطفيلات الشاذة.

كما ليس بصحيح -بتاتا- الظن بأن السبب في انتشار مذهب مالك واستمراره بالمغرب يرجع إلى عدم تعرف أهله على المذاهب الأخرى، لأن التاريخ يثبت بكيفية قاطعة، أن كثيرا من المذاهب السنية وغير السنية وفدت على المغرب، وعاشت فيه مدة، وحاولت التمركز فيه قبل وبعد إدخال المذهب المالكي إليه، غير أن المغاربة تخلوا عنها لسبب أو لآخر، وتمسكوا بمذهب مالك، وذلك لعدة عوامل

 

‌‌عوامل تمسك المغاربة بمذهب مالك

ليس من اليسير في هذه العجالة تقصي كل العوامل والأسباب الَّتِي حفزت المغاربة إلى التشبث بمذهب مالك، لذا سأكتفي بالاشارة إلى البعض منها

1 - نشوء المذهب بالديار المقدسة.

2 - ورود الأثر في صاحب المذهب.

3 - إشادة مختلف الأئمة به.

 

- هـ -
এরপর থেকে তাঁরা এর কোনো বিকল্প গ্রহণ করতে রাজি হননি এবং তাঁরা তাঁদের সর্বশক্তি দিয়ে এটি রক্ষা করে চলেছেন—যা এখনও অব্যাহত আছে। তাঁদের জন্য এতটুকুই গর্বের বিষয় যে, তাঁরা ইউরোপ ও আফ্রিকায় এই ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন।

ইসলামের ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান যদি এমন হয়ে থাকে, তবে ইবনে হাজম যা দাবি করেছেন তা সঠিক নয়—অর্থাৎ মালিকি মাযহাব আন্দালুস ও মরক্কোতে কেবল রাষ্ট্রক্ষমতার মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করেছিল। মরক্কোর ক্ষেত্রে তাঁর এই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে মুওয়াহহিদুন বংশের কিছু রাজার গৃহীত পদক্ষেপ, বিশেষ করে ইয়াকুব আল-মানসুরের প্রচেষ্টা; তিনি মরক্কো থেকে মালিকি মাযহাব মিটিয়ে দেওয়ার জন্য ঢালাওভাবে এর কিতাবসমূহ পুড়িয়ে ফেলেছিলেন এবং ভীতির মাধ্যমে মরক্কোবাসীদের এটি ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। তবে ফলাফল হয়েছিল উল্টো; মরক্কোবাসী এই মাযহাবের প্রতি আরও বেশি দৃঢ়সংলগ্ন হয়ে পড়েছিল। হ্যাঁ, রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের ইচ্ছাকে তাদের আশআরি আকিদা ও মাযহাবগত ঐক্যের ব্যাপারে সংশয় থেকে রক্ষা করার জন্য এবং একে বিজাতীয় ও বিভ্রান্তিকর অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক কারণ হতে পারে।

একইভাবে এই ধারণাটিও মোটেও সঠিক নয় যে, মরক্কোতে ইমাম মালিকের মাযহাবের প্রসার ও স্থায়িত্বের কারণ হলো সেখানকার মানুষের অন্য মাযহাবগুলো সম্পর্কে জানাশোনা না থাকা। কারণ ইতিহাস অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, অনেক সুন্নি ও অ-সুন্নি মাযহাব মরক্কোতে এসেছিল, সেখানে বেশ কিছুকাল অবস্থান করেছিল এবং মালিকি মাযহাব প্রবেশের আগে ও পরে সেখানে শেকড় গাড়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মরক্কোবাসী কোনো না কোনো কারণে সেগুলো বর্জন করেছে এবং মালিকি মাযহাবকেই আঁকড়ে ধরেছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

 

‌‌মরক্কোবাসীদের মালিকি মাযহাব আঁকড়ে ধরার কারণসমূহ

মরক্কোবাসীদের মালিকি মাযহাবের প্রতি দৃঢ়সংলগ্ন হতে উদ্বুদ্ধকারী সকল কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সহজ নয়; তাই আমি এখানে কেবল কয়েকটির প্রতি ইঙ্গিত করছি:

১ - পবিত্র ভূমিতে এই মাযহাবের উদ্ভব।

২ - এই মাযহাবের ইমামের শানে বর্ণিত হাদিস ও آثار (পূর্বসূরিদের বর্ণনা)।

৩ - বিভিন্ন ইমামগণ কর্তৃক তাঁর ভূয়সী প্রশংসা।

 

- হা -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১১)
4 - تشابه البيئتين المغربية والحجازية.

5 - طبيعة المذهب نفسه وخصائصه.

 

‌‌1 - بزوغ المذهب بالبقاع المقدسة:

من المسلم به أن كل مسلم له ارتباط وثيق -عقيديا وروحيا- بالديار المقدسة منبع الرسالة المحمدية، منذ اعتناقهم الإسلام، وظهور مذهب فقهي سني في دار الهجرة، هدف صاحبه خدمة السنة النبوية بتدوينها وحمايتها من الشوائب، وتوطيء فقهه بها في مسجد الرسول الأكرم، وبجوار قبره عليه الصلاة والسلام وتعاقب الوفود من التلاميذ والحجيج باستمرار - على المدينة المنورة، يرتوون ويروون، ثم انتشارهم انتشار الشعاع في شتى الأصقاع، مبلغين أصداء هذا المذهب ومزاياه إلى كثير من بقاع العالم الإسلامي- ومنه المغرب، واقترن طول عمر الإمام، وكثرة العلم، بعظمة المكان ذاته بيت الله الحرام، ومسجد رسول الله، وهيبة قبره، ومغداه ومرحاه، وأبنائه، وأبناء أصحابه، والأثر والذكر العطر بنوره، بلدة طيبة، وعلم زاخر … كل ذلك وغيره، أهَّلَ الديار المقدسة - بصفة عامة، والمدينة المنورة بوجه خاص- أن تكون بذاتها وبروحها عاملا مهما لانتشار واستمرار مذهب مالك بالمغرب، وتمسك أهله به، تمسكهم بالعروة الوثقى، وذلك لعدة أسباب، منها:

أ- خروج المذهب على يد تلامذة مالك، وادخالهم إياه إلى بلدانهم وغيرها، وكان أول من أدخله إلى شمال افريقيا تلميذ مالك أبو الحسن علي بن زياد التونسي (ت 183 هـ).

ب- توافد الحجيج كل سنة على تلك البقاع المقدسة، وإعجابهم بالمذهب الذي وجدوه امتدادا لنهج السلف عقيدة، وعملا.

 

- و -
4 - মরক্কো এবং হিজাজের পরিবেশগত সাদৃশ্য।

5 - স্বয়ং মাযহাবের প্রকৃতি এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ।

 

‌‌১ - পবিত্র স্থানসমূহে মাযহাবের বিকাশ:

এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, প্রত্যেক মুসলিমের ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই মুহাম্মাদী রিসালাতের উৎসস্থল পবিত্র ভূমির সাথে একটি নিবিড়—আকীদাগত ও আধ্যাত্মিক—সম্পর্ক রয়েছে। দারুল হিজরাহ (মদীনা)-তে একটি সুন্নী ফিকহি মাযহাবের আত্মপ্রকাশ ঘটে, যার প্রতিষ্ঠাতার লক্ষ্য ছিল সুন্নাহকে সংকলন করা এবং একে কলুষতা থেকে রক্ষা করার মাধ্যমে নববী সুন্নাহর সেবা করা। তিনি মহান রাসূলের মসজিদে এবং তাঁর কবরের সন্নিকটে তাঁর ফিকহকে সুবিন্যস্ত করেন। মদীনা মুনাওয়ারায় ছাত্র ও হাজীদের দলগুলো ধারাবাহিকভাবে আগমন করতে থাকে—তারা নিজেরা জ্ঞান অর্জন করত এবং অন্যের কাছে তা পৌঁছে দিত। অতঃপর তারা রশ্মির মতো বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই মাযহাবের আবেদন ও বৈশিষ্ট্যসমূহ মুসলিম বিশ্বের অনেক স্থানে পৌঁছে দেয়—যার মধ্যে মরক্কোও অন্তর্ভুক্ত। ইমামের দীর্ঘায়ু এবং অগাধ জ্ঞান সেই পবিত্র স্থানের মাহাত্ম্যের সাথে যুক্ত হয়েছিল—যেখানে আল্লাহর পবিত্র ঘর, রাসূলুল্লাহর মসজিদ, তাঁর কবরের গাম্ভীর্য, তাঁর প্রাতঃকালীন ও সান্ধ্যকালীন বিচরণের স্মৃতিসমূহ, তাঁর বংশধর, সাহাবীদের বংশধর এবং তাঁর নূরে আলোকিত সুরভিত স্মৃতিমালা বিদ্যমান। এটি ছিল এক পবিত্র নগরী এবং জ্ঞানের এক বিশাল সমুদ্র... এই সমস্ত কিছু এবং আরও অনেক কারণ পবিত্র ভূমিকে সাধারণভাবে এবং মদীনা মুনাওয়ারাকে বিশেষভাবে মালিকি মাযহাবের মরক্কোতে প্রসার ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে এবং সেখানকার মানুষের একে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে গড়ে তুলেছিল। এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ক- ইমাম মালিকের ছাত্রদের মাধ্যমে এই মাযহাবের বিস্তার এবং তাদের নিজ দেশ ও অন্যান্য অঞ্চলে এর অনুপ্রবেশ। উত্তর আফ্রিকায় প্রথম যিনি এটি প্রবেশ করান তিনি হলেন মালিকের ছাত্র আবুল হাসান আলী বিন যিয়াদ আত-তিউনিসি (মৃত্যু ১৮৩ হিজরি)।

খ- প্রতি বছর সেই পবিত্র ভূমিগুলোতে হাজীদের সমাগম এবং সেই মাযহাবের প্রতি তাদের মুগ্ধতা, যা তারা আকীদা ও আমলের ক্ষেত্রে সালাফদের পদ্ধতির ধারাবাহিকতা হিসেবে খুঁজে পেয়েছিলেন।

 

- ওয়া -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১২)
ج- توارد الوفود تلو الوفود من الفقهاء وغيرهم على المغرب من القيروان والأندلس، وخاصة في عهد مولاي إدريس الثاني، وكان أول وفد ورد عليه مكونا من عرب قيس، والأزد، ومذحج، ويحصب وغيرهم، واستقضى منهم عامر بن محمد بن سعيد القيسي، الذي كان من تلامذة مالك، فانتشر مذهب مالك بالمغرب وعم أرجاءه، لا سيما حين أدخلت مدونة سحنون على يد أبي ميمونة دراس بن اسماعيل الجراوي الفاسي شيخ أبي الحسن القابسي، وابن أبي زيد القيرواني وغيرهما. (ت 357 هـ).

 

‌‌2 - ورود الأثر في صاحب المذهب:

لعل من أهم العوامل الَّتِي حدت بالمغاربة إلى اتباع مذهب مالك وتفضيله على غيره، - ما وقع من اجماع الأمة على إمامة صاحبه، وما ورد فيه من أثر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يُوشِكُ أَنْ يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الإِبِلِ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ -وفي رواية- يَلْتَمِسُونَ الْعِلْمِ، فَلَا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ".

ورواه أبو موسى الأشعري بلفظ "يَخْرُجُ النَّاسُ مِنَ المَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ، فَلَا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ".

وعلق سفيان بن عيينة على هذا الحديث- قائلا "نرى أن المراد بهذا الحديث مالك بن أنس". وعضده كثير من أهل العلم كالقاضي أبي محمد عبد الوهاب الذي قال ما معناه لا يمكن أن ينازعنا في هذا الحديث أحد من أهل المذاهب الأخرى، لكون السلف والخلف كانوا إذا قالوا "عالم المدينة" لا يقصدون بذلك إلا مالك بن أنس.

 

- ز -
গ- কায়রোয়ান ও আন্দালুস থেকে ফকিহ এবং অন্যদের একের পর এক প্রতিনিধি দল মরক্কোতে আসতে থাকে, বিশেষ করে মৌলে ইদ্রিস দ্বিতীয়ের শাসনামলে। তাঁর কাছে আসা প্রথম প্রতিনিধি দলটি কায়েস, আজদ, মাজহিজ, ইয়াহসুব ও অন্যান্য গোত্রের আরবদের নিয়ে গঠিত ছিল। তিনি তাদের মধ্য থেকে আমির বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-কায়সিকে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করেন, যিনি ছিলেন ইমাম মালিকের অন্যতম ছাত্র। ফলে মরক্কোতে মালিকি মাযহাব ছড়িয়ে পড়ে এবং এর চতুর্দিকে ব্যাপকতা লাভ করে, বিশেষ করে যখন আবু মাইমুনা দিরাস বিন ইসমাইল আল-জিরাওয়ি আল-ফাসির মাধ্যমে 'মুদাওয়ানাতু সাহনুন' প্রবেশ করানো হয়, যিনি আবুল হাসান আল-কাবিসি, ইবনে আবি জায়েদ আল-কায়রোয়ানি এবং অন্যান্যদের শায়খ ছিলেন। (মৃত্যু: ৩৫৭ হিজরি)।

 

‌‌২ - মাযহাবের ইমামের ব্যাপারে বর্ণিত আসার (বিবরণ):

সম্ভবত মরক্কোবাসীদের মালিকি মাযহাব অনুসরণ এবং অন্য মাযহাবের ওপর এটিকে প্রাধান্য দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—এই মাযহাবের ইমামের ইমামতের ওপর উম্মাহর ঐকমত্য এবং তাঁর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আসার (বিবরণ)। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অচিরেই মানুষ ইলম অন্বেষণে উটের কলিজায় আঘাত করবে (তথা কঠোর পরিশ্রম করে দূর-দূরান্তে সফর করবে)—অন্য বর্ণনায়—তারা ইলম তালাশ করবে, কিন্তু মদিনার আলিমের চেয়ে বড় কোনো আলিম খুঁজে পাবে না।"

আবু মুসা আল-আশআরি এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন: "মানুষ ইলম অন্বেষণে পূর্ব ও পশ্চিম থেকে বের হবে, কিন্তু মদিনার আলিমের চেয়ে বড় কোনো আলিম খুঁজে পাবে না।"

সুফিয়ান বিন উয়াইনা এই হাদিসের ওপর মন্তব্য করে বলেন, "আমরা মনে করি এই হাদিসে মালিক বিন আনাসকেই বোঝানো হয়েছে।" অনেক আহলুল ইলম একে সমর্থন করেছেন, যেমন কাজী আবু মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব, যার বক্তব্যের মর্মার্থ হলো: অন্য কোনো মাযহাবের অনুসারী এই হাদিস নিয়ে আমাদের সাথে বিবাদ করতে পারবে না, কারণ সালাফ এবং পরবর্তী আলেমগণ যখনই 'মদিনার আলিম' বলতেন, তখন তাঁরা এর দ্বারা কেবল মালিক বিন আনাসকেই উদ্দেশ্য করতেন।

 

- য -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌3 - إشادة مختلف الأئمة بمالك:

وربما كان من العوامل التي جعلت المغاربة يتشبثون بمذهب مالك إشادة مختلف الأئمة بعلم مالك، وورعه ورجاحة عقله، وتعمقه في فهم أسرار الشريعة، و … فهذا الإمام الشافعي يقول في حقه "مالك أستاذي وعنه أخذت العلم، وما أحد أمّنَّ عليَّ من مالك، وجعلته حجة بيني وبين الله".

وقال في حق موطئه "أصح كتاب بعد کتاب الله موطأ مالك".

وقال ابن مهدي "ما رأيت أحدا أتمَّ عقلا، ولا أشدَّ تقوى من مالك". و"ما بقي على وجه الأرض آمنُ على حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من مالك".

وقال سفيان بن عيينة "كان مالك سراجا، وحجة في زمانه".

وقال أحمد بن حنبل- "مالك سيد من سادات أهل العلم، وهو إمام في الحديث والفقه".

 

‌‌4 - تشابه بيئة البلدين:

لقد أورد لنا ابن خلدون تعليلا دقيقا لانتشار مذهب مالك في المغرب والأندلس، منطلقا من حسه الاجتماعي الفياض، قائلا:

"إن أهل المغرب والأندلس، كانوا إلى أهل الحجاز أميل، لمناسبة البداوة التي كانت غالبة عليهم، ولم يكونوا يعانون من الحضارة التي لأهل العراق … ".

وبهذا المنظر الخلدوني، يُمكِن أن ندرك أثر البيئة المادية، والمعنوية في تقبل هذا المذهب أو ذاك، فالبداوة، والحضارة، والخصب، والجدب، والغني، والرخاء، والنعيم، والبؤس، والأخلاق، والأعراف، والتقاليد وغيرها من المظاهر البيئية التي يتشابه في جلها البلدان الحجاز

 

- حـ -
৩ - মালিকের প্রতি বিভিন্ন ইমামগণের প্রশংসা:

সম্ভবত মাগরিববাসীদের মালিকি মাযহাবের প্রতি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকার অন্যতম কারণ ছিল মালিকের ইলম, পরহেজগারিতা, প্রখর প্রজ্ঞা এবং শরীয়তের রহস্য অনুধাবনে তাঁর গভীরতা সম্পর্কে বিভিন্ন ইমামদের উচ্চসিত প্রশংসা, এবং ... এই যেমন ইমাম শাফিঈ তাঁর সম্পর্কে বলেন, "মালিক আমার উস্তাদ এবং তাঁর থেকেই আমি ইলম অর্জন করেছি। আমার ওপর মালিকের চেয়ে বেশি অনুগ্রহ আর কারো নেই এবং আমি তাঁকে আমার ও আল্লাহর মাঝে হুজ্জাত (দলিল) হিসেবে গ্রহণ করেছি।"

তিনি তাঁর মুয়াত্তা সম্পর্কে বলেন, "আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হলো মালিকের মুয়াত্তা।"

ইবনে মাহদী বলেন, "আমি মালিকের চেয়ে অধিক পূর্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং অধিক পরহেজগার আর কাউকে দেখিনি।" এবং "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের ক্ষেত্রে মালিকের চেয়ে অধিক বিশ্বস্ত ব্যক্তি ভূপৃষ্ঠে আর কেউ অবশিষ্ট নেই।"

সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা বলেন, "মালিক ছিলেন তাঁর সময়ের এক প্রদীপ এবং হুজ্জাত (দলিল)।"

আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন, "মালিক হলেন ইলম অন্বেষণকারীদের প্রধানদের মধ্যে একজন প্রধান এবং তিনি হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের একজন ইমাম।"

 

৪ - দুই অঞ্চলের পরিবেশের সাদৃশ্য:

মাগরিব ও আন্দালুসে মালিকি মাযহাবের প্রসারের বিষয়ে ইবনে খালদুন তাঁর গভীর সামাজিক উপলব্ধির আলোকে একটি সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তিনি বলেন:

"মাগরিব ও আন্দালুসের অধিবাসীরা হিজাযবাসীদের প্রতি অধিক অনুরাগী ছিলেন, কারণ তাদের ওপর যাযাবর স্বভাব প্রবল ছিল। আর ইরাকবাসীদের মধ্যে যে নগর সভ্যতা ছিল, তারা তার সাথে অভ্যস্ত ছিল না ... "।

ইবনে খালদুনের এই দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমরা এই বা ওই মাযহাব গ্রহণের ক্ষেত্রে বস্তুগত ও নৈতিক পরিবেশের প্রভাব উপলব্ধি করতে পারি। যেমন যাযাবর জীবন, নগর সভ্যতা, উর্বরতা, অনাবৃষ্টি, প্রাচুর্য, সচ্ছলতা, বিলাসিতা, দুর্দশা, নৈতিকতা, প্রথা, ঐতিহ্য এবং অন্যান্য পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যসমূহ, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিজাযের দেশগুলোর সাথে সাদৃশ্য বিদ্যমান।

 

- হ -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১৪)
والمغرب - كل ذلك كان له أثر فعال، مِمَّا يجعَل أن يسلم تعليل ابن خلدون بدون جدال.

 

‌‌5 - طبيعة المذهب نفسه، وخصائصه:

إن النفوس ميالة -إلى اتباع مذهب ما- بطبيعتها، لما يتوفر عليه من يسر ومرونة في أُصوله وقواعده، ومنهجه في الاستنباط، وطريقته في معالجة الحوادث النازلة، ومدى توخيه المصلحة، ودفع المشقة، اللذين هما لباب الدين- مقصدا ومنهجا، ومنهما يفوح شذي السنة الأرج، وما يتراءاه العباد فيها من سهولة وسماحة، امتثالا لغير ما آية من كتاب الله جل علاه {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ … } {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} ولقول الرسول عليه السلام "إنَّ الدِّيْنَ يُسْرٌ وَلَنْ يُشَادَّ هَذَا الدِّيْنَ أَحُدٌ إِلَّا غَلَبَهُ" وقوله "يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُا" الحديث.

ومذهب مالك -بدون شك- يتسم بما سلف وبكثير من الخصائص الأخرى، منها:

1 - كونه يعتبر الممثل الأصيل لفقه الفقهاء السبعة، الذي التزمه أهل مدينة الرسول، فهو امتداد طبيعي، عضوي، فكري، وتاريخي لأيام الرسالة واقترانه بفكرة إتباع السنة، وترصده عمل السلف الصالح، ورسوخ ذلك كله في أذهان المغاربة، جعلتهم يقبلون عليه بشغف كبير، استمساکابعامل الأمان، حتى لا يتورطوا في مستحدثات الأمور ومبتدعاتها، ورأوا أن الاتباع منجاة لهم من الوقوع فيما لا تحمد عقباه في دينهم ودنياهم، والإمام الذي وهب نفسه لخدمة السنة المطهرة، جدير أن تهفو الأفئدة لاتباعه، واتخاذه قدوة، وتطمئن إليه الفئة العاجزة عن استنباط الأحكام بنفسها من ينبوع الشريعة الإسلامية.

 

- ط -
এবং মাগরিব অঞ্চল - এ সমস্ত কিছুরই এক কার্যকর প্রভাব ছিল, যা ইবনে খালদুন প্রদত্ত কারণসমূহকে কোনো প্রকার বিতর্ক ছাড়াই গ্রহণীয় করে তোলে।

 

‌‌৫ - মাযহাবের নিজস্ব প্রকৃতি ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

স্বভাবগতভাবেই মানুষের মন কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, কারণ সেই মাযহাবের উসুল (মূলনীতি) ও নিয়মাবলীতে বিদ্যমান সহজতা ও নমনীয়তা, মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) পদ্ধতি, নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলীর সমাধানের ধরণ এবং জনকল্যাণ (মাসলাহাত) নিশ্চিতকরণ ও কষ্ট লাঘবের প্রতি গুরুত্বারোপের কারণে। আর এই বিষয়গুলোই হলো—উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতির দিক থেকে—দীনের মূল নির্যাস। এই ভিত্তিগুলো থেকেই সুন্নাহর সুগন্ধি বিচ্ছুরিত হয় এবং বান্দারা এর মধ্যে সেই সহজতা ও উদারতা দেখতে পায়, যা মহান আল্লাহর কিতাবের একাধিক আয়াতের অনুকূলে। যেমন: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠিনতা চান না...} {এবং তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি}। এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই দীন সহজ, আর যে কেউ দীনের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করবে, দীন তাকে পরাজিত করবেই।" এবং তাঁর বাণী: "তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না।" (আল-হাদীস)।

ইমাম মালিকের মাযহাব নিঃসন্দেহে উপরিউক্ত এবং আরও অনেক বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - এটি মদীনার সাত ফকীহের ফিকহের মূল প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত, যা রাসূলুল্লাহর শহরের অধিবাসীরা মেনে চলতেন। সুতরাং এটি রিসালাতের যুগের এক স্বাভাবিক, গাঠনিক, তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। সুন্নাহ অনুসরণের ধারণার সাথে এর নিবিড় সংযোগ, সালফে সালেহীনের আমলের প্রতি সজাগ দৃষ্টি এবং মাগরিববাসীদের মনে এই বিষয়ের দৃঢ়তা তাদেরকে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এই মাযহাব গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তারা একে নিরাপত্তার মাধ্যম হিসেবে আঁকড়ে ধরেছে যাতে তারা নব উদ্ভাবিত বিষয় ও বিদআতে লিপ্ত না হয়। তারা মনে করত যে, সুন্নাহর অনুসরণই হলো তাদের দীন ও দুনিয়ার অশুভ পরিণতি থেকে বাঁচার উপায়। আর যে ইমাম নিজেকে পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে উৎসর্গ করেছেন, তাঁর অনুসরণ করার প্রতি এবং তাঁকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার প্রতি মানুষের হৃদয়ের টান থাকা খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে সেই শ্রেণির মানুষ যারা ইসলামী শরীয়তের উৎস থেকে সরাসরি বিধান আহরণ করতে অক্ষম, তারা তাঁর ওপর নিশ্চিন্তে নির্ভর করতে পারে।

 

- ত -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌2 - سلوكه مسلكا وسطا:

أظن أن المغاربة فضلوا المذهب المالكي، وتمسكوا به تمسكا فريدا، لسلوكه مسلكا وسطا لا إفراط فيه ولا تفريط، بحيث لا يعتمد على الرأي والقياس، بقدر ما يعتمد على النصوص، ويتبع ما أجمع عليه أهل المدينة، ويبتعد عن كل ما ليس فيه مصلحة راجحة للعباد وهو بهذا كله ينسجم مع طبيعة المغاربة التي تتشبث بالنقول الثابتة، والنصوص الصريحة، وتنفر من التأويلات البعيدة، والتشديدات المنفرة، والتعقيدات السقيمة، خوفا من الوقوع في الشبهات "الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا أُمُورٌ مُشَبِّهَاتٌ … " الحديث.

 

‌‌3 - خصوبة مصادره، وتعدد أجواء الاجتهاد فيه

لا شك أن أي مذهب تنمو فروعه، وتتسع آفاق التفكير فيه بتعدد أصوله، وخصوبة مصادره، ومدى سعة تفكير الساهرين عليه من بعد إمامهم، وتعدد أجواء الاجتهاد فيه .. ومذهب مالك متوفر على هذا كله، فأصوله كثيرة، وقواعده خصبة، ومناهجه متنوعة، وتلاميذ الإمام ومن بعدهم قد وسعوا تفكيرهم في تطبيق أصول إمامهم في مختلف الميادين، وتفننوا في وضع القواعد وتنويعها، وجمع عدة أحكام تحت كل واحدة منها، وبذلك تركوا لنا ذخائر من التراث الفقهي الأصيل، المبني على القواعد والأصول، لا يقدر بأي ثمن.

 

‌‌4 - التمسك به جمعا للكلمة، وصونا للوحدة:

ولعل من أهم الأسباب البارزة التي جعلت المغاربة يتشبثون بمذهب واحد، أنهم أخذوا درسا مِمَّا وقع فيه غيرهم من بعض البلدان الإسلامية، ولا زالوا -مع الأسف- من براثن النزعات الطائفية، والخلافات المذهبية، التي شتتت أوصال البلد الواحد، بل مزقت أواصر الأسرة الواحدة، مع أن الدين واحد، وهدف الأئمة -رضوان الله عليهم-

 

- ي -
‌‌২ - মধ্যপন্থা অবলম্বন করা:

আমি মনে করি যে, মরক্কোবাসীরা মালেকী মাযহাবকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং এর সাথে এক অনন্যভাবে লেগে রয়েছে। কারণ এটি একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে যাতে কোনো বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ি নেই; যেখানে এটি রায় (যুক্তি) এবং কিয়াসের ওপর ততটা নির্ভর করে না যতটা এটি নস বা ভাষ্যের ওপর নির্ভর করে। এটি মদীনার অধিবাসীদের ঐকমত্যকে অনুসরণ করে এবং এমন সবকিছু থেকে দূরে থাকে যাতে বান্দাদের জন্য কোনো জোরালো কল্যাণ নেই। এই সবকিছুই মরক্কোবাসীদের স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যারা প্রমাণিত বর্ণনা ও সুস্পষ্ট নস আঁকড়ে ধরে থাকে এবং সংশয়ে পড়ার ভয়ে দূরবর্তী ব্যাখ্যা, বিরক্তিকর কঠোরতা ও ত্রুটিপূর্ণ জটিলতা থেকে বিমুখ থাকে। হাদীসে এসেছে: "হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, আর এই দুটির মাঝে রয়েছে বহু অস্পষ্ট বিষয় … "।

 

‌‌৩ - এর উৎসের সমৃদ্ধি এবং ইজতিহাদের পরিবেশের বহুমুখিতা

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যেকোনো মাযহাবের শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পায় এবং এর চিন্তার দিগন্ত প্রসারিত হয় এর মূলনীতির সংখ্যাধিক্য, উৎসের সমৃদ্ধি এবং তাঁদের ইমামের পরবর্তী অনুসারীদের চিন্তাশীলতা ও ইজতিহাদের পরিবেশের বৈচিত্র্যের মাধ্যমে। আর মালেকের মাযহাব এই সবকিছুর দ্বারা সমৃদ্ধ। এর মূলনীতিসমূহ অনেক, এর কানুনসমূহ উর্বর এবং এর পদ্ধতিসমূহ বহুমুখী। ইমামের ছাত্ররা এবং তাঁদের পরবর্তীগণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের ইমামের মূলনীতি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে স্বীয় চিন্তাকে প্রসারিত করেছেন। তাঁরা নিয়মাবলী প্রণয়ন ও বৈচিত্র্য আনয়নে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এবং প্রতিটি নিয়মের অধীনে অসংখ্য বিধান একত্রিত করেছেন। এভাবে তাঁরা আমাদের জন্য মৌলিক ফিকহী ঐতিহ্যের এমন অমূল্য সম্পদ রেখে গেছেন, যা নিয়ম ও মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কোনো মূল্যে এর মূল্যায়ন সম্ভব নয়।

 

‌‌৪ - সংহতি বজায় রাখা এবং ঐক্য রক্ষার জন্য একে আঁকড়ে ধরা:

সম্ভবত মরক্কোবাসীদের একটি নির্দিষ্ট মাযহাবকে আঁকড়ে ধরার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো, তারা অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে যা ঘটেছে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, সেই সব দেশগুলো এখনো সাম্প্রদায়িক প্রবণতা এবং মাযহাবী বিরোধের কবলে পড়ে আছে, যা একটি দেশের সংহতিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, এমনকি একটি পরিবারের বন্ধনকেও ছিঁড়ে ফেলেছে। অথচ দ্বীন এক এবং ইমামগণের -আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন- লক্ষ্যও ছিল এক।

 

- ইয়া -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১৬)
واحد، وتصيد الرخص حرام بالإجماع وتفاديا لذلك، اتفقت كلمتهم على اتباع مذهب واحد، ووحدوا صفوفهم عليه، مفضلين العيش في أمان ووئام، تحت لواء الإسلام، ملتزمين الصف الواحد، والرأي الواحد، في كنف العقيدة الأشعرية، والوحدة المذهبية، مرددين مع الشاعر

نظرنا في المذاهب ما رأينا … كمذهب مالك للناظرينا

ومذهبه اتباع لا ابتداع … كما اتبع الكريم الأكرمينا

وعندي كل مجتهد مصيب … ولكن مالك في السابقينا

 

- كـ -
একক, এবং সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় তালাশ করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। আর এটি পরিহার করার লক্ষ্যে তারা একটি মাযহাব অনুসরণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং এর ওপর তাদের কাতারগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তারা ইসলামের পতাকাতলে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তারা আশআরী আকিদার আশ্রয়ে এবং মাযহাবী ঐক্যের বলয়ে থেকে একক কাতার ও একক মতের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। তারা কবির সাথে এই পঙ্ক্তিগুলো প্রতিধ্বনিত করছেন:

আমরা বিভিন্ন মাযহাবের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি কিন্তু দর্শকদের জন্য ইমাম মালিকের মাযহাবের তুল্য শ্রেষ্ঠ কিছু দেখিনি …

তাঁর মাযহাব হলো অনুসরণ করা, কোনো নব-উদ্ভাবন নয় … যেমনটা সম্মানিত ব্যক্তিগণ অধিকতর সম্মানিতদের অনুসরণ করেছিলেন

আমার মতে প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক … তবে ইমাম মালিক ছিলেন অগ্রবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত

 

- কা -
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: -)
إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك - ت بو طاهر   (الونشريسي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك (مع دراسة لحياة المؤلف وآثاره وعصره)

المؤلف: أبو العباس أحمد بن يحيى الونشريسى

المحقق: أحمد بو طاهر الخطابي، خريج دار الحديث الحسنية - الرباط

أصل التحقيق: دراسة جامعية لنيل دبلوم الدراسات العليا في العلوم الإسلامية من دار الحديث الحسنية بالرباط

الناشر: مطبعة فضالة - المحمدية (المغرب)

عام النشر: 1400 هـ - 1980 م

طبع هذا الكتاب: بإشراف اللجنة المشتركة لنشر التراث الإسلامي بين حكومة المملكة المغربية وحكومة دولة الإمارات العربية المتحدة

عدد الصفحات: 423

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1440

ইযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমাম মালিক - তাহকীক: বু তাহির   (আল-ওয়ানশারিসি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতি


বই: ইযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমাম মালিক (লেখকের জীবনী, তাঁর রচনাবলী এবং তাঁর সমকাল সম্পর্কিত গবেষণাসহ)

লেখক: আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি

সম্পাদক/গবেষক: আহমাদ বু তাহির আল-খাত্তাবি, স্নাতক: দারুল হাদীস আল-হাসানিয়া - রাবাত

সম্পাদনার উৎস: রাবাতের দারুল হাদীস আল-হাসানিয়া থেকে ইসলামি বিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা ডিপ্লোমা অর্জনের জন্য প্রস্তুতকৃত একটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা

প্রকাশক: মাতবাআতু ফাদালা - মুহাম্মাদিয়া (মরক্কো)

প্রকাশকাল: ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

এই বইটি মুদ্রিত হয়েছে: মরক্কো রাজতন্ত্রের সরকার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের যৌথ উদ্যোগে ইসলামি ঐতিহ্য প্রকাশের জন্য গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৩

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সংঘ), বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল আওকাফ)

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌تحقيق "إيضاح المسالك":

فقد عانيت في البداية ما يعانيه كل باحث مبتدئ في اختيار موضوع البحث، وظلت أمواج الحيرة تقذف بي هنا وهناك مدة، إلى أن أضناني التردد، ووجدتني منساقا إلى تحقيق كتاب "إيضاح المسالك" لعدة أسباب؛ منها:

1 - تحقيق أمل طالما حلمت به، وهو أن أساهم مساهمة رمزية في إحياء ما تركه لنا أمجادنا من ذخائر التراث، ولا سيما في المجال الفقهي، حتى يتسنى للأجيال الصاعدة أن تقف على أصالة التراث الفقهى، وما يزخر به من نظريات وحلول لمختلف القضايا النازلة، بل قد يوجد فيه حلول لقضايا، فرضية ربما لا تخطر على البال.

2 - توقعي أن أجد إجابة -في هذا المخطوط- عن التساؤل الذي كثيرا ما خامرني -وربما ساور غيري-: إذا كان الاختلاف بين المذاهب يبدو له مبرراته -تبعا لاختلافهم في بعض الأصول- فلم الاختلاف في المذهب الواحد- مع أن أصوله واحدة؟ .
"ইজাহুল মাসালিক"-এর তাহকিক (সম্পাদনা):

শুরুতে আমি গবেষণার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষানবিশ গবেষক যে কষ্টের সম্মুখীন হন, তার মুখোমুখি হয়েছিলাম। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংশয়ের ঢেউ আমাকে এদিক-সেদিক আছড়ে ফেলেছে, যতক্ষণ না দ্বিধা আমাকে ক্লান্ত করে তুলেছিল। অবশেষে আমি বেশ কিছু কারণে "ইজাহুল মাসালিক" গ্রন্থটির তাহকিকের দিকে ধাবিত হলাম; যার মধ্যে রয়েছে:

১ - এমন একটি স্বপ্ন পূরণ করা যা আমি দীর্ঘকাল ধরে দেখে আসছি; আর তা হলো আমাদের পূর্বসূরিরা ঐতিহ্যের যে মূল্যবান ভাণ্ডার আমাদের জন্য রেখে গেছেন, তা পুনরুজ্জীবিত করতে একটি প্রতীকী অবদান রাখা, বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে। যাতে করে উদীয়মান প্রজন্ম ফিকহি ঐতিহ্যের মৌলিকত্ব এবং বিভিন্ন সমসাময়িক সমস্যার সমাধানে এটি যে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক সম্পদে সমৃদ্ধ, সে সম্পর্কে অবগত হতে পারে। এমনকি এতে এমন সব কাল্পনিক সমস্যার সমাধানও পাওয়া যেতে পারে যা সম্ভবত মানুষের মনেও আসে না।

২ - আমার এই প্রত্যাশা যে, এই পাণ্ডুলিপিতে আমি সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাব যা প্রায়শই আমার মনে উদিত হতো—এবং সম্ভবত অন্যদের মনেও জাগে: যদি বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে পার্থক্যের যৌক্তিক কারণ থাকে—তাদের কিছু মূলনীতির পার্থক্যের কারণে—তবে একই মাযহাবের অভ্যন্তরে কেন মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, অথচ তাদের মূলনীতিসমূহ অভিন্ন?
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ২)
3 - أنبنى ضميري حينما رأيت المستشرقين يتهافتون على تحقيق التراث الإسلامي، بينما المنتمون إليه تنكروا له -لسبب أو لآخر- إلا القليل منهم، وهذا عقوق منا لأسلافنا، ولما خلفوه لنا من تراث ثري بكل ما نحتاج إليه في عصرنا الحاضر، علما بأن المستشرقين -جلهم- لا يقدمون على ذلك إلا لحاجة في نفس يعقوب، الرامية إلى تحقيق أهداف خاصة.

4 - تأثري العميق بإرشاد أستاذي الدكتور عبد الواحد وافي، أثناء تقديمى له مشروع بحث غير هذا، وبمجرد ما قرأ عنوان البحث نظر إلي وقال: مالي أراكم تفرون كلكم عن تراثكم الذي أصبح يتلاشى يوما عن يوم! ! فمن الأحسن أن تبحث عن مخطوط ملائم، فأنا رهن الإشارة للإشراف عليه.

ومن يومئذ تركت البحث -الذي كنت أنفقت في تهييء مشروعه مدة ليست بقصيرة- جانبا، وقررت أن أبحث عن موضوع فقهي، ربما لميلي إلى الفقه منذ زمن التلمذة، وتصفحت كثيرا من المخطوطات قبل أن أقف على "إيضاح المسالك" وحينما عثرت عليه -صدفة- تفاءلت باسمه، فبادرت إلى تسجيله، وكنت أعتقد أنه سهل كما يوحي بذلك عنوانه، ولكن سرعان ما فوجئت بعقبات متنوعة اعترضت سبيلي كدت أقف معها في البداية -رغم أن نسخ الكتاب متعددة، بيد أن جلها لم تستوف متطلبات المنهجية الحديثة: من صيغ التمليك، واسم ناسخها، وتاريخ نسخها، ومكانه … إلا أن أحد أساتذتي الكرام -جزاه الله خيرا- كان يستحثني على مواصلة البحث والعمل باستمرار، ولكن كيف أواصل؟ .
3 - আমার বিবেক আমাকে দংশন করছিল যখন আমি দেখলাম যে প্রাচ্যবিদরা ইসলামি ঐতিহ্যের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কাজে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, অথচ এই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারীরাই এর প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করছে—কোনো না কোনো কারণে—অল্প কিছু লোক বাদে। এটি আমাদের পূর্বসূরিদের প্রতি এবং তাঁরা আমাদের জন্য যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রেখে গেছেন তার প্রতি এক ধরণের অবাধ্যতা, যা আমাদের বর্তমান যুগে প্রয়োজনীয় সকল উপাদানে সমৃদ্ধ; অথচ এটা জানা কথা যে, প্রাচ্যবিদদের অধিকাংশের এই কাজের পেছনে গূঢ় কোনো উদ্দেশ্য থাকে, যার লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য হাসিল করা।

4 - আমার উস্তাদ ডক্টর আবদুল ওয়াহিদ ওয়াফীর দিকনির্দেশনা দ্বারা আমার গভীর প্রভাবিত হওয়া, যখন আমি তাঁর কাছে এটি ব্যতীত অন্য একটি গবেষণা প্রস্তাবনা পেশ করেছিলাম। গবেষণার শিরোনামটি পড়ামাত্রই তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন: "কী হলো যে আমি তোমাদের সবাইকে তোমাদের ঐতিহ্য থেকে পালিয়ে যেতে দেখছি, যা দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে!! বরং তোমার জন্য কোনো উপযুক্ত পাণ্ডুলিপি খুঁজে বের করা উত্তম হবে এবং আমি তা তত্ত্বাবধানের জন্য প্রস্তুত আছি।"

আর সেই দিন থেকে আমি সেই গবেষণাটি—যার প্রস্তাবনা তৈরিতে আমি দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছিলাম—একপাশে সরিয়ে রাখলাম এবং একটি ফিকহী বিষয়ে গবেষণার সিদ্ধান্ত নিলাম; সম্ভবত ছাত্রজীবন থেকেই ফিকহের প্রতি আমার ঝোঁক থাকার কারণে। 'ঈজাহুল মাসালিক' গ্রন্থটি পাওয়ার আগে আমি অনেক পাণ্ডুলিপি নাড়াচাড়া করেছিলাম। যখন আমি এটি আকস্মিকভাবে খুঁজে পেলাম, তখন এর নাম দেখে আমি আশাবাদী হলাম এবং দ্রুত এটি নিবন্ধনের উদ্যোগ নিলাম। আমি ভেবেছিলাম এটি সহজ হবে, যেমনটি এর শিরোনাম থেকে বোঝা যায়, কিন্তু শীঘ্রই আমি নানা ধরণের বাধার সম্মুখীন হলাম যা আমার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, যার ফলে শুরুতে আমি প্রায় থমকে গিয়েছিলাম—যদিও কিতাবটির একাধিক পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান ছিল, তবে সেগুলোর অধিকাংশই আধুনিক পদ্ধতিগত মানদণ্ড পূরণ করেনি: যেমন মালিকানা হস্তান্তরের বিবরণ, অনুলিপিকারীর নাম, অনুলিপির তারিখ ও স্থান … কিন্তু আমার সম্মানিত উস্তাদদের একজন—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—আমাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা ও কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। কিন্তু আমি কীভাবে চালিয়ে যাব? .
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৩)
فها هو ذا عصر المؤلف -الذي هو العصر الوطاسي- قد طوته كتب التاريخ طيا، ولا يكاد يذكر إلا لماما. ولا أبالغ إن قلت: إنه حلقة مفقودة -أو كادت- في تاريخ المغرب، والأسف أن بعض مميزات هذا العصر أضيفت- خطأ- إلى العصر الذي يليه- وهو العصر السعدي، وإلى اللحظة التي أحرر فيها هذه السطور لم أقف على أية محاولة جدية تسلط الأضواء عليه.

ثم إن موضوع القواعد الفقهية في مذهب مالك -كباقي المذاهب- لم ينل حظه من عناية الباحثين- على كثرة ما كتبوا في أصول الفقه، لذا كانت المراجع فيه جد ضئيلة. ورغم الصعوبات الجمة والمتنوعة -التي واجهتني- فقد اقتحمت الموضوع، وصرت أتردد على المكتبات العامة والخاصة- أتصفح أمهات الفقه، باحثا عن الشوارد التي تضمنتها كل قاعدة من قواعد الإيضاح، واسترشدت بكثير من رجال العلم والبحث والتحقيق، الذين يهدون التائهين -مثلي- في متاهات بحوثهم.

 

‌‌خطة البحث:

قد جعلت موضوع الرسالة يتكون من جزءين:

الجزء الأول: دراسة عن أبي العباس الونشريسي: مؤلف الإيضاح وفيه خمسة فصول:

الفصل الأول: عصر المؤلف.

الفصل الثاني: حياته.

الفصل الثالث: آثاره.
এই তো লেখকের যুগ—যা হলো ওয়াত্তাসি যুগ—ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ একে সম্পূর্ণরূপে বিলীন করে দিয়েছে এবং কদাচিৎ এর উল্লেখ পাওয়া যায়। আমি যদি বলি এটি মরক্কোর ইতিহাসের একটি হারিয়ে যাওয়া যোগসূত্র—বা প্রায় সেরকমই—তবে আমি মোটেও বাড়িয়ে বলছি না। পরিতাপের বিষয় হলো যে, এই যুগের কিছু বৈশিষ্ট্য ভুলবশত পরবর্তী যুগের—অর্থাৎ সাদি যুগের—সাথে যুক্ত করা হয়েছে। আমি যখন এই পঙক্তিগুলো লিখছি, সেই মুহূর্ত পর্যন্ত আমি এমন কোনো গম্ভীর প্রচেষ্টার সন্ধান পাইনি যা এই যুগের ওপর আলোকপাত করে।

অতঃপর মালিকি মাযহাবে ফিকহী মূলনীতিসমূহের (কাওয়ায়েদ ফিকহিয়া) বিষয়টি—অন্যান্য মাযহাবের মতোই—গবেষকদের পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি, যদিও তাঁরা উসূলে ফিকহ নিয়ে প্রচুর লিখেছেন। ফলে এই বিষয়ে তথ্যসূত্র ছিল অত্যন্ত নগণ্য। আমার সামনে আসা নানাবিধ ও ব্যাপক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমি এই বিষয়ে কাজ শুরু করেছি এবং সরকারি ও বেসরকারি লাইব্রেরিগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করেছি—ফিকহ শাস্ত্রের মূল আকর গ্রন্থসমূহ নিবিড়ভাবে পাঠ করেছি, 'আল-ইজাহ' গ্রন্থের প্রতিটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত দুর্লভ ও বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো সন্ধান করেছি। আমি অনেক বিজ্ঞ আলেম, গবেষক ও মুহাক্কিকদের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছি, যারা আমার মতো পথহারাদের তাদের গবেষণার গোলকধাঁধায় পথ দেখান।

 

‌‌গবেষণার পরিকল্পনা:

আমি এই গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তুকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অংশ: আবুল আব্বাস আল-ওয়ানশারিসি সম্পর্কে একটি অধ্যয়ন: যিনি 'আল-ইজাহ' গ্রন্থের লেখক এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী।
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৪)
الفصل الرابع: دراسة تحليلية للكتاب.

الفصل الخامس: القواعد وأهميتها.

الجزء الثاني: نص المخطوط.

فالفصل الأول: تحدثت فيه عن الفترة التي عاشها أبو العباس بتلمسان (4) وفاس، وحاولت أن أستشف من أحداث التاريخ الظروف والأسباب التي دفعت السلطة الجزائرية إلى طرد صاحبنا -الونشريسي- ونهب داره وكتبه.

وربما وقفت طويلا مع الناحية الفكرية والاجتماعية، وشفيعي في ذلك، أن هذا العصر لم ينل حظه من عناية الدارسين، بل ظل يكتنفه كثير من الغموض، وأبرزت مزايا لهذا العصر- وقد أضيفت-خطأ- إلى العصر الذي يليه -كما أومأت إلى ذلك آنفا.

والفصل الثاني: تناولت فيه نشأته وحياته الدراسية والعلمية، وفحصت الراويات والأخبار الواردة في نسبه ومكان ولادته، ونبهت على أخطاء وقع فيها كثير من المؤرخين، سواء منهم القدامى والمحدثون.

--------------------------------------------

(4) (تلمسان) اسم بربري، مركب من كلمتين اثنتين؛ أولاهما: (تلم) بكسر التاء، ومعناها تجمع- والثانية (سان) ومعناها اثنين، فهو إذن إسم وصفي للمدينة باعتبار موقعها الطبيعي الجامع بين الصحراء والتل، ويقول ابن خلدون: يعنون إلى البر والبحر … انظر تاريخ الجزائر العام- ج- 2 - ص: 125 تعليق 3.
চতুর্থ অধ্যায়: গ্রন্থটির একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা।

পঞ্চম অধ্যায়: মূলনীতিসমূহ এবং এগুলোর গুরুত্ব।

দ্বিতীয় অংশ: পাণ্ডুলিপির মূল পাঠ।

প্রথম অধ্যায়: এখানে আমি আবু আব্বাস তিলিমসান (৪) এবং ফেসে অবস্থানকালীন সময় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি ইতিহাসের ঘটনাবলি থেকে সেই প্রেক্ষাপট এবং কারণসমূহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি, যা আলজেরীয় কর্তৃপক্ষকে আমাদের এই লেখক—আল-ওয়ানশারিসি—কে বহিষ্কার করতে এবং তাঁর বাড়ি ও কিতাবসমূহ লুণ্ঠন করতে প্ররোচিত করেছিল।

সম্ভবত আমি বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক দিকটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছি; আর এর পেছনে আমার যুক্তি হলো যে, এই যুগটি গবেষকদের কাছ থেকে যথেষ্ট মনোযোগ পায়নি, বরং একে ঘিরে অনেক অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। আমি এই যুগের কিছু বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছি—যা ভুলবশত পরবর্তী যুগের সাথে যুক্ত করা হয়েছিল—যেমনটি আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে আমি তাঁর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেছি। তাঁর বংশপরিচয় এবং জন্মস্থান সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনা ও সংবাদসমূহ আমি যাচাই করেছি। এছাড়া প্রাচীন এবং আধুনিক অনেক ঐতিহাসিক যেসব ভুলের শিকার হয়েছেন, সে বিষয়েও আমি সতর্ক করেছি।

--------------------------------------------

(৪) (তিলিমসান) একটি বার্বার নাম, যা দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত; প্রথমটি হলো: (তিলিম) 'তা' বর্ণে কাসরা (জের) সহকারে, যার অর্থ একত্রিত করা—এবং দ্বিতীয়টি হলো (সান), যার অর্থ দুই। অতএব, শহরটির প্রাকৃতিক অবস্থানের প্রেক্ষিতে এটি একটি বর্ণনামূলক নাম, যা মরুভূমি এবং উচ্চভূমিকে একত্রিত করেছে। ইবনে খালদুন বলেন: তারা এর দ্বারা স্থল এবং জলকে বোঝায় … দেখুন তারীখুল জাযাইর আল-আম- খণ্ড- ২ - পৃষ্ঠা: ১২৫, টীকা ৩।
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৫)
وعملت على إبراز شخصيته وصفاته الخلقية والخلقية، ومكانته العلمية، وآراء الناس فيه، وتقويمهم لشخصيته وثقافته.

والفصل الثالث: عقدته لآثاره ومؤلفاته، وتتبعت فهارس المخطوطات وكتب التراجم، واستطعت أن أثبت أن له أربعا وعشرين مؤلفا، ولم يكن معروفا منها إلا عدد ضئيل؛ وقد ذكرتها إجمالا، ثم حللت أهمها تحليلا موجزا، وعرفت بالمخطوط والمطبوع منها، وصححت أخطاء لبعض المفهرسين وأصحاب التراجم في أسمائها وعناوينها، وأثبت صورة من خط يد المؤلف وتوقيعه.

أما الفصل الرابع: فقد خصصته لدراسة كتاب "إيضاح المسالك" دراسة تحليلية، إذ وثقت عنوان الكتاب، وأثبت تاريخ تأليفه، والباعث على تدوينه، وذكرت مضمونه وفحواه، وحاولت تقييمه، بإبراز أهم محاسنه، وما يوخذ عليه.

وفي الفصل الخامس: تناولت فيه القواعد وأثرها في الدراسات الفقهية والتشريع. حيث عرفت فيه بالقاعدة، وأحصيت أنواعها، ولمحت إلى الفرق بين القواعد الأصولية والفقهية، وأعطيت لمحة تاريخية عن تدوينها، والأطوار التي مرت بها، وأبرزت أهميتها في الدراسات الفقهية، وأثرها في التشريع الحديث، وختمت هذه الدراسة بمصادر ومراجع عدت إليها أثناء إعداد هذه الفصول، وقسمتها إلى مخطوطات، ومطبوعات، وصحف ومجلات، وبعض مصادر أجنبية أثبتها آخر الكتاب.
এবং আমি তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলি, তাঁর বিদ্যাবত্তা ও মর্যাদা, তাঁকে নিয়ে মানুষের মতামত এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব ও পাণ্ডিত্যের ব্যাপারে তাঁদের মূল্যায়নকে ফুটিয়ে তোলার কাজ করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এটি আমি তাঁর জ্ঞানগর্ভ অবদান ও রচনাবলির জন্য নির্দিষ্ট করেছি। আমি পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগ এবং জীবনীগ্রন্থসমূহ অনুসন্ধান করেছি এবং এটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে তাঁর চব্বিশটি রচনা রয়েছে, অথচ সেগুলোর মধ্যে মাত্র সামান্য কয়েকটির কথা জানা ছিল। আমি সেগুলো সাধারণভাবে উল্লেখ করেছি, অতঃপর সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ পেশ করেছি। পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণগুলো পরিচিত করিয়েছি এবং গ্রন্থগুলোর নাম ও শিরোনামের ক্ষেত্রে কতিপয় নির্ঘণ্টকার ও জীবনীকারের ভুলসমূহ সংশোধন করেছি। এছাড়াও আমি লেখকের হস্তলিপি ও স্বাক্ষরের একটি অনুলিপিও যুক্ত করেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এটি আমি 'ঈযাহুল মাসালিক' গ্রন্থের একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। এতে আমি গ্রন্থটির শিরোনামের প্রামাণিকতা যাচাই করেছি, এর রচনার তারিখ ও রচনার প্রেক্ষাপট সাব্যস্ত করেছি এবং এর মূল বিষয়বস্তু ও সারমর্ম উল্লেখ করেছি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর ওপর কৃত আপত্তিগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আমি গ্রন্থটির মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদে: আমি মূলনীতিসমূহ এবং ফিকহি গবেষণা ও আইন প্রণয়নে সেগুলোর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি। এতে আমি মূলনীতির সংজ্ঞা প্রদান করেছি, এর প্রকারভেদ গণনা করেছি এবং উসুলি ও ফিকহি মূলনীতিসমূহের মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছি। এগুলোর সংকলনের একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা এবং এগুলো যে সকল পর্যায় অতিক্রম করেছে তার বর্ণনা দিয়েছি। ফিকহি গবেষণায় এগুলোর গুরুত্ব এবং আধুনিক আইন প্রণয়নে এগুলোর প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছি। পরিশেষে, এই পরিচ্ছেদগুলো প্রস্তুত করার সময় আমি যে সকল উৎস ও তথ্যসূত্রের সহায়তা নিয়েছি, সেগুলো উল্লেখের মাধ্যমে এই গবেষণার ইতি টেনেছি। সেগুলোকে আমি পাণ্ডুলিপি, মুদ্রিত গ্রন্থ, পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী এবং কতিপয় বিদেশি উৎসে বিভক্ত করেছি, যা বইয়ের শেষে যুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৬)
أما الجزء الثاني: فهو نص المخطوط، وقد قدمت له بمقدمة، عرفت فيها بالنسخ الخطية للكتاب، ورسمت مشجرا بينت فيه النسخة (الأم) والفروع التي تفرعت عنها، سواء منها القديم والحديث، وأوضحت المنهج الذي سرت عليه في التحقيق، وهو أنه يرمى إلى توثيق النص، واخراجه كما أراده المؤلف أو قريبا من ذلك.

ووضعت حاشيتين: إحداهما للفروق، والأخرى للتعاليق، وذيلت الكتاب بفهارس مفصلة، تلقي أضواء كاشفة عن موضوعاته، وأهم محتوياته. وأرجو أن أكون قد وفقت فيما بذلت، وحققت ما أملت، وعلى الله قصد السبيل والاتكال، في الحال والمآل.
দ্বিতীয় অংশটি হলো পাণ্ডুলিপির মূল পাঠ; আমি এর শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছি যাতে বইটির হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি এবং একটি চিত্র (বংশলতিকা) অঙ্কন করেছি যাতে মূল পাণ্ডুলিপি এবং তা থেকে উৎসারিত প্রাচীন ও আধুনিক শাখাগুলো স্পষ্ট করেছি। আর আমি তাহকীকের (সম্পাদনা) ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা বর্ণনা করেছি, যার লক্ষ্য হলো পাঠ্যটির প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করা এবং লেখক যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে অথবা তার কাছাকাছি রূপে তা উপস্থাপন করা।

আমি এতে দুটি টীকা যুক্ত করেছি: একটি পাঠভেদের জন্য এবং অন্যটি ব্যাখ্যামূলক মন্তব্যের জন্য। আমি বইটির শেষে বিস্তারিত নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যা এর বিষয়বস্তু এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর ওপর আলোকপাত করে। আমি আশা করি যে আমি যে প্রচেষ্টা চালিয়েছি তাতে সফল হয়েছি এবং যা প্রত্যাশা করেছিলাম তা অর্জন করতে পেরেছি। আর সঠিক পথ প্রদর্শন ও নির্ভরতা কেবল আল্লাহরই ওপর, ইহকাল ও পরকালে।
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৭)
أبو العباس الونشريسي

1: عصره

فالحديث عن حياة أي إنسان، وما خلفه من تراث أو ذكر أو مقام. .. يستلزم الإلمام بمصره، والبيئة التي نشأ فيها، والظروف التي واكبته من البداية إلى النهاية، وأبرز أحداث وقته، ومكونات شخصيته وثقافته، والتيارات الموجهة لتفكيره، والحوافز التي حفزته إلى إنجاز ما أنجزه من إنتاج علمي، أو ما قام به من عمل أو ترحال … ليتأتى بذلك تحديد مكانه بين أهل زمانه، وإعطاء صورة مكتملة عنه، إلا أن تناول، هذه الجوانب كلها؛ بالنسبة لأبي العباس (أحمد الونشريسي)، تكاد تكون -مع الأسف- من ضرب المستحيل- ما دام المؤرخون وأصحاب التراجم أبوا إلا أن يغضوا الطرف تماما عن جل هذه النواحي لسبب أو لآخر! ! مع أن أبا العباس لم يكن من أولئك المغمورين؛ حتى ينسى أو يتناسى، إذ واجه أحداثا سياسية خطيرة، كان ينبغي الوقوف معها طويلا، بالإضافة إلى تنقلاته، وحياته العلمية الخصبة التي دامت: زهاء ثمانين عاما.

ورغم ذلك فعلى ضوء ما هناك من لمحات تاريخية، وإشارات عابرة، يمكن لنا تقسيم العصر الذي عاشه إلى فترتين:
আবুল আব্বাস আল-ওয়ানশারীসী

১: তাঁর যুগ

যেকোনো মানুষের জীবন এবং তিনি যে ঐতিহ্য, খ্যাতি বা মর্যাদা রেখে গেছেন তা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজন তাঁর দেশ, যে পরিবেশে তিনি বেড়ে উঠেছেন, এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সাথে পরিচিত হওয়া। তদুপরি তাঁর সময়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি, তাঁর ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতির উপাদানসমূহ, তাঁর চিন্তাধারাকে পরিচালিতকারী মতবাদসমূহ এবং তাঁর বৈজ্ঞানিক অবদান কিংবা তাঁর কর্ম ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাঁকে অনুপ্রাণিতকারী উদ্দীপকসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকাও আবশ্যক … যাতে এর মাধ্যমে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে তাঁর অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হয় এবং তাঁর সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রদান করা যায়। তবে আবুল আব্বাসের (আহমদ আল-ওয়ানশারীসী) ক্ষেত্রে এই সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করা—দুর্ভাগ্যবশত—অসম্ভবের কাছাকাছি; যতক্ষণ পর্যন্ত ঐতিহাসিক এবং জীবনীকাররা কোনো না কোনো কারণে এই দিকগুলোর অধিকাংশের প্রতি সম্পূর্ণ দৃষ্টিপাত না করার বিষয়ে অনড় থাকেন!! যদিও আবুল আব্বাস এমন কোনো অখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন না যে তাঁকে ভুলে যাওয়া হবে বা অবজ্ঞা করা হবে; কেননা তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন যেগুলোর ওপর দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন ছিল, তদুপরি ছিল তাঁর সফরসমূহ এবং তাঁর সমৃদ্ধ জ্ঞানগর্ভ জীবন যা প্রায় আশি বছর ব্যাপী স্থায়ী হয়েছিল।

তা সত্ত্বেও, যেসব ঐতিহাসিক ঝলক এবং সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত বিদ্যমান রয়েছে তার আলোকে তিনি যে যুগে বসবাস করেছেন তাকে আমরা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করতে পারি:
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৮)
- فترة ما بين (834 - 874 هـ) (1431 - 1469 م) - وهي التي قضاها بمسقط رأسه (الجزائر)، وتصور طور طفولته وشبابه من حياته.

- وفترة ما بين (874 - 914 هـ) (1469 - 1508 م) - وقد عاشها بالمغرب (فاس) وتمثل طور الكهولة والشيخوخة.

ويبدو أن لكل من العصرين، أو الفترتين -على الأصح- أثره الخاص في نفس صاحبنا، سواء من الناحية السياسية، أو الاجتماعية، أو الفكرية؛ لذا سأحاول تسليط بعض الأضواء على هذه النواحي الثلاث:

 

‌‌1 - الحياة السياسية في كلا البلدين:

‌‌أ- الحالة السياسية بالجزائر:

شاءت الأقدار الإلهية أن يرى أبو العباس الونشريسي نور الحياة -والدولة الزيانية الحاكمة-آنذاك- بالجزائر تمر بأحلك فتراتها، وتعاني أشد ما تعاني من الفوضى، والاضطرابات الداخلية، والتمزقات السياسية: نتيجة ضعف جل ملوك هذه الدولة، وانهماكهم في التنافس والتهالك على تسنم العرش

الجزائري، الذي أضحى تحت رحمة ملوك الحفصيين منذ أن
- (৮৩৪ - ৮৭৪ হিজরি) (১৪৩১ - ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দ) এর মধ্যবর্তী সময়কাল - যা তিনি তাঁর জন্মভূমি (আলজেরিয়াতে) অতিবাহিত করেছেন এবং এটি তাঁর জীবনের শৈশব ও যৌবনকালকে চিত্রিত করে।

- এবং (৮৭৪ - ৯১৪ হিজরি) (১৪৬৯ - ১৫০৮ খ্রিষ্টাব্দ) এর মধ্যবর্তী সময়কাল - যা তিনি মরক্কোতে (ফেজ) অতিবাহিত করেছেন এবং এটি তাঁর প্রৌঢ়ত্ব ও বার্ধক্যের সময়কে উপস্থাপন করে।

প্রতীয়মান হয় যে, এই উভয় যুগ বা আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে এই উভয় সময়কালেরই আমাদের গ্রন্থকারের মনের ওপর বিশেষ প্রভাব ছিল, চাই তা রাজনৈতিক, সামাজিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক যে কোনো দিক থেকেই হোক না কেন; তাই আমি এই তিনটি দিকের ওপর কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টা করব:

 

‌‌১ - উভয় দেশের রাজনৈতিক জীবন:

‌‌ক- আলজেরিয়ার রাজনৈতিক অবস্থা:

আল্লাহর তকদির এটাই ছিল যে, আবুল আব্বাস আল-ওয়ানশারিসি যখন পৃথিবীর আলো দেখেন, তখন আলজেরিয়ার তৎকালীন শাসক জাইয়ানি রাষ্ট্র তার অন্ধকারতম সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এবং চরম বিশৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভক্তির শিকার ছিল। এর কারণ ছিল এই রাষ্ট্রের অধিকাংশ রাজার দুর্বলতা এবং আলজেরীয় সিংহাসনে আরোহণের জন্য তাদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা ও লোলুপতায় মগ্ন থাকা,

যা তখন থেকেই হাফসি রাজাদের করুণার অধীনে চলে গিয়েছিল যখন থেকে
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ৯)
تخلت عنه -لظروف قاهرة- دولة بني مرين في حدود (812 - 827 هـ) (6).

وحاول الزيانيون -غير مرة- التخلص من سيطرتهم، وإبعاد هذا الكابوس الجاثم على صدورهم، وإزالة الخناق المطوق لرقابهم، لكن بدون طائل.

فهذا أبو العباس أحمد الزياني الملقب بـ (المعتصم بالله) رغم أن الحفصيين هم الذين ولوه عرش تلمسان (866 - 866 هـ) (7) (1431 - 1461 م) (8) - فإنه لم يكد يستوي على قدميه حتى ثار ضدهم، وأعلن رفض دعوتهم سنة (837 هـ- 1433 م) (9) متخيلا أنهم سيتغاضون عن محاولته الاستقلال عنهم، وأنهم سيعدلون عن سياستهم المتبعة: القتل، أو حبس كل من سولت له نفسه الخروج عن طاعتهم وتعيينهم -في محله- من يخطب باسمهم، ويأتمر بأمرهم.! ! فلم يصدق تخيله.

لكون أبي فارس الحفصي بمجرد ما وصله الخبر، زحف بجيش جرار على الجزائر، قاصدا العاصمة (تلمسان) بيد أنه-

--------------------------------------------

(6) الاستقصا للناصري ج- 4 - ص: 91 طبع دار الكتاب- الدار البيضاء المغرب، وتاريخ الجزائر العام للجيلالي- ج- 2 ص: 189، طبع مكتبة الحياة- بيروت.

(7) من الصدق أنه ولوه في نفس السنة التي ولد فيها الونشريسي.

(8) تاريخ الجزائر العام-ج- 2 - ص: 189.

(9) نفس المصدر- ج- 2 - ص: 191.
বনু মারিন রাষ্ট্র তাকে (তিলিমসান) -অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে- (৮১২ - ৮২৭ হিজরি) নাগাদ ত্যাগ করে (৬)।

এবং যিয়ানীয়রা -একাধিকবার- তাদের আধিপত্য থেকে মুক্তি পেতে, তাদের বুকের ওপর চেপে বসা এই দুঃস্বপ্নকে দূরে সরিয়ে দিতে এবং তাদের ঘাড়ে চেপে থাকা শ্বাসরোধকারী ফাঁস অপসারণ করতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

যেমন এই আবুল আব্বাস আহমাদ আল-যিয়ানী, যাকে 'আল-মুতাসিম বিল্লাহ' উপাধি দেওয়া হয়েছিল; যদিও হাফসীয়রাই তাকে তিলিমসানের সিংহাসনে বসিয়েছিল (৮৬৬ - ৮৬৬ হিজরি) (৭) (১৪৩১ - ১৪৬১ খ্রিস্টাব্দ) (৮) - কিন্তু তিনি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে উঠতে না উঠতেই তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং (৮৩৭ হিজরি - ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দ) (৯) সালে তাদের আনুগত্য প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। তিনি কল্পনা করেছিলেন যে, তারা তার স্বাধীনতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করবে এবং তাদের অনুসৃত নীতি থেকে সরে আসবে। তাদের সেই নীতি ছিল: হত্যা করা অথবা এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে বন্দি করা যার মন তাদের আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্ররোচনা দেয়, এবং তার স্থলে এমন কাউকে নিয়োগ করা যে তাদের নামে খুতবা দেবে এবং তাদের আদেশ পালন করবে!! কিন্তু তার সেই কল্পনা সফল হয়নি।

কারণ আবু ফারিস আল-হাফসী সংবাদটি পাওয়ার মাত্রই এক বিশাল বাহিনী নিয়ে আলজেরিয়ার দিকে অগ্রসর হন, যার লক্ষ্য ছিল রাজধানী (তিলিমসান); তবে তিনি-

--------------------------------------------

(৬) আন-নাসিরি রচিত আল-ইস্তিকসা, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯১, দারুল কিতাব প্রকাশনী- কাসাব্লাঙ্কা, মরক্কো; এবং আল-জিলানি রচিত তারিখুল জাযাইর আল-আম, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৯, মাকতাবাতুল হায়াত- বৈরুত।

(৭) এটি সত্য যে, তারা তাকে সেই বছরই সিংহাসনে বসিয়েছিল যে বছর আল-ওয়ানশারীসি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

(৮) তারিখুল জাযাইর আল-আম, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৯।

(৯) একই উৎস, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯১।
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১০)
من سوء حظه، وحسن حظ خصمه- أنه وافاه أجله قبل الوصول إليها، فاضطر جيشه إلى الرجوع إلى تونس (10)، فتنفس أبو العباس (العاقل) الصعداء، وراح ينعم بشيء من الاستقرار، لكن هذا الاستقرار لم يدم طويلا، إذ سرعان ما فوجئ بعصيان أخيه (أبي يحيى) وإعلان الثورة عليه، تسانده بعض القبائل التي سئمت حكم السلطان، فهرع إلى تلمسان مع أنصاره، وحاصرها مدة، وحينما استعصمت عليه اتجه إلى وهران، فاحتلها سنة (840 هـ) (11) (1437 م) - بغير قتال، وحاول السلطان- مرارا مطاردته، إلا أن النجاح لم يحالفه في البداية، لصمود أخيه، واستماتة أنصاره، وانشغال السلطان بمقاومة ثورة أخرى شنها عليه أبو زيان محمد (المستعين بالله) الذي زودته حكومة تونس بالجند والعتاد، وتمكن من السيطرة على كثير من الولايات، واتخذ مدينة الجزائر مركزا لإنشاء دولته، وكاد أن يستفحل أمره، لو لم يقض عليه أبو يحيى (صاحب وهران) واستولى على ما كان بيده، وأحس أبو العباس (العاقل) -أكثر من ذي قبل- بالخطر الذي يهدد ملكه، وصمم العزم على القضاء على أخيه (أبي يحيى) قبل أن يقضى عليه، فاحتدمت بينهما حروب منهكة، إلى أن رجحت كفة أبي العباس في النهاية، بالانتصار على أخيه، واستيعادته جميع الولايات إلى حظيرة مملكته،

--------------------------------------------

(10) تاريخ الجزائر العام ج- 2 - ص: 191.

(11) نفس المصدر.
তার দুর্ভাগ্য এবং তার প্রতিপক্ষের সৌভাগ্য যে, সেখানে পৌঁছানোর পূর্বেই তার মৃত্যু উপস্থিত হলো। ফলে তার সেনাবাহিনী তিউনিসিয়ায় (১০) ফিরে যেতে বাধ্য হলো। তখন আবু আল-আব্বাস (আল-আকিল) স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন এবং কিছুটা স্থিতিশীলতা উপভোগ করতে শুরু করলেন। কিন্তু এই স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; কারণ শীঘ্রই তিনি তার ভাই (আবু ইয়াহইয়া)-এর অবাধ্যতা এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণার সম্মুখীন হয়ে বিস্মিত হলেন। সুলতানের শাসনে ক্লান্ত হয়ে পড়া কিছু গোত্র তাকে সমর্থন দিচ্ছিল। ফলে সে তার সমর্থকদের নিয়ে তিলিমসানের দিকে দ্রুত অগ্রসর হলো এবং কিছুকাল তা অবরোধ করে রাখল। যখন শহরটি জয় করা তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ালো, তখন সে ওয়াহরানের দিকে অগ্রসর হলো এবং কোনো যুদ্ধ ছাড়াই ৮৪০ হিজরি (১১) (১৪৩৭ খ্রিষ্টাব্দ) সালে তা দখল করে নিল। সুলতান বারবার তাকে তাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শুরুতে তিনি সফল হতে পারেননি। এর কারণ ছিল তার ভাইয়ের দৃঢ়তা, তার সমর্থকদের আত্মত্যাগ এবং সুলতানের অন্য একটি বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত থাকা, যা তার বিরুদ্ধে আবু জায়ান মুহাম্মদ (আল-মুসতাঈন বিল্লাহ) শুরু করেছিলেন। তিউনিসিয়া সরকার তাকে সৈন্য ও যুদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করেছিল এবং তিনি অনেকগুলো প্রদেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি আলজিয়ার্স শহরকে তার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তার প্রতিপত্তি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত যদি না আবু ইয়াহইয়া (ওয়াহরানের অধিপতি) তাকে নির্মূল করতেন এবং তার অধিকারে যা ছিল তা দখল করে নিতেন। আবু আল-আব্বাস (আল-আকিল) তার রাজত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো বিপদ সম্পর্কে আগের চেয়েও বেশি সজাগ হলেন এবং তিনি নিজের পতন হওয়ার পূর্বেই তার ভাই (আবু ইয়াহইয়া)-কে নির্মূল করার দৃঢ় সংকল্প করলেন। ফলে তাদের মধ্যে ক্লান্তিকর যুদ্ধ শুরু হলো, অবশেষে আবু আল-আব্বাস তার ভাইয়ের ওপর বিজয় লাভ করে চূড়ান্ত জয়ী হলেন এবং সমস্ত প্রদেশকে পুনরায় তার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করলেন,

--------------------------------------------

(১০) আলজিয়ার্সের সাধারণ ইতিহাস, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯১।

(১১) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১১)
واعتقد بذلك أنه قضى علي كل الثورات المتلاحقة وأنه سينعم بشيء من الطمأنينة، ولم يكن يتوقع أن أبا ثابت (المتوكل علي الله) (حفيد أخيه) سيقوم بثورة عارمة ضده، وأن نهاية حكمه ستكون علي يده.

وفعلا فقد نزل أبو ثابت المتوكل علي العاصمة (تلمسان) كالصاعقة سنة (866 هـ-1461 م) (12) وطرد منها السلطان (عم أبيه) ونفاه إلى الأندلس، وفي نفس الوقت أعلن استقلاله عن الدولة الحفصية، (13) وما كادت تصل هذه الأنباء إلى تونس، حتى هب سلطانها أبو عمرو عثمان الحفصي بجيش عارم؛ مكتسحا به جل الولايات والقبائل الجزائرية، وبدل أن يحاول أهلها رد زحفه ومقاومته، صاروا يقدمون له التمر والحليب، معلنين بذلك ترحابهم به، وسخطهم علي حكم السلطان أبي ثابت الذي وجد نفسه مهددا بالخطر، وأن حكمه وشيك الانهيار إن لم يتدارك الأمر عن عجل، فلم يجد حيلة تنقده من تلك الورطة خيرا من إيفاده نخبة من كبار العلماء، ليتشفعوا له لدى السلطان الحفصي، فنفذها ونجحت حيلته، ثم قفل السلطان الحفصى راجعا إلى عاصممة ملكه، (14) بعد أن عين بعض الولاة والقواد بنفسه، غير أن أبا ثابت لم يأخذ العبرة بهذه الهزيمة، إذ ما لبث أن عاد إلى التمرد، بإعلانه رفض الدعوة الحفصية للمرة الثانية،

--------------------------------------------

(12) تاريخ الجزائر العام ج 2 ص 193.

(13) نفس المصدر ص 193.

(14) نفس المصدر ص 194.
এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি সমস্ত ক্রমাগত বিদ্রোহ দমন করেছেন এবং তিনি কিছুটা প্রশান্তি ভোগ করবেন; তিনি আশা করেননি যে আবু সাবিত (আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ) (তাঁর ভাইয়ের নাতি) তাঁর বিরুদ্ধে এক প্রচণ্ড বিদ্রোহ করবেন এবং তাঁর শাসনের অবসান আবু সাবিতের হাতেই ঘটবে।

বাস্তবিকই আবু সাবিত আল-মুতাওয়াক্কিল (৮৬৬ হিজরি - ১৪৬১ খ্রিস্টাব্দে) বজ্রপাতের ন্যায় রাজধানী (তিলিমসান) আক্রমণ করেন (১২) এবং সেখান থেকে সুলতানকে (তাঁর বাবার চাচা) বিতাড়িত করে আন্দালুসে নির্বাসিত করেন। একই সাথে তিনি হাফসি রাষ্ট্র থেকে তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। (১৩) এই সংবাদ তিউনিসে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই সেখানকার সুলতান আবু আমর উসমান আল-হাফসি এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ধেয়ে আসেন, যা আলজেরিয়ার অধিকাংশ প্রদেশ ও গোত্রসমূহকে তছনছ করে দেয়। সেখানকার অধিবাসীরা তাঁর অগ্রযাত্রা প্রতিহত ও প্রতিরোধ করার পরিবর্তে তাঁকে খেজুর ও দুধ প্রদান করতে শুরু করে, যার মাধ্যমে তারা তাঁর প্রতি স্বাগত জানানো এবং সুলতান আবু সাবিতের শাসনের প্রতি তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। আবু সাবিত নিজেকে বিপদের মুখে দেখতে পান এবং বুঝতে পারেন যে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাঁর শাসন আসন্ন পতনের সম্মুখীন। সেই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য তিনি শীর্ষস্থানীয় একদল আলেমের প্রতিনিধি প্রেরণের চেয়ে উত্তম কোনো কৌশল খুঁজে পাননি, যাতে তাঁরা হাফসি সুলতানের নিকট তাঁর জন্য সুপারিশ করেন। তিনি তা কার্যকর করেন এবং তাঁর কৌশল সফল হয়। এরপর হাফসি সুলতান নিজে কিছু গভর্নর ও সেনাপতি নিযুক্ত করার পর তাঁর রাজ্যের রাজধানীতে ফিরে যান, (১৪) কিন্তু আবু সাবিত এই পরাজয় থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেননি, কারণ শীঘ্রই তিনি দ্বিতীয়বারের মতো হাফসি আনুগত্য প্রত্যাখ্যানের ঘোষণার মাধ্যমে পুনরায় বিদ্রোহে লিপ্ত হন।

--------------------------------------------

(১২) আলজেরিয়ার সাধারণ ইতিহাস, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯৩।

(১৩) একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৯৩।

(১৪) একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৯৪।
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১২)
سنة (868 هـ 1463 م) (15) فقام الجيش الحفصي بحملة تأديبية، واسعة النطاق، أخضع لسلطته كثيرا من الجهات، ثم يمم العاصمة (تلمسان) فأحاط بها إحاطة السوار بالمعصم، فما كان من أبي ثابت إلا الاستسلام، وإهداء بنته لأحد الأمراء الحفصيين كعربون على إخلاصه، وكتابة البيعة -للسلطان الحفصي- بيده، جاء فيها: "شهد على نفسه عبد الله المتوكل عليه، محمد لطف الله به، ولا حول ولا قوة إلا بالله، وأعطى بنته بكرا للمولى أبي زكرياء يحيى بن المولى المسعود دون خطبة … (16) ".

هكذا كانت عجلة الأحداث تسير في الجزائر خلال هذه الحقبة، عراك وفتن داخلية، وثورات مضنية متتالية، والتطاحن على الملك والرئاسة -أصبح شيئًا مألوفا- بين الإخوة تارة، وبين الملوك المتجاورين تارة أخرى، والإسبان يخططون في خفاء، لاحتلال القواعد والثغور الإسلامية، والمراكز الاستراتيجية على البحرين: المتوسط والأطلسي، حتى لا تقع النجدة لمسلمي الأندلس، الذين كانوا يعيشون محنتهم الأخيرة، فاحتل الإسبان (فعلا) مدينة بونة (عنابة (17)) تمهيدا للسطو على المراكز الأخرى، والبرتغاليون -بدورهم- اشرأبت أعناقهم لأخذ حقهم في الغنيمة، فأخذوا

--------------------------------------------

(15) نفس المصدر ص 195.

(16) نفس المصدر ص 195.

(17) عنابة مدينة تقع في أقصى الطرق الشرقي للجزائر على بعد 100 كيلو متر من حدود تونس مع الجزائر، وتبدل اسمها عدة مرات من (هبو) و (هبونة) و (زاوة) و (بونة) إلى اسمها الحالي عنابة. انظر مجلة العربي ع 178 ص: 83.
সাল (৮৬৮ হিজরি ১৪৬৩ খ্রিস্টাব্দ) (১৫) অতঃপর হাফসি সেনাবাহিনী এক বিস্তৃত ও ব্যাপক শাস্তিমূলক অভিযান পরিচালনা করল এবং অনেক অঞ্চলকে তাদের কর্তৃত্বের অধীনে নিয়ে আসল। এরপর তারা রাজধানীর (তিলিমসান) দিকে অগ্রসর হয়ে তাকে এমনভাবে ঘিরে ফেলল যেমন কবজিকে চুড়ি বেষ্টন করে রাখে। ফলে আবু সাবিতের সামনে আত্মসমর্পণ করা এবং তার আনুগত্যের নিদর্শনস্বরূপ হাফসি রাজপুত্রদের একজনের নিকট তার কন্যাকে উপহার দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকল না। তিনি নিজ হাতে হাফসি সুলতানের প্রতি আনুগত্যের শপথনামা লিখে দিলেন, যাতে উল্লেখ ছিল: "আল্লাহর সেই বান্দা যার ওপর ভরসা করা হয়েছে, মুহাম্মদ—আল্লাহ তার প্রতি সদয় হোন—নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। সে তার কুমারী কন্যাকে কোনো প্রকার বাগদান ছাড়াই মাওলা আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মাওলা মাসউদের নিকট অর্পণ করল … (১৬)।"

এই যুগে আলজেরিয়ার ঘটনাবলি এভাবেই আবর্তিত হচ্ছিল—অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ফিতনা, একের পর এক ক্লান্তিকর বিদ্রোহ এবং রাজত্ব ও নেতৃত্বের লড়াই, যা কখনো ভাইদের মধ্যে আবার কখনো প্রতিবেশী রাজাদের মধ্যে একটি প্রাত্যহিক বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। এদিকে স্পেনীয়রা গোপনে মুসলিমদের ঘাঁটি, সীমান্ত এবং দুই সাগর—ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের কৌশলগত কেন্দ্রগুলো দখলের পরিকল্পনা করছিল, যাতে আন্দালুসের মুসলমানদের কাছে কোনো সাহায্য পৌঁছাতে না পারে, যারা তখন তাদের শেষ সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছিল। ফলে স্পেনীয়রা অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে লুণ্ঠন চালানোর প্রস্তুতিরূপে (প্রকৃতপক্ষেই) বুনা (আন্নাবা (১৭)) শহরটি দখল করে নিল। পর্তুগিজরাও তাদের পক্ষ থেকে গনিমতের অংশ নেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠল, ফলে তারা দখল করল...

--------------------------------------------

(১৫) একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৯৫।

(১৬) একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৯৫।

(১৭) আন্নাবা হলো আলজেরিয়ার সুদূর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি শহর, যা তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়ার সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর নাম 'হিব্বু', 'হিব্বুনা', 'জাওয়া' এবং 'বুনা' থেকে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান নাম আন্নাবা হয়েছে। দেখুন: আল-আরাবি ম্যাগাজিন, সংখ্যা ১৭৮, পৃষ্ঠা ৮৩।
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১৩)
يستعدون للاستيلاء على ميناء وهران- للمرة الثانية- دون أن يحرك حكام الجزائر- آنئذ- ساكنا للدفاع عن ثغورهم التي صارت تتساقط في يد العدو تباعا، ولا التفتوا إلى تضرعات أهل الأندلس، واستغاثاتهم المتكررة، وربما انتقد أبو العباس الونشريسي- وقد عرف بصراحته وتصلبه في الحق، وغيرته على الإسلام- موقف أبي ثابت السلبي إزاء نداءات الأندلس، وسياسته الفاشلة لعدم تبصره بتصريف الأمور بتعقل وحكمة، فلو عامل السلطان الحفصي بدهاء وحنكة، لما لحقته تلك الهزيمة والإهانة، بل ولاستماله إلى التعاون معه على محاربة العدو الأكبر، الذي كان يعيث فسادا في الأندلس المسلمة، ويستعمل كل الوسائل البشعة لاستئصال أهلها وقلع جذور الإسلام منها، وهاهو ذا بلغت به الجرأة إلى اقتحامه الشواطيء الجزائرية وغيرها- تحديا واستكبارا، وربما غضب الونشريسي لذلك، واستنكر على السلطان مواقفه المزرية جهارا، فحملته أنفة الملوك على طرد صاحبنا من تلمسان، وانتهاب داره.

كما يحتمل أن الونشريسي أتهم بالتحريض على مشايعة الملك الحفصي، ومبايعته له، أو على الأقل كان من ضمن الذين رحبوا به أثناء قيامه بحملة تأديبية، معلقين عليه آمالهم أن يعمل على طرد العدو من شواطئهم بعد أن يئسوا وتيقنوا من عجز أبي ثابت وسلبيته إزاء الأندلس، وتوفير الأمن الداخلي، والذود عن حوزة الوطن …

ومن الغريب أن كتب التراجم تمر بهذا الحادث مر الكرام دون أن تذكر أي سبب أو تعليل، بل وحتى إسم السلطان، الذي
তারা দ্বিতীয়বারের মতো ওরান বন্দর দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—সেই সময় আলজেরিয়ার শাসকরা তাদের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো রক্ষার জন্য সামান্যতম পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি, যা একের পর এক শত্রুর কবলে পড়ছিল। তারা আন্দালুসবাসীদের করুণ মিনতি এবং তাদের বারবার করা আর্তনাদের প্রতিও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি। সম্ভবত আবু আল-আব্বাস আল-ওয়ানশারিসি—যিনি তাঁর স্পষ্টবাদিতা, সত্যের প্রতি অবিচলতা এবং ইসলামের প্রতি সুগভীর মর্যাদাবোধের জন্য সুপরিচিত ছিলেন—আন্দালুসের আহ্বানের বিপরীতে আবু সাবিতের নেতিবাচক অবস্থান এবং বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার সাথে বিষয়াদি পরিচালনায় দূরদর্শিতার অভাবজনিত ব্যর্থ রাজনীতির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি যদি হাফসি সুলতানের সাথে চতুরতা ও অভিজ্ঞতার সাথে আচরণ করতেন, তবে তাঁকে এই পরাজয় ও অপমানের সম্মুখীন হতে হতো না; বরং তিনি তাকে আন্দালুসে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এবং সেখানকার অধিবাসীদের নির্মূল ও ইসলামের মূলোৎপাটনে সমস্ত জঘন্য পথ অবলম্বনকারী সেই মহাশত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহযোগিতার জন্য পাশে পেতেন। আজ সেই শত্রুর দুঃসাহস এতই বেড়েছে যে, সে ঔদ্ধত্য ও স্পর্ধার সাথে আলজেরীয় উপকূল ও অন্যান্য অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করছে। সম্ভবত আল-ওয়ানশারিসি এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং সুলতানের এই শোচনীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন; ফলে রাজকীয় আভিজাত্যসুলভ অহংবোধ সুলতানকে আমাদের এই মনীষীকে তিলিমসান থেকে বহিষ্কার করতে এবং তাঁর ঘরবাড়ি লুণ্ঠন করতে প্ররোচিত করেছিল।

আবার এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, আল-ওয়ানশারিসি হাফসি রাজাকে সমর্থন জানানো এবং তাঁর প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন; অথবা অন্ততপক্ষে তিনি সেই সব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা একটি শাস্তিমূলক অভিযানের সময় তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তারা তাঁর ওপর এই আশা পোষণ করেছিলেন যে, আবু সাবিতের অক্ষমতা এবং আন্দালুসের প্রতি তাঁর নিস্পৃহতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিরাশ হওয়ার পর তিনি তাদের উপকূল থেকে শত্রু বিতাড়নে কাজ করবেন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন …

আশ্চর্যের বিষয় এই যে, জীবনীগ্রন্থগুলো কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা উল্লেখ না করে, এমনকি সেই সুলতানের নাম পর্যন্ত না জানিয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে এই ঘটনার উল্লেখ করে চলে গেছে, যিনি...
(খণ্ড: ১) ঈযাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক - তাহকীক বু তাহির (পৃষ্ঠা: ১৪)
صدر عنه ذلك لم تشر إليه، وإنما اكتفت بالقول: "إنه حصلت له كائنة مع السلطان، وتعرضت داره للنهب (18) ".

وكيفما كان السبب، فقد أصدر الأمر بنفي صاحبنا من تلمسان، ومصادرة أملاكه، فغادرها في غرة محرم سنة (876 هـ- 1469 م (19)) قاصدا فاس، فوجد بها أصدقاءه من علمائها الذين رحبوا به أيما ترحاب، وأضفوا عليه من التقدير والتكريم ما أنساه المصاب، وكيف لا؟ وقد عرفوه من خلال كتاباته وفتاواه الكثيرة، إذ كانت تجري بين علماء فاس وتلمسان -من حين لآخر- محاورات علمية، وتساؤلات وإيجابات متبادلة؛ في أعوص المسائل الفقهية وأدقها، وتبادلوا الإجازات بالمراسلة، والونشريسي نفسه يذكر أنه أخذ عن بعض شيوخ فاس بالمكاتبة (20).

 

‌‌ب- الحالة السياسية بالمغرب:

لم يكن الوضع السياسيى بالمغرب-آنذاك- أحسن مما كان عليه بالجزائز بل كان على أسوا حال، فالدولة المرينية القوية التي كانت بالأمس القريب، تصول وتجول، قد أصابها داء الشيخوخة والهرم، الذي يصيب أكثر الأمم -كما يقول ابن خلدون (21) - وكان آخر ملوكهم الضعفاء السلطان عبد الحق

--------------------------------------------

(18) انظر (فهرسة) المنجور ص: 50، ونيل الابتهاج ص: 87، والبستان ص: 53 ولقط الفرائد ص: 254.

(19) نفس المصدر.

(20) انظر وفيات الونشريسي (ألف سنة من الوفيات في ثلاثة كتب) لحجى ص: 149.

(21) المقدمة ص: 304 - 307. نشر دار الكتاب اللبناني.
এটি তার পক্ষ থেকে প্রকাশ পেয়েছে সেদিকে তিনি ইঙ্গিত করেননি, বরং তিনি কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন: "সুলতানের সাথে তার একটি ঘটনা ঘটেছিল এবং তার ঘর লুটের শিকার হয়েছিল (১৮)।"

কারণ যা-ই হোক না কেন, আমাদের এই সঙ্গীকে তিলিমসান থেকে নির্বাসন এবং তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ জারি করা হয়েছিল। ফলে তিনি ৮৭৬ হিজরি সনের মুহাররম মাসের শুরুতে (১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দ (১৯)) তিলিমসান ত্যাগ করে ফাস অভিমুখে রওনা হন। সেখানে তিনি সেখানকার আলেমদের মধ্য থেকে তার বন্ধুদের দেখা পান যারা তাকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তারা তাকে এতটাই সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেন যে তিনি তার বিপদ ও কষ্টের কথা ভুলে যান। আর তা হবেই না কেন? তারা তো তাকে তার লেখালেখি এবং অসংখ্য ফতোয়ার মাধ্যমেই চিনতেন। কেননা ফাস এবং তিলিমসানের আলেমদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই পাণ্ডিত্যপূর্ণ সংলাপ এবং অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম ফিকহি মাসআলাসমূহে পারস্পরিক প্রশ্নোত্তর বিনিময় চলত। তারা চিঠিপত্রের মাধ্যমে ইজাযতও বিনিময় করতেন; খোদ আল-ওয়ানশারিসি উল্লেখ করেছেন যে তিনি ফাসের কিছু শাইখের কাছ থেকে পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করেছেন (২০)।

 

‌‌খ- মরক্কোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি:

সে সময়ে মরক্কোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলজেরিয়ার পরিস্থিতির চেয়ে খুব একটা ভালো ছিল না, বরং তা ছিল আরও শোচনীয় অবস্থায়। শক্তিশালী মারিনি সাম্রাজ্য, যা কিছুদিন আগেও দাপিয়ে বেড়াত, বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল—যা অধিকাংশ জাতির ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে, যেমনটি ইবনে খালদুন (২১) বলেছেন—এবং তাদের দুর্বল রাজাদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন সুলতান আব্দুল হক।

--------------------------------------------

(১৮) দেখুন: আল-মানজূরের (ফিহরাসাত), পৃষ্ঠা: ৫০; নায়লুল ইবতিহাজ, পৃষ্ঠা: ৮৭; আল-বুস্তান, পৃষ্ঠা: ৫৩ এবং লাকাতুল ফারাঈদ, পৃষ্ঠা: ২৫৪।

(১৯) একই উৎস।

(২০) দেখুন: হিজ্জি রচিত ওয়াফায়াতুল ওয়ানশারিসি (তিনটি গ্রন্থে এক হাজার বছরের মৃত্যুসংবাদ), পৃষ্ঠা: ১৪৯।

(২১) আল-মুকাদ্দিমাহ, পৃষ্ঠা: ৩০৪ - ৩০৭। দারুল কিতাব আল-লুবনানি প্রকাশিত।