(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: -)
طبقات النحويين واللغويين القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: طبقات النحويين واللغويين (سلسلة ذخائر العرب 50)
المؤلف: محمد بن الحسن بن عبيد الله بن مذحج الزبيدي الأندلسي الإشبيلي، أبو بكر (ت 379 هـ)
المحقق: محمد أبو الفضل إبراهيم [ت 1401 هـ]
الطبعة: الثانية
الناشر: دار المعارف
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 314
تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1435
ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণের স্তরসমূহ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণের স্তরসমূহ (যাখাইরুল আরব সিরিজ ৫০)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন উবাইদুল্লাহ বিন মাজহিজ আয-যুবাইদী আল-আন্দালুসী আল-ইশবীলী، আবু বকর (মৃত্যু ৩৭৯ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ আবু আল-ফজল ইবরাহিম [মৃত্যু ১৪০১ হিজরি]
সংস্করণ: দ্বিতীয়
প্রকাশক: দারুল মাআরিফ
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসাখ দল, তত্ত্বাবধানে: (মারকাযুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৪
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৫ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١)
ذخائر العرب
50
طبقات النحويين
واللغويين
لأبي بكر محمد بن الحسن الزبيدي الأندلسي
تحقيق
محمد أبو الفضل إبراهيم
الطبعة الثانية
دار المعارف
مقدمة المحقق
আরবীয় জ্ঞানভাণ্ডার
৫০
ব্যাকরণবিদ
ও ভাষাবিদদের স্তরসমূহ
আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-জুবাইদি আল-আন্দালুসি রচিত
সম্পাদনা
মুহাম্মাদ আবু আল-ফজল ইব্রাহিম
দ্বিতীয় সংস্করণ
দার আল-মাআরিফ
সম্পাদকের ভূমিকা
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١١)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلف
قال أبو بكر محمد بن الحسن الزبيدي -رحمة الله عليه-:
الحمد لله الذي أحسن كل شيء خلَقه وبدأ خلقَ الإنسان من طين، ثم جعل نسله من سلالة من ماء مهين، وفضَّله على سائر الحيوان، بما آتاه من حاسة العقل وبيان اللسان، ثم جبل كل أمة من الأمم على لغة أنطقهم بها، ويسرهم لها، وجعل اللسان العربيَّ أعذب الألسنة مخرجًا، وأعدلها منهجًا، وأوضحها بيانًا، وأوسعها افتنانًا، وجعل الإعراب حَلْيًا للسان، وزمامًا وفصلًا لما اختُلف فيه من معانيه.
ولم تزل العرب تنطق على سجيَّتها في صدر إسلامها وماضي جاهليتها؛ حتى أظهر الله الإسلام على سائر الأديان، فدخل الناس فيه أفواجًا، وأقبلوا إليه أرسالًا، واجتمعت فيه الألسنة المتفرقة، واللغات المختلفة، ففشا الفساد في اللغة والعربية، واستبان منه في الإعراب الذي هو حَلْيها، والموضِّح لمعانيها؛ فتفطَّن لذلك مَن نافر بطباعه سوء أفهام الناطقين من دخلاء الأمم بغير المتعارَف من كلام العرب، فعظم الإشفاق من فُشُوِّ ذلك وغلَبته؛ حتى دعاهم الحذرُ من ذهاب لغتهم وفساد كلامهم، إلى أن سبَّبوا الأسباب في تقييدها لمن ضاعت عليه، وتثقيفها لمن زاغت عنه.
فكان أولَ مَن أصَّل ذلك وأعمل فكره فيه، أبو الأسود ظالم بن عمرو الدُّؤليُّ، ونصر بن عاصم، وعبد الرحمن بن هُرْمز. فوضعوا للنحو أبوابًا، وأصَّلوا له أصولًا؛ فذكروا عوامل الرَّفْع والنصب والخفض والجزم، ووضعوا باب الفاعل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকা
আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-জুবাইদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে অতি উত্তমরূপে সৃষ্টি করেছেন এবং মাটির মাধ্যমে মানুষের সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধারাকে এক তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস থেকে তৈরি করেছেন। তিনি তাকে অন্যান্য সমস্ত প্রাণীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন বিচারবুদ্ধির অনুভূতি এবং জিহ্বার বর্ণনাশক্তির মাধ্যমে যা তিনি তাকে দান করেছেন। অতঃপর তিনি প্রত্যেক জাতিকে একটি নির্দিষ্ট ভাষার ওপর সৃষ্টি করেছেন যার দ্বারা তিনি তাদের বাকশক্তি দিয়েছেন এবং তাদের জন্য তা সহজ করে দিয়েছেন। তিনি আরবি ভাষাকে উচ্চারণের দিক থেকে মধুরতম, পদ্ধতির দিক থেকে ভারসাম্যপূর্ণতম, বর্ণনার দিক থেকে স্পষ্টতম এবং বৈচিত্র্যের দিক থেকে প্রশস্ততম করেছেন। আর তিনি ইরাবকে (ব্যাকরণিক স্বরচিহ্ন) রসনার অলঙ্কার এবং অর্থের অস্পষ্টতার ক্ষেত্রে এর লাগাম ও পার্থক্যকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
আর আরবরা ইসলামের শুরুর যুগে এবং অতীতের জাহিলি যুগে তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতি অনুযায়ীই কথা বলত; যতক্ষণ না আল্লাহ ইসলামকে অন্যান্য সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করলেন। তখন মানুষ দলে দলে এতে প্রবেশ করল এবং পঙ্গপালের মতো এর দিকে ধাবিত হলো। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা ও ভিন্ন ভিন্ন কথ্যরীতি একত্রিত হলো। ফলে ভাষা ও আরবিতে বিকৃতি ছড়িয়ে পড়ল এবং এর চিহ্ন ইরাবের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠল, যা কি না ভাষার অলঙ্কার এবং অর্থের পরিস্ফুটনকারী। তখন বিষয়টি সেই ব্যক্তিদের নজরে এল যাদের স্বভাবজাত রুচি আরবে আগত অনারব ও ভিন্ন ভাষাভাষী নবাগতদের ভুল উচ্চারণ ও অসংলগ্ন কথাবার্তাকে ঘৃণা করত। এই বিকৃতির বিস্তার এবং এর প্রাবল্যের ব্যাপারে তাদের শঙ্কা ও উদ্বেগ চরম রূপ নিল; এমনকি তাদের ভাষা বিলুপ্ত হওয়া এবং কথাবার্তা কলুষিত হওয়ার ভয় তাদের এমন কিছু উপায় অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করল যার মাধ্যমে যারা ভাষা হারিয়েছে তাদের জন্য তা সংকলন করা যায় এবং যাদের ভাষা বিকৃত হয়ে গেছে তাদের জন্য তা সংশোধন করা যায়।
অতঃপর যারা প্রথম এই বিষয়ের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং এ নিয়ে নিবিড় চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন তারা হলেন আবুল আসওয়াদ যালিম বিন আমর আদ-দুয়ালি, নাসর বিন আসিম এবং আব্দুর রহমান বিন হুরমুয। তারা নাহু বা ব্যাকরণের জন্য বিভিন্ন অধ্যায় নির্ধারণ করেন এবং এর মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করেন। তারা রাফা (পেশ), নাসব (যবর), খফদ (জের) এবং জাযম (সুকুন)-এর কারকগুলো উল্লেখ করেন এবং ফায়িল (কর্তা)-এর অধ্যায় বিন্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١٢)
والمفعول والتعجب والمضاف. وكان لأبي الأسود في ذلك فضل السبق وشرف التقدم. ثم وصل ما أصَّلوه من ذلك التَّالون لهم، والآخذون عنهم؛ فكان لكل واحد منهم من الفضل بحسب ما بسط من القول، ومدَّ من القياس، وفتَق من المعاني، وأوضح من الدلائل، وبيَّن من العلل.
ولم تزل الأئمة من الصحابة الراشدين ومَن تلاهم من التابعين، يحضُّون على تعلُّم العربية وحفظها، والرعاية لمعانيها؛ إذ هي من الدين بالمكان المعلوم، فبها أنزل الله كتابه المهيمن على سائر كتبه، وبها بلَّغ رسولُه عليه السلام وظائفَ طاعته، وشرائع أمره ونهيه.
وكذلك كانوا يحضُّون على رواية الشعر الذي هو حكمة العرب في جاهليَّتها وإسلامها، وديوانها الذي أقامته مقام الكتاب لما تقدَّم من مآثرها وأيامها، فكانوا يتناشدونه في مجالسهم، ويتذاكرونه عند محافلهم.
ومصداق ذلك ما حدثنا به قاسمُ بن أَصْبَغَ، قال: حدثنا عبد الله بن رَوْحٍ قال: قال المدائنيُّ: حدثنا شَبَابةُ بن سَوَّارٍ قال: حدثنا شعبةُ، عن عاصمٍ، عن أبي عثمان النَّهديِّ؛ سمعته يقول: إن كتاب عمر بن الخطاب أتاهم وهم بأَذْرَبِيجان يأمرهم بأشياء، وذكر فيه: (تعلَّموا العربية).
এবং কর্মকারক, বিস্ময়সূচক পদ ও সম্বন্ধবাচক পদ। এক্ষেত্রে আবুল আসওয়াদের প্রারম্ভিক কৃতিত্ব ও অগ্রযাত্রার গৌরব রয়েছে। অতঃপর তাঁদের পরবর্তীগণ এবং তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণকারীগণ তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সেই মৌলিক নীতিমালাগুলোকে আরও এগিয়ে নেন; ফলে তাঁদের প্রত্যেকেরই সে পরিমাণ মর্যাদা রয়েছে, যতটুকু তিনি বক্তব্য সম্প্রসারিত করেছেন, ভাষাতাত্ত্বিক অনুমিতি (কিয়াস) বৃদ্ধি করেছেন, অর্থের জট খুলেছেন বা বৈচিত্র্য উন্মোচন করেছেন, প্রমাণাদি স্পষ্ট করেছেন এবং ভাষাতাত্ত্বিক কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন।
রাশিদুন সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারী তাবিঈ ইমামগণ সর্বদা আরবি ভাষা শেখার, তা সংরক্ষণ করার এবং এর অর্থের প্রতি যত্নশীল হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করে এসেছেন; কারণ দ্বীনের ক্ষেত্রে এর এক সুপরিচিত মর্যাদা রয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা এই ভাষাতেই তাঁর কিতাব—যা অন্য সকল কিতাবের ওপর কর্তৃত্বশীল—নাযিল করেছেন এবং এর মাধ্যমেই তাঁর রাসূল (আলাইহিস সালাম) তাঁর আনুগত্যের দায়িত্বসমূহ এবং আদেশ ও নিষেধের বিধানসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন।
একইভাবে তাঁরা কবিতা বর্ণনার ব্যাপারেও উৎসাহিত করতেন, যা জাহেলী ও ইসলামী যুগে আরবদের প্রজ্ঞা হিসেবে গণ্য ছিল এবং এটি ছিল তাদের সেই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংকলন (দেওয়ান), যাকে তারা তাদের অতীত গৌরবগাথা ও ঘটনাবলির স্মারক হিসেবে কিতাবের মর্যাদায় সিক্ত করেছিল। ফলে তাঁরা তাঁদের মজলিসগুলোতে তা আবৃত্তি করতেন এবং তাঁদের সভা-সমাবেশে তা চর্চা করতেন।
এর সত্যতার প্রমাণ হলো যা কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে রাওহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাদায়িনী বলেছেন: আমাদের নিকট শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বাহ আসিম থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি শুনেছি যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের একটি পত্র তাঁদের কাছে পৌঁছেছিল যখন তাঁরা আজারবাইজানে ছিলেন, যাতে তিনি তাঁদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছিলেন এবং তাতে উল্লেখ করেছিলেন: (তোমরা আরবি ভাষা শেখো)।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١٣)
حدثنا أحمد بن سعيد، قال: حدثنا أبو عثمان العناقي، عن الخُشَنيِّ قال: حدثنا الرِّياشيُّ، حدثنا أبو مَعْمَر، عن عبد الوارث التَّنُّوريِّ، عن أبي مسلم قال: قال عمر بن الخطاب: (تعلَّموا العربية؛ فإنها تُشبِّب العقل، وتزيد في المروءة).
ورُوي عن عمر أيضًا أنه قال: (تعلموا الفرائض والسنة واللحن، كما تتعلمون القرآن).
ويُروى عن أبانَ بن عثمان أنه قال: اللحن في الرجل السَّريِّ، كالتغيير في الثوب الجديد.
وقال مالك بن أنس: الإعراب حَلْي اللسان؛ فلا تمنعوا ألسنتكم حَلْيَها.
وقال ابن شُبْرمة: إن الرجل ليلحن وعليه الخز الأدكن، فكأن عليه أخلاقا؛ ويعرب وعليه أخلاق، فكأن عليه الخز الأدكن.
আহমদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসমান আল-আনাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-খুশানি থেকে, তিনি বলেন: আর-রিয়াশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মামার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস আত-তান্নুরি থেকে, তিনি আবু মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: (তোমরা আরবি ভাষা শিক্ষা করো; কেননা তা বুদ্ধিবৃত্তিকে শাণিত করে এবং গাম্ভীর্য বৃদ্ধি করে)।
উমর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (তোমরা ফারায়েজ, সুন্নাহ এবং ব্যাকরণ শিক্ষা করো, যেভাবে তোমরা কুরআন শিক্ষা করো)।
আবান ইবনে উসমান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কথায় ব্যাকরণগত ভুল নতুন পোশাকে খুঁতের মতো।
মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: ই'রাব (ব্যাকরণগত শুদ্ধতা) হলো জিহ্বার অলংকার; সুতরাং তোমাদের জিহ্বাকে তার অলংকার থেকে বঞ্চিত করো না।
ইবনে শুবরুমাহ বলেছেন: কোনো ব্যক্তি গাঢ় বর্ণের রেশমি পোশাক পরিহিত অবস্থায় ব্যাকরণগত ভুল করলে মনে হয় যেন তার পরনে জীর্ণ বস্ত্র রয়েছে; আর যদি সে জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় শুদ্ধভাবে কথা বলে, তবে মনে হয় যেন সে গাঢ় বর্ণের রেশমি পোশাক পরিহিত আছে।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وحدثنا قاسم بن أصبغ قال: حدثنا القاضي إسماعيل بن إسحاق قال: حدثنا إسماعيل بن أبي أويس قال: حدثني أخي، عن سليمان، عن محمد بن أبي عتيق، عن ابن شهاب، عن أبي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، أن مَرْوان بن الحكم أخبره: أن عبد الرحمن بن الأسود أخبره: أن أُبيَّ بن كعب أخبره: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةً".
حدثنا سعيد بن فَحْلونٍ أبو عثمان قال: حدثنا أبو سعيد عبد الرحمن
এবং আমাদের কাছে কাসিম বিন আসবাগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে কাযী ইসমাঈল বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইসমাঈল বিন আবী উওয়াইস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার ভাই সুলাইমান থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন আবী আতীক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবূ বকর বিন আবদুর রহমান বিন আল-হারিস বিন হিশাম থেকে যে, মারওয়ান বিন আল-হাকাম তাকে অবহিত করেছেন যে, আবদুর রহমান বিন আল-আসওয়াদ তাকে অবহিত করেছেন যে, উবাই বিন কাব তাকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতার মধ্যে প্রজ্ঞা রয়েছে।"
আমাদের কাছে সাঈদ বিন ফাহলুন আবূ উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবূ সাঈদ আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ابنُ عبيدٍ البصريُّ بالقيروان، قال: سألت النضر بن طاهر -راوية مالك عندنا بالبصرة- فقلتُ له: حدثكم عبد الله بن وهب، عن أبي الزِّناد؟ فقال: يابن أخي، ما تحتاج إلى ابن وهب! حدثنا ابن أبي الزناد، عن هشام بن عُرْوة، عن عائشة، أن النبي صلى الله عليه وسلم بنى لحسان بن ثابت منبرًا في المسجد ينشد عليه الشعر. وحدثناه أبو بكر القرشي، عن أبي عبد الرحمن النسائي، في إسنادٍ ذكره.
حدثنا قاسمٌ قال: حدثنا ابن أبي خيثمة قال: حدثنا أبو نُعَيم قال: حدثنا عبد الله بن عامر الأسلمي، عن عبد الرحمن بن حرملة، عن سعيد بن المسيِّب قال: بينما حسان بن ثابت ينشد الشعر في مسجد
কায়রোয়ানে ইবন উবাইদ আল-বাসরি বলেন: আমি আন-নাদর ইবন তাহিরকে—যিনি বসরায় আমাদের নিকট ইমাম মালিকের বর্ণনাকারী ছিলেন—জিজ্ঞেস করলাম: আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহাব কি আবুয যিনাদ থেকে আপনাদের কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তোমার ইবন ওয়াহাবের প্রয়োজন নেই! ইবন আবিয যিনাদ হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে হাসসান ইবন সাবিতের জন্য একটি মিম্বার নির্মাণ করে দিয়েছিলেন, যার ওপর তিনি কবিতা আবৃত্তি করতেন। আবু বকর আল-কুরাশি আবু আবদির রহমান আন-নাসায়ি থেকে বর্ণিত একটি সনদে এটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।
কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন আবি খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আমির আল-আসলামি আবদুর রহমান ইবন হারমালাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা হাসসান ইবন সাবিত যখন মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١٦)
رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجاء عمر فقال: يا حسان، تنشد الشعر في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم! فقال: أنشدتُ فيه وفيه مَن هو خيرٌ منك.
وجدتُ بخطِّ أبي رحمه الله: حدثنا العباس بن موسى المكِّيُّ بالمسجد الحرام، قال: حدثنا علي بن حرب قال: حدثنا ابن فُضَيل، عن الوليد بن جميع، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن قال: لم يكن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بمتماوتين ولا متحزقين؛ كانوا يتجالسون في مجالسهم، ويتناشدون الأشعار، ويتذاكرون أمر جاهليتهم، فإذا أريد واحد منهم عن شيء من أمر دينه دارت حماليق عينيه كأنه مجنون.
حدثنا أحمد بن سعيد قال: حدثنا الأعناقيُّ قال: حدثنا الخُشَني قال: حدثنا نصر بن علي قال: حدثنا الأصمعي، عن أبي الزِّناد قال: قيل لسعيد بن المسيب: إن أناسًا يكرهون إنشاد الشعر. فقال: نَسَكُوا نُسُكًا أعجميًّا.
وحدثنا قال: حدثنا أحمد بن خالد قال: حدثنا مَرْوان الفَخَّار قال: حدثنا محمد بن بشار قال: حدثنا محمد بن جعفرٍ ويحيى قالا:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট, এমতাবস্থায় উমর আসলেন এবং বললেন: হে হাসসান, তুমি কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করছ! তিনি বললেন: আমি এতে (মসজিদে) আবৃত্তি করেছি এমতাবস্থায় যখন এতে এমন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন যিনি তোমার অপেক্ষা উত্তম।
আমি আমার পিতার হস্তলিপিতে পেয়েছি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন): আব্বাস ইবন মুসা আল-মাক্কি মসজিদে হারামে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবন জুমা' থেকে, তিনি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ নির্জীব বা কৃত্রিম ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ছিলেন না; তাঁরা তাঁদের মজলিসে একত্রে বসতেন, কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং তাঁদের জাহেলিয়াত আমলের বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করতেন, কিন্তু যখন তাঁদের কারো কাছে তাঁর দ্বীনের কোনো বিষয়ে জানতে চাওয়া হতো, তখন তাঁর চোখের মণি এমনভাবে আবর্তিত হতো যেন তিনি উন্মাদ হয়ে গেছেন।
আহমদ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ’নাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-খুশানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাসর ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বলা হলো: নিশ্চয়ই কিছু লোক কবিতা আবৃত্তি করাকে অপছন্দ করে। তখন তিনি বললেন: তারা অনারবদের অনুকরণে বৈরাগ্য অবলম্বন করেছে।
এবং তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান আল-ফাকখার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন জাফর ও ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন:
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١٧)
حدثنا شُعبةُ قال: سمعت قَتَادة يحدث عن مُطرِّف بن الشِّخِّير قال: صحبت عمران بن الحُصَين من الكوفة إلى البَصْرة، فما أتى علينا يومٌ إلا أنشدَنا فيه شعرًا.
قال محمد: وإنَّ أمير المؤمنين الحَكَم المستنصر بالله رضي الله عنه لما اختصه الله به، ومنحه الفضيلة فيه؛ من العناية بضروب العلوم، والإحاطة بصنوف الفنون، أمرني بتأليف كتاب يشتمل على ذكر من سلف مَن النحويين واللغويين في صدر الإسلام، ثم مَن تلاهم مِن بعدُ إلى هَلُمَّ جَرًّا، إلى زماننا هذا، وأن أُطبِّقهم على أزمانهم وبلادهم؛ بحسب مذاهبهم في العلم ومراتبهم، وأذكر مع ذلك موالدهم وأسنانهم ومدد أعمارهم وتاريخ وفاتهم على قدر الإمكان في ذلك، وبحسب الإدراك له، وأجلُب جملة من نتف أخبارهم، وتاريخ وفاتهم، والحكايات المتضمنة لفضائلهم، المشتملة على محاسنهم؛ ليكون ذلك شكرًا لجميل سعيهم، وحميد مقامهم؛ إذ كان ذلك من حقِّهم على مَن أَدَّوْا إليه علمَهم، وأعملوا في صلاحه جُهْدهم. وكان في تقييد أخبارهم، وتخليد مآثرهم، ما يُبقِي لهم لسانَ الصدق الذي هو بدل البقاء والخُلْد؛ وقد قال عز وجل حكاية عن إبراهيم صلى الله عليه وسلم: {وَاجْعَلْ لِي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ}.
ثم قال الأول:
فَأَثنُوا علينا لا أبا لأَبيكمُ
… بإحساننا إنَّ الثَّناءَ هو الخلدُ
শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে মুতাররিফ ইবনুল শিখখীর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইমরান ইবনুল হুসাইন-এর সাথে কুফা থেকে বসরা পর্যন্ত সফর করেছি; আমাদের ওপর এমন কোনো দিন অতিবাহিত হয়নি যাতে তিনি আমাদের কবিতা শোনাননি।
মুহাম্মাদ বলেন: আমীরুল মু'মিনীন আল-হাকাম আল-মুসতানসির বিল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে আল্লাহ তা'আলা যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত দান করেছেন—যথা বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন এবং নানাবিধ শিল্পকলায় তাঁর পূর্ণ দখল—তারই প্রেক্ষিতে তিনি আমাকে এমন একটি গ্রন্থ সংকলনের নির্দেশ দিয়েছেন যা ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে শুরু করে আমাদের কাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পূর্ববর্তী নাহবী (ব্যাকরণবিদ) ও লুগাবী (ভাষাতত্ত্ববিদ)গণের বিবরণ সম্বলিত হবে। আর আমি যেন তাঁদের জ্ঞানগত মাযহাব ও পদমর্যাদা অনুযায়ী নিজ নিজ যুগ ও ভূখণ্ডের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করি; এবং সেই সাথে সাধ্যমতো তাঁদের জন্মকাল, বয়স, আয়ুষ্কাল এবং ওফাতের তারিখ উল্লেখ করি। এছাড়া আমি যেন তাঁদের সংবাদের সারাংশ, ওফাতের ইতিহাস এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলী সম্বলিত ঘটনাবলী বর্ণনা করি; যাতে এটি তাঁদের সুন্দর প্রচেষ্টা ও প্রশংসনীয় অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ হয়। কেননা, তাঁদের নিকট থেকে যারা জ্ঞান লাভ করেছে এবং যারা তাঁদের কল্যাণে শ্রম ব্যয় করেছে, তাঁদের ওপর এটি সেই মহৎ ব্যক্তিদের প্রাপ্য অধিকার। তাঁদের সংবাদ লিপিবদ্ধকরণ এবং তাঁদের কীর্তিসমূহকে অমর করে রাখার মধ্যে এমন এক 'সত্যের সুখ্যাতি' নিহিত রয়েছে যা স্থায়িত্ব ও অমরত্বের বিকল্প হয়ে রয়। মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: {আর পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আমার জন্য সত্যের সুখ্যাতি বজায় রাখুন}।
অতঃপর জনৈক পূর্বসূরি বলেছেন:
তোমরা আমাদের সুখ্যাতি বর্ণনা করো—তোমাদের পিতার কল্যাণ হোক
… আমাদের সুকর্মের কারণে, নিশ্চয় সুখ্যাতিই হলো অমরত্ব।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وإن كان قد جرى فيما جلبْناه حكايات يسيرة، فيما نُسِب إلى بعضِهم من مذهب نُيِزَ به، أو خُلُقٍ عيب عليه.
قال محمد: فألَّفتُ هذا الكتاب على الوجه الذي أمرني به أمير المؤمنين أعزه الله، وأقمته على الشكل الذي حده، وأمدني -أبقاه الله- في ذلك بعنايته وعلمه، وأوسعني من روايته وحفظه، إذ هو البحر الذي لا تُعبَر أواذيه، ولا تُدرَك سواحله، ولا يُنزَح غَمْره، ولا تنضِب مادَّته.
ونسأل الله بألطف الوسائل الزاكية لديه أن يُوزِعنا -معشر أهل العلم والنظر خاصة، وجماعة المسلمين عامة- شكر ما أنعم به علينا، وأعظم فيه المنَّة لدينا، من بركة أيامه، وسعد خلافته، ويمن دولته التي هي نظام الدنيا والدين، وعصمة الإسلام والمسلمين، وحياة العلم وشرف أهله، وزينة الأدب ونفاق سوقه، وأن يطيل فيها عمره، ويزيد نصره؛ ويظهر فَلْجَه، ويزيده من أفضل عوائده عنده؛ إنه سميع قريب.
وصلى الله على محمد خاتم النبيين خاصة، وعلى جماعة النبيين والمرسلين عامة.
* * *
قال محمد: نبدأ بذكر النحويين على طبقاتهم، واللغويين بعدهم، ونُقدِّم البصريين من كلتا الطبقتين؛ لتقدمهم في علم العربية، وسبقهم إلى التاليف فيها.
যদিও আমি যা সংকলন করেছি তাতে সামান্য কিছু কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, যেখানে কারো প্রতি কোনো বিশেষ মতবাদ বা কোনো চরিত্রের ত্রুটি আরোপ করা হয়েছে।
মুহাম্মদ বলেন: আমীরুল মু'মিনীন—আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন—আমাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সেই রূপেই এই কিতাবটি রচনা করেছি এবং তিনি যে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আমি একে সেই আকারেই প্রতিষ্ঠিত করেছি। আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করুন, তিনি এই কাজে আমাকে তাঁর যত্ন ও জ্ঞান দিয়ে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর বর্ণনা ও হিফজ (স্মৃতি) থেকে আমাকে অবারিত দান করেছেন; কেননা তিনি এমন এক সমুদ্র যার উত্তাল তরঙ্গ পাড়ি দেওয়া যায় না, যার উপকূল খুঁজে পাওয়া যায় না, যার অতল গভীরতা নিঃশেষ করা যায় না এবং যার উৎস কখনো শুকিয়ে যায় না।
আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর নিকটবর্তী পবিত্রতম মাধ্যমসমূহের অসীলায় প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের—বিশেষ করে জ্ঞানী ও চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণভাবে সকল মুসলিমকে—সেই নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ের তাওফীক দান করেন যা তিনি আমাদের ওপর বর্ষণ করেছেন এবং যার মাধ্যমে আমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহকে মহিমান্বিত করেছেন। আর তা হলো তাঁর শাসনকালের বরকত, তাঁর খিলাফতের সৌভাগ্য এবং তাঁর রাষ্ট্রের কল্যাণ, যা দুনিয়া ও দ্বীনের শৃঙ্খলা, ইসলাম ও মুসলিমদের রক্ষা কবচ, জ্ঞানের প্রাণ ও জ্ঞানীদের সম্মান, এবং সাহিত্যের সৌন্দর্য ও তার প্রসারের মাধ্যম। আল্লাহ যেন এতে তাঁর আয়ু দীর্ঘ করেন, তাঁর সাহায্য ও বিজয় বৃদ্ধি করেন, তাঁর জয়কে সুস্পষ্ট করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রেষ্ঠ প্রতিদানসমূহ দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটে।
আল্লাহ বিশেষভাবে শেষ নবী মুহাম্মদের ওপর এবং সাধারণভাবে সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
* * *
মুহাম্মদ বলেন: আমরা নাহুবিদদের (ব্যাকরণবিদ) আলোচনা দিয়ে তাদের স্তরবিন্যাস অনুযায়ী শুরু করব, এরপর ভাষাবিদদের আলোচনা করব। উভয় শ্রেণির ক্ষেত্রেই আমরা বসরার অধিবাসীদের অগ্রাধিকার দেব; কারণ আরবী ভাষায় তাদের পাণ্ডিত্য এবং এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় তাদের অগ্রগামিতার কারণে।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ١٩)
النحويون البصريون
বসরার ব্যাকরণবিদগণ
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الطبقة الأولىمن النحويين البصريين
1 - أَبُو الأَسودِ الدُّؤَلِيُّهو أبو الأسود ظالم بن عمرو بن سفيان بن جندل بن يَعمر بن حُلَيْس بن نُفاثة بن عدي بن الدِّيل بن بكر بن عبد مناة بن كنانة. وكان علَوِيَّ الرأي، وكان رجل أهل البصرة.
وهو أول من اسس العربية، ونهج سُبُلَها، ووضع قياسها؛ وذلك حين اضطرب كلام العرب، وصار سَراة الناس ووجوههم يلحنون، فوضع باب الفاعل، والمفعول به، والمضاف، وحروف النصب والرفع والجر والجزم.
قال أبو علي إسماعيل بن القاسم بن عَيْذون بن هارون القالي، ثم البغدادي: حدثنا أبو إسحاق إبراهيم بن السَّري الزَّجَّاج النحوي قال: حدثنا أبو العباس محمد بن يزيد بن عبد الأكبر الأزدي قال: أوَّلُ مَن وضع العربية ونقط المصاحف أبو الأسود ظالم بن عمرو.
وقال أبو العباس محمد بن يزيد: سئل أبو الأسود الدؤلي عمن فتح له الطريق إلى الوضع في النحو وأرشده إليه، فقال: تلقيتُه من عليِّ بن أبي طالبٍ رحمه الله. وفي حديث آخر قال: ألقى إليَّ عليٌّ أصولًا احتذيتُ عليها.
ورُوي أن الذي أوجب عليه الوضعَ في النحو ابنته قعدت معه في يوم قائظٍ شديد الحرِّ، فأرادت التعجب من شدة الحر فقالت: (ما أشدُّ الحرِّ)! فقال أبوها: القيظ، وهو ما نحن فيه يا بنية. جوابًا عن كلامها لأنه استفهام. فتحيَّرت وظهر لها خطؤها، فعلم أبو الأسود أنها أرادت التعجب، فقال لها: قولي يا بنية: ما أشدَّ الحرَّ! فعمل باب التعجب، وباب الفاعل، والمفعول به
প্রথম স্তরবসরার ব্যাকরণবিদদের মধ্য থেকে
১ - আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালিতিনি হলেন আবু আল-আসওয়াদ জালিম ইবনে আমর ইবনে সুফিয়ান ইবনে জানদাল ইবনে ইয়ামুর ইবনে হুলিস ইবনে নুফাসাহ ইবনে আদি ইবনে আদ-দিল ইবনে বাকর ইবনে আবদ মানাত ইবনে কিনানাহ। তিনি আলীয় মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন এবং বসরার অধিবাসীদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন।
তিনিই সর্বপ্রথম আরবী ব্যাকরণের ভিত্তি স্থাপন করেন, এর পথ উন্মোচন করেন এবং এর নিয়মতান্ত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেন; আর তা ছিল সেই সময়ে যখন আরবদের বাকরীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল এবং সমাজের গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ব্যাকরণগত ভুল করতে শুরু করেছিলেন। ফলে তিনি কর্তা, কর্ম, সম্বন্ধপদ এবং নসব, রাফ, জার ও জযম প্রদানকারী বর্ণসমূহের অধ্যায়গুলো প্রণয়ন করেন।
আবু আলী ইসমাঈল ইবনে আল-কাসিম ইবনে আইজুন ইবনে হারুন আল-কালী, অতঃপর আল-বাগদাদী বলেছেন: আবু ইসহাক ইব্রাহীম ইবনে আস-সাররি আজ-জাজ্জাজ আল-নাহবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আবদিল আকবর আল-আজদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে: সর্বপ্রথম আরবী ব্যাকরণ শাস্ত্রের সূচনা এবং মুসহাফসমূহে নুকতাহ বা চিহ্ন প্রদান করেছেন আবু আল-আসওয়াদ জালিম ইবনে আমর।
আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেন: আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, কে তাঁর জন্য ব্যাকরণ শাস্ত্র রচনার পথ উন্মোচন করেছেন এবং তাঁকে এর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। উত্তরে তিনি বলেন: আমি এটি আলী ইবনে আবি তালিব (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে গ্রহণ করেছি। অন্য একটি বর্ণনায় তিনি বলেছেন: আলী আমার নিকট এমন কিছু মূলনীতি পেশ করেছিলেন যা আমি অনুসরণ করেছি।
বর্ণিত আছে যে, যে বিষয়টি তাঁকে ব্যাকরণ শাস্ত্র রচনায় বাধ্য করেছিল তা হলো—এক প্রচণ্ড উত্তপ্ত গ্রীষ্মের দিনে তাঁর কন্যা তাঁর কাছে বসে ছিল। সে গরমের তীব্রতায় বিস্ময় প্রকাশ করতে চেয়ে বলে ফেলল: (মা আশাদু আল-হাররি)! (অর্থাৎ গ্রীষ্ম কি খুব উত্তপ্ত? - এটি ব্যাকরণগতভাবে একটি প্রশ্ন হয়ে গিয়েছিল)। তখন তার পিতা উত্তর দিলেন: 'আল-কাইজ' (প্রখর গ্রীষ্ম), আর আমরা বর্তমানে সেই অবস্থাতেই আছি হে কন্যা। তিনি তার কথার উত্তর দিয়েছিলেন কারণ বাক্যটি প্রশ্নবোধক ছিল। এতে মেয়েটি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল এবং তার ভুলটি স্পষ্ট হলো। আবু আল-আসওয়াদ বুঝতে পারলেন যে সে বিস্ময় প্রকাশ করতে চেয়েছিল। তখন তিনি তাকে বললেন: হে কন্যা, তুমি বলো: 'মা আশাদদাল হাররা!' (গ্রীষ্ম কতই না উত্তপ্ত!)। এরপর তিনি বিস্ময়সূচক অধ্যায়, কর্তা এবং কর্মের অধ্যায়গুলো প্রণয়ন করেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وغيرها من الأبواب.
وذكر ابن أبي سعد، عن عمر بن شبَّة، عن أبي بكر بن عيَّاش، عن عاصم بن أبي النَّجود قال: أولُ مَن وضع العربية أبو الأسود الدؤلي، جاء إلى زياد بالبصرة، فقال: إني أرى العرب قد خالطت هذه الأعاجم، وتغيرت ألسنتهم، أفتأذن لي أن أضع للعرب كلامًا يقيمون به كلامهم؟ قال: لا. فجاء رجل إلى زياد، فقال: أصلح الله الأمير، توفي أبانا وترك بنون. فقال زياد: تُوفي أبانا وترك بنون!! ادع لي أبا الأسود. فقال: ضع للناس الذي كنتُ نهيتُك أن تضع لهم.
وقال أبو الأسود: إني أجد للحن غَمَرًا كغَمَر اللحم.
ابن أبي سعد قال: حدثنا علي بن محمد الهاشمي قال: سمعت أبي يذكر، قال: كان بدء ما وضع أبو الأسود الدؤلي النحو أنه مر به سعد -وكان رجلًا فارسيًّا قدم البصرة مع أهله، وهو يقود فرسه- فقال: مالك يا سعد؟ ألا تركب؟ فقال: (فرسي ضالع)، فضحك من حضره. قال أبو الأسود: هؤلاء الموالي قد رغبوا في الإسلام ودخلوا فيه، وصاروا لنا إخوة، فلو علمناهم الكلام! فوضع باب الفاعل والمفعول، لم يزد عليه. قال أبي: فزاد في ذلك الكتاب رجل من بني ليث أبوابًا، ثم نظر فإذا في كلام العرب ما لا يدخل فيه فأقصر عنه، فلما كان عيسى بن عمر قال: أرى أن اضع الكتاب على الأكثر، وأسمِّي الأخرى لغات. فهو أول من بلغ غايته في كتاب النحو.
এবং অন্যান্য পরিচ্ছেদসমূহ।
ইবনে আবি সাদ, উমর বিন শাব্বাহ থেকে, তিনি আবু বকর বিন আইয়াশ থেকে, তিনি আসিম বিন আবি নাজুূদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী সর্বপ্রথম আরবি ভাষা (ব্যাকরণ) প্রবর্তন করেন। তিনি বসরার জিয়াদের নিকট এসে বললেন: "আমি দেখছি যে আরবরা এই অনারবদের সাথে মেলামেশা করছে এবং তাদের ভাষার পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। আপনি কি আমাকে অনুমতি দেবেন যাতে আমি আরবদের জন্য এমন কিছু শাস্ত্র তৈরি করি যার দ্বারা তারা তাদের ভাষাকে সঠিক করতে পারে?" তিনি বললেন: "না।" এরপর একজন ব্যক্তি জিয়াদের কাছে এসে বলল: "আল্লাহ আমীরকে সংশোধন করুন, আমাদের পিতা মারা গেছেন এবং সন্তানাদি রেখে গেছেন (ব্যাকরণগত ভুলসহ)।" তখন জিয়াদ বললেন: "আমাদের পিতা মারা গেছেন এবং সন্তানাদি রেখে গেছেন!! আবু আল-আসওয়াদকে আমার কাছে ডাকো।" এরপর তিনি বললেন: "লোকদের জন্য তা-ই রচনা করে দাও যা আমি তোমাকে ইতিপূর্বে নিষেধ করেছিলাম।"
আবু আল-আসওয়াদ বলেন: "আমি ব্যাকরণগত ভুলের মধ্যে এমন পঙ্কিলতা খুঁজে পাই যেমনটি মাংসের চর্বির পঙ্কিলতা।"
ইবনে আবি সাদ বলেন: আলী বিন মুহাম্মদ আল-হাশিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালীর নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র রচনার সূচনা হয়েছিল এভাবে যে—সাদ নামে এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন পারস্য দেশীয় লোক, যিনি তাঁর পরিবারের সাথে বসরায় এসেছিলেন এবং তিনি তাঁর ঘোড়াটি টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: "হে সাদ, তোমার কী হয়েছে? তুমি আরোহণ করছ না কেন?" তখন সে উত্তর দিল: "আমার ঘোড়াটি খুঁড়িয়ে চলছে", এতে উপস্থিত সবাই হেসে উঠল। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: "এই অনারবরা ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়েছে এবং এতে প্রবেশ করেছে, তারা আমাদের ভাই হয়ে গিয়েছে। সুতরাং আমরা যদি তাদের ভাষা শেখাতাম!" এরপর তিনি ফায়েল (কর্তা) এবং মাফউল (কর্ম)-এর পরিচ্ছেদ তৈরি করলেন, এর বেশি কিছু তিনি বৃদ্ধি করেননি। আমার পিতা বলেন: অতঃপর বনু লাইস গোত্রের একজন ব্যক্তি সেই কিতাবে আরও কিছু পরিচ্ছেদ বৃদ্ধি করেছিলেন। এরপর তিনি লক্ষ্য করলেন যে, আরবদের কথার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা এর অন্তর্ভুক্ত হয় না, তাই তিনি তা থেকে বিরত থাকলেন। অতঃপর ঈসা বিন উমর যখন আসলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি কিতাবটিকে অধিকাংশ ব্যবহারের (নিয়মের) ভিত্তিতে রচনা করা এবং অন্যগুলোকে ভিন্ন উপভাষা হিসেবে অভিহিত করা সমীচীন মনে করছি।" সুতরাং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নাহু শাস্ত্রের কিতাবকে তার চূড়ান্ত পূর্ণতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ويقال: وضع عيسى بن عمر في النحو كتابين: سمى أحدهما "الجامع"، والآخر "المكمل"، فقال الخليل بن أحمد:
بطل النحو جميعا كلُّه
… غيرَ ما أحدث عيسى بن عمرْ
ذاك "إكمال" وهذا "جامع"
… فهما للناس شمس وقمرْ
ورُوي أن أبا الأسود كتب إلى علي بن أبي طالب رحمه الله: أما بعد؛ فإن الله جعلك مُؤتَمَنًا وراعيًا مسؤولًا، وقد بلوتُك -رحمك الله- فوجدتُك عظيمَ الأمانة، ناصحًا للرعية، توفِّر فيئَهم، وتُنزِّه نفسك عن دنياهم، فلا تأكل أموالهم، ولا ترتشي في أحكامهم. وإن ابن عمك ابن عباس قد أكل ما تحت يديه بغير علمك، فلم يسعني كتمانك ذلك، فانظر -رحمك الله- فيما هناك، وتقدَّم إليَّ فيما أحببتَ أتبعْه إن شاء الله.
فكتب إليه عليٌّ رحمه الله: أما بعد؛ فإنك ناصح للإمام والأمة، وأنت ممن وَالَى أهل الحق، وبارز أهل الباطل والجوْر. وقد كتبتُ إلى صاحبك فيما كتبتَ فيه إليَّ من أمره، ولم أعلِمْه كتابَك إليَّ، فلا تَدَعْ إعلامي بما يكون بحضرتك مما النظر فيه للأمة صلاح، فإنك بذلك جدير، وهو حق واجب عليك إن شاء الله.
وقعد إلى أبي الأسود غلام، فقال له أبو الأسود: ما فعل أبوك؟ فقال: أخذته الحمَّى، ففضختْه فضخًا، وطبخته طبخًا، وفنخته فنخًا، فتركته فرخًا. قال: فما فعلت امرأته التي كانت تُشارُّه، وتُجارُّه، وتُهارُّه، وتُضارُّه، وتُزارُّه؟
বলা হয়ে থাকে যে, ঈসা ইবনে উমর ব্যাকরণশাস্ত্রে দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন: একটির নাম দিয়েছেন "আল-জামি", এবং অন্যটির নাম "আল-মুকাম্মিল"। তখন খলীল ইবনে আহমাদ বললেন:
সমস্ত ব্যাকরণই সামগ্রিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে
… শুধু তা ব্যতীত যা ঈসা ইবনে উমর উদ্ভাবন করেছেন
ওটি "ইকমাল" আর এটি "জামি"
… মানুষের জন্য এই দুটি যেন সূর্য ও চন্দ্র
বর্ণিত আছে যে, আবুল আসওয়াদ আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট লিখেছিলেন: অতপর; নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে আমানতদার ও দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। আমি আপনাকে পরীক্ষা করেছি—আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন—এবং আপনাকে সুমহান আমানতদার ও প্রজাদের হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পেয়েছি। আপনি তাদের প্রাপ্য সম্পদ যথাযথভাবে প্রদান করেন এবং তাদের পার্থিব বিষয়াদি থেকে নিজেকে পবিত্র রাখেন। ফলে আপনি তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করেন না এবং তাদের বিচারকার্যে ঘুষ গ্রহণ করেন না। অথচ আপনার চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস আপনার অজ্ঞাতসারে তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পদ ভোগ করেছেন। বিষয়টি আপনার কাছে গোপন রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হলো না। সুতরাং—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—সেখানে কী ঘটছে তা খতিয়ে দেখুন এবং আপনার পছন্দ অনুযায়ী আমাকে নির্দেশ দিন, ইনশাআল্লাহ আমি তা অনুসরণ করব।
আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর জবাবে লিখলেন: অতপর; আপনি ইমাম ও উম্মতের জন্য একজন কল্যাণকামী ব্যক্তি। আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা সত্যপন্থীদের সাথে বন্ধুত্ব রাখে এবং বাতিল ও অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। আপনি যে বিষয়ে আমাকে লিখেছিলেন, সে প্রসঙ্গে আমি আপনার সঙ্গীর নিকট লিখেছি; তবে তাঁকে আপনার পত্রের কথা জানাইনি। সুতরাং আপনার সম্মুখে উম্মতের কল্যাণের স্বার্থে যা কিছু ঘটবে, সে বিষয়ে আমাকে অবহিত করতে দ্বিধা করবেন না। কারণ আপনি এর যোগ্য এবং এটি আপনার ওপর একটি আবশ্যক কর্তব্য, ইনশাআল্লাহ।
আবুল আসওয়াদের কাছে একটি কিশোর এসে বসল। আবুল আসওয়াদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমার পিতার কী খবর? সে বলল: তাঁকে প্রবল জ্বর আক্রমণ করেছে; জ্বর তাঁকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে, তাঁকে দহন করেছে, তাঁকে অত্যন্ত দুর্বল করেছে এবং পরিশেষে তাঁকে পাখির ছানার মতো অসহায় করে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাঁর সেই স্ত্রীর কী খবর, যে তাঁর সাথে ঝগড়া করত, বিবাদ করত, চিৎকার-চেঁচামেচি করত, কষ্ট দিত এবং অবাধ্যতা করত?
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قال: طلَّقها، فتزوجت غيره، فرضِيَت وحَظِيَت وبَظِيَتْ. قال أبو الأسود: وما "بَظِيَتْ" يا بني؟ قال الغلام: حرف من اللغة لم يبلغك. قال: يا بني، ما لم يبلغ عمَّك؛ فاستره كما تستر الهرة خُرأها.
حدثنا أحمد، حدثنا ابن خالد، حدثنا مروان، حدثنا أبو حاتم، حدثنا الأصمعي، حدثنا عيسى بن عمر قال: قال رجل لأبي الأسود الدؤلي ومعه بعير يبيعه: هلمَّ أقاربْك. فقال: إن لم تقاربْني باعدتك. فقال: أعطِيتُ به كذا وكذا، وهو لك بكذا وكذا. فقال: ما تزال تحدِّث عن خيرٍ قد فات!
قال الأصمعي: قال أبو الأسود: ليس للسائل الملحف خيرٌ من المنع الجامس.
قال أبو حاتم: يريد الجامد. يقال: أصبح الماء جامسًا، وكذلك السمن.
وروى حماد بن سلمة، عن داود بن أبي هند، عن أبي حرب بن أبي الأسود، أن ابن عباس استخلف أبا الأسود على البصرة، والرواة والنُّسَّاب وأصحاب السِّيَر والتاريخ على هذا.
وقيل: إنه خرج مع أصحابه إلى الصيد، فلما جلسوا للطعام، جاء أعرابي فقال: السلام عليكم. فقال أبو الاسود: كلمة مقولة! قال الأعرابي: أدخلُ؟ فقال أبو الأسود: وراءَك أوسعُ لك! فقال الأعرابي: إن الرَّمضاء قد أحرقت
তিনি বললেন: সে তাকে তালাক দিয়েছে, অতঃপর সে অন্য একজনকে বিয়ে করেছে। সে সন্তুষ্ট হয়েছে, মর্যাদা পেয়েছে এবং সুখী হয়েছে। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: হে পুত্র, ‘বাজিয়াত’ শব্দটির অর্থ কী? বালকটি বলল: এটি ভাষার এমন একটি শব্দ যা আপনার কাছে পৌঁছেনি। তিনি বললেন: হে পুত্র, যা তোমার চাচার নিকট পৌঁছেনি, তা সেভাবেই গোপন করো যেভাবে বিড়াল তার বিষ্ঠা গোপন করে।
আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবন উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালিকে বলল—এমতাবস্থায় যে তার সাথে বিক্রয়যোগ্য একটি উট ছিল—: এসো, আমি তোমার সাথে দরাদরি করি। তিনি বললেন: তুমি যদি আমার প্রস্তাবের নিকটবর্তী না হও, তবে আমি তোমার থেকে দূরে সরে যাব। লোকটি বলল: আমাকে এর জন্য ইতিপূর্বে অমুক অমুক দাম দেওয়া হয়েছে, আর আপনার জন্য এর দাম হলো অমুক অমুক। তিনি বললেন: তুমি এখনও এমন এক কল্যাণ নিয়ে কথা বলছ যা গত হয়ে গেছে!
আসমাঈ বলেন: আবু আল-আসওয়াদ বলেছেন: নাছোড়বান্দা যাঞ্চাকারীর জন্য কঠোর প্রত্যাখ্যানের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।
আবু হাতিম বলেন: তিনি ‘জামিদ’ (কঠিন) বুঝিয়েছেন। বলা হয়ে থাকে: পানি ‘জামিস’ হয়েছে (জমে গেছে), ঘি-এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ বলা হয়।
হাম্মাদ ইবন সালামাহ, দাউদ ইবন আবি হিন্দ থেকে এবং তিনি আবু হারব ইবন আবি আল-আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবন আব্বাস আবু আল-আসওয়াদকে বসরার শাসনকর্তার স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। বর্ণনাকারীগণ, বংশবিদগণ এবং সীরাত ও ইতিহাসবিদগণ এই মতের ওপরই একমত।
বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে শিকারে বের হয়েছিলেন। যখন তাঁরা আহারের জন্য বসলেন, এক গ্রাম্য লোক এসে বলল: আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: এটি তো একটি প্রচলিত বাক্য মাত্র! গ্রাম্য লোকটি বলল: আমি কি প্রবেশ করব? আবু আল-আসওয়াদ বললেন: তোমার পেছনের স্থানটি তোমার জন্য অধিক প্রশস্ত! গ্রাম্য লোকটি বলল: উত্তপ্ত মরুভূমি তো পুড়িয়ে দিচ্ছে...
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
رجليَّ. فقال أبو الأسود: بُلْ عليهما. فقال: هل عندك شيء تطعمنيه؟ فقال أبو الأسود: نأكل ونُطعم العيال، فإن فضل شيء فأنت أحقُّ به من الكلب! قال: ما رأيتُ ألأمَ منك. قال أبو الأسود: بلى! ولكنَّك نسيتَ.
وبلغني أن أبا الأسود انتبه ليلة ودابَّته تقضم شعيرها. فقال: لا أراكِ تسْرين وأنا نائم. فلما أصبح باعها.
حدثنا أحمد بن سعيد قال: حدثنا الطحاوي قال: حدثنا يونس قال: حدثنا أحمد بن الغمر الدمشقي قال: دخل أبو الأسود الدؤلي على الجارود في أخلاق له، فقال له: ما هذا؟ قال: أصلح الله الأمير! رُبَّ مملولٍ لا يُستطاع فراقه! ففطن له الجارود، فبعث إليه بثياب ونفقة، فأنشأ أبو الأسود يقول:
كَسَاك ولم نَسْتكسِه فحمِدتَه
… أَخ لك يُعطيك الجزيل وناصرُ
وإنَّ أحقَّ الناس -إن كنتَ حامدًا-
… بحمدك مَن أعطاك والعِرض وافرُ
حدثنا أحمد بن سعيد قال: حدثنا أحمد بن خالد قال: حدثنا مروان الفخار قال: حدثنا أبو حاتم قال: حدثنا الأصمعي قال: سمعت عيسى بن عمر ينشد قول أبي الاسود:
ذكرتُ ابنَ عبَّاسٍ بباب ابنِ عامرٍ
… وما مرَّ من عيشي ذكرت وما فَضَلْ
...আমার দুই পা। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: ওগুলোর ওপর প্রস্রাব করো। সে বলল: আপনার কাছে কি এমন কিছু আছে যা আপনি আমাকে খাওয়াবেন? আবু আল-আসওয়াদ বললেন: আমরা নিজেরা খাই এবং পরিবারের সদস্যদের খাওয়াই, এরপর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তুমি কুকুরের চেয়ে সেটির অধিক হকদার! সে বলল: আমি আপনার চেয়ে অধিক কৃপণ আর কাউকে দেখিনি। তিনি বললেন: অবশ্যই দেখেছ! কিন্তু তুমি ভুলে গেছ।
আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, এক রাতে আবু আল-আসওয়াদ জেগে উঠলেন এবং শুনতে পেলেন তাঁর সওয়ারি পশুটি যব চিবোচ্ছে। তিনি বললেন: আমি দেখছি না যে আমি যখন ঘুমাচ্ছি তখন তুমি সফর করছ। সকাল হলে তিনি সেটি বিক্রি করে দিলেন।
আহমাদ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আত-তহাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আল-গামর আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি আল-জারুদের নিকট জীর্ণ পোশাকে প্রবেশ করলেন। আল-জারুদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: এ কী অবস্থা? তিনি বললেন: আল্লাহ আমীরের কল্যাণ করুন! এমন অনেক বিরক্তিকর বস্তু আছে যা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব হয় না! আল-জারুদ তাঁর ইঙ্গিত বুঝতে পারলেন এবং তাঁর নিকট পোশাক ও পাথেয় পাঠালেন। তখন আবু আল-আসওয়াদ বলতে শুরু করলেন:
তিনি আপনাকে পোশাক পরিয়েছেন অথচ আমরা তাঁর কাছে পোশাক প্রার্থনা করিনি, তবুও আপনি তাঁর প্রশংসা করেছেন
… আপনার এমন এক ভাই যে আপনাকে প্রচুর দান করে এবং সে আপনার সাহায্যকারী।
আর মানুষের মধ্যে প্রশংসার সবচেয়ে বেশি হকদার সেই ব্যক্তি—যদি আপনি প্রশংসাকারী হন—যে আপনার মান-সম্মান অটুট থাকা অবস্থায় আপনাকে দান করেছে।
আহমাদ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান আল-ফাখখার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ঈসা বিন উমরকে আবু আল-আসোয়াদের এই পঙ্ক্তি আবৃত্তি করতে শুনেছি:
আমি ইবনে আমিরের দরজায় ইবনে আব্বাসের কথা স্মরণ করলাম
… আর আমার জীবনের যা অতিবাহিত হয়েছে এবং যা অবশিষ্ট আছে তা-ও স্মরণ করলাম।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أميريْن كانا آخيًا لي كلاهما
… فكلًّا جزاه الله عنِّي بما فَعَلْ
فإن كان خيرًا كان خيرًا جزاؤه
… وإن كان شرًّا كان شرًّا بما عَمِلْ
وتُوفِّي أبو الأسود سنة تسع وستين في طاعون الجارف، وهو ابن خمس وثمانين سنة.
2 - عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هُرْمُزٍابن أبي سعد قال: حدثنا أحمد بن سعد بن إبراهيم الزهري قال: حدثنا يحيى بن أبي بكير قال: حدثنا عبد الله بن لهيعة، عن أبي النضر قال: كان عبد الرحمن بن هرمز من أول من وضع العربية، وكان من أعلم الناس بالنحو وأنساب قريش.
قال محمد: وابنُ هُرْمز مدنيٌّ، فذكرناه هاهنا لتقدمه. ويُروى أن مالكًا اختلف إلى ابن هرمز عدة سنين في علم ما لم يبثّه في الناس، يَرَوْن أن ذلك من علم أصول الدين، وما يردُّ به مقالة أهل الزيغ والضلالة.
আমার দুই নেতা ছিলেন যারা উভয়েই আমার ভাই স্বরূপ ছিলেন
... আল্লাহ তাদের উভয়কে তাদের কাজের জন্য আমার পক্ষ থেকে প্রতিদান দিন।
যদি তা ভালো হয় তবে তার প্রতিদানও ভালো হবে
... আর যদি তা মন্দ হয় তবে তার আমল অনুযায়ী তা মন্দই হবে।
আবু আল-আসওয়াদ ঊনসত্তর হিজরি সালে জারেফ (সর্বগ্রাসী) মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচাশি বছর।
২ - আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজইবনে আবি সাদ বলেন: আমাদের কাছে আহমদ ইবনে সাদ ইবনে ইব্রাহিম আল-জুহরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে লাহিআ বর্ণনা করেছেন আবু আল-নাদর থেকে, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম যারা সর্বপ্রথম আরবি ভাষার ব্যাকরণ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি নাহু (ব্যাকরণ) এবং কুরাইশদের বংশপরিচয় বিদ্যায় মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন।
মুহাম্মদ বলেন: ইবনে হুরমুজ ছিলেন মদিনার অধিবাসী, তাঁর অগ্রগণ্যতার কারণে আমরা এখানে তাঁর উল্লেখ করেছি। বর্ণিত আছে যে, ইমাম মালিক কয়েক বছর পর্যন্ত ইবনে হুরমুজের কাছে এমন জ্ঞান অর্জনের জন্য যাতায়াত করতেন যা তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করতেন না। অনেকে মনে করেন যে, তা ছিল উসুলুদ দ্বীন (ধর্মতত্ত্বের মূলনীতি) সংক্রান্ত জ্ঞান, যার মাধ্যমে তিনি ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের মতবাদ খণ্ডন করতেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الطبقة الثانية
3 - نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ اللَّيْثِيُّابن أبي سعد: حدثنا خَلَف بن هشام البزَّاز قال: حدثنا محبوب البصري، عن خالد الحذاء قال: سألت نصر بن عاصم -وهو أول من وضع العربية-: كيف تقرأ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ}؟ فلم يُنوِّن. فأخبرتُه أن عروة ينوِّن، فقال: بئسما قال، وهو للبئس أهل. فأخبرتُ عبدَ الله بن أبي إسحاق بقول نصر بن عاصمٍ، فما زال يقرأ بها حتى مات.
وقال عمرو بن دينار: اجتمعتُ أنا والزهري ونصر بن عاصم، فتكلَّم نصرٌ، فقال الزهري: إنه لَيُفلِّق بالعربية تفليقًا.
وذكر ابن سلَّام أن نصر بن عاصم أخذ عن يحيى بن يَعْمَر.
4 - يَحْيَى بْنُ يَعْمَرَهو يحيى بن يَعمُر، رجل من عَدْوان، وكان عِداده في بني ليث، وقد تَدَّعي هُذَيل أن يحيى بن يعمر حليفهم -وكان مأمونًا عالمًا- يُروَى عنه الفقه.
দ্বিতীয় স্তর
৩ - নাসর ইবনে আসিম আল-লাইসীইবনে আবি সা'দ বলেন: খালাফ ইবনে হিশাম আল-বাযযার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহবুব আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হাদ্দা থেকে। তিনি বলেন: আমি নাসর ইবনে আসিমকে জিজ্ঞাসা করলাম—যিনি সর্বপ্রথম আরবী ব্যাকরণ শাস্ত্রের সূচনা করেছেন—আপনি কীভাবে পাঠ করেন: "বলুন, তিনিই আল্লাহ অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী"? তিনি (আহাদ শব্দে) তানভীন পড়তেন না। আমি তাকে জানালাম যে উরওয়াহ তানভীন দিয়ে পাঠ করেন। তিনি বললেন: সে কতই না মন্দ বলেছে, আর সে এই নিন্দারই যোগ্য। অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাককে নাসর ইবনে আসিমের কথাটি জানালাম; তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এভাবেই পাঠ করে গিয়েছেন।
আমর ইবনে দিনার বলেন: আমি, যুহরি এবং নাসর ইবনে আসিম একত্রিত হলাম। নাসর কথা বললেন। তখন যুহরি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি আরবী ভাষার অলংকারে বিস্ময়কর পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করছেন।
ইবনে সাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে, নাসর ইবনে আসিম ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামারের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
৪ - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামারতিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার, আদওয়ান গোত্রের একজন ব্যক্তি। বনু লাইস গোত্রের মাঝে তার গণনা করা হতো। হুযাইল গোত্র দাবি করে যে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার তাদের মিত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য আলেম, যার নিকট থেকে ফিকহ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ورَوَى عن ابن عمر، وابن عباس -رحمهما الله-، وغيرِهما. ورَوَى عنه قتادةُ، وإسحاق بن سويد العَدَوي، وغيرُهما من العلماء.
وأخذ النحو يحيى بن يعمر عن أبي الأسود.
وذكر يونس بن حبيب قال: قال الحجاج لابن يعمر: أَتَسْمَعُنِي ألحنُ على المنبر؟ قال: الأمير أفصح من ذلك. فألحَّ عليه، فقال: حرفًا. قال: أيًّا؟ قال: في القرآن. قال الحجاج: ذلك أشنع له، فما هو؟! قال: تقول: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ} إلى قوله عز وجل: {أَحَبَّ}، فتقرؤها: "أَحَبُّ" بالرفع، والوجه أن تُقرأ بالنصب على خبر كان. قال: لا جرم! لا تسمع لي لحنًا أبدًا. فألحقه بخراسان وعليها يزيد بن المهلب. قال: فكتب يزيد إلى الحجاج: "إنَّا لقينا العدوَّ، فمنحَنا اللهُ أكتافهم، فأسرْنا طائفةً، وقتلْنا طائفةً، واضطررناهم إلى عُرْعُرة الجبل، ونحن بحَضِيضه وأثناء الأنهار". فلما قرأ الحجاج الكتابَ قال: ما لابنِ المهلَّب ولهذا الكلام! حسدًا له. قيل له: إنَّ ابنَ يعمرَ هناك. قال: فذاك إذًا.
وقال يحيى بن يعمر لرجل خاصمته امرأته: أأنْ سألتْك ثمنَ شَكْرِها وشَبْرِك، أنشأتَ تَطُلُّها وتَضْهَلُها!
حدثنا أحمد، حدثنا أحمد قال: قال مروان بن عبد الملك الفخار:
তিনি ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর থেকে কাতাদাহ, ইসহাক ইবনে সুওয়াইদ আল-আদাবী এবং অন্যান্য আলেমরা বর্ণনা করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর আবুল আসওয়াদ থেকে নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেছেন।
ইউনুস ইবনে হাবিব বর্ণনা করেছেন যে, হাজ্জাজ ইবনে ইয়ামুরকে বললেন: “আপনি কি আমাকে মিম্বরে ভুল ভাষা প্রয়োগ করতে শোনেন?” তিনি বললেন: “আমির তার চেয়েও অধিক বাকপটু।” হাজ্জাজ পীড়াপীড়ি করলে তিনি বললেন: “একটি শব্দে।” তিনি বললেন: “কোনটি?” তিনি বললেন: “কুরআনের মধ্যে।” হাজ্জাজ বললেন: “তা তো আরও জঘন্য বিষয়! সেটি কী?” তিনি বললেন: “আপনি যখন মহান আল্লাহর বাণী— {বলুন, যদি তোমাদের পিতা ও তোমাদের সন্তানরা...} থেকে {অধিক প্রিয়} পর্যন্ত পাঠ করেন, তখন আপনি ‘অধিক প্রিয়’ শব্দটিকে পেশ (রাফ) দিয়ে পড়েন; অথচ ব্যাকরণগত দিক থেকে এটি ‘কানা’-এর খবর হওয়ার কারণে জবর (নাসাব) দিয়ে পড়া উচিত।” হাজ্জাজ বললেন: “নিশ্চয়ই! আপনি আর কখনো আমার কোনো ভুল শুনবেন না।” অতঃপর তিনি তাকে খোরাসানে পাঠিয়ে দিলেন, যার দায়িত্বে ছিলেন ইয়াজিদ ইবনে মুহাল্লাব। বর্ণনাকারী বলেন, ইয়াজিদ হাজ্জাজের কাছে চিঠি লিখলেন: “আমরা শত্রুর সম্মুখীন হলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাদের তাদের গর্দানগুলোর ওপর বিজয়ী করলেন, ফলে আমরা এক দলকে বন্দী করলাম, এক দলকে হত্যা করলাম এবং তাদের পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করলাম, আর আমরা পাহাড়ের পাদদেশে ও নদীর কিনারে অবস্থান নিলাম।” হাজ্জাজ যখন চিঠিটি পড়লেন, তখন তিনি ঈর্ষান্বিত হয়ে বললেন: “ইবনে মুহাল্লাবের এই বাকপটুতা কোথা থেকে এলো!” তাকে বলা হলো: “নিশ্চয়ই ইবনে ইয়ামুর সেখানে আছেন।” তিনি বললেন: “তাহলে তো এই কারণেই।”
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর জনৈক ব্যক্তিকে বললেন যার সাথে তার স্ত্রী বিবাদ করছিল: “সে কি তোমার কাছে তার সতীত্বের বিনিময় ও তোমার সংসর্গের মূল্য প্রার্থনা করেছে বলেই তুমি তার পাওনা আদায়ে টালবাহানা শুরু করলে এবং তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করলে!”
আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান ইবনে আব্দুল মালিক আল-ফাখখার বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
سمعت أبا حاتم يقول: يحيى بن يعمر العدواني حليف لبني ليث، وكان فصيحًا عالمًا بالغريب، وهو من التابعين، من القراء من أهل البصرة.
وحكى ابن دريد: أن يحيى بن يعمر اشترى جارية خُراسانية ضخمة، فدخل عليه أصحابه، فسألوه عنها، فقال: نعم المِطَخَّة.
حدثنا الأصمعي قال: حدثنا عيسى بن عمر قال: خاصم رجل رجلًا إلى ابن يعمر، فقال: أصلحك الله، إنه باعني غلامًا بَيَّاقًا. فقال يحيى: لو قلتَ: أَبُوقًا! قال أبو حاتم: كذا الصواب، رجلٌ أَبُوقٌ، وأَبَّاقٌ، وآبِقٌ. يقال: أَبَقَ يَأْبِقُ. والعامَّة تقول: يأبَق، وهو خطأ.
وروى خالد الحذاء قال: كان لابن سيرين مصحف منقوط، نقطه يحيى بن يعمر. وتوفي سنة تسع وعشرين ومئة.
5 - عَنْبَسَةُ الْفِيلُهو عنبسة بن مَعْدان مولى مَهْرَة، وهو المعروف بالفيل. أخذ عن أبي الأسود. وهجاه الفرزدق فقال:
আমি আবু হাতেমকে বলতে শুনেছি: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর আল-আদওয়ানি ছিলেন বনু লাইস গোত্রের মিত্র। তিনি বাগ্মী ছিলেন এবং বিরল শব্দতত্ত্ব (গারীব) বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তিনি ছিলেন তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত এবং বসরার ক্বারীগণের অন্যতম।
ইবনে দুরেদ বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর এক দীর্ঘদেহী খোরাসানি দাসী ক্রয় করেছিলেন। তাঁর নিকট তাঁর সঙ্গীরা প্রবেশ করলেন এবং তাঁরা সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: "কতই না চমৎকার স্থূলাঙ্গিনী!"
আসমায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইবনে ইয়ামুরের নিকট মামলা দায়ের করল। সে বলল: "আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন, সে আমার কাছে এক পলায়নপর (বাইয়াক) দাস বিক্রয় করেছে।" ইয়াহইয়া বললেন: "তুমি যদি 'আবূকান' বলতে!" আবু হাতেম বলেন: এটিই সঠিক; শব্দটি হবে 'আবূকুন', 'আব্বাকুন' বা 'আবিকুন'। বলা হয়ে থাকে 'আবাক্বা ইয়াবিকু'। সাধারণ মানুষ 'ইয়াবাকু' বলে থাকে, যা ভুল।
খালেদ আল-হাজ্জা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে সিরিনের নিকট একটি নুকতাযুক্ত মুসহাফ ছিল, যাতে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর নুকতা দিয়েছিলেন। তিনি একশত ঊনত্রিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
৫ - আমবাসাহ আল-ফীলতিনি হলেন আমবাসাহ ইবনে মাদদান, মাহরাহ গোত্রের আযাদকৃত দাস, যিনি 'আল-ফীল' (হাতি) নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি আবুল আসওয়াদ থেকে ইলম অর্জন করেছেন। কবি ফারাজদাক তাঁকে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
لقد كان في مَعْدَانَ والفيلِ شاغلٌ
… لِعَنْبَسَةَ الرَّاوي عَلَيَّ القصائدا
6 - مَيْمُونٌ الأَقرنُهو ميمون الأقرن. أخذ أيضًا عن أبي الأسود، ويقال: عن عنبسة الفيل.
মাদআন এবং ফীলের মাঝে অবশ্যই ব্যস্ত থাকার মতো বিষয় ছিল
… আনবাসার জন্য, যিনি আমার নিকট কাসিদাসমূহ বর্ণনা করেন।
৬ - মাইমুন আল-আকরানতিনি হলেন মাইমুন আল-আকরান। তিনি আবু আল-আসওয়াদ থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, এবং বলা হয়: আনবাসাহ আল-ফীল থেকেও।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الطبقة الثالثة
7 - ابن أبي عقربحدثنا أحمد بن سعيد قال: حدثنا أحمد بن خالد قال: حدثنا أبو عبد الملك مروان قال: حدثنا أبو حاتم قال: حدثنا الأصمعي قال: حدثني شعبة قال: كنت أختلف إلى ابن أبي عقرب، فأسأله عن الفقه، ويسأله أبو عمرو بن العلاء عن العربية، فنقوم وأنا لا أحفظ حرفًا مما سأله، ولا يحفظ حرفًا مما سألتُه.
8 - عبد الله بن أبي إسحاقهو عبد الله بن أبي إسحاق مولى آل الحضرمي، وهم حُلفاء بني عبد شمس بن عبد مناف. أخذ عن الأقرن. وهو أول من بَعج النحو، ومدَّ القياس، وشرح العلل، وكان مائلًا إلى القياس في النحو. وكان بلال بن أبي بُردة جمع بين ابن أبي إسحاق، وأبي عمرو بن العلاء بالبصرة -وهو يومئذٍ والٍ عليها- عمَّله خالد بن عبد الله القسري زمان أمير المؤمنين هشام بن عبد الملك رضي الله عنهما. قال أبو عمرو: فغلبني ابنُ أبي إسحاق بالهمز يومئذٍ، فنظرتُ فيه بعد ذلك وبالغتُ.
قال ابن سلام: سمعت أبي يسأل يونس عن ابن أبي إسحاق وعِلمِه، فقال: هو والبحر سواء. أي هو الغاية. قال: فأين علمُه من علم الناس اليومَ! قال:
তৃতীয় স্তর
৭ - ইবনে আবি আকরাবআহমাদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল মালিক মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসমায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি আকরাবের নিকট যাতায়াত করতাম, তখন আমি তাকে ফিকহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এবং আবু আমর ইবনুল আলা তাকে আরবি ভাষা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। অতঃপর আমরা যখন সেখান থেকে প্রস্থান করতাম, তখন তিনি তাকে যা জিজ্ঞাসা করতেন আমি তার একটি অক্ষরও স্মরণে রাখতে পারতাম না এবং আমি তাকে যা জিজ্ঞাসা করতাম তিনিও তার একটি অক্ষরও স্মরণে রাখতে পারতেন না।
৮ - আবদুল্লাহ বিন আবি ইসহাকতিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন আবি ইসহাক, আল-হাদরামি পরিবারের আযাদকৃত গোলাম; আর তারা ছিলেন বনু আবদু শামস বিন আবদু মানাফের মিত্র। তিনি আল-আকরান থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রকে বিশদভাবে উন্মোচিত করেছেন, কিয়াসকে (ভাষাতাত্ত্বিক অনুমান) প্রসারিত করেছেন এবং এর কারণসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নাহুর ক্ষেত্রে কিয়াসের প্রতি অধিক ঝোঁক রাখতেন। বিলাল বিন আবি বুরদাহ বসরায় ইবনে আবি ইসহাক এবং আবু আমর ইবনুল আলার মধ্যে সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছিলেন—তিনি তখন বসরার গভর্নর ছিলেন—আমিরুল মুমিনীন হিশাম বিন আব্দুল মালিক (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর আমলে খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাসরি তাকে গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। আবু আমর বলেন: সেদিন ইবনে আবি ইসহাক 'হামযাহ' এর ব্যাকরণগত ব্যবহারে আমাকে পরাজিত করেছিলেন, এরপর আমি বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং এতে চরম পারদর্শিতা অর্জন করি।
ইবনে সালাম বলেন: আমি আমার পিতাকে ইউনুসের নিকট ইবনে আবি ইসহাক এবং তাঁর ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। তিনি উত্তরে বললেন: তিনি এবং সমুদ্র সমান; অর্থাৎ তিনি হলেন জ্ঞানের শেষ সীমা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তাহলে আজকের দিনের মানুষের ইলমের তুলনায় তাঁর ইলম কোথায়! তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
لو لم يكن في الناس اليومَ أحد لا يعلم إلا علمه يومئذ لضُحك منه، ولو كان فيهم مَن له ذهنه ونفاذه، ونظر نظرَه؛ لكان أعلمَ الناس. قال ابن سلام: فقلت أنا ليونس: هل سمعت من ابن أبي إسحاق شيئًا؟ قال: نعم، قلتُ له: هل يقول أحدٌ "الصَّوِيق" يعني السويق؟ قال: نعم، عمرو بن تميم تقولها. وما تريد إلى هذا؟ عليك بباب من النحو يطّرد وينقاس.
قال: وكان ابن أبي إسحاق، وعيسى بن عمر يَطْعُنان على العرب. قال ابن أبي إسحاق للفرزدق في مديحه لأمير المؤمنين يزيد بن عبد الملك -رضوان الله عليهما-:
مستقبلينَ شمالَ الشام - تضرِبُنا
… بحاصب كنديفِ القُطْن مَنْثُورِ
على عمائمنا يُلْقى، وأَرْحُلِنَا
… على زواحف تُزْجَى مُخُّهَا رِيرِ
أسأتَ، إنما هو "مُخُّهاريرُ"، وكذلك قياس النَّحو في هذا الموضع. قال يونس: والذي قال جائز حسن. فلما ألحُّوا على الفرزدق قال:
* على زواحفَ تُزجيها محاسيرُ *
فترك الناس هذا، ورجعوا إلى الأول.
وفي ابن أبي إسحاق يقول الفرزدق يهجوه:
فلو كان عبدُ الله مولًى هجوتُهُ
… ولكنَّ عبدَ الله مولَى مواليَا
আজ যদি মানুষের মাঝে এমন কেউ থাকত যার জ্ঞান কেবল তৎকালীন জ্ঞানের সমান হতো, তবে তাকে নিয়ে উপহাস করা হতো। আর যদি তাদের মাঝে এমন কেউ থাকত যার মেধা ও তীক্ষ্ণতা তাঁর মতো হতো এবং তিনি যেভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন সেভাবে করত, তবে সে হতো মানুষের মাঝে সবচেয়ে বড় আলিম। ইবনে সালাম বলেন: আমি ইউনুসকে বললাম: আপনি কি ইবনে আবি ইসহাক থেকে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: কেউ কি ‘আস-সাউয়িক’ বোঝাতে ‘আস-সাওয়িক’ শব্দ ব্যবহার করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমর বিন তামীম গোত্র এটি বলে। কিন্তু তোমার এই বিষয়ের কী প্রয়োজন? তোমার উচিত নাহুর (ব্যাকরণ) সেই সব অধ্যায় অনুসরণ করা যা সুসংগত ও নিয়মসিদ্ধ।
তিনি বলেন: ইবনে আবি ইসহাক এবং ঈসা বিন উমর আরবদের ভাষার ওপর আপত্তি করতেন। ইবনে আবি ইসহাক ফারাযদাককে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, যখন তিনি আমিরুল মুমিনীন ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিকের—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—প্রশংসা করছিলেন:
সিরিয়ার উত্তর বায়ুর মুখোমুখি হয়ে, যা আমাদের আঘাত করছিল
… বিক্ষিপ্ত তুলার মতো কঙ্করাবৃষ্টির মাধ্যমে।
যা আমাদের পাগড়ি ও হাওদার ওপর নিক্ষিপ্ত হচ্ছিল
… আর ছিল এমন ধীরগতির ক্লান্ত উট যার মজ্জা ছিল পাতলা ও তরল।
তুমি ভুল করেছ, এটি হবে ‘মুখখুহা রীরুন’, এই স্থানে ব্যাকরণের নিয়ম এটাই। ইউনুস বলেন: ফারাযদাক যা বলেছেন তা বৈধ ও সুন্দর। যখন তারা ফারাযদাককে পীড়াপীড়ি করল, তখন তিনি বললেন:
* সেই ক্লান্ত উটগুলোর ওপর যাদেরকে পরিশ্রান্ত চালকরা হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে *
অতঃপর মানুষ এটি বর্জন করল এবং পূর্বের পাঠেই ফিরে গেল।
ইবনে আবি ইসহাক সম্পর্কে ফারাযদাক তাকে ব্যঙ্গ করে বলেন:
আব্দুল্লাহ যদি কোনো সাধারণ আযাদকৃত দাস হতো তবে আমি তাকে ব্যঙ্গ করতাম
… কিন্তু আব্দুল্লাহ তো আযাদকৃত দাসদেরও অভিভাবক।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وكان ابنُ أبي إسحاق يقرأ: {يا ليتنا نردُّ ولا نكذبَ بآيات ربنا ونكونَ من المؤمنين} بالنصب.
وكان يقرأ: {الزانيةَ والزانيَ}، {والسارقَ والسارقةَ} بالنصب، وهو خلاف ما قرأ به القُرَّاءُ.
وأَخَذ على الفرزدق بيتًا في شعره، فقال: أين هذا الذي يَجُرُّ خصييه في المسجد؟ ألا يصلحه! يعني ابن أبي إسحاق.
وتُوفِّي ابنُ أبي إسحاق سنةَ سبع عشرة ومئة.
ইবনে আবি ইসহাক ‘নসব’ সহকারে পাঠ করতেন: {হায়, যদি আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো, তবে আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করতাম না এবং আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম}।
তিনি {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী} এবং {চোর ও চোরনী} শব্দগুলো ‘নসব’ সহকারে পাঠ করতেন, যা অন্যান্য কারীগণের পাঠপদ্ধতির পরিপন্থী ছিল।
তিনি আল-ফারাযদাকের কবিতার একটি চরণের সমালোচনা করেছিলেন, তখন আল-ফারাযদাক বলেছিল: সেই ব্যক্তি কোথায় যে মসজিদে নিজের অণ্ডকোষ হেঁচড়ে নিয়ে বেড়ায়? সে কি এটি সংশোধন করবে না! অর্থাৎ তিনি ইবনে আবি ইসহাককে বুঝিয়েছেন।
ইবনে আবি ইসহাক একশ সতেরো হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
الطبقة الرابعة
9 - أبو عمرو بن العلاءاسمه كنيته. وفي بعض الروايات اسمه زبّان بن العلاء بن عمار بن العريان بن عبد الله بن الحصين التيمي المازني.
وهو بصري، أخذ عن ابن أبي إسحاق، وكان أوسع علما بكلام العرب ولغاتها وغريبها من عبد الله بن أبي إسحاق. وكان من جِلَّة القراء والموثوق بهم. كان يقرئ الناس القرآن في مسجد البصرة، والحسن بن أبي الحسن حاضر.
قال يونس: لو كان أحد ينبغي أن يؤخذ بقوله كله في شيء واحد لكان ينبغي لقول أبي عمرو أن يؤخذ كله. ولكن ليس من أحد إلا وأنت آخذ من قوله وتارك.
قال: وكان أبو عمرو يُسلِّم للعرب ولا يطعُن عليها. وفي أبي عمرو بن العلاء يقول الفرزدق:
ما زلت أفتح أبوابا وأغلِقها
… حتى أتيتُ أبا عمرو بنَ عَمَّارِ
وأخافه الحجاج بن يوسف فكان يتستر. قال: فخرجت في الغَلَس أريد التنقل من الموضع الذي كنت فيه إلى غيره، فسمعت منشدًا يُنشد:
ربَّما تكرَه النُّفوس من الأَمْـ
… ـرِ له فَرْجَةٌ كَحَلِّ العِقَالِ
وسمعتُ عجوزًا تقول: مات الحجاج. فما أدري بأيهما كنت أسرَّ، أبقول المنشد: "فَرجة" بالفتح، أم بقول العجوز: مات الحجاج؟
قال أبو علي: الفَرْجة في الأمر بالفتح، والفُرْجة بالضم في الحائط وغيره.
قال: وسئل أبو عمرو بن العلاء عن اشتقاق الخيل، فلم يعرف، فمرَّ أعرابيٌّ
চতুর্থ স্তর৯ - আবু আমর বিন আল-আলাতার নামই তার উপনাম। কোনো কোনো বর্ণনায় তার নাম হলো জাব্বান বিন আল-আলা বিন আম্মার বিন আল-উরিয়ান বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আত-তাইমি আল-মাজিনি।
তিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন, তিনি ইবনে আবি ইসহাকের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি আরবদের কথা, তাদের ভাষা এবং দুর্লভ শব্দাবলি সম্পর্কে আবদুল্লাহ বিন আবি ইসহাকের চেয়েও অধিক জ্ঞান রাখতেন। তিনি প্রখ্যাত এবং নির্ভরযোগ্য কারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বসরার মসজিদে মানুষকে কুরআন পাঠ করাতেন এবং হাসান ইবনে আবি হাসান (হাসান বসরী) সেখানে উপস্থিত থাকতেন।
ইউনুস বলেন: যদি কোনো বিষয়ে কোনো ব্যক্তির সমস্ত কথা গ্রহণ করা আবশ্যক হতো, তবে আবু আমরের সমস্ত কথা গ্রহণ করাই সমীচীন হতো। কিন্তু এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার কথা থেকে কিছু গ্রহণ করা হয় না এবং কিছু বর্জন করা হয় না।
তিনি বলেন: আবু আমর আরবদের ভাষাগত প্রামাণ্যতাকে মেনে নিতেন এবং তাদের সমালোচনা করতেন না। আবু আমর বিন আল-আলা সম্পর্কে আল-ফারাযদাক বলেন:
আমি নিরন্তর বিভিন্ন দরজা খুলছিলাম এবং বন্ধ করছিলাম
… যতক্ষণ না আমি আবু আমর বিন আম্মারের কাছে উপস্থিত হলাম।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তাকে আতঙ্কিত করে রেখেছিলেন, ফলে তিনি আত্মগোপন করে থাকতেন। তিনি বলেন: আমি শেষ রাতের অন্ধকারে যেখানে ছিলাম সেখান থেকে অন্য স্থানে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলাম, তখন আমি একজন আবৃত্তিকারকে আবৃত্তি করতে শুনলাম:
হয়তো এমন কোনো বিষয় যা মানুষের মন অপছন্দ করে
… তার মুক্তি উটের বন্ধন খোলার মতোই ত্বরান্বিত।
আর আমি একজন বৃদ্ধাকে বলতে শুনলাম: হাজ্জাজ মারা গেছে। আমি জানি না এই দুটির মধ্যে কোনটি আমাকে অধিক আনন্দিত করেছিল—আবৃত্তিকারের 'ফারজাহ' শব্দটি ফাতহা দিয়ে উচ্চারণ করা, নাকি বৃদ্ধার 'হাজ্জাজ মারা গেছে' বলাটা?
আবু আলী বলেন: সংকটের অবসানের ক্ষেত্রে 'ফারজাহ' ফাতহা দিয়ে পড়তে হয়, আর দেয়াল বা অন্য কিছুর ছিদ্রের ক্ষেত্রে 'ফুরজাহ' যম্মাহ দিয়ে পড়তে হয়।
তিনি বলেন: আবু আমর বিন আল-আলাকে 'খাইল' (ঘোড়া) শব্দের ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা জানতেন না। এমতাবস্থায় একজন বেদুইন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
مُحْرِم، فأراد السائل سؤال الأعرابي، فقال له أبو عمرو: دَعْنِي، فأنا ألطف بسؤاله وأعرف. فسأله، فقال الأعرابي: اشتقاق الاسم من فعل المسمى. فلم يعرف من حضر ما أراد الأعرابي، فسألوا أبا عمرو عن ذلك، فقال: ذهب إلى الخُيلاء التي في الخيل والعُجْب؛ ألا تراها تمشي العِرَضْنة خُيلاءً وتكبُّرًا!
وقال الأصمعي: كان لأبي عمرو بن العلاء من غَلَّته كل يوم فَلْسان: فَلْس يشتري به كوزًا، وفَلْس يشتري به ريحانًا، فيشم الريحان يومه، ويشرب في الكوز يومه، فإذا أمسى تصدَّق بالكوز، وأمر الجارية أن تجفِّف الريحان وتدقَّه في الأُشنان.
وحدثني أبو علي إسماعيل بن القاسم البغدادي قال: سمع أبو عمرو رجلًا ينشد:
* ومَن يَغْوَ لا يَعْدَمْ على الغيِّ لائما *
فقال: أُقوِّمُك أم أتركك تتسكع في طُمَّتك؟ فقال: بل قوِّمني. فقال: قل: ومَن يَغْوِ -بكسر الواو-، ألا ترى إلى قول الله عز وجل: {فَغَوَى}!
قال أبو علي: ويقال: غَوِي الفصيلُ من لبن أمه إذا تخثَّر، أي بَشِم. وقال: تتسكَّع: تتلوَّث. والطُّمَّة الخُرْأة.
قال الأصمعي: وقال أبو عمرو بن العلاء في قول النبي صلى الله عليه وسلم: "في الجنين غُرَّة عبد أو أَمَة": لولا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أراد بالغُرَّة معنًى لقال: في الجنين عبد أو أَمَة. ولكنه عَنَى البياض، لا يُقبل في الدية إلا غلام أبيض أو جارية بيضاء.
...মুহরিম [হজ্জ বা উমরার ইহরাম অবস্থায়], তাই প্রশ্নকারী সেই মরুবাসীকে (বেদুইন) প্রশ্ন করতে চাইলেন। তখন আবু আমর তাকে বললেন: "আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তাকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে অধিক নমনীয় এবং অভিজ্ঞ।" অতঃপর তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন। তখন মরুবাসী বলল: "নামের উৎপত্তি হয়েছে নামধারী সত্তার কাজ থেকে।" উপস্থিত ব্যক্তিরা মরুবাসী কী বোঝাতে চেয়েছিলেন তা বুঝতে পারল না, তখন তারা আবু আমরকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: "সে ঘোড়ার মধ্যে বিদ্যমান দম্ভ ও অহংকারের দিকে ইঙ্গিত করেছে; তুমি কি দেখ না যে এটি দম্ভ ও অহমিকার সাথে আড়াআড়িভাবে পথ চলে!"
আসমাঈ বলেন: আবু আমর ইবনুল আলার প্রতিদিনের উপার্জিত আয় থেকে দুটি মুদ্রা বরাদ্দ থাকত: একটি মুদ্রা দিয়ে তিনি একটি পানপাত্র কিনতেন এবং অন্যটি দিয়ে সুগন্ধি ফুল কিনতেন। সারাদিন তিনি সেই সুগন্ধি ফুলের ঘ্রাণ নিতেন এবং সেই পাত্রটি দিয়ে পানি পান করতেন। সন্ধ্যা হলে তিনি পাত্রটি দান করে দিতেন এবং পরিচারিকাকে নির্দেশ দিতেন যেন সে সুগন্ধি ফুলটি শুকিয়ে চূর্ণ করে হাত ধোয়ার পাউডারের (উশনান) সাথে মিশিয়ে দেয়।
আবু আলী ইসমাঈল ইবনুল কাসিম আল-বাগদাদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু আমর এক ব্যক্তিকে কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলেন:
* আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, সে তার পথভ্রষ্টতার জন্য কোনো নিন্দাকারীর অভাব বোধ করে না *
তখন তিনি বললেন: "আমি কি তোমার ভুল সংশোধন করে দেব, নাকি তোমাকে তোমার এই কদর্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে থাকতে দেব?" সে বলল: "বরং আপনি আমাকে সংশোধন করে দিন।" তিনি বললেন: "বল: 'ওয়া মান ইয়াগউই'—ওয়াও অক্ষরে কাসরা (জের) দিয়ে—তুমি কি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র বাণী দেখনি: 'অতঃপর সে পথভ্রষ্ট হলো'!"
আবু আলী বলেন: বলা হয়ে থাকে, পশুর বাচ্চা তার মায়ের দুধ পান করে 'গাভিয়া' হয়েছে যখন দুধ জমাট বেঁধে যায়, অর্থাৎ সে অতিভোজনের ফলে অজীর্ণতায় ভোগে। তিনি আরও বলেন: 'তাতাসাক্কা' অর্থ লিপ্ত হওয়া বা মাখামাখি হওয়া। আর 'তুম্মাহ' অর্থ বিষ্ঠা।
আসমাঈ বলেন: আবু আমর ইবনুল আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী— "ভ্রূণের [হত্যার ক্ষতিপূরণ] ক্ষেত্রে একটি 'গুররাহ' (উত্তম দাস), তা পুরুষ হোক বা নারী" —প্রসঙ্গে বলেছেন: যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'গুররাহ' শব্দটির মাধ্যমে বিশেষ কোনো অর্থ বোঝাতে না চাইতেন, তবে তিনি কেবল বলতেন: 'ভ্রূণের ক্ষেত্রে একজন দাস বা দাসী'। কিন্তু তিনি এর দ্বারা শুভ্রতা বা উজ্জ্বলতা বুঝিয়েছেন; অর্থাৎ দিয়ত বা রক্তপণ হিসেবে শ্বেতবর্ণের দাস বা শ্বেতবর্ণের দাসী ছাড়া অন্য কিছু কবুল করা হবে না।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
وقال أبو حاتم: حدثني الأصمعي قال: حدثني شعبة قال: كنت أختلف إلى ابن أبي عقرب، فأسأله عن الفقه، ويسأله أبو عمرو عن العربية، فيقوم وأنا لا أحفظ حرفًا مما سأل عنه، ولا يحفظ حرفًا مما سألتُ عنه.
وكان أبو عمرو قد زار محمد بن سليمان بن علي الهاشمي واليَ الكوفة سنة أربع وخمسين ومئة.
حدثنا أحمد، حدثنا أحمد، حدثنا مروان بن عبد الملك الفخار قال: سمعت عباس بن محمد يقول: سمعت يحيى يقول: أبو عمرو بن العلاء ثقة، وأبو سفيان بن العلاء ومعاذ بن العلاء أخوا أبي عمرو، يروي عنهما وكيع.
قال مروان: وحدثنا أبو حاتم، حدثنا الأصمعي قال: قال أبو عمرو: أخذت في طلب العلم قبل أن أُخْتَن. قال الأصمعي: وسمعت أبا عمرو يقول -ولم يقله إن شاء الله بغيًا أو تطاولًا-: ما رأيتُ أحدًا قطُّ أعلمَ منِّي.
قال الأصمعي: قال أبو عمرو: ما سمع حمَّادٌ الرَّاويةُ حرفًا قطّ إلا سمعتُه. وكان أسنَّ من حماد.
سمعت عبد الرحمن ابن أخي الأصمعي يقول: حدثني عمي قال: كنت إذا سمعت أبا عمرو بن العلاء يتكلم ظننت أنه لا يحسن شيئًا ولا يَلحَن؛ يتكلم كلامًا سهلًا.
أبو حاتم عن الأصمعي قال: كان أبو عمرو بن العلاء يوسّع لي، وربما حلف ألَّا يُخبِرَني بحرف حتى آكل، وكانت ابنته تجيء وتجلس عندنا في مجلسه وقد حَجَمَ الثديُ على نحرها. قال: وعيسى بن عمر وضَرْبُه
আবু হাতেম বলেন: আসমায়ি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শো'বা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি আকরাবের নিকট যাতায়াত করতাম এবং তাকে ফিকহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম, আর আবু আমর তাকে আরবি ভাষা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। অতঃপর তিনি যখন মজলিস থেকে উঠতেন, তখন আমি তার জিজ্ঞাসিত কোনো একটি অক্ষরও হেফজ করতে পারতাম না, আর তিনিও আমার জিজ্ঞাসিত কোনো অক্ষর হেফজ করতে পারতেন না।
আবু আমর একশত চুয়ান্ন হিজরি সালে কুফার গভর্নর মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আলি আল-হাশিমির সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
আহমদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আহমদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান বিন আব্দুল মালিক আল-ফাখখার আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আব্বাস বিন মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: আবু আমর বিন আল-আলা নির্ভরযোগ্য, আর আবু সুফিয়ান বিন আল-আলা ও মুয়ায বিন আল-আলা হলেন আবু আমরের দুই ভাই, ওয়াকি তাঁদের থেকে রেওয়ায়াত করেছেন।
মারওয়ান বলেন: আবু হাতেম আমাদের বর্ণনা করেছেন, আসমায়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমর বলেছেন: আমি খতনা করার পূর্বেই জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেছিলাম। আসমায়ি বলেন: আমি আবু আমরকে বলতে শুনেছি—এবং ইনশাআল্লাহ তিনি এটি বিদ্রোহ বা দম্ভবশত বলেননি—: আমি আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে কখনো দেখিনি।
আসমায়ি বলেন: আবু আমর বলেছেন: হাম্মাদ আর-রাবিয়াহ যা কিছু শুনেছেন, তার একটি অক্ষরও এমন নেই যা আমি শুনিনি। আর তিনি হাম্মাদের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন।
আমি আসমায়ির ভাতিজা আব্দুর রহমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার চাচা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি যখন আবু আমর বিন আল-আলাকে কথা বলতে শুনতাম, তখন আমার মনে হতো তিনি হয়তো তেমন কিছুই জানেন না, অথচ তিনি ভাষাগত ভুলও করতেন না; তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় কথা বলতেন।
আবু হাতেম আসমায়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আমর বিন আল-আলা আমার বসার জন্য প্রশস্ত জায়গা করে দিতেন, এবং কখনো কখনো তিনি শপথ করতেন যে আমি আহার না করা পর্যন্ত তিনি আমাকে একটি অক্ষরও শেখাবেন না। তাঁর কন্যা এসে আমাদের সাথে তাঁর মজলিসে বসতেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর বক্ষ গঠিত হচ্ছিল। তিনি বলেন: এবং ঈসা বিন ওমর ও তাঁর ব্যাকরণিক কর্মধারা।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
إنما كانوا يلقوْنه أيامَ الجُمَع.
وقال الأصمعي: سألت الخليل بن أحمد النحوي عن قول الراجز:
ختى تحاجزن عن الذواد
… تحاجُزَ الرِّي ولم تَكادِي
لِمَ قال: "تكادي" ولم يقل: "ولم تَكَدْ"؟ قال: فطحن يومًا أجمع. قال: وسألت أبا عمرو بن العلاء -وكأنما كان على طرف لسانه- فقال: ولم تكادي أيتها الإبل.
حدثنا العباس بن الفرج الرياشي، حدثنا الأصمعي، عن أبي عمرو قال: شهدت عند سوَّار، قال له: كيف تعلم هذا؟ قلت: أعلمه كما أعلم أنك سوار بن عبد الله بن قدامة بن عَنَزة بن نقَب.
حدثنا أحمد بن سعيد قال: حدثنا أبو الحسن محمد بن عبد الله بن سعيد بن عمر بن مهران البصري بفسطاط مصر، قال: حدثنا يزيد بن محمد المهلبي قال: حدثنا إسحاق بن إبراهيم الموصلي قال: حدثنا أبو عبيدة، عن أبي عمرو قال: كنا عند بلال بن أبي بُردة، فخرج الفرزدق يتخلَّع، فسمعني أُنشِد بيت التَّغلبي:
نُعاطي الملوك القِسْط ما قصدوا لنا
… وليس علينا قَتْلُهمْ بمحرَّم
فقال الفرزدق: أأرشُدك أم أدعُك؟ قلت: أرشدْني. قال: "ما قصدوا بنا".
حدثنا أحمد بن سعيد قال: حدثنا أبو إسحاق الشيزري قال: حكى أبو العباس الأديب، عن الأصمعي، عن أبي عمرو قال: بينا أنا ذات يوم -أحسبه قال: في ضيعتي- سمعتُ قائلًا يقول:
وإن امرأً دنياه أكبر همِّه
… لَمُسْتمسك منها بحبْل غرور
قال: فكتبت هذا البيت على فَصِّ خاتمي، فكان نقشه هذا.
حدثنا أحمد قال: حدثنا أحمد قال: حدثنا مروان قال: حدثنا أبو حاتم
তারা মূলত জুমার দিনগুলোতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করত।
আসমাঈ বলেন: আমি ব্যাকরণবিদ খলিল ইবনে আহমাদকে জনৈক রাজেয-এর (কবিতা আবৃত্তিকার) উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম:
যতক্ষণ না তারা বিতাড়ন থেকে বিরত হলো
… তৃপ্ত হওয়ার ন্যায় বিরত হওয়া, অথচ তোমরা প্রায় (বিরত) ছিলে না।
তিনি কেন ‘তাকাদি’ (স্ত্রীলিঙ্গ সম্বোধন) বললেন এবং কেন ‘লাম তাকাদ’ বললেন না? আসমাঈ বলেন: তিনি (খলিল) পুরো একদিন এই বিষয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করলেন। আসমাঈ বলেন: এরপর আমি আবু আমর ইবনুল আলা-কে জিজ্ঞাসা করলাম—আর উত্তরটি যেন তাঁর জিহ্বার ডগায় ছিল—তিনি বললেন: “হে উটের দল, তোমরা প্রায় (বিরত) ছিলে না।”
আব্বাস ইবনুল ফরাজ আর-রিয়াশি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আসমাঈ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আমর থেকে, তিনি বলেন: আমি সাওয়ারের কাছে উপস্থিত ছিলাম, তিনি তাঁকে বললেন: আপনি এটি কীভাবে জানেন? আমি বললাম: আমি এটি ঠিক সেভাবেই জানি যেভাবে আমি জানি যে আপনি হলেন সাওয়ার ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুদামা ইবনে আনাযা ইবনে নাকাব।
আহমাদ ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে উমর ইবনে মিহরান আল-বাসরি মিশরের ফাসতাত নামক স্থানে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-মাওসিলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উবায়দা আমাদের কাছে আবু আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা বিলাল ইবনে আবি বুরদাহর নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় ফারাযদাক দম্ভভরে হেলতে দুলতে বেরিয়ে এলেন এবং আমাকে তাগলাবি কবির এই চরণটি আবৃত্তি করতে শুনলেন:
আমরা রাজাদের সাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করি যতক্ষণ তারা আমাদের প্রতি ইনসাফ করে
… আর তাদের হত্যা করা আমাদের জন্য হারাম নয়।
তখন ফারাযদাক বললেন: আমি কি তোমাকে সঠিক পথ দেখাব নাকি তোমাকে তোমার অবস্থায় ছেড়ে দেব? আমি বললাম: আমাকে সঠিক পথ দেখান। তিনি বললেন: (সঠিক হবে) “তারা আমাদের সাথে যা উদ্দেশ্য করেছে।”
আহমাদ ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আশ-শিযারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আল-আদিব আসমাঈ থেকে এবং তিনি আবু আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমি থাকাকালীন—আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: আমার কৃষি খামারে—এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম:
নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি যার প্রধান চিন্তা হলো তার দুনিয়া
… সে আসলে দুনিয়ার এক ধোঁকার রশি আঁকড়ে ধরে আছে।
তিনি বলেন: আমি এই চরণটি আমার আংটির পাথরে খোদাই করে নিলাম, আর এটিই ছিল তার নকশা।
আহমাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
وابن أخي الأصمعي قالا: حدثنا الأصمعي قال: لم أرَ مَسانّ قطّ أذْكرَ من أبي عمرو بن العلاء، وسلَمة بن عياش، وأبي هلال الراسبي، وأبي الأشهب العطاردي.
ابن أبي سعد قال: قال أبو عمرو بن العلاء: كانت العرب إذا أرادت أن تنشد قصيدة المتلمِّس توضؤوا لها:
تُعيِّرني أُمِّي رجالٌ ولن ترى
… أخا كرمٍ إلَّا بأَنْ يَتكرَّما
ابن أبي سعد قال: قال ابن نوفل: سمعتُ أبي يقول لأبي عمرو بن العلاء: أخبرني عما وضعتَ مما سميتَه عربية، أيدخل فيها كلام العرب كله؟ فقال: لا. فقلت: كيف تصنع فيما خالفتك فيه العربُ وهم حُجَّة؟ قال: أعمل على الأكثر، وأسمي ما خالفني لغات.
وقال أبو الحسن الباهلي: مر أبو عمرو بن العلاء بعمرو بن عبيد وهو يتكلم في الوعد والوعيد ويثبته، فقال له أبو عمرو: ويلك يا عمرو! إنك أَلْكَن الفهم، ألم تسمع إلى قول القائل:
وإنِّي وإن أوعدتُه أو وعدتُهُ
… لمخلفُ إيعادي ومنجز مَوْعِدي
এবং আসমায়ীর ভ্রাতুষ্পুত্র বলেন: আমাদের নিকট আসমায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আমর ইবনুল আলা, সালামাহ বিন আইয়াশ, আবু হিলাল আল-রাসিবি এবং আবু আল-আশহাব আল-আত্তারদি অপেক্ষা অধিক স্মরণশক্তিসম্পন্ন কোনো বৃদ্ধকে কখনও দেখিনি।
ইবনে আবি সা’দ বলেন: আবু আমর ইবনুল আলা বলেছেন: আরবরা যখন মুতালাম্মিসের কাসিদা আবৃত্তি করার ইচ্ছা করত, তখন তারা তার জন্য অযু করে নিত:
লোকেরা আমাকে আমার মায়ের জন্য দোষারোপ করে, অথচ তুমি কোনো
… মহান ব্যক্তিকে পাবে না তার মহানুভবতা প্রদর্শন করা ছাড়া।
ইবনে আবি সা’দ বলেন: ইবনে নাওফাল বলেছেন: আমি আমার পিতাকে আবু আমর ইবনুল আলাকে বলতে শুনেছি: আপনি 'আরবি' হিসেবে যা নির্ধারণ ও সংকলন করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে বলুন; এতে কি আরবদের সমস্ত কথা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: আরবরা যেখানে আপনার বিরোধিতা করেছে অথচ তারা তো প্রামাণ্য দলিল, সেক্ষেত্রে আপনি কী করেন? তিনি বললেন: আমি অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে কাজ করি এবং যা আমার নিয়মের পরিপন্থী হয় সেগুলোকে আমি ভিন্ন ভাষা-রীতি হিসেবে অভিহিত করি।
এবং আবুল হাসান আল-বাহিলি বলেন: আবু আমর ইবনুল আলা আমর ইবনে উবাইদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে ‘ওয়াদ ও ওয়াঈদ’ (প্রতিশ্রুতি ও ধমক) নিয়ে কথা বলছিল এবং তা দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত করছিল। তখন আবু আমর তাকে বললেন: দুর্ভোগ তোমার জন্য হে আমর! তোমার অনুধাবন ক্ষমতা তো ত্রুটিপূর্ণ। তুমি কি কবির এই কথাটি শোনোনি:
আর আমি যখনই কাউকে কোনো ধমক দেই কিংবা কোনো প্রতিশ্রুতি দেই
… আমি আমার ধমক বাস্তবায়ন করি না কিন্তু আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ করি।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুন নাহবিয়্যীন ওয়াল লুগাবিয়্যীন
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
إنما أراد أن الله تبارك وتعالى قد وعد وأوعد، وهو قادر على أن يعفو عمن أوعده، وقادر أن ينجز لمن وعده.
قال محمد: وفي بعض الروايات أن ابن عبيد قال لأبي عمرو: يا أبا عمرو، شغلك الإعراب عن معرفة الصواب. وأنشد بعضهم بيتًا قبل البيت المذكور:
لا يَرْهَبُ ابنُ العم والجارُ صَوْلتِي
… ولا أَختفي من خَشْية المتَهَدِّدِ
وقال ابن قتيبة: وكانت وفاة أبي عمرو في طريق الشام، وذلك أنه خرج إليها يجتدي عبد الوهاب بن إبراهيم، فمات سنة أربع وخمسين ومئة، وله عقب بالبصرة.
10 - أبو سفيان بن العلاءهو أخو أبي عمرو، واسمه كنيته، وكان من النحويين، وأصحاب الغريب، والرواة. توفي سنة خمس وستين ومئة.
11 - الأخفش الكبيرهو أبو الخطاب عبد الحميد بن عبد المجيد، أخذ عنه يونس. وروي عن أبي الخطاب أنه قال: لا أقول: "جُثَّة الرجل" إلا لشخصه على سرْج أو رحل، ويكون معمَّمًا. ولم تُسمع من غيره.
وحكى ابن دُرَيْدٍ عن أبي الخطاب أنه قال: الخُفْخُوف طائر. قال: ولم يذكره أحدٌ من أصحابنا.
12 - عيسى بن عمرهو مولى خالد بن الوليد المخزومي، نزل في ثَقِيف، وأخذ عن ابن أبي إسحاق
তিনি কেবল এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পুরস্কার ও শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; আর তিনি যাকে শাস্তির হুমকি দিয়েছেন তাকে ক্ষমা করতে সক্ষম এবং যাকে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রতি তা পূর্ণ করতেও সক্ষম।
মুহাম্মদ বলেন: কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, ইবনে উবাইদ আবু আমরকে বলেছিলেন: হে আবু আমর, ব্যাকরণ (ইরাব) আপনাকে সঠিক বিষয়টি জানা থেকে বিরত রেখেছে। আর কেউ কেউ উল্লিখিত পঙক্তির পূর্বে একটি পঙক্তি পাঠ করেছেন:
আমার চাচাতো ভাই এবং প্রতিবেশী আমার আক্রমণকে ভয় পায় না
… আর আমি কোনো হুমকিদাতার ভয়ে লুকিয়ে থাকি না
ইবনে কুতায়বা বলেন: আবু আমরের মৃত্যু সিরিয়ার পথে হয়েছিল। এর কারণ ছিল তিনি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে ইবরাহিমের কাছে সাহায্যের প্রত্যাশায় সেখানে যাচ্ছিলেন। তিনি একশত চুয়ান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং বসরায় তার বংশধর রয়েছে।
১০ - আবু সুফিয়ান ইবনুল আলাতিনি আবু আমরের ভাই, তার ডাকনামই তার নাম। তিনি ব্যাকরণবিদ, দুর্লভ শব্দ গবেষক ও বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি একশত পঁয়ষট্টি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
১১ - আল-আখফাশ আল-কাবিরতিনি হলেন আবু আল-খাত্তাব আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুল মাজিদ, তার থেকে ইউনুস শিক্ষা লাভ করেছেন। আবু আল-খাত্তাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি কোনো ব্যক্তিকে ‘দেহ’ (জুত্থা) বলি না যতক্ষণ না সে সওয়ারি বা পিলানের ওপর পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় থাকে। এটি অন্য কারও থেকে শোনা যায়নি।
ইবনে দুরাইদ আবু আল-খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: ‘খুফখুফ’ হলো একটি পাখি। তিনি বলেন: আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ এটি উল্লেখ করেননি।
১২ - ঈসা ইবনে উমরতিনি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ আল-মাখজুমির মুক্তদাস ছিলেন। তিনি সাকিফ গোত্রে বসবাস করতেন এবং ইবনে আবি ইসহাক থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন।