(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: -)
وصايا العلماء عند حضور الموت لابن زبر الربعي   (الربعي، أبو سليمان)

القسم: كتب السنة


الكتاب: وصايا العلماء عند حضور الموت

المؤلف: أبو سليمان محمد بن عبد الله بن أحمد بن ربيعة بن سليمان بن خالد بن عبد الرحمن بن زبر الربعي (ت 379 هـ)

حققه: صلاح محمد الخيمي

راجعه وخرج أحاديثه وعلق عليه: عبد القادر الأرناؤوط [ت 1425 هـ]

الناشر: دار ابن كثير - دمشق - بيروت

الطبعة: الأولى، 1406 - 1986

عدد الصفحات: 112

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে জাবর আর-রাবাঈ রচিত মৃত্যুকালে ওলামাদের ওসিয়তসমূহ   (আর-রাবাঈ, আবু সুলাইমান)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মৃত্যুকালে ওলামাদের ওসিয়তসমূহ

লেখক: আবু সুলাইমান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন রাবিয়াহ বিন সুলাইমান বিন খালিদ বিন আবদুর রহমান বিন জাবর আর-রাবাঈ (মৃত্যু ৩৭৯ হিজরি)

সম্পাদনা: সালাহ মুহাম্মদ আল-খাইমি

পর্যবেক্ষণ, হাদিস বিন্যাস ও টীকা প্রদান: আবদুল কাদির আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪২৫ হিজরি]

প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর - দামেস্ক - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ - ১৯৮৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌مُقَدِّمَةُ الْمُؤَلِّفِ {وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ} [النساء: 131]
লেখকের ভূমিকা {এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পূর্ববর্তী যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের এবং তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো} [আন-নিসা: ১৩১]
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢١)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ الْمُقْرِئُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الْمُقَيَّرِ النَّجَّارُ الْبَغْدَادِيُّ أَثَابَهُ اللَّهُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ ثَامِنِ وَعِشْرِينَ جُمَادَى الْأُولَى مِنْ سَنَةِ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ وَسِتِّمِائَةٍ فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ مِنْ دِمِشْقَ. قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكَ أَبُو الْمَعَالِي الْفَضَلُ بْنُ سَهْلِ بْنِ بِشْرِ بْنِ أَحْمَدَ الْإِسْفَرَايِينِيُّ إِجَازَةً، أَنَّ الْفَقِيهَ أَبَا الْقَاسِمِ عَلِيَّ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي الْعَلَاءِ السُّلَمِيَّ الْمِصِّيصِيَّ، أَخْبَرَهُمْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَهُوَ يَسْمَعُ فِي سَنَةِ سِتٍّ وَثَمَانِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ قَالَ: أنا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي نَصْرٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ ⦗ص: 22⦘ ثَمَانٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو سُلَيْمَانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ زَبْرٍ الرَّبَعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ ، نا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ، وَيُونُسَ بْنِ يَزِيدَ ، وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ اللَّيْثِيِّ أَنَّ نافِعًا حَدَّثَهُمْ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُوصِي بِهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلَّا وَوَصِيَّتُهُ عِنْدَهُ مَكْتُوبَةٌ»
নেককার শায়খ, ক্বারী আবুল হাসান আলী বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন আবিল হাসান বিন আল-মুকাইয়্যার আন-নাজ্জার আল-বাগদাদী (আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম ৬৩৩ হিজরি সনের ২৮শে জুমাদাল উলা, জুমুআর দিনে দামেস্কের জামে মসজিদে। তাঁকে বলা হলো: আবুল মাআলী আল-ফাদল বিন সাহল বিন বিশর বিন আহমদ আল-ইসফরাইনী আপনাকে ইজাযাত প্রদান করে সংবাদ দিয়েছেন যে, ফকিহ আবুল কাসেম আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবিল আলা আস-সুলামী আল-মিসসিসি তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং তিনি তা শ্রবণ করেছেন ৪৮৬ হিজরি সনে। তিনি বলেন: আবু আলী আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন উসমান বিন আবু নাসর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে ৪২৮ হিজরি সনের শাবান মাসে ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘, তাঁকে বলা হলো: আবু সুলাইমান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন যাবর আর-রাবাঈ ৩৭২ হিজরি সনের জিলকদ মাসে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। মুহাম্মদ বিন আর-রাবি বিন সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস বিন আবদিল আলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন উমর, মালিক বিন আনাস, ইউনুস বিন ইয়াজিদ এবং উসামা বিন যাইদ আল-লাইসী থেকে যে, নাফে তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন মুসলিম ব্যক্তির যার কাছে অসিয়ত করার মতো কিছু আছে, তাঁর জন্য এটি সঙ্গত নয় যে সে দুই রাত অতিবাহিত করবে অথচ তাঁর নিকট তাঁর অসিয়তনামা লিখিত অবস্থায় থাকবে না।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ بَحْرٍ ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبَى مَسَرَّةَ ، نا خَلَّادُ بْنُ يَحْيَى ، نا أَبُو عَقِيلٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَبِيتُ لَيْلَةً مِنَ الدَّهْرِ أَبَدًا إِلَّا وَعَهْدُهُ عِنْدَهُ مَكْتُوبٌ، إِذَا كَانَ لَهُ مِنَ الْمَالِ مَا يَعْهَدُ فِيهِ»
আমাদের নিকট আব্দুল মালিক ইবনে বাহর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি মাসাররাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আকিল বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর ইবনে আব্দুল্লাহ হতে, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «কোনো মুসলিম ব্যক্তির জন্য এটি সংগত নয় যে, সে তার জীবনের কোনো একটি রাতও অতিবাহিত করবে অথচ তার অসিয়তনামা তার নিকট লিখিত নেই, যদি তার নিকট এমন কোনো সম্পদ থাকে যার ব্যাপারে অসিয়ত করা যায়।»
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ غَطَفَانَ ، نا أَبُو عُتْبَةَ أَحْمَدُ بْنُ الْفَرَجِ الْحِمْصِيُّ ، نا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمٍ ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عُتْبَةَ الْيَحْصِبِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عُمَيْرَ بْنَ هَانِئٍ الْعَنْسِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ: «يُوشِكُ الْمَنَايَا أَنْ تَسْبِقَ الْوَصَايَا»
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে গাতফান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উতবাহ আহমদ ইবনুল ফরাজ আল-হিমসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে সালিম, তিনি আল-আলা ইবনে উতবাহ আল-ইয়াহসিবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমায়ের ইবনে হানি আল-আনসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে ওমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «অচিরেই মৃত্যু ওসিয়তসমূহকে ছাপিয়ে যাবে।’»
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّيْبُلِيُّ ، نا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ صُبَيْحٍ سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ ، نا دُرُسْتُ بْنُ زِيَادٍ ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَاتَ فُلَانٌ، قَالَ صلى الله عليه وسلم: «أَلَيْسَ كَانَ مَعَنَا آنِفًا؟» قَالُوا: بَلَى. قَالَ: «يَا سُبْحَانَ اللَّهِ ، كَأَنَّهَا أَخْذَةٌ عَلَى غَضِبٍ ، الْمَحْرُومُ مَنْ حُرِمَ الْوَصِيَّةَ»

মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাইবোলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামিদ ইবনে সুবাইহ দুইশত চল্লিশ হিজরি সালে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দুরুস্ত ইবনে জিয়াদ ইয়াজিদ আল-রাকাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, অমুক ব্যক্তি মারা গেছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে কি এইমাত্র আমাদের সাথে ছিল না?» তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «সুবহানাল্লাহ, মনে হচ্ছে এটি যেন ক্রোধবশত পাকড়াও। প্রকৃত বঞ্চিত সেই ব্যক্তি যে অসিয়ত করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।»

(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ، نا جَحْدَرُ بْنُ الْحَارِثِ ، نا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ خُلَيْدِ بْنِ أَبِي خُلَيْدٍ، عَنْ أَبِي حَلْبَسٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ قُرَّةَ بْنِ إِيَاسٍ الْمُزَنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ فَأَوْصَى ، فَكَانَتْ وَصِيَّتُهُ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ عز وجل ، كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا تَرَكَ مِنْ زَكَاتِهِ فِي حَيَاتَهِ»

হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাহদার ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খুলাইদ ইবনে আবি খুলাইদ থেকে, তিনি আবু হালবাস থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা কুররাহ ইবনে ইয়াস আল-মুযানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তির নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে অসিয়ত করে, আর তার অসিয়ত যদি মহান আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী হয়, তবে তা তার জীবদ্দশায় যে যাকাত সে প্রদান করেনি (ছেড়ে দিয়েছিল) তার জন্য কাফফারা স্বরূপ হবে।»

(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَدَّثَنَا أَبِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ ، نا مُوسَى بْنُ عِيسَى بْنِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَبِيهِ، نا بَقِيَّةُ قَالَ: حَدَّثَنِي خُلَيْدُ بْنُ أَبِي خُلَيْدٍ ، عَنْ أَبِي حَلْبَسٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ الْمُزَنِيِّ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ فَأَوْصَى فَكَانَتْ وَصِيَّتُهُ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ عز وجل كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا تَرَكَ مِنْ زَكَاتِهِ فِي حَيَاتِهِ»
আমাদের নিকট আমার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুসা ইবনে ঈসা ইবনুল মুনযির তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট খুলাইদ ইবনে আবি খুলাইদ আবু হালবাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুআবিয়া ইবনে কুররাহ আল-মুযানী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যার নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে অসিয়ত করে, আর তার অসিয়ত যদি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী হয়, তবে তা তার জীবনে বর্জনকৃত যাকাতের কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে।»
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ ، نا شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ ، نا سُلَيْمَانُ التَّمِيمِيُّ ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَتْ عَامَّةُ وَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ حَضَرَهُ الْمَوْتُ: " الصَّلَاةَ ، وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ قَالَ: حَتَّى جَعَلَ يُغِرْغِرُهَا فِي صَدْرِهِ ، وَمَا كَادَ يَفِيضُ بِهَا لِسَانُهُ

ইব্রাহীম ইবন মারযূক এবং আবু আল-হাসান আলী ইবন মা’বাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: শুজা ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান আত-তায়মী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকাল সমাসন্ন হওয়ার সময় তাঁর সাধারণ অসিয়ত ছিল: "সালাত এবং তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে।" তিনি বলেন: এমনকি তিনি তাঁর বুকের ভেতর তা গড়গড় করে বলতে থাকলেন এবং তাঁর জিহ্বা দিয়ে তা প্রায় ব্যক্ত করতে পারছিলেন না।

(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: نا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، نا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَأَصْغَتْ إِلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ وَهُوَ مُسْتَنِدٌ إِلَى صَدْرِهَا يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ، وَارْحَمْنِي ، وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى»
আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে অবহিত করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে—যখন তিনি তাঁর বুকের উপর হেলান দিয়ে ছিলেন—বলতে শুনেছেন এবং তিনি (আয়িশা) তাঁর প্রতি নিবিষ্টভাবে কান পেতেছিলেন: «হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে সর্বোচ্চ সঙ্গীর সাথে মিলিত করুন»।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ السَّامِرِيُّ قَالَ: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: نا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ سَرْجِسٍ ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَمُوتُ ، وَعِنْدَهُ قَدَحٌ فِيهِ مَاءٌ يُدْخِلُ يَدَهُ فِي الْقَدَحِ ، ثُمَّ يَمْسَحُ وَجْهَهُ بِالْمَاءِ ، ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى سَكَرَاتِ الْمَوْتِ»
আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আস-সামেরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল হাদ আমাকে বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে সারজিস থেকে, তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর ইন্তেকালকালে দেখেছি, তখন তাঁর নিকট একটি পানির পাত্র ছিল। তিনি সেই পাত্রের মধ্যে তাঁর হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন এবং তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল মুছছিলেন। এরপর তিনি বলছিলেন: "হে আল্লাহ! মৃত্যুর তীব্র যন্ত্রণায় আমাকে সাহায্য করুন।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
حَدَّثَنَا أَبُو الْحَارِثِ أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: نا حَبَّانُ، عَنْ مُبَارَكٍ قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ: لَمَّا وَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ كَرْبِ الْمَوْتِ، قَالَتْ فَاطِمَةُ رضي الله عنها: وَاكَرْبَاهُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 28⦘: «إِنَّهُ وَاللَّهِ مَا عَلَى أَبِيكِ كَرْبٌ آخَرُ، مَا عَلَيْهِ» قَالَ حَبَّانُ: فَحَدَّثَنَا مُبَارَكٌ، قَالَ: نا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ بِمِثْلِهِ. قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا بُنَيَّةُ ، إِنَّهُ وَاللَّهِ قَدْ حَضَرَ مِنْ أَبِيكِ ، مَا اللَّهُ عز وجل بِتَارِكٍ أَحَدًا ، الْمُوَافَاةُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
আমাদের নিকট আবু আল-হারিস আহমদ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে মারজুক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাব্বান মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে বলতে শুনেছি: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর যাতনা অনুভব করলেন, তখন ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহা বললেন: ‘হায়, কী নিদারুণ কষ্ট!’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘: “নিশ্চয়ই আল্লাহর কসম, তোমার পিতার ওপর আর কোনো কষ্ট নেই, আর কোনো কষ্ট নেই।” হাব্বান বলেন: আমাদের নিকট মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাবিত আনাস (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে প্রিয় কন্যা, নিশ্চয়ই আল্লাহর কসম, তোমার পিতার নিকট তা-ই উপস্থিত হয়েছে যা থেকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কাউকেই রেহাই দেন না; কিয়ামতের দিনই হবে চূড়ান্ত সাক্ষাত।”
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ بِشْرٍ الْهَرَوِيُّ ، وَأَبُو الْحَارِثِ أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدِّمَشْقِيُّ - لَهُ اللَّفْظُ - قَالَا: ثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خُلِّيٍّ ، ⦗ص: 29⦘ نا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ ، أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَهُوَ صَحِيحٌ: " إِنَّهُ لَمْ يُقْبَضْ نَبِيٌّ قَطُّ حَتَّى يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ ، ثُمَّ يُخَيَّرَ، قَالَتْ: فَلَمَّا اشْتَكَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَحَضَرَهُ الْمَوْتُ ، وَرَأْسُهُ عَلَى فَخِذِ عَائِشَةَ رضي الله عنها غُشِيَ عَلَيْهِ. قَالَتْ: فَلَمَّا أَفَاقَ شَخَصَ بِبَصَرِهِ نَحْوَ سَقْفِ الْبَيْتِ ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الْأَعْلَى» قَالَتْ عَائِشَةُ: فَقُلْتُ: إِذًا لَا يَخْتَارُنَا ، وَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَدِيثُ الَّذِي كَانُ يُحَدِّثُنَا وَهُوَ صَحِيحٌ
মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ ইবন বিশর আল-হারাওয়ী এবং আবু আল-হারিস আহমাদ ইবন সাঈদ আদ-দিমাশকী — শব্দ বিন্যাস তাঁর — আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবন খালিদ ইবন খুল্লী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ বিশর ইবন শুয়াইব ইবন আবু হামযা তাঁর পিতা থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবন যুবাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ থাকা অবস্থায় বলতেন: "কোনো নবীকেই ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুদান করা হয় না যতক্ষণ না তিনি জান্নাতে তাঁর আবাসস্থল দেখে নেন, এরপর তাঁকে ইখতিয়ার বা পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়।" আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পীড়িত হলেন এবং তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো, এমতাবস্থায় যে তাঁর মাথা আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর উরুর ওপর ছিল, তখন তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। তিনি বলেন: যখন তাঁর সংজ্ঞা ফিরল, তিনি ঘরের ছাদের দিকে তাঁর দৃষ্টি স্থির করলেন, অতঃপর বললেন: "হে আল্লাহ, সুউচ্চ বন্ধুর সাথে (আর-রাফীকুল আ'লা)।" আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: তখন আমি মনে মনে বললাম: তবে তিনি আর আমাদের পছন্দ করবেন না। এবং আমি বুঝতে পারলাম যে এটিই সেই হাদীস যা তিনি সুস্থ থাকাকালীন আমাদের কাছে বর্ণনা করতেন।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌وَصِيَّةُ آدَمَ عليه السلام
আদম আলাইহিস সালামের অসিয়ত
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أَخْبَرَنَا أَبِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ ، نا الْحَسَنُ بْنُ السَّكَنِ الْحِمْصِيُّ ، نا الرَّبِيعُ بْنُ رَوْحٍ ، نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ ⦗ص: 30⦘: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ ذَكْوَانَ الْبَصْرِيُّ الْأَزْدِيُّ ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ عُتَيٍّ السَّعْدِيِّ ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ آدَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ أَرْسَلَ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ بِكَفَنٍ وَحَنُوطٍ مِنَ الْجَنَّةِ ، فَلَمَّا رَأَتْ حَوَّاءُ الْمَلَائِكَةَ جَزِعَتْ. فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: خَلِّي بَيْنِي وَبَيْنَ رُسُلِ رَبِّي عز وجل فَمَا لَقِيتُ الَّذِي لَقِيتُ إِلَّا فِيكِ ، وَمَا أَصَابَنِي الَّذِي أَصَابَنِي إِلَّا فِيكِ "
আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে সাকান আল-হিমসি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, রাবী ইবনে রাওহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘: মুহাম্মাদ ইবনে যাকওয়ান আল-বাসরি আল-আযদি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, হাসান ইবনে আবিল হাসান থেকে বর্ণিত, উতাই আস-সাদি থেকে বর্ণিত, উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আদম আলাইহিস সালাম-এর যখন ওফাতের সময় উপস্থিত হলো, তখন মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ জান্নাত থেকে তাঁর নিকট কাফন ও সুগন্ধি পাঠালেন। অতঃপর হাওয়া যখন ফেরেশতাদের দেখলেন, তখন তিনি ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়লেন। তখন আদম আলাইহিস সালাম বললেন: আমার এবং আমার মহান প্রতিপালকের দূতদের মাঝখান থেকে সরে দাঁড়াও। আমি যা কিছুর সম্মুখীন হয়েছি তা কেবল তোমার কারণেই হয়েছে এবং আমার ওপর যা কিছু আপতিত হয়েছে তা কেবল তোমার কারণেই হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌وَصِيَّةُ نُوحٍ عليه السلام
নূহ আলাইহিস সালামের ওসিয়ত
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَيْرِ بْنِ جَوْصَا ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ ، ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ ⦗ص: 31⦘ دِينَارٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِوَصِيَّةِ نُوحٍ صلى الله عليه وسلم؟» . قَالُوا: بَلَى قَالَ: " إِنَّ نُوحًا قَالَ لِابْنِهِ: «إِنِّي أُوصِيكَ بِاثْنَتَيْنِ ، وَأَنْهَاكَ عَنِ اثْنَتَيْنِ»
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে উমায়ের ইবনে জাওসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, তিনি আমর ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ দিনার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি কি তোমাদের নূহের (আলাইহিস সালাম) অসিয়ত সম্পর্কে জানাব না?» তারা বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই নূহ তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: «আমি তোমাকে দুটি বিষয়ের অসিয়ত করছি এবং দুটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি»।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣١)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الدَّقِيقِيُّ ، نا خُنَيْسُ بْنُ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ ، نا زَيْدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَوْصَى نُوحٌ ابْنَهُ قَالَ: لَا أُطَوِّلُ عَلَيْكَ ، لِتَكُونَ أَجْدَرَ أَلَّا تَنْسَى، اثْنَتَانِ لَيَسْتَبْشِرُ بِهِمَا اللَّهُ عز وجل وَصَالِحُ خَلْقِهِ ، وَاثْنَتَانِ يَحْتَجِبُ مِنْهُمَا اللَّهُ عز وجل وَصَالِحُ خَلْقِهِ ، فَأَمَّا الِاثْنَتَانِ الَّتِي يَسْتَبْشِرُ اللَّهُ عز وجل مِنْهُمَا وَصَالِحُ خَلْقِهِ: فَشَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، فَإِنَّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَوْ كُنَّ حَلْقَةً لَفَصَمَتْهُمَا ، وَلَوْ كُنَّ فِي كِفَّةٍ لَرَجَحَتْ بِهِنَّ ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ ، فَإِنَّهَا صَلَاةُ الْخَلْقِ ، وَبِهَا يُرْزَقُونَ. وَأَمَّا الِاثْنَتَانِ الَّتِي يَحْتَجِبُ اللَّهُ عز وجل مِنْهُمَا وَسَائِرُ خَلْقِهِ ، فَالشِّرْكُ بِهِ ، وَالْكِبْرُ ". فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আদ-দাক্বিক্বী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, খুনাইস ইবনে বাকর ইবনে খুনাইস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যায়েদ ইবনে বাকর ইবনে খুনাইস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর পুত্রকে ওসিয়ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: আমি তোমার প্রতি উপদেশ দীর্ঘ করব না, যাতে তোমার পক্ষে তা ভুলে না যাওয়া সহজ হয়। দুটি বিষয় এমন যাতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর নেককার সৃষ্টি আনন্দিত হন, আর দুটি বিষয় এমন যা থেকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর নেককার সৃষ্টি পর্দা করেন। যে দুটি বিষয় নিয়ে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর নেককার সৃষ্টি আনন্দিত হন, তা হলো: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। কেননা আসমানসমূহ ও যমীন এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে তা যদি একটি সুদৃঢ় বলয় হতো, তবে এই সাক্ষ্য সেটিকে চূর্ণ করে দিত। আর যদি তা পাল্লায় রাখা হতো, তবে এই সাক্ষ্য সেগুলোর তুলনায় ভারী হতো। আর 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' (আল্লাহ অতি পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তাঁরই), কারণ এটি সৃষ্টির সালাত এবং এর মাধ্যমেই তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়। আর যে দুটি বিষয় থেকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর অপরাপর সৃষ্টি পর্দা করেন, তা হলো: আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং অহংকার।" তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন...

(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنِّي لَأُحِبُّ أَنْ يُحْمَلَ مَرْكَبِي ، وَيَلِينَ مَطْعَمِي ، وَتُحْمَلَ عَلَائِقُ سَوْطِي ، وَقِبَالَةُ نَعْلِي ، فَذَاكَ الْكِبْرُ؟ فَقَالَ: «لَا ، وَلَكِنَّ الْكِبْرَ أَنْ تُبْطِرَ الْحَقَّ ، وَتَغْمِصَ النَّاسَ» وَاللَّفْظُ لِابْنِ الْأَعْرَابِيِّ

হে আল্লাহর রাসূল! আমি অবশ্যই পছন্দ করি যে আমার বাহনটি সুন্দর হোক, আমার খাদ্য সুস্বাদু হোক এবং আমার চাবুকের ফিতা ও জুতোর ফিতা পরিপাটি থাকুক; তবে কি এটাই অহংকার? তিনি বললেন: "না, বরং অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।" এই শব্দবিন্যাসটি ইবনুল আরাবির।

(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌وَصِيَّةُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه
আবু বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর ওসিয়ত
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْيَازُورِيُّ بِالرَّمْلَةِ قَالَ: نا حُمَيْدُ بْنُ عَيَّاشٍ السَّافِرِيُّ ، نا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، نا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ ⦗ص: 33⦘ أَرْسَلَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَقَالَ: إِنِّي أُوصِيكَ بِوَصِيَّةٍ ، إِنْ أَنْتَ قَبِلْتَهَا عَنِّي: إِنَّ لِلَّهِ عز وجل حَقًّا بِاللَّيْلِ لَا يَقْبَلَهُ بِالنَّهَارِ ، وَإِنَّ لِلَّهِ عز وجل حَقًّا بِالنَّهَارِ لَا يَقْبَلَهُ بِاللَّيْلِ ، وَإِنَّهُ عز وجل لَا يَقْبَلُ النَّافِلَةَ حَتَّى تُؤَدَّى الْفَرِيضَةُ ، أَلَمْ تَرَ إِنَّمَا ثَقُلَتْ مَوَازِينُ مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فِي الْآخِرَةِ بِاتِّبَاعِهِمُ الْحَقَّ فِي الدُّنْيَا ، وَثَقُلَ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ ، وَحُقَّ لِمِيزَانٍ لَا يُوضَعُ فِيهِ إِلَّا حَقٌّ أَنْ يَثْقُلَ ، أَلَمْ تَرَ إِنَّمَا خَفَّتْ مَوَازِينُ مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فِي الْآخِرَةِ بِاتِّبَاعِهِمُ الْبَاطِلَ فِي الدُّنْيَا ، وَخَفَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ وَحُقَّ لِمِيزَانٍ لَا يُوضَعُ فِيهِ إِلَّا بَاطِلٌ أَنْ يَخِفَّ ، أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَنْزَلَ آيَةَ الرَّجَاءِ عِنْدَ آيَةِ الشِّدَّةِ ، وَآيَةَ الشِّدَّةِ عِنْدَ آيَةِ الرَّجَاءِ ، لِكَيْ يَكُونَ الْعَبْدُ رَاغِبًا رَاهِبًا ، لَا يُلْقِي بِيَدِهِ إِلَى التَّهْلُكَةِ ، لَا يَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ عز وجل غَيْرَ الْحَقِّ. فَإِنْ أَنْتَ حَفِظْتَ وَصِيَّتِي فَلَا يَكُونَنَّ غَائِبٌ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنَ الْمَوْتِ ، وَلَا بُدَّ لَكَ مِنْهُ. وَإِنْ أَنْتَ ضَيَّعْتَ وَصِيَّتِي هَذِهِ فَلَا يَكُونَنَّ غَائِبٌ أَبْغَضَ إِلَيْكَ مِنَ الْمَوْتِ "
আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইয়াযুরি আর-রামলায় আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হুমাইদ ইবনে আইয়াশ আস-সাফিরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুআম্মাল ইবনে ইসমাঈল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি হুমাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবুল মালিহ থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন মৃত্যুশয্যায় সায়িত ছিলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ তখন তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে লোক পাঠালেন এবং বললেন: "আমি তোমাকে একটি উপদেশ দিচ্ছি, যদি তুমি তা আমার পক্ষ থেকে গ্রহণ করো: নিশ্চয় মহান আল্লাহর রাতের বেলা কিছু হক (অধিকার) রয়েছে যা তিনি দিনের বেলা কবুল করেন না, আর দিনের বেলা মহান আল্লাহর কিছু হক রয়েছে যা তিনি রাতের বেলা কবুল করেন না। আর মহান আল্লাহ কোনো নফল ইবাদত কবুল করবেন না যতক্ষণ না ফরজ ইবাদত আদায় করা হয়। তুমি কি দেখনি যে, আখিরাতে যাদের পাল্লা ভারী হবে, তাদের পাল্লা ভারী হওয়ার কারণ হলো দুনিয়াতে সত্যের অনুসরণ করা এবং তা পালন করা তাদের নিকট ভারী (কঠিন) ছিল; আর যে পাল্লায় কেবল সত্যই রাখা হবে, তা ভারী হওয়াই সংগত। তুমি কি দেখনি যে, আখিরাতে যাদের পাল্লা হালকা হবে, তাদের পাল্লা হালকা হওয়ার কারণ হলো দুনিয়াতে বাতিলের (অসত্যের) অনুসরণ করা এবং তা পালন করা তাদের নিকট হালকা (সহজ) ছিল; আর যে পাল্লায় কেবল বাতিলই রাখা হবে, তা হালকা হওয়াই সংগত। তুমি কি দেখনি যে, মহান আল্লাহ কাঠিন্যের আয়াতের সাথে আশার আয়াত এবং আশার আয়াতের সাথে কাঠিন্যের আয়াত অবতীর্ণ করেছেন, যাতে বান্দা একই সাথে আশাবাদী ও ভীত থাকতে পারে; সে যেন নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে না দেয় এবং মহান আল্লাহর কাছে সত্য ছাড়া অন্য কিছু কামনা না করে। সুতরাং তুমি যদি আমার এই উপদেশ রক্ষা করো, তবে মৃত্যুর চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো অনুপস্থিত বিষয় তোমার কাছে হবে না, অথচ মৃত্যু তোমার নিকট আসবেই। আর যদি তুমি আমার এই উপদেশ হেলাফেলা করো, তবে মৃত্যুর চেয়ে অধিক অপ্রিয় কোনো অনুপস্থিত বিষয় তোমার কাছে হবে না।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ مَيْمُونٍ الْخَيَّاطُ الْمَكِّيُّ ، نا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ ⦗ص: 34⦘ دِينَارٍ ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ لِي أَبِي: " فِي أَيِّ شَيْءٍ كَفَّنْتُمْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قُلْتُ: فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ. قَالَ: انْظُرِي ثَوْبَيَّ هَذَيْنِ فَاغْسِلُوهُمَا - وَكَانَا مُمَشَّقَيْنِ - وَابْتَاعُوا لِي ثَوْبًا ثَالِثًا ، وَلَا تُغْلُوهُ. قُلْتُ: يَا أَبَتِ إِنَّا مُوسِرُونَ ، مُوَسَّعٌ عَلَيْنَا. قَالَ: يَا بُنَيَّةُ إِنَّ الْحَيَّ أَحَقُّ بِالْجَدِيدِ مِنَ الْمَيِّتِ ، وَإِنَّمَا هُوَ لِلْمُهْلَةِ وَالصَّدِيدِ "
আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাভী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মাইমুন আল-খাইয়্যাত আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ দিনার থেকে বর্ণিত, ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বললেন, "তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কয়টি কাপড়ে কাফন দিয়েছিলে?" আমি বললাম, "তিনটি কাপড়ে।" তিনি বললেন, "আমার এই দুইখানি কাপড় দেখ এবং এগুলো ধৌত করো - সেগুলো গেরুয়া রঙে রঞ্জিত ছিল - এবং আমার জন্য একটি তৃতীয় কাপড় ক্রয় করো, আর তা খুব দামি করো না।" আমি বললাম, "হে পিতা! আমরা তো সচ্ছল, আমাদের সামর্থ্য আছে।" তিনি বললেন, "হে প্রিয় বৎসা! মৃত ব্যক্তির চেয়ে জীবিত ব্যক্তিই নতুন কাপড়ের অধিক হকদার; আর এটি তো কেবল পুঁজ ও বিগলিত লাশের জন্য।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، نا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ ، نا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه لَمَّا حُضِرَ بَعَثَ إِلَى عُمَرَ رضي الله عنه ، فَدَعَاهُ لِيُوصِيَهُ ، فَلَمَّا حَضَرَ قَالَ ⦗ص: 35⦘: " اعْلَمْ أَنَّ لِلَّهَ عز وجل فِي النَّهَارِ حَقًّا لَا يَقْبَلُهُ فِي اللَّيْلِ ، وَاعْلَمْ أَنَّ لِلَّهَ عز وجل فِي اللَّيْلِ حَقًّا لَا يَقْبَلُهُ فِي النَّهَارِ ، وَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا تُقْبَلُ نَافِلَةٌ حَتَّى تُؤَدَّى الْفَرِيضَةُ. وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عز وجل ذَكَرَ أَهْلَ الْجَنَّةِ بِأَحْسَنِ أَعْمَالِهِمْ ، فَيَقُولُ الْقَائِلُ: أَيْنَ يَقَعُ عَمَلِي مِنْ عَمِلِ هَؤُلَاءِ؟ وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ عز وجل تَجَاوَزَ عَنْ سَيِّئِ أَعْمَالِهِمْ فَلَمْ يُثَرِّبْهُ. وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عز وجل ذَكَرَ أَهْلَ النَّارِ بِأَسْوَأِ أَعْمَالِهِمْ ، وَيَقُولُ قَائِلٌ: أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَؤُلَاءِ عَمَلًا ، وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ عز وجل رَدَّ عَلَيْهِمْ أَحْسَنَ أَعْمَالِهِمْ فَلَمْ يَقْبَلْهُ ، وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَنْزَلَ آيَةَ الرَّخَاءِ عِنْدَ آيَةِ الشِّدَّةِ ، وَآيَةَ الشِّدَّةِ عِنْدَ آيَةِ الرَّخَاءِ ، لِيَكُونَ الْمُؤْمِنُ رَاغِبًا رَاهِبًا ، لِئَلَّا يُلْقِيَ بِيَدِهِ إِلَى التَّهْلُكَةِ ، وَلَا يَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ. وَاعْلَمْ أَنَّمَا ثَقُلَتْ مَوَازِينُ مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِاتِّبَاعِهِمُ الْحَقَّ فِي الدُّنْيَا وَثِقَلِ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ، وَاعْلَمْ أَنَّمَا خَفَّتْ مَوَازِينُ مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِاتِّبَاعِهِمُ الْبَاطِلَ فِي الدُّنْيَا ، وَخِفَّةِ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ. فَإِنْ أَنْتَ قَبِلْتَ وَصِيَّتِي هَذِهِ ، فَلَا يَكُونُ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنَ الْمَوْتِ - وَلَا بُدَّ مِنْ لِقَائِهِ - وَإِنْ أَنْتَ ضَيَّعْتَ وَصِيَّتِي هَذِهِ ، فَلَا يَكُونَنَّ شَيْءٌ أَكْثَرَ بُغْضًا إِلَيْكَ مِنَ الْمَوْتِ وَلَسْتَ بِمُعْجِزِهِ "
মুসআব ইবনে ইসমাঈল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আব্দুল আযীয আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে যে, আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) যখন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপনীত হলেন, তখন তিনি ওমরের (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) নিকট লোক পাঠালেন এবং তাকে অসিয়ত করার জন্য ডাকলেন। যখন তিনি উপস্থিত হলেন তখন তিনি বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘: "জেনে রেখো, দিনের বেলায় মহান আল্লাহর একটি হক রয়েছে যা তিনি রাতে গ্রহণ করেন না। আর জেনে রেখো, রাতে মহান আল্লাহর একটি হক রয়েছে যা তিনি দিনে গ্রহণ করেন না। আর জেনে রেখো, ফরজ আদায় না করা পর্যন্ত কোনো নফল ইবাদত কবুল করা হয় না। জেনে রেখো, মহান আল্লাহ জান্নাতীদের তাদের সর্বোত্তম আমলগুলোর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, ফলে কোনো বক্তা বলে ওঠে: এই লোকদের আমলের তুলনায় আমার আমল কোথায়? আর তা এই জন্য যে, মহান আল্লাহ তাদের মন্দ আমলগুলো মার্জনা করে দিয়েছেন এবং সে জন্য তাদের তিরস্কার করেননি। আরও জেনে রেখো, মহান আল্লাহ জাহান্নামীদের তাদের নিকৃষ্টতম আমলগুলোর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, তখন কোনো বক্তা বলে: আমি আমলের দিক থেকে এদের চেয়ে উত্তম। আর তা এই জন্য যে, মহান আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম আমলগুলোকেও ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং তা কবুল করেননি। জেনে রেখো, মহান আল্লাহ সচ্ছলতার আয়াতের পাশাপাশি কঠোরতার আয়াত এবং কঠোরতার আয়াতের পাশাপাশি সচ্ছলতার আয়াত অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মুমিন ব্যক্তি একই সাথে আশাবাদী ও ভীত থাকে; যাতে সে নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেয় এবং আল্লাহর নিকট সত্য ব্যতিরেকে অন্য কিছুর আকাঙ্ক্ষা না করে। জেনে রেখো, কিয়ামতের দিন যাদের পাল্লা ভারী হবে, তা দুনিয়াতে সত্যের অনুসরণ এবং তাদের ওপর সেই সত্যের ভার বা কাঠিন্যের কারণেই ভারী হবে। আর জেনে রেখো, কিয়ামতের দিন যাদের পাল্লা হালকা হবে, তা দুনিয়াতে বাতিলের অনুসরণ এবং তাদের নিকট বাতিলের তুচ্ছতার কারণেই হালকা হবে। সুতরাং তুমি যদি আমার এই অসিয়ত গ্রহণ করো, তবে তোমার নিকট মৃত্যুর চেয়ে প্রিয় আর কিছু হবে না—অথচ তার সাথে তোমার সাক্ষাৎ অনিবার্য। আর যদি তুমি আমার এই অসিয়ত বিনষ্ট করো, তবে মৃত্যুর চেয়ে অধিক অপ্রিয় তোমার নিকট আর কিছু হবে না, অথচ তুমি তাকে পরাস্ত করে এড়িয়ে যেতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ بِشْرٍ الْهَرَوِيُّ ، نا الْفَضْلُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ أَبِي الْعَبَّاسِ الزَّيَّاتُ ، نا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى بْنِ صُبَيْحٍ زَحْمَوَيْهِ أَبُو مُحَمَّدٍ الْوَاسِطِيُّ ، نا الْهَيْثَمُ بْنُ مَحْفُوظٍ أَبُو ⦗ص: 36⦘ سَعْدٍ النَّهْدِيُّ ، نا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كَتَبَ أَبِي رحمه الله وَصِيَّتَهُ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ، هَذَا مَا أَوْصَى بِهِ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي قُحَافَةَ عِنْدَ خُرُوجِهِ مِنَ الدُّنْيَا حِينَ يُؤْمِنُ الْكَافِرُ ، وَيَنْتَهِي الْفَاجِرُ ، وَيَصْدُقُ الْكَاذِبُ ، إِنِّي اسْتَخْلَفْتُ عَلَيْكُمْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ، فَإِنْ يَعْدِلْ فَذَلِكَ ظَنِّي بِهِ ، وَرَجَائِي فِيهِ ، وَإِنْ يَجُرْ وَيُبَدِّلْ فَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ: {وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ} [الشعراء: 227] قَالَ أَبُو سُلَيْمَانَ بْنُ زَبْرٍ: وَالذي كَتَبَ وَصِيَّةَ أَبِي بَكْرٍ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন বিশর আল-হারাউয়ি, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাদল বিন আল-আব্বাস বিন আবি আল-আব্বাস আজ-জাইয়াত, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া বিন সুবাইহ যাহমাওয়াইহি আবু মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাইসাম বিন মাহফুজ আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ সাদ আন-নাহদি, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর অসিয়তনামা লিখেছিলেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি সেই অসিয়ত যা আবু বকর বিন আবি কুহাফা দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় করেছেন, যখন কাফের ঈমান আনে, পাপাচারী বিরত হয় এবং মিথ্যাবাদী সত্য বলে। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর উমর বিন আল-খাত্তাবকে খলিফা নিযুক্ত করলাম। যদি তিনি ইনসাফ করেন, তবে তাঁর সম্পর্কে আমার ধারণা এবং প্রত্যাশা এমনই। আর যদি তিনি জুলুম করেন ও পরিবর্তন করে ফেলেন, তবে অদৃশ্যের জ্ঞান আমার নেই: {আর যারা জুলুম করেছে, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়} [সূরা আশ-শুআরা: ২২৭]। আবু সুলায়মান বিন জাবর বলেন: আর যিনি আবু বকরের অসিয়তনামা লিখেছিলেন তিনি হলেন উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
‌‌وَصِيَّةُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَبِي حَفْصٍ رضي الله عنه
আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ওসিয়ত
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ بْنِ ⦗ص: 37⦘ جَوْصَا ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ ، نا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ رَأْسُ عُمَرَ فِي حِجْرِي لَمَّا طُعِنَ فَقَالَ: " ضَعْ رَأْسِي بِالْأَرْضِ قَالَ: فَظَنَنْتُ أَنَّ ذَلِكَ تَبَرُّمٌ بِهِ ، فَلَمْ أَفْعَلْ. فَقَالَ: ضَعْ خَدِّي بِالْأَرْضِ لَا أُمَّ لَكَ ، وَيْلِي وَوَيْلُ أُمِّي إِنْ لَمْ يَغْفِرِ اللَّهُ عز وجل لِي "
আবু আল-হাসান আহমাদ ইবন উমর ইবন ইউসুফ ইবন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ জাওসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবন উয়ায়নাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন দীনার থেকে, তিনি ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) যখন আঘাতপ্রাপ্ত হলেন তখন তাঁর মাথা আমার কোলে ছিল, তখন তিনি বললেন: "আমার মাথা মাটিতে রাখো।" তিনি (ইবন উমর) বলেন: আমি মনে করলাম যে তিনি হয়তো এতে অস্বস্তি বোধ করছেন, তাই আমি তা করলাম না। অতঃপর তিনি বললেন: "আমার গাল মাটিতে রাখো, তোমার মা তোমাকে হারাক! আমার জন্য দুর্ভোগ এবং আমার মায়ের জন্য দুর্ভোগ যদি মহান আল্লাহ আমাকে ক্ষমা না করেন।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ السَّامِرِيُّ ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْبَلَدِيُّ ، ثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ ، ثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَأْسُ عُمَرَ عَلَى فَخِذِي فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَقَالَ: " ضَعْ ⦗ص: 38⦘ رَأْسِي عَلَى الْأَرْضِ ، فَقُلْتُ: مَا عَلَيْكَ كَانَ عَلَى الْأَرْضِ ، أَوْ كَانَ عَلَى فَخِذِي؟ فَقَالَ: لَا أُمَّ لَكَ ، ضَعْهُ عَلَى الْأَرْضِ ، فَوَضَعْتُهُ عَلَى الْأَرْضِ ، فَقَالَ: وَيْلِي وَوَيْلُ أُمِّي إِنْ لَمْ يَرْحَمْنِي رَبِّي عز وجل "
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জাফর আস-সামিরী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আল-হাইসাম আল-বালাদী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আদম বিন আবি ইয়াস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শুবা, আসিম বিন উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি সালিম বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমরের মাথা আমার উরুর ওপর ছিল তাঁর সেই অসুস্থতার সময় যাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অতঃপর তিনি বললেন: "রাখো ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আমার মাথা মাটির ওপর।" আমি বললাম: "তাতে আপনার কী আসে যায়, তা মাটির ওপর থাকল নাকি আমার উরুর ওপর থাকল?" তিনি বললেন: "তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, এটি মাটির ওপর রাখো।" অতঃপর আমি তা মাটির ওপর রাখলাম। তখন তিনি বললেন: "হায় আমার ধ্বংস এবং হায় আমার জননীর ধ্বংস, যদি আমার মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক আমাকে দয়া না করেন।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ السَّامِرِيُّ ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُدَيْلٍ الْإِيَامِيُّ ، نا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ ، نا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ رضي الله عنه جَاءَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ، أَسْلَمْتَ حِينَ كَفَرَ النَّاسُ ، وَجَاهَدْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ خَذَلَهُ النَّاسُ ، وَقُتِلْتَ شَهِيدًا ، وَلَمْ يَخْتَلِفْ عَلَيْكَ اثْنَانِ ، وَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ. فَقَالَ لَهُ: أَعِدْ عَلَيَّ مَقَالَتَكَ ، فَأَعَادَ عَلَيْهِ ، فَقَالَ: «الْمَغْرُورُ مَنْ غَرَرْتُمُوهُ ، وَاللَّهِ لَوْ أَنَّ لِيَ مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ غَرُبَتْ لَافْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ هَوْلِ الْمَطْلَعِ »
মুহাম্মদ ইবনে জাফর আস-সামিরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুদাইল আল-ইইয়ামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আশ-শা'বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আঘাতপ্রাপ্ত হলেন, তখন ইবনে আব্বাস আসলেন এবং বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন যখন মানুষ কুফরি করছিল, আপনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে জিহাদ করেছিলেন যখন মানুষ তাঁকে ত্যাগ করেছিল, আপনি শহীদ হিসেবে নিহত হচ্ছেন, আপনার ব্যাপারে দুইজন মানুষও মতভেদ করেনি এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে তিনি আপনার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। তখন তিনি (উমর) তাকে বললেন: তোমার কথাগুলো আমার কাছে পুনরায় বলো। ফলে তিনি তাঁর নিকট পুনরায় তা বললেন। তখন তিনি বললেন: "প্রতারিত সেই ব্যক্তি যাকে তোমরা প্রতারিত করেছ। আল্লাহর কসম, সূর্য যার উপর উদিত হয় বা অস্ত যায় সেই সবকিছুর মালিক যদি আমি হতাম, তবে পরকালের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে আমি তা মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিতাম।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ ⦗ص: 39⦘ الصَّائِغُ ، نا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ أَنَّ أَبَا النَّضْرِ حَدَّثَهُ ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ لَهُ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ: هَنِيئًا لَكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ الْجَنَّةَ، فَقَالَ: «يَا ابْنَ أُمِّ الْمُغِيرَةِ ، وَمَا يُدْرِيكَ؟ وَالذي نَفْسِي بِيَدِهِ » لَوْ كَانَ لِي مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ إِلَى الْمَغْرِبِ لَافْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ هَوْلِ الْمَطْلَعِ "
আমাদের নিকট আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আলী বিন যায়িদ ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ আস-সাইগ বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট সাঈদ বিন মানসুর বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আমর বিন আল-হারিস অবহিত করেছেন যে, আবু আন-নাদর তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান বিন ইয়াসার থেকে বর্ণিত, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন মুগীরা বিন শু'বা তাঁকে বললেন: "হে আমীরুল মু'মিনীন, জান্নাত আপনার জন্য আনন্দদায়ক হোক!" তখন তিনি বললেন: "হে মুগীরার মায়ের পুত্র! তুমি কী জানো? যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, যদি পূর্ব থেকে পশ্চিমের মধ্যবর্তী সব কিছু আমার হতো, তবে আমি (মৃত্যু পরবর্তী) পরিস্থিতির ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে তার বিনিময়ে তা মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিতাম।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়াল উলামা ইনদা হুদূরিল মাওত লি ইবনি জিবর আর রুবায়ী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
‌‌وَصِيَّةُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه
উসমান ইবনে আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর অসিয়তনামা