(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
من عاش بعد الموت لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: كتاب من عاش بعد الموت

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: محمد حسام بيضون

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1413

عدد الصفحات: 55

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত যারা মৃত্যুর পর জীবিত হয়েছেন   (ইবন আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: কিতাবু মান আশা বা'দাল মাওত (মৃত্যুর পর যারা জীবিত হয়েছেন)

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবন আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ হুসাম বায়দুন

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٢)
1 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَمِينُ تَقِيُّ الدِّينِ أَحْمَدُ بْنُ حَمْزةَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ السُّلَمِيُّ الدِّمَشْقِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي جَامِعِ دِمَشْقٍ حَرَسَهَا اللَّهُ تَعَالَى بِتَارِيخِ. . . قَالَ: أَخْبرَنَا الشَّيْخَانِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ يَحْيَى، وَأَبُو غَالِبٍ أَحْمَدُ ابْنَا أَبِي عَلِيٍّ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَنَّا فِي كَتَابَيْهِمَا، وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَكِّيُّ رضي الله عنه قَالَا: أَخْبَرَنَا وَالِدُنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَنَّا قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْذَعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي ذِي الْقِعْدَةِ مِنْ سَنَةِ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّه ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا قال: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشِ بْنِ عَجْلَانَ الْمُهَلَّبِيُّ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ بَسَّامٍ، قَالَا: نا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " عُدْتُ شَابًّا مِنَ الْأَنْصَارِ فَمَا كَانَ بِأَسْرَعَ مَنْ أَنْ مَاتَ، فَأَغْمَضْنَاهُ وَمَدَدْنَا عَلَيْهِ الثَّوْبَ، فَقَالَ بَعْضُنَا لِأُمِّهِ: احْتَسِبِيهِ، قَالَتْ: وَقَدْ مَاتَ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَتْ: أَحَقٌّ مَا تَقُولُونَ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، فَمَدَّتْ يَدَيْهَا إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَتْ:‌‌ اللَّهُمَّ إِنِّي آمَنْتُ بِكَ، وَهَاجَرْتُ إِلَى رَسُولِكَ، فَإِذَا أَنْزَلْتَ بِي شِدَّةً شَدِيدَةً دَعَوْتُكَ، فَفَرَّجْتَهَا، فَأَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ لَا تَحْمِلْ عَلَيَّ هَذِهِ الْمُصِيبَةَ الْيَوْمَ. قَالَ: فَكَشَفَ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ فَمَا بَرِحْنَا حَتَّى أَكَلْنَا وَأَكَلَ مَعَنَا "
১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ, ইমাম, বিশ্বস্ত তাকিউদ্দীন আহমদ ইবনে হামজা ইবনে আলী ইবনে হাসান আল-সুলামি আদ-দিমাশকি, দামেস্কের জামে মসজিদে তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন—তারিখ... তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ আবু আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া এবং আবু গালিব আহমদ, যাঁরা আবু আলী হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল বান্নার দুই পুত্র, তাঁদের কিতাবসমূহে। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-মাক্কি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের পিতা শাইখ ইমাম আবু আলী হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল বান্না। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আল-বারযাঈ, ৩২৯ হিজরি সালের জিলকদ মাসে তাঁর সামনে পাঠকালে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবিদ দুনিয়া। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে খিদাশ ইবনে আজলান আল-মুহাল্লাবি এবং ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে বাসসাম। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালিহ আল-মুরি, সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আনসারদের এক যুবককে দেখতে (অসুস্থ অবস্থায়) গিয়েছিলাম, কিন্তু সে দ্রুতই মৃত্যুবরণ করল। আমরা তার চোখ বন্ধ করে দিলাম এবং তার ওপর কাপড় টেনে দিলাম। তখন আমাদের কেউ তার মাকে বললেন: 'আপনি সবর করুন এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা রাখুন।' তিনি বললেন: 'সে কি মারা গেছে?' আমরা বললাম: 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন: 'তোমরা যা বলছ তা কি সত্য?' আমরা বললাম: 'হ্যাঁ।' তখন তিনি আকাশের দিকে তাঁর দুই হাত প্রসারিত করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি ঈমান এনেছি এবং তোমার রাসূলের পানে হিজরত করেছি। তাই যখনই আমি কোনো কঠিন বিপদে পড়েছি এবং তোমাকে ডেকেছি, তখনই তুমি তা দূর করে দিয়েছ। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আজ আমার ওপর এই মুসিবত চাপিয়ে দিও না। বর্ণনাকারী বলেন: অমনি যুবকটি তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলল। আমরা সেখান থেকে প্রস্থান করার আগেই সে আমাদের সাথে খাবার খেল।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٢)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: فَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَسْوَدِ التَّمِيمِيُّ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ هَاشِمِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ صَالِحٍ الْمُرِّيِّ، قَالَ: حَدَّثْتُ بِهَذَا، حَفْصَ بْنَ النَّضْرِ السُّلَمِيَّ فَعَجِبَ مِنْهُ، ثُمَّ لَقِيَنِي الْجُمُعَةَ الثَّانِيَةَ، فَقَالَ: إِنِّي عَجِبْتُ مِنْ حَدِيثِكَ فَلَقِيتُ رَبِيعَةَ بْنَ كُلْثُومٍ فَحَدَّثَنِي: " أَنَّ رَجُلًا حَدَّثَهُ أَنَّهُ كَانَتْ لَهُ جَارَةٌ عَجُوزٌ كَبِيرَةٌ صَمَّاءُ عَمْيَاءُ مُقْعَدَةٌ، لَيْسَ لَهَا أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ إِلَّا ابْنٌ لَهَا، هُوَ السَّاعِي عَلَيْهَا، فَمَاتَ فَأَتَيْنَاهَا فَنَادَيْنَاهَا: احْتَسِبِي مُصِيبَتَكِ عَلَى اللَّهِ تبارك وتعالى، فَقَالَتْ: وَمَا ذَاكَ؟ أَمَاتَ ابْنِي؟‌‌ مَوْلَايَ أَرْحَمُ بِي، لَا يَأْخُذُ مِنِّي ابْنِي، وَأَنَا صَمَّاءُ عَمْيَاءُ مُقْعَدَةٌ، لَيْسَ لِي أَحَدٌ، مَوْلَايَ أَرْحَمُ بِي مِنْ ذَاكَ ⦗ص: 13⦘، قَالَ: قُلْتُ: ذَهَبَ عَقْلُهَا، فَانْطَلَقْتُ إِلَى السُّوقِ فَاشْتَرَيْتُ كَفَنَهُ وَجِئْتُ بِهِ وَهُوَ قَاعِدٌ "
২ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আসওয়াদ আত-তামিমি আমার নিকট আবু নসর হাশিম ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি সলিহ আল-মুররি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হাফস ইবনুন্নাসর আস-সুলামির নিকট এই ঘটনাটি বর্ণনা করলে তিনি তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেন। অতঃপর দ্বিতীয় জুমায় তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আমি আপনার বর্ণিত হাদিসটিতে আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলাম, এরপর আমি রাবিআ ইবনে কুলসুমের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে বর্ণনা করেন: "এক ব্যক্তি তাকে জানিয়েছেন যে, তার এক অতি বৃদ্ধা প্রতিবেশী নারী ছিলেন, যিনি বধির, অন্ধ ও পঙ্গু ছিলেন। তার এক ছেলে ব্যতীত দেখাশোনা করার মতো আর কেউ ছিল না, সেই তার সকল প্রয়োজন পূরণ করত। অতঃপর ছেলেটি মারা গেল এবং আমরা তার নিকট এসে তাকে ডেকে বললাম: 'আপনার এই বিপদে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট সওয়াবের আশা রাখুন'। তিনি বললেন: 'তা কী কারণে? আমার ছেলে কি মারা গেছে? আমার মনিব আমার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু, তিনি আমার থেকে আমার ছেলেকে কেড়ে নেবেন না; এমতাবস্থায় যে আমি বধির, অন্ধ ও পঙ্গু এবং আমার কেউ নেই। আমার মনিব আমার প্রতি এর চেয়েও অধিক দয়ালু। ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি (মনে মনে) বললাম, তার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। অতঃপর আমি বাজারে গিয়ে তার কাফন ক্রয় করে নিয়ে আসলাম—এমতাবস্থায় (এসে দেখি) সে (ছেলেটি) বসে আছে।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٣)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ: جَاءَنَا يَزِيدُ بْنُ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ إِلَى حَلْقَةِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِكِتَابِ أَبِيهِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ: " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنَ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ إِلَى أُمِّ عَبْدِ اللَّهِ بِنْتِ أَبِي هَاشِمٍ، سَلَامٌ عَلَيْكِ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكِ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، فَإِنَّكِ كَتَبْتِ إِلَيَّ لَأَكْتُبَ إِلَيْكِ بِشَأْنِ زَيْدِ بْنِ خَارِجَةَ، وَإِنَّهُ كَانَ مِنْ شَأْنِهِ أَنَّهُ أَخَذَهُ وَجَعٌ فِي حَلْقِهِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ مِنْ أَصَحِّ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، فَتُوُفِّيَ بَيْنَ صَلَاةِ الْأُولَى، وَصَلَاةِ الْعَصْرِ، فَأَضْجَعْنَاهُ لِظَهْرِهِ وَغَشَّيْنَاهُ بِبُرْدَيْنِ وَكِسَاءٍ، فَأَتَانِي آتٍ فِي مَقَامِي وَأَنَا أُسَبِّحُ بَعْدَ الْمَغْرِبِ، فَقَالَ: إِنَّ زَيْدًا قَدْ تَكَلَّمَ بَعْدَ وَفَاتِهِ، فَانْصَرَفْتُ إِلَيْهِ مُسْرِعًا وَقَدْ حَضَرَهُ قَوْمٌ مِنَ الْأَنْصَارِ وَهُوَ يَقُولُ أَوْ يُقَالُ عَلَى لِسَانِهِ: الْأَوْسَطُ أَجْلَدُ الْقَوْمِ الَّذِي كَانَ لَا يُبَالِي فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ، كَانَ لَا يَأْمُرُ النَّاسَ أَنْ يَأْكُلَ قَوِيُّهُمْ ضَعِيفَهُمْ عَبْدُ اللَّهِ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ صِدْقٌ صِدْقٌ، كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ الْأَوَّلِ. قَالَ ⦗ص: 14⦘: ثُمَّ قَالَ: عُثْمَانُ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ، وَهُوَ يُعَافِي النَّاسَ مِنْ ذُنُوبٍ كَثِيرَةٍ، خَلَتْ لَيْلَتَانِ وَبَقِيَ أَرْبَعٌ، ثُمَّ اخْتَلَفَ النَّاسُ وَأَكَلَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا؛ فَلَا نِظَامَ، وَأُبِيحَتِ الْأَحِمَّاءُ، ثُمَّ ارْعَوَى الْمُؤْمِنُونَ، فَقَالُوا: كِتَابُ اللَّهِ وَقَدَرُهُ، أَيُّهَا النَّاسُ‌‌ أَقْبِلُوا عَلَى أَمِيرِكُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا، فَمَنْ تَوَلَّى فَلَا يَعْهَدَنَّ دَمًا، كَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا، اللَّهُ أَكْبَرُ، هَذِهِ الْجَنَّةُ وَهَذِهِ النَّارُ، وَيَقُولُ النَّبِيُّونَ وَالصِّدِّيقُونَ: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ. يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ، هَلْ أَحْسَسْتَ لِي خَارِجَةَ لِأَبِيهِ وَسَعْدًا؟ اللَّذَيْنِ قُتِلَا يَوْمَ أُحُدٍ، {كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَى تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى} [المعارج: 16] ثُمَّ خَفَتَ صَوْتُهُ، فَسَأَلْتُ الرَّهْطَ عَمَّا سَبَقَنِي مِنْ كَلَامِهِ، فَقَالُوا: سَمِعْنَاهُ يَقُولُ: أَنْصِتُوا أَنْصِتُوا، فَنَظَرَ بَعْضُنَا إِلَى بَعْضٍ، فَإِذَا الصَّوْتُ مِنْ تَحْتِ الثِّيَابِ، فَكَشَفْنَا عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ: هَذَا أَحْمَدُ رَسُولُ اللَّهِ، سَلَامٌ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، ثُمَّ قَالَ: أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ الْأَمِينُ خَلِيفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، كَانَ ضَعِيفًا فِي جِسْمِهِ، قَوِيًّا فِي أَمْرِ اللَّهِ، صِدْقٌ صِدْقٌ، وَكَانَ فِي الْكِتَابِ الْأَوَّلِ "

 

4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنِي عِكْرِمَةُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ: قَرَأْتُ كِتَابًا كَانَ عِنْدَ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ كَتَبَهُ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ إِلَى أُمِّ خَالِدٍ: أَمَّا بَعْدَ، فَإِنَّكِ كَتَبْتِ تَسْأَلِينِي عَنْ حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ خَارِجَةَ الَّذِي تَكَلَّمَ بَعْدَ وَفَاتِهِ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ
৩ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু মুসলিম আব্দুর রহমান ইবন ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবন ইদ্রিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবন আবি খালিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবনুন নুমান ইবনে বশীর আল-কাসিম ইবন আব্দুর রহমানের মজলিসে তাঁর পিতা নুমান ইবনে বশীরের একটি চিঠি নিয়ে আসলেন: "বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। নুমান ইবনে বশীরের পক্ষ থেকে উম্মে আব্দুল্লাহ বিনতে আবি হাশিমের প্রতি, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনার কাছে সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি যায়েদ ইবনে খারিজার অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য আমার কাছে লিখেছিলেন। তাঁর অবস্থা ছিল এই যে, তাঁর গলায় ব্যথা অনুভূত হয়েছিল, অথচ তিনি তখন মদীনার সবচেয়ে সুস্থ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি প্রথম নামায (যোহর) ও আসরের নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। আমরা তাঁকে তাঁর পিঠের ওপর শুইয়ে দিলাম এবং দু’টি চাদর ও একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলাম। আমি যখন মাগরিবের পর তাসবীহ পাঠ করছিলাম, তখন এক ব্যক্তি আমার অবস্থানে এসে বললেন: যায়েদ তাঁর মৃত্যুর পর কথা বলেছেন। আমি দ্রুত তাঁর কাছে গেলাম, তখন আনসারদের একদল লোক তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলছিলেন অথবা তাঁর জিহ্বা দিয়ে বলানো হচ্ছিল: 'মধ্যবর্তী ব্যক্তিটি (উমর) ছিলেন অত্যন্ত কঠোর, যিনি আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। তিনি মানুষকে এমন আদেশ দিতেন না যে, তাদের সবলরা যেন দুর্বলদের গ্রাস করে। আব্দুল্লাহ মুমিনদের আমির, সত্য, সত্য; তা প্রথম কিতাবে বিদ্যমান ছিল।' ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ অতঃপর তিনি বললেন: 'উসমান মুমিনদের আমির, তিনি মানুষের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন। দুই রাত অতিক্রান্ত হয়েছে এবং চার রাত বাকি আছে। অতঃপর মানুষ মতভেদ করবে এবং একে অপরকে গ্রাস করবে; তখন কোনো শৃঙ্খলা থাকবে না এবং সংরক্ষিত এলাকাগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এরপর মুমিনরা ফিরে আসবে এবং বলবে: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর তাকদীর। হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের আমিরের দিকে অগ্রসর হও, শোনো ও আনুগত্য করো। যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে যেন রক্তের কোনো প্রতিশ্রুতি (নিরাপত্তা) না পায়। আল্লাহর নির্দেশ সুনির্ধারিত তাকদীর। আল্লাহ সবচেয়ে মহান, এই যে জান্নাত এবং এই যে জাহান্নাম। নবীগণ ও সিদ্দীকগণ বলছেন: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা! তুমি কি আমার জন্য খারিজা ও তাঁর পিতা সাদকে দেখতে পেয়েছ? যারা ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। "কখনো নয়, তা তো লেলিহান অগ্নি, যা চামড়া তুলে দেবে। সে তাকে ডাকবে যে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল ও বিমুখ হয়েছিল এবং সম্পদ পুঞ্জীভূত ও সংরক্ষিত করেছিল।" [মাআরিজ: ১৬-১৮] এরপর তাঁর কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে এল। আমি উপস্থিত লোকদের কাছে তাঁর পূর্ববর্তী কথাগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁরা বললেন: আমরা তাঁকে বলতে শুনেছি: 'চুপ থাকো, চুপ থাকো।' আমরা একে অপরের দিকে তাকালাম এবং দেখলাম শব্দটা কাপড়ের নিচ থেকে আসছে। আমরা তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরালাম, তখন তিনি বললেন: 'ইনি আল্লাহর রাসূল আহমাদ, আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূল।' অতঃপর তিনি বললেন: 'আবু বকর সিদ্দীক আমানতদার, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলিফা; তিনি শরীরে দুর্বল ছিলেন কিন্তু আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে শক্তিশালী ছিলেন। সত্য, সত্য; তা প্রথম কিতাবে বিদ্যমান ছিল'।"

 

৪ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আলী ইবনুল জাদ বর্ণনা করেছেন, ইকরিমা ইবন ইবরাহীম আমাকে আব্দুল মালিক ইবন উমাইর থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাবীব ইবন সালিমের কাছে থাকা একটি কিতাব পাঠ করেছি যা নুমান ইবনে বশীর উম্মে খালিদের কাছে লিখেছিলেন: "অতঃপর, আপনি যায়েদ ইবনে খারিজার হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে আমাকে লিখেছিলেন, যিনি তাঁর মৃত্যুর পর কথা বলেছিলেন," এরপর তিনি পূর্বের অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُبَشِّرٍ مَوْلَى آلِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ:‌‌ حَضَرَتِ الْوَفَاةُ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَمَاتَ، فَسَجَّوْهُ، ثُمَّ تَكَلَّمَ، فَقَالَ: «أَبُو بَكْرٍ الْقَوِيُّ فِي أَمْرِ اللَّهِ الضَّعِيفُ فِيمَا تَرَى الْعَيْنُ، وَعُمَرُ الْأَمِينُ، وَعُثْمَانُ عَلَى مِنْهَاجِهِمْ، انْقَطَعَ الْعَدْلُ، أَكَلَ الشَّدِيدُ الضَّعِيفَ»
৫ - আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: যিয়াদ ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শাবাবাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আয়্যাশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি মুবাশশির (যিনি আলে সাঈদ ইবনুল আসের আযাদকৃত দাস) থেকে, তিনি যুহরী থেকে, আর তিনি সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আনসারদের একজন ব্যক্তির মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো এবং তিনি ইন্তেকাল করলেন। অতঃপর তারা তাকে বস্ত্রাবৃত করলেন। তারপর তিনি কথা বলে উঠলেন এবং বললেন: "আবু বকর আল্লাহর নির্দেশের ক্ষেত্রে শক্তিশালী, যদিও চাক্ষুষ দৃষ্টিতে তিনি দুর্বল প্রতীয়মান হন। আর উমর হলেন আমানতদার, এবং উসমান তাদেরই আদর্শের ওপর অটল। ন্যায়বিচার বিলুপ্ত হয়েছে এবং শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করছে।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ رَوَاحِ بْنِ عَطَاءٍ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " لَمَّا مَاتَ زَيْدُ بْنُ خَارِجَةَ تَنَافَسَتِ الْأَنْصَارُ فِي غُسْلِهِ حَتَّى كَادَ يَكُونُ بَيْنَهُمْ شَيءٌّ، ثُمَّ اسْتَقَامَ رَأْيُهُمْ عَلَى أَنْ يُغَسِّلَهُ الْغُسْلَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ، ثُمَّ يَدْخُلُ مِنْ كُلِّ فَخِذِ سَيِّدِهَا فَيَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءَ صَبَّةً فِي الْغُسْلَةِ الثَّالِثَةِ، وَأُدْخِلْتُ أَنَا فِيمَنْ دَخَلَ، فَلَمَّا ذَهَبْنَا نَصُبُّ عَلَيْهِ تَكَلَّمَ، فَقَالَ:‌‌ مَضَتِ اثْنَتَانِ وَغَبَرَ أَرْبَعٌ، فَأَكَلَ غَنِيُّهُمْ فَقِيرَهُمْ، فَانْفَضُّوا فَلَا نِظَامَ لَهُمْ، أَبُو بَكْرٍ لَيِّنٌ رَحِيمٌ بِالْمُؤْمِنِينَ، شَدِيدٌ عَلَى الْكُفَّارِ، لَا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ، وَعُمَرُ لَيِّنٌ رَحِيمٌ، شَدِيدٌ عَلَى الْكُفَّارِ، لَا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ، وَعُثْمَانُ لَيِّنٌ رَحِيمٌ بِالْمُؤْمِنِينَ، وَأَنْتُمْ عَلَى مِنْهَاجِ عُثْمَانَ فَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا، ثُمَّ خَفَتَ، فَإِذَا اللِّسَانُ يَتَحَرَّكُ وَإِذَا الْجَسَدُ مَيِّتٌ "
৬ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ আর-রাজি, তিনি বলেন: আমি হিশাম ইবনে উবাইদুল্লাহর নিকট থেকে শুনেছি, তিনি রাওয়াহ ইবনে আতা আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে, তিনি বলেন: "যখন জাইদ ইবনে খারিজাহ ইন্তেকাল করলেন, তখন আনসারগণ তাকে গোসল দেওয়ার বিষয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলেন, এমনকি তাদের মধ্যে প্রায় অপ্রীতিকর কিছু ঘটার উপক্রম হলো। অতঃপর তাদের মত এই সিদ্ধান্তে স্থির হলো যে তাকে প্রথম দুইবার গোসল দেওয়া হবে, এরপর তৃতীয়বার গোসলের সময় প্রতিটি গোত্রের নেতা উপস্থিত হয়ে তার ওপর একবার করে পানি ঢালবেন। যারা সেখানে প্রবেশ করেছিলেন তাদের সাথে আমিও প্রবেশ করেছিলাম। অতঃপর যখন আমরা তার ওপর পানি ঢালতে উদ্যত হলাম, তখন তিনি কথা বলে উঠলেন। তিনি বললেন: ‌দুইটি অতিক্রান্ত হয়েছে এবং চারটি বাকি আছে। তাদের ধনীরা দরিদ্রদের গ্রাস করেছে, ফলে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তাদের কোনো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা নেই। আবু বকর অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু মুমিনদের প্রতি, কাফিরদের প্রতি কঠোর, আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেন না। এবং উমরও কোমল ও দয়ালু, কাফিরদের প্রতি কঠোর, আল্লাহর পথে তিনিও কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেন না। এবং উসমান মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু। তোমরা উসমানের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছ, সুতরাং তোমরা শোনো ও আনুগত্য করো। এরপর কণ্ঠস্বর স্তিমিত হয়ে এল; এমতাবস্থায় জিহ্বা নড়ছিল অথচ দেহটি ছিল মৃত।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٥)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ ⦗ص: 16⦘: حَدَّثَنَا أَبُو هَمَّامٍ الصَّلْتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: " كَانَ زَيْدُ بْنُ خَارِجَةَ مِنْ سَرَوَاتِ الْأَنْصَارِ وَكَانَ أَبُوهُ خَارِجَةُ بْنُ سَعْدٍ، حِينَ هَاجَرَ أَبُو بَكْرٍ نَزَلَ عَلَيْهِ فِي دَارِهِ، وَتَزَوَّجَ ابْنَتَهُ ابْنَةَ خَارِجَةَ، وَكَانَ لَهَا زَوْجٌ يُقَالُ لَهُ: سَعْدٌ، فَقُتِلَ أَبُوهُ وَأَخُوهُ سَعْدُ بْنُ خَارِجَةَ يَوْمَ أُحُدٍ، فَمَكَثَ بَعْدَهُمْ حَيَاةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَخِلَافَةَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَسِنِينَ مِنْ خِلَافَةِ عُثْمَانَ، فَبَيْنَا هُوَ يَمْشِي فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ، بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ، إِذْ خَرَّ فَتُوُفِّيَ، فَأُعْلِمَتْ بِهِ الْأَنْصَارُ، فَأَتَوْهُ، فَاحْتَمَلُوهُ إِلَى بَيْتِهِ فَسَجَّوْهُ بِكِسَاءٍ وَبُرْدَيْنِ، وَفِي الْبَيْتِ نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءِ الْأَنْصَارِ يَبْكِينَ عَلَيْهِ، وَرِجَالٌ مِنْ رِجَالِهُمْ، فَمَكَثَ عَلَى حَالِهِ، حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ الْآخِرَةِ سَمِعُوا صَوْتًا يَقُولُ: أَنْصِتُوا. فَنَظَرُوا، فَإِذَا الصَّوْتُ مِنْ تَحْتِ الثِّيَابِ، فَحَسِرُوا عَنْ وَجْهِهِ وَصَدْرِهِ، فَإِذَا الْقَائِلُ يَقُولُ عَلَى لِسَانِهِ:‌‌ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْأُمِّيُّ، خَاتَمُ النَّبِيِّينَ، لَا نَبِيَّ بَعْدَهُ كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ قَالَ الْقَائِلُ عَلَى لِسَانِهِ: صِدْقٌ صِدْقٌ صِدْقٌ، ثُمَّ قَالَ الْقَائِلُ عَلَى لِسَانِهِ: أَبُو بَكْرٍ خَلِيفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصِّدِّيقُ الْأَمِينُ، الَّذِي كَانَ ضَعِيفًا فِي جَسَدِهِ، قَوِيًّا فِي أَمْرِ اللَّهِ، كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ قَالَ الْقَائِلُ عَلَى لِسَانِهِ: صِدْقٌ صِدْقٌ صِدْقٌ، ثُمَّ قَالَ: الْأَوْسَطُ أَجْلَدُ الْقَوْمِ، الَّذِي كَانَ لَا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ، الَّذِي كَانَ يَمْنَعُ النَّاسَ أَنْ يَأْكُلَ قَوِيُّهُمْ ضَعِيفَهُمْ، عَبْدُ اللَّهِ عُمَرُ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ، كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ قَالَ الْقَائِلُ عَلَى لِسَانِهِ: صِدْقٌ صِدْقٌ صِدْقٌ، ثُمَّ قَالَ: عُثْمَانُ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ، وَهُوَ رَحِيمٌ بِالْمُؤْمِنِينَ، وَهُوَ يُعَافِي ⦗ص: 17⦘ النَّاسَ فِي ذُنُوبٍ كَثِيرَةٍ، خَلَتْ لَيْلَتَانِ، جُعِلَتِ السَّنَتَانِ لَيْلَتَيْنِ وَبَقِيَتْ أَرْبَعٌ يَعْنِي: أَرْبَعَ سِنِينَ، وَلَا نِظَامَ لَهُمْ، وَأُبِيحَتِ الْأَحِمَّاءُ، وَدَنَتِ السَّاعَةُ، وَأَكَلَ النَّاسُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، ثُمَّ ارْعَوَى الْمُؤْمِنُونَ، وَقَالُوا: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، كِتَابَ اللَّهِ وَقَدَرَهُ، فَأَقْبِلُوا عَلَى أَمِيرِكُمْ، فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا، فَإِنَّهُ عَلَى مِنْهَاجِهِمْ، فَمَنْ تَوَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَا يَعْهَدَنَّ دَمًا، كَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا مَرَّتَيْنِ ثُمَّ قَالَ: هَذِهِ النَّارُ، وَهَذِهِ الْجَنَّةُ، وَهَؤُلَاءِ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ أَحْسَسْتَ لِي خَارِجَةَ وَسَعْدًا لِأَبِيهِ، وَأَخِيهِ اللَّذَيْنِ قُتِلَا يَوْمَ أُحُدٍ ثُمَّ قَالَ: {كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَى تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى} [المعارج: 16] ثُمَّ قَالَ: هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ " قَالَ النُّعْمَانُ: " فَقِيلَ لِي: إِنَّ زَيْدَ بْنَ خَارِجَةَ قَدْ تَكَلَّمَ بَعْدَ مَوْتِهِ، فَجِئْتُ أَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ، فَقَعَدْتُ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَأَدْرَكْتُ مِنْ كَلَامِهِ وَهُوَ يَقُولُ: الْأَوْسَطُ أَجْلَدُ الْقَوْمِ حَتَّى انْقَضَى الْحَدِيثُ، وَسَأَلْتُ الْقَوْمَ: مَا كَانَ قَبْلِي؟ فَأَخْبَرُونِي "
৭ - আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘: আবু হাম্মাম আস-সালত ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মাসলামাহ ইবনে আলক্বামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে বর্ণিত, তিনি ইয়াযীদ ইবনে নাফে থেকে, তিনি হাবীব ইবনে সালিম থেকে, আর তিনি নুমান ইবনে বশীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যায়দ ইবনে খারিজাহ আনসারদের সরদারদের একজন ছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন খারিজাহ ইবনে সা’দ, যাঁর ঘরে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হিজরতের সময় উঠেছিলেন এবং তাঁর কন্যা বিনতে খারিজাহকে বিবাহ করেছিলেন। তাঁর (সেই কন্যার) একজন স্বামী ছিল যাকে সা’দ বলা হতো। ওহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর পিতা এবং তাঁর ভাই সা’দ ইবনে খারিজাহ শহীদ হন। এরপর তিনি (যায়দ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়, আবু বকর ও ওমরের খেলাফতকালে এবং ওসমানের খেলাফতের কয়েক বছর বেঁচে ছিলেন। একদিন যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে মদীনার কোনো এক পথ দিয়ে চলার সময় তিনি হঠাৎ পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আনসারদের এ বিষয়ে জানানো হলে তাঁরা তাঁর কাছে এলেন এবং তাঁকে বহন করে তাঁর ঘরে নিয়ে গেলেন। এরপর তাঁকে একটি চাদর ও দুটি বুর্দ (বস্ত্র) দিয়ে ঢেকে দিলেন। ঘরে তখন আনসারদের মহিলারা তাঁর জন্য কাঁদছিলেন এবং তাঁদের পুরুষরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এভাবেই পড়ে ছিলেন, অবশেষে মাগরিব ও শেষ এশার মধ্যবর্তী সময়ে তাঁরা একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন যা বলছিল: ‘তোমরা চুপ করো’। তাঁরা তাকিয়ে দেখলেন যে, আওয়াজটি কাপড়ের নিচ থেকে আসছে। তখন তাঁরা তাঁর মুখমণ্ডল ও বুক থেকে কাপড় সরিয়ে দিলেন। দেখা গেল বক্তা তাঁর জবান দিয়ে বলছেন: মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি উম্মি এবং সর্বশেষ নবী, যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। এটি আদি কিতাবে (লওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ ছিল। এরপর বক্তা তাঁর জবান দিয়ে বললেন: সত্য, সত্য, সত্য। এরপর বক্তা তাঁর জবান দিয়ে বললেন: আবু বকর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলিফা, তিনি সিদ্দীক ও আমানতদার। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন, কিন্তু আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি আদি কিতাবে লিপিবদ্ধ ছিল। এরপর বক্তা তাঁর জবান দিয়ে বললেন: সত্য, সত্য, সত্য। এরপর তিনি বললেন: মধ্যম ব্যক্তি (ওমর) লোকজনের মধ্যে সবচেয়ে দৃঢ়, যিনি আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করতেন না। তিনি সবলকে দুর্বলের সম্পদ গ্রাস করা থেকে বিরত রাখতেন। তিনি আল্লাহর বান্দা ওমর, আমিরুল মুমিনীন। এটি আদি কিতাবে লিপিবদ্ধ ছিল। এরপর বক্তা তাঁর জবান দিয়ে বললেন: সত্য, সত্য, সত্য। এরপর তিনি বললেন: ওসমান আমিরুল মুমিনীন, তিনি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি মানুষের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ দুটি রাত অতিবাহিত হয়েছে, দুই বছরকে দুই রাতে পরিণত করা হয়েছে এবং বাকি আছে চার (অর্থাৎ চার বছর)। তখন তাদের কোনো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা থাকবে না, সংরক্ষিত চারণভূমি সবার জন্য বৈধ করে দেওয়া হবে, কিয়ামত নিকটবর্তী হবে এবং মানুষ একে অপরকে গ্রাস করবে। অতঃপর মুমিনরা সতর্ক হবে এবং বলবে: হে লোকসকল! আল্লাহর কিতাব ও তাঁর তাকদিরের দিকে ফিরে এসো। তোমরা তোমাদের আমিরের দিকে অগ্রসর হও এবং তাঁর কথা শোনো ও আনুগত্য করো, কারণ তিনি তাঁদেরই (পূর্বসূরীদের) আদর্শের ওপর আছেন। এরপর যে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে যেন কারো রক্তের ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি না রাখে। আল্লাহর নির্দেশ ছিল সুনির্ধারিত ফয়সালা—কথাটি তিনি দুবার বললেন। এরপর তিনি বললেন: এই যে জাহান্নাম, আর এই যে জান্নাত। এই যে নবীগণ এবং শহীদগণ। আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা! আপনি কি আমার জন্য খারিজাহ এবং তাঁর পিতা ও ভাইয়ের সা’দকে দেখতে পাচ্ছেন, যাঁরা ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন? এরপর তিনি পাঠ করলেন: ‘কখনো নয়! নিশ্চয়ই তা লেলিহান অগ্নি, যা চামড়া তুলে দেবে। তা তাকে ডাকবে যে সত্য থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, আর সম্পদ পুঞ্জীভূত ও সংরক্ষিত করেছিল’ [সূরা আল-মাআরিজ: ১৬-১৮]। এরপর তিনি বললেন: এই যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।" নুমান বলেন: "আমাকে বলা হলো যে যায়দ ইবনে খারিজাহ তাঁর মৃত্যুর পর কথা বলেছেন। তখন আমি লোকজনের ঘাড় টপকিয়ে এলাম এবং তাঁর মাথার কাছে বসলাম। আমি তাঁর কথার সেই অংশটি পেলাম যেখানে তিনি বলছিলেন—‘মধ্যম ব্যক্তি লোকজনের মধ্যে সবচেয়ে দৃঢ়...’ এভাবে শেষ পর্যন্ত শুনলাম। এরপর আমি লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম: আমার আসার আগে তিনি কী কী বলেছিলেন? তখন তাঁরা আমাকে তা বিস্তারিত জানালেন।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٧)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ الْبَزَارُ، نَا خَالِدٌ الطَّحَّانُ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ قَتْلَى مُسَيْلِمَةَ تَكَلَّمَ فَقَالَ: ‌‌«مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، عُثْمَانُ، اللَّيِّنُ، الرَّحِيمُ»
৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালাফ বিন হিশাম আল-বায্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ আত-তাহহান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ বিন উবাইদ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত যে, মুসাইলিমা কর্তৃক নিহত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি কথা বলে উঠলেন এবং বললেন: «মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), আবু বকর সিদ্দিক, উসমান অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু»
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٨)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، ثُمَّ قَالَ: وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ بَكَّارٍ، قَالَ: " كُنَّا إِخْوَةً ثَلَاثَةً، وَكَانَ أَعْبَدَنَا وَأَصْوَمَنَا وَأَفْضَلَنَا الْأوْسَطُ مِنَّا، فَغِبْتُ غَيْبَةً إِلَى السَّوَادِ، ثُمَّ قَدِمْتُ عَلَى أَهْلِي، فَقَالُوا: أَدْرِكْ أَخَاكَ، فَإِنَّهُ فِي الْمَوْتِ، فَخَرَجْتُ أَسْعَى إِلَيْهِ، فَانْتَهَيْتُ وَقَدْ قُضِيَ وَسُجِّيَ بِثَوْبٍ، فَقَعَدْتُ عِنْدَ رَأْسِهِ أَبْكِيهِ، قَالَ: فَرَفَعَ يَدَهُ، فَكَشَفَ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ، وَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، قُلْتُ: أَيْ أَخِي أَحْيَاةٌ بَعْدَ الْمَوْتِ؟ قَالَ: نَعَمْ،‌‌ إِنِّي لَقِيتُ رَبِّي عز وجل فَلَقِيَنِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ، وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، وَإِنَّهُ كَسَانِي ثِيَابًا خُضْرًا مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ، وَإِنِّي وَجَدْتُ الْأَمْرَ أَيْسَرَ مِمَّا تَحْسَبُونَ ثَلَاثًا، فَاعْمَلُوا وَلَا تَفْتُرُوا ثَلَاثًا، إِنِّي لَقِيتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَقْسَمَ أَنْ لَا يَبْرَحَ حَتَّى آتِيَهُ، فَعَجِلُوا جَهَازِي، ثُمَّ طُفِئَ فَكَانَ أَسْرَعَ مِنْ حَصَاةٍ لَوْ أُلْقِيَتْ فِي الْمَاءِ، قَالَ: فَقُلْتُ: عَجِّلُوا جَهَازَ أَخِي "

⦗ص: 19⦘

 

10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، قَالَ: مَاتَ أَخٌ لِي، كَانَ أَصْوَمَنَا فِي الْيَوْمِ الْحَارِّ، وَأَقْوَمَنَا فِي اللَّيْلَةِ الْبَارِدَةِ. . . فَذَكَرَ الْقِصَّةَ وَزَادَ فِيهَا، قَالَ: فَبَلَغَ ذَلِكَ عَائِشَةَ رضي الله عنها، فَصَدَّقَتْهُ وَقَالَتْ: «كُنَّا نَسْمَعُ أَنَّ رَجُلًا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ سَيَتَكَلَّمُ بَعْدَ مَوْتِهِ»
৯ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবন উয়ায়নাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক ইবন উমাইর থেকে, তিনি রিবয়ী ইবন হিরাশ থেকে। অতঃপর তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন বাক্কার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস ইবন উমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক ইবন উমাইর থেকে, তিনি রিবয়ী ইবন হিরাশ থেকে। এটি ইবন বাক্কারের শব্দে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা তিন ভাই ছিলাম। আমাদের মধ্যে মেজ ভাই ছিলেন আমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ইবাদতকারী, সবচেয়ে বেশি রোজা পালনকারী এবং সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। আমি আস-সাওয়াদ অঞ্চলে কিছুদিনের জন্য অনুপস্থিত ছিলাম। এরপর যখন আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে এলাম, তখন তারা বললেন: 'তোমার ভাইয়ের খবর নাও, কারণ সে মৃত্যুশয্যায়।' আমি তার দিকে দৌড়ে গেলাম। আমি পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার প্রাণ নির্গত হলো এবং তাকে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো। আমি তার মাথার কাছে বসে কাঁদতে লাগলাম। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি তার হাত তুললেন এবং মুখ থেকে কাপড়টি সরালেন। তিনি বললেন: 'আসসালামু আলাইকুম'। আমি বললাম: 'হে আমার ভাই! মৃত্যুর পর কি জীবন আছে?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, আমি আমার মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী রবের সাক্ষাৎ পেয়েছি, আর তিনি আমাকে আরাম, সুগন্ধি এবং এমন এক রবের সাথে সাক্ষাৎ করিয়েছেন যিনি রাগান্বিত নন। তিনি আমাকে সুন্দুস ও ইস্তাবরাকের সবুজ রেশমী পোশাক পরিয়েছেন। আর আমি এই বিষয়টিকে তোমরা যা ধারণা করো তার চেয়েও সহজ পেয়েছি—কথাটি তিনি তিনবার বললেন। সুতরাং তোমরা আমল করো এবং শিথিলতা করো না—একথাও তিনবার বললেন। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ পেয়েছি, আর তিনি শপথ করেছেন যে আমি তার কাছে না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে সরবেন না। সুতরাং তোমরা দ্রুত আমার কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করো।' এরপর তিনি প্রাণহীন হয়ে গেলেন, যা ছিল পানিতে নিক্ষিপ্ত নুড়িপাথরের পতনের চেয়েও দ্রুত। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমি বললাম: 'আমার ভাইয়ের কাফন-দাফনের দ্রুত ব্যবস্থা করো'।"

⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘

 

১০ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব ইবন উবাইদ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মাসউদী আমাদের জানিয়েছেন আবদুল মালিক ইবন উমাইর থেকে, তিনি রিবয়ী ইবন হিরাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার এক ভাই মারা গেলেন, যিনি আমাদের মধ্যে উত্তপ্ত দিনে সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন এবং শীতল রাতে সবচেয়ে বেশি নামাজ পড়তেন... এরপর তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করেন এবং তাতে আরও বর্ধিত করেন যে, তিনি বলেন: এরপর এই সংবাদ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট পৌঁছালে তিনি তা সত্য বলে সত্যায়িত করেন এবং বলেন: «আমরা শুনতাম যে, এই উম্মতের জনৈক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর কথা বলবে।»
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ١٩)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْغَطَفَانِيُّ، وَحَفْصُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَا: بَلَغَنَا أَنَّ ابْنَ حِرَاشٍ، كَانَ حَلَفَ أَنْ لَا، يَضْحَكَ أَبَدًا حَتَّى يَعْلَمَ هُوَ فِي الْجَنَّةِ أَوْ فِي النَّارِ، فَمَكَثَ كَذَلِكَ، لَا يُضْحِكُهُ أَحَدٌ فَضَحِكَ حِينَ مَاتَ. . . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: فَبَلَغَ ذَلِكَ عَائِشَةَ رضي الله عنها، فَقَالَتْ: صَدَقَ أَخُو بَنِي عَبْسٍ رحمه الله، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«يَتَكَلَّمُ رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي بَعْدَ الْمَوْتِ مِنْ خِيَارِ التَّابِعِينَ»
১১ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে নাফি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-গাতাফানী এবং হাফস ইবনে ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইবনে হিরাশ শপথ করেছিলেন যে তিনি কখনোই হাসবেন না যতক্ষণ না তিনি জানতে পারেন যে তিনি জান্নাতে না কি জাহান্নামে। তিনি এভাবেই থাকলেন, কেউ তাঁকে হাসাতে পারত না, অতঃপর তিনি যখন মৃত্যুবরণ করলেন তখন হাসলেন। . . অতঃপর তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমায়েরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন, তবে তিনি বলেন: এই সংবাদ আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বলেন: বনু আবসের ভাই (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সত্য বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন)-কে বলতে শুনেছি: “আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ তাবিঈদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি মৃত্যুর পর কথা বলবে।”
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَوْنٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي بَكْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَابِدُ، عَنِ الْحَارِثِ الْغَنَوِيِّ، قَالَ: آلَى رَبِيعُ بْنُ حِرَاشٍ أَلَّا، تَفْتُرَ أَسْنَانُهُ ضَاحِكًا حَتَّى يَعْلَمَ أَيْنَ مَصِيرُهُ؟ قَالَ: فَمَا ضَحِكَ إِلَّا بَعْدَ مَوْتِهِ، قَالَ: وَآلَى أَخُوهُ رِبْعِيٌّ بَعْدَهُ أَنْ لَا يَضْحَكَ حَتَّى يَعْلَمَ أَفِي الْجَنَّةِ هُوَ أَمْ فِي النَّارِ؟ قَالَ الْحَارِثُ الْغَنَوِيُّ: «فَلَقَدْ أَخْبَرَنِي غَاسِلُهُ أَنَّهُ‌‌ لَمْ يَزَلْ مُتَبَسِّمًا عَلَى سَرِيرِهِ وَنَحْنُ نَغْسِلُهُ حَتَّى فَرَغْنَا مِنْهُ»
১২ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু জাফর ইবনু আউন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকর ইবনু মুহাম্মাদ আল-আবিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আল-হারিস আল-গানাওয়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাবী' ইবনু হিরাশ শপথ করেছিলেন যে, তাঁর শেষ পরিণাম কোথায় হবে তা না জানা পর্যন্ত হাসিমুখে তাঁর দাঁত উন্মোচিত হবে না। বর্ণনাকারী বলেন: সুতরাং তিনি তাঁর মৃত্যুর পরই কেবল হেসেছিলেন। তিনি বলেন: তাঁর পর তাঁর ভাই রিবয়ী শপথ করেছিলেন যে, তিনি জান্নাতে থাকবেন নাকি জাহান্নামে তা না জানা পর্যন্ত তিনি হাসবেন না। আল-হারিস আল-গানাওয়ী বলেন: «আমাকে তাঁর গোসলদানকারী জানিয়েছেন যে, আমরা তাঁকে গোসল করানোর সময় তিনি খাটিয়ার ওপর অবিরত হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন, যতক্ষণ না আমরা তা থেকে অবসর হয়েছি।»
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ النُّمَيْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ: أُغْمِيَ عَلَى خَالِي فَسَجَّيْنَاهُ بِثَوْبٍ، وَقُمْنَا نَغْسِلُهُ، فَكَشَفَ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ وَقَالَ: "‌‌ اللَّهُمَّ لَا تُمِتْنِي حَتَّى تَرْزُقَنِي غَزْوًا فِي سَبِيلِكَ، قَالَ: فَعَاشَ بَعْدَ ذَلِكَ حَتَّى قُتِلَ مَعَ الْبَطَّالِ "
১৩ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু যায়িদ আন-নুমাইরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার মামা মূর্ছা গিয়েছিলেন, তখন আমরা তাঁকে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলাম এবং আমরা তাঁকে গোসল করানোর জন্য প্রস্তুত হলাম। তখন তিনি তাঁর চেহারা থেকে কাপড়টি সরিয়ে ফেললেন এবং বললেন: "‌‌হে আল্লাহ, তুমি আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যু দিও না, যতক্ষণ না তুমি আমাকে তোমার পথে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ দান করো। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি জীবিত ছিলেন এবং পরিশেষে আল-বাত্তালের সাথে (যুদ্ধে) শহীদ হন। "
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٠)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُقْبَةُ بْنُ عَمَّارٍ الْعَبْسِيُّ، نَا مُغِيرَةُ بْنُ حَذَفٍ، عَنْ رُؤْبَةَ ابْنَةِ بِيجَانَ، أَنَّهَا مَرِضَتْ مَرَضًا شَدِيدًا حَتَّى مَاتَتْ فِي أَنْفُسِهِمْ، فَغَسَّلُوهَا وَكَفَّنُوهَا، ثُمَّ إِنَّهَا تَحَرَّكَتْ فَنَظَرَتْ إِلَيْهِمْ، فَقَالَتْ: ‌‌«أَبْشِرُوا فَإِنِّي وَجَدْتُ الْأَمْرَ أَيْسَرَ مِمَّا كُنْتُمْ تُخَوِّفُونِي، وَوَجَدْتُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ، وَلَا مُدْمِنُ خَمْرٍ، وَلَا مُشْرِكٌ»
১৪ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন উসমান আল-ইজলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট উকবা বিন আম্মার আল-আবসি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুগিরা বিন হাদাফ বর্ণনা করেছেন রুবা বিনতে বিজান থেকে যে, তিনি কঠিনভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এমনকি তাদের ধারণা অনুযায়ী তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অতঃপর তারা তাকে গোসল করালেন এবং কাফন পরালেন। এরপর তিনি নড়াচড়া করলেন এবং তাদের দিকে তাকালেন। অতঃপর তিনি বললেন: «তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, কেননা আমি বিষয়টিকে তোমরা আমাকে যেমন ভয় দেখাতে তার চেয়ে অনেক সহজ পেয়েছি। আর আমি জানতে পেরেছি যে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তি এবং মুশরিক জান্নাতে প্রবেশ করবে না।»
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْأَشْعَثِ، عَنْ سُفْيَانِ بْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ حَيٍّ، يَقُولُ: أَخْبَرَنِي جَارٌ لِي أَنَّ رَجُلًا، عُرِجَ بِرُوحِهِ فَعُرِضَ عَلَيْهِ عَمَلُهُ، قَالَ: "‌‌ فَلَمْ أَرَنِي اسْتَغْفَرْتُ مِنْ ذَنْبٍ إِلَّا غُفِرَ لِي، وَلَمْ أَرَ ذَنْبًا لَمْ أَسْتَغْفِرْ مِنْهُ إِلَّا وَجَدْتُهُ كَمَا هُوَ، قَالَ: حَتَّى حَبَّةَ رُمَّانٍ كُنْتُ الْتَقَطْتُهَا يَوْمًا، فَكُتِبَتْ لِي بِهَا حَسَنَةٌ، وَقُمْتُ لَيْلَةً أُصَلِّي فَرَفَعْتُ صَوْتِي فَسَمِعَ جَارٌ لِي، فَقَامَ فَصَلَّى فَكُتِبَتْ لِي بِهَا حَسَنَةٌ، وَأَعْطَيْتُ يَوْمًا مِسْكِينًا دِرْهَمًا عِنْدَ قَوْمٍ، لَمْ أُعْطِهِ إِلَّا مِنْ أَجْلِهِمْ، فَوَجَدْتُهُ لَا لِي وَلَا عَلَيَّ "
১৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহীম ইবনুল আশ'আছ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সালিহ ইবনে হাইয়্যকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার এক প্রতিবেশী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তির রূহ (আসমানে) আরোহণ করানো হয়েছিল এবং তার নিকট তার আমলসমূহ পেশ করা হয়েছিল। তিনি বলেন: "‌‌আমি দেখিনি যে কোনো পাপের জন্য ক্ষমা চেয়েছি অথচ তা আমাকে ক্ষমা করা হয়নি; আর এমন কোনো পাপ দেখিনি যার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করিনি অথচ তা অবিকল যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেছে। তিনি বলেন: এমনকি একটি ডালিমের দানা যা আমি একদিন কুড়িয়ে নিয়েছিলাম, সেটির কারণেও আমার জন্য একটি নেকি লেখা হয়েছে। এক রাতে আমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলাম এবং আমার কণ্ঠস্বর উঁচু করলাম, ফলে আমার এক প্রতিবেশী তা শুনতে পেল এবং সেও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করল, এতেও আমার জন্য একটি নেকি লেখা হলো। আর একদিন একদল লোকের উপস্থিতিতে আমি এক অভাবী ব্যক্তিকে একটি দিরহাম দিয়েছিলাম, যা আমি কেবল তাদের কারণেই (তাদের দেখানোর জন্য) দিয়েছিলাম; ফলে আমি সেই আমলটিকে আমার সওয়াবের পাল্লাতেও পেলাম না, আবার গোনাহের পাল্লাতেও পেলাম না।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢١)
16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يُوسُفَ الزِّمِّيُّ، قَالَ ⦗ص: 22⦘: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ صَفْوَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ: كَانَ بِالْكُوفَةِ رَجُلٌ يُعْطِي الْأَكْفَانَ، فَمَاتَ رَجُلٌ، فَقِيلَ لَهُ، فَأَخَذَ كَفَنًا وَانْطَلَقَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى الْمَيِّتِ وَهُوَ مُسَجًّى، فَتَنَفَّسَ وَأَلْقَى الثَّوْبَ، عَنْ وَجْهِهِ وَقَالَ: ‌‌«غَرُّونِي، أَهْلَكُونِي، النَّارَ، أَهْلَكُونِي، النَّارَ» فَقُلْنَا لَهُ: قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، قَالَ: «لَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقُولَهَا» ، قِيلَ: وَلِمَ؟ قَالَ: «لِشَتْمِي أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ»
১৬ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইউসুফ আয-যিম্মী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘: শুয়াইব ইবনে সাফওয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কুফায় একজন লোক ছিল যে কাফন দান করত। অতঃপর এক ব্যক্তি মারা গেল এবং তাকে সে বিষয়ে বলা হলো। ফলে সে একটি কাফন নিল এবং যাত্রা করল, অবশেষে সে মৃত ব্যক্তির নিকট প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে সে বস্ত্রাচ্ছাদিত ছিল। তখন সে (মৃত ব্যক্তি) শ্বাস নিল এবং তার মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে ফেলল এবং বলল: “তারা আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, তারা আমাকে ধ্বংস করেছে; আগুন! তারা আমাকে ধ্বংস করেছে; আগুন!” আমরা তাকে বললাম: “তুমি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বলো।” সে বলল: “আমি তা বলতে সক্ষম নই।” জিজ্ঞেস করা হলো: “কেন?” সে বলল: “আবু বকর ও উমরকে গালি দেওয়ার কারণে।”
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعِ بْنِ الْوَلِيدِ السَّكُونِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ خَلَفَ بْنَ حَوْشَبٍ، يَقُولُ: «مَاتَ رَجُلٌ بِالْمَدَائِنِ، فَلَمَّا غَطَّوْا عَلَيْهِ ثَوْبَهُ، قَامَ بَعْضُ الْقَوْمِ وَبَقِيَ بَعْضُهُمْ، فَحَرَّكَ الثَّوْبَ، أَوْ فَتَحَرَّكَ الثَّوْبُ، فَقَالَ بِهِ فَكَشَفَهُ عَنْهُ» فَقَالَ: "‌‌ قَوْمٌ مُخَضَّبَةٌ لِحَاهُمْ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ يَعْنِي: مَسْجِدَ الْمَدَائِنِ يَلْعَنُونَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما وَيَتَبَرَّءُونَ مِنْهُمَا، الَّذِينَ جَاءُونِي يَقْبِضُونَ رُوحِي يَلْعَنُونَهُمْ وَيَتَبَرَّءُونَ مِنْهُمْ "، قُلْنَا: يَا فُلَانُ لَعَلَّكَ بُلِيتَ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ، فَقَالَ: «أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، ثُمَّ كَانَ كَأَنَّمَا كَانَتْ حَصَاةٌ فَرُمِيَ بِهَا»
১৭ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবনে শুজা ইবনে আল-ওয়ালিদ আল-সাকুনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি খালাফ ইবনে হাওশাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "মাদায়েন শহরে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল। যখন তারা তাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল, তখন উপস্থিত লোকদের মধ্যে কিছু লোক উঠে গেল এবং কিছু লোক রয়ে গেল। এরপর কাপড়টি নড়ে উঠল—অথবা সে কাপড়টি নাড়াল—এবং সে নিজের ওপর থেকে কাপড়টি সরিয়ে ফেলল।" এরপর সে বলল: "‌‌ এই মসজিদে—অর্থাৎ মাদায়েন মসজিদে—এমন একদল লোক আছে যাদের দাড়ি খেজাব দিয়ে রঞ্জিত, তারা আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে অভিশাপ দেয় এবং তাঁদের সাথে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করে। যারা আমার প্রাণ কবজ করতে এসেছিল, তারা তাদের (ওই লোকদের) অভিশাপ দিচ্ছিল এবং তাদের থেকে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করছিল।" আমরা বললাম: "হে অমুক, সম্ভবত আপনিও এই কাজের মাধ্যমে পরীক্ষায় পতিত হয়েছিলেন?" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।" এরপর তার অবস্থা এমন হলো যেন একটি নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে (অর্থাৎ তিনি পুনরায় নিথর হয়ে গেলেন)।
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٢)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي رحمه الله، وَالْحُسَيْنُ بْنُ ⦗ص: 23⦘ الْحَسَنِ، قَالَا: حَدَّثَنَا وَضَّاحُ بْنُ حَسَّانَ الْأَنْبَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْخَصِيبِ، قَالَ: " كُنْتُ بِجَازِرَ، وَكُنْتُ لَا أَسْمَعُ بِمَيِّتٍ مَاتَ إِلَّا كَفَّنْتُهُ، قَالَ: فَأَتَانِي رَجُلٌ، فَقَالَ: إِنَّ هَا هُنَا مَيِّتًا قَدْ مَاتَ وَلَيْسَ عَلَيْهِ كَفَنٌ، قَالَ: فَقُلْتُ لِصَاحِبٍ لِي: انْطَلَقَ بِنَا، فَانْطَلَقْنَا، فَأَتَيْنَاهُمْ، فَإِذَا هُمْ جُلُوسٌ وَبَيْنَهُمْ مَيِّتٌ مُسَجًّى وَعَلَى بَطْنِهِ لَبِنَةٌ، أَوْ طِينَةٌ، فَقُلْتُ: أَلَا تَأْخُذُونَ فِي غُسْلِهِ، فَقَالُوا: لَيْسَ لَهُ كَفَنٌ، فَقُلْتُ لِصَاحِبِي: انْطَلِقْ فَجِئْنَا بِكَفَنٍ، فَانْطَلَقَ، وَجَلَسْتُ مَعَ الْقَوْمِ، فَبَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ إِذْ وَثَبَ فَأَلْقَى اللَّبِنَةَ، أَوِ الطِّينَةَ، عَنْ بَطْنِهِ وَجَلَسَ وَهُوَ يَقُولُ:‌‌ النَّارَ النَّارَ فَقُلْتُ: قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، قَالَ: إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَافِعَتِي، لَعَنَ اللَّهُ مَشْيَخَةً بِالْكُوفَةِ، غَرُّونِي حَتَّى سَبَبْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ، ثُمَّ خَرَّ مَيِّتًا فَقُلْتُ وَاللَّهِ لَا أُكَفِّنُهُ، فَقُمْتُ وَلَمْ أُكَفِّنْهُ " قَالَ: فَأَرْسَلَ إِلَيَّ ابْنُ هُبَيْرَةَ الْأَكْبَرُ، فَسَأَلَنِي أَنْ أُحَدِّثَهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ، فَحَدَّثْتُهُ
১৮ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) এবং হুসাইন ইবনুল ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ হাসান বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ওয়াদদাহ ইবনে হাসসান আল-আনবারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান আল-মুহারিবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবুল খাসীব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি জাজিরে ছিলাম, আর আমি কোনো মৃত ব্যক্তির সংবাদ শুনলেই তাকে কাফন না পরিয়ে ছাড়তাম না। তিনি বলেন: এরপর এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলল: এখানে একজন মৃত ব্যক্তি রয়েছে যে মারা গিয়েছে কিন্তু তার কোনো কাফন নেই। তিনি বলেন: তখন আমি আমার এক সঙ্গীকে বললাম: আমাদের সাথে চলুন। এরপর আমরা রওনা হলাম এবং তাদের নিকট পৌঁছলাম। দেখলাম তারা বসে আছে এবং তাদের মাঝে একজন মৃত ব্যক্তিকে বস্ত্রাবৃত করে রাখা হয়েছে এবং তার পেটের ওপর একটি ইট অথবা মাটির ঢিলা রাখা ছিল। আমি বললাম: আপনারা কি তাকে গোসল দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন না? তারা বলল: তার কোনো কাফন নেই। আমি আমার সঙ্গীকে বললাম: যাও, একটি কাফন নিয়ে এসো। এরপর সে চলে গেল এবং আমি লোকজনের সাথে বসে রইলাম। এমতাবস্থায় আমরা যখন বসে ছিলাম, হঠাৎ সে লাফিয়ে উঠল এবং তার পেট থেকে ইট বা মাটির ঢিলাটি ফেলে দিয়ে বসে পড়ল এবং বলতে লাগল: আগুন! আগুন! তখন আমি বললাম: আপনি বলুন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। সে বলল: এটি আমার কোনো উপকারে আসবে না; কুফার শায়খদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক, তারা আমাকে ধোঁকা দিয়েছে যার ফলে আমি আবু বকর ও উমরকে গালি দিয়েছি। এরপর সে পুনরায় মৃত হয়ে লুটিয়ে পড়ল। তখন আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমি তাকে কাফন পরাব না। সুতরাং আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং তাকে কাফন পরালাম না।" তিনি বলেন: এরপর ইবনে হুবায়রা আল-আকবার আমার নিকট লোক পাঠালেন এবং আমাকে এই ঘটনাটি বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করলেন, তখন আমি তা তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম।
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٣)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَسَدٍ، نَا خَلَفُ بْنُ تَمِيمٍ، حَدَّثَنَا بَشِيرٌ أَبُو الْخَصِيبِ، قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مُوسِرًا تَاجِرًا، وَكُنْتُ أَسْكُنُ مَدَائِنَ كِسْرَى وَذَلِكَ فِي زَمَانِ طَاعُونِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، فَأَتَانِي أَجِيرٌ لِي يُدْعَى أَشْرَفَ، فَقَالَ: إِنَّ هَا ⦗ص: 24⦘ هُنَا فِي بَعْضِ خَانَاتِ الْمَدَائِنِ رَجُلًا مَيِّتًا لَيْسَ يُوجَدُ لَهُ كَفَنٌ، قَالَ: " فَمَضَيْتُ عَلَى دَابَّتِي حَتَّى دَخَلْتُ ذَلِكَ الْخَانَ، فَدُفِعْتُ إِلَى رَجُلٍ مَيِّتٍ، عَلَى بَطْنِهِ لَبِنَةٌ، وَحَوْلَهُ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَذَكَرُوا مِنْ عِبَادَتِهِ وَفَضْلِهِ، قَالَ: فَبَعَثْتُ إِلَى كَفَنٍ يُشْتَرَى لَهُ، وَبَعَثْتُ إِلَى حَافِرٍ يَحْفِرُ قَبْرًا، قَالَ: وَهَيَّأْنَا لَهُ لَبِنًا وَجَلَسْنَا نُسَخِّنُ لَهُ الْمَاءَ لِنَغْسِلَهُ، فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ‌‌ وَثَبَ الْمَيِّتُ وَثْبَةً نَدَرَتِ اللَّبِنَةَ عَنْ بَطْنِهِ، وَهُوَ يُنَادِي بِالْوَيْلِ وَالثُّبُورِ، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ أَصْحَابُهُ تَصَدَّعَ عَنْهُ بَعْضُهُمْ، قَالَ: فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَأَخَذْتُ بِعَضُدِهِ فَهَزَزْتُهُ، فَقُلْتُ: مَا رَأَيْتَ؟ وَمَا حَالُكَ؟ فَقَالَ: صَحِبْتُ مَشْيَخَةً مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ فَأَدْخَلُونِي فِي دِينِهِمْ أَوْ قَالَ: فِي رَأْيِهِمْ أَوْ أَهْوَائِهِمْ عَلَى سَبِّ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما وَالْبَرَاءَةِ مِنْهُمَا، قَالَ: قُلْتُ: فَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَلَا تَعُدْ، فَقَالَ: وَمَا يَنْفَعُنِي وَقَدِ انْطُلِقَ بِي إِلَى مُدْخَلِي مِنَ النَّارِ فَأُرِيتُهُ، ثُمَّ قِيلَ لِي: إِنَّكَ سَتَرْجِعُ إِلَى أَصْحَابِكَ، فَتُحَدِّثُهُمْ بِمَا رَأَيْتَ، ثُمَّ تَعُودُ إِلَى حَالَتِكَ الْأُولَى، فَمَا أَدْرِي أَنْقَضَتْ كَلِمَتُهُ أَوْ عَادَ مَيِّتًا عَلَى حَالِهِ الْأُولَى فَانْتَظَرْتُ حَتَّى أُوتِيتُ بِالْكَفَنِ، فَأَخَذْتُهُ ثُمَّ قُلْتُ: لَا كَفَّنْتُهُ وَلَا غَسَّلْتُهُ وَلَا صَلَّيْتُ عَلَيْهِ، ثُمَّ انْصَرَفْتُ، فَأُخْبِرْتُ أَنَّ النَّفْرَ الَّذِينَ كَانُوا مَعَهُ هُمُ الَّذِينَ وَلَوْا غُسْلَهُ، وَدَفَنَهُ، وَالصَّلَاةَ عَلَيْهِ، وَقَالُوا لِقَوْمٍ، سَمِعُوا مِثْلَ الَّذِي سَمِعْتُ وَتَجَنَّبُوا مِثْلَ الَّذِي تَجَنَّبْتُ: مَا الَّذِي اسْتَنْكَرْتُمْ مِنْ صَاحِبِنَا؟ إِنَّمَا كَانَتْ خَطْفَةً مِنَ شَيْطَانٍ تَكَلَّمَ عَلَى لِسَانِهِ " ⦗ص: 25⦘، قَالَ خَلَفٌ: قُلْتُ: يَا أَبَا الْخَصِيبِ، هَذَا الْحَدِيثُ الَّذِي حَدَّثْتَنِي بِمَشْهَدٍ مِنْكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، بَصُرَ عَيْنِي وَسَمِعَ أُذُنِي، قَالَ خَلَفٌ: فَسَأَلْتُ عَنْهُ، فَذَكَرُوا خَيْرًا

 

20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ خَلَفِ بْنِ تَمِيمٍ، قَالَ: رَأَيْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَسْأَلُ هَذَا الشَّيْخَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ
১৯ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনু আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ ইবনু তামীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বশীর আবু আল-খাসীব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি একজন সচ্ছল ব্যবসায়ী ছিলাম এবং আমি কিসরার শহরগুলোতে (মাদায়েন) বাস করতাম। আর সেটি ছিল ইবনু হুবাইরার মহামারীর সময়। অতঃপর আমার এক কর্মচারী আমার নিকট আসলো যাকে আশরাফ বলা হতো, সে বলল: এখানে ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ মাদায়েনের কোনো এক সরাইখানায় একজন মৃত ব্যক্তি আছে যার কোনো কাফন পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন: "অতঃপর আমি আমার সওয়ারিতে চড়ে চললাম যতক্ষণ না সেই সরাইখানায় প্রবেশ করলাম। সেখানে আমি এক মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছালাম যার পেটের ওপর একটি ইট রাখা ছিল এবং তার চারপাশে তার একদল সাথী ছিল। তারা তার ইবাদত ও ফযীলত বর্ণনা করছিল। তিনি বলেন: আমি তার জন্য কাফন কেনার লোক পাঠালাম এবং কবর খনন করার জন্য খননকারী পাঠালাম। তিনি বলেন: আমরা তার জন্য ইটের ব্যবস্থা করলাম এবং তাকে গোসল করানোর জন্য পানি গরম করতে বসলাম। আমরা এই অবস্থায় ছিলাম যখন—মৃত ব্যক্তিটি হঠাৎ এমন এক লাফ দিল যাতে তার পেটের ওপর থেকে ইটটি ছিটকে পড়ল, আর সে ধ্বংস ও দুর্ভোগের চিৎকার করছিল। যখন তার সাথীরা তা দেখল, তখন তাদের কিছু লোক সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তিনি বলেন: আমি তার নিকটবর্তী হলাম এবং তার বাহু ধরে তাকে নাড়া দিলাম, এরপর বললাম: তুমি কী দেখেছ? আর তোমার অবস্থা কী? সে বলল: আমি কুফার কিছু শায়খদের সাহচর্য গ্রহণ করেছিলাম, তারা আমাকে তাদের ধর্মে —অথবা তিনি বলেছেন: তাদের মতে বা তাদের খেয়াল-খুশিতে— অন্তর্ভুক্ত করেছিল, যা ছিল আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে গালি দেওয়া এবং তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ভিত্তিতে। তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং পুনরায় এমনটা করো না। সে বলল: এটা আমার কী উপকারে আসবে যখন আমাকে জাহান্নামে আমার প্রবেশের স্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আমাকে তা দেখানো হয়েছে। এরপর আমাকে বলা হয়েছে: নিশ্চয়ই তুমি তোমার সাথীদের কাছে ফিরে যাবে এবং তুমি যা দেখেছ তা তাদের বলবে, এরপর তুমি তোমার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। আমি জানি না তার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সে কি পুনরায় মৃত হয়ে গিয়েছিল নাকি তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে গিয়েছিল। এরপর আমি অপেক্ষা করলাম যতক্ষণ না কাফন আনা হলো, আমি তা গ্রহণ করলাম এবং বললাম: আমি তাকে কাফন পরাব না, গোসল করাব না এবং তার জানাযাও পড়ব না। এরপর আমি চলে গেলাম। পরবর্তীতে আমাকে জানানো হলো যে, যারা তার সাথে ছিল তারাই তার গোসল, দাফন ও জানাযার দায়িত্ব পালন করেছে। তারা সেই লোকদের বলল যারা আমার মতো শুনেছিল এবং আমার মতো বর্জন করেছিল: তোমরা আমাদের সাথীর ব্যাপারে কী অপছন্দ করলে? এটা তো ছিল শয়তানের পক্ষ থেকে একটি ছোঁবল যা তার জিহ্বা দিয়ে কথা বলেছে।" ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘, খালাফ বলেন: আমি বললাম: হে আবু আল-খাসীব, এই হাদিস যা আপনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন তা কি আপনার চাক্ষুষ দেখা? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমার চোখের দেখা এবং আমার কানের শোনা। খালাফ বলেন: আমি তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তারা কল্যাণের কথা উল্লেখ করেছিল।

 

২০ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনু মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ ইবনু তামীম থেকে, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে দেখেছি তিনি এই শায়খকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন।
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: انْتَهَيْنَا إِلَى أَفْنِيَةِ جُهَيْنَةَ، فَإِذَا شَيْخٌ جَالِسٌ فِي بَعْضِ أَفْنِيَتِهِمْ، فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَحَدَّثَنِي، قَالَ: " إِنَّ رَجُلًا مِنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ اشْتَكَى، فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ فَسَجَّيْنَاهُ، وَظَنَنَّا أَنَّهُ قَدْ مَاتَ وَأَمَرْنَا بِحُفْرَتِهِ أَنْ تُحْفَرَ، فَبَيْنَا نَحْنُ عِنْدَهُ إِذْ جَلَسَ فَقَالَ: إِنِّي أَتَيْتُ حَيْثُ رَأَيْتُمُونِي أُغْمِيَ عَلَيَّ، فَقِيلَ لِي:

‌‌أُمُّكَ هُبَلْ … أَلَا تَرَى حُفْرَتَكَ تُنْتَثَلْ

وَقَدْ كَادَتْ أُمُّكَ تُثْكَلْ … أَرَأَيْتَ إِنْ حَوَّلْنَاهَا عَنْكَ بِمِحْوَلْ

وَقَذَفْنَا
فِيهَا الْقَصْلَ ⦗ص: 26⦘ … الَّذِي مَشَى فَأَجْزَلْ

أَتَشْكُرُ لِرَبِّكَ وَتُصَلْ … وَتَدَعُ سَبِيلَ مَنْ أَشْرَكَ وَأَضَلْ "

فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَأُطْلِقْتُ، فَانْظُرُوا مَا فَعَلَ الْقَصْلُ؟ قَالُوا: «مَرَّ آنِفًا، فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ، فَوَجَدُوهُ قَدْ مَاتَ، فَدُفِنَ فِي الْحُفْرَةِ، وَعَاشَ الرَّجُلُ حَتَّى أَدْرَكَ الْإِسْلَامَ»

 

22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، نَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَيْخٌ، مِنْ جُهَيْنَةَ. . . فَذَكَرَ الْقِصَّةَ، قَالَ: فَرَأَيْتُ الْجُهَنِيَّ بَعْدَ ذَلِكَ «يُصَلِّي وَيَسُبُّ الْأَوْثَانَ وَيَقَعُ فِيهَا»

 

23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو الرَّقِّيِّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: مَرِضَ رَجُلٌ مِنْ جُهَيْنَةَ فِي بَدْءِ الْإِسْلَامِ حَتَّى ظَنَّ أَهْلُهُ أَنَّهُ قَدْ مَاتَ، وَحُفِرَتْ حُفْرَتُهُ فَذَكَرَ الْقِصَّةَ، وَزَادَ فِي الشِّعْرِ

ثُمَّ قَذَفْنَا فِيهَا الْقَصْلَ … ثُمَّ مَلَأْنَاهَا عَلَيْهِ بِالْجَنْدَلْ

إِنَّهُ ظَنَّ أَنْ لَنْ يُفْعَلْ

قَالَ: وَزَادَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي هَذَا الشِّعْرِ بَيْتًا آخَرَ:

أَتُؤْمِنُ بِالنَّبِيِّ الْمُرْسَلْ
২১ - আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ আল-হারাবী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবি যায়দাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুজালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমির থেকে, তিনি বলেন: আমরা জুহায়নার আঙিনায় পৌঁছলাম। সেখানে তাদের কোনো এক আঙিনায় একজন বৃদ্ধ বসে ছিলেন। আমি তাঁর কাছে বসলাম এবং তিনি আমার কাছে বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন: "জাহেলিয়াতের যুগে আমাদের এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে, এরপর সে অচেতন হয়ে যায়। তখন আমরা তাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলাম এবং আমরা ধারণা করলাম যে সে মারা গেছে। আমরা তার কবর খনন করার আদেশ দিলাম। এমতাবস্থায় আমরা তার কাছে ছিলাম, হঠাত সে উঠে বসল এবং বলল: তোমরা আমাকে যেখানে অচেতন অবস্থায় দেখেছিলে, আমি সেখান থেকে এসেছি। আমাকে বলা হলো:

‌‌তোমার মা তো হুবাল (এর উপাসক) … তুমি কি দেখছ না তোমার কবর খনন করা হচ্ছে?

আর তোমার মা প্রায় সন্তানহারা হতে চলেছিলেন … তুমি কি মনে করো যদি আমরা এটি কোনো কৌশলে তোমার থেকে সরিয়ে দিই?

এবং আমরা তাতে নিক্ষেপ করি
আল-কাসলকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ … যে দম্ভভরে পথ চলত?

তুমি কি তোমার রবের প্রতি কৃতজ্ঞ হবে এবং সালাত আদায় করবে? … আর মুশরিক ও পথভ্রষ্টদের পথ কি বর্জন করবে?"

আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন আমাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এখন তোমরা দেখো আল-কাসল কী করেছে? তারা বলল: সে এইমাত্র এখান দিয়ে অতিক্রম করেছে। এরপর তারা গিয়ে দেখল এবং তাকে মৃত অবস্থায় পেল। তাকে সেই কবরে দাফন করা হলো এবং ওই ব্যক্তিটি ইসলাম পাওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

 

২২ - আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুরাশী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, যিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুজালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শাবী থেকে, তিনি বলেন: জুহায়নার একজন বৃদ্ধ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন... এরপর তিনি পুরো ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: এরপর আমি সেই জুহানি ব্যক্তিকে দেখেছি যে, "সে সালাত আদায় করত এবং মূর্তিদের গালি দিত ও তাদের দোষারোপ করত।"

 

২৩ - আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আর-রাক্কী থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি শাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইসলামের শুরুতে জুহায়নার এক ব্যক্তি অসুস্থ হলেন, এমনকি তার পরিবার ধারণা করল যে সে মারা গেছে। তার কবর খনন করা হলো। এরপর তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করেন এবং কবিতায় আরও বর্ধিত অংশ যোগ করেন:

অতঃপর আমরা তাতে আল-কাসলকে নিক্ষেপ করলাম … এরপর আমরা তার ওপর পাথর দিয়ে তা পূর্ণ করে দিলাম।

নিশ্চয়ই সে ধারণা করেছিল যে তার সাথে এমনটি করা হবে না।

তিনি বলেন: হাসান ইবনে আব্দুল আজিজ এই কবিতায় আমার কাছে আরও একটি পঙক্তি বৃদ্ধি করেছেন:

তুমি কি প্রেরিত নবীর প্রতি ঈমান আনবে?
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعُمَرِيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: بَيْنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَعْرِضُ النَّاسَ، إِذْ مَرَّ بِهِ رَجُلٌ مَعَهُ ابْنٌ لَهُ عَلَى عَاتِقِهِ، فَقَالَ عُمَرُ: «مَا رَأَيْتُ غُرَابًا بِغُرَابٍ أَشْبَهُ مِنْ هَذَا بِهَذَا» فَقَالَ الرَّجُلُ: أَمَا وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَقَدْ‌‌ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ وَهِيَ مَيِّتَةٌ، قَالَ: «وَيْحَكَ وَكَيْفَ ذَاكَ؟» قَالَ: خَرَجْتُ فِي بَعْثِ كَذَا وَكَذَا وَتَرَكْتُهَا حَامِلًا، وَقُلْتُ: أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ مَا فِي بَطْنِكِ، فَلَمَّا قَدِمْتُ مِنْ سَفَرِي أُخْبِرْتُ أَنَّهَا قَدْ مَاتَتْ، فَبَيْنَا أَنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ قَاعِدٌ فِي الْبَقِيعِ مَعَ بَنِي عَمٍّ لِي إِذْ نَظَرْتُ، فَإِذَا ضَوْءٌ شَبِيهٌ بِالسِّرَاجِ فِي الْمَقَابِرِ، فَقُلْتُ: لِبَنِي عَمِّي مَا هَذَا؟ قَالُوا: لَا نَدْرِي، إِلَّا أَنَّا نَرَى هَذَا الضَّوْءَ كُلَّ لَيْلَةٍ عِنْدَ قَبْرِ فُلَانَةٍ، فَأَخَذْتُ مَعِي فَأْسًا، ثُمَّ انْطَلَقْتُ نَحْوَ الْقَبْرِ، فَإِذَا الْقَبْرُ مَفْتُوحٌ، وَإِذَا هُوَ فِي حِجْرِ أُمِّهِ، فَدَنَوْتُ فَنَادَانِي مُنَادٍ أَيُّهَا الْمُسْتَوْدِعُ رَبَّهُ، خُذْ وَدِيعَتَكَ، إِنَّكَ لَوِ اسْتَوْدَعْتَهُ أُمَّهُ لَوَجَدْتَهَا، فَأَخَذْتُ الصَّبِيَّ وَانْضَمَّ الْقَبْرُ " قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: سَأَلْتُ عُثْمَانَ بْنَ زُفَرَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ: قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ عَاصِمٍ
২৫ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদ ইবনে ইসহাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসিম ইবনে মুহাম্মদ আল-উমারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা উমর ইবনুল খাত্তাব লোকজনকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট দিয়ে অতিক্রম করল যার কাঁধে তার একটি পুত্র ছিল। উমর (রা.) বললেন: «আমি একটি কাকের সাথে অন্য একটি কাকের সাদৃশ্যের চেয়ে এই সন্তানের সাথে এই ব্যক্তির অধিক সাদৃশ্য আর দেখিনি» তখন লোকটি বলল: আল্লাহর কসম, হে আমিরুল মুমিনীন! নিশ্চয়ই তাঁর মা তাঁকে মৃত অবস্থায় প্রসব করেছে। তিনি বললেন: «তোমার প্রতি অনুকম্পা হোক, তা কীভাবে সম্ভব?» সে বলল: আমি অমুক অমুক অভিযানে বের হয়েছিলাম এবং তাঁকে গর্ভবতী অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম। আর আমি বলেছিলাম: আমি তোমার গর্ভে যা আছে তা আল্লাহর নিকট আমানত রাখলাম। অতঃপর যখন আমি সফর থেকে ফিরে এলাম, আমাকে জানানো হলো যে সে মারা গেছে। একদিন রাতে আমি আমার কিছু চাচাতো ভাইয়ের সাথে বাকী’ কবরস্থানে বসে ছিলাম, হঠাৎ তাকিয়ে দেখলাম কবরস্থানের মধ্যে চেরাগের ন্যায় একটি আলো জ্বলছে। আমি আমার চাচাতো ভাইদের জিজ্ঞাসা করলাম: এটি কী? তারা বলল: আমরা জানি না, তবে আমরা প্রতি রাতে অমুকের কবরের নিকট এই আলোটি দেখতে পাই। তখন আমি আমার সাথে একটি কুড়াল নিলাম এবং কবরের দিকে রওনা হলাম। গিয়ে দেখলাম কবরটি খোলা রয়েছে এবং শিশুটি তাঁর মায়ের কোলে আছে। আমি নিকটবর্তী হতেই এক আহ্বানকারী আমাকে ডেকে বলল: হে আল্লাহর নিকট আমানত রক্ষাকারী! তোমার আমানত গ্রহণ করো; তুমি যদি তাঁর মাকেও আল্লাহর নিকট আমানত রাখতে, তবে তাকেও (জীবিত) পেতে। তখন আমি শিশুটিকে গ্রহণ করলাম এবং কবরটি একীভূত হয়ে গেল। আবু জাফর বলেন: আমি উসমান ইবনে যুফারকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: আমি এটি আসিম থেকে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ شَابُورَ، عَنْ أَبِي قَزَعَةَ، رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ عَنْهُ أَوْ عَنْ غَيْرِهِ قَالَ ⦗ص: 28⦘: مَرَرْنَا فِي بَعْضِ الْمِيَاهِ الَّتِي بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْبَصْرَةِ، فَسَمِعْنَا نَهِيقَ حِمَارٍ، فَقُلْنَا لَهُمْ:‌‌ مَا هَذَا النَّهِيقُ؟ قَالُوا: " هَذَا رَجُلٌ كَانَ عِنْدَنَا، كَانَتْ أُمُّهُ تُكَلِّمُهُ بِشَيْءٍ، فَيَقُولُ لَهَا: انْهَقِي نَهِيقَكِ «،» وَكَانَتْ أُمُّهُ تَقُولُ: جَعَلَكَ اللَّهُ حِمَارًا، فَلَمَّا مَاتَ سُمِعَ هَذَا النَّهِيقُ عِنْدَ قَبْرِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ "
২৬ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে ইসমাঈল হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না হাদীস বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে শাবূর থেকে, তিনি বসরার জনৈক ব্যক্তি আবু কাযা'আ থেকে, তিনি তার থেকে অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘: আমরা আমাদের এবং বসরার মধ্যবর্তী কোনো একটি জলাশয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমরা গাধার ডাক শুনতে পেলাম। আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম: এই গাধার ডাক কিসের? তারা বলল: "এটি এমন এক ব্যক্তি ছিল যে আমাদের নিকট থাকত, তার মা তাকে কোনো বিষয়ে কিছু বললে সে তাকে বলত: তুমি তোমার গাধার মতো ডাক ডাকো", তার মা বলতেন: আল্লাহ তোমাকে গাধা বানিয়ে দিন। অতঃপর সে যখন মারা গেল, প্রতি রাতে তার কবরের নিকট এই গাধার ডাক শোনা যেত।
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الصَّلْتِ شِهَابُ بْنُ خِرَاشٍ، عَنْ عَمِّهِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: أَرَدْتُ حَاجَةً، فَبَيْنَمَا أَنَا فِي الطَّرِيقِ، إِذْ فَاجَأَنِي حِمَارٌ قَدْ أَخْرَجَ عُنُقَهُ مِنَ الْأَرْضِ، فَنَهِقَ فِي وَجْهِي ثَلَاثًا، ثُمَّ دَخَلَ، فَأَتَيْتُ الْقَوْمَ الَّذِينَ أُرِيدُهُمْ، قَالُوا: «مَا لَنَا نَرَى لَوْنَكَ قَدْ حَالَ» فَأَخْبَرَهُمُ الْخَبَرَ، فَقَالُوا: «مَا تَعْلَمُ مَنْ ذَاكَ؟» قُلْتُ: لَا، قَالُوا: " ذَاكَ غُلَامٌ مِنَ الْحَيِّ، وَتِلْكَ أُمُّهُ فِي ذَلِكَ الْخِبَاءُ، وَكَانَتْ إِذَا أَمَرَتْهُ بِشَيْءٍ شَتَمَهَا وَقَالَ:‌‌ مَا أَنْتِ إِلَّا حِمَارٌ، ثُمَّ نَهِقَ فِي وَجْهِهَا وَقَالَ: هَا هَا هَا، فَمَاتَ يَوْمَ مَاتَ فَدَفَنَّاهُ فِي تِلْكَ الْحَفِيرَةِ، فَمَا مِنْ يَوْمٍ إِلَّا وَهُوَ يُخْرِجُ رَأْسَهُ فِي الْوَقْتِ الَّذِي دَفَنَّاهُ فِيهِ فَيَنْهِقُ إِلَى نَاحِيَةِ الْخِبَاءِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ يَدْخُلُ "
২৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানসুর ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুস সালত শিহাব ইবনে খিরাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর চাচা আওয়াম ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি একটি প্রয়োজনে বেরিয়েছিলাম। পথিমধ্যে হঠাৎ একটি গাধা মাটি থেকে তার ঘাড় বের করে আমার সামনে উপস্থিত হলো এবং আমার মুখের সামনে তিনবার চিৎকার করল, তারপর ভেতরে ঢুকে গেল। এরপর আমি যাদের কাছে যেতে চেয়েছিলাম তাদের নিকট পৌঁছালে তারা বলল: "কী ব্যাপার, আমরা আপনার চেহারা বিবর্ণ দেখছি কেন?" তখন তিনি তাদের কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তারা বলল: "আপনি কি জানেন ওটি কে?" আমি বললাম: "না।" তারা বলল: "সে এই জনপদেরই এক যুবক ছিল এবং ঐ তাঁবুতে তার মা রয়েছেন। মা তাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তাকে গালি দিত এবং বলত: 'তুমি তো একটি গাধা ছাড়া আর কিছু নও।' এরপর সে তার মায়ের সামনে গাধার মতো চিৎকার করত এবং বলত: 'হা হা হা'। অতঃপর যেদিন সে মারা গেল আমরা তাকে ঐ গর্তে দাফন করলাম। এরপর থেকে এমন কোনো দিন যায় না যে দিন সে ঠিক যে সময়ে তাকে দাফন করা হয়েছিল সেই সময়ে তার মাথা বের করে ঐ তাঁবুর দিকে মুখ করে তিনবার গাধার মতো চিৎকার করে না, তারপর পুনরায় ভেতরে ঢুকে যায়।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
28 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الشَّهْرُزُورِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ خِرَاشٍ، عَنْ عَمِّهِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْهُذَيْلِ، قَالَ: " كَانَ رَجُلٌ‌‌ إِذَا كَلَّمَتْهُ أُمُّهُ نَهِقَ فِي وَجْهِهَا ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ لَهَا: إِنَّمَا أَنْتِ حِمَارٌ، فَمَاتَ فَكَانَ يَخْرُجُ مِنْ قَبْرِهِ كُلَّ يَوْمٍ بَعْدَ صَلَاةِ الْعَصْرِ، يَخْرُجُ مِنْ قَبْرِهِ رَأْسُ حِمَارٍ إِلَى صَدْرِهِ فَيَنْهِقُ ثَلَاثًا ثُمَّ يَعُودُ إِلَى قَبْرِهِ "
২৮ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল মুগিরাহ আশ-শাহরুযুরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু তাওবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শিহাব ইবনে খিরাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর চাচা আল-আওয়াম ইবন হাওশাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল হুযাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি এমন ছিল যে, যখনই তার মা তার সাথে কথা বলতেন, সে তাঁর মুখের ওপর তিনবার গাধার ন্যায় ডাকত, তারপর তাঁকে বলত: আপনি তো কেবল একটি গাধা। অতঃপর সে মারা গেল এবং সে তার কবর থেকে বের হতো প্রত্যেক দিন আসরের সালাতের পর; তার কবর থেকে বুক পর্যন্ত গাধার মাথার ন্যায় অংশ বের হতো এবং সে তিনবার গাধার ন্যায় ডাকত, তারপর পুনরায় কবরে ফিরে যেত।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
29 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَأَحْمَدُ بْنُ بُجَيْرٍ وَغَيْرُهُمَا قَالُوا: نَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ قَوْمًا، أَقْبَلُوا مِنَ الْيَمَنِ مُتَطَوِّعِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَنَفِقَ حِمَارُ رَجُلٍ مِنْهُمْ، فَأَرَادُوا أَنْ يَنْطَلِقَ مَعَهُمْ فَأَبَى، فَقَامَ فَتَوَضَّأَ وَصَلَّى، ثُمَّ قَالَ: ‌‌«اللَّهُمَّ إِنِّي جِئْتُ مِنَ الدثينةِ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِكِ وَابْتِغَاءَ مَرْضَاتِكَ، وَإِنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ تُحْيِي الْمَوْتَى وَتَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ، فَلَا تَجْعَلْ لِأَحَدٍ عَلَيَّ مِنَّةً، وَإِنِّي أَطْلُبُ إِلَيْكَ أَنْ تَبْعَثَ لِي حِمَارِي، ثُمَّ قَامَ إِلَى الْحِمَارِ فَضَرَبَهُ، فَقَامَ الْحِمَارُ يَنْفُضُ أُذُنَيْهِ فَأَسْرَجَهُ وَأَلْجَمَهُ، ثُمَّ رَكِبَهُ فَأَجْرَاهُ، فَلَحِقَ بِأَصْحَابِهِ» فَقَالُوا: مَا شَأْنُكَ؟ قَالَ: «شَأْنِي أَنَّ اللَّهَ بَعَثَ لِي حِمَارِي» قَالَ الشَّعْبِيُّ: «فَأَنَا رَأَيْتُ الْحِمَارَ بِيعَ أَوْ يُبَاعُ بِالْكُنَاسَةِ»

⦗ص: 30⦘

 

30 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، نَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَبِي سَبْرَةَ النَّخَعِيِّ، نَحْوَهُ
২৯ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইসমাইল, আহমদ ইবনে বুজাইর এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে বর্ণনা করেন যে, একদল লোক ইয়ামান থেকে আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আসছিলেন, তখন তাঁদের মধ্য থেকে একজনের গাধা মারা গেল। তাঁরা চাইলেন যে সে ব্যক্তি তাঁদের সাথে চলুক, কিন্তু সে অস্বীকার করল। অতঃপর সে দাঁড়িয়ে অজু করল এবং সালাত আদায় করল। এরপর সে বলল: «হে আল্লাহ! আমি দাথিনাহ থেকে আপনার পথে মুজাহিদ হিসেবে এবং আপনার সন্তুষ্টি অন্বেষণে এসেছি। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি মৃতদের জীবিত করেন এবং পুনরুত্থিত করেন যারা কবরে আছে তাদের। সুতরাং আমার ওপর কারো অনুগ্রহ রেখেন না। আর আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে আপনি আমার গাধাটিকে আমার জন্য জীবিত করে দেবেন।» এরপর সে গাধাটির দিকে উঠে গিয়ে সেটিকে আঘাত করল, অমনি গাধাটি তার কান ঝাড়তে ঝাড়তে দাঁড়িয়ে গেল। সে সেটিকে জিন ও লাগাম পরাল, তারপর সেটিতে আরোহণ করে দ্রুত চালিয়ে তার সাথীদের সাথে গিয়ে মিলিত হলো। তারা জিজ্ঞেস করল: «তোমার বিষয়টি কী?» সে বলল: «আমার বিষয়টি হলো এই যে, আল্লাহ আমার জন্য আমার গাধাটিকে জীবিত করে দিয়েছেন।» আশ-শা'বী বলেন: «আমি সেই গাধাটিকে কুনাশাহ নামক স্থানে বিক্রি হতে দেখেছি বা সেটি বিক্রি করা হচ্ছিল।»

⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘

 

৩০ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে আরাফাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইদরিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি আবু সাবরাহ আন-নাখায়ি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
31 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَرِيكٍ النَّخَعِيِّ، " أَنَّ صَاحِبَ الْحِمَارِ رَجُلٌ مِنَ النَّخَعِ، يُقَالُ لَهُ: نُبَاتَةُ بْنُ يَزِيدَ خَرَجَ فِي زَمَنِ عُمَرَ رضي الله عنه غَازِيًا، حَتَّى إِذَا كَانَ بِشَنِّ عَمِيرَةَ نَفِقَ حِمَارُهُ " فَذَكَرَ الْقِصَّةَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ: " فَبَاعَهُ بَعْدُ بِالْكُنَاسَةِ، فَقِيلَ لَهُ: تَبِيعُ حِمَارًا أَحْيَاهُ اللَّهُ لَكَ قَالَ: فَكَيْفَ أَصْنَعُ؟ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ رَهْطِهِ ثَلَاثَةَ أَبْيَاتٍ، فَحَفِظْتُ هَذَا الْبَيْتَ:

[البحر الطويل]

‌‌وَمِنَّا الَّذِي أَحْيَا الْإِلَهُ حِمَارَهُ … وَقَدْ مَاتَ مِنْهُ كُلُّ عُضْوٍ وَمَفْصِلِ "
৩১ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে হিশাম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শারিক আন-নাখায়ি থেকে বর্ণনা করেন যে, "গাধার মালিক ছিলেন নাখায়ি গোত্রের এক ব্যক্তি, যাকে নুবাতাহ ইবনে ইয়াযীদ বলা হতো। তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে যোদ্ধা হিসেবে বের হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে যখন তিনি শান্নি আমিরা নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তাঁর গাধাটি মারা গেল।" অতঃপর তিনি ঘটনাটি বর্ণনা করেন, তবে তিনি বলেন: "পরবর্তীতে তিনি সেটি কুনাসাহ নামক স্থানে বিক্রি করে দেন। তখন তাঁকে বলা হলো: আপনি কি এমন এক গাধা বিক্রি করছেন যাকে আল্লাহ আপনার জন্য জীবিত করেছেন? তিনি বললেন: তবে আমি কী করব? তখন তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তি তিনটি কাব্যপঙ্ক্তি পাঠ করেন, আমি এই পঙ্ক্তিটি মুখস্থ রেখেছি:

[আত-তাবিল ছন্দ]

‌‌আমাদের মাঝেই তো সেই ব্যক্তি রয়েছে যার গাধাকে ইলাহ জীবিত করেছেন ... অথচ তার প্রতিটি অঙ্গ এবং জোড়া নিথর হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
32 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو سُلَيْمَانَ دَاوُدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْجُرْجَانِيُّ، مَوْلَى قُرَيْشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ يَزِيدَ بْنِ سَعِيدٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الشَّامِيِّ، قَالَ: "‌‌ غَزَوْنَا الرُّومَ فَعَسْكَرْنَا، فَخَرَجَ مِنَّا نَاسٌ يَطْلُبُونَ أَثَرَ الْعَدُوِّ وَانْفَرَدَ مِنْهُمْ رَجُلَانِ قَالَا: فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ لَقِيَنَا شَيْخٌ مِنَ الرُّومِ، يَسُوقُ حِمَارًا لَهُ عَلَيْهِ إِكَافٌ وَبَرْذَعَةٌ، وَخُرْجٌ، فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْنَا اخْتَرَطَ سَيْفَهُ، ثُمَّ هَزَّهُ فَضَرَبَ حِمَارَهُ، فَقَدَّ الْخُرْجَ وَالْإِكَافَ وَالْبَرْذَعَةَ وَالْحِمَارَ، حَتَّى وَصَلَ إِلَى الْأَرْضِ، ثُمَّ نَظَرَ إِلَيْنَا: قَدْ رَأَيْتُمْ مَا صَنَعْتُ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: فَابْرِزُوا، قَالَ: فَحَمَلْنَا عَلَيْهِ، فَاقْتَتَلْنَا سَاعَةً، فَقُتِلَ مِنَّا رَجُلٌ، ثُمَّ قَالَ: لِلْبَاقِي مِنَّا: هَا قَدْ رَأَيْتَ مَا لَقِيَ صَاحِبُكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَرَجَعَ، يُرِيدُ أَصْحَابَهُ، قَالَ: فَبَيْنَا أَنَا رَاجِعٌ، إِذْ قُلْتُ لِنَفْسِي: ثَكِلَتْنِي أُمِّي سَبَقَنِي صَاحِبِي إِلَى الْجَنَّةِ وَأَرْجِعُ أَنَا هَارِبًا إِلَى أَصْحَابِي ⦗ص: 32⦘، قَالَ: فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَنَزَلْتُ، عَنْ فَرَسِي، وَأَخَذْتُ تِرْسِي وَسَيْفِي، فَمَشَيْتُ إِلَيْهِ فَضَرَبْتُهُ فَأَخْطَأْتُهُ، وَضَرَبَنِي فَأَخْطَأَنِي، فَأَلْقَيْتُ سِلَاحِي وَاعْتَنَقْتُهُ، فَحَمَلَنِي وَضَرَبَ بِيَ الْأَرْضَ، وَجَلَسَ عَلَى صَدْرِي، فَجَعَلَ يَتَنَاوَلُ شَيْئًا مَعَهُ لِيَقْتُلَنِي، فَجَاءَ صَاحِبِيَ الْمَقْتُولُ فَأَخَذَ بِشَعْرِ قَفَاهُ فَأَلْقَاهُ عَنِّي وَأَعَانَنِي عَلَى قَتْلِهِ، فَقَتَلْنَاهُ جَمِيعًا، ثُمَّ أَخَذْنَا سَلَبَهُ، وَجَعَلَ صَاحِبِي يَمْشِي وَيُحَدِّثُنِي حَتَّى انْتَهَى إِلَى شَجَرَةٍ، فَاضْطَجَعَ مَقْتُولًا كَمَا كَانَ، فَجِئْتُ إِلَى أَصْحَابِي، فَأَخْبَرْتُهُمْ، فَجَاءُوا كُلُّهُمْ حَتَّى نَظَرُوا إِلَيْهِ فِي ذَلِكَ الْمَوْضِعِ "
৩২ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু সুলাইমান দাউদ ইবনে সুলাইমান আল-জুরজানি বর্ণনা করেছেন, যিনি কুরাইশদের মুক্তদাস ছিলেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে সাঈদ আল-কুরাশি থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-শামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌‌ আমরা রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলাম এবং শিবির স্থাপন করেছিলাম। আমাদের মধ্য থেকে একদল লোক শত্রুর সন্ধানে বের হলো এবং তাদের মধ্য থেকে দুজন লোক আলাদা হয়ে গেল। তারা উভয়ে বললেন: আমরা যখন এই অবস্থায় ছিলাম, তখন আমাদের সামনে রোমানদের এক বৃদ্ধ লোক আসল, সে তার একটি গাধা তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল যার পিঠের ওপর গদি, জিনের কাপড় এবং একটি থলি ছিল। যখন সে আমাদের দিকে তাকাল, সে তার তলোয়ার কোষমুক্ত করল, তারপর সেটি নেড়ে তার গাধাকে আঘাত করল। ফলে সে থলি, গদি, জিনের কাপড় এবং গাধাটিকে দুই টুকরো করে কাটল, এমনকি তলোয়ারটি মাটি পর্যন্ত পৌঁছে গেল। এরপর সে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল: আমি যা করেছি তোমরা কি তা দেখেছ? আমরা বললাম: হ্যাঁ। সে বলল: তবে যুদ্ধের জন্য এগিয়ে এসো। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তার ওপর চড়াও হলাম এবং কিছুক্ষণ যুদ্ধ করলাম। এরপর আমাদের মধ্য থেকে একজন নিহত হলো। তারপর সে আমাদের মধ্যে যে অবশিষ্ট ছিল তাকে বলল: দেখ, তোমার সাথীর যা দশা হয়েছে তা কি তুমি দেখেছ? সে বলল: হ্যাঁ। এরপর সে তার সাথীদের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করল। সে বলল: আমি যখন ফিরে যাচ্ছিলাম, তখন নিজেকে বললাম: ধিক আমাকে! আমার সাথী আমার আগে জান্নাতে চলে গেল, আর আমি কি না পালিয়ে আমার সাথীদের কাছে ফিরে যাচ্ছি! ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘, তিনি বলেন: তখন আমি তার কাছে ফিরে গেলাম এবং ঘোড়া থেকে নামলাম। আমার ঢাল ও তলোয়ার নিলাম এবং তার দিকে হেঁটে গেলাম। আমি তাকে আঘাত করলাম কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হলাম, সেও আমাকে আঘাত করল কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো। তখন আমি আমার অস্ত্র ফেলে দিয়ে তাকে জাপটে ধরলাম। তখন সে আমাকে তুলে আছাড় দিল এবং আমার বুকের ওপর বসে পড়ল। এরপর সে আমাকে হত্যা করার জন্য তার কাছে থাকা কোনো কিছু খুঁজতে লাগল। এমন সময় আমার সেই নিহত সাথী আসল এবং তার ঘাড়ের চুল ধরে তাকে আমার ওপর থেকে ফেলে দিল এবং তাকে হত্যা করতে আমাকে সাহায্য করল। ফলে আমরা উভয়ে মিলে তাকে হত্যা করলাম। এরপর আমরা তার যুদ্ধের সরঞ্জামগুলো নিয়ে নিলাম এবং আমার সাথী হেঁটে হেঁটে আমার সাথে কথা বলতে থাকল, যতক্ষণ না সে একটি গাছের কাছে পৌঁছাল। সেখানে সে আগের মতোই মৃত অবস্থায় শুয়ে পড়ল। তারপর আমি আমার সাথীদের কাছে গিয়ে তাদের সংবাদ দিলাম। তারা সবাই আসল এবং সেই স্থানে তাকে দেখতে পেল।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
33 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ الْعَتَكِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ حَيَّانَ أَبُو يَزِيدَ الرَّقِّيُّ، عَنْ كُلْثُومِ بْنِ جَوْشَنٍ الْقُشَيْرِيِّ، عَنْ يَحْيَى الْمَدَنِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَرَجْتُ مَرَّةً لِسَفَرٍ فَمَرَرْتُ بِقَبْرٍ مِنْ قُبُورِ الْجَاهِلِيَّةِ، فَإِذَا‌‌ رَجُلٌ قَدْ خَرَجَ مِنَ الْقَبْرِ يَتَأَجَّجُ نَارًا، فِي عُنُقِهِ سِلْسِلَةٌ مِنْ نَارٍ، وَمَعِي إِدَاوَةٌ مِنْ مَاءٍ، فَلَمَّا رَآنِي قَالَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، اسْقِنِي، قَالَ: فَقُلْتُ: عَرَفَنِي فَدَعَانِي بِاسْمِي، أَوْ كَلِمَةٌ تَقُولُهَا الْعَرَبُ، يَا عَبْدَ اللَّهِ، إِذْ خَرَجَ عَلَى أَثَرِهِ رَجُلٌ مِنَ الْقَبْرِ، فَقَالَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ لَا تَسْقِهِ فَإِنَّهُ كَافِرٌ، ثُمَّ أَخَذَ السِّلْسِلَةَ فَاجْتَذَبَهُ وَأَدْخَلَهُ الْقَبْرَ، قَالَ: ثُمَّ أَضَافَنِيَ اللَّيْلَ إِلَى بَيْتِ عَجُوزٍ، إِلَى جَانِبِ بَيْتِهَا قَبْرٌ، فَسَمِعْتُ مِنَ الْقَبْرِ صَوْتًا يَقُولُ: بَوْلٌ وَمَا بَوْلٌ، شَنٌّ وَمَا شَنٌّ فَقُلْتُ لِلْعَجُوزِ: مَا هَذَا؟ ⦗ص: 33⦘ قَالَتْ: كَانَ هَذَا زَوْجًا لِي، وَكَانَ إِذَا بَالَ لَمْ يَتَّقِ الْبَوْلَ، وَكُنْتُ أَقُولُ لَهُ: وَيْحَكَ إِنَّ الْجَمَلَ إِذَا بَالَ تَفَاجَّ، فَكَانَ يَأْبَى، فَهُوَ يُنَادِي مُنْذُ يَوْمِ مَاتَ: بَوْلٌ وَمَا بَوْلٌ، قُلْتُ: فَمَا الشَّنُّ؟ قَالَتْ: جَاءَهُ رَجُلٌ عَطْشَانُ فَقَالَ: اسْقِنِي، فَقَالَ: دُونَكَ الشَّنُّ، فَإِذَا لَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ، فَخَرَّ الرَّجُلُ مَيِّتًا، فَهُوَ يُنَادِي مُنْذُ يَوْمِ مَاتَ: شَنٌّ وَمَا شَنٌّ، فَلَمَّا قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرْتُهُ، «فَنَهَى أَنْ يُسَافَرَ الرَّجُلُ وَحْدَهُ»
৩৩ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন সালিহ আল-আতাকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ বিন হাইয়্যান আবু ইয়াযিদ আর-রাক্কি বর্ণনা করেছেন কুলসুম বিন জাওশান আল-কুশাইরি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া আল-মাদানি থেকে, তিনি সালিম বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি একবার সফরে বের হলাম এবং জাহিলিয়াতের আমলের কবরগুলোর একটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম একজন লোক কবর থেকে বেরিয়ে এল যে আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছিল, তার গলায় আগুনের একটি শিকল ছিল। আমার সাথে একটি পানির পাত্র ছিল। সে যখন আমাকে দেখল, বলল: হে আল্লাহর বান্দা, আমাকে পানি পান করাও। তিনি বলেন: আমি মনে করলাম সে আমাকে চিনে আমার নাম ধরে ডেকেছে, অথবা আরবরা যেভাবে বলে—হে আল্লাহর বান্দা। এমন সময় তার পিছু পিছু কবর থেকে আরেকজন লোক বেরিয়ে এল এবং বলল: হে আল্লাহর বান্দা, তাকে পানি পান করিও না, কারণ সে কাফির। তারপর সে শিকলটি ধরে তাকে টেনে হিঁচড়ে কবরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। তিনি বলেন: তারপর সেই রাতে আমি এক বৃদ্ধার ঘরে আশ্রয় নিলাম, যার ঘরের পাশেই ছিল একটি কবর। আমি সেই কবর থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম যা বলছিল: প্রস্রাব, আর প্রস্রাব কী! মশক, আর মশক কী! আমি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলাম: এটি কী? ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ সে বলল: এটি আমার স্বামী ছিল। সে যখন প্রস্রাব করত, তখন প্রস্রাব থেকে নিজেকে বাঁচাত না। আমি তাকে বলতাম: তোমার ধ্বংস হোক! উটও যখন প্রস্রাব করে তখন পা ফাঁক করে নেয়। কিন্তু সে তা মানতে অস্বীকার করত। ফলে সে যেদিন থেকে মারা গেছে সেদিন থেকে চিৎকার করে বলছে: প্রস্রাব, আর প্রস্রাব কী! আমি বললাম: মশকের বিষয়টি কী? সে বলল: এক তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি তার কাছে এসে বলল: আমাকে পানি পান করাও। তখন সে বলল: ওই তো মশক (নাও), অথচ তাতে কিছুই ছিল না। ফলে লোকটি তৃষ্ণায় পড়ে মারা গেল। তাই সে যেদিন থেকে মারা গেছে সেদিন থেকে চিৎকার করে বলছে: মশক, আর মশক কী! যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম, তখন তিনি "কোনো ব্যক্তির একা সফর করা নিষিদ্ধ করলেন।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
34 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْجَرَوِيُّ، عَنْ ضَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ مَوْلًى لِآلِ الزُّبَيْرِ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " خَرَجْتُ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا، حَتَّى إِذَا كُنْتُ بِالرُّوَيْثَةِ وَمَضَى ثِقَلِي أَتَيْتُ الْمَاءَ، فَسَقَيْتُ رَاحِلَتِي وَمَلَأَتُ إِدَاوَتِي، وَسَمِعَ بِي أَهْلُ الْمَاءِ، فَاجْتَمَعُوا إِلَيَّ يُسَائِلُونِي، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمْ: دَعُوا الرَّجُلَ فَقَدْ مَضَى ثِقَلُهُ، فَتَرَكُونِي، فَمَرَرْتُ بِقُبُورٍ مُوَجَّهَةٌ إِلَى الْقِبْلَةِ، فَخَرَجَ إِلَيَّ مِنْهَا رَجُلٌ فِي عُنُقِهِ سِلْسِلَةٌ تَشْتَعِلُ نَارًا، وَالسِّلْسِلَةُ فِي يَدِ شَخَصٍ، فَلَمَّا رَأَتْهُ الرَّاحِلَةُ نَفَرَتْ ⦗ص: 34⦘ فَجَعَلَ يُنَادِي: يَا عَبْدَ اللَّهِ، صُبَّ عَلَيَّ مِنَ الْمَاءِ، فَجَعَلَ الشَّخْصَ يَقُولُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، لَا تَصُبَّ عَلَيْهِ، فَلَا أَدْرِي أَعْرِفَ اسْمِي أَوْ كَقَوْلِ الرِّجَالِ لِلرِّجَالِ، يَا عَبْدَ اللَّهِ، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ قَدْ أَهْوَى إِلَيْهِ فَضَرَبَهُ "
৩৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে আবদিল আজিজ আল-জারাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি দামরাহ থেকে, তিনি ইবনে শাওজাব থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আমর ইবনে দিনার থেকে—যিনি আল-জুবায়ের বংশের মুক্তদাস ছিলেন—তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা (আবদুল্লাহ ইবনে উমর) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি হজ অথবা ওমরার উদ্দেশ্যে বের হলাম। যখন আমি রুওয়াইসা নামক স্থানে পৌঁছালাম এবং আমার কাফেলা সামনে এগিয়ে গেল, তখন আমি পানির নিকট আসলাম। অতঃপর আমার সওয়ারিকে পানি পান করালাম এবং আমার মশক পূর্ণ করলাম। পানির নিকট অবস্থানরত লোকেরা আমার কথা শুনতে পেয়ে আমার কাছে সমবেত হলো এবং আমাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে লাগল। তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: 'এই লোকটিকে ছেড়ে দাও, কারণ তাঁর কাফেলা চলে গেছে।' ফলে তারা আমাকে ছেড়ে দিল। এরপর আমি কিবলামুখী কিছু কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন সেখান থেকে এক ব্যক্তি আমার দিকে বেরিয়ে এল যার গলায় আগুনের একটি শিকল জ্বলছিল। আর সেই শিকলটি এক অবয়বের হাতে ছিল। যখন সওয়ারিটি তাকে দেখল, তখন সেটি চমকে উঠল ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ এবং সে ডেকে বলতে লাগল: হে আল্লাহর বান্দা, আমার উপর কিছু পানি ঢালো। তখন সেই অবয়বটি বলতে লাগল: হে আল্লাহর বান্দা, ওর উপর পানি ঢেলো না। আমি জানি না সে কি আমার নাম জানত নাকি লোকেরা একে অপরকে যেভাবে 'হে আল্লাহর বান্দা' বলে ডাকে সেভাবে ডেকেছিল। অতঃপর আমি ফিরে তাকালাম এবং দেখলাম যে সে তার দিকে ঝুঁকে তাকে আঘাত করল।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٤)
35 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُفَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءً الْخُرَاسَانِيَّ، قَالَ: " اسْتُقْضِيَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَرْبَعِينَ سَنَةً، فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ: إِنِّي أَرَى أَنِّي هَالِكٌ فِي مَرَضِي هَذَا، فَإِنْ هَلَكَتُ فَاحْبِسُونِي عِنْدَكُمْ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ، أَوْ خَمْسَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ رَابَكُمْ مِنِّي شَيْءٌ فَلْيَنَادِنِي رَجُلٌ مِنْكُمْ، فَلَمَّا قَضَى جُعِلَ فِي تَابُوتٍ، فَلَمَّا كَانَ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ آذَاهُمْ رِيحُهُ، فَنَادَاهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ: يَا فُلَانُ،‌‌ مَا هَذِهِ الرِّيحُ؟ فَأُذِنَ لَهُ فَتَكَلَّمَ، فَقَالَ: قَدْ وُلِّيتُ الْقَضَاءَ فِيكُمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً فَمَا رَابَنِي شَيْءٌ إِلَّا رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي فَكَانَ لِي فِي أَحَدِهِمَا هَوًى، فَكُنْتُ أَسْمَعُ مِنْهُ بِأُذُنِيَ الَّتِي تَلِيهِ أَكْثَرَ مِمَّا أَسْمَعُ بِالْأُخْرَى، فَهَذِهِ الرِّيحُ مِنْهَا، وَضَرَبَ اللَّهُ عَلَى أُذُنِهِ فَمَاتَ "
৩৫ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হাতিম আর-রাযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে উফাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি বলেন: আমি আতা আল-খুরাসানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি চল্লিশ বছর বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তিনি বললেন: আমি দেখছি যে আমি আমার এই অসুস্থতায় মারা যাব। অতএব আমি যদি মারা যাই, তবে তোমরা আমাকে তোমাদের কাছে চার বা পাঁচ দিন রেখে দিও। এরপর যদি তোমরা আমার পক্ষ থেকে কোনো কিছু অনুভব করো, তবে তোমাদের মধ্য থেকে একজন যেন আমাকে ডাক দেয়। তারপর যখন তিনি মারা গেলেন, তাকে একটি কফিনে রাখা হলো। তিন দিন পার হওয়ার পর তার দেহের গন্ধ তাদের কষ্ট দিতে লাগল। তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাকে ডেকে বলল: হে অমুক, এই গন্ধ কিসের? তখন তাকে অনুমতি দেওয়া হলো এবং তিনি কথা বললেন। তিনি বললেন: আমি তোমাদের মধ্যে চল্লিশ বছর বিচারকার্য পরিচালনা করেছি, তাতে দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোনো কিছু আমাকে সংশয়ে ফেলেনি। তারা আমার কাছে এসেছিল এবং তাদের একজনের প্রতি আমার কিছুটা পক্ষপাত ছিল। ফলে আমি তার কথা আমার সেই কান দিয়ে অন্য কানের তুলনায় বেশি শুনতাম যা তার দিকে ছিল। এই গন্ধ মূলত তা থেকেই। এরপর আল্লাহ তার কানের ওপর আঘাত করলেন এবং তিনি মারা গেলেন।"
(খণ্ড: ১) মান আশা বাদাল মাওত লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٤)
36 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، نَا كَثِيرُ بْنُ يَحْيَى بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْخٌ، مِنْ بَلْعَمَ يُقَالُ لَهُ: مَعْمَرٌ الْعَمِّيُّ، قَالَ: " إِنَّا لَعِنْدَ مَرِيضٍ لَنَا، وَهَذَا سَنَةَ سِتٍّ وَسِتِّينَ، يُقَالُ لَهُ: عَبَّادٌ، نَرَى أَنَّهُ ⦗ص: 35⦘ قَدْ مَاتَ فَبَعْضُنَا يَقُولُ: مَاتَ، وَبَعْضُنَا يَقُولُ: عُرِجَ بِرُوحِهِ إِذْ قَالَ، بِيَدِهِ هَكَذَا أَمَامَهُ وَفَرَّجَ بِيَدِهِ: فَأَيْنَ أَبِي؟ فَقَدْتُكُمَا جَمِيعًا، ثُمَّ فَتَحَ عَيْنَيْهِ، قَالَ: فَقُلْنَا: كُنَّا نَرَى أَنَّكَ قَدْ مِتَّ، قَالَ: فَإِنِّي رَأَيْتُ الْمَلَائِكَةَ تَطُوفُ مِنْ فَوْقِ رُؤُوسِ النَّاسِ بِالْبَيْتِ، فَقَالَ مَلَكٌ مِنْهُمْ:‌‌ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعِبَادِكَ الشُّعْثِ الْغُبْرِ الَّذِينَ جَاءُوا مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقِ، قَالَ: فَأَجَابَهُ مَلَكٌ آخَرُ بِأَنْ قَدْ غُفِرَ لَهُمْ، فَقَالَ مَلَكٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ: يَا أَهْلَ مَكَّةَ، لَوْلَا مَا يَأْتِيكُمْ مِنَ النَّاسِ لَأَضْرَمْتُ مَا بَيْنَ الْجَبَلَيْنِ نَارًا ثُمَّ، قَالَ: أَجْلِسُونِي، فَأَجْلَسُوهُ، فَقَالَ يَا غُلَامُ: اذْهَبْ فَجِئْهُمْ بِفَاكِهَةٍ، فَقُلْنَا: لَا حَاجَةَ لَنَا بِالْفَاكِهَةِ، قَالَ: وَقَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ: لَئِنْ كَانَ رَأَى الْمَلَائِكَةَ كَمَا يَقُولُ لَا يَعِيشُ، قَالَ: فَاخْضَرَّتْ أَظَافِيرُهُ مَكَانَهُ، قَالَ: ثُمَّ أَضْجَعْنَاهُ، فَمَاتَ "
৩৬ - আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, কাসীর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাল‘আমের জনৈক শাইখ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যাকে মা‘মার আল-আম্মী বলা হয়, তিনি বলেন: "আমরা আমাদের এক রুগ্ন ব্যক্তির নিকট ছিলাম—আর এটি ছিল ৬৬ হিজরী সালের ঘটনা—যাকে আব্বাদ বলা হতো। আমরা মনে করলাম যে তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ মারা গেছেন। ফলে আমাদের কেউ কেউ বলছিল: তিনি মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ বলছিল: তাঁর রূহ উপরে তুলে নেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর সামনে এভাবে ইশারা করলেন এবং তাঁর আঙুলগুলো ফাঁক করলেন, অতঃপর বললেন: আমার বাবা কোথায়? আমি তোমাদের উভয়কেই হারিয়েছি। তারপর তিনি তাঁর চোখ মেললেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমরা বললাম: আমরা মনে করেছিলাম আপনি মারা গেছেন। তিনি বললেন: আমি ফেরেশতাদের দেখেছি তাঁরা বাইতুল্লাহর কাছে মানুষের মাথার উপর দিয়ে তাওয়াফ করছেন। তখন তাঁদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা বললেন: হে আল্লাহ! আপনার সেই উষ্কখুষ্ক ও ধূলিমলিন বান্দাদের ক্ষমা করে দিন, যারা প্রতিটি দূর-দূরান্তের পথ থেকে এসেছে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন অন্য একজন ফেরেশতা তাঁকে উত্তর দিলেন যে, নিশ্চয়ই তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা বললেন: হে মক্কাবাসী! যদি মানুষেরা তোমাদের নিকট না আসত, তবে আমি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী সবকিছু আগুনে জ্বালিয়ে দিতাম। এরপর তিনি (আব্বাদ) বললেন: আমাকে বসিয়ে দাও। তখন তারা তাঁকে বসিয়ে দিল। তিনি বললেন: হে বালক, যাও এবং তাদের জন্য ফল নিয়ে এসো। আমরা বললাম: আমাদের ফলের কোনো প্রয়োজন নেই। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা একে অপরকে বলছিলাম: তিনি যা বলছেন সে অনুযায়ী যদি তিনি ফেরেশতাদের দেখে থাকেন, তবে তিনি আর বেঁচে থাকবেন না। বর্ণনাকারী বলেন: তৎক্ষণাৎ তাঁর নখগুলো সবুজ হয়ে গেল। তিনি বলেন: এরপর আমরা তাঁকে শুইয়ে দিলাম এবং তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।"