(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: -)
معجم أبي يعلى الموصلي   (أبو يعلى الموصلي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المعجم

المؤلف: أبو يعلى أحمد بن علي بن المثُنى بن يحيى بن عيسى بن هلال التميمي، الموصلي (ت 307هـ)

المحقق: إرشاد الحق الأثري

الناشر: إدارة العلوم الأثرية - فيصل آباد

الطبعة: الأولى، 1407

عدد الصفحات: 270

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মু'জাম আবু ইয়া'লা আল-মাওসিলি   (আবু ইয়া'লা আল-মাওসিলি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-মু'জাম

লেখক: আবু ইয়া'লা আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না বিন ইয়াহইয়া বিন ঈসা বিন হিলাল আত-তামীমী، আল-মাওসিলি (মৃত্যু ৩০৭ হিজরী)

তাহকীক: ইরশাদুল হক আল-আসারি

প্রকাশক: ইদারাতুল উলূম আল-আসারিইয়াহ - ফয়সালাবাদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৭

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭০

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
2 -‌‌ بَابُ الْمُحَمَّدِينَ صَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ
২ -মুহাম্মদগণের পরিচ্ছেদ; মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
قَالَ: أَخْبَرَنِي الشَّرِيفُ الْأَجَلُّ الْمُسْنِدُ الْخَطِيبُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْحُسَيْنِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بنِ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي نَصْرٍ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى اْلَقاضِي أَبِي بَكْرٍ يُوسُفَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ فَارِسٍ الْمِيَانَجِيُّ فِي دَارِهِ بِمَدِينَةِ دِمَشْقَ فِي جُمَادَى الْأولَى سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو يَعْلَى أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى التَّمِيمِيُّ الْمَوْصِلِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ قال: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ أَبِي حَفْصَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي عَنِ ابْنِ عَمِّي ابْنِ جُدْعَانَ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «وَمَا كَانَ؟» قَالَتْ: قُلْتُ: كَانَ يَنْحَرُ الْكَوْمَاءَ، وَيُكْرِمُ الْجَارَ، وَيَقْرِي الضَّيْفَ، وَيَصْدُقُ الْحَدِيثَ، وَيُوفِي بِالذِّمَّةِ، وَيَصِلُ الرَّحِمَ، وَيَفُكُّ الْعَانِيَ، وَيُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَيُؤَدِّي الْأَمَانَةَ، قَالَ: " هَلْ قَالَ يَوْمًا وَاحِدًا: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ؟ " قَالَتْ: لَا، وَمَا كَانَ يَدْرِي مَا جَهَنَّمُ، قَالَ: «فَلَا إِذًا»

তিনি বলেন: মহান শরীফ, মুসনিদ ও খতীব আবু আল-কাসিম আলী বিন ইবরাহিম বিন আল-আব্বাস আল-হুসাইনী আমার পাঠের মাধ্যমে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: শায়খ আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন উসমান বিন আবু নাসর ৪৪৪ হিজরী সনের মহররম মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ৩৭৪ হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাসে দামেস্ক শহরে কাজী আবু বকর ইউসুফ বিন আল-কাসিম বিন ইউসুফ বিন ফারিস আল-মিয়ানাজীর বাসভবনে তার সম্মুখে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি সেখানে উপস্থিত থেকে তা শুনছিলাম। তাকে বলা হলো: আবু ইয়ালা আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না আত-তামীমী আল-মাওসিলী কি তার নিকট পাঠের মাধ্যমে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-মিনহাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ বিন যুরাই আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমারা বিন আবু হাফসাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইকরিমা থেকে, আর তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন।

আয়েশা (রা.) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আমার চাচাতো ভাই ইবনে জুদআন সম্পর্কে বলুন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সে কেমন ছিল?" তিনি বলেন: আমি বললাম: সে উন্নত কুঁজবিশিষ্ট উট যবেহ করত (মেহমানদারীর জন্য), প্রতিবেশীকে সম্মান করত, মেহমানদারী করত, সত্য কথা বলত, অঙ্গীকার পূর্ণ করত, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখত, বন্দীকে মুক্ত করত, অন্নদান করত এবং আমানত আদায় করত। তিনি বললেন: "সে কি কোনোদিনও বলেছিল: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি?" তিনি বললেন: না, আর সে তো জানতই না জাহান্নাম কী। তিনি বললেন: "তবে তা (পরকালে কোনো উপকারে) আসবে না।"

(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
حَدَّثَنَا الْمِنْهَالُ، أَخُو حَجَّاجٍ الْأَنْمَاطِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا فَقَّهَهُ فِي الدِّينِ» ، قَالَ: وَقَالَ: «إِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ، وَاللَّهُ يُعْطِي»

হাজ্জাজ আল-আনমাতির ভাই আল-মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা‘মার থেকে, তিনি আয-যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যখন আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তিনি তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন», তিনি বলেন: এবং তিনি আরও বলেছেন: «আমি কেবল বণ্টনকারী, আর আল্লাহ দান করেন।»

(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
3 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: {وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} [الطلاق: 4] ، أَهِيَ الْمُطَلَّقَةُ ثَلَاثًا، أَوِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا؟ قَالَ: «هِيَ لِلْمُطَلَّقَةِ ثَلَاثًا، وَلِلْمُتَوَفَّى عَنْهَا»
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মুকাদ্দামী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুসান্না ইবনে আস-সাব্বাহ, আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললাম: {আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত} [আত-ত্বলাক: ৪], এটি কি তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে, নাকি যার স্বামী মারা গেছে তার ক্ষেত্রেও? তিনি বললেন: «এটি তিন তালাকপ্রাপ্তার জন্য এবং যার স্বামী মারা গেছে তার জন্য (উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন উবাইদ ইবন হিসাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন আবু হাসীন থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ أَبُو صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنِي شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَكَمُ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهَا عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ، فَقَالَتْ: سَلْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام؛ فَإِنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ مَعَهُ. فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «لِلْمُسَافِرِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ، وَلِلْمُقِيمِ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ»
৫ - মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আবু সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাকাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম ইবনে মুখাইমিরাহ থেকে, তিনি শুরাইহ ইবনে হানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তুমি আলী ইবনে আবি তালিব (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে জিজ্ঞাসা করো; কারণ তিনি তাঁর সাথে সফর করতেন। অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করে বললেন: «মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত, এবং মুকিমের জন্য এক দিন ও এক রাত।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَحْرٍ، فِي بَلْهُجَيْمِ بِالْبَصْرَةِ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ مُسْلِمٍ الْمَكِّيُّ الْحَجَبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ عَرَبِيٍّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ»
৬ - বসরার বালহুজাইমে মুহাম্মদ বিন বাহর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইম বিন মুসলিম আল-মাক্কী আল-হাজাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-নাদর বিন আরাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সোনা ও রূপার পাত্রে পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুনই ঢোকায় বা গলাধকরণ করে।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤١)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْوَانَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، وَهِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ " كَانَ يَسْجُدُ فِي: إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، وَلَقَدْ سَجَدْتُ بِهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَا أَدَعُهَا حَتَّى أَمُوتَ "
৭ - মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন জাবালাহ্ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবন মারওয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইউনুস ইবন উবাইদ ও হিশাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ‘ইযাস সামাউন্ শাক্কাত’ (সূরা ইনশিক্বাক) পাঠকালে সাজদাহ করতেন। (আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন,) “আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এটি পাঠ করে সাজদাহ করেছি, তাই মৃত্যু পর্যন্ত আমি এটি কখনো ত্যাগ করব না।”
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤١)
8 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُقْبَةَ السَّدُوسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ بْنُ يَعْلَى الثَّقَفِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ أَسْلَمَ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ، وَلَا لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ»
৮ - মুহাম্মদ ইবনে উকবা আস-সাদূসী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উমাইয়া ইবনে ইয়ালা আস-সাকাফী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, নাফে’ থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মুক্তদাস আসলাম থেকে, তিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «কোনো সম্পদশালীর জন্য এবং কোনো সুস্থ-সবল সুঠাম দেহবিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য সদকা বৈধ নয়।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَلِيٍّ الْوَسَاوِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ الْغَسِيلِ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى هَذِهِ الْأَعْوَادِ: «اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ؛ فَإِنَّهَا تُقِيمُ الْعِوَجَ، وَتَدْفَعُ مِيتَةَ السُّوءِ، وَتَقَعُ مِنَ الْجَائِعِ مَوْقِعَهَا مِنَ الشَّبْعَانِ»
9 - মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল ইবন আলী আল-ওয়াসাউসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়েদ ইবন হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবন সুলাইমান ইবন আল-গাসীল থেকে, তিনি শুরাহবিল ইবন সাদ থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই কাষ্ঠখণ্ডগুলোর (মিম্বরের) উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: «তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, এমনকি একটি খেজুরের অর্ধাংশের বিনিময়ে হলেও; কেননা তা বক্রতাকে সংশোধন করে, মন্দ মৃত্যু রোধ করে এবং ক্ষুধার্তের নিকট তা সেই অবস্থানই লাভ করে (তথা কার্যকর হয়) যা তা তৃপ্ত ব্যক্তির নিকট লাভ করে।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْوَسَاوِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ، عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِغَلَسٍ، وَأَنَا عَلَى فِرَاشِي ⦗ص: 43⦘، فَقَالَ: " شَعَرْتُ أَنِّي نِمْتُ اللَّيْلَةَ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، فَأَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام، فَذَهَبَ بِي إِلَى بَابِ الْمَسْجِدِ، فَإِذَا دَابَّةٌ أَبْيَضُ، فَوْقَ الْحِمَارِ، وَدُونَ الْبَغْلِ، مُضْطَرِبُ الْأُذُنَيْنِ، فَرَكِبْتُهُ، فَكَانَ يَضَعُ حَافِرَهُ مَدَّ بَصَرِهِ، إِذَا أَخَذَ بِي فِي هُبُوطٍ طَالَتْ يَدَاهُ، وَقَصُرَتْ رِجْلَاهُ، وَإِذَا أَخَذَ بِي فِي صُعُودٍ طَالَتْ رِجْلَاهُ، وَقَصُرَتْ يَدَاهُ، وَجِبْرِيلُ عليه السلام لَا يَفُوتُنِي، حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَأَوْثَقَتْهُ بِالْحَلْقَةِ الَّتِي كَانَتِ الْأَنْبِيَاءُ تُوثِقُ بِهَا، فَنُشِرَ لِي رَهْطٌ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ فِيهِمْ: إِبْرَاهِيمُ، وَمُوسَى، وَعِيسَى عليهم السلام، فَصَلَّيْتُ بِهِمْ، وَكَلَّمْتُهُمْ، وَأُتِيتُ بِإِنَاءَيْنِ: أَحْمَرَ وَأَبْيَضَ، فَشَرِبْتُ الْأَبْيَضَ، فَقَالَ لِي جِبْرِيلُ عليه السلام: شَرِبْتَ اللَّبَنَ، وَتَرَكْتَ الْخَمْرَ، لَوْ شَرِبْتَ الْخَمْرَ لَارْتَدَّتْ أُمَّتُكَ. ثُمَّ رَكِبْتُهُ، فَأَتَيْتُ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ، فَصَلَّيْتُ بِهِ الْغَدَاةَ " قَالَتْ: فَتَعَلَّقْتُ بِرِدَائِهِ، وَقُلْتُ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ يَا ابْنَ عَمِّ أَنْ تُحَدِّثَ بِهَذَا قُرَشِيًّا؛ فَيُكَذِّبَكَ مَنْ صَدَّقَكَ فَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى رِدَائِهِ، فَانْتَزَعَهُ مِنْ يَدِي، فَارْتَفَعَ عَنْ بَطْنِهِ، فَنَظَرْتُ إِلَى عُكَنِهِ فَوْقَ إِزَارِهِ، وَكَأَنَّهُ طَيُّ الْقَرَاطِيسِ، وَإِذَا نُورٌ سَاطِعٌ عِنْدَ فُؤَادِهِ، كَادَ يَخْتَطِفُ بَصَرِي، فَخَرَرْتُ سَاجِدَةً، فَلَمَّا رَفَعْتُ رَأْسِي إِذَا هُوَ قَدْ خَرَجَ، فَقُلْتُ لِجَارِيَتِي نَبْعَةَ: وَيْحَكِ، اتْبَعِيهِ، فَانْظُرِي مَاذَا يَقُولُ، وَمَاذَا يُقَالُ لَهُ فَلَمَّا رَجَعَتْ نَبْعَةُ أَخْبَرَتْنِي ⦗ص: 44⦘ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْتَهَى إِلَى نَفَرٍ مِنْ قُرَيْشٍ فِي الْحَطِيمِ، فِيهِمُ الْمُطْعِمُ بْنُ عَدِيِّ بْنِ نَوْفَلٍ، وَعَمْرُو بْنُ هِشَامٍ، وَالْوَلِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، فَقَالَ: " إِنِّي صَلَّيْتُ اللَّيْلَةَ الْعِشَاءَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ، وَصَلَّيْتُ بِهِ الْغَدَاةَ، وَأَتَيْتُ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ، فَنُشِرَ لِي رَهْطٌ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ، مِنْهُمْ: إِبْرَاهِيمُ، وَمُوسَى وَعِيسَى عليهم السلام، فَصَلَّيْتُ بِهِمْ، وَكَلَّمْتُهُمْ " فَقَالَ عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ كَالْمُسْتَهْزِئِ: صِفْهُمْ لِي فَقَالَ: «أَمَّا عِيسَى عليه السلام فَفَوْقَ الرَّبْعَةِ، وَدُونَ الطَّوِيلِ، عَرِيضُ الصَّدْرِ، ظَاهِرُ الدَّمِ، جَعْدُ الشَّعْرِ، تَعْلُوهُ صُهْبَةٌ، كَأَنَّهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ، وَأَمَّا مُوسَى عليه السلام فَضَخْمٌ آدَمُ، طُوَالٌ، كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ، كَثِيرُ الشَّعْرِ، غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ، مُتَرَاكِبُ الْأَسْنَانِ، مُقَلَّصُ الشَّفَتَيْنِ، خَارِجُ اللَّثَةِ، عَابِسٌ، وَأَمَّا إِبْرَاهِيمُ عليه السلام فَوَاللَّهِ لَأَشْبَهُ النَّاسِ بِي خَلْقًا وَخُلُقًا» فَضَجُّوا، وَأَعْظَمُوا ذَاكَ، فَقَالَ الْمُطْعِمُ بْنُ عَدِيِّ بْنِ نَوْفَلٍ: كُلُّ أَمْرِكَ قَبْلَ الْيَوْمِ كَانَ أَمَمًا غَيْرَ قَوْلِكَ الْيَوْمَ، أَنَا أَشْهَدُ أَنَّكَ كَاذِبٌ، نَحْنُ نَضْرِبُ أَكْبَادَ الْإِبِلِ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ مُصْعِدًا شَهْرًا، وَمُنْحَدِرًا شَهْرًا، تَزْعُمُ أَنَّكَ أَتَيْتَهُ فِي لَيْلَةٍ؟، وَاللَّاتِ وَالْعُزَّى لَا أُصَدِّقُكَ، وَمَا كَانَ هَذَا الَّذِي تَقُولُ قَطُّ، وَكَانَ لِلْمُطْعِمِ بْنِ عَدِيٍّ حَوْضٌ عَلَى زَمْزَمَ، أَعْطَاهُ إِيَّاهُ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ، فَهَدَمَهُ، فَأَقْسَمَ بِاللَّاتِ وَالْعُزَّى لَا يَسْقِي مِنْهُ قَطْرَةً أَبَدًا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ: يَا مُطْعِمُ، بِئْسَ مَا قُلْتَ لِابْنِ أَخِيكَ جَبَهْتَهُ وَكَذَّبْتَهُ، أَنَا أَشْهَدُ أَنَّهُ صَادِقٌ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، صِفْ لِي بَيْتَ الْمَقْدِسِ. قَالَ: «دَخَلَتْهُ لَيْلًا، وَخَرَجْتُ مِنْهُ لَيْلًا» . فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ ⦗ص: 45⦘ السَّلَامُ، فَصَوَّرَهُ فِي جَنَاحِهِ، فَجَعَلَ يَقُولُ: «بَابٌ مِنْهُ كَذَا فِي مَوْضِعِ كَذَا، وَبَابٌ مِنْهُ كَذَا فِي مَوْضِعِ كَذَا» ، وَأَبُو بَكْرٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ عِنْدَهُ يَقُولُ: صَدَقْتَ، صَدَقْتَ. قَالَتْ نَبْعَةُ: فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ يَقُولُ يَوْمَئِذٍ: «يَا أَبَا بَكْرٍ، إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَدْ سَمَّاكَ الصِّدِّيقَ» قَالُوا: يَا مُطْعِمُ، دَعْنَا نَسْأَلْهُ عَمَّا هُوَ أَغْنَى لَنَا مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنَا عَنْ عِيرِنَا، فَقَالَ: «أَتَيْتُ عَلَى عِيرِ بَنِي فُلَانٍ بِالرَّوْحَاءِ قَدْ أَضَلُّوا نَاقَةً لَهُمْ، وَانْطَلَقُوا فِي طَلَبِهَا، فَانْتَهَيْتُ إِلَى رِحَالِهِمْ لَيْسَ بِهَا مِنْهُمْ أَحَدٌ، وَإِذَا قَدَحُ مَاءٍ، فَشَرِبْتُ مِنْهُ، فَسَلُوهُمْ عَنْ ذَلِكَ» . فَقَالُوا: هَذَا وَالْإِلَهِ آيَةٌ. قَالَ: «ثُمَّ انْتَهَيْتُ إِلَى عِيرِ بَنِي فُلَانٍ، فَنَفَرَتْ مِنِّي الْإِبِلُ، وَبَرَكَ مِنْهَا جَمَلٌ أَحْمَرُ، عَلَيْهِ جَوَالِقُ مُحِيطٌ بِبَيَاضٍ، لَا أَدْرِي أَكُسِرَ الْبَعِيرُ أَمْ لَا، فَسَلُوهُمْ عَنْ ذَلِكَ» . قَالُوا: هَذِهِ وَاللَّهِ آيَةٌ قَالَ: «ثُمَّ انْتَهَيْتُ إِلَى عِيرِ بَنِي فُلَانٍ فِي التَّنْعِيمِ، يَقْدُمُهَا جَمَلٌ أَوْرَقُ، وَهَاهِيَ ذِهِ تَطْلُعُ عَلَيْكُمْ مِنَ الثَّنِيَّةِ» ، فَقَالَ الْوَلِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ: سَاحِرٌ. فَانْطَلَقُوا، فَنَظَرُوا، فَوَجَدُوا الْأَمْرَ كَمَا قَالَ، فَرَمَوْهُ بِالسَّحَرِ، وَقَالُوا: صَدَقَ الْوَلِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ فِيمَا قَالَ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلَّا فِتْنَةً لِلنَّاسِ وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ فِي الْقُرْآنِ} [الإسراء: 60] قُلْتُ لِأُمِّ هَانِئٍ: مَا الشَّجَرَةُ الْمَلْعُونَةُ فِي الْقُرْآنِ؟ قَالَتِ: الَّذِينَ خُوِّفُوا، فَلَمْ يَزِدْهُمُ التَّخْوِيفُ إِلَّا طُغْيَانًا كَبِيرًا

১০ - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-ওয়াসাওয়িসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দামরাহ ইবনে রাবিআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি আমর আস-সাইবানি থেকে, তিনি উম্মে হানির মুক্তদাসী আবু সালিহ থেকে, তিনি উম্মে হানি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শেষ রাতের অন্ধকারে আমার নিকট আসলেন যখন আমি আমার বিছানায় ছিলাম ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘, অতঃপর তিনি বললেন: "আমি অনুভব করলাম যে আজ রাতে আমি মসজিদে হারামে ঘুমিয়েছিলাম। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে মসজিদের দরজার দিকে নিয়ে গেলেন। সেখানে একটি সাদা রঙের জন্তু ছিল, যা গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট, যার কান দুটি নড়াচড়া করছিল। আমি তাতে আরোহণ করলাম। সেটি তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় পা ফেলছিল। যখন সে আমাকে নিয়ে নিচের দিকে নামত, তখন তার সামনের দুই পা দীর্ঘ হয়ে যেত এবং পিছনের দুই পা ছোট হয়ে যেত। আর যখন সে আমাকে নিয়ে উপরের দিকে উঠত, তখন তার পিছনের দুই পা দীর্ঘ হয়ে যেত এবং সামনের দুই পা ছোট হয়ে যেত। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হননি যতক্ষণ না আমি বায়তুল মাকদিসে পৌঁছলাম। অতঃপর আমি তাকে সেই আংটার সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ বাঁধতেন। তারপর আমার জন্য একদল নবীকে সমবেত করা হলো, যাদের মধ্যে ইব্রাহিম, মুসা এবং ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) ছিলেন। আমি তাদের সাথে সালাত আদায় করলাম এবং তাদের সাথে কথা বললাম। আমার কাছে দুটি পাত্র আনা হলো: একটি লাল এবং একটি সাদা। আমি সাদাটি পান করলাম। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমাকে বললেন: আপনি দুধ পান করেছেন এবং মদ বর্জন করেছেন, যদি আপনি মদ পান করতেন তবে আপনার উম্মত ধর্মত্যাগী হয়ে যেত। অতঃপর আমি তাতে আরোহণ করলাম এবং মসজিদে হারামে ফিরে আসলাম এবং সেখানে ভোরের সালাত আদায় করলাম।"

উম্মে হানি বলেন: আমি তাঁর চাদর ধরে ফেললাম এবং বললাম: হে চাচাতো ভাই, আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনাকে বলছি, আপনি কুরাইশদের নিকট এ কথা বলবেন না; কারণ যারা আপনাকে বিশ্বাস করেছে তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলবে। তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর চাদরে আঘাত করলেন এবং আমার হাত থেকে তা ছাড়িয়ে নিলেন। ফলে তাঁর পেট অনাবৃত হয়ে গেল। আমি তাঁর তহবন্দের উপরে তাঁর পেটের ভাঁজগুলোর দিকে তাকালাম, যা মনে হচ্ছিল যেন কাগজ ভাঁজ করে রাখা হয়েছে। আর তাঁর হৃদপিণ্ডের কাছে একটি উজ্জ্বল নূর দেখা যাচ্ছিল, যা প্রায় আমার দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছিল। আমি সিজদায় পড়ে গেলাম। যখন আমি মাথা তুললাম, তখন তিনি চলে গেছেন। আমি আমার দাসী নাবআহ-কে বললাম: তোমার মরণ হোক, তাঁর পিছু নাও এবং দেখো তিনি কী বলেন এবং তাঁকে কী বলা হয়।

যখন নাবআহ ফিরে এল, সে আমাকে সংবাদ দিল ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতীমে কুরাইশদের একটি দলের কাছে পৌঁছলেন, যাদের মধ্যে মুতয়িম ইবনে আদি ইবনে নাওফাল, আমর ইবনে হিশাম এবং ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা ছিল। তিনি বললেন: "আমি আজ রাতে এই মসজিদে এশার সালাত আদায় করেছি এবং এখানেই ভোরের সালাত আদায় করেছি, আর এর মধ্যবর্তী সময়ে আমি বায়তুল মাকদিসে গিয়েছি। সেখানে আমার জন্য একদল নবীকে সমবেত করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ইব্রাহিম, মুসা এবং ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) ছিলেন। আমি তাঁদের সাথে সালাত আদায় করেছি এবং তাঁদের সাথে কথা বলেছি।" তখন আমর ইবনে হিশাম উপহাস করে বলল: তাঁদের বর্ণনা আমার কাছে দিন। তিনি বললেন: "ঈসা (আলাইহিস সালাম) মাঝারি গঠনের চেয়ে কিছুটা লম্বা কিন্তু খুব দীর্ঘকায় নন, প্রশস্ত বক্ষবিশিষ্ট, গায়ের রঙে রক্তবর্ণ আভা আছে, কোঁকড়ানো চুল, যেন তিনি উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আস-সাকাফি। আর মুসা (আলাইহিস সালাম) বিশাল দেহের অধিকারী, শ্যামবর্ণ, দীর্ঘকায়, যেন তিনি শানুয়াহ গোত্রের পুরুষদের একজন, প্রচুর চুল বিশিষ্ট, কোটরগত চক্ষু, একটি দাঁতের ওপর আরেকটি দাঁত চড়ানো, পাতলা ঠোঁট বিশিষ্ট, মাড়ি কিছুটা বের করা এবং গম্ভীর প্রকৃতির। আর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে বলছি, আল্লাহর কসম, তিনি শারীরিক গঠন ও চরিত্রে মানুষের মধ্যে আমার সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।" তখন তারা শোরগোল শুরু করল এবং এই বিষয়টিকে অনেক বড় (অসম্ভব) মনে করল।

অতঃপর মুতয়িম ইবনে আদি ইবনে নাওফাল বলল: আজকের দিনের আগে তোমার সব ব্যাপারই সহনীয় ছিল, কিন্তু আজকের কথা ভিন্ন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমি মিথ্যাবাদী। আমরা উটের পিঠে চড়ে বায়তুল মাকদিসে যেতে এক মাস এবং ফিরে আসতে এক মাস সময় ব্যয় করি, আর তুমি দাবি করছ যে তুমি এক রাতে সেখানে গিয়েছ? লাত ও উযযার কসম, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না এবং তুমি যা বলছ তা কখনো হতে পারে না। মুতয়িম ইবনে আদির যমযমের কাছে একটি জলাধার ছিল, যা আব্দুল মুত্তালিব তাকে দিয়েছিলেন। সে সেটি ভেঙে ফেলল এবং লাত ও উযযার নামে কসম খেল যে সে তা থেকে কখনো এক ফোঁটাও পান করাবে না। অতঃপর আবু বকর (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বললেন: হে মুতয়িম, তুমি তোমার ভাতিজাকে যা বললে এবং তাকে যেভাবে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করলে তা খুবই মন্দ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি সত্যবাদী। তখন তারা বলল: হে মুহাম্মদ, আমাদের কাছে বায়তুল মাকদিসের বর্ণনা দিন। তিনি বললেন: "আমি সেখানে রাতে প্রবেশ করেছি এবং রাতেই বের হয়েছি।" তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ এবং তাঁর ডানায় বায়তুল মাকদিসের চিত্র তুলে ধরলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে লাগলেন: "তার একটি দরজা অমুক স্থানে এমন, আরেকটি দরজা অমুক স্থানে এমন।" আর আবু বকর (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে বলছিলেন: আপনি সত্য বলেছেন, আপনি সত্য বলেছেন। নাবআহ বলেন: আমি সেদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "হে আবু বকর, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনার নাম 'সিদ্দীক' রেখেছেন।"

লোকেরা বলল: হে মুতয়িম, আমাদের বায়তুল মাকদিসের বর্ণনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে দাও। হে মুহাম্মদ, আমাদের কাফেলা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "আমি রাওহা নামক স্থানে অমুক গোত্রের কাফেলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। তাদের একটি উট হারিয়ে গিয়েছিল এবং তারা সেটি খুঁজতে বেরিয়েছিল। আমি তাদের ডেরায় পৌঁছলাম যেখানে কেউ ছিল না। সেখানে একটি পানির পাত্র ছিল, আমি তা থেকে পানি পান করেছি। তোমরা তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো।" তারা বলল: আল্লাহর কসম, এটি একটি নিদর্শন। তিনি বললেন: "অতঃপর আমি অমুক গোত্রের কাফেলার কাছে পৌঁছলাম। তখন উটগুলো আমার থেকে ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটে গেল এবং তাদের একটি লাল উট বসে পড়ল যার ওপর সাদা রেখা বিশিষ্ট বস্তা ছিল। আমি জানি না উটটির পা ভেঙে গিয়েছিল কি না। তোমরা তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো।" তারা বলল: আল্লাহর কসম, এটিও একটি নিদর্শন। তিনি বললেন: "অতঃপর আমি তানয়িম নামক স্থানে অমুক গোত্রের কাফেলার কাছে পৌঁছলাম। একটি ছাই রঙের উট কাফেলাটির নেতৃত্ব দিচ্ছিল। এই যে সেটি এখন গিরিপথ দিয়ে তোমাদের সামনে উদিত হচ্ছে।" তখন ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা বলল: এ তো এক যাদুকর। তারা গেল এবং দেখল যে বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমনটি তিনি বলেছিলেন। তবুও তারা তাঁকে যাদুর অপবাদ দিল এবং বলল: ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা যা বলেছে তা সত্য। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "আমি যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি তা কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য এবং কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত গাছটির ক্ষেত্রেও একই কথা।" [সূরা বনী ইসরাঈল: ৬০]। আমি উম্মে হানিকে জিজ্ঞাসা করলাম: কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত গাছ কোনটি? তিনি বললেন: যাদের ভয় দেখানো হয়েছিল, কিন্তু সেই ভীতি প্রদর্শন তাদের কেবল চরম অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করেছিল।

(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ بُنْدَارٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَسَحَّرُوا؛ فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً»
১১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনু বাশশার বুন্দার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনু মাহদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর ইবনু আইয়্যাশ বর্ণনা করেছেন, আসিম হতে, তিনি যির হতে, তিনি আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা সাহরী খাও; কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ الرَّقَاشِيُّ الْخَزَّازُ، بَصْرِيٌّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ السِّخْتِيَانِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «يَدْخُلُ عَلَيْكُمْ مِنْ ذَا الْبَابِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» . فَلَيْسَ مِنَّا أَحَدٌ إِلَّا وَهُوَ يَتَمَنَّى أَنْ يَكُونَ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ، فَإِذَا سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ قَدْ طَلَعَ "
১২ - আমাদের নিকট আবু মুসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বসরার অধিবাসী আবদুল্লাহ ইবনে কায়স আর-রাকাশি আল-খাযযায বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «এই দরজা দিয়ে তোমাদের নিকট জান্নাতী এক ব্যক্তি প্রবেশ করবেন»। এমতাবস্থায় আমাদের প্রত্যেকের মনে এই আকাঙ্ক্ষা জাগল যে, সেই ব্যক্তিটি যেন তার নিজ পরিবারের কেউ হয়। এরপর হঠাৎ সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস উদিত হলেন (প্রবেশ করলেন)।"
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَهْدِيٍّ الْأُبُلِّيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، بِالْبَصْرَةِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «حَسْبُكَ مِنْ نِسَاءِ الْعَالَمِينَ مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ، وَخَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ، وَفَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ، وَآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ»
১৩ - মুহাম্মদ বিন মাহদী আল-উবুল্লি আবু আবদুল্লাহ বসরার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «বিশ্বের নারীগণের মধ্যে তোমার জন্য এরা যথেষ্ট: ইমরানের কন্যা মারইয়াম, খুওয়াইলিদের কন্যা খাদিজা, মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা এবং ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
14 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَامِعٍ الْعَطَّارُ، وَكَانَ ضَعِيفًا قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ»
১৪ - মুহাম্মদ বিন জামি আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আর তিনি দুর্বল ছিলেন—তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে‘ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঘোড়ার কপালে কল্যাণ গেঁথে দেওয়া হয়েছে»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي رَجَاءٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي كَرِبٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «وَيْلٌ لِلْعَرَاقِيبِ مِنَ النَّارِ»
১৫ - মুহাম্মদ ইবন আবু রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবন আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ ইবন আবু কারিব ও আবদুল্লাহ ইবন মারছাদ থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «জাহান্নামের আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য দুর্ভোগ।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي رَجَاءٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كَانَ يُنْبَذُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشِيَّةً، فَكَانَ يَكُونُ لَهُ لَيْلَتَهُ وَيَوْمَهُ، فَإِذَا أَمْسَى مِنْهُ شَيْءٌ أَمَرَهُمْ أَنْ يُهْرِقُوهُ»
১৬ - মুহাম্মাদ ইবনু আবী রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজীদ ইবনু আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু ওয়াসসাব থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য সন্ধ্যার সময় পানীয় প্রস্তুত করা হতো। অতঃপর তা তাঁর জন্য সেই রাত ও পরবর্তী দিন পর্যন্ত থাকত। এরপর যখন সন্ধ্যা হতো এবং তা থেকে কিছু অবশিষ্ট থাকত, তখন তিনি তাদের সেটি ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিতেন।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
17 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا. . .، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُسَيْبٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " أَنْهَاكُمْ عَنْ ثَلَاثٍ: عَنْ قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةِ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةِ الْمَالِ "
১৭ - মুহাম্মদ ইবনে বক্কার আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন. . . , আবদুল্লাহ ইবনে নুসাইব থেকে বর্ণিত, তিনি মুসলিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাবরা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আমি তোমাদের তিনটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: অহেতুক কথাবার্তা (বলাবলি করা), অধিক মাত্রায় প্রশ্ন করা এবং সম্পদ অপচয় করা।"
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
18 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ نَافِعٍ، «أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعِشَاءِ فِي جَمَاعَةٍ أَحْيَى لَيْلَتَهُ»
১৮ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট যায়িদ ইবনুল হুবাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবদুল আযীয ইবনে আবি রাওয়াদ নাফি‘ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «নিশ্চয়ই ইবনে উমর (রা.)-এর যখন জামাতের সাথে ইশার সালাত ছুটে যেত, তখন তিনি পুরো রাত জেগে ইবাদত করতেন।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي سَمِينَةَ بَصَرِيٌّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْأَعْمَشُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو السَّوَّارِ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: " كُنَّا جُلُوسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو مُوسَى عِنْدَهُ، وَأَخَذَ الْوَالِي رَجُلًا، فَضَرَبَهُ، وَحَمَلَهُ عَلَى جَمَلٍ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَصِيحُونَ: الْجَمَلَ الْجَمَلَ فَقَالَ رَجُلٌ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، هَذَا الْجَمَلُ الَّذِي كُنَّا نَسْمَعُ؟ قَالَ: لَا، فَأَيْنَ الْأَبَارِقَةُ؟ "
১৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন আবী সামীনা বসরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাফস ইবন গিয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আমাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুস সাওয়ার বর্ণনা করেছেন উমায়ের ইবন সাঈদ থেকে, তিনি বলেন: "আমরা আব্দুল্লাহর সাথে বসা ছিলাম এবং আবু মুসা তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন শাসনকর্তা এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করলেন, তাকে প্রহার করলেন এবং তাকে একটি উটের ওপর আরোহণ করালেন। তখন লোকেরা চিৎকার করে বলতে লাগল: 'উট! উট!' এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: 'হে আবু আবদুর রহমান! এটি কি সেই উট যার কথা আমরা শুনতাম?' তিনি বললেন: 'না, তবে আবারিকাহরা (সুসজ্জিতরা) কোথায়?'"
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥١)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي سَمِينَةَ الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَنْصَرِفْ أَحَدُكُمْ مِنَ الصَّلَاةِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا، أَوْ يَجِدَ رِيحًا»
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবু সামিনা আল-বাগদাদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আমির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন সালাত থেকে ফিরে না যায় যতক্ষণ না সে শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٢)
21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الدُّولَابِيُّ أَبُو جَعْفَرٍ، سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ الْخَزَّازُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حِرَاءٍ، فَتَزَعْزَعَ بِهِمُ الْجَبَلُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اسْكُنْ حِرَاءُ، فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ، أَوْ صِدِّيقٌ، أَوْ شَهِيدٌ» . وَعَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَبُو بَكْرً، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ، وَطَلْحَةُ، وَالزُّبَيْرُ، وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ "
২১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন সাব্বাহ আদ-দুলাবী আবু জাফর পঁচিশ হিজরী সনে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল বিন যাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নাযর আল-খায্যায বর্ণনা করেছেন ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেরা পাহাড়ের উপর ছিলেন, তখন পাহাড়টি তাঁদের নিয়ে প্রকম্পিত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «হে হেরা, স্থির হও! কেননা তোমার উপরে কেবল একজন নবী, অথবা একজন সিদ্দিক, অথবা একজন শহীদ অবস্থান করছেন।» আর তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবু বকর, উমর, উসমান, তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং সাঈদ বিন যায়েদ বিন আমর বিন নুফাইল।"
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا خَلَّادٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: ذَكَرْنَا لَيْلَةَ الْقَدْرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كَمْ مَضَى مِنَ الشَّهْرِ» ؟ قُلْنَا: اثْنَانِ وَعِشْرُونَ، وَبَقِيَ ثَمَانٍ. قَالَ: «مَضَى ثِنْتَانِ وَعِشْرُونَ، وَبَقِيَ سَبْعٌ، الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ»
২২ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর আবু আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট খাল্লাদ আল-জু'ফী বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম থেকে, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবু সলিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "মাসের কত দিন অতিবাহিত হয়েছে?" আমরা বললাম: "বাইশ দিন অতিবাহিত হয়েছে এবং আট দিন অবশিষ্ট আছে।" তিনি বললেন: "বাইশ দিন অতিবাহিত হয়েছে এবং সাত দিন অবশিষ্ট আছে; মাস হলো ঊনত্রিশ দিনের।"
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
23 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ سَهْمٍ الْأَنْطَاكِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ سُلَيْمَانَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ، يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ: حَدَّثَنَا الْبَرَاءُ، " أَنَّهُمْ كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا رَكَعَ رَكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ» ، لَمْ نَزَلْ قِيَامًا حَتَّى نَرَاهُ قَدْ وَضَعَ وَجْهَهُ عَلَى الْأَرْضِ، ثُمَّ نَتْبَعُهُ "
২৩ - মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাকীম ইবনে সাহম আল-আনতাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-ফাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আশ-শায়বানি সুলায়মান থেকে, তিনি তাঁকে মুহরিব ইবনে দিসার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদকে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি: আল-বারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, "তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করতেন; অতঃপর তিনি যখন রুকু করতেন তখন তাঁরাও রুকু করতেন। আর যখন তিনি রুকু থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন এবং বলতেন: 'আল্লাহ ওই ব্যক্তির প্রশংসা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে', আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতাম যতক্ষণ না দেখতাম যে তিনি তাঁর চেহারা জমিনে রেখেছেন, এরপর আমরা তাঁর অনুসরণ করতাম।"
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٤)
24 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكَرْمَانِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ أُمِّهِ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْحُسَيْنِ، عَنْ أُمِّهَا فَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ عليها السلام " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ قَالَ: «السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رِزْقِكَ»
২৪ - আমাদের নিকট বনী হাশিমের আযাদকৃত গোলাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন বাক্কার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান ইবন ইবরাহীম আল-কিরমানী বর্ণনা করেছেন আসিম ইবন সুলায়মান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবন আলী ইবন আবী তালিব থেকে, তিনি তাঁর মা ফাতিমা বিনতুল হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর মা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: «হে নবী, আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমার জন্য আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রিযিকের দরজাগুলো খুলে দিন।»
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٥)
25 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْغَضِيضِيُّ أَبُو جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ قُرَّةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ «نُبِّئَ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعِينَ، فَمَكَثَ بِمَكَّةَ عَشْرًا، وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا، ثُمَّ تُوُفِّيَ وَهُوَ ابْنُ سِتِّينَ، وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ»
২৫ - মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-গাদিযি আবু জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন কুররা ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবুওয়াত লাভ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। অতঃপর তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। এরপর তিনি ষাট বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন; তখন তাঁর মাথায় ও দাড়িতে বিশটি সাদা চুলও ছিল না।
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٦)
26 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ فَلَهُ قِيرَاطٌ، وَمَنِ انْتَظَرَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ، أَحَدُهُمَا مِثْلُ أُحُدٍ»
২৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ আল-মাক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুহায়ল বর্ণনা করেছেন সুমাইয়্য হতে, তিনি আবু সালিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জানাজার সালাত আদায় করে তার জন্য এক কিরাত রয়েছে, আর যে ব্যক্তি তা দাফন করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তার জন্য দুই কিরাত রয়েছে, যার একটি ওহুদ পাহাড়ের ন্যায়।"
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٦)
27 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ لَيْلَةَ الْجِنِّ: «أَمَعَكَ مَاءٌ» ؟ قَالَ: لَا، إِلَّا النَّبِيذُ. فَتَوَضَّأَ بِهِ "
২৭ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বনী হাশিমের আযাদকৃত গোলাম আবু সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি আলী বিন যায়েদ থেকে, তিনি আবু রাফে থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনের রাতে তাঁকে বলেছিলেন: «তোমার কাছে কি পানি আছে?» তিনি বললেন: না, কেবল নাবীয আছে। অতঃপর তিনি তা দিয়েই উযু করলেন।
(খণ্ড: ১) মুজামু আবি ইয়ালা আল মাওসিলী (পৃষ্ঠা: ٥٧)
28 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الزِّبْرِقَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ بَعْضَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ تَفْرِيجَ الْأَيْدِي يَشُقُّ عَلَيْنَا فِي الصَّلَاةِ «فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَسْتَعِينُوا بِالرُّكَبِ»
২৮ - মুহাম্মদ ইবনুল ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুয জিবরিকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আজলান আমাদের নিকট সুমাই থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সালাতে (সিজদাহর সময়) হাত প্রশস্ত করে রাখা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ছে। «অতঃপর তিনি তাদেরকে হাঁটুর সাহায্য গ্রহণ করার নির্দেশ দিলেন»।