(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مسند عمر بن الخطاب ليعقوب بن شيبة القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند عمر بن الخطاب
المؤلف: أبو يوسف يعقوب بن شيبة بن الصَّلْت بن عُصْفور السدوسي بالولاء البصري (ت 262هـ)
المحقق: كمال يوسف الحوت
الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1405
عدد الصفحات: 102
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ সংকলিত মুসনাদে উমর ইবনুল খাত্তাব বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুসনাদে উমর ইবনুল খাত্তাব
গ্রন্থকার: আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ ইবনে আস-সালত ইবনে উসফুর আস-সাদুসি (ওয়ালা সূত্রে) আল-বাসরি (মৃত্যু ২৬২ হিজরি)
মুহাক্কিক: কামাল ইউসুফ আল-হুত
প্রকাশক: মুআসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০২
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مُسْنَدُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ لِيَعْقُوبَ بْنِ شَيْبَةَ ⦗ص: 37⦘ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ وَحْدَهُ أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْدِيٍّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ شَيْبَةَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ
ইয়াকুব বিন শাইবাহ কর্তৃক সংকলিত উমর ইবনুল খাত্তাব-এর মুসনাদ ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমি একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াকুব বিন শাইবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
1 - وَأَمَّا الْحَدِيثُ الْبَصْرِيُّ فَرَوَاهُ خَالِدٌ الْحَذَّاءُ ، عَنْ بَرَكَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَوَاهُ عَنْهُ بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ. وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عُمَرَ ، مُخَالِفًا فِيهِ أَهْلَ مَكَّةَ ، ⦗ص: 38⦘ وَأَهْلَ الْكُوفَةِ. وَبَرَكَةُ هَذَا هُوَ أَبُو الْعُرْيَانِ الْمُجَاشِعِيُّ، وَلَا نَحْفَظُ أَحَدًا رَوَى عَنْ هَذَا الشَّيْخِ غَيْرَ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ هَذَا. وَقَدْ رَوَى بَعْضُ الشُّيُوخِ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ عَبْدِ الْأَعْلَى هَذَا الْحَدِيثَ ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ ، فَقَالَ: عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ. فَإِنْ كَانَ هَذَا الشَّيْخُ حَفِظَ هَذَا عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى ، فَقَالَ: بِشْرٌ بَرَكَةُ، وَقَالَ عَبْدُ الْأَعْلَى أَبُو الْوَلِيدِ ، وَعَبْدُ الْأَعْلَى وَبِشْرٌ ثِقَتَانِ، وَبِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ أَثْبَتُ مِنْ عَبْدِ الْأَعْلَى وَهُمَا ثَبْتَانِ، وَإِنْ كَانَ هَذَا الشَّيْخُ لَمْ يَضْبِطْ هَذَا عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى ، فَهُوَ خَطَأٌ مِنْهُ، وَلَا يَنْبَغِي أَنْ يَتَوَهَّمَ مُتَوَهِمٌ أَنَّ بِشْرًا سَمَّاهُ، وَأَنَّ عَبْدَ الْأَعْلَى كَنَّاهُ ، لِأَنَّ بِشْرًا قَدْ جَمَعَ بَيْنَ اسْمِهِ وَكُنْيَتِهِ فِي حَدِيثٍ غَيْرِ هَذَا. رَوَى بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ بَرَكَةَ أَبِي الْعُرْيَانِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: «مَنْ كَانَ سَائِلًا عَنْ نَسَبِنَا»
১ - আর বসরার অধিবাসী (বর্ণিত) হাদিসটি সম্পর্কে কথা হলো, এটি খালিদ আল-হাজ্জা বর্ণনা করেছেন বারাকাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল মুফাযযাল। তিনি এতে উমরের নাম উল্লেখ করেননি, যা মক্কাবাসী এবং কুফাবাসীদের বর্ণনার পরিপন্থী। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আর এই বারাকাহ হলেন আবু আল-উরইয়ান আল-মুজাশি'ঈ। আমাদের জানামতে এই শাইখ থেকে এই খালিদ আল-হাজ্জা ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। কিছু শাইখ আব্দুল আ'লা ইবনে আব্দুল আ'লা থেকে এই হাদিসটি খালিদ আল-হাজ্জার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন: আবুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে। যদি এই শাইখ আব্দুল আ'লা থেকে এটি সঠিকভাবে মুখস্থ রেখে থাকেন—তবে বিশর বলেছেন 'বারাকাহ', আর আব্দুল আ'লা বলেছেন 'আবুল ওয়ালিদ'। আব্দুল আ'লা এবং বিশর উভয়ই নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তবে বিশর ইবনুল মুফাযযাল আব্দুল আ'লা অপেক্ষা অধিকতর দৃঢ় (আসবাত), যদিও তারা উভয়ই বিশ্বস্ত। আর যদি এই শাইখ আব্দুল আ'লা থেকে এটি সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে না পেরে থাকেন, তবে এটি তার ভুল। আর কারো এমন ধারণা করা উচিত হবে না যে বিশর কেবল তার নাম উল্লেখ করেছেন এবং আব্দুল আ'লা তার উপনাম (কুনিয়াত) উল্লেখ করেছেন; কেননা বিশর এই হাদিসটি ব্যতীত অন্য একটি হাদিসে তার নাম ও উপনাম উভয়ই একত্রে উল্লেখ করেছেন। বিশর ইবনুল মুফাযযাল বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি বারাকাহ আবু আল-উরইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি বলেন: "যে আমাদের বংশ সম্পর্কে জানতে চায়..."
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
2 - فَأَمَّا مَا سَمِعْنَا فِي، رِوَايَةِ ابْنِ عُيَيْنَةَ ، وَحَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: فَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ الْعَبَّاسِ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ: أَيُّهُمَا أَحْفَظُ ، ابْنُ عُيَيْنَةَ ، أَوْ حَمَّادُ بْنُ ⦗ص: 40⦘ زَيْدٍ؟ فَقَالَ: جَمِيعًا سَوَاءٌ ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: كُنْتُ عِنْدَ سُفْيَانَ مَعِي ابْنُ ابْنِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، فَحَدَّثَ سُفْيَانُ بِحَدِيثِ عَمْرٍو عَنْ طَاوُسٍ فِي الْمَوَاقِيتِ مُرْسَلًا، قَالَ عَلِيٌّ: فَقُلْتُ لَهُ: فَإِنَّ حَمَّادَ بْنَ زَيْدٍ يَقُولُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ سُفْيَانُ: أُحَرِّجُ عَلَيْكَ بِأَسْمَاءِ اللَّهِ، لَمَا صَدَقْتَ، أَنَا أَعْلَمُ بِعَمْرٍو أَوْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ فَبَقِيتُ ثُمَّ قُلْتُ: أَنْتَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ أَعْلَمُ بِعَمْرٍو مِنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، وَابْنُهُ حَاضِرٌ، فَلَمَّا ⦗ص: 41⦘ قُمْتُ قَالَ لِي ابْنُ ابْنِهِ: عَرَّضْتَ جَدِّي حِينَ قُلْتَ لَهُ: إِنَّ حَمَّادَ بْنَ زَيْدٍ يَقُولُ: كَذَا وَكَذَا قَالَ عَلِيٌّ وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، مُرْسَلًا وَرَوَاهُ وُهَيْبٌ، وَمَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ عَلِيٌّ، وَتَابَعَ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَلَى حَدِيثِ عَمْرٍو، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، فَقُلْتُ لِعَلِيٍّ: جَعْفَرٌ رَوَاهُ عَنْ عَمْرٍو؟ قَالَ: نَعَمْ ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ: قَالَ لِي ⦗ص: 42⦘ يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ: قَالَ لِي حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ: سَمِعْتُ حَدِيثَ، عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ بَيْنَنَا مُرَاجَعَةً: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ: مُرَاجَعَةَ تَذَاكُرٍ بَيْنَهُمْ، يَذْكُرُ هَذَا نِصْفَ الْحَدِيثِ وَهَذَا نِصْفَهُ، يَسْمَعُونَ مِنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ فَيَحْفَظُ بَعْضُهُمْ نِصْفًا وَبَعْضُهُمْ ثَلَاثًا فَيَتَذَاكَرُونَهَا بَيْنَهُمْ، ثُمَّ يَكْتُبُونَهَا، قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ: بَلَغَ هَذَا سُلَيْمَانَ بْنَ حَرْبٍ فَقَالَ: قُولُوا لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ لَا يَذْكُرُ هَذَا الْحَرْفَ. ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ⦗ص: 43⦘، يَقُولُ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ، عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: جَلَسْتُ إِلَى عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ فَلَمْ أَفْهَمْ كَلَامَهُ: قَالَ عَلِيٌّ: فَحَدَّثْتُ بِهِ، سُفْيَانَ: فَقَالَ: صَدَقَ، أَدْرَكْنَاهُ وَقَدْ سَقَطَتْ أَسْنَانُهُ، وَبَقِيَ لَهُ نَابٌ وَاحِدٌ، فَلَوْلَا أَنَّا أَطَلْنَا مُجَالَسَتَهُ مَا فَهِمْنَا عَنْهُ ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ هَاشِمٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ عُيَيْنَةَ يَقُولُ: جَالَسْتُ عَمْرَو بْنَ دِينَارٍ، وَأَنَا صَغِيرٌ وَكَانَ مُقْعَدًا فَلَمْ أُفَارِقْهُ حَتَّى كُنْتُ أَحْمِلُهُ، فَلَمَّا قَدِمَ الزُّهْرِيُّ، جَاءَ إِلَى عَمْرٍو ⦗ص: 44⦘ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ، وَكَانَ عَمْرٌو أَكْبَرَ مِنَ الزُّهْرِيِّ، فَقَالَ عَمْرٌو: نَحْنُ كُنَّا نَأْتِيكَ. قَالَ: الزُّهْرِيُّ لَا يَا أَبَا مُحَمَّدٍ، أَنْتَ أَحَقُّ أَنْ تُؤْتَى ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ جَالَسَ سُفْيَانُ عَمْرَو بْنَ دِينَارٍ سَنَةَ ثِنْتَيْنِ وَعِشْرِينَ ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: وَسَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ: قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: قَالُوا فِي مَجْلِسِ الْأَعْمَشِ لِلْأَعْمَشِ: قَدْ حَدَّثَ الْيَوْمَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: وَبِمَا حَدَّثَ؟ فَقَالُوا: عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، " السَّائِحُونَ: الصَّائِمُونَ " ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ: كَانَ ⦗ص: 45⦘ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ لَا يَكَادُ يَقُولُ فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ عَامَّتِهَا، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ وَفِي حَدِيثِ الشُّيُوخِ، حَدَّثَنَا وَأَخْبَرَنَا. ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: وَسَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: أَنَا جَالَسْتُ، عَمْرًا حَتَّى حَفِظْتُ كَلَامَهُ
২ - পক্ষান্তরে ইবনে উয়াইনাহ এবং হাম্মাদ বিন যায়দ কর্তৃক আমর বিন দীনার থেকে বর্ণিত যে রেওয়ায়েত আমরা শুনেছি— মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনুল আব্বাস আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে জিজ্ঞেস করলাম: ইবনে উয়াইনাহ এবং হাম্মাদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ যায়দের মধ্যে কে বেশি স্মৃতিধর? তিনি বললেন: উভয়েই সমান। মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানের নিকট ছিলাম এবং আমার সাথে হাম্মাদ বিন যায়দের নাতি ছিল। তখন সুফিয়ান আমর থেকে, তিনি তাউস থেকে মুরসাল হিসেবে 'মাওয়াকিত' (সালাতের সময়সূচী) সংক্রান্ত একটি হাদিস বর্ণনা করলেন। আলী বলেন: তখন আমি তাঁকে বললাম: হাম্মাদ বিন যায়দ তো এটি ইবনে আব্বাস থেকে (মারফু হিসেবে) বর্ণনা করেন। তখন সুফিয়ান বললেন: আমি আল্লাহর নামসমূহের শপথ দিয়ে তোমাকে জিজ্ঞেস করছি, তুমি কি সত্য বলছ? আমি আমর সম্পর্কে বেশি জানি নাকি হাম্মাদ বিন যায়দ? আমি চুপ হয়ে গেলাম। এরপর বললাম: হে আবু মুহাম্মাদ, আপনিই হাম্মাদ বিন যায়দের চেয়ে আমর সম্পর্কে অধিক অবগত, আর তখন তাঁর (হাম্মাদের) নাতি সেখানে উপস্থিত ছিল। অতঃপর যখন ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ আমি দাঁড়ালাম, তখন তাঁর নাতি আমাকে বলল: আপনি আমার দাদাকে বিরূপ পরিস্থিতিতে ফেললেন যখন আপনি তাঁকে বললেন যে: হাম্মাদ বিন যায়দ এমন এমন বলেছেন। আলী বলেন: আর হাম্মাদ বিন যায়দ এটি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবার উহাইব ও মামার এটি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আলী বলেন: জাফর বিন বুরকান আমরের হাদিসে হাম্মাদ বিন যায়দের অনুসরণ করেছেন যা তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি আলীকে বললাম: জাফর কি এটি আমর থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন মিনহাল আমাকে বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ ইয়াজিদ বিন জুরাই আমাকে বলেছেন: হাম্মাদ বিন যায়দ আমাকে বলেছেন: আমি আমর বিন দীনারের হাদিস শুনেছি আমাদের পারস্পরিক আলোচনার (মুরাজাআহ) মাধ্যমে। মুহাম্মাদ বিন মিনহাল বলেন: মুরাজাআহ মানে হলো তাদের মধ্যে পারস্পরিক স্মৃতিচারণ; একজন হাদিসের অর্ধেক উল্লেখ করত এবং অন্যজন বাকি অর্ধেক। তারা আমর বিন দীনার থেকে শুনত, এরপর তাদের কেউ অর্ধেক মুখস্থ করত আর কেউ এক-তৃতীয়াংশ, তারপর তারা নিজেদের মধ্যে তা আলোচনা করত এবং এরপর তা লিখে নিত। মুহাম্মাদ বিন মিনহাল বলেন: এই বিষয়টি সুলাইমান বিন হারবের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: আবু আবদুল্লাহকে বলো তিনি যেন এই কথাটি উল্লেখ না করেন। মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আবদুল্লাহকে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ বলতে শুনেছি: আমাকে আব্দুস সামাদ তাঁর পিতা আব্দুল ওয়ারিস থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমর বিন দীনারের মজলিসে বসলাম কিন্তু তাঁর কথা কিছুই বুঝতে পারলাম না। আলী বলেন: আমি সুফিয়ানের কাছে এটি বর্ণনা করলাম, তখন তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে, আমরা তাঁকে এমন বার্ধক্যে পেয়েছি যখন তাঁর দাঁত পড়ে গিয়েছিল এবং মাত্র একটি দাঁত অবশিষ্ট ছিল। আমরা যদি দীর্ঘ সময় তাঁর মজলিসে না বসতাম, তবে আমরাও তাঁর কথা বুঝতে পারতাম না। মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম বিন হাশিমকে বলতে শুনেছি: আমি ইবনে উয়াইনাহকে বলতে শুনেছি: আমি ছোট অবস্থায় আমর বিন দীনারের মজলিসে বসেছি, তিনি পঙ্গু ছিলেন এবং আমি তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করতাম না এমনকি আমি তাঁকে বহন করতাম। যখন জুহরি আসলেন, তিনি আমরের ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ নিকট এসে তাঁকে সালাম দিলেন; আমর জুহরির চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। তখন আমর বললেন: আমাদেরই তো আপনার কাছে যাওয়া উচিত ছিল। জুহরি বললেন: না হে আবু মুহাম্মাদ, আপনার কাছেই আসা অধিক যুক্তিসঙ্গত। মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে বলতে শুনেছি, সুফিয়ান একশত বাইশ হিজরিতে আমর বিন দীনারের মজলিসে বসেছেন। মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে বলতে শুনেছি: সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ বলেছেন: আমাশের মজলিসে লোকেরা আমাশকে বলল: আজ সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কী বর্ণনা করেছেন? তারা বলল: আমর বিন দীনার থেকে, তিনি উবাইদ বিন উমাইর থেকে (বর্ণনা করেছেন): "ভ্রমণকারীগণই হলো রোজা পালনকারীগণ।" মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে বলতে শুনেছি: ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ সাধারণত জুহরির হাদিসের ক্ষেত্রে বলতেন না যে, 'জুহরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন', তবে অন্যান্য শায়খদের হাদিসের ক্ষেত্রে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' ও 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' শব্দগুলো বলতেন। মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ বলেছেন: আমি আমরের সাথে দীর্ঘকাল বসেছি এমনকি আমি তাঁর বাচনভঙ্গি পর্যন্ত মুখস্থ করে ফেলেছি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
وَأَمَّا حَدِيثُ أَهْلِ مَكَّةَ حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ الَّذِي رَوَاهُ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ فَأَسْنَدَهُ
আর মক্কাবাসীদের হাদিস অর্থাৎ আমর ইবনে দিনারের হাদিস যা সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি তা সনদসহ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: فَحَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ ثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ طَاوُسًا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " بَلَغَ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّ فُلَانًا بَاعَ الْخَمْرَ، فَقَالَ عُمَرُ، رضي الله عنه: قَاتَلَ اللَّهُ فُلَانًا، أَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ فَبَاعُوهَا، وَأَكَلُوا أَثْمَانَهَا»
আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম আল-ফাদল ইবন দুকাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবন উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন আমর ইবন দীনার থেকে, তিনি বলেন: আমি তাউসকে ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: "উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, অমুক ব্যক্তি মদ বিক্রি করেছে। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আল্লাহ অমুককে ধ্বংস করুন! সে কি জানে না যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‘আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; তাদের ওপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বিক্রি করল এবং তার মূল্য ভক্ষণ করল’।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: ثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ ⦗ص: 46⦘، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَسِيَاقُ الْحَدِيثِ، عَنْ سُرَيْجٍ، قَالُوا: ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ " بَلَغَ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّ سَمُرَةَ بَاعَ خَمْرًا فَقَالَ: قَاتَلَ اللَّهُ سَمُرَةَ، أَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ فَجَمَلُوهَا وَبَاعُوهَا» جَمَلُوهَا يَعْنِي: أَذاَبُوهَا
মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুরাইজ ইবনু নুমান ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘, জুহাইর ইবনু হারব এবং আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—এবং হাদিসের শব্দবিন্যাস সুরাইজ থেকে বর্ণিত—তাঁরা বলেন: সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনু আব্বাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, সামুরাহ মদ বিক্রি করেছেন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ সামুরাহকে ধ্বংস করুন! তিনি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ ইহুদিদের ওপর লানত করুন, তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রি করেছে»। 'জামালুহা' অর্থাৎ: তারা তা গলিয়েছিল।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
وَأَمَّا حَدِيثُ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرٍو الَّذِي نَقَصَ مِنْ إِسْنَادِهِ ابْنُ عَبَّاسٍ
আর আমরের সূত্রে বর্ণিত হাম্মাদ ইবনে যায়েদের হাদিসটি, যার সনদ থেকে তিনি ইবনে আব্বাসকে বাদ দিয়েছেন
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: ثَنَا عَارِمُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ: ثَنَا ⦗ص: 47⦘ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ: " بَلَغَ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّ فُلَانَا بَاعَ الْخَمْرَ، فَقَالَ: " لَعَنَ اللَّهُ فُلَانَا بَاعَ الْخَمْرَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ، أَوْ قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ فَاجْتَمَلُوهَا فَبَاعُوهَا»
মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আরিম ইবনুল ফাদল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ হাম্মাদ ইবনু যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি তাউস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "উমার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, জনৈক ব্যক্তি মদ বিক্রয় করেছে। তখন তিনি বললেন: 'আল্লাহ অমুককে লানত করুন, সে মদ বিক্রয় করেছে। অথচ আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন) বলেছেন: «আল্লাহ ইহুদিদের লানত করুন, অথবা আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; তাদের ওপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা গলিয়ে বিক্রয় করেছিল»'।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: ثَنَا مُسَدَّدُ، قَالَ: ثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ طَاوُسٍ قَالَ: " بَلَغَ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّ سَمُرَةَ بَاعَ خَمْرًا، فَقَالَ قَوْلًا شَدِيدًا، ثُمَّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ، أَوْ قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ، ثُمَّ اجْتَمَلُوهَا فَبَاعُوهَا»
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে সামুরা মদ বিক্রি করেছেন। তখন তিনি অত্যন্ত কঠোর কথা বললেন। অতঃপর তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'আল্লাহ ইহুদিদের লানত করুন অথবা আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; তাদের ওপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা গলিয়ে বিক্রি করল'।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
وَأَمَّا حَدِيثُ أَهْلِ الْكُوفَةِ الَّذِي تَفَرَّدَ بِهِ شَيْبَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ وَوَافَقَ أَهْلَ مَكَّةَ، فَقَالَ: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
আর কুফাবাসীদের সেই হাদিসের ব্যাপারে যা শায়বান এককভাবে আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যা মক্কাবাসীদের বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে, তবে তিনি বলেছেন: ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: فَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ: ثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو ⦗ص: 48⦘ مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ يُحَرِّمُونَ شُحُومَ الْغَنَمِ وَيَأْكُلُونَ أَثْمَانَهَا»
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ বিন মূসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাইবান বিন আব্দুর রহমান আবু ⦗পৃ: ৪৮⦘ মুআবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি হাবীব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ ইহুদিদের প্রতি লানত করেছেন; তারা ভেড়ার চর্বি হারাম করে এবং তার মূল্য ভক্ষণ করে»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
6 - وَأَمَّا الْحَدِيثُ الْآخَرُ الَّذِي رَوَاهُ شَيْبَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ كُلْثُومٍ، عَنْ أُسَامَةَ الَّذِي تَابَعَهُ عَلَيْهِ عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ
৬ - আর অপর হাদীসটি যা শায়বান আল-আ'মাশ থেকে, তিনি জামি' ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি কুলসুম থেকে, তিনি উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন, যে বিষয়ে আম্মার ইবনে রুযায়িক তাঁর অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: ثَنَا خَلَفُ بْنُ سَالِمٍ، قَالَ: ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ: ثَنَا شَيْبَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ كُلْثُومٍ، عَنْ أُسَامَةَ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 50⦘ نَعُودُهُ وَهُوَ مَرِيضٌ فَوَجَدْنَاهُ نَائِمًا قَدْ غَطَّى وَجْهَهُ بِبُرْدٍ عَدَنِيٍّ، فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ؛ يُحَرِّمُونَ الشُّحُومَ وَيَأْكُلُونَ أَثْمَانَهَا»
মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালাফ ইবনে সালিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শায়বান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমাশ থেকে, তিনি জামি ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি কুলসুম থেকে, তিনি উসামা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ তাঁর অসুস্থাবস্থায় তাঁকে দেখতে প্রবেশ করলাম। আমরা তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম, তিনি একটি আদনী চাদর দ্বারা তাঁর চেহারা ঢেকে রেখেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর চেহারা থেকে চাদর সরালেন এবং বললেন: "আল্লাহ ইহুদীদের প্রতি লানত করুন; তারা চর্বি হারাম করে এবং এর মূল্য ভক্ষণ করে।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
وَأَمَّا حَدِيثُ عَمَّارِ بْنِ رُزَيْقٍ بِمُتَابَعَتِهِ مَا رَوَى شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ الْأَعْمَشِ
আর আম্মার বিন রুজাইকের হাদীস এবং শায়বান বিন আব্দুর রহমান আল-আমাশ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার দ্বারা এর সমর্থনের (মুতাবাআত) বিষয়।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: فَحَدَّثَنَاهُ أَبُو الْجَوَّابِ الْأَحْوَصُ بْنُ جَوَّابٍ، قَالَ: ثَنَا عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ كُلْثُومٍ، عَنْ أُسَامَةَ، قَالَ: " كُنَّا حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ مُسْتَلْقٍ بَيْنَنَا، وَعَلَى وَجْهِهِ بُرْدٌ عَدَنِيُّ، فَرَفَعَ عَنْ وَجْهِهِ وَقَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ، فَبَاعُوهَا وَأَكَلُوا أَثْمَانَهَا»
মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-জাওয়াব আল-আহওয়াস ইবনে জাওয়াব আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আম্মার ইবনে রুযাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আ’মাশ থেকে, তিনি জামি ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি কুলসুম থেকে, তিনি উসামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আশেপাশে ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আমাদের মাঝে শুয়ে ছিলেন এবং তাঁর চেহারার ওপর একটি আদানি চাদর ছিল। অতঃপর তিনি তাঁর চেহারা থেকে তা সরালেন এবং বললেন: ‘আল্লাহ ইহুদিদের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন, তাদের ওপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বিক্রি করল এবং তার মূল্য ভক্ষণ করল’।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥١)
8 - وَحَدِيثُهُ فِي يَوْمِ حُنَيْنٍ أَنَّ فُلَانَا قُتِلَ شَهِيدًا وَقَدْ ذَكَرَ الْغُلُولَ حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ رَوَاهُ عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي زُمَيْلٍ سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ بِعَيْنِهِ: لَا يُحْفَظُ هَذَا الْحَدِيثُ فِي الْغُلُولِ عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. قَالَ: وَلَمْ تَرْوِهِ أَهْلُ الْكُوفَةِ، وَلَا أَهْلُ الْبَصْرَةِ، وَلَا أَهْلُ الْحِجَازِ، قَالَ أَبُو يُوسُفَ: وَهُوَ كَمَا قَالَ عَلِيٌّ وَعِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ يَمَامِيُّ ثِقَةٌ ثَبَتٌ ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: حَدَّثَنِي غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِنَا ⦗ص: 52⦘، مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، سَمِعُوا يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ: «عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ ثِقَةٌ ثَبَتٌ» ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، أَوْ حَدَّثَنِي بَعْضُ، أَصْحَابِنَا عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الصَّمَدِ، يَقُولُ: قَدِمَ عَلَيْنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، فَاجْتَمَعْنَا إِلَيْهِ، فَقَالَ: «أُرَانِي عَالِمًا أَوْ فَقِيهًا وَمَا أَدْرِي» قَالَ الْحُلْوَانِيُّ: قُلْتُ لِعَفَّانَ: كَيْفَ لَمْ تُكْتَبْ عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ؟ قَالَ: قَدْ كُنْتُ أَلْحَحْتُ فِي طَلَبِ الْحَدِيثِ فَأَضَرَّ ذَاكَ بِي ⦗ص: 53⦘، فَجَعَلْتُ عَلَى نَفْسِي أَلَّا أَكْتُبَ الْحَدِيثَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، فَقَدِمَ عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ فِي تِلْكَ الثَّلَاثَةِ الْأَيَّامِ، فَحَدَّثَ ثُمَّ خَرَجَ
৮ - এবং হুনাইনের দিনে বর্ণিত তাঁর হাদিস যে, অমুক ব্যক্তি শহীদ হিসেবে নিহত হয়েছেন, এবং এতে গনীমতের মাল আত্মসাতের (গুলুল) কথা উল্লেখ রয়েছে। এটি একটি হাসান সনদের হাদিস, যা ইকরিমাহ ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন আবু যুমাইল সিমাক আল-হানাফী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। আলী ইবনুল মাদীনী এই নির্দিষ্ট হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: গনীমতের মাল আত্মসাতের বিষয়ে এই হাদিসটি সংরক্ষিত নেই উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে এই মাধ্যম ছাড়া। তিনি বলেন: কূফাবাসী, বসরাবাসী কিংবা হিজাযবাসী কেউ এটি বর্ণনা করেননি। আবু ইউসুফ বলেন: আলী যা বলেছেন বিষয়টি তেমনই, এবং ইকরিমাহ ইবনে আম্মার ইয়ামামার অধিবাসী এবং নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী। মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সাথীদের মধ্যে একের অধিক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘, তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদও রয়েছেন; তারা ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছেন: «ইকরিমাহ ইবনে আম্মার নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী»। মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, অথবা আমার কোনো কোনো সাথী তাঁর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুস সামাদকে বলতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন: ইকরিমাহ ইবনে আম্মার আমাদের নিকট আসলেন, তখন আমরা তাঁর নিকট সমবেত হলাম। তখন তিনি বললেন: «আমি নিজেকে একজন আলেম বা ফকীহ হিসেবে দেখি, অথচ আমি জানি না (আমি তেমন কি না)»। হুলওয়ানী বলেন: আমি আফফানকে বললাম: আপনি কেন ইকরিমাহ ইবনে আম্মার থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেননি? তিনি বললেন: আমি হাদিস অন্বেষণে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছিলাম, যা আমার জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘, তাই আমি নিজের ওপর এই আবশ্যকতা আরোপ করেছিলাম যে আমি তিন দিন হাদিস লিখব না। সেই তিন দিনের মধ্যেই ইকরিমাহ ইবনে আম্মার আসলেন, হাদিস বর্ণনা করলেন এবং অতঃপর চলে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: ثَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ الْمَدَايِنِيُّ، وَأَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الطَّيَالِسِيُّ، وَأَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ اللَّيْثِيُّ، وَأَبُو حُذَيْفَةَ مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ النَّهْدِيُّ، قَالُوا: ثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو زُمَيْلٍ، قَالَ أَبُو النَّضْرِ: حَدَّثَنِي سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ أَبُو زُمَيْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه فَقَالَ: " لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ، قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ فِي حَدِيثِهِ: قُتِلَ نَفَرٌ يَوْمَ حُنَيْنٍ، وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ: قُتِلَ أَنَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَجَعَلُوا يَقُولُونَ: فُلَانٌ شَهِيدٌ، وَقَالَ أَبُو النَّضْرِ، أَقْبَلَ نَفَرٌ مِنْ صَحَابَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: فُلَانٌ شَهِيدٌ حَتَّى مَرُّوا بِرَجُلٍ، فَقَالُوا: فُلَانٌ ⦗ص: 54⦘ شَهِيدٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كَلَّا إِنِّي رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ فِي بُرْدَةٍ أَوْ عَبَاءَةٍ غَلَّهَا» ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا عُمَرُ، اخْرُجْ فَنَادِي أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ» قَالَ: فَخَرَجْتُ، فَنَادَيْتُ أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ " وَقَالَ أَبُو الْوَلِيدِ: «فَخَرَجْتُ فَنَادَيْتُ» وَلَمْ يَذْكُرْ بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ
মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁকে এটি বর্ণনা করেছেন আলী ইবন হাফস আল-মাদায়িনী, আবু আল-ওয়ালিদ হিশাম ইবন আবদিল মালিক আল-তায়ালিসি, আবু আন-নাসর হাশিম ইবনুল কাসিম আল-লাইসি এবং আবু হুযায়ফা মুসা ইবন মাসউদ আন-নাহদি। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরিমা ইবন আম্মার, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুমাইল। আবু আন-নাসর বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সিমাক আল-হানাফি আবু যুমাইল, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)। তিনি বললেন: "যখন হুনাইনের দিন উপস্থিত হলো—আবু আল-ওয়ালিদ তাঁর বর্ণনায় বলেন: হুনাইনের দিন একদল লোক নিহত হলেন; আর আলী ইবন হাফস বলেন: নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের কিছু লোক নিহত হলেন—তখন লোকেরা বলতে লাগল: অমুক শহীদ। আবু আন-নাসর বলেন: নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে একদল লোক এগিয়ে এলেন এবং তাঁরা বলতে লাগলেন: অমুক শহীদ। শেষ পর্যন্ত তাঁরা এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং বললেন: অমুক ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ শহীদ। তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: ‘কখনোই নয়! আমি তাকে একটি চাদর বা আলখেল্লার কারণে জাহান্নামের আগুনে দেখছি, যা সে খিয়ানত করেছিল।’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: ‘হে উমর, বের হও এবং ঘোষণা করে দাও যে, মুমিনরা ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ তিনি (উমর) বলেন: অতঃপর আমি বের হলাম এবং ঘোষণা করলাম যে, মুমিনরা ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" আবু আল-ওয়ালিদ বলেন: "অতঃপর আমি বের হলাম এবং ঘোষণা করলাম," এবং তিনি হাদীসের বাকি অংশ উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
9 - وَحَدِيثُهُ فِي حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ حِينَ كَتَبَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ رَوَاهُ أَيْضًا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ عَنْ سِمَاكٍ أَبِي زُمَيْلٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، رضي الله عنه، قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ بِعَيْنِهِ: لَا نَعْلَمُهُ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. قَالَ: وَلَمْ يَرْوِهِ أَهْلُ الْحِجَازِ وَلَا أَهْلُ الْبَصْرَةِ وَلَا أَهْلُ الْكُوفَةِ، وَهُوَ كَمَا قَالَ عَلِيٌّ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ وُجُوهٍ صِحَاحٍ تَأْتِي فِي مُسْنَدِ عَلِيٍّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
৯ - মক্কাবাসীদের নিকট হাতিব ইবনে আবি বালতাআর পত্র প্রেরণের ঘটনা সম্পর্কিত হাদীসটির সনদ হাসান। এটি ইকরিমাহ ইবনে আম্মার সিমাক আবু জুমাইল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনুল মাদিনী এই নির্দিষ্ট হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন: আমাদের জানা মতে উমর (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে এই একটি সূত্র ব্যতীত অন্য কোনোভাবে এটি বর্ণিত হয়নি। তিনি বলেন: হিজাজবাসী, বসরাবাসী কিংবা কুফাবাসীদের কেউ এটি বর্ণনা করেননি। বিষয়টি আলী যেমন বলেছেন তেমনই। আর আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে এই হাদীসটি বিভিন্ন সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা ইনশাআল্লাহ মুসনাদে আলীতে আসবে।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: ثَنَاهُ أَبُو حُذَيْفَةَ مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: ثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي زُمَيْلٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ⦗ص: 55⦘، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: " كَتَبَ حَاطِبُ بْنُ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى الْمُشْرِكِينَ بِكِتَابٍ، فَجِيءَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا حَاطِبُ مَا دَعَاكَ إِلَى مَا صَنَعْتَ؟» قَالَ: قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَانَ أَهْلِي فِيهِمْ وَخَشِيتُ أَنْ يُضْرِمُوا عَلَيْهِمْ، فَقُلْتُ: أَكْتُبُ كِتَابًا لَا يَضُرُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ. قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: فَاخْتَرَطْتُ السَّيْفَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبُ عُنُقَهُ، فَقَدْ كَفَرَ. فَقَالَ: " وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ عز وجل قَدِ اطَّلَعَ إِلَى هَذِهِ الْعِصَابَةِ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ، فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ "
মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুযাইফা মুসা ইবনে মাসউদ আমাদের তা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইকরিমাহ ইবনে আম্মার আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু যুমাইল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "হাতিব ইবনে আবি বালতাআ মুশরিকদের কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন, অতঃপর সেটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আনা হলো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে হাতিব, তুমি যা করেছ তাতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করল?» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পরিবার-পরিজন তাদের মাঝে ছিল এবং আমি আশঙ্কা করছিলাম যে তারা তাদের ওপর চড়াও হবে। তাই আমি ভাবলাম আমি এমন একটি পত্র লিখি যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কোনো ক্ষতি করবে না। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তখন আমি তলোয়ার উন্মুক্ত করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব? সে তো কুফরি করেছে। তখন তিনি বললেন: «তুমি কী করে জানবে? সম্ভবত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই দলের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি»"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
10 - وَحَدِيثُهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَالَحَ أَهْلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ وَهُوَ أَيْضًا مِمَّا تَفَرَّدَ بِرِوَايَتِهِ عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمَا قَلَّ أَيْضًا مَنْ رَوَاهُ عَنْ عِكْرِمَةَ
১০ -এবং তাঁর বর্ণিত হাদীস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদায়বিয়ার দিনে মক্কাবাসীদের সাথে সন্ধি করেছিলেন, তা একটি হাসান সনদবিশিষ্ট হাদীস। এটিও ঐসব হাদীসের অন্তর্ভুক্ত যা বর্ণনায় ইকরিমাহ ইবনে আম্মার একক হয়েছেন এবং ইকরিমাহ থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের সংখ্যাও কম।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: ثَنَاهُ أَبُو حُذَيْفَةَ مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ ثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي زُمَيْلٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه، قَالَ: «لَقَدْ صَالِحَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْلَ مَكَّةَ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ عَلَى صُلْحٍ، وَأَعْطَاهُمْ شَيْئًا لَوْ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّرَ عَلِيًّا أَمِيرًا فَصَنَعَ الَّذِي صَنَعَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا سَمِعْتُ لَهُ وَلَا أَطَعْتُ، وَكَانَ الَّذِي جَعَلَ لَهُمْ، أَنَّ مَنْ لَحِقَ بِالْكُفَّارِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ لَمْ يَرُدُّوهْ، وَمَنْ لَحِقَ بِالْمُسْلِمِينَ مِنَ الْكُفَّارِ رَدُّوهُ»
মুহাম্মাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হুযাইফাহ মুসা বিন মাসউদ এটি আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইকরিমা বিন আম্মার আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু জুমাইল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদাইবিয়ার দিন মক্কাবাসীদের সাথে একটি সন্ধি করেছিলেন এবং তাদেরকে এমন কিছু দিয়েছিলেন যে, যদি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীকে আমির নিযুক্ত করতেন এবং তিনি (আলী) ঠিক তাই করতেন যা আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছিলেন, তবে আমি তাঁর কথা শুনতাম না এবং তাঁর আনুগত্য করতাম না। আর তিনি তাদের জন্য যে শর্ত নির্ধারণ করেছিলেন তা হলো—মুসলিমদের মধ্য থেকে কেউ যদি কাফিরদের সাথে গিয়ে যোগ দেয় তবে তারা তাকে ফেরত দেবে না, কিন্তু কাফিরদের মধ্য থেকে কেউ যদি মুসলিমদের সাথে গিয়ে যোগ দেয় তবে তারা তাকে ফেরত দেবে।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
وَحَدِيثُهُ فِي قِصَّةِ الْأَسْرَى يَوْمَ بَدْرٍ وَمُشَاوَرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْضَ أَصْحَابِهِ فِيهِمْ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ وَلَا نَحْفَظُهُ عَنْ عُمَرَ إِلَّا مِنْ هَذَا الطَّرِيقِ، رَوَاهُ عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي زُمَيْلٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، وَرَوَاهُ عَنْ عِكْرِمَةَ أَبُو حُذَيْفَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، وَعُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْيَمَامِيُّ، وَقُرَادٌ أَبُو نُوحٍ وَهُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَزْوَانَ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَلَكٍ، وَكُلُّهُمْ ثِقَةٌ، فَأَمَّا أَبُو حُذَيْفَةَ فَإِنَّهُ جَاءَ بِهِ مُخْتَصَرًا، وَجَعَلَهُ كُلَّهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، فَجَاءَ بِهِ أَتَمَّ، وَأَدْخَلَ فِيهِ كَلِمَةً عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ مِنْ حَدِيثِ الْأَعْمَشِ، وَجَعَلَهُ كُلَّهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. اتَّفَقَ هُوَ وَأَبُو حُذَيْفَةَ فِي الْإِسْنَادِ
বদর দিবসের বন্দীদের ঘটনা এবং তাদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাঁর কিছু সাহাবীর সাথে পরামর্শ সংক্রান্ত তাঁর বর্ণিত হাদীসটির সনদ হাসান। উমর (রা.) থেকে এই সূত্র ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে এটি আমাদের জানা নেই। ইকরিমা ইবনে আম্মার এটি আবু যুমাইল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইকরিমা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আবু হুযাইফা, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং উমর ইবনে ইউনুস আল-ইয়ামামি এবং কুরাদ আবু নূহ—যিনি আবদুল্লাহ ইবনে মালাকের আযাদকৃত দাস আবদুর রহমান ইবনে গাজওয়ান; আর তারা সকলেই নির্ভরযোগ্য। আবু হুযাইফা এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং পুরো হাদীসটিকে ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আ'মাশ-এর হাদীস থেকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের একটি কথা অন্তর্ভুক্ত করেছেন; এবং তিনি পুরো হাদীসটি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সনদের ক্ষেত্রে তিনি এবং আবু হুযাইফা একমত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
، وَأَمَّا حَدِيثُ عُمَرَ بْنِ يُونُسَ الْيَمَامِيِّ فَجَوَّدَهُ وَحَسَّنَهُ وَفَصَّلَهُ، فَجَعَلَ بَعْضَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَبَعْضُهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ خَاصَّةً عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ كَلَامًا لَمْ يَذْكُرْهُ غَيْرُهُ، وَأَمَّا قُرَادٌ أَبُو نُوحٍ فَوَافَقَ أَبَا حُذَيْفَةَ، وَابْنَ الْمُبَارَكِ، رَوَاهُ كُلَّهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَزَادَ عَلَيْهِمْ كُلَّهُمْ فِي آخِرِ الْحَدِيثِ ذِكْرَ يَوْمِ أُحُدٍ
পক্ষান্তরে উমর ইবন ইউনুস আল-ইয়ামামির হাদিসটির ব্যাপারে তিনি সেটিকে উন্নত করেছেন, হাসান সাব্যস্ত করেছেন এবং বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এর একাংশ ইবন আব্বাস, তাঁর সূত্রে উমর এবং তাঁর সূত্রে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এর একাংশ বিশেষভাবে ইবন আব্বাস এবং তাঁর সূত্রে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদিসটিতে এমন কিছু কথা উল্লেখ করেছেন যা অন্য কেউ উল্লেখ করেনি। আর আবু নূহ কুরাদ, তিনি আবু হুযায়ফা ও ইবনুল মুবারকের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; তিনি পুরো হাদিসটি ইবন আব্বাস, তাঁর সূত্রে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর সূত্রে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তাদের সবার চেয়ে হাদিসের শেষ অংশে উহুদ দিবসের কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
وَأَمَّا حَدِيثُ أَبِي حُذَيْفَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ الَّذِي اخْتَصَرَهُ وَجَعَلَهُ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
আর আবু হুযাইফা কর্তৃক ইকরিমা ইবন আম্মার থেকে বর্ণিত হাদিসটির ব্যাপারে কথা হলো, যেটিকে তিনি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং উমর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: فَحَدَّثَنَاهُ أَبُو حُذَيْفَةَ، قَالَ: ثَنَا عِكْرِمَةُ، عَنْ أَبِي زُمَيْلٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: وَكَانَ آخِرُ حَدِيثِهِ، عَنْ عُمَرَ، رضي الله عنه، قَالَ: " لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ أُسِرَ الْأَسْرَى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَبِي بَكْرٍ، وَلِي وَلِنَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ: «مَا تَرَوْنَ فِي هَؤُلَاءِ الْأَسْرَى؟» فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، بَنُو الْعَمِّ وَالْعَشِيرَةِ وَالْإِخْوَانُ، غَيْرَ أَنَّا نَأْخُذُ مِنْهُمُ الْفِدَاءَ فَيَكُونُ لَنَا عَضُدًا، قَالَ: «فَمَاذَا تَرَى يَا ابْنَ الْخَطَّابِ؟» قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، مَا أَرَى الَّذِي رَأَى أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، وَلَكِنْ هَؤُلَاءِ أَئِمَّةُ الْكُفْرِ وَصَنَادِيدُهُمْ فَقَدِّمْهُمْ نَضْرِبْ ⦗ص: 58⦘ أَعْنَاقَهُمْ، قَالَ: فَهَوِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ، وَلَمْ يَهْوَ مَا قُلْتُ، فَأَخَذَ مِنْهُمُ الْفِدَاءَ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ غَدَوْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه قَاعِدَانِ يَبْكِيَانِ، فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَخْبِرُونِي مِنْ أَيِّ شَيْءٍ تَبْكِي أَنْتَ وَصَاحِبُكَ، فَإِنْ وَجَدْتُ بُكَاءً بَكَيْتُ وَإِلَّا تَبَاكَيْتُ لِبُكَائِكُمَا، قَالَ: «الَّذِي عَرَضَ عَلَيَّ أَصْحَابُكَ، لَقَدْ عُرِضَ عَلَيَّ عَذَابُكُمْ أَدْنَى مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ» - وَشَجَرَةٌ قُرَيْبَةٌ حِينَئِذٍ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ} [الأنفال: 67] الْآيَةَ "
মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হুযায়ফা আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইকরিমাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু যুমাইল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন—এবং এটিই ছিল উমর (রা.) থেকে তাঁর সর্বশেষ বর্ণিত হাদীস—তিনি বলেন: "যখন বদরের যুদ্ধের দিন বন্দীদের বন্দী করা হলো, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর, আমাকে এবং তাঁর সাহাবীদের একটি দলকে লক্ষ্য করে বললেন: «এই বন্দীদের ব্যাপারে তোমাদের অভিমত কী?» আবু বকর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর নবী, তারা তো চাচাতো ভাই, আত্মীয়-স্বজন এবং বংশীয় ভাই। তবে আমরা যদি তাদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করি, তবে তা আমাদের জন্য শক্তির সহায়ক হবে। তিনি বললেন: «হে খাত্তাবের পুত্র, তোমার অভিমত কী?» আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আবু বকর (রা.) যা মনে করেছেন আমি তা মনে করি না। বরং এরা কুফরের ইমাম এবং তাদের নেতৃবৃন্দ; তাই তাদের আমাদের সামনে পেশ করুন যাতে আমরা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ তাদের গর্দান উড়িয়ে দিতে পারি। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর যা বলেছিলেন তা পছন্দ করলেন, আর আমি যা বলেছিলাম তা পছন্দ করলেন না। ফলে তিনি তাদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করলেন। পরদিন সকালে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি তিনি এবং আবু বকর (রা.) বসে কাঁদছেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আমাকে বলুন কেন আপনি এবং আপনার সাথী কাঁদছেন? যদি আমার কান্না আসে তবে কাঁদব, আর যদি কান্না না আসে তবে আপনাদের কান্নার কারণে আমি কান্নার ভান করব। তিনি বললেন: «তোমার সাথীরা আমার কাছে যা পেশ করেছিল, সে কারণে তোমাদের ওপর যে আযাব আসার উপক্রম হয়েছিল তা এই গাছের চেয়েও নিকটবর্তী ছিল» —তখন একটি গাছ নিকটেই ছিল— এরপর আল্লাহ মহিয়ান ও গরিয়ান অবতীর্ণ করলেন: {কোনো নবীর জন্য সংগত নয় যে, তাঁর কাছে যুদ্ধবন্দী থাকবে যতক্ষণ না তিনি যমীনে রক্তপাত করেন। তোমরা দুনিয়ার তুচ্ছ সম্পদ কামনা করছ, অথচ আল্লাহ চাচ্ছেন আখিরাত} [আল-আনফাল: ৬৭] আয়াতটি শেষ পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
13 - وَأَمَّا حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ الَّذِي وَافَقَ فِيهِ أَبَا حُذَيْفَةَ وَجَاءَ بِهِ أَتَمَّ
১৩ -আর আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের হাদিসের ব্যাপারে, যাতে তিনি আবু হুযাইফার সাথে একমত হয়েছেন এবং তিনি তা অধিকতর পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ بُهْلُولٍ، قَالَ ثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه ⦗ص: 59⦘ قَالَ: " لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ وَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُشْرِكِينَ وَعُدَّتِهِمْ وَنَظَرَ إِلَى أَصْحَابِهِ نَيِّفًا عَلَى ثَلْثَمِائَةٍ، فَاسْتَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْقِبْلَةَ، فَجَعَلَ يَدْعُو: «اللَّهُمَّ أَنْجِزْنِي مَا وَعَدْتَنِي، اللَّهُمَّ إِنْ تُهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةَ مِنْ أَهْلِ الْإِسْلَامِ لَمْ تَعْبُدْ فِي الْأَرْضِ» فَلَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى سَقَطَ رِدَاؤُهُ، فَأَخَذَهُ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه فَوَضَعَ رِدَاءَهُ عَلَيْهِ، ثُمَّ الْتَزَمَهُ مِنْ وَرَائِهِ، قَالَ: كَفَاكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مُنَاشَدَتُكَ رَبِّكَ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل سَيُنْجِزُ لَكَ مَا وَعَدَكَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ} [الأنفال: 9] " قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّ وَجْهَهُ شُقَّةُ قَمَرٍ فَقَالَ: «مَصَارِعُ الْقَوْمِ هَاهُنَا عَشِيَّةً» ثُمَّ عَادَ، فِي حَدِيثِ عِكْرِمَةَ قَالَ: قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: فَلَمَّا أُسِرَ الْأَسْرَى لَمْ يَكُنْ نَزَلَ فِي شَأْنِهِمْ شَيْءٌ، فَشَاوَرَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعَلِيًّا رضي الله عنهم، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: بَنُو الْعَمِّ وَالْعَشِيرَةِ وَالْإِخْوَانُ أَرَى أَنْ نَأْخُذَ مِنْهُمُ الْفِدَاءَ فَيَكُونُ لَنَا الْقُوَّةُ عَلَى الْكُفَّارِ، وَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ، فَهَوِيَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: «مَا تَرَى يَا ابْنَ الْخَطَّابِ؟» فَقُلْتُ: وَاللَّهِ مَا أَرَى الَّذِي رَأَى أَبُو بَكْرٍ، وَلَكِنْ هَؤُلَاءِ قَادَةُ الْكُفْرِ وَأَئِمَّتُهُ فَأَرَى أَنْ تُمْكِنِّي مِنْ فُلَانٍ - قَرِيبٌ لَهُ - فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ، وَتُمَكِّنَ عَلِيًّا مِنْ عَقِيلٍ فَيَضْرِبَ عُنُقَهُ، وَتُمَكِّنَ حَمْزَةَ مِنْ ⦗ص: 60⦘ فُلَانٍ فَيَضْرِبَ عُنُقَهُ، حَتَّى يَعْلَمَ رَبُّنَا عز وجل أَنْ لَيْسَ فِي قُلُوبِنَا لِلْكُفَّارِ هَوَادَةٌ هَوِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه، وَلَمْ يَهْوَ قُولِي فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ، جِئْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه يَبْكِيَانِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي مِنْ أَيِّ شَيْءٍ تَبْكِي أَنْتَ وَصَاحِبُكَ، فَإِنْ وَجَدْتُ بُكَاءً بَكَيْتُ، وَإِنْ لَمْ أَجِدْ بُكَاءً تَبَاكَيْتُ لِبُكَائِكُمَا، وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ عُرِضَ عَلَيَّ عَذَابُكُمْ أَقْرَبَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ» - لِشَجَرَةٍ قَرِيبَةٍ مِنْهُ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ} [الأنفال: 67] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ "
মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ বিন বুহলুল আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট ইকরিমা বিন আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সিমাক আল-হানাফী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ তিনি বলেন: "যখন বদরের দিন উপস্থিত হলো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুশরিকদের এবং তাদের সংখ্যা ও সরঞ্জামের দিকে তাকালেন। অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের দিকে তাকালেন যারা সংখ্যায় তিনশ'র সামান্য বেশি ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিবলার দিকে মুখ করলেন এবং হাত বাড়িয়ে দো‘আ করতে শুরু করলেন: «হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পূর্ণ করুন। হে আল্লাহ, ইসলামের অনুসারী এই ক্ষুদ্র দলটিকে যদি আপনি আজ ধ্বংস করে দেন, তবে জমিনে আর আপনার ইবাদত করা হবে না»। তিনি ক্রমাগত এভাবেই দো‘আ করতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর চাদরটি কাঁধ থেকে পড়ে গেল। তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেটি তুলে তাঁর ওপর পরিয়ে দিলেন এবং পেছন থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর নবী, আপনার রবের নিকট আপনার এই আকুতিই যথেষ্ট, কারণ আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা) অবশ্যই আপনার সাথে কৃত তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করবেন। তখন আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা) নাযিল করলেন: {যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন} [আল-আনফাল: ৯]"। ইবনুল মুবারক আল-আ‘মাশ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের দিকে মুখ ফেরালেন, তাঁর চেহারা যেন চাঁদের একটি টুকরোর মতো উজ্জ্বল ছিল। তিনি বললেন: «আজ সন্ধ্যায় কাফেরদের পড়ে থাকার জায়গাগুলো হবে এই এই স্থানে»। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন। ইকরিমার বর্ণিত হাদীসে আছে যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: যখন যুদ্ধবন্দীদের বন্দী করা হলো, তখন তাদের ব্যাপারে কোনো আয়াত নাযিল হয়নি। তিনি আবু বকর, উমর এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাথে পরামর্শ করলেন। আবু বকর বললেন: তারা আমাদের চাচাতো ভাই এবং আত্মীয়-স্বজন। আমার মত হলো আপনি তাদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করুন, যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়; আর হতে পারে আল্লাহ তাদের ইসলামের দিকে হেদায়েত দান করবেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি পছন্দ করলেন। তিনি বললেন: «হে ইবনুল খাত্তাব, তোমার অভিমত কী?» আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আবু বকর যে মত দিয়েছেন আমি তা সমর্থন করি না। বরং এরা কুফরের নেতা ও অগ্রনায়ক। আমার অভিমত হলো আপনি আমাকে অমুকের -যিনি আমার নিকটাত্মীয়- ওপর ক্ষমতা দিন যাতে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই, আলীকে আকীলের ওপর ক্ষমতা দিন যাতে সে তার গর্দান উড়িয়ে দেয় এবং হামযাকে ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ অমুকের ওপর ক্ষমতা দিন যাতে সে তার গর্দান উড়িয়ে দেয়। যাতে আমাদের রব (আযযা ওয়া জাল্লা) জেনে নেন যে, কাফেরদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো কোমলতা নেই। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা পছন্দ করলেন এবং আমার কথা পছন্দ করলেন না। পরের দিন যখন আমি এলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উভয়কে কাঁদতে দেখলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এবং আপনার সাথী কেন কাঁদছেন তা আমাকে জানান। যদি কান্নার কারণ পাই তবে কাঁদব, আর যদি কান্না না আসে তবে আপনাদের কান্নার কারণে আমি কান্নার ভান করব। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «মুক্তিপণ গ্রহণের কারণে তোমাদের ওপর যে আযাব আসতে যাচ্ছিল তা আমার নিকট এই গাছের চেয়েও নিকটবর্তী হিসেবে পেশ করা হয়েছে» -তিনি তাঁর নিকটবর্তী একটি গাছের দিকে ইশারা করলেন। তখন আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা) নাযিল করলেন: {নবীর জন্য শোভনীয় নয় যে তাঁর নিকট যুদ্ধবন্দী থাকবে, যতক্ষণ না তিনি জমিনে শত্রুর দাপট চূর্ণ করেন} [আল-আনফাল: ৬৭] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
14 - وَأَمَّا حَدِيثُ عُمَرَ بْنِ يُونُسَ الَّذِي فَصَلَّهُ وَبَيَّنَهُ، فَجَعَلَ بَعْضَهُ عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَبَعْضَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
১৪ -আর ওমর ইবনে ইউনুসের সেই হাদিসটির ব্যাপারে যা তিনি বিস্তারিত ও বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন; তিনি এর কিছু অংশ ওমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এবং কিছু অংশ ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে উমর বিন আল-খাত্তাব লি-ইয়াকুব বিন শাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
ثَنَا مُحَمَّدٌ ، قَالَ: ثَنَا جَدِّي ، قَالَ: ثَنَاهُ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: ثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: ثَنَا عِكْرِمَةُ، قَالَ ثَنَا أَبُو زُمَيْلٍ، قَالَ: حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه، قَالَ: " لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ نَظَرَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُشْرِكِينَ وَهُمْ أَلْفٌ، وَأَصْحَابُهُ ثَلَاثُمِائَةٌ وَتِسْعَةَ عَشَرَ رَجُلًا، فَاسْتَقْبَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقِبْلَةَ، ثُمَّ مَدَّ يَدَيْهِ، فَجَعَلَ يَهْتِفُ بِرَبِّهِ عز وجل: «اللَّهُمَّ أَنْجِزْ لِي مَا وَعَدْتَنِي، اللَّهُمَّ أَيْنَ مَا ⦗ص: 61⦘ وَعَدْتَنِي؟ اللَّهُمَّ إِنَّكَ إِنْ تُهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةَ مِنْ أَهْلِ الْإِسْلَامِ لَا تَعْبُدْ فِي الْأَرْضِ» ، فَمَا زَالَ يَهْتِفُ بِرَبِّهِ عز وجل مَادًّا يَدَيْهِ، مُسْتَقْبِلًا الْقِبْلَةَ حَتَّى سَقَطَ رِدَاؤُهُ عَنْ مَنْكِبَيْهِ فَأَتَاهُ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه وَأَخَذَ رِدَاءَهُ فَأَلْقَاهُ عَلَى مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ الْتَزَمَهُ مِنْ وَرَائِهِ، فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، كَفَاكَ مُنَاشَدَتُكَ رَبَّكَ عز وجل، فَإِنَّهُ سَيُنْجِزُ لَكَ مَا وَعَدَكَ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ} [الأنفال: 9] فَأَمَدَّهُ اللَّهُ عز وجل بِالْمَلَائِكَةِ قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ فَحَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: بَيْنَمَا رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَشْتَدُّ فِي أَثَرِ رَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ أَمَامَهُ، إِذْ سَمِعَ ضَرْبَةً بِالسَّوْطِ فَوْقَهُ، وَصَوْتَ الْفَارِسِ يَقُولُ: أَقْدِمْ حَيْزُومُ، إِذْ نَظَرَ إِلَى الْمُشْرِكِ أَمَامَهُ فَخَرَّ مُسْتَلْقِيًا، فَنَظَرَ إِلَيْهِ، فَإِذَا هُوَ قَدْ حُطِمَ أَنْفُهُ، وَشُقَّ وَجْهُهُ بِضَرْبَةِ السَّوْطِ فَاخْضَرَّ ذَلِكَ أَجْمَعُ، فَجَاءَ الْأَنْصَارِيُّ، فَحَدَّثَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «صَدَقْتَ، ذَلِكَ مِنْ مَدَدِ السَّمَاءِ الثَّالِثَةِ» فَقَتَلُوا يَوْمَئِذٍ سَبْعِينَ، وَأَسَرُوا سَبْعِينَ ⦗ص: 62⦘ قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَلَمَّا أَسَرُوا الْأُسَارَى، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا بَكْرٍ وَعَلِيُّ وَعُمَرُ، مَا تَرَوْنَ فِي هَؤُلَاءِ الْأُسَارَى؟» فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، هُمْ بَنُو الْعَمِّ وَالْعَشِيرَةِ، أَرَى أَنْ نَأْخُذَ مِنْهُمْ فِدْيَةً فَيَكُونَ لَنَا قُوَّةً عَلَى الْكُفَّارِ، فَعَسَى اللَّهُ عز وجل أَنْ يَهْدِيَهُمْ لِلْإِسْلَامِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا تَرَى يَا ابْنَ الْخَطَّابِ؟ قُلْتُ: لَا وَاللَّهِ مَا أَرَى الَّذِي رَأَى أَبُو بَكْرٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، وَلَكِنْ أَرَى أَنْ تُمَكِّنَّا فَنَضْرِبَ أَعْنَاقَهُمْ: فَتُمَكِّنَ عَلِيًّا مِنْ عَقِيلٍ فَيَضْرِبَ عُنُقَهُ، وَتُمَكِّنِّي مِنْ فُلَانٍ - نَسِيبٌ لِعُمَرَ - فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ، فَإِنَّ هَؤُلَاءِ أَئِمَّةُ الْكُفْرِ وَصَنَادِيدُهُمْ، قَالَ: فَهَوِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، وَلَمْ يَهْوَ مَا قُلْتُ، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه قَاعِدَانِ يَبْكِيَانِ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي مِنْ أَيِّ شَيْءٍ تَبْكِي أَنْتَ وَصَاحِبُكَ، فَإِنْ وَجَدْتُ بُكَاءً بَكَيْتُ، وَإِنْ لَمْ أَجِدْ بُكَاءً تَبَاكَيْتُ لِبُكَائِكُمَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَبْكِي لِلَّذِي عَرَضَ عَلَيَّ أَصْحَابُكَ مِنْ أَخَذِهِمُ الْفِدَاءَ، عُرِضَ عَلَيَّ عَذَابُهُمْ أَدْنَى مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ» - شَجَرَةٌ قُرَيْبَةٌ مِنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ} [الأنفال: 67] إِلَى قَوْلِهِ عز وجل {فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا} [الأنفال: 69] فَأَحَلَّ اللَّهُ عز وجل الْغَنِيمَةَ لَهُمْ "
মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহাইর ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইকরিমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জুমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের হাদিস, তিনি বলেন: উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন বদরের যুদ্ধের দিন উপস্থিত হলো, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদের দিকে তাকালেন, তারা ছিল এক হাজার জন, আর তাঁর সাথীরা ছিল তিনশ উনিশ জন। তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিবলামুখী হলেন, অতঃপর তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং তাঁর মহিমান্বিত রবের নিকট উচ্চস্বরে ফরিয়াদ করতে লাগলেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পূর্ণ করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ প্রদানের অঙ্গীকার করেছিলেন তা কোথায়? হে আল্লাহ! আপনি যদি ইসলামের এই ক্ষুদ্র দলটিকে ধ্বংস করে দেন, তবে জমিনে আর আপনার ইবাদত করা হবে না»। তিনি কিবলামুখী হয়ে এবং হাত প্রসারিত করে নিরন্তর তাঁর রবের নিকট সকাতর প্রার্থনা করতে থাকলেন, এমনকি তাঁর কাঁধ থেকে চাদরটি পড়ে গেল। তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট আসলেন এবং চাদরটি তুলে নিয়ে পুনরায় তাঁর কাঁধে স্থাপন করলেন। এরপর তিনি পেছন থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন: হে আল্লাহর নবী, আপনার রবের নিকট আপনার এই প্রার্থনা যথেষ্ট হয়েছে, নিশ্চয়ই তিনি আপনার সাথে করা ওয়াদা অচিরেই পূর্ণ করবেন। তখন আল্লাহ মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত নাযিল করলেন: {যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ফরিয়াদ করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করছি যারা একের পর এক আসবে} [আল-আনফাল: ৯]। অতঃপর আল্লাহ মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত তাঁকে ফেরেশতাদের দ্বারা সাহায্য করলেন। আবু জুমাইল বলেন, ইবনে আব্বাস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক মুসলিম ব্যক্তি তার সামনে থাকা একজন মুশরিকের পিছু ধাওয়া করছিল, হঠাৎ সে তার ওপর থেকে চাবুকের আঘাতের শব্দ এবং একজন অশ্বারোহীর কণ্ঠ শুনতে পেল যে বলছিল: 'হায়জুম! সামনে চলো।' হঠাৎ সে তার সামনের মুশরিকের দিকে তাকিয়ে দেখল যে সে চিৎ হয়ে পড়ে গেল। সে তার দিকে তাকিয়ে দেখল যে চাবুকের আঘাতে তার নাক বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং তার মুখমণ্ডল চিরে গেছে এবং ওই সমস্ত অংশ বিবর্ণ হয়ে গেছে। তখন সেই আনসারী সাহাবী এসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন: «তুমি সত্য বলেছ, ওটি ছিল তৃতীয় আসমানের সাহায্য»। সেদিন তারা সত্তর জনকে হত্যা করল এবং সত্তর জনকে বন্দি করল। ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ আবু জুমাইল বলেন: ইবনে আব্বাস বলেছেন: যখন তারা বন্দিদের আটক করল, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আবু বকর, আলী এবং উমর! এই বন্দিদের বিষয়ে তোমাদের অভিমত কী?» আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর নবী, তারা তো আমাদেরই বংশীয় লোক ও আত্মীয়-স্বজন। আমি মনে করি আপনি তাদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করুন, যেন তা কাফিরদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তির কারণ হয় এবং আশা করা যায় যে আল্লাহ তাদের ইসলামের দিকে পথ দেখাবেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে খাত্তাবের পুত্র, তোমার অভিমত কী?» আমি বললাম: না, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর নবী, আবু বকর যা মনে করেছেন আমি তা মনে করি না। বরং আমি মনে করি আপনি আমাদের সুযোগ দিন যেন আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দিই: আলীকে আকীলের সুযোগ দিন যেন সে তার গর্দান উড়িয়ে দেয়, আর আমাকে অমুকের (উমরের এক আত্মীয়) সুযোগ দিন যেন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই; কারণ এরা হলো কুফরের প্রধান হোতা ও তাদের নেতৃস্থানীয়। উমর বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকরের কথা পছন্দ করলেন এবং আমার কথা পছন্দ করলেন না। পরদিন যখন আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম, তখন দেখলাম তিনি এবং আবু বকর বসে কাঁদছেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে বলুন কেন আপনি এবং আপনার সাথী কাঁদছেন? যদি কান্না আসে তবে কাঁদব, আর কান্না না আসলে আপনাদের কান্নার কারণে কান্নার ভান করব। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «আমি কাঁদছি তোমার সাথীদের পেশ করা সেই মুক্তিপণ গ্রহণের প্রস্তাবের কারণে; আমার কাছে তাদের আজাব এই গাছের চেয়েও নিকটবর্তী করে পেশ করা হয়েছিল» - এটি ছিল আল্লাহর নবীর নিকটবর্তী একটি গাছ - {কোনো নবীর জন্য সঙ্গত নয় যে তার নিকট যুদ্ধবন্দি থাকবে যতক্ষণ না সে জমিনে রক্ত প্রবাহিত করে শত্রুদের কাবু করে} [আল-আনফাল: ৬৭] আল্লাহ মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত-এর বাণী {সুতরাং তোমরা যা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করেছ তা হালাল ও পবিত্র হিসেবে ভক্ষণ করো} [আল-আনফাল: ৬৯] পর্যন্ত। অতঃপর আল্লাহ মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত তাদের জন্য গণিমত হালাল করে দিলেন।"