(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: -)
المنتخب من مسند عبد بن حميد ت صبحي السامرائي القسم: كتب السنة
الكتاب: المنتخب من مسند عبد بن حميد
المؤلف: أبو محمد عبد الحميد بن حميد بن نصر الكَسّي ويقال له: الكَشّي بالفتح والإعجام (ت 249 هـ)
المحقق: صبحي البدري السامرائي [ت 1434 هـ]- محمود محمد خليل الصعيدي
الناشر: مكتبة السنة - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1408 - 1988
عدد الصفحات: 462
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবদ বিন হুমাইদ-এর মুসনাদ হতে নির্বাচিত অংশ - সুবহি আল-সামাররাই কর্তৃক সম্পাদিত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবদ বিন হুমাইদ-এর মুসনাদ হতে নির্বাচিত অংশ
লেখক: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ বিন হুমাইদ বিন নাসর আল-কাস্সি এবং তাঁকে বলা হয়: আল-কাশশি - ফাতহা এবং নুকতাসহ (মৃত্যু ২৪৯ হিজরি)
তাহকিককারী: সুবহি আল-বাদরি আল-সামাররাই [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]- মাহমুদ মুহাম্মাদ খলিল আল-সাইদি
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৮ - ১৯৮৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬২
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
مُسْنَدُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه
মুসনাদ আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাজিয়াল্লাহু আনহু)
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْأَمِينُ تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو الخَطَّابِ مَحْفُوظُ بنُ عُمَرَ بنِ أَبيِ بَكْرِ بنِ الحَامِضِ الحَنْبَلِيُّ البَغْدَادِيُّ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الأَجَلُّ أَبُو المُنَجَّا عَبْدُ الَّلهِ بنُ عُمَرَ بنِ اللتيُّ قِرَاءةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي جُمَادَى الأُولَى سَنَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَسُتُّمِائةٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الوََقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ بنُ عِيسَى بنِ شُعَيبٍ السِّجْزِيُّ قَالَ أَنْبَأ أَبُو الحَسَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بنُ مُحَمَّدِ بنِ مُظَفَّرٍ الدَّاوُدِيُّ قِرَاءةً عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ: أَنْبَأ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بنُ أَحْمَدَ بنِ حَمَّوَيْهِ السَّرْخَسِيُّ قِرَاءةً عَلَيْهِ مِنْ أَصْلِهِ فِي المَسْجِدِ الجَامِعِ بِبُوشَنْجَ فِي سَنَةِ إِحْدَى وَثَمَانِينَ وَثَلاثِمائةٍ قَالَ: أَنَا إِبْرَاهُيمُ بنُ خُزَيمٍ الشَّاشِيُّ قَالَ: ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ بنُ حُمَيدِ بنِ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، قَالَ: إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الْآيَةَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ، فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ»
১ - আমানতদার শায়খ তাকিউদ্দীন আবুল খাত্তাব মাহফুজ ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনুল হামিয আল-হাম্বলি আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মহান শায়খ আবুল মুনাজ্জা আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল লাতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি তা শুনছিলাম ৬২৭ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে—তিনি বলেন: আবুল ওয়াকত আবদুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুয়াইব আস-সিজজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুজাফফর আদ-দাউদি আমাদের জানিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন—তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্মুয়াহ আস-সারখাসি ৩৮১ হিজরিতে বুশাঞ্জের জামে মসজিদে তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে খুজাইম আশ-শাশী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদ ইবনে হুমাইদ ইবনে নাসর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কায়েস ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমরা এই আয়াতটি পাঠ করে থাকো: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদের দায়িত্ব; তোমরা যখন সঠিক পথে পরিচালিত হও, তখন যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫], আর নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই মানুষ যখন জালেমকে (অন্যায় করতে) দেখে এবং তার হাত ধরে তাকে প্রতিহত না করে, তখন অতি শীঘ্রই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন»।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
2 - أَخْبَرَنِي حَبَّانُ بْنُ هِلَالٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، قَالَ: ثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، حَدَّثَهُ، قَالَ: نَظَرْتُ إِلَى أَقْدَامِ الْمُشْرِكِينَ وَنَحْنُ فِي الْغَارِ وَهُمْ عَلَى رُؤُوسِنَا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ نَظَرَ إِلَى قَدَمَيْهِ أَبْصَرَنَا تَحْتَ قَدَمَيْهِ، فَقَالَ: «يَا أَبَا بَكْرٍ، مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا»
২ - হাব্বান ইবনে হিলাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাবিত আল-বুনানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর আস-সিদ্দিক তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা যখন গুহায় ছিলাম এবং মুশরিকরা আমাদের মাথার উপরে ছিল, তখন আমি তাদের পায়ের দিকে তাকালাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, যদি তাদের কেউ নিজের দুই পায়ের দিকে তাকায়, তবে সে তার দুই পায়ের নিচেই আমাদের দেখতে পাবে। তখন তিনি বললেন: «হে আবু বকর, সেই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা যাদের তৃতীয়জন হলেন আল্লাহ?»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَسْلَمَ الْكُوفِيِّ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل حَرَّمَ عَلَى الْجَنَّةِ جَسَدًا غُذِّيَ بِحَرَامٍ»
3 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে দাউদ, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়দ থেকে, তিনি আসলাম আল-কুফি থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি যায়দ ইবনে আরকাম থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা জান্নাতের জন্য এমন দেহ হারাম করেছেন যা হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়েছে»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
4 - حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سُبَيْعٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، قَالَ: ثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضٍ بِالْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهَا خُرَاسَانُ يَتْبَعُهُ أَقْوَامٌ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ»
৪ - রাউহ ইবনে উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুত তাইয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আল-মুগীরাহ ইবনে সুবাই থেকে, তিনি আমর ইবনে হুরাইস থেকে এবং তিনি আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই দাজ্জাল পূর্বদিকের খোরাসান নামক এক ভূখণ্ড থেকে বের হবে। এমন কিছু জাতি তার অনুসরণ করবে যাদের চেহারা হবে পিটানো ঢালের মতো।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
5 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، ثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: ثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي، فَقَالَ: «قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ»
৫ - আল-হাসান ইবন মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, লাইস ইবন সা'দ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবূল খায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে, তিনি আবূ বকর আস-সিদ্দীক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে একটি দুআ শিক্ষা দিন যা আমি আমার সালাতে পাঠ করব। তখন তিনি বললেন: «তুমি বলো: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের ওপর অনেক বেশি জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া গুনাহসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই। অতএব, আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষ ক্ষমা দান করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
6 - حَدَّثَنَا يَعْلَى، ثَنَا الْكَلْبِيُّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: احْتَجْنَا؛ فَأَخَذْتُ خَلْخَالَيِ الْمَرْأَةِ، فَخَرَجْتُ بِهِمَا فِي السَّنَةِ الَّتِي اسْتُخْلِفَ فِيهَا أَبُو بَكْرٍ فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقُلْتُ: خُلْخَالَي الْمَرْأَةِ، احْتَاجَ الْحَيُّ إِلَى نَفَقَةٍ، قَالَ: فَإِنَّ مَعِيَ وَرِقًا أُرِيدُ بِهَا فِضَّةً، قَالَ: فَدَعَا بِالْمِيزَانِ فَوَضَعَ الْخَلْخَالَيْنِ فِي كِفَّةٍ، وَوَضَعَ الْوَرِقَ فِي الْكِفَّةِ الْأُخْرَى فَشَفَّ الْخَلْخَالَانِ نَحْوًا مِنْ دَانَقٍ فَقَرَطَهُ، فَقُلْتُ: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ، هُوَ لَكَ حَلَالٌ، فَقَالَ: يَا أَبَا رَافِعٍ إِنَّكَ إِنْ أَحْلَلْتَهُ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل لَا يُحِلُّهُ؛ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَزْنٌ بِوَزْنٍ، وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَزْنٌ بِوَزْنٍ، الزَّائِدُ وَالْمَزِيدُ فِي النَّارِ»
৬ - ইয়াহলা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, কালবী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবন সাইব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস আবু রাফি' থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের অভাব দেখা দিয়েছিল; ফলে আমি (আমার) স্ত্রীর দুটি নূপুর নিলাম। আমি সেগুলো নিয়ে বের হলাম সেই বছর, যে বছর আবু বকর খলীফা নিযুক্ত হয়েছিলেন। তখন আবু বকর (রা.)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এগুলো কী? আমি বললাম: স্ত্রীর দুটি নূপুর, পরিবারের লোকজনের খরচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন: আমার কাছে কিছু রৌপ্যমুদ্রা রয়েছে, যা দিয়ে আমি রুপা (নূপুর দুটি) ক্রয় করতে চাই। আবু রাফি' বলেন: এরপর তিনি একটি তুলাদণ্ড আনালেন এবং এক পাল্লায় নূপুর দুটি রাখলেন এবং অন্য পাল্লায় রৌপ্যমুদ্রাগুলো রাখলেন। দেখা গেল নূপুর দুটির ওজন প্রায় এক দানাক পরিমাণ বেশি হলো, তখন তিনি তা (সমান করার জন্য) কেটে নিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! এটি আপনার জন্য হালাল। তিনি বললেন: হে আবু রাফি'! তুমি একে হালাল করে দিলেও আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একে হালাল করেন না; আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «সোনার বিনিময়ে সোনা ওজনে সমান সমান হতে হবে, এবং রুপার বিনিময়ে রুপা ওজনে সমান সমান হতে হবে। যে অতিরিক্ত দেয় এবং যে অতিরিক্ত গ্রহণ করে—উভয়ই জাহান্নামে যাবে»।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
7 - حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، ثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ الرَّبَذِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَوْلَى ابْنِ سِبَاعٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ} [النساء: 123] بِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلَا أُقْرِئُكَ آيَةً أُنْزِلَتْ عَلَيَّ؟» ، قَالَ: قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَأَقْرَأَنِيهَا» ، قَالَ: فَلَا أَعْلَمُ إِلَّا أَنِّي وَجَدْتُ انْفِصَامًا فِي ظَهْرِي حَتَّى تَمَطَّأْتُ لَهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا شَأْنُكَ يَا أَبَا بَكْرٍ؟» ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، وَأَيُّنَا لَمْ يَعْمَلْ سُوءًا وَإِنَّا لَمَجْزِيُّونَ بِمَا عَمِلْنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَّا أَنْتَ يَا أَبَا بَكْرٍ وَأَصْحَابُكَ الْمُؤْمِنُونَ فَتُجْزَونَ بِذَلِكَ فِي الدُّنْيَا حَتَّى تَلْقَوُا اللَّهَ عز وجل وَلَيْسَتْ لَكُمْ ذُنُوبٌ، وَأَمَّا الْآخَرُونَ، فَيُجْمَعُ ذَلِكَ لَهُمْ حَتَّى يُجْزَوْا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
৭ - আমাদের নিকট রওহ ইবনে উবাদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসা ইবনে উবায়দাহ আর-রাবাজি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে ইবনে সিবায়ের আযাদকৃত দাস সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে আবু বকর সিদ্দীক থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে} [আন-নিসা: ১২৩]। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আবু বকর, আমি কি তোমাকে এমন একটি আয়াত পড়ে শুনাব না যা আমার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে?» তিনি বলেন, আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন: «অতঃপর তিনি আমাকে তা পড়ে শুনালেন»। তিনি (আবু বকর) বলেন: আমি অনুভব করলাম যেন আমার পিঠ ভেঙে যাচ্ছে এমনকি আমি তার ভারে নুইয়ে পড়লাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আবু বকর, তোমার কী হয়েছে?» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে কোনো মন্দ কাজ করেনি? আর আমাদের তো আমাদের কৃতকর্মের বিনিময় দেওয়া হবে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আবু বকর, তোমার এবং তোমার মুমিন সঙ্গীদের বিষয়টি হলো, তোমাদেরকে দুনিয়াতেই তার বিনিময় দিয়ে দেওয়া হবে যাতে তোমরা যখন মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তোমাদের কোনো গুনাহ না থাকে। আর অন্যদের বিষয়টি হলো, তাদের জন্য তা জমা রাখা হবে যাতে কিয়ামতের দিন তাদের তার পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হয়»।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
مُسْنَدُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه
মুসনাদু উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
8 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بَيْنَا هُوَ قَائِمٌ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَادَاهُ عُمَرُ، أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ؟ قَالَ: إِنِّي شُغِلْتُ الْيَوْمَ فَلَمْ أَنْقَلِبْ إِلَى أَهْلِي حَتَّى سَمِعْتُ النِّدَاءَ فَلَمْ أَزِدْ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ، فَقَالَ عُمَرُ: «وَالْوُضُوءُ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ»
৮ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন: উমর ইবনুল খাত্তাব যখন জুমার দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন। তখন উমর তাঁকে ডেকে বললেন, "এটি কোন সময়?" তিনি বললেন, "আমি আজ ব্যস্ত ছিলাম, ফলে আযান শোনা পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারিনি এবং ওযু করার অতিরিক্ত আর কিছু করতে পারিনি।" উমর বললেন, "কেবল ওযুই করেছেন? অথচ আপনি জানেন যে আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) গোসলের নির্দেশ দিতেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
9 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْلِفُ بِأَبِي، فَقَالَ: «إِنَّ» اللَّهَ عز وجل يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ " قَالَ عُمَرُ: «فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا ذَاكِرًا وَلَا آثِرًا»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, উমর (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার পিতার নামে শপথ করতে শুনলেন, তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই» মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। উমর (রা.) বলেন: «আল্লাহর শপথ! এরপর থেকে আমি নিজে থেকে কিংবা অন্যের উদ্ধৃতি দিয়ে কখনোই এভাবে শপথ করিনি»।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
10 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: ثَنَا حَيْوَةُ بنُ شُرَيْحٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي بَكْرُ بْنُ عَمْرٍو أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ هُبَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا تَمِيمٍ الْجَيَشَانِيَّ، يَقُولُ: إِنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ: إِنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «لَوْ أَنَّكُمْ تَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ، لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا»
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাইওয়াহ বিন শুরাইহ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন বকর বিন আমর যে, তিনি আবদুল্লাহ বিন হুবাইরাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি আবু তামীম আল-জায়শানীকে বলতে শুনেছেন, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: «যদি তোমরা আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল (নির্ভর) করতে, তবে তিনি তোমাদের অবশ্যই এমনভাবে রিযিক দান করতেন যেমন তিনি পাখিদের রিযিক প্রদান করেন; তারা ভোরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় পূর্ণ উদরে ফিরে আসে।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ، ثَنَا دَيْلَمُ بْنُ غَزْوَانَ، عَنْ مَيْمُونٍ الْكُرْدِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّمَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ كُلَّ مُنَافِقٍ عَلِيمٍ؛ يَتَكَلَّمُ بِالْحِكْمَةِ وَيَعْمَلُ بِالْجَوْرِ»
১১ - মুহাম্মাদ ইবনুল ফাযল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দায়লাম ইবনে গাযওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মায়মুন আল-কুর্দি থেকে, আবু উসমান আন-নাহদী থেকে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য প্রত্যেক জ্ঞানী মুনাফিককে ভয় করি; যে প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা বলে এবং অন্যায় কাজ করে»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
12 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، قَالَ: ثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ شُرَحْبِيلَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً»
১২ - আল-হাসান ইবনে মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদ-দাহহাক ইবনে শুরাহবিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একবার একবার করে অজু করতে দেখেছি»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
13 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أنا مَعْمَرٌ، عَنْ زَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «ائْتَدِمُوا بِالزَّيْتِ وَادَّهِنُوا بِهِ، فَإِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ»
১৩ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন মা'মার, জায়েদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জয়তুনের তেলকে সালন হিসেবে ব্যবহার করো এবং তা শরীরে মালিশ করো, কারণ এটি একটি বরকতময় বৃক্ষ থেকে উৎপন্ন হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
14 - ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدِ، عنْ زيد بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ، يَقُولُ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَتَصَدَّقَ، وَوَافَقَ ذَلِكَ مَالًا عِنْدِي، فَقُلْتُ: الْيَوْمَ أَسْبِقُ أَبَا بَكْرٍ، إِنْ سَبَقْتُهُ يَوْمًا، فَجِئْتُ بِنِصْفِ مَالِي، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟» ، قُلْتُ: مِثْلَهُ، وَأَتَى أَبُو بَكْرٍ بِكُلِّ مَا عِنْدَهُ، فَقَالَ لَهُ: «يَا أَبَا بَكْرٍ، مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ؟» قَالَ: أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، فَقُلْتُ: لَا أُسَابِقُكَ إلى شَيْءٍ أَبَدًا
১৪ - আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম বিন সাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যায়িদ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন আমার কাছে কিছু সম্পদ ছিল। আমি (মনে মনে) বললাম: আজ আমি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যাব, যদি কোনো দিন তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারি তবে আজই (সেই সুযোগ)। অতঃপর আমি আমার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে আসলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: "তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?" আমি বললাম: এর সমপরিমাণ। আর আবু বকর তাঁর নিকট যা কিছু ছিল তার সবটুকু নিয়ে আসলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: "হে আবু বকর! তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?" তিনি বললেন: আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অবশিষ্ট রেখেছি। তখন আমি বললাম: আমি আর কখনো কোনো বিষয়ে আপনার সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হব না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
15 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أنا يُونُسُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ يُسْمَعُ عِنْدَ وَجْهِهِ كَدَوِيِّ النَّحْلِ، فَأُنْزِلَ عَلَيْهِ يَوْمًا، فَسَكَتْنَا سَاعَةً، فَسُرِّيَ عَنْهُ، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَقَالَ: " اللَّهُمَّ زِدْنَا وَلَا تَنْقُصْنَا، وَأَكْرِمْنَا وَلَا تُهِنَّا، وَأَعْطِنَا وَلَا تَحْرِمْنَا، وَآثِرْنَا وَلَا تُؤْثِرْ عَلَيْنَا، وَارْضِنَا وَارْضَ عَنَّا، ثُمَّ قَالَ: قَدْ أُنْزِلَ عَلَيَّ عَشْرُ آيَاتٍ مَنْ أَقَامَهُنَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ، ثُمَّ قَرَأَ: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} [المؤمنون: 1] حَتَّى خَتَمَ عَشْرَ آيَاتٍ "
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন সুলাইমান, ইবনু শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবদ আল-কারি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যখন ওহি নাজিল হতো, তখন তাঁর চেহারার নিকট মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শোনা যেত। একদিন তাঁর ওপর ওহি নাজিল হলো এবং আমরা কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। এরপর তাঁর অবস্থা স্বাভাবিক হলে তিনি কিবলার দিকে মুখ করলেন এবং তাঁর দুই হাত উঠালেন ও বললেন: "হে আল্লাহ! আমাদের বৃদ্ধি করুন এবং হ্রাস করবেন না, আমাদের সম্মানিত করুন এবং লাঞ্ছিত করবেন না, আমাদের দান করুন এবং বঞ্চিত করবেন না, আমাদের প্রাধান্য দিন এবং আমাদের ওপর কাউকে প্রাধান্য দেবেন না, আমাদের সন্তুষ্ট করুন এবং আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।" অতঃপর তিনি বললেন: "আমার ওপর দশটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" এরপর তিনি পাঠ করলেন: "অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে" [সূরা আল-মুমিনুন: ১] থেকে দশটি আয়াত শেষ করা পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
16 - ثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْخَزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتٍ مِنْ رَبِّي عز وجل، وَأَنَا بِالْعَقِيقِ أَنْ صَلِّ فِي هَذَا الْوَادِي الْمُبَارَكِ وَقُلْ: عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ "
১৬ - হারুন বিন ইসমাঈল আল-খাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আল-মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরামা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আজ রাতে আমার মহান ও পরাক্রমশালী রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার নিকট এসেছিলেন, তখন আমি আকীক উপত্যকায় ছিলাম। তিনি বললেন: আপনি এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন: হজের সাথে উমরাহ।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
17 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ: ثَنَا أَبُو يَحْيَى الْمَكِّيُّ، عَنْ فَرُّوخَ مَوْلَى عُثْمَانَ: أَنَّ عُمَرَ خَرَجَ ذَاتَ يَوْمٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَرَأَى طَعَامًا مَنْثُورًا عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ، فَأَعْجَبَهُ كَثْرَتُهُ، فَقَالَ: مَا هَذَا الطَّعَامُ؟ فَقَالُوا: طَعَامٌ جُلِبَ إِلَيْنَا، فَقَالَ: بَارَكَ اللَّهُ فِيهِ، وَفِيمَنْ جَلَبَهُ إِلَيْنَا، فَقَالَ لَهُ بَعْضُ أَصْحَابِهِ الَّذِينَ يَمْشُونَ مَعَهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّهُ قَدِ احْتُكِرَ، قَالَ: وَمَنِ احْتَكَرَهُ؟ قَالُوا: فُلَانٌ مَوْلَى عُثْمَانَ، وَفُلَانٌ مَوْلَاكَ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمَا فَقَالَ لَهُمَا: مَا حَمَلَكُمَا عَلَى أَنْ تَحْتَكِرَا طَعَامَ الْمُسْلِمِينَ؟، قَالَا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، نَشْتَرِي بِأَمْوَالنَّا وَنَبِيعُ إِذَا شِئْنَا، فَقَالَ عُمَرُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَنِ احْتَكَرَ طَعَامًا عَلَى الْمُسْلِمِينَ ضَرَبَهُ اللَّهُ بِالْجُذَامِ أَوْ بِالْإِفْلَاسِ» قَالَ فَرُّوخُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، أُعَاهِدُ اللَّهَ أَنْ لَا أَعُودَ فِي طَعَامٍ بَعْدَهُ أَبَدًا، فَتَحَوَّلَ إِلَى بَزِّ مِصْرَ، وَأَمَّا مَوْلَى عُمَرَ، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، أَمْوَالنَّا نَشْتَرِي بِهَا إِذَا شِئْنَا، وَنَبِيعُ إِذَا شِئْنَا، فَزَعَمَ أَبُو يَحْيَى أَنَّهُ رَأَى مَوْلَى عُمَرَ مَجْذُومًا مَخْدُوجًا
১৭ - ইয়াজিদ ইবন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাইসাম ইবন রাফি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া আল-মাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমানের আযাদকৃত দাস ফাররুখ থেকে বর্ণিত: একদা উমর (রা.) মসজিদ থেকে বের হলেন এবং মসজিদের দরজায় খাদ্যশস্য পড়ে থাকতে দেখলেন। এর আধিক্য তাঁকে অভিভূত করল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এই খাদ্য কিসের?" তারা বলল: "এসব খাদ্য আমাদের নিকট নিয়ে আসা হয়েছে।" তিনি বললেন: "আল্লাহ এতে এবং যারা এটি নিয়ে এসেছে তাদের ওপর বরকত দান করুন।" তখন তাঁর সাথে থাকা কিছু সঙ্গী বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, এটি মজুতদারি করা হয়েছে।" তিনি বললেন: "কে এর মজুতদারি করেছে?" তারা বলল: "অমুক ব্যক্তি—যিনি উসমানের আযাদকৃত দাস, এবং অমুক—যিনি আপনার আযাদকৃত দাস।" অতঃপর তিনি তাদের ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: "তোমাদের কিসে প্ররোচিত করল যে তোমরা মুসলিমদের খাদ্য মজুতদারি করছ?" তারা বলল: "হে আমিরুল মুমিনিন, আমরা আমাদের সম্পদ দিয়ে ক্রয় করি এবং যখন ইচ্ছা বিক্রয় করি।" তখন উমর (রা.) বললেন: "আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিরুদ্ধে খাদ্যের মজুতদারি করবে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ অথবা দারিদ্র্য দ্বারা পর্যুদস্ত করবেন'।" ফাররুখ বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করছি যে, এরপর আমি আর কখনো খাদ্যের ব্যবসায় লিপ্ত হব না।" অতঃপর তিনি মিশরের কাপড় ব্যবসার দিকে ধাবিত হলেন। কিন্তু উমরের আযাদকৃত দাসটি বলল: "হে আমিরুল মুমিনিন, এগুলো আমাদের সম্পদ, আমরা যখন ইচ্ছা তা দিয়ে ক্রয় করি এবং যখন ইচ্ছা বিক্রয় করি।" আবু ইয়াহইয়া দাবি করেন যে, তিনি উমরের সেই আযাদকৃত দাসকে কুষ্ঠরোগগ্রস্ত ও বিকলাঙ্গ অবস্থায় দেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
18 - أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا الْأَصْبَغُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: أنا أَبُو الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: لَبِسَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ثَوْبًا جَدِيدًا، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي، وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي، ثُمَّ قَالَ عُمَرُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " مَنْ لَبِسَ ثَوْبًا جَدِيدًا، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي، ثُمَّ عَمَدَ إِلَى الثَّوْبِ الَّذِي أَخْلَقَ أَوْ قَالَ: أَلْقَى فَتَصَدَّقَ بِهِ، كَانَ فِي حِفْظِ اللَّهِ وَفِي كَنَفِ اللَّهِ وَفِي سِتْرِ اللَّهِ حَيًّا وَمَيِّتًا، حَيًّا وَمَيِّتًا، حَيًّا وَمَيِّتًا "
১৮ - ইয়াজিদ ইবন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসবাগ ইবন যায়েদ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আল-আলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব একটি নতুন পোশাক পরিধান করলেন এবং বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এমন পোশাক পরিধান করিয়েছেন যা দ্বারা আমি আমার সতর আবৃত করি এবং যা দ্বারা আমি আমার জীবনে সৌন্দর্য লাভ করি। এরপর উমর বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি নতুন পোশাক পরিধান করল এবং বলল: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এমন পোশাক পরিধান করিয়েছেন যা দ্বারা আমি আমার সতর আবৃত করি এবং যা দ্বারা আমি আমার জীবনে সৌন্দর্য লাভ করি; এরপর সে তার পুরনো হয়ে যাওয়া—অথবা তিনি বলেছেন: পরিত্যক্ত—পোশাকটি নিয়ে তা দান করে দিল, তবে সে জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় আল্লাহর হেফাজতে, আল্লাহর আশ্রয়ে এবং আল্লাহর আবরণে থাকবে; জীবিত ও মৃত অবস্থায়, জীবিত ও মৃত অবস্থায়, জীবিত ও মৃত অবস্থায়।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
19 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ: لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ دُعِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلصَّلَاةِ عَلَيْهِ، فَقَامَ إِلَيْهِ، فَلَمَّا وَقَفَ عَلَيْهِ يُرِيدُ الصَّلَاةَ تَحَوَّلْتُ حَتَّى قُمْتُ فِي صَدْرِهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعَلَى عَدُوِّ اللَّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ، الْقَائِلِ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا؛ أَتَعَدَّدُ أَيَّامَهُ، قَالَ: وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَبَسَّمُ حَتَّى إِذَا أَكْثَرْتُ عَلَيْهِ، قَالَ: " أَخِّرْ عَنِّي يَا عُمَرُ إِنِّي خُيِّرْتُ فَاخْتَرْتُ، قَدْ قِيلَ لِي {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ} [التوبة: 80] لَوْ أَعْلَمُ أَنِّي إِنْ زِدْتُ عَلَى السَّبْعِينَ غُفِرَ لَهُ لَزِدْتُ "، قَالَ: ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهِ وَمَشَى مَعَهُ، فَقَامَ عَلَى قَبْرِهِ حَتَّى فَرَغَ مِنْهُ، قَالَ: فَعُجِبَ لِي وَجُرْأَتِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، فَوَاللَّهِ مَا كَانَ إِلَّا يَسِيرًا حَتَّى نَزَلَتْ هَاتَانِ الْآيَتَانِ: {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ} [التوبة: 84] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ، فَمَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَهُ عَلَى مُنَافِقٍ، وَلَا قَامَ عَلَى قَبْرِهِ حَتَّى مَضَى لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
১৯ - ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যুহরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি: যখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মারা গেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার জানাযার সালাত পড়ার জন্য আহ্বান করা হলো। তিনি তার দিকে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি জানাযার সালাত পড়ার উদ্দেশ্যে তার লাশের সামনে দাঁড়ালেন, তখন আমি সরে গিয়ে তাঁর সামনে (বক্ষ বরাবর) দাঁড়ালাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শত্রু আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের ওপর কি আপনি সালাত পড়বেন, যে অমুক অমুক দিন এই এই কথা বলেছিল? আমি তার দিনগুলোর (দুষ্কর্মের) কথা একে একে উল্লেখ করতে লাগলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসছিলেন; অবশেষে আমি যখন তাঁর নিকট অতিশয় পীড়াপীড়ি করলাম, তখন তিনি বললেন: "হে ওমর, আমার নিকট থেকে সরে দাঁড়াও। আমাকে ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) দেওয়া হয়েছে, আর আমি তা গ্রহণ করেছি। আমাকে বলা হয়েছে— {তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো; যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করো, তবে আল্লাহ কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না} [আত-তাওবাহ: ৮০]। আমি যদি জানতাম যে সত্তর বারের বেশি করলে তাকে ক্ষমা করা হবে, তবে আমি অবশ্যই আরও বৃদ্ধি করতাম।" তিনি (ওমর) বলেন: অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত পড়লেন এবং তার লাশের সাথে চললেন। এরপর তিনি তার কবরের পাশে দাঁড়ালেন যতক্ষণ না দাফন কাজ সমাপ্ত হলো। তিনি (ওমর) বলেন: আমি আমার নিজের এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমার এই ধৃষ্টতা দেখে নিজেই বিস্মিত হলাম; অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। আল্লাহর কসম! এরপর অল্প সময় অতিবাহিত হতেই এই দুটি আয়াত নাযিল হলো: {আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার ওপর জানাযার সালাত পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না} [আত-তাওবাহ: ৮৪]— আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যাওয়া পর্যন্ত আর কোনো মুনাফিকের জানাযার সালাত পড়েননি এবং তাদের কবরের পাশেও দাঁড়াননি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
20 - ثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو الْعَقَدِيُّ، قَالَ: ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ: {فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ} [هود: 105] سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلَى مَا نَعْمَلُ؟ عَلَى شَيْءٍ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ، أَوْ عَلَى شَيْءٍ لَمْ يُفْرَغْ مِنْهُ؟ قَالَ: «بَلْ عَلَى شَيْءٍ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ يَا عُمَرُ وَجَرَتْ بِهِ الْمَقَادِيرُ، وَلَكِنْ كُلٌّ يَعْمَلُ لِمَا خُلِقَ لَهُ»
২০ - আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন আমর আল-আকাদি, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন দিনার, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন অবতীর্ণ হলো: {তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগা এবং কেউ হবে সৌভাগ্যবান} [হুদ: ১০৫], তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কিসের ভিত্তিতে আমল করছি? এমন বিষয়ের উপর যা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে, নাকি এমন বিষয়ের উপর যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি? তিনি বললেন: «বরং এমন বিষয়ের উপর যা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে হে উমর, এবং যার উপর তাকদির (ভাগ্যলিপি) কার্যকর হয়েছে। তবে প্রত্যেকেই তার জন্য আমল করে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
21 - حَدَّثَنِي أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: ثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ: هَشَشْتُ يَوْمًا، فَقَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ، فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: لَقَدُ صَنَعْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا عَظِيمًا، قَالَ: «وَمَا هُوَ؟» قُلْتُ: قَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ، قَالَ: «أَرَأَيْتَ لَوْ تَمَضْمَضْتَ مِنَ الْمَاءِ؟» قُلْتُ: إِذًا لَا يَضُرُّ، قَالَ: «فَفِيمَ؟»
২১ - আবু আল-ওয়ালিদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: লায়স বিন সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বুকাইর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আশাজ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক বিন সাঈদ আল-আনসারী থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর বিন আল-খাত্তাব (রাযি.) বলেছেন: একদা আমি প্রফুল্ল চিত্তে ছিলাম, ফলে রোজা রাখা অবস্থায় আমি চুমু প্রদান করলাম। অতঃপর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে আরজ করলাম: আজ আমি এক গুরুতর কাজ করে ফেলেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «তা কী?» আমি বললাম: আমি রোজা রাখা অবস্থায় চুমু খেয়েছি। তিনি বললেন: «তোমার কী মনে হয়, যদি তুমি পানি দিয়ে কুলি করতে (তবে কি ক্ষতি হতো)?» আমি বললাম: তাতে কোনো ক্ষতি হতো না। তিনি বললেন: «তাহলে কিসের দ্বিধা?»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
22 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، ثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَخْطُبُ، فَذَكَرَ مَا أَصَابَ النَّاسَ مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا، قَالَ: «لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلْتَوِي مَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلَأُ بَطْنَهُ»
২২ - আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে রাবী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি বলেন: আমি নুমান ইবনে বশীরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে খুতবা দিতে শুনেছি, তিনি মানুষের পার্থিব বিষয়াদি থেকে যা প্রাপ্ত হয়েছে তা উল্লেখ করে বললেন: «আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি (ক্ষুধার তীব্রতায়) ছটফট করছিলেন, তিনি তাঁর পেট ভরার মতো সাধারণ মানের খেজুরও পাচ্ছিলেন না।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
23 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَامَ بِالْجَابِيَةِ خَطِيبًا، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِينَا مَقَامِي فِيكُمْ، فَقَالَ: «أَكْرِمُوا أَصْحَابِي؛ فَإِنَّهُمْ خِيَارُكُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَظْهَرُ الْكَذِبُ حَتَّى يَحْلِفَ الْإِنْسَانُ عَلَى الْيَمِينِ لَا يُسْأَلُهَا، وَيَشْهَدَ عَلَى الشَّهَادَةِ لَا يُسْأَلُهَا، فَمَنْ سَرَّهُ بُحْبُوحَةُ الْجَنَّةِ فَعَلَيْهِ بِالْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْفَذِّ وَهُوَ مِنَ الِاثْنَيْنِ أَبْعَدُ، وَلَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ ثَالِثُهُمَا، وَمَنْ سَرَّتْهُ حَسَنَتُهُ، وَسَاءَتْهُ سَيِّئَتُهُ فَهُوَ مُؤْمِنٌ»
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের জানিয়েছেন মা'মার, আবদুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব জাবিয়াতে খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন যেভাবে আমি তোমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছি। তিনি বললেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের সম্মান করো; কারণ তারা তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম, এরপর তারা যারা তাদের পরবর্তী আসবে, এরপর তারা যারা তাদের পরবর্তী আসবে। এরপর মিথ্যার প্রসার ঘটবে, এমনকি কোনো ব্যক্তি শপথ করবে অথচ তাকে শপথ করতে বলা হয়নি, এবং সে সাক্ষ্য দেবে অথচ তাকে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়নি। সুতরাং যে ব্যক্তি জান্নাতের সুপ্রশস্ত ও মধ্যম স্থান লাভ করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন জামাআতের সাথে থাকাকে আবশ্যক করে নেয়; কারণ শয়তান একাকী ব্যক্তির সাথে থাকে এবং সে দুইজন থেকে অধিক দূরে থাকে। কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে, কারণ শয়তান তাদের মধ্যে তৃতীয় জন হিসেবে থাকে। আর যার নেক আমল তাকে আনন্দিত করে এবং তার মন্দ কাজ তাকে ব্যথিত করে, সে-ই মুমিন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
24 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، عَنْ يَحْيَى الْبَكَّاءِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ بَعْدَ الزَّوَالِ يُحْسَبُ بِمِثْلِهِنَّ فِي صَلَاةِ السَّحَرِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " وَلَيْسَ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا وَهُوَ يُسَبِّحُ اللَّهَ تِلْكَ السَّاعَةَ، ثُمَّ قَرَأَ: {يَتَفَيَّأُ ظِلَالُهُ عَنِ الْيَمِينِ وَالشَّمَائِلِ سُجَّدًا} [النحل: 48] " الْآيَةَ كُلَّهَا
২৪ - আলী ইবনে আসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া আল-বাক্কা থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সূর্য ঢলে পড়ার পর জোহরের পূর্বের চার রাকাত সালাত শেষ রাতের সালাতের অনুরূপ গণ্য করা হয়।" তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঐ সময়ে এমন কোনো বস্তু নেই যা আল্লাহর তাসবীহ (পবিত্রতা) পাঠ করে না।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {তাদের ছায়াগুলো ডানে ও বামে ঢলে পড়ে সিজদাবনত হয়} [আন-নাহল: ৪৮] - সম্পূর্ণ আয়াতটি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
25 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَخِيهِ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: قَالَتْ حَفْصَةُ لِأَبِيهَا: " قَدْ أَوْسَعَ اللَّهُ الرِّزْقَ فَلَوْ أَنَّكَ أَكَلْتَ طَعَامًا أَلْيَنَ مِنْ طَعَامِكَ، وَلَبِسْتَ ثَوْبًا أَلْيَنَ مِنْ ثَوْبِكَ، فَقَالَ: «سَأُخَاصِمُكِ إِلَى نَفْسِكَ، فَجَعَلَ يُذَكِّرُهَا مَا كَانَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَمَا كَانَتْ فِيهِ مِنَ الْجَهْدِ» حَتَّى أَبْكَاهَا، فَقَالَ: " قَدْ قُلْتُ لَكِ: إِنَّهُ كَانَ لِي صَاحِبَانِ سَلَكَا طَرِيقًا، وَإِنِّي إِنْ سَلَكْتُ غَيْرَ طَرِيقِهِمَا سُلِكَ بِي غَيْرَ طَرِيقِهِمَا، وَإِنِّي وَاللَّهِ لَأُشَارِكَنَّهُمَا فِي مِثْلِ عَيْشِهِمَا؛ لَعَلِّي أَنْ أُدْرِكَ مَعَهُمَا عَيْشَهُمَا الرَّخِيَّ "
২৫ - মুহাম্মদ ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি তাঁর ভাই থেকে, তিনি মুসয়াব ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হাফসা তাঁর পিতাকে বললেন: "আল্লাহ রিযিক প্রশস্ত করেছেন। সুতরাং আপনি যদি আপনার বর্তমান খাবারের চেয়ে উন্নত খাবার গ্রহণ করতেন এবং আপনার পোশাকের চেয়ে কোমল পোশাক পরিধান করতেন!" তখন তিনি বললেন: "আমি তোমার বিবেকের কাছেই তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করব।" অতঃপর তিনি তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অবস্থায় ছিলেন এবং তিনি যে কষ্টের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করেছেন তা স্মরণ করিয়ে দিতে লাগলেন, এমনকি তিনি (হাফসা) কেঁদে ফেললেন। অতঃপর উমর (রা.) বললেন: "আমি তোমাকে বলেছি যে, আমার দুজন সঙ্গী (রাসূলুল্লাহ সা. ও আবু বকর রা.) ছিলেন যারা একটি পথে চলেছেন। আমি যদি তাঁদের পথ ছাড়া অন্য পথে চলি, তবে আমাকে তাঁদের গন্তব্য ছাড়া অন্য পথে নিয়ে যাওয়া হবে। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাঁদের জীবনযাত্রার অনুরূপ কঠোর জীবন যাপন করব; যাতে আমি তাঁদের সাথে তাঁদের সেই সুখময় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন লাভ করতে পারি।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
26 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ قَبَّلَ الْحَجَرَ، ثُمَّ قَالَ: «قَدَ عَلِمْتُ أَنَّكَ حَجَرٌ، وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَكَ مَا قَبَّلْتُكَ»
২৬ - আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে‘ থেকে, আর তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বললেন: «আমি অবশ্যই জানি যে তুমি একটি পাথর মাত্র, আর যদি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ ত সাবহী আস-সামাররায়ী
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
27 - أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُقْبَةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ الْهُذَلِيِّ، عَنْ أَبِي يَزِيدَ الْخَوْلَانِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «الشُّهَدَاءُ أَرْبَعَةٌ، فَرَجُلٌ مُؤْمِنٌ جَيِّدُ الْإِيمَانِ لَقِيَ الْعَدُوَّ فَصَدَقَ اللَّهَ حَتَّى يُقْتَلَ، فَذَلِكَ الَّذِي يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ أَعْيُنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ، قَالَ: فَرَفَعَ رَأْسَهُ حَتَّى سَقَطَتْ قَلَنْسُوَتُهُ عَنْ رَأْسِهِ أَوْ عَنْ رَأْسِ عُمَرَ فَهَذَا فِي الدَّرَجَةِ الْأُولَى، وَرَجُلٌ مُؤْمِنٌ إِذَا لَقِيَ الْعَدُوَّ فَكَأَّنَمَا يُضْرَبُ جِلْدُهُ بِشَوْكِ الطَّلْحِ مِنَ الْجُبْنِ أَصَابَهُ سَهْمٌ غَرْبٌ، فَقَتَلَهُ فَهَذَا فِي الثَّانِيَةِ، وَرَجُلٌ مُؤْمِنٌ خَلَطَ عَمَلًا صَالِحًا، وَآخَرَ سَيِّئًا لَقِيَ الْعَدُوَّ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ، فَهَذَا فِي الدَّرَجَةِ الثَّالِثَةِ، وَرَجُلٌ مُؤْمِنٌ قَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا لَقِيَ الْعَدُوَّ، فَقَاتَلَ حَتَّى يُقْتَلَ فَهَذَا فِي الدَّرَجَةِ الرَّابِعَةِ
২৭ - সুলাইমান ইবন দাউদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উকবা আল-হাদরামি থেকে, তিনি আতা ইবন দীনার আল-হুযালি থেকে, তিনি আবু ইয়াযিদ আল-খাওলানি থেকে, তিনি ফাদ্বালা ইবন উবাইদ আল-আনসারি থেকে; তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: “শহীদগণ চার প্রকার; এক ব্যক্তি এমন মুমিন যার ঈমান অত্যন্ত চমৎকার, সে শত্রুর সম্মুখীন হয় এবং আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকারে সত্যনিষ্ঠ থাকে যতক্ষণ না সে নিহত হয়; এটি সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন যার দিকে মানুষ তাদের চোখ তুলে তাকিয়ে থাকবে।” বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি তাঁর মাথা উঁচু করলেন এমনকি তাঁর মাথা থেকে কিংবা উমরের মাথা থেকে টুপিটি পড়ে গেল। (অতঃপর তিনি বললেন:) “ইনি প্রথম স্তরের। আর এক ব্যক্তি এমন মুমিন যে শত্রুর সম্মুখীন হলে ভীরুতার কারণে তার চামড়ায় যেন কাঁটা বিঁধতে থাকে, এমতাবস্থায় একটি লক্ষ্যহীন তীর এসে তাকে বিদ্ধ করে এবং তাকে মেরে ফেলে; সে দ্বিতীয় স্তরের। আর এক ব্যক্তি এমন মুমিন যে সৎ কাজ ও মন্দ কাজ উভয়ই মিশ্রিত করেছে, সে শত্রুর সম্মুখীন হয়ে লড়াই করে যতক্ষণ না নিহত হয়; সে তৃতীয় স্তরের। আর এক ব্যক্তি এমন মুমিন যে নিজের ওপর অনেক গুনাহ ও ত্রুটির বোঝা চাপিয়েছে, সে শত্রুর সম্মুখীন হয়ে লড়াই করে যতক্ষণ না নিহত হয়; সে চতুর্থ স্তরের।”