(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: -)
مسند عبد الله بن عمر للطرسوسي   (أبو أمية الطرسوسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند عبد الله بن عمر

المؤلف: أبو أمية محمد بن إبراهيم بن مسلم الخزاعي البغدادي ثم الطرسوسي (ت 273هـ)

المحقق: أحمد راتب عرموش

الناشر: دار النفائس - بيروت

الطبعة: الأولى، 1393

عدد الصفحات: 48

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর - আল-তারসূসী   (আবু উমাইয়া আল-তারসূসী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর

লেখক: আবু উমাইয়া মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুসলিম আল-খুজায়ী আল-বাগদাদী অতঃপর আল-তারসূসী (মৃত্যু ২৭৩ হিজরি)

সম্পাদক: আহমদ রাতেব আরমূশ

প্রকাশক: দারুন নাফাইস - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ১৯)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ الدَّارَانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةِ ثَمَانٍ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَضْلِ بِنْ الْفُرَاتِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي ذِي الْقِعْدَةِ مِنْ سَنَةِ تِسْعِينَ وَأَرْبَعَمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَعْرُوفِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ فِي صَفَرٍ سَنَةَ عِشْرِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحَضَائِرِيُّ قَالَ:

 

1 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ،، حَدَّثَنَا أَسِيدُ بْنُ زَيْدٍ الْجَمَّالُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ:‌‌ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَكَانَ فِي الْحَضَرِ إِذَا صَلَّى الظُّهْرَ صَلَّى أَرْبَعًا، وَبَعْدَهَا ثِنْتَيْنِ، وَإِذَا صَلَّى الْعَصْرَ صَلَّى أَرْبَعًا، وَلَمْ يُصَلِّ بَعْدَهَا شَيْئًا، وَإِذَا صَلَّى الْمَغْرِبَ صَلَّى ثَلَاثًا، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ، وَإِذَا صَلَّى الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ صَلَّى أَرْبَعًا، وَبَعْدَهَا ثِنْتَيْنِ. وَصَحِبْتُهُ فِي السَّفَرِ فَإِذَا صَلَّى ⦗ص: 20⦘ الظُّهْرَ صَلَّى ثِنْتَيْنِ، وَبَعْدَهَا ثِنْتَيْنِ، وَإِذَا صَلَّى الْعَصْرَ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، وَلَمْ يُصَلِّ بَعْدَهَا شَيْئًا، وَإِذَا صَلَّى الْمَغْرِبَ صَلَّى ثَلَاثًا وَبَعْدَهَا ثِنْتَيْنِ، وَقَالَ هَذَا وِتْرُ النَّهَارِ، يَخْتِمُ بِهِ النَّهَارَ وَيَفْتَتِحُ اللَّيْلَ بِوِتْرٍ، وَإِذَا صَلَّى الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، وَبَعْدَهَا ثِنْتَيْنِ
শেখ আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবন আবিল হাসান আদ-দারানি আমাদের নিকট তাঁর কাছে পাঠের মাধ্যমে পাঁচশত আটান্ন হিজরি সনে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফাদল আহমদ ইবন আলি ইবন আল-ফাদল ইবনুল ফুরাত আমাদের নিকট তাঁর কাছে পাঠের মাধ্যমে চারশত নব্বই হিজরি সনের জিলকদ মাসে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবন উসমান ইবন আল-কাসিম ইবন মারুফ ইবন আবি নাসর আমাদের নিকট তাঁর কাছে পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমরা চারশত বিশ হিজরি সনের সফর মাসে তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু আলি আল-হাসান ইবন হাবিব ইবন আব্দুল মালিক আল-হাদাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

 

১ - আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিদ ইবন যায়িদ আল-জাম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতিয়্যাহ থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:‌‌ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আবাসে এবং সফরে সঙ্গী ছিলাম। তিনি যখন আবাসে থাকাকালীন যোহরের সালাত আদায় করতেন, তখন চার রাকাত পড়তেন, এবং এরপর দুই রাকাত পড়তেন। আর যখন আসরের সালাত আদায় করতেন, তখন চার রাকাত পড়তেন এবং এরপরে আর কিছুই পড়তেন না। আর যখন মাগরিবের সালাত আদায় করতেন, তখন তিন রাকাত পড়তেন এবং এরপর দুই রাকাত পড়তেন। আর যখন শেষ ইশার সালাত আদায় করতেন, তখন চার রাকাত পড়তেন এবং এরপর দুই রাকাত পড়তেন। আর আমি সফরের সময় তাঁর সঙ্গী ছিলাম, তখন তিনি যখন ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ যোহরের সালাত আদায় করতেন, তখন দুই রাকাত পড়তেন এবং এরপর দুই রাকাত পড়তেন। আর যখন আসরের সালাত আদায় করতেন, তখন দুই রাকাত পড়তেন এবং এরপরে আর কিছুই পড়তেন না। আর যখন মাগরিবের সালাত আদায় করতেন, তখন তিন রাকাত পড়তেন এবং এরপর দুই রাকাত পড়তেন। তিনি বলতেন: এটি দিনের বিতর, এর মাধ্যমেই দিন শেষ করা হয় এবং বিতরের মাধ্যমেই রাতের সূচনা করা হয়। আর যখন শেষ ইশার সালাত আদায় করতেন, তখন দুই রাকাত পড়তেন এবং এরপর দুই রাকাত পড়তেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২০)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: سَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجُنُبِ يُرِيدُ أَنْ يَنَامَ، قَالَ: ‌‌«يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ» ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَطْعَمَ يَتَوَضَّأُ
২ - আমাদের নিকট আবু উমাইয়্যাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনে আবী লায়লা হাদীস বর্ণনা করেছেন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই জুনুব (অপবিত্র) ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে ঘুমানোর ইচ্ছা করে, তিনি বললেন: «সে সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করবে», আর ইবনে উমর (রা.) যখন আহার করার ইচ্ছা করতেন তখন উযূ করতেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২০)
3 - وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ:‌‌ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِي الْحَضَرِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ، وَالْعَصْرَ أَرْبَعًا، لَيْسَ بَعْدَهَا شَيْءٌ، وَالْمَغْرِبَ ثَلَاثًا، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ، وَالْعِشَاءَ أَرْبَعًا، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ. وَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِي السَّفَرِ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ، وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ، لَيْسَ بَعْدَهَا شَيْءٌ، وَالْمَغْرِبَ ثَلَاثًا، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ، وَهِيَ وِتْرُ النَّهَارِ، فَلَا يُنْتَقَصُ مِنْهَا فِي السَّفَرِ وَلَا فِي الْحَضَرِ، وَالْعِشَاءَ رَكْعَتَيْنِ، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ
৩ - ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আবাসস্থলে এবং সফরে সালাত আদায় করেছি। আমি তাঁর সাথে আবাসস্থলে যুহরের সালাত চার রাকাত আদায় করেছি, এবং এরপর দুই রাকাত, আসরের সালাত চার রাকাত যার পরে আর কিছু নেই, মাগরিবের সালাত তিন রাকাত এবং এরপর দুই রাকাত, এবং এশার সালাত চার রাকাত এবং এরপর দুই রাকাত। আর আমি তাঁর সাথে সফরে যুহরের সালাত দুই রাকাত আদায় করেছি এবং এরপর দুই রাকাত, আসরের সালাত দুই রাকাত যার পরে আর কিছু নেই, মাগরিবের সালাত তিন রাকাত এবং এরপর দুই রাকাত—আর তা হলো দিনের বিতর, সফর বা আবাসস্থল কোনো অবস্থাতেই তা হ্রাস করা হয় না—এবং এশার সালাত দুই রাকাত ও এরপর দুই রাকাত।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২১)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنِ اقْتَنَى كَلْبًا إِلَّا كَلْبَ صَيْدٍ، أَوْ كَلْبَ مَاشِيَةٍ، أَوْ كَلْبَ مَخَافَةٍ، نَقَصَ مِنْ عَمَلِهِ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ» ، قِيلَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّا كُنَّا نَسْمَعُ: «قِيرَاطٌ» ، قَالَ: سَمِعَ أُذُنَايَ وَالَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قِيرَاطَانِ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِنَافِعٍ فَقَالَ: قَدْ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ: وَلَمْ أَسْمَعْهُ يَقُولُ: «كَلْبَ مَخَافَةٍ»
ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি শিকারি কুকুর, গবাদি পশুর পাহারাদার কুকুর অথবা পাহারাদার কুকুর ব্যতীত অন্য কোনো কুকুর লালন-পালন করবে, প্রতিদিন তার আমল থেকে দুই কিরাত পরিমাণ হ্রাস পাবে», বলা হলো: হে আবু আবদুর রহমান! আমরা তো শুনে আসছি: «এক কিরাত»। তিনি বললেন: যাঁর ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই তাঁর কসম, আমার কান দুটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছে: «দুই কিরাত»। মুহাম্মদ বলেন: আমি নাফি‘-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, কিন্তু তাঁকে «পাহারাদার কুকুর» কথাটি বলতে শুনিনি।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২১)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى قَالَ أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلَاةِ اللَّيْلِ، فَقَالَ: ‌‌«مَثْنَى مَثْنَى، فَإِنْ خَشِيَ الصُّبْحَ فَوَاحِدَةٌ»
৫ - আবু উমায়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসরাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: «দুই রাকাত দুই রাকাত করে, অতঃপর যদি সে সকাল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তবে এক রাকাত পড়বে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২১)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: جَاءَ عُبَيْدٌ إِلَى أَبِي فَقَالَ: أَتَيْتُ ابْنَ عُمَرَ فَسَأَلْتُهُ عَنْ خِصَالٍ، فَقَالَ لِي: هَاتِ، فَإِنَّكَ لَا تَزَالُ تَأْتِينِي بِشَيْءٍ قُلْتُ: رَأَيْتُكَ لَا تَمْسَحُ مِنْ هَذِهِ الْأَرْكَانِ إِلَّا الرُّكْنَ الْيَمَانِيَّ وَالرُّكْنَ الَّذِي فِيهِ الْحَجَرُ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ ⦗ص: 22⦘ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ ذَلِكَ، قَالَ: وَرَأَيْتُكَ لَا تَلْبَسُ مِنْ هَذِهِ النِّعَالِ إِلَّا السِّبْتِيَّةَ - قَالَ عَاصِمٌ: السِّبْتِيَّةُ تُحْلَقُ وَتُدْبَغُ لَيْسَ فِيهِ شَعَرٌ - قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ ذَلِكَ يَتَوَضَّأُ فِيهَا وَيُصَلِّي فِيهَا وَيَسْتَحِبُّهَا
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়্যাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন সাবিক, তিনি আসিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ থেকে, তিনি উবাইদ ইবন জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উবাইদ আমার পিতার নিকট এসে বললেন: আমি ইবন উমরের নিকট আসলাম এবং তাঁকে কিছু অভ্যাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: ‘বলো, কেননা তুমি তো সবসময় আমার কাছে কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে আসো।’ আমি বললাম: আমি আপনাকে দেখেছি যে আপনি (কাবার) এই কোণগুলোর মধ্যে কেবল রুকনে ইয়ামানি এবং যে কোণে হাজরে আসওয়াদ রয়েছে তা ব্যতীত অন্য কোনো কোণ স্পর্শ করেন না। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এমনটি করতে দেখেছি। তিনি (উবাইদ) বললেন: আর আমি আপনাকে দেখেছি যে আপনি জুতার মধ্যে কেবল সিবতিয়্যাহ জুতা পরিধান করেন। - আসিম বলেন: সিবতিয়্যাহ হলো এমন জুতা যা পশম পরিষ্কার করা হয়েছে এবং যা পাকা করা চামড়ার তৈরি, যাতে কোনো লোম নেই। - তিনি (ইবন উমর) বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তা করতে দেখেছি, তিনি তা পরিহিত অবস্থায় অজু করতেন এবং তাতে নামাজ পড়তেন, আর তিনি এটি পছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২২)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ قَالَ: أَنْبَأَنَا حَنْظَلَةُ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«لَا تَبِيعُوا الثَّمَرَةَ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا»
৭ - আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানজালাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাউস থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: «তোমরা ফল বিক্রি করো না যতক্ষণ না তার পরিপক্কতা প্রকাশ পায়»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২২)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ قَالَ: أَنْبَأَنَا حَنْظَلَةُ، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: هَلْ‌‌ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ؟ قَالَ: نَعَمْ
৮ - আবু উমাইয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানজালাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাউস হতে বর্ণিত, ইবনে উমর বলেন: কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-জার এবং আদ-দুব্বা (পাত্র বিশেষ) থেকে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২২)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ مُرَّةَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ نُعْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَاهُ شَابٌّ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَدْنُو مِنْكَ؟ ⦗ص: 23⦘ قَالَ: «ادْنُ» ، فَدَنَا حَتَّى وَضَعَ فَخِذَهُ عَلَى فَخِذِهِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: "‌‌ تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُهُ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «تُؤْمِنُ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ، وَتُؤْمِنُ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَتُؤْمِنُ بِالْمِيزَانِ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُؤْمِنٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ»
৯ - আমাদের নিকট আবু উমাইয়্যাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে মুররা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট যুহায়ের ইবনে মুআবিয়াহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে নুমান থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক যুবক তাঁর নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মদ, আমি কি আপনার নিকটবর্তী হতে পারি? ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ তিনি বললেন: "নিকটবর্তী হও।" তখন সে নিকটবর্তী হলো এমনকি সে তার উরু তাঁর উরুর ওপর রাখল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: "‌‌তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। সে বলল: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুসলিম?", তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: তবে ঈমান কী? তিনি বললেন: "তুমি তাকদীরের (ভাগ্যের) ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস রাখবে, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস রাখবে, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস রাখবে এবং মিজানের (হিসাবের পাল্লা) প্রতি বিশ্বাস রাখবে।" সে বলল: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুমিন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৩)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ هُرَيْمِ بْنِ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: لَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ فِي الصَّلَاةِ كَمَا يُعَلِّمُ الْمُكَتِّبُ الْوِلْدَانَ
১০ - আমাদের নিকট আবু উমাইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আসওয়াদ বিন আমির বর্ণনা করেছেন, তিনি হুরাইম বিন সুফইয়ান থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন ইসহাক থেকে, তিনি মুহারিব বিন দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নামাযে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে মক্তবের শিক্ষক শিশুদের শিক্ষা দান করেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৩)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَارِبَ بْنَ دِثَارٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«تَوَضَّئُوا مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ، وَلَا تَوَضَّئُوا مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ، وَتَوَضَّئُوا مِنْ أَلْبَانِ الْإِبِلِ، وَلَا تَوَضَّئُوا مِنْ أَلْبَانِ الْغَنَمِ، وَصَلُّوا فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ، وَلَا تُصَلُّوا فِي مَعَاطِنِ الْإِبِلِ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন আবদে রাব্বিহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, তিনি খালিদ বিন ইয়াযিদ থেকে, তিনি আতা বিন আস-সাইব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুহারিব বিন দিষারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «তোমরা উটের গোশত খাওয়ার কারণে ওজু করো এবং বকরির গোশত খাওয়ার কারণে ওজু করো না; এবং উটের দুধ পান করার কারণে ওজু করো এবং ওজু করো না বকরির দুধ পান করার কারণে। তোমরা বকরির খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করো, কিন্তু উটের আস্তাবলে সালাত আদায় করো না।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৪)
حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا سُحَيْمُ بْنُ الْقَاسِمِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ الْوَصَّافِيُّ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«إِنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ لَا يَسْمَعُونَ شَيْئًا مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ إِلَّا الْأَذَانَ»
আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুহাইম ইবনুল কাসিম আল-হাররানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে ইউনুস আল-ওয়াসসাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আসমানবাসীরা পৃথিবীবাসীদের পক্ষ থেকে আজান ব্যতীত আর কিছুই শুনতে পায় না»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৪)
13 - وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«الْمُؤَذِّنُونَ أَطْوَلُ النَّاسِ أَعْنَاقًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَهُمْ أَوَّلُ مَنْ يُكْسَى»
১৩ - ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনরা মানুষের মধ্যে দীর্ঘতম গর্দানের অধিকারী হবে এবং তারাই সর্বপ্রথম পোশাক পরিহিত হবে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৪)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الْوَصَّافِيِّ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ عز وجل الطَّلَاقُ»

 

15 - حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ مُعَرِّفِ بْنِ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مِثْلَهُ
14 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়্যাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনে উবাইদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ, তিনি আল-ওয়াসসাফি থেকে, তিনি মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ মহান ও মহিমান্বিত-এর নিকট হালাল বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় হলো তালাক»

 

15 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনে উবাইদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ, তিনি মুআররিফ ইবনে ওয়াসিল থেকে, তিনি মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৪)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الْوَصَّافِيِّ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«سَمَّاهُمُ اللَّهُ الْأَبْرَارَ لِأَنَّهُمْ بَرُّوا الْآبَاءَ وَالْأَبْنَاءَ، كَمَا أَنَّ لِوَالِدَيْكَ عَلَيْكَ حَقًّا كَذَلِكَ لِوَلَدِكَ عَلَيْكَ حَقٌّ»
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়্যাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন খালিদ, আল-ওয়াসসাফী থেকে, তিনি মুহারিব বিন দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ তাদের 'আবরার' (সদাচারী) নামকরণ করেছেন কারণ তারা পিতা-মাতা ও সন্তানদের সাথে সদাচরণ করেছে। যেমন তোমার ওপর তোমার পিতা-মাতার অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমার ওপর তোমার সন্তানেরও অধিকার রয়েছে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ:‌‌ مَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُوصِي بِالصَّلَاةِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ حَتَّى انْكَسَرَ لِسَانُهُ
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:‌‌ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত এবং তোমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন, এমনকি আড়ষ্ট হয়ে পড়ল তাঁর জিহ্বা।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৫)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، حَدَّثَنَا عَدِيُّ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قِيلَ لَهُ: إِنَّكَ تُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْنَا أَحَدًا يَفْعَلُ كَفِعْلِكَ، فَقَالَ: إِنْ أَفْعَلْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«إِنَّ مَسْحَهُمَا يَحُطَّانِ الْخَطَايَا حَطًّا»
১৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়াহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে আবি ইয়াযীদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আদি ইবনুল ফাযল, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে বলা হলো: নিশ্চয়ই আপনি (কাবাগৃহের) দুই রুকনের ওপর এমন ভিড় করেন যা আপনার মতো অন্য কাউকে করতে আমরা দেখিনি। তিনি বললেন: আমি যদি তা করি, তবে তা এ কারণে যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই এই দুই রুকন স্পর্শ করা গুনাহসমূহকে পুরোপুরিভাবে ঝরিয়ে দেয়»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৫)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، وَيَحْيَى بْنُ صَالِحٍ قَالَا: حَدَّثَنَا عُفَيْرُ بْنُ مَعْدَانَ الْيَحْصِبِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ النَّمِيمَةَ وَهِيَ الْكَذِبُ، وَالسَّخِيمَةَ وَالْحَمِيَّةَ فِي النَّارِ، فَلَا يَجْتَمِعَانِ فِي صَدْرِ مُسْلِمٍ»
১৯ - আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবুল ইয়ামান এবং ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: উফাইর ইবনে মা’দান আল-ইয়াহসিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, আতা বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই চোগলখুরি—যা মূলত মিথ্যা—এবং বিদ্বেষ ও জাহিলী গোঁড়ামি জাহান্নামের অন্তর্ভুক্ত; এ বিষয়গুলো কোনো মুসলিমের অন্তরে একত্রে সমবেত হতে পারে না।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৫)
20 - وَعَنْ عَطَاءٍ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ لَعَنَ النَّائِحَةَ وَالْمُسْتَمِعَةَ، وَالْحَالِقَةَ وَالصَّالِقَةَ، وَالْوَاشِمَةَ وَالْمَوْشُومَةَ وَقَالَ: «لَيْسَ لِلنِّسَاءِ فِي اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ أَجْرٌ»
20 - আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরের নিকট ছিলাম এবং তাঁকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)‌‌ বিলাপকারিণী ও তা শ্রবণকারিণী নারী, (শোকে) মাথা মুণ্ডনকারিণী ও উচ্চস্বরে চিৎকারকারিণী নারী, এবং উল্কি অঙ্কনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণী নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন: «জানাজার অনুসরণে নারীদের জন্য কোনো সওয়াব নেই।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৬)
حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ قَالَ: قَالَ عَطَاءٌ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«النَّمِيمَةُ وَالشَّتِيمَةُ وَالْحَمِيَّةُ فِي النَّارِ، فَلَا يَجْتَمِعَانِ فِي صَدْرِ مُؤْمِنٍ»
আমাদের নিকট আবু উমাইয়াহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে সিনান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আতা বলেছেন: আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে উমর সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «চোগলখোরি, গালিগালাজ এবং অন্ধ অহমিকা জাহান্নামে যাবে; আর এই বিষয়গুলো কোনো মুমিনের অন্তরে একত্রিত হয় না»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৬)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: أَتَى عَلَيْنَا زَمَانٌ وَمَا يَرَى أَحَدُنَا أَنَّهُ أَحَقُّ بِالدِّينَارِ وَالدِّرْهَمِ مِنْ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، وَنَحْنُ الْيَوْمَ الدِّينَارُ وَالدِّرْهَمُ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِنْ أَخِينَا الْمُسْلِمِ، وَذَلِكَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«إِذَا ضَنَّ النَّاسُ بِالدِّينَارِ وَالدِّرْهَمِ، وَاتَّبَعُوا أَذْنَابَ الْبَقَرِ، وَتَرَكُوا الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَتَبَايَعُوا بِالْغَبْنِ أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ذُلًّا فَلَمْ يَرْفَعْهُ عَنْهُمْ حَتَّى يُرَاجِعُوا دِينَهُمْ»
22 - আবু উমাইয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে উসমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আইয়্যাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আ'মাশ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের ওপর এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন আমাদের কেউ দিনার ও দিরহামের ক্ষেত্রে নিজের চেয়ে তার মুসলিম ভাইকে অধিক হকদার মনে করত। অথচ আজ আমাদের কাছে দিনার ও দিরহাম আমাদের মুসলিম ভাইয়ের চেয়েও অধিক প্রিয়। আর এটি এজন্য যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যখন মানুষ দিনার ও দিরহাম নিয়ে কৃপণতা করবে, গরুর লেজের অনুসরণ করবে, আল্লাহর পথে জিহাদ বর্জন করবে এবং প্রতারণাপূর্ণ লেনদেন করবে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর লাঞ্ছনা অবতীর্ণ করবেন এবং তা তাদের ওপর থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত উঠিয়ে নেবেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসে»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৬)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَاشِدٍ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ‌‌ لَا يَتَعَارَّ سَاعَةً مِنَ اللَّيْلِ إِلَّا أَجْرَى السِّوَاكَ عَلَى فِيهِ
২৩ - আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে রাশিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আতা ইবনে আবি রাবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের কোনো এক সময়ে জাগ্রত হলেই নিজ মুখে মেসওয়াক করতেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৭)
24 - وَأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«إِنَّ أُمَّتِي هَذِهِ تُوفِي سَبْعِينَ أُمَّةً نَحْنُ آخِرُهَا وَخَيْرُهَا»
২৪ - এবং নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার এই উম্মত সত্তরটি উম্মত পূর্ণ করবে; আমরা তাদের সর্বশেষ এবং তাদের মধ্যে সর্বোত্তম»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৭)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَاشِدٍ، حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَنْ أَذَّنَ فَهُوَ أَحَقُّ أَنْ يُقِيمَ»
২৫ - আমাদের নিকট আবু উমাইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে কায়স বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে রাশিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আতা বর্ণনা করেছেন ইবনে উমর থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আযান দেয়, সে-ই ইকামত দেওয়ার অধিক হকদার»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ الْخَفَّافُ الْعِجْلِيُّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ إِذْ لَقِيَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَيْفَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي النَّجْوَى؟ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "‌‌ يَدْنُو الْمُؤْمِنُ مِنْ رَبِّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُ بَذْجٌ - قَالَ أَبُو النَّضْرِ: قَالَ قَتَادَةُ: الْبَذْجُ: السَّخْلَةُ - فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ، يَعْنِي سِتْرَهُ، فَيَقُولُ لَهُ: هَلْ تَعْرِفُ؟ هَلْ تَعْرِفُ؟ فَيَقُولُ: رَبِّ أَعْرِفُ، رَبِّ أَعْرِفُ، فَيَقُولُ: هَلْ تَعْرِفُ؟ فَيَقُولُ: رَبِّ أَعْرِفُ، فَيَقُولُ: هَلْ تَعْرِفُ؟ فَيَقُولُ: رَبِّ أَعْرِفُ، فَيَقُولُ: أَنَا سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا، وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ، قَالَ: وَيُعْطَى صَحِيفَةَ حَسَنَاتِهِ "، قَالَ: " وَأَمَّا الْكَافِرُ ⦗ص: 28⦘ وَالْمُنَافِقُونَ فَيُنَادِيهِمْ عَلَى رُءُوسِ الْأَشْهَادِ: هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ، أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ "، قَالَ قَتَادَةُ: فَلَمْ يُخْزَ يَوْمَئِذٍ أَحَدٌ يَخْفَى خِزْيُهُ عَلَى أَحَدٍ مِنَ الْخَلَائِقِ
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়াহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আল-খাফফাফ আল-ইজলি, সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে মুহরিজ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বলল: হে আবু আব্দুর রহমান, আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নাজওয়া (গোপন আলাপ) সম্পর্কে কী বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "‌‌কিয়ামতের দিন মুমিন তার রবের নিকটবর্তী হবে যেন সে একটি বাজজ - আবু আন-নাজর বলেন: কাতাদাহ বলেছেন: বাজজ হলো মেষশাবক - এরপর তিনি তার ওপর তাঁর আবরণ (অর্থাৎ তাঁর পর্দা) রাখবেন এবং তাকে বলবেন: তুমি কি চিনতে পারছ? তুমি কি চিনতে পারছ? তখন সে বলবে: হে আমার রব, আমি চিনতে পারছি, হে আমার রব, আমি চিনতে পারছি। তিনি বলবেন: তুমি কি চিনতে পারছ? সে বলবে: হে আমার রব, আমি চিনতে পারছি। তিনি বলবেন: তুমি কি চিনতে পারছ? সে বলবে: হে আমার রব, আমি চিনতে পারছি। তখন তিনি বলবেন: আমি দুনিয়াতে এগুলো তোমার জন্য গোপন রেখেছিলাম এবং আজ আমি তা তোমার জন্য ক্ষমা করে দিচ্ছি। তিনি বললেন: এরপর তাকে তার নেক আমলের আমলনামা প্রদান করা হবে।" তিনি বললেন: "আর কাফের ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ ও মুনাফিকদের ব্যাপারে সকল সাক্ষীর সামনে উচ্চস্বরে ঘোষণা করা হবে: এরাই তারা যারা তাদের রবের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল; জেনে রেখো, জালেমদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ।" কাতাদাহ বলেন: সেদিন এমন কাউকে লাঞ্ছিত করা হবে না যার লাঞ্ছনা সৃষ্টিজগতের অন্য কারো কাছে গোপন থাকবে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، حَدَّثَنَا الْهَيَّاجُ بْنُ بِسْطَامٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشْتَرِ فَقَالَ: وَاللَّهِ إِنِّي لَعِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُطِيعٍ حِينَ هَاجَ هَيْجَةَ النَّاسِ مَعَ ابْنِ الزُّبَيْرِ عَلَى يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ إِذْ دَخَلَ عَلَيْهِ ابْنُ عُمَرَ فَأَمَرَ بِوِسَادَةٍ فَبُسِطَتْ لَهُ، فَقَالَ: إِنِّي لَمْ آتِكَ لِأَجْلِسَ، وَلَكِنِّي أَرَدْتُ أَنْ أُحَدِّثَكَ عَمَّا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«مَنْ خَلَعَ الطَّاعَةَ لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا حُجَّةَ لَهُ، وَمَنْ مَاتَ لَا طَاعَةَ عَلَيْهِ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً» ، قَالَ ثُمَّ انْصَرَفَ
২৭ - আমাদের নিকট আবু উমাইয়্যাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালিদ বিন আবি ইয়াযীদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাইয়্যাজ বিন বিসতাম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াযীদ বিন আব্দুল্লাহ বিন কুসাইত থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আল-আশতার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ, আমি আব্দুল্লাহ বিন মুতী’-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম যখন ইবনুল যুবাইরের সাথে লোকজন ইয়াযীদ বিন মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। তখন ইবনে উমর তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি (ইবনে মুতী’) একটি বালিশের আদেশ দিলেন এবং সেটি তাঁর জন্য বিছিয়ে দেওয়া হলো। তিনি (ইবনে উমর) বললেন: আমি তোমার নিকট বসার জন্য আসিনি; বরং আমি তোমাকে সেই কথা বলতে এসেছি যা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আনুগত্য ছিন্ন করে, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার কোনো দলীল থাকবে না। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে তার ওপর কোনো আনুগত্যের দায়িত্ব নেই, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল।” তিনি বলেন, এরপর তিনি ফিরে গেলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৮)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ، عَنْ سِنَانِ بْنِ هَارُونَ، عَنْ كُلَيْبٍ قَالَ مَرَّةً: ابْنِ وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِتْنَةً، وَمَرَّ رَجُلٌ مُقَنَّعٌ قَالَ: ‌‌«يُقْتَلُ هَذَا مَظْلُومًا» ، فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رحمه الله
২৮ - আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সিনান ইবনে হারুন থেকে, তিনি কুলাইব থেকে—একবার তিনি তাঁকে ইবনে ওয়াইল বলেছেন—তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) একটি ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন এবং মস্তক আবৃত এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন: «এই ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হবে», এরপর আমি তাঁর দিকে তাকালাম এবং দেখলাম যে তিনি হলেন উসমান ইবনে আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৮)
29 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصَفَّى، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ كُلَيْبِ بْنِ وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 29⦘: ‌‌«لَا تُسَاكِنُوا الْأَنْبَاطَ فِي بِلَادِهِمْ، فَإِنْ نَازَعُوكُمُ الْكَلَامَ وَاخْتَبَئُوا فِي الْأَقْنِيَةِ فَالْهَرَبَ الْهَرَبَ، وَلَا تُنَاكِحُوا الْخُوزَ، فَإِنَّ لَهُمْ أُصُولًا تَدْعُو إِلَى غَيْرِ الْوَفَاءِ»
২৯ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়াহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন মুসাফফা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, শারীক বিন আব্দুল্লাহ হতে, তিনি কুলাইব বিন ওয়াইল হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘: “তোমরা নাবাতীদের জনপদে তাদের সাথে বসবাস করো না; কেননা তারা যদি তোমাদের সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় এবং সুড়ঙ্গপথে লুকিয়ে পড়ে, তবে সেখান থেকে পলায়ন করো, পলায়ন করো। আর তোমরা খুযিদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, কেননা তাদের এমন কিছু স্বভাবজাত মূলনীতি রয়েছে যা বিশ্বাসঘাতকতার দিকে ধাবিত করে।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন উমর লিত-তারসুসী (পৃষ্ঠা: ২৯)
30 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَّيَةَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ قُدَامَةَ بْنِ مُوسَى قَالَ: أَخْبَرَنِي رَجُلٌ، مِنْ بَنِي حَنْظَلَةَ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ يَسَارِ بْنِ نُمَيْرٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: رَآنِي ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ فَقَالَ: يَا يَسَارُ، كَمْ صَلَّيْتَ؟ فَقُلْتُ: لَا أَدْرِي، قَالَ: لَا دَرَيْتَ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ فَتَغَيَّظَ عَلَيْنَا وَقَالَ: ‌‌«لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ، لَا صَلَاةَ بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ إِلَّا رَكْعَتَيْنِ»
৩০ - আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুদামাহ বিন মূসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বনু হানজালা গোত্রের এক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলকামা থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বিন উমরের মুক্তদাস ইয়াসার বিন নুমায়র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে উমর আমাকে ফজর সালাতের পর এই সালাত আদায় করতে দেখলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে ইয়াসার, তুমি কত রাকাত সালাত আদায় করলে? আমি বললাম: আমি জানি না। তিনি বললেন: তুমি যেন না জানো! নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন যখন আমরা এই সালাত আদায় করছিলাম, অতঃপর তিনি আমাদের প্রতি রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: «তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছে দেয় যে, ফজর উদয়ের পর দুই রাকাত (সুন্নত) ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই।’»