(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: -)
مسند عبد الرحمن بن عوف للبرتي (البرتي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند عبد الرحمن بن عوف
المؤلف: أبو العباس أحمد بن محمد بن عيسى بن الأزهر البِرْتي البغدادي القاضي الحنفي (ت 280هـ)
المحقق: صلاح بن عايض الشلاحي
الناشر: دار ابن حزم - بيروت
الطبعة: الأولى، 1414
عدد الصفحات: 99
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বির্তি বর্ণিত মুসনাদ আব্দুর রহমান বিন আউফ (আল-বির্তি)
বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
বই: মুসনাদ আব্দুর রহমান বিন আউফ
লেখক: আবু আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আজহার আল-বির্তি আল-বাগদাদি আল-কাযী আল-হানাফি (মৃত্যু ২৮০ হিজরি)
সম্পাদক: সালাহ বিন আয়িদ আশ-শালাহি
প্রকাশক: দার ইবন হাজম - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: -)
مَا رَوَاهُ ⦗ص: 1⦘ عَبْدُ اللَّهِ ⦗ص: 27⦘ بْنُ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدِ ⦗ص: 1⦘ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رَضِيَ ⦗ص: 27⦘ اللَّهُ عَنْهُمَا
যা বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১⦘ আবদুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ ইবনে আব্বাস, আবদুর ⦗পৃষ্ঠা: ১⦘ রহমান ইবনে আউফ হতে, আল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي مَسْجِدِهِ دَارَ قُطْنٍ فِي ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ قَالَ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الْقَاضِي الْبِرْتِيُّ، 1 - حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، خَرَجَ إِلَى الشَّامِ. حَتَّى إِذَا كَانَ بِسَرْغَ لَقِيَهُ أُمَرَاءُ الْأَجْنَادِ أَبُو عُبَيْدَةَ وَأَصْحَابُهُ، فَأَخْبَرُوهُ أَنَّ الْوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ ⦗ص: 28⦘ بِالشَّامِ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَقَالَ عُمَرُ ادْعُوا إِلَيَّ الْمُهَاجِرِينَ الَأَوَّلِينَ، فَدَعَاهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ فأَخْبَرَهُمْ أَنَّ الْوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ، فَاخْتَلَفُوا عَلَيْهِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: قَدْ خَرَجْتَ لِأَمْرٍ وَلَا نَرَى أَنْ تَرْجِعَ عَنْهُ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: مَعَكَ بَقِيَّةُ النَّاسِ وَأَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا نَرَى أَنْ تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الْوَبَاءِ، فَقَالَ: ارْتَفِعُوا عَنِّي، ثُمَّ قَالَ: ادْعُوا إلَيَّ الْأَنْصَارَ، فَدَعَوهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ فَسَلَكُوا سَبِيلَ الْمُهَاجِرِينَ وَاخْتَلَفُوا كَاخْتِلَافِهِمْ، فَقَالَ: ارْتَفِعُوا عَنِّي، ثُمَّ ⦗ص: 29⦘ قَالَ: ادْعُوا لِي مَنْ كَانَ هَاهُنَا مِنْ مَشْيَخَةِ قُرَيْشٍ مِنْ مُهَاجِرِي الْفَتْحِ فَدَعَوهُمْ فَلَمْ يَخْتَلِفْ عَلَيْهِ مِنْهُمْ رَجُلَانِ فَقَالُوا: نَرَى أَنْ تَرْجِعَ بِالنَّاسِ وَلَا تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الْوَبَاءِ فَنَادَى عُمَرُ فِي النَّاسِ: إِنِّي مُصَبِّحٌ عَلَى ظَهْرٍ فَأَصْبِحُوا عَلَيْهِ، فَقَالَ: أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ: أَفِرَارٌ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ؟ فَقَالَ عُمَرُ: لَوْ غَيْرُكَ قَالَهَا يَا أَبَا عُبَيْدَةَ، نَعَمْ نَفِرُّ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ إِلَى قَدَرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ، أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ إِبِلٌ فَهَبَطَتْ وَادِيًا لَهُ عُدْوَتَانِ إِحْدَاهُمَا خَصْبَةٌ وَالْأُخْرَى جَدْبَةٌ أَلَيْسَ إِنْ رَعَيْتَ الْخَصْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللَّهِ؟ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَكَانَ مُتَغَيِّبًا فِي بَعْضِ حَاجَتِهِ، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ بِيَدِهِ: «هَذَا كِتَابٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ فِيهِ أَسْمَاءُ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَسْمَاءُ آبَائِهِمْ وَقَبَائِلِهِمْ مُجْمِلٌ عَلَى آخِرِهِمْ، لَا يُزَادُ فِيهِمْ وَلَا يَنْقُصُ مِنْهُمْ، وَهَذَا كِتَابٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ فِيهِ أَسْمَاءُ أَهْلِ النَّارِ وَأَسْمَاءُ آبَائِهِمْ وَقَبَائِلِهِمْ مُجْمِلٌ عَلَى آخِرِهِمْ، لَا يُزَادُ مِنْهُ وَلَا يَنْقُصُ مِنْهُمْ، فَرَغَ رَبُّكُمْ جَلَّ وَعَزَّ، فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ، إِنَّ مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ خُتِمَ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ عَمِلَ كُلَّ عَمَلٍ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ خُتِمَ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ، وَإِنْ عَمِلَ كُلَّ عَمَلٍ»
আবু সাহল আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম তাঁর মসজিদে 'দারু কুতন'-এ, ৩৪২ হিজরি সনের জিলহজ মাসে। আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আল-কাদি আল-বিরতি বলেছেন, ১ - আল-কা'নাবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যায়িদ ইবনুল খাত্তাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে নাওফাল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব সিরিয়ার (শাম) উদ্দেশ্যে বের হলেন। অবশেষে যখন তিনি 'সারগ' নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তাঁর সাথে সেনাবাহিনীর প্রধানগণ—আবু উবাইদাহ ও তাঁর সঙ্গীবৃন্দ—সাক্ষাৎ করলেন। তাঁরা তাঁকে সংবাদ দিলেন যে, সিরিয়ায় মহামারি দেখা দিয়েছে। ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ ইবনে আব্বাস বলেন: তখন উমর বললেন, 'আমার কাছে প্রথম পর্যায়ের মুহাজিরদের ডেকে আনো।' তিনি তাঁদের ডাকলেন এবং তাঁদের সাথে পরামর্শ করলেন। তিনি তাঁদের জানালেন যে, সিরিয়ায় মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। তখন তাঁরা মতভেদ করলেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন, 'আপনি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, তাই আমরা মনে করি না যে আপনার তা থেকে ফিরে যাওয়া উচিত।' আবার কেউ কেউ বললেন, 'আপনার সাথে একদল মানুষ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ রয়েছেন; আমরা মনে করি না যে আপনি তাঁদের এই মহামারির দিকে নিয়ে যাবেন।' উমর বললেন, 'তোমরা এখন আমার নিকট থেকে বিদায় নাও।' তারপর তিনি বললেন, 'আনসারদের আমার কাছে ডেকে আনো।' তিনি তাঁদের ডাকলেন এবং তাঁদের সাথেও পরামর্শ করলেন। তাঁরাও মুহাজিরদের পথ অনুসরণ করলেন এবং মুহাজিরদের মতোই মতভেদ করলেন। উমর বললেন, 'তোমরাও আমার নিকট থেকে বিদায় নাও।' তারপর ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ তিনি বললেন, 'এখানে কুরাইশদের বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পর হিজরতকারী ছিলেন তাঁদের আমার কাছে ডাকো।' তিনি তাঁদের ডাকলেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে কোনো দুইজন ব্যক্তিও তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করলেন না। তাঁরা বললেন, 'আমাদের অভিমত হলো আপনি মানুষকে নিয়ে ফিরে যান এবং তাঁদের এই মহামারির মধ্যে নিয়ে যাবেন না।' তখন উমর মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দিলেন: 'আমি ভোরে সওয়ারির পিঠে ফিরতি যাত্রা শুরু করব, তোমরাও ভোরে প্রস্তুত থেকো।' তখন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ বললেন, 'আল্লাহর তাকদির থেকে পালানোর জন্য কি?' উমর বললেন, 'হে আবু উবাইদাহ! যদি তুমি ছাড়া অন্য কেউ এটি বলত! হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর তাকদির থেকে আল্লাহরই মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী তাকদিরের দিকে পালাচ্ছি। তুমি কি মনে করো, যদি তোমার কিছু উট থাকে এবং সেগুলো এমন এক উপত্যকায় নামে যার দুটি পাশ আছে—একপাশ ঘাসযুক্ত ও উর্বর, আর অন্যপাশ ঘাসহীন ও অনুর্বর; তবে কি এমন নয় যে, যদি তুমি উর্বর জমিতে উট চরাও, তবে তা আল্লাহর তাকদির অনুযায়ীই চরালে?' অতঃপর আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আসলেন, তিনি নিজের কোনো প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাদের কাছে বের হলেন এবং নিজের হাত দিয়ে নির্দেশ করে বললেন: "এটি জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে আসা কিতাব, এতে জান্নাতবাসীদের নাম রয়েছে এবং তাঁদের পিতাদের ও গোত্রের নাম রয়েছে। তাঁদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত এতে পূর্ণ বিবরণ রয়েছে, এতে কোনো বৃদ্ধিও করা হবে না আর কোনো হ্রাসও করা হবে না। আর এটি জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে আসা কিতাব, এতে জাহান্নামীদের নাম রয়েছে এবং তাঁদের পিতাদের ও গোত্রের নাম রয়েছে। তাঁদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত এতে পূর্ণ বিবরণ রয়েছে, এতে কোনো বৃদ্ধি করা হবে না আর কোনো হ্রাস করা হবে না। তোমাদের মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী রব কাজ সম্পন্ন করেছেন; একদল জান্নাতে যাবে আর একদল প্রজ্বলিত অগ্নিতে যাবে। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত, তার শেষ পরিণতি জান্নাতবাসীদের আমলের মাধ্যমেই হবে, সে এর আগে যে আমলই করে থাকুক না কেন। আর যে ব্যক্তি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত, তার শেষ পরিণতি জাহান্নামীদের আমলের মাধ্যমেই হবে, সে এর আগে যে আমলই করে থাকুক না কেন।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
2 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ رُوَيمٍ عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: جِئْتُ عُمَرَ حِينَ قَدِمَ مِنَ الشَّامِ فَوَجَدْتُهُ قَائِلًا فِي خِبَاءٍ لَهُ فَانْتَظَرْتُهُ فِي الْخِبَاءِ قَالَ: فَسَمِعْتُهُ حِينَ تَضَوَّرَ مِنْ نَوْمِهِ يَقُولُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي رُجُوعِي مِنْ سَرْغَ
২ - ইসহাক ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জা'ফর ইবনে আওন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে সা'দ হতে, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবনে রুওয়াইম আমার নিকট আল-কাসিম হতে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর যখন সিরিয়া হতে প্রত্যাবর্তন করলেন তখন আমি তাঁর নিকট আসলাম এবং তাঁকে তাঁর একটি তাঁবুতে দ্বিপ্রহরের বিশ্রামরত অবস্থায় পেলাম। অতঃপর আমি তাঁবুর ভেতর তাঁর জন্য অপেক্ষা করলাম। তিনি বলেন: যখন তিনি তাঁর ঘুম হতে জাগ্রত হলেন তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: হে আল্লাহ! সারগ হতে আমার ফিরে আসাকে আপনি ক্ষমা করে দিন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
3 - حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه إِنَّمَا انْصَرَفَ بِالنَّاسِ عَنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ
৩ - আল-কানবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মূলত আবদুর রহমান ইবনে আউফের হাদিসের কারণেই লোকজনকে নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
4 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ الْمَكِّيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كُنْتُ أُذَاكِرُ عُمَرَ الصَّلَاةَ، فَأَتَى عَلَيْنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فَقَالَ: أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْنَا: بَلَى، قَالَ: أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَشَكَّ فِي النُّقْصَانِ فَلْيُصَلِّ حَتَّى يَشُكَّ فِي الزِّيَادَةِ»
৪ - ইসহাক ইবনে ইসমাঈল আত-তালকানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল আল-মাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমরের সাথে সালাত নিয়ে আলোচনা করছিলাম, এমতাবস্থায় আব্দুর রহমান ইবনে আওফ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদীস শোনাব না যা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি? আমরা বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে এবং কম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করে, তখন সে যেন সালাত আদায় করতে থাকে যতক্ষণ না সে অতিরিক্ত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
আবদুর রহমানের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবীআহর হাদীস
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْأَصْبَهَانِيُّ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: سَمِعَ عُمَرُ مِنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ الْحُدِّيَّ، فَأَتَاهُ فِي بَعْضِ اللَّيْلِ، فَلَمَّا أَصْبَحَ رَأَى عَلَيْهِ خُفَّانِ، فَقَالَ: وَالْخُفَّانِ مَعَ الْحُدِّيِّ، فَقَالَ: لَقَدْ لَبِسْتُهَا مَعَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ، يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
5 - মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল-আসবাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শারিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসিম ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, উমর (রা.) আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-এর নিকট থেকে হুদ্দি (উটের চালকদের গান) শুনেছিলেন এবং রাতের কোনো এক অংশে তাঁর কাছে আসলেন। অতঃপর যখন ভোর হলো, তখন তিনি তাঁর পায়ে দুটি চামড়ার মোজা দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: হুদ্দির সাথে আবার চামড়ার মোজা? তিনি বললেন: আমি এগুলো এমন একজনের সাথে পরিধান করেছি যিনি আপনার চেয়েও উত্তম—অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ أَنَّ عُمَرَ رَجَعَ بِالنَّاسِ مِنْ سَرْغَ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، فَلَمَّا رَجَعَ عُمَرُ رَجَعَ عُمَّالُ الْأَجْنَادِ إِلَى أَعْمَالِهِمْ
৬ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাদ, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে। তিনি বলেন: এবং আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব আজ-জুহরি, আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিয়াহ এবং সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে। তাঁরা উভয়ে তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা.) আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর হাদিসের প্রেক্ষিতে সারগ থেকে লোকদের নিয়ে ফিরে এসেছিলেন। অতঃপর যখন উমর (রা.) ফিরে আসলেন, তখন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
حَدِيثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত আনাস ইবনে মালিকের হাদীস
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَدِمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ الْمَدِينَةَ وَآخَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَينَهُ وَبَينَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ الْأَنْصَارِيِّ، وَكَانَتْ عِنْدَ الْأَنْصَارِيِّ امْرَأَتَيْنِ. فَعَرَضَ عَلَيْهِ أَنْ يُنَاصِفَهُ أَهْلَهَ وَمَالَهَ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: بَارِكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ دُلُّونِي عَلَى السُّوقِ، فَأَتَى السُّوقَ فَرَبِحَ شَيْئًا مِنْ أَقِطٍ وَسَمْنٍ فَرَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ وَضَرٌّ مِنْ صُفْرَةٍ فَقَالَ: «مَهْيَمْ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ؟» قَالَ: تَزَوَّجْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ امْرَأَةً مِنَ الْأَنْصَارِ، قَالَ: مَا سُقْتَ إِلَيْهَا؟ قَالَ: وَزْنُ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ، قَالَ: «أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ»
৭ - আবু হুযায়ফাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হুমায়দ আত-তাবিল থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন আউফ মদীনায় আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এবং সা'দ বিন রাবি আল-আনসারীর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিলেন। সেই আনসারীর নিকট দুজন স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁকে (আবদুর রহমানকে) তাঁর পরিবার ও সম্পদের অর্ধেক ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন। তখন আবদুর রহমান বিন আউফ তাঁকে বললেন: আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন; আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিন। অতঃপর তিনি বাজারে আসলেন এবং ব্যবসা করে কিছু পনির ও ঘি মুনাফা করলেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে দেখলেন যে তাঁর শরীরে হলুদ বর্ণের সুগন্ধির চিহ্ন রয়েছে। তিনি বললেন: হে আবদুর রহমান, এ কী অবস্থা? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন আনসারী নারীকে বিবাহ করেছি। তিনি (নবী) জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি তাকে মোহর বাবদ কী দিয়েছ? তিনি বললেন: একটি খেজুরের আঁটির ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ। তিনি (নবী) বললেন: ওয়ালিমা করো, যদিও তা একটি বকরি দিয়ে হয়।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
8 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: قَدِمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ الْمَدِينَةَ فَآخَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَينَهُ وَبَينَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ الْأَنْصَارِيِّ وَعِنْدَ الْأَنْصَارِيِّ امْرَأَتَانِ فَعَرَضَ عَلَيْهِ أَنْ يُنَاصِفَهُ أَهْلَهَ وَمَالَهَ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: بَارِكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، دُلُّونِي عَلَى السُّوقِ فَأَتَى السُّوقَ فَرَبِحَ شَيْئًا مِنْ أَقِطٍ، وَشَيْئًا مِنْ سَمْنٍ، فَرَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ أَيَّامٍ وَعَلَيْهِ وَضَرٌ مِنْ صُفْرَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: مَهْيَمْ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ؟ قَالَ: تَزَوَّجْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ امْرَأَةً مِنَ الْأَنْصَارِ، قَالَ: فَمَا سُقْتَ إِلَيْهَا؟ قَالَ: وَزْنُ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ
৮ - মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমায়দ আত-তবিল থেকে, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আওফ মদিনায় আসলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এবং সা’দ ইবনে রাবী’ আল-আনসারীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। আর সেই আনসারী ব্যক্তির দুইজন স্ত্রী ছিল। তিনি তাঁকে তাঁর পরিবার ও সম্পদের অর্ধেক ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেন। তখন আবদুর রহমান তাঁকে বললেন: আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন, আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিন। অতঃপর তিনি বাজারে আসলেন এবং পনির ও ঘিয়ের ব্যবসার মাধ্যমে কিছু মুনাফা অর্জন করলেন। কয়েকদিন পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে দেখলেন এবং তাঁর কাপড়ে হলুদ রঙের চিহ্ন দেখতে পেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হে আবদুর রহমান! ব্যাপার কী? তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আনসারদের এক নারীকে বিয়ে করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি তাকে মোহর হিসেবে কী দিয়েছ? তিনি বললেন: একটি খেজুরের আঁটির সমপরিমাণ ওজনের স্বর্ণ। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ওয়ালীমার আয়োজন করো, তা যদি একটি ছাগল দিয়েও হয়।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَآخَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَينَهُ وَبَينَ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ الْأَنْصَارِيِّ، فَقَالَ لَهُ: سَعْدٌ أَيْ أَخِي إِنِّي أَكْثَرُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَالًا فَانْظُرْ شَطْرَ مَالِي فَخُذْهُ، وَعِنْدِي امْرَأَتَانِ فَانْظُرْ أَيُّهُمَا أَعْجَبَ لَكَ حَتَّى أُطَلِّقُهَا لَكَ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: بَارِكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكِ وَمَالِكِ، دُلُّونِي عَلَى السُّوقِ، فَدَلُّوهُ عَلَى السُّوقِ، فَذَهَبَ وَاشْتَرَى وَبَاعَ فَرَبِحَ فَجَاءَ بِشَيْءٍ مِنْ أَقِطٍ وَسَمْنٍ، فَلَبِثَ مَا شَاءَ اللَّهُ عز وجل أَنْ يَلْبَثَ، فَجَاءَ عَلَيْهِ رَدْغُ زَعْفَرَانٍ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَهْيَمْ؟ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً، فَقَالَ: مَا أَصْدَقْتَهَا؟ قَالَ: وَزْنَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَوَلَمْ وَلَوْ بِشَاةٍ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: فَلَقَدْ رَأَيْتَنِي بَعْدَ ذَلِكَ لَوْ رَفَعْتُ حَجَرًا لَظَنَنْتُ أَنِّي سَأَجِدُ تَحْتَهُ ذَهَبًا وَفِضَّةً
৯ - আবু সালামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবেত আল-বুনানি ও হুমাইদ থেকে, তাঁরা আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ মদিনায় আগমন করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এবং সাদ ইবনে রাবি আল-আনসারীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। সাদ তাঁকে বললেন: হে আমার ভাই! আমি মদিনাবাসীদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদের অধিকারী। সুতরাং আপনি আমার সম্পদের অর্ধেকটা দেখুন এবং তা গ্রহণ করুন। আর আমার দুইজন স্ত্রী আছে, আপনি দেখুন তাদের মধ্যে কাকে আপনার অধিক পছন্দ হয়, যাতে আমি আপনার জন্য তাকে তালাক দিতে পারি। তখন আব্দুর রহমান তাঁকে বললেন: আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। আপনারা আমাকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিন। অতঃপর তারা তাঁকে বাজারের পথ দেখিয়ে দিলেন। তিনি সেখানে গেলেন এবং ক্রয়-বিক্রয় করলেন ও মুনাফা অর্জন করলেন। অতঃপর তিনি কিছু পনির ও ঘি নিয়ে আসলেন। এরপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যতদিন চাইলেন তিনি অতিবাহিত করলেন। একদিন তিনি জাফরানের চিহ্নসহ আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: তোমার খবর কী? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন নারীকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেন: তুমি তাঁকে মোহরানা হিসেবে কী দিয়েছ? তিনি বললেন: একটি খেজুরের আঁটির ওজনের সমান স্বর্ণ। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ওয়ালিমা সম্পন্ন করো, যদিও তা একটি ছাগল দিয়ে হয়। আব্দুর রহমান বললেন: এরপর আমি নিজেকে এমন অবস্থায় দেখেছি যে, আমি যদি কোনো পাথরও উঠাতাম, তবে আমার ধারণা হতো যে তার নিচে আমি স্বর্ণ ও রৌপ্য পাবো।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ، شَكَيَا الْقَمْلَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، «فَرَخَّصَ لَهُمَا فِي قَمِيصِ الْحَرِيرِ فِي غَزَاةٍ لَهُمَا»
১০ - আবুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাতাদাহ আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনে আউফ এবং যুবাইর ইবনুল আওয়াম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উকুনের অভিযোগ করলেন, তখন তিনি তাঁদের উভয়ের একটি যুদ্ধে রেশমি জামা পরিধান করার অনুমতি দিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
حَدِيثِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
আবদুর রহমান থেকে মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহর হাদিস
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
11 - حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رضي الله عنهما: أَلَمْ يَكُنْ مِمَّا أُنْزَلَ عَلَيْنَا «جَاهِدُوا كَمَا جَاهَدْتُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ» قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَأَنَا لَا أَجِدُهَا، قَالَ: أُسْقِطَتْ مِمَّا أُسْقِطَ مِنَ الْقُرْآنِ، قَالَ: نَخْشَى أَنْ يَرْجِعَ النَّاسُ كُفَّارًا، قَالَ: مَا شَاءَ اللَّهُ، قَالَ: لَئِنْ رَجَعَ النَّاسُ كُفَّارًا لَيَكُونَنَّ أُمَرَاؤُهُمْ بَنُو فُلَانٍ، وَوُزَرَاؤُهُمْ بَنُو فُلَانٍ
১১ - দাউদ ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাফে ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি মিসওয়ার ইবনে মাখরামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেন: আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার মধ্যে কি এটি ছিল না যে, «তোমরা জিহাদ করো যেভাবে তোমরা প্রথমবার জিহাদ করেছিলে»? তিনি বললেন: অবশ্যই। উমর বললেন: কিন্তু আমি তো তা পাচ্ছি না। তিনি বললেন: কুরআন থেকে যা কিছু বাদ দেওয়া হয়েছে, এটিও তার সাথে বাদ পড়ে গেছে। উমর বললেন: আমরা আশঙ্কা করছি যে মানুষ পুনরায় কাফের হয়ে যাবে। তিনি বললেন: আল্লাহ যা চেয়েছেন। উমর বললেন: যদি মানুষ পুনরায় কাফের হয়ে যায়, তবে অমুক বংশের লোকেরা হবে তাদের শাসক এবং অমুক বংশের লোকেরা হবে তাদের উজির।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
حَدِيثُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত জুবাইর ইবনে মুতইমের হাদিস
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
12 - حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنِ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: شَهِدْتُ وَأَنَا غُلَامٌ، حِلْفًا مَعَ عُمُومَتِي الْمُطَيَّبِينَ فَمَا أُحِبُّ أَنْ لِي حُمْرَ النَّعَمِ وَإِنِّي نَكَثْتُهُ
১২ - আমাদের নিকট ওয়াহব ইবনু বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনু আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু জুবাইর ইবনু মুতইম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আওফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কিশোর বয়সে আমার সুগন্ধি মাখা চাচাদের সাথে এক চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম; আমি সেই চুক্তি ভঙ্গ করার বিনিময়ে মূল্যবান লাল উট লাভ করাকেও পছন্দ করি না।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ
আবদুর রহমান ইবনে আওফ থেকে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে রাবিয়াহ-এর হাদিস
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
13 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَخْبَرَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، وَهُوَ بِطَرِيقِ الشَّامِ يَسِيرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْوَجَعَ أَوْ هَذَا السَّقَمَ عُذِّبَ بِهِ الْأُمَمُ قَبْلَكُمْ، فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلَا تَدْخُلُوا عَلَيْهِ، وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا فِرَارًا مِنْهُ» ، قَالَ: فَرَجَعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ
১৩ - আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইসমাঈল হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসেম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন আবি যিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন রাবিআহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুর রহমান ইবন আউফ উমর ইবনুল খাত্তাবকে সংবাদ দিয়েছেন—তখন তিনি শামের পথে ভ্রমণ করছিলেন—যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই বেদনা বা এই ব্যাধি দ্বারা তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের আজাব দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং যখন তোমরা কোনো জনপদে এর (প্রাদুর্ভাবের) কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোনো জনপদে এটি ছড়িয়ে পড়ে যেখানে তোমরা অবস্থান করছ, তবে সেখান থেকে পলায়ন করে বের হয়ো না।» বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব ফিরে আসলেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ
আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর, আবদুর রহমান ইবনে আউফ হতে
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَمِيصٌ مِنْ حَرِيرٍ يَلْبَسْهُ تَحْتَ ثِيَابِهِ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: مَا هَذَا؟ فَقَالَ: لَبِسْتَهُ عِنْدَ مِنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ
১৪ - আমাদের নিকট আবু হুজায়ফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আউফের রেশমের তৈরি একটি জামা ছিল যা তিনি তাঁর কাপড়ের নিচে পরিধান করতেন। তখন উমর তাঁকে বললেন: এটি কী? তিনি উত্তরে বললেন: আমি এটি এমন একজনের উপস্থিতিতে পরিধান করেছি যিনি আপনার চেয়েও উত্তম।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ
আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান তাঁর পিতা থেকে
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، عَادَ أَبَا الرَّدَّادِ فَقَالَ لَهُ أَبُو الرَّدَّادِ: مَا أَحَدٌ مِنْ قَوْمَكِ أَوْصَلُ لِي مِنْكَ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْكِي عَنْ رَبِّهِ جَلَّ وَعَزَّ " قَالَ: أَنَا الرَّحْمَنُ وَهِيَ الرَّحِمُ اشْتَقَقْتُ لَهَا مِنَ اسْمِي، فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا قَطَعْتُهُ "
১৫ - আবু সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা আবু আর-রাদ্দাদকে দেখতে গিয়েছিলেন। তখন আবু আর-রাদ্দাদ তাঁকে বললেন: আপনার সম্প্রদায়ের মধ্যে আপনার চেয়ে অধিক আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী আমার জন্য আর কেউ নেই। অতঃপর আবদুর রহমান বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর মহান ও প্রতাপশালী রব থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: "আমিই রহমান (পরম দয়াময়), আর এটি হলো ‘রাহিম’ (আত্মীয়তার বন্ধন), আমি আমার নাম থেকে একে উদ্ভূত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি একে বজায় রাখবে, আমি তাকে নিজের সাথে যুক্ত রাখব, আর যে একে ছিন্ন করবে, আমি তাকে ছিন্ন করে দেব।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: دَخَلَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَلَى أَبِي الرَّدَّادِ اللَّيْثِيِّ فَقَالَ: إِنَّ خَيْرَهُمْ وَأَوْصَلَهُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: قَالَ رَبُّكُمْ جَلَّ وَعَزَّ «أَنَا اللَّهُ الَّذِي خَلَقْتُ الرَّحِمَ فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ»
16 - মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে কাসীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান আবু রাদ্দাদ আল-লাইসীর নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আবু মুহাম্মাদ তাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় সবচেয়ে বেশি তৎপর। তিনি (আবু মুহাম্মাদ) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক বলেছেন: «আমিই আল্লাহ, আমিই আত্মীয়তার সম্পর্ক (রহিম) সৃষ্টি করেছি; সুতরাং যে ব্যক্তি তা বজায় রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব, আর যে ব্যক্তি তা ছিন্ন করবে আমি তাকে ছিন্ন করে দেব (বিচ্ছিন্ন করব)।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
17 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: دَخَلَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ عَلَى أَبِي الرَّدَّادِ اللَّيْثِيِّ فَقَالَ: خَيْرُكُمْ وَأَوْصَلَكُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ، قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قَالَ رَبُّكُمْ جَلَّ وَعَزَّ أَنَا اللَّهُ الَّذِي خَلَقْتُ الرَّحِمَ وَشَقَقْتُ لَهَا مِنَ اسْمِي، فَأَنَا الرَّحْمَنُ وَهِيَ الرَّحِمُ فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে কাসীর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান ইবনে হুসাইন, যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আবু রাদ্দাদ আল-লাইসীর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি (আবু রাদ্দাদ) বললেন: আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখায় সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু মুহাম্মাদ। আব্দুর রহমান বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: «তোমাদের মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক বলেছেন: আমিই আল্লাহ, আমি আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি করেছি এবং একে আমার নাম থেকে নির্গত করেছি। অতএব আমি হলাম আর-রাহমান এবং এটি হলো আত্মীয়তার বন্ধন। সুতরাং যে ব্যক্তি একে বজায় রাখবে আমি তাকে আমার রহমতের সাথে যুক্ত রাখব, আর যে একে ছিন্ন করবে আমি তাকে আমার রহমত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
18 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ، الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ: اشْتَكَى أَبُو الرَّدَّادِ فَعَادَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فَقَالَ: خَيْرُهُمْ وَأَوْصَلُهُمْ مَا عَلِمْتُ أَبُو مُحَمَّدٍ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ: «أَنَا اللَّهُ وَأَنَا الرَّحْمَنُ خَلَقْتُ الرَّحِمَ وَشَقَقْتُ لَهَا مِنَ اسْمِي فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ»
১৮ - ইসহাক বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আউফ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আবু আর-রাদ্দাদ অসুস্থ হলেন, তখন আবদুর রহমান বিন আউফ তাকে দেখতে গেলেন। অতঃপর (আবু আর-রাদ্দাদ) বললেন: আমার জানামতে আবু মুহাম্মাদ তাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় সবচেয়ে বেশি যত্নবান। তখন আবদুর রহমান বিন আউফ বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ বলেছেন: «আমি আল্লাহ এবং আমি আর-রহমান। আমি রাহিম (আত্মীয়তার সম্পর্ক) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকেই এর নাম উৎসারিত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি তা বজায় রাখবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব; আর যে তা ছিন্ন করবে, আমি তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
19 - حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُقَيلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شَيْبَانَ الْحُدَّانِيُّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَزَّ فَرَضَ صِيَامَ رَمَضَانَ وَسَنَنْتُ قِيَامِهِ فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا وَيَقِينًا كَانَ لَهُ كَفَّارَةٌ لِمَا مَضَى أَوْ لِمَا سَلَفَ» أَوْ كَمَا قَالَ
১৯ - মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উকাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আন-নাদর ইবনে শায়বান আল-হুদ্দানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আয্যা (মহান ও পরাক্রমশালী) রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি এর কিয়ামকে (রাতে নামাজে দাঁড়ানো) সুন্নাত করেছি। অতএব, যে ব্যক্তি ঈমান, সওয়াবের আশা ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে রোজা রাখবে এবং রাতে (নামাজে) দাঁড়াবে, তা তার বিগত বা যা গত হয়েছে তার জন্য কাফফারা (গুনাহ মোচনকারী) হবে» অথবা তিনি যেরূপ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
20 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شَيْبَانَ الْحُدَّانِيُّ، قَالَ: قُلْنَا لِأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدِّثْنَا أَفْضَلَ شَيْءٍ سَمِعْتَ مِنْ أَبِيكَ فِي رَمَضَانَ، قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَفَضَّلَهُ عَلَى الشُّهُورِ بِمَا فَضَّلَهُ اللَّهُ، قَالَ: " إِنَّ شَهْرَ رَمَضَانَ شَهْرٌ افْتَرَضَ اللَّهُ صِيَامَهُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ وَسَنَنْتُ قِيَامَهُ، فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنَ الذُّنُوبِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
২০ - আমাদের নিকট মুসলিম ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আন-নাদর ইবনে শায়বান আল-হুদ্দানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমানকে বললাম, রমজান সম্পর্কে আপনি আপনার পিতার নিকট থেকে শুনেছেন এমন সর্বোত্তম বিষয়টি আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। আবু সালামাহ বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে আউফ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-কে রমজান মাসের কথা উল্লেখ করতে শুনেছেন এবং তিনি একে অন্যান্য মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন যেভাবে আল্লাহ একে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই রমজান এমন এক মাস যার রোজা আল্লাহ মুসলিমদের ওপর ফরজ করেছেন এবং আমি এর কিয়ামকে (রাতের সালাত) সুন্নাত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় এ মাসে রোজা রাখবে এবং কিয়াম করবে, সে তার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদে আবদুর রহমান বিন আউফ লিল-বারতী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
21 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَصَدَّقُوا فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَبْعَثَ بِهَا» ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِي أَرْبَعَةُ آلَافٍ، فَأَلْفَيْنِ أُقْرِضُهَا رَبِّي جَلَّ وَعَزَّ وَأَلْفَيْنِ لِعِيَالِي، قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَبَارَكَ لَكَ فِيمَا أَمْسَكْتَ، قَالَ: وَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهَ إِنِّي بِتُّ أَجُرُّ الْجَرِيرَ فَأَصَبْتُ صَاعَيْنِ مِنْ تَمْرٍ، فَصَاعًا أُقْرِضُهُ رَبِّي جَلَّ وَعَزَّ وَصَاعًا لِعِيَالِي، قَالَ: فَلَمِزَهُ الْمُنَافِقُونَ، فَقَالُوا: وَاللَّهِ مَا أَعْطَى ابْنُ عَوْفٍ الَّذِي أَعْطَى إِلَا رِيَاءً، وَقَالُوا: أَوَلَمْ يَكُنِ اللَّهُ تَعَالَى وَرَسُولُهُ عليه السلام غَنِيَّيْنِ عَنْ صَاعِ هَذَا؟ قَالَ اللَّهُ عز وجل {الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ} [التوبة: 79]
২১ - আমাদের কাছে মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন উমর ইবনু আবি সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সাদাকা করো, কেননা আমি তা প্রেরণ করতে চাই।" তখন আব্দুর রহমান ইবনু আউফ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট চার হাজার (দিরহাম) রয়েছে। তার মধ্যে দুই হাজার আমি আমার মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালককে ঋণ হিসেবে (তাঁর সন্তুষ্টির জন্য) দিচ্ছি এবং দুই হাজার আমার পরিবারের জন্য রাখছি। তিনি বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তুমি যা দান করেছ তাতে আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন এবং যা তুমি নিজের জন্য রেখেছ তাতেও তোমাকে বরকত দান করুন।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আনসারদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি সারারাত রশি টেনে (পরিশ্রম করে) দুই সা' খেজুর উপার্জন করেছি। তার মধ্যে এক সা' আমি আমার মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালককে ঋণ হিসেবে দিচ্ছি এবং এক সা' আমার পরিবারের জন্য রাখছি। তিনি বলেন: তখন মুনাফিকরা তাকে বিদ্রুপ করল এবং বলল: আল্লাহর কসম! ইবনু আউফ যা দান করেছেন তা কেবল লোকদেখানোর উদ্দেশ্যেই করেছেন। তারা আরও বলল: আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল আলাইহিস সালাম কি এই ব্যক্তির এক সা' খেজুর থেকে অমুখাপেক্ষী নন? তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল নাযিল করলেন: {মুমিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সদকা দেয়, তাদের যারা বিদ্রূপ করে} [সূরা আত-তাওবাহ: ৭৯]