(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: -)
مسند سعد بن أبي وقاص   (الدورقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند سعد بن أبي وقاص

المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن إبراهيم بن كثير بن زيد بن أفلح بن منصور بن مزاحم العبدي المعروف بـ الدَّوْرَقي (ت 246هـ)

المحقق: عامر حسن صبري

الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1407

عدد الصفحات: 220

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস   (আদ-দাওরাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুসনাদে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস

লেখক: আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন কাসির বিন যায়েদ বিন আফলাহ বিন মনসুর বিন মুজাহিম আল-আবদী, যিনি আদ-দাওরাকী নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৪৬ হিজরি)

তাহকীককারী: আমের হাসান সাবরি

প্রকাশক: দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়া - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৭

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২০

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌جَابِرُ بْنُ سَمُرَةَ، عَنْ سَعْدٍ رضي الله عنهما
জাবির ইবনে সামুরাহ, সাদ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الثِّقَةُ أَبُو الْبَيَانِ نبأ ابْنُ أَبِي الْمَكَارِمِ بْنِ هَجَّامِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحَنَفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ حَادِيَ عَشَرَ ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَثَلَاثِينَ وَسِتِّمِائَةٍ بِمَنْزِلِهِ بِالْقَاهِرَةِ، وَقِيلَ لَهُ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْحَضْرَمِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الرَّازِيُّ بِقِرَاءَةِ الْحَافِظِ أَبِي طَاهِرٍ أَحْمَدَ بْنِ السَّلَفِيِّ الْأَصْبَهَانِيِّ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْآخَرِ سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، فَأَقَرَّ بِهِ، وَقَالَ: نَعَمْ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُظَفَّرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكَحَّالُ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْآخَرِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْفَرَجِ الْمُهَنِّدِسُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شُهُورِ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَثَمَانِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَاهِلِيُّ فِي جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِمِائَةٍ

⦗ص: 24⦘

 

1 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ أَهْلَ الْكُوفَةِ شَكَوْا سَعْدًا إِلَى عُمَرَ، فَذَكَرُوا مِنْ صَلَاتِهِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ عُمَرُ، فَقَدِمَ عَلَيْهِ. فَذَكَرَ لَهُ مَا عَابُوهُ بِهِ مِنْ أَمْرِ الصَّلَاةِ، فَقَالَ: " إِنِّي لَأُصَلِّي بِهِمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَخْرِمُ عَنْهَا، أَنِّي لَأَرْكُدُ بِهِمْ فِي الْأُولَيَيْنِ، وَأَحْذِفُ بِهِمْ فِي الْأُخْرَيَيْنِ ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: ذَلِكَ الظَّنُّ بِكَ أَبَا إِسْحَاقَ
নির্ভরযোগ্য শাইখ আবুল বায়ান নাবা ইবনে আবিল মাকারেম ইবনে হাজ্জাম ইবনে আবদুল্লাহ আল-হানাফি আমাদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম সোমবার, ১১ই জিলকদ, ৬৩৪ হিজরি সনে কায়রোতে তাঁর নিজ বাসভবনে; এবং তাঁকে বলা হয়েছিল যে, শাইখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল আল-হাদরামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু তাহির আহমাদ ইবনে আস-সালাফি আল-আসবাহানির পাঠের মাধ্যমে ৫২৫ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: হ্যাঁ। তিনি বলেন: শাইখ আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনুল মুজাফফর ইবনে আবদুর রহমান আল-কাহহাল ৪৪২ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনুল ফারাজ আল-মুহান্দিস ৩৮৪ হিজরি সনের মাসগুলোতে পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাহিলি ৩০৯ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘

 

১ - আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে কাসীর আদ-দাওরাকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হুশাইম ইবনে বাশির আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাবির ইবনে সামুরা থেকে যে, কুফাবাসীরা উমর (রা.)-এর নিকট সা’দ (রা.)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল এবং তারা তাঁর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করল। তখন উমর (রা.) তাঁর নিকট লোক পাঠালেন এবং তিনি তাঁর নিকট আসলেন। অতঃপর তারা তাঁর সালাতের ব্যাপারে যে বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ করেছিল তা তিনি তাঁকে জানালেন। তিনি (সা’দ) বললেন: "আমি তাদের নিয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের মতোই সালাত আদায় করি, তা থেকে কোনো কমতি করি না। আমি প্রথম দুই রাকাতে দীর্ঘ করি এবং শেষের দুই রাকাতে সংক্ষিপ্ত করি।" তখন উমর (রা.) তাঁকে বললেন: "হে আবু ইসহাক, আপনার প্রতি আমার ধারণা এমনই ছিল।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ هُشَيْمٍ إِلَّا أَنَّهُ زَادَ فِيهِ قَالَ: فَبَعَثَ مَعَهُ مَنْ يَسْأَلُ عَنْهُ قَالَ فَطَرَقَ بِهِ فِي مَسَاجِدِ الْكُوفَةِ فَلَمْ يَقُلْ لَهُ إِلَّا خَيْرًا حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَسْجِدِ بَنِي عَبْسٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أَبُو سَعْدَةَ: اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَ لَا يَنْفِرُ فِي السَّرِيَّةِ، وَلَا يَقْسِمُ بِالسَّوِيَّةِ، وَلَا يَعْدِلُ فِي الْقَضِيَّةِ، قَالَ: فَغَضِبَ سَعْدٌ وَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ كَاذِبًا فَأَطِلْ عُمْرَهُ وَاشْدُدْ فَقْرَهُ وَاعْرِضْ عَلَيْهِ الْفِتَنَ، قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: فَرَأَيْتُهُ شَيْخًا كَبِيرًا مَفْتُونًا لَا يَجِدُ شَيْئًا قَالَ يُقَالُ لَهُ: كَيْفَ أَنْتَ يَا أَبَا سَعْدَةَ فَيَقُولُ: شَيْخٌ كَبِيرٌ مَفْتُونٌ أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعْدٍ
২ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা থেকে; অতঃপর তিনি হুশাইমের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে এতে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (খলিফা) তার সাথে এমন লোক পাঠালেন যারা তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে নিয়ে কুফার মসজিদসমূহে ঘুরলেন এবং তার সম্পর্কে সকলেই কেবল কল্যাণকর কথাই বলল। অবশেষে তিনি যখন বনু আবস গোত্রের মসজিদে পৌঁছালেন, তখন আবু সাদা নামক এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই সে (সাআদ) ছোট যুদ্ধাভিযানে বের হতো না, সমতার ভিত্তিতে বণ্টন করত না এবং বিচারকার্যে ইনসাফ করত না। বর্ণনাকারী বলেন, এতে সাআদ রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে আপনি তার বয়স দীর্ঘ করে দিন, তার দারিদ্র্যকে প্রবল করে দিন এবং তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন। আব্দুল মালিক বলেন, এরপর আমি তাকে এক অতি বৃদ্ধ ও ফিতনাগ্রস্ত অবস্থায় দেখেছি যার কিছুই ছিল না। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে বলা হতো: হে আবু সাদা, আপনি কেমন আছেন? সে বলত: আমি এক অতি বৃদ্ধ ও ফিতনাগ্রস্ত মানুষ, সাআদের বদদোয়া আমাকে পেয়ে বসেছে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
3 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ ، عَنْ شُعْبَةَ ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ. ح

 

4 - وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ح وَحَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ ، أَخْبَرَنِي أَبُو عَوْنٍ قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، ح

⦗ص: 28⦘

 

5 - وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ، وَحَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ عُمَرُ لِسَعْدِ بْنِ مَالِكٍ قَدْ شَكَاكَ النَّاسُ - قَالَ بَهْزٌ فِي حَدِيثِهِ: يَعْنِي أَهْلَ الْكُوفَةِ - فِي كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى فِي الصَّلَاةِ، فَكَيْفَ تُصَلِّي؟ قَالَ سَعْدٌ: " أَمَّا أَنَا فَأَمُدُّ فِي الْأُولَيَيْنِ وَأَحْذِفُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ - قَالَ بَهْزٌ فِي حَدِيثِهِ: حَذْفًا - وَمَا آلُو مَا اقْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ذَاكَ ظَنِّي بِكَ أَوْ قَالَ: الظَّنُّ بِكَ
৩ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ওয়াকী ইবনুল জাররাহ বর্ণনা করেছেন শুবা থেকে, তিনি আবু আউন থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন। হা

 

৪ - এবং আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, হা এবং আমাদের নিকট বাহজ ইবনে আসাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে শুবা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাকে আবু আউন সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে সামুরাকে বলতে শুনেছি। হা

⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘

 

৫ - এবং আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, এবং আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন, আমাদেরকে শুবা সংবাদ দিয়েছেন আবু আউন থেকে, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে সামুরাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: উমর সাদ ইবনে মালিককে বললেন, লোকেরা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে—বাহজ তার বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: অর্থাৎ কুফাবাসী—প্রত্যেকটি বিষয়ে, এমনকি সালাতের বিষয়েও। অতএব আপনি কীভাবে সালাত আদায় করেন? সাদ বললেন: "আমি তো প্রথম দুই রাকাতে (কিরাত) দীর্ঘ করি এবং শেষ দুই রাকাতে সংক্ষিপ্ত করি—বাহজ তার হাদিসে বলেছেন: সংক্ষিপ্তভাবে—আর আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের অনুসরণ করতে কোনো ত্রুটি করি না।" তিনি (উমর) বললেন: আপনার ব্যাপারে আমার এমনটাই ধারণা ছিল, অথবা বললেন: আপনার প্রতি এটাই সুধারণা।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ سَعْدٍ
সাদ থেকে ইবনে আব্বাস
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ ، وَإِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الْأَزْرَقُ قَالُوا: حَدَّثَنَا أُصْبُغُ بْنُ زَيْدٍ ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ أَخَذَ بِيَدِ مُعَاوِيَةَ فَانْطَلَقَ بِهِ إِلَى سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ الزُّهْرِيِّ فَقَالَ لَهُ: " يَا أَبَا إِسْحَاقَ أَرَأَيْتَ يَوْمَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَتِيلِ مُوسَى الَّذِي قَتَلَ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ، الْإِسْرَائِيلِيُّ أَفْشَى عَلَيْهِ أَمْرَ الْفِرْعُونِيِّ؟ فَقَالَ: «إِنَّمَا أَفْشَى عَلَيْهِ الْفِرْعُونِيُّ بِمَا سَمِعَ مِنَ الْإِسْرَائِيلِيِّ الَّذِي شَهِدَ ذَلِكَ وَحَضَرَهُ»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন হারুন, মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ এবং ইসহাক বিন ইউসুফ আল-আযরাক। তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসবাগ বিন যাইদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম বিন আবি আইয়ুব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন জুবাইর, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, তিনি মুয়াবিয়ার হাত ধরলেন এবং তাঁকে নিয়ে সাদ বিন মালিক আল-জুহরি-এর নিকট গেলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন: "হে আবু ইসহাক, আপনার কি সেই দিনের কথা মনে আছে যেদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট মূসার সেই নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছিলেন যাকে তিনি ফেরাউনের বংশ থেকে হত্যা করেছিলেন? ইসরায়েলি কি সেই ফেরাউনি ব্যক্তির বিষয়টি ফাঁস করে দিয়েছিল?" তিনি বললেন: "ফেরাউনি ব্যক্তিটি মূলত সেই ইসরায়েলির কাছ থেকে যা শুনেছিল তা-ই ফাঁস করেছিল, যে ব্যক্তি সেই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিল এবং সেখানে উপস্থিত ছিল।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ
আমির ইবন সা'দ তাঁর পিতা থেকে
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٣٠)
7 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: جَاءَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ وَهُوَ بِمَكَّةَ وَهُوَ يَكْرَهُ أَنْ يَمُوتَ فِي الْأَرْضِ الَّتِي هَاجَرَ مِنْهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَرْحَمُ اللَّهُ سَعْدَ بْنَ عَفْرَاءَ يَرْحَمُ اللَّهُ سَعْدَ بْنَ عَفْرَاءَ» ، قَالَ: وَلَمْ يَكُنْ لَهُ إِلَّا بِنْتٌ وَاحِدَةٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ، قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَالنِّصْفُ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَالثُّلُثُ؟ قَالَ: «الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ بِأَيْدِيهِمْ وَإِنَّكَ مَهْمَا أَنْفَقْتَ مِنْ نَفَقَةٍ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ وَلَعَلَّ اللَّهَ يَرْفَعُكَ فَيَنْفَعَ بِكَ نَاسًا وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ»
৭ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি সা'দ ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি আমির ইবনে সা'দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকাকালীন তাঁকে (সা'দকে) দেখতে এলেন। এমতাবস্থায় তিনি (সা'দ) যে ভূমি থেকে হিজরত করেছেন সেখানে মৃত্যুবরণ করা অপছন্দ করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহ সা'দ ইবনে আফরার প্রতি দয়া করুন, আল্লাহ সা'দ ইবনে আফরার প্রতি দয়া করুন।" তিনি (সা'দ) বলেন: তখন তাঁর কেবল একটি মাত্র কন্যা সন্তান ছিল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ অসিয়ত করে দেব? তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: তবে কি অর্ধেক? তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: তবে কি এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয়ই তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া, তাদের অভাবগ্রস্ত অবস্থায় মানুষের কাছে তাদের হাত দিয়ে হাত পেতে সাহায্য চাওয়া অবস্থায় ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আর তুমি যা কিছুই ব্যয় করো না কেন, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে; এমনকি ওই খাবারের লোকমাও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও। আর সম্ভবত আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করবেন এবং তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, যার ফলে তোমার দ্বারা একদল লোক উপকৃত হবে এবং অন্য একদল লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٣٢)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ صَاحِبُ الطَّيَالِسَةِ ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: دَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فِي مَرَضٍ أَشْفَيْتُ فِيهِ عَلَى الْمَوْتِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ بَلَغَ بِي مِنَ الْوَجَعِ مَا تَرَى وَأَنَا ذُو مَالٍ كَثِيرٍ، وَإِنَّما يَرِثُنِي ابْنَةٌ لِي وَاحِدَةٌ أَفَأَتَصَدَّقُ بِمَالِي كُلِّهِ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: قُلْتُ: فَالشَّطْرُ؟ قَالَ: " لَا، قُلْتُ: فَالثُّلُثُ؟ قَالَ: «الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ إِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا أُجِرْتَ عَلَيْهَا حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ» ، قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: أُخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي قَالَ: «إِنَّكَ لَنْ تَخَلَّفَ بَعْدِي فَتَعْمَلَ عَمَلًا تَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا ازْدَدْتَ بِهِ رِفْعَةً وَدَرَجَةً وَلَعَلَّكَ أَنْ تُخَلَّفَ بَعْدِي حَتَّى يُنْفَعَ بِكَ قَوْمٌ، وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ، اللَّهُمَّ أَمْضِ لِأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ وَلَا تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ بْنُ خَوْلَةَ يَرْثِي لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ»

⦗ص: 37⦘

 

9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
8 - আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ সাহিবুত তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরি থেকে বর্ণিত, আমের ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিদায় হজের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এমন এক অসুস্থতায় আমাকে দেখতে এলেন যাতে আমি মৃত্যুর উপক্রম হয়েছিলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ব্যথার কারণে আমার যে অবস্থা হয়েছে তা আপনি দেখতেই পাচ্ছেন, আর আমি একজন সম্পদশালী ব্যক্তি, অথচ আমার কেবল একটি কন্যাসন্তানই উত্তরাধিকারী। তবে কি আমি আমার সমস্ত সম্পদ সদকা করে দেব? তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: তবে কি অর্ধেক? তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: তবে কি এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয়ই তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাবে, এটি তাদের অভাবগ্রস্ত অবস্থায় মানুষের কাছে হাত পাতা হিসেবে রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আর তুমি আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে যা কিছুই ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার জন্য অবশ্যই প্রতিদান দেওয়া হবে, এমনকি সেই লোকমাটির জন্যও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও।" সাদ বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার সাথীদের থেকে পেছনে রয়ে যাব? তিনি বললেন: "তুমি আমার পরে এখানে থেকে গিয়ে আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে যা কিছুই আমল করবে, তার মাধ্যমে তোমার মর্যাদা ও উচ্চস্তর বৃদ্ধি পাবে। আর সম্ভবত তুমি আমার পরেও বেঁচে থাকবে, যাতে তোমার দ্বারা কোনো সম্প্রদায় উপকৃত হয় এবং অন্য সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার সাহাবীদের হিজরতকে পূর্ণ করে দিন এবং তাদের পেছনের দিকে ফিরিয়ে দেবেন না। কিন্তু করুণা হয় সাদ ইবনে খাওলাহর জন্য; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মক্কায় ইন্তেকাল করার কারণে তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।"

⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘

 

9 - আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত, যুহরি থেকে বর্ণিত, আমের ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٣٨)
10 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ أَبُو سُفْيَانَ الْمَعْمَرِيُّ ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْوَبَاءَ رِجْزٌ أَهْلَكَ بَعْضَ الْأُمَمِ قَبْلَكُمْ وَقَدْ بَقِيَ فِي الْأَرْضِ مِنْهُ شَيْءٌ يَذْهَبُ أَحْيَانًا وَيَجِيءُ أَحْيَانًا فَإِذَا وَقَعَ وَأَنْتُمْ بِأَرْضٍ لَا تَخْرُجُوا مِنْهَا، وَإِذَا سَمِعْتُمُوهُ بِأَرْضٍ فَلَا تَأْتُوهَا»
১০ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আবু সুফিয়ান আল-মামারি বর্ণনা করেছেন, তিনি মামার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই মহামারি একটি শাস্তি যা তোমাদের পূর্ববর্তী কিছু উম্মতকে ধ্বংস করেছে এবং পৃথিবীতে এর কিছু অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে, যা মাঝে মাঝে চলে যায় এবং মাঝে মাঝে ফিরে আসে। সুতরাং যখন কোনো স্থানে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে আর তোমরা সেখানে অবস্থান করো, তবে সেখান থেকে বের হয়ো না; আর যদি তোমরা কোনো স্থানে এর প্রাদুর্ভাবের কথা শোনো, তবে সেখানে যেয়ো না।’»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٤٠)
11 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ رَهْطًا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلُوهُ، فَأَعْطَاهُمْ إِلَّا رَجُلًا مِنْهُمْ فَقَالَ سَعْدٌ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطَيْتَهُمْ وَتَرَكْتَ فُلَانًا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرَاهُ مُؤْمِنًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوْ مُسْلِمًا» ، فَقَالَ سَعْدٌ: وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرَاهُ مُؤْمِنًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوْ مُسْلِمًا» ، قَالَ ذَاكَ سَعْدٌ ثَلَاثًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوْ مُسْلِمًا» ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الثَّالِثَةِ: «وَاللَّهِ إِنِّي لَأُعْطِي الرَّجُلَ الْعَطَاءَ لَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْهُ تَخَوُّفًا أَنْ يَكُبَّهُ اللَّهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ عَلَى وَجْهِهِ»
১১ - আহমাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবী যিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি আমের ইবনে সাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে: একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে কিছু চাইল। তিনি তাদের দিলেন, তবে তাদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তিকে বাদ দিলেন। সাদ (রা.) বললেন: তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাদেরকে দান করলেন অথচ অমুক ব্যক্তিকে বাদ দিলেন। আল্লাহর শপথ! আমি তাকে অবশ্যই মুমিন মনে করি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "অথবা মুসলিম।" সাদ (রা.) এটি তিনবার বললেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বললেন: "অথবা মুসলিম।" অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বার বললেন: "আল্লাহর শপথ! আমি কখনো কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ অন্য ব্যক্তি আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়; আর এটি আমি এই ভয়ে করি যে, পাছে আল্লাহ তাকে তার চেহারার ওপর জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٤٣)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ حَدَّثَنَا بَعْضُ أَصْحَابِنَا، عَنْ سَلَّامِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: «وَكَانَ يَرَوْنَ أَنَّ الْمُسْلِمَ الْمُقِرُّ، وَالْمُؤْمِنَ الَّذِي يُصَدِّقُ ذَاكَ بِعَمَلِهِ»
১২ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের জনৈক সাথী হতে, তিনি সাল্লাম বিন আবি মুতী' হতে, তিনি যুহরী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "তারা মনে করতেন যে, মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি যে (ইসলামের) স্বীকৃতি প্রদানকারী, আর মুমিন হলো সেই ব্যক্তি যে কর্মের মাধ্যমে তা সত্য বলে প্রমাণ করে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٤٤)
13 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَعْظَمَ الْمُسْلِمِينَ فِي الْمُسْلِمِينَ جُرْمًا مَنْ سَأَلَ عَنْ شَيْءٍ لَمْ يُحَرَّمْ فَحُرِّمَ عَلَى النَّاسِ مِنْ أَجْلِ مَسْأَلَتِهِ»
১৩ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যে ওই ব্যক্তি অপরাধের দিক থেকে সবচেয়ে বড় অপরাধী, যে এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে যা হারাম করা হয়নি, অতঃপর তার জিজ্ঞাসার কারণে তা মানুষের ওপর হারাম করে দেওয়া হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٤٥)
14 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اقْتُلُوا الْفَوَاسِقَ» يَعْنِي الْوَزَغَ

⦗ص: 46⦘

 

15 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ
১৪ - আহমাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ক্ষতিকারক প্রাণীদের হত্যা করো," অর্থাৎ টিকটিকি বা গিরগিটি।

⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘

 

১৫ - আহমাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, খালিদ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ ইবনে মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٤٧)
16 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَمْ يَكُنْ نَبِيُّ إِلَّا وَصَفَ الدَّجَّالَ لِأُمَّتِهِ، وَلَأَصِفَنَّهُ صِفَةً لَمْ يَصِفْهَا أَحَدٌ كَانَ قَبْلِي: إِنَّهُ أَعْوَرُ "
১৬ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দাউদ ইবনে আমির ইবনে সা'দ ইবনে মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এমন কোনো নবী অতিক্রান্ত হননি যিনি তাঁর উম্মতের নিকট দাজ্জালের বর্ণনা দেননি; আর আমি অবশ্যই তার এমন একটি বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করব যা আমার পূর্বে কেউ বর্ণনা করেনি: নিশ্চয়ই সে একচক্ষু বিশিষ্ট।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٤٨)
17 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ الْفَزَارِيُّ ، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ: وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، غُفِرَ لَهُ ذُنُوبُهُ "
১৭ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার আল-ফাজারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট লাইস ইবনে সা'দ বর্ণনা করেছেন, তিনি হাকিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স থেকে, তিনি আমির ইবনে সা'দ থেকে, তিনি সা'দ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শোনার সময় বলবে: 'আর আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল; আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, মুহাম্মাদকে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দীন হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি', তবে তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٤٩)
18 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ ، حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ مِسْمَارٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ أَبَاهُ سَعْدًا كَانَ فِي إِبِلٍ لَهُ وَغَنَمٍ فَجَاءَ ابْنُهُ عُمَرُ فَلَمَّا رَآهُ قَالَ: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ هَذَا الرَّاكِبِ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَيْهِ قَالَ: يَا أَبَهْ، أَرَضِيتَ أَنْ تَكُونَ أَعْرَابِيًّا فِي إِبِلِكَ وَغَنَمِكَ وَالنَّاسُ فِي الْمَدِينَةِ يَتَنَازَعُونَ الْمُلْكَ؟ قَالَ: فَضَرَبَ صَدْرَهُ بِيَدِهِ وَقَالَ: يَا بُنَيَّ، اسْكُتْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ التَّقِيَّ الْغَنِيَّ الْخَفِيَّ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল কাবীর ইবনে আব্দুল মাজীদ আবু বকর আল-হানাফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বুকাইর ইবনে মিসমার, আমির ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা সাদ (রা.) একদা তার উট ও বকরির পালের মধ্যে ছিলেন। অতঃপর তার পুত্র উমর সেখানে আসলেন। যখন তিনি তাকে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: আমি এই আরোহীর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যখন সে তার নিকট পৌঁছাল, সে বলল: হে পিতা! আপনি কি আপনার উট ও বকরির পালের মাঝে একজন গ্রাম্য মরুবাসী হয়ে থাকাতে সন্তুষ্ট হলেন, অথচ মদিনার মানুষ রাজত্ব নিয়ে বিবাদ করছে? রাবী বলেন: অতঃপর তিনি (সাদ) তার হাত দিয়ে তার (পুত্রের) বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: হে বৎস! চুপ কর, কেননা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকী, অমুখাপেক্ষী ও নিভৃতচারী বান্দাকে ভালোবাসেন»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٥١)
19 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: دَخَلَ سَعْدٌ عَلَى رَجُلٍ فَقَالَ: مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا فُلَانٍ؟ فَقَالَ: أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلَاثًا قَالَهُنَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَنْ أَسُبَّهُ لَأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَهُ وَقَدْ خَلْفَهُ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تُخَلِّفُنِي مَعَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا أَنَّهُ لَا نُبُوَّةَ بَعْدِي» ، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «لَأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلًا يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ» ، فَتَطَاوَلْنَا لَهَا فَقَالَ: «ادْعُوا عَلِيًّا ، فَأُتِيَ بِهِ أَرْمَدَ الْعَيْنِ فَبَصَقَ فِي عَيْنِهِ، وَرَفَعَ الرَّايَةَ إِلَيْهِ، وَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ» ، وَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ} [آل عمران: 61] ، دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ هَؤُلَاءِ أَهْلِي»
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবনে ইসমাঈল, তিনি বুকাইর ইবনে মিসমার থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সাদ এক ব্যক্তির নিকট প্রবেশ করলেন, তখন সে বলল: অমুকের পিতাকে গালি দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন: আমি তিনটি কথা স্মরণ করছি যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, তাই আমি তাঁকে কখনও গালি দেব না। সেই গুণগুলোর কোনো একটি আমার হওয়া আমার কাছে লাল উট লাভের চেয়েও অধিক প্রিয়। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কোনো এক যুদ্ধে তাঁকে পেছনে রেখে যাওয়ার সময় বলতে শুনেছি, তখন আলী তাঁকে বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে নারী ও শিশুদের সাথে রেখে যাচ্ছেন? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: «তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে তেমন মর্যাদায় থাকবে যেমন হারুন ছিলেন মূসার কাছে? তবে আমার পরে আর কোনো নবুওয়াত নেই।» আর আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: «আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা অর্পণ করব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালোবাসেন।» তখন আমরা সেটির প্রত্যাশায় উন্মুখ হলাম। তিনি বললেন: «আলীকে ডাকো।» তাঁকে আনা হলো এমতাবস্থায় যে তাঁর চোখে প্রদাহ ছিল। তিনি তাঁর চোখে থুথু দিলেন এবং তাঁর হাতে পতাকা তুলে দিলেন, আর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে বিজয় দান করলেন। আর যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {আমরা আমাদের পুত্রদের ও তোমাদের পুত্রদের ডাকি} [আল-ইমরান: ৬১], তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইনকে ডাকলেন এবং বললেন: «হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٥٧)
20 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْقَيْسِيُّ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ التَّمَّارُ ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ حَكَمَ عَلَى بَنِي قُرَيْظَةَ أَنْ يُقْتَلَ مِنْهُمْ كُلَّ مَنْ جَرَتْ عَلَيْهِ الْمُوسَى وَأَنْ تُقْسَمَ أَمْوَالُهُمْ وَذَرَارِيهِمْ، فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «لَقَدْ حَكَمَ فِيهِمْ بِحُكْمِ اللَّهِ الَّذِي حَكَمَ بِهِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ»
২০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আমের আল-কায়সী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আত-তাম্মার, সাদ ইবনে ইবরাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি আমের ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে: সাদ ইবনে মুআয বনু কুরাইজার ব্যাপারে এই ফয়সালা দিয়েছিলেন যে, তাদের মধ্যে যাদের ওপর ক্ষুর চালানো হয়েছে তাদের প্রত্যেককে হত্যা করা হবে এবং তাদের সম্পদ ও সন্তানদের বণ্টন করা হবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তা উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: “সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর সেই ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা করেছে যা তিনি সাত আসমানের উপর থেকে করেছেন।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٥٩)
21 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ. ح

⦗ص: 60⦘

 

22 - وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ ، وَحَدَّثَنِي أَبُو عَامِرٍ الْقَيْسِيُّ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ ، أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ، وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ»
২১ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে। (হ)

⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘

 

২২ - এবং আহমাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, এবং আবু আমির আল-কায়সী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ থেকে, আমির ইবনে সাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান দিকে সালাম ফিরাতেন এমনকি তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেত, এবং তাঁর বাম দিকে (সালাম ফিরাতেন) এমনকি তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেত।
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٦١)
23 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْقَيْسِيُّ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الزُّهْرِيُّ ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، أَنَّ سَعْدًا حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ: «الْحَدُوا لِي لَحْدًا وَانْصِبُوا عَلَيَّ نَصَبًا كَمَا صُنِعَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
২৩ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আমির আল-কায়সী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন জাফর আয-যুহরী বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি আমির বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, সাদ যখন মৃত্যুর প্রাক্কালে ছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আমার জন্য একটি লাহদ (পার্শ্ব-খাত) খনন করো এবং আমার ওপর ইট স্থাপন করো যেভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য করা হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٦٢)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمِنْقَرِيُّ ، حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو وَاقِدٍ اللَّيْثِيُّ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُقْطَعُ السَّارِقُ فِي ثَمَنِ الْمِجَنِّ»
২৪ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মূসা ইবনে ইসমাঈল আল-মিনকারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট উহাইব ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু ওয়াকিদ আল-লায়সি বর্ণনা করেছেন, তিনি আমের ইবনে সাদ থেকে, আর তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “একটি ঢালের মূল্যের সমপরিমাণ (চুরির) জন্য চোরের হাত কাটা হবে।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٦٣)
25 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ»
২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন হারুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাশার, তিনি মুসা বিন উকবা থেকে, তিনি আমির বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর ডান দিকে এবং তাঁর বাম দিকে সালাম ফিরাতে দেখেছি।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٦٤)
26 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَرْوَزِيُّ ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ ، أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَوْ أَنَّ مَا يُقِلُّ ظُفُرٌ مِمَّا فِي الْجَنَّةِ بَدَا لَتَزَخْرَفَتْ لَهُ مَا بَيْنَ خَوَافِقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْجَنَّةِ اطَّلَعَ فَبَدَتْ أَسَاوِرُهُ لَطَمَسَ ضَوْءُهُ ضَوْءَ الشَّمْسِ كَمَا تَطْمِسُ الشَّمْسُ ضَوْءَ النُّجُومِ»
২৬ - আমাদের কাছে আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আলী ইবন ইসহাক আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনু লাহীআহ, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবী হাবীব থেকে, তিনি দাউদ ইবন আমির ইবন সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «জান্নাতের মধ্যকার কোনো নখ পরিমাণ বস্তুও যদি প্রকাশিত হতো, তবে আসমান ও যমীনের দিগন্তসমূহের মধ্যবর্তী সব কিছু তার কারণে সুশোভিত হয়ে যেত। আর যদি জান্নাতের কোনো ব্যক্তি উঁকি দিত এবং তার কঙ্কণসমূহ প্রকাশ পেত, তবে তার জ্যোতি সূর্যের জ্যোতিকে ম্লান করে দিত, যেমনিভাবে সূর্য নক্ষত্ররাজির আলোকে ম্লান করে দেয়।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٦٦)
27 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ: سَمِعْتُ عَمِّي جَرِيرَ بْنَ زَيْدٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: مَرِضْتُ بِمَكَّةَ فَأَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمُوتُ بِأَرْضِي الَّتِي هَاجَرْتُ مِنْهَا قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَعَلَّهُ أَنْ يَشْفِيَكَ حَتَّى يَنْفَعَ بِكَ وَيُضَرَّ» ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَدَعُ مَالًا وَلَيْسَ لِي وَارِثٌ غَيْرُ ابْنَةٍ لِي أَفَلَا أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ؟ فَقَالَ: «لَا» ، قُلْتُ: فَثُلُثَيْهِ؟ قَالَ: «لَا» ، قُلْتُ: فَنِصْفِهِ؟ قَالَ: «الثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَبِيرٌ إِنَّ أَحَدَكُمْ أَنْ يَدَعَ أَهْلَهُ بِخَيْرٍ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ» ، قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَكِنْ سَعْدُ بْنُ خَوْلَةَ الْبَائِسُ قَدْ مَاتَ فِي الْأَرْضِ الَّتِي هَاجَرَ مِنْهَا»
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াহব ইবন জারীর, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার চাচা জারীর ইবন যায়েদকে আমের ইবন সা'দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়লাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি সেই ভূমিতেই মারা যাব যেখান থেকে আমি হিজরত করে চলে এসেছি? তিনি বললেন: "সম্ভবত আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করে দেবেন, ফলে তোমার দ্বারা (কিছু মানুষ) উপকৃত হবে এবং (অন্যরা) ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অনেক সম্পদ রেখে যাচ্ছি, অথচ আমার একমাত্র কন্যা ব্যতীত আর কোনো উত্তরাধিকারী নেই। আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ ওসিয়ত করে দেব? তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: তবে কি দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: তবে কি অর্ধেক? তিনি বললেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তোমাদের কেউ তার পরিবারকে সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া, তাদেরকে মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়ানো অভাবী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।" বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন: "কিন্তু অসহায় সা'দ ইবন খাওলাহ তো সেই ভূমিতেই মৃত্যুবরণ করেছেন যেখান থেকে তিনি হিজরত করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٦٧)
28 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَامِرَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ سَعْدًا يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ تَصَبَّحَ بِسَبْعِ تَمَرَاتٍ مِنْ عَجْوَةٍ لَمْ يَضُرَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ سَمٌّ وَلَا سِحْرٌ»
২৮ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাশিম ইবনে হাশিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমির ইবনে সা'দকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সা'দকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٦٩)
29 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «إِذَا انْتَخَمَ أَحَدُكُمْ فِي الْمَسْجِدِ، فَلْيُغَيِّبْ نُخَامَتَهُ، لَا تُصِيبُ جِلْدَ مُؤْمِنٍ أَوْ ثَوْبَهُ فَتُؤْذِيَهُ، أَوْ فَيُؤْذِيَهُ»
২৯ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহাইর ইবনে মুআবিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি আতিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে শ্লেষ্মা নির্গত করে, তখন সে যেন তার শ্লেষ্মা লুকিয়ে ফেলে, যেন তা কোনো মুমিনের চামড়া বা পোশাকে না লাগে এবং তাকে কষ্ট না দেয়।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٧٠)
30 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ قَيْسٍ السَّكُونِيُّ ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ ، أَنَّ أَبَاهُ سَعْدًا اشْتَكَى بِمَكَّةَ فَعَادَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: أَيْ رَسُولَ اللَّهِ، أَمُوتُ بِالْأَرْضِ الَّتِي هَاجَرْتُ مِنْهَا قَالَ: «عَسَى اللَّهُ أَنْ يَرْفَعَكَ فَيَنْفَعَ بِكَ نَاسًا وَيُضَرَّ بِكَ نَاسًا» ، قَالَ سَعْدٌ: أَيْ رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِيَ مَالًا وَابْنَةً وَأُرِيدُ أَنْ أُوصِيَ بِالنِّصْفِ قَالَ: «النِّصْفُ كَثِيرٌ» ، قَالَ: " فَالثُّلُثُ؟ قَالَ: «الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ» ، فَجَازَ الثُّلُثُ لِلنَّاسِ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ أَهْلَكَ بِغِنًى خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ فُقَرَاءَ»
৩০ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শুজা ইবনে ওয়ালিদ ইবনে কাইস আস-সাকুনি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাশিম ইবনে হাশিম বর্ণনা করেছেন, আমির ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা সাদ মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে আসলেন। তিনি (সাদ) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি সেই ভূমিতেই মারা যাব যেখান থেকে আমি হিজরত করে চলে এসেছি? তিনি বললেন: «হয়তো আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করবেন, যার ফলে তোমার মাধ্যমে কিছু লোক উপকৃত হবে এবং অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।» সাদ বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমার সম্পদ রয়েছে এবং একটি মাত্র কন্যা সন্তান আছে। আমি আমার অর্ধেক সম্পদ অসিয়ত করতে চাই। তিনি বললেন: «অর্ধেক তো অনেক বেশি।» তিনি বললেন: তবে কি এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: «এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক বেশি।» অতঃপর মানুষের জন্য এক-তৃতীয়াংশের অসিয়ত বৈধ হয়ে গেল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদের অভাবী ও মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদে সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (পৃষ্ঠা: ٧١)
31 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ إِيَاسَ الْقُرَشِيُّ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبِ بْنِ بَلْتَعَةَ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ فَطَلَعَ عَلَيْنَا عُمَرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ فِي ثَوْبَيْنِ مُورَدَيْنِ وَقَمِيصٍ رَقِيقٍ فَجَلَسَ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ فَسَارَّهُ بِشَيْءٍ مَا أَدْرِي مَا هُوَ قَالَ: فَلَمَّا أَنْ قَامَ ضَحِكَ بَعْضُ الْقَوْمِ إِلَى بَعْضٍ فَقَالَ: مَا يُضْحِكُكُمْ؟ قَالَ: تَعَجَّبْنَا لَهُ وَرَّثَنَا رِيحَ الْمِسْكِ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى طَيِّبٌ يُحِبُّ الطَّيِّبَ نَظِيفٌ يُحِبُّ النَّظَافَةَ جَوَّادٌ يُحِبُّ الْجُودَ، نَظِّفُوا سَاحَتَكُمْ وَأَفْنَاءَكُمْ، وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ تَجْمَعُ الْأَكْبَاءَ فِي دُورِهِمْ» فَلَقِيتُ مُهَاجِرَ بْنَ مِسْمَارٍ فَحَدَّثَنِي عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ حَدِيثِ سَعِيدٍ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: وَأَفْنِيَتَكُمْ
৩১ - আমাদের কাছে আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে খালিদ বিন ইয়াস আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আব্দুর রহমান বিন হাতিব বিন বালতাআ থেকে, তিনি বলেন: আমরা সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িবের নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় উমর বিন উবাইদুল্লাহ বিন মা'মার দু’টি গোলাপি রঙের কাপড় এবং একটি পাতলা জামা পরিহিত অবস্থায় আমাদের সামনে উপস্থিত হলেন। তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িবের পাশে বসলেন এবং তার সাথে কানে কানে কিছু কথা বললেন যা আমি জানি না কী ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি যখন উঠে চলে গেলেন, তখন উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। তিনি (সাঈদ) বললেন: তোমরা হাসছ কেন? তারা বলল: আমরা তার ব্যাপারে বিস্মিত হয়েছি, তিনি আমাদের জন্য কস্তুরীর সুঘ্রাণ রেখে গেছেন। তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন; তিনি পরিচ্ছন্ন, তিনি পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন; তিনি মহানুভব, তিনি মহানুভবতা পছন্দ করেন। অতএব তোমরা তোমাদের আঙিনা ও প্রাঙ্গণসমূহ পরিষ্কার রাখো এবং ইয়াহুদিদের সদৃশ হয়ো না, যারা তাদের বাড়িতে আবর্জনা জমা করে রাখে।” এরপর আমি মুহাজির বিন মিসমারের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি আমার নিকট আমের বিন সা'দ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাঈদের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি ‘তোমাদের প্রাঙ্গণসমূহ’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন।