(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: -)
مسند الروياني   (الرويانى)

القسم: كتب السنة

الكتاب: مسند الروياني

المؤلف: أبو بكر محمد بن هارون الرُّوياني (ت 307هـ)

المحقق: أيمن علي أبو يماني

الناشر: مؤسسة قرطبة - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1416

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদে রুইয়ানি   (রুইয়ানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: মুসনাদে রুইয়ানি

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন হারুন আর-রুইয়ানি (মৃত্যু ৩০৭ হিজরি)

তাহকিককারী: আয়মান আলি আবু ইয়ামানি

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু কুরতুবা - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৬

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌مُسْنَدُ بُرَيْدَةَ بْنِ الْحَصِيبِ
মুসনাদে বুরায়দাহ ইবনুল হাসিব
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬১)
قَالَ: أَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الرَّازِيُّ، وَذَلِكَ فِي شُهُورِ سَنَةِ إِحْدَى وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِمَائَةٍ، قَالَ: أَنَا أبو الْقَاسِمِ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ فَنَاكِي، نا أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنِ هَارُونَ الرُّويَانِي،

 

‌‌1 - نَا ابْنُ إِسْحَاقَ، نا الدَّوْرَقِيُّ، نا أَبُو سَلَمَةَ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، نا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ صَاحِبُ الصَّدَقَةِ، ح، ونا أَبُو عَلِيٍّ الرُّزِّي، نا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو سَلَمَةَ، نا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: وَزَعَمَ صَاحِبُ دَارِهِ أَنَّ اسْمَهُ: هِشَامٌ قَالَ: سَمِعْتُ عَلْقَمَةَ بْنَ مَرْثَدٍ يُحَدِّثُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: " بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرٍ لَهُ إِذْ نَظَرَ إِلَى رَجُلٍ وَهُوَ يَتَقَلَّبُ فِي الرَّمْضَاءِ، وَيَقُولُ: يَا نَفْسُ نَوْمٌ بِاللَّيْلِ وَبَاطِلٌ بِالنَّهَارِ، وَتَرْجِينَ أَنْ تَدْخُلِي الْجَنَّةَ؟ قَالَ: فَوَقَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ إِلَيْهِ، قَالَ: فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَظُنُّهُ قَالَ: ذَاتَ نَفْسِهِ، أَقْبِلْ بِهِ عَلَيْنَا، فَقَالَ: " دُونَكُمْ أَخُوكُمْ، قَالَ: قُلْنَا: ادْعُ لَنَا يَرْحَمُكَ اللَّهُ، قَالَ: اللَّهُمَّ اجْمَعْ عَلَى الْهُدَى أَمْرَهُمْ، قَالَ: قُلْنَا: زِدْنَا رَحِمَكَ اللَّهُ، قَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلِ التَّقْوَى زَادَهُمْ، قَالَ: قُلْنَا: زِدْنَا رَحِمَكَ اللَّهُ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «زِدْهُمُ اللَّهُمَّ وَفِّقْهُ» قَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلِ الْجَنَّةَ مآبَهُمْ
তিনি বলেন: আমি শায়খ আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন হাসান আর-রাজি-এর নিকট থেকে শুনেছি, আর এটি ছিল চারশ একাান্ন হিজরি সালের মাসগুলোর ঘটনা; তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম জাফর বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুব বিন ফানাকি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন হারুন আর-রুয়ানি,

 

‌‌১ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে ইসহাক, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আদ-দাওরাকি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ মুসা বিন ইসমাইল, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ সাহিবুস সাদাকাহ; (অন্য সূত্রে) এবং আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আলি আর-রুজ্জি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা বিন ইসমাইল আবু সালামাহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ। আবু সালামাহ বলেন: তার বাড়ির মালিক ধারণা করেছেন যে তার নাম ছিল হিশাম। তিনি বলেন: আমি আলকামা বিন মারসাদকে বলতে শুনেছি, তিনি সুলাইমান বিন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে থাকাকালীন এক ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করলেন, যে উত্তপ্ত বালুর ওপর গড়াগড়ি খাচ্ছিল এবং বলছিল: 'হে নফস! রাতে তো ঘুমাও আর দিনে অনর্থক কাজে মগ্ন থাকো, আর তুমি আশা করো যে জান্নাতে প্রবেশ করবে?' তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর কাজ শেষ করলেন—আমার ধারণা তিনি বলেছেন: তাঁর নিজের কাজ—তখন বললেন: 'তাকে আমাদের কাছে নিয়ে এসো।' এরপর তিনি বললেন: 'তোমাদের ভাই তোমাদের সামনে।' তিনি বলেন: আমরা বললাম: আমাদের জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। তিনি বললেন: 'হে আল্লাহ! তাদের বিষয়গুলোকে হিদায়াতের ওপর একত্রিত করে দিন।' তিনি বলেন: আমরা বললাম: আমাদের জন্য আরও বাড়িয়ে দিন, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। তিনি বললেন: 'হে আল্লাহ! তাকওয়াকে তাদের পাথেয় করে দিন।' তিনি বলেন: আমরা বললাম: আমাদের আরও বাড়িয়ে দিন, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'হে আল্লাহ, তাদের জন্য বাড়িয়ে দিন এবং তাকে তাওফিক দান করুন।' তিনি (ব্যক্তিটি) বললেন: 'হে আল্লাহ! জান্নাতকে তাদের গন্তব্যস্থল বানিয়ে দিন।'"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌2 - نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، نا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا إِذَا خَرَجْنَا إِلَى الْمَقَابِرِ، أَوْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «السَّلَامُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ»
২ - মুহাম্মদ ইবন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আহমদ আয-যুবাইরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলকামা ইবন মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের শিক্ষা দিতেন যখন আমরা কবরস্থানের দিকে বের হতাম, অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: «মুমিন ও মুসলিম অধিবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য নিরাপত্তার প্রার্থনা করছি।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌3 - نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نا أَبُو عَاصِمٍ، نا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ، فَقَدْ أُذِنَ لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فِي زِيَارَةِ الْقُبُورِ، فَزُورُوهَا؛ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْآخِرَةَ، وَكُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِي فَوْقَ ثَلَاثٍ لِيَتَّسِعَ لِذِي الطَّوْلِ عَلَى مَنْ لَا طَوْلَ لَهُ، فَكُلُوا مَا بَدَا لَكُمْ، وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا، وَنَهَيْتُكُمْ عَنِ الظُّرُوفِ، وَإِنَّ الظُّرُوفَ لَا تُحَرِّمُ شَيْئًا وَلَا تُحِلُّهُ، وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ»
‌‌৩ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবন বাশশার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফইয়ান বর্ণনা করেছেন আলকামা ইবন মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, তবে এখন মুহাম্মাদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর যিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো; কারণ তা পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আর আমি তোমাদের তিন দিনের অধিক সময় কোরবানির গোশত জমা রাখতে নিষেধ করেছিলাম যাতে সচ্ছল ব্যক্তিরা অসচ্ছলদের সাহায্য করতে পারে। এখন তোমরা তোমাদের পছন্দমতো খাও, অন্যদের খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখো। আর আমি তোমাদের নির্দিষ্ট কিছু পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলাম; নিশ্চয়ই পাত্র কোনো কিছুকে হারাম বা হালাল করে না, আর প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌4 - نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نا مُؤَمَّلٌ، نا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ أَعْرَابِيًّا قَالَ فِي الْمَسْجِدِ بَعْدَ مَا صَلَّى الصُّبْحَ: مَنْ دَعَا إِلَى الْجَمَلِ الْأَحْمَرِ؟ ‌‌⦗ص: 63⦘ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا وَجَدْتَ، لَا وَجَدْتَ، إِنَّمَا بُنِيَتْ هَذِهِ الْمَسَاجِدُ لِمَا بُنِيَتْ لَهُ»
৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুআম্মাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আলক্বামাহ থেকে, সুলাইমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক বেদুইন ফজরের সালাত আদায়ের পর মসজিদে বলল: লাল উটের সন্ধান কে দিবে? ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি যেন তা খুঁজে না পাও, তুমি যেন তা খুঁজে না পাও; এই মসজিদগুলো কেবল সেই উদ্দেশ্যের জন্যই নির্মিত হয়েছে যে উদ্দেশ্যে তা নির্মিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌5 - نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نا مُؤَمَّلٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَحُرْمَةُ نِسَاءِ الْمُهَاجِرِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِكُمْ، وَمَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْقَاعِدِينَ خَلَفَ أَحَدًا مِنَ الْمُهَاجِرِينَ فِي أَهْلِهِ بِسُوءٍ إِلَّا أُقِيمَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، قِيلَ لَهُ: هَذَا خَلَفَكَ فِي أَهْلِكَ بِسُوءٍ، فَخُذْ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شِئْتَ، فَمَا ظَنُّكُمْ؟ "
৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুআম্মাল বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আলকামাহ ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যারা (জিহাদে না গিয়ে) অবস্থান করছে, তাদের নিকট মুহাজিরগণের স্ত্রীদের সম্মান তোমাদের মায়েদের সম্মানের মতো। অবস্থানকারীদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোনো মুহাজিরের অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সাথে মন্দ আচরণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে অবশ্যই তার সামনে দাঁড় করানো হবে এবং তাকে বলা হবে: 'এই ব্যক্তি তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার পরিবারের সাথে মন্দ আচরণ করেছিল, সুতরাং তার নেক আমল থেকে তুমি যা ইচ্ছা গ্রহণ করো।' এখন তোমাদের কী ধারণা (সে কি কিছু বাকি রাখবে)?"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌6 - نا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ، نا النُّعْمَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الدَّالُّ عَلَى الْخَيْرِ كَفَاعِلِهِ»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক আল-আজরাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আন-নুমান, আলকামাহ থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «কল্যাণের পথপ্রদর্শনকারী ব্যক্তি তা সম্পাদনকারীর সমতুল্য।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌7 - نا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، نا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عُثْمَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ حَلَفَ بِالْأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا، وَمَنْ عَيَّرَ مُسْلِمًا فِي خَادِمِهِ وَأَهْلِهِ فَلَيْسَ مِنَّا»
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নসর ইবনে আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতামির ইবনে সুলাইমান, লাইস থেকে, তিনি উসমান থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমানতের নামে শপথ করল সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে তার খাদেম বা তার পরিবারের ব্যাপারে লজ্জিত বা হেয় করল সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌8 - نا أَبُو كُرَيْبٍ، نا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «حُرْمَةُ نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِكُمْ، مَنْ خَلَفَ مُجَاهِدًا فِي أَهْلِهِ بِسُوءٍ أَوْقَفَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى عَمَلِهِ وَأَخَذَ مِنْهُ مَا شَاءَ، فَمَا ظَنُّكُمْ؟»
‌‌৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কুরায়ব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খালিদ আল-আহমার, তিনি আমর ইবনে কায়েস থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যারা ঘরে অবস্থানকারী, তাদের নিকট মুজাহিদদের স্ত্রীদের মর্যাদা তোমাদের মায়েদের মর্যাদার মতোই। যে ব্যক্তি কোনো মুজাহিদের অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সাথে অসদাচরণ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে তার আমলের সামনে দাঁড় করাবেন এবং তার থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করবেন। সুতরাং তোমাদের কী ধারণা?»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌9 - نا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، نا عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ، نا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে কাদিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একবার করে ওযু করেছেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌10 - نا ابْنُ حُمَيْدٍ، نا جَرِيرٌ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে হুমায়দ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর, তিনি লাইস থেকে, তিনি উসমান বিন উমায়র থেকে, তিনি সুলায়মান বিন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার একবার করে ওযু করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌11 - نا ابْنُ حُمَيْدٍ، نا جَرِيرٌ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ حَلَفَ بِالْأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا، وَمَنْ غَشَّ امْرَأً مُسْلِمًا فِي أَهْلِهِ وَخَادِمِهِ فَلَيْسَ مِنَّا»
১১ - ইবনে হুমায়দ আমাদের বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের বর্ণনা করেছেন লায়স থেকে, তিনি উসমান বিন উমায়র থেকে, তিনি সুলায়মান বিন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমানতের নামে শপথ করল সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে তার পরিবার ও খাদেমের বিষয়ে প্রতারণা করল সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌12 - نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، نا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، نا الْحَكَمُ بْنُ ظُهَيْرٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " إنَّ مِنْ حَقِّ جَلَالِ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ ثَلَاثًا: الْإِمَامُ الْمُقْسِطُ، وَذُو الشَّيْبِ فِي الْإِسْلَامِ، وَالْحَامِلُ لِكِتَابِ اللَّهِ غَيْرُ الْجَافِي وَلَا الْغَالِي فِيهِ "
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আরাফাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম ইবনে যুহাইর, আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর মহত্ত্বের হক হিসেবে বান্দাদের ওপর তিনটি বিষয় আবশ্যক: ন্যায়পরায়ণ শাসক, ইসলামে বার্ধক্যে উপনীত ব্যক্তি, এবং আল্লাহর কিতাবের (কুরআনের) ধারক যে এতে অনাদর করে না এবং এতে সীমালঙ্ঘনও করে না।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌13 - نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، نا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، نا عَبْدُ الْوَارِثِ، نا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ» قَالَ: ثُمَّ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلُهُ صَدَقَةً» قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ سَمِعْتُكَ تَقُولُ مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ، ثُمَّ سَمِعْتُكَ تَقُولُ: " مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلُهُ صَدَقَةً، قَالَ: لَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ قَبْلَ أَنْ يَحِلَّ الدَّينُ، فَإِذَا حَلَّ الدَّينُ فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلُهُ صَدَقَةً "
১৩ - মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান ইবন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন জুহাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবন বুরাইদা থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে (ঋণ পরিশোধে) অবকাশ দেবে, তার জন্য প্রতিদিন সাদাকাহর সওয়াব রয়েছে» তিনি বলেন: এরপর আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: «যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেবে, তার জন্য প্রতিদিন তার (ঋণের) সমপরিমাণ সাদাকাহর সওয়াব রয়েছে» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেবে, তার জন্য প্রতিদিন সাদাকাহর সওয়াব রয়েছে; অতঃপর আপনাকে বলতে শুনলাম: «যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেবে, তার জন্য প্রতিদিন তার সমপরিমাণ সাদাকাহর সওয়াব রয়েছে।» তিনি বললেন: «ঋণ পরিশোধের সময় হওয়ার আগে প্রতিদিন তার জন্য সাদাকাহর সওয়াব রয়েছে, আর যখন ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায় (এবং সে পুনরায় অবকাশ দেয়), তখন প্রতিদিন তার জন্য তার সমপরিমাণ সাদাকাহর সওয়াব রয়েছে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌14 - نا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، نا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الْأَزْرَقُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ ‌‌⦗ص: 67⦘، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَهُ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ، فَقَالَ: «صَلِّ مَعَنَا هَذَيْنِ» فَلَمَّا زَالَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِلَالًا فَأَذَّنَ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعَصْرِ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ، ثُمَّ أَمَرَ بِهِ فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْيَوْمِ الثَّانِي أَمَرَهُ فَأَذَّنَ الظُّهْرَ، فَأَبْرَدَ بِهَا، فَأَنْعَمَ أَنْ يُبْرِدَها، وَصَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ أَخَّرَهَا فَوْقَ الَّذِي كَانَ، ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ، وَصَلَّى الْعِشَاءَ بَعْدَمَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ، وَصَلَّى الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ بِهَا، ثُمَّ قَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ؟» فَقَالَ رَجُلٌ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «وَقْتُ صَلَاتِكُمْ مَا بَيْنَ مَا رَأَيْتُمْ»
‌‌১৪ - মুহাম্মদ ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইউসুফ আল-আজরাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে বুরাইদা থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে ‌⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে: এক ব্যক্তি তাঁকে নামাজের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: «আমাদের সাথে এই দুই দিন নামাজ পড়ো।’ এরপর যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ল, তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি আজান দিলেন। এরপর তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি আসরের একামত দিলেন যখন সূর্য উঁচুতে এবং ধবধবে সাদা ও পরিষ্কার ছিল। এরপর তাঁকে নির্দেশ দিলে তিনি মাগরিবের একামত দিলেন যখন সূর্য অস্ত গেল। এরপর তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি এশার একামত দিলেন যখন পশ্চিম দিগন্তের লালিমা অদৃশ্য হয়ে গেল। এরপর তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি ফজরের একামত দিলেন যখন সুবহে সাদেক উদিত হলো। এরপর যখন দ্বিতীয় দিন এল, তিনি তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি জোহরের আজান দিলেন, অতঃপর তিনি তা শীতল হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করলেন এবং বেশ শীতল করে তা আদায় করলেন। আর আসরের নামাজ পড়লেন যখন সূর্য উঁচুতে ছিল, তবে পূর্বের দিনের চেয়ে কিছুটা বিলম্বে। এরপর মাগরিবের নামাজ পড়লেন সন্ধ্যার লালিমা অদৃশ্য হওয়ার আগে। আর এশার নামাজ পড়লেন যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলো। আর ফজরের নামাজ পড়লেন যখন চারদিক বেশ ফর্সা হয়ে উঠল। এরপর তিনি বললেন: «নামাজের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়?» তখন এক ব্যক্তি বলল: আমি, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: «তোমাদের নামাজের সময় হলো সেই সীমার মধ্যে যা তোমরা দেখলে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌15 - نا ابْنُ بَشَّارٍ، نا حَرْمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، نا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «السَّلَامُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْتُمْ لَنَا سَلَفٌ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ، أَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ»
১৫ - ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারমি ইবনে উমারাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলক্বামাহ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুমিনদের মধ্য হতে এই জনপদবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আপনারা আমাদের পূর্বসূরি এবং ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সাথে মিলিত হব। আমি আমাদের ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌ابْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ بُرَيْدَةَ
ইবনে বুরাইদাহ বুরাইদাহ থেকে
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌16 - نا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ النَّيْسَابُورِي، نا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، نا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَوْتَ أَبِي مُوسَى وَهُوَ يَقْرَأُ فَقَالَ: «لَقَدْ أُوتِيَ أَبُو مُوسَى مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ» قَالَ: فَحَدَّثْتُ بِهِ أَبَا مُوسَى فَقَالَ: أَنْتَ الْآنَ لِي صِدِّيقٌ، قَالَ: ثُمَّ قَالَ أَبُو مُوسَى: لَوْ عَلِمْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَمِعُ قِرَاءَتِي لَحَبَّرْتُهَا تَحْبِيرًا
১৬ - সালামাহ বিন শাবীব আন-নাইসাবুরী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনুল উয়াইনাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক বিন মিগওয়াল থেকে, তিনি ইবনু বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু মূসার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন যখন তিনি তিলাওয়াত করছিলেন। তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আবু মূসাকে দাউদ পরিবারের বাঁশিগুলোর (সুরেলা কণ্ঠের) একটি প্রদান করা হয়েছে»। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর আমি আবু মূসাকে এ বিষয়টি অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন: আপনি এখন আমার প্রকৃত বন্ধু। তিনি বলেন: এরপর আবু মূসা বললেন: যদি আমি জানতাম যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার তিলাওয়াত শুনছেন, তবে আমি তা অবশ্যই অনেক বেশি সুন্দর ও সুমধুর করে তিলাওয়াত করতাম।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
‌‌17 - نا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، نا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ فَانْتَبِذُوا فِي كُلِّ وِعَاءٍ وَاجْتَنِبُوا كُلَّ مُسْكِرٍ»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে শাবীব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, আতা আল-খুরাসানী থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি তোমাদেরকে মাটির পাত্রে নাবীজ তৈরি করতে নিষেধ করেছিলাম, সুতরাং এখন তোমরা যেকোনো পাত্রেই নাবীজ তৈরি করো এবং সকল নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করো।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
‌‌18 - نا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ الْوَاسِطِيُّ، نا أَبُو مُعَاوِيَةَ، نا الْأَعْمَشُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا تَصَدَّقَ رَجُلٌ بِصَدَقَةٍ حَتَّى يَفُكَّ عَنْ لِحْيَيْ سَبْعِينَ شَيْطَانًا»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে সিনান আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ’মাশ, তিনি সুলায়মান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সদকা প্রদান করে না, যতক্ষণ না সে সত্তরজন শয়তানের চোয়াল থেকে তা মুক্ত করে নেয়।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
‌‌19 - نا الْأَسْفَاطِيُّ، نا شُعَيْبُ بْنُ بَيَانٍ، نا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَكِّرُوا بِصَلَاةِ الْعَصْرِ، فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الْعَصْرَ حَبِطَ عَمَلُهُ»
১৯ - আল-আসফাতি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শুআইব ইবনে বায়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইমরান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আসরের সালাত দ্রুত (ওয়াক্তের শুরুতে) আদায় করো, কেননা যে ব্যক্তি আসরের সালাত বর্জন করে, তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌20 - نا ابْنُ إِسْحَاقَ، أَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْأَسَدِيُّ، نا أَبِي، نا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، وَعَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: اشْتَكَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى ضَمَّرَ صُدْغَيْهِ، وَرُئِي ذَلِكَ عَلَيْهِ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ: " إنَّ رَبِّكَ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ لِأَرْقِيَكَ، قَالَ: فَخُذْ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ حَاسِدٍ أَرْقِيكَ. قَالَ: فَرَدَّدَهَا عَلَيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ فَبَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
২০ - ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-আসাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আবান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলকামাহ বিন মারসাদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন সাবিত থেকে এবং ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর ললাটদেশ শুকিয়ে সংকুচিত হয়ে এল এবং তা তাঁর ওপর দৃশ্যমান হলো। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট আগমন করলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আপনার রব আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন আপনাকে রুকইয়াহ করার জন্য।" তিনি বললেন: "আল্লাহর নামে আমি আপনাকে রুকইয়াহ করছি এমন প্রতিটি বিষয় থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রত্যেক হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আমি আপনাকে রুকইয়াহ করছি।" তিনি এটি তাঁর ওপর তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোগ্য লাভ করলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌21 - نا ابْنُ إِسْحَاقَ، أَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْأَسَدِيُّ، نا أَبِي، نا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إنَّ الْحَجَرَ يَزِنُ سَبْعَ خَلِفَاتٍ لَيُلْقَى فِي جَهَنَّمَ فَيَهْوِي سَبْعِينَ خَرِيفًا»
‌২১ - ইবনু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আসাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলক্বামাহ থেকে, তিনি ইবনু বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই একটি পাথর যার ওজন সাতটি গর্ভবতী উটনীর সমান, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, অতঃপর তা সত্তর বছর পর্যন্ত নিচে পতিত হতে থাকবে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌22 - نا ابْنُ إِسْحَاقَ، نا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، وَيَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ قَالَا: نا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي رَبِيعَةَ (ح) ، وَنا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَعَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَا: نا أَبُو أَحْمَدَ، نا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ: «لَا تُتْبَعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ، فَإِنَّ لَكَ الْأُولَى، وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ»
২২ - ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসওয়াদ ইবন আমির এবং ইয়াহইয়া ইবন আবি বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: শারীক আমাদের নিকট আবু রাবী'আহ থেকে বর্ণনা করেছেন (বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন)। নাসর ইবন আলী এবং আমর ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট আবু রাবী'আহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে বললেন: "দৃষ্টির পর পুনরায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করো না; কারণ প্রথম দৃষ্টিটি তোমার জন্য (ক্ষমারযোগ্য), কিন্তু পরবর্তীটি তোমার জন্য নয়।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৭০)
‌‌23 - نا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ، عَنْ صَالِحِ بْنِ حَيَّانَ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي اثْنَيْنِ وَأَرْبَعِينَ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِهِ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي إِلَى الْمَقَامِ وَهُمْ خَلْفَهُ جُلُوسٌ، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ أَهْوَى بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَةِ كَأَنَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَأْخُذَ شَيْئًا، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَثَارُوا، فَأَشَارَ بِيَدِهِ أَنِ اجْلِسُوا فَجَلَسُوا، فَقَالَ: «رَأَيْتُمُونِي حِينَ فَرَغْتُ مِنْ صَلَاتِي أَهْوَيْتُ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ الْكَعْبَةِ كَأَنِّي أُرِيدُ أَنْ آخِذَ شَيْئًا؟» قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: إنَّ الْجَنَّةَ عُرِضَتْ عَلَيَّ فَلَمْ أَرَ مِثْلَ مَا فِيهَا مِنَ الْحُسَنِ وَالْعَجَائِبِ، وَإِنَّهَا مَرَّتْ خَصْلَةُ عِنَبٍ فَأَعْجَبَنِي، فَأَهْوَيْتُ لِآخُذَهَا فَسَبَقَتْنِي، وَلَوْ أَخَذْتُهَا لَغَرَسْتُهَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْكُمْ حَتَّى تَأْكُلُوا مِنْ فَاكِهَةِ الْجَنَّةِ، وَاعْلَمُوا أَنَّ الْكَمْأَةَ ‌‌⦗ص: 71⦘ دَوَاءٌ لِلْعَيْنِ، وَأَنَّ الْعَجْوَةَ مِنْ فَاكِهَةِ الْجَنَّةِ، وَأَنَّ هَذِهِ الْحَبَّةَ السَّوْدَاءَ الَّتِي تَكُونُ فِي الْمِلْحِ دَوَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلَّا الْمَوْتَ "
২৩ - আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালেহ ইবনে হাইয়ান থেকে, তিনি ইবনে বুরায়দাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর বিয়াল্লিশ জন সাহাবীর সাথে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাকাম (ইবরাহিম)-এর দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন এবং তাঁরা তাঁর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। যখন তিনি তাঁর সালাত সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি নিজের এবং কাবার মাঝখানে এমনভাবে ঝুঁকলেন যেন তিনি কিছু গ্রহণ করতে চাচ্ছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে ফিরলেন, তখন তারা সচকিত হয়ে উঠলেন (দাঁড়াতে চাইলেন)। তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করলেন যে, তোমরা বসো; ফলে তারা বসে পড়লেন। এরপর তিনি বললেন: “আমি যখন সালাত শেষ করলাম, তখন তোমরা কি আমাকে আমার এবং কাবার মাঝখানে ঝুঁকে পড়তে দেখেছ, যেন আমি কিছু নিতে চাচ্ছি?” তারা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই জান্নাত আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, আমি সেখানে যে সৌন্দর্য ও বিস্ময়কর বস্তুসমূহ দেখেছি তার অনুরূপ আর কিছুই দেখিনি। সেখানে একটি আঙুরের থোকা অতিক্রম করছিল যা আমাকে মুগ্ধ করল, তাই আমি সেটি নেওয়ার জন্য হাত বাড়ালাম কিন্তু সেটি আমার নাগালের বাইরে চলে গেল। যদি আমি সেটি নিতে পারতাম, তবে আমি তা তোমাদের মাঝে রোপণ করতাম যাতে তোমরা জান্নাতের ফল খেতে পারতে। আর তোমরা জেনে রেখো যে, ‘কামআহ’ (এক প্রকার ছত্রাক) ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ চোখের জন্য ঔষধ, আর ‘আজওয়া’ জান্নাতের ফল, এবং এই কালোজিরা যা লবণের মধ্যে থাকে তা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌24 - نا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، نا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: خَرَجْتُ لَيْلَةً إِلَى الْمَسْجِدِ، فَإِذَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ، وَإِذَا رَجُلٌ فِي الْمَسْجِدِ يُصَلِّي، قَالَ: فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا بُرَيْدَةُ أَتُرَاهُ يُرَائِي؟» قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «بَلْ مُؤْمِنٌ مُنِيبٌ» قَالَ: فَصَلَّى ثُمَّ قَعَدَ يَدْعُو فَقَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنِّي أَشْهَدُ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، الْأَحَدُ الْفَرْدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ تَلِدْ وَلَمْ تُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَكَ كُفُوًا أَحَدٌ» قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا بُرَيْدَةُ وَاللَّهِ لَقَدْ سَأَلَ اللَّهَ بِاسْمِهِ الْأَعْظَمِ، الَّذِي إِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى، وَإِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ» وَإِذَا الرَّجُلُ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ
২৪ - আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উসমান ইবনে উমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মালিক ইবনে মিগওয়াল ইবনে বুরাইদা থেকে, তিনি বুরাইদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক রাতে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদের দরজার নিকট দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি মসজিদে সালাত আদায় করছিল। তিনি বলেন: তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: «হে বুরাইদা, তুমি কি মনে করো সে লোক-দেখানো ইবাদত করছে?» তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «বরং সে তো একনিষ্ঠ প্রত্যাবর্তনকারী মুমিন» তিনি বলেন: তারপর সে সালাত আদায় করল এবং বসে দুআ করতে লাগল। সে বলল: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি এই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে যে, আপনিই সেই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই, আপনি অমুখাপেক্ষী একক সত্তা, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি এবং আপনার সমতুল্য কেউ নেই» তিনি বলেন: তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হে বুরাইদা! আল্লাহর কসম, সে আল্লাহর নিকট তাঁর সেই মহান নামের উসিলায় প্রার্থনা করেছে, যা দ্বারা প্রার্থনা করা হলে তিনি দান করেন এবং যা দ্বারা ডাকা হলে তিনি সাড়া দেন» আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন আবু মুসা আল-াশআরী।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌25 - نا ابْنُ حُمَيْدٍ، نا جَرِيرٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي زِيَارَةِ قَبْرِ أُمِّي فَأَذِنَ لِي، وَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي الِاسْتِغْفَارِ لَهَا فَلَمْ يُعْطِنِي» قَالَ: «وَكُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِي فَوْقَ ثَلَاثٍ فَكُلُوا وَتَمَتَّعُوا، وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا؛ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْآخِرَةَ، وَنَهَيْتُكُمْ أنْ تَشْرَبُوا فِي هَذِهِ الظُّرُوفِ فَاشْرَبُوا وَلَا تَشْرَبُوا مُسْكِرًا»
২৫ - আমাদের নিকট ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি জারীর থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবি যিয়াদ থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি আমার রবের নিকট আমার মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি চেয়েছি, তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। আর আমি তাঁর নিকট তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছি, কিন্তু তিনি আমাকে তা প্রদান করেননি।» তিনি আরও বলেন: «আমি তোমাদের তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা খাও এবং ভোগ করো। আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা যিয়ারত করো; কেননা তা আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আর আমি তোমাদের এই পাত্রগুলোতে পানীয় পান করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তাতে পান করো, তবে কোনো মাদক দ্রব্য পান করো না।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৭২)
‌‌26 - نا ابْنُ حُمَيْدٍ، نا أَبُو تُمَيْلَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَتَكِيِّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُصَلِّي الرَّجُلُ فِي مُلَاءَةٍ لَيْسَ عَلَيْهِ غَيْرُهَا، وَلَا يَتَوَشَّحَ بِهَا، وَأَنْ يُصَلِّيَ فِي سَرَاوِيلَ لَيْسَ عَلَيْهِ رِدَاءٌ "
26 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে হুমায়দ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তুমািলাহ, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আল-আতাকী থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো ব্যক্তি কেবল একটি চাদর পরিহিত অবস্থায় নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন যদি তা ছাড়া তার গায়ে অন্য কিছু না থাকে এবং সে যেন তা এমনভাবে না পেঁচায় (যাতে শরীরের কোনো অংশ উন্মুক্ত হয়ে যায়), আর সে যেন কেবল পায়জামা পরিহিত অবস্থায় নামাজ না পড়ে যখন তার শরীরের উপরিভাগে কোনো চাদর নেই।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুর রুয়ানী (পৃষ্ঠা: ৭২)
‌‌27 - نا ابْنُ حُمَيْدٍ، نا أَبُو تُمَيْلَةَ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَقِيَ عَلَيْهِ شَىْءٌ مِنَ الْمَتَاعِ حَمَلَهُ عَلَيَّ فَسَمَّانِي الزَّامِلَةَ»
২৭ - আমাদের বর্ণনা করেছেন ইবনে হুমায়দ, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু তুলায়লা, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুসলিম, ইবনুল বুরায়দাহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যখন কোনো আসবাবপত্র বা মালসামানা অবশিষ্ট থাকত, তিনি তা আমার ওপর বহন করতেন এবং আমাকে ‘আজ-ঝামিলা’ (বোঝা বহনকারী বাহন) নামে অভিহিত করেছিলেন।»