(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: -)
بغية الباحث عن زوائد مسند الحارث   (الحارث بن أبي أسامة)

القسم: كتب السنة

الكتاب: بغية الباحث عن زوائد مسند الحارث

المؤلف: الحارث بن أبي أسامة (186 - 282 هـ)

المنتقي: نور الدين علي بن سليمان بن أبي بكر الهيثمي الشافعي (735 - 807 هـ).

المحقق: د. حسين أحمد صالح الباكري

أصل التحقيق: أطروحة دكتوراة للمحقق، شعبة السنة بقسم الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية

الناشر: مركز خدمة السنة والسيرة النبوية - المدينة المنورة

الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1992 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস   (আল-হারিস ইবনে আবি উসামা)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস

লেখক: আল-হারিস ইবনে আবি উসামা (১৮৬ - ২৮২ হিজরি)

সংকলক/নির্বাচক: নূরুদ্দিন আলী ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি বকর আল-হাইসামি আশ-শাফিয়ি (৭৩৫ - ৮০৭ হিজরি).

তাহকিককারী: ড. হুসাইন আহমাদ সালিহ আল-বাকরি

তাহকিকের মূল উৎস: তাহকিককারীর ডক্টরাল থিসিস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা অনুষদের সুন্নাহ বিভাগ

প্রকাশক: মারকায খিদমাতিস সুন্নাহ ওয়াস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (সুন্নাহ ও সীরাত সেবা কেন্দ্র) - মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরকৃত)

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
‌‌كِتَابُ الْإِيمَانِ
ঈমান বিষয়ক কিতাব
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
‌‌بَابٌ فِيمَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَفِيمَا يُحَرِّمُ دَمَ الْعَبْدِ وَمَالَهُ
ওই ব্যক্তি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ যে সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং যা বান্দার রক্ত ও সম্পদকে হারাম (সুরক্ষিত) করে
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
‌‌1 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنِّي " لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا عَبْدٌ حَقًّا إِلَّا حُرِّمَ عَلَى النَّارِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ "
১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ, কাতাদাহ থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি হুমরান ইবনে আবান থেকে, তিনি উসমান ইবনে আফফান থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই আমি এমন একটি কালিমা জানি, কোনো বান্দা সত্যনিষ্ঠার সাথে তা পাঠ করলে তার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়; (তা হলো): আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
‌‌2 - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا أَشْرَعَ أَحَدُكُمُ الرُّمْحَ إِلَى الرَّجُلِ فَإِنْ كَانَ عِنْدَ ثُغْرَةِ نَحْرِهِ فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَلْيَرْفَعْ عَنْهُ الرُّمْحَ " ، قَالَ: فَقَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ: فَجَعَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْكَلِمَةَ أَمَنَةَ الْمُسْلِمِ وَعِصْمَةَ دَمِهِ وَجَعَلَ الْجِزْيَةَ أَمَنَةَ الْكَافِرِ وَعِصْمَةَ دَمِهِ وَمَالِهِ
২ - আমাদের নিকট মুআবিয়াহ ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু মিজলাজ থেকে, তিনি আবু উবায়দাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন কোনো ব্যক্তির দিকে বর্শা তাক করে এবং তা যখন তার কণ্ঠনালীর মূলে পৌঁছে যায়, এমতাবস্থায় সে যদি বলে: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’, তবে সে যেন তার থেকে বর্শাটি সরিয়ে নেয়।" তিনি বলেন: আবু উবায়দাহ বলেছেন: "অতঃপর আল্লাহ এই কালিমাটিকে মুসলিমের নিরাপত্তা ও তার রক্ত রক্ষার মাধ্যম করেছেন, আর জিজিয়াকে কাফিরের নিরাপত্তা এবং তার রক্ত ও সম্পদের সুরক্ষার মাধ্যম করেছেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
‌‌3 - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: خَرَجَ الْمِقْدَادُ بْنُ الْأَسْوَدِ فِي سَرِيَّةٍ فَمَرُّوا بِقَوْمٍ مُشْرِكِينَ فَفَرُّوا وَأَقَامَ رَجُلٌ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ ، فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَتَلَهُ الْمِقْدَادُ ، فَقِيلَ لَهُ: أَقَتَلْتَهُ وَهُوَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟ فَقَالَ: وَدَّ لَوْ أَنَّهُ فَرَّ بِمَالِهِ وَأَهْلِهِ ، فَقَالُوا: هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْأَلُوهُ ، فَأَتَوْهُ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: «أَقَتَلْتَهُ وَهُوَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَدَّ لَوْ أَنَّهُ فَرَّ بِمَالِهِ وَأَهْلِهِ ، قَالَ: فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا} [النساء: 94] إِلَى قَوْلِهِ: {كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ} [النساء: 94] تُخْفُونَ إِيمَانَكُمْ، وَأَنْتُمْ مَعَ الْمُشْرِكِينَ {فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ} [النساء: 94] وَأَظْهَرَ الْإِسْلَامَ {فَتَبَيَّنُوا} [الحجرات: 6] "
৩ - মুআবিয়া ইবন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি হাবীব ইবন আবু আমরা থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ একটি সামরিক অভিযানে বের হলেন। তারা একদল মুশরিকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তারা পালিয়ে গেল, কিন্তু এক ব্যক্তি তার পরিবার ও ধনসম্পদ নিয়ে অবস্থান করল এবং বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তখন মিকদাদ তাকে হত্যা করলেন। তাকে বলা হলো: আপনি কি তাকে হত্যা করলেন এমতাবস্থায় যে সে সাক্ষ্য দিচ্ছিল যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই? তিনি বললেন: সে তো তার ধনসম্পদ ও পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিল। তারা বলল: ইনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করো। তারা তাঁর নিকট এসে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: «তুমি কি তাকে হত্যা করলে এমতাবস্থায় যে সে সাক্ষ্য দিচ্ছিল যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই?» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সে তার ধনসম্পদ ও পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিল। তিনি (সাঈদ ইবন জুবাইর) বলেন: তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে অভিযানে বের হবে, তখন যাচাই করে নেবে} [আন-নিসা: ৯৪] আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {তোমরাও তো ইতিপূর্বে এমনই ছিলে} [আন-নিসা: ৯৪], অর্থাৎ তোমরা তোমাদের ঈমান গোপন করতে যখন তোমরা মুশরিকদের সাথে ছিলে, {অতঃপর আল্লাহ তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন} [আন-নিসা: ৯৪] এবং ইসলামকে প্রকাশ করেছেন, {সুতরাং তোমরা যাচাই করে নাও} [আল-হুজুরাত: ৬] "
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌4 - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ قَالَ: " بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْثًا ، فَفُتِحَ لَهُمْ ، فَبَعَثُوا بَشِيرَهُمْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَبَيْنَا هُوَ يُخْبِرُهُ بِفَتْحِ اللَّهِ لَهُمْ وَبِعَدَدِ مَنْ قَتَلَ اللَّهُ مِنْهُمْ قَالَ: فَتَفَرَّدْتُ بِرَجُلٍ مِنْهُمْ فَلَمَّا غَشِيتُهُ لِأَقْتُلَهُ قَالَ: إِنِّي مُسْلِمٌ ، قَالَ: «فَقَتَلْتُهُ وَقَدْ قَالَ إِنِّي مُسْلِمٌ؟» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا قَالَ ذَلِكَ مُتَعَوِّذًا قَالَ: «فَهَلَّا شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ؟» قَالَ: وَكَيْفَ أَعْرِفُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «فَلَا لِسَانَهُ صَدَّقْتَ وَلَا قَلْبَهُ عَرَفْتَ إِنَّكَ لَقَاتِلُهُ ، اخْرُجْ عَنِّي فَلَا تُصَاحِبْنِي» ، قَالَ: ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَ تُوُفِّيَ فَلَفَظَتْهُ الْأَرْضُ مَرَّتَيْنِ فَأُلْقِيَ فِي بَعْضِ تِلْكَ الْأَوْدِيَةِ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: إنَّ الْأَرْضَ لَتُوَارِي مَنْ هُوَ أَنْتَنُ مِنْهُ وَلَكِنَّهُ مَوْعِظَةٌ "
৪ - মুআবিয়াহ ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী থেকে, হারুন ইবনে রিয়াব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি সেনাদল প্রেরণ করেন, অতঃপর তারা বিজয় লাভ করেন। এরপর তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সুসংবাদদাতা প্রেরণ করেন। সেই ব্যক্তি যখন তাঁকে আল্লাহ কর্তৃক তাঁদের বিজয় দান এবং তাঁদের হাতে কতজন নিহত হয়েছে সে সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছিলেন, তখন তিনি (এক যোদ্ধা) বললেন: আমি তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির মুখোমুখি হলাম, যখন আমি তাকে হত্যা করার জন্য কাবু করলাম, তখন সে বলল: 'আমি মুসলিম'। তিনি (রাসূল) বললেন: 'সে যখন বলল যে সে মুসলিম, তারপরেও কি তুমি তাকে হত্যা করলে?' সে বলল: 'হে আল্লাহর রাসূল, সে তো কেবল আত্মরক্ষার জন্য এ কথা বলেছিল'। তিনি বললেন: 'তবে তুমি কেন তার হৃদয় চিরে দেখলে না?' সে বলল: 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি তা কীভাবে জানতাম?' তিনি বললেন: 'তুমি না তার জবানকে সত্য বলে মেনে নিলে, আর না তার হৃদয় সম্পর্কে জানতে পারলে; নিশ্চয়ই তুমি তার হত্যাকারী। আমার নিকট থেকে চলে যাও, আমার সাহচর্যে থেকো না'। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সেই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে জমিন তাকে দুইবার উগড়ে দিল। ফলে তাকে কোনো এক উপত্যকায় ফেলে রাখা হলো। অতঃপর ইলম অন্বেষণকারীগণের (উলামা) কেউ কেউ বলেন: নিশ্চয়ই জমিন তার চেয়েও অধিক দুর্গন্ধযুক্ত ব্যক্তিকে আবৃত করে রাখে, কিন্তু এটি ছিল একটি শিক্ষা।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌بَابٌ فِيمَنْ أَسْلَمَ وَهَاجَرَ
পরিচ্ছেদ: যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং হিজরত করেছেন
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫০)
‌‌5 - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الْمُبَارَكِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: سَمِعْتُ مَنْصُورَ بْنَ الْمُعْتَمِرِ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ " إِبْلِيسَ قَعَدَ لِابْنِ آدَمَ بِأَطْرُقِهِ وَقَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ: أَتُسْلِمُ وَتَتْرُكُ وَلَدَكَ وَمَوْلِدَكَ وَأَهْلَكَ؟ فَعَصَاهُ فَأَسْلَمَ ثُمَّ قَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْهِجْرَةِ فَقَالَ لَهُ أَتُهَاجِرُ وَإِنَّمَا الْمُهَاجِرُ كَالْفَرَسِ فِي طِوَلِهِ لَا تَرِمْ ، فَعَصَاهُ فَهَاجَرَ فَقَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْجِهَادِ فَقَالَ لَهُ: أَتُجَاهِدُ إِنَّمَا الْجِهَادُ كَاسْمِهِ يَجْهَدُ الْمَالَ وَالنَّفْسَ فَتُقَاتِلُ فَتُقْتَلُ فَتُنْكَحُ الْمَرْأَةُ وَيُقَسَّمُ الْمَالُ فَعَصَاهُ فَجَاهَدَ " ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَمَنْ كَانَتْ فِيهِ هَذِهِ الْخِصَالُ فَهُوَ مَضْمُونٌ عَلَى اللَّهِ إِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ أَوْ غَرِقَ أَوِ احْتَرَقَ أَنْ يُدْخِلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ»
৫ - আমাদের নিকট মুআবিয়াহ ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন আল-মুবারক ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বলেন: আমি মানসুর ইবনে আল-মুতামিরকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইবলিস আদমসন্তানের সকল পথে ওত পেতে বসে থাকে। সে তার জন্য ইসলামের পথে বসে থাকে এবং বলে: 'তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করবে এবং তোমার সন্তান, তোমার জন্মভূমি ও তোমার পরিবারকে ছেড়ে দেবে?' অতঃপর সে তার অবাধ্য হয় এবং ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর সে তার জন্য হিজরতের পথে বসে থাকে এবং তাকে বলে: 'তুমি কি হিজরত করবে? হিজরতকারী তো দীর্ঘ রশিতে বাঁধা ঘোড়ার মতো (আবদ্ধ), তুমি যেও না।' অতঃপর সে তার অবাধ্য হয় এবং হিজরত করে। এরপর সে তার জন্য জিহাদের পথে বসে থাকে এবং তাকে বলে: 'তুমি কি জিহাদ করবে? জিহাদ তো তার নামের মতোই কষ্টসাধ্য, এটি ধন-সম্পদ ও জীবনকে নিঃশেষ করে দেয়। ফলে তুমি লড়াই করবে এবং নিহত হবে, তখন তোমার স্ত্রীকে অন্যের সাথে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তোমার সম্পদ বণ্টন করে দেওয়া হবে।' অতঃপর সে তার অবাধ্য হয় এবং জিহাদ করে।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সুতরাং যার মধ্যে এই গুণাবলি বিদ্যমান থাকবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য এই নিশ্চয়তা রয়েছে যে, সে যদি মারা যায় অথবা নিহত হয় অথবা ডুবে যায় অথবা পুড়ে যায়, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫১)
‌‌بَابٌ فِيمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا
পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করেছে
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫১)
‌‌6 - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو ثنا أَبُو إِسْحَاقَ عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ قَالَ: غَزَوْنَا مَعَ أَبِي أَيُّوبَ أَرْضَ الرُّومِ فَمَرِضَ ، فَلَمَّا ثَقُلَ قَالَ: احْمِلُونِي فَإِذَا صَادْفَتُمُ الْعَدُوَّ فَادْفِنُونِي تَحْتَ أَرْجُلِكُمْ فَإِنِّي مُحَدِّثُكُمْ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَوْلَا أَنِّي عَلَى حَالِي هَذِهِ مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ» ، قُلْتُ: وَيَأْتِي حَدِيثٌ طَوِيلٌ فِي الْمَنَاقِبِ فِي وَفَاتِهِ وَدَفْنِهِ
৬ - মুআবিয়া ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু জাবিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আবু আইয়ুবের সাথে রোম ভূখণ্ডে অভিযানে ছিলাম, তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। যখন তাঁর অবস্থা গুরুতর হলো, তখন তিনি বললেন: তোমরা আমাকে বহন করে নিয়ে চলো এবং যখন তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হবে, তখন আমাকে তোমাদের পায়ের নিচে দাফন করে দিও। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট এমন একটি হাদিস বর্ণনা করছি যা আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি। যদি আমি বর্তমান এই অবস্থায় না থাকতাম, তবে তোমাদের নিকট এটি বর্ণনা করতাম না। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” আমি বলছি: তাঁর মৃত্যু ও দাফন সংক্রান্ত গুণাবলি অধ্যায়ে একটি দীর্ঘ হাদিস আসবে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫২)
‌‌بَابٌ فِي شَرَائِعِ الْإِسْلَامِ
ইসলামের বিধিবিধান বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫২)
‌‌7 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي الرَّبِيعُ بْنُ أَنَسٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ فَارَقَ الدُّنْيَا عَلَى الْإِخْلَاصِ لِلَّهِ وَعِبَادَتِهِ لَا شَرِيكَ لَهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ فَارَقَهَا وَاللَّهُ عَنْهُ رَاضٍ» قَالَ أَنَسٌ: " وَذَلِكَ دِينُ اللَّهِ الَّذِي جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ وَبَلَّغُوهُ عَنْ رَبِّهِمْ قَبْلَ هَرْجِ الْأَحَادِيثِ وَاخْتِلَافِ الْأَهْوَاءِ ، يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: {فَإِنْ تَابُوا} [التوبة: 5] خَلَعُوا الْأَنْدَادَ وَعِبَادَتَهَا {وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ} [التوبة: 5]
৭ - আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, রাবি ইবনে আনাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ইখলাস এবং তাঁর কোনো শরীক না রেখে একমাত্র তাঁর ইবাদত করা, সালাত কায়েম করা এবং জাকাত প্রদান করার ওপর দুনিয়া ত্যাগ করবে, সে এমন অবস্থায় দুনিয়া ত্যাগ করবে যে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন» আনাস (রা.) বলেন: "আর এটিই আল্লাহর সেই দ্বীন যা নিয়ে রাসূলগণ এসেছিলেন এবং তাঁরা তাঁদের রবের পক্ষ থেকে তা পৌঁছে দিয়েছিলেন কথার বিশৃঙ্খলা ও প্রবৃত্তিগত মতভেদের পূর্বে। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যদি তারা তওবা করে} [আত-তাওবাহ: ৫] অর্থাৎ তারা অংশীদারদের ও তাদের ইবাদত ত্যাগ করে {এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও} [আত-তাওবাহ: ৫]"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
‌‌8 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمَ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَاشِدٍ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ " بَيْنَ يَدَيِ الرَّحْمَنِ لَلَوْحًا فِيهِ ثَلَاثُمِائَةٍ وَخَمْسَ عَشْرَةَ شَرِيعَةً ، يَقُولُ الرَّحْمَنُ: وَعِزَّتِي لَا يَأْتِينِي عَبْدٌ مِنِ عِبَادِي مَا لَمْ يُشْرِكْ بِي فِيهِ وَاحِدَةٌ مِنْكُنَّ إِلَّا أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ "
৮ - আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে আফফানের মুক্তদাস আব্দুল্লাহ ইবনে রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরীকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই রহমানের দুই হাতের সামনে একটি লওহ (ফলক) রয়েছে, যাতে তিনশত পনেরটি শরীয়ত বিদ্যমান। রহমান বলেন: আমার ইজ্জতের কসম, আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যে কেউ আমার সাথে শিরক না করে এগুলোর মধ্য হতে কোনো একটি নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হবে, আমি তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাব।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
‌‌بَابٌ فِي خِصَالِ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ
ঈমান ও ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
‌‌9 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ ، ثَنَا الْحَكَمُ بْنُ فُضَيْلٍ، ثَنَا ‌‌⦗ص: 155⦘ سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ فِي النَّاسِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى النَّاسَ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رُكْبَتَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: مَا الْإِسْلَامُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشَهَّدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَسْلَمْتُ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَنَّ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَالْحِسَابِ وَالْمِيزَانِ وَالْحَيَاةِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ آمَنْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَمَا الْإِحْسَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» ، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَحْسَنْتُ؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: " هِيَ فِي خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ، إِنَّ الْغَيْبَ لَا يَعْلَمُهُ إِلَّا اللَّهُ - قَوْلَهُ: {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ} [لقمان: 34] الْآيَةَ ، أَلَا أُخْبِرُكَ بِعَلَامَتِهِ أَوْ قَالَ: بِمَعَالِمَ ذَلِكَ؟ إِذَا رَأَيْتَ الْعُرَاةَ الْجِيَاعَ الْعَالَةَ رُءُوسَ النَّاسِ ، وَرَأَيْتَ الْأَمَةَ وَلَدَتْ رَبَّتَهَا وَرَأَيْتَ أَصْحَابَ الْبِدَا يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ " قَالَ: فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ حَتَّى تَوَارَى قَالَ: «عَلَيَّ بِالرَّجُلِ» ، فَطُلِبَ فَلَمْ يُوجَدْ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَذَا جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ لِيُعَلِّمَكُمْ دِينَكُمْ» ، قَالَ: «وَمَا أَتَانِي فِي صُورَةٍ قَطُّ إِلَّا عَرَفْتُهُ فِيهَا غَيْرَ مَرَّتِهِ هَذِهِ»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আসিম বিন আলী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম বিন ফুদায়েল, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৫⦘ সাইয়্যার আবু আল-হাকাম, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় একজন লোক মানুষের কাতার ডিঙিয়ে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর হাত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন। অতঃপর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কী? তিনি বললেন: «ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল», তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুসলিম হয়ে গেলাম? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কী? তিনি বললেন: «আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি, কিতাবসমূহের প্রতি, নবীগণের প্রতি, হিসাবের প্রতি, মিযানের প্রতি, মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি», তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুমিন হয়ে গেলাম? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইহসান কী? তিনি বললেন: «আপনি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে তিনি তো আপনাকে দেখছেন», তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি ইহসান করলাম? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: "তা পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না, নিশ্চয়ই গায়েব আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না - (অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন) তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে} [সূরা লুকমান: ৩৪] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আমি কি তোমাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? অথবা তিনি বলেছেন: এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে? যখন তুমি দেখবে যে বস্ত্রহীন, ক্ষুধার্ত ও নিঃস্বরা মানুষের নেতা হয়েছে, আর যখন দেখবে যে দাসী তার মনিবকে জন্ম দিচ্ছে এবং যখন দেখবে যে মরুভূমির মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে" বর্ণনাকারী বলেন: তারপর লোকটি চলে গেলেন এবং দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো», তাকে খোঁজা হলো কিন্তু পাওয়া গেল না। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «ইনি জিবরীল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন», তিনি আরও বললেন: «তিনি ইতিপূর্বে যে কোনো রূপেই আমার কাছে এসেছেন আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি, কিন্তু এই একবার ব্যতীত»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
‌‌10 - حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا لَيْثٌ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ أَبِي رَافِعٍ يَقُولُ إِنَّ رَجُلًا، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَأَلَهُ مَا الْإِيمَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «الْإِيمَانُ أَنَّ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ» ، ثُمَّ سَأَلَهُ الثَّانِيَةَ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ ، ثُمَّ سَأَلَهُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ: «أَتُحِبُّ أَنْ أُخْبِرَكَ مَا صَرِيحُ الْإِيمَانِ؟» قَالَ: ذَلِكَ أَرَدْتُ قَالَ: «إِنَّ صَرِيحَ الْإِيمَانِ إِذَا أَسَأْتَ أَوْ ظَلَمْتَ أَحَدًا عَبْدَكَ أَوْ أَمَتَكَ أَوْ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ تَصَدَّقْتَ وَصُمْتَ وَإِذَا أَحْسَنْتَ اسْتَبْشَرْتَ»
১০ - ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, লায়স অর্থাৎ ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণিত, আবুল খায়ের থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনে আবি রাফি'কে বলতে শুনেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কী? তিনি বললেন: «ঈমান হলো এই যে, তুমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে», অতঃপর তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসা করলে তিনি অনুরূপ কথা বললেন, অতঃপর তিনি তাঁকে তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: «তুমি কি পছন্দ করো যে আমি তোমাকে প্রকৃত ঈমান কী তা জানাই?» তিনি বললেন: আমি তাই চেয়েছি। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই প্রকৃত ঈমান হলো এই যে, যখন তুমি কোনো মন্দ কাজ করবে অথবা কারো প্রতি জুলুম করবে—হোক সে তোমার দাস বা দাসী কিংবা মানুষের মধ্যে যে কেউ—তখন তুমি সাদাকা করবে ও রোজা রাখবে; আর যখন তুমি কোনো ভালো কাজ করবে তখন তুমি আনন্দিত হবে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
‌‌11 - حَدَّثَنَا رَوْحٌ، ثنا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ يَزِيدَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلَّامٍ، عَنْ جَدِّهِ مَمْطُورٍ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلًا، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ وَسَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ» ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْإِثْمُ؟ قَالَ: «إِذَا حَكَّ فِي نَفْسِكَ شَيْءٌ فَدَعْهُ»
‌১১ - রাওহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে আবি আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ থেকে, তিনি যায়দ ইবনে সাল্লাম থেকে, তিনি তাঁর দাদা মামতূর থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: ঈমান কী? তিনি বললেন: «যখন তোমার সৎকাজ তোমাকে আনন্দিত করবে এবং তোমার অসৎকাজ তোমাকে ব্যথিত করবে, তখন তুমি মুমিন।» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, গুনাহ কী? তিনি বললেন: «যখন কোনো বিষয় তোমার অন্তরে খটকা সৃষ্টি করে, তখন তা বর্জন করো।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
‌‌12 - حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، ثنا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ النَّزَّالِ أَوِ النَّزَّالِ بْنِ عُرْوَةَ التَّمِيمِيِّ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ قَالَ: «بَخٍ لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْ عَظِيمٍ وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ تبارك وتعالى عَلَيْهِ ، تَعْبُدُ اللَّهَ عز وجل وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا ، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ ، أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى رَأْسِ الْأَمْرِ، وَعَمُودِهِ وَذُرْوَةِ سَنَامِهِ؟ ، أَمَّا رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ مَنْ أَسْلَمَ سَلِمَ ، وَأَمَّا عَمُودُهُ فَالصَّلَاةُ ، وَأَمَّا ذِرْوَةُ سَنَامِهِ فَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، أَوَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْخَيْرِ؟ الصَّلَاةُ قُرْبَانٌ ، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ ، وَالصَّدَقَةُ طَهُورٌ ، وَقِيَامُ الْعَبْدِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ يُكَفِّرُ الْخَطِيئَةَ» ، قَالَ: وَتَلَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} [السجدة: 16] ، أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَمْلَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟ قَالَ: فَأَقْبَلَ رَكْبٌ أَوْ رَاكِبٌ فَأَشَارَ إِلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِ اسْكُتْ ، قَالَ: فَلَمَّا مَضَى الرَّكْبُ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّا لَنُؤَاخَذُ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِأَلْسِنَتِنَا؟ قَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ ، وَهَلْ يُكِبُّ النَّاسَ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ فِي جَهَنَّمَ إِلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ» قُلْتُ: عِنْدَ النَّسَائِيِّ طَرَفٌ مِنْهُ
১২ - আমাদের নিকট আবু নযর বর্ণনা করেছেন, তিনি শু’বা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুন নাজ্জাল অথবা নাজ্জাল ইবনু উরওয়াহ আত-তামিমী থেকে বর্ণনা করেন যে, মুআয ইবনু জাবাল বলেন: হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন: «চমৎকার! তুমি একটি মহান বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ, তবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা যার জন্য এটি সহজ করে দেন, তার জন্য এটি অত্যন্ত সহজ। তুমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, ফরয সালাত কায়েম করবে এবং নির্ধারিত যাকাত প্রদান করবে। আমি কি তোমাকে সমস্ত বিষয়ের মূল, এর খুঁটি এবং এর সর্বোচ্চ চূড়া সম্পর্কে বলে দেব না? বিষয়ের মূল হলো ইসলাম, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল সে নিরাপদ হলো। আর এর খুঁটি হলো সালাত এবং এর সর্বোচ্চ চূড়া হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে বলে দেব না? সালাত হলো নৈকট্য লাভের মাধ্যম, সিয়াম হলো ঢাল এবং সদাকা হলো পবিত্রকারী, আর গভীর রাতে বান্দার সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়», বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে পৃথক থাকে, তারা তাদের রবকে ডাকেন ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে} [সূরা আস-সাজদাহ: ১৬], «আমি কি তোমাকে এই সবকিছুর মূল চাবিকাঠি সম্পর্কে বলে দেব না?» বর্ণনাকারী বলেন: এরপর একটি কাফেলা অথবা একজন আরোহী সামনে এল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চুপ থাকার জন্য ইশারা করলেন। তিনি বলেন: যখন কাফেলাটি চলে গেল, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের জিহ্বা দিয়ে যা বলি, সে জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: «তোমার মা তোমাকে হারাক! মানুষের জিহ্বার অর্জিত ফসল ছাড়া আর কি কোনো কিছু মানুষকে উপুড় করে (অথবা তাদের নাকের ভরে) জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?» আমি বলছি: নাসাঈর নিকট এর একটি অংশ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
‌‌13 - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ الشَّامِ ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنِ الْإِسْلَامِ ، فَقَالَ لَهُ «أَسْلِمْ تَسْلَمْ» ، قَالَ: وَمَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: تُسْلِمُ قَلْبَكَ لِلَّهِ وَأَنْ يَسْلَمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِكَ وَيَدِكَ " ، قَالَ: فَأَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «الْإِيمَانُ» قَالَ: وَمَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ» ، قَالَ: فَأَيُّ الْإِيمَانِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «الْهِجْرَةُ» ، قَالَ: وَمَا الْهِجْرَةُ؟ قَالَ: «أَنْ تَهْجُرَ السُّوءَ» ، قَالَ: فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» ، قَالَ: فَمَا الْجِهَادُ؟ قَالَ: «أَنْ تُقَاتِلَ الْعَدُوَّ إِذَا لَقِيتَهُمْ وَلَا تَغُلَّ، وَلَا تَجْبُنَ»
১৩ - মুআবিয়া ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আল-ফাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি শামের এক অধিবাসী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে বললেন, “ইসলাম গ্রহণ করো, তবেই তুমি নিরাপদ থাকবে।” সে ব্যক্তি বলল, “ইসলাম কী?” তিনি বললেন, “তোমার অন্তরকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করা এবং তোমার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমদের নিরাপদ থাকা।” সে বলল, “কোন ইসলাম সর্বোত্তম?” তিনি বললেন, “ঈমান।” সে বলল, “ঈমান কী?” তিনি বললেন, “আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনা।” সে বলল, “কোন ঈমান সর্বোত্তম?” তিনি বললেন, “হিজরত।” সে বলল, “হিজরত কী?” তিনি বললেন, “মন্দ কাজ বর্জন করা।” সে বলল, “কোন হিজরত সর্বোত্তম?” তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” সে বলল, “জিহাদ কী?” তিনি বললেন, “যখন শত্রুর সম্মুখীন হবে তখন তাদের সাথে লড়াই করা, আর খেয়ানত না করা এবং কাপুরুষতা প্রদর্শন না করা।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
‌‌14 - حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، ثنا شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسِيرُ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَأَخَذَ بِزِمَامِ نَاقَتِهِ فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ وَيُزَحْزِحُنِي عَنِ النَّارِ ، قَالَ: «تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا ، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ ، وَتَصِلُ الرَّحِمَ» ، فَأَرْسَلَ الزِّمَامَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنْ وَفَّى بِمَا قُلْتُ لَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
‌১৪ - আমাদের নিকট আবু আন-নজর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শায়বান আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে তালহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথ চলছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে তাঁর উষ্ট্রীর লাগাম ধরল এবং বলল: “হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন কিছু সম্পর্কে বলুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দিবে।” তিনি বললেন: “তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে।” অতঃপর সে লাগাম ছেড়ে দিল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “আমি তাকে যা বলেছি তা যদি সে পূর্ণভাবে পালন করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬০)
‌‌15 - حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، ثنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ عَاصِمٌ ، وَأَخْبَرَنِي بَعْضُ أَصْحَابِنَا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ بِجَارِيَةٍ سَوْدَاءَ لَا تُفْصِحُ فَقَالَ: إِنِّي جَعَلْتُ عَلِيَّ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً أَفَأُعْتِقُ هَذِهِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ رَبُّكِ؟» فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ: «مَنْ أَنَا؟» فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ تَعْنِي إِنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ»
15 - আমাদের নিকট আসিম ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-মাসউদী থেকে, তিনি আউন ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। আসিম বলেন, এবং আমার জনৈক সঙ্গী আমাকে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি এক কৃষ্ণাঙ্গ দাসীকে নিয়ে আসলেন যে স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারত না। সে বলল: "আমি একজন মুমিন দাস মুক্ত করা নিজের ওপর আবশ্যক করেছি, আমি কি একে মুক্ত করতে পারি?" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার রব কে?" সে তার মাথা দিয়ে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করল। তিনি বললেন: "আমি কে?" সে আকাশের দিকে ইশারা করল অর্থাৎ আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: "তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬১)
‌‌16 - حَدَّثَنَا الْخَلِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي عَلَيَّ نَسَمَةٌ أَنْ أُعْتِقَهَا وَإِنَّ هَذِهِ الْجَارِيَةَ أَعْجَمِيَّةٌ فَيَجُوزُ لِي أَنْ أُعْتِقَهَا؟ قَالَ: قَالَ لَهَا: «أَيْنَ رَبُّكِ؟» قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ قَالَ: «مَنْ أَنَا؟» قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ»
১৬ - আমাদের নিকট আল-খালিল ইবনে যাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আউন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে‘ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমার ওপর একজন দাস মুক্ত করার আবশ্যকতা রয়েছে এবং এই দাসীটি অনারব, এমতাবস্থায় আমি কি তাকে মুক্ত করতে পারি? তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তিনি তাকে বললেন: «তোমার প্রতিপালক কোথায়?» সে বলল: আসমানে। তিনি বললেন: «আমি কে?» সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসুল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে মুক্ত করে দাও, কেননা সে মুমিন»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬২)
‌‌بَابٌ فِيمَنْ قَالَ إِنَّهُ فِي الْجَنَّةِ مِنْ غَيْرِ دَلِيلٍ
দলীল ব্যতিরেকে কারো জান্নাতি হওয়ার দাবি প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬২)
‌‌17 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، ثنا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ فَهُوَ كَافِرٌ ، وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهُ فِي الْجَنَّةِ فَهُوَ فِي النَّارِ ، وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهُ عَالِمٌ فَهُوَ جَاهِلٌ ، قَالَ: فَنَازَعَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنْ تَذْهَبُوا بِالسُّلْطَانِ فَإِنَّ لَنَا الْجَنَّةُ قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ فِي الْجَنَّةِ فَهُوَ فِي النَّارِ»
১৭ - আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাতাদা থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে মুমিন, সে মূলত কাফির; আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে জান্নাতী, সে মূলত জাহান্নামী; এবং যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে আলেম, সে মূলত জাহেল বা অজ্ঞ।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন এক ব্যক্তি তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বলল: "আপনারা যদি ক্ষমতার দাপটে এরূপ বলেন (তবে জেনে রাখুন), জান্নাত আমাদেরই প্রাপ্য।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন উমর বললেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে জান্নাতী, সে মূলত জাহান্নামী'।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬২)
‌‌بَابُ أَفْضَلِ الْأَعْمَالِ: الْإِيمَانُ
অধ্যায়: সর্বোত্তম আমল: ঈমান
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬২)
‌‌18 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قُتَيْبَةَ، ثنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ آلِ أَبِي حَثْمَةَ عَنِ الشِّفَاءِ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الْأُوَلِ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسُئِلَ عَنْ أَفْضَلِ الْأَعْمَالِ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَحَجٌّ مَبْرُورٌ»
১৮ - আল-হাসান ইবনে কুতাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মাসউদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আবু হাছমাহ-এর পরিবারের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি আশ-শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন—যিনি প্রথম যুগের মুহাজির নারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন: «আল্লাহর প্রতি ঈমান, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং হজ্জে মাবরুর (কবুল হজ্জ)»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي الْوَسْوَسَةِ وَتَقَلُّبِ الْقَلْبِ
কুমন্ত্রণা ও অন্তরের পরিবর্তনশীলতা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
‌‌19 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا صَالِحٌ، ثنا قَتَادَةُ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى أَنَّ رَجُلًا، قَامَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فِيَ صَدْرِي شَيْئًا لَوْ أبْدَيْتُهُ هَلَكْتُ أَفَهَالِكٌ أَنَا قَالُ: لَا إِنَّ «اللَّهَ عز وجل تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَكَلَّمْ بِهِ أَوْ تَعْمَلْ»
‌১৯ - আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে সুলায়মান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সালিহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আমার অন্তরে এমন কিছুর উদয় হয় যা প্রকাশ করলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। আমি কি তবে ধ্বংস হয়ে গেছি? তিনি বললেন: না, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কুমন্ত্রণা বা অন্তরে উদিত হওয়া বিষয়সমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা মুখে উচ্চারণ করে অথবা কাজে পরিণত করে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল হারিস = বুগইয়াতুল বাহিস আন যাওয়াইদি মুসনাদিল হারিস (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
‌‌20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا الْأَعْمَشُ، عَنِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَثَلُ الْقَلْبِ مَثَلُ الرِّيشَةِ تُقَلِّبُهَا الرِّيحُ»
20 - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আল-আ'মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রাকাশি থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "অন্তরের উদাহরণ হলো একটি পালকের ন্যায়, যাকে বাতাস ওলটপালট করতে থাকে।"