(খণ্ড: ১) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: -)
مسند إسحاق بن راهويه   (إسحاق بن راهويه)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند إسحاق بن راهويه

المؤلف: أبو يعقوب إسحاق بن إبراهيم بن مخلد بن إبراهيم الحنظلي المروزي المعروف بـ ابن راهويه (ت 238هـ)

المحقق: د. عبد الغفور بن عبد الحق البلوشي

الناشر: مكتبة الإيمان - المدينة المنورة

الطبعة: الأولى، 1412 - 1991

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ   (ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুসনাদ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ

লেখক: আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাখলাদ ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি আল-মারওয়াযি, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আব্দুল গফুর ইবনে আব্দুল হক আল-বালুশি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ঈমান - মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ - ১৯৯১

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٥٥)
‌‌مُسْنَدُ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أُمِّ سَلَمَةَ بِنْتِ الْمُغِيرَةِ قَالَ الْإِمَامُ أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ: مَا يُرْوَى عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ابْنَةَ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْمَخْزُومِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَمِنْهُ مَا يُرْوَى عَنْ سَعِيدٍ، وَعُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ وَأَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
মুমিন জননী উম্মে সালামাহ বিনতে আল-মুগীরাহর মুসনাদ। ইমাম আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উম্মে সালামাহ বিনতে আবু উমাইয়াহ ইবনুল মুগীরাহ আল-মাখযুমী যা বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে যা সাঈদ, উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর এবং আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন উম্মে সালামাহ—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٥٥)
أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها تَرْفَعُهُ قَالَ: «إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ وَعِنْدَهُ أُضْحِيَةٌ يُرِيدُ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَأْخُذُ شَعْرًا وَلَا يُقَلِّمَنَّ ظُفْرًا»
সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান বিন আওফ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটিকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন: "যখন (যিলহজ মাসের) দশ দিন শুরু হয় এবং তোমাদের কারও নিকট কুরবানীর পশু থাকে যা সে কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন কোনো চুল না কাটে এবং কোনো নখও যেন না কাটে।"
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٥٦)
1816 - أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، نا مُحَمَّدٌ وَهُوَابْنُ عُمَرَ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمِ بْنِ عُمَارَةَ بْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ قَالَ: دَخَلْنَا الْحَمَّامَ فِي عَشْرِ الْأَضْحَى، وَإِذَا بَعْضُهُمْ قَدْ أَطَلَّا، فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَمَّامِ: إِنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ يَكْرَهُ هَذَا، أَوْ يَنْهَى عَنْهُ، فَخَرَجْتُ فَأَتَيْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: " يَا ابْنَ أَخِي، هَذَا حَدِيثٌ قَدْ نُسِيَ وَتُرِكَ، حَدَّثَتْنِي أُمُّ سَلَمَةَ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يَذْبَحَ فَإِذَا أَهَلَّ هِلَالُ ذِي الْحِجَّةِ فَلَا يَمَسُّ مِنْ شَعْرِهِ وَلَا ظُفْرِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحِّيَ»
১৮১৬ - নজর ইবন শুমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ—যিনি ইবন উমর ইবন আলকামা—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন মুসলিম ইবন উমারা ইবন উকাইমা আল-লাইসি থেকে। তিনি বলেন: আমরা যিলহজ্জের (প্রথম) দশ দিনের মধ্যে গোসলখানায় প্রবেশ করলাম। তখন দেখা গেল তাদের কেউ কেউ লোম পরিষ্কারক ব্যবহার করে শরীর পরিষ্কার করছে। এমতাবস্থায় গোসলখানার জনৈক ব্যক্তি বললেন: নিশ্চয়ই সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব এটি অপছন্দ করেন অথবা এটি থেকে নিষেধ করেন। তখন আমি বের হয়ে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের নিকট আসলাম এবং তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! এটি এমন এক হাদীস যা মানুষ ভুলে গিয়েছে এবং বর্জন করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিনী উম্মু সালামাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ করে, যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে সে যেন তার চুল ও নখের কোনো কিছুই স্পর্শ না করে, যতক্ষণ না সে কুরবানী সম্পন্ন করে।»"
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٥٧)
1817 - أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، نا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: قِيلَ لِسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ: إِنَّ يَحْيَى بْنَ يَعْمَرَ يُفْتِي بِخُرَاسَانَ: إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ، مَنْ أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَأْخُذُ مِنْ شَعْرِهِ وَلَا ظُفْرِهِ؟ فَقَالَ سَعِيدٌ: «صَدَقَ كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم يَقُولُونَ ذَلِكَ»
১৮১৭ - আন-নাদর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শু'বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবকে বলা হলো যে, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াম্মার খুরাসানে এই মর্মে ফতোয়া দিচ্ছেন: যখন (জিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিন উপস্থিত হয়, তখন যে ব্যক্তি কোরবানি করার ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন তার চুল ও নখ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ না করে (না কাটে)। তখন সাঈদ বললেন: «তিনি সত্য বলেছেন; মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এরূপই বলতেন।»
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٥٨)
1818 - أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: «إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ، وَوَدِمَ الرَّجُلُ أُضْحِيَتَهُ، فَلَا يَأْخُذُ مِنْ شَعْرِهِ وَلَا ظُفْرِهِ»
১৮১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আন-নাদর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, কাতাদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী বিন আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «যখন (জিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিন প্রবেশ করে এবং কোনো ব্যক্তি তার কোরবানির পশু নির্দিষ্ট করে, তখন সে যেন তার চুল ও নখ থেকে কোনো অংশ না কাটে।»
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٥٨)
1819 - أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ قَالَتْ: " يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحِي مِنَ الْحَقِّ هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ غُسْلٌ إِذَا احْتَلَمَتْ، فَقَالَ: «نَعَمْ، إِذَا وَجَدْتِ الْمَاءَ» فَضَحِكَتْ أُمُّ سَلَمَةَ، وَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَهَلْ تَحْتَلِمُ الْمَرْأَةُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَرِبَتْ يَدَاكِ فَمِمَّ يُشْبِهُهَا وَلَدُهَا إِذًا؟»

 

1820 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، نا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ، وَقَالَ: «إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ»
১৮১৯ - জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু সুলাইম বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না। নারীর কি স্বপ্নদোষ হলে গোসল করা আবশ্যক?" তিনি বললেন: «হ্যাঁ, যখন তুমি পানি (বীর্য) দেখতে পাবে»। তখন উম্মু সালামাহ হাসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, নারীর কি স্বপ্নদোষ হয়? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমার হাত ধূলিময় হোক, তবে সন্তান কেন তার সদৃশ হয়?»

 

১৮২০ - আবু মুআবিয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাদের বলেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি যায়নাব বিনতে উম্মু সালামাহ থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, আর তিনি বলেছেন: «যখন সে পানি দেখতে পাবে»।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٦٠)
1821 - أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، نا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ، وَإِنَّمَا أَنَا بِشْرٌ، وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ، وَإِنَّمَا أَقْضِي بَيْنَكُمْ بِمَا أَسْمَعُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ، فَلَا يَأْخُذْهُ»

 

1822 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، نا هِشَامٌ بِهَذَا الْإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ
১৮২১ - ওকী’ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যায়নাব বিনতে উম্মে সালামাহ থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমরা আমার নিকট বিবাদ নিয়ে আসো, আর আমি তো কেবল একজন মানুষ। হতে পারে তোমাদের কেউ অন্য কারো তুলনায় নিজের যুক্তি বা দলিল উপস্থাপনে অধিক পারদর্শী হবে। আর আমি যা শুনি, তার ভিত্তিতেই তোমাদের মাঝে বিচার করি। সুতরাং আমি যদি কারো জন্য তার ভাইয়ের হকের কোনো অংশ ফয়সালা করে দিই, তবে আমি তাকে জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরোই দিচ্ছি; অতএব সে যেন তা গ্রহণ না করে।»

 

১৮২২ - আবু মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম এই একই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٦١)
1823 - أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، نا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ اللَّيْثِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: جَاءَ رَجُلَانِ مِنَ الْأَنْصَارِ يَخْتَصِمَانِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَوَارِيثَ قَدْ دَرَسَتْ وَتَقَادَمَتْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ، وَإِنَّمَا أَنَا بِشْرٌ أَقْضِي بَيْنَكُمْ بِنَحْوِ مَا أَسْمَعُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا، فَإِنَّمَا هُوَ قِطْعَةٌ مِنَ النَّارِ يَأْتِي بِهِ أَسْطَامًا فِي عُنُقِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ، فَبَكَى الرَّجُلَانِ، فَقَالَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا: حَقِّي لِصَاحِبِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا أَمَّا إِذَا فَعَلْتُمَا هَذَا فَاقْتَسَمَا وَتَوَخَّيَا الْحَقَّ، ثُمَّ اسْتَهَمَا، ثُمَّ لِيُحَلِّلَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْكُمَا صَاحِبَهُ»
১৮২৩ - ওয়াকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট উসামা ইবনে যায়িদ আল-লায়সী বর্ণনা করেছেন, তিনি উম্মে সালামার মুক্ত দাস আব্দুল্লাহ ইবনে রাফি থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আনসারদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তি এমন এক মিরাস (উত্তরাধিকার) নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিচার নিয়ে আসলেন, যা বিলুপ্ত ও অনেক পুরোনো হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা আমার কাছে বিচার নিয়ে আসো, আর আমি তো একজন মানুষ মাত্র; আমি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করি যা আমি শুনি সে অনুযায়ী। সুতরাং আমি যদি কারো পক্ষে তার ভাইয়ের হকের কিছু ফয়সালা করে দিই, তবে তা তো জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরো মাত্র, যা কিয়ামতের দিন সে তার গলায় বেড়ী হিসেবে নিয়ে আসবে।» তখন লোক দুজন কেঁদে ফেললেন এবং তাদের প্রত্যেকে বললেন: আমার প্রাপ্য হক আমার সাথীর জন্য। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «না, বরং যখন তোমরা এমনটি করেছ, তখন তোমরা সত্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করে তা বণ্টন করে নাও। অতঃপর লটারি করো এবং এরপর তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ সাথীকে তা হালাল করে (ক্ষমা করে) দাও।»
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٦٢)
1824 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، نا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهَا أَنْ تُوَافِيَ مَعَهُ صَلَاةَ الصُّبْحِ يَوْمَ النَّحْرِ بِمَكَّةَ
১৮২৪ - আবু মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি যয়নব বিনতে উম্মে সালামাহ থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কুরবানির দিন মক্কায় তাঁর সাথে ফজরের নামাজে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٦٣)
1825 - أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا فِي بَيْتِ أُمِّ سَلَمَةَ وَعِنْدَهَا مُخَنَّثٌ، فَقَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ أَخِي أُمِّ سَلَمَةَ يَا عَبْدَ اللَّهِ إِنْ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ الطَّائِفَ غَدًا فَإِنِّي أَدُلُّكَ عَلَى بِنْتِ غَيْلَانَ امْرَأَةٍ مِنْ ثَقِيفٍ فَإِنَّهَا تُقْبِلُ بِأَرْبَعٍ وَتُدْبِرُ بِثَمَانٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَدْخُلُ هَذَا عَلَيْكُمْ»

⦗ص: 64⦘

 

1826 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، أنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهَ
১৮২৫ - জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যায়নাব থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামাহর ঘরে বসা ছিলেন এবং তাঁর কাছে একজন মুখান্নাস (হিজড়া/নপুংসক) ছিল। সে উম্মে সালামাহর ভাই আবদুল্লাহ বিন আবি উমাইয়াহকে বলল: হে আবদুল্লাহ! আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদের তায়েফ বিজয় দান করেন, তবে আমি তোমাকে গাইলানের কন্যার সন্ধান দেব, যে সাকীফ গোত্রের একজন নারী। কেননা সে সামনের দিকে চার ভাঁজ নিয়ে আসে এবং পেছনের দিকে আট ভাঁজ নিয়ে প্রস্থান করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে যেন তোমাদের নিকট আর প্রবেশ না করে»।"

⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘

 

১৮২৬ - আবু মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٦٤)
1827 - أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، نا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَ: جَاءَ أَبُو سَلَمَةَ إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ، فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " لَيْسَ أَحَدٌ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ فَيَسْتَرْجِعُ عِنْدَ ذَلِكَ، وَيَقُولُ: اللَّهُمَّ أَحْتَسِبُ مُصِيبَتِي عِنْدَكَ، اللَّهُمَّ اخْلُفْنِي مِنْهَا خَيْرًا إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ عز وجل ذَلِكَ ". قَالَتْ: فَلَمَّا ⦗ص: 65⦘ مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ قَالَتْ: فَقُلْتُ: اللَّهُمَّ أَحْتَسِبُ مُصِيبَتِي عِنْدَكَ وَجَعَلَتْ نَفْسِي لَا تُطَاوِعُنِي أَنْ أَقُولَ اللَّهُمَّ اخْلُفْنِي مِنْهَا خَيْرًا، وَقُلْتُ: مَنْ كَانَ خَيْرًا مِنْ أَبِي سَلَمَةَ؟ أَلَمْ يَكُنْ أَبُو سَلَمَةَ كَذَا وَكَذَا؟ فَلَمَّا انْقَضَتْ عِدَّتُهَا خَطَبَهَا أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه فَأَبَتْ، ثُمَّ خَطَبَهَا عُمَرُ رضي الله عنه فَأَبَتْ، ثُمَّ خَطَبَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: إِنَّ فِيَّ أَخْلَاقًا أَخَافَهُنَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِنِّي امْرَأَةٌ شَدِيدَةُ الْغَيْرَةِ مُصْبِيَةٌ، وَلَيْسَ هَاهُنَا أَحَدٌ مِنْ أَوْلِيَائِي فَيُزَوِّجُنِي، فَسَمِعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَا رَدَّتْ بِهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَضِبَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَشَدَّ مِنْ غَضَبِهِ لِنَفْسِهِ، فَأَتَاهَا فَقَالَ: أَنْتِ الَّتِي تَرُدِّينَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَا رَدَدْتِيهِ بِهِ، فَقَالَتْ: يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، إِنَّ فِيَّ كَذَا وَكَذَا، فَأَقْبَلَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 66⦘، فَقَالَ: " أَمَّا مَا ذَكَرْتِ مِنْ شِدَّةِ غَيْرَتِكِ فَإِنِّي أَدْعُو اللَّهَ فَيُذْهِبُهَا عَنْكِ، وَأَمَّا صِبْيَتُكِ فَسَيَكْفِيهُمُ اللَّهُ، وَأَمَّا مَا قُلْتِ: إِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ هَاهُنَا مِنْ أَوْلِيَائِي فَيُزَوِّجَنِي فَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَوْلِيَائِكِ شَاهِدٌ وَلَا غَائِبٌ يَكْرَهُنِي " فَقَالَتْ لِابْنِهَا: قُمْ فَزَوِّجْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَزَوَّجَهُ، فَبَقِيَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَقْبَلَ إِلَيْهَا، وَكَانَتْ زَيْنَبُ أَصْغَرَ بَنَاتِهَا فَأَتَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ تَعُدْ أَنْ رَأَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْلَسَتْ زَيْنَبَ فِي حِجْرِهَا، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: «مَا شَاءَ اللَّهُ» ثُمَّ انْصَرَفَ عَنْهَا، ثُمَّ أَقْبَلَ إِلَيْهَا الثَّانِيَةَ فَلَمْ تَعُدْ أَنْ رَأَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْلَسَتْ زَيْنَبَ فِي حِجْرِهَا، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ انْصَرَفَ عَنْهَا ثُمَّ جَاءَهَا الثَّالِثَةَ، فَلَمَّا عَرَفَتْهُ احْتَبَسَتْ زَيْنَبَ فِي حِجْرِهَا، فَجَاءَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ مُسْرِعًا بَيْنَ يَدَيْهِ فَانْتَزَعَهَا، وَقَالَ: هَاتِ هَذِهِ الْمَشْقُوحَةَ الَّتِي قَدْ مَنَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجَتَهُ، وَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُعْطِيكِ مَا أَعْطَيْتُ غَيْرَكِ» قَالَ ثَابِتٌ، فَقُلْتُ لَهُ: وَمَا كَانَ أَعْطَى غَيْرَهَا؟ فَقَالَ: جَرَّتَيْنِ تَجْعَلُ فِيهِمَا حَاجَتَهُ، وَرَحْيَيْنِ وَوِسَادَةً مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، قَالَ: فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَهْلِهِ
১৮২৭ - নাযর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলায়মান ইবনুল মুগীরাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি বলেন: উম্মু সালামার পুত্র আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সালামাহ উম্মু সালামার নিকট এসে বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে বিপদে পতিত হয়ে ইন্না লিল্লাহ পড়ে এবং বলে: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার এই বিপদের প্রতিদান কামনা করছি; হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর বিনিময়ে উত্তম কিছু দান করো—তবে মহান আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন।" তিনি (উম্মু সালামাহ) বললেন: যখন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ আবু সালামাহ ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার এই বিপদের প্রতিদান কামনা করছি। তবে আমার মন আমাকে 'হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর বিনিময়ে উত্তম কিছু দান করো' বলতে সায় দিচ্ছিল না। আমি মনে মনে বললাম: আবু সালামার চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে? আবু সালামাহ কি এমন এমন গুণের অধিকারী ছিলেন না? অতঃপর যখন তার ইদ্দতকাল শেষ হলো, তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, তিনি তাও প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে প্রস্তাব দিলেন। তখন তিনি বললেন: আমার মধ্যে এমন কিছু স্বভাব রয়েছে যার কারণে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি। আমি অত্যন্ত ঈর্ষাপরায়ণ এক নারী, আমার সন্তানাদি রয়েছে এবং এখানে আমার এমন কোনো অভিভাবক নেই যে আমাকে বিয়ে দেবে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তিনি যে ওজর পেশ করেছেন তা উমর ইবনুল খাত্তাব শুনতে পেয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মানের খাতিরে নিজের অপমানের চেয়েও বেশি রাগান্বিত হলেন। তিনি তার কাছে গিয়ে বললেন: তুমিই কি সেই নারী যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এভাবে ফিরিয়ে দিলে? তিনি বললেন: হে খাত্তাবের পুত্র! আমার মধ্যে এই এই বিষয়গুলো রয়েছে। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট আগমন করলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘, এবং বললেন: "তুমি তোমার তীব্র ঈর্ষার কথা যা উল্লেখ করেছো, সেজন্য আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করবো যেন তিনি তা তোমার থেকে দূর করে দেন। আর তোমার সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহই যথেষ্ট হবেন। আর তুমি যে বলেছো তোমার অভিভাবকদের মধ্যে কেউ এখানে নেই যে তোমাকে বিয়ে দেবে—আসলে তোমার অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত বা অনুপস্থিত এমন কেউই নেই যে আমাকে অপছন্দ করবে।" তখন তিনি তার পুত্রকে বললেন: ওঠো এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমার বিয়ে দাও। ফলে সে বিয়ে সম্পন্ন করলো। এরপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন তিনি সেভাবেই থাকলেন, অতঃপর তিনি (রাসূল) তার নিকট আসলেন। যায়নাব ছিল তার মেয়েদের মধ্যে সবচাইতে ছোট। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই তার কাছে আসতেন, উম্মু সালামাহ যখনই দেখতেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসছেন, তখনই যায়নাবকে নিজের কোলে বসিয়ে নিতেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে সালাম দিলেন এবং বললেন: "আল্লাহ যা চেয়েছেন", অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার আসলেন এবং উম্মু সালামাহ যখনই দেখলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসছেন, যায়নাবকে কোলে বসিয়ে নিতেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে অনুরূপ করলেন এবং ফিরে গেলেন। অতঃপর তিনি তৃতীয়বার আসলেন। যখন তিনি তাঁকে চিনতে পারলেন, তখনও তিনি যায়নাবকে নিজের কোলেই ধরে রাখলেন। তখন আম্মার বিন ইয়াসির দ্রুত আল্লাহর রাসূলের সামনে এসে শিশুটিকে সরিয়ে নিলেন এবং বললেন: এই অলক্ষুণে শিশুটিকে এদিকে দাও যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর প্রয়োজন থেকে বাধা দিচ্ছে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: "আমি তোমাকে তা-ই দেব যা আমি আমার অন্য স্ত্রীদের দিয়েছি।" সাবিত বলেন: আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি অন্যদের কী দিয়েছিলেন? তিনি বললেন: পানি রাখার জন্য দুটি কলস, দুটি যাতা এবং চামড়ার তৈরি একটি বালিশ যার ভেতরে ছিল খেজুর গাছের ছাল। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করলেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٦٧)
1828 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، نا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، أَنَّ عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ أَبِي عَمْرٍو، وَالْقَاسِمَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَاهُ أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، يُخْبِرُ أَنَّ أُمَّ ⦗ص: 68⦘ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا لَمَّا قَدِمَتِ الْمَدِينَةَ أَخْبَرَتْهُمْ أَنَّهَا ابْنَةُ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَكَذَّبُوهَا، وَقَالُوا: مَا أَكْذَبَ الْغَرَائِبَ حَتَّى أَنْشَأَ نَاسٌ مِنْهُمْ إِلَى الْحَجِّ، فَقَالُوا لَهَا: تَكْتُبِينَ إِلَى أَهْلِكِ فَكَتَبْتُ مَعَهُمْ فَازْدَادُوا لَهَا كَرَامَةً قَالَتْ: فَلَمَّا وَضَعْتُ زَيْنَبَ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَنَا، وَفِي حِجْرِي زَيْنَبُ فَانْصَرَفَ فَجَاءَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ فَاخْتَلَجَهَا مِنِّي، وَكَانَتْ تُرْضِعُهَا، ثُمَّ جَاءَ فَوَافَقَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُرَيْبَةَ ابْنَةِ أَبِي أُمَيَّةَ عِنْدَهَا فَقَالَ: أَيْنَ زُنَابُ فَقَالَتْ قُرَيْبَةُ: أَخَذَهَا عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذْتُ ثَمَالِي، وَهُوَ الثَّوْبُ أَوْ ثِفَالِي وَهُوَ الرَّحَا فَأَخَذْتُ حَبَّاتٍ مِنْ شَعِيرٍ كَانَتْ فِي جَرٍّ، وَأَخْرَجَتْ شُحَيْمَةً فَعَصَدَتْهُ لَهُ فَبَاتَ ثُمَّ أَصْبَحَ فَقَالَ حِينَ أَصْبَحَ إِنَّكِ قَدْ أَصْبَحْتِ وَبِكَ عَلَى أَهْلِهِ كَرَامَةٌ، فَإِنْ شِئْتِ سَبَّعْتُ لَكِ، وَإِنْ سَبَّعْتُ لَكِ سَبَّعْتُ لِسَايِرِ نِسَائِي "
১৮২৮ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাবীব ইবনে আবু সাবিত আমাকে অবহিত করেছেন যে, আবদুল হামীদ ইবনে আবু আমর এবং আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁরা উভয়ই আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হারিসকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ সালামা তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি যখন মদীনায় আসলেন, তখন তিনি তাদের (মদীনাবাসীদের) জানালেন যে তিনি আবু উমাইয়্যা ইবনুল মুগীরার কন্যা। তখন তারা তাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করল এবং বলল: "আগন্তুকরা কতই না মিথ্যা কথা বলে!" পরিশেষে তাদের কিছু লোক যখন হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি নিল, তখন তারা তাকে বলল: "আপনি কি আপনার পরিবারের নিকট কিছু লিখবেন?" তখন আমি তাদের সাথে লিখে পাঠালাম, ফলে তারা তার প্রতি সম্মান আরও বৃদ্ধি করল। তিনি বলেন: যখন আমি যায়নাবকে প্রসব করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করলেন। এরপর তিনি আমাদের নিকট আসলেন, তখন যায়নাব আমার কোলে ছিল। তখন তিনি ফিরে গেলেন। এরপর আম্মার ইবনে ইয়াসির আসলেন এবং তাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে গেলেন—তখন তিনি তাকে স্তন্যদান করছিলেন। এরপর তিনি (নবীজী) পুনরায় আসলেন এবং তার নিকট আবু উমাইয়্যার কন্যা কুরাইবাকে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "যুনাব (যায়নাব) কোথায়?" কুরাইবা বলল: "তাকে আম্মার ইবনে ইয়াসির নিয়ে গেছে।" এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন, তখন আমি আমার কাপড় অথবা জাঁতাকল নিলাম এবং একটি পাত্রে থাকা কিছু যবের দানা নিলাম এবং সামান্য চর্বি বের করে তার জন্য তা দিয়ে খাবার (আসীদাহ) প্রস্তুত করলাম। তিনি রাত যাপন করলেন এবং যখন সকাল হল তখন তিনি বললেন: "তুমি সকালে উপনীত হয়েছ এবং তোমার স্বামীর পরিবারের কাছে তোমার মর্যাদা রয়েছে। তুমি যদি চাও তবে আমি তোমার নিকট সাত দিন অতিবাহিত করব; আর যদি আমি তোমার নিকট সাত দিন অতিবাহিত করি, তবে আমার অন্য সকল স্ত্রীদের কাছেও সাত দিন করে অতিবাহিত করব।"
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٦٨)
1829 - أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ ⦗ص: 69⦘ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ حُلُمٍ، ثُمَّ يَظَلُّ صَائِمًا»

 

1830 - أَخْبَرَنَا الثَّقَفِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ
১৮২৯ - জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইরাক ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ মালিক থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে আবু বকর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বপ্নদোষ ব্যতীত অপবিত্র অবস্থায় সকাল করতেন, অতঃপর তিনি সিয়াম পালন করতেন।»

 

১৮৩০ - আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইরাক ইবনে মালিক থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে আবু বকর থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٠)
1831 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ قَالَ: انْطَلَقْتُ أَنَا وَأَبِي، حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ فَأَخْبَرَتَانَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «كَانَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ احْتِلَامٍ، ثُمَّ يَصُومُ ذَلِكَ الْيَوْمَ»
১৮৩১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের জানিয়েছেন মা’মার, আয-যুহরী থেকে, তিনি আবু বকর ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং আমার পিতা রওনা হলাম, পরিশেষে আমরা আয়েশা এবং উম্মে সালামার নিকট প্রবেশ করলাম। তাঁরা উভয়ে আমাদের সংবাদ দিলেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নদোষ ছাড়াই জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন, অতঃপর তিনি সেই দিন রোজা পালন করতেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٠)
1832 - أَخْبَرَنَا الثَّقَفِيُّ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ قَالَ: بَعَثَنِي مَرْوَانُ إِلَى عَائِشَةَ أَسْأَلُهَا عَنِ الرَّجُلِ يُصْبِحُ جُنُبًا، ثُمَّ يَصُومُ فَسَأَلْتُهَا فَقَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ احْتِلَامٍ، ثُمَّ تَأْتِي أُمُّ سَلَمَةَ فَأَسْأَلُهَا فَقَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ جِمَاعٍ، ثُمَّ يَصُومُ "
১৮৩২ - আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মারওয়ান আমাকে আয়েশা (রা.)-এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন যে অপবিত্র অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়, অতঃপর সিয়াম পালন করে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বপ্নদোষ ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় ভোর করতেন।” এরপর আমি উম্মে সালামাহ (রা.)-এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহবাসের কারণে অপবিত্র অবস্থায় ভোর করতেন, অতঃপর সিয়াম পালন করতেন।”
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧١)
1833 - أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، نا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، يُحَدِّثُ، عَنْ عَامِرٍ أَخِي أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنَ النِّسَاءِ، ثُمَّ يَصُومُ فَرَدَّ أَبُو هُرَيْرَةَ فُتْيَاهُ»

 

1834 - أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، بِهَذَا الْإِسْنَادِ مِثْلَهُ
১৮৩৩ - আন-নাদর ইবনু শুমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শুবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবকে উম্মু সালামাহর ভাই আমির থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি উম্মু সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের সাথে মিলনের কারণে জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় সকাল করতেন, অতঃপর তিনি সিয়াম পালন করতেন। এরপর আবু হুরায়রা তাঁর ফতোয়া প্রত্যাহার করে নেন (ফিরে আসেন)।»

 

১৮৩৪ - ওয়াহব ইবনু জারীর আমাদের এই একই সনদে অনুরূপ সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧١)
1835 - أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، وَعَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، وَعَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَصُلْبُ الْحَدِيثِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَمَّا فُتِنَ أَصْحَابُهُ بِمَكَّةَ أَشَارَ عَلَيْهِمْ أَنْ يَلْحَقُوا بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ فَخَرَجْنَا أَرْسَالًا، فَلَمَّا قَدِمْنَا أَصَبْنَا خَيْرَ دَارٍ، وَأَصَبْنَا قَرَارًا، وَجَاوَرْنَا رَجُلًا حَسَنَ الْجِوَارِ ⦗ص: 72⦘، وَائْتَمَرَتْ قُرَيْشٌ أَنْ يَبْعَثُوا إِلَيْهِ فِينَا رَجُلَيْنِ جَلْدَيْنِ مِنْ قُرَيْشٍ، وَأَنْ يُهْدُوا إِلَيْهِ مِنْ طَرَائِفِ بِلَادِهِمْ مِنَ الْأُدُمِ وَغَيْرِهِ، وَكَانَ الْأُدُمُ يَعْجَبُ النَّجَاشِيَّ أَنْ يُهْدَى إِلَيْهِ، وَأَنْ يُهْدُوا لِبَطَارِقَتِهِ فَفَعَلُوا أَوْ بَعَثُوا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ، وَعَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي رَبِيعَةَ أَتْقَى الرَّجُلَيْنِ حَتَّى قَدِمُوا عَلَيْنَا، فَلَمَّا قَدِمَا قَدَّمَا لِلْبَطَارِقَةِ الْهَدَايَا وَوَصَفَا حَاجَتَهُمْ عِنْدَهُمْ، ثُمَّ دَخَلَا عَلَى النَّجَاشِيِّ، فَقَالَا: أَيُّهَا الْمَلِكُ إِنَّ شُبَانًا فِينَا خَرَجُوا، وَقَدِ ابْتَدَعُوا دِينًا سِوَى دِينِكَ وَدِينِ مَنْ مَضَى مِنْ آبَائِنَا وَدِينٍ لَا نَعْرِفُهُ مِنَ الْأَدْيَانِ فَارَقُوا بِهِ أَشْرَافَهُمْ وَخِيَارَهُمْ وَأَهْلَ الرَّأْيِ مِنْهُمْ فَانْقَطَعُوا بِأَمْرِهِمْ مِنْهُمْ، ثُمَّ خَرَجُوا إِلَيْكَ لِتَمْنَعَهُمْ مِنْ عَشَائِرِهِمْ وَآبَائِهِمْ، وَكَانُوا هُمْ بِهِمْ أَعْلى عَيْنًا فَارْدُدْهُمْ إِلَيْنَا لِنَرُدَّهُمْ عَلَى آبَائِهِمْ وَعَشَائِرِهِمْ، فَقَالَتْ بَطَارِقَتُهُ: صَدَقُوا أَيُّهَا الْمَلِكُ فَارْدُدْهُمْ فَهُمْ أَعْلَمُ بِقَوْمِهِمْ فَغَضِبَ النَّجَاشِيُّ، ثُمَّ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَفْعَلُ، قَوْمٌ نَزَلُوا بِلَادِي، وَلَجَئُوا إِلَيَّ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: فَأَرْسَلَ إِلَيْنَا فَاجْتَمَعَ الْمُسْلِمُونَ، فَقَالُوا: مَا تَكَلَّمُونَ بِهِ الرَّجُلَ، فَقَالُوا: نُكَلِّمُهُ بِالَّذِي نَحْنُ عَلَيْهِ، فَأَرْسَلَ النَّجَاشِيُّ فَجَمَعَ بَطَارِقَتَهُ وَأَسَاقِفَتَهُ، وَأَمَرَهُمْ فَنَشَرُوا الْمَصَاحِفَ حَوْلَهُ فَتَكَلَّمَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَقَالَ لَهُمُ النَّجَاشِيُّ: إِنَّ هَؤُلَاءِ يَزْعُمُونَ أَنَّكُمْ فَارَقْتُمْ دِينَهُمْ، وَلَمْ تَتَّبِعُوا دِينِي وَلَا دِينَ الْيَهُودِ فَأَخْبِرَانِي بِدِينِكُمُ الَّذِي فَارَقْتُمْ بِهِ قَوْمَكُمْ، فَقَالَ جَعْفَرٌ: كُنَّا عَلَى دِينِهِمْ وَأَمْرِهِمْ فَبَعَثَ اللَّهُ إِلَيْنَا رَسُولًا صلى الله عليه وسلم نَعْرِفُ نَسَبَهُ وَصِدْقَهُ وَعَفَافَهُ، وَأَمَرَنَا بِالْمَعْرُوفِ، وَنَهَانَا عَنِ الْمُنْكَرِ، وَأَمَرَنَا بِإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَالصِّيَامِ، وَالصَّدَقَةِ، وَصِلَةِ الرَّحِمِ، وَكُلِّ مَا تَعْرِفُ مِنَ الْأَخْلَاقِ الْحَسَنَةِ، وَتَلَا عَلَيْنَا تَنْزِيلًا لَا يُشْبِهُهُ شَيْءٌ غَيْرُهُ فَصَدَّقْنَاهُ، وَآمَنَّا بِهِ، وَعَرَفْنَا أَنَّ مَا جَاءَ بِهِ هُوَ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَفَارَقْنَا عِنْدَ ذَلِكَ قَوْمَنَا فَآذُونَا وَقَسُونَا، فَلَمَّا بَلَغَ مِنَّا مَا ⦗ص: 73⦘ نَكْرَهُ وَلَمْ نَقْدِرْ عَلَى الِامْتِنَاعِ أَمَرَنَا نَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم أَنْ نَخْرُجَ إِلَى بِلَادِكَ اخْتِيَارًا لَكَ عَلَى مَنْ سِوَاكَ لِتَمْنَعَهُمْ مِنَ الظُّلْمِ، فَقَالَ النَّجَاشِيُّ: فَهَلْ مَعَكُمْ مِمَّا نَزَلَ عَلَيْهِ مِنْ شَيْءٍ تَقْرَءُونَهُ عَلَيَّ فَقَالَ جَعْفَرٌ: نَعَمْ، فَقَرَأَ جَعْفَرٌ كهيعص، فَلَمَّا قَرَأَهَا عَلَيْهِ بَكَى النَّجَاشِيُّ حَتَّى أَخْضَلَ لِحْيَتَهُ وَبَكَتْ أَسَاقِفَتُهُ حَتَّى أَخْضَلُوا مَصَاحِفَهُمْ، قَالَ: وَأُرَاهُ قَالَ: وَلِحَاهُمْ، ثُمَّ قَالَ النَّجَاشِيُّ: وَاللَّهِ إِنَّ هَذَا الْكَلَامَ وَالْكَلَامَ الَّذِي جَاءَ مُوسَى لَيَخْرُجَانِ مِنْ مِشْكَاةٍ وَاحِدَةٍ، ثُمَّ قَالَ: وَاللَّهِ لَا أُسْلِمُهُمُ إِلَيْكُمَا وَلَا أُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمَا فَالْحَقَا بِشَأَنْكُمَا قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: فَخَرَجَا مَقْبُوحَيْنِ مَرْدُودٌ أَمْرُهُمَا، فَقَالَ: عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: وَاللَّهِ لَآتِيَنَّهُ غَدًا بِقَوْلٍ أَبْتَرُ بِهِ خَضْرَاءَهُمْ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي رَبِيعَةَ لَا تَفْعَلْ فَإِنَّ لِلْقَوْمِ رَحِمًا، وَإِنْ كَانُوا قَدْ خَالَفُونَا فَمَا نُحِبُّ أَنْ يَبْلُغَ مِنْهُمْ، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ دَخَلَا عَلَيْهِ، فَقَالَا: أَيُّهَا الْمَلِكُ، إِنَّهُمْ يُخَالِفُونَكَ فِي عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَيَزْعُمُونَ أَنَّهُ عَبْدٌ ، فَسَلْهُمْ عَنْ ذَلِكَ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ، فَمَا نَزَلَ بِنَا قَطُّ مِثْلُهَا، قَالُوا: قَدْ عَرَفْتُمْ أَنَّ عِيسَى إِلَهُهُ الَّذِي يُعْبَدُ، وَقَدْ عَرَفْتُمْ أَنَّ نَبِيَّكُمْ جَاءَكُمْ بِأَنَّهُ عَبْدٌ، وَأَنَّ مَا يَقُولُونَ هُوَ الْبَاطِلُ، فَمَاذَا تَقُولُونَ؟ فَقَالُوا: نَقُولُ بِمَا جَاءَ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمْ فَدَخَلُوا عَلَيْهِ، فَقَالَ: مَا تَقُولُونَ فِي عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ؟ فَقَالَ جَعْفَرٌ: نَقُولُ إِنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَرُوحُهُ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى الْعَذْرَاءِ الْبَتُولِ فَأَخَذَ النَّجَاشِيُّ عُودًا، وَقَالَ: مَا عَدَا عِيسَى مَا تَقُولُونَ مِثْلَ هَذَا الْعُودِ قَالَ فَنَخِرَتْ أَسَاقِفَتُهُ، فَقَالَ: وَإِنْ نَخِرْتُمُ اذْهَبُوا فَأَنْتُمْ شُيُومٌ بِأَرْضِي يَقُولُونَ: أَنْتُمْ آمِنُونَ مَنْ سَبَّكُمْ غَرِمَ مَا أُحِبُّ أَنِّي آذَيْتُ رَجُلًا مِنْكُمْ وَأَنَّ لِي دَبْرًا مِنْ ذَهَبٍ، وَالدَّبْرُ بِلِسَانِهِمُ الْجَبَلُ، وَاللَّهِ مَا أَخَذَ اللَّهُ مِنِّي رِشْوَةً حِينَ رَدَّ عَلَيَّ مُلْكِي، وَمَا أَطَاعَ اللَّهُ فِيَّ النَّاسَ فَأُطِيعَهُمْ فِيهِ ⦗ص: 74⦘ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: فَجَعَلْنَا نَتَعَرَّضُ لِعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَصَاحِبِهِ أَنْ يَسُبَّانَا فَيُغَرِّمَهُمَا، فَخَرَجَا خَائِبَيْنِ، وَأَقَمْنَا فِي خَيْرِ دَارٍ وَفِي خَيْرِ جِوَارٍ، فَبَيْنَا نَحْنُ عِنْدَهُ قَدْ آمَنَّا، وَاطْمَئْنَنَّا إِذْ شَعَبَ عَلَيْهِ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ فَنَازَعَهُ فِي الْمُلْكِ، فَمَا عَلِمْنَا أَصَابَنَا خَوْفٌ أَشَدَّ مِمَّا أَصَابَنَا عِنْدَ ذَلِكَ فَرَقًا مِنْ أَنْ يَظْهَرَ ذَلِكَ الرَّجُلُ فَيَتَبَوَّأَ مِنَّا مَنْزِلَنَا وَيَأْتِينَا رَجُلٌ لَا يَعْرِفُ مِنَّا مِثْلَ مَا كَانَ يَعْرِفُ النَّجَاشِيُّ، وَكُنَّا نَدْعُو لَيْلًا وَنَهَارًا أَنْ يُعِزَّهُ اللَّهُ وَيُظْهِرَهُ فَخَرَجَ النَّجَاشِيُّ سَائِرًا إِلَى ذَلِكَ الرَّجُلِ، فَقُلْنَا: مَنْ يَنْظُرُ لَنَا مَا يَفْعَلُ الْقَوْمُ؟ فَقَالَ الزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ: أَنَا، وَكَانَ أَحْدَثَهُمْ سِنًا فَأَخَذَ قِرْبَةً، فَفَتَحَهَا، ثُمَّ رَبَطَهَا فِي صَدْرِهِ، ثُمَّ وَقَعَ فِي النِّيلِ وَهُوَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ، ثُمَّ الْتَقَى الْقَوْمُ نَاحِيَةَ الْقُصْوَى فَهُزِمَ جُنْدُ ذَلِكَ الرَّجُلِ وَأَقْبَلَ الزُّبَيْرُ حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ شَطِّ النِّيلِ أَلَاحَ بِثَوْبِهِ وَصَرَخَ أَبْشِرُوا فَقَدْ أَعَزَّ اللَّهُ النَّجَاشِيَّ وَأَظْهَرَهُ، وَكَانَتْ أُمُّ سَلَمَةَ تَقُولُ: فَمَا أَذْكُرُنِي فَرِحْتُ فَرَحًا قَطُّ مِثْلَهُ حِينَ بَدَا أَنْ يَقُومَ قَوْمٌ يَأْتُوا مَكَّةَ مِنْ غَيْرِ كُرْهٍ "
১৮৩৫ - ওয়াহব ইবনে জারীর ইবনে হাযিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-হারিস ইবনে হিশাম থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে এবং উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন—আর হাদীসের মূল ভিত্তি হলো আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-হারিস থেকে—তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: যখন মক্কায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ পরীক্ষার সম্মুখীন হলেন, তখন তিনি তাদের আবিসিনিয়া (হাবাশা) ভূমিতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। অতঃপর আমরা দলে দলে বের হলাম। যখন আমরা সেখানে পৌঁছালাম, আমরা সর্বোত্তম আবাসন ও স্থিতি লাভ করলাম এবং একজন চমৎকার প্রতিবেশী (নাজাশী) পেলাম। ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ এদিকে কুরাইশরা পরামর্শ করল যে, তারা আমাদের বিষয়ে রাজার কাছে কুরাইশদের মধ্য থেকে দুজন শক্তিশালী লোক পাঠাবে এবং তার জন্য তাদের দেশের দুর্লভ উপহার সামগ্রী, বিশেষ করে চামড়া ও অন্যান্য জিনিস পাঠাবে। নাজাশী উপহার হিসেবে চামড়া খুব পছন্দ করতেন। তারা তার ধর্মযাজকদের (বিশপদের) জন্যও উপহার পাঠাল। তারা এটি কার্যকর করল এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবিআহ ও আমর ইবনুল আসকে পাঠাল। উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন: আমাদের কাছে আসার আগ পর্যন্ত আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবিআহ ছিল তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত আল্লাহভীরু ও নরম। যখন তারা পৌঁছাল, তারা প্রথমে ধর্মযাজকদের উপহার দিল এবং তাদের কাছে তাদের প্রয়োজনের কথা বর্ণনা করল। এরপর তারা নাজাশীর দরবারে প্রবেশ করে বলল: "হে রাজন! আমাদের মধ্য থেকে কিছু যুবক পালিয়ে এসেছে, তারা আপনার ধর্ম এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করে এক নতুন ধর্মের উদ্ভাবন করেছে যা আমরা চিনি না। তারা তাদের সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের এবং প্রাজ্ঞজনদের ত্যাগ করে চলে এসেছে। তারা আপনার কাছে এসেছে যাতে আপনি তাদের তাদের গোত্র ও পিতাদের কাছে ফিরিয়ে দেন, কারণ তারাই তাদের সম্পর্কে বেশি অবগত। অতএব আপনি তাদের আমাদের হাতে তুলে দিন যেন আমরা তাদের তাদের পিতাদের ও গোত্রের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারি।" তার ধর্মযাজকরা বলল: "হে রাজন, তারা সত্যই বলেছে, আপনি তাদের ফিরিয়ে দিন, কারণ তারা তাদের কওম সম্পর্কে বেশি জানে।" তখন নাজাশী রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তা করব না। যারা আমার দেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং আমার প্রতিবেশী হয়েছে তাদের আমি ফিরিয়ে দেব না।" উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন: অতঃপর নাজাশী আমাদের ডেকে পাঠালেন। মুসলিমরা একত্রিত হয়ে পরামর্শ করল: "আমরা এই লোকটির কাছে কী বলব?" তারা বলল: "আমরা যা জানি এবং আমাদের যা দীন, তাই বলব।" নাজাশী তার ধর্মযাজক ও পাদ্রীদের ডাকলেন এবং তাদের আদেশ দিলেন। তারা তাদের চারপাশে ধর্মগ্রন্থগুলো খুলে বসল। অতঃপর জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.) কথা বললেন। নাজাশী তাদের বললেন: "এই ব্যক্তিরা দাবি করছে যে তোমরা তাদের ধর্ম ত্যাগ করেছ, অথচ তোমরা আমার ধর্ম বা ইহুদি ধর্মও গ্রহণ করোনি। তাহলে তোমাদের সেই ধর্ম সম্পর্কে আমাকে জানাও যার কারণে তোমরা তোমাদের কওমকে ত্যাগ করেছ।" জাফর (রা.) বললেন: "আমরা তাদেরই ধর্মে ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠালেন যার বংশমর্যাদা, সত্যবাদিতা এবং পবিত্রতা সম্পর্কে আমরা জানি। তিনি আমাদের ভালো কাজের আদেশ দেন, মন্দ থেকে নিষেধ করেন, সালাত কায়েম করতে, রোজা রাখতে, সাদাকা দিতে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে বলেন। এছাড়া আপনি উত্তম চরিত্রের যত গুণাবলি জানেন তার সবই তিনি আমাদের শিক্ষা দেন। তিনি আমাদের কাছে এমন এক বাণী তিলাওয়াত করেন যার সদৃশ অন্য কিছু নেই। আমরা তাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি এবং তার ওপর ঈমান এনেছি। আমরা বুঝতে পেরেছি যে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা-ই সত্য। একারণেই আমরা আমাদের কওমকে ত্যাগ করেছি। এরপর তারা আমাদের ওপর নির্যাতন শুরু করল এবং কঠোরতা প্রদর্শন করল। যখন আমাদের ওপর এমন কিছু ঘটল যা ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ আমরা অপছন্দ করি এবং আমরা তা প্রতিরোধে সক্ষম ছিলাম না, তখন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আপনার দেশে চলে আসার নির্দেশ দিলেন। আমরা অন্যদের চেয়ে আপনাকে বেছে নিয়েছি যেন আপনি তাদের জুলুম থেকে আমাদের রক্ষা করেন।" নাজাশী বললেন: "তার ওপর যা নাযিল হয়েছে তার কিছু কি তোমাদের কাছে আছে যা আমাকে পড়ে শোনাবে?" জাফর (রা.) বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর জাফর 'কাফ-হা-ইয়া-আইন-সোয়াদ' (সূরা মারইয়াম) তিলাওয়াত করলেন। যখন তিনি এটি পাঠ করলেন, নাজাশী এত কাঁদলেন যে তার দাড়ি ভিজে গেল এবং তার বিশপরাও এত কাঁদলেন যে তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো ভিজে গেল। বর্ণনাকারী বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন যে তাদের দাড়িও ভিজে গিয়েছিল। তারপর নাজাশী বললেন: "আল্লাহর কসম! এই বাণী এবং যা মুসা (আ.) নিয়ে এসেছিলেন তা একই প্রদীপ থেকে নির্গত হয়েছে।" এরপর তিনি (কুরাইশ প্রতিনিধিদের) বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তাদের তোমাদের হাতে তুলে দেব না এবং তোমাদের ও তাদের মধ্যে কোনো বাধা হতে দেব না। তোমরা তোমাদের কাজে ফিরে যাও।" উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন: তারা অপদস্থ হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে এল। আমর ইবনুল আস বলল: "আল্লাহর কসম, কাল আমি রাজার কাছে এমন এক কথা বলব যা দিয়ে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলব।" আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবিআহ বলল: "এমনটা করো না, কারণ তাদের সাথে আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে, যদিও তারা আমাদের বিরোধিতা করেছে।" পরদিন তারা রাজার দরবারে গিয়ে বলল: "হে রাজন! তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে আপনার সাথে ভিন্নমত পোষণ করে এবং দাবি করে যে তিনি কেবল একজন বান্দা। আপনি তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করুন।" উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন: ইতিপূর্বে আমাদের ওপর এমন বিপদ কখনো আসেনি। মুসলিমরা বলাবলি করতে লাগল: "তোমরা জানো যে নাজাশী ঈসাকে উপাস্য মনে করে, অথচ তোমাদের নবী তোমাদের কাছে খবর দিয়েছেন যে তিনি একজন বান্দা। এখন তোমরা কী বলবে?" তারা বলল: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে আমরা তাই বলব।" নাজাশী তাদের ডেকে পাঠালেন। তারা প্রবেশ করলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে কী বলো?" জাফর (রা.) বললেন: "আমরা বলি তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর পক্ষ থেকে আসা রূহ এবং তাঁর কালিমা (বাণী), যা তিনি কুমারী মারইয়ামের কাছে প্রেরণ করেছিলেন।" তখন নাজাশী মাটি থেকে একটি কাঠি তুলে নিলেন এবং বললেন: "তোমরা যা বললে, ঈসা ইবনে মারইয়াম তার থেকে এই কাঠির সমপরিমাণও বেশি কিছু নন।" উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন: তখন তার বিশপরা নাক দিয়ে শব্দ (অসন্তোষ প্রকাশ) করতে লাগল। নাজাশী বললেন: "তোমরা নাক দিয়ে শব্দ করলেও আমার কিছু যায় আসে না। তোমরা (মুসলিমরা) আমার দেশে শান্তিতে থাকো।" তিনি আরও বললেন: "তোমাদের যে গালি দেবে তাকে জরিমানা করা হবে। আমার কাছে সোনার পাহাড় থাকলেও আমি তোমাদের কাউকে কষ্ট দিতে পছন্দ করব না।" (তাদের ভাষায় 'দাবর' মানে পাহাড়)। নাজাশী আরও বললেন: "আল্লাহর কসম, যখন আল্লাহ আমার রাজত্ব আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তখন তিনি আমার কাছ থেকে কোনো ঘুষ নেননি, তাই আমিও তাদের ব্যাপারে আল্লাহর নাফরমানি করব না এবং মানুষের কথা মেনে নেব না।" ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ উম্মে সালামাহ (রা.) বলেন: অতঃপর আমর ইবনুল আস এবং তার সঙ্গী ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেল। আর আমরা সর্বোত্তম আবাসে এবং সর্বোত্তম প্রতিবেশী হিসেবে অবস্থান করতে থাকলাম। আমরা যখন সেখানে শান্তিতে ও স্বস্তিতে ছিলাম, হঠাৎ নাজাশীর কওমের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল এবং রাজত্ব নিয়ে বিবাদ শুরু করল। আমাদের ওপর এর চেয়ে কঠিন ভীতি আর কখনো আসেনি এই আশঙ্কায় যে, যদি ওই ব্যক্তি জয়ী হয় তবে সে হয়তো আমাদের অবস্থান সম্পর্কে নাজাশীর মতো সহনশীল হবে না। আমরা দিনরাত আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম যেন তিনি নাজাশীকে সাহায্য করেন এবং জয়ী করেন। নাজাশী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বের হলেন। আমরা বললাম: "কে আছে যে গিয়ে দেখে আসবে কী ঘটছে?" যুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.) বললেন: "আমি যাব।" তিনি তখন বয়সে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। তিনি একটি মশক নিয়ে তাতে বাতাস ভরে নিজের বুকে বাঁধলেন, তারপর নীল নদে ঝাঁপ দিলেন। নীল নদ আমাদের ও তাদের যুদ্ধের স্থানের মাঝে ছিল। এক পর্যায়ে তারা চূড়ান্ত যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং ওই বিদ্রোহী ব্যক্তির বাহিনী পরাজিত হলো। যুবায়ের (রা.) ফিরে এসে নীল নদের তীরে দাঁড়িয়ে কাপড় নাড়িয়ে চিৎকার করে বললেন: "সুসংবাদ গ্রহণ করো! আল্লাহ নাজাশীকে সাহায্য করেছেন এবং তাকে জয়ী করেছেন।" উম্মে সালামাহ (রা.) বলতেন: "সেই দিনের আনন্দের মতো আনন্দ আমার আর কখনো মনে পড়ে না।" এটি ছিল মক্কায় ফেরার ইচ্ছার আগে তাদের সেখানে থাকার সময়কার ঘটনা।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٤)
1836 - أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، نا أَبُو سَلَمَةَ قَالَ: قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: " كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 75⦘ وَسَلَّمَ فِي اللِّحَافِ فَوَجَدْتُ مَا يَجِدُ النِّسَاءَ مِنَ الْحَيْضَةِ فَانْسَلَلْتُ مِنَ اللِّحَافِ ثُمَّ شَدَدْتُ عَلَيَّ ثِيَابِي، ثُمَّ جِئْتُ فَقَالَ: «تَعَالَى فَادْخُلِي» فَدَخَلْتُ "
১৮৩৬ - আবদাহ ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সালামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উম্মু সালামাহ বলেছেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ চাদরের নিচে ছিলাম। এমতাবস্থায় আমি ঋতুবতী নারীদের ন্যায় মাসিক অনুভব করলাম। তখন আমি চাদরের নিচ থেকে চুপিচুপি সরে গেলাম এবং আমার কাপড় কষে পরিধান করে নিলাম। অতঃপর আমি ফিরে আসলাম। তখন তিনি বললেন: «এসো, ভেতরে প্রবেশ করো», ফলে আমি প্রবেশ করলাম।"
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٥)
1837 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، نا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: " كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي اللِّحَافِ فَحِضْتُ فَانْسَلَلْتُ، فَقَالَ: «مَا لَكِ أَنَفِسْتِ؟» فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَذَهَبْتُ فَشَدَدْتُ عَلَيَّ ثِيَابِي، ثُمَّ جِئْتُ فَاضْطَجَعْتُ مَعَهُ "
১৮৩৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা’মার, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একই লেপের নিচে ছিলাম, এমতাবস্থায় আমার ঋতুস্রাব শুরু হলো। তখন আমি চুপিচুপি সরে গেলাম। তিনি বললেন: «তোমার কী হয়েছে? তোমার কি ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে?» আমি বললাম: «হ্যাঁ»। অতঃপর আমি গিয়ে আমার কাপড় কষে বেঁধে নিলাম এবং পুনরায় ফিরে এসে তাঁর সাথে শয়ন করলাম।"
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٥)
1838 - أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، صَاحِبُ الدَّسْتُوَائِيِّ ، حَدَّثَنِي ⦗ص: 76⦘ أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ حَدَّثَتْهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ حَدَّثَتْهَا قَالَتْ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَمِيلَةِ فَوَجَدْتُ مَا يَجِدُ النِّسَاءُ، فَقَالَ: «مَا لَكِ أَنَفِسْتِ؟» - يَعْنِي الْحَيْضَةَ - فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَشَدَدْتُ عَلَيَّ فَدَعَانِي فَدَخَلْتُ مَعَهُ فِي الْخَمِيلَةِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ يَغْتَسِلَانِ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، وَكَانَ يُقَبِّلُهَا وَهُوَ صَائِمٌ
১৮৩৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মু'আয ইবন হিশাম, যিনি আদ-দাত্তুওয়াইয়ীর সঙ্গী, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭৬⦘ আমার পিতা, ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসীর থেকে, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ যে, যায়নাব বিনত উম্মে সালামাহ তাকে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে সালামাহ তাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি চাদরের নিচে ছিলাম। এমতাবস্থায় আমি তা অনুভব করলাম যা মহিলারা অনুভব করে। তিনি বললেন: «তোমার কী হয়েছে? তোমার কি ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে?» —অর্থাৎ ঋতুস্রাব— আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন আমি নিজের কাপড় শক্ত করে বেঁধে নিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমি তাঁর সাথে সেই চাদরের নিচে প্রবেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তিনি একই পাত্র থেকে গোসল করতেন এবং তিনি রোজা রাখা অবস্থায় তাঁকে চুম্বন করতেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٦)
1839 - أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، نا شُعْبَةُ، عَنْ تَوْبَةَ الْعَنْبَرِيِّ ⦗ص: 77⦘، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصِلُ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ» قَالَ إِسْحَاقُ: فَسَّرَهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: يُقَالُ صَامَ شَعْبَانَ كُلَّهُ، وَإِنْ كَانَ يُفْطِرُ يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ مِثْلَ مَا يُقَالُ فُلَانٌ أَحْيَا اللَّيْلَ كُلَّهُ، وَقَدْ نَامَ مِنْهُ قَلِيلًا
১৮৩৯ - আন-নাযর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাওবাহ আল-আনবারী থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমী থেকে, আবু সালামাহ থেকে, উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাবান মাসকে রমজানের সাথে মিলিয়ে নিতেন (অর্থাৎ একাধারে রোজা রাখতেন)»। ইসহাক বলেন: ইবনুল মুবারক এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, তিনি পুরো শাবান মাস রোজা রাখতেন, যদিও তিনি মাঝে এক বা দুদিন রোজা রাখতেন না; যেমনটি বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি সারা রাত জেগে ইবাদত করেছে, অথচ সে রাতের সামান্য অংশ ঘুমিয়েছে।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٧)
1840 - أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ ⦗ص: 78⦘ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ»
১৮৪০ - ওকী' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘ সালিম বিন আবিল জা'দ থেকে, আবু সালামাহ থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান ও রমজান মাসে সিয়াম পালন করতেন»
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٩)
‌‌مَا يُرْوَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ وَنَبْهَانَ وَابْنِ رَافِعٍ وَغَيْرِهِمْ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আতা ইবনে ইয়াসার, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার, নাবহান, ইবনে রাফে এবং মদিনাবাসীদের মধ্য হতে তাঁদের ছাড়া অন্যদের সূত্রে উম্মে সালামাহ থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে যা বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٧٩)
1841 - أَخْبَرَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يُحَدِّثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا تَقُولُ فِي ذُيُولِ النِّسَاءِ؟ فَقَالَ: «يُرْخِينَهُ شِبْرًا» قَالَتْ: فَقُلْتُ: إِذَا تَنْكَشِفُ عَنْهُنَّ، فَقَالَ: «فَذِرَاعًا لَا يَزِدْنَ عَلَيْهِ»

⦗ص: 80⦘

 

1842 - أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ
১৮৪১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুতামির ইবনে সুলাইমান আত-তাইমি, তিনি বলেন: আমি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমরকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি নাফে থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, নারীদের পোশাকের ঝুল সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: “তারা যেন তা এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে দেয়।” তিনি বলেন: আমি বললাম, তবে তো তাদের পা উন্মোচিত হয়ে যাবে। তখন তিনি বললেন: “তাহলে এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে দেবে, এর বেশি যেন তারা না বাড়ায়।”

⦗পৃষ্ঠা: ৮০⦘

 

১৮৪২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে আবি উবাইদ থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٨١)
1843 - أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، نا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ فَرُّوخَ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُنِي وَأَنَا صَائِمَةٌ وَهُوَ صَائِمٌ»
১৮৪৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তালহা ইবনে ইয়াহইয়া, আব্দুল্লাহ ইবনে ফাররুখ থেকে—যিনি উম্মে সালামার মুক্ত দাস—তিনি উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে চুম্বন করতেন এমতাবস্থায় যে আমি রোজা পালনরত ছিলাম এবং তিনিও রোজা পালনরত ছিলেন।»
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٨١)
1844 - أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ: " أَنَّ امْرَأَةً، اسْتُحِيضَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَتْ لَهَا أُمُّ سَلَمَةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «لِتَنْظُرْ عِدَّةَ اللَّيَالِي وَالْأَيَّامِ الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُهُنَّ وَقَدْرَهَا مِنَ الشَّهْرِ، فَإِذَا طَغَتْ ذَلِكَ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّي»

 

1845 - قَاَل إِسْحَاقُ قُلْتُ: لِأَبِي قُرَّةَ مُوسَى بْنِ طَارِقٍ أَذَكَرَ ⦗ص: 82⦘ مُوسَى بْنَ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ امْرَأَةً اسْتُحِيضَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ الْحَدِيثَ وَذَكَرْتُ مَا فِيهِ فَإِذَا خُلِّفَتْ وَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّ، فَأَقَرَّ بِهِ، وَقَالَ: نَعَمْ
১৮৪৪ - রাওহ ইবন উবাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মালিক ইবন আনাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন নাফে’ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জনৈক মহিলার ইস্তিহাযা (অনিয়মিত রক্তস্রাব) দেখা দিয়েছিল। তখন উম্মু সালামাহ (রা.) তার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন: «সে যেন সেই রাত ও দিনগুলোর সংখ্যার দিকে লক্ষ্য করে যখন তার ঋতুস্রাব হতো এবং মাসে এর পরিমাণ কতটুকু ছিল। যখন সে সময়টুকু অতিক্রান্ত হবে, তখন সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে।»

 

১৮৪৫ - ইসহাক বলেন, আমি আবূ কুররাহ মূসা ইবন তারিককে বললাম: মূসা ইবন উকবা কি ⦗পৃষ্ঠা: ৮২⦘ নাফে’ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জনৈক মহিলার ইস্তিহাযা দেখা দিয়েছিল—অতঃপর আমি তাঁর কাছে হাদীসটি পাঠ করলাম এবং তাতে যা আছে তা উল্লেখ করলাম—যে যখন সেই সময় অতিবাহিত হবে এবং সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হবে, তখন সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে। তিনি এটি স্বীকার করলেন এবং বললেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٨٢)
1846 - أخبرنا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ مَوْلَى بَنِي تَمِيمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ ⦗ص: 83⦘: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِذَا ابْتُلِيَ أَحَدُكُمْ بِالْقَضَاءِ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ فَلْيُسَوِّ بَيْنَهُمْ فِي النَّظَرِ وَالْمَجْلِسِ وَالْإِشَارَةِ» قَالَتْ: وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «إِذَا ابْتُلِيَ بِالْقَضَاءِ بَيْنَ النَّاسِ فَلَا يَرْفَعُ صَوْتَهُ عَلَى أَحَدٍ الْخَصْمَيْنِ أَكْثَرَ مِنَ الْآخَرِ»
১৮৪৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ, তিনি আবু বকর হতে বর্ণনা করেছেন—যিনি বনু তামীমের আযাদকৃত দাস ছিলেন—তিনি আতা ইবনে ইয়াসার হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামাহ হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৮৩⦘: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমাদের কেউ যখন মুসলিমদের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনার পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তখন সে যেন দৃষ্টিপাত, মজলিস (বসার স্থান) এবং ইশারা-ইঙ্গিতের ক্ষেত্রে তাদের মাঝে সমতা বজায় রাখে।» তিনি আরও বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: «যখন কেউ মানুষের মাঝে বিচারকার্যের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তখন সে যেন বিবাদমান দুই পক্ষের একজনের ওপর অন্যজনের তুলনায় উচ্চস্বরে কথা না বলে।»
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٨٣)
1847 - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ نَبْهَانَ مَوْلَى أُمِّ ⦗ص: 84⦘ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا كَانَ لِإِحْدَاكُنَّ مُكَاتَبٌ، وَكَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي فَلْيَحْتَجِبْ مِنْهُ»
১৮৪৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, যুহরী থেকে, নাবহানের সূত্রে যিনি উম্মু ⦗পৃষ্ঠা: ৮৪⦘ সালামাহর মুক্তদাস, উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কারো যদি কোনো মুকাতাব (চুক্তিভুক্ত দাস) থাকে এবং তার নিকট (চুক্তির অর্থ) পরিশোধ করার মতো সম্পদ থাকে, তবে সে যেন তার থেকে পর্দা করে।»
(খণ্ড: ٤) মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (পৃষ্ঠা: ٨٤)
1848 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ⦗ص: 85⦘ الزُّهْرِيِّ، عَنْ نَبْهَانَ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: " كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ مَيْمُونَةُ فَاسْتَأْذَنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ، وَذَلِكَ بَعْدَ الْحِجَابِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَهُمَا: «قُومَا» فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ أَعْمَى لَا يُبْصِرُنَا فَقَالَ رَسُولُ صلى الله عليه وسلم: «أَفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا»
১৮৪৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৮৫⦘ যুহরী থেকে, তিনি উম্মে সালামার মুক্ত দাস নাভহান থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম এবং তাঁর নিকট মায়মুনাও ছিলেন। এমতাবস্থায় ইবনে উম্মে মাকতূম অনুমতি চাইলেন, আর এটি ছিল হিজাবের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পরের ঘটনা। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের উভয়কে বললেন: «তোমরা উঠে যাও»। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো অন্ধ, তিনি আমাদের দেখছেন না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা দুজন কি অন্ধ?»"