(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: -)
مسند أبي بكر الصديق لأحمد بن علي المروزي   (أبو بكر المروزي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند أبي بكر الصديق

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن سعيد بن إبراهيم الأموي المروزي (ت 292 هـ)

المحقق: شعيب الأرناؤوط [ت 1438 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

عدد الصفحات: 210

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহমদ ইবন আলী আল-মারওয়াযী বিরচিত মুসনাদে আবু বকর আস-সিদ্দীক   (আবু বকর আল-মারওয়াযী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুসনাদে আবু বকর আস-সিদ্দীক

লেখক: আবু বকর আহমদ ইবন আলী ইবন সাঈদ ইবন ইবরাহীম আল-উমাবী আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ২৯২ হিজরী)

সম্পাদক: শুয়াইব আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরী]

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী - বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১০

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌رِوَايَةُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما
আবু বকর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে উমর ইবনুল খাত্তাবের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْفَارِسِيُّ قِرَاءَةًً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ النَّاصِحِ بْنِ شُجَاعٍ الْفَقِيهُ قِرَاءَةًُ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي يَوْمِ الْأَحَدِ لِأَرْبَعٍ بَقِينَ مِنْ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ مِنْ سَنَةِ إِحْدَى وَسِِتِّينَ وَثَلَاثِمِائَةْ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَعِيدٍ الْقَاضِي الْمرْوَزِي فِي مُسْتَهَلِّ ذِي الحْجَّةِ سَنَةَ إِحْدَى وَتِسْعينَ وَمِائَتَيْنِ، قَالَ:

⦗ص: 35⦘

 

1 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ ، عَنْ عُمَرَ ، رضي الله عنه قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَجِئْتَ أَنْتَ وَهَذَا - يَعْنِي الْعَبَّاسَ وعَلِيَّا رضي الله عنهما تَطْلُبُ مِيرَاثَكَ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ ، وَيَطْلُبُ هَذَا مِيرَاثَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا نُورَثُ ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ»
আবু আল-কাসিম আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ফারিসি তাঁর নিকট পাঠকালে আমাকে শ্রবণ করিয়ে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আহমাদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আন-নাসিহ বিন শুজা আল-ফকিহ ৩৬১ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের চার দিন বাকি থাকতে রবিবার দিনে তাঁর নিকট পাঠকালে আমাকে শ্রবণ করিয়ে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন সাঈদ আল-কাজি আল-মারওয়াজি ২৯১ হিজরি সালের জিলহজ মাসের শুরুতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘

 

১ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর বিন উমর আজ-জাহরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক বিন আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি মালিক বিন আউস বিন আল-হাদাসান থেকে, তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন, তখন আবু বকর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অভিভাবক। তখন আপনি এবং ইনি—অর্থাৎ আব্বাস ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)—এলেন; আপনি আপনার ভাতিজার নিকট থেকে আপনার উত্তরাধিকার দাবি করছিলেন এবং ইনি তাঁর স্ত্রীর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার দাবি করছিলেন। তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমাদের কোনো উত্তরাধিকার স্বত্ব সাব্যস্ত হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ زَنْجَوَيْهِ ⦗ص: 37⦘ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ الْحَدَثَانِ قَالَ: أَرْسَلَ إِلِيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَقَالَ: إِنَّهُ قَدْ حَضَرَ بِالْمَدِينَةِ أَهْلُ أَبْيَاتٍ مِنْ قَوْمِكَ ، وَأَنَا قَدْ أَمَرْتُ لَهُمْ بِرَضْخٍ فَاقْسِمْهُ بَيْنَهُمْ ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مُرْ بِذَلِكَ غَيْرِي ، فَقَالَ لَهُ: اقْبِضْهُ أَيُّهَا الرَّجُلُ قَالَ: فَبَيْنَا أَنَا كَذَلِكُ إِذْ جَاءَ مَوْلَاهُ يرْفَأُ ⦗ص: 38⦘ قَالَ: هَذَا عُثْمَانُ ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ ، وسَعْدٌ ، وَالزُّبَيْرُ وَلَا أَدْرِي ذَكَرَ طَلْحَةَ أَمْ لَا ، يسْتَأْذِنُونَ عَلَيْكَ ، فَقَالَ: ائْذَنْ لَهُمْ ، قَالَ: ثُمَّ مَكَثَ سَاعَةً ، قَالَ: ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ: هَذَا الْعَبَّاسُ وَعَلِيٌّ رضي الله عنهما يسْتَأْذِنَانِ عَلَيْكَ ، فَقَالَ: ائْذَنْ لَهُمَا فَلَمَّا دَخَلَ الْعَبَّاسُ قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنِي وبَيْنَ هَذَا ، وَهُمَا حِينَئِذٍ يخْتَصِمَانِ فِيمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَمْوالِ بَنِي النَّضِيرِ ، فَقَالَ الْقَوْمُ: اقْضِ بَيْنَهُمَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ، وَأَرِحْ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِنْ صَاحِبِهِ فَقَدْ طَالَتْ خُصُومَتُهُمَا ، فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: أَنْشُدُكُمُ اللَّهَ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ» ؟ قَالُوا: قَدْ قَالَ ذَلِكَ ، ثُمَّ قَالَ لَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ ، قَالَ: فَإِنِّي أُخْبِرُكُمْ عَنْ هَذَا الْفَيْءِ ، إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى خَصَّ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم بِشَيْءٍ لَمْ يُعْطِهِ غَيْرَهُ ، قَالَ: {وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلِ وَلَا رِكَابٍ} [الحشر: 6] فَكَانَتْ هَذِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 39⦘ خَاصَّةً ثُمَّ وَاللَّهِ مَا أَجَازَهَا دُونَكُمْ ، وَلَا أَسْتَأْثَرُ بِهَا عَلَيْكُمْ ، لَقَدْ قَسَمَهَا بَيْنَكُمْ ، وبَثَّهَا فِيكُمْ ، حَتَّى بَقِيَ مِنْهَا هَذَا الْمَالُ ، وَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهُ سَنَةً ، ورُبَّمَا قَالَ مَعْمَرٌ: قُوتُ أَهْلِهِ سَنَةً ، ثُمَّ يجْعَلُ مَا بَقِيَ مِنْهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ ، فَلَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: أَبُو بَكْرٍ: أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَهُ ، فَأَعْمَلُ فِيهَا مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْمَلُ فِيهَا ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى ، عَلِيٍّ ، وَالْعَبَّاسِ فَقَالَ: وَأَنْتُمَا تَزْعُمَانِ أَنَّهُ فِيهَا ، وَاللَّهُ يعْلَمُ أَنَّهُ فِيهَا صَادِقٌ بَارٌّ ، تَابِعٌ لِلْحَقِّ ، ثُمَّ وُلِّيتُهَا بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ سَنَتَيْنِ مِنْ إِمَارَتِي ، فَعَمِلْتُ فِيهَا بِمَا عَمِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ ، وَأَنْتُمَا تَزْعُمَانِ أَنِّي فِيهَا. . . . وَاللَّهُ يعْلَمُ أَنِّي صَادِقٌ ، وَبَارٌّ ، مُتَابِعٌ لِلْحَقِّ ثُمَّ جِئْتُمَانِي ، جَاءَ هَذَا يَعْنِي الْعَبَّاسَ يسْأَلُنِي عَنْ مِيرَاثِهِ مِنَ ابْنِ أَخِيهِ ، وجَاءَ هَذَا يَعْنِي عَلِيًّا يسْأَلُنِي مِيرَاثَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا ، فَقُلْتُ لَكُمَا: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا نُورَثُ ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ» ⦗ص: 40⦘ ثُمَّ بَدَا لِي أَنْ أَدْفَعَهَا إِلَيْكُمَا ، فَأَخَذْتُ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللَّهِ ومِيثَاقَهُ لَتَعْمَلَانِ فِيهَا بِمَا عَمِلَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَأَنَا مَا وُلِّيتُهَا ، فَقُلْتُمَا: ادْفَعْهَا إِلَيْنَا عَلَى ذَلِكَ تُرِيدَانِ مِنِّي قَضَاءً غَيْرَ هَذَا ، وَالَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ لَا أَقْضِي بَيْنَكُمَا فِيهَا بِقَضَاءٍ غَيْرِ هَذَا ، إِنْ كُنْتُمَا عَجَزْتُمَا عَنْهَا فَادْفَعَاهَا إِلِيَّ ، قَالَ: فَكَانَتْ فِي يدِ عَلِيٍّ رضي الله عنه ، ثُمَّ بِيَدِ حَسَنٍ ، ثُمَّ بِيَدِ حُسَيْنٍ ، ثُمَّ بِيَدِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ ، ثُمَّ بِيَدِ حَسَنِ بْنِ حَسَنٍ ، ثُمَّ بِيَدِ زَيْدِ بْنِ حَسَنٍ ، قَالَ مَعْمَرٌ ، ثُمَّ بِيَدِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسَنٍ
২ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর বিন যানজুওয়াইহ বর্ণনা করেছেন ⦗পৃ: ৩৭⦘ তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মালিক বিন আউস আল-হাদাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং বললেন: তোমার গোত্রের কিছু পরিবারের লোক মদিনায় এসেছে, আর আমি তাদের জন্য কিছু অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি, তুমি তা তাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এর নির্দেশ দিন। তিনি তাকে বললেন: হে লোক, তুমি এটি গ্রহণ করো। তিনি বলেন: আমি যখন সেই অবস্থায় ছিলাম, তখন তার মুক্তদাস ইয়ারফা এল ⦗পৃ: ৩৮⦘ এবং বলল: উসমান, আব্দুর রহমান বিন আউফ, সাদ এবং যুবায়ের —আর আমি জানি না তিনি তালহার কথা উল্লেখ করেছেন কি না— আপনার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন: তাদের অনুমতি দাও। তিনি বলেন: তারপর তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। তিনি বলেন: তারপর তিনি আবার এলেন এবং বললেন: এই যে আব্বাস এবং আলী (রা.) আপনার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন: তাদের দুজনকে অনুমতি দাও। যখন আব্বাস প্রবেশ করলেন, তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমার এবং এই ব্যক্তির মধ্যে ফয়সালা করে দিন। তারা তখন বনূ নাযীর গোত্রের সেই সম্পদ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত ছিলেন যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে 'ফায়' (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) হিসেবে দান করেছিলেন। তখন উপস্থিত দলটি বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন এবং তাদের একে অপরকে বিবাদ থেকে মুক্তি দিন, কারণ তাদের বিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। উমর (রা.) বললেন: আমি তোমাদের সেই আল্লাহর কসম দিচ্ছি যাঁর নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী টিকে আছে, তোমরা কি জানো যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: «আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা»? তারা বলল: তিনি অবশ্যই তা বলেছেন। তারপর তিনি তাদের দুজনের উদ্দেশ্যেও অনুরূপ কথা বললেন। তিনি বললেন: আমি তোমাদের এই 'ফায়' সম্পর্কে বলছি, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর নবীকে (সা.) এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন যা তিনি অন্য কাউকে দেননি। তিনি বললেন: {আর আল্লাহ তাদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে যা দান করেছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া বা উট চালিয়ে যুদ্ধ করোনি} [হাশর: ৬]। সুতরাং এটি বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য ছিল ⦗পৃ: ৩৯⦘ নির্দিষ্ট। তারপর আল্লাহর কসম, তিনি তোমাদের বাদ দিয়ে এটি নিজের কুক্ষিগত করেননি এবং তোমাদের ওপর এর কোনো অগ্রাধিকার দাবি করেননি। তিনি এটি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করেছেন এবং তোমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন, এমনকি তার থেকে এই সম্পদ অবশিষ্ট থাকে। তিনি এখান থেকে তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের খরচ নির্বাহ করতেন। মা'মার সম্ভবত বলেছেন: তাঁর পরিবারের এক বছরের খাদ্য। তারপর যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর মালের (বায়তুল মাল) অন্তর্ভুক্ত করতেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল করলেন, তখন আবু বকর বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরবর্তী প্রতিনিধি (ওয়ালী)। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.) এতে যেভাবে আমল করতেন, আমিও সেভাবে আমল করব। এরপর তিনি আলী এবং আব্বাসের দিকে ফিরে বললেন: আর তোমরা দাবি করছিলে যে তিনি এতে... অথচ আল্লাহ জানেন যে তিনি এতে সত্যবাদী, পুণ্যবান এবং হকের অনুসারী ছিলেন। তারপর আবু বকরের পর আমার শাসনের দুই বছর আমি এর দায়িত্বে ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আবু বকর যেভাবে আমল করেছিলেন, আমিও সেভাবে আমল করেছি। আর তোমরা দাবি করছিলে যে আমি এতে... অথচ আল্লাহ জানেন যে আমি সত্যবাদী, পুণ্যবান এবং হকের অনুসারী। তারপর তোমরা দুজনে আমার কাছে এলে। এই ব্যক্তি অর্থাৎ আব্বাস আমার কাছে এলেন তার ভ্রাতুষ্পুত্রের মীরাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে, আর এই ব্যক্তি অর্থাৎ আলী এলেন তার স্ত্রীর পিতার মীরাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে। আমি তোমাদের দুজনকে বললাম: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা» ⦗পৃ: ৪০⦘ তারপর আমি এটি তোমাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং তোমাদের থেকে আল্লাহর অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নিলাম যে তোমরা এতে সেভাবেই আমল করবে যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.), আবু বকর এবং আমি এর দায়িত্বে থাকাকালীন আমল করেছি। তোমরা বললে: সেই শর্তেই এটি আমাদের কাছে অর্পণ করুন। এখন তোমরা কি আমার কাছে এর বাইরে অন্য কোনো ফয়সালা চাচ্ছ? সেই সত্তার কসম যাঁর নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী টিকে আছে, আমি তোমাদের মাঝে এর বাইরে অন্য কোনো ফয়সালা করব না। যদি তোমরা এর দায়িত্ব পালনে অক্ষম হও, তবে তা আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। তিনি বলেন: তারপর সেই সম্পদ আলীর (রা.) হাতে ছিল, তারপর হাসানের হাতে, তারপর হুসাইনের হাতে, তারপর আলী বিন হুসাইনের হাতে, তারপর হাসান বিন হাসানের হাতে, তারপর যায়েদ বিন হাসানের হাতে। মা'মার বলেন, তারপর তা আব্দুল্লাহ বিন হাসানের হাতে ছিল।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
3 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَارِثٌ النَّقَّالُ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ ، أَنَّ عَلِيًّا ، وَالْعَبَّاسَ ، رضي الله عنهما أَتَيَا عُمَرَ فَسَأَلَاهُ مِيرَاثَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ عُمَرُ: لَمَّا وَلِيَ أَبُو بَكْرٍ أَتَيْتُمَاهُ ، فَسَأَلْتَهُ يَا عَبَّاسُ مِيرَاثَكَ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ ، وسَأَلَهُ عَلِيُّ مِيرَاثَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا ، فَقَالَ لَكُمَا: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا نُورَثُ ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ»
৩ - আহমদ ইবনে আলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারিস আন-নাক্কাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মালিক ইবনে আওস ইবনুল হাদাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী এবং আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) উমরের কাছে আসলেন এবং তাঁরা উভয়ে তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মীরাস প্রার্থনা করলেন। তখন উমর বললেন: যখন আবু বকর দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তখন তোমরা উভয়ে তাঁর নিকট এসেছিলে; হে আব্বাস, তুমি তোমার ভাতিজার পক্ষ থেকে তোমার মীরাস প্রার্থনা করেছিলে এবং আলী তাঁর স্ত্রীর জন্য তাঁর পিতার পক্ষ থেকে মীরাস প্রার্থনা করেছিলেন। তখন তিনি তোমাদের উভয়কে বলেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকাহ হিসেবে গণ্য»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤١)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ ⦗ص: 42⦘: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، عَنْ صَالِحٍ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، يُحَدِّثُ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ، رضي الله عنه حِينَ تَأَيَّمَتْ حَفْصَةُ بِنْتُ عُمَرَ مِنْ خُنَيْسِ بْنِ حُذَافَةَ السَّهْمِيِّ ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم ، فَتُوُفِّيَ بِالْمَدِينَةِ ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: لَقِيتُ عُثْمَانَ رضي الله عنه فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَفْصَةَ ابْنَةَ عُمَرَ قَالَ: قُلْتُ: إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ ، قَالَ: سَأَنْظُرُ فِي أَمْرِي ، فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ ، ثُمَّ لَقِيَنِي فَقَالَ: قَدْ بَدَا لِي أَلَّا أَتَزَوَّجَ يَوْمِي هَذَا ، قَالَ عُمَرُ: فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه فَقُلْتُ: إِنْ شِئْتَ زَوَّجْتُكَ حَفْصَةَ ابْنَةَ عُمَرَ قَالَ: فَصَمَتَ ⦗ص: 43⦘ أَبُو بَكْرٍ ، فَلَمْ يُرْجِعْ إِلَيَّ شَيْئًا ، وَكُنْتُ عَلَيْهِ أَوْجَدَ مِنِّي عَلَى عُثْمَانَ ، فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ ثُمَّ «خَطَبَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَأَنْكَحْتُهَا إِيَّاهُ» ، فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ ، فَقَالَ: لَعَلَّكَ وَجَدْتَ عَلَيَّ حِينَ عَرَضْتَ عَلَيَّ حَفْصَةَ فَلَمْ أُرْجِعْ إِلَيْكَ شَيْئًا ، قَالَ عُمَرُ: قُلْتُ: نَعَمْ ، قَالَ: فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرْجِعَ إِلَيْكَ فِيمَا عَرَضْتَ عَلَيَّ إِلَّا أَنِّي قَدْ كُنْتُ عَلِمْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «قَدْ ذَكَرَهَا» ، فَلَمْ أَكُنْ لِأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَلَوْ تَرَكَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبِلْتُهَا
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন: আমার পিতা সালিহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট সালিম বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমরকে বর্ণনা করতে শুনেছেন: উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, যখন উমর-কন্যা হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) খুনাইস বিন হুযাফা আস-সাহমির পক্ষ হতে বিধবা হলেন—যিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং মদিনায় ইন্তেকাল করেছিলেন—তখন উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি উসমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাথে দেখা করলাম এবং তাঁর কাছে উমর-কন্যা হাফসাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। উমর বলেন: আমি বললাম, ‘আপনি চাইলে আমি আপনার নিকট হাফসাকে বিয়ে দেব।’ তিনি বললেন: ‘আমি আমার বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখব।’ এরপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম, তারপর তিনি আমার সাথে দেখা করে বললেন: ‘আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আপাতত আমি বিয়ে করব না।’ উমর বলেন: এরপর আমি আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাথে দেখা করলাম এবং বললাম: ‘আপনি চাইলে আমি আপনার নিকট উমর-কন্যা হাফসাকে বিয়ে দেব।’ তখন নিশ্চুপ থাকলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ আবু বকর, ফলে তিনি আমাকে কোনো উত্তরই দিলেন না। এতে আমি উসমানের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি মনঃক্ষুণ্ণ হলাম। এরপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম, অতঃপর «আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং আমি তাঁর সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করলাম»। তারপর আবু বকর আমার সাথে দেখা করে বললেন: ‘সম্ভবত আপনি আমার ওপর মনে কষ্ট পেয়েছিলেন যখন আপনি হাফসাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন আর আমি আপনাকে কোনো উত্তর দেইনি?’ উমর বলেন: আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন: ‘আপনার দেওয়া প্রস্তাবে উত্তর দিতে আমাকে অন্য কিছু বাধা দেয়নি, কেবল এটি ছাড়া যে—আমি জানতাম আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) «তাঁর কথা উল্লেখ করেছিলেন»। আর আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গোপন কথা ফাঁস করতে চাইনি। তবে যদি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ছেড়ে দিতেন, তবে অবশ্যই আমি তাঁকে গ্রহণ করতাম।’
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٣)
5 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفٌ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ ⦗ص: 44⦘ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَرنَا مَعْمَرٌ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ سَالِمٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عُمَرَ قَالَ: تَأَيَّمَتْ حَفْصَةُ ابْنَةُ عُمَرَ مِنْ خُنَيْسِ بْنِ حُذَافَةَ أَوْ حُذَيْفَةَ - شَكَّ أَبُو بَكْرٍ - مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا ، فَتُوُفِّيَ بِالْمَدِينَةِ قَالَ: فَلَقِيتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَفْصَةَ فَقُلْتُ: إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ ابْنَةَ عُمَرَ ، فَقَالَ: سَأَنْظُرُ فِي ذَلِكَ ، فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ ، فَلَقِيَنِي فَقَالَ: مَا أُرِيدُ أَنْ أَتَزَوَّجَ يَوْمِي هَذَا ، قَالَ عُمَرُ: فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه فَقُلْتُ: إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ ابْنَةَ عُمَرَ ، فَلَمْ يُرْجِعْ إِلَيَّ شَيْئًا ، وَكُنْتُ أَوْجَدَ عَلَيْهِ مِنِّي عَلَى عُثْمَانَ ، فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ ، «فَخَطَبَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» فَأَنْكَحْتُهَا إِيَّاهُ ، فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ: لَعَلَّكَ وَجَدْتَ عَلَيَّ حِينَ عَرَضْتَ عَلَيَّ حَفْصَةَ فَلَمْ أَرْجِعْ إِلَيْكَ شَيْئًا ، ⦗ص: 45⦘ قَالَ: نَعَمْ ، قَالَ: فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرْجِعَ إِلَيْكَ حِينَ عَرَضْتَ عَلَيَّ إِلَّا أَنِّي سَمِعْتُ «رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُهَا» ، وَلَمْ أَكُنْ لِأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَلَوْ تَرَكَهَا نَكَحْتُهَا
৫ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালাফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের মা'মার সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উমর তনয়া হাফসা খুবাইস ইবনে হুযাফা বা হুযাইফা —আবু বকর সন্দেহ পোষণ করেছেন— থেকে বিধবা হয়েছিলেন; তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, অতঃপর তিনি মদীনায় ইন্তেকাল করেন। তিনি (উমর) বলেন: অতঃপর আমি উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে হাফসার বিবাহের প্রস্তাব পেশ করলাম। আমি বললাম: আপনি চাইলে আমি উমর তনয়া হাফসাকে আপনার নিকট বিবাহ দেব। তিনি বললেন: আমি বিষয়টি ভেবে দেখব। এরপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম, অতঃপর তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আমি বর্তমানে বিবাহ করার ইচ্ছা রাখি না। উমর বলেন: এরপর আমি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আপনি চাইলে আমি উমর তনয়া হাফসাকে আপনার নিকট বিবাহ দেব। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। এতে আমি উসমানের চেয়ে তাঁর প্রতি অধিক মনক্ষুণ্ণ হলাম। এরপর আমি আরও কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম, «অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিলেন» এবং আমি তাঁর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করলাম। এরপর আবু বকর আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: সম্ভবত আপনি আমার প্রতি মনক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন যখন আপনি হাফসার প্রস্তাব আমার কাছে পেশ করেছিলেন এবং আমি আপনাকে কোনো উত্তর দেইনি। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ তিনি (উমর) বললেন: হ্যাঁ। তিনি (আবু বকর) বললেন: আপনি যখন আমার নিকট প্রস্তাব করেছিলেন, তখন আপনাকে উত্তর দেওয়া থেকে অন্য কিছু আমাকে বিরত রাখেনি কেবল এ ছাড়া যে, আমি «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর কথা আলোচনা করতে শুনেছিলাম», আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথা ফাঁস করতে চাইনি। যদি তিনি তাঁকে ছেড়ে দিতেন (প্রস্তাব না দিতেন), তবে আমি অবশ্যই তাঁকে বিবাহ করতাম।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٥)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ حَيَّانَ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ ، أَنَّ عُمَرَ قَالَ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه قَامَ خَطِيبًا فَقَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِينَا عَامَ أَوَّلٍ فَقَالَ: «إِنَّهُ لَمْ يُقْسَمْ بَيْنَ النَّاسِ شَيْءٌ أَفْضَلَ مِنَ الْمُعَافَاةِ بَعْدَ الْيَقِينِ ، أَلَا إِنَّ الصِّدْقَ وَالْبِرَّ فِي الْجَنَّةِ ، أَلَا وَإِنَّ الْكَذِبَ وَالْفُجُورَ فِي النَّارِ»
৬ - আহমাদ ইবনে আলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইম ইবনে হাইয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খুতবা প্রদানের জন্য দাঁড়ালেন এবং বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম বছরে আমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাসের পর মানুষকে সুস্থতা ও নিরাপত্তার চেয়ে উত্তম আর কিছু প্রদান করা হয়নি। জেনে রেখো, সত্যবাদিতা ও পুণ্য জান্নাতে নিয়ে যায়; আর জেনে রেখো, মিথ্যা ও পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
‌‌عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنهما
আবু বকর আস-সিদ্দিক হতে উসমান ইবনে আফফান (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন)
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
7 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَارِثٌ النَّقَّالُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ عُثْمَانَ ، رضي الله عنه قَالَ ⦗ص: 47⦘: لَمَّا قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وُسْوِسَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِهِ ، وَكُنْتُ فِيمَنْ وُسْوِسَ ، فَمَرَّ عَلَيَّ عُمَرُ رضي الله عنه ، فَسَلَّمَ عَلَيَّ ، فَلَمْ أَرُدَّ عَلَيْهِ ، فَأَتَى أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه ، فَشَكَانِي إِلَيْهِ ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه فَقَالَ: مَرَّ بِكَ أَخُوكَ فَسَلَّمَ عَلَيْكَ فَلَمْ تَرُدَّ عَلَيْهِ ، قَالَ: فَقُلْتُ: وَاللَّهِ مَا شَعُرْتُ بِتَسْلِيمِهِ عَلَيَّ ، وَإِنِّي عَنْ ذَلِكَ لَفِي شُغْلٍ ، قَالَ: وَمَا شَغَلَكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنَّ أَسْأَلَهُ عَنْ نَجَاةِ هَذَا الْأَمْرِ ، قَالَ: فَقَدْ سَأَلْتُهُ ، قَالَ: فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَاعْتَنَقْتُهُ ، وَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي ، أَحَقٌّ بِذَلِكَ؟ قَالَ: قَدْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَجَاةِ هَذَا الْأَمْرِ ، قَالَ: «مَنْ قَبِلَ الْكَلِمَةَ الَّتِي عَرَضْتُهَا عَلَى عَمِّي عِنْدَ الْمَوْتِ هِيَ لَهُ نَجَاةٌ»
৭ - আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হারিস আন-নাক্কাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুস সালাম ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বিশর থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁর সাহাবীদের কেউ কেউ অত্যন্ত বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন; আমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা বিচলিত হয়েছিলেন। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় আমাকে সালাম দিলেন, কিন্তু আমি তাঁর জবাব দিলাম না। এরপর তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আসলেন এবং বললেন: তোমার ভাই তোমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তোমাকে সালাম দিয়েছেন, কিন্তু তুমি তাঁর জবাব দাওনি। উসমান (রা.) বলেন: তখন আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, আমি তাঁর সালাম দেওয়ার বিষয়টি টেরই পাইনি; আমি তখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিন্তায় নিমগ্ন ছিলাম। তিনি বললেন: কিসে তোমাকে ব্যস্ত রেখেছিল? উসমান (রা.) বলেন: আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন এমন অবস্থায় যে, এই বিষয়ের নাজাত বা মুক্তির উপায় সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করার সুযোগ আমার হয়নি। আবু বকর (রা.) বললেন: আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি। উসমান (রা.) বলেন: তখন আমি তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম। আমি বললাম: আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি কি সত্যিই তা করেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বিষয়ের নাজাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন: “আমি মৃত্যুর সময় আমার চাচার কাছে যে কালিমা পেশ করেছিলাম, যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে, তা-ই তার জন্য নাজাত বা মুক্তির উপায়।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: نَا عُثْمَانُ ، وَأَبُو بَكْرٍ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ قَالَا: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ النَّهْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَجَاةِ هَذَا الْأَمْرِ؟ فَقَالَ: «مَنْ قَبِلَ الْكَلِمَةَ الَّتِي عَرَضْتُهَا عَلَى عَمِّي فَرَدَّهَا فَهِيَ لَهُ نَجَاةٌ»
8 - আহমদ ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান এবং আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মালিক ইবনে ইসমাঈল আন-নাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বিশর থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি উসমান ইবনে আফফান থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই বিষয়ের মুক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি সেই কালিমা (বাণী) গ্রহণ করবে যা আমি আমার চাচার নিকট পেশ করেছিলাম এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তবে তা-ই তার জন্য মুক্তিস্বরূপ হবে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
‌‌عَلِيٌّ عَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما
আলী আবু বকর থেকে (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ ، وَعُثْمَانُ ، ⦗ص: 49⦘ وَأَبُو خَيْثَمَةَ قَالُوا: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ ، وَسُفْيَانُ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُغِيرَةَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الْوَالِبِيِّ ، عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِيِّ ، عَنْ عَلِيٍّ ، رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ بِمَا شَاءَ مِنْهُ ، فَإِذَا حَدَّثَنِي عَنْهُ غَيْرِي اسْتَحْلَفْتُهُ ، فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ ، وَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه حَدَّثَنِي وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ، فَيَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ، ثُمَّ يُصَلِّي» - قَالَ سُفْيَانُ رَكْعَتَيْنِ ، وَقَالَ مِسْعَرٌ ثُمَّ يُصَلِّي - وَيَسْتَغْفِرُ اللَّهَ عز وجل إِلَّا غُفِرَ لَهُ "
৯ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর, উসমান, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ এবং আবু খাইসামাহ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ওয়াকী' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মিস'আর ও সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উসমান বিন মুগীরাহ থেকে, তিনি আলী বিন রাবী'আহ আল-ওয়ালিবি থেকে, তিনি আসমা বিন আল-হাকাম আল-ফাজারী থেকে, তিনি আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি যখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও সালাত তাঁর উপর বর্ষিত হোক) থেকে কোনো হাদিস শুনতাম, আল্লাহ তা দ্বারা আমাকে যতটুকু ইচ্ছা উপকৃত করতেন। আর যখন আমার নিকট অন্য কেউ তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করত, আমি তাকে শপথ করাতাম। যখন সে আমার নিকট শপথ করত, আমি তাকে বিশ্বাস করতাম। আর আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—এবং আবু বকর সত্য বলেছেন—যে তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও সালাত তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কোনো পাপ করে, অতঃপর অজু করে এবং সুন্দরভাবে অজু করে, এরপর সালাত আদায় করে» - সুফিয়ান বলেছেন: দুই রাকাত, আর মিস'আর বলেছেন: এরপর সালাত আদায় করে - «এবং আল্লাহর (যিনি মহা প্রতাপশালী ও সুমহান) নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেওয়া হয়»।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
10 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: نَا الْقَوَارِيرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ: سَمِعْتُ عُثْمَانَ مِنَ آلِ أَبِي عَقِيلٍ الثَّقَفِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ رَبِيعَةَ ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي ⦗ص: 50⦘ فَزَارَةَ يُقَالُ لَهُ: أَسْمَاءُ أَوِ ابْنُ أَسْمَاءَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا نَفَعَنِي اللَّهُ بِمَا شَاءَ مِنْهُ أَنْ يَنْفَعُنِي ، فَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " مَا مِنْ عَبْدٍ - قَالَ شُعْبَةُ: وَأَحْسِبُهُ قَالَ: مُسْلِمٍ - يُذْنِبُ ذَنْبًا ، ثُمَّ يَتَوَضَّأُ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لِذَلِكَ الذَّنْبِ إِلَّا غُفِرَ لَهُ " قَالَ شُعْبَةُ: ثُمَّ قَرَأَ إِحْدَى هَاتَيْنِ الْآيَتَيْنِ {مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ} [النساء: 123] ، {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ} [آل عمران: 135]
১০ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কাওয়ারীরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আকীল আস-সাকাফী পরিবারের উসমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী বিন রাবীআহ থেকে শুনেছি, তিনি বনু ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ ফাযারার জনৈক ব্যক্তি থেকে—যাকে আসমা বা ইবন আসমা বলা হয়—তিনি আলী বিন আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে কোনো কিছু শুনতাম, আল্লাহ তার মাধ্যমে আমাকে যতটুকু ইচ্ছা উপকৃত করতেন। অতঃপর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—আর আবু বকর সত্য বলেছেন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে, তিনি বলেছেন: "এমন কোনো বান্দা নেই—শু'বাহ বলেন: আমার মনে হয় তিনি 'মুসলিম' শব্দটি বলেছেন—যে কোনো পাপ করে ফেলে, অতঃপর অজু করে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তারপর সেই পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" শু'বাহ বলেন: অতঃপর তিনি এই দুই আয়াতের কোনো একটি তিলাওয়াত করলেন: {যে কেউ মন্দ কাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে} [আন-নিসা: ১২৩], এবং {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে...} [আল-ইমরান: ১৩৫]
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
11 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ ، عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا رضي الله عنه يَقُولُ: كُنْتُ امْرَءًا إِذَا سَمِعْتُ مِنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعُنِي ، وَإِذَا حَدَّثَنِي عَنْهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ اسْتَحْلَفْتُهُ ، فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ ، وَحَلَفَ لِي أَبُو بَكْرٍ ، وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ، فَيَتَوَضَّأُ ، فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ، ثُمَّ صَلَّى وَاسْتَغْفَرَ اللَّهَ مِنْهُ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ» قَالَ: ثُمَّ تَلَى {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفِرُوا ⦗ص: 51⦘ لِذُنُوبِهِمْ} [آل عمران: 135] "
১১ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে গিয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে মুগিরা থেকে, তিনি আলী ইবনে রাবীআ থেকে, তিনি আসমা ইবনে হাকাম আল-ফাজারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি এমন এক ব্যক্তি ছিলাম যে, যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদীস শুনতাম, তখন আল্লাহ আমাকে তা থেকে যতটুকু ইচ্ছা উপকার দান করতেন। আর যখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করতেন, আমি তাকে কসম করতে বলতাম; যখন তিনি কসম করতেন, তখন আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—আর আবু বকর সত্য বলেছেন—যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কোনো পাপ করে, অতঃপর ওযু করে এবং সুন্দরভাবে ওযু সম্পন্ন করে, তারপর সালাত আদায় করে ও আল্লাহর নিকট সেই পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন।" তিনি (আলী) বলেন: এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে} [আলে ইমরান: ১৩৫]
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٥١)
‌‌مَا رَوَاهُ أَبُو وَائِلٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه
আবু বকর আস-সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে আবু ওয়াইল যা বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٥١)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ ، رضي الله عنه لَقِيَ طَلْحَةَ فَقَالَ: مَا لِي أَرَاكَ أَصْبَحْتَ وَاجِمًا؟ قَالَ: كَلِمَةٌ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزْعُمُ أَنَّهَا مُوجِبَةٌ فَلَمْ أَسْأَلْهُ عَنْهَا ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا أَعْلَمُ مَا هِيَ ، قَالَ: مَا هِيَ؟ قَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»
১২ - আহমাদ ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তালহার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: “কী ব্যাপার, আমি তোমাকে বিষণ্ণ দেখছি কেন?” তিনি বললেন: “একটি বাক্য যা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছিলাম, তিনি বলতেন যে এটি (জান্নাত) অবধারিতকারী, কিন্তু আমি সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।” আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: “আমি জানি সেটি কী।” তিনি বললেন: “সেটি কী?” তিনি বললেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٥٢)
13 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: حُدِّثْتُ ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه لَقِيَ طَلْحَةَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ: مَا لِي أَرَاكَ أَصْبَحْتَ وَاجِمًا؟ قَالَ: كَلِمَةٌ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزْعُمُ أَنَّهَا مُوجِبَةٌ فَلَمْ أَسْأَلْهُ عَنْهَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا أَعْلَمُ مَا هِيَ ، قَالَ: مَا هِيَ؟ قَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবু শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর, মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তালহা ইবনে আবদুল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: “কী ব্যাপার, আমি আপনাকে বিষণ্ণ দেখছি কেন?” তিনি বললেন: “একটি বাক্য যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি। তিনি বলতেন যে, এটি (নাজাতের জন্য) অপরিহার্য, কিন্তু আমি তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।” আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: “আমি জানি সেটি কী।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “সেটি কী?” আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
‌‌وَعُثْمَانُ أَيْضًا عَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما
এবং উসমানও আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٥٣)
14 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي ، عَنْ صَالِحٍ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ ⦗ص: 54⦘ غَيْرِ مُتَّهَمٍ أَنَّهُ سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه يُحَدِّثُ أَنَّ رِجَالًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَزِنُوا عَلَيْهِ حَتَّى كَادَ بَعْضُهُمْ أَنْ يَتَوَسْوَسَ قَالَ عُثْمَانُ: وَكُنْتُ مِنْهُمْ ، فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ فِي ظِلِّ أُطُمٍ مِنَ الْآطَامِ فَمَرَّ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه ، فَسَلَّمَ فَلَمْ أَشْعُرْ أَنَّهُ مَرَّ وَلَا سَلَّمَ ، فَانْطَلَقَ عُمَرُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه فَقَالَ: أَلَا أُعْجِبُكَ؟ مَرَرْتُ عَلَى عُثْمَانَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ السَّلَامَ ، قَالَ: فَأَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رضي الله عنهما فِي وِلَايَةِ أَبِي بَكْرٍ حَتَّى أَتَيَا فَسَلَّمَا جَمِيعًا ، ثُمَّ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: جَاءَنِي أَخُوكَ عُمَرُ فَزَعَمَ أَنَّهُ مَرَّ عَلَيْكَ فَسَلَّمَ فَلَمْ تُرَدَّ عليه السلام ، فَمَا الَّذِي حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ؟ فَقَالَ: مَا فَعَلْتُ ، قَالَ عُمَرُ ⦗ص: 55⦘: بَلَى ، وَلَكِنَّهَا عُبِّيَّتُكُمْ يَا بَنِي أُمَيَّةَ ، قَالَ عُثْمَانُ: فَقُلْتُ: وَاللَّهِ مَا شَعُرْتُ بِأَنَّكَ مَرَرْتَ وَلَا سَلَّمْتَ ، قَالَ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: صَدَقَ عُثْمَانُ ، وَقَدْ شَغَلَكَ أَمْرٌ ، قَالَ: قُلْتُ: أَجَلْ ، قَالَ: فَمَا هُوَ؟ قَالَ عُثْمَانُ: قُلْتُ: تَوَفَّى اللَّهُ عز وجل نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ أَسْأَلَهُ عَنْ نَجَاةِ هَذَا الْأَمْرِ ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه: قَدْ سَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ ، قَالَ عُثْمَانُ: فَقُمْتُ إِلَيْهِ ، فَقُلْتُ: بِأَبِي وَأُمِّي أَنْتَ أَحَقٌّ؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا نَجَاةُ هَذَا الْأَمْرِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَبِلَ الْكَلِمَةَ الَّتِي عَرَضْتُ عَلَى عَمِّي فَرَدَّهَا عَلَيَّ فَهِيَ لَهُ نَجَاةٌ»
১৪ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনসারদের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে কয়েকজন এমন শোকাতুর হয়ে পড়েছিলেন যে, তাদের কারো কারো মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ উসমান বলেন: আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। একদিন আমি একটি দুর্গের ছায়ায় বসে ছিলাম, তখন আমার পাশ দিয়ে ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু অতিক্রম করলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন; কিন্তু আমি টেরও পাইনি যে তিনি অতিক্রম করেছেন কিংবা সালাম দিয়েছেন। ফলে ওমর চলে গেলেন এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট প্রবেশ করে বললেন: আমি কি আপনাকে একটি বিস্ময়কর সংবাদ দেব না? আমি উসমানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সালাম দিলাম কিন্তু সে সালামের উত্তর দিল না। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আবু বকরের খেলাফতকালে আসলেন এবং উভয়ে সালাম দিলেন। এরপর আবু বকর বললেন: তোমার ভাই ওমর আমার কাছে এসে দাবি করল যে, সে তোমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সালাম দিয়েছে কিন্তু তুমি সালামের উত্তর দাওনি। কোন বিষয়টি তোমাকে এমন করতে প্ররোচিত করল? তিনি (উসমান) বললেন: আমি তো এমনটা করিনি। ওমর ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ বললেন: অবশ্যই করেছ, তবে এটি তোমাদের বনু উমাইয়াদের আভিজাত্যের অহংকার। উসমান বলেন: তখন আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমি টেরও পাইনি যে আপনি অতিক্রম করেছেন বা সালাম দিয়েছেন। আবু বকর বললেন: উসমান সত্যই বলেছে, কোনো বিশেষ চিন্তা তোমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। তিনি (উসমান) বললেন: আমি বললাম, হ্যাঁ। আবু বকর বললেন: সেটি কী? উসমান বলেন: আমি বললাম: মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওফাত দান করেছেন আমি তাঁকে এই দ্বীনের মুক্তির উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার আগেই। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি তাঁকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উসমান বলেন: তখন আমি তাঁর দিকে উঠে গেলাম এবং বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আপনিই এর জন্য অধিক উপযুক্ত। আবু বকর বললেন: আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়ের (দ্বীনের) মুক্তির উপায় কী? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি আমার চাচার কাছে যে বাণীটি পেশ করেছিলাম এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যে ব্যক্তি সেটি গ্রহণ করবে সেটিই তার জন্য মুক্তির কারণ হবে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٥٥)
‌‌حُذَيْفَةُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه
হুজাইফা, আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٥٥)
15 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ ⦗ص: 56⦘ أَبُو بَكْرٍ الطَّالْقَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَعَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هُنَيْدَةَ الْبَرَاءُ بْنُ نَوْفَلٍ ، عَنْ وَالَانَ الْعَدَوِيِّ ، عَنْ حُذَيْفَةَ ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَ: «أَصْبَحَ رَسُولُ ⦗ص: 57⦘ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَصَلَّى الْغَدَاةَ ، ثُمَّ جَلَسَ حَتَّى إِذَا كَانَ مِنَ الضُّحَى ضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، ثُمَّ جَلَسَ مَكَانَهُ حَتَّى صَلَّى الْأُولَى وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ ، كُلُّ ذَلِكَ وَلَا يَتَكَلَّمُ ، حَتَّى صَلَّى الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ ، ثُمَّ قَامَ إِلَى أَهْلِهِ» فَقَالَ النَّاسُ لِأَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه: سَلْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَأْنُهُ؟ صَنَعَ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ يَصْنَعْهُ قَطُّ، قَالَ: فَسَأَلَهُ فَقَالَ: " نَعَمْ عُرِضَ عَلَيَّ مَا هُوَ كَائِنٌ مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، فَجُمِعَ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ بِصَعِيدٍ وَاحِدٍ ، فَفَظِعَ النَّاسُ بِذَلِكَ حَتَّى انْطَلَقُوا إِلَى آدَمَ وَالْعَرَقُ يَكَادُ يُلْجِمُهُمْ فَقَالُوا: يَا آدَمُ أَنْتَ أَبُو الْبَشَرِ ، وَأَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ ، فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ قَالَ: قَدْ لَقِيتُ مِثْلَ الَّذِي لَقِيتُمْ ، فَانْطَلِقُوا إِلَى أَبِيكُمْ بَعْدَ أَبِيكُمْ ، إِلَى نُوحٍ {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ} [آل عمران: 33] ، قَالَ ⦗ص: 58⦘: فَيَنْطَلِقُونَ إِلَى نُوحٍ ، فَيَقُولُونَ: اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ تبارك وتعالى ، فَأَنْتَ اصْطَفَاكَ اللَّهُ وَاسْتَجَابَ لَكَ فِي دُعَائِكَ ، وَلَمْ يَدَعْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا ، فَيَقُولُ: لَيْسَ ذَلِكُمْ عِنْدِي ، وَلَكِنِ انْطَلِقُوا إِلَى إِبْرَاهِيمَ فَإِنَّ إِبْرَاهِيمَ اتَّخَذَهُ اللَّهُ خَلِيلًا ، فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَقُولُ: لَيْسَ ذَلِكُمْ عِنْدِي وَلَكِنِ انْطَلِقُوا إِلَى مُوسَى ، فَإِنَّ اللَّهَ كَلَّمَهُ تَكْلِيمًا ، فَيَقُولُ مُوسَى: لَيْسَ ذَلِكُمْ عِنْدِي ، وَلَكِنِ انْطَلِقُوا إِلَى عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ، فَإِنَّهُ يُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَيُحْيِي الْمَوْتَى ، فَيَقُولُ: لَيْسَ ذَلِكُمْ عِنْدِي ، وَلَكِنِ انْطَلِقُوا إِلَى سَيِّدِ وَلَدِ آدَمَ فَإِنَّهُ أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقِّ عَنْهُ الْأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، انْطَلِقُوا إِلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَلْيَشْفَعْ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ تبارك وتعالى ، فَيَأْتِي جِبْرِيلَ عليه السلام رَبَّهُ ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ ، قَالَ: فَيَنْطَلِقُ بِهِ جِبْرِيلُ عليه السلام ، فَيَخِرُّ سَاجِدًا قَدْرَ جُمُعَةٍ ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ ⦗ص: 59⦘ رَأْسَكَ وَقُلْ تُسْمَعْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ ، قَالَ: فَيَرْفَعُ رَأْسَهُ فَإِذَا نَظَرَ إِلَى رَبِّهِ عز وجل خَرَّ سَاجِدًا قَدْرَ جُمُعَةٍ ، فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ وَقُلْ تُسْمَعْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ ، فَيَذْهَبُ لِيَقَعَ سَاجِدًا ، فَيَأْخُذُ جِبْرِيلُ عليه السلام بِضَبْعِهِ قَالَ: فَيَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِ مِنَ الدُّعَاءِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ عَلَى بِشَرٍ قَطُّ ، قَالَ: فَيَقُولُ أَيْ رَبِّ جَعَلْتَنِي سَيِّدَ وَلَدِ آدَمَ وَلَا فَخْرَ، وَأَوَّلَ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا فَخْرَ حَتَّى إِنَّهُ لَيَرِدُ عَلَيَّ الْحَوْضَ أَكْثَرُ مِمَّا بَيْنَ صَنْعَاءَ وَأَيْلَةَ ، ثُمَّ قَالَ: ادْعُوا الصِّدِّيقِينَ فَيَشْفَعُونَ ، ثُمَّ يُقَالُ: ادْعُوا الْأَنْبِيَاءَ ، فَيَجِيءُ النَّبِيُّ وَمَعَهُ الْعِصَابَةُ ، وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الْخَمْسَةُ وَالسِّتَّةُ ، وَالنَّبِيُّ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ ، ثُمَّ يُقَالُ ادْعُوا الشُّهَدَاءَ فَيَشْفَعُونَ لِمَنْ أَرَادُوا ، فَإِذَا فَعَلَتِ الشُّهَدَاءُ ذَلِكَ يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى: أَنَا أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ أَدْخِلُوا جَنَّتِي مَنْ كَانَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا ، قَالَ: فَيَدْخُلُونَ قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: انْظُرُوا فِي النَّارِ هَلْ تَلْقَوْنَ فِيهَا مِنْ أَحَدٍ عَمِلَ خَيْرًا قَطُّ؟ قَالَ ⦗ص: 60⦘: فَيَجِدُونَ فِي النَّارِ رَجُلًا فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ عَمِلْتَ خَيْرًا قَطُّ؟ فَيَقُولُ: لَا غَيْرَ أَنِّي كُنْتُ أُسَامِحُ النَّاسَ فِي الْبَيْعِ ، فَيَقُولُ: أَسْمِحُوا لِعَبْدِي كَإِسْمَاحِهِ إِلَى عِبَادِي ، ثُمَّ يُخْرِجُونَ مِنَ النَّارِ رَجُلًا آخَرَ فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ عَمِلْتَ خَيْرًا قَطُّ؟ فَيَقُولُ: لَا غَيْرَ أَنِّي أَمَرْتُ وَلَدِي إِذَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي بِالنَّارِ ، ثُمَّ اطْحَنُونِي حَتَّى إِذَا كُنْتُ مِثْلَ الْكُحْلِ فَاذْهَبُوا بِي إِلَى الْبَحْرِ ، فَأَذْرُونِي فِي الرِّيحِ ، فَوَاللَّهِ لَا يَقْدِرُ عَلَيَّ رَبُّ الْعَالَمِينَ أَبَدًا ، قَالَ: فَقَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى لَهُ: لِمَ فَعَلْتَ ذَلِكَ؟ قَالَ: مِنْ مَخَافَتِكَ قَالَ: فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: انْظُرُوا إِلَى مُلْكٍ كَانَ أَعْظَمَ مُلْكٍ ، كَانَ لَكَ مِثْلُهُ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ ، قَالَ: فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ؟ قَالَ: فَضَحِكَ اللَّهُ تبارك وتعالى كَذَلِكَ الَّذِي ضَحِكْتُ مِنْهُ مِنَ الضُّحَى "

 

16 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الْبُنَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
১৫ - আহমাদ ইবনে আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে ইয়াকুব ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ আবু বকর আত-তালিকানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আন-নাদর ইবনে শুমাইল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু না'আমাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হুনাইদাহ আল-বারা ইবনে নাওফাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ওয়ালান আল-আদাবী থেকে, তিনি হুযাইফাহ থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সকালে উঠলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন, তারপর তিনি বসে রইলেন। এমনকি যখন চাশতের সময় হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। এরপর তিনি তাঁর নিজ স্থানেই বসে রইলেন যতক্ষণ না তিনি যোহর, আসর এবং মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এই পুরো সময়ে তিনি কথা বলেননি। অবশেষে যখন তিনি শেষ এশার সালাত আদায় করলেন, তখন তিনি তাঁর পরিবারের নিকট ফিরে গেলেন।» তখন লোকেরা আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করুন তাঁর বিষয়টি কী? আজ তিনি এমন কিছু করেছেন যা আগে কখনো করেননি। তিনি (আবু বকর) বলেন: এরপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "হ্যাঁ, দুনিয়া ও আখিরাতের যা কিছু ঘটবে তা আমার নিকট উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে এক বিশাল ময়দানে সমবেত করা হলো। মানুষ এতে এতোটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল যে তারা আদমের নিকট ছুটে গেল, তখন ঘাম তাদের মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারা বলল: হে আদম! আপনি মানবজাতির পিতা, আর আপনিই সেই যাকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন, সুতরাং আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি বললেন: তোমরা যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছ আমিও অনুরূপ বিপদের সম্মুখীন হয়েছি। সুতরাং তোমরা তোমাদের পিতার পর যে পিতা—নূহের নিকট যাও। {নিশ্চয় আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহীমের পরিবার ও ইমরানের পরিবারকে জগৎসমূহের ওপর মনোনীত করেছেন} [আলে ইমরান: ৩৩]। তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ বললেন: এরপর তারা নূহের নিকট যাবে এবং বলবে: আপনার রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। কারণ আল্লাহ আপনাকে মনোনীত করেছেন এবং আপনার দোয়া কবুল করেছেন, আর যমীনের বুকে কোনো কাফিরকে অবশিষ্ট রাখেননি। তিনি বলবেন: আমার নিকট সুপারিশ করার অধিকার নেই, বরং তোমরা ইবরাহীমের নিকট যাও, কারণ আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এরপর তারা ইবরাহীমের নিকট আসবে। তিনি বলবেন: আমার নিকট এ অধিকার নেই, বরং তোমরা মূসার নিকট যাও, কারণ আল্লাহ তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। তখন মূসা বলবেন: আমার নিকট এ অধিকার নেই, বরং তোমরা মারইয়ামের পুত্র ঈসার নিকট যাও, কারণ তিনি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন। তিনি বলবেন: আমার নিকট এ অধিকার নেই, বরং তোমরা আদম-সন্তানদের সরদারের নিকট যাও, কিয়ামতের দিন যার কবর সর্বপ্রথম বিদীর্ণ হবে; তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাও, তিনি যেন তোমাদের জন্য তোমাদের রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিকট সুপারিশ করেন। এরপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর রবের নিকট আসবেন। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: তাঁকে অনুমতি দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি বললেন: এরপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁকে নিয়ে যাবেন। তখন তিনি এক জুমআ (সাত দিন) পরিমাণ সময় সাজদাহয় পড়ে থাকবেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: হে মুহাম্মদ! আপনার মাথা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ উঠান; বলুন, শোনা হবে; সুপারিশ করুন, কবুল করা হবে। তিনি বলেন: এরপর তিনি তাঁর মাথা উঠাবেন এবং যখনই তাঁর রব আযযা ওয়া জাল্লা-এর দিকে তাকাবেন, পুনরায় এক জুমআ পরিমাণ সময় সাজদাহয় পড়ে যাবেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: হে মুহাম্মদ! আপনার মাথা উঠান; বলুন, শোনা হবে; সুপারিশ করুন, কবুল করা হবে। এরপর তিনি পুনরায় সাজদাহয় যেতে উদ্যত হবেন, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর বাহু ধরে ফেলবেন। তিনি বলেন: এরপর আল্লাহ তাঁর নিকট এমন কিছু দোয়ার দ্বার খুলে দেবেন যা আগে কোনো মানুষের নিকট কখনো খোলেননি। তিনি বলেন: তখন তিনি বলবেন, হে আমার রব! আপনি আমাকে আদম-সন্তানদের সরদার বানিয়েছেন এবং এতে কোনো অহংকার নেই; কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম আমার কবরই বিদীর্ণ হবে এবং এতে কোনো অহংকার নেই; এমনকি আমার হাউযে সানআ ও আয়লার মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও অধিক লোক আসবে। এরপর তিনি বললেন: সত্যবাদীদের ডাকো, তারা সুপারিশ করবে। এরপর বলা হবে: নবীদের ডাকো। তখন কোনো নবী আসবেন যাঁর সাথে একদল লোক থাকবে, কোনো নবীর সাথে পাঁচ-ছয় জন থাকবে, আবার কোনো নবীর সাথে কেউই থাকবে না। এরপর বলা হবে: শহীদদের ডাকো, তারা যাদের জন্য ইচ্ছা সুপারিশ করবে। যখন শহীদগণ তা করবেন, তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলবেন: আমি দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমার জান্নাতে তাদের প্রবেশ করাও যারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করত না। তিনি বলেন: এরপর তারা প্রবেশ করবে। তিনি বলেন: এরপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: জাহান্নামের আগুনের ভেতর দেখো, সেখানে কি এমন কাউকে পাও যে কখনো কোনো ভালো কাজ করেছে? তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ বলেন: তখন তারা আগুনের মধ্যে একজন লোককে পাবে। তাকে বলা হবে: তুমি কি কখনো কোনো ভালো কাজ করেছ? সে বলবে: না, তবে আমি মানুষের সাথে বেচা-কেনার সময় সহজ ব্যবহার করতাম। আল্লাহ বলবেন: আমার বান্দার প্রতি সহজ ব্যবহার করো যেমন সে আমার বান্দাদের প্রতি সহজ ব্যবহার করত। এরপর তারা আগুন থেকে আরেকজন লোককে বের করে আনবে। তাকে বলা হবে: তুমি কি কখনো কোনো ভালো কাজ করেছ? সে বলবে: না, তবে আমি আমার সন্তানদের আদেশ দিয়েছিলাম যে, আমি যখন মারা যাব তখন যেন তারা আমাকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়, এরপর যেন আমাকে পিষে সুরমার মতো চূর্ণ করে সমুদ্রে নিয়ে যায় এবং বাতাসের মুখে উড়িয়ে দেয়। কারণ আল্লাহর কসম! বিশ্বজগতের প্রতিপালক কখনোই আমাকে পাকড়াও করতে পারবেন না। তিনি বলেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাকে বলবেন: তুমি কেন এমনটি করেছ? সে বলবে: আপনার ভয়ে। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: সেই রাজত্বের দিকে তাকাও যা ছিল সবচেয়ে বড় রাজত্ব, তোমার জন্য তার সমপরিমাণ এবং তার দশগুণ রয়েছে। সে বলবে: আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন অথচ আপনিই তো প্রকৃত মালিক? তিনি বলেন: তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা হাসলেন, ঠিক যেমনটি আমি চাশতের সময় হেসেছিলাম।"

 

১৬ - আহমাদ ইবনে আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে ইসহাক আল-বুনানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আন-নাদর ইবনে শুমাইল তাঁর সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٦١)
17 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي ⦗ص: 62⦘ إِسْرَائِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ ، {شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ} [الرعد: 16] قَالَ: أَخْبَرَنِي لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ ، عَنْ حُذَيْفَةَ ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه ، إِمَّا حَضَرَ ذَلِكَ حُذَيْفَةُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَبِي بَكْرٍ وَإِمَّا حَدَّثَهُ إِيَّاهُ أَبُو بَكْرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ⦗ص: 63⦘: «الشِّرْكُ أَخْفَى فيكُمْ مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ» ، قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَهَلِ الشِّرْكُ إِلَّا مَا عُبِدَ مِنِ دُونِ اللَّهِ عز وجل أَوْ مَا دُعِيَ مَعَ اللَّهِ؟ شَكَّ عَبْدُ الْمَلِكِ قَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا صِدِّيقُ ، الشِّرْكُ أَخْفَى فِيكُمْ مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ ، أَلَا أُخْبِرُكَ بِأَمْرٍ يُذْهِبُ صِغَارَهُ وَكِبَارَهُ ، أَوْ صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ؟» قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: " تَقُولُ كُلَّ يَوْمٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ: اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا لَا أَعْلَمُ ، قَالَ: وَالشِّرْكِ أَنْ تَقُولَ أَعْطَانِي اللَّهُ وَفُلَانٌ ، وَالنَّدِّ أَنْ تَقُولَ لَوْلَا فُلَانٌ لِقَتَلَنِي فُلَانٌ "
১৭ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক বিন আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম বিন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, {অংশীদাররা কি তাঁর সৃষ্টির মতো কিছু সৃষ্টি করেছে?} [রাদ: ১৬] প্রসঙ্গে। তিনি বলেন: আমাকে লাইস বিন আবু সুলাইম সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মাদ থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। হয় হুযাইফা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আবু বকরের সাথে উপস্থিত থেকে এটি শুনেছেন, অথবা আবু বকর তাকে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ বললেন: «তোমাদের মধ্যে শিরক পিপীলিকার পদচারণার চেয়েও অধিক গোপন», আমি বললাম: হে আল্লাহর নাবী! মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত করা অথবা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে আহ্বান করার নামই কি শিরক নয়? আব্দুল মালিক (বর্ণনাকারী) সন্দেহ পোষণ করেছেন। তিনি বললেন: «হে সিদ্দীক! তোমার মা তোমাকে হারাক, শিরক তোমাদের মধ্যে পিপীলিকার পদচারণার চেয়েও অধিক গোপন। আমি কি তোমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না, যা তার ছোট ও বড় (শিরক)-কে দূর করে দেবে?» তিনি বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: "তুমি প্রতিদিন তিনবার বলবে: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি জেনে-বুঝে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং যা আমি জানি না তা থেকে তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন: আর শিরক হলো তোমার এই কথা বলা যে, 'আল্লাহ এবং অমুক আমাকে দিয়েছেন', আর সমকক্ষ স্থির করা হলো তোমার এই কথা বলা যে, 'যদি অমুক না থাকত তবে অমুক আমাকে হত্যা করে ফেলত'।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٦٤)
18 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ ، عَنْ شَيْخٍ ، مِنْ عَنَزَةَ ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه وَشَهِدَ بِهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشِّرْكَ فَقَالَ: هُوَ فِيكُمْ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ ، فَسَأَدُلُّكَ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتَهُ ذَهَبَ عَنْكَ صِغَارُ الشِّرْكِ وَكِبَارُهُ أَوْ صَغِيرُ الشِّرْكِ وَكَبِيرَهُ ، قَالَ: قُلِ: اللَّهُمَّ إَنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ " ، يَقُولُهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
১৮ - আহমাদ ইবনে আলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে আবি সুলাইম থেকে, তিনি আনাহযাহ গোত্রের জনৈক শাইখ থেকে, তিনি মাকাল ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এটি সাক্ষ্য দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিরকের কথা উল্লেখ করে বললেন: তা তোমাদের মাঝে পিঁপড়ার পদচারণার চেয়েও অধিক গোপন। অচিরেই আমি তোমাকে এমন কিছু বাতলে দেব যা করলে তোমার থেকে ছোট ও বড় শিরকসমূহ—অথবা শিরকের ছোট ও বড় অংশ—দূর হয়ে যাবে। তিনি বললেন: তুমি বলো: 'হে আল্লাহ! আমি জেনে-বুঝে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং যা আমি জানি না তা থেকে তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।' তিনি এটি তিনবার বলতেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٦٥)
19 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْمَرُ قَالَ: أَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ الْحَارِثِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَعَامَةَ الْعَدَوِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هُنَيْدَةَ الْبَرَاءُ بْنُ نَوْفَلٍ ، عَنْ وَالَانَ الْعَدَوِيِّ ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهُ لِيَرِدُ عَلَيَّ الْحَوْضَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُ مِمَّا بَيْنَ صَنْعَاءَ وَأَيْلَةَ»
১৯ - আহমাদ ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আন-নাদর ইবনে শুমাইল আল-হারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু নাআমাহ আল-আদাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুনাইদাহ আল-বারা ইবনে নাওফাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়ালান আল-আদাউয়ি থেকে, তিনি হুযাইফা ইবনে আল-ইয়ামান থেকে এবং তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন হাউযের পাড়ে আমার নিকট (আগতদের সংখ্যা) সানআ এবং আয়লার মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও অধিক হবে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٦٦)
‌‌ابْنُ عُمَرَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما
আবু বকর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) হতে ইবনে উমর
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٦٦)
20 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا ⦗ص: 67⦘ رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي ⦗ص: 68⦘ مَوْلَى ابْنُ سِبَاعٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَهُ {مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدُ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا} [النساء: 123] قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا بَكْرٍ أَلَا أُقْرِؤُكَ آيَّةً أُنْزِلَتْ عَلَيَّ» ؟ ⦗ص: 69⦘ قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ «فَأَقْرَأَنِيهَا» ، قَالَ: فَلَا أَعْلَمُ إِلَّا أَنِّي وَجَدْتُ انْفِصَامًا فِي ظَهْرِي حَتَّى تَمَطَّيْتُ لَهَا ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَالَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ» ؟ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي وَأُمِّي وَأَيُّنَا لَمْ يَعْمَلِ السُّوءَ ، وَإِنَّا لَمُجْزَوْنَ بِكُلِّ سُوءٍ عَمِلْنَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَّا أَنْتَ يَا أَبَا بَكْرٍ وَأَصْحَابُكَ فَتُجْزَوْنَ بِذَلِكَ فِي الدُّنْيَا حَتَّى تَلَقُّوا اللَّهَ تبارك وتعالى وَلَيْسَتْ لَكُمْ ذُنُوبٌ ، وَأَمَّا الْآخَرُونَ فَيُجْمَعُ لَهُمْ حَتَّى يُجْزَوْا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
২০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ রওহ ইবনে উবাদাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে উবাইদাহ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ ইবনে সিবাহর মুক্তদাস, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া নিজের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না} [আন-নিসা: ১২৩]। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আবু বকর, আমি কি তোমাকে এমন একটি আয়াত পাঠ করে শোনাব না যা আমার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে?» ⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি আমাকে তা পাঠ করে শোনালেন। (আবু বকর) বলেন: আমার শুধু এতটুকু মনে আছে যে, আমি আমার পিঠের হাড়ে এমন তীব্র ভাঙন বা ফাটল অনুভব করলাম যে আমি তার ভারে নুয়ে পড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আবু বকর, তোমার কী হয়েছে?» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে মন্দ কাজ করেনি? তাহলে আমরা কি আমাদের প্রতিটি মন্দ কাজের জন্য প্রতিফল পাব? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আবু বকর, তোমার এবং তোমার সাথীদের ব্যাপার হলো, তোমাদেরকে দুনিয়াতেই সেই মন্দ কাজের প্রতিফল (বিপদ-আপদ বা কষ্টের মাধ্যমে) দিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তোমরা যখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তোমাদের আর কোনো গুনাহ না থাকে। আর অন্যদের মন্দ কাজগুলো জমা রাখা হয় যাতে কিয়ামতের দিন তাদেরকে তার পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হয়।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٦٩)
21 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ ⦗ص: 70⦘ قَالَ: أَخْبَرَنَا كَوْثَرٌ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ ، ⦗ص: 71⦘ رضي الله عنه بَعَثَ يَزِيدَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ إِلَى الشَّامِ ، فَمَشَى مَعَهُ نَحْوًا مِنْ مِيلَيْنِ ، فَقِيلَ: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ لَوِ انْصَرَفْتَ ، قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنِ اغْبَرَّتْ قَدَمَاهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَرَّمَهُمَا اللَّهُ عَنِ النَّارِ»
২১ - আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু নাসর আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ তিনি বলেন: আমাদের কাওসার সংবাদ দিয়েছেন নাফে’র সূত্রে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর আস-সিদ্দিক ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ানকে শামের দিকে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর সাথে প্রায় দুই মাইল পর্যন্ত হেঁটে গেলেন। তখন বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা, আপনি যদি ফিরে যেতেন! তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: "আল্লাহর পথে যার দু’টি পা ধূলিমলিন হয়, আল্লাহ সেই দু’টিকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٧١)
قَالَ: ثُمَّ بَدَا لَهُ فِي الِانْصِرَافِ إِلَى الْمَدِينَةِ ، فَقَامَ فِي الْجَيْشِ فَقَالَ ⦗ص: 72⦘: «أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ لَا تَعْصُوا ، وَلَا تَغُلُّوا ، وَلَا تَجْبُنُوا ، وَلَا تُغْرِقُوا نَخْلًا ، وَلَا تَحْرِقُوا زَرْعًا ، وَلَا تَحْبِسُوا بَهِيمَةً ، وَلَا تَقْطَعُوا شَجَرَةً مُثْمِرَةً ، وَلَا تَقْتُلُوا شَيْخًا كَبِيرًا ، وَلَا صَبِيًّا صَغِيرًا ، وَسَتَجِدُونَ أَقْوَامًا حَبَسُوا أَنْفُسَهُمْ لِلَّذِي حَبَسُوهَا فَذَرُوهُمْ وَمَا حَبَسُوا أَنْفُسَهُمْ لَهُ ، وَسَتَجِدُونَ أَقْوَامًا قَدِ اتَّخَذْتِ الشَّيَاطِينُ أَوْسَاطَ رُءُوسِهِمْ أَفْحَاصًا فَاضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ ، وَسَتَرِدُونَ ⦗ص: 73⦘ بَلَدًا يَغْدُو عَلَيْكُمْ وَيَرُوحُ فِيهِ الطَّعَامُ وَالْأَلْوَانُ ، فَلَا يَأْتِيَنَّكُمْ لَوْنٌ إِلَّا ذَكَرْتُمُ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ ، وَلَا يُرْفَعُ لَوْنٌ إِلَّا حَمَدْتُمُ اللَّهَ عز وجل»
তিনি বললেন: এরপর তাঁর নিকট মদিনায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেল, তখন তিনি সেনাবাহিনীর মধ্যে দাঁড়ালেন এবং বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘: «আমি তোমাদেরকে আল্লাহর তাকওয়ার উপদেশ দিচ্ছি; তোমরা অবাধ্য হয়ো না, খিয়ানত করো না, কাপুরুষতা দেখিও না, কোনো খেজুর গাছ পানিতে ডুবিয়ে দিও না, কোনো শস্য পুড়িয়ে দিও না, কোনো চতুষ্পদ জন্তুকে অবরুদ্ধ করো না, কোনো ফলবান বৃক্ষ নিধন করো না, কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করো না এবং কোনো ছোট শিশুকেও না। আর তোমরা অচিরেই এমন কিছু সম্প্রদায়কে দেখতে পাবে যারা নিজেদেরকে কোনো নির্দিষ্ট কাজে নিবদ্ধ রেখেছে, সুতরাং তাদেরকে এবং তারা যার জন্য নিজেদের নিবদ্ধ রেখেছে তা ছেড়ে দাও। আর তোমরা অচিরেই এমন কিছু সম্প্রদায়কে পাবে যাদের মাথার মধ্যভাগকে শয়তানরা নিজেদের আস্তানা বানিয়ে নিয়েছে, তোমরা তাদের ঘাড়ে আঘাত করো। আর তোমরা পৌঁছাবে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ এমন এক জনপদে যেখানে সকাল-সন্ধ্যা তোমাদের সামনে বিভিন্ন পদের খাবার আনা-নেওয়া করা হবে; সুতরাং তোমাদের সামনে যখনই কোনো পদের খাবার আসবে, তোমরা তার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, আর যখনই কোনো খাবার তুলে নেয়া হবে, তখন তোমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রশংসা করবে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবী বাকর আস-সিদ্দীক লি-আহমাদ ইবনু আলী আল-মারওয়াযী (পৃষ্ঠা: ٧٣)
ثُمَّ قَالَ أَيْضًا: " بَلَغَنَا أَنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يَأْمُرُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُنَادِيًا فَيُنَادِي: أَلَا مَنْ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل شَيْءٌ فَلْيَقُمْ ، فَيَقُومُ أَهْلُ الْعَفْوِ فَيُكَافِئُهُمُ اللَّهُ عز وجل بِمَا كَانَ مِنْ عَفْوِهِمْ عَنِ النَّاسِ "
তারপর তিনি আরও বললেন: "আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা কিয়ামতের দিন এক ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দেবেন, অতঃপর সে ঘোষণা করবে: সাবধান! আল্লাহর (আযযা ওয়া জাল্লা) নিকট যার কোনো পাওনা রয়েছে, সে যেন দাঁড়িয়ে যায়। তখন ক্ষমাশীল ব্যক্তিরা দাঁড়িয়ে যাবে; অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মানুষের প্রতি তাদের ক্ষমার বিনিময়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন।"