(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: -)
مسند إبراهيم بن أدهم الزاهد لابن منده   (ابن منده محمد بن إسحاق)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند إبراهيم بن أدهم الزاهد

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن مَنْدَه العبدي (ت 395هـ)

المحقق: مجدي السيد إبراهيم

الناشر: مكتبة القرآن - القاهرة

عدد الصفحات: 49

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনু মানদাহ সংকলিত ইব্রাহিম ইবনে আদহাম আল-যাহিদ-এর মুসনাদ   (ইবনু মানদাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মুসনাদ ইব্রাহিম ইবনে আদহাম আল-যাহিদ

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ আল-আবদি (মৃ. ৩৯৫ হিজরি)

সম্পাদক: মাজদি আস-সাইয়িদ ইব্রাহিম

প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুরআন - কায়রো

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯

[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
مُسْنَدُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ الزَّاهِدِ لِابْنِ مَنْدَهَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، رَبِّ أَعِنْ وَيَسِّرْ يَا كَرِيمُ. أَخْبَرَنَا شَيْخُ الْإِسْلَامِ وَالْحَافِظُ أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيُّ شَفَاهًا إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا وَهَاجَرُ بِنْتُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَبِي بَكْرٍ الْقُدْسِيُّ، قِرَاءَةُ عَلَيْهَا قَالَا: أنا أَبُو الْمَعَالِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ الْحِلَّاوِيُّ سَمَاعَا لِلْأَوَّلِ بِقِرَاءَتِهِ، وَإِجَازَةٍ لِلثَّانِيَةِ إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبَيْدٍ الْأَسْفَرْوِيُّ، وَأَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ يَسنْفَدى قَالَا: أنا النَّجِيبُ عَبْدُ اللَّطِيفِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ الْحَرَّانِيُّ قَالَ الْأَوَّلُ: إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، وَأَنَا الْمَسْنِدُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْوَاسِطِيُّ شَفَاهًا، أَنَا الْمُسْنِدُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بنِ إِبْرَاهِيمَ الْمَيْدُومِيُّ إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، أَنَا النَّجِيبُ الْحَرَّانِيُّ كَذَلِكَ أنا أَبُو شُجَاعٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْخَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَدَّادُ أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ إِبَرْوَيْهِ الصَّالِحَانِيُّ، أنا أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْدَهْ. قَالَ شَيْخُنَا: وَأَنْبَأَنَا بِهِ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَشْيَاخِنَا مِنْهُمُ الْحِلَّاوِيُّ الْمَذْكُورُ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ الْكَمَالِ وَكَتَبَ إِلَيَّ الْأَشْيَاخُ الثَّلَاثَةُ أَبُو إِسْحَاقَ الْخَلِيلُ، وَأَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ السَّعْدِيُّ، وَأَبُو الْعَبَّاسِ الزَّاهِدِيُّ قَالُوا: أَخْبَرَتْنَا زَيْنَبُ بِنْتُ الْكَمَالِ إِذْنًا عَامًّا فِي يَوْمِ الْأَحَدِ ثَانِيَ عَشَرَ شَوَّالٍ سَنَةَ ثَمَانِمِائَةٍ وَسِتٍّ وَثَمَانِينَ عَنْ عَجِيبَةَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَسْعُودِ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي عَمْرٍو عَبْدِ الْوَهَّابِ، أنا أَبي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ مَنْدَهْ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى قَالَ: هُوَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ سَعْدِ بْنِ سَلَّامِ بْنِ عَرَفَةَ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ ضُبَيْعَةَ بْنِ عَجِلِ بْنِ لَخْمٍ نَسَبُهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كُنَاسَةَ وَقَالَ: أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الْأَشْعَثِ، سَمِعْتُ أَبَا تَوْبَةَ الرَّبِيعِ بْنِ نَافِعٍ، يَقُولُ: مَاتَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ سَنَةَ 162 وَدُفِنَ عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ
ইবনে মানদাহ বর্ণিত যাহিদ ইব্রাহীম ইবনে আদহামের মুসনাদ। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব! সাহায্য করুন এবং সহজ করে দিন, হে মহানুভব। শাইখুল ইসলাম ও আল-হাফিজ আবুল ফজল আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানী আমাদের মৌখিকভাবে সংবাদ দিয়েছেন যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে, এবং হাজার বিনতে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আবু বকর আল-কুদসী—তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবুল মা'আলী আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী আল-হিল্লাভী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা প্রথমোক্ত ব্যক্তির জন্য ছিল স্বীয় পাঠের মাধ্যমে শ্রবণ, এবং দ্বিতীয়জনের জন্য ছিল ইজাজত বা অনুমতি যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে। আবু নুয়াইম আহমাদ ইবনে উবাইদ আল-আসফারুভী এবং আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে ইয়াসনাফাদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আন-নাজীব আবদুল লতিফ ইবনে আবদুল মুনইম আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; প্রথমোক্ত জন বলেছেন: ইজাজতের মাধ্যমে যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে। আর আল-মুসনিদ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আল-ওয়াসিতী আমাদের মৌখিকভাবে সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুসনিদ আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহীম আল-মায়দুমী আমাদের ইজাজতক্রমে সংবাদ দিয়েছেন যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে। আন-নাজীব আল-হাররানীও অনুরূপভাবে সংবাদ দিয়েছেন। আবু শুজা মুহাম্মাদ ইবনে আবিল খাইর ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাদ্দাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে ইবারুওয়াইহ আস-সালিহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আমর আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবু আবদুল্লাহ ইবনে মানদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আমাদের শাইখ বলেছেন: আমাদের একাধিক উস্তাদ আমাদের এ সম্পর্কে অবহিত করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লিখিত আল-হিল্লাভী যাইনাব বিনতে আল-কামাল থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিন শাইখ—আবু ইসহাক আল-খলীল, আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আস-সা’দী এবং আবুল আব্বাস আয-যাহিদী আমাকে লিখে জানিয়েছেন যে, যাইনাব বিনতে আল-কামাল ৮৮৬ হিজরি সনের ১২ই শাওয়াল রবিবার সাধারণ ইজাজতের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, আজীবাহ বিনতে আবু বকর থেকে, তিনি মাসউদ ইবনুল হাসান থেকে, তিনি আবু আমর আবদুল ওয়াহহাব থেকে, তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) জানিয়েছেন। তিনি বলেন: তিনি হলেন ইব্রাহীম ইবনে আদহাম ইবনে মানসুর ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির ইবনে সা’লাবাহ ইবনে সা’দ ইবনে সাল্লাম ইবনে আরাফাহ ইবনে উসামা ইবনে রাবিআ ইবনে দুবাইআ ইবনে আজিল ইবনে লাখম। তাঁর এই বংশপরম্পরা ইব্রাহীম ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে কুনাসাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস বলেছেন: আমি আবু তাওবাহ আর-রাবী ইবনে নাফিকে বলতে শুনেছি: ইব্রাহীম ইবনে আদহাম ১৬২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে সমুদ্র উপকূলে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
1 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ، وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ: قَالَ قُتَيْبَةُ: «إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ سُنِّيٌّ بَلْخِيٌّ كَانَ بِالْكُوفَةِ سَكَنَ الشَّامَ. رَوَى عَنْ مَنْصُورٍ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَمُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَمَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، وَسَعِيدٍ، وَمُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ»
১ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ থেকে, এবং মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বলেছেন: কুতায়বা বলেছেন: «ইব্রাহীম বিন আদহাম একজন সুন্নী বলখী ছিলেন, যিনি কুফায় ছিলেন এবং শামে বসবাস করতেন। তিনি মানসুর, উবায়দুল্লাহ বিন উমর, মূসা বিন উকবা, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, মালিক বিন দীনার, মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ, সুফিয়ান আস-সাওরী, সাঈদ এবং মুকাতিল বিন হাইয়্যান থেকে বর্ণনা করেছেন»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ بْنَ بِشْرٍ الْبَلْخِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ الْعَابِدَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ سُلَيْمَانَ الْبَلْخِيَّ، يَقُولُ: " كَانَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ مِنَ الْأَشْرَافِ، وَكَانَ أَبُوهُ مِنَ الْأَشْرَافِ كَثِيرَ الْمَالِ وَالْخَدَمِ، فَخَرَجَ إِبْرَاهِيمُ يَوْمًا فِي الصَّيْدِ مَعَ الْغِلْمَانِ وَالْخَدَمِ وَالْمَوْكِبِ وَالْجَنَائِبِ وَالْبَزَاةِ فَبَيْنَا إِبْرَاهِيمُ فِي عَمَلِهِ ذَلِكَ بِرَايَةٍ وَكِلَابٍ لِلصَّيْدِ وَهُوَ عَلَى فَرَسِهِ يُرْكِضُهُ إِذَا هُوَ بِصَوْتٍ مِنْ فَوْقِهِ يَا إِبْرَاهِيمُ، مَا هَذَا الْعَبَثُ؟ {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ} [المؤمنون: 115] اتَّقِ اللَّهَ وَعَلَيْكَ بِالزَّادِ لِيَوْمِ الْفَاقَةِ " قَالَ: «فَنَزَلَ عَنْ دَابَّتِهِ وَرَفَضَ الدُّنْيَا وَأَخَذَ فِي عَمَلِ الْآخِرَةِ»
২ - আমি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইসমাইল ইবনে বিশর আল-বালখীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আবিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইউনুস ইবনে সুলাইমান আল-বালখীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "ইব্রাহিম ইবনে আদহাম ছিলেন অভিজাত বংশীয়, এবং তাঁর পিতাও ছিলেন প্রচুর ধন-সম্পদ ও সেবক পরিবেষ্টিত একজন অভিজাত ব্যক্তি। একদিন ইব্রাহিম তাঁর কিশোর ভৃত্য, সেবক, বাহিনী, অতিরিক্ত ঘোড়া ও শিকারি বাজপাখিসহ শিকারের উদ্দেশ্যে বের হলেন। ইব্রাহিম যখন পতাকা ও শিকারি কুকুরসহ তাঁর শিকারে মগ্ন ছিলেন এবং নিজের ঘোড়াটি ছুটিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ তাঁর ওপর থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন— হে ইব্রাহিম! এই অনর্থক কর্মকাণ্ড কী? {তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?} [সূরা আল-মুমিনুন: ১১৫] আল্লাহকে ভয় করো এবং অভাবের দিনের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করো।" তিনি বলেন: «অতঃপর তিনি তাঁর বাহন থেকে নেমে পড়লেন, দুনিয়া ত্যাগ করলেন এবং আখেরাতের আমলের প্রতি মনোনিবেশ করলেন।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
3 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ مُكْرَمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ مِهْرَانَ الطَّرَسُوسِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ يُونُسَ، يَقُولُ: «كَانَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ إِذَا سُئِلَ عَنِ الْعِلْمِ جَاءَ بِالْأَدَبِ»
৩ - মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালিম ইবনে মিহরান আত-তারসুসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইউনুসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «ইবরাহিম ইবনে আদহামকে যখন ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি আদব (শিষ্টাচার) নিয়ে আসতেন»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه
ইবরাহীম ইবন আদহাম, আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন আলী ইবন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
4 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْإِخْمِيمِيُّ، بِمِصْرَ ثَنَا غَسَّانُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَزَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «مَنْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ نِعْمَةً، فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ، وَمَنِ اسْتَبْطَأَ الرِّزْقَ، فَلْيَسْتَغْفِرِ اللَّهَ، وَمَنْ حَزَبَهُ أَمْرٌ، فَلْيَقُلْ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ»
৪ - মিসরে মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আব্দুর রহমান আল-ইখমিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, গাসসান বিন সুলাইমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জাযারি আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইব্রাহিম বিন আদহাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি আলী বিন আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: «আল্লাহ যাকে কোনো নেয়ামত দান করেছেন, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যার রিযিক আসতে বিলম্ব হয়, সে যেন আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর যাকে কোনো বিষয় সংকটাপন্ন করে, সে যেন বলে: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
5 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَا يَزَالُ الْعَبْدُ فِي سَعَةٍ مِنْ دِينِهِ مَا عَمَّ أَخَاهُ النَّصِيحَةَ، فَإِذَا حَادَ عَنْ ذَلِكَ سُلِبَ التَّوْفِيقَ»
৫ - এবং তাঁর সনদ বা বর্ণনাপরম্পরায় আলী ইবনে আবী তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত তার দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রশস্ততার মাঝে থাকে যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের প্রতি সদুপদেশ প্রদান ব্যাপক রাখে; অতঃপর যখন সে তা থেকে বিচ্যুত হয়, তখন তার থেকে তাওফীক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌رِوَايَةُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الْجُمَحِيِّ
মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ আল-জুমাহির সূত্রে ইবরাহিম ইবনে আদহামের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ النُّوبِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ ⦗ص: 21⦘ عِيسَى التِّنِّيسِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَزَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَا يَخْشَى الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবনে আলী ইবনুল হাসান আন-নুবী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ ঈসা আত-তিন্নীসী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-জাযারী, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আদহাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইমামের আগে মাথা উঠায়, সে কি ভয় পায় না যে আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথায় রূপান্তরিত করে দেবেন?»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
7 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْفَارِسِيُّ، بِبُخَارَا، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْخُزَاعِيُّ، مِنْ وَلَدِ عَمْرِو بْنِ الْحَمِقِ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مِنْ أَهْلِ حَرَسِهِ بِمَكَّةَ ثَنَا مُصْعَبُ بْنُ مَاهَانَ، ثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَا يَخْشَى اللَّهَ الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ»
৭ - আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল-ফারিসি বুখারায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন আল-খুজায়ি—যিনি আমর ইবনে আল-হামিকের সন্তান বা বংশধর—আমাদের জানিয়েছেন, মক্কায় তাঁর পাহারাদারদের অন্তর্ভুক্ত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুসআব ইবনে মাহান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আদহাম থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইমামের আগে তার মাথা উঠায়, সে কি আল্লাহকে ভয় করে না যে আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথায় রূপান্তরিত করে দেবেন?»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
8 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي جَالِسًا، فَقُلْتُ لَهُ: تُصَلِّي جَالِسًا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَمَا أَصَابَكَ؟ قَالَ: «الْجُوعُ» ، قَالَ: فَبَكَيْتُ، فَقَالَ: «لَا تَبْكِ، فَإِنَّ شِدَّةَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا تُصِيبُ الْجَائِعَ إِذَا احْتَسَبَ فِي دَارِ الدُّنْيَا»
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে আলী ইবনুল হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ঈসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আদহাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে বসে সালাত আদায় করতে দেখলাম। আমি তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বসে সালাত আদায় করছেন? আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: «ক্ষুধা»। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: তখন আমি কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেন: «কেঁদো না, কারণ কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা সেই ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করবে না যে দুনিয়ার জীবনে সওয়াবের আশায় (ক্ষুধা) সহ্য করেছে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
9 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْفَارِسِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْخُزَاعِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثَنَا مُصْعَبُ بْنُ مَاهَانَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي جَالِسًا» فَذَكَرَ الْحَدِيثَ
৯ - হাসান ইবনে ইসমাঈল আল-ফারিসি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-খুজাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসআব ইবনে মাহান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে আদহাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন», অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
10 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّرْخَسِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْهَرَوِيُّ، ثَنَا مُعَاذُ بْنُ عِيسَى الْهَرَوِيُّ، ثَنَا سُفْيَانُ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي جَالِسًا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَاكَ تُصَلِّي جَالِسًا فَمَا أَصَابَكَ؟ قَالَ: «الْجُوعُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ» فَبَكَيْتُ، فَقَالَ: «لَا تَبْكِ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحِسَابِ لَا تُصِيبُ الْجَائِعَ إِذَا احْتَسَبَ»
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আস-সারখাসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সলিহ আল-হারাউয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়ায বিন ঈসা আল-হারাউয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আদহাম, মুহাম্মদ বিন যিয়াদ থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে বসে সালাত আদায় করতে দেখছি, আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: «ক্ষুধা, হে আবু হুরায়রা» তখন আমি কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেন: «কেঁদো না হে আবু হুরায়রা, কেননা কিয়ামতের হিসাবের কঠোরতা সেই ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করবে না যে (আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশায়) ধৈর্য ধারণ করে»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
11 - عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّضْرِ الْهَرَوِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثَنَا شَقِيقٌ الْبَلْخِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلَّى جَالِسًا فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَاكَ تُصَلِّي جَالِسًا فَمَا أَصَابَكَ؟ قَالَ: «الْجُوعُ وَالضَّعْفُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ» فَبَكَيْتُ، فَقَالَ: «لَا تَبْكِ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَإِنَّ شِدَّةَ الْقِيَامَةِ لَا تُصِيبُ الْجَائِعَ إِذَا احْتَسَبَ فِي دَارِ الدُّنْيَا»

⦗ص: 24⦘

 

12 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ، ثَنَا مُوسَى بْنُ عُمَرَ الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ نَحْوَهُ
১১ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নাদর আল-হারাউই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাকিক আল-বালখি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবরাহিম ইবনে আদহাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে বসে সালাত আদায় করতে দেখছি, আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা, ক্ষুধা ও দুর্বলতা» তখন আমি কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা, কেঁদো না; কারণ কিয়ামতের কঠোরতা সেই ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করবে না যে দুনিয়ার জীবনে সওয়াবের আশায় তা সহ্য করেছে।»

⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘

 

১২ - ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে উমর আল-খুরাসানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌رِوَايَةُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ
ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারীর সূত্রে ইবরাহিম বিন আদহামের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
13 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَارَكٍ الْهَرَوِيُّ، إِجَازَةً ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَهْلِ بْنِ أَبَانَ الْبَصْرِيُّ، ثَنَا قَطَنُ بْنُ صَالِحٍ الدِّمَشْقِيُّ، ثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ، وَالْأَوْزَاعِيُّ، كُلُّهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ ⦗ص: 25⦘ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন শারাক আল-হারাভী, অনুমতি স্বরূপ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন সাহল বিন আবান আল-বাসরী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ক্বাতান বিন সালিহ আদ-দিমাশকী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ, ইব্রাহিম বিন আদহাম এবং আল-আওযাঈ, তাঁরা সকলেই ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলক্বামাহ বিন ওয়াক্কাস থেকে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে পার্থিব দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌رِوَايَةُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْعُمَرِيِّ
উবায়দুল্লাহ ইবনু উমর আল-উমারী হতে ইবরাহীম ইবনুল আদহামের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
14 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْحَارِثِ الْوَاسِطِيُّ، ثَنَا عِيسَى بْنُ هِلَالٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حِمْيَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْعُمْرَىِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَعَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَا: «رُخِّصَ لِلْمُتَمَتِّعِ أَنْ يَصُومَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ»
14 - আল-হুসাইন বিন আলী এবং ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন আল-হারিস আল-ওয়াসিতী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা বিন হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন হিমইয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন আদহাম থেকে বর্ণিত, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-উমারী থেকে, তিনি নাফে’-এর সূত্রে ইবনে উমর থেকে এবং আয-যুহরীর সূত্রে উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: "মুতামাত্তি (হজ্জে তামাত্তুকারী)-এর জন্য আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে সিয়াম পালন করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌رِوَايَةُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، وَمُوسَى بْنِ عُقْبَةَ
উবায়দুল্লাহ ও মূসা ইবন উকবা থেকে বর্ণিত ইবরাহীম ইবন আদহামের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثَنَا عِيسَى بْنُ بَرَّادٍ الْحِمْصِيُّ، ثَنَا أَبُو حَيْوَةَ شُرَيْحٌ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَمُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَعَائِشَةَ، قَالَا: «لَا بَأْسَ بِأَكْلِ كُلِّ شَيْءٍ إِلَّا مَا ذَكَرَ اللَّهُ عز وجل فِي كِتَابِهِ فِي هَذِهِ ⦗ص: 28⦘ الْآيَةِ {قُلْ لَا أَجِدُ فِيمَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا} » الْآيَةُ
মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব এবং ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে বাররাদ আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাইওয়াহ শুরাইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর ও মুসা ইবনে উকবাহ থেকে, তাঁরা নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর ও আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: “আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তাঁর কিতাবের এই ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ আয়াতে যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত কোনো কিছু ভক্ষণ করাতে কোনো দোষ নেই: {বলুন, আমার প্রতি যে ওহী অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে আমি এমন কিছু হারাম পাই না...}” আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
16 -‌‌ رِوَايَةُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّبِيعِيِّ
১৬ -‌‌আবু ইসহাক আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাবিঈ থেকে ইবরাহীম ইবনে আদহামের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَإِبْرَاهِيمُ، قَالَا: ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الْإِسْفَرَايِينِيُّ أَبُو بَكْرٍ، ثَنَا عَطِيَّةُ بْنُ بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ، حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ عُمَارَةَ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْفِتْنَةَ تَجِيءُ فَتَنْسِفُ الْعِبَادَ نَسْفًا، وَيَنْجُو الْعَالِمُ مِنْهَا بِعِلْمِهِ»

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ এবং ইব্রাহিম, তাঁরা বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-ইসফারাঈনী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আতিয়্যাহ ইবনে বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আদহাম আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-হামদানী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, উমারা আল-আনসারী হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই ফিতনা আসবে এবং তা বান্দাদের সমূলে উৎপাটিত করে ফেলবে, আর আলেম তার ইলমের মাধ্যমে তা থেকে মুক্তি পাবে।»

(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌رِوَايَةُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، وَالْأَعْمَشِ
মানসুর ইবনুল মুতামির ও আল-আ'মাশ থেকে ইবরাহীম ইবনে আদহামের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
17 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عِيسَى، وَأَبُو عُمَرَ بْنُ حِمْدَانَ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالُوا: ثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ قَطَنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، ثَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ يُونُسَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يُحِبُّنِي اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَيُحِبُّنِي عَلَيْهِ النَّاسُ، قَالَ: «أَمَّا مَا يُحِبُّكَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَالزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا، وَأَمَّا مَا يُحِبُّكَ النَّاسُ عَلَيْهِ فَانْبِذْ إِلَيْهِمْ هَذَا الْقِثَّاءَ» قَالَ الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ: قَالَ الْمُفَضَّلُ: «لَمْ يُسْنِدْ لَنَا إِبْرَاهِيمُ غَيْرَ هَذَا»
১৭ - আলী ইবনে ঈসা, আবু উমর ইবনে হিমদান এবং ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ ইবনে ক্বাতান ইবনে ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমদ ইবনে ইবরাহীম আদ-দাওরাকী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনুর রবী’ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-মুফায্যাল ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম থেকে, তিনি মানসূর ইবনুল মুতামির থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যার কারণে আল্লাহ তাআলা আমাকে ভালোবাসবেন এবং মানুষও আমাকে ভালোবাসবে। তিনি বললেন: «আল্লাহ তোমাকে যে কারণে ভালোবাসবেন তা হলো দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি, আর মানুষ তোমাকে যে কারণে ভালোবাসবে তা হলো তুমি তাদের দিকে এই শসাটি ছুড়ে ফেলে দাও»। আল-হাসান ইবনুর রবী’ বলেন: আল-মুফায্যাল বলেছেন: «ইবরাহীম আমাদের নিকট এটি ছাড়া আর কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
18 - خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ، ثَنَا خَالِدُ بْنُ خَلِيٍّ، ثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، حَدَّثَنِي الْأَعْمَشُ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، فَأَرَانِي قِسْطًا صَغِيرًا، فَقَالَ: «يَا سُلَيْمَانُ تَرَى هَذَا الْقِسْطَ أَنَا أَتَوَضَّأُ بِهِ مَرَّتَيْنِ لِلصَّلَاةِ»
১৮ - খাইসামাহ ইবনে সুলাইমান, ইমরান ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে খালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আদহাম থেকে, আল-আ'মাশ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইবরাহিমের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি আমাকে একটি ছোট পাত্র দেখালেন এবং বললেন: «হে সুলাইমান! তুমি কি এই পাত্রটি দেখছো? আমি এটি দিয়ে সালাতের জন্য দুইবার অযু করি।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌رِوَايَةُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ الثَّوْرِيِّ
সুফিয়ান ইবন সাঈদ আস-সাওরী থেকে ইবরাহীম ইবন আদহামের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
19 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَيْرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خُبَيْقٍ، ثَنَا مُوسَى بْنُ طَرِيفٍ، قَالَ: قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ لِإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ: هَذَا الْعِلْمُ الَّذِي جَمَعْنَا أُرِيدُ أَنْ أَصِفَهُ لِغَيْرِي، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: دُلَّنِي عَلَى عَمِلٍ يُحِبُّنِي اللَّهُ عَلَيْهِ وَيُحِبُّنِي النَّاسُ عَلَيْهِ، قَالَ: «لَقَدْ قَصَّرْتَ وَأَوْجَزْتَ إِنْ أَحْبَبْتَ مَحَارِمَ اللَّهِ أَحَبَّكَ، وَأَحْبِبْ مَا فِي أَيْدِي النَّاسِ، فَإِنَّكَ إِنْ أَحْبَبْتَ مَا فِي أَيْدِي النَّاسِ أَحَبُّوكَ»
১৯ - আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে উমাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে তারিফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী ইব্রাহিম ইবনে আদহামকে বললেন: এই ইলম যা আমরা সংগ্রহ করেছি, আমি তা অন্যদের কাছে বর্ণনা করতে চাই। তিনি বললেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যার কারণে আল্লাহ আমাকে ভালোবাসবেন এবং মানুষও আমাকে ভালোবাসবে। তিনি বললেন: «তুমি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ প্রশ্ন করেছ। যদি তুমি আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহকে (বর্জন করাকে) ভালোবাসো, তবে তিনি তোমাকে ভালোবাসবেন। আর মানুষের হাতে যা আছে তা ভালোবাসো; কারণ তুমি যদি মানুষের হাতে যা আছে তা ভালোবাসো, তবে তারা তোমাকে ভালোবাসবে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
20 - أَخْبَرَنَا خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارٍ، ثَنَا عُقْبَةُ بْنُ السَّكَنِ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّىاللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كِتْمَانُ الْمَصَائِبِ مِنْ كُنُوزِ الْبِرِّ»
২০ - খাইসামাহ ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইমরান ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উকবাহ ইবনুল সাকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনে আদহাম সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «বিপদ-আপদ গোপন রাখা পুণ্যের ভাণ্ডারসমূহের অন্তর্ভুক্ত।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু ইবরাহীম ইবনু আদহাম আয-যাহিদ লি-ইবনি মানদাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
21 - وَعَنْ سُفْيَانَ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «نَوْمُ الرَّجُلِ مَعَ أَبَوَيْهِ فِي الْبَيْتِ عَلَى أَرِيكَتِهِ يُضْحِكُهُمَا وَيُضْحِكَانِهِ خَيْرٌ مِنْ جِهَادٍ بِالسَّيْفِ بَيْنَ الصَّفَّيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَنْقَطِعَ»
২১ - সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির তার ঘরে নিজ পালঙ্কে পিতামাতার সাথে ঘুমানো (বা অবস্থান করা), যেখানে সে তাদের হাসায় এবং তারাও তাকে হাসায়—তা আল্লাহর পথে দুই সারির মাঝে তলোয়ার দিয়ে জিহাদ করার চেয়েও উত্তম, যতক্ষণ না তা ভেঙে যায়।"