(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: -)
أخير المدخرات شرح أخصر المختصرات   (حازم خنفر)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: أَخْيَر المُدَّخَرَات شرح «أَخْصَر المُخْتَصَرَات»

إعداد: حَازِم خَنْفَر

عام النشر: 2018

عدد الصفحات: 221

الكتاب إهداء من مؤلفه -جزاه الله خيرا- للمكتبة

[ترقيم الكتاب موافق للأصل]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 صفر 1440

আখইয়ারুল মুদ্দাখারাত শারহ আখসারুল মুখতাসারাত   (হাযেম খানফার)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: আখইয়ারুল মুদ্দাখারাত শারহ «আখসারুল মুখতাসারাত»

প্রস্তুতকারী: হাযেম খানফার

প্রকাশের বছর: ২০১৮

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২১

বইটি এর লেখকের পক্ষ থেকে -আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন- লাইব্রেরির জন্য একটি উপহার

[বইটির সংখ্যায়ন মূল কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌أَخْيَر المُدَّخَرَات

شَرْح

أَخْصَر المُخْتَصَرَات
শ্রেষ্ঠ সঞ্চয়সমূহ

ব্যাখ্যা

অতি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع مبذولة لكل مسلم
মুদ্রণস্বত্ব প্রতিটি মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ৩)
أَخْيَر المُدَّخَرَات

شَرْح

«أَخْصَر المُخْتَصَرَات»

 

إِعْدَاد

حَازِم خَنْفَر
শ্রেষ্ঠ সঞ্চিত সম্পদ

ব্যাখ্যা

«আখসারুল মুখতাসারাত»

 

প্রস্তুতিতে

হাযেম খানফার
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تَوْطِئَةٌ

الحَمْدُ للهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ.

فَهَذَا شَرْحٌ لِكِتَابِ «أَخْصَرِ المُخْتَصَرَاتِ» لِمُحَمَّدِ بْنِ بَدْرِ الدِّينِ ابْنِ بَلَبَانَ (1) الحَنْبَلِيِّ، وَوَسَمْتُهُ بِـ: «أَخْيَرِ (2) المُدَّخَرَات شَرْحِ أَخْصَرِ المُخْتَصَرَات».

وَاعْلَمْ أَنْ لَيْسَ لِي فِي الكِتَابِ قَلَمُ عِلْمٍ، إِلَّا الجَمْعَ وَالانْتِقَاءَ وَالمَزْجَ، مَعَ تَقْيِيدِ الحُرُوفِ بِالشَّكْلِ.

وَكَانَ المَحْمِلُ عَلَى أَصْلِ «الأَخْصَرِ» وَشَرْحِهِ؛ المُسَمَّى بِـ: «الرَّوْضِ النَّدِي شَرْحِ كَافِي المُبْتَدِي» لِأَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَحْمَدَ البَعْلِيِّ الحَنْبَلِيِّ، ثُمَّ عَلَى كُتُبِ العَلَّامِينَ الحَنَابِلَةِ فِي مَوَاضِعَ مِنْهُ.

وَاللهُ الهَادِي وَالمُوَفِّقُ

 

حَازِم خَنْفَر

19/ 6/2018 م

4/ 10/1439 هـ

--------------------------------------------

(1) قَالَ الحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي «تَبْصِيرِ المُنْتَبِهِ» (1/ 99): «بَلَبَان: بِمُوَحَّدَتَيْنِ، بَيْنَهُمَا لَامٌ، مَفْتُوحَاتٌ، مِنْ أَسْمَاءِ الأَتْرَاكِ فِي المُتَأَخِّرِينِ».

(2) «أَخْيَرُ»: اسْمُ تَفْضِيلٍ، مِنْ فَصِيحِ اللِّسَانِ العَرَبِيِّ، إِلَّا أَنَّ اسْتِعْمَالَهُ قَلِيلٌ، وَتَكَرَّرَ فِي أَكْثَرَ مِنْ حَدِيثٍ نَبَوِيٍّ، وَبَتَّ المَسْأَلَةَ شُرَّاحُ الحَدِيثِ فِي كُتُبِهِمْ؛ فَلَا يُعْتَدُّ بِكَلَامِ مَنْ أَنْكَرَهُ مِنْ أَهْلِ اللُّغَةِ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।

এটি মুহাম্মদ ইবনে বদরুদ্দীন ইবনে বালাবান (১) আল-হাম্বলী বিরচিত ‘আখসারুল মুখতাসারাত’ গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এবং আমি এর নামকরণ করেছি: ‘আখইয়ারুল মুদ্দখারাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত’।

আর জেনে রাখুন যে, এই গ্রন্থে আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক কোনো বিশেষ অবদান নেই, কেবল সংকলন, নির্বাচন এবং মূল পাঠের সাথে ব্যাখ্যার সংমিশ্রণ ছাড়া; সেই সাথে শব্দগুলোতে হরকত প্রদান করেছি।

এই কাজের মূল ভিত্তি ছিল ‘আল-আখসার’ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-বালি আল-হাম্বলী বিরচিত ‘আর-রাওদুন নাদী শারহু কাফিয়িল মুবতাদী’, অতঃপর বিভিন্ন স্থানে হাম্বলী আলেমগণের কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করা হয়েছে।

আর আল্লাহই একমাত্র পথপ্রদর্শক ও তৌফিকদাতা।

 

হাযেম খানফার

১৯/ ০৬/ ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

০৪/ ১০/ ১৪৩৯ হিজরি

--------------------------------------------

(১) হাফেজ ইবনে হাজার ‘তাবসীরুল মুনতাবিহ’ (১/ ৯৯) গ্রন্থে বলেছেন: “বালাবান: দুটি ‘বা’ (ب) বর্ণ যোগে, যার মাঝে একটি ‘লাম’ (ل) রয়েছে এবং সবকটি বর্ণ ফাতহা (যবর) বিশিষ্ট; এটি পরবর্তী যুগের তুর্কিদের একটি নাম।”

(২) ‘আখইয়ার’: এটি একটি ইসমে তাফদীল (অধিকতর শ্রেষ্ঠত্ববোধক বিশেষ্য), যা বিশুদ্ধ আরবি ভাষার অন্তর্ভুক্ত, তবে এর ব্যবহার কম। এটি একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে এবং হাদিসের ব্যাখ্যাকারগণ তাঁদের কিতাবসমূহে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন; সুতরাং ভাষাবিদদের মধ্যে যারা এটি অস্বীকার করেছেন, তাদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌(كِتَابُ الطَّهَارَةِ)

أَيْ: هَذَا كِتَابٌ يُذْكَرُ فِيهِ أَحْكَامُ الطَّهَارَةِ.

وَالطَّهَارَةُ - لُغَةً -: النَّظَافَةُ وَالنَّزَاهَةُ عَنِ الأَقْذَارِ.

 

‌‌(بَابُ المِيَاهِ)

(الْمِيَاهُ ثَلَاثَةٌ)؛ أَيْ: ثَلَاثَةُ أَقْسَامٍ؛ لِأَنَّ المَاءَ إِمَّا أَنْ يَجُوزَ الوُضُوءُ بِهِ أَوْ لَا؛ الأَوَّلُ: الطَّهُورُ، وَالثَّانِي: إِمَّا أَنْ يَجُوزَ شُرْبُهُ أَوْ لَا، الأَوَّلُ: الطَّاهِرُ، وَالثَّانِي: النَّجِسُ.

(الأَوَّلُ) مِنْ أَقْسَامِ المَاءِ: (طَهُورٌ)؛ أَيْ: مُطَهِّرٌ لِغَيْرِهِ؛ بِخِلَافِ غَيْرِهِ مِنَ المَائِعَاتِ فَإِنَّهُ لَا يُطَهِّرُ، (وَهُوَ البَاقِي عَلَى خِلْقَتِهِ) الَّتِي خَلَقَهُ اللهُ تَعَالَى عَلَيْهَا.

(وَمِنْهُ) أَيِ الطَّهُورِ: (مَكْرُوهٌ) بِلَا حَاجَةٍ إِلَى اسْتِعْمَالِهِ؛ (كَمُتَغَيِّرٍ بِغَيْرِ مُمَازِجٍ)؛ كَقِطَعِ كَافُورٍ.

(وَ) مِنَ الطَّهُورِ: (مُحَرَّمٌ؛ لَا يَرْفَعُ الحَدَثَ) مُطْلَقًا؛ سَوَاءٌ وُجِدَ غَيْرُهُ أَوْ لَا، وَسَوَاءٌ كَانَ قَلِيلًا أَوْ كَثِيرًا، (وَيُزِيلُ الخَبَثَ) الطَّارِئَ مَعَ تَحْرِيمِهِ، (وَهُوَ): 1 - المَاءُ (الْمَغْصُوبُ)، 2 - (وَغَيْرُ) مَاءِ (بِئْرِ النَّاقَةِ مِنْ) آبَارِ (ثَمُودَ).

(الثَّانِي) مِنْ أَقْسَامِ المِيَاهِ: (طَاهِرٌ) غَيْرُ مُطَهِّرٍ، (لَا يَرْفَعُ الحَدَثَ وَلَا يُزِيلُ الخَبَثَ)، وَيُسْتَعْمَلُ فِي غَيْرِهِمَا؛ (وَهُوَ) الطَّهُورُ (الْمُتَغَيِّرُ) مِنْ لَوْنِهِ أَوْ طَعْمِهِ أَوْ رِيحِهِ (بِـ) شَيْءٍ (مُمَازِجٍ طَاهِرٍ).

(وَمِنْهُ) أَيِ الطَّاهِرِ: طَهُورٌ (يَسِيرٌ، مُسْتَعْمَلٌ فِي رَفْعِ حَدَثٍ)؛ فَإِنَّهُ يَسْلُبُهُ
‌‌(পবিত্রতা বিষয়ক অধ্যায়)

অর্থাৎ: এটি এমন একটি অধ্যায় যেখানে পবিত্রতার বিধানাবলি আলোচনা করা হবে।

পবিত্রতা — আভিধানিক অর্থে: পরিচ্ছন্নতা এবং ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত থাকা।

 

‌‌(পানি বিষয়ক পরিচ্ছেদ)

(পানি তিন প্রকার); অর্থাৎ: তিন প্রকারের; কারণ পানি দিয়ে হয় অজু করা বৈধ হবে অথবা হবে না; প্রথমটি হলো: তাহুর (পবিত্রকারী), এবং দ্বিতীয়টি: হয় তা পান করা বৈধ হবে অথবা হবে না; প্রথমটি হলো: তাহির (পবিত্র), এবং দ্বিতীয়টি হলো: নাজিস (অপবিত্র)।

(পানির প্রকারসমূহের মধ্যে প্রথমটি) হলো: (তাহুর); অর্থাৎ: তা অন্য বস্তুকে পবিত্রকারী; পানি ছাড়া অন্যান্য তরল পদার্থের বিপরীত, কেননা সেগুলো অন্যকে পবিত্র করে না, (আর তা হলো সেই পানি যা তার আদি প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে) যে প্রকৃতির ওপর আল্লাহ তাআলা তাকে সৃষ্টি করেছেন।

(আর এর অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ তাহুর পানির অন্তর্ভুক্ত হলো: (মাকরূহ) যা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই; (যেমন এমন পানি যা অমিশ্রণীয় বস্তুর কারণে পরিবর্তিত হয়েছে); যেমন কর্পূরের টুকরো।

(এবং) তাহুর পানির অন্তর্ভুক্ত হলো: (হারাম; যা হাদাছ বা অপবিত্রতা দূর করে না) নিঃশর্তভাবে; অন্য পানি পাওয়া যাক বা না যাক এবং তা অল্প হোক বা বেশি হোক, (তবে তা খাবাছ বা দৃশ্যমান নাপাকি দূর করে) যা হারাম হওয়া সত্ত্বেও আপতিত হয়েছে, (আর তা হলো): ১ - (জবরদখলকৃত) পানি, ২ - (এবং ছামুদ জাতির) কূপগুলোর মধ্যে (উষ্ট্রীর কূপ ব্যতীত অন্য) কূপের পানি।

(পানির প্রকারসমূহের মধ্যে দ্বিতীয়টি) হলো: (তাহির) যা অন্যকে পবিত্রকারী নয়, (তা হাদাছ বা অপবিত্রতা দূর করে না এবং খাবাছ বা দৃশ্যমান নাপাকিও দূর করে না), এবং এ দুটি ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়; (আর তা হলো) সেই তাহুর পানি যা (পরিবর্তিত হয়েছে) তার রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধের দিক থেকে কোনো (পবিত্র মিশ্রণীয়) বস্তুর (দ্বারা)।

(আর এর অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ তাহির পানির অন্তর্ভুক্ত হলো: (অল্প) পরিমাণ তাহুর পানি (যা হাদাছ বা অপবিত্রতা দূর করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে); কারণ এটি তার পবিত্র করার ক্ষমতা কেড়ে নেয়।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ৮)
الطَّهُورِيَّةَ.

(الثَّالِثُ) مِنْ أَقْسَامِ المِيَاهِ: (نَجِسٌ يَحْرُمُ اسْتِعْمَالُهُ مُطْلَقًا)؛ أَيْ: فِي عِبَادَةٍ وَغَيْرِهَا؛ سَوَاءٌ وُجِدَ غَيْرُهُ أَوْ لَا، (إِلَّا لِضَرُورَةٍ)؛ كَغَصَّةٍ وَنَحْوِهَا.

(وَهُوَ) أَيِ المَاءُ النَّجِسُ: (مَا تَغَيَّرَ بِنَجَاسَةٍ فِي غَيْرِ مَحَلِّ تَطْهِيرٍ)، وَفِي مَحَلِّهِ: طَهُورٌ إِنْ كَانَ وَارِدًا، أَوْ لَمْ يَتَغَيَّرْ مِنْهُ فَطَهُورٌ إِنْ كَانَ كَثِيرًا، (أَوْ) كَانَ المَاءُ (لَاقَاهَا) أَيِ النَّجَاسَةَ (فِي غَيْرِهِ)؛ أَيْ: غَيْرِ مَحَلِّ التَّطْهِيرِ (وَهُوَ يَسِيرٌ).

(وَ) حُكْمُ المَاءِ (الجَارِي كَـ) حُكْمِ المَاءِ (الرَّاكِدِ).

(وَ) المَاءُ (الْكَثِيرُ: قُلَّتَانِ) فَصَاعِدًا، (وَهُمَا) أَيِ القُلَّتَانِ (مِئَةُ رِطْلٍ وَسَبْعَةُ أَرْطَالٍ وَسُبُعُ رِطْلٍ بِالدِّمَشْقِيِّ) وَمَا وَافَقَهُ.

(وَ) المَاءُ (اليَسِيرُ: مَا دُونَهُمَا): أَيِ: القُلَّتَيْنِ.

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي الآنِيَةِ

(كُلُّ إِنَاءٍ طَاهِرٍ يُبَاحُ اتِّخَاذُهُ وَاسْتِعْمَالُهُ) وَلَوْ كَانَ ثَمِينًا؛ كَجَوْهَرٍ وَيَاقُوتٍ وَزُمُرُّدٍ، (إِلَّا أَنْ يَكُونَ ذَهَبًا أَوْ فِضَّةً أَوْ مُضَبَّبًا بِأَحَدِهِمَا) عَلَى ذَكَرٍ وَأُنْثَى مُطْلَقًا، (لَكِنْ تُبَاحُ ضَبَّةٌ) بِشُرُوطٍ أَرْبَعَةٍ، أَشَارَ لِلأَوَّلِ مِنْهَا بِقَوْلِهِ: «ضَبَّةٌ»، وَالثَّانِي: قَوْلُهُ: (يَسِيرَةٌ)، وَالثَّالِثُ: قَوْلُهُ: (مِنْ فِضَّةٍ) وَالرَّابِعُ: قَوْلُهُ: (لِحَاجَةٍ)، وَهِيَ أَنْ يَتَعَلَّقَ بِهَا غَرَضٌ غَيْرُ زَيِنَةٍ وَلَوْ وُجِدَ غَيْرُهَا.

(وَمَا لَمْ تُعْلَمْ نَجَاسَتُهُ مِنْ) نَحْوِ (آنِيَةِ كُفَّارٍ، وَ) مَا لَمْ تُعْلَمْ نَجَاسَتُهُ مِنْ (ثِيَابِهِمْ: طَاهِرٌ) مُطْلَقًا؛ سَوَاءٌ وَلِيَتْ عَوْرَاتِهِمْ كَالسَّرَاوِيلِ، أَوْ لَا كَالعِمَامَةِ.

(وَلَا يَطْهُرُ جِلْدُ مَيْتَةٍ بِدِبِاغٍ)، وَيَحِلُّ اسْتِعْمَالُهُ بَعْدَ الدَّبْغِ فِي يَابِسٍ إِذَا كَانَ مِنْ حَيَوَانٍ طَاهِرٍ فِي الحَيَاةِ.
পবিত্রতা।

(তৃতীয়ত) পানির প্রকারভেদের মধ্যে হলো: (নাজিস বা অপবিত্র পানি, যার ব্যবহার নিঃশর্তভাবে হারাম); অর্থাৎ: ইবাদত বা অন্য কোনো কাজে; চাই অন্য পানি পাওয়া যাক বা না যাক, (তবে বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত); যেমন গলায় কিছু আটকে যাওয়া বা অনুরূপ ক্ষেত্রে।

(আর তা) অর্থাৎ নাজিস পানি হলো: (যা পবিত্র করার স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও নাপাকির মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে যায়), আর পবিত্র করার স্থানে: যদি তা (নাপাকির ওপর) আপতিত হয় তবে তা পবিত্রকারী, অথবা যদি তা পরিবর্তিত না হয় তবে তা পবিত্রকারী যদি পরিমাণে অধিক হয়, (অথবা) যদি পানি (নাপাকির সাথে মিলিত হয়) অর্থাৎ নাপাকির সংস্পর্শে আসে (অন্য কোথাও); অর্থাৎ: পবিত্র করার স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও (এমতাবস্থায় যে পানি পরিমাণে অল্প)।

(এবং) (প্রবাহিত) পানির বিধান (আবদ্ধ) পানির বিধানের (ন্যায়)।

(এবং) (অধিক) পানি হলো: (দুই কুল্লা) বা তদূর্ধ্ব, (আর তা) অর্থাৎ দুই কুল্লা হলো (দামেস্কি ওজনে একশত সাত রতল এবং এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ) অথবা এর সমপরিমাণ।

(এবং) (অল্প) পানি হলো: (যা এর চেয়ে কম); অর্থাৎ: দুই কুল্লার চেয়ে কম।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) পাত্র প্রসঙ্গে

(যেকোনো পবিত্র পাত্র রাখা এবং ব্যবহার করা বৈধ) যদিও তা মূল্যবান হয়; যেমন জহরত, ইয়াকুত বা পান্না, (তবে তা যদি সোনা বা রুপার তৈরি হয় অথবা এ দুটির কোনো একটির তালি লাগানো থাকে) তবে তা নিঃশর্তভাবে পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য নিষিদ্ধ, (কিন্তু রুপার তালি লাগানো বৈধ) চারটি শর্তে, যার প্রথমটির দিকে তিনি ‘তালি’ শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো: (সামান্য), তৃতীয়টি হলো: (রুপার তৈরি) এবং চতুর্থটি হলো: (প্রয়োজনে), আর তা হলো সৌন্দর্য বর্ধন ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকা, যদিও অন্য কোনো বিকল্প পাওয়া যায়।

(এবং কাফেরদের এমন পাত্র যার অপবিত্রতা সম্পর্কে জানা নেই, এবং) তাদের এমন (পোশাক যার অপবিত্রতা সম্পর্কে জানা নেই: তা পবিত্র) নিঃশর্তভাবে; চাই তা তাদের লজ্জাস্থানের সংলগ্ন হোক যেমন পায়জামা, অথবা না হোক যেমন পাগড়ি।

(এবং মৃত প্রাণীর চামড়া পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না), তবে জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল এমন প্রাণীর চামড়া পাকা করার পর শুকনো জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ৯)
(وَكُلُّ أَجْزَائِهَا) أَيِ: المَيْتَةِ؛ كَالعَظْمِ وَالقَرْنِ وَالظُّفُرِ وَنَحْوِهَا (نَجِسَةٌ؛ إِلَّا شَعْرًا وَنَحْوَهُ) كَالصُّوفِ وَالرِّيشِ إِذَا كَانَ مِنْ مَيْتَةٍ طَاهِرَةٍ فِي الحَيَاةِ.

(وَالمُنْفَصِلُ مِنْ) حَيَوَانٍ (حَيٍّ) كَقَرْنٍ؛ فَهُوَ (كَمَيْتَتِهِ).

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي الاسْتِنْجَاءِ

(الاسْتِنْجَاءُ وَاجِبٌ مِنْ كُلِّ خَارِجٍ) مِنْ سَبِيلٍ وَلَوْ نَادِرًا كَالدُّودِ، (إِلَّا الرِّيحَ، وَ) إِلَّا (الطَّاهِرَ) كَالمَنِيِّ، (وَ) إِلَّا (غَيْرَ المُلَوِّثِ) كَالحَصَى وَالبَعْرِ النَّاشِفِ.

(وَسُنَّ عِنْدَ دُخُولِ خَلَاءٍ: قَوْلُ) دَاخِلِهِ: (بِسْمِ اللهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الخُبُثِ وَالخَبَائِثِ، وَ) سُنَّ قَوْلُهُ (بَعْدَ خُرُوجٍ مِنْهُ) أَيِ: الخَلَاءِ: (غُفْرَانَكَ، الحَمْدُ للهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الأَذَى وَعَافَانِي).

(وَ) سُنَّ لِدَاخِلِ خَلَاءٍ: (تَغْطِيَةُ رَأْسٍ، وَانْتِعَالٌ) بِرِجْلِهِ، (وَ) سُنَّ لَهُ (تَقْدِيمُ رِجْلِهِ اليُسْرَى دُخُولًا، وَاعْتِمَادُهُ عَلَيْهَا جَالِسًا) أَيِ اليُسْرَى حَالَ الجُلُوسِ، وَيَنْصِبُ اليُمْنَى، (وَ) سُنَّ تَقْدِيمُ (اليُمْنَى خُرُوجًا، عَكْسُ مَسْجِدٍ وَنْعلٍ وَنَحْوِهِمَا) كَالمَنْزِلِ.

(وَ) يُسَنُّ لِمُرِيدِ قَضَاءِ الحَاجَةِ (بُعْدُهُ فِي فَضَاءٍ) حَتَّى لَا يَرَاهُ أَحَدٌ.

(وَ) سُنَّ لَهُ أَيْضًا (طَلَبُ مَكَانٍ رِخْوٍ لِبَوْلٍ)، وَيَقْصِدُ مَكانًا عَالِيًا لِيَنْحَدِرَ عَنْهُ البَوْلُ.

(وَ) سُنَّ (مَسْحُ الذَّكَرِ بِالْيَدِ اليُسْرَى - إِذَا انْقَطَعَ البَوْلُ - مِنْ أَصْلِهِ) أَيِ الذَّكَرِ، فَيَبْدَأُ مِنْ حَلْقَةِ دُبُرِهِ (إِلَى رَأْسِهِ) أَيْ رَأْسِ الذَّكَرِ (ثَلَاثًا) لِيَنْجَذِبَ البَوْلُ.

(وَ) سُنَّ (نَتْرُهُ) أَيِ الذَّكَرِ (ثَلَاثًا).

(وَكُرِهَ دُخُولُ خَلَاءٍ بِمَا) أَيْ بِشَيْءٍ (فِيهِ ذِكْرُ) اسْمِ (اللهِ تَعَالَى).
(এবং এর সকল অংশ) অর্থাৎ: মৃত প্রাণীর; যেমন হাড়, শিং, নখ এবং এর অনুরুপ (নাপাক; তবে চুল এবং এর অনুরুপ ব্যতীত) যেমন পশম এবং পালক যদি তা এমন মৃত প্রাণীর হয় যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল।

(এবং বিচ্ছিন্ন অংশ) কোনো (জীবিত) প্রাণী হতে যেমন শিং; তবে তা (তার মৃতদেহের ন্যায়)।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) ইস্তিঞ্জা প্রসঙ্গে

(ইস্তিঞ্জা করা ওয়াজিব প্রত্যেক নির্গত বস্তুর কারণে) যা রাস্তা দিয়ে বের হয় যদিও তা বিরল হয় যেমন কৃমি, (বায়ু ব্যতীত, এবং) (পবিত্র বস্তু) ব্যতীত যেমন বীর্য, (এবং) (দূষণকারী নয় এমন বস্তু) ব্যতীত যেমন কঙ্কর এবং শুষ্ক গোবর।

(এবং শৌচাগারে প্রবেশের সময় সুন্নাত হলো: প্রবেশকারীর বলা:) (আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর ও নারী শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং) তার জন্য (তা হতে বের হওয়ার পর) অর্থাৎ: শৌচাগার হতে বের হওয়ার পর সুন্নাত হলো বলা: (আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন)।

(এবং) শৌচাগারে প্রবেশকারীর জন্য সুন্নাত হলো: (মাথা ঢাকা এবং পায়ে জুতো পরিধান করা), (এবং) তার জন্য সুন্নাত হলো (প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া এবং বসা অবস্থায় তার উপর ভর দেওয়া) অর্থাৎ বসার অবস্থায় বাম পায়ের উপর ভর দেওয়া এবং ডান পা খাড়া রাখা, (এবং) (বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেওয়া) সুন্নাত, (যা মসজিদ, জুতো পরিধান এবং এজাতীয় অন্যান্য স্থানের) যেমন বাড়ির (বিপরীত)।

(এবং) হাজত পূরণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য সুন্নাত হলো (উন্মুক্ত প্রান্তরে দূরে যাওয়া) যাতে তাকে কেউ দেখতে না পায়।

(এবং) তার জন্য আরও সুন্নাত হলো (প্রস্রাবের জন্য নরম জায়গা তালাশ করা), এবং সে উঁচু জায়গার সংকল্প করবে যাতে প্রস্রাব তা হতে গড়িয়ে নিচে নেমে যায়।

(এবং) সুন্নাত হলো (বাম হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গ মোছা -যখন প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়- তার গোড়া হতে) অর্থাৎ পুরুষাঙ্গের গোড়া হতে, যা মলদ্বারের প্রান্ত হতে শুরু করবে (তার অগ্রভাগ পর্যন্ত) অর্থাৎ পুরুষাঙ্গের মাথা পর্যন্ত (তিনবার) যাতে প্রস্রাব নির্গত হয়ে যায়।

(এবং) সুন্নাত হলো (তা ঝাঁকানো) অর্থাৎ পুরুষাঙ্গকে (তিনবার ঝাঁকানো)।

(এবং মাকরূহ হলো এমন কিছু নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করা যাতে) অর্থাৎ এমন বস্তু যাতে (মহান আল্লাহর নামের যিকির) বা উল্লেখ আছে।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১০)
(وَ) كُرِهَ (كَلَامٌ فِيهِ) أَيِ الخَلاءِ (بِلَا حَاجَةٍ).

(وَ) كُرِهَ (رَفْعُ ثَوْبٍ قَبْلَ دُنُوٍّ مِنَ الأَرْضِ) لِغَيْرِ حَاجَةٍ.

(وَ) كُرِهَ (بَوْلٌ فِي شَقٍّ وَنَحْوِهِ).

(وَ) كُرِهَ (مَسُّ فَرْجٍ بِيَمِينٍ بِلَا حَاجَةٍ) حَتَّى بِاسْتِنْجَاءٍ أَوِ اسْتِجْمَارٍ.

(وَ) كُرِهَ (اسْتِقْبَالُ النَّيِّرَيْنِ) أَيِ الشَّمْسِ وَالقَمَرِ؛ فِي بَوْلٍ وَغَائِطٍ، بِلَا حَائِلٍ؛ لِمَا فِيهِمَا مِنْ نُورِ اللهِ - تَعَالَى -.

(وَحَرُمَ اسْتِقْبَالُ قِبْلَةٍ) فِي غَيْرِ بُنْيَانٍ، (وَ) حَرُمَ (اسْتِدْبَارُهَا) أَيِ القِبْلَةِ (فِي غَيْرِ بُنْيَانٍ).

(وَ) حَرُمَ (لُبْثٌ فَوْقَ) قَدْرِ (الحَاجَةِ)؛ لِأَنَّهُ كَشْفُ عَوْرَةٍ بِلَا حَاجَةٍ.

(وَ) حَرُمَ (بَوْلٌ) وَتَغَوُّطٌ (فِي طَرِيقٍ مَسْلُوكٍ وَنَحْوِهِ) كَالظِّلِّ النَّافِعِ، (وَ) حَرُمَ بَوْلٌ وَتَغَوُّطٌ (تَحْتَ شَجَرَةٍ مُثْمِرَةٍ ثَمَرًا مَقْصُودًا).

(وَسُنَّ اسْتِجْمَارٌ) بِحَجَرٍ وَنَحْوِهِ، (ثُمَّ اسْتِنْجَاءٌ بِمَاءٍ)، فَإِنْ عَكَسَ كُرِهَ، (وَيَجُوزُ الِاقْتِصَارُ عَلَى أَحَدِهِمَا) أَيِ الحَجَرِ أَوِ المَاءِ، (لَكِنَّ المَاءَ) وَحْدَهُ (أَفْضَلُ حِينَئِذٍ) مِنَ الحَجَرِ وَحْدَهُ.

(وَلَا يَصِحُّ اسْتِجْمَارٌ إِلَّا بِطَاهِرٍ مُبَاحٍ يَابِسٍ مُنْقٍ) كَالحَجَرِ وَالخَشَبِ.

(وَحَرُمَ) اسْتِجْمَارٌ (بِرَوْثٍ وَعَظْمٍ وَطَعَامٍ) مُطْلَقًا، (وَذِي حُرْمَةٍ) كَكُتُبِ حَدِيثٍ وَفِقْهٍ، (وَمُتَّصِلٍ بِحَيَوَانٍ).

(وَشُرِطَ لَهُ) أَيْ لِلاسْتِجْمَارِ: (عَدَمُ تَعَدِّي خَارِجٍ مَوضِعَ العَادَةِ)، فَإِنِ اسْتَجْمَرَ بِمَا نَهَى عَنْهُ الشَّارِعُ لِحُرْمَتِهِ، أَوْ تَعَدَّى خَارِجٌ مَوْضِعَ العَادَةِ: لَمْ يُجْزِئْهُ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَّا المَاءُ.
(এবং) মাকরূহ হলো (সেখানে কথা বলা) অর্থাৎ শৌচাগারে (প্রয়োজন ছাড়া)।

(এবং) মাকরূহ হলো (মাটির নিকটবর্তী হওয়ার আগে কাপড় উঠানো) প্রয়োজন ছাড়া।

(এবং) মাকরূহ হলো (গর্ত বা তদ্রূপ স্থানে প্রস্রাব করা)।

(এবং) মাকরূহ হলো (প্রয়োজন ছাড়া ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা) এমনকি পানি বা ঢিলা দ্বারা শৌচকার্য করার সময়ও।

(এবং) মাকরূহ হলো (দুই জ্যোতিষ্কের দিকে মুখ করা) অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্রের দিকে; প্রস্রাব ও পায়খানা করার সময়, কোনো আড়াল ব্যতীত; কারণ এই দুটির মধ্যে মহান আল্লাহর নূর বিদ্যমান।

(আর কিবলার দিকে মুখ করা হারাম) ভবন বা বেষ্টনী ছাড়া অন্য স্থানে, (এবং) হারাম হলো (তার দিকে পিঠ ফেরা) অর্থাৎ কিবলার দিকে (ভবন বা বেষ্টনী ছাড়া অন্য স্থানে)।

(এবং) হারাম হলো (প্রয়োজনের) অতিরিক্ত সময় (অবস্থান করা); কারণ তা প্রয়োজন ছাড়া সতর উন্মুক্ত রাখা।

(এবং) হারাম হলো (প্রস্রাব) ও পায়খানা করা (চলাচলের রাস্তা ও তদ্রূপ স্থানে) যেমন উপকারী ছায়া, (এবং) হারাম হলো প্রস্রাব ও পায়খানা করা (এমন ফলবান বৃক্ষের নিচে যার ফল সংগ্রহের উদ্দেশ্য থাকে)।

(এবং সুন্নত হলো ইস্তিজমার করা) পাথর বা এই জাতীয় বস্তু দ্বারা, (অতঃপর পানি দিয়ে ইস্তিনজা করা), যদি এর বিপরীত করা হয় তবে তা মাকরূহ হবে, (এবং যে কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ) অর্থাৎ পাথর বা পানি, (তবে এমতাবস্থায় কেবল পানি) ব্যবহার করা (উত্তম) কেবল পাথর ব্যবহারের চেয়ে।

(আর পবিত্র, বৈধ, শুষ্ক ও পরিষ্কারকারী বস্তু ছাড়া ইস্তিজমার শুদ্ধ হবে না) যেমন পাথর ও কাঠ।

(এবং হারাম হলো) ইস্তিজমার করা (গোবর, হাড় ও খাদ্যদ্রব্য দিয়ে) সাধারণভাবে, (এবং সম্মানজনক বস্তু দিয়ে) যেমন হাদীস ও ফিকহের কিতাবসমূহ, (এবং কোনো প্রাণীর দেহের সাথে সংযুক্ত অঙ্গ দিয়ে)।

(এবং এর জন্য শর্ত হলো) অর্থাৎ ইস্তিজমারের জন্য: (নির্গমনকারী বস্তু স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম না করা), সুতরাং কেউ যদি এমন বস্তু দ্বারা ইস্তিজমার করে যা শরিয়ত প্রণেতা এর মর্যাদার কারণে নিষিদ্ধ করেছেন, অথবা নির্গত বস্তু যদি স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম করে যায়: তবে এরপর পানি ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১১)
(وَ) شُرِطَ لِلاسْتِجْمَارِ بِحَجَرٍ: (ثَلَاثُ مَسَحَاتٍ مُنْقِيَةٍ فَأَكْثَرُ)، تَعُمُّ كُلُّ مَسْحَةٍ المَحَلَّ.

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي السِّوَاكِ وَسُنَنِ الفِطْرَةِ

(يُسَنُّ السِّوَاكُ بِالْعُودِ كُلَّ وَقْتٍ) أَيْ فِي كُلِّ وَقْتٍ مِنَ الأَوْقَاتِ، (إِلَّا لِصَائِمٍ بَعْدَ الزَّوَالِ) أَيْ مَيْلِ الشَّمْسِ عِنْدَ كَبِدِ السَّمَاءِ، (فَيُكْرَهُ) السِّوَاكُ إِذَنْ.

(وَيَتَأَكَّدُ) السِّوَاكُ (عِنْدَ) كُلِّ وُضُوءٍ وَ (صَلَاةٍ وَنَحْوِهَا) كَدُخُولِ مَنْزِلٍ، (وَ) يَتَأَكَّدُ أَيْضًا عِنْدَ (تَغَيُّرٍ فَمٍ وَنَحْوِهِ) كَخُلُوِّ المِعْدَةِ.

(وَسُنَّ بُدَاءَةٌ بِـ) الجَانِبِ (الأَيْمَنِ) مِنْ فَمٍ (فِيهِ) أَيِ السِّوَاكِ (وَ) بُدَاءَةٌ بِالأَيْمَنِ (فِي طُهْرٍ وَ) فِي (شَأْنِهِ كُلِّهِ) كَتَرَجُّلٍ وَنَحْوِهِ.

(وَ) سُنَّ (ادِّهَانٌ غِبًّا) أَيْ يَوْمًا وَيَوْمًا.

(وَ) سُنَّ (اكْتِحَالٌ) بِإِثْمِدٍ كُلَّ لَيْلَةٍ (فِي كُلِّ عَيْنٍ ثَلَاثًا) قَبْلَ النَّوْمِ.

(وَ) سُنَّ (نَظَرٌ فِي مِرْآةٍ)، وَقَوْلُهُ: «اللهم كَمَا حَسَّنَتْ خَلْقِي فَحَسِّنْ خُلُقِي، وَحَرِّمْ وَجْهِي عَلَى النَّارِ».

(وَ) سُنَّ (تَطَيُّبٌ) لِرَجُلٍ بِمَا خَفِيَ لَوْنُهُ وَظَهَرَ رِيحُهُ، وَلِلْمَرْأَةِ فِي غَيْرِ بَيْتِهَا بِعَكْسِهِ.

(وَ) سُنَّ (اسْتِحْدَادٌ) أَيْ حَلْقُ العَانَةِ، وَلَهُ قَصُّهُ وَإِزَالَتُهُ بِمَا شَاءَ.

(وَ) سُنَّ (حَفُّ شَارِبٍ)، وَهُوَ المُبَالَغَةُ فِي قَصِّهِ.

(وَ) سُنَّ (تَقْلِيمُ ظُفُرٍ).

(وَ) سُنَّ (نَتْفُ إِبْطٍ).

(وَكُرِهَ قَزَعٌ)، وَهُوَ حَلْقُ بَعْضِ الرَّأْسِ.
(এবং) পাথর দ্বারা ইস্তিজমার জন্য শর্ত হলো: (তিনটি পরিচ্ছন্নকারী মোচন বা তার অধিক), যেখানে প্রতিটি মোচন পুরো স্থানকে পরিবেষ্টন করবে।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) মিসওয়াক ও স্বভাবজাত সুন্নাতসমূহ প্রসঙ্গে

(কাঠের ডাল দিয়ে সব সময় মিসওয়াক করা সুন্নাত) অর্থাৎ সময়ের প্রতিটি সময়ে, (তবে সিয়াম পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে পড়ার পর ব্যতীত) অর্থাৎ আকাশের মধ্যভাগ থেকে সূর্যের হেলে পড়া, তখন মিসওয়াক করা (মাকরূহ বা অপছন্দনীয়)।

(এবং গুরুত্ব প্রদান করা হয়) মিসওয়াকের প্রতি প্রতিটি ওজু এবং (সালাত ও অনুরূপ কাজের সময়) যেমন ঘরে প্রবেশের সময়, (এবং) আরও গুরুত্ব প্রদান করা হয় (মুখের গন্ধ পরিবর্তন ও অনুরূপ ক্ষেত্রে) যেমন পাকস্থলী শূন্য হওয়ার কারণে।

(এবং সুন্নাত হলো) মুখের (ডান) দিক থেকে (এতে) অর্থাৎ মিসওয়াক করা (শুরু করা), (এবং) (পবিত্রতা অর্জন ও) তার (অন্যান্য সকল কাজে) ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নাত যেমন চুল আঁচড়ানো এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে।

(এবং) সুন্নাত হলো (মাঝে মাঝে তেল ব্যবহার করা) অর্থাৎ একদিন পর একদিন।

(এবং) সুন্নাত হলো ঘুমের পূর্বে প্রতি রাতে ইসমিদ সুরমা (প্রতি চোখে তিন বার করে ব্যবহার করা)।

(এবং) সুন্নাত হলো (আয়নায় তাকানো), এবং এই দোয়া পড়া: «হে আল্লাহ! যেভাবে আপনি আমার অবয়ব সুন্দর করেছেন, সেভাবে আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন এবং আমার চেহারাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিন।»

(এবং) সুন্নাত হলো (সুগন্ধি ব্যবহার করা); পুরুষের জন্য এমন সুগন্ধি যার রঙ অস্পষ্ট কিন্তু ঘ্রাণ প্রকাশ্য, আর মহিলার জন্য তার ঘরের বাইরে এর বিপরীত।

(এবং) সুন্নাত হলো (নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা) অর্থাৎ মুণ্ডানো, আর সে চাইলে তা ছাঁটতে বা যেকোনো উপায়ে দূর করতে পারে।

(এবং) সুন্নাত হলো (গোঁফ ছেঁটে ছোট করা), আর তা হলো তা কাটার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন বা খুব ছোট করা।

(এবং) সুন্নাত হলো (নখ কাটা)।

(এবং) সুন্নাত হলো (বগলের পশম উপড়ানো)।

(এবং ক্বাযা' করা মাকরূহ), আর তা হলো মাথার কিছু অংশ মুণ্ডানো।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১২)
(وَ) كُرِهَ (نَتْفُ شَيْبٍ) لِأَنَّهُ نُورُ الإِسْلَامِ.

(وَ) كُرِهَ (ثَقْبُ أُذُنِ صَبِيٍّ) لَا جَارِيَةٍ.

(وَيَجِبُ خِتَانُ ذَكَرٍ) بُعَيْدَ بُلُوغٍ بِأَخْذِ جِلْدَةِ الحَشَفَةِ أَوْ أَكْثَرِهَا، (وَ) يَجِبُ خِتَانُ (أُنْثَى بُعَيْدَ بُلُوغٍ) بِأَخْذِ جِلْدَةٍ فَوْقَ مَحَلِّ الإِيلَاجِ؛ تُشْبِهُ عُرْفَ الدِّيكِ، (مَعَ أَمْنِ الضَّرَرِ) مُتَعَلِّقٌ بِـ «يَجِبُ»، (وَيُسَنُّ) الخِتَانُ (قَبْلَهُ) أَيِ البُلُوغِ، (وَيُكْرَهُ) الخِتَانُ (سَابِعَ) يَوْمِ (وِلَادَتِهِ، وَ) يُكْرَهُ الخِتَانُ (مِنْهَا إِلَيْهِ) أَيْ مِنَ الوِلَادَةِ إِلَى اليَوْمِ السَّابِعِ.

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي فُرُوضِ الوُضُوءِ

(فُرُوضُ الوُضُوءِ سِتَّةٌ):

الأَوَّلُ: (غَسْلُ الوَجْهِ مَعَ مَضْمَضَةٍ وَاسْتِنْشَاقٍ).

(وَ) الثَّانِي: (غَسْلُ اليَدَيْنِ) مَعَ المِرْفَقَيْنِ.

(وَ) الثَّالِثُ: غَسْلُ (الرِّجْلَيْنِ) مَعَ الكَعْبَيْنِ.

(وَ) الرَّابِعُ: (مَسْحُ جَمِيعِ الرَّأْسِ مَعَ الأُذُنَيْنِ).

(وَ) الخَامِسُ: (تَرْتِيبٌ) بَيْنَ الأَعْضَاءِ.

(وَ) السَّادِسُ: (مُوَالَاةٌ)، وَهِيَ أَنْ لَا يُؤَخِّرَ غَسْلَ عُضْوٍ حَتَّى يَنْشَفَ الَّذِي قَبْلَهُ.

(وَالنِّيَّةُ) مَحَلُّهَا القَلْبُ، وَهِيَ (شَرْطٌ لِكُلِّ طَهَارَةٍ شَرْعِيَّةٍ) كَالوُضُوءِ وَالغُسْلِ، (غَيْرَ إِزَالَةِ خَبَثٍ، وَ) غَيْرَ (غُسْلِ كِتَابِيَّةٍ لِحِلِّ وَطْءٍ) لِزَوْجٍ مُسْلِمٍ مِنْ نَحْوِ حَيْضٍ، (وَ) غَيْرَ غُسْلِ (مُسْلِمَةٍ مُمْتَنِعَةٍ لِذَلِكَ)، فَتَغْتَسِلُ قَهْرًا بِلَا نِيَّةٍ؛ كَمُمْتَنِعٍ مِنْ إِخْرَاجِ زَكَاةٍ.
(এবং) সাদা চুল উপড়ে ফেলা মাকরূহ, কারণ তা ইসলামের নূর।

(এবং) ছেলের কান ফোঁড়ানো মাকরূহ, মেয়েদের ক্ষেত্রে নয়।

(এবং পুরুষের খতনা করা ওয়াজিব) বালেগ হওয়ার অব্যবহিত পরে লিঙ্গাগ্রের চামড়া বা তার অধিকাংশ ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে, (এবং) নারীর খতনা করা ওয়াজিব (বালেগ হওয়ার অব্যবহিত পরে) যোনিপথের উপরের চামড়া—যা মোরগের ঝুঁটির সদৃশ—তা ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে; (ক্ষতির আশঙ্কা না থাকা সাপেক্ষে) এই শর্তটি ‘ওয়াজিব’ শব্দের সাথে সম্পৃক্ত। (এবং সুন্নাত) হলো খতনা করা (তার আগে) অর্থাৎ বালেগ হওয়ার আগে। (এবং মাকরূহ) হলো খতনা করা জন্মের (সপ্তম) দিনে, (এবং) খতনা করা মাকরূহ (জন্ম হতে সপ্তম দিন পর্যন্ত)।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) ওযুর ফরযসমূহ প্রসঙ্গে

(ওযুর ফরয ছয়টি):

প্রথম: (মুখমণ্ডল ধোয়া, সাথে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া)।

(এবং) দ্বিতীয়: (উভয় হাত ধোয়া) কনুইসহ।

(এবং) তৃতীয়: (উভয় পা) ধোয়া টাখনুসহ।

(এবং) চতুর্থ: (কানসহ সম্পূর্ণ মাথা মাসহ করা)।

(এবং) পঞ্চম: অঙ্গসমূহের মধ্যে (ধারাবাহিকতা রক্ষা করা)।

(এবং) ষষ্ঠ: (পরস্পর বিরতিহীনভাবে ধোয়া); আর তা হলো এক অঙ্গ ধুতে এতটুকু বিলম্ব না করা যাতে তার পূর্বের অঙ্গটি শুকিয়ে যায়।

(এবং নিয়ত) যার স্থান হলো অন্তর, আর এটি (শরিয়তসম্মত প্রত্যেক পবিত্রতার জন্য শর্ত) যেমন ওযু ও গোসল; (নাপাকি দূর করা ব্যতীত, এবং) আহলে কিতাব স্ত্রীর গোসল ব্যতীত (মুসলিম স্বামীর জন্য সহবাস হালাল হওয়ার উদ্দেশ্যে) যেমন হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া, (এবং) এমন মুসলিম নারীর গোসল ব্যতীত (যে গোসল করতে অস্বীকৃতি জানায়); এমতাবস্থায় তাকে নিয়ত ছাড়াই বাধ্য করে গোসল করানো হবে, যেমন যাকাত দিতে অস্বীকারকারীর থেকে জোরপূর্বক যাকাত আদায় করা হয়।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
(وَالتَّسْمِيَةُ وَاجِبَةٌ فِي) أَرْبَعَةِ مَوَاضِعَ: الأَوَّلُ: فِي (وُضُوءٍ، وَ) الثَّانِي: فِي (غُسْلٍ)، (وَ) الثَّالِثُ: فِي (تَيَمُّمٍ)، (وَ) الرَّابِعُ: فِي (غَسْلِ يَدَيْ قَائِمٍ مِنْ نَوْمِ لَيْلٍ نَاقِضٍ لِوُضُوءٍ).

(وَتَسْقُطُ) التَّسْمِيَةُ (سَهْوًا وَجَهْلًا).

(وَمِنْ سُنَنِهِ) أَيِ الوُضُوءِ:

الأَوَّلُ: (اسْتِقْبَالُ قِبْلَةٍ).

(وَ) الثَّانِي: (سِوَاكٌ).

(وَ) الثَّالِثُ: (بُدَاءَةٌ بِغَسْلِ يَدَيْ غَيْرِ قَائِمٍ مِنْ نَوْمِ لَيْلٍ) نَاقِضٍ لِوُضُوءٍ، (وَيَجِبُ لَهُ ثَلَاثًا تَعَبُّدًا).

(وَ) الرَّابِعُ: بُدَاءَةٌ - قَبْلَ غَسْلِ وَجْهٍ - (بِمَضْمَضَةٍ فَاسْتِنْشَاقٍ).

(وَ) الخَامِسُ: (مُبَالَغَةٌ فِيهِمَا) أَيِ المَضْمَضَةِ وَالاسْتِنْشَاقِ (لِغَيْرِ صَائِمٍ).

(وَ) السَّادِسُ (تَخْلِيلُ شَعْرٍ كَثِيفٍ).

(وَ) السَّابِعُ: تَخْلِيلُ (الأَصَابِعِ) مِنَ اليَدَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ.

(وَ) الثَّامِنُ: (غَسْلَةٌ ثَانِيَةٌ وَثَالِثَةٌ، وَكُرِهَ أَكْثَرُ).

(وَسُنَّ بَعْدَ فَرَاغِهِ رَفْعُ بَصَرِهِ إِلَى السَّمَاءِ، وَقَوْلُ مَا وَرَدَ، وَاللهُ أَعْلَمُ)، وَهُوَ: «أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، اللهم اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَابِينَ، وَاجْعَلْنِي مِنَ المُتَطَهِّرِينَ، سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ».

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي المَسْحِ عَلَى الخُفَّيْنِ

(يَجُوزُ المَسْحُ عَلَى خُفٍّ وَنَحْوِهِ) كَجَوْرَبٍ (وَ) كَذَا عَلَى (عِمَامَةِ ذَكَرٍ؛ مُحَنَّكَةٍ
(এবং তাসমিয়াহ তথা বিসমিল্লাহ বলা ওয়াজিব) চারটি স্থানে: প্রথমটি: (ওযুতে, এবং) দ্বিতীয়টি: (গোসলে), (এবং) তৃতীয়টি: (তায়াম্মুমে), (এবং) চতুর্থটি: (ওযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দুই হাত ধোয়ার সময়)।

(এবং) তাসমিয়াহ (ভুলবশত ও অজ্ঞতাবশত রহিত হয়ে যায়)।

(এবং ওযুর সুন্নতসমূহের মধ্যে রয়েছে):

প্রথম: (কিবলামুখী হওয়া)।

(এবং) দ্বিতীয়: (মিসওয়াক করা)।

(এবং) তৃতীয়: ওযু ভঙ্গকারী (রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হয়নি এমন ব্যক্তির দুই হাত ধোয়ার মাধ্যমে শুরু করা, আর উক্ত ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির জন্য ইবাদত হিসেবে তিনবার হাত ধোয়া ওয়াজিব)।

(এবং) চতুর্থ: মুখমণ্ডল ধোয়ার পূর্বে (কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার মাধ্যমে) শুরু করা।

(এবং) পঞ্চম: (রোজাদার ব্যতীত অন্য ব্যক্তির জন্য এ দুটির ক্ষেত্রে) অর্থাৎ কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে (অধিক গুরুত্বের সাথে করা)।

(এবং) ষষ্ঠ: (ঘন চুল খিলাল করা)।

(এবং) সপ্তম: হাত ও পায়ের (আঙুলসমূহ) খিলাল করা।

(এবং) অষ্টম: (দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধোয়া, আর তিনবারের অধিক ধোয়া মাকরূহ)।

(এবং ওযু সমাপ্ত করার পর আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করা এবং বর্ণিত দোয়া পাঠ করা সুন্নত, আর আল্লাহই ভালো জানেন), আর তা হলো: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ, আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আল্লাহ, আপনার প্রশংসা সহকারে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি»।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) মোজার ওপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে

(চামড়ার মোজা ও তার অনুরূপ জিনিসের ওপর মাসেহ করা বৈধ) যেমন সাধারণ মোজা (এবং) অনুরূপভাবে (পুরুষের পাগড়ির ওপর; যা চিবুকের নিচ দিয়ে প্যাঁচানো থাকে)।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
أَوْ ذَاتِ ذُؤَابَةٍ).

(وَ) يَجُوزُ المَسْحُ عَلَى (خُمُرِ نِسَاءٍ مُدَارَةٍ تَحْتَ حُلُوقِهِنَّ).

(وَ) يَجُوزُ المَسْحُ (عَلَى جَبِيرَةٍ لَمْ تُجَاوِزْ قَدْرَ الحَاجَةِ)، فَيَمْسَحُ عَلَيْهَا (إِلَى حَلِّهَا) لِلضَّرُورَةِ.

(وَإِنْ جَاوَزَتْهُ) أَيْ قَدْرَ الحَاجَةِ، (أَوْ) كَانَ (وَضَعَهَا عَلَى غَيْرِ طَهَارَةٍ) وَإِنْ لَمْ تَتَجَاوَزْ: (لَزِمَهُ نَزْعُهَا) وَغَسْلُ مَا تَحْتَهَا.

(فَإِنْ خَافَ) بِنَزْعِهَا (الضَّرَرَ) وَهِيَ مُتَجَاوِزَةٌ مَحَلَّ الحَاجَةِ، أَوْ كَانَ وَضَعَهَا عَلَى غَيْرِ طَهَارَةٍ وَإِنْ لَمْ تَتَجَاوَزْ: (تَيَمَّمَ) لَهَا (مَعَ مَسْحِ مَوْضُوعَةٍ عَلَى طَهَارَةٍ)، فَيَغْسِلُ الصَّحِيحَ، وَيَتَيَمَّمُ عَنِ المُجَاوِزِ، وَيَمْسَحُ عَنِ الجُرْحِ.

(وَيَمْسَحُ مُقِيمٌ، وَعَاصٍ بِسَفَرِهِ)، وَمُسَافِرٌ دُونَ مَسَافَةِ قَصْرٍ (مِنْ) بِدَايَةِ (حَدَثٍ بَعْدَ لُبْسٍ يَوْمًا وَلَيْلَةً، وَ) يَمْسَحُ (مُسَافِرٌ سَفَرَ قَصْرٍ) مُبَاحًا، وَعَاصٍ فِي سَفَرِهِ (ثَلَاثَةً بِلَيَالِيهَا، فَإِنْ مَسَحَ فِي سَفَرٍ ثُمَّ أَقَامَ) قَبْلَ مُضِيِّ مُدَّتِهِ (أَوْ عَكَسَ) بِأَنْ مَسَحَ مُقِيمًا أَقَلَّ مِنْ مَسْحِ مُقِيمٍ ثُمَّ سَافَرَ؛ (فَكَـ) مَسْحِ (مُقِيمٍ) يَعْنِي: يَوْمًا وَلَيْلَةً.

(وَشُرِطَ) لِمَسْحِ الخُفَّيْنِ - وَمَا فِي مَعْنَاهُمَا وَنَحْوِهِمَا - سِتَّةُ شُرُوطٍ:

الأَوَّلُ: (تَقَدُّمُ كَمَالِ طَهَارَةٍ) بِمَاءٍ.

(وَ) الثَّانِي: (سَتْرُ مَمْسُوحٍ مَحَلَّ فَرْضٍ).

(وَ) الثَّالِثُ: (ثُبُوتُهُ) أَيِ المَمْسُوحِ (بِنَفْسِهِ).

(وَ) الرَّابِعُ: (إِمْكَانُ مَشْيٍ بِهِ) أَيِ المَمْسُوحِ (عُرْفًا).

(وَ) الخَامِسُ: (طَهَارَتُهُ) أَيِ المَمْسُوحِ.

(وَ) السَّادِسُ: (إِبَاحَتُهُ) مُطْلَقًا.
অথবা লেজবিশিষ্ট)।

(এবং) নারীদের ঐসব ওড়নার ওপর মাসাহ করা জায়েয (যা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে দিয়ে পেঁচানো থাকে)।

(এবং) এমন ব্যান্ডেজ বা পট্টির ওপর মাসাহ করা জায়েয (যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা দখল করেনি)। সুতরাং সে তার ওপর (তা খোলা পর্যন্ত) প্রয়োজনের খাতিরে মাসাহ করবে।

(আর যদি তা অতিক্রম করে যায়) অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান দখল করে, (অথবা) যদি (তা অপবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়) যদিও তা সীমা অতিক্রম না করে থাকে, তবে (তা খোলা) এবং তার নিচের অংশ ধৌত করা (তার জন্য আবশ্যক)।

(অতঃপর যদি সে) তা খোলার কারণে (ক্ষতির আশঙ্কা করে) অথচ তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান দখল করে আছে, অথবা যদি তা অপবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়ে থাকে যদিও তা সীমা অতিক্রম না করে, তবে সে তার জন্য (তায়াম্মুম করবে) পবিত্র অবস্থায় লাগানো অংশের ওপর (মাসাহ করার সাথে সাথে)। সুতরাং সে সুস্থ অংশ ধৌত করবে, অতিরিক্ত অংশের জন্য তায়াম্মুম করবে এবং ক্ষতের ওপর মাসাহ করবে।

(এবং মুকিম তথা স্থায়ী বাসিন্দা ও নিজ সফরের কারণে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি) এবং কসর করার দূরত্বের কম পথ অতিক্রমকারী মুসাফির (পরিধানের পর থেকে অপবিত্র হওয়ার) শুরু (থেকে একদিন একরাত) মাসাহ করবে। (এবং) বৈধ (কসর করার দূরত্বের মুসাফির) ও সফরে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি (তিন দিন ও তিন রাত) মাসাহ করবে। (অতঃপর যদি কেউ সফরে মাসাহ করে তারপর স্থায়ী হয়) সময় শেষ হওয়ার আগে, (অথবা এর উল্টোটা ঘটে) অর্থাৎ মুকিম হিসেবে মুকিমের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম সময় মাসাহ করার পর সফরে বের হয়, (তবে তা মুকিমের) মাসাহর (মতো হবে), অর্থাৎ: একদিন একরাত।

চামড়ার মোজা এবং সমজাতীয় ও অনুরূপ বস্তুর ওপর মাসাহ করার জন্য ছয়টি শর্ত (আরোপ করা হয়েছে):

প্রথম: পানি দ্বারা (পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর পরিধান করা)।

(এবং) দ্বিতীয়: (মাসাহকৃত বস্তুটি দ্বারা ফরয অঙ্গের স্থানটি আবৃত হওয়া)।

(এবং) তৃতীয়: (মাসাহকৃত বস্তুটি নিজে নিজেই স্থির থাকা)।

(এবং) চতুর্থ: (সাধারণ প্রথা অনুযায়ী তা পরিধান করে হাঁটা সম্ভব হওয়া)।

(এবং) পঞ্চম: (মাসাহকৃত বস্তুটি পবিত্র হওয়া)।

(এবং) ষষ্ঠ: (তা সাধারণভাবে বৈধ হওয়া)।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
(وَيَجِبُ مَسْحُ أَكْثَرِ دَوَائِرِ عِمَامَةٍ، وَ) يَجِبُ مَسْحُ (أَكْثَرِ ظَاهِرِ قَدَمِ خُفٍّ، وَ) يَجِبُ مَسْحُ (جَمِيعِ جَبِيرَةٍ).

(وَإِنْ ظَهَرَ بَعْضُ مَحَلِّ فَرْضٍ) أَيْ مَتَى ظَهَرَ بَعْضُ قَدَمِهِ بَعْدَ الحَدَثِ وَقَبْلِ انْقِضَاءِ المُدَّةِ، أَوْ ظَهَرَ بَعْضُ رَأْسِهِ وَفَحُشَ فِيهِ، (أَوْ تَمَّتِ المُدَّةُ) أَي مُدَّةُ المَسْحِ وَلَوْ مُتَطَهِّرًا أَوْ فِي صَلَاةٍ: (اسْتَأْنَفَ الطَّهَارَةَ)، وَبَطَلَتِ الصَّلَاةُ.

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي نَوَاقِضِ الوُضُوءِ

(نَوَاقِضُ الوُضُوءِ ثَمَانِيَةٌ):

الأَوَّلُ: (خَارِجٌ مِنْ سَبِيلٍ مُطْلَقًا) أَيْ قَلِيلًا كَانَ أَوْ كَثِيرًا، طَاهِرًا أَوْ نَجِسًا، نَادِرًا أَوْ مُعْتَادًا.

(وَ) الثَّانِي: (خَارِجٌ مِنْ بَقِيَّةِ البَدَنِ مِنْ بَوْلٍ وَغَائِطٍ وَكَثِيرٍ نَجِسٍ غَيْرِهِمَا) أَيِ البَوْلِ وَالغَائِطِ؛ كَالدَّمِ وَنَحْوِهِ.

(وَ) الثَّالِثُ: (زَوَالُ عَقْلٍ؛ إِلَّا يَسِيرَ نَوْمٍ) عُرْفًا (مِنْ قَائِمٍ أَوْ قَاعِدٍ).

(وَ) الرَّابِعُ: (غَسْلُ مَيِّتٍ)؛ مُسْلِمًا كَانَ، أَوْ كَافرًا.

(وَ) الخَامِسُ: (أَكْلُ لَحْمِ إِبِلٍ)، عَلِمَهُ أَوْ جَهِلَهُ، نَيِّئًا كَانَ أَوْ مَطْبُوخًا.

(وَ) السَّادِسُ: (الرِّدَّةُ) عَنِ الإِسْلَامِ، (وَكُلُّ مَا أَوْجَبَ غُسْلًا، غَيْرَ مَوْتٍ)؛ كَإِسْلَامٍ، وَانْتِقَالِ مَنِيٍّ، وَحَيْضٍ، وَنِفَاسٍ.

وَلَا يَجِبُ وُضُوءُ المَيِّتِ؛ بَلْ يُسَنُّ.

(وَ) السَّابِعُ: (مَسُّ فَرْجِ آدَمِيٍّ مُتَّصِلٍ) لَا مُنْفَصِلٍ، (أَوْ) مَسُّ (حَلْقَةِ دُبُرِهِ) أَيِ الآدَمِيِّ (بِيَدٍ).

(وَ) الثَّامِنُ: (لَمْسُ ذَكَرٍ أَوْ) لَمْسُ (أُنْثَى الآخَرَ) أَيْ لَمْسُ ذَكَرٍ بَشَرَةَ أُنْثَى، أَوْ

الأَوَّلُ: (خَارِجٌ مِنْ سَبِيلٍ مُطْلَقًا) أَيْ قَلِيلًا كَانَ أَوْ كَثِيرًا، طَاهِرًا أَوْ نَجِسًا، نَادِرًا أَوْ مُعْتَادًا.

(وَ) الثَّانِي: (خَارِجٌ مِنْ بَقِيَّةِ البَدَنِ مِنْ بَوْلٍ وَغَائِطٍ وَكَثِيرٍ نَجِسٍ غَيْرِهِمَا) أَيِ البَوْلِ وَالغَائِطِ؛ كَالدَّمِ وَنَحْوِهِ.

(وَ) الثَّالِثُ: (زَوَالُ عَقْلٍ؛ إِلَّا يَسِيرَ نَوْمٍ) عُرْفًا (مِنْ قَائِمٍ أَوْ قَاعِدٍ).

(وَ) الرَّابِعُ: (غَسْلُ مَيِّتٍ)؛ مُسْلِمًا كَانَ، أَوْ كَافرًا.

(وَ) الخَامِسُ: (أَكْلُ لَحْمِ إِبِلٍ)، عَلِمَهُ أَوْ جَهِلَهُ، نَيِّئًا كَانَ أَوْ مَطْبُوخًا.

(وَ) السَّادِسُ: (الرِّدَّةُ) عَنِ الإِسْلَامِ، (وَكُلُّ مَا أَوْجَبَ غُسْلًا، غَيْرَ مَوْتٍ)؛ كَإِسْلَامٍ، وَانْتِقَالِ مَنِيٍّ، وَحَيْضٍ، وَنِفَاسٍ.

وَلَا يَجِبُ وُضُوءُ المَيِّتِ؛ بَلْ يُسَنُّ.

(وَ) السَّابِعُ: (مَسُّ فَرْجِ آدَمِيٍّ مُتَّصِلٍ) لَا مُنْفَصِلٍ، (أَوْ) مَسُّ (حَلْقَةِ دُبُرِهِ) أَيِ الآدَمِيِّ (بِيَدٍ).

(وَ) الثَّامِنُ: (لَمْسُ ذَكَرٍ أَوْ) لَمْسُ (أُنْثَى الآخَرَ) أَيْ لَمْسُ ذَكَرٍ بَشَرَةَ أُنْثَى، أَوْ
(এবং পাগড়ির অধিকাংশ প্যাঁচ মাসেহ করা ওয়াজিব, এবং) (মোজার উপরিভাগের অধিকাংশ মাসেহ করা) ওয়াজিব, (এবং) (পুরো ব্যান্ডেজ মাসেহ করা) ওয়াজিব।

(আর যদি ফরজের স্থানের কিছু অংশ প্রকাশ পায়) অর্থাৎ যখন অপবিত্র হওয়ার পর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তার পায়ের কিছু অংশ প্রকাশ পায়, অথবা তার মাথার কিছু অংশ প্রকাশ পায় এবং তা অধিক হয়, (অথবা মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়) অর্থাৎ মাসেহের মেয়াদ, যদিও সে পবিত্র অবস্থায় থাকে অথবা নামাজের মধ্যে থাকে: (সে নতুন করে পবিত্রতা অর্জন করবে), এবং নামাজ বাতিল হয়ে যাবে।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ প্রসঙ্গে

(ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ আটটি):

প্রথম: (দুই রাস্তা দিয়ে যা বের হয়, তা সাধারণভাবে) অর্থাৎ তা অল্প হোক বা বেশি হোক, পবিত্র হোক বা অপবিত্র হোক, বিরল হোক বা স্বাভাবিক হোক।

(এবং) দ্বিতীয়: (শরীরের অবশিষ্ট অংশ থেকে প্রস্রাব ও পায়খানা বের হওয়া এবং এই দুটি ছাড়া অন্য কোনো অপবিত্র বস্তু অধিক পরিমাণে বের হওয়া) অর্থাৎ প্রস্রাব ও পায়খানা ছাড়া; যেমন রক্ত এবং এই জাতীয় বস্তু।

(এবং) তৃতীয়: (বিবেকের বিলুপ্তি ঘটা; তবে সামান্য ঘুম ছাড়া) প্রথাগতভাবে (দাঁড়ানো বা বসা ব্যক্তির পক্ষ থেকে)।

(এবং) চতুর্থ: (মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো); চাই সে মুসলিম হোক বা কাফির।

(এবং) পঞ্চম: (উটের গোশত খাওয়া), চাই সে জানুক বা না জানুক, কাঁচা হোক বা রান্না করা।

(এবং) ষষ্ঠ: ইসলাম থেকে (মুরতাদ হওয়া), (এবং এমন প্রতিটি বিষয় যা গোসল ওয়াজিব করে, মৃত্যু ছাড়া); যেমন ইসলাম গ্রহণ, বীর্য স্খলন, হায়জ এবং নিফাস।

আর মৃত ব্যক্তির ওজু করানো ওয়াজিব নয়; বরং তা সুন্নাত।

(এবং) সপ্তম: (মানুষের সংযুক্ত লজ্জাস্থান স্পর্শ করা) বিচ্ছিন্ন নয়, (অথবা) মানুষের (মলদ্বার স্পর্শ করা) (হাত দিয়ে)।

(এবং) অষ্টম: (পুরুষের বা) (নারীর পরস্পরকে স্পর্শ করা) অর্থাৎ পুরুষের নারীর চামড়া স্পর্শ করা, অথবা

প্রথম: (দুই রাস্তা দিয়ে যা বের হয়, তা সাধারণভাবে) অর্থাৎ তা অল্প হোক বা বেশি হোক, পবিত্র হোক বা অপবিত্র হোক, বিরল হোক বা স্বাভাবিক হোক।

(এবং) দ্বিতীয়: (শরীরের অবশিষ্ট অংশ থেকে প্রস্রাব ও পায়খানা বের হওয়া এবং এই দুটি ছাড়া অন্য কোনো অপবিত্র বস্তু অধিক পরিমাণে বের হওয়া) অর্থাৎ প্রস্রাব ও পায়খানা ছাড়া; যেমন রক্ত এবং এই জাতীয় বস্তু।

(এবং) তৃতীয়: (বিবেকের বিলুপ্তি ঘটা; তবে সামান্য ঘুম ছাড়া) প্রথাগতভাবে (দাঁড়ানো বা বসা ব্যক্তির পক্ষ থেকে)।

(এবং) চতুর্থ: (মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো); চাই সে মুসলিম হোক বা কাফির।

(এবং) পঞ্চম: (উটের গোশত খাওয়া), চাই সে জানুক বা না জানুক, কাঁচা হোক বা রান্না করা।

(এবং) ষষ্ঠ: ইসলাম থেকে (মুরতাদ হওয়া), (এবং এমন প্রতিটি বিষয় যা গোসল ওয়াজিব করে, মৃত্যু ছাড়া); যেমন ইসলাম গ্রহণ, বীর্য স্খলন, হায়জ এবং নিফাস।

আর মৃত ব্যক্তির ওজু করানো ওয়াজিব নয়; বরং তা সুন্নাত।

(এবং) সপ্তম: (মানুষের সংযুক্ত লজ্জাস্থান স্পর্শ করা) বিচ্ছিন্ন নয়, (অথবা) মানুষের (মলদ্বার স্পর্শ করা) (হাত দিয়ে)।

(এবং) অষ্টম: (পুরুষের বা) (নারীর পরস্পরকে স্পর্শ করা) অর্থাৎ পুরুষের নারীর চামড়া স্পর্শ করা, অথবা
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
أُنْثَى بَشَرَةَ ذَكَرٍ (لِشَهْوَةٍ بِلَا حَائِلٍ فِيهِمَا) أَيِ الذَّكَرِ وَالأُنْثَى، وَ (لَا) يَنْقُضُ لَمْسٌ (لِشَعْرٍ، وَ) لَا (سِنٍّ)، وَلَا (ظُفُرٍ، وَلَا) يَنْقُضُ اللَّمْسُ (بِهَا) أَيِ الشَّعْرِ وَالسِّنِّ وَالظُّفُرِ، (وَلَا) يَنْقُضُ لَمْسُ (مَنْ دُونَ سَبْعٍ) مِنَ السِّنِينَ مُطْلَقًا.

(وَلَا يَنْتَقِضُ وُضُوءُ مَلْمُوسٍ مُطْلَقًا)؛ سَوَاءٌ وَجَدَ شَهْوَةً أَمْ لَا.

(وَمَنْ) تَيَقَّنَ حَدَثًا وَ (شَكَّ فِي طَهَارَةٍ، أَوْ) تَيَقَّنَ طَهَارَةً وَشَكَّ فِي (حَدَثٍ: بَنَى عَلَى يَقِينِهِ).

(وَحَرُمَ عَلَى مُحْدِثٍ) حَدَثًا أَصْغَرَ أَوْ أَكْبَرَ: (مَسُّ مُصْحَفٍ، وَصَلَاةٌ، وَطَوَافٌ).

(وَ) يَحْرُمُ (عَلَى جُنُبٍ وَنَحْوِهِ) كَالحَائِضِ (ذَلِكَ) أَيْ مَا تَقَدَّمَ مِنْ مَسِّ مُصْحَفٍ وَغَيْرِهِ (وَ) يَحْرُمُ عَلَى الجُنُبِ وَنَحْوِهِ أَيْضًا: (قِرَاءَةُ آيَةِ قُرْآنٍ)، وَيَحْرُمُ عَلَى الجُنُبِ وَنَحْوِهِ أَيْضًا: (لُبْثٌ فِي مَسْجِدٍ بِغَيْرِ وُضُوءٍ).

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي الغُسْلِ

(مُوجِبَاتُ الغُسْلِ سَبْعَةٌ):

الأَوَّلُ: (خُرُوجُ المَنِيِّ مِنْ مَخْرَجِهِ) المُعْتَادِ (بِلَذَّةٍ).

(وَ) الثَّانِي: (انْتِقَالُهُ) أَيِ المَنِيِّ، فَيَجِبُ الغُسْلُ بِمُجَرَّدِ إِحْسِاسِ الرَّجُلِ بِانْتِقَالِ مَنِيِّهِ مِنْ صُلْبِهِ، وَالمَرْأَةِ بِانْتِقَالِهِ مِنْ تَرَائِبِهِا، وَهِيَ عِظَامُ الصَّدْرِ.

(وَ) الثَّالِثُ: (تَغْيِيبُ حَشَفَةٍ فِي فَرْجٍ أَوْ دُبُرٍ وَلَو) كَانَ (لِبَهِيمَةٍ أَوْ مَيِّتٍ بِلَا حَائِلٍ).

(وَ) الرَّابِعُ: (إِسْلَامُ كَافِرٍ).

(وَ) الخَامِسُ: (مَوْتٌ) تَعَبُّدًا؛ غَيْرَ شَهِيدِ مَعْرَكَةٍ، وَمَقْتُولٍ ظُلْمًا.
একজন পুরুষ কর্তৃক নারীর চামড়া স্পর্শ করা (উভয়ের ক্ষেত্রে কামভাবসহ এবং কোনো আবরণ ব্যতীত) অর্থাৎ সেই পুরুষ এবং নারীর ওযু ভঙ্গ হবে; এবং চুল স্পর্শ করলে ওযু ভঙ্গ হবে (না), এবং দাঁত স্পর্শ করলেও (না), এবং নখ স্পর্শ করলেও ওযু ভঙ্গ হবে (না)। আর এগুলোর (অর্থাৎ চুল, দাঁত ও নখের) মাধ্যমে স্পর্শ করা হলেও ওযু ভঙ্গ হবে না। এবং সাত বছরের কম বয়সী কাউকে স্পর্শ করলে কোনোভাবেই ওযু ভঙ্গ হবে না।

(এবং যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার ওযু কোনোভাবেই ভঙ্গ হবে না); চাই সে কামভাব অনুভব করুক বা না করুক।

(এবং যে ব্যক্তি) অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে কিন্তু (পবিত্রতার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, অথবা) পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে কিন্তু (অপবিত্রতার ব্যাপারে) সন্দেহ পোষণ করে: (সে তার নিশ্চিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করবে)।

(এবং অপবিত্র ব্যক্তির ওপর হারাম)—চাই তা ছোট অপবিত্রতা হোক বা বড় অপবিত্রতা: (মুসহাফ তথা কুরআন স্পর্শ করা, সালাত আদায় করা এবং তাওয়াফ করা)।

(এবং) জুনুবি তথা যার ওপর গোসল ফরজ হয়েছে ও অনুরূপ ব্যক্তিদের (যেমন ঋতুবতী নারী) ওপরও (উক্ত বিষয়গুলো) অর্থাৎ পূর্বে উল্লেখিত মুসহাফ স্পর্শ করা এবং অন্যান্য বিষয়গুলো হারাম। (এবং) জুনুবি ও অনুরূপ ব্যক্তিদের ওপর আরও হারাম: (কুরআনের আয়াত পাঠ করা)। এবং জুনুবি ও অনুরূপ ব্যক্তিদের ওপর আরও হারাম: (ওযু ব্যতীত মসজিদে অবস্থান করা)।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) গোসল প্রসঙ্গে

(গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাতটি):

প্রথমত: স্বাভাবিক নির্গমন পথ দিয়ে (তৃপ্তির সাথে বীর্য নির্গত হওয়া)।

(এবং) দ্বিতীয়ত: (বীর্য স্থানান্তরিত হওয়া); অর্থাৎ বীর্য স্থানান্তরিত হয়েছে বলে কেবল পুরুষ তার পৃষ্ঠদেশ থেকে এবং নারী তার বুকের হাড় থেকে অনুভবের মাধ্যমেই গোসল ওয়াজিব হয়ে যাবে।

(এবং) তৃতীয়ত: (লিঙ্গমুণ্ড যৌনাঙ্গ বা পায়ুপথে প্রবেশ করানো, যদিও) তা (কোনো পশুর বা মৃতদেহের ক্ষেত্রে হয়, কোনো আবরণ ব্যতিরেকে)।

(এবং) চতুর্থত: (কাফিরের ইসলাম গ্রহণ)।

(এবং) পঞ্চমত: ইবাদত হিসেবে (মৃত্যু হওয়া); তবে যুদ্ধক্ষেত্রের শহীদ এবং অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তি ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
(وَ) السَّادِسُ: (حَيْضٌ).

(وَ) السَّابِعُ: (نِفَاسٌ).

(وَسُنَّ) غُسْلٌ (لِـ):

1 - صَلَاةِ (جُمُعَةٍ).

2 - (وَ) صَلَاةِ (عِيدٍ).

3 - (وَ) صَلَاةِ (كُسُوفٍ).

4 - (وَ) صَلَاةِ (اسْتِسْقَاءٍ).

5 و 6 - (وَجُنُونٍ وَإِغْمَاءٍ لَا احْتِلَامَ فِيهِمَا).

7 - (وَاسْتِحَاضَةٍ)، فَيُسَنُّ لِلْمُسْتَحَاضَةِ أَنْ تَغْتَسِلَ (لِكُلِّ صَلَاةٍ).

8 - (وَ) سُنَّ غُسْلٌ لِـ (إِحْرَامٍ) بِحَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ.

9 - (وَ) لِـ (دُخُولِ مَكَّةَ).

10 - (وَ) لِدُخُولِ (حَرَمِهَا) أَيْ مَكَّةَ.

11 - (وَ) لِـ (وُقُوفٍ بِعَرَفَةَ).

12 - (وَ) لِـ (طَوَافِ زِيَارَةٍ)، وَهُوَ طَوَافُ الإِفَاضَةِ.

13 - (وَ) لِطَوَافِ (وَدَاعٍ).

14 - (وَ) لِـ (مَبِيتٍ بِمُزْدَلِفَةَ).

15 - (وَ) لِـ (رَمْيِ جِمَارٍ).

(وَتَنْقُضُ المَرْأَةُ شَعْرَهَا) وَجُوبًا (لِحَيْضٍ وَنِفَاسٍ)، وَ (لَا) تَنْقُضُهُ (لِجَنَابَةٍ إِذَا رَوَّتْ أُصُولَهُ).

(وَسُنَّ تَوَضُّؤٌ بِمُدٍّ) مِنْ مَاءٍ، (وَ) سُنَّ (اغْتِسَالٌ بِصَاعٍ).
(এবং) ষষ্ঠটি: (হায়েজ বা ঋতুস্রাব)।

(এবং) সপ্তমটি: (নিফাস বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব)।

(এবং) গোসল (সুন্নত) নিম্নোক্ত কারণে:

১ - (জুমার) নামাজের জন্য।

২ - (এবং) (ঈদের) নামাজের জন্য।

৩ - (এবং) (সূর্যগ্রহণের) নামাজের জন্য।

৪ - (এবং) (বৃষ্টি প্রার্থনার) নামাজের জন্য।

৫ ও ৬ - (এবং পাগলামি ও মূর্ছা যাওয়ার পর, যদি তাতে স্বপ্নদোষ না হয়ে থাকে)।

৭ - (এবং ইস্তিহাজা বা অনিয়মিত রক্তস্রাবের জন্য), সুতরাং ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীর জন্য সুন্নত হলো (প্রত্যেক নামাজের জন্য) গোসল করা।

৮ - (এবং) হজ বা উমরার (ইহরামের) জন্য গোসল করা সুন্নত।

৯ - (এবং) (মক্কায় প্রবেশের) জন্য।

১০ - (এবং) তার অর্থাৎ মক্কার (হারাম এলাকায়) প্রবেশের জন্য।

১১ - (এবং) (আরাফায় অবস্থানের) জন্য।

১২ - (এবং) (তাওয়াফে জিয়ারতের) জন্য, যা তাওয়াফে ইফাজা।

১৩ - (এবং) (বিদায়ী) তাওয়াফের জন্য।

১৪ - (এবং) (মুজদালিফায় রাত যাপনের) জন্য।

১৫ - (এবং) (কংকর নিক্ষেপের) জন্য।

(এবং নারী তার চুলের বেণী খুলে ফেলবে) ওয়াজিব হিসেবে (হায়েজ ও নিফাসের কারণে), তবে (জানাবাতের জন্য) তা (খুলবে না), (যদি সে চুলের গোড়া ভিজিয়ে দেয়)।

(এক মুদ) পানি দ্বারা (অজু করা সুন্নত), (এবং এক সা' দ্বারা গোসল করা) সুন্নত।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
(وَكُرِهَ إِسْرَافٌ) فِي وُضُوءٍ وَغُسْلٍ.

(وَإِنْ نَوَى بِالْغُسْلِ رَفْعَ الحَدَثَيْنِ) الأَكْبَرِ وَالأَصْغَرِ، (أَوْ) نَوَى عَنْهُمَا بِغُسْلِهِ رَفْعَ (الْحَدَثِ وَأَطْلَقَ)، فَلَمْ يُقَيِّدْ بِالأَكْبَرِ وَالأَصْغَرِ: (ارْتَفَعَا).

(وَسُنَّ لِجُنُبٍ: غَسْلُ فَرْجِهِ، وَالْوُضُوءُ لِأَكْلٍ وَشُرْبٍ، وَ) الوُضُوءُ لِـ (نَوْمٍ)، (وَ) الوُضُوءُ لِـ (مُعَاوَدَةِ وَطْءٍ).

(وَالْغُسْلُ لَهَا) أَيْ لِمُعَاوَدَةِ وَطْءٍ (أَفْضَلُ).

(وَكُرِهَ نَوْمُ جُنُبٍ) فَقَطْ (بِلَا وُضُوءٍ)، وَلَا يَضُرُّ نَقْضُهُ بَعْدُ.

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي التَّيَمُّمِ

(يَصِحُّ التَّيَمُّمُ) بِشُرُوطٍ ثَلَاثَةٍ:

الأَوَّلُ: أَنْ يَكُونَ (بِتُرَابٍ طَهُورٍ مُبَاحٍ، لَهُ غُبَارٌ) يَعْلَقُ.

وَالثَّانِي: قَوْلُهُ: (إِذَا عَدِمَ المَاءَ؛ لِحَبْسٍ، أَوْ غَيْرِهِ، أَوْ خِيفَ بِاسْتِعْمَالِهِ أَوْ طَلَبِهِ ضَرَرٌ بِبَدَنٍ أَوْ مَالٍ أَوْ غَيْرِهِمَا).

وَالثَّالِثُ: قَوْلُهُ: (وَيُفْعَلُ) التَّيَمُّمُ (عَنْ كُلِّ مَا يُفْعَلُ بِالْمَاءِ - سِوَى نَجَاسَةٍ عَلَى غَيْرِ بَدَنٍ - إِذَا دَخَلَ وَقْتُ فَرْضٍ، وَأُبِيحَ غَيْرُهُ) أَيِ الفَرْضِ؛ فَلَا يَصِحُّ التَّيَمُّمُ لِحَاضِرَةٍ وَعِيدٍ مَا لَمْ يَدْخُلْ وَقْتُهُمَا، وَلَا لِفَائِتَةٍ إِلَّا إِذَا ذَكَرَهَا وَأَرَادَ فِعْلَهَا، وَلَا لِكُسُوفٍ قَبْلَ وُجُودِهِ، وَلَا لِاسْتِسْقَاءٍ مَا لَمْ يَجْتَمِعُوا، وَلَا لِجَنَازَةٍ إِلَّا إِذَا غُسِّلَ المَيِّتُ - أَوْ يُمِّمَ لِعُذْرٍ -، وَلَا لِنَافِلَةٍ وَقْتَ نَهْيٍ.

(وَإِنْ وَجَدَ) مَنْ لَزِمَتْهُ طَهَارَةٌ - حَتَّى المُحْدِثُ - (مَاءً لَا يَكْفِي طَهَارَتَهُ: اسْتَعْمَلَهُ) وُجُوبًا (ثُمَّ تَيَمَّمَ).

(وَيَتَيَمَّمُ لِلْجُرْحِ عِنْدَ غَسْلِهِ إِنْ لَمْ يُمْكِنُ مَسْحُهُ بِالْمَاءِ، وَيَغْسِلُ
(ওযু এবং গোসলে অপচয় করা মাকরূহ)।

(যদি কেউ গোসলের মাধ্যমে উভয় প্রকার অপবিত্রতা—) বড় এবং ছোট (—দূর করার নিয়ত করে, অথবা) উভয়টির পরিবর্তে নিজের গোসলের মাধ্যমে (অপবিত্রতা দূর করার সাধারণ নিয়ত করে) এবং বড় বা ছোট নির্দিষ্ট না করে, তবে (উভয়টিই দূর হয়ে যাবে)।

(জুনুবী বা অপবিত্র ব্যক্তির জন্য সুন্নাত হলো: লজ্জাস্থান ধৌত করা, আহার ও পান করার জন্য ওযু করা, এবং) (ঘুমানোর জন্য) ওযু করা (এবং পুনরায় সহবাস করার জন্য) ওযু করা।

(আর এর জন্য) অর্থাৎ পুনরায় সহবাস করার জন্য (গোসল করা উত্তম)।

(ওযু ছাড়া কেবল জুনুবী ব্যক্তির ঘুমানো মাকরূহ), আর ওযু করার পর তা ভেঙে গেলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।

 

‌তায়াম্মুম বিষয়ক (একটি পরিচ্ছেদ)

(তায়াম্মুম সহীহ হওয়ার জন্য) তিনটি শর্ত রয়েছে:

প্রথমটি: তা হতে হবে (এমন পবিত্র ও বৈধ মাটি দিয়ে, যাতে ধুলা থাকে) যা হাতে লেগে থাকে।

দ্বিতীয়টি: তাঁর বক্তব্য: (যখন পানি পাওয়া না যায়; বন্দী হওয়া বা অন্য কোনো কারণে, অথবা যদি পানি ব্যবহার করলে কিংবা পানি খুঁজতে গেলে শরীর, সম্পদ বা অন্য কিছুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে)।

তৃতীয়টি: তাঁর বক্তব্য: (এবং তায়াম্মুম সেই সমস্ত কার্যের জন্য করা যাবে যা পানি দিয়ে করা হয় —শরীরের ওপর ব্যতীত অন্য কোথাও থাকা নাপাকি দূর করা ব্যতিরেকে— যখন ফরজের সময় প্রবেশ করে এবং তা ব্যতীত অন্যটি বৈধ হয়); সুতরাং বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ এবং ঈদের নামাজের জন্য তায়াম্মুম সহীহ হবে না যতক্ষণ না তাদের সময় প্রবেশ করে। কাজা নামাজের জন্য তায়াম্মুম করা যাবে না যতক্ষণ না তা স্মরণ হয় এবং আদায়ের ইচ্ছা করে। সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্য তায়াম্মুম হবে না তা শুরু হওয়ার আগে। ইস্তিসকার নামাজের জন্য তায়াম্মুম হবে না যতক্ষণ না মানুষ একত্রিত হয়। জানাজার নামাজের জন্য তায়াম্মুম হবে না যতক্ষণ না মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো হয় —অথবা ওজরের কারণে তায়াম্মুম করানো হয়— এবং নিষিদ্ধ সময়ে নফল নামাজের জন্যও তায়াম্মুম করা যাবে না।

(আর যদি এমন কেউ) যার ওপর পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক —এমনকি অপবিত্র ব্যক্তিও— (এমন পানি পায় যা তার পবিত্রতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়, তবে সে তা) আবশ্যিকভাবে (ব্যবহার করবে এবং তারপর তায়াম্মুম করবে)।

(এবং জখমের জন্য ওজু-গোসলের সময় তায়াম্মুম করবে যদি তা পানি দিয়ে মাসেহ করা সম্ভব না হয়, আর সে ধৌত করবে)
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
الصَّحِيحَ)، فَيَلْزَمُهُ التَّرْتِيبُ وَالمُوَالَاةُ، فَيُعِيدُ غَسْلَ الصَّحِيحِ عِنْدَ كُلِّ تَيَمُّمٍ.

(وَطَلَبُ المَاءِ فَرْضٌ) - وَوَقْتُ الطَّلَبِ بَعْدَ دُخُولِ الوَقْتِ -، (فَإِنْ نَسِيَ قُدْرَتَهُ عَلَيْهِ) أَيِ المَاءِ، (وَتَيَمَّمَ) وَصَلَّى؛ (أَعَادَ) صَلَاتَهُ.

(وَفُرُوضُهُ) أَيِ التَّيَمُّمِ أَرْبَعَةٌ:

الأَوَّلُ: (مَسْحُ) جَمِيعِ (وَجْهِهِ).

(وَ) الثَّانِي: مَسْحُ (يَدَيْهِ إِلَى كُوعَيْهِ).

(وَ) الثَّالِثُ وَالرَّابِعُ: (فِي) حَدَثٍ (أَصْغَرَ: تَرْتِيبٌ وَمُوَالَاةٌ أَيْضًا)، وَهِيَ بِقَدْرِهَا فِي وُضُوءٍ.

(وَنِيَّةُ الاسْتِبَاحَةِ شَرْطٌ لِمَا يُتَيَمَّمُ لَهُ) مِنْ حَدَثٍ أَكْبَرَ أَوْ أَصْغَرَ أَوْ نَجَاسَةٍ عَلَى بَدَنٍ، فَلَا تَكْفِي نِيَّةُ أَحَدِ الأَحْدَاثِ، أَوِ النَّجَاسَةِ عَلَى بَدَنٍ.

(وَلَا يُصَلِّي بِهِ فَرْضًا إِنْ نَوَى نَفْلًا، أَوْ أَطْلَقَ) نِيَّتَهُ - لِصَلَاةٍ أَوْ طَوَافٍ مَثَلًا -.

(وَيَبْطُلُ) التَّيَمُّمُ بِثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ:

الأَوَّلُ: (بِخُرُوجِ الوَقْتِ)، مَا لَمْ يَكُنْ فِي صَلَاةِ جُمُعَةٍ، أَوْ يَنْوِي الجَمْعَ فِي وَقْتِ ثَانِيَةٍ.

(وَ) الثَّانِي: بِـ (مُبْطِلَاتِ الوُضُوءِ) إِذَا كَانَ تَيَمُّمُهُ عَنْ حَدَثٍ أَصْغَرَ، وَعَنْ حَدَثٍ أَكْبَرَ بِمَا يُوجِبُهُ، إِلَّا غُسْلَ حَيْضٍ وَنِفَاسٍ إِذَا تَيَمَّمَتْ لَهُ، فَلَا يَبْطُلُ بِمُبْطِلَاتِ غُسْلٍ؛ بَلْ بِوُجُودِ حَيْضٍ وَنِفَاسٍ.

(وَ) الثَّالِثُ: (بِوُجُودِ مَاءٍ إِنْ) كَانَ (تَيَمَّمَ لِفَقْدِهِ).

(وَسُنَّ لِرَاجِيهِ) أَيْ رَاجِي وُجُودِ مَاءٍ (تَأْخِيرٌ لِآخِرِ وَقْتِ مُخْتَارٍ)؛ بِحَيْثُ يُدْرِكُ الصَّلَاةَ فِي الوَقْتِ، فَإِنْ تَيَمَّمَ وَصَلَّى: أَجْزَأَهُ وَلَوْ وَجَدَ المَاءَ بَعْدُ.
(সুস্থ অঙ্গ), এমতাবস্থায় তার জন্য ধারাবাহিকতা এবং নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা আবশ্যক। সুতরাং সে প্রত্যেক তায়াম্মুমের সময় সুস্থ অঙ্গ ধৌত করার পুনরাবৃত্তি করবে।

(পানি অনুসন্ধান করা ফরজ) - আর অনুসন্ধানের সময় হলো ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর -; (অতঃপর যদি সে পানির উপর তার সক্ষমতার কথা ভুলে যায়) অর্থাৎ পানির ওপর, (এবং তায়াম্মুম করে) ও সালাত আদায় করে; তবে সে তার সালাত (পুনরায় আদায় করবে)।

(এবং এর ফরজসমূহ) অর্থাৎ তায়াম্মুমের ফরজ চারটি:

প্রথম: পুরো (মুখমণ্ডল মাসহ করা)।

(এবং) দ্বিতীয়: (উভয় হাত কবজি পর্যন্ত) মাসহ করা।

(এবং) তৃতীয় ও চতুর্থ: (ছোট) নাপাকির (ক্ষেত্রে: ধারাবাহিকতা ও নিরবচ্ছিন্নতাও বজায় রাখা), যা ওজুর অনুরূপ পরিমাণে হতে হবে।

(যেই কাজের উদ্দেশ্যে তায়াম্মুম করা হচ্ছে, তার বৈধতা অর্জনের নিয়ত করা শর্ত); চাই তা বড় নাপাকি, ছোট নাপাকি অথবা শরীরের নাপাকির ওপর হোক। সুতরাং কেবল কোনো একটি নাপাকি অথবা শরীরের নাপাকির নিয়ত করা যথেষ্ট নয়।

(যদি সে নফল সালাতের নিয়ত করে অথবা কোনো নির্দিষ্ট নিয়ত ছাড়াই) সাধারণভাবে নিয়ত করে — যেমন সালাত বা তাওয়াফের জন্য — তবে সেই তায়াম্মুম দিয়ে সে ফরজ সালাত আদায় করতে পারবে না।

তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে তায়াম্মুম (বাতিল হয়ে যায়):

প্রথম: (ওয়াক্ত শেষ হওয়ার মাধ্যমে), যতক্ষণ না সে জুমার সালাতে থাকে অথবা দ্বিতীয় ওয়াক্তে জমা করার নিয়ত করে।

(এবং) দ্বিতীয়: (ওজু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের মাধ্যমে), যদি তার তায়াম্মুম ছোট নাপাকির কারণে হয়ে থাকে; আর বড় নাপাকির ক্ষেত্রে সেই তায়াম্মুম ভঙ্গ হবে বড় নাপাকি আবশ্যককারী বিষয়সমূহের দ্বারা। তবে হায়েজ ও নেফাসের গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করলে তা সাধারণ গোসল ভঙ্গকারী বিষয়ের দ্বারা বাতিল হবে না; বরং পুনরায় হায়েজ ও নেফাস দেখা দিলেই তা বাতিল হবে।

(এবং) তৃতীয়: (পানির উপস্থিতির মাধ্যমে যদি) পানির (অপ্রাপ্যতার কারণে তায়াম্মুম করে থাকে)।

(এবং পানি পাওয়ার আশা পোষণকারীর জন্য) অর্থাৎ যে ব্যক্তি পানি পাওয়ার আশা করে, তার জন্য (মুস্তাাহাব ওয়াক্তের শেষ সময় পর্যন্ত দেরি করা সুন্নাত); যাতে করে সে ওয়াক্তের মধ্যেই সালাত সম্পন্ন করতে পারে। তবে যদি সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে নেয়, তবে তা যথেষ্ট হয়ে যাবে, যদিও সে পরে পানি পায়।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২০)
(وَمَنْ عَدِمَ المَاءَ وَالتُّرَابَ، أَوْ لَمْ يُمْكِنْهُ اسْتِعْمَالُهُمَا) لِمَانِعٍ؛ كَمَنْ بِهِ قُرُوحٌ لَا يَسْتَطِيعُ مَعَهَا مَسَّ البَشَرَةِ بِوُضُوءٍ وَلَا تَيَمُّمٍ؛ (صَلَّى الفَرْضَ فَقَطْ عَلَى حَسْبِ حَالِهِ) وُجُوبًا، (وَلَا إِعَادَةَ) عَلَيْهِ.

(وَيَقْتَصِرُ) عَادِمُ المَاءِ وَالتُّرَابِ (عَلَى مُجْزِئٍ) فِي الصَّلَاةِ نَدْبًا، فَلَا يَقْرَأُ زَائِدًا عَلَى الفَاتِحَةِ، وَلَا يَسْتَفْتِحُ، وَلَا يَتَعَوَّذُ، وَلَا يُبَسْمِلُ، وَلَا يُسَبِّحُ زَائِدًا عَلَى المَرَّةِ، وَلَا يَزِيدُ عَلَى مَا يُجْزِئُ فِي طُمَأْنِينَةِ رُكُوعٍ أَوْ سُجُودٍ أَوْ غَيْرِهِمَا، وَإِذَا فَرَغَ مِمَّا يُجْزِئُ فِي التَّشَهُّدِ نَهَضَ أَوْ سَلَّمَ فِي الحَالِ، (وَلَا يَقْرَأُ فِي غَيْرِ صَلَاةٍ إِنْ كَانَ جُنُبًا) وَنَحْوِهِ؛ كَمَا إِذَا انْقَطَعَ دَمُ الحَيْضِ وَلَمْ تَجِدْ مَاءً وَلَا تُرَابًا.

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي النَّجَاسَاتِ

(تَطْهُرُ أَرْضٌ وَنَحْوُهَا) كَحِيطَانٍ (بِإِزَالَةِ عَيْنِ النَّجَاسَةِ وَأَثَرِهَا) أَيِ النَّجَاسَةِ (بِالْمَاءِ).

(وَ) يَطْهُرُ (بَوْلُ غُلَامٍ لَمْ يَأْكُلْ طَعَامًا بِشَهْوَةٍ) بِغَمْرِهِ بِالمَاءِ، (وَ) يَطْهُرُ (قَيْئُهُ) أَيِ الغِلَامِ المَذْكُورِ (بِغَمْرِهِ) أَيِ القَيْءِ (بِهِ) أَيِ المَاءِ.

(وَ) يَطْهُرُ (غَيْرُهُمَا) أَيْ بَوْلُ غَيْرِ الغُلَامِ وَقَيْئُهُ (بِسَبْعِ غَسَلَاتٍ)، وَيُشْتَرَطُ أَنْ تَكُونَ (أَحَدُهَا) أَيِ الغَسَلَاتِ (بِتُرَابٍ) طَهُورٍ (وَنَحْوِهِ) كَصَابُونٍ (فِي نَجَاسَةِ كَلْبٍ وَ) نَجَاسَةِ (خِنْزِيرٍ فَقَط مَعَ زَوَالِهَا) أَيِ النَّجَاسَةِ.

(وَلَا يَضُرُّ بَقَاءُ لَوْنٍ أَوْ رِيحٍ أَوْ هُمَا) أَيِ اللَّوْنِ وَالرِّيحِ (عَجْزًا)، وَيَضُرُّ بَقَاءُ طَعْمِهَا.

(وَتَطْهُرُ خَمْرَةٌ انْقَلَبَتْ بِنَفْسِهَا) أَيْ مِنْ غَيْرِ مُعَالَجَةٍ (خَلًّا، وَكَذَا دَنُّهَا) وَهُوَ وِعَاءُ الخَمْرَةِ؛ أَيْ يَطْهُرُ بِطَهَارَتِهَا.
(আর যে ব্যক্তি পানি ও মাটি উভয়ই হারাবে, অথবা কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে সে দুটির ব্যবহার করতে সক্ষম হবে না;) যেমন যার শরীরে জখম থাকার কারণে সে ওজু বা তায়াম্মুমের মাধ্যমে চামড়া স্পর্শ করতে পারে না; (তবে সে আবশ্যকভাবে তার অবস্থা অনুযায়ী শুধুমাত্র ফরজ নামাজ আদায় করবে,) (এবং তার ওপর কোনো পুনরাবৃত্তি নেই।)

(এবং পানি ও মাটি না পাওয়া ব্যক্তি নামাজের ক্ষেত্রে) মুস্তাহাব হিসেবে (পর্যাপ্ত নূ্যনতমের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে), সুতরাং সে ফাতিহার অতিরিক্ত কিছু পাঠ করবে না, সানা পড়বে না, আউযুবিল্লাহ পড়বে না, বিসমিল্লাহ পড়বে না এবং তাসবিহ একবারের বেশি পড়বে না। রুকু, সিজদা বা অন্যান্যের স্থিরতায় যা যথেষ্ট হয় তার বেশি করবে না। আর যখন তাশাহহুদে যা যথেষ্ট হয় তা শেষ করবে, অমনি সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যাবে অথবা সালাম ফিরিয়ে দিবে। (আর সে যদি অপবিত্র হয় তবে নামাজ ব্যতীত অন্য অবস্থায় কুরআন পাঠ করবে না) এবং তদ্রূপ; যেমন ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর যদি সে পানি বা মাটি কিছুই না পায়।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) নাপাকি প্রসঙ্গে

(ভূমি ও তদ্রূপ বস্তু) যেমন দেওয়াল (পবিত্র হয় নাপাকির মূল বস্তু এবং তার চিহ্ন দূর করার মাধ্যমে) অর্থাৎ নাপাকিকে (পানির দ্বারা)।

(এবং) (এমন শিশু বালকের মূত্র যে চাহিদার সাথে খাবার খাওয়া শুরু করেনি) তার ওপর পানি প্রবাহিত করে ডুবিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তা পবিত্র হবে। (এবং) উক্ত বালকের (বমি) (তা পানি দ্বারা ডুবিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে) পবিত্র হবে।

(এবং) (এ দুটি ছাড়া অন্য কিছু) অর্থাৎ উক্ত বালক ছাড়া অন্য কারো প্রস্রাব ও বমি (সাতবার ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্র হবে)। আর শর্ত হলো যে, (তার মধ্যে একটি) ধৌতকরণ (পবিত্র মাটি) (ও তদ্রূপ বস্তু) যেমন সাবান (দ্বারা হতে হবে শুধুমাত্র কুকুর এবং শুকরের নাপাকির ক্ষেত্রে, তার মূল নাপাকি অপসারিত হওয়ার সাথে সাথে)।

(অক্ষমতার কারণে রং অথবা গন্ধ অথবা উভয়টির) অর্থাৎ রং ও গন্ধের (অবশিষ্টাংশ থাকা কোনো ক্ষতি করবে না), তবে তার স্বাদ অবশিষ্ট থাকা ক্ষতি করবে।

(আর মদ যদি নিজে নিজেই) অর্থাৎ কোনো প্রকার বাহ্যিক প্রক্রিয়া ছাড়াই (সিরকায় পরিণত হয় তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে, এবং তদ্রূপ তার বড় পাত্রটিও) যা মদের আধার ছিল; অর্থাৎ মদের পবিত্রতার সাথে সাথে পাত্রটিও পবিত্র হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২১)
وَ (لَا) يَطْهُرُ (دُهْنٌ) تَنَجَّسَ بِغَسْلِهِ، وَيَجُوزُ الاسْتِصْبَاحُ بِهِ فِي غَيْرِ مَسْجِدٍ، وَلَا يَحِلُّ أَكْلُهُ وَلَا بَيْعُهُ.

(وَ) كَذَا فِي الحُكْمِ (مُتَشَرِّبٌ بِنَجَاسَةٍ)؛ كَإِنَاءٍ تَشَرَّبَ نَجَاسَةً، وَحَبٍّ نُقِعَ بِهَا، وَنَحْوِهِ؛ فَإِنَّهُ لَا يَطْهُرُ بِاطَنُهُ بِغَسْلِهِ.

(وَعُفِيَ فِي غَيْرِ مَائِعٍ، وَ) غَيْرِ (مَطْعُومٍ عَنْ يَسِيرِ دَمٍ نَجِسٍ وَنَحْوِهِ) كَالقَيْحِ (مِنْ حَيَوَان طَاهِرٍ) فِي الحَيَاةِ كَالهِرِّ، وَ (لَا) يُعْفَى عَنْ يَسِيرِ (دَمِ سَبِيلٍ إِلَّا) إِذَا كَانَ (مِنْ حَيْضٍ وَنَحْوِهِ)؛ كَنِفَاسٍ أَوِ اسْتِحَاضَةٍ.

(وَمَا لَا نَفْسَ) أَيْ دَمَ (لَهُ سَائِلَةٌ) كَالبَرْغَشِ وَنَحْوِهِ، (وَ) كَذَا (قَمْلٌ وَبَرَاغِيثُ وَبَعُوضٌ وَنَحْوُهَا) كَالذُّبَابِ: (طَاهِرَةٌ مُطْلَقًا) أَيْ فِي الحَيَاةِ وَالمَوْتِ.

(وَمَائِعٌ مُسْكِرٌ، وَمَا لَا يُؤْكَلُ مِنْ طَيْرٍ وَ) مِنْ (بَهَائِمَ مِمَّا فَوْقَ الهِرِّ خِلْقَةً، وَلَبَنٌ وَمَنِيٌّ مِنْ غَيْرِ آدَمِيٍّ، وَبَوْلٌ وَرَوْثٌ وَنَحْوُهَا) كَالمَذْيِ (مِنْ غَيْرِ مَأْكُولِ اللَّحْمِ: نَجِسَةٌ).

(وَ) لَبَنٌ وَمَنِيٌّ مِنْ غَيْرِ آدَمِيٍّ، وَبَوْلٌ وَرَوْثٌ وَنَحْوُهَا (مِنْهُ) أَيْ مِنْ مَأْكُولِ اللَّحْمِ: (طَاهِرَةٌ؛ كَمِمَّا لَا دَمَ لَهُ سَائِلٌ).

(وَيُعْفَى عَنْ يَسِيرِ طِينِ شَارِعٍ عُرْفًا إِنْ عُلِمَتْ نَجَاسَتُهُ)؛ لأَنَّهُ مِمَّا تَعُمُّ بِهِ البَلْوَى، (وَإِلَّا) تُعْلَمْ نَجَاسَتُهُ (فَـ) هُوَ (طَاهِرٌ).

 

‌‌(فَصْلٌ فِي الحَيْضِ) وَالنِّفَاسِ

(لَا حَيْضَ مَعَ حَمْلٍ) نَصًّا، فَلَا تَتْرُكُ الصَّلَاةَ لِمَا تَرَاهُ، وَلَا يُمْنَعُ زَوْجُهَا مِنْ وَطْئِهَا إِنْ خَافَ العَنَتَ.

(وَلَا) حَيْضَ (بَعْدَ خَمْسِينَ سَنَةً).
এবং (কোনো তৈলাক্ত দ্রব্য) যা অপবিত্র হয়েছে তা ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না। তবে মসজিদ ব্যতীত অন্য স্থানে এর দ্বারা প্রদীপ জ্বালানো জায়েজ, কিন্তু তা আহার করা এবং বিক্রি করা হালাল নয়।

(এবং) হুকুমের দিক থেকে অনুরূপ হলো (অপবিত্রতা শোষণ করে নিয়েছে এমন বস্তু); যেমন এমন পাত্র যা অপবিত্রতা শোষণ করেছে এবং এমন শস্য যা তাতে ভিজানো হয়েছে এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ; কেননা ধৌত করার মাধ্যমে এর অভ্যন্তরীণ অংশ পবিত্র হয় না।

(তরল এবং) (খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ অপবিত্র রক্ত এবং অনুরূপ) যেমন পুঁজ—যা জীবিত অবস্থায় (পবিত্র এমন প্রাণী থেকে নির্গত হয়), যেমন বিড়াল—তা (ক্ষমার যোগ্য)। এবং (শরীরের দুই রাস্তা থেকে নির্গত) সামান্য (রক্ত ক্ষমার যোগ্য নয়, তবে) যদি তা (ঋতুস্রাব বা অনুরূপ) যেমন নেফাস অথবা ইস্তিহাযা থেকে হয়, (তবে তা ভিন্ন)।

(এবং যে প্রাণীর প্রবাহিত হওয়ার মতো প্রাণ) অর্থাৎ রক্ত (নেই), যেমন ছোট মশা এবং অনুরূপ; (এবং) অনুরূপভাবে (উকুন, মাছি, মশা এবং এই জাতীয় প্রাণী) যেমন সাধারণ মাছি: (তা পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র) অর্থাৎ জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়।

(এবং নেশাজাতীয় তরল পদার্থ এবং যা খাওয়া হয় না এমন পাখি ও) (বিড়ালের চেয়ে দৈহিকভাবে বড় এমন চতুষ্পদ জন্তু এবং মানুষ ব্যতীত অন্য প্রাণীর দুধ ও বীর্য এবং গোশত খাওয়া হয় না এমন প্রাণীর প্রস্রাব ও বিষ্ঠা এবং অনুরূপ) যেমন মাযী: (সবই অপবিত্র)।

(এবং) মানুষ ব্যতীত অন্য প্রাণীর দুধ ও বীর্য এবং (সেই প্রাণী থেকে নির্গত) প্রস্রাব ও বিষ্ঠা এবং অনুরূপ, অর্থাৎ (যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হয়): (তা পবিত্র; যেমন প্রবাহিত রক্তহীন প্রাণীর হুকুম)।

(রাস্তার কাদার সামান্য অংশ যদি লোকরীতি অনুযায়ী অপবিত্র বলে জানাও থাকে, তবে তা ক্ষমার যোগ্য); কারণ এটি এমন বিষয় যার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব রয়েছে। (আর যদি) এর অপবিত্রতা জানা না থাকে, (তবে) তা (পবিত্র)।

 

‌‌(ঋতুস্রাব) ও প্রসূতি অবস্থার (পরিচ্ছেদ)

নস বা অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী (গর্ভাবস্থায় কোনো ঋতুস্রাব নেই)। সুতরাং গর্ভবতী নারী যা (রক্ত) দেখবে তার কারণে সালাত বর্জন করবে না। আর যদি স্বামী পাপে পতিত হওয়ার আশঙ্কা করে তবে তাকে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

(এবং পঞ্চাশ বছর বয়সের পর) কোনো ঋতুস্রাব (নেই)।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২২)
(وَلَا) حَيْضَ (قَبْلَ تَمَامِ تِسْعٍ) تَحْدِيدًا، فَمَنْ رَأَتْ دَمًا قَبْلِ بُلُوغِ هَذَا السِّنِّ: لَا يَكُونُ حَيْضًا.

(وَأَقَلُّهُ) أَيْ أَقَلُّ زَمَنٍ يَصْلُحُ أَنْ يَكُونَ دَمَ حَيْضٍ: (يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ).

(وَأَكْثَرُهُ) أَيْ أَكْثَرُ زَمَنٍ يَصْلُحُ أَنْ يَكُونَ دَمَ حَيْضٍ: (خَمْسَةَ عَشَرَ) يَوْمًا بِلَيَالِيهَا.

(وَغَالِبُهُ سِتٌّ) مِنَ الأَيَّامِ (أَوْ سَبْعٌ).

(وَأَقَلُّ طُهْرٍ بَيْنَ حَيْضَتَيْنِ: ثَلَاثَةَ عَشَرَ).

(وَلَا حَدَّ لِأَكْثَرِهِ) أَيِ الطُّهْرِ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَرِدْ تَحْدِيدُهُ شَرْعًا، وَمِنَ النِّسَاءِ مَنْ تَطْهُرُ الشَّهْرَ أَوِ السَّنَةَ، أَوْ لَا تَحِيضُ أَصْلًا.

(وَحَرُمَ عَلَيْهَا) أَيْ عَلَى الحَائِضِ (فِعْلُ صَلَاةٍ وَصَوْمٍ، وَيَلْزَمُهَا قَضَاؤُهُ) أَيِ الصِّيَامِ.

(وَيَجِبُ بِوَطْئِهَا فِي الفَرْجِ) وَلَوْ بِحَائِلٍ (دِينَارٌ أَوْ نِصْفُهُ)؛ عَلَى التَّخْيِيرِ، فَهُوَ (كَفَّارَةٌ)، مَصْرِفُهَا مَصْرِفُ بَقِيَّةِ الكَفَّارَاتِ، (وَتُبَاحُ المُبَاشَرَةُ فِيمَا دُونَهُ) أَيِ الفَرْجِ.

(وَالمُبَتَدَأَةُ) فِي سِنٍّ تَحِيضُ لِمِثْلِهِ (تَجْلِسُ أَقَلَّهُ) أَيْ تَدَعُ نَحْوَ صَوْمٍ وَصَلَاةٍ بِمُجَرَّدِ مَا تَرَاهُ يَوْمًا وَلَيْلَةً، (ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي) وَتَصُومُ بَعْدَهُ وُجُوبًا، انْقَطَعَ لِذَلِكَ أَوْ لَا؛ لِأَنَّ مَا زَادَ عَلَى أَقَلِّهِ يَحْتَمِلُ الاسْتِحَاضَةَ، فَلَا تَتَرْكُ الوَاجِبَ بِالشَّكِّ، (فَإِنْ) جَاوَزَ دَمُهَا أَقَلَّ الحَيْضِ، وَ (لَمْ يُجَاوِزْ دَمُهَا أَكْثَرَهُ) بِأَنِ انْقَطَعَ لِخَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا فَمَا دُونَ: (اغْتَسَلَتْ أَيْضًا إِذَا انْقَطَعَ) وُجُوبًا؛ لِصَلَاحِيَّتِهِ أَنْ يَكُونَ حَيْضًا، (فَإِنْ) فَعَلَتْ ذَلِكَ وَ (تَكَرَّرَ ثَلَاثًا) أَيْ فِي ثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ وَلَمْ يَخْتَلِفْ؛ (فَهُوَ حَيْضٌ) تَنْتَقِلُ
(নয় বছর) পূর্ণ হওয়ার আগে (কোনো) ঋতুস্রাব নেই; সুতরাং যে ব্যক্তি এই বয়সে পৌঁছানোর আগে রক্ত দেখবে, তা ঋতুস্রাব হবে না।

(এবং এর সর্বনিম্ন মেয়াদ) অর্থাৎ যে সর্বনিম্ন সময়কে ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য করা যায় তা হলো: (একদিন ও একরাত)।

(এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদ) অর্থাৎ যে সর্বোচ্চ সময়কে ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য করা যায় তা হলো: (পনের দিন) দিন ও রাতসহ।

(এবং সাধারণত তা ছয় দিন অথবা সাত দিন) হয়ে থাকে।

(এবং দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন পবিত্রতার মেয়াদ: তের দিন)।

(এবং পবিত্রতার সর্বোচ্চ সীমার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই); কারণ শরীয়তে এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা বর্ণিত হয়নি। আর মহিলাদের মধ্যে এমনও কেউ আছে যারা এক মাস বা এক বছর পবিত্র থাকে, অথবা একেবারেই ঋতুবতী হয় না।

(এবং তার জন্য হারাম) অর্থাৎ ঋতুবতীর জন্য (নামায ও রোযা পালন করা, তবে তার জন্য তা কাযা করা আবশ্যক) অর্থাৎ রোযা।

(এবং যোনিপথে সঙ্গম করার কারণে ওয়াজিব হয়)—এমনকি কোনো আড়াল থাকলেও—(একটি দীনার অথবা তার অর্ধেক); পছন্দ করার ভিত্তিতে। সুতরাং এটি একটি (কাফফারা), যার ব্যয়ের খাত অন্যান্য কাফফারার ব্যয়ের খাতের অনুরূপ। (আর তা ছাড়া অন্যভাবে মেলামেশা করা বৈধ) অর্থাৎ যোনিপথ ছাড়া অন্যভাবে।

(আর শিক্ষানবিশ নারী) যে বয়সে সাধারণত ঋতুস্রাব হয় (সে সর্বনিম্ন মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে), অর্থাৎ একদিন ও একরাত রক্ত দেখা মাত্রই সে রোযা ও নামাযের মতো কাজগুলো ছেড়ে দিবে। (অতঃপর সে গোসল করবে এবং নামায পড়বে) এবং এরপর রক্ত বন্ধ হোক বা না হোক আবশ্যকভাবে রোযা রাখবে। কারণ সর্বনিম্ন মেয়াদের অতিরিক্ত যা কিছু হয় তাতে ইস্তিহাযা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ওয়াজিব ত্যাগ করা যাবে না। (অতঃপর যদি) তার রক্ত ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদ অতিক্রম করে এবং (তার রক্ত সর্বোচ্চ মেয়াদ অতিক্রম না করে), যেমন পনের দিন বা তার কম সময়ে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়: (তবে রক্ত বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে সে পুনরায় গোসল করবে) ওয়াজিব হিসেবে; কারণ তা ঋতুস্রাব হওয়ার যোগ্য। (অতঃপর যদি) সে এমনটি করে এবং (তা তিনবার পুনরাবৃত্তি ঘটে) অর্থাৎ তিন মাস পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ঘটে, (তবে তা ঋতুস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে এবং সে সেই অভ্যাসের দিকে স্থানান্তরিত হবে।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
إِلَيْهِ، وَصَارَ عَادَةً لَهَا، وَ (تَقْضِي مَا وَجَبَ فِيهِ) أَيْ مَا فَعَلَتْهُ فِي المُجَاوِزِ عَنِ اليَوْمِ وَاللَّيْلَةِ مِنْ وَاجِبِ صَلَاةٍ وَطَوَافٍ وَنَحْوِهِمَا، (وَإِنْ أَيِسَتْ قَبْلَهُ) أَيْ قَبْلَ تَكْرَارِهِ ثَلَاثًا، (أَوْ لَمْ يَعُدْ) أَيِ الدَّمُ إِلَيْهَا؛ (فَلَا) تَقْضِي مَا فَعَلَتْهُ فِي المُجَاوِزِ؛ لِأَنَّا لَمْ نَتَحَقَّقْ كُوْنَهُ حَيْضًا، وَالأَصْلُ بَرَاءَتُهَا، (وَإِنْ جَاوَزَهُ) أَيْ زَادَ دَمُ مُبْتَدَأَةٍ عَلَى خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا؛ (فَـ) هِيَ (مُسْتَحَاضَةٌ، تَجْلِسُ) الدَّمَ (المُتَمَيِّزَ إِنْ كَانَ، وَصَلَحَ) أَنْ يَكُونَ حَيْضًا؛ بِأَنْ لَمْ يَنْقُصْ عَنْ أَقَلِّهِ وَلَمْ يُجَاوِزْ أَكْثَرَهُ (فِي الشَّهْرِ الثَّانِي) أَيْضًا، (وَإِلَّا) جَلَسَتْ (أَقَّلَ الحَيْضِ) مِنْ كُلِّ شَهْرٍ (حَتَّى تَتَكَرَّرَ اسْتِحَاضَتُهَا) ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ؛ لِأَنَّ العَادَةَ لَا تَثْبُتُ بِدُونِهِ - كَمَا تَقَدَّمَ - (ثُمَّ) تَجْلِسُ مِنْ أَوِّلِ وَقْتِ ابْتِدَائِهَا إِنْ عَلِمَتْهُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ (غَالِبَهُ) سِتًّا أَوْ سَبْعًا مِنَ الأَيَّامِ بِتَحَرٍّ، وَإِنْ جَهِلَتْ وَقْتَ ابْتِدَائِهَا جَلَسَتْهَا مِنْ أَوَّلِ كُلِّ شَهْرٍ هِلَالِيٍّ.

(وَمُسْتَحَاضَةٌ مُعْتَادَةٌ) وَلَوْ مُمَيِّزَةً (تُقَدِّمُ عَادَتَهَا) إِنْ عَلِمَتْهَا، فَإِنْ نَسِيَتْ عَادَتَهَا عَمِلَتْ وُجُوبًا بِتَمْيِيزٍ صَالِحٍ - وَتَقَدَّمَ بَيَانُهُ -، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا تَمْيِيزٌ وَجَهِلَتْ عَادَتَهَا فَهِيَ مُتَحَيِّرَةٌ.

(وَيَلْزَمُهَا) أَيِ المُسْتَحَاضَةَ (وَنَحْوَهَا) مِمَّنْ حَدَثُهُ دَائِمٌ؛ مِنْ سَلَسِ بَوْلٍ أَوْ رِيحٍ وَنَحْوِهِ:

1 - (غَسْلُ المَحَلِّ) المُلَوَّثِ.

2 - (وَعَصْبُهُ) بِمَا يَمْنَعُ الخَارِجَ حَسَبَ الإِمْكَانِ؛ مِنْ حَشْوِ قُطْنٍ وَنَحْوِهِ.

3 - (وَالْوُضُوءُ لِوَقْتِ كُلِّ صَلَاةٍ إِنْ خَرَجَ شَيْءٌ)، فَإِنْ لَمْ يَخْرُجْ شَيْءٌ: لَمْ يَبْطُلْ وُضُوؤُهُ.

4 - (وَنِيَّةُ الاسْتِبَاحَةِ) دُونَ رَفْعِ الحَدَثِ؛ لِمَا فَاتَ وُجُودُ نِيَّةِ رَفْعِهِ.
...তার দিকে, এবং এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়, এবং (সে তাতে ওয়াজিব হওয়া কাজগুলো কাজা করবে) অর্থাৎ একদিন ও একরাতের অতিরিক্ত সময়ে সে যে ওয়াজিব নামাজ, তাওয়াফ বা অনুরূপ কাজগুলো সম্পাদন করেছে, (আর যদি সে এর পূর্বে নিরাশ হয়) অর্থাৎ তিনবার পুনরাবৃত্ত হওয়ার আগে, (অথবা যদি রক্ত আর ফিরে না আসে); (তবে না) সে অতিরিক্ত সময়ে যা করেছে তার কাজা করবে না; কারণ সেটি হায়েজ হওয়ার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি, আর মূল বিধান হলো দায়মুক্ত থাকা। (আর যদি তা অতিক্রম করে) অর্থাৎ প্রথমবার ঋতুবতী হওয়া মহিলার রক্ত যদি পনেরো দিন অতিক্রম করে; (তবে) সে (মুস্তাহাযাহ বা দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণগ্রস্তা হিসেবে গণ্য হবে, সে অপেক্ষা করবে) (বৈশিষ্ট্যমন্ডিত রক্তের জন্য যদি তা থাকে এবং তা উপযুক্ত হয়) হায়েজ হওয়ার জন্য; এভাবে যে তা হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদের কম হবে না এবং সর্বোচ্চ মেয়াদ অতিক্রম করবে না (দ্বিতীয় মাসেও) একইভাবে, (অন্যথায়) সে প্রতি মাসে (হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদের) জন্য বিরতি নিবে (যতক্ষণ না তার ইস্তিহাযা পুনরাবৃত্ত হয়) তিন মাস পর্যন্ত; কারণ এটি ছাড়া অভ্যাস সাব্যস্ত হয় না - যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে - (অতঃপর) সে প্রতি মাসের শুরু হওয়ার সময় থেকে - যদি তা তার জানা থাকে - বিরতি নিবে (হায়েজের সাধারণ মেয়াদের জন্য), যা হলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ছয় বা সাত দিন। আর যদি সে শুরু হওয়ার সময়টি না জানে, তবে সে প্রতি হিজরি মাসের শুরু থেকে এই বিরতি পালন করবে।

(আর অভ্যাস আছে এমন মুস্তাহাযাহ নারী) যদিও সে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত রক্ত চিনতে সক্ষম হয়, (তার অভ্যাসকে অগ্রাধিকার দিবে) যদি তা তার জানা থাকে। আর যদি সে তার অভ্যাস ভুলে যায়, তবে সে আবশ্যিকভাবে নির্ভরযোগ্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে আমল করবে - যার বর্ণনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে -। আর যদি তার কোনো বৈশিষ্ট্যমন্ডিত রক্ত না থাকে এবং সে তার অভ্যাস সম্পর্কেও অজ্ঞ থাকে, তবে সে বিভ্রান্ত বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় নারী হিসেবে গণ্য হবে।

(আর তার জন্য অর্থাৎ মুস্তাহাযাহ নারীর জন্য এবং তার অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য অপরিহার্য) যাদের অপবিত্রতা সর্বদা বিদ্যমান থাকে; যেমন প্রস্রাব ঝরা বা বায়ু নির্গত হওয়া এবং এই জাতীয় সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি:

1 - (অপবিত্র স্থান ধৌত করা)।

2 - (এবং তা বেঁধে রাখা) যা দ্বারা নির্গত বস্তু সাধ্যমতো প্রতিরোধ করা যায়; যেমন তুলা ব্যবহার করা বা অনুরূপ কিছু।

3 - (এবং প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তের জন্য অজু করা যদি কিছু নির্গত হয়), তবে যদি কিছু নির্গত না হয়, তবে তার অজু ভঙ্গ হবে না।

4 - (এবং ইবাদত বৈধ হওয়ার নিয়ত করা), অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত নয়; কারণ অপবিত্রতা দূর করার নিয়তের কার্যকারিতা এখানে নেই।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
(وَحَرُمَ وَطْؤُهَا) أَيِ المُسْتَحَاضَةِ (إِلَّا مَعَ خَوْفِ زِنًى) مِنْهُ أَوْ مِنْهَا.

(وَأَكْثَرُ مُدَّةِ النِّفَاسِ: أَرْبَعُونَ يَوْمًا، وَالنَّقَاءُ زَمَنَهُ) أَيِ النِّفَاسِ (طُهْرٌ)؛ كَالنَّقَاءِ زَمَنَ الحَيْضِ، فَتَغْتَسِلُ وَتَفْعَلُ مَا تَفْعَلُ الطَّاهِرَاتُ، وَ (يُكْرَهُ الوَطْءُ فِيهِ) أَيِ النَّقَاءِ زَمَنَ النِّفَاسِ بَعْدَ الغُسْلِ قَبْلَ تَمَامِ الأَرْبَعِينَ.

(وَهُوَ) أَيِ النِّفَاسُ (كَحَيْضٍ فِي أَحْكَامِهِ)؛ مِنْ حُرْمَةِ وَطْءٍ، وَغَيْرِهِ مِنْ وُجُوبِ الكَفَّارَةِ، وَفِعْلِ الصَّلَاةِ، وَنَحْوِهَا، (غَيْرَ عِدَّةٍ)، فَلَا تَنْقُضُ بِهِ، (وَ) غَيْرَ (بُلُوغٍ)؛ لِأَنَّ حُكْمَهُ ثَبَتَ بِغَيْرِهِ.
(এবং তার সাথে সহবাস করা হারাম) অর্থাৎ ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার সাথে (ব্যভিচারের আশঙ্কা ব্যতীত) স্বামীর পক্ষ থেকে অথবা স্ত্রীর পক্ষ থেকে।

(এবং নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা চল্লিশ দিন, আর এই মেয়াদের মধ্যে রক্তহীন থাকা) অর্থাৎ নিফাসের সময়ের পবিত্রতা (পবিত্রতা হিসেবে গণ্য); যেমন ঋতুস্রাবের মেয়াদের ভেতরের পবিত্রতা। এমতাবস্থায় সে গোসল করবে এবং পবিত্র নারীরা যা যা করে সেও তাই করবে। আর (এই অবস্থায় সহবাস করা অপছন্দনীয়) অর্থাৎ গোসল করার পর এবং চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে নিফাসের মেয়াদের ভেতরের পবিত্র অবস্থায়।

(আর এটি) অর্থাৎ নিফাস (বিধানের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের ন্যায়); সহবাস হারাম হওয়া এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে, যথা: কাফফারা ওয়াজিব হওয়া, সালাত আদায়ের বিধান এবং এই জাতীয় বিষয়াবলী। (তবে ইদ্দত ব্যতীত), কারণ নিফাসের দ্বারা ইদ্দত অতিক্রান্ত বা পূর্ণ হয় না। (এবং) (বালিগ হওয়া) ব্যতীত; কারণ এর বিধান অন্য বিষয়ের (গর্ভধারণের) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌(كِتَابُ الصَّلَاةِ)

(تَجِبُ) الصَّلَوَاتُ (الخَمْسُ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ) ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى (مُكَلَّفٍ) أَيْ بَالِغٍ عَاقِلٍ؛ (إِلَّا حَائِضًا وَ) إِلَّا (نُفَسَاءَ)، فَلَا تَجِبُ عَلَيْهِمَا، وَلَا يَقْضِيَانِهَا.

(وَلَا تَصِحُّ) الصَّلَاةُ (مِنْ مَجْنُونٍ)؛ لِعَدَمِ النِّيَّةِ.

(وَ) كَذَا (لَا) تَصِحُّ الصَّلَاةُ مِنْ (صَغِيرٍ غَيْرِ مُمَيِّزٍ) أَيْ لَمْ يَبْلُغْ سَبْعَ سِنِينَ.

(وَ) يَجِبُ (عَلَى وَلِيِّهِ) أَيِ الصَّغِيرِ (أَمْرُهُ بِهَا) أَيِ الصَّلَاةِ (لِسَبْعٍ)، وَتَعْلِيمُهُ إِيَّاهَا وَالطَّهَارَةَ، (وَ) يَجِبُ عَلَى وَلِيِّهِ (ضَرْبُهُ عَلَى تَرْكِهَا لِعَشْرٍ) وَلَوْ رَقِيقًا.

(وَيَحْرُمُ تَأْخِيرُهَا) - أَيِ الصَّلَاةِ - عَلَى مَنْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ (إِلَى وَقْتِ الضَّرُورَةِ) إِنْ كَانَ ذَاكِرًا لَهَا، قَادِرًا عَلَى فِعْلِهَا؛ (إِلَّا مِمَّنْ لَهُ الجَمْعُ) بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ (بِنِيَّتِهِ) أَيِ الجَمْعِ بِشَرْطِهِ الآتِي فِي مَحَلِّهِ، (وَ) إِلَّا مِنْ (مُشْتَغِلٍ بِشَرْطٍ لَهَا) أَيِ الصَّلَاةِ، الَّذِي (يَحْصُلُ) لَهُ (قَرِيبًا) كَالوُضُوءِ وَالغُسْلِ.

(وَجَاحِدُهَا) أَيِ وُجُوبِ الصَّلَاةِ (كَافِرٌ)؛ لِأَنَّهُ مُكَذِّبٌ للهِ وَرَسُولِهِ وَإِجْمَاعِ الأُمَّةِ.

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ

(الْأَذَانُ وَالْإِقَامَةُ فَرْضَا كِفَايَةٍ عَلَى الرِّجَالِ) لَا الوَاحِدِ وَلَا النِّسَاءِ، (الأَحْرَارِ) لَا الأَرِقَّاءِ، (المُقِيمِينَ) لَا المُسَافِرِينَ (لِـ): 1 - الصَّلَوَاتِ (الْخَمْسِ المُؤَدَّاةِ) لَا المَقْضِيَّاتِ، 2 - (وَلِـ) صَلَاةِ (الْجُمُعَةِ).
(সালাত অধ্যায়)

(পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব), সে পুরুষ হোক বা নারী, যে (মুকাল্লাফ) অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক ও জ্ঞানসম্পন্ন; (ঋতুমতী এবং) (প্রসূতি নারী ব্যতীত), সুতরাং তাদের উভয়ের ওপর সালাত ওয়াজিব নয় এবং তারা এর কাজা করবে না।

(পাগলের পক্ষ থেকে) সালাত (সহিহ হবে না); নিয়ত না থাকার কারণে।

(এবং) অনুরূপভাবে (বিবেচনাবোধহীন শিশুর) পক্ষ থেকেও সালাত (সহিহ হবে না) অর্থাৎ যে সাত বছর বয়সে পৌঁছেনি।

(এবং) সেই শিশুর (অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব তাকে সালাতের নির্দেশ দেওয়া যখন তার বয়স সাত বছর হয়), এবং তাকে সালাত ও পবিত্রতা শিক্ষা দেওয়া, (এবং) অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব (সালাত ত্যাগের জন্য তাকে প্রহার করা দশ বছর বয়সে) যদিও সে দাস হয়।

(সালাত বিলম্বিত করা হারাম) - অর্থাৎ সালাত - যার ওপর এটি ওয়াজিব হয়েছে তার জন্য (জরুরি সময় পর্যন্ত) যদি সে তা স্মরণে রাখে এবং তা পালনে সক্ষম হয়; (তবে তার জন্য অনুমতি আছে যার জন্য দুই সালাত একত্রে পড়ার সুযোগ আছে) (তার নিয়তের মাধ্যমে) অর্থাৎ জমার নিয়ত তার শর্ত সাপেক্ষে যা সামনে যথাস্থানে আসবে, (এবং) (সালাতের এমন শর্তে ব্যতিব্যস্ত ব্যক্তি ব্যতীত) যা তার জন্য (নিকটবর্তী সময়ে অর্জিত হবে) যেমন অজু ও গোসল।

(সালাতের আবশ্যিকতাকে অস্বীকারকারী) (কাফের); কারণ সে আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং উম্মতের ঐকমত্যকে (ইজমা) অস্বীকারকারী।

 

(পরিচ্ছেদ) আজান ও ইকামাত প্রসঙ্গে

(আজান ও ইকামাত পুরুষদের ওপর ফরজে কেফায়া) একাকী ব্যক্তির ওপর নয় এবং নারীদের ওপরও নয়, (স্বাধীন ব্যক্তিদের ওপর) দাসদের ওপর নয়, (অবস্থানকারীদের ওপর) মুসাফিরদের ওপর নয় (নিম্নোক্ত সালাতের জন্য): ১ - (আদাকৃত পাঁচ ওয়াক্ত) সালাতের জন্য, কাজা সালাতের জন্য নয়, ২ - (এবং জুমার) সালাতের জন্য।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
(وَلَا يَصِحُّ) كُلٌّ مِنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ (إِلَّا مُرَتَّبًا) لِأَنَّهُ ذِكْرٌ، (مُتَوَالِيًا) عُرْفًا، (مَنْوِيًّا مِنْ) وَاحِدٍ مُسْلِمٍ (ذَكَرٍ مُمَيِّزٍ عَدْلٍ وَلَوْ ظَاهِرًا)، فَلَا يُعْتَدُّ بِأَذَانِ ظَاهِرِ الفِسْقِ.

(وَ) لَا يَصِحَّانِ إِلَّا (بَعْدَ) دُخُولِ (الوَقْتِ لِغَيْرِ) أَذَانِ (فَجْرٍ)؛ فَيَصِحُّ بَعْدَ نِصْفِ اللَّيْلِ؛ لِيَتَهَيَّأَ جُنُبٌ وَنَحْوُهُ لِيُدْرِكَ فَضِيلَةَ أَوَّلِ الوَقْتِ.

(وَسُنَّ) لِمُؤَذِّنٍ (كَوْنُهُ صَيِّتًا) أَيْ رَفِيعَ الصَّوْتِ (أَمِينًا، عَالِمًا بِالْوَقْتِ).

(وَمَنْ جَمَعَ) بَيْنَ صَلَاتَيْنِ، (أَوْ قَضَى فَوَائِتَ: أَذَّنَ لِـ) الصَّلَاةِ (الأُولَى، وَأَقَامَ لِكُلِّ صَلَاةٍ) مِنْهَا.

(وَسُنَّ لِمُؤَذِّنٍ وَ) سُنَّ لِـ (سَامِعِهِ) أَيِ المُؤَذِّنِ (مُتَابَعَةُ قَوْلِهِ) أَيِ المُؤَذِّنِ (سِرًّا) بِمِثْلِهِ، (إِلَّا فِي الحَيْعَلَةِ، فَيَقُولُ) مُتَابِعٌ (الحَوْقَلَةَ) أَيْ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ»، (وَ) إِلَّا (فِي التَّثْوِيبِ) أَيْ قَوْلِ المُؤَذِّنِ بَعْدَ أَذَانِ الفَجْرِ: «الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ»، فَيَقُولُ: (صَدَقْتَ وَبَرِرْتَ).

(وَ) تُسَنُّ (الصَّلَاةُ عَلَى النَّبِيِّ عَلَيْهِ) الصَّلَاةُ وَ (السَّلَامُ بَعْدَ فَرَاغِهِ) أَيِ الأَذَانِ.

(وَ) يُسَنُّ (قَوْلُ مَا وَرَدَ)، وَهُوَ: «اللهم رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ القَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ وَالفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ».

(وَ) يُسَنُّ (الدُّعَاءُ) بَعْدَ الأَذَانِ وَعِنْدَ الإِقَامَةِ.

(وَحَرُمَ خُرُوجٌ مِنْ مَسْجِدٍ بَعْدَهُ) أَيِ الأَذَانِ قَبْلَ الصَّلَاةِ (بِلَا عُذْرٍ أَوْ نِيَّةِ رُجُوعٍ) إِلَى المَسْجِدِ.

 

‌‌(فَصْلٌ) فِي شُرُوطِ صِحَّةِ الصَّلَاةِ

(شُرُوطُ صِحَّةِ الصَّلَاةِ سِتَّةٌ) - فَرْضًا كَانَتِ الصَّلَاةُ، أَوْ نَفْلًا -:
আযান ও ইকামতের প্রত্যেকটিই (সহীহ হবে না) (পর্যায়ক্রমিক হওয়া ব্যতীত), কারণ এটি একটি যিকির; (এবং নিরবচ্ছিন্ন হওয়া ব্যতীত) প্রথাগতভাবে; (এবং নিয়তকৃত হতে হবে) একজন মুসলিম, (বুঝমান পুরুষ এবং ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির পক্ষ থেকে, যদিও তা বাহ্যিকভাবে হয়)। অতএব, বাহ্যিকভাবে পাপাচারী ব্যক্তির আযান গণ্য হবে না।

(এবং) ফজর ব্যতীত (অন্যান্য নামাজের) আযান ও ইকামত (ওয়াক্ত) শুরু হওয়ার (পূর্ব পর্যন্ত) সহীহ হবে না। তবে ফজরের আযান মধ্যরাতের পর দেওয়া সহীহ; যাতে অপবিত্র ব্যক্তি ও অনুরূপ অন্যরা প্রথম ওয়াক্তের ফজিলত অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।

মুয়াজ্জিনের জন্য (সুন্নত হলো) (উচ্চকণ্ঠের অধিকারী হওয়া), অর্থাৎ যার আওয়াজ অনেক উঁচু; (আমানতদার হওয়া এবং ওয়াক্ত সম্পর্কে জ্ঞান রাখা)।

(যে ব্যক্তি) দুই নামাজ একত্র করে (অথবা কাজা নামাজ আদায় করে, সে) (প্রথম) নামাজের (জন্য আযান দিবে এবং প্রত্যেকটি নামাজের জন্য পৃথকভাবে ইকামত দিবে)।

মুয়াজ্জিন (এবং) আযান (শ্রবণকারীর জন্য) (মুয়াজ্জিনের কথার অনুসরণ করা) অর্থাৎ মুয়াজ্জিনের মতো (মনে মনে) বলা (সুন্নত), (তবে 'হাইয়া আলা' তথা হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ-এর সময় ব্যতীত। সে সময়) অনুসরণকারী (হাওকালা বলবে), অর্থাৎ: 'আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই'; (এবং) ফজরের আযানের পর মুয়াজ্জিনের তাসউইব তথা 'ঘুম হতে নামাজ উত্তম' (বলার সময় ব্যতীত)। তখন সে বলবে: (আপনি সত্য বলেছেন এবং নেক কাজ করেছেন)।

(এবং) আযান (শেষ হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা সুন্নত)।

(এবং) বর্ণিত দোয়াটি (বলা সুন্নত)। তা হলো: 'হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অসীলা ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন'।

(এবং) আযানের পরে ও ইকামতের সময় (দোয়া করা সুন্নত)।

(এবং) আযানের (পর সালাত আদায়ের পূর্বে মসজিদ থেকে বের হওয়া হারাম, কোনো ওজর বা) মসজিদে (ফিরে আসার নিয়ত ব্যতীত)।

 

‌‌(একটি পরিচ্ছেদ) সালাত সহীহ হওয়ার শর্তাবলি প্রসঙ্গে

(সালাত সহীহ হওয়ার শর্ত ছয়টি) - চাই সেই সালাত ফরজ হোক বা নফল হোক -:
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
الشَّرْطُ الأَوَّلُ: (طَهَارَةُ الحَدَثِ، وَتَقَدَّمَتْ) فِي الوُضُوءِ وَغَيْرِهِ.

(وَ) الشَّرْطُ الثَّانِي: (دُخُولُ الوَقْتِ) لِلصَّلَاةِ المُؤَقَّتَةِ، وَتَجِبُ بِدُخُولِ أَوَّلِ وَقْتِهَا؛ وَلَا تَصِحُّ قَبْلَهُ بِحَالٍ؛ (فَوَقْتُ الظُّهْرِ) وَهِيَ الأُولَى، أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ؛ (مِنَ الزَّوَالِ)، وَهُوَ مَيْلُ الشَّمْسِ مِنْ وَسَطِ السَّمَاءِ، وَيُعْرَفُ ذَلِكَ بِزِيَادَةِ الظِّلِّ بَعْدَ تَنَاهِي قِصَرِهِ، وَيَخْتَلِفُ بِالشَّهْرِ وَالبَلَدِ، وَيَمْتَدُّ وَقْتُهَا (حَتَّى يَتَسَاوَىَ مُنْتَصِبٌ وَفَيْؤُهُ) أَيْ ظِلُّهُ (سِوَى ظِلِّ الزَّوَالِ)، فَإِذَا ضُبِطَ الظِّلُّ الَّذِي زَالَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ، وَبَلَغَتِ الزِّيَادَةُ عَلَيْهِ قَدْرَ الشَّاخِصِ فَقَدِ انْتِهَى وَقْتُ الظُّهْرِ.

(وَيَلِيهِ) أَيْ وَقْتَ الظُّهْرِ الوَقْتُ (المُخْتَارُ لِلْعَصْرِ)، وَهِيَ الوُسْطَى، أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ، وَيَمْتَدُّ (حَتَّى يَصِيرَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ، سِوَى ظِلِّ الزَّوَالِ) أَيْ ظِلِّ الشَّاخِصِ الَّذِي زَالَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ، وَعَنْهُ: إِلَى اصْفِرَارِ الشَّمْسِ، (وَالضَّرُورَةُ) بَعْدَ ذَلِكَ (إِلَى الغُرُوبِ).

(وَيَلِيهِ) أَيْ وَقْتَ الضَّرُورَةِ لِلْعَصْرِ: (المَغْرِبُ)، وَهِيَ وِتْرُ النَّهَارِ، ثَلَاثُ رَكَعَاتٍ (حَتَّى يَغِيبَ الشَّفَقُ الأَحْمَرُ).

(وَيَلِيهِ) أَيْ وَقْتَ المَغْرِبِ الوَقْتُ (المُخْتَارُ لِلْعِشَاءِ)، وَهِيَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ، مِنْ أَوَّلِ الظَّلَامِ (إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ الأَوَّلِ، وَالضَّرُورَةُ إِلَى طُلُوعِ فَجْرٍ ثَانٍ)، وَهُوَ البَيَاضُ المُعْتَرِضُ بِالمَشْرِقِ، وَلَا ظُلْمَةَ بَعْدَهُ.

(وَيَلِيهِ) أَيْ وَقْتَ الضَّرُورَةِ لِلْعِشَاءِ: (الفَجْرُ)، وَهِيَ رَكْعَتَانِ (إِلَى الشُّرُوقِ).

(وَتُدْرَكُ مَكْتُوبَةٌ) أَدَاءً - حَتَّى الجُمُعَةُ - (بِـ) تَكْبِيرَةِ (إِحْرَامٍ فِي وَقْتِهَا، لَكِنْ يَحْرُمُ تَأْخِيرُهَا إِلَى وَقْتٍ لَا يَسَعُهَا).

(وَلَا يُصَلِّي حَتَّى يَتَيَقَّنَهُ) أَيْ دُخُولَ الوَقْتِ، (أَوْ يَغْلِبَ عَلَى ظَنِّهِ دُخُولُهُ إِنْ
প্রথম শর্ত: (হাদাস থেকে পবিত্রতা অর্জন, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে) ওযু ও অন্যান্য অধ্যায়ে।

(এবং) দ্বিতীয় শর্ত: নির্ধারিত সময়ের নামাজের জন্য (সময় প্রবেশ করা), আর ওয়াক্তের শুরুতে তা ওয়াজিব হয়; এবং কোনোভাবেই সময়ের আগে তা শুদ্ধ হবে না; (জোহরের সময়) এবং তা প্রথম নামাজ, চার রাকাত; (সূর্য ঢলে পড়া থেকে), আর তা হলো আকাশের মধ্যস্থল থেকে সূর্যের হেলে পড়া। এটি জানা যায় ছায়া সবচেয়ে ছোট হওয়ার পর পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে, যা মাস ও দেশভেদে ভিন্ন হয়। এর সময় প্রলম্বিত হয় (পর্যন্ত যে, একটি খাড়া বস্তু ও তার ছায়া সমান হয়ে যায়) অর্থাৎ তার ছায়া (জাওয়ালের সময়ের ছায়া বাদে)। সুতরাং যখন সূর্য ঢলার সময়ের ছায়াটি নিরূপণ করা হয় এবং ছায়ার বৃদ্ধি খাড়া বস্তুর সমপরিমাণে পৌঁছায়, তখন জোহরের সময় শেষ হয়ে যায়।

(এবং এর পরবর্তী সময়) অর্থাৎ জোহরের সময়ের পর (আসরের পছন্দনীয় সময়), এবং এটি মধ্যবর্তী নামাজ, চার রাকাত। এটি প্রলম্বিত হয় (পর্যন্ত যে, প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হয়, জাওয়ালের সময়ের ছায়া বাদে) অর্থাৎ খাড়া বস্তুর সেই ছায়া ব্যতীত যার ওপর সূর্য ঢলেছে। আর তাঁর থেকে বর্ণিত: সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত। এবং এরপর (জরুরি সময়) (সূর্যাস্ত পর্যন্ত)।

(এবং এর পরবর্তী সময়) অর্থাৎ আসরের জরুরি সময়ের পর: (মাগরিব), এবং এটি দিনের বেজোড় নামাজ, তিন রাকাত (পর্যন্ত যে, লাল লালিমা অদৃশ্য হয়ে যায়)।

(এবং এর পরবর্তী সময়) অর্থাৎ মাগরিবের ওয়াক্তের পর (এশার পছন্দনীয় সময়), এবং এটি চার রাকাত, অন্ধকারের শুরু থেকে (রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত, আর জরুরি সময় দ্বিতীয় ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত), আর তা হলো পূর্বাকাশে আড়াআড়িভাবে উদিত শুভ্রতা, যার পরে আর অন্ধকার আসে না।

(এবং এর পরবর্তী সময়) অর্থাৎ এশার জরুরি সময়ের পর: (ফজর), এবং এটি দুই রাকাত (সূর্যোদয় পর্যন্ত)।

(এবং নির্ধারিত ফরজ নামাজ পাওয়া যাবে) আদায় হিসেবে - এমনকি জুমাও - (মাধ্যমে) তাকবিরে (তাহরিমার ওয়াক্তের মধ্যে, কিন্তু একে এমন সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করা হারাম যাতে ওয়াক্তে তা সম্পন্ন করা সম্ভব না হয়)।

(এবং কেউ নামাজ পড়বে না যতক্ষণ না সে এটি নিশ্চিতভাবে জানতে পারে) অর্থাৎ ওয়াক্ত প্রবেশ করার বিষয়ে, (অথবা তার প্রবল ধারণা হয় ওয়াক্ত প্রবেশের ব্যাপারে যদি...
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
عَجَزَ عَنِ اليَقِينِ، وَيُعِيدُ إِنْ) صَلَّى بِظَنِّهِ وَ (أَخْطَأَ).

(وَمَنْ صَارَ أَهْلًا لِوُجُوبِهَا قَبْلَ خُرُوجِ وَقْتِهَا بِـ) قَدْرِ (تَكْبِيرَةٍ)؛ كَبُلُوغٍ وَإِفَاقَةٍ وَنَحْوِهِ؛ (لَزِمَتْهُ) أَيْ قَضَاؤُهَا، (وَ) قَضَاءُ (مَا يُجْمَعُ إِلَيْهَا قَبْلَهَا).

(وَيَجِبُ فَوْرًا) عَلَى مُكَلَّفٍ لَا مَانِعَ بِهِ (قَضَاءُ فَوَائِتَ) - وَاحِدَةٍ فَأَكْثَرَ مِنَ الخَمْسِ - (مُرَتَّبًا) وَلَوْ كَثُرَتْ (مَا لَمْ يَتَضَرَّرْ) فِي بَدَنِهِ أَوْ مَالِهِ أَوْ مَعِيشَةٍ يَحْتَاجُهَا، (أَوْ يَنْسَ) الفَائِتَةَ (أَوْ يَخْشَ فَوْتَ) مَكْتُوبَةٍ (حَاضِرَةٍ أَوْ) فَوْتَ وَقْتِ (اخْتِيَارِهَا).

الشَّرْطُ (الثَّالِثُ: سَتْرُ العَوْرَةِ، وَيَجِبُ) سَتْرُهَا (حَتَّى خَارِجَهَا) أَيِ الصَّلَاةِ، (وَ) حَتَّى (فِي خَلْوَةٍ وَ) فِي (ظُلْمَةٍ بِمَا) أَيْ بِشَيْءٍ (لَا يَصِفُ البَشَرَةَ) أَيْ لَوْنَهَا مِنْ بَيَاضٍ وَسَوَادٍ.

(وَعَوْرَةُ رَجُلٍ وَحُرَّةٍ مُرَاهِقَةٍ وأَمَةٍ: مَا بَيْنَ سُرَّةٍ وَرُكْبَةٍ، وَ) عَوْرَةُ ذَكَرٍ (ابْنِ سَبْعٍ إِلَى عَشْرٍ: الفَرْجَانِ) فَقَطْ، (وَكُلُّ الحُرَّةِ) البَالِغَةِ: (عَوْرَةٌ) - حَتَّى ظُفُرُهُا وَشَعْرُهَا - (إِلَّا وَجْهَهَا فِي الصَّلَاةِ).

(وَمَنِ اِنْكَشَفَ بَعْضُ عَوْرَتِهِ) فِي الصَّلَاةِ - مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى - (وَفَحُشَ، أَوْ صَلَّى فِي نَجِسٍ أَوْ غَصْبٍ) أَيْ مَغْصُوبٍ (ثَوْبًا أَوْ بُقْعَةً: أَعَادَ)، وَ (لَا) يُعِيدُ صَلَاتَهُ (مَنْ حُبِسَ) وَصَلَّى (فِي مَحَلٍّ نَجِسٍ أَوْ غَصْبٍ لَا يُمْكِنُهُ الخُرُوجُ مِنْهُ).

الشَّرْطُ (الرَّابِعُ: اِجْتِنَابُ نَجَاسَةٍ غَيْرِ مَعْفُوٍّ عَنْهَا فِي بَدَنٍ وَثَوْبٍ وَبُقْعَةٍ مَعَ القُدْرَةِ).

(وَمَنْ جَبَرَ عَظْمَهَ) بِعَظْمِ نَجِسٍ، (أَوْ خَاطَهُ بِـ) خَيْطٍ (نَجِسٍ، وَتَضَرَّر بِقَلْعِهِ) أَيِ العَظْمِ أَوِ الخَيْطِ: (لَمْ يَجِبْ) عَلَيْهِ قَلْعُهُ، (وَتَيَمَّمَ) لِلْعَظْمِ أَوِ الخَيْطِ النَّجِسِ (إِنْ لَمْ يُغَطِّهِ اللَّحْمُ)؛ لِعَدَمِ إِمْكَانِ غَسْلِهِ.
(নিশ্চিত হতে) অক্ষম হয়, এবং সে পুনরায় সালাত আদায় করবে যদি সে তার প্রবল ধারণার ভিত্তিতে সালাত আদায় করে এবং (ভুল করে)।

(আর যে ব্যক্তি সালাতের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বে) এক (তাকবীরের) পরিমাণ সময়ে (সালাত ওয়াজিব হওয়ার যোগ্য হয়); যেমন সাবালক হওয়া, জ্ঞান ফিরে পাওয়া বা অনুরূপ কারণে; তবে (তার ওপর তা আবশ্যক হবে) অর্থাৎ তার কাজা করা, (এবং) তার (পূর্ববর্তী সালাতটিও কাজা করা যা বর্তমান সালাতের সাথে একত্রে পড়া যায়)।

(আর অবিলম্বে ওয়াজিব) এমন মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপর যার কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, (ছুটে যাওয়া সালাতসমূহ কাজা করা) - পাঁচ ওয়াক্তের মধ্য থেকে একটি বা একাধিক - (পর্যায়ক্রমিকভাবে) যদিও তা অনেক হয়, (ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়) তার শরীরের, সম্পদের বা তার প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণের ক্ষেত্রে, (অথবা) ছুটে যাওয়া সালাতের কথা (ভুলে যায়), (অথবা বর্তমান) ফরয সালাত (ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করে, অথবা) তার (ঐচ্ছিক সময়) পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে।

(তৃতীয়) শর্ত: (সতর ঢাকা, এবং ওয়াজিব) সতর ঢাকা (সালাতের বাইরেও), (এবং) এমনকি (নির্জনতায় ও অন্ধকারেও এমন কিছু দিয়ে) অর্থাৎ এমন বস্তু দিয়ে (যা ত্বকের অবস্থা বর্ণনা করে না) অর্থাৎ চামড়ার শুভ্রতা বা কৃষ্ণতা প্রকাশ করে না।

(আর পুরুষ, কিশোরী এবং দাসীর সতর হলো: নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত, এবং) সাত থেকে দশ বছর বয়সী (বালকের সতর হলো: শুধুমাত্র লজ্জাস্থানদ্বয়), (এবং প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন নারীর পুরো শরীরই) (সতর) - এমনকি তার নখ এবং চুলও - (সালাতের মধ্যে কেবল তার মুখমণ্ডল ব্যতীত)।

(আর যার সতরের কিছু অংশ উন্মোচিত হয়ে যায়) সালাতের মধ্যে - চাই সে পুরুষ হোক বা নারী - (এবং তা যদি অত্যধিক হয়, অথবা অপবিত্র বস্তুর মধ্যে কিংবা আত্মসাৎকৃত) অর্থাৎ জবরদখলকৃত (পোশাকে বা স্থানে সালাত আদায় করে: তবে সে পুনরায় সালাত আদায় করবে), এবং (সে ব্যক্তি পুনরায় সালাত আদায় করবে না যাকে বন্দি করা হয়েছে) এবং সে সালাত আদায় করেছে (এমন অপবিত্র বা আত্মসাৎকৃত স্থানে যেখান থেকে তার বের হওয়া সম্ভব নয়)।

(চতুর্থ) শর্ত: (সামর্থ্য থাকা সাপেক্ষে শরীর, পোশাক ও স্থানে ক্ষমা অযোগ্য অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকা)।

(আর যে ব্যক্তি তার হাড় জোড়া লাগিয়েছে) অপবিত্র হাড় দিয়ে, (অথবা তা সেলাই করেছে অপবিত্র) সুতো (দিয়ে, এবং তা উপড়ে ফেলতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে) অর্থাৎ সেই হাড় বা সুতো; (তবে তা উপড়ে ফেলা তার ওপর ওয়াজিব নয়), (এবং সে তায়াম্মুম করবে) সেই অপবিত্র হাড় বা সুতোর জন্য (যদি মাংস তা ঢেকে না ফেলে); কারণ তা ধোয়া সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
(وَلَا تَصِحُّ) تَعَبُّدًا صَلَاةُ فَرْضٍ أَوْ نَفْلٍ (بِلَا عُذْرٍ) كَحَبْسٍ (فِي):

1 - (مَقْبَرَةٍ).

2 - (وَخَلَاءٍ) وَهُوَ مَا أُعِدَّ لِقَضَاءِ الحَاجَةِ.

3 - (وَحَمَّامٍ).

4 - (وَأَعْطَانِ إِبِلٍ)، وَهِيَ مَا تُقِيمُ فِيهِ.

5 - (وَمَجْزَرَةٍ)، وَهِيَ مَا أُعِدَّ لِلذَّبْحِ فِيهِ.

6 - (وَمَزْبَلَةٍ).

7 - (وَقَارِعَةِ طَرِيقٍ) أَيْ مَحَلِّ قَرْعِ الأَقْدَامِ مِنَ الطُّرُقِ، سَوَاءٌ كَانَ فِيهِ سَالِكٌ أَوْ لَا.

8 - (وَلَا فِي أَسْطِحَتِهَا) أَيْ تِلْكَ المَوَاضِعِ الَّتِي لَا تَصِحُّ الصَلَاةُ فِيهَا.

وَتَصِحُّ فِي الكُلِّ لِعُذْرٍ.

الشَّرْطُ (الْخَامِسُ: اسْتِقْبَالُ القِبْلَةِ، وَلَا تَصِحُّ) الصَّلَاةُ (بِدُونِهِ) أَيِ الاسْتِقْبَالِ؛ (إِلَّا لِعَاجِزٍ) عَنْهُ؛ كَمَرْبُوطٍ إِلَى غَيْرِ القِبْلَةِ وَالعَاجِزِ عَنِ الالْتِفَاتِ إِلَى القِبْلَةِ كَمَرَضٍ، وَعِنْدَ الْتِحَامِ حَرْبٍ، أَوْ هَرَبٍ مِنْ عَدُوٍّ، وَنَحْوِهِ، (وَ) إِلَّا لِـ (مُتَنَفِّلٍ فِي سَفَرٍ مُبَاحٍ) وَلَوْ قَصِيرًا.

(وَفَرْضُ قَرِيبٍ مِنْهَا) أَيِ القِبْلَةِ: (إِصَابَةُ عَيْنِهَا) بِبَدَنِهِ كُلِّهِ، (وَ) فَرْضُ (بَعِيدٍ) عَنْهَا، وَهُوَ مَنْ لَمْ يَقْدِرْ عَلَى المُعَايَنَةِ، وَلَا عَلَى مَنْ يُخْبِرُهُ عَنْ عِلْمٍ: إِصَابَةُ (جِهَتِهَا) بِالاجْتِهَادِ، وَيُعْفَى عَنِ انْحِرَافِهِ يَسِيرًا.

(وَيُعْمَلُ وُجُوبًا بِخَبَرِ) مُكَلَّفٍ (ثِقَةٍ) عَدْلٍ - ظَاهِرًا وَبَاطِنًا - (بِيَقِينٍ، وَ) يَعْمَلُ وُجُوبًا بِاسْتِدْلَالٍ (بِمَحَارِيبِ المُسْلِمِينَ).
(এবং বৈধ নয়) ইবাদত হিসেবে কোনো ফরয বা নফল সালাত (অজুহাত ছাড়া) যেমন বন্দিত্ব (এই স্থানগুলোতে):

১ - (কবরস্থান)।

২ - (এবং শৌচাগার), যা হাজত পূরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

৩ - (এবং গোসলখানা)।

৪ - (এবং উটের আস্তাবল), যা সেগুলোর অবস্থানের স্থান।

৫ - (এবং জবাইখানা), যা পশু জবাই করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

৬ - (এবং আবর্জনার স্তূপ)।

৭ - (এবং রাস্তার মূল পথ) অর্থাৎ রাস্তার যে অংশটি কদম বা পায়ের আওয়াজ পড়ার স্থান, সেখানে পথচারী চলাচল করুক বা না করুক।

৮ - (এবং এগুলোর ছাদেও নয়) অর্থাৎ ওই সমস্ত স্থান যেখানে সালাত আদায় করা বৈধ নয়।

তবে ওজরের কারণে এসকল সব স্থানেই সালাত আদায় সহীহ হবে।

(পঞ্চম) শর্ত: (কিবলামুখী হওয়া, এবং সালাত সহীহ হবে না) সালাত (তা ছাড়া) অর্থাৎ কিবলামুখী হওয়া ছাড়া; (অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত) যে ব্যক্তি কিবলামুখী হতে অক্ষম; যেমন কিবলার বিপরীত দিকে যাকে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং অসুস্থতার কারণে কিবলামুখী হতে অক্ষম ব্যক্তি, আর যুদ্ধের প্রচণ্ড লড়াইয়ের সময়, অথবা শত্রু থেকে পলায়নের সময় এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রে, (এবং) এছাড়া (বৈধ সফরে নফল সালাত আদায়কারীর জন্য) সফরটি সংক্ষিপ্ত হলেও।

(এবং কিবলার নিকটবর্তী ব্যক্তির জন্য ফরয) অর্থাৎ কিবলা সংলগ্ন ব্যক্তির জন্য: তার পুরো শরীর দ্বারা (সরাসরি কিবলামুখী হওয়া), (এবং দূরবর্তী ব্যক্তির) ফরয, যিনি সরাসরি কিবলা প্রত্যক্ষ করতে পারেন না এবং তাকে নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে অবহিত করার মতো কাউকেও পান না: ইজতিহাদের মাধ্যমে (কিবলার দিক নির্ধারণ করা), এবং সামান্য বিচ্যুতি ক্ষমাযোগ্য হবে।

(এবং আবশ্যিকভাবে আমল করতে হবে সেই) মুকাল্লাফ (নির্ভরযোগ্য) ব্যক্তির (সংবাদ) যিনি ন্যায়নিষ্ঠ — প্রকাশ্যে এবং গোপনে — (নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে, এবং) আবশ্যিকভাবে আমল করতে হবে (মুসলিমদের মেহরাবগুলোর) মাধ্যমে কিবলা নির্ধারণের দলিলের ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
(وَإِنِ اِشْتَبَهَتْ) أَيِ القِبْلَةُ (فِي السَّفَرِ: اِجْتَهَدَ عَارِفٌ بِأَدِلَّتِهَا) فِي طَلَبِهَا بِالدَّلَائِلِ، (وَقَلَّدَ غَيْرُهُ) أَيْ غَيْرُ العَارِفِ بِأَدِلَّتِهَا، (وَإِنْ صَلَّى بِلَا أَحَدِهِمَا) أَيْ بِغَيْرِ اجْتِهَادٍ وَلَا تَقْلِيدٍ (مَعَ القُدْرَةِ) عَلَى الاجْتِهَادِ أَوْ التَّقْلِيدِ: (قَضَى) صَلَاتُهُ الَّتِي بِذَلِكَ (مُطْلَقًا) أَيْ سَوَاءٌ أَخْطَأَ القِبْلَةَ أَوْ أَصَابَهَا.

الشَّرْطُ (السَّادِسُ: النِّيَّةُ، فَيَجِبُ) عَلَى المُصَلِّي (تَعْيِينُ) صَلَاةٍ (مُعَيَّنَةٍ).

(وَسُنَّ مُقَارَنَتُهَا) أَيِ النِّيَّةِ (لِتَكْبِيرَةِ إِحْرَامٍ، وَلَا يَضُرُّ تَقْدِيمُهَا) أَيِ النِّيَّةِ (عَلَيْهَا) أَيْ عَلَى تَكْبِيرَةِ الإِحْرَامِ (بِـ) زَمَنٍ (يَسِيرٍ).

(وَشُرِطَ نِيَّةُ إِمَامَةٍ) لِإِمَامٍ (وَ) شُرِطَ أَيْضًا نِيَّةُ (ائْتِمَامٍ) لِمَأْمُومٍ.

(وَلِمُؤْتَمٍّ اِنْفِرَادٌ لِعُذْرٍ) يُبِيحُ تَرْكَ الجَمَاعَةِ؛ كَتَطْوِيلِ إِمَامٍ، وَمَرَضٍ، وَنَحْوِهِ، (وَتَبْطُلُ صَلَاتُهُ) أَيِ المُؤْتَمِّ (بِبُطْلَانِ صَلَاةِ إِمَامِهِ) لِعُذْرٍ وَغَيْرِهِ، فَلَا اسْتِخْلَافَ إِنْ سَبَقَهُ الحَدَثُ، (لَا عَكْسُهُ) أَيْ لَا تَبْطُلُ صَلَاةُ إِمَامٍ بِبُطْلَانِ صَلَاةِ مُؤْتَمِّ (إِنْ نَوَى إِمَامٌ الِانْفِرَادَ).

 

‌‌(بَابُ صِفَةِ الصَّلَاةِ)

(يُسَنُّ خُرُوجُهُ إِلَيْهَا) أَيِ الصَّلَاةِ (مُتَطَهِّرًا بِسَكِينَةٍ) أَيْ طُمَأْنِينَةٍ وَتَأَنٍّ فِي الحَرَكَاتِ وَاجْتِنَابِ العَبَثِ، (وَوَقَارٍ) أَيْ رَزَانَةٍ؛ كَغَضِّ البَصَرِ وَخَفْضِ الصَّوْتِ (مَعَ قَوْلِ مَا وَرَدَ)، وَمِنْهُ: «اللهم إِنِّي أَسْأَلُكَ بِحَقِّ السَّائِلِينَ عَلَيْكَ، وَبِحَقِّ مَمْشَايَ هَذَا؛ فَإِنِّي لَمْ أَخْرُجَ أَشَرًا وَلَا بَطَرًا، وَلَا رِيَاءً وَلَا سُمْعَةً، خَرَجْتُ اتِّقَاءَ سَخَطِكَ وَابْتِغَاءَ مَرْضَاتِكَ، فَأَسْأَلُكَ أَنْ تُنْقِذَنِي مِنَ النَّارِ، وَأَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي، إنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إلَّا أَنْتَ».

(وَ) سُنَّ (قِيَامُ إِمَامٍ، فَـ) قِيَامُ مَأْمُومٍ (غَيْرِ مُقِيمٍ) لِلصَّلَاةِ (إِلَيْهَا عِنْدَ قَوْلِ
(এবং যদি অস্পষ্ট হয়) অর্থাৎ কিবলা (সফরে: তবে এর প্রমাণাদি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি ইজতিহাদ করবে) দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তা অনুসন্ধানে, (এবং অন্য কেউ তাকে অনুকরণ করবে) অর্থাৎ প্রমাণাদি সম্পর্কে অনবগত ব্যক্তি, (এবং যদি তাদের কোনোটি ছাড়াই সালাত আদায় করে) অর্থাৎ ইজতিহাদ বা তাকলীদ ব্যতিরেকে (সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও) ইজতিহাদ বা তাকলীদ করার ক্ষেত্রে: (সে কাজা করবে) তার সেই সালাত যা সেভাবে আদায় করেছে (শর্তহীনভাবে) অর্থাৎ কিবলা ভুল হোক বা সঠিক হোক।

(ষষ্ঠ) শর্ত: (নিয়ত, সুতরাং সালাত আদায়কারীর ওপর ওয়াজিব হলো) কোনো (নির্দিষ্ট) সালাত (নির্ধারণ করা)।

(এবং সুন্নাত হলো এর সমন্বয় ঘটানো) অর্থাৎ নিয়তের (তাকবীরে তাহরীমার সাথে, এবং এর আগে করা ক্ষতি করবে না) অর্থাৎ নিয়তকে (তার ওপর) অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমার ওপর আগে করা (সামান্য) সময়ের (ব্যবধানে)।

(এবং ইমামতির নিয়ত করা শর্ত) ইমামের জন্য (এবং) মুক্তাদির জন্য (ইকতিদা করার) নিয়ত করাও শর্ত।

(এবং মুক্তাদির জন্য ওজরের কারণে একাকী হওয়ার সুযোগ রয়েছে) যা জামাত ত্যাগ করাকে বৈধ করে; যেমন ইমামের দীর্ঘ করা, অসুস্থতা এবং এই জাতীয় কোনো কারণ, (এবং তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে) অর্থাৎ মুক্তাদির (তার ইমামের সালাত বাতিল হওয়ার কারণে) ওজরবশত বা অন্য কোনো কারণে, সুতরাং ইমামের আগে অজু ভেঙে গেলে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা যাবে না, (এর বিপরীত নয়) অর্থাৎ মুক্তাদির সালাত বাতিল হওয়ার কারণে ইমামের সালাত বাতিল হবে না (যদি ইমাম একাকী সালাত আদায়ের নিয়ত করেন)।

 

‌‌(সালাতের পদ্ধতির অধ্যায়)

(তার জন্য সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সুন্নাত) অর্থাৎ সালাতের জন্য (পবিত্র অবস্থায় গাম্ভীর্যের সাথে) অর্থাৎ স্থিরতা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে ধীরস্থিরতা বজায় রেখে এবং অনর্থক কাজ পরিহার করে, (ও মর্যাদাপূর্ণভাবে) অর্থাৎ ধীরস্থিরতা; যেমন দৃষ্টি অবনত রাখা এবং আওয়াজ নিচু রাখা (যা বর্ণিত হয়েছে তা পাঠ করার সাথে), এবং তার অন্তর্ভুক্ত হলো: «হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আবেদন করছি আপনার কাছে প্রার্থনাকারীদের হকের উসিলায় এবং আমার এই চলার হকের উসিলায়; কেননা আমি কোনো উদ্ধত আচরণ, অহংকার, লোকদেখানো বা সুখ্যাতি অর্জনের জন্য বের হইনি, আমি আপনার ক্রোধ থেকে বাঁচতে এবং আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সুতরাং আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনি যেন আমাকে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করেন এবং আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন, নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই»।

(এবং) সুন্নাত হলো (ইমামের দাঁড়ানো, অতঃপর) মুক্তাদির দাঁড়ানো (যে ব্যক্তি সালাতের জন্য) একামত (দিচ্ছে না) (সালাতের দিকে যখন বলা হবে...
(খণ্ড: ১) আখীরুল মুদ্দাখরাত শারহু আখসারিল মুখতাসারাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
مُقِيمٍ: «قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ») إِنْ كَانَ الإِمَامُ فِي المَسْجِدِ، وَكَذَا إِنْ كَانَ فِي غَيْرِهِ وَرَآهُ المَأْمُومُ، وَإِلَّا فَعِنْدَ رُؤْيَتِهِ، (فَيَقُولُ) مُصَلٍّ: («اللَّهُ أَكْبَرُ» وَهُوَ قَائِمٌ فِي فَرْضٍ) وُجُوبًا، (رَافِعًا يَدَيْهِ إِلَى حَذْوِ مَنْكِبَيْهِ) اسْتِحْبَابًا، وَيَسْقُطُ بِفَرَاغِ التَّكْبِيرِ.

(ثُمَّ يَقْبِضُ بِيُمْنَاهُ كُوعَ يُسْرَاهُ وَيَجْعَلُهُمَا) أَيْ يَدَيْهِ (تَحْتَ سُرَّتِهِ، وَيَنْظُرُ مَسْجَدَهُ) بِفَتْحِ الجِيمِ؛ أَيْ مَكَانَ سُجُودِهِ (فِي كُلِّ صَلَاتِهِ) اسْتِحْبَابًا؛ إِلَّا فِي صَلَاةِ خَوْفٍ لِحَاجَةٍ.

(ثُمَّ يَقُولُ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اِسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ»)، وَلَا يُكْرَهُ بِغَيْرِهِ مِمَّا وَرَدَ.

(ثُمَّ يَسْتَعِيذُ) سِرًّا؛ أَيْ يَقُولُ: «أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ»، (ثُمَّ يُبَسْمِلُ سِرًّا) أَيْ يَقُولُ: «بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» اسْتِحْبَابًا فِي الكُلِّ، وَهِيَ آيَةٌ فَاصِلَةٌ بَيْنَ كُلِّ سُورَتَيْنِ، سِوَى «بَرَاءَةٌ»، فَيُكْرَهُ ابْتِدَاؤُهَا بِهَا.

(ثُمَّ يَقْرَأُ الفَاتِحَةَ) بِتَشْدِيدَاتِهَا (مُرَتَّبَةً مُتَوَالِيَةً) وَهِيَ رُكْنٌ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ لِغَيْرِ مَأْمُومٍ، وَيُسَنُّ أَنْ يَقِفَ عَلَى كُلِّ آيَةٍ، (وَفِيهَا) أَيِ الفَاتِحَةِ (إِحْدَى عَشْرَةَ تَشْدِيدَةً) أَوَّلُهَا: اللَّامُ فِي «للهِ»، وَآخِرُهَا: «الضَّالِّينَ»، وَيُكْرَهُ الإِفْرَاطُ فِي التَّشْدِيدِ وَالمَدِّ، (وَإِذَا فَرَغَ) مِنَ الفَاتِحَةِ (قَالَ) بَعْدَ سَكْتَةٍ لَطِيفَةٍ: (آمِينَ) بِفَتْحِ الهَمْزَةِ (يَجْهَرُ بِهَا) أَيْ «آمِينَ» (إِمَامٌ وَمَأْمُومٌ مَعًا فِي جَهْرِيَّةٍ) اسْتِحْبَابًا، (وَ) يَجْهَرُ (غَيْرُهُمَا) أَيْ غَيْرُ الإِمَامِ وَالمَأْمُومِ (فِيمَا يَجْهَرُ فِيهِ)، وَهُوَ المُنْفَرِدُ وَالقَارِئُ، فَإِنْ جَهَرَا فِي القِرَاءَةِ جَهَرَا بِهَا، وَإِلَّا أَسَرَّا.

(وَيُسَنُّ جَهْرُ إِمَامٍ بِقِرَاءَةِ) الفَاتِحَةِ وَالسُّورَةِ بَعْدَهَا فِي صَلَاةِ (صُبْحٍ وَ) فِي (جُمُعَةٍ وَ) فِي (عِيدٍ وَ) فِي (كُسُوفٍ وَ) فِي (اسْتِسْقَاءٍ، وَ) فِي (أُولَيَيْ مَغْرِبٍ وَعِشَاءٍ)،
(ইকামত প্রদানকারীর কথা: «সালাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে») যদি ইমাম মসজিদে থাকেন, আর তদ্রূপ যদি তিনি মসজিদের বাইরে থাকেন এবং মুক্তাদী তাকে দেখতে পান, অন্যথায় তাকে দেখার সময়, (নামাজি ব্যক্তি বলবেন): («আল্লাহু আকবার» এবং তিনি ফরজ নামাজে দাঁড়িয়ে থাকবেন) আবশ্যকীয়ভাবে, (মুস্তাহাব হিসেবে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করবেন), এবং তাকবীর শেষ হওয়ার মাধ্যমে এর সময় শেষ হবে।

(অতঃপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরবেন এবং উভয় হাত রাখবেন) অর্থাৎ হাত দুটিকে (নাভির নিচে, আর তিনি সিজদার স্থানের দিকে তাকাবেন) ‘জীম’ বর্ণে ফাতাহ যোগে; অর্থাৎ সিজদা করার স্থান (পুরো নামাজে এটি মুস্তাহাব); তবে প্রয়োজনের কারণে ভয়ের নামাজের ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান রয়েছে।

(অতঃপর বলবেন: «হে আল্লাহ, আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ এবং আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই»), আর বর্ণিত অন্যান্য দুআগুলোর মাধ্যমে সানা পাঠ করা অপছন্দনীয় নয়।

(অতঃপর চুপিচুপি আশ্রয় প্রার্থনা করবেন); অর্থাৎ বলবেন: «আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি», (অতঃপর চুপিচুপি বিসমিল্লাহ পড়বেন) অর্থাৎ বলবেন: «পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি» এ সবই মুস্তাহাব, আর এটি সূরা «বারাআত» ব্যতীত প্রতিটি দুই সূরার মাঝে পার্থক্যকারী একটি আয়াত, তাই উক্ত সূরাটি বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা মাকরূহ।

(অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন) এর তাসদীদসমূহ সহকারে (ধারাবাহিকভাবে ও বিরতিহীনভাবে), আর এটি মুক্তাদী ব্যতীত অন্যদের জন্য প্রত্যেক রাকাতে একটি রুকন, এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে থামা সুন্নত, (এবং এতে) অর্থাৎ ফাতিহাতে (এগারোটি তাসদীদ রয়েছে) যার প্রথমটি: «লিল্লাহ» শব্দের লাম, এবং শেষটি: «আদ-দাল্লীন», আর তাসদীদ ও দীর্ঘস্বরে অতিশয় বাড়াবাড়ি করা মাকরূহ, (এবং যখন শেষ করবেন) অর্থাৎ ফাতিহা পাঠ থেকে, (তখন বলবেন) সামান্য বিরতির পর: (আমীন) হামজায় ফাতাহ দিয়ে (ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে সশব্দ নামাজে উচ্চস্বরে একত্রে আমীন বলবেন) মুস্তাহাব হিসেবে, (এবং) উচ্চস্বরে বলবেন (তারা ব্যতীত অন্যরা) অর্থাৎ ইমাম ও মুক্তাদী ছাড়া (যেখানে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া হয়), আর তারা হলেন একাকী নামাজি এবং সাধারণ কিরাত পাঠকারী। যদি তারা কিরাত উচ্চস্বরে পড়েন তবে আমীনও উচ্চস্বরে বলবেন, অন্যথায় চুপিচুপি বলবেন।

(ইমামের জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করা সুন্নত) অর্থাৎ ফাতিহা এবং তার পরবর্তী সূরা (ফজর), (জুমা), (ঈদ), (সূর্যগ্রহণ), (বৃষ্টি প্রার্থনা) এবং (মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাতে),