(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: -)
فوائد أبي ذر الهروي   (الهروي، أبو ذر)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجزء من فوائد حديث: أبي ذر عبد بن أحمد الهروي

المؤلف: أبو ذر عبيد بن أحمد بن محمد بن عبد الله بن غفير بن محمد الأنصاري الخراساني الهروي (ت 434هـ)

المحقق: أبو الحسن سمير بن حسين ولد سعدي القرشي الهاشمي الحسني

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض

الطبعة: الأولى، 1418هـ - 1998م

عدد الصفحات: 126

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু যর আল-হারাভীর ফাওয়াইদ   (আল-হারাভী, আবু যর)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: হাদিসের ফাওয়াইদ থেকে একটি অংশ: আবু যর আবদ বিন আহমদ আল-হারাভী

লেখক: আবু যর উবাইদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন গাফির বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী আল-খুরাসানি আল-হারাভী (মৃত্যু ৪৩৪ হিজরি)

সম্পাদক: আবুল হাসান সমীর বিন হুসাইন ওলাদ সা’দী আল-কুরাশী আল-হাশিমী আল-হাসানী

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الْأَجَلُّ الْفَقِيهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْقَاضِي أَبِي الْفَضْلِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَحْيَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْعُثْمَانِيُّ الدِّيبَاجِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنِّي قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ خَلَفٍ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: أنا وَالِدِي قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو ذَرٍّ عَبْدُ بْنُ أَحْمَدَ إِمْلَاءً مِنْ كِتَابِهِ سَنَةَ تِسْعِ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ

 

1 - أنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، بِالْأَهْوَازِ، قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ: نا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، قَالَ: نا الصَّعُقُ، قَالَ: نا عَقِيلٌ الْجَعْدِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «يَا ابْنَ مَسْعُودٍ» فَقُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ لِي ثَلَاثَ مَرَّاتٍ: «أَتَدْرِي أَيُّ عُرَى الْإِيمَانِ أَوْثَقُ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: ‌‌«أَوْثَقُ عُرَى الْإِيمَانِ الْوَلَايَةُ لِلَّهِ، وَالْحُبُّ فِيهِ، وَالْبُغْضُ فِيهِ» قَالَ: ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا ابْنَ مَسْعُودٍ» قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَ: «أَتَدْرِي أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّ أَفْضَلَ النَّاسِ أَفْضَلُهُمْ عَمَلًا، إِذَا فَقِهُوا فِي دِينِهِمْ» ⦗ص: 30⦘، قَالَ: ثُمَّ قَالَ: «يَا ابْنَ مَسْعُودٍ» ، قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَ: «أَتَدْرِي أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟» قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّ أَعْلَمَ النَّاسِ أَبْصَرُهُمْ بِالْحَقِّ إِذَا اخْتَلَفَ النَّاسُ» ، قَالَ: " وَإِنْ كَانَ يُصَغِّرُ مِنَ الْعَمَلِ، وَإِنْ كَانَ يَزْحَفُ عَلَى اسْتِهِ، وَاخْتَلَفَ مَنْ كَانَ قَبْلُ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، نَجَا مِنْهَا ثَلَاثٌ، وَهَلَكَ سَائِرُهَا، فِرْقَةٌ آذَتِ الْمُلُوكَ، وَقَاتَلُوهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَدِينِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليه السلام فَأَخَذُوهُمْ يُقَتِّلُونَهُمْ وَقَطَّعُوهُمْ بِالْمَنَاشِيرِ، وَفِرْقَةٌ لَمْ تَكُنْ لَهُمْ طَاقَةٌ بِهِمْ أَذَاةٌ، وَلَا بِأَنْ يُقِيمُوا بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ يَدْعُونَهُمْ إِلَى دِينِ اللَّهِ عز وجل وَدِينِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليه السلام، فَسَاحُوا فِي الْبِلَادِ وَتَرَهَّبُوا قَالَ: وَهُمُ الَّذِينَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا} [الحديد: 27] ، إِلَى {وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} [الحديد: 16] ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ آمَنَ بِي وَصَدَّقَنِي، وَاتَّبَعَنِي، وَصَدَّقَنِي»
মহিমান্বিত বিচারক ও ফকিহ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন বিচারক আবু আল-ফাদল আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল আল-উসমানি আদ-দিবাজি তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আল-ফাদল জাফর বিন ইসমাইল বিন খালাফ আল-আনসারি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু যার আব্দ বিন আহমাদ চারশত উনিশ হিজরি সনে তাঁর কিতাব থেকে শ্রুতিলিখন হিসেবে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

 

১ - আবু বকর বিন আবদান বিন মুহাম্মদ আল-হাফিজ আহওয়াজে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শায়বান বিন ফাররুখ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আস-সাআক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আকিল আল-জাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আল-হামদানি থেকে, তিনি সুওয়াইদ বিন গাফালাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বললেন: «হে ইবনে মাসউদ», আমি বললাম: আমি আপনার খিদমতে উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি আমাকে তিনবার এ কথা বললেন: «তুমি কি জানো ঈমানের কোন হাতলটি সবচেয়ে মজবুত?» আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «ঈমানের সবচেয়ে মজবুত হাতল হলো আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব রাখা, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা পোষণ করা।» তিনি বলেন: এরপর তিনি আমাকে বললেন: «হে ইবনে মাসউদ», আমি বললাম: আমি আপনার খিদমতে উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। তিনি বললেন: «তুমি কি জানো মানুষের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ?» আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয় মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারা, যারা আমলের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ, যখন তারা তাদের দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখে।» ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘, তিনি বলেন: এরপর তিনি বললেন: «হে ইবনে মাসউদ», আমি বললাম: আমি আপনার খিদমতে উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। তিনি বললেন: «তুমি কি জানো মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম কে?» তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম তারা, যারা সত্য সম্পর্কে অধিক দূরদর্শী হয় যখন মানুষ মতবিরোধে লিপ্ত হয়», তিনি বললেন: "যদিও তার আমল পরিমাণে কম হয় এবং যদিও সে তার নিতম্বের ওপর ভর করে চলে। আর তোমাদের পূর্ববর্তীরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে তিনটি দল মুক্তি পেয়েছিল এবং বাকিরা ধ্বংস হয়েছিল। একদল রাজন্যবর্গকে কষ্ট দিত এবং তাদের দ্বীন ও ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত, ফলে তারা তাদের পাকড়াও করে হত্যা করত এবং করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করত। আর একদল যাদের তাদের নির্যাতন সহ্য করার শক্তি ছিল না এবং তাদের মাঝে অবস্থান করে আল্লাহর দ্বীন ও ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষমতাও ছিল না, ফলে তারা দেশ ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল এবং বৈরাগ্যবাদ অবলম্বন করল। তিনি বলেন: তারাই যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর বৈরাগ্যবাদ, তারা তা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে} [আল-হাদিদ: ২৭], {এবং তাদের মধ্যে অনেকেই ফাসেক} [আল-হাদিদ: ১৬] পর্যন্ত। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «যে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান আনল, আমাকে সত্য বলে গ্রহণ করল, আমার অনুসরণ করল এবং আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল...»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৪২)
2 - أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ بِالْأَهْوَازِ، قَالَ: أنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: ثنا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، قَالَ: نا هَمَّامٌ، قَالَ: ثنا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَهُ، قَالَ: بَلَغَنِي حَدِيثٌ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَاشْتَرَيْتُ بَعِيرًا، ثُمَّ شَدَدْتُ عَلَيْهِ رَحْلِي، فَسِرْتُ إِلَيْهِ شَهْرًا، حَتَّى قَدِمْتُ الشَّامَ، فَإِذَا هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ، قَالَ: فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ أَنَّ جَابِرًا عَلَى الْبَابِ فَرَجَعَ إِلَىَّ الرَّسُولُ، فَقَالَ: جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهِ الرَّسُولُ قَالَ: فَخَرَجَ فَاعْتَنَقَنِي، وَاعْتَنَقْتُهُ. فَقَالَ: مَا أَقْدَمَكَ هَذِهِ الْبِلَادَ؟ قُلْتُ: حَدِيثٌ بَلَغَنِي أَنَّكَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَظَالِمِ لَمْ أَسْمَعْهُ، فَخَشِيتُ أَنْ تَمُوتَ قَبْلَ أَنْ أَسْمَعَهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«يَحْشُرُ اللَّهُ تَعَالَى النَّاسَ» أَوْ قَالَ: «يَحْشَرُ اللَّهُ الْعِبَادَ، وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الشَّامِ عُرَاةً غُرْلًا بُهْمًا» قُلْتُ: مَا بُهْمًا؟ ⦗ص: 43⦘ قَالَ: لَيْسَ مَعَهُمْ شَيْءٌ، قَالَ: " فَيُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ: أَنَا الْمَلِكُ الَّذِي لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَأَحَدٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَطْلُبُهُ بِمَظْلَمَةٍ، وَلَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَنْ يَدْخُلَ النَّارَ، وَأَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَطْلُبُهُ بِمَظْلَمَةٍ حَتَّى اللَّطْمَةَ " قَالَ: قُلْتُ: كَيْفَ هُوَ، وَإِنَّمَا نَأْتِي اللَّهَ عز وجل عُرَاةً غُرْلًا بُهْمًا؟ قَالَ: «بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ»
২ - আবু বকর আহমাদ ইবনে আবদান ইবনে মুহাম্মাদ আল-হাফিয আমাকে আহওয়াযে তার নিকট পাঠকালে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শায়বান ইবনে ফাররুখ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কাসিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকিল ইবনে আবি তালিব হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ তার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য হতে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে আমার কাছে একটি হাদীস পৌঁছাল যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছিলেন। তখন আমি একটি উট ক্রয় করলাম, অতঃপর তার ওপর আমার হাওদা বাঁধলাম। এরপর আমি তার উদ্দেশ্যে এক মাস পথ চললাম, এমনকি আমি সিরিয়ায় পৌঁছালাম। সেখানে গিয়ে দেখি তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস। তিনি বলেন: আমি তার নিকট সংবাদ পাঠালাম যে, জাবির দরজায় আছে। তখন বার্তাবাহক আমার কাছে ফিরে এল এবং জিজ্ঞাসা করল: আপনি কি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বলেন: অতঃপর বার্তাবাহক তার নিকট ফিরে গেল। তিনি বলেন: এরপর তিনি বেরিয়ে এলেন এবং আমাকে আলিঙ্গন করলেন, আর আমিও তাকে আলিঙ্গন করলাম। তিনি বললেন: আপনাকে এই দেশে কিসে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম: একটি হাদীস আমার নিকট পৌঁছেছে যা আপনি যুলুম ও পাওনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন অথচ আমি তা শুনিনি। আমি আশঙ্কা করলাম যে, আমি তা শোনার আগেই হয়তো আপনি মৃত্যুবরণ করবেন। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা মানুষকে সমবেত করবেন" অথবা তিনি বলেছেন: "আল্লাহ বান্দাদের সমবেত করবেন—এবং তিনি তার হাত দ্বারা সিরিয়ার দিকে ইশারা করলেন—উলঙ্গ, খত্নাবিহীন ও নিঃস্ব অবস্থায়।" আমি বললাম: 'নিঃস্ব' কী? ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ তিনি বললেন: তাদের সাথে কোনো কিছু থাকবে না। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "অতঃপর তিনি (আল্লাহ) তাদের এমন এক আওয়াযে ডাকবেন যা দূরের ব্যক্তিও তেমন স্পষ্টভাবে শুনতে পাবে যেমন কাছের ব্যক্তি শুনতে পায়: 'আমিই বাদশাহ। কোনো জান্নাতবাসীর জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা উচিত নয় যদি কোনো জাহান্নামী তার কাছে কোনো যুলুমের পাওনা দাবি করে; আর কোনো জাহান্নামীর জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করা উচিত নয় যদি কোনো জান্নাতবাসী তার কাছে কোনো যুলুমের পাওনা দাবি করে, এমনকি তা একটি থাপ্পড়ের পাওনা হলেও'।" তিনি (জাবির) বলেন: আমি বললাম: এটি কীভাবে সম্ভব যখন আমরা আল্লাহর নিকট উলঙ্গ, খত্নাবিহীন ও নিঃস্ব অবস্থায় আসব? তিনি বললেন: "তা হবে নেকি ও গুনাহের বিনিময়ে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৫১)
3 - وَحَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ‌‌ أَشَدَّ، أَوْ أَكْثَرَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي عَمَلُ قَوْمِ لُوطٍ»
৩ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আমি আমার উম্মতের ওপর সবচেয়ে বেশি বা সর্বাধিক যা আশঙ্কা করি, তা হলো লুত সম্প্রদায়ের কাজ।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَحَدَّثَنِي جَابِرٌ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا نَكَحَ الْعَبْدُ» أَوْ قَالَ: ‌‌«إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ بِغَيْرِ إِذَنِ سَيِّدِهِ، فَهُوَ عَاهِرٌ»
জাবির আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো দাস বিয়ে করে" অথবা তিনি বলেছেন: "যখন কোনো দাস তার মালিকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করে, তবে সে ব্যভিচারী।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৬১)
5 - أنا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ، قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ الْبُهْلُولِ، قَالَ: ثنا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ الصَّائِغُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُصْعَبِ بْنِ خَالِدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ: تَلَقَّفْتُ هَذِهِ الْخُطْبَةَ مِنْ فِيِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتَبُوكَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: " أَمَا بَعْدُ:‌‌ فَإِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ، وَأَوْثَقَ الْعُرْي كَلِمَةُ التَّقْوَى، وَخَيْرَ الْمِلَلِ مِلَّةُ إِبْرَاهِيمَ، وَخَيْرَ السُّنَنِ سُنَنُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَأَشْرَفَ الْحَدِيثِ ذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى، وَأَحْسَنَ الْقَصَصِ هَذَا الْقُرْآنُ، وَخَيْرَ الْأُمُورِ عَوَامُّهَا، وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْي الْأَنْبِيَاءِ، وَأَشْرَفَ الْمَوْتِ قَتْلُ الشُّهَدَاءِ، وَأَعْمَى الضَّلَالَةِ ضَلَالَةٌ بَعْدَ الْهُدَى، وَخَيْرَ الْعَمَلِ مَا نَفَعَ، وَخَيْرَ الْهُدَى مَا اتُّبِعَ، وَشَرَّ الْعَمَى عَمَى الْقَلْبِ، وَالْيَدَ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَمَا قَلَّ وَكَفَى خَيْرٌ مِمَّا كَثُرَ وَأَلْهَى، وَشَرَّ الْمَعْذِرَةِ عِنْدَ حَضْرَةِ الْمَوْتِ، وَشَرَّ النَّدَامَةِ نَدَامَةُ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمِنَ النَّاسِ مَنْ لَا يَأْتِي الْجُمُعَةَ إِلَّا نَزْرًا، وَمِنْهُمْ مَنْ لَا يَذْكُرُ اللَّهَ إِلَّا هَجْرًا، وَمِنْ ⦗ص: 62⦘ أَعْظَمِ الْخَطَايَا اللِّسَانُ الْكَذُوبُ، وَخَيْرَ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ، وَخَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى، وَرَأْسَ الْحِكْمَةِ مَخَافَةُ اللَّهِ، وَخَيْرَ مَا أُلْقِيَ فِي الْقَلْبِ الْيَقِينُ، وَالِارْتِيَابَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالنِّيَاحَةَ مِنْ عَمِلِ الْجَاهِلِيَّةِ، وَالْغُلُولَ مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ، وَالسُّعُدَ مِنَ النَّارِ، وَالشِّعْرَ مِنْ إِبْلِيسَ، وَالْخَمْرَ جَمَّاعَةُ الْإِثْمِ، وَالنِّسَاءَ حَبَائِلُ الشَّيْطَانِ، وَالشَّبَابَ شُعْبَةٌ مِنَ الْجُنُونِ، وَشَرَّ الْكَسْبِ كَسْبُ الرِّبَا، وَشَرَّ الْمَأْكَلِ مَالُ الْيَتِيمِ، وَالسَّعِيدَ مَنْ وُعِظَ بِغَيْرِهِ، وَالشَّقِيَّ مَنْ شَقِيَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ، وَإِنَّمَا يَصِيرُ أَحَدُكُمْ إِلَى مَوْضِعِ أَذْرُعٍ، وَالْأَمْرَ إِلَى آخِرِهِ، وَمِلَاكَ الْعَمَلِ خَوَاتَمُهُ، وَشَرَّ الرَّوَايَا رَوَايَا الْكَذِبِ، وَكُلَّ مَا هُوَ آتٍ قَرِيبٌ، سِبَابَ الْمُسْلِمِ فِسْقٌ، وَقِتَالَ الْمُؤْمِنِ كُفْرٌ، وَأَكْلَ لَحْمِهِ مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ، وَحُرْمَةَ مَالِهِ كَحُرْمَةِ دَمِهِ، وَمَنْ يَتَأَلَّ عَلَى اللَّهِ يُكْذِبْهُ، وَمَنْ يَغْفِرْ يَغْفِرِ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ يَبْتَغِ الْمُسْتَمَعَ يُسَمِّعُ اللَّهُ بِهِ، وَمَنْ يَعْفُ يَعْفُ اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ كَظَمَ الْغَيْظَ يَأْجُرْهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَصْبِرْ عَلَى الرَّزِيَّةِ يُعَوِّضْهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَصُمْ يُضَاعِفْهُ اللَّهُ، وَمَنْ ⦗ص: 63⦘ يَعْصِ اللَّهَ يُعَذِّبْهُ اللَّهُ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأُمَّتِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأُمَّتِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأُمَّتِي - ثَلَاثَ مَرَّاتٍ - أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لِي وَلَكُمْ"

⦗ص: 66⦘

 

6 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ شَاذَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرَفَةَ النَّحْوِيُّ، قَالَ: حَدَّثنا سَعِيدُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثنا يَحْيِي بْنُ آدَمَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنِ الْكَلْبِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَجُوزٌ، مِنْ بَنِي أَسَدٍ قَالَتْ: «إِنِّي لَجَارِيَةٌ شَابَّةٌ حِينَ جَاءَ نَعِيُّ بِشْرِ بْنِ أَبِي خَازِمٍ، وَابْنَتُهُ عُمَيْرَةُ تَتَخَلَّلُ الرِّكَابَ تَسْأَلُ عَنْ خَبَرِهِ» ⦗ص: 67⦘ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ نَفْطَوَيْهِ: وَكَانَ بِشْرُ بْنُ أَبِي خَازِمٍ أَحَدَ شُعَرَاءِ الْعَرَبِ، وَفُرْسَانِهِمْ، وَفُحُولِهِمْ، وَهُوَ أَحَدُ مَنْ رَثَى نَفْسَهُ، وَقَدْ أَصَابَهُ سَهْمٌ، فَقَالَ:

[البحر الوافر]

أَسَائِلَةٌ عُمَيْرَةُ عَنْ أَبِيهَا … خِلَالَ الْجَيْشِ تَعْتَرِفُ الرِّكَابَا

تُؤَمِّلُ أَنْ أَؤُوبَ لَهَا بِنَهْبٍ … وَلَمْ تَعْلَمْ بِأَنَّ السَّهْمَ صَابَا

وَأَنَّ أَبَاكِ قَدْ لَاقَاهُ قِرْنٌ … مِنَ الْفِتْيَانِ يَلْتَهِبُ الْتِهَابَا

فَرَجِّي الْخَيْرَ وَانْتَظِرِي إِيَابِي … إِذَا مَا الْقَارِظُ الْعَنَزِيُّ آبَا

فَمَنْ يَكُ سَائِلًا عَنْ بَيْتِ بِشْرٍ … فَإِنَّ لَهُ بِجَنْبِ الرَّدْهِ بَابَا

⦗ص: 68⦘

ثَوَى فِي مُلْحَدٍ لَا بُدَّ مِنْهُ … كَفَى بِالْمَوْتِ نَأْيًا وَاغْتِرَابًا

رَهِينَ بِلًى وَكُلُّ فَتًى سَيَبْلَى … فَأَذْرِي الدَّمْعَ وَانْتَحِبِي انْتِحَابَا

مَضَى قَصْدَ السَّبِيلِ وَكُلُّ حَيٍّ … إِذَا حَانَتْ مَنِيَّتُهُ أَجَابَا

فَإِنْ أَهْلِكْ عُمَيْرَ فَرُبَّ زَحْفٍ … يُشَبَّهُ نَقْعُهُ غَدَوًا ضَبَابَا

سَمَوْتُ لَهُ لِأُلْبِسَهُ بِزَحْفٍ … كَمَا لَفَّتْ شَآمِيَةٌ سَحَابَا

عَلَى رَبَذٍ قَوَائِمُهُ إِذَا مَا شَأَتْهُ … الْخَيْلُ يَنْسَرِبُ انْسِرَابَا

⦗ص: 69⦘

شَدِيدِ الْأَسْرِ يَحْمِلُ أَرْيَحِيًا … أَخَا ثِقَةٍ إِذَا الْحَدَثَانِ نَابَا

صَبُورًا عِنْدَ مُخْتَلَفِ الْعَوَالِي … إِذَا مَا الْحَرْبُ أَبْرَزَتِ الْكَعَابَا

وَطَالَ تَشَاجُرُ الْأَبْطَالِ فِيهَا … وَأَبْدَتْ نَاجِذًا مِنْهَا وَنَابَا

وَعَزَّ عَلَيَّ أَنْ عَجِلَ الْمَنَايَا … وَلَمَّا أَلْقَ كَعْبًا، أَوْ كِلَابَا

وَلَمَّا أَلْقَ خَيْلًا مِنْ نُمَيْرٍ … تَضِبُّ لِثَاتُهَا تَرْجُو النِّهَابَا

وَلَمَّا تَلْتَبِسْ خَيْلٌ بِخَيْلٍ … فَيَطَّعِنُوا وَيَضْطَرِبُوا اضْطِرَابَا

فَيَا لِلنَّاسِ إِنَّ قَنَاةَ قَوْمِي … أَبَتْ بِثِقَافِهَا إِلَّا انْقِلَابَا

هُمْ جَدَعُوا الْأُنُوفَ فَأَوْعَبُوهَا … وَهُمْ تَرَكُوا بَنِي سَعْدٍ يَبَابَا
5 - আমি আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন আল-বুহলুল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুবাইর বিন বাক্কার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন নাফে আস-সাইগ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুসআব বিন খালিদ বিন যায়দ বিন খালিদ আল-জুহানি, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা যায়দ বিন খালিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে তাবুকে এই খুতবাটি মুখস্থ করেছি; আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব, আর সবচেয়ে মজবুত বন্ধন তাকওয়ার বাণী, আর সর্বোত্তম ধর্ম ইবরাহিমের ধর্ম, আর সর্বোত্তম সুন্নাত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত, আর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কথা মহান আল্লাহর জিকির, আর সর্বোত্তম কাহিনী এই কুরআন, আর সর্বোত্তম কাজ হলো তার মৌলিক ও স্থায়ী বিষয়গুলো, আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো নবীদের পথনির্দেশ, আর সবচেয়ে সম্মানজনক মৃত্যু হলো শহীদদের মৃত্যু, আর সবচেয়ে বড় অন্ধত্ব হলো হেদায়েত পাওয়ার পর পথভ্রষ্ট হওয়া, আর সর্বোত্তম আমল হলো যা উপকারে আসে, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো যা অনুসরণ করা হয়, আর সবচেয়ে খারাপ অন্ধত্ব হলো অন্তরের অন্ধত্ব, আর ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম, আর যা পরিমাণে অল্প কিন্তু যথেষ্ট তা সেই জিনিসের চেয়ে উত্তম যা পরিমাণে বেশি কিন্তু উদাসীন করে দেয়, আর মৃত্যুর উপস্থিতিকালীন ওজর সবচেয়ে নিকৃষ্ট, আর কিয়ামতের দিনের অনুশোচনা সবচেয়ে খারাপ অনুশোচনা, আর মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যে জুমার সালাতে আসে না বললেই চলে, আর তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যে কেবল অনর্থক কথা বলার সময় ছাড়া আল্লাহকে স্মরণ করে না, আর ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো মিথ্যাবাদী জিবহা, আর সর্বোত্তম সচ্ছলতা হলো অন্তরের সচ্ছলতা, আর সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া, আর প্রজ্ঞার মূল হলো আল্লাহর ভয়, আর অন্তরে যা ঢেলে দেওয়া হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাস, আর সন্দেহ পোষণ করা কুফরি, আর বিলাপ করা জাহেলি যুগের কাজ, আর খিয়ানত বা আত্মসাৎ করা জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার, আর নেশা হলো আগুনের অংশ, আর কবিতা হলো ইবলিসের পক্ষ থেকে, আর মদ হলো সমস্ত গুনাহের সমষ্টি, আর নারী হলো শয়তানের জাল, আর যৌবন হলো পাগলামির একটি শাখা, আর নিকৃষ্টতম উপার্জন হলো সুদের উপার্জন, আর নিকৃষ্টতম ভক্ষণ হলো এতিমের মাল ভক্ষণ, আর সৌভাগ্যবান সে যাকে অন্যের (পরিণতি) দেখে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, আর দুর্ভাগা সে যে তার মায়ের পেটেই দুর্ভাগা ছিল, আর তোমাদের প্রত্যেকেই শেষ পর্যন্ত কয়েক হাত জায়গায় (কবরে) ফিরে যাবে, আর সবকিছুর বিচার হবে শেষ পরিণতির ওপর, আর আমলের মূল হলো তার পরিসমাপ্তি, আর সবচেয়ে খারাপ বর্ণনা হলো মিথ্যার বর্ণনা, আর যা কিছু আসছে তা অতি নিকটবর্তী, মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি, আর মুমিনের সাথে লড়াই করা কুফরি, আর তার গোশত ভক্ষণ করা আল্লাহর নাফরমানি, আর তার মালের পবিত্রতা তার রক্তের পবিত্রতার মতো, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর হলফ করে কথা বলে আল্লাহ তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন, আর যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন, আর যে ব্যক্তি মানুষের কানাকানি শোনার চেষ্টা করে আল্লাহ তার গোপন বিষয় শুনিয়ে দেন, আর যে ব্যক্তি মার্জনা করে আল্লাহ তাকে মার্জনা করেন, আর যে ব্যক্তি রাগ সংবরণ করে আল্লাহ তাকে প্রতিদান দেন, আর যে ব্যক্তি বিপদে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ তাকে বিনিময় দান করেন, আর যে ব্যক্তি রোজা রাখে আল্লাহ তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেন, আর যে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ আল্লাহর অবাধ্য হয় আল্লাহ তাকে শাস্তি দেন; হে আল্লাহ, আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন - তিনবার - আমি আমার জন্য ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"

⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘

 

6 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন শাযান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আরাফাহ আন-নাহবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আদম, তিনি আবু বকর বিন আইয়্যাশ থেকে, তিনি কালবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু আসাদ গোত্রের এক বৃদ্ধা নারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে: «আমি তখন যুবতী ছিলাম যখন বিশর বিন আবি খাযিমের মৃত্যুর সংবাদ এসেছিল, আর তার কন্যা উমাইরা উটের সারির ভেতর দিয়ে গিয়ে তার সংবাদ জিজ্ঞাসা করছিল» ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ আবু আবদুল্লাহ নাফতাওয়াইহ বলেন: বিশর বিন আবি খাযিম ছিলেন আরব কবিদের একজন, তাদের অশ্বারোহী ও বীরদের অন্তর্ভুক্ত; এবং তিনি তাদের একজন যারা নিজের জন্য শোকগাথা রচনা করেছিলেন যখন তাকে একটি তীর আঘাত করেছিল। তিনি বলেছিলেন:

[বাহরুল ওয়াফির]

উমাইরা কি তার পিতা সম্পর্কে … সেনাবাহিনীর মাঝে উটের আরোহীদের কাছে সন্ধান করছে?

সে আশা করছে যে আমি তার কাছে লুণ্ঠিত সম্পদ নিয়ে ফিরব … অথচ সে জানে না যে তীর বিদ্ধ হয়েছে।

আর তোমার পিতা এক প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করেছে … যুবকদের মধ্য থেকে যে জ্বলন্ত শিখার মতো তেজোদীপ্ত ছিল।

তুমি কল্যাণের আশা করো এবং আমার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করো … যখন কারিজ আনজি ফিরে আসবে।

যদি বিশর-এর ঘর সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞাসা করতে চায় … তবে রাদাহ-র পার্শ্বদেশেই তার দরজা রয়েছে।

⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘

সে এমন এক কবরে শায়িত হয়েছে যেখান থেকে নিস্তার নেই … দূরত্ব ও প্রবাস হিসেবে মৃত্যুই যথেষ্ট।

ক্ষয় হয়ে যাওয়ার বন্ধক সে, আর প্রতিটি যুবকই একদিন ক্ষয় হয়ে যাবে … তাই তুমি চোখের পানি ফেলো এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করো।

সে তার অভীষ্ট পথের দিকে এগিয়ে গেছে এবং প্রতিটি জীবই … যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে, তখন সে সাড়া দেয়।

হে উমাইরা, যদি আমি বিনাশও হয়ে যাই, তবে জেনে রেখো কত বিশাল বাহিনী ছিল … ভোরের কুয়াশার মতো যাদের ধূলিকণা উড়ছিল।

আমি তাদের মোকাবিলায় এগিয়ে গিয়েছিলাম এক বিশাল বাহিনী নিয়ে … যেমন শামি বাতাস মেঘকে পুঞ্জীভূত করে।

এক ক্ষিপ্রগামী ঘোড়ার পিঠে যার পাগুলো দ্রুতগামী … অন্য ঘোড়ারা যখন তাকে ছাড়িয়ে যেতে চায়, তখন সে তীরের মতো বেগে বেরিয়ে যায়।

⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘

দৃঢ় গঠনবিশিষ্ট, সে এক প্রাণোচ্ছল ব্যক্তিকে পিঠে বহন করে … যে এক বিশ্বস্ত ভাই যখন বিপদ আপতিত হয়।

নেজাগুলোর সংঘাতের সময় সে পরম ধৈর্যশীল … যখন যুদ্ধ তার পূর্ণ রূপ উন্মোচিত করে।

এবং যখন সেখানে বীরদের দীর্ঘ লড়াই চলে … আর যুদ্ধ তার দাঁত ও চোয়াল উন্মোচিত করে।

আমার জন্য এটা অত্যন্ত কষ্টের যে মৃত্যু ত্বরান্বিত হলো … অথচ আমি কাব বা কিলাব গোত্রের দেখা পেলাম না।

এবং নুমাইর গোত্রের অশ্বারোহীদের মোকাবিলা করতে পারলাম না … যাদের মাড়ি দিয়ে লালা ঝরছিল লুণ্ঠনের আশায়।

এখনো এক দল অশ্বারোহী অন্য দলের সাথে সংমিশ্রিত হয়নি … যাতে তারা একে অপরকে আঘাত করতে পারে এবং লড়াইয়ে লিপ্ত হতে পারে।

হায় আফসোস মানুষের জন্য! নিশ্চয়ই আমার কওমের শক্তি … তার সংশোধন প্রচেষ্টাতেও বিনাশই বয়ে এনেছে।

তারাই নাসিকা কর্তন করেছে এবং তা সমূলে উপড়ে ফেলেছে … আর তারাই বনু সাদ গোত্রকে জনমানবহীন প্রান্তরে পরিণত করে ছেড়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৭০)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَّاسُ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ النَّيْسَابُورِيِّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، وَأَنَا أَسْمَعُ، حَدَّثَكُمْ يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثنا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: "‌‌ رَأَيْتُ كَأَنِّي أُدْخِلْتُ الْجَنَّةَ، فَإِذَا بِالثَّوْرِيِّ، وَالْأَوْزَاعِيِّ، وَغَيْرِهِمْ، وَلَمْ أَرَ مَالِكًا، فَسَأَلْتُ عَنْ مَالِكٍ، قِيلَ لِي: رُفِعَ رُفِعَ، فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُ: رُفِعَ، رُفِعَ حَتَّى سَقَطَتْ قَلَنْسُوَةٌ كَانَتْ عَلَى رَأْسِهِ "
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ বিন উমর আল-কাওয়াস, তিনি বলেন: আবু বকর আন-নাইসাবুরী আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তখন শুনছিলাম; ইউনুস বিন আব্দুল আলা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর বিন বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। সেখানে আমি আস-সাওরি, আল-আওযায়ি এবং অন্যদের দেখতে পেলাম, কিন্তু মালিককে দেখতে পেলাম না। তাই আমি মালিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমাকে বলা হলো: ‘তাঁকে উপরে উঠানো হয়েছে, উপরে উঠানো হয়েছে।’ তিনি অবিরত বলতে থাকলেন: ‘উপরে উঠানো হয়েছে, উপরে উঠানো হয়েছে’, এমনকি তাঁর মাথার ওপর থাকা টুপিটি পড়ে গেল।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৭১)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمَوَيْهِ السَّرَخْسِيُّ، فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُصْعَبٍ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ قُهْزَاذَ، قَالَ: ثنا حَبِيبُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثنا إِبْرَاهِيمُ الصَّائِغُ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا عِبَادَةَ سِتِّينَ سَنَةً بِصِيَامِهَا وَقِيَامِهَا، وَمَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ أُعْطِيَ ثَوَابَ عَشَرَةِ آلَافِ مَلَكٍ، وَمَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ أُعْطِيَ ثَوَابَ عَشَرَةِ آلَافِ شَهِيدٍ، وَمَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ أُعْطِيَ ثَوَابَ حَاجٍّ، وَمُعْتَمِرٍ، وَمَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ أُعْطِيَ ثَوَابَ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ، وَمَنْ فِيهَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ، وَمَنْ أَفْطَرَ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، فَكَأَنَّمَا أَفْطَرَ عِنْدَهُ جَمِيعُ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَمَنْ أَشْبَعَ جَائِعًا فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، فَكَأَنَّمَا أَطْعَمَ فُقَرَاءَ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ عليه السلام، وَأَشْبَعَ بُطُونَهُمْ، وَمَنْ مَسَحَ عَلَى رَأْسِ يَتِيمٍ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ رُفِعَتْ لَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ عَلَى رَأْسِهِ دَرَجَةٌ فِي الْجَنَّةِ» قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: " لَقَدْ فَضَّلَنَا اللَّهُ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ. قَالَ: " نَعَمْ، خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ - يَعْنِي فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ - وَالْأَرْضَ ⦗ص: 72⦘ كَمِثْلِهِ، وَخَلَقَ الْجِبَالَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَالنُّجُومَ كَمِثْلِهِ، وَخَلَقَ الْعَرْشَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَالْكُرْسِيَّ كَمِثْلِهِ، وَخَلَقَ الْقَلَمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَاللَّوْحَ كَمِثْلِهِ، وَخَلَقَ جِبْرِيلَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَمَلَائِكَتَهُ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَخَلَقَ آدَمَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَحَوَّاءَ كَمِثْلِهِ، وَخَلَقَ الْجَنَّةَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَأَسْكَنَ آدَمَ الْجَنَّةَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَوُلِدَ إِبْرَاهِيمُ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَنَجَّاهُ مِنَ النَّارِ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَهَدَاهُ اللَّهُ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَأَغْرَقَ اللَّهُ فِرْعَوْنَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَرَفَعَ عِيسَى يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَرَفَعَ إِدْرِيسَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَكَشَفَ اللَّهُ عَنْ أَيُّوبَ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَوُلِدَ عِيسَى فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ، وَتَابَ اللَّهُ عَلَى آدَمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَغُفِرَ ذَنْبُهُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَأُعْطِيَ سُلَّمَ الْمُلْكِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَوُلِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَاسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ
৮ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হামাওয়াইহ আস-সারাকসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি—তিনি বলেন: আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে কুহজাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাবিব ইবনে আবি হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম আস-সাইগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখবে, আল্লাহ তার জন্য এর বিনিময়ে ষাট বছরের ইবাদত লিখে দেবেন—তার রোজা ও রাতের সালাতসহ; এবং যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখবে, তাকে দশ হাজার ফেরেশতার সওয়াব দান করা হবে; এবং যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখবে, তাকে দশ হাজার শহীদের সওয়াব দান করা হবে; আর যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখবে, তাকে একজন হাজি ও একজন উমরাহকারীর সওয়াব দান করা হবে; এবং যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখবে, তাকে সাত আসমান ও তাতে অবস্থানকারী ফেরেশতাদের সওয়াব দান করা হবে; এবং আশুরার দিনে যার নিকট কোনো মুমিন ইফতার করবে, সে যেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমগ্র উম্মতকে ইফতার করাল; আর যে ব্যক্তি আশুরার দিনে কোনো ক্ষুধার্তকে তৃপ্ত করবে, সে যেন মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাম)-এর উম্মতের দরিদ্রদের আহার করাল এবং তাদের উদর পূর্ণ করল; আর যে ব্যক্তি আশুরার দিনে কোনো এতিমের মাথায় হাত বুলাবে, তার মাথার প্রতিটি চুলের বিনিময়ে জান্নাতে তার জন্য একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।» উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: "আল্লাহ আমাদের আশুরার দিনে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন—অর্থাৎ আশুরার দিনে—এবং জমিনকেও তদ্রূপ ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘; আর তিনি আশুরার দিনে পাহাড়সমূহ সৃষ্টি করেছেন, এবং নক্ষত্রসমূহকেও তদ্রূপ; এবং তিনি আশুরার দিনে আরশ সৃষ্টি করেছেন, এবং কুরসিকেও তদ্রূপ; আর তিনি আশুরার দিনে কলম সৃষ্টি করেছেন, এবং লাওহ-কেও তদ্রূপ; আর তিনি আশুরার দিনে জিবরাঈলকে সৃষ্টি করেছেন, এবং আশুরার দিনে তাঁর ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন; আর তিনি আশুরার দিনে আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এবং হাওয়াকেও তদ্রূপ; এবং তিনি আশুরার দিনে জান্নাত সৃষ্টি করেছেন, আর আশুরার দিনে আদমকে জান্নাতে বসবাস করিয়েছেন; এবং আশুরার দিনে ইবরাহিম জন্মগ্রহণ করেছিলেন, আর আশুরার দিনে তাঁকে আগুন থেকে রক্ষা করা হয়েছে; এবং আশুরার দিনে আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত দান করেছিলেন; আর আল্লাহ আশুরার দিনে ফেরাউনকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন; এবং আশুরার দিনে ঈসাকে উপরে তুলে নিয়েছেন, আর আশুরার দিনে ইদ্রিসকে উপরে তুলে নিয়েছেন; এবং আল্লাহ আশুরার দিনে আইয়ুবের কষ্ট দূর করেছিলেন; আর আশুরার দিনে ঈসা জন্মগ্রহণ করেছিলেন; এবং আশুরার দিনে আল্লাহ আদমের তাওবা কবুল করেছিলেন, আর আশুরার দিনে তাঁর গুনাহ ক্ষমা করা হয়েছিল; এবং আশুরার দিনে রাজত্বের সোপান দান করা হয়েছিল; আর আশুরার দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছিলেন; এবং আশুরার দিনে তিনি আরশের উপর উঠেছেন; আর কেয়ামত দিবস হবে আশুরার দিনে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
9 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: أنا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: سَأَلْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ، عَنْ صَوْمِ، عَاشُورَاءَ فَقَالَ: «إِنَّ‌‌ الْمُحَرَّمَ شَهْرُ اللَّهِ وَإِنَّ فِيهِ يَوْمًا يَعْنِي عَاشُورَاءَ، أَذْنَبَ فِيهِ قَوْمٌ ذَنْبًا عَظِيمًا، فَتَابُوا فِيهِ، فَكَانَ يُسَمَّى يَوْمَ التَّوْبَةِ، فَلَا يَمُرَّنَّ عَلَيْكَ إِلَّا صُمْتَهُ»
৯ - উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আলী বিন আল-জা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যুহাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আল-আসওয়াদ বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উবাইদ বিন উমাইরকে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই‌‌ মুহাররম আল্লাহর মাস এবং এতে এমন একটি দিন রয়েছে—অর্থাৎ আশুরা—যেদিন এক সম্প্রদায় মহাপাপ করেছিল, অতঃপর তারা তাতে তাওবা করেছিল। তাই সেটিকে বলা হতো তাওবার দিন; সুতরাং তোমার নিকট দিয়ে যেন এই দিনটি রোজা রাখা ব্যতীত অতিবাহিত না হয়।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
10 - أنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَانَ الْحَافِظُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ: حَدَّثنا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: ‌‌«كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا يُصَامُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَلَمَّا فُرِضَ شَهْرُ رَمَضَانَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ، وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَصُمْهُ»
১০ - আমি আহমদ ইবনে আবদান আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ আল-মাক্কী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «জাহেলিয়াতের যুগে আশুরার দিনে রোজা রাখা হতো। এরপর যখন রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হলো, তখন যার ইচ্ছা সে রোজা রাখত এবং যার ইচ্ছা সে রোজা রাখত না»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৮৩)
أنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثنا عَلِيٌّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: ‌‌«مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِمَّنْ كَانَ بِالْكُوفَةِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آمَرَ بِصَوْمِ عَاشُورَاءَ مِنْ عَلِيٍّ عليه السلام وَأَبِي مُوسَى»
আমি উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুহাইর, আবু ইসহাক থেকে, আল-আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্যে যারা কুফায় ছিলেন, তাদের মাঝে আশুরার রোজা পালনের অধিক নির্দেশদাতা আমি আর কাউকে দেখিনি আলী আলাইহিস সালাম এবং আবু মুসা অপেক্ষা।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৮৪)
12 - أنا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ الْخَالِدِيُّ، قَالَ: حَدَّثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُرْوَةَ، قَالَ: حَدَّثنا أَبُو بَدْرٍ وَهُوَ عَبَّادُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثنا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ الْبَزَّازُ، حَدَّثنا هَيْصَمُ بْنُ شَدَّاخٍ، قَالَ: حَدَّثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ»
১২ - আমি আবু আহমাদ মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন খালিদ আল-খালিদী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন উরওয়াহ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বদর, অর্থাৎ আব্বাদ ইবন আল-ওয়ালিদ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবন আবু তালিব আল-বাযযায হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট হায়সাম ইবন শাদ্দাখ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আ’মাশ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‌‌«যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য অবারিত হস্তে ব্যয় করবে, আল্লাহ সারা বছর তার জন্য (রিযিক) প্রশস্ত করে দেবেন।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ৯৫)
13 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: ثنا عَلِيٌّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَفَعَهُ: ‌‌«لَئِنْ عِشْتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ التَّاسِعَ يَعْنِي يَوْمَ عَاشُورَاءَ»
১৩ - উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে আবি যিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাসিম ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: «আমি যদি আগামী বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তবে অবশ্যই নবম তারিখে রোজা রাখব; অর্থাৎ আশুরার দিন উপলক্ষে (তার সাথে মিলিয়ে)»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১০১)
14 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثنا عَلِيٌّ، قَالَ: أنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَيَأْمُرُ بِصِيَامِهِ»
১৪ - আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে আবি যিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন রোজা রাখতেন এবং তিনি এই রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১০২)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الدَّارَقُطْنِيُّ الْحَافِظُ، قَالَ: حَدَّثنا أَبُو بَكْرٍ الْأَزْرَقُ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقِ بْنِ الْبُهْلُولِ، قَالَ: حَدَّثَنِي جَدِّي، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ زِيَادٍ، مِنْ بَنِي سَامَةَ بْنِ لُؤَيٍّ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ صَفْوَانَ بْنِ الْأَهْتَمِ، قَالَ: "‌‌ أَوْفَدَنِي يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ إِلَى هِشَامِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ فِي وَفْدِ الْعِرَاقِ، فَقَدِمْتُ عَلَيْهِ، وَقَدْ خَرَجَ مُتَبَدِّيًا بِقَرَابِينِهِ، وَبَيْنَ أَهْلِهِ، وَحَشَمِهِ، وَغَاشِيَتِهِ مِنْ جُلَسَائِهِ، فَنَزَلَ فِي أَرْضٍ قَاعٍ صَحْصَحٍ مُتَنَايِفٍ أَفْيَحَ فِي عَامٍ قَدْ بَكَّرَ وَسْمِيُّهُ وَتَتَابَعَ وَلِيُّهُ، فَأَخَذْتِ الْأَرْضُ فِيهِ زِينَتَهَا مِنَ اخْتِلَافِ أَنْوَارِ نَبْتِهَا مِنْ نُورِ رَبِيعٍ مُونِقٍ، فَهُوَ فِي أَحْسَنِ مُخْتَبَرٍ، وَأَحْسَنِ مُسْتَمْطَرٍ بِصَعِيدٍ كَأَنَّ تُرَابَهُ قِطَعُ الْكَافُورِ، حَتَّى لَوْ أَنَّ قِطْعَةً أُلْقِيَتْ لَمْ تَتَّرِبْ، وَقَدْ ضُرِبَ لَهُ سُرَادِقٌ مِنْ حِبَرَةٍ كَانَ صَنَعَهُ لَهُ يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ بِالْيَمَنِ، فِيهِ فُسْطَاطٌ فِيهِ أَرْبَعَةُ أَفْرِشَةٍ مِنْ خَزٍّ أَحْمَرَ مِثْلُهَا مِنْ أُفُقِهَا، وَعَلَيْهِ دُرَّاعَةٌ مِنْ خَزٍّ أَحْمَرَ مِثْلُهَا عِمَامَتُهَا، وَقَدْ أَخَذَ النَّاسُ مَجَالِسَهُمْ، فَأَخْرَجْتُ رَأْسِي مِنْ نَاحِيَةِ ⦗ص: 103⦘ السِّمَاطِ، فَنَظَرَ إِلَيَّ مِثْلَ الْمُسْتَنْطِقِ لِي، فَقُلْتُ: أَتَمَّ اللَّهُ عَلَيْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ نِعَمَهُ، وَسَوَّغَكَهَا بِشُكْرِهِ، وَجَعَلَ مَا قَلَّدَكَ مِنْ هَذَا الْأَمْرِ رُشْدًا، وَعَافِيَةً، وَمَا يَؤُولُ إِلَيْهِ حَمْدًا، أَخْلَصَهُ لَكَ بِالتُّقَى، وَكَثَّرَهُ لَكَ بِالنَّمَاءِ لَا كَدَّرَ اللَّهُ عَلَيْكَ مِنْهُ مَا صَفَا، وَلَا خَالَطَ مَسْرُورَهُ الرَّدَى، فَقَدْ أَصْبَحْتَ لِلْمُسْلِمِينَ ثِقَةً وَمُسْتَرَاحًا، إِلَيْكَ يَقْصِدُونَ فِي أُمُورِهِمْ، وَيَفْزَعُونَ فِي مَظَالِمِهِمْ، وَمَا أَجِدُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ - جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ - شَيْئًا هُوَ أَبْلَغُ فِي قَضَاءِ حَقِّكَ، وَتَوْقِيرِ مَجْلِسِكَ لِمَا مَنَّ اللَّهُ عَلَيَّ بِهِ مِنْ مُجَالَسَتِكَ، وَالنَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ مِنْ أَنْ أُذَكِّرَكَ نِعَمَ اللَّهِ عَلَيْكَ، وَأُنَبِّهَكَ بِشُكْرِهَا، وَمَا أَجِدُ فِي ذَلِكَ شَيْئًا هُوَ أَبْلَغُ مِنْ حَدِيثِ مَنْ تَقَدَّمَ قَبْلَكَ مِنَ الْمُلُوكِ، فَإِنْ أَذِنَ لِي أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَخْبَرْتُهُ، وَكَانَ مُتَّكِئًا فَاسْتَوَى جَالِسًا، ثُمَّ قَالَ: هَاتِ يَا ابْنَ الْأَهْتَمِ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ مَلِكًا مِنَ الْمُلُوكِ قَبْلَكَ خَرَجَ فِي عَامٍ مِثْلِ عَامِنَا هَذَا إِلَى الْخَوَرْنَقِ، وَالسَّدِيرِ فِي عَامٍ قَدْ بَكَّرَ وَسْمِيُّهُ وَتَتَابَعَ ⦗ص: 104⦘ وَلِيُّهُ، وَأَخَذْتِ الْأَرْضُ فِيهِ زِينَتَهَا مِنَ اخْتِلَافِ أَلْوَانِ نَبْتِهَا مِنْ نُورِ رَبِيعٍ مُونِقٍ، فَهُوَ فِي أَحْسَنِ مَنْظَرٍ، وَأَحْسَنِ مُخْتَبَرٍ، وَأَحْسَنِ مُسْتَمْطَرٍ بِصَعِيدٍ، كَأَنَّ تُرَابَهُ قِطَعُ الْكَافُورِ، حَتَّى لَوْ أَنَّ قِطْعَةً أُلْقِيَتْ فِيهِ لَمْ تَتَّرِبْ. قَالَ: وَكَانَ قَدْ أُعْطِيَ فَتَى السِّنِّ مَعَ الْكَثْرَةِ، وَالْغَلَبَةِ، وَالْقَهْرِ، وَالنَّمَاءِ، فَنَظَرَ، فَأَبْعَدَ النَّظَرَ، فَقَالَ لِجُلَسَائِهِ: هَا لِمَنْ هَذَا الَّذِي أَنَا فِيهِ هَلْ رَأَيْتُمْ مِثْلَ مَا أَنَا فِيهِ، هَلْ أُعْطِيَ أَحَدٌ مِثْلَ مَا أُعْطِيتُ؟ وَعِنْدَهُ رَجُلٌ مِنْ بَقَايَا حَمَلَةِ الْحُجَّةِ، وَالْمُضِيِّ عَلَى أَدَبِ الْحَقِّ وَمِنْهَاجِهِ، قَالَ: وَلَنْ تَخْلُوَ الْأَرْضُ مِنْ قَائِمٍ لِلَّهِ بِحُجَّتِهِ فِي عِبَادِهِ، فَقَالَ لَهُ: أَيُّهَا الْمَلِكُ، إِنَّكَ قَدْ سَأَلْتَ عَنْ أَمْرٍ، أَفَتَأْذَنُ فِي الْجَوَّابِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي قَدْ أُعْجِبْتَ بِهِ أَهُوَ شَيْءٌ لَمْ تَزَلْ فِيهِ، أَمْ هُوَ شَيْءٌ صَارَ إِلَيْكَ مِيرَاثًا عَنْ غَيْرِكَ، وَهُوَ زَائِلٌ عَنْكَ، وَصَائِرٌ إِلَى غَيْرِكَ، كَمَا صَارَ إِلَيْكَ مِيرَاثًا مِنْ لَدُنْ غَيْرِكَ؟ قَالَ: فَكَذَلِكَ، قَالَ: أَفَلَا أَرَاكَ إِنَّمَا أُعْجِبْتَ بشَيْءٍ يَسِيرٍ تَكُونُ فِيهِ قَلِيلًا، وَتَغِيبُ ⦗ص: 105⦘ عَنْهُ طَوِيلًا، وَتَكُونُ غَدًا بِحِسَابِهِ مُرْتَهَنًا، قَالَ: وَيْحَكَ، فَأَيْنَ الْمَهْرَبُ، وَأَيْنَ الْمَطْلَبُ؟ قَالَ: إِمَّا أَنْ تُقِيمَ فِي مُلْكِكَ، فَتَعْمَلَ فِيهِ بِطَاعَةِ رَبِّكَ عَلَى مَا سَاءَكَ وَسَرَّكَ، وَمَضَّكَ، وَأَرْمَضَكَ، وَإِمَّا أَنْ تَضَعَ تَاجَكَ، وَتَضَعَ أَطْمَارَكَ، وَتَلْبَسَ أَمْسَاحَكَ، وَتَعْبُدَ رَبَّكَ فِي هَذَا الْجَبَلِ، حَتَّى يَأْتِيَكَ أَجَلُكَ. قَالَ: فَإِذَا كَانَ بِالسَّحَرِ فَاقْرَعْ عَلَيَّ بَابِي، فَإِنِّي مُخْتَارٌ أَحَدَ الرَّأْيَيْنِ، فَإِنِ اخْتَرْتُ مَا أَنَا فِيهِ كُنْتَ وَزِيرًا، لَا تُعْصَى، وَإِنِ اخْتَرْتُ خَلَوَاتِ الْأَرْضِ، وَقَفْرِ الْبِلَادِ كُنْتَ رَفِيقًا لَا تُخَالَفُ. فَلَمَّا كَانَ السَّحَرُ قَالَ: فَقَرَعَ عَلَيْهِ بَابَهُ، فَإِذَا هُوَ قَدْ وَضَعَ تَاجَهُ، وَوَضَعَ أَطْمَارَهُ، وَلَبِسَ أَمْسَاحَهُ، وَتَهَيَّأَ لِلسِّيَاحَةِ، فَلَزِمَا وَاللَّهِ الْجَبَلَ، حَتَّى أَتَتْهُمَا آجَالُهُمَا. وَذَلِكَ حَيْثُ يَقُولُ أَخُو بَنِي تَمِيمٍ عَدِيُّ بْنُ زَيْدٍ الْمَرَئِيُّ الَعَبَادِيُّ:

[البحر الخفيف]

أَيُّهَا الشَّامِتُ الْمُعَيِّرُ بِالدَّهْـ … ـرِ أَأَنْتَ الْمُبَرَّأُ الْمَوْفُورُ

أَمْ لَدَيْكَ الْعَهْدُ الْوَثِيقُ مِنَ الْأَيَّـ … ـامِ بَلْ أَنْتَ جَاهِلٌ مَغْرُورُ

⦗ص: 106⦘

مَنْ رَأَيْتَ الْمَنُونَ خَلَدْنَ أَمْ … مَنْ ذَا عَلَيْهِ أَنْ يُضَامَ خَفِيرُ

أَيْنَ كِسْرَى كِسْرَى الْمُلُوكِ أَبُو … سَاسَانَ؟ أَمْ أَيْنَ قَبْلَهُ سَابُورُ؟

وَبَنُو الْأَصْفَرِ الْكِرَامُ مُلُوكُ الرُّ … ومِ، لَمْ يَبْقَ مِنْهُمُ مَذْكُورُ

وَأَخُو الْحَضْرِ إِذْ بَنَاهُ، وَإِذْ … دِجْلَةُ تُجْبَى إِلَيْهِ وَالْخَابُورُ

⦗ص: 107⦘

شَادَهُ مَرْمَرًا وَجَلَّلَهُ … كِلْسًا، فَلِلطَّيْرِ فِي ذُرَاهُ وُكُورُ

لَمْ يَهَبْهُ رَيْبُ الْمَنُونِ، فبَا … دَ الْمُلْكُ عَنْهُ فَبَابُهُ مَهْجُورٌ

وَتَأَمَّلْ رَبَّ الْخَوَرْنَقِ إِذْ … أَشْرَفَ يَوْمًا، وَلِلْهُدَى تَفْكِيرُ

سَرَّهُ حَالُهُ، وَكَثْرَةُ مَا يَمْلِكُ … وَالْبَحْرُ مُعْرِضًا، وَالسَّدِيرُ

فَارْعَوَى قَلْبُهُ وَقَالَ: وَمَا … غِبْطَةُ حَيٍّ إِلَى الْمَمَاتِ يَصِيرُ

ثُمَّ بَعْدَ الْفَلَاحِ، وَالْمُلْكِ، وَالْإِمَّةِ … وَارَتْهُمْ هُنَاكَ الْقُبُورُ

ثُمَّ أَضْحَوْا، كَأَنَّهُمْ وَرَقٌ جَفَّ … فَأَلْوَتْ بِهِ الصَّبَا، وَالدَّبُورُ

قَالَ: فَبَكَى وَاللَّهِ هِشَامٌ حَتَّى أَخْضَلَ لِحْيَتَهُ، وَبَلَّ عِمَامَتَهُ، وَأَمَرَ بِنَزْعِ أَبْنِيَتِهِ، وَبِنُقْلَانِ قَرَابِينِهِ، وَأَهْلِهِ، وَحَشَمِهِ، وَغَاشِيَتِهِ مِنْ جُلَسَائِهِ، وَلُزُومِ قَصْرِهِ ⦗ص: 108⦘. قَالَ: فَأَقْبَلَتِ الْمَوَالِي وَالْحَشَمُ عَلَى خَالِدِ بْنِ صَفْوَانَ، فَقَالُوا: مَا أَرَدْتَ إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ أَفْسَدَتْ عَلَيْهِ لَذَّتَهُ، وَنَغَّصْتَ عَلَيْهِ بَادِيَتَهُ قَالَ: فَقَالَ لَهُمْ: إِلَيْكُمْ عَنِّي، فَإِنِّي عَاهَدْتُ اللَّهَ عَهْدًا أَلَّا أَخْلُوَ بِمَلِكٍ إِلَّا ذَكَّرْتُهُ اللَّهَ عز وجل"
১৫ - হাফেজ আবু আল-হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারা কুতনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আল-আযরাক ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনুল বুহলুল আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে যিয়াদ থেকে, যিনি বনু সামা ইবনে লুয়াই গোত্রের, তিনি শাবীব ইবনে শাইবা থেকে, তিনি খালিদ ইবনে সাফওয়ান ইবনুল আহতাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌ইউসুফ ইবনে উমর আমাকে ইরাকি প্রতিনিধিদলের সাথে হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের কাছে পাঠিয়েছিলেন। আমি তাঁর কাছে পৌঁছালাম, তখন তিনি তাঁর পরিজন, কর্মচারী এবং তাঁর মজলিসের অনুসারীদের নিয়ে মরুভূমিতে বেরিয়েছিলেন। তিনি একটি সমতল, প্রশস্ত ও বিস্তীর্ণ ময়দানে তাবু গেড়েছিলেন। সেই বছরটি ছিল এমন যখন বছরের প্রথম ভাগের বৃষ্টি সময়মতো হয়েছিল এবং পরবর্তী বৃষ্টিও নিয়মিত হয়েছিল। ফলে জমিন বসন্তের চমৎকার শুভ্রতায় নানা রঙের লতাগুল্মের সৌন্দর্যে সুশোভিত হয়ে উঠেছিল। সেটি ছিল এক অতি উত্তম চারণভূমি এবং বৃষ্টিস্নাত এক মনোরম স্থান, যার মাটি ছিল যেন কপূরের টুকরো; এমনকি সেখানে কোনো কাপড়ের টুকরো ফেললে তাতে ধুলোবালি লাগত না। তাঁর জন্য ইয়েমেনের তৈরি কারুকার্যখচিত কাপড়ের একটি তাঁবু খাটানো হয়েছিল, যা ইউসুফ ইবনে উমর তাঁর জন্য তৈরি করিয়েছিলেন। তার ভেতরে ছিল একটি শামিয়ানা এবং লাল রেশমের চারটি বিছানা, আর তাঁর চারপাশেও অনুরূপ লাল রেশম বিছানো ছিল। তাঁর গায়ে ছিল লাল রেশমের একটি আলখাল্লা এবং মাথায় ছিল একই রকমের পাগড়ি। লোকজন যখন তাদের নিজ নিজ আসনে বসল, তখন আমি আমার মাথা ⦗পৃষ্ঠা: ১০৩⦘ সারির এক প্রান্ত থেকে বের করলাম। তিনি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন তিনি আমাকে কথা বলতে আহ্বান করছেন। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, আল্লাহ আপনার ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করুন, কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে তা আপনার জন্য সহজলভ্য করে দিন এবং আপনার কাঁধে অর্পিত এই খিলাফতের দায়িত্বকে হিদায়েত ও কল্যাণের কারণ বানিয়ে দিন। এর শেষ পরিণামকে প্রশংসনীয় করুন, তাকওয়ার মাধ্যমে একে আপনার জন্য বিশুদ্ধ করুন এবং প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে একে বৃদ্ধি করুন। আল্লাহ যেন আপনার স্বচ্ছতাকে কলুষিত না করেন এবং আপনার আনন্দের সাথে যেন ধ্বংসের মিশ্রণ না ঘটে। আপনি মুসলিমদের জন্য বিশ্বস্ত আশ্রয় এবং প্রশান্তির স্থল হয়ে উঠেছেন; তারা তাদের সকল বিষয়ে আপনার দিকেই ধাবিত হয় এবং তাদের ওপর হওয়া জুলুমের প্রতিকারের জন্য আপনার কাছেই ছুটে আসে। হে আমিরুল মুমিনিন—আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন—আল্লাহ আমাকে আপনার মজলিসে বসার এবং আপনার চেহারার দিকে তাকানোর যে সুযোগ দিয়ে ধন্য করেছেন, তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আপনার নেয়ামতগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং আপনাকে শুকরিয়া আদায়ের ব্যাপারে সজাগ করার চেয়ে বড় কোনো হক আদায় আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আর এ ক্ষেত্রে আপনার পূর্ববর্তী রাজাদের ঘটনার চেয়ে অধিক কার্যকরী আর কিছু আমি দেখছি না। যদি আমিরুল মুমিনিন আমাকে অনুমতি দেন, তবে আমি তা বর্ণনা করব। তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, অতঃপর তিনি সোজা হয়ে উঠে বসলেন এবং বললেন: হে ইবনুল আহতাম, বলো। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার পূর্ববর্তী রাজাদের মধ্যে এক রাজা আমাদের এই বছরের মতোই এক বছরে খাওয়ারনাক ও সাদীর নামক প্রাসাদের দিকে বেরিয়েছিলেন। সে বছরও প্রথম বৃষ্টি সময়মতো হয়েছিল এবং পরবর্তী ⦗পৃষ্ঠা: ১০৪⦘ বৃষ্টিও নিয়মিত হয়েছিল। জমিন বসন্তের শুভ্রতায় নানা রঙের উদ্ভিদের সৌন্দর্যে সুশোভিত হয়েছিল। সেটি ছিল দর্শনে অত্যন্ত মনোরম এবং বৃষ্টিস্নাত এক চমৎকার স্থান, যার মাটি ছিল যেন কপূরের টুকরো; এমনকি সেখানে কোনো কাপড়ের টুকরো পড়লে তাতে ধুলো লাগত না। বর্ণনাকারী বলেন: সেই রাজা ছিলেন যুবক এবং তাঁর ছিল অগাধ প্রাচুর্য, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা। তিনি চারদিকে তাকালেন এবং অনেক দূর পর্যন্ত দৃষ্টিপাত করলেন। এরপর তিনি তাঁর পারিষদদের বললেন: আমি যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে আছি, তার কি কোনো তুলনা আছে? তোমরা কি আমার মতো আর কাউকে দেখেছ যাকে এমন নেয়ামত দেওয়া হয়েছে? তাঁর কাছে তখন সত্যের প্রমাণ বহনকারী এবং হকের পথ ও পদ্ধতির ওপর অটল থাকা ব্যক্তিদের উত্তরসূরি এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: পৃথিবী কখনোই আল্লাহর বান্দাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে দলিল পেশকারী ব্যক্তি থেকে শূন্য থাকে না। সেই ব্যক্তি রাজাকে বললেন: হে রাজা, আপনি একটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন, আমি কি এর উত্তর দেওয়ার অনুমতি পেতে পারি? রাজা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আপনি বর্তমানে যে নেয়ামত দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, আপনি কি সবসময় এতেই ছিলেন? নাকি এটি অন্যের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আপনার কাছে পৌঁছেছে এবং এটি আবার আপনার কাছ থেকে হারিয়ে গিয়ে অন্যের কাছে চলে যাবে, যেমনভাবে অন্যের কাছ থেকে আপনার কাছে এসেছে? রাজা বললেন: হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই। তিনি বললেন: তবে আমি দেখছি যে, আপনি এমন এক সামান্য বিষয়ে মুগ্ধ হয়েছেন যেখানে আপনি খুব অল্প সময় থাকবেন, কিন্তু তা থেকে আপনাকে ⦗পৃষ্ঠা: ১০৫⦘ অনেক দীর্ঘকাল দূরে থাকতে হবে এবং আগামীকাল আপনাকে এর হিসাবের জালে আটকা পড়ে থাকতে হবে। রাজা বললেন: হায় দুর্ভোগ! তবে পালানোর পথ কোথায় এবং চাওয়ার জায়গা কোনটি? তিনি বললেন: হয় আপনি আপনার রাজত্বে অটল থাকুন এবং আপনার অপ্রিয় কিংবা প্রিয়—যেকোনো অবস্থাতেই আপনার রবের আনুগত্য করুন; অথবা আপনি আপনার মুকুট ও রাজকীয় পোশাক খুলে ফেলুন, চটের পোশাক পরিধান করুন এবং আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত এই পাহাড়ে আপনার রবের ইবাদত করতে থাকুন। রাজা বললেন: তবে ভোরবেলা আপনি আমার দরজায় কড়া নাড়বেন, আমি এই দুই মতের যেকোনো একটি গ্রহণ করে নেব। যদি আমি বর্তমান অবস্থাই বেছে নেই তবে আপনি হবেন আমার এমন উজির যার অবাধ্য হওয়া হবে না, আর যদি আমি নির্জন প্রান্তর ও জনমানবহীন মরুভূমি বেছে নেই তবে আপনি হবেন আমার এমন সঙ্গী যার বিরোধিতা করা হবে না। বর্ণনাকারী বলেন: যখন ভোর হলো, তখন সেই ব্যক্তি রাজার দরজায় কড়া নাড়লেন। রাজা তখন তাঁর মুকুট ও রাজকীয় পোশাক ত্যাগ করে চটের পোশাক পরে পর্যটনের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, তাঁরা দুজন পাহাড়ে অবস্থান করতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁদের মৃত্যু আসলো। আর সেই প্রসঙ্গেই বনু তামীম গোত্রের আদী ইবনে যায়িদ আল-মারাঈ আল-ইবাদি বলেছিলেন:

[আল-বাহরুল খাফীফ]

হে উপহাসকারী, যে সময়ের পরিবর্তন নিয়ে তুচ্ছজ্ঞান করো, তুমি কি নিজেকে ত্রুটিমুক্ত ও পরিপূর্ণ মনে করো?

নাকি তোমার কাছে দিনগুলোর কোনো দৃঢ় অঙ্গীকার আছে? বরং তুমি এক মোহাচ্ছন্ন মূর্খ।

⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘

তুমি কি কাউকে দেখেছ যাকে মৃত্যু অমরত্ব দিয়েছে? নাকি এমন কেউ আছে যার রক্ষক লাঞ্ছিত হবে না?

কোথায় সম্রাটদের সম্রাট কিসরা আবু সাসান? আর কোথায় তাঁর আগের শাপুর?

রোমের সম্মানিত সম্রাট বনু আসফারগণই বা কোথায়? তাদের কারও নামগন্ধ আজ অবশিষ্ট নেই।

আর হাযার দুর্গের অধিপতিই বা কোথায় যখন তিনি তা নির্মাণ করেছিলেন, যখন দজলা ও খাবুর নদী তাঁর কাছে রাজস্ব নিয়ে আসত?

⦗পৃষ্ঠা: ১০৭⦘

তিনি মার্বেল পাথর দিয়ে প্রাসাদ গড়েছিলেন এবং চুনকাম করেছিলেন, আজ তার চূড়ায় পাখিরা বাসা বাঁধে।

মৃত্যুর বিপর্যয় তাঁকে রেহাই দেয়নি, তাঁর রাজত্ব বিলীন হয়ে গেছে আর তাঁর দরজাও আজ জনশূন্য।

আর খাওয়ারনাক প্রাসাদের অধিপতির কথা চিন্তা করো, যখন তিনি একদিন ওপর থেকে তাকিয়েছিলেন এবং হিদায়েত লাভের জন্য চিন্তামগ্ন হয়েছিলেন।

তাঁর অবস্থা এবং অগাধ মালিকানা তাঁকে আনন্দিত করেছিল, আর তাঁর সামনে ছিল সমুদ্র ও সাদীর প্রাসাদ।

অতঃপর তাঁর হৃদয় বিগলিত হলো এবং তিনি বললেন: সেই জীবিত ব্যক্তির কীসের আনন্দ, যাকে একদিন মৃত্যুর দিকেই যেতে হবে?

অতঃপর এই সফলতা, রাজত্ব ও প্রাচুর্যের পর, কবরই তাদের সেখানে সমাহিত করেছে।

তারপর তারা শুকিয়ে যাওয়া পাতায় পরিণত হলো, যাকে পুবালি ও পশ্চিমা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে গেল।

বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, হিশাম তখন এমনভাবে কাঁদলেন যে তাঁর দাড়ি ভিজে গেল এবং তাঁর পাগড়ি সিক্ত হয়ে গেল। তিনি তাঁর তাবুগুলো খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁর পরিজন, কর্মচারী ও সহচরদের নিয়ে মরুভূমি ত্যাগ করে প্রাসাদে ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘ ফিরে আসলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন দাস ও কর্মচারীরা খালিদ ইবনে সাফওয়ানের দিকে এগিয়ে এসে বলল: আপনি আমিরুল মুমিনিনের সাথে এটা কী করলেন! আপনি তাঁর আনন্দ মাটি করে দিলেন এবং তাঁর প্রমোদভ্রমণকে তিক্ত করে তুললেন। খালিদ তখন তাদের বললেন: তোমরা আমার কাছ থেকে দূরে সরো, আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছি যে, যখনই আমি কোনো রাজার সাথে নির্জনে থাকব, তখনই তাঁকে মহান আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেব।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১১১)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ، إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْقَايَنِيُّ بِهَا، فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ، قَالَ: أنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ جَمِيلٍ الثَّقَفِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَا: حَدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ رحمه الله نَعُودُهُ بِمَكَّةَ بَعْدَ الْعَصْرِ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ سَعِيدُ بْنُ حَسَّانَ الْمَخْزُومِيُّ يَعُودُهُ، قَالَ سُفْيَانُ، لِسَعِيدٍ: الْحَدِيثُ الَّذِي حَدَّثْتَنِيهِ ارْدُدْهُ عَلَيَّ؟، فَقَالَ سَعِيدٌ: حَدَّثَتْنِي أُمُّ صَالِحٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كَلَامُ ابْنِ آدَمَ عَلَيْهِ لَا لَهُ، إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِمَعْرُوفٍ، أَوْ نَهَى عَنْ مُنْكَرٍ، أَوْ ذَكَرَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ»
১৬ - আবু আল-হাসান ইসহাক বিন আহমাদ আল-কায়েনি সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুতায়বাহ বিন সাঈদ বিন জামিল আস-সাকাফি এবং আল-হাসান বিন মুহাম্মদ। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ বিন খুনাইস। তিনি বলেন: আমরা মক্কায় আসরের পর সুফিয়ান আস-সাওরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অসুস্থতার সংবাদ নিতে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন সাঈদ বিন হাসসান আল-মাখযুমিও তাঁর অসুস্থতার সংবাদ নিতে প্রবেশ করলেন। সুফিয়ান সাঈদকে বললেন: তুমি আমাকে যে হাদীসটি শুনিয়েছিলে তা কি পুনরায় আমার নিকট বর্ণনা করবে? তখন সাঈদ বললেন: উম্মু সালিহ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাফিয়্যাহ বিনতে শাইবাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মু হাবিবাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আদম সন্তানের প্রতিটি কথাই তার বিপক্ষে যাবে, তার পক্ষে নয়; তবে যে ব্যক্তি সৎ কাজের আদেশ দেয়, অসৎ কাজের নিষেধ করে অথবা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর যিকির ও স্তব পাঠ করে।”
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১১৫)
17 - أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْيَدَ الْقَطَّانُ، بِبَلْخَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَفْصٍ الْبُخَارِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ الصَّمَدِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ مَنْصُورَ بْنَ مُجَاهِدٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رِشْدِينَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ أَدْهَمَ، يَقُولُ: "‌‌ أَعَزُّ الْأَشْيَاءِ فِي آخِرِ الزَّمَانِ ثَلَاثَةٌ: أَخٌ يُؤْنَسُ بِهِ، وَكَسْبُ دِرْهَمٍ مِنْ حَلَالٍ، وَكَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ ذِي سُلْطَانٍ "
১৭ - আমি আবুল হাসান আলী ইবনুল হাসান ইবনে আহইয়াদ আল-কাত্তান, বালখ শহরে, তিনি বলেন: আমি আবু হাফস আল-বুখারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুস সামাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মানসুর ইবনে মুজাহিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রিশদিন ইবনে সাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে আদহামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "‌‌ শেষ যামানায় তিনটি বস্তু সবচেয়ে দুর্লভ: এমন এক ভাই যার সান্নিধ্যে হৃদ্যতা পাওয়া যায়, হালাল উপায়ে একটি দিরহাম উপার্জন এবং হকের কথা কোনো ক্ষমতাসীন ব্যক্তির সামনে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১১৬)
18 - أنا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، بِالدِّينَوَرِ قَالَ: أنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ، يَقُولُ: "‌‌ قُسِمَ بَيْتُ عَائِشَةَ قِسْمَيْنِ: قِسْمٌ كَانَ فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَأَبُو بَكْرٍ، وَقِسْمٌ كَانَتْ هِيَ فِيهِ فَكَانَتْ تَدْخُلُهُ وَهِيَ فُضُلٌ، فَلَمَّا دُفِنَ عُمَرُ لَمْ تَدْخُلْهُ، إِلَّا وَهِيَ جَامِعَةٌ عَلَيْهَا ثِيَابَهَا "
১৮ - আমি আবুল কাসিম ঈসা ইবনে আহমাদ ইবনে আলি ইবনে যাইদ, দিনাওয়ারে; তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে সিনান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে দাউদ, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: "‌‌ আয়েশার ঘরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল: এক ভাগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবু বকর ছিলেন এবং অন্য ভাগে তিনি (আয়েশা) থাকতেন। ফলে তিনি সেখানে ঢিলেঢালা পোশাকে প্রবেশ করতেন। কিন্তু যখন উমরকে দাফন করা হলো, তখন থেকে তিনি নিজের কাপড়গুলো শরীরের সাথে ভালোভাবে জড়িয়ে নেওয়া ছাড়া সেখানে আর প্রবেশ করতেন না।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১১৭)
19 - حَدَّثنا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ حَبَابَةَ، غَيْرَ مَرَّةٍ قَالَ: حَدَّثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثنا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي إِسْرَائِيلَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْخَلِيلُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ:‌‌ سَمِعْتُ أَيُّوبَ، يَلْحَنُ فَقَالَ: «أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ»
১৯ - আবুল কাসিম বিন হাবাবাহ আমাদের নিকট একাধিকবার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক বিন আবু ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আন-নাদর বিন শুমাইল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-খলীল বিন আহমাদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আইয়ুবকে ব্যাকরণগত ভুল করতে শুনেছি, তখন তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১১৮)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ شَاذَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرَفَةَ النَّحْوِيُّ نَفْطَوَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثنا الْأَصْمَعِيُّ، قَالَ: "‌‌ كُنَّا فِي طَرِيقِ مَكَّةَ، وَنَحْنُ فِي إِصْلَاحِ بَعْضِ شَأْنِنَا إِذْ أَقْبَلَ أَعْرَابِيُّ مَعَهُ ابْنَتَانِ لَهُ، فَسَلَّمَ، فَقَالَتْ إِحْدَى ابْنَتَيْهِ:

[البحر الرجز]

يَا أَيُّهَا الرَّكْبُ ذَوُو التَّعْرِيسِ … هَلْ فِيكُمْ مِنْ طَارِدٍ لِلْبُوسِ

بِفَاضِلٍ مِنْ زَادِهِ خَسِيسِ … أَثَابَهُ اللَّهُ بِهِ النَّفِيسِ

بِجَنَّةٍ تَكْبُرُ فِي النُّفُوسِ

فَلَمْ تُعْطَ شَيْئًا، فَجَلَسَتْ، وَقَامَتِ الْأُخْرَى، فَقَالَتْ:

هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ تُوَاسُونَا بِهِ … لِلَّهِ وَالرَّغْبَةِ فِي ثَوَابِهِ

فَقَدْ بَلَانَا الدَّهْرُ بِانْقِلَابِهِ … بِنَائِبَاتٍ مِنْ شَبَى أَنْيَابِهِ

فَلَمْ تُعْطَ شَيْئًا، فَجَلَسَتْ، وَقَامَ الشَّيْخُ فَقَالَ:

وَاللَّهِ لَوْلَا كَثْرَةُ الْبَنَاتِ … وَشِدَّةٌ مِنْ دَهْرِنَا لَمْ نَاتِي

وَلَمْ يُرَ الشَّيْخُ مَعَ الْبَنَاتِ … نَمُدُّ أَيْدِينَا بِهَاتِ هَاتِ

فَلَمْ يُعْطَ شَيْئًا، فَأَخَذَ بِيَدِ ابْنَتَيْهِ، وَمَضَى غَيْرَ بَعِيدٍ، وَضَمَّهُمَا إِلَيْهِ، وَأَنْشَأَ يَقُولُ:

بُنَيَّتَيَّ صَابِرًا أَبَاكُمَا … إِنَّكُمَا بِعَيْنِ مَنْ رَآكُمَا

فَأَخْلِصَا لِلَّهِ مِنْ نَجْوَاكُمَا … تَضَرُّعًا لَا تَدَّخِرَا بُكَاكُمَا

⦗ص: 119⦘

اللَّهُ مَوْلَايَ وَهُوَ مَوْلَاكُمَا … لَوْ شَاءَ رَبِّي عَنْهُمُ أَغْنَاكُمَا

قَالَ: فَقَامَ فِتْيَةٌ مِنَ الْقَافِلَةِ، فَجَبَوْا إِلَيْهِ مِنْ كُلِّ مَحْمَلٍ دِرْهَمًا، فَصَارَتْ إِلَيْهِ جُمْلَةٌ، فَأَخَذَهَا وَانْصَرَفَ"
২০ - আবু বকর বিন শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আরাফাহ আন-নাহবী নাফতাওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আসমাঈ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌‌আমরা মক্কার পথে ছিলাম, আর আমরা আমাদের কিছু কাজ গুছিয়ে নিচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় এক বেদুইন তার দুই কন্যাসহ উপস্থিত হলেন। তিনি সালাম দিলেন, তখন তার এক কন্যা বলল:

[রাজায ছন্দ]

হে কাফেলাবাসী যারা যাত্রাবিরতি করেছ … তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে দুর্গতি দূর করবে?

তার পাথেয় থেকে সামান্য কিছু অতিরিক্ত দিয়ে … আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে মহামূল্যবান প্রতিদান দেবেন।

এমন এক জান্নাত যা মানুষের মনে বিশাল হয়ে দেখা দেয়।

তাকে কিছুই দেওয়া হলো না, তাই সে বসে পড়ল। অতপর অন্যজন দাঁড়াল এবং বলল:

আপনাদের কাছে কি এমন কিছু আছে যা দিয়ে আমাদের সাহায্য করবেন … আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর সওয়াবের আশায়?

কেননা সময় তার পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের পরীক্ষায় ফেলেছে … তার দাঁতের তীক্ষ্ণ অগ্রভাগের মতো বিপদসমূহ দিয়ে।

তাকে কিছুই দেওয়া হলো না, তাই সে বসে পড়ল। তখন সেই বৃদ্ধ দাঁড়ালেন এবং বললেন:

আল্লাহর শপথ, যদি অনেকগুলো কন্যা না থাকত … এবং আমাদের সময়ের কঠিন অবস্থা না হতো, তবে আমরা আসতাম না।

আর এই বৃদ্ধকে কন্যাদের নিয়ে দেখা যেত না … হাত বাড়িয়ে 'দাও দাও' বলতে।

তাকে কিছুই দেওয়া হলো না। তখন তিনি তার দুই কন্যার হাত ধরলেন এবং অল্প দূরে গিয়ে তাদের বুকে জড়িয়ে নিলেন এবং আবৃত্তি করতে লাগলেন:

হে আমার ছোট দুই কন্যা, তোমাদের পিতার সাথে ধৈর্য ধরো … তোমরা তাঁর চোখের সামনে রয়েছ যিনি তোমাদের দেখছেন।

কাজেই তোমাদের গোপন প্রার্থনায় আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হও … বিনীতভাবে কান্নাকাটি করতে কোনো কার্পণ্য করো না।

⦗পৃষ্ঠা: ১১৯⦘

আল্লাহ আমার অভিভাবক এবং তিনিই তোমাদের অভিভাবক … আমার রব চাইলে তোমাদেরকে তাদের মুখাপেক্ষীহীন করে দেবেন।

তিনি বলেন: তখন কাফেলার কিছু যুবক দাঁড়াল এবং প্রতিটি হাওদা থেকে তার জন্য এক দিরহাম করে সংগ্রহ করল। ফলে তার কাছে বেশ কিছু অর্থ জমা হলো। তিনি তা নিলেন এবং প্রস্থান করলেন।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১২০)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ، أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ الْبَزَّازُ رحمه الله قَالَ: حَدَّثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ الْبَزَّازُ، وَجَمَاعَةٌ قَالُوا: حَدَّثنا الزُّبَيْرُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الزُّبَيْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثنا مُحَمَّدُ بْنُ الضَّحَّاكِ الْحِزَامِيُّ، قَالَ: حَدَّثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَخْرَجَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه الْحُطَيْئَةَ مِنَ الْحَبْسِ، وَكَلَّمَهُ فِيهِ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ، وَغَيْرُهُ، فَأَنْشَدَ الْحُطَيْئَةُ:

[البحر البسيط]

مَاذَا تَقُولُ لِأَفْرَاخٍ بِذِي أَمَرٍ … زُغْبِ الْحَوَاصِلِ لَا مَاءٌ، وَلَا شَجَرُ

غَادَرْتَ كَاسِبَهُمْ فِي قَعْرِ مُظْلِمَةٍ … فَاغْفِرْ هَدَاكَ مَلِيكُ النَّاسِ يَا عُمَرُ

⦗ص: 121⦘

أَنْتَ الْإِمَامُ الَّذِي مِنْ بَعْدِ صَاحِبِهِ … أَلْقَتْ إِلَيْكَ مَقَالِيدَ النُّهَى الْبَشَرُ

لَمْ يُؤْثِرُوَكَ بِهَا إِذْ قَدَّمُوكَ لَهَا لَكِنْ … لِأَنْفُسِهِمْ كَانَتْ بِكَ الِإثَرُ

فَامْنُنْ عَلَى صِبْيَةٍ بِالزَّمِلِ مَسْكَنُهُمْ … بَيْنَ الْأَبَاطِحِ تَغْشَاهُمْ بِهَا الْقِرَرُ

نَفْسِي فِدَاؤُكَ كَمْ بَيْنِي وَبَيْنَهُمُ … مِنْ عَرْضِ دَاوِيَةٍ يَعْمَى بِهَا الْخَبَرُ

قَالَ: فَبَكَى عُمَرُ لَمَّا قَالَ: مَاذَا تَقُولُ لِأَفْرَاخٍ بِذِي أَمْرٍ؟ فَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: مَا أَظَلَّتِ الْخَضْرَاءُ، وَلَا أَقَلَّتِ الْغَبْرَاءُ مِنْ رَجُلٍ أَعْدَلَ مِنْ رَجُلٍ يَبْكِي عَلَى تَرْكِهِ الْحُطَيْئَةَ فَقَالَ عُمَرُ: " عَلَيَّ بِالْكُرْسِي، فَأُتِيَ بِهِ، فَجَلَسَ عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: عَلَيَّ بِالطَّسْتِ عَلَيَّ بِالْمِخْصَفِ، عَلَيَّ بِالسِّكِّينِ، لَا بَلْ عَلَيَّ بِالْمُوسَى، فَإِنَّهَا ⦗ص: 122⦘ أَوْحَى،‌‌ أَشِيرُوا عَلَيَّ فِي الشَّاعِرِ، فَإِنَّهُ يَقُولُ الْهُجْرَ، وَيُشَبِّبُ بِالْحُرَمِ، وَيَمْدَحُ النَّاسَ، وَيَذُمُّهُمْ بِغَيْرِ مَا فِيهِمْ قَالَ: مَا أُرَانِي إِلَّا قَاطِعًا لِسَانَهُ". فَقَالُوا: لَا، يَعُودُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، وَأَشَارُوا إِلَيْهِ، أَنْ قُلْ: لَا أَعُودُ، فَقَالَ: لَا أَعُودُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ: النَّجَا، ثُمَّ قَالَ: " يَا حُطَيْئَةَ، كَأَنِّي بِكَ عِنْدَ فَتًى مِنْ قُرَيْشٍ قَدْ بَسَطَ لَكَ نُمْرُقَةً، وَكَسَرَ لَكَ أُخْرَى، وَقَالَ: غَنِّنَا يَا حُطَيْئَةَ، فَطَفِقْتَ تُغَنِّيهِ بِأَعْرَاضِ الْمُسْلِمِينَ". قَالَ أَسْلَمُ: فَوَجَدْتُ الْحُطَيْئَةَ بَعْدَ ذَلِكَ عِنْدَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَدْ بَسَطَ لَهُ نُمْرُقَةً، وَكَسَرَ لَهُ أُخْرَى، وَقَالَ: يَا حُطَيْئَةَ، فَهُوَ يُغَنِّيهِ، فَقُلْتُ لِلْحُطَيْئَةِ: يَا حُطَيْئَةُ أَتَذْكُرُ قَوْلَ عُمَرَ، فَفَزِعَ، وَقَالَ: يَرْحَمُ اللَّهُ ذَلِكَ الْمَرْءَ، أَمَا لَوْ كَانَ حَيًّا مَا فَعَلْنَا هَذَا. قَالَ: وَقُلْتُ لِعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ سَمِعْتُ أَبَاكَ يَقُولُ: كَذَا وَكَذَا، فَكُنْتَ أَنْتَ ذَلِكَ الرَّجُلُ
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান আল-বাযযার (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবী শায়বা আল-বাযযার এবং একটি দল। তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যুবায়র ইবনে আবী বকর আয-যুবায়রী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে যাহহাক আল-হিযামী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুসআব ইবনে সাবিত, তিনি রবীআ ইবনে উসমান থেকে, তিনি যায়দ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (আসলাম) বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল-হুত্বাইআহ-কে কারাগার থেকে মুক্তি দেন। আমর ইবনুল আস ও অন্যান্যরা তার বিষয়ে সুপারিশ করেছিলেন। তখন আল-হুত্বাইআহ এই কবিতা আবৃত্তি করেন:

[বাহরুল বাসীত]

যী আমার নামক স্থানে সেই ছোট শাবকগুলোর (সন্তানদের) ব্যাপারে আপনি কী বলবেন … যাদের উদর রোমহীন, যাদের কাছে নেই কোনো পানি, আর নেই কোনো বৃক্ষ।

আপনি তাদের উপার্জনকারীকে এক অন্ধকার গহ্বরে (কারাগারে) পরিত্যাগ করেছেন … অতএব ক্ষমা করুন, মানুষের মালিক (আল্লাহ) আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন হে উমর।

⦗পৃষ্ঠা: ১২১⦘

আপনি সেই ইমাম, যার সঙ্গীর (আবু বকর) পরে … মানুষ তাদের প্রজ্ঞার চাবিকাঠি আপনার হাতে অর্পণ করেছে।

তারা আপনাকে এর জন্য কেবল তখনই অগ্রাধিকার দেয়নি যখন তারা আপনাকে এ কাজের জন্য এগিয়ে দিয়েছে, বরং … আপনার মাধ্যমেই তাদের নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়েছে।

অতএব সেই শিশুদের প্রতি অনুগ্রহ করুন যাদের আবাসস্থল হলো যামিল-এ … যা উপত্যকাসমূহের মাঝে অবস্থিত যেখানে প্রচণ্ড শীত তাদের আচ্ছন্ন করে রাখে।

আমার জীবন আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমার এবং তাদের মাঝে কত বিস্তৃত … ধূ ধূ মরুপ্রান্তর যেখানে সংবাদও পথ হারিয়ে ফেলে।

বর্ণনাকারী বলেন: উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাঁদতে লাগলেন যখন সে বলল: "যী আমার নামক স্থানে সেই ছোট শাবকগুলোর ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?" তখন আমর ইবনুল আস বললেন: আসমানের নিচে এবং জমিনের উপরে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি ন্যায়পরায়ণ হতে পারে, যে আল-হুত্বাইআহ-কে কারামুক্ত করার জন্য কাঁদছে। এরপর উমর বললেন: "আমার কাছে একটি আসন (কুরসি) নিয়ে এসো।" তা আনা হলো এবং তিনি তাতে বসলেন। এরপর তিনি বললেন: "আমার কাছে একটি গামলা আনো, একটি ছিদ্র করার সুঁই আনো, একটি ছুরি আনো; না বরং একটি ক্ষুর আনো, কারণ সেটি ⦗পৃষ্ঠা: ১২২⦘ অধিক ক্ষিপ্র। এই কবির বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দাও, কারণ সে অশ্লীল কথা বলে, নারীদের নিয়ে কাব্য করে, এবং মানুষের মাঝে যা নেই তা বলে তাদের প্রশংসা ও নিন্দা করে।" তিনি বললেন: "আমি মনে করি আমি তার জিভ কেটে দেব।" তারা বলল: "না, হে আমীরুল মুমিনীন, সে আর এমন করবে না।" তারা আল-হুত্বাইআহ-কে ইশারা করল যেন সে বলে: 'আমি আর করব না'। সে বলল: "হে আমীরুল মুমিনীন, আমি আর কখনো এমন করব না।" তিনি বললেন: "তবে মুক্তি পাও।" এরপর তিনি বললেন: "হে হুত্বাইআহ, আমি যেন তোমাকে কুরাইশ বংশের এক যুবকের কাছে দেখতে পাচ্ছি, যে তোমার জন্য একটি গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে এবং আরেকটি হেলান দেওয়ার জন্য রেখেছে, আর বলছে: হে হুত্বাইআহ, আমাদের গান শুনাও। আর তুমি তখন মুসলিমদের মান-সম্মান নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান গাইতে শুরু করেছ।" আসলাম বলেন: এরপর আমি আল-হুত্বাইআহ-কে উমর ইবনুল খাত্তাবের পুত্র উবায়দুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট পেলাম; তিনি তার জন্য একটি গালিচা বিছিয়ে দিয়েছেন এবং আরেকটি হেলান দেওয়ার জন্য রেখেছেন এবং বলছেন: হে হুত্বাইআহ! আর সে তাকে গান শুনাচ্ছে। তখন আমি আল-হুত্বাইআহ-কে বললাম: হে হুত্বাইআহ, তোমার কি উমরের সেই কথা মনে আছে? তখন সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল এবং বলল: আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, তিনি যদি বেঁচে থাকতেন তবে আমরা এমনটি করতাম না। আসলাম বলেন: আমি উবায়দুল্লাহ ইবনে উমরকে বললাম, আমি আপনার পিতাকে অমুক অমুক কথা বলতে শুনেছি, আর আপনিই হলেন সেই ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু আবী যার আল-হারাবী (পৃষ্ঠা: ১২৬)
22 - أنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ دَاسَةَ، بِالْبَصْرَةِ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، قَالَ: حَدَّثنا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْأَصْمَعِيُّ، قَالَ: رَأَيْتُ أَعْرَابِيَّةَ، وَقَدْ أَرَادَ ابْنٌ لَهَا سَفَرًا، فَقَالَتْ لَهُ: " أَيْ بُنَيَّ،‌‌ إِنِّي مُوصِيَتُكَ بِوَصِيَّةٍ، فَإِنْ كَانَ رَأْيُكَ قَبُولَ وَصِيَّتِي، وَإِلَّا فَامْضِ رَاشِدًا. قَالَ: فَقَالَ لَهَا: يَا أُمَّهْ، بَلَى، رَأْيِي قَبُولُ وَصِيَّتِكِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ. قَالَتْ: يَا بُنَيَّ صَلِّ الصَّلَوَاتِ بِحَقَائِقِهَا، فَإِنَّهُ دَيْنٌ لَا يَقْبَلُهُ اللَّهُ إِلَّا مِنْ مَحِلِّهِ، يَا بُنَيَّ ابْتَغِ الرِّزْقَ مِمَّنْ رَزَقَ لَا مِمَّنْ رُزِقَ، يَا بُنَيَّ إِيَّاكَ وَمُجَاوَرَةَ الْأَوْغَادِ، فَإِنَّكَ تَصْغُرُ فِي أَعْيُنِ الْأَشْرَافِ بِمُجَاوَرَتِهِمْ، امْضِ جَنَّبَكَ اللَّهُ مَا كَرِهَ لَكَ مَا أَطَعْتَهُ، فَإِذَا حُلْتَ عَنْ طَاعَتِهِ، فَمَا يَنْفَعُ دُعَائِي لَكَ شَيْءٌ "
২২ - আমি আবু মুহাম্মদ ইবনে দাসা, বসরা নগরীতে তাঁর নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে বর্ণনা করছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে আহমাদ আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে শাব্বাহ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আসমাঈ, তিনি বলেন: আমি জনৈক বেদুইন নারীকে দেখলাম, যখন তাঁর এক পুত্র সফরে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করল, তখন তিনি তাকে বললেন: "হে বৎস, আমি তোমাকে একটি উপদেশ দিচ্ছি; যদি তোমার অভিমত আমার উপদেশ গ্রহণ করার হয় (তবে গ্রহণ করো), অন্যথায় সুপথে এগিয়ে যাও। বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে তাঁকে বলল: হে জননী, অবশ্যই, ইনশাআল্লাহ আমার অভিমত আপনার উপদেশ গ্রহণ করার পক্ষেই। তিনি বললেন: হে বৎস, সালাতসমূহকে সেগুলোর হাকীকত বা যথাযথ হক আদায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করো, কেননা এটি এমন এক দ্বীন যা আল্লাহ কেবল তার উপযুক্ত স্থান থেকেই কবুল করেন। হে বৎস, রিজিক তাঁর নিকট অন্বেষণ করো যিনি রিজিক দান করেন, তাঁর নিকট নয় যাকে রিজিক প্রদান করা হয়েছে। হে বৎস, হীন প্রকৃতির লোকদের সাহচর্য থেকে বেঁচে থেকো, কারণ তাদের সাহচর্যের ফলে তুমি সম্মানিত ব্যক্তিদের চোখে ছোট হয়ে যাবে। এগিয়ে যাও; যতক্ষণ তুমি আল্লাহর আনুগত্য করবে, আল্লাহ তোমাকে তোমার অপছন্দনীয় বিষয় থেকে দূরে রাখবেন। কিন্তু যখন তুমি তাঁর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হবে, তখন তোমার জন্য আমার দুআ কোনো কাজে আসবে না।"