(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: -)
فوائد ابن ماسي (ابن ماسي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: فوائد ابن ماسي
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن إبراهيم بن أيوب بن ماسي البغدادي (ت 369هـ)
المحقق: مسعد عبد الحميد محمد السعدني
الناشر: أضواء السلف - الرياض / السعودية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998م
عدد الصفحات: 102
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফাওয়াইদ ইবনে মাসী (ইবনে মাসী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ফাওয়াইদ ইবনে মাসী
লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আইয়ুব বিন মাসী আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৩৬৯ হিজরি)
তাহকীক: মুসআদ আব্দুল হামিদ মুহাম্মদ আল-সা'দানী
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ / সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০২
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কিতাবের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮১)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: ارْتَقَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ: «آمِينَ» ، ثُمَّ ارْتَقَى ثَانِيَةً فَقَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ اسْتَوَى عَلَيْهِ فَقَالَ: «آمِينَ» ، فَقَالَ أَصْحَابُهُ: عَلَى مَا أَمَّنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: " أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ، فَقُلْتُ: آمِينَ، ثُمَّ قَالَ: رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ، أَوْ أَحَدَهُمَا، فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ، فَقُلْتُ: آمِينَ، ثُمَّ قَالَ: رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ أَدْرَكَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ، فَقُلْتُ: آمِينَ"
১ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-বসরি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কা'নবি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সালামাহ বিন ওয়ারদান, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «আমীন», অতঃপর তিনি দ্বিতীয় ধাপে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «আমীন», অতঃপর তিনি তার ওপর উঠলেন এবং বললেন: «আমীন», তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কিসের ওপর আমীন বললেন? তিনি বললেন: " জিবরাঈল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, সেই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক যার নিকট আপনার আলোচনা করা হলো অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না, তখন আমি বললাম: আমীন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক যে তার পিতামাতাকে অথবা তাদের কোনো একজনকে পেল অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না, তখন আমি বললাম: আমীন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক যে রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, তখন আমি বললাম: আমীন।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮২)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي الْأَنْصَارِيُّ، ثنا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ يَعْنِي الْعُمَرِيَّ، نا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: ارْتَقَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَرَجَةَ الْمِنْبَرِ، فَقَالَ: «آمِينَ» ، ثُمَّ ارْتَقَى الثَّانِيَةَ، فَقَالَ: «آمِينَ» ، ثُمَّ ارْتَقَى الثَّالِثَةَ، فَقَالَ: «آمِينَ» ، ثُمَّ اسْتَوَى، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا قَوْلُكَ: «آمِينَ» ؟ قَالَ: " أَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ، قُلْتُ: آمِينَ، ثُمَّ قَالَ: رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ، أَوْ أَحَدَهُمَا، فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ، قُلْتُ: آمِينَ، ثُمَّ قَالَ: رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ أَدْرَكَ شَهْرَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ، فَقُلْتُ: آمِينَ "
২ - আবু বকর মুসা বিন ইসহাক আল-কাজী আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন ইয়াজিদ অর্থাৎ আল-উমারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ বিন ওয়ারদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারের একটি ধাপে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমীন", তারপর দ্বিতীয় ধাপে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমীন", তারপর তৃতীয় ধাপে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমীন", অতঃপর তিনি স্থির হলেন। তখন জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার "আমীন" বলার কারণ কী? তিনি বললেন: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, সেই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক যার নিকট আপনার আলোচনা করা হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করল না; আমি বললাম: আমীন। তারপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক যে তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে পেল কিন্তু সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না; আমি বললাম: আমীন। তারপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক যে রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না; আমি বললাম: আমীন।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَبَرَّزُ، فَلَمْ يَتْبَعْهُ أَحَدٌ، فَهَرَعَ عُمَرُ فَاتَّبَعَهُ بِمِطْهَرَةٍ، يَعْنِي إِدَاوَةً، فَوَجَدَهُ سَاجِدًا فِي شَرَبَةٍ، فَتَنَحَّى عُمَرُ، فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ قَالَ: " أَحْسَنْتَ يَا عُمَرُ حِينَ رَأَيْتَنِي سَاجِدًا فَتَنَحَّيْتَ عَنِّي، إِنَّ جِبْرِيلَ أَتَانِي فَقَالَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا، وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ "
৩ - আবু মুসলিম ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ ইবন কা'নব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবন ওয়ারদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শৌচকার্য সম্পাদনের জন্য বের হলেন, কিন্তু কেউ তাঁর পিছু নিল না। তখন উমর (রা.) দ্রুতগতিতে একটি পানির পাত্র—অর্থাৎ ছোট মশক—নিয়ে তাঁর পিছু নিলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে একটি জলাধারের নিকট সিজদারত অবস্থায় পেলেন। ফলে উমর (রা.) দূরে সরে দাঁড়ালেন। অতঃপর যখন তিনি মাথা তুললেন, তখন বললেন: "হে উমর! তুমি ভালো কাজ করেছ যখন আমাকে সিজদারত দেখে আমার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলে। নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমার নিকট এসেছিলেন এবং বললেন: আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আপনার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
4 - حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، ثنا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا، يَقُولُ: خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَبَرَّزُ فَلَمْ يَجِدْ أَحَدًا يَتْبَعُهُ، فَهَرَعَ عُمَرُ فَاتَّبَعَهُ بِمِطْهَرَةٍ، فَوَجَدَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدًا فِي شَرَبَةٍ، فَتَنَحَّى عُمَرُ خَلْفَهُ حَتَّى رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: " أَحْسَنْتَ يَا عُمَرُ حِينَ وَجَدْتَنِي سَاجِدًا فَتَنَحَّيْتَ عَنِّي، إِنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام أَتَانِي فَقَالَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا، وَرَفَعَ لَهُ بِهَا عَشْرَ دَرَجَاتٍ "
৪ - আমাদের নিকট ক্বাদি আবু বকর মূসা ইবনে ইসহাক আল-ক্বাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনে ইয়াযিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সালামাহ ইবনে ওয়ারদান বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন এবং কাউকে তাঁর পেছনে অনুসরণ করতে পেলেন না। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দ্রুতবেগে একটি ওযুর পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একটি জলাধারের নিকট সিজদারত অবস্থায় পেলেন। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পেছনে সরে দাঁড়ালেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর মাথা উত্তোলন করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "হে উমর, তুমি উত্তম কাজ করেছ যখন তুমি আমাকে সিজদারত অবস্থায় পেয়ে আমার থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলে। নিশ্চয়ই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট এসে বলেছেন: আপনার উম্মতের যে ব্যক্তি আপনার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন এবং এর দ্বারা তার জন্য দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا الْقَعْنَبِيُّ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «سَلِ اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ» ، ثُمَّ أَتَاهُ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي، فَقَالَ: «سَلِ اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ» ، ثُمَّ أَتَاهُ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ، فَقَالَ: «سَلِ اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، فَإِذَا أُعْطِيتَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَقَدْ أَفْلَحْتَ»
৫ - আবু মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কা'নাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ বিন ওয়ারদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর নবী, কোন দোয়াটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো।» অতঃপর তিনি দ্বিতীয় দিনে তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: «আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো।» এরপর তিনি তৃতীয় দিনে তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: «আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো; কারণ যখন তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা দান করা হবে, তখন অবশ্যই তুমি সফলকাম হয়েছ।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ، ثنا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْعُمَرِيُّ الْمَكِّيُّ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ امْرَأَةً أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَئَلَتْ إِلَيْهِ الْحَاجَةَ، فَقَالَ: «أَدُلُّكِ عَلَى خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ، تُهَلِّلِينَ اللَّهَ عِنْدَ مَنَامِكِ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَتُسَبِّحِينَهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَتَحْمَدِينَهُ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ، فَذَلِكَ مِائَةٌ خَيْرٌ لَكِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا»
৬ - আমাদের নিকট আবু বকর মূসা ইবনে ইসহাক ইবনে মূসা আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালিদ ইবনে ইয়াযীদ আল-উমারী আল-মাক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সালামাহ ইবনে ওয়ারদান বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁর কাছে একটি প্রয়োজনের কথা নিবেদন করলেন। তিনি বললেন: "আমি কি তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছুর সন্ধান দেব না? তুমি ঘুমানোর সময় তেত্রিশবার আল্লাহর একত্ব ঘোষণা (তাহলীল) করবে, তেত্রিশবার আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা (তাসবীহ) করবে এবং চৌত্রিশবার আল্লাহর প্রশংসা (তাহমীদ) করবে। এই হলো একশত বার, যা তোমার জন্য দুনিয়া এবং তাতে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
7 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ هَلَّلَ مِائَةً وَكَبَّرَ مِائَةً، كَانَتْ لَهُ خَيْرًا مِنْ عَشْرِ رِقَابٍ يَعْتِقُهَا، وَمِنْ سَبْعِ بَدَنَاتٍ يَنْحَرُهَا عِنْدَ بَيْتِ اللَّهِ الْحَرَامِ»
৭ - মুসা ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে ইয়াযীদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে ওয়ারদান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি একশত বার 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে এবং একশত বার 'আল্লাহু আকবার' বলবে, তা তার জন্য দশটি দাস মুক্ত করার চেয়ে এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের নিকট সাতটি উট কুরবানী করার চেয়েও উত্তম হবে।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
8 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا الْقَعْنَبِيُّ، ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَمَمْتُمُ النَّاسَ فَخَفِّفُوا؛ فَإِنَّ فِيهِمُ الْكَبِيرَ وَالصَّغِيرَ وَالضَّعِيفَ»
৮ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কা'নাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি যিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-ওয়ালিদ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন তোমরা মানুষের ইমামতি করবে তখন সংক্ষেপ করবে; কারণ তাদের মধ্যে বৃদ্ধ, শিশু এবং দুর্বল ব্যক্তিরা রয়েছে।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
9 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا الْقَعْنَبِيُّ، ثنا لَيْثٌ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-কায়নাবী, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস অর্থাৎ ইবনে সাদ, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ নিবদ্ধ রয়েছে।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
10 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا الْقَعْنَبِيُّ، ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ»
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কানবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবু যিব, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন রাতের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা বৈধ নয়»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
11 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمَّادٍ الشُّعَيْثِيُّ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَى الْأَعَاجِمِ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّهُمْ لَا يَقْبَلُونَ كِتَابًا إِلَّا بِخَاتَمٍ، فَاتَّخَذَ صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، نَقْشُهُ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى فَصِّهِ فِي يَدِهِ "
১১ - আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে হাম্মাদ আশ-শুআইসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনারবদের নিকট পত্র লেখার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তখন তাঁকে বলা হলো: তারা মোহর বা সিলমোহর ব্যতীত কোনো পত্র গ্রহণ করে না। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রূপার একটি আংটি তৈরি করলেন, যার খোদাই ছিল: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। আমি যেন এখনও তাঁর হাতে আংটির পাথরটির দিকে তাকিয়ে আছি।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
12 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ وَهُوَ ابْنُ أَبِي عُثْمَانَ الصَّوَّافُ، عَنْ يَحْيَى، يَعْنِي ابْنَ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٍ: دَعْوَةُ الصَّائِمِ، وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ "
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ, হাজ্জাজ থেকে—আর তিনি হলেন ইবনে আবি উসমান আস-সাওওয়াফ—তিনি ইয়াহইয়া থেকে, অর্থাৎ ইবনে আবি কাসীর, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আলী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " তিনটি দোয়া কবুলযোগ্য: রোজাদারের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং মজলুমের দোয়া। "
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
13 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ: «أَمَّا بَعْدُ»
১৩ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবূ মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবনে বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবূ আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক ইবনে উমাইর হতে, মুনযির ইবনে জারীর হতে, তাঁর পিতা হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: «অতঃপর»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
14 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، ثنا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، وَسُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَرَرْتُ عَلَى مُوسَى، وَهُوَ عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ، وَهُوَ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ»
১৪ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবন মিনহাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ—অর্থাৎ ইবন সালামাহ—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাবিত ও সুলায়মান আত-তায়মী থেকে, তাঁরা আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি মূসার নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি যখন তিনি লাল বালুস্তূপের নিকট ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর কবরে সালাত আদায় করছিলেন»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
15 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا، أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ، أنا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، جُمِعَتِ الْمَلَائِكَةُ بِأَبْوَابِ الْمَسْجِدِ يَكْتُبُونَ النَّاسَ عَلَى مَنَازِلِهِمْ: جَاءَ فُلَانٌ سَاعَةَ كَذَا، جَاءَ فُلَانٌ فِي سَاعَةِ كَذَا، جَاءَ فُلَانٌ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ، وَلَمْ يُدْرِكِ الْجُمُعَةَ إِذَا لَمْ يُدْرِكِ الْخُطْبَةَ "
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু উমর আদ-দারীর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে সালামাহ, আলী ইবনে যাইদ থেকে, তিনি আওস ইবনে খালিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: " যখন জুমার দিন উপস্থিত হয়, ফেরেশতারা মসজিদের দরজাসমূহে সমবেত হন এবং তারা মানুষের মর্যাদাক্রম অনুযায়ী তাদের নাম লিখতে থাকেন: অমুক ব্যক্তি অমুক সময় এসেছে, অমুক ব্যক্তি অমুক সময়ে এসেছে, অমুক ব্যক্তি সালাত পেয়েছে কিন্তু জুমাহ পায়নি, যদি সে খুতবা না পায়।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
16 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ، أنا أَبُو شَيْبَةَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُثْمَانَ، ثنا الْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةَ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর আদ-দারীর, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু শায়বাহ ইবরাহীম বিন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম বিন উতাইবাহ, তিনি মিকসাম হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাজার নামাজে ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা আল-ফাতিহা) পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯০)
17 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِصَاعٍ مِنْ تَمْرٍ رَيَّانُ، وَكَانَ تَمْرٌ بِعَلَا، فَقَالَ: «أَنَّى لَكُمْ هَذَا؟» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بِعْنَا صَاعَيْنِ مِنْ تَمْرِنَا بِصَاعٍ مِنْ هَذَا، فَقَالَ: «لَا تَفْعَلُوا، وَلَكِنْ بِيعُوا مِنْ تَمْرِكُمْ ثُمَّ اشْتَرُوا هَذَا»
১৭ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবন ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক সা’ সতেজ খেজুর আনা হলো, আর সেটি ছিল উন্নতমানের খেজুর। তখন তিনি বললেন: "তোমরা এটি কোথায় পেলে?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের দুই সা’ খেজুরের বিনিময়ে এই এক সা’ খেজুর ক্রয় করেছি।" তিনি বললেন: "তোমরা এমনটি করো না, বরং তোমাদের খেজুর (প্রথমে) বিক্রি করো, তারপর এটি ক্রয় করো।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯০)
18 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، ثنا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ بِمَا يُنَاحُ عَلَيْهِ» قَالَ قَتَادَةُ: وَأَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ يَعْمُرَ قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ: يُعَذَّبُ هَذَا الْمَيِّتُ بِبُكَاءِ هَذَا الْحَيِّ؟ قَالَ: حَدَّثَنِيهِ عُمَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: مَا كَذَبْتُ عَلَى عُمَرَ، وَلَا كَذَبَ عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবন মিনহাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মৃত ব্যক্তিকে তার ওপর বিলাপ করার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।’ কাতাদাহ বলেন: এবং আমাকে ইয়াহইয়া ইবন ইয়ামুর সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবন উমরকে বললাম: এই মৃত ব্যক্তিকে কি এই জীবিত ব্যক্তির কান্নার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়? তিনি বললেন: উমর আমার নিকট এটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি বললেন: আমি উমরের ওপর মিথ্যা বলিনি, আর উমরও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯১)
19 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ، أنا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَبِي السَّفَرِ، عَنِ الْحَارِثِ، قَالَ أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ وَهُوَ الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَعْوَرُ، قَالَ: كَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه يَقُولُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ، أَوْ قَالَ: عَلَى الْمَيِّتِ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَحْيَائِنَا وَأَمْوَاتِنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا، وَاجْعَلْ قُلُوبَنَا عَلَى قُلُوبِ خِيَارِنَا» . قَالَ أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ: قَالَ مُعْتَمِرٌ: قَالَ إِسْمَاعِيلُ: قَالَ مُنْذِرٌ الثَّوْرِيُّ: كَانَ عَلِيٌّ رضي الله عنه يَزِيدُ فِيهَا: وَاغْفِرْ، وَارْحَمْهُ، وَأَرْجِعْهُ إِلَى خَيْرٍ مِمَّا كَانَ عَلَيْهِ، اللَّهُمَّ عَفْوَكَ عَفْوَكَ "
19 - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু উমর আদ-দারীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুতামির বিন সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাঈল বিন আবী খালিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আস-সাফার থেকে, হারিস থেকে বর্ণিত; আবু উমর আদ-দারীর বলেন—আর তিনি হলেন হারিস বিন আবদুল্লাহ আল-আওয়ার—তিনি বলেন: আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানাযার সালাতে, অথবা তিনি বলেছেন: মৃতের জানাযায় বলতেন: «হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত ও মৃতদের ক্ষমা করুন, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে দিন, আমাদের অন্তরসমূহের মাঝে প্রীতি স্থাপন করুন এবং আমাদের অন্তরসমূহকে আমাদের মধ্যকার সর্বোত্তম ব্যক্তিদের অন্তরের ন্যায় করে দিন»। আবু উমর আদ-দারীর বলেন: মুতামির বলেছেন: ইসমাঈল বলেছেন: মুনযির আস-সাওরী বলেছেন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাতে আরও বৃদ্ধি করতেন: "এবং ক্ষমা করুন, তার প্রতি দয়া করুন এবং তাকে তার পূর্ববস্থার চেয়ে উত্তম অবস্থায় ফিরিয়ে নিন; হে আল্লাহ, আপনার কাছে ক্ষমা চাই, আপনার কাছে ক্ষমা চাই।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯১)
20 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ، أنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَحْيَائِنَا وَلِأَمْوَاتِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا، وَأَبْنَائِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ»
২০ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু ওমর আদ-দারীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাজার সালাতে বলতেন: «হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত ও মৃতদের, আমাদের ছোট ও বড়দের, আমাদের সন্তানদের এবং আমাদের উপস্থিত ও অনুপস্থিতদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখুন এবং আমাদের মধ্যে আপনি যাকে মৃত্যু দান করেন তাকে ঈমানের উপর মৃত্যু দান করুন।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯২)
21 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا الْقَعْنَبِيُّ، أنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «جُرْحُ الْعَجْمَاءِ جُبَارٌ، وَالْبِئْرُ جُبَارٌ، وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ، وَفِي الرِّكَازِ الْخُمْسُ»
২১ - আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-কা'নবি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবন আনাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «চতুষ্পদ জন্তুর জখম নিরর্থক, কূপের জখম নিরর্থক, খনির জখম নিরর্থক এবং রিকাজ (গুপ্তধন)-এর ক্ষেত্রে এক-পঞ্চমাংশ প্রদেয়।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯২)
22 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، ثنا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، وَقَتَادَةَ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ،: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ مَمْلُوكَةٍ ذَبَحَتْ شَاةً بِمَرْوَةٍ؟ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِأَكْلِهَا "
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুসলিম, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাজ্জাজ ইবন মিনহাল, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ অর্থাৎ ইবন সালামাহ, আইয়ুব, কাতাদাহ ও উবায়দুল্লাহ থেকে, তাঁরা নাফে‘ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জনৈক দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে মারওয়া পাহাড়ে একটি বকরি যবাই করেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা খাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
23 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ يَعْنِي إِبْرَاهِيمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أُسَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ»
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুসলিম অর্থাৎ ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আসিম যাহহাক ইবনে মাখলাদ, আশ'আস থেকে, হাসান থেকে, উসামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «শিঙা দানকারী এবং যার শিঙা লাগানো হয় উভয়ের রোজা ভেঙে গেছে»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
24 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا الْقَاضِي أَبُو مُحَمَّدٍ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ جَهَّزَ حَاجًّا، أَوْ جَهَّزَ غَازِيًا، أَوْ خَلَفَهُ فِي أَهْلِهِ، أَوْ فَطَّرَ صَائِمًا، فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَجْرِهِ شَيْءٌ»
24 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজী আবু মুহাম্মদ ইউসুফ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন কাসীর আল-আবদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী, ইবনে আবি লায়লা হতে, আতা হতে, যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো হাজীকে সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করে দিল, অথবা কোনো যোদ্ধাকে সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করে দিল, অথবা তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের দেখাশোনা করল, অথবা কোনো রোজাদারকে ইফতার করাল, তবে তার জন্য রয়েছে তার অনুরূপ সওয়াব, কোনো কিছু হ্রাস করা ছাড়াই তার সওয়াব থেকে।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو بَرْزَةَ الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَاسِبُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، ثنا زُهَيْرٌ، ثنا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ الْمَدَنِيِّ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الدِّينَ نَصِيحَةٌ، إِنَّ الدِّينَ نَصِيحَةٌ، إِنَّ الدِّينَ نَصِيحَةٌ» ، قَالُوا: لِمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لِلَّهِ عز وجل، وَكِتَابِهِ، وَأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ»
২৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বারজাহ আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ আল-হাসিব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জুহাইর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুহাইল ইবনে আবি সালিহ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াজিদ আল-মাদানী থেকে, তিনি তামীম আদ-দারী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা, নিশ্চয়ই দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা, নিশ্চয়ই দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা», তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কার জন্য? তিনি বললেন: «মহান আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
26 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ صَالِحٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خَيْثَمٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخِيَارِكُمْ؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " الَّذِينَ إِذَا رُؤُوا ذُكِرَ اللَّهُ عز وجل، ثُمَّ قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِشِرَارِكُمْ؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «الْمَشَّاؤُونَ بِالنَّمِيمَةِ، الْمُفَرِّقُونَ بَيْنَ الْأَحِبَّةِ، الْبَاغُونَ للْبُرَآءَ الْعَنَتَ»
২৬ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল হামিদ ইবনে সালিহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে খাইসাম থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না?» তারা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বললেন: "তারা হলো ঐ সকল ব্যক্তি যাদের দেখলে পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহকে স্মরণ করা হয়।" অতঃপর তিনি বললেন: «আমি কি তোমাদের সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না?» তারা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «চোগলখোরি করে বেড়ানো ব্যক্তিরা, যারা বন্ধুদের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে এবং নিরপরাধদের কষ্ট বা লাঞ্ছনা অন্বেষণ করে।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
27 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شُعَيْبٍ السِّمْسَارُ، ثنا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، ثنا بَكَّارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، ثنا أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ فَأَتَاهُ بَشِيرٌ يُبَشِّرُهُ بِظَفَرِ أَصْحَابِهِ، قَالَ: فَخَرَّ سَاجِدًا ثُمَّ قَالَ لِلرَّسُولِ: «حَدِّثْنِي» ، قَالَ: الَّذِي يَلِي أَحَدَهُمُ امْرَأَةٌ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلَكَتِ الرِّجَالُ حِينَ أَطَاعَتِ النِّسَاءَ»
২৭ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে শুআইব আস-সিমসার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাক্কার ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আবু বাকরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা (আবু বাকরাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কোনো এক স্ত্রীর নিকট অবস্থান করছিলেন। তখন তাঁর নিকট এক সুসংবাদদাতা তাঁর সাহাবীদের বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে আসলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি সিজদাবনত হলেন, অতঃপর সেই বার্তাবাহককে বললেন: “আমাকে বিস্তারিত বলো”। সে বলল: তাদের একটি দলের নেতৃত্বে রয়েছে একজন নারী। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “পুরুষেরা তখন ধ্বংস হয় যখন তারা নারীদের আনুগত্য করে।”
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
28 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلَوَيْهِ الْقَطَّانُ، ثنا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، ثنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ»
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে আলাওয়াইহি আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মাসউদী, তিনি ইয়াজিদ আল-রাক্কাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দুআ প্রত্যাখ্যান করা হয় না»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু ইবনে মাসী
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
29 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ خَالَوَيْهِ الْبَاسِيرِيُّ، بِوَاسِطَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ الْقَطَّانُ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، ثنا أَبُو سَعِيدٍ رَوْحُ بْنُ جُنَاحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «فَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ»
২৯ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে খালাওয়াইহ আল-বাসিরি ওয়াসিতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনে বাহর আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ রাওহ ইবনে জুনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ হতে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস হতে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «একজন ফকিহ শয়তানের বিরুদ্ধে এক হাজার ইবাদতকারীর চেয়েও অধিক কঠোর।»