(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: -)
فضيلة العادلين من الولاة لأبي نعيم (أبو نعيم الأصبهاني)
القسم: كتب السنة
الكتاب: فضيلة العادلين من الولاة لأبي نعيم
المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (ت 430هـ)
تحقيق: مشهور حسن محمود سلمان
الناشر: دار الوطن - الرياض
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 172
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু নুআইম বর্ণিত ন্যায়পরায়ণ শাসকদের মর্যাদা (আবু নুআইম আল-আসবাহানী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু নুআইম বর্ণিত ন্যায়পরায়ণ শাসকদের মর্যাদা
লেখক: আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মেহরান আল-আসবাহানী (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি)
তাহকিক: মাশহুর হাসান মাহমুদ সালমান
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১)
الْعَادِلِينَ مِنَ الْوُلَاةِ
শাসকবর্গের অন্তর্ভুক্ত ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিবর্গ
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الْأَجَلُّ الْأَوْحَدُ الْحَافِظُ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَدَّادُ الْمُقْرِئُ رضي الله عنه قَالَ: حَدَّثَنَا الْإِمَامُ أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَوِيِّ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ أَمِينِهِ الرَّضِيِّ، أَمَّا بَعْدُ، فَمَنْ أَسْبَغَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ نِعَمَهُ بِالتَّمْكِينِ وَالتَّأْيِيدِ وَمَدَّ بَاعَهُ بِالْقُدْرَةِ وَالتَّمْهِيدِ وَفَوَّضَ إِلَيْهِ سِيَاسَةَ رَعِيَّتِهِ لِلتَّهْذِيبِ وَالتَّسْدِيدِ جَدِيرٌ بِأَنْ يُولِيَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ وَمَنْ أَكْمَلَ اللَّهُ فِيمَا تَقَلَّدَ عَقْلَهُ وَعَدْلَهُ وَتَوْلِيَةُ جَامِ الْأُمُورِ الْعَاجِزَ عَنِ النُّهُوضِ بِهَا لِخُلُوِّهِ مِنَ الْعِلْمِ بِمَصَادِرِهَا وَمَوَارِدِهَا خَلَلٌ فِي السِّيَاسَةِ، وَفَتْقٌ فِي الْمَحُوطِ مِنْ تَحْصِينِ الرِّعَايَةِ، وَالرَّاعِي مَسْئُولٌ عَنْ رِعَايَتِهِ: هَلْ أَقَامَ فِيمَنِ اسْتُرْعِيَ أَمْرَ اللَّهِ أَمْ أَضَاعَهُ؟ وَمِنْ أَعْظَمِ الْإِضَاعَةِ أَنْ يُسْنَدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। মহিমান্বিত, অনন্য শায়খ, হাফেজ আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদ আল-মুকরি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফেজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সকল প্রশংসা এক ও শক্তিশালী আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন তাঁর বিশ্বস্ত ও মনোনীত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর। অতঃপর, মহান আল্লাহ যাকে সামর্থ্য ও সাহায্যের মাধ্যমে তাঁর নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণভাবে দান করেছেন, সক্ষমতা ও সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে যার হাতকে প্রশস্ত করেছেন এবং সংশোধন ও সঠিক পথে পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রজাসাধারণের শাসনের ভার যার ওপর অর্পণ করেছেন, তার জন্য উচিত হলো উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট দায়িত্ব ন্যস্ত করা; আর আল্লাহ যাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তার বিবেক ও ন্যায়বিচারকে পূর্ণতা দান করেছেন। কিন্তু সামগ্রিক বিষয়াদির দায়িত্ব এমন ব্যক্তির ওপর অর্পণ করা যে তা পালন করতে অক্ষম—যেহেতু সে বিষয়গুলোর উৎস ও প্রয়োগস্থল সম্পর্কে জ্ঞানশূন্য—তা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি ত্রুটি এবং সুরক্ষামূলক রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে একটি ফাটল। আর প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে: যাদের রক্ষণাবেক্ষণের ভার তাকে দেওয়া হয়েছিল, তাদের মাঝে সে কি আল্লাহর বিধান কায়েম করেছিল নাকি তা নষ্ট করেছিল? আর কোনো বিষয়কে অযোগ্য ব্যক্তির নিকট ন্যস্ত করা হলো সবচেয়ে বড় বিনষ্টকারী কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
1 - ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا أَبُو زُرْعَةَ الدِّمَشْقِيُّ، ثنا أَبُو الْيَمَانِ، أَبنا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالْإِمَامُ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ»
1 - সুলাইমান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জুরআ আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব ইবনে আবি হামজা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যুহরি থেকে বর্ণিত, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «তোমাদের প্রত্যেকেই রাখাল (দায়িত্বশীল), এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সুতরাং ইমাম একজন রাখাল (দায়িত্বশীল) এবং তিনি তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
3 - ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْمُزَكِّي، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُعَدِّلُ، قَالَا: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالْأَمِيرُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ» رَوَاهُ بُسْرُ بْنُ سَعِيدٍ، وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، وَوَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، مِثْلَهُ
৩ - ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুযাক্কী এবং ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুয়াদদিল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাক্বাফী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুতায়বা বিন সাঈদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সা’দ, নাফি’ থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্বাধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সুতরাং মানুষের উপর নিযুক্ত আমীর একজন দায়িত্বশীল এবং তিনি তাঁর দায়িত্বাধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন।» এটি বর্ণনা করেছেন বুসর বিন সাঈদ, যায়েদ বিন আসলাম এবং ওয়াহাব বিন কায়সান; তাঁরা ইবনে উমর থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ৯২)
6 - ثنا أَبِي، ثنا عَبْدَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى الْخَزَّازُ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبَّادٍ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ ⦗ص: 93⦘ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْأَمِيرُ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَأَعِدُّوا لِتِلْكَ الْمَسَائِلِ جَوَابًا» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا جَوَابُهَا؟ قَالَ: «أَعْمَالُ الْبِرِّ» قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: وَالْعَبْدُ لَا يُنَجِّيهِ مِنَ اللَّوْمِ وَالْعَذْلِ إِلَّا الِاسْتِقَامَةُ وَالْعَدْلُ
৬ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-খাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৯৩⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের প্রত্যেকেই রাখাল (দায়িত্বশীল), আর তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। আমির (নেতা) একজন রাখাল এবং সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সুতরাং তোমরা সেই প্রশ্নগুলোর জন্য উত্তর প্রস্তুত করো» তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলোর উত্তর কী? তিনি বললেন: «সৎকর্মসমূহ»। আবু নুআইম বলেন: অবিচলতা এবং ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত কোনো কিছুই বান্দাকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা থেকে মুক্তি দিতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
7 - ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الْهَيْثَمِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْعَوَّامِ، ح وَثَنًا فَارُوقٌ الْخَطَّابِيُّ، وَحَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَا: ثنا مُسْلِمٌ ⦗ص: 97⦘ اللَّيْثِيُّ، قَالَا: ثنا أَبُو عَاصِمٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ أَمِيرِ عَشَرَةٍ إِلَّا يُؤْتَى بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَغْلُولًا حَتَّى يَفُكُّهُ عَنْهُ الْعَدْلُ أَوْ يُوبِقُهُ الْجَوْرُ»
৭ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন আল-হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবিল আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; এবং ফারুক আল-খাত্তাবি ও হাবিব ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: মুসলিম ⦗পৃষ্ঠা: ৯৭⦘ আল-লায়সি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আজলান তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দশজন ব্যক্তির এমন কোনো আমীর নেই যাকে কিয়ামতের দিন শিকলবদ্ধ অবস্থায় উপস্থিত করা হবে না; অবশেষে তাঁর ন্যায়বিচার তাকে মুক্ত করবে অথবা তাকে ধ্বংস করবে অবিচার।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
8 - ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ⦗ص: 100⦘: «مَا مِنْ أَمِيرِ عَشَرَةٍ إِلَّا يُؤْتَى بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَدُهُ مَغْلُولَةٌ إِلَى عُنُقِهِ فَيَفُكُّهُ عَدْلُهُ أَوْ يُهْلِكُهُ جَوْرُهُ» قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: وَوَالِي الْوُلَاةِ زَادَ اللَّهُ عُلَاهُ عُلُوًّا وَبَهَاءَهُ سُمُوًّا ⦗ص: 101⦘ وَبِالنَّظَرِ فِي أَمْرِ رَعِيَّتِهِ حَتَّى لَا يَخْفَى عَلَيْهِ أَنَّ التَّقْلِيدَ لِلْحِسْبَةِ لَا يَسْتَحِقُّهَا إِلَّا الْكَامِلُ فِي فُنُونِ الْفَضْلِ، وَالْحَامِلُ لِعُيُونِ الْعَدْلِ، وَمَنْ كَانَ بِشَرَائِطِهَا وَمَعَالِمِهَا جَاهِلًا كَيْفَ يَكُونُ لِأَثْقَالِهَا حَامِلًا، وَفِي إِقَامَةِ حُدُودِهَا عَادِلًا، وَأَنْهَى إِلَى عَالِي الْحَضَرَةِ الْمَحْرُوسَةَ رَعَاهَا اللَّهُ تَعَالَى عز وجل بَعْضَ الْمَأْثُورِ عَنِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ وَفِي مَعْنَاهُ
৮ - সুলাইমান ইবন আহমদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ ইবন আবি হিন্দ আল-মাদানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, নাফে' থেকে বর্ণিত, ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১০০⦘: «এমন কোনো দশ জনের আমীর বা নেতা নেই যাকে কিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে না এমন অবস্থায় যে, তার হাত তার ঘাড়ের সাথে শিকলবদ্ধ থাকবে; অতঃপর তার ন্যায়বিচার তাকে মুক্ত করবে অথবা তার অবিচার তাকে ধ্বংস করবে।» আবু নুআইম বলেন: আর শাসকদের শাসক—আল্লাহ তাঁর উচ্চ মর্যাদাকে আরও বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর মহিমাকে আরও সমুন্নত করুন— ⦗পৃষ্ঠা: ১০১⦘ এবং তাঁর প্রজাদের বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে (এটি স্পষ্ট) যে, হিসবাহ বা তদারকির দায়িত্ব অর্পণের যোগ্য কেবল তিনিই হতে পারেন যিনি শ্রেষ্ঠত্বের সকল শাখায় পূর্ণতা লাভ করেছেন এবং যিনি ন্যায়বিচারের মূলধারাকে ধারণ করেন। আর যে ব্যক্তি এর শর্তাবলি ও নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ, সে কীভাবে এর গুরুভার বহন করবে এবং এর বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠায় ন্যায়নিষ্ঠ হবে? আর আমি উচ্চতর সুরক্ষিত দরবারে—আল্লাহ তাআলা মহান ও পরাক্রমশালী সেটি রক্ষা করুন—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই বিষয়ে এবং এর সমার্থবোধক কিছু বর্ণিত হাদীস পেশ করছি।
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১০১)
9 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، ثنا أَبُو شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ⦗ص: 102⦘ الْحَسَنِ، ثنا جَدِّي أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ، ثنا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ: قَالَ لِي أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه حِينَ بَعَثَنِي إِلَى الشَّامِ: يَا يَزِيدُ إِنَّ لَكَ قَرَابَةً خَشِيتُ أَنْ تُؤْثِرَهُمْ بِالْإِمَارَةِ، وَذَلِكَ أَكْثَرُ مَا أَخَافُ عَلَيْكَ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ شَيْئًا فَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أَحَدًا مُحَابَاةً لَهُ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلَا عَدْلًا، وَمَنْ أَعْطَى أَحَدًا مِنْ مَالِ اللَّهِ شَيْئًا فَحَابَاهُ؛ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ» أَوْ قَالَ: «بَرَأَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ»
৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব আল-হাররানী আবদুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ আল-হাসান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার দাদা আহমদ ইবনে আবু শুআইব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে আ’য়ান, বকর ইবনে খুনাইস থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান থেকে, তিনি রাজা ইবনে হাইওয়াহ থেকে, তিনি জুনাদাহ ইবনে আবু উমাইয়াহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন আমাকে শামের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করলেন তখন আমাকে বললেন: হে ইয়াজিদ, তোমার কিছু আত্মীয়-স্বজন রয়েছে, আমি আশঙ্কা করছি যে তুমি হয়তো নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেবে, আর এটাই তোমার ব্যাপারে আমার সবচাইতে বড় ভয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত হয় এবং এরপর স্বজনপ্রীতির বশবর্তী হয়ে কাউকে তাদের ওপর আমির নিযুক্ত করে, আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না; এবং যে ব্যক্তি কাউকে আল্লাহর সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করল এবং তাতে স্বজনপ্রীতি করল, তবে তার ওপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ)।’ অথবা তিনি বলেছেন: ‘তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি (নিরাপত্তা) তুলে নেয়া হয়েছে।’
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১০২)
ثنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْوَرَّاقُ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْقَافِلَّائِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ وَهْبٍ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ الْفَضْلِ، ثنا الْقَاسِمُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ: شَيَّعَنِي أَبُو بَكْرٍ حِينَ بَعَثَنِي إِلَى الشَّامِ فَقَالَ ⦗ص: 103⦘: يَا يَزِيدُ إِنَّكَ عَلَى مَحَبَّةِ ذَوِي قَرَابَتِكَ، وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ وَلَّى ذَا قَرَابَةٍ لَهُ مُحَابَاةً وَهُوَ يَجِدُ خَيْرًا مِنْهُ لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ»
আবু আলী আল-হাসান ইবনে আলী আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে সুলাইমান আল-কাফিল্লায়ী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনুল ফজল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি মুসা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি জুনাদাহ ইবনে আবু উমাইয়াহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর আমাকে শামের উদ্দেশ্যে পাঠানোর সময় বিদায় জানাতে আসলেন এবং বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ১০৩⦘: হে ইয়াজিদ, নিশ্চয়ই তোমার মাঝে আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি পক্ষপাতিত্ববশত তার কোনো আত্মীয়কে দায়িত্ব প্রদান করে অথচ সে তার চেয়ে উত্তম কাউকে খুঁজে পায়, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
11 - ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ الصَّلْتِ، قَالَ: ثنا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، ثنا جَرْوَلُ بْنُ جَيْفَلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمَهْدِيَّ، أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَقَدْ شُكِيَ وَالٍ مِنْ وُلَاتِهِ وَكَتَبَ صَاحِبُ الْبَرِيدِ وَصُلَحَاءُ الْكُورَةِ بِمَا ذَكَرَهُ الْقَوْمُ، فَقَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَلَّى وَالِيًا فَبَلَغَهُ عَنْهُ ظُلْمٌ لِرَعِيَّتِهِ فَلَمْ يَعْزِلْهُ، فَقَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ»
১১ - আবু বকর ইবনে খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে কাসির ইবনুল সালত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারওয়াল ইবনে জাইফাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমিরুল মুমিনিন আল-মাহদীকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁর জনৈক গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল এবং ডাকবিভাগের প্রধান ও জনপদের নেককার ব্যক্তিবর্গ লোকেরা যা উল্লেখ করেছিল সে বিষয়ে লিখে পাঠিয়েছিলেন—তখন তিনি বললেন: আমার পিতা আমার নিকট তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কাউকে গভর্নর নিযুক্ত করল, অতঃপর তার পক্ষ থেকে প্রজাদের ওপর জুলুমের সংবাদ তার নিকট পৌঁছাল অথচ সে তাকে অপসারিত করল না, তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খিয়ানত করল।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
12 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ اللَّيْثِ ⦗ص: 109⦘ الْجَوْهَرِيُّ، ثنا شُعَيْبُ بْنُ سَلَمَةَ، ثنا عِصْمَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «أَيُّمَا وَالٍ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ» قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: وَتَقْرِيرُ الْجَاهِلِينَ وَالْجَائِرِينَ فِي تَوْلِيَتِهِمْ بَعْدَ الْوُقُوفِ عَلَيْهِمْ أَعْظَمُ الْغِشِّ، وَالْوَالِي إِذَا أَنْصَفَ الضَّعِيفَ مِنَ الْقَوِيِّ رَافَقَ النَّبِيِّينَ فِي أَعْلَى عِلِّيِّينَ
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে লাইস ⦗পৃষ্ঠা: ১০৯⦘ আল-জাওহারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব ইবনে সালামাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমা ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে উকবা, কাসিম ইবনে মুহাম্মদ হতে, আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যেকোনো শাসক আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে সে তার প্রজাদের সাথে প্রতারণা করেছে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ হারাম করে দেবেন।’ আবু নুআইম বলেন: এবং অজ্ঞ ও অত্যাচারী ব্যক্তিদের স্বরূপ জানার পর তাদেরকে তাদের পদে বহাল রাখা হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রতারণা। আর শাসক যখন সবল থেকে দুর্বলের পাওনা আদায় করে ন্যায়বিচার করবেন, তখন তিনি ইল্লিয়্যিনের সর্বোচ্চ স্তরে নবীদের সঙ্গী হবেন।
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১১১)
13 - ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْعَطَّارُ الْكُوفِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْهَاشِمِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرِ بْنِ شَرِيكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ⦗ص: 112⦘: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِي شَيْئًا فَحَسُنَتْ سَرِيرَتُهُ رُزِقَ الْهَيْبَةَ، وَإِذَا بَسَطَ يَدَهُ بِالْمَعْرُوفِ رُزِقَ الْمَحَبَّةَ، وَإِذَا عَدَلَ زِيدَ فِي عُمُرِهِ، وَإِذَا أَنْصَفَ الضَّعِيفَ مِنَ الْقَوِيِّ كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ» ، وَأَشَارَ بِأُصْبُعَيْهِ السَّبَّابَةِ ⦗ص: 113⦘ وَالْوُسْطَى
১৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আব্দুল হামীদ আল-আত্তার আল-কুফি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-আব্বাস আল-হাশেমি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে বিশর ইবনে শারিক, আব্দুর রহমান ইবনে শারিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১১২⦘: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলো এবং তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা সুন্দর হলো, তাকে গাম্ভীর্য দান করা হয়; আর যখন সে সৎকাজে তার হাত প্রসারিত করে, তাকে ভালোবাসা দান করা হয়; আর যখন সে ন্যায়বিচার করে, তার আয়ু বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়; আর যখন সে দুর্বলের প্রতি সবলের পক্ষ থেকে ইনসাফ করে, সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে।» এবং তিনি তাঁর তর্জনী ⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘ ও মধ্যমা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
14 - ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْعُصْفُرِيُّ، قَالَ: ثنا ⦗ص: 115⦘ يَزِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَرَاءِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الشَّيْبَانِيُّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خُثَيْمِ بْنِ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ وِلَايَةً، وَكَانَتْ نِيَّتُهُ الْحَقُّ وُكِّلَ بِهِ ⦗ص: 116⦘ مَلَكَانِ يُوَفِّقَانِهِ وَيُرْشِدَانِهِ، وَمَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ وِلَايَةً، وَكَانَتْ نِيَّتُهُ غَيْرَ الْحَقِّ، وَكَّلَهُ اللَّهُ إِلَى نَفْسِهِ» قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: وَكَمَا أَنَّ إِقَامَةَ الْعَدْلِ أَحْرَى مِنْ عِبَادَةِ الدُّهُورِ وَالْأَعْوَامِ، كَذَلِكَ تَمْكِينُ الْجَاهِلِينَ وَالْجَائِرِينَ أَرْبَى مِنْ عِصْيَانِ الشُّهُورِ وَالْأَعْوَامِ
১৪ - আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আল-উসফুরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ১১৫⦘ ইয়াজিদ ইবনে আমর ইবনুল বারা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-শাইবানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে খুসাইম ইবনে ইরাক ইবনে মালিক তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের কোনো বিষয়ের কর্তৃত্ব লাভ করে এবং তার নিয়ত যদি সত্য (হক) বজায় রাখা হয়, তবে তার প্রতি ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘ দুজন ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয় যারা তাকে তাওফিক দান করেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর যে ব্যক্তি মানুষের কোনো বিষয়ের কর্তৃত্ব লাভ করে এবং তার নিয়ত সত্যের পরিপন্থী হয়, আল্লাহ তাকে তার নিজের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন।" আবু নুআইম বলেন: "যেমনভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যুগ যুগ ধরে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম, তেমনিভাবে মূর্খ ও অত্যাচারীদের ক্ষমতায়ন করা দীর্ঘ সময়ের অবাধ্যতা বা পাপাচারের চেয়েও গুরুতর।"
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
15 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ⦗ص: 117⦘ عَبْدِ السَّلَامِ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ يَزِيدَ، ثنا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَدْلُ سَاعَةٍ خَيْرٌ مِنْ عِبَادَةِ سِتِّينَ سَنَةً، قِيَامَ لَيْلِهَا، وَصِيَامَ نَهَارِهَا، وَجَوْرُ سَاعَةٍ فِي حُكْمٍ أَشَدُّ وَأَعْظَمُ مِنْ مَعْصِيَةِ سِتِّينَ سَنَةً»
১৫ - মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘ আব্দুস সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ঈসা ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আবি সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «এক মুহূর্তের ন্যায়বিচার ষাট বছরের ইবাদত—যার রাতগুলোতে কিয়াম এবং দিনগুলোতে সিয়াম পালন করা হয়—তার চেয়েও উত্তম; আর বিচারকার্যে এক মুহূর্তের জুলুম যা ষাট বছরের নাফরমানি অপেক্ষা অধিক ভয়াবহ ও গুরুতর নাফরমানি।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
16 - ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ ⦗ص: 118⦘ بْنُ يُونُسَ، ثنا سَعْدٌ أَبُو غَيْلَانَ الشَّيْبَانِيُّ، ثنا عَفَّانُ بْنُ جُبَيْرٍ الطَّائِيُّ، عَنْ أَبِي حَرِيزٍ الْأَزْدِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 119⦘: «يَوْمٌ مِنْ إِمَامٍ عَادِلٍ أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ سِتِّينَ سَنَةً، وَحَدٌّ يُقَامُ فِي الْأَرْضِ أَزْكَى فِيهَا مِنْ قَطْرِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا»
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ⦗পৃষ্ঠা: ১১৮⦘ বিন ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দ আবু গাইলান আশ-শায়বানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান বিন জুবায়ের আত-তাই, আবু হারিজ আল-আজদি থেকে বর্ণিত, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১১৯⦘: «একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকের একটি দিন ষাট বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। আর জমিনে একটি দণ্ডবিধি (হদ) কার্যকর করা সেখানে চল্লিশ দিনের বৃষ্টির চেয়েও অধিক পবিত্রকারী।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
17 - ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، ثنا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، ثنا أَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ، ثنا هُشَيْمٌ، عَنْ زِيَادِ بْنِ مِخْرَاقٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَعَمَلُ الْعَادِلِ فِي رَعِيَّتِهِ يَوْمًا وَاحِدًا أَفْضَلُ مِنْ عَمَلِ الْعَابِدِ فِي أَهْلِهِ مِائَةَ عَامٍ أَوْ خَمْسِينَ عَامًا» الشَّكُّ مِنْ هُشَيْمٍ
১৭ - আমাদের নিকট আবু বকর বিন খাল্লাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হারিস বিন আবি উসামাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু উবাইদ কাসিম বিন সাল্লাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি জিয়াদ বিন মিখরাক থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «প্রজাদের মাঝে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির একদিনের আমল, তার পরিবারের মাঝে অবস্থানরত একজন ইবাদতকারীর একশত বছর বা পঞ্চাশ বছরের আমলের চেয়েও উত্তম» এই সন্দেহটি হুশাইমের পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
18 - ثنا جَابِرُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي عَاصِمٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ رَجَاءٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي نُصَيْرَةَ الْعَبْدِيِّ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ، وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْوَالِي الْعَادِلُ الْمُتَوَاضِعُ ظِلُّ اللَّهِ وَرُمْحُهُ فِي الْأَرْضِ، فَمَنْ نَصَحَهُ فِي نَفْسِهِ وَفِي عِبَادِ اللَّهِ حَشَرَهُ اللَّهُ فِي وَفْدِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ، وَمَنْ ⦗ص: 126⦘ غَشَّهُ فِي نَفْسِهِ وَفِي عِبَادِ اللَّهِ خَذَلَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ، قَالَ: «وَيُرْفَعُ لِلْوَالِي الْعَادِلِ الْمُتَوَاضِعِ كُلَّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ عَمَلُ سِتِّينَ صَدِّيقًا، كُلُّهُمْ عَابِدٌ مُجْتَهِدٌ» قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: وَلِلْعَادِلِينَ مِنَ الْوُلَاةِ الدَّرَجَةُ الرَّفِيعَةُ وَالْإِجَابَةُ السَّرِيعَةُ
১৮ - জাবির ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি আসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আউফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইমরান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে রাজা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আবু নুসায়রা আল-আবদি থেকে, তিনি আবু রাজা আল-উতারিদি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকরকে মিম্বারে থাকা অবস্থায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «ন্যায়পরায়ণ ও বিনয়ী শাসক হলো যমীনে আল্লাহর ছায়া এবং তাঁর বর্শা। সুতরাং যে ব্যক্তি তার নিজের ব্যাপারে এবং আল্লাহর বান্দাদের ব্যাপারে তাকে সদুপদেশ দেবে, আল্লাহ তাকে তাঁর প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশর করবেন এমন দিনে যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। আর যে ব্যক্তি ⦗পৃষ্ঠা: ১২৬⦘ নিজের ব্যাপারে এবং আল্লাহর বান্দাদের ব্যাপারে তার সাথে প্রতারণা করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেবেন।» তিনি বলেন: «ন্যায়পরায়ণ ও বিনয়ী শাসকের জন্য প্রতিদিন এবং প্রতি রাতে ষাটজন সিদ্দীকের আমল উপরে উঠানো হয়, যাদের প্রত্যেকেই পরিশ্রমী ইবাদতকারী।’ আবু নুআইম বলেন: ‘শাসকদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ, তাদের জন্য রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা এবং দ্রুত দোয়া কবুল হওয়ার সৌভাগ্য।’
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
19 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، ثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، ثنا الْفُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ وَأَقْرَبَهُمْ مِنْهُ مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِمَامٌ عَادِلٌ، وَأَبْغَضَ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَشَدَّهُمْ عَذَابًا إِمَامٌ جَائِرٌ»
১৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বিশর ইবন মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ফুদাইল ইবন মারজুক বর্ণনা করেছেন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ এবং তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী আসনে অবস্থানকারী ব্যক্তি হলেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক; আর কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপ্রিয় মানুষ এবং সবচেয়ে কঠোর আযাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন একজন অত্যাচারী শাসক।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
20 - ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ الثَّقَفِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمُقْسِطُونَ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، هُمُ الَّذِينَ يَعْدِلُونَ فِي حُكْمِهِمْ وَأَهْلِهِمْ وَمَا وَلُوا»
২০ - আমাদের নিকট আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আমর ইবনে আওস আস-সাকাফী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, যিনি হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন (অর্থাৎ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন), তিনি বলেছেন: «ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ নূরের মিম্বারসমূহের ওপর অবস্থান করবেন; তারা হলেন সেই সব লোক যারা তাদের বিচারকার্যে, তাদের পরিবার-পরিজন এবং যে সকল বিষয়ের তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছে সে ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করে থাকে।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
21 - ثنا حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الْمُقْسِطِينَ فِي الدُّنْيَا عَلَى مَنَابِرَ مِنْ لُؤْلُؤٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بَيْنَ يَدَيِ الرَّحْمَنِ بِمَا أَقْسَطُوا فِي الدُّنْيَا»
২১ - হাবিব ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনু ইসহাক আল-কাজী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আ'লা ইবনু আব্দুল আ'লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই দুনিয়াতে ইনসাফকারীরা কিয়ামতের দিন রহমানের দুই হাতের সামনে মুক্তার মিম্বরসমূহের উপরে থাকবে, যেহেতু তারা ইনসাফ করেছিল দুনিয়াতে।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
22 - ثنا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْقَاضِي، ثنا أَبَانُ بْنُ مَخْلَدٍ، ثنا أَبُو غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا الْحَكَمُ بْنُ بَشِيرٍ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ الْمُقْسِطُونَ»
২২ - আমাদের নিকট আবু আহমাদ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন ইবরাহীম আল-কাদী হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবান ইবন মাখলাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু গাসসান মুহাম্মাদ ইবন আমর হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাকাম ইবন বাশীর হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবন বাশীর হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ শহীদ হলেন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
23 - ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، ثنا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، وَثَنًا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، ثنا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، ثنا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَا: ثنا زُهَيْرٌ أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: ثنا سَعْدٌ الطَّائِيُّ، ثنا أَبُو الْمُدِلَّةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمُ: الْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَالصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ تُحْمَلُ عَلَى الْغَمَامِ، وَتُفْتَحُ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَيَقُولُ الرَّبُّ: وَعِزَّتِي لَأَنْصُرَنَّكَ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ "
২৩ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন হাবীব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি; এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন খাল্লাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন আবি উসামা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আসিম বিন আলী। তারা উভয়ই বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জুহাইর আবু খাইসামা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সা’দ আত-তায়ি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-মুদিল্লাহ যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোযাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে এবং মজলুমের দোয়া যা মেঘমালার উপরে বহন করা হয়, আর তার জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং রব বলেন: 'আমার ইজ্জতের (মর্যাদার) কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, যদিও তা কিছুকাল পরেই হোক'।"
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
24 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، وَحَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ، وَالْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَيْسَانَ، قَالُوا: ثنا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، ثنا حُمَيْدُ بْنُ الْأَسْوَدِ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " ثَلَاثَةُ لَا يُرَدُّ دُعَاؤُهُمُ: الذَّاكِرُ لِلَّهِ كَثِيرًا، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ، وَدَعْوَةُ الْإِمَامِ الْمُقْسِطِ "
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবনুল হাসান, হাবীব ইবনুল হাসান এবং হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন কায়সান; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবন ইয়াকুব আল-কাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আবু বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ ইবনুল আসওয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ ইবন আবি হিন্দ, তিনি শারীক ইবন আবু নামির থেকে, তিনি আতা ইবন ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: " তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: আল্লাহকে অত্যধিক স্মরণকারী, মজলুমের দোয়া এবং ইমামের ন্যায়পরায়ণ দোয়া।"
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
25 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ غَالِبٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: ثنا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، ثنا عُمَرُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ دَرَجَةً لَا يَبْلُغُهَا إِلَّا إِمَامٌ عَادِلٌ، أَوْ ذُو رَحِمٍ وَصُولٌ، أَوْ ذُو عِيَالٍ صَبُورٌ» ، فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا صَبْرُ ذِي الْعِيَالِ؟ قَالَ: «لَا يَمُنُّ عَلَى أَهْلِهِ مَا يُنْفِقُ عَلَيْهِمْ»
25 - মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে গালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বকর ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে হারমালাহ থেকে, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন একটি মর্যাদা রয়েছে যেখানে কেবল ন্যায়পরায়ণ শাসক, অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী, অথবা ধৈর্যশীল পরিবার-পরিজন সম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ পৌঁছাতে পারবে না; তখন আলী তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! পরিবার-পরিজন সম্পন্ন ব্যক্তির ধৈর্য কী? তিনি বললেন: «সে তার পরিবারের জন্য যা খরচ করে, তার জন্য তাদের নিকট অনুগ্রহ প্রকাশ করে না (বা খোঁটা দেয় না)»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
26 - ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، ثنا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، ثنا عَبَّاسُ بْنُ الْفَضْلِ، ثنا هَمَّامٌ، ثنا قَتَادَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يَزِيدُ، أَخُو مُطَرِّفٍ عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، قَالَ ⦗ص: 136⦘: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " أَهْلُ الْجَنَّةِ ثَلَاثَةٌ: ذُو سُلْطَانٍ مُقْسِطٌ مُصَدِّقٌ مُوَفَّقٌ، وَرَجُلٌ رَحِيمُ الْقَلْبِ بِكُلِّ ذِي قُرْبَى وَمُسْلِمٍ، وَرَجُلٌ فَقِيرٌ عَفِيفٌ مُصَدِّقٌ "
২৬ - আবু বকর ইবনে খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস ইবনে আবি উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনুল ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতাররিফের ভাই ইয়াজিদ আমাকে অবহিত করেছেন ইয়াদ ইবনে হিমার থেকে, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৬⦘: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "জান্নাতবাসী তিন শ্রেণির লোক: ন্যায়পরায়ণ শাসক, যিনি সত্যনিষ্ঠ ও (নেক কাজের) তাওফিকপ্রাপ্ত; এমন ব্যক্তি যিনি প্রত্যেক নিকটাত্মীয় ও মুসলিমের প্রতি দয়ার্দ্র হৃদয়ের অধিকারী; এবং এমন দরিদ্র ব্যক্তি যিনি পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ও সত্যনিষ্ঠ।"
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
27 - ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ الْخَالِقِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوَابٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزٍ، عَنِ ابْنِ سَابِطٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 137⦘: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ قَصْرًا، حَوْلَهُ الْبُرُوجُ وَالْمُرُوجُ، لَهُ خَمْسَةُ آلَافِ بَابٍ، لَا يَدْخُلُهُ أَوْ لَا يَسْكُنُهُ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ أَوْ إِمَامٌ عَادِلٌ»
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন আমর ইবন আব্দুল খালিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন সাওয়াব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন হুরমুজ, ইবন সাবিত থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৭⦘: «নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন একটি প্রাসাদ রয়েছে যার চারপাশে রয়েছে সুউচ্চ মিনার ও চারণভূমি, এর পাঁচ হাজার দরজা রয়েছে; কোনো নবী, সিদ্দিক, শহীদ অথবা ন্যায়পরায়ণ শাসক ব্যতীত অন্য কেউ সেখানে প্রবেশ করবে না অথবা বসবাস করবে না।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
28 - ثنا أَبُو يَزِيدَ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ بِالْكُوفَةِ قَالَ: ثنا سُمَيْعُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يُقَالُ لِلْإِمَامِ الْعَادِلِ فِي قَبْرِهِ: أَبْشِرْ، فَإِنَّكَ رَفِيقُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم " قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: وَمِنْ سَعَادَةِ الْوُلَاةِ وَالْأُمَرَاءِ أَنْ يُقَيَّضَ لَهُمُ الصُّلَحَاءُ مِنَ الْوُزَرَاءِ
২৮ - কুফার আবু ইয়াজিদ মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আলী আত-তামীমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুমাই ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট রিশদীন ইবনে সা'দ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি উতবাহ ইবনে হুমাইদ থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে নুসায় থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানাম থেকে, তিনি মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: " ন্যায়পরায়ণ ইমামকে তার কবরে বলা হবে: সুসংবাদ গ্রহণ করো, কেননা তুমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গী।" আবু নুআইম বলেন: এবং শাসক ও নেতৃবৃন্দের সৌভাগ্যের অন্যতম কারণ হলো তাদের জন্য নেককার মন্ত্রীবর্গ নির্ধারণ করে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
29 - ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ، ثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا فَرَّجُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ أَعْظَمَ أَجْرًا مِنْ وَزِيرٍ صَالِحٍ يَكُونُ مَعَ إِمَامٍ فَيَأْمُرَهُ بِذَاتِ اللَّهِ فَيُطِيعُهُ»
29 - আবু বকর বিন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফাররাজ বিন ফাদালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «মানুষের মধ্যে এমন কেউ নেই যার প্রতিদান সেই সৎ মন্ত্রীর চেয়ে অধিক মহান, যে কোনো ইমামের সাথে থাকে এবং তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে আদেশ প্রদান করে অতঃপর সে তার আনুগত্য করে।»
(খণ্ড: ১)
ফযীলতুল আদিলীনা মিনাল উলাতি লি-আবী নুআইম
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
30 - وَبِإِسْنَادِهِ سَوَاءً قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ أَحَدٍ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ أَمْرًا، فَأَرَادَ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا، إِلَّا جَعَلَ مَعَهُ وَزِيرًا صَالِحًا إِنْ نَسِيَ ذَكَّرَهُ وَإِنْ ذَكَرَ أَعَانَهُ» قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: وَمَنْ نَصَحَ الْوُلَاةَ وَالْأُمَرَاءَ اهْتَدَى وَمَنْ غَشَّهُمْ غَوَى وَاعْتَدَى
৩০ - এবং তাঁর একই সনদে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখনই কোনো ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয় এবং আল্লাহ তার মঙ্গলের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার জন্য একজন সৎ উজির (সহযোগী) নির্ধারণ করে দেন; যদি সে (কর্তব্য) ভুলে যায় তবে সে তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং যদি তার স্মরণ থাকে তবে সে তাকে সহায়তা করে।" আবু নুআইম বলেন: "যে ব্যক্তি শাসক ও নেতৃবর্গকে সদুপদেশ প্রদান করে সে সুপথপ্রাপ্ত হয়, আর যে তাদের সাথে প্রতারণা করে সে বিভ্রান্ত হয় ও সীমালঙ্ঘন করে।"