(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل الأوقات للبيهقي (أبو بكر البيهقي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: فضائل الأوقات
المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (ت 458هـ)
المحقق: عدنان عبد الرحمن مجيد القيسي
الناشر: مكتبة المنارة - مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1410
عدد الصفحات: 537
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফাদাইলুল আওকাত - বায়হাকী (আবু বকর আল-বায়হাকী)
বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
কিতাব: ফাদাইলুল আওকাত (সময়ের ফযীলতসমূহ)
লেখক: আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মূসা আল-খুসরাওজিরদী আল-খুরাসানী, আবু বকর আল-বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)
তাহকীক: আদনান আব্দুর রহমান মাজীদ আল-কাইসী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানারা - মক্কা আল-মুকাররামা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৭
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٧٧)
بَابٌ فِي فَضْلِ شَهْرِ رَجَبٍ اعْلَمْ أَنَّ شَهْرَ رَجَبٍ مِنَ الْأَشْهُرِ الْحُرُمِ الَّتِي قَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ} الْآيَةَ
রজব মাসের মর্যাদা বিষয়ক পরিচ্ছেদ। জেনে রাখুন যে, রজব মাস হলো সেই সম্মানিত মাসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যে সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিকট আল্লাহর কিতাবে মাসের সংখ্যা হলো বারোটি, যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; তার মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। অতএব তোমরা এই মাসগুলোর মধ্যে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।" (আয়াতাংশ)
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٧٧)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَدْيِبُ، حَدَّثَنَا الْإِسْمَاعِيلِيُّ، أَنبَأَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلَاثٌ مُتَوَالِيَاتٌ: ذُو الْقِعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ، وَرَجَبٌ شَهْرُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ "
১ - আবু আমর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আদীব আমাদের জানিয়েছেন, আল-ইসমাইলী আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-ফিরইয়াবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, আবু বাকরাহ থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সময় আবর্তিত হয়ে তার সেই অবস্থায় ফিরে এসেছে, যেদিন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছিলেন। বছর হলো বারো মাসে, যার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি মাস হলো ধারাবাহিক: যুল-ক্বাদাহ, যুল-হিজ্জাহ ও মহররম; আর (অন্যটি হলো) মুদার গোত্রের রজব মাস, যা জুমাদা ও শাবানের মধ্যবর্তী।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٨٠)
2 - أَنبأَنَا أَبُو زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ الْمُزَكِّي، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ الطَّرَائِفِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي ⦗ص: 81⦘ قَوْلِهِ عز وجل: {إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ} [التوبة: 36] إِلَى قَوْلِهِ: {مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ} [التوبة: 36] قَالَ: لَا تَظْلِمُوا أَنْفُسَكُمْ فِي كُلِّهِنَّ، ثُمَّ اخْتَصَّ مِنْ ذَلِكَ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ فَجَعَلَهُنَّ حُرُمًا وَعَظَّمَ حُرُمَاتِهِنَّ وَجَعَلَ الذَّنْبَ فِيهِنَّ أَعْظَمَ، وَالْعَمَلَ الصَّالِحَ وَالْأَجْرَ أَعْظَمَ قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: وَكَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يُعَظِّمُونَ هَذِهِ الْأَشْهُرَ، وَخَاصَّةً شَهْرَ رَجَبٍ فَكَانُوا لَا يُقَاتِلُونَ فِيهِنَّ
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া বিন আবি ইসহাক আল-মুজাক্কি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আত-তারায়েফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন সালিহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুআবিয়াহ বিন সালিহ, ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৮১⦘ আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা আল্লাহর কিতাবে বারো মাস} [আত-তাওবাহ: ৩৬] তাঁর এই কথা পর্যন্ত: {তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং তোমরা এর মধ্যে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।} [আত-তাওবাহ: ৩৬]। তিনি বলেন: তোমরা এই সবগুলোর মধ্যেই নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। অতঃপর তিনি তা থেকে চারটি মাসকে নির্দিষ্ট করেছেন এবং সেগুলোকে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন করেছেন। তিনি এগুলোর পবিত্রতাকে মহান করেছেন এবং এ মাসগুলোতে গুনাহকে বড় (জঘন্য) করেছেন এবং নেক আমল ও এর প্রতিদানকেও মহান করেছেন। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরাও এই মাসগুলোকে সম্মান করত, বিশেষ করে রজব মাসকে। তারা এই মাসগুলোতে যুদ্ধ করত না।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٨١)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، أَنبأَنَا ⦗ص: 82⦘ أَبُو عَمْرِو بْنُ السَّمَّاكِ، حَدَّثَنَا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيَّ يَقُولُ: كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا دَخَلَ رَجَبٌ نَقُولُ: جَاءَ مُنَصِّلُ الْأَسِنَّةِ لَا نَدَعُ حَدِيدَةً فِي سَهْمٍ وَلَا حَدِيدَةً فِي رُمْحٍ إِلَّا انْتَزَعْنَاهَا ⦗ص: 83⦘ فَأَلْقَيْنَاهَا
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান, আমাদের অবহিত করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৮২⦘ আবু আমর বিন আল-সাম্মাক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্বল বিন ইসহাক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান বিন আল-রাবি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মাহদী বিন মাইমুন, তিনি বলেন: আমি আবু রাজা আল-উতারিদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমরা জাহিলিয়্যাত যুগে যখন রজব মাস প্রবেশ করত তখন বলতাম: ‘বর্শার ফলক অপসারণকারী’ এসেছে। তখন আমরা তীরের কোনো লোহার ফলক কিংবা বর্শার কোনো লোহার ফলকই বাকি রাখতাম না বরং তা খুলে ফেলতাম ⦗পৃষ্ঠা: ৮৩⦘ এবং তা ফেলে দিতাম।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٨٣)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ بَيَانٍ، قَالَ: سَمِعْتُ قَيْسَ بْنَ أَبِي ⦗ص: 84⦘ حَازِمٍ وَذَكَرْنَا رَجَبًا فَقَالَ: كُنَّا نُسَمِّيهِ الْأَصَمَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، مِنْ حُرْمَتِهِ أَوْ شِدَّةِ حُرْمَتِهِ فِي أَنْفُسِنَا قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: إِنَّمَا كَانُوا يُسَمُّونَ رَجَبًا الْأَصَمَّ؛ لِأَنَّهُ كَانَ لَا يُسْمَعُ فِيهِ قَعْقَعَةُ السِّلَاحِ، وَقَدْ رُوِيَ فِيهِ حَدِيثٌ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ 5 - وَهُوَ مَا
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার আল-উতারিদি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুহাইর, বায়ান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কাইস ইবনে আবি ⦗পৃষ্ঠা: ৮৪⦘ হাযিমকে বলতে শুনেছি, আমরা রজব মাস সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম, তখন তিনি বললেন: আমরা জাহেলি যুগে একে ‘আল-আসাম্ম’ (বধির) বলে ডাকতাম, আমাদের অন্তরে এর সম্মান বা এর তীব্র সম্মানের কারণে। শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: তারা রজবকে ‘আল-আসাম্ম’ নামকরণ করত কেবল একারণে যে, এই মাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যেত না। আর এই বিষয়ে একটি দুর্বল সনদের হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ৫ - আর তা হলো
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٨٤)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَرَابِيسِيُّ، بِبُخَارَى، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ ⦗ص: 85⦘ الْحُسَيْنِ، وَإِسْحَاقُ بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا عِيسَى وَهُوَ الْعُنْجَارُ، عَنْ أَبْيَنَ بْنِ سُفْيَانَ، عَنْ غَالِبِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ رَجَبَ شَهْرُ اللَّهِ وَيُدْعَى الْأَصَمَّ، وَكَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا دَخَلَ رَجَبٌ يُعَطِّلُونَ ⦗ص: 86⦘ أَسْلِحَتَهُمْ وَيَضَعُونَهَا، فَكَانَ النَّاسُ يَأْمَنُونَ وَتَأْمَنُ السُّبُلُ، وَلَا يَخَافُونَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا حَتَّى يَنْقَضِيَ» قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: وَهَذَا الَّذِي يَرْوِي فِي هَذَا الْحَدِيثِ مَشْهُورٌ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالتَّوَارِيخِ، وَكَانَ كَذَلِكَ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ إِلَّا أَنْ يُقَاتِلُوا ثُمَّ أَذِنَ اللَّهُ تَعَالَى فِي قِتَالِ الْمُشْرِكِينَ فِي جَمِيعِ الْأَوْقَاتِ وَبَقِيَتْ حُرْمَةُ الْأَشْهُرِ الْحُرُمِ فِي تَضْعِيفِ الْأُجُورِ وَالْأَوْزَارِ فِيهِنَّ، حَتَّى خَصَّ اللَّهُ تَعَالَى هَذِهِ الْأُمَّةَ بِزِيَادَةِ الْمَنْعِ فِيهِنَّ عَنِ الظُّلْمِ؛ وَلِذَلِكَ غَلَّظَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه دِيَةَ مَنْ قُتِلَ خَطَأً فِي الْأَشْهُرِ الْحُرُمِ وَإِذَا كَانَ الذَّنْبُ فِيهِنَّ أَعْظَمَ وِزْرًا كَانَ الْبِرُّ فِيهِنَّ أَكْثَرَ أَجْرًا، وَقَدْ رَوَى فِي الصَّوْمِ فِي هَذِهِ الْأَشْهُرِ هُوَ مَا
আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে মুহাম্মদ আল-কারাবিসি বুখারাতে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাক্কি ইবনে খালাফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসর ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৮৫⦘ আল-হুসাইন ও ইসহাক ইবনে হামযাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা—যিনি আল-উনজার—তিনি আবইয়ান ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি গালিব ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই রজব হলো আল্লাহর মাস এবং একে 'আল-আসাম্ম' (বধির) বলা হয়। জাহেলি যুগের মানুষেরা যখন রজব মাস আসত, তখন ⦗পৃষ্ঠা: ৮৬⦘ তাদের অস্ত্রশস্ত্র অকেজো করে রেখে দিত। ফলে মানুষ নিরাপদ বোধ করত এবং রাস্তাঘাট নিরাপদ হতো এবং তারা মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত একে অপরকে ভয় করত না।» শাইখ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এই হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তা ইতিহাসবিদ আলেমগণের নিকট প্রসিদ্ধ। ইসলামের প্রারম্ভে বিষয়টি এমনই ছিল, তবে যদি তারা আক্রান্ত হতো (তবে ভিন্ন কথা)। এরপর আল্লাহ তাআলা সর্বাবস্থায় মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুমতি প্রদান করেন। তবে সম্মানিত মাসসমূহের পবিত্রতা ও মর্যাদা সওয়াব ও গুনাহ বহু গুণে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবশিষ্ট থাকে। এমনকি আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে এই মাসগুলোতে জুলুম করা থেকে বিশেষভাবে আরও কঠোরভাবে বারণ করেছেন। আর এ কারণেই ইমাম শাফিঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সম্মানিত মাসগুলোতে ভুলবশত নরহত্যার দিয়াত (রক্তপণ) বৃদ্ধি করেছেন। আর যখন এই মাসগুলোতে পাপের বোঝা অত্যন্ত গুরুতর হয়, তখন নেক আমলের সওয়াবও অনেক বেশি হয়। আর এই মাসগুলোতে রোজা রাখার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো...
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٨٦)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، قَالَ ⦗ص: 87⦘: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرُّوذْبَارِيُّ، وَاللَّفْظُ لَهُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاسَةَ، عَنْ أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْ مُجِيبَةَ ⦗ص: 88⦘ الْبَاهِلِيَّةِ، عَنْ أَبِيهَا أَوْ عَمِّهَا أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ انْطَلَقَ فَأَتَاهُ بَعْدَ سَنَةٍ وَقَدْ تَغَيَّرَتْ مَلَامِحُهُ وَهَيْئَتُهُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوَمَا تَعْرِفُنِي؟ قَالَ: «عَرِّفْ أَنْتَ» قَالَ: أَنَا الْبَاهِلِيُّ الَّذِي جِئْتُكَ عَامَ أَوَّلَ، قَالَ: «فَمَا غَيَّرَكَ، وَقَدْ كُنْتَ حَسَنَ الْهَيْئَةِ» قَالَ: مَا أَكَلْتُ طَعَامًا مُنْذُ فَارَقْتُكَ إِلَّا بِلَيْلٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «عَذَّبْتَ نَفْسَكَ» ثُمَّ قَالَ: «صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ» قَالَ: زِدْنِي فَإِنَّ بِي قُوَّةً، قَالَ: «صُمْ يَوْمَيْنِ» قَالَ: زِدْنِي فَإِنَّ بِي قُوَّةً، قَالَ: «صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ» قَالَ: زِدْنِي فَإِنَّ بِي قُوَّةً، قَالَ: «صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ، صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ» فَقَالَ بِأَصَابِعِهِ الثَّلَاثِ فَضَمَّهَا ثُمَّ أَرْسَلَهَا ⦗ص: 89⦘ قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: أَمْرُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَبَرِ أَمْرُ اسْتِحْبَابٍ أَنْ يَصُومَ مِنْ أَشْهُرِ الْحُرُمِ بَعْضًا وَيَتْرُكَ بَعْضًا، وَكَذَلِكَ كَانَ يَصُومُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ هَذِهِ الْأَشْهُرِ
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল ওয়াহহাব বিন আতা, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭⦘ বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাঈদ আল-জুরাইরি। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আর-রুজবারি, আর শব্দাবলি তার (রুজবারির), তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর বিন দাসাহ, তিনি আবু দাউদ থেকে, তিনি মুসা বিন ইসমাইল থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি সাঈদ আল-জুরাইরি থেকে, তিনি আবুস সালিল থেকে, তিনি মুজিবা ⦗পৃষ্ঠা: ৮৮⦘ আল-বাহিলিয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা অথবা তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসেছিলেন। অতঃপর তিনি চলে যান এবং এক বছর পর পুনরায় তাঁর নিকট ফিরে আসেন, তখন তাঁর চেহারার রং ও শারীরিক অবয়ব পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন না? তিনি বললেন: «তুমি তোমার পরিচয় দাও।» তিনি বললেন: আমি সেই বাহিলি ব্যক্তি, যে প্রথম বছর আপনার নিকট এসেছিল। তিনি বললেন: «কিসে তোমার এই পরিবর্তন ঘটাল? অথচ তুমি তো সুশ্রী ও সুঠাম ছিলে!» তিনি বললেন: আপনার নিকট থেকে বিদায় নেওয়ার পর রাত ছাড়া আমি কখনও কোনো খাবার খাইনি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি নিজেকে কষ্টে ফেলেছ (শাস্তি দিয়েছ)।» অতঃপর তিনি বললেন: «তুমি ধৈর্যের মাস (রমাদান) এবং প্রতি মাসে একদিন রোজা রাখো।» তিনি বললেন: আমার জন্য বাড়িয়ে দিন, কারণ আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেন: «দুই দিন রোজা রাখো।» তিনি বললেন: আমার জন্য আরও বাড়িয়ে দিন, কারণ আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেন: «তিন দিন রোজা রাখো।» তিনি বললেন: আমার জন্য আরও বাড়িয়ে দিন, কারণ আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেন: «সম্মানিত (হারাম) মাসগুলোতে রোজা রাখো এবং ছাড়ো, সম্মানিত মাসগুলোতে রোজা রাখো এবং ছাড়ো।» অতঃপর তিনি তাঁর তিনটি আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন, সেগুলো একত্রিত করলেন এবং ছেড়ে দিলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৮৯⦘ শায়খ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এই বর্ণনায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশটি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় হিসেবে গণ্য, যেন তিনি সম্মানিত মাসগুলোতে কিছু দিন রোজা রাখেন এবং কিছু দিন ছেড়ে দেন। আর এভাবেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মাসগুলোতে রোজা রাখতেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٨٩)
7 - أَخْبَرَنَا السَّيِّدُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ دَاوُدَ الْعَلَوِيُّ رحمه الله، أَنبأنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَلُّوَيْهِ الدَّقَّاقُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، قَالَ ⦗ص: 90⦘: سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، عَنْ صَوْمِ رَجَبٍ كَيْفَ تَرَى فِيهِ؟ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ: لَا يُفْطِرُ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ: لَا يَصُومُ وَقَالَ: وَقَدْ رُوِيَ فِي فَضِيلَةِ صَوْمِ رَجَبٍ أَحَادِيثُ فِي أَسَانِيدِهَا بَعْضُ الضَّعْفِ مِنْهَا مَا
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সাইয়্যিদ আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন দাউদ আল-আলাওয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন দাল্লুওয়াইহ আদ-দাক্কাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আজহার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ, উসমান বিন হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৯০⦘: আমি সাঈদ বিন জুবাইরকে রজব মাসের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: আমার নিকট ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে রোজা রাখতেন যে আমরা বলতাম: তিনি আর রোজা ভঙ্গ করবেন না, আবার এমনভাবে রোজা ভঙ্গ করতেন যে আমরা বলতাম: তিনি আর রোজা রাখবেন না। এবং তিনি বললেন: রজব মাসের রোজার ফজিলত সম্পর্কে এমন কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেগুলোর সনদে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যা...
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٩٠)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ ⦗ص: 91⦘ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رِزْقٍ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عِمْرَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ نَهْرًا يُقَالُ لَهُ: رَجَبٌ، أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، مَنْ صَامَ مِنْ رَجَبٍ يَوْمًا سَقَاهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ النَّهْرِ "
৮ - আবু আল-হুসাইন বিন বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আহমদ বিন সালমান ⦗পৃষ্ঠা: ৯১⦘ আল-ফকিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন গালিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন রিজক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মানসুর বিন যাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন ইমরান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি নদী রয়েছে যাকে 'রজব' বলা হয়, যা দুধের চেয়েও অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি। যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে সেই নদী থেকে পান করাবেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٩٢)
9 - وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ دَلَّانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْوَلِيدِ بْنُ شُجَاعٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَطَرٍ، عَنْ عَبْدِ الْغَفُورِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ سَعِيدٍ ⦗ص: 93⦘، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ يَوْمًا مِنْ رَجَبٍ كَانَ كَصِيَامِ سَنَةٍ، وَمَنْ صَامَ سَبْعَةَ أَيَّامٍ غُلِّقَتْ عَنْهُ سَبْعَةُ أَبْوَابِ جَهَنَّمَ، وَمَنْ صَامَ ثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، وَمَنْ صَامَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ لَمْ يَسْأَلِ اللَّهَ عز وجل شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ، وَمَنْ صَامَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا نَادَى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ قَدْ غُفِرَ لَكَ مَا سَلَفَ فَاسْتَأْنِفِ الْعَمَلَ قَدْ بُدِّلَتْ سَيِّئَاتُكَ حَسَنَاتٍ، وَمَنْ زَادَ زَادَهُ اللَّهُ» وَفِي رَجَبٍ حُمِلَ نُوحٌ فِي السَّفِينَةِ، فَصَامَ نُوحٌ عليه السلام وَأَمَرَ مَنْ مَعَهُ أَنْ يَصُومُوا وَجَرَتْ بِهِمُ السَّفِينَةُ سِتَّةَ أَشْهُرٍ إِلَى آخِرِ ذَلِكَ لِعَشْرٍ خَلَوْنَ مِنَ الْمُحَرَّمِ
৯ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সালমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাল্লান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে শুজা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে মাতার, আব্দুল গাফুর থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ ইবনে সাঈদ থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৯৩⦘, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা রাখবে, তা এক বছর রোজা রাখার সমান হবে। আর যে ব্যক্তি সাত দিন রোজা রাখবে, তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি আট দিন রোজা রাখবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি দশ দিন রোজা রাখবে, সে মহান ও মর্যাদাবান আল্লাহর কাছে যা-ই চাইবে তিনি তাকে তা-ই দান করবেন। আর যে ব্যক্তি পনের দিন রোজা রাখবে, আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: 'তোমার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তুমি নতুন করে আমল শুরু করো, তোমার মন্দ কাজগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।' আর যে ব্যক্তি আমল বৃদ্ধি করবে, আল্লাহ তার সওয়াব বৃদ্ধি করে দেবেন।» আর রজব মাসেই নূহ আলাইহিস সালাম নৌকায় আরোহণ করেছিলেন। অতঃপর নূহ আলাইহিস সালাম রোজা পালন করেন এবং তাঁর সাথে যারা ছিলেন তাঁদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। আর নৌকাটি তাঁদের নিয়ে মহররমের দশ তারিখ অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত ছয় মাস পথ চলেছিল।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٩٤)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَرَابِيسِيُّ، بِبُخَارَى، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَحْمَدَ بْنِ نُصَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي جَدِّي نُصَيْرُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُوسَى، عَنْ نُوحِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ⦗ص: 95⦘، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خِيرَةُ اللَّهِ مِنَ الشُّهُورِ شَهْرُ رَجَبٍ، وَهُوَ شَهْرُ اللَّهِ عز وجل، مَنْ عَظَّمَ شَهْرَ رَجَبٍ فَقَدْ عَظَّمَ أَمْرَ اللَّهِ، وَمَنْ عَظَّمَ أَمْرَ اللَّهِ أَدْخَلَهُ جَنَّاتِ النَّعِيمِ وَأَوْجَبَ لَهُ رِضْوَانَهُ الْأَكْبَرَ، وَشَعْبَانُ شَهْرِي فَمَنْ عَظَّمَ شَهْرَ شَعْبَانَ، فَقَدْ عَظَّمَ أَمْرِي، وَمَنْ عَظَّمَ أَمْرِي كُنْتُ لَهُ فَرَطًا وَذُخْرًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَشَهْرُ رَمَضَانَ شَهْرُ أُمَّتِي، فَمَنْ عَظَّمَ شَهْرَ رَمَضَانَ، وَعَظَّمَ حُرْمَتَهُ وَلَمْ يَنْتَهِكْهُ وَصَامَ نَهَارَهُ وَقَامَ لَيْلَهُ وَحَفِظَ جَوَارِحَهُ خَرَجَ مِنْ رَمَضَانَ وَلَيْسَ عَلَيْهِ ذَنْبٌ يَطْلُبُهُ اللَّهُ بِهِ» هَذَا مُنْكَرٌ بِمَرَّةٍ، 11 - وَمِنْهَا مَا
১০ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, খালাফ ইবনে মুহাম্মদ আল-কারাবিসি বুখারায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আহমাদ ইবনে নুসায়র আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা নুসায়র ইবনে ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নুহ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি যায়দ আল-আম্মি থেকে, তিনি ইয়াযিদ আল-রাকাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৯৫⦘ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মাসসমূহের মধ্যে আল্লাহর মনোনীত মাস হলো রজব মাস, আর এটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর মাস। যে ব্যক্তি রজব মাসকে সম্মান করল, সে আল্লাহর নির্দেশকে সম্মান করল। আর যে আল্লাহর নির্দেশকে সম্মান করল, তিনি তাকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার জন্য তাঁর সুমহান সন্তুষ্টি অবধারিত করে দেবেন। শাবান হলো আমার মাস; সুতরাং যে ব্যক্তি শাবান মাসকে সম্মান করল, সে আমার নির্দেশকে সম্মান করল। আর যে আমার নির্দেশকে সম্মান করল, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য অগ্রগামী ও পাথেয় হব। আর রমজান মাস হলো আমার উম্মতের মাস; সুতরাং যে ব্যক্তি রমজান মাসকে সম্মান করল, এর পবিত্রতা রক্ষা করল এবং এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করল না, আর দিনের বেলা রোজা রাখল ও রাতে সালাতে দণ্ডায়মান হলো এবং নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হিফাজত করল, সে রমজান থেকে এমন অবস্থায় বের হবে যে তার ওপর এমন কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকবে না যার জন্য আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।" এটি অত্যন্ত মুনকার (পরিত্যক্ত/অস্বীকৃত)। ১১ - এবং এর মধ্যে রয়েছে যা...
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٩٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، رَحْمَةُ اللَّهُ عَلَيْهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ رَشِيقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّومِيُّ ، إِمْلَاءً مِنْ أَصْلِ كِتَابِهِ بِالطَّابِرَانِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ ⦗ص: 96⦘ الْهَيَّاجِ ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فِي رَجَبٍ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ كَمَنْ صَامَ مِنَ الدَّهْرِ مِائَةَ سَنَةٍ وَقَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَهُوَ لِثَلَاثٍ بَقِينَ مِنْ رَجَبٍ، وَفِيهِ بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 97⦘ وَرُوِي ذَلِكَ بِإِسْنَادٍ آخَرَ
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু নাসর রাশিক বিন আব্দুল্লাহ আর-রুমি তাবারানে তাঁর মূল কিতাব থেকে শ্রুতিলিখন হিসেবে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: হুসাইন বিন ইদরীস আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৯৬⦘ আল-হাইয়াজ তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে, তিনি সালমান আল-ফারিসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রজব মাসে এমন একটি দিন ও রাত রয়েছে, যে ব্যক্তি সেই দিনে রোজা রাখবে এবং সেই রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকবে, সে যেন একশ বছর রোজা রাখল এবং একশ বছর ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকল। আর তা হলো রজব মাসের তিন দিন বাকি থাকতে; এবং এই দিনেই আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পাঠিয়েছেন।" ⦗পৃষ্ঠা: ৯৭⦘ এবং এটি অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٩٧)
12 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ بِبُخَارَى، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ خَلَفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا عِيسَى وَهُوَ الْغُنْجَارُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبَانَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقِينَ مِنْ رَجَبٍ فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ ⦗ص: 98⦘ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً مِنَ الْقُرْآنِ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللَّهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا، فَإِنَّ اللَّهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُوَ فِي مَعْصِيَةٍ " قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: الْإِسْنَادُ الَّذِي قَبْلَهُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَمْثَلُ مِنْ هَذَا، وَقَدْ رُوِيَ فِي اسْتِجَابَةِ الدُّعَاءِ فِي الْأَشْهُرِ الْحُرُمِ وَرَجَبٌ مِنْهُنَّ حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ فِي مِثْلِ هَذَا
১২ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বুখারার আবু সালিহ খালাফ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাক্কী ইবনে খালাফ ও ইসহাক ইবনে আহমদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: নাসর ইবনে আল-হুসাইন আমাদের বর্ণনা করেছেন, ঈসা (যিনি আল-গুনজার নামে পরিচিত) আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল থেকে, তিনি আবান থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "রজব মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যাতে আমলকারীর জন্য একশত বছরের পুণ্য লেখা হয়, আর তা হলো রজব মাসের তিন দিন বাকি থাকা অবস্থায়। সুতরাং যে ব্যক্তি তাতে বারো রাকাত সালাত আদায় করবে এবং প্রতি ⦗পৃষ্ঠা: ৯৮⦘ রাকাতে সূরা ফাতিহা ও কুরআনের একটি সূরা পাঠ করবে, এরপর একশত বার বলবে: 'আল্লাহ অতি পবিত্র', 'সকল প্রশংসা আল্লাহর', 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' ও 'আল্লাহ মহানতম', এবং একশত বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, নবীর (সা.) ওপর একশত বার দরুদ পাঠ করবে এবং নিজের ইহকাল ও পরকালের বিষয়ে যা ইচ্ছা দোয়া করবে, আর সকালে রোজা রাখবে, তবে আল্লাহ তার সকল দোয়া কবুল করবেন, যদি না সে কোনো পাপের কাজের জন্য দোয়া করে।" শাইখ (রা.) বলেন: এই হাদিসের পূর্ববর্তী সনদটি এই সনদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। আর সম্মানিত মাসগুলোতে—রজব যার অন্তর্ভুক্ত—দোয়া কবুল হওয়া সম্পর্কে এই মর্মের একটি হাসান (উত্তম) সনদের হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ٩٨)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى السُّلَمِيُّ رحمه الله قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي ⦗ص: 99⦘ خَالِدٍ الْأَصْفَهَانِيُّ الْعَدْلُ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، يَقُولُ:، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ التَّمَّامِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فِي يَوْمٍ يُعْرَضُ فِيهِ الدِّيوَانُ إِذْ مَرَّ بِهِ رَجُلٌ أَعْمَى أَعْرَجُ قَدْ عَنَّى قَائِدَهُ، فَقَالَ عُمَرُ حِينَ رَآهُ وَأَعْجَبَهُ شَأْنُهُ: مَنْ يَعْرِفُ هَذَا؟ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: هَذَا رَجُلٌ مِنْ صَبْغِيٍّ فَقَدَ أَهْلَهُ بَرِيقٌ، قَالَ: وَمَا بَرِيقٌ؟ قَالَ: رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ قَالَ ⦗ص: 100⦘: أَشَاهِدٌ هُوَ؟ قَالَ: نَعَمْ فَأُتِيَ بِهِ إِلَى عُمَرَ فَقَالَ: مَا شَأْنُكَ وَشَأْنُ بَنِي صَبْغَاءَ؟ قَالَ: إِنَّ بَنِي صَبْغَاءَ كَانُوا اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا وَإِنَّهُمْ جَاوَرُونِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَجَعَلُوا يَأْكُلُونَ مَالِي وَيَشْتُمُونَ عِرْضِي وَأَنَا أَشْتَهِيهِمُ، وَنَاشَدْتُهُمُ اللَّهَ وَالرَّحِمَ فَأَبَوْا عَلَيَّ، فَأَمْهَلْتُهُمْ حَتَّى إِذَا كَانَ الشَّهْرُ الْحَرَامُ دَعَوْتُ اللَّهَ عَلَيْهِمْ، وَقُلْتُ: اللَّهُمَّ أَدْعُوكَ دُعَاءً جَاهِدًا اقْتُلْ بَنِي صَبْغَاءَ إِلَّا وَاحِدًا، ثُمَّ اضْرِبِ الرَّجُلَ فَذَرْهُ قَاعِدًا أَعْمَى إِذَا مَا قِيدَ عَنَّى الْقَائِدَ، فَلَمْ يَحُلِ الْحَوْلُ حَتَّى هَلَكُوا غَيْرَ وَاحِدٍ وَهُوَ هَذَا كَمَا تَرَى قَدْ عَنَّى قَائِدَهُ، فَقَالَ عُمَرُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، إِنَّ فِي هَذَا لَعِبَرًا وَعَجَبًا، فَقَالَ رَجُلٌ آخَرُ مِنَ الْقَوْمِ: أَلَّا أُحَدِّثُكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِثْلَ هَذَا وَأَعْجَبَ مِنْهُ؟ فَقَالَ: بَلَى، قَالَ: فَإِنَّ رِجَالًا مِنْ خُزَاعَةَ جَاوَرُوا رَجُلًا مِنْهُمْ فَقَطَعُوا رَحِمَهُ وَأَسَاءُوا مُجَاوَرَتَهُ، وَإِنَّهُ نَاشَدَهُمُ اللَّهَ وَالرَّحِمَ إِلَّا أَعْفَوْهُ مِمَّا يَكْرَهُ فَأَبَوْا عَلَيْهِ، فَأَمْهَلَهُمْ حَتَّى إِذَا جَاءَ الشَّهْرُ الْحَرَامُ دَعَا عَلَيْهِمْ فَقَالَ:[البحر الرجز]اللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ آمِنٍ وَخَائِفْ … وَسَامِعًا هُتَافَ كُلِّ هَاتِفْإِنَّ الْخُزَاعِيَّ أَبَا تَقَاصُفْ … لَمْ يُعْطِنِي الْحَقَّ وَلَمْ يُنَاصِفْ⦗ص: 101⦘فَاجْمَعْ لَهُ الْأَجِنَّةَ اللَّآطِفْ … بَنِي قِرَانٍ ثَمَّ وَالنَّوَاصِفْاجْمَعْهُمْ فِي جَوْفِ كُلِّ رَاجِفْقَالَ: فَبَيْنَا هُمْ عِنْدَ قَلِيبٍ يَنْزِفُونَهَا فَمِنْهُمْ مَنْ هُوَ فِيهَا وَمِنْهُمْ مَنْ هُوَ فَوْقَهَا تَهَوَّرَ الْقَلِيبُ بِمَنْ كَانَ عَلَيْهَا وَعَلَى مَنْ كَانَ فِيهَا، وَصَارَتْ قُبُورَهُمْ حَتَّى السَّاعَةِ، قَالَ عُمَرُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، إِنَّ فِي هَذَا لَعِبْرَةً وَعَجَبًا، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ آخَرُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَلَا أُخْبِرُكَ بِمِثْلِ هَذَا وَأَعْجَبَ مِنْهُ؟ قَالَ: بَلَى قَالَ: فَإِنَّ رَجُلًا مِنْ هُذَيْلٍ وَرِثَ فَخِذَهُ الَّتِي هُوَ فِيهَا حَتَّى لَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ أَحَدٌ غَيْرُهُ، فَجَمَعَ مَالًا كَثِيرًا فَعَمَدَ إِلَى رَهْطٍ مِنْ قَوْمِهِ يُقَالُ لَهُمْ: بَنُو الْمُؤَمَّلِ فَجَاوَرَهُمْ لِيَمْنَعُوهُ وَلِيَرُدُّوا عَلَيْهِ مَاشِيَتَهُ، وَإِنَّهُمْ حَسَدُوهُ عَلَى مَالِهِ، وَنَفَسُوهُ مَالَهُ، فَجَعَلُوا يَأْكُلُونَ مِنْ مَالِهِ، وَيَشْتُمُونَ عِرْضَهُ، وَإِنَّهُ ⦗ص: 102⦘ نَاشَدَهُمُ اللَّهَ وَالرَّحِمَ إِلَّا عَدَلُوا عَنْهُ مَا يَكْرَهُ فَأَبَوْا عَلَيْهِ، فَجَعَلَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ رَبَاحٌ أَوْ رِيَاحٌ، يُكَلِّمُهُمْ فِيهِ وَيَقُولُ: يَا بَنِي الْمُؤَمَّلِ، ابْنُ عَمَّتِكُمُ، اخْتَارَ مُجَاوَرَتَكُمْ عَلَى مَنْ سِوَاكُمْ فَأَحْسِنُوا مُجَاوَرَتَهُ، فَأَبَوْا عَلَيْهِ، فَأَمْهَلَهُمْ حَتَّى إِذَا كَانَ الشَّهْرُ الْحَرَامُ دَعَا عَلَيْهِمْ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ أَزِلْ عَنِّي بَنِي الْمُؤَمَّلِ، وَارْمِ عَلَى أَقْفَائِهِمْ بِمَنْكِلٍ، بِصَخْرَةٍ أَوْ عَرْضِ جَيْشٍ جَحْفَلٍ، إِلَّا رَبَاحًا إِنَّهُ لَمْ يَفْعَلْ، قَالَ: فَبَيْنَمَا هُمْ ذَاتَ يَوْمٍ نُزُولٌ إِلَى أَصْلِ جَبَلٍ انْحَطَّتْ عَلَيْهِمْ صَخْرَةٌ مِنَ الْجَبَلِ لَا تَمُرُّ بِشَيْءٍ إِلَّا طَحَنَتْهُ حَتَّى مَرَّتْ بِأَبْيَاتِهِمْ فَطَحَنَتْهَا طَحْنَةً وَاحِدَةً، إِلَّا رَبَاحًا الَّذِي اسْتَثْنَاهُ، فَقَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ فِي هَذَا لَعِبْرَةً وَعَجَبًا، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: أَلَا أُخْبِرُكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِثْلَهُ وَأَعْجَبَ مِنْهُ؟ قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَإِنَّ رَجُلًا مِنْ جُهَيْنَةَ جَاوَرَ قَوْمًا مِنْ بَنِي ضَمْرَةَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي ضَمْرَةَ يُقَالُ لَهُ رِيشَةُ يَعْدُو عَلَيْهِ، فَلَا يَزَالُ يَنْحَرُ بَعِيرًا مِنْ إِبِلِهِ، وَإِنَّهُ كَلَّمَ قَوْمَهُ فِيهِ، فَقَالُوا: إِنَّا قَدْ خَلَعْنَاهُ فَانْظُرْ أَنْ نَقْتُلَهُ، فَلَمَّا رَآهُ لَا يَنْتَهِي أَمْهَلَهُ حَتَّى إِذَا كَانَ الشَّهْرُ الْحَرَامُ دَعَا عَلَيْهِ فَقَالَ:[البحر الرجز]أَصَادِقٌ رِيشَةُ بِلَا ضَمْرَهْ … أَنْ يُسَيِّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ قَدَرَهْأَمَا يَزَالُ شَارِفٌ أَوْ نَكْرَهْ … يَطْعُنُ مِنْهَا فِي سَوَاءِ الثُّغْرَهْبِصَارِمٍ ذِي رَوْنَقٍ أَوْ شَفْرَهْ … اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ بَعْدِي فَخِذَهْ⦗ص: 103⦘فَاجْعَلْ أَمَامَ الْعَيْنِ مِنْهُ حَذْرَهْ … يَأْكُلُهُ حَتَّى يُرَى فِي السَّحْوَهْفَسَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَكَلَةً فَأَكَلَتْهُ حَتَّى مَاتَ قَبْلَ الْحَوْلِ، فَقَالَ عُمَرُ: سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ فِي هَذَا عِبْرَةً وَعَجَبًا، وَإِنْ كَانَ اللَّهُ لَيَصْنَعُ هَذَا بِالنَّاسِ فِي جَاهِلِيَّتِهِمْ لِيَنْزِعَ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ، فَلَمَّا أَتَى اللَّهُ بِالْإِسْلَامِ أَخَّرَ اللَّهُ الْعُقُوبَةَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: {إِنَّ يَوْمَ الْفَصْلِ مِيقَاتُهُمْ أَجْمَعِينَ} [الدخان: 40] ، {بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ} [القمر: 46] وَقَالَ: {وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَى ظَهْرِهَا مِنْ دَابَّةٍ وَلَكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى} [فاطر: 45] ⦗ص: 104⦘ قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: هَذَا حَدِيثٌ قَدْ رَوَاهُ أَيْضًا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ يَسَارٍ عَمَّنْ سَمِعَ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ دُونَ ذِكْرِ بَنِي ضَمْرَةَ وَذَلِكَ يُؤَكِّدُ رِوَايَةَ ابْنِ لَهِيعَةَ وَرُوِي أَيْضًا، عَنْ نَصْرِ بْنِ أَبِي الْأَشْقَرِ، قَالَ: قَسَمَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَسْمًا فَنَظَرَ إِلَى رَجُلٍ أَعْمَى فَذَكَرَهُ قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: وَرُوِي فِي الدُّعَاءِ عِنْدَ دُخُولِ رَجَبٍ حَدِيثٌ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আস-সুলামী রহিমাহুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি ⦗পৃষ্ঠা: ৯৯⦘ খালিদ আল-আসফাহানী আল-আদল, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুত তাম্মাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে সালিহ, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়া, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত ছিলাম এমন এক দিনে যখন দিওয়ান (তালিকাপত্র) পেশ করা হচ্ছিল। তখন তাঁর পাশ দিয়ে এক অন্ধ ও খোঁড়া লোক অতিক্রম করল, যে তার চালককে পরিশ্রান্ত করে দিচ্ছিল। ওমর তাকে দেখে এবং তার অবস্থা লক্ষ্য করে বিস্মিত হয়ে বললেন: একে কে চেনে? সমবেত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: এটি সাবগি গোত্রের এক লোক, যার পরিবারবর্গ ধ্বংস হয়ে গেছে। সে 'বারীক' নামক স্থানের অধিবাসী। তিনি বললেন: বারীক কী? সে বলল: ইয়ামেনের এক ব্যক্তি। ওমর বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ১০০⦘: সে কি উপস্থিত আছে? সে বলল: হ্যাঁ। এরপর তাকে ওমরের নিকট আনা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার ও বনু সাবগার ব্যাপারটি কী? সে বলল: বনু সাবগার লোক ছিল বারোজন। জাহিলিয়্যাত যুগে তারা আমার প্রতিবেশী ছিল। তারা আমার সম্পদ ভক্ষণ করত এবং আমার মান-সম্মানহানি করত, অথচ আমি তাদের দয়া করতাম। আমি তাদের আল্লাহর দোহাই দিয়েছি এবং আত্মীয়তার দোহাই দিয়েছি, কিন্তু তারা তা অস্বীকার করে। ফলে আমি তাদের অবকাশ দিলাম। অবশেষে যখন হারাম মাস (নিষিদ্ধ মাস) এল, তখন আমি তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদুআ করলাম এবং বললাম: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে একান্ত কাকুতি-মিনতি করে দুআ করছি, বনু সাবগাকে ধ্বংস করুন একজনকে ছাড়া। অতঃপর সেই লোকটিকে আঘাত করুন এবং তাকে অন্ধ ও বসে থাকা অবস্থায় ছেড়ে দিন, যাকে যখন টেনে নেওয়া হবে সে তার চালককে পরিশ্রান্ত করে দেবে।' এরপর বছর ঘোরার আগেই তারা ধ্বংস হয়ে গেল সেই একজন ব্যতীত। আর সে হলো এই ব্যক্তি যাকে আপনি দেখছেন যে তার চালককে পরিশ্রান্ত করে দিচ্ছে। তখন ওমর বললেন: সুবহানাল্লাহ! এতে অবশ্যই শিক্ষা ও বিস্ময় রয়েছে। তখন সমবেতদের মধ্য থেকে অন্য এক ব্যক্তি বলল: হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কি আপনাকে এর মতো বা এর চেয়েও বিস্ময়কর কিছু শোনাব না? তিনি বললেন: অবশ্যই। সে বলল: খুযাআহ গোত্রের কিছু লোক তাদের এক লোকের প্রতিবেশী হলো। তারা তার সাথে আত্মীয়তা ছিন্ন করল এবং তার সাথে মন্দ আচরণ করল। সে তাদের আল্লাহর দোহাই দিল এবং আত্মীয়তার দোহাই দিল যাতে তারা তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে, কিন্তু তারা অস্বীকার করল। সে তাদের অবকাশ দিল। অতঃপর যখন হারাম মাস এল, তখন সে তাদের বিরুদ্ধে বদদুআ করে বলল:
[রাজায ছন্দ]হে আল্লাহ, সকল নিরাপদ ও ভীতের রব... এবং প্রত্যেক আহ্বানকারীর আহ্বান শ্রবণকারী...নিশ্চয়ই খুযাঈ আবু তাকাশুফ... আমাকে আমার প্রাপ্য দেয়নি এবং ইনসাফ করেনি...⦗পৃষ্ঠা: ১০১⦘সুতরাং তার জন্য সমবেত করুন সেই গুপ্ত ব্যাধিকে... ক্বিরান ও নাওয়াসিফ সন্তানদের...তাদের সমবেত করুন প্রতিটি প্রকম্পিত গহ্বরে...বর্ণনাকারী বলেন: একদিন তারা এক কূপের কিনারে পানি সেঁচছিল। তাদের কেউ কূপের ভেতরে ছিল আর কেউ উপরে। তখন কূপটি ধসে পড়ল তাদের ওপর যারা উপরে ছিল এবং যারা ভেতরে ছিল। সেটিই কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কবরে পরিণত হলো। ওমর বললেন: সুবহানাল্লাহ! এতে অবশ্যই শিক্ষা ও বিস্ময় রয়েছে। তখন সমবেতদের মধ্য থেকে অন্য আরেকজন লোক বলল: হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কি আপনাকে এর মতো বা এর চেয়েও বিস্ময়কর কোনো সংবাদ দেব না? তিনি বললেন: অবশ্যই। সে বলল: হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তি তার বংশের সকল সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে পেল যেহেতু সে ছাড়া তাদের আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। ফলে সে প্রচুর সম্পদ অর্জন করল। এরপর সে তার গোত্রের একদল লোকের নিকট গেল যাদের বলা হতো বনু মুআম্মাল। সে তাদের প্রতিবেশী হলো যাতে তারা তাকে রক্ষা করে এবং তার গবাদিপশু দেখাশোনা করে। কিন্তু তারা তার সম্পদের ওপর হিংসা করল এবং তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল। তারা তার সম্পদ ভক্ষণ করতে লাগল এবং তার মান-সম্মানহানি করতে লাগল। সে ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ তাদের আল্লাহর দোহাই দিল এবং আত্মীয়তার দোহাই দিল যাতে তারা যা অপছন্দ করে তা থেকে বিরত থাকে, কিন্তু তারা অস্বীকার করল। তাদের মধ্যে রাবাহ বা রিয়াহ নামক এক ব্যক্তি তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলত এবং বলত: হে বনু মুআম্মাল, সে তোমাদের ফুফাতো ভাই, সে অন্যদের ছেড়ে তোমাদেরই প্রতিবেশী হিসেবে বেছে নিয়েছে, সুতরাং তার সাথে ভালো ব্যবহার করো। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল। অতঃপর সে তাদের অবকাশ দিল এবং যখন হারাম মাস এল, সে তাদের বিরুদ্ধে বদদুআ করল: 'হে আল্লাহ, আপনি আমার থেকে বনু মুআম্মালকে সরিয়ে দিন, তাদের ওপর কোনো কঠিন শাস্তি নিক্ষেপ করুন, কোনো পাথর কিংবা বিশাল এক সেনাবাহিনীর মাধ্যমে, তবে রাবাহ ব্যতীত, কেননা সে এটি করেনি।' বর্ণনাকারী বলেন: একদিন তারা এক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করছিল, এমন সময় পাহাড় থেকে একটি বিশাল পাথর তাদের ওপর ধসে পড়ল। পাথরটি যার ওপর দিয়েই যাচ্ছিল তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিচ্ছিল। সেটি তাদের ঘরবাড়ির ওপর দিয়ে গেল এবং এক নিমেষেই সব চূর্ণ করে দিল সেই রাবাহ ব্যতীত যাকে সে বাদ দিয়েছিল। তখন ওমর বললেন: সুবহানাল্লাহ! এতে অবশ্যই শিক্ষা ও বিস্ময় রয়েছে। লোকজনের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কি আপনাকে এর মতো বা এর চেয়েও বিস্ময়কর কিছু জানাব না? তিনি বললেন: অবশ্যই। সে বলল: জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি জাহিলিয়্যাত যুগে বনু দামরাহ গোত্রের এক কওমের প্রতিবেশী ছিল। বনু দামরার 'রীশাহ' নামক এক ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হতো। সে সর্বদা তার পালের উট জবাই করত। সে তার কওমের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তারা বলল: আমরা তাকে ত্যাগ করেছি (সে আমাদের দায়ভুক্ত নয়), তুমি দেখ আমরা তাকে শাস্তি দিতে পারি কি না। যখন সে দেখল যে সে বিরত হচ্ছে না, তখন সে তাকে অবকাশ দিল। অবশেষে হারাম মাস এলে সে তার বিরুদ্ধে বদদুআ করে বলল:
[রাজায ছন্দ]বনু দামরার রীশাহ কি মনে করে?... যে আল্লাহ তার ওপর তাঁর তাকদীর কার্যকর করবেন না।সে কি সর্বদা বৃদ্ধ কিংবা অপরিচিত উট... সেগুলোর কন্ঠনালীর ঠিক মাঝখানে আঘাত করে? তীক্ষ্ণ উজ্জ্বল তরবারি কিংবা ছুরি দিয়ে... হে আল্লাহ, সে যদি আমার পরে অবশিষ্ট থাকে...⦗পৃষ্ঠা: ১০৩⦘তবে তার চোখের সামনে এমন এক ক্ষত সৃষ্টি করুন... যা তাকে কুরে কুরে খাবে যতক্ষণ না তা প্রকাশ্য দিবালোকে দৃশ্যমান হয়।অতঃপর আল্লাহ তার ওপর এক ধরণের ক্ষয়রোগ চাপিয়ে দিলেন যা তাকে কুরে কুরে খেতে লাগল এবং বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সে মারা গেল। তখন ওমর বললেন: সুবহানাল্লাহ! এতে অবশ্যই শিক্ষা ও বিস্ময় রয়েছে। আল্লাহ জাহিলিয়্যাত যুগে মানুষের সাথে এমনটি করতেন যাতে তারা একে অপরকে জুলুম করা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু আল্লাহ যখন ইসলাম নিয়ে আসলেন, তখন আল্লাহ শাস্তি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত পিছিয়ে দিলেন। আর তা এ কারণে যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় ফয়সালার দিন তাদের সবার জন্য নির্ধারিত সময়।} [সুরা আদ-দুখান: ৪০], {বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময়, আর কিয়ামত অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ততর।} [সুরা আল-ক্বামার: ৪৬] এবং তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে যমীনের বুকে কোনো জীবজন্তু ছাড়তেন না; কিন্তু তিনি তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন।} [সুরা ফাতির: ৪৫]
⦗পৃষ্ঠা: ১০৪⦘ শেখ (ইমাম বাইহাকী) রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এই হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসারও বর্ণনা করেছেন এমন ব্যক্তি থেকে যিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে বনু দামরার উল্লেখ নেই। আর এটি ইবনে লাহিয়ার বর্ণনাকে শক্তিশালী করে। আরও বর্ণিত হয়েছে নাসর ইবনে আবিল আশকার থেকে, তিনি বলেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পদ বণ্টন করছিলেন, তখন তিনি এক অন্ধ ব্যক্তির দিকে তাকালেন... এরপর তিনি পূর্বের ন্যায় বর্ণনা করলেন। শেখ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রজব মাস শুরু হওয়ার সময় দুআ করার ব্যাপারে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা তেমন শক্তিশালী নয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُؤَمَّلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّعْرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَوَارِيرِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، حَدَّثَنَا زِيَادٌ النُّمَيْرِيُّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ رَجَبٌ قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ»
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-মুয়াম্মিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-ফজল বিন মুহাম্মদ আশ-শা’রানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-কাওয়ারীরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যায়িদা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ আন-নুমাইরী, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রজব মাস শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١٠٥)
وَكَانَ يَقُولُ: «لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ لَيْلَةٌ غَرَّاءُ وَيَوْمُ الْجُمُعَةِ يَوْمٌ أَزْهَرُ» تَفَرَّدَ بِهِ زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ، عَنْ زِيَادٍ النُّمَيْرِيِّ، وَأَمَّا الْحَدِيثُ الَّذِي
তিনি বলতেন: «জুমার রাত হলো এক উজ্জ্বল রাত এবং জুমার দিন হলো এক জ্যোতির্ময় দিন»। যায়েদাহ বিন আবুর রুকাদ এককভাবে এটি যিয়াদ আন-নুমায়রী থেকে বর্ণনা করেছেন। আর যে হাদিসটির ব্যাপারে...
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١٠٦)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ السُّكَّرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدمليُّ بِمَكَّةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ الصَّائِغُ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلّى الله عليه ⦗ص: 107⦘ وسلم «نَهَى عَنْ صَوْمِ رَجَبٍ كُلِّهِ» فَهَكَذَا رَوَاهُ دَاوُدُ بْنُ عَطَاءٍ وَلَيْسَ بِالْقَوِيِّ، وَإِنَّمَا الرِّوَايَةُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، مِنْ فِعْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا قَدَّمْنَا ذِكْرَهُ، فَحَرَّفَ الْفِعْلَ إِلَى النَّهْيِ ثُمَّ وَإِنْ صَحَّ فَهُوَ مَحْمُولٌ عَلَى التَّنْزِيهِ وَالْمَعْنَى فِيهِ مَا ذَكَرَهُ رحمه الله، قال الشَّافِعِيُّ رحمه الله فِي الْقَدِيمِ، وَأَكْرَهُ أَنْ يَتَّخِذَ الرَّجُلُ صَوْمَ شَهْرٍ ⦗ص: 108⦘ يُكْمِلُهُ مِنْ بَيْنِ الشُّهُورِ كَمَا يُكْمِلُ شَهْرَ رَمَضَانَ وَاحْتَجَّ بِالْحَدِيثِ الَّذِي
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস-সুকারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আদ-দামালি মক্কায়, তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন যাইদ আস-সাইগ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইব্রাহিম বিন আল-মুনযির, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন দাউদ বিন আতা, যাইদ বিন আব্দুল হামিদ থেকে, তিনি সুলাইমান বিন আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ⦗পৃষ্ঠা: ১০৭⦘ ওয়া সাল্লাম «পুরো রজব মাস রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন»। দাউদ বিন আতা এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি শক্তিশালী রাবী নন। মূলত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্ম সম্পর্কিত যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি; কিন্তু তিনি (দাউদ) সেই কর্মের বর্ণনাকে নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তিত করেছেন। এরপর এটি যদি সহীহও হয়, তবে তা অপছন্দনীয়তা (তানযীহ) অর্থে গ্রহণ করা হবে এবং এর মর্মার্থ তাই যা তিনি (ইমাম) রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন। ইমাম শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর প্রাচীন মতবাদে (আল-কাদীম) বলেছেন: আমি অপছন্দ করি যে কোনো ব্যক্তি মাসসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি মাসকে ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘ রোজা রাখার মাধ্যমে পূর্ণ করবে যেভাবে রমজান মাস পূর্ণ করা হয়। আর তিনি সেই হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা...
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١٠٨)
16 - أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ قَالَا: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدوسٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، فِيمَا قَرَأَ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضي الله عنها، قَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 109⦘ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ: لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ: لَا يَصُومُ وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ شَهْرًا قَطُّ إِلَّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ " قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَكَذَلِكَ يَوْمًا مِنْ بَيْنِ الْأَيَّامِ، وَإِنَّمَا كَرِهْتُهُ لِئَلَّا يَتَأَسَّى جَاهِلٌ فَيَظُنَّ أَنَّ ذَلِكَ وَاجِبٌ وَإِنْ فَعَلَ فَحَسَنٌ، فَتَبَيَّنَ الشَّافِعِيُّ الْكَرَاهَةَ ثُمَّ قَالَ: وَإِنْ فَعَلَ فَحَسَنٌ وَذَلِكَ؛ لِأَنَّ مِنَ الْعِلْمِ الْعَامِّ فِيمَا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ أَنْ لَا يَجِبَ بِأَصْلِ الشَّرْعِ صَوْمٌ غَيْرُ صَوْمِ رَمَضَانَ فَارْتَفَعَ بِذَلِكَ مَعْنَى الْكَرَاهَةِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু যাকারিয়া বিন ইসহাক। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আবদুস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-ক্বায়নাবী, তিনি যা মালিক বিন আনাস-এর নিকট পাঠ করেছেন সে অনুযায়ী, তিনি উমর বিন উবাইদুল্লাহর মুক্তদাস আবু আন-নাদর থেকে, তিনি আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি মুমিন জননী আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ⦗পৃষ্ঠা: ১০৯⦘ নফল সিয়াম পালন করতেন এমনকি আমরা বলতাম যে, তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না; আবার তিনি সিয়াম ভঙ্গ রাখতেন এমনকি আমরা বলতাম যে, তিনি আর সিয়াম পালন করবেন না। আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো পূর্ণ মাস কখনো সিয়াম পালন করতে দেখিনি এবং আমি তাঁকে শাবান মাসের চেয়ে বেশি সিয়াম পালন করতে অন্য কোনো মাসে দেখিনি।" শাফিঈ বলেন: তেমনিভাবে দিনসমূহের মধ্য থেকে বিশেষ কোনো দিনের ক্ষেত্রেও (একই কথা প্রযোজ্য)। আমি এটি কেবল এ কারণে অপছন্দ করেছি যাতে কোনো মূর্খ ব্যক্তি এটি অনুসরণ করতে গিয়ে একে ওয়াজিব (আবশ্যক) মনে না করে বসে; তবে কেউ যদি তা পালন করে তবে তা উত্তম। অতঃপর শাফিঈ অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করলেন, এরপর তিনি বললেন: তবে কেউ যদি তা করে তবে তা উত্তম। আর এটি এ কারণে যে, মুসলিমদের মধ্যে এটি একটি সর্বজনবিদিত জ্ঞান যে, শরীয়তের মূল বিধান অনুযায়ী রমজানের সিয়াম ব্যতীত অন্য কোনো সিয়াম ওয়াজিব নয়। এর মাধ্যমে (ওয়াজিব হওয়ার আশঙ্কাজনিত) অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়টি দূরীভূত হলো। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١١٠)
17 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَامِدٍ الْمِصْرِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ هُوَ الْأَصَمُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ شِبْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا قِلَابَةَ، يَقُولُ: «فِي الْجَنَّةِ قَصْرٌ لِصُوَّامِ رَجَبٍ» قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: وَأَبُو قِلَابَةَ مِنْ كِبَارِ التَّابِعِينَ لَا يَقُولُ مِثْلَ هَذَا إِلَّا عَنْ بَلَاغٍ مِمَّنْ فَوْقَهُ
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিয এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবি হামিদ আল-মিসরি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমির ইবনে শিবল, তিনি বলেন: আমি আবু কিলাবাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «জান্নাতে রজব মাসের রোজাদারদের জন্য একটি প্রাসাদ রয়েছে»। শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আর আবু কিলাবা বড় স্তরের তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত, তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কারও নিকট থেকে প্রাপ্ত সংবাদ ব্যতীত এই ধরনের কথা বলেন না।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١١١)
بَابٌ فِي فَضْلِ شَعْبَانَ
শাবান মাসের ফযীলত বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١١١)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ رحمه الله، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، قَالَ: قَالَ سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ ⦗ص: 112⦘: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: " كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ حَتَّى نَقُولَ: قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ: قَدْ أَفْطَرَ، وَلَمْ أَرَهُ صَامَ مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ شَعْبَانَ، كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ إِلَّا قَلِيلًا " وَرَوَاهُ الشَّافِعِيُّ رحمه الله، مِنْ شَعْبَانَ فَقَالَ فِي الْحَدِيثِ: كَانَ يَصُومُهُ كُلَّهُ، بَلْ كَانَ يَصُومُهُ إِلَّا قَلِيلًا
১৮ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: বিশর বিন মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আল-হুমাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সুফিয়ান ইবনে আবি লাবিদ থেকে এবং তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১১২⦘ বলেছেন: আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বললেন: "তিনি শাবান মাসে রোজা রাখতেন এমনকি আমরা বলতাম: তিনি রোজা রেখেই চলবেন, আবার তিনি রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতেন এমনকি আমরা বলতাম: তিনি আর রোজা রাখবেন না। আমি তাঁকে শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোনো মাসে অধিক রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি সামান্য কিছু দিন বাদে শাবানের প্রায় পুরো মাসই রোজা রাখতেন।" ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) শাবান মাসের বর্ণনায় এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদীসে বলেছেন: তিনি এর পুরো মাসই রোজা রাখতেন, বরং তিনি সামান্য কিছু দিন বাদে এর প্রায় পুরো মাসই রোজা রাখতেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
19 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، وَأَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالُوا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ، رضي الله عنها تَقُولُ: أَحَبُّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَصُومَهُ شَعْبَانُ، ثُمَّ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ "
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া এবং আহমদ বিন আল-হাসান, তাঁরা বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন বাহর বিন নাসর, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুয়াবিয়া বিন সালিহ, আবদুল্লাহ বিন আবু কায়স থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে বলতে শুনেছেন: "আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট সিয়াম পালনের জন্য সবচাইতে প্রিয় মাস ছিল শাবান, অতঃপর তিনি তা রমজানের সাথে যুক্ত করতেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْأَصْفَهَانِيُّ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الْأَعْرَابِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الدَّقِيقِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا صَدَقَةُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الصَّوْمِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «صَوْمُ شَعْبَانَ تَعْظِيمًا لِرَمَضَانَ» قَالَ: فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «صَدَقَةٌ فِي رَمَضَانَ»
20 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-আসফাহানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক আদ-দাকিকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবনে হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাদাকাহ ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানি, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! কোন রোজা সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «রমজানের সম্মানে শাবান মাসের রোজা» তিনি বললেন: তবে কোন সদকাহ সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «রমজান মাসে দান করা সদকাহ»
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْخَالِقِ الْمُؤَذِّنُ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَنْبٍ الْبُخَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ ⦗ص: 116⦘ الْغِفَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرَاكَ تَصُومُ فِي شَهْرٍ مَا لَا أَرَاكَ تَصُومُ فِي شَهْرٍ مَا تَصُومُ فِيهِ، قَالَ: «أَيُّ شَهْرٍ؟» قُلْتُ: شَعْبَانُ، قَالَ: «شَعْبَانُ بَيْنَ رَجَبٍ وَشَهْرِ رَمَضَانَ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ، تُرْفَعُ فِيهِ أَعْمَالُ الْعِبَادِ، فَأُحِبُّ أَنْ لَا يُرْفَعَ عَمَلِي إِلَّا وَأَنَا صَائِمٌ» قُلْتُ: أَرَاكَ تَصُومُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ وَلَا تَدَعُهُمَا قَالَ: «إِنَّ أَعْمَالَ الْعِبَادِ تُرْفَعُ فِيهِمَا فَأُحِبُّ أَنْ لَا يُرْفَعَ عَمَلِي إِلَّا وَأَنَا صَائِمٌ» ⦗ص: 117⦘ وَرَوَاهُ عَنْ أَبِي الْغُصْنِ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ الْغِفَارِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল খালিক আল-মুয়াযযিন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে খাম্ব আল-বুখারি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবু তালিব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যায়দ ইবনুল হুবাব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সাবিত ⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘ আল-গিফারি, তিনি বলেন, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-মাকবুরি, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়দ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (উসামা) বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে এমন এক মাসে রোজা রাখতে দেখছি যাতে অন্য কোনো মাসে আপনাকে এত রোজা রাখতে দেখি না। তিনি বললেন: «কোন মাস?» আমি বললাম: শাবান। তিনি বললেন: «শাবান হলো রজব ও রমজান মাসের মধ্যবর্তী একটি মাস, যা সম্পর্কে মানুষ উদাসীন থাকে। এতে বান্দাদের আমলসমূহ উত্তোলন করা হয়, তাই আমি ভালোবাসি যে, আমার আমল যখন উত্তোলন করা হবে তখন যেন আমি রোজা অবস্থায় থাকি।» আমি বললাম: আমি আপনাকে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতে দেখি এবং আপনি এ দুটি বর্জন করেন না। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এ দুই দিনে বান্দাদের আমলসমূহ উত্তোলন করা হয়, তাই আমি ভালোবাসি যে, আমার আমল যখন উত্তোলন করা হবে তখন যেন আমি রোজা অবস্থায় থাকি।» ⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘ আর এটি বর্ণিত হয়েছে আবুল গুসন সাবিত ইবনে কায়স আল-গিফারি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়দ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
بَابٌ فِي فَضْلِ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ
শাবান মাসের মধ্যবর্তী রজনীর ফজিলত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَابْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ السُّوسِيُّ ، وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ قَالُوا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خُلَيْدٍ ⦗ص: 119⦘ وَهُوَ عُتْبَةُ بْنُ حَمَّادٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، يَعْنِي عَنْ مَكْحُولٍ وَابْنِ ثَابِتٍ وَهُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 120⦘ قَالَ: «يَطَّلِعُ اللَّهُ تبارك وتعالى إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ» قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: وَقَدْ قِيلَ عَنْ مَكْحُولٍ كَمَا
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয এবং ইবনু আবদুল্লাহ ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আস-সুসি ও আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামাদ আদ-দিমাশকি, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন খালিদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খুলাইদ ⦗পৃষ্ঠা: ১১৯⦘ আর তিনি হলেন উতবাহ বিন হাম্মাদ, তিনি আওযায়ি থেকে—অর্থাৎ মাকহুল এবং ইবনু সাবিত (যিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন সাবিত বিন সাওবান) থেকে—তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি মালিক বিন ইউখামির থেকে, তিনি মুয়ায বিন জাবাল থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন ⦗পৃষ্ঠা: ১২০⦘ তিনি বলেছেন: «আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টিপাত করেন, অতঃপর তিনি মুশরিক অথবা বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন» শাইখ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: মাকহুল থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যেমন...
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١٢٠)
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَقِيهُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو حَامِدِ بْنُ بِلَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْأَحْمَسِيُّ، قَالَ ⦗ص: 121⦘: حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنِ الْأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ اطَّلَعَ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ، فَيَغْفِرُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَيُمْلِي لِلْكَافِرِينَ، وَيَدَعُ أَهْلَ الْحِقْدِ ⦗ص: 122⦘ بِحِقْدِهِمْ حَتَّى يَدْعُوَهُ» وَرَوَاهُ الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلًا وَرَوَاهُ الْحَسَنُ بْنُ الْحَسَنِ ، عَنْ مَكْحُولٍ، مَوْقُوفًا عَلَيْهِ
২৩ - আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হামিদ ইবনে বিলাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-আহমাসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১২১⦘: আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আহওয়াস ইবনে হাকিম থেকে, তিনি আল-মুহাজির ইবনে হাবিব থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আবু সা'লাবা আল-খুশানি থেকে, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রজনী আসে, তখন আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। অতঃপর তিনি মুমিনদের ক্ষমা করে দেন এবং কাফিরদের অবকাশ দেন, আর বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিদের ⦗পৃষ্ঠা: ১২২⦘ তাদের বিদ্বেষসহই ছেড়ে দেন যতক্ষণ না তারা তা পরিহার করে।» আর হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ এটি মাকহুল থেকে, তিনি কাসির ইবনে মুররাহ আল-হাদরামি থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর হাসান ইবনে আল-হাসান এটি মাকহুল থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
24 - وَحَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْأَصْفَهَانِيُّ، قَالَ ⦗ص: 123⦘: أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ فِرَاسٍ الْمَالِكِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ الصَّائِغُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي صَبْرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ ⦗ص: 124⦘ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَتَهَا وَصُومُوا يَوْمَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يَقُولُ: أَلَا مُسْتَغْفِرٌ فَأَغْفِرَ لَهُ، أَلَا مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ، أَلَا سَائِلٌ فَأُعْطِيَهُ، أَلَا كَذَا حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ "
24 - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ উবায়দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-আসবাহানী, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১২৩⦘: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে ফিরাাস আল-মালিকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে যাইদ আস-সায়েগ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আবি সাবরা, তিনি ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি মুআবিয়া থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১২৪⦘ আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন শাবানের মধ্যবর্তী রাত আসে, তখন তোমরা সেই রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান হও এবং সেই দিনে রোজা রাখো। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি যে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি যে আমি তাকে রিজিক দান করব? কোনো যাচনাকারী আছে কি যে আমি তাকে দান করব? অমুক অমুক কি কেউ আছে? —এভাবে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদায়িলুল আওকাত লিল-বায়হাকী
(পৃষ্ঠা: ١٢٤)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْعَدْلُ بِبَغْدَادَ قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ⦗ص: 125⦘ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الرِّيَاحِيُّ، حَدَّثَنَا جَامِعُ بْنُ الصُّبَيْحِ الرُّمَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْحُومُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 126⦘ قَالَ: " إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ نَادَى مُنَادٍ: هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ؟ هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَأُعْطِيَهُ؟ فَلَا يَسْأَلُ أَحَدٌ شَيْئًا إِلَّا أُعْطِي إِلَّا زَانِيَةً بِفَرْجِهَا أَوْ مُشْرِكًا "
২৫ - বাগদাদের আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-আদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আমর আর-রাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১২৫⦘ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আর-রিয়াহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জামি বিন আস-সুবাইহ আর-রুমাইলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মারহুম বিন আব্দুল আযীয, দাউদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি হিশাম বিন হাসসান থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি উসমান বিন আবিল আস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ১২৬⦘ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত আসে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন: কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে আমি ক্ষমা করে দেব? কোনো যাঞ্চাকারী আছে কি, যাকে আমি দান করব? তখন কোনো ব্যক্তি যা কিছুই প্রার্থনা করে তাকে তাই প্রদান করা হয়, কেবল লজ্জাস্থান দ্বারা ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিক ব্যতীত।"