(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: -)
الأربعين من الأحاديث النبوية لابن الرسام القسم: كتب السنة
الكتاب: الأربعين من الأحاديث النبوية عن أربعين من مشائخ الإسلام مروية - مخطوط
المؤلف: أحمد بن أبي بكر بن علي بن إسماعيل الحموي، ابن الرَّسَّام (ت 844هـ)
أعده للشاملة: أحمد الخضري
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 59
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনুর রাসসাম সংকলিত চল্লিশটি নববী হাদিস বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ইসলামের চল্লিশজন শায়খ থেকে বর্ণিত চল্লিশটি নববী হাদিস - পাণ্ডুলিপি
লেখক: আহমাদ বিন আবি বকর বিন আলি বিন ইসমাঈল আল-হামাভি، ইবনুর রাসসাম (মৃত্যু ৮৪৪ হি.)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদারি
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١)
الكتاب: الأربعين من الأحاديث النبوية عن أربعين من مشائخ الإسلام مروية - مخطوط
المؤلف: أحمد بن أبي بكر بن أحمد الحنبلي القادري المعروف بابن الرسام
المتوفى: 844 هـ
গ্রন্থ: ইসলামের চল্লিশজন শায়খের সূত্রে বর্ণিত চল্লিশটি নববী হাদিস - পাণ্ডুলিপি
লেখক: আহমাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আহমাদ আল-হাম্বলি আল-কাদরি, যিনি ইবনে আর-রাসাম নামে পরিচিত
মৃত্যু: ৮৪৪ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١)
//2أ// بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
الحمد لله الذي من علينا باتباع نبينا محمد سيد المرسلين، وجعلنا ممن نظم في سلك طلب الحديث من السلف الصالحين، وحرك..بالرحلة إليهم والمثول لديهم لنكون على أثارهم سالكين، ونقتدي بهديهم وتحل علينا بركاتهم فننجوا من اتباع الهوى فنكون سالمين، ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له في العالمين، ونشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله أكمل العابدين، صلى الله عليه وعلى أله وأصحابه وذريته السادة العاملين، وسلم تسليما كثرا إلى يوم الدين.
أما بعد بعد فإن لله تعالى من فعل العبد المسكين الضعيف بالرحلة في عنفوان شبابه، وعطف //2ب// عليه الوالدين لذلك فاعتنينا به، فرحل إلى علماء الإسلام وأخذ عنهم الحديث بمصر والشام، وعين من أعيانهم أربعين من أهل الدراية والرواية، وروى عنهم أربعين حديثا لتحصل بها الهداية، وتكون عمدة لطالب علم الحديث الشريف، ومقنعا يغني فيكفي في التطريف ويرشد اللبيب العارف التحرير، إلى الرواية عن هؤلاء السادة ذي العلم العزيز، فإن رواياتهم تعم جميع كتب الإسلام، الرواية عن سيدنا محمد سيد الأنام، إلا ما ندر عن بعض ذوي الأفهام، وحصل إدراكه من غير كلام، والله تعالى المستعان، وعليه التكلان، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
//2অ// পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ওপর আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), যিনি রাসূলগণের সরদার, তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা নেককার পূর্বসূরিদের হাদিস অন্বেষণের ধারায় নিজেদের সঁপে দিয়েছেন, এবং তাদের কাছে ভ্রমণের মাধ্যমে ও তাদের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের আন্দোলিত করেছেন যাতে আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী হতে পারি, এবং আমরা তাদের পথনির্দেশনার অনুসরণ করি ও আমাদের ওপর তাদের বরকত নাযিল হয়, ফলে আমরা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে মুক্তি পাই এবং নিরাপদ থাকি; এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, জগতসমূহে তাঁর কোনো অংশীদার নেই, এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি ইবাদতকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর রহমত ও অজস্র শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং আমলকারী মহান বংশধরদের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।
অত:পর, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে এই দরিদ্র ও দুর্বল বান্দার কর্মের ওপর, যে তার যৌবনের প্রারম্ভে জ্ঞানান্বেষণের সফরে বের হয়েছিল, এবং তিনি //2ব// এ বিষয়ে তার পিতা-মাতাকে তার প্রতি সদয় করেছিলেন, ফলে আমরা এ বিষয়ে মনোনিবেশ করেছি। সে ইসলামের আলেমদের কাছে সফর করেছে এবং মিসর ও সিরিয়ায় তাদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করেছে, এবং তাদের মধ্য থেকে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন চল্লিশ জন বিজ্ঞ ও বর্ণনাকারী বিশেষজ্ঞকে নির্দিষ্ট করেছে, এবং তাদের থেকে চল্লিশটি হাদিস বর্ণনা করেছে যাতে এর মাধ্যমে হেদায়েত অর্জিত হয়, এবং পবিত্র হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হয়, এবং এটি এমন একটি পর্যাপ্ত সংকলন হয় যা গবেষকদের জন্য যথেষ্ট হবে এবং বিচক্ষণ, প্রাজ্ঞ ও দক্ষ গবেষককে এই সকল মহান জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে বর্ণনা গ্রহণের পথে পরিচালিত করবে; কেননা সৃষ্টির সরদার আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) থেকে বর্ণিত তাদের এই বর্ণনাগুলো ইসলামের সকল কিতাবকে পরিব্যপ্ত করে আছে, কেবল সূক্ষ্ম ধীশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের বর্ণিত কিছু বিরল বিষয় ব্যতীত যার উপলব্ধি অধিক বাক্যব্যয় ছাড়াই অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলাই একমাত্র সাহায্যকারী, এবং তাঁরই ওপর ভরসা, আর মহান সুউচ্চ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢)
الحديث الأول
عن مشايخ حماة المرج منهم سيدنا وشيخنا الإمام العلامة قاضي القضاة بهاء الدين أبو العباس أحمد المردادي //3أ// الحنبلي بحماة المحروسة كان تغمده الله تعالى مرضيا، أخبرنا سيدنا وشيخنا العلامة قاضي القضاة بهاء الدين أبو العباس أحمد بن عبد الرحمن بن محمد المقدسي المردادي الحنبلي بحماة المحروسة، كان رحمه الله تعالى قال: أخبرنا أبو العباس أحمد بن أبي النعم ابن الشيخة الحجار سماعا من أول صحيح البخاري وإلى باب ما جاء في الوتر والباقي إجازة قال: أخبرنا الحسين بن المبارك قال: أخبرنا عبد الأول بن عيسى قال: أخبرنا عبد الرحمان بن محمد بن المظفر قال: أخبرنا عبد الله بن أحمد بن حمويه قال: أخبرنا محمد بن يوسف الفربري قال: أخبرنا الإمام أبو عبد الله بن محمد بن إسماعيل رحمه الله قال: حَدَّثَنَا الحميدي عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ، رضي الله عنه عَلَى المِنْبَرِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا //3ب//، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ.
প্রথম হাদিস
হামাতুল মারজের শাইখদের নিকট থেকে, যাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আমাদের সায়্যিদ ও শাইখ, ইমাম, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি বাহাউদ্দিন আবু আল-আব্বাস আহমদ আল-মারদাদি //৩ক// হাম্বলি—সুরক্ষিত হামাহ নগরীতে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সন্তোষজনক অবস্থায় আবৃত করুন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের সায়্যিদ ও শাইখ, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি বাহাউদ্দিন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসি আল-মারদাদি হাম্বলি—সুরক্ষিত হামাহ নগরীতে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আবি আল-না'ম ইবন আল-শাইখাহ আল-হাজ্জার—সহিহ আল-বুখারির শুরু থেকে বিতর সংক্রান্ত অধ্যায় পর্যন্ত শ্রবণের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশ ইজাযাহর মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবন আল-মুবারক। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল আউয়াল ইবনে ঈসা। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবন আল-মুজাফফর। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হামুওয়াইহ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-তাইমি যে, তিনি আলকামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসিকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসুলকে (আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে যা সে লাভ করতে চায় //৩খ//, অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٣)
الحديث الثاني
أخبرنا الشيخ الإمام الخطيب.. بن أبي عبد الله محمد بن سيدنا ومولانا قاضي القضاه نجم الدين أبي محمد عبد الرحيم بن البارزي الجهني الشافعي خطيب الجامع النوري بحماة المرج بقراءتي على حماة المرج تاريخ خامس عشر صفر سنة سبع وثمانين وسبع مئة، قال: أخبرنا الشيخ الإمام العالم علم الدين أبو سعيد سنجر بن عبد الله الجارلي نائب السلطنة الفطمية بحماة المحروسة بقراءة أبي العباس أحمد بن إبراهيم بن صاردا البعلبكي سنة ثلاث وأربعين وسبع بدار هاجر حماة السلطنة قال: أخبرنا الشيخ الإمام القاضي أبو الفضائل دانيال بن بنكلي بن صرفا التركماني الكركي قراءة عليه وأنا أسمع في شوال سنة وثمانين وست مئة بالشوبك قال: أخبرنا أبو بكر محمد بن معين بن الموفق بن علي بن الخازن ببغداد سنة اثنتين وأربعين وست مئة قال: أخبرنا أبو زرعة طاهر بن الإمام أبي الفضل محمد بن طاهر المقدسي ببغداد في سنة إحدى وستين //4أ// وخمس أخبرنا قال: أخبرنا أبو الحسن مكي بن منصور الكرجي قال: أخبرنا أبو بكر أحمد بن الحسين الحيري قال: أخبرنا أبو العباس محمد بن يعقوب الأصم الأموي قال: أخبرنا الربيع بن سليمان قال: أخبرنا الإمام أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي المطلبي قال: أخبرنا مالك، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم: نَهَى عَنِ الشِّغَارِ، وَالشِّغَارُ أَنْ يُزَوِّجَ الرَّجُلُ ابْنَتَهُ عَلَى أَنْ يُزَوِّجَهُ الآخَرُ ابْنَتَهُ، لَيْسَ بَيْنَهُمَا صَدَاقٌ.
هذا التفسير قيل هو من نافع وقيل من مالك، وهذا الحديث في الأربعين من رواية الإمام الشافعي انتقاء الحافظ علم الدين أبي محمد القاسم بن محمد البرزالي رحمه الله.
দ্বিতীয় হাদীস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, খতীব... ইবনে আবী আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ, যিনি আমাদের নেতা ও অভিভাবক, প্রধান বিচারপতি নাজমুদ্দীন আবূ মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম বিন আল-বারিযী আল-জুহানী আশ-শাফিঈ, হামাহ আল-মারজের নূরী জামে মসজিদের খতীব; ৭৮৭ হিজরী সনের ১৫ই সফর তারিখে হামাহ আল-মারজে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, আলিম আলামুদ্দীন আবূ সাঈদ সানজার বিন আব্দুল্লাহ আল-জারালী, যিনি সুরক্ষিত হামাহতে ফাতেমীয় সালতানাতের প্রতিনিধি ছিলেন; ৭৪৩ হিজরী সনে হামাহর সুলতানি আবাসে আবূল আব্বাস আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন সারদা আল-বালবাক্কীর পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, কাযী আবূল ফাযাইল দানিয়াল বিন বানকালী বিন সরফা আত-তুর্কমানী আল-কারাকী; ৬৮০ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে আশ-শাওবাক এলাকায় আমি শ্রবণরত থাকাবস্থায় তাঁর উপস্থিতিতে পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবূ বকর মুহাম্মাদ বিন মুঈন বিন আল-মুওয়াফফাক বিন আলী বিন আল-খাযিন, ৬৪২ হিজরীতে বাগদাদে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবূ যুরআহ তাহের বিন ইমাম আবূল ফাযল মুহাম্মাদ বিন তাহের আল-মাকদিসী, ৫৬১ হিজরীতে বাগদাদে //৪ক//। তিনি আমাদের সংবাদ দিয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবূল হাসান মাক্কী বিন মানসূর আল-কারাজী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবূ বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-হায়রী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবূল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম আল-উমাবী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আর-রবী বিন সুলাইমান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈ আল-মুত্তালিবী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, নাফে' থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'শিগার' বিবাহ নিষেধ করেছেন। আর 'শিগার' হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার কন্যাকে অপরজনের সাথে এই শর্তে বিয়ে দেওয়া যে, অপরজনও তার কন্যাকে প্রথম ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিবে, এবং তাদের মাঝে কোনো মোহরানা থাকবে না।
বলা হয়ে থাকে যে, এই ব্যাখ্যাটি নাফে' থেকে বর্ণিত, আবার কেউ কেউ বলেন এটি মালিকের পক্ষ থেকে। এই হাদীসটি হাফিয আলামুদ্দীন আবূ মুহাম্মাদ আল-কাসিম বিন মুহাম্মাদ আল-বারযালী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত ইমাম শাফিঈর বর্ণিত চল্লিশ হাদীসের (আরবাঈন) অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٤)
الحديث الثالث
أخبرنا الشيخ الإمام العالم القاضي سماعا قال: حدثنا أبو العباس أحمد بن الشيخ
… بن إسماعيل الشافعي الشهير بابن الشراتي بحماة المرج بتاريخ ثالث عشر ذي القعدة سنة خمس وثمانين وسبع مئة بقراءتي عليه وهو يستمع قال: أخبرنا الشيخ الإمام العلامة قاضي القضاة أبو الوليد بن المرحوم أبي عبد الله محمد بن //4ب// هاني المالكي الشهير بسري الدين في السادس والعشرين من صفر سنة إحدى وستين وسبع مئة، قال: أخبرنا الفقيه الأستاذ العربي العلامة الخطيب أبو القاسم محمد بن أحمد بن جزي رحمه الله وذلك في أواخر شعبان عام تسعة وعشر وسبع مئة في كتابه الأنوار الشفية في الألفاظ السنية، قال: باب كلمات رواها النبي صلى الله عليه وسلم عن ربه سبحانه وتعالى يقول الله تعالى قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي، وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} قَالَ: حَمِدَنِي عَبْدِي، وَإِذَا قَالَ {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} قَالَ: مَجَّدَنِي عَبْدِي أَوْ أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي. قَالَ سُفْيَانُ: أَنَا أَشُكُّ، وَإِذَا قَالَ {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} قَالَ: فَوَّضَ إِلَيَّ عَبْدِي وَإِذَا قَالَ {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} قَالَ: فَهَذِهِ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي، فَإِذَا قَالَ {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} قَالَ: هَذِهِ لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ.
তৃতীয় হাদিস
শায়খ ইমাম আলিম কাজি আমাদের কাছে শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবন শায়খ
… ইবন ইসমাইল আশ-শাফেয়ি, যিনি ইবনুল শারাতি নামে পরিচিত, হামাতুল মারজে সাতশত পঁচাশি হিজরি সনের তেরোই জিলকদ তারিখে। আমি তার নিকট পাঠ করছিলাম এবং তিনি শুনছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম আল্লামা প্রধান বিচারপতি আবুল ওয়ালিদ ইবন মরহুম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন //৪বি// হানি আল-মালিকি, যিনি সারিয়ুদ্দীন নামে পরিচিত, সাতশত একষট্টি হিজরি সনের ছাব্বিশে সফর। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ উস্তাদ আল-আরাবি আল্লামা খতিব আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন জুযাই (আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন), আর তা ছিল সাতশত উনত্রিশ হিজরি সনের শাবান মাসের শেষের দিকে তাঁর 'আল-আনওয়ারুশ শাফিয়্যাহ ফিল আলফাজিস সুন্নিইয়াহ' গ্রন্থে। তিনি বলেন: অধ্যায়: সেই বাণীসমূহ যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি সালাতকে আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি। সুতরাং যখন বান্দা বলে: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক}, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। আর যখন সে বলে: {যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু}, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করেছে অথবা আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। সুফিয়ান বলেন: আমি (শব্দটি নিয়ে) সংশয়ে আছি। আর যখন সে বলে: {যিনি বিচার দিবসের মালিক}, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা তার বিষয় আমার নিকট সোপর্দ করেছে। আর যখন সে বলে: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই}, তখন তিনি বলেন: এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে। আর যখন সে বলে: {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন, তাদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাদের পথ নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট}, তখন তিনি বলেন: এটি আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা যা চেয়েছে তা সে পাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٥)
الحديث الرابع //5أ//
أخبرنا والدي الشيخ تقي الدين أبو بكر بن بهاء الدين بن أحمد بن علي بن إسماعيل المقرىء المجود، رحمه الله، بقرائتي عليه وهو يسمع، في أواخر شعبان سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة في تفسير للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، رحمه الله، في كتابه (الجامع الصحيح) بحق إجازته العامة من الشيخ بهاء الدين بن أبي العباس أحمد بن الشحنة الحجار، رحمه الله، قال: أخبرنا الشيخ سراج الدين الزبيدي قال: أخبرنا أبو الوقت عبد الأول السجزي قال: أخبرنا أبو الحسن البوشنجي قال: أخبرنا أبو الحمد عبد الله بن حمويه قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن يوسف الفربري قال: أخبرنا الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري قال: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: الخَيْلُ لِثَلَاثَةٍ: لِرَجُلٍ أَجْرٌ، وَلِرَجُلٍ سِتْرٌ، وَعَلَى رَجُلٍ وِزْرٌ، فَأَمَّا الَّذِي لَهُ أَجْرٌ: فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِي سَبِيلِ اللهِ، فَأَطَالَ لَهَا فِي مَرْجٍ أَوْ رَوْضَةٍ، فَمَا أَصَابَتْ فِي طِيَلِهَا ذَلِكَ فِي المَرْجِ وَالرَّوْضَةِ، كَانَ لَهُ حَسَنَاتٍ، وَلَوْ أَنَّهَا قَطَعَتْ طِيَلَهَا //5ب// فَاسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ، كَانَتْ آثَارُهَا وَأَرْوَاثُهَا حَسَنَاتٍ لَهُ، وَلَوْ أَنَّهَا مَرَّتْ بِنَهَرٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ وَلَمْ يُرِدْ أَنْ يَسْقِيَ بِهِ كَانَ ذَلِكَ حَسَنَاتٍ لَهُ، فَهِيَ لِذَلِكَ الرَّجُلِ أَجْرٌ، وَرَجُلٌ رَبَطَهَا تَغَنِّيًا وَتَعَفُّفًا، وَلَمْ يَنْسَ حَقَّ اللهِ فِي رِقَابِهَا، وَلَا ظُهُورِهَا، فَهِيَ لَهُ سِتْرٌ، وَرَجُلٌ رَبَطَهَا فَخْرًا وَرِئَاءً وَنِوَاءً، فَهِيَ عَلَى ذَلِكَ وِزْرٌ فَسُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الحُمُرِ، قَالَ: مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيَّ فِيهَا إِلَاّ هَذِهِ الآيَةَ الفَاذَّةَ الجَامِعَةَ {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ، وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} .
চতুর্থ হাদিস //5أ//
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা শায়খ তাকিউদ্দীন আবু বকর ইবন বাহাউদ্দীন ইবন আহমাদ ইবন আলি ইবন ইসমাইল আল-মুকরি আল-মুজাওয়িদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), তাঁর কাছে আমার পাঠের মাধ্যমে এবং তিনি তা শ্রবণ করছিলেন; এটি ছিল সাতশত বিরাশি হিজরি সালের শাবান মাসের শেষ দিকে, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর তাফসির অধ্যায়ে যা তাঁর কিতাব (আল-জামি আস-সহিহ)-এ সংকলিত হয়েছে। এটি বর্ণিত হয়েছে শায়খ বাহাউদ্দীন ইবন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন আশ-শুহনা আল-হাজ্জার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট থেকে তাঁর প্রাপ্ত সাধারণ ইজাজতের অধিকারে। তিনি (পিতা) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ সিরাজুদ্দীন আজ-জাবিদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল আস-সিজজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আল-বুশাঞ্জি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হামদ আব্দুল্লাহ ইবন হামুউইয়াহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-ফারাবরি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন মালিক, তিনি যায়েদ ইবন আসলাম থেকে, তিনি আবু সলিহ আস-সাম্মান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ঘোড়া তিন শ্রেণীর মানুষের জন্য। এক ব্যক্তির জন্য তা সওয়াবের উৎস, আরেক ব্যক্তির জন্য তা পর্দা স্বরূপ, আর অন্য ব্যক্তির জন্য তা গুনাহের বোঝা। যার জন্য তা সওয়াবের উৎস, সে হলো এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে ঘোড়া বেঁধে রাখে এবং সেটিকে কোনো চরণভূমি বা বাগানে লম্বা রশি দিয়ে চরে বেড়ানোর সুযোগ দেয়। সেই ঘোড়াটি চরণভূমি বা বাগানে থাকা অবস্থায় তার রশির সীমানার ভেতরে যা কিছু ভক্ষণ করে, তা ঐ ব্যক্তির জন্য নেকি হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি ঘোড়াটি তার রশি ছিঁড়ে //5ব// এক বা দুই বার উচ্চ ভূমিতে দৌড়াদৌড়ি করে, তবে তার পায়ের চিহ্ন এবং তার গোবরও ঐ ব্যক্তির জন্য নেকি হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি ঘোড়াটি যদি কোনো নদীর পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় তা থেকে পানি পান করে, অথচ মালিকের তাকে পানি পান করানোর কোনো ইচ্ছাও না থাকে, তবে সেটিও ঐ ব্যক্তির জন্য নেকি হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এই ঘোড়াটি সেই ব্যক্তির জন্য সওয়াবের কারণ। আর যে ব্যক্তি অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়ার জন্য এবং পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য ঘোড়া বেঁধে রাখে, আর তার গর্দান ও পিঠের ব্যাপারে আল্লাহর হক ভুলে যায় না, তবে তা তার জন্য পর্দা স্বরূপ। আর যে ব্যক্তি অহংকার, লোকদেখানো এবং ইসলামের বিরুদ্ধাচরণের উদ্দেশ্যে ঘোড়া বেঁধে রাখে, তবে সেটি তার জন্য গুনাহের বোঝা। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: আমার ওপর এ বিষয়ে এই অদ্বিতীয় ও ব্যাপক অর্থবোধক আয়াতটি ব্যতীত আর কিছুই অবতীর্ণ হয়নি: "কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখতে পাবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٦)
الحديث الخامس
أخبرناالشيخ الصالح الحاج أحمد بن علي بن عبدان القداس، بحماة المحروسة بتاريخ يوم الثلاثاء حادي عشر من رجب الفرد سنة أربع وثمانين وسبع مئة، بحماة المحروسة، بالمنصورية، بقراءة شيخنا العلامة برهان الدين المحدث الحلبي، وأنا أسمع، قال:أخبرنا المسند الشيخ تاج الدين أحمد بن الإمام //6أ// المحدث الحافظ تقي الدين إدريس بن يزيد الحموي، قال: أخبرتنا بنت العشير صفية بنت عبد الوهاب بن علي الزبيرية القرشية، قالت: أخبرنا أبو الفرج مسعود بن الحسن بن القاسم بن الفضل، إجازة، قال: أخبرنا أبو الفضل المطهر بن عبد الواحد بن محمد بن عبد الله بن الربيع البزاني، قراءة عليه، وأنا أسمع، قال: أخبرنا الإمام أبو عمر عبد الله بن محمد السليمي، قال: حدثنا أبو جعفر محمد بن عمر الدقيقي، حدثنا الفضل بن حماد الخبري، حدثنا مسدد، حَدَّثَنَا يحيى بن سعيد، عن شعبة، وهِشَامٌ، عن قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أنه قال: لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ، وَأحب الْفَأْلُ، قال: الْكَلِمَةُ الْحَسَنَةُ.
পঞ্চম হাদিস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ আল-হাজ আহমদ বিন আলী বিন আবদান আল-কাদ্দাস, সুরক্ষিত হামাতে, সাতশত চুরাশি হিজরি সনের একাকী রজব মাসের এগারো তারিখ মঙ্গলবার, মানসুরিয়াতে, আমাদের শায়খ আল্লামা বুরহানউদ্দীন আল-মুহাদ্দিস আল-হালাবি-র পাঠের মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদ শায়খ তাজউদ্দীন আহমদ বিন ইমাম মুহাদ্দিস হাফেজ তাকিউদ্দীন ইদ্রিস বিন ইয়াজিদ আল-হামাউই; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিনতুল আশির সাফিয়া বিনতে আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী আজ-জুবাইরিয়া আল-কুরাইশিয়া; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফারাজ মাসউদ বিন আল-হাসান বিন আল-কাসিম বিন আল-ফাদল, অনুমতিসূত্রে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাদল আল-মুতাহহার বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আর-রাবি আল-বাজ্জানি, তার নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু ওমর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস-সুলাইমি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন ওমর আদ-দাকিকি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাদল বিন হাম্মাদ আল-খাবারি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, তিনি শু'বাহ ও হিশাম থেকে, তারা কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "সংক্রমণ বলতে কিছু নেই, কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, আর আমি শুভ লক্ষণ পছন্দ করি।" তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: (শুভ লক্ষণ হলো) "উত্তম কথা।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٧)
الحديث السادس
أخبرنا الشيخ علي بن علي بن عمر بن علي العطار المعروف بابن فحيل بحاة المحروسة، يوم الخميس ثاني عشر ذي القعدة سنة ثلاث وتسعين وسبع مئة بالمنصورية بقراءة سمعها الشيخ للإمام العالم أقضى القضاة سماعا لأبي العباس أحمد بن الشيخ عماد الدين أبي الفداء إسماعيل بن زين الدين الشهير بابن الحسباني خليفة الحكم العزيز بدمشق المحروسة قال: أخبرنا المسند تاج الدين أحمد بن زين الدين //6ب// بسنده عن يحيى، عن حميد، عن ثابت، عن أنس، رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى رجلاً يهادى بين ابنيه، فسأل عنه؟ فقالوا: نذر أن يمشي، فقال: إن الله - تعالى - لغني عن تعذيب هذا نفسه فأمره أن يركب.
ষষ্ঠ হাদিস
সংরক্ষিত হামা শহরে, সাতশত তিরানব্বই হিজরি সনের বারো যিলকদ বৃহস্পতিবার আল-মানসুরিয়াতে শাইখ আলি বিন আলি বিন উমর বিন আলি আল-আত্তার—যিনি ইবনে ফুহাইল নামে পরিচিত—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এটি এমন এক পাঠের মাধ্যমে যা শাইখ শ্রবণ করেছেন ইমাম, আলিম এবং প্রধান বিচারপতি আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন শাইখ ইমাদ উদ্দীন আবু আল-ফিদা ইসমাইল বিন যইন উদ্দীনের উপস্থিতিতে, যিনি ইবনুল হাসবানি নামে প্রসিদ্ধ এবং সংরক্ষিত দামেস্কের সম্মানিত বিচারকের প্রতিনিধি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদ তাজ উদ্দীন আহমাদ বিন যইন উদ্দীন //৬খ// স্বীয় সনদে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যাকে তার দুই ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল: সে হেঁটে যাওয়ার মানত করেছে। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা এই ব্যক্তির নিজেকে কষ্ট দেওয়ার মুখাপেক্ষী নন। অতঃপর তিনি তাকে সওয়ারিতে আরোহণ করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٨)
الحديث السابع
أخبرنا أبو الحسن علي بن أبي المجد بن علي بن أبي المجد الآدمي بحماة المحروسة، بقراءة الشيخ العلامة برهان الدين إبراهيم المحدث سبط ابن العجمى، وأنا أسمع، بتاريخ حادي عشر من رجب سنة أربع وثمانين وسبع مئة، قال أخبرنا المسند تاج الدين أحمد بن يزيد
… بسنده، من حديث عمر بن عبيد الله بن محمد السلمي، حدثنا محمد بن عمر بن حفص بن شاذان، حدثنا سعد بن الفضل، عن سفيان الثوري، عن أبي موسى الصنعاني، عن وهب بن منبه، عن ابن عباس، رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من سكن البادية جفا، ومن أتى السلطان افتتن، ومن اتبع الصيد غفل.
সপ্তম হাদীস
সুরক্ষিত হামাহ শহরে শাইখ, আল্লামা বুরহানউদ্দীন ইবরাহীম আল-মুহাদ্দিস সিবত ইবনুল আজামির পাঠের মাধ্যমে আবু আল-হাসান আলী বিন আবি আল-মাজদ বিন আলী বিন আবি আল-মাজদ আল-আদামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এমতাবস্থায় যে আমি তা শ্রবণ করছিলাম। সময়টি ছিল সাতশত চুরাশি হিজরী সালের এগারো রজব। তিনি বলেন, আল-মুসনিদ তাজউদ্দীন আহমাদ বিন ইয়াযিদ
... তাঁর সনদসহ উমর বিন উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস-সুলামীর হাদীস হতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মাদ বিন উমর বিন হাফস বিন শাযান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাদ বিন আল-ফজল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আবু মুসা আস-সানআনী থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি মরুভূমিতে বসবাস করে সে রূঢ় স্বভাবের হয়ে যায়, যে ব্যক্তি শাসকের নিকট যায় সে ফিতনায় পতিত হয় এবং যে ব্যক্তি শিকারের পশ্চাদ্ধাবন করে সে উদাসীন হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٩)
الحديث الثامن
أخبرنا الشيخ أبو حفص عمر بن محمود بن علي بن النقيب، [أخو الشيخ موسى بن النقيب] (1) ، بحماة المحروسة //7أ//، بتاريخ حادي عشر رجب سنة أربع وثمانين وسبع مئة بقراءة ابن أخي المسمع بالمنصورية قال: أخبرنا المسند تاج الدين أحمد بن يزيد الحموي، بسنده حَدَّثَنَا محمد بن شاذان، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ، رضي الله عنه، قَالَ: أَنَا أَوَّلُ مَنْ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نهي أَنْ يَبُول مُسْتَقْبِل الْقِبْلَةِ ، فَخَرَجْتُ إِلَى النَّاسِ ، فَأَخْبَرْتُهُمْ.
وهو من أحاديث أبي عمر عبد الله بن محمد السلمي.
_حاشية
--------------------------------------------
অষ্টম হাদিস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু হাফস উমর ইবনে মাহমুদ ইবনে আলী ইবনুল নাকিব, [শায়খ মুসা ইবনুল নাকিবের ভাই] (১), সুরক্ষিত হামাহ শহরে //৭ক//, সাতশত চুরাশি হিজরি সনের এগারোই রজব তারিখে, আল-মানসুরিয়্যাহ-তে আল-মুসমি'-এর ভ্রাতুষ্পুত্রের পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুসনাদ তাজউদ্দীন আহমদ ইবনে ইয়াজিদ আল-হামাউই, তিনি তাঁর সনদের মাধ্যমে বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে শাযান, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, তিনি আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে জায (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমিই প্রথম ব্যক্তি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কিবলার দিকে মুখ করে প্রস্রাব করতে নিষেধ করতে শুনেছি। অতঃপর আমি লোকদের নিকট বেরিয়ে গেলাম এবং তাদের তা অবহিত করলাম।
এটি আবু উমর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সুলামির হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
_পাদটীকা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الحديث التاسع
أخبرتنا الشيخة المسندة الحاجة شرف بنت محمد بن حسن بن مسعود خطيب المنصورية بحماة المحروسة بتاريخ تاسع جمادى الأول سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة بقراءة شيخنا برهان الدين المحدث وأنا أسمع قالت: أخبرنا المسند تاج الدين أحمد بن يزيد الحموي بسنده من أحاديث أبي عمر عبد الله بن محمد السلمي بسنده قال: حدثنا أحمد بن عثمان الأبهري الصوفي، حدثنا محمد بن بهي، حدثنا أبو كريب، حدثنا أبو معاوية الضرير عن محمد بن //7ب// واسع عن أبي صالح الحنفي عن أبي هريرة، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله يحب السهل القريب.
নবম হাদীস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদাহ শায়খাহ হাজ্জাহ শরফ বিনতে মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন মাসউদ, যিনি সংরক্ষিত হামাহর মানসুরিয়্যার খতীব, সাতশত বিরাশি হিজরীর নয়ই জুমাদাল উলা তারিখে; আমাদের শায়খ মুহাদ্দিস বুরহানুদ্দীনের পাঠের মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদ তাজউদ্দীন আহমাদ বিন ইয়াযিদ আল-হামাউয়ী তাঁর সনদে, যা আবু উমর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস-সুলামীর হাদীসসমূহ হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর সনদে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন উসমান আল-আবেহারী আস-সূফী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন বাহী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুআবিয়াহ আদ-দারীর, মুহাম্মাদ বিন //৭খ// ওয়াসি থেকে, তিনি আবু সালিহ আল-হানাফী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সহজ-সরল ও অমায়িক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١١)
الحديث العاشر
أخبرنا شيخنا العلامة برهان الدين إبراهيم بن محمد بن خليل بن العجمي الحلبي المحدث وهو إذ ذاك في العودة من رحلته بحماة المحروسة بقراءتي عليه بحماة المحروسة بجميع شمائل النبي صلى الله عليه وسلم للحافظ أبي عيسى محمد بن عيسى الترمذي، رحمه الله، قال: أخبرني مسند الآفاق صلاح الدين محمد بن التقي أحمد بن العز إبراهيم بن الشرف عبد الله بن الشيخ الإمام الزاهد أبي عمر محمد بن أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي وبإجازتي له من الشيخين المسندين أبي حفص عمر بن أميلة المراغي الحلبي ثم المزي وأبي الحسن علي بن القبل الدقاق قالوا أخبرنا به مسند الأعلام فخر الدين أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد بن البخاري المقدسي، قال الأول سماعا، وقالا إجازة إن لم يكن سماعا قال: أخبرنا أبو اليمن زيد بن الحسن بن زيد الكندي، أخبرنا أبو شجاع عمر بن محمد بن عبد الله البسطامي، أخبرنا الدهقان، أبو القاسم أحمد بن محمد بن محمد البلخي، أخبرنا الشريف أبو القاسم علي بن أحمد الخزاعي، أخبرنا الأديب أبو سعيد الهيثم بن كليب بن شريح بن معقل //8أ// الشاشي قال: أخبرنا أبو عيسى الحافظ الترمذي في باب صفة النبي صلى الله عليه وسلم أخبرنا أَبُو رَجَاءٍ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الْبَائِنِ، وَلَا بِالْقَصِيرِ، وَلَا بِالأَبْيَضِ الأَمْهَقِ، وَلَا بِالآدَمِ، وَلَا بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ، وَلَا بِالسَّبْطِ، بَعَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً، فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ، وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ، وَتَوَفَّاهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً، وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ. (1)
--------------------------------------------
দশম হাদিস
আমাদের শায়খ আল্লামা বুরহানউদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খলিল ইবনুল আজমি আল-হালাবি আল-মুহাদ্দিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—এবং তিনি তখন সুরক্ষিত হামাহ শহর থেকে তাঁর সফরের ফিরতি পথে ছিলেন—সুরক্ষিত হামাহ শহরে তাঁর নিকট হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সংকলিত 'শামাইলুন্নবী' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পূর্ণ পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন দিগন্তের মুসনাদ সালাহউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে তাকি আহমদ ইবনে ইয ইব্রাহিম ইবনে শরাফ আব্দুল্লাহ ইবনে শায়খ ইমাম জাহেদ আবু ওমর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, এবং শায়খ মুসনাদ আবু হাফস ওমর ইবনে উমাইলা আল-মারাগি আল-হালাবি অতঃপর আল-মিযযি এবং আবু আল-হাসান আলি ইবনুল কুবাল আদ-দাক্কাক থেকে প্রাপ্ত ইজাজতের মাধ্যমে; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন প্রখ্যাত মুসনাদ ফখরুদ্দীন আবু আল-হাসান আলি ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল বুখারি আল-মাকদিসি; প্রথমজন সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বলেছেন এবং বাকি দুইজন যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে তবে ইজাজতের মাধ্যমে বলেছেন; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ইয়ামান যায়েদ ইবনুল হাসান ইবনে যায়েদ আল-কিন্দি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু শুজা ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বিস্তামি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দেহকান আবু আল-কাসিম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বলখি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শরীফ আবু আল-কাসিম আলি ইবনে আহমদ আল-খুজায়ি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাহিত্যিক আবু সাঈদ আল-হায়সাম ইবনে কুলাইব ইবনে শুরাইহ ইবনে মাকিল //৮অ// আশ-শাশী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু ঈসা আত-তিরমিজি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য অধ্যায়ে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রাজা কুতাইবা ইবনে সাঈদ, মালেক ইবনে আনাস থেকে, তিনি রবিআ ইবনে আবি আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যধিক লম্বাও ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না; তিনি ধবধবে সাদাও ছিলেন না, আবার একদম শ্যামলাও ছিলেন না; তাঁর চুল অত্যধিক কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে সোজাও ছিল না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়ত দান করেন। তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ষাট বছর বয়সে মৃত্যু দান করেন। তখন তাঁর মাথা ও দাড়ি মোবারকে বিশটি চুলও সাদা ছিল না। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
الحديث الحادي عشر
ومن مشايخ حمص المحروسة
الأول: الشيخ الإمام العلامة بهاء الدين بن تقي الدين أبو العباس أحمد بن الشيخ حسين أحمد الشافعي إمام جامع حمص المحروسة بقراءتي على جميع الأبيات البخاري رحمه الله بحق سماعه للبخاري المحدث سماعا من..... بسنده المشهور إلى البخاري، رحمه الله تعالى، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، رضي الله عنه؛ أَنَّ النَّبِيَّ //8ب// صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلاً يُنَادِي فِي النَّاسِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ إِنَّ مَنْ أَكَلَ فَلْيُتِمَّ أَوْ فَلْيَصُمْ، وَمَنْ لَمْ يَأْكُلْ فَلَا يَأْكُلْ.
وذلك بقراءتي عليه بحمص المحروسة بتاريخ عشر من رجب الفرد، سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة، وكتب به بخطه، رحمه الله.
একাদশ হাদীস
এবং সংরক্ষিত হিমসের শায়খদের মধ্য হতে
প্রথমজন: শায়খ, ইমাম, আল্লামা বাহাউদ্দীন ইবনে তাকীয়ুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে শায়খ হুসাইন আহমদ আশ-শাফিঈ, সংরক্ষিত হিমসের জামে মসজিদের ইমাম; ইমাম বুখারীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সংকলনের সকল পংক্তির ওপর তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, মুহাদ্দিস বুখারীর কিতাব শ্রবণের ভিত্তিতে, ... থেকে শ্রবণের মাধ্যমে, ইমাম বুখারীর (আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি রহম করুন) প্রতি তাঁর প্রসিদ্ধ সনদের মাধ্যমে। আবু আসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি উবায়দ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে; নবী //৮বি// (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশুরার দিনে জনৈক ব্যক্তিকে মানুষের মধ্যে এই ঘোষণা দেওয়ার জন্য পাঠালেন যে: যে ব্যক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন তা পূর্ণ করে অথবা রোজা রাখে, আর যে ব্যক্তি খায়নি সে যেন আর না খায়।
আর এটি সংরক্ষিত হিমসে ৭৮২ হিজরীর দশই রজব তারিখে তাঁর নিকট আমার পাঠ করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিজ হাতে এটি লিখেছেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الحديث الثاني عشر
ومن مشايخ حمص المحروسة
الثاني: أخبرنا الشيخ علي بن علي بن حسن بن علي الحنبلي أحد السادة العدول بحمص المحروسة، بقراءتي عليه بحمص المحروسة من أول كتاب عمدة الأحكام للحافظ عبد الغني المقدسي إلى كتاب الصلاة، وباب صفة النبي صلى الله عليه وسلم، ومواضع عرضا.
قال أخبرنا الشيخ أبو البركات محمد بن أقضى القضاة خالد بن مالك بن الإمام العالم القدوة شرف الدين بن أنس السبكي الشافعي المدرس في المدرسة النورية بحمص المحروسة كان، والشيخ الإمام تقي الدين بن أبي بكر بن الحمصية، والشيخ العالم أبو حفص عمر بن أبي الحسن الأنصاري الشافعي الشهير بابن الملقن، والشيخ شرف الدين بن معالي بن عمر بن معالي البدور، أما ابن الملقن فأخبرني بها عن المسند بدر الدين حسن الأربلي عن عبد الدايم عن المصنف، وعن غير //9أ// واحد فمنهم الشيخ فتح الدين النعمان بن عمر الفخري البخاري عن المصنف وأخبرنا الشيخ شرف الدين معالي الزين، أنه قرأه من حفظه على الشيخ العالم برهان الدين إبراهيم بن عمر الشهير بالمقبري وأخبره به عن المصنف، رحمه الله قال: عَنْ أَنَس بن مالك، رضي الله عنه،: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ، رضي الله عنهما كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الصَّلَاةَ بِ {الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ} .
وفي رواية (غندر عن شعبة) : صليت مع أبي بكر وعمر وعثمان، فلم أسمع أحداً منهم يقرأ (بسم الله الرحمن الرحيم) .
وذلك في تاريخ تاسع عشر رجب الفرد سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة.
দ্বাদশ হাদিস
এবং সংরক্ষিত হিমসের মাশায়েখদের থেকে
দ্বিতীয়: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আলী ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে আলী আল-হাম্বলী, যিনি সংরক্ষিত হিমসের অন্যতম ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব, সংরক্ষিত হিমসে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসী রচিত উমদাতুল আহকাম গ্রন্থের শুরু থেকে নামাজ অধ্যায় পর্যন্ত, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য বিষয়ক অধ্যায় ও বিভিন্ন স্থানে উপস্থাপনের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল বারাকাত মুহাম্মাদ ইবনে প্রধান বিচারপতি খালিদ ইবনে মালিক ইবনে ইমাম আলেম আদর্শ শারফুদ্দীন ইবনে আনাস আস-সুবকি আশ-শাফিঈ, যিনি সংরক্ষিত হিমসের নূরিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন; এবং শায়খ ইমাম তাকিউদ্দীন ইবনে আবি বকর ইবনুল হিমসিয়া; এবং আলেম শায়খ আবু হাফস উমর ইবনে আবুল হাসান আল-আনসারী আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন নামে প্রসিদ্ধ; এবং শায়খ শারফুদ্দীন ইবনে মাআলি ইবনে উমর ইবনে মাআলি আল-বুদুর। ইবনুল মুলাক্কিন আমাকে এই হাদিসের সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদ বদরুদ্দীন হাসান আল-আরবিলি থেকে, তিনি আব্দুল দাইম থেকে, তিনি গ্রন্থকার থেকে। আর একাধিক //৯ক// ব্যক্তি থেকে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ ফাতহুদ্দীন আন-নুমান ইবনে উমর আল-ফাখরি আল-বুখারি, তিনি গ্রন্থকার থেকে। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ শারফুদ্দীন মাআলি আয-যাইন যে, তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে আলেম শায়খ বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে উমর, যিনি আল-মাকবুরি নামে প্রসিদ্ধ, তাঁর নিকট পাঠ করেছেন এবং তিনি তাঁকে গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) "আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন" দ্বারা নামাজ শুরু করতেন।
শু'বাহ থেকে গুন্দারের বর্ণনায় রয়েছে: আমি আবু বকর, উমর ও উসমানের সাথে নামাজ পড়েছি, আমি তাঁদের কাউকেই "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" পড়তে শুনিনি।
আর এটি ছিল সাতশ বিরাশি হিজরি সনের একাকী রজব মাসের ঊনিশ তারিখ।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الحديث الثالث عشر
ومن مشايخي في الحديث ببعلبك المحروسة:
أخبرنا شيخنا الإمام العلامة شمس الدين، ومفتي المسلمين أبوعبد الله محمد بن علي بن اليونانية البعلي الحنبلي، ببعلبك المحروسة.
وعلىّ قرأت جميع (صحيح البخاري) ، من أوله إلى آخره، بحق سماعه لجميع (صحيح البخاري) ، إلى الشيخ الصالح المسند أبي العباس أحمد بن الشحنة، الشهير بالحجار، بسنده إلى //9ب// البخاري حسبما كتب ذلك، في إجازة لي بخطه إلى البخاري، ونقل البخاري، رحمه الله، في (باب فضل القرآن على سائر الكلام) :
حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ أبو خَالد، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قال: حَدَّثَنَا أَنَسٌ، عَنْ أَبِي مُوسَى، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَثَلُ المُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ القُرْآنَ كَالأُتْرُجَّةِ، طَعْمُهَا طَيِّبٌ وَرِيحُهَا طَيِّبٌ، وَمَثَلُ الَّذِي لَا يَقْرَأُ كَالتَّمْرَةِ، طَعْمُهَا طَيِّبٌ، وَلَا رِيحَ لَهَا، وَمَثَلُ الفَاجِرِ الَّذِي يَقْرَأُ القُرْآنَ كَمَثَلِ الرَّيْحَانَةِ، رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ، وَمَثَلُ الفَاجِرِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ القُرْآنَ كَمَثَلِ الحَنْظَلَةِ، طَعْمُهَا مُرٌّ، وَلَا رِيحَ لَهَا.
وكان ختم جميع البخاري، بقراءتي علي ببعلبك المحروسة بتاريخ رابع عشر جمادى الأولى، سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة، بعضه بالجامع الكبير، وبعضه بمسجد الحنابلة بها.
ত্রয়োদশ হাদিস
সুরক্ষিত বালবাক-এ আমার হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষকদের মধ্য হতে:
আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আমাদের শায়খ ইমাম আল্লামা শামসুদ্দিন এবং মুসলিমদের মুফতি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল ইউনানিয়্যাহ আল-বালি আল-হাম্বলি, সংরক্ষিত বালবাক-এ।
এবং আমি তাঁর নিকট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ (সহিহ বুখারি) পাঠ করেছি, শায়খ সালিহ আল-মুসনিদ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আল-শুহনা—যিনি আল-হাজ্জার নামে পরিচিত—তাঁর নিকট থেকে সম্পূর্ণ (সহিহ বুখারি) শোনার অধিকারের ভিত্তিতে, বুখারি পর্যন্ত তাঁর সনদের মাধ্যমে //৯-খ// বুখারি পর্যন্ত, যেভাবে তিনি তাঁর নিজ হাতের লেখায় আমার জন্য ইজাজতনামায় লিখে দিয়েছেন। এবং ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) ‘অন্যান্য কথার ওপর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন:
হুদবাহ ইবনে খালিদ আবু খালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো উতরুজ্জাহ (লেবু জাতীয় ফল) ফলের মতো, যার স্বাদ সুস্বাদু এবং ঘ্রাণও সুগন্ধযুক্ত। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার স্বাদ সুস্বাদু কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই। আর যে পাপাচারী কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো সুগন্ধি লতার মতো, যার ঘ্রাণ সুগন্ধযুক্ত কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে পাপাচারী কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো হানজালা ফলের মতো, যার স্বাদ তিক্ত এবং কোনো ঘ্রাণ নেই।
এবং সম্পূর্ণ বুখারি খতম সম্পন্ন হয়েছিল সংরক্ষিত বালবাকে আমার পাঠের মাধ্যমে, ৭৮২ হিজরি সনের ১৪ই জুমাদাল উলা তারিখে; এর কিছু অংশ জামে মসজিদে এবং কিছু অংশ সেখানকার হানবালি মসজিদে সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الحديث الرابع عشر
أخبرنا شيخنا الإمام العلامة الحافظ عماد الدين إسماعيل بن محمد بن بردس بن نصر بن بردس بن نصر سلان الحنبلي البعلي //10أ// بقراءتي عليه، وسماعي، بقراءة الشيخ الإمام العالي شمس الدين أبي عبد الله محمد بن الشيخ الإمام العلامة شهاب الدين أبي العباس أحمد بن الشيخ حسين، إمام جامع حمص المحروسة بجميع (صحيح مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري _ رحمه الله _) ، قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن الشيخ نجم الدين إسماعيل بسماعه من المشايخ الثلاثة أمين الدين ابن غنيمة الأربلي، وأبي بكر المزني، وأبي عبد الله العامري بسماع الأربلي، وأبي الحسن المؤيد الطوسي، بسماعه من أبي عبد الله محمد بن الفضل الفراوي، وبسماع الثاني، والثالث من أبي الفضل ابن الحرستاني الأنصاري، بإجازته من الفراوي، وهو أبو عبد الله محمد بن الفضل الصلعدي، قال: أخبرنا أبو الحسين عبد الغافر بن محمد الفارسي، قال: أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد الفقيه الزاهد، قال:
চৌদ্দতম হাদিস
আমাদের শাইখ, ইমাম, আল্লামা, হাফিজ ইমাদউদ্দীন ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন বারদাস বিন নাসর বিন বারদাস বিন নাসর সাল্লান আল-হাম্বালী আল-বালী //১০ক// আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট আমার পাঠ ও শ্রবণের মাধ্যমে; এবং শাইখ, ইমাম, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শামসউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন শাইখ ইমাম আল্লামা শিহাবউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন শাইখ হুসাইন—যিনি সুরক্ষিত হিমস জামে মসজিদের ইমাম—তাঁর পাঠের মাধ্যমে (ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নিসাবুরী -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- এর পূর্ণাঙ্গ সহীহ মুসলিম এর সাথে)। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন শাইখ নাজমুদ্দীন ইসমাঈল, তিনি তিন জন শাইখ—আমীনউদ্দীন ইবনে গনীমাহ আল-আরবালী, আবু বকর আল-মুযানী এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-আমেরী—এর নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে। আর আরবালী এবং আবুল হাসান আল-মুয়ায়্যাদ আত-তূসী এর শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল আল-ফারাবী থেকে শুনেছেন। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যক্তির শ্রবণের মাধ্যমে আবু আল-ফজল ইবনুল হারাসতানী আল-আনসারী থেকে, আল-ফারাবী থেকে প্রাপ্ত তাঁর ইজাজতের সূত্রে, আর তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল আস-সালাদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মাদ আল-ফারিসী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-ফকীহ আল-যাহিদ। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أخبرنا الإمام الحافظ مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، رحمه الله، قال، في باب صفة //10ب// حج رسول الله صلى الله عليه وسلم:
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ حَاتِمٍ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، فَسَأَلَ عَنِ الْقَوْمِ حَتَّى انْتَهَى إِلَيَّ، فَقُلْتُ: أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى رَأْسِي فَنَزَعَ زِرِّي الأَعْلَى، ثُمَّ نَزَعَ زِرِّي الأَسْفَلَ، ثُمَّ وَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ ثَدْيَيَّ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ غُلَامٌ شَابٌّ، فَقَالَ: مَرْحَبًا بِكَ، يَا ابْنَ أَخِي، سَلْ عَمَّا شِئْتَ، فَسَأَلْتُهُ، وَهُوَ أَعْمَى، وَحَضَرَ وَقْتُ الصَّلَاةِ، فَقَامَ فِي نِسَاجَةٍ مُلْتَحِفًا بِهَا، كُلَّمَا وَضَعَهَا عَلَى مَنْكِبِهِ رَجَعَ طَرَفَاهَا إِلَيْهِ مِنْ صِغَرِهَا، وَرِدَاؤُهُ إِلَى جَنْبِهِ، عَلَى الْمِشْجَبِ، فَصَلَّى بِنَا، فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي عَنْ حَجَّةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: بِيَدِهِ فَعَقَدَ تِسْعًا، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَكَثَ تِسْعَ سِنِينَ لَمْ يَحُجَّ، ثُمَّ أَذَّنَ فِي النَّاسِ فِي الْعَاشِرَةِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَاجٌّ، فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ بَشَرٌ كَثِيرٌ، كُلُّهُمْ يَلْتَمِسُ أَنْ يَأْتَمَّ بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَيَعْمَلَ مِثْلَ عَمَلِهِ، فَخَرَجْنَا مَعَهُ، حَتَّى أَتَيْنَا ذَا الْحُلَيْفَةِ، فَوَلَدَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ، فَأَرْسَلَتْ إِلَى //11أ// رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: كَيْفَ أَصْنَعُ؟ قَالَ: اغْتَسِلِي، وَاسْتَثْفِرِي بِثَوْبٍ وَأَحْرِمِي. فَصَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ، ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ، حَتَّى إِذَا اسْتَوَتْ بِهِ نَاقَتُهُ عَلَى الْبَيْدَاءِ، نَظَرْتُ إِلَى مَدِّ بَصَرِي بَيْنَ يَدَيْهِ، مِنْ رَاكِبٍ وَمَاشٍ، وَعَنْ يَمِينِهِ مِثْلَ ذَلِكَ، وَعَنْ يَسَارِهِ مِثْلَ ذَلِكَ، وَمِنْ خَلْفِهِ مِثْلَ ذَلِكَ، وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَظْهُرِنَا، وَعَلَيْهِ يَنْزِلُ الْقُرْآنُ، وَهُوَ يَعْرِفُ تَأْوِيلَهُ، وَمَا عَمِلَ بِهِ مِنْ شَيْءٍ عَمِلْنَا بِهِ.
ইমাম হাফিয মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী আন-নাইসাবুরী (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের জানিয়েছেন, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হজ্জের পদ্ধতির বিবরণ অধ্যায়ে (১০খ) বলেছেন:
আবূ বকর ইবনে আবী শায়বাহ এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহীম উভয়ই হাতিম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আবূ বকর বলেন: হাতিম ইবনে ইসমাঈল আল-মাদানী জা’ফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি উপস্থিত লোকদের পরিচয় জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, এমনকি যখন আমার নিকট পৌঁছলেন, আমি বললাম: আমি মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন। তখন তিনি নিজের হাত দিয়ে আমার মাথার দিকে ঝুঁকলেন এবং আমার উপরের বোতামটি খুললেন, তারপর নিচের বোতামটিও খুললেন। এরপর তিনি নিজের হাতের তালু আমার দুই স্তনের মাঝে (বুকে) রাখলেন। আমি তখন যুবক কিশোর ছিলাম। তিনি বললেন: তোমাকে স্বাগতম হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, যা ইচ্ছে আমাকে জিজ্ঞেস করো। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লাগলাম; তখন তিনি অন্ধ ছিলেন। এমতাবস্থায় সালাতের সময় উপস্থিত হলো। তিনি একটি চাদর গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। চাদরটি ছোট হওয়ার কারণে যখনই তিনি তা কাঁধের উপর রাখতেন, তখনই তার দুই প্রান্ত তাঁর দিকে ফিরে আসছিল। অথচ তাঁর বড় চাদরটি পাশেই একটি কাপড় রাখার আলনার উপর ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। আমি বললাম: আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হজ্জ সম্পর্কে বলুন। তিনি নিজের হাত দিয়ে নয় সংখ্যাটি গণনা করে দেখালেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় বছর মদিনায় অবস্থান করেছিলেন কিন্তু হজ্জ করেননি। অতঃপর দশম বর্ষে মানুষের মাঝে ঘোষণা দেওয়া হলো যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হজ্জ করবেন। তখন প্রচুর মানুষ মদিনায় আসল, যাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ করতে এবং তিনি যেভাবে হজ্জ সম্পাদন করেন তদ্রূপ করতে আগ্রহী ছিল। আমরা তাঁর সাথে বের হলাম এবং যুল হুলাইফায় পৌঁছলাম। সেখানে আসমা বিনতে উমাইস মুহাম্মাদ ইবনে আবূ বকরকে প্রসব করলেন। তখন তিনি (১১ক) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: আমি এখন কী করব? তিনি বললেন: তুমি গোসল করো, একটি কাপড় দিয়ে নেংটি ধারণ করো এবং ইহরাম পরিধান করো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে সালাত আদায় করলেন, এরপর আল-কাসওয়া নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। যখন তাঁর উষ্ট্রীটি তাঁকে নিয়ে বাইদা নামক প্রান্তরে উঠে সমান হলো, আমি আমার দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত সামনের দিকে তাকালাম এবং দেখলাম অসংখ্য আরোহী ও পদচারী মানুষ। তাঁর ডানেও অনুরূপ, বামেও অনুরূপ এবং তাঁর পেছনেও অনুরূপ মানুষ ছিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝখানে ছিলেন। তাঁর উপরেই কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং তিনিই তার ব্যাখ্যা জানতেন। তিনি যা কিছু করলেন, আমরাও তদ্রূপ করলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٧)
فَأَهَلَّ بِالتَّوْحِيدِ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ، لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ، وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ وَأَهَلَّ النَّاسُ بِهَذَا الَّذِي يُهِلُّونَ بِهِ، فَلَمْ يَرُدَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمْ شَيْئًا مِنْهُ، وَلَزِمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَلْبِيَتَهُ.
قَالَ جَابِرٌ رضي الله عنه: لَسْنَا نَنْوِي إِلَاّ الْحَجَّ، لَسْنَا نَعْرِفُ الْعُمْرَةَ، حَتَّى إِذَا أَتَيْنَا الْبَيْتَ مَعَهُ، اسْتَلَمَ الرُّكْنَ فَرَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا، ثُمَّ نَفَذَ إِلَى مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام، فَقَرَأَ: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} فَجَعَلَ الْمَقَامَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ. فَكَانَ أَبِي يَقُولُ، وَلَا أَعْلَمُهُ ذَكَرَهُ إِلَاّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم،: كَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ //11ب// {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} وَ {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} . ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الرُّكْنِ فَاسْتَلَمَهُ، ثُمَّ خَرَجَ مِنَ الْبَابِ إِلَى الصَّفَا، فَلَمَّا دَنَا مِنَ الصَّفَا قَرَأَ: {إِنَّ الصَّفَا والْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ فَبَدَأَ بِالصَّفَا، فَرَقِيَ عَلَيْهِ، حَتَّى رَأَى الْبَيْتَ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، فَوَحَّدَ اللَّهَ وَكَبَّرَهُ، وَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ ثُمَّ دَعَا بَيْنَ ذَلِكَ، قَالَ: مِثْلَ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ نَزَلَ إِلَى الْمَرْوَةِ، حَتَّى إِذَا انْصَبَّتْ قَدَمَاهُ فِي بَطْنِ الْوَادِي سَعَى، حَتَّى إِذَا صَعِدَتَا مَشَى، حَتَّى أَتَى الْمَرْوَةَ، فَفَعَلَ عَلَى الْمَرْوَةِ كَمَا فَعَلَ عَلَى الصَّفَا.
অতঃপর তিনি তাওহীদের সাথে তালবিয়া পাঠ করলেন: "আমি উপস্থিত হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত। আমি উপস্থিত, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি উপস্থিত। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, অনুগ্রহ এবং রাজত্ব আপনারই; আপনার কোনো শরিক নেই।" আর মানুষেরাও তাদের মতো করে তালবিয়া পাঠ করছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের পাঠ করা কোনো কিছুকেই প্রত্যাখ্যান করেননি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজ তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রাখলেন।
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আমরা কেবল হজেরই নিয়ত করেছিলাম, আমরা ওমরার কথা জানতাম না। অবশেষে যখন আমরা তাঁর সাথে বাইতুল্লাহর কাছে আসলাম, তিনি রুকন (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন। এরপর তিন চক্কর দ্রুত পদচারণা করলেন এবং চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেন। অতঃপর তিনি মাকামে ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের দিকে অগ্রসর হলেন এবং পাঠ করলেন: 'আর তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।' এরপর তিনি মাকামটিকে তাঁর ও বাইতুল্লাহর মাঝখানে রাখলেন। আমার পিতা বলতেন—আর আমি মনে করি তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেই বর্ণনা করেছেন—যে তিনি দুই রাকাআতে //১১বি// 'বলুন: তিনি আল্লাহ এক' (সূরা ইখলাস) এবং 'বলুন: হে কাফিররা' (সূরা কাফিরুন) পাঠ করতেন। এরপর তিনি পুনরায় রুকনের দিকে ফিরে আসলেন এবং তা স্পর্শ করলেন। তারপর দরজা দিয়ে সাফার দিকে বের হলেন। যখন তিনি সাফার নিকটবর্তী হলেন, তখন পাঠ করলেন: 'নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।' আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, আমিও তা দিয়ে শুরু করছি। এরপর তিনি সাফা দিয়ে শুরু করলেন এবং তার ওপর উঠলেন, এমনকি বাইতুল্লাহ দেখতে পেলেন। তখন তিনি কিবলামুখী হলেন এবং আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করলেন ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক; তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।' এরপর তিনি এর মাঝে দোয়া করলেন। তিনি এরূপ তিনবার বললেন। তারপর তিনি মারওয়ার দিকে নামলেন। যখন উপত্যকার নিচু ভূমিতে তাঁর দুই পা পৌঁছাল তখন তিনি দৌড়ালেন, আর যখন ওপরের দিকে উঠলেন তখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেন। এভাবে তিনি মারওয়ায় পৌঁছালেন এবং মারওয়াতে ঠিক তেমনটিই করলেন যেমনটি সাফায় করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٨)
حَتَّى إِذَا كَانَ آخِرُ طَوَافِهِ عَلَى الْمَرْوَةِ، فَقَالَ: لَوْ أَنِّي اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ لَمْ أَسُقِ الْهَدْيَ، وَجَعَلْتُهَا عُمْرَةً، فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ لَيْسَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيَحِلَّ، وَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَةً، فَقَامَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَلِعَامِنَا هَذَا أَمْ لِ أَبَدٍ؟ فَشَبَّكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَصَابِعَهُ وَاحِدَةً فِي الأُخْرَى، وَقَالَ: دَخَلَتِ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ مَرَّتَيْنِ لَا بَلْ لأَبَدِ الأَبَدٍ. //12أ// وَقَدِمَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ بِبُدْنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَوَجَدَ فَاطِمَةَ رضي الله عنها مِمَّنْ حَلَّ، وَلَبِسَتْ ثِيَابًا صَبِيغًا، وَاكْتَحَلَتْ، فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا، فَقَالَتْ: إِنَّ أَبِي أَمَرَنِي بِهَذَا، قَالَ: فَكَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ، بِالْعِرَاقِ: فَذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُحَرِّشًا عَلَى فَاطِمَةَ لِلَّذِي صَنَعَتْ، مُسْتَفْتِيًا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا ذَكَرَتْ عَنْهُ، فَأَخْبَرْتُهُ أَنِّي أَنْكَرْتُ ذَلِكَ عَلَيْهَا، فَقَالَ: صَدَقَتْ صَدَقَتْ، مَاذَا قُلْتَ حِينَ فَرَضْتَ الْحَجَّ؟ قَالَ قُلْتُ: اللَّهُمَّ، إِنِّي أُهِلُّ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُكَ، قَالَ: فَإِنَّ مَعِيَ الْهَدْيَ فَلَا تَحِلُّ قَالَ: فَكَانَ جَمَاعَةُ الْهَدْيِ الَّذِي قَدِمَ بِهِ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ وَالَّذِي أَتَى بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِئَةً، قَالَ: فَحَلَّ النَّاسُ كُلُّهُمْ وَقَصَّرُوا، إِلَاّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ.
পরিশেষে যখন তিনি মারওয়ার ওপর তাঁর শেষ চক্কর দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: “আমি যদি আমার এ বিষয়ের পরিণাম আগে জানতাম যা পরে জেনেছি, তবে আমি কুরবানির পশু সাথে নিয়ে আসতাম না এবং এটিকে উমরায় পরিণত করতাম। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানির পশু নেই, সে যেন ইহরাম ছেড়ে দেয় এবং একে উমরায় পরিণত করে।” তখন সুরাকাহ ইবনে মালিক ইবনে জু’শুম দাঁড়িয়ে বললেন: “হে আল্লাহর রাসুল, এটি কি কেবল আমাদের এই বছরের জন্য, নাকি চিরকালের জন্য?” তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলের ভেতর ঢোকালেন এবং বললেন: “উমরা হজের ভেতর প্রবেশ করেছে (তিনি এটি দুবার বললেন); না, বরং অনন্তকালের জন্য।” [১২-ক] আলী ইয়ামেন থেকে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কুরবানির উটগুলো নিয়ে আসলেন। তিনি ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে পেলেন যারা ইহরাম ছেড়েছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে; তিনি রঙিন পোশাক পরেছিলেন এবং চোখে সুরমা লাগিয়েছিলেন। আলী তাঁর এই কাজের প্রতিবাদ জানালেন। ফাতিমা বললেন: “নিশ্চয়ই আমার পিতা আমাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।” আলী ইরাকে থাকাকালীন বলতেন: “ফাতিমা যা করেছে তার জন্য আমি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এবং তিনি তাঁর পক্ষ থেকে যা উল্লেখ করেছেন সে বিষয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞেস করতে গেলাম। আমি তাঁকে জানালাম যে, আমি ফাতিমার এই কাজের প্রতিবাদ করেছি।” তখন তিনি বললেন: “সে সত্য বলেছে, সে সত্য বলেছে। তুমি হজের ইহরাম বাঁধার সময় কী বলেছিলে?” আলী বললেন: “আমি বলেছিলাম: হে আল্লাহ, আপনার রাসুল যা দিয়ে ইহরাম বেঁধেছেন আমিও তা দিয়েই ইহরাম বাঁধছি।” রাসুল বললেন: “তবে আমার সাথে কুরবানির পশু আছে, সুতরাং তুমি ইহরাম ছাড়বে না।” বর্ণনাকারী বলেন: আলী ইয়ামেন থেকে যে কুরবানির পশু এনেছিলেন এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা সাথে এনেছিলেন, তার মোট সংখ্যা ছিল একশ। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং যাদের সাথে কুরবানির পশু ছিল তারা ব্যতীত সমস্ত মানুষ ইহরামমুক্ত হলেন এবং চুল ছোট করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ تَوَجَّهُوا إِلَى مِنًى، فَأَهَلُّوا بِالْحَجِّ، وَرَكِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَصَلَّى بِهَا الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ، ثُمَّ مَكَثَ قَلِيلاً حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ، وَأَمَرَ بِقُبَّةٍ مِنْ شَعَرٍ تُضْرَبُ لَهُ بِنَمِرَةَ، فَسَارَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا تَشُكُّ قُرَيْشٌ إِلَاّ أَنَّهُ وَاقِفٌ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ، كَمَا كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصْنَعُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، //12ب// فَأَجَازَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَتَى عَرَفَةَ، فَوَجَدَ الْقُبَّةَ قَدْ ضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ، فَنَزَلَ بِهَا، حَتَّى إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِالْقَصْوَاءِ، فَرُحِلَتْ لَهُ، فَأَتَى بَطْنَ الْوَادِي، فَخَطَبَ النَّاسَ وَقَالَ: إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، أَلَا كُلُّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ تَحْتَ قَدَمَيَّ مَوْضُوعٌ، وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعَةٌ، وَإِنَّ أَوَّلَ دَمٍ أَضَعُ مِنْ دِمَائِنَا دَمُ ابْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ، كَانَ مُسْتَرْضِعًا فِي بَنِي سَعْدٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ، وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ، وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانَا رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ، فَاتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَقَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ، كِتَابُ اللهِ، وَأَنْتُمْ تُسْأَلُونَ عَنِّي، فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ؟ قَالُوا: نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ، فَقَالَ: بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ، يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ اللَّهُمَّ، //13أ// اشْهَدْ، اللَّهُمَّ، اشْهَدْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَذَّنَ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ، وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا، ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى أَتَى الْمَوْقِفَ، فَجَعَلَ بَطْنَ نَاقَتِهِ الْقَصْوَاءِ إِلَى الصَّخَرَاتِ، وَجَعَلَ حَبْلَ الْمُشَاةِ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَذَهَبَتِ الصُّفْرَةُ قَلِيلاً، حَتَّى غَابَ الْقُرْصُ.
যখন তারবিয়ার দিন উপস্থিত হলো, তারা মিনার দিকে রওনা হলেন এবং হজের ইহরাম বাঁধলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওয়ার হলেন এবং সেখানে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজর সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন যতক্ষণ না সূর্য উদিত হলো। তিনি পশমের তৈরি একটি তাঁবু নামিরা নামক স্থানে স্থাপনের নির্দেশ দিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথ চললেন, এদিকে কুরাইশরা নিশ্চিত ছিল যে, তিনি মাশআরুল হারামের নিকট অবস্থান করবেন, যেমনটি তারা জাহেলিয়াতের যুগে করত। //১২খ// কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা অতিক্রম করে আরাফাতে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি নামিরায় তাঁর জন্য স্থাপিত তাঁবুটি পেলেন এবং তাতে অবতরণ করলেন। যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ল, তিনি কাসওয়া উটনীর প্রস্তুতি নিতে আদেশ দিলেন এবং তাঁর জন্য সওয়ারি প্রস্তুত করা হলো। তিনি উপত্যকার অভ্যন্তরে আসলেন এবং লোকেদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম, যেমন তোমাদের আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই শহর হারাম। জেনে রেখো, জাহেলি যুগের যাবতীয় বিষয় আমার দুই পায়ের নিচে নিক্ষিপ্ত হলো। জাহেলি যুগের রক্তের প্রতিশোধ বাতিল করা হলো। আমাদের রক্তগুলোর মধ্যে প্রথম যে রক্ত আমি বাতিল করছি তা হলো ইবন রবিআ ইবনুল হারিসের রক্ত, যে বনু সা’দ গোত্রে দুগ্ধ পান করছিল এবং হুযাইল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল। জাহেলি যুগের সুদ বাতিল করা হলো। আর আমাদের সুদগুলোর মধ্যে প্রথম যে সুদ আমি বাতিল করছি তা হলো আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিবের সুদ; এটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো। তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানতে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান হালাল করেছ। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো, তারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে আসার অনুমতি না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তারা তা করে, তবে তোমরা তাদেরকে প্রহার করতে পারো যা গুরুতর হবে না। আর তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলো, তোমরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করবে। আমি তোমাদের মাঝে এমন একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না; তা হলো আল্লাহর কিতাব। আমার সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে? তারা বললেন: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন এবং হিতোপদেশ দিয়েছেন। তখন তিনি তাঁর তর্জনী আঙুল আকাশের দিকে তুললেন এবং মানুষের দিকে ইশারা করে তিনবার বললেন: হে আল্লাহ! //১৩ক// আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। এরপর আযান ও ইকামাত দেওয়া হলো এবং তিনি যোহর সালাত আদায় করলেন। এরপর আবার ইকামাত দেওয়া হলো এবং তিনি আসর সালাত আদায় করলেন। এ দুই সালাতের মাঝে তিনি অন্য কোনো সালাত পড়েননি। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওয়ার হলেন এবং উকুফের স্থানে আসলেন। তিনি তাঁর কাসওয়া উটনীর পেট পাহাড়ের পাথরগুলোর দিকে রাখলেন এবং পায়ে হাঁটা মানুষের দলকে নিজের সামনে রাখলেন। এরপর তিনি কিবলামুখী হলেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেন। আকাশের হলুদ আভা কিছুটা চলে গেল এবং সূর্যমণ্ডল অদৃশ্য হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ خَلْفَهُ، وَدَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ شَنَقَ لِلْقَصْوَاءِ الزِّمَامَ، حَتَّى إِنَّ رَأْسَهَا لَيُصِيبُ مَوْرِكَ رَحْلِهِ، وَيَقُولُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى أَيُّهَا النَّاسُ، السَّكِينَةَ السَّكِينَةَ كُلَّمَا أَتَى حَبْلاً مِنَ الْحِبَالِ أَرْخَى لَهَا قَلِيلاً، حَتَّى تَصْعَدَ، حَتَّى أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ، فَصَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ، وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا شَيْئًا، ثُمَّ اضْطَجَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ، وَصَلَّى الْفَجْرَ، حِينَ تَبَيَّنَ لَهُ الصُّبْحُ، بِأَذَانٍ وَإِقَامَةٍ، ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ، حَتَّى أَتَى الْمَشْعَرَ الْحَرَامَ، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، فَدَعَاهُ وَكَبَّرَهُ وَهَلَّلَهُ وَوَحَّدَهُ، فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتَّى أَسْفَرَ جِدًّا، فَدَفَعَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَأَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ عَبَّاسٍ، وَكَانَ رَجُلاً حَسَنَ الشَّعْرِ أَبْيَضَ وَسِيمًا، فَلَمَّا دَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّتْ بِهِ ظُعُنٌ يَجْرِينَ، فَطَفِقَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ //13ب// إِلَيْهِنَّ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى وَجْهِ الْفَضْلِ، فَحَوَّلَ الْفَضْلُ وَجْهَهُ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ يَنْظُرُ، فَحَوَّلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ عَلَى وَجْهِ الْفَضْلِ، يَصْرِفُ وَجْهَهُ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ يَنْظُرُ، حَتَّى أَتَى بَطْنَ مُحَسِّرٍ، فَحَرَّكَ قَلِيلاً، ثُمَّ سَلَكَ الطَّرِيقَ الْوُسْطَى الَّتِي تَخْرُجُ عَلَى الْجَمْرَةِ الْكُبْرَى، حَتَّى أَتَى الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَ الشَّجَرَةِ، فَرَمَاهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ، يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ مِنْهَا، مِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ، رَمَى مِنْ بَطْنِ الْوَادِي، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمَنْحَرِ، فَنَحَرَ ثَلَاثًا وَسِتِّينَ بِيَدِهِ، ثُمَّ أَعْطَى عَلِيًّا، فَنَحَرَ مَا غَبَرَ، وَأَشْرَكَهُ فِي هَدْيِهِ، ثُمَّ أَمَرَ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بِبَضْعَةٍ، فَجُعِلَتْ فِي قِدْرٍ، فَطُبِخَتْ، فَأَكَلَا مِنْ لَحْمِهَا وَشَرِبَا مِنْ مَرَقِهَا. ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَفَاضَ إِلَى الْبَيْتِ، فَصَلَّى بِمَكَّةَ الظُّهْرَ، فَأَتَى بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، يَسْقُونَ عَلَى زَمْزَمَ، فَقَالَ: انْزِعُوا، بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَلَوْلَا أَنْ يَغْلِبَكُمُ النَّاسُ عَلَى سِقَايَتِكُمْ لَنَزَعْتُ مَعَكُمْ فَنَاوَلُوهُ دَلْوًا فَشَرِبَ مِنْهُ.
এবং তিনি উসামাকে নিজের পেছনে বসালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাত্রা করলেন এবং কাসওয়ার লাগাম টেনে ধরলেন, ফলে তার মাথা তাঁর সওয়ারির সামনের অংশ স্পর্শ করছিল। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বলছিলেন, হে লোকসকল! ধীরস্থিরভাবে, ধীরস্থিরভাবে। যখনই তিনি কোনো বালিয়াড়িতে আসতেন, তখনই তার লাগাম কিছুটা ঢিলা করে দিতেন যেন সে উপরে উঠতে পারে। এভাবে তিনি মুজদালিফায় পৌঁছালেন এবং সেখানে এক আজান ও দুই ইকামতে মাগরিব ও এশার সালাত আদায় করলেন। এই দুই সালাতের মাঝে তিনি কিছুই পড়লেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত শুয়ে থাকলেন। যখন প্রভাত স্পষ্ট হলো, তিনি আজান ও ইকামতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি কাসওয়ার ওপর আরোহণ করলেন এবং মাশআরে হারামে আসলেন। তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকট দুআ করলেন, তাঁর তাকবির পাঠ করলেন, তাহলিল পাঠ করলেন এবং তাঁর একত্ব বর্ণনা করলেন। আকাশ খুব ফর্সা না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেন। সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বেই তিনি রওনা হলেন এবং ফযল ইবনে আব্বাসকে নিজের পেছনে বসালেন। ফযল ছিলেন সুন্দর চুলবিশিষ্ট ফর্সা ও সুশ্রী ব্যক্তি। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে চলছিলেন, তখন তাঁর পাশ দিয়ে কিছু উষ্ট্রারোহী নারী যাচ্ছিলেন। তখন ফযল তাদের দিকে তাকাতে লাগলেন //১৩খ//। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ফযলের চেহারার ওপর রাখলেন। ফযল তাঁর চেহারা অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে তাকাতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অন্য দিক থেকে তাঁর হাত ঘুরিয়ে ফযলের চেহারার ওপর রাখলেন এবং তাঁর চেহারা অন্য দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি তাকাচ্ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি বাতনু মুহস্সিরে পৌঁছালেন এবং কিছুটা দ্রুত চললেন। এরপর তিনি মধ্যম পথটি অবলম্বন করলেন যা জামরায়ে কুবরার দিকে বের হয়েছে। শেষে তিনি সেই জামরার নিকট পৌঁছালেন যা গাছের কাছে অবস্থিত এবং সেখানে সাতটি ছোট কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় তিনি তাকবির বলছিলেন। কঙ্করগুলো ছিল আঙুলের ডগায় রেখে নিক্ষেপ করার মতো ছোট। তিনি উপত্যকার গভীর থেকে তা নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর তিনি কুরবানির স্থানে ফিরে আসলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি উট নহর করলেন। এরপর তিনি আলীকে বাকিগুলো দিলেন এবং তিনি সেগুলো নহর করলেন। তিনি তাকে তাঁর কুরবানির পশুতে অংশীদার করলেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন প্রতিটি উট থেকে এক টুকরো গোশত নেওয়া হয়। অতঃপর তা একটি পাত্রে রেখে রান্না করা হলো। তাঁরা দুজন সেই গোশত থেকে খেলেন এবং তার ঝোল পান করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে আসলেন এবং মক্কায় যোহরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বনু আবদুল মুত্তালিবের কাছে আসলেন, যারা জমজমের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেন: হে বনু আবদুল মুত্তালিব! তোমরা পানি তোলো। যদি মানুষ তোমাদের পানি পান করানোর দায়িত্বে তোমাদের ওপর প্রবল হয়ে পড়ার ভয় না থাকত, তবে আমিও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তখন তারা তাঁকে এক বালতি পানি দিলেন এবং তিনি তা থেকে পান করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الحديث الخامس عشر
أخبرنا الشيخ الإمام العالم بدر الدين محمد بن أحمد بن محمد بن //14أ// عبد المجيد، الشهير بابن زيد البعلي الشافعي، قال: أخبرنا الشيخ بهاء الدين أبو العباس أحمد بن الشحنة الحجار، قال: أخبرنا الشيخ سراج الدين أبو عبد الله الحسين بن أبي بكر الزبيدي، قال: أخبرنا أبو الوقت عبد الأول السجزي، قال: أخبرنا أبو الحسن عبد الرحمن البوشنجي، قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن أحمد حسنويه السرخسي، قال: أخبرنا الإمام أبو عبد الله محمد بن يوسف الفربري، قال: أخبرنا الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري بَابُ (حُسْنِ المُعَاشَرَةِ مَعَ الأَهْلِ) : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَا: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَلَسَ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةً، فَتَعَاهَدْنَ وَتَعَاقَدْنَ أَنْ لَا يَكْتُمْنَ مِنْ أَخْبَارِ أَزْوَاجِهِنَّ شَيْئًا، قَالَتِ الأُولَى: زَوْجِي لَحْمُ جَمَلٍ غَثٍّ، عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ: لَا سَهْلٍ فَيُرْتَقَى، وَلَا سَمِينٍ فَيُنْتَقَلُ، قَالَتِ الثَّانِيَةُ: زَوْجِي لَا أَبُثُّ خَبَرَهُ، إِنِّي أَخَافُ أَنْ لَا أَذَرَهُ، إِنْ أَذْكُرْهُ //14ب// أَذْكُرْ عُجَرَهُ وَبُجَرَهُ، قَالَتِ الثَّالِثَةُ: زَوْجِيَ العَشَنَّقُ، إِنْ أَنْطِقْ أُطَلَّقْ وَإِنْ أَسْكُتْ أُعَلَّقْ، قَالَتِ الرَّابِعَةُ: زَوْجِي كَلَيْلِ تِهَامَةَ، لَا حَرٌّ، وَلَا قُرٌّ، وَلَا مَخَافَةَ، وَلَا سَآمَةَ، قَالَتِ الخَامِسَةُ: زَوْجِي إِنْ دَخَلَ فَهِدَ، وَإِنْ خَرَجَ أَسِدَ، وَلَا يَسْأَلُ عَمَّا عَهِدَ، قَالَتِ السَّادِسَةُ: زَوْجِي إِنْ أَكَلَ لَفَّ، وَإِنْ شَرِبَ اشْتَفَّ، وَإِنِ اضْطَجَعَ التَفَّ، وَلَا يُولِجُ الكَفَّ لِيَعْلَمَ البَثَّ. قَالَتِ السَّابِعَةُ: زَوْجِي غَيَايَاءُ، أَوْ عَيَايَاءُ، طَبَاقَاءُ، كُلُّ دَاءٍ لَهُ دَاءٌ، شَجَّكِ أَوْ فَلَّكِ أَوْ جَمَعَ كُلًّا لَكِ، قَالَتِ الثَّامِنَةُ: زَوْجِي المَسُّ مَسُّ أَرْنَبٍ، وَالرِّيحُ رِيحُ زَرْنَبٍ، قَالَتِ التَّاسِعَةُ: زَوْجِي رَفِيعُ العِمَادِ، طَوِيلُ النِّجَادِ، عَظِيمُ الرَّمَادِ، قَرِيبُ البَيْتِ مِنَ النَّادِ، قَالَتِ العَاشِرَةُ: زَوْجِي مَالِكٌ وَمَا مَالِكٌ، مَالِكٌ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكِ، لَهُ إِبِلٌ كَثِيرَاتُ المَبَارِكِ، قَلِيلَاتُ المَسَارِحِ، وَإِذَا سَمِعْنَ صَوْتَ المِزْهَرِ، أَيْقَنَّ أَنَّهُنَّ هَوَالِكُ،
পঞ্চদশ হাদিস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আলিম বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে //১৪ক// আব্দুল মাজীদ, যিনি ইবনে যায়েদ আল-বালি আল-শাফিঈ নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ বাহাউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনুল শুহনা আল-হাজ্জার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ সিরাজুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আবি বকর আল-যাবিদী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল আস-সিজযী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুর রহমান আল-বুশাঞ্জী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ হাসনুয়াহ আস-সারখাসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফারাবরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি। পরিচ্ছেদ: (পরিবারের সাথে উত্তম আচরণ): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আব্দুর রহমান এবং আলি ইবনে হুজর, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এগারো জন মহিলা একত্রে বসলেন, অতঃপর তারা এই মর্মে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেন যে, তারা তাদের স্বামীদের কোনো সংবাদই গোপন করবেন না। প্রথমজন বললেন: আমার স্বামী পাহাড়ের চূড়ায় রাখা চর্বিহীন উটের মাংসের মতো; যা আরোহণ করার মতো সহজ নয়, আবার তা পুষ্টও নয় যে (পাহাড় থেকে নিচে) বয়ে নেওয়া হবে। দ্বিতীয়জন বললেন: আমার স্বামীর সংবাদ আমি প্রচার করব না; কারণ আমার ভয় হয় যে আমি তা শেষ করতে পারব না। যদি আমি তার কথা উল্লেখ করি //১৪খ// তবে তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সকল দোষই উল্লেখ করতে হবে। তৃতীয়জন বললেন: আমার স্বামী অতি দীর্ঘদেহী; আমি যদি কথা বলি তবে আমাকে তালাক দেওয়া হবে, আর যদি চুপ থাকি তবে আমাকে ঝুলিয়ে রাখা হবে। চতুর্থজন বললেন: আমার স্বামী তিহামার রাতের মতো; না তাতে গরম আছে, না প্রচণ্ড শীত, না আছে কোনো ভয় আর না কোনো ক্লান্তি। পঞ্চমজন বললেন: আমার স্বামী ঘরে প্রবেশ করলে চিতার মতো (শান্ত) হয়ে যান, আর বাইরে বের হলে সিংহের মতো (সাহসী) হন, আর তিনি যা রেখে যান সে সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করেন না। ষষ্ঠজন বললেন: আমার স্বামী যখন আহার করেন তখন সব শেষ করে ফেলেন, যখন পান করেন তখন সবটুকু চুষে নেন, আর যখন শয়ন করেন তখন নিজেকে গুটিয়ে শুয়ে থাকেন, আর তিনি আমার দুঃখ-বেদনা জানার জন্য তার হাত বাড়িয়ে দেন না। সপ্তমজন বললেন: আমার স্বামী নির্বোধ অথবা অক্ষম, জড়বুদ্ধিসম্পন্ন, জগতের যাবতীয় রোগ তার মধ্যে রয়েছে; তিনি তোমার মাথা ফাটিয়ে দেবেন অথবা তোমার অঙ্গহানি করবেন অথবা তোমার সাথে উভয়টিই করবেন। অষ্টমজন বললেন: আমার স্বামীর স্পর্শ খরগোশের স্পর্শের মতো (নরম) এবং তার শরীরের ঘ্রাণ সুগন্ধি 'যারনাব' এর ঘ্রাণের মতো। নবমজন বললেন: আমার স্বামীর স্তম্ভ সুউচ্চ (উচ্চ মর্যাদাবান), তার তলোয়ারের ঝোলানো ফিতা দীর্ঘ (দীর্ঘদেহী), তার ছাইয়ের স্তূপ বিশাল (অত্যন্ত দানশীল), তার ঘর মজলিসের খুবই নিকটে। দশমজন বললেন: আমার স্বামী মালিক, আর মালিক কতই না শ্রেষ্ঠ! মালিক এই বর্ণনার চেয়েও উত্তম। তার অনেক উট রয়েছে যেগুলোর শুয়ে থাকার স্থান সুনিশ্চিত, কিন্তু চারণভূমিতে যাওয়ার সুযোগ কম; যখন উটগুলো বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শোনে, তখন তারা নিশ্চিত হয়ে যায় যে তারা যবেহ হতে যাচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
قَالَتِ الحَادِيَةَ عَشْرَةَ: زَوْجِي أَبُو زَرْعٍ، وَمَا أَبُو زَرْعٍ، أَنَاسَ مِنْ حُلِيٍّ أُذُنَيَّ، وَمَلأَ مِنْ شَحْمٍ عَضُدَيَّ، وَبَجَّحَنِي فَبَجِحَتْ إِلَيَّ نَفْسِي، وَجَدَنِي فِي أَهْلِ غُنَيْمَةٍ بِشِقٍّ، فَجَعَلَنِي فِي //15أ// أَهْلِ صَهِيلٍ وَأَطِيطٍ، وَدَائِسٍ وَمُنَقٍّ، فَعِنْدَهُ أَقُولُ فَلَا أُقَبَّحُ، وَأَرْقُدُ فَأَتَصَبَّحُ، وَأَشْرَبُ فَأَتَقَنَّحُ، أُمُّ أَبِي زَرْعٍ، فَمَا أُمُّ أَبِي زَرْعٍ، عُكُومُهَا رَدَاحٌ، وَبَيْتُهَا فَسَاحٌ، ابْنُ أَبِي زَرْعٍ، فَمَا ابْنُ أَبِي زَرْعٍ، مَضْجَعُهُ كَمَسَلِّ شَطْبَةٍ، وَيُشْبِعُهُ ذِرَاعُ الجَفْرَةِ، بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ، فَمَا بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ، طَوْعُ أَبِيهَا، وَطَوْعُ أُمِّهَا، وَمِلْءُ كِسَائِهَا، وَغَيْظُ جَارَتِهَا، جَارِيَةُ أَبِي زَرْعٍ، فَمَا جَارِيَةُ أَبِي زَرْعٍ، لَا تَبُثُّ حَدِيثَنَا تَبْثِيثًا، وَلَا تُنَقِّثُ مِيرَتَنَا تَنْقِيثًا، وَلَا تَمْلأُ بَيْتَنَا تَعْشِيشًا، قَالَتْ: خَرَجَ أَبُو زَرْعٍ وَالأَوْطَابُ تُمْخَضُ، فَلَقِيَ امْرَأَةً مَعَهَا وَلَدَانِ لَهَا كَالفَهْدَيْنِ، يَلْعَبَانِ مِنْ تَحْتِ خَصْرِهَا بِرُمَّانَتَيْنِ، فَطَلَّقَنِي وَنَكَحَهَا، فَنَكَحْتُ بَعْدَهُ رَجُلاً سَرِيًّا، رَكِبَ شَرِيًّا، وَأَخَذَ خَطِّيًّا، وَأَرَاحَ عَلَيَّ نَعَمًا ثَرِيًّا، وَأَعْطَانِي مِنْ كُلِّ رَائِحَةٍ زَوْجًا، وَقَالَ: كُلِي أُمَّ زَرْعٍ وَمِيرِي أَهْلَكِ، قَالَتْ: فَلَوْ جَمَعْتُ كُلَّ شَيْءٍ أَعْطَانِيهِ، مَا بَلَغَ أَصْغَرَ آنِيَةِ أَبِي زَرْعٍ، قَالَتْ عَائِشَةُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: كُنْتُ لَكِ كَأَبِي زَرْعٍ لأُمِّ زَرْعٍ.
وذلك بتاريخ جمادى الآخرة سنة اثنتين //15ب// وثمانين وسبع مئة، بقراءة الشيخ بدر الدين بن زين الدين بن بدوي..... (1) عن ابن الشحنة الحجار، وست الوزرا، وابن المطعم.
--------------------------------------------
একাদশ নারী বলল: আমার স্বামী আবু যার', আর কী সেই আবু যার'! সে অলঙ্কারে আমার কান দুটিকে সুশোভিত করেছে এবং চর্বিতে আমার বাহুদ্বয়কে পুষ্ট করেছে। সে আমাকে আনন্দিত করেছে ফলে আমি নিজে নিজেকে নিয়ে তুষ্ট হয়েছি। সে আমাকে এক সংকীর্ণ অবস্থার ক্ষুদ্র মেষপালক সম্প্রদায়ের মাঝে পেয়েছিল, অতঃপর সে আমাকে অশ্বের হ্রেষারব ও উটের ডাক বিশিষ্ট এবং শস্য মাড়াইকারী ও ঝাড়াইকারী সম্পন্ন এক সমৃদ্ধ পরিবারে //১৫ক// নিয়ে এল। তার কাছে আমি কথা বলি অথচ আমাকে মন্দ বলা হয় না, আমি নিদ্রা যাপন করি এবং ভোর অবধি ঘুমাই, আমি পান করি এবং তৃপ্ত হয়ে ছেড়ে দেই। আবু যার'-এর মা, আর কী সেই আবু যার'-এর মা! তার মালপত্রের স্তূপ বিশাল এবং তার গৃহ অতি প্রশস্ত। আবু যার'-এর পুত্র, আর কী সেই আবু যার'-এর পুত্র! তার শয়নস্থল তলোয়ারের খাপের ন্যায় সুঠাম, আর বকরীর ছানার একটি বাহুই তার উদরপূর্তির জন্য যথেষ্ট। আবু যার'-এর কন্যা, আর কী সেই আবু যার'-এর কন্যা! সে তার পিতার অনুগত ও মাতার আজ্ঞাবহ, সে আপন পোশাকে সুশোভিত এবং তার সতীনের ইর্ষার কারণ। আবু যার'-এর দাসী, আর কী সেই আবু যার'-এর দাসী! সে আমাদের ঘরোয়া কথা ফাঁস করে বেড়ায় না, আমাদের খাদ্যদ্রব্য তছনছ করে না এবং আমাদের ঘরে ময়লা-আবর্জনা স্তূপ করে রাখে না। সে বলল: একদিন আবু যার' বের হলেন যখন দুগ্ধপাত্র মন্থন করা হচ্ছিল, এমতাবস্থায় তিনি এক মহিলার সাক্ষাৎ পেলেন যার সাথে চিতাবাঘের ন্যায় ক্ষিপ্র দুটি সন্তান ছিল; তারা সেই মহিলার কোমরের নিচ থেকে দুটি ডালিম নিয়ে খেলছিল। অতঃপর তিনি আমাকে তালাক দিলেন এবং তাকে বিবাহ করলেন। তার পরে আমি এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে বিবাহ করলাম, যে তেজী ঘোড়ায় সওয়ার হতো এবং খাত্তী বল্লম ধারণ করত। সে আমার কাছে অগণিত গবাদি পশু নিয়ে আসত এবং আমাকে প্রত্যেক প্রকার পশুর এক জোড়া করে দান করত। সে বলল: 'হে উম্মে যার'! তুমি আহার করো এবং তোমার পরিবারকেও খাদ্য পাঠাও।' সে বলল: যদি আমি তার দেওয়া সকল বস্তু একত্র করি, তবে তা আবু যার'-এর ক্ষুদ্রতম পাত্রটির সমানও হবে না। আয়েশা (রা.) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন: 'আমি তোমার জন্য তেমনি, যেমন আবু যার' ছিল উম্মে যার'-এর জন্য।'
আর তা সম্পন্ন হয়েছে সাতশ বিরাশি হিজরি //১৫খ// সালের জামাদিউল আখিরা মাসে, শেখ বদরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন ইবনে বাদাওয়ীর পাঠের মাধ্যমে... (১) ইবনে শুরনা আল-হাজ্জার, সিত্তুল উযারা এবং ইবনে মুতʿইম থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الحديث السادس عشر
أخبرنا الشيخ الصالح المقريء بهاء الدين أبو العباس أحمد ابن الشيخ إبراهيم بن الألفي البعلي، ببعلبك المحروسة، قراءة عليه، وأجازه لجميعه، قال: أخبرني بجميع (صحيح البخاري) الشيخ الصالح بهاء الدين أبو العباس أحمد بن الشحنة الحجار، بسنده المعروف إلى الإمام البخاري، رحمه الله، قال: (بَابُ [فَضْلِ] فَاتِحَةِ الكِتَابِ) : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، حَدَّثَنَا وَهْبٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، قَالَ: كُنَّا فِي مَسِيرٍ لَنَا فَنَزَلْنَا، فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ، فَقَالَتْ: إِنَّ سَيِّدَ الحَيِّ سَلِيمٌ، وَإِنَّ نَفَرَنَا غَيْبٌ، فَهَلْ مِنْكُمْ رَاقٍ؟ فَقَامَ مَعَهَا رَجُلٌ مَا كُنَّا نَأْبُنُهُ بِرُقْيَةٍ، فَرَقَاهُ فَبَرَأَ، فَأَمَرَ لَهُ بِثَلَاثِينَ شَاةً، وَسَقَانَا لَبَنًا، فَلَمَّا رَجَعَ قُلْنَا لَهُ: أَكُنْتَ تُحْسِنُ //16أ// رُقْيَةً، أَوْ كُنْتَ تَرْقِي؟ ، قَالَ: لَا، مَا رَقَيْتُ إِلَاّ بِأُمِّ الكِتَابِ، قُلْنَا: لَا تُحْدِثُوا شَيْئًا حَتَّى نَأْتِيَ، أَوْ نَسْأَلَ، النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا قَدِمْنَا المَدِينَةَ ذَكَرْنَاهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: وَمَا كَانَ يُدْرِيهِ أَنَّهَا رُقْيَةٌ؟ اقْسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي بِسَهْمٍ.
وذلك بتاريخ جمادى الآخرة سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة.
ويقال: الراقي، هو الراوي أبو سعيد الخدري، رضي الله عنه.
ونَأْبُنُهُ، معناه: نَصُفُهُ، ونذكره.
ষোড়শ হাদিস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবান শায়খ আল-মুকরি বাহাউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবন শায়খ ইবরাহিম ইবন আল-আলফি আল-বালি, সংরক্ষিত শহর বালবক্ক-এ, তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে, এবং তিনি এর সবটুকুর জন্য অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: আমাকে সম্পূর্ণ (সহিহ আল-বুখারি) শায়খ পুণ্যবান বাহাউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুশ শুহনা আল-হাজ্জার সংবাদ দিয়েছেন, ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) পর্যন্ত তাঁর সুপরিচিত সনদের মাধ্যমে। তিনি (ইমাম বুখারি) বলেন: (অধ্যায়: কিতাবের প্রারম্ভিকা বা সুরা ফাতিহার ফজিলত): মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ওহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মাবাদ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আমাদের এক সফরে ছিলাম এবং এক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম। তখন একজন দাসী এসে বলল: ‘গোত্র প্রধান দংশিত হয়েছেন, আর আমাদের পুরুষরা অনুপস্থিত। আপনাদের মধ্যে কি কোনো ঝাড়ফুঁককারী আছে?’ তখন এমন এক ব্যক্তি তার সাথে উঠে দাঁড়াল যার ঝাড়ফুঁকের সক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না। সে তাকে ঝাড়ফুঁক করল এবং সে সুস্থ হয়ে গেল। এরপর সে (গোত্র প্রধান) তাকে ত্রিশটি বকরি দেওয়ার নির্দেশ দিল এবং আমাদের দুধ পান করাল। যখন সে ফিরে এল, আমরা তাকে বললাম: ‘তুমি কি ঝাড়ফুঁক করতে পারতে অথবা তুমি কি আগে ঝাড়ফুঁক করতে?’ সে বলল: ‘না, আমি কেবল উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) দিয়েই ঝাড়ফুঁক করেছি।’ আমরা বললাম: ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে না যাওয়া পর্যন্ত অথবা তাঁকে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো কথা বলো না।’ যখন আমরা মদিনায় আসলাম, তখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: ‘সে কীভাবে জানল যে এটি একটি রুকইয়া (ঝাড়ফুঁক)? তোমরা তা বণ্টন করো এবং আমার জন্যও একটি অংশ রেখো।’
আর এটি ছিল সাতশ বিরাশি হিজরি সনের জামাদিউল আখিরা মাসের ঘটনা।
বলা হয়ে থাকে: সেই ঝাড়ফুঁককারী (রাকি) ব্যক্তিটি ছিলেন বর্ণনাকারী আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
‘না-বুনুহু’ শব্দের অর্থ: আমরা তাকে বিশেষিত করি বা তাকে উল্লেখ করি।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الحديث السابع عشر
أخبرنا الشيخ الصالح إسماعيل بن عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن، المعروف بابن الزغبوب البعلي، ببعلبك المحروسة، بقراءتي عليه إجازة بجميع (صحيح البخاري) ، بحق سماعه لجميع (صحيح الإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، رحمه الله ، في (بَابُ مَنْ هَاجَرَ أَوْ عَمِلَ خَيْرًا لِتَزْوِيجِ امْرَأَةٍ فَلَهُ مَا نَوَى) :
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الحَارِثِ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: //16ب// العَمَلُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لاِمْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ.
وذلك بتاريخ جمادى الآخرة سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة، بمدينة بعلبك المحروسة.
وفيه زيادة على الرواية السابقة المفتتح بها الحديث الأول.
সপ্তদশ হাদিস
পুণ্যবান শাইখ ইসমাইল বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান, যিনি ইবনে আল-জুগবুব আল-বালি নামে পরিচিত, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সংরক্ষিত বালবাক শহরে, আমার পাঠের মাধ্যমে সমগ্র (সহিহ বুখারি)-র ইজাজত প্রদান করে, ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-র পূর্ণ (সহিহ বুখারি) শ্রবণ করার অধিকারের ভিত্তিতে, (অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করে বা কোনো ভালো কাজ করে, সে যা নিয়ত করেছে তা-ই পাবে) পরিচ্ছেদে:
ইয়াহইয়া বিন কাজাআ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-হারিস থেকে, আলকামা বিন ওয়াক্কাস থেকে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: //১৬খ// সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।
আর এটি ছিল সাতশত বিরাশি হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসে, সংরক্ষিত বালবাক শহরে।
আর এতে প্রথম হাদিসটি যে বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়েছিল, তার তুলনায় কিছু অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الحديث الثامن عشر
أخبرنا الشيخ الصالح بدر الدين محمد بن علي البعلي الشهير بابن النشناش الشافعي، بقراءتي عليه، بمدينة بعلبك المحروسة جميع ثمانيات ابن البخاري، تخريج الحافظ بن جمال بن أحمد بن محمد بن عبد الله الظاهري، قال: أخبرنا أبو اليمن الكندي، وابن طبرزد، قالا: أخبرنا القاضي أبو بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري، أخبرنا الربعي بن عمر البرمكي، قراءة عليه، وأنا حاضر، أخبرنا ابن ماسي البزاز، حدثنا أبو مسلم الكجي، قال: حدثنا القاضي أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن المثنى الأنصاري حَدَّثَني حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دخل على أم سليم، فرأى ابنها عمير، فقال: //17أ// مَا بَالُ أَبِي عُمَيْرٍ حزينا؟ قالت: مَاتَ نُغَيْرُهُ. فقال رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: يَا أَبَا عُمَيْرٍ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ.
وذلك بتاريخ يوم الإثنين مستهل شهر رجب الفرد، من سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة، وأجاز.
অষ্টাদশ হাদিস
সালেহ শায়খ বদরুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বা’লী, যিনি ইবনুল নাশনাস আল-শাফি’ঈ নামে পরিচিত, তিনি সুরক্ষিত বালবাক শহরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; এটি হাফেজ বিন জামাল বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-জাহিরি কর্তৃক বিন্যস্ত ইবনুল বুখারীর সকল 'সুমানিয়াত' (আট সদস্যের সনদবিশিষ্ট হাদিসসমূহ) এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন: আবুল ইয়ামান আল-কিন্দি এবং ইবনে তাবারজাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ই বলেন: কাজি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকি আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। রুব’ঈ ইবনে উমর আল-বারমাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি উপস্থিত থাকাকালীন তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। ইবনে মাসি আল-বাজ্জায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু মুসলিম আল-কাজ্জি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: কাজি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুসান্না আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। হুমায়দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মে সুলাইমের নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁর পুত্র উমাইরকে দেখলেন। অতঃপর তিনি বললেন: //১৭ক// “আবু উমাইরের কী হয়েছে যে সে বিষণ্ন?” তিনি বললেন: “তার ছোট পাখিটি মারা গিয়েছে।” তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হে আবু উমাইর! ছোট পাখিটি কী করেছে?”
আর এটি ছিল সাতশত বিরাশি হিজরি সনের পহেলা রজব, সোমবারের তারিখ এবং তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الحديث التاسع عشر
أخبرنا الشيخ الصالح المسند المعمر المقريء جمال الدين يوسف بن أحمد بن عمر بن السقا، ببعلبك المحروسة، بقراءة الشيخ شمس الدين مجد الدين الرسام البعلبكي، وأنا أسمع، من (صحيح مسلم بن الحجاج) ، من أوله، في (باب بيان الإيمان والنبوة) :
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُكَيْرٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: نُهِينَا أَنْ نَسْأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَيْءٍ، فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ الْعَاقِلُ، فَيَسْأَلَهُ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَتَانَا رَسُولُكَ فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ، قَالَ: صَدَقَ، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ قَالَ: //17ب// اللَّهُ، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الأَرْضَ؟ قَالَ: اللَّهُ، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ، وَجَعَلَ فِيهَا مَا جَعَلَ؟ قَالَ: اللَّهُ، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ، وَخَلَقَ الأَرْضَ، وَنَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا، وَلَيْلَتِنَا، قَالَ: صَدَقَ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةً فِي أَمْوَالِنَا، قَالَ: صَدَقَ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرِ رَمَضَانَ فِي سَنَتِنَا، قَالَ: صَدَقَ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً، قَالَ: صَدَقَ، قَالَ: ثُمَّ وَلَّى، قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لَا أَزِيدُ عَلَيْهِنَّ، وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُنَّ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ.
উনবিংশতম হাদিস
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সৎ শায়খ, মুসনিদ, দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত, ক্বারী জামালুদ্দীন ইউসুফ বিন আহমদ বিন উমর বিন আস-সাক্কা, সুরক্ষিত বালবাক নগরে, শায়খ শামসুদ্দীন মাজদুদ্দীন আর-রাসসাম আল-বালবাকীর পাঠের মাধ্যমে, আর আমি শ্রবণ করছিলাম, (সহীহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ) থেকে, এর শুরু থেকে, (ঈমান ও নবুওয়াত বর্ণনা অধ্যায়)-এ:
আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুকাইর আন-নাকিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হাশেম ইবনে কাসিম আবু আন-নাদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে মুগিরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তাই মরুভূমির কোনো বুদ্ধিমান লোক এসে তাঁকে প্রশ্ন করবে আর আমরা তা শুনব—এটি আমাদের অত্যন্ত ভালো লাগত। এরপর মরুভূমির এক ব্যক্তি এল এবং বলল: হে মুহাম্মদ, আপনার প্রেরিত দূত আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং তিনি আমাদের নিকট দাবি করেছেন যে, আপনি মনে করেন যে আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: //১৭খ// আল্লাহ। সে বলল: তবে পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। সে বলল: তবে এই পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন এবং তাতে যা কিছু দিয়েছেন তা কে দিয়েছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। সে বলল: তবে যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন, তাঁর কসম! আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে, আমাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রয়েছে। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে, আমাদের সম্পদের উপর জাকাত রয়েছে। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে, বছরে আমাদের উপর রমজান মাসের রোজা রাখা আবশ্যক। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে, আমাদের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে তার উপর বায়তুল্লাহর হজ করা আবশ্যক। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর সে ফিরে যাওয়ার সময় বলল: সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এর চেয়ে বাড়াব না এবং এর চেয়ে কমাব না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে যদি সত্য বলে থাকে তবে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الحديث العشرون
أخبرنا الشيخ الخير أبو عبد الله محمد بن أحمد بن الشقير، ببعلبك //18أ// إجازة، قال: أخبرنا الشيخ الحافظ جمال الدين أبو المحاسن يوسف الزكي الشهير بالمزي، إجازة، إن لم يكن سماعا، قال: أخبرنا القاضي الأجل أبو القاسم عبد الرحمن بن جمال الدين أحمد بن عبد القادر الدمراني، عن الشيخ أبي القاسم عبد الرحمن بن مكي الحاسب، سبط السلفي، بسماعه حضورا من جده أبي طاهر أحمد بن محمد بن أحمد الحافظ السلفي الهمداني، إملاء، أخبرنا أبو الحسن علي بن عبد الرحمن السمنجاني، عن ابن علية، قال: حدثنا ابو سهل أحمد بن علي الأبيوري، قال: أخبرنا أبو الحارث علي بن القاسم الخطابي، أخبرنا عبد الله بن محمود السعدي، حدثنا محمد بن النظر، حدثنا سفيان بن عيينة، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَسِتًّا بَعْدَهُ فَذَلِكَ صِيَامُ السَّنَةِ.
وذلك سنة اثنتين وثمانين وسبع مئة.
বিংশতম হাদিস
পুণ্যবান শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-শুকাইর বালবেক শহরে //১৮ক// ইজাযাহর মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ শায়খ জামালুদ্দিন আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ আল-যাকি—যিনি আল-মিযযি নামে প্রসিদ্ধ—ইজাযাহর মাধ্যমে (যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: অতি সম্মানিত বিচারক আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান বিন জামালুদ্দিন আহমদ বিন আব্দুল কাদির আদ-দামরানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান বিন মক্কি আল-হাসিব—যিনি আস-সিলাফির নাতি—সূত্রে, তিনি সরাসরি উপস্থিত থেকে তাঁর দাদা হাফেজ আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সিলাফি আল-হামাদানির নিকট থেকে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে এটি শ্রবণ করেছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী বিন আব্দুর রহমান আস-সামনজানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন উলাইয়্যাহ থেকে, তিনি বলেন: আবু সাহল আহমদ বিন আলী আল-আবিওয়ার্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হারিস আলী বিন আল-কাসিম আল-খাত্তাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মাহমুদ আস-সা'দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আন-নাজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি উমর বিন সাবিত থেকে, তিনি আবু আইয়ুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপরে আরও ছয়টি রোজা পালন করল, তবে তা পুরো বছরের রোজা রাখার সমতুল্য।"
আর এটি ছিল সাতশ বিরাশি হিজরি সনের ঘটনা।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঈন মিনাল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ লি-ইবনির রাসসাম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
الحديث الحادي والعشرون
ومن مشايخي في الحديث بدمشق المحروسة، رحمهم الله تعالى، ورضي الله عنهم.
أخبرنا سيدنا ومولانا العبد الفقير إلى الله، تعالي، قاضي القضاة برهان الدين إبراهيم بن عبد الرحيم بن جماعة الشافعي بدمشق المحروسة، ومعي كان إجازة، وكتب //18ب// لي بخطه، وذلك في سنة سبع وثمانين وسبع مئة، قال: أخبرنا الحافظ أبو عبد الله الرازي، إجازة، إن لم يكن سماعا، عن المشايخ الثلاثة أبي سليمان داود بن حمزة المقدسي، وأبي محمد عيسى بن أبي محمد بن عبد الرزاق الصالحي، والزين عبد الرحمن بن عمرو بن صومع الدير عاقولي، سماعا، قالوا: أخبرنا الشيخ أبو المنجا عبد الله بن عمر اللتي، أخبرنا الشيخ أبو الوقت عبد الأول بن عيسى السجزي الهروي، قال: أخبرتنا الحرة أم الفضل بيبي بنت عبد الصمد بن علي الهرثمية، قالت أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن أحمد بن محمد بن أحمد بن يحيى بن مخلد بن عبد الرحمن بن المغيرة بن ثابت الأنصاري، قال: أخبرنا أبو [القاسم ٍ] (1) عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي ببغداد، قال: حدثنا مصعب بن عبد الله بن مصعب بن ثابت، حدثني هشام بن عبد الملك، عن عكرمة المخزومي، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة، رضي الله عنها، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال التمسوا الرزق في خبايا الأرض.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
--------------------------------------------
একুশতম হাদিস
এবং সংরক্ষিত দামেশকে হাদিসশাস্ত্রে আমার শায়খদের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন এবং তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
আমাদের সাইয়্যিদ ও মাওলা, আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা, সংরক্ষিত দামেশকের প্রধান বিচারপতি বুরহান উদ্দিন ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহিম ইবনে জামাআ আশ-শাফেয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আমার নিকট তাঁর ইজাযত ছিল এবং তিনি তাঁর নিজ হাতে //১৮বি// আমার জন্য লিখে দিয়েছিলেন, আর তা ছিল সাতশত সাতাশি হিজরি সালে। তিনি বলেন: হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আর-রাজি আমাদের ইজাযতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন—যদি তা সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে—তিনজন শায়খ হতে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে, তাঁরা হলেন: আবু সুলাইমান দাউদ ইবনে হামজাহ আল-মাকদিসি, আবু মুহাম্মাদ ঈসা ইবনে আবু মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রাজ্জাক আস-সালিহি এবং যাইন আবদুর রহমান ইবনে আমর ইবনে সাওমা আদ-দাইর আকুলি। তাঁরা বলেন: শায়খ আবুল মানজা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-লাত্তি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শায়খ আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা আস-সিজজি আল-হারাউই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বিদুষী নারী উম্মুল ফজল বিবি বিনতে আবদুস সামাদ ইবনে আলী আল-হারসামিয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুখাল্লাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-মুগিরা ইবনে সাবিত আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বাগদাদের আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাউই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসাব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসাব ইবনে সাবিত আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইকরিমা আল-মাখজুমি হতে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা জমিনের লুকায়িত ভাণ্ডারে রিজিক অনুসন্ধান করো।
এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
--------------------------------------------