(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: -)
شعار أصحاب الحديث لأبي أحمد الحاكم   (أبو أحمد الحاكم)

القسم: كتب السنة


الكتاب: شعار أصحاب الحديث

المؤلف: أبو أحمد محمد بن محمد بن أحمد بن إسحاق النيسابوري الكرابيسي المعروف بالحاكم الكبير (ت 378 هـ)

المحقق: صبحي السامرائي [ت 1434 هـ]

الناشر: دار الخلفاء - الكويت

عدد الصفحات: 64

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু আহমদ আল-হাকিম রচিত শিআর আসহাবুল হাদিস   (আবু আহমদ আল-হাকিম)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: শিআর আসহাবুল হাদিস

লেখক: আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইসহাক আন-নিশাপুরী আল-কারাবিসি, যিনি আল-হাকিম আল-কাবির নামে পরিচিত (মৃ. ৩৭৮ হি.)

সম্পাদক: সুবহি আস-সামাররাঈ [মৃ. ১৪৩৪ হি.]

প্রকাশক: দারুল খুলাফা - কুয়েত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
4 - شِعَارُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ لِأَبِي أَحْمَدَ الْحَاكِمِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، قَرَأْتُ جَمِيعَ هَذَا الْجُزِءِ عَلَى الشَّيْخِ الْجَلِيلِ الْكَبِيرِ الْأَمِينِ الْمُسْنِدِ زَيْنِ الدِّينِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَافِظِ أَبِي الطَّاهِرِ أَسْعَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُحْسِنِ بْنِ الْأَنْمَاطِيِّ وَعَلَى أُخْتِهِ الْجَلِيلَةِ أُمِّ الْفَضْلِ رُقَيَّةَ بِإِجَازَتِهِمَا الْمُطْلَقَةِ الْمُحَقَّقَةِ مِنْ أَبِي رَوْحٍ عَبْدِ الْمُعِزِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ الْهَرَوِيِّ سَمَاعَهُ مِنْ زَاهِرٍ بِسَمْعِ الْحَاجِّ الْجَلِيلِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرَانَ السَّرَّاجُ، وَالْأَصَمِّ أبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدٌ وَأَبِي عُمَرَ مُحَمَّدٍ وَأَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ حَضَرَ فِي السَّنَةِ الثَّالِثَةِ فِي يَوْمِ الِاثْنَيْنِ ثَانِيَ عَشَرَ فِي رَجَبٍ الْفَرْدِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَسِتِّينَ وَسِتِّمِائَةٍ بِدَارِهِمَا بِمَدِينَةِ دِمِشْقَ وَكَتَبَهُ رَحِمَهُ رَبُّهُ عَلِيُّ بْنُ مَسْعُودِ بْنِ يُوسُفَ الْمَوْصِلِيُّ ثُمَّ الْحَلَبِيُّ عَفَا اللَّهُ عَنْهُ. وَأَجَازَهُمَا عَنِ الْمَذْكُورِينَ جَمِيعَ مَا يَجُوزُ لَهُمَا رِوَايَتُهُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ. الْإِمَامُ الْعَالِمُ الثِّقَةُ مَجْدُ الدِّينِ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو النَّيْسَابُورِيِّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الصَّغِيرِ فِيمَا كَتَبَهُ - قَالَا: أَنَا الْمَشَايِخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلِ بْنِ عُمَرَ. . . . . وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْفَرَاوِيُّ وَأَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّحَّامِيُّ وَأَبُو الْقَاسِمِ سَهْلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ السِّبِيعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِمِ فِي يَوْمِ الِاثْنَيْنِ الْحَادِي وَالْعِشْرِينَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ وَخَمْسِمِائَةٍ، وَأَجَازَنِي أَيْضًا الشَّيْخَُ الْفَقِيهُ أَبُو رَوْحٍ عَبْدُ الْمُعِزِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ الْبَزَّازُ الْهَرَوِيُّ يُعْرَفُ بِحَافِظٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّحَّامِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ قَالَ: أَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكَنْجَرُوذِيُّ، أَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ أَجْمَعِينَ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وُجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [سورة: الأنفال، آية رقم: 2] . وَقَالَ سبحانه وتعالى: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُو إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ} [سورة:] وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَالَّذِينَ اهْتَدُوا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ} [سورة: محمد، آية رقم: 17]
৪ - আবু আহমাদ আল-হাকিম সংকলিত আসহাবুল হাদিসের নিদর্শন। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, সকল প্রশংসা আপনারই জন্য; আপনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর নূর। আমি এই সম্পূর্ণ অংশটি পাঠ করেছি মহান, বর্ষীয়ান, বিশ্বস্ত মুসনিদ শায়খ যাইনুদ্দীন আবু বকর মুহাম্মদ বিন হাফেজ আবু তাহের আস'আদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আল-আনমাতি-এর নিকট এবং তার মহীয়সী বোন উম্মুল ফজল রুকাইয়্যাহ-এর নিকট। তারা উভয়েই আবু রাওহ আব্দুল মুয়িজ বিন মুহাম্মদ বিন আবু ফজল আল-হারাউয়ি থেকে প্রাপ্ত তাদের নিশ্চিত ও নিঃশর্ত অনুমতির ভিত্তিতে এটি প্রদান করেছেন, যিনি এটি জহির থেকে শ্রবণ করেছেন। এটি শ্রবণের সময় উপস্থিত ছিলেন মহান হাজি আবু মুহাম্মদ আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন বদরান আস-সাররাজ, এবং আল-আসাম্ম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ, আবু উমর মুহাম্মদ এবং আবুল আব্বাস আহমাদ। এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৬৬৮ হিজরি সনের একাকী মাস রজবের ১২ তারিখ, সোমবার, দামেস্ক শহরে তাদের বাসভবনে। এটি লিখেছেন আলী বিন মাসউদ বিন ইউসুফ আল-মাওসিলি অতঃপর আল-হালাবি, তার প্রতিপালক তাকে রহম করুন এবং আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। এবং তিনি উল্লেখিত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তাদের বর্ণনার জন্য অনুমতিযোগ্য সকল বিষয়ের অনুমতি প্রদান করেছেন। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। ইমাম, আলেম, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি মাজদুদ্দীন শাইখুল ইসলাম আবু আন-নাইসাবুরি, যিনি ইবনে আস-সাগির নামে পরিচিত, তার লিখিত পাণ্ডুলিপিতে যা আছে - তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়খগণ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন সাহল বিন উমর... এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন আহমাদ আল-ফারাওয়ি, এবং আবুল কাসিম জহির বিন তাহের বিন মুহাম্মদ আশ-শাহহামি, এবং আবুল কাসিম সাহল বিন ইব্রাহিম আস-সিবিয়ি; ৫১৭ হিজরি সনের ২১শে রমজান, সোমবার তাদের নিকট পাঠ করা হয়েছিল। এবং আমাকে আরও অনুমতি দিয়েছেন ফকিহ শায়খ আবু রাওহ আব্দুল মুয়িজ বিন মুহাম্মদ বিন আবু ফজল আল-বাজজাজ আল-হারাউয়ি, যিনি হাফেজ হিসেবে পরিচিত; তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম জহির বিন তাহের বিন মুহাম্মদ আশ-শাহহামি তার নিকট শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-কানজারুযি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ইসহাক যা তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন: সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ ও তার সকল বংশধরের ওপর। আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহর জিকির করা হলে প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের প্রতিপালকের ওপরই ভরসা করে} [সূরা: আল-আনফাল, আয়াত নং: ২]। এবং তিনি মহিমান্বিত ও উচ্চমর্যাদাবান বলেছেন: {তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাজিল করেছেন যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নিতে পারে} [সূরা: আল-ফাতহ, আয়াত নং: ৪]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত আরও বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদের তাকওয়া প্রদান করেন} [সূরা: মুহাম্মদ, আয়াত নং: ১৭]।
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌بَابُ ذِكْرِ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ فِي الْقَلْبِ
ঈমান যে অন্তরে থাকে, সেই দলিলের বর্ণনার অধ্যায়
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، بِبَغْدَادَ، حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، نَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ، وَلَا يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ»
৫ - আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযীয আল-বাগাভী বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুওয়াইদ বিন সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী বিন মুশহির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-আ'মাশ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যার অন্তরে সরিষার দানা সমপরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এবং যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান থাকবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
6 -‌‌ بَابُ ذِكْرِ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ
৬ - ঈমান যে বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়, তার স্বপক্ষে দলীল বা প্রমাণ উল্লেখের পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، بِبَغْدَادَ، أَبُو نَصْرٍ يَعْنِي التَّمَّارَ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ النَّسَائِيَّ، نَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْخَطْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عُمَيرِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ: «الْإِيمَانُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ» ، قِيلَ: «مَا زِيَادَتُهُ وَنُقْصَانُهُ» ؟ قَالَ: «إِذَا ذَكَرْنَا اللَّهَ فَحَمِدْنَاهُ فَتِلْكَ زِيَادَتُهُ، وَإِذَا غَفَلْنَا وَنَسِينَا فَذَاكَ نُقْصَانُهُ» قَالَ: وَسَمِعْتُ أَبَا نَصْرٍ التَّمَّارَ يَقُولُ: «الْإِيمَانُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ»
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয আল-বাগাওয়ী, বাগদাদে; (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) আবু নাসর অর্থাৎ আত-তাম্মার আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আযীয আন-নাসায়ী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে সালামাহ্; আবু জাফর আল-খাতমি থেকে; তিনি তাঁর পিতা থেকে; তিনি তাঁর দাদা উমাইর ইবনে হাবীব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।» জিজ্ঞাসা করা হলো: «এর বৃদ্ধি এবং হ্রাস কী?» তিনি বললেন: «যখন আমরা আল্লাহর যিকর করি ও তাঁর প্রশংসা করি, তখন তা-ই এর বৃদ্ধি; আর যখন আমরা গাফেল হই ও ভুলে যাই, তখন তা-ই এর হ্রাস।» তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি আবু নাসর আত-তাম্মারকে বলতে শুনেছি: «ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، نَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، نَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْخَطْمِيِّ، أَنَّ جَدَّهُ عُمَيْرَ بْنَ حَبِيبٍ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيٍّ يَعْنِي ابْنَ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ: سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنِ الْإِيمَانِ فِي مَعْنَى الزِّيَادَةِ وَالنُّقْصَانِ فَقَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، نَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْخَطْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَنْ عُمَيْرِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ: «الْإِيمَانُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ» فَقِيلَ لَهُ: «وَمَا زِيَادَتُهُ وَمَا نُقْصَانُهُ؟» فَقَالَ: «إِذَا ذَكَرْنَا بِاللَّهَ فَحَمِدْنَاهُ وَسَبَّحْنَاهُ فَذَلِكَ زِيَادَتُهُ، وَإِذَا غَفَلْنَا وَنَسِينَا، فَذَاكَ نُقْصَانُهُ» هَذَا لَفْظُ حَدِيثِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُوسَى
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আস-সাক্বাফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনু আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনু হারুন, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ থেকে, আবু জাফর আল-খাত্বমী থেকে বর্ণিত যে, তাঁর দাদা উমাইর ইবনু হাবীব—যিনি একজন সাহাবী ছিলেন— (বর্ণনা করেন)। (অন্য সূত্রে) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আস-সাক্বাফী, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনু আলী অর্থাৎ ইবনুল হাসান ইবনু শাক্বীক্বকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনু হাম্বলকে ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাসের বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনু মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, আবু জাফর আল-খাত্বমী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি উমাইর ইবনু হাবীব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।» তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: «এর বৃদ্ধি কী এবং এর হ্রাস কী?» তিনি বললেন: «যখন আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি, তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করি, তখন তা-ই এর বৃদ্ধি; আর যখন আমরা গাফেল হই এবং ভুলে যাই, তখন তা-ই এর হ্রাস।» এটি হাসান ইবনু মুসা থেকে আহমাদ ইবনু হাম্বল কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের শব্দবিন্যাস।
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ زُهَيْرٍ الْقَيْسِيُّ بِطُوسَ، نَا عَمْرُو بْنُ شُمَيْلٍ الْمَرْوَزِيُّ، أَنَا بَقِيَّةُ يَعْنِي ابْنَ الْوَلِيدِ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِي مُجَاهِدٍ، يَعْنِي عَبْدَ الْوَهَّابِ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «الْإِيمَانُ يَزْدَادُ وَيَنْقُصُ»
৯ - তুস নগরীতে আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুহাইর আল-কাইসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর বিন শুমাইল আল-মারওয়াজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাকিয়্যাহ অর্থাৎ ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুয়াবিয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু মুজাহিদ অর্থাৎ আবদুল ওয়াহহাব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، نَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو السَّكْسَكِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «الْإِيمَانُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ»
১০ - আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহিম আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হারুন ইবন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবন আমর আস-সাকসাকী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন রাবিআ আল-হাদরামি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، أَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، أَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ حَرِيزِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: «الْإِيمَانُ يَزْدَادُ وَيَنْقُصُ»
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক আস-সাকাফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুশহির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবন আইয়াশ, হারীয ইবন উসমান থেকে, তিনি আল-হারিস ইবন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আবু আদ-দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ سَهْلِ بْنِ عَسْكَرٍ، نَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكًا، وَالْأَوْزَاعِيَّ، وَابْنَ جُرَيْجٍ، وَالثَّوْرِيَّ، وَمَعْمَرًا يَقُولُونَ: «الْإِيمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ، يَزِيدُ وَيَنْقُصُ»
১২ - আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে সাহল ইবনে আসকারকে বলতে শুনেছি, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক, আওযাঈ, ইবনে জুরাইজ, সাওরী এবং মা'মারকে বলতে শুনেছি, তাঁরা বলেন: «ঈমান হলো কথা ও কাজ, তা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو عِمْرَانَ مُوسَى بْنُ الْعَبَّاسِ الْجَوْنِيُّ، نَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ، نَا إِسْحَاقُ يَعْنِي الْفَرْوِيَّ قَالَ: جِئْتُ عِنْدَ مَالِكٍ قَالَ: " الْإِيمَانُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ} [الفتح: 4] وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: {رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي} [البقرة: 260] قَالَ: فَطُمَأْنِينَةُ قَلْبِهِ زِيَادَةٌ فِي إِيمَانِهِ "
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইমরান মুসা ইবনুল আব্বাস আল-জাওনি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইসমাইল মুহাম্মদ ইবনু ইসমাইল আত-তিরমিযী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক অর্থাৎ আল-ফারউয়ী, তিনি বলেন: আমি মালিকের নিকট আসলাম, তিনি বললেন: "ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নিতে পারে} [আল-ফাতহ: ৪]। আর ইবরাহিম বলেছিলেন: {হে আমার রব! আমাকে দেখান আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন। তিনি বললেন: তুমি কি তবে বিশ্বাস করনি? তিনি বললেন: অবশ্যই, কিন্তু যাতে আমার অন্তর প্রশান্ত হয়} [আল-বাকারাহ: ২৬০]। তিনি বললেন: অতএব তার অন্তরের প্রশান্তি ছিল তার ঈমানের বৃদ্ধি।"
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ بِبَغْدَادَ، نَا هِشَامُ يَعْنِي ابْنَ عَمَّارٍ نَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، نَا ابْنُ جُرَيْجٍ، وَمَالِكٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، وَالْمُثَنَّى، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، قَالُوا: «الْإِيمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ»
১৪ - বাগদাদে আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম অর্থাৎ ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ, মালিক, মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান, আল-মুসান্না এবং সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁরা বলেছেন: “ঈমান হলো কথা ও কাজ।”
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌بَابُ ذِكْرِ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الْقُرْآنَ كَلَامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ
কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা সৃষ্টি নয়—এর সপক্ষে দলিল বর্ণনার অধ্যায়
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي مَعْشَرٍ السُّلَمِيُّ، بِحَرَّانَ، نَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، نَا الْحَكَمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مَشْيَخَتِنَا، مُنْذُ تِسْعِينَ سَنَةً ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ فَارِسٍ وَاللَّفْظُ لَهُ نَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيَّ قَالَ الْحَكَمُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو مَرْوَانَ الطَّبَرِيُّ حَدَّثَنَاهُ، سَمِعُ ابْنَ عُيَيْنَةَ، قَالَ: أَدْرَكْتُ مَشْيَخَتِنَا مُنْذُ تِسْعِينَ سَنَةً مِنْهُمْ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ يَقُولُ: «الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ لَيْسَ بِمَخْلُوقٍ»
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আরুবাহ আল-হুসাইন বিন আবি মাশার আস-সুলামি, হাররানে; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালামাহ বিন শাবিব; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম বিন মুহাম্মদ; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, আমর বিন দিনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নব্বই বছর পূর্ব থেকে আমাদের শায়খদের বলতে শুনেছি। (অন্য সূত্র:) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন ফারিস—শব্দাবলি তাঁর—তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি; তিনি বলেন: আল-হাকাম বিন মুহাম্মদ আবু মারওয়ান আত-তাবারী আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে উয়াইনাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: আমি নব্বই বছর পূর্ব থেকে আমাদের শায়খদের পেয়েছি, তাদের মধ্যে আমর বিন দিনারও ছিলেন, তিনি বলতেন: «কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়।»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌بَابٌ
অধ্যায়
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
16 - وَسَمِعْتُ أَبَا عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي مَعْشَرٍ السُّلَمِيُّ بِحَرَّانَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمَيْمُونِيَّ يَعْنِي عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عَبْدِ الْحَمِيدِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، وَقِيلَ لَهُ: إِلَى مَا تَذْهَبُ فِي الْخِلَافَةِ؟ قَالَ: «أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ» قَالَ فَقِيلَ لَهُ: كَأَنَّكَ تَذْهَبُ إِلَى حَدِيثِ سَفِينَةَ؟ قَالَ: «أَذْهَبُ إِلَى حَدِيثِ سَفِينَةَ، وَإِلَى شَيْءٍ آخِرٍ، رَأَيْتُ عَلِيًّا فِي زَمَنِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ لَمْ يَتَسَمَّ بِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، وَلَمْ يُقِمِ الْجُمَعَ وَالْحُدُودَ، ثُمَّ رَأَيْتُهُ بَعْدَ قَتْلِ عُثْمَانَ قَدْ فَعَلَ ذَلِكَ، فَعَلِمْتُ أَنَّهُ قَدْ وَجَبَ لَهُ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ مَا لَمْ يَكُنْ قَبْلَ ذَلِكَ»
১৬ - এবং আমি হাররানে আবু আরূবাহ আল-হুসাইন ইবনে আবি মা'শার আস-সুলামীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-মাইমুনিকে—অর্থাৎ আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল হামিদকে—বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: খেলাফতের ক্রমধারার বিষয়ে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: "আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: মনে হচ্ছে আপনি সাফিনাহর বর্ণিত হাদিসের দিকে যাচ্ছেন (সেটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করছেন)? তিনি বললেন: "আমি সাফিনাহর হাদিসের দিকেও যাচ্ছি এবং অন্য একটি বিষয়ের দিকেও; আমি দেখেছি যে, আলী (রা.) আবু বকর, উমর ও উসমানের (রা.) যুগে নিজেকে আমিরুল মুমিনীন হিসেবে অভিহিত করেননি এবং জুমুআ ও হদ (দণ্ডবিধি) কায়েম করেননি। অতঃপর উসমানের (রা.) শাহাদাতের পর আমি তাঁকে তা করতে দেখেছি। ফলে আমি বুঝতে পারলাম যে, ওই সময়ে তাঁর জন্য এমন কিছু অবধারিত হয়েছিল যা ইতিপূর্বে ছিল না।"
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
17 - سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا رَجَا قُتَيْبَةَ بْنَ سَعِيدٍ قَالَ: " هَذَا قَوْلُ الْأَئِمَّةِ الْمَأْخُوذِ فِي الْإِسْلَامِ وَالسُّنَّةِ: الرِّضَا بِقَضَاءِ اللَّهِ ⦗ص: 31⦘، وَالِاسْتِسْلَامُ لَأَمْرِهِ، وَالصَّبْرُ عَلَى حُكْمِهِ، وَالْإِيمَانُ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ، وَالْأَخْذُ بِمَا أَمَرَ اللَّهُ عز وجل، وَالنَّهْي عَمَّا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ، وَإِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَتَرْكُ الْجِدَالِ وَالْمِرَاءِ وَالْخُصُومَاتِ فِي الدِّينِ، وَالْمَسْحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ، وَالْجِهَادُ مَعَ كُلِّ خَلِيفَةٍ جِهَادُ الْكُفَّارِ، لَكَ جِهَادُهُ وَعَلَيْهِ شَرُّهُ، وَالْجَمَاعَةُ مَعَ كُلِّ بَرٍّ وَفَاجِرٍ - يَعْنِي الْجُمُعَةَ وَالْعِيدَيْنِ - وَالصَّلَاةُ عَلَى مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِ الْقِبْلَةِ سَنَةً، وَالْإِيمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ، الْإِيمَانُ يَتَفَاضَلُ، وَالْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ عز وجل وَأَنْ لَا نُنْزِلَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْقِبْلَةِ جَنَّةً وَلَا نَارًا، وَلَا نَقْطَعُ الشَّهَادَةَ عَلَى أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ، وَإِنْ عَمِلَ بِالْكَبَائِرِ، وَلَا نُكَفِّرُ أَحَدًا بِذَنْبٍ إِلَّا تَرْكَ الصَّلَاةِ، وَإِنْ عَمِلَ بِالْكَبَائِرِ، وَأَنْ لَا نَخْرُجَ عَلَى الْأُمَرَاءِ بِالسَّيْفِ وَإِنْ حَارَبُوا، وَنَتَبَرَّأُ مِنْ كُلٍّ يَرَى السَّيْفَ فِي الْمُسْلِمِينَ كَائِنًا مَنْ كَانَ وَأَفْضَلُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ ثُمَّ عُثْمَانُ، وَالْكَفُّ عَنْ مَسَاوِئِ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَلَا يُذْكَرُ أَحَدٌ مِنْهُمْ بِسُوءٍ، وَلَا يُنْتَقَصُ أَحَدٌ مِنْهُمْ، وَنُؤْمِنُ بِالرُّؤْيِةِ، وَالتَّصْدِيقُ بِالْأَحَادِيثِ الَّتِي جَاءَتْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 32⦘ فِي الرُّؤْيَةِ حَقٌّ وَاتِّبَاعُ كُلَّ مَا جَاءَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَنْ يُعْلَمُ أَنَّهُ مَنْسُوخٌ فَيَتْبَعُ نَاسِخَهُ وَعَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ، وَالْمِيزَانُ حَقٌّ، وَالْحَوْضُ حَقٌّ، وَالشَّفَاعَةُ حَقٌّ، وَقَوْمٌ يَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ حَقٌّ، وَخُرُوجُ الدَّجَّالِ وَالرَّحِمُ حَقٌّ وَإِذَا رَأَيْتَ الرَّجُلَ يُحِبُّ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، وَمَالِكَ بْنَ أَنَسٍ، وَأَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيَّ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَوْنٍ، وَيُونُسَ بْنَ عُبَيْدٍ، وَسُلَيْمَانَ التَّيْمِيَّ، وَشَرِيكًا، وَأَبَا الْأَحْوَصِ، وَالْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ ⦗ص: 33⦘، وَسُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، وَاللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ، وَابْنَ الْمُبَارَكِ، وَوَكِيعَ بْنَ الْجَرَّاحِ، وَيَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ، وَيَحْيَى بْنَ يَحْيَى، وَأَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، وَإِسْحَاقَ بْنَ رَاهَوَيْهِ فَاعْلَمْ أَنَّهُ عَلَى الطَّرِيقِ، وَإِذَا رَأَيْتَ الرَّجُلَ يَقُولُ: هَؤُلَاءِ الشُّكَّاكُ فَاحْذَرُوهُ، فَإِنَّهُ عَلَى غَيْرِ الطَّرِيقِ، وَإِذَا قَالَ الْمُشَبِّهَةُ فَاحْذَرُوهُ فَإِنَّهُ جَهْمِيٌّ، وَإِذَا قَالَ: الْمُجَبِّرَةُ فَاحْذَرُوهُ فَإِنَّهُ قَدَرِيٌّ، وَالْإِيمَانُ يَتَفَاضَلُ، وَالْإِيمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ وَنِيَّةٌ، وَالصَّلَاةُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَالزَّكَاةُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَالْحَجُّ مِنَ الْإِيمَانِ، وَإِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ مِنَ الْإِيمَانِ، وَنَقُولُ النَّاسُ عِنْدَنَا مُؤْمِنُونَ بِالِاسْمِ الَّذِي سَمَّاهُمُ اللَّهُ، وَالْإِقْرَارُ وَالْحُدُودُ وَالْمَوَارِيثُ وَالْعَدْلُ ⦗ص: 34⦘، وَلَا نَقُولُ وَلَا يَقُولُ عَبْدُ اللَّهِ وَلَا بِقَوْلِهِ كَإِيمَانِ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ لِأَنَّ إِيمَانَهُمَا مُتَقَبَّلٌ وَلَا يُصَلَّى خَلْفَ الْقَدَرِيِّ، وَلَا الرَّافِضِيِّ، وَلَا الْجَهْمِيِّ، وَمَنْ قَالَ: إِنَّ هَذِهِ الْآيَةَ مَخْلُوقَةٌ فَهُوَ كافِرٌ {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهُ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي} [طه: 14] وَمَا كَانَ اللَّهُ لَيَأْمُرَ مُوسَى أَنْ يَعْبُدَ مَخْلُوقًا وَيَعْرِفَ اللَّهَ فِي السَّمَاءِ السَّابِعَةِ عَلَى عَرْشِهِ كَمَا قَالَ: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى} وَالْجَنَّةُ وَالنَّارُ مَخْلُوقَتَانِ وَلَا يَفْنَيَانِ، وَالصَّلَاةُ مِنَ اللَّهِ فَرِيضَةٌ، وَاجِبَةٌ بِتَمَامِ رُكُوعِهَا وَسُجُودِهَا وَالْقِرَاءَةُ فِيهَا "
১৭ - আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু রাজা কুতাইবা ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: "এটি ইসলাম ও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ইমামগণের বক্তব্য: আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ⦗পৃ: ৩১⦘, তাঁর নির্দেশের কাছে আত্মসমর্পণ করা, তাঁর বিধানের ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং তকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান রাখা; মহান আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা গ্রহণ করা এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকা; আল্লাহর জন্য আমল একনিষ্ঠ করা; দ্বীনের ব্যাপারে বিতর্ক, ঝগড়া ও বিবাদ পরিহার করা; মোজার ওপর মাসেহ করা; প্রত্যেক খলীফার সাথে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা—জিহাদের সওয়াব আপনার জন্য আর তার মন্দফল তার ওপর; প্রত্যেক নেককার ও পাপাচারী ইমামের সাথে জামাতে শরীক হওয়া—অর্থাৎ জুমুআ ও দুই ঈদ—এবং কিবলাপন্থীদের মধ্যে যারা মারা যায় তাদের ওপর জানাযার নামাজ পড়া সুন্নাহ; ঈমান হলো কথা ও কাজ, ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়; কুরআন আল্লাহর কালাম; কিবলাপন্থী কাউকেই জান্নাত বা জাহান্নামের অধিবাসী বলে নিশ্চিত করে বলা যাবে না; তাওহীদপন্থীদের কারো ব্যাপারে জান্নাত বা জাহান্নামের সাক্ষ্য নিশ্চিত করা যাবে না, যদিও সে কবিরা গুনাহ করে থাকে; সালাত ত্যাগ করা ছাড়া অন্য কোনো পাপের দরুন আমরা কাউকেই কাফির বলি না, যদিও সে কবিরা গুনাহ করে থাকে; শাসকদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ করা যাবে না যদিও তারা যুদ্ধ করে; যে ব্যক্তিই মুসলিমদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধারণ করা বৈধ মনে করে আমরা তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করি সে যেই হোক না কেন; এই উম্মতের মধ্যে তাদের নবীর পরে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, এরপর ওমর, এরপর ওসমান; মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের দোষ-ত্রুটি আলোচনা হতে বিরত থাকা; তাঁদের কাউকেই মন্দভাবে উল্লেখ করা যাবে না এবং তাঁদের কারো মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা যাবে না; আমরা পরকালে আল্লাহর দিদারে বিশ্বাস করি; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দিদার সম্পর্কে যে হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে তা সত্য বলে বিশ্বাস করা ⦗পৃ: ৩২⦘ আবশ্যক এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত প্রতিটি বিষয় অনুসরণ করা কর্তব্য, তবে কোনোটি রহিত (মানসুখ) বলে জানা গেলে তার রহিতকারীটির (নাসিখ) অনুসরণ করতে হবে; কবরের আযাব সত্য, আমল মাপার পাল্লা (মীযান) সত্য, হাউয সত্য, শাফায়াত সত্য, একদল লোকের জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসা সত্য, দাজ্জালের বহির্প্রকাশ সত্য এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা সত্য। আপনি যখন দেখবেন কোনো ব্যক্তি সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী, আবদুল্লাহ ইবনে আউন, ইউনুস ইবনে উবাইদ, সুলাইমান আত-তাইমী, শারীক, আবুল আহওয়াস, ফুযাইল ইবনে ইয়ায ⦗পৃ: ৩৩⦘, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, লাইস ইবনে সা'দ, ইবনুল মুবারক, ওয়াকী' ইবনুল জাররাহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-কে ভালোবাসে, তখন জানবেন যে সে সঠিক পথে রয়েছে। আর যখন দেখবেন কোনো ব্যক্তি বলে: ‘এরা হলো সংশয়বাদী’ (শুক্কাক), তখন তার থেকে সতর্ক থাকুন, কেননা সে সঠিক পথে নেই। আর যদি সে আহলে সুন্নাহকে 'মুসাব্বিহা' বলে তবে তার থেকে সতর্ক থাকুন কারণ সে একজন জাহমী। আর যদি সে ‘মুজাব্বিরাহ’ বলে তবে তার থেকে সতর্ক থাকুন কারণ সে একজন কাদরী। ঈমান তারতম্য লাভ করে; ঈমান হলো কথা, কাজ ও নিয়ত; নামাজ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, যাকাত ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, হজ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলাও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আমরা বলি, লোকেরা আমাদের কাছে মুমিন—আল্লাহ তাদের যে নামে অভিহিত করেছেন সে অনুযায়ী; এবং তাদের ক্ষেত্রে ঈমানের স্বীকৃতি, হদ (দণ্ডবিধি), উত্তরাধিকার ও ইনসাফের বিধান কার্যকর হবে ⦗পৃ: ৩৪⦘। আমরা বলি না এবং কোনো আল্লাহর বান্দাও বলে না যে, তার ঈমান জিবরীল ও মিকাঈলের ঈমানের মতো, কেননা তাঁদের উভয়ের ঈমান মাকবুল (গৃহীত)। কাদরী, রাফেযী ও জাহমীর পিছনে নামাজ পড়া যাবে না। আর যে ব্যক্তি বলে: এই আয়াতটি মাখলুক (সৃষ্ট), সে কাফির—আয়াতটি হলো: {নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, অতএব আমার ইবাদত করো} [ত্বহা: ১৪]; আল্লাহ কখনোই মূসাকে কোনো সৃষ্টির ইবাদত করার নির্দেশ দিতে পারেন না। আর আল্লাহ সপ্তম আকাশের উপরে তাঁর আরশের ওপর আছেন বলে বিশ্বাস করতে হবে, যেমনটি তিনি বলেছেন: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন, আসমানসমূহ ও জমিনে এবং এই দুইয়ের মাঝে যা আছে আর মাটির নিচে যা আছে সব তাঁরই}। জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টিই সৃষ্ট এবং এ দুটি কখনো ধ্বংস হবে না। আল্লাহর পক্ষ থেকে নামাজ ফরয ও অপরিহার্য, যা পূর্ণ রুকু, সাজদাহ ও কিরাআতের সাথে আদায় করতে হবে।"
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٤)
18 - حَدَّثَنِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَخْتَوَيْهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ أَيُّوبَ أَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَقُلْتُ لَهُ: مَنْ نُقَدِّمُ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: «أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيًّا، وَاعْمَلْ عَلَى حَدِيثِ سَفِينَةَ» قَالَ: وَأَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، قَالَ: قَالَ ابْنُ عَرْعَرَةَ: قَالَ ابْنُ حَنْبَلٍ قَالَ مِثْلَ قَوْلِي، وَاحْتَجَّ بِحَدِيثِ سَفِينَةَ
১৮ - আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাখতাওয়াইহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে আইয়ুব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি; এবং আমি তাঁকে বললাম: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আমরা কাকে অগ্রগণ্য করব? তিনি বললেন: «আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীকে, আর তুমি সাফিনাহর হাদিস অনুযায়ী আমল করো» তিনি বলেন: এবং আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি, তিনি বলেন: ইবনে আরআরাহ বলেছেন: ইবনে হাম্বল আমার মতেরই অনুরূপ কথা বলেছেন এবং তিনি সাফিনাহর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
19 - سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ يَعْقُوبَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الْعَبَّاسَ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ الدُّورِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ، يَقُولُ: «الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ وَلَيْسَ بِمَخْلُوقٍ»
১৯ - আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্বাসকে অর্থাৎ ইবন মুহাম্মদ আদ-দুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবন মাঈনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা সৃষ্টি নয়।"
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
وَسَمِعْتُ هَذَا مِنْهُ مِرَارًا: " أَخَيْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ ثُمَّ عُثْمَانُ ثُمَّ عَلِيُّ هَذَا قَوْلُنَا وَهَذَا مَذْهَبُنَا
আমি এটি তাঁর থেকে বারবার শুনেছি: "নবীর পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, অতঃপর উমর, অতঃপর উসমান, অতঃপর আলী। এটিই আমাদের বক্তব্য এবং এটিই আমাদের মাজহাব।"
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌بَابُ ذِكْرِ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّهُ لَا عَمَلَ إِلَّا بِنِيَّةٍ يَنْوِيهَا الْمَرْءُ عِنْدَ عَمَلِهِ
অধ্যায়: এই বিষয়ের দলিলের বর্ণনা যে, ব্যক্তি তার আমল সম্পাদনের সময় যে নিয়ত করে, সেই নিয়ত ব্যতীত কোনো আমল নেই
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي مَعْشَرٍ السُّلَمِيُّ، بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَا، نَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّ لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আরুবাহ আল-হুসাইন ইবনে আবি মা'শার আস-সুলামি, হাররানে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল জাব্বার ইবনুল আলা; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল মাজীদ; তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনুল হারিস যে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসিকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে তাই সে পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সম্পদ অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌بَابُ ذِكْرِ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ وَالطُّهُورَ مِنَ الْإِيمَانِ
সালাত ও পবিত্রতা যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, তার প্রমাণ বর্ণনার অধ্যায়
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الثَّقَفِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ أَبُو يَحْيَى الْبَزَّازُ، نَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، نَا أَبَانُ وَهُوَ ابْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ، نَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ زَيْدٍ وَهُوَ ابْنُ سَلَّامٍ، عَنْ أَبِي سَلَّامٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ: «الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ، وَالصَّلَاةُ نُورٌ، وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ، وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ، وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ»
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম আস-সাকাফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহীম আবু ইয়াহইয়া আল-বাযযার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান বিন মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবান —যিনি ইয়াজিদ আল-আত্তারের পুত্র—, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর, তিনি যায়েদ —যিনি সালামের পুত্র— থেকে, তিনি আবু সালাম থেকে, তিনি আবু মালিক আল-আশআরী থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: «পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক, আর ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) মীযানকে পূর্ণ করে দেয়, সালাত হলো নূর, সদকা হলো প্রমাণ, ধৈর্য হলো দীপ্তি এবং কুরআন হলো তোমার স্বপক্ষে অথবা তোমার বিপক্ষে এক অকাট্য দলিল।»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٦)
‌‌بَابُ ذِكْرِ الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ لَا يَقْبَلُ صَلَاةً إِلَّا بِطُهُورٍ وَلَا صَدَّقَةً مِنْ غُلُولٍ
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ সুবহানাহু পবিত্রতা ব্যতিরেকে কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত সম্পদ থেকে কোনো সদকা গ্রহণ করেন না—তার প্রমাণের বিবরণ
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٦)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُوعَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ، وَلَا صَدَّقَةً مِنْ غُلُولٍ»
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন হিশাম ও আবু কামিল আল-জাহদারী, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি মুসআব বিন সা’দ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত মাল থেকে সদকা গ্রহণ করেন না।”
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٦)
بَابٌ فِي وَجُوبِ الْغُسْلِ عَلَى مَنْ مَسِّ فَرْجَهُ وَبَيَانِ الْمَسِّ أَنَّهُ يَكُونُ بِالْيَدِ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ.

 

23 - قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتَابًا فِي قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوهُ بِأَيْدِيهِمْ} [الأنعام: 7]

 

24 - فَأَعْلَمَنَا رَبُّنَا جَلَّ وَعَزَّ أَنَّ اللَّمْسَ قَدْ يَكُونُ بِالْيَدِ.

 

25 - وَقَالَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} [المائدة: 6] إِلَى قَوْلِهِ: {أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [النساء: 43]
যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করেছে তার ওপর গোসলের আবশ্যকতা এবং স্পর্শ যে হাতের মাধ্যমেই হয়—কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তার বিবরণের অধ্যায়।

 

২৩ - আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: “আর আমি যদি আপনার নিকট কাগজের ওপর লিখিত কোনো কিতাব নাযিল করতাম, অতঃপর তারা তা নিজেদের হাত দিয়ে স্পর্শ করত।” [আল-আনআম: ৭]

 

২৪ - সুতরাং আমাদের রব জাল্লা ওয়া আযযা আমাদের জানিয়েছেন যে, স্পর্শ হাতের মাধ্যমেও হতে পারে।

 

২৫ - এবং মহান আল্লাহ বলেন: “হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো...” তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: “অথবা যদি তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো।” [আল-মায়িদাহ: ৬, আন-নিসা: ৪৩]
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
26 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، نَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ يَعْنِي ابْنَ اللَّيْثِ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، وَهُوَ ابْنُ شُرَحْبِيلَ بْنِ حَسَنَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَأْثِرُهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ ابْنُ آدَمَ أَصَابَ مِنَ الزِّنَا لَا مَحَالَةَ» قَالَ: «فَالْعَيْنُ زِنَاهَا النَّظَرُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا اللَّمْسُ، وَالنَّفْسُ تَهْوَى وَتُحَدِّثُ وَيُصَدِّقُهُ أَوْ يُكَذِّبُهُ الْفَرْجُ»
২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব অর্থাৎ ইবনুল লাইস, লাইস থেকে, জাফর ইবনে রাবিয়াহ থেকে—যিনি হলেন ইবনে শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ—আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «প্রত্যেক আদম সন্তান ব্যভিচারের কোনো না কোনো অংশ অবশ্যই প্রাপ্ত হবে, যা অনিবার্য।» তিনি বললেন: «চোখের ব্যভিচার হলো দৃষ্টিপাত করা, হাতের ব্যভিচার হলো স্পর্শ করা, আর মন আকাঙ্ক্ষা ও জল্পনা-কল্পনা করে এবং লজ্জাস্থান তা সত্যে পরিণত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।»
(খণ্ড: ১) শিআর আসহাবিল হাদীস লি-আবি আহমাদ আল-হাকিম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، حَدَّثَنَا كَامِلُ بْنُ طَلْحَةَ، نَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «قُبْلَةُ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ وَحَسُّهُ بِيَدِهِ مِنَ الْمُلَامَسَةِ فَمَنْ قَبَّلَ امْرَأَتَهُ أَوْ حَسَّهَا بِيَدِهِ فَلْيَتَوَضَّأْ»
২৭ - আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কামিল ইবনে তালহা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মালিক ইবনে আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: "কোনো ব্যক্তির তার স্ত্রীকে চুম্বন করা এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা হলো স্পর্শ করার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে চুম্বন করবে অথবা হাত দিয়ে স্পর্শ করবে, সে যেন অজু করে।"