(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: -)
شرف أصحاب الحديث للخطيب البغدادي القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرف أصحاب الحديث
المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463هـ)
المحقق: د. محمد سعيد خطي اوغلي
الناشر: دار إحياء السنة النبوية - أنقرة
عدد الصفحات: 140
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-খতিব আল-বাগদাদি রচিত শরাফ আসহাবিল হাদিস বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: শরাফ আসহাবিল হাদিস
লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদী আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)
মুহাক্কিক: ড. মুহাম্মদ সাঈদ খতি ওগলি
প্রকাশক: দার ইহয়াউস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ - আঙ্কারা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪০
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: -)
شَرَفُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ لِلْخَطِيبِ الْبَغْدَادِيِّ
আল-খতিব আল-বাগদাদী বিরচিত ‘শারাফু আসহাবিল হাদিস’ (হাদিসবেত্তাদের মর্যাদা)
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٣)
مُقَدِّمَةُ الْمُؤَلِّفِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي اصْطَفَى الْإِسْلَامَ دِينًا لِصَفْوَةِ بَرِيَّتِهِ وَبَعَثَ بِهِ المُرْسَلِينَ الَّذِينَ اخْتَارَهُمْ مِنْ خَلِيقَتِهِ وَجَعَلَنَا قَوَّامِينَ بِشَرِيعَتِهِ وَعَلَى مِلَّتِهِ ذَابِّينَ عَنْ حَرِيمِهِ عَامِلِينَ بِسُنَّتِهِ نَحْمَدُهُ حَقَّ حَمْدِهِ وَنَسْأَلُهُ التَّوْفِيقَ لِرُشْدِهِ وَنَرْغَبُ إِلَيْهِ فِي الْمَزِيدِ مِنْ فَضْلِهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى خَاتَمِ رُسُلِهِ سَيِّدُنَا مُحَمَّدٌ أَفْضَلُ النَّبِيِّينَ وَخِيَرَةُ اللَّهِ مِنْ الْخَلْقِ أَجْمَعِينَ وَعَلَى صَحَابَتِهِ الْأَخْيَارِ الْمُنْتَجَبِينَ وَتَابِعِيهِمْ بِالْإِحْسَانِ إِلَى يَوْمِ الدِّينِ أَمَّا بَعْدُ: وَفَّقَكُمُ اللَّهُ لِعَمَلِ الخَيْرَاتِ وَعَصَمَنَا وَإِيَّاكُمْ مِنَ اقْتِحَامِ البِدَعِ وَالشُّبُهَاتِ فَقَدْ وَقَفْنَا عَلَى مَا ذَكَرْتُمْ مِنْ عَيْبِ المُبْتَدِعَةِ لِأَهْلِ السُّنَنِ وَالْآثَارِ وَطَعْنِهِمْ عَلَى مَنْ شَغَلَ نَفْسَهُ بِسَمَاعِ الْأَحَادِيثِ وَحِفْظِ
লেখকের ভূমিকা। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীতদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে নির্বাচিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত রাসূলগণকে (المرسلين) প্রেরণ করেছেন। তিনি আমাদের তাঁর শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন এবং তাঁর মিল্লাতের সংরক্ষক ও তাঁর সুন্নাহর অনুসারী হিসেবে তৈরি করেছেন। আমরা তাঁর যথাযথ প্রশংসা করি এবং তাঁর সঠিক পথের তাওফিক প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর অনুগ্রহের প্রাচুর্য কামনা করি। এবং আল্লাহ দরুদ পাঠ করুন তাঁর শেষ রাসূল, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ—যিনি নবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর মনোনীত—এবং তাঁর সর্বোত্তম ও মনোনীত সাহাবীগণের (الصحابة) ওপর ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের (التابعين) ওপর। অতঃপর: আল্লাহ আপনাদের সৎকর্ম করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের ও আপনাদের বিদআত ও সংশয় থেকে রক্ষা করুন। আপনারা বিদআতীদের পক্ষ থেকে সুন্নাহ ও আসার (الآثار) অনুসারীদের প্রতি নিন্দা এবং যারা হাদিস শ্রবণ ও তা হিফজ (حفظ) করার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন, তাঁদের প্রতি বিদ্রূপের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা আমরা অবগত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٤)
الْأَخْبَارِ وَتَكْذِيبِهِمْ بِصَحِيحِ مَا نَقَلَهُ إِلَى الْأُمَّةِ الْأَئِمَّةُ الصَّادِقُونَ وَاسْتِهْزَائِهِمْ بِأَهْلِ الْحَقِّ فِيمَا وَضَعَهُ عَلَيْهِمُ الْمُلْحِدُونَ اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ وَلَيْسَ ذَاكَ عَجِيبًا مِنْ مُتَّبِعِي الْهَوَى وَمَنْ أَضَلَّهُمُ اللَّهُ عَنْ سُلُوكِ سَبِيلِ الْهُدَى وَمِنْ وَاضِحِ شَأْنِهِمُ الدَّالُّ عَلَى خِذْلَانِهِمْ صُدُوفُهُمْ عَنِ النَّظَرِ فِي أَحْكَامِ الْقُرْآنِ وَتَرْكِهِمُ الْحِجَاجَ بِآيَاتِهِ الوَاضِحَةِ الْبُرْهَانِ وَاطِّرَاحِهِمُ السُّنَنَ مِنْ وَرَائِهِمْ وَتَحَكُّمِهِمْ فِي الدِّينِ بِآرَائِهِمْ فَالْحَدَثُ مِنْهُمْ مَنْهُومٌ بِالْغَزَلِ وَذُو السِّنِّ مَفْتُونٌ بِالْكَلَامِ وَالْجَدَلِ قَدْ جَعَلَ دِينَهُ غَرَضًا لِلْخُصُومَاتِ وَأَرْسَلَ نَفْسَهُ فِي مَرَاتِعِ الْهَلَكَاتِ وَمَنَّاهُ الشَّيْطَانُ دَفْعَ الْحَقِّ بِالشُّبُهَاتِ إِنْ عُرِضَ عَلَيْهِ بَعْضُ كُتُبِ الْأَحْكَامِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِآثَارِ نَبِيِّنَا عَلَيْهِ أَفْضَلُ السَّلَامِ نَبَذَهَا جَانِبًا وَوَلَّى ذَاهِبًا عَنِ النَّظَرِ فِيهَا يَسْخَرُ مِنْ حَامِلِهَا وَرَاوِيهَا مُعَانَدَةً مِنْهُ لِلدِّينِ وَطَعْنًا عَلَى أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ ثُمَّ هُوَ يَفْتَخِرُ عَلَى الْعَوَامِ بِذَهَابِ عُمْرِهِ فِي دَرْسِ الْكَلَامِ وَيَرَى جَمِيعَهُمْ ضَالِّينَ سِوَاهُ وَيَعْتَقِدُ أَنْ لَيْسَ يَنْجُو إِلَّا إِيَّاهُ لِخُرُوجِهِ زَعَمَ عَنْ حَدِّ التَّقْلِيدِ وَانْتِسَابِهِ إِلَى الْقَوْلِ بِالْعَدْلِ وَالتَّوْحِيدِ وَتَوْحِيدُهُ إِذَا اعْتُبِرَ كَانَ شِرْكًا وَإِلْحَادًا لِأَنَّهُ يَجْعَلُ لِلَّهِ مِنْ خَلْقِهِ شُرَكَاءً وَأَنْدَادًا وَعَدْلُه عُدُولٌ عَنْ نَهْجِ الصَّوَابِ إِلَى خِلَافِ مُحْكَمِ السُّنَّةِ وَالْكِتَابِ
সংবাদসমূহ প্রত্যাখ্যান করা এবং সত্যনিষ্ঠ ইমামগণ উম্মাহর নিকট যা বর্ণনা করেছেন, তার মধ্য থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং ধর্মদ্রোহীরা সত্যপন্থীদের বিরুদ্ধে যা রটনা করেছে তা নিয়ে তাদের উপহাস করা (একটি গর্হিত কাজ)। আল্লাহ তাদের উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর অবকাশ দেন। আর প্রবৃত্তি পূজারী এবং যাদের আল্লাহ হিদায়াতের পথে চলা থেকে বিচ্যুত করেছেন, তাদের থেকে এমন আচরণ আশ্চর্যজনক নয়। তাদের শোচনীয় অবস্থার একটি স্পষ্ট নিদর্শন হলো কুরআনের বিধানাবলী অনুধাবন করা থেকে তাদের বিমুখতা, এর সুস্পষ্ট প্রমাণের আয়াতসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করা বর্জন করা, সুনানসমূহকে পেছনে ফেলে রাখা এবং দ্বীনের ব্যাপারে নিজেদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী ফয়সালা করা। তাদের মধ্যকার যুবকরা প্রণয়গাথায় মত্ত এবং বৃদ্ধরা কালাম শাস্ত্র ও তর্কে বিমোহিত। সে তার দ্বীনকে বিবাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং নিজেকে ধ্বংসের চারণভূমিতে নিক্ষেপ করেছে। শয়তান তাকে সংশয় দ্বারা সত্যকে প্রতিহত করার মিথ্যা আশা দেখিয়েছে। যদি তার সামনে আমাদের নবীর (তাঁর ওপর সর্বোত্তম শান্তি বর্ষিত হোক) বর্ণনা (آثار) সংশ্লিষ্ট কোনো বিধানের কিতাব উপস্থাপন করা হয়, তবে সে তা একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দেয় এবং সেগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত না করে প্রস্থান করে। সে দ্বীনের প্রতি বিদ্বেষবশত এবং মুসলিম ইমামদের প্রতি কটাক্ষ করার উদ্দেশ্যে ওই কিতাবের বাহক ও বর্ণনাকারীকে (راو) উপহাস করে। অতঃপর সে সাধারণ মানুষের সামনে কালাম শাস্ত্রের পাঠে নিজের জীবন অতিবাহিত করার বড়াই করে এবং নিজেকে ছাড়া বাকি সবাইকে পথভ্রষ্ট মনে করে। সে বিশ্বাস করে যে, সে ছাড়া আর কেউ মুক্তি পাবে না; কারণ তার দাবি অনুযায়ী সে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) এর সীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং নিজেকে আদল ও তাওহীদের অনুসারী বলে পরিচয় দেয়। অথচ তার তাওহীদ বিচার করলে দেখা যায় তা শিরক ও ধর্মদ্রোহিতা ছাড়া কিছু নয়; কেননা সে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্য থেকেই তাঁর জন্য অংশীদার ও সমকক্ষ স্থির করে। আর তার আদল বা ন্যায়বিচার হলো সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে সুন্নাহ ও কিতাবের অকাট্য (محكم) বিধানের বিরোধিতা করা।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٥)
وَكَمْ يُرَى الْبَائِسُ الْمِسْكِينُ إِذَا ابْتُلِيَ بِحَادِثَةٍ فِي الدِّينِ يَسْعَى إِلَى الْفَقِيهِ يَسْتَفْتِيهِ وَيَعْمَلُ عَلَى مَا يَقُولُهُ وَيَرْوِيهِ رَاجِعًا إِلَى التَّقْلِيدِ بَعْدَ فِرَارِهِ مِنْهُ وَمُلْتَزِمًا حُكْمَهُ بَعْدَ صُدُوفِهِ عَنْهُ وَعَسَى أَنْ يَكُونَ فِي حُكْمِ حَادِثَتِهِ مِنَ الْخِلَافِ مَا يَحْتَاجُ إِلَى إِنْعَامِ النَّظَرِ فِيهِ وَالِاسْتِكْشَافِ فَكَيْفَ اسْتَحَلَّ التَّقْلِيدَ بَعْدَ تَحْرِيمِهِ وَهَوَّنَ الْإِثْمَ فِيهِ بَعْدَ تَعْظِيمهِ؟ وَلَقَدْ كَانَ رَفَضَهُ مَا لَا يَنْفَعُهُ فِي الآخِرَةِ وَالْأُولَى وَاشْتِغَالُهُ بِأَحْكَامِ الشَّرِيعَةِ أَحْرَى وَأَوْلَى
কতই না দেখা যায় সেই হতভাগ্য দরিদ্র ব্যক্তিকে, যখন সে দ্বীনি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন সে ফকিহ-এর নিকট ছুটে যায় ফতোয়া কামনায় এবং ফকিহ যা বলেন ও বর্ণনা (رواية) করেন, সে অনুযায়ী আমল করে; ইতিপূর্বে তা থেকে পলায়ন করার পর পুনরায় সে অন্ধ অনুকরণের (تقليد) দিকেই ফিরে যায় এবং তা থেকে বিমুখ হওয়ার পর পুনরায় তার হুকুম পালনকেই আবশ্যক করে নেয়। অথচ সম্ভবত তার এই উদ্ভূত বিষয়ের হুকুমে এমন মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান রয়েছে যা গভীর পর্যবেক্ষণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের মুখাপেক্ষী। এমতাবস্থায় সে কীভাবে অন্ধ অনুকরণকে (تقليد) হারাম জানার পর তাকে বৈধ মনে করে নিল এবং একে বড় গুনাহ মনে করার পর পুনরায় একে তুচ্ছ জ্ঞান করল? অথচ তার জন্য পার্থিব ও পরকালীন জীবনে উপকারে আসে না এমন বিষয় বর্জন করা এবং শরিয়তের বিধিবিধানের চর্চায় ব্যাপৃত থাকাই ছিল অধিক সমীচীন ও শ্রেয়।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ بْنِ شَاذَانَ الصَّيْرَفِيُّ بِنَيْسَابُورَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّغَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ، يَعِيبُ الْجِدَالَ فِي الدِّينِ، وَيَقُولُ: «كُلَّمَا جَاءَنَا رَجُلٌ أَجْدَلُ مِنْ رَجُلٍ، أَرَادَنَا أَنْ نَرُدَّ مَا جَاءَ بِهِ جِبْرِيلُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم»
নিশাপুরে আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনুল ফজল ইবনে শাযান আস-সায়রাফি আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে ঈসা আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক (الجدال) করাকে দোষণীয় সাব্যস্ত করতে শুনেছি এবং তিনি বলতেন: "যখনই আমাদের নিকট কোনো ব্যক্তির চেয়ে অধিক তার্কিক (أجدل) কোনো লোক আসে, তখন সে চায় যে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যা নিয়ে এসেছেন, তা যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করি।"
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّرَّاجُ، بِنَيْسَابُورَ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ أَحْمَدَ الْإِسْفَرَايِينِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ الْفِرْيَابِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا يُوسُفَ، يَقُولُ: كَانَ يُقَالُ: «مَنْ طَلَبَ الدِّينَ بِالْكَلَامِ تَزَنْدَقَ، وَمَنْ طَلَبَ غَرِيبَ الْحَدِيثِ كَذَبَ، وَمَنْ طَلَبَ الْمَالَ بِالْكِيمْيَاءِ أَفْلَسَ»
আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাররাজ নিসাবুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে আহমদ আল-ইসফারায়িনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: বলা হতো: «যে ব্যক্তি ইলমুল কালামের মাধ্যমে দ্বীন অন্বেষণ করবে সে ধর্মত্যাগী হবে, আর যে বিরল (غريب) হাদিস অন্বেষণ করবে সে মিথ্যা বলবে, এবং যে ব্যক্তি কিমিয়ার মাধ্যমে সম্পদ অন্বেষণ করবে সে নিঃস্ব হবে।»
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَزَّازُ بِهَمَذَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْقَاضِي، بِبَرُوجِرْدَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ الْحَافِظُ الدِّينَوَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ: قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ: " إِنَّمَا الدِّينُ بِالْآثَارِ لَيْسَ بِالرَّأْيِ، إِنَّمَا الدِّينُ بِالْآثَارِ لَيْسَ بِالرَّأْيِ، إِنَّمَا الدِّينُ بِالْآثَارِ لَيْسَ بِالرَّأْيِ
আবু মানসুর মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাযযায হামাদানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-কাদী বুরূজর্দে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আল-হাফিজ (الحافظ) আদ-দীনওয়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: যায়িদ ইবনে আখযাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী বলেছেন: "দ্বীন তো কেবল আসার বা বর্ণনা (الآثار) নির্ভর, রায় বা ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) নির্ভর নয়; দ্বীন তো কেবল আসার বা বর্ণনা (الآثار) নির্ভর, রায় বা ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) নির্ভর নয়; দ্বীন তো কেবল আসার বা বর্ণনা (الآثار) নির্ভর, রায় বা ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) নির্ভর নয়।"
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بَكْرَانَ الْفَسَوِيُّ بِالْبَصْرَةِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ الْفَسَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنِ الْكَرَابِيسِيِّ، وَمَا أَظْهَرَ، فَكَلَحَ وَجْهُهُ، ثُمَّ قَالَ: " إِنَّمَا جَاءَ بَلَاؤُهُمْ مِنْ هَذِهِ الْكُتُبِ الَّتِي وَضَعُوهَا، تَرَكُوا آثَارَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ، وَأَقْبَلُوا عَلَى هَذِهِ الْكُتُبِ
বসরার আবু হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাকরান আল-ফাসাভী আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-ফাসাভী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আল-ফাদল ইবনে জিয়াদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আহমদ ইবনে হাম্বলকে আল-কারাবিসি এবং তিনি যা প্রকাশ করেছেন (তার মতবাদ) সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তাঁর চেহারা অসন্তোষে সংকুচিত হয়ে গেল, অতঃপর তিনি বললেন: "তাদের বিপর্যয় মূলত এই কিতাবগুলো থেকেই এসেছে যা তারা রচনা করেছে; তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের বর্ণনাসমূহ (آثار) বর্জন করেছে এবং এই কিতাবগুলোর দিকে ধাবিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٦)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحِنَّائِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ النَّجَّادُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ،: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ ⦗ص: 7⦘: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ، يَقُولُ: " سَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوُلَاةُ الْأَمْرِ بَعْدَهُ سُنَنًا، الْأَخْذُ بِهَا تَصْدِيقٌ لِكِتَابِ اللَّهِ عز وجل، وَاسْتِكْمَالٌ لِطَاعَةِ اللَّهِ، وَقُوَّةٌ عَلَى دِينِ اللَّهِ. مَنْ عَمِلَ بِهَا مُهْتَدٍ، وَمَنِ اسْتَنْصَرَ بِهَا مَنْصُورٌ، وَمَنْ خَالَفَهَا اتَّبَعَ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ، وَولَّاهُ اللَّهُ مَا تَوَلَّى
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হিন্নায়ী, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর আহমদ বিন সালমান আন-নাজ্জাদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আমার পিতা, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুর রহমান বিন মাহদী, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘: আমি মালিক বিন আনাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী শাসকগণ কিছু সুন্নাত (سنن) প্রবর্তন করেছেন; সেগুলো গ্রহণ করা আল্লাহর কিতাবকে সত্য বলে প্রতিপন্ন করা, আল্লাহর আনুগত্যের পূর্ণতা সাধন করা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর শক্তি সঞ্চয় করার নামান্তর। যে ব্যক্তি তা আমল করবে সে সঠিক পথপ্রাপ্ত হবে এবং যে ব্যক্তি এর দ্বারা সাহায্য চাইবে সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে সে মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণ করবে এবং আল্লাহ তাকে সে পথেই পরিচালিত করবেন যা সে বেছে নিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٧)
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الصَّيْرَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدَ الْبَيْرُوتِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ،: سَمِعْتُ الْأَوْزَاعِيَّ، يَقُولُ: «عَلَيْكَ بِآثَارِ مَنْ سَلَفَ، وَإِنْ رَفَضَكَ النَّاسُ. وَإِيَّاكَ وَرَأْيَ الرِّجَالِ، وَإِنْ زَخْرَفُوهُ بِالْقَوْلِ. فَإِنَّ الْأَمْرَ يَنْجَلِي، وَأَنْتَ عَلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ»
আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে মাজইয়াদ আল-বাইরুতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন: আমি আওজায়িকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলতেন: "তুমি পূর্বসূরিদের (سلف) পদাঙ্ক (آثار) অনুসরণ করো, যদিও মানুষ তোমাকে বর্জন করে। আর তুমি লোকদের ব্যক্তিগত মতামত (رأي) থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তারা তা চমৎকার কথাবার্তা দিয়ে সুশোভিত করুক। কেননা বিষয়টি (এক সময়) স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি সঠিক পথের ওপর থাকবে।"
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٧)
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَغَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، صَاحِبُ الْقُوهِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، رحمه الله، يَقُولُ: «أَصْحَابُ الرَّأْي أَعْدَاءُ السُّنَّةِ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: «وَلَوْ أَنَّ صَاحِبَ الرَّأْيِ الْمَذْمُومِ شَغَلَ نَفْسَهُ بِمَا يَنْفَعُهُ مِنَ الْعُلُومِ، وَطَلَبَ سُنَنَ رَسُولِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَاقْتَفَى آثَارَ الْفُقَهَاءِ وَالْمُحَدِّثِينَ، لَوَجَدَ فِي ذَلِكَ مَا يُغْنِيهِ عَمَّا سِوَاهُ وَاكْتَفَى بِالْأَثَرِ عَنْ
আল-হাসান বিন আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-বাগাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-হাসান বিন আলিল আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আহমাদ বিন আল-হুসাইন, কূহি-র অধিবাসী, তিনি বলেন: আমি ইয়াযিদ বিন যুরাই’ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কে বলতে শুনেছি: “রায়-পন্থীগণ (أصحاب الرأي) হলো সুন্নাহর (السنة) শত্রু।” আবু বকর বলেন: “নিন্দিত (المذموم) রায়-পন্থী ব্যক্তি যদি নিজেকে এমন জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিয়োজিত রাখত যা তার উপকারে আসত, এবং রাব্বুল আলামীনের রাসূলের সুন্নাহসমূহ (سنن) অন্বেষণ করত, আর ফকিহ (الفقهاء) ও মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) পদাঙ্ক অনুসরণ করত, তবে সে অবশ্যই এর মাঝে এমন কিছু খুঁজে পেত যা তাকে অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিত এবং সে আসার বা বর্ণনার (الأثر) মাধ্যমেই পরিতৃপ্ত হতে পারত যা তাকে অন্য সব কিছু থেকে...”
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٨)
رَأْيِهِ الَّذِي رَآهُ، لِأَنَّ الْحَدِيثَ يَشْتَمِلُ عَلَى مَعْرِفَةِ أُصُولِ التَّوْحِيدِ، وَبَيَانِ مَا جَاءَ مِنْ وُجُوهِ الْوَعْدِ وَالْوَعِيدِ، وِصِفَاتِ رَبِّ الْعَالَمِينَ تَعَالَى عَنْ مَقَالَاتِ الْمُلْحِدِينَ وَالْإِخْبَارِ عَنْ صِفَاتِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِمَا لِلْمُتَّقِينَ وَالْفُجَّارِ، وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي الْأَرَضِينَ وَالسَّمَوَاتِ مِنْ صُنُوفِ الْعَجَائِبِ وَعَظِيمِ الْآيَاتِ، وَذِكْرِ الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ، وَنَعْتِ الصَّافِّينَ وَالْمُسَبِّحِينَ. وَفِي الْحَدِيثِ قَصَصُ الْأَنْبِيَاءِ، وَأَخْبَارُ الزُّهَّادِ وَالْأَوْلِيَاءِ، وَمَوَاعِظُ الْبُلَغَاءِ، وَكَلَامُ الْفُقَهَاءِ، وَسِيَرُ مُلُوكِ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ، وَأَقَاصِيصُ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنَ الْأُمَمِ، وَشَرْحُ مَغَازِي الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، وَسَرَايَاهُ وَجُمَلُ أَحْكَامِهِ وَقَضَايَاهُ، وَخُطَبُهُ وَعِظَاتُهُ، وَأَعْلَامُهُ وَمُعْجِزَاتُهُ، وَعِدَّةُ أَزْوَاجِهِ وَأَوْلَادِهِ وَأَصْهَارِهِ وَأَصْحَابِهِ. وَذِكْرُ فَضَائِلِهِمْ وَمَآثِرِهِمْ. وَشَرْحُ أَخْبَارِهِمْ» وَمَنَاقِبِهِمْ «، وَمَبْلَغُ أَعْمَارِهِمْ، وَبَيَانُ أَنْسَابِهِمْ. وَفِيهِ تَفْسِيرُ الْقُرْآنِ الْعَظِيمِ، وَمَا فِيهِ مِنَ النَّبَإِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيمِ. وَأَقَاوِيلُ الصَّحَابَةِ فِي الْأَحْكَامِ الْمَحْفُوظَةِ عَنْهُمْ، وَتَسْمِيَةُ مَنْ ذَهَبَ إِلَى قَوْلِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ مِنَ الْأَئِمَّةِ الْخَالِفِينَ وَالْفُقَهَاءِ الْمُجْتَهِدِينَ. وَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ تَعَالَى أَهْلَهُ أَرْكَانَ الشَّرِيعَةِ، وَهَدَمَ بِهِمْ كُلَّ بِدْعَةٍ شَنِيعَةٍ. فَهُمْ أُمَنَاءُ اللَّهِ مِنْ خَلِيقَتِهِ، وَالْوَاسِطَةُ بَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأُمَّتِهِ، وَالْمُجْتَهِدُونَ فِي حَفِظِ مِلَّتِهِ. أَنْوَارُهُمْ زَاهِرَةٌ
তাঁর স্বীয় অভিমত যা তিনি ব্যক্ত করেছেন; কেননা হাদিস তাওহীদের মূলনীতি (أصول) সংক্রান্ত জ্ঞান এবং পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুমকির বিভিন্ন দিকগুলোর বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এতে রয়েছে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের গুণাবলি—যিনি নাস্তিকদের প্রলাপ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে—এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ এবং সেখানে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকী ও পাপাচারীদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন তার সংবাদ। আরও রয়েছে পৃথিবী ও আসমানসমূহে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেই বিচিত্র সব বিস্ময় ও মহান নিদর্শনাবলি, এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের আলোচনা এবং কাতারবদ্ধভাবে তসবিহ পাঠকারীদের বর্ণনা। হাদিসের মধ্যেই রয়েছে নবীদের কাহিনী, সংসারবিরাগী ও আল্লাহর ওলিদের সংবাদ, বাগ্মী ব্যক্তিদের উপদেশবাণী, ফকিহদের কথা, আরব ও অনারব রাজাদের জীবনী এবং পূর্ববর্তী উম্মতগণের ঘটনাবলি। এতে আরও রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযান ও সেনাদলের অভিযানসমূহের ব্যাখ্যা, তাঁর সামগ্রিক বিধান ও ফয়সালাসমূহ, তাঁর ভাষণ ও নসিহতসমূহ এবং তাঁর নিদর্শন ও অলৌকিক ঘটনাবলি (معجزات)। এছাড়া তাঁর স্ত্রী, সন্তান, জামাতা ও সাহাবীদের সংখ্যা এবং তাঁদের ফজিলত ও বীরত্বগাথার আলোচনা; তাঁদের সংবাদ ও গুণাবলি (مناقب), তাঁদের জীবনকাল এবং তাঁদের বংশপরিচয়ের বর্ণনাও এতে বিদ্যমান। এর মধ্যে রয়েছে মহান কুরআনের তাফসির এবং তাতে বিদ্যমান সংবাদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ। এতে সংরক্ষিত বিধানাবলি সম্পর্কে সাহাবীদের বক্তব্যসমূহ এবং পরবর্তী ইমাম ও গবেষণাকারী (مجتهدين) ফকিহদের মধ্যে কে তাঁদের প্রত্যেকের মত গ্রহণ করেছেন তাঁদের নামোল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের শরিয়তের স্তম্ভ বানিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রতিটি জঘন্য বিদআত (بدعة) ধূলিসাৎ করেছেন। তাঁরাই আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর বিশ্বস্ত আমানতদার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মতের মধ্যে সেতুবন্ধন, এবং তাঁর দ্বীন সংরক্ষণে তাঁরাই কঠোর পরিশ্রমী ও গবেষণাকারী (مجتهدون)। তাঁদের জ্যোতি উদ্ভাসিত...
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٩)
، وَفَضَائِلُهُمْ سَائِرَهٌ، وَآيَاتُهُمْ بَاهِرَةٌ، وَمَذَاهِبُهُمْ ظَاهِرَةٌ، وَحُجَجُهُمْ قَاهِرَةٌ، وَكُلُّ فِئَةٍ تَتَحَيَّزُ إِلَى هَوًى تَرْجِعُ إِلَيْهِ، أَوْ تَسْتَحْسِنُ رَأَيًا تَعْكُفُ عَلَيْهِ، سِوَى أَصْحَابِ الْحَدِيثِ، فَإِنَّ الْكِتَابَ عُدَّتُهُمْ، وَالسُّنَّةُ حُجَّتُهُمْ، وَالرَّسُولُ فِئَتُهُمْ، وَإِلَيْهِ نِسْبَتُهُمْ، لَا يُعَرِّجُونَ عَلَى الْأَهْوَاءِ، وَلَا يَلْتَفِتُونَ إِلَى الْآرَاءِ، يُقْبَلُ مِنْهُمْ مَا رَوَوْا عَنِ الرَّسُولِ، وَهُمُ الْمَأْمُونُونَ عَلَيْهِ وَالْعُدُولُ، حَفَظَةُ الدِّينِ وَخَزَنَتُهُ، وَأَوْعِيَةُ الْعِلْمِ وَحَمَلَتُهُ. إِذَا اخْتُلِفَ فِي حَدِيثٍ، كَانَ إِلَيْهِمُ الرُّجُوعُ، فَمَا حَكَمُوا بِهِ، فَهُوَ الْمَقْبُولُ الْمَسْمُوعُ. وَمِنْهُمْ كُلُّ عَالِمٍ فَقِيهٌ، وَإِمَامٌ رَفِيعٌ نَبِيهٌ، وَزَاهِدٌ فِي قَبِيلَةٍ، وَمَخْصُوصٌ بِفَضِيلَةٍ، وَقَارِئٌ مُتْقِنٌ، وَخَطِيبٌ مُحْسِنٌ. وَهُمُ الْجُمْهُورُ الْعَظِيمُ، وَسَبِيلُهُمُ السَّبِيلُ الْمُسْتَقِيمُ. وَكُلُّ مُبْتَدَعٍ بِاعْتِقَادِهِمْ يَتَظَاهَرُ، وَعَلَى الْإِفْصَاحِ بِغَيْرِ مَذَاهِبِهِمْ لَا» يَتَجَاسَرُ «. مَنْ كَادَهُمْ قَصَمَهُ اللَّهُ، وَمَنْ عَانَدَهُمْ خَذَلَهُمُ اللَّهُ. لَا يَضُرُّهُمُ مَنْ خَذَلَهُمْ، وَلَا يُفْلِحُ مَنِ اعْتَزَلَهُمُ الْمُحْتَاطُ لِدِينِهِ إِلَى إِرْشَادِهِمْ فَقِيرٌ، وَبَصَرُ النَّاظِرِ بِالسُّوءِ إِلَيْهِمْ حَسِيرٌ وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ»
...তাদের শ্রেষ্ঠত্ব সুবিদিত, তাদের নিদর্শনসমূহ উজ্জ্বল, তাদের পথ সুস্পষ্ট এবং তাদের দলিলসমূহ অকাট্য। প্রতিটি দলই কোনো না কোনো প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে যার কাছে তারা ফিরে যায়, অথবা কোনো মতকে সুন্দর মনে করে তার ওপর অটল থাকে; কেবল হাদিসের অনুসারীগণ (أصحاب الحديث) ব্যতীত। কারণ কুরআন হলো তাদের পাথেয়, সুন্নাহ তাদের দলিল, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের আশ্রয়স্থল এবং তাঁর দিকেই তাদের সম্বন্ধ। তারা প্রবৃত্তির পথে চলে না এবং ব্যক্তিগত মতের দিকে ভ্রূক্ষেপ করে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে তারা যা বর্ণনা করেন তা গ্রহণ করা হয়, আর তারা তাঁর ওপর বিশ্বস্ত (المأمونون) এবং ন্যায়পরায়ণ (العدول)। তারা দ্বীনের রক্ষক ও তার ভাণ্ডারস্বরূপ এবং ইলমের আধার ও তার বাহক। যখন কোনো হাদিস নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়, তখন তাদের দিকেই ফিরে আসতে হয়; সুতরাং তারা যা ফয়সালা করেন, তাই গ্রহণযোগ্য ও শ্রুতিযোগ্য। তাদের মাঝেই রয়েছেন প্রত্যেক আলেম ফকিহ (فقيه), সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সচেতন ইমাম, কোনো গোত্রের মাঝে অবস্থানরত জাহিদ বা সংসারবিরাগী এবং বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিত্ব, সুনিপুণ ক্বারী এবং উত্তম বাগ্মী। তারাই হলো বিশাল জামাত এবং তাদের পথই হলো সরল পথ। প্রত্যেক বিদআতপন্থী (مبتدع) তাদের বিশ্বাসের সাথে মিল রেখে নিজেকে প্রকাশ করে এবং তাদের মতাদর্শের বাইরে অন্য কিছু প্রকাশ করার সাহস করে না। যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেন এবং যে ব্যক্তি তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন। যারা তাদের পরিত্যাগ করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং যে তাদের থেকে পৃথক হয়ে যায় সে সফল হয় না। স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে সাবধানী ব্যক্তি তাদের নির্দেশনার মুখাপেক্ষী এবং তাদের প্রতি কুদৃষ্টিতে তাকানো ব্যক্তির দৃষ্টি ক্লান্ত ও ব্যর্থ। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ٩)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ الدَّلَّالُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ الْخُلْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ عَمْرٍو الْعُكْبَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَزَالُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ، لَا يَضُرُّهُمُ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ»
আবু বকর আহমদ বিন উমর আদ-দাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ জাফর বিন মুহাম্মদ বিন নুসাইর আল-খুলদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: খালাফ বিন আমর আল-উকবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সাঈদ বিন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন জিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুয়াবিয়া বিন কুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের একদল লোক সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে, যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।»
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ الْبَزَّازُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْعَصَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُونُسَ الْهَرَوِيُّ الْحَافِظُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ فِي حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمُ مَنْ خَالَفَهُمْ» : «هُمْ أَهْلُ الْحَدِيثِ، وَالَّذِينَ يَتَعَاهَدُونَ مَذَاهِبَ الرَّسُولِ، وَيَذُبُّونَ عَنِ الْعِلْمِ. لَوْلَاهُمْ، لَمْ تَجِدْ عِنْدَ الْمُعْتَزِلَةِ وَالرَّافِضَةِ وَالْجَهْمِيَّةِ وَأَهْلِ الْإِرْجَاءِ وَالرَّأْيِ شَيْئًا مِنَ السُّنَنِ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَقَدْ جَعَلَ رَبُّ الْعَالَمِينَ الطَّائِفَةَ الْمَنْصُورَةَ حُرَّاسَ الدِّينِ، وَصَرَفَ عَنْهُمْ كَيَدَ الْمُعَانِدِينَ؛ لِتَمَسُّكِهِمْ بِالشَّرْعِ الْمَتِينِ، وَاقْتِفَائِهِمْ آثَارَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ. فَشَأْنُهُمْ حِفْظُ الْآثَارِ وَقَطْعُ الْمَفَاوِزِ وَالْقِفَارِ، وَرُكُوبُ الْبَرَارِيِّ وَالَبِحَارِ فِي اقْتِبَاسِ مَا شَرَعَ الرَّسُولُ الْمُصْطَفَى، لَا يُعَرِّجُونَ عَنْهُ إِلَى رَأْيٍ وَلَا هَوًى. قَبِلُوا شَرِيعَتَهُ قَوْلًا وَفِعْلًا، وَحَرَسُوا سُنَّتَهُ حِفْظًا وَنَقَلًا حَتَّى ثَبَّتُوا بِذَلِكَ أَصْلَهَا، وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا. وَكَمْ مِنْ مُلْحِدٍ يَرُومُ أَنْ يَخْلِطَ بِالشَّرِيعَةِ مَا لَيْسَ مِنْهَا. وَاللَّهُ تَعَالَى يَذُبُّ بِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ عَنْهَا. فَهُمُ الْحُفَّاظُ لِأَرْكَانِهَا وَالْقَوَّامُونَ بِأَمْرِهَا وَشَأْنِهَا. إِذَا صَدَفَ عَنِ الدِّفَاعِ عَنْهَا فَهُمْ دُونَهَا يُنَاضِلُونَ، { «أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ» } [المجادلة: 22]
মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক আল-বাজজাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আল-আসামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: হাফেজ (الحافظ) আবু ইসহাক আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউনুস আল-হারাউই আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আলি ইবনুল মাদিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদিস— "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না"— এর ব্যাখ্যায় বলেন: "তারা হলো আহলে হাদিস এবং যারা রাসূলের আদর্শসমূহ বা তরীকাগুলো অনুসরণ করে এবং ইলমকে রক্ষা করে। তারা না থাকলে তোমরা মুতাজিলা, রাফেজি, জাহমিয়া, মুরজিয়া এবং রায় (رأي) পন্থীদের নিকট সুন্নাহর কোনো নিদর্শন পেতে না।" আবু বকর বলেন: রব্বুল আলামিন এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটিকে (الطائفة المنصورة) দ্বীনের অতন্দ্র প্রহরী বানিয়েছেন এবং তাদের থেকে হঠকারীদের চক্রান্ত সরিয়ে দিয়েছেন; কারণ তারা সুদৃঢ় শরিয়তকে আঁকড়ে ধরেছে এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের (التابعين) পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। তাদের কাজই হলো আছার (الآثار) সংরক্ষণ করা এবং রাসূল মোস্তফা যা প্রবর্তন করেছেন তা আহরণের জন্য বিজন প্রান্তর ও মরুভূমি পাড়ি দেওয়া এবং স্থল ও সমুদ্র পথে সফর করা; তারা তা থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো রায় (رأي) বা প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে না। তারা তাঁর শরিয়তকে কথা ও কাজে গ্রহণ করেছে এবং মুখস্থ ও বর্ণনার (نقلا) মাধ্যমে তাঁর সুন্নাহকে পাহারা দিয়েছে, এমনকি এর মাধ্যমে তারা এর মূল ভিত্তিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং তারাই ছিল এর সবচেয়ে বেশি হকদার ও উপযুক্ত। কত পথভ্রষ্টই শরিয়তের সাথে এমন কিছু মিশ্রিত করতে চেয়েছে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু আল্লাহ তাআলা আহলে হাদিসদের মাধ্যমে তা প্রতিহত করেন। তারাই হলো এর স্তম্ভসমূহের হাফেজগণ (الحفاظ) এবং এর যাবতীয় বিষয়ের জিম্মাদার ও পরিচালক। যখন কেউ একে রক্ষা করা থেকে বিমুখ হয়, তখন তারা এর স্বপক্ষে লড়াই করে। "তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।" [সূরা আল-মুজাদালাহ: ২২]
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١١)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْأَهْوَازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَانُ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحَرِيشِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خِرَاشٍ، عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ،: عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مِثْلَ حَدِيثٍ قَبْلَهُ، قَالَ: «يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ. يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ»
আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ আল-আহওয়াজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবদান অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: যায়েদ বিন আল-হারিশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন খিরাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আউয়াম বিন হাওশাব থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি মুয়াজ বিন জাবাল থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: «প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিবর্গ এই জ্ঞান বহন করবেন। তারা তা থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি (تحريف), বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি (انتحال) এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা (تأويل) দূর করবেন।»
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١١)
حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْخَزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، عَنْ رَجُلٍ، ذَكَرَهُ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَامِ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا فِي الْمَسْجِدِ بَيْنَ حَلْقَتَيْنِ، فِي إِحْدَاهُمَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَفِي الْأُخْرَى ابْنُ أَبِي دُؤَادٍ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: { «فَإِنْ يَكْفُرْ بِهَا هَؤُلَاءِ» } [الأنعام: 89] وَأَشَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى ابْنِ أَبِي دُؤَادٍ وَأَصْحَابِهِ {فَقَدْ وَكَلْنَا بِهَا قَوْمًا لَيْسُوا بِهَا بِكَافِرِينَ} [الأنعام: 89] . وَأَشَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَأَصْحَابِهِ "
আল-হাসান ইবনে আবি তালিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উমর মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-খায্যায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে সিনান আমাদের নিকট একজন ব্যক্তি (رجل) থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি তাকে উল্লেখ করেছেন—যে তিনি স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে দুটি মজলিসের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন; যার একটিতে ছিলেন আহমদ ইবনে হাম্বল এবং অন্যটিতে ছিলেন ইবনে আবি দুয়াদ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলছিলেন: { "যদি তারা একে অস্বীকার করে..." } [সুরা আল-আন'আম: ৮৯] এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে আবি দুয়াদ ও তার সঙ্গীদের দিকে ইশারা করলেন। { "...তবে আমি এর জন্য এমন এক সম্প্রদায়কে দায়িত্ব দিয়েছি যারা একে অস্বীকারকারী নয়" } [সুরা আল-আন'আম: ৮৯]। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আহমদ ইবনে হাম্বল ও তার সঙ্গীদের দিকে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
قَالَ أَبُو بَكْرٍ: «قَدْ ذَكَرَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ قُتَيْبَةَ فِي كِتَابِهِ الْمُؤَلَّفِ فِي تَأْوِيلِ مُخْتَلِفِ الْحَدِيثِ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ أَهْلُ الْبِدَعِ مِنَ الطَّعْنِ عَلَى أَصْحَابِ الْحَدِيثِ، ثُمَّ ذَكَرَ مِنْ فَسَادِ مَا تَعَلَّقُوا بِهِ، مَا فِيهِ مُقْنِعٌ لِمَنْ وَفَّقَهُ اللَّهُ لِرُشْدِهِ، وَرَزَقَهُ السَّدَادَ فِي قَصْدِهِ. وَأَنَا أَذْكُرُ فِي كِتَابِي هَذَا، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، مَا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَثِّ عَلَى التَّبْلِيغِ عَنْهُ، وَفَضْلِ النَّقْلِ لِمَا سُمِعَ مِنْهُ، ثُمَّ مَا رُوِيَ عَنِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْعُلَمَاءِ الْخَالِفِينَ فِي شَرَفِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ وَفَضْلِهِمْ، وَعُلُوِّ مَرْتَبَتِهِمْ وَنُبْلِهِمْ، وَمَحَاسِنِهِمُ الْمَذَكُورَةِ وَمَعَالِمِهِمُ الْمَأْثُورَةِ نَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَنَا بِمَحَبَّتِهِمْ، وَيُحْيِينَا عَلَى سُنَّتِهِمْ، وَيُمِيتَنَا عَلَى مِلَّتِهِمْ، وَيَحْشُرَنَا فِي زُمْرَتِهِمْ إِنَّهُ بِنَا خَبِيرٌ بَصِيرٌ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»
আবু বকর বলেন: «আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইবা তাঁর রচিত গ্রন্থ তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস-এ বিদআতীদের (أهل البدع) পক্ষ থেকে হাদিস বিশারদদের (أصحاب الحديث) প্রতি করা কটাক্ষ ও অভিযোগসমূহ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের সেই সংশয়গুলোর অসারতা সম্পর্কে এমন আলোচনা করেছেন, যা ঐ ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে যাকে আল্লাহ সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন এবং তার উদ্দেশ্যকে সঠিক পথে পরিচালিত করার তাওফিক দিয়েছেন। আর আমি আমার এই গ্রন্থে, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা চাইলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর বাণী প্রচারের উৎসাহ এবং তাঁর থেকে যা শ্রবণ করা হয়েছে তা বর্ণনা করার ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত (روي) হয়েছে তা উল্লেখ করব। অতঃপর সাহাবী, তাবেঈ (التابعين) এবং তাদের পরবর্তী আলেমদের থেকে হাদিস বিশারদদের (أصحاب الحديث) সম্মান ও ফযিলত, সুউচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের আলোচিত গুণাবলি ও সুপ্রসিদ্ধ নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে যা বর্ণিত (روي) হয়েছে তা বর্ণনা করব। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাদের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে উপকৃত করেন, তাদের সুন্নাহর ওপর আমাদের জীবিত রাখেন, তাদের মিল্লাতের ওপর আমাদের মৃত্যু দান করেন এবং আমাদের তাদের দলেই হাশর নসিব করেন। নিশ্চয়ই তিনি আমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত ও সর্বদ্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।»
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الْجُزْءُ الْأَوَّلُ بَابُ مَا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، فِي الْحَثِّ عَلَى التَّبْلِيغِ وَالْحِفْظِ عَنْهُ
প্রথম খণ্ড। পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রচার (تبليغ) ও তাঁর থেকে সংরক্ষণের (حفظ) প্রতি উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে যা বর্ণিত (رُوِيَ) হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوا عَنِّي، وَلَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়; এবং আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, আর আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না।"
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ بِأَصْبَهَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ الرَّازِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَبْدُ اللَّهِ: ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ الصَّيْرَفِيُّ بِنَيْسَابُورَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عَمَّارٍ الْعَتَكِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ يَعْنِي الْأَسَدِيَّ: ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ دُرُسْتَوَيْهِ النَّحْوِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ، ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِئُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ الْقَزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ ح ⦗ص: 14⦘: وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْإِيَادِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلَّادٍ الْعَطَّارُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَخِي، الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ: ح وَأَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْعَلَاءِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَعْقُوبَ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ يَعْنِي الْفَزَارِيَّ، كُلُّهُمْ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدِّلُ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَدَمِيُّ الْقَارِئُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ الطَّبَّاعِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ،: وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَلِيٍّ الْمُعَدِّلُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ السِّمْسَارُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ،: وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ الْحَرْبِيُّ، وَلَفْظُ الْخَبَرِ، لَهُ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمُقْرِئُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو كَبْشَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» . وَأَلْفَاظُهُمْ عَلَى الْمَتْنِ سَوَاءٌ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: هَكَذَا رَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন ইসহাক আল-হাফিজ (الحافظ), ইসফাহানে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আহমাদ বিন ফারিস। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ আহমাদ বিন আল-ফুরাত আর-রাজি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে নুমাইর আব্দুল্লাহ। (সূত্রের রূপান্তর - ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন মুসা বিন আল-ফজল আস-সাইরাফি নিশাপুরে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হামিদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন শুআইব। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল বিন আম্মার আল-আতাকি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম অর্থাৎ আল-আসাদি। (সূত্রের রূপান্তর - ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-কাত্তান। তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন (أنبأنا) আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন দুরুসতাওয়াইহ আন-নাহবি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন সুফিয়ান। (সূত্রের রূপান্তর - ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আহমাদ বিন উমর আল-মুকরি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাবিব বিন আল-হাসান আল-কাযযায। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-বসরি। তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম। (সূত্রের রূপান্তর - ح) ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ইয়াদি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন ইউসুফ বিন খাল্লাদ আল-আত্তার। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন মুহাম্মদ আত-তামিমি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম বিন আলী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার ভাই হাসান বিন আলী। (সূত্রের রূপান্তর - ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু আল-আলা মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইয়াকুব আল-ওয়াসিতি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাশির বিন মুসা। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া বিন আমর, আবু ইসহাক অর্থাৎ আল-ফাজারি থেকে, তাঁরা সকলেই আল-আওযায়ি থেকে। (সূত্রের রূপান্তর - ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুয়াদ্দিল। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-আদামি আল-ক্বারি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুত তাব্বা। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুসআব। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আলী আল-মুয়াদ্দিল। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সিমসার। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব আল-হাররানি। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ আল-হারবি এবং বর্ণনার পাঠ (لفظ الخبر) তাঁর। তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন (أنبأنا) উমর বিন ইব্রাহিম আল-মুকরি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযায়ি। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাসসান বিন আতিয়্যাহ। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কাবশাহ যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদি তা একটি আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, তাতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" আর মূল পাঠের (متن) ক্ষেত্রে তাঁদের শব্দগুলো একই রকম। আবু বকর বলেন: আব্দুর রহমান বিন সাবিত বিন সাওবান এভাবেই হাসসান বিন আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
أَخْبَرَنَاهُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ بَشَّارٍ النَّيْسَابُورِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْمَوَيْهِ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ الصُّورِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ السَّلُولِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
বসরার আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন আহমদ বিন বাশশার আন-নাইসাবুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহমাওয়াইহ আল-আসকারী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন কাসীর আস-সূরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আল-ফিরইয়াবী, ইবনে সাওবান হতে, তিনি হাসান বিন আতিয়্যাহ হতে, তিনি আবু কাবশাহ আস-সালুলী হতে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়; এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসন নির্ধারণ করে নেয়।»
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَرَشِيُّ بِنَيْسَابُورَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، قَالَ: أنبأَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: أنبأنَا الشَّافِعِيُّ، قَالَ: أَنبأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ. وَحَدِّثُوا عَنِّي وَلَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ
নিশাপুরে ক্বাযী আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ আল-হারাশী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: রাবী ইবনে সুলাইমান আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), তিনি বলেন: আশ-শাফিঈ আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنَا), তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا); মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে (عن), তিনি আবু সালামা থেকে (عن), তিনি আবু হুরায়রা থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, তবে আমার নামে মিথ্যা বলো না।"
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ»
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়»
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى بْنِ هَارُونَ بْنِ الصَّلْتِ الْأَهْوَازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا هَوْذَةُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ،: ح وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَالِكِيُّ، قَالَ أنبأنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الْعَطَّارُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَوْذَةُ،: ح ⦗ص: 16⦘ وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْيَزْدِيُّ الْحَافِظُ بِنَيْسَابُورَ، قَالَ: أَنبأنَا زَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: أنبأنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزَّيْنَبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيَّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَا: حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ ح: وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الرَّزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْعَوَّامِ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ ح: وَأَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ دَاوُدَ الرَّزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ النَّجَّادُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ، وَرَجُلٌ، أَفْضَلُ فِي نَفْسِي مِنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا فَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ. فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ» وَاللَّفْظُ لِحَدِيثِ قُرَّةَ
আবু আল-হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা ইবনে হারুন ইবনে আস-সালত আল-আহওয়াজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হাওযাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আউন আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني)। সনদ পরিবর্তন (ح): এবং আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মালিকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আহমদ ইবনে ইউসুফ আল-আত্তার আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنَا), তিনি বলেন: আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হাওযাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)। সনদ পরিবর্তন (ح): ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ এবং নিশাপুরের আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-ইয়াজদি আল-হাফিজ (الحافظ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: যাহির ইবনে আহমদ আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنَا), তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-যাইনাবি আমাদের অবহিত করেছেন (أنبأنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে আব্দুল আ'লা আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: বিশর ইবনে আল-মুফাদদাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তাঁরা উভয়ে বলেন: ইবনে আউন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে (عن), তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি বাকরাহ থেকে (عن), তিনি আবু বাকরাহ থেকে (عن)। সনদ পরিবর্তন (ح): এবং আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আল-বাখতারি আর-রাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবিল আওয়াম এবং আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)। সনদ পরিবর্তন (ح): এবং আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আর-রাযযায আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন: আহমদ ইবনে সালমান আন-নাজ্জাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে আমর আবু আমির আল-আকাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: কুররাহ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে (عن), তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আবি বাকরাহ এবং আমার মতে আব্দুর রহমান অপেক্ষা উত্তম এক ব্যক্তি হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তাঁরা আবু বাকরাহ থেকে (عن) বর্ণনা করেন যে; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সাবধান! তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের নিকট (সংবাদ) পৌঁছে দেয়। কারণ যাকে পৌঁছানো হয় সে সম্ভবত শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী (أوعى) হতে পারে।» আর শব্দবিন্যাস কুররাহ-এর হাদিস অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْجِيرِيُّ بِنَيْسَابُورَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْقِلٍ الْمَيْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى يَعْنِي الذُّهْلِيَّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ ⦗ص: 17⦘، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: «لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ. فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَحْفَظُ مِنْ سَامِعٍ» .
নিশাপুরের বিচারক আবু বকর আহমদ বিন আল-হাসান আল-জীরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মাকিল আল-মায়দানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া—অর্থাৎ আদ-দুহলী—আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মা‘মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবু বাকরাহ থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘, তিনি তাঁর পিতা থেকে (বর্ণনা করেন) যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জের সময় বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।»
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْإِيَادِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرٍ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي أَسْمَاءُ بِنْتُ يَزِيدَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «فَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ» ، فِي حَدِيثٍ طَوِيلٍ. قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا اخْتَصَرْتُهُ
আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-ইয়াদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে খাল্লাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: হারিস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: দাউদ ইবনুল মুহাব্বির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল হামিদ ইবনে বাহরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), শাহর থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: আসমা বিনতে ইয়াজিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثتني) যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়», এটি একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ। আবু বকর বলেন: আমি এটি সংক্ষেপ (اختصرته) করেছি।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَالِحٍ الْعَطَّارُ بِأَصْبَهَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ حَيَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِي، عَنْ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيِّ، قَالَ: «نَشْرُ الْعِلْمِ حَيَاتُهُ، وَالْبَلَاغُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَحْمَةٌ يَعْتَصِمُ بِهِ كُلُّ مُؤْمِنٍ، وَيَكُونُ حُجَّةً عَلَى كُلِّ مُصِرٍّ بِهِ وَمُلْحِدٍ» . وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ: «إِذَا ظَهَرَتِ الْبِدَعُ، فَلَمْ يُنْكِرْهَا أَهْلُ الْعِلْمِ صَارَتْ سُنَّةً»
ইসফাহানে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমার মামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু হাতিম আর-রাজি থেকে, তিনি বলেছেন: «ইলম বা জ্ঞান প্রচার করাই হলো এর জীবন, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে (দ্বীনের বাণী) পৌঁছে দেওয়া হলো একটি রহমত যা প্রতিটি মুমিন আঁকড়ে ধরে এবং এটি প্রত্যেক একগুঁয়ে ও ধর্মবিদ্বেষীর বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত হবে»। এবং ইমাম আওযায়ী বলেন: «যখন বিদআতসমূহ (بدع) প্রকাশ পায় আর আলিমগণ তা প্রত্যাখ্যান না করেন, তখন তা সুন্নাহ (سنة) হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে যায়»।
(খণ্ড: ১)
শারফ আসহাবিল হাদীস লিল-খাতীব আল-বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ»
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনেছে এবং তা পৌঁছে দিয়েছে।»