(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: -)
دلائل النبوة - الفريابي   (الفريابي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: دلائل النبوة

المؤلف: أبو بكر جعفر بن محمد بن الحسن بن المُسْتَفاض الفِرْيابِي (ت 301هـ)

المحقق: عامر حسن صبري

الناشر: دار حراء - مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1406

عدد الصفحات: 88

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দালাইলুন নুবুওয়াহ - আল-ফিরইয়াবি   (আল-ফিরইয়াবি)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: দালাইলুন নুবুওয়াহ

লেখক: আবু বকর জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনুল মুস্তাফাদ আল-ফিরইয়াবি (মৃত্যু ৩০১ হিজরী)

মুহাক্কিক: আমির হাসান সাবরি

প্রকাশক: দার হিরা - মক্কা আল-মুকাররামা

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৮

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌بَابُ مَا رُوِيَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فِي الشَّيْءِ الْقَلِيلِ مِنَ الطَّعَامِ فَيُجْعَلُ فِيهِ الْبَرَكَةُ حَتَّى يَشْبَعَ مِنْهُ الْخَلْقُ الْكَثِيرُ
পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অল্প খাদ্যের ব্যাপারে দোয়া করতেন এবং তাতে বরকত দান করা হতো, এমনকি তা থেকে অসংখ্য লোক পরিতৃপ্ত হতো—এ মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ فِي يَوْمِ الْإِثْنَيْنِ الْخَامِسِ مِنْ ذِي الْقِعْدَةِ مِنْ سَنَةِ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ عَرْضًا بِأَصْلِ كِتَابِهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الزَّيَّاتِ قِرَاءَةً قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْمُسْتَفَاضِ الْفِرْيَابِيِّ وَأَنَا أَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ ثَلَاثِمِائَةٍ

 

1 - حَدَّثَكُمْ أَبُو أَيُّوبَ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمِشْقِيُّ ⦗ص: 30⦘، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الْأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ الْمَخْزُومِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ فِي غَزْوَةٍ، فَأَصَابَ النَّاسَ مَخْمَصَةٌ، فَاسْتَأْذَنَ النَّاسُ رَسُولَ اللَّهِ فِي نَحْرِ بَعْضِ ظَهْرِهِمْ، وَقَالُوا: يُبَلِّغُنَا اللَّهُ عز وجل بِهِ، فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه رَسُولَ اللَّهِ قَدْ هَمَّ أَنْ يَأْذَنَ لَهُمْ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ بِنَا إِذَا نَحْنُ لَقِينَا غَدًا جِيَاعًا رِجَالًا، وَلَكِنْ إِنْ رَأَيْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ تَدْعُوَ النَّاسَ بِبَقَايَا أَزْوَادِهِمْ، فَتَجْمَعَهُ فَتَدْعُوَ فِيهَا بِالْبَرَكَةِ، فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل سَيٌبَلِّغُنَا بِدَعْوَتِكَ - أَوْ قَالَ: سَيُبَارِكُ لَنَا فِي دَعْوَتِكَ - فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبَقَايَا أَزْوَادِهِمْ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَجِيئُونَ بِالْحَثْيَةِ، مِنَ الطَّعَامِ، وَفَوْقَ ذَلِكَ وَكَانَ أَعْلَاهُمُ مَنْ جَاءَ بِصَاعٍ فَجَمَعَهُ، ثُمُّ قَامَ فَدَعَا اللَّهَ عز وجل بِمَا شَاءَ ⦗ص: 31⦘ أَنْ يَدْعُوَ، ثُمَّ دَعَا الْجَيْشَ بِأَوْعِيَتِهِمْ، وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَحْثُوا، فَمَا بَقِيَ فِي الْجَيْشِ وِعَاءٌ إِلَّا مَلَئُوهُ وَبَقِيَ مِثْلُهُ، فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ، وَقَالَ: «أَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، لَا يَلْقَى اللَّهَ عز وجل عَبْدٌ مُؤْمِنٌ بِهِمَا إِلَّا حَجَبَتَا عَنْهُ النَّارَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
শেখ আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ৪৪৬ হিজরি সনের যিলকদ মাসের পাঁচ তারিখ সোমবার, তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আবু হাফস ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আয-যাইয়াত আমাদের পাঠ করে শুনিয়েছেন: আবু বকর জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনুল মুস্তাফায আল-ফিরয়াবীর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, অতঃপর তিনি ৩০০ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে তা সমর্থন করেছেন।

 

১ - আবু আইয়ুব সুলায়মান ইবনে আবদুর রহমান আদ-দিমাশকি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আমর আল-আওজাঈ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব আল-মাখযুমী থেকে, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবি আমরাহ আল-আনসারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তখন মানুষ তীব্র ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল। তাই লোকজন তাদের কিছু সওয়ারি পশু জবাই করার জন্য রাসূলুল্লাহর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করল এবং বলল: আল্লাহ তায়ালা এর মাধ্যমে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাবেন। যখন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) দেখলেন যে রাসূলুল্লাহ তাদের অনুমতি দেওয়ার সংকল্প করেছেন, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমরা আগামীকাল পদাতিক অবস্থায় ক্ষুধার্ত হয়ে শত্রুর মোকাবিলা করি তবে আমাদের অবস্থা কী হবে? বরং হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি সমীচীন মনে করেন তবে লোকদের তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে ডাকুন, অতঃপর তা একত্রিত করে তাতে বরকতের জন্য দোয়া করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়ার বরকতে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন—অথবা তিনি বলেছিলেন: আপনার দোয়ার মাধ্যমে আমাদের বরকত দান করবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসতে বললেন। ফলে মানুষ এক মুষ্টি বা তার কিছু বেশি খাদ্য নিয়ে আসতে লাগল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে এনেছিল সে ছিল এক সা' (পরিমাণ খাদ্য)। তিনি তা একত্রিত করলেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট যা ইচ্ছা ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ দোয়া করলেন। এরপর তিনি পুরো বাহিনীকে তাদের পাত্রসহ ডাকলেন এবং তাদের পাত্রগুলো পূর্ণ করে নিতে নির্দেশ দিলেন। ফলে বাহিনীর মধ্যে এমন কোনো পাত্র বাকি রইল না যা তারা পূর্ণ করেনি, এমনকি তখনও সমপরিমাণ খাদ্য অবশিষ্ট ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ হাসলেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হলো। তিনি বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি আল্লাহর রাসূল। কোনো মুমিন বান্দা যদি এই দুই সাক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে কিয়ামতের দিন তা অবশ্যই তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল করে রাখবে»।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي مُصْعَبٍ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الزُّهْرِيِّ، قُلْتُ: حَدَّثَكُمْ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا، فَأَصَابَ أَصْحَابَهُ جُوعٌ ⦗ص: 32⦘ وَفَنِيَتْ أَزْوَادُهُمْ، فَجَاؤُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَشْكُونَ مَا أَصَابَهُمْ، وَيَسْتَأْذِنُونَهُ فِي أَنْ يَنْحَرُوا بَعْضَ رَوَاحِلِهِمْ، فَأَذِنَ لَهُمْ فَخَرَجُوا فَمَرُّوا بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ جِئْتُمْ؟ فَأَخْبَرُوهُ أَنَّهُمُ اسْتَأْذَنُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَنْ يَنْحَرُوا بَعْضَ إِبَلِهِمْ، قَالَ: فَأَذِنَ لَهُمْ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَإِنِّي أَسْئَلُكُمْ - أَوْ أُقْسِمُ عَلَيْكُمُ - إِلَّا رَجَعْتُمْ مَعِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ، فَرَجَعُوا مَعَهُ فَذَهَبَ عُمَرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتَأْذَنُ لَهُمْ أَنْ يَنْحَرُوا بَعْضَ رَوَاحِلِهِمْ، فَمَاذَا يَرْكَبُونَ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «فَمَاذَا أَصْنَعُ بِهِمْ؟ لَيْسَ مَعِي مَا أُعْطِيهُمْ» قَالَ عُمَرُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَأْمُرُ مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلٌ مِنْ زَادِهِ أَنْ يَأْتِيَ بِهِ إِلَيْكَ فَتَجْمَعَهُ عَلَى شَيْءٍ، ثُمَّ تَدْعُو فِيهِ، ثُمَّ تُقَسِّمُهُ بَيْنَهُمْ، قَالَ: فَفَعَلَ فَدَعَا بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ، فَمِنْهُمُ الْآتِي بِالْقَلِيلِ وَالْكَثِيرِ، فَجَعَلَهُ فِي شَيْءٍ، ثُمَّ دَعَا فِيهِ مَا شَاءَ اللَّهُ عز وجل أَنْ يَدْعُوَا، ثُمَّ قَسَّمَهُ بَيْنَهُمْ فَمَا بَقِيَ مِنَ الْقَوْمِ أَحَدٌ إِلَّا مَلَأَ مَا كَانَ مَعَهُ مِنْ وِعَاءٍ وَفَضَلَ فَضْلٌ، فَقَالَ عِنْدَ ذَلِكَ: «أَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، مَنْ جَاءَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ غَيْرَ شَاكٍّ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ عز وجل الْجَنَّةَ»
২ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুসআব আহমাদ ইবন আবি বকর আজ-জুহরির নিকট পাঠ করেছি, আমি বললাম: আপনাদের নিকট আব্দুল আজিজ ইবন আবি হাজিম বর্ণনা করেছেন সুহাইল ইবন আবি সালিহ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিচালিত একটি যুদ্ধে এক স্থানে অবতরণ করলেন। তখন তাঁর সাহাবীগণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ এবং তাঁদের পাথেয় ফুরিয়ে গেল। তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাঁদের দুর্দশার কথা জানালেন এবং তাঁদের কিছু সওয়ারির পশু জবাই করার জন্য তাঁর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি তাঁদের অনুমতি দিলেন। অতঃপর তাঁরা বের হয়ে উমর ইবনুল খাত্তাবের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কোত্থেকে আসছ? তাঁরা তাঁকে অবহিত করলেন যে, তাঁরা তাঁদের কিছু উট জবাই করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অনুমতি চেয়েছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কি তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমি তোমাদের কাছে অনুরোধ করছি—অথবা তোমাদের শপথ দিচ্ছি—তোমরা আমার সাথে পুনরায় রাসূলুল্লাহর কাছে ফিরে চলো। ফলে তাঁরা তাঁর সাথে ফিরে আসলেন এবং উমর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাঁদেরকে সওয়ারির পশু জবাই করার অনুমতি দিচ্ছেন? তাহলে তাঁরা কিসে চড়ে যাতায়াত করবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তবে আমি তাঁদের জন্য কী করব? আমার কাছে তো তাঁদের দেওয়ার মতো কিছু নেই।” উমর বললেন: বরং হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আদেশ দিন যেন যার কাছে অতিরিক্ত পাথেয় রয়েছে সে যেন তা আপনার কাছে নিয়ে আসে। এরপর আপনি তা এক জায়গায় জমা করবেন, অতঃপর তাতে দোয়া করবেন এবং তাঁদের মাঝে তা বণ্টন করে দেবেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাই করলেন এবং অতিরিক্ত পাথেয় নিয়ে আসতে বললেন। তাঁদের মধ্যে কেউ অল্প আবার কেউ অধিক পরিমাণ খাবার নিয়ে এলেন। তিনি সেগুলো এক জায়গায় রাখলেন, অতঃপর আল্লাহ মহান যতটুকু চাইলেন তিনি তাতে ততটুকু দোয়া করলেন। এরপর তিনি তা তাঁদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। ফলে সেই দলের এমন কোনো ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকল না যে তার সাথে থাকা পাত্রটি পূর্ণ করেনি, উপরন্তু খাবার উদ্বৃত্ত রয়ে গেল। তখন তিনি বললেন: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে এই সাক্ষ্য নিয়ে উপস্থিত হবে, আল্লাহ মহান তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩২)
3 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ ⦗ص: 33⦘، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَوْ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - شَكَّ الْأَعْمَشُ - قَالَ: لَمَّا كَانَتْ غَزْوَةُ تَبُوكَ، أَصَابَ النَّاسَ مَجَاعَةٌ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ أَذِنْتَ لَنَا فَنَحَرْنَا نَوَاضِحَنَا، فَأَكَلْنَا وَادَّهَنَّا، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ: «افْعَلُوا» . قَالَ: فَجَاءَ عُمَرُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا قَلَّ الظَّهْرُ، وَلَكِنِ ادْعُهُمْ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ ثُمَّ ادْعُ لَهُمْ عَلَيْهِ بِالْبَرَكَةِ، فَلَعَلَّ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يَجْعَلَ فِي ذَلِكَ - قَالَ عُمَرُ: وَحَسِبَ قَالَ - خَيْرًا، قَالَ: فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنِطْعٍ، فَبَسَطَهُ، ثُمَّ دَعَاهُمْ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ، قَالَ: فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ بِالْكَفِّ الذُّرَةَ، وَالْآخَرُ بِكَفِّ التَّمْرِ، وَالْآخَرُ بِالْكِسْرَةِ، حَتَّى جُمِعَ عَلَى النِّطْعِ مِنْ ذَلِكَ، ثُمَّ دَعَا عَلَيْهِ بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ قَالَ: «خُذُوا فِي أَوْعِيَتِكُمْ» ، قَالَ: فَأَخَذُوا فِي أَوْعِيَتِهِمْ حَتَّى مَا تَرَكُوا فِي الْمُعَسْكَرِ وِعَاءً إِلَّا ⦗ص: 34⦘ مَلَئُوهُ، قَالَ: وَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا وَفَضَلَتْ مِنْهُ فَضْلَةٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى بِهَا عَبْدٌ غَيْرَ شَاكٍّ، فِيَحْتَجِبَ عَنِ الْجَنَّةِ» قَالَ عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ: «حَدَّثَ أَبُو مُعَاوِيَةَ هَذَا الْحَدِيثَ بِبَغْدَادَ، وَلَمْ يُحَدِّثْ بِهِ بِالْكُوفَةِ»
৩ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে মুহাম্মদ আন-নাকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া মুহাম্মদ ইবনে খাজিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আ'মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি অথবা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন - আ'মাশ এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন - তিনি বলেন: যখন তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হলো, তখন লোকেরা চরম খাদ্যসংকটে পড়ল। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের অনুমতি দিতেন তবে আমরা আমাদের পানি বহনকারী উটগুলো যবাই করতাম, এরপর তা আহার করতাম এবং তেল হিসেবে ব্যবহার করতাম। তখন আল্লাহর রাসূল তাদের বললেন: «তোমরা তা করো»। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর উমর (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদি তারা এমনটা করে তবে আরোহণের প্রাণীর সংখ্যা কমে যাবে। বরং আপনি তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসার জন্য আহ্বান করুন, এরপর তাতে বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। সম্ভবত মহান আল্লাহ তাতে - উমর বলেন: এবং তিনি ধারণা করেন তিনি বলেছিলেন - কল্যাণ দান করবেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চামড়ার দস্তরখান আনালেন এবং তা বিছিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানালেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে আসতে শুরু করল, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে আসল এবং অন্যজন রুটির টুকরো নিয়ে আসল, এভাবে সেই চামড়ার দস্তরখানের ওপর কিছু খাবার জমা হলো। এরপর তিনি তাতে বরকতের জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন: «তোমরা তোমাদের পাত্রগুলোতে তুলে নাও»। বর্ণনাকারী বলেন: তারা তাদের পাত্রগুলোতে খাবার নিতে শুরু করল, এমনকি তারা শিবিরের কোনো পাত্রই বাকি রাখল না যা ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ তারা পূর্ণ করেনি। বর্ণনাকারী বলেন: তারা আহার করল এবং তৃপ্ত হলো, এমনকি এরপরও কিছু খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে বান্দা কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে এই সাক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না»। আমর ইবনে মুহাম্মদ বলেন: «আবু মুয়াবিয়া এই হাদিসটি বাগদাদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তা কুফায় বর্ণনা করেননি»।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
4 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي النَّضْرِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرَةٍ، فَنَفَدَتْ أَزْوَادُ الْقَوْمِ، قَالَ: حَتَّى هَمَّ بِنَحْرِ بَعْضِ جِمَالِهِمْ، قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ جَمَعْتَ مَا بَقِيَ مِنْ أَزْوَادِ الْقَوْمِ فَدَعَوْتَ اللَّهَ تَعَالَى عَلَيْهَا فَفَعَلَ، فَجَاءَ ذُو ⦗ص: 35⦘ التَّمْرَةِ بِتَمْرَةٍ، وَذُو الْبُرَّةِ بِبُرَّةٍ، وَقَالَ مُجَاهِدٌ: وَذُو النَّوَاةِ بِنَوَاةٍ، قَالَ: فَقُلْتُ: وَمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ بِالنَّوَى؟ قَالَ: يَمُصُّونَهُ وَيَشْرَبُونَ عَلَيْهِ الْمَاءَ، قَالَ: فَدَعَا عَلَيْهَا حَتَّى مَلَأَ الْقَوْمُ أَزْوِدَتَهُمْ، قَالَ: فَقَالَ عِنْدَ ذَلِكَ: «أَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، لَا يَلْقَى بِهَا عَبْدٌ غَيْرَ شَاكٍّ فِيهَا إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
৪ - জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর ইবন আবু নাযর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু নাযর হাশিম ইবনুল কাসিম আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, উবায়দুল্লাহ আল-আশজায়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মালিক ইবন মিগওয়াল থেকে, তিনি তালহা ইবন মুসাররিফ থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। এমতাবস্থায় লোকজনের পাথেয় ফুরিয়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এমনকি তিনি তাদের কিছু উট জবেহ করার সংকল্প করলেন। তিনি বলেন: তখন উমর (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি লোকজনের অবশিষ্ট পাথেয় একত্র করতেন এবং তার ওপর মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন (তবে ভালো হতো)। অতঃপর তিনি তা-ই করলেন। তখন যার কাছে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ একটি খেজুর ছিল সে একটি খেজুর নিয়ে এল, আর যার কাছে সামান্য গম ছিল সে গম নিয়ে এল। মুজাহিদ বলেন: এবং যার কাছে খেজুরের আঁটি ছিল সে আঁটি নিয়ে এল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: তারা আঁটি দিয়ে কী করত? তিনি বললেন: তারা তা চুষত এবং তার ওপর পানি পান করত। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি সেগুলোর ওপর দোয়া করলেন, ফলে সকল লোক তাদের পাথেয়-পাত্রগুলো পূর্ণ করে নিল। তিনি বলেন: তখন তিনি বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কোনো বান্দা যদি এই সাক্ষ্য নিয়ে এতে কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।»
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
5 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِعَيْنِ الرُّومِ الَّتِي يُقَالُ لَهَا: عَيْنُ تَبُوكَ، أَصَابَنَا جُوعٌ شَدِيدٌ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَلْقَى الْعَدُوَّ غَدًا وَهُمْ شِبَاعٌ، وَنَحْنُ جِيَاعٌ، قَالَ: فَخَطَبَ النَّاسَ، ثُمَّ ⦗ص: 36⦘ قَالَ: «مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ طَعَامٍ فَلْيَأْتِنَا بِهِ» ، قَالَ: وَبَسَطَ نِطْعًا فَأُتِيَ بِبِضْعَةٍ وَعِشْرِينَ صَاعًا، فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدَعَا بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ دَعَا النَّاسَ فَقَالَ: «خُذُوا» فَأَخَذُوا حَتَّى جَعَلَ الرَّجُلُ يَرْبِطُ كُمَّ قَمِيصِهِ ثُمَّ يَأْخُذُ فِيهِ، فَصَدَرُوا وَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَقُولُهَا رَجُلٌ مُحِقٌّ فَيَدْخُلَ النَّارَ»
৫ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবু যিয়াদ থেকে, তিনি আসিম ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, আর তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম, এমনকি যখন আমরা রোমানদের সেই ঝরনার কাছে পৌঁছলাম যাকে তাবুউকের ঝরনা বলা হয়, তখন আমরা তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আগামীকাল আমরা শত্রুর মুখোমুখি হব, অথচ তারা তৃপ্ত আর আমরা ক্ষুধার্ত। তিনি বলেন: তখন নবীজি লোকজনের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, তারপর ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ বললেন: "যার কাছে অতিরিক্ত খাবার আছে, সে যেন তা আমাদের কাছে নিয়ে আসে।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর একটি চামড়ার দস্তরখান বিছানো হলো এবং বিশের কিছু বেশি সা' (পরিমাণ খাবার) আনা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন এবং বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি লোকজনকে ডেকে বললেন: "তোমরা গ্রহণ করো।" তারা খাবার নিতে শুরু করলেন, এমনকি কোনো লোক তার জামার হাতা বেঁধে তাতেও খাবার নিতে লাগলেন। অবশেষে তারা তৃপ্ত হয়ে ফিরে গেলেন এবং কিছু খাবার অবশিষ্টও রয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। সত্যনিষ্ঠ কোনো ব্যক্তি এই সাক্ষ্য প্রদান করলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
6 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو طَلْحَةَ لِأُمِّ سُلَيْمٍ: لَقَدْ سَمِعْتُ صَوْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَعِيفًا أَعْرِفُ فِيهِ الْجُوعَ، فَهَلْ عِنْدَكِ مِنْ شَيْءٍ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، فَأَخْرَجَتْ أَقْرَاصًا مِنْ شَعِيرٍ، ثُمَّ أَخَذَتْ خِمَارًا، لَهَا فَلَفَّتِ الْخُبْزَ بِبَعْضِهِ وَزَوَدَتْنِي بِبَعْضِهِ، ثُمَّ أَرْسَلَتْنِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ، أَرْسَلَكِ أَبُو ⦗ص: 37⦘ طَلْحَةَ؟ فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَنْ مَعَهُ: «قُومُوا» ، قَالَ: فَانْطَلَقُوا وَانْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ حَتَّى جِئْتُ أَبَا طَلْحَةَ، فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: يَا أُمَّ سُلَيْمٍ، قَدْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ، وَلَيْسَ عِنْدَنَا مِنَ الطَّعَامِ مَا يطْعِمُهُمْ، فَقَالَتِ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، فَانْطَلَقَ أَبُو طَلْحَةَ، حَتَّى لَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَبُو طَلْحَةَ حَتَّى دَخَلَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «هَلُمِّي يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا عِنْدَكِ» ، فَأَتَتْ بِذَلِكَ الْخُبْزِ، فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ فَفُتَّ وَعَصَرَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ عُكَّةً لَهَا فَآدَمَتْهُ، ثُمَّ قَالَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ مَا شَاءَ أَنْ يَقُولَ، ثُمَّ قَالَ: «ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ» فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، ثُمَّ خَرَجُوا، ثُمَّ قَالَ: «ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ» ، فَأَكَلَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ وَشَبِعُوا، وَالْقَوْمُ سَبْعُونَ أَوْ ثَمَانُونَ رَجُلًا

 

7 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى ⦗ص: 38⦘ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، قَالَ: عَرَضَ عَلَيَّ مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: قَالَ أَبُو طَلْحَةَ لِأُمِّ سُلَيْمٍ، فَذَكَرَ مِثْلَ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ
৬ - জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মালেক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেককে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আবু তালহা উম্মে সুলাইমকে বললেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কণ্ঠস্বর অত্যন্ত ক্ষীণ শুনতে পেলাম, যাতে আমি ক্ষুধার চিহ্ন বুঝতে পারলাম। তোমার কাছে কি কিছু আছে?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। এরপর তিনি যবের কয়েকটি রুটি বের করলেন, অতঃপর নিজের একটি ওড়না নিলেন এবং রুটিগুলো তার একাংশ দিয়ে পেঁচিয়ে আমার কাপড়ের নিচে গুঁজে দিলেন এবং এর কিছু অংশ আমাকে দিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠালেন। (আনাস বলেন) আমি গেলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে বসা অবস্থায় পেলাম, তাঁর সাথে অনেক লোক ছিল। আমি তাদের সামনে দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘তোমাকে কি আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ তালহা পাঠিয়েছেন?’ আমি বললাম, ‘জি হ্যাঁ’। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে থাকা লোকদের বললেন: ‘চলো’। বর্ণনাকারী বলেন, তারা রওনা হলেন এবং আমিও তাদের আগে আগে চলতে লাগলাম যতক্ষণ না আমি আবু তালহার কাছে পৌঁছলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন আবু তালহা বললেন, ‘হে উম্মে সুলাইম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো চলে এসেছেন, অথচ আমাদের কাছে তাঁদের খাওয়ানোর মতো পর্যাপ্ত খাবার নেই।’ তিনি (উম্মে সুলাইম) বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।’ তখন আবু তালহা এগিয়ে গেলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দেখা করলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু তালহা আসলেন এবং ঘরে প্রবেশ করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘হে উম্মে সুলাইম! তোমার কাছে যা আছে নিয়ে এসো।’ তিনি সেই রুটিগুলো নিয়ে আসলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে সেগুলো টুকরো করা হলো। উম্মে সুলাইম তাঁর ঘিয়ের পাত্রটি নিংড়ে দিলেন এবং রুটিগুলো মেখে ব্যঞ্জন হিসেবে প্রস্তুত করলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর যা বলার ইচ্ছা করলেন (দোয়া পড়লেন)। অতঃপর তিনি বললেন: ‘দশজনকে অনুমতি দাও।’ তিনি তাদের অনুমতি দিলেন, তারা তৃপ্তিভরে খেলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: ‘দশজনকে অনুমতি দাও।’ এভাবে উপস্থিত সকল লোক খেলেন এবং তৃপ্ত হলেন। আর সেই লোকসংখ্যা ছিল সত্তর বা আশিজন পুরুষ।

 

৭ - জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ইসহাক ইবনে মুসা ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আল-আনসারী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মা'ন ইবনে ঈসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মালেক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেককে বলতে শুনেছেন: আবু তালহা উম্মে সুলাইমকে বললেন... এরপর তিনি কুতাইবার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
8 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنْبَاعِ رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ الْمَصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عِمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، أَنَّ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: أَقْبَلَ أَبُو طَلْحَةَ يَوْمًا، فَإِذَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يُقْرِئُ أَصْحَابَ الصُّفَّةِ، عَلَى بَطْنِهِ نَصْلٌ مِنْ حَجَرٍ قَدْ قَوَّمَ بِهِ صُلْبَهُ مِنَ الْجُوعِ، فَرَجَعَ إِلَى أُمِّ ⦗ص: 39⦘ سُلَيْمٍ، فَقَالَ: لَقَدْ رَأَيْتُ مَا غَاظَنِي فَهَلْ عِنْدَكِ مِنْ شَيْءٍ؟ فَقَالَتْ: نَعَمْ شَيْءٌ مِنْ شَعِيرٍ، قَالَ: فَاصْنَعِيهِ، فَصَنَعَتْهُ وَقَالَ لِي: اذْهَبْ فَادْعُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا يَعْلَمْ بِكَ أَحَدٌ، قَالَ أَنَسٌ: فَلَمَّا رَآنِي نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَرْسَلَكَ أَبُو طَلْحَةَ لِتَدْعُوَنِي؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «قُومُوا» ، فَقَامَ مَعَهُ سَبْعَونَ رَجُلًا، فَأَتَيْتُ أَبَا طَلْحَةَ، فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ لَهُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، إِنَّمَا هُوَ شَيْءٌ صَنَعْنَاهُ لَكَ، وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا مَا يَحْسِبُهُمْ، فَقَالَ: «هَلُمَّ مَا عِنْدَكَ» ، فَأَتَيْتُهُ بِهِ وَكَانَتْ عِنْدَ أُمِّ سُلَيْمٍ عُكَّةٌ لِلسَّمْنِ، فَجَعَلَتْ تَعْصِرُهَا، فَقَالَ لَهَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلُمِّي فَإِنَّ الرَّجُلَ أَشَدُّ عَصْرًا مِنَ الْمَرْأَةِ» فَأَخَذَهَا فَعَصَرَهَا حَتَّى أَدِمَ بِهَا الطَّعَامَ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِيهِ، ثُمَّ قَالَ: «تَعَالَوْا عَشَرَةً عَشَرَةً» ، فَجَعَلُوا يَأْكُلُونَ وَلَا يَرْعَى أَحَدٌ مِنْهُمْ عَلَى أَحَدٍ حَتَّى كَمُلُوا وَأَفْضَلُوا مَا أَهْدَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ، لِجِيرَانِهَا "
৮ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু যিনবা' রাওহ ইবনুল ফারাজ আল-মিসরি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমর ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে লাহীআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমারা ইবনে গাজিয়্যাহ থেকে, যে রাবিআ ইবনে আবি আব্দুর রহমান তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছেন: একদিন আবু তালহা আসলেন, তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে সুফফাহর অধিবাসীদের পড়াচ্ছিলেন। ক্ষুধার তীব্রতায় তিনি তাঁর পেটে পাথরের একটি খণ্ড বেঁধে রেখেছিলেন যাতে তাঁর পিঠ সোজা থাকে। অতঃপর তিনি উম্মে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ সুলাইমের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, "আমি এমন কিছু দেখেছি যা আমাকে ব্যথিত করেছে। তোমার কাছে কি কিছু আছে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, সামান্য কিছু যব আছে।" তিনি বললেন, "তাহলে তা প্রস্তুত করো।" তিনি তা প্রস্তুত করলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন, "যাও এবং আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত দাও, আর তোমার কথা যেন কেউ জানতে না পারে।" আনাস বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: "আবু তালহা কি তোমাকে পাঠিয়েছেন আমাকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তোমরা ওঠো।" অতঃপর তাঁর সাথে সত্তর জন লোক উঠে দাঁড়ালেন। আমি আবু তালহার নিকট এসে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁকে বললেন, "হে আল্লাহর নবী! এটি কেবল সামান্য কিছু যা আমরা আপনার জন্য প্রস্তুত করেছি; আল্লাহর কসম! আমাদের নিকট এমন কিছু নেই যা তাঁদের সবার জন্য যথেষ্ট হবে।" তিনি বললেন, "তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে এসো।" আমি তা তাঁর কাছে নিয়ে এলাম। উম্মে সুলাইমের নিকট ঘিয়ের একটি ছোট পাত্র ছিল, তিনি তা নিংড়াতে লাগলেন। তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "আমাকে দাও, কারণ পুরুষ মহিলার চেয়ে বেশি জোরে নিংড়াতে পারে।" অতঃপর তিনি সেটি নিলেন এবং নিংড়ালেন, এমনকি তা দিয়ে খাবারটি সিক্ত করলেন। এরপর তিনি তাতে তাঁর হাত রাখলেন, তারপর বললেন, "তোমরা দশ জন দশ জন করে আসো।" তারা খেতে লাগলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই তৃপ্ত হয়ে আহার করলেন, যতক্ষণ না তাঁরা সকলে শেষ করলেন। এরপর যা অতিরিক্ত রইল তা উম্মে সুলাইম তাঁর প্রতিবেশীদের উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
9 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الْعَبْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، قَالَ: قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَخْبِرْنِي بِأَعْجَبِ شَيْءٍ ⦗ص: 40⦘ رَأَيْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ: نَعَمْ يَا ثَابِتُ، خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ عَشْرَ سِنِينَ، فَلَمْ يُعَيِّرْ عَلَيَّ شَيْئًا أَسَأْتُ فِيهِ، قَالَ: فَأَعْجَبُ شَيْءٍ رَأَيْتَ مِنْهُ مَا هُوَ؟ قَالَ: إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا تَزَوَّجَ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ قَالَتْ لِي أُمِّي: يَا أَنَسُ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَصْبَحَ عَرُوسًا، وَلَا أَرَى أَصْبَحَ غَدَاءٌ، فَهَلُمَّ تِلْكَ الْعُكَّةَ، فَأَتَيْتُهَا بِالْعُكَّةِ وَتَمْرٍ قَدْرَ مُدٍّ، فَجَعَلَتْ لَهَا حَيْسًا فَقَالَتْ: يَا أَنَسُ اذْهَبْ بِهَذَا إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَامْرَأَتِهِ، فَلَمَّا أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِتَوْرٍ مِنْ حِجَارَةٍ، وَفِيهِ ذَلِكَ الْحَيْسُ قَالَ: «ضَعْهُ فِي نَاحِيَةِ الْبَيْتِ وَادْعُ لِي أَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَعَلِيًّا، وَعُثْمَانَ» ، وَنَفَرًا مِنْ أَصْحَابِهِ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ، ثُمَّ قَالَ: «ادْعُ لِي أَهْلَ الْمَسْجِدِ وَمَنْ رَأَيْتَ فِي الطَّرِيقِ» فَجَعَلْتُ أَتَعَجَّبُ مِنْ قِلَّةِ الطَّعَامِ، وَمِنْ كَثْرَةِ مَنْ يَأْمُرُنِي أَدْعُو النَّاسَ، قَالَ: فَكَرِهْتُ أَنْ أَعْصِيَهُ حَتَّى امْتَلَأَ الْبَيْتُ وَالْحُجْرَةُ، فَقَالَ: «يَا أَنَسُ هَلْ تَرَى أَحَدًا؟» فَقُلْتُ: لَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ، قَالَ: «هَلُمَّ ذَلِكَ التَّوْرَ» ، فَجِئْتُ بِذَلِكَ التَّوْرِ فَوَضَعْتُهُ قُدَّامَهُ، فَغَمَسَ بِثَلَاثَةِ أَصَابِعَ لَهُ فِي التَّوْرِ فَجَعَلَ التَّمْرُ يَرْبُو، فَجَعَلُوا يَتَغَدُّونَ وَيَخْرُجُونَ حَتَّى إِذَا فَرَغُوا أَجْمَعِينَ، وَبَقِيَ فِي التَّوْرِ نَحْوٌ مِمَا جِئْتُ بِهِ، قَالَ: «ضَعْهُ قُدَّامَ زَيْنَبَ» ، فَخَرَجْتَ فَأَسْقَفَتْ عَلَيْهِمْ ⦗ص: 41⦘ بَابًا مِنْ جَرِيدٍ قَالَ ثَابِتٌ: فَقُلْنَا: يَا أَبَا حَمْزَةَ، كَمْ تَرَى كَانَ الَّذِينَ أَكَلُوا مِنْ ذَلِكَ التَّوْرِ؟ قَالَ: فَقَالَ لِي: «أَحْسَبُ وَاحِدًا وَسَبْعِينَ أَوِ اثْنَيْنِ وَسَبْعِينَ»
৯ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ শায়বান ইবনে ফাররুখ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-আবদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাবিত আল-বুনানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বললাম: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে আপনার দেখা সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কিছু ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ সম্পর্কে আমাকে জানান। তিনি বললেন: হ্যাঁ হে সাবিত, আমি দশ বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি, কিন্তু আমি কোনো ভুল করলেও তিনি কখনও আমাকে তিরস্কার করেননি। তিনি (সাবিত) জিজ্ঞাসা করলেন: তবে তাঁর থেকে আপনার দেখা সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয়টি কী ছিল? তিনি বললেন: আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যয়নাব বিনতে জাহশকে বিবাহ করলেন, তখন আমার মা আমাকে বললেন: হে আনাস, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ সকালে নবদম্পতি হয়েছেন, কিন্তু আমি দেখছি না যে আজ সকালে তাঁর কোনো খাবারের ব্যবস্থা আছে; সুতরাং ঐ চামড়ার মশকটি নিয়ে এসো। এরপর আমি তাঁর কাছে মশকটি এবং এক মুদ পরিমাণ খেজুর নিয়ে আসলাম। তিনি তা দিয়ে 'হাইস' প্রস্তুত করলেন এবং বললেন: হে আনাস, এটি নিয়ে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর স্ত্রীর নিকট যাও। এরপর আমি যখন পাথরের তৈরি একটি পাত্রে সেই হাইস নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম, তখন তিনি বললেন: «এটি ঘরের এক কোণে রাখো এবং আমার জন্য আবু বকর, উমর, আলী ও উসমানকে ডেকে আনো», এবং তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে একটি দলকেও (ডাকতে বললেন), আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তারপর তিনি বললেন: «আমার জন্য মসজিদের অধিবাসী এবং পথে তোমার দেখা হওয়া ব্যক্তিদেরও ডেকে আনো»। আমি খাবারের স্বল্পতা এবং তিনি যত মানুষকে ডাকার আদেশ দিচ্ছেন তাদের আধিক্য দেখে অবাক হতে লাগলাম। তিনি বললেন: আমি তাঁর অবাধ্য হওয়া অপছন্দ করলাম, ফলে (সবাইকে ডাকলাম) এবং শেষ পর্যন্ত ঘর ও কক্ষটি পূর্ণ হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন: «হে আনাস, তুমি কি আর কাউকে দেখতে পাচ্ছ?» আমি বললাম: না, হে আল্লাহর নবী। তিনি বললেন: «ঐ পাত্রটি নিয়ে এসো»। তখন আমি পাত্রটি নিয়ে আসলাম এবং তাঁর সামনে রাখলাম। তিনি তাঁর তিনটি আঙুল পাত্রের মধ্যে ডুবালেন, অমনি খেজুরগুলো বৃদ্ধি পেতে শুরু করল। তারা সকালের আহার গ্রহণ করতে লাগলেন এবং বের হয়ে যেতে লাগলেন, এমনকি যখন তারা সকলে আহার শেষ করলেন, তখনও পাত্রে প্রায় ততটুকুই অবশিষ্ট ছিল যতটুকু আমি নিয়ে এসেছিলাম। তিনি বললেন: «এটি যয়নাবের সামনে রাখো»। এরপর আমি বের হয়ে এলাম এবং তাদের ওপর খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি একটি দরজা ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ টেনে দেওয়া হলো। সাবিত বললেন: আমরা বললাম: হে আবু হামযাহ, আপনার মতে কতজন লোক ঐ পাত্র থেকে আহার করেছিল? তিনি বললেন: তিনি আমাকে বললেন: «আমি মনে করি একাত্তর বা বাহাত্তর জন»।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪১)
10 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، وَعُثْمَانُ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: بَعَثَنِي أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَدْعُوَهُ، وَقَدْ جَعَلَ لَهُ طَعَامًا، قَالَ: فَأَقْبَلْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ النَّاسِ، قَالَ: فَنَظَرَ إِلَيَّ فَاسْتَحْيَيْتُ، فَقُلْتُ: أَجِبْ أَبَا طَلْحَةَ، فَقَالَ لِلنَّاسِ: «قُومُوا» ، فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا صَنَعْتُ شَيْئًا لَكَ، قَالَ: فَمَسَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدَعَا فِيهَا بِالْبَرَكَةِ، وَقَالَ: «أَدْخِلْ مِنْ أَصْحَابِي عَشَرَةً» وَقَالَ: «كُلُوا» ، وَأَخْرَجَ لَهُمْ شَيْئًا بَيْنَ أُصْبَعَيْهِ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، ثُمَّ خَرَجُوا فَقَالَ: «أَدْخِلْ عَشَرَةً» فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، ثُمَّ خَرَجُوا فَمَا زَالَ يَدْخُلُ عَشَرَةٌ ⦗ص: 42⦘ وَيَخْرُجُ عَشَرَةٌ حَتَّى لَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَ، فَأَكَلَ حَتَّى شَبِعَ، قَالَ: ثُمَّ هَيَّأَهَا فَإِذَا هِيَ مِثْلُهَا حِينَ أَكَلُوا، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فِي حَدِيثِهِ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، وَلَمْ يَقُلْ قَالَ: حَدَّثَنَا
১০ - জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ও উসমান—আবু শায়বার দুই পুত্র—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাদ ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবনে মালিক আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তালহা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠালেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর জন্য কিছু খাবার তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন: এরপর আমি আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সাথে ছিলেন। তিনি বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ) আমার দিকে তাকালেন, ফলে আমি লজ্জাবোধ করলাম। আমি বললাম: আপনি আবু তালহার দাওয়াত কবুল করুন। তখন তিনি লোকদের বললেন: «তোমরা ওঠো»। তখন আবু তালহা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো কেবল আপনার জন্যই সামান্য কিছু তৈরি করেছিলাম। তিনি (আনাস) বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা (খাবার) স্পর্শ করলেন এবং তাতে বরকতের দোয়া করলেন। আর তিনি বললেন: «আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে দশজনকে ভেতরে প্রবেশ করাও» এবং বললেন: «তোমরা খাও»। তিনি তাঁর দুই আঙুলের মাঝখান থেকে তাদের জন্য কিছু খাবার বের করলেন, এরপর তারা খেলেন এমনকি তারা তৃপ্ত হয়ে গেলেন। অতঃপর তারা বেরিয়ে গেলেন এবং তিনি বললেন: «দশজনকে ভেতরে প্রবেশ করাও»। তারাও খেলেন এমনকি তারা তৃপ্ত হয়ে গেলেন। এরপর তারা বেরিয়ে গেলেন। এভাবে দশজন করে ভেতরে প্রবেশ করতে লাগল ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ এবং দশজন করে বেরিয়ে যেতে লাগল, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে অবশিষ্ট প্রত্যেকেই ভেতরে প্রবেশ করল এবং তৃপ্ত হয়ে আহার করল। তিনি বলেন: এরপর তিনি খাবারগুলো গুছিয়ে রাখলেন, দেখা গেল খাবারগুলো ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে যেমনটি আহারের শুরুতে ছিল। আবু বকর তাঁর বর্ণিত হাদীসে সাদ ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি ‘তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন’—একথাটি বলেননি।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪২)
11 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ، لَمَّا رَأَى رَسُولَ اللَّهِ طَاوِيًا، جَاءَ إِلَى أُمِّ سُلَيْمٍ فَقَالَ: إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ طَاوِيًا فَهَلْ عِنْدَكِ شَيْءٌ؟ قَالَتْ: عِنْدَنَا نَحْوٌ مِنْ مُدٍّ مِنْ دَقِيقِ شَعِيرٍ، قَالَ: فَاعْجِنِيهِ وَأَصْلِحِيهِ عَسَى أَنْ نَدْعُوَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَأَكُلَ مِنْهُ، قَالَ: فَعَجَنَتْهُ وَخَبَزَتْهُ، قَالَ: فَجَاءَ قُرْصٌ، فَقَالَ لِي: ادْعُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ نَاسٌ - قَالَ مُبَارَكٌ: أَحْسَبُهُ قَالَ: بِضْعَةٌ وَثَمَانُونَ - فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَبُو طَلْحَةَ يَدْعُوكَ، فَقَالَ لِأَصْحَابِهِ: " أَجِيبُوا أَبَا طَلْحَةَ، قَالَ: فَجِئْتُ مُسْرِعًا حَتَّى أَخْبَرْتُهُ أَنَّهُ قَدْ جَاءَ وَأَصْحَابُهُ، فَقَالَ لَهَا: وَاللَّهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ أَعْلَمُ بِمَا فِي بَيْتِي ⦗ص: 43⦘ مِنِّي، فَاسْتَقْبَلَهُ أَبُو طَلْحَةَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا شَيْءٌ إِلَّا قُرَيْصٌ، رَأَيْتُكَ طَاوِيًا، فَأَمَرْتُ أُمَّ سُلَيْمٍ فَجَعَلَتْ لَكَ قُرْصًا، قَالَ: فَدَعَا بِالْقُرْصِ، وَدَعَا بِالْجَفْنَةِ فَوَضَعَهُ فِيهَا، فَقَالَ: «هَلْ مِنْ سَمْنٍ؟» فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: قَدْ كَانَ فِي الْعُكَّةِ شَيْءٌ، قَالَ: فَجَاءَ بِهَا فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو طَلْحَةَ يَعْصِرَانِهَا حَتَّى خَرَجَ شَيْءٌ مَسَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِهِ سُبَّابَتَهُ، ثُمَّ مَسَحَ بِالْقُرْصِ، ثُمَّ قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ» ، فَانْتَفَخَ الْقُرْصُ، ثُمَّ عَصَرَ الْعُكَّةَ فَخَرَجَ شَيْءٌ فَمَسَحَ بِهِ أُصْبُعَهُ السَّبَّابَةَ، ثُمَّ مَسَحَهُ عَلَى الْقُرْصِ، وَقَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ» فَانْتَفَخَ الْقُرْصُ، فَلَمْ يَزَلْ يَصْنَعُ ذَلِكَ وَالْقُرْصُ يَنْتَفِخُ حَتَّى رَأَيْتُ الْقُرْصَ فِي الْجَفْنَةِ يَتَمَيَّعُ، فَقَالَ: «ادْعُ لِي عَشَرَةً مِنْ أَصْحَابِي» ، فَدَعَوْتُ لَهُ عَشَرَةً، فَوَضَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ وَسَطَ الْقُرْصِ، وَقَالَ: «كُلُوا بِسْمِ اللَّهِ» ، فَأَكَلُوا حَوَالَيِ الْقُرْصِ حَتَّى شَبِعُوا، ثُمَّ قَالَ: «ادْعُ لِي عَشَرَةً أُخْرَى» ، قَالَ: فَدَعَوْتُ لَهُ عَشَرَةً أُخْرَى، فَقَالَ: «كُلُوا بِسْمِ اللَّهِ» ، فَأَكَلُوا مِنْ حَوَالَيِ الْقُرْصِ حَتَّى شَبِعُوا، فَلَمْ يَزَلْ يَدْعُو عَشَرَةً عَشَرَةً يَأْكُلُونَ مِنْ ذَلِكَ الْقُرْصِ حَتَّى أَكَلَ مِنْهُ بِضْعَةٌ وَثَمَانُونَ رَجُلًا مِنْ حَوَالَيِ الْقُرْصِ حَتَّى شَبِعُوا، قَالَ: وَإِنَّ وَسَطَ الْقُرْصِ حَيْثُ وَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ كَمَا هُوَ
১১ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুদবাহ বিন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুবারক বিন ফাযালাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বকর বিন আব্দুল্লাহ এবং সাবিত আল-বুনানী আমাদের নিকট আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালহা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ক্ষুধার্ত দেখলেন, তিনি উম্মে সুলাইমের কাছে এসে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ক্ষুধার্ত দেখেছি, তোমার কাছে কি কিছু আছে? তিনি বললেন: আমাদের কাছে এক মুদ পরিমাণ যবের আটা আছে। তিনি (আবু তালহা) বললেন: তবে তা মথো এবং প্রস্তুত করো, হতে পারে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত দেব এবং তিনি তা থেকে আহার করবেন। তিনি (আনাস) বলেন: এরপর তিনি তা মথলেন এবং রুটি তৈরি করলেন। তিনি বলেন: ফলে একটি ছোট রুটি প্রস্তুত হলো। এরপর তিনি আমাকে বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডাকো। তিনি বলেন: এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম, তখন তাঁর সাথে অনেক লোক ছিল - মুবারক বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন: আশি জনের কিছু বেশি - আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আবু তালহা আপনাকে দাওয়াত দিচ্ছেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন: "তোমরা আবু তালহার আহ্বানে সাড়া দাও।" তিনি বলেন: এরপর আমি দ্রুত ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিলাম যে, তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা আসছেন। তখন তিনি (আবু তালহা) তাকে (উম্মে সুলাইমকে) বললেন: আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে কী আছে সে সম্পর্কে আমার চেয়েও বেশি জানেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ এরপর আবু তালহা তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কসম, আমাদের কাছে একটি ছোট রুটি ছাড়া আর কিছুই নেই, আমি আপনাকে ক্ষুধার্ত দেখেছিলাম, তাই উম্মে সুলাইমকে আদেশ দিয়েছিলাম এবং তিনি আপনার জন্য একটি রুটি তৈরি করেছেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি রুটিটি চাইলেন এবং একটি বড় পাত্র চাইলেন, অতঃপর রুটিটি তাতে রাখলেন। তারপর তিনি বললেন: «কিছু ঘি আছে কি?» আবু তালহা বললেন: ঘিয়ের মশকে সামান্য কিছু ছিল। তিনি বলেন: এরপর তিনি তা নিয়ে এলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু তালহা সেটি নিংড়াতে লাগলেন যতক্ষণ না কিছু বের হলো যা দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর তর্জনী মোছলেন, তারপর রুটিটি মোছলেন। এরপর তিনি বললেন: «বিসমিল্লাহ», তখন রুটিটি ফুলে উঠল। এরপর তিনি মশকটি পুনরায় নিংড়ালেন এবং কিছু বের হলো যা দিয়ে তিনি তাঁর তর্জনী মোছলেন, তারপর রুটিটির উপর মোছলেন এবং বললেন: «বিসমিল্লাহ», ফলে রুটিটি ফুলে উঠল। তিনি এভাবে করতেই থাকলেন আর রুটিটি ফুলতে থাকল, এমনকি আমি দেখলাম বড় পাত্রের মধ্যে রুটিটি উপচে পড়ছে। এরপর তিনি বললেন: «আমার সঙ্গীদের মধ্য থেকে দশজনকে ডাকো», তখন আমি তাঁর জন্য দশজনকে ডাকলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুটির মাঝখানে তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন: «বিসমিল্লাহ বলে আহার করো», তখন তারা রুটির চারপাশ থেকে আহার করল যতক্ষণ না তারা পরিতৃপ্ত হলো। এরপর তিনি বললেন: «আরও দশজনকে ডাকো», তিনি বলেন: আমি তাঁর জন্য আরও দশজনকে ডাকলাম। তিনি বললেন: «বিসমিল্লাহ বলে আহার করো», তখন তারা রুটির চারপাশ থেকে আহার করল যতক্ষণ না তারা পরিতৃপ্ত হলো। তিনি এভাবে দশজন দশজন করে ডাকতে থাকলেন এবং তারা সেই রুটি থেকে আহার করতে থাকল, এমনকি আশি জনের কিছু বেশি লোক রুটির চারপাশ থেকে আহার করল এবং তারা সকলেই পরিতৃপ্ত হলো। তিনি বলেন: আর রুটির মাঝখানটি, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত রেখেছিলেন, তা আগের মতোই অক্ষত ছিল।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
12 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ يَحْيَى بْنُ ⦗ص: 44⦘ خَلَفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ يَعْنِي الْجُرَيْرِيَّ، عَنْ أَبِي الْوَرْدِ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: صَنَعْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلِأَبِي بَكْرٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ طَعَامًا قَدْرَ مَا يَكْفِيهِمَا، فَأَتَيْتُهُمَا بِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «اذْهَبْ فَادْعُ لِي ثَلَاثِينَ مِنْ أَشْرَافِ الْأَنْصَارِ» قَالَ: فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيَّ، مَا عِنْدِي شَيْءٌ أُزِيدُهُ، قَالَ: فَكَأَنِّي تَثَاقَلْتُ، فَقَالَ: «اذْهَبْ فَادْعُ لِي ثَلَاثِينَ مِنْ أَشْرَافِ الْأَنْصَارِ» ، فَدَعَوْتُهُمْ فَجَاؤُوا، فَقَالَ: «اطْعَمُوا» ، فَأَكَلُوا حَتَّى صَدَرُوا، ثُمَّ شَهِدُوا أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ، ثُمَّ بَايَعُوهُ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجُوا، ثُمَّ قَالَ: «اذْهَبْ فَادْعُ لِي سِتِّينَ مِنْ أَشْرَافِ الْأَنْصَارِ» - قَالَ أَبُو أَيُّوبَ: فَوَاللهِ لَأَنَا بِالسِّتِّينَ أَجْوَدَ مِنِّي بِالثَّلَاثِينَ - قَالَ: فَدَعَوْتُهُمْ، قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَرَبَّعُوا» ، فَأَكَلُوا حَتَّى صَدَرُوا، ثُمَّ شَهِدُوا أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ، وَبَايَعُوهُ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجُوا، قَالَ: «اذْهَبْ فَادْعُ لِي تِسْعِينَ مِنَ الْأَنْصَارِ» - فَقَالَ: فَلَأَنَا أَجْوَدُ بِالتِّسْعِينَ وَبِالسِّتِّينَ مِنِّي بِالثَّلَاثِينَ - قَالَ: فَدَعَوْتُهُمْ، فَأَكَلُوا حَتَّى صَدَرُوا، ثُمَّ شَهِدُوا أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ وَبَايَعُوهُ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجُوا ⦗ص: 45⦘، وَقَالَ: فَأَكَلَ مِنْ طَعَامِ ذَلِكَ مِائَةٌ وَثَمَانُونَ رَجُلًا كُلُّهُمْ مِنَ الْأَنْصَارِ
১২ - জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু সালামাহ ইয়াহইয়া বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ খালাফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল আলা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাঈদ অর্থাৎ আল-জুরায়রী থেকে, তিনি আবুল ওয়ারদ থেকে, তিনি আবু মুহাম্মাদ আল-হাদরামী থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর জন্য তাঁদের দুজনের পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার তৈরি করেছিলাম এবং তা নিয়ে তাঁদের নিকট উপস্থিত হয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «যাও এবং আনসারদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ত্রিশজনকে আমার নিকট ডেকে আনো»। তিনি বলেন: এটি আমার নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো, কারণ আমার নিকট অতিরিক্ত দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। তিনি বলেন: আমি যেন কিছুটা কুণ্ঠিত হয়ে বিলম্ব করছিলাম। তখন তিনি বললেন: «যাও এবং আনসারদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ত্রিশজনকে আমার নিকট ডেকে আনো»। অতঃপর আমি তাঁদের ডাকলাম এবং তাঁরা আসলেন। তিনি বললেন: «তোমরা আহার করো», তাঁরা আহার করলেন এবং পরিতৃপ্ত হয়ে প্রস্থান করলেন। এরপর তাঁরা সাক্ষ্য দিলেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল এবং বের হওয়ার পূর্বেই তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন। তারপর তিনি বললেন: «যাও এবং আনসারদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ষাটজনকে আমার নিকট ডেকে আনো»। আবু আইয়ুব বলেন: আল্লাহর কসম, ষাটজনের বেলায় আমি ত্রিশজনের চেয়েও অধিক উদার ও স্বতঃস্ফূর্ত ছিলাম। তিনি বলেন: আমি তাঁদের ডাকলাম। তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা বাবু হয়ে বসো», তাঁরা আহার করলেন এবং পরিতৃপ্ত হয়ে প্রস্থান করলেন। এরপর তাঁরা সাক্ষ্য দিলেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল এবং বের হওয়ার পূর্বেই তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন। তিনি বললেন: «যাও এবং আনসারদের থেকে নব্বইজনকে আমার নিকট ডেকে আনো»। তিনি বলেন: নব্বই এবং ষাটজনের বেলায় আমি ত্রিশজনের চেয়েও অধিক উদার ও স্বতঃস্ফূর্ত ছিলাম। তিনি বলেন: আমি তাঁদের ডাকলাম, তাঁরা আহার করলেন এবং পরিতৃপ্ত হলেন। অতঃপর তাঁরা সাক্ষ্য দিলেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল এবং বের হওয়ার পূর্বেই তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘। তিনি বলেন: সেই খাবার থেকে সর্বমোট একশত আশি জন লোক আহার করেছিলেন এবং তাঁরা সকলেই ছিলেন আনসার।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
13 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أُنَيْسِ بْنِ أَبِي يَحْيَى، عَنِ إِسْحَاقَ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: خَرَجَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا، فَقَالَ: «ادْعُ لِي مِنْ أَصْحَابِ الصُّفَّةِ» ، فَجَعَلْتُ أَتْبَعُهُمْ رَجُلًا رَجُلًا فَجَمَعْتُهُمْ، فَجِئْنَا بَابَ رَسُولِ اللَّهِ فَاسْتَأْذَنَّا فَأَذِنَ لَنَا - قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَوُضِعَتْ بَيْنَ أَيْدِينَا صَحْفَةٌ أَظُنُّ أَنَّ فِيهَا قَدْرَ مُدٍّ مِنْ شَعِيرٍ - قَالَ: فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ يَدَهُ عَلَيْهَا، فَقَالَ: «خُذُوا بِسْمِ اللَّهِ» ، قَالَ: فَأَكَلْنَا مَا شِئْنَا، ثُمَّ رَفَعْنَا أَيْدِينَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ حِينَ وُضِعَتِ الصَّحْفَةُ فَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا أَمْسَى فِي آلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم طَعَامٌ لَيْسَ تَرَوْنَهُ» قِيلَ لَأَبِي هُرَيْرَةَ: قَدْرُ كَمْ كَانَتْ ⦗ص: 46⦘ حِينَ فَرَغْتُمْ؟ قَالَ: «مِثْلُهَا حِينَ وُضِعَتْ إِلَّا أَنَّ فِيهَا أَثَرَ الْأَصَابِعِ»
১৩ - জা'ফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন উসমান বিন আবী শায়বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হাতিম বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উনাইস বিন আবী ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইসহাক বিন সালিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "আমার জন্য আসহাবে সুফফাকে ডেকে আনো।" আমি একে একে তাদের কাছে গিয়ে তাদের একত্রিত করলাম। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজায় এসে অনুমতি প্রার্থনা করলাম এবং তিনি আমাদের অনুমতি দিলেন। আবু হুরায়রা বলেন: আমাদের সামনে একটি বড় পাত্র রাখা হলো, আমার ধারণা ছিল তাতে এক মুদ পরিমাণ যব ছিল। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত সেটির ওপর রাখলেন এবং বললেন: "আল্লাহর নামে খাওয়া শুরু করো।" তিনি বলেন: আমরা আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী আহার করলাম, অতঃপর আমাদের হাত সরিয়ে নিলাম। যখন পাত্রটি রাখা হয়েছিল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আজ সন্ধ্যায় মুহাম্মাদের পরিবারে এই খাবারটি ছাড়া আর কোনো খাদ্য ছিল না যা তোমরা এখন দেখছ।" আবু হুরায়রাকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনারা যখন আহার শেষ করলেন তখন এর পরিমাণ কতটুকু ছিল? ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ তিনি বললেন: "এটি যখন রাখা হয়েছিল ঠিক ততটুকুই ছিল, কেবল এতে আঙুলের চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
14 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِقَصْعَةٍ فِيهَا طَعَامٌ، فَتَعَاقَبُوا إِلَى الظُّهْرِ مِنْ غُدْوَةٍ، يَقُومُ قَوْمٌ، وَيَقْعُدُ آخَرُونَ» قَالَ: فَقِيلَ لِسَمُرَةَ: هَلْ كَانَتْ تُمَدُّ؟ قَالَ: «فَمِنْ أَيِّ شَيْءٍ تَعْجَبُ؟ مَا كَانَتْ تُمَدُّ إِلَّا مِنْ هَا هُنَا، وَأَشَارَ إِلَى السَّمَاءِ»
১৪ - জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারীরী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াযীদ বিন হারুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলায়মান আত-তায়মী আমাদের নিকট আবুল আলা থেকে, তিনি সামুরা বিন জুনদুব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট খাবারের একটি বড় পাত্র আনা হলো। ফলে লোকেরা সকাল থেকে যোহর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তা থেকে আহার করতে থাকল; একদল লোক উঠে যাচ্ছিল এবং অন্যদল বসছিল।” বর্ণনাকারী বলেন, সামুরাকে জিজ্ঞেস করা হলো: “সেখানে কি খাবারের যোগান দেওয়া হচ্ছিল?” তিনি বললেন, “তুমি কোন বিষয়ে আশ্চর্য হচ্ছ? এটি তো কেবল এখান থেকেই বাড়ানো হচ্ছিল—আর তিনি আসমানের দিকে ইশারা করলেন।”
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
15 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: وَقَالَ أَبِي، عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ: «أَنَّ قَصْعَةً كَانَتْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَأْكُلُونَ مِنْهَا، فَكُلَّمَا شَبِعَ قَوْمٌ وَقَامُوا، جَلَسَ مَكَانَهُمْ آخَرُونَ كَذَلِكَ إِلَى صَلَاةِ الْأُولَى» قَالَ: وَقَالَ رَجُلٌ عِنْدَ سَمُرَةَ: هَلْ كَانَتْ تُمَدُّ؟ فَقَالَ سَمُرَةُ: " فَمِمَّ تَعْجَبُ، مَا كَانَتْ تُمَدُّ إِلَّا مِنْ هَا هُنَا، أَوْ قَالَ: مِنَ السَّمَاءِ أَوْ كَمَا قَالَ "
১৫ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুআয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতামির ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু আল-আলা থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি বড় খাদ্যপাত্র ছিল, অতঃপর মানুষ তা থেকে আহার করতে শুরু করল। যখনই একদল লোক পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে যেত, তখন তাদের স্থানে অন্য একদল লোক বসত। প্রথম (যোহরের) সালাত পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকল।» বর্ণনাকারী বলেন: সামুরার নিকট এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: তাতে কি খাবারের যোগান দেওয়া হচ্ছিল? সামুরা বললেন: "তুমি কোন বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছ? তা তো কেবল এখান থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছিল—অথবা তিনি বললেন: আসমান থেকে—অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
16 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمِشْقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُجَاهِدٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَأَعْتَمِدُ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْجُوعِ، وَإِنْ كُنْتُ لَأَشُدُّ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِي مِنَ الْجُوعِ، وَلَقَدْ قَعَدْتُ فِي طَرِيقِهِمْ يَوْمًا، فَمَرَّ بِي أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، فَسَأَلْتُهُ عَنْ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ ⦗ص: 48⦘ اللَّهِ مَا أَسْأَلُهُ إِلَّا لِيَسْتَتْبِعَنِي فَمَرَّ وَلَمْ يَفْعَلْ، حَتَّى مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ وَعَرَفَ مَا فِي وَجْهِي، فَقَالَ: «أَبُو هُرَيْرَةَ» ، فَقُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَاسْتَأْذَنْتُهُ فَأَذِنَ لِي فَدَخَلْتُ، فَوَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ لَبَنًا فِي قَدَحٍ فِي أَهْلِهِ، فَقَالَتْ: «مِنْ أَيْنَ لَكُمْ هَذَا اللَّبْنُ؟» قَالُوا: أَرْسَلَ بِهِ إِلَيْكَ فُلَانٌ، قَالَ: «أَهْدَاهُ لَنَا فُلَانٌ» ، فَقَالَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، انْطَلِقْ إِلَى أَهْلِ الصُّفَّةِ، فَادْعُهُمْ» ، قَالَ: وَكَانَ أَهْلُ الصُّفَّةِ أَضْيَافَ الْإِسْلَامِ لَا أَهْلَ وَلَا مَالَ، إِذَا أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَدَقَةٌ أَرْسَلَ بِهَا إِلَيْهِمْ وَلَمْ يُصِبْ مِنْهَا شَيْئًا، وَإِذَا جَاءَتْهُ هَدِيَّةٌ أَصَابَ مِنْهَا وَأَشْرَكَهُمْ فِيهَا، فَسَاءَنِي إِرْسَالُهُ إِيَّايَ، فَقُلْتُ: كَيْفَ أَرَاهُ أُصِيبُ مِنْ هَذَا اللَّبَنِ شَرْبَةً أَتَقَوَّى بِهَا، وَمَا هَذَا اللَّبْنُ فِي أَهْلِ الصُّفَّةِ؟ وَلَمْ يَكُنْ مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ عز وجل وَطَاعَةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم بُدٌّ، وَكُنْتُ أَنَا الرَّسُولُ، فَأَتَيْتُهُمْ فَأَقْبَلُوا مُجَنَّدِينَ، وَاسْتَأْذَنُوا فَأَذِنَ لَهُمْ، وَأَخَذُوا مَجَالِسَهُمْ مِنَ الْبَيْتِ، وَقَالَ: «خُذْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَأَعْطِهِمْ» ، قَالَ: فَجَعَلْتُ أُعْطِي الرَّجُلَ فَيَشْرَبُ حَتَّى يُرْوَى، حَتَّى أَتَيْتُ عَلَى جَمِيعِهِمْ فَرَجَعْتُ ⦗ص: 49⦘ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ وَفِي الْإِنَاءِ فَضْلَةٌ، فَأَعْطَيْتُهُ الْقَدَحَ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيَّ مُبْتسِمًا، فَقَالَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ بَقِيتُ أَنَا وَأَنْتَ» ، قَالَ: قُلْتُ: صَدَقْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَاشْرَبْ» ، قَالَ: فَشَرِبْتُ، قَالَ: «اشْرَبْ» فَشَرِبْتُ، فَمَا زَالَ يَقُولُ: «اشْرَبْ» وَأَشْرَبُ، حَتَّى قُلْتُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَجِدُ لَهُ مَسَاغًا، قَالَ: فَأَخَذَ فَشَرِبَ مِنَ الْفَضْلَةِ
১৬ - জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান বিন ইব্রাহিম আদ-দিমাশকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর বিন যার আল-হামদানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুজাহিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, আমি ক্ষুধার তাড়নায় মাটিতে বুক ঠেকিয়ে পড়ে থাকতাম এবং ক্ষুধার কারণে পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। একদিন আমি তাদের চলাচলের পথে বসে ছিলাম। তখন আবু বকর (রা.) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তাকে আল্লাহর কিতাবের ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাকে কেবল এ উদ্দেশ্যেই জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে তিনি আমাকে তার সাথে যাওয়ার সুযোগ দেন, কিন্তু তিনি চলে গেলেন এবং সেরূপ কিছু করলেন না। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং আমার চেহারা দেখেই তিনি (আমার অবস্থা) চিনতে পারলেন। তিনি ডাকলেন: «আবু হুরায়রা!» আমি বললাম: লাব্বাইক, হে আল্লাহর রাসূল! এরপর আমি তাঁর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলাম এবং তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন, ফলে আমি প্রবেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ঘরে একটি পেয়ালায় কিছু দুধ পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «তোমাদের কাছে এই দুধ কোত্থেকে এল?» তারা বলল: অমুক ব্যক্তি এটি আপনার জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: «অমুক ব্যক্তি এটি আমাদের উপহার দিয়েছেন।» এরপর তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা, আহলে সুফফার কাছে যাও এবং তাদের ডেকে আনো।» তিনি (আবু হুরায়রা) বলেন: আহলে সুফফারা ছিলেন ইসলামের মেহমান; তাদের কোনো পরিবার বা সম্পদ ছিল না। যখনই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সদকা আসত, তিনি তা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং নিজে তার থেকে কিছুই নিতেন না। আর যখন তাঁর কাছে কোনো উপহার আসত, তিনি সেখান থেকে কিছু গ্রহণ করতেন এবং তাদেরকেও তাতে শরিক করতেন। তাঁর এই আদেশ আমাকে কিছুটা চিন্তিত করল। আমি মনে মনে বললাম: এই দুধ আহলে সুফফার মাঝে কী বা হবে, আমি তো আশা করছিলাম যে, এই দুধ থেকে এক চুমুক পান করব যা দিয়ে আমি শক্তি ফিরে পাব? কিন্তু মহান আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের (সা.) আনুগত্য করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। আর আমি নিজেই ছিলাম বার্তাবাহক (আহ্বানকারী), তাই আমি তাদের কাছে গেলাম এবং তারা সকলে দলবদ্ধ হয়ে এল। তারা অনুমতি প্রার্থনা করল এবং তিনি তাদের অনুমতি দিলেন। তারা ঘরে যার যার আসন গ্রহণ করল। তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা, পেয়ালাটি নাও এবং তাদের দাও।» তিনি বলেন: আমি প্রত্যেক ব্যক্তিকে পেয়ালাটি দিতে লাগলাম এবং প্রত্যেকে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করতে লাগল। এভাবে আমি তাদের সকলের কাছে ঘুরে আসলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ফিরে আসলাম ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘, তখন পাত্রে তখনও কিছু অবশিষ্ট ছিল। আমি তাঁকে পেয়ালাটি দিলাম। তিনি তাঁর মাথা উঠালেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা, এখন শুধু আমি আর তুমিই বাকি আছি।» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি সত্যই বলেছেন। তিনি বললেন: «এবার পান করো।» আমি পান করলাম। তিনি আবার বললেন: «পান করো।» আমি আবারও পান করলাম। তিনি বারবার বলতে থাকলেন: «পান করো।» আমি পান করতেই থাকলাম, যতক্ষণ না আমি বললাম: সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি আর পান করার কোনো জায়গা পাচ্ছি না। তিনি বলেন: তখন তিনি পেয়ালাটি গ্রহণ করলেন এবং অবশিষ্ট অংশ থেকে পান করলেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪৯)
17 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَا، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: لَمَّا حَفَرُوا الْخَنْدَقَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمْصًا شَدِيدًا، فَانْكَفَأْتُ إِلَى امْرَأَتِي، فَقُلْتُ: إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمْصًا شَدِيدًا فَأَخْرَجَتْ ⦗ص: 50⦘ إِلَيَّ جِرَابًا فِيهِ صَاعٌ مِنْ شَعِيرٍ، وَلَنَا بَهْمَةٌ دَاجِنٌ، قَالَ: فَذَبَحْتُهَا، فَفَرَغْتُ إِلَى فَرَاغِي، وَقَطَّعْتُهَا فِي بُرْمَتِهَا، ثُمَّ وَلَّيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: لَا تَفْضَحْنِي بِرَسُولِ اللَّهِ وَمَنْ مَعَهُ، فَجِئْتُهُ فَنَادَيْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ ذَبَحْنَا بَهْمَةً لَنَا وَطَبَخْنَا طَعَامًا مِنْ شَعِيرٍ كَانَ عِنْدَنَا، فَتَعَالَ أَنْتَ وَنَفَرٌ مَعَكَ، قَالَ: فَصَاحَ رَسُولُ اللَّهِ: «يَا أَهْلَ الْخَنْدَقِ إِنَّ جَابِرًا قَدْ صَنَعَ سُورًا فَحَيَّ بِكُمْ» ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «لَا تُنْزِلُنَّ بُرْمَتَكُمْ وَلَا تَخْبِزُنَّ عَجِينَكُمْ حَتَّى أَجِيءَ» ، قَالَ: فَجِئْتُ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ يَقْدُمُ النَّاسَ حَتَّى جِئْتُ امْرَأَتِي، فَقَالَتْ: بِكَ وَبِكَ، فَقُلْتُ: قَدْ فَعَلْتُ الَّذِي قُلْتِ، فَأَخْرَجَتْ لِي عَجِينًا، فَبَسَقَ فِيهِ وَبَارَكَ، ثُمَّ عَمَدَ إِلَى بُرْمَتِنَا، فَبَسَقَ فِيهَا وَبَارَكَ، ثُمَّ قَالَ ⦗ص: 51⦘: «ادْعُ لِي خَابِزَةً فَلْتَخْبِزْ مَعَكِ وَاقْدَحِي مِنْ بُرْمَتِكُمْ وَلَا تُنْزِلُوهَا» ، وَهُمْ أَلْفٌ، فَأُقْسِمُ بِاللَّهِ لَأَكَلُوا حَتَّى تَرَكُوهُ، وَانْحَرَفُوا وَإِنَّ بُرْمَتَنَا لَتَغُطُّ كَمَا هِيَ، وَإِنَّ عَجِينَنَا لِيُخْبَزُ كَمَا هُوَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৭ - জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু হাফস আমর ইবন আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আসিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হানজালা ইবন আবি সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাঈদ ইবন মীনা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: যখন তাঁরা খন্দক খনন করছিলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখলাম। অতঃপর আমি আমার স্ত্রীর কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখেছি। তখন সে ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ আমার সামনে একটি চামড়ার থলে বের করে আনল যাতে এক সা' পরিমাণ যব ছিল। আমাদের কাছে একটি ছোট গৃহপালিত বকরি ছিল। তিনি বললেন: আমি সেটি যবেহ করলাম এবং আমার কাজ সম্পন্ন করলাম। এরপর আমি গোশতগুলো কেটে ডেকচিতে চড়ালাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রওনা হলাম। তখন আমার স্ত্রী বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথীদের সামনে আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমি তাঁর নিকট এসে তাঁকে নিভৃতে ডাকলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা একটি ছোট বকরি যবেহ করেছি এবং আমাদের নিকট থাকা যব দিয়ে কিছু খাবার প্রস্তুত করেছি; সুতরাং আপনি এবং আপনার সাথে অল্প কয়েকজন লোক নিয়ে আসুন। তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: «হে খন্দকবাসী! জাবির ভোজের আয়োজন করেছে, সুতরাং তোমরা সকলে এসো।’ এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি না আসা পর্যন্ত তোমরা তোমাদের ডেকচি নামাবে না এবং খামির দিয়ে রুটি বানাবে না।’ তিনি বলেন: এরপর আমি এলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের অগ্রভাগে থাকলেন। যখন আমি আমার স্ত্রীর কাছে পৌঁছলাম, সে আমাকে (আশঙ্কাভরে) তিরস্কার করতে লাগল। আমি বললাম: তুমি যা বলেছিলে আমি তাই করেছি। তখন সে খামির বের করে দিল, আর তিনি তাতে তাঁর পবিত্র লালা দিলেন এবং বরকতের দোয়া করলেন। তারপর তিনি আমাদের ডেকচির দিকে অগ্রসর হলেন এবং তাতেও পবিত্র লালা দিলেন ও বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘: «একজন রুটি প্রস্তুতকারক নারীকে ডাকো যে তোমার সাথে রুটি বানাবে, আর তোমরা ডেকচি থেকে খাবার তুলে দাও কিন্তু তা নামাবে না।’ অথচ তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন এক হাজার। আল্লাহর কসম! তাঁরা সকলে তৃপ্ত হয়ে খেয়ে যাওয়ার পরও খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেল। আমাদের ডেকচি তখনও আগের মতোই টগবগ করছিল আর আমাদের খামির থেকে আগের মতোই রুটি বানানো হচ্ছিল। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫১)
18 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَيْمَنَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ: حَدِّثْنِي بِحَدِيثٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْوِيهِ عَنْكَ، قَالَ جَابِرٌ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ يَوْمَ الْخَنْدَقِ نَحْفُرُ، فَلَبِثْنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ لَا نَطْعَمُ شَيْئًا وَلَا نَقْدِرُ عَلَيْهِ، فَعَرَضَتْ كُدْيَةٌ فِي الْخَنْدَقِ، فَجِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ، فَقُلْتُ: هَذِهِ كُدْيَةٌ قَدْ عَرَضَتْ فِي الْخَنْدَقِ فَرَشَشْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ، قَالَ: فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ وَبَطْنُهُ مَعْصُوبٌ بِحَجَرٍ، وَأَخَذَ الْمِعْوَلَ - أَوِ ⦗ص: 52⦘ الْمِسْحَاةَ - ثُمَّ سَمَّى لَنَا، ثُمَّ ضَربَ فَعَادَتْ كَثِيبًا أَهْيَلَ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي، قَالَ: فَأَذِنَ لِي، فَجِئْتُ امْرَأَتِي فَقُلْتُ: ثَكِلَتْكِ أُمُّكِ، إِنِّي قَدْ رَأَيْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا لَا صَبْرَ عَلَيْهِ فَمَا عِنْدَكِ؟ قَالَتْ: عِنْدِي صَاعٌ مِنْ شَعِيرٍ وَعَنَاقٌ، قَالَ: فَطَحَنَّا الشَّعِيرَ وَذَبَحْنَا الْعَنَاقَ وَأَصْلَحْنَاهَا، وَجَعَلْنَاهَا فِي الْبُرْمَةِ، وَعَجَنْتُ الشَّعِيرَ، ثُمَّ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَبِثْتُ سَاعَةً، ثُمَّ اسْتَأْذَنْتُ الثَّانِيَةَ فَأَذِنَ لِي، فَجِئْتُ، فَإِذَا الْعَجِينُ قَدْ أَمْكَنَ، فَأَمَرْتُهَا بِالْخُبْزِ وَجَعَلْتُ الْقِدْرَ عَلَى الْأَثَافِيِّ، فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ فَسَارَرْتُهُ فَقُلْتُ: إِنَّ عِنْدَنَا طُعْمًا لَنَا، فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَقُومَ مَعِي أَنْتَ وَرَجُلٌ أَوْ رَجُلَانِ مَعَكَ فَعَلْتُ، قَالَ: «وَمَا هُوَ وَكَمْ هُوَ؟» قُلْتُ: صَاعٌ مِنْ شَعِيرٍ، وَعَنَاقٌ، قَالَ: " ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ، فَقُلْ لَهَا: لَا تَنْزِعِ الْبُرْمَةَ مِنَ الْأَثَافِيِّ، وَلَا تُخْرِجِ الْخُبْزَ مِنَ التَّنُّورِ حَتَّى آتِي "، ثُمَّ قَالَ لِلنَّاسِ: «قُومُوا إِلَى بَيْتِ جَابِرٍ» ، قَالَ: فَاسْتَحْيَيْتُ حَيَاءً لَا يَعْلَمُهُ إِلَّا اللَّهُ عز وجل، قَالَ: فَقُلْتُ لِامْرَأَتِي: ثَكِلَتْكِ أُمُّكِ، قَدْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ وَأَصْحَابُهُ أَجْمَعِينَ، فَقَالَتْ: أَكَانَ سَأَلَكَ كَمِ الطَّعَامُ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَتْ: فَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَدْ أَخْبَرْتَهُ بِمَا كَانَ عِنْدَنَا، قَالَ: فَذَهَبَ عَنِّي بَعْضُ مَا أَجِدُ، قُلْتُ: صَدَقْتِ، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ، ثُمَّ قَالَ لِأَصْحَابِهِ: «لَا ⦗ص: 53⦘ تَضَاغَطُوا» قَالَ: ثُمَّ بَرَّكَ عَلَى التَّنُّورِ وَعَلَى الْبُرْمَةِ قَالَ: «فَجَعْلَنَا نَأْخُذُ مِنَ التَّنُّورِ الْخُبْزَ وَنَأْخُذُ اللَّحْمَ مِنَ الْبُرْمَةِ فَيُثَرِّدُ وَيَغْرِفُ وَيُقَرِّبُ إِلَيْهِمْ» ، وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «لِيَجْلِسْ عَلَى الصَّحْفَةِ سَبْعَةٌ أَوْ ثَمَانِيَةٌ» ، قَالَ: فَلَمَّا أَكَلُوا، كَشَفْنَا التَّنُّورَ وَالْبُرْمَةَ، فَإِذَا هُمَا قَدْ عَادَا إِلَى أَمْلَأِ مِمَّا كَانَ فَيَثْرِدُ وَيَغْرِفُ وَيُقَرِّبُ إِلَيْهِمْ، فَلَمْ يَزَلْ يَفْعَلُ ذَلِكَ كُلَّمَا فَتَحْنَا التَّنُّورَ وَكَشَفْنَا عَنِ الْبُرْمَةِ وَجَدْنَاهَا أَمْلَأَ مِمَّا كَانَ حَتَّى شَبِعَ الْمُسْلِمُونَ كُلُّهُمْ وَبَقِيَ طَائِفَةٌ مِنَ الطَّعَامِ، فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ: «إِنَّ النَّاسَ قَدْ أَصَابَهُمْ مَخْمَصَةٌ، فَكُلُوا وَأَطْعِمُوا» فَلَمْ نَزَلْ يَوْمَنَا نَأْكُلُ وَنَطْعَمُ قَالَ: وَأَخْبَرَنِي «أَنَّهُمْ كَانُوا ثَمَانَمِائَةٍ أَوْ ثَلَاثَمِائَةٍ»
১৮ - আমাদের কাছে জাফর বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আইমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বললাম, "আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি হাদীস শোনান যা আমি আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করব।" জাবির (রা.) বললেন: খন্দকের (পরিখা খননের) দিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং পরিখা খনন করছিলাম। আমরা তিন দিন এমনভাবে অতিবাহিত করলাম যে, আমরা কিছুই খেতে পাইনি এবং আমাদের কাছে আহারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তখন পরিখার মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্ত পাথর দেখা দিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললাম, "পরিখায় একটি শক্ত পাথর দেখা দিয়েছে, আমরা তার ওপর পানি ছিটিয়েছি।" জাবির (রা.) বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর পেট পাথরের সাথে (ক্ষুধার তীব্রতায়) বাঁধা ছিল। তিনি কোদাল — অথবা ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ বেলচা — নিলেন। তারপর তিনি আমাদের সামনে আল্লাহর নাম নিলেন এবং আঘাত করলেন, ফলে সেটি ঝুরঝুরে বালুর স্তূপে পরিণত হলো। যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে এই অবস্থা দেখলাম, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে (বাড়ি যাওয়ার) অনুমতি দিন।" তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি আমার স্ত্রীর কাছে এসে বললাম, "তোমার মা তোমাকে হারাক! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন এক অবস্থা দেখেছি যা সহ্য করার মতো নয়। তোমার কাছে কী আছে?" সে বলল, "আমার কাছে এক সা' বার্লি এবং একটি বকরির ছানা আছে।" তিনি বলেন: তখন আমরা বার্লি পিষলাম এবং বকরির ছানাটি যবেহ করে তা প্রস্তুত করলাম। আমরা গোশত হাঁড়িতে রাখলাম এবং আমি বার্লি ছানালাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম। এরপর আমি দ্বিতীয়বার অনুমতি চাইলাম এবং তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি বাড়ি ফিরে এসে দেখলাম খামির তৈরি হয়ে গেছে। আমি স্ত্রীকে রুটি বানাতে বললাম এবং হাঁড়িটি উনুনের ওপর চড়িয়ে দিলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে চুপি চুপি বললাম, "আমাদের কাছে সামান্য খাবার আছে। আপনি যদি আপনার সাথে এক বা দুইজন লোক নিয়ে আমার সাথে আসতেন, তবে ভালো হতো।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তা কী এবং কতটুকু?" আমি বললাম: "এক সা' বার্লি এবং একটি বকরির ছানা।" তিনি বললেন: "তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো: আমি না আসা পর্যন্ত সে যেন উনুন থেকে হাঁড়ি না নামায় এবং তন্দুর থেকে রুটি বের না করে।" তারপর তিনি লোকদের বললেন: "তোমরা জাবিরের বাড়ির দিকে চলো।" জাবির (রা.) বললেন: এতে আমি এমন লজ্জাবোধ করলাম যা কেবল আল্লাহ মহা সম্মানিত ও মহিমান্বিতই জানেন। তিনি বলেন: আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, "তোমার মা তোমাকে হারাক! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সকল সাহাবী চলে এসেছেন।" সে বলল, "তিনি কি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন খাবারের পরিমাণ কত?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" সে বলল, "তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন; আপনার কাছে যা ছিল আপনি তাঁকে তা জানিয়ে দিয়েছেন।" জাবির (রা.) বলেন: এতে আমার মনের অস্থিরতা দূর হলো। আমি বললাম, "তুমি সত্য বলেছ।" এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং প্রবেশ করলেন। তারপর তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেন: "তোমরা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ গাদাগাদি করো না।" তিনি (জাবির) বলেন: এরপর তিনি (নবীজি) তন্দুর ও হাঁড়িতে বরকতের দোয়া করলেন। তিনি বলেন: "এরপর আমরা তন্দুর থেকে রুটি নিতে লাগলাম এবং হাঁড়ি থেকে গোশত নিতে লাগলাম। তিনি রুটি ছিঁড়ে ঝোল দিয়ে মাখতেন, গোশত তুলে দিতেন এবং তাঁদের সামনে পেশ করতেন।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "প্রতিটি পাত্রে যেন সাত বা আটজন করে বসে।" জাবির (রা.) বলেন: যখন তারা খেয়ে নিলেন, তখন আমরা তন্দুর এবং হাঁড়ি খুলে দেখলাম যে, সেগুলো আগের চেয়েও বেশি পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি রুটি মাখছিলেন, গোশত তুলে দিচ্ছিলেন এবং তাঁদের সামনে পরিবেশন করছিলেন। যতবারই আমরা তন্দুর খুলতাম এবং হাঁড়ি থেকে ঢাকনা সরাতাম, দেখতাম তা আগের চেয়েও বেশি পূর্ণ হয়ে আছে। এভাবে সকল মুসলিম তৃপ্ত হয়ে আহার করলেন এবং কিছু খাবার অবশিষ্টও থেকে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন: "মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে, তাই তোমরা নিজেরাও খাও এবং অন্যদেরও খাওয়াও।" ফলে আমরা সারাদিন ধরে নিজেরা খাচ্ছিলাম এবং অন্যদের খাওয়াচ্ছিলাম। তিনি (বর্ণনাকারী) আমাকে জানিয়েছেন যে, "তাঁরা সংখ্যায় আটশ অথবা তিনশ জন ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌بَابُ مَا رُوِيَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو أَوْ يَضَعُ يَدَهُ فِي الشَّيْءِ مِنَ الْمَاءِ فَيُرْوَى مِنْهُ الْخَلْقُ الْكَثِيرُ
অধ্যায়: যা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করতেন অথবা সামান্য পানিতে তাঁর হাত রাখতেন, অতঃপর তা থেকে বিশাল এক জনসমষ্টি তৃপ্ত হতো
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
19 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَانَتْ صَلَاةُ الْعَصْرِ، فَالْتَمَسَ النَّاسُ الْوَضُوءَ فَلَمْ يَجِدُوهُ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ بِوَضُوءٍ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ فِي ذَلِكَ الْإِنَاءِ، وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَتَوَضَّئُوا مِنْهُ» ، قَالَ: «فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ» ، قَالَ: «فَتَوَضَّأَ النَّاسُ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ»

⦗ص: 56⦘

 

20 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: نا مَعْنٌ، قَالَ: نا مَالِكٌ مِثْلَهُ
১৯ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মালেক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যখন আসরের নামাজের ওয়াক্ত হলো। তখন লোকজন ওযুর পানি খুঁজছিল কিন্তু তারা তা পাচ্ছিল না। এরপর আল্লাহর রাসূলের নিকট ওযুর পানি আনা হলো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং লোকজনকে তা থেকে ওযু করার নির্দেশ দিলেন।» তিনি বলেন: «আমি দেখলাম তাঁর আঙ্গুলসমূহের নিচ থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।» তিনি বলেন: «অতঃপর লোকজন ওযু করল এমনকি তাদের শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত ওযু সম্পন্ন করল।»

⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘

 

২০ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'ন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালেক আমাদের নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
21 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: نا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " شَهِدْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَصْحَابِهِ عِنْدَ الزَّوْرَاءِ - أَوْ قَالَ: عِنْدَ بُيُوتِ الْمَدِينَةِ - فَأَرَادُوا الْوُضُوءَ، فَأُتِيَ بِقَعْبٍ فِيهِ مَاءٌ يَسِيرٌ، فَوَضَعَ يَدَهُ فِي الْقَعْبِ فَجَعَلَ يَنْبُعُ الْمَاءُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ حَتَّى تَوَضَّأَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ " قُلْتُ: وَكَمْ كُنْتُمْ؟ قَالَ: «زُهَاءُ ثَلَاثِمِائَةٍ»
২১ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হুদবাহ ইবন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হাম্মাম ইবন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর সাহাবীদের সাথে জাওরা নামক স্থানে দেখেছি - অথবা তিনি বলেছেন: মদীনার ঘরগুলোর নিকট - এমতাবস্থায় তারা ওযু করার ইচ্ছা করলেন। তখন তাঁর নিকট একটি পাত্র আনা হলো যাতে সামান্য পানি ছিল। তিনি তাঁর হাত সেই পাত্রের মধ্যে রাখলেন, ফলে তাঁর আঙ্গুলগুলোর মাঝখান থেকে পানি উথলে উঠতে লাগল, এমনকি উপস্থিত সকল লোক ওযু সম্পন্ন করলেন।" আমি (কাতাদাহ) জিজ্ঞেস করলাম: "আপনারা কতজন ছিলেন?" তিনি (আনাস) বললেন: "প্রায় তিনশ জন।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
22 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حَسَّابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: نا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعَا يَوْمًا بِقَدَحٍ، فَجِيءَ بِقَدَحٍ رَحْرَاحٍ وَاسِعِ الْفَمِّ فِيهِ مَاءٌ، فَوَضَعَ أَصَابِعَهُ فِيهِ، وَجَعَلَ الْقَوْمُ يَتَوَضَّئُونَ الْأَوَّلُ فَالْأَوَّلُ» فَحَزَرْتُهُمْ مَا بَيْنَ السَّبْعِينَ إِلَى الثَّمَانِينَ "
২২ - জা'ফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন উবাইদ ইবন হাসসাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবন যায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবন মালিক থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন একটি পাত্র চাইলেন। অতঃপর একটি অগভীর ও প্রশস্ত মুখবিশিষ্ট পাত্র আনা হলো যাতে পানি ছিল। এরপর তিনি তাতে তাঁর আঙ্গুলগুলো রাখলেন এবং লোকেরা একে একে ওযু করতে লাগল। আমি তাদের সংখ্যা সত্তর থেকে আশির মধ্যে অনুমান করলাম।
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
23 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، قَالَ: قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: حَدِّثْنَا بِشَيْءٍ مِنْ هَذِهِ الْأَعَاجِيبِ لَا يُحَدِّثُهُ أَحَدٌ غَيْرُكَ. قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ ذَاتَ يَوْمٍ، ثُمَّ انْطَلَقَ حَتَّى قَعَدَ عَلَى الْمَقَاعِدِ الَّتِي كَانَ يَأْتِيهِ عَلَيْهَا جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم، فَجَاءَ بِلَالٌ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَأَذَّنَ ⦗ص: 58⦘ بِصَلَاةِ الْعَصْرِ، فَانْطَلَقَ مَنْ كَانَ لَهُ أَهْلٌ يَقْضِي الْحَاجَةَ وَيُصِيبُ مِنَ الْوُضُوءِ وَبَقِيَ رِجَالٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ لَيْسَ لَهُمْ أَهْلُونَ فِي الْمَدِينَةِ، وَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ بِقَدَحٍ فِيهِ شَيْءٌ مِنْ مَاءٍ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ فِيهِ كَفَّهُ، فَمَا وَسِعَ الْإِنَاءُ كَفَّ رَسُولِ اللَّهِ كَلَّهَا وَمَالَ بِهَؤُلَاءِ الْأَصَابِعِ الْأَرْبَعِ سِوَى الْإِبْهَامِ فَوَضَعَهُنَّ، ثُمَّ قَالَ: «ادْنُوا فَتَوَضَّئُوا» فَمَا بَقِيَ أَحَدٌ إِلَّا تَوَضَّأَ وَكَفُّ رَسُولِ اللَّهِ فِي الْإِنَاءِ قُلْتُ: يَا أَبَا حَمْزَةَ، كَمْ تُرَاهُمْ كَانُوا؟ فَقَالَ: «مَا بَيْنَ السَّبْعِينَ إِلَى الثَّمَانِينَ»
২৩ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক ইবনে সিনান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমর ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনুল মুগিরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বললাম, "আমাদের নিকট এই বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর মধ্য থেকে এমন কিছু বর্ণনা করুন যা আপনি ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করতে পারবে না।" তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন যোহরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি প্রস্থান করলেন এবং সেই বসার স্থানগুলোতে বসলেন যেখানে জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট আসতেন। অতঃপর বিলাল (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আসলেন এবং আসরের সালাতের জন্য আযান দিলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘। তখন যাদের পরিবার ছিল তারা তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে এবং উযূ করতে চলে গেলেন, আর মুহাজিরদের কিছু লোক অবশিষ্ট থেকে গেলেন মদীনায় যাদের কোনো পরিবার ছিল না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সামান্য পানি থাকা একটি পাত্র আনা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে তাঁর হাতের তালু রাখলেন। পাত্রটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুরো হাতের তালু ধারণ করার মতো প্রশস্ত ছিল না, তাই তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ব্যতিরেকে এই চারটি আঙুল বাঁকা করে তাতে প্রবেশ করালেন। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কাছে এসো এবং উযূ করো।" ফলে প্রত্যেকেই উযূ করলেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালু তখনো পাত্রের মধ্যে ছিল। আমি (সাবিত) বললাম: "হে আবু হামযা, আপনার মতে তারা কতজন ছিলেন?" তিনি বললেন: "সত্তর থেকে আশির মধ্যবর্তী।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
24 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «حَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَقَامَ مَنْ كَانَ قَرِيبًا مِنَ الْمَسْجِدِ وَبَقِيَ نَاسٌ، وَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ بِمِخْضَبٍ مِنْ حِجَارَةٍ فِيهِ مَاءٌ، فَوَضَعَ كَفَّهُ فِي الْمِخْضَبِ، فَصَغُرَ الْمِخْضَبُ أَنْ يَبْسُطَ كَفَّهُ فِيهِ، يَضُمُّ أَصَابِعَهُ فَتَوَضَّأَ الْقَوْمُ جَمِيعًا» قُلْنَا: كَمْ كَانُوا؟ قَالَ: «ثَمَانِينَ رَجُلًا»
২৪ - আমাদের কাছে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি হুমাইদ আত-তাবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «সালাতের সময় উপস্থিত হলো, তখন যারা মসজিদের নিকটবর্তী ছিল তারা দাঁড়িয়ে গেল এবং কিছু লোক অবশিষ্ট রয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহর নিকট পাথরের তৈরি একটি পাত্র আনা হলো যাতে পানি ছিল। তিনি পাত্রটিতে তাঁর হাতের তালু রাখলেন, কিন্তু পাত্রটি তাঁর হাতের তালু তাতে প্রসারিত করার জন্য ছোট ছিল, তাই তিনি তাঁর আঙুলগুলো গুটিয়ে নিলেন। অতঃপর উপস্থিত সকল লোক ওজু করল।» আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: তারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: «আশি জন লোক।»
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
25 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعَنُ بْنُ عِيسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُمْ خَرَجُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ غَزْوَةِ تَبُوكَ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ يَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ، وَالْمَغَرِبِ وَالْعِشَاءِ، قَالَ: فَأَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكٍ، وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يَضْحَى النَّهَارُ فَمَنْ جَاءَهَا، فَلَا يَمَسُّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَ» ، قَالَ: فَجِئْنَاها وَقَدْ سَبَقَ إِلَيْهَا رَجُلَانِ وَالْعَيْنُ مِثْلُ الشِّرَاكِ تَبِضُّ بِشَيْءٍ مِنْ مَاءٍ، فَسَأَلَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلْ مَسَسْتُمَا مِنْ مَائِهَا شَيْئًا؟» فَقَالَا: نَعَمْ، فَسَبَّهُمَا، وَقَالَ لهُمَا مَا شَاءَ اللَّهُ عز وجل أَنْ يَقُولَ، ثُمَّ غَرَفُوا مِنَ الْعَيْنِ بِأَيدِيهِمْ قَلِيلًا قَلِيلًا، حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَيْءٍ، ثُمَّ غَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا فَجَرَتِ ⦗ص: 60⦘ الْعَيْنُ بِمَاءٍ كَثِيرٍ، فَاسْتَقَى النَّاسُ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُوشِكُ يَا مُعَاذُ إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ أَنْ تَرَى مَا هَا هُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا»
২৫ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক ইবন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা’ন ইবন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মালিক ইবন আনাস আমাদের নিকট আবুয যুবাইর আল-মাক্কী থেকে, তিনি আবু তুফাইল আমির ইবন ওয়াছিলা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মু’আয ইবন জাবাল তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাবুক যুদ্ধের বছর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বের হয়েছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। তিনি বললেন: একদিন তিনি সালাত বিলম্বিত করলেন এবং যুহর ও আসর একত্রে আদায় করলেন। তারপর তিনি বললেন: "ইনশাআল্লাহ আগামীকাল তোমরা তাবুকের ঝরনার কাছে পৌঁছাবে। আর পূর্বাহ্ণ হওয়ার আগে তোমরা সেখানে পৌঁছাবে না। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে সেখানে পৌঁছাবে, সে যেন আমার আসা পর্যন্ত তার পানি স্পর্শ না করে।" তিনি বলেন: আমরা সেখানে পৌঁছালাম, কিন্তু আমাদের আগেই দুইজন লোক সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল। ঝরনাটি জুতার ফিতার মতো সামান্য পানির ধারা দিচ্ছিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমরা কি এর পানি থেকে কিছু স্পর্শ করেছ?" তারা বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি তাদের তিরস্কার করলেন এবং মহান আল্লাহ যা চাইলেন তাদের তা বললেন। এরপর তারা হাত দিয়ে ঝরনাটি থেকে অল্প অল্প করে পানি তুললেন, যতক্ষণ না তা কোনো একটি পাত্রে জমা হলো। তারপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধৌত করলেন এবং তা পুনরায় তাতে (ঝরনায়) ফিরিয়ে দিলেন। তখন ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ ঝরনাটি প্রচুর পানিতে প্রবাহিত হতে লাগল এবং মানুষ পানি পান করল। তারপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে মু’আয! তোমার জীবন যদি দীর্ঘ হয়, তবে তুমি অচিরেই দেখতে পাবে যে, এই স্থানটি বাগানে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৬০)
27 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: " كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَأَتَيْنَا عَلَى رَكِيٍّ ذَمَّةٍ، قَالَ: فَنَزَلَ سِتَّةٌ أَنَا سَادِسُهُمْ - أَوْ سَبْعَةٌ أَنَا سَابِعُهُمْ - قَالَ مَاحَةً، قَالَ: فَأَدْلَيْتُ دَلْوًا، قَالَ: وَرَسُولُ اللَّهِ قَالَ فَكِدْتُ بإِنَائِي أنْ أَجِدَ شَيْئًا أَجْعَلُهُ فِي حَلْقِي فَمَا وَجَدْتُ، قَالَ: فَغَمَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ عز وجل أَنْ يَقُولَ، قَالَ: فَأُعِيدَ إِلَيْنَا الدِّلَاءُ بِمَا فِيهَا قَالَ: فَقَدْ رَأَيْتُ أَحَدَنَا أُخْرِجَ بثَوْبٍ مِنَ الْغَرَقِ "
২৭ - জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুদবা ইবনে খালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনুল মুগিরা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুমাইদ ইবনে হিলাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউনুস ইবনে জুবাইর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা এক সফরে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। অতঃপর আমরা একটি স্বল্প পানির কূপের নিকট পৌঁছালাম। তিনি বলেন: ছয়জন লোক সেখানে নামলেন, আমি তাদের ষষ্ঠ জন ছিলাম—অথবা সাতজন, আমি তাদের সপ্তম জন ছিলাম—পানি উত্তোলনের উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন: আমি একটি বালতি নিচে ফেললাম। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও সেখানে ছিলেন। তিনি বলেন: আমি আমার পাত্র দিয়ে পানি খোঁজার চেষ্টা করছিলাম যাতে আমার গলায় দেওয়ার মতো কিছু পাই, কিন্তু আমি কিছুই পেলাম না। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে ডুবালেন এবং মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ যা চাইলেন তিনি তা বললেন। তিনি বলেন: এরপর আমাদের নিকট বালতিগুলো পূর্ণ হয়ে ফিরে আসতে লাগল। তিনি বলেন: আমি আমাদের একজনকে দেখলাম যাকে ডুবে যাওয়া থেকে কাপড় ধরে উদ্ধার করা হচ্ছিল।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৬১)
حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، وَعُثْمَانُ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: «نَزَلْنَا يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ، فَوَجَدْنَا مَاءً قَدْ شَرِبَهُ أُولَئِكَ النَّاسُ، فَجَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْبِئْرِ، ثُمَّ دَعَا بِدَلْوٍ، وَأَخَذَ مِنْهُ بِفَمِهِ، ثُمَّ مَجَّهُ فِيهَا، وَدَعَا اللَّهَ عز وجل فَكَثُرَ مَاؤُهَا حَتَّى تَرَوَّى النَّاسُ مِنْهَا»

জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আবু বকর এবং উসমান—আবু শায়বাহর দুই পুত্র—আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু উসামা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যাকারিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আল-বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমরা হুদায়বিয়ার দিন অবতরণ করলাম। তখন আমরা এমন পানি পেলাম যা অন্য লোকেরা আগেই পান করে শেষ করে ফেলেছিল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কূপের কিনারে বসলেন, এরপর তিনি এক বালতি পানি চাইলেন এবং তা থেকে কিছু পানি মুখে নিলেন। অতঃপর তিনি তা কূপে কুলি করে দিলেন এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট দুআ করলেন। ফলে সেটির পানি বৃদ্ধি পেল, এমনকি মানুষজন তা থেকে পান করে তৃপ্ত হলো।»

(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৬১)
28 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ الْقَيْسِيُّ، إِمْلَاءً عَلَيْنَا فِي شَعْبَانَ سَنَةَ إِحْدَى وَثَلَاثِينَ وَمِائَتَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ ⦗ص: 62⦘ فَضَالَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو قَتَادَةَ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرٍ وَالْحَرُّ شَدِيدٌ، فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سِيرُوا فَانْزِلُوا الْمَاءَ غَدًا فَمَنْ لَمْ يَنْزِلِ الْمَاءَ غَدًا عَطِشَ» ، فَسَارَ النَّاسُ بَيْنَ يَدَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَسَارَ أَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا وَعَطِشَ النَّاسُ، قَالَ: وَكُنْتُ فِيمَنْ تَخَلَّفَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ، فَسِرْنَا يَوْمَنَا وَلَيْلَتَنَا، قَالَ: وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ يَنْعَسُ عَلَى رَاحِلَتِهِ مِنَ اللَّيْلِ فَيَمِيلُ، فَإِذَا خَشِيتُ أَنْ يَقَعَ دَنَوْتُ مِنْهُ فَنَبَّهْتُهُ، ثُمَّ أَسِيرُ مَعَهُ فَيَنْعَسُ فَيَمِيلُ، فَإِذَا خَشِيتُ أَنْ يَقَعَ دَنَوْتُ مِنْهُ فَنَبَّهْتُهُ، قَالَ: فَقَالَ لِي كَلِمَةً مَا يَسُرُّنِي بِهَا حُمُرُ النِّعَمِ، فَقَالَ: «حَفِظَكَ اللَّهُ بِمَا حَفِظْتَ بِهِ رَسُولَهُ» حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ السَّحَرِ عَرَّسَ، وَقَالَ: «لَعَلَّنَا أنْ نَهْجَعَ هَجْعَةً» قَالَ: فَاسْتَمْكَنَّا مِنَ الْأَرْضِ، وَقَدْ سِرْنَا يَوْمَنَا وَلَيْلَتَنَا، قَالَ: فَمَا أَيْقَظَنَا إِلَّا حَرُّ الشَّمْسِ مِنَ الْغَدِ فِي ظُهُورِنَا، فَقُمْنَا فَزِعِينَ وَلَمْ نُصَلِّ. قَالَ: فَفَزِعْنَا وَلَا عَهْدَ لَنَا بِمِثْلِ ذَلِكَ قَالَ: فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمْ يُعَجِّلْ مَسْحًا فَقَضَى ⦗ص: 63⦘ حَاجَتَهُ، وَدَعَا بِمَيْضَأَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا، ثُمَّ دَفَعَ الْمَيْضَأَةَ وَمَا فِيهَا إِلَيَّ، فَقَالَ: «يَا أَبَا قَتَادَةَ ازْدَخِرْ بِهَذِهِ الْمَيْضَأَةِ فَإِنَّ لَهَا نَبَأً» قَالَ: «فَجَعَلْتُهَا بَيْنِي وَبَيْنَ وَاسِطَةِ رَحْلِي» ، قَالَ: وَفِينَا بِلَالٌ، فَأَذَّنَ بِلَالٌ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، وَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَمَا كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْفَجْرِ، ثُمَّ أَقَامَ بِلَالٌ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَاةً حَسَنَةً لَا يَعْجَلُ فِيهَا، فَقَالَ: «لَا تَفْرِيطَ فِي النَّوْمِ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ» ، ثُمَّ قَالَ: «ظُنُّوا بِالنَّاسِ» قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: النَّاسُ أَصْبَحُوا الْيَوْمَ لَيْسَ فِيهِمْ ثُلُثُهُمْ، وَفِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، فَقَالَ عِظَمُ النَّاسِ: سِيرُوا إِلَى الْمَاءِ وَرَسُولُ اللَّهِ قَدْ نَزَلَ الْمَاءَ وَقَدْ عَهِدَ إِلَيْكُمْ أَنَّهُ مَنْ لَمْ يَنْزِلِ الْمَاءَ غَدًا عَطِشَ، قَالَ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رضي الله عنهما: لَا وَاللَّهِ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ لِيَعْجَلَ إِلَى الرِّيِّ قَبْلَ أَصْحَابِهِ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ لَبَعْدَكُمْ فَانْتَظِرُوا، وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «إِنْ يُطِعِ النَّاسُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَرْشُدُوا» ، قَالَ: فَسِرْنَا حَتَّى حَمِيَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قَدْ أَطَاعُوا أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ فَنَزَلُوا عَلَى ⦗ص: 64⦘ غَيْرِ مَاءٍ فَعَطِشُوا: فَلَمَّا بَصَرُوا بِنَا أَقْبَلُوا، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْنَا بِالْعَطَشِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «لَا هَلْكَ عَلَيْكُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، لَا هَلْكَ عَلَيْكُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» فَوَاللَّهِ مَا عَدَا أَنْ سَمِعْنَاهَا فَاشْتَدَّتْ ظُهُورُنَا، فَقَالَ: «يَا أَبَا قَتَادَةَ» قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ: «هَاتِ الْمَيْضَأَةَ» ، قَالَ: فَجِئْتُ بِهَا تُخَضْخِضُ قَالَ: قُلْتُ فِي نَفْسِي: وَمَا هَذِهِ الْمَيْضَأَةُ عَمَّا تَرَى وَمَا فِيهَا رِّيُّ رَجُلٍ قَالَ: فَأَتَيْتُهُ بِهَا، فَقَالَ: «هَاتِ غَمْرِي» ، فَأَتَيْتُهُ بِقَدَحٍ لَهُ، قَالَ: فَجِئْتُهُ بِهِ، فَقَالَ: «اصْبُبْ بِسْمِ اللَّهِ» قَالَ: فَتَكَفَّأَ النَّاسُ عَلَيْهِ لَا يَرَى كُلُّ إِنْسَانٍ إِلَا إِنَّمَا هِيَ شَرْبَةٌ لِمَنْ سَبَقَ، فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: «أَحْسِنُوا مَلْأَكُمْ كُلُّكُمْ سَيَرْوَى إِنْ شَاءَ اللَّهُ» قَالَ: فَجَعَلْتُ أَصُبُّ وَنَسْقِي، وَأَصُبُّ وَأَسْقِي وَأَرَى الْمَيْضَأَةَ مَا أَصُبُّ فِيهَا شَيْئًا إِلَّا فِيهَا أَكْثَرُ مِنْهُ أَرَاهَا تَرْبُوا حَتَّى وَاللَّهِ مَا بَقِيَ مِنَ الْجُنْدِ أَحَدٌ إِلَا قَدْ صَدَرَ عَنْهَا رَيَّانَ، وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ لَيَغْرِفُ وَيَمْسَحُ عَنْ وَجْهِهِ الْعَرَقَ، وَمَا يَشْرَبُ حَتَّى بَقِيتُ أَنَا وَهَوَ قَالَ: «اصْبُبْ بِسْمِ اللَّهِ» ، فَصَبَبْتُ فَنَاوَلَنِي، فَقَالَ: «اشْرَبْ» ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ اشْرَبْ أَنْتَ، ثُمَّ أَشْرَبُ أَنَا، قَالَ: «سَاقِي الْقَوْمِ آخِرُهُمْ» ⦗ص: 65⦘ قَالَ: فَشَرِبْتُ، ثُمَّ شَرِبَ وَهِيَ كَمَا هِيَ

 

29 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ السَّامِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، بِنَحْوِهِ، وَزَادَ فِيهِ: «إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا عَرَّسَ بِلَيْلٍ تَوَسَّدَ يَمِينَهُ، وَإِذَا عَرَّسَ عِنْدَ الصُّبْحِ نَصَبَ سَاعِدَهُ نَصْبًا وَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى كَفِّهِ»
২৮ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুদবাহ ইবনে খালিদ আল-কায়সী দুইশত একত্রিশ হিজরী সনের শাবান মাসে আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুবারক ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ ফাদালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে রাবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কাতাদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম এবং তখন প্রচণ্ড গরম ছিল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন: «তোমরা চলতে থাকো এবং আগামীকাল পানির নিকট অবতরণ করো; যে ব্যক্তি আগামীকাল পানির নিকট পৌঁছাতে পারবে না, সে তৃষ্ণার্ত হবে।» অতঃপর লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে চলতে শুরু করল এবং আবু বকর ও ওমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) চলতে লাগলেন, আর লোকেরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল। তিনি (আবু কাতাদাহ) বললেন: আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা আল্লাহর রাসূলের সাথে পেছনে থেকে গিয়েছিল। আমরা আমাদের দিন ও রাতভর চললাম। তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল রাতের বেলা তাঁর বাহনের ওপর ঢুলছিলেন এবং একদিকে ঝুঁকে পড়ছিলেন। যখনই আমি আশঙ্কা করতাম যে তিনি পড়ে যাবেন, আমি তাঁর নিকটবর্তী হতাম এবং তাঁকে সতর্ক করতাম। এরপর আমি তাঁর সাথে চলতাম এবং তিনি পুনরায় ঢুলতেন ও ঝুঁকে পড়তেন। যখনই আমি আশঙ্কা করতাম যে তিনি পড়ে যাবেন, আমি তাঁর নিকটবর্তী হতাম এবং তাঁকে সতর্ক করতাম। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আমাকে এমন একটি কথা বললেন, যার বিনিময়ে লাল উট পাওয়াও আমার নিকট ততটা আনন্দের ছিল না। তিনি বললেন: «আল্লাহ তোমাকে সেভাবে হিফাযত করুন যেভাবে তুমি তাঁর রাসূলকে হিফাযত করেছ।» অবশেষে যখন শেষ রাত হলো, তিনি বিশ্রামের জন্য যাত্রা বিরতি করলেন এবং বললেন: «সম্ভবত আমরা একটু ঘুমিয়ে নিতে পারি।» তিনি বললেন: অতঃপর আমরা মাটিতে থিতু হলাম, অথচ আমরা পুরো দিন ও রাতভর চলেছিলাম। তিনি বললেন: পরদিন সূর্যের উত্তাপ আমাদের পিঠে না লাগা পর্যন্ত আর কিছুই আমাদের জাগাতে পারেনি। আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালাম অথচ আমরা সালাত আদায় করিনি। তিনি বললেন: আমরা আতঙ্কিত হলাম কারণ আমাদের সাথে এর আগে কখনো এমন কিছু ঘটেনি। তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন, কিন্তু তিনি তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থে প্রাতঃক্রিয়া সম্পাদন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ করলেন। এরপর তিনি একটি ওযুর পাত্র আনালেন এবং তা থেকে অযু করলেন। এরপর সেই ওযুর পাত্রটি এবং তাতে যা অবশিষ্ট ছিল তা আমাকে দিলেন এবং বললেন: «হে আবু কাতাদাহ, এই ওযুর পাত্রটি সংরক্ষণ করো, কেননা এর একটি গুরুত্ববহ খবর রয়েছে।» তিনি (আবু কাতাদাহ) বললেন: «আমি সেটি আমার জিনিনের মাঝখানে রেখে দিলাম।» তিনি বললেন: আমাদের সাথে বেলাল ছিলেন। বেলাল (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আযান দিলেন। আল্লাহর রাসূল দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যেমনটি তিনি ফজরের আগে আদায় করতেন। এরপর বেলাল ইকামত দিলেন এবং আল্লাহর রাসূল অত্যন্ত সুন্দরভাবে ধীরস্থিরভাবে সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন: «নিদ্রার মধ্যে কোনো ত্রুটি নেই, ত্রুটি কেবল জাগ্রত অবস্থায়।» এরপর তিনি বললেন: «লোকদের সম্পর্কে ধারণা করো (অর্থাৎ তারা কোথায় আছে?)» আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «লোকদের মধ্যে আজ তাদের এক-তৃতীয়াংশও অবশিষ্ট নেই, আর তাদের মাঝে আবু বকর ও ওমর রয়েছেন।» অধিকাংশ লোক বলেছিল: পানির দিকে চলতে থাকো, আল্লাহর রাসূল অবশ্যই পানির নিকট অবতরণ করেছেন এবং তিনি তো তোমাদের বলে দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আগামীকাল পানির নিকট অবতরণ করতে পারবে না সে তৃষ্ণার্ত হবে। তিনি বললেন: অতঃপর আবু বকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন: 'না, আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল তাঁর সাহাবীদের আগে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। আল্লাহর রাসূল অবশ্যই তোমাদের পেছনে রয়েছেন, সুতরাং তোমরা অপেক্ষা করো।' আর আল্লাহর রাসূল বললেন: «লোকেরা যদি আবু বকর ও ওমরের আনুগত্য করে, তবে তারা সঠিক পথ পাবে।» তিনি বললেন: আমরা চলতে থাকলাম যতক্ষণ না রোদ তীব্র হলো। দেখা গেল লোকেরা আবু বকর ও ওমরের কথা মেনে নিয়েছিল এবং তারা পানিহীন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ জায়গায় অবতরণ করেছিল এবং তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিল। তারা যখন আমাদের দেখতে পেল, তখন আমাদের দিকে এগিয়ে এল এবং বলল: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তৃষ্ণায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি।' আল্লাহর রাসূল বললেন: «আল্লাহ চাহেন তো তোমাদের ধ্বংস নেই, আল্লাহ চাহেন তো তোমাদের ধ্বংস নেই।» আল্লাহর কসম! আমরা এ কথা শোনা মাত্রই আমাদের পিঠ শক্ত হয়ে গেল। তিনি বললেন: «হে আবু কাতাদাহ!» আমি বললাম: লাব্বাইক ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া সা'দাইক। তিনি বললেন: «ওযুর পাত্রটি নিয়ে এসো।» তিনি বললেন: আমি সেটি নিয়ে এলাম যার ভেতরে পানি নড়াচড়া করছিল। তিনি বললেন: আমি মনে মনে বললাম, আপনি যা দেখছেন সেই তুলনায় এই পাত্রটি কী আর হবে, এতে তো একজনেরও তৃষ্ণা মিটবে না। তিনি বললেন: আমি সেটি তাঁর নিকট নিয়ে এলাম। তিনি বললেন: «আমার ছোট পেয়ালাটি দাও।» আমি তাঁর একটি পেয়ালা নিয়ে এলাম। তিনি বললেন: «বিসমিল্লাহ বলে ঢালো।» তিনি বললেন: লোকেরা ভিড় করতে লাগল, প্রত্যেকেই ভাবছিল যে এটি কেবল এমন এক চুমুক পানীয় যা কেবল অগ্রগামীদের জন্যই। আল্লাহর রাসূল যখন তা দেখলেন, তখন বললেন: «তোমরা তৃপ্তি ভরে পান করো, আল্লাহ চাহেন তো তোমাদের সকলেই তৃপ্ত হবে।» তিনি বললেন: আমি ঢালতে লাগলাম ও পান করাতে লাগলাম, ঢালতে লাগলাম ও পান করাতে লাগলাম। আর আমি ওযুর পাত্রটি দেখছিলাম যে আমি তা থেকে যা-ই ঢালছিলাম, তার চেয়েও বেশি তাতে বেড়ে যাচ্ছিল; আমি দেখলাম সেটি উপচে পড়ছে। অবশেষে আল্লাহর কসম! সৈন্যদলের এমন কেউ বাকি থাকল না যে তৃপ্ত হয়ে ফিরে যায়নি। আর আল্লাহর রাসূল পানি তুলে দিচ্ছিলেন এবং তাঁর চেহারার ঘাম মুছছিলেন। তিনি ততক্ষণ পান করেননি যতক্ষণ না আমি ও তিনি অবশিষ্ট রইলাম। তিনি বললেন: «বিসমিল্লাহ বলে ঢালো।» আমি ঢাললাম এবং তিনি আমাকে পাত্রটি বাড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন: «পান করো।» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আগে আপনি পান করুন, তারপর আমি পান করব। তিনি বললেন: «কওমের পানিপানকারী ব্যক্তি সবার শেষে পান করে।» ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ তিনি বললেন: অতঃপর আমি পান করলাম, তারপর তিনি পান করলেন; আর সেই পাত্রটি আগের মতোই (পূর্ণ) রয়ে গেল।

 

২৯ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে সামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ থেকে, তিনি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে রাবাহ থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে পূর্বের ন্যায় বর্ণনা করেছেন এবং এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতের বেলা বিশ্রামের জন্য যাত্রা বিরতি করতেন তখন তিনি তাঁর ডান পাশকে বালিশ বানিয়ে শুতেন, আর যখন ভোরের দিকে যাত্রা বিরতি করতেন তখন তিনি তাঁর বাহু খাড়া করে রাখতেন এবং হাতের তালুর ওপর মাথা রাখতেন।»
(খণ্ড: ১) দালাইলুন নুবুওয়্যাহ - আল-ফিরইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
30 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ قَالَ نا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ: «إِنَّكُمْ تَسِيرُونَ عَشِيَّتَكُمْ وَلَيْلَتَكُمْ وَتَأْتُونَ الْمَاءَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ» قَالَ أَبُو قَتَادَةَ: فَانْطَلَقَ النَّاسُ لَا يَلْوِي أَحَدٌ مِنْهُمْ عَلَى أَحَدٍ فِي مَسِيرِهِمْ، فَإِنِّي أَسِيرُ إِلَى جَنْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَبْهَارِ اللَّيْلِ، فَنَعَسَ رَسُولُ اللَّهِ فَمَالَ عَلَى ⦗ص: 66⦘ رَاحِلَتِهِ، ثُمَّ سِرْنَا حَتَّى إِذَا تَهَوَّرَ اللَّيْلُ مَالَ عَلَى رَاحِلَتِهِ مَيْلَةً أُخْرَى، فَدَعَّمْتُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ أُوقِظَهُ، فَاعْتَدَلَ عَلَى رَاحِلَتِهِ، ثُمَّ سِرْنَا حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ مَالَ مَيْلَةً أُخْرَى هِيَ أَشَدُّ مِنَ الْمَيْلَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ حَتَّى إِذَا كَادَ أَنْ يَنْجَفِلَ فَدَعَّمْتُهُ فَرَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟» قُلْتُ: أَبُو قَتَادَةَ، قَالَ: «مَتَى كَانَ هَذَا مَسِيرُكَ مِنِّي؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا مَسِيرِي مِنْكَ مُنْذُ اللَّيْلَةِ، قَالَ: «حَفِظَكَ اللَّهُ بِمَا حَفِظْتَ بِهِ نَبِيَّهُ» ثُمَّ قَالَ: «أَتَرَانَا نَخْفَى عَلَى النَّاسِ؟ هَلْ تَرَى أَحَدًا؟» قُلْتُ: هَذَا رَاكِبٌ وَهَذَا آخَرُ، فَاجْتَمَعْنَا فَكُنَّا سَبْعَةً، فَمَالَ عَنِ الطَّرِيقِ، ثُمَّ وَضَعَ رَأْسَهُ وَقَالَ: «احْفَظُوا عَلَيْنَا صَلَاتَنَا» ، فَكَانَ أَوَّلَ مَنِ انْتَبَهَ بِالشَّمْسِ فِي ظَهْرِهِ، فَقُمْنَا فَزِعِينَ، فَقَالَ: «ارْكَبُوا» فَرَكِبْنَا، فَجَعَلَ يَهْمِسُ بَعْضٌ لِبَعْضٍ مَا فَعَلْنَا تَفْرِيطُنَا فِي صَلَاتِنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «مَا هَذَا الَّذِي تَهْمِسُونَ دُونِي؟» قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَفْرِيطُنَا فِي صَلَاتِنَا، قَالَ: «أَمَا لَكُمْ فِيَّ أُسْوَةٌ، التَّفْرِيطُ لَيْسَ فِي النَّوْمِ، التَّفْرِيطُ، التَّفْرِيطُ لِمَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلَاةَ حَتَّى يَجِيءَ وَقْتُ الْأُخْرَى، فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَلْيُصَلِّهَا إِذَا نُبِّهَ لَهَا، ثُمَّ لِيُصَلِّهَا مِنَ الْغَدِ لِوَقْتِهَا» ثُمَّ نَزَلْنَا، فَدَعَا بِمَيْضَأَةٍ كَانَتْ عِنْدِي ⦗ص: 67⦘ فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا دُونَ وُضُوءٍ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ ثُمَّ صَلَّى صَلَاةَ الْفَجْرِ كَمَا كَانَ يُصَلِّي، ثُمَّ قَالَ: «ارْكَبُوا» ، فَرَكِبْنَا فَانْتَهَيْنَا إِلَى النَّاسِ حِينَ تَعَالَى النَّهَارُ - أَوْ قَالَ: حِينَ حَمِيَتِ الشَّمْسُ - شَكَّ سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ - وَهُمْ يَقُولُونَ: هَلَكْنَا عَطَشًا، قَالَ: «لَا هَلْكَ عَلَيْكُمْ» ثُمَّ نَزَلَ، ثُمَّ قَالَ: «أَطْلِقُوا إِلَيَّ غَمْرِي» فَأُطْلِقَ لَهُ، ثُمَّ دَعَا بِالْمَيْضَأَةِ الَّتِي كَانَتْ عِنْدِي فَجَعَلَ يَصُبُّ عَلَيَّ وَأَسْقِيهُمْ حَتَّى مَا فِي الْقَوْمِ أَحَدٌ إِلَّا شَرِبَ، غَيْرِي وَغَيْرُهُ فَصَبَّ عَلَيَّ ثُمَّ قَالَ: «اشْرَبْ يَا أَبَا قَتَادَةَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَشْرَبُ قَبْلَ أنْ تَشْرَبَ، قَالَ: " إِنَّ سَاقِيَ الْقَوْمِ آخِرُهُمْ، فَشَرِبْتُ وَشَرِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ: إِنِّي فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ أُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ إِذْ قَالَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ: «انْظُرْ أَيُّهَا الْفَتَى كَيْفَ تُحَدِّثُ، فَإِنِّي كُنْتُ أَحَدَ الرَّكْبِ تِلْكَ اللَّيْلَةَ» ، قُلْتُ لَهُ: أَبَا نُجَيْدٍ فَحَدِّثْ فَأَنْتَ أَعْلَمُ بِحَدِيثِكُمْ، فَقَالَ: «لَقَدْ شَهِدْتُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ وَمَا شَعَرْتُ أَنَّ أَحَدًا حَفِظَهُ كَمَا حَفِظْتُهُ»
৩০ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুদবা ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনুল মুগীরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহ থেকে, তিনি আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "তোমরা তোমাদের এই বিকেল ও রাতে পথ চলবে এবং ইনশাআল্লাহ আগামীকাল পানির নিকট পৌঁছাবে।" আবু কাতাদা বলেন: লোকেরা যাত্রা শুরু করল, চলার পথে কেউ কারো জন্য অপেক্ষা করছিল না। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পার্শ্বদেশ দিয়ে পথ চলছিলাম মধ্যরাত পর্যন্ত। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন এবং তিনি তাঁর ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘ বাহনের ওপর একপাশে হেলে পড়লেন। এরপর আমরা পথ চললাম যতক্ষণ না রাতের অন্ধকার দূর হতে চলল, তখন তিনি তাঁর বাহনের ওপর পুনরায় হেলে পড়লেন। আমি তাঁকে না জাগিয়েই ঠেস দিয়ে সোজা করে দিলাম, ফলে তিনি তাঁর বাহনের ওপর স্থির হলেন। তারপর আমরা চলতে থাকলাম। রাতের শেষভাগে তিনি এমনভাবে একপাশে হেলে পড়লেন যা পূর্বের দুইবারের চেয়েও বেশি ছিল, এমনকি তিনি প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন। আমি তাঁকে ঠেস দিয়ে ধরলাম, তখন তিনি মাথা তুললেন এবং বললেন: "এ কে?" আমি বললাম: আবু কাতাদা। তিনি বললেন: "কতক্ষণ ধরে তুমি আমার সাথে এভাবে চলছ?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সারা রাত ধরে এভাবেই আপনার সাথে চলছি। তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করুন যেভাবে তুমি তাঁর নবীকে রক্ষা করেছ।" অতঃপর তিনি বললেন: "তুমি কি মনে করো আমরা লোকদের নজরের আড়ালে পড়ে গেছি? তুমি কি কাউকে দেখতে পাচ্ছ?" আমি বললাম: এই তো একজন আরোহী, আর এই তো আরেকজন। এভাবে আমরা সাতজন একত্রিত হলাম। এরপর তিনি পথ থেকে একপাশে সরে দাঁড়ালেন, মাথা রাখলেন এবং বললেন: "তোমরা আমাদের সালাতের সময় খেয়াল রেখো।" অতঃপর রোদ যখন তাঁর পিঠে এসে পড়ল তখন তিনি প্রথম জেগে উঠলেন। আমরা ভীত হয়ে উঠে দাঁড়ালাম। তিনি বললেন: "সওয়ার হও।" আমরা সওয়ার হলাম। লোকেরা একে অপরের সাথে ফিসফিস করে বলতে লাগল, আমরা আমাদের সালাতে কী অবহেলাই না করলাম! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা আমার অগোচরে কী নিয়ে ফিসফিস করছ?" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের সালাতের ব্যাপারে অবহেলা হয়ে গেছে। তিনি বললেন: "আমার মাঝে কি তোমাদের জন্য আদর্শ নেই? ঘুমের মাঝে কোনো অবহেলা নেই। অবহেলা তো কেবল তার জন্য যে সালাত আদায় করে না যতক্ষণ না পরবর্তী সালাতের সময় হয়ে যায়। যখন কারো সাথে এমন ঘটে, সে যখনই জাগ্রত হবে তখনই তা পড়ে নেবে। আর পরবর্তী দিন যেন তা সঠিক সময়ে আদায় করে।" তারপর আমরা অবতরণ করলাম। তিনি আমার কাছে থাকা একটি পানির পাত্র চাইলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ এবং সংক্ষিপ্তভাবে ওজু করলেন। এরপর তিনি ফজরের পূর্বে দুই রাকাত (সুন্নত) সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন যেভাবে তিনি সচরাচর আদায় করতেন। এরপর তিনি বললেন: "সওয়ার হও।" আমরা সওয়ার হলাম এবং লোকদের কাছে পৌঁছালাম যখন বেলা অনেকটা বেড়ে গেছে—অথবা তিনি বলেছেন: যখন সূর্য উত্তপ্ত হয়েছে—বর্ণনাকারী সুলাইমান ইবনুল মুগীরা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন—আর লোকেরা বলছিল: আমরা তৃষ্ণায় ধ্বংস হয়ে গেলাম। তিনি বললেন: "তোমাদের ধ্বংস নেই।" তারপর তিনি অবতরণ করলেন এবং বললেন: "আমার ছোট পানির পাত্রটি আমার নিকট নিয়ে এসো।" সেটি তাঁর নিকট আনা হলো। এরপর তিনি আমার কাছে থাকা সেই ওজুর পাত্রটি চাইলেন এবং তিনি ঢালতে শুরু করলেন আর আমি তাদের পান করাতে শুরু করলাম। শেষ পর্যন্ত দলের সবাই পান করল আমি আর তিনি ছাড়া। এরপর তিনি আমার জন্য ঢাললেন এবং বললেন: "হে আবু কাতাদা, পান করো।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার পান করার আগে আমি পান করব? তিনি বললেন: "দলের পরিবেশনকারী সবার শেষে পান করে থাকে।" এরপর আমি পান করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পান করলেন। আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহ বলেন: আমি জামে মসজিদে এই হাদিসটি বর্ণনা করছিলাম, তখন ইমরান ইবনে হুসাইন বললেন: "হে যুবক, লক্ষ্য করো তুমি কী বর্ণনা করছ, কারণ আমি সেই রাতে কাফেলার একজন ছিলাম।" আমি তাঁকে বললাম: হে আবু নুজাইদ, তাহলে আপনিই বর্ণনা করুন, কারণ আপনি আপনাদের ঘটনা সম্পর্কে অধিক অবগত। তখন তিনি বললেন: "আমি সেই রাতে উপস্থিত ছিলাম এবং আমি মনে করি না তোমার মতো আর কেউ এটি হুবহু মুখস্থ রেখেছে।"