(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: -)
حجة الوداع لابن حزم القسم: كتب السنة
الكتاب: حجة الوداع
المؤلف: أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الأندلسي القرطبي الظاهري (ت 456هـ)
المحقق: أبو صهيب الكرمي
الناشر: بيت الأفكار الدولية للنشر والتوزيع - الرياض
الطبعة: الأولى، 1998
عدد الصفحات: 487
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে হাজমের বিদায় হজ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: বিদায় হজ
লেখক: আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাজম আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি আজ-জাহিরি (মৃত্যু ৪৫৬ হি.)
তাহকিককারী: আবু সুহাইব আল-কারমি
প্রকাশক: বাইতুল আফকার আদ-দুওয়ালিইয়াহ প্রকাশনা ও বিতরণ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١١١)
مُقَدِمَةُ الْمُصَنِّفِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ وَاللَّهُ حَسْبِي قَالَ الشَّيْخُ الْفَقِيهُ الْإِِمَامُ الْأَوْحَدُ الْحَافِظُ نَاصِرُ السُّنَّةِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سعيدِ بْنِ حزم بْنِ غالبٍ الْأَنْدَلُسِيُّ رحمه الله وَغَفَرَ لَهُ بِمَنِّهِ وَكَرَمِهِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ خَاتَمِ أَنْبِيَائِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ الْأَحَادِيثَ كَثُرَتْ فِي وَصْفِ عَمَلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، وَأَتَتْ مِنْ طُرُقٍ شَتَّى وَبِأَلْفَاظٍ مُخْتَلِفَةٍ وَوُصِفَتْ فُصُولُ ذَلِكَ الْعَمَلِ الْمُقَدَّسِ فِي أَخْبَارٍ كَثِيرَةٍ غَيْرِ مُتَّصِلٍ ذِكْرُ بَعْضِ ذَلِكَ بِبَعْضٍ، حَتَّى صَارَ هَذَا سَبَبًا إِلَى تَعَذُّرِ فَهْمِ تَأْلِيفِهَا عَلَى أَكْثَرِ النَّاسِ، حَتَّى ظَنَّهَا قَوْمٌ كَثِيرٌ مُتَعَارِضَةً، وَتَرَكَ أَكْثَرُ النَّاسِ النَّظَرَ فِيهَا مِنْ أَجْلِ مَا ذَكَرْنَا، فَلَمَّا تَأَمَّلْنَاهَا وَتَدَبَّرْنَاهَا بِعَوْنِ اللَّهِ عز وجل لَنَا وَتَوْفِيقِهِ إِيَّانَا، لَا بِحَوْلِنَا وَلَا بِقُوَّتِنَا، رَأَيْنَاهَا كُلَّهَا مُتَّفِقَةً وَمُؤْتَلِفَةً مُنْسَرِدَةً مُتَّصِلَةً بَيِّنَةَ الْوُجُوهِ وَاضِحَةَ السُّبُلِ، لَا إِشْكَالَ فِي شَيْءٍ مِنْهَا حَاشَا فَصْلًا وَاحِدًا لَمْ يَلُحْ لَنَا وَجْهُ الْحَقِيقَةِ فِي أَيِّ النَّقْلَيْنِ هُوَ مِنْهَا فَنَبَّهْنَا عَلَيْهِ وَهُوَ: أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ يَوْمَ النَّحْرِ، أَبِمِنًى أَمْ بِمَكَّةَ؟ فَلَعَلَّ غَيْرَنَا يَلُوحُ لَهُ بَيَانُ ذَلِكَ
লেখকের ভূমিকা: আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। শাইখ, ফকিহ, অদ্বিতীয় ইমাম, হাফিয, সুন্নাহর সাহায্যকারী আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযম ইবনে গালিব আল-আন্দালুসী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং আপন অনুগ্রহ ও করুণায় তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, নবীগণের পরিসমাপ্তিকারক মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর প্রতি পূর্ণাঙ্গ শান্তি বর্ষিত হোক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ অতি পবিত্র। অতঃপর, বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর কর্মপদ্ধতি বর্ণনায় বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো বিভিন্ন সূত্রে ও ভিন্ন ভিন্ন শব্দে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। সেই পবিত্র আমলের বিভিন্ন পর্যায় অসংখ্য বর্ণনায় এমনভাবে আলোচিত হয়েছে যেখানে একটি প্রসঙ্গের সাথে অন্যটির ধারাবাহিক সংযোগ উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি এই বিষয়টিই অধিকাংশ মানুষের জন্য এর পারম্পর্য ও সমন্বয় বোঝা দুঃসাধ্য করে তুলেছে। ফলে বহু লোক এগুলোকে পরস্পরবিরোধী মনে করেছে এবং আমি যা উল্লেখ করেছি তার কারণেই অধিকাংশ মানুষ এ নিয়ে গবেষণা করা ছেড়ে দিয়েছে। অতঃপর যখন আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সাহায্য ও তাঁর তাওফিকে এগুলো নিয়ে গভীরভাবে অনুধাবন ও চিন্তা-গবেষণা করলাম—যা আমাদের কোনো নিজস্ব ক্ষমতা বা শক্তিতে নয়—তখন আমরা সেগুলোকে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ, সুসামঞ্জস্যপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং পরস্পর সংযুক্ত অবস্থায় দেখতে পেলাম। এর প্রতিটি দিক ছিল সুপ্রকাশিত এবং এর পথ ছিল সুস্পষ্ট। সেখানে একটি বিষয় ছাড়া আর কোনো কিছুতেই কোনো জটিলতা ছিল না, যার প্রকৃত রূপটি দুটি বর্ণনার মধ্যে কোনটি হবে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়নি। তাই আমরা সে বিষয়ে সতর্ক করেছি, আর তা হলো: কোরবানির দিন রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) জোহরের নামাজ কোথায় আদায় করেছিলেন—মিনায় নাকি মক্কায়? হতে পারে আমাদের ছাড়া অন্য কারো কাছে এর সমাধান স্পষ্ট হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
، فَمَنِ اسْتَبَانَ لَهُ مَا أُشْكِلَ عَلَيْنَا مِنْهُ يَوْمًا مَا فَلْيُضِفْهُ إِلَى مَا جَمَعْنَاهُ؛ لِيَقْتَنِيَ بِذَلِكَ الْأَجْرَ الْجَزِيلَ مِنَ اللَّهِ عز وجل، فَلَمَّا يَئِسْنَا مِنْ أَيْنَ يُشْرِقُ لَنَا وَجْهُ الصَّحِيحِ مَعَ طُولِ الْبَحْثِ وَتَقَرِّي الْأَحَادِيثِ، وَبِاللَّهِ عز وجل نَتَأَيَّدُ، فَلَمَّا وَجَدْنَا الْآثَارَ الْوَارِدَةَ كَمَا ذَكَرْنَا، تَكَلَّفْنَا ذِكْرَهَا وَتَرْتِيبَهَا وَضَمَّهَا وَاخْتِصَارَ التِّكْرَارِ، إِلَّا مَا لَمْ نَجِدْ مَنْدُوحَةً عَنْ تِكْرَارِهِ لِضَرُورَةِ إِيرَادِ لَفْظِهِ عليه السلام أَوْ لَفْظِ الرَّاوِي عَلَى نَصِّهِ؛ لِئَلَّا نُحِيلَ الرِّوَايَةَ عَمَّا أَخَذْنَاهَا عَلَيْهِ فَنَقَعَ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ تَحْتَ صِفَةِ الْكَذِبِ، الَّتِي لَا شَيْءَ أَقْبَحُ مِنْهَا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيقُ. ثُمَّ رَأَيْنَا أَنَّ الْأَظْهَرَ فِي الْبَيَانِ عَلَى مَنْ أَرَادَ فَهْمَ هَذَا الْبَابِ وَالْوُقُوفَ عَلَيْهِ، كَأَنَّهُ شَاهَدَهُ أَنْ يَحْكِيَ بِلَفْظِنَا ذِكْرَ عَمَلِهِ صلى الله عليه وسلم مُنَقَّلَةً مُنَقَّلَةً، مِنْ حِينِ خُرُوجِهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ إِلَى حِينِ رُجُوعِهِ عليه السلام إِلَى الْمَدِينَةِ. ثُمَّ نُثَنِّي إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى بِذِكْرِ الْأَحَادِيثِ الْوَارِدَةِ بِكَيْفِيَّةِ مَا ذَكَرْنَاهُ نَحْنُ بِالْأَسَانِيدِ الْمُتَّصِلَةِ الصِّحَاحِ الْمُنْتَقَاةِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِمَّا بِلَفْظِهِ وَإِمَّا بِلَفْظِ مَنْ شَاهَدَ فِعْلَهُ عليه السلام، مِنْ أَصْحَابِهِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْ جَمِيعِهِمْ، لِيَكُونَ بِبَيِّنَةِ عَدْلٍ وَشَوَاهِدِ حَقٍّ عَلَى صِدْقِ مَا أَوْرَدْنَاهُ بِأَلْفَاظِنَا مِنْ ذَلِكَ. ثُمَّ نُثَلِّثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ عز وجل بِذِكْرِ مَا ظَنَّ قَوْمٌ أَنَّهُ يُعَارِضُ بَعْضَ هَذِهِ الْآثَارِ الَّتِي اسْتَشْهَدْنَا بِهَا، وَنُبَيِّنُ بِتَأْيِيدِ اللَّهِ تَعَالَى لَنَا أَنَّهُ لَا تَعَارُضَ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ بِبَرَاهِينَ ظَاهِرَةٍ لِكُلِّ مَنْ لَهُ حَظٌّ مِنَ الْإِنْصَافِ وَالتَّمْيِيزِ حَاشَا الْفَصْلِ الَّذِي ذَكَرْنَا أَنَّهُ اغْتَمَّ عَلَيْنَا: أَيُّ النَّقْلَيْنِ الْوَارِدَيْنِ فِيهِ هُوَ الصَّحِيحُ وَأَيُّهُمَا هُوَ الْوَهْمُ، فَإِنَّنَا أَوْرَدْنَاهُمَا مَعًا وَمَا عَارَضَهُمَا أَيْضًا، فَمَا هُوَ دُونَهُمَا فِي الصِّحَّةِ وَوَقَفْنَا حَيْثُ وَقَفَ بِنَا عِلْمُنَا الَّذِي آتَانَاهُ اللَّهُ عز وجل وَاهِبُ الْفَضَائِلِ لِمَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ، وَلَمْ نَقْتَحِمِ الْحُكْمَ فِيمَا لَمْ نَقِفْ عَلَى بَيَانِهِ، وَلَا جَسَرْنَا عَلَى الْقَطْعِ فِيمَا لَمْ يَلُحْ لَنَا وَجْهُهُ، وَلَا
...সুতরাং, যা আমাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে তা যদি কখনো কারো কাছে স্পষ্ট হয়, তবে সে যেন তা আমাদের সংকলিত বিষয়ের সাথে যুক্ত করে দেয়; যাতে সে এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচুর সওয়াব অর্জন করতে পারে। দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং হাদিসসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর যখন আমরা সঠিক দিকটি আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হলাম—আর আমরা মহান আল্লাহর মাধ্যমেই সাহায্য লাভ করি—তখন আমরা উল্লেখিত বর্ণনাগুলো যেভাবে পেয়েছি, সেগুলো উল্লেখ করা, বিন্যস্ত করা, একত্রিত করা এবং পুনরাবৃত্তি সংক্ষেপ করার শ্রম স্বীকার করেছি; তবে সেটুকু ব্যতীত যা পুনরাবৃত্তি করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না, কারণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শব্দগুলো অথবা বর্ণনাকারীর শব্দগুলো হুবহু উদ্ধৃত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল; যাতে আমরা বর্ণনাটিকে যেভাবে গ্রহণ করেছি তা থেকে বিচ্যুত না হই এবং—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত না হই, যার চেয়ে জঘন্য বিষয় দুনিয়া ও আখেরাতে আর কিছুই নেই; আর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই তৌফিক আসে। অতঃপর আমরা মনে করেছি যে, যারা এই অধ্যায়টি বুঝতে এবং এর ওপর অবগত হতে চায়, তাদের জন্য বর্ণনার সবচেয়ে স্পষ্ট পদ্ধতি হলো—যেন সে তা প্রত্যক্ষ করছে—তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কার্যাবলি আমাদের ভাষায় ধাপে ধাপে বর্ণনা করা, মদিনা থেকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কার উদ্দেশ্যে বের হওয়া থেকে শুরু করে মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত। অতঃপর ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমরা দ্বিতীয় পর্যায়ে সেসব হাদিস উল্লেখ করব যা আমাদের বর্ণিত বিষয়ের পদ্ধতির সপক্ষে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত বাছাইকৃত সহিহ ও নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে; চাই তা তাঁর নিজের শব্দে হোক অথবা তাঁর কার্যাবলি প্রত্যক্ষকারী সাহাবিদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন) বর্ণনায় হোক, যাতে আমরা আমাদের ভাষায় যা উল্লেখ করেছি তার সত্যতার সপক্ষে ন্যায়নিষ্ঠ প্রমাণ এবং সত্য সাক্ষী বিদ্যমান থাকে। এরপর ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ, আমরা তৃতীয় পর্যায়ে সে বিষয়গুলো উল্লেখ করব যে সম্পর্কে একদল লোক ধারণা করেছে যে তা আমাদের উদ্ধৃত এই বর্ণনাগুলোর কোনো কোনোটির সাথে সাংঘর্ষিক। আর আল্লাহ তাআলার সাহায্যে আমরা স্পষ্ট করব যে, এর কোনো কিছুতেই কোনো বৈপরীত্য নেই; সেই সব ব্যক্তির জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে আমরা তা ব্যাখ্যা করব যাদের ন্যায়বিচার ও পার্থক্য করার ক্ষমতা রয়েছে; তবে সেই অংশটি ব্যতীত যা আমরা উল্লেখ করেছি যে আমাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে: অর্থাৎ সেখানে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে কোনটি সঠিক এবং কোনটি বিভ্রান্তি তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। কারণ আমরা উভয় বর্ণনা এবং যা সেগুলোর বিরোধী তাও একসাথে উল্লেখ করেছি। তবে যেগুলো বিশুদ্ধতার দিক থেকে সে দুটির নিচে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা সেখানেই থেমে গেছি যেখানে আমাদের জ্ঞান থেমে গেছে, যা মহান আল্লাহ আমাদের দান করেছেন—যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ দান করেন। আর যে বিষয়ের ব্যাখ্যা আমরা পাইনি সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা তাড়াহুড়ো করিনি, এবং যে বিষয়ের স্বরূপ আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়নি সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সাহস দেখাইনি, এবং...
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
قَضَيْنَا بِالنَّصَّيْنِ فِيمَا لَمْ نُشْرِفْ عَلَى حَقِيقَتِهِ، وَمُعَاذَ اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْخُطَّةِ، فَهِيَ خُطَّةُ خَسْفٍ لَا يَرْضَى بِهَا لِنَفْسِهِ ذُو دَيْنٍ وَلَا ذُو عَقْلٍ، وَحَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، وَهَذَا حِينَ نَبْدَأُ بِحَوْلِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ فِي إِيرَادِ كَيْفِيَّةِ عَمَلِهِ عليه السلام فِي ذَلِكَ، فَنَقُولُ وَبِاللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيقُ.
আমরা সেই বিষয়ে দুটি নসের মাধ্যমে ফয়সালা করেছি যার হাকীকত সম্পর্কে আমরা অবগত হইনি। আর এই কর্মপন্থা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, কারণ এটি এমন এক লাঞ্ছনাকর পথ যা কোনো দ্বীনদার কিংবা বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিজের জন্য পছন্দ করতে পারে না। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর এখন আমরা আল্লাহর সামর্থ্য ও শক্তিতে সেই বিষয়ে তাঁর (আলাইহিস সালাম) কর্মপদ্ধতি উপস্থাপনা শুরু করছি; অতএব আমরা বলছি এবং আল্লাহর তাওফিকই কাম্য।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
الْفَصْلُ الْأَوَّلُ: خُلَاصَةٌ فِي أَعْمَالِ الْحَجِّ أَعْلَمَ رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام النَّاسَ أَنَّهُ حَاجٌّ، ثُمَّ أَمَرَ بِالْخُرُوجِ لِلْحَجِّ فَأَصَابَ النَّاسَ بِالْمَدِينَةِ جُدَرِيٌّ أَوْ حَصْبَةٌ، مَنَعَتْ مَنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ تَمْنَعَ مِنَ الْحَجِّ مَعَهُ، فَأَعْلَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً، وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامِدًا إِلَى مَكَّةَ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ الَّتِي لَمْ يَحُجَّ مِنَ الْمَدِينَةِ مُنْذُ هَاجَرَ عليه السلام إِلَيْهَا غَيْرَهَا، فَأَخَذَ عَلَى طَرِيقِ الشَّجَرَةِ، وَذَلِكَ يَوْمَ الْخَمِيسِ لِسِتٍّ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ عَشْرٍ نَهَارًا بَعْدَ أَنْ تَرَجَّلَ وَادَّهَنَ، وَبَعْدَ أَنْ صَلَّى الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ وَصَلَّى الْعَصْرَ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ، وَبَاتَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، وَطَافَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ عَلَى نِسَائِهِ، ثُمَّ اغْتَسَلَ، ثُمَّ صَلَّى الصُّبْحَ بِهَا، ثُمَّ طَيَّبَتْهُ عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ رضي الله عنها بِيَدِهَا بِذَرِيرَةٍ وَطِيبٍ فِيهِ مِسْكٌ، ثُمَّ أَحْرَمَ وَلَمْ يَغْسِلِ الطِّيبَ، ثُمَّ لَبَّدَ رَأْسَهُ وَقَلَّدَ بَدَنَتَهُ بِنَعْلَيْنِ، وَأَشْعَرَهَا فِي جَانِبِهَا الْأَيْمَنِ وَسَلَتَ الدَّمَ عَنْهَا، وَكَانَتْ هَدْيَ تَطَوُّعٍ، وَكَانَ عليه السلام، سَاقَ الْهَدْيَ مَعَ نَفْسِهِ ثُمَّ رَكِبَ رَاحِلَتَهُ، وَأَهَلَّ حِينَ انْبَعَثَتْ بِهِ مِنْ عِنْدِ الْمَسْجِدِ، مَسْجِدِ ذِي الْحُلَيْفَةِ بِالْقِرَانِ بِالْعُمْرَةِ وَالْحَجِّ مَعًا، وَذَلِكَ قَبْلَ الظُّهْرِ بِيَسِيرٍ، وَقَالَ لِلنَّاسِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ: «مَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ أَنْ يُهِلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ
প্রথম পরিচ্ছেদ: হজ পালন পদ্ধতির সারসংক্ষেপ। আল্লাহর রাসূল আলাইহিস সালাম মানুষকে অবহিত করলেন যে তিনি হজ পালন করবেন। অতঃপর তিনি হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন। তখন মদীনার মানুষের মাঝে বসন্ত বা হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ল, যা আল্লাহ তাআলা যাকে চেয়েছিলেন তাকে তাঁর সাথে হজ পালন থেকে বিরত রাখল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দিলেন যে, রমজান মাসে একটি উমরা করা একটি হজের সমতুল্য। এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের বছর মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন, হিজরত করে মদীনায় আসার পর এটিই ছিল তাঁর একমাত্র হজ। তিনি শাজারাহ-এর রাস্তা দিয়ে রওনা হলেন। এটি ছিল দশম হিজরীর জিলকদ মাসের ছয় দিন বাকি থাকতে বৃহস্পতিবারের দিন, তিনি চুল বিন্যাস ও তেল ব্যবহারের পর দিনের বেলা যাত্রা করেন। মদীনায় জোহরের সালাত আদায়ের পর তিনি সেই দিনই যুল হুলাইফাতে আসরের সালাত আদায় করলেন এবং শুক্রবার রাতে যুল হুলাইফাতে রাত্রিযাপন করলেন। সেই রাতে তিনি তাঁর স্ত্রীদের সান্নিধ্য লাভ করলেন, অতঃপর গোসল করলেন এবং সেখানে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর মুমিন জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বহস্তে তাঁকে সুগন্ধি চূর্ণ এবং মিশক মিশ্রিত সুগন্ধি মাখিয়ে দিলেন। এরপর তিনি ইহরাম বাঁধলেন এবং সেই সুগন্ধি ধুয়ে ফেলেননি। অতঃপর তিনি স্বীয় চুল জমিয়ে দিলেন এবং তাঁর কুরবানীর পশুর গলায় দুটি জুতো ঝুলালেন, আর সেটির ডান পার্শ্বে চিরে চিহ্ন দিলেন ও তা থেকে রক্ত মুছে দিলেন। এটি ছিল নফল হাদি। তিনি আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে কুরবানীর পশু নিয়ে এসেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর সওয়ারিতে আরোহণ করলেন এবং যখন তাঁর সওয়ারি তাঁকে নিয়ে যুল হুলাইফা মসজিদের নিকট থেকে যাত্রা শুরু করল, তখন তিনি একত্রে উমরা ও হজের জন্য কিরানের ইহরাম ধ্বনি পাঠ করলেন। আর এটি ছিল জোহরের ঠিক কিছু সময় আগে। তিনি যুল হুলাইফাতে লোকেদের উদ্দেশ্যে বললেন: «তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ ও উমরার একত্রে ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন তা করে, আর যে...
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
أَرَادَ أَنْ يُهِلَّ بِحَجٍّ فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ أَرَادَ أَنْ يُهِلَّ بِعُمْرَةٍ فَلْيَفْعَلْ» . وَكَانَ مَعَهُ عليه السلام مِنَ النَّاسِ جُمُوعٌ، لَا يُحْصِيهَا إِلَّا خَالِقُهُمْ وَرَازِقُهُمْ عز وجل، ثُمَّ لَبَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ» ، وَقَدْ رُوِيَ أَنَّهُ عليه السلام زَادَ عَلَى ذَلِكَ، فَقَالَ: «لَبَّيْكَ إِلَهَ الْحَقِّ» ، وَأَتَاهُ جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم، فَأَمَرَهُ أَنْ يَأْمُرَ أَصْحَابَهُ بِأَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالتَّلْبِيَةِ، وَوَلَدَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ الْخَثْعَمِيَّةُ زَوْجُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، رضي الله عنه، مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ، فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَغْتَسِلَ وَتَسْتَثْفِرَ بِثَوْبٍ، وَتُحْرِمَ وَتُهِلَّ، ثُمَّ نَهَضَ عليه السلام وَصَلَّى الظُّهْرَ بِالْبَيْدَاءِ، ثُمَّ تَمَادَى وَاسْتَهَلَّ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ لَيْلَةِ الْخَمِيسٌ، لَيْلَةَ الْيَوْمِ الثَّامِنِ مِنْ يَوْمِ خُرُوجِهِ مِنَ الْمَدِينَةِ، فَلَمَّا كَانَ بِسَرِفَ حَاضَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها، وَكَانَتْ قَدْ أَهَلَّتْ بِعُمْرَةٍ، فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَغْتَسِلَ وَتَنْقُضَ رَأْسَهَا وَتَمْتَشِطَ وَتَتْرُكَ الْعُمْرَةَ وَتَدَعَهَا وَتَرْفُضَهَا، وَلَمْ تَحِلَّ مِنْهَا وَتَدْخُلَ عَلَى الْعُمْرَةِ حَجًّا، وَتَعْمَلَ جَمِيعَ أَعْمَالِ الْحَجِّ إِلَّا الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ، مَا لَمْ تَطْهُرْ. وَقَالَ عليه السلام وَهُوَ بِسَرِفَ لِلنَّاسِ: «مَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْكُمْ مَعَهُ هَدْيٌ، فَأَحَبَّ أَنْ يَجْعَلَهَا عُمْرَةً فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلَا» ، فَمِنْهُمْ مَنْ جَعَلَهَا عُمْرَةً كَمَا أُبِيحَ لَهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَمَادَى عَلَى نِيَّةِ الْحَجِّ وَلَمْ يَجْعَلْهَا عُمْرَةً، وَهَذَا فِيمَنْ لَا هَدْيَ مَعَهُ، وَأَمَّا مَنْ مَعَهِ الْهَدْيُ فَلَمْ يَجْعَلْهَا عُمْرَةً أَصْلًا
যে হজের ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন তা করে, আর যে উমরার ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন তা করে। তাঁর (আলাইহিস সালাম) সাথে মানুষের এমন বিশাল জনসমুদ্র ছিল, যা তাদের স্রষ্টা ও রিযিকদাতা মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ গণনা করতে পারে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিয়াহ পাঠ করলেন এবং বললেন: "আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির; আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নেয়ামত এবং রাজত্ব আপনারই; আপনার কোনো শরিক নেই।" বর্ণিত আছে যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) এর সাথে আরও বৃদ্ধি করে বলতেন: "আমি হাজির, হে সত্য ইলাহ।" জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আগমন করলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাঁর সাহাবীদের উচ্চস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করার আদেশ দেন। আবু বকর সিদ্দিকের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস আল-খাসআমিয়াহ মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকে প্রসব করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গোসল করতে, রক্তক্ষরণ রোধে কাপড় ব্যবহার করতে এবং ইহরাম ও তালবিয়াহ পাঠ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাম) প্রস্থান করলেন এবং বায়দা নামক স্থানে যোহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি এগিয়ে চললেন এবং মদীনা থেকে তাঁর বের হওয়ার অষ্টম দিন বৃহস্পতিবার রাতে যিলহজ মাসের চাঁদ দেখা দিল। অতঃপর যখন তিনি সারিফ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ঋতুবর্তী হলেন, অথচ তিনি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গোসল করতে, মাথার চুল খুলে চিরুনি করতে এবং উমরা ছেড়ে দিতে ও তা বর্জন করতে নির্দেশ দিলেন। তিনি ইহরাম ভঙ্গ না করে উমরাকে হজের অন্তর্ভুক্ত করলেন এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজের যাবতীয় কার্যাদি পালন করার নির্দেশ পেলেন। সারিফ নামক স্থানে অবস্থানকালে তিনি (আলাইহিস সালাম) লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন: "তোমাদের মধ্যে যার সাথে কোরবানির পশু নেই, সে যদি ইহরামকে উমরায় পরিণত করতে পছন্দ করে তবে সে যেন তা করে। আর যার সাথে কোরবানির পশু আছে সে যেন তা না করে।" ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ উমরায় পরিণত করলেন যেমনটি তাদের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, আবার কেউ কেউ হজের নিয়তের ওপরই অবিচল থাকলেন এবং একে উমরায় পরিণত করলেন না—এটি তাদের ক্ষেত্রে যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল না। আর যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল, তারা একে আদতেই উমরায় পরিণত করেননি।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
وَأَمَرَ عليه السلام فِي بَعْضِ طَرِيقِهِ ذَلِكَ مَنْ مَعَهُ شَاءٌ أَنْ يُهِلَّ بِالْقِرَانِ: بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ مَعًا. ثُمَّ نَهَضَ عليه السلام إِلَى أَنْ نَزَلَ بِذِي طُوًى، فَبَاتَ بِهَا لَيْلَةَ الْأَحَدِ لِأَرْبَعٍ خَلَوْنَ لِذِي الْحِجَّةِ، وَصَلَّى الصُّبْحَ بِهَا، وَدَخَلَ مَكَّةَ نَهَارًا مِنْ أَعْلَاهَا مِنْ كُدَاءَ مِنَ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا صَبِيحَةَ يَوْمِ الْأَحَدِ الْمَذْكُورِ الْمُؤَرَّخِ فَاسْتَلَمَ الْحَجَرَ الْأَسْوَدَ، وَطَافَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْكَعْبَةِ سَبْعًا، رَمَلَ ثَلَاثًا مِنْهَا وَمَشَى أَرْبَعًا يَسْتَلِمُ الْحَجَرَ الْأَسْوَدَ وَالرُّكْنَ الْيَمَانِيَّ فِي كُلِّ طَوْفَةٍ، وَلَا يَمَسُّ الرُّكْنَيْنِ الْآخَرَيْنِ اللَّذَيْنِ فِي الْحِجْرِ، وَقَالَ بَيْنَهُمَا {رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} [البقرة: 201] ثُمَّ صَلَّى عِنْدَ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام رَكْعَتَيْنِ، يَقْرَأُ فِيهِمَا مَعَ أُمِّ الْقُرْآنِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ جَعَلَ الْمَقَامَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَةِ، وَقَرَأَ عليه السلام إِذْ أَتَى الْمَقَامَ قَبْلَ أَنْ يَرْكَعَ {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} [البقرة: 125] ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ فَاسْتَلَمَهُ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَقَرَأَ {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} [البقرة: 158] «أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ» ، فَطَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ أَيْضًا سَبْعًا رَاكِبًا عَلَى بَعِيرِهِ، يَخُبُّ ثَلَاثًا وَيَمْشِي أَرْبَعًا، إِذَا رَقِيَ عَلَى الصَّفَا اسْتَقْبَلَ الْكَعْبَةَ وَنَظَرَ إِلَى الْبَيْتِ وَوَحَّدَ اللَّهَ وَكَبَّرَهُ، وَقَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ» ، ثُمَّ يَدْعُو، ثُمَّ يَفْعَلُ عَلَى الْمَرْوَةِ مِثْلَ ذَلِكَ، فَلَمَّا أَكْمَلَ عليه السلام الطَّوَافَ وَالسَّعْيَ أَمَرَ كُلَّ مَنْ لَا هَدْيَ مَعَهُ بِالْإِحْلَالِ حَتْمًا وَلَا بُدَّ؛ قَارِنًا كَانَ أَوْ مُفْرِدًا، وَأَنْ يَحِلُّوا الْحِلَّ كُلَّهُ، مِنْ وَطْءِ النِّسَاءِ وَالطِّيبِ وَالْمَخِيطِ، وَأَنْ يَبْقَوْا كَذَلِكَ إِلَى يَوْمِ التَّرْوِيَةِ وَهُوَ يَوْمُ مِنًى، فَيُهِلُّوا حِينَئِذٍ بِالْحَجِّ
তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর সেই সফরের কোনো এক স্থানে তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে যারা চেয়েছিলেন তাদেরকে হজ্জ ও উমরাহ একত্রে পালন করার (কিরান) নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাম) যাত্রা অব্যাহত রাখলেন যতক্ষণ না যি-তুওয়া নামক স্থানে অবতরণ করলেন। যিলহজ্জ মাসের চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রবিবারের রাতে তিনি সেখানে রাত্রিযাপন করলেন এবং সেখানে সুবহে সাদিকের সালাত আদায় করলেন। উল্লিখিত তারিখের সেই রবিবার সকালে তিনি মক্কার উচ্চভূমি অর্থাৎ কুদা-এর উঁচু গিরিপথ দিয়ে দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন বা স্পর্শ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাবার চারদিকে সাতবার তওয়াফ করলেন; যার মধ্যে প্রথম তিন চক্করে 'রমল' (দ্রুত পদে চলা) করলেন এবং বাকি চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেন। তিনি প্রতিটি চক্করে হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করতেন এবং হাতীমের দিকের বাকি অন্য দুটি কোণ স্পর্শ করতেন না। তিনি সেই দুই কোণের মাঝে বলতেন: "হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন আর আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।" [বাকারা: ২০১] অতঃপর তিনি মাকামে ইবরাহীমের (আলাইহিস সালাম) নিকট দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। তাতে তিনি সূরা ফাতিহার সাথে 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' এবং 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করলেন। তিনি মাকামকে তাঁর এবং কাবার মাঝখানে রাখলেন। রুকু করার আগে মাকামের নিকট পৌঁছে তিনি (আলাইহিস সালাম) পাঠ করলেন: "তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।" [বাকারা: ১২৫] এরপর তিনি পুনরায় হাজরে আসওয়াদের নিকট ফিরে এসে তা স্পর্শ করলেন। অতঃপর সাফা ও মারওয়ার দিকে বের হলেন এবং পাঠ করলেন: "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" [বাকারা: ১৫৮]। তিনি বললেন: "আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, আমিও তা দিয়েই শুরু করছি।" এরপর তিনি তাঁর উটের পিঠে সওয়ার হয়ে সাফা ও মারওয়ার মাঝেও সাতবার তওয়াফ (সাঈ) করলেন। তিনি তিন চক্কর দ্রুত গতিতে এবং চার চক্কর পায়ে হেঁটে সম্পন্ন করলেন। যখন তিনি সাফার উপরে উঠলেন, কাবার দিকে মুখ করলেন এবং আল্লাহর ঘরের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করলেন ও তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক। তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।" এরপর তিনি দোয়া করলেন এবং মারওয়া পাহাড়ের উপরেও তদ্রূপ করলেন। যখন তিনি (আলাইহিস সালাম) তওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করলেন, তখন যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তাদের সবাইকে আবশ্যিকভাবে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন; চাই তারা কিরানকারী হোক বা ইফরাদকারী। তারা যেন পুরোপুরি হালাল হয়ে যায়—স্ত্রী সহবাস, সুগন্ধি ব্যবহার এবং সেলাই করা কাপড় পরিধান করার মাধ্যমে। তারা তারবিয়ার দিন অর্থাৎ মিনার দিন পর্যন্ত এভাবেই অবস্থান করবে এবং সেদিন তারা পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধবে।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
وَيُحْرِمُوا حِينَ ذَلِكَ عِنْدَ نُهُوضِهِمْ إِلَى مِنًى، وَأَمَرَ مَنْ مَعَهُ الْهَدْيَ بِالْبَقَاءِ عَلَى إِحْرَامِهِمْ، وَقَالَ لَهُمْ عليه السلام حِينَئِذٍ إِذْ تَرَدَّدَ بَعْضُهُمْ: «لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا سُقْتُ الْهَدْيَ حَتَّى اشْتَرَيْتُهُ، وَلَجَعَلْتُهَا عُمْرَةً، وَلَأَحْلَلْتُ كَمَا أَحْلَلْتُمْ، وَلَكِنِّي سُقْتُ الْهَدْيَ، فَلَا أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ الْهَدْيَ» ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَطَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ وَعَلِيٌّ وَرِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الْوَفْرِ سَاقُوا الْهَدْيَ، فَلَمْ يَحِلُّوا وَبَقَوْا مُحْرِمِينَ، كَمَا بَقِي عليه السلام مُحْرِمًا؛ لِأَنَّهُ كَانَ سَاقَ الْهَدْيَ مَعَ نَفْسِهِ، وَكَانَ أُمَّهَاتُ الْمُؤْمِنِينَ لَمْ يَسُقْنَ هَدْيًا فَأَحْلَلْنَ، وَكُنَّ قَارِنَاتِ حَجٍّ وَعُمْرَةٍ، وَكَذَلِكَ فَاطِمَةُ بِنْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ، أَحَلَّتَا حَاشَا عَائِشَةَ، رضي الله عنها، فَإِنَّهَا مِنْ أَجْلِ حَيْضِهَا لَمْ تَحِلَّ كَمَا ذَكَرْنَا، وَشَكَا عَلِيٌّ فَاطِمَةَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ أَحَلَّتْ فَصَدَّقَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي أَنَّهُ هُوَ أَمَرَهَا بِذَلِكَ، وَحِينَئِذٍ سَأَلَهُ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ الْكِنَانِيُّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مُتْعَتُنَا هَذِهِ، أَلِعَامِنَا هَذَا أَمْ لِلْأَبَدِ؟ فَشَبَّكَ عليه السلام بَيْنَ أَصَابِعِهِ، وَقَالَ: «بَلْ لِأَبَدِ الْأَبَدِ دَخَلَتِ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» ، وَأَمَرَ عليه السلام مَنْ جَاءَ إِلَى الْحَجِّ عَلَى غَيْرِ الطَّرِيقِ الَّتِي أَتَى عليه السلام عَلَيْهَا مِمَّنْ أَهَلَّ بِإِهْلَالٍ كَإِهْلَالِهِ أَنْ يَثْبُتُوا عَلَى أَحْوَالِهِمْ، فَمَنْ سَاقَ مَعَهُ الْهَدْيَ لَمْ يَحِلَّ، فَكَانَ عَلِيٌّ فِي أَهْلِ هَذِهِ الصِّفَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْهُمْ لَمْ يَسُقِ الْهَدْيَ أَنْ يَحِلَّ، فَكَانَ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ مِنْ أَهْلِ هَذِهِ الصِّفَةِ، وَأَقَامَ عليه السلام بِمَكَّةَ مُحْرِمًا مِنْ أَجْلِ هَدْيِهِ يَوْمَ الْأَحَدِ الْمَذْكُورِ وَالِاثْنَيْنِ وَالثُّلَاثَاءِ وَالْأَرْبِعَاءِ وَلَيْلَةَ الْخَمِيسِ ثُمَّ نَهَضَ صلى الله عليه وسلم ضَحْوَةَ يَوْمِ الْخَمِيسِ، وَهُوَ يَوْمُ مِنًى، وَهُوَ يَوْمُ
এবং সেই সময়ে যখন তারা মিনার দিকে রওয়ানা হবেন তখন যেন ইহরাম পরিধান করেন। আর যাদের সাথে হাদয় (কুরবানির পশু) ছিল তাদের তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকার আদেশ দিলেন। যখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধাবোধ করছিলেন, তখন তিনি (তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাদের বললেন: “আমি যদি আমার বিষয়ের পরিণাম আগে জানতাম যা পরে জেনেছি, তবে আমি হাদয় সাথে নিয়ে আসতাম না বরং তা ক্রয় করতাম; এবং আমি একে উমরায় রূপান্তরিত করতাম এবং তোমরা যেভাবে ইহরাম মুক্ত হয়েছ আমিও সেভাবে ইহরাম মুক্ত হয়ে যেতাম। কিন্তু আমি হাদয় সাথে নিয়ে এসেছি, তাই পশু যবেহ না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম মুক্ত হব না।” আবু বকর, উমর, তালহা, জুবাইর, আলী এবং সম্পদশালী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একদল লোক হাদয় সাথে নিয়ে এসেছিলেন, তাই তারা ইহরাম মুক্ত হননি এবং ইহরাম অবস্থায়ই রয়ে গেলেন, যেমনটি তিনি (তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ইহরাম অবস্থায় ছিলেন; কারণ তিনি নিজেই হাদয় সাথে এনেছিলেন। উম্মাহাতুল মুমিনীন (রাসূলের স্ত্রীগণ) হাদয় সাথে আনেননি বলে তারা ইহরাম মুক্ত হয়ে গেলেন, যদিও তারা হজ্জ ও উমরার একত্রে নিয়তকারী (কিরান) ছিলেন। একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা এবং আবু বকরের কন্যা আসমা ইহরাম মুক্ত হয়ে গেলেন, কেবল আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ব্যতীত; কেননা তাঁর ঋতুবতী হওয়ার কারণে তিনি ইহরাম মুক্ত হতে পারেননি, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। ফাতিমা ইহরাম মুক্ত হওয়ায় আলী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে অনুযোগ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতিমার কথা সমর্থন করলেন যে, তিনিই তাকে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় সুরাকা বিন মালিক বিন জু'শুম আল-কিনানী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এই মুতআ (হজ্জের ভেতর উমরা করা) কি কেবল এই বছরের জন্য নাকি অনন্তকালের জন্য? তখন তিনি (তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) স্বীয় আঙ্গুলসমূহ একে অপরের মধ্যে প্রবেশ করালেন এবং বললেন: “বরং অনন্তকালের জন্য; কিয়ামত পর্যন্ত উমরা হজ্জের ভেতর প্রবেশ করল।” এবং তিনি (তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ঐ ব্যক্তিদের যারা তাঁর আসার পথ ব্যতীত অন্য পথে হজ্জে এসেছিলেন এবং তাঁর মতোই ইহরামের নিয়ত করেছিলেন, তাদের নিজ নিজ অবস্থায় অটল থাকতে বললেন। যাদের সাথে হাদয় ছিল তারা ইহরাম মুক্ত হননি, আলী এই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর যাদের সাথে হাদয় ছিল না তাদের ইহরাম মুক্ত হওয়ার আদেশ দিলেন, আবু মুসা আল-আশআরী এই দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি (তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর হাদয়ের কারণে উল্লিখিত রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবারের রাত পর্যন্ত মক্কায় ইহরাম অবস্থায় অবস্থান করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃহস্পতিবারের পূর্বাহ্নে যাত্রা করলেন, আর এটি হলো মিনার দিন, আর এটি হলো
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١١٩)
التَّرْوِيَةِ مَعَ النَّاسِ إِلَى مِنًى، وَفِي ذَلِكَ الْوَقْتِ أَحْرَمَ بِالْحَجِّ مِنَ الْأَبْطَحِ كُلُّ مَنْ كَانَ أَحَلَّ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم، فَأَحْرَمُوا فِي نُهُوضِهِمْ إِلَى مِنًى فِي الْيَوْمِ الْمَذْكُورِ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى الظُّهْرَ مِنْ يَوْمِ الْخَمِيسِ الْمَذْكُورِ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ الْآخِرَةَ، وَبَاتَ بِهَا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، وَصَلَّى بِهَا الصُّبْحَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ ثُمَّ نَهَضَ عليه السلام، بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ الْمَذْكُورِ إِلَى عَرَفَةَ بَعْدَ أَنْ أَمَرَ عليه السلام بِأَنْ تُضْرَبَ لَهُ قُبَّةٌ مِنْ شَعْرِ بِنَمِرَةَ، فَأَتَى عليه السلام عَرَفَةَ، وَنَزَلَ فِي قُبَّتِهِ الَّتِي ذَكَرْنَا، حَتَّى إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِنَاقَتِهِ الْقَصْوَاءِ، فَرُحِّلَتْ لَهُ، ثُمَّ أَتَى بَطْنَ الْوَادِي فَخَطَبَ النَّاسَ عَلَى رَاحِلَتِهِ خُطْبَةً ذَكَرَ فِيهَا عليه السلام تَحْرِيمَ الدِّمَاءِ وَالْأَمْوَالِ وَالْأَعْرَاضِ، وَوَضَعَ فِيهَا أُمُورَ الْجَاهِلِيَّةِ وَدِمَاءَهَا، وَأَوَّلُ مَا وَضَعَ دَمَ ابْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، كَانَ مُسْتَرْضَعًا فِي بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ مِنْ هَوَازِنَ، فَقَتَلَهُ هُذَيْلٌ، وَذَكَرَ النَّسَّابُونَ أَنَّهُ كَانَ صَغِيرًا يَحْبُو أَمَامَ الْبُيُوتِ، وَكَانَ اسْمُهُ آدَمَ، فَأَصَابَهُ حَجَرٌ غَائِرٌ أَوْ سَهْمٌ غَرْبٌ، مِنْ يَدِ رَجُلٍ مِنْ بَنِي هُذَيْلٍ فَمَاتَ، ثُمَّ نَرْجِعُ إِلَى وَصْفِ عَمَلِهِ عليه السلام، وَوَضَعَ أَيْضًا عليه السلام فِي خُطْبَتِهِ بِعَرَفَةَ رِبَا الْجَاهِلِيَّةِ، وَأَوَّلُ رِبًا وَضَعَهُ رِبَا عَمِّهِ الْعَبَّاسِ رضي الله عنه، وَأَوْصَى بِالنِّسَاءِ خَيْرًا وَأَبَاحَهُمْ ضَرْبَهُنَّ غَيْرَ مُبَرِّحٍ، إِنْ عَصَيْنَ بِمَا لَا يَحِلُّ وَقَضَى لَهُنَّ بِالرِّزْقِ وَالْكِسْوَةِ بِالْمَعْرُوفِ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ، وَأَمَرَ بِالِاعْتِصَامِ بَعْدَهُ بِكِتَابِ اللَّهِ عز وجل وَأَخْبَرَ أَنَّهُ لَنْ
তারবিয়ার দিনে মানুষের সাথে মিনার অভিমুখে রওনা হলেন এবং সেই সময়ে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর মধ্যে যারা হালাল হয়ে গিয়েছিলেন, তারা সকলে 'আবতাহ' থেকে হজের ইহরাম বাঁধলেন। অতঃপর তারা উল্লিখিত দিনে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে ইহরাম গ্রহণ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) উক্ত বৃহস্পতিবার দিনে মিনায় জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা সালাত আদায় করলেন এবং সেখানে জুমার রাতে রাতযাপন করলেন। অতঃপর সেখানে জুমার দিনের ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি (আ.) উক্ত জুমার দিন সূর্যোদয়ের পর আরাফার অভিমুখে যাত্রা করলেন; এর আগে তিনি (আ.) নামিরা নামক স্থানে তাঁর জন্য পশমের একটি তাবু খাটানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি (আ.) আরাফায় উপস্থিত হলেন এবং আমাদের উল্লিখিত সেই তাবুতে অবস্থান নিলেন। এমনকি যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তিনি তাঁর 'কাসওয়া' নামক উষ্ট্রীটি প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁর জন্য সেটি সাজানো হলো। এরপর তিনি উপত্যকার অভ্যন্তরে আসলেন এবং তাঁর সওয়ারীর পিঠে বসে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তাতে তিনি (আ.) রক্তপাত, ধন-সম্পদ ও ইজ্জত-সম্মান হরণ হারাম হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন। সেখানে তিনি জাহেলী যুগের যাবতীয় রীতিনীতি ও রক্তপাতের দাবি বাতিল করে দিলেন। প্রথম যে রক্তের দাবি তিনি বাতিল করলেন, তা ছিল রবিআ ইবনে হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্রের রক্ত। তাকে হাওয়াজিন গোত্রের বনু সাদ ইবনে বকর শাখায় স্তন্যদানের জন্য রাখা হয়েছিল, অতঃপর হুযায়েল গোত্র তাকে হত্যা করে। বংশবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, সে ছিল এক শিশু যে ঘরের আঙিনায় হামাগুড়ি দিচ্ছিল এবং তার নাম ছিল আদম। বনু হুযায়েল গোত্রের এক ব্যক্তির হাত থেকে নিক্ষিপ্ত লক্ষ্যভ্রষ্ট পাথর বা তীর তার গায়ে লাগলে সে মারা যায়। এরপর আমরা পুনরায় তাঁর (আ.) কার্যাবলীর বর্ণনায় ফিরে আসি। তিনি (আ.) আরাফাতের ভাষণে জাহেলী যুগের সুদও বাতিল ঘোষণা করলেন। প্রথম যে সুদ তিনি রহিত করলেন, তা ছিল তাঁর চাচা আব্বাস (রা.)-এর সুদ। তিনি নারীদের বিষয়ে কল্যাণের উপদেশ দিলেন এবং তারা যদি কোনো অবৈধ কাজে অবাধ্যতা করে, তবে তাদের মৃদু প্রহারের অনুমতি দিলেন যা জখম সৃষ্টি করে না। তিনি স্বামীদের ওপর নিয়মমাফিক তাদের রিযিক ও পোশাক-পরিচ্ছদ প্রদানের বিধান দিলেন। তিনি তাঁর পরে মহান আল্লাহর কিতাবকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিলেন এবং অবহিত করলেন যে এটি কখনোই...
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٠)
يَضِلَّ مَنِ اعْتَصَمَ بِهِ وَأَشْهَدَ اللَّهَ عز وجل عَلَى النَّاسِ أَنَّهُ قَدْ بَلَّغَهُمْ مَا يَلْزَمُهُمْ، فَاعْتَرَفَ النَّاسُ بِذَلِكَ، وَأَمَرَ عليه السلام أَنْ يُبَلِّغَ ذَلِكَ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، وَبَعَثَتْ إِلَيْهِ أُمُّ الْفَضْلِ بِنْتُ الْحَارِثِ الْهِلَالِيَّةُ، وَهِيَ أُمُّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ لَبَنًا فِي قَدَحٍ فَشَرِبَهُ عليه السلام أَمَامَ النَّاسِ، وَهُوَ عَلَى بَعِيرِهِ فَعَلِمُوا أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ صَائِمًا فِي يَوْمِهِ ذَلِكَ، فَلَمَّا أَتَمَّ الْخُطْبَةَ الْمَذْكُورَةَ أَمَرَ بِلَالًا فَأَذَّنَ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ، وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا، لَكِنْ صَلَّاهُمَا عليه السلام بِالنَّاسِ مَجْمُوعَتَيْنِ فِي وَقْتِ الظُّهْرِ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ لَهُمَا مَعًا وَبِإِقَامَتَيْنِ، لِكُلِّ صَلَاةٍ مِنْهُمَا إِقَامَةٌ، ثُمَّ رَكِبَ عليه السلام رَاحِلَتَهُ حَتَّى أَتَى الْمَوْقِفَ، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَجَعَلَ جَبَلَ الْمُشَاةِ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا لِلدُّعَاءِ، وَهُنَالِكَ سَقَطَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَنْ رَاحِلَتِهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ فِي جُمْلَةِ الْحَجِيجِ فَمَاتَ، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَنْ يُكَفَّنَ فِي ثَوْبَيْهِ وَلَا يُمَسَّ بِطِيبٍ وَلَا يُحَنَّطَ وَلَا يُغَطَّى رَأْسُهُ وَلَا وَجْهُهُ، وَأَخْبَرَ عليه السلام أَنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا، وَسَأَلَهُ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ هُنَالِكَ عَنِ الْحَجِّ، فَأَعْلَمَهُمْ عليه السلام بِوُجُوبِ الْوُقُوفِ بِعَرَفَةَ وَوَقْتِ الْوُقُوفِ بِهَا، وَأَرْسَلَ إِلَى النَّاسِ أَنْ يَقِفُوا عَلَى مَشَاعِرِهِمْ، فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا لِلدُّعَاءِ حَتَّى إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ الْمَذْكُورِ وَذَهَبَتِ الصُّفْرَةُ أَرْدَفَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ خَلْفَهُ، وَدَفَعَ عليه السلام وَقَدْ ضَمَّ زِمَامَ نَاقَتِهِ الْقَصْوَاءِ، حَتَّى إِنَّ رَأْسَهَا لَيُصِيبُ طَرَفَ رِجْلِهِ، ثُمَّ مَضَى يَسِيرُ الْعَنَقَ، فَإِذَا وَجَدَ فَجْوَةً نَصَّ، وَكِلَاهُمَا ضَرْبٌ مِنَ السَّيْرِ، وَالنَّصُّ آكَدُهُمَا، وَالْفَجْوَةُ الْفُسْحَةُ مِنَ النَّاسِ، كُلَّمَا أَتَى رَبْوَةً مِنْ تِلْكَ الرَّوَابِي أَرْخَى لِلنَّاقَةِ زِمَامَهَا قَلِيلًا، حَتَّى تَصْعَدَهَا، وَهُوَ عليه السلام يَأْمُرُ النَّاسَ بِالسَّكِينَةِ فِي السَّيْرِ
যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে সে পথভ্রষ্ট হবে না। তিনি মানুষের ওপর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহকে সাক্ষী রাখলেন যে, তিনি তাদের নিকট তাদের ওপর যা আবশ্যক ছিল তা পৌঁছে দিয়েছেন; তখন উপস্থিত জনতা তা স্বীকার করে নিল। তিনি (আলাইহিস সালাম) নির্দেশ দিলেন যেন উপস্থিত ব্যক্তিরা অনুপস্থিতদের নিকট এ বাণী পৌঁছে দেয়। তখন উম্মুল ফজল বিনতে হারিস আল-হিলালিয়া—যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের জননী—একটি পাত্রে তাঁর নিকট কিছু দুধ পাঠালেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) উটের পিঠে থাকা অবস্থায় উপস্থিত মানুষের সম্মুখে তা পান করলেন। এতে তারা জানতে পারলেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেদিন রোজা রাখেননি। অতঃপর যখন তিনি উল্লেখিত খুতবা সমাপ্ত করলেন, তখন বিলালকে নির্দেশ দিলেন। বিলাল আজান দিলেন, এরপর ইকামাত দিলেন এবং তিনি জোহরের সালাত আদায় করলেন। পুনরায় ইকামাত দেওয়া হলো এবং তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি এই দুই সালাতের মাঝে অন্য কোনো সালাত আদায় করেননি। তবে তিনি (আলাইহিস সালাম) জোহরের ওয়াক্তেই লোকদের নিয়ে দুই সালাত একত্রে আদায় করেছিলেন—একটি আজান ও দুই ইকামাতের মাধ্যমে, যেখানে প্রতিটি সালাতের জন্য পৃথক ইকামাত ছিল। এরপর তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর সওয়ারিতে আরোহণ করে অবস্থানের স্থানে (মাওকিফ) আসলেন। তিনি কিবলামুখী হলেন এবং পদাতিকদের পাহাড়কে তাঁর সামনে রাখলেন। তিনি নিরন্তর দোয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলেন। সেখানে হাজিদের কাফেলার মধ্যে ইহরাম পরিহিত এক মুসলিম ব্যক্তি তাঁর সওয়ারি থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন যেন তাকে তাঁর দুই কাপড়েই কাফন দেওয়া হয়, কোনো সুগন্ধি স্পর্শ করানো না হয়, সুগন্ধি মাখানো না হয় এবং তার মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করা না হয়। তিনি (আলাইহিস সালাম) সংবাদ দিলেন যে, কিয়ামতের দিন তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে। সেখানে নজদবাসী একদল লোক তাঁকে হজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে আরাফায় অবস্থান করার আবশ্যকতা এবং এর সময়কাল সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি মানুষের মাঝে ঘোষণা পাঠালেন যেন তারা তাদের নির্দিষ্ট পবিত্র স্থানগুলোতে (মাশাঈর) অবস্থান করে। তিনি ক্রমাগত দোয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলেন যতক্ষণ না উল্লেখিত জুমুয়াবারের সূর্য অস্তমিত হলো এবং আকাশের হলদে আভা অপসৃত হলো। এরপর তিনি উসামা ইবনে যায়েদকে তাঁর পেছনে বসালেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) রওয়ানা হলেন এবং নিজের 'কাসওয়া' নামক উটনীর লাগাম এমনভাবে টেনে ধরলেন যে, সেটির মাথা তাঁর পায়ের অগ্রভাগে এসে ঠেকছিল। এরপর তিনি মধ্যম গতিতে চলতে লাগলেন, তবে যখনই কোনো ফাঁকা জায়গা পেতেন তখন দ্রুত চলতেন। এ দুটিই চলাচলের বিশেষ ধরণ, যার মধ্যে 'নাস' (দ্রুত গতি) অধিকতর ক্ষিপ্র। 'ফজওয়া' অর্থ মানুষের ভিড়ের মাঝে ফাঁকা স্থান। পথিমধ্যে যখনই কোনো টিলার ওপর আসতেন, তিনি উটনীর লাগাম কিছুটা ঢিল করে দিতেন যেন সেটি সহজে উপরে আরোহণ করতে পারে। এমতাবস্থায় তিনি (আলাইহিস সালাম) লোকজনকে শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে পথ চলতে নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢١)
، فَلَمَّا كَانَ فِي الطَّرِيقِ عِنْدَ الشِّعْبِ الْأَيْسَرِ، نَزَلَ عليه السلام فَبَالَ وَتَوَضَّأَ وُضُوءًا خَفِيفًا، وَقَالَ لِأُسَامَةَ: «الْمُصَلَّى أَمَامَكَ» أَوْ كَلَامًا هَذَا مَعْنَاهُ، ثُمَّ رَكِبَ حَتَّى أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ لَيْلَةَ السَّبْتِ الْعَاشِرَةِ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ، فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ الْآخِرَةَ مَجْمُوعَتَيْنِ فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ دُونَ خُطْبَةٍ، وَلَكِنْ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ لَهُمَا وَبِإِقَامَتَيْنِ، لِكُلِّ صَلَاةٍ مِنْهُمَا إِقَامَةٌ، وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا، ثُمَّ اضْطَجَعَ عليه السلام بِهَا، حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ، فَقَامَ عليه السلام وَصَلَّى الْفَجْرَ بِالنَّاسِ بِمُزْدَلِفَةَ يَوْمَ السَّبْتِ الْمَذْكُورِ، وَهُوَ يَوْمُ النَّحْرِ، وَهُوَ يَوْمُ الْأَضْحَى، وَهُوَ يَوْمُ الْعِيدِ، وَهُوَ يَوْمُ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ مُغَلِّسًا أَوَّلَ انْصِدَاعِ الْفَجْرِ، وَهُنَالِكَ سَأَلَهُ عُرْوَةُ بْنُ مُضَرِّسٍ الطَّائِيُّ، وَقَدْ ذَكَرَ لَهُ عَمَلَهُ أَنَّهُ حَجَّ، فَقَالَ لَهُ عليه السلام: «إِنَّ مَنْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ، يَعْنِي صَلَاةَ الصُّبْحِ، بِمُزْدَلِفَةَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ مَعَ النَّاسِ فَقَدْ أَدْرَكَ الْحَجَّ، وَإِلَّا فَلَمْ يُدْرِكْ» . وَاسْتَأْذَنَتْهُ سَوْدَةُ وَأُمُّ حَبِيبَةَ فِي أَنْ تَدْفَعَا مِنْ مُزْدَلِفَةَ لَيْلًا، فَأَذِنَ لَهُمَا وَلِأُمِّ سَلَمَةَ فِي ذَلِكَ وَلِلنِّسَاءِ وَلِلضُّعَفَاءِ بَعْدَ وُقُوفِ جَمِيعِهِمْ بِمُزْدَلِفَةَ، وَذِكْرِهُمُ اللَّهَ تَعَالَى بِهَا، إِلَّا أَنَّهُ عليه السلام أَذِنَ لِلنِّسَاءِ فِي الرَّمْيِ بِلَيْلٍ وَلَمْ يَأْذَنْ لِلرِّجَالِ فِي ذَلِكَ، لَا لِضُعَفَائِهِمْ وَلَا لِغَيْرِ ضُعَفَائِهِمْ، وَكَانَ ذَلِكَ الْيَوْمُ يَوْمَ كَوْنِهِ عليه السلام عِنْدَ أُمِّ سَلَمَةَ، فَلَمَّا صَلَّى عليه السلام الصُّبْحَ كَمَا ذَكَرْنَا بِمُزْدَلِفَةَ أَتَى الْمَشْعَرَ الْحَرَامَ بِهَا فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَدَعَا اللَّهَ عز وجل بِهَا، وَكَبَّرَ وَهَلَّلَ وَوَحَّدَ، وَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا بِهَا حَتَّى أَسْفَرَ جِدًّا، وَقَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَدَفَعَ عليه السلام حِينَئِذٍ مِنْ مُزْدَلِفَةَ، وَقَدْ أَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ الْعَبَّاسِ وَانْطَلَقَ أُسَامَةُ عَلَى رِجْلَيْهِ فِي سُبَّاقِ قُرَيْشٍ، وَهُنَالِكَ سَأَلَتِ الْخَثْعَمِيَّةُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم الْحَجَّ عَنْ أَبِيهَا الَّذِي لَا يُطِيقُ الْحَجَّ، فَأَمَرَهَا أَنْ تَحُجَّ عَنْهُ، وَجَعَلَ عليه السلام يَصْرِفُ بِيَدِهِ وَجْهَ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّظَرِ
অতঃপর যখন তিনি রাস্তার বাম দিকের গিরিপথের নিকট পৌঁছালেন, তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) সওয়ারি থেকে নামলেন এবং প্রস্রাব করলেন ও হালকাভাবে অজু করলেন। তিনি উসামাকে বললেন: "নামাজের স্থান তোমার সামনে" অথবা এই অর্থবোধক কোনো কথা বললেন। এরপর তিনি সওয়ার হলেন এবং ১০ই জিলহজ শনিবার দিবাগত রাতে মুজদালিফায় পৌঁছালেন। সেখানে তিনি অজু করলেন, অতঃপর মাগরিব ও ইশা নামাজকে ইশার সময়ে একত্রে আদায় করলেন। এতে কোনো খুতবা ছিল না, তবে একটি আজান ও দুটি ইকামত ছিল; প্রতিটি নামাজের জন্য আলাদা আলাদা ইকামত। আর তিনি এই দুই নামাজের মাঝে অন্য কোনো নামাজ পড়েননি। তারপর তিনি (আলাইহিস সালাম) সেখানে শুয়ে পড়লেন এবং ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নিলেন। অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাম) দাঁড়ালেন এবং উল্লিখিত শনিবারের দিন অর্থাৎ নহরের দিন বা কুরবানির দিন, যা ঈদের দিন এবং হজ্বে আকবরের দিন—মুজদালিফায় মানুষের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলেন। তিনি উষালগ্নে ফজরের একদম শুরুর সময়ে নামাজ আদায় করলেন। সেখানে উরওয়াহ ইবনে মুদাররিস আত-তায়ি তাঁকে প্রশ্ন করলেন এবং তাঁর হজ পালনের বিবরণ দিলেন। তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন: "যে ব্যক্তি সেই দিন মুজদালিফায় মানুষের সাথে এই নামাজ অর্থাৎ ফজরের নামাজ পাবে, সে হজ পেল; অন্যথায় সে তা পেল না।" আর সাওদা ও উম্মে হাবিবা তাঁর নিকট রাত থাকতেই মুজদালিফা থেকে রওয়ানা হওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁদেরকে এবং উম্মে সালামাহকে এবং সকল নারী ও দুর্বলদেরকে সেই অনুমতি দিলেন—তাদের সকলের মুজদালিফায় অবস্থান করা এবং সেখানে মহান আল্লাহর জিকির করার পর। তবে তিনি (আলাইহিস সালাম) নারীদের রাতে পাথর নিক্ষেপের অনুমতি দিলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে তা দেননি—চাই তারা দুর্বল হোক বা সবল। আর সেই দিনটি ছিল উম্মে সালামাহর সাথে তাঁর (আলাইহিস সালাম) অবস্থানের পালার দিন। অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাম) যখন মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করলেন—যেমনটা আমরা উল্লেখ করেছি—তখন তিনি মাশআরুল হারামে আসলেন। সেখানে তিনি কিবলার দিকে মুখ করলেন এবং মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন। তিনি তাকবির, তাহলিল ও আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দিলেন। তিনি সূর্যোদয়ের আগে আকাশ যথেষ্ট ফর্সা হওয়া পর্যন্ত সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেন। সেই সময় তিনি (আলাইহিস সালাম) মুজদালিফা থেকে রওনা হলেন। তিনি ফজল ইবনে আব্বাসকে নিজের সওয়ারির পেছনে বসিয়ে নিলেন এবং উসামা কুরাইশদের অগ্রগামীদের সাথে পদব্রজে রওনা হলেন। সেখানে এক খাশআমি নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর পিতার পক্ষ থেকে হজ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, যিনি হজ পালন করতে সক্ষম ছিলেন না। তিনি তাকে তার পিতার পক্ষ থেকে হজ করার আদেশ দিলেন। আর তিনি (আলাইহিস সালাম) নিজের হাত দিয়ে ফজল ইবনে আব্বাসের মুখ দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুরিয়ে দিচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
إِلَيْهَا وَإِلَى النِّسَاءِ، وَكَانَ الْفَضْلُ أَبْيَضَ وَسِيمًا، وَسَأَلَهُ أَيْضًا عليه السلام رَجُلٌ عَنْ مِثْلِ مَا سَأَلَتْ عَنْهُ الْخَثْعَمِيَّةُ، فَأَمَرَهُ عليه السلام بِذَلِكَ، وَنَهَضَ عليه السلام يُرِيدُ مِنًى، فَلَمَّا أَتَى بَطْنَ مُحَسَّرٍ حَرَّكَ نَاقَتَهُ قَلِيلًا، وَسَلَكَ عليه السلام الطَّرِيقَ الْوُسْطَى الَّتِي تَخْرُجُ عَلَى الْجَمْرَةِ الْكُبْرَى حَتَّى أَتَى مِنًى، فَأَتَى الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَ الشَّجَرَةِ، وَهِيَ جَمْرَةُ الْعَقَبَةِ، فَرَمَاهَا عليه السلام مِنْ أَسْفَلِهَا بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنَ الْيَوْمِ الْمُؤَرَّخِ بِحَصًى الْتَقَطَهَا لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ مِنْ مَوْقِفِهِ الَّذِي رَمَى فِيهِ مِثْلَ حَصَى الْخَذْفِ، وَأَمَرَ بِمِثْلِهَا وَنَهَى عَنْ أَكْبَرَ مِنْهَا، وَعَنِ الْغُلُوِّ فِي الدِّينِ، فَرَمَاهَا عليه السلام وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ كَمَا ذَكَرْنَا يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ مِنْهَا، وَحِينَئِذٍ قَطَعَ عليه السلام التَّلْبِيَةَ وَلَمْ يَزَلْ بِمِنًى حَتَّى رَمَى الْجَمْرَةَ الَّتِي ذَكَرْنَا وَرَمَاهَا عليه السلام رَاكِبًا، وَبِلَالٌ وَأُسَامَةُ أَحَدُهُمَا يُمْسِكُ خِطَامَ نَاقَتِهِ عليه السلام، وَالْآخَرُ يُظِلُّهُ بِثَوْبِهِ مِنَ الْحَرِّ، وَخَطَبَ النَّاسَ عليه السلام فِي الْيَوْمِ الْمَذْكُورِ وَهُوَ يَوْمُ النَّحْرِ بِمِنًى خُطْبَةً كَرَّرَ فِيهَا أَيْضًا عليه السلام تَحْرِيمَ الدِّمَاءِ وَالْأَمْوَالِ وَالْأَعْرَاضِ وَالْأَبْشَارِ، وَأَعْلَمَهُمْ عليه السلام فِيهَا بِحُرْمَةِ يَوْمِ النَّحْرِ وَحُرْمَةِ مَكَّةَ عَلَى جَمِيعِ الْبِلَادِ، وَأَمَرَ بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ لِمَنْ قَادَ بِكِتَابِ اللَّهِ عز وجل، وَأَمَرَ النَّاسَ بِأَخْذِ مَنَاسِكِهِمْ فَلَعَلَّهُ لَا يَحُجُّ بَعْدَ عَامِهِ ذَلِكَ، وَعَلَّمَهُمْ مَنَاسِكَهُمْ وَأَنْزَلَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارَ وَالنَّاسَ مَنَازِلَهُمْ، وَأَمَرَ أَنْ لَا يَرْجِعُوا بَعْدَهُ كُفَّارًا، وَأَنْ لَا يَرْجِعُوا بَعْدَهُ ضُلَّالًا يَضْرِبُ بَعْضُهُمْ رِقَابَ بَعْضٍ. وَأَمَرَ بِالتَّبْلِيغِ عَنْهُ وَأَخْبَرَ أَنَّ رُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ
তার এবং অন্যান্য নারীদের দিকে। ফদল ছিলেন উজ্জ্বল বর্ণের ও সুদর্শন। জনৈক ব্যক্তিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাশয়ামিয়া নারী যা জিজ্ঞাসা করেছিলেন তদ্রূপ প্রশ্ন করেছিলেন, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকেও সেটির নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। যখন তিনি বাতনে মুহাসসার নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি তার উটনীকে সামান্য দ্রুত চালালেন। এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মধ্যবর্তী পথটি অনুসরণ করলেন যা জামরাতুল কুবরার দিকে বের হয়েছে, যতক্ষণ না তিনি মিনায় উপনীত হলেন। অতঃপর তিনি সেই জামরাহতে আসলেন যা একটি গাছের নিকটে অবস্থিত, আর তা হলো জামরাতুল আকাবাহ। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্যোদয়ের পর উল্লিখিত দিনে সেটির নিচ থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তার জন্য নিক্ষেপ করার স্থান থেকে কঙ্করগুলো কুড়িয়েছিলেন, যা ছিল ছোট পাথরের টুকরোর ন্যায়। তিনি তদ্রূপ কঙ্কর নিক্ষেপের আদেশ দিলেন এবং এর চেয়ে বড় পাথর এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করতে নিষেধ করলেন। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সওয়ারিতে আরোহিত অবস্থায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় তিনি তাকবীর পাঠ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালবিয়াহ পাঠ বন্ধ করলেন। তিনি মিনায় অবস্থান করতে থাকলেন যতক্ষণ না উল্লিখিত জামরাহতে কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরোহিত অবস্থায় তা নিক্ষেপ করেছিলেন। বিলাল ও উসামাহ—তাদের একজন তার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটনীর লাগাম ধরে রেখেছিলেন এবং অন্যজন তাকে প্রখর তাপ থেকে কাপড় দিয়ে ছায়া দিচ্ছিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লিখিত দিনে অর্থাৎ মিনায় কুরবানির দিনে মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করলেন। তাতে তিনি আবারো সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্ত, সম্পদ, ইজ্জত এবং শরীরের পবিত্রতা হরণ হারাম হওয়ার বিষয়টি পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে তাদের কুরবানির দিনের মর্যাদা এবং সমস্ত জনপদের ওপর মক্কার মর্যাদার কথা অবহিত করলেন। আর আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী যে নেতৃত্ব দিবে তার কথা শ্রবণ ও আনুগত্য করার নির্দেশ দিলেন। তিনি মানুষকে তাদের হজ্জের কার্যাবলী শিখে নিতে বললেন, কেননা সম্ভবতঃ এই বছরের পর তিনি আর হজ্জ করবেন না। তিনি তাদের হজ্জের নিয়মাবলী শিক্ষা দিলেন এবং মুহাজির, আনসার ও সাধারণ মানুষকে তাদের যার যার স্থানে নামিয়ে দিলেন। তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তারা তার পর পুনরায় কাফির হয়ে ফিরে না যায় এবং পথভ্রষ্ট না হয় যে, তারা একে অপরের গর্দান মারতে থাকবে। তিনি তার পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং জানালেন যে, অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে সরাসরি শ্রবণকারীর চেয়েও বেশি সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٣)
ثُمَّ انْصَرَفَ عليه السلام إِلَى الْمَنْحَرِ بِمِنًى فَنَحَرَ ثَلَاثًا وَسِتِّينَ بَدَنَةً، ثُمَّ أَمَرَ عليه السلام بِنَحْرِ مَا بَقِيَ مِنْهَا مِمَّا كَانَ عَلِيٌّ أَتَى بِهِ مِنَ الْيَمَنِ مَعَ مَا كَانَ عليه السلام أَتَى بِهِ مِنَ الْمَدِينَةِ وَكَانَتْ تَمَامَ الْمِائَةِ. ثُمَّ حَلَقَ عليه السلام رَأْسَهُ الْمُقَدَّسَ وَقَسَمَ شَعْرَهُ فَأَعْطَى نِصْفَهُ النَّاسَ الشَّعَرَةَ وَالشَّعَرَتَيْنِ، وَأَعْطَى نِصْفَهُ الثَّانِي كُلَّهُ أَبَا طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيَّ، وَضَحَّى عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ، وَأَهْدَى عَمَّنْ كَانَ اعْتَمَرَ مِنْهُنَّ بَقَرَةً، وَضَحَّى عليه السلام فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ، وَحَلَقَ بَعْضُ الصَّحَابَةِ، وَقَصَّرَ بَعْضُهُمْ، فَدَعَا عليه السلام لِلْمُحَلِّقِينَ ثَلَاثًا وَلِلْمُقَصِّرِينَ مَرَّةً، وَأَمَرَ عليه السلام أَنْ يُؤْخَذَ مِنَ الْبُدْنِ الَّتِي ذَكَرْنَا مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بَضْعَةً، فَجُعِلَتْ فِي قِدْرٍ وَطُبِخَتْ، فَأَكَلَ هُوَ وَعَلِيٌّ مِنْ لَحْمِهَا وَشَرِبَا مِنْ مَرَقِهَا، وَكَانَ عليه السلام قَدْ أَشْرَكَ عَلِيًّا فِيهَا، ثُمَّ أَمَرَ عَلِيًّا بِقِسْمَةِ لُحُومِهَا كُلِّهَا وَجُلُودِهَا وَجِلَالِهَا، وَأَنْ لَا يُعْطِيَ الْجَازِرَ مِنْهَا عَلَى جِزَارَتِهَا شَيْئًا، وَأَعْطَاهُ عليه السلام الْأُجْرَةَ عَلَى ذَلِكَ مِنْ عِنْدَ نَفْسِهِ، وَأَخْبَرَ النَّاسَ أَنَّ عَرَفَةَ كُلَّهَا مَوْقِفٌ حَاشَا بَطْنَ عُرَنَةَ، وَأَنَّ مُزْدَلِفَةَ كُلَّهَا مَوْقِفٌ حَاشَا بَطْنَ مُحَسِّرٍ، وَأَنَّ مِنًى كُلَّهَا مَنْحَرٌ، وَأَنَّ رِحَالَهُمْ بِمِنًى كُلَّهَا مَنْحَرٌ، وَأَنَّ فِجَاجَ مَكَّةَ كُلَّهَا مَنْحَرٌ. ثُمَّ تَطَيَّبَ عليه السلام قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ طَوَافَ الْإِفَاضَةِ، وَلِإِحْلَالِهِ قَبْلَ أَنْ يَحِلَّ فِي يَوْمِ النَّحْرِ، وَهُوَ السَّبْتُ الْمَذْكُورُ، طَيَّبَتْهُ عَائِشَةُ رضي الله عنها بِطِيبٍ فِيهِ مِسْكٌ بِيَدَيْهَا، ثُمَّ نَهَضَ عليه السلام رَاكِبًا إِلَى مَكَّةَ فِي يَوْمِ السَّبْتِ الْمَذْكُورِ نَفْسِهِ فَطَافَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ طَوَافَ الْإِفَاضَةِ وَهُوَ طَوَافُ الصَّدْرِ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَشَرِبَ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ بِالدَّلْوِ وَمِنْ نَبِيذِ السِّقَايَةِ
এরপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মিনায় কুরবানি করার স্থানের দিকে প্রস্থান করলেন এবং তেষট্টিটি উট নিজ হাতে কুরবানি করলেন। এরপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অবশিষ্ট উটগুলো কুরবানি করার নির্দেশ দিলেন, যেগুলো আলী (রা.) ইয়েমেন থেকে নিয়ে এসেছিলেন এবং যেগুলো তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মদিনা থেকে নিয়ে এসেছিলেন, আর এভাবে মোট সংখ্যা একশত পূর্ণ হলো। অতঃপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর পবিত্র মস্তক মুণ্ডন করলেন এবং তাঁর চুল বণ্টন করে দিলেন; এর অর্ধেক তিনি লোকজনকে একটি-দুটি করে দিলেন এবং অপর অর্ধেক সম্পূর্ণটাই আবু তালহা আনসারি (রা.)-কে প্রদান করলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানি করলেন এবং তাঁদের মধ্যে যারা উমরাহ করেছিলেন তাঁদের পক্ষ থেকেও একটি গরু হাদই (উপহার) হিসেবে দিলেন। তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সেদিন দুটি সাদা-কালো বর্ণের ভেড়া কুরবানি করলেন। সাহাবীদের কেউ কেউ মাথা মুণ্ডন করলেন এবং কেউ কেউ চুল ছোট করলেন; অতঃপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার এবং চুল ছোটকারীদের জন্য একবার দোয়া করলেন। তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) নির্দেশ দিলেন যেন উল্লিখিত উটগুলোর প্রত্যেকটি থেকে এক টুকরো করে গোশত নেওয়া হয়। অতঃপর সেগুলো একটি পাতিলে রাখা হলো এবং রান্না করা হলো; ফলে তিনি এবং আলী (রা.) তার গোশত খেলেন এবং তার ঝোল পান করলেন। তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) এসবে আলীকে অংশীদার করেছিলেন। এরপর তিনি আলীকে সেগুলোর সমস্ত গোশত, চামড়া ও পিঠের আবরণ বণ্টন করার নির্দেশ দিলেন এবং কসাইকে তার মজুরি বাবদ এর থেকে কিছু দিতে নিষেধ করলেন। তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) নিজ পক্ষ থেকে তাকে পারিশ্রমিক দিলেন। তিনি মানুষকে অবহিত করলেন যে, বাতনে উরানা ব্যতীত সমগ্র আরাফাহ হলো অবস্থানের স্থান, বাতনে মুহাসসির ব্যতীত সমগ্র মুজদালিফাহ হলো অবস্থানের স্থান এবং সমগ্র মিনা হলো কুরবানির স্থান। এমনকি মিনায় তাঁদের অবস্থানস্থলগুলোও কুরবানির স্থান এবং মক্কার সকল পথ ও গলিও কুরবানির স্থান। এরপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাওয়াফে ইফাদাহ করার পূর্বে এবং নহরের দিন ইহরাম ত্যাগের আগে সুগন্ধি মাখলেন—আর দিনটি ছিল উল্লিখিত শনিবার। আয়েশা (রা.) নিজ হাতে তাঁকে কস্তুরীযুক্ত সুগন্ধি মাখিয়ে দিলেন। এরপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সেই শনিবারেই আরোহী হয়ে মক্কার দিকে যাত্রা করলেন এবং সেদিন জোহরের আগে তাওয়াফে ইফাদাহ (যা তাওয়াফে সদর নামেও পরিচিত) সম্পন্ন করলেন। আর তিনি বালতি দিয়ে জমজমের পানি এবং পানপাত্র থেকে শরবত পান করলেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٤)
ثُمَّ رَجَعَ مِنْ يَوْمِهِ ذَلِكَ إِلَى مِنًى فَصَلَّى بِهَا الظُّهْرَ. هَذَا قَوْلُ ابْنِ عُمَرَ، وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَجَابِرٌ: بَلْ صَلَّى الظُّهْرَ ذَلِكَ الْيَوْمِ بِمَكَّةَ، وَهَذَا الْفَصْلُ الَّذِي أُشْكِلَ عَلَيْنَا الْفَصْلُ فِيهِ بِصِحَّةِ الطُّرُقِ فِي كُلِّ ذَلِكَ، وَلَا شَكَّ أَنَّ أَحَدَ الْخَبَرَيْنِ وَهْمٌ، وَالثَّانِي صَحِيحٌ، وَلَا نَدْرِي أَيُّهُمَا هُوَ. وَطَافَتْ أُمُّ سَلَمَةَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ عَلَى بَعِيرِهَا مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَهِيَ شَاكِيَةٌ اسْتَأْذَنْتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَأَذِنَ لَهَا، وَطَافَتْ أَيْضًا عَائِشَةُ ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَفِيهِ طَهُرَتْ وَكَانَتْ رضي الله عنها حَائِضًا يَوْمَ عَرَفَةَ، وَطَافَتْ أَيْضًا صَفِيَّةُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ ثُمَّ حَاضَتْ بَعْدَ ذَلِكَ لَيْلَةَ النَّفْرِ، ثُمَّ رَجَعَ عليه السلام إِلَى مِنًى وَسُئِلَ عليه السلام حِينَئِذٍ عَمَّا تَقَدَّمَ بَعْضُهُ عَلَى بَعْضٍ مِنَ الرَّمْيِ وَالْحَلْقِ وَالنَّحْرِ وَالْإِفَاضَةِ؟ فَقَالَ فِي ذَلِكَ: «لَا حَرَجَ» ، وَكَذَلِكَ قَالَ أَيْضًا فِي تَقْدِيمِ السَّعْيِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ قَبْلَ الطَّوَافِ بِالْكَعْبَةِ، وَأَخْبَرَ عليه السلام أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَنْزَلَ لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءً إِلَّا الْهَرَمَ، وَعَظَّمَ إِثْمَ مَنِ اقْتَرَضَ عِرْضَ مُسْلِمٍ ظُلْمًا، فَأَقَامَ بِمِنًى بَاقِيَ يَوْمِ السَّبْتِ، وَلَيْلَةَ الْأَحَدِ، وَيَوْمَ الْأَحَدِ، وَلَيْلَةَ الِاثْنَيْنِ، وَيَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَلَيْلَةَ الثُّلَاثَاءِ، وَيَوْمَ الثُّلَاثَاءِ، وَهَذِهِ هِيَ أَيَّامُ مِنًى، وَهِيَ أَيَّامُ التَّشْرِيقِ، يَرْمِي الْجَمَرَاتِ الثَّلَاثَ كُلَّ يَوْمٍ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الثَّلَاثَةِ بَعْدَ الزَّوَالِ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ لِكُلِّ جَمْرَةٍ يَبْدَأُ بِالدُّنْيَا وَهِيَ الَّتِي تَلِي مَسْجِدَ مِنًى، وَيَقِفُ عِنْدَهَا لِلدُّعَاءِ طَوِيلًا، ثُمَّ الَّتِي تَلِيهَا وَهِيَ الْوُسْطَى وَيَقِفُ عِنْدَهَا لِلدُّعَاءِ كَذَلِكَ، ثُمَّ جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ وَلَا يَقِفُ عِنْدَهَا وَيُكَبِّرُ عليه السلام مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ " وَخَطَبَ النَّاسَ أَيْضًا يَوْمَ الْأَحَدِ ثَانِيَ يَوْمِ النَّحْرِ، وَهُوَ يَوْمُ الرُّءُوسِ، وَقَدْ رُوِيَ
অতঃপর তিনি সেদিন মিনায় ফিরে গেলেন এবং সেখানে যোহরের সালাত আদায় করলেন। এটি ইবনে উমরের বক্তব্য। আয়েশা ও জাবির (রা.) বলেছেন: বরং তিনি সেদিন মক্কায় যোহরের সালাত আদায় করেছিলেন। এটি এমন একটি পরিচ্ছেদ যা আমাদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে, কারণ উভয় পক্ষের বর্ণিত সূত্রসমূহ সহিহ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে দুটি খবরের একটি ভ্রম এবং অন্যটি সঠিক, তবে আমরা জানি না কোনটি সঠিক। উম্মে সালামাহ (রা.) সেদিন অসুস্থ অবস্থায় তাঁর উটে চড়ে মানুষের পেছন থেকে তাওয়াফ করেছিলেন; তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এ বিষয়ে অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন। আয়েশা (রা.)-ও সেদিন তাওয়াফ করেছিলেন এবং সেদিন তিনি পবিত্র হয়েছিলেন; আরাফার দিন তিনি ঋতুবতী ছিলেন। সাফিয়া (রা.)-ও সেদিন তাওয়াফ করেছিলেন, এরপর তিনি প্রস্থানের রাতে (লাইলাতুন নাফর) ঋতুবতী হন। এরপর তিনি (আলাইহিস সালাম) মিনায় ফিরে আসেন এবং তখন তাঁকে পাথর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডন, কুরবানি এবং তাওয়াফে ইফাযাহ-এর একটির আগে অন্যটি করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "কোনো অসুবিধা নেই।" একইভাবে তিনি কাবার তাওয়াফের পূর্বে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করার ব্যাপারেও অনুরূপ বলেছিলেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা বার্ধক্য ব্যতীত প্রতিটি রোগের ঔষধ অবতীর্ণ করেছেন। তিনি কোনো মুসলিমের সম্মান অন্যায়ভাবে হানি করার গুনাহকে অত্যন্ত গুরুতর সাব্যস্ত করেছেন। অতঃপর তিনি মিনায় শনিবারের অবশিষ্ট অংশ, রবিবারের রাত ও দিন, সোমবারের রাত ও দিন এবং মঙ্গলবারের রাত ও দিন অবস্থান করেন। এগুলিই হলো মিনার দিনসমূহ তথা আইয়ামে তাশরিক। তিনি এই তিন দিনের প্রতিদিন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর সাতটি করে কঙ্করের মাধ্যমে তিনটি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করতেন। তিনি ছোট জামরা দিয়ে শুরু করতেন যা মিনা মসজিদের নিকটবর্তী এবং সেখানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দোয়া করতেন। এরপর তার পরবর্তীটি অর্থাৎ মধ্যম জামরা এবং সেখানেও একইভাবে দাঁড়িয়ে দোয়া করতেন। এরপর জামরায়ে আকাবা, তবে সেখানে তিনি দাঁড়াতেন না। তিনি (আলাইহিস সালাম) প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় তাকবির পাঠ করতেন। তিনি কুরবানির দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ রবিবারেও মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন, যেটিকে 'রউস' (মাথাসমূহের) দিন বলা হয়। বর্ণিত আছে যে...
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٥)
أَيْضًا أَنَّهُ عليه السلام خَطَبَهُمْ أَيْضًا يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَهُوَ يَوْمُ الْأَكَارِعِ، وَأَوْصَى بِذَوِي الْأَرْحَامِ خَيْرًا، وَأَخْبَرَ عليه السلام أَنَّهُ لَا تَجْنِي نَفْسٌ عَلَى أُخْرَى. وَاسْتَأْذَنَهُ الْعَبَّاسُ عَمُّهُ فِي الْمَبِيتِ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى الْمَذْكُورَةَ مِنْ أَجْلِ سِقَايَتِهِ فَأَذِنَ لَهُ عليه السلام، وَأَذِنَ لِلرِّعَاءِ أَيْضًا فِي مِثْلِ ذَلِكَ الْيَوْمِ. ثُمَّ نَهَضَ عليه السلام بَعْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ مِنْ يَوْمِ الثُّلَاثَاءِ الْمُؤَرَّخِ، وَهُوَ آخِرُ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ، وَهُوَ الثَّالِثَ عَشَرَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ، وَهُوَ يَوْمُ النَّفْرِ إِلَى الْمُحَصَّبِ، وَهُوَ الْأَبْطَحُ، فَضُرِبَتْ لَهُ قُبَّتُهُ ضَرَبَهَا أَبُو رَافِعٍ مَوْلَاهُ، وَكَانَ عَلَى ثَقَلِهِ عليه السلام، وَقَدْ كَانَ عليه السلام قَالَ لِأُسَامَةَ أَنْ يَنْزِلَ غَدًا بِالْمُحَصَّبِ خَيْفِ بَنِي كِنَانَةَ، وَهُوَ الْمَكَانُ الَّذِي ضَرَبَ فِيهِ أَبُو رَافِعٍ قُبَّتَهُ وِفَاقًا مِنَ اللَّهِ عز وجل دُونَ أَنْ يَأْمُرَهُ عليه السلام بِذَلِكَ. وَحَاضَتْ صَفِيَّةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ لَيْلَةَ النَّفْرِ بَعْدَ أَنْ أَفَاضَتْ فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ: «أَفَاضَتْ يَوْمَ النَّحْرِ» ؟ فَقِيلَ: نَعَمْ، فَأَمَرَهَا أَنْ تَنْفِرَ، وَحَكَمَ فِيمَنْ كَانَتْ حَالُهَا كَحَالِهَا أَيْضًا بِذَلِكَ. وَصَلَّى عليه السلام بِالْمُحَصَّبِ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ الْآخِرَةَ مِنْ لَيْلَةِ الْأَرْبِعَاءِ الرَّابِعَ عَشَرَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ، وَبَاتَ بِهَا عليه السلام لَيْلَةَ الْأَرْبِعَاءِ الْمَذْكُورَةَ، وَرَقَدَ رَقْدَةً، وَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ وَهُوَ يَوْمُ النَّفْرِ رَغِبَتْ إِلَيْهِ عَائِشَةُ بَعْدَ أَنْ طَهُرَتْ أَنْ يُعْمِرَهَا عُمْرَةً مُنْفَرِدَةً، فَأَخْبَرَهَا عليه السلام أَنَّهَا قَدْ حَلَّتْ مِنْ عُمْرَتِهَا وَحِجَّتِهَا، وَأَنَّ طَوَافَهَا يَكْفِيهَا وَيُجْزِئُهَا لِحِجِّهَا وَعُمْرَتِهَا فَأَبَتْ إِلَّا أَنْ تَعْتَمِرَ عُمْرَةً مُفْرَدَةً، فَقَالَ لَهَا عليه السلام: «أَلَمْ تَكُونِي طُفْتِ لَيَالِيَ قَدِمْنَا» ؟ قَالَتْ: لَا، فَأَمَرُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ أَخَاهَا بِأَنْ يُرْدِفَهَا وَيُعْمِرَهَا مِنَ التَّنْعِيمِ فَفَعَلَا ذَلِكَ، وَانْتَظَرَهَا عليه السلام بِأَعْلَى
আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) সোমবার দিনেও তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন, যা ‘ইয়াওমুল আকার’ নামে পরিচিত। সেখানে তিনি আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত করেন এবং তিনি (আলাইহিস সালাম) অবহিত করেন যে, কোনো ব্যক্তিই অন্য কারও অপরাধের দায়ভার বহন করবে না। তাঁর চাচা আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পানি পানের ব্যবস্থাপনার (সিকায়াহ) সুবিধার্থে মিনার উল্লেখিত রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থান করার অনুমতি চাইলে তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁকে অনুমতি দিলেন। অনুরূপভাবে তিনি সেই দিনে রাখালদেরকেও অনুরূপ অনুমতি প্রদান করলেন। অতঃপর যিলহজ মাসের তেরো তারিখ মঙ্গলবার—যা আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন—সূর্য ঢলে পড়ার পর তিনি (আলাইহিস সালাম) রওনা হলেন। এটি ছিল আল-মুহাসসাবে (যা আল-আবতাহ নামেও পরিচিত) প্রস্থানের দিন। সেখানে তাঁর জন্য একটি তাবু স্থাপন করা হয়েছিল, যা তাঁর মুক্তদাস আবু রাফি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্থাপন করেছিলেন; তিনি তাঁর (আলাইহিস সালাম) আসবাবপত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি (আলাইহিস সালাম) উসামাকে বলেছিলেন যে, আগামীকাল বনী কিনানার খাফ এলাকায় অবস্থিত আল-মুহাসসাবে যাত্রাবিরতি করা হবে। আর এটি ছিল সেই স্থান যেখানে আবু রাফি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর (আলাইহিস সালাম) কোনো বিশেষ আদেশ ছাড়াই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকপ্রাপ্ত হয়ে তাবু স্থাপন করেছিলেন। উম্মুল মুমিনীন সাফিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাওয়াফে ইফাযা শেষ করার পর প্রস্থানের রাতে ঋতুবতী হলেন। এ খবর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: 'সে কি কুরবানির দিন তাওয়াফে ইফাযা সম্পন্ন করেছে?' বলা হলো: 'হ্যাঁ'। তখন তিনি তাঁকে প্রস্থানের নির্দেশ দিলেন এবং যার অবস্থা অনুরূপ তার জন্য এই একই বিধান দিলেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) যিলহজ মাসের চৌদ্দ তারিখ বুধবার রাতে আল-মুহাসসাবে যোহর, আসর, মাগরিব ও শেষ এশার সালাত আদায় করলেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) উল্লেখিত বুধবার রাতে সেখানে রাত্রিযাপন করলেন এবং কিঞ্চিৎ নিদ্রা গেলেন। যখন কুরবানির দিন তথা প্রস্থানের দিন উপস্থিত হলো, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) পবিত্র হওয়ার পর তাঁর নিকট একটি পৃথক উমরাহ পালন করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলেন। তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁকে জানালেন যে, তিনি তাঁর উমরাহ ও হজের কাজ থেকে হালাল হয়ে গেছেন এবং তাঁর সম্পাদিত তাওয়াফই তাঁর হজ ও উমরার জন্য যথেষ্ট ও ফলপ্রসূ হয়েছে। কিন্তু তিনি একটি পৃথক উমরাহ পালন করার বিষয়েই অটল রইলেন। তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন: 'আমরা যখন পৌঁছলাম, সেই রাতগুলোতে কি তুমি তাওয়াফ করোনি?' তিনি বললেন: 'না'। অতঃপর তিনি তাঁর ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকরকে নির্দেশ দিলেন তাঁকে সওয়ারির পেছনে বসিয়ে তানঈম থেকে উমরাহ করিয়ে আনতে। তাঁরা তাই করলেন এবং তিনি (আলাইহিস সালাম) উচ্চভূমিতে তাঁর জন্য অপেক্ষা করলেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٦)
مَكَّةَ، ثُمَّ انْصَرَفَتْ مِنْ عُمْرَتِهَا تِلْكَ، وَقَالَ لَهَا: «هَذَا مَكَانُ عُمْرَتِكِ» ، وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ لَا يَنْصَرِفُوا حَتَّى يَكُونَ آخِرَ عَهْدِهِمُ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ، وَرَخَّصَ فِي تَرْكِ ذَلِكَ لِلْحَائِضِ الَّتِي قَدْ طَافَتْ طَوَافَ الْإِفَاضَةِ قَبْلَ حَيْضِهَا. ثُمَّ إِنَّهُ عليه السلام دَخَلَ مَكَّةَ فِي اللَّيْلِ مِنْ لَيْلَةِ الْأَرْبِعَاءِ الْمَذْكُورَةِ فَطَافَ بِالْبَيْتِ طَوَافَ الْوَدَاعِ لَمْ يَرْمُلْ فِي شَيْءٍ مِنْهُ سَحَرًا قَبْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ يَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ الْمَذْكُورِ. ثُمَّ خَرَجَ مِنْ كَدَاءَ أَسْفَلَ مَكَّةَ مِنَ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى، وَالْتَقَى بِعَائِشَةَ رضي الله عنها وَهُوَ نَاهِضٌ فِي الطَّوَافِ الْمَذْكُورِ وَهِيَ رَاجِعَةٌ مِنْ تِلْكَ الْعُمْرَةِ الَّتِي ذَكَرْنَا ثُمَّ رَجَعَ عليه السلام، وَأَمَرَ بِالرَّحِيلِ وَمَضَى عليه السلام مِنْ فَوْرِهِ ذَلِكَ رَاجِعًا إِلَى الْمَدِينَةِ، فَكَانَتْ مُدَّةُ إِقَامَتِهِ عليه السلام بِمَكَّةَ مُذْ دَخَلَهَا إِلَى أَنْ خَرَجَ إِلَى مِنًى إِلَى عَرَفَةَ إِلَى مُزْدَلِفَةَ إِلَى مِنًى إِلَى الْمُحَصَّبِ إِلَى أَنْ وَجَّهَ رَاجِعًا عَشْرَةَ أَيَّامٍ، فَلَمَّا أَتَى ذَا الْحُلَيْفَةِ بَاتَ بِهَا ثُمَّ لَمَّا رَأَى الْمَدِينَةَ كَبَّرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، وَقَالَ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ، صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ» ، ثُمَّ دَخَلَ عليه السلام الْمَدِينَةَ نَهَارًا مِنْ طَرِيقِ الْمُعَرَّسِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ كَثِيرًا، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ وَسَلَّمَ.
মক্কায়, অতঃপর তিনি (আয়েশা) তাঁর সেই উমরাহ থেকে অবসর নিলেন। তিনি তাকে বললেন: "এটিই তোমার উমরাহর স্থান।" আর তিনি লোকদের নির্দেশ দিলেন যে, বায়তুল্লাহর তওয়াফ (বিদায়ী তওয়াফ) সম্পন্ন না করে যেন কেউ প্রস্থান না করে। তবে তিনি সেই ঋতুবতী নারীর জন্য তা বর্জনের অনুমতি দিলেন, যে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পূর্বেই তওয়াফে ইফাদাহ সম্পন্ন করেছে। অতঃপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) উল্লিখিত বুধবারের রাতে মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং বায়তুল্লাহর বিদায়ী তওয়াফ সম্পন্ন করলেন। উল্লিখিত বুধবারের দিন সুবহে সাদিকের পূর্বে শেষ রাতের সময়ে সম্পাদিত এই তওয়াফের কোনো অংশেই তিনি রমল (দ্রুত পদচারণা) করেননি। এরপর তিনি মক্কার নিম্নভাগের গিরিপথ 'কাদা' (সানিইয়াতুস সুফলা) দিয়ে বের হলেন। উল্লিখিত তওয়াফের জন্য অগ্রসর হওয়ার প্রাক্কালে তাঁর সাথে আয়েশার (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) সাক্ষাৎ হলো, যখন তিনি আমাদের বর্ণিত সেই উমরাহ থেকে ফিরছিলেন। অতঃপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ফিরে এলেন এবং যাত্রার নির্দেশ দিলেন। তিনি কালক্ষেপণ না করে তখনই মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। মক্কায় প্রবেশের পর থেকে মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফা, পুনরায় মিনা এবং মুহাসসাব হয়ে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া পর্যন্ত মক্কায় তাঁর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অবস্থানের মোট সময়কাল ছিল দশ দিন। যখন তিনি যুল-হুলাইফায় পৌঁছালেন, তখন সেখানে রাত যাপন করলেন। এরপর যখন মদিনা তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো, তখন তিনি তিনবার তাকবির ধ্বনি দিলেন এবং বললেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সকল বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী, সিজদাকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।" অতঃপর তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) দিবাভাগে মুআররাস পথ দিয়ে মদিনায় প্রবেশ করলেন। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদের ওপর।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
الْفَصْلُ الثَّانِي: الْأَدِلَّةُ عَلَى أَعْمَالِ الْحَجِّ هَذَا حِينَ نَأْخُذُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ عز وجل فِي ذِكْرِ الْأَحَادِيثِ الشَّوَاهِدِ لِكُلِّ مَا ذَكَرْنَا. أَمَّا قَوْلُنَا: أعْلَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ أَنَّهُ حَاجٌّ، ثُمَّ خَرَجَ عليه السلام عَامِدًا إِلَى مَكَّةَ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ الَّتِي لَمْ يَحُجَّ مِنَ الْمَدِينَةِ مُنْذُ هَاجَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلَيْهَا غَيْرَهَا.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হজের কার্যাবলির প্রমাণসমূহ। এখন আমরা ইনশাআল্লাহ (যদি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ চান) আমাদের উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়ের সমর্থনে হাদিসসমূহ বর্ণনা করা শুরু করব। আমাদের এই বক্তব্যের ব্যাপারে যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনকে অবহিত করলেন যে তিনি হজ পালনকারী, অতঃপর তিনি আলাইহিস সালাম বিদায় হজের বছর মক্কার উদ্দেশ্যে সংকল্পবদ্ধ হয়ে রওয়ানা হলেন; এটিই ছিল একমাত্র হজ যা তিনি আলাইহিস সালাম মদিনায় হিজরত করার পর সম্পাদন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
1 - فَلِمَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمَذَانِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ وَهُوَ ابْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ هُوَ السَّبِيعِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم غَزَا تِسْعَ عَشْرَةَ غَزْوَةً، وَأَنَّهُ حَجَّ بَعْدَمَا هَاجَرَ حَجَّةً وَاحِدَةً، وَلَمْ يَحُجَّ بَعْدَهَا: حَجَّةَ الْوَدَاعِ
১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-হামাদানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আহমদ আল-বলখি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফারাবরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন খালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর — যিনি ইবনে মুআবিয়াহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক — যিনি আস-সাবিয়ি, তিনি বলেন: আমার নিকট জায়েদ বিন আরকাম বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঊনিশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তিনি হিজরতের পর মাত্র একটি হজ সম্পাদন করেছেন এবং এরপর আর কোনো হজ করেননি; আর তা হলো বিদায় হজ।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
2 - وَلِمَا حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ بْنِ نَامِي، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ هُوَ ابْنُ رَاهَوَيْهِ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ جَمِيعًا عَنْ حَاتِمٍ هُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي عَنْ حَجَّةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ بِيَدِهِ يَعْقِدُ تِسْعًا ⦗ص: 128⦘، فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَثَ تِسْعَ سِنِينَ لَمْ يَحُجَّ، ثُمَّ أُذِّنَ فِي النَّاسِ فِي الْعَاشِرَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجٌّ، فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ بَشَرٌ كَثِيرٌ كُلُّهُمْ يَلْتَمِسُ أَنْ يَأْتَمَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَيَعْمَلَ مِثْلَ عَمَلِهِ. وَذَكَرَ بَاقِيَ الْحَدِيثِ مِمَّا سَنَذْكُرُهُ فِي مَوَاضِعِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ وَأَمَّا قَوْلُنَا: إِنَّهُ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِالْحَجِّ مَعَهُ فَأَصَابَ النَّاسَ بِالْمَدِينَةِ جُدَرِيٌّ أَوْ حَصْبَةٌ، فَأَخْبَرَ عليه السلام أَنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ كَحَجَّةٍ، وَأَنَّ الْحَجَّ مِنْ سُبُلِ اللَّهِ
২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন নামী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন ফাতহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহহাব বিন ঈসা আল-বাগদাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুসলিম বিন হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইবরাহীম (যিনি ইবনে রাহওয়াইহ) এবং আবু বকর বিন আবি শায়বাহ উভয়ে হাতিম (যিনি ইবনে ইসমাঈল আল-মাদানী) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবি তালিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি জাবির বিন আবদুল্লাহর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে নয় (বছর) গণনা করলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১২৮⦘, এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর অবস্থান করেছিলেন কিন্তু হজ করেননি, অতঃপর দশম বছরে মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দেওয়া হলো যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজে যাচ্ছেন। তখন মদিনায় অসংখ্য মানুষ সমবেত হলো, যাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করতে এবং তাঁর আমলের ন্যায় আমল করতে চাইছিল। বর্ণনাকারী হাদিসের বাকি অংশ উল্লেখ করেছেন যা আমরা ইনশাআল্লাহ তার নির্ধারিত স্থানসমূহে উল্লেখ করব। আর আমাদের বক্তব্য যে: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে হজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু মদিনার মানুষ বসন্ত বা হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, তাই তিনি আলাইহিস সালাম জানিয়েছিলেন যে, রমজানে ওমরাহ করা একটি হজের সমতুল্য এবং নিশ্চয়ই হজ হলো আল্লাহর পথসমূহের অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٨)
3 - فَلِمَا أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ الْعُذْرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْكِسَائِيُّ، أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّافِقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ هِلَالُ بْنُ الْعَلَاءِ الْقُتَيْبِيُّ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ مَعْقِلِ بْنِ أَبِي مَعْقِلٍ، أَخُو بَنِي أَسَدِ بْنِ خُزَيْمَةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ، عَنْ أُمِّ مَعْقِلٍ، جَدَّةِ عِيسَى بْنِ مَعْقِلٍ قَالَتْ: لَمَّا تَهَيَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحَجَّةِ الْوَدَاعِ أَمَرَ النَّاسَ بِالْخُرُوجِ مَعَهُ، أَصَابَتْهُمْ هَذِهِ الْقُرْحَةُ الْجُدَرِيُّ أَوِ الْحَصْبَةُ، قَالَتْ: فَدَخَلَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْخُلَ لِمَرَضِ أَبِي مَعْقِلٍ، وَمَرِضْتُ مَعَهُ، وَذَكَرَتْ حَدِيثًا طَوِيلًا، فَقَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا فَاتَتْكِ حَجَّةٌ مَعَنَا يَا أُمَّ مَعْقِلٍ فَاعْتَمِرِي عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ فَإِنَّهَا حَجَّةٌ»
৩ - আহমাদ ইবনে উমর আল-উযরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আলী আল-কিসায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল-রাফিকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর হিলাল ইবনুল আলা আল-কুতাইবি আর-রাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ইসহাক থেকে, ঈসা ইবনে মাকিল ইবনে আবি মাকিল—যিনি বনু আসাদ ইবনে খুযাইমা গোত্রের লোক—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে, ঈসা ইবনে মাকিলের দাদি উম্মে মাকিল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জের প্রস্তুতি নিলেন, তখন তিনি মানুষকে তাঁর সাথে বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন। তখন তারা এই বসন্ত রোগে—গুটিবসন্ত কিংবা হামে—আক্রান্ত হলেন। তিনি বলেন: অতঃপর আবু মাকিলের অসুস্থতার কারণে আল্লাহ যা চাইলেন তা-ই ঘটল এবং আমিও তাঁর সাথে অসুস্থ হয়ে পড়লাম। এরপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন। পরিশেষে তিনি (উম্মে মাকিল) বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে উম্মে মাকিল! যখন আমাদের সাথে হজ্জ করার সুযোগ তোমার হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন তুমি রমজান মাসে উমরা আদায় করো; কেননা তা একটি হজ্জের সমতুল্য।"
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٩)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبِيعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عِيسَى بْنِ مَعْقِلِ بْنِ أُمِّ مَعْقِلٍ الْأَسَدِيِّ، أَسَدِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَّامٍ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ مَعْقِلٍ، قَالَتْ: لَمَّا حَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَجَّةَ الْوَدَاعِ وَكَانَ لَنَا جَمَلٌ فَجَعَلَهُ أَبُو مَعْقِلٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَأَصَابَنَا مَرَضٌ، وَهَلَكَ أَبُو مَعْقِلٍ وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَرَغَ جِئْتُهُ، فَقَالَ: «مَا مَنَعَكِ أَنْ تَخْرُجِي مَعَنَا؟» فَقَالَتْ: لَقَدْ تَهَيَّأْنَا فَهَلَكَ أَبُو مَعْقِلٍ، وَكَانَ لَنَا جَمَلٌ هُوَ الَّذِي يَحُجُّ عَلَيْهِ فَأَوْصَى بِهِ أَبُو مَعْقِلٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَالَ: «فَهَلَّا خَرَجْتِ عَلَيْهِ فَإِنَّ الْحَجَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَمَّا إِذَا فَاتَتْكِ هَذِهِ الْحَجَّةُ مَعَنَا فَاعْتَمِرِي فِي رَمَضَانَ فَإِنَّهَا كَحَجَّةٍ»
5 - أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ قَاسِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمَيْمُونِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عِيسَى بْنِ مَعْقِلِ بْنِ أَبِي مَعْقِلٍ، حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ مَعْقِلٍ، فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ بِنَصِّهِ
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন রাবি', তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল আরাবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আওফ আত-তায়ি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন খালিদ আল-ওয়াহবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক, ঈসা ইবন মাকিল ইবন উম্মু মাকিল আল-আসাদি (বনু আসাদ ইবন খুযাইমাহ) থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সালাম, তাঁর দাদী উম্মু মাকিল থেকে, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ পালন করলেন এবং আমাদের একটি উট ছিল, তখন আবু মাকিল সেটিকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করলেন। এরপর আমরা অসুস্থ হয়ে পড়লাম এবং আবু মাকিল মৃত্যুবরণ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হজের উদ্দেশ্যে) বের হলেন। অতঃপর তিনি যখন হজ শেষ করলেন, আমি তাঁর নিকট আসলাম। তিনি বললেন: "আমাদের সাথে (হজে) বের হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?" তিনি বললেন: আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম কিন্তু আবু মাকিল মৃত্যুবরণ করলেন। আমাদের একটি উট ছিল যার ওপর চড়ে হজ করা হতো, কিন্তু আবু মাকিল সেটি আল্লাহর রাস্তায় দেওয়ার অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "তুমি কেন তাতে আরোহণ করে বের হলে না? কেননা হজও আল্লাহর রাস্তার অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু আমাদের সাথে তোমার এই হজটি করা সম্ভব হয়নি, তাই তুমি রমজান মাসে উমরা করো; কেননা তা একটি হজের সমতুল্য।"
৫ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবন উমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ গুনদার, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবন কাসিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মাইমুন আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল্লাহ আল-বাজালি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ আব্দুর রহমান ইবন আমর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন খালিদ আল-ওয়াহবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক, ঈসা ইবন মাকিল ইবন আবি মাকিল থেকে, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সালাম, তাঁর দাদী উম্মু মাকিল থেকে, অতঃপর তিনি এই হাদিসটি হুবহু উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٢٩)
6 - ثُمَّ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ كُنْتُ فِي النَّاسِ مَعَ مَرْوَانَ حِينَ دَخَلَ عَلَيْهَا، يَعْنِي عَلَى أُمِّ مَعْقِلٍ فَسَمِعْنَاهَا تُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ، فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لَا يَعْتَمِرُ إِلَّا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ لِذَلِكَ مِنْ ⦗ص: 130⦘ حَدِيثِ أُمِّ مَعْقِلٍ
৬ - অতঃপর ইবনে ইসহাক বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ থেকে বর্ণিত, তিনি আল-হারিস ইবনে আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু বকর থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমি মারওয়ানের সাথে একদল লোকের মাঝে ছিলাম যখন তিনি তাঁর নিকট অর্থাৎ উম্মে মাকিলের নিকট প্রবেশ করলেন। তখন আমরা তাঁকে এই হাদিসটি বর্ণনা করতে শুনলাম। ফলে আবু বকর উম্মে মাকিলের সেই ⦗পৃষ্ঠা: ১৩০⦘ হাদিসের কারণে রমজানের শেষ দশ দিন ব্যতীত উমরা পালন করতেন না।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٣٠)
وَأَمَّا قَوْلُنَا فَأَخَذَ عَلَى طَرِيقِ الشَّجَرَةِ
7 - فَلِمَا حَدَّثَنَا حُمَامُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْأَصِيلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَرَبْرِيُّ، حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْرُجُ مِنْ طَرِيقِ الشَّجَرَةِ وَيَدْخُلُ مِنْ طَرِيقِ الْمُعَرَّسِ، وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ يُصَلِّي فِي مَسْجِدِ الشَّجَرَةِ، وَإِذَا رَجَعَ صَلَّى بِذِي الْحُلَيْفَةِ بِبَطْنِ الْوَادِي، وَبَاتَ حَتَّى يُصْبِحَ وَأَمَّا قَوْلُنَا: وَذَلِكَ يَوْمَ الْخَمِيسِ لِسِتٍّ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ. فَقَدْ ذَكَرْنَا أَنَّ ذَلِكَ كَانَ فِي السَّنَةِ الْعَاشِرَةِ فِي الْحَدِيثِ الَّذِي أَوْرَدْنَاهُ آنِفًا مِنْ طَرِيقِ جَابِرٍ
আর আমাদের কথা: 'অতঃপর তিনি শাজারাহ (বৃক্ষ) পথটি গ্রহণ করলেন'
৭ - হুমাম ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আল-আসিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যায়েদ আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফারাবরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনযির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে ইয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ থেকে—যিনি ইবনে উমর—তিনি নাফে’ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাজারাহর পথ দিয়ে বের হতেন এবং মুয়াররাস-এর পথ দিয়ে প্রবেশ করতেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কার উদ্দেশ্যে বের হতেন তখন শাজারাহ মসজিদে সালাত আদায় করতেন এবং যখন ফিরে আসতেন তখন যুল-হুলাইফার উপত্যকার তলদেশে সালাত আদায় করতেন এবং ভোর হওয়া পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করতেন। আর আমাদের কথা: 'আর তা ছিল যিলকদ মাসের ছয় দিন অবশিষ্ট থাকতে বৃহস্পতিবারের দিন'; আমরা জাবির (রা.)-এর সূত্রে ইতিপূর্বে যে হাদিসটি উল্লেখ করেছি, তাতে আমরা বর্ণনা করেছি যে তা ছিল দশম হিজরি সনে।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٣٠)
8 - وَلِمَا حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمَذَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَرَبْرِيُّ، حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَبَاحٍ، سَمِعَ جَعْفَرَ بْنَ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعُمَيْسِ، أَخْبَرَنَا قَيْسُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ ⦗ص: 131⦘ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ رَجُلًا، مِنَ الْيَهُودِ قَالَ لَهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ آيَةٌ فِي كِتَابِكُمْ تَقْرَءُونَهَا لَوْ عَلَيْنَا - مَعْشَرَ الْيَهُودِ - أُنْزِلَتْ لَاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا، قَالَ: أَيُّ آيَةٍ؟ قَالَ: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3] ، فَقَالَ عُمَرُ: قَدْ عَرَفْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَالْمَكَانَ الَّذِي نَزَلَتْ فِيهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَهُوَ قَائِمٌ بِعَرَفَةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
8 - এবং যেহেতু আমাদের কাছে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-হামাদানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু ইসহাক আল-বালখি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আল-ফরাব্রি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আল-বুখারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আল-হাসান ইবনে সাবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর ইবনে আউন থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু আল-উমাইস বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের কায়েস ইবনে মুসলিমের পক্ষ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৩১⦘ উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ইহুদি ব্যক্তি তাঁকে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা আপনারা পাঠ করেন; যদি তা আমাদের উপর—ইহুদি সম্প্রদায়ের উপর—নাজিল হতো, তবে আমরা সেই দিনটিকে উৎসবের দিন (ঈদ) হিসেবে গ্রহণ করতাম। তিনি বললেন: কোন আয়াত সেটি? সে বলল: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]। তখন উমর বললেন: আমরা অবশ্যই সেই দিন এবং সেই স্থানটি সম্পর্কে অবগত আছি যখন এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাজিল হয়েছিল: আর তখন তিনি জুমার দিনে আরাফায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٣١)
9 - وَلِمَا حَدَّثَنَاهُ الْهَمَذَانِيُّ، عَنِ الْبَلْخِيِّ، عَنِ الْفَرَبْرِيِّ، حَدَّثَنَا الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: انْطَلَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ بَعْدَمَا تَرَجَّلَ وَادَّهَنَ، وَلَبِسَ إِزَارَهُ وَرِدَاءَهُ، فَلَمْ يَنْهَ عَنْ شَيْءٍ مِنَ الْأَرْدِيَةِ وَالْأُزُرِ تُلْبَسُ إِلَّا الْمُزَعْفَرَةَ الَّتِي تُرْدَعُ عَلَى الْجِلْدِ، فَأَصْبَحَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ، رَكِبَ عَلَى رَاحِلَتِهِ حَتَّى اسْتَوَى عَلَى الْبَيْدَاءِ وَذَلِكَ لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ فَقَدِمَ مَكَّةَ أَرْبَعَ لَيَالٍ خَلَوْنَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ
৯ - এবং আল-হামাদানি আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন আল-বালখি থেকে, তিনি আল-ফারাবরি থেকে, আল-বুখারি আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবি বকর আল-মুকাদ্দামি আমাদের বর্ণনা করেছেন, ফুদ্বাইল ইবন সুলাইমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবন উকবাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, কুরাইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চুল আঁচড়ানোর ও তেল মাখার পর এবং তাঁর লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করে মদীনা থেকে যাত্রা শুরু করলেন। তিনি জাফরান রঞ্জিত কাপড় যা চামড়ায় লেগে যায় তা ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার চাদর বা লুঙ্গি পরিধান করতে নিষেধ করেননি। তিনি যুল-হুলাইফায় ভোর করলেন এবং নিজের বাহনের ওপর আরোহণ করলেন যতক্ষণ না তিনি বাইদা নামক স্থানে উঠলেন। আর এটি ছিল যিলকদ মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে। অতঃপর তিনি মক্কায় পৌঁছালেন যিলহজ মাসের চার রাত অতিবাহিত হওয়ার পর।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٣١)
10 - وَلِمَا حَدَّثَنَاهُ الْهَمَذَانِيُّ، عَنِ الْبَلْخِيِّ، عَنِ الْفَرَبْرِيِّ، عَنِ الْبُخَارِيِّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ مَعَهُ الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا، وَالْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ بَاتَ بِهَا حَتَّى أَصْبَحَ، ثُمَّ رَكِبَ حَتَّى اسْتَوَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ عَلَى الْبَيْدَاءِ، فَحَمِدَ اللَّهَ عز وجل، وَسَبَّحَ، ثُمَّ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ ⦗ص: 132⦘، فَقَدْ نَصَّ ابْنُ عَبَّاسٍ كَمَا تَرَى عَلَى أَنَّ انْدِفَاعَهُ صلى الله عليه وسلم مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ كَانَ لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ، وَنَصَّ أَنَسٌ عَلَى أَنَّهُ عليه السلام خَرَجَ مِنَ الْمَدِينَةِ نَهَارًا بَعْدَ أَنْ صَلَّى بِهَا الظُّهْرَ، وَصَلَّى الْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ وَبَاتَ بِهَا فَكَانَ ذَلِكَ بِلَا شَكٍّ لِسِتٍّ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ، وَقَدْ نَصَّ عُمَرُ كَمَا تَرَى عَلَى أَنَّ يَوْمَ عَرَفَةَ كَانَ فِي تِلْكَ الْحَجَّةِ يَوْمَ جُمُعَةٍ، وَيَوْمُ عَرَفَةَ هُوَ التَّاسِعُ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ، فَإِذَا كَانَ الْيَوْمُ التَّاسِعُ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَاسْتِهْلَالُ ذِي الْحِجَّةِ بِلَا شَكٍّ كَانَ لَيْلَةَ الْخَمِيسٍ. وَإِذَا كَانَ أَوَّلُ أَيَّامِهِ يَوْمَ الْخَمِيسِ بِلَا شَكٍّ فَآخِرُ ذِي الْقَعْدَةِ كَانَ الْيَوْمَ الَّذِي قَبْلَ يَوْمِ الْخَمِيسِ الْمَذْكُورِ بِلَا شَكٍّ، فَهُوَ بِالْيَقِينِ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ. وَإِذَا كَانَ آخِرُ يَوْمٍ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ وَكَانَ خُرُوجُهُ عليه السلام مِنَ الْمَدِينَةِ لِسِتِّ لَيَالٍ بَقِينَ لِذِي الْقَعْدَةِ كَمَا ذَكَرْنَا فَكَانَ خُرُوجُهُ عليه السلام مِنَ الْمَدِينَةِ يَوْمَ الْخَمِيسِ بِلَا شَكٍّ لِأَنَّ الْبَاقِيَ بَعْدَ يَوْمِ الْخَمِيسِ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ الْمَذْكُورَةِ سِتُّ لَيَالٍ، وَهِيَ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، وَلَيْلَةُ السَّبْتِ، وَلَيْلَةُ الْأَحَدِ، وَلَيْلَةُ الِإثْنَيْنِ، وَلَيْلَةُ الثُّلَاثَاءِ، وَلَيْلَةُ الْأَرْبِعَاءِ، وَهِيَ آخِرُ لَيَالِ ذِي الْقَعْدَةِ كَمَا ذَكَرْنَا وَأَمَّا قَوْلُنَا: نَهَارًا بَعْدَ أَنْ تَرَجَّلَ وَادَّهَنَ وَبَعْدَ أَنْ صَلَّى الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ، وَالْعَصْرَ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ، وَبَاتَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ. فَلِمَا ذَكَرْنَاهُ آنِفًا مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ مِنْ صَلَاتِهِمْ مَعَهُ عليه السلام بِالْمَدِينَةِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا، وَبِذِي الْحُلَيْفَةِ الْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ ⦗ص: 133⦘. وَلِمَا ذَكَرْنَاهُ أَيْضًا فِي الْفَصْلِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا الْفَصْلِ فِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِنَ التَّرَجُّلِ وَالِادِّهَانِ. وَأَمَّا الْمَبِيتُ بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَقَدْ ذَكَرْنَاهُ أَيْضًا فِي الْفَصْلِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا فِي حَدِيثِ أَنَسٍ. وَأَمَّا مَبِيتُهُ عليه السلام بِهَا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَإِنَّهُ قَدْ صَحَّ كَمَا ذَكَرْنَا أَنَّ خُرُوجَهُ عليه السلام كَانَ يَوْمَ الْخَمِيسِ إِلَى ذِي الْحُلَيْفَةِ، وَبَاتَ بِهَا فَهِيَ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ بِلَا شَكٍّ وَأَمَّا قَوْلُنَا: وَطَافَ عَلَى نِسَائِهِ ثُمَّ اغْتَسَلَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ، وَصَلَّى بِهَا الصُّبْحَ
১০ - এবং যা আমাদের নিকট হামদানি বর্ণনা করেছেন বলখি থেকে, তিনি ফারাবরি থেকে, তিনি বুখারি থেকে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উহাইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আমাদের সাথে যোহরের সালাত চার রাকাত পড়েছেন এবং যুল হুলাইফায় আসরের সালাত দুই রাকাত পড়েছেন। তারপর তিনি সেখানে রাত যাপন করলেন ভোর হওয়া পর্যন্ত। অতঃপর তিনি সওয়ার হলেন যতক্ষণ না তাঁর সওয়ারি তাঁকে নিয়ে বায়দা নামক প্রান্তরের ওপর উঠে স্থির হলো। এরপর তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করলেন এবং হজ ও উমরার ইহরাম শুরু করলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৩২⦘। আপনি যেমনটি দেখছেন, ইবনে আব্বাস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যুল হুলাইফা থেকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রওয়ানা হওয়া ছিল যুল ক্বদ মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে। আর আনাস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) মদিনা থেকে দিনে বের হয়েছিলেন সেখানে যোহরের সালাত আদায়ের পর, এবং যুল হুলাইফায় আসরের সালাত পড়েছিলেন ও সেখানে রাত কাটিয়েছিলেন; সুতরাং নিঃসন্দেহে সেটি ছিল যুল ক্বদ মাসের ছয় দিন বাকি থাকতে। যেমনটি আপনি দেখছেন, উমর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সেই হজে আরাফার দিন ছিল জুমুআর দিন। আর আরাফার দিন হলো যিলহজ মাসের নবম দিন। সুতরাং যদি যিলহজ মাসের নবম দিন জুমুআর দিন হয়, তবে নিঃসন্দেহে যিলহজ মাসের সূচনা হয়েছিল বৃহস্পতিবার রাতে। আর যদি এর প্রথম দিন নিঃসন্দেহে বৃহস্পতিবার হয়, তবে যুল ক্বদ মাসের শেষ দিনটি ছিল উল্লিখিত বৃহস্পতিবারের আগের দিন, অর্থাৎ এটি নিশ্চিতভাবেই বুধবার ছিল। আর যদি যুল ক্বদ মাসের শেষ দিন বুধবার হয় এবং মদিনা থেকে তাঁর (আলাইহিস সালাম) বের হওয়া যুল ক্বদ মাসের ছয় রাত বাকি থাকতে হয়—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—তবে মদিনা থেকে তাঁর (আলাইহিস সালাম) বের হওয়া নিঃসন্দেহে বৃহস্পতিবার ছিল। কারণ উল্লিখিত যুল ক্বদ মাসের বৃহস্পতিবারের পর ছয়টি রাত বাকি থাকে, আর সেগুলো হলো: জুমুআর রাত, শনিবারের রাত, রোববারের রাত, সোমবারের রাত, মঙ্গলবারের রাত এবং বুধবারের রাত; যা আমরা উল্লেখ করেছি যে যুল ক্বদ মাসের শেষ রাত। আর আমাদের কথা: দিনে চুল বিন্যাস ও তেল ব্যবহারের পর এবং মদিনায় যোহরের সালাত আদায়ের পর, এবং সেদিন যুল হুলাইফায় আসরের সালাত আদায় ও যুল হুলাইফায় জুমুআর রাতে অবস্থান করা—তা আমরা ইতিপূর্বে আনাসের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছি যে, তারা তাঁর (আলাইহিস সালাম) সাথে মদিনায় চার রাকাত যোহর এবং যুল হুলাইফায় দুই রাকাত আসর পড়েছিলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৩⦘। এবং যা আমরা এই পরিচ্ছেদের আগের পরিচ্ছেদে ইবনে আব্বাসের হাদিসে চুল বিন্যাস ও তেল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছি। যুল হুলাইফায় রাত যাপনের বিষয়টিও আমরা এর আগের পরিচ্ছেদে আনাসের হাদিসে উল্লেখ করেছি। আর সেখানে তাঁর (আলাইহিস সালাম) জুমুআর রাতে অবস্থান করার বিষয়টিও একইভাবে প্রমাণিত, কারণ আমরা উল্লেখ করেছি যে যুল হুলাইফার উদ্দেশ্যে তাঁর (আলাইহিস সালাম) বের হওয়া ছিল বৃহস্পতিবার, এবং তিনি সেখানে রাত কাটিয়েছেন, সুতরাং সেটি নিঃসন্দেহে ছিল জুমুআর রাত। আর আমাদের কথা: এবং তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট গমন করলেন, অতঃপর সেই রাতে গোসল করলেন এবং সেখানে ফজরের সালাত আদায় করলেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٣٣)
11 - فَلِمَا حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ بْنِ نَامِي، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ، ثُمَّ يُصْبِحُ مُحْرِمًا يَنْضَحُ طِيبًا. وَلِمَا ذَكَرْنَاهُ آنِفًا أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم بَاتَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ حَتَّى أَصْبَحَ
১১ - এবং যেমনটি আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইবন নামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ ইবন ফাতহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহহাব ইবন ঈসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ ইবন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ ইবন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবন হাবীব আল-হারিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালিদ অর্থাৎ ইবনুল হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবনুল মুনতাশির থেকে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম, অতঃপর তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট গমনাগমন করতেন, তারপর তিনি ভোরবেলা ইহরাম অবস্থায় উপনীত হতেন এমতাবস্থায় যে সুগন্ধি বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। আর যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফায় রাত যাপন করেছিলেন ভোর হওয়া পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٣٣)
12 - وَلِمَا حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبِيعٍ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْمَرْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحُمْرَانِيَّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ ⦗ص: 134⦘ الْبَصْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ بِالْبَيْدَاءِ، ثُمَّ رَكِبَ، وَصَعِدَ جَبَلَ الْبَيْدَاءِ، وَأَهَلَّ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ حِينَ صَلَّى الظُّهْرَ. فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ بَيَانُ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ بِالْبَيْدَاءِ، وَقَدْ ذَكَرْنَا أَنَّهُ أَصْبَحَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ، وَالْبَيْدَاءُ قَرِيبٌ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ، فَصَحَّ أَنَّهُ عليه السلام بَقِيَ بَعْدَ الْإِصْبَاحِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ حِينًا طَوِيلًا إِلَى قَبْلَ الظُّهْرِ، فَتَيَقَّنَّا أَنَّهُ عليه السلام صَلَّى الصُّبْحَ بِهَا. وَأَمَّا الِاغْتِسَالُ فَلَا شَكَّ فِيهِ عِنْدَ مُسْلِمٍ، بَعْدَ طَوَافِهِ عَلَى نِسَائِهِ. وَلَيْسَ حَدِيثُ الْحَسَنِ عَنْ أَنَسِ هَذَا مُخَالِفًا لِمَا نُورِدُهُ مِنْ إِهْلَالِهِ عليه السلام مِنْ مَسْجِدِ ذِي الْحُلَيْفَةِ؛ لِأَنَّهُ عليه السلام أَهَلَّ مِنْ مَوَاضِعَ شَتَّى، فَصَدَّقَ كُلٌّ صَاحِبَهُ؛ لِأَنَّهُ حَكَى مَا سَمِعَ، وَلِلزَّائِدِ فَضْلُ مُشَاهَدَتِهِ وَعِلْمِهِ عَلَى مَا يُشَاهِدُهُ غَيْرُهُ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ وَأَمَّا قَوْلُنَا: ثُمَّ طَيَّبَتْهُ عليه السلام عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ رضي الله عنها بِيَدَيْهَا بِذَرِيرَةٍ وَبِطِيبٍ فِيهِ مِسْكٌ، ثُمَّ أَحْرَمَ وَلَمْ يَغْسِلِ الطِّيبَ عَنْ نَفْسِهِ
১২ - আর যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে রাবী আত-তামিমী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুয়াবিয়া আল-মারওয়ানী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে শুআইব, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আন-নাদর ইবনে শুমাইল, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশআস অর্থাৎ ইবনে আবদিল মালিক আল-হুমরানী, হাসান ইবনুল হাসান ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৪⦘ আল-বসরী থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইদা নামক স্থানে যোহরের সালাত আদায় করেছেন, অতঃপর সওয়ার হয়েছেন এবং বাইদা পাহাড়ে আরোহণ করেছেন, আর যোহরের সালাত আদায় করার সময় হজ ও উমরার তালবিয়া পাঠ করেছেন। সুতরাং এই হাদিসে এই বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইদাতে যোহরের সালাত আদায় করেছেন। আর আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, তিনি যুল-হুলাইফাতে ভোর করেছিলেন। আর বাইদা হলো যুল-হুলাইফার নিকটবর্তী। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, তিনি আলাইহিস সালাম ভোর হওয়ার পর যুল-হুলাইফাতে দীর্ঘ সময় যোহরের পূর্ব পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন। ফলে আমরা নিশ্চিত হলাম যে, তিনি আলাইহিস সালাম সেখানে ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন। আর গোসলের ব্যাপারে কোনো মুসলিমের নিকট সন্দেহ নেই, যা তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট গমনের পর করেছিলেন। আর আনাস থেকে বর্ণিত হাসানের এই হাদিসটি আমরা যুল-হুলাইফার মসজিদ থেকে তাঁর আলাইহিস সালাম তালবিয়া পাঠ করার যে বর্ণনা উল্লেখ করি তার বিরোধী নয়; কারণ তিনি আলাইহিস সালাম বিভিন্ন স্থান থেকে তালবিয়া পাঠ করেছেন। ফলে প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর কথাকে সত্যায়ন করেছেন; কারণ তিনি যা শুনেছেন তাই বর্ণনা করেছেন। আর যিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তার অন্য কারো প্রত্যক্ষ করা বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞানের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়। আর আমাদের এই বক্তব্য: অতঃপর উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা নিজের দুই হাত দিয়ে তাঁকে আলাইহিস সালাম যারীরাহ এবং কস্তুরীযুক্ত সুগন্ধি মাখিয়ে দিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি ইহরাম বাঁধলেন এবং নিজের শরীর থেকে সুগন্ধি ধুয়ে ফেলেননি।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٣٤)
13 - فَلِمَا حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ بْنِ نَامِي، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ، وَالْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يُخْبِرَانِ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِي بِذَرِيرَةٍ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ لِلْحِلِّ وَالْإِحْرَامِ
১৩ - যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইবন নামী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন ফাতহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন ঈসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন আলী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদ ইবন হুমাইদ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন বকর, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন জুরাইজ, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উরওয়াহ যে, তিনি উরওয়াহ এবং কাসিম ইবন মুহাম্মদকে সংবাদ দিতে শুনেছেন যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: আমি বিদায় হজের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার হাত দিয়ে ‘যারীরা’ নামক সুগন্ধি মাখিয়ে দিয়েছিলাম, তাঁর ইহরাম খোলার পর এবং ইহরাম বাঁধার সময়।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল ওয়াদা লিবনি হাযম
(পৃষ্ঠা: ١٣٥)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَيَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَيَحِلَّ، وَيَوْمَ النَّحْرِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ بِطِيبٍ فِيهِ مِسْكٌ
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ফাতহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মানী এবং ইয়াকুব আদ-দাওরাকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মানসুর, আবদুর রহমান ইবনে কাসিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং ইহরাম খোলার সময়, আর কুরবানীর দিনে বাইতুল্লাহ তওয়াফ করার পূর্বে এমন সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম যাতে কস্তুরী ছিল।