(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: -)
جزء حنبل بن إسحاق   (حنبل بن إسحاق)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء حنبل (التاسع من فؤائد ابن السماك)

المؤلف: أبو علي حنبل بن إسحاق بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني (ت 273هـ)

المحقق: هشام بن محمد

الناشر: مكتبة الرشد - السعودية / الرياض

الطبعة: الثانية، 1419هـ - 1998م

عدد الصفحات: 125

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জুযউ হাম্বল বিন ইসহাক   (হাম্বল বিন ইসহাক)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: জুযউ হাম্বল (ইবনুস সাম্মাকের ফাওয়াইদ-এর নবম অংশ)

লেখক: আবু আলী হাম্বল বিন ইসহাক বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শাইবানি (মৃত্যু ২৭৩ হি.)

সম্পাদক: হিশাম বিন মুহাম্মদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - সৌদি আরব / রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬১)
1 - قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ الْجَلِيلِ الْمُحَدِّثِ الْمُسْنِدِ شِهَابِ بْنِ عَلِيٍّ الْمُحَسِّنِيِّ وَنَحْنُ نَسْمَعُ فِي يَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ الثَّانِي وَالْعِشْرِينَ مِنْ صَفَرَ عَامَ سَبْعَةٍ وَسَبْعِمِائَةٍ بِالْجَامِعِ الْعَتِيقِ بِمَدِينَةِ مِصْرَ الْمَحْرُوسَةِ قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْمُفْتِي بَهَاءُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي الْفَضَائِلِ هِبَةِ اللَّهِ بِنْ سَلَّامَةَ اللَّخْمِيُّ عُرِفَ بِابْنِ بِنْتِ الْجُمَيْزِيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي مَنْزِلِهِ بِمَدِينَةِ مِصْرَ الْمَحْرُوسَةِ فِي الْعِشْرِينَ مِنْ شَهْرِ رَجَبَ الْفَرْدِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَسِتِّمِائَةٍ، فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو شَاكِرٍ يَحْيَى بْنُ يُوسُفَ السَّقْلَاطُونِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ، وِاللَّفْظُ لَهُ وَقَالَ الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ وأَجَازَ لَنَا الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ، وَالْكَاتِبَةُ شُهْدَهُ بِنْتُ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ الْإِبَرِيُّ قَالُوا ثَلَاثَتُهُمْ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْقَاسِمِ الصَّيْرَفِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الطُّيُورِيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ بِبَغْدَادَ، قَالَ الْإِمَامُ السِّلَفِيُّ مَرَّتَيْنِ فِي رَبِيعٍ الْآخِرِ فِي رَجَبَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، وَقَالَ السَّقْلَاطُونِيُّ فِي رَبِيعٍ الْأَوَّلِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، وَقَالَتْ شُهْدَةُ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ سَبْعٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قَالَ أنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ ⦗ص: 62⦘ شَاذَانَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي يَوْمِ الْإِثْنَيْنِ لِسَبْعٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قَالَ: ثنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَقَّاقُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّمَّاكِ فِي دَرْبِ الضَّفَادِعِ فِي مَنْزِلِهِ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ لِتِسْعٍ بَقِينَ مِنَ الْمُحَرَّمِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ: حَدَّثَنَا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ حَنْبَلٍ الشَّيْبَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ ، قَالَ: ثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، إِنَّا نَدْخُلُ عَلَى السُّلْطَانِ فَنَقُولُ لَهُ مَا نَتَكَلَّمُ بِخِلَافِهِ إِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِ. فَقَالَ: «كُنَّا‌‌ نَعُدُّ هَذَا نِفَاقًا»
১ - সম্মানিত শায়খ, মুহাদ্দিস, মুসনিদ শিহাব বিন আলী আল-মুহাসিনির নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা তা শুনছিলাম ৭০৭ হিজরি সনের সফর মাসের ২২ তারিখ বুধবার, সুরক্ষিত মিসর শহরের পুরাতন জামে মসজিদে। তাঁকে বলা হলো: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, আলেম, মুফতি বাহাউদ্দীন আবু আল-হাসান আলী বিন আবিল ফাদায়িল হিবাতুল্লাহ বিন সালামাহ আল-লাখমি—যিনি ইবনে বিনতিল জুমায়জি নামে পরিচিত—তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং আপনি তা শুনছিলেন সুরক্ষিত মিসর শহরে তাঁর নিজ গৃহে ৬৪২ হিজরি সনের রজব মাসের ২০ তারিখ; অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু শাকির ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ আস-সাকলাতুনি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং আমরা তা শুনছিলাম—এবং শব্দসমূহ তাঁরই। শায়খ আবুল হাসান আরও বলেন: এবং আমাদের ইজাযাহ দিয়েছেন ইমাম, হাফেজ আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সিলাফি আল-আসবাহানি এবং লেখিকা শুহদাহ বিনত আহমদ বিন আল-ফারাজ আল-ইবারি। তাঁরা তিনজনই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, আলেম আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার বিন আহমদ বিন আল-কাসিম আস-সাইরাফি—যিনি ইবনে আত-তুয়ুরি নামে পরিচিত—বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং আমরা তা শুনছিলাম। ইমাম আস-সিলাফি বলেন (দুই বার): ৪৯৪ হিজরি সনের রবিউস সানি এবং রজব মাসে। আস-সাকলাতুনি বলেন ৪৯৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে এবং শুহদাহ বলেন ৪৯৭ হিজরি সনের মুহাররম মাসে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ শাজান তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম ৪২৪ হিজরি সনের জিলহজ মাসের সাত দিন বাকি থাকতে সোমবার দিনে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাক—যিনি ইবনে আস-সাম্মাক নামে পরিচিত—দারব আল-দাফাদি'-তে তাঁর নিজ গৃহে ৩৪৪ হিজরি সনের মুহাররম মাসের নয় দিন বাকি থাকতে বুধবার দিনে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হানবাল বিন ইসহাক বিন হানবাল আশ-শাইবানি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম বিন মুহাম্মদ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আবু আব্দুর রহমান! আমরা সুলতানের নিকট প্রবেশ করি এবং তাঁর সামনে এমন কথা বলি যার বিপরীতে আমরা তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে কথা বলি। তখন তিনি বললেন: «আমরা একে মুনাফেকি গণ্য করতাম»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৩)
2 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«لَا يَزَالُ هَذَا الْأَمْرُ فِي قُرَيْشٍ مَا بَقِيَ مِنَ النَّاسِ اثْنَانِ»
২ - আমাদিগকে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমাদিগকে আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন, আমাদিগকে আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মধ্য হতে দুইজন অবশিষ্ট থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই শাসনভার কুরাইশদের মাঝেই থাকবে»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৪)
3 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ يَزِيدَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ ، فَإِنْ شَرِبَهَا فَاجْلِدُوهُ» قَالَ حَمَّادٌ: أَحْسِبُهُ قَالَ فِي الْخَامِسَةِ ، «فَإِنْ شَرِبَهَا فَاقْتُلُوهُ»
৩ - হাম্বল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মদ পান করে তাকে বেত্রাঘাত করো, অতঃপর সে যদি পুনরায় পান করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো» হাম্মাদ বলেন: আমার ধারণা তিনি পঞ্চম বারের ক্ষেত্রে বলেছেন, «অতঃপর সে যদি পুনরায় পান করে তবে তাকে হত্যা করো»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৪)
4 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ الْبَاهِلِيُّ ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى سُوقِ الْمَدِينَةِ عَلَى طَعَامٍ أَعْجَبَهُ حُسْنُهُ ، فَوَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي الطَّعَامِ فَأَخْرَجَ شَيْئًا لَيْسَ كَالظَّاهِرِ ، فَأَفَّفَ لِصَاحِبِ الطَّعَامِ ثُمَّ نَادَى: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ‌‌ لَا غِشَّ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ ، لَيْسَ مِنَّا مَنْ غَشَّنَا»
৪ - আমাদের নিকট হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাজ্জাজ ইবন মিনহাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আকিল আল-বাহিলি বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসিম ইবন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি সালিম ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার বাজারে এক খাদ্যের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার সৌন্দর্য তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে থামলেন এবং খাদ্যের ভেতর তাঁর হাত প্রবেশ করালেন, অতঃপর এমন কিছু বের করে আনলেন যা বাহ্যিক অবস্থার মতো ছিল না। তিনি খাদ্য বিক্রেতার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করলেন এবং উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: «হে লোকসকল! নিশ্চয়ই‌‌ মুসলিমদের মাঝে কোনো প্রতারণা নেই; যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৫)
5 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «أَنَّ‌‌ أُمَّ عَاصِمٍ كَانَ يُقَالُ لَهَا عَاصِيَةُ فَسَمَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمِيلَةَ»
৫ - হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে: «উম্মে আসিমকে আসিয়াহ বলা হতো, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রাখলেন জামীলাহ।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৫)
6 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«لَا تَبِيعُوا الثَّمَرَةَ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا» نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُبْتَاعَ ، وَنَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَعَنِ الْمُزَابَنَةِ ، وَالْمُزَابَنَةُ: أَنْ يَبِيعَ أَحَدُكُمْ ثَمَرَ حَائِطِهِ بِتَمْرٍ كَيْلًا إِنْ كَانَ نَخْلًا أَوْ طَعَامًا "
৬ - আমাদের নিকট হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জুয়াইরিয়াহ বিন আসমা নাফে' থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা ফলের পরিপক্কতা প্রকাশ পাওয়ার আগে তা বিক্রয় করো না» তিনি বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন এবং তিনি মুহাকালাহ ও মুযাবানাহ থেকেও নিষেধ করেছেন, আর মুযাবানাহ হলো: তোমাদের কেউ তার বাগানের ফল শুকনো খেজুরের নির্দিষ্ট পরিমাপের বিনিময়ে বিক্রয় করা—যদি তা খেজুর গাছ হয়, অথবা খাদ্যের (শস্যের) বিনিময়ে।
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৫)
7 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ⦗ص: 66⦘: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ قَدِمُوا مَكَّةَ مُلَبِّينَ بِالْحَجِّ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ شَاءَ أَنْ يَجْعَلَهَا عُمْرَةً ، إِلَّا مَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْيُ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، يَرُوحُ أَحَدُنَا إِلَى مِنًى وَذَكَرُهُ يَقْطُرُ مَنِيًّا قَالَ: «نَعَمْ» فَسَطَعَتِ الْمَجَامِرُ بِالْبَطْحَاءِ وَقَدِمَ عَلِيٌّ عليه السلام مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ: إِنَّ مَعَنَا أَهْلَكَ فَبِمَ أَهْلَلْتَ قَالَ: أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَإِنْ كَانَ لَكَ مَعَنَا هَدْيٌ قَالَ حُمَيْدٌ: " فَحَدَّثْتُ بِهِ الْقَوْمَ فِيهِمْ فَقَالَ: هَكَذَا الْحَدِيثُ لَعَمْرِي "
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হানবাল, তিনি বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন হুমাইদ থেকে, তিনি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় মক্কায় আগমন করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যার সাথে হাদি (কুরবানীর পশু) নেই, তাদের মধ্যে যে ইচ্ছা করে সে একে উমরায় রূপান্তরিত করতে পারে।" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি এমতাবস্থায় মিনার দিকে রওনা হবে যে তার লিঙ্গ হতে বীর্য ঝরছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। অতঃপর বাতহা প্রান্তরে সুগন্ধি ধূপের ধোঁয়া প্রজ্বলিত হলো। আর আলী (আলাইহিস সালাম) ইয়ামেন থেকে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমার পরিবার তো আমাদের সাথেই আছে, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা দিয়ে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তা দিয়েই ইহরাম বেঁধেছি। (তিনি বললেন:) যদি তোমার সাথে আমাদের ন্যায় হাদি থাকে। হুমাইদ বলেন: "অতঃপর আমি উপস্থিত লোকদের নিকট এটি বর্ণনা করলাম, তখন তাদের মধ্য হতে একজন বললেন: আমার জীবনের কসম! হাদীসটি এমনই।"
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৬)
8 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ ، حَدَّثَنَا ⦗ص: 67⦘ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ المْجَبْرِ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ: أَنَّهُ جَاءَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى جَنْبِ الْمِنْبَرِ يُكَلِّمُ النَّاسَ ، قَالَ: فَقُلْتُ: مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: قَالَ: ‌‌«كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ ، وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ ، وَلَا يَطْعَمُهَا أَحَدٌ فِي الدُّنْيَا فَيَطْعَمَهَا فِي الْآخِرَةِ ، إِلَّا أَنْ يَتُوبَ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَتَخَلَّصْتُ حَتَّى قُمْتُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَرَأَيْتَ مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ؟ قَالَ: «فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ»
৮ - হাম্বল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবন মিনহাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আল-মুজাব্বির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, নাফে’ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে: তিনি আসলেন যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরের পাশে লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী বললেন? তিনি বললেন: তিনি (রাসূল) বলেছেন: “প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই মদ এবং প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি তা পান করবে, সে পরকালে তা পান করতে পারবে না, তবে আল্লাহ যাকে তাওবা নসীব করেন।” আবদুল্লাহ বলেন: অতঃপর আমি ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেলাম এবং আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যে বস্তুর অধিক পরিমাণে নেশা হয়, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: “তার সামান্য পরিমাণও হারাম।”
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৮)
10 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَاصِمٍ ، ابْنُ أَخِي عَلِي بْنِ عَاصِمٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ ، عَنْ جَابِرٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَذَّنَ سَبْعَ سِنِينَ مُحْتَسِبًا كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَهُ بَرَاءَةً مِنَ النَّارِ»
১০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে উসমান ইবনে আসিম, যিনি আলী ইবনে আসিমের ভ্রাতুষ্পুত্র; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু তুমা ইলাহ, আবু হামযা থেকে, জাবির থেকে, মুজাহিদ থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় সাত বছর আযান দিবে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা লিখে দেবেন»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৬৮)
11 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُثْمَانَ ، حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَزِيدَ ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ ، ⦗ص: 69⦘ عَنْ نُفَيْعِ بْنِ الْحَارِثِ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: «سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِشْرِينَ لَيْلَةً يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ» وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: "‌‌ نِعْمَتِ السُّورَتَانِ هُمَا: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ، وَقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ تَعْدِلُ رُبْعَ الْقُرْآنِ " أَخْبَرَنَا حَنْبَلٌ ، قَالَ: ثَنَا عُمَرُ بْنُ عُثْمَانَ: أَبُو أُنَيْسَةَ اسْمُهُ يَزِيدُ ، وَهَذَا يَحْيَى بْنُ يَزِيدَ ، أَخُو زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ قَالَ: وَقَالَ أَبُو تُمَيْلَةَ: قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: «أَنَا أَجْمَعُهُمَا جَمَيعًا»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে উসমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তুমাইলা, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আবি উনাইসা থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ তিনি নুফাই ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ রাত ধরে ফজরের পূর্বের দুই রাকাআতে ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতে শুনেছি» এবং আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "‌‌ সূরা দুটি কতই না চমৎকার: ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান, এবং ‘কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান। " হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু উনাইসার নাম হলো ইয়াযিদ, আর এই ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযিদ হলেন যায়েদ ইবনে আবি উনাইসার ভাই। তিনি বলেন: এবং আবু তুমাইলা বলেছেন: ইবনে ইসহাক বলেছেন: «আমি তাদের উভয়কে একত্রে বর্ণনা করছি (বা সংকলন করেছি)।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭০)
12 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُرَاتِ التَّمِيمِيُّ ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَارِبَ بْنَ دِثَارٍ ، يَقُولُ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«شَاهِدُ الزُّورِ لَا تَزُولُ قَدَمَاهُ حَتَّى تُوجَبَ لَهُ النَّارُ»
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্বল, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে আলী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-ফুরাত আত-তামিমি, তিনি বলেন: আমি মুহারিব ইবনে দিসারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর দুই পা সরবে না যতক্ষণ না তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায়»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭০)
13 - قَالَ: «وَالطَّيْرُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ الْعَرْشِ تَرْفَعُ مَنَاقِيرَهَا ، وَتَضْرِبُ بِأَذْنَابِهَا وَتَطْرَحُ ⦗ص: 71⦘ مَا فِي بُطُونِهَا ، وَلَيْسَتْ عِنْدَهَا طِلْبَةٌ» قَالَ وَمُحَارِبٌ حِينَئِذٍ يَعِظُ رَجُلًا يَقُولُ لَهُ: «اتَّقِ ذَلِكَ الْيَوْمَ»
১৩ - তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন আরশের নিচে থাকা পাখিরা তাদের চঞ্চুগুলো উঁচু করবে, তাদের লেজ ঝাপটাবে এবং ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ তাদের পেটে যা আছে তা উগড়ে দেবে, অথচ তাদের কোনো প্রার্থনা থাকবে না।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তখন মুহারিব এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বলছিলেন: "তুমি সেই দিনটিকে ভয় করো।"
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭২)
14 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدِ ابْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، قَالَ: رَأَى ابْنُ عُمَرَ رَجُلًا يَبْنِي بِنَاءً فَقَالَ لَهُ: «لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَإِنِّي‌‌ لَأَبْنِي لِنَفْسِي بَيتًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يُكِنُّنِي مِنَ الْمَطَرِ وَيُظِلُّنِي مِنَ الشَّمْسِ ، مَا يُعِينُنِي عَلَيْهِ أَحَدٌ مِنَ الْخَلْقِ»
১৪ - আমাদিগকে হানবাল বর্ণনা করেছেন, আমাদিগকে আল-হাসান ইবন বিশর বর্ণনা করেছেন, আমাদিগকে ইসহাক ইবন সাঈদ ইবন আমর ইবন সাঈদ ইবনুল আস তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবন উমর এক ব্যক্তিকে একটি ইমারত নির্মাণ করতে দেখলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: «আমি অবশ্যই নিজেকে দেখেছি যে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নিজের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করছিলাম, যা আমাকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করত এবং রোদ থেকে ছায়া দান করত, আর কোনো সৃষ্টির কেউ আমাকে এ কাজে সাহায্য করেনি।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭২)
15 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ ، حَدَّثَنَا الْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ ، عَنْ أَيُّوبَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عز وجل عَلَى امْرَأَةٍ تُدْخِلُ فِي قَوْمٍ مَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ ، يَشْرِكُهُمْ فِي أَمْوَالِهِمْ ، وَيَطَّلِعُ عَلَى عَوَرَاتِهِمْ»
১৫ - হাম্বাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াফা বিন ইমরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন ইয়াযিদ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঐ মহিলার প্রতি মহান আল্লাহর ক্রোধ অত্যন্ত কঠোর হয়েছে যে কোনো কওমের মধ্যে এমন কাউকে দাখিল করে যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে সে ব্যক্তি তাদের সম্পদের অংশীদার হয় এবং তাদের গোপন বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ করে।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৩)
16 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا عَمْرِو بْنُ عَوْنٍ ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ أَمَرَ عَائِشَةَ أَنْ تُنَاوِلَهُ الْخُمْرَةَ ، فَقَالَتْ: إِنِّي حَائِضٌ ، قَالَ: «إِنَّهَا لَيْسَتْ فِي يَدِكِ»
১৬ - হানবাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমর ইবন আওন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, খালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবন আবী লায়লা হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবন উমর হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশাকে একটি জায়নামাজ (খুমরা) এগিয়ে দিতে আদেশ করলেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি ঋতুমতী। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তা তোমার হাতে নেই।
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৩)
17 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا عَمْرِو بْنُ عَوْنٍ ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ كَانَ فِي يَدِهِ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ ، فَنَزَعَهُ وَاصْطَنَعَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ ، كَانَ يَخْتِمُ بِهِ الصُّحُفَ»
১৭ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্বাল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনুল আউন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ, ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে একটি সোনার আংটি ছিল, অতঃপর তিনি সেটি খুলে ফেললেন এবং একটি রূপার আংটি তৈরি করালেন, যা দিয়ে তিনি নথিপত্রগুলোতে মোহর মারতেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৩)
18 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا عَمْرِو ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ ، عَنْ لَيْثٍ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ‌‌ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ»
১৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হানবাল, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ফুদাইল ইবনে ইয়াদ, লাইস থেকে বর্ণিত, নাফে থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর থেকে বর্ণিত: «নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাদানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৩)
19 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ ، قَالَ: كَانَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ ، مِنْ دهاةِ قُرَيْشٍ ، وَكَانَ يَقُولُ: «إِنَّ مِنْ‌‌ أَقَلِّ عَيْبِ الرَّجُلِ أَنْ يُكْثِرَ الْجُلُوسَ فِي الْبَيْتِ»
১৯ - হাম্বাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে বর্ণিত, কায়েস ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ কুরাইশদের অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি বলতেন: «নিশ্চয়ই মানুষের দোষত্রুটির মধ্যে সবচাইতে লঘু বিষয় হলো ঘরে অধিক সময় অবস্থান করা।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৩)
20 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ ⦗ص: 74⦘ الْأَصْبَهَانِيُّ ، حَدَّثَنَا ابْنُ يَمَانِ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا تَذْهَبِ الدُّنْيَا حَتَّى تَنْجَلَيَ فِرَاتُكُمْ عَنْ جَزِيرَةٍ مِنْ ذَهَبٍ ، فَتَقْتَتِلُونَ عَلَيْهِ ، فَيُقْتَلَ مِنْ كُلِّ مِائَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ»
২০ - হানবাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ আল-আসবাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি সুহায়েল বিন আবু সালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দুনিয়া শেষ হবে না যতক্ষণ না তোমাদের ফুরাত নদী থেকে একটি সোনার দ্বীপ উন্মোচিত হয়, যার ওপর তোমরা যুদ্ধ করবে, এবং প্রত্যেক একশজনের মধ্যে নিরানব্বইজন নিহত হবে।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৪)
21 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ ، قَالَ: جِئْتُ أَنَا وَيُوسُفُ بْنُ أَسْبَاطٍ فَضَرَبْنَا عَلَى سُمَيْرٍ الْبَابِ ، فَخَرَجَ إِلَيْنَا وَعَلَى أَصَابِعِهِ أَثَرُ الطَّعَامِ فَقَالَ: ‌‌«لَوْلَا أَنَّهُ بِدَيْنٍ مَا تَرَكْتُكُمْ حَتَّى تَدْخُلُوا وَتُصِيبُوا مِنْهُ»
২১ - আমাদের নিকট হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনুর রাবী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আল-আহওয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং ইউসুফ ইবনে আসবাত আসলাম এবং আমরা সুমাইরের দরজায় করাঘাত করলাম। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং তাঁর আঙ্গুলসমূহে খাবারের চিহ্ন ছিল; তখন তিনি বললেন: «যদি এটি ঋণের না হতো, তবে আমি তোমাদেরকে ভেতরে প্রবেশ না করিয়ে এবং তা থেকে কিছু না খাইয়ে ছাড়তাম না।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৪)
22 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ ، عَنْ سُمَيْرٍ أَبِي عَاصِمٍ ، قَالَ ⦗ص: 75⦘: " كَانَ يُقَالُ:‌‌ شَرَفُ الرَّجُلِ الصَّلَاةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ ، وَعِزُّهُ اسْتِغْنَاؤُهُ عَمَّا فِي أَيْدِي النَّاسِ "
২২ - হাম্বল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে আর-রাবী' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আল-আহওয়াস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুমাইর আবু আসিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘: "বলা হতো: ব্যক্তির সম্মান হলো গভীর রাতে সালাত আদায় করা এবং তার মর্যাদা হলো মানুষের হাতে যা আছে তা থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা। "
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৫)
23 - قَالَ: " وَكَانَ يُقَالُ: إِنَّ‌‌ الْمُؤْمِنَ لَا يَجْزَعُ مِنْ ذُلِّ الدُّنْيَا ، وَلَا يُنَافِسُ فِي عِزِّهَا "
২৩ - তিনি বলেন: "আর বলা হতো: নিশ্চয়ই মুমিন দুনিয়ার হীনতায় বিচলিত হয় না এবং এর সম্মানের জন্য প্রতিযোগিতা করে না"
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৫)
24 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ مَرْوَانَ ، حَدَّثَنِي يَحْيَى الْأَعْرَجُ ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: عَلَّمَ جِبْرِيلُ عليه السلام رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الدُّعَاءَ ، وَعَلَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه ، وَكَانَ شَاكِيًا فَقَالَ لَهُ: " إِذَا أَصَابَكَ مَرْضٌ فَقُلْ ⦗ص: 76⦘: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمَلِكُ ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، يَحْيَى وَيُمِيتُ وَهُو حَيٌّ لَا يَمُوتُ ، سُبْحَانَ رَبِّ الْعِبَادِ وَالْبِلَادِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا طَيبًا مُبَارَكًا فِيهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ ، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا ، جَلَالُ اللَّهِ وَكِبْرِيَاؤُهُ وَعَظَمَتُهُ بِكُلِّ مَكَانٍ ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ قَضَيْتَ لِي مَوْتَتِي فِيهِ ، فَاغْفِرْ لِي وَأَخْرِجْنِي مِنْ ذُنُوبِي وَأَسْكِنِّي جَنَّةَ عَدْنٍ "
২৪ - আমাদের বর্ণনা করেছেন হাম্বল, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের বর্ণনা করেছেন মাখলাদ ইবনে মারওয়ান, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া আল-আ'রাজ, তিনি সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই দুআটি শিক্ষা দিয়েছেন, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে শিক্ষা দিয়েছিলেন যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তিনি তাঁকে বললেন: "যখন তোমার কোনো অসুখ হয়, তখন তুমি বলো ⦗পৃষ্ঠা: ৭৬⦘: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর তিনি চিরঞ্জীব যিনি মৃত্যুবরণ করেন না। বান্দাগণ ও দেশসমূহের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। সকল অবস্থায় আল্লাহর জন্য প্রচুর, উত্তম ও বরকতময় প্রশংসা। আল্লাহ সর্বাপেক্ষা মহান। আল্লাহর প্রতাপ, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিটি স্থানে বিদ্যমান। হে আল্লাহ, আপনি যদি এই অসুস্থতাতেই আমার মৃত্যু নির্ধারণ করে থাকেন, তবে আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে মুক্ত করুন এবং আমাকে জান্নাতে আদন-এ বসবাস করতে দিন।"
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৬)
25 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَنِ الْأَسْوَدِ ، عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ صَلَّى خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه»
২৫ - হাম্বাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসলিম ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি সুলাইমান আল-আ'মাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, «আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর (রা.)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছেন।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৬)
26 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه كَتَبَ: ‌‌«لَا تُسَمَّوْا بِاسْمِ نَبِيٍّ» فَكَانَ رَجُلٌ يُسَمَّى هَارُونُ فَغَيَّرَ اسْمَهُ
২৬ - হানবাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লিখেছিলেন: «তোমরা কোনো নবীর নামে নামকরণ করো না»; ফলে জনৈক ব্যক্তি যার নাম ছিল হারুন, সে তার নাম পরিবর্তন করে ফেলেছিল।
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৭)
27 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ: أَنَّ دُغْفُلًا قَالَ: ‌‌«مَا اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي شَيْءٍ إِلَّا كَانَ الْحَقُّ مَعَ مُضَرَ»
২৭ - আমাদের নিকট হাম্বাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, দুগফুল বলেছেন: «মানুষেরা কোনো বিষয়ে মতভেদ করেনি তবে সত্য মুদারের সাথেই ছিল»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৭)
28 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ:‌‌ أَنَّ رَجُلًا أَعْتَقَ شَقِيصًا مِنْ مَمْلُوكٍ «فَأَجَازَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِتْقَهُ ، وَغَرَّمَهُ بَقِيَّةَ ثَمَنِهِ»
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হানবাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, কাতাদাহ হতে বর্ণিত, তিনি নাযর ইবনে আনাস হতে, তিনি বাশীর ইবনে নাহীক হতে এবং তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন:‌‌ যে জনৈক ব্যক্তি এক গোলামের অংশবিশেষ আযাদ করলেন, ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আযাদ করাকে অনুমোদন দিলেন এবং তার ওপর অবশিষ্ট মূল্যের দায়ভার ন্যস্ত করলেন।
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৭)
29 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا عَفَّانَ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ ⦗ص: 78⦘ كَثِيرِ بْنِ عُبَيْدٍ ، حَدَّثَنِي أَبِي ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ، ثُمَّ قَدْ حُرِّمَ عَلِيَّ دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عز وجل»
২৯ - আমাদের নিকট হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘ কাসীর ইবনে উবায়েদ বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, এবং তারা সালাত কায়েম করে, ও যাকাত প্রদান করে; অতঃপর আমার ওপর তাদের রক্ত ও সম্পদ হারাম হয়ে যায় এবং তাদের হিসাব মহান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।»
(খণ্ড: ১) জুযউ হানবাল ইবনু ইসহাক (পৃষ্ঠা: ৭৮)
30 - حَدَّثَنَا حَنْبَلٌ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلَالٍ ، حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِي ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ ، فَإِذَا هُمْ بِرَجُلٍ ، فَقَالُوا: يَا نَبِيَ اللَّهِ ،‌‌ مَا أَفْطَرَ هَذَا مُنْذُ كَذَا وَكَذَا ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَا صَامَ هَذَا وَمَا أَفْطَرَ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مَا تَقُولُ فِي صَوْمِ يَوْمَيْنِ وَفِطْرِ يَوْمٍ؟ قَالَ: «أَوَ يُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ» قَالُوا: يَا بَنِي اللَّهِ ، صَوْمِ يَوْمٍ وَفِطْرِ يَوْمٍ؟ قَالَ: «ذَاكَ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ عليه السلام» قَالُوا: يَا نَبِيَ اللَّهِ ، صَوْمُ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ؟ قَالَ: «ذَاكَ يَوْمٌ وَلَدَتُ فِيهِ وَيَوْمٌ أُنْزِلَتْ عَلِيَّ فِيهِ النُّبُوَّةُ» قَالُوا: صَوْمُ يَوْمِ عَرَفَةَ وَيَوْمِ عَاشُورَاءَ؟ - ⦗ص: 79⦘ قَالَ أَبُوهِلَالٍ: بَدَأَ بِأَحَدِهِمَا وَلَمْ أَدْرِ بِأَيهِمَا بَدَأَ - قَالَ: «أَحَدُهُمَا يَعْدِلُ سَنَةً وَأَحَدُهُمَا يَعْنِي ذَلِكَ الْعَامَ وَالْعَامَ الَّذِي يَلِيهِ»
৩০ - হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, গায়লান ইবনে জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ আজ-জিমানি থেকে, তিনি আবু কাতাদা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কিছু সাহাবীর সাথে ছিলেন। তখন তাঁরা এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর নবী, এই ব্যক্তি তো অমুক অমুক সময় থেকে সাওম ভঙ্গ করেনি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «সে সাওমও রাখেনি, আবার সাওম ভঙ্গও করেনি»। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, দুই দিন সাওম রাখা এবং এক দিন ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: «কারোর কি সেই সামর্থ্য আছে?» তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর নবী, এক দিন সাওম রাখা এবং এক দিন ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে কী বলেন? তিনি বললেন: «তা হলো আমার ভাই দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর সাওম»। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর নবী, সোমবারের সাওম সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: «এটি এমন এক দিন যে দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনে আমার ওপর নবুওয়াত অবতীর্ণ করা হয়েছে»। তাঁরা বললেন: আরাফাহ দিবসের সাওম এবং আশুরার দিনের সাওম সম্পর্কে কী বলেন? - ⦗পৃষ্ঠা: ৭৯⦘ আবু হিলাল বলেন: তিনি যেকোনো একটির মাধ্যমে শুরু করেছিলেন, তবে আমি জানি না তিনি কোনটি দিয়ে শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন: «এদের একটির সাওম এক বছরের সমান এবং অন্যটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই বছর এবং তার পরবর্তী বছর»।