(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: -)
جزء المؤمل (المؤمل بن إيهاب)
القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء المؤمل بن إيهاب
المؤلف: مؤمل بن إهاب - وقيل: يهاب - بن عبد العزيز بن قُفْل بن سدل الربعي أبو عبد الرحمن الكوفي الرملي (ت 254هـ)
المحقق: عماد بن فرة
الناشر: دار البخاري - بريدة
الطبعة: الأولى، 1413
عدد الصفحات: 130
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুআম্মালের জুজ (মুআম্মাল ইবনে ইহাব)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: মুআম্মাল ইবনে ইহাবের জুজ
লেখক: মুআম্মাল ইবনে ইহাব - এবং বলা হয়: ইয়াহাব - বিন আব্দুল আজিজ বিন কুফল বিন সাদালাল রাবায়ি আবু আব্দুর রহমান আল-কুফি আর-রামলি (মৃত্যু ২৫৪ হিজরি)
তাহকীককারী: ইমাদ বিন ফাররাহ
প্রকাশক: দার আল-বুখারি - বুরাইদাহ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
أَخْبَرَنَا جَدِّي شَيْخُ الْإِسْلَامِ وَالْحُفَّاظُ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيُّ إِجَازَةُ إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، وَقَرَأْتُ عَلَى أُمِّ الْفَضْلِ هَاجَرَ بِنْتِ الشَّرَفِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْقُدُسِيُّ فِي يَوْمِ الْأَحَدِ حَادِيَ عَشَرَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ ثَمَانِمِائَةٍ وَثَمَانٍ وَسِتِّينَ قَالَا: أنا الْحَافِظَانِ أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعِرَاقِيُّ ، وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْهَيْثَمِيُّ ، سَمَاعًا لِلْأَوَّلِ بِقِرَاءَتِهِ ، وَإِجَازَةٍ لِلثَّانِيَةِ إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا قَالَا: أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْخَبَّازِ الْأَنْصَارِيُّ ، ح وَكَتَبَ إِلَيَّ الْمُحَدِّثُ تَاجُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَافِظِ عِمَادِ الدِّينِ النَّقَلِيِّ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْخَبَّازِ إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي الْيَسَرِ التَّنُّوخِيُّ فِي الرَّابِعَةِ ، أنا أَبُو طَاهِرٍ بَرَكَاتُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْخُشُوعِيُّ ، أنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ اْلُمَسَلِّمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ السُّلَمِيُّ ، أنا أَبُو الْحَسَنِ أَحَمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أبَي الْحَدِيدِ السُّلَمِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي دَارِهِ بِدِمَشْقَ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ سَنَةَ أَرْبَعِمِائَةٍ وَتِسْعٍ وَسِتِّينَ قَالَ: أنا جَدِّي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْحَدِيدِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ سَنَةَ أَرْبَعِمِائَةٍ وَوَاحِدٍ قَالَ:⦗ص: 40⦘ 1 - أنا أَبُو الْفَضلِ أَحمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَصْرِ بْنِ هِلَالٍ السُّلَمِيُّ، أنا أَبُو عَبدِ الرَّحْمَنِ الْمُؤَمِّلُ بْنُ إِهَابٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ سُعَيْرٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَقَالَ أَخَاهُ أَقَالَ اللَّهُ عَثْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
আমাকে আমার দাদা শাইখুল ইসলাম এবং আল-হাফিজ আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আল-আসকালানী ইজাজতসূত্রে জানিয়েছেন—যদি তা শ্রবণসূত্রে না হয়ে থাকে—এবং আমি উম্মুল ফজল হাজার বিনতে আশ-শারাফ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আব্দুল আজিজ আল-কুদসির নিকট ৮৬৮ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের এগারো তারিখ রবিবারে পাঠ করেছি। তাঁরা উভয়েই বলেন: আমাদের নিকট দুই হাফিজ—আবু আল-ফজল আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান আল-ইরাকি এবং আবু আল-হাসান আলী বিন আবি বকর বিন সুলাইমান আল-হাইসামি বর্ণনা করেছেন; প্রথমজনের ক্ষেত্রে তাঁর নিকট পাঠ শ্রবণ করার মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়জনের ক্ষেত্রে ইজাজতের মাধ্যমে যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-খাব্বাজ আল-আনসারি বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং মুহাদ্দিস তাজউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আল-হাফিজ ইমাদউদ্দীন আন-নাকালি আমার নিকট লিখেছেন যে, আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-খাব্বাজ ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে। আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আবুল ইয়াসার আত-তানুখি তাঁর চতুর্থ বয়সে থাকাকালীন বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আবু তাহের বারাকাত বিন ইব্রাহিম আল-খুশুয়ী বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আবু আল-হাসান আলী বিন আল-মুসাল্লাম বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ আস-সুলামি বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আবু আল-হাসান আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আবিল হাদিদ আস-সুলামি ৪৬৯ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসে দামেস্কে তাঁর নিজ বাসভবনে পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার দাদা আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন আবিল হাদিদ ৪০১ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসে পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ ১ - আমাদের নিকট আবুল ফজল আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নাসর বিন হিলাল আস-সুলামি বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আল-মুআম্মিল বিন ইহাব বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট মালিক বিন সুআইর আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের অনুশোচনা গ্রহণ করে (চুক্তি বাতিল করে দেয়), কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার পদস্খলন ক্ষমা করে দেবেন।»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
2 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ بْنُ إِهَابٍ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، ثنا حُصَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ سَلَّمَ: «أَتَانِي جِبْرِيلُ فِي خُضْرٍ مُعَلَّقٌ بِالدُّرِ»
২ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল ইবনে ইহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যায়েদ ইবনুল হুবাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «জিবরীল আমার নিকট সবুজ পোশাকে এসেছিলেন যা মুক্তো দ্বারা সুশোভিত ছিল»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
3 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ بْنُ إِهَابٍ، ثنا سَيَّارُ بْنُ حَاتِمٍ، ثنا عِمْرَانُ بْنُ خَالِدٍ الْخُزَاعِيُّ، ثنا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ دَخَلَ سَلْمَانُ عَلَى عُمَرَ رضي الله عنهم فَأَلْقَى لَهُ وِسَادَةً فَقَالَ سَلْمَانُ: اللَّهُ أَكْبَرُ صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ ، فَقَالَ عُمَرُ إِيهِ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مَا صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ؟ فَقَالَ سَلْمَانُ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَلْقَى لِي وِسَادَةً فَقَالَ: «يَا سَلْمَانُ أَيُّمَا رَجُلٍ دَخَلَ عَلَى أَخِيهِ الْمُسْلِمِ فَأَلْقَى لَهُ وِسَادَةً إِكْرَامًا لَهُ غُفِرَ لَهُ»
৩ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল ইবনে ইহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাইয়্যার ইবনে হাতিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইমরান ইবনে খালিদ আল-খুজায়ি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাবিত আল-বুনানি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালমান উমরের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিকট প্রবেশ করলেন, তখন উমর তাঁর জন্য একটি বালিশ পেতে দিলেন। সালমান বললেন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। উমর বললেন: হে আবু আবদুল্লাহ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কী সত্য বলেছেন? সালমান বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করেছিলাম, তখন তিনি আমার জন্য একটি বালিশ পেতে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: «হে সালমান! যে কোনো ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের নিকট প্রবেশ করে এবং সে (ভাই) তার সম্মানের জন্য তার সামনে একটি বালিশ পেতে দেয়, তবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
4 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو أُوَيْسٍ، ثنا الْعَلَاءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَقُولُ ابْنُ آدَمَ مَالِي مَالِي ، وَإِنَّمَا لَكَ مِنْ مَالِكِ ثَلَاثٌ مَا أَكَلْتَ فَأَفْنَيْتَ أَوْ لَبِسْتَ فَأَبْلَيْتَ أَوْ أَعْطَيْتَ فَأَمْضَيْتَ وَمَا سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ ذَاهِبٌ وَتَارِكُهُ لِلنَّاسِ»
৪ - আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাদর ইবন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উওয়াইস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আল-আলা তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আদম সন্তান বলে, ‘আমার সম্পদ, আমার সম্পদ!’ অথচ তোমার সম্পদ থেকে তোমার জন্য কেবল তিনটি জিনিস রয়েছে: যা তুমি আহার করে নিঃশেষ করেছ, অথবা পরিধান করে জীর্ণ করেছ, অথবা দান করে তা কার্যকর করেছ; আর এ ছাড়া যা রয়েছে তা বিলীন হয়ে যাবে এবং মানুষের জন্য তা ছেড়ে যাবে।”
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
5 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، ثنا الْأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: «أَمَّنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَمْلَةٍ قَدْ خَالَفَ بَيْنَ طَرَفِهَا وَعَقَدَهَا فِي قَفَاهُ»
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুয়াম্মিল, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উবায়দ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-আহওয়াস বিন হাকিম, খালিদ বিন মাদান থেকে বর্ণিত, তিনি উবাদাহ বিন সামিত (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাদর পরিহিত অবস্থায় আমাদের ইমামতি করেছেন, যার দুই প্রান্ত তিনি আড়াআড়িভাবে নিয়ে বেঁধেছিলেন নিজের ঘাড়ের পিছনে»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
6 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِي غَالِبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " صِنْفَانِ لَا تَنَالُهُمَا شَفَاعَتِي: إِمَامٌ غَشُومٌ ظَلُومٌ وَكُلُّ غَالٍّ مَارِقٍ "
৬ - আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর থেকে, তিনি আবুল আলা থেকে, তিনি আবু গালিব থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: " দুই শ্রেণীর লোক আমার শাফায়াত লাভ করবে না: অত্যাচারী ও চরম জালেম শাসক এবং প্রত্যেক চরমপন্থী যে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে। "
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عِصَامُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ الْخَبَائِرِيِّ، وَأَبِي الْيَمَانِ الْهَوْزَنِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل وَعَدَنِي أَنْ يُدْخِلَ مِنْ أُمَّتِي الْجَنَّةَ سَبْعِينَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ» فَقَالَ يَزِيدُ بْنُ الْأَخْنَسِ «وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَؤُلَاءِ فِي أُمَّتِكَ إِلَّا مِثْلُ الذُّبَابِ الْأَصْهَبِ فِي الذِّبَّانِ، فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَنِي أَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعِينَ أَلْفًا مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعِينَ أَلْفًا وَثَلَاثَ حَثَيَاتٍ مِنْ حَثَيَاتِ ⦗ص: 58⦘ رَبِّي عز وجل»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইসাম ইবন খালিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাফওয়ান ইবন আমর থেকে, তিনি সুলাইম ইবন আমির আল-খাবাইরি ও আবু ইয়ামান আল-হাওজানি থেকে, তাঁরা আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তিকে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।» তখন ইয়াজিদ ইবনুল আখনেস বললেন, «আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উম্মতের মধ্যে এদের সংখ্যা তো সাধারণ মাছির পালের মাঝে একটি লালচে মাছির মতো। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মতের সত্তর হাজার ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যাদের প্রত্যেকের সাথে থাকবে আরও সত্তর হাজার, এবং অঞ্জলিগুলোর মধ্য থেকে তিন অঞ্জলি ⦗পৃ: ৫৮⦘ আমার রব আযযা ওয়া জাল্লা-র।»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، أنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنَ الشَّعْرِ حِكْمَةٌ»
আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মামার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি মারওয়ান ইবনুল হাকাম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদে ইয়াগুস থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই কবিতার মধ্যে প্রজ্ঞা রয়েছে»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا ابْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مِنَ الشَّعْرِ حِكْمَةٌ»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুআম্মিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি উওয়াইস তাঁর পিতা থেকে, তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «কবিতার মধ্যে প্রজ্ঞা রয়েছে»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ كُنَاسَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنَ الشَّعْرِ حِكْمَةٌ»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুআম্মিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে কুনাসাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতার মাঝে প্রজ্ঞা রয়েছে»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ثَلَاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ بَاعَ رَجُلًا مُرَابَحَةً فَكَذبْهُ ، وَرَجُلٌ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ كَاذِبَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ ، وَرَجُلٌ مَنَعَ فَضْلَ مَاءٍ عَنْ أَهْلِ الطَّرِيقِ»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরয়াবি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তিন ব্যক্তির দিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকাবেন না; এমন ব্যক্তি যে অন্য ব্যক্তির কাছে লাভের চুক্তিতে (মুরাবাহা) কিছু বিক্রয় করার সময় তার নিকট মিথ্যা বলেছে, এবং এমন ব্যক্তি যে মিথ্যা শপথ করেছে আসরের পর, আর এমন ব্যক্তি যে পথচারীদের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আটকে রেখেছে।»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৭০)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَدِيقٌ فِي الْبَادِيَةِ يُقَالُ لَهُ زَاهِرٌ وَكَانَ يَهْدِي لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَكَانَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُجَهِّزُ عَلَيْهِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «زَاهِرُ بَادِيَتِنَا وَنَحْنُ حَاضِرُوهُ» فَأَتَاهُ ذَاتَ يَوْمٍ وَهُوَ فِي السُّوقِ فَأَخَذَهُ مِنْ خَلْفِهِ فَقَالَ: «مَنْ يَشْتَرِي مِنِّي الْعَبْدَ» فَلَمَّا عَرَفَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يألُ أَنْ يَلْصَقَ ظَهْرَهُ بِبَطْنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: إِذَنْ تَجِدُنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ كَاسِدًا فَقَالَ: «لَكِنَّكَ عِنْدَ اللَّهِ لَسْتَ بِكَاسِدٍ وَأَنْتَ عِنْدَ اللَّهِ غَالٍ»
আহমাদ আমাদের জানিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মরুঅঞ্চলে একজন বন্ধু ছিল যার নাম ছিল যাহির। সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য উপহার নিয়ে আসত, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে (মরুভূমিতে যাওয়ার সময় শহর থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে) প্রস্তুত করে দিতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "যাহির আমাদের মরুঅঞ্চলের প্রতিনিধি, আর আমরা তার শহরের প্রতিনিধি।" অতঃপর একদিন তিনি তার নিকট আসলেন যখন সে বাজারে ছিল এবং তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি বললেন: "কে এই গোলামটিকে আমার থেকে ক্রয় করবে?" যখন সে বুঝতে পারল যে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তখন সে তার পিঠকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেটের সাথে লেপ্টে দিতে কোনো ত্রুটি করল না। তখন সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো আপনি আমাকে অচল হিসেবে পাবেন। তিনি বললেন: "কিন্তু আল্লাহর নিকট তুমি অচল নও এবং আল্লাহর নিকট তুমি অত্যন্ত মূল্যবান।"
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৭২)
أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَئِنْ عِشْتُ لَأُخْرِجَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ حَتَّى لَا أَدَعَ إِلَّا مُسْلِمًا»
আহমদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াম্মিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু যুবায়ের আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমি জাবির বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুলকে (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলতে শুনেছেন: «যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে আমি অবশ্যই আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দেব, যাতে আমি সেখানে মুসলিম ব্যতীত আর কাউকে বাকি না রাখি»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
75 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، حَدَّثَنِي، عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا بِشْرُ بْنُ رَافِعٍ الْحَارِثِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يَكْرَهُ السَّدْلَ فِي الصَّلَاةِ وَذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَكْرَهُهُ "
৭৫ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুআম্মিল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাকে বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে রাফে আল-হারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে যে, আবু উবাইদাহ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে তাঁর পিতা সালাতে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা (সাদল) অপছন্দ করতেন এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা অপছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، حَدَّثَنِي، عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا بِشْرُ بْنُ رَافِعٍ الْحَارِثِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «السَّلَامُ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ وَضَعَهُ فِي الْأَرْضِ فَأَفْشُوهُ بَيْنَكُمْ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুআম্মিল, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর বিন রাফি আল-হারিসি, ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে, আবু সালামাহ থেকে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আস-সালাম আল্লাহর নামসমূহের মধ্য হতে একটি নাম, যা তিনি জমিনে রেখেছেন; সুতরাং তোমরা নিজেদের মধ্যে এর ব্যাপক প্রচার করো»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، ثنا زُهَيْرٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، رضي الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ»
আহমাদ আমাদের অবহিত করেছেন, মুআম্মিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আমির আল-আকাদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যুহাইর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে এবং আতা ইবনে ইয়াসার মায়মুনা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত করুন) বলেছেন: «প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا سَيَّارٌ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حُبِّبَ إِلَيَّ النِّسَاءُ وَالطِّيبُ وَجُعِلَ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর হতে, সাবিত হতে এবং আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার নিকট নারী ও সুগন্ধিকে প্রিয় করা হয়েছে এবং সালাতের মধ্যে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنبا، مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنهما قَالَ كَانَ الرَّجُلُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَى رُؤْيَا قَصَّهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَمَنَّيْتُ أَنْ أَرَى رُؤْيَا أَقُصُّهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكُنْتُ غُلَامًا عَزَبًا شَابًّا، وَكُنْتُ أَنَامُ فِي الْمَسْجِدِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَرَأَيْتُ فِيَ الْمَنَامِ كَأَنَّ مَلَكَيْنِ أَتَيَانِي فَذَهَبَا بِي إِلَى النَّارِ ، فَإِذَا هِيَ مَطْوِيَّةٌ كَطَيِّ الْبِئْرِ ، وَإِذَا لَهَا قَرْنٌ كَقَرْنِ الْبِئْرِ ، قَالَ: فَرَأَيْتُ فِيهَا نَاسًا قَدْ عَرَفْتُهُمْ فَجَعَلْتُ أَقُولُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ ، قَالَ: فَلَقِيَنِي مَلَكٌ ، فَقَالَ: لَنْ تُرَعَ قَالَ: فَقَصَصْتُهَا عَلَى حَفْصَةَ فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «نَعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ» قَالَ فَكَانَ بَعْدُ لَا يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ إِلَّا الْقَلِيلَ "
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াম্মিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি স্বপ্ন দেখলে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করত। ফলে আমার মনে আকাঙ্ক্ষা জাগল যে, আমি যদি কোনো স্বপ্ন দেখতাম তবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করতাম। আমি তখন ছিলাম এক অবিবাহিত যুবক এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মসজিদে ঘুমাতাম। তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন দুজন ফেরেশতা আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে গেলেন। দেখা গেল সেটি কুয়োর পাড়ের ন্যায় বাঁধানো এবং তাতে কুয়োর খুঁটির ন্যায় দুটি খুঁটি রয়েছে। তিনি বলেন: আমি সেখানে এমন কিছু লোককে দেখতে পেলাম যাদের আমি চিনি। তখন আমি বলতে লাগলাম, আমি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি বলেন: অতঃপর এক ফেরেশতা আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: তুমি ভীত হয়ো না। তিনি বলেন: এরপর আমি হাফসার নিকট তা বর্ণনা করলাম এবং হাফসা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেন: "আবদুল্লাহ কতই না চমৎকার মানুষ, যদি সে রাতে সালাত আদায় করত!" তিনি বলেন: এরপর থেকে সে রাতের সামান্য সময় ব্যতীত আর ঘুমাত না।
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
89 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا المُؤَمِّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ»
৮৯ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআম্মিল ইবন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি মামার ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «পাপী ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুতদারি করে না।»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯০)
ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ مَعْمَرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ»
ইয়াজিদ ইবন হারুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম থেকে, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, মা’মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «পাপী ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুদদারি করে না»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯১)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا أَصْبَغُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَرَبَّصَ بِالطَّعَامِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَقَدْ بَرِئَ مِنَ اللَّهِ وَبَرِئَ اللَّهُ مِنْهُ»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াম্মিল আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ বিন হারুন আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আসবাগ বিন ইয়াযীদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বিশর থেকে, তিনি আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি কাসীর বিন মুররাহ আল-হাদরামী থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য মজুদ করে রাখল, সে আল্লাহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং আল্লাহও তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯২)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْعَدَنِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، وَابْنُ أَبْجَرَ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ: كَيْفَ بِكُمْ إِذَا نَزَلَ رَاكِبٌ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ فَحَالَ بَيْنَ الْيَتَامَى وَالْأَرَامِلِ مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: الْمَالُ مَالَنَا "
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ আল-আদানী আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন আ'মাশ ও ইবনে আবজার থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হুযাইফা (রা.) বলেছেন: তোমাদের কী দশা হবে যখন তোমাদের মাঝে এমন এক আরোহী এসে অবতরণ করবে, যে আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি যা ‘ফায়’ (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসেবে দান করেছেন, তা থেকে ইয়াতীম ও বিধবাদের বঞ্চিত করবে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং সে বলবে: "এই সম্পদ আমাদের সম্পদ।"
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا سَيَّارٌ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ: قَالَ لِي أَبِي: يَا بُنَيَّ لَوْ رَأَيْتَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَظْهُرِنَا وَقَدْ أَصَابَنَا الْمَطَرُ حَسِبْتَ أَنَّ رِيحَنَا رِيحُ الضَّأْنِ "
আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, মুআম্মিল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, আবু বুরদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বললেন: হে বৎস! তুমি যদি আমাদের দেখতে যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন এবং আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল, তবে তুমি মনে করতে যে আমাদের দেহের ঘ্রাণ হলো ভেড়ার ঘ্রাণ।
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، ثنا أَبُو زُمَيْلٍ سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-মুআম্মিল, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আন-নাদর ইবন মুহাম্মাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইকরিমা ইবন আম্মার, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু জুমাইল সিমাক আল-হানাফী, মালিক ইবন মারসাদ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবু যার (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমার ভাইয়ের চেহারার সামনে তোমার মুচকি হাসি একটি সাদাকা»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَا كَانَ خُلُقٌ أَبْغَضُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْكَذِبِ إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَيَكْذِبُ عِنْدَهُ الْكَذِبَةَ فَلَأَنْ آلَ عَلَيْهِ فِي نَفْسِهِ حَتَّى يَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَحْدَثَ مِنْهَا تَوْبَةً»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মা'মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মিথ্যার চেয়ে অধিক ঘৃণ্য কোনো চরিত্র ছিল না। যদি কোনো ব্যক্তি তাঁর কাছে কোনো মিথ্যা কথা বলত, তবে তিনি মনে মনে তার প্রতি বিরাগ পোষণ করতেন যতক্ষণ না তিনি জানতে পারতেন যে, সে তা থেকে তওবা করেছে।»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ أَبِي غَسَّانَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «فِي كُلِّ إِشَارَةِ الصَّلَاةِ عَشَرُ حَسَنَاتٍ»
আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যায়িদ ইবনে আল-হুবাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে লাহিয়াহ আবদুল্লাহ ইবনে হুবাইরাহ থেকে, তিনি আবু গাসসান থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন: «সালাতের প্রতিটি ইশারায় দশটি নেকি রয়েছে»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ، مُنْذُ خَمْسِينَ سَنَةً ثنا أَبُو سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَلْقَى جِلْبَابَ الْحَيَاءِ فَلَا غِيبَةَ لَهُ» قَالَ مُؤَمَّلٌ: فَلَمَّا اخْتَلَطَ رَوَّادٌ رَفَعَ هَذَا الْحَدِيثَ وَدَلَّسُوا عَلَيْهِ
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ পঞ্চাশ বছর আগে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু সা'দ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি লজ্জার ভূষণ বিসর্জন দিয়েছে, তার জন্য কোনো গীবত নেই।’ মুআম্মিল বলেন: রাওয়াদ যখন স্মৃতিবিভ্রমের শিকার হন, তখন তিনি এই হাদিসটিকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তারা তাদলীস করেছেন তাঁর ওপর।
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১০১)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ جَعْفَرٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ الرِّفَاعِيِّ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ يَقُولُ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ»
আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুআম্মিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যায়েদ ইবনুল হুবাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, জাফর আলী ইবনে আলী আর-রিফায়ীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আল-মুতাওয়াক্কিল আন-নাজীর থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনি অতি পবিত্র এবং আপনারই সমস্ত প্রশংসা, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই»
(খণ্ড: ১)
জুযউল মুয়াম্মাল
(পৃষ্ঠা: ১১২)
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا المُؤَمِّلُ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا الثَّوْرِيُّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَوَّلُّ مَنْ قَدَّمَ الْخُطْبَةَ مَرْوَانُ فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ يَا مَرْوَانُ خَالَفْتَ خَالَفَ اللَّهُ بِكَ ، قَالَ: يَا فُلَانُ تَرَكَ مَا هُنَالِكَ فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ: أَمَّا هَذَا فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ رَأَى مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» ⦗ص: 113⦘. أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ قَالَ: سُئِلَ الْمُؤَمَّلُ عَنِ الضَّحَّاكِ، هَلْ سَمِعَ مِنَ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: قَدْ أَدْرَكَهُ وَمَا سَمِعَ مِنْهُ، وَإِنَّمَا أَحَادِيثُهُ الْمُسْنَدَاتُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ⦗ص: 114⦘. أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ قَالَ: سُئِلَ الْمُؤَمَّلُ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، فَقَالَ: قَدْ رَوَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَسُئِلَ الْمُؤَمَّلُ عَنْ رَفْعِ الْأَيْدِي فِي الصَّلَاةِ ، قَالَ الْمُؤَمَّلُ: «وَالرَّفْعُ حَسَنٌ بِرَأْيِي» ⦗ص: 115⦘ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ قَالَ: سُئِلَ الْمُؤَمَّلُ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنِ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ، أَوَاحَدٌ هُوَ؟ فَقَالَ: «الْإِسْلَامُ أَعْلَى مِنَ الْإِيمَانِ» وَأَدَارَ دَائِرَةً كَبِيرَةً وَأُخْرَى فِي وَسَطِهَا أَصْغَرَ مِنْهَا ، فَقَالَ: «هَذَا الْإِيمَانُ فِي الْإِسْلَامِ وَإِذَا عَمِلَ الْعَبْدُ بِالْإِيمَانِ فَهُوَ فِي هَذِهِ وَإِذَا عَمِلَ بِالْمَعَاصِي خَرَجَ مِنْ هَذِهِ إِلَى هَذِهِ»
আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুয়াম্মিল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাওরী আমাদের কায়স ইবনে মুসলিম থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান প্রথম ব্যক্তি যিনি (ঈদের নামাজের) খুতবাকে আগে নিয়ে এসেছিলেন। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তাকে বললেন, হে মারওয়ান! আপনি (সুন্নাতের) খেলাফ কাজ করেছেন, আল্লাহ আপনার প্রতিকূলে যান। তিনি (মারওয়ান) বললেন: হে অমুক, সেখানে যা ছিল তা বর্জন করা হয়েছে। তখন আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বললেন: এই ব্যক্তি তার ওপর যা কর্তব্য ছিল তা পালন করেছে। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে, তবে সে যেন তা নিজের হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন তার জিহ্বা দিয়ে (প্রতিবাদ করে); আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন তার অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে), আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।» ⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘। আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুয়াম্মিলকে দাহহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তিনি কি ইবনে আব্বাস থেকে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন: তিনি তাঁকে পেয়েছেন কিন্তু তাঁর থেকে কিছু শোনেননি; তাঁর মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হাদিসগুলো মূলত সাঈদ ইবনে জুবায়েরের মাধ্যমে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত ⦗পৃষ্ঠা: ১১৪⦘। আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুয়াম্মিলকে মায়মুন ইবনে মিহরান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বললেন: তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর মুয়াম্মিলকে নামাজে হাত উঠানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মুয়াম্মিল বললেন: «আমার মতে হাত উঠানো উত্তম কাজ» ⦗পৃষ্ঠা: ১১৫⦘। আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি শুনছিলাম এমতাবস্থায় মুয়াম্মিলকে ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তারা কি এক? তিনি বললেন: «ইসলাম (পরিমণ্ডলের দিক থেকে) ঈমানের চেয়ে বড়»; এরপর তিনি একটি বড় বৃত্ত আঁকলেন এবং তার মাঝখানে আরেকটি ছোট বৃত্ত আঁকলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «এই (ছোট বৃত্তটি) হলো ইসলামের ভেতরে থাকা ঈমান। যখন বান্দা ঈমান অনুযায়ী আমল করে, তখন সে এটার (ছোট বৃত্তের) ভেতরে থাকে; আর যখন সে পাপে লিপ্ত হয়, তখন সে এখান (ছোট বৃত্ত) থেকে বের হয়ে ওখান (বড় বৃত্তের পরিধি) পর্যন্ত চলে যায়।»