(খণ্ড: ১)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: -)
أعيان العصر وأعوان النصر القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أعيان العصر وأعوان النصر
المؤلف: صلاح الدين خليل بن أيبك الصفدي (ت 764هـ)
المحقق: الدكتور علي أبو زيد، الدكتور نبيل أبو عشمة، الدكتور محمد موعد، الدكتور محمود سالم محمد
قدم له: مازن عبد القادر المبارك
الناشر: دار الفكر المعاصر، بيروت - لبنان، دار الفكر، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م
عدد الأجزاء: 5
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আ'ইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুস নাসর বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: আ'ইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুস নাসর
লেখক: সালাহুদ্দীন খলীল ইবন আইবাক আস-সাফাদী (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি)
সম্পাদক: ডক্টর আলী আবু যায়েদ، ডক্টর নাবীল আবু আশমাহ্، ডক্টর মুহাম্মদ মাওয়িদ، ডক্টর মাহমুদ সালিম মুহাম্মদ
উপস্থাপনায়: মাযেন আব্দুল কাদির আল-মুবারক
প্রকাশক: দারুল ফিকরিল মু'আসির، বৈরুত - লেবানন، দারুল ফিকর، দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت، وإليه أنيب. الحمد لله الذي حكم على أهل الوجود بالعدم، وقدره عليهم بالقدم، وقضى به على الخلق فما أفاد معه محاذاة حذر ولا مناداة ندم، وأورد الموت على فناء أعمارهم فانهد وبناء أبشارهم فانهدم. نحمده على نعمه التي فسحت مدة الأجل، ومنحت تراخي المهلة ولم تؤثر العجل، ونزحت القلوب إلا من الأمن، ودفعت ما عظم وجل من الوجل.
ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة هي الذخر يوم الفاقة، والحق أن لا ترد يوم المحاقة، والفارط الذي قدمناه ونحن نرجو لحاقه.
ونشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله الذي حذر معاطب الغرور، وبصر عواقب السرور التي تليها الشرور، وأظهر كواكب الحق فهي في فلك البدور تدور، فهو الذي.
لم أجر غاية فكري منه في وصفة
… إلا وجدت مداها غاية الأبد
صلى الله عليه وعلى آله وصحبه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যে, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অস্তিত্বশীল জগতের ওপর বিনাশের ফয়সালা করেছেন এবং অনাদিকাল থেকেই তা তাদের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন; তিনি সৃষ্টির ওপর তা অবধারিত করেছেন, ফলে সেখানে সতর্কতার সাবধানতা কিংবা অনুশোচনার আর্তনাদ কোনো কাজে আসে না। তিনি তাদের আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে আসার ওপর মৃত্যুকে আপতিত করেছেন, ফলে তাদের জীবনপ্রদীপ নিভে যায় এবং তাদের দেহসৌধ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে। আমরা তাঁর সেই সব নেয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি যা মৃত্যুর সময়সীমাকে প্রশস্ত করেছে, অবকাশের দীর্ঘতা দান করেছে এবং ত্বরান্বিত করাকে পছন্দ করেনি; যা অন্তরসমূহকে নিরাপত্তা ব্যতীত অন্য সব ভয়ভীতি থেকে মুক্ত করেছে এবং সকল মহান ও গুরুতর আতঙ্ককে দূর করে দিয়েছে।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা চরম অভাবের দিনে অমূল্য সঞ্চয় হবে, আর ধ্রুব সত্য এই যে, চূড়ান্ত বিচারের দিনে তা প্রত্যাখ্যাত হবে না; এটি এমন এক অগ্রবর্তী বিষয় যা আমরা আগে পাঠিয়েছি এবং আমরা এর সাথে মিলিত হওয়ার আশা রাখি।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি প্রতারণার ধ্বংসাত্মক পথগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং সেই আনন্দের পরিণাম সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন যার পশ্চাতে অকল্যাণ ধাবমান; তিনি সত্যের নক্ষত্রপুঞ্জকে প্রকাশ করেছেন যা পূর্ণিমার চাঁদের কক্ষপথে আবর্তিত হয়; তিনিই তো সেই মহান সত্তা যার—
তাঁর গুণাবলি বর্ণনায় আমি আমার চিন্তার দৌড় যতদূরই নিয়ে যাই না কেন
… আমি তার সীমানাকে কেবল অনন্তকাল পর্যন্ত বিস্তৃতই দেখতে পাই।
আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
الذين كانوا شجى في لهوات من كفر، وكان الباطل بهم دجى حتى جلوا الحق فلاح صباح الفالح بهم وسفر، وراضوا الزمان فاستقاد لهم من بعد ما تقاعس ونفر، ورآهم الزمان جمال هذه الأرض في الحياة، وبعد الممات جمال الكتب والسير، فهم الذين سجع الحمام بمدحهم وصدح، وشرح الخاطر وصفهم لما جال في سرد مناقبهم وسرح، وإياهم أراد ابن الرومي لا من خاطبه ومد المدى لما مدح، إذ يقول:
آراؤكم ووجوهكم وحلومكم
… في الحادثات إذا دجون نجوم
منها معالم للهدى ومصابح
… تجلو الدجى والأخريات رجوم
صلاة لا يمل الزمان دوامها، ولا يرى الدهر انصرافها وانصرامها، ما نبت في رياض الدياجي نرجس نجوم، وراحت أطيار الدراري على نهر المجرة وهي تحوم، وسلم تسليماً كثيراً إلى يوم الدين.
وبعد: فإن الوقوف على أخبار من تقدم، وخرب ربع عمره بالموت وتهدم، ووصف في حياته أو غادر للشعراء في رثائه لما تردى ما تردم مما تتشوق النفوس إلى الوقوف عليه، وتتشوف بجملتها إليه، فإنه: في الذاهبين الأولين لنا بصائر. وفي آثار من درج وأخباره أدلة للتأسي وأمائر، وفي التفكر في مصارعهم
যাঁরা কাফেরদের কণ্ঠনালীতে বিঁধে থাকা হাড়ের মতো ছিলেন এবং যাঁদের কারণে বাতিল অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল, যতক্ষণ না তাঁরা সত্যকে উন্মোচিত করলেন; ফলে সফলদের সুপ্রভাত তাঁদের মাধ্যমে উদ্ভাসিত ও প্রকাশিত হলো। তাঁরা সময়কে বশীভূত করেছিলেন, ফলে অবাধ্যতা ও বিমুখতার পর সময় তাঁদের অনুগত হয়েছিল। কালপ্রবাহ তাঁদেরকে ইহজীবনে এই পৃথিবীর সৌন্দর্য হিসেবে এবং মৃত্যুর পর কিতাব ও জীবনচরিতের সৌন্দর্য হিসেবে দেখেছে। তাঁরাই সেই সব ব্যক্তি, যাঁদের প্রশংসায় কপোতকুল গুঞ্জন ও কলরব করে। তাঁদের গুণাবলি বর্ণনায় যখন মন বিচরণ করে, তখন তা বক্ষকে প্রশান্ত করে। ইবনে আল-রুমি তাঁদেরকেই উদ্দেশ্য করেছিলেন—যাঁকে তিনি সম্বোধন করেছিলেন কিংবা যাঁর অতিশয়োক্তিপূর্ণ প্রশংসা করেছিলেন তাঁকে নয়—যখন তিনি বলেছিলেন:
আপনাদের অভিমত, আপনাদের মুখমণ্ডল এবং আপনাদের প্রজ্ঞা
… বিপদ-আপদ যখন অন্ধকার নিয়ে আসে তখন নক্ষত্রের মতো
সেগুলোর কিছু হিদায়াতের নিদর্শন ও প্রদীপ
… যা অন্ধকার দূর করে, আর অন্যগুলো হলো বিতাড়নের পাথর
এমন দুরুদ, যার স্থায়িত্বে মহাকাল কখনো ক্লান্ত হয় না এবং কালপ্রবাহ যার সমাপ্তি বা অবসান দেখে না; যতক্ষণ অন্ধকারের উদ্যানে নক্ষত্ররূপী নার্গিস ফুল ফুটে থাকে এবং উজ্জ্বল গ্রহরূপী পক্ষীকুল ছায়াপথের নদীতে ডানা মেলে ঘুরে বেড়ায়। আর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অজস্র শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: পূর্ববর্তীদের সংবাদ সম্পর্কে অবগত হওয়া—যাঁদের জীবনের বসতবাড়ি মৃত্যুর মাধ্যমে বিধ্বস্ত ও ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং যাঁদের জীবদ্দশায় বর্ণনা করা হয়েছে কিংবা যাঁরা মৃত্যুর পর কবিদের জন্য শোকগাথার উপাদান রেখে গেছেন—এমন একটি বিষয় যার প্রতি আত্মা ব্যাকুল হয়ে ওঠে এবং সামগ্রিকভাবে সেদিকে লালায়িত হয়। কেননা: অতীতে গত হওয়া প্রথমবর্তীদের মাঝে আমাদের জন্য রয়েছে বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি। আর যাঁরা গত হয়েছেন তাঁদের পদচিহ্ন ও সংবাদে রয়েছে অনুসরণের প্রমাণ ও নিদর্শন এবং তাঁদের পতনের স্থানসমূহ নিয়ে চিন্তাগবেষণা করার মাঝে...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
ما يصلح الظواهر والضمائر، وقد حض القرآن على مثل هذ وحث، ورم بوعظه ما رق من القسوة ورث. والتاريخ فن لا يمله طرف مطالع، ولا يسأمه سمع مصغ ولا مراجع، ولا يخلو من يقف على التواريخ من فائدة، ولا يطوي صحفها إلا وقد حصل منها على صلة وعائدة، ولا تمر به كائنة إلا تنبه لها وأجراها على ما في ذهنه من القاعدة، وما كان التراجم في التواريخ إلا كتاب ورد من غايب، أو خبر جاء به نجاب إما بالمحاسن أو بالمعايب:
فلا تبخلوا مع بعدكم بوجوهكم
… علينا ألا إن الوجوه هي الكتب
فكم قد سمعنا بموجود ولم نتبين حاله، ولا عرفنا حقه ولا محاله، ولا علمنا ما تصف به من ذم أو مدح، ولا ما لاتحف به من موجب شكر أو قدح، وربما كان للإنسان قريب وقد درج، أو لزم وقد دخل هذه الدار وخرج، ولا علم له بما عامله به زمانه، ولا ما أحدث له حدثانه:
وقد فارق الناس الأحبة قبلنا
… وأعيا دواء الموت كل طبيب
فإذا راجع التواريخ كان كمن شاهد من مضى، وعاين ما جرى به عليه القدر وقضى، وأنا أرى التأريخ والترجمة معاداً ثانياً في المعنى لا في الوجود، ونشراً أول قبل نشر الرفات إلا أنها لم يفض عنها ختم اللحود.
وكنت قد أنفقت مدة من العمر ما وجدت لها عوضاً، ولا حسبتها إلا لمعة برق
যা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে সংশোধন করে; কুরআন এ জাতীয় বিষয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করেছে এবং এর উপদেশের মাধ্যমে কঠোরতার পর যা কিছু কোমল ও জীর্ণ হয়েছে তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইতিহাস এমন এক শিল্প যা কোনো পাঠকের দৃষ্টিকে ক্লান্ত করে না এবং কোনো মনোযোগী শ্রোতা বা পর্যালোচনাকারীকেও বিমুখ করে না। ইতিহাস পাঠকারী কোনো ব্যক্তিই উপকার থেকে বঞ্চিত হয় না এবং সে এর পৃষ্ঠাসমূহ গুটিয়ে রাখে না যতক্ষণ না তা থেকে কোনো সংযোগ ও কল্যাণ অর্জন করে। তার নিকট দিয়ে কোনো ঘটনা অতিবাহিত হয় না যতক্ষণ না সে সেটির ব্যাপারে সচেতন হয় এবং তার মস্তিষ্কে বিদ্যমান মূলনীতির আলোকে তা প্রয়োগ করে। ইতিহাসের পাতায় জীবনীসমূহ তো কেবল কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসা পত্র স্বরূপ, অথবা কোনো দ্রুতগামী সংবাদদাতার নিয়ে আসা খবর, যাতে হয় কোনো গুণাবলি বিদ্যমান থাকে অথবা কোনো ত্রুটি:
অতএব তোমাদের দূরত্বের সাথে সাথে তোমাদের চেহারাগুলো আমাদের থেকে কৃপণতা করো না
… জেনে রেখো, এই চেহারাগুলোই হলো কিতাব স্বরূপ
কত বিদ্যমান ব্যক্তির কথা আমরা শুনেছি কিন্তু তার অবস্থা স্পষ্টভাবে জানতে পারিনি, না আমরা তার হক ও বাস্তবতা চিনেছি, না তার প্রশংসা বা নিন্দার বিবরণ জেনেছি, আর না তার কৃতজ্ঞতা বা সমালোচনার কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। অনেক সময় মানুষের কোনো নিকটাত্মীয় গত হয়ে যায়, অথবা সে এই নশ্বর গৃহে প্রবেশ করে পুনরায় বের হয়ে যায়, অথচ তার সাথে তার সময়ের আচরণ কিংবা সময়ের আবর্তে তার প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান থাকে না:
আমাদের পূর্বেও মানুষ প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে
… আর মৃত্যুর ওষুধ প্রতিটি চিকিৎসককে অক্ষম করে দিয়েছে।
অতঃপর যখন কেউ ইতিহাসের শরণাপন্ন হয়, সে যেন অতীতদের প্রত্যক্ষ করল এবং তাদের ওপর ভাগ্য ও ফয়সালার যা কিছু অতিবাহিত হয়েছে তা চাক্ষুষ দেখল। আমি ইতিহাস ও জীবনীকে অর্থের দিক থেকে দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তন মনে করি, অস্তিত্বের দিক থেকে নয়; এবং হাড়গোড় পুনরুত্থানের পূর্বে এটি এক প্রথম উত্থান, তবে পার্থক্য কেবল এই যে কবরের মোহরসমূহ এ থেকে উন্মোচিত হয়নি।
আর আমি আমার আয়ুর এমন এক সময় ব্যয় করেছি যার কোনো বিনিময় আমি পাইনি, এবং আমি একে বিদ্যুতের চমক ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
أومض لي ومضى، في جمع تاريخي الكبير الذي سميته الوافي بالوفيات، وسقت فيه ذكر جمل من الأعيان من زمن النبي صلى الله عليه وسلم وإلى زماني، ونصبت فيه نفسي دريئة لمن طعن في أو رماني، إلا أنه جاء مطولاً، وأصبح وجه مضمونه عن الاقتصار والاختصار مخولاً، فأردت بعد فراغي منه أن أقتصد وأقتصر، وأختار مما أمتار وأختص وأختصر، وأجمع تاريخاً لمن أدركه عصري وجنى ثمر غصنه هصري، وضمتني وإياه دائرة وجودي أو نقطة مصري، وكان في زماني ولم أره، أو نقل الرواة الأثبات خبره:
أليس الليل يجمع أم عمرو
… وإيانا فذاك لنا تداني
وتنظر للهلال كما أراه
… ويعلوها النهار كما علاني
وما أحسن قول الآخر:
قال لي قائل لأية حال
… ترقب البدر ثم تهوى سواه
قلت إما لشبه من حجبوه
… أو لأني أراه وهو يراه
وابتدأت ذلك من سنة ست وتسعين وست مئة، وهي سنة مولدي، ونهلة موردي، وجذوة موقدي، وبدأة موعدي.
ورتبت أسماء من فيه على حروف المعجم، وأدمت غيث فوائده الذي انسجم وجعجعت بفارس الإطناب فيه، فكر وما فكر، وحج وما أحجم. وهو شيء جمعته لنفسي لا لأحد من أبناء جنسي، وجعلته لي رأس مال، وبضاعة ضمت الحلل المرقومة
আমার সেই বিশাল ইতিহাস সংকলনে একটি বিষয় আমার নিকট উদ্ভাসিত হয়ে অতিক্রান্ত হলো, যার নাম আমি দিয়েছি 'আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত'। সেখানে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে আমার সময় পর্যন্ত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এক বিশাল অংশের আলোচনা উপস্থাপন করেছি। সেখানে আমি নিজেকে তাদের জন্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে স্থাপন করেছি যারা আমার নিন্দা করে বা আমাকে বিদ্ধ করে। তবে গ্রন্থটি দীর্ঘ হয়ে গিয়েছে এবং এর বিষয়বস্তুর ধরন এখন সংক্ষিপ্তকরণ ও সংক্ষেপণের দাবি রাখে। তাই এটি সমাপ্ত করার পর আমি পরিমিত ও সংক্ষিপ্ত করার সংকল্প করলাম; যা আমি আহরণ করেছি তা থেকে নির্বাচন করে বিশেষায়িত ও সংক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি এমন ব্যক্তিদের ইতিহাস সংকলন করতে চাইলাম যাদেরকে আমার যুগ পেয়েছে এবং যাদের শাখার ফল আমি পেড়েছি। আমার অস্তিত্বের পরিধি অথবা আমার আবাসের কেন্দ্রবিন্দু আমাকে ও তাদেরকে একত্রিত করেছে। তারা আমার সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু আমি তাদেরকে দেখিনি, অথবা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তাদের সংবাদ বর্ণনা করেছেন:
রাত্রি কি উম্মে আমর এবং আমাদের একত্রিত করে না?
… সেটিই তো আমাদের জন্য এক প্রকার নৈকট্য।
তিনি নতুন চাঁদের দিকে তাকান যেমনটি আমি দেখি
… আর দিন তার ওপর উদিত হয় যেমনটি আমার ওপর উদিত হয়েছে।
অন্য কবির উক্তিটি কতই না চমৎকার:
একজন আমাকে জিজ্ঞেস করল, কোন কারণে
… আপনি পূর্ণিমার চাঁদের প্রতীক্ষা করেন এবং তারপর অন্য কিছুকে কামনা করেন?
আমি বললাম, হয় তাকে আড়ালকারীদের সাথে এর সাদৃশ্যের কারণে
… অথবা এজন্য যে আমি একে দেখি আর সেও একে দেখে।
আমি এটি শুরু করেছি ছয়শ ছিয়ানব্বই হিজরি সাল থেকে, যা আমার জন্মের বছর, আমার জীবনের প্রথম পানপাত্র গ্রহণ, আমার অগ্নিশয্যার শিখা এবং আমার প্রতিশ্রুতির শুভ সূচনা।
আমি এতে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের নাম বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি এবং এর নিরবচ্ছিন্ন উপকারের ধারা অব্যাহত রেখেছি। আমি এতে বাগবাহুল্যের অশ্বারোহীকে সংযত করেছি, ফলে সে বারবার ফিরে এসেছে কিন্তু দমে যায়নি, এবং সে অগ্রসর হয়েছে কিন্তু পিছু হঠেনি। এটি এমন এক বস্তু যা আমি নিজের জন্যই সংগ্রহ করেছি, আমার সমশ্রেণীর অন্য কারো জন্য নয়। আমি একে আমার মূলধন এবং এমন এক পণ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছি যা কারুকার্যখচিত পোশাকসমূহকে ধারণ করে।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
والبرود الأسمال، فمن رآه كثيراً وما حل من قبله محلاً أثيراً، أو قابل صفحات وجهه بالإعراض، أو أرسل سهام نظره فما أصابت منه الأغراض؛ فذاك أمر به علي قضى الباري، وشيء جرى به القلم وما هو إلا كالجبانة أزور فيها قبور أصحابي، وأتردد منها إلى أجداث أترابي وحبابي، وألتف في أكفان شيبي الذي نزل بي وأقسم أنه ما يرحل إلا بي، فقد ذكرت فيه جماعة رأيتهم وما راءيتهم، ودانيتهم حق الصحبة وما داينتهم، ورثت حبال صبري التي ورثتها لما رثيتهم، ممن انتفعت بعلومهم، ورفعت بين نجومهم، وشركت بعضهم في ماله، وتركت النظر إلى البدر لأنه ما فاز بمثل جماله، ولا حاز مثل كماله:
ومعاذ الغله أن أتعزى
… عنه طول الزمان أو أتسلى
فكم فيمن ذكرته من جرعني ما غصص، وجرعني رداء الصبر وقلص، وتقدم أمامي وهو يقودني إلى حفرتي بزمامي، وغادرني بعده وحيداً، وأخذ حظي معه وراح. وأهل هذا العصر يريدون شيئاً جديداً، ولله أبو عبادة البحتري حيث يقول في رثاء المتوكل ووزيره الفتح بن خاقان:
أأطلب أنصاراً على الدهر بعدما
… ثوى منهما في الترب أوسي وخزرجي
مضوا أمماً قبلي وخلفت بعدهم
… أخاطب بالتأمير والي منبج
والله أسأل أن يجمعنا في دار كرامته، ويمد علينا ظل لطفه ورحمته، ويجرينا على ما ألفناه وألفناه من نعمته:
وإن استطع في الحشر جئتك زائداً
… وهيهات لي يوم القيامة أشغال
জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায়; সুতরাং যে ব্যক্তি একে অধিক পরিমাণে দেখেছে কিন্তু ইতিপূর্বে তা তার নিকট কোনো মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করেনি, অথবা যে এর পৃষ্ঠদেশসমূহ থেকে বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, কিংবা যে এর দিকে তার দৃষ্টির তীর নিক্ষেপ করেছে কিন্তু তা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে পারেনি; তবে তা এমন এক বিষয় যা স্রষ্টা আমার জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং যা কলমের লিখন হিসেবে কার্যকর হয়েছে। এটি একটি কবরস্থানের ন্যায় ছাড়া আর কিছুই নয়, যেখানে আমি আমার বন্ধুদের কবরে যিয়ারত করি এবং সেখান থেকে আমার সমবয়সী ও প্রিয়জনদের কবরে যাতায়াত করি। আমি আমার ওপর নেমে আসা বার্ধক্যের কাফনে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছি এবং শপথ করছি যে, তা আমাকে নিয়েই বিদায় হবে। আমি এতে এমন এক দলের কথা উল্লেখ করেছি যাদের আমি দেখেছি কিন্তু তাদের সাথে লৌকিকতা করিনি, বন্ধুত্বের হক আদায়ের মাধ্যমে তাদের নিকটবর্তী হয়েছি কিন্তু তাদের থেকে কোনো বিনিময় প্রত্যাশা করিনি। আমার ধৈর্যের রশিগুলো জীর্ণ হয়ে গিয়েছে যা তাদের শোকগাথা বর্ণনার সময় আমি লাভ করেছিলাম; তারা এমন ব্যক্তিবর্গ যাদের জ্ঞান থেকে আমি উপকৃত হয়েছি, তাদের নক্ষত্ররাজির মাঝে উচ্চাসীন হয়েছি, তাদের কারো কারো সম্পদের অংশীদার হয়েছি এবং আমি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকানো ছেড়ে দিয়েছি কারণ তা তাদের সৌন্দর্যের ন্যায় জয়ী হতে পারেনি এবং তাদের পূর্ণতার ন্যায় পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি:
আল্লাহর পানাহ! দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে আমি তা থেকে বিমুখ থাকব
… কিংবা নিজেকে সান্ত্বনা দেব—তা অসম্ভব।
আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের মাঝে এমন কতজন আছেন যারা আমাকে কণ্ঠরোধকারী কষ্টের ঢোক পান করিয়েছেন, তারা আমাকে ধৈর্যের চাদর পান করিয়েছেন যা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। তিনি আমার আগে প্রস্থান করেছেন অথচ আমার লাগাম ধরে আমাকে আমার কবরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, এবং তাঁর পরে আমাকে একাকী ফেলে গিয়েছেন, আমার সবটুকু সৌভাগ্য নিজের সাথে নিয়ে চলে গিয়েছেন। আর এ যুগের মানুষ কেবল নতুন কিছু চায়। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আবু উবাদাহ আল-বুহতুরীর ওপর, যখন তিনি মুতাওয়াক্কিল এবং তাঁর উজির ফাতহ বিন খাকানের শোকগাথায় বলেন:
আমি কি মহাকালের বিরুদ্ধে কোনো সাহায্যকারী খুঁজব যখন
… তাদের মধ্য হতে আমার আওস ও খাজরাজ (শক্তি ও আশ্রয়) ধূলিকণায় শায়িত হয়েছে?
তারা আমার পূর্বে জাতিসমূহের ন্যায় গত হয়ে গিয়েছে এবং তাদের পরে আমি অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছি
… এমতাবস্থায় যে আমি মানবিজের গভর্নরকে আমীর সম্বোধনে সম্বোধন করছি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁর মর্যাদাপূর্ণ আবাসে একত্রিত করেন, আমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতের ছায়া বিস্তৃত করেন এবং আমাদের সেই নেয়ামতের ওপর পরিচালিত করেন যার সাথে আমরা ও তারা পরিচিত ছিলাম:
যদি হাশরের ময়দানে সামর্থ্য থাকে তবে আমি তোমার কাছে যিয়ারতকারী হিসেবে আসব
… কিন্তু হায়! কিয়ামতের দিন তো আমার অনেক ব্যস্ততা থাকবে।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
اعترضت بهذه الجملة، وزدت هم القلب هذه الحملة، فإنها من المصدور نفثة، واستراحة في نصف الطريق ممن أعيا ولبثة.
وأعود إلى ما كنت فيه، وأفي له بحقه وأوفيه، فأقول: وقد كنت رأيت فيما وقفت عليه من أخبار الوزير أبي الوليد أحمد بن زيدون المغربي أنه لما كان بقرطبة وزيراً توفيت ابنته، ولما فرغ من دفنها وقف للناس عند منصرفهم من الجنازة ليتشكر لهم، فقيل: إنه ما أعاد في ذلك الموقف عبارة قالها لأحد.
قلت: وهذا من التوسع في العبارة والقدرة على التفنن في أساليب الكلام، وهو أمر صعب إلى الغاية، وأراه أنه أشق مما يحكى عن واصل بن عطاء وأنه ما سمع منه كلمة فيها حرف راء، لأنه كان يلثغ بحرف الراء لثغة قبيحة، والسبب في تهوين هذا الأمر وعدم تهويله؛ أن واصل بن عطاء كان يعدل إلى ما يرادف تلك الكلمة في معناها وليس فيها راء، وهو كثير في كلام العرب، فإذا أراد العدول عن لفظ: فرس قال: جواد أو سابح أو صافن، أو العدول عن لفظ: رمح قال: قناة أو صعدة أو يزني أو غير ذلك، أو العدول عن لفظ: صارم، قال: حسام أو لهذم أو غير ذلك، وأما ابن زيدون فأقول في حقه: إنه أقل ما كان في تلك الجنازة، وهو وزير، ألف رئيس ممن يتعين عليه أن يتشكر له، ويضطر إلى ذلك فيحتاج في هذا المقام إلى ألف عبارة مضمونها التشكر، وهذا كثير إلى الغاية، لا سيما من محزون فقد قطعة من كبده:
ولكنه صوب العقول إذا انبرت
… سحائب منه أعقبت بسحائب
এই বাক্যটির মাধ্যমে আমি প্রসঙ্গের অবতারণা করলাম এবং হৃদয়ের দুশ্চিন্তায় এই বোঝাটি যোগ করলাম; কেননা এটি বক্ষকষ্টে ভোগা ব্যক্তির একটি দীর্ঘশ্বাস এবং পথিমধ্যে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে থাকা ব্যক্তির জন্য একটি বিশ্রামস্থল।
আমি আমার পূর্বের আলোচনায় ফিরে আসছি এবং তার হকের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাচ্ছি। আমি বলছি: মাগরিবী উজির আবু আল-ওয়ালিদ আহমদ ইবনে জায়দুনের সংবাদ সম্পর্কে আমি যা অবগত হয়েছি, তাতে দেখেছি যে—তিনি যখন কর্ডোবায় উজির ছিলেন, তখন তাঁর কন্যা ইন্তেকাল করেন। দাফনকার্য সমাপ্ত করার পর তিনি জানাজা শেষে প্রত্যাবর্তনকারী লোকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য দাঁড়ালেন। বলা হয়ে থাকে যে, সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে তিনি কাউকেই এমন কোনো কথা পুনরায় বলেননি যা তিনি ইতিপূর্বে অন্য কাউকে বলেছিলেন।
আমি বলছি: এটি ভাষাশৈলীর প্রশস্ততা এবং বাকরীতির বৈচিত্র্য আনয়নে পারদর্শিতারই বহিঃপ্রকাশ, যা অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। আমি মনে করি, এটি ওয়াসিল বিন আতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয় তার চেয়েও অধিকতর দুঃসাধ্য। তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে, তাঁর থেকে এমন কোনো শব্দ শোনা যেত না যাতে 'রা' অক্ষরটি রয়েছে; কারণ উক্ত অক্ষরে তাঁর শ্রুতিকটু তোতলামি ছিল। তবে এই বিষয়টি সহজ মনে হওয়া এবং একে খুব বেশি গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ হলো—ওয়াসিল বিন আতা সেই শব্দের পরিবর্তে এমন সব সমার্থক শব্দ ব্যবহার করতেন যেগুলোতে 'রা' অক্ষরটি নেই। আর আরবি ভাষায় এর প্রাচুর্য রয়েছে। যেমন, তিনি যদি 'ফারাস' (ঘোড়া) শব্দটি এড়িয়ে যেতে চাইতেন, তবে তিনি 'জাওয়াদ', 'সাবিহ' বা 'সাফিন' বলতেন। অথবা যদি 'রুমহ্' (বল্লম) শব্দটি পরিহার করতে চাইতেন, তবে 'কানাহ', 'সা'দাহ', 'ইয়াজানি' বা অনুরূপ কিছু বলতেন। আবার যদি 'সারিম' (তীক্ষ্ণ তলোয়ার) শব্দের বিকল্প খুঁজতেন, তবে 'হুসাম', 'লাহযাম' বা অন্য কিছু বলতেন। পক্ষান্তরে ইবনে জায়দুন সম্পর্কে আমি বলব: সেই জানাজায় তিনি উজির থাকা অবস্থায় অন্যূন এক হাজার এমন পদস্থ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল। পরিস্থিতির প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই সেই মুহূর্তে তাঁর এমন এক হাজার বাক্যের প্রয়োজন ছিল যার সারমর্ম হবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। এটি সত্যিই এক বিশাল ব্যাপার, বিশেষ করে এমন একজন শোকাতুর মানুষের পক্ষে যিনি তাঁর কলিজার টুকরাকে হারিয়েছেন:
কিন্তু তা ছিল বুদ্ধিমত্তার সঠিক প্রয়োগ যখন তা বিচ্ছুরিত হয়
… তাঁর হতে বর্ষিত মেঘমালার পর মেঘমালা ধাবিত হচ্ছিল।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤١)
وقد استعمل الحريري رحمه الله هذا في مقاماته، فهو في كل مرة يجتمع فيها الحارث بن همام بأبي زيد ويحتاج إلى أن يقول: فلما أصبح الصبح، تراه يعبر بعبارة عن هذا المعنى بغير عبارته الأولى، فتارة قال: فلما لاح ابن ذكاء، وألحف الجو الضياء، وتارة قال: إلى أن أطل التنوير، وحسر الصبح المنير، وتارة قال: حتى إذا لألأ الأفق ذنب السرحان، وآن انبلاج الفجر وحان، وتارة قال: إلى أن عطس أنف الصباح، ولاح داعي الفلاح، وتارة قال: فلما بلغ الليل غايته، ورفع الصبح رايته، وهذا كثير في مقاماته، وهو من القدرة على الكلام، وأرى الخطيب ابن نباتة رحمه الله تعالى ممن لا يلحق في هذا الباب، فإنه أملى مجلدةً معناها من أولها إلى آخرها: يا أيها الناس اتقوا الله واحذروه، فإنكم إليه راجعون، وهذا أمر بارع معجز، والناس يذهلون عنه هذه النكتة فيه، وقد خطر لي أنا مثل ذلك عند ذكر وفاة كل من الأعيان الذين أذكرهم في هذا التأريخ، فإن اتفق لي مثل هذا فهو بحول الله وقوته، وإنقاذ الجبان من دحض هوته، وإلا فعذر المزلة في هذا المقام واضح، والإقالة من عثرته أمر راجح، وأعوذ بالله من إعجاب المرء بنفسه، وجره رداء الخيلاء وهو حقير في نوعه وجنسه.
وقد سميت الكتاب عندما أردت وضعه، وقصدت تأليفه وجمعه أعيان العصر وأعوان النصر، وبالله الاستغاثة والاستعانة، وطلب الإنابة إليه في الإعانة على الإبانة والعياذة مما نحن به في هذا الزمان من الزمانة، إنه ولي الخيرات في الدنيا والآخرة سبحانه، عليه توكلت وإليه أنيب.
بسم الله الرحمن الرحيم
الجزء الأول
আল-হারীরি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'মাকামাত' গ্রন্থে এটি ব্যবহার করেছেন। তিনি যখনই আল-হারিস ইবনে হাম্মামকে আবু যায়েদের সাথে মিলিত হতে দেখেন এবং এ কথা বলার প্রয়োজন হয় যে: "যখন ভোর হলো", তখনই তিনি সেই একই ভাব প্রকাশে পূর্ববর্তী অভিব্যক্তির পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ও বর্ণনা শৈলী ব্যবহার করেন। কখনো তিনি বলেছেন: "যখন সূর্যের উদয় হলো এবং আকাশ আলোয় উদ্ভাসিত হলো," কখনো বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না আলো ফুটে উঠল এবং উজ্জ্বল প্রভাত প্রকাশিত হলো," কখনো বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না দিগন্তে ভোরের প্রথম আভা দেখা দিল এবং উষার উন্মেষের সময় সমাগত হলো," কখনো বলেছেন: "সকালের শুভ সূচনা হলো এবং সফলতার আহ্বানকারী দৃশ্যমান হলো," আবার কখনো বলেছেন: "যখন রাত তার শেষ সীমায় পৌঁছাল এবং সকাল তার নিশান উড্ডীন করল।" তাঁর মাকামাতে এমন উদাহরণ প্রচুর রয়েছে, যা মূলত ভাষার ওপর তাঁর অসাধারণ দখল ও বাকশৈলীর বহিঃপ্রকাশ। আমি খতিব ইবনে নুবাতাহকে (রহিমাহুল্লাহ) এই ক্ষেত্রে এমন একজন মনে করি যার সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি একটি সম্পূর্ণ খণ্ড পাঠ করিয়েছেন যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মূল প্রতিপাদ্য ছিল: "হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর ব্যাপারে সতর্ক থাকো, কেননা তোমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাবে।" এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার ও অনন্য কাজ, অথচ মানুষ এর ভেতরের এই সূক্ষ্ম শৈল্পিক দিকটি সম্পর্কে উদাসীন থাকে। এই ইতিহাসে আমি যে সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করছি, তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর বর্ণনার সময় আমার মনেও অনুরূপ একটি চিন্তা উদিত হয়েছে। যদি এটি সম্পন্ন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়, তবে তা হবে আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমেই এবং এটি একজন দুর্বল মানুষকে পদস্খলন থেকে রক্ষা করার শামিল। অন্যথায়, এই ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই অধিক কাম্য। আমি আল্লাহর কাছে মানুষের আত্মমুগ্ধতা এবং অহংকারের পোশাক পরিধান করা থেকে আশ্রয় চাই, অথচ সে তার স্বজাতির মধ্যে অতি নগণ্য।
আমি যখন এই গ্রন্থটি সংকলন ও রচনার ইচ্ছা করি, তখন এর নাম রেখেছি 'আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর' (যুগের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও বিজয়ের সহায়কগণ)। আল্লাহর কাছেই আমি ফরিয়াদ জানাই এবং সাহায্য প্রার্থনা করি। তাঁরই কাছে আমি তওবা করি এবং বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে প্রকাশের তৌফিক চাই। আমরা বর্তমানে যে জরাগ্রস্ত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা থেকে তাঁরই নিকট আশ্রয় চাই। নিশ্চয়ই তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে সকল কল্যাণের অধিপতি, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
حرف الهمزة
أباجيالأمير سيف الدين، النائب بقلعة دمشق.
أول ما عرفته من شأنه وألفته من ترفع مكانه أنه كان في أعداد أمراء حلب، وصاب بعد ذلك مآله إلى دمشق والمنقلب. أظنه جاء إلى قلعة دمشق بعد موت الأمير علاء الدين مغلطاي المرتيني نائبها، وذلك في سنة تسع وأربعين وسبع مئة، وضبط أمر القلعة طبطاً تاماً، وحفظ أمرها حفظاً عاماً، خصوصاً في وقعة بيبغاروس ومن بغى معه من تلك الروس، لأنه حصنها، جمّلها بآلات الحصار وحسّنها، وصابر أولئك الغاوين، ولم يتحيز إلى فئة الباغين، فشكر لذلك مقامُه، وزاد في القلوب احترامه. وهو زوج أخت الأمير سيف الدين طشبغا الدوادارِ، وكان شيخاً طُوالاً ذا رواء، وقوامٍ يحاكي القناةَ في الاعتدال والاستواء. وقد قربَ منه الأجل
হামজাহ বর্ণআবাজিআমির সাইফুদ্দীন, দামেস্ক দুর্গের নায়েব।
তার অবস্থা সম্পর্কে আমি প্রথম যা জেনেছিলাম এবং তার উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে যা অবগত হয়েছিলাম তা হলো, তিনি আলেপ্পোর আমিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; এরপর তার গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তনস্থল দামেস্কে পর্যবসিত হয়। আমার ধারণা, তিনি দামেস্ক দুর্গের নায়েব আমির আলাউদ্দীন মুঘলতাই আল-মারতিনির মৃত্যুর পর সেখানে এসেছিলেন, আর তা ছিল সাতশ উনপঞ্চাশ হিজরি সালে। তিনি দুর্গের বিষয়াবলী অত্যন্ত সুচারুভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন এবং এর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। বিশেষ করে বীবগা রুশ এবং তার সাথে যারা বিদ্রোহ করেছিল তাদের ঘটনার সময়; কারণ তিনি দুর্গটিকে সুসংহত করেছিলেন, অবরোধের সরঞ্জাম দিয়ে একে সজ্জিত ও উন্নত করেছিলেন। তিনি সেই বিভ্রান্তদের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন এবং বিদ্রোহীদের দলে যোগ দেননি। ফলে তার সেই অবস্থানের প্রশংসা করা হয় এবং অন্তরে তার প্রতি সম্মান বৃদ্ধি পায়। তিনি আমির সাইফুদ্দীন তশবুগা আদ-দাওয়াদারের বোনের স্বামী ছিলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী এবং সুন্দর অবয়বের অধিকারী এক বৃদ্ধ, যার শারীরিক গঠন ঋজুতা ও সরলতায় বর্শার ন্যায় ছিল। তার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছিল।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
وتدلّى، ووصل إلى النقا ولم يبق إلا المصلى، ولم يزل على حاله إلى أن نزل من القلعة على ظهره، وانحطّ بعد الرفعة إلى قعر قبره.
وتوفي رحمه الله تعالى يوم السبت عاشر شعبان سنة خمس وخمسين وسبع مئة.
إبراهيم بن أحمد بن هلالالقاضي برهانُ الدين الزرعي الحنبلي، ناب في الحكم لقاضي القضاة علاء الدين بن المنجا الحنبلي بدمشق.
مولده سنة ثمانٍ وست مئة، ووفاته في نصف شهر رجب الفرد يوم الجمعة سنة إحدى وأربعين وسبع مئة.
لم يحصد الموت من زرعٍ له نظيراً، ولا اجتلى الناس من حوران مثله قمراً منيراً، أتقن الفروع، وبهر فيها من الشروع، وجوّد أصول الفقه وشغل فيها الناس، وأوضح لهم فيه ما حصل من الإلباس، وبرع في النحو وظهر، ومارس غوامضه ومهر، وقرأ الفرائض، وأتى فيها وحده بما لم يأتِ به ألف رائض، اشتغل في الحساب، وغني بذهنه الوقاد عن الاكتساب، وكتب المنسوب الفائق، وسلك فيه أحسن الطرائق، وكان الناس يأتون إليه بالمجلدات ليكتب عليها أسماءها، ويُزينَ بكواكب حروفه سماءها، رغبةً في حسنِ خطه ليقوم مقامَ الفواتح المذهبة، والأعمال التي هي لأهل الصنائع متعبة. ولقد كان قادراً على حكاية الخطوط المنسوبة، والطرائق التي هي عند أرباب هذا الفن محسوبة، فكم قد كمّل من مجلد انخرم، وأخمد من نار
এবং তিনি নিচে নেমে আসলেন এবং নাক্কায় পৌঁছালেন, আর জানাযার স্থান ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না। তিনি এই অবস্থাতেই ছিলেন যতক্ষণ না তাঁকে তাঁর পিঠে বহন করে দুর্গ থেকে নিচে নামানো হলো এবং সুউচ্চ মর্যাদার পর তিনি তাঁর কবরের গহ্বরে শায়িত হলেন।
এবং তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—সাতশত পঞ্চান্ন হিজরি সনের দশই শাবান রোজ শনিবার ইন্তেকাল করেন।
ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে হিলালকাযী বুরহানউদ্দীন আয-যারাঈ আল-হানবালী; তিনি দামেস্কে প্রধান বিচারপতি আলাউদ্দীন ইবনুল মুনজা আল-হানবালীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন।
তাঁর জন্ম ছয়শত আট হিজরি সনে এবং তাঁর মৃত্যু সাতশত একচল্লিশ হিজরি সনের জুমাবার রজব মাসের মধ্যভাগে।
মৃত্যু 'যারা' (তাঁর জন্মভূমি) থেকে তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে ছিনিয়ে নেয়নি, আর হাওরানবাসী তাঁর মতো উজ্জ্বল চন্দ্র অবলোকন করেনি। তিনি ফিকহ শাস্ত্রের শাখাসমূহ (ফুরু) অত্যন্ত নিপুণভাবে আয়ত্ত করেছিলেন এবং এতে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। তিনি উসুলুল ফিকহ বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহকে পরিশীলিত করেন এবং মানুষকে এর অধ্যয়নে ব্যাপৃত করেন। তিনি তাদের নিকট শাস্ত্রীয় অস্পষ্টতাগুলো স্পষ্ট করে তুলেছিলেন। তিনি নাহু (আরবি ব্যাকরণ) শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং খ্যাতি লাভ করেন; এর জটিল বিষয়সমূহ চর্চা করে তাতে পারদর্শী হন। তিনি ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং এতে একাকী এমন উৎকর্ষ সাধন করেন যা হাজারো বিশেষজ্ঞও করতে সক্ষম হয়নি। তিনি গণিতশাস্ত্রে মনোনিবেশ করেছিলেন এবং তাঁর প্রখর মেধার কারণে তা অনায়াসেই আয়ত্ত করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকার আনুপাতিক হস্তলিপি লিখতেন এবং এতে সর্বোত্তম শৈলী অনুসরণ করতেন। মানুষ তাঁর নিকট কিতাবের বড় বড় খণ্ডগুলো নিয়ে আসত যেন তিনি সেগুলোর ওপর শিরোনাম লিখে দেন এবং তাঁর অক্ষরের নক্ষত্ররাজি দিয়ে সেই নামগুলোর আকাশকে সুশোভিত করেন। এটি করা হতো তাঁর সুনিপুণ হস্তলিপির প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে, যা সোনালী অলঙ্করণ এবং দক্ষ শিল্পীদের কষ্টসাধ্য কাজের বিকল্প হিসেবে গণ্য হতো। তিনি পূর্ববর্তী বিখ্যাত লিপিগুলোর অনুকরণে সক্ষম ছিলেন এবং এই শিল্পের পণ্ডিতদের নিকট স্বীকৃত পদ্ধতিগুলো জানতেন। কতই না জীর্ণ পাণ্ডুলিপি তিনি পূর্ণতা দান করেছেন এবং নিভে যাওয়া আগুন...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
صاحبه الضرم، فإذا رآه العارف لم يُنكر شيئاً من أمره، ولا علم فاسده ولو بحث فيه مدة عمره، والمكاتيبُ الشرعية إلى الآن تشهد له بحسن العلائم، وتمد لعيونِ الكتاب منها موائد وتعمل لهم فيها ولائم.
وكان حسن الشكل والعمة، وافر العقل عالي الهمة، ندب في أيام الصاحب شمس الدين غبريال لنظر بيت المال، فأتبى وفكر في العقبى والمال، وكان بصيراً بالفتوى، جيد الأحكام لا يقع منها في بلوى، يتوقد ذهنه من الذكاء والفطنة، ويدرك الغوامض التي مضى الأوائل وفي قلوبهم منها إحنةً، وكان يميل إلى التسري بالأتراك، ويقع معهن في الحبائل والأشراك، فكنت أراه جمعةً في سوق الجواري، وجمعة في سوق الكتب ليجمع بذلك بني الدر والدراري. وتعلم اللغة التركية من جواريه، وتكلم بها فقل من يؤاخذه فيها لما يجاريه. هذا مع براعة في عبارته، وفصاحة في كلامه، وبلاغة في إشارته.
أخذ الأصول عن العلامة كمال الدين بن الزملكاني، قاضي القضاة، وجلال الدين القزويني لما كان خطيباً، وغصن برهان الدين المذكور من الشباب رطيباً. ورأيته يحضر دروس العلامة ابن تيمية كثيراً، ويأخذ من فوائده ما شادَ به مجداً أثيلاً أثيراً، يجلس منصتاً لا يتكلف لبحث ولا يتكلم، ويرى أنه يتعلقُ بأهدافه ويتعلم، إلى أن قضى نحبه وسكن تُربه، ولقي ربه، رحمه الله تعالى.
তার সঙ্গী ছিল প্রচণ্ড উদ্দীপনা; সুতরাং কোনো তত্ত্বজ্ঞানী (আরিফ) যখন তাকে দেখতেন, তখন তিনি তার অবস্থার কোনো কিছুই অস্বীকার করতেন না এবং সারা জীবন তার মাঝে ত্রুটি অনুসন্ধান করলেও কোনো মন্দ দিক খুঁজে পেতেন না। শরয়ী পত্রাবলী আজও তার উত্তম নিদর্শনের সাক্ষ্য দেয় এবং সেগুলো লেখকদের চোখের সামনে জ্ঞানের দস্তরখান বিছিয়ে দেয় ও তাদের জন্য ভোজের আয়োজন করে।
তিনি ছিলেন সুশ্রী অবয়ব ও সুন্দর পাগড়িধারী, প্রখর বুদ্ধিমান ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। সাহেব শামসউদ্দীন গাবরিয়ালের যুগে তাকে বায়তুল মালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরকাল ও পার্থিব পরিণাম নিয়ে চিন্তা করেন। তিনি ফতোয়া প্রদানে ছিলেন বিচক্ষণ এবং আহকামের বর্ণনায় নিপুণ, যার ফলে তিনি কোনো সংকটে নিপতিত হতেন না। তার মেধা প্রখর বুদ্ধি ও সূক্ষ্মদর্শিতার কারণে প্রজ্বলিত ছিল এবং তিনি এমন সব জটিল বিষয় অনুধাবন করতে পারতেন যা পূর্ববর্তীদের অন্তরে সংশয় বা আক্ষেপ হয়ে রয়ে গিয়েছিল। তিনি তুর্কি দাসীদের সাথে জীবন যাপনে আগ্রহী ছিলেন এবং তাদের প্রণয়-জালে জড়িয়ে পড়তেন। আমি তাকে এক জুমুআতে দাসীর বাজারে দেখতাম এবং অন্য জুমুআতে বইয়ের বাজারে দেখতাম, যাতে তিনি এর মাধ্যমে মুক্তো ও উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য জ্ঞান—উভয়ই সংগ্রহ করতে পারেন। তিনি তার দাসীদের কাছ থেকে তুর্কি ভাষা শিখেছিলেন এবং সেই ভাষায় এমনভাবে কথা বলতেন যে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে তার ভুল ধরার মতো মানুষ খুব কমই ছিল। এর সাথে সাথে ছিল তার চমৎকার প্রকাশভঙ্গি, বাকপটুতা এবং ইশারা-ইঙ্গিতের প্রাঞ্জলতা।
তিনি প্রধান বিচারপতি আল্লামা কামালউদ্দীন ইবনে আয-যামলাকানির নিকট উসুল (মূলনীতিশাস্ত্র) শিক্ষা করেন; এছাড়া জালালউদ্দীন আল-কাযউইনি যখন খতিব ছিলেন তার নিকট থেকেও পাঠ গ্রহণ করেন এবং উল্লিখিত বুরহানউদ্দীনের কাছেও তার যৌবনের সজীব সময়ে শিক্ষা লাভ করেন। আমি তাকে আল্লামা ইবনে তাইমিয়য়াহর দরসে প্রচুর উপস্থিত থাকতে দেখেছি এবং তিনি তার ইলমি ফায়দাগুলো থেকে এমন সব জ্ঞান আহরণ করতেন যা দিয়ে তিনি এক সুদৃঢ় ও মহিমান্বিত মর্যাদা গড়ে তুলেছিলেন। তিনি সেখানে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে চুপচাপ বসে থাকতেন, অহেতুক তর্কে লিপ্ত হতেন না বা কথা বলতেন না; তিনি মনে করতেন যে তিনি কেবল তার লক্ষ্যপানে অগ্রসর হচ্ছেন এবং শিখছেন। পরিশেষে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং মাটির নিচে শায়িত হন ও তার রবের সাথে মিলিত হন, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
وكان قد درس في الوقف الجديد الذي أوقفه الأمير سيف الدين بكتمر والي الولاة بمدرسة الشيخ أبي عمر بالصالحية، وكان درساً حافلاً حضره الأعيان في خامس عشري شوال سنة تسع عشرة وسبع مئة، ودرس بالحنبليّة داخل باب الفراديس عاشر ذي القعدة سنة ست وعشرين وسبع مئة، وحضره القضاة والفضلاء، وأولي نيابة الحكم في مستهل جُمادى الأولى سنة سبع وعشرين وسبع مئة، وأعاد بالمدرسة الصدرية وبالجوزية والمسمارية.
إبراهيم بن أحمد بن عقبة بن هبة الله بن عطاءالقاضي صدر الدين بن الشيخ محيي الدين البصروي الحنفي.
درس وأفتى وأعاد وأعان الطلبة وأفاد، ولي قضاء حلب، وأقام بها مدةً يسيرة، فما بلغ ما طلب، ثم توجه إلى مصر وسعى سعياً شديداً وحصل بقضاء
তিনি সালিহিয়ার শায়খ আবু উমর মাদরাসায় ওয়ালি আল-উলাত আমির সাইফ উদ্দিন বকতুমুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নতুন ওয়াকফ-এ পাঠদান করেছিলেন। এটি ছিল একটি জনাকীর্ণ পাঠ যেখানে ৭১৯ হিজরি সালের ২৫শে শাওয়াল বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তিনি ৭২৬ হিজরি সালের ১০ই জিলকদ বাব আল-ফারাদিসের অভ্যন্তরে হাম্বলিয়া মাদরাসায় পাঠদান করেন এবং এতে বিচারক ও গুণীজনরা উপস্থিত ছিলেন। ৭২৭ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসের শুরুতে তিনি বিচারিক প্রতিনিধিত্বের (নায়েব) দায়িত্ব লাভ করেন এবং সাদরিয়া, জাওযিয়া ও মিসমারিয়া মাদরাসায় পাঠের পুনরাবৃত্তিকারক (মুঈদ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন উকবা বিন হিবাতুল্লাহ বিন আতাকাযী সদরুদ্দিন বিন শায়খ মুহিউদ্দিন আল-বাসরভী আল-হানাফী।
তিনি পাঠদান করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন, মুঈদ হিসেবে কাজ করেছেন এবং ছাত্রদের সাহায্য ও উপকৃত করেছেন। তিনি আলেপ্পোর বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে অল্প সময় অবস্থান করেন, কিন্তু তিনি যা চেয়েছিলেন তা অর্জিত হয়নি। এরপর তিনি মিসরের অভিমুখে যাত্রা করেন এবং কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে বিচারিক পদ লাভ করেন...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
حلب تقليداً، وعاد فأدركه الأجل بدمشق، وبطل قلم حياته من الحظ والمشق، وتعجّب الناس من حرضه الذي بلغ النهاية مع ما كان له بدمشق من الكفاية.
وولد بصرى سنة تسع وست مئة، وتوفي رحمه الله تعالى في سنة سبعٍ وتسعين وست مئة، في حادي عشر رمضان.
إبراهيم بن أحمد بن حاتم بن عليالفقيه أبو إسحاق البعلبكي الحنبلي، شيخ بعلبك.
أجاز له نصر بن عبد الرزاق، وابن روزبة، وابن اللتي، وابن الأواني وابن القبيطي، وعدة.
وسمع من سليمان الإسعردي، وأبي سليمان بن الحافظ، خطيب مردا. واشتغل على الفقيه اليونيني، وصحبهُ.
আলেপ্পোর বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং দামেস্কে ফিরে আসার পর সেখানে তাঁর অন্তিম সময় উপস্থিত হয়। তাঁর জীবনের কলম সৌভাগ্য ও লিখন-চর্চা থেকে বিরতি নেয়। দামেস্কে তাঁর পর্যাপ্ত সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর চরম পর্যায়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখে মানুষ অবাক হতো।
তিনি ৬০৯ হিজরি সনে বুসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৯৭ হিজরি সনের ১১ই রমজান ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
ইব্রাহিম বিন আহমাদ বিন হাতিম বিন আলীফকিহ আবু ইসহাক আল-বালবাক্কি আল-হাম্বলি, বালবাকের শায়খ।
তাঁকে নসর বিন আব্দুল রাজ্জাক, ইবনে রুজবাহ, ইবনে আল-লাত্তি, ইবনে আল-আওয়ানি, ইবনে আল-কুবাইতি এবং আরও অনেকে ইজাজত প্রদান করেছেন।
তিনি সুলাইমান আল-ইসআরদি এবং মারদার খতিব আবু সুলাইমান বিন আল-হাফিজের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ফকিহ আল-ইউনিনির নিকট জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করেন।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
كانت له وظائف، ونسخ من العلم صحائف، كتب المغني بقلمه، وأدخله بنسخه تحت علمه، وتفقه لابن حنبل، وكان يرى أنه في مذهبه من غيره أنبل، مع تواضع، لا يترفع، ولا يتعرف إلى الكبر ولا يتفرع، يبدأ من يلقاه بالكلام، ويعامل الناس بالانقياد لهم والاستسلام، إلى أن وافاه حمامه وانمحق من بدره تمامه.
وكانت ولادته في سنة إحدى وثلاثين وست مئة، ووفاته - رحمه الله تعالى - في سنة اثنتي عشرة وسبع مئة.
إبراهيم بن أحمد بن عيسى بن يعقوبالعلامة، شيخ القراء والنحاة، أبو إسحاق الإشبيلي الفافقي.
شيخ سبتة، حمل صغيراً إلى سبتة، وسمع التيسير من محمد بن جوبر الراوي عن ابن أبي جمرة، وسمع الموطأ والشفا وأشياء. وأكثر عن
তাঁর বহুমুখী দায়িত্ব ছিল এবং তিনি ইলমের অনেক পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করেছেন। তিনি নিজ কলমে 'আল-মুগনি' কিতাবটি লিখেছেন এবং অনুলিপি করার মাধ্যমে তা নিজের আয়ত্তে এনেছেন। তিনি ইবনে হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ অর্জন করেছেন এবং মনে করতেন যে, স্বীয় মাযহাবের ক্ষেত্রে তিনি অন্যদের তুলনায় অধিকতর শ্রেষ্ঠ। এতদসত্ত্বেও তিনি ছিলেন বিনয়ী, অহংকার করতেন না এবং দম্ভ প্রদর্শন করতেন না। যাঁর সাথেই তাঁর দেখা হতো, তিনি নিজে আগে কথা বলতেন এবং মানুষের সাথে অত্যন্ত নম্রতা ও বিনয়ের সাথে আচরণ করতেন। অবশেষে তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো এবং তাঁর পূর্ণিমার চাঁদ বিলীন হয়ে গেল।
তাঁর জন্ম হয়েছিল ৬৩১ হিজরি সনে এবং তাঁর মৃত্যু—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—৭১২ হিজরি সনে।
ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে ইয়াকুবআল্লামা, ক্বারী ও নাহুবিদদের শাইখ, আবু ইসহাক আল-ইশবিলি আল-ফাফকি।
সেউতার শাইখ। তাঁকে শৈশবে সেউতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি ইবনে আবি জামরার বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের থেকে 'আত-তাইসির' শ্রবণ করেছেন। এছাড়াও তিনি 'মুয়াত্তা', 'আশ-শিফা' এবং আরও অনেক কিছু শ্রবণ করেছেন। তিনি অধিক বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
أبي عبد الله الأزدي سنة ستين، وقرأ بالروايات على أبي بكر بن مشليون، وقرأ كتاب سيبويه على أبي الحسين بن أبي الربيع.
ساد أهل المغرب في لسان العرب، وبلغ من النحو غاية الأمل وأقصى الأرب، وألف كتاباً في شرح الجمل، وانتهى فيه إلى ما رامه من الأمل، ووضع مصنفاً في قراءة نافع، ونفع بذلك كل كهل ويافع، واصبح قلبُ أهل الشرق وهو خافق من التطلع إلى شيخ غافق، وسكن لما ظعن من بلده في مدينة سبتة، وقطع بها جمعه عمره وسبته، حتى قضى نحبه، وكدّر الموت من الحياة شربه.
وولد سنة إحدى وأربعين وست مئة، وتوفي رحمه الله تعالى في سنة عشرة وسبع مئة.
إبراهيم بن أحمد بن عبد المحسن بن أحمدالشيخ الفقيه، الإمام الصالح، الخير المعمر، عز الدين العلويّ الحسيني الغرافي، ثم الإسكندري، الشافعي الناسخ.
আবু আবদুল্লাহ আল-আজদি থেকে (হিজরি) ষাট সনে শিক্ষা গ্রহণ করেন, এবং আবু বকর বিন মাশলুন-এর নিকট বিভিন্ন রেওয়ায়েত অনুযায়ী কিরাআত পাঠ করেন, এবং আবু আল-হুসাইন বিন আবি আল-রাবি‘-এর নিকট সিবাওয়াইহ-এর কিতাব পাঠ করেন।
তিনি আরবি ভাষার দক্ষতায় মাগরিবের অধিবাসীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন এবং নাহু শাস্ত্রে আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত শিখরে ও লক্ষ্যপানে উপনীত হন। তিনি ‘শরহুল জুমাল’ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং তাতে আপন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছান। তিনি নাফে‘-এর কিরাআতের ওপর একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন, যা দ্বারা প্রৌঢ় ও তরুণ সকলেই উপকৃত হয়েছে। প্রাচ্যের লোকদের অন্তর গাফিকের এই শাইখের দর্শনের প্রত্যাশায় স্পন্দিত হতো। তিনি যখন নিজ দেশ থেকে প্রস্থান করেন তখন সেউতা নগরীতে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই তার জীবনের সমস্ত সময় অতিবাহিত করেন, অবশেষে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যু জীবনের স্বাদকে ম্লান করে দেয়।
তিনি ছয়শ একচল্লিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাতশ দশ হিজরিতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন মৃত্যুবরণ করেন।
ইবরাহিম বিন আহমাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আহমাদশাইখ, ফকিহ, পুণ্যবান ইমাম, দীর্ঘজীবী কল্যাণময় ব্যক্তিত্ব, ইজ্জুদ্দিন আল-আলাভি আল-হুসাইনি আল-গারাফি, অতঃপর আল-ইস্কান্দারি, শাফিঈ মাজহাবের অনুসারী এবং পাণ্ডুলিপি অনুলিপিকারক।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
سمع بدمشق سنة اثنتين وخمسين من حليمة حفيدةِ جمال الإسلام، ومن الباذرائي ومن الزين خالد.
وسمع بحلب من نقيب الشرفاء، وأجاز له الموفق بن يعيش النحوي، وابن رواج، والجميزي، وجماعة.
وحدث وهو ابن بضعٍ وعشرين سنة، وأخذ عنه الوجيه السبتي.
كان يرترق بالنسخ، وعنده في ذلك ثبوتٌ ورسخٌ، مع زهد ونزاهة، وتقدم عند أهل الخير ووجاهة. وكان أصغر من أخيه الشيخ تاج الدين الغرّافي بعشر سنين. ولما توفي أخُوه صار هو في المشيخة مكانه، وأسمع الحديث وشيد أركانه، وولي مشيخة دار الحديث النبهيّة مكان أخيه، وسلك طريقه في تأنّيه وتراخيه.
قيل: إنه حفظ وجيز الغزالي، وأحرز ما فيه من اللآلي، وحفظ
তিনি বায়ান্ন সালে দামেস্কে জামালুল ইসলামের নাতনি হালিমা, আল-বাযরাঈ এবং যয়ন খালিদ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
তিনি হালাবে নাকীবুল আশরাফ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। আর মুওয়াফফাক ইবনে ইয়াইশ আন-নাহবী, ইবনু রেওয়াজ, আল-জুমায়যী এবং একদল আলেম তাকে বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেন।
তিনি বিশ বছরের কিছু বেশি বয়স থাকাকালে হাদিস বর্ণনা শুরু করেন এবং আল-ওয়াজজিহ আস-সাবতী তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেন।
তিনি পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং এই কাজে তাঁর সুদৃঢ় দক্ষতা ও পারদর্শিতা ছিল। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ ও নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী এবং পুণ্যবানদের নিকট অগ্রগণ্য ও মর্যাদাবান। তিনি তাঁর ভাই শায়খ তাজউদ্দীন আল-গরাফীর চেয়ে দশ বছরের ছোট ছিলেন। যখন তাঁর ভাই মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং হাদিস শোনানো ও এর ভিত্তি মজবুত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি তাঁর ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দারুল হাদিস আন-নাবহিয়্যার শায়খ নিযুক্ত হন এবং ধীরস্থিরতা ও গাম্ভীর্যের ক্ষেত্রে তাঁরই পথ অনুসরণ করেন।
বলা হয় যে, তিনি ইমাম গাজ্জালীর 'আল-ওয়াজীজ' গ্রন্থটি মুখস্থ করেছিলেন এবং এর অন্তর্গত সকল জ্ঞান-মুক্তা আয়ত্ত করেছিলেন, এবং মুখস্থ করেছিলেন...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥١)
إيضاح أبي علي، وأصبح يسردُ ما فيه وهو مليّ، وكان معين الدين المصغوني يقوم بمصالحه، ويعينه بقضاء حوائجه ودفع حوائجه، إلى أن فرغ مدى عمره ووصل نهاية أمره.
ولد بالثغر سنة ثمانٍ وست مئة، وتوفي رحمه الله تعالى في خامس عشر المحرّم سنة ثمانٍ وعشرين وسبع مئة. وهو من ذريّة موسى الكاظم رضي الله عنه.
إبراهيم بن أحمد بن محمد بن معاليالشيخ الإمام القدوة المذكر القانت، أبو إسحاق الرقي الحنبلي، نزيل دمشق.
تلا بالروايات على الشيخ إبراهيم القفصي، وصحب الشيخ عبد الصمد ابن أبي الجيش، وعني بالتفسير والفقه والتذكير، وبرع في الطب، وشارك في المعارف، وله بالوعظ إلى القلوب أيادٍ وعوارف، وكان يشير في كلامه إلى لطائف مُحركة، ويُهدي بعبادته إلى السامعين فوائد بين النفوس والتقوى مشركة، طالما أجرى دمعاً، وخرق بالموعظة سمعاً، وجر لمن انتصب له رفعاً، يهز الأعطاف إذا لفظ، ويحرك القلوب الغافلة إذا وعظ، على رأسه طاقية وخرقة صغيرة، ونفسه غنية
আবু আলীর ‘ঈযাহ’; তিনি এর বিষয়বস্তু অনর্গল বর্ণনা করতেন এবং তিনি এতে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। মুঈনুদ্দীন আল-মাসগুনী তাঁর যাবতীয় স্বার্থ তদারকি করতেন এবং তাঁর প্রয়োজন পূরণ ও সমস্যা দূরীকরণে তাঁকে সাহায্য করতেন, যে পর্যন্ত না তাঁর আয়ুষ্কাল শেষ হলো এবং তিনি জীবনের অন্তিম সময়ে পৌঁছালেন।
তিনি ৬০৮ হিজরি সনে সাগ্র (সীমান্তবর্তী শহর)-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৮ হিজরি সনের ১৫ই মুহররম ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি মূসা আল-কাযিম রাযিয়াল্লাহু আনহুর বংশধর ছিলেন।
ইবরাহীম ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মাআলীশায়খ, ইমাম, আদর্শ পুরুষ, নসিহতকারী ও একনিষ্ঠ ইবাদতকারী, আবু ইসহাক আর-রাক্কী আল-হাম্বলী, দামেস্কের অধিবাসী।
তিনি শায়খ ইবরাহীম আল-কাফসী-এর নিকট বিভিন্ন রেওয়ায়েত বা কিরাতে কুরআন তিলাওয়াত করেন। তিনি শায়খ আবদুস সামাদ ইবন আবিল জাইশ-এর সাহচর্য লাভ করেন এবং তাফসীর, ফিকহ ও নসিহত প্রদানের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী হন। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে বুৎপত্তি অর্জন করেন এবং বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় বিচরণ করেন। অন্তরের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী ওয়াজ ও উপদেশের ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদান ও পরিচিতি ছিল। তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্দীপক ও সূক্ষ্ম তত্ত্বের প্রতি ইঙ্গিত করতেন এবং তাঁর ইবাদত ও সাধনার মাধ্যমে শ্রোতাদের নফস ও তাকওয়ার মাঝে সমন্বিত নানাবিধ উপকার উপহার দিতেন। তিনি দীর্ঘকাল অশ্রু প্রবাহিত করেছেন, তাঁর নসিহতের মাধ্যমে মানুষের কর্ণকুহরে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছেন, আর যে তাঁর কথা শোনার জন্য একাগ্রচিত্তে দাঁড়াত, তিনি তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করতেন। তিনি কথা বললে মানুষের শরীর শিহরিত হতো এবং ওয়াজ করলে গাফেল অন্তরসমূহ সজাগ হয়ে উঠত। তাঁর মাথায় একটি টুপি ও ছোট একখণ্ড কাপড় থাকত এবং তাঁর আত্মা ছিল অত্যন্ত অমুখাপেক্ষী।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
عن الملوك وإن كانت حالته فقيرة، صُنع له منزلٌ تحت المئذنة الشرقية بالجامع الأموي من دمشق، فلازمه إلى أن شالت نعامتُه، وسكنت بعد ذلك التذكار نامته.
وله نظمٌ يترقرق، ونثرٌ بالبلاغة يتدفق، وربما كان يحضر السماع، ويجد الناسُ به مزيد انتفاع، وحضوره بأدب ووقار، وسكون لا تحرّكه نشوة العقار. وألف تفسيراً للفاتحة، وأتى فيه بكل فائدةٍ سانحة، وله تواليفُ ومختصرات، وتصانيف على المحاسن مُقتدرات.
ولد سنة نيفٍ وأربعين وست مئة، وتُوفي، رحمه الله تعالى، سنة ثلاثٍ وسبع مئة في خامس عشر المحرم، ومن نظمه:
يزورُ فتنجلي عني هُمُومي
… لأنّ جلاءَ همِّي في يَديهِ
ويمضي بالمسرةِ حين يمضي
… لأنّ حِوالتي فيها عليهِ
ولولا أنّه يعدُ التلاقي
… لكنتُ أموتُ من شوقي إليه
ومنه أيضاً:
لولا رجاءُ نعيمي في دياركمُ
… بالوصلِ ما كنتُ أهوى الدارَ والوطنا
إن المساكن لا تحلو لساكنها
… حتى يشاهدَ في أثنائها السكنا
রাজাদের চেয়ে অমুখাপেক্ষী যদিও তাঁর অবস্থা ছিল অভাবগ্রস্ত; দামেস্কের জামে উমাইয়ার পূর্বদিকের মিনারের নিচে তাঁর জন্য একটি আবাস তৈরি করা হয়েছিল। তিনি সেখানে অবস্থান করতে থাকেন যে পর্যন্ত না তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং এরপর তাঁর স্মৃতি ও সত্তা সেখানে চিরস্থায়ী বিশ্রাম লাভ করে।
তাঁর কাব্য ছিল স্বচ্ছ ও সাবলীল, আর তাঁর গদ্য ছিল অলঙ্কারপূর্ণ ও প্রবহমান। কখনও কখনও তিনি সামা মাহফিলে উপস্থিত হতেন এবং মানুষ তাঁর উপস্থিতিতে প্রভূত উপকৃত হতো। সেখানে তাঁর উপস্থিতি হতো শিষ্টাচার ও গাম্ভীর্যপূর্ণ; এমন এক স্থিরতা যা মত্ততার ঘোরও নাড়িয়ে দিতে পারত না। তিনি সূরা ফাতিহার একটি তাফসির রচনা করেছেন এবং তাতে প্রতিটি দুর্লভ ও মূল্যবান তথ্য সন্নিবেশিত করেছেন। তাঁর আরও অনেক সংকলন, সংক্ষিপ্তসার এবং শ্রেষ্ঠত্বপূর্ণ গ্রন্থ রয়েছে।
তিনি ছয়শ চল্লিশের কিছু বেশি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন—সাতশ তিন হিজরির পনেরই মহররম ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত কাব্য থেকে কিছু অংশ নিচে দেওয়া হলো:
তিনি পরিদর্শনে আসেন আর আমার সকল দুশ্চিন্তা দূরীভূত হয়
… কারণ আমার দুশ্চিন্তার মুক্তি নিহিত তাঁরই হাতে।
আর তিনি যখন প্রস্থান করেন, তখন সকল আনন্দ নিয়েই প্রস্থান করেন
… কারণ আমার আনন্দের সকল নির্ভরতা তাঁরই ওপর।
যদি পুনরায় মিলনের প্রতিশ্রুতি তিনি না দিতেন
… তবে তাঁর প্রতি ব্যাকুলতায় আমি মরেই যেতাম।
তাঁর আরও কবিতা হলো:
যদি আপনাদের ভূখণ্ডে মিলনের মাধ্যমে আমার সুখ লাভের আশা না থাকত
… তবে আমি এই ঘরবাড়ি ও স্বদেশকে কক্ষনো ভালোবাসতাম না।
নিশ্চয়ই কোনো আবাসস্থল তার বাসিন্দার কাছে ততক্ষণ প্রিয় হয় না
… যতক্ষণ না সে সেখানে তার অন্তরের প্রশান্তিকে অবলোকন করে।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
إبراهيم بن أحمد بن ظافرالقاضي برهان الدين البرلسي، بضم الباء الموحدة والراء وتشديد اللام وبعدها سينٌ مهملة.
كان فقيهاً وبينَ أهلِ العلم وجيهاً، يُعين في قضاء القُضاة، ويُحبه كلّ من أهلَ مذهبه ويرضاه، وتجمّل به مذهب مالك، وتكمل به نور القمر في الليل الحالك.
وكان ناظرَ بيت المال بالقاهرة، ونجوم أموال النجوم به زاهرة، ولم يزل على حاله إلى أن لقي ربّه، ونوله ما أحبه.
ووفاته في شهر رمضان صفر سنة ثمانٍ وسبع مئة، وولي مكانه في نظر بيت المال القاضي نور الدين الزواوي نائب المالكي.
إبراهيم بن أحمد بن أبي الفتح بن محمودالقاضي الصدر شرف الدين ابن الشيخ العالم الكاتب كمال الدين ابن العطار.
كان قد باشر جهاتِ أخيه عندَ موته، وهي نظر الأشراف، ونظر البيمارستان
ইবরাহীম বিন আহমাদ বিন জাফিরকাজী বুরহানউদ্দিন আল-বুরলুসী; (বুরলুসী শব্দটি) প্রথম বর্ণ 'বা'-তে পেশ, এরপর 'রা', 'লাম' বর্ণে তাশদীদ এবং সবশেষে নুকতাহীন 'সীন' সহযোগে গঠিত।
তিনি ছিলেন একজন ফকীহ (আইনবিদ) এবং আলেম সমাজের নিকট অত্যন্ত প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রধান বিচারপতির বিচারিক কাজে সহায়তা করতেন। তার মাযহাবের (মালিকী) সকল অনুসারী তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। মালিকী মাযহাব তার মাধ্যমে সুশোভিত হয়েছিল এবং ঘোর অন্ধকার রাতে চাঁদের আলোর ন্যায় তিনি সেই মাযহাবকে পূর্ণতা দান করেছিলেন।
তিনি কায়রোর বাইতুল মালের (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং তার দক্ষতায় কোষাগারের সম্পদরাজি নক্ষত্রের ন্যায় দ্যুতিময় হয়ে উঠেছিল। তিনি নিজ পদে বহাল থাকা অবস্থাতেই রবের সান্নিধ্যে গমন করেন; আল্লাহ তাকে তার কাঙ্ক্ষিত জান্নাত দান করুন।
সাতশ আট হিজরী সনের সফর (কিংবা রমজান) মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। বাইতুল মালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন মালিকী নায়েব কাজী নূরুদ্দীন আয-যাওয়াওয়ী।
ইবরাহীম বিন আহমাদ বিন আবিল ফাতহ বিন মাহমুদকাজী আস-সদর শরফুদ্দীন; তিনি প্রখ্যাত আলেম ও লেখক কামালউদ্দিন ইবনুল আত্তারের পুত্র।
তিনি তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার দায়িত্বসমূহ গ্রহণ করেছিলেন। সেই দায়িত্বগুলো ছিল আশরাফদের (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বংশধর) বিষয়ক বিভাগের তত্ত্বাবধান এবং বিমারিস্তানের (হাসপাতাল) তত্ত্বাবধান।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
الصغير، ونظر المدرسة الظاهرية، وبقي على ذلك إلى أن مات رحمه الله تعالى في تاسع الحرم سنة ثلاث وثلاثين وسبع مئة.
ومولده بالكرك في الجفل سنة سبع مئة، وكان شكلاً حسناً.
إبراهيم بن أحمد القاضيالرئيس الكبير جمال الدين، رئيس الأطباء بالديار المصريّة، المعروف بابن المغربي، وسيأتي ذكر والده إن شاء الله تعالى في مكانه.
لم يكن لأحدٍ مكانه عند السلطان الملك الناصر، ولا عُقدت على مثل سعادته الخناصر، يدخل إلى السلطان في كل يومٍ على الشمع، فيشتمل عليه بالبصر، ويصغي إليه بالسمع، ويحكي له ما جرى في بارحته عند الحريم، وما اتفق له مع آرامِ وجرة وغزلان الصريم، ويُفضي إليه بأسرارٍ لا يُودعُها سواه، ويقضي له كل ما وافق آفاق غرضه ولاءم ولائم هواه.
وكان فخر الدين ناظرُ الجيش يضيق منه ذرعُه، ويذوي من سُموم تعديه عليه زرعه.
وكانت إشاراته عند سائر أهل الدولة مقبولة، وطباعُهم على ما يراه من العزل والولاية مقبولة، وقل أن يكونَ يومُ خدمة وما عليه تشريف، ولا لهُ فيه أمرٌ في تجدد السعد ولا تصريف.
সগির, এবং জাহিরিয়া মাদরাসার তদারকি করেছেন, এবং তিনি সাতশ তেত্রিশ হিজরি সনের মহররম মাসের নয় তারিখে মৃত্যু পর্যন্ত এই অবস্থায় বহাল ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
তাঁর জন্ম সাতশ হিজরি সনে কারাকের আল-জাফলে, এবং তিনি সুশ্রী অবয়বের অধিকারী ছিলেন।
ইবরাহিম ইবনে আহমাদ আল-কাজিমহান প্রধান জামালুদ্দিন, মিশর ভূখণ্ডের প্রধান চিকিৎসক, যিনি ইবনুল মাগরিবি নামে পরিচিত। ইনশাআল্লাহ তাঁর পিতার আলোচনা যথাস্থানে আসবে।
সুলতান আল-মালিকুন নাসিরের নিকট তাঁর যে অবস্থান ছিল তা আর কারো ছিল না, এবং তাঁর মতো সৌভাগ্যের দৃষ্টান্ত আর কারো ক্ষেত্রে পাওয়া যেত না। তিনি প্রতিদিন প্রদীপের আলোয় সুলতানের নিকট প্রবেশ করতেন, সুলতান গভীর দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকাতেন এবং মনোযোগ সহকারে তাঁর কথা শুনতেন। তিনি সুলতানের কাছে তাঁর হারেমে গতরাতে যা ঘটেছে এবং আরাম, ওয়াজরাহ ও সারিমের হরিণীদের সাথে তাঁর যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করতেন। তিনি সুলতানের কাছে এমন সব গোপন কথা প্রকাশ করতেন যা তিনি অন্য কারো কাছে গচ্ছিত রাখতেন না এবং সুলতানের উদ্দেশ্য ও আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সবকিছুই তিনি সম্পাদন করতেন।
সেনাবাহিনীর পরিদর্শক ফখরুদ্দিন তাঁর কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর নিপীড়নের বিষাক্ত বাতাসে ফখরুদ্দিনের সফলতার শস্য শুকিয়ে যাচ্ছিল।
রাষ্ট্রের সকল পদস্থ ব্যক্তিদের নিকট তাঁর ইশারা-ইঙ্গিত ছিল গ্রহণযোগ্য এবং বরখাস্ত ও নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর মতামত তারা মেনে নিত। খুব কম দিনই এমন যেত যে তার দায়িত্ব পালনের দিনে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হতো না, অথবা সেখানে তাঁর জন্য নতুন কোনো সৌভাগ্য বা প্রশাসনিক কর্তৃত্বের আদেশ থাকতো না।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
وحاول جماعة ممن هو قريب من السلطان إبعاده، وتعبَ كلّ منهم فما بلغه الله قصده ولا أتم له مراده:
إذا أنت أعُطيت السعادةَ لم تُبَل
… ولو نظرت شزراً إليك القبائلَ
ولم يزل على حالهِ إلى أن حشرج، ولم يكن له من ذلك الضّيق مخرج، ووصل الخبرُ إلى دمشق بوفاته في أواخرِ ذي القعدةِ سنة ست وخمسين وسبع مئة.
وكان مليحَ الوجهِ ظريف اللباس، متمكناً من السلطان، أراد القاضي شرف الدين النشو أن يُنزله من عين السلطان بكل طريق فلم يتجه له فيه عمل، فعمل أوراقاً بما على الخاصَ من الدّيون من زمان من تقدمه وذكر فيه جملاً كثيرة باسم القاضي جمال الدين ابن المغربي، من ثمن رصاصٍ وبرّ وحرير وغيره، ودخل وقرأ الأوراق على السلطان، ليعلم أنّ له أموالاً متّسعة يتكسّب فيها ويتّجرُ على السلطان، وأعاد ذكر جمال الدين مرّات، فما زاد السلطانُ على أن قال: هذا القاضي جمالُ الدين، لا تؤخر له شيئاً أطلع الساعة وادفع له جميع مالهِ.
وكان قد توجه مع السلطان إلى الكرك، وأقام عنده يخدم حريمه، وحظاياه وخواصّه من مماليكه وجواريه في أمراضهم.
وكان يدخل إليه كلّ يوم على الشمع قبل كل ذي وظيفة راتبة من أرباب الأقلام، ويسأل عن مزاج السلطان وأحواله وأعراضه في ليلته، ثم في بقية أمراض
সুলতানের ঘনিষ্ঠ একদল লোক তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং তাদের প্রত্যেকেই এই চেষ্টায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল; কিন্তু আল্লাহ তাদের উদ্দেশ্য সফল করেননি এবং তাদের লক্ষ্য পূরণ হতে দেননি:
যদি তোমাকে সৌভাগ্য প্রদান করা হয় তবে তুমি পরোয়া করবে না
… যদিও গোত্রসমূহ তোমার দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকায়।
তিনি আমৃত্যু নিজ অবস্থায় অটল ছিলেন এবং সেই সংকীর্ণতা থেকে তার কোনো নিষ্কৃতি ছিল না। সাতশ ছাপ্পান্ন হিজরি সালের জিলকদ মাসের শেষ দিকে দামেস্কে তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছায়।
তিনি ছিলেন সুদর্শন ও সুরুচিপূর্ণ পোশাকধারী এবং সুলতানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কাজি শরফুদ্দিন আন-নাশউ চেয়েছিল যে কোনো উপায়ে সুলতানের দৃষ্টিতে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে, কিন্তু কোনোভাবেই তার চক্রান্ত সফল হয়নি। ফলে সে পূর্বসূরিদের সময় থেকে ব্যক্তিগত খাতের বকেয়া ঋণ সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র তৈরি করল এবং তাতে কাজি জামালুদ্দিন ইবনুল মাগরিবির নামে সিসা, গম, রেশম ইত্যাদির মূল্য বাবদ বিশাল অংকের অর্থের উল্লেখ করল। সে সুলতানের কাছে গিয়ে সেই নথিপত্র পাঠ করে শোনাল যাতে সুলতান জানতে পারেন যে, তার হাতে বিশাল সম্পদ রয়েছে যা দিয়ে তিনি সুলতানের খরচে ব্যবসা ও মুনাফা অর্জন করছেন। সে বারবার জামালুদ্দিনের নাম উল্লেখ করতে লাগল, কিন্তু সুলতান শুধু এটুকুই বললেন: "ইনি কাজি জামালুদ্দিন, তার কোনো পাওনা বিলম্ব করো না; এখনই যাও এবং তার সমস্ত অর্থ তাকে পরিশোধ করে দাও।"
তিনি সুলতানের সাথে কারাক গমন করেছিলেন এবং সেখানে অবস্থান করে সুলতানের পরিবার-পরিজন, প্রিয়পাত্র এবং খাস গোলাম ও দাসীদের অসুস্থতার সময় তাদের সেবা করেছিলেন।
তিনি প্রতিদিন মোমবাতির আলো থাকতেই অন্য সব বেতনভুক কর্মকর্তা ও লেখকদের পূর্বে সুলতানের নিকট প্রবেশ করতেন এবং সুলতানের মেজাজ, অবস্থা এবং রাতে তার শারীরিক উপসর্গ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, এরপর অন্যান্য রোগের বিষয়েও...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
الدور والحريم والأولاد، ويسأله عن أحوال المدينة وما تجدد فيها وما لعله لوالٍ أو أمير أو قاض أو مُحتسب إلى غيرهم من الرعايا، فيُطلعه على ما عنده ويسمعه السلطانُ منه قبل الناس كلهم، وصار لذلك يُخشى ويرجى، ولا يقدرُ أحد يردُّ له شفاعة، وقل أن يمرَ يومَ خدمةٍ وما رأيته قد لبس فيه تشريفاً إمّا من جهة السلطان، أو من جهة الدّور الدولة الكبار، أو من جهة السلطان، أو من جهة بنات السلطان، أو من جهة أمراء الدولة الكبار، أو من جهة خاصكية السلطان، وهذا أمر زائد عن الحد، هذا إلى ماله من المعلوم الوافر، وأنواع الرواتب، وكل من يُزكى في الطب بالشام ومصر، وما له من الأملاك والمتاجر، ولعل هذا لم يتفق لغيره، ولا في المدة، ولا في المادة، ومع ذلك فكان مُقتصداً في نفقته على نفسه وعلى عياله، فما كان في مصر إلا قارون هذا القرن: " ورحمة ربك خيرٌ مما يجمعون ".
إبراهيم بن أحمد بن محمد بن سليمانالقاضي أمين الدين ابن القاضي شهاب الدين بن غانم كانت الإنشاء بدمشق، وهو من بيت رياسة وكتابة إنشاء، وسيأتي ذكر جماعةٍ من أهل بيته في هذا التاريخ، كل واحد منهم في مكانه.
كان هذا أمين الدين ينظم البيتين والثلاثة، ويُجيد في بعضها لما لهُ في البلاغة من الوراثة، ويندرُ له النصف والبيت، ويُطربُ به الحي والميت، لأنه كان قريحته
ঘরবাড়ি, অন্দরমহল ও সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে; এবং তিনি তাকে শহরের অবস্থা, সেখানে নতুন কী ঘটল এবং গভর্নর, আমির, বিচারক, মুহতাসিব বা অন্যান্য প্রজাদের বিষয়ে যা কিছু হতে পারে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি তাকে তার নিকট থাকা তথ্যাদি জানাতেন এবং সুলতান অন্য সব মানুষের আগে তার কাছ থেকেই তা শুনতেন। এ কারণে তাকে ভয়ও করা হতো এবং তার কাছে আশাও রাখা হতো। কেউ তার সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাখত না। দায়িত্ব পালনের এমন খুব কম দিনই অতিবাহিত হতো যাতে আমি তাকে সম্মানসূচক পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখিনি; তা সুলতানের পক্ষ থেকে হোক, কিংবা রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে, কিংবা সুলতানের পক্ষ থেকে, কিংবা সুলতানের কন্যাদের পক্ষ থেকে, কিংবা রাষ্ট্রের বড় বড় আমিরদের পক্ষ থেকে, অথবা সুলতানের খাস দেহরক্ষীদের পক্ষ থেকে। এটি ছিল সীমাতিরিক্ত বিষয়। এর পাশাপাশি ছিল তার প্রচুর নির্ধারিত বেতন, বিভিন্ন প্রকারের ভাতা, এবং সিরিয়া ও মিসরে চিকিৎসাবিদ্যায় যাকে সত্যায়ন করা হতো তার থেকে প্রাপ্তি, আর তার ভূসম্পত্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্য তো ছিলই। সম্ভবত অন্য কারো ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি, না সময়ের ব্যাপ্তিতে, না সম্পদের প্রাচুর্যে। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের এবং নিজ পরিবারের ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী ছিলেন। মিসরে তিনি এই শতাব্দীর কারুন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না: "আর আপনার রবের রহমত তারা যা জমা করে তা অপেক্ষা উত্তম।"
ইবরাহিম বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমানবিচারক আমিনুদ্দিন ইবনুল কাদি শিহাবুদ্দিন বিন গানিম, দামেস্কে পত্ররচনা (ইনশা) বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি নেতৃত্ব এবং পত্ররচনার ঐতিহ্যের অধিকারী এক পরিবারভুক্ত ছিলেন। অচিরেই এই ইতিহাসে তার পরিবারের এক দলের কথা আসবে, প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ স্থানে।
এই আমিনুদ্দিন দুই-তিনটি পঙ্ক্তি রচনা করতেন এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অলঙ্কারশাস্ত্রের পাণ্ডিত্যের কারণে সেগুলোর কিছু অংশে পারদর্শিতা দেখাতেন। মাঝে মাঝে তিনি এমন অর্ধেক বা পূর্ণ পঙ্ক্তি বলতেন যা জীবিত ও মৃত উভয়কেই বিমোহিত করত, কারণ তার মেধা ছিল...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
نظامة، وموادّه من العلم ما خالطت لحمه ولا عظامه، وكانت تقع له في أثناء المحاورات ألفاظ على طريقِ الاتباع، يخلصُ من خصومه فيها بالباع والذراع، وكان خفيفَ الروح لدى المجالس، يخلط جدّ الملائك بمجون الأبالس، وله على بلوغ مآربه قدرةٌ وتمكنٌ، وفي التوصل إلى مقاصده ذلة وتمسكن، قد جبل الله على ذلك طباعه، وألف الناسُ في ذلك لطفه وانطباعه..
ولم يزل على حاله إلى أن خانت الأمينَ منيتُه، ووارت قامتهُ حنيتُه.
وتوفي، رحمه الله تعالى، في بكرةِ الاثنين ثالث جُمادى الآخرة سنة إحدى وستين وسبع مئة، جوا باب الفرج بدمشق، ودفن بالصالحية من يومه.
ومولدُه تقريباً في سنة سبع وتسعين وست مئة.
دخل إلى ديوان الإنشاء بدمشق سنة تسعٍ وعشرين وسبع مئة.
وكان والده في مدةِ مقامهِ بالديار المصرية عند القاضي فخر الدين ناظر الجيش يطلبه فيتوجه في كل سنة إلى زيارةِ والده، ويعُود على البريد بعناية القاضي فخر الدين، وكان فيه كيس ودُعابة، وعنده عشرة ولطف، وإذا كان له أربُ في شيء توصل إليه بكل طريق وناله، وإذا فرغ أربُه شرد وقطع الرسن، وما يعود يلوي على إلفٍ ولا وطن، فكنا - جماعة الديوان - نعرف ذلك منه، وأنه متلونٌ ذو استحالة.
وكنتُ في وقت عزمي على الحج في سنة خمس وخمسين وسبع ومئة قد اتفق معي ومع القاضي ناصر الدين كاتب السر بالشام على أنه يحُجّ معنا، وأعطانا على ذلك
সুশৃঙ্খলতা, তাঁর জ্ঞানের উপাদানসমূহ এমন ছিল যা তাঁর রক্ত-মাংস ও হাড়ের সাথে মিশে যায়নি। আলোচনা ও বিতর্কের সময় তিনি এমন সব অনুকরণীয় শব্দ ও বাচনভঙ্গি প্রয়োগ করতেন যার মাধ্যমে তিনি নিজের পূর্ণ শক্তিমত্তা ও কৌশলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতেন। মজলিসগুলোতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত; তিনি ফেরেশতাসুলভ গাম্ভীর্যের সাথে শয়তানসুলভ চপলতার সংমিশ্রণ ঘটাতেন। নিজের লক্ষ্য অর্জনে তাঁর যথেষ্ট সামর্থ্য ও দক্ষতা ছিল এবং উদ্দেশ্য হাসিলে তিনি বিনয় ও দীনতা প্রকাশ করতেন। মহান আল্লাহ তাঁর স্বভাবকে এভাবেই সৃষ্টি করেছিলেন এবং মানুষ তাঁর এই অমায়িক আচরণ ও অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।
তিনি এভাবেই স্বীয় অবস্থায় অতিবাহিত করছিলেন, যতক্ষণ না মৃত্যু এই আমানতদারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং কবরের গর্ত তাঁর দেহকে আড়াল করে নিল।
তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—সাতশত একষট্টি হিজরী সালের জুমাদাল উখরা মাসের তিন তারিখ সোমবার ভোরে দামেস্কের বাবুল ফারাজের অভ্যন্তরে ইন্তেকাল করেন এবং ওই দিনই সালিহিয়াতে তাঁকে দাফন করা হয়।
তাঁর জন্ম আনুমানিক ছয়শত সাতানব্বই হিজরী সালে।
তিনি সাতশত ঊনত্রিশ হিজরী সালে দামেস্কের দিওয়ানুল ইনশায় (প্রশাসনিক কার্যালয়) যোগদান করেন।
তাঁর পিতা যখন মিশরে সেনাবাহিনীর পরিদর্শক কাজী ফখরুদ্দীনের নিকট অবস্থান করছিলেন, তখন তিনি তাঁকে ডেকে পাঠাতেন। ফলে প্রতি বছর তিনি তাঁর পিতার সাথে দেখা করতে যেতেন এবং কাজী ফখরুদ্দীনের বিশেষ আনুকূল্যে ডাকযোগে ফিরে আসতেন। তাঁর মধ্যে বুদ্ধিমত্তা ও রসবোধ ছিল এবং তিনি ছিলেন সজ্জন ও অমায়িক। কোনো কিছুর প্রতি তাঁর প্রয়োজন দেখা দিলে তিনি যেকোনো উপায়ে তা হাসিল করতেন। কিন্তু যখনই তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়ে যেত, তিনি বন্ধন ছিন্ন করে পলায়ন করতেন এবং কোনো বন্ধু বা স্বদেশের প্রতি আর ভ্রুক্ষেপ করতেন না। আমরা—দিওয়ানের সদস্যবৃন্দ—তাঁর এই স্বভাব সম্পর্কে জানতাম যে, তিনি ছিলেন বহুরূপী ও পরিবর্তনশীল প্রকৃতির।
আমি যখন সাতশত পঞ্চান্ন হিজরী সালে হজ করার সংকল্প করি, তখন তিনি আমার এবং শামের সচিব কাজী নাসিরুদ্দীনের সাথে একমত হয়েছিলেন যে তিনি আমাদের সাথে হজ করবেন এবং এ ব্যাপারে তিনি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
مواثيق وعهوداً، فلما حقت النهضة غاب عنا، ولم نظفر به، فلما عدت من الحج كتبتُ إليه من الطريق:
أفدي الذين غدتْ محافظتي على
… ميثاقهم دونَ الورى تغيريني
قالوا استحلتَ وخنتَ عهدكَ قلتَ ما
… أنا في محبتكم أمينَ الدين
ذاك ابنُ غانم يَستحيلَ ويستحي
… أن لا يراه الدهرُ غير خؤون
إلا أنه كان فيه كرمٌ وجود وتواضع واعرافٌ بالتقصير في فنه، وكان في وقتٍ قد كتب إلى القاضي ناصر الدين كاتبِ السرّ الشريف ونحن بمرج الغسولة أبياتاً فكتب جوابهُ القاضي ناصرُ الدين في وزنه ورويه، ومن جُملة الجواب:
أيا من غدا يستوعبُ الوقتَ مدحهُ
… لنقص فعالٍ وهو قولٌ مُلفقُ
إذا ما شكرتَ الله زاداكَ رفعةً
… فشكرك إياهُ شعارٌ موفق
تسود أوراقاً وتكتبُ مأثما
… ويظهرُ منك القولُ وهو مُزَوّق
ونظمُك عندي جوهرٌ ونظامُهُ
… بليغٌ وهذا النظمُ بالصدق أليقُ
فتأذى أمينُ الدين وقال: قد تبتُ عن نظم الشعر، فكتبُ أنا إليه ارتجالاً:
تاب أمينُ الدين من نظمه
… وخلصَ الأقوام من ذمهِ
فقال لا عُدتُ إلى مثلها
… فقلتُ لم تهربُ من سهمهِ
فقال لي والله لو أنه
… مسك لما ملتُ إلى شمهِ
فقد كفى ما نلته من أذىٍ
… وما التقى قلبي من همهِ
وكتب إليه القاضي ناصرُ الدين أيضاً في ذلك:
إن كان قد تاب بلا مرية
… وأحسنَ التوبة من جرمه
অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিসমূহ; অতঃপর যখন প্রস্থানের সময় হলো, তিনি আমাদের থেকে অনুপস্থিত থাকলেন এবং আমরা তাঁকে পেলাম না। যখন আমি হজ থেকে ফিরে আসছিলাম, পথিমধ্যে তাঁকে লিখলাম:
আমি তাদের জন্য উৎসর্গিত হই, সৃষ্টিজগতের অন্য সবার বিপরীতে যাদের সাথে কৃত
… অঙ্গীকার রক্ষা করা আমাকে পরিবর্তিত করে দিচ্ছে।
তারা বলল, ‘তুমি বদলে গেছ এবং নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছ’; আমি বললাম, ‘তোমাদের
… ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমি দ্বীনের বিশ্বস্ত (আমিন আদ-দ্বীন) নই’।
তিনি হলেন ইবনে গানিম, যিনি বদলে যান এবং লজ্জিত হন
… যে কালচক্র যেন তাঁকে বিশ্বাসঘাতক ব্যতীত অন্য কিছু হিসেবে না দেখে।
তবে তাঁর মধ্যে মহানুভবতা, দানশীলতা, বিনয় এবং নিজ শিল্পে সীমাবদ্ধতার স্বীকৃতি ছিল। কোনো এক সময়ে তিনি প্রধান রাজসচিব কাজী নাসিরুদ্দিনের কাছে কিছু পঙক্তি লিখে পাঠিয়েছিলেন—যখন আমরা মারজুল গুসুলায় ছিলাম। কাজী নাসিরুদ্দিন সেই একই ছন্দ ও অন্ত্যমিলে তাঁর উত্তর লিখেছিলেন, এবং সেই উত্তরের অংশবিশেষ হলো:
হে সেই ব্যক্তি, যার প্রশংসা সময়কে আচ্ছন্ন করে ফেলে,
… অথচ কর্মের ঘাটতির কারণে তা কেবল বানোয়াট কথামালা মাত্র।
তুমি যখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো, তিনি তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন;
… সুতরাং তাঁর প্রতি তোমার কৃতজ্ঞতা এক সফল প্রতীক।
তুমি কাগজ কালো করছো এবং পাপ লিপিবদ্ধ করছো,
… আর তোমার মুখ থেকে অলংকৃত কথা প্রকাশ পাচ্ছে।
তোমার কাব্যগাথা আমার কাছে মণি-মুক্তাসম এবং এর বিন্যাস
… প্রাঞ্জল, তবে সত্যবাদিতার সাথে এই কাব্য অধিক মানানসই।
এতে আমিন আদ-দ্বীন ব্যথিত হলেন এবং বললেন: ‘আমি কবিতা রচনা থেকে তওবা করলাম’। তখন আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে লিখলাম:
আমিন আদ-দ্বীন তাঁর কাব্যচর্চা থেকে তওবা করেছেন,
… আর মানুষ তাঁর নিন্দা থেকে মুক্তি পেয়েছে।
তিনি বললেন, ‘আমি আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি করব না’;
… আমি বললাম, ‘কেন তুমি এর তীর থেকে পলায়ন করছো?’
তিনি আমাকে বললেন, ‘আল্লাহর কসম! এটি যদি
… কস্তুরীও হতো, তবুও আমি তা ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য ঝুঁকতাম না’।
আমার পাওয়া কষ্ট এবং আমার হৃদয়ে
… পুঞ্জীভূত দুশ্চিন্তাই যথেষ্ট।
কাজী নাসিরুদ্দিনও এ প্রসঙ্গে তাঁকে লিখলেন:
যদি তিনি কোনো সন্দেহ ছাড়াই তওবা করে থাকেন
… এবং নিজ অপরাধ থেকে উত্তমরূপে ফিরে আসেন।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
وقدمَ الإخلاص في فعلهِ
… وقوله دل على حزمه
منها:
وإن أعاد القولَ فيما بدا
… منهُ ولاح الزيف في نظمه
فإنني مستأنفٌ همةً
… في منعه القولَ وفي ذمهِ
وكتبت أنا إيه أيضاً:
إنّ أمينَ الدّين مذ تابا
… أغلق للأبواب أبواباً
وكانت الأعطافُ من نظمهِ
… ونثره تهتزُ إعجاباً
وكيف ينسى لذةً طالما
… دار لها بالكعبِ دولاباً
ما زال مذ شبّ على نظمهِ
… حتى رأينا رأسهُ شاباً
وذهنُهُ في كل معنى إذا
… حاولهُ يسبق نشاباً
فإن يكن أمسى غشيماً كما
… يزعُم أعطيناهُ ركاباً
وكتب أمين الدين إلي، وقد تخلفتُ عنهم في بعض السفرات إلى مرج الغسولة:
خليلي ما المرجُ الخصيب بطيبٍ
… إذا لم ير إبراهيمُ وجهَ خليله
وما هو إلا مارجٌ بعد بعده
… ولو زارهُ جال الندى بنخيله
وكتب إلي وقد حصل لي يرقان:
حاشاك من ألمٍ ألمّ بمهجة
… قد مسها ألم من اليرقان
তিনি তাঁর কর্মে একনিষ্ঠতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন
… এবং তাঁর কথা তাঁর দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ দিয়েছে।
তন্মধ্যে রয়েছে:
যদি তিনি তাঁর থেকে প্রকাশিত কথার পুনরাবৃত্তি করেন
… এবং তাঁর কাব্যরচনায় কোনো অসারতা ধরা পড়ে,
তবে আমি তাঁকে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে
… এবং তা নিন্দা করতে পুনরায় সংকল্পবদ্ধ হব।
আমিও লিখেছি:
নিশ্চয়ই আমিনুদ্দীন যবে হতে তওবা করেছেন
… তবে থেকে তিনি সব দরজাই রুদ্ধ করেছেন।
তাঁর পদ্য ও গদ্যের শৈলীসমূহ
… প্রশংসায় বিমোহিত হয়ে আন্দোলিত হতো।
কীভাবে তিনি সেই স্বাদ ভুলবেন যার জন্য দীর্ঘকাল
… পাশার দান তাঁর অনুকূলে আবর্তিত হয়েছিল।
যৌবন থেকেই তিনি কাব্যচর্চায় নিমগ্ন ছিলেন
… এমনকি আমরা তাঁর মস্তক শুভ্র হতে দেখেছি।
যেকোনো সূক্ষ্ম অর্থ অন্বেষণে তাঁর মেধা
… তীরের চেয়েও ক্ষিপ্রগতিতে ধাবিত হয়।
তিনি যদি নিজেকে অনভিজ্ঞ মনে করেন যেমনটা তিনি দাবি করছেন
… তবে আমরা তাঁকে আরোহণের জন্য পা-দানি দিতাম।
আমিনুদ্দীন আমার নিকট লিখেছিলেন, যখন মারজুল গাসুলাহ অভিমুখে কোনো এক সফরে আমি তাঁদের পেছনে রয়ে গিয়েছিলাম:
হে বন্ধু! এই উর্বর চারণভূমি মোটেও সুখকর নয়
… যদি ইবরাহিম তাঁর বন্ধুর মুখ দর্শন না করেন।
তাঁর বিচ্ছেদের পর এটি কেবল অগ্নিকুণ্ড সদৃশ
… যদিও তাঁর আগমনে খেজুরের সারিতে শিশিরবিন্দু খেলা করত।
তিনি আমার নিকট লিখেছিলেন যখন আমি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিলাম:
আল্লাহ আপনাকে সেই কষ্ট থেকে রক্ষা করুন যা এমন এক প্রাণকে আচ্ছন্ন করেছে
… যা জন্ডিসের যাতনায় পীড়িত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
وكفيت كل ملمةٍ ومخافةٍ
… ولبستَ ثوبَ سلامةٍ وأمان
متمتعاً متنعماً في جلقِ ال
… فيحاء ذاتِ جنى وجنان
وترى بها أترابها وكواعباً
… بخدُودهنّ شقائقُ النعمان
يا أوحداً في جيله بجميلهِ
… كم في فنون فناك من أفنان
منذا يضارع بحر شعرك في الورى
… يا خبرَ علم مالهُ من ثانِ
وكنت قد كتبتُ أنا إليه جواباً من رحبة مالك بن طوق في سنة ثلاثين وسبع مئة:
كتابك نورٌ صُنته بجفوني
… وتاجُ علاً أعددتهُ لجبيني
أتاني فلا والله ما احتجتُ بعده
… إلى أن تُقر الحادثاتُ عُيوني
ونفسَ من ضيقٍ برحبة مالك
… أكابدُه من لوعةٍ وحنين
فما الطرف إذا أبصرتهُ بمسهد
… ولا القلبُ إذ عاينته بحزين
تغازلين ألفاظهُ في سطوره
… بسحر معانٍ من لواحظ عينِ
أنظر في منثوره مُتنزهاً
… فأشهدَ سجع الورق فوق غُصونِ
غدوت أمين الدين بالفضل باديا
… وفزتَ بسبق في العلاء مُبين
بعثتَ مثالاً ما ظفرتُ بمثله
… وحسبك من حسنٍ بغير قرين
فما كل حسن مثله بمكمل
… ولا كل در مثله بثمين
بضائعه تجلو علينا محاسناً
… ولستَ على هذا أشتاتَ الفضائل دوني
أضعتُ أنا فضلي واصبحَ حافظاً
… وكيفَ يضيع الفضل عند أمين
আর তুমি সমস্ত বিপদ ও ভীতি থেকে সুরক্ষিত হয়েছ
… এবং পরিধান করেছ নিরাপত্তা ও প্রশান্তির পোশাক।
বিশাল দামেস্কের প্রান্তরে উপভোগ ও নেয়ামতরাজি লাভ করছ
… যা সুমিষ্ট ফল ও উদ্যানে পরিপূর্ণ।
সেখানে তুমি দেখছ সমবয়সী সুন্দরী তন্বীদের
… যাদের গাল যেন লাল শাপলা ফুলের মতো রক্তিম।
হে নিজ যুগে আপন সৌন্দর্যে অনন্য ব্যক্তিত্ব
… তোমার শিল্পের প্রাঙ্গণে কত যে বিচিত্র শাখা-প্রশাখা রয়েছে।
সৃষ্টিজগতে কে আছে যে তোমার কাব্য-সমুদ্রের সমকক্ষ হবে?
… হে জ্ঞানের সেই সংবাদ, যার কোনো দ্বিতীয় নেই।
আর আমি সাতশ ত্রিশ হিজরি সনে রাহবাতু মালিক ইবনে তওক থেকে তার কাছে একটি উত্তর লিখেছিলাম:
তোমার পত্রটি এক নূর যাকে আমি আমার চোখের পলক দিয়ে রক্ষা করেছি
… এবং এটি এক উচ্চ মর্যাদার মুকুট যা আমি আমার ললাটের জন্য প্রস্তুত করেছি।
এটি আমার নিকট আসার পর, আল্লাহর কসম! এরপর আর আমার প্রয়োজন নেই
… যে কোনো জাগতিক ঘটনা আমার চক্ষু শীতল করুক।
এটি রাহবাতু মালিকের সেই সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দিয়েছে
… যে বিষাদ ও ব্যাকুলতা আমি সেখানে সহ্য করছিলাম।
সুতরাং যখন আমি তা দেখলাম তখন দৃষ্টি নির্ঘুম রইল না
… আর যখন তা অবলোকন করলাম তখন অন্তর আর ব্যথিত থাকল না।
এর ছত্রে ছত্রে শব্দগুলো যেন প্রেমালাপ করছে
… আঁখিপল্লবের ইশারা সদৃশ অর্থবহ জাদু দ্বারা।
আমি তার গদ্যের মাঝে বিচরণ করে দেখি
… যেন বৃক্ষশাখার উপর কবুতরের ছন্দময় সুমধুর ডাক শুনছি।
হে আমীনুদ্দীন, তুমি শ্রেষ্ঠত্বে সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছ
… এবং উচ্চ মর্যাদায় এক সুস্পষ্ট অগ্রগামিতা ও সাফল্য লাভ করেছ।
তুমি এমন এক অতুলনীয় লিপি পাঠিয়েছ যার কোনো প্রতিরূপ আমি পাইনি
… তোমার অনন্য সৌন্দর্যের পরিচায়ক হিসেবে এটিই যথেষ্ট।
কেননা সকল সৌন্দর্য এর ন্যায় পূর্ণাঙ্গ নয়
… এবং সকল মুক্তা এর ন্যায় মূল্যবান নয়।
এর বিষয়বস্তু আমাদের নিকট কতই না সুষমা প্রকাশ করে
… আর তুমি এই বিবিধ গুণাবলির সমাহারে আমার চেয়ে পিছিয়ে নও।
আমি আমার শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়ে ফেলেছিলাম কিন্তু সে তার সংরক্ষক হয়ে উঠল
… আর কোনো আমানতদারের (আমীন) কাছে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়ে যেতে পারে?
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٦١)
إبراهيم بن إسماعيل بن إبراهيمبن أبي اليُسر شاكر بن عبد اللهالشيخ الأصيل تقي الدين التنوخي. كان من جُملة الشهود، وهو كثير السكون، قليل اللام.
سمعَ من السخاوي، وابن قُميرة، وعز الدين بن عساكر، وتاج الدين القرطبي، وغيرهم.
قال شيخنا علم الدين البرزالي: قرأت عليه مشيخة ابن شادان الكبيرة وغيرها.
وتوفي رحمه الله تعالى سابع جمادى الأولى سنة اثنتين وسبع مئة، ودفن بسفح قاسيون.
إبراهيم بن منيرالشيخ الصالح الزاهد العابد البقاعي، المعروف بابن الصياح.
كان من كبار الصُلحاء الأخيار، وممن يتفتت المسك حسداً إذا ذكرت عنه الأخبار، له سيماء الولاية، وعليه طلاوة القُرب والعناية، انعزل عن الناس، ووجد
ইবরাহিম বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহিমবিন আবিল-ইউসর শাকির বিন আব্দুল্লাহতিনি সম্ভ্রান্ত শায়খ তাকিউদ্দীন আত-তানুখি। তিনি পেশাদার সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির ও স্বল্পভাষী ছিলেন।
তিনি সাখাভি, ইবনে কুমাইরাহ, ইজ্জুদ্দীন বিন আসাকির, তাজুদ্দীন আল-কুরতুবি এবং অন্যদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
আমাদের শায়খ আলমউদ্দীন আল-বিরযালি বলেছেন: আমি তাঁর নিকট ইবনে শাদানের ‘আল-মাশয়াকাহ আল-কুবরা’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ পাঠ করেছি।
তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—সাতই জুমাদাল উলা, সাতশত দুই হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়।
ইবরাহিম বিন মুনিরতিনি পুণ্যবান শায়খ, যাহেদ ও ইবাদতগুজার আল-বিকাঈ, যিনি ইবনুস সাইয়্যাহ নামে পরিচিত।
তিনি ছিলেন বড় মাপের সৎ ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর সম্পর্কে কোনো সংবাদ বর্ণিত হলে সুগন্ধি কস্তুরীও ঈর্ষায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত। তাঁর মাঝে বেলায়েতের ছাপ পরিলক্ষিত হতো এবং তাঁর অবয়বে নৈকট্য ও ঐশ্বরিক বিশেষ অনুগ্রহের লাবণ্য বিদ্যমান ছিল। তিনি লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন এবং সন্ধান পেয়েছিলেন...
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
في الوحشة الإيناس، انجمع فامتدت له المعارف، وانخزل فأجزلت له العوارف، وكان متوحشاً من نوعه، نافراً عن الذي لا يراه في طوعه، يمشي في الجامع كأنه مُريب، وينفر حتى تقول: هذا غريب، لا يأنس بإنسان ولا يتألف بإحسان، من رآه قال: هذا طافح السكرة، لافح الجمرة، سافح العبرة، جامح الخطرة إلى الحضرة، جانح الفكرة إلى الخلاص من العثرة.
ولم يزل على حاله إلى أن دعاه مولاه فأسرع، واخضر له القبر فأمرى وأمرع. وتوفي رحمه الله تعالى في أول ليلة الأربعاء مستهل المحرم، سنة خمس وعشرين وسبع مئة. وحمله الناس على الأعناق والرؤوس والأصابع، ودفن بمقابر باب الصغير، وسبب موته أنه استدفأ بمجمرةٍ فاحترق، ودخل حجاب المنون واخترق، وكان له بيت في المئذنة الشرقية يأوي إليه، وكان كثيراً ما يقول: يا دائم المعروف، يا دائم المعروف الذي لا ينقطع أبداً ولا يحصى عدداً، يا الله.
ورثاه الأديب جمال الدين محمد بن نباتة بقوله:
على مثلها فلتهم أعيُننا العبرى
… وتطلق في ميدانها الشهبَ والجمرا
فقدنا بني الدنيا فلما تلفتت
… وجوهُ أمانينا فقدنا بني الأخرى
لفقدك إبراهيم أمست قلوبنا
… مؤججة لا برد في نارها الحرى
وأنت بجنات النعيم مُهنأ
… بما كنت تُبلي في تطلبه العُمرا
বিজনতার মাঝেই ছিল পরম সখ্যতা, তিনি আত্মমগ্ন হলেন ফলে জ্ঞানরাজি তাঁর নিকট প্রসারিত হলো, তিনি নিভৃতচারী হলেন ফলে আধ্যাত্মিক দানসমূহ তাঁর প্রতি অঢেল হলো। তিনি স্বভাবে ছিলেন নিঃসঙ্গপ্রিয়, আপন মর্জির প্রতিকূল বিষয় থেকে বিমুখ। তিনি মসজিদে এমনভাবে বিচরণ করতেন যেন তিনি কোনো বিষয়ে সন্দিগ্ধ; তিনি এতোটাই নির্লিপ্ত থাকতেন যে কেউ দেখলে বলত: "এ এক আগন্তুক।" তিনি কোনো মানুষের সাথে অন্তরঙ্গ হতেন না এবং কারও অনুগ্রহেও অনুগত হতেন না। যে ব্যক্তি তাঁকে দেখত, সে বলত: "এ ব্যক্তি মত্ততায় বিভোর, বিরহ-আগুনে দগ্ধ, অশ্রু বিসর্জনকারী, যাঁর সংকল্প আল্লাহর সান্নিধ্যের দিকে ধাবমান এবং যাঁর চিন্তা পদস্খলন থেকে মুক্তির অন্বেষায় উন্মুখ।"
তিনি এ অবস্থাতেই ছিলেন যতক্ষণ না তাঁর মালিক তাঁকে আহ্বান করলেন এবং তিনি দ্রুত সাড়া দিলেন; আর তাঁর জন্য কবরটি শ্যামল ও উর্বর হয়ে উঠল। তিনি (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) সাতশ পঁচিশ হিজরির মহররম মাসের শুরুতে বুধবারের প্রথম রাতে ইন্তেকাল করেন। মানুষ তাঁকে কাঁধ, মস্তক এবং আঙ্গুলের ডগায় করে বহন করে নিয়ে যায় এবং তাঁকে 'বাবুস সাগির' গোরস্তানে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল এই যে, তিনি একটি অগ্নিকুণ্ড দিয়ে তাপ নিচ্ছিলেন, ফলে তিনি অগ্নিদগ্ধ হন এবং মৃত্যুর যবনিকা ভেদ করে পরপারে পাড়ি জমান। পূর্ব দিকের মিনারে তাঁর একটি কক্ষ ছিল যেখানে তিনি আশ্রয় নিতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন: "হে চিরস্থায়ী করুণাময়, হে চিরস্থায়ী করুণাময়—যাঁর অনুগ্রহ কখনো ছিন্ন হয় না এবং যা সংখ্যায় গণনা করা যায় না, হে আল্লাহ।"
সাহিত্যিক জামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে নুবাতা তাঁর শোকগাথায় বলেছেন:
এমন শোকের ওপর যেন আমাদের অশ্রুসজল নয়ন অঝোরে ঝরে
… এবং আপন ময়দানে উল্কা ও জ্বলন্ত অঙ্গার নিক্ষেপ করে।
আমরা দুনিয়াদারদের হারিয়েছি, অতঃপর যখন আমাদের আশার মুখগুলো ফিরল
… তখন আমরা পরকাল-মনস্কদেরও হারালাম।
হে ইব্রাহিম, তোমার বিচ্ছেদে আমাদের হৃদয়সমূহ
… এমন অগ্নিতে প্রজ্বলিত যাতে কোনো শীতলতা নেই।
অথচ তুমি জান্নাতুন নাঈমে পরম শান্তিতে আছো
… যা অর্জনের সাধনায় তুমি তোমার সারা জীবন ব্যয় করেছিলে।
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
عريتَ وجوعتَ الفؤاد فحبذا
… مساكنُ فيها لا تجوعُ ولا تعرى
بكى الجامعُ المعمورُ فقدك بعدما
… لبثت على رغم الديار به عُمرا
وفارقتهُ بعد التوطن سارياً
… إلى جنة المأوى فسبحانَ من أسرى
كأن مصابيحَ الظلام بأفقه
… لفقدك نيرانُ الصبابةِ والذكرى
كانَ المحاريبَ القيام بصدره
… لفرقة ذاك الصدرِ قد قوست ظهراً
مضيتَ وخلفت الدّيار وأهلها
… بمضيعةٍ تشكو الشدائد والوزرا
فمن لسهامِ الليل بعدك إنها
… معطلة ليست تراشُ ولا تبرى
ومن لعفافٍ عن ثراءٍ ثنى الورى
… عبيدَ الأماني وانثنيت به حراً
سيعلم كل من ذوي المال في غدٍ
… إذا نصبَ الميزانُ من يشتكي الفقرا
عليك سلامُ الله من متيقظٍ
… صبورٍ إذا لم يستطع بشرٌ صبرا
ومن ضامر الكشحين يسبق في غدٍ
… إلى غايةٍ من أجلها تُحمد الضمرا
أيعلم ذو التسليك أنّ جفوننا
… على شخصهِ النائي قد انتثرت درا
وأن الأسى والحزنَ قد جال جولةً
… فما أكثر القتلى وما أرخص الأسرى
ألا ربّ ليل قد حمى فيه من وغى
… حمى الشام والأجفانُ غافلةٌ تكرى
إذا ضحك السمار حجب ثغره
… كذلك يحمي العابدُ الثغر والثغرا
إلى الله قلباً بعده في تغابنٍ
… إلى أن أرى صف القيامة والحشرا
لقد كنتُ ألقاهُ وصدري محرج
… فيفتحُ لي يسرا ويشرحُ لي صدراً
والثمُ يُمناه وفكري ظامئ
… كأني منها ألثمُ الوابل الغمرا
أمولاي إني كنت أرجوك للدعا
… فلا تنسني في الخلد للدعوة الكبرى
سقى القطرُ أرضاً قد حللت بتربها
… وإن كنت أستسقي بتربتك القطرا
আপনি নগ্ন হয়েছেন এবং অন্তরকে ক্ষুধার্ত রেখেছেন, তাই কতই না চমৎকার
… সেই আবাসসমূহ যেখানে কেউ ক্ষুধার্ত হবে না এবং নগ্নও হবে না
আবাদকৃত জামে মসজিদ আপনার বিয়োগে ক্রন্দন করেছে, যদিও
… আপনি পার্থিব জগতের মায়া ত্যাগ করে দীর্ঘকাল সেখানে অবস্থান করেছিলেন
আপনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের পর রাতের যাত্রী হয়ে
… জান্নাতুল মাওয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন; পবিত্র সেই সত্তা যিনি (তাঁর বান্দাকে) রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন
মনে হয় যেন তার দিগন্তের অন্ধকারের প্রদীপগুলো
… আপনার বিরহে গভীর অনুরাগ ও স্মৃতির আগুন হয়ে জ্বলছে
মনে হচ্ছে যেন তার অভ্যন্তরের দাঁড়িয়ে থাকা মিহরাবগুলো
… সেই বক্ষপিঞ্জরের বিচ্ছেদে তাদের পিঠকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে ফেলেছে
আপনি চলে গিয়েছেন এবং এই জনপদ ও তার বাসিন্দাদের
… এমন এক দুর্দশায় রেখে গিয়েছেন যারা কঠোরতা ও পাপের অভিযোগ করছে
আপনার পরে রাতের তীরগুলোর (তাহাজ্জুদ) জন্য কে আছে? সেগুলো তো
… অকেজো হয়ে পড়ে আছে, না সেগুলোতে পাখা লাগানো হয়, না সেগুলোকে ধার দেওয়া হয়
আর সেই ধনাঢ্যতা থেকে বিমুখতা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য কে আছে, যা মানুষকে
… কামনার দাসে পরিণত করেছে, অথচ আপনি এর মাধ্যমে স্বাধীন ও মুক্ত হয়ে ফিরেছেন
আগামীকাল প্রত্যেক সম্পদশালী ব্যক্তি জেনে যাবে
… যখন মিযান (পাল্লা) স্থাপন করা হবে যে, কে দারিদ্র্যের অভিযোগ করছে
আপনার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম বর্ষিত হোক, হে সচেতন
… ও ধৈর্যশীল ব্যক্তি! যখন কোনো মানুষ ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম ছিল না
সেই কৃশকায় উদরবিশিষ্ট ব্যক্তি (রোজা ও কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে) আগামীকাল অগ্রগামী হবেন
… সেই চূড়ান্ত লক্ষ্যে, যার কারণে এই কৃশতাকে প্রশংসা করা হয়
পথপ্রদর্শক কি জানেন যে, তাঁর দূরবর্তী
… সত্তার বিচ্ছেদে আমাদের চোখের পাতা থেকে মুক্তা (অশ্রু) ঝরছে?
আর শোক ও দুঃখ এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে,
… কতই না নিহতদের আধিক্য আর কতই না সস্তা এই শোকের বন্দীরা!
আহ! কত রাত তিনি যুদ্ধের উত্তাপ থেকে
… শামের সীমান্তকে রক্ষা করেছেন, যখন মানুষের চোখের পাতাগুলো অসতর্কতায় ঘুমের ঘোরে মগ্ন ছিল
যখন রাত্রিকালীন গল্পগুজবকারীরা হাসত, তিনি তার মুখমণ্ডলকে আবৃত রাখতেন;
… এভাবেই একজন ইবাদতকারী সীমান্তের ঘাঁটি এবং মুখ রক্ষা করেন
আল্লাহর কাছেই সেই অন্তরের ফরিয়াদ জানাই যা আপনার পরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে,
… যতক্ষণ না আমি কিয়ামতের কাতার ও হাশরের ময়দান প্রত্যক্ষ করি
আমি যখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতাম তখন আমার বক্ষ সংকীর্ণ থাকত,
… আর তিনি আমার জন্য সহজতার দ্বার খুলে দিতেন এবং আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দিতেন
আমি তৃষ্ণার্ত চিত্তে তাঁর ডান হাত চুম্বন করতাম,
… যেন আমি সেখান থেকে মুষলধারে বৃষ্টির সুধা পান করছি
হে আমার মাওলা! আমি আপনার কাছে দোয়ার আশা রাখতাম,
… তাই জান্নাতে সেই মহান দোয়ার সময় আমাকে ভুলে যাবেন না
সেই ভূমিতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হোক যার মাটিতে আপনি শায়িত আছেন,
… যদিও আমি আপনার কবরের অসিলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করি
(খণ্ড: ١)
আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
إبراهيم شاه بن بارنبايهو إبراهيم شاه، وجده سوتاي الآتي ذكره إن شاء الله تعالى في مكانه من حرف السين.
لما فتل طغاي بن سوتاي، على ما يأتي في ترجمته إن شاء الله تعالى، قام ابنُ أخيه إبراهيم شاه هذا مقامهُ في الحكم على ديار بكر من جعة المُغل، فتزوج ابنة الملك الصالح شمس الدين صاحب ماردين، ومقامهُ بالموصل، وكان يُظهر المودة لصاحب مصر ويبوء بخلاف ذلك بالإثم والإصر مكراً منه ودهاءً، وفخراً بذلك على غيره وبهاءً. وكانت رسله تفد على الأبواب الشريفة، وتعود إليه بالهدايا والتحف الظريفة، وهو يدعي أنه من جملة من وادها، وقام على من عاداها في وقتٍ أو حادها، فتصل إليه التشاريف الثمينة، والكتب التي تتنزل منها على قلب مثله السكينة.
وكان قد قتل عمه طغاي في بعض حُروبه التي اتفقت، وسألت سيول وقعتها واندفقت، ولما وقف عليه قتيلاً نزل إليه وبكى، وحط رأسه على حجره واتكا، واعتذر إليه، وذلك يجود بنفسه إلى مكان رمسه. لا جرم أن إبراهيم شاه
ইবরাহিম শাহ বিন বারনবায়তিনি হলেন ইবরাহিম শাহ, এবং তাঁর দাদা হলেন সুতায়, যাঁর কথা ইনশাআল্লাহ যথাযোগ্য স্থানে 'সীন' বর্ণমালার অধীনে সামনে আসবে।
যখন সুতায়ের পুত্র তুগাই নিহত হলেন—যা তাঁর জীবনীতে ইনশাআল্লাহ বর্ণিত হবে—তখন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র এই ইবরাহিম শাহ মঙ্গোলদের পক্ষ থেকে দিয়ার বকর অঞ্চলের শাসনে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি মারদিনের অধিপতি আল-মালিক আস-সালিহ শামসুদ্দিনের কন্যাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর অবস্থান ছিল মসুলে। তিনি মিশরের অধিপতির প্রতি বাহ্যিকভাবে মিত্রতা প্রকাশ করতেন, অথচ প্রবঞ্চনা ও ধূর্ততাবশত তিনি এর বিপরীতে পাপ ও হঠকারিতা পোষণ করতেন। তিনি অন্যদের সামনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভাব প্রকাশের জন্যই এমনটি করতেন। তাঁর দূতরা রাজকীয় দরবারে আসত এবং চমৎকার সব উপঢৌকন ও উপঢৌকন নিয়ে তাঁর নিকট ফিরে যেত। তিনি দাবি করতেন যে, তিনি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত যারা রাজকীয় সখ্যতা বজায় রাখে এবং যারা সুলতানের শত্রুতা বা বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়িয়েছেন। এর ফলে তাঁর কাছে বহুমূল্য সম্মাননা লিপি ও পত্র আসত যা তাঁর মতো ব্যক্তির অন্তরে প্রশান্তি বর্ষণ করত।
তিনি তাঁর চাচা তুগাইকে তাঁরই কোনো এক যুদ্ধে হত্যা করেছিলেন যা সংঘটিত হয়েছিল, এবং যার ধ্বংসযজ্ঞের স্রোত প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়েছিল। যখন তিনি তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখলেন, তখন তিনি তাঁর লাশের পাশে নেমে কাঁদলেন এবং চাচার মাথাটি নিজের কোলের ওপর রেখে হেলান দিলেন। তিনি তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন, যখন তাঁর চাচা কবরের পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইবরাহিম শাহ