(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: -)
جزء ابن الغطريف (ابن الغطريف)
القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء ابن غطريف للجرجاني
المؤلف: أبو أحمد محمد بن أحمد بن حسين بن القاسم بن السري بن الغِطْريف بن الجهم العَبْدي الغِطْريفي الجرجاني (ت 377هـ)
المحقق: د. عامر حسن صبري
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1417 - 1997
عدد الصفحات: 123
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনুল ঘিতরীফের জুয (ইবনুল ঘিতরীফ)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: জুরজানী রচিত ইবনুল ঘিতরীফের জুয
লেখক: আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হুসাইন বিন কাসেম বিন সাররি বিন ঘিতরীফ বিন জাহম আল-আবদী আল-ঘিতরীফী আল-জুরজানী (মৃত্যু: ৩৭৭ হিজরি)
তাহকীক: ড. আমের হাসান সাবরি
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ - ১৯৯৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৩
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
أَخْبَرَنَا سَيِّدُنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ الْحَبْرُ الْعَلَّامَةُ زَكِيُّ الدِّينِ، بَقِيَّةُ السَّلَفِ، قُدْوَةُ الْحُفَّاظِ، إِمَامُ الْأَئِمَّةِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَظِيمِ بْنُ عَبْدِ الْقَوِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُنْذِرِيُّ، خَادِمُ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَعَانَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى تَقْوَاهُ وَجَعَلَ الْفِرْدَوْسَ الْأَعْلَى مُتَقَلَّبَهُ وَمَأْوَاهُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي يَوْمِ الثُّلَاثَاءِ الثَّالِثِ وْالْعِشْرِينَ مِنْ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِينَ وَسِتِّمِائَةٍ بِدَارِ الْحَدِيثِ بِالْقَاهِرَةِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْجَلِيلُ الْمُسْنِدُ مُوَفَّقُ الدِّينِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبْرُزْدَ الْبَغْدَادِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ صَبِيحَةَ يَوْمِ الثُّلَاثَاءِ الْعِشْرِينَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَسِتِّمِائَةٍ، بِدِمَشْقَ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو الْمَوَاهِبِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَلُوكٍ الْوَرَّاقُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي سَنَةِ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، وَالْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازُ الْأَنْصَارِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، فِي سَنَةِ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، وَأَجَازَ لَكَ الرَّئِيسُ أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْحُصَيْنِ، وَأَبُو الْعِزِّ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَادِشَ قَالُوا: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الْجَلِيلُ أَبُو الطَّيِّبِ طَاهِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاهِرٍ الطَّبَرِيُّ الشَّافِعِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي مَنْزِلِهِ سَنَةَ سَبْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ فِي دِمَشْقَ ⦗ص: 58⦘، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ ابْنُ الْغِطْرِيفِ الْغِطْرِيفِيُّ بِجُرْجَانَ سَنَةَ إِحْدَى وَسَبْعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، قَالَ: 1 - حَدَّثَنَا الْإِمَامُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سُرَيْجٍ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الضَّرِيرُ مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً، وَكُنْتُ أُكْثِرُ مِنْهُ الِاغْتِسَالَ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «يَكْفِيكَ مِنْهُ الْوُضُوءُ»
আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আমাদের নেতা শাইখ, ইমাম, হাফিজ, মহাজ্ঞানী, আল্লামা জাকিউদ্দীন, পূর্বসূরিদের অবশিষ্টাংশ, হাফিজদের আদর্শ, ইমামদের ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিম ইবন আব্দুল কায়ি ইবন আব্দুল্লাহ আল-মুনজিরি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের খাদেম—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাকওয়ার ওপর সাহায্য করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁর বিচরণস্থল ও আশ্রয়স্থল করুন। ৬৫২ হিজরির ২৩শে রবিউল আউয়াল মঙ্গলবার কায়রোর দারুল হাদিসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মহাসম্মানিত শাইখ, মুসনিদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন মামার ইবন তাবারজাদ আল-বাগদাদি, ৬০৩ হিজরির ২০শে জিলহজ মঙ্গলবার সকালে দামেস্কে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাঁকে বললাম: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল মাওয়াহিব আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুলুক আল-ওয়াররাক ৫২৪ হিজরিতে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে যখন আপনি শুনছিলেন, এবং কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আব্দুল বাকি ইবন মুহাম্মদ আল-বাজজাজ আল-আনসারি ৫২৭ হিজরিতে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে যখন আপনি শুনছিলেন। আর আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন রাইস আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল হুসাইন এবং আবুল ইজ্জ আহমদ ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন কাদিশ। তাঁরা বললেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মহাসম্মানিত কাজী আবু তাইয়িব তাহির ইবন আব্দুল্লাহ ইবন তাহির আত-তাবারী আশ-শাফিয়ি, ৩৪৭ হিজরিতে দামেস্কে তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবনুল গিতরিফ আল-গিতরিফি ৩৭১ হিজরিতে জুরজানে। তিনি বলেন: ১ - আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবন উমর ইবন সুরাইজ, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আদ-দারির মুহাম্মদ ইবন সাঈদ আল-আত্তার, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন উবাইদাহ ইবন হুমাইদ, হাবিব ইবন আবি সাবিত থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে, তিনি আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এমন একজন ব্যক্তি ছিলাম যার প্রচুর মাজি (লিঙ্গমুখের পাতলা তরল) নির্গত হতো, তাই আমি এ কারণে অনেক বেশি গোসল করতাম। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: «তোমার জন্য এ ক্ষেত্রে অজু করাই যথেষ্ট»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بن أَحْمَدُ بْنُ سُرَيْجٍ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ، ثنا الرُّكَيْنُ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ عُمَيْلَةَ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ قَبِيصَةَ، عَنْ عَلِيٍّ عليه السلام قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً، فَجَعَلْتُ أَغْتَسِلُ فِي الشِّتَاءِ حَتَّى تَشَقَّقَ ظَهْرِي، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «لَا تَفْعَلْ، إِذَا رَأَيْتَ الْمَذْيَ فَاغْسِلْ ذَكَرَكَ، وَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلَاةِ، فَإِذَا فَضَخْتَ الْمَاءَ ⦗ص: 59⦘ فَاغْتَسِلْ»
২ - আমাদের নিকট আবুল আব্বাস বিন আহমদ বিন সুরায়জ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উবাইদাহ বর্ণনা করেছেন, রুকাইন বিন রাবি' বিন উমাইলাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন বিন কাবিসাহ থেকে, তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এমন একজন ব্যক্তি ছিলাম যার প্রচুর মযী নির্গত হতো, তাই আমি শীতকালে (মযী বের হলেই) গোসল করতে শুরু করলাম এমনকি (অধিক গোসলের কারণে) আমার পিঠ ফেটে গিয়েছিল। অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: «তুমি এমন করো না; যখন তুমি মযী দেখবে তখন তোমার লিঙ্গ ধৌত করো এবং নামাযের ওযুর মতো ওযু করো, আর যখন তুমি বীর্য সজোরে নির্গত করবে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ তখন গোসল করো।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، ثنا التَّرْقُفِيُّ وَهُوَ الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عِيسَى، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ يُوسُفَ يَعْنِي الصَّفَّارَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ عليه السلام قَالَ: «جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ» . يَعْنِي الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আত-তারকুফী—আর তিনি হলেন আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি ঈসা—তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে ইউসুফ অর্থাৎ আস-সাফফার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমর ইবনে কায়স থেকে, তিনি আল-হাকাম থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে মুখাইমিরাহ থেকে, তিনি শুরাইহ ইবনে হানি থেকে, তিনি আলী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত এবং মুকিমের জন্য একদিন ও একরাত নির্ধারণ করেছেন।» অর্থাৎ চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার সময়সীমা।
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ الْمُرَادِيِّ قَالَ: «كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَفْرًا أَوْ مُسَافِرِينَ، لَمْ نَنْزِعَ الْخُفَّيْنِ ثَلَاثًا؛ مِنْ خَلَاءٍ وَلَا بَوْلٍ وَلَا نَوْمٍ»
৪ - আবুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিয়াদ বিন খাইসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম হতে, তিনি যির হতে, তিনি সাফওয়ান বিন আসসাল আল-মুরাদী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফরে থাকতাম কিংবা মুসাফির হতাম, তখন আমরা তিন দিন পর্যন্ত আমাদের চামড়ার মোজা খুলতাম না; চাই তা শৌচকর্ম, প্রস্রাব কিংবা ঘুমের কারণে হোক।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الدَّقِيقِيُّ يَعْنِي أَبَا جَعْفَرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ وَهُوَ ابْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا أَبُو جَنَابٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ قُلْتُ: حَدِّثْنِي عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ، فَقَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا أَنْ نَمْسَحَ عَلَيْهِمَا يَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ، وَلِلْمُسَافِرِينَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ» . مُخْتَصَرٌ
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদ-দাকিকি অর্থাৎ আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ—যিনি ইবনুল হারুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জানাব, আসিম থেকে বর্ণিত, যির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান বিন আসসালের নিকট আসলাম এবং বললাম: আমাকে মোজার ওপর মাসাহ করা সম্পর্কে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন যেন আমরা সে দুটির ওপর মাসাহ করি মুকিমের জন্য একদিন ও একরাত এবং মুসাফিরদের জন্য তিন দিন ও তিন রাত»। সংক্ষেপিত
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الدَّقِيقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ ⦗ص: 61⦘، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي كَرِبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদ-দাকিকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হানাফি ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আবি জাইদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আল-হামদানি, সাইদ ইবনে আবি কারিব থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِشْكَابَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ الْمُرْهِبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الرَّصَافَةِ الْبَاهِلِيُّ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ، أَنَّ أَبَا أُمَامَةَ حَدَّثَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَحْضُرُ صَلَاةً مَكْتُوبَةً فَيَتَوَضَّأُ عِنْدَهَا فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ، ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلَاةَ فَيُحْسِنُ الصَّلَاةَ، إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ بِهَا مَا كَانَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الَّتِي كَانَتْ قَبْلَهَا مِنْ ذُنُوبِهِ، ثُمَّ يَحْضُرُ صَلَاةً مَكْتُوبَةً فَيُصَلِّي فَيُحْسِنُ الصَّلَاةَ، إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ بِهَا مَا كَانَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الَّتِي كَانَتْ قَبْلَهَا مِنْ ذُنُوبِهِ»
৭ - আবু আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে ইশকাবে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বদর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে যার আল-মুরহিবি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সিরিয়াবাসী আবু রাসাফাহ আল-বাহিলি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আবু উমামা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো মুসলিম ব্যক্তি যখন ফরয নামাজের সময় উপস্থিত হয় এবং তার জন্য সুন্দরভাবে ওযু সম্পন্ন করে, অতঃপর সুন্দরভাবে নামাজ আদায় করে, আল্লাহ অবশ্যই এর মাধ্যমে তার এই নামাজ এবং এর পূর্ববর্তী নামাজের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। পুনরায় সে যখন কোনো ফরয নামাজের সময় উপস্থিত হয়ে সুন্দরভাবে নামাজ আদায় করে, তখন আল্লাহ অবশ্যই এর মাধ্যমে তার এই নামাজ এবং এর পূর্ববর্তী নামাজের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِشْكَابَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ قَالَ: سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ مِهْرَانَ يُحَدِّثُ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ حَدِيثًا، لَوْ لَمْ أَسْمَعْهُ إِلَّا مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا حَتَّى بَلَغَ سَبْعَ مَرَّاتٍ، لَمْ أُحَدِّثْكُمُوهُ، قَالَ: «مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ إِلَّا خَرَّتْ ذُنُوبُهُ مِنْ سَمْعِهِ وَيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ»
8 - আবু আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে ইশকাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুলাইমান ইবনে মিহরানকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি শিমর ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একটি হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, যা যদি আমি একবার, দুইবার কিংবা তিনবার—এমনকি সাতবার পর্যন্ত না শুনতাম, তবে তোমাদের নিকট বর্ণনা করতাম না। তিনি বলেছেন: «এমন কোনো মুসলিম ব্যক্তি নেই যে ওযু করে এবং সুন্দরভাবে ওযু সম্পন্ন করে, তার শ্রবণেন্দ্রিয়, তার দুই হাত এবং তার দুই পা থেকে তার গুনাহসমূহ ঝরে পড়া ব্যতীত।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الضَّرِيرُ الْخَطَّابُ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنَّهُ تُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَغْسِلَ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ، يَعْنِي لَيْلًا، فَإِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ اغْتَسَلَ
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আদ-দারীর আল-খাত্তাব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ আজ-যুবাইরী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি জানাবাত (অপবিত্রতা) অবস্থায় উপনীত হই, তখন তিনি তাকে তার লজ্জাস্থান ধৌত করার এবং নামাজের অজুর ন্যায় অজু করার নির্দেশ দিলেন, অর্থাৎ রাতে; অতঃপর যখন সে নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন সে গোসল করবে।
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الضَّرِيرُ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا قَزَعَةُ بْنُ سُوَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ، وَحُمَيْدٌ الْأَعْرَجُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: «كُنْتُ أَفْرُكُ الْمَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي فِيهِ»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আদ-দারির, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাযাআ ইবনে সুওয়াইদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি নাজিহ এবং হুমাইদ আল-আরাজ, তারা মুজাহিদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাপড় থেকে বীর্য ঘষে পরিষ্কার করতাম, এরপর তিনি দাঁড়িয়ে ওই কাপড় পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতেন।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ»
১১ - আমাদের নিকট আবুল আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট রামাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবু আইয়ুব আনসারী হতে এবং তিনি উবাই ইবনে কাব হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পানি পানির কারণে (অর্থাৎ বীর্যপাত হলেই গোসল ফরজ হয়)»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الرَّمَادِيُّ يَعْنِي أَحْمَدَ بْنَ مَنْصُورِ بْنِ سَيَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ جَاءَ مِنْكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ»
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রামাদি—অর্থাৎ আহমাদ ইবনে মানসুর ইবনে সাইয়্যার—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আউন, নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যে জুমুআহর সালাতে আসবে, সে যেন গোসল করে»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا سَيْفُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: أَخْبَرَنِي قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاهِدٍ وَيَمِينٍ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আদ-দারীর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়দ ইবনুল হুবাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাইফ ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন কাইস ইবনে সাদ, আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাক্ষী এবং শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা করেছেন।”
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا حَمْدَانُ الْوَرَّاقُ هُوَ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مِهْرَانَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَجُلَيْنِ ادَّعَيَا بَعِيرًا، فَبَعَثَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا شَاهِدَيْنِ، فَقَضَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا
১৪ - আমাদের নিকট আবু আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হামদান আল-ওয়াররাক বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলি বিন মিহরান—তিনি বলেন: আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কাতাদাহ বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি বুরদাহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, দুইজন ব্যক্তি একটি উটের মালিকানা দাবি করল, অতঃপর তাদের প্রত্যেকেই দুইজন করে সাক্ষী উপস্থিত করল, ফলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটি তাদের উভয়ের মধ্যে ফয়সালা করে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ ⦗ص: 66⦘، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ ظَلَمَ مِنَ الْأَرْضِ شِبْرًا طُوِّقَهُ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ»
১৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আর-রামান্দি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি তালহা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আউফ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সাহল থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘, তিনি সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত পরিমাণ জমি জবরদখল করবে, সাত তবক জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে পরিয়ে দেওয়া হবে।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ رَبِيعَةَ الرَّأْيِ، عَنْ يَزِيدَ مَوْلَى الْمُنْبَعِثِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ اللُّقَطَةِ، فَقَالَ ⦗ص: 67⦘: «عَرِّفْهَا سَنَةً، فَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهَا وَإِلَّا فَاسْتَنْفِقْهَا»
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আজ-জাফরানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওকী', তিনি বর্ণনা করেছেন আস-সাওরী থেকে, তিনি রাবিআহ আর-রায়ি থেকে, তিনি আল-মুনবাইসের মুক্তদাস ইয়াযীদ থেকে, তিনি যায়েদ বিন খালিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘: «তুমি এক বছর এর ঘোষণা দাও, অতঃপর যদি এর মালিক আসে (তবে তাকে দিয়ে দাও), অন্যথায় তা খরচ করো।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ يَعْنِي سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ»
১৭ - আমাদের নিকট আবু আল-আব্বাস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-রামাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবন আবি মারইয়াম অর্থাৎ সাঈদ ইবন আল-হাকাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন উমর বর্ণনা করেছেন, নাফি থেকে বর্ণিত, ইবন উমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।”
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ صَبِيحٍ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ⦗ص: 68⦘ فَبِهَا وَنِعْمَتْ، وَمَنِ اغْتَسَلَ فَالْغُسْلُ أَفْضَلُ»
১৮ - আমাদের নিকট আবু আব্বাস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আর-রামারি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াজিদ বিন আবি হাকিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, রাবী ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ আর-রাকাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি জুমার দিন অজু করবে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ তবে তা উত্তম ও কল্যাণকর, আর যে ব্যক্তি গোসল করবে তবে গোসলই অধিক শ্রেষ্ঠ।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا رِبْعِيُّ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: جَاءَ أَبِي فَحَمَلَنِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 69⦘ فَقَالَ: إِنِّي نَحَلْتُ النُّعْمَانَ مِنْ مَالِ كَذَا وَكَذَا، قَالَ: «كُلَّ بَنِيكَ قَدْ نَحَلْتَ مِثْلَ الَّذِي نَحَلْتَ النُّعْمَانَ؟» قَالَ: لَا، قَالَ: «فَأَشْهِدْ عَلَى هَذَا غَيْرِي، أَيَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا فِي الْبِرِّ سَوَاءً؟» قَالَ: بَلَى، قَالَ: «فَلَا إِذًا»
১৯ - আবু আল-আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আয-যাফরানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, রিবঈ ইবনে উলইয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমির থেকে, তিনি নুমান ইবনে বশীর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আসলেন এবং আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ অতঃপর তিনি বললেন: আমি নুমানকে অমুক অমুক সম্পদ দান করেছি। তিনি বললেন: «তোমার সকল সন্তানকে কি তুমি নুমানকে দেয়া দানের অনুরূপ দান করেছ?» তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: «তাহলে এই বিষয়ে আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে সাক্ষী রাখো। তারা সকলে সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে তোমার প্রতি সমান হোক, এটি কি তোমাকে আনন্দিত করবে?» তিনি বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: «তাহলে আর নয়»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ فَرِيضَتَانِ، لَا يَضُرُّكُ بِأَيِّهِمَا بَدَأْتَ»
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আদ-দারীর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আল-কুফী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে মুসলিম, তিনি ইবনে সীরীন থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হজ ও উমরাহ উভয়ই দুটি ফরজ বিধান, তুমি এ দুটির যে কোনটি দিয়েই শুরু করো না কেন তাতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না (অর্থাৎ কোনো অসুবিধা নেই)»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ الصَّائِغُ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ زِيَادٍ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ نَافِعٍ ⦗ص: 70⦘، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ عَامَ خَيْبَرَ، وَمَا كُنَّا مُسَافِحِينَ»
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইমরান আস-সাইগ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া ইবনে জিয়াদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে জিয়াদ, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি নাফি থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের বছর নারীদের সাথে মুতআ বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন এবং আমরা ব্যভিচারী ছিলাম না।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ، وَلَا تُنْفِقُ الْمَرْأَةُ شَيْئًا مِنْ بَيْتِهَا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا» ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا الطَّعَامَ؟ قَالَ: «ذَلِكَ أَمْوَالُنَا، وَالْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ، وَالْمِنْحَةُ مَرْدُودَةٌ، وَالدَّيْنُ مَقْضِيٌّ، وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ»
২২ - আমাদের নিকট আবু আব্বাস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন শুরাহবিল ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু উমামাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদান করেছেন, সুতরাং কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই, এবং কোনো নারী তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তার ঘর থেকে কোনো কিছু ব্যয় করবে না», জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, খাদ্যদ্রব্যও কি নয়? তিনি বললেন: «সেগুলো তো আমাদের সম্পদ; আর ধারকৃত বস্তু অবশ্যই ফেরত দিতে হবে, দানকৃত দুগ্ধবতী পশু ফেরতযোগ্য, ঋণ পরিশোধযোগ্য এবং জামিনদার (ক্ষতিপূরণের জন্য) দায়বদ্ধ»।
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ سُرَيْجٍ، حَدَّثَنَا الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، وَيَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ قَالَ: حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُؤْتَى بِالرَّجُلِ الْمُتَوَفَّى عَلَيْهِ الدَّيْنُ، فَيَسْأَلُ: «هَلْ تَرَكَ لِدَيْنِهِ مِنْ وَفَاءٍ؟» فَإِنْ حُدِّثَ أَنَّهُ تَرَكَ وَفَاءً صَلَّى عَلَيْهِ، وَإِلَّا قَالَ: «صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ» . فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ الْفُتُوحَ قَالَ: «أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ، فَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا فَعَلَيَّ قَضَاؤُهُ، وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِوَرَثَتِهِ»
২৩ - আবু আব্বাস ইবনে সুরাইজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আর-রামাদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আল-লাইস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উকাইল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে, আবু সালামাহ আমাকে অবহিত করেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এমন মৃত ব্যক্তিকে আনা হতো যার ওপর ঋণ থাকতো। তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন: «সে কি তার ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো সম্পদ রেখে গেছে?» যদি তাঁকে জানানো হতো যে সে পরিশোধের মতো কিছু রেখে গেছে, তবে তিনি তাঁর জানাযার সালাত আদায় করতেন। অন্যথায় তিনি বলতেন: «তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার সালাত আদায় করো»। অতঃপর যখন আল্লাহ বিজয়সমূহ দান করলেন, তখন তিনি বললেন: «আমি মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ। সুতরাং যে ব্যক্তি ঋণ রেখে যাবে, তার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার ওপর, আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوْفٍ الْبُزُورِيُّ هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ ⦗ص: 73⦘، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ الْمُؤْمِنُونَ إِذَا تُوُفُّوا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُؤْتَى بِالْجَنَازَةِ فَيَقُولُ: «هَلْ تَرَكَ دَيْنًا؟» فَإِنْ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: «تَرَكَ وَفَاءً؟» فَإِنْ قَالُوا: نَعَمْ، صَلَّى عَلَيْهِ، وَإِنْ قَالُوا: لَا، قَالَ: «صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ» . فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ قَالَ: «أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ، مَنْ تَرَكَ دَيْنًا فَهُوَ إِلَيَّ، وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِوَرَثَتِهِ»
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আউফ আল-বুজুরি—তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে মারজুক—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি জিব ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘, যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যখন মুমিনগণ মৃত্যুবরণ করতেন, তখন জানাজা নিয়ে আসা হতো। তিনি জিজ্ঞেস করতেন: «সে কি কোনো ঋণ রেখে গিয়েছে?» যদি তারা বলতেন: হ্যাঁ, তবে তিনি বলতেন: «সে কি তা পরিশোধের ব্যবস্থা রেখে গিয়েছে?» যদি তারা বলতেন: হ্যাঁ, তবে তিনি তাঁর জানাজা পড়তেন। আর যদি তারা বলতেন: না, তবে তিনি বলতেন: «তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ো।» অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর রাসুলের জন্য বিজয় দান করলেন, তখন তিনি বললেন: «আমি মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। যে ব্যক্তি ঋণ রেখে যাবে, তা পরিশোধের দায়িত্ব আমার ওপর। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে, তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا الرَّمَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يُصَلِّي عَلَى رَجُلٍ عَلَيْهِ دَيْنٌ، فَأُتِيَ بِمَيِّتٍ - يَعْنِي عَلَيْهِ دَيْنٌ - فَقَالَ: «صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ» ، قَالَ أَبُو قَتَادَةَ: هُوَ عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَصَلَّى عَلَيْهِ. فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ الْفُتُوحَ قَالَ: «أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ، مَنْ تَرَكَ دَيْنًا فَعَلَيَّ، وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِوَرَثَتِهِ»
২৫ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আর-রা মাদি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কোনো ব্যক্তির জানাজা পড়তেন না যার ওপর ঋণ থাকত। অতঃপর এক মৃত ব্যক্তিকে আনা হলো—অর্থাৎ যার ওপর ঋণ ছিল—তখন তিনি বললেন: «তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ো।» আবু কাতাদা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি (ঋণের দায়ভার) আমার ওপর। অতঃপর তিনি তার জানাজা পড়লেন। পরবর্তীতে যখন আল্লাহ বিজয়সমূহ দান করলেন, তখন তিনি বললেন: «আমি মুমিনদের প্রতি তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। যে ব্যক্তি ঋণ রেখে মারা যাবে তার দায়িত্ব আমার ওপর, আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ شَرِيكٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ الْفَرَّاءُ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: تُوُفِّيَ رَجُلٌ مِنَّا فَغَسَّلْنَاهُ وَكَفَّنَّاهُ، ثُمَّ أَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ، فَخَطَا خُطْوَةً ثُمَّ قَالَ: «عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قُلْنَا: دِينَارَانِ، فَانْصَرَفَ، فَتَحَمَّلَهَا أَبُو قَتَادَةَ وَقَالَ: عَلَيَّ الدِّينَارَانِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اسْتَحَقَّ الْغَرِيمُ، وَبَرِئَ الْمَيِّتُ مِنْهُ» ، قَالَ: نَعَمْ، فَصَلَّى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: «مَا فَعَلَ الدِّينَارَانِ؟» قَالَ: إِنَّمَا مَاتَ أَمْسِ، ثُمَّ عَادَ إِلَيْهِ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ: قَدْ قَضَيْتُهُمَا، فَقَالَ: «الْآنَ بَرَّدْتَ عَلَيْهِ جِلْدَهُ»
২৬ - আবু আল-আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উবাইদ ইবনে শারীক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু সালিহ আল-ফাররা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আল-ফাজারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যায়িদা থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ইন্তেকাল করলেন, আমরা তাকে গোসল করালাম এবং কাফন পরালাম। অতঃপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যাতে তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করেন। তিনি এক কদম অগ্রসর হলেন, তারপর বললেন: «তার কি কোনো ঋণ আছে?» আমরা বললাম: দুই দীনার। তখন তিনি ফিরে গেলেন। অতঃপর আবু কাতাদা সেই ঋণের দায়িত্ব নিলেন এবং বললেন: দুই দীনারের দায়ভার আমার ওপর। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «পাওনাদার কি তার প্রাপ্য সাব্যস্ত পেল এবং মৃত ব্যক্তি কি তা থেকে দায়মুক্ত হলো?» তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করলেন: «সেই দুই দীনারের কী হলো?» তিনি বললেন: তিনি তো কেবল গতকালই মারা গেছেন। অতঃপর পরদিন তিনি আবার তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি তা পরিশোধ করে দিয়েছি। তখন তিনি বললেন: «এখন তুমি তার চামড়া শীতল করলে»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ سُرَيْجٍ، حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ صَدَقَةَ الْيَشْكُرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ قَالَ ⦗ص: 75⦘: شَهِدْتُ أَنَسًا يَقُولُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي حَبَسَ السَّمَاءَ أَنْ تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا أَبَا حَمْزَةَ، حَدِّثْنَا حَدِيثًا يَنْفَعُنَا اللَّهُ بِهِ، فَقَالَ: مَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوتَ وَلَا دَيْنَ عَلَيْهِ فَلْيَفْعَلْ؛ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأُتِيَ بِجِنَازَةٍ يُصَلِّي عَلَيْهِ، فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: «مَا تَنْفَعُكُمْ صَلَاتِي عَلَيْهِ، وَهُوَ مُرْتَهَنٌ فِي قَبْرِهِ، فَإِنْ ضَمِنَ رَجُلٌ دَيْنَهُ صَلَّيْتُ عَلَيْهِ، فَإِنَّ صَلَاتِي تَنْفَعُهُ»
২৭ - আবুল আব্বাস ইবন সুরিইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস আদ-দুরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবন সাদাকা আল-ইয়াশকারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল হামীদ ইবন আবী উমাইয়্যাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘: আমি আনাসকে বলতে শুনেছি: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আকাশকে জমিনের ওপর পড়ে যাওয়া থেকে আটকে রেখেছেন। তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আবু হামযাহ, আমাদের নিকট এমন একটি হাদীস বর্ণনা করুন যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের উপকৃত করবেন। তিনি বললেন: যার সামর্থ্য আছে এমনভাবে মৃত্যুবরণ করার যে তার ওপর কোনো ঋণ থাকবে না, সে যেন তাই করে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁর নিকট জানাযার নামায পড়ানোর জন্য একটি মৃতদেহ আনা হলো, তখন তিনি বললেন: «তার কি কোনো ঋণ আছে?» তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তার ওপর আমার জানাযা পড়া তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না, কারণ সে তার কবরে আটকা পড়ে আছে। যদি কোনো ব্যক্তি তার ঋণের জিম্মাদার হয়, তবে আমি তার জানাযা পড়ব, কেননা তখন আমার জানাযা তার উপকারে আসবে।»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغَنْدِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ سَلَمَةَ الْمَدَنِيُّ شَاذَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي قُتَيْلَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ رَفِيقًا، وَإِنَّ رَفِيقِي فِي ⦗ص: 76⦘ الْجَنَّةِ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه»
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আল-বাগিন্দি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আন-নাদর বিন সালামাহ আল-মাদানি শাযান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইব্রাহিম বিন আবি কুতাইলাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ, তিনি আমর বিন আবি আমর থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর একজন সঙ্গী থাকে, আর ⦗পৃষ্ঠা: ৭৬⦘ জান্নাতে আমার সঙ্গী হলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।’»
(খণ্ড: ১)
জুযউ ইবনিল গাতরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
29 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَاسِينَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُعَلَّى بْنِ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ جُبَيْرٍ الْوَرَّاقُ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ الزِّبْرِقَانِ، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ بَيْنَمَا عُمَرُ يَمُرُّ فِي الطَّرِيقِ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ يُكَلِّمُ امْرَأَةً، فَعَلَاهُ بِالدِّرَّةِ، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّمَا هِيَ امْرَأَتِي، فَقَامَ عُمَرُ فَانْطَلَقَ، فَلَقِيَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّمَا أَنْتَ مُؤَدِّبٌ، وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَيْءٌ، وَإِنْ شِئْتَ حَدَّثْتُكَ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ ⦗ص: 77⦘ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ نَادَى مُنَادٍ: أَلَا لَا يَرْفَعَنَّ أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ كِتَابَهُ قَبْلَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ "
২৯ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াসীন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মুআল্লা ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফজল ইবনে জুবাইর আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আয-যিবরিকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাতার থেকে, আতা থেকে, উবাইদ ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমর (রা.) পথ দিয়ে যাওয়ার সময় জনৈক ব্যক্তিকে এক মহিলার সাথে কথা বলতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করলেন। সে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, তিনি তো আমার স্ত্রী। তখন উমর (রা.) সেখান থেকে চলে গেলেন এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তিনি তাঁর নিকট বিষয়টি বর্ণনা করলেন। তখন তিনি (আব্দুর রহমান) বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি তো কেবল একজন শিষ্টাচার দানকারী, আপনার ওপর কোনো দায় নেই। আর আপনি চাইলে আমি আপনাকে এমন একটি হাদিস শোনাতে পারি যা আমি ⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি। আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যখন কিয়ামতের দিন আসবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: সাবধান! এই উম্মতের কেউ যেন আবু বকর ও উমরের আগে নিজের আমলনামা উত্তোলন না করে।"