(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: -)
تهذيب الآثار - مسند عمر القسم: الفقه العام
الكتاب: تهذيب الآثار وتفصيل الثابت عن رسول الله من الأخبار
المؤلف: محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري (ت 310هـ)
المحقق: محمود محمد شاكر
الناشر: مطبعة المدني - القاهرة
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাহযীবুল আসার - মুসনাদে উমর বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: তাহযীবুল আসার ওয়া তাফসীলুস সাবিত আন রাসূলিল্লাহি মিনাল আখবার
লেখক: মুহাম্মদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাসীর বিন গালিব আল-আমুলী, আবু জাফর আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হিজরি)
সম্পাদক: মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির
প্রকাশক: মাতবাআতুল মাদানী - কায়রো
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৩)
ذِكْرُ مَا صَحَّ عِنْدَنَا سَنَدُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا لَمْ نَذْكُرْهُ فِيمَا مَضَى
উমর ইবনুল খাত্তাবের সূত্রে আবু সাঈদ আল-খুদরী কর্তৃক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে সকল হাদীসের সনদ আমাদের নিকট সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে এবং যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করিনি, সেগুলোর বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৩)
حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ يَزِيدَ الطَّبَرِيُّ رضي الله عنه قَالَ: حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ بِشْرِ بْنِ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَقَدْ سَمِعْتُ فُلَانًا وَفُلَانًا يَذْكُرَانِ خَيْرًا، يَزْعُمَانِ أَنَّكَ أَعْطَيْتَهُمَا دِينَارَيْنِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «وَلَكِنَّ فُلَانًا مَا هُوَ كَذَلِكَ - أَوْ مَا يَقُولُ ذَاكَ - لَقَدْ أَعْطَيْتُهُ مِنْ عَشَرَةٍ إِلَى مِائَةٍ فَمَا يَقُولُ ذَاكَ، وَإِنَّ أَحَدَهُمْ يَخْرُجُ بِمَسْأَلَتِهِ مِنْ عِنْدِي مُتَأَبِّطَهَا» يَعْنِي نَارًا، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَلِمَ تُعْطِيهِمْ؟ قَالَ: «يَأْبَوْنَ إِلَّا ذَاكَ، وَيَأْبَى اللَّهُ لِيَ الْبُخْلَ»
আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর ইবনে ইয়াযীদ আত-তাবারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কাসিম ইবনে বিশর ইবনে মারুফ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল-আসওয়াদ ইবনে আমির আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আইয়্যাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক ও অমুককে আপনার প্রশংসা করতে শুনেছি, তারা দাবি করছিল যে আপনি তাদের দুই দীনার দান করেছেন। তখন নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: «কিন্তু অমুক ব্যক্তি তেমন নয়—অথবা সে এমন কথা বলে না—আমি তাকে দশ থেকে একশত পর্যন্ত দিয়েছি, অথচ সে এমন কথা বলে না। আর তাদের কেউ যখন আমার নিকট থেকে তার যাচনা করা বস্তু বগলে চেপে নিয়ে বের হয়, তখন সে মূলত আগুন নিয়ে বের হয়»। উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তবে আপনি কেন তাদের দান করেন? তিনি বললেন: «তারা যাচনা করা ছাড়া অন্য কিছু করতে অস্বীকার করে, আর আল্লাহ আমার জন্য কৃপণতাকে পছন্দ করেন না»।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৪)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي رَأَيْتُ فُلَانًا يُحْسِنُ الثَّنَاءَ، قَالَ: «إِنِّي كُنْتُ أَعْطَيْتُهُ دِينَارَيْنِ، وَلَكِنَّ فُلَانًا أَعْطَيْتُهُ مَا بَيْنَ الدِّينَارَيْنِ إِلَى الثَّمَانِيَةِ، فَمَا أَثْنَى وَلَا قَالَ خَيْرًا» ، قَالَ: قُلْتُ: بِأَبِي وَأُمِّي، فَلِمَ تُعْطِيهِمْ؟ قَالَ: «يَسْأَلُونِي، يُرِيدُونَ لِيَ الْبُخْلَ، وَيَأْبَى اللَّهُ لِي إِلَّا السَّخَاءَ»
২ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া আল-হিমমানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আসলাম এবং আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক ব্যক্তিকে আপনার উত্তম প্রশংসা করতে দেখেছি। তিনি বললেন: «আমি তাকে মাত্র দুই দিনার দিয়েছিলাম। অথচ অমুক ব্যক্তিকে আমি দুই থেকে আট দিনারের মধ্যবর্তী পরিমাণ দান করেছি, কিন্তু সে কোনো প্রশংসাও করেনি এবং ভালো কোনো কথাও বলেনি।» তিনি (উমর) বলেন: আমি আরজ করলাম: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, তবে আপনি কেন তাদের দান করেন? তিনি বললেন: «তারা আমার নিকট যাচনা করে, তারা চায় যেন আমি কৃপণতা করি, কিন্তু আল্লাহ আমার জন্য উদারতা ব্যতীত অন্য কিছু হতে দেন না (বা প্রত্যাখ্যান করেন)।»
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৪)
ذِكْرُ عِلَلِ هَذَا الْخَبَرِ وَهَذَا خَبَرٌ عِنْدَنَا صَحِيحٌ سَنَدُهُ، لَا سَبَبَ يُضَعِّفُهُ، وَلَا عِلَّةَ تُوَهِّنُهُ؛ لِعَدَالَةِ مَنْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَقَلَتِهِ، وَقَدْ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ سَقِيمًا غَيْرَ صَحِيحٍ؛ لِعِلَلٍ: إِحْدَاهَا: أَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ قَدْ حَدَّثَ بِهِ جَمَاعَةٌ مِنَ الثِّقَاتِ مِنْ أَصْحَابِ
এই সংবাদের ত্রুটিসমূহের বর্ণনা। আমাদের নিকট এই সংবাদটির সনদ সহীহ; একে দুর্বল করার মতো কোনো কারণ নেই এবং একে হীনবল করার মতো কোনো ইল্লত (ত্রুটি) নেই। কারণ আমাদের এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীগণ ন্যায়নিষ্ঠ। অথচ কিছু ইল্লতের কারণে এটি ত্রুটিপূর্ণ ও অ-সহীহ হওয়া আবশ্যক হতে পারত; তার মধ্যে একটি হলো: এই হাদীসটি নির্ভরযোগ্য একদল রাবী বর্ণনা করেছেন যারা [অমুকের] সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত...
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৫)
أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، فَجَعَلُوا هَذَا الْخَبَرَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يُدْخِلُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ، وَأُخْرَى: أَنَّهُ حَدَّثَ بِهِ عَنِ الْأَعْمَشِ غَيْرُ أَبِي بَكْرٍ، فَجَعَلَ الْخَبَرَ عَنْهُ عَنْ غَيْرِ أَبِي صَالِحٍ، وَالثَّالِثَةُ: أَنَّهُ حَدَّثَ بِهِ جَمَاعَةٌ مِنَ التَّابِعِينَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، فَجَعَلُوا الْخَبَرَ عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يُدْخِلُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَدًا، وَالرَّابِعَةُ: أَنَّهُ خَبَرٌ لَا يُعْرَفُ لَهُ مَخْرَجٌ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ
আবু বকর ইবন আইয়াশ থেকে, তিনি আবু বকর থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা এই সংবাদটিকে আবু সাঈদ থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং তারা তাঁর ও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে উমরকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। দ্বিতীয়ত: আবু বকর ব্যতীত অন্য কেউ এটি আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে তিনি তাঁর থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাটি আবু সালিহ ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছেন। তৃতীয়ত: তাবিঈদের একদল এটি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা তাঁর থেকে প্রাপ্ত সংবাদটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং তারা তাঁর ও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। চতুর্থত: এটি এমন এক সংবাদ যার কোনো সূত্র আবু সাঈদ থেকে, তিনি উমর থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে—এভাবে জানা যায় না, কেবল আমাদের উল্লিখিত এই সূত্রটি ছাড়া।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৫)
ذِكْرُ مَنْ حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ فَلَمْ يُدْخِلْ بَيْنَ أَبِي سَعِيدٍ وَرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ
আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে যারা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু সাঈদ ও আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে উমার-কে অন্তর্ভুক্ত করেননি, তাদের উল্লেখ।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৫)
حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ يوسُفَ بْنِ الطَّبَّاعِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَاللَّهِ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَخْرُجُ بِمَسْأَلَتِهِ مِنْ عِنْدِي مُتَأَبِّطَهَا، وَمَا هِيَ لَهُ إِلَّا نَارٌ» ، فَقَالَ عُمَرُ: فَلِمَ تُعْطِيهِمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهِيَ نَارٌ؟ قَالَ: «مَا أَصْنَعُ؟ يَسْأَلُونِي وَأَنَا كَارِهٌ فَأُعْطِيهِمْ، يَأْبَى اللَّهُ لِيَ الْبُخْلَ» ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، سَمِعْتُ فُلَانًا يُثْنِي خَيْرًا، ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ
ঈসা ইবনে ইউসুফ ইবনে তাব্বা' আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আয়্যাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান আল-আ'মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর শপথ! তোমাদের কেউ যখন আমার নিকট থেকে কোনো কিছু যাচ্ঞা করে তা বগলে নিয়ে বেরিয়ে যায়, তখন তা তার জন্য আগুন ছাড়া আর কিছুই নয়।" তখন উমর (রা.) বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! তা যখন আগুন, তবে আপনি কেন তাদের তা প্রদান করেন?" তিনি বললেন: "আমি কী করব? তারা আমার কাছে যাচ্ঞা করে এমতাবস্থায় যে আমি তা অপছন্দ করি, এরপরও আমি তাদের তা প্রদান করি; আল্লাহ আমার জন্য কৃপণতাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।" আহমাদ ইবনে মানসূর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি অমুক ব্যক্তিকে উত্তম প্রশংসা করতে শুনেছি", এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৬)
ذِكْرُ مَنْ حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الْأَعْمَشِ، فَجَعَلَهُ عَنْ غَيْرِ أَبِي صَالِحٍ
আমাশ থেকে যারা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং একে আবু সালিহ ব্যতীত অন্য কারো সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের বিবরণ
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৬)
3 - حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ، أَنْبَأَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الْأَزْرَقُ، أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: أَتَى رَجُلَانِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَاهُمَا دِينَارَيْنِ، فَخَرَجَا مِنْ عِنْدِهِ فَلَقِيَا عُمَرَ، فَأَثْنَيَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَدَخَلَ عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِمَا قَالَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَلَكِنَّ فُلَانًا أَعْطَيْتُهُ مَا بَيْنَ عَشَرَةٍ إِلَى مِائَةٍ فَلَمْ يُثْنِ بِذَلِكَ» قَالَ: يَعْنِي أَبَا سُفْيَانَ قَالَ: ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَا إِنَّ أَحَدَكُمْ يَخْرُجُ مِنْ عِنْدِي مُتَأَبِّطًا مَسْأَلَتَهُ وَهِيَ نَارٌ» ، فَقَالَ عُمَرُ: فَلِمَ تُعْطِينَاهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهِيَ نَارٌ؟ قَالَ: «إِنَّكُمْ تَسْأَلُونِي، وَإِنَّ اللَّهَ يَأْبَى لِيَ الْبُخْلَ»
৩ - তামিম ইবনুল মুনতাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনু ইউসুফ আল-আজরাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শারীক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাশ থেকে, আতিয়্যাহ থেকে, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: দুইজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন, তিনি তাঁদের দুজনকে দুটি দীনার প্রদান করলেন। অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে উমরের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসা করলেন। এরপর উমর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশ করে তাঁরা যা বলেছেন সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «কিন্তু অমুক ব্যক্তিকে আমি দশ থেকে একশত পর্যন্ত দিয়েছি, অথচ সে অনুরূপ প্রশংসা করেনি»। বর্ণনাকারী বলেন, অর্থাৎ আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «জেনে রেখো, তোমাদের কেউ যখন আমার নিকট থেকে নিজের যাচনা (লব্ধ বস্তু) বগলে চেপে বের হয়ে যায়, তখন তা আগুন হয়ে থাকে»। উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তবে কেন আপনি তাঁদেরকে তা প্রদান করেন, অথচ তা আগুন? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তোমরা আমার নিকট চাও, আর আল্লাহ আমার জন্য কার্পণ্যকে বিমুখ করেছেন (পছন্দ করেননি)»।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৬)
ذِكْرُ مَنْ حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ غَيْرُ مَنْ ذَكَرْتُ، فَلَمْ يُدْخِلْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَدًا
আমি যাদের উল্লেখ করেছি তারা ব্যতীত আবু সাঈদ থেকে যারা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে অন্য কাউকে মাধ্যম হিসেবে আনেননি, তাদের উল্লেখ।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৬)
4 - حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ السَّامِيُّ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ النُّمَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَحْيَى الْأَسْلَمِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْسِمُ ذَهَبًا، إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطِنِي، فَأَعْطَاهُ، ثُمَّ قَالَ: زِدْنِي. فَزَادَهُ مِرَارًا. قَالَ: ثُمَّ وَلَّى مُدْبِرًا، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَأْتِينِي فَيَسْأَلُنِي فَأُعْطِيهِ، ثُمَّ يَسْأَلُنِي، فَأُعْطِيهِ، يَقُولُهَا ثَلَاثَ ⦗ص: 7⦘ مَرَّاتٍ، ثُمَّ يُوَلِّي مُدْبِرًا وَقَدْ أَخَذَ بِيَدِهِ نَارًا، وَوَضَعَ فِي ثَوْبِهِ نَارًا، وَانْقَلَبَ إِلَى أَهْلِهِ بِنَارٍ»
৪ - হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ আস-সামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুদাইল ইবনে সুলাইমান আন-নুমাইরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবি ইয়াহইয়া আল-আসলামি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বর্ণ বণ্টন করছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে দান করুন। তখন তিনি তাকে দান করলেন। অতঃপর সে বলল: আমাকে আরও বাড়িয়ে দিন। তিনি তাকে কয়েকবার বাড়িয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সে পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি আমার নিকট আসে এবং আমার কাছে যাঞ্চা করে, তখন আমি তাকে দান করি; অতঃপর সে আবারও যাঞ্চা করে এবং আমি তাকে দান করি – তিনি এ কথা তিন ⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘ বার বললেন – অতঃপর সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যায় এমতাবস্থায় যে, সে তার হাতে আগুন নিয়েছে, তার কাপড়ে আগুন রেখেছে এবং আগুনের বোঝা নিয়েই সে তার পরিবারের নিকট ফিরে গিয়েছে।”
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৭)
5 - حَدَّثَنِي أَبُو عَمِيرَةَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ بْنُ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ نَاسًا مِنَ الْأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَعْطَاهُمْ، ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ، ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ، حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ قَالَ: «مَا يَكُنْ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً هُوَ خَيْرٌ وَأَوْسَعُ مِنَ الصَّبْرِ»
৫ - আবু আমিরা আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে সুয়াইদ আল-রামলি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব ইবনে সুয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, আনসারদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সাহায্য চাইলেন, ফলে তিনি তাদের দান করলেন। পুনরায় তারা চাইলেন এবং তিনি তাদের দান করলেন। এরপর তারা আবারও চাইলেন এবং তিনি তাদের দান করলেন। এমনকি যখন তাঁর নিকট যা ছিল তা নিঃশেষ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেন: «আমার নিকট কল্যাণকর (সম্পদ) যা থাকে, তা আমি তোমাদের না দিয়ে কখনও জমা করে রাখি না। আর যে ব্যক্তি পবিত্রতা (অযাচিত যাচ্ঞা থেকে বিরত থাকা) অবলম্বন করতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। যে ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল করেন। আর ধৈর্য অপেক্ষা অধিক উত্তম ও প্রশস্ততর কোনো দান কাউকে প্রদান করা হয়নি।»
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৮)
6 - حَدَّثَنِي يُونُسُ، أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: أَرْسَلَنِي أَهْلِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُهُ لَهُمْ طَعَامًا، قَالَ: فَجِئْتُ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ: «مَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَا رُزِقَ الْعَبْدُ رِزْقًا أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ» وَقَدْ وَافَقَ عُمَرَ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا رُوِيَ عَنْهُ مِنْ كَرَاهَتِهِ مَسْأَلَةَ النَّاسِ أَمْوَالَهِمْ جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، نَذْكُرُ مَا صَحَّ مِنْهَا عِنْدَنَا سَنَدُهُ، ثُمَّ نُتْبِعُ جَمِيعَهُ الْبَيَانَ عَنْهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
6 - ইউনুস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম বিন সাদ আমাকে জানিয়েছেন, যায়েদ বিন আসলাম থেকে বর্ণিত, আতা বিন ইয়াসার থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পরিবার আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পাঠিয়েছিল যেন আমি তাঁদের জন্য তাঁর কাছে খাদ্য চাই। তিনি বলেন: আমি যখন আসলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন। আমি তাঁকে খুতবায় বলতে শুনলাম: «যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য দান করেন; যে ব্যক্তি পবিত্র থাকার চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন; এবং যে ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন। আর কোনো বান্দাকে ধৈর্যের চেয়ে প্রশস্ত কোনো রিযিক দান করা হয়নি»। মানুষের কাছে তাদের ধন-সম্পদ যাঞ্চা করার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে অপছন্দনীয়তা সম্পর্কে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একদল সাহাবী সেই বর্ণনার সাথে একমত হয়েছেন। আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে আমাদের নিকট যেগুলোর সনদ সহীহ তা উল্লেখ করব, অতঃপর ইনশাআল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ইচ্ছায় তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করব।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৯)
ذِكْرُ ذَلِكَ
উক্ত বিষয়ের বর্ণনা
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ৯)
7 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ هِلَالٍ أَخِي بَنِي مُرَّةَ بْنِ عُبَادٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ: أَعْوَزْنَا إِعْوَازًا شَدِيدًا، فَأَمَرَنِي أَهْلِي أَنْ آتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْأَلَهُ شَيْئًا فَأَقْبَلْتُ، فَكَانَ أَوَّلُ مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنِ اسْتَغْنَى أَغْنَاهُ اللَّهُ، وَمَنِ اسْتَعْفَفَ أَعَفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ سَأَلَنَا لَمْ نَدَّخِرْ عَنْهُ شَيْئًا وَجَدْنَا» ، أَوْ كَمَا قَالَ. قَالَ: فَقُلْتُ فِي نَفْسِي: لَأَسْتَغْنِيَنَّ فَيُغْنِيَنِي اللَّهُ، وَلَأَتَعَفَّفَنَّ فَيُعِفَّنِي اللَّهُ، فَلَمْ أَسْأَلْ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا
৭ - আহমেদ বিন আল-মিকদাম আল-ইজলি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, মুতামির বিন সুলাইমান আত-তাইমি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে কাতাদাহ থেকে, তিনি বনু মুররা বিন উবাদের ভাই হিলাল থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বলেছেন: আমরা চরম অভাব-অনটনের শিকার হলাম। তখন আমার পরিবার আমাকে নির্দেশ দিল যেন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাই এবং তাঁর কাছে কিছু প্রার্থনা করি। অতঃপর আমি (তাঁর নিকট) উপস্থিত হলাম। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যা বলতে শুনলাম, তার মধ্যে প্রথম কথাটি ছিল: "যে অমুখাপেক্ষিতা চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন; যে পবিত্রতা চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন; আর যে ব্যক্তি আমাদের কাছে চায়, আমাদের কাছে যা থাকে তা থেকে আমরা তার জন্য কিছুই জমা করে রাখি না", অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন। তিনি বলেন: আমি মনে মনে বললাম, "আমি অবশ্যই অমুখাপেক্ষিতা অবলম্বন করব, ফলে আল্লাহ আমাকে অভাবমুক্ত করবেন; এবং আমি অবশ্যই পবিত্রতা অবলম্বন করব, ফলে আল্লাহ আমাকে পবিত্র রাখবেন।" অতঃপর আমি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে কিছুই চাইলাম না।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১০)
8 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ هِلَالِ بْنِ حِصْنٍ أَحَدِ بَنِي مُرَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: أَعْوَزْنَا مَرَّةً، فَقَالَ لِي رَجُلٌ: لَوْ أَتَيْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتَهُ، فَأَتَيْتُهُ فَإِذَا هُوَ يَقُولُ: «مَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ سَأَلَنَا لَا نَبْخَلُ عَلَيْهِ بِمَا نَجِدُ، أَوْ لَا نَبْخَلُ عَلَيْهِ شَيْئًا نَجِدُهُ» ، قَالَ: قُلْتُ فِي نَفْسِي: أَلَا أَسْتَعْفِفُ فَيُعِفَّنِي اللَّهُ أَوَ لَا أَسْتَغْنِي فَيُغْنِيَنِي اللَّهُ قَالَ: فَرَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي، فَسَالَتْ عَلَيْنَا الدُّنْيَا، وَغَرِقْنَا إِلَّا مَا عَصَمَ اللَّهُ "
৮ - মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনু আবি আদি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি বনু মুররা গোত্রের অন্যতম ব্যক্তি হিলাল ইবন হিসন থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একবার আমরা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। তখন এক ব্যক্তি আমাকে বলল: আপনি যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যেতেন এবং তাঁর কাছে কিছু চাইতেন! অতঃপর আমি তাঁর নিকট গেলাম, এমতাবস্থায় তিনি বলছিলেন: "যে ব্যক্তি পবিত্রতা ও আত্মসম্মান বজায় রাখতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। আর যে অভাবমুক্ত থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন। আর যে আমাদের কাছে কিছু চাইবে, আমাদের কাছে যা বিদ্যমান তা দিতে আমরা তার প্রতি কার্পণ্য করব না, অথবা (তিনি বলেছিলেন) আমাদের কাছে যা আছে তা দিতে আমরা বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করব না।" তিনি (আবু সাঈদ) বলেন: আমি মনে মনে বললাম, আমি কি পবিত্রতা অবলম্বন করব না যাতে আল্লাহ আমাকে পবিত্র রাখেন? অথবা আমি কি অভাবমুক্ত থাকতে চাইব না যাতে আল্লাহ আমাকে অভাবমুক্ত করেন? তিনি বলেন: এরপর আমি আমার পরিবারের নিকট ফিরে এলাম। অতঃপর দুনিয়ার নেয়ামত আমাদের ওপর উপচে পড়ল এবং আমরা তাতে নিমজ্জিত হলাম, তবে আল্লাহ যাকে রক্ষা করেছেন সে ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَمْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ هِلَالِ بْنِ حِصْنٍ، قَالَ: نَزَلْتُ دَارَ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ⦗ص: 11⦘، فَضَمَّنِي وَإِيَّاهُ الْمَجْلِسُ، قَالَ: فَحَدَّثَ أَنَّهُ أَصْبَحَ ذَاتَ يَوْمٍ وَقَدْ عَصَبَ عَلَى بَطْنِهِ حَجَرًا مِنَ الْجُوعِ، فَقَالَتْ لَهُ امْرَأَتُهُ أَوْ أُمُّهُ: إِيتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَلْهُ؛ فَقَدْ أَتَاهُ فُلَانٌ فَسَأَلَهُ فَأَعْطَاهُ، وَأَتَاهُ فُلَانٌ فَسَأَلَهُ فَأَعْطَاهُ، قَالَ: قُلْتُ: حَتَّى أَلْتَمِسَ شَيْئًا، قَالَ: فَالْتَمَسْتُ شَيْئًا، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يَخْطُبُ، قَالَ: فَأَدْرَكْتُ مِنْ قَوْلِهِ وَهُوَ يَقُولُ: «مَنْ يَسْتَعِفَّ يُعِفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ سَأَلَنَا إِمَّا أَنْ نَبْذُلَ لَهُ أَوْ نُوَاسِيَهُ - أَبُو جَمْرَةَ الشَّاكُّ - وَمَنْ يَسْتَعِفَّ عَنَّا أَوْ يَسْتَغْنِ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِمَّنْ يَسْأَلُنَا» ، قَالَ: فَرَجَعْتُ فَمَا سَأَلْتُهُ شَيْئًا، فَمَا زَالَ اللَّهُ يَرْزُقُنَا حَتَّى مَا أَعْلَمُ أَحَدًا فِي الْأَنْصَارِ أَهْلَ بَيْتٍ أَكْثَرَ أَمْوَالًا مِنَّا
৯ - মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুবা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জামরাকে হিলাল ইবনে হিসন থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরির ঘরে অবস্থান করেছিলাম ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘, তখন তিনি ও আমি এক মজলিসে সমবেত হলাম। তিনি বর্ণনা করেন যে, একদা সকালে ক্ষুধার তীব্রতায় তিনি পেটে পাথর বেঁধেছিলেন। তখন তাঁর স্ত্রী অথবা তাঁর মা তাঁকে বললেন: আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যান এবং তাঁর কাছে সাহায্য চান; কেননা অমুক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসেছিল এবং চেয়েছিল, ফলে তিনি তাকে দান করেছেন; আর অমুক ব্যক্তিও এসেছিল এবং চেয়েছিল, তিনি তাকেও দান করেছেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: আগে আমি নিজে কিছু (উপার্জনের পথ) খুঁজি। তিনি বলেন: অতঃপর আমি কিছু তালাশ করলাম, এরপর আমি তাঁর নিকট গেলাম এমতাবস্থায় যে তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাঁর বক্তব্যের এই অংশটুকু শুনতে পেলাম যেখানে তিনি বলছিলেন: «যে ব্যক্তি পবিত্রতা (পরমুখাপেক্ষিতা থেকে বিরত থাকা) অবলম্বন করতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। আর যে ব্যক্তি অভাবমুক্ত থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন। আর যে আমাদের নিকট চায়, হয় আমরা তাকে দান করি অথবা তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করি - বর্ণনাকারী আবু জামরা এখানে শব্দ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন - তবে যে আমাদের নিকট চাওয়া থেকে বিরত থাকে অথবা অমুখাপেক্ষী থাকতে চায়, সে আমাদের নিকট সাহায্যপ্রার্থীর চেয়ে অধিক প্রিয়।» তিনি বলেন: অতঃপর আমি ফিরে এলাম এবং তাঁর নিকট কিছুই চাইলাম না। এরপর আল্লাহ অবিরত আমাদের রিযিক দান করতে থাকলেন, এমনকি আনসারদের মধ্যে আমাদের পরিবারের চেয়ে অধিক সম্পদশালী আর কোনো পরিবার আছে বলে আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنِ اسْتَعَفَّ أَعَفَّهُ اللَّهُ، وَمَنِ اسْتَغْنَى أَغْنَاهُ اللَّهُ، وَمَنْ سَأَلَنَا شَيْئًا فَوَجَدْنَا أَعْطَيْنَاهُ»
১০ - ইবন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন জা’ফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি পবিত্রতা অবলম্বন করতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন; যে অমুখাপেক্ষিতা কামনা করে, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন; আর যে ব্যক্তি আমাদের নিকট কিছু প্রার্থনা করে এবং আমাদের কাছে তা বিদ্যমান থাকে, তবে আমরা তাকে তা প্রদান করি।»
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১১)
11 - حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَسْرُوقِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ سَلْمَانَ، عَنْ سَيَّارٍ أَبِي الْحَكَمِ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ نَزَلَتْ بِهِ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تَسْتَدَّ
⦗ص: 12⦘ فَاقَتُهُ، وَمَنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ أَوْشَكَ اللَّهُ لَهُ بِالْغِنَى، إِمَّا غِنًى عَاجِلًا، وَإِمَّا أَجَلًا عَاجِلًا» ،
⦗ص: 13⦘ 12 - حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْغَيْلَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ، وَأَبُو أَحْمَدَ الْكُوفِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ، عَنْ طَارِقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
13 - حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ سَلْمَانَ أَبُو إِسْمَاعِيلَ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ
১১ - মূসা ইবনে আবদুর রহমান আল-মাসরূকী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে বিশর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, বাশীর ইবনে সালমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সায়্যার আবি আল-হাকাম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি অভাব-অনটনে পতিত হয় এবং তা মানুষের কাছে পেশ করে, তার
⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ অভাব পূরণ হবে না। আর যে ব্যক্তি তা আল্লাহর কাছে পেশ করে, আল্লাহ তাকে শীঘ্রই সচ্ছলতা দান করবেন; হয়তো দ্রুত ধনী করার মাধ্যমে, অথবা দ্রুত মৃত্যু প্রদানের মাধ্যমে»।
⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ ১২ - সুলায়মান ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-গাইলানী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আবু কুতাইবা এবং আবু আহমদ আল-কূফী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: বাশীর ইবনে সালমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সায়্যার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন তারিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৩ - ইবনে বাশশার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুর রহমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, বাশীর ইবনে সালমান আবু ইসমাইল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সায়্যার থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
14 - حَدَّثَنَا ابْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ أَخِي الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَزَالُ الْمَسْأَلَةُ بِأَحَدِكُمْ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ»
১৪ - ইবনে ওকী' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল আ'লা ইবনে আবদুল আ'লা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মা'মার থেকে, তিনি আয-যুহরীর ভাই আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি হামযাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি সর্বদা যাচনা (হাত পাতা) করতে থাকে, পরিশেষে সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার চেহারায় এক টুকরো মাংসও থাকবে না।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
15 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ الْبَحْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيُّ، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الْمَخْزُومِيُّ، قَالَا جَمِيعًا: أَنْبَأَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا النُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ أَخِي ⦗ص: 15⦘ الزُّهْرِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: أَقْبَلْنَا مِنَ الشَّامِ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: أَتَيْتُمُ الشَّامَ تَسْأَلُونِي، أَمَا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا تَزَالُ الْمَسْأَلَةُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَلَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ»
১৫ - আমাকে মুহাম্মদ বিন মামার আল-বাহরানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুখাররামি বর্ণনা করেছেন, আমাদের আবু হিশাম আল-মাখযুমি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের উহাইব সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নুমান বিন রাশিদ বর্ণনা করেছেন, যুহরীর ভাই আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম হতে ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে হামযাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা শাম দেশ হতে ফিরছিলাম, তখন আব্দুল্লাহ বিন উমর বললেন: তোমরা শাম থেকে আমার নিকট জিজ্ঞাসা করতে এসেছ? জেনে রেখো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "বান্দা সর্বদা যাঞ্চা (ভিক্ষা) করতে থাকে, শেষ পর্যন্ত সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার চেহারায় এক টুকরো মাংসও অবশিষ্ট থাকবে না।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
16 - حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، وَابْنُ وَكِيعٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذِهِ الْمَسَائِلَ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ سُلْطَانًا، أَوْ فِي أَمْرٍ لَا بُدَّ مِنْهُ»
১৬ - আমাদের নিকট ইবনে হুমাইদ ও ইবনে ওয়াকী হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট জারীর হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে উকবা থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই যাচনা (মানুষের নিকট হাত পাতা) হলো এক প্রকার ক্ষত, যার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের চেহারাকে ক্ষতবিক্ষত করে; তবে কেউ যদি সুলতানের কাছে কিছু চায় অথবা এমন কোনো বিষয়ে যা অপরিহার্য, তবে তা ভিন্ন কথা»
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
17 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْبَاهِلِيُّ، وَابْنُ بَشَّارٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمَسَائِلُ كدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ، وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ رَجُلٌ ذَا سُلْطَانٍ، أَوْ يَسْأَلَ فِي شَيْءٍ لَا يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন আলী আল-বাহিলি এবং ইবন বাশশার। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবন মাহদী, সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবন উমাইর থেকে, তিনি যায়েদ ইবন উকবা থেকে, তিনি সামুরা ইবন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যাচনা বা ভিক্ষা করা হলো এমন এক ক্ষতচিহ্ন যা দিয়ে মানুষ তার নিজের চেহারাকে ক্ষতবিক্ষত করে। সুতরাং যে চায় সে তার চেহারায় তা অবশিষ্ট রাখতে পারে, আর যে চায় সে তা বর্জন করতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি যদি শাসক শ্রেণীর নিকট যাচনা করে কিংবা এমন কোনো বিষয়ে যাচনা করে যা ছাড়া তার কোনো গত্যন্তর নেই, তবে তা স্বতন্ত্র।”
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
18 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذِهِ الْمَسَائِلَ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ ذَا سُلْطَانٍ، أَوْ فِي أَمْرٍ لَا بُدَّ مِنْهُ» ، قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَسْأَلَةُ الرَّجُلِ شَيْنٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي وَجْهِهِ خُدُوشٌ، أَوْ كُدُوحٌ»
১৮ - মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনু উমায়ের থেকে, তিনি যায়িদ ইবনু উকবাহ থেকে, তিনি সামুরা ইবনু জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই যাচ্ঞা বা ভিক্ষা করা হচ্ছে ক্ষতস্বরূপ, যার দ্বারা মানুষ তার মুখমণ্ডলকে ক্ষতবিক্ষত করে। তবে কেউ যদি কোনো শাসক বা প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা করে অথবা এমন কোনো বিষয়ে যা অনিবার্য (তা ভিন্ন)»। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: «মানুষের ভিক্ষা করা কিয়ামতের দিন তার চেহারায় কলঙ্কস্বরূপ যা আঁচড় বা ক্ষতচিহ্ন হিসেবে প্রকাশ পাবে»।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمَسَائِلَ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، مَنْ شَاءَ كَدَحَ، وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ رَجُلٌ ذَا سُلْطَانٍ فِي شَيْءٍ لَا يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا» فَحَدَّثْتُ بِهِ الْحَجَّاجَ فَقَالَ: إِنِّي ذُو سُلْطَانٍ فَسَلْنِي
১৯ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন বিশর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাইদাহ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবন উমাইর থেকে, তিনি যাইদ ইবন উকবাহ থেকে, তিনি সামুরাহ ইবন জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মানুষের কাছে হাত পাতা বা যাচনা করা হলো এক প্রকার ক্ষত, যা দ্বারা মানুষ তার নিজ মুখমণ্ডলকে ক্ষতবিক্ষত করে। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার মুখমণ্ডলকে ক্ষতবিক্ষত করতে পারে, আর যার ইচ্ছা সে তা বর্জন করতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি যদি শাসক বা ক্ষমতাধর ব্যক্তির নিকট এমন কিছুর যাচনা করে যা ছাড়া তার কোনো গত্যন্তর নেই (তবে তা স্বতন্ত্র)।’ অতঃপর আমি হাজ্জাজকে এ হাদীসটি শুনালাম, তখন সে বলল: ‘আমি তো একজন শাসক, সুতরাং আমার কাছে চাও।’
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زَائِدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، قَالَ: قَالَ زَيْدُ بْنُ عُقْبَةَ: قُلْتُ لِلْحَجَّاجِ: أَلَا أُحَدِّثُكَ بِشَيْءٍ حَدَّثَنِيهِ سَمُرَةُ بْنُ جُنْدُبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: هَلُمَّ، قَالَ: «الْمَسَائِلُ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ وَخُدُوشٌ، فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ، وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ ذَا سُلْطَانٍ، أَوْ يَنْزِلَ بِهِ أَمْرٌ لَا يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا فَيَسْأَلَ فِيهِ» فَقَالَ الْحَجَّاجُ: سَلْنِي، قَالَ: قُلْتُ: وُلِدَ لِي غُلَامٌ، قَالَ: فَأَلْحَقَهُ فِي الْعَطَاءِ
২০ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদা থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়িদ ইবনে উকবা বলেছেন: আমি হাজ্জাজকে বললাম: আমি কি আপনাকে এমন একটি বিষয় বর্ণনা করে শোনাব না যা সামুরা ইবনে জুনদুব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: পেশ করো। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেছেন: «যাচ্ঞা করা হলো এক প্রকার পরিশ্রম বা ক্ষত, যার মাধ্যমে মানুষ তার নিজ চেহারাকে ক্ষতবিক্ষত করে এবং তা হলো আঁচড়। সুতরাং যে চায় সে তার চেহারার ওপর তা অবশিষ্ট রাখুক, আর যে চায় সে তা বর্জন করুক। তবে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তির নিকট কিছু প্রার্থনা করে, অথবা তার ওপর এমন কোনো বিষয় আপতিত হয় যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় সে খুঁজে পায় না, এমতাবস্থায় সে যাচ্ঞা করতে পারে।» তখন হাজ্জাজ বললেন: আমার নিকট চাও। তিনি (যায়িদ) বলেন: আমি বললাম: আমার একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তখন তিনি (হাজ্জাজ) তাকে সরকারী অনুদানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
21 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَارَةَ الْأَسَدِيُّ، وَالْعَبَّاسُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ النُّعْمَانِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ فِي غَيْرِ فَاقَةٍ نَزَلَتْ بِهِ، أَوْ عِيَالٍ لَا يُطِيقُهُمْ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِوَجْهٍ لَيْسَ عَلَيْهِ لَحْمٌ»
২১ - মুহাম্মদ ইবনে উমারা আল-আসাদি এবং আব্বাস ইবনে আবি তালিব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: সাবিত ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস ইবনে নুমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার ওপর আপতিত কোনো চরম দারিদ্র্য অথবা ভরণ-পোষণে অক্ষম এমন পরিবার ব্যতিরেকেই মানুষের কাছে যাঞ্চা করে, সে কিয়ামতের দিন এমন এক মুখমণ্ডল নিয়ে উপস্থিত হবে যাতে কোনো গোশত থাকবে না।»
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ النُّعْمَانِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ فَتْحَ عَلَى نَفْسِهِ بَابَ مَسْأَلَةٍ مِنْ غَيْرِ فَاقَةٍ نَزَلَتْ بِهِ، أَوْ عِيَالٍ لَا يُطِيقُهُمْ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَاقَةٍ مِنْ حَيْثِ لَا يَحْتَسِبُ»
22 - মুহাম্মাদ ইবনে উমারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিস ইবনুন নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো চরম অভাব-অনটন কিংবা এমন পরিবার—যাদের ভরণপোষণ করার সক্ষমতা তার নেই—এমন কোনো কারণ ছাড়াই নিজের ওপর যাঞ্চার দরজা উন্মুক্ত করবে, আল্লাহ তার জন্য এমন উৎস থেকে অভাব-অনটনের দরজা খুলে দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।»
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুল আসার - মুসনাদু উমার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
23 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُجَمِّعٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا فَتَحَ رَجُلٌ عَلَى نَفْسِهِ بَابَ مَسْأَلَةٍ يَسْأَلُ النَّاسَ إِلَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ؛ لِأَنَّ الْعِفَّةَ خَيْرٌ»
২৩ - মুহাম্মদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে মুজাম্মি‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে খাব্বাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো ব্যক্তি যখন মানুষের কাছে হাত পাতার কোনো দরজা নিজের ওপর খুলে দেয়, আল্লাহ তখন তার জন্য দারিদ্র্যের একটি দরজা খুলে দেন; কেননা যাঞ্চা থেকে বিরত থাকা ও পবিত্র থাকাই সর্বোত্তম।»