(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: -)
تهذيب الآثار - مسند علي   (ابن جرير الطبري)

القسم: الفقه العام


الكتاب: تهذيب الآثار وتفصيل الثابت عن رسول الله من الأخبار

المؤلف: محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري (ت 310هـ)

المحقق: محمود محمد شاكر

الناشر: مطبعة المدني - القاهرة

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাহজীবুল আসার - মুসনাদে আলী   (ইবনে জারীর আত-তাবারী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: তাহজীবুল আসার ওয়া তাফসিলুল সাবিত আন রাসূলিল্লাহ মিনাল আখবার

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে জারীর ইবনে ইয়াযীদ ইবনে কাসীর ইবনে গালিব আল-আমিলি, আবু জাফর আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হিজরী)

মুহাক্কিক: মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির

প্রকাশক: মাতবাআ আল-মাদানী - কায়রো

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: -)
‌‌مُسْنَدُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ
মুসনাদে আলি ইবনে আবি তালিব
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌ذِكْرُ مَا لَمْ يَمْضِ ذِكْرُهُ مِنْ أَخْبَارِ ثَعْلَبَةَ بْنِ يَزِيدَ الْحِمَّانِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
সা’লাবা বিন ইয়াজিদ আল-হিমমানি-এর সেই সকল সংবাদ (أخبار) যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়নি তার বর্ণনা, যা তিনি আলি (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৩)
حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ يَزِيدَ الْحِمَّانِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَفَرَ، وَلَا هَامَةَ، وَلَا يُعْدِي سَقِيمٌ صَحِيحًا» قُلْتُ: أَأَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: «نَعَمْ» وَحَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَهْمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مِثْلَهُ
ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), তিনি বলেন: হারুন ইবনুল মুগিরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে (عَنْ), তিনি সা’লাবাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-হিমানী থেকে (عَنْ) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সফর (মাসের অশুভত্ব) বলতে কিছু নেই, হামাহ (অশুভ পাখির প্রভাব) বলতে কিছু নেই এবং অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে না।" আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কি এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল জাহম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), তিনি বলেন: আমর ইবনে আবি কায়স আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), তিনি সুফিয়ান থেকে (عَنْ), তিনি হাবিব থেকে (عَنْ), তিনি সা'লাবাহ থেকে (عَنْ), তিনি আলী (রা.) থেকে (عَنْ), নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ (مِثْلَهُ) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الْقَوْلُ فِي عِلَلِ هَذَا الْخَبَرِ وَهَذَا خَبَرٌ عِنْدَنَا صَحِيحٌ سَنَدُهُ، وَقَدْ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ عَلَى مَذْهَبِ الْآخَرِينَ سَقِيمًا غَيْرَ صَحِيحٍ، وَذَلِكَ أَنَّهُ خَبَرٌ لَا يُعْرَفُ لَهُ مَخْرَجٌ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَالْخَبَرُ إِذَا انْفَرَدَ بِهِ عِنْدَهُمْ مُنْفَرِدٌ وَجَبَ التَّثَبُّتُ فِيهِ، وَقَدْ حَدَّثَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ غَيْرُ سُفْيَانَ، غَيْرَ أَنَّ فِيَ أَسَانِيدِ بَعْضِهَا بَعْضُ مَنْ فِي نَقْلِهِ نَظَرٌ ذِكْرُ بَعْضِ ذَلِكَ
এই বর্ণনার ত্রুটি (علل) সংক্রান্ত আলোচনা; আমাদের নিকট এই বর্ণনাটির সনদ (سند) সহিহ (صحيح), তবে অন্যদের মাযহাব অনুযায়ী এটি ত্রুটিযুক্ত (سقيم) ও অ-সহিহ (غير صحيح) হওয়া আবশ্যক। এর কারণ হলো, এটি এমন একটি বর্ণনা যা এই সূত্র ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আলীর মাধ্যমে অন্য কোনো উৎস থেকে জানা যায় না। আর যখন কোনো বর্ণনা তাদের নিকট একক (منفرد) হয়ে যায়, তখন সে বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা আবশ্যক। সুফিয়ান ছাড়াও অন্য বর্ণনাকারীগণ এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন হাবিব ইবনে আবি সাবিত হতে, তিনি সা’লাবাহ হতে; তবে এগুলোর কোনো কোনো সনদসমূহে (أسانيد) এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যাদের বর্ণনায় আপত্তিকর (في نقله نظر) দিক রয়েছে। নিচে তার কিছু উল্লেখ করা হলো।
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৩)
1 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ حَبِيبٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ يَزِيدَ السَّعْدِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى، وَلَا صَفَرَ، وَلَا يُعْدِي سَقِيمٌ صَحِيحًا» ، قُلْتُ: أَأَنْتَ سَمِعْتَهُ؟ قَالَ: «سَمْعُ أُذُنِي، وَبَصَرُ عَيْنِي»
1 - আহমাদ বিন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আবি হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ বিন উকবাহ আল-শায়বানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হামযাহ বিন হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাবিব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি সা'লাবাহ বিন ইয়াযিদ আস-সা'দী থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে (স্বয়ংক্রিয়) কিছু নেই, সফর মাসের অশুভত্বের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং কোনো অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করে না», আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি তা স্বয়ং শুনেছেন? তিনি বললেন: «আমার কান তা শুনেছে এবং আমার চোখ তা প্রত্যক্ষ করেছে»।
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৪)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ يَزِيدَ السَّعْدِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَفَرَ، وَلَا هَامَةَ، وَلَا يُعْدِي سَقِيمٌ صَحِيحًا» ، قَالَ: فَقُلْتُ: أَأَنْتَ سَمِعْتَهُ؟ قَالَ: «نَعَمْ سَمِعَتْ أُذُنَايَ، وَأَبْصَرَتْ عَيْنَايَ» وَقَدْ وَافَقَ عَلِيًّا رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ فِي رِوَايَةِ هَذَا الْخَبَرِ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ، نَذْكُرُ مَا صَحَّ عِنْدَنَا سَنَدُهُ، ثُمَّ نُتْبِعُ جَمِيعَهُ الْبَيَانَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
২ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদাল আলা ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে শুআইব বর্ণনা করেছেন হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি সালাবা ইবনে ইয়াজিদ আস-সাদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সফর (মাসের অশুভত্ব) নেই, প্যাঁচার (অশুভত্ব) নেই এবং কোনো রুগ্ন ব্যক্তি বা বস্তু সুস্থকে সংক্রামিত করে না», তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি এটি স্বয়ং শুনেছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আমার দুই কান তা শুনেছে এবং আমার দুই চোখ তা প্রত্যক্ষ করেছে»। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই সংবাদ (خبر) বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে একদল সাহাবী আলীর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সাথে একমত হয়েছেন। আমাদের নিকট যেটির সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح) হয়েছে আমরা সেটি উল্লেখ করব, অতঃপর ইনশাআল্লাহ তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা (البيان) প্রদান করব।
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৫)
ذِكْرُ ذَلِكَ ،

 

3 - حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّدَفِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، قَالَ: قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى، وَلَا صَفَرَ، وَلَا طِيَرَةَ، وَلَا هَامَةَ» ، فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ «فَمَا بَالُ الْإِبِلِ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّهَا الظِّبَاءُ، فَيَجِيءُ الْبَعِيرُ الْأَجْرَبُ فَيَدْخُلُ فِيهَا، فَتَجْرَبُ كُلُّهَا؟» قَالَ: «فَمَنْ أَعْدَى الْأَوَّلَ؟»
এ বিষয়ের আলোচনা ,

 

৩ - ইউনুস ইবনে আবদুল আ’লা আস-সাদাফি আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইউনুস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন: ইবনে শিহাব বলেছেন: আবু সালামা আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি আবু হুরায়রা থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই, সফর মাসের অশুভত্ব নেই, কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই এবং পেঁচার অশুভত্ব বলতে কিছু নেই», তখন এক বেদুঈন আরজ করল: হে আল্লাহর রাসূল! «তবে সেই উটগুলোর অবস্থা কী, যেগুলো মরুপ্রান্তরের বালুতে হরিণের মতো (সুস্থ ও স্বচ্ছন্দ) থাকে, অতঃপর কোনো একটি চর্মরোগাক্রান্ত উট এসে সেগুলোর মাঝে মিশে যায় এবং সবগুলোকে রোগাক্রান্ত করে ফেলে?» তিনি বললেন: «তবে প্রথমটিকে কে সংক্রমিত করল?»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৬)
4 - حَدَّثَنِي يُونُسُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا عَدْوَى» وَيُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ» فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ: كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُهُمَا كِلَيْهِمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ صَمَتْ بَعْدَ ذَلِكَ عَنْ قَوْلِ: «لَا عَدْوَى» ، وَأَقَامَ عَلَى قَوْلِهِ: «لَا يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ» ، قَالَ: فَقَالَ الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ وَهُوَ ابْنُ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ: قَدْ كُنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَسْمَعُكَ تُحَدِّثُنَا مَعَ هَذَا الْحَدِيثِ حَدِيثًا آخَرَ قَدْ كُنْتَ تَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى» فَأَبَى أَبُو هُرَيْرَةَ ذَلِكَ، وَقَالَ: «لَا يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ» فَمَارَاهُ الْحَارِثُ فِي ذَلِكَ حَتَّى غَضِبَ أَبُو هُرَيْرَةَ، فَرَطَنَ بِالْحَبَشِيَّةِ، فَقَالَ لِلْحَارِثِ: «أَتَدْرِي مَا قُلْتُ؟» قَالَ: لَا، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: قُلْتُ: «أَبَيْتُ» قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: وَلَعَمْرِي لَقَدْ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا عَدْوَى» ، فَلَا أَدْرِي أَنَسِيَ أَبُو هُرَيْرَةَ، أَمْ نَسَخَ أَحَدُ الْقَوْلَيْنِ الْآخَرَ؟
4 - ইউনুস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে শিহাবের সূত্রে আমাকে জানিয়েছেন যে, আবু সালামাহ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই»। তিনি আরও বর্ণনা করেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অসুস্থ উটের মালিক যেন সুস্থ উটের মালিকের নিকট (তার উট) নিয়ে না আসে»। আবু সালামাহ বলেন: আবু হুরায়রা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই উভয় হাদিসই বর্ণনা করতেন। পরবর্তীতে তিনি «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই» কথাটি বলা থেকে বিরত থাকেন এবং তাঁর এই বক্তব্যের ওপর অটল থাকেন যে: «অসুস্থ উটের মালিক যেন সুস্থ উটের মালিকের নিকট (তার উট) নিয়ে না আসে»। বর্ণনাকারী বলেন: তখন হারিস ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু জুবাব—যিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর চাচাতো ভাই ছিলেন—বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি আপনাকে এই হাদিসের সাথে অন্য একটি হাদিসও আমাদের নিকট বর্ণনা করতে শুনতাম; আপনি বলতেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই»। কিন্তু আবু হুরায়রা (রা.) তা অস্বীকার করলেন এবং (পুনরায়) বললেন: «অসুস্থ উটের মালিক যেন সুস্থ উটের মালিকের নিকট (তার উট) নিয়ে না আসে»। হারিস এ বিষয়ে তাঁর সাথে বাকবিতণ্ডা করলেন, এমনকি আবু হুরায়রা (রা.) রাগান্বিত হলেন এবং হাবশী ভাষায় কথা বললেন। অতঃপর তিনি হারিসকে জিজ্ঞেস করলেন: «আমি কী বলেছি তা কি তুমি জানো?» তিনি বললেন: না। আবু হুরায়রা (রা.) বললেন: «আমি বলেছি: আমি (তা পুনরায় বর্ণনা করতে) অস্বীকার করছি»। আবু সালামাহ বলেন: আমার জীবনের কসম! আবু হুরায়রা (রা.) অবশ্যই আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই»; এখন আমি জানি না আবু হুরায়রা (রা.) কি তা ভুলে গেছেন, নাকি এই দুই বক্তব্যের একটি অপরটিকে রহিত (نسخ) করে দিয়েছে?
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا ابْنُ وَكِيعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا عَدْوَى، وَلَا صَفَرَ، وَلَا هَامَةَ» ، فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ «الْإِبِلُ تَكُونُ فِي الرِّمَالِ، فَيُخَالِطُهَا الْبَعِيرُ الْأَجْرَبُ، فَتَجْرَبُ كُلُّهَا» فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَعْدَى الْأَوَّلَ؟»
৫ - আমাদের নিকট ইবনে ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আ’লা বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সংক্রমণ বলতে কিছু নেই, সফর মাসের অমঙ্গল বলতে কিছু নেই এবং প্যাঁচার অশুভ লক্ষণ বলতেও কিছু নেই।” তখন এক গ্রাম্য ব্যক্তি আরজ করলেন: “হে আল্লাহর রাসুল! উটগুলো মরুভূমির বালুচরে অবস্থান করে, অতঃপর একটি চুলকানিযুক্ত উট সেগুলোর সাথে মিশে যায় এবং সবগুলোকে চুলকানিযুক্ত করে ফেলে।” তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তাহলে প্রথমটিকে কে সংক্রমিত করল?”
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৬)
6 - وَحَدَّثَنَا ابْنُ وَكِيعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، بَعْدَ ذَلِكَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ» فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: إِنَّمَا حَدَّثْتَنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «لَا عَدْوَى؟» فَقَالَ: لَا، فَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ: «فَمَا سَمِعْتُهُ نَسِيَ حَدِيثًا قَطُّ قَبْلَهُ، وَأَشْهَدُ بِاللَّهِ لَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنْهُ»
6 - এবং আমাদের নিকট ইবনে ওয়াকি‘ বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদ আল-আলা বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মা‘মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি বলেন: আবু সালামাহ্ বলেছেন: আমি এর পরে আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অসুস্থ উটের মালিক যেন তার উট সুস্থ উটের মালিকের পালের নিকট না নিয়ে আসে»। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: আপনিই তো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছিলেন যে তিনি বলেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই»? তখন তিনি (আবু হুরায়রা) তা অস্বীকার করলেন। আবু সালামাহ্ বলেন: «আমি তাঁকে এর আগে কখনো কোনো হাদিস বিস্মৃত হতে দেখিনি, এবং আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে অবশ্যই আমি তাঁর নিকট থেকে তা শুনেছি (سمعت)»।
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৬)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سِنَانُ بْنُ أَبِي سِنَانٍ الدُّولِيُّ، أَنَّ ⦗ص: 7⦘ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى، وَلَا صَفَرَ، وَلَا هَامَةَ» ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْأَعْرَابِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ الْإِبِلَ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ مِثْلَ الظِّبَاءِ، يَأْتِيهَا الْبَعِيرُ الْأَجْرَبُ فَتَجْرَبُ جَمِيعًا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَمَنْ أَعْدَى الْأَوَّلَ؟»
৭ - আবু কুরায়ব মুহাম্মদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: উসমান ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), জাফর ইবনে বুরকান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি বলেন: সিনান ইবনে আবি সিনান আদ-দুওয়ালী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) যে, ⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘ আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: “সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই, সফর মাসের অশুভত্ব নেই এবং পেঁচা সম্পর্কে অশুভ ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।” তখন জনৈক বেদুঈন দাঁড়িয়ে আরজ করল: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি মরুপ্রান্তরে হরিণের মতো (সুস্থ ও স্বচ্ছন্দ) উটগুলোর কথা ভেবেছেন? সেখানে একটি খুজলি-পাঁচড়া বা চুলকানিযুক্ত উট এসে সেগুলোকে রোগাক্রান্ত করে দেয়। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তাহলে প্রথমটিকে কে সংক্রমিত করেছিল?”
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৭)
8 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُجَاعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شُبْرُمَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، النُّقْبَةُ تَكُونُ بِمِشْفَرِ الْبَعِيرِ، أَوْ بِعَجْبِهِ، فَتَشْتَمِلُ الْإِبِلَ كُلَّهَا جَرَبًا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَمَا أَعْدَى الْأَوَّلَ؟ لَا عَدْوَى، وَلَا هَامَةَ، وَلَا صَفَرَ، خَلَقَ اللَّهُ كُلَّ نَفْسٍ، فَكَتَبَ حَيَاتَهَا، وَمُصِيبَاتِهَا، وَرِزْقَهَا»
8 - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাজি‘ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: শুজা‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে শুবরুমাহ থেকে (عن), তিনি আবু যুর‘আহ থেকে (عن), তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে (عن) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক বেদুইন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! উটের ঠোঁটে অথবা তার লেজের গোড়ায় ফুসকুড়ি দেখা দেয়, এরপর কি সমস্ত উটই খোস-পাঁচড়ায় আক্রান্ত হয়? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তাহলে প্রথমটিকে কে সংক্রমিত করল? সংক্রামক ব্যাধি (عدوى) বলতে কিছু নেই, অশুভ পাখি (هامة) সংক্রান্ত কোনো কুসংস্কার নেই এবং সফর মাসের অশুভ (صفر) বলতে কিছু নেই। আল্লাহ প্রতিটি প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার জীবনকাল, বিপদ-আপদ ও রিযিক লিখে দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৮)
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ، وَلَا هَامَةَ، وَلَا صَفَرَ»
আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি ইসরাঈল থেকে (عن), তিনি আবু হুসাইন থেকে (عن), তিনি আবু সালিহ থেকে (عن), তিনি আবু হুরায়রা থেকে (عن) বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই, কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, পেঁচার অশুভত্বের কোনো ভিত্তি নেই এবং সফর মাসের অশুভত্ব বলতেও কিছু নেই।»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৮)
9 - حَدَّثَنِي ابْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَرْقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَجْلَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْسَمٍ، وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا عَدْوَى، وَلَا هَامَةَ وَلَا غُولَ، وَلَا صَفَرَ» قَالَ أَبُو صَالِحٍ: «فَسَافَرْتُ إِلَى الْكُوفَةِ، ثُمَّ رَجَعْتُ، فَإِذَا هُوَ يَنْتَقِصُ الرَّابِعَةَ لَا يَذْكُرُهَا» فَقُلْتُ لَهُ: «لَا عَدْوَى» قَالَ: أَبَيْتُ، قُلْتُ: «لَا عَدْوَى» قَالَ: «أَبَيْتُ»
9 - ইবনে আবদুর রহিম আল-বারকি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنِي), তিনি বলেন: ইবনে আবি মারইয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَخْبَرَنَا), তিনি বলেন: ইবনে আজলান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنِي), তিনি বলেন: আল-কাকা বিন হাকিম, উবাইদুল্লাহ বিন মিকসাম এবং জায়েদ বিন আসলাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنِي), আবু সালিহ থেকে (عَنْ), তিনি আবু হুরায়রা থেকে (عَنْ) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সংক্রমণ বলতে কিছু নেই, অশুভ পেঁচা বলতে কিছু নেই, অশুভ আত্মা বলতে কিছু নেই এবং সফর মাসের অশুভত্ব বলতে কিছু নেই» আবু সালিহ বলেন: «অতঃপর আমি কুফায় সফর করলাম, তারপর ফিরে এসে দেখলাম তিনি (আবু হুরায়রা) চতুর্থ বিষয়টি বাদ দিচ্ছেন, তিনি তা উল্লেখ করছেন না» আমি তাকে বললাম: «সংক্রমণ বলতে কিছু নেই» তিনি বললেন: «আমি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি», আমি বললাম: «সংক্রমণ বলতে কিছু নেই» তিনি বললেন: «আমি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৮)
10 - حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " أَرْبَعٌ مِنَ الْجَاهِلِيَّةِ، لَنْ يَدَعَهَا النَّاسُ: النِّيَاحَةُ، وَالتَّغَايُرُ أَوِ التَّعَايُرُ «، شَكَّ أَبُو عَامِرٍ،» فِي الْأَحْسَابِ، وَمُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا، وَالْعَدْوَى، جَرِبَ بَعِيرٌ فِي مِائَةٍ، فَمَنْ أَعْدَى الْأَوَّلَ؟ "
১০ - ইবনে বাশার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু আমির আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), সুলায়মান থেকে (عن), জাকওয়ান থেকে (عن), আবু হুরায়রা থেকে (عن), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "জাহিলিয়্যাতের চারটি বিষয় এমন যা মানুষ বর্জন করবে না: বিলাপ করা, বংশমর্যাদা নিয়ে পারস্পরিক ঈর্ষা অথবা একে অপরকে দোষারোপ করা — আবু আমির (শব্দটি নিয়ে) সংশয় প্রকাশ করেছেন — আভিজাত্যের ক্ষেত্রে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে বলা এবং সংক্রামক ব্যাধি; একটি উট শত উটের মাঝে চর্মরোগাক্রান্ত হলো, তবে প্রথমটিকে কে সংক্রমিত করল?"
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৯)
11 - وَحَدَّثَنِي بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ الْخَوْلَانِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ جَعْفَرَ بْنَ رَبِيعَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجَ، حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا هَامَ، لَا هَامَ»
১১ - এবং আমার নিকট বর্ণনা করেছেন বাহর ইবন নাসর আল-খাওলানি ও আহমদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন ওয়াহাব। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন ওয়াহাব, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাফর ইবন রাবিআহ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান আল-আরাজ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্যাঁচা সংক্রান্ত অশুভ কোনো প্রভাব নেই, প্যাঁচা সংক্রান্ত অশুভ কোনো প্রভাব নেই»।
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৯)
12 - وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمِّي، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَعْرُوفُ بْنُ سُوَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُلَيَّ بْنَ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى وَلَا طَائِرَ»
১২ - এবং আহমাদ ইবন আবদুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমার চাচা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: মারুফ ইবন সুওয়াইদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) যে, তিনি উলাই ইবন রাবাহ থেকে শুনেছেন (سمع), আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো সংক্রামক ব্যাধি নেই এবং কোনো অশুভ লক্ষণ নেই»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৯)
13 - حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَعْرُوفُ بْنُ سُوَيْدٍ الْجُذَامِيُّ، عَنْ عُلَيِّ بْنِ رَبَاحٍ اللَّخْمِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى، وَلَا طَيْرَ»
13 - আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) ইউনুস ইবনে আবদিল আলা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) মারুফ ইবনে সুওয়াইদ আল-জুযামী, উলায় ইবনে রাবাহ আল-লাখমি থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হুরাইরাহ-কে বলতে শুনেছি (سمعت), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই এবং অশুভ কুলক্ষণ বলতেও কিছু নেই।»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ৯)
14 - وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ مُضَارِبِ بْنِ حَزْنٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى، وَلَا هَامَةَ، وَخَيْرُ الطَّيْرِ الْفَأْلُ، وَالْعَيْنُ حَقٌّ»
14 - এবং ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে উলাইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন জুরাইরি থেকে, তিনি মুদারিব ইবনে হাযন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই এবং অশুভ পেঁচা বলতেও কিছু নেই; আর শুভলক্ষণই হলো সর্বোত্তম লক্ষণ এবং কুদৃষ্টি সত্য।”
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১০)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ مُضَارِبِ بْنِ حَزْنٍ التَّمِيمِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ، وَلَا هَامَةَ، وَالْعَيْنُ حَقٌّ»
15 - আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওকী’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি সাঈদ আল-জুরায়রী থেকে, তিনি মুদারিব ইবনে হাযন আত-তামীমী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই, কোনো অশুভ লক্ষণ নেই, পেঁচার মাধ্যমে কোনো অশুভ নেই এবং কুদৃষ্টি সত্য।»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১০)
16 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الرَّبِيعِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ، لَنْ يَدَعُوهَا: الطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ، وَالنِّيَاحَةُ، وَمُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا، وَالْعَدْوَى، اشْتَرَيْتُ بَعِيرًا فَجَرِبَ، أَوْ: جَرِبًا، فَجَعَلْتُهُ فِي مِائَةٍ مِنَ الْإِبِلِ، فَجَرِبَتْ، مَنْ أَعْدَى الْأَوَّلَ؟ "
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনুল মুসান্না, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হিশাম ইবনে আবদুল মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) শু'বাহ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) আলকামা ইবনে মারসাদ, তিনি বলেন: আমি আবু রাবি‘ থেকে শুনেছি (سمعت), তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলিয়াতের (أمر الجاهلية) চারটি স্বভাব রয়েছে যা তারা বর্জন করবে না: বংশমর্যাদা নিয়ে বিদ্রূপ করা, বিলাপ করা (النياحة), নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করা এবং সংক্রমণ (العدوى); (জনৈক ব্যক্তি বলল) আমি একটি উট ক্রয় করলাম যা চর্মরোগাক্রান্ত ছিল (অথবা সেটি চর্মরোগাক্রান্ত হলো), অতঃপর আমি সেটিকে একশত উটের পালের মধ্যে রাখলাম এবং সবগুলোই চর্মরোগাক্রান্ত হয়ে পড়ল; (তখন রাসূলুল্লাহ বললেন) তাহলে প্রথমটিকে কে সংক্রমিত (أعدى) করেছিল?"
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১০)
17 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَضْرَمِيُّ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، حَدَّثَهُ قَالَ: سَأَلْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ عَنِ الطِّيَرَةِ، قَالَ: «فَانْتَهَرَنِي» وَقَالَ: مَنْ حَدَّثَكَ؟ فَكَرِهْتُ أَنْ أُحَدِّثَهُ مَنْ حَدَّثَنِي، فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ، وَلَا هَامَةَ» وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامٍ، وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى ⦗ص: 11⦘، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَضْرَمِيُّ بْنُ لَاحِقٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: سَأَلْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَاصٍّ عَنِ الطِّيَرَةِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ
১৭ - ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআয বিন হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, তিনি বলেন: আল-হাদরামি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে কুলক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "অতঃপর তিনি আমাকে ধমক দিলেন" এবং বললেন: তোমাকে কে বর্ণনা করেছে? তখন আমি কার থেকে এটি শুনেছি তা তাঁর নিকট প্রকাশ করা অপছন্দ করলাম। অতঃপর তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "সংক্রমণের কোনো অস্তিত্ব নেই, কুলক্ষণের কোনো ভিত্তি নেই এবং অশুভ পেঁচার কোনো প্রভাব নেই।" এবং ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন আবি আদি হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন উলাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘, তিনি বলেন: আল-হাদরামি বিন লাহিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি বলেন: আমি সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে কুলক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, অতঃপর তিনি এর অনুরূপ (مثله) উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১১)
18 - وَحَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الْعُذْرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنِي الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَضْرَمِيُّ بْنُ لَاحِقٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا هَامَ، وَلَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ»
18 - এবং আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ আল-উযরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন: আল-আওযায়ি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: হাদরামি ইবনে লাহিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সালллаল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পেঁচা অশুভ হওয়ার কোনো ভিত্তি নেই, সংক্রামক ব্যাধির স্বতন্ত্র প্রভাব নেই এবং কুলক্ষণ গ্রহণেরও কোনো অবকাশ নেই»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১১)
19 - وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الطُّفَاوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الصَّوَّافُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنِ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا هَامَةَ وَلَا عَدْوَى، وَلَا طِيرَةَ»
19 - এবং ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-তুফায়বি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, আল-হাদরামি থেকে, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এবং সাদ ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «কোনো অশুভ পেঁচা (বা হাড়) নেই, কোনো সংক্রামক ব্যাধি নেই এবং কোনো কুলক্ষণ নেই।»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১১)
20 - وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا عَدْوَى، وَلَا صَفَرَ، وَلَا هَامَةَ»
২০ - এবং আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-ইয়ামান বর্ণনা করেছেন (حدثنا), শুআইব থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি আস-সাইব ইবনে ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “সংক্রামক ব্যাধি (عدوى), সফর (صفر) মাসের অশুভ এবং পেঁচার (هامة) অশুভ লক্ষণের কোনো বাস্তবতা নেই।”
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১১)
21 - وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ ابْنُ أُخْتِ نَمِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا عَدْوَى، وَلَا صَفَرَ، وَلَا هَامَةَ»
21 - এবং মুহাম্মদ ইবন খালেদ ইবন খালী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: বিশর ইবন শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), যুহরী থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: আস-সায়েব ইবন ইয়াযিদ—যিনি নামিরের ভাগ্নে—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: «সংক্রমণ বা ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই, সফর মাসের অশুভত্বের কোনো ভিত্তি নেই এবং পেঁচার ডাকের মাঝেও কোনো অশুভ নেই।»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১১)
22 - وَحَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، وَبَحْرُ بْنُ نَصْرٍ الْخَوْلَانِيُّ، قَالَ يُونُسُ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، وَقَالَ بَحْرٌ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ⦗ص: 12⦘ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حَمْزَةَ، وَسَالِمٍ ابْنَيْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ»
২২ - এবং ইউনুস ইবনে আবদিল আলা ও বাহর ইবনে নাসর আল-খাওলানি আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني); ইউনুস বলেছেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের অবহিত করেছেন (أخبرنا), আর বাহর বলেছেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাকে অবহিত করেছেন (أخبرني), ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হামযাহ ও সালিম থেকে—যারা আবদুল্লাহ ইবনে উমরের দুই পুত্র—তারা আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো সংক্রামক ব্যাধি নেই এবং কোনো কুলক্ষণও নেই।"
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১২)
وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ»
আর ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: উসমান ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «কোনো সংক্রামক ব্যাধি নেই এবং কোনো কুলক্ষণ নেই।»
(খণ্ড: ৩) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু আলী (পৃষ্ঠা: ১২)
23 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَامِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: اشْتَرَى ابْنُ عُمَرَ إِبِلًا هِيمًا مِنْ شَرِيكٍ لِلْنَوَّاسِ، وَلَمْ يَعْرِفْهُ الرَّجُلُ، فَلَمَّا جَاءَ النَّوَّاسُ قَالَ لَهُ: «مِمَّنْ بِعْتَ إِبِلِي؟» قَالَ: مِنْ رَجُلٍ، وَوَصَفَهُ لَهُ، فَقَالَ لَهُ النَّوَّاسُ: " وَيَحَكَ، ذَاكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: فَجَاءَ النَّوَّاسُ فَقَالَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّ شَرِيكًا لِي بَاعَكَ إِبِلًا هِيمًا، وَلَمْ يَعْرِفْكَ، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ: خُذْهَا إِذًا، اقْتَدْهَا، فَلَمَّا ذَهَبَ يَقْتَادُهَا، قَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ: " دَعْهَا، رَضِينَا بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا عَدْوَى»
23 - মুহাম্মাদ বিন আওফ আত-তায়ী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হামিদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমর বিন দীনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে উমর নাওয়াসের এক অংশীদারের নিকট থেকে কিছু রোগাক্রান্ত (তৃষ্ণার্ত) উট ক্রয় করলেন, অথচ সেই ব্যক্তি তাঁকে চিনতে পারেননি। অতঃপর যখন নাওয়াস আসলেন, তখন তিনি তাকে (অংশীদারকে) জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কার কাছে আমার উটগুলো বিক্রি করেছ?" সে বলল: "এক ব্যক্তির কাছে" এবং সে তাঁর হুলিয়া বর্ণনা করল। তখন নাওয়াস তাকে বললেন: "তোমার জন্য পরিতাপ! তিনি তো আব্দুল্লাহ বিন উমর।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর নাওয়াস আসলেন এবং বললেন: "হে আবু আব্দুর রহমান! আমার এক অংশীদার আপনার নিকট কিছু রোগাক্রান্ত উট বিক্রি করেছে, অথচ সে আপনাকে চিনতে পারেনি।" ইবনে উমর তাকে বললেন: "তাহলে এগুলো ফেরত নিয়ে যাও, তাড়িয়ে নিয়ে যাও।" অতঃপর সে যখন সেগুলো তাড়িয়ে নিয়ে যেতে উদ্যত হলো, তখন ইবনে উমর তাকে বললেন: "এগুলো রেখে দাও, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফয়সালাতেই সন্তুষ্ট হয়েছি: 'কোনো সংক্রামক (عدوى) ব্যাধি নেই'।"