(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: -)
تهذيب الآثار - مسند ابن عباس   (ابن جرير الطبري)

القسم: الفقه العام


الكتاب: تهذيب الآثار وتفصيل الثابت عن رسول الله من الأخبار

المؤلف: محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري (ت 310هـ)

المحقق: محمود محمد شاكر

الناشر: مطبعة المدني - القاهرة

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাহযীবুল আসার - মুসনাদে ইবনে আব্বাস   (ইবনে জারীর আত-তাবারী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: তাহযীবুল আসার ওয়া তাফসীলুস সাবিত আন রাসূলিল্লাহ মিনাল আখবার

লেখক: মুহাম্মাদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাসীর বিন গালিব আল-আমুলী، আবু জাফর আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হি.)

সম্পাদক: মাহমুদ মুহাম্মাদ শাকির

প্রকাশক: আল-মাদানি প্রেস - কায়রো

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مُسْنَدُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ

قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَفِيهِ الْبَيَانُ الْبَيِّنُ أَنَّ خَلَى مَكَّةَ حَرَامٌ اخْتِلَاؤُهُ، وَاخْتَلَفَ السَّلَفُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الرَّعْيِ فِي خَلَاهَا، وَهَلْ ذَلِكَ مِنَ الِاخْتِلَاءِ الَّذِي دَخَلَ فِي نَهْيِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَمْ ذَلِكَ غَيْرُ دَاخِلٍ فِيهِ؟ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: ذَلِكَ غَيْرُ دَاخِلٍ فِي نَهْيِهِ عَنِ اخْتِلَاءِ خَلَاهَا، وَلَا بَأْسَ بِالرَّعْيِ فِيهَا
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মুসনাদ

আবু জাফর বলেন: আর এতে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, মক্কার কাঁচা ঘাস কাটা হারাম। আর বিশেষজ্ঞ আলিমগণের মধ্য হতে সালাফগণ সেখানে পশু চারণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত যা ঘাস কাটার ব্যাপারে এসেছে, নাকি তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়? তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তা ঘাস কাটার ব্যাপারে তাঁর নিষেধের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে পশু চারণে কোনো দোষ নেই।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ذِكْرُ مَنْ قَالَ ذَلِكَ
যাঁরা এটি বলেছেন তাঁদের উল্লেখ
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ৮)
1 - حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ، وَطَاوُسٍ، وَمُجَاهِدٍ، قَالُوا: " لَا بَأْسَ بِالرَّعْيِ فِيهَا، غَيْرَ أَنَّهُمْ، قَالُوا: لَا يُخْبَطُ "
1 - ইবনে হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন বিন আল-মুগীরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমবাসাহ থেকে, তিনি লায়স থেকে, তিনি আতা, তাউস ও মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: "তাতে (পশু) চড়ানোতে কোনো দোষ নেই, তবে তাঁরা বলেছেন: (পাতা ঝরানোর জন্য গাছ) ঝাড়া যাবে না।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ৮)
2 - حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَةَ، قَالَ: «لَا بَأْسَ بِالرَّعْيِ فِي الْحَرَمِ» وَعِلَّةُ قَائِلِ هَذِهِ الْمَقَالَةِ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا «نَهَى عَنِ اخْتِلَاءِ خَلَى» مَكَّةَ دُونَ الرَّعْيِ فِيهَا، وَالرَّاعِي فِيهَا غَيْرُ مُخْتَلٍ فِيهَا، لِأَنَّ الْمُخْتَلِيَ هُوَ الَّذِي يَقْطَعُ الْخَلَى بِنَفْسِهِ، فَأَمَّا إِذَا رَعَى مَاشِيَتَهُ فِيهَا، فَغَيْرُ مُخْتَلٍ وَقَالَ آخَرُونَ: غَيْرُ جَائِزٍ الرَّعْيُ فِي خَلَاهَا، فَإِنَّ الرَّعْيَ فِيهِ أَكْثَرُ مِنَ الِاخْتِلَاءِ
২ - আমাদের নিকট ইবনে হুমাইদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হারুন আমবাসাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "হারাম এলাকায় পশু চরানোতে কোনো সমস্যা নেই।" এই উক্তির প্রবক্তার যুক্তি হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল মক্কার ঘাস কাটতে নিষেধ করেছেন, সেখানে পশু চরাতে নয়। আর সেখানে পশু চরাণকারী ব্যক্তি ঘাস কর্তনকারী নয়, কারণ ঘাস কর্তনকারী হলো সেই ব্যক্তি যে নিজেই ঘাস কাটে। পক্ষান্তরে যখন সে সেখানে তার গবাদি পশু চরায়, তখন সে ঘাস কর্তনকারী নয়। অন্যরা বলেছেন: হারামের ঘাসে পশু চরানো বৈধ নয়, কারণ পশু চরানোতে ঘাস কাটার চেয়েও বেশি ঘাস বিনষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ৯)
ذِكْرُ مَنْ قَالَ ذَلِكَ

 

3 - قَالَ: أَبُو حَنِيفَةَ، وَأَبُو يُوسُفَ، وَمُحَمَّدٌ: «لَا يَرْعَى إِنْسَانٌ فِي حَشِيشِ الْحَرَمِ، لِأَنَّهُ لَوْ جَازَ أَنْ يَرْعَى فِيهِ، جَازَ أَنْ يَحْتَشَّ، إِلَّا الْإِذْخِرَ» وَعِلَّةُ قَائِلِ هَذِهِ الْمَقَالَةِ: تَظَاهُرُ الْأَخْبَارِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، بِالنَّهْيِ عَنِ احْتِشَاشِ حَشِيشِ مَكَّةَ بِقَوْلِهِ: «وَلَا يُجَذُّ خَلَاهَا» ، وَاخْتِلَاءُ الْخَلَى اسْتِهْلَاكٌ لَهُ وَإِمَاتَةٌ، وَإِرْعَاءُ الْمَوَاشِي فِيهِ حَتَّى تَرْعَاهُ أَكْثَرُ مِنَ احْتِشَاشِهِ فِي الِاسْتِهْلَاكِ وَالْإِمَاتَةِ وَالصَّوَابُ مِنَ الْقَوْلِ فِي ذَلِكَ عِنْدَنَا أَنْ يُقَالَ: غَيْرُ جَائِزٍ لِأَحَدٍ أَنْ يُرْسِلَ مَاشِيَتَهُ فِي خَلَى الْحَرَمِ لِتَرْعَاهُ، فَأَمَّا إِنْ أَفْلَتَتْ مَاشِيَتُهُ فَرَعَتْ فَلَا حَرَجَ عَلَيْهِ، لِأَنَّ إِرْعَاءَ الْمَاشِيَةِ فِيهِ تَسْبِيبٌ لِاسْتِهْلَاكِهِ، كَمَا قَطْعُ مَا فِيهِ مِنَ الْحَشِيشِ تَسْبِيبٌ لِاسْتِهْلَاكِهِ ، وَهُوَ مَنْهِيُّ عَنْ ذَلِكَ، فَكَذَلِكَ إِرْعَاءُ الْمَاشِيَةِ فِيهِ وَقَالُوا جَمِيعًا: نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ اخْتِلَاءِ خَلَاهَا، هُوَ اخْتِلَاءُ مَا نَبَتَ مِمَّا أَنْبَتَهُ اللَّهُ، فَلَمْ يَكُنْ لِآدَمَيٍّ فِيهِ صُنْعٌ، فَأَمَّا مَا نَبَّتَهُ الْمُنْبِتُونَ فَلَا بَأْسَ بِاخْتِلَائِهِ، وَقَدْ ذُكِرَ ذَلِكَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ السَّلَفِ
যাঁরা এরূপ বলেছেন তাঁদের আলোচনা

 

৩ - তিনি বলেন: আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি হারামের ঘাসে পশু চরাবে না, কারণ যদি সেখানে পশু চরানো বৈধ হতো, তবে ইদখির (এক প্রকার ঘাস) ব্যতীত অন্য ঘাস কাটাও বৈধ হতো।" এই মত পোষণকারীর যুক্তি হলো: মক্কার ঘাস কাটতে নিষেধ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসগুলোর আধিক্য, যেখানে তিনি বলেছেন: "এর তাজা ঘাস কাটা যাবে না।" আর তাজা ঘাস কেটে নেওয়া মানেই তা নিঃশেষ ও বিনাশ করা। সেখানে গবাদি পশু চরালে তারা যা খেয়ে ফেলে, তা ঘাস কাটার চেয়েও বেশি নিঃশেষ ও বিনাশকারী। আমাদের মতে এই বিষয়ে সঠিক বক্তব্য হলো: হারামের তাজা ঘাসে চরাবার উদ্দেশ্যে কারও জন্য নিজ গবাদি পশু পাঠানো বৈধ নয়। তবে যদি তার পশু ছুটে গিয়ে ঘাস খেয়ে ফেলে, তবে তার কোনো গুনাহ হবে না। কারণ সেখানে পশু চরানো একে বিনাশ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যেমনটি ঘাস কাটা একে বিনাশ করার কারণ হয়; আর এটি নিষিদ্ধ। অনুরূপভাবে সেখানে পশু চরানোও নিষিদ্ধ। তাঁরা সকলেই বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারামের তাজা ঘাস কাটতে যে নিষেধ করেছেন, তা হলো ঐ সকল ঘাস যা আল্লাহ উৎপন্ন করেছেন এবং যাতে মানুষের কোনো হাত নেই। পক্ষান্তরে মানুষ যা রোপণ বা উৎপাদন করেছে, তা কাটতে কোনো বাধা নেই। এটি একদল সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌ذِكْرُ مَنَ انْتَهَى مِنْهُمْ إِلَيْنَا قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ
যাঁদের বক্তব্য এই বিষয়ে আমাদের নিকট পৌঁছেছে, তাঁদের উল্লেখ
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১০)
4 - حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى الْأُمَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: «مَا أُنْبِتَ عَلَى مَائِكَ فَهُوَ لَكَ حِلٌّ»
৪ - সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-উমাবী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাদের নিকট আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যা তোমার পানির সাহায্যে উৎপন্ন হয়েছে, তা তোমার জন্য হালাল।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১০)
5 - حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: «مَا أَنَبْتَ مَاؤُكَ فِي الْحَرَمِ مِنَ الْبَقْلِ وَأَشْبَاهِهِ فَكُلْ، وَمَا لَمْ يُنْبِتْهُ مَاؤُكَ مِنَ الشَّجَرِ فَلَا تَأْكُلْ»

 

6 - وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ، وَأَبُو يُوسُفَ، وَمُحَمَّدٌ: «كُلُّ شَيْءٍ أَنْبَتَهُ النَّاسُ فَلَا شَيْءَ عَلَى قَاطِعِهِ، وَكُلُّ شَيْءٍ مِمَّا أَنْبَتَهُ النَّاسُ فَقَطَعَهُ رَجُلٌ، فَعَلَيْهِ قِيمَتُهُ» وَالصَّوَابُ مِنَ الْقَوْلِ فِي ذَلِكَ عِنْدَنَا مَا قَالُوهُ: وَذَلِكَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا نَهَى أَنْ يُخْتَلَى خَلَاهَا، وَالْمَعْقُولُ فِي مُتَعَارَفِ النَّاسِ بَيْنَهُمْ إِذَا نَسَبُوا حَشِيشًا إِلَى مَوْضِعٍ فَقَالُوا: «هَذَا حَشِيشُ بَلْدَةِ كَذَا» ، أَنَّهُ - يَعْنِي بِهِ الْحَشِيشَ - الَّذِي يُنْبِتُهُ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ مِمَّا لَا صَنَعَ فِيهِ لِبَنِي آدَمَ، فَأَمَّا مَا يُنْبِتُهُ النَّاسُ وَيَزْرَعُونَهُ لِمَنَافِعِهِمْ، فَإِنَّهُمْ يَخُصُّونَهُ بِأَسْمَاءٍ مَعْرُوفَةٍ لَهَا، فَلِذَلِكَ قُلْنَا: إِنَّ الْخَلَى الَّذِي نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ اخْتِلَائِهِ، هُوَ مَا أَنْبَتَهُ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ، مِمَّا لَا صُنْعَ فِيهِ لِلْآدَمَيِّينَ مِنَ الْأَحِشَّةِ، دُونَ مَا نَبَّتَهُ الْآدَمَيُّونَ، مَعَ إِجْمَاعِ الْجَمِيعِ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ كَذَلِكَ، فَخَلَى مَكَّةَ حَرَامٌ اخْتِلَاؤُهُ عَلَى الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ، خَلَا الْإِذْخِرَ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَثْنَاهُ مِمَّا حَرَّمَ اخْتِلَاءَهُ مِنْ خَلَاهَا فَإِنْ قَالَ لَنَا قَائِلٌ: فَمَا أَنْتَ قَائِلٌ فِي اجْتِنَاءِ الْكَمْأَةِ مِنْهَا؟ قِيلَ: لَا بَأْسَ ⦗ص: 11⦘ فَإِنْ قَالَ: أَوَلَيْسَ ذَلِكَ مِمَّا أَحْدَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى ذِكْرُهُ مِمَّا لَا يُنْبِتُهُ بَنُو آدَمَ، وَلَا صُنْعَ لَهُمْ فِيهِ؟ قِيلَ: بَلَى، وَلَكِنَّا لَمْ نَشْرُطْ فِيمَا أَوْجَبْنَا تَحْرِيمَ إِتْلَافِهِ مِمَّا فِي الْحَرَمِ كُلَّ مَا أَحْدَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى ذِكْرُهُ فِيهِ مِمَّا لَا صُنْعَ لِلْآدَمَيِّينَ فِيهِ، وَإِنَّمَا حَرَّمْنَا مِنْ ذَلِكَ مَا كَانَ حَشِيشًا أَوْ شَجَرًا مِمَّا يَنْبُتُ أَصْلُهُ فِي الْأَرْضِ، فَأَمَّا عَدَا ذَلِكَ فَغَيْرُ حَرَامٍ. وَلَوْ وَجَبَ أَنْ يَكُونَ كُلُّ مَا أَحْدَثَهُ اللَّهُ فِيهِ، مِمَّا لَا صُنْعَ فِيهِ لِبَنِي آدَمَ حَرَامًا اسْتِهْلَاكُهُ، لَوَجَبَ أَنْ يَكُونَ حَرَامًا شُرْبُ مَا فِي آبَارِهِ الَّتِي أَحْدَثَهَا اللَّهُ فِيهِ، وَكَسْرُ أَحْجَارِهِ، وَالِانْتِفَاعُ بِتُرَابِهِ وَفِي إِجْمَاعِ الْجَمِيعِ عَلَى أَنْ لَا بَأْسَ بِشُرْبِ مِيَاهِ آبَارِهِ الظَّاهَرَةِ، وَالِانْتِفَاعِ بِتُرَابِهِ، الدَّلِيلُ الْوَاضِحُ عَلَى أَنَّ مِمَّا أَحْدَثَ اللَّهُ خَلْقَهُ فِي حَرَمِهِ مِمَّا لَا صُنْعَ لِآدَمَيٍّ فِيهِ، مَا هُوَ مُطْلَقٌ أَخْذُهُ وَالِانْتِفَاعُ بِهِ وَاسْتِهْلَاكُهُ، وَمِنْ ذَلِكَ الْكَمْأَةُ، فَإِنَّهَا غَيْرُ مُسْتَحِقَّةٍ اسْمَ خَلًى وَلَا شَجَرٍ، وَهُوَ كَبَعْضِ مَا خُلِقَ فِيهَا مِنَ الْحَجَرِ وَالْمَدَرِ وَالْمِيَاهِ وَبِالَّذِي قُلْنَا فِي ذَلِكَ قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ
৫ - ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "হারাম এলাকায় তোমার (সেচের) পানি যে শাকসবজি ও তদ্রূপ উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছে তা তুমি ভক্ষণ করো, আর তোমার পানি যা উৎপন্ন করেনি এমন গাছপালা ভক্ষণ করো না।"

 

৬ - এবং আবু হানিফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ বলেছেন: "মানুষ যা কিছু উৎপন্ন করেছে, তা কর্তনকারীর ওপর (দণ্ড হিসেবে) কিছু নেই; আর মানুষ যা উৎপন্ন করেছে এমন কোনো কিছু যদি কেউ কেটে ফেলে, তবে তার ওপর এর মূল্য প্রদান করা আবশ্যক।" এ বিষয়ে আমাদের নিকট সঠিক অভিমত হলো যা তারা বলেছেন। আর তা এই কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল হারামের ঘাস কাটতে নিষেধ করেছেন। মানুষের প্রচলিত প্রথায় বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় হলো, তারা যখন কোনো ঘাসকে কোনো স্থানের দিকে সম্বন্ধ করে বলে যে, "এটি অমুক জনপদের ঘাস", তখন তারা সেই ঘাসকেই বোঝায় যা মহান আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—উৎপন্ন করেছেন এবং যাতে আদম সন্তানের কোনো হাত নেই। পক্ষান্তরে মানুষ তাদের উপকারের জন্য যা উৎপন্ন ও বপন করে, সেগুলোকে তারা তাদের সুপরিচিত নির্দিষ্ট নামে অভিহিত করে। সেজন্যই আমরা বলেছি যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে ঘাস কাটতে নিষেধ করেছেন, তা হলো সেই ঘাস যা মহান আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—উৎপন্ন করেছেন এবং যাতে মানুষের কোনো ভূমিকা নেই; সেই সব ঘাস বা উদ্ভিদ নয় যা মানুষ উৎপাদন করেছে। এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্যও রয়েছে যে বিষয়টি এ রকমই। সুতরাং মক্কার ঘাস কাটা ইহরাম বিহীন বা ইহরাম পরিহিত সকলের জন্যই হারাম, কেবল ইজখির ঘাস ব্যতীত। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কার নিষিদ্ধ ঘাসের মধ্য থেকে ইজখিরকে ব্যতিক্রম ঘোষণা করেছেন। যদি কেউ আমাদের প্রশ্ন করে: সেখান থেকে মাশরুম (কামআহ) আহরণের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? উত্তর দেওয়া হবে: এতে কোনো অসুবিধা নেই। ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘ যদি সে বলে: এটি কি আল্লাহ তাআলা—যাঁর স্মরণ সুউচ্চ—সৃষ্টি করেননি যা আদম সন্তান উৎপন্ন করেনি এবং এতে তাদের কোনো হাত নেই? উত্তর দেওয়া হবে: হ্যাঁ, অবশ্যই। কিন্তু হারামের সীমানায় থাকা যে সমস্ত বস্তু বিনষ্ট করা আমরা হারাম করেছি, তাতে আমরা এমন শর্তারোপ করিনি যে আল্লাহ তাআলা সেখানে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং যাতে মানুষের কোনো হাত নেই তার সবই অন্তর্ভুক্ত হবে। বরং আমরা কেবল সেই সব ঘাস বা গাছপালাই হারাম করেছি যার মূল মাটিতে উৎপন্ন হয়। এ ছাড়া অন্য কিছু হারাম নয়। আর যদি আল্লাহ সেখানে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং যাতে আদম সন্তানের কোনো হাত নেই—তার সব কিছুরই ব্যবহার বা বিনাশ হারাম হওয়া আবশ্যক হতো, তবে সেখানকার কূপের পানি পান করাও হারাম হতো যা আল্লাহ সেখানে সৃষ্টি করেছেন, এবং এর পাথর ভাঙা ও মাটি ব্যবহার করাও হারাম হতো। অথচ সকলের সর্বসম্মতিক্রমে হারামের বিদ্যমান কূপসমূহের পানি পান করা এবং এর মাটি ব্যবহার করাতে কোনো দোষ নেই—এটিই এর স্পষ্ট প্রমাণ যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর হারামে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং যাতে মানুষের কোনো হাত নেই, তার মধ্য থেকে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা গ্রহণ করা, ব্যবহার করা ও নিঃশেষ করা বৈধ। মাশরুমও (কামআহ) এর অন্তর্ভুক্ত, কেননা এটি 'ঘাস' বা 'গাছ' নামের উপযোগী নয়। এটি সেখানে সৃষ্ট পাথর, মাটির ঢেলা ও পানির মতোই একটি সৃষ্টি। এ বিষয়ে আমরা যা বলেছি, সালাফদের কেউ কেউ তদ্রূপ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১১)
7 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ الْبَكْرَاوِيُّ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: «لَا بَأْسَ بِأَنْ تُجْتَنَى الْكَمْأَةُ مِنَ الْحَرَمِ»

 

8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ الْقَنَّادُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَحْرٍ الْبَكْرَاوِيُّ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ عَطَاءٍ، مِثْلَهُ

⦗ص: 12⦘

 

9 - وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْآمُلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ الْبَكْرَاوِيُّ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَأَةَ، قَالَ: كَانَ عَطَاءٌ لَا يَرَى بَأْسًا أَنْ تُجْتَنَى الْكَمْأَةُ مِنَ الْحَرَمِ.

 

10 - وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ عَطَاءٍ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بَأْسًا أَنْ تُجْتَنَى الْكَمَأَةُ مِنَ الْحَرَمِ، وَقَدْ خَالَفَ الْحَجَّاجَ ابْنُ جُرَيْجٍ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ عَطَاءٍ هَذَا الْخَبَرَ
7 - মুহম্মদ ইবনে উমর ইবনে আলী আল-মুকাদ্দামী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বাহর আল-বাকরাভী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «হারাম এলাকা থেকে ব্যাঙের ছাতা সংগ্রহ করাতে কোনো দোষ নেই»

 

8 - আব্দুল হামিদ ইবনে বায়ান আল-কান্নাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বাহর আল-বাকরাভী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাজ্জাজ থেকে, তিনি আতা থেকে, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘

 

9 - এবং আমর ইবনে আব্দুল হামিদ আল-আমুলি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে উসমান আল-বাকরাভী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ থেকে, তিনি বলেন: আতা হারাম এলাকা থেকে ব্যাঙের ছাতা সংগ্রহ করাতে কোনো অসুবিধা দেখতেন না।

 

10 - এবং ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আতা থেকে যে, তিনি হারাম এলাকা থেকে ব্যাঙের ছাতা সংগ্রহ করার মধ্যে কোনো অসুবিধা দেখতেন না; আর আতা থেকে এই সংবাদটি বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনে জুরাইজ হাজ্জাজের বিরোধিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ «أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ تُجْتَنَى الْكَمْأَةُ، مِنَ الْحَرَمِ» غَيْرَ أَنَّا أَلْحَقْنَا الْكَمْأَةَ: إِذْ كَانَ لَا أَصْلَ لَهَا فِي الْأَرْضِ ثَابِتٌ بِنَظِيرِهَا مِمَّا أَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى أَنَّهُ جَائِزٌ اسْتِهْلَاكُهُ وَالِانْتِفَاعُ بِهِ مِنَ الْمِيَاهِ وَأَشْبَاهِهَا وَفِيهِ أَيْضًا الْبَيَانُ الْبَيِّنُ أَنَّهُ غَيْرُ جَائِزٍ قَطْعُ أَغْصَانِ شَجَرِ مَكَّةَ وَفُرُوعِهَا، لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «وَلَا يُعْضَدُ شَجَرُهَا» ، وَإِذَا لَمْ يَكُنْ جَائِزًا قَطْعُ أَغْصَانِ شَجَرِهَا الَّتِي أَنْشَأَ اللَّهُ ، خَلقَهَا فِيهَا مِمَّا لَا صَنَعُ فِيهِ لِبَنِي آدَمَ، فَقَطْعُ شَجَرِهَا الَّتِي هِيَ كَذَلِكَ، أَحْرَى أَنْ يَكُونَ النَّهْيُ فِيهِ أَوْكَدَ، وَالْحَظْرُ فِيهِ أَثْبَتَ، وَإِذَا كَانَ ذَلِكَ كَذَلِكَ، وَكَانَ «الشَّجَرُ» عِنْدَ الْعَرَبِ، كُلَّ مَا قَامَ عَلَى سَاقٍ فَثَبَتَ مِنْ نَبَاتِ الْأَرْضِ، كَانَ صَحِيحًا قَوْلُ الْقَائِلِ: غَيْرُ جَائِزٍ لِأَحَدٍ قَطْعُ شَجَرِ الْحَرَمِ الَّذِي ⦗ص: 13⦘ أَنْبَتَهُ اللَّهُ مِمَّا لَا صُنْعَ فِيهِ لِأَحَدٍ مِنْ بَنِي آدَمَ

 

12 - فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَإِذْ كَانَ الْأَمْرُ كَالَّذِي وَصَفْتَ فِي شَجَرِ الْحَرَمِ الَّذِي لَمْ يُنْبِتْهُ بَنُو آدَمَ، فَمَا أَنْتَ قَائِلٌ فِيمَا:
১১ - মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আহমাদ আল-যুবাইরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «তিনি হারাম এলাকা থেকে কামআহ (এক প্রকার ছত্রাক) সংগ্রহ করা অপছন্দ করতেন»; তবে আমরা কামআহকে (বৈধতার) অন্তর্ভুক্ত করেছি: যেহেতু জমিনে এর কোনো স্থির মূল নেই, যা মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী পানি ও তদ্রূপ অন্যান্য জিনিসের মতো ব্যবহার ও উপযোগ গ্রহণ করা বৈধ হওয়ার সদৃশ। আর এতে এই সুস্পষ্ট বর্ণনাও রয়েছে যে, মক্কার গাছের ডালপালা ও শাখা-প্রশাখা কাটা বৈধ নয়, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এর গাছ কাটা যাবে না»; আর আল্লাহ সেখানে যে গাছ সৃষ্টি করেছেন যাতে আদম সন্তানের কোনো ভূমিকা নেই, তার ডালপালা কাটা যখন বৈধ নয়, তখন সেই গাছগুলো কাটা—যা একই প্রকৃতির—আরও বেশি নিষিদ্ধ এবং এর নিষেধাজ্ঞা আরও বেশি সুদৃঢ় হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর বিষয়টি যখন এমনই, এবং আরবদের নিকট «গাছ» বলতে সেই প্রতিটি উদ্ভিদকে বোঝায় যা কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে এবং জমিনে স্থির থাকে, তখন কোনো বক্তার এই কথা বলা সঠিক যে: হারামের সেই গাছ কাটা কারো জন্য বৈধ নয় যা ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ আল্লাহ উৎপাদন করেছেন এবং যাতে আদম সন্তানের কোনো ভূমিকা নেই।

 

১২ - যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: হারামের যেসব গাছ আদম সন্তানরা রোপণ করেনি সে সম্পর্কে আপনি যা বর্ণনা করেছেন বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আপনি সেই বিষয়ে কী বলবেন যা:
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
حَدَّثَكُمْ بِهِ ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، قَالَ: كَانَ عَطَاءٌ «لَا يَرَى بَأْسًا أَنْ يُؤْخَذَ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ مَا عَفَا، لِلسِّوَاكِ وَالْعُودِ»

ইবনে হুমাইদ এটি তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনবাসাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি বলেন: আতা হারামের গাছ থেকে যা (স্বাভাবিকভাবে) বৃদ্ধি পেয়েছে, তা মেসওয়াক ও কাষ্ঠখণ্ড হিসেবে গ্রহণ করার মধ্যে কোনো দোষ দেখতেন না।

(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
13 - حَدَّثَنِي عَلِي بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سَالِمٍ الْأَبِيُّ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ الْمَوْصِلِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ، عَنِ الْحَسَنِ: «أَنَّهُ لَمْ يَرَ بَأْسًا أَنْ يُقْطَعَ الشَّجَرُ الْيَابِسُ مِنَ الْحَرَمِ» قِيلَ: قَدْ خَالَفَ مِنْ ذَكَرْتَ فِي قَوْلِهِمْ هَذَا مِنْ نُظَرَائِهِمْ، مَنْ قَوْلُهُ أَوْلَى بِالصِّحَّةِ مِنْ قَوْلِهِمْ، وَذَلِكَ مَا:
১৩ - আলী ইবনুল হাসান ইবনে সালিম আল-আববী আল-আযদি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুয়াফা ইবনে ইমরান আল-মাওসিলি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন রাবী থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে: "তিনি হারামের (পবিত্র এলাকার) শুকনো গাছ কাটার মধ্যে কোনো অসুবিধা দেখতেন না।" বলা হয়েছে: আপনি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের এই বক্তব্যে তাদেরই সমপর্যায়ের এমন ব্যক্তিগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন যাদের বক্তব্য তাদের বক্তব্যের চেয়ে সঠিক হওয়ার অধিক যোগ্য; আর তা হলো:
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
14 - حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ «أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ يُؤْخَذَ، مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ لِدَوَاءٍ وَلَا لِغَيْرِهِ»
১৪ - ইবনে হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আম্বাসা থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজীহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হারামের বৃক্ষ থেকে ঔষধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো কিছু সংগ্রহ করা অপছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ يَعْنِي الْأَزْرَقَ، عَنْ شَرِيكٍ، عنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ، أَنَّهُ قَالَ: «لَا يُؤْخَذُ مِنْ شَجَرِ مَكَّةَ إِلَّا مَا سَقَطَ مِنْهَا فَيْبِسٍ وَذَرَتْهُ الرِّيحُ»
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামিদ ইবনে বায়ান আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক অর্থাৎ আল-আজরাক, শারিক থেকে, তিনি আলা ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আল-আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «মক্কার গাছ থেকে কোনো কিছুই গ্রহণ করা যাবে না, তবে যা তা থেকে ঝরে পড়ে শুকিয়ে গিয়েছে এবং বাতাস যা উড়িয়ে নিয়েছে তা ব্যতীত।»
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
16 - حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنْ أَبِي سَهْلٍ مُحَمَّدُ بْنُ سَالِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِلْحَلَالِ أَنْ يَقْطَعَ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ إِلَّا الْإِذْخِرَ» ⦗ص: 14⦘ وَإِنْ قَالَ: هَلْ عَلَى مَنْ قَطَعَ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ شَيْئًا شَيْءٌ؟ قِيلَ: قَدِ اخْتَلَفَ السَّلَفُ قَبْلَنَا فِي ذَلِكَ، فَنَذْكُرُ مَا قَالُوا فِيهِ، ثُمَّ نُتْبِعُ جَمِيعَهُ الْبَيَانَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: عَلَى مَنْ قَطَعَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا جَزَاءٌ وَقَدِ اخْتَلَفَ قَائِلُو ذَلِكَ فِي ذَلِكَ الْجَزَاءِ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: فِي الدَّوْحَةِ الْعَظِيمَةِ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ إِذَا قَطَعَهَا قَاطِعٌ، بَقَرَةٌ أَوْ بَدَنَةٌ، وَفِي الصَّغِيرَةِ مِنْهَا طَعَامٌ يُطْعِمُهُ الْمَسَاكِينَ
১৬ - ইবনু হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনবাসাহ থেকে, তিনি আবু সাহল মুহাম্মাদ ইবনু সালিম থেকে, তিনি আশ-শাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ইহরাম বিহীন ব্যক্তির জন্যও হারামের কোনো গাছ কাটা হালাল নয়, কেবল ইজখির (সুগন্ধি ঘাস) ব্যতীত।" ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ আর যদি কেউ প্রশ্ন করে: যে ব্যক্তি হারামের গাছ থেকে কোনো কিছু কাটবে তার ওপর কি কোনো জরিমানা অবধারিত হবে? জবাবে বলা হবে: আমাদের পূর্ববর্তী সালাফগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তারা এ সম্পর্কে যা বলেছেন আমরা তা উল্লেখ করব, অতঃপর আল্লাহ চাইলে এর পর্যায়ক্রমিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করব। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: যে ব্যক্তি এর কোনো কিছু কাটবে তার ওপর বিনিময় বা জরিমানা (জাযা) ওয়াজিব। যারা এই জরিমানার কথা বলেছেন তারাও সেই জরিমানার ধরন নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: হারামের কোনো বড় গাছ যদি কেউ কাটে, তবে তার বিনিময়ে একটি গরু অথবা একটি উট দিতে হবে, আর ছোট গাছের ক্ষেত্রে মিসকিনদের খাদ্য প্রদান করতে হবে।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ذِكْرُ مَنْ قَالَ ذَلِكَ
যারা এরূপ বলেছেন তাদের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ: «فِي الدَّوْحَةِ تُقْطَعُ فِي الْحَرَمِ بَقَرَةٌ»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবি যাইদাহ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন জুরাইজ, আতা থেকে বর্ণিত: «হারাম এলাকায় বড় কোনো গাছ কাটা হলে তার বিনিময়ে একটি গরু (জরিমানা) দিতে হবে।’»
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
18 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا بَعْضُ، أَشْيَاخِنَا، قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءً، يَقُولُ: " فِيمَنْ قَطَعَ شَجَرَةً مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ، الدَّوْحَةَ وَنَحْوَهَا، قَالَ: عَلَيْهِ بَدَنَةٌ، وَمَا دُونَ ذَلِكَ عَلَى قَدْرِ ذَلِكَ "
১৮ - ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের জনৈক উস্তাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতাকে বলতে শুনেছি, হারামের বৃক্ষরাজির মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোনো গাছ, যেমন বড় ছায়াঘন বৃক্ষ বা অনুরূপ কিছু কাটবে, তার সম্পর্কে তিনি বলেন: "তার ওপর একটি উট (বাদানা) প্রদান করা আবশ্যক, আর যা এর চেয়ে ছোট, তা সেই পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
19 - حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: «فِي الشَّجَرَةِ الضَّخْمَةِ يَقْطَعُهَا الْمُحْرِمُ بَقَرَةٌ، وَفِي الشَّجَرِ الصِّغَارِ طَعَامٌ يُطْعِمُهُ»
১৯ - তামিম ইবনুল মুনতাসির আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শারিক, তিনি আলা ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, আর তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "ইহরামকারী ব্যক্তি কোনো বড় গাছ কাটলে তার বিনিময়ে একটি গরু দিতে হবে, আর ছোট গাছের ক্ষেত্রে মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ يَمَانٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: " فِي الدَّوْحَةِ يُصِيبُهَا الْمُحْرِمُ بَقَرَةٌ، وَقَالَ: الدَّوْحَةُ: الشَّجَرَةُ الْعَظِيمَةُ " ⦗ص: 15⦘ وَعِلَّةُ قَائِلِي هَذِهِ الْمَقَالَةِ: الْقِيَاسُ عَلَى إِجْمَاعِ الْجَمِيعِ عَلَى أَنَّ فِيَ أَعْظَمِ مَا أَصَابَ الْمُصِيبُ مِنَ الصَّيْدِ فِي الْحَرَمِ، الْبَدَنَةُ مِنَ الْبُدْنِ، إِذْ كَانَ ذَلِكَ مِمَّا نَهَى اللَّهُ تَعَالَى ذِكْرُهُ عَنْ إِصَابَتِهِ فِيهِ، فَكَذَلِكَ فِي أَعْظَمِ مَا أَصَابَ الْمُصِيبُ مِنْ شَجَرِهِ فِيهِ الْبَدَنَةُ، ثُمَّ فِيمَا هُوَ أَصْغَرُ مِنْهُ عَلَى قَدْرِهِ، كَمَا ذَلِكَ كَذَلِكَ فِي الصَّيْدِ يُصِيبُهُ الْمُصِيبُ فِيهِ عَلَى قَدْرِ كِبَرِ الْمُصَابِ وَصِغَرِهِ وَقَالَ آخَرُونَ مِنْهُمْ: إِذَا أَصَابَ الْمُصِيبُ شَيْئًا مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ، فَإِنَّهُ يَحْكُمُ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ ذَوَا عَدْلٍ
২০ - আমাদের নিকট আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে ইয়ামান বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মুহরিম ব্যক্তি বিশাল কোনো গাছ কাটলে তার জন্য একটি গাভী জরিমানা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন: 'আদ-দাওহাহ' অর্থ হলো বিশাল বৃক্ষ।" ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ আর এই মত পোষণকারীদের যুক্তি হলো: সকলের ঐকমত্যের ওপর ভিত্তি করে কিয়াস বা তুলনা করা। ঐকমত্যটি হলো—হারাম এলাকায় কোনো ব্যক্তি সবচেয়ে বড় কোনো প্রাণী শিকার করলে তার জরিমানা হিসেবে একটি উট দিতে হয়; যেহেতু এটি এমন কাজ যা আল্লাহ তায়ালা সেখানে করতে নিষেধ করেছেন। ঠিক একইভাবে, হারামের গাছপালার মধ্যে সবচেয়ে বড় গাছটি কাটার ক্ষেত্রেও একটি উট জরিমানা হবে। অতঃপর তার চেয়ে ছোট গাছের ক্ষেত্রে তার আকার অনুযায়ী জরিমানা হবে, যেমনটি শিকারের ক্ষেত্রে শিকারকৃত পশুর বিশালতা বা ক্ষুদ্রতা অনুযায়ী জরিমানা নির্ধারিত হয়। তাঁদের মধ্যে অন্যরা বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি হারামের কোনো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তখন দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি এই বিষয়ে তার জরিমানার ফয়সালা করবেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ذِكْرُ مَنْ قَالَ ذَلِكَ
যারা এরূপ বলেছেন তাদের উল্লেখ
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৫)
21 - حَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَالِمٍ أَبِي سَهْلٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، فِي الرَّجُلِ يَقْطَعُ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ، قَالَ: «يَحْكُمُ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ ذَوَا عَدْلٍ»

 

22 - وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ، وَأَبُو يُوسُفَ، وَمُحَمَّدٌ: " إِذَا قَطَعَ رَجُلٌ شَجَرَةً مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ فَعَلَيْهِ قِيمَتُهَا بَالِغَةٌ مَا بَلَغَتْ، فَإِنْ بَلَغَتْ هَدْيًا كَانَ عَلَيْهِ هَدْيٌ، وَإِلَّا قَوَّمَ طَعَامًا فَأَطْعِمْ كُلَّ مِسْكِينٍ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ حِنْطَةٍ، قَالُوا: وَالْهَدْيُ بِمَكَّةَ، وَالصَّدَقَةُ حَيْثُ شَاءَ، وَقَالُوا: إِذَا لَمْ يَجِدِ الْهَدْيَ أَوِ الطَّعَامَ فَلَا يَجْزِي فِيهَا صِيَامٌ، وَقَالُوا: إِنْ أَصَابَهَا الْقَارِنُ، فَقِيمَةٌ وَاحِدَةٌ، وَكَذَلِكَ إِنْ قَطَعَ ذَلِكَ رَجُلَانِ فَعَلَيْهِمَا قِيمَةٌ وَاحِدَةٌ " وَعِلَّةُ قَائِلِي هَذِهِ الْمَقَالَةِ: الْقِيَاسُ عَلَى إجْمَاعِ الْجَمِيعِ فِيمَا لَا مِثْلَ لَهُ مِنَ الصَّيْدِ مِنَ النَّعَمِ يُصِيبُهُ الْمُصِيبُ فِي الْحَرَمِ: أَنَّ عَلَيْهِ قِيمَتُهُ، يَحْكُمُ بِذَلِكَ ذَوَا عَدْلٍ ⦗ص: 16⦘، فَكَذَلِكَ الْوَاجِبُ فِي الشَّجَرَةِ يُصِيبُهَا الْمُصِيبُ فِي الْحَرَمِ: أَنْ يَحْكُمَ فِيهَا ذَوَا عَدْلٍ، إِذْ كَانَ لَا مِثْلَ لَهَا مِنَ النَّعَمِ

 

23 - وَقَالَ آخَرُونَ: لَا شَيْءَ عَلَى مَنْ قَطَعَ الشَّجَرَةَ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ إِلَّا الِاسْتِغْفَارُ وَالتَّوْبَةُ
২১ - ইবনে হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন আমাদের নিকট আনবাসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সালিম আবু সাহল থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে হারামের গাছ কাটা ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "এ বিষয়ে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ফয়সালা করবেন।"

 

২২ - আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মাদ বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি হারামের গাছগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি গাছ কাটে, তবে তার ওপর উক্ত গাছের মূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক হবে, তা যত টাকাই হোক না কেন। যদি সেই মূল্য একটি হাদই (কুরবানির পশু) সমপরিমাণ হয়, তবে তার ওপর হাদই জবেহ করা আবশ্যক হবে। অন্যথায়, সমপরিমাণ মূল্যের খাদ্যের ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রত্যেক অভাবগ্রস্তকে (মিসকিন) আধা সা' গম দান করতে হবে।" তাঁরা বলেন: "হাদই মক্কায় হতে হবে, আর সদকা যেখানে ইচ্ছা করা যাবে।" তাঁরা আরও বলেন: "যদি সে হাদই বা খাবার যোগাড় করতে না পারে, তবে এর পরিবর্তে রোজা রাখা যথেষ্ট হবে না।" তাঁরা আরও বলেন: "যদি হজ্জে কিরান পালনকারী ব্যক্তি তা কাটে, তবে একটি মূল্যই দিতে হবে। অনুরূপভাবে, যদি দুজন ব্যক্তি একটি গাছ কাটে, তবে তাদের উভয়ের ওপর একটি মূল্যই বর্তাবে।" এই মত পোষণকারীদের যুক্তি হলো: হারামের সীমানায় কেউ যদি এমন কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করে যার চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে কোনো সমজাতীয় বিনিময় নেই, তবে তার ওপর তার মূল্য প্রদান করার ব্যাপারে সকলের ঐকমত্যের (ইজমা) ওপর কিয়াস করা। যার ফয়সালা দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি করবেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘। অনুরূপভাবে হারামের সীমানায় কোনো ব্যক্তি যদি কোনো গাছ নষ্ট করে, তবে সে ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি এর ফয়সালা করবেন, যেহেতু চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে এর কোনো সমজাতীয় বিনিময় নেই।

 

২৩ - অন্যরা বলেন: হারামের গাছ কর্তনকারীর ওপর ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) এবং তওবা করা ছাড়া আর কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ذِكْرُ مَنْ قَالَ ذَلِكَ
যারা তা বলেছেন তাদের উল্লেখ
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৬)
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ حَجَّاجٍ، قَالَ: سَأَلْتُ عَطَاءً بَعْدَ ذَلِكَ مِرَارًا: يَعْنِي بَعْدَ مَا قَالَ: فِيمَنْ قَطَعَ شَجَرَةً مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ: الدَّوْحَةِ وَنَحْوِهَا عَلَيْهِ بَدَنَةٌ، وَمَا دُونَ ذَلِكَ عَلَى قَدْرِ ذَلِكَ، فَقَالَ: «يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَيَتُوبُ وَلَا يَعُودُ، وَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ»

ইয়াকূব ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এরপর আতাকে বহুবার জিজ্ঞাসা করেছি; অর্থাৎ আতা যখন বলেছিলেন: হারামের গাছপালার মধ্যে কোনো বড় বৃক্ষ বা অনুরূপ কিছু কেউ কর্তন করলে তার ওপর একটি উট প্রদান করা আবশ্যক, আর তার চেয়ে ছোট কিছুর জন্য সেই অনুপাতে দণ্ড হবে—এরপর তিনি (আতা) বললেন: "সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাওবা করবে এবং পুনরায় এমন কাজ করবে না; তার ওপর অন্য কোনো দণ্ড নেই।"

(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৬)
24 - حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: قَالَ: مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَذَكَرَ الَّذِي ذَكَرَ فِي قَطْعِ الشَّجَرِ فِي الْحَرَمِ، وَمَا ذِكْرُهُ أَهْلُ مَكَّةَ: فِي الدَّوْحَةِ بَقَرَةٌ، وَفِي كُلِّ غُصْنٍ شَاةٌ، فَقَالَ: «لَمْ يَثْبُتْ ذَلِكَ عِنْدَنَا، وَلَا نَعْلَمُ فِي قَطْعِ الشَّجَرِ شَيْئًا مَعْلُومًا، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ لِمُحْرِمٍ وَلَا حَلَالٍ أَنْ يَعْقِرَ شَيْئًا مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ، وَلَا يَقْطَعَ شَيْئًا مِنْهُ» وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ خَبَرٌ يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُوجِبُ فِيهِ شَيْئًا، وَذَلِكَ مَا:
২৪ - ইউনুস ইবনে আবদিল আ'লা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মালিক ইবনে আনাস বলেছেন—এবং তিনি হারামের গাছ কাটার ব্যাপারে যা আলোচনা করার তা করেছেন এবং মক্কাবাসীরা যা উল্লেখ করেন যে: বড় গাছের বিনিময়ে একটি গরু এবং প্রতিটি ডালের বিনিময়ে একটি ছাগল (জরিমানা), অতঃপর তিনি বলেন: «এটি আমাদের নিকট প্রমাণিত নয়, এবং গাছ কাটার ব্যাপারে (জরিমানার) কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান আমাদের জানা নেই; তবে এটুকু যে, ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তি হোক বা ইহরাম বিহীন সাধারণ ব্যক্তি, হারামের কোনো গাছ উপড়ে ফেলা বা তার কোনো অংশ কাটা কারো জন্যই বৈধ নয়।’ আর উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে এই বিষয়ে এমন একটি বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে যা নির্দেশ করে যে তিনি এতে কোনো কিছু ওয়াজিব বা আবশ্যক করতেন না, আর তা হলো:
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৬)
25 - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ رَأَى رَجُلًا يَقْطَعُ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ، وَيَعْلِفُهُ بَعِيرًا لَهُ، قَالَ: فَقَالَ: «عَلَيَّ بِالرَّجُلِ» ⦗ص: 17⦘ فَأُتِيَ بِهِ، فَقَالَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، " أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ مَكَّةَ حَرَامٌ لَا يُعْضَدُ عِضَاهُهَا، وَلَا يُنَفَّرُ صَيْدُهَا، وَلَا تَحِلُّ لُقَطَتُهَا إِلَّا لِمُعَرِّفٍ؟ قَالَ: فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، لَا وَاللَّهِ مَا حَمَلَنِي عَلَى ذَلِكَ إِلَّا أَنَّ مَعِيَ نِضْوًا لِي، فَخَشِيتُ أَلَا يُبَلِّغَنِي أَهْلِي، وَمَا مَعِي مِنْ زَادٍ وَلَا نَفَقَةٍ قَالَ: فَرَقَّ لَهُ بَعْدَ مَا هَمَّ بِهِ، قَالَ: وَأَمَرَ لَهُ بِبَعِيرٍ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ مُوقَرٍ طَحِينًا، فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَقَالَ: لَا تَعُودَنَّ أَنْ تَقْطَعَ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ شَيْئًا "، فَهَذَا الْخَبَرُ يُنْبِئُ عَنْ أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه إِنَّمَا تَقَدَّمَ إِلَى الَّذِي رَآهُ يَقْطَعُ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ وَيَعْلِفَهُ بَعِيرًا لَهُ، بِالنَّهْيِ عَنِ الْعُودِ لِمِثْلِ مَا فَعَلَ مِنْ قَطْعِهِ ذَلِكَ، وَلَمْ يَأْمُرْهُ بِجَزَاءٍ وَلَا كَفَّارَةٍ لَمَّا قَطَعَ مِنْهُ، وَالصَّوَابُ مِنَ الْقَوْلِ فِيمَا عَلَى مَنْ قَطَعَ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ الْمَنْهِيِّ عَنْ قَطَعِهِ أَنْ يُقَالَ: عَلَيْهِ قِيمَةُ مَا قَطَعَ مِنْهُ، وَذَلِكَ لِصِحَّةِ الْخَبَرِ الْوَارِدِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّهْيِ عَنْ قَطْعِهِ، نَظِيرَ صِحَّةِ الْخَبَرِ عَنْهُ بِالنَّهْيِ عَنْ تَنْفِيرِ صَيْدِهِ وَقَتْلِهِ، وَقَدْ أَجْمَعَ الْجَمِيعُ مِنْ سَلَفِ الْأُمَّةِ وَخَلَفَهِمْ عَلَى أَنَّ عَلَى قَاتِلِ صَيْدِهِ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ جَزَاءٌ، فَكَذَلِكَ الْوَاجِبُ مِنَ الْحُكْمِ عَلَى قَاطِعِ شَجَرِهِ الْمَنْهِيِّ عَنْ قَطْعِهِ: أَنْ يَكُونَ عَلَيْهِ جَزَاؤُهُ، نَظِيرَ مَا عَلَى قَاتِلِ صَيْدِهِ الْمَنْهِيِّ عَنْ قَتْلِهِ، لَا فَرْقَ بَيْنَ ذَلِكَ، وَمَنْ فَرَّقَ بَيْنَ ذَلِكَ سُئِلَ الْبُرْهَانَ عَلَى الْفَرْقِ بَيْنَ ذَلِكَ مِنْ أَصْلٍ أَوْ نَظِيرٍ، فَلَنْ يَقُولَ: فِي أَحَدِهِمَا شَيْئًا إِلَّا أُلْزِمَ فِي الْآخَرِ مِثْلَهُ، فَإِنِ اعْتَلَّ بِالْإِجْمَاعِ فِي الصَّيْدِ وَالِاخْتِلَافِ فِي الشَّجَرِ ⦗ص: 18⦘ قِيلَ: فَرَدَّ حُكْمَ مَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنْ قَطْعِ الشَّجَرِ، عَلَى مَا أُجْمِعَ عَلَيْهِ مِنْ حُكْمِ قَتْلِ الصَّيْدِ فِيهِ، إِذْ كِلَاهُمَا إِتْلَافُ مَا قَدْ نُهِيَ عَنْ إِتْلَافِهِ، وَفِعْلُ مَا قَدْ حُظِرَ فِعْلُهُ، وَإِنِ اخْتَلَفَا فِي أَنَّ أَحَدَهُمَا صَيْدٌ وَالْآخَرُ شَجَرٌ، وَإِذْ كَانَ صَحِيحًا مَا قُلْنَا، مِنْ إِيجَابِ قِيمَةِ مَا قُطِعَ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ عَلَى مَنْ قَطَعَهُ بَالِغًا ذَلِكَ مَا بَلَغَ، فَبَيِّنٌ أَنَّ عَلَى مَنْ قَطَعَ مِنْ فُرُوعِ شَجَرَةٍ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ فَرَعًا، أَوْ مِنْ أَغْصَانِهَا غُصْنًا، قِيمَةُ ذَلِكَ الْغُصْنِ، كَمَا عَلَى مَنْ جَرَحَ صَيْدًا مِنْ صَيْدِ الْحَرَمِ وَلَمْ يُتْلِفْهُ ذَلِكَ الْجُرْحُ، فَعَلَيْهِ قِيمَةُ مَا نَقَصَ ذَلِكَ الصَّيْدَ، إِذْ كَانَ عَلَيْهِ غُرْمُ جَزَائِهِ إِذَا أَتْلَفَ جَمِيعَهُ، فَكَذَلِكَ ذَلِكَ فِي حُكْمِ قَاطِعِ بَعْضِ فُرُوعِ شَجَرِ الْحَرَمِ وَأَغْصَانِهَا، عَلَيْهِ قِيمَةُ مَا أَفْسَدَ مِنْهَا بِالْقَطْعِ، يَحْكُمُ بِذَلِكَ ذَوَا عَدْلٍ، كَمَا عَلَيْهِ قِيمَةُ جَمِيعَهَا إِذَا قَطَعَ جَمِيعَهَا، وَفِيهِ أَيْضًا الْبَيَانُ الْبَيِّنُ عَلَى أَنَّ صَيْدَ الْحَرَمِ حَرَامٌ اصْطِيَادُهُ، وَذَلِكَ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم، إِذْ كَانَ صَحِيحًا عَنْهُ النَّهْيُ عَنْ تَنْفِيرِ صَيْدِهِ، فَاصْطِيَادُهُ أَوْكَدُ فِي التَّحْرِيمِ مِنْ تَنْفِيرِهِ، فَإِنْ قَالَ: لَنَا قَائِلٌ: فَإِنَّكَ اعْتَلَلْتَ فِي إِيجَابِكَ الْجَزَاءَ عَلَى مَنْ قَطَعَ شَيْئًا مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ الَّذِي لَا يُنْبِتُهُ بَنُو آدَمَ، بِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ قَطَعِهِ، وَأَنَّهُ لَمَّا صَحَّ النَّهْيُ عَنْهُ بِذَلِكَ، وَكَانَ مُجْمَعًا عَلَى قَاتِلِ صَيْدِهِ أَنَّ عَلَيْهِ جَزَاءَهُ، كَانَ نَظِيرًا لَهُ قَاطِعُ بَعْضِ أَشْجَارِهِ، فِيمَا يَجِبُ عَلَيْهِ مِنْ جَزَائِهِ بِقَطْعِهِ؟ وَقَدْ صَحَّحْتَ نَهْيَهُ عَنْ تَنْفِيرِ صَيْدِهِ، أَفَتَقُولُ فِيمَا يَجِبُ عَلَى مُنَفِّرِهِ مِنَ الْجَزَاءِ، مِثْلُ مَا عَلَى قَاطِعِ شَجَرِهِ وَقَاتِلِ صَيْدِهِ؟ قِيلَ: أَوْجَبَ ذَلِكَ إِنْ أَدَّاهُ تَنْفِيرُهُ إِيَّاهُ إِلَى هَلَاكِهِ، وَكَانَ تَنْفِيرُهُ ذَلِكَ سَبَبَ عَطَبِهِ، كَمَا أَوْجَبَ عَلَيْهِ فِي قَطْعِهِ شَجَرَهُ الْجَزَاءَ، إِذْ كَانَ قَطْعُهُ إِيَّاهُ سَبَبًا لِمَوْتِهِ ⦗ص: 19⦘ وَهَلَاكِهِ، فَأَمَّا إِنْ لَمْ يَكُنْ تَنْفِيرِهِ إِيَّاهُ سَبَبًا لِهَلَاكِهِ وَعَطَبِهِ، أَوْ هَلَاكًا لِشَيْءٍ مِنْهُ، لَمْ يَكُنْ بِتَنْفِيرِهِ شَيْءٌ غَيْرَ التَّوْبَةِ وَالنَّدَمِ وَقَدْ حُكِيَ عَنْ عَطَاءٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: يُطْعِمُ شَيْئًا
২৫ - ইয়াকুব ইবন ইব্রাহিম আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ এবং আবদুল মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতা থেকে, তিনি উবায়েদ ইবন উমাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে দেখলেন হারামের গাছ কাটছে এবং তা তার উটকে খাওয়াচ্ছে। তিনি বললেন: "লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ তাকে আনা হলে তিনি বললেন: "হে আল্লাহর বান্দা, তুমি কি জানো না যে মক্কা সম্মানিত হারাম? এখানকার কাঁটাযুক্ত গাছ কাটা যাবে না, এখানকার শিকারকে তাড়ানো যাবে না, এবং হারানো বস্তু তোলা বৈধ নয়, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার ঘোষণা দেবে?" সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আল্লাহর কসম, আমি এটি করতে বাধ্য হয়েছি কারণ আমার সাথে একটি ক্লান্ত-শীর্ণ উট রয়েছে; আমি আশঙ্কা করছিলাম যে এটি আমাকে আমার পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে না, আর আমার কাছে কোনো পাথেয় বা খরচও ছিল না।" তিনি (রাবী) বলেন: উমর তার প্রতি কঠোর হওয়ার ইচ্ছা করার পর তার প্রতি দয়ার্দ্র হলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাকে সদকার উট থেকে আটা বোঝাই একটি উট দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে তা দিয়ে বললেন: "হারামের গাছ কাটার জন্য পুনরায় ফিরে এসো না।" এই বর্ণনাটি ইঙ্গিত দেয় যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হারামের গাছ কাটতে এবং তা উটকে খাওয়াতে দেখা ব্যক্তিকে কেবল এ ধরনের কাজ পুনরায় না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাকে যা কেটেছে তার জন্য কোনো দণ্ড বা কাফফারা আদায়ের নির্দেশ দেননি। হারামের যে গাছ কাটা নিষিদ্ধ, তা কেউ কাটলে তার বিধান সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য হলো: যা কাটা হয়েছে তার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গাছ কাটা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সহীহ বর্ণনা রয়েছে, যেমনটি সহীহ বর্ণনায় হারামের শিকারকে তাড়ানো এবং তা হত্যা করা নিষিদ্ধ হয়েছে। উম্মতের পূর্বসূরি (সালাফ) এবং উত্তরসূরিগণ (খালাফ) এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, নিষিদ্ধ শিকার হত্যাকারীর ওপর দণ্ড (জাযা) আবশ্যক। অনুরূপভাবে, হারামের যে গাছ কাটা নিষিদ্ধ, তা কর্তনকারীর ওপরও দণ্ড আবশ্যক হওয়া ওয়াজিব; যা শিকার হত্যার দণ্ডের সদৃশ। এ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। যে ব্যক্তি এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য করবে, তাকে এ পার্থক্যের সপক্ষে মূলনীতি বা সদৃশ কোনো প্রমাণ দিতে বলা হবে। সে একটির ব্যাপারে যা বলবে, অন্যটির ব্যাপারেও তাই আবশ্যক হবে। যদি সে শিকারের ক্ষেত্রে ইজমা (ঐকমত্য) এবং গাছের ক্ষেত্রে ইখতিলাফের (মতপার্থক্য) অজুহাত দেখায় ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ তবে তাকে বলা হবে: গাছের ক্ষেত্রে যে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে তাকে শিকার হত্যার হুকুমের দিকে ফিরিয়ে নিতে হবে যে বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। কারণ উভয়টিই এমন বস্তু বিনষ্ট করা যা বিনষ্ট করতে নিষেধ করা হয়েছে, এবং এমন কাজ করা যা করতে বারণ করা হয়েছে; যদিও একটি শিকার এবং অন্যটি গাছ হিসেবে ভিন্ন। আমরা যা বলেছি তা যদি সঠিক হয় যে, হারামের গাছ কর্তনকারীর ওপর তার মূল্য পরিশোধ করা ওয়াজিব—তা যাই হোক না কেন—তবে এটি স্পষ্ট যে, হারামের গাছের কোনো উপশাখা বা ডাল কর্তনকারীর ওপরও সেই ডালের মূল্য আবশ্যক হবে। যেমন হারামের কোনো শিকারকে কেউ আহত করলে কিন্তু তা মারা না গেলে, শিকারটির মূল্য যতটা হ্রাস পেয়েছে তা তাকে দিতে হয়। যেহেতু পূর্ণ বিনষ্ট করলে পূর্ণ দণ্ড দিতে হয়, তেমনি হারামের গাছের কিছু ডাল বা শাখা কাটার ক্ষেত্রেও কর্তনকারীর ওপর তার মূল্য আবশ্যক হবে যা সে কাটার মাধ্যমে নষ্ট করেছে। দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি এর ফয়সালা করবেন, যেমনটি পুরো গাছ কাটলে পুরো মূল্য দিতে হতো। এতে আরও স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, হারামের শিকার ধরা হারাম। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শিকারকে তাড়ানো নিষিদ্ধ হওয়া প্রমাণিত, তাই শিকার ধরা বা শিকার করা—তাড়ানো অপেক্ষা অধিকতর নিষিদ্ধ। যদি কেউ প্রশ্ন করে: "আপনি হারামের প্রাকৃতিক গাছ (যা মানুষ রোপণ করেনি) কাটার ক্ষেত্রে যে দণ্ড আবশ্যক করেছেন তার যুক্তি দেখিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কাটতে নিষেধ করেছেন। এবং যেহেতু এটি প্রমাণিত এবং শিকার হত্যার দণ্ডের ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, তাই গাছ কাটাও শিকারের সদৃশ এবং এতেও দণ্ড আবশ্যক। এখন আপনি যেহেতু শিকার তাড়ানো নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও সহীহ মনে করেন, তবে শিকার তাড়নাকারীর ওপর কি গাছ কাটা বা শিকার হত্যার মতো দণ্ড আবশ্যক করবেন?" উত্তরে বলা হবে: যদি তাড়ানোর কারণে শিকারটি ধ্বংস বা মারা যায় এবং এই তাড়ানোই তার ধ্বংসের কারণ হয়, তবে দণ্ড আবশ্যক হবে; যেমন গাছ কাটার ফলে তা মারা যায় বা ধ্বংস হয় বলে দণ্ড আবশ্যক হয়। ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ কিন্তু যদি তাড়ানোটি তার ধ্বংস বা ক্ষতির কারণ না হয়, তবে তাওবা ও অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুই নেই। আতা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন: "সামান্য কিছু খাদ্য দান করবে।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৯)
26 - وَحَدَّثَنَا ابْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ عَطَاءٍ، فِيمَنْ أَخَذَ طَائِرًا فِي الْحَرَمِ ثُمَّ أَرْسَلَهُ، قَالَ: «يُطْعِمُ شَيْئًا لِمَا نَفَّرَهُ» فَإِنْ فَعَلَ فَاعِلٌ مَا ذَكَرْتُ مَا قَالَهُ: عَطَاءٌ، فَمُحْسِنٌ مُجْمِلٌ، غَيْرَ أَنَّ ذَلِكَ غَيْرُ وَاجِبٍ عَلَيْهِ عِنْدَنَا، وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ نَحْوَ الْقَوْلِ الَّذِي قُلْنَاهُ
২৬ - এবং ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর থেকে, হাজ্জাজ থেকে, আতা থেকে; সেই ব্যক্তির সম্পর্কে যে হারামের সীমানায় কোনো পাখি ধরে অতঃপর তা ছেড়ে দেয়, তিনি বলেন: "পাখিটিকে আতঙ্কিত করার কারণে সে সামান্য কিছু দান করবে।" অতঃপর কোনো ব্যক্তি যদি তা-ই করে যা আমি উল্লেখ করেছি এবং আতা যা বলেছেন, তবে সে অত্যন্ত উত্তম কাজ করল; তবে আমাদের নিকট তা তার ওপর ওয়াজিব নয়। আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমাদের বক্তব্যের অনুরূপ অভিমত বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ১৯)
27 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ شَيْخٍ، مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ: أَنَّ حَمَامًا، كَانَ عَلَى الْبَيْتِ فَخَرِيَ عَلَى يَدِ عُمَرَ رضي الله عنه فَأَشَارَ بِيَدِهِ، فَطَارَ، فَوَقَعَ عَلَى بَعْضِ بُيُوتِ مَكَّةَ، فَجَاءَتْ حَيَّةٌ فَأَكَلَتْهُ، «فَحَكَمَ عُمَرُ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَلَى نَفْسِهِ بِشَاةٍ» ، فَلَمْ يَرَ عُمَرُ رحمه الله لَمَّا نَفَّرَ الْحَمَامَةَ الْوَاقِعَةَ عَلَى الْبَيْتِ بِتَنْفِيرِهِ إِيَّاهَا عَلَيْهِ شَيْئًا حَتَّى تَلِفَتْ، فَلَمَّا تَلِفَتْ، وَكَانَ عِنْدَهُ أَنَّ سَبَبَ تَلَفِهَا كَانَ مِنْ تَنْفِيرِهِ إِيَّاهَا، أَلْزَمُ نَفْسَهُ جَزَاءَهَا فَجَزَاهَا " وَذَلِكَ هُوَ الْحَقُّ، وَإِنَّمَا اسْتَجَازَ عُمَرُ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ تَنْفِيرَهُ مِنَ الْمَوْضِعِ الَّذِي كَانَ وَاقِعًا عَلَيْهِ، مَعَ عِلْمِهِ أَنَّ تَنْفِيرَ صَيْدِهِ غَيْرُ جَائِزٍ، لِأَنَّ الطَّائِرَ الَّذِي نُفِّرَ ذَرَقَ عَلَى يَدِهِ فَكَانَ لَهُ طَرْدُهُ عَنِ الْمَوْضِعِ الَّذِي يَلْحَقُهُ أَذَاهُ فِي كَوْنِهِ فِيهِ ⦗ص: 20⦘، وَكَذَلِكَ كَانَ عَطَاءٌ يَقُولُ: فِي نَحْوِ مَعْنَى ذَلِكَ
২৭ - ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকাম থেকে, তিনি মক্কার জনৈক শায়খ থেকে বর্ণনা করেন যে: কাবাঘরের ওপর একটি কবুতর ছিল, সেটি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাতের ওপর বিষ্ঠা ত্যাগ করল। তখন তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন, ফলে সেটি উড়ে গেল এবং মক্কার কোনো এক গৃহের ওপর গিয়ে বসল। এরপর একটি সাপ এসে সেটিকে খেয়ে ফেলল। "অতঃপর উমর—আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন—নিজের ওপর একটি বকরী (জরিমানা) ধার্য করলেন।" উমর রাহিমাহুল্লাহ যতক্ষণ না কবুতরটি মারা গেল, ততক্ষণ কাবাঘরে অবস্থানরত কবুতরটিকে তাড়ানোর কারণে নিজের ওপর কোনো দায় দেখেননি। কিন্তু যখন সেটি মারা গেল এবং তাঁর নিকট প্রতীয়মান হলো যে সেটির মৃত্যুর কারণ ছিল তাঁর তাড়ানো, তখন তিনি নিজের ওপর সেটির বিনিময় আবশ্যক করলেন এবং তা আদায় করলেন। আর এটিই হলো সত্য। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যে স্থানে কবুতরটি বসে ছিল সেখান থেকে সেটিকে তাড়ানো কেবল এ জন্যই বৈধ মনে করেছিলেন—যদিও তিনি জানতেন যে হারামের শিকার তাড়ানো বৈধ নয়—কারণ যে পাখিটিকে তাড়ানো হয়েছিল সেটি তাঁর হাতের ওপর বিষ্ঠা ত্যাগ করেছিল। ফলে সেটি যেখানে অবস্থান করার কারণে তিনি কষ্টের শিকার হচ্ছিলেন, সেখান থেকে সেটিকে সরিয়ে দেওয়ার অধিকার তাঁর ছিল ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘, আর আতা-ও অনুরূপ অর্থের কথা বলতেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - মুসনাদু ইবনি আব্বাস (পৃষ্ঠা: ২০)
28 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: قُلْتُ: لِعَطَاءٍ: كَمْ فِي بَيْضَةٍ مِنْ بِيضِ حَمَامِ الْحَرَمِ؟ قَالَ: " فِي بَيْضَةٍ نِصْفُ دِرْهَمٍ، وَفِي الْبَيْضَتَيْنِ دِرْهَمٌ، وَيُحْكُمُ فِيهِ ، قَالَ: وَقَالَ إِنْسَانٌ لِعَطَاءٍ: بَيْضَةٌ وَجَدْتُهَا عَلَى فِرَاشِي، أُمِيطُهَا عَنْ فِرَاشِي؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قُلْتُ: لِعَطَاءٍ: بَيْضَةٌ وَجَدْتُهَا فِي سَهْوَةٍ أَوْ فِي مَكَانٍ مِنَ الْبَيْتِ؟ قَالَ: «فَلَا تُمِطْهَا» فَرَأَى عَطَاءٌ أَنَّ الْمُمِيطَ عَنْ فِرَاشِهِ بَيْضَةً مِنْ بَيْضِ حَمَامِ الْحَرَمِ فِي الْحَرَمِ غَيْرِ حَرَجٍ، وَلَا لَازِمُهُ فِي إِمَاطَتِهِ إِيَّاهَا شَيْءٌ، لِأَنَّ فِي تَرْكِهِ إِيَّاهَا عَلَى فِرَاشِهِ عَلَيْهِ أَذًى، وَلَمْ يَرَ جَائِزَةَ إِمَاطَتِهَا عَنِ الْمَوْضِعِ الَّذِي لَا أَذًى عَلَيْهِ فِي كَوْنِهَا فِيهِ، فَكَذَلِكَ كَانَ مِمَّا كَانَ مِنْ فِعْلِ عُمَرَ رضي الله عنه فِي إِطَارَتِهِ الْحَمَامَةَ الَّتِي طَيَّرَهَا إِذْ ذَرَفَتْ عَلَى يَدِهِ مِنَ الْمَوْضِعِ الَّذِي كَانَتْ وَاقِعَةً عَلَيْهِ، وَأَمَا قَوْلُهُ: «وَلَا تُلْتَقَطُ لُقَطَتُهَا إِلَّا لِمُعَرِّفٍ» ، فَإِنَّهُ يَقُولُ: الْقَائِلُ فِيهِ: وَهَلْ لِمُلْتَقِطٍ فِي غَيْرِ الْحَرَمِ الْتِقَاطُ لُقَطَةً لِغَيْرِ التَّعْرِيفِ، فَيُخَصُّ الْحَرَمُ بِأَنَّ لُقَطَتَهَا لَا تَحِلُّ إِلَّا لِمُعَرِّفٍ؟ فَيُقَالُ لَهُ: إِنَّ مَعْنَى ذَلِكَ بِخِلَافِ مَا ظَنَنْتَ، وَإِنَّمَا مَعْنَى ذَلِكَ: وَلَا يَحِلُّ الْتِقَاطُ لُقَطَتُهَا إِلَّا لِلتَّعْرِيفِ خَاصَّةً، دُونَ الِانْتِفَاعِ بِهَا، وَذَلِكَ أَنَّ اللُّقَطَةَ فِي غَيْرِهَا، لِوَاجِدِهَا الِانْتِفَاعُ بِهَا بَعْدَ تَعْرِيفِهَا حَوْلًا، عَلَى أَنَّهُ ضَامِنُهَا لِصَاحِبِهَا إِذَا حَضَرَ ⦗ص: 21⦘، وَلَيْسَ ذَلِكَ لِمُلْتَقِطِهَا فِي الْحَرَمِ، إِنَّمَا لَهُ إِذَا الْتَقَطَهَا فِيهِ تَعْرِيفُهَا أَبَدًا، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ لَهُ الِانْتِفَاعُ بِهَا أَوْ بِشَيْءٍ مِنْهَا فِي وَقْتٍ مِنَ الْأَوْقَاتِ، حَتَّى يَأْتِيَهُ صَاحِبُهَا، وَقَدْ حُكِيَ شَبِيهٌ بِهَذَا الْمَعْنَى فِي هَذَا الْخَبَرِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ
২৮ - মুহাম্মাদ বিন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আতা-কে জিজ্ঞেস করলাম: হারামের কবুতরের একটি ডিমের বিনিময়ে কত (জরিমানা) দিতে হবে? তিনি বললেন: "একটি ডিমের জন্য অর্ধেক দিরহাম এবং দুটি ডিমের জন্য এক দিরহাম, আর এভাবেই ফয়সালা করা হবে।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এক ব্যক্তি আতাকে বললেন: আমি আমার বিছানায় একটি ডিম পেয়েছি, আমি কি তা আমার বিছানা থেকে সরিয়ে দেব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। আমি (ইবনে জুরাইজ) আতাকে বললাম: যদি আমি ডিমটি ঘরের কোনো কোণে বা ঘরের কোনো স্থানে পাই? তিনি বললেন: "তবে তা সরাবে না।" আতা (রহ.) মনে করতেন যে, হারামের মধ্যে হারামের কবুতরের ডিম নিজের বিছানা থেকে সরিয়ে দেওয়াতে কোনো দোষ নেই এবং তা সরানোর কারণে তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক হবে না; কারণ তা বিছানায় রেখে দিলে তার কষ্ট হবে। কিন্তু তিনি ডিমটিকে এমন কোনো স্থান থেকে সরানো জায়েজ মনে করতেন না যেখানে থাকলে কোনো কষ্ট হয় না। অনুরূপভাবে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমলও সেরূপ ছিল যখন তিনি কবুতরটিকে সেই স্থান থেকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন যেখানে সেটি বসে ছিল এবং তাঁর হাতের ওপর বিষ্ঠা ত্যাগ করেছিল। আর তাঁর এই বাণী: "সেখানকার কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু ঘোষণা দেওয়া ব্যতীত কেউ যেন না উঠায়" - এ সম্পর্কে প্রশ্নকারী বলতে পারে: হারামের বাইরে কি কোনো কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু ঘোষণা দেওয়া ব্যতীত উঠানো জায়েজ যে হারামের জন্য বিশেষ করে বলা হলো যে সেখানকার কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু ঘোষণা দেওয়া ব্যতীত বৈধ নয়? এর উত্তরে তাকে বলা হবে: এর অর্থ তোমার ধারণার বিপরীত। বরং এর অর্থ হলো: হারামের কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু উঠানো কেবল ঘোষণা করার জন্যই বৈধ, তা ব্যবহারের জন্য নয়। বিষয়টি হলো এই যে, হারাম ব্যতীত অন্য স্থানের কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু এক বছর ঘোষণার পর প্রাপ্ত ব্যক্তি তা ব্যবহার করতে পারে, এই শর্তে যে যদি মালিক উপস্থিত হয় তবে সে তার জিম্মাদার থাকবে ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘। কিন্তু হারামের ক্ষেত্রে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর বিধান এমন নয়। বরং কেউ যদি হারামে কোনো বস্তু কুড়িয়ে পায়, তবে তাকে তা সর্বদা ঘোষণা দিয়ে যেতে হবে, কোনো সময়েই সেটি বা তার কোনো অংশ ব্যবহার করার অধিকার তার নেই, যতক্ষণ না তার মালিক আসে। আর এই বর্ণনায় আব্দুর রহমান বিন মাহদী থেকেও অনুরূপ অর্থ বর্ণিত হয়েছে।