(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: -)
تعظيم قدر الصلاة - محمد بن نصر المروزي (محمد بن نصر المروزي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: تعظيم قدر الصلاة
المؤلف: محمد بن نصر المَرْوَزِي (ت 294 هـ)
المحقق: د. عبد الرحمن بن عبد الجبار الفريوائي
الناشر: مكتبة الدار - المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1406 هـ
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাজিমু কদরিস সালাহ - মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযি (মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: তাজিমু কদরিস সালাহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযি (মৃত্যু ২৯৪ হিজরি)
তাহকিক: ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল জব্বার আল-ফারিওয়াই
প্রকাশক: মাকতাবাতুদ দার - মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরকৃত)
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: -)
تَعْظِيمُ قَدْرِ الصَّلَاةِ لِمُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ الْمَرْوَزِيِّ
মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী রচিত সালাতের মর্যাদার মাহাত্ম্য
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
بسم الله الرحمن الرحيمرَبِّ يَسِّرْ وَأَعِنْ بِرَحْمَتِكَأَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَطِيَّةَ بْنِ حَبِيبٍ الْمُقْرِئُ الدِّمَشْقِيُّ الْمُفَسِّرُ، قَالَ: أَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحَصَايِرِيُّ الدِّمَشْقِيُّ الْفَقِيهُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِدِمَشْقَ قَالَ: أَنَا أَبُو يَحْيَى الْجُنَيْدُ بْنُ خَلَفِ بْنِ حَاجِبِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ الْجُنَيْدِ السَّمَرْقَنْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنََا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ:بَابٌ فِي تَعْظِيمِ قَدْرِ الصَّلَاةِ وَتَفْضِيلِهَا عَلَى سَائِرِ الْأَعْمَالِ:الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُمْتَنِّ عَلَى عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا دَلَّهُمْ عَلَيْهِ مِنْ مَعْرِفَتِهِ وَشَرَحَ صُدُورَهُمْ لِلْإِيمَانِ بِهِ وَالْإِخْلَاصِ بِالتَّوْحِيدِ لِرُبُوبِيَّتِهِ، وَخَلْعِ كُلِّ مَعْبُودٍ سِوَاهُ، فَفَرَضَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ عَلَيْهِمْ فَرَائِضَهُ، فَلَا نِعْمَةَ أَعْظَمُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ بِاللهِ مِنْ نِعْمَةِ الْإِيمَانِ، وَالْخُضُوعِ لِرُبُوبِيَّتِهِ، ثُمَّ النِّعْمَةُ الْأُخْرَىَ مَا افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ مِنَ الصَّلَاةِ خُضُوعًا لِجَلَالِهِ، وَخُشُوعًا لِعَظَمَتِهِ، وَتَوَاضُعًا لِكِبْرِيَائِهِ، وَلَمْ يَفْتَرِضْ عَلَيْهِمْ بَعْدَ تَوْحِيدِهِ، وَالتَّصْدِيقِ بِرُسُلِهِ، وَمَا جَاءَ مِنْ عِنْدِهِ فَرِيضَةً أَوَّلَ مِنَ الصَّلَاةِ، وَأَخْبَرَ أَنَّ ذَلِكَ أَمْرُهُ لَهُمْ، وَلِلْأَنْبِيَاءِ وَالْأُمَمِ قَبْلَ أَنْ يَبْعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم. آيَاتٌ دَالَّةٌ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ فَرِيضَةً عَلَى الْأَنْبِيَاءِ: فَقَالَ عز وجل {لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنْفَكِّينَ حَتَّى تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفًا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।হে আমার রব! সহজ করে দিন এবং আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য করুন।আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন আতিয়্যাহ ইবন হাবীব আল-মুকরি আদ-দিমাশকি আল-মুফাসসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাসান ইবন হাবীব ইবন আব্দুল মালিক আল-হাসায়িরি আদ-দিমাশকি আল-ফকিহ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন—দিমাশকে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে—তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া আল-জুনাইদ ইবন খালাফ ইবন হাজিব ইবন আল-ওয়ালিদ ইবন আল-জুনাইদ আস-সামারকান্দি আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন নাসর আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:সালাতের মর্যাদার মহত্ত্ব এবং অন্যান্য সকল আমলের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক অধ্যায়:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যা তিনি তাঁদেরকে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে এবং তাঁদের বক্ষকে তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন ও তাঁর রুবুবিয়াতের তাওহীদের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়ার জন্য এবং তিনি ব্যতীত অন্য সকল উপাস্যকে বর্জন করার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে করেছেন। অতঃপর তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত হোক, তিনি তাঁদের ওপর তাঁর ফরযসমূহকে বিধিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী মুমিনদের জন্য ঈমানের নেয়ামত এবং তাঁর রুবুবিয়াতের সামনে মাথা নত করার চেয়ে বড় কোনো নেয়ামত আর নেই। এরপর অন্য নেয়ামত হলো যা তিনি তাঁদের ওপর সালাতকে ফরয করেছেন তাঁর মহত্ত্বের প্রতি আনুগত্যস্বরূপ, তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি বিনয়স্বরূপ এবং তাঁর গরিমা বা বড়ত্বের সামনে নম্রতাস্বরূপ। তাঁর তাওহীদ, তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে তার সত্যতা স্বীকার করার পর তিনি সালাতের আগে অন্য কোনো বিধান ফরয করেননি। আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণের পূর্বেও এটিই ছিল তাঁদের প্রতি এবং নবীগণ ও উম্মতদের প্রতি তাঁর নির্দেশ। নবীগণের ওপর সালাত ফরয ছিল তার প্রমাণস্বরূপ আয়াতসমূহ: মহামহিম আল্লাহ বলেন, {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ছিল না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে; অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসূল, যিনি পাঠ করবেন পবিত্র সহীফাসমূহ...}
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
مُطَهَّرَةً فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ، وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لَيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ َحُنَفَاءَ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتوُا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [سورة:]
শুদ্ধ ও পবিত্র (সহীফা), যাতে রয়েছে সুপ্রতিষ্ঠিত ও সঠিক বিধানসমূহ। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা কেবল তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই বিভক্ত হয়েছে। আর তাদের এছাড়া অন্য কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা যেন আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং সত্যনিষ্ঠ হয়ে কেবল তাঁরই ইবাদত করে, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে; আর এটাই হলো সুদৃঢ় ও সঠিক ধর্মাদর্শ। [সূরা:]
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
أَوَّلُ فَرِيضَةٍ بَعْدَ الْإِخْلَاصِ بِالْعِبَادَةِ لِلَّهِ الصَّلَاةُ فَجَعَلَ أَوَّلَ فَرِيضَةٍ نَصَّهَا بِالتَّسْمِيَةِ بَعْدَ الْإِخْلَاصِ بِالْعِبَادَةِ لِلَّهِ الصَّلَاةَ، وَقَالَ عز وجل: {فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ، فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ} [التوبة: 5] وَقَالَ: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ} [التوبة: 11] وَنَظِيرُ ذَلِكَ جَاءَتِ الْأَخْبَارُ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:
আল্লাহর প্রতি ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়ার পর সর্বপ্রথম ফরজ হলো সালাত। সুতরাং তিনি আল্লাহর প্রতি ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়ার পর নাম উল্লেখ করে নির্ধারিত প্রথম ফরজ হিসেবে সালাতকে সাব্যস্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হবে, তখন মুশরিকদের যেখানেই পাবে হত্যা করো, তাদের বন্দি করো, তাদের অবরুদ্ধ করো এবং প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে থাকো। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও} [আত-তাওবাহ: ৫]। তিনি আরও বলেছেন: {অতঃপর যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তারা দ্বীনের মধ্যে তোমাদের ভাই} [আত-তাওবাহ: ১১]। আর এর অনুরূপ বর্ণনা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
1 - فَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَنَا حَكَّامُ بْنُ سَلْمٍ ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ فَارَقَ الدُّنْيَا عَلَى الْإِخْلَاصِ لِلَّهِ، وَعِبَادَتِهِ لِلَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، فَارَقَهَا وَاللَّهُ عَنْهُ رَاضٍ» ⦗ص: 87⦘ وَهُوَ دِينُ اللَّهِ الَّذِي جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ، وَبَلَّغُوهُ عَنْ رَبِّهِمْ مِنْ قَبْلِ هَرْجِ الْأَحَادِيثِ، وَاخْتِلَافِ الْأَهْوَاءِ، وَتَصْدِيقُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ} [التوبة: 5] فَقَوْلُهُ: {فَإِنْ تَابُوا} [التوبة: 5] خَلَعُوا الْأَوْثَانَ وَعِبَادَتَهَا {وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ} [التوبة: 5] وَقَالَ فِي آيَةٍ أُخْرَى: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ} [التوبة: 11] ⦗ص: 88⦘ . 2 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ أَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى ثنا أَبُو جَعْفَرٍ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ، وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ: قَالَ أَنَسٌ: «وَهُوَ دِينُ اللَّهِ الَّذِي جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ»
১ - আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, হাক্কাম বিন সালম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর আর-রাজি আর-রাবি বিন আনাস থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা, তাঁর একত্ববাদ তথা তাঁর কোনো শরিক না থাকা অবস্থায় তাঁর ইবাদত করা, সালাত কায়েম করা এবং জাকাত প্রদান করার ওপর দুনিয়া ত্যাগ করল, সে দুনিয়া ত্যাগ করল এমতাবস্থায় যে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট।" ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭⦘ আর এটিই আল্লাহর সেই দ্বীন যা নিয়ে রাসূলগণ এসেছিলেন এবং হাদীসসমূহের বিশৃঙ্খলা ও প্রবৃত্তির ভিন্নতা তৈরি হওয়ার পূর্বেই তাঁরা তা তাঁদের রবের পক্ষ থেকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। আল্লাহর কিতাবে এর সত্যায়ন রয়েছে: {অতঃপর যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও} [আত-তাওবাহ: ৫]। সুতরাং তাঁর বাণী: {অতঃপর যদি তারা তাওবা করে} অর্থাৎ তারা মূর্তি ও মূর্তিপূজা বর্জন করে, {এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও}। তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: {অতঃপর যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তারা দ্বীনের মধ্যে তোমাদের ভাই} [আত-তাওবাহ: ১১]। ⦗পৃষ্ঠা: ৮৮⦘ । ২ - আমাদের নিকট ইসহাক বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর আর-রাবি বিন আনাস থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এই হাদীসে বলেছেন: আনাস বলেছেন: "আর এটিই আল্লাহর সেই দ্বীন যা নিয়ে রাসূলগণ এসেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
3 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ أَنَا جَرِيرٌ عَنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: " قَوْمٌ يَسْأَلُونِي عَنِ السُّنَّةِ،؟ فَقَرَأَ: {لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ مُنْفَكِّينَ حَتَّى تَأْتِيَهُمُ الْبَيِّنَةُ} [البينة: 1] حَتَّى بَلَغَ {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5] ⦗ص: 89⦘ قَرَأَهَا وَهُوَ يُعَرِّضُ بِالْمُرْجِئَةِ "
৩ - ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের নিকট মুগীরাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "একদল লোক আমাকে সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে?" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তারা ততক্ষণ (তাদের পথ থেকে) বিচ্যুত হওয়ার ছিল না, যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে।} [আল-বাইয়্যিনাহ: ১] এমনকি তিনি (এই আয়াত পর্যন্ত) পৌঁছালেন {আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং একমুখী হয়ে তাঁর ইবাদত করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে। আর এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫] ⦗পৃষ্ঠা: ৮৯⦘ তিনি এটি পাঠ করার মাধ্যমে মুরজিআদের মতবাদের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُسْنَدِيُّ أَبُو جَعْفَرٍ ثنا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ قَالَ، ثنا شُعْبَةُ عَنْ وَاقِدِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ»
৪ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুসনাদী আবু জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হারামী ইবনে উমারা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শু'বা ওয়াকিদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। যদি তারা তা করে, তবে তারা আমার থেকে তাদের জান ও মাল নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।»
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ ثنا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ الْكِلَابِيُّ ثنا عِمْرَانُ أَبُو الْعَوَّامِ الْقَطَّانُ ثنا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ارْتَدَّتِ الْعَرَبُ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا أَبَا بَكْرٍ، أَتُرِيدُ أَنْ تُقَاتِلَ الْعَرَبَ؟ فَقَالَ ⦗ص: 90⦘ أَبُو بَكْرٍ: إِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ» وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا مِمَّا كَانُوا يُعْطُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَيْهِ، فَقَالَ عُمَرُ: فَلَمَّا رَأَيْتُ رَأْيَ أَبِي بَكْرٍ قَدْ شُرِحَ عَلِمْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ
৫ - মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমর ইবনে আসিম আল-কিলাবি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইমরান আবু আল-আওয়াম আল-কাত্তান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মা'মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন আরবরা ধর্মত্যাগী হয়ে গেল। তখন উমর বললেন: হে আবু বকর, আপনি কি আরবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চান? তখন ⦗পৃষ্ঠা: ৯০⦘ আবু বকর বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো কেবল এটাই বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে।" আল্লাহর শপথ, তারা যদি আমাকে একটি বকরির বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদান করত, তবে আমি তার বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। উমর বললেন: অতঃপর যখন আমি দেখলাম যে আবু বকরের অন্তর (এই সিদ্ধান্তের জন্য) প্রশস্ত হয়েছে, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটিই সত্য।
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯০)
6 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ ثنا أَبُو النَّضْرِ، قَالَ: ثنا أَبُو جَعْفَرٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا ⦗ص: 91⦘ مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ "
৬ - মাহমুদ ইবনে গায়লান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নযর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু জাফর ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। যখন তারা এটি করবে, তখন তারা ⦗পৃষ্ঠা: ৯১⦘ আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ সুরক্ষিত করে নেবে, তবে হকের কারণ ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর অর্পিত।"
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯১)
7 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ قَالَ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ ثنا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَنْمٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَدْلَجَ لِلنَّاسِ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، ثُمَّ قَالَ: «يَا مُعَاذُ، إِنْ شِئْتَ حَدَّثْتُكَ بِرَأْسِ هَذَا الْأَمْرِ وَقِوَامِهِ» فَقُلْتُ: بَلَى، بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِنَّ رَأْسَ هَذَا الْأَمْرِ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَتَشْهَدَ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَنَّ قِوَامَ هَذَا الْأَمْرِ إِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، وَيَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ اعْتَصَمُوا وَعَصَمُوا دِمَاءَهُمْ ⦗ص: 92⦘ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ»
৭ - ইসহাক বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাওহ বিন উবাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, আবদুল হামিদ বিন বাহরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাহর বিন হাওশাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন গানম মুয়ায বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধে লোকদের নিয়ে রাতের শেষাংশে পথ চলেছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন: «হে মুয়ায, তুমি চাইলে আমি তোমাকে এই বিষয়ের মূল এবং এর স্তম্ভ সম্পর্কে অবহিত করব?» আমি বললাম: «অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক», তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এই বিষয়ের মূল হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং সাক্ষ্য দেওয়া যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আর এই বিষয়ের স্তম্ভ হলো সালাত কায়েম করা এবং জাকাত প্রদান করা। আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। যখন তারা তা করবে, তখন তারা তাদের রক্তকে সুরক্ষিত করে নেবে ⦗পৃষ্ঠা: ৯২⦘ একমাত্র তার হক ব্যতীত, আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত থাকবে।»
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯২)
8 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُسْنَدِيُّ قَالَا: ثنا أَبُو نُعَيْمٍ ثنا أَبُو الْعَنْبَسِ قَالَ إِسْحَاقُ: وَهُوَ سَعِيدُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ حُرِّمَتْ دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ "
৮ - ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ও আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুসনাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল আনবাস বর্ণনা করেছেন। ইসহাক বলেন: তিনি হলেন সাঈদ ইবনে কাসীর। তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। সুতরাং যখন তারা তা করবে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার থেকে সুরক্ষিত হয়ে যাবে, আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।"
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
9 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ أَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، فَإِذَا شَهِدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَصَلَّوْا صَلَاتَنَا، وَاسْتَقْبَلُوا قِبْلَتَنَا، وَأَكَلُوا ذَبِيحَتَنَا، حُرِّمَتْ عَلَيْنَا دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، لَهُمْ مَا لِلْمُسْلِمِينَ، وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَيْهِمْ»
৯ - হাসান ইবন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুমায়দ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আনাস ইবন মালিক থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। অতঃপর যখন তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, এবং আমাদের মতো সালাত আদায় করবে, আমাদের কিবলামুখী হবে এবং আমাদের জবেহকৃত পশু আহার করবে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে, তবে এর (ইসলামী শরয়ি) হক ব্যতীত। মুসলিমদের জন্য যা (অধিকার হিসেবে) রয়েছে তাদের জন্যও তা থাকবে এবং মুসলিমদের ওপর যা (দায়িত্ব হিসেবে) রয়েছে তাদের ওপরও তা বর্তাবে।»
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى ثنا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ أَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ أَيُّوبَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، فَإِذَا شَهِدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَصَلَّوْا ⦗ص: 94⦘ صَلَاتَنَا، وَاسْتَقْبَلُوا قِبْلَتَنَا، وَأَكَلُوا ذَبِيحَتَنَا، حُرِّمَتْ عَلَيْنَا أَمْوَالُهُمْ وَدِمَاؤُهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، لَهُ مَا لِلْمُسْلِمِينَ وَعَلَيْهِ مَا عَلَيْهِمْ»
১০ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি মারিয়াম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে ইয়াহইয়া অর্থাৎ ইবন আইয়ুব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: হুমায়েদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। অতঃপর যখন তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করে ⦗পৃষ্ঠা: ৯৪⦘ আমাদের কিবলামুখী হয় এবং আমাদের জবেহকৃত পশু আহার করে, তখন আমাদের জন্য তাদের ধন-সম্পদ ও রক্ত হারাম হয়ে যায়, তবে এর হকের বিষয় ভিন্ন। মুসলমানদের যেসব অধিকার রয়েছে তাদেরও সেই একই অধিকার থাকবে এবং মুসলমানদের ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে তাদের ওপরও সেই একই দায়িত্ব থাকবে।"
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
11 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بُلْقِينَ، عَنِ ابْنِ عَمٍّ، لَهُ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِوَادِي الْقُرَى، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بِمَ أُمِرْتَ؟ قَالَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ".
১১ - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে, তিনি বুলকাইন গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে, তিনি তার এক চাচাতো ভাই থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি ওয়াদিল কুরায় ছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনাকে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন: "আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, এবং তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে।"
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ، مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الرَّازِيُّ، ثنا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الرَّقِّيُّ ثنا عُرْوَةُ بْنُ مَرْوَانَ الْخَزَّازُ الْعِرْقِيُّ ثنا عُمَيْرُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِي الْعَوَّامِ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْبَلُ مَنْ أَجَابَهُ إِلَى الْإِسْلَامِ إِلَّا بِإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَكَانَتَا فَرِيضَتَيْنِ عَلَى مَنْ أَقَرَّ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَبِالْإِسْلَامِ، وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ: {فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا وَتَابَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [المجادلة: 13] "
১২ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আর-রাযী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আর-রাক্কী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উরওয়াহ ইবনে মারওয়ান আল-খাযযায আল-ইরকী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমাইর ইবনে আল-মুগীরাহ, আবু আল-আওয়াম থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট যারা ইসলাম কবুল করতে আসত, তাদের থেকে সালাত কায়েম এবং যাকাত প্রদান ব্যতীত তা গ্রহণ করতেন না। আর যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং ইসলামের স্বীকৃতি প্রদান করত, তাদের ওপর এ দু’টি ছিল ফরজ। আর এটাই আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তোমরা তা করতে পারলে না এবং আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করলেন, তখন তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো।} [আল-মুজাদালাহ: ১৩]
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
مَا يَدُلُّ عَلَى افْتِرَاضِ الصَّلَاةِ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ وَالرُّسُلِ، عَلَيْهِمْ وَعَلَى نَبِيِّنَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَمِمَّا دَلَّ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ عَلَى تَعْظِيمِ قَدْرِ الصَّلَاةِ وَمُبَايَنَتِهَا لِسَائِرِ الْأَعْمَالِ إِيجَابُهُ إِيَّاهَا عَلَى أَنْبِيَائِهِ وَرُسُلِهِ، وَإِخْبَارُهُ عَنْ تَعْظِيمِهِمْ إِيَّاهَا، فَمِنْ ذَلِكَ أَنَّهُ جَلَّ وَعَزَّ قَرَّبَ مُوسَى نَجِيًّا، وَكَلَّمَهُ تَكْلِيمًا، فَكَانَ أَوَّلَ مَا افْتَرَضَ عَلَيْهِ بَعْدَ افْتِرَاضِهِ عَلَيْهِ عِبَادَتَهُ إِقَامُ الصَّلَاةِ، وَلَمْ يَنُصَّ لَهُ فَرِيضَةً غَيْرَهَا، فَقَالَ تبارك وتعالى مُخَاطِبًا لِمُوسَى بِكَلِمَاتِهِ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تُرْجُمَانٌ {فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَى إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعَبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} [طه: 14] فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى عِظَمِ قَدْرِ الصَّلَاةِ وَفَضْلِهَا عَلَى سَائِرِ الْأَعْمَالِ، إِذْ لَمْ يُبْدِ مُنَاجِيَهُ وَكَلِيمَهُ بِفَرِيضَةٍ أَوَّلَ مِنْهَا، ثُمَّ مَا أَخْبَرَ عَنْ سَحَرَةِ فِرْعَوْنَ بَعْدَ شِرْكِهِمْ وَعِنَادِهِمْ إِذْ يَحْلِفُونَ بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ مُتَّخِذِينَ إِلَهًا مِنْ دُونِ اللَّهِ، وَلَمْ يَأْتِهِمْ رَسُولٌ قَبْلَ ذَلِكَ، وَلَا سَمِعُوا كِتَابًا، فَلَمَّا أَرَاهُمْ مُوسَى الْآيَةَ حِينَ أَلْقَى عَصَاهُ فَقَلَبَهَا اللَّهُ حَيَّةً تَسْعَى، فَالْتَقَفَتْ
নবি ও রাসুলগণের ওপর সালাত ফরজ হওয়ার প্রমাণসমূহ, তাঁদের সবার ওপর এবং আমাদের নবিজির ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। আবু আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন: সালাতের মর্যাদার মাহাত্ম্য এবং অন্যান্য আমল থেকে এর স্বাতন্ত্র্যের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা যে প্রমাণ দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর নবি ও রাসুলগণের ওপর এটি ফরজ করা এবং তাদের সালাতকে মহিমান্বিত করার সংবাদ প্রদান করা। এরই অংশ হলো যে, মহান আল্লাহ মুসাকে নৈকট্য দান করেছেন নিভৃতে আলাপকারী হিসেবে এবং তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। ফলে তাঁর ইবাদত ফরজ করার পর তাঁর ওপর প্রথম যা ফরজ করেছিলেন তা হলো সালাত কায়েম করা। তিনি তখন সালাত ছাড়া অন্য কোনো ফরজ বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি। অতঃপর বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ মুসার সাথে তাঁর কালামের মাধ্যমে সম্বোধন করে বললেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর ও মুসার মাঝে কোনো দোভাষী ছিল না: "অতএব যা ওহি পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। অতএব আমারই ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো।" [ত্বহা: ১৪] এটি সালাতের মর্যাদার বিশালত্ব এবং অন্যান্য আমলের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে; যেহেতু তিনি তাঁর সাথে নিভৃতে আলাপকারী এবং বাক্যালাপকারীর সামনে সালাতের পূর্বে অন্য কোনো ফরজ বিধান প্রকাশ করেননি। এরপর ফেরাউনের জাদুকরদের ব্যাপারে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন—তাদের শিরক ও হঠকারিতার পর যখন তারা ফেরাউনের প্রতাপের নামে শপথ করছিল এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল; অথচ এর আগে তাদের কাছে কোনো রাসুল আসেননি এবং তারা কোনো কিতাবও শোনেননি। অতঃপর যখন মুসা তাদের নিদর্শন দেখালেন, অর্থাৎ যখন তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন এবং আল্লাহ সেটিকে একটি চলন্ত সাপে পরিণত করলেন, তখন সেটি গিলে ফেলল...
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ، فَعَلِمُوا أَنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِسِحْرٍ وَلَا يُشْبِهُهُ فِعْلُ بَنِي آدَمَ، انْقَادُوا لِلْإِيمَانِ بِاللَّهِ عز وجل، فَلَمْ يُلْهَمُوا طَاعَةً يَرْجِعُونَ بِهَا إِلَى اللَّهِ وَيَتَرَضَّوْنَهُ بِهَا ظَنًّا أَنْ يَغْفِرَ لَهُمْ عَمَّا كَانَ مِنْهُمْ إِلَّا السُّجُودُ، وَهُوَ أَعْظَمُ الصَّلَاةِ، قَالَ اللَّهُ عز وجل: {فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ} [الشعراء: 46] فَعَفَّرُوا وُجُوهَهُمْ لِلَّهِ فِي التُّرَابِ خُضُوعًا لَهُ، فَلَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُمْ مَفْزَعًا إِلَّا إِلَى الصَّلَاةِ مَعَ الْإِيمَانِ بِهِ، وَهِيَ مَفْزَعُ كُلِّ مُنِيبٍ
তাদের রশিগুলো ও তাদের লাঠিগুলো; ফলে তারা বুঝতে পারল যে এটি কোনো জাদু নয় এবং এটি আদম সন্তানের কাজের সদৃশও নয়। তারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি ঈমানের অনুগত হলো। আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার জন্য এবং তাদের কৃতকর্মের জন্য তিনি যেন তাদের ক্ষমা করে দেন—এই আশায় তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সিজদা ব্যতীত অন্য কোনো আনুগত্যের কাজের প্রতি তারা অনুপ্রাণিত হয়নি। আর সিজদাই হলো নামাজের মহানতম অংশ। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর জাদুকররা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ল। তারা বলল, আমরা বিশ্বজগতের রবের প্রতি ঈমান আনলাম, যিনি মুসা ও হারুনের রব।} [আশ-শুআরা: ৪৬]। তারা আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হয়ে মাটিতে তাদের মুখ ঘষল। আল্লাহ তাদের জন্য তাঁর প্রতি ঈমানের সাথে নামাজ ব্যতীত অন্য কোনো আশ্রয়স্থল নির্ধারণ করেননি; আর এটিই হলো প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনকারীর আশ্রয়স্থল।
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
مَا يَدُلُّ عَلَى افْتِرَاضِهَا عَلَى مُوسَى عَلَيْهِ وَعَلَى نَبِيِّنَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ ثُمَّ كَانَ مِنْ أَوَّلِ مَا أُمِرَ بِهِ مُوسَى أَنْ يَأْمُرَ بَنِي إِسْرَائِيلَ بَعْدَ أَنْ آمَنُوا بِهِ الصَّلَاةُ، فَقَالَ: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى وَأَخِيهِ أَنْ تَبَوَّءَا لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًا وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [يونس: 87]
যা মূসা (আলাইহিস সালাম) এবং আমাদের নবীর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) ওপর সালাত ফরজ হওয়ার দলীল; অতঃপর মূসাকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা হলো, বনী ইসরাঈল তাঁর ওপর ঈমান আনয়ন করার পর তিনি যেন তাদের সালাতের আদেশ দেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি মূসা ও তাঁর ভাইয়ের প্রতি ওহী পাঠালাম যে, তোমরা তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য মিসরে ঘর নির্ধারণ করো এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলামুখী করো এবং সালাত কায়েম করো।} [ইউনুস: ৮৭]
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
مَا يَدُلُّ عَلَى افْتِرَاضِهَا عَلَى عِيسَى عَلَيْهِ وَعَلَى نَبِيِّنَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، وَحَكَى عَنْ عِيسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ حِينَ تَكَلَّمَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا أَنَّهُ قَالَ: {إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا ⦗ص: 98⦘ وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَمَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا}
যা ঈসা আলাইহিস সালাম এবং আমাদের নবীর ওপর—তাঁদের প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এটি ফরজ হওয়ার প্রমাণ বহন করে; আর ঈসা আলাইহিস সালাম যখন শৈশবে দোলনায় থাকাকালীন কথা বলেছিলেন, তখন তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: {নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দান করেছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৯৮⦘ আর আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং আমি যতদিন জীবিত থাকব, তিনি আমাকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন}
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
مَا يَدُلُّ عَلَى افْتِرَاضِهَا عَلَى إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ وَعَلَى نَبِيِّنَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ وَحَكَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِهِ أَنَّهُ لَمَّا ذَهَبَ بِإِسْمَاعِيلَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا وَسَلَّمَ فَأَسْكَنَهُ بِوَادٍ لَيْسَ بِهِ أُنَيْسٌ دَعَا رَبَّهُ فَقَالَ: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحْرِمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ} [إبراهيم: 37] وَلَمْ يَذْكُرْ عَمَلًا غَيْرَ الصَّلَاةِ فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّهُ لَا عَمَلَ أَفْضَلَ مِنَ الصَّلَاةِ وَلَا يُوَازِيهَا، وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ} [الحج: 26]
ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) এবং আমাদের নবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর ওপর সালাত ফরজ হওয়ার প্রমাণাদি; এবং তাঁর খলিল (বন্ধু) ইবরাহিম সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন ইসমাইলকে (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে এমন এক উপত্যকায় বসবাস করালেন যেখানে কোনো জনমানুষ ছিল না, তখন তিনি তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করে বললেন: {হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের কতককে আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট এক শস্যহীন উপত্যকায় বসবাস করালাম। হে আমাদের রব! যাতে তারা সালাত কায়েম করে।} [ইবরাহিম: ৩৭] আর তিনি সালাত ব্যতীত অন্য কোনো আমলের কথা উল্লেখ করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, সালাতের চেয়ে উত্তম কোনো আমল নেই এবং কোনো আমলই এর সমতুল্য নয়। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আমি ইবরাহিমের জন্য বাইতুল্লাহর স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম (এই বলে) যে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং আমার ঘরকে পবিত্র রাখো তাওয়াফকারী, সালাতে দণ্ডায়মানকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য।} [হজ: ২৬]
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ، " {طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ} [البقرة: 125] قَالَ مِنَ الشِّرْكِ وَعِبَادَةِ الْأَوْثَانِ، وَقَوْلُهُ: {لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ} [الحج: 26] قَالَ الْقَائِمُونَ هُمُ الْمُصَلُّونَ "
১৩ - মুহাম্মাদ ইবনে রাফে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মা'মার কাতাদাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, "তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারীদের জন্য পবিত্র করো [আল-বাকারা: ১২৫]" তিনি বলেন: শিরক এবং মূর্তিপূজা থেকে। আর মহান আল্লাহর বাণী: "তাওয়াফকারী এবং দণ্ডায়মানদের জন্য [আল-হাজ্জ: ২৬]" তিনি বলেন: দণ্ডায়মানরা হলো সালাত আদায়কারীগণ।
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
افْتَرَاضُهَا عَلَى إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَزَكَرِيَّا عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ وَقَالَ: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهَ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ} [مريم: 55] وَقَالَ: {وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ نَافِلَةً وَكُلًّا جَعَلْنَا صَالِحِينَ وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يُهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ} وَقَالَ فِي قِصَّةِ زَكَرِيَّا: {فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ} [آل عمران: 39]
ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও যাকারিয়া (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ওপর সালাতের আবশ্যকতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর আপনি এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যবাদী এবং তিনি ছিলেন একজন রাসুল ও নবী। তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন।} [মারইয়াম: ৫৫] এবং তিনি বলেন: {আর আমি তাকে দান করলাম ইসহাক এবং অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে ইয়াকুবকে; আর তাদের প্রত্যেককেই আমি সৎকর্মশীল করেছি। আমি তাঁদেরকে ইমাম মনোনীত করেছি যারা আমার নির্দেশে মানুষকে পথ প্রদর্শন করত; আর আমি তাঁদের প্রতি ওহি পাঠিয়েছিলাম নেক কাজ করার, সালাত কায়েম করার এবং জাকাত প্রদান করার।} এবং যাকারিয়ার কাহিনীতে তিনি বলেন: {অতঃপর ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বলল, যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।} [আল-ইমরান: ৩৯]
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
14 - فَحَدَّثَنَا الدَّوْرَقِيُّ أَحْمَدُ، ثنا سَيَّارٌ ثنا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ ثَابِتًا، يَقُولُ: " الصَّلَاةُ خِدْمَةُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ، وَلَوْ عَلِمَ شَيْئًا أَفْضَلَ مِنَ الصَّلَاةِ مَا قَالَ: {فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ} [آل عمران: 39] ". قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ: {يَا مَرْيَمُ اقْنُتِي لِرَبِّكِ وَاسْجُدِي وَارْكَعِي مَعَ الرَّاكِعِينَ} [آل عمران: 43] ⦗ص: 100⦘ ثُمَّ الذَّبِيحُ ابْنُ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ، قَالَ اللَّهُ: {فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ} [الصافات: 103] قَالَ بَعْضُ الْمُفَسِّرِينَ: قَالَ لِأَبِيهِ: اذْبَحْنِي وَأَنَا سَاجِدٌ
১৪ - দাওরাকী আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জা'ফর ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাবিতকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "সালাত হলো জমিনে আল্লাহর খিদমত। তিনি যদি সালাতের চেয়ে উত্তম কোনো কিছু জানতেন, তবে তিনি বলতেন না: {অতঃপর ফেরেশতারা তাঁকে ডাকল যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন} [আল ইমরান: ৩৯]।" আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর তিনি বলেছেন: {হে মারইয়াম, তোমার রবের আনুগত্য করো, সিজদা করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো} [আল ইমরান: ৪৩] ⦗পৃষ্ঠা: ১০০⦘ অতঃপর খলিলুর রহমানের পুত্র জাবিহ (যাঁকে কুরবানী করার জন্য পেশ করা হয়েছিল), আল্লাহ বলেন: {যখন তারা উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং তিনি তাঁকে কপালে ভর দিয়ে শুইয়ে দিলেন} [আস-সাফফাত: ১০৩]। জনৈক মুফাসসির বলেন: তিনি তাঁর পিতাকে বলেছিলেন: আমাকে যবেহ করুন যখন আমি সিজদারত অবস্থায় থাকব।
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০০)
مَا يَدُلُّ عَلَى فَرْضِيَّتِهَا عَلَى دَاوُدَ عَلَيْهِ وَعَلَى نَبِيِّنَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ ثُمَّ دَاوُدُ نَبِيُّ اللَّهِ وَصَفِيُّهُ لَمَّا أَصَابَ الْخَطِيئَةَ وَأَرَادَ التَّوْبَةَ لَمْ يَجِدْ لِتَوْبَتِهِ مَفْزَعًا إِلَّا إِلَى الصَّلَاةِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهُ وَخَرَّ رَاكِعًا وَأَنَابَ} [ص: 24]
যা দাউদ (তাঁর ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ওপর সালাতের আবশ্যকতা নির্দেশ করে। অতঃপর আল্লাহর নবী ও তাঁর মনোনীত বান্দা দাউদ যখন ত্রুটির সম্মুখীন হলেন এবং তওবা করতে চাইলেন, তখন তিনি সালাত ব্যতীত তাঁর তওবার জন্য অন্য কোনো আশ্রয় খুঁজে পাননি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তিনি তাঁর রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং রুকুতে লুটিয়ে পড়লেন ও তাঁর অভিমুখী হলেন।} [সুরা সদ: ২৪]
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০০)
فَرْضِيَّتُهَا عَلَى سُلَيْمَانَ عَلَيْهِ وَعَلَى نَبِيِّنَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ ثُمَّ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَرَضَ الْخَيْلَ بِالْعَشِيِّ فَأَشْغَلَهُ النَّظَرُ إِلَيْهَا عَنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَأَخَّرَ وَقْتُهَا، فَأَسِفَ وَنَدِمَ، فَعَاقَبَ نَفْسَهُ بِأَنْ حَرَمَهَا الْخَيْلَ الَّتِي أَشْغَلَتْهُ حَتَّى جَاوَزَ وَقْتَ صَلَاتِهِ فَاعْتَرَضَهَا يُعَرْقِبُهَا عُقُوبَةً لِنَفْسِهِ لِيَغُمَّ عَلَيْهَا بَدَلًا مِنْ لَهْوِهِ بِهَا حِينَ اعْتَرَضَهَا، فَأَلْهَاهُ النَّظَرُ إِلَى حُسْنِهَا وَسُرْعَةِ سَيْرِهَا، فَلَمَّا عَاقَبَ نَفْسَهُ بِتَضْرِيبِهِ أَعْنَاقَ الْخَيْلِ شَكَرَ اللَّهُ لَهُ ذَلِكَ فَعَوَّضَهُ مِنَ الْخَيْلِ الرِّيحَ، أَسْرَعُ فِي السَّيْرِ، وَأَوْطَأُ فِي الرُّكُوبِ مِنْ فَوْقِهَا، وَأَشْرَفُ فِي الْقَدْرِ، وَأَرْفَعُ فِي الْمَنْزِلَةِ، وَأَعْجَبُ فِي الْأُحْدُوثَةِ، فَكَانَ ⦗ص: 101⦘ يَغْدُو مِنْ إِيلِيَاءَ فَيَقِيلُ بِإِصْطَخْرَ
সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) ও আমাদের নবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর ওপর এর আবশ্যকতা। অতপর দাউদ-পুত্র সুলাইমান অপরাহ্ণে ঘোড়াগুলো প্রদর্শন করলেন, ফলে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি তাঁকে আসরের সালাত থেকে বিমুখ করে রাখল, এমনকি সালাতের ওয়াক্ত অতিবাহিত হয়ে গেল। এতে তিনি ব্যথিত ও অনুতপ্ত হলেন এবং নিজেকে এই বলে শাস্তি দিলেন যে, নিজেকে সেই ঘোড়াগুলো থেকে বঞ্চিত করবেন যা তাঁকে সালাতের ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত গাফেল করে রেখেছিল। অতএব তিনি নিজেকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেগুলোর পা কাটতে শুরু করলেন যেন সেগুলোকে নিয়ে মেতে থাকার পরিবর্তে এখন তিনি সেগুলোর বিয়োগে ব্যথিত হন যখন তিনি সেগুলো পরিদর্শন করছিলেন। সেগুলোর সৌন্দর্য ও দ্রুতগতির প্রতি দৃষ্টি তাঁকে গাফেল করে দিয়েছিল। যখন তিনি ঘোড়াগুলোর ঘাড়ে আঘাত করে নিজেকে শাস্তি দিলেন, আল্লাহ তাঁর এই কাজের মূল্যায়ন করলেন এবং ঘোড়াগুলোর পরিবর্তে তাঁকে বায়ু দান করলেন, যা গতিতে অধিক দ্রুত, আরোহণে অধিক আরামদায়ক, মর্যাদায় অধিক শ্রেষ্ঠ, অবস্থানে অধিক উচ্চ এবং বর্ণনায় অধিক বিস্ময়কর। ফলে তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১০১⦘ সকালে ঈলিয়া (জেরুজালেম) থেকে যাত্রা করতেন এবং ইস্তাকরে গিয়ে দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম নিতেন।
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِهِ: " {غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ} [سبأ: 12] قَالَ: فَكَانَ يَغْدُو مِنْ دِمَشْقَ فَيَقِيلُ بِإِصْطَخْرَ، وَيَرُوحُ مِنْ إِصْطَخْرَ فَيَبِيتُ بِكَابُلَ، وَمَا بَيْنَ دِمَشْقَ وَإِصْطَخْرَ مَسِيرَةُ شَهْرٍ لِلْمُسْرِعِ، وَمِنْ إِصْطَخْرَ إِلَى كَابُلَ مَسِيرَةُ شَهْرٍ لِلْمُسْرِعِ "
১৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে রাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মা'মার হাসান থেকে তাঁর (আল্লাহর) এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "{তার সকালের যাত্রা ছিল এক মাস এবং বিকেলের যাত্রা ছিল এক মাস} [সাবা: ১২]" তিনি বলেন: তিনি দামেস্ক থেকে সকালে যাত্রা শুরু করতেন এবং ইস্তাখরে দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম নিতেন, আর ইস্তাখর থেকে বিকেলে যাত্রা করে কাবুলে রাত যাপন করতেন। দামেস্ক ও ইস্তাখরের মধ্যবর্তী দূরত্ব একজন দ্রুতগামী পথিকের জন্য এক মাসের পথ, এবং ইস্তাখর থেকে কাবুলের মধ্যবর্তী দূরত্ব একজন দ্রুতগামী পথিকের জন্য এক মাসের পথ।
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
16 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ ثنا أَبُو أُسَامَةَ ثنا مِسْعَرٌ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ «الصَّلَاةُ الَّتِي فَرَّطَ فِيهَا سُلَيْمَانُ صَلَاةُ الْعَصْرِ»
১৬ - হারুন ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজ্জায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিসআর সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “সুলাইমান যে সালাতটি আদায় করতে অবহেলা করেছিলেন, তা ছিল আসরের সালাত।”
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০২)
17 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ ثنا إِسْرَائِيلُ ثنا سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ: «كَانَتِ الْخَيْلُ الَّتِي أَشْغَلَتْ سُلَيْمَانَ بْنَ دَاوُدَ عِشْرِينَ أَلْفَ فَرَسٍ فَعَرْقَبَهَا»
১৭ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে মাসরূক বর্ণনা করেছেন ইকরিমা থেকে; তিনি বলেন: «সুলাইমান ইবনে দাউদকে যে ঘোড়াগুলো বিমুখ করে রেখেছিল, তা ছিল বিশ হাজার ঘোড়া; অতঃপর তিনি সেগুলোর পায়ের শিরা কেটে দিলেন।»
(খণ্ড: ১)
তাযীমু কাদরিস সালাহ - মুহাম্মাদ বিন নাসর আল মারওয়াযী
(পৃষ্ঠা: ১০২)
18 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا شَيْبَانُ عَنْ قَتَادَةَ، " {إِنِّي أَحْبَبْتُ حُبَّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّي} [ص: 32] قَالَ: عَنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ، {حَتَّى تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ} [ص: 32] قَالَ: حَتَّى دَلَكَتْ بَرَاحِ، قَالَ قَتَادَةُ: فَقَالَ: {رُدُّوهَا عَلَيَّ فَطَفِقَ مَسْحًا بِالسُّوقِ وَالْأَعْنَاقِ} [ص: 33] قَالَ قَتَادَةُ: قَالَ الْحَسَنُ: قَالَ: لَا وَاللَّهِ لَا تَشْغَلِينِي عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ، آخِرُّ مَا عَلَيْكِ، فَكَشَفَ عَرَاقِيبَهَا وَضَرَبَ أَعْنَاقَهَا "
১৮ - উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি শাইবান থেকে এবং তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন: “আমি তো আমার রবের স্মরণের পরিবর্তে সম্পদের ভালোবাসায় মগ্ন হয়েছি” [সোয়াদ: ৩২]। তিনি বলেন: (এর অর্থ) আসরের সালাত থেকে (বিমুখ হয়েছি)। “অবশেষে তা পর্দার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল” [সোয়াদ: ৩২]। তিনি বলেন: অর্থাৎ সূর্য যখন ডুবে গেল। কাতাদাহ বলেন: তিনি (সুলায়মান আ.) বললেন: “এগুলোকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো; তারপর তিনি সেগুলোর পা ও ঘাড়ে আঘাত করতে শুরু করলেন” [সোয়াদ: ৩৩]। কাতাদাহ বলেন: হাসান (বসরী) বলেছেন: তিনি (সুলায়মান আ.) বললেন: “না, আল্লাহর কসম! তোমরা আমাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করতে পারবে না, এটাই তোমাদের শেষ অবস্থা।” অতঃপর তিনি সেগুলোর পায়ের গোড়ালি উন্মুক্ত করলেন (কেটে ফেললেন) এবং সেগুলোর ঘাড়ে আঘাত করলেন।