(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: -)
بحر الفوائد المسمى بمعاني الأخبار للكلاباذي   (أبو بكر الكلاباذي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: بحر الفوائد المشهور بمعاني الأخبار

المؤلف: أبو بكر محمد بن أبي إسحاق بن إبراهيم بن يعقوب الكلاباذي البخاري الحنفي (ت 380هـ)

المحقق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل - أحمد فريد المزيدي

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت / لبنان

الطبعة: الأولى، 1420هـ - 1999م

عدد الصفحات: 387

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বাহরুল ফাওয়াইদ যা কাল্লাবাজীর মাআনী আল-আখবার নামে পরিচিত   (আবু বকর আল-কাল্লাবাজী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: বাহরুল ফাওয়াইদ যা মাআনী আল-আখবার নামে প্রসিদ্ধ

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবি ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন ইয়াকুব আল-কাল্লাবাজী আল-বুখারী আল-হানাফী (মৃত্যু ৩৮০ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল - আহমদ ফরিদ আল-মাজিদি

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত / লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৭

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: -)
بَحْرُ الْفَوَائِدِ الْمُسَمَّى بِمَعَانِي الْأَخْيَارِ لِلْكَلَابَاذِيِّ
আল-কালাবাদীর রচিত মাআনী আল-আখইয়ার নামক বাহরুল ফাওয়াইদ।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ١٧)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بِجَمِيعِ مَحَامِدِهِ لِجَمِيعِ آلَائِهِ وَنَعْمَائِهِ، وَالسَّلَامُ وَالتَّحِيَّةُ وَالْإِكْرَامُ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ، وَعَلَى جَمِيعِ إِخْوَانِهِ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ وَالْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ مِنْ أَهْلِ السَّمَاوَاتِ وَأَهْلِ الْأَرْضِينَ وَغَيْرِهِمْ كُلِّهِمْ أَجْمَعِينَ، وَعَلَى جَمِيعِ الصِّحَابَةِ وَالْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ وَالتَّابِعِينَ وَالصَّالِحِينَ وَعُلَمَاءِ الِّدينِ وَالشُّهَدَاءِ وَالْفُقَهَاءِ وَالْمُتَعَلِّمِينَ وِجَمَيعِ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُؤْمِنِينَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعيِنَ فِي كُلِّ لَحْظَةٍ وَلَمْحَةٍ وَخَطْرَةٍ مِنْ أَزَلِ الْأَزَلِ إِلَى أَبَدِ الْآبِدِين، يَقُولُ الْعَبْدُ الضَّعِيفُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ السَّعْدِيُّ أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْهِ وَأَسْعَدَ جَدَّهُ: ثَنا الشَّيْخُ الْقَاضِي الْإِمَامُ الْأَجَلُّ جَلَالُ الدِّينِ أَبُو الْمَحَامِدِ حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِمْلَاءً، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الصَّفَارِيُّ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنا الشَّيْخُ وَالِدِي
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর সকল নিআমত ও অনুগ্রহের বিনিময়ে তাঁর সকল প্রশংসার সাথে। এবং শান্তি, অভিবাদন ও সম্মান বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, শেষ নবীর ওপর এবং তাঁর সকল নবী ও রাসূল ভ্রাতৃবৃন্দের ওপর এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসী ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে সকল নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণের ওপর। এবং অনাদি কাল থেকে অনন্ত কাল পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত, চোখের পলক ও হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে সকল সাহাবী, খোলাফায়ে রাশেদীন, তাবেয়ীন, সৎকর্মশীলগণ, দ্বীনের আলেমগণ, শহীদগণ, ফকীহগণ, শিক্ষার্থীগণ এবং জ্বিন ও মানুষের অন্তর্ভুক্ত সকল মুসলিম ও মুমিনদের ওপর (সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক)। দুর্বল বান্দা আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন আস-সাদী—আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং তাঁর ভাগ্য সুপ্রসন্ন করুন—বলছেন: মহান ইমাম কাজী জালালুদ্দীন আবুল মাহামিদ হামিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের কাছে শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান ইমাম আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে ইসমাইল আস-সাফফারী আল-আনসারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার শায়খ তথা আমার পিতা...
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ١٨)
، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو حَاتِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الْمُسْتَمْلِي، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَدْرِ بْنُ إِسْحَاقَ الْعَارِفُ الْكَلَاَباَذيُّ الْمُصَنِّفُ، قَالَ رضي الله عنه: وَأَخْبَرَنِي بِهَذَا الْإِسْنَادِ الشَّيْخُ الْعَالِمُ الصَّالِحُ الدَّيِّنُ فَخْرُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ، وَالشَّيْخُ الْإِمَامُ زَيْنُ الصَّالِحِينَ عُمَرُ بْنُ أَبِي بَدْرٍ عُثْمَانَ الصَّابُونِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِمَا فِي الْجَامِعِ بِبُخَارَى، قاَلَ: أَخْبَرَنَا بِهَذَا الْإِسْنَادِ الشَّيْخُ الْأُسْتَاذُ ظَهِيرُ الِّدينِ أَبُو الْمَكَارِمِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَرْغِيِنَانِيُّ، وَالشَّيْخُ الْقَاضِي جَمَالُ الْقُضَاةِ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْكِرْمَانِيُّ الزُّغَانِيُّ فِي كَثِيرِينَ آخَرِينَ، قَالَ رضي الله عنه، وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْقَاضِي الْإِمَاُم. . . رحمه الله قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ نَجْمُ الدِّينِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنِ مُحَمَّدٍ النَّسَفِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَلَدِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمايمرغِيُّ الْمُصَنِّفُ رضي الله عنه، وَأَخْبَرَنَا أَيْضًا بِهَذَا الْإِسْنَادِ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ الْأُسْتَاذُ ظَهِيرُ الدِّينِ وَجَمَالُ الْقُضَاةِ الْكَرْمِينِيُّ فِي كَثِيرِينَ آخَرِينَ، قَالَ رضي الله عنه وَقَدْ أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْقَاضِي الْأَجَلُّ قَاضِي الْقُضَاةِ عِمَادُ الدِّينِ أَبُو حفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْفَضْلِ الزِّنْجِرِّيُّ بِقِرَاءَةِ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الزَّاهِدِ الْقَطَّانِ الْمُسْتَمْلِي فِي مَسْجِدهِ بَعْدَ إِمْلَائِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْقَاضِي الْإِمَامُ الْأَجَلُّ الزَّاهِدُ الْوَالِدُ، قَالَ: سَمِعْتُ مَعَانِيَ الْأَخْبَارِ، وَشَرْحَ الْآثَارِ مِنَ الشَّيْخِ الْإِمَامِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ التَّمِيمِيِّ فِي مَسْجِدِ الشَّيْخِ الْإِمَامِ شَمْسِ الْأَئِمَّةِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَحْمَدَ الْحُلْوَانِيِّ وَهُوَ حَاضِرٌ يَسْمَعُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ سِتٍّ وَثَلَاثِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، رَوَاهُ عَنِ الْمُصَنِّفِ، قَالَ رضي الله عنه، وَأَخْبَرَنَا أَيْضًا بِهَذَا الْإِسْنَادِ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ الْأُسْتَاذُ ظَهِيرُ الدِّينِ، وَالشَّيْخُ الْإِمَامُ الدَّيِّنُ فَخْرُ الْأَئِمَّةِ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ وَالشَّيْخُ الْقَاضِي الْإِمَامُ أَبُو عُمَرَ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُطَوَّعِيُّ، وَجَمَالُ الْقُضَاةِ الْكَرْمِينِيُّ، وَكَثِيرٌ مِنَ الْمَشَايِخِ يَكْثُرُ تَعْدَادُهُمْ قَدَّسَ اللَّهُ أَرْوَاحَهُمْ

তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু হাতেম ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ আল-মুস্তামলি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বদর ইবনে ইসহাক আল-আরিফ আল-কালাবাদি, যিনি এই কিতাবের লেখক। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: এবং এই সনদে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আলেম, সৎ ও ধর্মনিষ্ঠ শায়খ ফখরুদ দিন মুহাম্মদ ইবনে হারুন এবং শায়খ ইমাম জাইনুস সলিহীন উমর ইবনে আবি বদর উসমান আস-সাবুনী; বুখারার জামে মসজিদে তাঁদের সামনে আমার পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: এই সনদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ উস্তাদ জহিরুদ দিন আবুল মাকারিম আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-মারগিনানি এবং শায়খ কাজী জামালুল কুজাত আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-কিরমানি আজ-জুগানি ও আরও অনেকে। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ কাজী ইমাম... (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম নাজমুদ দিন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ আন-নাসাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-বালাদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু নাসর আহমাদ ইবনে আলী আল-মাইমারগি, যিনি লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। এবং আমাদের আরও সংবাদ দিয়েছেন এই সনদে মহাসম্মানিত শায়খ ইমাম উস্তাদ জহিরুদ দিন এবং জামালুল কুজাত আল-কারমিনি ও আরও অনেকে। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহাসম্মানিত শায়খ ইমাম প্রধান বিচারপতি ইমাদুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল ফজল আজ-জিনজিরি; শায়খ ইমাম জাহেদ আল-কাত্তান আল-মুস্তামলির পাঠের মাধ্যমে তাঁর মসজিদে, তাঁর শ্রুতিলিখনের পর। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহাসম্মানিত শায়খ কাজী ইমাম দুনিয়াবিমুখ পিতা, তিনি বলেন: আমি শায়খ ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ আত-তামিমির নিকট থেকে 'মাআনিল আখবার' এবং 'শারহুল আসার' শ্রবণ করেছি শায়খ ইমাম শামসুল আইম্মাহ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবনে আহমাদ আল-হুলওয়ানির মসজিদে, যখন তিনি উপস্থিত হয়ে শ্রবণ করছিলেন চারশো ছত্রিশ হিজরি সনের রমজান মাসে। তিনি এটি লেখকের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: এবং আমাদের আরও সংবাদ দিয়েছেন এই সনদে মহাসম্মানিত শায়খ ইমাম উস্তাদ জহিরুদ দিন এবং ধর্মনিষ্ঠ শায়খ ইমাম ফখরুল আইম্মাহ মুহাম্মদ ইবনে হারুন, শায়খ কাজী ইমাম আবু উমর, উসমান ইবনে আবি বকর আল-মুতাওয়িই এবং জামালুল কুজাত আল-কারমিনি ও আরও অনেক মাশায়েখ যাঁদের সংখ্যা অনেক; আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে পবিত্র করুন।

(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ١٩)
، قَالَ: رضي الله عنه، وَقَدْ أَخْبرَنَا الشَّيْخُ الْقَاضِي الْعَالِمُ الْأَجَلُّ الْأُسْتَاذُ بَهَاءُ الدِّينِ مُفْتِي الشَّرْقِ وَالْغَرْبِ أَبُو الْمَحَامِدِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ الْمَنْسُوبُ إِلَى إِسْبِيجَابَ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ بِبُخَارَى ـ أَعْمَرَهَا اللَّهُ وَخَلَّصَ أَهْلَهَا وَأَئِمَّتَهَا ـ فِي أَوَائِلِ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسِتِّينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْقَاضِي الْإِمَامُ الزَّاهِدُ اللَّدُنِّيُّ قَالَ: أَخْبرَنَا الشَّيْخُ الْقَاضِي الْإِمَامُ صُدْرُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْيَسَرِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْبَزْدَوِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ شَمْسُ الْأَئِمَّةِ فَخْرُ الْإِسْلَامِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْكَاتِبُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الزَّاهِدُ الْعَارِفُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَعْقُوبَ الْكَلَابَاذِيُّ الْبُخَارِيُّ الْمُصَنِّفُ إِمْلَاءً بِدَرْبِ الْجَدِيدِ فِي سَنَةِ خَمْسٍ وَسَبْعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، قَالَ رضي الله عنه: وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ الْأُسْتَاذُ ظَهيِرُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمُحْبُوبِيُّ، وَالشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ الْأُسْتَاذُ ظَهِيرُ الدِّينِ الْمِرْغِيَنَانِيُّ، وَالشَّيْخُ الْقَاضِي الْإِمَامُ جَمَالُ الْقُضَاةِ الْكَرْمِينِيُّ، وَالشَّيْخُ الْقَاضِي الْإمَامُ أَبُو عُمَرَ الْمُطَوَّعِيُّ، وَغَيْرُهُمْ، قَالُوا: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْقَاضِي الْإِمَامُ الزَّاهِدُ عِمَادُ الدِّينِ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَنْصُورٍ النَّسَفِيُّ رحمه الله، وَقَدْ تُوُفِّيَ سَنَةَ خَمْسٍ وَخَمْسِمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شَمْسُ الْأَئِمَّةِ الْحُلْوَانِيُّ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْكَاتِبِ، عَنِ الْمُصَنِّفِ، قَالَ رضي الله عنه: وَقَدْ أَعْرَضْتُ عَنْ إِيرَادِ الْأَسَانِيدِ وَذِكْرِ الْمَشَايِخِ تَحَرُّزًا عَنِ الْمَلَالِ لِلْأَحْبَابِ وَالْأَصْحَابِ ـ قَدَّسَ اللَّهُ أَرْوَاحَ الْمَاضِينَ، وَحَصَّلَ آماَلَ الْحَاضِرِينَ بِفَضْلِهِ وَرَحْمَتِهِ، وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ ـ، وَبِهَذِهِ الْأَسَانِيدِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا، قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الزَّاهِدُ الْعَارِفُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَعْقُوبَ الْكَلَابَاذِيُّ الْبُخَارِيُّ رحمه الله.
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: পরম সম্মানিত আলিম শাইখ কাজী উস্তাদ বাহাউদ্দিন, পূর্ব ও পশ্চিমের মুফতি, ইসবীজাবের সাথে সম্পৃক্ত আবু মাহামিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে বুখারার জামে মসজিদে — আল্লাহ একে সমৃদ্ধ করুন এবং এর অধিবাসী ও ইমামদের মুক্তি দান করুন — পাঁচশ চৌষট্টি হিজরি সনের জিলহজ মাসের শুরুতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটি পাঠ করেছি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ কাজী ইমাম যাহেদ লাদুন্নি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ কাজী ইমাম সদরে ইসলাম আবুল ইউসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-পাজদাওয়ি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পরম সম্মানিত শাইখ ইমাম শামসুল আইম্মাহ ফখরুল ইসলাম আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হুসাইন আল-কাতিব। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম যাহেদ আরিফ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইয়াকুব আল-কালাবাদি আল-বুখারি, যিনি এই গ্রন্থের সংকলক। তিনি তিনশ পঁচাত্তর হিজরি সনে দারবে জাদিদ-এ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আরও বলেন: এছাড়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পরম সম্মানিত শাইখ ইমাম উস্তাদ জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মাহবুবি, পরম সম্মানিত শাইখ ইমাম উস্তাদ জহিরুদ্দিন আল-মারগিনানি, শাইখ কাজী ইমাম জামাউল কুজাত আল-কারমিনি, শাইখ কাজী ইমাম আবু উমর আল-মুতাওয়ায়ি এবং আরও অনেকে। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ কাজী ইমাম যাহেদ ইমাদুদ্দিন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে মনসুর আন-নাসাফি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন), তিনি পাঁচশ পাঁচ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শামসুল আইম্মাহ আল-হুলওয়ানি, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-কাতিব থেকে, আর তিনি গ্রন্থকারের নিকট থেকে। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: বন্ধু ও সাথীদের বিরক্তি থেকে রক্ষা করতে আমি সনদসমূহ উপস্থাপন করা এবং মাশায়েখদের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম — আল্লাহ গত হওয়া ব্যক্তিদের আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে বর্তমানদের আশা পূরণ করুন, আর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু —। আমরা যে সনদগুলো উল্লেখ করেছি, সেই অনুযায়ী শাইখ ইমাম যাহেদ আরিফ আবু বকর ইবনে আবু ইসহাক — যিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইয়াকুব আল-কালাবাদি আল-বুখারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) — তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَرْوَكَ قَالَ: ح مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الطَّرَسُوسِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، وَعَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ النَّوْفَلِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَحِبُّوا اللَّهَ لِمَا يَغْذُوكُمْ بِهِ مِنْ نِعَمِهِ، وَأَحِبُّونِي لِحُبِّ اللَّهِ، وَأَحِبُّوا أَهْلَ بَيْتِي لِحُبِّي» قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الزَّاهِدُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ رحمه الله: يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «أَحِبُّوا اللَّهَ» خَبَرًا مِنْ مَحَبَّتِهِمْ إِيَّاهُ، وَإِنْ كَانَ لَفْظُهُ لَفْظَ الْأَمْرِ، وَقَدْ جَاءَ مِثْلُهُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ مِثْلُ قَوْلِهِمْ: عِشْ رَحِبًا تَرَ عَجَبًا، أَيْ لِأَنَّ الْعَيْشَ لَيْسَ إِلَى الْإِنْسَانِ، فَيُؤْمَرُ بِأَنْ يَعِيشَ وَمِثْلُهُ مَا رُوِيَ مِنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه قَالَ: وَجَدْتُ النَّاسَ أُخْبُرْ تَقْلُهْ، مَعْنَاهُ: إِنْ خَبُرْتَهُمْ قَلَيْتَهُمْ، يَدُلُّ عَلَى قَوْلِهِ: وَجَدْتُ النَّاسَ كَأَنَّهُ قَالَ: وَجَدْتُ النَّاسَ صِفَتُهُمْ أَنْ خَبُرْتَهُمْ قَلَيْتَهُمْ. وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ: «أَحِبُّوا اللَّهَ» ، مَعْنَاهُ إِنَّمَا تُحِبُّونَ اللَّهَ لِأَنَّهُ أَنْعَمَ عَلَيْكُمْ، فَأَحَبَّكُمْ، فَأَحْبَبْتُمُوهُ لِحُبِّهِ لَكُمْ، قَالَ اللَّهُ عز وجل {يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} [المائدة: 54] أَخْبَرَ عَنْ حُبِّهِ لَهُمْ قَبْلَ حُبِّهِمْ لَهُ ⦗ص: 21⦘. وَقَوْلُهُ: «أَحِبُّونِي لِحُبِّ اللَّهِ» أَيْ إِنَّمَا تُحِبُّونَنِي، لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَحَبَّنِي، فَوَضَعَ فِيكُمْ مَحَبَّتِي، كَمَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ: «إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا أَمَرَ جَبْرَائِيلَ عليه السلام، فَنَادَى فِي السَّمَاءِ أَلَا إِنَّ اللَّهَ أَحَبَّ فُلَانًا فَأَحِبُّوهُ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوضَعُ حُبُّهُ فِي الْأَرْضِ»
আবু ফজল মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মারওয়াক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তারসুসী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন মঈন এবং আলী বিন বাহর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: হিশাম বিন ইউসুফ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আন-নাওফালি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ তোমাদেরকে যে সকল নেয়ামত প্রদান করেছেন তার জন্য তোমরা তাঁকে ভালোবাসো, আর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণে তোমরা আমাকে ভালোবাসো, এবং আমার প্রতি ভালোবাসার কারণে তোমরা আমার আহলে বাইতকে ভালোবাসো»। শাইখ ইমাম যাহেদ আবু বকর বিন আবু ইসহাক (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী «আল্লাহকে ভালোবাসো» তাঁর প্রতি তাদের ভালোবাসার একটি সংবাদ হওয়া সম্ভব, যদিও এর শব্দগত রূপটি আদেশের (আমর)। আর আরবদের কথাবার্তায়ও এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেমন তাদের উক্তি: "স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করো, তবে বিস্ময়কর কিছু দেখতে পাবে।" অর্থাৎ, যেহেতু জীবনযাপন করা মানুষের ইখতিয়ারে নয়, তাই তাকে বেঁচে থাকার আদেশ দেওয়া যায় না। এবং এর অনুরূপ যা আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি মানুষকে এমন পেয়েছি যে, তাদের যাচাই করো তবেই ঘৃণা করবে।" এর অর্থ হলো: যদি তুমি তাদের পরীক্ষা করো তবে তুমি তাদের ঘৃণা করবে। এটি তাঁর উক্তি "আমি মানুষকে এমন পেয়েছি" এর দ্বারা প্রমাণিত; যেন তিনি বলছেন: "আমি মানুষকে এমন পেয়েছি যে তাদের বৈশিষ্ট্য হলো—যদি তুমি তাদের পরীক্ষা করো তবে তুমি তাদের অপছন্দ করবে।" তদ্রূপ তাঁর বাণী «আল্লাহকে ভালোবাসো», এর অর্থ হলো—তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসবে কারণ তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, ফলে তিনি তোমাদের ভালোবেসেছেন, আর তাঁর তোমাদের ভালোবাসার কারণেই তোমরা তাঁকে ভালোবেসেছ। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তাদের ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে} [সূরা মায়েদাহ: ৫৪]। এখানে তিনি তাদের তাঁকে ভালোবাসার আগে তাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘। আর তাঁর বাণী: «আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণে তোমরা আমাকে ভালোবাসো», অর্থাৎ তোমরা আমাকে এই জন্য ভালোবাসবে কারণ মহান আল্লাহ আমাকে ভালোবেসেছেন এবং তোমাদের অন্তরে আমার প্রতি ভালোবাসা স্থাপন করেছেন। যেমনটি হাদিসে এসেছে: «আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তিনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে আদেশ করেন। অতঃপর তিনি আকাশে ঘোষণা দেন যে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো।' ফলে আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসে, তারপর জমিনে তার প্রতি ভালোবাসা স্থাপন করা হয়»।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢١)
وَفِي بَعْضِ الْحَدِيثِ: «وَيَقَعُ عَلَى الْمَاءِ فَيَشْرَبُهُ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ، فَيُحِبُّهُ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ، وَإِذَا بَغَضَ عَبْدًا فَمِثْلُ ذَلِكَ» حَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَاذَرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ الزَّجَّاج وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا» ، وَذَكَرَهُ فَأَخْبَرَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا وَضَعَ مَحَبَّتَهُ فِي كُلِّ شَيْءٍ، حَتَّى فِي الْجَمَادِ، وَإِنَّمَا حَمَلَنَا مَعْنَى الْخَبَرِ عَلَى مَا قُلْنَاهُ لِأَنَّ الْمَحَبَّةَ إِذَا كَانَتْ بِشَرْطِ النِّعْمَةِ كَانَتْ مَعْلُولَةً نَاقِصَةً، وَكَانَ رُجُوعُهَا إِلَى حَظِّ الْمُحِبِّ، لَا إِلَى الْمَحْبُوبِ فِي النِّعَمِ كُلِّهَا، أَوْ أَكْثَرِهَا، مَلَاذِ النُّفُوسِ، وَمَرَافِقِ الْأَبْدَانِ، أَوْ مَا يُؤَدِّي إِلَيْهَا، وَمَنْ أَنِسَ لِلَّذَّةِ وَالرِّفْقِ تَغَيَّرَ لِلْأَلَمِ وَالْمَكْرُوهِ، وَفَوَاتِ حُظُوظِ النَّفْسِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انْقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ} [الحج: 11] وَقَدْ قَالُوا فِي مَحَبَّةِ زُلَيْخَا لِيُوسُفَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَى سَيِّدَنَا وَعَلَيْهِ: إِنَّهَا لَمْ تَكُنْ مَحَبَّةً حَقِيقِيَّةً، وَإِنَّمَا كَانَتْ مَعَهَا شَهْوَةٌ، وَمُطَالَبَةُ حَظِّ النَّفْسِ، أَلَا تَرَى إِلَى قَوْلِهِ عز وجل {وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَنْ نَفْسِهِ} [يوسف: 23] الْآيَةَ، فَلَمَّا لَمْ يُطَاوِعْهَا وَفَاتَهَا حَظُّهَا فِيهِ، آثَرْتَ الْمُرَّ عَلَى أَلَمِهَا فَقَالَتْ {وَلَئِنْ لَمْ يَفْعَلْ مَا آمُرُهُ لَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونًنْ مِنَ
এবং কিছু হাদিসে আছে: "তা পানির ওপর নিপতিত হয়, ফলে নেককার ও পাপাচারী তা পান করে, আর নেককার ও পাপাচারী তাকে ভালোবাসে; এবং যখন তিনি কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন, তখনও তদ্রূপ ঘটে।" আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনে আমর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে ইসহাক আল-মাযারানি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হারব, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ আজ-যাজ্জাজ, যার নাম আব্দুর রহমান ইবনে হুসাইন, মা’মার থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন", এরপর তিনি এটি (পুরো হাদিস) উল্লেখ করেন। অতঃপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি প্রতিটি বস্তুর মধ্যে তার প্রতি ভালোবাসা স্থাপন করে দেন, এমনকি জড় পদার্থের মধ্যেও। আমরা এই সংবাদের অর্থকে সেই মর্মেই গ্রহণ করেছি যা আমরা বলেছি; কারণ ভালোবাসা যখন নিয়ামতের শর্তে হয়, তখন তা ক্রটিযুক্ত ও অপূর্ণ হয়। তখন সেই ভালোবাসার ফিরে আসাটা হয় মহব্বতকারীর নিজের স্বার্থের দিকে, প্রিয় পাত্রের দিকে নয়; যা নফসের আনন্দ ও দেহের আরামদায়ক সকল বা অধিকাংশ নিয়ামতের ক্ষেত্রে কিংবা যা সেই দিকে ধাবিত করে তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যে ব্যক্তি সুখ ও কোমলতায় অভ্যস্ত হয়, সে বেদনা, অপছন্দনীয় বিষয় এবং নফসের আকাঙ্ক্ষা না পাওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থেকে আল্লাহর ইবাদত করে; যদি তার কোনো কল্যাণ হয়, তবে সে তাতে প্রশান্তি লাভ করে, আর যদি কোনো পরীক্ষা তাকে স্পর্শ করে, তবে সে তার চেহারার ওপর উল্টে যায়} [আল-হজ্জ: ১১]। আর আমাদের নেতা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি জুলাইখার ভালোবাসার বিষয়ে তারা বলেছে যে: এটি প্রকৃত ভালোবাসা ছিল না; বরং এর সাথে ছিল কামনা এবং নফসের লালসা পূরণ। আপনি কি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণীর দিকে লক্ষ্য করেন না? {আর তিনি যার ঘরে ছিলেন, সেই নারী তাঁর থেকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার কামনা করল} [ইউসুফ: ২৩] - আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। সুতরাং যখন তিনি তার আনুগত্য করলেন না এবং তার নফসের উদ্দেশ্য ব্যাহত হলো, তখন সে তার যন্ত্রণার বদলে তিক্ততাকে প্রাধান্য দিল এবং বলল: {আর আমি তাকে যা আদেশ করছি, সে যদি তা না করে তবে অবশ্যই সে কারারুদ্ধ হবে এবং অবশ্যই সে অন্তর্ভুক্ত হবে...}
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الصَّاغِرِينَ} . وَأَمَّا النِّسْوَةُ فَغَبِنَّ عَنْ حُظُوظِ الْغَيْرَةِ، وَآلْامِهِنَّ، حَتَّى قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ، وَلَمْ يَحْسُسْنَ بِالْأَلَمِ، وَزُلَيْخَا لَمَّا تَمَكَّنَ الْحُبُّ مِنْهَا قَالَتْ {الْآنَ حَصْحَصَ الْحَقُّ أَنَا رَاوَدْتُهُ عَنْ نَفْسِهِ} [يوسف: 51] ، أَقَرَّتْ عَلَى نَفْسِهَا وَشَهِدَتْ لَهُ بِالْبَرَاءَةِ، هَذَا يُظْهِرُ دَلِيلًا أَنَّ مَحَبَّةَ النِّعْمَةِ مَحَبَّةُ لَذَّةٍ وَمُطَالَبَةُ حُظُوظِ النَّفْسِ، فَإِنْ حَمَلْنَا هَذَا الْحَدِيثَ عَلَى ظَاهِرِ اللَّفْظِ كَانَ أَمْرًا مَعْلُولًا، وَالْمَحَبَّةُ نِهَايَةُ الْأَحْوَالِ الْمَعْلُولَاتِ، الَّذِينَ جَازُوا كَثِيرًا مِنْهَا، فَمِثْلُ هَؤُلَاءِ لَا يُخَاطَبُونَ بِالْمَعْلُولِ مِنَ الْأَمْرِ، كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى، وَقَدْ قَالَتْ رَابِعَةُ، أَوْ غَيْرُهَا: وَاللَّهِ لَوْ قَطَّعْتَنِي بِالْبِلَادِ إِرْبًا إِرْبًا مَا ازْدَدْتُ لَكَ إِلَّا حُبًّا، فَمِثْلُ هَذَا لَا يَحْمِلُ عَلَى الْمَحَبَّةِ رُؤْيَةَ النِّعَمِ الَّتِي هِيَ حُظُوظِ النَّفْسِ، وَنَحْمِلُ أَيْضًا مَعْنَى الْحَدِيثِ إِذَا حُمِلَ عَلَى مَا قُلْنَا تَنْبِيهًا لَهُمْ عَلَى مَا مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ. . . . أَوْصَافهمْ مُعْرِضِينَ كَمَا نَبَّهَهَمُ اللَّهُ عز وجل بِقَوْلِهِ {فَلَمْ تَقْتُلُوهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ قَتَلَهُمْ} [الأنفال: 17] . وَأَمَّا قَوْلُهُ: «وَأَحِبُّوا أَهْلَ بَيْتِي لِحُبِّي» ، أَيْ إِنَّمَا تُحِبُّونَهُمْ لِأَنِّي أَحْبَبْتُهُمْ، وَأَحْبَبْتُهُمْ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَحَبَّهُمْ، وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ أَمْرًا أَنْ تُحِبُّونهُمْ فَيَكُونُ تَصْدِيقًا لِحُبِّهِمِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَيَكُونُ مَعْنَى الْحَبِّ لَهُمْ إِيثَارَهُمْ عَلَى غَيْرِهِمْ
লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়}। আর মহিলারা ঈর্ষার প্রভাব ও তাদের যন্ত্রণার বিষয়ে বিমোহিত হয়ে পড়েছিল, এমনকি তারা তাদের হাত কেটে ফেলেছিল কিন্তু তারা কোনো ব্যথা অনুভব করেনি। আর জুলাইখা, যখন তার মাঝে ভালোবাসা বদ্ধমূল হলো, তখন সে বলল, {এখন সত্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে; আমিই তাকে তার নফস থেকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছিলাম} [ইউসুফ: ৫১]। সে নিজের বিরুদ্ধে অপরাধ স্বীকার করল এবং তার পবিত্রতার সাক্ষ্য দিল। এটি এই প্রমাণকে স্পষ্ট করে যে, নেয়ামতের প্রতি ভালোবাসা হলো তৃপ্তির ভালোবাসা এবং নফসের আকাঙ্ক্ষা পূরণের দাবি। সুতরাং যদি আমরা এই হাদিসটিকে শাব্দিক বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করি, তবে তা হবে একটি ত্রুটিপূর্ণ বিষয়। অথচ ভালোবাসা হলো সেই ত্রুটিপূর্ণ অবস্থাগুলোর চূড়ান্ত পর্যায়, যা তারা ব্যাপকভাবে অতিক্রম করে এসেছেন। অতএব, তাদের মতো ব্যক্তিদের বিষয়ের ত্রুটিপূর্ণ দিক দিয়ে সম্বোধন করা হয় না, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন। আর রাবেয়া বা অন্য কেউ বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, যদি আপনি আমাকে দেশান্তরে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেন, তবে আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা কেবল বৃদ্ধিই পাবে।" সুতরাং এ জাতীয় বিষয়কে নেয়ামত দর্শনের ভালোবাসার ওপর প্রয়োগ করা হয় না, যা নফসের নসিব বা আকাঙ্ক্ষা। আর আমরা হাদিসের অর্থকেও সেভাবেই গ্রহণ করি যা আমরা বলেছি—তাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি সতর্কতাস্বরূপ... বিমুখ থাকা অবস্থায় তাদের গুণাবলি, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাদের সতর্ক করেছেন এই বলে: {তোমরা তাদেরকে হত্যা করোনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন} [আনফাল: ১৭]। আর তাঁর কথা: «আমার ভালোবাসার কারণে আমার আহলে বাইতকে ভালোবাসো», অর্থাৎ তোমরা তাদের কেবল এই কারণেই ভালোবাসবে যেহেতু আমি তাদের ভালোবেসেছি, আর আমি তাদের ভালোবেসেছি কারণ মহান আল্লাহ তাদের ভালোবেসেছেন। এবং এটি তাদের প্রতি ভালোবাসার একটি নির্দেশ হওয়াও সম্ভব, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তাদের ভালোবাসার সত্যায়ন হিসেবে গণ্য হবে, আর তাদের ভালোবাসার অর্থ হবে অন্য সবার ওপর তাদের অগ্রাধিকার প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌حَدِيثٌ آخَرُ
অন্য একটি হাদীস
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ الْحَارِثِيُّ الْخَلْوَتِيُّ الْجَيْدَمُونِيُّ، قَالَ: ح عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ حَاتِمٍ قَالَ: ح الْحَارِثُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: ح زِيَادُ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «عَلَامَةُ حُبِّ اللَّهِ حُبُّ ذِكْرِ اللَّهِ، وَعَلَامَةُ بُغْضِ اللَّهِ بُغْضُ ذِكْرِ اللَّهِ» قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الزَّاهِدُ رحمه الله: مَعْنَاهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ: عَلَامَةُ حُبِّ اللَّهِ عَبْدَهُ ذِكْرُهُ، وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا ذَكَرَهُ، وَإِذَا ذَكَرَ اللَّهُ عَبْدًا حَبَّبَ إِلَيْهِ ذِكْرَهُ، فَيَذْكُرُ الْعَبْدُ رَبَّهُ لِذِكْرِ رَبِّهِ لَهُ، كَمَا أَحَبَّ رَبَّهُ لِحُبِّ رَبِّهِ لَهُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} [المائدة: 54] ، وَقَالَ عز وجل {وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ} [العنكبوت: 45] ، يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَاهُ ذِكْرُ اللَّهِ عَبْدَهُ أَكْبَرُ مِنْ ذِكْرِ الْعَبْدِ اللَّهَ، لِأَنَّ ذِكْرَ اللَّهِ لِلْعَبْدِ يَسَّرَ مِنَ الْعَبْدِ ذِكْرَهُ لِلَّهِ، إِذْ عِلَّةُ كُلِّ ⦗ص: 23⦘ شَيْءٍ صُنْعُهُ وَلَا عِلَّةُ مَا يَصْنَعُهُ، وَاللَّهُ تَعَالَى إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا أَحَبَّ مِنْهُ ذِكْرَهُ لَهُ
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-হারিসি আল-খালওয়াতি আল-জায়দামুনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে হাতিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হারিস ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিয়াদ ইবনে মাইমুন বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হলো আল্লাহর জিকিরকে ভালোবাসা, আর আল্লাহর প্রতি বিরাগের নিদর্শন হলো আল্লাহর জিকিরের প্রতি বিরাগ পোষণ করা»। শাইখ ইমাম যাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইনশাআল্লাহ এর অর্থ হলো: আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দাকে ভালোবাসার নিদর্শন হলো তাঁকে স্মরণ করা। আর তা এজন্য যে, তিনি যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তাকে স্মরণ করেন, আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে স্মরণ করেন তখন তার নিকট তাঁর জিকিরকে প্রিয় করে দেন। ফলে বান্দা তার রবের পক্ষ থেকে তাকে স্মরণ করার কারণেই তার রবকে স্মরণ করে, ঠিক যেভাবে সে তার রবের পক্ষ থেকে তাকে ভালোবাসার কারণেই তার রবকে ভালোবাসে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তিনি তাদেরকে ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে} [আল-মায়িদাহ: ৫৪], এবং তিনি (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহর জিকিরই তো সর্বশ্রেষ্ঠ} [আল-আনকাবুত: ৪৫]। এর অর্থ এমন হওয়া সম্ভব যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে স্মরণ করা বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহকে স্মরণ করার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে স্মরণ করাই বান্দার জন্য আল্লাহর জিকিরকে সহজতর করে দিয়েছে। কেননা প্রতিটি ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ বস্তুর কারণ হলো তাঁর কর্ম, কিন্তু তিনি যা করেন তার কোনো কারণ নেই। আর আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি তার পক্ষ থেকে তাঁর জিকিরকেও ভালোবাসেন।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
كَمَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ: " قَالَ جَبْرَائِيلُ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ: يَا رَبِّ عَبْدُكَ فُلَانٌ اقْضِ لَهُ حَاجَتَهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: دَعُوا عَبْدِي فَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَ صَوْتَهُ " حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: ح عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِسْحَاقَ السِّمْنَانِيُّ قَالَ: ح إِسْمَاعِيلُ بْنُ تَوْبَةَ قَالَ: ح عَفِيفُ بْنُ سَالِمٍ الْمَوْصِلِيُّ، عَنْ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ، عَنْ ضِرَارِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَاهُ عَلَى ظَاهِرَهِ، فَيَكُونُ عَلَامَةُ الْمُحِبِّ لِلَّهِ كَثْرَةَ ذِكْرِهِ لَهُ عز وجل؛ لِأَنَّهُ قِيلَ: مَنْ أَحَبَّ شَيْئًا أَكْثَرَ ذِكْرَهُ، لِأَنَّ مَنْ أَحَبَّ اللَّهَ تَعَالَى أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ مَعَهُ وَعِنْدَهُ، وَكَوْنُهُ مَعَهُ وَعِنْدَهُ ذِكْرُهُ إِيَّاهُ، كَمَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ: «أَنَا جَلِيسُ مَنْ ذَكَرَنِي» ، وَقَدْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ»
যেমন হাদীসে এসেছে: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আমার রব! আপনার অমুক বান্দা, তার প্রয়োজন পূরণ করে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দাকে ছেড়ে দাও, কেননা আমি তার কণ্ঠস্বর শুনতে ভালোবাসি।" এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুর রহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইসহাক আস-সিমনানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাইল ইবনে তাওবা, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আফিফ ইবনে সালিম আল-মাওসিলি, তিনি বাকর ইবনে খুনাইস থেকে, তিনি জিরার ইবনে আমর থেকে, তিনি ইয়াযিদ আল-রাকাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং এর অর্থ তার প্রকাশ্য রূপের ওপর হওয়াও সম্ভব, সেক্ষেত্রে আল্লাহকে ভালোবাসার নিদর্শন হবে মহান আল্লাহর অধিক যিকির করা; কেননা বলা হয়ে থাকে: "যে কোনো কিছুকে ভালোবাসে, সে তার আলোচনা বেশি করে।" কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে, সে তাঁর সাথে ও তাঁর সান্নিধ্যে থাকতে পছন্দ করে। আর তাঁর সাথে ও সান্নিধ্যে থাকা হলো তাঁর যিকির করা, যেমনটি হাদীসে এসেছে: "যে আমাকে স্মরণ করে আমি তার সঙ্গী হই।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "তুমি যার সাথে যাকে ভালোবাসো, কিয়ামতের দিন তার সাথেই থাকবে।"
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ مَسْعُودِ بْنِ مَرْوَانَ، قَالَ: ح أَبُو سُلَيْمَانَ مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْبَلْخِيُّ قَالَ: ح الْقَعْنَبِيُّ قَالَ: ح مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ؟ فَقَالَ لَهُ ⦗ص: 24⦘ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَعْدَدْتَ لَهَا» قَالَ: حُبَّ اللَّهِ وَرَسُولِهِ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ» قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَاهُ إِنْ كُنْتَ كَذَلِكَ، فَأَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ شُهُودًا لَهُ بِالْقَلْبِ، وَذِكْرًا لَهُ بِاللِّسَانِ، وَخِدْمَةً لَهُ بِالْجَوَارِحِ، فَيَكُونُ عَلَامَةُ مَنْ أَحَبَّ اللَّهَ أَنْ يُحِبَّ ذِكْرَ اللَّهِ، وَذِكْرُ اللَّهِ مِنَ الْعَبْدِ بِلِسَانِهِ عَلَامَةُ شُهُودِهِ لَهُ بِقَلْبِهِ، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اعْبُدِ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ» ، وَمَنْ شَهِدَهُ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مَعَهُ، وَمَنْ ذَكَرَهُ فَكَأَنَّهُ جَلِيسُهُ، وَهَكَذَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ»
বুকাইর ইবন মাসউদ ইবন মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সুলাইমান মুহাম্মদ ইবন মানসুর আল-বালখী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কানাবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক, ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! কিয়ামত কখন হবে? তখন তাকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তুমি তার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?» তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তুমি যাকে ভালোবাস তার সাথেই থাকবে।» শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর অর্থ এমন হওয়া সম্ভব যে—যদি তুমি সেরূপ হও, তবে তুমি যাকে ভালোবাস তার সাথেই থাকবে; হৃদয়ে তাঁর উপস্থিতির অনুভবের মাধ্যমে, মুখে তাঁর স্মরণের মাধ্যমে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে তাঁর সেবার মাধ্যমে। সুতরাং যে আল্লাহকে ভালোবাসে, তার লক্ষণ হলো আল্লাহর যিকির বা স্মরণকে ভালোবাসা। আর বান্দার জিহ্বা দ্বারা আল্লাহর যিকির হলো তার হৃদয়ে তাঁর উপস্থিতির অনুভবের লক্ষণ, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত করো এমনভাবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো।» আর যে ব্যক্তি হৃদয়ে তাঁকে উপস্থিত অনুভব করে সে তাঁর সাথেই থাকে, আর যে তাঁকে স্মরণ করে সে যেন তাঁরই সহচর। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর অর্থও অনুরূপ: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন।»
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الرَّشَادِيُّ قَالَ: ح عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: ح أَبُو عُبَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَهُ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَالْمَوْتُ دُونَ لِقَاءِ اللَّهِ عز وجل» أَيْ إِنَّمَا يُحِبُّ الْعَبْدُ لِقَاءَ اللَّهِ إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَ عَبْدِهِ، لِأَنَّ الْمَحَبَّةَ صِفَةٌ لَهُ، وَاللَّهُ تَعَالَى بِجَمِيعِ صِفَاتِهِ قَدِيمٌ عِنْدَ عَامَّةِ الصُّوفِيَّةِ، وَكَثِيرٍ مِنَ الْمُتَكَلِّمِينَ مِنَ الْمُثْبِتَةِ، فَالْمَحَبَّةُ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى صِفَةٌ لَهُ فِي ذَاتِهِ، وَبِهِ قَالَ الْأَشْعَرِيُّ وَأَصْحَابُهُ، وَكَذَلِكَ الْبُغْضُ وَالسُّخْطُ وَالْغَضَبُ وَالْمُوَالَاةُ وَالرِّيَاضُ، وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ لَمْ يَجُزْ أَنْ يَكُونَ مَحَبَّةُ اللَّهِ عَبْدَهُ تَبَعًا لِمَحَبَّةِ الْعَبْدِ لِلَّهِ، أَوْ مُوجِبَةً لَهَا. وَقَوْلُهُ: «وَالْمَوْتُ دُونَ لِقَاءِ اللَّهِ» يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ حُبُّهُ مَعْنًى دَقِيقًا أَيْ أَنَّ دُونَ لِقَاءِ اللَّهِ مِنَ الْعَبْدِ شُهُودًا لَهُ بِالْقَلْبِ إِلَّا بَعْدَ مَوْتِ النَّفْسِ وَالْغَيْبَةِ عَمَّا دُونَ اللَّهِ كَمَا قَالَ حَارِثَةُ: عَزَفَتْ نَفْسِي عَنِ الدُّنْيَا، فَأَظْمَأْتُ نَهَارِي، وَأَسْهَرْتُ لِيَلِي، فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى عَرْشِ رَبِّي بَارِزًا "، أَيْ إِنَّمَا كَانَ نَظَرِي إِلَى عَرْشِ رَبِّي بَارِزًا بَعْدَ تَرْكِي حُظُوظَ النَّفْسِ، وَإِمَاتَةِ الشَّهَوَاتِ كُلِّهَا

আবু আন-নজর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-রশাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উবায়দ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট আমির হতে, তিনি শুরাইহ ইবনে হানি হতে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। আর মৃত্যু হলো মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর সাক্ষাতের পূর্বক্ষণ।"

অর্থাৎ, বান্দা কেবল তখনই আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসে যখন আল্লাহ তার বান্দার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন, কারণ ভালোবাসা তাঁর একটি গুণ। অধিকাংশ সুফি এবং সিফাত সাব্যস্তকারী কালামশাস্ত্রবিদদের মতে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত গুণাবলি সহ অনাদি। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালোবাসা তাঁর সত্তাগত একটি গুণ; ইমাম আশআরী ও তাঁর অনুসারীরাও এই কথা বলেছেন। তেমনিভাবে ঘৃণা, অসন্তুষ্টি, ক্রোধ, বন্ধুত্ব এবং সন্তুষ্টিও আল্লাহর গুণ। আর বিষয়টি যখন এমন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে ভালোবাসা, আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসার অনুগামী হওয়া বা তার দ্বারা সাব্যস্ত হওয়া বৈধ নয়।

আর তাঁর বাণী: "মৃত্যু হলো আল্লাহর সাক্ষাতের পূর্বক্ষণ" - এর একটি সূক্ষ্ম অর্থ হওয়া সম্ভব; তা হলো, নফসের মৃত্যু এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে অনুপস্থিত হওয়া ছাড়া বান্দার পক্ষ থেকে অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহর সাক্ষাৎ বা প্রত্যক্ষকরণ সম্ভব নয়। যেমন হারিসাহ বলেছিলেন: "আমি দুনিয়া থেকে আমার নফসকে বিমুখ করেছি, ফলে আমি আমার দিনকে তৃষ্ণার্ত রেখেছি এবং আমার রাতকে জাগ্রত রেখেছি। ফলে আমি যেন আমার রবের আরশকে স্পষ্টভাবে দেখছি।" অর্থাৎ, আমার নফসের কামনা-বাসনা ত্যাগ করার এবং সমস্ত প্রবৃত্তি মিটিয়ে দেওয়ার পরেই আমার রবের আরশের প্রতি এই স্পষ্ট দৃষ্টিপাত সম্ভব হয়েছে।

(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌حَدِيثٌ آخَرُ
অপর একটি হাদীস
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ الْهَيْثَمِ قَالَ: ح مُحَمَّدُ بْنُ بَحِيرِ بْنِ حَاتِمٍ أَبُو جَعْفَرٍ قَالَ: ح مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْحَضْرَمِيُّ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ قَالَ: ح سَلَّامٌ أَبُو الْمُنْذِرِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا حُبِّبَ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا ثَلَاثٌ: الطِّيبُ، وَالنِّسَاءُ، وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ " ⦗ص: 26⦘ قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الزَّاهِدُ رحمه الله: يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَى قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: مِنَ الدُّنْيَا، فِي الدُّنْيَا فَيَكُونُ مِنْ بِمَعْنَى فِي فَكَأَنَّهُ قَالَ: «حُبِّبَ إِلَيَّ فِي الدُّنْيَا» أَيْ: مُدَّةُ كُونِي فِيهَا هَذِهِ الْأَشْيَاءُ الثَّلَاثَةُ، فيَكُونُ هَذِهِ الْأَشْيَاءُ فِي الدُّنْيَا لَا مِنَ الدُّنْيَا، وَإِنْ كَانَتْ فِيهَا، وَيَكُونُ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا حُبِّبَ إِلَيَّ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا» مَا ذَكَرَ إِخْبَارًا مِنْهُ عَنْ بُلُوغِهِ نِهَايَةَ الْكَلَامِ، الْكَمَالُ فِي الْعُبُودِيَّةِ لِلَّهِ عز وجل، وَذَلِكَ أَنَّ أَصْلَ الْعُبُودِيَّةِ لِلَّهِ تَعَالَى وَدَوَرَانَ أَحْوَالِهَا عَلَى شَيْئَيْنِ: تَعْظِيمِ قَدْرِ اللَّهِ تَعَالَى، وَحُسْنِ مُعَامَلَةِ خَلْقِ اللَّهِ، وَمَا ذَكَرَ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ حُبِّبَ إِلَيْهِ بِجَمِيعِ هَاتَيْنِ الْخَصْلَتَيْنِ، وَذَلِكَ أَنَّ الصَّلَاةَ أَجْمَعُ خَصْلَةً مِنْ خِصَالِ الدِّينِ لِتَعْظِيمِ قَدْرِ اللَّهِ، وَأَدَلُّ شَيْءٍ عَلَى إِجْلَالِهِ عز وجل، وَذَلِكَ أَنَّ أَوَّلَهَا الطَّهَارَةُ سِرًّا وَجَهْرًا، ثُمَّ جَمْعُ الْهِمَّةِ، وَإِخْلَاءُ السِّرِّ وَهُوَ النِّيَّةُ، ثُمَّ الِانْصِرَافُ عَمَّا دُونَ اللَّهِ إِلَى اللَّهِ بِالْقَصْدِ إِلَيْهِ وَهُوَ التَّوَجُّهُ، ثُمَّ الْإِشَارَةُ بِرَفْعِ الْيَدَيْنِ إِلَى نَبْذِ مَا رُبِطَ بِهِ، ثُمَّ أَوَّلُ أَذْكَارِهِ التَّكْبِيرُ، وَهُوَ النِّهَايَةُ فِي تَعْظِيمِ قَدْرِ اللَّهِ، وَهُوَ قَوْلُهُ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ أَوَّلُ ثَنَاءٍ فِيهِ ثَنَاءٌ لَا يَشُوبُهُ ذِكْرُ شَيْءٍ سَوَاهُ، وَهُوَ قَوْلُهُ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ إِلَى قَوْلِهِ: وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ، ثُمَّ قِرَاءَةُ كَلَامِهِ لَا يَجُوزُ غَيْرُهُ مُنْتَصِبًا قَدْ زَمَّ جَوَارِحَهُ هَيْبَةً وَخُشُوعًا وَإِجْلَالًا وَتَعْظِيمًا، ثُمَّ تَحْقِيقُ مَا عَبَّرَ بِلِسَانِهِ عَنْ ضَمِيرِهِ مِنَ التَّعْظِيمِ لِلَّهِ فِعْلًا وَحَرَكَةً، وَهُوَ الرُّكُوعُ وَالسُّجُودُ، وَأَذْكَارُهُمَا تَنْزِيهُ اللَّهِ وَإِجْلَالُهُ وَتَعْظِيمُهُ بِقَوْلِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، وَسُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى، ثُمَّ مَعَ كُلِّ حَرَكَةٍ تَكْبِيرٌ، وَلَيْسَتْ هَذِهِ الْخِصَالُ بِإِجْمَاعِهَا فِي شَيْءٍ مِنَ الْعِبَادَاتِ أَجْمَلَ مِنْهَا فِي الصَّلَاةِ، فَكَانَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «جُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ» عِبَارَةً عَنْ تَعْظِيمِهِ قَدْرَ اللَّهِ تَعَالَى. وَأَمَّا حُسْنُ مُعَامَلَةِ خَلْقِ اللَّهِ، فَالنِّهَايَةُ فِيهِ أَنْ يُوَفِّرَ عَلَيْهِمْ حُقُوقَهُمْ وَيَزِيدَهُمْ وَيَرْفَعَهُمْ وَيَبْذِلَ لَهُمْ حُظُوظَهُمْ مِنْ نَفْسِهِ، وَلَا يَسْتَوْفِيَ مِنْهُمْ حَقَّ نَفْسِهِ، وَلَا يُطَالِبَهُمْ بِحُظُوظِهَا، فَأَخْبَرَ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَمَالِهِ فِي هَذِهِ الْخَصْلَةِ بِقَوْلِهِ: «الطِّيبُ وَالنِّسَاءُ» ، وَذَلِكَ أَنَّ الطِّيبَ مِنْ حَظِّ الرَّوْحَانِيِّينَ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ وَهُمُ الْمَلَائِكَةُ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ، وَلَيْسَ لَهُمْ فِي شَيْءٍ مِنْ عَرَضِ الدُّنْيَا غَيْرِ الطِّيبِ حَظٌّ، فَأَحَبَّ صلى الله عليه وسلم الطِّيبَ إِيفَاءً لِحُقُوقِهِمْ، وَحُسْنَ مُعَامَلَةٍ لَهُمْ مَعَ غِنَاهُ عَنْهُ، لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ أَطْيَبَ رِيحًا مِنْ كُلِّ طِيبٍ فِي الدُّنْيَا
আবু আল-ফজল মুহাম্মদ ইবনে হাতিম ইবনুল হাইসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বাহীর ইবনে হাতিম আবু জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-হাদরামি আবু আমর আল-বসরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাল্লাম আবু আল-মুনজির বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "দুনিয়া থেকে আমার কাছে তিনটি জিনিসকে প্রিয় করা হয়েছে: সুগন্ধি, নারী এবং সালাতের মধ্যে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।" ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ শায়খ ইমাম যাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী ‘দুনিয়া থেকে’ এর অর্থ ‘দুনিয়ার মধ্যে’ হওয়া সম্ভব। অর্থাৎ এখানে ‘থেকে’ (মিন) শব্দটি ‘মধ্যে’ (ফি) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেন তিনি বলেছেন: «দুনিয়ার মধ্যে আমার নিকট প্রিয় করা হয়েছে» অর্থাৎ: আমি যতক্ষণ দুনিয়ায় অবস্থান করছি সেই সময়কাল পর্যন্ত এই তিনটি জিনিস আমার নিকট প্রিয়। সুতরাং এই জিনিসগুলো দুনিয়ার মধ্যে গণ্য হবে, দুনিয়ার অংশ হিসেবে নয়—যদিও সেগুলো দুনিয়ার মধ্যেই বিদ্যমান। আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই কথাটি: «এই দুনিয়ার মধ্যে আমার নিকট যা কিছু প্রিয় করা হয়েছে»—যা তিনি উল্লেখ করেছেন—তা মহান আল্লাহর ইবাদত বা দাসত্বের পূর্ণতায় তাঁর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সংবাদ দিচ্ছে। আর তা হলো, মহান আল্লাহর ইবাদতের মূল ভিত্তি এবং এর অবস্থাসমূহের আবর্তন দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে: মহান আল্লাহর মর্যাদার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা এবং আল্লাহর সৃষ্টির সাথে উত্তম আচরণ করা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু উল্লেখ করেছেন যে তাঁর নিকট প্রিয় করা হয়েছে, তা এই দুটি গুণেরই সমষ্টি। আর তা এই কারণে যে, সালাত দ্বীনের সকল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আল্লাহর মর্যাদার মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্য সর্বাধিক সমষ্টিগত গুণ এবং মহান আল্লাহর মহিমা প্রকাশের জন্য সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ। কারণ, সালাতের শুরু হয় গোপনে ও প্রকাশ্যে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে, এরপর মনোযোগ একত্র করা এবং অন্তরকে অন্য সবকিছু থেকে খালি করা—যা হলো নিয়ত। এরপর আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হয়ে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হওয়া—যা হলো অভিমুখ হওয়া। এরপর দুই হাত উঠানোর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা যে, দুনিয়ার যা কিছুর সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন তা তিনি বর্জন করেছেন। এরপর তাঁর প্রথম জিকির হলো তাকবীর, যা আল্লাহর মর্যাদার মাহাত্ম্য বর্ণনার চূড়ান্ত পর্যায়; আর তা হলো তাঁর কথা: আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)। এরপর প্রথম প্রশংসা হলো এমন এক প্রশংসা যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উল্লেখের মিশ্রণ নেই; আর তা হলো তাঁর কথা: ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা’ থেকে ‘ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা’ পর্যন্ত। এরপর আল্লাহর কালাম পাঠ করা যা ছাড়া সালাত বৈধ নয়, এমতাবস্থায় যে তিনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং আল্লাহর ভয়ে, বিনম্রতায়, মহিমায় ও মাহাত্ম্যে তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহকে সংযত রেখেছেন। এরপর নিজের অন্তরে আল্লাহর প্রতি যে মাহাত্ম্যবোধ রয়েছে, তা কাজ ও নড়াচড়ার মাধ্যমে জিহ্বা দিয়ে প্রকাশ করার সত্যতা নিশ্চিত করা; আর তা হলো রুকু ও সিজদা। আর এগুলোর জিকির হলো আল্লাহর পবিত্রতা, মহিমা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করা, যেমন তাঁর কথা: সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম এবং সুবহানা রাব্বিয়াল আলা। এরপর প্রতিটি নড়াচড়ার সাথে তাকবীর রয়েছে। এই গুণাবলীগুলো সমষ্টিগতভাবে সালাতের চেয়ে সুন্দরভাবে অন্য কোনো ইবাদতে নেই। ফলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী: «সালাতের মধ্যে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে»—এটি ছিল মহান আল্লাহর মর্যাদার মাহাত্ম্য বর্ণনার একটি বহিঃপ্রকাশ। আর আল্লাহর সৃষ্টির সাথে উত্তম আচরণের বিষয়টি হলো, এর চূড়ান্ত পর্যায় হলো তাদের প্রাপ্য অধিকারগুলো পুরোপুরি প্রদান করা, তা বৃদ্ধি করে দেওয়া, তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং নিজের পক্ষ থেকে তাদের প্রাপ্য অংশসমূহ দান করা; আর তাদের কাছ থেকে নিজের প্রাপ্য অধিকার পুরোপুরি আদায় না করা এবং নিজের পাওনা দাবি না করা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এই গুণের পূর্ণতার কথা সংবাদ দিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: «সুগন্ধি ও নারী»। আর তা এই কারণে যে, সুগন্ধি হলো আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে রূহানি সত্তাদের—অর্থাৎ ফেরেশতাদের (তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)—প্রাপ্য অংশ। দুনিয়ার পার্থিব বিষয়গুলোর মধ্যে সুগন্ধি ছাড়া তাদের আর কোনো অংশ নেই। ফলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের অধিকার পূর্ণ করার জন্য এবং তাদের সাথে সুগন্ধির প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও উত্তম আচরণ হিসেবে সুগন্ধিকে পছন্দ করতেন। কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং দুনিয়ার যেকোনো সুগন্ধির চেয়ে অধিক সুগন্ধযুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
حَدَّثَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ نُعَيْمِ بْنِ نَاعِمٍ قَالَ: أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ قَالَ: ح الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه قَالَ: مَا مَسِسْتُ حَرِيرَةً، وَلَا خَزًّا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَا شَمِمْتُ رَائِحَةً قَطُّ مِسْكًا وَلَا عَنْبَرًا أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ كَانَ بِهَذِهِ الصِّفَةِ لَمْ يَسْتَعْمِلِ الطِّيبَ لِنَفْسِهِ، وَكَانَ بَلَغَ مِنْ حُبِّهِ لِلطِّيبِ
আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে নুআইম ইবনে নাঈম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন: (হ) আল-আনসারী, হুমাইদ আমার নিকট আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে অধিকতর কোমল কোনো রেশম বা পট্টবস্ত্র কখনো স্পর্শ করিনি। আর আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুগন্ধির চেয়ে অধিকতর সুগন্ধযুক্ত কোনো কস্তুরি বা আম্বর কখনো ঘ্রাণ নেইনি। সুতরাং যাঁর গুণাবলী এরূপ ছিল, তিনি নিজের (প্রয়োজনের) জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করতেন না, অথচ সুগন্ধির প্রতি তাঁর ভালোবাসা এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে...
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ عُقَيْلٍ، قَالَ: ح يَحْيَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: ح يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ قَالَ: ح خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، عَنْ عِلْبَاءَ بْنِ أَحْمَدَ، أَنَّ عَلِيًّا تَزَوَّجَ فَاطِمَةَ عَلَى أَرْبَعِمِائَةِ دِرْهَمٍ وَثَمَانِينَ دِرْهَمًا، فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَجْعَلَ ثُلُثَهَا فِي الطِّيبِ فَهَذَا حَظُّ الرَّوْحَانِيِّينَ مِنَ الْخَلْقِ، وَبَلَغَ النِّهَايَةَ فِيهِ مِنْ حُبِّهِ لَهُ، فَكَأَنَّهُ أَحَبَّ أَنْ يُوَفِّرَ عَلَيْهِمْ حُظُوظَهُمْ إِذْ لَيْسَ لَهُمْ فِي شَيْءٍ مِنْ عَرَضِ الدُّنْيَا غَيْرِ الطِّيبِ حَظٌّ، ثُمَّ عِشْرَةُ النِّسَاءِ وَمُعَامَلَتُهُنَّ أَصْعَبُ وَأَعْسَرُ، لِأَنَّهُنَّ أَضْعَفُ تَرْكِيبًا، وَأَقَلُّ عَقْلًا، وَأَرَقُّ دِينًا، وَأَغْلَبُ عَلَى أَلْبَابِ الرِّجَالِ فَأَخْبَرَ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ حُبِّبْنَ إِلَيْهِ، فَحُبِّبَ إِلَيْهِ مُعَامَلَتُهُنَّ وَعِشْرَتُهُنَّ مَعَ ضِيقِ أَخْلَاقِهِنَّ، فَعَامَلَهُنَّ أَحْسَنَ مُعَامَلَةٍ، حَتَّى جَمَعَ بَيْنَ الضَّرَايِرِ، وَهُوَ سَبَبُ الْمَشَاقَّةِ وَالتَّشَاجِّ وَتَغَيُّرِ الْأَخْلَاقِ، حَتَّى بَلَغَ مِنْ حُسْنِ مُعَامَلَتِهِ إِيَّاهُنَّ أَنْ تَحَابَبْنَ وَتَوَاصَلْنَ، وَبَلَغَ مِنْ رِفْقِهِ بِهِنَّ أَنْ عَاتَبَهُ اللَّهُ تَعَالَى {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ} [التحريم: 1] ، فَمَنْ كَانَتْ مُعَامَلَتُهُ النِّسَاءَ هَذِهِ الْمُعَامَلَةَ، فَمَا ظَنُّكَ فِي مُعَامَلَتِهِ الرِّجَالَ؟، وَكَانَ مِنْ حُسْنِ مُعَامَلَتِهِ صلى الله عليه وسلم مَا

হাতিম ইবনে উকায়েল আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাইল আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আল-হিমমানি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুনজির ইবনে সা'লাবা থেকে, তিনি ইলবা ইবনে আহমাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী চারশত আশি দিরহাম মোহরের বিনিময়ে ফাতিমাকে বিবাহ করেছিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন যেন তার এক-তৃতীয়াংশ সুগন্ধির জন্য ব্যয় করেন। এটি সৃষ্টির মধ্য থেকে রূহানিয়্যিন বা আধ্যাত্মিক সত্তাদের প্রাপ্য অংশ। সুগন্ধির প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে তিনি এর চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছিলেন। যেন তিনি তাদের প্রাপ্য অংশটুকু পূর্ণ করে দিতে চেয়েছিলেন, যেহেতু সুগন্ধি ব্যতীত দুনিয়াবি কোনো তুচ্ছ বস্তুর প্রতি তাদের কোনো অংশ বা আগ্রহ নেই। অতঃপর নারীদের সাথে বসবাস ও মেলামেশা করা অত্যন্ত কঠিন ও দুঃসাধ্য বিষয়; কারণ তারা দৈহিক গঠনগতভাবে দুর্বল, বুদ্ধিবৃত্তিতে সীমিত এবং দ্বীন পালনে অধিক নমনীয়, কিন্তু তারা পুরুষদের হৃদয়ের ওপর প্রবল হয়ে থাকে। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, নারীদের তাঁর কাছে প্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের স্বভাবের সংকীর্ণতা সত্ত্বেও তাদের সাথে মেলামেশা ও সহাবস্থান করা তাঁর কাছে প্রিয় করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি তাদের সাথে সর্বোত্তম আচরণ করেছিলেন, এমনকি তিনি সপত্নীদের মাঝেও ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন—যা সাধারণত কষ্ট, বিবাদ ও মেজাজ পরিবর্তনের কারণ হয়ে থাকে। তাদের সাথে তাঁর আচরণের মাধুর্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা একে অপরকে ভালোবাসত এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখত। তাদের প্রতি তাঁর নম্রতা ও কোমলতা এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁকে অনুযোগ করে বলেছেন: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনায় আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা কেন নিজের জন্য হারাম করছেন?} [সূরা আত-তাহরীম: ১]। সুতরাং নারীদের সাথে যাঁর আচরণ এমন ছিল, পুরুষদের সাথে তাঁর আচরণ কেমন ছিল তা আপনার ধারণা কী? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণের মাধুর্য এমনই ছিল যে...

(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
ح حَاتِمُ بْنُ عُقَيْلٍ قَالَ: ح يَحْيَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: ح يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ قَالَ: ح مِنْدَلٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحَكَمِ النَّخَعِيِّ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: خَدَمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي لشَيْءٍ صَنَعْتُهُ: لِمَ صَنَعْتَهُ؟ وَلَا قَالَ لشَيْءٍ لَمْ أَصْنَعْهُ: أَلَا صَنَعْتَهُ؟ وَلَا رَأَيْتُ رُكْبَتَهُ قُدَّامَ رُكْبَةِ جَلِيسِهِ قَطُّ، وَلَا عَابَ طَعَامًا قَطُّ، وَلَا صَافَحَهُ أَحَدٌ قَطُّ فَانْتَزَعَ يَدَهُ مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُونَ الْمُصَافِحُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ، وَلَا أَصْغَى إِلَيْهِ أَحَدٌ بِرَأْسِهِ فَنَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 28⦘ رَأْسَهُ، حَتَّى يَكُونَ الْمُصْغِي هُوَ الَّذِي يُنَحِّي رَأْسَهُ، وَلَقَدْ شَمِمْتُ رِيحَ طِيبِ النِّسَاءِ وَالرِّجَالِ فَمَا شَمِمْتُ رِيحًا قَطُّ وَلَا رَائِحَةً أَطْيَبَ مِنْ رِيحِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَا عَرَقِهِ " وَبَلَغَ مِنْ حُسْنِ مُعَامَلَتِهِ خَلْقَ اللَّهِ أَنْ أَسْلَمَ لَهُ الشَّيْطَانُ
হাতিম ইবনে উকাইল বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাঈল বলেছেন: ইয়াহইয়া আল-হিমানী বলেছেন: মিনদাল হাসান ইবনে হাকাম আন-নাখায়ীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমি দশ বছর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমত করেছি। আমি যা করেছি সে সম্পর্কে তিনি কখনো আমাকে বলেননি: কেন তুমি এটি করলে? আর যা আমি করিনি সে সম্পর্কে কখনো বলেননি: কেন তুমি এটি করলে না? আমি কখনো দেখিনি যে তাঁর হাঁটু তাঁর সাথে উপবেশনকারীর হাঁটুর অগ্রবর্তী হয়েছে। তিনি কখনো খাবারের কোনো দোষ ধরতেন না। যখনই কেউ তাঁর সাথে মুসাফাহা করত, তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর হাত সরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না মুসাফাহাকারী ব্যক্তি নিজে তার হাত সরিয়ে নিত। আর কেউ যখন তাঁর দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে কথা বলত, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মাথা সরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজে তার মাথা সরিয়ে নিত। আমি নারী ও পুরুষদের সুগন্ধি ঘ্রাণ গ্রহণ করেছি, কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরীরের ঘ্রাণ বা তাঁর ঘামের সুগন্ধের চেয়ে অধিক সুগন্ধময় কোনো ঘ্রাণ কখনো পাইনি। আল্লাহর সৃষ্টির সাথে তাঁর সদাচরণের সৌন্দর্য এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, শয়তানও তাঁর অনুগত হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
مَا حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، قَالَ: ح يَحْيَى قَالَ: ح جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ» ، قَالُوا: وَإِيَّاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَإِيَّايَ إِلَّا أَنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ، فَأَسْلَمَ» وَاخْتُلِفَ فِي مَعْنَى قَوْلِهِ: «أَسْلَمَ» فَقِيلَ: اسْتَسْلَمَ، وَقِيلَ: أَسْلَمُ أَنَا مِنْهُ، وَقِيلَ: صَارَ مُسْلِمًا، فَإِنْ كَانَ اسْتَسْلَمَ، فَهَذَا غَايَةُ حُسْنِ الْمُعَامَلَةِ حَتَّى انْقَادَ لَهُ الْعَدُوُّ وَاسْتَسْلَمَ، وَإِنْ سَلِمَ صلى الله عليه وسلم مِنْهُ فَبِحُسْنِ مُعَامَلَتِهِ بَعْدَ عِصْمَةِ رَبِّهِ عز وجل، فَسَلِمَ مِنْهُ؛ لِأَنَّهُ غَايَةُ الرِّفْقِ وَالتَّوَقِّي، وَإِنَّ أَسْلَمَ وَدَخَلَ عَلَى الْإِسْلَامِ فَلَا يُسْتَنْكَرُ إِسْلَامُ قَرِينٍ مِنْ بَيْنِ الْجَمِيعِ، كَمَا لَمْ يُسْتَنْكَرْ كُفْرِ وَاحِدٍ مِنْ بَيْنِ جَمِيعِ الْمَلَائِكَةِ، وَهُوَ إِبْلِيسُ لَعَنَهُ اللَّهُ مَعَ قَوْلِهِ عز وجل {لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} [التحريم: 6] ، وَعِصْيَانُ اثْنَيْنِ هَارُوتَ وَمَارُوتَ، وَيَكُونُ الْوَاحِدُ مُسْتَثْنًى مِنْ بَيْنِ الْجَمِيعِ، وَإِنْ لَمْ يُعْلَمْ وَجْهُ الِاسْتِثْنَاءِ، فَهَذَا مِنْ حُسْنِ الْمُعَامَلَةِ مِنْهُ إِيَّاهُ أَنْ أَسْلَمَ الشَّيْطَانُ، فَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا حُبِّبَ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا الطِّيبُ وَالنِّسَاءُ، وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ» ، عِبَارَةٌ عَنْ بُلُوغِ الْغَايَةِ فِي الْعُبُودِيَّةِ كَمَا قُلْنَا، وَلَمَّا كَانَ ⦗ص: 29⦘ أَصْلُ الْعُبُودِيَّةِ الْخَصْلَتَيْنِ اللَّتَيْنِ ذَكَرَهُمَا مِنْ تَعْظِيمِ قَدْرِ اللَّهِ، وَحُسْنِ مُعَامَلَةِ خَلْقِ اللَّهِ، وَكَانَ أَحَدُ الْخَصْلَتَيْنِ أَعْظَمَ مِنَ الْأُخْرَى، وَهِيَ تَعْظِيمُ قَدْرِ اللَّهِ، فَلِذَلِكَ زِيدَ فِي تَحْبِيبِهَا إِلَيْهِ، حَتَّى صَارَتْ قُرَّةَ عَيْنِهِ، فَإِنَّ قُرَّةَ الْعَيْنِ غَايَةُ الْمَحَبَّةِ، فَكَأَنَّهُ قَالَ: إِنَّمَا حُبِّبَ إِلَيَّ فِي الدُّنْيَا الْعُبُودِيَّةُ لِلَّهِ لَا غَيْرَ، وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ: «مِنْ دُنْيَاكُمْ» ، فَيَكُونُ فِيهِ إِشَارَةٌ إِلَى أَنَّهُ لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَظٌّ، وَلَا إِلَيْهَا نَظَرٌ، وَلَا لَهَا عِنْدَهُ حَظٌّ، وَأَنَّهَا بِغَيْضَةٌ رَأْسًا، وَالَّذِي حُبِّبَ إِلَيْهِ فِيهَا مَا هُوَ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
হাতেম আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর কাবুস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের এমন কেউ নেই যার সাথে জিনদের মধ্য থেকে তার একজন সঙ্গী (কারীন) নিযুক্ত করে দেওয়া হয়নি», তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন: «আমার সাথেও, তবে আল্লাহ তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন, ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে (অথবা আমি নিরাপদ হয়েছি)»। আর তাঁর বাণী «আসলামা» (সে ইসলাম গ্রহণ করেছে/আমি নিরাপদ হয়েছি)-এর অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে: এর অর্থ সে আত্মসমর্পণ করেছে। আবার বলা হয়েছে: আমি তার থেকে নিরাপদ হয়েছি। আবার বলা হয়েছে: সে মুসলিম হয়ে গেছে। যদি এর অর্থ 'সে আত্মসমর্পণ করেছে' হয়, তবে এটি আচরণের সর্বোত্তম চূড়ান্ত পর্যায় যে, শত্রুও তাঁর অনুগত হয়েছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। আর যদি এর অর্থ হয় যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার থেকে নিরাপদ থাকেন, তবে তা তাঁর রবের পক্ষ থেকে সুরক্ষার পর তাঁর উত্তম আচরণের কারণেই হয়েছে যে তিনি তার থেকে নিরাপদ ছিলেন; কারণ এটি হলো পরম নম্রতা ও সতর্কতার পরিচয়। আর যদি এর অর্থ হয় যে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং ইসলামে দাখিল হয়েছে, তবে সবার মধ্য থেকে একজনের কারীনের ইসলাম গ্রহণ করা কোনো আপত্তিকর বিষয় নয়, যেমনটি সমস্ত ফেরেশতার মধ্য থেকে একজনের কুফর করাকে আপত্তিকর মনে করা হয়নি, আর তিনি হলেন ইবলিস—আল্লাহ তাকে লানত করুন—অথচ মহান আল্লাহর বাণী হলো: {তারা আল্লাহর আদেশের অবাধ্য হয় না এবং যা আদেশ করা হয় তা-ই পালন করে} [আত-তাহরীম: ৬], এবং হারুত ও মারুত নামক দুজনের অবাধ্যতা। সুতরাং সবার মধ্য থেকে একজন ব্যতিক্রম হতেই পারে, যদিও সেই ব্যতিক্রমের কারণ জানা না থাকে। এটি তাঁর পক্ষ থেকে শয়তানের সাথেও সেই উত্তম আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ যে শয়তান মুসলিম হয়ে গেছে। অতঃপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «তোমাদের দুনিয়া থেকে আমার কাছে সুগন্ধি ও নারীদের প্রিয় করা হয়েছে এবং নামাজের মধ্যে আমার চক্ষু শীতল করা হয়েছে», এটি আমরা যেমনটি বলেছি, দাসত্বের (উবুদিয়্যাত) চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর একটি বহিঃপ্রকাশ। আর যেহেতু ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ দাসত্বের মূল ভিত্তি হলো দুটি বৈশিষ্ট্য যা তিনি উল্লেখ করেছেন: আল্লাহর মাহাত্ম্যকে সম্মান করা এবং আল্লাহর সৃষ্টির সাথে উত্তম আচরণ করা; এবং এই দুটি গুণের একটি অপরটির চেয়ে মহত্তর, আর সেটি হলো আল্লাহর মাহাত্ম্যকে সম্মান করা, তাই তাঁর কাছে এটির প্রিয়তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি তা তাঁর চক্ষু শীতলকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা চক্ষু শীতল হওয়া হলো ভালোবাসার চূড়ান্ত পর্যায়। যেন তিনি বলছেন: দুনিয়াতে আমার কাছে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব ছাড়া অন্য কিছুই প্রিয় করা হয়নি। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: «তোমাদের দুনিয়া থেকে», এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, দুনিয়াতে তাঁর নিজস্ব কোনো অংশ নেই, এর প্রতি তাঁর কোনো আসক্তি নেই এবং তাঁর কাছে এর কোনো গুরুত্বও নেই; বরং এটি তাঁর কাছে মূলত অপ্রিয়, আর দুনিয়াতে তাঁর কাছে যা প্রিয় করা হয়েছে তা হলো কেবল মহান আল্লাহর জন্য যা নিবেদিত।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌حَدِيثٌ آخَرُ
অন্য একটি হাদিস
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
ح أَبُو اللَّيْثِ نَصْرُ بْنُ الْفَتْحِ قَالَ: ح أَبُو عِيسَى قَالَ: ح مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سُورَةَ قَالَ: ح قُتَيْبَةَ، عَنْ مَالِكٍ، وَح نَصْرٌ قَالَ: وَح أَبُو عِيسَى قَالَ: ح إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: ح مَعْنٌ قَالَ: ح مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنهما، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَلَعَ لَهُ أُحُدٌ فَقَالَ: «هَذَا جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ، اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ، وَأَنَا أُحَرِّمُ بَيْنَ لَابَتَيْهَا» أَيْ طَرَفَيْهَا قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الزَّاهِدُ رحمه الله: يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَى قَوْلِهِ: هَذَا جَبَلٌ يُحِبُّنَا أَهْلُهُ وَنُحِبُّهُمْ، فَكَأَنَّهُ قَالَ: أَهْلُ هَذَا الْجَبَلِ يُحِبُّونَنَا وَنُحِبُّهُمْ، وَهُمْ أَهْلُ الْمَدِينَةِ، كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ الَّتِي كُنَّا فِيهَا وَالْعِيرَ} [يوسف: 82] الْآيَةَ، أَيْ أَهْلَ الْقَرْيَةِ وَالْعِيرِ، وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ إِشَارَةً مِنْهُ صلى الله عليه وسلم إِلَى حُبِّ اللَّهِ إِيَّاهُ، وَأَنَّهُ حَبِيبُ اللَّهِ أَحَبَّهُ اللَّهُ، فَأَسْكَنَ حُبَّهُ مَا اخْتَارَ مِنْ خَلْقِهِ مِنْ حَيَوَانٍ وَجَمَادٍ، وَقَدْ قَالَ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ تَعَالَى عَبْدًا أَمَرَ جَبْرَائِيلَ صَلَوَاتُ اللَّهِ ⦗ص: 30⦘ عَلَيْهِ وَسَلَامُهُ يُنَادِي فِي أَهْلِ السَّمَاوَاتِ: أَلَا إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَحَبَّ فُلَانًا، فَأَحِبُّوهُ، فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوضَعُ مَحَبَّتُهُ فِي كُلِّ شَيْءٍ " وَذَكَرَ الْمَاءَ
আবু লাইস নাসর ইবনুল ফাতহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ঈসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনু ঈসা ইবনু সূরা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুতাইবাহ মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ঈসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনু মুসা আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক বর্ণনা করেছেন আমর ইবনু আবু আমর থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে ওহুদ পাহাড় প্রকাশিত হলো, তখন তিনি বললেন: «এই পাহাড়টি আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও একে ভালোবাসি। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইব্রাহিম মক্কাকে সম্মানিত ও নিষিদ্ধ (হারাম) ঘোষণা করেছেন, আর আমি এর দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থানকে (মদিনাকে) হারাম ঘোষণা করছি।» শাইখ ইমাম আল-জাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাঁর এই বাণীর অর্থ এমন হতে পারে যে, ‘এই পাহাড়’ বলতে এর অধিবাসীরা আমাদের ভালোবাসেন এবং আমরাও তাদের ভালোবাসি। যেন তিনি বলেছেন: এই পাহাড়ের অধিবাসীরা আমাদের ভালোবাসেন এবং আমরা তাদের ভালোবাসি, আর তারা হলেন মদিনাবাসী। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং সেই জনপদকে জিজ্ঞাসা করো যেখানে আমরা ছিলাম এবং সেই কাফেলাকেও} [ইউসুফ: ৮২] আয়াতটি, অর্থাৎ জনপদ ও কাফেলার অধিবাসীদের কথা বোঝানো হয়েছে। আর ইহাও হতে পারে যে, এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার একটি নিদর্শন; এবং যেহেতু তিনি আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় (হাবীব), তাই আল্লাহ তাঁকে ভালোবেসেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা—তা পশু হোক বা জড় পদার্থ—তার অন্তরে তাঁর (রাসুলের) প্রতি ভালোবাসা গেঁথে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরাঈলকে (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ ও সালাম বর্ষিত হোক) আদেশ করেন এবং তিনি আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করেন: 'জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অমুক ব্যক্তিকে ভালোবেসেছেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো।' তখন আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসে, অতঃপর জগতের প্রতিটি জিনিসের মধ্যে তার প্রতি ভালোবাসা স্থাপন করে দেওয়া হয়।" এবং তিনি পানির কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
قَالَ: ح أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: ح عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَارْدَانِي قَالَ: ح عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: ح أَبُو مَسْعُودٍ الزَّجَّاجُ وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عُمَرَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا نَادَى جَبْرَائِيلَ عليه السلام: إِنِّي أُحِبَّ فُلَانًا، فَأَحِبُّوهُ، فَيُنَادِي جَبْرَائِيلُ عليه السلام فِي السَّمَاءِ: رَبُّكُمْ عز وجل يُحِبُّ فُلَانًا، فَأَحِبُّوهُ، فَعِنْدَ ذَلِكَ يُلْقَى عَلَيْهِ الْقَبُولُ فِي الْأَرْضِ، وَيَقَعُ عَلَى الْمَاءِ، فَيَشْرَبُهُ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَيُحِبُّهُ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ، وَإِذَا بَغَضَ عَبْدًا، فَمِثْلُ ذَلِكَ " فَأَخْبَرَ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ تَعَالَى أَحَبَّهُ، فَأَسْكَنَ مَحَبَّتَهُ كُلَّ شَيْءٍ، حَتَّى أَسْكَنَ مَحَبَّتَهُ أَبْعَدَ الْأَشْيَاءِ مِنْ صِفَةِ الْمَحَبَّةِ وَهُوَ الْجَبَلُ، فَيَكُونُ ذَلِكَ إِبْلَاغًا فِي الْمَحَبَّةِ فِيهِ لَهُ، كَمَا ذَكَرَ اللَّهُ عز وجل الْحِجَارَةَ، وَأَخْبَرَ أَنَّ مِنْهَا مَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الْأَنْهَارُ، وَيَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاءُ، وَيَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ مَعَ بُعْدِهَا عَنْ أَوْصَافِ اللِّينِ وَالرُّطُوبَةِ مُبَالَغَةً فِي ذِكْرِ قَسْوَةِ قُلُوبِ الْكَافِرِينَ، فَكَذَلِكَ ذَكَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَحَبَّةَ الْجَبَلِ إِيَّاهُ مُبَالَغَةً فِي مَحَبَّةِ اللَّهِ لَهُ، حَتَّى وَضَعَ فِي الْجَبَلِ مَحَبَّتَهُ، وَقَدْ وَضَعَ اللَّهُ تَعَالَى مَحَبَّتَهُ فِي الْجِذْعِ حَتَّى حَنَّ لَمَّا فَارَقَهُ شَوْقًا إِلَيْهِ وَمَحَبَّةً لَهُ
তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী ইবনে আমর, তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে ইসহাক আল-মারদানী, তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হারব, তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ আজ-জাজ্জাজ, তাঁর নাম হলো আবদুর রহমান ইবনুল হাসান, তিনি উমর থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে ডেকে বলেন: 'আমি অমুককে ভালোবাসি, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো।' তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসমানে ঘোষণা করেন: 'তোমাদের মহান প্রতিপালক অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো।' তখন জমিনে তার জন্য কবুলিয়াত বা গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয় এবং তা পানির উপর নিপতিত হয়, ফলে পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ উভয়ই তা পান করে এবং পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ সকলেই তাকে ভালোবাসে। আর যখন তিনি কোনো বান্দার প্রতি ঘৃণা পোষণ করেন, তখনও অনুরুপ হয়।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাকে ভালোবেসেছেন, ফলে তিনি তাঁর ভালোবাসা প্রতিটি জিনিসের মধ্যে স্থাপন করেছেন। এমনকি ভালোবাসার বৈশিষ্ট্য থেকে অত্যন্ত দূরবর্তী পাহাড়ের মতো জিনিসের মধ্যেও তাঁর ভালোবাসা স্থাপন করেছেন। এটি ছিল তাঁর প্রতি ভালোবাসার চরম বহিঃপ্রকাশ। যেমনটি মহান আল্লাহ পাথরের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের মধ্য থেকে কোনোটি এমন আছে যেখান থেকে নদী প্রবাহিত হয়, কোনোটি বিদীর্ণ হয় এবং সেখান থেকে পানি নির্গত হয়, আর কোনোটি আল্লাহর ভয়ে উপর থেকে নিচে পতিত হয়—অথচ পাথর কোমলতা ও আর্দ্রতা থেকে অনেক দূরে। এটি মূলত কাফিরদের হৃদয়ের কঠোরতা বর্ণনার আধিক্যের জন্য করা হয়েছে। একইভাবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাহাড়ের তাকে ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে, এমনকি তিনি পাহাড়ের মধ্যেও তাঁর প্রতি ভালোবাসা স্থাপন করেছেন। মহান আল্লাহ গাছের কাণ্ডের মধ্যেও তাঁর প্রতি ভালোবাসা স্থাপন করেছিলেন, এমনকি যখন তিনি সেটিকে ছেড়ে চলে গেলেন, তখন সেটি তাঁর প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসায় ক্রন্দন করেছিল।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
حَدَّثَنَا نَصْرٌ، قَالَ: ح أَبُو عِيسَى قَالَ: ح مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ قَالَ: ح عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ إِلَى لِزْقِ جِذْعٍ، فَاتَّخَذُوا لَهُ مِنْبَرًا، فَخَطَبَ عَلَيْهِ، فَحَنَّ الْجِذْعُ حَنِينَ النَّاقَةِ، فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَسَّهُ فَسَكَنَ، وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى: «فَاحْتَضَنَهُ فَسَكَنَ» ⦗ص: 31⦘ فَأَخْبَرَ أَنَّ مِنْ مَحَبَّتِهِ إِيَّاهُ حَنَّ، أَلَا تَرَى يَقُولُ، فَاحْتَضَنَهُ فَسَكَنَ، فَكَأَنَّ سُكُونَهُ حِينَ مَسَّهُ أَوِ احْتَضَنَهُ، وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «وَنُحِبُّهُ» ، يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَحَبَّةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْجَبَلَ عَلَى الْمُجَازَاةِ، وَذَلِكَ أَنَّ مَنْ أَحَبَّ شَيْئًا فَقَدْ آثَرَهُ، وَمِنَ الْحَقِّ أَنْ تُؤْثِرَ مَنْ يُؤْثِرُكَ، وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَاهُ أَنَّ مَنْ أَحَبَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبَّهُ اللَّهُ، قَالَ اللَّهُ عز وجل {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} [آل عمران: 31] فَإِذَا كَانَ اتَّبَاعُهُ مُوجِبًا مَحَبَّةَ اللَّهِ، فَكَيْفَ بِمَحَبَّتِهِ، وَمَنْ أَحَبَّهُ اللَّهُ أَحَبَّهُ أَحِبَّاءُ اللَّهِ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَيِّدُ أَحِبَّاءِ اللَّهِ، فَهُوَ أَحَقُّ أَنْ يُحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُ اللَّهُ، وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَاهُ إِشَارَةً مِنْهُ إِلَى حُبِّهِ للَّهِ؛ لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم عَلِمَ أَنَّ أَقْدَرَ مَوْضِعِ الْإِشَارَةِ إِلَى مَحَبَّةِ اللَّهِ إِيَّاهُ، فَكَأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَ عَنْ مَحَبَّةِ اللَّهِ لَهُ بِقَوْلِهِ: «يُحِبُّنَا» ، وَأَخْبَرَ عَنْ مَحَبَّتِهِ لَهُ عز وجل بِقَوْلِهِ: «وَنُحِبُّهُ» ، وَالْجَبَلُ وَاسِطَةٌ بَيْنَ الْحَبِيبَيْنِ، اللَّهِ وَرَسُولِهِ، كَمَا كَانَتِ الشَّجَرَةُ وَاسِطَةً بَيْنَ الْكَلِيمَيْنِ اللَّهِ وَمُوسَى
নসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহমুদ ইবনে গাইলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরামা ইবনে আম্মার থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি খেজুর গাছের খুঁটির সাথে সংলগ্ন হয়ে খুতবা দিতেন। পরবর্তীতে তারা তাঁর জন্য একটি মিম্বর তৈরি করলেন, তখন তিনি সেটির ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে লাগলেন। এতে সেই খুঁটিটি মাদি উটের ন্যায় ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বর থেকে নেমে আসলেন এবং সেটিকে স্পর্শ করলেন, ফলে সেটি শান্ত হলো। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: «তিনি সেটিকে আলিঙ্গন করলেন, ফলে সেটি শান্ত হলো» ⦗পৃ: ৩১⦘ তিনি সংবাদ দিলেন যে, তাঁর প্রতি ভালোবাসার কারণেই সেটি কেঁদেছিল। আপনি কি দেখছেন না যে তিনি বলছেন, তিনি সেটিকে আলিঙ্গন করলেন এবং সেটি শান্ত হলো? যেন তাঁর স্পর্শে বা আলিঙ্গনেই সেটি শান্ত হয়েছিল। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি», হতে পারে যে পাহাড়ের প্রতি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভালোবাসা ছিল প্রতিদান স্বরূপ। কারণ, যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভালোবাসে সে তাকে অগ্রাধিকার দেয়; আর এটাই সংগত যে, যে আপনাকে অগ্রাধিকার দেয় আপনিও তাকে অগ্রাধিকার দেবেন। আরও হতে পারে যে এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভালোবাসবে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} [আলে ইমরান: ৩১]। সুতরাং যদি তাঁর অনুসরণ করা আল্লাহর ভালোবাসা লাভের কারণ হয়, তবে স্বয়ং তাঁকে ভালোবাসা কতটা মর্যাদাপূর্ণ হবে! আর যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, আল্লাহর প্রিয়পাত্রগণও তাকে ভালোবাসেন। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের সরদার; তাই যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাকে ভালোবাসা তাঁর জন্যই সর্বাধিক সংগত। আরও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর প্রতি তাঁর ভালোবাসার দিকে ইঙ্গিত করেছেন; কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানতেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে ভালোবাসার নির্দশন প্রকাশের সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান কোনটি। তাই যেন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) «সে আমাদের ভালোবাসে» বলার মাধ্যমে তাঁর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার সংবাদ দিয়েছেন, এবং «আমরা তাকে ভালোবাসি» বলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর নিজের ভালোবাসার সংবাদ দিয়েছেন। আর পাহাড়টি ছিল দুই প্রিয়জন—আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের—মধ্যে একটি মাধ্যম, যেমনটি সেই গাছটি ছিল দুই কথোপকথনকারী—আল্লাহ এবং মূসার—মধ্যে একটি মাধ্যম।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌حَدِيثٌ آخَرُ
অন্য একটি হাদীস
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣١)
ح مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الرَّشَادِيُّ قَالَ: ح مُحَمَّدُ بْنُ الضَّوِّ قَالَ: ح كَثِيرٌ الْعَبْدِيُّ قَالَ ح سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعَمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ، وَالْعِفَّةَ، وَالْأَمَانَةَ، وَحُسْنَ الْخُلُقِ، وَالرِّضَا بِالْقَدَرِ» . قَالَ الشَّيْخُ رحمه الله: الصِّحَّةُ فِي إِقَامَةِ الْأَوَامِرِ، وَالْعِفَّةُ الِانْتِهَاءُ عَنِ الزَّوَاجِرِ، وَالْأَمَانَةُ ذَمُّ الْجَوَارِحِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ تَحَمُّلُ أَثْقَالِ الْخَلْقِ، وَهُوَ بِتَحَقُّقِ الْعُبُودِيَّةِ، وَالرِّضَا بِالْقَدَرِ مُشَاهَدَةُ الرُّبُوبِيَّةِ

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-রাশাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আদ-দাও, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর আল-আবদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি, তিনি আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনআম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়া করতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সুস্থতা, পবিত্রতা, আমানতদারি, সচ্চরিত্রতা এবং তাকদিরের ওপর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি»। শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেন: সুস্থতা হলো আদেশসমূহ পালন করা, পবিত্রতা হলো নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা, আমানতদারি হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, এবং উত্তম চরিত্র হলো সৃষ্টির বোঝা সহ্য করা; যা দাসত্বের বাস্তবতা অর্জনের মাধ্যমে সম্ভব হয়। তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্টি হলো রুবুবিয়্যাত প্রত্যক্ষ করা।

(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌حَدِيثٌ آخَرُ
আরেকটি হাদীস
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
ح مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الرَّشَادِيُّ قَالَ: ح أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ قَالَ: ح عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ قَالَ: ح صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ادْعُوا اللَّهَ وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالْإِجَابَةِ، وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَجِيبُ دُعَاءً مِنْ قَلْبٍ لَاهٍ» . قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الزَّاهِدُ رحمه الله: مَعْنَى قَوْلِهِ: «وَأَنْتُمْ مُوقِنُونَ بِالْإِجَابَةِ» أَيْ: كُونُوا عَلَى حَالَةٍ تَسْتَحِقُّونَ الْإِجَابَةَ أَيْ بِحُضُورِ السِّرِّ، وَصِحَّةِ الْحَالِ، حَتَّى يَكُونَ مَعْرُوفًا فِي الْمَلَكُوتِ، حَتَّى يُقَالَ: صَوْتٌ مَعْرُوفٌ، وَهُوَ أَنَّ يَكُونَ تَعَرَّفَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى فِي أَدَاءِ أَوَامِرِهِ، وَاجْتِنَابِ مَنَاهِيهِ، وَقَبُولِ أَحْكَامِهِ غَيْرَ مُتَسَخِّطٍ، ثُمَّ يَدْعُوهُ، وَلَا يَكُونُ فِي سِرِّهِ غَيْرُهُ إِلَّا سِوَاهُ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُنِيبٍ} [ق: 33] أَيْ: رَاجِعٍ إِلَيْهِ عَمَّا سِوَاهُ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْطَرًا إِلَيْهِ، فَقَدِ انْقَطَعَ رَجَاؤُهُ عَمَّا سِوَاهُ، لَا يَرْجِعُ إِلَّا حَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ، وَلَا إِلَى أَفْعَالِهِ تَعَالَى، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ} [النمل: 62] ، قَالَ بَعْضُهُمُ: الْمُضْطَرُّ الَّذِي إِذَا رَفَعَ إِلَيْهِ يَدَهُ لَمْ يَرَ لِنَفْسِهِ عَمَلًا، فَإِذًا كَذَلِكَ أَيْقَنَ بِإِجَابَةِ دَعْوَتِهِ، لِأَنَّ اللَّهَ عز وجل وَعَدَ إِجَابَةَ مَنْ دَعَاهُ، وَهَذِهِ شَرَائِطُ مَنْ يُجِيبُ دُعَاءَهُ، وَمَنْ أَتَى بِهَا فَاللَّهُ مُنْجِزٌ لَهُ وَعْدَهُ، وَاللَّهُ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-রশাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে দাউদ আস-সিজিস্তানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে গিয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিহ আল-মুররি হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর কাছে এমনভাবে দুআ করো যেন তোমরা কবুল হওয়ার বিষয়ে সুনিশ্চিত থাকো। আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উদাসীন অন্তরের দুআ কবুল করেন না।’» শায়খ ইমাম যাহেদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: তাঁর এই বাণী ‘তোমরা কবুল হওয়ার বিষয়ে সুনিশ্চিত থাকো’-এর অর্থ হলো: তোমরা এমন অবস্থায় থাকো যেন তোমরা কবুল হওয়ার যোগ্য হও, অর্থাৎ অন্তরের উপস্থিতি এবং অবস্থার বিশুদ্ধতার সাথে, যাতে ঊর্ধ্বজগতে তা পরিচিত হয় এবং বলা হয়: ‘পরিচিত কণ্ঠস্বর’। আর তা হলো তাঁর আদেশ পালনের মাধ্যমে, তাঁর নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে এবং অসন্তুষ্ট না হয়ে তাঁর বিধানসমূহ গ্রহণ করার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে পরিচিত হওয়া; এরপর সে তাঁর কাছে দুআ করবে এবং তার অন্তরে তিনি ছাড়া আর কেউ থাকবে না। মহান আল্লাহর এই বাণী অনুযায়ী: {এবং যে বিনীত অন্তর নিয়ে উপস্থিত হয়েছে} [সূরা ক্বাফ: ৩৩], অর্থাৎ তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে তাঁর দিকে ফিরে আসা। এরপর তাঁর প্রতি সে হবে একান্ত মুখাপেক্ষী বা আর্ত, ফলে তিনি ছাড়া অন্য কারো থেকে তার আশা ছিন্ন হয়ে যাবে। সে তাঁর ক্ষমতা ও শক্তি ব্যতীত আর কিছুর দিকে ফিরে তাকাবে না, এমনকি নিজের আমলের দিকেও নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলতো কে আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূর করেন?} [সূরা আন-নামল: ৬২]। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: আর্ত বা অসহায় সে-ই, যে যখন তাঁর দিকে নিজের হাত উঠায়, তখন সে নিজের কোনো আমল দেখতে পায় না। আর যখন এমন হবে, তখন সে তার দুআ কবুল হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়, কারণ আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা) তাঁর কাছে দুআকারীর দুআ কবুল করার ওয়াদা করেছেন। আর এগুলো হলো সেই ব্যক্তির শর্তাবলী যার দুআ কবুল করা হয়; যে ব্যক্তি এই শর্তসমূহ পূরণ করবে, আল্লাহ তার জন্য তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করবেন। আর আল্লাহ ওয়াদা খেলাফ করেন না।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌حَدِيثٌ آخَرُ
অন্য একটি হাদীস
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
ح عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ قَالَ: ح يَحْيَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْحَسَنِ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْعُمَرِيُّ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، رضي الله عنه أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الدُّعَاءِ خَيْرٌ، أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي؟ فَقَالَ: " نَزَلَ عَلَيَّ جِبْرِيلُ عليه السلام فَقَالَ: إِنَّ خَيْرَ الدُّعَاءِ أَنْ تَقُولَ فِي صَلَاتِكَ: اللَّهُمَّ ⦗ص: 33⦘ لَكَ الْحَمْدُ كُلُّهُ، وَلَكَ الْمُلْكُ كُلُّهُ، وَلَكَ الْخَلْقُ كُلُّهُ، وَإِلَيْكَ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ، أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ " قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الزَّاهِدُ رحمه الله: قَوْلُهُ: «لَكَ الْحَمْدُ كُلُّهُ» مَوْضِعُ الصَّفَاءِ وَالِانْقِطَاعِ إِلَيْهِ «وَلَكَ الْمُلْكُ كُلُّهُ» مَوْضِعُ الْكِفَايَةِ بِهِ، وَالتَّوَكُّلِ عَلَيْهِ. «وَلَكَ الْخَلْقُ كُلُّهُ» مَوْضِعُ الْأَمْنِ بِهِ وَالسُّكُونِ. «وَإِلَيْكَ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ» مَوْضِعُ الْإِخْلَاصِ لَهُ وَالتَّبَرِّي إِلَيْهِ. «أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ» مَوْضِعُ الْوُقُوفِ مَعَهُ، وَالِالْتِجَاءِ إِلَيْهِ. «وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهُ» الرُّجُوعُ إِلَى نَفْسِكَ وَأَوْصَافِهَا "
আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল বিন আল-হাসান আল-হামদানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ বিন ইয়াজিদ আল-উমরি বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনু আবি জিব থেকে, তিনি জায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! শ্রেষ্ঠ দোয়া কোনটি, যা আমি আমার নামাজে পাঠ করতে পারি? তিনি বললেন: "আমার নিকট জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হয়ে বললেন: নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো তোমার নামাজে এটি বলা: হে আল্লাহ! ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ সমস্ত প্রশংসা কেবল আপনারই, সমস্ত রাজত্ব কেবল আপনারই, সমস্ত সৃষ্টি কেবল আপনারই এবং সমস্ত বিষয় আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। আমি আপনার নিকট সকল কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং সকল অকল্যাণ হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" শায়খ ইমাম যাহেদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাঁর বাণী: "সমস্ত প্রশংসা কেবল আপনারই" এটি হলো পবিত্রতা ও তাঁর প্রতি একাগ্রতা প্রকাশের স্থল। "সমস্ত রাজত্ব কেবল আপনারই" এটি হলো তাঁর ওপর নির্ভরতা ও তাঁর প্রতি তাওয়াক্কুলের স্থল। "সমস্ত সৃষ্টি কেবল আপনারই" এটি হলো তাঁর মাধ্যমে নিরাপত্তা ও প্রশান্তি লাভের স্থল। "সমস্ত বিষয় আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে" এটি হলো তাঁর প্রতি ইখলাস এবং নিজের অক্ষমতা প্রকাশের স্থল। "আমি আপনার নিকট সমস্ত কল্যাণ প্রার্থনা করছি" এটি হলো তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান এবং তাঁর নিকট আশ্রয় খোঁজার স্থল। "সমস্ত অকল্যাণ হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি" এর অর্থ হলো নিজ সত্তা ও তার বৈশিষ্ট্যাবলীর দিকে ফিরে আসা।
(খণ্ড: ১) বাহরুল ফাওয়াইদ আল-মুসাম্মা বি মাআনিল আখবার লিল কালাবাযী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌حَدِيثٌ آخَرُ
অন্য একটি হাদিস