(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: -)
أمثال الحديث للرامهرمزي   (الرامهرمزي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أمثال الحديث المروية عن النبي صلى الله عليه وسلم

المؤلف: أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي الفارسي (ت 360هـ)

المحقق: أحمد عبد الفتاح تمام

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1409

عدد الصفحات: 164

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রামাহুরমুজি কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের উপমাসমূহ   (রামাহুরমুজি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের উপমাসমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান বিন খাল্লাদ আল-রামাহুরমুজি আল-ফারসি (মৃত্যু ৩৬০ হি.)

গবেষক: আহমাদ আব্দ আল-ফাত্তাহ তাম্মাম

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়াহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৯

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৪

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: -)
مُقَدِّمَةٌ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، رَبِّ أَعِنْ
ভূমিকা। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার রব, সাহায্য করুন।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٨)
، قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ رضي الله عنه: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُشَرَّفِ بْنِ الْمُسْلِمِ الْأَنْمَاطِيُّ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الدَّقَّاقُ بِمِصْرَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ طَالِبٍ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلَّادٍ الرَّامَهُرْمُزِيُّ بِرَامَهُرْمُزَ، بِقِرَاءَتِهِ عَلَيَّ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، قَالَ: هَذَا ذِكْرُ الْأَمْثَالِ الْمَرْوِيَّةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ عَلَى خِلَافِ مَا رُوِّينَاهُ مِنْ كَلَامِهِ الْمُشَاكِلِ لِلْأَمْثَالِ الْمَذْكُورَةِ عَنْ مُتَقَدِّمِي الْعَرَبِ، فَإِنَّ تِلْكَ تَقَعُ مَوَاقِعَ الْإِفْهَامِ بِاللَّفْظِ الْمُوجَزِ الْمُجِلِّ، وَهَذِهِ بَيَانٌ وَشَرْحٌ وَتَمْثِيلٌ يُوَافِقُ أَمْثَالَ التَّنْزِيلِ الَّتِي وَعَدَ اللَّهُ عز وجل بِهَا وَأَوْعَدَ، وَحَرَّمَ وَأَحَلَّ، وَرَجَّى وَخَوَّفَ، وَقَرَّعَ بِهَا الْمُشْرِكِينَ وَجَعَلَهَا مَوْعِظَةً وَتَذْكِيرًا
শাইখ, ইমাম, হাফিজ আবু তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আলেকজান্দ্রিয়ায় আবুল হাসান আলী ইবনুল মুশাররাফ ইবনুল মুসলিম আল-আনমাতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মিশরে আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী ইবনে তালিব আল-বাগদাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামানহুরমুজি রামহুরমুজে তিনশ তেত্রিশ হিজরি সনের মহররম মাসে আমার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত উপমাগুলোর আলোচনা; আর এগুলো প্রাচীন আরবদের থেকে বর্ণিত উপমাসদৃশ যেসকল কথা আমরা বর্ণনা করেছি তার চেয়ে ভিন্নতর। কারণ প্রাচীন আরবদের সেই উপমাগুলো সংক্ষিপ্ত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ শব্দের মাধ্যমে কোনো বিষয় বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হতো। পক্ষান্তরে এগুলো (নবীর উপমাগুলো) হলো এমন বর্ণনা, ব্যাখ্যা ও উদাহরণ যা অবতীর্ণ কিতাবের (কুরআনের) উপমাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মাধ্যমে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ও ভীতি প্রদর্শন করেছেন, হারাম করেছেন ও হালাল করেছেন, আশা যুগিয়েছেন ও ভয় দেখিয়েছেন, এর মাধ্যমে মুশরিকদের তিরস্কার করেছেন এবং একে সদুপদেশ ও স্মারক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٩)
، وَدَلَّ عَلَى قُدْرَتِهِ مُشَاهَدَةً وَعَيَانًا وعَاجِلًا وَآجِلًا: وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
এবং তাঁর ক্ষমতা চাক্ষুষভাবে ও প্রত্যক্ষভাবে এবং অবিলম্বে ও ভবিষ্যতে প্রমাণিত হয়েছে: আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁরই জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত, এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٩)
1 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ مُطَيِّنٌ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، ثنا يَزِيدُ بْنُ عُمَرَ، وَالْمَعَافِرِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ شُفَيًّا الْأَصْبَحِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ: «حَفِظْتُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَلْفَ مَثَلٍ»
১ - মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি মুতাইয়িন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে বাররাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যাইদ ইবনুল হুবাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে উমর ও আল-মাআফিরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শুফাই আল-আসবাহিকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এক হাজারটি উপমা মুখস্থ করেছি»।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٩)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ هَارُونُ بْنُ يُوسُفَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ح وَحَدَّثَنَا ⦗ص: 10⦘ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى عَبْدَانُ، ثنا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ خَالِدٍ النُّمَيْرِيُّ، ثنا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ النُّمَيْرِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ التَّمَّارِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِي كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى بُنْيَانًا، فَأَحْسَنَهُ وَأَجْمَلَهُ وَأَكْمَلَهُ إِلَّا مَوْضِعَ لَبِنَةٍ، فَجَعَلَ النَّاسُ يُطِيفُونَ بِهِ، وَيَقُولُونَ: مَا رَأَيْنَا أَحْسَنَ مِنْ هَذَا، لَوْلَا مَوْضِعُ هَذِهِ اللَّبِنَةِ، أَلَا فَكُنْتُ تِلْكَ اللَّبِنَةَ" قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: هَذَا مَثَلُ نُبُوَّتِهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَّهُ خَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ، وَبِهِ تَتِمُّ حُجَّةُ اللَّهِ عز وجل عَلَى خَلْقِهِ، وَمَثَّلَ ذَلِكَ بِالْبُنْيَانِ الَّذِي يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا، وَهُوَ نَاقِصُ الْكَمَالِ بِنُقْصَانِ بَعْضِهِ، فَأَكْمَلَ اللَّهُ بِهِ دِينَهُ، وَخَتَمَ بِهِ وَحْيَهُ. وَالْعَرَبُ تُمَثِّلُ مَا يُبَالِغُونَ فِيهِ مِنَ الْوَثَاقَةِ وَالْأَصَالَةِ وَعُقْدَةِ الْمَكَارِمِ وَالْمَفَاخِرِ وَأَشْبَاهِ ذَلِكَ بِالْبُنْيَانِ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ} [الصف: 4] . يَعْنِي: لَا يَزُولُ وَلَا يَتَخَلْخَلُ، وَأَخْبَرَ أَنَّهُ بَنَى السَّمَاءَ فَرَفَعَ سَمْكَهَا، وَهُوَ بِنَاءُ الْقُدْرَةِ لَا إِنَّ ثَمَّ شَيْئًا مِنْ آلَةِ الصَّنْعَةِ ⦗ص: 11⦘. قَالَ عَبْدَةُ بْنُ الطَّيِّبِ يَذْكُرُ قَيْسَ بْنَ عَاصِمٍ:

[البحر الطويل]

فَمَا كَانَ قَيْسٌ هُلْكُهُ هُلْكُ وَاحِدٍ … وَلَكِنَّهُ بُنْيَانُ قَوْمٍ تَهَدَّمَا

وَقَالَ آخَرُ:

[البحر الطويل]

أُولَئِكَ قَوْمٌ إِنْ بَنَوْا أَحْسَنُوا الْبُنَى … وَإِنْ عَاهَدُوا أَوْفَوْا وَإِنْ عَقَدُوا شَدُّوا

الْبُنَى: مَقْصُورٌ بِضَمِّ الْبَاءِ جَمْعُ بُنْيَةٍ، هَكَذَا قَالَ لَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ السَّرِيِّ، يَعْنِي الزَّجَّاجَ، كَمَا تَقُولُ: لِحْيَةٌ وَلِحًى، وَحِلْيَةٌ وَحِلًى وَأَنْشَدَ ابْنُ دُرَيْدٍ:

[البحر الطويل]

تَبَوَّأْتُ بَيْتًا فِي الْمَكَارِمِ وَالْعُلَا … رَفِيعَ الْبِنَا بَيْنَ الْمَجَرَّةِ وَالنَّجْمِ

⦗ص: 12⦘

وَقَالَ زِيَادُ بْنُ حَمَلٍ التَّمِيمِيُّ:

[البحر البسيط]

غَمْرُ النَّدَى لَا يَبِيتُ الْحَقُّ يَثْمُلُهُ … إِلَّا غَدَا وَهْوَ سَامِي الطَّرْفِ مُبْتَسِمُ

إِنَّ الْمَكَارِمَ يَبْنِيهَا وَيَعْمُرُهَا … حَتَّى يَنَالَ أُمُورًا دُونَهُ قُحَمُ

يَعْنِي لَا يَلِجُ عَلَيْهِ الْحَقُّ إِلَّا سُرَّ بِهِ، وَقُحَمٌ: تَكَلُّفٌ وَتَعَبٌ وَأَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ ، عَنِ ابْنِ سَلَّامٍ قَالَ: لَمَّا أَرَادَ الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ - وَإِنَّمَا هُوَ عَبْدُ الْمَلِكِ وَلَيْسَ هُوَ الْوَلِيدُ - أَنْ يُبَايِعَ لِابْنِهِ يَزِيدَ قَالَ جَرِيرٌ:

[البحر الوافر]

وَمَاذَا تَنْظُرُونَ بِهَا وَفِيكُمْ … نُهُوضٌ بِالْعَظَائِمِ وَاعْتِلَاءُ

وَلَوْ قَدْ بَايَعُوكَ وَلِيَّ عَهْدٍ … لَقَامَ الْوَزْنُ وَاعْتَدَلَ الْبِنَاءُ

⦗ص: 13⦘

وَقَالَ آخَرُ مِنَ الْعَرَبِ يَمْدَحُ قَوْمًا:

[البحر الوافر]

هُمْ حَلُّوا مِنَ الشُّرَفِ الْمُعَلَّى … وَمِنْ حَسَبِ الْعَشِيرَةِ حَيْثُ شَاءُوا

بُنَاةُ مَكَارِمٍ وَأُسَاةُ كَلْمٍ … دِمَاؤُهُمُ مِنَ الْكَلِبِ الشِّفَاءُ

فَأَمَّا بَيْتُكُمْ - إِنْ عُدَّ - بَيْتٌ … فَطَالَ السَّمْكُ وَاتَّسَعَ الْفِنَاءُ

وَأَمَّا أُسُّهُ فَعَلَى قَدِيمٍ … مِنَ الْعَادِيِّ إِنْ ذُكِرَ الْبِنَاءُ

فَلَوْ أَنَّ السَّمَاءَ دَنَتْ لِمَجْدٍ … وَمَكْرُمَةٍ دَنَتْ لَكُمُ السَّمَاءُ

قَوْلُهُ: دِمَاؤُهُمُ مِنَ الْكَلِبِ الشِّفَاءُ: الْكَلِبُ دَاءٌ يَأْخُذُ الْكَلْبَ، وَكَانَتِ الْعَرَبُ تَزْعُمُ أَنَّ الْكَلْبَ الْكَلِبَ - وَهُوَ الَّذِي يَأْخُذُهُ هَذَا الدَّاءُ - إِذَا عَضَّ تَلِفَ الْمَعْضُوضُ، وَإِذَا اسْتَشْفَى الْمَعْضُوضُ بِدَمِ الشَّرِيفِ بَرِئَ
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ হারুন বিন ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবি উমর আল-আদানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন। (অন্য সূত্রে) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুসা আবদান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদ রাব্বিহি বিন খালিদ আন-নুমানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফুদাইল বিন সুলাইমান আন-নুমানি, তিনি মুসা বিন উকবাহ থেকে, তিনি আবু হাযিম আত-তাম্মার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি দালান নির্মাণ করল এবং তাকে অতি সুন্দর, সুশোভিত ও পূর্ণাঙ্গ করল, কেবল একটি ইটের স্থান ছাড়া। অতঃপর মানুষ তার চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল এবং বলতে লাগল: 'আমরা এর চেয়ে সুন্দর আর কিছু দেখিনি, যদি না এই ইটের স্থানটি (খালি) থাকত।' সাবধান! আমিই সেই ইট।" আবু মুহাম্মাদ বলেন: এটি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়তের দৃষ্টান্ত, এবং (প্রমাণ) যে তিনি শেষ নবী, আর তাঁর মাধ্যমেই সৃষ্টিজগতের ওপর আল্লাহ তায়ালার প্রমাণ বা হুজ্জত পূর্ণ হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে এমন এক দালানের সাথে তুলনা করেছেন যার এক অংশ অন্য অংশকে মজবুত করে, আর কোনো এক অংশ না থাকলে তার পূর্ণতায় ঘাটতি থেকে যায়। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নিজের দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে ওহী সমাপ্ত করেছেন। আর আরবরা যে বিষয়ের দৃঢ়তা, মৌলিকত্ব এবং চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরবের বন্ধন ইত্যাদির আধিক্য প্রকাশ করতে চায়, তাকে দালানের সাথে তুলনা করে থাকে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে, যেন তারা এক সিসাঢালা প্রাচীর।} [আস-সাফ: ৪] অর্থাৎ: যা স্থানচ্যুত হয় না এবং শিথিল হয় না। আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আকাশ নির্মাণ করেছেন এবং তার উচ্চতাকে উন্নীত করেছেন; আর তা হলো তাঁর ক্ষমতার (কুদরত) দ্বারা নির্মাণ, সেখানে জাগতিক কোনো যন্ত্রপাতির ব্যবহার নেই ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘। আবদাহ বিন আত-তাইয়িব, কাইস বিন আসিম সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেছেন:

[তবিল ছন্দ]

কাইসের মৃত্যু কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু ছিল না … বরং তা ছিল একটি কওমের দালানের ভেঙে পড়া।

অন্য একজন কবি বলেছেন:

[তবিল ছন্দ]

তারা এমন এক কওম যে, তারা যখন কিছু নির্মাণ করে তখন সর্বোত্তম নির্মাণ করে … আর যখন তারা প্রতিশ্রুতি দেয় তা পূর্ণ করে এবং যখন কোনো চুক্তি করে তা দৃঢ়ভাবে পালন করে।

'আল-বুনী' শব্দটি বা বর্ণে পেশ (উচ্চারণ) দিয়ে গঠিত, যা 'বুনইয়াহ' (কাঠামো) শব্দের বহুবচন। ইব্রাহিম বিন আল-সাররি অর্থাৎ আয-যাজ্জাজ আমাদের নিকট এভাবেই বলেছেন, যেমন বলা হয়: 'লিহয়াহ' থেকে 'লিহা' এবং 'হিলয়াহ' থেকে 'হিলা'। ইবনুল দুরাইদ পাঠ করেছেন:

[তবিল ছন্দ]

আমি সম্মান ও উচ্চমর্যাদায় এমন এক ঘর গ্রহণ করেছি … যার উচ্চ কাঠামো ছায়াপথ ও নক্ষত্রের মাঝে অবস্থিত।

⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘

যিয়াদ বিন হামাল আত-তামিমি বলেছেন:

[বাসিত ছন্দ]

অঢেল দানশীলতা যার, কোনো হক বা পাওনা তাকে পেয়ে রাত অতিবাহিত করে না … পরদিন সকালেই তিনি হাস্যোজ্জ্বল ও উচ্চদৃষ্টিসম্পন্ন হন।

নিশ্চয়ই তিনি মহৎ গুণাবলি নির্মাণ করেন এবং সেগুলোকে আবাদ করেন … যতক্ষণ না তিনি এমন স্তরে পৌঁছান যার আগে রয়েছে কঠিন বাধা।

অর্থাৎ কোনো পাওনা বা হক তাঁর কাছে আসলে তিনি তাতে আনন্দিত হওয়া ছাড়া তা গ্রহণ করেন না। আর 'কুহাম' অর্থ হলো কষ্টসাধ্য ও ক্লান্তিকর কাজ। আবু খলিফা ইবনে সাল্লাম থেকে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: যখন ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক—আসলে তিনি আব্দুল মালিক ছিলেন, ওয়ালিদ নন—তার পুত্র ইয়াযিদের জন্য বাইয়াত নিতে চাইলেন, তখন জারির বলেছিলেন:

[ওয়াফির ছন্দ]

তোমরা এতে কিসের অপেক্ষা করছ, অথচ তোমাদের মধ্যে … মহৎ কাজের জন্য উত্থান ও উচ্চতা বিদ্যমান।

যদি তারা তোমাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে বাইয়াত প্রদান করত … তবে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হতো এবং নির্মাণ বা কাঠামো সুবিন্যস্ত হতো।

⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘

আরবদের মধ্য থেকে অন্য একজন কবি একটি গোত্রের প্রশংসা করে বলেছেন:

[ওয়াফির ছন্দ]

তারা উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে … এবং বংশীয় গৌরবের যেখানে ইচ্ছা তারা অধিষ্ঠিত হয়েছে।

তারা মহৎ গুণাবলির নির্মাতা এবং ক্ষত নিরাময়কারী … জলাতঙ্ক রোগীর জন্য তাদের রক্তই হলো আরোগ্য।

যদি তোমাদের ঘরকে গণ্য করা হয়—তবে তা এক বিশাল ঘর … যার উচ্চতা দীর্ঘ এবং আঙিনা প্রশস্ত।

যদি নির্মাণের কথা বলা হয়, তবে তার ভিত্তি অতি প্রাচীন … যা আদিম যুগের ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

যদি আকাশ গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের কাছে নত হতো … তবে আকাশ তোমাদের কাছেই নত হতো।

তাঁর উক্তি: 'জলাতঙ্ক রোগীর জন্য তাদের রক্তই হলো আরোগ্য' এর ব্যাখ্যা হলো: 'আল-কালিব' একটি রোগ যা কুকুরকে আক্রমণ করে। আরবরা ধারণা করত যে, এই রোগে আক্রান্ত কুকুর (পাগলা কুকুর) কাউকে কামড়ালে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায়; কিন্তু যদি কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির রক্ত দিয়ে সেই ব্যক্তির চিকিৎসা করা হয়, তবে সে সুস্থ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ١٣)
3 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الْفَسَوِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ ⦗ص: 14⦘ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا، وَعَلَى جَنَبَتَيِ الصِّرَاطِ سُورٌ فِيهِ أَبْوَابٌ مُفَتَّحَةٌ، وَعَلَى تِلْكَ الْأَبْوَابِ سُتُورٌ مُرْخَاةٌ، وَعَلَى بَابِ الصِّرَاطِ دَاعٍ يَقُولُ: أَيُّهَا النَّاسُ، ادْخُلُوا الصِّرَاطَ وَلَا تَعْوَجُّوا، وَمِنْ فَوْقِ الصِّرَاطِ دَاعٍ يُنَادِي، فَمَنْ أَرَادَ أَنْ يَفْتَحَ شَيْئًا مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ قَالَ: وَيْحَكَ لَا تَفْتَحْهُ؛ فَإِنَّكَ إِنْ تَفْتَحْهُ تَلِجْهُ، فَالصِّرَاطُ الْإِسْلَامُ، وَالسُّتُورُ حُدُودُ اللَّهِ، وَالْأَبْوَابُ الْمُفَتَّحَةُ مَحَارِمُ اللَّهِ، وَالدَّاعِي الْقُرْآنُ، وَالدَّاعِي مِنْ فَوْقٍ وَاعِظُ اللَّهِ" قَالَ لَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ: الصِّرَاطُ: الطَّرِيقُ، وَالسُّوَرُ: الْحَائِطُ، يُقَالُ: سُرْتُ الْحَائِطَ وَتَسَوَّرْتُهُ إِذَا صِرْتُ فِي أَعْلَاهُ، وَجَنْبَتَا الصِّرَاطِ: نَاحِيَتَاهُ، وَالْجَمْعُ جَنَبَاتٍ، وَالْحَدُّ: الْمِقْدَارُ، وَالتَّنَاهِي الْمَمْنُوعُ مِنْ تَجَاوُزِهِ كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا} [البقرة: 229] وَأَصْلُ الْحَدِّ: الْمَنْعُ، وَمِنْهُ ضَرْبُ الْحَدِّ، وَهُوَ عَدَدٌ وَمِقْدَارٌ مَنَعَ اللَّهُ مِنْ تُجَاوُزِهِ، وَحُدُودُ الدَّارِ هُوَ الْمِقْدَارُ ⦗ص: 15⦘ وَالتَّنَاهِي الَّذِي لَا يَتَجَاوَزُهَا صَاحِبُ الدَّارِ، وَيُسَمَّى الْبَوَّابُ حَدَّادًا لِأَنَّهُ يَمْنَعُ مِنَ الدُّخُولِ، وَتَقُولُ: دُونَ ذَلِكَ الْأَمْرِ حَدَدٌ أَيْ مَانِعٌ قَالَ زَيْدُ بْنُ عَمْرِو بْنُ نُفَيْلٍ:

[البحر البسيط]

سُبْحَانَهُ ثُمَّ سُبْحَانًا نَعُوذُ بِهِ … فَقَبْلَنَا سَبَّحَ الْجُودِيُّ وَالْجُمُدُ

لَا تعْبُدُنَّ إِلَهًا غَيْرَ خَالِقِكُمْ … وَإِنْ دُعِيتُمْ فَقُولُوا دُونَهُ حَدَدُ

وَهَذَا مَثَلٌ فِي وُضُوحِ الْحَقِّ وَظُهُورِ مَعَالِمِ الْإِسْلَامِ لِمَنْ أَرَادَ قَصْدَهَا، وَعَدَلَ عَنْ طَرِيقِ الشُّبَهِ وَالرِّيَبِ مُفَارِقًا لَهَا، وَبَيَانُهُ فِي حَدِيثِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ: «الْحَلَالُ بَيِّنٌ، وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَ ذَلِكَ مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَتَرْنَ مِنْهُ، وَأَعْرَضْنَ عَنْهُ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَالرَّاعِي حَوْلَ الْحِمَى فَيُوشِكُ أَنْ يَقَعَ فِيهِ، وَلِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، وَحِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ» قَالَ لَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ: الْحِمَى: الْمَكَانُ الْمُعْشِبُ الَّذِي يَمْنَعُ مَالِكُهُ مِنْ تَطَرُّقِهِ وَقَوْلُهُ: فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَتَرْنَ مِنْهُ وَأَعْرَضْنَ عَنْهُ: تَمْثِيلٌ، وَمَعْنَاهُ تَرْكُ الْإِنْسَانِ مَا يَرِيبُهُ إِلَى مَا لَا يَرِيبُهُ، وَجَعَلَ الْفِعْلَ لِلشَّبَهِ عَلَى التَّوْسِعَةِ، وَمِثْلُهُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ كَثِيرٌ، قَالَ الشَّاعِرُ:

[البحر الوافر]

وَفَارَقَنِي قَرِينُ السَّوْءِ لَمَّا … رَأَيْتُ الرُّشْدَ فَارَقْتُ الْقَرِينَا

أَرَادَ جَهْلَ الشَّبَابِ، فَأَوْجَبَ لَهُ الْفِعْلَ فِي حَالٍ وَلِنَفْسِهِ فِي حَالٍ، وَالْجَهْلُ لَا فِعْلَ لَهُ، وَإِنَّمَا الْفِعْلُ لِلْجَاهِلِ
৩ - আমাদের নিকট আমাদের পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-ফাসাওয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া বিন সালিহ থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ আবদুর রহমান বিন জুবায়ের বিন নুফাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নাওয়াস বিন সামআন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ একটি সোজা পথের উদাহরণ দিয়েছেন। সেই পথের দুই পাশে দুটি প্রাচীর রয়েছে, যাতে অনেকগুলো খোলা দরজা আছে। সেই দরজাগুলোর ওপর পর্দা ঝোলানো আছে। পথের প্রবেশদ্বারে একজন আহ্বানকারী বলছেন: হে লোকসকল! তোমরা সবাই এই সোজা পথে প্রবেশ করো এবং আঁকাবাঁকা পথে যেয়ো না। আর পথের ওপর থেকে একজন আহ্বানকারী ডাকছেন। যখনই কেউ ঐ দরজাগুলোর কোনো একটি খুলতে চায়, তখন তিনি বলেন: তোমার জন্য আফসোস! এটি খুলো না; কারণ তুমি যদি এটি খুলো তবে তাতে প্রবেশ করে ফেলবে। এখানে 'পথ' হলো ইসলাম, 'পর্দাগুলো' হলো আল্লাহর সীমারেখা, 'খোলা দরজাগুলো' হলো আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ, (প্রবেশদ্বারের) 'আহ্বানকারী' হলো কুরআন এবং 'উপরের আহ্বানকারী' হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিটি মুমিনের অন্তরে অবস্থানকারী উপদেশদাতা।" আবু মুহাম্মদ আমাদের বলেছেন: 'সিরাত' অর্থ পথ। 'সুওয়ার' অর্থ প্রাচীর; বলা হয়: 'আমি প্রাচীর টপকেছি' যখন আমি তার ওপরে উঠি। 'জানবাতাস সিরাত' অর্থ তার দুই পার্শ্ব, যার বহুবচন 'জানাবাত'। 'হাদ্দ' অর্থ পরিমাণ এবং এমন শেষ সীমা যা অতিক্রম করা নিষিদ্ধ, যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তা অতিক্রম করো না} [আল-বাকারা: ২২৯]। 'হাদ্দ'-এর মূল অর্থ হলো বাধা প্রদান বা প্রতিরোধ করা। এ থেকেই দণ্ডবিধিকে 'হাদ্দ' বলা হয়, যা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা ও পরিমাণ যা অতিক্রম করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। বাড়ির 'হুদুদ' বা সীমানা হলো সেই পরিমাণ ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ ও শেষ প্রান্ত যা বাড়ির মালিক অতিক্রম করে না। দ্বাররক্ষীকে 'হাদ্দাদ' বলা হয় কারণ সে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। আপনি যখন বলেন: এই বিষয়ের সামনে 'হাদাদ' আছে, তার অর্থ হলো বাধা আছে। জায়েদ বিন আমর বিন নুফায়েল বলেছেন:

[বাহরুল বাসীত]

তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আবারও তাঁর পবিত্রতা; আমরা তাঁর নিকট আশ্রয় চাই … আমাদের পূর্বে জুদি এবং জুমুদ পাহাড় তাঁর মহিমা ঘোষণা করেছে।

তোমরা তোমাদের স্রষ্টা ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যের ইবাদত করো না … যদি তোমাদের (অন্য উপাস্যের দিকে) আহ্বান করা হয়, তবে বলো তার সামনে বাধা রয়েছে।

এটি হকের স্পষ্টতা এবং ইসলামের নিদর্শনাদি প্রকাশের একটি উদাহরণ তাদের জন্য যারা তা অর্জনে সচেষ্ট হয় এবং সংশয় ও সন্দেহের পথ বর্জন করে তা থেকে বিমুখ থাকে। এর ব্যাখ্যা নুমান বিন বশিরের হাদিসে রয়েছে: "হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এই উভয়ের মাঝে রয়েছে অনেক সন্দেহযুক্ত বিষয় যা অধিকাংশ মানুষ জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকল, সেগুলো তার থেকে পর্দা করবে এবং তার থেকে বিমুখ হয়ে যাবে। আর যে সন্দেহযুক্ত বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে হারামে পতিত হলো; সেই রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত চারণভূমির চারপাশ দিয়ে গবাদিপশু চরায়, ফলে অচিরেই তাতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। জেনে রেখো, প্রত্যেক রাজারই একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে, আর আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ।" আবু মুহাম্মদ আমাদের বলেছেন: 'হিমা' হলো এমন ঘাসযুক্ত স্থান যার মালিক সেখানে অন্যের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। তাঁর কথা: "যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকল, সেগুলো তার থেকে পর্দা করবে এবং তার থেকে বিমুখ হয়ে যাবে" - এটি একটি রূপক। এর অর্থ হলো মানুষের সেই বিষয় বর্জন করা যা তাকে সন্দেহে ফেলে, সেই বিষয়ের দিকে যা তাকে সন্দেহে ফেলে না। এখানে 'সংশয়কে' কার্যের কর্তা হিসেবে ধরা হয়েছে ভাষার প্রশস্ততার কারণে, আর আরবদের কথাবার্তায় এমন প্রয়োগ অনেক আছে। কবি বলেছেন:

[বাহরুল ওয়াফির]

মন্দ সঙ্গী আমাকে ছেড়ে চলে গেল যখন … আমি সুপথ দেখলাম, তখন আমিও সেই সঙ্গীকে ছেড়ে দিলাম।

এখানে কবি যৌবনের মূর্খতা বুঝিয়েছেন, তাই তিনি ক্রিয়াটিকে এক অবস্থায় সেই মূর্খতার দিকে এবং অন্য অবস্থায় নিজের দিকে ন্যস্ত করেছেন। অথচ মূর্খতার নিজস্ব কোনো কাজ নেই, কাজ তো মূলত মূর্খ ব্যক্তিরই।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ١٦)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّافِعِيُّ، ثنا عَمِّي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّافِعِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ الْمَكِّيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَلَالُ بَيِّنٌ، وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، فَدَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكُ» تَقُولُ: رَابَنِي الْأَمْرُ يَرِيبُنِي: إِذَا أَدْخَلَ عَلَيْكَ شَكًّا وَسَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ السَّرِيِّ يَحْكِي عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ أَنَّهُ قَالَ: رَابَنِي وَأَرَابَنِي بِمَعْنًى وَاحِدٍ وَأَنْشَدَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَطِيَّةَ السَّامِيُّ، عَنِ الزِّيَادِيِّ:

[البحر الرجز]

يَا قَوْمُ مَا لِي وَأَبَا ذُؤَيْبِ … كُنْتُ إِذَا أَتَوْتُهُ مِنْ غَيْبِ

يَشُمُّ عِطْفِي وَيَبُزُّ ثَوْبِي … كَأَنَّمَا أَرَبْتُهُ بِرَيْبِ

قَالَ الزِّيَادِيُّ: أَتَوْتُهُ بِمَعْنَى أَتَيْتُهُ، وَرُبْتُهُ وَأَرَبْتُهُ جَمِيعًا، وَرُبْتُهُ هُوَ الْمَعْرُوفُ ⦗ص: 17⦘، وَيُقَالُ: أَرَابَ الرَّجُلُ إِذَا كَانَ صَاحِبَ رِيبَةٍ، وَالرِّيبُ أَيْضًا حَادِثَةٌ مِنْ حَوَادِثِ الدَّهْرِ، وَالرَّيْبُ الشَّكُّ وَأَنْشَدَنَا وَكِيعٌ:

[البحر الكامل]

دَعْ مَا يَرِيبُكَ وَانْتَقِلْ … عَنْهُ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكْ

وَاقْنَعْ بِمَا رَزَقَ الْإِلَـ … ـهُ فَلَيْسَ تَعْدُو مَا يُصِيبُكْ

وَلَيَأْتِيَنَّكَ أَيْنَ كُنْـ … ـتَ مُوَقَّرًا مِنْهُ نَصِيبُكْ
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার চাচা ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন রাজা আল-মাক্কী, তিনি উবাইদুল্লাহর সূত্রে, তিনি নাফি’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট; সুতরাং যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে তা বর্জন করে এমন বিষয়ের দিকে ফিরে যাও যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে না।» আপনি বলবেন: 'বিষয়টি আমাকে সংশয়ে ফেলেছে' যখন তা আপনার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করে। আমি ইবরাহীম বিন আস-সারী-কে আবু উবায়দাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন: 'রাবানী' এবং 'আরাবানী' (সংশয়ে ফেলা) উভয়ই একই অর্থ প্রকাশ করে। মুহাম্মদ বিন আতিয়্যাহ আস-সামী আমাকে আয-যিয়াদী থেকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

[রাজায ছন্দ]

হে আমার সম্প্রদায়, আমার এবং আবু যুয়াইবের কী হলো … আমি যখনই অলক্ষ্যে তার নিকট আসতাম

সে আমার শরীরের ঘ্রাণ নিত এবং আমার কাপড় টেনে নিত … যেন আমি তাকে কোনো সন্দেহে নিপতিত করেছি

আয-যিয়াদী বলেছেন: 'আতাউতুহু' শব্দটি 'আতাইতুহু' (আমি তার নিকট এসেছি) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'রুবতুহু' এবং 'আরাবতুহু' উভয়ই ব্যবহৃত হয়, তবে 'রুবতুহু' শব্দটিই অধিক পরিচিত ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘। আরও বলা হয়: 'আরাবার রাজুলু' অর্থাৎ লোকটি সংশয়যুক্ত হয়েছে যখন সে সন্দেহের বশবর্তী হয়। 'আর-রিব' বলতে মহাকালের কোনো দুর্ঘটনাকেও বোঝানো হয়, আর 'আর-রাইব' অর্থ সন্দেহ। ওয়াকী’ আমাদের কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

[কামিল ছন্দ]

যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে তা বর্জন করো এবং … তা ছেড়ে এমন বিষয়ের দিকে ফিরে যাও যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে না

আর ইলাহ (আল্লাহ) তোমাকে যা রিযিক দিয়েছেন তাতেই তুষ্ট থাকো … কারণ তোমার ভাগ্যে যা নির্ধারিত তা তোমাকে অতিক্রম করে যাবে না

আর তুমি যেখানেই থাকো না কেন, তোমার নির্ধারিত অংশ … অবশ্যই তোমার নিকট পূর্ণরূপে পৌঁছাবে।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ١٧)
5 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ يُوسُفَ، ثنا ابْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، ثنا مَرْوَانُ الْفَزَارِيُّ، عَنْ جُوَيْبِرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، أَوْ غَيْرِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بَيْنَا أَنَا بَيْنَ النَّائِمِ وَالْيَقْظَانِ إِذْ أَتَانِي مَلَكَانِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: إِنَّ لَهُ مَثَلًا فَاضْرِبْ لَهُ مَثَلًا، فَقَالَ: سَيِّدٌ بَنَى دَارًا، وَأَعَدَّ مَأْدُبَةً، وَبَعَثَ مُنَادِيًا، فَالسَّيُّدُ اللَّهُ، وَالدَّارُ الْجَنَّةُ، وَالْمَأْدُبَةُ الْإِسْلَامَ، وَالدَّاعِي مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم " وَرَوَاهُ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مِينَا، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَائِمًا فَأَتَاهُ مَلَكَانِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: الْعَيْنُ نَائِمَةٌ، وَقَالَ الْآخَرُ ⦗ص: 18⦘: إِنَّ لَهُ مَثَلًا، وَذَكَرَ نَحْوًا مِنَ الْكَلَامِ الْأَوَّلِ. قَالَ لَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ: الْمَأْدُبَةُ: الْوَلِيمَةُ وَفِي حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ: «إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللَّهِ» وَيُرْوَى مَأْدَبَةُ اللَّهِ، بِفَتْحِ الدَّالِ. قَالَ لِي أَبُو مُوسَى الْحَامِضُ: مَنْ رَوَى هَذَا بِضَمِّ الدَّالِ فَإِنَّمَا أَرَادَ الْوَلِيمَةَ، وَمَنْ رَوَاهَا بِفَتْحِ الدَّالِ أَرَادَ أَدَبَ اللَّهِ عز وجل الَّذِي أَدَّبَ بِهِ عِبَادَهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَقَوْلُهُ: «الْقَلْبُ يَقْظَانُ» تَمْثِيلٌ، وَيُرَادُ بِهِ حَيَاةُ الْقَلْبِ وَصِحَّةُ خَوَاطِرِهِ، وَيُقَالُ: رَجُلٌ يَقِظٌ وَيَقُظٌ إِذَا كَانَ حَدِيدَ الْقَلْبِ ذَكِيَّهُ، وَهَذَا مَثَلٌ لَدَعْوَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَالْفَوْزِ بِالِاسْتِجَابَةِ لَهَا، وَالْوُصُولِ إِلَى الْجَنَّةِ بِهَا: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [يونس: 25]
৫ - আমাদের নিকট হারুন ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে আবি উমর আল-আদানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মারওয়ান আল-ফাজারি বর্ণনা করেছেন জুওয়ায়বির থেকে, তিনি দাহহাক অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যখন তন্দ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম, এমতাবস্থায় আমার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসলেন। তাদের একজন বললেন: তাঁর জন্য একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে, সুতরাং তাঁর জন্য একটি উদাহরণ পেশ করো। অতঃপর তিনি বললেন: এক নেতা একটি ঘর নির্মাণ করেছেন, সেখানে একটি ভোজের আয়োজন করেছেন এবং একজন আহ্বানকারীকে পাঠিয়েছেন। সেই নেতা হলেন আল্লাহ, ঘরটি হলো জান্নাত, ভোজটি হলো ইসলাম এবং আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।" এটি ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে হাইয়্যান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে মিনা থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রিত ছিলেন, তখন তাঁর নিকট দুইজন ফেরেশতা আসলেন। তাদের একজন বললেন: চোখ ঘুমন্ত, আর অন্যজন বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘: তাঁর জন্য একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে, এবং তিনি পূর্বোক্ত কথার অনুরূপ বর্ণনা করলেন। আবু মুহাম্মদ আমাদের বলেছেন: 'মাদউবাহ' অর্থ হলো ভোজ। ইবনে মাসউদের হাদিসে আছে: "নিশ্চয়ই এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ভোজ।" আর এটি 'দাল' বর্ণে জবর দিয়ে 'মাদআবাহ'ও বর্ণিত হয়েছে। আবু মুসা আল-হামিদ আমাকে বলেছেন: যিনি এটি 'দাল' বর্ণে পেশ দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তিনি এর দ্বারা 'ভোজ' বুঝিয়েছেন। আর যিনি এটি 'দাল' বর্ণে জবর দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তিনি এর দ্বারা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর সেই আদব বা শিষ্টাচার বুঝিয়েছেন যা দ্বারা তিনি তাঁর বান্দাদের শিষ্টাচার শিক্ষা দেন। আবু মুহাম্মদ বলেন: তাঁর বাণী "অন্তর জাগ্রত" এটি একটি রূপক বর্ণনা, যা দ্বারা অন্তরের সজীবতা এবং তার সংকল্পের সঠিকতা বোঝানো হয়েছে। আর প্রখর ও বুদ্ধিমান হৃদয়ের অধিকারীকে 'ইয়াকাইজ' বা 'ইয়াকুজ' বলা হয়। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের দৃষ্টান্ত এবং তাতে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে সফলতা লাভ ও জান্নাতে পৌঁছানোর উপমা: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।} [ইউনূস: ২৫]
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ١٨)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَابَلْتِيُّ، ثنا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ، وَأُوتِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ، وَأُوتِيتُ الْحِكْمَةَ، وَضُرِبَ لِي مِنَ ⦗ص: 19⦘ الْأَمْثَالِ مِثْلُ الْقُرْآنِ، وَإِنِّي بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ أَتَانِي مَلَكَانِ فَقَامَ أَحَدُهُمَا عِنْدَ رَأْسِي وَقَامَ الْآخَرُ عِنْدَ رِجْلَيَّ، فَقَالَ الَّذِي عِنْدَ رَأْسِي: اضْرِبْ مَثَلًا، فَقَالَ الَّذِي عِنْدَ رِجْلَيَّ: بَلِ اضْرِبْ مَثَلًا، وَأَنَا أُفَسِّرُهُ، فَقَالَ الَّذِي عِنْدَ رَأْسِي وَأَهْوَى إِلَيَّ: لِتَنَمْ عَيْنُكَ، وَلْتَسْمَعْ أُذُنُكَ، وَلْيَعِ قَلْبُكَ، قَالَ: فَكُنْتُ كَذَلِكَ، أَمَّا الْأُذُنُ فَتَسْمَعُ، وَأَمَّا الْقَلْبُ فَيَعِي، وَأَمَّا الْعَيْنُ فَتَنَامُ، قَالَ: فَضَرَبَ مَثَلًا فَقَالَ: بِرْكَةٌ فِيهَا شَجَرَةٌ نَابِتَةٌ، وَفِي الشَّجَرَةِ غُصْنٌ خَارِجٌ، فَجَاءَ ضَارِبٌ فَضَرَبَ الشَّجَرَةَ، فَوَقَعَ الْغُصْنُ وَوَقَعَ مَعَهُ وَرَقٌ كَثِيرٌ، كُلُّ ذَلِكَ فِي الْبِرْكَةِ لَمْ يَعْدُهَا، ثُمَّ ضَرَبَ الثَّانِيَةَ فَوَقَعَ وَرَقٌ كَثِيرٌ، وَكُلُّ ذَلِكَ فِي الْبِرْكَةِ لَمْ يَعْدُهَا، ثُمَّ ضَرَبَ الثَّالِثَةَ فَوَقَعَ وَرَقٌ كَثِيرٌ، لَا أَدْرِي مَا وَقَعَ فِيهَا أَكْثَرَ أَوْ مَا خَرَجَ مِنْهَا، قَالَ: فَفَسَّرَ الَّذِي عِنْدَ رِجْلَيَّ فَقَالَ: أَمَا الْبِرْكَةُ فَهِيَ الْجَنَّةُ، وَأَمَّا الشَّجَرَةُ فَهِيَ الْأُمَّةُ، وَأَمَّا الْغُصْنُ فَهُوَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَأَمَّا الضَّارِبُ فَمَلَكُ الْمَوْتِ، ضَرَبَ الضَّرْبَةَ الْأُولَى فِي الْقَرْنِ الْأَوَّلِ فَوَقَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُ طَبَقَتِهِ، وَضَرَبَ الثَّانِيَةَ فِي الْقَرْنِ الثَّانِي فَوَقَعَ كُلُّ ذَلِكَ فِي الْجَنَّةِ، ثُمَّ ضَرَبَ الثَّالِثَةَ فِي الْقَرْنِ الثَّالِثِ فَلَا أَدْرِي مَا وَقَعَ فِيهَا أَكْثَرُ أَوْ مَا خَرَجَ مِنْهَا "؟
৬ - আবু শুআইব আল-হাররানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ আল-বাবালতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাফওয়ান বিন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন আমির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে ভীতি (প্রভাব) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আমাকে সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক অর্থবোধক কথা (জাওয়ামিউল কালিম) দান করা হয়েছে, আমাকে হিকমত (প্রজ্ঞা) প্রদান করা হয়েছে এবং আমার জন্য ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ কুরআনের ন্যায় অনেক উদাহরণ পেশ করা হয়েছে। আমি ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালীন আমার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসলেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অন্যজন আমার দুই পায়ের কাছে দাঁড়ালেন। তখন আমার মাথার কাছে থাকা ফেরেশতা বললেন: আপনি একটি উদাহরণ পেশ করুন। তখন আমার দুই পায়ের কাছে থাকা ফেরেশতা বললেন: বরং আপনি উদাহরণ দিন এবং আমি তার ব্যাখ্যা করব। তখন আমার মাথার কাছে থাকা ফেরেশতা আমার দিকে ঝুঁকে বললেন: আপনার চোখ ঘুমাক, আপনার কান শ্রবণ করুক এবং আপনার অন্তর অনুধাবন করুক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি তেমনই ছিলাম; আমার কান শুনছিল, অন্তর অনুধাবন করছিল এবং চোখ ঘুমাচ্ছিল। তিনি বললেন: তখন ফেরেশতা একটি উদাহরণ দিলেন এবং বললেন: একটি জলাশয়, যাতে একটি বর্ধনশীল গাছ রয়েছে এবং সেই গাছে একটি বহির্মুখী শাখা রয়েছে। এমতাবস্থায় একজন আঘাতকারী এসে গাছটিতে আঘাত করল, ফলে শাখাটি পড়ে গেল এবং তার সাথে অনেক পাতাও ঝরে পড়ল। তার পুরোটাই জলাশয়ের ভেতরে পড়ল, তা অতিক্রম করল না। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন, ফলে অনেক পাতা ঝরে পড়ল এবং তার পুরোটাই জলাশয়ের ভেতরে থাকল, বাইরে গেল না। এরপর তিনি তৃতীয়বার আঘাত করলেন এবং অনেক পাতা ঝরে পড়ল; আমি জানি না তার ভেতরে যা পড়েছে তা বেশি নাকি যা তা থেকে বাইরে বেরিয়ে গেছে তা বেশি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তখন আমার দুই পায়ের কাছে থাকা ফেরেশতা এর ব্যাখ্যা করে বললেন: জলাশয়টি হলো জান্নাত, গাছটি হলো উম্মত আর শাখাটি হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর আঘাতকারী হলো মালাকুল মউত (মৃত্যুর ফেরেশতা)। তিনি প্রথম যুগে প্রথম আঘাতটি করলেন, ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর স্তরের লোকজন (জান্নাতে) পতিত হলেন। তিনি দ্বিতীয় যুগে দ্বিতীয় আঘাতটি করলেন, যার ফলে তার পুরোটাই জান্নাতে পতিত হলো। এরপর তিনি তৃতীয় যুগে তৃতীয় আঘাতটি করলেন; এমতাবস্থায় আমি জানি না জান্নাতের ভেতরে যা পড়েছে তা বেশি নাকি যা তা থেকে বাইরে বেরিয়ে গেছে তা বেশি।"
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ١٩)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سَمَاعَةَ الْحَضْرَمِيُّ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، ثنا بَشِيرٌ، يَعْنِي ابْنَ الْمُهَاجِرِ الْغَنَوِيَّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَنَادَى ثَلَاثَ مَرَّاتٍ: " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ مَثَلُ قَوْمٍ خَافُوا عَدُوًّا أَنْ يَأْتِيَهُمُ فَبَعَثُوا رَجُلًا يَتَرَبَّأُ لَهُمْ، فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَبْصَرَ الْعَدُوَّ فَأَقْبَلَ لِيُنْذِرَ قَوْمَهُ فَخَشِيَ أَنْ يُدْرِكَهُ الْعَدُوُّ قَبْلَ أَنْ يَنْذِرَ قَوْمَهُ فَأَهْوَى بِثَوْبِهِ: أَيُّهَا النَّاسُ أُتِيتُمْ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ" قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: يَتَرَبَّأُ لَهُمْ: هُوَ أَنْ يَعْلُوَ شَاهِقًا فَيَرْقُبَ الْعَدُوَّ لِيُنْذِرَ بِهِ، وَاسْمُهُ الرَّبِيئَةُ عَلَى مِثَالِ ⦗ص: 20⦘ فَعِيلَةُ، مَهْمُوزٌ، وَهُوَ الَّذِي يُقَالُ لَهُ: الدَّيْدَبَانُ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ ثَعْلَبَةَ الْيَشْكُرِيُّ:

[البحر الرجز]

أَمَّا النَّهَارُ فَرَابِي … قَوْمِي بِمَرْقُبَةٍ يَفَاعِ

وَاللَّيْلُ أَبْطَنَ ذَا خَضَا … خِضَ وَالْوُعُورِ مِنَ الْبِقَاعِ

تَرِدُ السِّبَاعُ مَعِي فَأُلْـ … ـفَى كَالْمُدِلِّ مِنَ السِّبَاعِ

وَمِنْهُ قَوْلُهُمْ: إِنِّي لَأَرْبَأُ بِكَ عَنْ كَذَا، أَيْ: أَرْفَعُكَ عَنْهُ، وَتَقُولُ: مَا رَأَيْتُهُ حَتَّى أَرْبَأَ عَلَيَّ، أَيْ: أَشْرَفَ عَلَيَّ، وَهَذَا مَثَلٌ فِي السَّبْقِ إِلَى اتِّبَاعِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَالْفَوْزِ بِتَصْدِيقِهِ قَبْلَ فَقْدِهِ، وَأَنَّهُ آخِرُ مَنْ أَنْذَرَ، وَلَا نَبِيَّ بَعْدَهُ يُنْتَظَرُ، وَيَتَضَمَّنُ مَعْنَى دُنُوِّ السَّاعَةِ وَقُرْبِهَا، كَمَا قَالَ: «بُعِثْتُ وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ» . وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ وَقَالَ اللَّهَ عز وجل: {هَذَا نَذِيرٌ مِّنَ النُّذُرِ الْأُولَى، أَزِفَتِ الْآزِفَةُ} [النجم: 57] . يَعْنِي: دَنَتِ الْقِيَامَةُ وَهَذَا عَلَى الْمُبَالَغَةِ فِي تَقْرِيبِ الْكَائِنِ الَّذِي هُوَ لَا مَحَالَةَ وَاقِعٌ، كَمَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه:

[البحر الرجز]

كُلُّ امْرِئٍ مُصَبَّحٍ فِي أَهْلِهِ … وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ

أَرَادَ بِدُنُوِّ الْمَوْتِ وُقُوعَهُ لَا مَحَالَةَ. وَقَالَ كَعْبٌ الْغَنَوِيُّ:

[البحر الطويل]

لَعَمْرُكُمَا إِنَّ الْبَعِيدَ الَّذِي مَضَى … وَإِنَّ الَّذِي يَأْتِي غَدًا لَقَرِيبُ

⦗ص: 21⦘

فَسَمَّى مَا قُدِّرَ كَوْنُهُ وَيُنْتَظَرُ وُقُوعُهُ وَإِنْ بَعُدَ وَقْتُهُ بِاسْمِ غَدٍ، وَهُوَ ثَانِيَ يَوْمِكَ، لِأَنَّ مُرُورَ الْأَوْقَاتِ يُدْنِيهِ، وَفِي التَّنْزِيلِ: {سَيَعْلَمُونَ غَدًا مَنِ الْكَذَّابُ الْأَشِرُ} [القمر: 26] . وَهَذَا وَشِبْهُهُ مُتَصَرِّفٌ فِي أَكْثَرِ كَلَامِ الْعَرَبِ، وَلِهَذَا أَخْرَجُوا الْمُسْتَقْبَلَ مِنَ الْأَفْعَالِ الَّذِي وَقَعَ الْوَعْدُ بِهِ مَخْرَجَ الْمَاضِي الَّذِي قَدْ تَصَرَّمَ وَقْتُهُ، كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَنَادَى أَصْحَابُ الْجَنَّةِ} [الأعراف: 44] ، {وَجَاءَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَعَهَا سَائِقٌ وَشَهِيدٌ} [ق: 21] . وَسَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَرَفَةَ يَقُولُ فِي قَوْلِهِ عز وجل: {أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ} [النحل: 1] أَنَّ مَعْنَاهُ: أَتَى أَمْرُ اللَّهِ وَعْدًا، فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ وُقُوعًا وَمِنْ كَلَامِ الْعَرَبِ إِذَا بَالَغُوا فِي شِدَّةِ السَّعْي وَسُرْعَةِ الْحَرَكَةِ: جَاءَنَا زَيْدٌ أَسْرَعَ مِنَ الرِّيحِ، وَأَسْرَعَ مِنَ الْبَرْقِ، وَرَأَيْنَا فُلَانًا يَطِيرُ، وَمَعْلُومٌ أَنَّ الْإِنْسَانَ لَا يُبَارِي الرِّيحَ وَالْبَرْقَ، وَلَا يَقْدِرُ عَلَى الطَّيَرَانِ، وَإِنَّمَا يُرَادُ بِهِ الْخِفَّةُ وَسُرْعَةُ الْحَرَكَةِ. وَيُقَالُ فِي أَمْثَالِهِمْ: جَاءَ فُلَانٌ قَبْلَ عَيْرٍ وَمَا جَرَى، يُرِيدُونَ السُّرْعَةَ، أَيْ قَبْلَ لَحْظَةِ الْعَيْنِ، وَالْعَيْرُ بِالرَّاءِ: إِنْسَانُ الْعَيْنِ، وَفُسِّرَ بَيْتُ الْحَارِثِ بْنِ حِلِّزَةَ:

زَعَمُوا أَنَّ كُلَّ مِنْ ضَرَبَ الْعَيْـ … ـرَ مُوَالٍ لَنَا وَأَنَّا الْوَلَاءُ

⦗ص: 22⦘

أَيْ كُلُّ مَنْ ضَرَبَ بِجَفْنٍ عَلَى عَيْرٍ، قَالَ: وَالْعَيْرُ إِنْسَانُ الْعَيْنِ وَهَذَا تَفْسِيرُ بَعْضِ الرُّوَاةِ مِنَ الْقُدَمَاءِ، وَهُوَ غَرِيبٌ، فَهَذِهِ لُغَاتُ الْعَرَبِ، وَإِنَّمَا خَاطَبَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِلُغَتِهِ وَلُغَتِهِمْ، فَمَنْ جَهِلَ لُغَاتِ الْمُخَاطَبِينَ فَقَدْ خَرَجَ عَنْ جُمْلَةِ النَّظَّارِينَ
৭ - আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনু সামাআহ আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনু দুকাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে বাশির অর্থাৎ ইবনুল মুহাজির আল-গানাওয়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা বের হলেন এবং তিনবার উচ্চস্বরে ডাক দিলেন: "হে লোকসকল! আমার এবং তোমাদের উদাহরণ হলো এমন এক কওমের মতো যারা শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কা করছিল, তাই তারা এক ব্যক্তিকে তাদের জন্য পাহারাদার বা অগ্রবর্তী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠালো। সে যখন ওই অবস্থায় ছিল, হঠাৎ সে শত্রুপক্ষকে দেখতে পেল। সে তখন তার কওমকে সতর্ক করার জন্য দ্রুত এগিয়ে আসলো, কিন্তু সে আশঙ্কা করল যে কওমকে সতর্ক করার আগেই শত্রু তাকে ধরে ফেলবে। তখন সে তার কাপড় নেড়ে ইশারা করল: হে লোকসকল! তোমাদের আক্রমণ করা হয়েছে, তিনবার।" আবু মুহাম্মাদ বলেন: 'ইয়াতারাব্বাউ লাহুম' (يتريبأ لهم) অর্থ হলো: সে কোনো সুউচ্চ স্থানে আরোহণ করে এবং শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে যাতে তাদের সতর্ক করতে পারে। তার নাম হলো 'রাবিয়াহ' (الربيئة), যা ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ 'ফাইলাহ' (فعيلة) ওজনের একটি শব্দ, শেষে হামজাহ যুক্ত। একেই 'দাইদাবান' (পাহারাদার) বলা হয়। উবাইদুল্লাহ ইবনু সা'লাবাহ আল-ইয়াশকারি বলেছেন:

[রাজায ছন্দ]

দিনের বেলা আমি আমার কওমের জন্য এক সুউচ্চ স্থানে পাহারাদার হিসেবে অবস্থান করি…

আর রাত তার অন্ধকার নিয়ে আসে উপত্যকার গভীর ও বন্ধুর স্থানে…

হিংস্র প্রাণীরা আমার সাথে আসে, কিন্তু আমি সেই হিংস্র প্রাণীদের মাঝে অকুতোভয় বীরের মতো অবস্থান করি…

এ থেকেই তাদের উক্তি: "আমি তোমার জন্য অমুক বিষয় হতে রাবিয়া (অত্যুচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন) হতে চাই", অর্থাৎ: আমি তোমাকে তার থেকে ঊর্ধ্বে রাখতে চাই। এবং আপনি বলেন: "আমি তাকে দেখিনি যতক্ষণ না সে আমার উপর আরোহণ করল", অর্থাৎ: সে আমার উপরে আবির্ভূত হলো। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে অগ্রবর্তী হওয়া এবং তার তিরোধানের আগেই তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে সফল হওয়ার একটি উদাহরণ। আর তিনিই হলেন শেষ সতর্ককারী, তার পরে আর কোনো নবীর অপেক্ষা নেই। এটি কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ বহন করে, যেমনটি তিনি বলেছেন: «আমি এবং কিয়ামত এই দুইটির মতো প্রেরিত হয়েছি»। তিনি তার দুই আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এ তো এক সতর্ককারী, পূর্ববর্তী সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত। আসন্ন মুহূর্ত (কিয়ামত) নিকটবর্তী হয়েছে।} [আন-নাজম: ৫৭]। অর্থাৎ: কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং এটি সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনার নিকটবর্তিতাকে গুরুত্ব দিতে অতিরঞ্জিতভাবে বলা হয়েছে যা অবশ্যই ঘটবে। যেমনটি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন:

[রাজায ছন্দ]

প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিবারের মাঝে সকাল অতিবাহিত করে… অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে…

তিনি মৃত্যুর নিকটবর্তিতা দ্বারা এর অবশ্যম্ভাবী হওয়া বুঝিয়েছেন। কাব আল-গানাওয়ি বলেছেন:

[তওয়ীল ছন্দ]

তোমাদের জীবনের শপথ! যা চলে গেছে তা দূরবর্তী… আর যা আগামীকাল আসবে তা অত্যন্ত নিকটবর্তী…

⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘

যা হওয়া নির্ধারিত এবং যার অপেক্ষায় থাকা হয়, সময় দূরে হলেও তাকে 'আগামীকাল' বলা হয়েছে, যা বর্তমান দিনের পরের দিন। কারণ সময়ের অতিবাহিত হওয়া একে নিকটবর্তী করে দেয়। আল-কুরআনে রয়েছে: {তারা আগামীকালই জানতে পারবে কে সেই চরম মিথ্যাবাদী ও অহংকারী।} [আল-কামার: ২৬]। এটি এবং এর অনুরূপ প্রয়োগ আরবদের অধিকাংশ কথায় বিদ্যমান। এ কারণেই তারা ভবিষ্যতের সেই কাজগুলোকে অতীতকালের ক্রিয়া দ্বারা প্রকাশ করেছে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেন তা এমন কোনো অতীত সময় যা গত হয়ে গেছে। যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {জান্নাতবাসীরা ডাকবে...} [আল-আরাফ: ৪৪], {প্রত্যেক ব্যক্তি উপস্থিত হবে তার সাথে থাকবে একজন চালক ও একজন সাক্ষী।} [কাফ: ২১]। আমি ইব্রাহিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আরাফাকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: {আল্লাহর আদেশ এসে গেছে, সুতরাং তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না।} [আন-নাহল: ১] সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, এর অর্থ হলো: আল্লাহর আদেশের প্রতিশ্রুতি এসে গেছে, সুতরাং তা ঘটার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করো না। আরবদের কথার মধ্যে যখন তারা অত্যধিক প্রচেষ্টা এবং দ্রুত গতির আধিক্য বোঝাতে চায় তখন বলে: যাইদ আমাদের কাছে বাতাসের চেয়েও দ্রুত এসেছে, বিদ্যুতের চেয়েও দ্রুত এসেছে, আমরা অমুককে উড়তে দেখেছি। অথচ এটি জানা কথা যে, মানুষ বাতাস বা বিদ্যুতের সাথে পাল্লা দিতে পারে না এবং উড়তেও সক্ষম নয়। এর দ্বারা কেবল ক্ষিপ্রতা এবং দ্রুত গতি বোঝানো উদ্দেশ্য। তাদের প্রবাদের মধ্যে বলা হয়: অমুক আইর (চক্ষু গোলক) নড়ার আগেই চলে এসেছে, এর দ্বারা তারা দ্রুততা বোঝায়, অর্থাৎ চোখের পলক ফেলার আগেই। 'আইর' (العير) অর্থ হলো চোখের মণি। আল-হারিস ইবনু হিল্লিজার কবিতার চরণের ব্যাখ্যা করা হয়েছে:

তারা ধারণা করে যে, যে কেউ তার চোখের মণি দ্বারা পলক ফেলে সে আমাদের মিত্র, আর আমরাই প্রকৃত মৈত্রী

⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘

অর্থাৎ যে কেউ চোখের মণি দিয়ে পলক ফেলে। তিনি বলেন: 'আইর' হলো চোখের মণি। এটি প্রাচীন বর্ণনাকারীদের কারো কারো ব্যাখ্যা, তবে এটি বিরল। এগুলো হলো আরবদের ভাষা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে তার নিজের এবং তাদের ভাষায় কথা বলেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সম্বোধিতদের ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকবে, সে গবেষকদের কাতার থেকে বিচ্যুত হবে।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
8 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ الْمُقَوِّمُ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَطَبَ احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ، وَعَلَا صَوْتُهُ، وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ، حَتَّى كَأَنَّهُ نَذِيرُ جَيْشٍ يَقُولُ: صَبَّحَكُمْ وَمَسَّاكُمْ ثُمَّ يَقُولُ: «بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ» . وَيَقْرِنُ بَيْنَ أَصَابِعِهِ السَّبَّابَةِ وَالْوسْطَى "
৮ - আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে হাকিম আল-মুকাউউইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহহাব আল-ছাকাফী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা প্রদান করতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, তাঁর কণ্ঠস্বর উঁচু হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্র হতো, এমনকি মনে হতো তিনি যেন কোনো সৈন্যবাহিনীর সতর্ককারী, তিনি বলতেন: ‘শত্রুবাহিনী তোমাদের ওপর সকালে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে’। অতঃপর তিনি বলতেন: ‘আমি এবং কিয়ামত এই দুটির মতো প্রেরিত হয়েছি’। আর তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দুটিকে একত্রিত করতেন।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ رَوَاحَةَ، ثنا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ ⦗ص: 23⦘ عُبَيْدَةَ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ قَيْسٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بُعِثْتُ فِي نَفَسِ السَّاعَةِ، سَبَقْتُهَا كَمَا سَبَقَتْ هَذِهِ هَذِهِ» وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রাওয়াহা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান, তিনি বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ উবাইদাহ ইবনুল আসওয়াদ থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি কায়েস থেকে, তিনি আল-মুস্তাওরিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কিয়ামতের একেবারে নিকটবর্তী সময়ে প্রেরিত হয়েছি। আমি এর অগ্রগামী হয়েছি যেমন এটি (এক আঙুল) এটিকে (অন্য আঙুলকে) ছাড়িয়ে যায়।" এবং তিনি তাঁর দুটি আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَعْدَانَ، وَيُعْرَفُ بِالثَّغْرِيِّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، ثنا أَبُو أُسَامَةَ، ثنا بُرَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ مَثَلِي وَمَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَتَى قَوْمَهُ فَقَالَ: يَا قَوْمِ، إِنِّي رَأَيْتُ الْجَيْشَ بِعَيْنَيَّ، وَإِنِّي أَنَا النَّذِيرُ الْعُرْيَانُ، فَالنَّجَاءَ، فَأَطَاعَهُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ فَأَدْلَجُوا، فَانْطَلَقُوا عَلَى مَهَلِهِمْ فَنَجَوْا، وَكَذَّبَتْهُ طَائِفَةٌ فَأَصْبَحُوا مَكَانَهُمْ، فَصَبَّحَهُمُ الْجَيْشُ فَأَهْلَكَهُمْ ⦗ص: 24⦘ وَاجْتَاحَهُمْ، كَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ أَطَاعَنِي وَاتَّبَعَ مَا جِئْتُ بِهِ، وَمَثَلُ مَنْ عَصَانِي وَكَذَّبَ بِمَا جِئْتُ بِهِ مِنَ الْحَقِّ" قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: النَّذِيرُ الْعُرْيَانُ الَّذِي قَدْ ظَهَرَ صِدْقُهُ وَلَا أَدْرِي عَمَّنْ حَكَاهُ وَإِلَى مَنْ أَسْنَدَهُ، إِلَّا أَنِّي سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنَ السَّرِيِّ يَقُولُ: عَرِيَ الْأَمْرُ إِذَا ظَهَرَ، وَيُقَالُ: الْحَقُّ عَارٍ أَيْ ظَاهِرٌ مُشْرِقٌ مُشْرِفٌ، كَمَا قِيلَ: الْحَقُّ أَبْلَجُ مِنْ بُلْجَةِ الصُّبْحِ. قَالَ فِنْدٌ الزِّمَّانِيُّ:

[البحر الهزج]

فَلَمَّا صَرَّحَ الشَّرُّ … فَأَمْسَى وَهُوَ عُرْيَانُ

مَشَيْنَا مِشْيَةَ اللَّيْثِ … غَدَا وَاللَّيْثُ غَضْبَانُ

وَقَالَ الْخَطِيمُ:

[البحر الطويل]

وَقَالَ وَقَدْ مَالَتْ بِهِمْ نَشْوَةُ الْكَرَى … نُعَاسًا وَمَنْ يَعْلُقُ سَرَى اللَّيْلِ يَكْسُلُ

انِخْ نُعْطِ أَنْضَاءَ النُّعَاسِ دَوَاءَهَا … قَلِيلًا وَرَفِّهْ عَنْ قَلَائِصَ ذُبَّلِ

فَقُلْتُ لَهُ كَيْفَ الْإِنَاخَةُ بَعْدَ مَا … حَدَا اللَّيْلُ عُرْيَانُ الطَّرِيقَةِ مُنْجَلِ

⦗ص: 25⦘

وَأَنْشَدَنِي بَعْضُ شُيُوخِنَا عَنِ الْمَازِنِيِّ، عَنِ الْجَوَادَانِيِّ قَالَ: أَنْشَدَنِي بَشَّارٌ:

[البحر الوافر]

أَسَرْتُ وَكَمْ تَقَدَّمَ مِنْ أَسِيرٍ … يَزِينُ بِوَجْهِهِ عُقْدَ الْإِسَارِ

كَبِشْرٍ أَوْ كَبِسْطَامَ بْنِ قَيْسٍ … أُصِيبَا ثُمَّ مَا دَنِسَا بِعَارِ

وَكَيْفَ يَنَالُنِي مَنْ لَمْ يَنَلْهُمْ … أَعَزُّ بِطَانَةٍ فِي الْحَقِّ عَارِ

وَالطَّائِفَةُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ قِطْعَةٌ مِنْهُ، تَقُولُ: طَائِفَةٌ مِنَ الْقَوْمِ، وَطَائِفَةٌ مِنَ اللَّيْلِ، كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَطَائِفَةٌ مِنَ الَّذِينَ مَعَكَ} [المزمل: 20] وَأَدْنَى مَا يَقَعُ اسْمُ الطَّائِفَةِ وَاحِدٌ، وَهَذَا الْقَوْلُ لِلشَّافِعِيِّ رحمه الله فِي قَوْلِهِ: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ، وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ} [التوبة: 122] وَقَدْ قَالَ ذَلِكَ غَيْرُ الشَّافِعِيِّ، وَالنَّذِيرُ بِمَعْنَى الْمُنْذِرِ، كَمَا قَالَ: سَمِيعٌ بِمَعْنَى مُسْمِعٍ، وَأَلِيمٌ بِمَعْنَى مُؤْلِمٍ، وَوَجِيعٌ بِمَعْنَى مُوجِعٌ ⦗ص: 26⦘، قَالَ عَمْرُو بْنُ مَعْدِ يكَرِبَ:

[البحر الوافر]

أَمِنْ رَيْحَانَةِ الدَّاعِي السَّمِيعِ … يُؤَرِّقُنِي وَأَصْحَابِي هُجُوعُ

يُرِيدُ الدَّاعِيَ الْمُسْمِعَ. وَقَوْلُهُ: أَدْلَجُوا، الْإِدْلَاجُ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ، تَقُولُ مِنْ ذَلِكَ: أَدْلَجَ يُدْلِجُ إِدْلَاجًا، وَالِادِّلَاجُ - بِتَشْدِيدِ الدَّالِ - مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، تَقُولُ مِنْهُ: ادَّلَجَ يَدَّلِجُ ادِّلَاجًا وَاسْمُهُ الدُّلْجَةُ وَهَذَا الْحَدِيثُ فِي الْمَعْنَى قَرِيبٌ مِنْ مَعْنَى الْحَدِيثِ الَّذِي قَبْلَهُ
১০ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মা’দান—যিনি আস-সাঘরী নামে পরিচিত—আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুরাইদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার এবং আল্লাহ যা দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে তার কওমের নিকট এসে বলল: হে আমার কওম, আমি আমার নিজের চোখে শত্রু বাহিনীকে দেখেছি, আর আমি হলাম নগ্ন সতর্ককারী (সবকিছু স্পষ্টকারী), অতএব তোমরা দ্রুত আত্মরক্ষা করো। তখন তাদের একটি দল তার কথা মেনে নিল এবং তারা রাতের প্রথম ভাগেই যাত্রা শুরু করল। ফলে তারা ধীরস্থিরভাবে চলে গেল এবং রক্ষা পেল। আর অন্য একটি দল তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং তারা নিজ নিজ স্থানেই রয়ে গেল। অতঃপর ভোরে শত্রু বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করল এবং তাদের ধ্বংস করল ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ ও নির্মূল করে দিল। অনুরূপ হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আমার আনুগত্য করেছে এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তা অনুসরণ করেছে, আর সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আমার অবাধ্য হয়েছে এবং আমি সত্য হিসেবে যা নিয়ে এসেছি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।" আবু মুহাম্মদ বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: 'নগ্ন সতর্ককারী' হলো সে-ই যার সত্যবাদিতা প্রকাশ পেয়েছে। তবে তিনি কার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন বা কার দিকে এটি সম্বন্ধ করেছেন তা আমার জানা নেই। তবে আমি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আস-সাররিকে বলতে শুনেছি: বিষয়টি যখন প্রকাশ পায় তখন বলা হয় ‘আরিয়া’। আরও বলা হয়: সত্য হলো নগ্ন অর্থাৎ প্রকাশ্য, উজ্জ্বল ও উড্ডীন; যেমনটি বলা হয়: সত্য সুবহে সাদিকের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল। ফিন্দ আয-যিম্মানী বলেছেন:

[হাযাজ ছন্দ]

যখন অনিষ্টতা সুস্পষ্ট হলো … তখন তা নগ্ন (প্রকাশ্য) রূপ ধারণ করল

আমরা সিংহের ন্যায় পদক্ষেপে চললাম … প্রভাত হলো এমন অবস্থায় যে সিংহটি ছিল ক্রুদ্ধ

আর আল-খাতীম বলেছেন:

[তবীল ছন্দ]

তিনি বললেন যখন তন্দ্রার আচ্ছন্নতা তাদেরকে কাত করে দিচ্ছিল … ঘুমের ঘোরে; আর যে রাতের ভ্রমণে লিপ্ত হয় সে অলস হয়ে পড়ে

উটের পিঠ থেকে নেমে পড়ো, আমরা ঘুমের ক্লান্তিকে তার ঔষধ দেই … সামান্য সময়ের জন্য, আর দুর্বল উটগুলোকে কিছুটা আরাম দাও

আমি তাকে বললাম, কীভাবে এখন উট থেকে নামা সম্ভব যখন … রাতের পথ নগ্ন (পরিষ্কার) ও উন্মোচিত হয়ে পড়েছে

⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘

আমাদের কিছু শিক্ষক আমাকে আল-মাযিনী থেকে, তিনি আল-জাওয়াদানী থেকে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বাশশার আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

[ওয়াফির ছন্দ]

আমি বন্দী হয়েছি, অথচ আমার পূর্বে কতই না বন্দী অতিক্রান্ত হয়েছে … যাদের চেহারা বন্দিত্বের শৃঙ্খলকে অলঙ্কৃত করে

যেমন বিশর অথবা বিসতাম ইবনে কায়স … তারা বিপদে পড়েছেন কিন্তু কোনো কলঙ্ক তাদের স্পর্শ করেনি

আর যে তাদের নাগাল পায়নি সে আমাকে কীভাবে পাবে? … সত্যের পথে যারা নগ্ন (প্রকাশ্য) তারা অধিক মর্যাদাবান সঙ্গী

যেকোনো জিনিসের 'তায়েফা' (দল) হলো তার একটি অংশ। বলা হয়: একদল লোক, রাতের একটি অংশ। যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এবং আপনার সাথে থাকা একটি দল} [আল-মুযাম্মিল: ২০]। 'তায়েফা' শব্দটির সর্বনিম্ন প্রয়োগ একজন ব্যক্তির ওপরও হতে পারে। এটি ইমাম শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অভিমত যা তিনি আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে দিয়েছেন: {কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হয় না যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের কওমের কাছে ফিরে যাবে তখন তাদের সতর্ক করতে পারে} [আত-তাওবাহ: ১২২]। শাফিয়ী ছাড়াও অন্যরাও এই কথা বলেছেন। আর 'নাযির' শব্দটি 'মুনযির' (সতর্ককারী)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন 'সামিউন' শব্দটি 'মুসমিউন' (শ্রবণ করান যিনি) অর্থে, 'আলিমুন' শব্দটি 'মু’লিমুন' (যন্ত্রণাদায়ক) অর্থে এবং 'ওয়াজিউন' শব্দটি 'মুজিউন' (বেদনাদায়ক) অর্থে ব্যবহৃত হয় ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘। আমর ইবনে মা’দিকারিব বলেছেন:

[ওয়াফির ছন্দ]

রাইহানার সেই আহ্বানকারী শ্রবণকারীর ডাক কি আমাকে … জাগ্রত রাখছে, অথচ আমার সঙ্গীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন?

এখানে তিনি এমন আহ্বানকারী বুঝিয়েছেন যে শ্রবণ করায়। আর তাঁর উক্তি: 'আদলাজু', আদলাজ শব্দটি রাতের শুরুর ভাগে পথ চলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এর ক্রিয়াপদ হলো 'আদলাজা-ইউদলিজু-ইদলাজান'। আর 'ইদ্দালজ'—দাল বর্ণে তাশদীদসহ—রাতের শেষ ভাগে চলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এর ক্রিয়াপদ হলো 'ইদ্দালজা-ইয়াদ্দালিজু-ইদ্দালিজান' এবং এর বিশেষ্য হলো 'দুলজাহ'। এই হাদিসের মূলভাব এর আগের হাদিসের মূলভাবের কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى، ثنا أَبُو الْمُغَلِّسِ النُّمَيْرِيُّ، ثنا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ التَّمَّارِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُ النَّاسِ كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتَوْقَدَ نَارًا، فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ جَعَلَ الْفَرَاشُ وَالذُّبَابُ يَقْتَحِمُونَ فِيهَا، فَأَنَا آخِذٌ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ وَأَنْتُمْ تَقْتَحِمُونَ فِيهَا» قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: اسْتَوْقَدَ بِمَعْنَى أَوَقَدَ كَمَا قَالُوا: اسْتَجَابَ بِمَعْنَى أَجَابَ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ} [الأنفال: 24] وَقَالَ: {مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا} [البقرة: 17]

⦗ص: 27⦘. وَقَالَ الْغَنَوِيُّ:

[البحر الطويل]

وَدَاعٍ دَعَا إِذْ نَحْنُ بِالْخَيْفِ مِنْ مِنًى … فَلَمْ يَسْتَجِبْهُ عِنْدَ ذَاكَ مُجِيبُ

وَالْحُجَزُ وَاحِدَتُهَا حُجَزَةٌ، تَقُولُ: حُجَزَةٌ وَحُجَزٌ وَحُجَزَاتٍ، وَهِيَ مَعْقِدُ الْإِزَارِ وَحَيْثُ يُثْنَى طَرَفُهُ قَالَ النَّابِغَةُ:

[البحر الطويل]

رِقَاقُ النِّعَالِ طَيِّبٌ حُجَزَاتُهُمْ … يُحَيُّونَ بِالرَّيْحَانِ يَوْمَ السَّبَاسِبِ

وَهَذَا تَمْثِيلٌ مِنْ أَوْجَزِ الْكَلَامِ وَأَبْلَغِهِ وَأَشَدِّهِ اخْتِصَارًا تَقُولُ: أَخَذْتُ بِحُجَزَتِهِ عَنْ كَذَا إِذَا صَدَدْتَهُ عَنْهُ وَمَنَعْتَهُ مِنْهُ، وَتَقُولُ: أَخَذْتُ بِنَاصِيَتِهِ إِلَى كَذَا إِذَا قُدْتَهُ إِلَيْهِ وَقَهَرْتَهُ عَلَيْهِ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {مَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا} [هود: 56] . أَيْ هُوَ قَادِرٌ عَلَيْهَا، مَالِكٌ لَهَا. وَالنَّاصِيَةُ تَنَاهِي شَعْرِ الرَّأْسِ مِمَّا يَلِي الْوَجْهَ وَقَالَ: {يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمَاهُمْ فَيُؤْخَذُ بِالنَّوَاصِي وَالْأَقْدَامِ} [الرحمن: 41] . أَيْ يُسَاقُونَ إِلَى النَّارِ قَهْرًا. وَيَقُولُ الْقَائِلُ: نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، فِي مَعْنَى الطَّاعَةِ وَالِانْقِيَادِ ⦗ص: 28⦘. وَقَالَ الْفَرَزْدَقُ:

[البحر الطويل]

عَشِيَّةَ أَعْطَتْنَا عُمَانُ أُمُورَهَا … وَقُدْنَا مَعَدًّا عَنْوَةً بِالْخَزَائِمِ

يُرِيدُ أَنَّهُمْ غَلَبُوهُمْ وَسَاقُوهُمْ قَهْرًا. وَقَوْلُهُ: «أَنَا آخِذٌ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ» . يَقُولُ: أُحَذِّرُكُمُوهَا، وَأَصُدُّكُمْ عَنْهَا، وَأُرَغِّبُكُمْ فِي الْجَنَّةِ وَنَعِيمِهَا، وَأَنْتُمْ فِي غَفْلَةٍ سَاهُونَ لَا تَشْعُرُونَ، كَمَا يَقْتَحِمُ الْفَرَاشُ النَّارَ وَهُوَ لَا يَشْعُرُ، لِمَيْلِكُمْ إِلَى الدُّنْيَا وَزَهْرَتِهَا، وَإِيثَارِكُمْ لَهَا عَلَى ثَوَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَمَا عِنْدَهُ، الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَأَبْقَى، فَهَذِهِ مَوْعِظَةٌ لِبَعْضِ مَنْ أَجَابُوا الدَّعْوَةَ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ وَعِيدًا لِمُشْرِكِي قُرَيْشٍ
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মুগাল্লিস আন-নুমাইরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফুদাইল ইবনে সুলাইমান, মুসা ইবনে উকবাহ থেকে, তিনি আবু হাযিম আত-তাম্মার থেকে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার এবং মানুষের উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালিয়েছে। অতঃপর যখন আগুন তার চারপাশকে আলোকিত করল, তখন ফড়িং এবং পতঙ্গসমূহ তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল। আর আমি তোমাদের কোমরবন্ধনী ধরে আগুন থেকে রক্ষা করছি, অথচ তোমরা তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছ।» আবু মুহাম্মদ বলেন: 'ইস্তাওকাদা' শব্দটি 'আওকাদা' (জ্বালানো) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি তারা বলে: 'ইস্তাজাবা' শব্দটি 'আজাবা' (সাড়া দেওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও} [আল-আনফাল: ২৪] এবং তিনি বলেছেন: {তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালিয়েছে} [আল-বাক্বারাহ: ১৭]

⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘। আর আল-গানাবি বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

এবং এক আহ্বানকারী আহ্বান করল যখন আমরা মিনার খাইফ নামক স্থানে ছিলাম … কিন্তু তখন কোনো সাড়াদানকারী তাকে সাড়া দেয়নি।

'হুজায' শব্দের একবচন হলো 'হুজাযাহ'। আপনি বলতে পারেন: হুজাযাহ, হুজায এবং হুজাযাত। এটি হলো নিম্নাংশের পোশাক (লুঙ্গি) বাঁধার স্থান যেখানে এর প্রান্ত ভাঁজ করে রাখা হয়। আন-নাবিগাহ বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

পাদুকাগুলো সূক্ষ্ম, তাদের কোমরবন্ধনীগুলো পবিত্র … সাবাহিবের দিনে তাদের সুগন্ধি দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়।

এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও প্রভাবশালী একটি উপমা। আপনি বলবেন: 'আমি অমুক বিষয় থেকে তার কোমরবন্ধনী ধরেছি' যখন আপনি তাকে তা থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন বা বাধা দিয়েছেন। আর আপনি বলবেন: 'আমি অমুকের কপালে চুল (নাসিয়াহ) ধরে অমুক দিকে নিয়ে গেছি' যখন আপনি তাকে সেদিকে পরিচালিত করেছেন এবং তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এমন কোনো বিচরণশীল জীব নেই যাকে তিনি তার কপালে চুল ধরে নিয়ন্ত্রণ করেন না।} [হুদ: ৫৬]। অর্থাৎ তিনি এর ওপর ক্ষমতাশালী এবং এর মালিক। আর নাসিয়াহ (কপালে চুল) হলো চেহারার সংলগ্ন মাথার চুলের শেষ প্রান্ত। তিনি আরও বলেছেন: {অপরাধীদের তাদের লক্ষণ দেখে চেনা যাবে, অতঃপর তাদের কপালের চুল ও পা ধরে পাকড়াও করা হবে।} [আর-রাহমান: ৪১]। অর্থাৎ তাদের জোরপূর্বক আগুনের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। আর কোনো ব্যক্তি যখন বলে: 'আমার কপালের চুল আপনার হাতে', এর অর্থ হলো আনুগত্য ও বশ্যতা প্রকাশ করা। ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘। আর আল-ফারাযদাক বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

সেই সন্ধ্যায় ওমান তার সকল বিষয় আমাদের হাতে সপে দিয়েছিল … আর আমরা মাআদ গোত্রকে জোরপূর্বক বল্গার সাহায্যে পরিচালিত করেছিলাম।

তার উদ্দেশ্য হলো তারা তাদের ওপর বিজয় লাভ করেছিল এবং তাদের জোরপূর্বক হাঁকিয়ে নিয়েছিল। আর তাঁর বাণী: «আমি তোমাদের কোমরবন্ধনী ধরে আগুন থেকে রক্ষা করছি» - এর অর্থ হলো: আমি তোমাদের তা থেকে সতর্ক করছি, তা থেকে তোমাদের ফিরিয়ে রাখছি এবং তোমাদের জান্নাত ও তার নেয়ামতের প্রতি উৎসাহিত করছি। অথচ তোমরা অসতর্কতায় আচ্ছন্ন, তোমরা বুঝতে পারছ না, যেভাবে পতঙ্গ আগুনের দিকে ছুটে যায় অথচ সে বুঝতে পারে না। এর কারণ হলো দুনিয়া ও তার চাকচিক্যের প্রতি তোমাদের ঝোঁক এবং আল্লাহর পুরস্কার ও তাঁর নিকট যা রয়েছে তার ওপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া, যা উত্তম ও স্থায়ী। এটি তাদের মধ্যে যারা দাওয়াত কবুল করেছে তাদের জন্য উপদেশ, আর সম্ভবত এটি কুরাইশ মুশরিকদের জন্য একটি সতর্কবাণী।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَعْدَانَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، ثنا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي بُرَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَثَلِي وَمَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ مِنَ الْهُدَى وَالْعِلْمِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَصَابَ الْأَرْضَ، فَكَانَتْ مِنْهَا طَائِفَةٌ قَبِلَتِ الْمَاءَ فَأَنْبَتَتِ الْكَلَأَ وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ، وَكَانَتْ مِنْهَا أَجَادِبُ أَمْسَكَتِ الْمَاءَ، فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاسَ فَشَرِبُوا وَرَعَوْا وَسَقَوْا، وَأَصَابَ طَائِفَةً أُخْرَى مِنْهَا الْمَاءُ، وَهِيَ قِيعَانٌ لَا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تَنْبُتُ كَلَأً، فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقِهَ فِي دِينِ اللَّهِ وَنَفَعَهُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ، وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ» قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: الْغَيْثُ اسْمٌ عَامٌّ لِلْمَطَرِ يُغِيثُ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ، وَيُصِيبُ بِهِ مَوَاقِعَ النَّفْعِ لَهُمْ، تَقُولُ مِنْهُ: غَيَثَتِ الْأَرْضُ فَهِيَ مُغِيثَةٌ ⦗ص: 29⦘، وَالْكَلَأُ: الْحَشِيشُ، قَالَ صَاحِبُ كِتَابِ الْعَيْنِ: هُوَ اسْمٌ لِرَطْبِهِ وَيَابِسِهِ. قَالَ: وَالْعُشْبُ لَا يَكُونُ إِلَّا رَطْبًا وَقَالَ أَبُو زَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ: الْكَلَأُ كُلُّهُ مَا دَامَ رَطْبًا عُشْبُهُ وَبَقْلُهُ، وَهُوَ مَهْمُوزٌ، وَالْجَمْعُ الْأَكْلَاءُ مَمْدُودٌ، يُقَالُ: أَكْلَأَتِ الْأَرْضُ فَهِيَ مُكْلِئَةٌ، وَأَكْلَأَتِ الْأَرْضُ وَأَعْشَبَتْ، وَأَكْلَأَ الْمَالُ وَأَعْشَبَ، وَالنَّاسُ مُكْلِئُونَ وَمُعْشِبُونَ، وَقَدْ بَدَأَ الْإِكْلَاءُ وَالْإِعْشَابُ وَالْإِبْقَالُ، فَأَمَّا ذَكَارُ الْكَلَأِ فَعُشْبٌ وَهُوَ مَا غَلُظَ مِنْهُ وَعَظُمَ، وَالْبَقْلُ مَا لَانَ مِنْهُ وَدَقَّ وَهَذَا مَثَلٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي إِبْلَاغِهِ عَنِ اللَّهِ عز وجل، وَدُعَائِهِ إِلَى سَبِيلِهِ، وَأَنَّهُ بُعِثَ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ لِيُخْرِجَهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ، وَيَهْدِيَهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، وَمَثَّلَ ذَلِكَ بِالْغَيْثِ الَّذِي يَنْشُرُ اللَّهُ بِهِ رَحْمَتَهُ فِي الْأَرْضِ وَيُحْيِي بِهِ الْأَنْعَامَ وَالْحَرْثَ، وَالَّذِينَ اسْتَمَعُوا قَوْلَهُ وَشَاهَدُوا أَمْرَهُ فِي اخْتِلَافِ مَذَاهِبِهِمْ وَطَرَائِقِهِمْ بِبِقَاعِ الْأَرْضِ الَّتِي يَخْتَلِفُ تُرْبُهَا وَأَمَاكِنُهَا، فَمِنْهَا ذَاتُ الرِّيَاضِ الْمُعْشِبَةِ الْكَثِيفَةِ الَّتِي يَكْثُرُ خَيْرُهَا وَيَعُمُّ نَفْعُهَا، وَمِنْهَا الْأَمَاكِنُ ذَاتُ الْغِيَاضِ وَالْغُدْرَانِ وَالنُّقْرِ وَالْقِلَاتِ، وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنَ الْأَمَاكِنِ الَّتِي يَسْتَنْقِعُ فِيهَا الْمَاءُ فَيَرِدُ إِلَيْهَا النَّاسُ وَالْأَنْعَامُ، وَمِنْهَا مَا لَا يَتَعَلَّقُ مِنَ الْمَطَرِ إِلَّا بِمُرُورِهِ عَلَيْهِ، وَهُوَ مَثَلٌ لِمَنْ فَقِهَ عَنِ اللَّهِ عز وجل وَتَفَقَّهَ لِمَا أَمَرَ بِهِ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم فَعَلِمَ وَعَلَّمَ وَعَمِلَ، وَمَثَلٌ لِلْحَامِلِ ⦗ص: 30⦘ عَلِمَهُ إِلَى مَنْ هُوَ أَوْعَى مِنْهُ، كَمَا قَالَ فِي الْحَدِيثِ الْآخَرِ «فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ» وَمَثَلٌ لِلسَّامِعِ الْمُعْرِضِ الْمَحْرُومِ. وَالْأَجَادِبُ - فِيمَا أَحْسَبُ - جَمْعُ أَجْدَابَ، أَوْ يَكُونُ جَمْعًا لِأَجْدَبَ، وَهَذَا - فِيمَا أَحْسَبُ وَلَا أُحَقِّقُ - سَمِعْتُ الزَّجَّاجَ يَقُولُ: جَدَبَتِ الْأَرْضُ وَأَجْدَبَتْ إِذَا لَمْ تُنْبِتْ شَيْئًا وَسَمِعْتُ ابْنَ دُرَيْدٍ يَقُولُ: أَرْضٌ جَدْبَةٌ إِذَا كَانَتْ قَلِيلَةُ النَّبَاتِ
১২ - আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মা'দান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুরাইদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি এবং আল্লাহ আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার উদাহরণ হলো সেই বৃষ্টির মতো যা জমিনে পতিত হলো। সেই জমিনের একাংশ ছিল উর্বর যা পানি গ্রহণ করল এবং প্রচুর ঘাস ও লতাপাতা উৎপাদন করল। আর তার একাংশ ছিল শক্ত ও অনুর্বর যা পানি ধরে রাখল, ফলে আল্লাহ তা দ্বারা মানুষের উপকার করলেন; তারা তা পান করল, পানি পান করাল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির পানি এমন এক অংশে পতিত হলো যা ছিল নিচু চত্বর ভূমি, যা পানি ধরে রাখে না এবং ঘাসও উৎপাদন করে না। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীনে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তার উপকারে এসেছে, ফলে সে নিজে শিখেছে এবং অন্যকে শিখিয়েছে। আর এটি সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং আল্লাহর সেই হিদায়াত কবুল করেনি যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।" আবু মুহাম্মদ বলেন: 'গাইস' হলো বৃষ্টির সাধারণ নাম যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেন এবং তাদের জন্য উপকারি স্থানগুলোতে তা পৌঁছে দেন। আপনি এর ক্রিয়া সম্পর্কে বলবেন: জমিন বৃষ্টিস্নাত হয়েছে, সুতরাং তা বৃষ্টিস্নাত জমি। ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ আর 'কালা' হলো ঘাস। কিতাবুল আইনের লেখক বলেছেন: এটি আর্দ্র ও শুষ্ক উভয় প্রকার ঘাসের নাম। তিনি বলেন: 'উশব' কেবল আর্দ্র বা সজীব ঘাসকেই বলা হয়। আবু যায়েদ আল-আনসারী বলেন: 'কালা' বলতে সবকিছুকেই বোঝায় যতক্ষণ তা সজীব থাকে—তা ঘাস হোক বা শাকসবজি। এটি হামযাহ যুক্ত শব্দ, এর বহুবচন হলো 'আকলা'। বলা হয়: জমিন ঘাসযুক্ত হয়েছে, সুতরাং তা ঘাসযুক্ত জমি। জমিন ঘাস ও লতাপাতায় ভরে উঠেছে। গবাদি পশুর খাদ্য ঘাস ও সজীব উদ্ভিদ সমৃদ্ধ হয়েছে। মানুষ ঘাস ও সজীব উদ্ভিদ লাভ করেছে। ঘাস হওয়া, লতাপাতা হওয়া এবং শাকসবজি হওয়া শুরু হয়েছে। আর ঘাসের শক্ত ও বড় অংশকে 'উশব' বলা হয়, আর যা নরম ও সূক্ষ্ম তা হলো 'বাকল' (শাকসবজি)। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছানো এবং তাঁর পথের দিকে ডাকার একটি উদাহরণ। আর তিনি জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন যাতে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দেন। তিনি একে সেই বৃষ্টির সাথে তুলনা করেছেন যার মাধ্যমে আল্লাহ জমিনে তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন এবং এর দ্বারা গবাদি পশু ও ফসলকে সঞ্জীবিত করেন। আর যারা তাঁর কথা শুনেছে এবং তাঁর আদেশ প্রত্যক্ষ করেছে, তাদের বিভিন্ন মত ও পথের ভিন্নতা হলো জমিনের সেই খণ্ডগুলোর মতো যেগুলোর মাটি ও স্থান ভিন্ন ভিন্ন হয়। তার মধ্যে রয়েছে ঘাসযুক্ত ঘন উদ্যান যার কল্যাণ অনেক এবং উপকার ব্যাপক। আবার কিছু স্থান হলো ঝোপঝাড়, জলাশয়, গর্ত ও পাথরের গর্তের মতো, আর এমন সব স্থান যেখানে পানি জমে থাকে, ফলে মানুষ ও গবাদি পশু সেখানে সমবেত হয়। আর কিছু স্থান এমন যেখান দিয়ে পানি কেবল অতিক্রম করে চলে যায় কিন্তু জমা থাকে না। এটি হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ দিয়েছেন তা বুঝতে পেরেছে, ফলে সে নিজে জেনেছে, অন্যকে শিখিয়েছে এবং আমল করেছে। আর এটি সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে তার অর্জিত জ্ঞান ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ এমন কারো কাছে পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী। যেমনটি অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, "অনেক ফিকহ (জ্ঞান) বহনকারী এমন আছে যে তা এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার।" আর এটি সেই বিমুখ ও বঞ্চিত শ্রোতারও উদাহরণ। আর 'আজাদিব' শব্দটি—আমার ধারণা মতে—'আজদাব'-এর বহুবচন, অথবা এটি 'আজদাব' (অনুর্বর)-এর বহুবচন। এটি আমার ধারণা মাত্র, আমি নিশ্চিত করছি না। আমি আয-যাজ্জাজকে বলতে শুনেছি: জমিন অনুর্বর ও শুষ্ক হয়েছে যখন তা কিছু উৎপন্ন করে না। আর আমি ইবনে দুরাইদকে বলতে শুনেছি: অনুর্বর জমি হলো তা যাতে উদ্ভিদ খুব সামান্য থাকে।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ رحمه الله: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُشَرَّفِ الْمِصْرِيُّ، ثنا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الدَّقَّاقُ بِمِصْرَ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ طَالِبٍ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنِي الْقَاضِي أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلَّادٍ الرَّامَهُرْمُزِيُّ، بِقِرَاءَتِهِ عَلَيَّ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ،

 

13 - حَدَّثَنَا أَبِي فِي عِدَادٍ مِنْهُمُ الْحَسَنُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَأَبُو جَعْفَرٍ الْحَضْرَمِيُّ، وَأَبُو يَحْيَى السَّاجِيُّ، وَيَعْقُوبُ بْنُ مُجَاهِدٍ، وَابْنُ الْبِرْتِيِّ، وَغَيْرُهُمْ قَالُوا: ثنا أَبُو الْخَطَّابِ زِيَادُ بْنُ يَحْيَى الْحَسَّانِيُّ، ثنا مَالِكُ بْنُ سُعَيْرٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي ⦗ص: 34⦘ هُرَيْرَةَ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ الطَّيَالِسِيُّ، ثنا مُؤَمَّلُ بْنُ إِهَابٍ، ثنا مَالِكُ بْنُ سُعَيْرٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا أَنَا رَحْمَةٌ مُهْدَاةٌ» قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَاتَّفَقَتْ أَلْفَاظُهُمْ فِي ضَمِّ الْمِيمِ مِنْ قَوْلِهِ «مُهْدَاةٌ» إِلَّا ابْنَ الْبِرْتِيِّ قَالَ: «مِهْدَاةٌ» بِكَسْرِ الْمِيمِ، مِنَ الْهِدَايَةِ، وَكَانَ ضَابِطًا فِيهِمَا مُتَصَرِّفًا فِي الْفِقْهِ وَاللُّغَةِ، وَالَّذِي قَالَهُ أَجْوَدُ مِنَ الِاعْتِبَارِ، لِأَنَّهُ بُعِثَ صلى الله عليه وسلم هَادِيًا، كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الشورى: 52] . وَكَمَا قَالَ جَلَّ وَعَزَّ: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ} [النحل: 44] . وَ {لِتَخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} [إبراهيم: 1] . وَأَشْبَاهُ ذَلِكَ. وَمَنْ رَوَاهُ بِضَمِّ الْمِيمِ إِنَّمَا أَرَادَ أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَهْدَاهُ إِلَى النَّاسِ وَهُوَ قَرِيبٌ
শাইখ ইমাম হাফেজ আবু তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলি ইবনুল মুশাররাফ আল-মিসরি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দাক্কাক মিসরে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে তালিব আল-বাগদাদি, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন বিচারক আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি, ৩৩৩ হিজরি সনের মুহাররম মাসে আমার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে,

 

১৩ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন একদল ব্যক্তির উপস্থিতিতে, যাদের মধ্যে রয়েছেন হাসান ইবনুল মুসান্না, আবু জাফর আল-হাদরামি, আবু ইয়াহইয়া আস-সাজি, ইয়াকুব ইবনে মুজাহিদ, ইবনুল বিরতি এবং আরও অনেকে। তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল খাত্তাব জিয়াদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হাসসানি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মালিক ইবনে সুয়াইর, আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। এবং আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস আত-তায়ালিসি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুআম্মাল ইবনে ইহাব, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মালিক ইবনে সুয়াইর, আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে লোকসকল! আমি কেবল এক উপহারস্বরূপ রহমত।" আবু মুহাম্মাদ বলেন: "মুহদাতুন" শব্দে মিম অক্ষরে পেশ (যম্মাহ) পড়ার ব্যাপারে ইবনুল বিরতি ছাড়া বাকি সবার শব্দচয়ন একমত হয়েছে। তবে ইবনুল বিরতি মিম অক্ষরে যের (কাসরাহ) দিয়ে "মিহদাতুন" বলেছেন, যা 'হিদায়াত' (পথপ্রদর্শন) থেকে উদ্ভূত। তিনি উভয় পাঠেই অত্যন্ত নিখুঁত ছিলেন এবং ফিকহ ও ভাষাতত্ত্বে পারদর্শী ছিলেন। ব্যাখ্যার দিক থেকে তিনি যা বলেছেন তা-ই অধিকতর উত্তম, কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন} [আশ-শুরা: ৫২]। এবং যেমন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন} [আন-নাহল: ৪৪]। এবং {যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন} [ইব্রাহিম: ১] এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ। আর যারা মিম অক্ষরে পেশ দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা কেবল এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁকে মানুষের জন্য উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন; আর এই অর্থটিও সত্যের নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
14 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُلَاعِبٍ، ثنا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ ⦗ص: 35⦘ حُمَيْدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رِضْوَانُ اللَّهُ عَلَيْهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي مُمْسِكٌ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ وَتَقَاحَمُونَ فِيهَا تَقَاحُمَ الْفَرَاشِ وَالْجَنَادِبِ، وَيُوشِكُ أَنْ أُرْسِلَ حُجَزَكُمْ، وَأَنَا فَرَطٌ لَكُمْ عَلَى الْحَوْضِ، فَتَرِدُونَ عَلَيَّ مَعًا وَأَشْتَاتًا - يَقُولُ جَمِيعًا - فَأَعْرِفُكُمْ بِأَسْمَائِكُمْ وَبِسِيمَاكُمْ كَمَا يَعْرِفُ الرَّجُلُ الْغَرِيبَةَ مِنَ الْإِبِلِ فِي إِبِلِهِ، فَيُذْهَبُ بِكُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ، وَأُنَاشِدُ فِيكُمْ رَبَّ الْعَالَمِينَ فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أُمَّتِي، فَيُقَالُ: إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ، إِنَّهُمْ كَانُوا يَمْشُونَ الْقَهْقَرَى بَعْدَكَ، فَلَأَعْرِفَنَّ أَحَدَكُمْ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُ شَاةً لَهَا ثُغَاءٌ يُنَادِي: يَا مُحَمَّدُ، يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، قَدْ بَلَّغْتُ، وَلَأَعْرِفَنَّ أَحَدَكُمْ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُ بَعِيرًا لَهُ رُغَاءٌ يُنَادِي: يَا مُحَمَّدُ، يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، قَدْ بَلَّغْتُ، وَلَأَعْرِفَنَّ أَحَدَكُمْ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُ فَرَسًا لَهُ حَمْحَمَةٌ يُنَادِي: يَا مُحَمَّدُ، يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، قَدْ بَلَّغْتُ، وَلَأَعْرِفَنَّ أَحَدَكُمْ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُ قِشْعًا مِنْ أَدَمٍ يُنَادِي: يَا مُحَمَّدُ، يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، قَدْ بَلَّغْتُ" قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: قَوْلُهُ «آخِذٌ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ» الْحُجَزَةُ: مَشَدُّ الْإِزَارِ، وَقَدْ تَقَدَّمَ ذِكْرُهَا، وَقَوْلُهُ «يُوشِكُ أَنْ أُرْسِلَ حُجَزَكُمْ» . يَقُولُ: يُوشِكُ أَنْ أُفَارِقَكُمْ وَيَحُولَ الْمَوْتُ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ، وَيُوشِكُ فِي مَعْنَى يُسْرِعُ، وَهُوَ بِكَسْرِ الشَّينِ، قَالَ الشَّاعِرُ:

[البحر المنسرح]

يُوشِكُ مَنْ فَرَّ مِنْ مَنِيَّتِهِ … فِي بَعْضِ غِرَّاتِهِ يُوَافِقُهَا

⦗ص: 36⦘

وَقَوْلُهُ: «أَنَا فَرَطٌ لَكُمْ عَلَى الْحَوْضِ» . يَقُولُ: أَتَقَدَّمُكُمْ وَأَسْبِقُكُمْ إِلَيْهِ، وَفَارِطُ الْقَوْمِ الَّذِي يَتَقَدَّمُهُمْ إِلَى الْمَاءِ، وَفِعْلُهُ: فَرَطَ يَفْرُطُ فَرَطًا، وَقَوْلُهُ: «فَتَرِدُونَ عَلَيَّ مَعًا وَأَشْتَاتًا» . يَقُولُ: جَمِيعًا وَمُتَفَرِّقِينَ «فَأَعْرِفُكُمْ بِسِيمَاكُمْ» . السِّيمَا: الْعَلَامَةُ الَّتِي يُعْرَفُ بِهَا الْخَيْرُ وَالشَّرُّ مِنَ الْإِنْسَانِ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ} [الفتح: 29] . وَقَالَ: {يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمَاهُمْ} [الرحمن: 41] . وَالسِّيمَاءُ مِثْلُهُ مَمْدُودٌ وَأَنْشَدَنَا أَبُو خَلِيفَةَ قَالَ: أَنْشَدَنَا التَّوَّزِيُّ:

[البحر الطويل]

غُلَامٌ رَمَاهُ اللَّهُ بِالْحُسْنِ يَافِعًا … لَهُ سِيمِيَاءُ لَا تَشُقُّ عَلَى الْبَصَرِ

وَقَوْلُهُ: «فَيُذْهَبُ بِكُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ» . يَعْنِي طَرِيقَ الْحِسَابِ وَالْعِقَابِ، وَقَوْلُهُ: «أُنَاشِدُ فِيكُمْ رَبَّ الْعَالَمِينَ» . يَقُولُ: أَطْلُبُ إِلَيْهِ وَأَسْأَلُهُ الْعَفْوَ عَنْكُمْ وَالتَّجَاوُزَ عَنْ سَيِّئَاتِكُمْ، وَهُوَ كَمَا يَقُولُ الْقَائِلُ: نَشَدْتُكَ اللَّهَ وَالرَّحِمَ. وَقَوْلُهُمْ: إِنَّهُمْ كَانُوا يَمْشُونَ الْقَهْقَرَى بَعْدَكَ، مَعْنَاهُ: كَانُوا يُخَالِفُونَ أَمْرَكَ وَيَسْلُكُونَ غَيْرَ سَبِيلِكَ، وَالْقَهْقَرَى: أَنْ يَمْشِيَ الْإِنْسَانُ مُوَلِّيًا ⦗ص: 37⦘، وَقَوْلُهُ: «يَحْمِلُ شَاةً لَهَا ثُغَاءٌ» . الثُّغَاءُ: صَوْتُ الشَّاةِ، تَقُولُ: ثَغَتِ الشَّاةُ تَثْغُو ثُغَاءً، وَرَغَا الْبَعِيرُ يَرْغُو رُغَاءً. وَالْحَمْحَمَةُ: صَوْتُ الْفَرَسِ، وَهُوَ دُونَ الصَّهِيلِ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: هُوَ صَوْتُ الْفَرَسِ لِلشَّعِيرِ. وَالْقِشْعُ مِنْ أَدَمٍ، وَرُبَّمَا اتُّخِذَ مِنْ جُلُودِ الْإِبِلِ يَحْرِزُ فِيهِ أَهْلُ الْبَدْوِ أَمْتِعَتَهُمْ، وَهُوَ مَوْضِعُ الْخِزَانَةِ مِنْ أَهْلِ الْحَاضِرَةِ. قَالَ مُتَمِّمٌ:

[البحر الطويل]

وَلَا بَرَمًا تُهْدِي النِّسَاءُ لِعِرْسِهِ … إِذَا الْقَشْعُ مِنْ حَسِّ الشِّتَاءِ تَقَعْقَعَا

يَقُولُ: إِنَّهُ يَخِفُّ فِي الشِّتَاءِ لِلْمَحْلِ، وَهَذَا فِي الْغُلُولِ، كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ تَوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ} [آل عمران: 161] . وَقَدْ تَضَمَّنَ هَذَا الْحَدِيثُ تَذْكِيرًا وَتَخْوِيفًا وَمَوْعِظَةً يَقَعُ خِطَابُهَا عَامًّا وَمَعْنَاهُ الْخُصُوصُ، وَعَلَى هَذَا سَائِرُ الْكَلَامِ الْمُؤَلَّفِ فِي الْخُطَبِ وَالْمَوَاعِظِ، كَقَوْلِ الْوَاعِظِ: كَأَنَّ الْمَوْتَ فِيهَا عَلَى غَيْرِنَا كُتِبَ، وَكَأَنَّ الْحَقَّ فِيهَا عَلَى غَيْرِنَا وَجَبَ، وَقَدْ نَسِينَا كُلَّ وَاعِظَةٍ، وَأَمِنَّا كُلَّ جَائِحَةٍ. وَهَذَا مِنْ كَلَامٍ يُرْوَى عَنْهُ صلى الله عليه وسلم فِي خُطْبَةٍ لَهُ مَعْرُوفَةٍ، وَهُوَ مَنْ أَخْبَرَ اللَّهُ أَنَّ جُنُوبَهُمْ ⦗ص: 38⦘ تَتَجَافَى عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا، وَأَنَّ قُلُوبَهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ، مِنْ هَذَا الْخِطَابِ خَارِجُونَ. وَقَالَ اللَّهُ عز وجل: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا بَغْيُكُمْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ} [يونس: 23] . وَالُمُرَادُ بِهَذَا الْخِطَابِ أَهْلُ الْبَغْيِ، وَتَقْدِيرُهُ: يَا أَيُّهَا الْبَاغُونَ، فَأَمَّا التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ فَبُعَدَاءُ مِنَ الْبَغْيِ، خَارِجُونَ مِنْ هَذَا النَّعْتِ، وَإِنَّمَا اسْتَقَصَيْتُ الْقَوْلَ فِي هَذَا مَعَ وُضُوحِهِ وَظُهُورِهِ لِأَنَّ مِنَ الشُّيُوخِ مَنْ يَتَهَيَّبُ رِوَايَةَ هَذَا الْحَدِيثِ مُقَدِّرًا أَنَّهُ يَتَعَلَّقُ بِشَيْءٍ مِنْ ذَمِّ الصَّحَابَةِ أَهْلِ الْهِجْرَةِ وَالنُّصْرَةِ. وَحَضَرْتُ مُوسَى بْنَ هَارُونَ وَهُوَ يَقْرَأُ عَلَيْنَا كِتَابَ الزُّهْدِ لِسَيَّارِ بْنِ حَاتِمٍ فَمَرَّ بِهَذَا الْحَدِيثِ فَطَوَاهُ وَامْتَنَعَ مِنْ رِوَايَتِهِ، وَهَذَا مَذْهَبُ مَنْ لَا يَتَعَلَّقُ مِنَ الْحَدِيثِ إِلَّا بِالرِّوَايَةِ، وَيَقُولُ فِيمَا يَقُومُ فِي نَفْسِهِ عَلَى تَزْوِيرِ الرُّوَاةِ وَالطَّعْنِ عَلَيْهِمْ، وَكَانَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا يَزْعُمُ أَنَّ هَذَا الْخِطَابَ إِنَّمَا هُوَ لِأَهْلِ الرِّدَّةِ الَّذِينَ مَنَعُوا الصَّدَقَةَ، إِذْ كَانَ اللَّهُ قَدْ أَعْلَمَ نَبِيَّهُ أَنَّهُمْ يَرْتَدُّونَ وَيَمْنَعُونَ الصَّدَقَةَ، وَيَصْرِفُ قَوْلَهُ «يَحْمِلُ شَاةً لَهَا ثُغَاءٌ، وَبَعِيرًا لَهُ رُغَاءٌ» إِلَى هَذَا الْوَجْهِ، يَقُولُ: يَمْنَعُ حَقَّ اللَّهِ عز وجل فِيهَا، وَيَمْنَعُ حَقَّ اللَّهِ فِي فَرَسِهِ فِي ارْتِبَاطِهِ وَالْجِهَادِ عَلَيْهِ، وَفِيمَا يُحْرِزُهُ وَيَدَّخِرُهُ فِي قَشْعِهِ، وَعَلَى أَنَّ بَعْضَ الْفُقَهَاءِ قَدْ أَوْجَبَ الصَّدَقَةَ فِي الْخَيْلِ، وَهُوَ قَوْلُ حَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ ⦗ص: 39⦘، وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ: إِذَا كَانَتِ الدَّوَابُّ لِلْبَيْعِ فَفِيهَا الصَّدَقَةُ. وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: إِذَا كَانَتْ خَيْلًا فِيهَا إِنَاثٌ فَطَلَبَ نَسْلَهَا فَفِيهَا الصَّدَقَةُ، فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ فَرَسًا فَرَسٌ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ فِي الْخَيْلِ السَّائِمَةِ أَنَّ الْمُصَدِّقَ بِالْخِيَارِ، إِنْ شَاءَ أَخَذَ مِنْ كُلِّ فَرَسٍ دِينَارًا، أَوْ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ، وَإِنْ شَاءَ قَوَّمَهَا ثُمَّ أَخَذَ مِنْ كُلِّ مِائَتَيْ دِرْهَمٍ خَمْسَةَ دَرَاهِمَ. وَهَذَا الْقَوْلُ لِزُفَرَ. قَالَ أَبُو يُوسُفَ: لَيْسَ هَذَا بِشَيْءٍ. وَفِي قَوْلِهِ: «يَحْمِلُ شَاةً وَبَعِيرًا وَفَرَسًا» . وَجْهَانِ: أَحَدُهُمَا: أَنْ يَكُونَ حَمْلُهُ لَهُ عَلَى التَّمْثِيلِ وَالْمَجَازِ، بِمَعْنَى أَنْ يَحْمِلَ وِزْرَهُ وَيَبُوءَ بِإِثْمِهِ، وَالْوَجْهُ الْآخَرُ: أَنْ يَكُونَ عَلَى ظَاهِرِهِ، فَيُجْعَلُ حَمْلُهُ لَهُ عُقُوبَةً لَهُ. وَمِثْلُهُ كَمَا وَرَدَ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم فِي مَانِعِ حَقِّ اللَّهِ عز وجل فِي غَنَمِهِ أَنَّهُ يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ، تَطَأُهُ بِأَظْلَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا. وَقَالَ اللَّهُ عز وجل فِي مَانِعِ الزَّكَاةِ: {يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ} [التوبة: 35]
১৪ - আমাদের নিকট আমাদের পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মুলা’ইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মালিক ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ হুমাইদ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদের কোমরবন্ধ ধরে জাহান্নাম থেকে সরিয়ে রাখছি, আর তোমরা পতঙ্গ ও ঘাসফড়িংয়ের মতো তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছো। শীঘ্রই আমি তোমাদের কোমরবন্ধ ছেড়ে দেবো। আমি হাউযের নিকট তোমাদের জন্য অগ্রগামী হব। তোমরা আমার নিকট একত্রে এবং দলে দলে আসবে —অর্থাৎ সবাই আসবে— আমি তোমাদের নাম ও চিহ্ন দ্বারা চিনতে পারব, যেমন একজন ব্যক্তি তার নিজের উটের পালের মধ্যে অপরিচিত উটকে চিনতে পারে। অতঃপর তোমাদেরকে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি তোমাদের বিষয়ে রাব্বুল আলামীনের নিকট আরজি জানাব এবং বলব: হে রব! আমার উম্মত। তখন বলা হবে: আপনার পরে তারা কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছিল তা আপনি জানেন না; আপনার পরে তারা পশ্চাৎপদ হয়ে ফিরে গিয়েছিল। আমি অবশ্যই তোমাদের কাউকে চিনতে পারব যে কিয়ামতের দিন এমন এক ছাগল বহন করে আসবে যা চিৎকার করছে এবং সে ডাকবে: হে মুহাম্মদ! হে মুহাম্মদ! তখন আমি বলব: আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য আমার কিছুই করার নেই, আমি অবশ্যই পৌঁছে দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই তোমাদের কাউকে চিনতে পারব যে কিয়ামতের দিন এমন এক উট বহন করে আসবে যা শব্দ করছে এবং সে ডাকবে: হে মুহাম্মদ! হে মুহাম্মদ! তখন আমি বলব: আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য আমার কিছুই করার নেই, আমি অবশ্যই পৌঁছে দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই তোমাদের কাউকে চিনতে পারব যে কিয়ামতের দিন এমন এক ঘোড়া বহন করে আসবে যা চিঁহিঁ শব্দ করছে এবং সে ডাকবে: হে মুহাম্মদ! হে মুহাম্মদ! তখন আমি বলব: আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য আমার কিছুই করার নেই, আমি অবশ্যই পৌঁছে দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই তোমাদের কাউকে চিনতে পারব যে কিয়ামতের দিন চামড়ার একটি থলে বহন করে আসবে এবং সে ডাকবে: হে মুহাম্মদ! হে মুহাম্মদ! তখন আমি বলব: আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য আমার কিছুই করার নেই, আমি অবশ্যই পৌঁছে দিয়েছিলাম।” আবু মুহাম্মদ বলেন: তাঁর বাণী «আমি তোমাদের কোমরবন্ধ ধরে জাহান্নাম থেকে সরিয়ে রাখছি» এখানে কোমরবন্ধ হলো ইজারের (লুঙ্গি বা নিচের কাপড়ের) বাঁধার স্থান, যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাঁর বাণী «শীঘ্রই আমি তোমাদের কোমরবন্ধ ছেড়ে দেবো» এর অর্থ হলো: শীঘ্রই আমি তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হব এবং মৃত্যু আমার ও তোমাদের মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়াবে। ‘ইউশিকু’ (শীঘ্রই) শব্দটির অর্থ হলো ‘ইউসরিউ’ (দ্রুত হওয়া), এটি শীন বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে পড়তে হয়। জনৈক কবি বলেছেন:

[আল-বাহর আল-মুনসারিহ]

যে ব্যক্তি তার মৃত্যু থেকে পলায়ন করে সে শীঘ্রই... অসতর্কতার কোনো এক মুহূর্তে তার সম্মুখীন হবে

⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘

আর তাঁর বাণী: «আমি হাউযের নিকট তোমাদের জন্য অগ্রগামী হব»। এর অর্থ: আমি তোমাদের আগে পৌঁছাব এবং সেখানে তোমাদের অগ্রবর্তী হব। ‘ফারিত’ হলো সেই ব্যক্তি যে পানির সন্ধানে দলের আগে আগে যায়। এর ক্রিয়ামূল হলো ‘ফারা-তা’, ‘ইয়াফ-রুতু’, ‘ফার-তান’। আর তাঁর বাণী: «তোমরা আমার নিকট একত্রে এবং দলে দলে আসবে»। তিনি বলছেন: সবাই মিলে এবং পৃথক পৃথকভাবে। «আমি তোমাদের তোমাদের চিহ্ন দ্বারা চিনতে পারব»। ‘সিমা’ হলো সেই লক্ষণ যার দ্বারা মানুষের ভালো বা মন্দের পরিচয় পাওয়া যায়। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তাদের মুখমন্ডলে সিজদার চিহ্ন বিদ্যমান} [সূরা আল-ফাতহ: ২৯]। এবং তিনি বলেছেন: {অপরাধীদের তাদের লক্ষণ দেখে চেনা যাবে} [সূরা আর-রহমান: ৪১]। ‘সিমা-উ’ শব্দটিও একই অর্থের যা দীর্ঘস্বরে (মাদ্দ) উচ্চারিত হয়। আবু খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আত-তাউয়াজি আবৃত্তি করেছেন:

[আল-বাহর আত-তবিল]

এক যুবক যাকে আল্লাহ যৌবনে সৌন্দর্য দান করেছেন ... তার এমন এক চিহ্ন রয়েছে যা দৃষ্টির জন্য কষ্টকর নয়

আর তাঁর বাণী: «অতঃপর তোমাদেরকে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে»। এর অর্থ হলো হিসাব ও শাস্তির পথ। আর তাঁর বাণী: «আমি তোমাদের বিষয়ে রাব্বুল আলামীনের নিকট আরজি জানাব»। তিনি বলছেন: আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করব এবং তোমাদের ক্ষমা করার ও তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করার জন্য আবেদন করব। এটি তেমন যেমন কোনো ব্যক্তি বলে: ‘আমি আল্লাহর কসম দিয়ে এবং আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে তোমার কাছে চাইছি’। আর তাঁদের কথা: «আপনার পরে তারা পশ্চাৎপদ হয়ে ফিরে গিয়েছিল» এর অর্থ হলো: তারা আপনার আদেশের বিরোধিতা করেছিল এবং আপনার পথ ছাড়া অন্য পথে চলেছিল। ‘কাহকারা’ হলো মানুষের উল্টো দিকে হেঁটে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ ফিরে যাওয়া। আর তাঁর বাণী: «এমন এক ছাগল বহন করবে যা চিৎকার (ভ্যা ভ্যা) করছে»। ‘থুগা’ হলো ছাগলের ডাক। বলা হয়: ছাগলটি চিৎকার করেছে। আর উট শব্দ করার ক্ষেত্রে ‘রাগা’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। ‘হামহামাহ’ হলো ঘোড়ার শব্দ, যা হ্রেষা ধ্বনির চেয়ে নিচু। আবু উবাইদ বলেন: এটি ঘোড়ার যব খাওয়ার সময়ের শব্দ। আর ‘কিশ’ হলো চামড়ার তৈরি থলে, কখনো কখনো এটি উটের চামড়া দিয়ে তৈরি করা হতো যাতে বেদুইনরা তাদের আসবাবপত্র সংরক্ষণ করত; এটি শহরবাসীদের নিকট সিন্দুক বা আলমারির স্থলাভিষিক্ত। মুতাম্মিম বলেছেন:

[আল-বাহর আত-তবিল]

সে এমন কৃপণ নয় যার স্ত্রীর কাছে মহিলারা কিছু পাওয়ার আশায় আসে ... যখন শীতের স্পর্শে চামড়ার থলেটি শব্দ করে ওঠে

তিনি বলছেন যে, দুর্ভিক্ষের কারণে শীতে এটি হালকা হয়ে যায়। এটি আত্মসাৎ (গুলুল) প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আত্মসাৎ করবে, সে যা আত্মসাৎ করেছে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে আসবে; অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার উপার্জিত ফল পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে} [সূরা আল-ইমরান: ১৬১]। এই হাদীসটি সতর্কীকরণ, ভীতিপ্রদর্শন এবং নসিহতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার সম্বোধন সাধারণ হলেও অর্থ বিশেষ। খুতবা ও নসিহতের ক্ষেত্রে অন্যান্য কালামগুলো এভাবেই রচিত হয়। যেমন নসিহতকারীর বক্তব্য: ‘মনে হয় মৃত্যু আমাদের ছাড়া অন্য কারো জন্য অবধারিত হয়েছে, আর মনে হয় সত্য আমাদের ছাড়া অন্য কারো ওপর ওয়াজিব হয়েছে; অথচ আমরা প্রতিটি উপদেশ ভুলে গেছি এবং প্রতিটি বিপদ থেকে নিজেদের নিরাপদ মনে করছি।’ এটি তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একটি সুপরিচিত খুতবায় বর্ণিত হয়েছে। আর তারাই হলো সেই সব লোক যাদের সম্পর্কে আল্লাহ খবর দিয়েছেন যে, তাদের পার্শ্বদেশ ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, তারা তাদের রবকে ভয় ও আশার সাথে ডাকে এবং তাদের অন্তরসমূহ কম্পিত থাকে যে তারা তাদের রবের নিকট ফিরে যাবে; তারা এই ধরনের (শাস্তির) সম্বোধন থেকে মুক্ত। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {হে মানুষ! তোমাদের অবাধ্যতা কেবল তোমাদের নিজেদের ওপরই বর্তাবে} [সূরা ইউনুস: ২৩]। এখানে সম্বোধন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অবাধ্য সম্প্রদায়। এর মূল অর্থ: ‘হে অবাধ্যরা’। পক্ষান্তরে তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোজা পালনকারী, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজে নিষেধকারী এবং আল্লাহর সীমানাসমূহ হেফাযতকারীরা অবাধ্যতা থেকে অনেক দূরে এবং এই বিবরণ থেকে বহির্ভূত। আমি এই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও বিস্তারিত আলোচনা করেছি কারণ কিছু শাইখ বা শিক্ষক এই হাদীসটি বর্ণনা করতে ভয় পেতেন এই ধারণায় যে, এটি হয়তো হিজরত ও সাহায্যকারী (আনসার) সাহাবীগণের কোনো নিন্দার সাথে সম্পর্কিত। আমি মুসা ইবনে হারুনের উপস্থিত ছিলাম যখন তিনি আমাদের সামনে সাইয়্যার ইবনে হাতেমের ‘কিতাবুয যুহদ’ পড়ছিলেন; তিনি যখন এই হাদীসটির কাছে পৌঁছালেন, তখন তিনি এটি এড়িয়ে গেলেন এবং বর্ণনা করতে অস্বীকার করলেন। এটি তাদের অভিমত যারা হাদীস থেকে কেবল বর্ণনাটুকুই গ্রহণ করে এবং তাদের মনে বর্ণনাকারীদের ওপর কোনো অভিযোগ বা ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে এমনটি করে। আমাদের কিছু সাথী মনে করতেন যে, এই সম্বোধন কেবল সেই সব মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীদের জন্য যারা জাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল; যেহেতু আল্লাহ তাঁর নবীকে জানিয়েছিলেন যে তারা ধর্মত্যাগ করবে এবং জাকাত দিতে অস্বীকার করবে। আর তিনি তাঁর বাণী «এমন ছাগল বহন করে আনবে যা ভ্যা ভ্যা করছে এবং উট যা শব্দ করছে»-কে এই অর্থের দিকে ফিরিয়ে নিতেন; অর্থাৎ সে এগুলোর ক্ষেত্রে আল্লাহর আজ্জা ওয়া জাল্লা-র হক (জাকাত) দিতে অস্বীকার করেছে, এবং তার ঘোড়া পালন ও তাতে জিহাদ করার ক্ষেত্রে আল্লাহর হক আদায় করেনি এবং তার থলেতে যা সে জমা করে রেখেছে তার হক দেয়নি। যদিও কিছু ফকীহ ঘোড়ার ওপরও জাকাত ওয়াজিব করেছেন, যা হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানের ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ মত। আওযায়ী বলেন: যদি পশুগুলো ব্যবসার জন্য হয় তবে তাতে জাকাত আছে। আবু হানিফা বলেন: যদি ঘোড়ার পালে মাদী ঘোড়া থাকে এবং বংশবৃদ্ধির উদ্দেশ্য থাকে, তবে তাতে জাকাত আছে; প্রতি চল্লিশটি ঘোড়ায় একটি ঘোড়া। তাদের মধ্যে কেউ কেউ চারণভূমিতে চরে বেড়ানো ঘোড়ার ক্ষেত্রে বলেছেন যে, জাকাত আদায়কারীর এখতিয়ার রয়েছে, চাইলে সে প্রতিটি ঘোড়া থেকে এক দিনার বা দশ দিরহাম নেবে, অথবা সেটির মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি দুইশ দিরহামে পাঁচ দিরহাম নেবে। এটি যুফারের মত। আবু ইউসুফ বলেন: এটি সঠিক নয়। আর তাঁর বাণী: «সে ছাগল, উট ও ঘোড়া বহন করে আনবে»- এর দুটি দিক রয়েছে: প্রথমটি হলো: এই বহন করা রূপক অর্থে, অর্থাৎ সে তার গুনাহের বোঝা বহন করবে এবং তার পাপের ভার নিয়ে আসবে। দ্বিতীয় দিকটি হলো: এটি তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর থাকবে, অর্থাৎ তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তার ওপর এগুলো চাপিয়ে দেওয়া হবে। এর উদাহরণ হলো যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার মেষের জাকাত আদায় করবে না, তাকে একটি বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিতে উপুড় করে শুইয়ে দেওয়া হবে এবং সেই পশুগুলো তাকে তাদের খুর দিয়ে মাড়াবে এবং শিং দিয়ে গুঁতো দেবে। আর জাকাত আদায় না করা ব্যক্তির সম্পর্কে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপাল, পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে; (বলা হবে) এটিই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করতে তার স্বাদ গ্রহণ করো} [সূরা আত-তাওবাহ: ৩৫]।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
15 - حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأُمَوِيُّ ⦗ص: 40⦘، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ فَقَالَ: «إِيَّاكَ أَنْ تَأْتِيَ بِبَعِيرٍ تَحْمِلُهُ لَهُ رُغَاءٌ» فَقَالَ: لَا آخُذُهُ، وَلَا أَجِيءُ بِهِ، فَأَعْفَاهُ
১৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনে যাকারিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-উমাভী ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদ ইবনে উবাদাহকে (যাকাত আদায়ের জন্য) প্রেরণ করলেন এবং বললেন: «সাবধান! তুমি যেন (কিয়ামতের দিন) এমন কোনো উট পিঠে বহন করে না আসো যা চিৎকার করতে থাকে।» তখন তিনি (সাদ) বললেন: আমি তা গ্রহণ করব না এবং তা নিয়ে আসবও না। অতঃপর তিনি (নবীজি) তাঁকে অব্যাহতি প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
16 - حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا أَبُو الْخَطَّابِ الْحَسَّانَيُّ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنِي رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنِي سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ عَبْدٍ لَهُ مَالٌ لَا يُؤَدِّي زَكَاتَهُ إِلَّا جُمِعَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُحْمَى عَلَيْهِ صَفَائِحُ فِي جَهَنَّمَ، وَيُكْوَى بِهَا جَبِينُهُ مِنْ ظَهْرِهِ، حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ عز وجل بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ، ثُمَّ يُرَى سَبِيلُهُ، إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِمَّا إِلَى النَّارِ، وَمَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لَا يُؤَدِّي زَكَاتَهَا إِلَّا يُجَاءُ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَكْبَرِ مَا كَانَتْ عَلَيْهِنَّ، يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَطَأَهُ بِأَظْلَافِهَا وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلَا جَلْحَاءُ، كُلَّمَا مَضَتْ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا، حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ عز وجل بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ، ثُمَّ يَرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِمَّا إِلَى النَّارِ» ⦗ص: 41⦘. قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالْخَيْلُ؟ قَالَ: " الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَالْخَيْلُ لِثَلَاثَةٍ: لِرَجُلٍ أَجْرٌ، وَلِآخَرَ سِتْرٌ، وَلِآخَرَ وِزْرٌ، فَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ أَجْرٌ، فَرَجُلٌ يَحْبِسُهَا وَيُعِدُّهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَمَا غَيَّبَتْ فِي بُطُونِهَا فَهُوَ لَهُ أَجْرٌ، وَلَوْ رَعَاهَا فِي مَرْجٍ كَانَ لَهُ فِيمَا غَيَّبَتْ فِي بُطُونِهَا أَجْرٌ، وَلَوِ اسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ خَطَتْهَا أَجْرٌ، وَلَوْ عَرَضَ لَهُ نَهَرٌ فَسَقَاهَا مِنْهُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ قَطْرَةٍ غَيَّبَتْهَا فِي بُطُونِهَا أَجْرٌ، حَتَّى أَنَّهُ لَيُذْكُرُ الْأَجْرَ فِي أَرْوَاثِهَا وَأَبْوَالِهَا، وَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ سِتْرٌ فَرَجُلٌ يَتَّخِذُهَا تَعَفُّفًا وَتَجَمُّلًا وَتَكَرُّمًا، وَلَا يَنْسَى حَقَّ اللَّهِ فِي ظُهُورِهَا وَلَا بُطُونِهَا فِي عُسْرِهِ أَوْ يُسْرِهِ، وَأَمَّا الَّتِي هِيَ عَلَيْهِ وِزْرٌ فَرَجُلٌ يَتَّخِذُهَا أَشَرًا وَبَطَرًا وَرِيَاءً النَّاسِ وَبَذَخًا". قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَالْحُمُرُ؟ قَالَ: " مَا أُنْزِلَ فِيهَا عَلَيَّ شَيْءٌ إِلَّا هَذِهِ الْآيَةُ الْجَامِعَةُ: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ، وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} [الزلزلة: 8] " قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: قَوْلُهُ {فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} [المعارج: 4] . فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَرَفَةَ يَقُولُ: ذَهَبَ نَاسٌ إِلَى أَنَّ اللَّهَ عز وجل يَفْعَلُ فِيهِ مِنَ الْأَفْعَالِ مَا يَفْعَلُ مِثْلَهُ فِي خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ. قَالَ: وَأَمَّا كَلَامُ الْعَرَبِ فَإِنَّهُمْ يَصِفُونَ أَيَّامَ الشِّدَّةِ وَلَيَالِيهَا بِالطُّولِ وَأَيَّامَ الرَّخَاءِ وَالسُّرُورِ بِالْقِصَرِ وَإِنَّمَا يُرَادُ شِدَّةُ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَثِقَلُهُ وَعِظَمُهُ وَهَوْلُهُ كَمَا قَالَ الشَّاعِرُ:

[البحر الطويل]

تَعَالَوْا أَعِينُونِي عَلَى اللَّيْلِ إِنَّهُ … عَلَى كُلِّ عَيْنٍ لَا تَنَامُ طَوِيلُ

فَاعْلَمَ أَنَّهُ يُطَولُ عَلَى السَّاهِرِ لِشِدَّتِهِ عَلَيْهِ، وَلَا زِيَادَةَ فِي اللَّيْلِ وَلَا نُقْصَانَ فِي الْمِقْدَارِ الَّذِي قَدَّرَهُ اللَّهُ عز وجل ⦗ص: 42⦘. وَقَالَ آخَرُ يَذْكُرُ يَوْمًا بِالشِّدَّةِ:

[البحر الطويل]

فَقُلْتُ لِأَصْحَابِي مُشِيرًا إِلَيْهِمُ … أَذَا الْيَوْمُ أَمْ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَطْوَلُ

وَقَالَ ابْنُ أَبِي كَاهِلٍ:

[البحر المتقارب]

كُلَّمَا قُلْتُ مَضَى أَوَّلُهْ … عَطَفَ الْآخَرُ مِنْهُ فَرَجَعْ

وَقَالَ آخَرُ فِي قِصَرِ أَيَّامِ السُّرُورِ:

[البحر الطويل]

تَمَتَّعْ بِذَا الْيَوْمِ الْقَصِيرِ فَإِنَّهُ … رَهِينٌ بِأَيَّامِ الشُّهُورِ الْأَطَاوِلِ

وَقَالَ ابْنُ أَبِي رَبِيعَةَ:

[البحر الطويل]

فَيَا لَكَ مِنْ لَيْلٍ تَقَاصَرَ طُولُهُ … وَمَا كَانَ لَيْلِي قَبْلَ ذَلِكَ يَقْصُرُ

وَقَالَ حُمَيَدُ بْنُ ثَوْرٍ الْهِلَالِيُّ:

[البحر الطويل]

وَكَأَيْنَ لَهَوُنَا مِنْ رَبِيعٍ مَسَرَّةٍ … وَصِيفٍ لَهَوْنَاهُ قَصِيرٍ ظَهَائِرُهْ
১৬ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবুল খাত্তাব আল-হাসসানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াযিদ বিন যুরাই বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট রাওহ বিন আল-কাসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট সুহাইল বিন আবি সালিহ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «এমন কোনো বান্দা নেই যার সম্পদ আছে অথচ সে তার জাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য সেই সম্পদকে একত্রিত করা হবে এবং তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত পাত করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তার কপাল ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। যতক্ষণ না আল্লাহ মহিয়ান ও গরীয়ান তাঁর বান্দাদের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করেন এমন এক দিনে যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় পঞ্চাশ হাজার বছর। এরপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে। আর এমন কোনো উটের মালিক নেই যে তার জাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন সেই উটগুলোকে তাদের সবচেয়ে হৃষ্টপুষ্ট অবস্থায় আনা হবে এবং তাকে একটি প্রশস্ত সমতল ময়দানে উপুড় করে শুইয়ে দেওয়া হবে। উটগুলো তাদের খুর দিয়ে তাকে মাড়াবে এবং শিং দিয়ে তাকে গুঁতো দেবে। তাদের মধ্যে কোনোটিই শিং বাঁকানো বা শিং ভাঙা হবে না। যখনই তাদের শেষ দলটি তাকে অতিক্রম করবে, তখনই প্রথম দলটিকে আবার ফিরিয়ে আনা হবে। যতক্ষণ না আল্লাহ মহিয়ান ও গরীয়ান তাঁর বান্দাদের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করেন এমন এক দিনে যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় পঞ্চাশ হাজার বছর। এরপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে» ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, ঘোড়ার ক্ষেত্রে কী হবে? তিনি বললেন: "কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ গেঁথে দেওয়া হয়েছে। ঘোড়া তিন প্রকারের লোকের জন্য: একজনের জন্য তা পুরস্কার (সওয়াব), অন্যজনের জন্য তা পর্দা (আবরু), আর অপরজনের জন্য তা পাপের বোঝা। যার জন্য তা পুরস্কার, সে হলো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে একে লালন-পালন ও প্রস্তুত করে। সুতরাং তার পেটে যা কিছু বিলীন হয় (খাদ্য) তা তার জন্য সওয়াব। যদি সে একে চারণভূমিতে চরায়, তবে তার পেটে যা কিছু যায় তার বিনিময়ে সে সওয়াব পায়। যদি ঘোড়াটি একটি বা দুটি টিলা অতিক্রম করে, তবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সে সওয়াব পায়। যদি তার সামনে কোনো নদী আসে আর সে সেখান থেকে পানি পান করে, তবে তার পেটে যাওয়া প্রতিটি ফোঁটার বিনিময়ে তার জন্য সওয়াব রয়েছে। এমনকি তিনি এর গোবর ও প্রস্রাবের সওয়াবের কথাও উল্লেখ করেছেন। আর যার জন্য ঘোড়াটি পর্দা (আবরু), সে হলো সেই ব্যক্তি যে নিজের পবিত্রতা রক্ষা, সৌন্দর্য এবং সম্মান বজায় রাখার জন্য তা গ্রহণ করে, আর সে অভাব বা সচ্ছলতা—উভয় অবস্থায় এর পিঠের এবং পেটের ওপর আল্লাহর হক (জাকাত বা দান) ভুলে যায় না। আর যার জন্য এটি পাপের বোঝা, সে হলো সেই ব্যক্তি যে দম্ভ, অহংকার, লোক দেখানো এবং বড়ত্ব প্রকাশের জন্য তা লালন করে।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, গাধার ক্ষেত্রে কী হবে? তিনি বললেন: "এই ব্যাপক অর্থবোধক আয়াতটি ছাড়া এ বিষয়ে আমার ওপর অন্য কিছু অবতীর্ণ হয়নি: {যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে, আর যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে} [যিলযাল: ৮]" আবু মুহাম্মদ (ইবনে কুতাইবা) বলেন: মহান আল্লাহর বাণী— {এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর} [মাআরিজ: ৪]। আমি আবু আব্দুল্লাহ বিন আরাফাকে বলতে শুনেছি: কিছু লোক মনে করেন যে, আল্লাহ মহিয়ান ও গরীয়ান এই দিনে এমন সব কাজ সম্পন্ন করবেন যা সম্পন্ন করতে সাধারণ অবস্থায় পঞ্চাশ হাজার বছর সময় লাগে। তিনি আরও বলেন: আর আরবদের ভাষারীতি হলো, তারা কষ্টের দিন ও রাতকে দীর্ঘ বলে বর্ণনা করে এবং সুখ ও আনন্দের দিনগুলোকে সংক্ষিপ্ত বলে বর্ণনা করে। এখানে সেই দিনের কঠোরতা, ভয়াবহতা, গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বোঝানো হয়েছে। যেমন কবি বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

এসো, এই রাতের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো, কারণ … বিনিদ্র চোখের কাছে রাত বড়ই দীর্ঘ হয়।

তিনি জানিয়ে দিলেন যে, বিনিদ্র ব্যক্তির কাছে রাত দীর্ঘ মনে হয় এর কষ্টের কারণে, অথচ রাতের দৈর্ঘ্যে কোনো বৃদ্ধি ঘটে না এবং আল্লাহ মহিয়ান ও গরীয়ান যে পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন তাতেও কোনো কমবেশি হয় না ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘। অন্য একজন কষ্টের দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

আমি আমার সঙ্গীদের দিকে ইশারা করে বললাম … এই দিনটি কি দীর্ঘ নাকি কিয়ামতের দিনটি বেশি দীর্ঘ?

ইবনে আবি কাহিল বলেছেন:

[বাহরুল মুতাকারিদ]

যখনই আমি বলি যে এর প্রথমাংশ শেষ হয়েছে … তখনই এর শেষাংশ আবার ফিরে আসে।

সুখের দিনগুলোর সংক্ষিপ্ততা নিয়ে অন্য একজন বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

এই সংক্ষিপ্ত দিনটি উপভোগ করে নাও, কারণ এটি … মাসসমূহের দীর্ঘ দিনগুলোর কাছে বন্দী।

ইবনে আবি রাবিআ বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

হায় তোমার সেই রাত! যার দীর্ঘতা সংকুচিত হয়ে এসেছিল … অথচ ইতিপূর্বে আমার রাত কখনো সংক্ষিপ্ত হতো না।

হুমাইদ বিন সাওর আল-হিলালি বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

কতই না আনন্দের বসন্তকাল আমরা উপভোগ করেছি … আর কত গ্রীষ্মকাল আমরা কাটিয়েছি যার দ্বিপ্রহরগুলো ছিল সংক্ষিপ্ত।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٤٣)
17 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ هَارُونَ، وَجَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ، قَالَا: ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ: «لَا وَاللَّهِ مَا أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ إِلَّا مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا» . فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟ فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ: «كَيْفَ قُلْتَ؟» . قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَهَلْ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْخَيْرَ لَا يَأْتِي إِلَّا بِالْخَيْرِ، وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ لَمَا يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ، إِلَّا آكِلَةَ الْخَضِرِ أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلَأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلْتِ الشَّمْسَ، فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ ثُمَّ اجْتَرَّتْ فَعَادَتْ فَأَكَلَتْ، فَمَنْ أَخَذَ مَالًا بِحَقِّهِ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَخَذَ مَالًا بِغَيْرِ حَقِّهِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ» حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ، ثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامَ، ثنا يَزِيدُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ ، وَحَدَّثَنَا الْحَضْرَمِيُّ، ثنا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ ⦗ص: 44⦘ إِبْرَاهِيمَ، ثنا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، ثنا هِلَالُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: الزَّهْرَةُ: نَوَّارُ الرَّبِيعِ ، وَزَهْرَةُ الدُّنْيَا: حُسْنُهَا وَبَهْجَتُهَا وَمَا أَظْهَرَ اللَّهُ عَلَيْهَا مِمَّا يَتَنَافَسُ أَهْلُهَا، وَإِنَّمَا سُمِّيَتِ الدُّنْيَا لِأَنَّهَا دَانِيَةٌ تَتَقَدَّمُ الْآخِرَةَ. وَالرَّبِيعُ: فَصْلٌ مِنَ الزَّمَانِ مُخْتَلَفٌ فِيهِ، وَيُسَمَّى الْمَطَرُ بِعَيْنِهِ رَبِيعًا، وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ الْجَوَادِ الْكَثِيرِ الْمَعْرُوفِ الْفَائِضِ الْخَيْرِ رَبِيعٌ، وَيَجْمَعُ مَعْنَى الْخِصْبِ وَالسَّعَةِ وَالْخَيْرِ كَمَا قَالَ الْمُعَذِّلُ بْنُ غَيْلَانَ:

[البحر الطويل]

أَرَى خَلَّةً مِنْ صُحْبَةٍ وَقَرَابَةٍ … وَذِي رَحِمٍ مَا كُنْتُ مِمَّنْ يُضِيعُهَا

وَلَوْ سَاعَدَتْنِي بِالْمَكَارِمِ قُدْرَةٌ … لَفَاضَ عَلَيْهِمْ بِالنَّوَالِ رِبِيعُهَا

قَالَ أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ أَوْسٍ: أَوَّلُ الرَّبِيعِ عِنْدَ طُلُوعِ الْحَمَلِ وَالثَّوْرِ وَالْجَوْزَاءِ، ثُمَّ الصَّيْفِ وَهُوَ عِنْدَ طُلُوعِ السَّرَطَانِ وَالْأَسَدِ وَالسُّنْبُلَةِ قَالَهُ الْأَصْمَعِيُّ فِي كِتَابِ الصِّفَاتِ. أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ قُتَيْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ وَغَيْرِ وَاحِدٍ وَلَا اثْنَيْنِ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الرَّبِيعَ ⦗ص: 45⦘ عِنْدَ الْعَرَبِ وَهُوَ الْفَصْلُ الَّذِي يُسَمِّيهِ النَّاسُ الْخَرِيفُ، وَذَلِكَ عِنْدَ حُلُولِ الشَّمْسِ بِرَأْسِ الْمِيزَانِ قَالَ ابْنُ قُتَيْبَةَ: وَإِنَّمَا سَمَّتْهُ الْعَرَبُ الرَّبِيعَ لِأَنَّ أَوَّلَ الْمَطَرِ يَكُونُ فِيهِ، وَسَمَّاهُ النَّاسُ الْخَرِيفَ لِأَنَّ الثِّمَارِ تَخْتَرِفُ فِيهِ فَهَذَا قَوْلُ الْعَرَبِ، أَوْ أَكْثَرُهُمْ، وَقَدْ أَوْجَبَهُ ضَرْبٌ مِنَ الْقِيَاسِ لِأَنَّهُمْ يُسَمُّونَ الْفَصْلَ الَّذِي يُذْكَرُ فِيهِ حُلُولُ الشَّمْسِ السَّرَطَانَ وَالْأَسَدَ وَالسُّنْبُلَةَ قَيْظًا، وَهُوَ الْوَقْتُ الَّذِي تُحْمَى فِيهِ الشَّمْسُ وَيَشْتَدُّ فِيهِ الْحَرُّ، وَفَصْلُ الصَّيْفِ مَقْرُونٌ بِهِ لَا مَحَالَةَ، وَهُوَ يَتَقَدَّمُهُ إِذْ لَا يَجُوزُ أَنْ يَتَأَخَّرَ، وَلِأَنَّ الْمُشَاهَدَةَ تُبْطِلُهُ، وَقَدْ جُمِعَ بَيْنَ الصَّيْفِ وَبَيْنَهُ، وَقَالَ الشَّاعِرُ:

[البحر الطويل]

أَمَا يَسْتَفِيقُ الْقَلْبُ إِلَّا انْبَرَى لَهُ … تَوَهُّمُ صَيْفٍ مِنْ سُعَادٍ وَمُرْبِعِ

وَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَتَبَاعَدَ أَحَدُ الْوَقْتَيْنِ عَنِ الْآخَرِ. وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ النُّعْمَانِ الْقَزَّازُ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلَيٍّ الْعِجْلِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ آدَمَ يَقُولُ: السَّنَةُ أَرْبَعَةُ أَزْمَنَةٍ، كُلُّ ثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ مِنْهَا زَمَانٌ. فَالرَّبِيعُ زَمَانٌ، وَهُوَ أَيْلَولُ وَتَشْرِينُ الْأَوَّلُ وَتَشْرِينُ الثَّانِي، ثُمَّ الشِّتَاءُ زَمَانٌ، وَهُوَ كَانُونُ الْأَوَّلُ وَكَانُونُ الثَّانِي وَشِبَاطٌ، ثُمَّ الصَّيْفُ زَمَانٌ، وَهُوَ آذَارُ وِنَيْسَانُ وَأَيَّارُ، ثُمَّ الْقَيْظُ زَمَانٌ، وَهُوَ حَزِيرَانُ وَتَمُّوزُ وَآبُ ⦗ص: 46⦘ وَسَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ السَّرِيِّ يَقُولُ: مِنَ النَّاسِ مَنْ يَجْعَلُ الرَّبِيعَ الْأَوَّلَ مِنَ السَّنَةِ ابْتِدَاؤُهُ لِثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ تَمْضِي مِنْ أَيْلُولَ، وَعِنْدَ ذَلِكَ يَسْتَوِي اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَجْعَلُ الرَّبِيعَ الْأَوَّلَ فِي تِسْعَةَ عَشَرَ تَمْضِي مِنْ آذَارَ. قَالَ: وَذَلِكَ آخِرُ أَمْطَارِ الشِّتَاءِ وَأَوَّلُ مَطَرِ الرَّبِيعِ. وَقَالَ: وَفِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ نَيْسَانَ آخِرُ مَطَرِ الرَّبِيعِ وَأَوَّلُ مَطَرِ الصَّيْفِ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ السِّجِسْتَانِيُّ: الْوَسْمِيُّ: أَوَّلُ مَطَرِ الرَّبِيعِ، وَهُوَ أَوَّلُ الْمَطَرِ، وَهُوَ الَّذِي يِسِمُ الْأَرْضَ وَقَدْ تَرَدَّدَ ذِكْرُ الرَّبِيعِ فِي الشِّعْرِ، فَمِنْهُمْ مَنْ جَعَلَهُ الْمَطَرَ بِعَيْنِهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ جَعَلَهُ النَّبَاتَ، وَمِنْهُمْ مَنْ جَعَلَهُ الْوَقْتَ، فَأَمَّا مَا جَاءَ وَصْفُهُ وَطِيبُ أَوَانِهِ مِنْ قَدِيمِ الشَّعْرِ وَحَدِيثِهِ فَإِنَّمَا يُعْنَى بِهِ أَيَّامُ النَّشْرِ وَالزَّهْرِ وَالنَّوْرِ، كَمَا قَالَ الْبُحْتُرِيُّ:

[البحر الطويل]

أَتَاكَ الرَّبِيعُ الطَّلْقُ يَخْتَالُ ضَاحِكًا … مِنَ الْحُسْنِ حَتَّى كَادَ أَنْ يَتَكَلَّمَا

وَقَدْ نَبَّهَ الْمَنْثُورُ فِي غَلَسِ الدُّجَى … أَوَائِلَ وَرْدٍ كُنَّ بِالْأَمْسِ نُوَّمَا

فَأَوْجَبَ اسْمَ الرَّبِيعِ لِفَصْلِ نَيْسَانَ. وَقَالَ أَبُو تَمَّامٍ: إِنَّ الرَّبِيعَ أَوَّلُ الزَّمَانِ وَهَذِهِ صِفَةُ زَمَنِ النُّورِ. وَأَنْشَدَنَا ابْنُ عَرَفَةَ بَيْتَيْنِ:

[البحر الوافر]

تَوَاصُلُنَا عَلَى الْأَيَّامِ بَاقٍ … وَلَكِنْ هَجْرُنَا مَطَرُ الرَّبِيعِ

يَرُوعُكَ صَوْبُهُ لَكِنْ تَرَاهُ … عَلَى رَوَعَاتِهِ دَانِي النُّزُوعِ

وَهَذَا نَعْتُ الْمَطَرِ فِي آذَارَ، وَلَيْسَ هَذَا مِمَّا لَا تَقُومُ فِي مِثْلِهِ حُجَّةٌ مِنْ شِعْرِ الْمُتَأَخِّرِينَ، لِأَنَّ أَصْحَابَهُ أَعْلَامُ الدِّرَايَةِ، وَسَوَاءٌ قَالُوا ذَلِكَ قَوْلًا أَوْ أَتَوْا بِهِ شِعْرًا ⦗ص: 47⦘، وَأَحْسِبُهُ نَقَلَ اسْمَ زَمَنِ النَّوْرِ إِلَى اسْمِ الرَّبِيعِ لِأَنَّ آثَارَ الْمَطَرِ الَّذِي جَعَلَهُ اللَّهُ حَيَاةً لِلْأَرْضِ وَسَبَبًا لِلنَّشْرِ تَظْهَرُ فِيهِ، وَيَدُلُّكَ عَلَى صِحَّةِ هَذَا التَّأْوِيلِ قَوْلُ اللَّهِ عز وجل: {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَتُصْبِحُ الْأَرْضُ مُخْضَرَّةً} [الحج: 63] ، وَلَيْسَ اخْضِرَارُهَا عُقَيْبَ يَوْمٍ يُمْطَرُ فِيهِ، إِنَّمَا الْمَعْنَى أَنَّهُ سَبَبٌ لَهُ بِإِذْنِ اللَّهِ عز وجل. وَزَعَمَ قَوْمٌ أَنَّ هَذَا بِمَكَّةَ مَوْجُودٌ، تَخْضَرُّ الْأَرْضُ فِي لَيْلَةٍ وَاحِدَةٍ، وَلَا يَكُونُ إِلَّا بِمَكَّةَ. وَأَمَّا مَا جَاءَ فِي مَعْنَى الْمَطَرِ بِعَيْنِهِ قَوْلُ الشَّاعِرِ:

[البحر الطويل]

خَلِيلَيَّ أَمْسَى حُبُّ خَرْقَاءَ عَامِدِي … فَفِي الْقَلْبِ مِنِّي زَفْرَةٌ وَصُدُوعُ

وَلَوْ جَاوَرَتْنَا الْعَامَ خَرْقَاءُ لَمْ نَبُلْ … عَلَى جَدْبِنَا إِلَّا يُصَوبُ رَبِيعُ

وَقَالَ آخَرُ:

[البحر الطويل]

إِذَا غِبْتَ عَنَّا غَابَ رَبِيعُنَا … وَنَسْقِي الْغَمَامَ الْغَدَقَ حِينَ تَؤُوبُ

وَقَالَ أَبُو طَالِبِ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فِي النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْبَيْتَ:

[البحر الطويل]

وَأَبْيَضُ يُسْتَسْقَى الْغَمَامُ بِوَجْهِهِ … رَبِيعُ الْيَتَامَى عِصْمَةٌ لِلْأَرَامِلِ

وَأَنْشَدَنَا الْحَامِضُ: ثِمَالُ الْيَتَامَى وَأَنْشَدَنَا وَكِيعٌ لِصَمُوتٍ الْأَعْرَابِيَّةِ. قَالَ وَرَوَاهُ الْأَصْمَعِيُّ:

فَكِّهْ إِلَى جَنْبِ الْخُوَانِ إِذَا سَرَتْ … نَكْبَاءُ تَقْطَعُ مَنْبِتَ الْأَطَنَابِ

وَأَبُو الْيَتَامَى يُنْبِتُونَ فِنَاءَهُ … نَبْتَ الرَّبِيعِ بِكَالِئٍ مِعْشَابِ

⦗ص: 48⦘

فَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ لَمَا يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ» . قَالَ ابْنُ دُرَيْدٍ: هَذَا مِنْ أَبْلَغِ الْكَلَامِ فِي تَحْذِيرِ الدُّنْيَا، وَالِاعْتِزَازِ بِزَهْرَتِهَا، وَالرُّكُونِ إِلَى غَضَارَتِهَا، وَذَلِكَ أَنَّ الْمَاشِيَةَ يَرُوقُهَا نَبْتُ الرَّبِيعِ، فَتَأْكُلُ مِنْهُ بِأَعْيُنِهَا، فَرُبَّمَا تَفَتَّقَتْ سِمَنًا فَهَلَكَتْ. يَقُولُ: فَمَنْ أَعْطَى كُفُؤًا وَرَفَاهِيَةَ عَيْشٍ فِي دُنْيَاهُ فَلْيَقْتَصِدْ وَلَا يَنْهَمِكْ فِيهَا فَتُلْهِيَهُ عَنْ الِاحْتِزَازِ لِآخِرَتِهِ فَيَهْلِكَ، كَمَا أَنَّ الْمَاشِيَةَ تُلْهِيهَا زُهْرَةُ النَّبَاتِ فَتَأْكُلُ حَتَّى تَهْلِكَ وَقَالَ اللَّهُ عز وجل: {أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ، كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ} [التكاثر: 2] . وَقَالَ بَعْضُ الشُّعَرَاءِ يَذْكُرُ الدُّنْيَا

كَيْفَ يَحْلُو طَعْمُ شَيْءٍ زَائِلٍ … رُبَّ حُلْوٍ فِي مَذَاقِ الْعَيْشِ مُرُّ

وَالْحَبَطُ: انْتِفَاخُ بَطْنِ الدَّابَّةِ مِنَ الِامْتِلَاءِ، أَوْ مِنَ الْمَرَضِ. يُقَالُ: حَبَطَ يَحْبَطَ حَبَطًا وَيُقَالُ: إِنَّ الْحَارِثَ بْنَ مَازِنِ بْنِ عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ سُمِّيَ الْحَبَطُ لِأَنَّهُ أَصَابَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَهُوَ فِي سَفَرٍ لَهُ فَمَاتَ، وَالنِّسْبَةُ إِلَيْهِ حَبَطِيُّ - بِفَتْحِ الْبَاءِ - كَمَا يُنْسَبُ إِلَى سَلَمَةَ سَلَمِيُّ، وَإِلَى سَفَرَةَ سَفَرِيُّ؛ لِأَنَّهُمْ يَسْتَثْقِلُونَ الْكَسْرَةَ مَعَ الْيَاءِ. وَقَوْلُهُ: «أَوْ يُلِمُّ» يَعْنِي: أَوْ يَقْرَبُ، وَهَذَا قَوْلُ أَبِي عُبَيْدٍ. وَقَوْلُهُ: «فَمَنْ أَخَذَ مَالًا بِحَقِّهِ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ» الْبَرَكَةُ: الْكَثْرَةُ وَالِاتِّسَاعُ هَكَذَا قَالَهُ لَنَا ابْنُ عَرَفَةَ، وَسَأَلَتُ عَنْهُ الْحَامِضَ فَلَمْ يَذْكُرْهُ، يَقُولُ: مَنْ أَخَذَ مِنَ الدُّنْيَا شَيْئًا عَلَى طَرِيقِ الِاقْتِصَادِ وَالرِّضَى بِالْقَسْمِ حَيَا بِعِزِّ الْقَنَاعَةِ وَغِنَى النَّفْسِ حَيَاةً طَيْبَةً، وَمَنْ طَمَحَ بَصَرُهُ إِلَى كُلِّ مَا يَرَى مِنَ الْمَتَاعِ بِهَا فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْبَهِيمَةِ الَّتِي تَأْكُلُ فَتَمْتَلِئُ ثُمَّ تَرُوثُ - وَالثَّلْطُ: الرَّوْثُ - وَتَبُولُ ثُمَّ تَجْتَرُّ، وَالْجَرَّةُ: أَنْ تُخْرِجَ مَا فِي بَطْنِهَا بَعْدَ الِامْتِلَاءِ فَتُدِيرُهُ فِي فَمِهَا، ثُمَّ تُعَاوِدَ الْأَكْلَ، لَا تَعْرِفُ غَيْرَ هَذِهِ الْحَالِ قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَهُمْ} [محمد: 12] . وَقَوْلُهُ: «فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ» . قَالَ ابْنُ الْبِرْتِيِّ: مَعْنَاهُ: يُكْثِرُ الْأَكْلَ، كَمَا تَقُولُ: فُلَانٌ يَتَكَلَّمُ وَلَا يَسْكُتُ، وَيَبْكِي وَلَا يَرْقَأُ دَمْعُهُ ⦗ص: 49⦘، وَمَعْنَاهُ: يُكْثِرُ الْكَلَامَ وَيُكْثِرُ الْبُكَاءَ. قَالَ ابْنُ دُرَيْدٍ: لَا تَشْبَعُ عَيْنُهُ وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ ، وَيُعْرَفُ بِالشَّامِيِّ، ثنا الْمُخَيْمِرُ بْنُ سَعِيدٍ الْمَنْبِجِيُّ، ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ يَقُولُ لِرَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ: هَلْ كَانَ وَرَاءَكَ مِنْ غَيْثٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: صِفْهُ لِي، قَالَ: سَمِعْتُ الرَّوادَ يَدْعُو إِلَى زِيَادَتِهَا، وَسَمِعْتُ قَائِلًا يَقُولُ: هَلُمَّ ظُعُنُكُمْ إِلَى مَحِلِّةٍ تُطْفَأُ فِيهَا النِّيرَانُ، وَتَشْتَكِي فِيهَا النِّسَاءُ، وَتَنَافُسُ فِيهَا الْمِعْزَى، فَلَمْ يَفْهَمِ الْحَجَّاجُ مَا قَالَ، فَقَالَ: وَيْحَكَ إِنَّمَا تُخَاطِبُ أَهْلَ الْعِرَاقِ فَأَفْهِمْهُمْ، قَالَ: نَعَمْ أَيُّهَا الْأَمِيرُ، كَثُرَ الْمَطَرُ وَكَثُرَ الْكَلَأُ وَالْعُشْبُ فَاسْتُغْنِيَ عَنْ نَارٍ يُخْبَزُ بِهَا، فَهَذَا إِطْفَاءُ النِّيرَانِ، وَأَمَّا تَشَكِّي النِّسَاءِ: وَلَا تَزَالُ الْمَرْأَةُ تَرْعَى بُهْمَهَا فَتَأْخُذُ مَرَّةً يَمْنَةً، وَمَرَّةً يَسْرَةً لِكَثْرَةِ الْكَلَأِ، فَتَتْبَعُهَا الْمَرْأَةُ مِنْ لَيْلَتِهَا وَلِسَاقِهَا وَجِيفٌ مِنَ الْإِعْيَاءِ، فَهَذَا تَشَكِّي النِّسَاءِ، وَأَمَّا تَنَافُسُ الْمِعَزَى فَإِنَّ بُطُونَهَا تَشْبَعُ، وَعُيُونَهَا لَا تَشْبَعُ
১৭ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে হারুন এবং জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন লাইস, সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ থেকে, তিনি ইয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সারহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে মানুষকে খুতবা দিলেন এবং বললেন: «না, আল্লাহর কসম! হে লোকসকল, আমি তোমাদের জন্য সেই বস্তু ছাড়া আর কিছুর ভয় করি না, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে বের করে আনবেন।» তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন, তারপর বললেন: «তুমি কী বললে?» সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই কল্যাণ কেবল কল্যাণই বয়ে আনে। তবে বসন্তকালে যা জন্মায় তা অনেক সময় অতিরিক্ত আহারজনিত পেট ফাঁপা রোগের মাধ্যমে (প্রাণীকে) মেরে ফেলে অথবা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়; কেবল সেই তৃণভোজী প্রাণী ছাড়া যা পেট ভরে খাওয়ার পর সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়ায়, তারপর মলত্যাগ ও প্রস্রাব করে এবং জাবর কাটে, অতঃপর পুনরায় আহার করতে ফিরে যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি ন্যায়সংগতভাবে সম্পদ গ্রহণ করল, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ করল, তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না।» আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উমাইয়া ইবনে বিসতাম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে জুরাই, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিশাম আদ-দাস্তুওয়াই। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাদরামি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ ইব্রাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিশাম আদ-দাস্তুওয়াই, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসীর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিলাল ইবনে আবু মাইমুনা, আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু মুহাম্মদ বলেন: 'যাহরাহ' অর্থ বসন্তের প্রস্ফুটিত ফুল। আর 'দুনিয়ার যাহরাহ' বলতে এর সৌন্দর্য, দীপ্তি এবং এতে আল্লাহ যা প্রকাশ করেছেন তা বোঝায়, যা নিয়ে দুনিয়াদাররা প্রতিযোগিতা করে। আর দুনিয়াকে 'দুনিয়া' বলা হয় কারণ এটি নিকটবর্তী এবং আখেরাতের পূর্বে অবস্থান করে। আর 'রাবি' (বসন্ত) হলো একটি ঋতু, যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কখনো বৃষ্টিকেই সরাসরি 'রাবি' বলা হয়। আবার অত্যন্ত দানশীল, সুপরিচিত ও কল্যাণময় ব্যক্তিকে 'রাবি' বলা হয়। এটি উর্বরতা, প্রশস্ততা ও কল্যাণের অর্থকে শামিল করে, যেমনটি মুয়াযযিল ইবনে গায়লান বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

আমি বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের অভাব লক্ষ্য করি ... আর আত্মীয়তার সম্পর্ককে আমি বিনষ্ট করার মতো লোক নই।

যদি মহানুভবতার সামর্থ্য আমাকে সহায়তা করত ... তবে তাদের ওপর বসন্তের বারিপাতের মতো অনুগ্রহ বর্ষিত হতো।

আবু যায়দ সাঈদ ইবনে আউস বলেন: বসন্তের শুরু মেষরাশি, বৃষরাশি ও মিথুনরাশির উদয়কালে। এরপর গ্রীষ্মকাল আসে যখন কর্কটরাশি, সিংহরাশি ও কন্যারাশি উদিত হয়। আল-আসমাঈ 'কিতাবুস সিফাত'-এ এটি উল্লেখ করেছেন। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবা তাঁর পিতা থেকে এবং অনেক আলিম থেকে যে, আরবদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ বসন্ত হলো সেই ঋতু যাকে মানুষ শরৎকাল বলে। এটি তখন ঘটে যখন সূর্য তুলা রাশির শুরুতে অবস্থান করে। ইবনে কুতাইবা বলেন: আরবরা একে বসন্ত (রাবি) নামকরণ করেছে কারণ এতে প্রথম বৃষ্টিপাত হয়। আর মানুষ একে শরৎ (খারিফ) নাম দিয়েছে কারণ এতে ফল সংগৃহীত হয়। এটিই আরবদের বা তাদের অধিকাংশের অভিমত। যুক্তির বিচারেরও এটি সংগত, কারণ তারা কর্কট, সিংহ ও কন্যারাশির অবস্থানকালকে গ্রীষ্মের প্রখর তাপের সময় (কাইয) বলে অভিহিত করে, যখন রোদ অত্যন্ত উত্তপ্ত হয় এবং গরম তীব্র হয়। গ্রীষ্মকাল (সাইফ) অবশ্যই এর সাথে যুক্ত এবং এর আগেই থাকে, কারণ এটি পরে হওয়া সম্ভব নয় এবং চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণও একে বাতিল করে দেয়। গ্রীষ্ম ও বসন্তকে একত্রে উল্লেখ করে কবি বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

হৃদয় কি সচেতন হবে না? বরং তার সামনে ভেসে ওঠে ... সুআদের স্মৃতিবিজড়িত গ্রীষ্ম ও বসন্তের কল্পনা।

কখনো কখনো এক সময় অন্য সময় থেকে দূরেও হতে পারে। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে নুমান আল-কাযযায, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে আলী আল-ইজলি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে আদমকে বলতে শুনেছি: বছর হলো চারটি সময়ের সমষ্টি, যার প্রতিটি তিন মাস করে। বসন্ত একটি সময়, যা আইলুল (সেপ্টেম্বর), তাশরিন আল-আউয়াল (অক্টোবর) ও তাশরিন আস-সানি (নভেম্বর) মাস নিয়ে গঠিত। এরপর শীতকাল, যা কানুন আল-আউয়াল (ডিসেম্বর), কানুন আস-সানি (জানুয়ারি) ও শাবাত (ফেব্রুয়ারি) মাস নিয়ে গঠিত। এরপর গ্রীষ্মকাল (সাইফ), যা আযার (মার্চ), নিসান (এপ্রিল) ও আইয়ার (মে) মাস নিয়ে গঠিত। এরপর প্রখর উত্তাপের সময় (কাইয), যা হাযিরান (জুন), তামমুয (জুলাই) ও আব (আগস্ট) মাস নিয়ে গঠিত। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ আমি ইব্রাহিম ইবনে সারীকে বলতে শুনেছি: মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বছরের প্রথম বসন্তের শুরু আইলুলের তেইশ তারিখ থেকে ধরে থাকেন, যখন দিন ও রাত সমান হয়। আবার কেউ কেউ প্রথম বসন্তের শুরু নিসানের উনিশ তারিখ থেকে ধরেন। তিনি বলেন: এটি শীতকালীন বৃষ্টির শেষ এবং বসন্তকালীন বৃষ্টির শুরু। তিনি আরও বলেন: নিসান মাসের শেষ দিন হলো বসন্তের শেষ বৃষ্টি এবং গ্রীষ্মের প্রথম বৃষ্টির সময়। আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি বলেন: 'ওয়াসমি' হলো বসন্তের প্রথম বৃষ্টি, যা জমিনে চিহ্ন এঁকে দেয়। কবিতার চরণে 'রাবি' (বসন্ত) শব্দটি বারবার এসেছে; কেউ একে সরাসরি বৃষ্টি অর্থে, কেউ উদ্ভিদ অর্থে, আবার কেউ সময় অর্থে ব্যবহার করেছেন। তবে প্রাচীন ও আধুনিক কবিতায় এর যে মনোরম বর্ণনা পাওয়া যায়, তা দ্বারা মূলত প্রস্ফুটিত ফুল ও সৌরভ ছড়ানোর দিনগুলোকেই বোঝানো হয়, যেমনটি আল-বুহতুতি বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

উজ্জ্বল বসন্ত তোমার কাছে হাসিমুখে এল ... তার সৌন্দর্যের গরিমা নিয়ে, যেন সে এখনই কথা বলে উঠবে।

গভীর অন্ধকারের নিস্তব্ধতায় ফুটে থাকা ফুলগুলো জাগ্রত করেছে ... সেই গোলাপের কলিদের যারা গতকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল।

এখানে তিনি নিসান মাসের ঋতুকেই 'রাবি' নাম দিয়েছেন। আবু তামমাম বলেছেন: বসন্ত হলো সময়ের শুরু এবং এটি হলো ফুল ফোটার ঋতুর বৈশিষ্ট্য। ইবনে আরাফাহ আমাদের দুটি পঙক্তি পাঠ করে শুনিয়েছেন:

[বাহরুল ওয়াফির]

আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ চিরকাল অটুট থাকবে ... তবে আমাদের বিচ্ছেদ হলো বসন্তের বৃষ্টির মতো।

তার বর্ষণ তোমাকে ভীত করবে, কিন্তু তুমি দেখবে ... সেই ভীতির মাঝেই তার বিদায় অতি সন্নিকটে।

এটি আযার (মার্চ) মাসের বৃষ্টির বর্ণনা। পরবর্তী যুগের কবিদের কবিতা এ ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এর রচয়িতারা ভাষাজ্ঞানের দিকপাল। তারা এটি গদ্যে বলুক বা পদ্যে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘, আমি মনে করি ফুল ফোটার সময়কেই বসন্ত বলা হয়েছে কারণ এতে বৃষ্টির প্রভাব প্রকাশ পায়, যা আল্লাহ জমিনের জীবনের জন্য এবং উদ্ভিদ বিকাশের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই ব্যাখ্যার যথার্থতা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়: {তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে জমিন সবুজ হয়ে যায়?} [হজ: ৬৩]। জমিনের এই সবুজায়ন ঠিক বৃষ্টি হওয়ার পরের দিনই ঘটে না, বরং এর অর্থ হলো এটি আল্লাহর নির্দেশে সবুজায়নের একটি মাধ্যম। একদল লোক দাবি করেন যে, এটি মক্কায় দেখা যায়; সেখানে জমিন এক রাতেই সবুজ হয়ে যায় এবং এটি কেবল মক্কাতেই ঘটে। আর সরাসরি বৃষ্টি অর্থে কবির এই পঙক্তিটি এসেছে:

[বাহরুত তবিল]

হে আমার দুই বন্ধু, খারাখার ভালোবাসা আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ... আমার হৃদয়ে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস ও ক্ষত।

এ বছর খারাখা যদি আমাদের প্রতিবেশী হতো, তবে আমাদের অনাবৃষ্টির কোনো পরোয়া থাকত না ... কারণ আমাদের ওপর বসন্তের বারিধারা বর্ষিত হতো।

অন্য একজন বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

তুমি যখন আমাদের থেকে দূরে যাও, আমাদের বসন্তও বিদায় নেয় ... আর তুমি ফিরে এলে আমরা মেঘের প্রচুর বারিধারায় সিক্ত হই।

আবু তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এই পঙক্তিটি বলেছেন:

[বাহরুত তবিল]

তিনি শ্বেতবর্ণের, যার চেহারা মোবারকের উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয় ... তিনি এতিমদের আশ্রয়স্থল এবং বিধবাদের রক্ষক।

আল-হামিয আমাদের পাঠ করে শুনিয়েছেন: 'সিমানুল ইয়াতামা' (এতিমদের ভরসা)। ওয়াকি আমাদের কাছে 'সামুত আল-আরাবিয়্যাহ' এর কবিতা পাঠ করেছেন, আল-আসমাঈও এটি বর্ণনা করেছেন:

দস্তরখানের পাশে আনন্দ করো যখন প্রবাহিত হয় ... সেই হিমেল হাওয়া যা তাঁবুর খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলে।

তিনি এতিমদের পিতা, যারা তাঁর আঙিনায় বেড়ে ওঠে ... নিরাপদ ও তৃণময় ভূমিতে বসন্তের চারাগাছের মতো।

⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «বসন্তকালে যা জন্মায় তা অনেক সময় অতিরিক্ত আহারজনিত পেট ফাঁপা রোগের মাধ্যমে মেরে ফেলে অথবা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়।» ইবনে দুরায়দ বলেন: দুনিয়ার মোহ থেকে সতর্ক করার, এর চাকচিক্য নিয়ে অহংকার করা এবং এর ভোগবিলাসে মজে থাকার বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত সাবলীল বক্তব্য। কারণ গবাদি পশুরা বসন্তের নবজাত ঘাস দেখে মুগ্ধ হয় এবং তা মনের সুখে খেতে থাকে, যার ফলে অনেক সময় চর্বি ফেটে তারা মারা যায়। তিনি বলতে চেয়েছেন: যাকে দুনিয়াতে পর্যাপ্ত সচ্ছলতা ও আরামদায়ক জীবন দেওয়া হয়েছে, সে যেন পরিমিত হয় এবং এতে ডুবে না যায়, যাতে এটি তাকে আখেরাতের প্রস্তুতি থেকে গাফেল না করে দেয় এবং সে ধ্বংস হয়ে যায়; ঠিক যেমন পশুরা উদ্ভিদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে খেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহগ্রস্ত করে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপস্থিত হও। কখনোই নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।} [তাকাসুর: ১-৩]। জনৈক কবি দুনিয়া সম্পর্কে বলেছেন:

ক্ষণস্থায়ী বস্তুর স্বাদ কীভাবে মিষ্টি হতে পারে? ... জীবন আস্বাদনের অনেক মিষ্টতাই শেষ পর্যন্ত তিক্ত হয়ে দাঁড়ায়।

'হাবাত' অর্থ পেট ভরে খাওয়ার ফলে অথবা রোগের কারণে পশুর পেট ফুলে যাওয়া। বলা হয়: 'হাবাতা ইয়াহবাতু হাবাতান'। বর্ণিত আছে যে, হারিছ ইবনে মাযিন ইবনে আমর ইবনে তামীমকে 'হাবাত' বলা হতো, কারণ তিনি সফরে থাকাকালীন এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তাঁর দিকে সম্বন্ধ করে 'হাবাতি' (বা বর্ণে যবর দিয়ে) বলা হয়, যেমন 'সালামাহ' থেকে 'সালামি' এবং 'সাফারাহ' থেকে 'সাফারি' বলা হয়; কারণ ইয়ায়ের সাথে কাছরা (জের) ব্যবহার করা তাদের নিকট শ্রুতিকটু। রাসূলের বাণী: «অথবা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়» এর অর্থ হলো নিকটবর্তী হওয়া, এটি আবু উবাইদের অভিমত। রাসূলের বাণী: «সুতরাং যে ব্যক্তি ন্যায়সংগতভাবে সম্পদ গ্রহণ করল, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে»। 'বারাকাত' অর্থ হলো আধিক্য ও প্রশস্ততা—ইবনে আরাফাহ আমাদের এমনটিই বলেছেন। আমি আল-হামিযকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি। এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি পরিমিতভাবে এবং বন্টনে সন্তুষ্ট থেকে দুনিয়া গ্রহণ করবে, সে অল্পেতুষ্টির সম্মান ও হৃদয়ের সচ্ছলতা নিয়ে উত্তম জীবন যাপন করবে। আর যার দৃষ্টি দুনিয়ার সব ভোগসামগ্রীর দিকে ধাবিত হবে, সে সেই পশুর মতো যা আহার করে পেট পূর্ণ করে, তারপর মলত্যাগ করে—'থালত' অর্থ মলত্যাগ—প্রস্রাব করে এবং জাবর কাটে। 'জাররাহ' (জাবর কাটা) হলো পেট পূর্ণ হওয়ার পর পেটের ভেতরের বস্তু বের করে এনে মুখে চিবানো, তারপর পুনরায় খাওয়া; সে এই অবস্থা ছাড়া অন্য কিছু চেনে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যারা কুফরি করে তারা ভোগবিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো আহার করে, আর জাহান্নামই তাদের আবাস।} [মুহাম্মদ: ১২]। রাসূলের বাণী: «তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না।» ইবনে আল-বিরতি বলেন: এর অর্থ হলো সে প্রচুর আহার করে; যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি কথা বলে কিন্তু থামে না, কাঁদে কিন্তু তার চোখের পানি থামে না ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘। অর্থাৎ সে অধিক কথা বলে এবং অধিক কাঁদে। ইবনে দুরায়দ বলেন: তার চোখ তৃপ্ত হয় না। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হাসান, যিনি শামী নামে পরিচিত, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুখাইমির ইবনে সাঈদ আল-মানবিজি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, উসমান ইবনে মুগীরা থেকে, তিনি শাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হাজ্জাজকে একজন সিরিয়াবাসীকে বলতে শুনেছি: তোমার পেছনে কি কোনো বৃষ্টি হয়েছিল? সে বলল: হ্যাঁ। হাজ্জাজ বললেন: আমার কাছে তার বর্ণনা দাও। সে বলল: আমি এক রাখালকে তার পশুর পালের বৃদ্ধির জন্য দোয়া করতে শুনেছি এবং একজনকে বলতে শুনেছি: তোমাদের কাফেলা নিয়ে এমন এক স্থানে এসো যেখানে আগুন নিভে যায়, নারীরা অভিযোগ করে এবং ছাগলগুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। হাজ্জাজ তার কথা বুঝতে পারলেন না, তাই বললেন: ধিক তোমার! তুমি তো ইরাকবাসীর সাথে কথা বলছো, তাদের বুঝিয়ে বলো। সে বলল: হ্যাঁ হে আমির, বৃষ্টি প্রচুর হয়েছে এবং ঘাস ও লতাগুল্ম অনেক জন্মেছে, ফলে রুটি বানানোর জন্য আগুনের আর প্রয়োজন নেই (দুধ ও কাঁচা ঘাসেই পেট ভরে), এটিই হলো আগুন নিভে যাওয়া। আর নারীদের অভিযোগের বিষয়টি হলো: প্রচুর ঘাসের কারণে তাদের গবাদি পশু একবার ডানে যায় একবার বামে যায়, নারীটি সারারাত সেগুলোর পেছনে ছুটে তার পায়ের গোড়ালিতে ক্লান্তিবশত ব্যথায় কাতরাতে থাকে, এটিই হলো নারীদের অভিযোগ। আর ছাগলের প্রতিযোগিতার অর্থ হলো: তাদের পেট ভরে যায় কিন্তু চোখ ভরে না।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
18 - وَحَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ، ثنا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ⦗ص: 50⦘، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةً بَعْدَ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مُغَيْرِبَانِ الشَّمْسِ، حَفِظَهَا مَنْ حَفِظَهَا وَنَسِيَهَا مَنْ نَسِيَهَا، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، وَإِنَّ اللَّهَ عز وجل مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا، فَنَاظِرٌ كَيْفَ تَعْمَلُونَ، أَلَا فَاتَّقُوا الدُّنْيَا، وَاتَّقُوا النِّسَاءَ»
১৮ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুদবাহ ইবনে খালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘, তিনি আলি ইবনে যাইদ থেকে, তিনি আবু নাদ রাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমাদের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দিলেন; যারা তা মুখস্থ রাখার তারা মুখস্থ রেখেছেন এবং যারা তা ভুলে যাওয়ার তারা ভুলে গিয়েছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, তারপর বললেন: «অতঃপর, নিশ্চয়ই দুনিয়া শ্যামল ও সুমিষ্ট, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ (মহামহিম ও মহিমান্বিত) তোমাদেরকে এতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন, এবং তিনি দেখছেন তোমরা কীভাবে কাজ করো। সাবধান! তোমরা দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকো এবং নারী (ফিতনা) থেকে বেঁচে থাকো।»
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْآمُلِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ صَالِحٍ، ثنا عَمْرُو بْنُ طَارِقٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ ⦗ص: 51⦘: «الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، فَمَنِ اتَّقَى اللَّهَ فِيهَا وَأَصْلَحَ، وَإِلَّا فَهُوَ كَالْآكِلِ وَلَا يَشْبَعُ، وَبَيْنَ النَّاسِ فِي ذَلِكَ كَبُعْدِ الْكَوْكَبَيْنِ، أَحَدُهُمَا يَطْلُعُ فِي الْمَشْرِقِ، وَالْآخَرُ يَغِيبُ فِي الْمَغْرِبِ» قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: سَأَلْتُ بَعْضَ شُيُوخِنَا عَنْ قَوْلِهِ: «الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ» ، عَلَى مَا يَقَعُ هَذَانِ الْمَعْنَيَانِ؟ فَقَالَ: مَعْنَاهُ إِنَّ مَا عَلَى ظَهْرِهَا مِنْ مَتَاعِهَا يَحْسُنُ فِي عُيُونِ أَهْلِهَا، وَيَحْلُو فِي صُدُورِهِمْ، كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ، ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا، وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَآبِ} [آل عمران: 14] . وَأَنْشَدَ:

[البحر الطويل]

نَحْنُ بَنُو الدُّنْيَا خُلِقْنَا لِغَيْرِهَا … وَمَا نَحْنُ فِيهِ فَهْوَ شَيْءٌ مُحَبَّبُ

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَهُوَ عِنْدِي فِي نَعْتِ الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ أَنَّ الدُّنْيَا مَرْتَعٌ حُلْوٌ خَضِرٌ يَرْتَعُ أَبْنَاؤُهَا فِيهَا، وَيُعْجَبُونَ بِحُسْنِهَا، وَيَسْتَحْلُونَ الْحَيَاةَ فِيهَا، كَمَا تُعْجَبُ الْأَنْعَامُ بِخَضِرِ الرَّبِيعِ وَمَا حَلَا مِنْ نَبَاتِهِ وَبَقْلِهِ، وَأُلْحِقَتِ الْهَاءُ فِي قَوْلِهِ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ لِأَنَّهُمَا جُعِلَتَا نَعْتَيْنِ لِلدُّنْيَا، فَجَرَتَا عَلَى ظَاهِرِ الْكَلَامِ. قَالَ صَاحِبُ كِتَابِ الْعَيْنِ: الرَّتْعُ: الْأَكْلُ وَالشُّرْبُ رَغَدًا فِي الرِّيفِ، وَلَا ⦗ص: 52⦘ يَكُونُ الرَّتْعُ إِلَّا فِي الْخِصْبِ وَالسَّعَةِ كَمَا قَالَ إِخْوَةُ يُوسُفَ صلى الله عليه وسلم: {يَرْتَعْ وَيَلْعَبْ} [يوسف: 12] وَتَقُولُ: رَتَعَ فُلَانٌ فِي مَالِ فُلَانٍ، إِذَا انْقَلَبَ فِيهِ أَكْلًا وَشُرْبًا، وَقَالَ الْفَرَزْدَقُ:

[البحر الكامل]

ارْعَيْ فَزَارَةُ، لَا هَنَاكَ الْمَرْتَعُ

وَقَالَ:

أَبَا جَعْفَرٍ لَمَّا تَوَلَّيْتَ ارْتَعَوْا … وَقَالُوا لِدُنْيَاهُمْ أَفِيقِي فَدَرَّتِ

وَهَذَا مَعْنًى يَتَرَدَّدُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ وَأَشْعَارِهَا، وَمِنْ ذَلِكَ قَوْلُهُمُ: النِّعْمَةُ الظَّلِيلَةُ، وَالْعَيْشُ الْمُورِقُ، وَالشَّبَابُ الْغَضُّ، وَأَشْبَاهُ ذَلِكَ، وَالنِّعْمَةُ لَيْسَتْ بِجِسْمٍ فَتُورِقَ فَتُظِلَّ، وَكَذَلِكَ الْعَيْشُ وَالشَّبَابُ لَيْسَتْ بِأَجْسَامٍ. وَقَالَ مَالِكُ بْنُ حُوَيَصٍ الْمَهْرِيُّ لِهَرْدَةَ بْنِ عَلِيٍّ عِنْدَ كِسْرَى أَبْرَوِيزَ، وَذَكَرَ قَوْمًا فَقَالَ: كَانُوا تَحْتَ كَنَفٍ مِنَ النَّعْمَاءِ غَدِقٍ، وَرَبِيعٍ مِنَ الْخُضْرَةِ مُؤَنَّقٍ، تَنْهَلُّ دُهْمُهُ بِالْحَبُورِ وَتَتَدَفَّقُ دِيَمُهُ بِالسُّرُورِ، يَجْتَنُونَ تَمْرَ الْغِبْطَةِ، وَيَتَفَيَّأُونَ فِي ظِلَالِ النِّعْمَةِ، وَيَخْتَالُونَ فِي رِيَاضِ الظَّفَرِ، حِمَاهُمْ غَزِيرٌ، وَذُرَاهُمْ حَرِيرٌ. وَأَنْشَدَنَا ابْنُ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي حَاتِمٍ السِّجِسْتَانِيِّ لِحُمَيْدِ بْنِ ثَوْرٍ:

[البحر الطويل]

يَقُولَانِ طَالَ النَّأْي لَنْ يُحْصَى الَّذِي … رَأَيْنَاهُ إِلَّا أَنْ يُعُدَّ لَبِيبُ

بَلَى فَاذْكُرُوا عَامَ ارْتَبَعْنَا وَأَهْلُنَا … مَرَاتِعَ دَارًا وَالْجَنَابُ خَصِيبُ

وَلَا يُبِعِدُ اللَّهُ الشَّبَابَ وَقَوْلُنَا … إِذَا مَا صَبَوْنَا صَبْوَةً سَنَئُوبُ

لَيَالِيَ أَبْصَارُ الْغَوَانِي وَسَمْعُهَا … إِلَيَّ وَإِذْ رِيحِي لَهُنَّ جَنُوبُ

وَإِذْ مَا يَقُولُ النَّاسُ شَيْءٌ مُهَوِّنٌ … عَلَيَّ وَإِذَا غُصْنُ الشَّبَابِ رَطِيبُ

⦗ص: 53⦘

 

55 - قَوْلُهُ: عَامَ ارْتَبَعْنَا، يُقَالُ: ارْتَبَعَ الْقَوْمُ إِذَا أَرْتَعُوا فِي الْخِصْبِ، وَإِنَّمَا أَرَادَ أَنَّهُمْ عَاشُوا عَيْشًا هَيِّنًا طَيِّبًا، وَقَوْلُهُ: وَالْجَنَابُ خَصِيبُ: يَعْنِي: الْحَالُ جَمِيلَةٌ، وَالْعَيْشُ هِنِيءٌ تَمْثِيلٌ، وَقَوْلُهُ: إِذْ رِيحِي لَهُنَّ جَنُوبُ: يَعْنِي أَنَّهُ كَانَ مُوَافِقًا لَهُنَّ بِشَبَابِهِ وَطَرَاوَتِهِ كَمَا يُوَافِقُ الْجَنُوبُ الْمَطَرَ وَالْخَصْبَ، وَقَوْلُهُ: غُصْنُ الشَّبَابِ رَطِيبُ: يَعْنِي نَضَارَةَ الشَّبَابِ وَحَسَنَهُ وَاعْتِدَالَهُ، فَمَثَّلَهُ بِالْغُصْنِ إِذَا أَوْرَقَ وَأَمَّا قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم" وَبُعْدُ النَّاسِ فِي ذَلِكَ كَبُعْدِ الْكَوْكَبَيْنِ، أَحَدُهُمَا يَطْلُعُ فِي الْمَشْرِقِ، وَآخَرُ يَغِيبُ فِي الْمَغْرِبِ، فَإِنَّمَا أَرَادَ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - الْكَوَاكِبَ الَّتِي جَعَلَهَا اللَّهُ تَعَالَى مَنَازِلَ لِلْقَمَرِ، كَمَا قَالَ: {وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ} [يس: 39] وَهِيَ الَّتِي تُسَمَّى الْأَنْوَاءُ، وَيَسْقِي اللَّهُ عِبَادَهُ بِهَا الْغَيْثَ، فَإِنَّ أَحَدَهُمَا لَا يَغِيبُ فِي الْمَغْرِبِ غُدْوَةً حَتَّى يَطْلُعَ رَقِيبُهُ فِي الْمَشْرِقِ غُدْوَةً، فَهُمَا لَا يَلْتَقِيَانِ وَلَا يَتَقَارَبَانِ، فَكَذَلِكَ اخْتِلَافُ أَحْوَالِ أَهْلِ الدُّنْيَا فِي حُظُوظِهِمْ وَمَكَاسِبِهِمْ، لَا يَتَقَارَبُ قَاهِرٌ وَمَقْهُورٌ، وَمَحْرُومٌ وَمَرْزُوقٌ، وَمُعَافًى وَمُبْتَلًى، وَأَشْبَاهُ ذَلِكَ
১৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-আমুলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আমর ইবনে তারিক বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনুল লাহিয়া থেকে, তিনি মুসান্না ইবনে সাবাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি মাইমুনা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমর ইবনে আসকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘: «দুনিয়া শ্যামল ও সুমিষ্ট; সুতরাং যে ব্যক্তি এতে আল্লাহকে ভয় করে এবং সংশোধন করে (সে সফল হয়), অন্যথায় সে এমন এক ভক্ষকের ন্যায় যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। আর এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যবধান হলো এমন দুটি নক্ষত্রের দূরত্বের ন্যায়, যার একটি উদিত হয় পূর্বে এবং অন্যটি অস্তমিত হয় পশ্চিমে»। আবু মুহাম্মাদ বলেন: আমি আমাদের কিছু উস্তাদকে তাঁর বাণী: «দুনিয়া শ্যামল ও সুমিষ্ট» সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এই দুটি অর্থ কিসের ওপর পতিত হয়? তিনি বললেন: এর অর্থ হলো, পৃথিবীর উপরিভাগে যে সব ভোগসামগ্রী রয়েছে তা দুনিয়াদারদের চোখে সুন্দর দেখায় এবং তাদের অন্তরে সুমিষ্ট মনে হয়, যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {মানুষের নিকট সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির প্রতি মহব্বত—নারী, সন্তানাদি, জমাকৃত রাশি রাশি সোনা-রুপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু এবং খেতখামার। এ সবই দুনিয়াবি জীবনের ভোগসামগ্রী, আর আল্লাহর নিকটেই রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তন} [আল ইমরান: ১৪]। আর তিনি আবৃত্তি করেছেন:

[বাহরে তাবিল]

আমরা দুনিয়ার সন্তান, অন্য কিছুর জন্য আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে … কিন্তু আমরা যাতে ডুবে আছি তা বড়ই প্রিয় বস্তু

আবু মুহাম্মাদ বলেন: প্রথম হাদিসের বর্ণনায় আমার নিকট এর মর্ম এই যে, দুনিয়া হলো একটি সুমিষ্ট ও শ্যামল চারণভূমি যেখানে দুনিয়াদাররা বিচরণ করে এবং এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়, আর সেখানে জীবনকে সুস্বাদু মনে করে; যেমনিভাবে গবাদি পশুরা বসন্তের সবুজ শ্যামল ঘাস এবং সুস্বাদু লতাগুল্মে মুগ্ধ হয়। "খাদ্বিরাহ" ও "হুলওয়াহ" শব্দদ্বয়ে ‘হা’ যুক্ত করা হয়েছে কারণ শব্দ দুটি দুনিয়ার গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি বাহ্যিক ব্যাকরণ অনুযায়ী হয়েছে। কিতাবুল আইন-এর লেখক বলেন: 'রাতউ' অর্থ হলো পল্লি অঞ্চলে স্বাচ্ছন্দ্যে পানাহার করা। আর ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ প্রচুর প্রাচুর্য ও প্রশস্ততা ছাড়া 'রাতউ' হয় না, যেমন ইউসুফ (সা.)-এর ভাইয়েরা বলেছিলেন: {সে যেন আমাদের সাথে বিচরণ করে ও খেলাধুলা করে} [ইউসুফ: ১২]। আর আপনি বলবেন: 'অমুক ব্যক্তি অমুকের মালের মধ্যে বিচরণ করছে', যখন সে সেখানে পানাহারে মত্ত থাকে। ফারাজদাক বলেছেন:

[বাহরে কামিল]

হে ফাযারা, চরে খাও, সেখানে চারণভূমি সহজলভ্য নয়

আর তিনি বলেছেন:

হে আবু জাফর, আপনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তখন তারা স্বচ্ছন্দে বিচরণ করতে লাগল … এবং তারা তাদের দুনিয়াকে বলল, জেগে ওঠো, ফলে তা প্রাচুর্য দিল

এটি এমন একটি অর্থ যা আরবদের কথোপকথন ও কবিতায় বারবার ফিরে আসে। এর উদাহরণ হলো তাদের কথা: ছায়াময় নেয়ামত, পত্রপল্লভবিশিষ্ট জীবন, কোমল যৌবন এবং এই জাতীয় শব্দ। অথচ নেয়ামত কোনো শরীর নয় যে তাতে পাতা গজাবে বা ছায়া দেবে, তেমনি জীবন ও যৌবনও কোনো শরীর নয়। মালিক ইবনে হুয়াইস আল-মাহরি কিসরা পারভেজের দরবারে হারদাহ ইবনে আলীর উদ্দেশ্যে কিছু লোকের বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন: তারা নেয়ামতের এমন এক আশ্রয়ে ছিল যা ছিল সিক্ত, এবং সবুজের এমন এক বসন্তে যা ছিল চিত্তাকর্ষক। তাদের আনন্দ-উল্লাস বর্ষিত হতো এবং তাদের সুখের ধারা প্রবাহিত হতো। তারা সৌভাগ্যের ফল সংগ্রহ করত, নেয়ামতের ছায়াতলে আশ্রয় নিত এবং বিজয়ের উদ্যানে দম্ভভরে চলত; তাদের সংরক্ষিত চারণভূমি ছিল প্রচুর এবং তাদের আশ্রয়স্থল ছিল রেশমের মতো কোমল। ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি থেকে হুমাইদ ইবনে সাউরের কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

[বাহরে তাবিল]

তারা দুজনে বলছে, বিচ্ছেদ দীর্ঘ হয়েছে, আমরা যা দেখেছি … তা গণনা করা সম্ভব নয় যদি না কোনো বুদ্ধিমান তা গণনা করে

হ্যাঁ, সেই বছরের কথা স্মরণ করো যখন আমরা ও আমাদের পরিবার স্বচ্ছন্দে বিচরণ করতাম … সেই চারণভূমিতে যেখানে বসতি ছিল এবং চারপাশ ছিল উর্বর

আল্লাহ যৌবনকে দূর করবেন না, এবং আমাদের সেই কথাকেও … যখন আমরা যৌবনের তাড়নায় আবেগপ্রবণ হতাম তখন বলতাম, আমরা অবশ্যই ফিরে আসব

সেই রাতগুলোতে যখন রূপসীদের দৃষ্টি ও শ্রবণ … ছিল আমার দিকে, আর আমার ঘ্রাণ তাদের নিকট ছিল দক্ষিণ বায়ুর মতো অনুকূল

যখন মানুষের কথা আমার কাছে অতি তুচ্ছ মনে হতো … এবং যখন যৌবনের শাখা ছিল সজীব ও সিক্ত

⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘

 

৫৫ - কবির কথা: ‘যে বছর আমরা স্বচ্ছন্দে বিচরণ করতাম’ (আরতাবা’না); বলা হয়: ‘আরতাবা আল-কাউমু’ যখন তারা প্রাচুর্যের মধ্যে বিচরণ করে। তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, তারা অত্যন্ত সহজ ও সুন্দর জীবন অতিবাহিত করছিল। আর তাঁর কথা: ‘চারপাশ ছিল উর্বর’ (আল-জানাবু খাসিবুন); অর্থাৎ: অবস্থা ছিল সুন্দর এবং জীবন ছিল সুখময়—এটি একটি রূপক। আর তাঁর কথা: ‘আমার সুগন্ধি তাদের নিকট ছিল দক্ষিণ বায়ুর মতো’ (রিহি লাহুননা জানুবুন); অর্থাৎ সে তার যৌবন ও সজীবতার কারণে তাদের জন্য অনুকূল ছিল, যেমনিভাবে দক্ষিণ বায়ু বৃষ্টি ও উর্বরতার অনুকূল হয়। আর তাঁর কথা: ‘যৌবনের শাখা ছিল সজীব’ (গুসনুশ শাবাবি রাতিবুন); অর্থাৎ যৌবনের লাবণ্য, সৌন্দর্য ও সুসামঞ্জস্য। তিনি এটিকে পত্রপল্লভযুক্ত শাখার সাথে তুলনা করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: «আর এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যবধান হলো এমন দুটি নক্ষত্রের দূরত্বের ন্যায়, যার একটি উদিত হয় পূর্বে এবং অন্যটি অস্তমিত হয় পশ্চিমে»; এর মাধ্যমে তিনি উদ্দেশ্য করেছেন—আল্লাহই ভালো জানেন—ঐ সকল নক্ষত্রকে যেগুলোকে আল্লাহ তায়ালা চাঁদের মঞ্জিল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {আর চন্দ্রের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি বিভিন্ন মঞ্জিল} [ইয়াসিন: ৩৯]। এগুলোকে ‘আনোয়া’ (নক্ষত্রপুঞ্জ) বলা হয়, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বৃষ্টি দান করেন। কেননা এগুলোর একটি ভোরে পশ্চিমে অস্তমিত হয় না যতক্ষণ না তার বিপরীত নক্ষত্রটি ভোরে পূর্বে উদিত হয়। সুতরাং তারা কখনো একত্রিত হয় না এবং পরস্পরের নিকটবর্তীও হয় না। অনুরূপভাবে দুনিয়াদারদের অবস্থা তাদের ভাগ্য ও উপার্জনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়; প্রবল ও পরাভূত, বঞ্চিত ও রিযিকপ্রাপ্ত, সুস্থ ও বিপদগ্রস্ত এবং এই জাতীয় ব্যক্তিদের অবস্থা একে অপরের থেকে অনেক ব্যবধানে থাকে।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٥٧)
قَالَ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيُّ الْأَصْبَهَانِيُّ رضي الله عنه: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْمُشَرَّفِ بْنِ الْمُسْلِمِ الْأَنْمَاطِيُّ بِالْإِسْكَنْدَرَيَّةِ، ثنا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الدَّقَّاقُ بِمِصْرَ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ طَالِبٍ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلَّادٍ الرَّامَهُرْمُزِيُّ بِرَامَهُرْمُزَ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَيُّوبَ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي صَفْوَانَ، ثنا أَبُو دَاوُدَ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى حَصِيرٍ قَدْ أَثَّرَ الشَّرِيطُ فِي جَنْبِهِ فَقُلْتُ: لَوْ ⦗ص: 58⦘ نِمْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى مَا هُو أَلْيَنُ مِنْ هَذَا، فَقَالَ: «مَا لِي وَلِلدُّنْيَا، إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُ الدُّنْيَا كَمَثَلِ رَاكِبٍ مَرَّ بِأَرْضِ فَلَاةٍ فَرَأَى شَجَرَةً فَاسْتَظَلَّ تَحْتَهَا ثُمَّ رَاحَ وَتَرْكَهَا» هَذَا مَثَلٌ فِي سُرْعَةِ انْقِطَاعِ الدُّنْيَا بِصَاحِبِهَا، وَإِنَّ الْكَائِنَ وَاقِعٌ. وَقَالَ الْعَدَوِيُّ:

[البحر البسيط]

يَا أَيُّهَذَا الَّذِي قَدْ غَرَّهُ الْأَمَلُ … وَدُونَ مَا يَأْمُلُ التَّنْغِيصُ وَالْأَجَلُ

أَلَا تَرَى إِنَّمَا الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا … كَمَنْزِلِ الرَّكْبِ دَارًا ثَمَّةَ ارْتَحِلُوا

حُتُوفُهَا رَصَدٌ وكَدُّهَا نَكَدٌ … وَعَيْشُهَا رَنَقٌ وَمُلْكُهَا دُوَلُ
হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আল-মুশাররাফ বিন আল-মুসলিম আল-আনমাতি ইস্কানদারিয়াতে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইয়াহইয়া আদ-দাক্কাক মিশরে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আলী বিন তালিব আল-বাগদাদি, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান বিন খাল্লাদ আর-রামহুরমুজি রামহুরমুজে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আইয়ুব, বনি হাশিমের মুক্তদাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবি সাফওয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আল-মাসউদি থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) নিকট প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে তিনি একটি চাটাইয়ের ওপর ছিলেন যার দড়ির চিহ্ন তাঁর পার্শ্বদেশে লেগে গিয়েছিল। আমি বললাম: ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ হে আল্লাহর রাসুল, আপনি যদি এর চেয়ে নরম কোনো কিছুর ওপর ঘুমাতেন। তিনি বললেন: "আমার সাথে দুনিয়ার কী সম্পর্ক? আমি এবং দুনিয়া তো সেই আরোহীর ন্যায় যে জনমানবহীন প্রান্তর দিয়ে যাওয়ার পথে একটি গাছ দেখল এবং তার নিচে ছায়া গ্রহণ করল, অতঃপর সে প্রস্থান করল এবং গাছটিকে ছেড়ে দিল।" এটি দুনিয়ার মালিকের থেকে দুনিয়া দ্রুত বিচ্ছিন্ন হওয়ার একটি উদাহরণ, আর যা হওয়ার তা অবশ্যই ঘটবে। আল-আদাভি বলেছেন:

[আল-বাহরুল বাসিত ছন্দ]

হে ওই ব্যক্তি যাকে দীর্ঘ আশা প্রতারিত করেছে … অথচ তোমার আশার অন্তরালে রয়েছে তিক্ততা ও মরণ

তুমি কি দেখছ না যে দুনিয়া ও তার চাকচিক্য … কেবল এক কাফেলার সরাইখানার মতো যেখানে তারা অবস্থান করে পরে প্রস্থান করে

এর মৃত্যুগুলো ওত পেতে আছে এবং এর শ্রম হলো কষ্টদায়ক … এর জীবন হলো পঙ্কিল আর এর রাজত্ব হলো পরিবর্তনশীল
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٥٨)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَيَّانَ الْمَازِنِيُّ، ثنا مُسَدَّدٌ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، ثنا قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمُسْتَوْرِدَ، أَخَا بَنِي فِهْرٍ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا كَمَا يَضَعُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهُ فِي الْيَمِّ، فَلْيَنْظُرْ بِمَ تَرْجِعُ إِلَيْهِ» وَقَبَضَ يَحْيَى عَلَى مِفْصَلَيْنِ مِنَ السَّبَّابَةِ، قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ رحمه الله: الْيَمُّ: الْبَحْرُ

মুহাম্মদ বিন হাইয়ান আল-মাজিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন আবি খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কায়েস বিন আবি হাযিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বনু ফিহর গোত্রের ভাই আল-মুস্তাওরিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার দৃষ্টান্ত তো কেবল এমন, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রে তার একটি আঙুল ডুবিয়ে দেয়; এরপর সে যেন দেখে তা কী নিয়ে ফিরে আসে»। আর ইয়াহইয়া তর্জনী আঙুলের দুটি গিঁটের ওপর ধরলেন। আবু মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘আল-ইয়াম্ম’ অর্থ হলো সমুদ্র।

(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٥٨)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى عَبْدَانُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ قَيْسٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ. قَالَ: وَإِنِّي لَفِي رَكْبٍ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ مَرَّ بِسَخْلَةٍ مَنْبُوذَةٍ فَقَالَ: «أَتَرَوْنَ هَذِهِ هَانَتْ عَلَى أَهْلِهَا؟ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ عَلَى أَهْلِهَا» ⦗ص: 59⦘ قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: السَّخْلَةُ: وَلَدُ الشَّاةِ، وَهِيَ اسْمٌ يَجْمَعُ الذِّكْرَ وَالْأُنْثَى، وَالْجَمْعُ سِخَلٌ، وَقَالُوا: سَخْلَةٌ وَالْمَنْبُوذَةُ: الْمُلْقَاةُ، يُقَالُ: نَبَذْتُ الشَّيْءَ أَنْبُذُهُ إِذَا أَلْقَيْتُهُ
আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা আবদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উবায়দ ইবনে হিসাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি কায়েস থেকে, তিনি মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক আরোহী দলে ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি একটি পরিত্যক্ত মৃত ছাগলছানার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি দেখছ এটি তার মালিকের কাছে কতটা তুচ্ছ ও মূল্যহীন হয়ে পড়েছে? সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আল্লাহর নিকট দুনিয়া তার চেয়েও অধিক তুচ্ছ, যতটা এই ছাগলছানাটি তার মালিকের নিকট তুচ্ছ।» ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ আবু মুহাম্মদ বলেন: 'সাখলাহ' হলো ছাগল বা ভেড়ার বাচ্চা, এটি পুরুষ ও স্ত্রী উভয় লিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত একটি নাম, এর বহুবচন হলো 'সিখাল'। আর 'মানবুজাহ' হলো নিক্ষিপ্ত বা পরিত্যক্ত। বলা হয়: 'আমি বস্তুটি নিক্ষেপ করেছি' যখন আমি তা ফেলে দিই।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٥٩)
حَدَّثَنَا أَبِي، ثنا يَحْيَى بْنُ يُونُسَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَرْوَزِيُّ، ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، ثنا غَيْرُ وَاحِدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ وَمَثَلُ الدُّنْيَا كَمَثَلِ قَوْمٍ سَلَكُوا مَفَازَةً غَبْرَاءَ لَا يَدْرُونَ مَا قَطَعُوا مِنْهَا أَكْثَرَ أَوْ مَا بَقِيَ مِنْهَا، فَحَسَرَتْ ظُهُورُهُمْ، وَنَفِدَ زَادُهُمْ، وَسَقَطُوا بَيْنَ ظَهْرَانَيِ الْمَفَازَةِ فَأَيْقَنُوا بِالْهَلَكَةِ، فَبَيْنَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ خَرَجَ عَلَيْهِمْ رَجُلٌ فِي حُلَّةٍ يَقْطُرُ رَأْسُهُ، فَقَالُوا: إِنَّ هَذَا لِحَدِيثُ عَهْدٍ بِرِيفٍ، فَانْتَهَى إِلَيْهِمْ فَقَالَ: يَا هَؤُلَاءِ مَا شَأْنُكُمْ؟ فَقَالُوا: مَا تَرَى كَيْفَ حَسَرَتْ ظُهُورُنَا؟، وَنَفَدَتْ أَزْوَادُنَا بَيْنَ ظَهْرَانِيْ هَذَهِ الْمَفَازَةِ لَا نَدْرِي مَا قَطَعْنَا مِنْهَا أَكْثَرَ أَمْ مَا بَقِيَ؟، فَقَالَ: مَا تَجْعَلُونَ لِي إِنْ أَوْرَدْتُكُمْ مَاءً رُوَاءً، وَرِيَاضًا خَضِرًا؟ فَقَالُوا: حُكْمُكَ، قَالَ: تُعْطُونِي عُهُودَكُمْ وَمَوَاثِيقَكُمْ أَنْ لَا تَعْصُونِي؟ فَفَعَلُوا، فَمَالَ بِهِمْ فَأَوْرَدَهُمْ مَاءَ رُوَاءً وَرِيَاضًا خَضِرًا فَمَكَثَ يَسِيرًا ثُمَّ قَالَ: هَلُمُّوا إِلَى رِيَاضٍ أَعْشَبَ مِنْ رِيَاضِكُمْ هَذِهِ، وَمَاءً أَرْوَى مِنْ مَائِكُمْ هَذَا، فَقَالَ جُلُّ الْقَوْمِ: مَا قَدَرْنَا عَلَى هَذَا حَتَّى كِدْنَا أَنْ لَا نَقْدِرَ عَلَيْهِ، وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ: أَلَسْتُمْ قَدْ جَعَلْتُمْ لِهَذَا الرَّجُلِ عُهُودَكُمْ وَمَوَاثِيقَكُمْ أَنْ لَا تُعْصُوهُ، وَقَدْ صَدَقَكُمْ فِي أَوَّلِ حَدِيثِهِ، فَآخِرُ حَدِيثِهِ مِثْلُ أَوَّلِهِ، فَرَاحَ وَرَاحُوا مَعَهُ فَأَوْرَدَهُمْ رِيَاضًا خَضِرًا وَمَاءً رُوَاءً، وَأَتَى الْآخَرِينَ الْعَدُوُّ مِنْ لَيْلَتِهِمْ فَأَصْبَحُوا مَا بَيْنَ قَتِيلٍ وَأَسِيرٍ "

আমাদের কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনু ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আলী ইবনু ইব্রাহিম আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি একাধিক ব্যক্তি থেকে, তারা হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার, তোমাদের এবং দুনিয়ার উদাহরণ হচ্ছে সেই কওমের মতো যারা এক ধূলিধূসরিত মরুভূমির পথ অতিক্রম করছিল। তারা জানত না যে তারা মরুভূমির কতটুকু পথ পাড়ি দিয়েছে আর কতটুকুই বা বাকি আছে। ফলে তাদের সওয়ারিগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ল, তাদের পাথেয় ফুরিয়ে গেল এবং তারা মরুভূমির মাঝপথে আটকা পড়ে গেল। তারা নিজেদের ধ্বংসের ব্যাপারে নিশ্চিত হলো। তারা যখন এই অবস্থায় ছিল, তখনই সুন্দর পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি তাদের সামনে আবির্ভূত হলেন যার মাথা থেকে পানি ঝরছিল। তারা বলল: 'নিশ্চয়ই এই ব্যক্তিটি নিকটেই কোনো উর্বর জনপদ থেকে এসেছেন।' তিনি তাদের কাছে পৌঁছে বললেন: 'হে লোকসকল! তোমাদের কী অবস্থা?' তারা বলল: 'আপনি কি দেখছেন না যে আমাদের সওয়ারিগুলো কীভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং এই মরুভূমির মাঝখানে আমাদের পাথেয় শেষ হয়ে গেছে? আমরা জানি না যে আমরা এর কতটুকু পথ পাড়ি দিয়েছি আর কতটুকুই বা বাকি আছে।' তিনি বললেন: 'আমি যদি তোমাদেরকে সুপেয় পানি ও সবুজ শ্যামল বাগানে নিয়ে যাই, তবে তোমরা আমাকে কী দেবে?' তারা বলল: 'আপনার সিদ্ধান্তই আমাদের শিরোধার্য।' তিনি বললেন: 'তোমরা কি আমাকে এই মর্মে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ যে তোমরা আমার অবাধ্য হবে না?' তারা তা-ই করল। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে চললেন এবং তাদের সুপেয় পানি ও সবুজ শ্যামল বাগানে পৌঁছে দিলেন। তিনি সেখানে অল্পকাল অবস্থান করলেন, এরপর বললেন: 'এসো, আমরা এই বাগানগুলোর চেয়েও অধিক তৃণশোভিত বাগান এবং এই পানির চেয়েও অধিক সুপেয় পানির দিকে যাই।' তখন লোকজনের অধিকাংশ বলল: 'আমরা অনেক কষ্টে এখানে পৌঁছেছি, আমাদের আর সামনে যাওয়ার সামর্থ্য নেই।' কিন্তু তাদের একদল বলল: 'তোমরা কি এই ব্যক্তিকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি যে তোমরা তাঁর অবাধ্য হবে না? তিনি তো তাঁর প্রথম কথায় সত্যবাদী প্রমাণিত হয়েছেন, সুতরাং তাঁর শেষ কথাটিও প্রথমটির মতোই সত্য হবে।' এরপর তিনি রওয়ানা হলেন এবং তারাও তাঁর সাথে রওয়ানা হলো। অতঃপর তিনি তাদের সবুজ শ্যামল বাগান ও সুপেয় পানিতে নিয়ে গেলেন। আর যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল, সেই রাতেই শত্রুরা তাদের ওপর চড়াও হলো, ফলে সকাল হতে হতে তাদের কেউ নিহত হলো আবার কেউ বন্দী হলো।'"

(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٥٩)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحُلْوَانِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الزَّاهِدُ، ثنا عَبْدُ الْجَبَّارِ ⦗ص: 60⦘ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " نِعْمَتِ الدَّارُ الدُّنْيَا لِمَنْ تَزَوَّدَ فِيهَا خَيْرًا لِآخِرَتِهِ مَا يُرْضِي بِهِ رَبَّهُ، وَبِئْسَتِ الدَّارُ لِمَنْ صَدَّتْهُ عَنْ آخِرَتِهِ، وَقَصَّرَتْ بِهِ عَنْ رَضِيَ رَبِّهِ، وَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: قَبَّحَ اللَّهُ الدُّنْيَا، قَالَتِ الدُّنْيَا: قَبَّحَ اللَّهُ أَعْصَانَا لِرَبِّهِ " قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: قَوْلُهُ: «بِئْسَتِ الدَّارُ الدُّنْيَا لِمَنْ صَدَّتْهُ عَنْ آخِرَتِهِ» الْمَعْنَى: أَنْ يُصَدَّ الْعَبْدُ بِهَا عَنِ الْآخِرَةِ، فَجَعَلَ الْفِعْلَ لِلدُّنْيَا، وَكَذَا قَوْلُهُ: «قَصَّرَتْ بِهِ عَنْ رَضِيَ رَبِّهِ» يُرِيدُ: قَصَّرَ هُوَ بِهَا عَنْ رِضى رَبِّهِ، وَقَوْلُهُ: " قَالَتِ الدُّنْيَا: قَبَّحَ اللَّهُ أَعْصَانَا لِرَبِّهِ "، مَعْنَاهُ أَنَّ الْعَاصِي هُوَ الْمَقْبُوحُ فِيهَا، فَجَعَلَ الِاتِّعَاظَ بِهَا بِمَعْنَى الْقَوْلِ مِنْهَا، كَمَا قِيلَ: سَلِ الدُّنْيَا: مَنْ شَقَّ أَنْهَارَكِ، وَفَجَّرَ بِحَارَكِ، وَغَرَسَ أَشْجَارَكِ؟ فَإِنْ لَمْ تُجِبْكَ حِوَارًا أَجَابَتْكَ اعْتِبَارًا
আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আজ-জাহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল জাব্বার ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা'দ ইবনে তারিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দুনিয়া কতই না চমৎকার ঘর সেই ব্যক্তির জন্য যে এতে নিজের আখিরাতের জন্য এমন কল্যাণ সংগ্রহ করে যার মাধ্যমে সে তার প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করে। আর দুনিয়া কতই না নিকৃষ্ট ঘর সেই ব্যক্তির জন্য যাকে এটি তার আখিরাত থেকে বিমুখ করে দেয় এবং তার প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভে তাকে পিছিয়ে রাখে। যখন কোনো বান্দা বলে: 'আল্লাহ দুনিয়াকে লাঞ্ছিত করুন', তখন দুনিয়া বলে: 'আল্লাহ আমাদের মধ্যে তাকে লাঞ্ছিত করুন যে তার রবের প্রতি অধিক অবাধ্য'।" আবু মুহাম্মদ বলেন: তাঁর বাণী: "দুনিয়া কতই না নিকৃষ্ট ঘর সেই ব্যক্তির জন্য যাকে এটি তার আখিরাত থেকে বিমুখ করে দেয়" - এর অর্থ হলো: বান্দা দুনিয়ার মোহে আখিরাত থেকে বিমুখ হয়, তাই কাজটিকে দুনিয়ার দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। একইভাবে তাঁর বাণী: "তার প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভে তাকে পিছিয়ে রাখে" - এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন: সে দুনিয়ার কারণে তার প্রতিপালকের সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে অবহেলা করেছে বা পিছিয়ে পড়েছে। এবং তাঁর বাণী: "দুনিয়া বলে: আল্লাহ আমাদের মধ্যে তাকে লাঞ্ছিত করুন যে তার রবের প্রতি অধিক অবাধ্য" - এর অর্থ হলো: যে পাপাচারী, সে-ই এতে লাঞ্ছিত হওয়ার যোগ্য। ফলে দুনিয়া থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাকেই দুনিয়ার উক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যেমন বলা হয়: দুনিয়াকে জিজ্ঞেস করো: কে তোমার নদীগুলো খনন করেছে? কে তোমার সমুদ্রগুলো প্রবাহিত করেছে? এবং কে তোমার গাছগুলো রোপণ করেছে? যদি সে তোমাকে ভাষায় উত্তর না-ও দেয়, তবে সে তোমাকে নিদর্শন ও শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে উত্তর দেবে।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٦٠)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، ثنا لَيْثٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا آجَالُكُمْ فِي آجَالِ مَنْ خَلَا كَمَا ⦗ص: 61⦘ بَيْنَ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ، وَإِنَّمَا مَثَلُكُمْ وَمَثَلُ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى كَرَجُلٍ اسْتَعْمَلَ عُمَّالًا فَقَالَ: مَنْ يَعْمَلْ إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ، فَعَمِلَتِ الْيَهُودُ إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ، ثُمَّ قَالَ: مَنْ يَعْمَلْ مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ؟ فَعَمِلَتِ النَّصَارَى مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ، فَقَالَ: مَنْ يَعْمَلْ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ عَلَى قِيرَاطَيْنِ قِيرَاطَيْنِ؟ أَلَا لَكُمُ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ. قَالَ: فَغَضِبَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، قَالُوا: نَحْنُ أَكْثَرُ عَمَلًا وَأَقَلُّ عَطَاءً، قَالَ اللَّهُ عز وجل: هَلْ ظَلَمْتُكُمْ مِنْ حَقِّكُمْ شَيْئًا؟، قَالُوا: لَا، قَالَ: فَإِنَّهُ فَضْلِي أُعْطِيَهُ مَنْ شِئْتُ" قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: هَذَا مَثَلٌ فِي فَضْلِ هَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَى مَنْ تَقَدَّمَهَا مِنَ الْأُمَمِ، وَأَنَّ اللَّهَ عز وجل يُضَاعَفُ لَهَا الثَّوَابَ عَلَى يَسِيرِ مَا كُلِّفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَعَ قِصَرِ مُدَّتِهَا فِي مُدَّةِ مَنْ قَبْلَهَا مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، وَإِنَّمَا سُمِّيَتِ الْيَهُودُ يَهُودًا مِنْ قَوْلِهِمْ: {هُدْنَا إِلَيْكَ} [الأعراف: 156] . وَأَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْأَنْبَارِيُّ، عَنِ الطُّوسِيِّ قَالَ: وَالتَّهَوُّدُ: التَّوْبَةُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ وَأَنْشَدَ:

[البحر الطويل]

سِوَى رَبْعٍ لَمْ يَأْتِ فِيهَا مَخَافَةً … وَلَا رَهَقًا مِنْ عَائِذٍ مُتَهَوِّدِ

وَسُمِّيَتِ النَّصَارَى نَصَارَى لِأَنَّهُمْ نُسِبُوا إِلَى قَرْيَةٍ يُقَالُ لَهَا نَصُورِيُّةُ، وَقَالُوا: أَنَا صَرْتُ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ فِي النِّسْبَةِ: نَصْرِيُّ. وَالْأَجَلُ: الْمُدَّةُ وَالْوَقْتُ الَّذِي يَتَنَاهَى إِلَيْهِ الْعُمُرُ وَهَذَا عَلَى الْجُمْهُورِ الْأَكْثَرِ، إِلَّا أَنَّ أَحَدًا لَا يَتَجَاوَزُهَا، وَمِنْ كَلَامِ الْعَرَبِ: جَاءَتْ تَمِيمٌ، وَأَقْبَلَتْ بَكْرٌ، وَقَالُوا: جَاءَتْ غَطَفَانُ عَنْ بَكْرَةِ أَبِيهَا، أَيْ: جَاءُوا بِأَجْمَعِهِمْ ⦗ص: 62⦘. وَأَنْشَدَنَا ابْنُ عَطِيَّةَ قَالَ: أَنْشَدَنَا أَبُو حَاتِمٍ:

[البحر الطويل]

وَجَاءَتْ سُلَيْمٌ قَضُّهَا بِقَضِيضِهَا … تَمَسَّحَ دُونِي بِالْفَضَاءِ سَبَالُهَا

الْقَضُّ: الْحَصَى، وَالْقَضِيضِ: التُّرَابُ. وَأَنْشَدَنِي رَجُلٌ بِضَرِيَّةَ يَذْكُرُ وَقْعَةً:

[البحر الرجز]

ثَارَتْ لَهَا كَلْبٌ وَقَيْسٌ كُلُّهَا … وَبَنُو الْحُرُوبِ تَنُوخُ وَالْأَنْصَارُ

وَأَتَتْكَ بَهْرَاءُ بْنُ عَمْرٍو بِالْقَنَا … وَالْخَيْلُ مُعْلَمَةٌ لَهَا إِحْضَارُ

وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ بَدْرٍ: «أَلْقَتْ إِلَيْكُمْ مَكَّةَ أَفْلَاذَ كَبِدِهَا» يُرِيدُ: أَشْرَافَهَا، يَعْنِي: مُعْظَمَهُمْ وَأَكْثَرَهُمْ
মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাদরামি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আহমাদ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের আয়ু পূর্ববর্তীদের আয়ুর তুলনায় ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ আসর সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মতো। তোমাদের এবং ইয়াহুদি ও নাসারাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে কিছু শ্রমিক নিয়োগ করল এবং বলল: ‘কে অর্ধবেলা পর্যন্ত এক কিরাত করে বিনিময়ে কাজ করবে?’ তখন ইয়াহুদিরা অর্ধবেলা পর্যন্ত এক কিরাত করে বিনিময়ে কাজ করল। এরপর সে বলল: ‘কে অর্ধবেলা থেকে আসর সালাত পর্যন্ত এক কিরাত করে বিনিময়ে কাজ করবে?’ তখন নাসারারা অর্ধবেলা থেকে আসর সালাত পর্যন্ত এক কিরাত করে বিনিময়ে কাজ করল। এরপর সে বলল: ‘কে আসর সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাত করে বিনিময়ে কাজ করবে? জেনে রেখো, তোমাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার।’ তিনি বলেন: এতে ইয়াহুদি ও নাসারারা ক্ষুব্ধ হয়ে বলল: ‘আমরা কাজ করলাম বেশি কিন্তু পারিশ্রমিক পেলাম কম।’ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বললেন: ‘আমি কি তোমাদের হকের ব্যাপারে কোনো জুলুম করেছি?’ তারা বলল: ‘না’। তিনি বললেন: ‘তবে এটি আমার অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা আমি তা দান করি।’" আবু মুহাম্মাদ বলেন: এটি পূর্ববর্তী জাতিগুলোর তুলনায় এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের একটি উদাহরণ যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের জন্য পুরস্কার দ্বিগুণ করে দিয়েছেন, যদিও তাদের পূর্ববর্তী ইয়াহুদি ও নাসারাদের দীর্ঘ সময়ের তুলনায় তাদের আমল করার সময়কাল অনেক কম। ইয়াহুদিদের ‘ইয়াহুদ’ নামকরণ করা হয়েছে তাদের এই কথা থেকে: {আমরা আপনার দিকে ফিরে এসেছি} [আরাফ: ১৫৬]। এবং আবু মুহাম্মাদ আল-আনবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তুসি থেকে, তিনি বলেন: ‘আত-তাহাউদ’ অর্থ হলো তওবা এবং নেক আমল। তিনি কবিতা পাঠ করেছেন:

[বাহরুত তওয়ীল]

সেই বসতি ছাড়া যেখানে তিনি কোনো ভয় নিয়ে আসেননি … আর আশ্রয়প্রার্থী তওবাকারীর কোনো ক্লান্তিকর পরিশ্রমও ছিল না।

আর নাসারাদের ‘নাসারা’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাদেরকে ‘নাসুরিয়্যাহ’ নামক একটি গ্রামের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। তারা বলেছিল: ‘আনা সারতু’ (আমি সাহায্যকারী হয়েছি)। কেউ কেউ সম্বন্ধের ক্ষেত্রে ‘নাসরিয়্য’ বলেন। ‘আল-অজল’ (আয়ু) অর্থ হলো সেই সময় বা কাল যার মাধ্যমে জীবনের সমাপ্তি ঘটে। অধিকাংশের মতে এটাই এর অর্থ, যা কেউ অতিক্রম করতে পারে না। আরবদের ভাষা থেকে: ‘তামিম এসেছে’, ‘বকর এগিয়ে এসেছে’, এবং তারা বলে: ‘গাতাফান তাদের পিতার উটসহ এসেছে’ অর্থাৎ তারা তাদের সবাই মিলে এসেছে ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘। ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম আমাদের শুনিয়েছেন:

[বাহরুত তওয়ীল]

সুলাইম গোত্র তাদের কাঁকর ও মাটিসহ চলে এসেছে … খোলা প্রান্তরে আমার সামনে তাদের দাড়িগুলো মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল।

‘আল-কাদ্দু’ অর্থ কাঁকর, এবং ‘আল-কাদিদ’ অর্থ মাটি। যারিয়্যাহ-র এক ব্যক্তি যুদ্ধের বর্ণনা দিয়ে আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন:

[বাহরুর রাজায]

তাদের জন্য কালব এবং কায়েস গোত্রের সবাই জেগে উঠেছে … আর যুদ্ধের সন্তান তানুখ ও আনসারগণও।

আর বাহরা ইবনে আমর তোমার কাছে বল্লম নিয়ে এসেছে … এবং ঘোড়াগুলো সুচিহ্নিত অবস্থায় দ্রুতবেগে ধাবমান।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন বলেছিলেন: “মক্কা তার কলিজার টুকরোগুলোকে তোমাদের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছে।” এর দ্বারা তিনি মক্কার অভিজাতদের বুঝিয়েছেন, অর্থাৎ তাদের প্রধান ও অধিকাংশ ব্যক্তিদের।
(খণ্ড: ১) আমসালুল হাদীস লির রামাহুরমুযী (পৃষ্ঠা: ٦٢)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُعَاذٍ التُّسْتَرِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ الْمُغِيرَةِ الْمَخْزُومِيُّ، ثنا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْفَضْلِ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مُعْتَرَكُ الْمَنَايَا مَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى السَّبْعِينَ» الْمُعْتَرَكُ: مَوْضِعُ الِاعْتِرَاكِ، وَكَذَلِكَ الْمَعْرَكَةُ، فَالِاعْتِرَاكُ: الِاعْتِلَاجُ فِي الْحَرْبِ، يُقَالُ: اعْتَرَكَ الْقَوْمُ لِلْقِتَالِ وَالْخُصُومَةِ ⦗ص: 63⦘ قَالَ جَرِيرٌ:

[البحر البسيط]

قَدْ جَرَّبْتَ عَرَكَتِي فِي كُلِّ مُعْتَرَكٍ … غُلْبُ اللُّيُوثِ فَمَا بَالُ الضَّغَابِيسُ

وَهَذَا يُرِيدُ أَنِّ مُعْظَمَ الْمَنَايَا وَأَكْثَرَهَا لِهَذِهِ الْأُمَّةِ بَيْنَ هَاتَيْنِ الْمَدَّتَيْنِ، وَهِيَ الَّتِي تَذْكُرُهَا الْعَرَبُ أَنْشَدَ الْأَصْمَعِيُّ:

[البحر الطويل]

وَمَنْ يَصْحَبِ الْأَيَّامَ سِتِّينَ حِجَّةً … يُغَيِّرْنَهُ وَالدَّهْرُ لَا يَتَغَيَّرُ

وَقَالَ آخَرُ:

[البحر الطويل]

وَإِنَّ امْرَأً قَدْ جَازَ سِتِّينَ حِجَّةً … إِلَى مَنْهَلٍ مِنْ وِرْدِهِ لَقَرِيبُ

وَمَاتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَالْخُلَفَاءُ الرَّاشِدُونُ وجَمُهْوُرُ الصَّحَابَةِ لَهُمَا، رِضْوَانُ اللَّهُ وَصَلَوَاتُهُ وَرَحْمَتُهُ عَلَيْهِمْ. فَأَمَّا مَنْ خَلَّفَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَسَنُّ مِنْهُمُ: الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَبِلَالُ بْنُ الْحَارِثِ، وَزَيْدُ ⦗ص: 64⦘ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، وَمِمَّنْ جَاوَزَ السَّبْعِينَ: عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ، وَأَبُو أُمَامَةَ صُدَيُّ بْنُ عَجْلَانَ، وَالسَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ، وَوَاثِلَةُ بْنُ الْأَسْقَعِ. وَمِمَّنْ جَاوَزَ الْمِائَةَ: أَنَسُ بنُ مَالِكٍ، وَحَكِيمُ بْنُ حِزَامٍ
ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আত-তুসতারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আল-মুগীরা আল-মাখযূমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি ফুদাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম ইবনুল ফাদল থেকে, তিনি আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মৃত্যুর লড়াইয়ের ক্ষেত্র হলো ষাট থেকে সত্তর বছরের মাঝামাঝি সময়।» আল-মু’তারাক: লড়াইয়ের স্থান, এবং একইভাবে আল-মা’রাকাহ; সুতরাং আল-ইতিরাক হলো: যুদ্ধে পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া। বলা হয়ে থাকে: সম্প্রদায়টি যুদ্ধ ও বিবাদের জন্য 'ইতিরাক' (পরস্পর লড়াই) করেছে। ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ জারীর বলেছেন:

[বাহরুল বাসীত]

তুমি প্রতিটি রণক্ষেত্রে আমার লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করেছ … যেখানে শক্তিশালী সিংহরা পরাজিত হয়, সেখানে দুর্বলদের কী দশা হবে?

আর এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এই উম্মতের অধিকাংশ মৃত্যু এবং তার বৃহত্তর অংশ এই দুই সময়ের মাঝামাঝি হয়ে থাকে। আর এটিই আরবরা উল্লেখ করে থাকে, আসমাঈ পাঠ করেছেন:

[বাহরুত তবীীল]

আর যে ব্যক্তি ষাট বছর দিনসমূহের সান্নিধ্যে থাকে … দিনগুলো তাকে পরিবর্তন করে দেয়, অথচ সময় নিজে পরিবর্তিত হয় না।

অন্য একজন কবি বলেছেন:

[বাহরুত তবীীল]

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ষাট বছর অতিক্রম করেছে … সে তো তার গন্তব্যের (মৃত্যুর) ঘাটের অতি নিকটবর্তী।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), খুলাফায়ে রাশিদীন এবং অধিকাংশ সাহাবী এই বয়সের মধ্যেই ইন্তেকাল করেছেন, তাঁদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি, দরুদ ও রহমত বর্ষিত হোক। তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাদের রেখে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে যারা বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, উসমান ইবনে আফফান, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, বিলাল ইবনুল হারিস এবং যায়দ ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ ইবনে খালিদ আল-জুহানী। আর যারা সত্তর বছর অতিক্রম করেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আম্মার ইবনে ইয়াসির, আবু উমামাহ সুদাই ইবনে আজলান, আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ এবং ওয়াসিলা ইবনুল আসকা। আর যারা একশ বছর অতিক্রম করেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আনাস ইবনে মালিক এবং হাকিম ইবনে হিযাম।