(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: -)
أمالي المحاملي رواية ابن يحيى البيع   (المحاملي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أمالي المحاملي - رواية ابن يحيى البيع

المؤلف: أبو عبد الله البغدادي الحسين بن إسماعيل بن محمد بن إسماعيل بن سعيد بن أبان الضبي المحاملي (ت 330هـ)

المحقق: د. إبراهيم القيسي

الناشر: المكتبة الإسلامية , دار ابن القيم - عمان - الأردن , الدمام

الطبعة: الأولى، 1412

عدد الصفحات: 447

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 صفر 1432

আমালি আল-মুহামিলি, ইবনে ইয়াহইয়া আল-বায়য়ি এর বর্ণনা   (আল-মুহামিলি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আমালি আল-মুহামিলি - ইবনে ইয়াহইয়া আল-বায়য়ি এর বর্ণনা

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি আল-হুসাইন বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সাইদ বিন আবান আদ-দাব্বি আল-মুহামিলি (মৃত্যু ৩৩০ হি.)

সম্পাদক: ড. ইবরাহিম আল-কায়সি

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়া, দার ইবনুল কায়্যিম - আম্মান - জর্ডান, দাম্মাম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৭

[বইয়ের নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ সফর ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٥٨)
ـ[أمالي المحاملي - رواية ابن يحيى البيع]ـ

المؤلف: أبو عبد الله البغدادي الحسين بن إسماعيل بن محمد بن إسماعيل بن سعيد بن أبان الضبي المحاملي (المتوفى: 330هـ)

المحقق: د. إبراهيم القيسي

الناشر: المكتبة الإسلامية ، دار ابن القيم - عمان - الأردن ، الدمام

الطبعة: الأولى، 1412

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التخريج]
[আমালি আল-মাহামিলি - ইবনে ইয়াহইয়া আল-বায়ি‘ এর বর্ণনা]

লেখক: আবু আবদুল্লাহ আল-বাগদাদী আল-হুসাইন বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সাঈদ বিন আবান আদ-দব্বী আল-মাহামিলি (মৃত্যু: ৩৩০ হিজরি)

গবেষক: ড. ইব্রাহিম আল-কায়সি

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ, দারু ইবনিল কাইয়্যিম - আম্মান - জর্ডান, দাম্মাম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং এটি তাখরিজ পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٥٩)
1 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي مَذْعُورٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ جُرَيْجٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ، أَنَّ أُسَيْدَ بْنَ حُضَيْرِ بْنِ سِمَاكٍ حَدَّثَهُ، كَذَا قَالَ أَنَّ مُعَاوِيَةَ كَتَبَ إِلَى مَرْوَانَ: إِذَا سُرِقَ الرَّجُلُ فَهُوَ أَحَقُّ بِسَرِقَتِهِ حَيْثُ وَجَدَهَا قَالَ: فَكَتَبَ إِلَيَّ مَرْوَانُ بِذَلِكَ وَأَنَا عَلَى الْيَمَامَةِ ، فَكَتَبَ إِلَيَّ مَرْوَانُ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِهَا إِذَا أُدْرِكَتْ عِنْدَ الرَّجُلِ غَيْرِ الْمُتَّهَمِ إِنْ شَاءَ رَبُّهَا أَخَذَهَا بِالثَّمَنِ ، وإِنْ شَاءَ اتَّبَعَ سَارِقَهُ» ، ثُمَّ قَضَى بِذَلِكَ بَعْدَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ ، ثُمَّ قَضَى بِهِ عُثْمَانُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ
১ - মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আবি মায'ূর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইকরিমাহ ইবনে খালিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উসাইদ ইবনে হুযাইর ইবনে সিমাক তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন—তিনি এভাবেই বলেছেন—যে, মুয়াবিয়া মারওয়ানের নিকট লিখে পাঠান: যদি কোনো ব্যক্তির কোনো মাল চুরি হয়, তবে সে যেখানেই তার চুরি হওয়া মাল খুঁজে পাবে, সেখানেই সেটির ওপর তার অধিক হক থাকবে। তিনি বলেন: মারওয়ান আমার নিকট সেই বিষয়ে লিখে পাঠান যখন আমি ইয়ামামায় ছিলাম। মারওয়ান আমার নিকট লিখেছিলেন যে, «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ফয়সালা দিয়েছেন যে, যখন মালটি এমন ব্যক্তির নিকট পাওয়া যাবে যে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত নয়, তখন মালের মালিক চাইলে মূল্যের বিনিময়ে তা গ্রহণ করবে, আর চাইলে সে চোরের পশ্চাদ্ধাবন করবে (চোরের কাছ থেকে পাওনা আদায় করবে)», অতঃপর তাঁর পরে আবু বকর ও উমর এই ফয়সালা প্রদান করেছেন, এরপর উসমান এই ফয়সালা প্রদান করেছেন, তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٠)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: كَانَ فِي الْحَيِّ فَتًى مِنْ أَهْلِ بَيْتٍ ، فَلَمْ تَزَلْ بِهِ أُمُّهُ حَتَّى زَوَّجَتْهُ ابْنَةَ عَمٍّ لَهُ ، فَعَلِقَ مِنْهَا مَعْلَقًا ، ثُمَّ قَالَتْ لَهُ: طَلِّقْهَا ، فَقَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ؛ عَلِقَتْ مِنِّي مَعْلَقَهَا مَا أَسْتَطِيعُ طَلَاقَهَا ، فَقَالَتْ: طَعَامُكَ ، وَشَرَابُكَ عَلَيَّ حَرَامٌ حَتَّى تُطَلِّقَهَا ، فَخَرَجَ إِلَى أَبِي ⦗ص: 61⦘ الدَّرْدَاءِ ، فَذَكَرَ لَهُ شَأْنَهُ ، فَقَالَ: مَا أَنَا بِالَّذِي آمُرُكَ أَنْ تَعُقَّ وَالِدَتَكَ ، وَلَا آمُرُكَ أَنْ تُطَلِّقَ امْرَأَتَكَ فَأَعَادَ عَلَيْهِ ، فَقَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْوَالِدُ أَوْسَطُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ ، فَإِنْ شِئْتَ فَاحْفَظْ ، وإِنْ شِئْتَ فَضَيِّعْهُ» قَالَ: فَرَجَعَ ، وَقَدْ طَلَّقَهَا
২ - আবু হিশাম আর-রিফায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একটি জনপদে এক পরিবারের এক যুবক ছিল। তার মা তাকে ক্রমাগত পিড়াপিড়ি করতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি তাকে তার এক চাচাতো বোনের সাথে বিবাহ দেন। অতঃপর সে তার প্রতি গভীরভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর তার মা তাকে বললেন: তাকে তালাক দাও। সে বলল: আমি পারব না; তার প্রতি আমি এমনভাবে অনুরক্ত হয়েছি যে তাকে তালাক দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। মা বললেন: তুমি তাকে তালাক না দেওয়া পর্যন্ত তোমার অন্ন ও পানীয় গ্রহণ আমার জন্য হারাম। তখন সে আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ দারদার নিকট গেল এবং তার কাছে বিষয়টি ব্যক্ত করল। তিনি বললেন: আমি তোমাকে তোমার মায়ের অবাধ্য হওয়ার নির্দেশ দেব না, আবার তোমাকে তোমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নির্দেশও দেব না। সে পুনরায় তার কাছে আরজি পেশ করল। তখন তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «পিতা হলেন জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা; সুতরাং তুমি চাইলে তা রক্ষা করতে পার অথবা চাইলে তা বিনষ্ট করতে পার।» বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সে ফিরে গেল এবং তাকে তালাক দিয়ে দিল।
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦١)
3 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، ثنا أَبُو حَيَّانَ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ الْمُنْذِرِ، عَنِ ابْنِ أُخْتِهِ الْمُنْذِرِ بْنِ جَرِيرٍ، أَنَّ جَرِيرًا كَانَ فِي قَرْيَةٍ بِأَعْلَى السَّوَادِ بِالْبَوَازِيجِ فَرَاحَتِ الْبَقَرُ ، فَرَأَى بَقَرَةً أَنْكَرَهَا وَسَأَلَ عَنْهَا ، فَقَالَ الرَّاعِي: لَحِقَتْ بِالْبَقَرِ لَا نَعْرِفُهَا ، فَأَمَرَ بِهَا فَطُرِدَتْ حَتَّى تَوَارَتْ ، ثُمَّ قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا يُؤْوِي الضَّالَّةَ إِلَّا ضَالٌّ»
৩ - ইয়াকূব ইবন ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবন উলাইয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ হাইয়্যান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আদ-দাহহাক ইবনুল মুনযির তাঁর ভাগ্নে মুনযির ইবন জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জারীর আস-সাওয়াদ অঞ্চলের উচ্চভূমির বাওয়াযীজ নামক স্থানে ছিলেন। এমতাবস্থায় গবাদি পশুগুলো ফিরে এল। তিনি একটি গাভী দেখলেন যা তাঁর অপরিচিত মনে হলো এবং সেটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাখাল বলল: "এটি পালের সাথে মিশে গেছে, আমরা একে চিনি না।" তখন তিনি সেটিকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং সেটিকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো যতক্ষণ না সেটি দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "পথভ্রষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ হারানো পশুকে আশ্রয় দেয় না।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٢)
4 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ بُهْلُولٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى السُّتْرَةِ فَلْيَدْنُ مِنْهَا لَا يَقْطَعَ الشَّيْطَانُ عَلَيْهِ صَلَاتَهُ»
৪ - ইসহাক ইবনে বুহলুল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি নাফে ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি সাহল ইবনে আবি হাসমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন সুতরাহ সামনে রেখে সালাত আদায় করে, সে যেন তার নিকটবর্তী হয়, যাতে শয়তান তার সালাত বিচ্ছিন্ন করতে না পারে।»
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٢)
5 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إسْحَاقَ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ جَرِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ يُحْرَمِ الرِّفْقَ فِي الدُّنْيَا يُحْرَمِ الْخَيْرَ»
৫ - হারুন ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মূসা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হিলাল থেকে, তিনি জারীর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «যাকে দুনিয়াতে নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাকে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করা হয়»
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٣)
6 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْأَحْمَسِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا يَحْلِفُ بِأَبِيهِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقْ ، وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللَّهِ عز وجل فَلْيَرْضَ ، وَمَنْ لَمْ يَرْضَ بِاللَّهِ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ عز وجل»
৬ - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-আহমাসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসবাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আজলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে তার পিতার নামে শপথ করতে শুনলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করো না। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে শপথ করে, সে যেন সত্য বলে। আর যার সামনে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নামে শপথ করা হয়, সে যেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয় না, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।»
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٣)
7 - حَدَّثَنَا أَخُو كَرْخَوَيْهِ ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «هُمَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا» أَوْ قَالَ: «خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا» شَكَّ أَبُو بَكْرٍ يَعْنِي رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ
7 - আমাদের নিকট কারখাওয়াইহ-এর ভাই হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ হাদিস বর্ণনা করেছেন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ থেকে, তিনি সাদ ইবনে হিশাম থেকে, তিনি আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এই দু’টি আমার নিকট দুনিয়া এবং এতে যা কিছু আছে তার চেয়েও অধিক প্রিয়» অথবা তিনি বলেছেন: «দুনিয়া অপেক্ষা উত্তম» - আবু বকর সন্দেহ পোষণ করেছেন - অর্থাৎ ফজরের দুই রাকাত।
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٤)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " ثَلَاثٌ لَا يَزَلْنَ فِي أُمَّتِي حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ: النِّيَاحَةُ ، وَالتَّفَاخُرُ بِالْأَحْسَابِ ، وَالْأَنْوَاءُ "
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু উমারা, তিনি আবদুল আযীয ইবনু সুহাইব থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তিনটি বিষয় কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সর্বদা আমার উম্মতের মধ্যে বিদ্যমান থাকবে: বিলাপ করা, বংশমর্যাদা নিয়ে অহংকার করা এবং নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করা।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٥)
9 - ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ الْوَرَّاقُ، ثنا يَحْيَى يَعْنِي الْأُمَوِيَّ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُرْسَلُ عَلَى أَهْلِ النَّارِ الْبُكَاءُ فَتَنْفَدُ دُمُوعُهُمْ ، ثُمَّ يَبْكُونَ الدَّمَ حَتَّى يُرَى فِي وُجُوهِهِمْ أُخْدُودٌ لَوْ أُرْسِلَتْ فِيهِ السُّفُنُ لَجَرَتْ»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া—অর্থাৎ আল-উমাবী—সুলাইমান আল-আ'মাশ থেকে, তিনি ইয়াযীদ আর-রাক্কাশি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জাহান্নামবাসীদের ওপর কান্না চাপিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তাদের চোখের পানি ফুরিয়ে যাবে। অতঃপর তারা রক্তাশ্রু বিলাপ করবে, এমনকি তাদের চেহারায় (অশ্রুপ্রবাহের কারণে) খাতের সৃষ্টি হবে; যদি সেখানে জাহাজ চালানো হতো তবে তা অবশ্যই চলত।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٥)
10 - حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ النَّضْرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا جُعِلَتِ الشَّفَاعَةُ لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِيِ»
১০ - যিয়াদ ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল মুগীরা আন-নাদর ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইয়াযিদ আর-রাকাশি থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে যারা কবিরা গুনাহগার, তাদের জন্যই সুপারিশ নির্ধারিত করা হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٦)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ: رَأَيْتُ زَيْدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ مُسْنِدًا ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ وَهُوَ يَقُولُ: " يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ ، مَا مِنْكُمْ أَحَدٌ الْيَوْمَ عَلَى دِينِ إبْرَاهِيمَ عليه السلام غَيْرِي قَالَ: وَكَانَ يُصَلِّي إِلَى الْكَعْبَةِ ، وَيَقُولُ: إِلَهِي إِلَهُ إِبْرَاهِيمَ ، وَدِينِي دِينُ إِبْرَاهِيمَ ، وَكَانَ يُحْيِي الْمَوْؤُدَةَ يَقُولُ لِلرَّجُلِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَقْتُلَ ابْنَتَهُ: لَا تَقْتُلْهَا ادْفَعْهَا إِلَيَّ أَكْفِكَ مُؤْنَتَهَا ، فَإِذَا تَرَعْرَعَتْ قَالَ: إِنْ شِئْتَ فَخُذْهَا الْآنَ ، وَإِنْ شِئْتَ فَدَعْهَا "
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুখাররিমী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আসমা বিনতে আবু বকর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়িলকে কাবার গায়ে পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় দেখেছি, তিনি বলছিলেন: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আজ আমি ব্যতীত তোমাদের মাঝে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর দ্বীনের ওপর আর কেউ নেই।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি কাবার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন: "আমার ইলাহ ইব্রাহিমের ইলাহ এবং আমার দ্বীন ইব্রাহিমের দ্বীন।" তিনি জীবন্ত কবরস্থ শিশুদের প্রাণ রক্ষা করতেন; কোনো ব্যক্তি যখন তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার ইচ্ছা করত, তখন তিনি তাকে বলতেন: "তাকে হত্যা করো না, বরং তাকে আমার কাছে দিয়ে দাও, আমিই তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিচ্ছি।" অতঃপর যখন সেই কন্যা বড় হতো, তখন তিনি তার পিতাকে বলতেন: "তুমি চাইলে এখন তাকে নিয়ে যেতে পারো, আর চাইলে তাকে রেখে দিতে পারো।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٦)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ ⦗ص: 67⦘، عَنِ أَبِيهِ قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ قَالَ: «يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أُمَّةً وَحْدَهُ بَيْنِي وَبَيْنَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليهما السلام»
১২ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «কিয়ামতের দিন তিনি আমার এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম)-এর মধ্যবর্তী সময়ে একাকী একটি স্বতন্ত্র উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন।’»
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٧)
13 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِجَادِ بْنِ مُوسَى بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ عَائِشَةَ ابْنَةِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهَا سَعْدٍ أَنَّهُ قَالَ: «

[البحر الوافر]

أَلَا هَلْ جَا رَسُولَ اللَّهِ أَنِّي … حَمَيْتُ صَحَابَتِي بِصُدُورِ نَبْلِي

أَذُودُ بِهَا عَدُوَّهِمُ ذِيَادًا … بِكُلِّ حُزُونَةٍ وَبِكُلِّ سَهْلِ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইসমাইল আল-সাহমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'ন ইবনে ঈসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বিজাদ ইবনে মুসা ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আয়িশা বিনতে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা সাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «

[আল-বাহর আল-ওয়াফির]

ওহে, আল্লাহর রাসূলের নিকট কি সংবাদ পৌঁছেছে যে, আমি … আমার তীরের ফলা দিয়ে আমার সঙ্গীদের রক্ষা করেছি

আমি সেগুলোর মাধ্যমে তাদের শত্রুদের জোরালোভাবে প্রতিহত করি … প্রতিটি বন্ধুর ও সমতল ভূমিতে।»
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٨)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو السَّائِبِ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ عَائِشَةَ ابْنَةِ سَعْدٍ ، عَنْ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَصَبَّحْ سَبْعَ تَمَرَاتٍ عَجْوَةً عَلَى الرِّيقِ لَمْ يَضُرَّهُ سِحْرٌ وَلَا سُمٌّ»
১৪ - আবুস সাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাশিম বিন হাশিম বিন উতবাহ বিন আবি ওয়াক্কাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সা'দ-এর কন্যা আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি সা'দ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যে ব্যক্তি সকালে খালি পেটে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, কোনো জাদু বা বিষ তার ক্ষতি করতে পারবে না।»
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٩)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْبُسْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُبَيْدٍ أَبِي الْحَسَنِ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «اللَّهُمَّ ، لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ ، وَمِلْءَ الْأَرْضِ ، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ»

 

16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عِصْمَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ، عَنْ عُبَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: «كَانَ يَدْعُو بِهِ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ»
১৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ আল-বুসরি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, উবায়দ আবুল হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা; আসমানসমূহ পূর্ণ করে, জমিন পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা চান তা পূর্ণ করে»

 

১৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট আবু ইসমাহ বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান আল-আ’মাশ থেকে, তিনি উবায়দ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: «যখন তিনি রুকু থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন তখন এই দোয়া করতেন»
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٦٩)
17 - حَدَّثَنَا خَلَّادُ بْنُ أَسْلَمَ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ يَعْنِي ابْنَ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ ⦗ص: 70⦘ جَرِيحٍ ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، أَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا الْخَيْرِ أَخْبَرَهُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: نَذَرَتْ أُخْتِي أَنْ تَمْشِيَ، إِلَى بَيْتِ اللَّهِ عز وجل فَأَمَرَتْنِي أَنْ أَسْتَفْتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: فَاسْتَفْتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «لِتَمْشِ ، وَلْتَرْكَبْ» وَكَانَ أَبُو الْخَيْرِ لَا يُفَارِقُ عُقْبَةَ
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খাল্লাদ বিন আসলাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ্ অর্থাৎ ইবনে উবাদাহ্, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ জুরাইজ, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইয়াযীদ বিন আবি হাবীব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল খায়ের তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, উকবাহ বিন আমের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার বোন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ঘরের দিকে হেঁটে যাওয়ার মানত করেছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফতোয়া জিজ্ঞেস করার আদেশ দিলেন। ফলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফতোয়া জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি বললেন: "সে যেন হাঁটে এবং সওয়ার হয়।" আর আবুল খায়ের কখনো উকবাহর সঙ্গ ত্যাগ করতেন না।
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٠)
18 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَحْرٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً ، فَلَمْ يَفْرِضْ لَهَا صَدَاقًا ، وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا حَتَّى مَاتَ عَنْهَا ، فَقَالَ: لَهَا صَدَاقُ نِسَائِهَا لَا وَكْسَ وَلَا شَطَطَ ، وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ ، وَلَهَا ⦗ص: 71⦘ الْمِيرَاثُ ، فَقَالَ مَعْقِلُ بْنُ سِنَانٍ الْأَشْجَعِيُّ: فَقَالَ «قَضَى فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَرْوَعَ ابْنَةِ وَاشِقٍ بِمِثْلِ مَا قَضَيْتَ» ، فَفَرِحَ بِذَلِكَ ابْنُ مَسْعُودٍ
১৮ - আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে বাহর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট যায়িদ ইবনুল হুবাব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান আস-সাওরী বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এক নারীকে বিবাহ করেছে, কিন্তু তার জন্য কোনো মোহর নির্ধারণ করেনি এবং তার সাথে বাসর করার পূর্বেই সে মৃত্যুবরণ করেছে। তখন তিনি বললেন: সেই মহিলার জন্য তার সমপর্যায়ের নারীদের ন্যায় মোহর প্রাপ্য হবে, যাতে কোনো কমতি বা আধিক্য থাকবে না; তার ওপর ইদ্দত পালন করা আবশ্যক এবং সে ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ উত্তরাধিকার লাভ করবে। তখন মা’কিল ইবনে সিনান আল-আশজায়ি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে বারওয়া বিনতে ওয়াশিক-এর ব্যাপারে ঠিক তেমনই ফয়সালা দিয়েছিলেন যেমনটি আপনি ফয়সালা দিলেন। এতে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আনন্দিত হলেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧١)
19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ اسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ امْرَأَتَهَ وَكَانَتْ أُمَّ وَلَدٍ لِعَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَتْهُ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ابْتَاعَ جَارِيَةً بِطَرِيقِ مَكَّةَ ، فَأَعْتَقَهَا ، وَأَمَرَهَا أَنْ تَحُجَّ مَعَهُ ، فَالْتَمَسَ لَهَا نَعْلَيْنِ ، فَلَمْ يَجِدْهُمَا ، فَقَطَعَ لَهَا خُفَّيْنِ أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ. قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ اسْحَاقَ: وَحَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ قَدْ صَنَعَ ذَلِكَ حَتَّى حَدَّثَتْهُ صَفِيَّةُ بِنْتُ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ «رَخَّصَ لِلنِّسَاءِ فِي الْخُفَّيْنِ»
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আমর আল-বাহিলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আ'লা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ (অর্থাৎ ইবন ইসহাক), তিনি নাফি' হতে বর্ণনা করেন যে, তাঁর স্ত্রী (যিনি আবদুল্লাহর উম্মু ওয়ালাদ ছিলেন) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর মক্কার পথে একটি দাসী ক্রয় করেন, অতঃপর তাকে মুক্ত করে দেন এবং তাকে তাঁর সাথে হজ্জ করার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি তার জন্য একজোড়া স্যান্ডেল খুঁজলেন কিন্তু তা পেলেন না, তাই তিনি তার জন্য একজোড়া চামড়ার মোজা টাখনুর নিচ পর্যন্ত কেটে দিলেন। মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক বলেন: যুহরি আমার নিকট সালিম হতে বর্ণনা করেছেন যে, ইবন উমর এমনটিই করতেন, যতক্ষণ না সাফিয়্যাহ বিনতু আবি উবায়দ আয়েশা হতে তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের জন্য চামড়ার মোজা পরিধানের অনুমতি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٢)
20 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ: " لَمَّا خُلِقَ آدَمُ عليه السلام ، وَنُفِخَ فِيهِ الرُّوحُ مَارَ فِي رَأْسِهِ ، فَذَهَبَ لِيَنْهَضَ قَبْلَ أَنْ تَبْلُغَ رِجْلَيْهِ قَالَ: فَوَقَعَ ، فَقِيلَ: خُلِقَ الْإِنْسَانُ مِنْ عَجَلٍ "
২০ - আমাদের নিকট মাহমুদ ইবনে খিদাশ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, আমাদের হুসাইন সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন: "যখন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হলো এবং তাঁর মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হলো, তখন তা তাঁর মাথায় বিচরণ করল। অতঃপর রূহ তাঁর পা পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বেই তিনি উঠে দাঁড়াতে গেলেন। তিনি (ইকরিমাহ) বললেন: তখন তিনি পড়ে গেলেন। অতঃপর বলা হলো: ‘মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ত্বরাপ্রবণ করে’।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٢)
21 - حَدَّثَنَا مَحْمُودٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ عز وجل: {وَكَأْسًا دِهَاقًا} [النبأ: 34] قَالَ: «هِيَ الْمُتَتَابِعَةُ الْمُمْتَلِئَةُ» قَالَ: فَرُبَّمَا سَمِعْتُ الْعَبَّاسَ يَقُولُ: اسْقِنَا وَادْهَقْ لَنَا
২১ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {এবং উপচে পড়া পূর্ণ পানপাত্র} [আন-নাবা: ৩৪] সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «তা হলো ক্রমাগত পূর্ণ হতে থাকা পাত্র।» তিনি বলেন: আমি অনেক সময় আব্বাসকে বলতে শুনেছি: আমাদের পান করাও এবং আমাদের জন্য পাত্র পূর্ণ করে দাও।
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٢)
22 - حَدَّثَنَا مَحْمُودٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ ⦗ص: 73⦘، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ عز وجل: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا} [الرعد: 41] قَالَ: «الْقَرْيَةُ تَخْرَبُ حَتَّى تَكُونَ فِي نَاحِيَةٍ مِنْهَا»
২২ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইকরিমাহ থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘, ইবনে আব্বাস থেকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণিত: {তারা কি দেখে না যে, আমি জমিনে আগমন করি এবং একে এর প্রান্তসমূহ থেকে কমিয়ে দিই?} [রা'দ: ৪১] তিনি বলেন: "জনপদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, এমনকি শেষ পর্যন্ত তা কেবল এর একপার্শ্বে অবশিষ্ট থাকে।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٣)
23 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُبَايِعُهُ ، فَقَالَ: «وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ وَهُوَ عَلَيَّ يَسِيرٌ» قَالَ الْقَاضِي: مَنْ ذَكَرَ عَنِّي هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَعْقُوبِ خِلَافُ هَذَا الْإِسْنَادِ فَقَدْ كَذَبَ وَأَبْطَلَ
২৩ - ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিস'আর ইবনে কিদাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে ইলাকা থেকে, তিনি জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর কাছে বায়আত হতে আসলাম, তখন তিনি বললেন: «এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করা; আর এটি আমার জন্য সহজ।» কাযী বলেন: যে ব্যক্তি ইয়াকুবের সূত্রে আমার পক্ষ থেকে এই হাদিসটি এই সনদ ব্যতিরেকে বর্ণনা করবে, সে মিথ্যা বলেছে এবং বাতিল কাজ করেছে।
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٤)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ عَبْدِ اللَّهِ بِنْتِ أَبِي حَثْمَةَ قَالَتْ: " وَاللَّهِ ، إِنَّا لَنَرْتَحِلُ إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ وَقَدْ ذَهَبَ عَامِرٌ إِذْ أَقْبَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ حَتَّى وَقَفَ عَلَيَّ قَالَتْ: وَكُنَّا نَلْقَى مِنْهُ الْبَلَاءَ أَذًى لَنَا وَغِلْظَةً عَلَيْنَا ، فَقَالَ: إِنَّهُ الْإِنْطِلَاقُ يَا أُمَّ عَبْدِ اللَّهِ قَالَتْ: قُلْتُ: نَعَمْ ، وَاللَّهِ لَنَخْرُجَنَّ مِنْ أَرْضِ اللَّهِ عز وجل آذَيْتُمُونَا وَقَهَرْتُمُونَا حَتَّى يَجْعَلَ اللَّهُ عز وجل لَنَا فَرَجًا ، فَقَالَ عُمَرُ رحمه الله: صَحِبَكُمُ اللَّهُ وَرَأَيْتُ فِيهِ رِقَّةً لَمْ أَرَهَا مِنْهُ قَطُّ قَالَتْ: فَلَمَّا رَجَعَ ابْنُ رَبِيعَةَ مِنْ حَاجَتِهِ قُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ ، لَوْ رَأَيْتَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ آنِفًا وَرِقَّتَهُ وَحُزْنَهُ عَلَيْنَا ، فَقَالَ عُمَرُ: فَقُلْتُ: نَعَمْ قَالَ عَامِرٌ: كَأَنَّكَ طَمِعْتَ فِي إِسْلَامِ عُمَرَ قَالَتْ: قُلْتُ: نَعَمْ ، ⦗ص: 75⦘ فَقَالَ لَهَا: لَا يُسْلِمُ الَّذِي رَأَيْتِ حَتَّى يُسْلِمَ حِمَارُ الْخَطَّابِ، إِيَاسًا مِنْهُ لِمَا كَانَ يَرَى مِنْ غِلْظَتِهِ عَلَيْنَا وَجَفَائِهِ بِنَا "
২৪ - আবদুল্লাহ ইবনে শাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি শাইবা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি উওয়াইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে আবি রাবিআহ থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে আবি হাসমাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম, আমরা যখন আবিসিনিয়া ভূখণ্ডের দিকে হিজরত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এবং আমির কোনো প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলেন, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব এগিয়ে এলেন এবং আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। তিনি (উম্মে আবদুল্লাহ) বলেন: আমরা তাঁর পক্ষ থেকে অনেক পরীক্ষা, কষ্ট এবং কঠোরতার সম্মুখীন হতাম। তখন তিনি বললেন: হে উম্মে আবদুল্লাহ, তবে কি প্রস্থানের সময় হয়ে গেল? তিনি বলেন: আমি বললাম: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, আমরা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর জমিন থেকে অবশ্যই বেরিয়ে যাব; কেননা আপনারা আমাদের কষ্ট দিয়েছেন এবং আমাদের ওপর জুলুম করেছেন, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ আমাদের জন্য কোনো পথ বের করে দেন। তখন উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বললেন: আল্লাহ তোমাদের সঙ্গী হোন। উম্মে আবদুল্লাহ বলেন: আমি তাঁর মধ্যে এমন কোমলতা দেখলাম যা ইতিপূর্বে আর কখনো তাঁর থেকে দেখিনি। তিনি বলেন: অতঃপর যখন ইবনে রাবিআহ তাঁর কাজ শেষ করে ফিরে এলেন, তখন আমি বললাম: হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি যদি একটু আগে উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আমাদের প্রতি তাঁর কোমলতা ও বিষণ্ণতা দেখতেন! তখন আমির বললেন: তুমি কি উমরের ইসলাম গ্রহণের আশা করছ? তিনি বলেন: আমি বললাম: হ্যাঁ, ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ তখন আমির তাঁকে বললেন: তুমি যাকে দেখলে সে ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করবে না যতক্ষণ না খাত্তাবের গাধা ইসলাম গ্রহণ করে। আমাদের ওপর তাঁর কঠোরতা ও রূঢ়তা দেখার কারণে তাঁর ব্যাপারে নিরাশ হয়েই আমির এ কথা বলেছিলেন।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٥)
‌‌مَجْلِسٌ آخَرُ إِمْلَاءً
অন্য একটি শ্রুতিলিপি মজলিস
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٥)
25 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَهْدَى فِي حَجَّتِهِ مِائَةَ بَدَنَةٍ فِيهَا جَمَلٌ كَانَ لِأَبِي جَهْلٍ فِي رَأْسِهِ بُرَةٌ مِنْ فِضَّةٍ قَالَ: فَنَحَرَ بِيَدِهِ مِنْهَا أَرْبَعِينَ قَالَ: وَأَمَرَ بِبَقِيَّتِهَا ، فَنُحِرَتْ ، ثُمَّ أَمَرَ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ مِنْهَا بِبَضْعَةٍ ، فَطُبِخَ قَالَ: فَأَكَلَ مِنَ اللَّحْمِ ، وَتَحَسَّى مِنَ الْمَرَقِ "
২৫ - মাহমুদ ইবন খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম ইবন বাশীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবন আবী লায়লা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজ্জের সফরে একশতটি উট কুরবানীর জন্য পেশ করেছিলেন, যার মধ্যে আবু জাহলের একটি উটও ছিল যার মাথায় রূপার একটি আংটা পরানো ছিল। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি সেগুলোর মধ্য হতে চল্লিশটি উট নিজ হাতে নহর করেন। তিনি বলেন: অবশিষ্ট উটগুলোর ব্যাপারে তিনি নির্দেশ দিলে সেগুলো নহর করা হয়। এরপর তিনি প্রতিটি উট থেকে এক টুকরো করে গোশত নেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তা রান্না করা হলো। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি সেই গোশত থেকে আহার করলেন এবং তার ঝোল পান করলেন।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٦)
26 - حَدَّثَنَا مَحْمُودٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَفَاضَ مِنْ عَرَفَاتٍ وَرِدْفُهُ أُسَامَةُ ، وَأَفَاضَ مِنْ جَمْعٍ وَرِدْفُهُ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ قَالَ: وَلَبَّى حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ "
২৬ - মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফাত থেকে প্রস্থান করেছেন এবং উসামাহ তাঁর পেছনে আরোহী ছিলেন, এবং তিনি মুযদালিফাহ থেকে প্রস্থান করেছেন এবং ফাদল ইবনে আব্বাস তাঁর পেছনে আরোহী ছিলেন। তিনি বলেন: তিনি জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়াহ পাঠ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٦)
27 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَامِرِيُّ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى ⦗ص: 77⦘ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ ، عَنِ الْحَسَنِ، وَعَطَاءٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ رُمِيَ يَوْمَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرِ بِسَهْمٍ ، فَقُطِعَ أَكْحَلُهُ ، فَحَسَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَانْتَفَخَ ، فَانْتَفَضَتْ بِهِ الثَّانِيَةُ ، فَانْتَفَخَ ، فَقَالَ سَعْدٌ: اللَّهُمَّ ، لَا تُخْرِجْ نَفْسِي حَتَّى تُقِرَّ عَيْنِي مِنْ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرِ "
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আমিরি, তিনি বলেন: আমি ⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘ আব্দুল কারীম ইবনে আবিল মুখারিকের নিকট পাঠ করেছি, তিনি হাসান ও আতা থেকে এবং তাঁরা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে: কুরাইজা ও নাযির (অভিযানের) দিনে সাদ ইবনে মুআযকে একটি তীর নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ফলে তাঁর হাতের প্রধান শিরা (আকহাল) কেটে যায়। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দাগিয়ে দিলেন, কিন্তু তা ফুলে গেল। পুনরায় দ্বিতীয়বারও তা ফেটে গেল এবং ফুলে গেল। তখন সাদ বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রাণ হরণ করবেন না যতক্ষণ না কুরাইজা ও নাযিরের ব্যাপারে আমার চোখ জুড়িয়ে দেন (অর্থাৎ তাদের বিচার না দেখান)।"
(খণ্ড: ১) আমালিল মুহামিলী রিওয়ায়াতু ইবনি ইয়াহইয়া আল-বাই (পৃষ্ঠা: ٧٧)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْعَثِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «عَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ ، وَارْفَعُوا عَنْ بَطْنِ عُرَنَةَ ، وَالْمُزْدَلِفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ ، وَارْفَعُوا عَنْ بَطْنِ مُحَسِّرٍ ، وَشِعَابُ مِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ»
২৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-আশ’আছ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ্, যিয়াদ ইবনে সা’দ থেকে বর্ণিত, আবু আয-যুবায়ের থেকে বর্ণিত, আবু মাবাদ থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সম্পূর্ণ আরাফাতই অবস্থানের স্থান, তবে তোমরা উরানাহ উপত্যকার অভ্যন্তরভাগ থেকে দূরে থাকো; আর সম্পূর্ণ মুযদালিফাই অবস্থানের স্থান, তবে তোমরা মুহাসসির উপত্যকার অভ্যন্তরভাগ থেকে দূরে থাকো; এবং মিনার সকল গিরিপথই হলো কোরবানির স্থান।»