(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: -)
الروايتين والوجهين - المسائل الأصولية منه   (القاضي أبو يعلى ابن الفراء)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: المسائل الأصولية من كتاب الروايتين والوجهين

المؤلف: القاضي أبو يعلى الحنبلي

المحقق: الدكتور عبد الكريم محمد اللاحم

الناشر: مكتبة المعارف، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 136

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 جُمادَى الآخرة 1445

দুই বর্ণনা (رواية) ও দুই অভিমত (وجه) - এর মধ্য থেকে উসূল (أصول) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ   (আল-কাজী আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা)

বিভাগ: উসূল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


বই: কিতাবুর রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন থেকে উসূল (أصول) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ

লেখক: আল-কাজী আবু ইয়ালা আল-হাম্বলি

সম্পাদক: ডক্টর আব্দুল কারিম মুহাম্মদ আল-লাহিম

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৬

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১)
المسائل الأصولية من كتاب الروايتين والوجهين

 

تأليف

القاضي أبي يعلى الحنبلي

 

تحقيق

عبد الكريم محمد اللاحم

 

مكتبة المعارف
কিতাবুর রেওয়ায়েতাইন ওয়াল ওয়াজহাঈন থেকে সংকলিত উসুল (أصول) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ

 

গ্রন্থনায়

আল-কাদী আবু ইয়ালা আল-হাম্বলী

 

তাহকীক (تحقيق) ও সম্পাদনায়

আব্দুল কারীম মুহাম্মদ আল-লাহিম

 

মাকতাবাতুল মা’আরিফ
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة للمؤلف

الطبعة الأولى

1405 هـ - 1985 م

 

مكتبة المعارف

ص. ب: 3281 - هاتف: 4013708 - 4033979

الرياض - المملكة العربية السعودية
সকল স্বত্ব গ্রন্থকার কর্তৃক সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

 

মাকতাবাতুল মাআরিফ

পি.ও. বক্স: ৩২৮১ - ফোন: ৪০১৩৭০৮ - ৪০৩৩৯৭৯

রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة التحقيق
সম্পাদনা ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المقدمة

الحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وخاتم النبيين نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين ومن اهتدى بهداه إلى يوم الدين.

وبعد:

فإني سأقتصر في مقدمة التحقيق لهذا الجزء على ثلاثة أمور هي: -

1 - التعريف بالمؤلف.

2 - التعريف بالكتاب.

3 - منهج التحقيق.

وقد ذكرتها مفصلة في مقدمة تحقيق "المسائل الفقهية" من هذا الكتاب لكنه قد لا يتيسر لمن يقرأ هذا الجزء الإطلاع عليها قبل ما يتم طبع الكتاب مكتملًا.

لذا فسأوجزها هنا بما يغني عن الرجوع إليها هناك.
ভূমিকা (المقدمة)

সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার ও সর্বশেষ নবী আমাদের নবী মুহাম্মদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সকল সাহাবী এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করবেন তাদের সকলের ওপর।

অতঃপর:

আমি এই খণ্ডের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকায় (مقدمة) তিনটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব, সেগুলো হলো: -

১ - লেখকের পরিচিতি।

২ - গ্রন্থের পরিচিতি।

৩ - সম্পাদনা পদ্ধতি (منهج التحقيق)।

আমি এই গ্রন্থের "আল-মাসায়িল আল-ফিকহিয়্যাহ" অংশের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকায় (مقدمة) এ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তবে এই খণ্ডটি পাঠকারীর পক্ষে গ্রন্থটি পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত হওয়ার পূর্বে সেই আলোচনাগুলো দেখে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

তাই আমি এখানে সেগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করছি, যা সেখানে পুনরায় ফিরে দেখার প্রয়োজনীয়তা দূর করবে।
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌التعريف بالمؤلف

ويشمل

1 - اسمه ونسبه

2 - مولده.

3 - نشأته وحياته العلمية ورحلاته في طلب العلم.

4 - مشائخه وتلاميذه.

5 - مكانته العلمية.

6 - مكانته الإِجتماعية.

7 - آثاره العلمية.

8 - زهده وورعه.

9 - أعماله.

10 - وفاته.
লেখকের পরিচিতি

যা অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

২ - তাঁর জন্ম।

৩ - তাঁর বেড়ে ওঠা, ইলমি জীবন এবং ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ।

৪ - তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রগণ।

৫ - তাঁর ইলমি মর্যাদা।

৬ - তাঁর সামাজিক মর্যাদা।

৭ - তাঁর ইলমি রচনাবলি।

৮ - তাঁর দুনিয়াবিমুখতা (زهد) ও পরহেজগারি (ورع)।

৯ - তাঁর কার্যাবলি।

১০ - তাঁর ইন্তেকাল।
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌اسمه ونسبه

هو العالم العلامة شيخ الحنابلة وإمامهم في عصره: محمد بن الحسين بن محمد بن خلف بن أحمد بن الفرَّاء القاضي أبو يعلى البغدادي الحنبلي المعروف في زمانه بإبن الفراء(1)، واشتهر بعد ذلك بأبي يعلى(2).

 

‌‌مولده:

ولد لتسع وعشرين أو ثمانٍ وعشرين خَلَتْ من شهر المحرم سنة 380 هـ ثمانين وثلاثمائة(3)، وقيل: ولد لسبعٍ وعشرين أو ثمانٍ وعشرين من المحرّم(4).

 

‌‌نشأته وحياته العلمية ورحلاته في طلبِ العِلم:

نشأ في بيت علمٍ، فكان أبوه على جانبٍ كبيرٍ من العلمِ والفقه، فحرص على تعليم ابنه، وتنشئته تنشئة عِلميَّة صالحة، فكانَ يتولى تعليمَه بِنَفْسهِ.

--------------------------------------------

(1) الفرَّاء نسبة إلى خياطة الفراء والتجارة بها.

(2) طبقات الحنابلة 2/ 193، والمنهج الأحمد 2/ 105، والمنتظم 8/ 243، والأعلام 4/ 331، وتاريخ بغداد 2/ 256، ومناقب الإِمام أحمد/ 520، وشذرات الذهب 3/ 306، وسير أعلام النبلاء 12/ 332.

(3) طبقات الحنابلة 2/ 195.

(4) تاريخ بغداد 2/ 296.

‌‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

তিনি হলেন বিজ্ঞ আলেম (العالم), মহাজ্ঞানী আল্লামা (العلامة), তাঁর যুগের হাম্বলিদের শাইখ (شيخ) এবং তাদের ইমাম (إمام): মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন আহমাদ বিন আল-ফাররা, আল-কাদি (القاضي) আবু ইয়ালা আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি। তিনি তাঁর সমসাময়িককালে ইবনুল ফাররা(১) নামে পরিচিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে আবু ইয়ালা(২) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

তিনি ৩৮০ হিজরি সনের মুহাররাম মাসের ঊনত্রিশ বা আটাশ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর জন্মগ্রহণ করেন(৩)। মতান্তরে বলা হয়: তিনি মুহাররাম মাসের সাতাশ বা আটাশ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন(৪)।

 

‌‌বেড়ে ওঠা, শিক্ষাজীবন এবং ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ:

তিনি এক জ্ঞানদীপ্ত (العلم) পরিবারে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা ইলম (العلم) ও ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তাই তিনি তাঁর পুত্রকে সুশিক্ষা প্রদান এবং তাঁকে আদর্শ জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে গড়ে তোলার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি নিজেই তাঁর পুত্রের পাঠদানের দায়িত্ব পালন করতেন।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাররা হলো পশমি বস্ত্র তৈরি ও এর ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত একটি নিসবত (نسبة)।

(২) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/১৯৩, আল-মানহাজুল আহমাদ ২/১০৫, আল-মুনতাজাম ৮/২৪৩, আল-আ’লাম ৪/৩৩১, তারিখু বাগদাদ ২/২৫৬, মানাকিবে ইমাম আহমাদ/৫২০, শাজারাতুজ জাহাব ৩/৩০৬, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১২/৩৩২।

(৩) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/১৯৫।

(৪) তারিখু বাগদাদ ২/২৯৬।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
كما نَشَأ في بيئة علميَّة، فكانت نشأته في بغداد حاضرة العالم الإِسلامي، ومهد العلماء في عصرهِ، وكانت النهضة العلمية في ذلك العصر مكتملة الأسباب، متوافرة الدَّواعي، ولم تكن خاصة بعلم دون آخر، بل كانت متعددة الجوانب ومتنوعة الفنون.

وكان الأساتذة متوافرون في كلِ علمٍ، والمكتباتُ زاخرةٌ بالمصادرِ والمراجع في كلِّ فنٍ.

وكانت مدرسة الحديث عامرةً بشيوخِها وأساتِذتها.

فكانَ لهذا أثرٌ كبير في نبوغِه ورسوخ قَدَمِهِ، وعلُوِّ منزِلَتِه في العلمِ والمعرفةِ، توفي والده سنةَ تسعين وثلاثمائة، وعمر أبي يعلى عشرُ سِنينَ(1)، وكان الوصِيُّ عليه رجل يعرف بالحربي، كان يسكن بدار القز(2)، فانتقل أبو يعلى من باب الطاق الذي كان يسكن فيه مع والده إلى دار القزّ حيث يسكن الوصي، وكان بهذا الحي رجل صالح -يعرف بابن مفرحة المقرئ- يُقرئ القرآن، ويلقن طلابه بعض العبارات من "مختصر الخرقي"، فقرأ عليه أبو يعلى وأخذ عنه ما كان يلقِّنه لطلابِهِ، ولم يكتفِ أبو يعلى بهذا القدر، بل طلبَ من معلمه الزيادة فقال لَهُ: هذا القدرُ الذي أُحسنه، فإن أردت زيادةً فعليكَ بالشيخ أبي عبد اللَّه بن حامد، فإنه شيخ هذه الطائفة(3)، يعني: الحنابلة، فقصده أبو يعلى وتتلمذ عليه، وصحبه إلى أن تُوفي، وبهذا انتقلَ من دَور التلقين إلى دور الدراسة والتحمّل، وقد نال إعجابه، وحاز رضاه، وفاق زملاءه وأقرانه، فحينما أراد ابن حامد الحج سنة اثنتين وأربعمائة سئل عمَّن يقوم بالتدريس أثناء غيابه فأشار إلى أبي يعلى وقال: هذا الفتَى(4).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 12/ 333.

(2) حي من أحياء بغداد.

(3) طبقات الحنابلة 2/ 194.

(4) طبقات الحنابلة 2/ 195.

অনুরূপভাবে তিনি একটি জ্ঞানদীপ্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত হয় তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র এবং সমকালীন আলেমদের চারণভূমি বাগদাদে। সেই যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের সকল উপকরণ ও কারণ পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল এবং তা কেবল কোনো একটি বিশেষ ইলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল বহুমুখী এবং বিভিন্ন শাখায় বিস্তৃত।

প্রতিটি শাস্ত্রেই পারদর্শী উস্তাদগণ উপস্থিত ছিলেন এবং পাঠাগারগুলো প্রতিটি বিষয়ের মৌলিক ও সহায়ক গ্রন্থাবলিতে সমৃদ্ধ ছিল।

হাদিস শাস্ত্রের বিদ্যাপীঠগুলো এর শায়খ ও শিক্ষকগণের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল।

তাঁর মেধা, জ্ঞানের গভীরতা এবং ইলম ও মারেফাতের ক্ষেত্রে সুউচ্চ মর্যাদা লাভের পেছনে এই পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তাঁর পিতা ৩৯০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, তখন আবু ইয়া’লার বয়স ছিল মাত্র দশ বছর(১)। তাঁর অভিভাবক ছিলেন আল-হারবি নামে পরিচিত এক ব্যক্তি, যিনি 'দারুল কাজ'(২) নামক এলাকায় বসবাস করতেন। ফলে আবু ইয়া’লা 'বাবুত তাক' থেকে—যেখানে তিনি তাঁর পিতার সাথে থাকতেন—দারুল কাজ-এ তাঁর অভিভাবকের নিকট স্থানান্তরিত হন। এই মহল্লায় ইবনে মুফাররিহ আল-মুকরি নামে পরিচিত একজন নেককার ব্যক্তি ছিলেন, যিনি কুরআন শিক্ষা দিতেন এবং ছাত্রদের 'মুখতাসারুল খিরকি' থেকে কিছু পাঠ মুখস্থ করাতেন (التلقين)। আবু ইয়া’লা তাঁর নিকট পড়াশোনা করেন এবং তিনি ছাত্রদের যা শেখাতেন তা তাঁর থেকে গ্রহণ করেন। আবু ইয়া’লা কেবল এইটুকুতেই সন্তুষ্ট ছিলেন না, বরং তিনি তাঁর শিক্ষকের নিকট আরও জ্ঞান বৃদ্ধির আবেদন করেন। শিক্ষক তাঁকে বললেন: "আমি এই পরিমাণই ভালো জানি। তুমি যদি আরও অধিক জ্ঞান অর্জন করতে চাও, তবে তোমার উচিত শেখ আবু আবদুল্লাহ বিন হামিদের নিকট যাওয়া; কারণ তিনি এই জামাতের অর্থাৎ হাম্বলিদের শায়খ(৩)।" এরপর আবু ইয়া’লা তাঁর নিকট গমন করেন এবং তাঁর ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি কেবল প্রাথমিক পাঠের স্তর থেকে শাস্ত্রীয় জ্ঞান অর্জন ও শ্রবণের (التحمّل) স্তরে উন্নীত হন। তিনি তাঁর উস্তাদের মুগ্ধতা ও সন্তুষ্টি অর্জন করেন এবং তাঁর সমসাময়িক ও সহপাঠীদের ছাড়িয়ে যান। যখন ইবনে হামিদ ৪০২ হিজরি সনে হজের সংকল্প করলেন, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে কে পাঠদান করবেন সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আবু ইয়া’লার দিকে ইশারা করে বললেন: "এই যুবকটি(৪)।"

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/ ৩৩৩।

(২) বাগদাদের একটি মহল্লা।

(৩) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ১৯৪।

(৪) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ১৯৫।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد رحل في طلب العلم إلى مكة، ودمشق، وحلب، وهناك سمع الحديث من بعض محدِّثيها(1).

 

‌‌مشائخه ومن سمع منهم:

بدأ بالتلقّي والسماع وهو لم يتجاوز الخامسة من عمره(2)، وكان أول سماعه من أبي الحسن علي بن معروف سنة خمس وثمانين وثلاثمائة(3)، وأبرز مشائخه الَّذين استفاد منهم أبو عبد اللَّه بن حامد، كما سبقت الإشارة إلى ذلك.

وسمع من جماعة عن البغوي، وحدَّث عن البغوي عن أحمد بن حنبل.

كما سمع من أبي الحسن السَّكري، عن أحمد بن عبد الجبار الصوفي، عن يحيى بن معين وغيره.

وسمع أيضًا من أبي القاسم موسى بن عيسى السَّراج عن البغوي وغيره.

ومن أبي القاسم بن حبابة، عن البغوي، عن علي بن الجعد، عن شعبة وغيره.

ومن أبي الطيب بن المنار، عن البغوي، وابن صاعد وغيرهما.

ومن أبي طاهر المخلص، عن البغوي وابن صاعد وغيرهم.

ومن أبي القاسم عيسى بن علي الوزير عن البغوي وغيره.

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 12/ 333.

(2) طبقات الحنابلة 2/ 195، وسير أعلام النبلاء 12/ 333.

(3) سير أعلام النبلاء 12/ 333.

তিনি জ্ঞান অন্বেষণে মক্কা, দামেস্ক ও আলেপ্পো সফর করেন এবং সেখানে সেখানকার কিছু হাদিস বিশারদদের (محدث) নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ (سماع) করেন(১).

 

‌‌তাঁর উস্তাদবৃন্দ এবং যাঁদের নিকট থেকে তিনি শ্রবণ (সماع) করেছেন:

তিনি জ্ঞান অর্জন ও শ্রবণ (سماع) শুরু করেন যখন তাঁর বয়স পাঁচ বছরও অতিক্রম করেনি(২), এবং তাঁর প্রথম শ্রবণ (سماع) ছিল ৩৮৫ হিজরি সনে আবুল হাসান আলী বিন মারুফ-এর নিকট থেকে(৩)। তাঁর প্রধান উস্তাদদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদ, যাঁর নিকট থেকে তিনি উপকৃত হয়েছিলেন, যেমনটি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তিনি একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে আল-বাগাভী থেকে শ্রবণ (سماع) করেছেন এবং আল-বাগাভীর সূত্রে আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা (حدث) করেছেন।

এছাড়া তিনি আবুল হাসান আস-সাক্কারি থেকে, তিনি আহমদ বিন আব্দুল জাব্বার আস-সুফি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন মাঈন এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ (سماع) করেছেন।

তিনি আবুল কাসিম মুসা বিন ঈসা আস-সাররাজ থেকেও আল-বাগাভী ও অন্যদের সূত্রে শ্রবণ (سماع) করেছেন।

এবং আবুল কাসিম বিন হাবাবা থেকে, তিনি আল-বাগাভী থেকে, তিনি আলী বিন আল-জা'দ থেকে, তিনি শু'বা এবং অন্যদের থেকে (শ্রবণ করেছেন)।

এবং আবু আল-তাইয়্যিব বিন আল-মানার থেকে, তিনি আল-বাগাভী, ইবনে সাঈদ এবং অন্যদের থেকে (শ্রবণ করেছেন)।

এবং আবু তাহের আল-মুখলিস থেকে, তিনি আল-বাগাভী, ইবনে সাঈদ এবং অন্যদের থেকে (শ্রবণ করেছেন)।

এবং আবুল কাসিম ঈসা বিন আলী আল-ওয়াজির থেকে আল-বাগাভী ও অন্যদের সূত্রে শ্রবণ (سماع) করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১২/৩৩৩।

(২) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/১৯৫, এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১২/৩৩৩।

(৩) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১২/৩৩৩।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن أبي القاسم بن سويد عن ابن مجاهد وابن الأنباري وغيرهما.

وهت أبي القاسم الصَّيدلاني عن ابن صاعد وغيره.

ومن أم الفتح بنت القاضي أبي بكر أحمد بن كامل.

ومن جده لأُمه أبي القاسم بن حنيفا.

ومن أبي عبد اللَّه عن أبي بكر محمد بن إسحاق بن عبد الرحيم السوسي وغيره.

ومن أبي محمد عبد اللَّه بن أحمد بن مالك.

ومن القاضي أبي محمد الأكفاني.

ومن أبي نصر بن الشاه.

ومن أبي عبد اللَّه النَيْسابوري.

ومن أبي الحسن الحمامي.

ومن أبي الفتح بن الفوارس.

وسمع آخرين بمكة ودمشق وحلب(1).

 

‌‌مكانته العلمية:

كان عالم زمانه، وفريد عصره، ونسيج وحده، وقرج دهره، عالمًا ثقةً وفقيهًا فاضلًا، معدودًا من الأماثل والأعيان، حظي بالتوقير والتقدير من المخالفين له والموافقين، انتهت إليه رياسة مذهب الحنابلة في عصره، وعنه انتشر مذهبهم.

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة 2/ 195 و 196، وتاريخ بغداد: 2/ 259، والمنتظم: 8/ 243. وسير أعلام النبلاء: 12/ 333

এবং আবুল কাসেম বিন সুয়াইদ থেকে, তিনি ইবনে মুজাহিদ ও ইবনে আল-আনবারী এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং আবুল কাসেম আস-সাইদালানী থেকে, তিনি ইবনে সাঈদ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং উম্মুল ফাতহ বিনতে কাজী আবু বকর আহমদ বিন কামিল থেকে।

এবং তাঁর মাতামহ আবুল কাসেম বিন হানীফা থেকে।

এবং আবু আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আব্দুর রহিম আস-সূসী এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মালিক থেকে।

এবং কাজী আবু মুহাম্মদ আল-আকফানী থেকে।

এবং আবু নাসর বিন আশ-শাহ থেকে।

এবং আবু আব্দুল্লাহ আন-নায়সাবুরী থেকে।

এবং আবুল হাসান আল-হামমামী থেকে।

এবং আবুল ফাতহ বিন আল-ফাওয়ারিস থেকে।

এছাড়াও তিনি মক্কা, দামেস্ক ও আলেপ্পোতে আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন(১)।

 

‌‌তাঁর ইলমি মর্যাদা:

তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম, নিজ যুগের অদ্বিতীয় ও অনুপম ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) আলেম এবং বিদগ্ধ ফকিহ। তিনি সমকালীন শ্রেষ্ঠ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরোধী ও অনুসারী—উভয় পক্ষের নিকট থেকেই তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান লাভ করেছিলেন। তাঁর যুগে হাম্বলি মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর ওপরই ন্যস্ত ছিল এবং তাঁর মাধ্যমেই এই মাযহাব ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছিল।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ১৯৫ ও ১৯৬; তারিখ বাগদাদ: ২/ ২৫৯; আল-মুনতাজাম: ৮/ ২৪৩ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/ ৩৩৩।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
كان له القدم الرفيع والباع الطويل في كثير من الفنون، الأصول والفروع، عالمًا بالقرآن وعلومه، والحديث والفتوى، انتشرت تصانيفُهُ، وذاع صيته، فكثر تلاميذه وأصحابه، وقصده الناس من سائر الأقطار(1).

قال ابنه القاضي أبو الحسين:

"ولقد حَضَرَ الناس مجلسه وهو يُملى حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بعد صلاة الجمعة بجامع المنصور على كرسي عبد اللَّه بن إمامنا أحمد رضي الله عنه، وكان المبلِّغون عنه في حلقته والمستملون: ثلاثة: أحدهم: خالي أبو محمد جابر، والثاني: أبو منصور الأنباري، والثالث: أبو علي البرداني.

وأخبرني جماعة من الفقهاء ممن حضر الإِملاء أنَّهم سجدوا في حلقة الإِملاء على ظهور الناس لكثرة الزحام في صلاة الجمعة في حلقة الإِملاء، وما رأى الناس في زمانهم مجلسًا اجتمع فيه ذلك الجمّ الغفير، والعدد الكثير.

وسمعت من يذكر أنه حرر العدد بالألوف، وذلك مع نباهة من حضره من الأعيان، وأماثل هذا الزمان من النقباء، وقاضي القضاة، والشهود، والفقهاء، وكان يومًا مشهودًا"(2).

 

‌‌مكانته الإِجتماعية:

حاز رضى الناس عامتهم وخاصتهم، بماكان عليه من مكانة علمية، وما يتصف به من فضل وتقى وزهد وورع وحلم وتواضع، فكانوا يجلِّونه ويقدِّرونه ويوقِّرونه، فلما توفي عُطِّلت الأسواق، وأُغلقت المتاجر لشهود جنازته، واجتمع في جنازته جمع لم يُرَ مثله بعد جنازة أبي الحسن القزويني الزاهد،

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة: 2/ 193، والبداية والنهاية: 12/ 94، والوافي بالوفيات: 3/ 7، والكامل لابن الأثير: 10/ 52، ومناقب الإمام أحمد: / 520، والأعلام: 6/ 330، والمنتظم: 8/ 243، وتاريخ بغداد: 2/ 256، وشذرات الذهب: 3/ 306.

(2) طبقات الحنابلة: 2/ 200، والمنتظم: 8/ 244.

অনেক শাস্ত্রে—উসুল (الأصول) ও ফুরু (الفروع) উভয় ক্ষেত্রে—তাঁর সুউচ্চ পদমর্যাদা এবং গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি কুরআন ও কুরআনের বিভিন্ন জ্ঞান, হাদিস এবং ফতোয়া বিষয়ে বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তাঁর সংকলিত গ্রন্থাবলি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর সুখ্যাতি ব্যাপকতা লাভ করেছিল। ফলে তাঁর ছাত্র ও সহচরদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তাঁর উদ্দেশ্যে আসতে শুরু করে(১)।

তাঁর পুত্র কাজী আবু হুসাইন বলেন:

"জামে মানসুরে জুমার নামাজের পর আমাদের ইমাম আহমাদ (রা.)-এর পুত্র আবদুল্লাহর আসনে বসে যখন তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস শ্রুতিলিখনের জন্য বর্ণনা (إملاء) করছিলেন, তখন মানুষ তাঁর মজলিসে ভিড় জমিয়েছিল। তাঁর মজলিসে যারা তাঁর কথা উচ্চস্বরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন (مبلغون) এবং যারা শ্রুতিলিপি লিখছিলেন (مستملون) তাঁরা ছিলেন তিনজন: প্রথমজন আমার মামা আবু মুহাম্মদ জাবির, দ্বিতীয়জন আবু মনসুর আল-আনবারি এবং তৃতীয়জন আবু আলী আল-বারদানি।

শ্রুতিলিখনের (إملاء) মজলিসে উপস্থিত ফকিহদের একটি দল আমাকে জানিয়েছেন যে, প্রবল ভিড়ের কারণে জুমার নামাজের সময় তাঁরা মজলিসের ভেতর মানুষের পিঠের ওপর সিজদা করেছিলেন। সেই সময়ের মানুষেরা আর এমন বিশাল সমাবেশ ও বিপুল জনসমাগম প্রত্যক্ষ করেনি।

আমি কাউকে বলতে শুনেছি যে, তিনি উপস্থিত জনতাকে হাজারে গণনা করেছিলেন। আর সেখানে সমকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যেমন—নকিবগণ, প্রধান বিচারপতি, সাক্ষী এবং ফকিহগণ উপস্থিত ছিলেন। সেটি ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন"(২)।

 

‌‌তাঁর সামাজিক মর্যাদা:

উচ্চতর ইলমি মাকাম এবং শ্রেষ্ঠত্ব, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা (زهد), পরহেজগারি (ورع), সহনশীলতা ও বিনয়ের মতো গুণাবলির কারণে তিনি সাধারণ ও বিশিষ্ট সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। তাঁরা তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করতেন। যখন তাঁর ইন্তেকাল হলো, জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য বাজারসমূহ ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর জানাজায় এমন এক জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছিল, যা দুনিয়াবিমুখ (زاهد) আবু হাসান আল-কাজউয়িনির জানাজার পর আর দেখা যায়নি।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলা: ২/১৯৩; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ১২/৯৪; আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত: ৩/৭; আল-কামিল লিবনিল আসির: ১০/৫২; মানাকিবে ইমাম আহমাদ: ৫২০; আল-আলাম: ৬/৩৩০; আল-মুনতাজাম: ৮/২৪৩; তারিখে বাগদাদ: ২/২৫৬; শাজারাতুজ জাহাব: ৩/৩০৬।

(২) তাবাকাতুল হানাবিলা: ২/২০০; আল-মুনতাজাম: ৮/২৪৪।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
وحضره القضاة والأعيان، وأرباب الدولة، وجماعة الفقهاء والشهود، ومشى في جنازته القاضي أبو عبد اللَّه الدامغاني، ونقيب الهاشميين أبو الفوارس طرَّاد، وأبو منصور بن يوسف وأبو عبد اللَّه بن جردة، وأفطر جماعة ممن تبع جنازته من شدة الحر(1)، والفطر في رمضان من أجل شهود الجنازة -وإن كان غير جائز- فإنه يعطي صورة واضحة لما له في النفوس من مكانة واحترام وتقدير، حيث لم تسمح بالتخلف عنه مع ما لحقها من التعب والمشقة.

 

‌‌آثاره العلمية:

يتجلَّى ذلك في تصانيفه ومؤلفاته التي دوَّنها وتناقلها العلماء، وانتفعوا بها بعدَهُ وفي أصحابه و‌‌تلاميذه الذين نهلوا من علمه ونشروه في الناس بالفتوى والتدريس، وسنشير إلى بعض هؤلاء التلاميذِ والأصحاب وبعض هذه المصنفات.

تلاميذه:

لما تولَّى التدريس بعد شيخه أبي عبد اللَّه الحسن بن حامد، انتشرت اخباره، وذاع صيته وازدحم الناس عليه، وانتفع به خلق كثير، وممن تفقه عليه وأخذ عنه:

أبو الحسين البغدادي، والشريف أبو جعفر، وأبو الغنائم بن الغباري وأبو علي بن البناء، وأبو الوفاء بن الفوارس، والقاضي علي البرديني، والقاضي أبو الفتح بن جبلة، وعلي بن عمرو الضرير الحراني، وأبو ياسر بن الحصري،

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة: 2/ 216.

সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতিগণ (القضاة), গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ফকিহগণ (الفقهاء) ও সাক্ষীগণের এক বিশাল জামাত। তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বিচারক আবু আব্দুল্লাহ আদ-দামাগানি, হাশেমি বংশের নকিব আবু আল-ফাওয়ারিস তাররাদ, আবু মনসুর বিন ইউসুফ এবং আবু আব্দুল্লাহ বিন জুরদাহ। প্রচণ্ড গরমের কারণে জানাজায় অংশগ্রহণকারী একদল লোক রোজা ভেঙে ফেলেছিলেন(১)। জানাজায় উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশ্যে রমজান মাসে রোজা ভেঙে ফেলা—যদিও তা বৈধ নয় (غير جائز)—তবুও এটি মানুষের অন্তরে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান, সম্মান ও শ্রদ্ধার এক সুস্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তোলে; কারণ চরম ক্লান্তি ও কষ্ট সত্ত্বেও তাঁরা তাঁর জানাজা থেকে পিছিয়ে থাকাকে মেনে নিতে পারেননি।

 

‌‌তাঁর ইলমি অবদান:

এটি তাঁর প্রণীত সেই সকল গ্রন্থ ও সংকলনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় যা আলেমগণ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং যুগ যুগ ধরে যা সংরক্ষিত হয়ে আসছে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁরা তা থেকে উপকৃত হয়েছেন। এছাড়াও তাঁর সহচর ও ‌ছাত্রদের মাঝে তা প্রতিফলিত হয়, যারা তাঁর ইলম থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং ফতোয়া ও পাঠদানের মাধ্যমে তা মানুষের মাঝে প্রচার করেছেন। আমরা এখানে তাঁর কয়েকজন ছাত্র ও সহচর এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু রচনার কথা উল্লেখ করব।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

যখন তিনি তাঁর শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন হামিদের পর পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে, তাঁর সুখ্যাতি বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর নিকট মানুষের প্রচণ্ড ভিড় হতে থাকে। অসংখ্য মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। যারা তাঁর নিকট ফিকহ (فقه) শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

আবু আল-হুসাইন আল-বাগদাদি, শরিফ আবু জাফর, আবু আল-গানায়েম বিন আল-গুবারি, আবু আলি বিন আল-বান্না, আবু আল-ওয়াফা বিন আল-ফাওয়ারিস, কাজি আলি আল-বারদিনি, কাজি আবু আল-ফাতহ বিন জাবাল্লাহ, আলি বিন আমর আদ-দারির আল-হাররানি এবং আবু ইয়াসির বিন আল-হুসরি,

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলাহ: ২/ ২১৬।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
وأبو عبد اللَّه الأنماطي، والحسن بن البرداني، وأبو السحن النهري أبو الفتح، وأبو البركات بن شبلي(1) وغير هؤلاء كثير.

 

‌‌وممن سمع منه الحديث:

أحمد بن علي بن ثابت، وعبد العزيز العاصمي النخشبي، وعمر بن أبي الحسن الدهستاني الخياط، وهبة اللَّه بن عبد الوارث الشيرازي، وإسحاق بن عبد الوهاب بن منده الحافظ المقرئ، ومكي بن بجير الهمداني، وعمر الأرموي وأحمد بن الحسن بن خيرون، وابنا خاله: أبو طاهر، وأبو غالب، وأبو علي البرداني، وأبو الغنائم بن النرس الكوفي، وأبو جعفر الأصفهاني، وأبو نصر، وأبو الحسين، وآخرون(2).

 

‌‌مؤلفاته:

لم يقتصر في تأليفه على نوع خاص أو جانب معين من العلوم، بل تناول كثيرًا من العلوم وجوانب متعددة من المعارف، وكانت مؤلفاته كثيرة العدد، جمة المنافع، عظيمة الفائدة، أثرى منها المذهب الحنبلي إثراءً واسعًا حتى قيل إنها التي حفظت على الحنابلة مذهبهم، ومن هذه التصانيف والمؤلفات:

1 - أحكام القرآن

2 - نقل القرآن

3 - إيضاح البيان

4 - مسائل الإيمان

5 - المعتمد

6 - مختصر المعتمد

7 - المقتبس

8 - مختصر المقتبس

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة 2/ 204 و 205.

(2) المرجع السابق 2/ 204.

এবং আবু আবদুল্লাহ আল-আনমাতি, আল-হাসান বিন আল-বারদানি, আবুস সাহান আন-নাহরি আবুল ফাতাহ, এবং আবু আল-বারাকাত বিন শিবলি(১) ও তাঁদের ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন।

 

‌‌যাঁরা তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন:

আহমদ বিন আলী বিন সাবিত, আব্দুল আজিজ আল-আসিমী আন-নাখশাবি, উমর বিন আবিল হাসান আদ-দেহিস্তানি আল-খাইয়াত, হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়ারিস আশ-শিরাজি, ইসহাক বিন আব্দুল ওয়াহাব বিন মান্দাহ আল-হাফিজ (الحافظ) আল-মুকরি (المقرئ), মক্কি বিন বুজাইর আল-হামদানি, উমর আল-আরমাউয়ি এবং আহমদ বিন আল-হাসান বিন খাইরুন, তাঁর দুই মামাতো ভাই: আবু তাহির এবং আবু গালিব, আবু আলী আল-বারদানি, আবু আল-গানাইম বিন আন-নারস আল-কুফি, আবু জাফর আল-ইসফাহানি, আবু নাসর, আবু আল-হুসাইন এবং অন্যান্য(২)।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

তিনি তাঁর গ্রন্থ রচনায় বিজ্ঞানের কোনো বিশেষ শাখা বা নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি বিজ্ঞানের বহু শাখা এবং জ্ঞানের বহুমুখী দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর গ্রন্থাবলি সংখ্যায় অনেক, অত্যন্ত উপকারী এবং মহান ফায়দাপূর্ণ ছিল। এর মাধ্যমে তিনি হাম্বলি মাযহাবকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছিলেন, এমনকি বলা হয় যে, এই গ্রন্থাবলিই হাম্বলিদের নিকট তাঁদের মাযহাবকে সংরক্ষিত রেখেছে। এই সকল গ্রন্থ ও রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১ - আহকামুল কুরআন

২ - নাকলুল কুরআন

৩ - ইজাহুল বয়ান

৪ - মাসাইলুল ঈমান

৫ - আল-মুতামাদ

৬ - মুখতাসার আল-মুতামাদ

৭ - আল-মুকতাবাস

৮ - মুখতাসার আল-মুকতাবাস

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ২০৪ ও ২০৫।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ২/ ২০৪।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২০)
9 - عيون المسائل

10 - الرد على الأشعرية

11 - الرد على الكِرامية

12 - الرد على الباطنية

13 - الرد على المجسمة

14 - الرد على ابن اللبان

15 - إبطال التأويلات لأخبار الصفات

16 - مختصر إبطال التأويلات

17 - الإِنتصار

18 - الكلام في الدستور

19 - الكلام في حروف المعجم

20 - تبرئة معاوية

21 - القطع على خلود الكفار في النار

22 - أربع مقدمات في الأصول والديانات

23 - العدة في أصول الفقه

24 - إثبات إمامة الخلفاء الأربعة

25 - الرسالة إلى إمام الوقت

26 - مختصر العدة

27 - جوابات مسائل وردت من الحرم

28 - جوابات مسائل وردت من تنيس

29 - الكفاية في أصول الفقه

30 - جوابات مسائل وردت من ميافارقين

31 - جوابات مسائل وردت من اصفهان

32 - مختصر الكفاية

33 - إيجاب الصيام ليلة الإِغماء

34 - تفضيل الفقر على الغنى

35 - الأحكام السلطانية

36 - فضائل أحمد

37 - مختصر الصيام

38 - مقدمة في الأدب

39 - كتاب اللباس

40 - الأمر بالمعروف

41 - شروط أهل الذمة

42 - الاختلاف في [الذبيح]

43 - التوكل

44 - [ذم] الغناء

45 - فضل ليلة الجمعة على ليلة القدر

46 - أبطال الحيل

47 - تكذيب الخيايرة فيما يدعون من إسقاط الجزية.

48 - الفرق بين الآل والأهل

49 - المجرد في المذهب

50 - شرح الخرقي
9 - উয়ুনুল মাসায়েল

10 - আশআরীবাদের খণ্ডন

11 - কাররামীবাদের খণ্ডন

12 - বাতেনীবাদের খণ্ডন

13 - মুজাসসিমাহ (দেহবাদী)-দের খণ্ডন

14 - ইবনুল লাব্বানের খণ্ডন

15 - সিফাত (আল্লাহর গুণাবলি) সংক্রান্ত বর্ণনা (أخبار) সমূহের অপব্যাখ্যার অসারতা প্রমাণ

16 - ইবতালুত তাবিলাতের সংক্ষিপ্ত সার

17 - আল-ইনতিসার

18 - আদ-দুস্তুর প্রসঙ্গে আলোচনা

19 - বর্ণমালার হরফসমূহ প্রসঙ্গে আলোচনা

20 - মুয়াবিয়ার নির্দোষিতা প্রমাণ

21 - জাহান্নামে কাফেরদের চিরস্থায়ী হওয়ার অকাট্য প্রমাণ

22 - উসুল ও ধর্মবিশ্বাস বিষয়ক চারটি ভূমিকা

23 - আল-উদ্দাহ ফি উসুলিল ফিকহ

24 - চার খলিফার ইমামত প্রমাণ

25 - সমকালীন ইমামের প্রতি পত্র

26 - আল-উদ্দাহর সংক্ষিপ্ত সার

27 - হারামাইন হতে আগত মাসয়ালাসমূহের উত্তর

28 - তিন্নীস হতে আগত মাসয়ালাসমূহের উত্তর

29 - আল-কিফায়া ফি উসুলিল ফিকহ

30 - মায়াফারিকিন হতে আগত মাসয়ালাসমূহের উত্তর

31 - ইসফাহান হতে আগত মাসয়ালাসমূহের উত্তর

32 - আল-কিফায়ার সংক্ষিপ্ত সার

33 - অজ্ঞান হওয়ার রাতে সিয়াম আবশ্যক হওয়া প্রসঙ্গে

34 - সচ্ছলতার ওপর দারিদ্র্যের শ্রেষ্ঠত্ব

35 - আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ

36 - আহমদের ফযিলতসমূহ

37 - সিয়াম বিষয়ক সংক্ষিপ্ত সার

38 - আদব বিষয়ক ভূমিকা

39 - কিতাবুল লিবাস

40 - সৎ কাজের আদেশ

41 - জিম্মিদের শর্তাবলি

42 - [জবেহকৃত ব্যক্তি] বিষয়ক মতভেদ

43 - তাওয়াক্কুল

44 - বাদ্য-সংগীতের [নিন্দা]

45 - লাইলাতুল কদরের ওপর জুমার রাতের শ্রেষ্ঠত্ব

46 - হিলা বা কূটকৌশলের অসারতা

47 - জিজিয়া রহিত করার বিষয়ে খায়ায়িরাহদের দাবির অসারতা প্রতিপন্নকরণ।

48 - আল ও আহলের মধ্যে পার্থক্য

49 - আল-মুজাররাদ ফিল মাযহাব

50 - শরহু খিরাকী
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২১)
51 - الجامع الصغير

52 - شرح المذهب

53 - الخصال والأقسام

54 - الخلاف الكبير

55 - قطعة من الجامع الكبير فيها الطهارة، وبعض الصلاة، والنكاح، والصداق والخلع، والوليمة، والطلاق(1).

 

‌‌زهده وورعه:

كان زاهدًا ورعًا، تقيًّا، متعفِّفًا، تعرضت له الدنيا بمفاتنها مرات عديدة فرفضها ولم يقبلها، واكتفى منها بما يصلح حاله، وشد رمقه، فلم يقبل من حاكم صلة أو عطية، ذهب إلى الخليفة القائم بأمر اللَّه يومًا ليهنئه بالشفاء من مرضٍ أصابه، فلما خرج من عنده أتبع بجائزة سنية فلم يقبلها(2).

ولم يُعرف عنه أنَّه وقف بباب حاكم أو سلطان من أجل الدنيا(3)، مع فقره وحاجته، فقد كان يمر به أوقات يقتات الخبز اليابس يبلّه بالماء ويأكله حتى لحقه المرض بسبب ذلك(4)، وكان ينهى دائمًا عن مخالطة أبناء الدنيا، والنظر إليهم والإجتماع بهم، ويأمر بمخالطة الصالحين، والإِشتغال بالعلم، لما قدم الوزير ابن دارست إلى بغداد ذهب أحد تلاميذ أبي يعلى، أبو الحسن النهري ليبصره، فلمّا علم عنفه وأنكر عليه إنكارًا شديدًا وقال: ويحك تمضي وتنظر إلى الظَّلمة(5).

وعُرض عليه منصب القضاء عدة مرات فلم يقبله، وهذا أكبر دليل على ورعه وزهده في الدنيا، وعدم الافتتان بمظاهرها، وإلَّا لما فوّت ما يمر به من

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة 2/ 205 و 206.

(2) طبقات الحنابلة 2/ 223.

(3) المرجع السابق 2/ 203.

(4) المرجع السابق 2/ 223.

(5) المرجع السابق 2/ 222.

৫১ - আল-জামি আস-সাগির

৫২ - শারহুল মাজহাব

৫৩ - আল-খিসাল ওয়াল আকসাম

৫৪ - আল-খিলাফ আল-কাবির

৫৫ - আল-জামি আল-কাবিরের একটি খণ্ড যাতে পবিত্রতা (طهارة), নামাজের কিছু অংশ, বিবাহ (نكاح), মোহরানা ও বিচ্ছেদ (خلع), ওয়ালিমা এবং তালাক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে(১)।

 

‌‌তাঁর দুনিয়াবিমুখতা (زهد) ও খোদাভীতি (ورع):

তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ (زاهد), পরহেজগার (ورع), মুত্তাকি (تقي) এবং অত্যন্ত সংযমী (متعفف)। দুনিয়া তার সমস্ত চাকচিক্য নিয়ে বহুবার তাঁর সামনে উপস্থিত হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং গ্রহণ করেননি। তিনি দুনিয়া থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করতেন যা তাঁর জীবন ধারণের জন্য এবং প্রাণ বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি কোনো শাসকের উপঢৌকন বা দান গ্রহণ করতেন না। একদিন তিনি খলিফা আল-কায়েম বি-আমরিল্লাহর নিকট তাঁর রোগমুক্তি উপলক্ষে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট থেকে বেরিয়ে আসলেন, তখন তাঁর পেছনে একটি মূল্যবান পুরস্কার পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি(২)।

দারিদ্র্য ও অভাব থাকা সত্ত্বেও পার্থিব কোনো স্বার্থে তিনি কোনো শাসক বা সুলতানের দরবারে গিয়েছেন বলে জানা যায় না(৩)। এমনকি তাঁর ওপর দিয়ে এমন সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন তিনি শুকনো রুটি পানিতে ভিজিয়ে খেতেন, যার ফলে এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন(৪)। তিনি সর্বদা পার্থিব লোভী ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা করা, তাদের দিকে তাকানো এবং তাদের সাথে সমবেত হওয়া থেকে নিষেধ করতেন। তিনি সৎকর্মশীলদের সংস্পর্শে থাকা এবং ইলম চর্চায় নিমগ্ন হওয়ার নির্দেশ দিতেন। যখন উজির ইবনে দারস্ত বাগদাদে আসলেন, তখন আবু ইয়া’লার জনৈক ছাত্র আবু আল-হাসান আন-নাহরি তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। যখন তিনি (আবু ইয়া’লা) বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন অত্যন্ত কঠোরভাবে এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানালেন এবং বললেন: ‘ধিক তোমাকে! তুমি যাচ্ছো এবং জালেমদের দিকে তাকাচ্ছো?’(৫)।

তাঁকে কয়েকবার বিচারকের (قضاء) পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। এটিই তাঁর খোদাভীতি (ورع) এবং দুনিয়াবিমুখতার (زهد) সবচেয়ে বড় প্রমাণ এবং পার্থিব চাকচিক্যের প্রতি মোহগ্রস্ত না হওয়ার দলিল। নতুবা তিনি তাঁর নিকট দিয়ে অতিবাহিত হওয়া সুযোগগুলো হাতছাড়া করতেন না...

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ২০৫ ও ২০৬।

(২) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ২২৩।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ২/ ২০৩।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস ২/ ২২৩।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস ২/ ২২২।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২২)
فُرصها الثمينة التي تضفي على أقلِّ منه مكانة العظمة والجلال.

وبزهده وورعه وفضله شهد العلماء.

قال فيه أبو نصر عبيد اللَّه بن سعيد السجزي الحافظ:

حللت عن التصنع في وداد … فلم تر في توددك اعوجاجا

وقد كثر المداجي والمرائي … فلا تحفل بمن رأى وداجا

حييت معمرًا وجزيت خيرًا … وعشت لدين ذي التقوى سراجا

وقال فيه الذهبي:

". . . وكان ذا عبادة وتهجد، وملازمة للتصنيف، مع الجلالة والمهابة، وكان متعففًا نزيه النفس، كبير القدر، ثخين الورع"(1).

وقال فيه ابن الجوزي:

". . . وجمع الإمامة والعفة والصدق وحسن الخلق والتعبد والتقشف والخضوع وحسن السمت والصمت عما لا يعني"(2).

 

‌‌أعماله:

قضى معظم عمره في التدريس والإِملاء والقراءة والتأليف. وكان زاهدًا في أعمال الدولة ومناصبها، فلم يتولَّ منها غير القضاء في آخر عمره بعد إلحاحٍ شديد، وبشروط اشترطها لنفسه كما سيأتي.

 

‌‌توليه التدريس:

كان الشيخ أبو عبد اللَّه الحسن بن حامد، هو الذي يقوم بتدريس الفقه

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 12/ 333.

(2) المنتظم 8/ 243 و 244.

এর মূল্যবান সুযোগগুলো, যা তাঁর চেয়ে কম মর্যাদার ব্যক্তিকেও মহত্ত্ব ও গাম্ভীর্যের আসনে আসীন করে।

তাঁর দুনিয়াবিমুখতা (زهد), তাকওয়া (ورع) এবং শ্রেষ্ঠত্বের (فضل) ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তাঁর সম্পর্কে হাফেজ (الحافظ) আবু নাসর উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ আস-সিজজি বলেছেন:

আপনি ভালোবাসার ক্ষেত্রে কৃত্রিমতা পরিহার করেছেন … ফলে আপনার সৌহার্দ্যে কোনো বক্রতা দেখা যায়নি

স্তাবক ও লোক-দেখানো মানুষের সংখ্যা বেড়েছে … তাই যারা কপটতা দেখায় তাদের ভ্রূক্ষেপ করবেন না

আপনি দীর্ঘজীবী হোন এবং উত্তম প্রতিদান লাভ করুন … আর মুত্তাকিদের দ্বীনের জন্য আপনি প্রদীপ হয়ে বেঁচে থাকুন

তাঁর সম্পর্কে আজ-জাহাবি বলেছেন:

". . . তিনি ছিলেন ইবাদত ও তাহাজ্জুদে মগ্ন এবং নিয়মিত গ্রন্থ রচনায় রত, একইসাথে তিনি ছিলেন মহিমা ও গাম্ভীর্যের অধিকারী। তিনি ছিলেন পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং গভীর তাকওয়ার (ورع) অধিকারী"(১)।

তাঁর সম্পর্কে ইবনুল জাওজি বলেছেন:

". . . তিনি একাধারে ইমামত (الإمامة), পবিত্রতা, সত্যবাদিতা (الصدق), উত্তম চরিত্র, ইবাদত-বন্দেগি, কৃচ্ছ্রসাধন, বিনয়, গাম্ভীর্যপূর্ণ চালচলন এবং অনর্থক বিষয়ে নীরবতা বজায় রাখতেন"(২)।

 

‌‌তাঁর কর্মজীবন:

তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় শিক্ষাদান, হাদিস শ্রুতলিপি প্রদান (إملاء), পাঠদান ও গ্রন্থ রচনায় অতিবাহিত করেছেন। রাষ্ট্রীয় কাজ ও পদের প্রতি তিনি বিমুখ (زاهد) ছিলেন; ফলে শেষ বয়সে অনেক পীড়াপীড়ির পর এবং নিজের পক্ষ থেকে আরোপিত কিছু শর্ত সাপেক্ষে বিচারকের দায়িত্ব পালন করা ছাড়া তিনি আর কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেননি, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকতা জীবন:

শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন হামিদ ফিকহ শাস্ত্রের পাঠদান করতেন।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/৩৩৩।

(২) আল-মুনতাজাম ৮/২৪৩ ও ২৪৪।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
والأصول على مذهب الإمام أحمد في وقتط أبي يعلى، فقصده وتتلمذ عليه كما سبقت الإشارة الى ذلك.

ولمَّا أراد الشيخ بن حامد أن يحج عام 402 اثنتين وأربعمائة، سُئِلَ عمن يتولى التدريس أثناء غيابه، فأشار إلى القاضي أبي يعلى، وقال هذا الفتى(1).

ولمَّا رجع ابن حامد من الحج توفي في الطريق وذلك عام 403 ثلاث وأربعمائة(2)، فتولى أبو يعلى التدريس والافتاء مكانه في جامع المنصور على كرسي عبد اللَّه بن أحمد(3).

وفي عام 414 أربع عشرة وأربعمائة، سافر الى مكة لأداء فريضة الحج ثم عاد -بعد رجوعه- الى مواصلة التدريس، والتأليف والإِفتاء،(4) فذاع صيته وانتشرت أخباره، وازدحم الناس عليه يسمعون منه ويسألون عما يشكل عليهم، ويقرأون عليه ويكتبون عنه، وقد نقلت عند ذكر مكانته العلمية عن إبنه أبي الحسين حكاية ما كان عليه مجلسه من الزحام، وما كان يحضرهُ من الأعيان والنقباء والشهود والقضاة والفقهاء.

وقد تخرج على يديه الجمع الغفير من فقهاء الحنابلة، ومن أبرزهم أبو الوفاء بن عقيل، وأبو الخطاب الكولذاني، والخطيب البغدادي ، وغيرهم ممن تقدم ذكرهم عند ذكر تلاميذه.

 

‌‌توليه القضاء:

لمَّا توفي رئيس القضاة إبن ماكولا عام 447 سبع وأربعين وأربعمائة(5)، شغر منصبه في القضاء فخوطب أبو يعلى لِيَلي القضاء بدار الخلافة والحريم،

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة 2/ 195.

(2) شذرات الذهب 3/ 166، والمنتظم 7/ 267، وطبقات الحنابلة 2/ 196.

(3) طبقات الحنابلة 2/ 200.

(4) طبقات الحنابلة 2/ 196.

(5) شذرات الذهب 3/ 275.

এবং ইমাম আহমদের মাযহাব অনুযায়ী উসুল (الأصول) শাস্ত্র আবু ইয়া'লার সময়ে [বিখ্যাত ছিল], তাই তিনি তাঁর সংকল্প করেন এবং তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন যেমনটি পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

যখন শায়খ ইবনে হামিদ ৪০২ হিজরি সনে হজের ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে কে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি কাযী আবু ইয়া'লার দিকে ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন, "এই যুবকটি।"(১)

যখন ইবনে হামিদ হজ থেকে ফিরছিলেন, তখন ৪০৩ হিজরি সনে পথিমধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন(২)। ফলে আবু ইয়া'লা মানসুর জামে মসজিদে আবদুল্লাহ বিন আহমদের আসনে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে পাঠদান ও ফতোয়া প্রদান (الإفتاء)-এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।(৩)

অতঃপর ৪১৪ হিজরি সনে তিনি পবিত্র হজ পালনের জন্য মক্কায় সফর করেন এবং প্রত্যাবর্তনের পর পুনরায় পাঠদান, গ্রন্থনা ও ফতোয়া প্রদান (الإفتاء)-এর কাজ চালিয়ে যান।(৪) এতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর সংবাদ চতুর্দিকে বিস্তৃতি লাভ করে। মানুষ তাঁর কাছে ভিড় জমাতে শুরু করে, তারা তাঁর থেকে শ্রবণ করত এবং জটিল বিষয়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত। তারা তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করত এবং তাঁর থেকে লিপিবদ্ধ করত। তাঁর ইলমি মর্যাদা বর্ণনার সময় আমি তাঁর পুত্র আবু আল-হুসাইনের বর্ণনা থেকে তাঁর মজলিসে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, নেতৃবৃন্দ, সাক্ষীগণ, বিচারকগণ (القضاة) এবং ফকিহগণের (الفقهاء) উপস্থিতির বিষয়টি উদ্ধৃত করেছি।

তাঁর অধীনে হাম্বলি মাযহাবের বহু সংখ্যক ফকিহ (فقهاء) শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল, আবু আল-খাত্তাব আল-কালওয়াযানী, আল-খতিব আল-বাগদাদি এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যাদের নাম তাঁর ছাত্রদের তালিকায় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‌‌তাঁর বিচারিক দায়িত্ব (القضاء) গ্রহণ:

যখন ৪৪৭ হিজরি সনে প্রধান বিচারপতি (رئيس القضاة) ইবনে মাকুলা ইন্তেকাল করেন(৫), তখন বিচারপতির পদটি শূন্য হয়ে যায়। তখন আবু ইয়া'লাকে খিলাফত ভবন ও হারেম এলাকার বিচারিক দায়িত্ব (القضاء) গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ১৯৫।

(২) শাজারাতুজ জাহাব ৩/ ১৬৬, আল-মুনতাযাম ৭/ ২৬৭, এবং তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ১৯৬।

(৩) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ২০০।

(৪) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ১৯৬।

(৫) শাজারাতুজ জাহাব ৩/ ২৭৫।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
فامتنع ثم كرر عليه فقبل بشروط اشترطها لنفسه منها:

1 - ألا يحضر أيام المواكب الشريفة.

2 - ألا يخرج في الإستقبالات.

3 - ألا يقصد دار السلطان.

4 - وفي كل شهر يقصد نهر المعلى يومًا وباب الأزج يومًا ويستخلف من ينوب عنه في الحريم، فأُجيب إلى ذلك(1).

وقُلد القضاء في الدماء، والفروج، والأموال، ثم أُضيف الى ولايته قضاء حرّان، وحلوان، فاستناب فيهما(2).

وقد استعان بمن يثق به فردّ إليهم القضاء في بعض الأبواب، فجعل القضاء بباب الأزج إلى الجيلي. ثم عزله لعدم صلاحيته، وجعل النظر في عقُود الأنكحة والمداينات بباب الأزج إلى تلميذه أبي علي يعقوب، وجعل النظر في العقارات بباب الأزج أيضًا إلى أبي عبد اللَّه البقال، واستناب بدار الخلافة ونهر المعلى: أبا الحسن السيبي.

وظل أبو يعلى على منصبه في القضاء إلى أن توفي(3).

 

‌‌وفاته:

بعد حياة حافلة بالعلم والعمل، ونشر العلم بالتدريس والفتوى والكتابة والتأليف، توفي القاضي أبو يعلى بمدينة بغداد، وذلك ليلة الاثنين التاسع عشر من شهر رمضان المبارك عام 458 ثمان وخمسين وأربعمائة هجرية،

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة 2/ 198.

(2) المرجع السابق 2/ 199.

(3) طبقات الحنابلة 2/ 200.

তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেন, এরপর তাকে পুনরায় অনুরোধ করা হলে তিনি নিজের জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করে তা গ্রহণ করলেন, যার মধ্যে ছিল:

১ - তিনি সম্মানীয় রাজকীয় শোভাযাত্রার দিনগুলোতে উপস্থিত থাকবেন না।

২ - তিনি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিতে বের হবেন না।

৩ - তিনি সুলতানের প্রাসাদে যাতায়াত করবেন না।

৪ - তিনি প্রতি মাসে একদিন নহরুল মুয়াল্লায় এবং একদিন বাবুল আজজে যাবেন এবং হারামে (খলিফার অন্দরমহলে) তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করবেন। তার এই শর্তগুলো মেনে নেওয়া হলো(১)।

তাকে হত্যা ও রক্তপাত, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং সম্পদ সংক্রান্ত বিচারিক (قضاء) দায়িত্ব প্রদান করা হলো। পরবর্তীতে তার বিচারিক আওতায় হাররান ও হুলওয়ানকেও যুক্ত করা হলো এবং তিনি এই দুই স্থানে তার প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন(২)।

তিনি যাদের ওপর আস্থা রাখতেন তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করলেন এবং কিছু বিচারিক বিষয় তাদের নিকট ন্যস্ত করলেন। তিনি বাবুল আজজ এলাকার বিচারকার্য আল-জাইলির ওপর ন্যস্ত করেন। পরবর্তীতে তার অযোগ্যতার কারণে তাকে অপসারিত করেন এবং বাবুল আজজের বিবাহ চুক্তি ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব তার ছাত্র আবু আলী ইয়াকুবকে প্রদান করেন। এছাড়াও বাবুল আজজের স্থাবর সম্পত্তির বিষয়গুলো আবু আব্দুল্লাহ আল-বাক্কালকে অর্পণ করেন এবং খিলাফত ভবন ও নহরুল মুয়াল্লায় আবু হাসান আল-সাইবিকে তার প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন।

আবু ইয়ালা তার মৃত্যু পর্যন্ত বিচারকের (قضاء) পদে বহাল ছিলেন(৩)।

 

‌‌ইন্তেকাল:

জ্ঞান অর্জন ও আমল এবং দরস-তাদরিস, ফতোয়া প্রদান ও লিখনী-রচনার মাধ্যমে জ্ঞান প্রচারের এক কর্মমুখর জীবন অতিবাহিত করার পর, বিচারক আবু ইয়ালা বাগদাদ শহরে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যু হয়েছিল ৪৫৮ হিজরি সালের ১৯ শে রমজান মুবারক, সোমবার দিবাগত রাতে।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ১৯৮।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ২/ ১৯৯।

(৩) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/ ২০০।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
وصلى عليه ابنه أبو القاسم يوم الاثنين بجامع المنصور(1)، ودُفِن بمقبرة حرب(2)، وقد عطلت الأسواق واجتمع في جنازته جمع لم ير مثله، وحضره القضاة والأعيان، وأرباب الدولة، وجماعة الفقهاء، والشهود، وكان قد أوصى أن يغسله الشريف أبو جعفر، وأن يُكفن بثلاثة أثواب، وألا يُدفن معه إلا ما عَزله لنفسه من الأكفان، وألا يخرق عليه ثوب ولا يقعد لعزاء(3).

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة 2/ 216.

(2) تاريخ بغداد 2/ 251، والمنتظم 8/ 244.

(3) المنتظم 8/ 244.

সোমবার দিন মানসুর জামে মসজিদে তাঁর পুত্র আবুল কাসিম তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান(১) এবং তাঁকে হারব কবরস্থানে দাফন করা হয়(২)। (তাঁর মৃত্যুতে) বাজারসমূহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং তাঁর জানাজায় এমন এক বিশাল জনসমাগম হয়েছিল যার সদৃশ আর দেখা যায়নি। সেখানে বিচারপতিগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, ফকিহগণের জামাত এবং সাক্ষ্যদানকারীগণ উপস্থিত ছিলেন। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন শরিফ আবু জাফর তাঁকে গোসল করান এবং তাঁকে তিনটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়; আর তাঁর সঙ্গে যেন কেবল সেই কাপড়গুলোই দাফন করা হয় যা তিনি নিজের জন্য কাফন হিসেবে আলাদা করে রেখেছিলেন। এছাড়া তাঁর জন্য যেন কোনো কাপড় ছেঁড়া না হয় এবং শোক পালনের উদ্দেশ্যে যেন বসা না হয়(৩)।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলা ২/২১৬।

(২) তারিখ বাগদাদ ২/২৫১ এবং আল-মুনতাজাম ৮/২৪৪।

(৩) আল-মুনতাজাম ৮/২৪৪।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌التعريف بالكتاب:

ويشمل:

 

1 -‌‌ اسم الكتاب

2 -‌‌ نسبته إلى المؤلف

3 - نسخه

4 - قيمته العلمية.

5 - مادته العلمية.

 

اسم الكتاب:

" كتاب الروايتين والوجهين"

 

نسبته إلى المؤلف:

تظافرت الأدلة على صحة نسبته إليه فمن ذلك:

أ- أنه منسوب إليه في نفس المخطوطة، ولم أجد من نسبه إلى غيره أو ذكر خلافًا في نسبته إليه.

ب- نسبه إليه عددٌ من المتقنين، منهم:

1 - إبنه أبو الحسين صاحب طبقات الحنابلة في الطبقات(1)، في ترجمة أبيه أبي يعلى.

2 - أبو الفرج عبد الرحمن بن شهاب الدين أحمد البغدادي صاحب ذيل طبقات الحنابلة في ذيل الطبقات(2)، في ترجمة أبى الحسين محمد بن أبي يعلى.

3 - العليمي في المنهج الأحمد(3)، في ترجمة القاضي أبي يعلى وترجمة ابنه أبي الحسين.

--------------------------------------------

(1) 2/ 205.

(2) 1/ 177.

(3) 2/ 112 و 236.

‌গ্রন্থের পরিচিতি:

যা অন্তর্ভুক্ত করে:

 

১ -‌‌ গ্রন্থের নাম

২ -‌‌ লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধযুক্ততা

৩ - এর পাণ্ডুলিপিসমূহ

৪ - এর ইলমি গুরুত্ব।

৫ - এর ইলমি বিষয়বস্তু।

 

গ্রন্থের নাম:

"কিতাবুর রেওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাঈন"

 

লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধযুক্ততা:

লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধযুক্ততার বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে বহু প্রমাণ বিদ্যমান, যার মধ্যে রয়েছে:

ক- পাণ্ডুলিপিতেই এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি একে অন্য কারো প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন অথবা এর সম্বন্ধযুক্ততা নিয়ে কোনো মতভেদ উল্লেখ করেছেন।

খ- একদল দক্ষ বিশেষজ্ঞ (المتقنين) একে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - তাঁর পুত্র আবু আল-হুসাইন, যিনি 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' গ্রন্থের লেখক, তিনি তাঁর 'তাবাকাত'(১) গ্রন্থে তাঁর পিতা আবু ইয়া'লার জীবনীতে (ترجمة) এটি উল্লেখ করেছেন।

২ - আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান বিন শিহাবুদ্দিন আহমদ আল-বাগদাদি, যিনি 'যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ' গ্রন্থের লেখক, তিনি তাঁর 'যাইলুত তাবাকাত'(২) গ্রন্থে আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আবু ইয়া'লার জীবনীতে (ترجمة) এটি উল্লেখ করেছেন।

৩ - আল-উলাইমি তাঁর 'আল-মানহাজুল আহমাদ'(৩) গ্রন্থে কাযী আবু ইয়া'লার জীবনী (ترجمة) এবং তাঁর পুত্র আবু আল-হুসাইনের জীবনীতে (ترجمة) এটি উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ২/ ২০৫।

(২) ১/ ১৭৭।

(৩) ২/ ১১২ এবং ২৩৬।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
4 - المرداوي في مقدمة الإِنصاف(1) ذكره ضمن المتون التي نقل منها.

5 - ابن العماد في شذرات الذهب(2) في ترجمة أبي الحسين محمد بن أبي يعلى.

6 - الذهبي في تاريخ الإِسلام(3)، في ترجمة أبي يعلى.

جـ- كثيرًا ما يقول المؤلف: "قال شيخنا أبو عبد اللَّه" وشيخ أبي يعلى هو: أبو عبد اللَّه الحسن بن حامد.

د- نقل أبو الحسين محمد بن أبي يعلى في طبقات الحنابلة(4)، في ترجمة أحمد بن العباس بن الأشرس، نصًا من كِتاب الروايتين منسوبًا إلى أبيه فقال: "فنقلت من كتاب الروايتين للوالد السعيد، قال: واختلفت الرواية في الخنثى إذا مات".

فنقل أحمد بن أبي عبدة: أنه ييمم، لأنه يحتمل أن يكون ذكرًا فلا يغسله النساء، ويَحتمل أن يكون أُنثى فلا يغسله الرجال.

ونقل أحمد بن أشرس: أنه يغسله الرجال ويصلُّون عليه، ومعناه: أنه يُغَسل من فوق ثوب، كما قلنا في الرجل إذا مات بين النساء، والمرأة بين الرجال، انتهى.

وهذا نص عبارة كتاب "الروايتين والوجهين"(5)، في الجنائز، في مسألة تغسيل الخنثى.

--------------------------------------------

(1) 1/ 13.

(2) 4/ 79.

(3) الورقة (194) من الجزء (12) من النسخة التركية رقم (2917) مكتبة أحمد الثالث. الموجود صورتها في المكتبة المركزية بجامعة الإمام محمد بن سعود الإِسلامية برقم (802/ ف).

(4) 1/ 53.

(5) الورقة (33) في المخطوطة وص 109 من المطبوع.

4 - আল-মারদাউই 'আল-ইনসাফ'-এর ভূমিকায়(১) এটিকে এমন মূল পাঠ্য (متون) সমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন যেখান থেকে তিনি উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

5 - ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে(২) আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আবু ইয়ালা-র জীবনী (ترجمة) আলোচনায় এটি উল্লেখ করেছেন।

6 - আয-যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে(৩), আবু ইয়ালা-র জীবনী (ترجمة) আলোচনায় এটি উল্লেখ করেছেন।

গ- লেখক প্রায়ই বলেন: "আমাদের শায়খ (شيخ) আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন", আর আবু ইয়ালা-র শায়খ (شيخ) হলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে হামিদ।

ঘ- আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আবু ইয়ালা 'তাবাকাতুল হানাবিলা' গ্রন্থে(৪), আহমদ ইবনুল আব্বাস ইবনুল আশরাস-এর জীবনী (ترجمة) আলোচনায়, তাঁর পিতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে 'কিতাবুর রিওয়ায়াতাইন' থেকে একটি মূল পাঠ (نص) উদ্ধৃত করে বলেন: "আমি আমার সৌভাগ্যবান পিতার 'কিতাবুর রিওয়ায়াতাইন' থেকে উদ্ধৃত করছি, তিনি বলেছেন: খুনসা (উভয় লিঙ্গ) ব্যক্তি মারা গেলে তার ব্যাপারে বর্ণনা (رواية) ভিন্ন ভিন্ন এসেছে।"

অতঃপর আহমদ ইবনে আবু আবদাহ উদ্ধৃত করেছেন যে: তাকে তায়াম্মুম করানো হবে, কারণ তার পুরুষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, ফলে মহিলারা তাকে গোসল দিবে না; আবার তার নারী হওয়ার সম্ভাবনাও আছে, ফলে পুরুষরা তাকে গোসল দিবে না।

আর আহমদ ইবনে আশরাস উদ্ধৃত করেছেন যে: পুরুষরা তাকে গোসল দিবে এবং তার জানাজার নামাজ পড়বে। এর অর্থ হলো: তাকে কাপড়ের ওপর দিয়ে গোসল করানো হবে, যেমনটি আমরা ঐ পুরুষের ক্ষেত্রে বলেছি যে নারীদের মাঝে মারা যায় এবং ঐ নারীর ক্ষেত্রে যে পুরুষদের মাঝে মারা যায়। সমাপ্ত।

আর এটিই হলো 'জানাজা' অধ্যায়ে খুনসা-কে গোসল দেওয়ার মাসআলার ক্ষেত্রে 'আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাঈন' গ্রন্থের মূল পাঠের (نص) ইবারত (عبارة)(৫)।

--------------------------------------------

(১) ১/ ১৩।

(২) ৪/ ৭৯।

(৩) ২৯১৭ নম্বর তুর্কি অনুলিপি (نسخة)-র ১২তম খণ্ডের ১৯৪তম পৃষ্ঠা (ورقة), আহমদ আস-সালিহ লাইব্রেরি। যার একটি কপি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে (৮০২/ ফ) নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে।

(৪) ১/ ৫৩।

(৫) পাণ্ডুলিপি (مخطوطة)-র ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠা (ورقة) এবং মুদ্রিত কপির ১০৯ নম্বর পৃষ্ঠা।

(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولعله بعدما تقدم لا يبقى مجال للشك في أن كتاب "الروايتين والوجهين" للقاضي أبي يعلى.

 

‌‌قيمته العلمية:

هذا الكتاب -حسب معرفتي- هو الوحيد من نوعه، من حيث العناية بالروايات الواردة عن الإِمام أحمد، وجمعها وإفرادها في مؤلف مستقل، مع توجيهها والإِستدلال لها، وبيان الراجح منها، جمع فيه المؤلف ما يقارب ألف مسألة، وذكر في كل مسألة روايتين أو وجهين، مع الإِستدلال لكل رواية أو وجه بدليل أو أكثر من الكتاب أو السنة أو أقوال الصحابة أو التابعين، أو ذكر وجه ذلك من قياس أو تعليل مع بيان ما يرى أنه الراجح أو المذهب، ويذكر في بعض المسائل، من يقول بكل رواية أو وجه من الأصحاب، لذا فهو -في نظري- يعتبر من أهم المصادر في المذهب الحنبلي التي لا تزال المكتبات الاسلامية والباحثون الاسلاميون ورواد المكتبات بأمس الحاجة إليها.

 

‌‌مادته العلمية:

يشتمل الكتاب على:

1 - فقه

2 - أصول فقه

3 - عقائد

 

‌‌الجزء الأول:

الفقه وهو الجزء الأكبر من الكتاب وتبلغ صفحاته 466 ستا وستين وأربعمائة صفحة، وقد تم تحقيقه للحصول على درجة الدكتوراه.

 

‌‌الجزء الثاني:

الأصول، وتبلغ صفحاته 30: ثلاثين صفحة وهو الجزء الذي بين أيدينا.

 

‌‌الجزء الثالث:

العقائد: وتبلغ صفحاته، 20: عشرين صفحة، وسأبدأ بتحقيقه إن شاء اللَّه إكمالًا للفائدة من الكتاب، أرجو اللَّه أن يمن بإنجازه ويعم بنفعه إنه ولي ذلك والقادر عليه.
সম্ভবত উপরের আলোচনার পরে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, "আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাঈন" গ্রন্থটি কাজী আবু ইয়া'লার।

 

‌‌এর জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব:

আমার জানামতে এই গ্রন্থটি এর ধরনের মধ্যে অনন্য, বিশেষ করে ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর (الروايات) প্রতি বিশেষ যত্ন প্রদান, সেগুলো একত্রিত করা এবং একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে বিন্যস্ত করার দিক থেকে। সেই সাথে লেখক এগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান, সপক্ষে দলিল পেশ এবং সেগুলোর মধ্য থেকে অধিকতর অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি বর্ণনা করেছেন। এতে লেখক প্রায় এক হাজার মাসয়ালা একত্রিত করেছেন এবং প্রতিটি মাসয়ালায় দুটি বর্ণনা (روايتين) বা দুটি অভিমত (وجهين) উল্লেখ করেছেন। সাথে প্রতিটি বর্ণনা (رواية) বা অভিমতের (وجه) জন্য কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবী বা তাবেয়ীদের উক্তি হতে এক বা একাধিক প্রমাণ পেশ করেছেন, অথবা সেটির ভিত্তি হিসেবে তুলনা (قياس) বা কার্যকারণ (تعليل) উল্লেখ করেছেন এবং সেইসাথে লেখক যেটিকে অধিকতর অগ্রগণ্য (الراجح) বা মাযহাব বলে মনে করেন তা স্পষ্ট করেছেন। তিনি কোনো কোনো মাসয়ালায় আসহাব বা অনুসারীদের মধ্যে কে কোন বর্ণনা (رواية) বা অভিমত (وجه) গ্রহণ করেছেন তাও উল্লেখ করেন। তাই আমার দৃষ্টিতে এটি হাম্বলী মাযহাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত, যা ইসলামি লাইব্রেরি, গবেষক ও পাঠকদের নিকট এখনও অপরিহার্য।

 

‌‌এর বিষয়বস্তু:

গ্রন্থটি অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - ফিকহ

২ - উসূলে ফিকহ (أصول فقه)

৩ - আকিদা (عقائد)

 

‌‌প্রথম খণ্ড:

ফিকহ; এটি গ্রন্থের বৃহত্তম অংশ এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৬৬। এটি পিএইচডি ডিগ্রির জন্য সম্পাদিত (تحقيق) হয়েছে।

 

‌‌দ্বিতীয় খণ্ড:

উসূল (الأصول), এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩০ এবং এটিই বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা অংশ।

 

‌‌তৃতীয় খণ্ড:

আকিদা (العقائد); এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০। আমি এই গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ উপকারিতা অর্জনের লক্ষ্যে ইনশাআল্লাহ এর সম্পাদনার (تحقيق) কাজ শুরু করব। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন এবং এর দ্বারা ব্যাপক কল্যাণ দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম।
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌منهج التحقيق:

ويشتمل على:

 

1 -‌‌ نسخ النص.

2 - تخريج الأحاديث والآثار.

3 - الترجمة للأعلام.

4 - الفهارس.

 

راعيتُ في نسخ النص: القواعد الإِملائية الحديثة، من وضع الفواصل والنقط، وعلامات التنصيص، والبدء من أول السطر ووضعت عنوانًا لكل مسألة، مستمدًا من الحكم الوارد في المسألة، وجعلت تحت هذه العناوين خطًا تمييزًا لها عن كلام المؤلف.

كما رقّمتُ المسائل بأرقام خاصة تسهيلًا للرجوع إليها عند الإِحالة.

 

‌‌التخريج:

خرّجت كل ما في المخطوطة من الأحاديث والآثار حسب الإمكان سواء صرح بنص الحديث، أو الأثر أو اكتفى بالإشارة إليه دون تصريح بنصه، وقد يتكرر تخريج الحديث أو الأثر بتكرر وروده تيسيرًا على القارئ، لأن ذلك
‌সম্পাদনা পদ্ধতি:

এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

 

১ -‌‌ পাঠ অনুলিখন.

২ - হাদিস ও আসার (آثار)-এর উৎস অনুসন্ধান (تخريج)।

৩ - ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة)।

৪ - নির্ঘণ্ট।

 

পাঠ অনুলিখনের ক্ষেত্রে আমি আধুনিক বানানরীতি অনুসরণ করেছি; যেমন— কমা ও দাঁড়ি এবং উদ্ধৃতি চিহ্নের ব্যবহার এবং নতুন অনুচ্ছেদ থেকে শুরু করা। আমি প্রতিটি মাসআলা (مسألة)-এর জন্য একটি শিরোনাম নির্ধারণ করেছি, যা উক্ত মাসআলা (مسألة)-তে বর্ণিত বিধান (حكم) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। মূল লেখকের বক্তব্যের সাথে পার্থক্য করার জন্য আমি এই শিরোনামগুলোর নিচে দাগ টেনে দিয়েছি।

সহজে উদ্ধৃতি প্রদানের সুবিধার্থে আমি মাসআলা (مسألة)গুলোকে স্বতন্ত্র নম্বরে বিন্যস্ত করেছি।

 

‌উৎস অনুসন্ধান (تخريج):

পাণ্ডুলিপিতে থাকা সকল হাদিস ও আসার (آثار) যথাসম্ভব আমি উৎস অনুসন্ধান (تخريج) করেছি; চাই হাদিস বা আসার (أثر)-এর পূর্ণ পাঠ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকুক অথবা পাঠ উল্লেখ না করে কেবল ইঙ্গিত করা হোক। পাঠকের সুবিধার্থে হাদিস বা আসার (أثر) যতবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে, ততবারই তার উৎস অনুসন্ধান (تخريج) করা হয়েছে, কারণ এটি...
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩২)
أيسر عليه من الإِحالة على موضع التخريج المتقدم وأذكر الكتاب، والباب، والجزء والصفحة، ورقم الحديث إذا كان المرجع مرقمًا، مبتدئًا برقم الجزء، ثم الصفحة، ثم الحديث.

 

‌‌التراجم:

ترجّمت جميع الأعلام الذين مرّوا في الكتاب واهتديت إلى تراجمهم، سواء كانوا مشهورين أو غير مشهورين، وذلك:

1 - أن الكتاب ليس لطبقة معينة، أو مستوى مخصوص من الباحثين والدارسين، بل يحتاجه الطالب المبتدئ، وذو المستوى الأعلى، وليس كل باحث أو دارس -يكون الكتاب بين يديه- يستغني عن التعريف بالأعلام الذين يمر بهم ولو كانوا مشهورين.

2 - وهناك جوانب عن المترجم قد يحتاج اليها ذوو المستويات العالية.

3 - وَكُتُب التراجم ليست متوفرة لدى الباحث في كل مكان، أو في كل وقت، ليتمكن من الرجوع إلى الترجمة عند إرادتها.

4 - ووجود الترجمة في الكتاب، يوفر على الباحث الرجوع إلى كتب التراجم، ويُبْصره بمواضع الترجمة فيها إن أراد مزيدًا من البحث عن الشخص المترجم.

5 - كما أن الترجمة للأعلام -ولو كانوا مشهورين- إن لم يكن لها جَوانب إيجابية مفيدة، فليس لها من سلبيات تمنع من الترجمة وقد جعلت التراجم ملحقًا في آخر الكتاب، لكثرتهم وتكرر مرورهم في صفحات متتالية بل في الصفحة الواحدة، مما يصعب معه الإشارة إلى موضع الترجمة للشخص كلما مر، وإذا لم يشر إلى موضع الترجمة لم يهتد إليها الباحث الذي تكون قراءته في غير موضع الترجمة، وجمع التراجم في
পূর্ববর্তী তাখরিজ (تخريج)-এর স্থানের প্রতি উদ্ধৃতি প্রদানের চেয়ে এটি তার জন্য সহজতর। আমি গ্রন্থ, অধ্যায়, খণ্ড ও পৃষ্ঠা এবং হাদিসের ক্রমিক নম্বর (যদি তথ্যসূত্রটি নম্বরযুক্ত হয়) উল্লেখ করছি; যা খণ্ড নম্বর দিয়ে শুরু করে পৃষ্ঠা নম্বর এবং এরপর হাদিস নম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত।

 

‌‌জীবনীসমূহ (التراجم):

আমি এই গ্রন্থে আগত সমস্ত ব্যক্তিত্বের জীবনী (تراجم) বর্ণনা করেছি যাদের পরিচয় সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, চাই তারা প্রসিদ্ধ হোন বা অপ্রসিদ্ধ। আর তা এই কারণে:

1 - কিতাবটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গবেষক ও শিক্ষার্থীদের বিশেষ স্তরের জন্য নয়, বরং এটি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী এবং উচ্চ স্তরের পণ্ডিত—উভয়েরই প্রয়োজন। আর গ্রন্থটি যার নিকট রয়েছে এমন প্রত্যেক গবেষক বা শিক্ষার্থীর পক্ষেই তার সামনে আসা ব্যক্তিত্বদের পরিচিতি থেকে বিমুখ থাকা সম্ভব নয়, যদিও তারা প্রসিদ্ধ হোন।

2 - জীবনীর (المترجم له) এমন কিছু দিক থাকে যা উচ্চ স্তরের বিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও প্রয়োজন হতে পারে।

3 - জীবনীর গ্রন্থসমূহ গবেষকের নিকট সব স্থানে বা সব সময়ে সহজলভ্য থাকে না যে, তিনি যখনই ইচ্ছা করবেন তখনই জীবনীর দিকে ফিরে যেতে পারবেন।

4 - গ্রন্থে জীবনীর উপস্থিতি গবেষককে জীবনীগ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হওয়ার পরিশ্রম থেকে রক্ষা করে এবং যদি তিনি সেই ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আরও অধিক অনুসন্ধান করতে চান, তবে তাকে সংশ্লিষ্ট জীবনীগ্রন্থগুলোতে তার মূল স্থানসমূহ প্রদর্শন করে।

5 - এছাড়া ব্যক্তিত্বদের জীবনী প্রদান করা—যদিও তারা প্রসিদ্ধ হোন—যদি এর কোনো ইতিবাচক উপকারী দিক নাও থাকে, তবে এর কোনো নেতিবাচক দিক নেই যা জীবনী উল্লেখ করতে বাধা হতে পারে। আমি জীবনীসমূহকে গ্রন্থের শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছি, কারণ তাদের আধিক্য এবং ধারাবাহিক বিভিন্ন পৃষ্ঠায় এমনকি একই পৃষ্ঠায় তাদের বারবার পুনরাগমন ঘটে। যার ফলে প্রত্যেকবার ওই ব্যক্তির জীবনীর স্থানের দিকে ইঙ্গিত করা দুরূহ হয়ে পড়ে। আর যদি জীবনীর স্থানের দিকে ইঙ্গিত করা না হয়, তবে যে গবেষক জীবনীর স্থান ব্যতিরেকে অন্য কোনো স্থানে পাঠ করছেন তিনি তা খুঁজে পাবেন না। আর জীবনীগুলোকে একত্রিত করা...
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ملحق خاص أسهل في الرجوع الى الشخص المراد مما إذا كان الرجوع إليها يحتاج إلى مراجعة الفهرس، ثم البحث عن الترجمة داخل الكتاب، وقد رتبتهم على حروف المعجم حسب اسمائهم كما هو المتبع في كتب التراجم، ومن ذكره المؤلف بغير اسمه، ذكرته مرة أخرى في الحرف المناسب حسب اللفظ الذي ذكره المؤلف مع عدم إعتبار (الألف واللام) وكلمة (أب) و (ابن) وذكرت إسمه ليعرف به موضع الترجمة.

 

‌‌الفهارس:

الفهرس الأول: للآيات القرآنية وقد رتبتها حسب ترتيب السور، وورود الآيات في السورة مبتدئًا بسورة الفاتحة فالبقرة وهكذا.

الفهرس الثاني: للأحاديث والآثار مرتبة على حروف المعجم حسب أول الحديث أو الأثر أو حكاية الراوي لذلك.

الفهرس الثالث: الموضوعات.

أما الأعلام فقد اكتفيت بترتيبهم حين الترجمة عن الفهرسة لهم مرة أخرى.
এটি একটি বিশেষ পরিশিষ্ট, যা কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির বিবরণ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সূচিপত্র দেখা এবং তারপর বইয়ের ভেতরে সেই জীবনী (ترجمة) অনুসন্ধান করার চেয়ে অধিকতর সহজ। আমি তাদের নামের ভিত্তিতে বর্ণানুক্রম (حروف المعجم) অনুযায়ী সাজিয়েছি, যেভাবে জীবনীবিষয়ক গ্রন্থসমূহে (كتب التراجم) অনুসরণ করা হয়। লেখক যাকে তার আসল নাম ছাড়া অন্য নামে উল্লেখ করেছেন, আমি তাকে লেখক কর্তৃক উল্লিখিত শব্দ অনুযায়ী যথোপযুক্ত বর্ণে পুনরায় উল্লেখ করেছি; এক্ষেত্রে 'আলিফ-লাম', 'আবু' এবং 'ইবন' শব্দগুলোকে বর্ণানুক্রমের বিবেচনায় ধরা হয়নি এবং তার আসল নামও উল্লেখ করেছি যাতে তার জীবনীর (ترجمة) অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়।

 

‌‌সূচিপত্রসমূহ:

প্রথম সূচি: কুরআনের আয়াতসমূহের জন্য। আমি এগুলোকে সূরার ক্রম এবং সূরার ভেতর আয়াতের ক্রম অনুযায়ী সাজিয়েছি; যা সূরা আল-ফাতিহা থেকে শুরু করে সূরা আল-বাকারা এবং এভাবে ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে।

দ্বিতীয় সূচি: হাদিস এবং আছার (آثار) সমূহের জন্য। এগুলোকে হাদিস, আছার (أثر) অথবা বর্ণনাকারীর (راوي) বর্ণনার প্রথম শব্দের ভিত্তিতে বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

তৃতীয় সূচি: বিষয়ভিত্তিক সূচি।

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের (أعلام) ক্ষেত্রে, তাদের জীবনী (ترجمة) প্রদানের সময় বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানোকেই আমি যথেষ্ট মনে করেছি এবং তাদের জন্য নতুন করে সূচিপত্র তৈরি করিনি।
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৫)
مسائل من أصول الفقه

 

‌‌ما يحمل عليه لفظ الأمر المطلق المجرد عن القرائن:

‌‌1 - مسألة:

هل للأمر صيغة مبينة له في اللغة تدل بمجردها على كونه أمرًا إذا تعَّرت عن القرائن؟ أم لا؟

نقل عبد اللَّه عنه في الآية إذا جاءت عامة مثل: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا}(1) أنَّ قومًا قالوا: نتوقف فيها، فقال أحمد: قال اللَّه تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ}(2)، فكنا نقف لا نورث حتى ينزل(3) أن لا يرث قاتل ولا مشرك.

ونقل صالح أيضًا في كتاب طاعة الرسول، {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} فالظاهر يدل على أنه من وقع عليه إسم سارق وإن(4) قَلَّ وجب

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة: 38.

(2) سورة النساء: 11.

(3) هكذا في الأصل ولعل الصواب يرد لأن منع القاتل والشرك من الميراث لم يرد في القرآن وإنما جاءت به السنة. .

(4) في الأصل (فإن).
উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ

 

‌‌প্রাসঙ্গিক আলামত বর্জিত (المجرد عن القرائن) নিরঙ্কুশ আদেশের (الأمر المطلق) শব্দ যা নির্দেশ করে:

‌‌১ - মাসয়ালা:

আদেশের (الأمر) কি ভাষাগতভাবে এমন কোনো নির্দিষ্ট রূপ (صيغة) রয়েছে, যা কোনো প্রকার প্রাসঙ্গিক আলামত (القرائن) ছাড়াই নিছক আদেশের অর্থ প্রদান করে? নাকি নেই?

আবদুল্লাহ তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে এমন আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যা সাধারণ (عامة) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন: {চোর ও চোরনী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও}। একদল লোক বলেছেন: আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকব (نتوقف)। ইমাম আহমাদ বলেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন}, তখন আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকতাম (نقف) এবং উত্তরাধিকার বণ্টন করতাম না, যতক্ষণ না বর্ণিত হতো (ينزل) যে, হত্যাকারী ও মুশরিক উত্তরাধিকারী হবে না।

সালেহ-ও ‘কিতাবু তায়াতুর রাসুল’-এ বর্ণনা করেছেন: {চোর ও চোরনী, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও}। সুতরাং এর প্রকাশ্য অর্থ (الظاهر) নির্দেশ করে যে, যার ওপর চোর শব্দটির প্রয়োগ হবে, চুরিকৃত মালের পরিমাণ কম হলেও [হাত কাটা] আবশ্যক (وجب) হবে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহ: ৩৮।

(২) সূরা আন-নিসা: ১১।

(৩) মূলে এভাবেই আছে, সম্ভবত সঠিক শব্দ হবে বর্ণিত হওয়া (يرد); কারণ হত্যাকারী ও মুশরিককে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি কুরআনে আসেনি, বরং তা সুন্নাহর মাধ্যমে এসেছে। .

(৪) মূলে রয়েছে (فإن)।
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عليه القطع، حتى يبين النبي صلى الله عليه وسلم القطع في ربع دينار(1) وقيمة المجن(2)، فقد صرح بالأخذ بمجرد اللفظ، ومنع من الوقف فيه، وهذا يدل على أن (له) صيغة تدل بمجردها على كونه أمرًا.

وقال في رواية أبي عبد الرحمن الجوزجاني: من تأوَّل القرآن على ظاهره من غير دلالة من الرسول ولا أحد من الصحابة فهو تأويل أهل البدع، لأن الآية قد تكون عامة قصدت شيئًا(3) بعينه، ورسول اللَّه صلى الله عليه وسلم المعبر عن كتاب اللَّه، فقد منع من الأخذ بظاهر الآية حتى يقترن بيان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

فظاهر هذا أنه لا صيغة له تدل بمجردها على كونه أمرًا، بل هو على الوقف حتى يدلُّ الدليل على المراد بها، من وجوب، أو ندب، والمذهب هو الأول، وأن له صيغة تدل بمجردها على كونه أمرًا، ولا يجب الوقف فيه، وقد صرح به في مواضع كثيرة من كلامه في مسائل الفروع.

وجه من ذهب إلى الوقف، أن هذه الصيغة ترد والمراد بها الوجوب، كقوله -تعالى-: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ}(4)، وترد والمراد بها الندب، كقوله:

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري - كتاب الحدود - باب قول اللَّه تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} 4/ 173 وصحيح مسلم - كتاب الحدود - باب حد السرقة ونصابها - 4/ 1312 حديث 1684. وسنن أبي داود - كتاب الحدود - باب ما يقطع فيه السارق 4/ 545 حديث 4383. وسنن ابن ماجه - كتاب الحدود - باب حد السارق - 2/ 862 حديث 2585. وسنن الترمذي - أبواب الحدود - باب ما جاء في كم يقطع السارق 3/ 3 حديث 1469.

(2) صحيح البخاري - كتاب الحدود - باب قول اللَّه تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} 4/ 174. وصحيح مسلم - كتاب الحدود - باب حد السرقة ونصابها 4/ 1313 حديث 1686، وسنن أبي داود - كتاب الحدود - باب ما يقطع فيه السارق 4/ 547 حديث 4385، وسنن النسائي - كتاب الحدود - باب القدر الذي إذا سرقه السارق قطعت يده 8/ 76، وسنن ابن ماجه - كتاب الحدود - باب حد السارق 2/ 862 حديث 2584 و 2586.

(3) في الأصل بشيء.

(4) سورة المزمل 20 والبقرة 43.
তাঁর ওপর হাত কাটা আবশ্যক হবে, যতক্ষণ না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক চতুর্থাংশ দিনার এবং ঢালের মূল্যের ক্ষেত্রে হাত কাটার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি কেবল শব্দের বাহ্যিক অর্থের ভিত্তিতে বিধান গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং এতে স্থগিত রাখা (الوقف) থেকে নিষেধ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, আদেশের জন্য এমন একটি শব্দরীতি (صيغة) রয়েছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা আদেশ (أمر) হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে।

আবু আব্দুর রহমান আল-জাওযাজানির বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেছেন: রাসূল অথবা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশক দলিল ছাড়া যে ব্যক্তি কুরআনের বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করে, তা হলো বিদআতিদের ব্যাখ্যা। কারণ আয়াতটি ব্যাপক (عام) হতে পারে যা দ্বারা বিশেষ কোনো বিষয়কে সুনির্দিষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারী। সুতরাং তিনি আয়াতের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ থেকে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাখ্যা তার সাথে যুক্ত হয়।

এর বাহ্যিক মর্ম হলো, আদেশের জন্য এমন কোনো নির্দিষ্ট শব্দরীতি (صيغة) নেই যা কেবল তার মাধ্যমেই আদেশ হওয়া নির্দেশ করে, বরং বিষয়টি স্থগিত রাখার (الوقف) ওপর নির্ভরশীল যতক্ষণ না উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য ওয়াজিব (وجوب) হওয়া বা মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায়। তবে মাযহাবের অগ্রাধিকারযোগ্য মত হলো প্রথমটি, অর্থাৎ আদেশের জন্য নির্দিষ্ট শব্দরীতি (صيغة) রয়েছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদেশ হওয়া নির্দেশ করে এবং এক্ষেত্রে স্থগিত রাখা (الوقف) আবশ্যক নয়। তিনি ফিকহের মাসআলাসমূহে তাঁর আলোচনার বহু স্থানে এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

যারা স্থগিত রাখার (الوقف) দিকে গিয়েছেন তাদের যুক্তি হলো এই যে, এই শব্দরীতি (صيغة) কখনো ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে ওয়াজিব (وجوب) হওয়া, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো}(4), আবার কখনো এটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা মুস্তাহাব (ندب) হওয়া উদ্দেশ্য থাকে, যেমন তাঁর বাণী:

--------------------------------------------

(1) সহিহ বুখারি - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {আর চোর পুরুষ ও চোর নারী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও} ৪/ ১৭৩ এবং সহিহ মুসলিম - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: চুরির দণ্ড এবং এর নিসাব - ৪/ ১৩১২ হাদিস ১৬৮৪। এবং সুনান আবি দাউদ - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: যে চুরির কারণে হাত কাটা হয় ৪/ ৫৪৫ হাদিস ৪৩৮৩। এবং সুনান ইবনে মাজাহ - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: চোরের দণ্ড - ২/ ৮৬২ হাদিস ২৫৮৫। এবং সুনান তিরমিজি - আবওয়াবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: চোর কতটুকু চুরি করলে হাত কাটা হয় সে প্রসঙ্গে ৩/ ৩ হাদিস ১৪৬৯।

(2) সহিহ বুখারি - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {আর চোর পুরুষ ও চোর নারী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও} ৪/ ১৭৪। সহিহ মুসলিম - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: চুরির দণ্ড এবং এর নিসাব ৪/ ১৩১৩ হাদিস ১৬৮৬, এবং সুনান আবি দাউদ - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: যে চুরির কারণে হাত কাটা হয় ৪/ ৫৪৭ হাদিস ৪৩৮৫, এবং সুনান নাসাঈ - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: যে পরিমাণ সম্পদ চুরি করলে চোরের হাত কাটা হয় ৮/ ৭৬, এবং সুনান ইবনে মাজাহ - কিতাবুল হুদুদ - পরিচ্ছেদ: চোরের দণ্ড ২/ ৮৬২ হাদিস ২৫৮৪ ও ২৫৮৬।

(3) মূল পাণ্ডুলিপিতে "بشيء" রয়েছে।

(4) সূরা আল-মুযযাম্মিল ২০ এবং আল-বাকারাহ ৪৩।
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৭)
{وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى}(1)، (وترد) والمراد بها التهديد، كقوله -تعالى: {اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ}(2) وترد والمراد بها الإِباحة، مثل قوله -تعالى-: {فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ}(3)، وإذا كان ورودها مشتركًا لم تدل على شيء، فلم يكن حملها على الوجوب بأولى من حملها على الندب، أو الإِباحة أو التهديد، وإذا تساويا وقف، كقوله: كون، لما لم يدل على شيء وقف حتى يدل على المراد، والدلالة على نفي الوقف أشياء، منها قوله -تعالى-: {مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ}(4)، فسمى ذلك أمرًا، وعاتبه على ترك السجود، وسجدت الملائكة بظاهر هذا اللفظ، ولم يوجد إلا أمرًا مطلقًا مجردًا عن القرائن، فدل على أنّه يسمى أمرًا، وأنه يدل على الأمر بمطلقه، ولأن الصحابة أجمعوا على أنّ للأمر صيغة تدل بمجردها على كونه أمرًا.

وهذا ظاهر في احتجاج بعضهم على بعض، منه قصة مانعي الزكاة، قال عمر لأبي بكر حين أراد قتالهم: كيف تقاتلهم وقد سمعت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يقول: "أُمرتُ أنْ أُقاتلَ النَّاس حتى يقولوا لا إلهَ إلَّا اللَّه فإذا قالوها عَصَمُوا مِنِّي دماءَهُمْ وأموالَهُمْ إلَّا بحقها"(5)، فقال أبو بكر(6): قال اللَّه -تعالى-:

--------------------------------------------

(1) سورة النور 32.

(2) سورة فصلت 40.

(3) سورة الجمعة 11.

(4) سورة الأعراف 12.

(5) أخرجه البخاري في كتاب الزكاة - باب وجوب الزكاة 1/ 243 وليس فيه قول أبي بكر: قال اللَّه تعالى-. . الخ وفي كتاب استتابة المرتد، باب قتل من أبى قبول الفرائض 4/ 196، وفي كتاب الاعتصام باب الاقتداء بسنة النبي 4/ 257 ومسلم في كتاب الإيمان، باب الأمر بقتال الناس حتى يقولوا لا اله إلا اللَّه 1/ 51 حديث 20 بالرقم العام، وأبو داود في كتاب الزكاة 2/ 198 حديث 1556، والترمذي في الإيمان باب ما جاء "أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا اللَّه" 4/ 117 حديث 2374، والنسائي في كتاب الجهاد، باب وجوب الجهاد 6/ 5.

(6) لم أجد قول أبي بكر رضي الله عنه قال اللَّه تعالى. . الخ في روايات الحديث، وقد تقدم تخريجه دون هذا اللفظ.
{তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ দাও}(১), (এবং এটি আসে) যখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় সতর্কবাণী (تهديد), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের যা ইচ্ছা কর}(২); এবং এটি আসে যখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় বৈধতা (إباحة), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো}(৩)। আর যখন এর ব্যবহার বহু অর্থবোধক (مشترك) হয়, তখন তা কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নির্দেশ করে না। তাই একে আবশ্যকতা (وجوب) অর্থে গ্রহণ করা, একে পছন্দনীয় (ندب), বৈধতা (إباحة) অথবা সতর্কবাণী (تهديد) অর্থে গ্রহণ করার চেয়ে অধিক যুক্তিযুক্ত নয়। আর যখন এগুলো সমান পর্যায়ের হয়, তখন সিদ্ধান্ত স্থগিত (وقف) রাখতে হয়; যেমন তাঁর বাণী: ‘হও’ (كون), যেহেতু এটি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নির্দেশ করে না, তাই উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত (وقف) রাখতে হয়। আর এই স্থগিতকরণ (وقف) নাকচ করার স্বপক্ষে বেশ কিছু দলিল রয়েছে, তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম, তখন কিসে তোমাকে সিজদা করতে বাধা দিল?}(৪)। এখানে একে নির্দেশ (أمر) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং সিজদা বর্জন করার জন্য তাকে তিরস্কার করা হয়েছে। আর ফেরেশতারা এই শব্দের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থের ভিত্তিতেই সিজদা করেছিলেন, অথচ সেখানে কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرائن) মুক্ত নিরঙ্কুশ নির্দেশ (أمر مطلق) ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এটি প্রমাণ করে যে, একে নির্দেশ (أمر) বলা হয় এবং এটি এর সাধারণ অর্থেই নির্দেশ (أمر) প্রদান করে। এছাড়া সাহাবীগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নির্দেশের এমন একটি রূপ (صيغة) রয়েছে যা কেবল তার রূপের কারণেই নির্দেশ (أمر) হিসেবে গণ্য হয়।

এটি তাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করার (احتجاج) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। এর মধ্যে যাকাত অস্বীকারকারীদের ঘটনাটি অন্যতম। ওমর (রা.) আবু বকর (রা.)-কে বলেছিলেন যখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাইলেন: "আপনি কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন অথচ আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: 'আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। যখন তারা এটি বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে তার হকের ক্ষেত্র ব্যতীত'"(৫)। তখন আবু বকর (রা.)(৬) বললেন: মহান আল্লাহ বলেছেন—

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর ৩২।

(২) সূরা ফুসসিলাত ৪০।

(৩) সূরা আল-জুমুআ ১০ (মূল পাঠে ১১)।

(৪) সূরা আল-আরাফ ১২।

(৫) বুখারি এটি যাকাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন—যাকাত ওয়াজিব হওয়া অনুচ্ছেদ ১/২৪৩, তবে এতে আবু বকরের এই উক্তিটি নেই: "মহান আল্লাহ বলেছেন—" ইত্যাদি। এবং এটি মুরতাদদের তওবা করানো অধ্যায়ে, যারা ফরজসমূহ গ্রহণে অস্বীকার করে তাদের হত্যা করা অনুচ্ছেদ ৪/১৯৬; এবং ই'তিসাম অধ্যায়ে, নবীজির সুন্নাহর অনুসরণ অনুচ্ছেদ ৪/২৫৭; এবং মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে, মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ যতক্ষণ না তারা আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই বলে অনুচ্ছেদ ১/৫১ হাদিস ২০ (সাধারণ নম্বর অনুযায়ী); এবং আবু দাউদ যাকাত অধ্যায়ে ২/১৯৮ হাদিস ১৫৫৬; এবং তিরমিজি ঈমান অধ্যায়ে, 'আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে' অনুচ্ছেদ ৪/১১৭ হাদিস ২৩৭৪; এবং নাসাঈ জিহাদ অধ্যায়ে, জিহাদ ওয়াজিব হওয়া অনুচ্ছেদ ৬/৫।

(৬) আমি হাদিসের বর্ণনাগুলোতে আবু বকর (রা.) এর এই উক্তিটি: "মহান আল্লাহ বলেছেন—" ইত্যাদি খুঁজে পাইনি। ইতিপূর্বে এই শব্দসমূহ ছাড়াই এর উৎস নির্দেশ (تخريج) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৮)
{وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ}(1) واللَّه لا أفرق بينهما(2) فاحتج أبو بكر عليه بالأمر المطلق فأقره عليه، ولو كان مطلق الأمر على الوقف ما احتج عليه بذلك، ولم يقره عمر على ذلك، ولأن أهل اللغة قسموا الكلام أربعة أقسام: أمر، ونهي، واستخبار، وخبر، ومن خالفنا قال: لا فرق بين الأمر والنهي، وأن كل واحد منهما لا يدل على شيء، فلا يدل الأمر على إيجاد فعل، ولا النهي يدل على ترك فعل، فلو كان الأمر على ما قالوه بطلت فائدة القسمة لأن من يقول: إن قوله افعل يقتضي لا تفعل، لأنه يكون على التهديد، ومن قال لا تفعل يقتضي افعل فقد جعل الأمر نهيًا، والنهي أمرًا بعكس اللغة، وما ذكر من أن هذه اللفظة ترد مشتركةً في الوجوب والندب والإِباحة لا يمنع من الصيغة، كأسماء الحقائق وهو الأسد والحمار وهو حقيقة للبهيمة ويراد به الرجل بقرينة، ومع هذا فلا يمتنع أن يكون إطلاقها لحقيقة البهيمة، وكذلك العشرة حقيقة في العشرة، وهي تستعمل في الخمسة مع القرينة التي هي الإِستثناء، بقوله عشرة إلا خمسة، ويبطل بقوله: فرضت وأوجبت وألزمت فإن هذا يرد والمراد به الوجوب، ويرد والمراد به الندب، كقوله: "غُسل يوم الجُمُعة واجبٌ على كلِّ مُحتلمٍ"(3)، ومعناه وجوب اختيار وكذلك فرضت يحتمل الوجوب، ويحتمل التقدير، وكذلك الوعيد، يرد والمراد به الوجوب، والمندوب، قال اللَّه -تعالى- {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ (4) الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ (5) الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ (6) وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ}(4)، فتوعدهم على منع

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة 43، وسورة المزمل 20.

(2) في الأصل (بينما).

(3) صحيح البخاري - كتاب الجمعة - باب فضل الغسل يوم الجمعة 1/ 158 وصحيح مسلم - كتاب الجمعة - باب وجوب غسل الجمعة 2/ 580 حديث/ 846، وسنن أبي داود - كتاب الطهارة - باب الغسل يوم الجمعة 1/ 243 حديث 341، وسنن ابن ماجة - كتاب إقامة الصلاة - باب ما جاء في الغسل يوم الجمعة 1/ 346 حديث 1089، وسنن النسائي - كتاب الجمعة، باب ايجاب الغسل يوم الجمعة 3/ 93.

(4) سورة الماعون 4، وما بعدها.
{তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো}(১) আল্লাহর শপথ, আমি এ দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করব না।(২) অতঃপর আবু বকর (রা.) তাঁর বিরুদ্ধে নিরঙ্কুশ নির্দেশ (الأمر المطلق) দ্বারা দলিল পেশ করলেন এবং তিনি তা মেনে নিলেন। যদি নির্দেশের নিরঙ্কুশ রূপটি স্থগিতাবস্থার (الوقف) ওপর নির্ধারিত থাকত, তবে তিনি এর দ্বারা দলিল পেশ করতেন না এবং ওমর (রা.)-ও তা মেনে নিতেন না। তাছাড়া ভাষাবিদগণ কালাম বা বাক্যকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন: আদেশ (أمر), নিষেধ (نهي), জিজ্ঞাসাবাদ (استخبار) এবং সংবাদ (خبر)। যারা আমাদের বিরোধিতা করেন তারা বলেন: আদেশ এবং নিষেধের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, এবং এর কোনটিই কোনো কিছুর নির্দেশক নয়। সুতরাং আদেশ কোনো কাজ সম্পাদনের নির্দেশ দেয় না এবং নিষেধও কোনো কাজ বর্জনের নির্দেশ দেয় না। যদি আদেশের বিষয়টি তাদের দাবি অনুযায়ী হতো, তবে এই বিভাজনের সার্থকতা বিলুপ্ত হয়ে যেত। কেননা যে ব্যক্তি বলে: ‘তুমি করো’ (افعل) কথাটি ‘তুমি করো না’ (لا تفعل)-এর দাবি রাখে, কারণ তা ধমক (التهديد) প্রদানের উদ্দেশ্যে হতে পারে। আর যে ব্যক্তি বলে: ‘তুমি করো না’ কথাটি ‘তুমি করো’-এর দাবি রাখে, তবে সে আদেশকে নিষেধ এবং নিষেধকে আদেশে রূপান্তর করে ভাষার রীতির বিপরীত কাজ করল। আর এ কথা যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই শব্দটি আবশ্যকতা (الوجوب), পছন্দনীয়তা (الندব) এবং বৈধতা (الإباحة)-এর মধ্যে সাধারণ (مشتركة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তা এর মূল রূপকে (الصيغة) বাধাগ্রস্ত করে না। যেমন বাস্তব বা প্রকৃত সংজ্ঞার নামসমূহ (أسماء الحقائق), যথা সিংহ (الأسد) ও গাধা (الحمار)। এটি চতুষ্পদ প্রাণীর জন্য প্রকৃত অর্থ (حقيقة), কিন্তু পরোক্ষ নির্দেশক বা কুরিনার (قرينة) মাধ্যমে এর দ্বারা মানুষও উদ্দেশ্য হতে পারে। তা সত্ত্বেও, চতুষ্পদ প্রাণীর প্রকৃত অর্থের (حقيقة) জন্য এর প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হয় না। অনুরূপভাবে, ‘দশ’ শব্দটি দশে’র জন্য প্রকৃত অর্থ (حقيقة), কিন্তু এটি আনুষঙ্গিক প্রমাণের (القرينة) মাধ্যমে পাঁচের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা মূলত ব্যতিক্রম (الاستثناء); যেমন তাঁর কথা: ‘দশ, তবে পাঁচ ব্যতীত’। এটি এই কথার মাধ্যমেও বাতিল হয়ে যায় যে: ‘আমি ফরজ করেছি’, ‘আমি আবশ্যক করেছি’ এবং ‘আমি অপরিহার্য করেছি’। কারণ এই শব্দগুলো কখনও আবশ্যকতা (الوجوب) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনও পছন্দনীয়তা (الندব) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “জুমার দিনের গোসল প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য আবশ্যক (واجب)।”(৩) এর অর্থ হলো পছন্দের আবশ্যকতা। অনুরূপভাবে ‘আমি ফরজ করেছি’ কথাটি আবশ্যকতা (الوجوب) এবং পরিমাপ (التقدير) উভয়টিই বুঝাতে পারে। একইভাবে শাস্তির হুমকি (الوعيد)-ও আবশ্যকতা (الوجوب) এবং পছন্দনীয় (المندوب) উভয় ক্ষেত্রে বর্ণিত হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন— {দুর্ভোগ সেই মুসল্লিদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন, যারা লোক দেখানো কাজ করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু দানে বিরত থাকে}(৪), এখানে তিনি তাদের প্রতি শাস্তির হুমকি দিয়েছেন বিরত থাকার কারণে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা ৪৩, এবং সূরা আল-মুযযাম্মিল ২০।

(২) মূলে রয়েছে (بينما)।

(৩) সহীহ বুখারী - জুমুআ অধ্যায় - জুমার দিন গোসলের ফজিলত অনুচ্ছেদ ১/১৫৮; সহীহ মুসলিম - জুমুআ অধ্যায় - জুমার গোসল আবশ্যক হওয়ার অনুচ্ছেদ ২/৫৮০ হাদিস/৮৪৬; সুনান আবু দাউদ - পবিত্রতা অধ্যায় - জুমার দিন গোসল অনুচ্ছেদ ১/২৪৩ হাদিস ৩৪১; সুনান ইবনে মাজাহ - সালাত কায়েম অধ্যায় - জুমার গোসল সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ১/৩৪৬ হাদিস ১০৮৯; সুনান নাসাঈ - জুমুআ অধ্যায় - জুমার গোসল আবশ্যক হওয়া অনুচ্ছেদ ৩/৯৩।

(৪) সূরা আল-মাউন ৪ এবং পরবর্তী আয়াতসমূহ।
(খণ্ড: ১) আর-রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন - আল-মাসাইলুল উসুলিয়্যাহ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৯)
الماعون وذلك مندوب إليه ومع هذا إطلاقه يقتضي الوجوب.

 

‌‌مقتضى الأمر عند الإِطلاق:

‌‌2 - فصل

وإذا ثبت أن له صيغة مبيّنة له تدل بمجردها على كونه أمرًا، فهل يدل إطلاقها على الوجوب أم لا؟

نقل أبو الحارث إذا ثبت الخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم وجب العمل به، فظاهر هذا أنه يقتضي الوجوب.

وكذلك نقل صالح عنه فيمن صلَّى خلف الصف وحده يعيد الصلاة "أمر النبي صلى الله عليه وسلم رجلًا صلّى خلْفَ الصفِّ وحده أن يعيد الصلاة"(1)

وكذلك نقل إبراهيم بن الحارث، إذا أخرج القيمة من الزكاة أخشى أن لا يجزيه، لأنَّ النبي صلى الله عليه وسلم أمر بكذا وكذا.

نقل صالح في كتاب طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم قوله: {وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ}(2) فالظاهر يدل على أنه إذا ابتاع شيئًا أشهد، فلمّا تبايع الناس وتركوا الإِشهاد استقر حكم الآية على ذلك.

ونقل الميموني عنه وقد سأله عن قول النبي صلى الله عليه وسلم "إذَا أمَرْتُكُم بِأَمْرٍ فأْتُوا

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود كتاب الصلاة - باب الرجل يصلي وحده خلف الصف 1/ 439 حديث 682، وسنن ابن ماجة - كتاب إقامة الصلاة باب صلاة الرجل خلف الصف وحده 1/ 320 حديث/ 1003. وسنن الترمذي - أبواب الصلاة - باب ما جاء في الصلاة خلف الصف وحده 1/ 146 حديث 230.

(2) سورة البقرة 282.
আল-মাউন, এবং এটি পছন্দনীয় (مندوب); তবে তা সত্ত্বেও এর শর্তহীন (إطلاق) প্রয়োগ আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে।

 

‌‌শর্তহীন অবস্থায় নির্দেশের (أمر) দাবি:

‌‌২ - অনুচ্ছেদ

যখন এটি প্রমাণিত হলো যে, নির্দেশের জন্য এমন একটি সুস্পষ্ট শব্দরূপ (صيغة) রয়েছে যা স্রেফ সেই রূপের মাধ্যমেই তা নির্দেশ (أمر) হওয়াকে বুঝায়, তখন প্রশ্ন হলো—এর শর্তহীন (إطلاق) প্রয়োগ কি আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে কি না?

আবু আল-হারিস বর্ণনা করেছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো সংবাদ (خبر) সাব্যস্ত হয়, তখন সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হয়। এর প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) এটাই নির্দেশ করে যে, তা আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে।

একইভাবে সালিহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে কাতারের পেছনে একা সালাত আদায় করে যে, সে সালাত পুনরায় আদায় করবে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে, যে কাতারের পেছনে একা সালাত আদায় করেছিল, পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ (أمر) দিয়েছিলেন।"(১)

একইভাবে ইব্রাহিম ইবনুল হারিস বর্ণনা করেছেন, যদি কেউ জাকাতের পরিবর্তে তার মূল্য পরিশোধ করে, তবে আমি আশঙ্কা করি যে তা যথেষ্ট হবে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এমন নির্দেশ (أمر) দিয়েছেন।

সালিহ 'কিতাবু তায়াতুর রাসুল' (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের কিতাব)-এ তাঁর উক্তি বর্ণনা করেছেন: {এবং তোমরা যখন ক্রয়-বিক্রয় করো, তখন সাক্ষী রাখো}(২); এর প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) একথাই নির্দেশ করে যে, যখন কেউ কোনো কিছু ক্রয় করবে তখন সে সাক্ষী রাখবে। কিন্তু যখন মানুষ ক্রয়-বিক্রয় শুরু করল এবং সাক্ষ্য রাখা ছেড়ে দিল, তখন আয়াতের বিধান সেভাবেই স্থির হলো।

আল-মাইমুনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "যখন আমি তোমাদের কোনো কাজের নির্দেশ (أمر) দিই, তখন তোমরা তা পালন করো...

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ, সালাত অধ্যায় - অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কাতারের পেছনে একা সালাত আদায় করে ১/ ৪৩৯ হাদিস ৬৮২, এবং সুনান ইবনে মাজাহ - সালাত কায়েম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: কাতারের পেছনে একা ব্যক্তির সালাত ১/ ৩২০ হাদিস ১০০৩, এবং সুনান তিরমিজি - সালাত অধ্যায়সমূহ - অনুচ্ছেদ: কাতারের পেছনে একা সালাত আদায় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে ১/ ১৪৬ হাদিস ২৩০।

(২) সূরা আল-বাকারাহ ২৮২।