(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: -)
مرويات غزوة حنين وحصار الطائف القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مرويات غزوة حنين وحصار الطائف
المؤلف: إبراهيم بن إبراهيم قريبي
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة النبوية، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1412هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হুনাইনের যুদ্ধ ও তায়েফ অবরোধের বর্ণনাসমূহ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: হুনাইনের যুদ্ধ ও তায়েফ অবরোধের বর্ণনাসমূহ
লেখক: ইবরাহীম বিন ইবরাহীম কুরাইবী
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরী
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول
مقدمة…شكر وتقدير
الحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، وبفضله وحده تتحقق جلائل المهمات، وعليه وحده الاتكال في جميع الملمات، وبعد:
فإني أشكر في هذه الكلمة أستاذي الدكتور أكرم ضياء العمري على جهوده الموفقة مع جميع أبنائه الطلاب عموماً، وعلى ما أولاني من بالغ عنايته، وشديد حرصه، وما قدمه لي من التوجيه والإرشاد، وغزير الفوائد العلمية من أجل إخراج هذا البحث على الوجه العلمي المطلوب، وهذا دأب شيخنا الكبير في إعانة تلاميذه بفوائده العلمية، وفرائده التوجيهية من الناحية الشكلية والموضوعية، وما كان يبخل بزمنه المليء بالأعمال العلمية المتعددة، ولا بتوجيهاته أو تنبيهاته على سهو غفلت عنه، أو غلط وقعت فيه، أو فكرة نادّة لم أكن متنبها لها.
ولا أجد كلمة تفي بشكره، وتعبر عما تكنه نفسي له من عرفان بالجميل وتقدير لعطائه العلمي، غير أن الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم أرشدنا إلى ما يكون المناسب في مثل هذا المقام فقال: "ومن صنع إليكم معروفاً فكافئوه، فإن لم تجدوا ما تكافئوه1 به فادعوا له حتى تروا أنكم قد كافأتموه" 2.
وانطلاقاً من هذا المبدأ، فإني سأظل – إن شاء الله تعالى – داعياً له بالتوفيق وازدياد العلم النافع والعمل الصالح، والله - جل وعلا - يقول: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلاً} 3.
وأشكر القائمين على الجامعة الإسلامية الذين سعوا ويسعون جادّين لتيسير سبل طلب العلم الشرعي لأبناء العالم الإسلامي، وأسأل الله أن يعينهم على
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ড
ভূমিকা…কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায়, যাঁর দয়ায় মহান দায়িত্বসমূহ সম্পাদিত হয় এবং সকল বিপদে একমাত্র যাঁর ওপর ভরসা করা হয়। অতঃপর:
আমি এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমার উস্তাদ ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারীকে তাঁর সকল ছাত্রের প্রতি সাধারণভাবে এবং আমার প্রতি বিশেষভাবে তাঁর গভীর যত্ন, ঐকান্তিক আগ্রহ এবং তাঁর প্রদানকৃত দিকনির্দেশনা ও উপদেশের জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই গবেষণাপত্রটি কাঙ্ক্ষিত বৈজ্ঞানিক মানে উপস্থাপন করার জন্য তাঁর প্রচুর জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকারিতা আমাকে সাহায্য করেছে। আর এটিই আমাদের মহান শাইখের চিরাচরিত অভ্যাস যে, তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে তাঁর ইলমি ফায়দা এবং গঠনমূলক ও বিষয়ভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করেন। তিনি তাঁর বহুবিধ জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজে ব্যস্ত সময় থেকে সময় দিতে কার্পণ্য করেননি এবং আমার কোনো অসতর্কতা, ভুল বা কোনো অস্পষ্ট চিন্তা যা আমার নজরে আসেনি, সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা বা সতর্ক করতেও দ্বিধা করেননি।
তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আমি এমন কোনো শব্দ পাচ্ছি না যা আমার মনের ভেতরের এই ঋণস্বীকার এবং তাঁর ইলমি অবদানের কদরকে যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারে। তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন এমন পরিস্থিতিতে কী করা সমীচীন। তিনি বলেছেন: "কেউ যদি তোমাদের প্রতি কোনো উপকার করে, তবে তোমরা তার প্রতিদান দাও। যদি প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না পাও, তবে তার জন্য দুআ করো, যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে পারো যে তোমরা তার প্রতিদান দিয়েছ" ২।
এই নীতির ভিত্তিতে আমি ইনশাআল্লাহ সবসময় তাঁর তাওফিক, উপকারী ইলম ও নেক আমল বৃদ্ধির জন্য দুআ করতে থাকব। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করি না} ৩।
আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই যারা মুসলিম বিশ্বের সন্তানদের জন্য শরিয়াহ জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ করতে নিরলস চেষ্টা করেছেন ও করছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদেরকে সাহায্য করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مساعيهم الحميدة، وأن يجنبهم كل مكروه، وأن يزيد هذا الصرح العلمي الشامخ مزيداً من التقدم والازدهار مادياً وأدبياً في ظل هذه الحكومة المباركة التي تعنى بقضايا الإسلام والمسلمين في كل أنحاء المعمورة، ومن براهين عنايتها الفائقة بتضامن المسلمين وحل مشكلاتهم واتفاق كلمتهم دعمها لهذه الجامعة العلمية العظيمة بكل ما تحتاج إليه من وجوه الدعم المختلفة، ولا شك أن هذه الجامعة قد امتد نفعها وتأثيرها في العالم كله، ممّا يكون في ميزان حسنات هذه الدولة الرشيدة، بل ذلك من أكبر حسناتها، وأجلّ أعمالها التي يعود نفعها وخيرها على المسلمين جميعاً.
فجزاهم الله خير الجزاء، وسدد خطاهم، ووفقهم إلى ما فيه تقدم المسلمين واستعادة مجدهم، وحقق لهم ما يصبون إليه من تضامن العالم الإسلامي على هدي الكتاب والسنة وسبيل سلف الأمة، ولن يصلح آخر هذه الأمة إلاّ ما صلح به أولها.
{وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} ، [سورة العنكبوت، الآية: 69] .
وفي ختام هذه الكلمة أتوجه بالشكر والتقدير على وجه العموم لكل من كان له مشاركة في إخراج هذا البحث، وأعانني عليه من جميع الأساتذة والإخوة الزملاء وغيرهم من الإخوة الفضلاء، شكر الله للجميع عونهم ودعمهم، وجزاهم الله خير الجزاء.
والحمد لله أولا وآخرا، وصلى الله على عبده ورسوله الأمين، وعلى آله وأصحابه والتابعين، ومن سار على نهجهم إلى يوم الدين. والله الهادي إلى سواء السبيل.
তাদের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা, আল্লাহ তাদের সকল অপছন্দনীয় ও মন্দ বিষয় থেকে দূরে রাখুন এবং এই মহান সুউচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উত্তরোত্তর পার্থিব ও পারমার্থিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি দান করুন এই বরকতময় সরকারের ছায়াতলে যা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যত্নশীল। মুসলমানদের সংহতি, তাদের সমস্যা সমাধান এবং তাদের ঐক্যমত্যের প্রতি এই সরকারের সুনিপুণ ও গভীর মনোনিবেশের অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হলো এই মহান জ্ঞানপীঠকে তার প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদান করা। নিঃসন্দেহে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকার ও প্রভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই সুপরিচালিত রাষ্ট্রের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত হবে; বরং এটি তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৎকর্ম এবং মহান কাজ যার কল্যাণ ও সুফল সকল মুসলমান ভোগ করছে।
আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন, তাদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং মুসলমানদের উন্নতি ও তাদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের তৌফিক দান করুন। কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরীদের) আদর্শের আলোকে মুসলিম বিশ্বের সংহতির যে আকাঙ্ক্ষা তারা লালন করেন, আল্লাহ তা পূর্ণ করুন। আর এই উম্মতের শেষাংশ কখনোই সংশোধিত হবে না, যতক্ষণ না তা দ্বারা সংশোধিত হয় যা দ্বারা এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।
আর যারা আমাদের পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমরা অবশ্যই তাদেরকে আমাদের পথসমূহ প্রদর্শন করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন। [সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬৯] ।
এই বক্তব্যের শেষে আমি সাধারণভাবে সেই সকল শিক্ষক, সহকর্মী এবং অন্যান্য গুণী ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি যারা এই গবেষণাটি প্রকাশে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ সকলের সহায়তা ও সমর্থন কবুল করুন এবং তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।
শুরু এবং শেষে সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহর সালাত (রহমত) বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের পথ অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدِّمة
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فقد هيأ الله لي أن أكون من طلبة علوم السنة النبوية، وأن أسهم في دراسة السيرة النبوية الطاهرة، فكانت البداية أن تقدمت بدراسة غزوة (بني المصطلق) دراسة علمية متخصصة، أحسبها الأولى من نمطها في تجلية حقائق تلك الغزوة، وبيان أحداثها التاريخية، وعبرها وأحكامها، وغير ذلك ممّا له صلة بها، وكانت تلك أطروحتي لنيل شهادة العالمية (الماجستير) ، وكان لتلك التجربة - بالنسبة لي- صداها العميق في نفسي، حيث ارتبطت تَوَجُّهاتي العلمية بخدمة سيرة أحب الخلق إلى الله وأكرمهم عليه، تلك السيرة النقية الحقيقة بالحب والإكبار، الجديرة بالبحث العلمي الجادّ الذي يرسي حقائقها، وينفي عنها الزَبَد1 ليذهب جُفاء2 ويمكث ما ينفع الناس.
ولن يتم ذلك إلا بعد التطواف العلمي الحثيث القائم على مناهج المحدِّثين وطرق تقويمهم للحديث النبوي الشريف، وصولاً إلى نتائج علمية محققة، ينتفع بها الدارسون لهذه السيرة العظيمة العطرة، ويزدادون اطمئناناً ويقيناً بهذا الجانب الخطير من جوانب حياة المصطفى صلى الله عليه وسلم.
وفي طليعة هذا التقديم أود أن أشير إلى أهم القضايا التي يحسن أن أتناولها فيه، وستكون على النحو الآتي:
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
আল্লাহ তাআলা আমার জন্য সুন্নাহর ইলমের ছাত্র হওয়ার এবং পবিত্র সীরাত বিষয়ক গবেষণায় অবদান রাখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এর শুরুটা হয়েছিল ‘বনু মুস্তালিক’ যুদ্ধের ওপর একটি বিশেষায়িত ইলমী গবেষণার মাধ্যমে, যা আমার জানামতে এই যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা উন্মোচনে এবং এর ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, শিক্ষা, বিধান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী বর্ণনায় এই ধারার প্রথম কাজ। এটি ছিল আমার মাস্টার্স (আল-আলামিয়্যাহ) ডিগ্রির থিসিস। এই অভিজ্ঞতা আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, কারণ আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক ঝোঁক আল্লাহর কাছে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ও সম্মানিত সত্তার সীরাতের খিদমতের সাথে যুক্ত হয়েছিল। সেই পবিত্র সীরাত যা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার দাবি রাখে এবং যা এমন গভীর ইলমী গবেষণার যোগ্য যা এর প্রকৃত সত্যগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং এর থেকে অসারতাকে১ দূর করে দেয় যাতে তা ফেনার মতো২ বিলীন হয়ে যায় আর মানুষের জন্য যা কল্যাণকর তা অবশিষ্ট থাকে।
আর মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতি এবং হাদীস মূল্যায়নে তাঁদের অনুসৃত পন্থার ওপর ভিত্তি করে নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমেই কেবল এটি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব, যাতে এমন সুনিশ্চিত ইলমী ফলাফল অর্জন করা যায় যার মাধ্যমে এই মহান ও সুগন্ধিময় সীরাতের পাঠকরা উপকৃত হবেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সম্পর্কে তাঁদের প্রশান্তি ও নিশ্চিত বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।
এই ভূমিকার শুরুতে আমি সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করতে চাই যা এখানে আলোচনা করা উপযুক্ত হবে এবং সেগুলো নিম্নরূপ হবে:
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أ - دراسة السيرة واجب إسلامي:
إن إبراز مكانة السيرة النبوية، وإظهار عظمتها في العصر الحديث لهو من الأمور الضرورية في مواجهة تحديات هذا العصر المتكاثرة، ذلك أن عصرنا الحاضر يقوم على مناهج تربوية مؤثِّرة في صبغ الأجيال الصاعدة بصبغة جاهلية معاصرة، في الأعم الأغلب، وقد شمل هذا الفكر التربوي والأدبي أجيال المسلمين، وتغلغل في نفوسهم، واحتل مكان الصدارة في التوجيه والتأثير، وفقدت الأجيال - أو كادت - ثقتها لتراثها، واشتدت الهجمات القوية العنيفة على علوم الإسلام وحضارته، بما في ذلك التشكيك في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، مستغلين في ذلك بعض الروايات الضعيفة والحكايات الغريبة، والمبالغات الشاطحة، التي لم يقم عليها دليل، ولم يسندها عقل، ولم تثبت بنقل فكان لزاماً على الدارسين المختصين أن يولوا هذه السيرة الزكية بالغ اهتمامهم، جمعاً ودراسة وتمحيصاً وتحقيقاً مستندين في ذلك إلى قواعد المحدثين في الجرح والتعديل لكشف العلل الغامضة فيها، وبيان الصحيح من الضعيف في نصوصها.
وإذا كان مصطلح الحديث قد طبق تطبيقاً رائعاً في تقويم الأحاديث النبوية والحكم لها أو عليها، من خلال دراسة الأسانيد والمتون، فإن ذلك لم يطبق مثله أو قريباً منه في دراسة السيرة النبوية وأحداثها وغزواتها، إلى غير ذلك من قضاياها العديدة.
هذا جانب من جوانب دراسة السيرة.
والجانب الآخر هو الجانب التحليلي المعاصر، الذي يعنى فيه الدارس بتجلية حقائق السيرة النبوية من الناحية الفكرية والتربوية والفقهية بأسلوب قوي أخّاذ، يهدف إلى تحبيب الناس في هذه السيرة، وترغيب الأجيال في الإقبال عليها والاقتداء بصاحبها العظيم عليه الصلاة والسلام، وإبراز جوانبها المشرقة، ووقفاتها المضيئة، وأشهد أنني لم أقم بشيء يذكر في هذا الجانب؛ لأن الأصل في بحثي تحقيق نصوص السيرة من الوجهة الحديثية الصرفة، ولأن الوقت لا يساعد على الجمع بين الحسنين، ولكني أقرر أن هذا واجب عظيم تجاه خدمة هذه السيرة المباركة.
ক - সীরাত চর্চা একটি ইসলামী আবশ্যকতা:
নিশ্চয়ই আধুনিক যুগে সীরাতুন্নবীর (নবীর জীবনচরিত) গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর মাহাত্ম্য প্রকাশ করা বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত আবশ্যকীয় বিষয়। এর কারণ হলো, আমাদের বর্তমান যুগ এমন সব প্রভাবশালী শিক্ষাপদ্ধতির ওপর দণ্ডায়মান, যা উদীয়মান প্রজন্মকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আধুনিক জাহেলিয়াতের রঙে রঞ্জিত করছে। এই শিক্ষাগত ও সাহিত্যিক চিন্তাধারা মুসলিম প্রজন্মকে গ্রাস করেছে, তাদের অন্তরে গেঁথে গেছে এবং দিকনির্দেশনা ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মুখ্য স্থান দখল করে নিয়েছে। এর ফলে এই প্রজন্মগুলো তাদের ঐতিহ্যের প্রতি আস্থা হারিয়েছে - অথবা হারানোর উপক্রম হয়েছে। ইসলামের জ্ঞান ও সভ্যতার ওপর শক্তিশালী ও সহিংস আক্রমণ তীব্রতর হয়েছে, যার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত নিয়ে সংশয় তৈরি করাও অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে তারা কিছু দুর্বল বর্ণনা, অদ্ভুত কাহিনী এবং ভিত্তিহীন অতিরঞ্জনের সুযোগ গ্রহণ করছে, যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, যা যুক্তিসিদ্ধ নয় এবং নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রের মাধ্যমেও প্রমাণিত নয়। তাই বিশেষজ্ঞ গবেষকদের জন্য এই পবিত্র সীরাতের প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে; সংকলন, অধ্যয়ন, যাচাই-বাছাই ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের মুহাদ্দিসগণের 'জারহ ও তাদীল' (বর্ণনাকারী যাচাইকরণ) সংক্রান্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করতে হবে, যাতে এর মধ্যকার প্রচ্ছন্ন ত্রুটিগুলো উন্মোচন করা যায় এবং এর পাঠ্যসমূহের মধ্য থেকে সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করা যায়।
যদি হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা বা মূলনীতিসমূহকে হাদীসে নববীর মূল্যায়ন এবং সেগুলোর মান নির্ণয়ে সূত্রের পরম্পরা ও মূল বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চমৎকারভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে সীরাতুন্নবী, এর ঘটনাবলী, যুদ্ধবিগ্রহ এবং এর অসংখ্য বিষয়াদি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অনুরূপ বা কাছাকাছি কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়নি।
এটি সীরাত অধ্যয়নের একটি দিক।
আর অপর দিকটি হলো আধুনিক বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি, যেখানে গবেষক অত্যন্ত শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় শৈলীতে সীরাতুন্নবীর বুদ্ধিবৃত্তিক, শিক্ষামূলক ও ফিকহী দিকগুলো উন্মোচন করার যত্ন নেন। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের অন্তরে এই সীরাতের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা এবং নতুন প্রজন্মকে এর প্রতি আগ্রহী করে তোলা, যাতে তারা মহান সীরাতওয়ালা আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করতে পারে। একইসঙ্গে সীরাতের উজ্জ্বল দিক ও মহিমান্বিত মুহূর্তগুলোকে ফুটিয়ে তোলাও এর লক্ষ্য। আমি স্বীকার করছি যে, আমি এই দিকে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করতে পারিনি; কারণ আমার গবেষণার মূল ভিত্তি ছিল বিশুদ্ধ হাদীস শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতের পাঠ্যগুলোর সত্যতা যাচাই করা। তাছাড়া সময়ও আমাকে এই উভয় কল্যাণের সমন্বয় সাধনে অবকাশ দেয়নি। তবে আমি স্বীকার করি যে, এই বরকতময় সীরাতের খেদমতে এটি একটি মহান দায়িত্ব।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولا أنسى أن أنوّه1 بدراسة جيدة بدأت في هذا الجانب لبعض المهتمين بقضايا الدعوة الإسلامية في هذا العصر2، ولكن الأمر يحتاج إلى المزيد الذي يغطي جوانب هذه السيرة تغطية كاملة.
وإغفال هذا الجانب التحليلي في دراسة السيرة النبوية خطأ جسيم في حق السيرة، وترك لواجب يفرضه الواقع المعاصر، وتقتضيه حاجة الأجيال الملحة.
ب - كلمة عن السيرة وضرورة التكامل في دراستها:
لفظ السيرة يراد به في اللغة: السنة والطريقة والهيئة، يقال: سار بهم سيرة حسنة، وسار في الناس سيرة حسنة أو قبيحة3.
والسيرة على هذا تشمل في مدلولها اللغوي المنهج والطريقة التي يتبعها الراعي في رعيته، والرجل في أهله4.
كما تطلق السيرة على الهيئة والحالة.
وبتأمل إطلاقات العلماء للفظ السيرة، يظهر أن السيرة مرّت في مدلولها الاصطلاحي بتطورات علمية بارزة، فبالنظر في صنيع العلماء الذين عنوا بتسجيل غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم وسراياه، وما يتبع ذلك من شؤون الحرب بين المسلمين وأعدائهم في العهد الأول، مثل عروة بن الزبير وأبان5 بن عثمان بن عفان، ومحمد بن شهاب الزهري، وعبد الله بن أبي بكر بن حزم.
--------------------------------------------
আমি এই যুগে ইসলামি দাওয়াহর বিষয়াবলি নিয়ে আগ্রহী কিছু গবেষক কর্তৃক এই ক্ষেত্রে শুরু হওয়া একটি চমৎকার গবেষণার প্রশংসা করতে ১ ভুলি না ২, তবে বিষয়টি এমন আরও প্রচেষ্টার মুখাপেক্ষী যা এই সীরাতের সকল দিক পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে।
সীরাতে নববীর অধ্যয়নে এই বিশ্লেষণধর্মী দিকটি উপেক্ষা করা সীরাতের হকের প্রতি একটি গুরুতর ভুল, এবং সমসাময়িক বাস্তবতার ওপর অর্পিত এক অনিবার্য কর্তব্য পরিত্যাগ করা, যা প্রজন্মের জরুরি প্রয়োজনের দাবি।
খ - সীরাত সম্পর্কে কিছু কথা এবং তা অধ্যয়নে পূর্ণাঙ্গতার প্রয়োজনীয়তা:
ভাষা বিজ্ঞানে সীরাত শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: রীতি, পদ্ধতি এবং অবস্থা। বলা হয়: সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ (সীরাত) করেছে, এবং সে মানুষের মধ্যে ভালো বা মন্দ আচরণে পরিচালিত হয়েছে ৩।
এই হিসেবে সীরাত তার আভিধানিক অর্থে সেই মানহাজ ও পদ্ধতিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যা একজন শাসক তার প্রজাদের ক্ষেত্রে এবং একজন ব্যক্তি তার পরিবারের ক্ষেত্রে অনুসরণ করে ৪।
সীরাত শব্দটি আকার ও অবস্থার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
আলেমগণ সীরাত শব্দটিকে যেভাবে ব্যবহার করেছেন তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সীরাতের পারিভাষিক অর্থ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। বিশেষ করে সেই সকল আলেমদের কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করলে যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধবিগ্রহ ও সামরিক অভিযানসমূহ এবং প্রথম যুগে মুসলিম ও তাদের শত্রুদের মধ্যেকার যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি লিপিবদ্ধ করতে মনোনিবেশ করেছিলেন; যেমন উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের, আবান ৫ ইবনে উসমান ইবনে আফফান, মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে হাজম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثم من جاء بعدهم أمثال: موسى بن عقبة، ومحمد بن إسحاق، وأبو معشر1 السندي، وشرحبيل2 بن سعد، والأربعة من تلاميذ الزهري، ثم محمد بن عمر الواقدي، ومحمد بن سعد، ثم المؤرخ العظيم الإمام الطبري، وغيرهم من أئمة السير والمغازي القدامى الذين هم الأصل في هذا العلم.
يتبيّن للناظر في تآليفهم العلمية أنهم يخصون لفظ السيرة بالغزوات والسرايا في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، وما يقع فيها من قضايا متعددة الجوانب، لذلك قال الفيومي: "وغالب اسم السيرة في ألسنة الفقهاء على المغازي"3.
وهذا المدلول الاصطلاحي استمر في الأدوار التاريخية المتلاحقة فإذا أطلق هذا اللفظ انصرف الذهن إلى الغزوات والسرايا وما له صلة بها قبل المعركة وبعدها.
وهناك مصادر أساسية جعلت السيرة بهذا المدلول جزءاً من موضوعاتها وبحوثها، مثل: "دلائل النبوة" للبيهقي، فقد ذكر مباحث السيرة في ثنايا عرضه لما يتصل بحياة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وممّن جرى على هذا المنوال من المتأخرين: ابن سيد4 الناس في كتابه "عيون الأثر في فنون المغازي والشمائل والسير"، وأبو زكريا يحيى بن أبي بكر العامري في كتابه "بهجة المحافل وبغية الأماثل في تلخيص السير والمعجزات والشمائل"، وشهاب الدين أحمد بن محمد القسطلاني في كتابه "المواهب اللدنية بالمنح المحمدية"، فهذه الكتب جمعت بين الشمائل، وهي الصفات الخُلقية5 والخلقية لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وبين الدلائل وهي البراهين على صحة نبوته صلى الله عليه وسلم، وبين السرايا والمغازي التي تمت في حياته صلى الله عليه وسلم وهذا الصنيع أقرب إلى مدلول لفظ السيرة من الوجهة اللغوية، لأن السيرة في اللغة العربية تدور على معنيين:
--------------------------------------------
এরপর তাদের পরে এসেছেন মুসা ইবনে উকবা, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আবু মা'শার আস-সিন্দি, শুরাহবিল ইবনে সা'দ—এই চারজন ইমাম যুহরীর ছাত্র—অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি, মুহাম্মদ ইবনে সা'দ, এরপর মহান ঐতিহাসিক ইমাম তাবারী এবং সীরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের অন্যান্য প্রাচীন ইমামগণ, যারা এই ইলমের মূল ভিত্তি।
তাদের ইলমী রচনাসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তারা 'সীরাত' শব্দটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের যুদ্ধ (গাযওয়াহ) এবং অভিযানগুলোর (সারিয়্যাহ) জন্য নির্দিষ্ট করতেন, এবং এ সংক্রান্ত বহুমুখী ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনায় ব্যবহার করতেন। এজন্য ফাইয়ুমি বলেছেন: "ফকীহগণের পরিভাষায় সীরাত শব্দের অধিকাংশ প্রয়োগ মাগাযী বা যুদ্ধের অর্থেই হয়ে থাকে।"
এই পারিভাষিক অর্থটি পরবর্তী ঐতিহাসিক যুগগুলোতেও অব্যাহত ছিল; ফলে যখনই এই শব্দটি (সীরাত) উচ্চারণ করা হতো, তখন মন সরাসরি যুদ্ধ, অভিযান এবং যুদ্ধের আগে ও পরের সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলির দিকে ধাবিত হতো।
আবার এমন কিছু মৌলিক উৎস রয়েছে যেগুলো সীরাতকে এই অর্থে তাদের বিষয়বস্তু ও গবেষণার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে, যেমন: বায়হাকীর "দালাইলুন নুবুওয়াহ"। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সংশ্লিষ্ট আলোচনা উপস্থাপনের ফাঁকে সীরাতের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন।
পরবর্তী যুগের আলিমদের মধ্যে যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে সাইয়্যিদুন নাস তার "উয়ুনুল আসার ফী ফুনুনিল মাগাযী ওয়াশ শামায়িল ওয়াস সিয়ার" গ্রন্থে, আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আবি বকর আল-আমিরী তার "বাহজাতুল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতুল আমাসিল ফী তালখীসিস সিয়ার ওয়াল মু'জিযাত ওয়াশ শামায়িল" গ্রন্থে এবং শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাসতালানী তার "আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ" গ্রন্থে। এই কিতাবগুলো শামায়িল—অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহ্যিক গঠন ও অভ্যন্তরীণ গুণাবলি—এবং দালাইল—অর্থাৎ তাঁর নুবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণাদি—এবং তাঁর জীবদ্দশায় সংঘটিত অভিযান ও যুদ্ধগুলোর (সারিয়্যাহ ও গাযওয়াহ) সংমিশ্রণে রচিত। এই পদ্ধতিটি ভাষাগত দিক থেকে সীরাত শব্দের অর্থের অধিকতর নিকটবর্তী, কারণ আরবি ভাষায় সীরাত শব্দটির দুইটি অর্থ রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الأول: الطريقة والمنهج والسنة المتبعة.
والثاني: الهيئة والحالة والصفات الجبليّة1 والكسبية.
وعلى هذا يمكن القول بأن مصطلح السيرة شامل لجميع ما يتصل بتطبيقات الرسول صلى الله عليه وسلم العملية للإسلام، وهذا المعنى العام يمكن أن يلحظه الباحث عند بعض العلماء الأجلاء مثل الإمام ابن قيم الجوزية في كتابه العظيم (زاد المعاد في هدي خير العباد) فهو كتاب جامع لسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم في السلم والحرب وفي العبادة والمعاملة، وفي بيته مع أهله وخدمه، ومع سائر الناس، فكان رصدا كاملا لجميع جوانب السيرة النبوية بالمعنى العام مع التحليل والاستنباط والمناقشة والتحقيق، وهي صفات أساسية في دراسة ابن قيم الجوزية رحمه الله، وهو وإن لم يجعل كتابه معنونا بالسيرة، إلاّ أن إدخاله للسيرة ضمن هديه صلى الله عليه وسلم المتعدد الجوانب يدل على نظرة دقيقة إلى مفهوم السيرة عنده، ممّا يشير إلى التدرج العلمي والفكري في مسالك العلماء المختلفة لمعالجة قضايا السيرة النبوية.
وقد ذكر أئمة الحديث مباحث الغزوات والسرايا في جملة مصنفاتهم ولكن أئمة السير والمغازي الذين أفردوها بالتصنيف المستقل كانوا أكثر استقراء واستيعابا للمغازي والسير من غيرهم، لذلك صاروا أئمة في هذا الشأن يرجع إليهم فيه.
ولا شك أن تتبع هذه المصادر المختلفة لاستخراج ما له صلة بغزوة من الغزوات يحتاج من الباحث إلى زمن كاف، وجهد متواصل في كتب التراث ودواوينه2 الواسعة، لأن مباحث السيرة النبوية لم تقتصر على كتب معينة خاصة بها.
ومن هنا تكون مهمة الباحث المعاصر في هذا الميدان أن يتنبه لهذه الحقيقة العلمية، وأن يدرك اختلاف طرائق العلماء في تناول مباحث السيرة النبوية في تصانيفهم، وما طرأ عليها من إضافات وتضخيمات بمعزل عن الصواب والحق، ذلك
--------------------------------------------
প্রথমত: অনুসৃত পদ্ধতি, পন্থা ও সুন্নাহ।
দ্বিতীয়ত: আকৃতি, অবস্থা এবং সহজাত ও অর্জিত গুণাবলী।১
এই প্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে যে, সীরাত পরিভাষাটি ইসলামের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল ব্যবহারিক প্রয়োগকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ব্যাপক অর্থটি গবেষকগণ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর মতো কিছু প্রথিতযশা আলেমের নিকট লক্ষ্য করতে পারেন তাঁর মহান গ্রন্থ 'যাদুল মাআদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ'-এ। এটি যুদ্ধ ও শান্তিকালীন, ইবাদত ও মুয়ামালাত (লেনদেন) এবং নিজ গৃহে পরিবার ও খাদেমদের সাথে এবং অন্যান্য সকল মানুষের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের একটি সংকলিত গ্রন্থ। এটি ছিল সীরাতে নববীর সকল দিকের একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ, যা বিশ্লেষণ, তথ্য আহরণ, আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর গবেষণার মৌলিক বৈশিষ্ট্য। যদিও তিনি তাঁর কিতাবটির নাম সীরাত হিসেবে নির্ধারণ করেননি, তবুও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বহুমুখী আদর্শের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে সীরাতকে উপস্থাপন করা তাঁর নিকট সীরাত ধারণার একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ দেয়। যা সীরাতে নববীর বিষয়গুলো পর্যালোচনায় বিভিন্ন উলামায়ে কেরামের কর্মপদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ক্রমকে নির্দেশ করে।
হাদিসের ইমামগণ তাঁদের সংকলনসমূহে যুদ্ধ ও অভিযানসমূহের আলোচনা উল্লেখ করেছেন। তবে সীরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের ইমামগণ, যারা একে স্বতন্ত্র সংকলন হিসেবে পৃথক করেছেন, তাঁরা মাগাযী ও সীরাতের ব্যাপারে অন্যদের তুলনায় অধিক গভীর পর্যবেক্ষণ ও ব্যাপক জ্ঞান রাখতেন। ফলে তাঁরা এই বিষয়ে ইমাম হিসেবে গণ্য হয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো একটি যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বের করার জন্য এই ভিন্ন ভিন্ন উৎসগুলো অনুসন্ধান করতে একজন গবেষকের পর্যাপ্ত সময় এবং ঐতিহ্যের বিশাল কিতাব ও দিওয়ানসমূহের২ ব্যাপক ভাণ্ডারে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার প্রয়োজন। কেননা সীরাতে নববীর আলোচনাগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো কিতাবেই সীমাবদ্ধ নয়।
আর এখান থেকেই সমসাময়িক গবেষকের দায়িত্ব হলো এই বৈজ্ঞানিক সত্যের প্রতি সজাগ থাকা এবং তাঁদের রচনাবলিতে সীরাতে নববীর বিষয়গুলো উপস্থাপনায় উলামায়ে কেরামের পদ্ধতির ভিন্নতা উপলব্ধি করা। পাশাপাশি সঠিক ও সত্যের বাইরে এতে যে সমস্ত সংযোজন ও অতিরঞ্জন ঘটেছে তা সম্পর্কে সচেতন থাকা। তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أن بعض المصادر المتأخرة لم تخل من إضافات تخالف الواقع التاريخي للسيرة النبوية، وتخالف روح الإسلام ونصوص القرآن والسنة، ممّا جعل السبيل ممهدة أمام المستشرقين وغيرهم أن يشككوا في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وقد اشتملت كتب الشمائل والتواريخ المتأخرة عن عهود التدوين – إلاّ القليل النادر منها – على تهاويل كثيرة تذكر قبل مولد الرسول صلى الله عليه وسلم زاعمين أنها إرهاصات1 لنبوته، وتذكر في أثناء مولده وبعد ولادته، وهي أخبار غريبة ومبالغات مرتجلة2 لا أساس لها من الصحة يجب تنقية السيرة منها، وبيان زيفها، وقد تلقفها جمهور المسلمين وتناشدوها في حفلات الموالد وسجلوها في أشعار المديح والإطراء للرسول صلى الله عليه وسلم، وكلها أخبار واهية، إما إسرائيليات وإما من نسج الخيال وإنشاء المداحين والقصاصين ومن على شاكلتهم، ولا شك أن مثل هذه الأساطير تفتح الباب أمام المغرضين من المستشرقين وأذنابهم لإنكار السيرة والحط منها والتشكيك في أحداثها الزاخرة، ومدلولاتها العظيمة، ومعطياتها المتعددة.
إن الباحث المعاصر حري به أن يرجع إلى نمط من المصادر الموثقة للنقاد المعتمدين في علوم الإسلام، مثل كتب الحديث وكتب الرجال وكتب التواريخ المسندة، ومن ثمّ دراسة النص التاريخي للسيرة دراسة نقدية جادّة وفق الأصول والقواعد العلمية المقررة، وهذا النوع من الدراسة هو الكفيل بوضع الحق في نصابه في حوادث السيرة النبوية ودمغ أباطيل المتزيدين والمستكثرين، ومن ثمّ إقناع كل من له إنصاف وعقل بتلك الصفات المشرقة من حياة المصطفى صلى الله عليه وسلم.
إن المسلمين أحوج ما يكونون اليوم إلى معطيات سيرة نبيهم صلى الله عليه وسلم في شتى مجالاتها المتنوعة. إن هذه السيرة النبوية حفظها الله للمسلمين ولم تحفظ سيرة نبي من الأنبياء كما حفظت سيرة نبينا صلى الله عليه وسلم، ولازال الباحثون إلى اليوم وإلى قيام الساعة يتمكنون من بيان هذه السيرة ودراستها ونفي الكذب عنها كما نُفي من حديثه صلى الله عليه وسلم رحمة من الله بهذه الأمة لتبقى لهم أعمال نبيهم وتطبيقاته وجميع تحركاته ونشاطاته المختلفة
--------------------------------------------
কিছু পরবর্তী উৎস এমন কিছু সংযোজন থেকে মুক্ত ছিল না যা সীরাতে নববীর ঐতিহাসিক বাস্তবতার পরিপন্থী এবং যা ইসলামের মূল চেতনা ও কুরআন-সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের বিরোধী। এর ফলে প্রাচ্যবিদ ও অন্যদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত নিয়ে সংশয় সৃষ্টির পথ সুগম হয়েছে।
সংকলনের যুগের পরবর্তী শামায়েল ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ—খুব সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া—অনেক কাল্পনিক ও অতিরঞ্জিত বিষয়ে পূর্ণ ছিল যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এই দাবি করে যে এগুলো তাঁর নবুওয়াতের পূর্বাভাস ১। এছাড়া তাঁর জন্ম চলাকালীন এবং জন্মের পরেও অনেক ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা অদ্ভুত সংবাদ এবং ভিত্তিহীন অতিরঞ্জন ২। সীরাতকে এসব থেকে পরিশুদ্ধ করা এবং এগুলোর অসারতা স্পষ্ট করা অপরিহার্য। সাধারণ মুসলিমরা এগুলো গ্রহণ করেছে এবং মিলাদ মাহফিলগুলোতে পাঠ করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা ও অতিশয়োক্তিপূর্ণ স্তুতিমূলক কবিতায় লিপিবদ্ধ করেছে। এগুলোর সবই ভিত্তিহীন সংবাদ, যা হয় ইসরাঈলি বর্ণনা অথবা কল্পকাহিনী এবং প্রশংসাকারী ও কিচ্ছাকারদের এবং তাদের ন্যায় লোকেদের সৃষ্টি। নিঃসন্দেহে এ ধরনের উপকথাগুলো বিদ্বেষপরায়ণ প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের জন্য সীরাতকে অস্বীকার করার, একে খাটো করে দেখার এবং এর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী, মহৎ তাৎপর্য ও বহুমুখী অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ খুলে দেয়।
বর্তমান সময়ের গবেষকদের জন্য সমীচীন হলো ইসলামী জ্ঞানবিজ্ঞানে নির্ভরযোগ্য সমালোচকদের দ্বারা স্বীকৃত ও প্রত্যায়িত উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যেমন হাদীস শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ, রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ এবং সনদভিত্তিক ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ। অতঃপর সীরাতের ঐতিহাসিক পাঠ্যকে নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক মূলনীতি ও নিয়ম অনুযায়ী গভীর সমালোচনামূলকভাবে অধ্যয়ন করা। এই ধরনের গবেষণাই সীরাতে নববীর ঘটনাবলীর সত্যতা যথাযথভাবে নিরূপণ করতে এবং যারা বাড়িয়ে বলে ও অতিরঞ্জন করে তাদের অসারতা চূর্ণ করতে সক্ষম। এভাবে বিবেকবান ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।
আজকের দিনে মুসলিমদের জন্য জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা এই সীরাতে নববীকে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন; অন্য কোনো নবীর সীরাত এমনভাবে সংরক্ষিত হয়নি যেভাবে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সংরক্ষিত হয়েছে। গবেষকগণ আজও এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই সীরাতকে ব্যাখ্যা করতে, তা নিয়ে গবেষণা করতে এবং সীরাত থেকে মিথ্যাকে দূর করতে সক্ষম হবেন, যেভাবে হাদীস থেকে মিথ্যা অপনোদন করা হয়েছে। এটি এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর রহমত, যাতে তাদের জন্য তাদের নবীর আমল, প্রয়োগ এবং তাঁর যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা সংরক্ষিত থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
في السلم والحرب المرجع الذي يعودون إليه فيجدون فيه أنفاسه صلى الله عليه وسلم وإن كانت نفسه الشريفة قد فارقت الدنيا، ويقتدون بسيرته كما يتبعون سنته.
ومن هنا وجب القيام بدراستها من الناحية النقدية الحديثية، ومن الناحية التحليلية التربوية بأسلوب معاصر وعرض جديد يقربها من لغة المثقف المعاصر، وهما واجبان متلازمان لا ينفك أحدهما عن الآخر. وبهذا المنهج يمكن استدراك النقص الناجم عن الدراسات الإنشائية المرتجلة البعيدة عن التحقيق والبحث العلمي، كما يمكن تدارك الخلل الناجم عن الدراسة المتخصصة الدقيقة التي تبعد عن التحليل العلمي المعاصر، ولا تعنى بتقريب أحداث السيرة ونصوصها من فهم المثقفين المعاصرين، مما جعل كثيرا من الدارسين المعاصرين يعتمدون في دراستهم للسيرة على كتب المستشرقين ومن نحا نحوهم في كتابة السيرة بأسلوب العصر ولغته الأدبية وتحليلاته النفسية التربوية وفق مناهج غربية لا تخلو من تحامل وتشكيك في قضايا السيرة.
وهذه الفجوة الخطيرة قد قامت محاولات1 جادّة لسدها ظهرت في صورة دراسات يغلب عليها طابع العصر في سرعة التناول وغلبة الارتجال ولكنها دراسات نافعة أفادت منها الأجيال المعاصرة، بيد أن الأمر يحتاج إلى ضرورة التكامل في دراسة السيرة.
ج - سبب اختياري لغزوة حنين:
كانت تجربتي الأولى في دراسة غزوة "بني المصطلق" تدفعني لمواصلة خدمة السيرة النبوية، وقد وقع اختياري على هذه الغزوة لبحث الدكتوراه استمرارا لهذا الاتجاه الذي أرجو أن يكون من صالح أعمالي الموفقة، كما أتمنى أن يكون عملا علميا نافعا في خدمة الغزوتين العظيمتين.
وأود أن أجمل دوافع اختياري لغزوة حنين على وجه الخصوص في النقاط الآتية:
1- كثرة أحداث غزوة حنين وتشعب مروياتها وتعدد الجوانب العلمية لوقائعها التاريخية ومعطياتها الجليلة، ممّا جعلها - في نظري - جديرة بإفرادها بالدراسة
--------------------------------------------
শান্তি ও যুদ্ধে তিনি হলেন সেই আশ্রয়স্থল যার দিকে তারা ফিরে আসেন এবং সেখানে তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পান, যদিও তাঁর পবিত্র আত্মা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। তারা তাঁর সীরাত অনুসরণ করেন ঠিক যেমন তারা তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করেন।
আর এখান থেকেই সীরাতকে হাদিসশাস্ত্রীয় পর্যালোচনা এবং সমসাময়িক শিক্ষিত সমাজের ভাষার নিকটবর্তী আধুনিক শৈলী ও অভিনব উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষামূলক বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই দুটি কাজ একটি অন্যটির সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সেই অপূর্ণতা দূর করা সম্ভব যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও যাচাই-বাছাই থেকে দূরে থাকা গতানুগতিক ও তাৎক্ষণিক রচনাসমূহের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে সেই ত্রুটিও সংশোধন করা সম্ভব যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণবিমুখ অতি-বিশেষায়িত অধ্যয়ন থেকে জন্ম নেয় এবং যা সীরাতের ঘটনাবলি ও এর ভাষ্যসমূহকে সমকালীন শিক্ষিতদের বোধগম্য করে তোলার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। এর ফলেই অনেক আধুনিক গবেষক সীরাত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদ এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন, যারা সীরাত রচনায় আধুনিক শৈলী, সাহিত্যিক ভাষা এবং মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষামূলক বিশ্লেষণ ব্যবহার করেছেন এমন এক পশ্চিমা পদ্ধতিতে যা সীরাতের বিষয়াবলিতে বিদ্বেষ ও সংশয় সৃষ্টির ঊর্ধ্বে নয়।
এই বিপজ্জনক শূন্যতা পূরণে কিছু আন্তরিক প্রচেষ্টা১ চালানো হয়েছে, যা বর্তমান যুগের দ্রুত উপস্থাপনা ও তাৎক্ষণিক রচনার ছাপ সম্বলিত অধ্যয়ন হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। তবে এগুলো ফলপ্রসূ অধ্যয়ন যা থেকে সমকালীন প্রজন্ম উপকৃত হয়েছে। তবুও সীরাত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গতা বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
গ - হুনাইন যুদ্ধ নির্বাচনের কারণ:
"বনু মুসতালিক" যুদ্ধ নিয়ে আমার প্রথম গবেষণার অভিজ্ঞতা আমাকে সীরাতে নববীর খেদমত অব্যাহত রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সেই ধারার ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমি পিএইচডি গবেষণার জন্য এই যুদ্ধটিকে (হুনাইন যুদ্ধ) বেছে নিয়েছি, যা আমার সফল নেক আমলগুলোর অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমি আশা করি। সেই সাথে আমি কামনা করি যে এটি এই দুটি মহান যুদ্ধের সেবায় একটি উপকারী বৈজ্ঞানিক কাজ হিসেবে গণ্য হবে।
বিশেষভাবে হুনাইন যুদ্ধ নির্বাচনের কারণসমূহ আমি নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই:
১- হুনাইন যুদ্ধের ঘটনাবলির আধিক্য, এর বর্ণনাসমূহের শাখা-প্রশাখা এবং এর ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বৈজ্ঞানিক দিক ও মহান তথ্যাবলির বহুমুখিতা; যা আমার দৃষ্টিতে এটিকে স্বতন্ত্রভাবে অধ্যয়ন করার যোগ্য করে তুলেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
العلمية الوافية، لذلك اخترتها لبحث الدكتوراه عسى أن أفي بحقها وألم شعثها وأجمع متفرقها وأحقق نصوصها وفق المناهج العلمية المتبعة في نقد الروايات من الوجهة الحديثية.
2- تعد غزوة حنين آخر غزوات الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم في جزيرة العرب، حيث لم تقم بعدها للوثنية العربية قائمة، وارتفع بعدها علم التوحيد عاليا في سماء الجزيرة العربية، وتهاوت ألوية الشرك، ودخل العرب جميعا بعد هذه الغزوة في دين الله أفواجا.
وغزوة هذا شأنها، وهذه بعض معطياتها حقيقة بالدراسة المتأنية والتحقيق العلمي الجادّ، لذلك أجمعت أمري على خوض غمارها، ونقد مروياتها، وتجلية أحداثها واستقصاء جميع ما يتصل بها، بحسب الإمكان وفي حدود طاقتي العلمية المتواضعة.
3– تعددت الجوانب العلمية لهذه الغزوة فهي من جانب تشتمل على تدبيرات الرسول صلى الله عليه وسلم العسكرية والسياسية، وهي من جانب آخر جمعت بين الهزيمة للمسلمين في بادئ الأمر ثم كانت العاقبة لهم النصر والظفر بأعدائهم.
وقد احتوت على عدد من المعجزات والدلائل على نبوته صلى الله عليه وسلم، وفيها أيضا قضايا متصلة بالعقيدة، وأحكام فقهية واسعة، إلى غير ذلك من المسائل العظيمة البارزة التي تحتاج إلى دراسة مستقلة متخصصة تستوعب هذه الجوانب العلمية وتفي بأطرافها الموزعة في المصادر العلمية الكثيرة.
4– الناظر في كتب التراث عامة يلحظ أن هذه الغزوة لم تحظ بدراسة علمية تجمع ما تفرق منها هنا وهناك، وتنسق موضوعاتها وفق الدراسة الموضوعية المتكاملة في أبواب وفصول ومباحث تنتظم جميع أحداثها ووقائعها التاريخية، لذلك رأيت أن أقوم بذلك الجمع العلمي لما تفرق، وبذلك الترتيب والتبويب لتلك الأحداث والوقائع المتصلة بهذه الغزوة – مع الدراسة النقدية – عسى أن يسد عملي هذا ثغرة علمية، وأن يضيف شيئا ذا بال في طريقة دراسة هذا الموضوع الخطير. والله الموفق والمستعان.
...পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, তাই আমি এটি আমার পিএইচডি গবেষণার জন্য বেছে নিয়েছি যেন আমি এর হক আদায় করতে পারি, এর অগোছালো অংশগুলো সুবিন্যস্ত করতে পারি, বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্র করতে পারি এবং হাদিসশাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা পর্যালোচনার প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী এর মূল পাঠগুলো যাচাই করতে পারি।
২- হুনায়নের যুদ্ধ আরব উপদ্বীপে প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ যুদ্ধগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত, যার পরে আরব পৌত্তলিকতার আর কোনো ভিত্তি অবশিষ্ট থাকেনি এবং এরপর আরব উপদ্বীপের আকাশে তাওহিদের ঝাণ্ডা সুউচ্চ হয়েছে, শিরকের পতাকাগুলো ধূলিসাৎ হয়েছে এবং এই যুদ্ধের পর আরবরা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছে।
আর যে যুদ্ধের গুরুত্ব এমন এবং যার ফলাফলসমূহ এই পর্যায়ের, তা অবশ্যই গভীর অধ্যয়ন এবং ঐকান্তিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দাবি রাখে। তাই আমি এর গভীরে প্রবেশ করা, এর বর্ণনাগুলোর সমালোচনা ও পর্যালোচনা করা, এর ঘটনাবলি স্পষ্ট করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় যথাসম্ভব আমার বিনম্র জ্ঞানীয় সামর্থ্যের মধ্যে থেকে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
৩– এই যুদ্ধের জ্ঞানীয় দিকগুলো বহুমুখী; একদিকে এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামরিক ও রাজনৈতিক কলাকৌশলকে অন্তর্ভুক্ত করে, অন্যদিকে এটি শুরুতে মুসলিমদের পরাজয় এবং পরবর্তীতে বিজয় ও শত্রুদের ওপর আধিপত্য লাভের সমন্বিত রূপ।
এতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়তের বেশ কিছু অলৌকিক নিদর্শন ও প্রমাণ নিহিত রয়েছে। এছাড়াও এতে আকিদা সংক্রান্ত বিষয়াদি, ব্যাপক ফিকহি বিধান এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রস্ফুটিত মাসআলা রয়েছে, যার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত অধ্যয়ন প্রয়োজন, যা এই জ্ঞানীয় দিকগুলোকে ধারণ করবে এবং বিভিন্ন জ্ঞানীয় উৎসে ছড়িয়ে থাকা এর প্রান্তিক বিষয়গুলোর হক আদায় করবে।
৪– সাধারণত ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানভাণ্ডারের কিতাবসমূহের পাঠকমাত্রই লক্ষ্য করবেন যে, এই যুদ্ধটি এমন কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার সৌভাগ্য লাভ করেনি যা এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা এর বিষয়গুলোকে একত্র করবে এবং এর বিষয়বস্তুগুলোকে একটি সমন্বিত বিষয়ভিত্তিক আলোচনার আলোকে অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করবে, যা এর সকল ঐতিহাসিক ঘটনা ও পরিস্থিতিকে সুশৃঙ্খল করবে। তাই আমি বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে জ্ঞানীয়ভাবে একত্র করার এবং এই যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও পরিস্থিতিগুলোকে বিন্যস্ত ও অধ্যায়ভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি—সমালোচনামূলক পর্যালোচনাসহ—যাতে আমার এই কাজ একটি জ্ঞানীয় শূন্যতা পূরণ করতে পারে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অধ্যয়নের পদ্ধতিতে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু যোগ করতে পারে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
خطة البحث:
سار هذا البحث على خطة رسمتها لنفسي بغية الإحاطة بأطرافه على الطريقة الآتية:
1 - المقدمة: وفيها افتتاحية، ووجوب دراسة السيرة، وكلمة موجزة عن السيرة، ومصادرها، وكيف يتم التكامل في دراسة السيرة النبوية.
2 – التمهيد: وفيه قضيتان:
الأولى: التعريف بهوازن وثقيف وفيه:
1) نسب هوازن وثقيف.
2) تحديد مواقعهم وديارهم من الناحية الجغرافية.
3) صلتهم بقريش:
أ - الصلة النسبية.
ب- المصاهرة.
جـ- تبادل المصالح المشتركة.
4) موقفهم من ظهور الإسلام ودعوته.
5) موقفهم من الصراع بين المسلمين وقريش.
الثانية: تحركات المسلمين العسكرية:
وفي هذه القضية التمهيدية تناولت ما يلي:
1) تجهيز سرية لهدم العزى.
2) بعث سرية أخرى لهدم مناة.
3) سرية خالد بن الوليد إلى بني جذيمة.
وكانت هذه السرايا الثلاث قبيل معركة حنين.
وبعد هذا التمهيد الموجز رأيت أن يكون
গবেষণার পরিকল্পনা:
এই গবেষণাটি এমন একটি পরিকল্পনার আলোকে অগ্রসর হয়েছে যা আমি এর সকল দিক পরিব্যাপ্ত করার লক্ষ্যে নিজের জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে প্রণয়ন করেছি:
১ - ভূমিকা: এতে রয়েছে প্রারম্ভিকা, সীরাত অধ্যয়নের আবশ্যকতা, সীরাত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও এর উৎসসমূহ এবং কীভাবে সীরাতুন্নবী অধ্যয়নে পূর্ণাঙ্গতা অর্জন করা যায়।
২ – উপক্রমণিকা: এতে দুটি বিষয় রয়েছে:
প্রথম বিষয়: হাওয়াযিন ও সাকীফ গোত্রের পরিচয়, এতে রয়েছে:
১) হাওয়াযিন ও সাকীফের বংশপরিচয়।
২) ভৌগোলিক দিক থেকে তাদের অবস্থান ও আবাসভূমি নির্ধারণ।
৩) কুরাইশদের সাথে তাদের সম্পর্ক:
ক - বংশীয় সম্পর্ক।
খ- বৈবাহিক সম্পর্ক।
গ- পারস্পরিক স্বার্থ বিনিময়।
৪) ইসলামের আবির্ভাব ও এর দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান।
৫) মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে তাদের অবস্থান।
দ্বিতীয় বিষয়: মুসলিমদের সামরিক অভিযানসমূহ:
এই উপক্রমণিকামূলক বিষয়ে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি:
১) আল-উযযা ধ্বংসের জন্য একটি সারিয়্যাহ (ছোট সেনাদল) প্রস্তুতকরণ।
২) মানাত ধ্বংসের জন্য অন্য একটি সারিয়্যাহ প্রেরণ।
৩) বনু জাযীমার প্রতি খালিদ বিন ওয়ালিদের সারিয়্যাহ।
এই তিনটি সারিয়্যাহ বা অভিযানই হুনাইন যুদ্ধের প্রাক্কালে সম্পন্ন হয়েছিল।
এই সংক্ষিপ্ত উপক্রমণিকার পর আমি সঙ্গত মনে করেছি যে...
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الباب الأول: في الحديث عن غزوة حنين وتحته أربعة فصول:
الفصل الأول: في مقدمات غزوة حنين وفيه مبحثان:
1) سبب الغزوة.
2) الاستعداد للمعركة.
الفصل الثاني: في المسير إلى حنين وفيه سبعة مباحث:
1) في تاريخ الغزوة.
2) تعيين الأمير على مكة.
3) عدد الجيش الإسلامي في هذه الغزوة.
4) استعداد هوازن العسكري.
5) تبشير الرسول صلى الله عليه وسلم أصحابه بالنصر وبيان فضل الحراسة في سبيل الله.
6) بقايا من رواسب الجاهلية.
7) بيان من قال في هذه الغزوة "لن نغلب اليوم من قلة".
الفصل الثالث: في وصف المعركة وفيه أربعة مباحث:
1) سبب هزيمة المسلمين في بداية المعركة.
2) مواقف مريبة إثر انكشاف المسلمين في بادئ الأمر.
3) عدد الثابتين مع الرسول الله-صلى الله عليه وسلم-يوم حنين.
4) عوامل انتصار المسلمين في حنين.
الفصل الرابع: ما أسفرت عنه معركة حنين من ضحايا وغنائم وفيه مبحثان:
1) خسائر المشركين في هذه الغزوة.
2) إصابات المسلمين في هذه الغزوة.
الباب الثاني: ملاحقة فلول المشركين والأحداث التاريخية التي أعقبت ذلك وفيه أربعة فصول:
প্রথম অধ্যায়: হুনাইন যুদ্ধ প্রসঙ্গে এবং এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হুনাইন যুদ্ধের পটভূমি এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
১) যুদ্ধের কারণ।
২) যুদ্ধের প্রস্তুতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হুনাইনের পথে যাত্রা এবং এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
১) যুদ্ধের তারিখ প্রসঙ্গে।
২) মক্কায় আমির নিয়োগ প্রসঙ্গে।
৩) এই যুদ্ধে ইসলামি সেনাবাহিনীর সংখ্যা।
৪) হাওয়াযিন গোত্রের সামরিক প্রস্তুতি।
৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান এবং আল্লাহর পথে পাহারাদারির ফযীলত বর্ণনা।
৬) জাহেলিয়াতের কিছু অবশিষ্টাংশ।
৭) এই যুদ্ধে যারা বলেছিল "আজ আমরা সংখ্যাস্বল্পতার কারণে পরাজিত হব না" তাদের বর্ণনা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের বিবরণ এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
১) যুদ্ধের শুরুতে মুসলিমদের পরাজয়ের কারণ।
২) শুরুতে মুসলিমদের বিপর্যয়ের পর সৃষ্ট কিছু সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতি।
৩) হুনাইনের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অবিচল থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা।
৪) হুনাইনে মুসলিমদের বিজয়ের কারণসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হুনাইন যুদ্ধের ফলাফল স্বরূপ হতাহত ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
১) এই যুদ্ধে মুশরিকদের ক্ষয়ক্ষতি।
২) এই যুদ্ধে মুসলিমদের হতাহত হওয়ার বিবরণ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: মুশরিকদের পলায়নপর অংশের পশ্চাদ্ধাবন এবং পরবর্তী ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأول: تعقب الفارين نحو نخلة وأوطاس - وفيه ثلاثة مباحث:
1) التوجه إلى النخلة.
2) سرية أوطاس.
3) موقف شيماء وبجاد.
الفصل الثاني: في غزوة الطائف – وفيه أربعة مباحث:
1) حصار الطائف.
2) ما صدر من التعليمات العسكرية للمسلمين في حصار الطائف.
3) عدد القتلى من الفريقين في غزوة الطائف.
4) فك الحصار عن الطائف والعودة إلى الجعرانة.
الفصل الثالث: في تقسيم الغنائم – وفيه خمسة مباحث:
1) الفرق بين الغنيمة والفيء والنفل.
2) جفاء الأعراب وغلظتهم.
3) اعتراض ذي الخويصرة التميمي على رسول الله صلى الله عليه وسلم في قسم الغنائم.
4) في بيان حكمة توزيع الغنائم على قوم دون آخرين.
5) موقف الأنصار من توزيع الغنائم وخطبة الرسول صلى الله عليه وسلم فيهم.
الفصل الرابع: في بيان ما آل إليه أمر هوازن وثقيف بعد المعركة – وفيه مبحثان:
1) في قدوم وفد هوازن إلى الجعرانة مسلمين.
2) في إيفاد ثقيف جماعة منهم إلى المدينة للتفاوض مع رسول الله صلى الله عليه وسلم.
الباب الثالث: في بيان أبرز الأحكام المستنبطة من غزوة حنين – وفيه سبعة عشر حكما، وقد سردتها حكما بدون فصول ولا مباحث لعدم الحاجة الداعية لذلك:
1) جواز وطء المسبية بعد الاستبراء.
2) وقوع العزل في سرية أوطاس.
প্রথম অধ্যায়: নাখলা ও আওতাসের দিকে পলায়নকারীদের অনুসরণ - এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১) নাখলার দিকে যাত্রা।
২) আওতাস অভিযান।
৩) শায়মা ও বিজাদের অবস্থান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তায়েফ যুদ্ধ প্রসঙ্গে – এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১) তায়েফ অবরোধ।
২) তায়েফ অবরোধে মুসলিমদের প্রতি জারিকৃত সামরিক নির্দেশনাবলি।
৩) তায়েফ যুদ্ধে উভয় পক্ষের নিহতের সংখ্যা।
৪) তায়েফ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জিরানায় প্রত্যাবর্তন।
তৃতীয় অধ্যায়: গনিমত বণ্টন প্রসঙ্গে – এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১) গনিমত, ফায় এবং নফল-এর মধ্যে পার্থক্য।
২) মরুবাসী আরবদের রুক্ষতা ও কঠোরতা।
৩) গনিমত বণ্টনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যুল খুওয়ায়সিরা আত-তামিমির আপত্তি।
৪) অন্যদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু গোত্রের মাঝে গনিমত বিতরণের হিকমত বা রহস্য বর্ণনা।
৫) গনিমত বণ্টনের ক্ষেত্রে আনসারদের অবস্থান এবং তাদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষণ।
চতুর্থ অধ্যায়: যুদ্ধের পর হাওয়াযিন ও সাকিফ গোত্রের পরিণতির বর্ণনা – এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১) হাওয়াযিন প্রতিনিধি দলের মুসলিম হিসেবে জিরানায় আগমন।
২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আলোচনার জন্য সাকিফ গোত্রের একটি দলের মদীনায় প্রেরণ।
তৃতীয় বিভাগ: হুনাইন যুদ্ধ থেকে উদ্ভাবিত প্রধান বিধানসমূহের বর্ণনা – এতে সতেরোটি বিধান রয়েছে, যা আমি কোনো অধ্যায় বা পরিচ্ছেদ ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছি, কারণ তার প্রয়োজন নেই:
১) ইস্তিবরা (গর্ভাশয় মুক্ত হওয়া নিশ্চিত করা)-এর পর যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে শারীরিক সম্পর্কের বৈধতা।
২) আওতাস অভিযানে 'আযল' (বীর্যপাত রোধ) সংঘটিত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
1) في بيان مسألة المتعة.
2) منع المخنثين من الدخول على النساء الأجنبية.
3) في النهي عن قتل النساء والضعفاء ومن في حكمهم.
4) العذر الذي يبيح ترك حضور صلاة الجماعة.
5) تعليم أبي محذورة الأذان.
6) إقامة الحد في دار الحرب.
7) الاستعانة بالمشركين.
8) العارية من حيث الضمان وعدمه.
9) قضاء الرسول صلى الله عليه وسلم.
10) في بيان نذر الكافر وما يفعل فيه إذا أسلم.
11) استحقاق القاتل سلب القتيل.
12) في بيان تحريم الفلول في الغنيمة.
13) المؤلفة قلوبهم.
14) بعض ما يجتنبه المحرم.
15) عمرة الرسول صلى الله عليه وسلم من الجعرانة.
أما الخاتمة فقد ضمنتها أبرز النتائج العلمية التي توصلت إليها من خلال دراستي لهذه الغزوة.
منهجي في البحث:
أريد أن أوضح طريقة عملي في دراسة هذه الغزوة والمنهج الذي سرت عليه في تناول مروياتها جمعا وتحقيقا ودراسة، مجملا ذلك في النقاط الآتية:
1- أول ما قمت به جمع المادة العلمية المتصلة بهذه الغزوة من مظانها في كتب التراث الواسعة ما بين مخطوط ومطبوع مع الإفادة في ذلك من الدراسات المعنية بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم قديماً وحديثا.
1) মুতআ (সাময়িক বিবাহ) সংক্রান্ত মাসআলা বর্ণনা প্রসঙ্গে।
2) গায়রে মাহরাম নারীদের নিকট মুখান্নাসদের (হিজড়া সদৃশ পুরুষ) প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা।
3) নারী, দুর্বল ও তাদের পর্যায়ভুক্ত ব্যক্তিদের হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে।
4) জামাতে নামাজে উপস্থিত না হওয়ার বৈধ ওজরসমূহ।
5) আবু মাহজুরাহ-কে আযান শিক্ষা প্রদান।
6) দারুল হারবে (যুদ্ধক্ষেত্রে) হদ বা দণ্ডবিধি কার্যকর করা।
7) মুশরিকদের সাহায্য গ্রহণ।
8) ধার দেওয়া জিনিসের (আরিয়াহ) জামানত (ক্ষতিপূরণ) দেওয়া ও না দেওয়ার বিধান।
9) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিচার ও ফয়সালা।
10) কাফের ব্যক্তির মানত এবং ইসলাম গ্রহণের পর তাতে করণীয় বর্ণনা প্রসঙ্গে।
11) নিহত ব্যক্তির পরিধেয় ও আসবাবপত্রের (সালব) ওপর হত্যাকারীর অধিকার।
12) গনিমতের মালে খিয়ানত হারাম হওয়ার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
13) মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম (যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা কাম্য)।
14) ইহরাম অবস্থায় বর্জনীয় কিছু বিষয়।
15) জি’রানা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উমরাহ সম্পাদন।
উপসংহারের ক্ষেত্রে, এই যুদ্ধ সম্পর্কে আমার গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলসমূহ আমি সেখানে সন্নিবেশিত করেছি।
গবেষণা পদ্ধতি:
আমি এই যুদ্ধ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে আমার কাজের পদ্ধতি এবং এর বর্ণনাগুলো সংগ্রহ, তাহকিক ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা স্পষ্ট করতে চাই, যা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১- আমার প্রথম কাজ ছিল পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত আকারে বিদ্যমান বিশাল ঐতিহ্যবাহী (তুরাসা) গ্রন্থরাজির উৎসসমূহ থেকে এই যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা, এর পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বিষয়ক প্রাচীন ও আধুনিক গবেষণাগুলো থেকেও উপকৃত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2- أتبعت ذلك بدراسة مرويات غزوة حنين معتمدا في ذلك على أسلوب المحدثين في نقدهم للروايات وفق قواعد الجرح والتعديل المقررة في مصطلح الحديث، وقد سلكت في ذلك الطريقة الآتية:
أ- إذا كان الحديث في الأصول الستة أو أحدها1، فإني أصدر به الباب أو الفصل أو المبحث في الأغلب الأعم، ثم أراعي بعد ذلك الترتيب في إيراد الحديث أو الأثر بحسب الوفيات في الغالب أيضا.
ب- لا أترجم لرواة الحديث الذي أخرجه الشيخان أو أحدهما؛ لأن رجالهما قد جاوزوا القنطرة، وأجمع العلماء بعدهما على توثيق رجالهما، وربما ذكرت الحديث أو جزءا منه مجردا عن الإسناد ما دام مخرجا في الصحيحين أو أحدهما.
?- ما كان من الأحاديث في غير الصحيحين أو أحدهما أقوم بدراسة إسناده وترجمة رواته والحكم عليه بما يستحقه صحة أو حسنا أو ضعفا.
د - كان اعتمادي في التراجم ودراسة السند على تقريب التهذيب وتهذيب التهذيب لابن حجر، وإذا كان الرجل من غير رجال التقريب أو متكلما فيه ولو كان من رجاله، فإني أرجع إلى بقية كتب الجرح والتعديل غالبا لاستظهار ما يتصل بحقيقة الحال في أمره بحسب الإمكان.
3- بعد تلك الدراسة النقدية الحديثية قمت بما يلي:
أ- ترقيم جميع الأحاديث الواردة في هذه الرسالة بأرقام متسلسلة.
ب- تخريج الحديث عند أول إيراده في البحث ثم الإحالة إلى رقمه بعد ذلك إذا دعت الحاجة إلى إيراده مرة أخرى. وقد أذكر تخريجه عند أول وروده مقتصرا على بعض ممّن أخرجه، ثم أستوفي تخريجه في مكان لاحق لأنه ألصق بالموضع الذي ورد فيه متأخراً.
?- تقطيع المتن في أماكن مفرقة بحسب المناسبات المختلقة التي تدعو إلى ذلك.
--------------------------------------------
২- এরপর আমি হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনাগুলো মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিতে এবং হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা অনুযায়ী নির্ধারিত 'জারহ ও তাদীল' (দোষগুণ বিচার)-এর মূলনীতির আলোকে বিশ্লেষণ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
ক- হাদিসটি যদি 'উসূলে সিত্তা' বা তার কোনো একটিতে থাকে১, তবে আমি সচরাচর সেটি দিয়েই পরিচ্ছেদ, অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ শুরু করেছি। এরপর হাদিস বা আছার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি) বর্ণনার ক্ষেত্রে সাধারণত মৃত্যুর সাল অনুযায়ী ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছি।
খ- যে হাদিস শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁদের বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করিনি; কারণ তাঁদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ড অতিক্রম করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমগণ তাঁদের বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। অনেক সময় আমি হাদিস বা তার কোনো অংশ সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছি যদি তা সহীহাইন বা তার কোনো একটিতে বর্ণিত হয়ে থাকে।
গ- যে সকল হাদিস সহীহাইন বা তার কোনো একটিতে নেই, সেগুলোর সনদ পর্যালোচনা, বর্ণনাকারীদের জীবনী এবং হাদিসটির মান অনুযায়ী তা সহীহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম) নাকি যয়ীফ (দুর্বল) সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছি।
ঘ- বর্ণনাকারীদের জীবনী ও সনদ পর্যালোচনায় আমি ইবনে হাজারের 'তাক্বরীবুত তাহযীব' ও 'তাহযীবুত তাহযীব'-এর ওপর নির্ভর করেছি। যদি কোনো ব্যক্তি 'তাক্বরীব'-এর অন্তর্ভুক্ত না হন অথবা তাঁর বিষয়ে কোনো সমালোচনা থাকে (যদিও তিনি তার অন্তর্ভুক্ত হন), তবে আমি যথাসম্ভব তাঁর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য সাধারণত জারহ ও তাদীলের অন্যান্য কিতাবের শরণাপন্ন হয়েছি।
৩- হাদিসতাত্ত্বিক এই সমালোচনামূলক পর্যালোচনার পর আমি নিম্নোক্ত কাজগুলো করেছি:
ক- এই অভিসন্দর্ভে বর্ণিত সকল হাদিসকে ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি।
খ- গবেষণায় প্রথমবার হাদিস উল্লেখের সময় তার তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছি এবং পরবর্তীতে পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন হলে তার নম্বরের দিকে ইঙ্গিত করেছি। কখনো প্রথমবার উল্লেখের সময় সংক্ষেপে কয়েকজনের নাম দিয়ে তাখরীজ করেছি এবং পরবর্তীতে কোনো স্থানে পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি, কারণ তা পরবর্তী ঐ স্থানের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গ- বিভিন্ন প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে হাদিসের মূল পাঠকে (মতন) বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
رموز رجال الإسناد:
سلكت في اختيار رموز رجال الإسناد مسلك الحافظ ابن حجر في كتابه "تقريب التهذيب"، وإليك بيانها:
(خ) البخاري في صحيحه.
(خت) البخاري في صحيحه معلقا.
(بخ) البخاري في الأدب المفرد.
(عخ) البخاري في خلق أفعال العباد.
(ز) البخاري في جزء القراءة خلف الإمام.
(ي) البخاري في رفع اليدين.
(م) مسلم في صحيحه.
(د) أبو داود في سننه.
(مد) أبو داود في كتابه المراسيل.
(صد) أبو داود في كتابه فضائل الأنصار.
(خد) أبو داود في كتابه الناسخ والمنسوخ.
(قد) أبو داود في كتابه القدر.
(ف) أبو داود في كتابه التفرد.
(ل) أبو داود في كتابه المسائل.
(كد) أبو داود في كتابه مسند مالك.
(ت) الترمذي في سننه.
(تم) الترمذي في الشمائل.
(س) النسائي في سننه.
(عس) النسائي في مسند علي.
(كن) النسائي في مسند مالك.
সনদ বর্ণনাকারীদের সংকেতসমূহ:
সনদ বর্ণনাকারীদের সংকেত নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি হাফেজ ইবনে হাজার-এর তাঁর "তাকরিবুত তাহজিব" গ্রন্থে ব্যবহৃত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। নিচে তার বিবরণ দেওয়া হলো:
(খ) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে।
(খত) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুআল্লাক হিসেবে।
(বখ) বুখারি তাঁর আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে।
(আখ) বুখারি তাঁর খালকু আফআলিল ইবাদ গ্রন্থে।
(য) বুখারি তাঁর জুযউল কিরাআতি খালফাল ইমাম গ্রন্থে।
(ইয়া) বুখারি তাঁর রাফউল ইয়াদাইন গ্রন্থে।
(ম) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে।
(দ) আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে।
(মাদ) আবু দাউদ তাঁর আল-মারাসিল গ্রন্থে।
(সাদ) আবু দাউদ তাঁর ফাদাইলুল আনসার গ্রন্থে।
(খাদ) আবু দাউদ তাঁর আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ গ্রন্থে।
(কাদ) আবু দাউদ তাঁর আল-কাদার গ্রন্থে।
(ফা) আবু দাউদ তাঁর আত-তাফাররুদ গ্রন্থে।
(লাম) আবু দাউদ তাঁর আল-মাসাইল গ্রন্থে।
(কদ) আবু দাউদ তাঁর মুসনাদু মালিক গ্রন্থে।
(ত) তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে।
(তম) তিরমিজি তাঁর আশ-শামাইল গ্রন্থে।
(স) নাসায়ি তাঁর সুনান গ্রন্থে।
(আস) নাসায়ি তাঁর মুসনাদু আলি গ্রন্থে।
(কন) নাসায়ি তাঁর মুসনাদু মালিক গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
(ق) ابن ماجة في سننه.
(فق) ابن ماجة في التفسير.
(ع) للراوي الذي أخرج له أهل1 الكتب الستة.
(عم) للراوي الذي أخرج له أهل2 السنن الأربعة3.
--------------------------------------------
(ক্বাফ) ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে।
(ফা-ক্বাফ) ইবনে মাজাহ তাঁর তাফসিরে।
(আইন) এমন বর্ণনাকারীর জন্য যাঁর হাদিস ছয়টি গ্রন্থের সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন।
(আইন-মীম) এমন বর্ণনাকারীর জন্য যাঁর হাদিস চার সুনান গ্রন্থের সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تمهيدتمهيد بين يدي غزوة حنين
وفي هذا التمهيد قضيتان:
الأولى: التعريف بهوازن وثقيف، وفيه:
1) نسب هوازن وثقيف.
2) تحديد موقعهم وديارهم من الناحية الجغرافية.
3) صلتهم بقريش.
الصلة النسبية، المصاهرة، المصالح المشتركة.
4) موقفهم من ظهور الإسلام ودعوته.
5) موقفهم من الصراع بين المسلمين وقريش.
الثانية: تحركات المسلمين العسكرية قبل غزوة حنين، وفي هذه القضية:
1) هدم العزى.
2) هدم مناة.
3) سرية خالد بن الوليد إلى بني جذيمة.
উপক্রমণিকাহুনায়নের যুদ্ধের প্রাক-আলোচনা
এই উপক্রমণিকায় দুটি বিষয় রয়েছে:
প্রথমত: হাওয়াজিন ও সাকীফ গোত্রের পরিচয়, যার মধ্যে রয়েছে:
১) হাওয়াজিন ও সাকীফের বংশ পরিচয়।
২) ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের অবস্থান ও আবাসভূমি নির্ধারণ।
৩) কুরাইশদের সাথে তাদের সম্পর্ক।
বংশীয় সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থ।
৪) ইসলামের আবির্ভাব ও এর দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান।
৫) মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যকার সংঘাতের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান।
দ্বিতীয়ত: হুনায়নের যুদ্ধের পূর্বে মুসলিমদের সামরিক তৎপরতা, এবং এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো:
১) উযযা ধ্বংস করা।
২) মানাত ধ্বংস করা।
৩) বনু জাযীমার প্রতি খালিদ বিন ওয়ালিদের সারিয়্যাহ (অভিযান)।
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أوّلاً: التعريف بهوازن وثقيف
1 - نسب هوازن وثقيف:
قبل الدخول في تفاصيل غزوة حنين وأحداثها، يحسن بنا إعطاء لمحة موجزة عن التعريف بهوازن وديارها التي كانت تقطنها فيها عند بزوغ فجر الإسلام، ومدى الصلة بينهم وبين قريش، وموقفهم من الدعوة الإسلامية قبل غزوة حنين، لنتبين مكانة هذه القبيلة وما كانت تتمتع به من قوة ومنعة.
وإذا أفردنا الحديث عن هوازن فتدخل فيها ثقيف؛ لأنها فرع منها. وهوازن قبيلة من أعظم القبائل العربية وأكثرها خطرا، وهي من حيث القوة والعدد تضاهي قبائل غطفان النجدية الشهيرة.
وهي قبيلة مضرية عدنانية يعود نسبها إلى قيس عيلان، وهي من أهمّ بطون قيس عيلان.
وهوازن جد بطون متفرقة، وهو: هوازن بن منصور بن عكرمة ابن خصفة بن قيس بن عيلان بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان1.
قال القلقشندي: "المشهور من قبائل العرب المستعربة الموجودين الآن خمس قبائل:
الأولى2: نزار3، وهم بنو نزار بن معد بن عدنان.
--------------------------------------------
প্রথমত: হাওয়াজিন ও সাকীফ গোত্রের পরিচিতি
১ - হাওয়াজিন ও সাকীফ গোত্রের বংশপরিচয়:
হুনাইন যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ এবং এর ঘটনাবলিতে প্রবেশের পূর্বে, হাওয়াজিন গোত্র এবং ইসলামের ঊষালগ্নে তারা যেখানে বসবাস করত সেই অঞ্চল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে। সেইসাথে কুরাইশদের সাথে তাদের সম্পর্কের গভীরতা এবং হুনাইন যুদ্ধের পূর্বে ইসলামি দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান কেমন ছিল তা জানা প্রয়োজন, যাতে আমরা এই গোত্রের মর্যাদা এবং তাদের শক্তি ও প্রভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারি।
আমরা যদি আলাদাভাবে হাওয়াজিন সম্পর্কে আলোচনা করি, তবে সাকীফ গোত্রও এর অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ সাকীফ হলো হাওয়াজিনেরই একটি শাখা। হাওয়াজিন আরব গোত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম মহান এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি গোত্র। শক্তি ও লোকসংখ্যার দিক থেকে এটি নজদের বিখ্যাত গাতাফান গোত্রের সমতুল্য।
এটি একটি মুদারি আদনানি গোত্র, যার বংশধারা কায়স আয়লান পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং এটি কায়স আয়লানের অন্যতম প্রধান শাখা।
হাওয়াজিন হলো বিভিন্ন শাখার মূল পুরুষ, তিনি হলেন: হাওয়াজিন ইবনে মানসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে খাসাফাহ ইবনে কায়স ইবনে আয়লান ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান।১
আল-কালকাশান্দি বলেন: "বর্তমানে বিদ্যমান আরবে মুসতাজরিবা (আরবায়িত আরব) গোত্রগুলোর মধ্যে পাঁচটি গোত্র প্রসিদ্ধ:
প্রথম২: নিজার৩, তারা হলেন নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনানের বংশধর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والمشهور من الموجودين من عقب نزار بطنان:
البطن الأول1: مضر2، وهم بنو مضر بن نزار، ومنه تفرعت أكثر قبائل العدنانية.
والمشهور من الموجودين من عقب مضر بن نزار فخذان:
الفخذ الأول3: قيس بن عيلان4، وهو قيس بن عيلان بن مضر ابن نزار بن معد بن عدنان.
والمشهور من الموجودين من الآن من فصائل قيس عيلان هوازن، وهي محل بحثنا.
وهناك فصائل أخرى5.
وقد بين ابن خلدون بتفصيل - بطون – هوازن فقال:
--------------------------------------------
নিযারের বংশধরদের মধ্যে বর্তমানে পরিচিত শাখা দুইটি:
প্রথম শাখা১: মুদার২, তারা হলেন মুদার ইবনে নিযারের সন্তানাদি, আর এখান থেকেই আদনানি গোত্রগুলোর অধিকাংশ উপশাখা বের হয়েছে।
মুদার ইবনে নিযারের বংশধরদের মধ্যে বর্তমানে পরিচিত উপশাখা দুইটি:
প্রথম উপশাখা৩: কায়স ইবনে আয়লান৪, তিনি হলেন কায়স ইবনে আয়লান ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান।
কায়স আয়লানের শাখাগুলোর মধ্যে বর্তমানে পরিচিত হলো হাওয়াযিন, আর এটিই আমাদের আলোচনার বিষয়।
সেখানে অন্যান্য শাখাও রয়েছে৫।
ইবনে খালদুন বিস্তারিতভাবে হাওয়াযিনের শাখাগুলো বর্ণনা করে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما هوازن بن منصور1: ففيهم بطون كثيرة يجمعهم ثلاثة أصول كلهم لبكر بن هوازن وهم:
أ- بنو سعد بن بكر بن هوازن بن منصور.
ب- بنو معاوية بن بكر بن هوازن بن منصور.
جـ- بنو منبه بن بكر بن هوازن بن منصور2.
أ- فأما بنو سعد بن بكر بن هوازن، فمنهم أظآر3 النبي صلى الله عليه وسلم.
ب- وأما بنو معاوية بن بكر بن هوازن، فمن ولده: صعصعة4 ابن معاوية، ونصر5 بن معاوية، وجشم6 بن معاوية، وعوف بن معاوية، وبنوه يسمون
--------------------------------------------
আর যা হوازن ইবনে মনসুর ১ সম্পর্কে: তাদের মধ্যে অনেক শাখা রয়েছে যা তিনটি মূল বংশে একত্রিত হয়, তারা সবাই বকর ইবনে হوازن-এর অন্তর্ভুক্ত এবং তারা হলো:
ক- বনু সাদ ইবনে বকর ইবনে হوازن ইবনে মনসুর।
খ- বনু মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হوازن ইবনে মনসুর।
গ- বনু মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হوازن ইবনে মনসুর ২।
ক- আর বনু সাদ ইবনে বকর ইবনে হوازن-এর কথা বলতে গেলে, তাদের মধ্য থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধ-মাতাগণ ৩ ছিলেন।
খ- আর বনু মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হوازن সম্পর্কে বলতে গেলে, তার সন্তানদের মধ্যে রয়েছে: সা'সা'আ ৪ ইবনে মুয়াবিয়া, নাসর ৫ ইবনে মুয়াবিয়া, জুশাম ৬ ইবনে মুয়াবিয়া, এবং আউফ ইবনে মুয়াবিয়া, যার সন্তানদের ডাকা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الوقعة1، دخلوا في بني عمرو بن كلاب بن الحارث2.
أما صعصعة بن معاوية بن بكر بن هوازن:
فمن ولده:
عامر3 بن صعصعة، وفيه البيت والعدد4.
ومرة5 بن صعصعة وهم بنو سلول.
فولد عامر بن صعصعة:
ربيعة، وفيه البيت والعدد.
هلالا6.
ونميرا.
وسواءة7
وولد ربيعة بن عامر بن صعصعة: كلابا، وكعبا8، وعامرا، وكليبا9.
--------------------------------------------
আল-ওয়াক'আ১, তারা বনু আমর ইবনে কিলাব ইবনুল হারিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল২।
আর সা’সা’আ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন:
তার সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন:
আমির৩ ইবনে সা’সা’আ, আর তার মধ্যেই আভিজাত্য ও সংখ্যাধিক্য৪।
এবং মুররা৫ ইবনে সা’সা’আ, আর তারা হলো বনু সালুল।
আর আমির ইবনে সা’সা’আ-র সন্তানরা হলো:
রাবি'আ, এবং তার মধ্যেই আভিজাত্য ও সংখ্যাধিক্য।
হিলাল৬।
এবং নুমাইর।
এবং সাওয়াআ৭
আর রাবি'আ ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আ-র সন্তানরা হলো: কিলাব, কাব৮, আমির এবং কুলাইব৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
- وأما منبه بن بكر بن هوازن:
فولده: ثقيف1 - واسمه - قسي بن منبه بن بكر بن هوازن2.
فولد ثقيف بن منبه: جشم وعوفا.
فولد جشم بن ثقيف: حطيطا.
فولد حطيط: مالكا3، وغاضرة.
وولد عوف بن ثقيف بن منبه بن بكر بن هوازن: سعدا وغيرة4، ويعرفون بالأحلاف، وذلك أنهم تحالفوا على بني مالك، وصارت غاضرة مع الأحلاف.
فثقيف فرقتان:
بنو مالك بن حطيط بن جشم بن قسي - ثقيف - بن منبه بن بكر ابن هوازن.
--------------------------------------------
আর মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন-এর ব্যাপারে:
তাঁর সন্তান হলো সাকীফ ১ - আর তার নাম কাসি ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন ২।
সাকীফ ইবনে মুনাব্বিহ-এর সন্তান জন্ম নিয়েছে: জুশাম ও আওফ।
জুশাম ইবনে সাকীফ-এর সন্তান জন্ম নিয়েছে: হুতাইত।
হুতাইত-এর সন্তান জন্ম নিয়েছে: মালিক ৩ এবং গাদিরহ।
আর আওফ ইবনে সাকীফ ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন-এর সন্তান জন্ম নিয়েছে: সাদ ও গায়রাহ ৪; তারা 'আহলাফ' (মিত্র গোষ্ঠী) নামে পরিচিত। এর কারণ হলো তারা বনু মালিকের বিরুদ্ধে একে অপরের সাথে মিত্রতা করেছিল এবং গাদিরহ আহলাফদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
সুতরাং সাকীফ গোত্র দুই ভাগে বিভক্ত:
বনু মালিক ইবনে হুতাইত ইবনে জুশাম ইবনে কাসি - সাকীফ - ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وبنو عوف وهم من الأحلاف1.
هكذا ذكر علماء النسب وغيرهم أن ثقيفا فرع من هوازن القبيلة العدنانية الشهيرة.
وقد ذكر الفيروزآبادي، وتابعه الزبيدي شارح القاموس بأن ثقيفاً من ثمود واستندوا إلى ما ورد عند أبي داود وغيره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين خرج إلى حنين مر بقبر فقال: "هذا قبر أبي رغال، وهو "أبو ثقيف وكان من ثمود" 2.
والحديث عند أبي داود في النسخ الموجودة، وليس فيه: "أبو ثقيف، وكان من ثمود".
وهذا نصّ الحديث عند أبي داود قال:
--------------------------------------------
এবং বনু আউফ, যারা আহলাফদের (মিত্রগোষ্ঠী) অন্তর্ভুক্ত১।
বংশলতিকা বিশারদগণ এবং অন্যান্যরা এভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, সাকিফ গোত্র বিখ্যাত আদনানি গোত্র হাওয়াজিনের একটি শাখা।
ফিরোজাবাদী উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর অনুসরণ করে কামুসের ব্যাখ্যাকার জুবায়দি বলেছেন যে, সাকিফ গোত্র সামুদ জাতির বংশোদ্ভূত। তারা আবু দাউদ ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত একটি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হুনাইনের দিকে বের হলেন, তখন তিনি একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "এটি আবু রিগালের কবর, সে হলো সাকিফের পিতা এবং সে সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল" ২।
তবে আবু দাউদের বর্তমান বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলোতে হাদিসটি রয়েছে, কিন্তু তাতে "সাকিফের পিতা এবং সে সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল" কথাটি নেই।
আবু দাউদের বর্ণিত হাদিসের মূল পাঠ নিম্নরূপ, তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
1- حدثنا يحيى1بن معين، أخبرنا وهب2 بن جرير، أخبرني أبي3 قال سمعت محمد4 بن إسحاق يحدث عن إسماعيل5 بن أمية، عن بجير6 بن أبي بجير قال: سمعت عبد الله بن عمرو يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول حين خرجنا معه إلى الطائف فمررنا بقبر، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا قبر أبي رغال، وكان بهذا الحرم يدفع عنه فلما خرج أصابته النقمة التي أصابت قومه بهذا المكان فدفن فيه، وآية
--------------------------------------------
১- আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াহাব ইবনে জারীর, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি ইসমাইল ইবনে উমাইয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যখন আমরা তাঁর সাথে তায়েফের উদ্দেশ্যে বের হলাম। অতঃপর আমরা একটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি আবু রিগালের কবর। সে এই হারামের (পবিত্র এলাকার) কারণে রক্ষা পেত। কিন্তু যখন সে বের হলো, তখন তার কওমের ওপর যে শাস্তি আপতিত হয়েছিল এই স্থানে তাকেও তা গ্রাস করল, ফলে তাকে এখানেই দাফন করা হয়। আর এর নিদর্শন হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ذلك1 أنه دفن معه غصن من ذهب إن أنتم نبشتم عنه أصبتموه، فابتدره2 الناس فاستخرجوا الغصن" 3.
والحديث أخرجه ابن حزم من طريق يحي بن معين، عن وهب بن جرير بن حازم، عن أبيه، عن محمد بن إسحاق به.
ثم قال: هذا الحديث لا يصح، لأنه عن ابن بجير وهو مجهول4.
وأخرجه إبراهيم الحربي والبيهقي كلاهما من طريق يزيد5 بن زريع، عن
--------------------------------------------
এর চিহ্ন হলো ১ যে, তার সাথে একটি সোনার ডাল দাফন করা হয়েছে, তোমরা যদি তা খুঁড়ে বের করো তবে তা পেয়ে যাবে। অতঃপর মানুষ সেদিকে দ্রুত ধাবিত হলো ২ এবং তারা ডালটি বের করে আনল ৩।
হাদিসটি ইবনে হাজম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের সূত্রে, তিনি ওয়াহাব ইবনে জারির ইবনে হাযিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর তিনি বলেন: এই হাদিসটি সহিহ নয়, কারণ এটি ইবনে বুজাইর থেকে বর্ণিত আর তিনি হলেন মাজহুল বা অপরিচিত ৪।
এবং ইব্রাহিম আল-হারবি ও বাইহাকি উভয়েই ইয়াজিদ ৫ ইবনে জুরাই'-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
روح1 بن القاسم، عن إسماعيل بن أمية، عن بجير بن أبي بجير، عن عبد الله بن عمرو قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما كنا عند قبر أبي رغال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا قبر أبي رغال، وكان امرأ كافرا، وكان من ثمود، وكان يسكن الحرم، وأنه خرج حتى إذا صار في هذا الموضع مات فدفنوه، ومعه غصن من ذهب، فاستخرجوه فابتدرنا فاستخرجناه". لفظ الحربي2.
ولفظ البيهقي: "عن عبد الله بن عمرو أنهم كانوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر أو مسير فمروا بقبر فقال: هذا قبر أبي رغال كان من قوم ثمود، فلما أهلك الله قومه بما أهلكهم به منعه لمكانه من الحرم فخرج حتى إذا بلغ هذا المكان أو الموضع مات ودفن معه غصن من ذهب فابتدرناه فأخرجناه" 3.
وأخرجه البيهقي أيضا من طريق أبي الأزهر4، ثنا وهب بن جرير، ثنا أبي قال: سمعت محمد بن إسحاق يحدث عن إسماعيل بن أمية عن بجير بن أبي بجير قال: سمعت عبد الله بن عمرو بن العاص قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول حين خرجنا معه إلى الطائف فمررنا بقبر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا قبر أبي فلان وكان بهذا الحرم يدفع به عنه، فلما خرج أصابته النقمة التي أصابت قومه بهذا المكان فدفن فيه، وآية ذلك أنه دفن معه غصن من ذهب إن أنتم نبشتم عنه وجدتموه معه"، فابتدره الناس فاستخرجوا منه الغصن.
ثم قال: رواه أبو داود في السنن عن يحي بن معين، عن وهب بن جرير، وقال: "قبر أبي رغال"5.
--------------------------------------------
রওহ বিন কাসিম, ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ থেকে, তিনি বুজাইর বিন আবি বুজাইর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলাম। যখন আমরা আবু রিগালের কবরের নিকট পৌঁছালাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি আবু রিগালের কবর। সে একজন কাফির ব্যক্তি ছিল এবং সে সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে হারামে (পবিত্র এলাকায়) বসবাস করত। সে যখন বের হয়ে এই স্থানে পৌঁছাল, তখন সে মারা গেল এবং তারা তাকে এখানে দাফন করল। তার সাথে একটি স্বর্ণের ডাল ছিল। তোমরা তা বের করো।" তখন আমরা দ্রুত অগ্রসর হলাম এবং সেটি বের করে আনলাম। এটি হারবি-র শব্দবিন্যাস।
বায়হাকির শব্দবিন্যাস হলো: "আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোনো এক সফরে বা পথচলায় ছিলেন। তখন তারা একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: এটি আবু রিগালের কবর, সে সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। আল্লাহ যখন তার জাতিকে ধ্বংস করলেন যা দিয়ে তাদের ধ্বংস করার ছিল, তখন হারামে অবস্থানের কারণে সে রক্ষা পেয়েছিল। অতঃপর সে যখন বের হয়ে এই স্থানে বা জায়গায় পৌঁছাল, তখন সে মারা গেল এবং তার সাথে স্বর্ণের একটি ডাল দাফন করা হলো।" তখন আমরা দ্রুত সেদিকে গেলাম এবং সেটি বের করে আনলাম।
বায়হাকি এটি আবু আল-আজহারের সূত্র থেকেও বর্ণনা করেছেন, ওহাব বিন জারির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসহাককে ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বুজাইর বিন আবি বুজাইর থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যখন আমরা তাঁর সাথে তায়েফের দিকে বের হলাম এবং একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি অমুকের পিতার কবর। সে এই হারামে থাকত যা তাকে রক্ষা করত। যখন সে বের হলো, তখন তার জাতির ওপর যে আজাব আপতিত হয়েছিল, এই স্থানে তা তাকেও পাকড়াও করল এবং সে এখানেই দাফন হলো। এর প্রমাণ হলো যে তার সাথে স্বর্ণের একটি ডাল দাফন করা হয়েছে; তোমরা যদি তার কবর খনন করো তবে তার সাথেই তা পাবে।" তখন মানুষ দ্রুত এগিয়ে গেল এবং কবর থেকে ডালটি বের করে আনল।
অতঃপর তিনি বললেন: আবু দাউদ এটি সুনানে ইয়াহইয়া বিন মাইন থেকে, তিনি ওহাব বিন জারির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: "আবু রিগালের কবর"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأخرجه المزي والذهبي في ترجمة بجير بن أبي بجير، كلاهما من طريق أحمد1 ابن الحسن بن عبد الجبار، عن يحي بن معين، عن وهب بن جرير، عن أبيه به.
ثم قالا: رواه أبو داود عن يحي بن معين فوافقناه2 بعلو.
وزاد المزي: "وهذا حديث حسن عزيز"3.
وأخرجه عبد الرزاق، عن معمر بن راشد، عن إسماعيل بن أمية مرسلا4. بلفظ: "هذا قبر أبي رغال رجل من ثمود" 5
والجواب عن هذا الحديث من وجوه:
الأول: أنه ليس في حديث أبي داود في النسخ الموجودة بين أيدينا مع شروحها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "هذا قبر أبي رغال وهو أبو ثقيف وكان من ثمود". وهو بهذا اللفظ عند المزي والذهبي.
الثاني: أن هذا الحديث مداره على بجير بن أبي بجير ولا متابع له، وقد جزم
--------------------------------------------
আল-মিযযি এবং আয-যাহাবি এটি বুজাইর বিন আবি বুজাইর-এর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনুল আব্দুল জাব্বারের সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে জারির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
এরপর তাঁরা উভয়েই বলেন: আবু দাউদ এটি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা তাঁর সাথে উচ্চ সনদে মিলিত হয়েছি।
আর আল-মিযযি আরও যোগ করেছেন: "এটি একটি হাসান আযীয হাদিস।"
এবং আব্দুর রাজ্জাক এটি মা'মার বিন রাশিদ থেকে, তিনি ইসমাঈল বিন উমাইয়াহ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: "এটি আবু রিগালের কবর, যে সামুদ জাতির এক ব্যক্তি ছিল।"
এই হাদিসের উত্তর বা ব্যাখ্যা কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
প্রথমত: আমাদের কাছে বিদ্যমান আবু দাউদের পাণ্ডুলিপি ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে এই কথাটি নেই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এটি আবু রিগালের কবর, সে ছিল সাকিফ গোত্রের পিতা এবং সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত।" অথচ এই শব্দে এটি আল-মিযযি ও আয-যাহাবির নিকট রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এই হাদিসটির মূল ভিত্তি হলো বুজাইর বিন আবি বুজাইর এবং তার কোনো সমর্থক বর্ণনাকারী নেই, আর এটি নিশ্চিতভাবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ابن حجر وغيره: بجهالته، ورواية المجهول مردودة عند جماهير العلماء من أهل الحديث وغيرهم1.
الثالث: أن ثمود من القبائل البائدة التي لم يبق لها عقب، ولذا كان الحجاج بن يوسف الثقفي إذا سمع من يقول بأن "ثقيفا" من بقايا ثمود يقول: كذبوا، قال الله تعالى: {وَثَمُودَ فَمَا أَبْقَى} ، [سورة النجمالآية: 51] ، أي أهلكهم الله ولم يبق منهم أحدا2.
الرابع: لعل سبب نسبة "ثقيف" إلى ثمود هو ما ذكره ابن خلدون: من أن ثمود نزلت الطائف قبل وادي القرى3.
قال: ومن ثم يقال: إن ثقيفاً من بقايا ثمود لكونهم نزلوا الطائف بعد ثمود4.
الخامس: أن الذي عليه جمهور علماء النسب وغيرهم أن "ثقيفا" فرع من هوازن القبيلة الشهيرة كما تقدم5.
السادس: أن هذا الحديث الوارد فيه أن "ثقيفاً" من ثمود لا تقوم به حجة لجهالة راويه "بجير بن أبي بجير"، وهي جهالة عينية ولا يعرف هذا الحديث إلاّ من طريقه، كما تقدم ذلك في ترجمته6.
وأما تحسين المزي لهذا الحديث ففيه نظر، وقد عقب عليه ابن كثير بقوله: قلت: تفرد به بجير بن أبي بجير، ولا يعرف إلا بهذا الحديث، ولم يرو عنه سوى إسماعيل بن أمية.
--------------------------------------------
ইবনে হাজার এবং অন্যান্যরা: তার অজ্ঞাত হওয়ার কারণে; আর হাদীস বিশারদ এবং অন্যান্য অধিকাংশ আলেমদের নিকট অজ্ঞাত ব্যক্তির বর্ণনা প্রত্যাখ্যানযোগ্য১।
তৃতীয়ত: সামুদ ছিল বিলুপ্ত বংশধারাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যাদের কোনো উত্তরসূরি অবশিষ্ট নেই। এজন্য হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফী যখন কাউকে বলতে শুনতেন যে, 'সাকাফ' গোত্র সামুদ জাতির অবশিষ্টাংশ, তখন তিনি বলতেন: তারা মিথ্যা বলছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর সামুদ জাতিকেও (ধ্বংস করেছেন), অতঃপর কাউকে বাকি রাখেননি।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৫১], অর্থাৎ আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কাউকে অবশিষ্ট রাখেননি২।
চতুর্থত: সাকাফ গোত্রকে সামুদ জাতির সাথে সম্পৃক্ত করার কারণ সম্ভবত সেটিই যা ইবনে খালদুন উল্লেখ করেছেন: সামুদ জাতি ওয়াদি আল-কুরা এর আগে তায়েফে বসতি স্থাপন করেছিল৩।
তিনি বলেছেন: এ কারণেই বলা হয় যে, সাকাফ গোত্র সামুদ জাতির অবশিষ্টাংশ, কারণ তারা সামুদ জাতির পর তায়েফে বসতি স্থাপন করেছিল৪।
পঞ্চমত: বংশবিদ এবং অন্যান্য অধিকাংশ আলেম যে মত পোষণ করেন তা হলো, 'সাকাফ' গোত্র বিখ্যাত 'হাওয়াজিন' গোত্রের একটি শাখা, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে৫।
ষষ্ঠত: 'সাকাফ' গোত্র সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত এই হাদীসটি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এর বর্ণনাকারী 'বুজাইর বিন আবি বুজাইর'-এর অজ্ঞাত হওয়ার কারণে। এটি ব্যক্তি-পরিচয়গত অজ্ঞাততা এবং এই হাদীসটি তার মাধ্যম ছাড়া আর কোনো সূত্রে জানা যায় না, যেমনটি তার জীবনবৃত্তান্তে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে৬।
আর ইমাম মিযযী কর্তৃক এই হাদীসটিকে 'হাসান' (উত্তম) বলা পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। ইবনে কাসীর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: আমি বলি: বুজাইর বিন আবি বুজাইর এই বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন এবং তিনি কেবল এই হাদীসের মাধ্যমেই পরিচিত, আর তার থেকে ইসমাঈল বিন উমাইয়া ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি।
--------------------------------------------