(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: -)
مرويات غزوة حنين وحصار الطائف   (إبراهيم بن إبراهيم قريبي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: مرويات غزوة حنين وحصار الطائف

المؤلف: إبراهيم بن إبراهيم قريبي

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة النبوية، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1412هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হুনাইনের যুদ্ধ ও তায়েফ অবরোধের বর্ণনাসমূহ   (ইবরাহীম বিন ইবরাহীম কুরাইবী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: হুনাইনের যুদ্ধ ও তায়েফ অবরোধের বর্ণনাসমূহ

লেখক: ইবরাহীম বিন ইবরাহীম কুরাইবী

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরী

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول

‌‌مقدمة

…

شكر وتقدير

الحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، وبفضله وحده تتحقق جلائل المهمات، وعليه وحده الاتكال في جميع الملمات، وبعد:

فإني أشكر في هذه الكلمة أستاذي الدكتور أكرم ضياء العمري على جهوده الموفقة مع جميع أبنائه الطلاب عموماً، وعلى ما أولاني من بالغ عنايته، وشديد حرصه، وما قدمه لي من التوجيه والإرشاد، وغزير الفوائد العلمية من أجل إخراج هذا البحث على الوجه العلمي المطلوب، وهذا دأب شيخنا الكبير في إعانة تلاميذه بفوائده العلمية، وفرائده التوجيهية من الناحية الشكلية والموضوعية، وما كان يبخل بزمنه المليء بالأعمال العلمية المتعددة، ولا بتوجيهاته أو تنبيهاته على سهو غفلت عنه، أو غلط وقعت فيه، أو فكرة نادّة لم أكن متنبها لها.

ولا أجد كلمة تفي بشكره، وتعبر عما تكنه نفسي له من عرفان بالجميل وتقدير لعطائه العلمي، غير أن الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم أرشدنا إلى ما يكون المناسب في مثل هذا المقام فقال: "ومن صنع إليكم معروفاً فكافئوه، فإن لم تجدوا ما تكافئوه1 به فادعوا له حتى تروا أنكم قد كافأتموه" 2.

وانطلاقاً من هذا المبدأ، فإني سأظل – إن شاء الله تعالى – داعياً له بالتوفيق وازدياد العلم النافع والعمل الصالح، والله - جل وعلا - يقول: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلاً} 3.

وأشكر القائمين على الجامعة الإسلامية الذين سعوا ويسعون جادّين لتيسير سبل طلب العلم الشرعي لأبناء العالم الإسلامي، وأسأل الله أن يعينهم على

--------------------------------------------

1 سقطت النون في أكثر روايات هذا الحديث بلا ناصب ولا جازم، ولعلها سقطت تخفيفاً، وقد ثبتت في رواية الإمام أحمد.

2 أبو داود: السنن 1/389 كتاب الزكاة، باب عطية من سأل بالله عز وجل. والنسائي: السنن 5/61 كتاب الزكاة، باب من سأل بالله عز وجل. وأحمد: المسند2/68، 95 - 96، 99، 127 الجميع من حديث عبد الله بن عمر. وصححه النووي كما في رياض الصالحين ص605 حديث 1731.

3 سورة الكهف - آية: 30.
প্রথম খণ্ড

‌‌ভূমিকা

…

কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায়, যাঁর দয়ায় মহান দায়িত্বসমূহ সম্পাদিত হয় এবং সকল বিপদে একমাত্র যাঁর ওপর ভরসা করা হয়। অতঃপর:

আমি এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমার উস্তাদ ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারীকে তাঁর সকল ছাত্রের প্রতি সাধারণভাবে এবং আমার প্রতি বিশেষভাবে তাঁর গভীর যত্ন, ঐকান্তিক আগ্রহ এবং তাঁর প্রদানকৃত দিকনির্দেশনা ও উপদেশের জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই গবেষণাপত্রটি কাঙ্ক্ষিত বৈজ্ঞানিক মানে উপস্থাপন করার জন্য তাঁর প্রচুর জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকারিতা আমাকে সাহায্য করেছে। আর এটিই আমাদের মহান শাইখের চিরাচরিত অভ্যাস যে, তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে তাঁর ইলমি ফায়দা এবং গঠনমূলক ও বিষয়ভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করেন। তিনি তাঁর বহুবিধ জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজে ব্যস্ত সময় থেকে সময় দিতে কার্পণ্য করেননি এবং আমার কোনো অসতর্কতা, ভুল বা কোনো অস্পষ্ট চিন্তা যা আমার নজরে আসেনি, সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা বা সতর্ক করতেও দ্বিধা করেননি।

তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আমি এমন কোনো শব্দ পাচ্ছি না যা আমার মনের ভেতরের এই ঋণস্বীকার এবং তাঁর ইলমি অবদানের কদরকে যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারে। তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন এমন পরিস্থিতিতে কী করা সমীচীন। তিনি বলেছেন: "কেউ যদি তোমাদের প্রতি কোনো উপকার করে, তবে তোমরা তার প্রতিদান দাও। যদি প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না পাও, তবে তার জন্য দুআ করো, যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে পারো যে তোমরা তার প্রতিদান দিয়েছ" ২।

এই নীতির ভিত্তিতে আমি ইনশাআল্লাহ সবসময় তাঁর তাওফিক, উপকারী ইলম ও নেক আমল বৃদ্ধির জন্য দুআ করতে থাকব। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করি না} ৩।

আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই যারা মুসলিম বিশ্বের সন্তানদের জন্য শরিয়াহ জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ করতে নিরলস চেষ্টা করেছেন ও করছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদেরকে সাহায্য করেন...

--------------------------------------------

১ কোনো নাসেিব (নসব প্রদানকারী) বা জাযেম (জযম প্রদানকারী) ছাড়াই এই হাদিসের অধিকাংশ বর্ণনায় 'নুন' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে, সম্ভবত এটি উচ্চারণের সহজতার জন্য হয়েছে। তবে ইমাম আহমদের বর্ণনায় এটি সাব্যস্ত আছে।

২ আবু দাউদ: আস-সুনান ১/৩৮৯, কিতাবুয যাকাত, অধ্যায়: যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে প্রার্থনা করে তাকে দান করা। নাসায়ি: আস-সুনান ৫/৬১, কিতাবুয যাকাত, অধ্যায়: যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে প্রার্থনা করে তাকে দান করা। আহমদ: আল-মুসনাদ ২/৬৮, ৯৫-৯৬, ৯৯, ১২৭; সবকটি হাদিস আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। ইমাম নববী রিয়াদুস সলেহীনের ৬০৫ পৃষ্ঠায় ১৭৩১ নং হাদিসে একে সহিহ বলেছেন।

৩ সুরা আল-কাহফ - আয়াত: ৩০।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৬)
مساعيهم الحميدة، وأن يجنبهم كل مكروه، وأن يزيد هذا الصرح العلمي الشامخ مزيداً من التقدم والازدهار مادياً وأدبياً في ظل هذه الحكومة المباركة التي تعنى بقضايا الإسلام والمسلمين في كل أنحاء المعمورة، ومن براهين عنايتها الفائقة بتضامن المسلمين وحل مشكلاتهم واتفاق كلمتهم دعمها لهذه الجامعة العلمية العظيمة بكل ما تحتاج إليه من وجوه الدعم المختلفة، ولا شك أن هذه الجامعة قد امتد نفعها وتأثيرها في العالم كله، ممّا يكون في ميزان حسنات هذه الدولة الرشيدة، بل ذلك من أكبر حسناتها، وأجلّ أعمالها التي يعود نفعها وخيرها على المسلمين جميعاً.

فجزاهم الله خير الجزاء، وسدد خطاهم، ووفقهم إلى ما فيه تقدم المسلمين واستعادة مجدهم، وحقق لهم ما يصبون إليه من تضامن العالم الإسلامي على هدي الكتاب والسنة وسبيل سلف الأمة، ولن يصلح آخر هذه الأمة إلاّ ما صلح به أولها.

{وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} ، [سورة العنكبوت، الآية: 69] .

وفي ختام هذه الكلمة أتوجه بالشكر والتقدير على وجه العموم لكل من كان له مشاركة في إخراج هذا البحث، وأعانني عليه من جميع الأساتذة والإخوة الزملاء وغيرهم من الإخوة الفضلاء، شكر الله للجميع عونهم ودعمهم، وجزاهم الله خير الجزاء.

والحمد لله أولا وآخرا، وصلى الله على عبده ورسوله الأمين، وعلى آله وأصحابه والتابعين، ومن سار على نهجهم إلى يوم الدين. والله الهادي إلى سواء السبيل.
তাদের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা, আল্লাহ তাদের সকল অপছন্দনীয় ও মন্দ বিষয় থেকে দূরে রাখুন এবং এই মহান সুউচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উত্তরোত্তর পার্থিব ও পারমার্থিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি দান করুন এই বরকতময় সরকারের ছায়াতলে যা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যত্নশীল। মুসলমানদের সংহতি, তাদের সমস্যা সমাধান এবং তাদের ঐক্যমত্যের প্রতি এই সরকারের সুনিপুণ ও গভীর মনোনিবেশের অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হলো এই মহান জ্ঞানপীঠকে তার প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদান করা। নিঃসন্দেহে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকার ও প্রভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই সুপরিচালিত রাষ্ট্রের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত হবে; বরং এটি তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৎকর্ম এবং মহান কাজ যার কল্যাণ ও সুফল সকল মুসলমান ভোগ করছে।

আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন, তাদের পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং মুসলমানদের উন্নতি ও তাদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের তৌফিক দান করুন। কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরীদের) আদর্শের আলোকে মুসলিম বিশ্বের সংহতির যে আকাঙ্ক্ষা তারা লালন করেন, আল্লাহ তা পূর্ণ করুন। আর এই উম্মতের শেষাংশ কখনোই সংশোধিত হবে না, যতক্ষণ না তা দ্বারা সংশোধিত হয় যা দ্বারা এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।

আর যারা আমাদের পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমরা অবশ্যই তাদেরকে আমাদের পথসমূহ প্রদর্শন করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন। [সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬৯] ।

এই বক্তব্যের শেষে আমি সাধারণভাবে সেই সকল শিক্ষক, সহকর্মী এবং অন্যান্য গুণী ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি যারা এই গবেষণাটি প্রকাশে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ সকলের সহায়তা ও সমর্থন কবুল করুন এবং তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।

শুরু এবং শেষে সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহর সালাত (রহমত) বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের পথ অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৭)
المقدِّمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فقد هيأ الله لي أن أكون من طلبة علوم السنة النبوية، وأن أسهم في دراسة السيرة النبوية الطاهرة، فكانت البداية أن تقدمت بدراسة غزوة (بني المصطلق) دراسة علمية متخصصة، أحسبها الأولى من نمطها في تجلية حقائق تلك الغزوة، وبيان أحداثها التاريخية، وعبرها وأحكامها، وغير ذلك ممّا له صلة بها، وكانت تلك أطروحتي لنيل شهادة العالمية (الماجستير) ، وكان لتلك التجربة - بالنسبة لي- صداها العميق في نفسي، حيث ارتبطت تَوَجُّهاتي العلمية بخدمة سيرة أحب الخلق إلى الله وأكرمهم عليه، تلك السيرة النقية الحقيقة بالحب والإكبار، الجديرة بالبحث العلمي الجادّ الذي يرسي حقائقها، وينفي عنها الزَبَد1 ليذهب جُفاء2 ويمكث ما ينفع الناس.

ولن يتم ذلك إلا بعد التطواف العلمي الحثيث القائم على مناهج المحدِّثين وطرق تقويمهم للحديث النبوي الشريف، وصولاً إلى نتائج علمية محققة، ينتفع بها الدارسون لهذه السيرة العظيمة العطرة، ويزدادون اطمئناناً ويقيناً بهذا الجانب الخطير من جوانب حياة المصطفى صلى الله عليه وسلم.

وفي طليعة هذا التقديم أود أن أشير إلى أهم القضايا التي يحسن أن أتناولها فيه، وستكون على النحو الآتي:
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

আল্লাহ তাআলা আমার জন্য সুন্নাহর ইলমের ছাত্র হওয়ার এবং পবিত্র সীরাত বিষয়ক গবেষণায় অবদান রাখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এর শুরুটা হয়েছিল ‘বনু মুস্তালিক’ যুদ্ধের ওপর একটি বিশেষায়িত ইলমী গবেষণার মাধ্যমে, যা আমার জানামতে এই যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা উন্মোচনে এবং এর ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, শিক্ষা, বিধান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী বর্ণনায় এই ধারার প্রথম কাজ। এটি ছিল আমার মাস্টার্স (আল-আলামিয়্যাহ) ডিগ্রির থিসিস। এই অভিজ্ঞতা আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, কারণ আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক ঝোঁক আল্লাহর কাছে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ও সম্মানিত সত্তার সীরাতের খিদমতের সাথে যুক্ত হয়েছিল। সেই পবিত্র সীরাত যা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার দাবি রাখে এবং যা এমন গভীর ইলমী গবেষণার যোগ্য যা এর প্রকৃত সত্যগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং এর থেকে অসারতাকে১ দূর করে দেয় যাতে তা ফেনার মতো২ বিলীন হয়ে যায় আর মানুষের জন্য যা কল্যাণকর তা অবশিষ্ট থাকে।

আর মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতি এবং হাদীস মূল্যায়নে তাঁদের অনুসৃত পন্থার ওপর ভিত্তি করে নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমেই কেবল এটি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব, যাতে এমন সুনিশ্চিত ইলমী ফলাফল অর্জন করা যায় যার মাধ্যমে এই মহান ও সুগন্ধিময় সীরাতের পাঠকরা উপকৃত হবেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সম্পর্কে তাঁদের প্রশান্তি ও নিশ্চিত বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

এই ভূমিকার শুরুতে আমি সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করতে চাই যা এখানে আলোচনা করা উপযুক্ত হবে এবং সেগুলো নিম্নরূপ হবে:
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৮)
أ - دراسة السيرة واجب إسلامي:

إن إبراز مكانة السيرة النبوية، وإظهار عظمتها في العصر الحديث لهو من الأمور الضرورية في مواجهة تحديات هذا العصر المتكاثرة، ذلك أن عصرنا الحاضر يقوم على مناهج تربوية مؤثِّرة في صبغ الأجيال الصاعدة بصبغة جاهلية معاصرة، في الأعم الأغلب، وقد شمل هذا الفكر التربوي والأدبي أجيال المسلمين، وتغلغل في نفوسهم، واحتل مكان الصدارة في التوجيه والتأثير، وفقدت الأجيال - أو كادت - ثقتها لتراثها، واشتدت الهجمات القوية العنيفة على علوم الإسلام وحضارته، بما في ذلك التشكيك في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، مستغلين في ذلك بعض الروايات الضعيفة والحكايات الغريبة، والمبالغات الشاطحة، التي لم يقم عليها دليل، ولم يسندها عقل، ولم تثبت بنقل فكان لزاماً على الدارسين المختصين أن يولوا هذه السيرة الزكية بالغ اهتمامهم، جمعاً ودراسة وتمحيصاً وتحقيقاً مستندين في ذلك إلى قواعد المحدثين في الجرح والتعديل لكشف العلل الغامضة فيها، وبيان الصحيح من الضعيف في نصوصها.

وإذا كان مصطلح الحديث قد طبق تطبيقاً رائعاً في تقويم الأحاديث النبوية والحكم لها أو عليها، من خلال دراسة الأسانيد والمتون، فإن ذلك لم يطبق مثله أو قريباً منه في دراسة السيرة النبوية وأحداثها وغزواتها، إلى غير ذلك من قضاياها العديدة.

هذا جانب من جوانب دراسة السيرة.

والجانب الآخر هو الجانب التحليلي المعاصر، الذي يعنى فيه الدارس بتجلية حقائق السيرة النبوية من الناحية الفكرية والتربوية والفقهية بأسلوب قوي أخّاذ، يهدف إلى تحبيب الناس في هذه السيرة، وترغيب الأجيال في الإقبال عليها والاقتداء بصاحبها العظيم عليه الصلاة والسلام، وإبراز جوانبها المشرقة، ووقفاتها المضيئة، وأشهد أنني لم أقم بشيء يذكر في هذا الجانب؛ لأن الأصل في بحثي تحقيق نصوص السيرة من الوجهة الحديثية الصرفة، ولأن الوقت لا يساعد على الجمع بين الحسنين، ولكني أقرر أن هذا واجب عظيم تجاه خدمة هذه السيرة المباركة.
ক - সীরাত চর্চা একটি ইসলামী আবশ্যকতা:

নিশ্চয়ই আধুনিক যুগে সীরাতুন্নবীর (নবীর জীবনচরিত) গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর মাহাত্ম্য প্রকাশ করা বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত আবশ্যকীয় বিষয়। এর কারণ হলো, আমাদের বর্তমান যুগ এমন সব প্রভাবশালী শিক্ষাপদ্ধতির ওপর দণ্ডায়মান, যা উদীয়মান প্রজন্মকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আধুনিক জাহেলিয়াতের রঙে রঞ্জিত করছে। এই শিক্ষাগত ও সাহিত্যিক চিন্তাধারা মুসলিম প্রজন্মকে গ্রাস করেছে, তাদের অন্তরে গেঁথে গেছে এবং দিকনির্দেশনা ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মুখ্য স্থান দখল করে নিয়েছে। এর ফলে এই প্রজন্মগুলো তাদের ঐতিহ্যের প্রতি আস্থা হারিয়েছে - অথবা হারানোর উপক্রম হয়েছে। ইসলামের জ্ঞান ও সভ্যতার ওপর শক্তিশালী ও সহিংস আক্রমণ তীব্রতর হয়েছে, যার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত নিয়ে সংশয় তৈরি করাও অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে তারা কিছু দুর্বল বর্ণনা, অদ্ভুত কাহিনী এবং ভিত্তিহীন অতিরঞ্জনের সুযোগ গ্রহণ করছে, যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, যা যুক্তিসিদ্ধ নয় এবং নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রের মাধ্যমেও প্রমাণিত নয়। তাই বিশেষজ্ঞ গবেষকদের জন্য এই পবিত্র সীরাতের প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে; সংকলন, অধ্যয়ন, যাচাই-বাছাই ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের মুহাদ্দিসগণের 'জারহ ও তাদীল' (বর্ণনাকারী যাচাইকরণ) সংক্রান্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করতে হবে, যাতে এর মধ্যকার প্রচ্ছন্ন ত্রুটিগুলো উন্মোচন করা যায় এবং এর পাঠ্যসমূহের মধ্য থেকে সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনাগুলোকে পৃথক করা যায়।

যদি হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা বা মূলনীতিসমূহকে হাদীসে নববীর মূল্যায়ন এবং সেগুলোর মান নির্ণয়ে সূত্রের পরম্পরা ও মূল বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চমৎকারভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে সীরাতুন্নবী, এর ঘটনাবলী, যুদ্ধবিগ্রহ এবং এর অসংখ্য বিষয়াদি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অনুরূপ বা কাছাকাছি কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়নি।

এটি সীরাত অধ্যয়নের একটি দিক।

আর অপর দিকটি হলো আধুনিক বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি, যেখানে গবেষক অত্যন্ত শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় শৈলীতে সীরাতুন্নবীর বুদ্ধিবৃত্তিক, শিক্ষামূলক ও ফিকহী দিকগুলো উন্মোচন করার যত্ন নেন। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের অন্তরে এই সীরাতের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা এবং নতুন প্রজন্মকে এর প্রতি আগ্রহী করে তোলা, যাতে তারা মহান সীরাতওয়ালা আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করতে পারে। একইসঙ্গে সীরাতের উজ্জ্বল দিক ও মহিমান্বিত মুহূর্তগুলোকে ফুটিয়ে তোলাও এর লক্ষ্য। আমি স্বীকার করছি যে, আমি এই দিকে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করতে পারিনি; কারণ আমার গবেষণার মূল ভিত্তি ছিল বিশুদ্ধ হাদীস শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতের পাঠ্যগুলোর সত্যতা যাচাই করা। তাছাড়া সময়ও আমাকে এই উভয় কল্যাণের সমন্বয় সাধনে অবকাশ দেয়নি। তবে আমি স্বীকার করি যে, এই বরকতময় সীরাতের খেদমতে এটি একটি মহান দায়িত্ব।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولا أنسى أن أنوّه1 بدراسة جيدة بدأت في هذا الجانب لبعض المهتمين بقضايا الدعوة الإسلامية في هذا العصر2، ولكن الأمر يحتاج إلى المزيد الذي يغطي جوانب هذه السيرة تغطية كاملة.

وإغفال هذا الجانب التحليلي في دراسة السيرة النبوية خطأ جسيم في حق السيرة، وترك لواجب يفرضه الواقع المعاصر، وتقتضيه حاجة الأجيال الملحة.

ب - كلمة عن السيرة وضرورة التكامل في دراستها:

لفظ السيرة يراد به في اللغة: السنة والطريقة والهيئة، يقال: سار بهم سيرة حسنة، وسار في الناس سيرة حسنة أو قبيحة3.

والسيرة على هذا تشمل في مدلولها اللغوي المنهج والطريقة التي يتبعها الراعي في رعيته، والرجل في أهله4.

كما تطلق السيرة على الهيئة والحالة.

وبتأمل إطلاقات العلماء للفظ السيرة، يظهر أن السيرة مرّت في مدلولها الاصطلاحي بتطورات علمية بارزة، فبالنظر في صنيع العلماء الذين عنوا بتسجيل غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم وسراياه، وما يتبع ذلك من شؤون الحرب بين المسلمين وأعدائهم في العهد الأول، مثل عروة بن الزبير وأبان5 بن عثمان بن عفان، ومحمد بن شهاب الزهري، وعبد الله بن أبي بكر بن حزم.

--------------------------------------------

1 نوهت بالشيء، ونوهته تنويهاً رفعته ونوهت باسمه، رفعت ذكره. (لسان العرب 17/442)

2 وذلك مثل: فقه السيرة للغزالي، وفقه السيرة للبوطي، والسيرة النبوية للندوي، والسيرة النبوية في ضوء القرآن والسنة لأبي شهبة، ودراسة في السيرة للدكتور عماد الدين خليل، والسيرة النبوية دروس وعبر للدكتور مصطفى السباعي، وخاتم النبيين لمحمد لأبي زهرة، وسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم لمحمد عزة دروزة. ولكن الموضوع بحاجة إلى جهود أكثر.

(لسان العرب لابن منظور 6/56) ، و (مختار الصحاح لمحمد بن أبي بكر الرازي ص 325) ، و (المصباح المنير لأحمد ابن محمد الفيومي 1/353) ، و (القاموس المحيط لمحمد بن يعقوب الفيروزآبادي 2/54) .

(دي الساري: لأحمد بن علي بن حجر العسقلاني ص136) .

5 وفاته سنة (105هـ) . (التقريب 1/31) .
আমি এই যুগে ইসলামি দাওয়াহর বিষয়াবলি নিয়ে আগ্রহী কিছু গবেষক কর্তৃক এই ক্ষেত্রে শুরু হওয়া একটি চমৎকার গবেষণার প্রশংসা করতে ১ ভুলি না ২, তবে বিষয়টি এমন আরও প্রচেষ্টার মুখাপেক্ষী যা এই সীরাতের সকল দিক পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে।

সীরাতে নববীর অধ্যয়নে এই বিশ্লেষণধর্মী দিকটি উপেক্ষা করা সীরাতের হকের প্রতি একটি গুরুতর ভুল, এবং সমসাময়িক বাস্তবতার ওপর অর্পিত এক অনিবার্য কর্তব্য পরিত্যাগ করা, যা প্রজন্মের জরুরি প্রয়োজনের দাবি।

খ - সীরাত সম্পর্কে কিছু কথা এবং তা অধ্যয়নে পূর্ণাঙ্গতার প্রয়োজনীয়তা:

ভাষা বিজ্ঞানে সীরাত শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: রীতি, পদ্ধতি এবং অবস্থা। বলা হয়: সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ (সীরাত) করেছে, এবং সে মানুষের মধ্যে ভালো বা মন্দ আচরণে পরিচালিত হয়েছে ৩।

এই হিসেবে সীরাত তার আভিধানিক অর্থে সেই মানহাজ ও পদ্ধতিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যা একজন শাসক তার প্রজাদের ক্ষেত্রে এবং একজন ব্যক্তি তার পরিবারের ক্ষেত্রে অনুসরণ করে ৪।

সীরাত শব্দটি আকার ও অবস্থার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

আলেমগণ সীরাত শব্দটিকে যেভাবে ব্যবহার করেছেন তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সীরাতের পারিভাষিক অর্থ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। বিশেষ করে সেই সকল আলেমদের কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করলে যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধবিগ্রহ ও সামরিক অভিযানসমূহ এবং প্রথম যুগে মুসলিম ও তাদের শত্রুদের মধ্যেকার যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি লিপিবদ্ধ করতে মনোনিবেশ করেছিলেন; যেমন উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের, আবান ৫ ইবনে উসমান ইবনে আফফান, মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে হাজম।

--------------------------------------------

১ আমি কোনো বিষয়কে ‘নাওয়াহতু’ করেছি মানে সেটির গুরুত্ব দিয়েছি এবং উচ্চকিত করেছি; আর কারো নাম ‘নাওয়াহতু’ করেছি মানে তার উল্লেখকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করেছি। (লিসানুল আরব ১৭/৪৪২)

২ যেমন: গাযালির ফিকহুস সীরাহ, বুতির ফিকহুস সীরাহ, নদভীর সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, আবু শাহবার আল-কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ড. ইমাদ উদ্দিন খলিলের দিরাসাতুন ফিস সীরাহ, ড. মুস্তফা আস-সিবাঈর সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ: পাঠ ও শিক্ষা, আবু জুরহার খাতামুন নাবিয়্যীন এবং মুহাম্মদ ইজ্জাহ দাওরাজার সীরাতুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তবে বিষয়টি আরও অধিক প্রচেষ্টার মুখাপেক্ষী।

(ইবনে মানযুর প্রণীত লিসানুল আরব ৬/৫৬), (মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আর-রাযী প্রণীত মুখতারুস সিহাহ পৃষ্ঠা ৩২৫), (আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফায়য়ুমি প্রণীত আল-মিসবাহুল মুনীর ১/৩৫৩), (মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফিরোযাবাদি প্রণীত আল-কামুসুল মুহীত ২/৫৪)।

(আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আসকালানি প্রণীত হাদিউস সারি: পৃষ্ঠা ১৩৬)।

৫ তার মৃত্যু ১০৫ হিজরি সনে। (আত-তাকরীব ১/৩১)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم من جاء بعدهم أمثال: موسى بن عقبة، ومحمد بن إسحاق، وأبو معشر1 السندي، وشرحبيل2 بن سعد، والأربعة من تلاميذ الزهري، ثم محمد بن عمر الواقدي، ومحمد بن سعد، ثم المؤرخ العظيم الإمام الطبري، وغيرهم من أئمة السير والمغازي القدامى الذين هم الأصل في هذا العلم.

يتبيّن للناظر في تآليفهم العلمية أنهم يخصون لفظ السيرة بالغزوات والسرايا في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، وما يقع فيها من قضايا متعددة الجوانب، لذلك قال الفيومي: "وغالب اسم السيرة في ألسنة الفقهاء على المغازي"3.

وهذا المدلول الاصطلاحي استمر في الأدوار التاريخية المتلاحقة فإذا أطلق هذا اللفظ انصرف الذهن إلى الغزوات والسرايا وما له صلة بها قبل المعركة وبعدها.

وهناك مصادر أساسية جعلت السيرة بهذا المدلول جزءاً من موضوعاتها وبحوثها، مثل: "دلائل النبوة" للبيهقي، فقد ذكر مباحث السيرة في ثنايا عرضه لما يتصل بحياة الرسول صلى الله عليه وسلم.

وممّن جرى على هذا المنوال من المتأخرين: ابن سيد4 الناس في كتابه "عيون الأثر في فنون المغازي والشمائل والسير"، وأبو زكريا يحيى بن أبي بكر العامري في كتابه "بهجة المحافل وبغية الأماثل في تلخيص السير والمعجزات والشمائل"، وشهاب الدين أحمد بن محمد القسطلاني في كتابه "المواهب اللدنية بالمنح المحمدية"، فهذه الكتب جمعت بين الشمائل، وهي الصفات الخُلقية5 والخلقية لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وبين الدلائل وهي البراهين على صحة نبوته صلى الله عليه وسلم، وبين السرايا والمغازي التي تمت في حياته صلى الله عليه وسلم وهذا الصنيع أقرب إلى مدلول لفظ السيرة من الوجهة اللغوية، لأن السيرة في اللغة العربية تدور على معنيين:

--------------------------------------------

1 أبو معشر السندي: هو نجيح بن عبد الرحمن السندي المدني، مولى بني هاشم، مشهور بكنيته، توفي سنة (170هـ) . (التقريب 2/298) .

2 شرحبيل بن سعد، أبو سعد المدني، مولى الأنصار (ت123هـ) (التقريب 1/348) .

(المصباح المنير 1/353) .

4 هو أبو الفتح اليعمري محمد بن محمد.

5 الخلق- بضم الخاء واللام وسكونهما-: الدين والطبع والسجية، وحقيقته أنه لصورة الإنسان الباطنة، وهي نفسه وأوصافها ومعانيها المختصة بها. والخلق- بفتح الخاء وسكون اللام-: صورة الإنسان الظاهرة وأوصافها ومعانيها. (النهاية لابن الأثير 2/70) .
এরপর তাদের পরে এসেছেন মুসা ইবনে উকবা, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আবু মা'শার আস-সিন্দি, শুরাহবিল ইবনে সা'দ—এই চারজন ইমাম যুহরীর ছাত্র—অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি, মুহাম্মদ ইবনে সা'দ, এরপর মহান ঐতিহাসিক ইমাম তাবারী এবং সীরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের অন্যান্য প্রাচীন ইমামগণ, যারা এই ইলমের মূল ভিত্তি।

তাদের ইলমী রচনাসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তারা 'সীরাত' শব্দটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের যুদ্ধ (গাযওয়াহ) এবং অভিযানগুলোর (সারিয়্যাহ) জন্য নির্দিষ্ট করতেন, এবং এ সংক্রান্ত বহুমুখী ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনায় ব্যবহার করতেন। এজন্য ফাইয়ুমি বলেছেন: "ফকীহগণের পরিভাষায় সীরাত শব্দের অধিকাংশ প্রয়োগ মাগাযী বা যুদ্ধের অর্থেই হয়ে থাকে।"

এই পারিভাষিক অর্থটি পরবর্তী ঐতিহাসিক যুগগুলোতেও অব্যাহত ছিল; ফলে যখনই এই শব্দটি (সীরাত) উচ্চারণ করা হতো, তখন মন সরাসরি যুদ্ধ, অভিযান এবং যুদ্ধের আগে ও পরের সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলির দিকে ধাবিত হতো।

আবার এমন কিছু মৌলিক উৎস রয়েছে যেগুলো সীরাতকে এই অর্থে তাদের বিষয়বস্তু ও গবেষণার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে, যেমন: বায়হাকীর "দালাইলুন নুবুওয়াহ"। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সংশ্লিষ্ট আলোচনা উপস্থাপনের ফাঁকে সীরাতের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন।

পরবর্তী যুগের আলিমদের মধ্যে যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে সাইয়্যিদুন নাস তার "উয়ুনুল আসার ফী ফুনুনিল মাগাযী ওয়াশ শামায়িল ওয়াস সিয়ার" গ্রন্থে, আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আবি বকর আল-আমিরী তার "বাহজাতুল মাহাফিল ওয়া বুগয়াতুল আমাসিল ফী তালখীসিস সিয়ার ওয়াল মু'জিযাত ওয়াশ শামায়িল" গ্রন্থে এবং শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাসতালানী তার "আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ" গ্রন্থে। এই কিতাবগুলো শামায়িল—অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহ্যিক গঠন ও অভ্যন্তরীণ গুণাবলি—এবং দালাইল—অর্থাৎ তাঁর নুবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণাদি—এবং তাঁর জীবদ্দশায় সংঘটিত অভিযান ও যুদ্ধগুলোর (সারিয়্যাহ ও গাযওয়াহ) সংমিশ্রণে রচিত। এই পদ্ধতিটি ভাষাগত দিক থেকে সীরাত শব্দের অর্থের অধিকতর নিকটবর্তী, কারণ আরবি ভাষায় সীরাত শব্দটির দুইটি অর্থ রয়েছে:

--------------------------------------------

১ আবু মা'শার আস-সিন্দি: তিনি হলেন নাজীহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সিন্দি আল-মাদানি, বনু হাশিমের আযাদকৃত দাস, তিনি তার উপনামেই প্রসিদ্ধ ছিলেন। মৃত্যু: ১৭০ হিজরি। (আত-তাকরীব ২/২৯৮)।

২ শুরাহবিল ইবনে সা'দ, আবু সা'দ আল-মাদানি, আনসারদের আযাদকৃত দাস (মৃত্যু: ১২৩ হিজরি)। (আত-তাকরীব ১/৩৪৮)।

৩ (আল-মিসবাহুল মুনীর ১/৩৫৩)।

৪ তিনি হলেন আবুল ফাতহ আল-ইয়ামারি মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ।

৫ আল-খুলুক (খ ও লাম বর্ণের পেশ অথবা লাম বর্ণের সুকুন সহ): এর অর্থ হলো দ্বীন, স্বভাব ও চরিত্র। প্রকৃতপক্ষে এটি মানুষের অভ্যন্তরীণ রূপ তথা তার আত্মা, এর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়। আর আল-খালক (খ বর্ণের যবর ও লাম বর্ণের সুকুন সহ): এর অর্থ হলো মানুষের বাহ্যিক রূপ, এর অবয়ব ও বৈশিষ্ট্য। (আন-নিহায়াহ লি-ইবনিল আসীর ২/৭০)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১১)
الأول: الطريقة والمنهج والسنة المتبعة.

والثاني: الهيئة والحالة والصفات الجبليّة1 والكسبية.

وعلى هذا يمكن القول بأن مصطلح السيرة شامل لجميع ما يتصل بتطبيقات الرسول صلى الله عليه وسلم العملية للإسلام، وهذا المعنى العام يمكن أن يلحظه الباحث عند بعض العلماء الأجلاء مثل الإمام ابن قيم الجوزية في كتابه العظيم (زاد المعاد في هدي خير العباد) فهو كتاب جامع لسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم في السلم والحرب وفي العبادة والمعاملة، وفي بيته مع أهله وخدمه، ومع سائر الناس، فكان رصدا كاملا لجميع جوانب السيرة النبوية بالمعنى العام مع التحليل والاستنباط والمناقشة والتحقيق، وهي صفات أساسية في دراسة ابن قيم الجوزية رحمه الله، وهو وإن لم يجعل كتابه معنونا بالسيرة، إلاّ أن إدخاله للسيرة ضمن هديه صلى الله عليه وسلم المتعدد الجوانب يدل على نظرة دقيقة إلى مفهوم السيرة عنده، ممّا يشير إلى التدرج العلمي والفكري في مسالك العلماء المختلفة لمعالجة قضايا السيرة النبوية.

وقد ذكر أئمة الحديث مباحث الغزوات والسرايا في جملة مصنفاتهم ولكن أئمة السير والمغازي الذين أفردوها بالتصنيف المستقل كانوا أكثر استقراء واستيعابا للمغازي والسير من غيرهم، لذلك صاروا أئمة في هذا الشأن يرجع إليهم فيه.

ولا شك أن تتبع هذه المصادر المختلفة لاستخراج ما له صلة بغزوة من الغزوات يحتاج من الباحث إلى زمن كاف، وجهد متواصل في كتب التراث ودواوينه2 الواسعة، لأن مباحث السيرة النبوية لم تقتصر على كتب معينة خاصة بها.

ومن هنا تكون مهمة الباحث المعاصر في هذا الميدان أن يتنبه لهذه الحقيقة العلمية، وأن يدرك اختلاف طرائق العلماء في تناول مباحث السيرة النبوية في تصانيفهم، وما طرأ عليها من إضافات وتضخيمات بمعزل عن الصواب والحق، ذلك

--------------------------------------------

1 الجبلة - بكسرتين وتثقيل اللام -: الطبيعة والخليقة والغريزة بمعنى واحد. وجبله الله على كذا من باب قتل، فطره عليه. (المصباح المنير للفيومي 1/110-111) . والمراد بذلك الصفات التي فطر الله الإنسان عليها. والصفات الكسبية هي التي تأتي بالتمرن عليها ومعالجة الإنسان نفسه عليها.

2 جمع ديوان هو مجتمع الصحف، والكتاب يكتب فيه أهل الجيش ويجمع أيضا على دياوين، وأول من وضعه عمر بن الخطاب رضي الله عنه. (القاموس المحيط 4/224) .
প্রথমত: অনুসৃত পদ্ধতি, পন্থা ও সুন্নাহ।

দ্বিতীয়ত: আকৃতি, অবস্থা এবং সহজাত ও অর্জিত গুণাবলী।১

এই প্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে যে, সীরাত পরিভাষাটি ইসলামের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল ব্যবহারিক প্রয়োগকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ব্যাপক অর্থটি গবেষকগণ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর মতো কিছু প্রথিতযশা আলেমের নিকট লক্ষ্য করতে পারেন তাঁর মহান গ্রন্থ 'যাদুল মাআদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ'-এ। এটি যুদ্ধ ও শান্তিকালীন, ইবাদত ও মুয়ামালাত (লেনদেন) এবং নিজ গৃহে পরিবার ও খাদেমদের সাথে এবং অন্যান্য সকল মানুষের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের একটি সংকলিত গ্রন্থ। এটি ছিল সীরাতে নববীর সকল দিকের একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ, যা বিশ্লেষণ, তথ্য আহরণ, আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর গবেষণার মৌলিক বৈশিষ্ট্য। যদিও তিনি তাঁর কিতাবটির নাম সীরাত হিসেবে নির্ধারণ করেননি, তবুও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বহুমুখী আদর্শের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে সীরাতকে উপস্থাপন করা তাঁর নিকট সীরাত ধারণার একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ দেয়। যা সীরাতে নববীর বিষয়গুলো পর্যালোচনায় বিভিন্ন উলামায়ে কেরামের কর্মপদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ক্রমকে নির্দেশ করে।

হাদিসের ইমামগণ তাঁদের সংকলনসমূহে যুদ্ধ ও অভিযানসমূহের আলোচনা উল্লেখ করেছেন। তবে সীরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের ইমামগণ, যারা একে স্বতন্ত্র সংকলন হিসেবে পৃথক করেছেন, তাঁরা মাগাযী ও সীরাতের ব্যাপারে অন্যদের তুলনায় অধিক গভীর পর্যবেক্ষণ ও ব্যাপক জ্ঞান রাখতেন। ফলে তাঁরা এই বিষয়ে ইমাম হিসেবে গণ্য হয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো একটি যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বের করার জন্য এই ভিন্ন ভিন্ন উৎসগুলো অনুসন্ধান করতে একজন গবেষকের পর্যাপ্ত সময় এবং ঐতিহ্যের বিশাল কিতাব ও দিওয়ানসমূহের২ ব্যাপক ভাণ্ডারে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার প্রয়োজন। কেননা সীরাতে নববীর আলোচনাগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো কিতাবেই সীমাবদ্ধ নয়।

আর এখান থেকেই সমসাময়িক গবেষকের দায়িত্ব হলো এই বৈজ্ঞানিক সত্যের প্রতি সজাগ থাকা এবং তাঁদের রচনাবলিতে সীরাতে নববীর বিষয়গুলো উপস্থাপনায় উলামায়ে কেরামের পদ্ধতির ভিন্নতা উপলব্ধি করা। পাশাপাশি সঠিক ও সত্যের বাইরে এতে যে সমস্ত সংযোজন ও অতিরঞ্জন ঘটেছে তা সম্পর্কে সচেতন থাকা। তা...

--------------------------------------------

১ জিবিল্লাহ - দুই জের এবং লাম-এর তাশদীদসহ -: প্রকৃতি, সৃষ্টি এবং প্রবৃত্তি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। 'জাবাল্লাহু আলা কাযা' এটি 'কাতল' এর রূপান্তর থেকে আগত, অর্থাৎ আল্লাহ তাকে এর ওপর সৃষ্টি করেছেন। (আল-মিসবাহুল মুনীর লিল ফায়্যুমি ১/১১০-১১১)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই গুণাবলী যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর অর্জিত গুণাবলী হলো যা অনুশীলনের মাধ্যমে এবং মানুষের নিজের ওপর প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জিত হয়।

২ দিওয়ান শব্দের বহুবচন, যা নথিপত্রের সমষ্টি। এটি এমন একটি কিতাব যেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিবরণ লেখা হতো। এর বহুবচন 'দিয়াউইন'ও হয়। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বপ্রথম এটি প্রবর্তন করেন। (আল-কামুসুল মুহীত ৪/২২৪)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১২)
أن بعض المصادر المتأخرة لم تخل من إضافات تخالف الواقع التاريخي للسيرة النبوية، وتخالف روح الإسلام ونصوص القرآن والسنة، ممّا جعل السبيل ممهدة أمام المستشرقين وغيرهم أن يشككوا في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم.

وقد اشتملت كتب الشمائل والتواريخ المتأخرة عن عهود التدوين – إلاّ القليل النادر منها – على تهاويل كثيرة تذكر قبل مولد الرسول صلى الله عليه وسلم زاعمين أنها إرهاصات1 لنبوته، وتذكر في أثناء مولده وبعد ولادته، وهي أخبار غريبة ومبالغات مرتجلة2 لا أساس لها من الصحة يجب تنقية السيرة منها، وبيان زيفها، وقد تلقفها جمهور المسلمين وتناشدوها في حفلات الموالد وسجلوها في أشعار المديح والإطراء للرسول صلى الله عليه وسلم، وكلها أخبار واهية، إما إسرائيليات وإما من نسج الخيال وإنشاء المداحين والقصاصين ومن على شاكلتهم، ولا شك أن مثل هذه الأساطير تفتح الباب أمام المغرضين من المستشرقين وأذنابهم لإنكار السيرة والحط منها والتشكيك في أحداثها الزاخرة، ومدلولاتها العظيمة، ومعطياتها المتعددة.

إن الباحث المعاصر حري به أن يرجع إلى نمط من المصادر الموثقة للنقاد المعتمدين في علوم الإسلام، مثل كتب الحديث وكتب الرجال وكتب التواريخ المسندة، ومن ثمّ دراسة النص التاريخي للسيرة دراسة نقدية جادّة وفق الأصول والقواعد العلمية المقررة، وهذا النوع من الدراسة هو الكفيل بوضع الحق في نصابه في حوادث السيرة النبوية ودمغ أباطيل المتزيدين والمستكثرين، ومن ثمّ إقناع كل من له إنصاف وعقل بتلك الصفات المشرقة من حياة المصطفى صلى الله عليه وسلم.

إن المسلمين أحوج ما يكونون اليوم إلى معطيات سيرة نبيهم صلى الله عليه وسلم في شتى مجالاتها المتنوعة. إن هذه السيرة النبوية حفظها الله للمسلمين ولم تحفظ سيرة نبي من الأنبياء كما حفظت سيرة نبينا صلى الله عليه وسلم، ولازال الباحثون إلى اليوم وإلى قيام الساعة يتمكنون من بيان هذه السيرة ودراستها ونفي الكذب عنها كما نُفي من حديثه صلى الله عليه وسلم رحمة من الله بهذه الأمة لتبقى لهم أعمال نبيهم وتطبيقاته وجميع تحركاته ونشاطاته المختلفة

--------------------------------------------

1 قال محمد بن علي التهاوني: (الإرهاص) شرعا: قسم من الخوارق، وهو الخارق الذي يظهر من النبي قبل البعثة، سمي به لأن الإرهاص في اللغة بناء البيت، فكأنه بناء بيت إثبات النبوة (كشاف اصطلاحات الفنون 3/45) .

2 في (القاموس المحيط 3/382) : ارتجل الكلام: تكلم به من غير أن يهيئه، وبرأيه انفرد.
কিছু পরবর্তী উৎস এমন কিছু সংযোজন থেকে মুক্ত ছিল না যা সীরাতে নববীর ঐতিহাসিক বাস্তবতার পরিপন্থী এবং যা ইসলামের মূল চেতনা ও কুরআন-সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের বিরোধী। এর ফলে প্রাচ্যবিদ ও অন্যদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত নিয়ে সংশয় সৃষ্টির পথ সুগম হয়েছে।

সংকলনের যুগের পরবর্তী শামায়েল ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ—খুব সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া—অনেক কাল্পনিক ও অতিরঞ্জিত বিষয়ে পূর্ণ ছিল যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এই দাবি করে যে এগুলো তাঁর নবুওয়াতের পূর্বাভাস ১। এছাড়া তাঁর জন্ম চলাকালীন এবং জন্মের পরেও অনেক ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা অদ্ভুত সংবাদ এবং ভিত্তিহীন অতিরঞ্জন ২। সীরাতকে এসব থেকে পরিশুদ্ধ করা এবং এগুলোর অসারতা স্পষ্ট করা অপরিহার্য। সাধারণ মুসলিমরা এগুলো গ্রহণ করেছে এবং মিলাদ মাহফিলগুলোতে পাঠ করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা ও অতিশয়োক্তিপূর্ণ স্তুতিমূলক কবিতায় লিপিবদ্ধ করেছে। এগুলোর সবই ভিত্তিহীন সংবাদ, যা হয় ইসরাঈলি বর্ণনা অথবা কল্পকাহিনী এবং প্রশংসাকারী ও কিচ্ছাকারদের এবং তাদের ন্যায় লোকেদের সৃষ্টি। নিঃসন্দেহে এ ধরনের উপকথাগুলো বিদ্বেষপরায়ণ প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের জন্য সীরাতকে অস্বীকার করার, একে খাটো করে দেখার এবং এর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী, মহৎ তাৎপর্য ও বহুমুখী অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ খুলে দেয়।

বর্তমান সময়ের গবেষকদের জন্য সমীচীন হলো ইসলামী জ্ঞানবিজ্ঞানে নির্ভরযোগ্য সমালোচকদের দ্বারা স্বীকৃত ও প্রত্যায়িত উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যেমন হাদীস শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ, রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ এবং সনদভিত্তিক ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ। অতঃপর সীরাতের ঐতিহাসিক পাঠ্যকে নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক মূলনীতি ও নিয়ম অনুযায়ী গভীর সমালোচনামূলকভাবে অধ্যয়ন করা। এই ধরনের গবেষণাই সীরাতে নববীর ঘটনাবলীর সত্যতা যথাযথভাবে নিরূপণ করতে এবং যারা বাড়িয়ে বলে ও অতিরঞ্জন করে তাদের অসারতা চূর্ণ করতে সক্ষম। এভাবে বিবেকবান ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

আজকের দিনে মুসলিমদের জন্য জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা এই সীরাতে নববীকে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন; অন্য কোনো নবীর সীরাত এমনভাবে সংরক্ষিত হয়নি যেভাবে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সংরক্ষিত হয়েছে। গবেষকগণ আজও এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই সীরাতকে ব্যাখ্যা করতে, তা নিয়ে গবেষণা করতে এবং সীরাত থেকে মিথ্যাকে দূর করতে সক্ষম হবেন, যেভাবে হাদীস থেকে মিথ্যা অপনোদন করা হয়েছে। এটি এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর রহমত, যাতে তাদের জন্য তাদের নবীর আমল, প্রয়োগ এবং তাঁর যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা সংরক্ষিত থাকে।

--------------------------------------------

১. মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-তাহানোভি বলেছেন: শরীয়তের পরিভাষায় (ইরহাস) হলো এক প্রকার অলৌকিক ঘটনা, যা নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে নবীর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর নামকরণ এভাবে করা হয়েছে কারণ আভিধানিক অর্থে ইরহাস মানে হলো ঘরের ভিত্তি স্থাপন করা; যেন এটি নবুওয়াত প্রমাণের ভিত্তি স্বরূপ (কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন ৩/৪৫)।

২. আল-কামুসুল মুহিত (৩/৩৮২) গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'ইরতাজালিল কালাম' মানে হলো পূর্বপ্রস্তুতিহীন কথা বলা এবং নিজের মতে একক হওয়া।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
في السلم والحرب المرجع الذي يعودون إليه فيجدون فيه أنفاسه صلى الله عليه وسلم وإن كانت نفسه الشريفة قد فارقت الدنيا، ويقتدون بسيرته كما يتبعون سنته.

ومن هنا وجب القيام بدراستها من الناحية النقدية الحديثية، ومن الناحية التحليلية التربوية بأسلوب معاصر وعرض جديد يقربها من لغة المثقف المعاصر، وهما واجبان متلازمان لا ينفك أحدهما عن الآخر. وبهذا المنهج يمكن استدراك النقص الناجم عن الدراسات الإنشائية المرتجلة البعيدة عن التحقيق والبحث العلمي، كما يمكن تدارك الخلل الناجم عن الدراسة المتخصصة الدقيقة التي تبعد عن التحليل العلمي المعاصر، ولا تعنى بتقريب أحداث السيرة ونصوصها من فهم المثقفين المعاصرين، مما جعل كثيرا من الدارسين المعاصرين يعتمدون في دراستهم للسيرة على كتب المستشرقين ومن نحا نحوهم في كتابة السيرة بأسلوب العصر ولغته الأدبية وتحليلاته النفسية التربوية وفق مناهج غربية لا تخلو من تحامل وتشكيك في قضايا السيرة.

وهذه الفجوة الخطيرة قد قامت محاولات1 جادّة لسدها ظهرت في صورة دراسات يغلب عليها طابع العصر في سرعة التناول وغلبة الارتجال ولكنها دراسات نافعة أفادت منها الأجيال المعاصرة، بيد أن الأمر يحتاج إلى ضرورة التكامل في دراسة السيرة.

ج - سبب اختياري لغزوة حنين:

كانت تجربتي الأولى في دراسة غزوة "بني المصطلق" تدفعني لمواصلة خدمة السيرة النبوية، وقد وقع اختياري على هذه الغزوة لبحث الدكتوراه استمرارا لهذا الاتجاه الذي أرجو أن يكون من صالح أعمالي الموفقة، كما أتمنى أن يكون عملا علميا نافعا في خدمة الغزوتين العظيمتين.

وأود أن أجمل دوافع اختياري لغزوة حنين على وجه الخصوص في النقاط الآتية:

1- كثرة أحداث غزوة حنين وتشعب مروياتها وتعدد الجوانب العلمية لوقائعها التاريخية ومعطياتها الجليلة، ممّا جعلها - في نظري - جديرة بإفرادها بالدراسة

--------------------------------------------

1 انظر ص 11.
শান্তি ও যুদ্ধে তিনি হলেন সেই আশ্রয়স্থল যার দিকে তারা ফিরে আসেন এবং সেখানে তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পান, যদিও তাঁর পবিত্র আত্মা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। তারা তাঁর সীরাত অনুসরণ করেন ঠিক যেমন তারা তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করেন।

আর এখান থেকেই সীরাতকে হাদিসশাস্ত্রীয় পর্যালোচনা এবং সমসাময়িক শিক্ষিত সমাজের ভাষার নিকটবর্তী আধুনিক শৈলী ও অভিনব উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষামূলক বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই দুটি কাজ একটি অন্যটির সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সেই অপূর্ণতা দূর করা সম্ভব যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও যাচাই-বাছাই থেকে দূরে থাকা গতানুগতিক ও তাৎক্ষণিক রচনাসমূহের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে সেই ত্রুটিও সংশোধন করা সম্ভব যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণবিমুখ অতি-বিশেষায়িত অধ্যয়ন থেকে জন্ম নেয় এবং যা সীরাতের ঘটনাবলি ও এর ভাষ্যসমূহকে সমকালীন শিক্ষিতদের বোধগম্য করে তোলার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। এর ফলেই অনেক আধুনিক গবেষক সীরাত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদ এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন, যারা সীরাত রচনায় আধুনিক শৈলী, সাহিত্যিক ভাষা এবং মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষামূলক বিশ্লেষণ ব্যবহার করেছেন এমন এক পশ্চিমা পদ্ধতিতে যা সীরাতের বিষয়াবলিতে বিদ্বেষ ও সংশয় সৃষ্টির ঊর্ধ্বে নয়।

এই বিপজ্জনক শূন্যতা পূরণে কিছু আন্তরিক প্রচেষ্টা১ চালানো হয়েছে, যা বর্তমান যুগের দ্রুত উপস্থাপনা ও তাৎক্ষণিক রচনার ছাপ সম্বলিত অধ্যয়ন হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। তবে এগুলো ফলপ্রসূ অধ্যয়ন যা থেকে সমকালীন প্রজন্ম উপকৃত হয়েছে। তবুও সীরাত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গতা বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

গ - হুনাইন যুদ্ধ নির্বাচনের কারণ:

"বনু মুসতালিক" যুদ্ধ নিয়ে আমার প্রথম গবেষণার অভিজ্ঞতা আমাকে সীরাতে নববীর খেদমত অব্যাহত রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সেই ধারার ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমি পিএইচডি গবেষণার জন্য এই যুদ্ধটিকে (হুনাইন যুদ্ধ) বেছে নিয়েছি, যা আমার সফল নেক আমলগুলোর অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমি আশা করি। সেই সাথে আমি কামনা করি যে এটি এই দুটি মহান যুদ্ধের সেবায় একটি উপকারী বৈজ্ঞানিক কাজ হিসেবে গণ্য হবে।

বিশেষভাবে হুনাইন যুদ্ধ নির্বাচনের কারণসমূহ আমি নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই:

১- হুনাইন যুদ্ধের ঘটনাবলির আধিক্য, এর বর্ণনাসমূহের শাখা-প্রশাখা এবং এর ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বৈজ্ঞানিক দিক ও মহান তথ্যাবলির বহুমুখিতা; যা আমার দৃষ্টিতে এটিকে স্বতন্ত্রভাবে অধ্যয়ন করার যোগ্য করে তুলেছে।

--------------------------------------------

১ দেখুন পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
العلمية الوافية، لذلك اخترتها لبحث الدكتوراه عسى أن أفي بحقها وألم شعثها وأجمع متفرقها وأحقق نصوصها وفق المناهج العلمية المتبعة في نقد الروايات من الوجهة الحديثية.

2- تعد غزوة حنين آخر غزوات الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم في جزيرة العرب، حيث لم تقم بعدها للوثنية العربية قائمة، وارتفع بعدها علم التوحيد عاليا في سماء الجزيرة العربية، وتهاوت ألوية الشرك، ودخل العرب جميعا بعد هذه الغزوة في دين الله أفواجا.

وغزوة هذا شأنها، وهذه بعض معطياتها حقيقة بالدراسة المتأنية والتحقيق العلمي الجادّ، لذلك أجمعت أمري على خوض غمارها، ونقد مروياتها، وتجلية أحداثها واستقصاء جميع ما يتصل بها، بحسب الإمكان وفي حدود طاقتي العلمية المتواضعة.

3– تعددت الجوانب العلمية لهذه الغزوة فهي من جانب تشتمل على تدبيرات الرسول صلى الله عليه وسلم العسكرية والسياسية، وهي من جانب آخر جمعت بين الهزيمة للمسلمين في بادئ الأمر ثم كانت العاقبة لهم النصر والظفر بأعدائهم.

وقد احتوت على عدد من المعجزات والدلائل على نبوته صلى الله عليه وسلم، وفيها أيضا قضايا متصلة بالعقيدة، وأحكام فقهية واسعة، إلى غير ذلك من المسائل العظيمة البارزة التي تحتاج إلى دراسة مستقلة متخصصة تستوعب هذه الجوانب العلمية وتفي بأطرافها الموزعة في المصادر العلمية الكثيرة.

4– الناظر في كتب التراث عامة يلحظ أن هذه الغزوة لم تحظ بدراسة علمية تجمع ما تفرق منها هنا وهناك، وتنسق موضوعاتها وفق الدراسة الموضوعية المتكاملة في أبواب وفصول ومباحث تنتظم جميع أحداثها ووقائعها التاريخية، لذلك رأيت أن أقوم بذلك الجمع العلمي لما تفرق، وبذلك الترتيب والتبويب لتلك الأحداث والوقائع المتصلة بهذه الغزوة – مع الدراسة النقدية – عسى أن يسد عملي هذا ثغرة علمية، وأن يضيف شيئا ذا بال في طريقة دراسة هذا الموضوع الخطير. والله الموفق والمستعان.
...পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, তাই আমি এটি আমার পিএইচডি গবেষণার জন্য বেছে নিয়েছি যেন আমি এর হক আদায় করতে পারি, এর অগোছালো অংশগুলো সুবিন্যস্ত করতে পারি, বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্র করতে পারি এবং হাদিসশাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা পর্যালোচনার প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী এর মূল পাঠগুলো যাচাই করতে পারি।

২- হুনায়নের যুদ্ধ আরব উপদ্বীপে প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ যুদ্ধগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত, যার পরে আরব পৌত্তলিকতার আর কোনো ভিত্তি অবশিষ্ট থাকেনি এবং এরপর আরব উপদ্বীপের আকাশে তাওহিদের ঝাণ্ডা সুউচ্চ হয়েছে, শিরকের পতাকাগুলো ধূলিসাৎ হয়েছে এবং এই যুদ্ধের পর আরবরা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছে।

আর যে যুদ্ধের গুরুত্ব এমন এবং যার ফলাফলসমূহ এই পর্যায়ের, তা অবশ্যই গভীর অধ্যয়ন এবং ঐকান্তিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দাবি রাখে। তাই আমি এর গভীরে প্রবেশ করা, এর বর্ণনাগুলোর সমালোচনা ও পর্যালোচনা করা, এর ঘটনাবলি স্পষ্ট করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় যথাসম্ভব আমার বিনম্র জ্ঞানীয় সামর্থ্যের মধ্যে থেকে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

৩– এই যুদ্ধের জ্ঞানীয় দিকগুলো বহুমুখী; একদিকে এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামরিক ও রাজনৈতিক কলাকৌশলকে অন্তর্ভুক্ত করে, অন্যদিকে এটি শুরুতে মুসলিমদের পরাজয় এবং পরবর্তীতে বিজয় ও শত্রুদের ওপর আধিপত্য লাভের সমন্বিত রূপ।

এতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়তের বেশ কিছু অলৌকিক নিদর্শন ও প্রমাণ নিহিত রয়েছে। এছাড়াও এতে আকিদা সংক্রান্ত বিষয়াদি, ব্যাপক ফিকহি বিধান এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রস্ফুটিত মাসআলা রয়েছে, যার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত অধ্যয়ন প্রয়োজন, যা এই জ্ঞানীয় দিকগুলোকে ধারণ করবে এবং বিভিন্ন জ্ঞানীয় উৎসে ছড়িয়ে থাকা এর প্রান্তিক বিষয়গুলোর হক আদায় করবে।

৪– সাধারণত ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানভাণ্ডারের কিতাবসমূহের পাঠকমাত্রই লক্ষ্য করবেন যে, এই যুদ্ধটি এমন কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার সৌভাগ্য লাভ করেনি যা এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা এর বিষয়গুলোকে একত্র করবে এবং এর বিষয়বস্তুগুলোকে একটি সমন্বিত বিষয়ভিত্তিক আলোচনার আলোকে অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করবে, যা এর সকল ঐতিহাসিক ঘটনা ও পরিস্থিতিকে সুশৃঙ্খল করবে। তাই আমি বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে জ্ঞানীয়ভাবে একত্র করার এবং এই যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও পরিস্থিতিগুলোকে বিন্যস্ত ও অধ্যায়ভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি—সমালোচনামূলক পর্যালোচনাসহ—যাতে আমার এই কাজ একটি জ্ঞানীয় শূন্যতা পূরণ করতে পারে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অধ্যয়নের পদ্ধতিতে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু যোগ করতে পারে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
خطة البحث:

سار هذا البحث على خطة رسمتها لنفسي بغية الإحاطة بأطرافه على الطريقة الآتية:

1 - المقدمة: وفيها افتتاحية، ووجوب دراسة السيرة، وكلمة موجزة عن السيرة، ومصادرها، وكيف يتم التكامل في دراسة السيرة النبوية.

2 – التمهيد: وفيه قضيتان:

الأولى: التعريف بهوازن وثقيف وفيه:

1) نسب هوازن وثقيف.

2) تحديد مواقعهم وديارهم من الناحية الجغرافية.

3) صلتهم بقريش:

أ - الصلة النسبية.

ب- المصاهرة.

جـ- تبادل المصالح المشتركة.

4) موقفهم من ظهور الإسلام ودعوته.

5) موقفهم من الصراع بين المسلمين وقريش.

الثانية: تحركات المسلمين العسكرية:

وفي هذه القضية التمهيدية تناولت ما يلي:

1) تجهيز سرية لهدم العزى.

2) بعث سرية أخرى لهدم مناة.

3) سرية خالد بن الوليد إلى بني جذيمة.

وكانت هذه السرايا الثلاث قبيل معركة حنين.

وبعد هذا التمهيد الموجز رأيت أن يكون
গবেষণার পরিকল্পনা:

এই গবেষণাটি এমন একটি পরিকল্পনার আলোকে অগ্রসর হয়েছে যা আমি এর সকল দিক পরিব্যাপ্ত করার লক্ষ্যে নিজের জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে প্রণয়ন করেছি:

১ - ভূমিকা: এতে রয়েছে প্রারম্ভিকা, সীরাত অধ্যয়নের আবশ্যকতা, সীরাত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও এর উৎসসমূহ এবং কীভাবে সীরাতুন্নবী অধ্যয়নে পূর্ণাঙ্গতা অর্জন করা যায়।

২ – উপক্রমণিকা: এতে দুটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: হাওয়াযিন ও সাকীফ গোত্রের পরিচয়, এতে রয়েছে:

১) হাওয়াযিন ও সাকীফের বংশপরিচয়।

২) ভৌগোলিক দিক থেকে তাদের অবস্থান ও আবাসভূমি নির্ধারণ।

৩) কুরাইশদের সাথে তাদের সম্পর্ক:

ক - বংশীয় সম্পর্ক।

খ- বৈবাহিক সম্পর্ক।

গ- পারস্পরিক স্বার্থ বিনিময়।

৪) ইসলামের আবির্ভাব ও এর দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান।

৫) মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে তাদের অবস্থান।

দ্বিতীয় বিষয়: মুসলিমদের সামরিক অভিযানসমূহ:

এই উপক্রমণিকামূলক বিষয়ে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি:

১) আল-উযযা ধ্বংসের জন্য একটি সারিয়্যাহ (ছোট সেনাদল) প্রস্তুতকরণ।

২) মানাত ধ্বংসের জন্য অন্য একটি সারিয়্যাহ প্রেরণ।

৩) বনু জাযীমার প্রতি খালিদ বিন ওয়ালিদের সারিয়্যাহ।

এই তিনটি সারিয়্যাহ বা অভিযানই হুনাইন যুদ্ধের প্রাক্কালে সম্পন্ন হয়েছিল।

এই সংক্ষিপ্ত উপক্রমণিকার পর আমি সঙ্গত মনে করেছি যে...
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الباب الأول: في الحديث عن غزوة حنين وتحته أربعة فصول:

الفصل الأول: في مقدمات غزوة حنين وفيه مبحثان:

1) سبب الغزوة.

2) الاستعداد للمعركة.

الفصل الثاني: في المسير إلى حنين وفيه سبعة مباحث:

1) في تاريخ الغزوة.

2) تعيين الأمير على مكة.

3) عدد الجيش الإسلامي في هذه الغزوة.

4) استعداد هوازن العسكري.

5) تبشير الرسول صلى الله عليه وسلم أصحابه بالنصر وبيان فضل الحراسة في سبيل الله.

6) بقايا من رواسب الجاهلية.

7) بيان من قال في هذه الغزوة "لن نغلب اليوم من قلة".

الفصل الثالث: في وصف المعركة وفيه أربعة مباحث:

1) سبب هزيمة المسلمين في بداية المعركة.

2) مواقف مريبة إثر انكشاف المسلمين في بادئ الأمر.

3) عدد الثابتين مع الرسول الله-صلى الله عليه وسلم-يوم حنين.

4) عوامل انتصار المسلمين في حنين.

الفصل الرابع: ما أسفرت عنه معركة حنين من ضحايا وغنائم وفيه مبحثان:

1) خسائر المشركين في هذه الغزوة.

2) إصابات المسلمين في هذه الغزوة.

الباب الثاني: ملاحقة فلول المشركين والأحداث التاريخية التي أعقبت ذلك وفيه أربعة فصول:
প্রথম অধ্যায়: হুনাইন যুদ্ধ প্রসঙ্গে এবং এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হুনাইন যুদ্ধের পটভূমি এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

১) যুদ্ধের কারণ।

২) যুদ্ধের প্রস্তুতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হুনাইনের পথে যাত্রা এবং এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

১) যুদ্ধের তারিখ প্রসঙ্গে।

২) মক্কায় আমির নিয়োগ প্রসঙ্গে।

৩) এই যুদ্ধে ইসলামি সেনাবাহিনীর সংখ্যা।

৪) হাওয়াযিন গোত্রের সামরিক প্রস্তুতি।

৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান এবং আল্লাহর পথে পাহারাদারির ফযীলত বর্ণনা।

৬) জাহেলিয়াতের কিছু অবশিষ্টাংশ।

৭) এই যুদ্ধে যারা বলেছিল "আজ আমরা সংখ্যাস্বল্পতার কারণে পরাজিত হব না" তাদের বর্ণনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যুদ্ধের বিবরণ এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

১) যুদ্ধের শুরুতে মুসলিমদের পরাজয়ের কারণ।

২) শুরুতে মুসলিমদের বিপর্যয়ের পর সৃষ্ট কিছু সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতি।

৩) হুনাইনের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অবিচল থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা।

৪) হুনাইনে মুসলিমদের বিজয়ের কারণসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হুনাইন যুদ্ধের ফলাফল স্বরূপ হতাহত ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

১) এই যুদ্ধে মুশরিকদের ক্ষয়ক্ষতি।

২) এই যুদ্ধে মুসলিমদের হতাহত হওয়ার বিবরণ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মুশরিকদের পলায়নপর অংশের পশ্চাদ্ধাবন এবং পরবর্তী ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأول: تعقب الفارين نحو نخلة وأوطاس - وفيه ثلاثة مباحث:

1) التوجه إلى النخلة.

2) سرية أوطاس.

3) موقف شيماء وبجاد.

الفصل الثاني: في غزوة الطائف – وفيه أربعة مباحث:

1) حصار الطائف.

2) ما صدر من التعليمات العسكرية للمسلمين في حصار الطائف.

3) عدد القتلى من الفريقين في غزوة الطائف.

4) فك الحصار عن الطائف والعودة إلى الجعرانة.

الفصل الثالث: في تقسيم الغنائم – وفيه خمسة مباحث:

1) الفرق بين الغنيمة والفيء والنفل.

2) جفاء الأعراب وغلظتهم.

3) اعتراض ذي الخويصرة التميمي على رسول الله صلى الله عليه وسلم في قسم الغنائم.

4) في بيان حكمة توزيع الغنائم على قوم دون آخرين.

5) موقف الأنصار من توزيع الغنائم وخطبة الرسول صلى الله عليه وسلم فيهم.

الفصل الرابع: في بيان ما آل إليه أمر هوازن وثقيف بعد المعركة – وفيه مبحثان:

1) في قدوم وفد هوازن إلى الجعرانة مسلمين.

2) في إيفاد ثقيف جماعة منهم إلى المدينة للتفاوض مع رسول الله صلى الله عليه وسلم.

الباب الثالث: في بيان أبرز الأحكام المستنبطة من غزوة حنين – وفيه سبعة عشر حكما، وقد سردتها حكما بدون فصول ولا مباحث لعدم الحاجة الداعية لذلك:

1) جواز وطء المسبية بعد الاستبراء.

2) وقوع العزل في سرية أوطاس.
প্রথম অধ্যায়: নাখলা ও আওতাসের দিকে পলায়নকারীদের অনুসরণ - এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১) নাখলার দিকে যাত্রা।

২) আওতাস অভিযান।

৩) শায়মা ও বিজাদের অবস্থান।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তায়েফ যুদ্ধ প্রসঙ্গে – এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১) তায়েফ অবরোধ।

২) তায়েফ অবরোধে মুসলিমদের প্রতি জারিকৃত সামরিক নির্দেশনাবলি।

৩) তায়েফ যুদ্ধে উভয় পক্ষের নিহতের সংখ্যা।

৪) তায়েফ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জিরানায় প্রত্যাবর্তন।

তৃতীয় অধ্যায়: গনিমত বণ্টন প্রসঙ্গে – এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১) গনিমত, ফায় এবং নফল-এর মধ্যে পার্থক্য।

২) মরুবাসী আরবদের রুক্ষতা ও কঠোরতা।

৩) গনিমত বণ্টনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যুল খুওয়ায়সিরা আত-তামিমির আপত্তি।

৪) অন্যদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু গোত্রের মাঝে গনিমত বিতরণের হিকমত বা রহস্য বর্ণনা।

৫) গনিমত বণ্টনের ক্ষেত্রে আনসারদের অবস্থান এবং তাদের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষণ।

চতুর্থ অধ্যায়: যুদ্ধের পর হাওয়াযিন ও সাকিফ গোত্রের পরিণতির বর্ণনা – এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১) হাওয়াযিন প্রতিনিধি দলের মুসলিম হিসেবে জিরানায় আগমন।

২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আলোচনার জন্য সাকিফ গোত্রের একটি দলের মদীনায় প্রেরণ।

তৃতীয় বিভাগ: হুনাইন যুদ্ধ থেকে উদ্ভাবিত প্রধান বিধানসমূহের বর্ণনা – এতে সতেরোটি বিধান রয়েছে, যা আমি কোনো অধ্যায় বা পরিচ্ছেদ ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছি, কারণ তার প্রয়োজন নেই:

১) ইস্তিবরা (গর্ভাশয় মুক্ত হওয়া নিশ্চিত করা)-এর পর যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে শারীরিক সম্পর্কের বৈধতা।

২) আওতাস অভিযানে 'আযল' (বীর্যপাত রোধ) সংঘটিত হওয়া।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
1) في بيان مسألة المتعة.

2) منع المخنثين من الدخول على النساء الأجنبية.

3) في النهي عن قتل النساء والضعفاء ومن في حكمهم.

4) العذر الذي يبيح ترك حضور صلاة الجماعة.

5) تعليم أبي محذورة الأذان.

6) إقامة الحد في دار الحرب.

7) الاستعانة بالمشركين.

8) العارية من حيث الضمان وعدمه.

9) قضاء الرسول صلى الله عليه وسلم.

10) في بيان نذر الكافر وما يفعل فيه إذا أسلم.

11) استحقاق القاتل سلب القتيل.

12) في بيان تحريم الفلول في الغنيمة.

13) المؤلفة قلوبهم.

14) بعض ما يجتنبه المحرم.

15) عمرة الرسول صلى الله عليه وسلم من الجعرانة.

أما الخاتمة فقد ضمنتها أبرز النتائج العلمية التي توصلت إليها من خلال دراستي لهذه الغزوة.

منهجي في البحث:

أريد أن أوضح طريقة عملي في دراسة هذه الغزوة والمنهج الذي سرت عليه في تناول مروياتها جمعا وتحقيقا ودراسة، مجملا ذلك في النقاط الآتية:

1- أول ما قمت به جمع المادة العلمية المتصلة بهذه الغزوة من مظانها في كتب التراث الواسعة ما بين مخطوط ومطبوع مع الإفادة في ذلك من الدراسات المعنية بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم قديماً وحديثا.
1) মুতআ (সাময়িক বিবাহ) সংক্রান্ত মাসআলা বর্ণনা প্রসঙ্গে।

2) গায়রে মাহরাম নারীদের নিকট মুখান্নাসদের (হিজড়া সদৃশ পুরুষ) প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা।

3) নারী, দুর্বল ও তাদের পর্যায়ভুক্ত ব্যক্তিদের হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে।

4) জামাতে নামাজে উপস্থিত না হওয়ার বৈধ ওজরসমূহ।

5) আবু মাহজুরাহ-কে আযান শিক্ষা প্রদান।

6) দারুল হারবে (যুদ্ধক্ষেত্রে) হদ বা দণ্ডবিধি কার্যকর করা।

7) মুশরিকদের সাহায্য গ্রহণ।

8) ধার দেওয়া জিনিসের (আরিয়াহ) জামানত (ক্ষতিপূরণ) দেওয়া ও না দেওয়ার বিধান।

9) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিচার ও ফয়সালা।

10) কাফের ব্যক্তির মানত এবং ইসলাম গ্রহণের পর তাতে করণীয় বর্ণনা প্রসঙ্গে।

11) নিহত ব্যক্তির পরিধেয় ও আসবাবপত্রের (সালব) ওপর হত্যাকারীর অধিকার।

12) গনিমতের মালে খিয়ানত হারাম হওয়ার বর্ণনা প্রসঙ্গে।

13) মুআল্লাফাতু কুলুবুহুম (যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা কাম্য)।

14) ইহরাম অবস্থায় বর্জনীয় কিছু বিষয়।

15) জি’রানা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উমরাহ সম্পাদন।

উপসংহারের ক্ষেত্রে, এই যুদ্ধ সম্পর্কে আমার গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলসমূহ আমি সেখানে সন্নিবেশিত করেছি।

গবেষণা পদ্ধতি:

আমি এই যুদ্ধ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে আমার কাজের পদ্ধতি এবং এর বর্ণনাগুলো সংগ্রহ, তাহকিক ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা স্পষ্ট করতে চাই, যা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১- আমার প্রথম কাজ ছিল পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত আকারে বিদ্যমান বিশাল ঐতিহ্যবাহী (তুরাসা) গ্রন্থরাজির উৎসসমূহ থেকে এই যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা, এর পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বিষয়ক প্রাচীন ও আধুনিক গবেষণাগুলো থেকেও উপকৃত হওয়া।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
2- أتبعت ذلك بدراسة مرويات غزوة حنين معتمدا في ذلك على أسلوب المحدثين في نقدهم للروايات وفق قواعد الجرح والتعديل المقررة في مصطلح الحديث، وقد سلكت في ذلك الطريقة الآتية:

أ- إذا كان الحديث في الأصول الستة أو أحدها1، فإني أصدر به الباب أو الفصل أو المبحث في الأغلب الأعم، ثم أراعي بعد ذلك الترتيب في إيراد الحديث أو الأثر بحسب الوفيات في الغالب أيضا.

ب- لا أترجم لرواة الحديث الذي أخرجه الشيخان أو أحدهما؛ لأن رجالهما قد جاوزوا القنطرة، وأجمع العلماء بعدهما على توثيق رجالهما، وربما ذكرت الحديث أو جزءا منه مجردا عن الإسناد ما دام مخرجا في الصحيحين أو أحدهما.

?- ما كان من الأحاديث في غير الصحيحين أو أحدهما أقوم بدراسة إسناده وترجمة رواته والحكم عليه بما يستحقه صحة أو حسنا أو ضعفا.

د - كان اعتمادي في التراجم ودراسة السند على تقريب التهذيب وتهذيب التهذيب لابن حجر، وإذا كان الرجل من غير رجال التقريب أو متكلما فيه ولو كان من رجاله، فإني أرجع إلى بقية كتب الجرح والتعديل غالبا لاستظهار ما يتصل بحقيقة الحال في أمره بحسب الإمكان.

3- بعد تلك الدراسة النقدية الحديثية قمت بما يلي:

أ- ترقيم جميع الأحاديث الواردة في هذه الرسالة بأرقام متسلسلة.

ب- تخريج الحديث عند أول إيراده في البحث ثم الإحالة إلى رقمه بعد ذلك إذا دعت الحاجة إلى إيراده مرة أخرى. وقد أذكر تخريجه عند أول وروده مقتصرا على بعض ممّن أخرجه، ثم أستوفي تخريجه في مكان لاحق لأنه ألصق بالموضع الذي ورد فيه متأخراً.

?- تقطيع المتن في أماكن مفرقة بحسب المناسبات المختلقة التي تدعو إلى ذلك.

--------------------------------------------

1 الأصول الستة هي: صحيح البخاري، وصحيح مسلم، وسنن أبي داود، وسنن الترمذي، وسنن النسائي، وسنن ابن ماجة.
২- এরপর আমি হুনাইন যুদ্ধের বর্ণনাগুলো মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিতে এবং হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা অনুযায়ী নির্ধারিত 'জারহ ও তাদীল' (দোষগুণ বিচার)-এর মূলনীতির আলোকে বিশ্লেষণ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

ক- হাদিসটি যদি 'উসূলে সিত্তা' বা তার কোনো একটিতে থাকে১, তবে আমি সচরাচর সেটি দিয়েই পরিচ্ছেদ, অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ শুরু করেছি। এরপর হাদিস বা আছার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি) বর্ণনার ক্ষেত্রে সাধারণত মৃত্যুর সাল অনুযায়ী ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছি।

খ- যে হাদিস শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁদের বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করিনি; কারণ তাঁদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ড অতিক্রম করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমগণ তাঁদের বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। অনেক সময় আমি হাদিস বা তার কোনো অংশ সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছি যদি তা সহীহাইন বা তার কোনো একটিতে বর্ণিত হয়ে থাকে।

গ- যে সকল হাদিস সহীহাইন বা তার কোনো একটিতে নেই, সেগুলোর সনদ পর্যালোচনা, বর্ণনাকারীদের জীবনী এবং হাদিসটির মান অনুযায়ী তা সহীহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম) নাকি যয়ীফ (দুর্বল) সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছি।

ঘ- বর্ণনাকারীদের জীবনী ও সনদ পর্যালোচনায় আমি ইবনে হাজারের 'তাক্বরীবুত তাহযীব' ও 'তাহযীবুত তাহযীব'-এর ওপর নির্ভর করেছি। যদি কোনো ব্যক্তি 'তাক্বরীব'-এর অন্তর্ভুক্ত না হন অথবা তাঁর বিষয়ে কোনো সমালোচনা থাকে (যদিও তিনি তার অন্তর্ভুক্ত হন), তবে আমি যথাসম্ভব তাঁর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য সাধারণত জারহ ও তাদীলের অন্যান্য কিতাবের শরণাপন্ন হয়েছি।

৩- হাদিসতাত্ত্বিক এই সমালোচনামূলক পর্যালোচনার পর আমি নিম্নোক্ত কাজগুলো করেছি:

ক- এই অভিসন্দর্ভে বর্ণিত সকল হাদিসকে ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি।

খ- গবেষণায় প্রথমবার হাদিস উল্লেখের সময় তার তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছি এবং পরবর্তীতে পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন হলে তার নম্বরের দিকে ইঙ্গিত করেছি। কখনো প্রথমবার উল্লেখের সময় সংক্ষেপে কয়েকজনের নাম দিয়ে তাখরীজ করেছি এবং পরবর্তীতে কোনো স্থানে পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি, কারণ তা পরবর্তী ঐ স্থানের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গ- বিভিন্ন প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে হাদিসের মূল পাঠকে (মতন) বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করেছি।

--------------------------------------------

১- উসূলে সিত্তা হলো: সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে নাসাঈ এবং সুনানে ইবনে মাজাহ।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২০)
رموز رجال الإسناد:

سلكت في اختيار رموز رجال الإسناد مسلك الحافظ ابن حجر في كتابه "تقريب التهذيب"، وإليك بيانها:

(خ) البخاري في صحيحه.

(خت) البخاري في صحيحه معلقا.

(بخ) البخاري في الأدب المفرد.

(عخ) البخاري في خلق أفعال العباد.

(ز) البخاري في جزء القراءة خلف الإمام.

(ي) البخاري في رفع اليدين.

(م) مسلم في صحيحه.

(د) أبو داود في سننه.

(مد) أبو داود في كتابه المراسيل.

(صد) أبو داود في كتابه فضائل الأنصار.

(خد) أبو داود في كتابه الناسخ والمنسوخ.

(قد) أبو داود في كتابه القدر.

(ف) أبو داود في كتابه التفرد.

(ل) أبو داود في كتابه المسائل.

(كد) أبو داود في كتابه مسند مالك.

(ت) الترمذي في سننه.

(تم) الترمذي في الشمائل.

(س) النسائي في سننه.

(عس) النسائي في مسند علي.

(كن) النسائي في مسند مالك.
সনদ বর্ণনাকারীদের সংকেতসমূহ:

সনদ বর্ণনাকারীদের সংকেত নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি হাফেজ ইবনে হাজার-এর তাঁর "তাকরিবুত তাহজিব" গ্রন্থে ব্যবহৃত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। নিচে তার বিবরণ দেওয়া হলো:

(খ) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে।

(খত) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুআল্লাক হিসেবে।

(বখ) বুখারি তাঁর আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে।

(আখ) বুখারি তাঁর খালকু আফআলিল ইবাদ গ্রন্থে।

(য) বুখারি তাঁর জুযউল কিরাআতি খালফাল ইমাম গ্রন্থে।

(ইয়া) বুখারি তাঁর রাফউল ইয়াদাইন গ্রন্থে।

(ম) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে।

(দ) আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে।

(মাদ) আবু দাউদ তাঁর আল-মারাসিল গ্রন্থে।

(সাদ) আবু দাউদ তাঁর ফাদাইলুল আনসার গ্রন্থে।

(খাদ) আবু দাউদ তাঁর আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ গ্রন্থে।

(কাদ) আবু দাউদ তাঁর আল-কাদার গ্রন্থে।

(ফা) আবু দাউদ তাঁর আত-তাফাররুদ গ্রন্থে।

(লাম) আবু দাউদ তাঁর আল-মাসাইল গ্রন্থে।

(কদ) আবু দাউদ তাঁর মুসনাদু মালিক গ্রন্থে।

(ত) তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে।

(তম) তিরমিজি তাঁর আশ-শামাইল গ্রন্থে।

(স) নাসায়ি তাঁর সুনান গ্রন্থে।

(আস) নাসায়ি তাঁর মুসনাদু আলি গ্রন্থে।

(কন) নাসায়ি তাঁর মুসনাদু মালিক গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২১)
(ق) ابن ماجة في سننه.

(فق) ابن ماجة في التفسير.

(ع) للراوي الذي أخرج له أهل1 الكتب الستة.

(عم) للراوي الذي أخرج له أهل2 السنن الأربعة3.

--------------------------------------------

1 هم: البخاري، ومسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجة.

2 هم: من عدا البخاري ومسلما.

3 أنظر: (تقريب التهذيب 1/7) .
(ক্বাফ) ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে।

(ফা-ক্বাফ) ইবনে মাজাহ তাঁর তাফসিরে।

(আইন) এমন বর্ণনাকারীর জন্য যাঁর হাদিস ছয়টি গ্রন্থের সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন।

(আইন-মীম) এমন বর্ণনাকারীর জন্য যাঁর হাদিস চার সুনান গ্রন্থের সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. তাঁরা হলেন: আল-বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আত-তিরমিযী, আন-নাসায়ী এবং ইবনে মাজাহ।

২. তাঁরা হলেন: আল-বুখারী এবং মুসলিম ব্যতীত অবশিষ্টগণ।

৩. দেখুন: (তাকরিবুত তাহযীব ১/৭)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌تمهيد

تمهيد بين يدي غزوة حنين

وفي هذا التمهيد قضيتان:

الأولى: التعريف بهوازن وثقيف، وفيه:

1) نسب هوازن وثقيف.

2) تحديد موقعهم وديارهم من الناحية الجغرافية.

3) صلتهم بقريش.

الصلة النسبية، المصاهرة، المصالح المشتركة.

4) موقفهم من ظهور الإسلام ودعوته.

5) موقفهم من الصراع بين المسلمين وقريش.

الثانية: تحركات المسلمين العسكرية قبل غزوة حنين، وفي هذه القضية:

1) هدم العزى.

2) هدم مناة.

3) سرية خالد بن الوليد إلى بني جذيمة.
উপক্রমণিকা

হুনায়নের যুদ্ধের প্রাক-আলোচনা

এই উপক্রমণিকায় দুটি বিষয় রয়েছে:

প্রথমত: হাওয়াজিন ও সাকীফ গোত্রের পরিচয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১) হাওয়াজিন ও সাকীফের বংশ পরিচয়।

২) ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের অবস্থান ও আবাসভূমি নির্ধারণ।

৩) কুরাইশদের সাথে তাদের সম্পর্ক।

বংশীয় সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থ।

৪) ইসলামের আবির্ভাব ও এর দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান।

৫) মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যকার সংঘাতের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান।

দ্বিতীয়ত: হুনায়নের যুদ্ধের পূর্বে মুসলিমদের সামরিক তৎপরতা, এবং এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো:

১) উযযা ধ্বংস করা।

২) মানাত ধ্বংস করা।

৩) বনু জাযীমার প্রতি খালিদ বিন ওয়ালিদের সারিয়্যাহ (অভিযান)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أوّلاً: التعريف بهوازن وثقيف

1 - نسب هوازن وثقيف:

قبل الدخول في تفاصيل غزوة حنين وأحداثها، يحسن بنا إعطاء لمحة موجزة عن التعريف بهوازن وديارها التي كانت تقطنها فيها عند بزوغ فجر الإسلام، ومدى الصلة بينهم وبين قريش، وموقفهم من الدعوة الإسلامية قبل غزوة حنين، لنتبين مكانة هذه القبيلة وما كانت تتمتع به من قوة ومنعة.

وإذا أفردنا الحديث عن هوازن فتدخل فيها ثقيف؛ لأنها فرع منها. وهوازن قبيلة من أعظم القبائل العربية وأكثرها خطرا، وهي من حيث القوة والعدد تضاهي قبائل غطفان النجدية الشهيرة.

وهي قبيلة مضرية عدنانية يعود نسبها إلى قيس عيلان، وهي من أهمّ بطون قيس عيلان.

وهوازن جد بطون متفرقة، وهو: هوازن بن منصور بن عكرمة ابن خصفة بن قيس بن عيلان بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان1.

قال القلقشندي: "المشهور من قبائل العرب المستعربة الموجودين الآن خمس قبائل:

الأولى2: نزار3، وهم بنو نزار بن معد بن عدنان.

--------------------------------------------

1 ابن حزم: (جمهرة أنساب العرب ص 264، 266، 269) . وابن خلدون: (تاريخ ابن خلدون 2/307) . وباشميل: (غزوة حنين ص 200) .

2 والقبيلة الثانية: ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان.

والثالثة: خندف - بمعجمة ودال مهملة مكسورتين بينهما نون ساكنة -: وهم بنو إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان، عرفوا بالنسبة إلى أمهم خندف امرأة إلياس.

والرابعة: كنانة، وهم: بنو كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.

والخامسة: قريش، وهم، بنو فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.

3 نزار - بكسر نون وبزاي وراء -. (القلقشندي: قلائد الجمان ص 110، 129، 132، 134، 136)
প্রথমত: হাওয়াজিন ও সাকীফ গোত্রের পরিচিতি

১ - হাওয়াজিন ও সাকীফ গোত্রের বংশপরিচয়:

হুনাইন যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ এবং এর ঘটনাবলিতে প্রবেশের পূর্বে, হাওয়াজিন গোত্র এবং ইসলামের ঊষালগ্নে তারা যেখানে বসবাস করত সেই অঞ্চল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে। সেইসাথে কুরাইশদের সাথে তাদের সম্পর্কের গভীরতা এবং হুনাইন যুদ্ধের পূর্বে ইসলামি দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান কেমন ছিল তা জানা প্রয়োজন, যাতে আমরা এই গোত্রের মর্যাদা এবং তাদের শক্তি ও প্রভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারি।

আমরা যদি আলাদাভাবে হাওয়াজিন সম্পর্কে আলোচনা করি, তবে সাকীফ গোত্রও এর অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ সাকীফ হলো হাওয়াজিনেরই একটি শাখা। হাওয়াজিন আরব গোত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম মহান এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি গোত্র। শক্তি ও লোকসংখ্যার দিক থেকে এটি নজদের বিখ্যাত গাতাফান গোত্রের সমতুল্য।

এটি একটি মুদারি আদনানি গোত্র, যার বংশধারা কায়স আয়লান পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং এটি কায়স আয়লানের অন্যতম প্রধান শাখা।

হাওয়াজিন হলো বিভিন্ন শাখার মূল পুরুষ, তিনি হলেন: হাওয়াজিন ইবনে মানসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে খাসাফাহ ইবনে কায়স ইবনে আয়লান ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান।১

আল-কালকাশান্দি বলেন: "বর্তমানে বিদ্যমান আরবে মুসতাজরিবা (আরবায়িত আরব) গোত্রগুলোর মধ্যে পাঁচটি গোত্র প্রসিদ্ধ:

প্রথম২: নিজার৩, তারা হলেন নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনানের বংশধর।

--------------------------------------------

১ ইবনে হাজম: (জামহারাত আনসাব আল-আরব, পৃষ্ঠা ২৬৪, ২৬৬, ২৬৯)। এবং ইবনে খালদুন: (তারিখ ইবনে খালদুন ২/৩০৭)। এবং বাশামিল: (গাযওয়ায়ে হুনাইন, পৃষ্ঠা ২০০)।

২ এবং দ্বিতীয় গোত্রটি হলো: রাবিআহ ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান।

এবং তৃতীয়টি: খানদাফ — 'খা' এবং 'দাল' এর নিচে কাসরা এবং মাঝখানে 'নুন' সাকিন সহ — তারা হলেন ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনানের বংশধর। তারা তাদের মাতা খানদাফের (ইলিয়াসের স্ত্রী) নামানুসারে পরিচিত।

এবং চতুর্থটি: কিনানাহ, তারা হলেন: কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনানের বংশধর।

এবং পঞ্চমটি: কুরাইশ, তারা হলেন: ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনানের বংশধর।

৩ নিজার — 'নুন' এর নিচে কাসরা এবং 'যা' ও 'রা' সহ। (আল-কালকাশান্দি: কালাইদ আল-জুমান, পৃষ্ঠা ১১০, ১২৯, ১৩২, ১৩৪, ১৩৬)
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والمشهور من الموجودين من عقب نزار بطنان:

البطن الأول1: مضر2، وهم بنو مضر بن نزار، ومنه تفرعت أكثر قبائل العدنانية.

والمشهور من الموجودين من عقب مضر بن نزار فخذان:

الفخذ الأول3: قيس بن عيلان4، وهو قيس بن عيلان بن مضر ابن نزار بن معد بن عدنان.

والمشهور من الموجودين من الآن من فصائل قيس عيلان هوازن، وهي محل بحثنا.

وهناك فصائل أخرى5.

وقد بين ابن خلدون بتفصيل - بطون – هوازن فقال:

--------------------------------------------

1 والبطن الثاني: هو ربيعة بن نزار، فقد ذكر بن قتيبة أن مضر وربيعة إليهما ينسب ولد نزار وهم الصريح من ولد إسماعيل عليه السلام. (المعارف ص29) .

2 مضر - بمضمومة وفتح ضاد معجمة - (ابن طاهر الهندي: المغني ص72)

3 والفخذ الثاني: هو إلياس بن مضر؛ لأن ولد مضر هما عيلان وإلياس. (ابن كثير: البداية والنهاية 2/199) .

4 قيس عيلان: بإضافة قيس إلى عيلان، وقيس - بفتح قاف ومثناة تحتية ثم سين مهملة -، وعيلان - بفتح مهملة وسكون تحتية ولام ثم نون - وليس في العرب (عيلان) بعين مهملة غيره. واسمه الناس - بالنون -. (القلقشندي: قلائد الجمان ص110) . و (نهاية الأرب في معرفة أنساب العرب ص404) . وقال ابن حزم: وقال قوم: قيس بن عيلان، والصحيح: قيس عيلان (جمهرة أنساب العرب ص10) .

5 من هذه الفصائل: بنو غطفان بن معد بن قيس عيلان. وبنو سليم بن منصور بن عكرمة بن خصفة بن قيس بن عيلان. وبنو عدوان بن عمرو بن قيس عيلان. (القلقشندي: قلائد الجمان ص110، 112، 115، 123، 128) . وانظر: ابن قتيبة: (المعارف ص36، 41) . وخليفة بن خياط: (كتاب الطبقات ص4، 53، 55، 130) . وابن هشام: (السيرة النبوية 1/14) . وابن حزم: (جمهرة أنساب العرب ص271، 272، 273) . وابن الأثير: (اللباب 2/328، 3/123) . وابن كثير: (البداية والنهاية 2/220) . وابن خلدون: (تاريخ ابن خلدون 2/334) . وكحالة: (معجم قبائل العرب 3/1231) . وباشميل: (غزوة حنين ص41) .
নিযারের বংশধরদের মধ্যে বর্তমানে পরিচিত শাখা দুইটি:

প্রথম শাখা১: মুদার২, তারা হলেন মুদার ইবনে নিযারের সন্তানাদি, আর এখান থেকেই আদনানি গোত্রগুলোর অধিকাংশ উপশাখা বের হয়েছে।

মুদার ইবনে নিযারের বংশধরদের মধ্যে বর্তমানে পরিচিত উপশাখা দুইটি:

প্রথম উপশাখা৩: কায়স ইবনে আয়লান৪, তিনি হলেন কায়স ইবনে আয়লান ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান।

কায়স আয়লানের শাখাগুলোর মধ্যে বর্তমানে পরিচিত হলো হাওয়াযিন, আর এটিই আমাদের আলোচনার বিষয়।

সেখানে অন্যান্য শাখাও রয়েছে৫।

ইবনে খালদুন বিস্তারিতভাবে হাওয়াযিনের শাখাগুলো বর্ণনা করে বলেছেন:

--------------------------------------------

১ এবং দ্বিতীয় শাখাটি হলো: রাবিয়া ইবনে নিযার। ইবনে কুতায়বা উল্লেখ করেছেন যে, নিযারের সন্তানদের মুদার ও রাবিয়ার দিকেই সম্বন্ধ করা হয় এবং তারা ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বিশুদ্ধ বংশধর। (আল-মাআরিফ, পৃষ্ঠা ২৯)।

২ মুদার - মিম অক্ষরে পেশ এবং দদ অক্ষরে জবর সহযোগে - (ইবনে তাহির আল-হিন্দি: আল-মুগনি, পৃষ্ঠা ৭২)।

৩ এবং দ্বিতীয় উপশাখাটি হলো: ইলিয়াস ইবনে মুদার; কারণ মুদারের দুই সন্তান হলো আয়লান ও ইলিয়াস। (ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/১৯৯)।

৪ কায়স আয়লান: কায়স শব্দটি আয়লান শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। কায়স - কাফ অক্ষরে জবর, ইয়া অক্ষরে সুকুন এবং এরপর সিন অক্ষর। আয়লান - আইন অক্ষরে জবর, ইয়া অক্ষরে সুকুন, লাম এবং এরপর নুন। আরবদের মধ্যে এই 'আয়লান' (আইন অক্ষর বিশিষ্ট) ব্যতীত অন্য কোনো আয়লান নেই। তাঁর নাম হলো আন-নাস - নুন অক্ষর দিয়ে -। (আল-কালকাশান্দি: কালাইদ আল-জুমান, পৃষ্ঠা ১১০)। এবং (নিহায়াতুল আরাব ফি মা'রিফাতি আনসাবিল আরব, পৃষ্ঠা ৪০৪)। ইবনে হাযম বলেন: একদল লোক বলেছে কায়স বিন আয়লান, তবে সঠিক হলো কায়স আয়লান (জামহারাতু আনসাবিল আরব, পৃষ্ঠা ১০)।

৫ এই শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে: গাতফান ইবনে মা'দ ইবনে কায়স আয়লান এর বংশধর। এবং সুলাইম ইবনে মানসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে খাসাফা ইবনে কায়স ইবনে আয়লান এর বংশধর। এবং আদওয়ান ইবনে আমর ইবনে কায়স আয়লান এর বংশধর। (আল-কালকাশান্দি: কালাইদ আল-জুমান, পৃষ্ঠা ১১০, ১১২, ১১৫, ১২৩, ১২৮)। আরও দেখুন: ইবনে কুতায়বা: (আল-মাআরিফ, পৃষ্ঠা ৩৬, ৪১)। খলিফা ইবনে খাইয়াত: (কিতাবুত তাবাকাত, পৃষ্ঠা ৪, ৫৩, ৫৫, ১৩০)। ইবনে হিশাম: (আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ১/১৪)। ইবনে হাযম: (জামহারাতু আনসাবিল আরব, পৃষ্ঠা ২৭১, ২৭২, ২৭৩)। ইবনুল আসির: (আল-লুবাব ২/৩২৮, ৩/১২৩)। ইবনে কাসীর: (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/২২০)। ইবনে খালদুন: (তারিখ ইবনে খালদুন ২/৩৩৪)। কাহহালা: (মু'জামু কাবাইলিল আরব ৩/১২৩১)। বাশামিল: (গাযওয়াতু হুনাইন, পৃষ্ঠা ৪১)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما هوازن بن منصور1: ففيهم بطون كثيرة يجمعهم ثلاثة أصول كلهم لبكر بن هوازن وهم:

أ- بنو سعد بن بكر بن هوازن بن منصور.

ب- بنو معاوية بن بكر بن هوازن بن منصور.

جـ- بنو منبه بن بكر بن هوازن بن منصور2.

أ- فأما بنو سعد بن بكر بن هوازن، فمنهم أظآر3 النبي صلى الله عليه وسلم.

ب- وأما بنو معاوية بن بكر بن هوازن، فمن ولده: صعصعة4 ابن معاوية، ونصر5 بن معاوية، وجشم6 بن معاوية، وعوف بن معاوية، وبنوه يسمون

--------------------------------------------

1 ولمنصور من الولد غير هوازن: سليم بن منصور، ومازن بن منصور، وسلامان بن منصور.

فولد سليم بن منصور: بهثة، وولد بهثة معاوية وعوفا والحارث، وثعلبة، وامرأ القيس. ومن بني امرئ القيس بن بهثة بن سليم بن منصور: بنو عصية بن خفاف ابن امرئ القيس الذين قتلوا القراء يوم بئر معونة، ودعا عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم. (ابن حزم: جمهرة أنساب العرب ص263، 481. والنويري: نهاية الأرب 2/333، 341) .

2 ابن خلدون: (تاريخ ابن خلدون 2/309) . وابن حزم: (جمهرة أنساب العرب ص264) . والنويري: (نهاية الأرب 2/334- 335) . وكحالة: (معجم قبائل العرب 3/1231. وباشميل: (غزوة حنين ص41، 200) .

3 أظآر: جمع ظئر، والظئر - بالكسر - العاطفة على ولد غيرها المرضعة له في الناس وغيرهم، ويقع على الذكر والأنثى. (ابن الأثير: النهاية في غريب الحديث 3/154. وابن منظور: لسان العرب 6/186. والفيروز آبادي: القاموس المحيط 2/80) . ومن بني سعد: حليمة بنت أبي ذؤيب، واسمه: عبد الله بن الحارث بن شجنة - بكسر فسكون - ابن جابر بن رزام - بكسر أوله - ابن ناصرة بن فصية بن نصر ابن سعد بن هوازن بن منصور بن عكرمة بن خصفة بن قيس بن عيلان بن مضر ابن نزار بن معد بن عدنان. أم رسول الله صلى الله عليه وسلم من الرضاعة، وزوجها والد رسول صلى الله عليه وسلم من الرضاعة - الحارث بن عبد العزى بن رفاعة بن ملان بن ناصرة … إلخ. (ابن هشام: السيرة 1/160- 161. وابن عبد البر: الاستيعاب 4/270 مع الإصابة. وابن الأثير: أسد الغابة 7/67. والنويري: نهاية الأرب 2/334- 335. وابن كثير: البداية والنهاية 2/273. وابن خلدون: تاريخ ابن خلدون 2/319. وابن حجر: الإصابة 4/274) .

4 صعصعة - بصادين مهملتين مفتوحتين بينهما عين مهملة ساكنة ثم هاء. (القلقشندي: قلائد الجمان ص115) .

5 منهم مالك بن عوف النصري قائد المشركين في حنين.

6 منهم: دريد بن الصمة واسمه معاوية بن بكر بن علقمة بن خزاعة بن غزية بن جشم بن معاوية.
আর যা হوازن ইবনে মনসুর ১ সম্পর্কে: তাদের মধ্যে অনেক শাখা রয়েছে যা তিনটি মূল বংশে একত্রিত হয়, তারা সবাই বকর ইবনে হوازن-এর অন্তর্ভুক্ত এবং তারা হলো:

ক- বনু সাদ ইবনে বকর ইবনে হوازن ইবনে মনসুর।

খ- বনু মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হوازن ইবনে মনসুর।

গ- বনু মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হوازن ইবনে মনসুর ২।

ক- আর বনু সাদ ইবনে বকর ইবনে হوازن-এর কথা বলতে গেলে, তাদের মধ্য থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধ-মাতাগণ ৩ ছিলেন।

খ- আর বনু মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হوازن সম্পর্কে বলতে গেলে, তার সন্তানদের মধ্যে রয়েছে: সা'সা'আ ৪ ইবনে মুয়াবিয়া, নাসর ৫ ইবনে মুয়াবিয়া, জুশাম ৬ ইবনে মুয়াবিয়া, এবং আউফ ইবনে মুয়াবিয়া, যার সন্তানদের ডাকা হয়...

--------------------------------------------

১ মনসুরের হوازن ছাড়াও অন্যান্য সন্তানরা হলো: সুলাইম ইবনে মনসুর, মাজিন ইবনে মনসুর এবং সালামান ইবনে মনসুর।

সুলাইম ইবনে মনসুরের সন্তান হলো বাহসাহ, আর বাহসাহর সন্তান হলো মুয়াবিয়া, আউফ, আল-হারিস, সালাবা এবং ইমরুল কায়স। আর ইমরুল কায়স ইবনে বাহসাহ ইবনে সুলাইম ইবনে মনসুরের বংশধরদের মধ্যে হলো: বনু উসাইয়া ইবনে খুফাফ ইবনে ইমরুল কায়স, যারা বি'র মাউনার দিনে ক্বারীগণকে হত্যা করেছিল এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন। (ইবনে হাজম: জামহারাতু আনসাবিল আরব, পৃষ্ঠা ২৬৩, ৪৮১; এবং নুয়াইরী: নিহায়াতুল আরাব ২/৩৩৩, ৩৪১)।

২ ইবনে খালদুন: (তারিখ ইবনে খালদুন ২/৩০৯)। ইবনে হাজম: (জামহারাতু আনসাবিল আরব, পৃষ্ঠা ২৬৪)। নুয়াইরী: (নিহায়াতুল আরাব ২/৩৩৪-৩৩৫)। কাহহালা: (মু'জামু কাবাইলিল আরব ৩/১২৩১)। বাশমাইল: (গাজওয়াতু হুনাইন, পৃষ্ঠা ৪১, ২০০)।

৩ আজআর: এটি 'জি'র' শব্দের বহুবচন। আর জি'র — যের যোগে — হলো এমন মমতাশীল নারী যে অন্যের সন্তানকে স্তন্যদান ও লালন-পালন করে, এটি মানুষ ও অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এটি পুরুষ ও স্ত্রী উভয় লিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয়। (ইবনে আসির: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ৩/১৫৪; ইবনে মনজুর: লিসানুল আরব ৬/১৮৬; আল-ফিরোজাবাদি: আল-কামুস আল-মুহিত ২/৮০)। বনু সাদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হলেন: হালিমা বিনতে আবি জুয়াইব, যার নাম: আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে শাজনা — শিন বর্ণে যের ও জিম বর্ণে সাকিন সহ — ইবনে জাবির ইবনে রিযাম — প্রথম বর্ণে যের সহ — ইবনে নাসিরা ইবনে ফুসায়্যা ইবনে নাসর ইবনে সাদ ইবনে হوازن ইবনে মনসুর ইবনে ইকরিমা ইবনে খাসাফা ইবনে কায়স ইবনে আয়লান ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধ-মা, এবং তার স্বামী — হারিস ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে রিফাআ ইবনে মালান ইবনে নাসিরা ... ইত্যাদি — হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধ-পিতা। (ইবনে হিশাম: আস-সিরাহ ১/১৬০-১৬১; ইবনে আব্দুল বারর: আল-ইসতিআব ৪/২৭০, আল-ইসাবা সহ; ইবনে আসির: আসাদুল গাবাহ ৭/৬৭; নুয়াইরী: নিহায়াতুল আরাব ২/৩৩৪-৩৩৫; ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ২/২৭৩; ইবনে খালদুন: তারিখ ইবনে খালদুন ২/৩১৯; ইবনে হাজার: আল-ইসাবা ৪/২৭৪)।

৪ সা'সা'আ — দুটি যবরযুক্ত 'সাদ' বর্ণের মাঝে একটি সাকিনযুক্ত 'আইন' এবং শেষে 'হা' রয়েছে। (কালকাশান্দি: কালাইদুল জুমান, পৃষ্ঠা ১১৫)।

৫ তাদের মধ্য থেকেই হুনাইন যুদ্ধে মুশরিকদের সেনাপতি মালিক ইবনে আউফ আন-নাসরি ছিলেন।

৬ তাদের মধ্যে রয়েছেন: দুরাইদ ইবনে আল-সিম্মাহ, যার নাম ছিল মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে আলকামা ইবনে খুযাআ ইবনে গাযিয়্যাহ ইবনে জুশাম ইবনে মুয়াবিয়া।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الوقعة1، دخلوا في بني عمرو بن كلاب بن الحارث2.

أما صعصعة بن معاوية بن بكر بن هوازن:

فمن ولده:

عامر3 بن صعصعة، وفيه البيت والعدد4.

ومرة5 بن صعصعة وهم بنو سلول.

فولد عامر بن صعصعة:

ربيعة، وفيه البيت والعدد.

هلالا6.

ونميرا.

وسواءة7

وولد ربيعة بن عامر بن صعصعة: كلابا، وكعبا8، وعامرا، وكليبا9.

--------------------------------------------

1 الوقعة: محركة - بطر من بني سعد بن بكر (ابن منظور: لسان العرب 10/290. والفيروز آبادي: القاموس المحيط 3/96) .

2 ابن حزم: (جمهرة أنساب العرب ص269- 270، 271، 272، 482) . وابن الأثير: (اللباب في تهذيب الأنساب 1/280) . والنويري: (نهاية الأرب 2/335- 336. ومجلة العرب ص818) .

3 عامر بن صعصعة بن معاوية بن بكر بن هوازن قبيلة كبيرة، منها: لبيد بن ربيعة بن مالك بن جعفر بن كلاب بن ربيعة بن عامر بن صعصعصة العامري الشاعر المشهور صاحب المعلقة. (ابن الأثير: اللباب 2/306، وأسد الغابة 4/514. وابن كثير: البداية والنهاية 2/220. وابن حجر: الإصابة 3/326) .

4 البيت المراد به: الشرف والسناء والرفعة، والعدد: المراد به: الكثرة. (جمهرة أنساب العرب لابن حزم ص 12) .

5 مرة بن صعصعة بن معاوية بن بكر بن هوازن، ويعرفون ببني سلول، نسبة إلى أمهم: سلول بنت ذهل بن شيبان بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن علي بن بكر بن وائل بن قاصط بن هنب بن أفصى بن دعمى بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار ابن معد بن عدنان. (خليفة بن خياط: كتاب الطبقات ص55. وابن حزم جمهرة أنساب العرب ص271.وابن الأثير: اللباب 2/131؟، 219) .

6 هلال بن عامر بن صعصعة بن معاوية بن بكر بن هوازن، ومنهم ميمونة أم المؤمنين ولبابة الصغرى أم الفضل وعبد الله ابني العباس، ولبابة الكبرى أم خالد بن الوليد، وهن: بنات الحارث بن حزم بن بجير بن هزم بن رويبة بن عبد الله بن هلال. (ابن حزم: جمهرة أنساب العرب ص274. وابن عبد البر: الاستيعاب 4/398، 401، 404 مع الإصابة. وابن الأثير: أسد الغابة 7/253- 254، 272. وابن حجر: الإصابة 4/398، 401) .

7 سواءة - بضم السين وتخفيف الواو- منهم: جابر بن سمرة بن جنادة بن جندب ابن حجير بن رئاب بن حبيب بن سواءة بن عامر بن صعصعة. (ابن الأثير: اللباب 2/152، وأسد الغابة 1/304) .

8 كعب وكلاب هم الذين تخلفوا عن غزوة حنين، وقال عنهم دريد بن الصمة: "غاب الحد والجد".

وحضر حنينا من أولاد عامر بن ربيعة بن عامر بن صعصعة: عوف بن عامر وعمرو ابن عامر، الذين قال عنهم دريد: "ذانك الجذعان من عامر لاينفعان ولا يضران". (سيرة ابن هشام 2/438) .

(ابن حزم: جمهرة أنساب العرب ص280. والقلقشندي: قلائد الجمان ص116- 117. والنويري: نهاية الأرب 2/336 و338) .
আল-ওয়াক'আ১, তারা বনু আমর ইবনে কিলাব ইবনুল হারিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল২।

আর সা’সা’আ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন:

তার সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন:

আমির৩ ইবনে সা’সা’আ, আর তার মধ্যেই আভিজাত্য ও সংখ্যাধিক্য৪।

এবং মুররা৫ ইবনে সা’সা’আ, আর তারা হলো বনু সালুল।

আর আমির ইবনে সা’সা’আ-র সন্তানরা হলো:

রাবি'আ, এবং তার মধ্যেই আভিজাত্য ও সংখ্যাধিক্য।

হিলাল৬।

এবং নুমাইর।

এবং সাওয়াআ৭

আর রাবি'আ ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আ-র সন্তানরা হলো: কিলাব, কাব৮, আমির এবং কুলাইব৯।

--------------------------------------------

১ আল-ওয়াক'আ: স্বরচিহ্ন বিশিষ্ট - বনু সাদ ইবনে বকরের একটি শাখা (ইবনে মানজুর: লিসানুল আরব ১০/২৯০। এবং আল-ফিরোজাবাদি: আল-কামুস আল-মুহিত ৩/৯৬)।

২ ইবনে হাজম: (জামহারাত আনসাবিল আরব পৃ. ২৬৯-২৭০, ২৭১, ২৭২, ৪৮২)। এবং ইবনুল আসির: (আল-লুবাব ফি তাহজিবিল আনসাব ১/২৮০)। এবং আন-নুওয়াইরি: (নিহায়াতুল আরাব ২/৩৩৫-৩৩৬। এবং মাজাল্লাতুল আরব পৃ. ৮১৮)।

৩ আমির ইবনে সা’সা’আ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন একটি বিশাল গোত্র, যাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: লাবিদ ইবনে রাবি'আ ইবনে মালিক ইবনে জাফর ইবনে কিলাব ইবনে রাবি'আ ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আ আল-আমিরি, যিনি মুআল্লাকার রচয়িতা হিসেবে সুপরিচিত কবি। (ইবনুল আসির: আল-লুবাব ২/৩০৬, এবং আসাদুল গাবাহ ৪/৫১৪। ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/২২০। এবং ইবনে হাজার: আল-ইসাবাহ ৩/৩২৬)।

৪ 'আল-বাইত' (ঘর) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মর্যাদা, মহিমা ও উচ্চপদমর্যাদা। এবং 'আল-আদাদ' (সংখ্যা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সংখ্যাধিক্য। (ইবনে হাজম রচিত জামহারাত আনসাবিল আরব পৃ. ১২)।

৫ মুররা ইবনে সা’সা’আ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন, তারা বনু সালুল নামে পরিচিত; এটি তাদের মা সালুল বিনতে যুহাল ইবনে শায়বান ইবনে সা'লাবা ইবনে উকাবাহ ইবনে সাব ইবনে আলি ইবনে বকর ইবনে ওয়াইল ইবনে কাসিত ইবনে হিনব ইবনে আফসা ইবনে দু'মি ইবনে জাদিরা ইবনে আসাদ ইবনে রাবি'আ ইবনে নিজার ইবনে মা'দ ইবনে আদনানের দিকে সম্বন্ধিত। (খলিফা ইবনে খাইয়াত: কিতাবুত তাবাকাত পৃ. ৫৫। ইবনে হাজম: জামহারাত আনসাবিল আরব পৃ. ২৭১। ইবনুল আসির: আল-লুবাব ২/১৩১?, ২১৯)।

৬ হিলাল ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন, তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন উম্মুল মুমিনিন মায়মুনা এবং লুবাবাহ আস-সুগরা (ফজল ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মা), এবং লুবাবাহ আল-কুবরা (খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের মা); তারা হলেন আল-হারিস ইবনে হাজম ইবনে বুজাইর ইবনে হাযম ইবনে রুয়াইবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হিলালের কন্যাগণ। (ইবনে হাজম: জামহারাত আনসাবিল আরব পৃ. ২৭৪। ইবনে আব্দুল বারর: আল-ইস্তি'আব ৪/৩৯৮, ৪০১, ৪০৪, আল-ইসাবাহ-এর সাথে। ইবনুল আসির: আসাদুল গাবাহ ৭/২৫৩-২৫৪, ২৭২। ইবনে হাজার: আল-ইসাবাহ ৪/৩৯৮, ৪০১)।

৭ সাওয়াআ - 'সিন' অক্ষরে পেশ এবং 'ওয়াও' অক্ষরে তাশদিদহীন যবর সহকারে - তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: জাবির ইবনে সামুরা ইবনে জুনাদাহ ইবনে জুনদুব ইবনে হুজাইর ইবনে রিআব ইবনে হাবিব ইবনে সাওয়াআ ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আ। (ইবনুল আসির: আল-লুবাব ২/১৫২, এবং আসাদুল গাবাহ ১/৩০৪)।

৮ কাব এবং কিলাব হলো তারা যারা হুনাইনের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিল, তাদের সম্পর্কে দুরাইদ ইবনুস সিম্মাহ বলেছিলেন: "তীক্ষ্ণতা এবং সৌভাগ্য অনুপস্থিত ছিল।"

আর হুনাইনে উপস্থিত ছিল আমির ইবনে রাবি'আ ইবনে আমির ইবনে সা’সা’আ-র সন্তানদের মধ্য থেকে: আউফ ইবনে আমির এবং আমর ইবনে আমির, যাদের সম্পর্কে দুরাইদ বলেছিলেন: "আমিরের ওই দুই যুবক কোনো উপকারও করে না, ক্ষতিও করে না।" (সিরাত ইবনে হিশাম ২/৪৩৮)।

(ইবনে হাজম: জামহারাত আনসাবিল আরব পৃ. ২৮০। আল-কালকাশান্দি: কালাইদ আল-জুমান পৃ. ১১৬-১১৭। আন-নুওয়াইরি: নিহায়াতুল আরাব ২/৩৩৬ এবং ৩৩৮)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
- وأما منبه بن بكر بن هوازن:

فولده: ثقيف1 - واسمه - قسي بن منبه بن بكر بن هوازن2.

فولد ثقيف بن منبه: جشم وعوفا.

فولد جشم بن ثقيف: حطيطا.

فولد حطيط: مالكا3، وغاضرة.

وولد عوف بن ثقيف بن منبه بن بكر بن هوازن: سعدا وغيرة4، ويعرفون بالأحلاف، وذلك أنهم تحالفوا على بني مالك، وصارت غاضرة مع الأحلاف.

فثقيف فرقتان:

بنو مالك بن حطيط بن جشم بن قسي - ثقيف - بن منبه بن بكر ابن هوازن.

--------------------------------------------

1 ثقيف: بوزن أمير، وقسي بوزن غني. قال أبو عبيد: "سمي قسيا لأنه مر على أبي رغال وكان مصدقا - يعني جابيا للصدقات - فقلته، فقيل: "قسا قلبه، فسمي قسيا". (أنظر: ابن قتيبة: كتاب المعارف ص41. والزبيدي تاج العروس 10/294) .

(ابن هشام: سيرة ابن هشام 1/14،47. وخليفة بن خياط: كتاب الطبقات ص53، 130. وابن قتيبة: كتاب المعارف ص41. وابن حزم: جمهرة أنساب العرب ص266، 468، 482. وابن الأثير: اللباب 1/240. وابن خلدون: تاريخ ابن خلدون 2/309. والنويري: نهاية الإرب 2/334. والفيروزآبادي: القاموس المحيط 3/121. والزبيدي: تاج العروس 6/51. وابن السعد: الطبقات 4/284. وباشميل: غزوة حنين ص200) .

3 من بني مالك بن حطيط: عثمان بن عبد الله بن ربيعة بن الحارث بن حبيب بن الحارث بن مالك بن حطيط بن جشم بن قسي، كان صاحب لواء المشركين يوم حنين، وقتل يومئذ كافرا. (ابن حزم: جمهرة أنساب العرب ص266. وابن خلدون: تاريخ ابن خلدون 2/309) .

4 غيرة: بكسر معجمة وفتح مثناة تحتية. (ابن طاهر الهندي: المغني ص59- 60) ومن بني غيرة: أبي بن شريق، ويعرف بالأخنس بن شريق بن عمرو بن وهب بن علاج بن أبي سلمة بن عبد العزى بن غيرة بن عوف بن ثقيف الثقفي، يكنى أبا ثعلبة. كان حليفا لبني زهرة ومقدما فيهم، فلما خرجت قريش إلى بدر، أتاهم الخبر عن أبي سفيان بن حرب أنه قد نجا من النبي صلى الله عليه وسلم، وأجمعت قريش على إتيان بدر، أشار الأخنس على بني زهرة بالرجوع إلى مكة، وقال لهم: قد نجى الله عيركم التي مع أبي سفيان، فلا حاجة لكم في غيرها، فعادوا، فلم يقتل منهم أحد في بدر، وحينئذ لقب بلأخنس. (ابن الأثير: أسد الغابة 1/60) .
আর মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন-এর ব্যাপারে:

তাঁর সন্তান হলো সাকীফ ১ - আর তার নাম কাসি ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন ২।

সাকীফ ইবনে মুনাব্বিহ-এর সন্তান জন্ম নিয়েছে: জুশাম ও আওফ।

জুশাম ইবনে সাকীফ-এর সন্তান জন্ম নিয়েছে: হুতাইত।

হুতাইত-এর সন্তান জন্ম নিয়েছে: মালিক ৩ এবং গাদিরহ।

আর আওফ ইবনে সাকীফ ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন-এর সন্তান জন্ম নিয়েছে: সাদ ও গায়রাহ ৪; তারা 'আহলাফ' (মিত্র গোষ্ঠী) নামে পরিচিত। এর কারণ হলো তারা বনু মালিকের বিরুদ্ধে একে অপরের সাথে মিত্রতা করেছিল এবং গাদিরহ আহলাফদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

সুতরাং সাকীফ গোত্র দুই ভাগে বিভক্ত:

বনু মালিক ইবনে হুতাইত ইবনে জুশাম ইবনে কাসি - সাকীফ - ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন।

--------------------------------------------

১ সাকীফ: আমীর (আমীরুন) ছন্দে, আর কাসি গানি (গানিয়্যুন) ছন্দে। আবু উবাইদ বলেন: "তাকে কাসি নাম দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি আবু রিগালের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে হত্যা করেছিলেন, আবু রিগাল ছিলেন একজন সংগ্রাহক - অর্থাৎ যাকাত বা সাদকা আদায়কারী। তখন বলা হলো: 'তার অন্তর কঠোর (কাসা) হয়ে গেছে', ফলে তার নাম কাসি রাখা হলো।" (দেখুন: ইবনে কুতায়বাহ: কিতাব আল-মাআরিফ পৃষ্ঠা ৪১; এবং আয-যাবিদি: তাজুল আরুস ১০/২৯৪)।

(ইবনে হিশাম: সিরাতে ইবনে হিশাম ১/১৪, ৪৭; খলিফা ইবনে খাইয়্যাত: কিতাবুত তাবাকাত পৃষ্ঠা ৫৩, ১৩০; ইবনে কুতায়বাহ: কিতাব আল-মাআরিফ পৃষ্ঠা ৪১; ইবনে হাযম: জামহারাতু আনসাবিল আরব পৃষ্ঠা ২৬৬, ৪৬৮, ৪৮২; ইবনে আল-আসীর: আল-লুবাব ১/২৪০; ইবনে খালদুন: তারিখে ইবনে খালদুন ২/৩০৯; আন-নুওয়াইরি: নিহায়াতুল আরাব ২/৩৩৪; আল-ফাইরুযাবাদি: আল-কামুস আল-মুহিত ৩/১২১; আয-যাবিদি: তাজুল আরুস ৬/৫১; ইবনে সাদ: আত-তাবাকাত ৪/২৮৪; বাশমেইল: গাযওয়াতু হুনাইন পৃষ্ঠা ২০০)।

৩ বনু মালিক ইবনে হুতাইত-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাবিআহ ইবনে আল-হারিস ইবনে হাবিব ইবনে আল-হারিস ইবনে মালিক ইবনে হুতাইত ইবনে জুশাম ইবনে কাসি। তিনি হুনাইন যুদ্ধের দিন মুশরিকদের পতাকাবাহী ছিলেন এবং সেদিন কাফির অবস্থায় নিহত হন। (ইবনে হাযম: জামহারাতু আনসাবিল আরব পৃষ্ঠা ২৬৬; ইবনে খালদুন: তারিখে ইবনে খালদুন ২/৩০৯)।

৪ গায়রাহ: প্রথম বর্ণে (গাইন) কাসরা (জের) এবং ইয়া বর্ণে ফাতহা (যবর) সহ। (ইবনে তাহির আল-হিন্দি: আল-মুগনি পৃষ্ঠা ৫৯-৬০)। আর বনু গায়রাহ-এর অন্তর্ভুক্ত হলেন: উবাই ইবনে শারিক, যিনি আখনাশ ইবনে শারিক ইবনে আমর ইবনে ওয়াহাব ইবনে ইলাজ ইবনে আবি সালামাহ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে গায়রাহ ইবনে আওফ ইবনে সাকীফ আস-সাকাফি নামে পরিচিত, তার উপনাম আবু সালাবা। তিনি বনু যুহরার মিত্র এবং তাদের মাঝে প্রভাবশালী ছিলেন। যখন কুরাইশরা বদরের দিকে রওনা হলো, তখন আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত থেকে বেঁচে গেছেন। কুরাইশরা তখন বদরে আসার বিষয়ে একমত হলো, কিন্তু আখনাশ বনু যুহরাকে মক্কায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং তাদের বলেন: "আল্লাহ তোমাদের সেই কাফেলাকে রক্ষা করেছেন যা আবু সুফিয়ানের সাথে ছিল, সুতরাং তোমাদের আর অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই।" ফলে তারা ফিরে গেল এবং বদর যুদ্ধে তাদের কেউ নিহত হয়নি। তখন থেকেই তার উপাধি হয় 'আখনাশ' (পিছু হটা ব্যক্তি)। (ইবনে আল-আসীর: আসাদুল গাবাহ ১/৬০)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وبنو عوف وهم من الأحلاف1.

هكذا ذكر علماء النسب وغيرهم أن ثقيفا فرع من هوازن القبيلة العدنانية الشهيرة.

وقد ذكر الفيروزآبادي، وتابعه الزبيدي شارح القاموس بأن ثقيفاً من ثمود واستندوا إلى ما ورد عند أبي داود وغيره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين خرج إلى حنين مر بقبر فقال: "هذا قبر أبي رغال، وهو "أبو ثقيف وكان من ثمود" 2.

والحديث عند أبي داود في النسخ الموجودة، وليس فيه: "أبو ثقيف، وكان من ثمود".

وهذا نصّ الحديث عند أبي داود قال:

--------------------------------------------

(ابن سعد الطبقات الكبرى 5/510- 511. وابن قتيبة: المعارف ص41. وابن خلدون: تاريخ ابن خلدون 2/309. وابن الأثير: أسد الغابة 1/168، 2/41. وأكرم ضياء العمري: في تعليقه على تاريخ خليفة بن الخياط ص97) .

ومن الأحلاف: عروة بن مسعود بن معتب بن مالك بن كعب بن عمرو بن سعد ابن ثقيف، لحق رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يصل إلى المدينة منصرفه من حصار الطائف فأسلم وعاد إلى قومه داعيا فقتلوه. وفي قول آخر أنه قدم المدينة بعد حجة أبي بكر الصديق. انظر حديث رقم (214) .

ووهم ابن حزم فقال بأن الذي بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى قومه داعيا هو: معتب بن مالك جد عروة بن مسعود.

ومن الأحلاف أيضا: المغيرة بن شعبة، والحجاج بن يوسف الثقفي، والمختار بن أبي عبيد الثقفي الذي زعم أن جبريل يأتيه بالوحي. وقد ورد في صحيح مسلم 4/1971 كتاب الفضائل باب ذكر كذاب ثقيف ومبيرها (أن أسماء بنت أبي بكر رضي اله عنها قالت: "أما أن رسول الله حدثنا" أن في ثقيف كذابا ومبيرا "فأما الكذاب فرأيناه، وأما المبير فلا إخالك إلا إياه ".

قال النووي: "اتفق العلماء على أن المراد بالكذاب هنا المختار بن أبي عبيد. وبالمبير: الحجاج بن يوسف". (شرح مسلم 5/608) . وانظر ابن حزم: (جمهرة أنساب العرب ص 267. وابن عبد البر: الاستيعاب 3/112. وابن الأثير: أسد الغابة 4/31-35، 5/247. وابن كثير: البداية والنهاية 8/289، 9/117. وابن حجر: الاصابة 2/277. وابن قتيبة: المعارف ص128، 173. وابن سعد: الطبقات الكبرى 5/503) .

2 أبو رغال: ككتاب: قال الجوهري والصنعاني: "كان دليلا للحبشة حين توجهوا إلى مكة، فمات في الطريق".

وقال ابن سيدة: "كان عبدا لشعيب عليه الصلاة والسلام، وكان عشارا جائرا، فقبره بين مكة والطائف يرجم إلى اليوم". ورد الفيروزآبادي والزبيدي هذين القولين.

وقال ابن منظور: "رأيت حاشية على هامش صحاح الجوهري ما صورته: أبو رغال اسمه زيد بن مخلف عبد كان لصالح النبي عليه السلام، بعثه مصدقا، وأنه أتى قوماً ليس لهم لبن إلا شاة واحدة، ولهم صبي قد ماتت أمه فهم يغذونه بلبن تلك الشاة، فأبى أن يأخذ غيرها، فقالوا له: "دعها نحابي بها هذا الصبي فأبى"، فيقال أنه نزلت به قارعة من السماء، ويقال: "بل قتله صاحب الشاة"، فلما فقده صالح عليه السلام قام في الموسم ينشد الناس فأخبر بصنيعه فلعنه، فقبره بين مكة والطائف يرجمه الناس. (ابن منظور: لسان العرب 13/310. والفيروزآبادي: القاموس المحيط 3/385- 386. والقسطلاني: المواهب اللدنية 1/166. والزبيدي: تاج العروس 7/348. والمباركفوري: تحفة الأحوذي 4/279. ومحمد شمس الحق العظيم آبادي: عون المعبود 8/346- 348) .

وقال ابن بلهيد: قبر أبي رغال قبل أن تصل إلى "الزيمة" ترى جبالا يقال لها "ردوم الزيمة" وهي التي تعرف في التاريخ بقبر أبي رغال، وأقرب ما يكون لتلك المواضع موضع يقال له "ردام" (صحيح الأخبار 2/144) .

قلت: "والزيمة" تقع في الطريق القديم بين مكة والطائف، قال ابن خميس: كان الطريق قبل بين "مكة" و"الطائف"، فإذا خرجت من مكة إلى الطائف تمر "بالشرائع"، فوادي "يدعان" -جدعان- فوادي "سبوحة" فقرية "الزيمة" فوادي "نخلة اليمانية" … إلخ". غير أن ابن خميس وحمد الجاسر يريان أن قبر أبي رغال في المغمس وهو في طريق غير طريق "الزيمة".

انظر: عبد الله بن محمد بن خميس: المجاز بين اليمامة والحجاز ص268، 391. وحمد الجاسر: التعليق على كتاب المناسك للحربي ص352-353.
এবং বনু আউফ, যারা আহলাফদের (মিত্রগোষ্ঠী) অন্তর্ভুক্ত১।

বংশলতিকা বিশারদগণ এবং অন্যান্যরা এভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, সাকিফ গোত্র বিখ্যাত আদনানি গোত্র হাওয়াজিনের একটি শাখা।

ফিরোজাবাদী উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর অনুসরণ করে কামুসের ব্যাখ্যাকার জুবায়দি বলেছেন যে, সাকিফ গোত্র সামুদ জাতির বংশোদ্ভূত। তারা আবু দাউদ ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত একটি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হুনাইনের দিকে বের হলেন, তখন তিনি একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "এটি আবু রিগালের কবর, সে হলো সাকিফের পিতা এবং সে সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল" ২।

তবে আবু দাউদের বর্তমান বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলোতে হাদিসটি রয়েছে, কিন্তু তাতে "সাকিফের পিতা এবং সে সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল" কথাটি নেই।

আবু দাউদের বর্ণিত হাদিসের মূল পাঠ নিম্নরূপ, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(ইবনে সাদ: আত-তবাকাতুল কুবরা ৫/৫১০-৫১১। ইবনে কুতায়বাহ: আল-মাআরিফ, পৃষ্ঠা ৪১। ইবনে খালদুন: তারিখে ইবনে খালদুন ২/৩০৯। ইবনে আল-আসির: আসাদুল গাবাহ ১/১৬৮, ২/৪১। আকরাম যিয়া আল-উমারি: তারিখে খলিফা বিন খাইয়াত-এর ওপর তাঁর টীকায়, পৃষ্ঠা ৯৭)।

এবং আহলাফদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: উরওয়াহ ইবনে মাসউদ ইবনে মুআত্তিব ইবনে মালিক ইবনে কাব ইবনে আমর ইবনে সাদ ইবনে সাকিফ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ অবরোধ থেকে ফিরে মদিনায় পৌঁছানোর আগেই তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজের কওমের কাছে দাঈ হিসেবে ফিরে যান এবং তারা তাঁকে হত্যা করে। অন্য এক মতে, তিনি আবু বকর সিদ্দিকের হজের পর মদিনায় এসেছিলেন। দেখুন হাদিস নম্বর (২১৪)।

ইবনে হাযম এখানে ভুল করেছেন এবং বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে তাঁর কওমের কাছে দাঈ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন তিনি হলেন মুআত্তিব ইবনে মালিক, যিনি উরওয়াহ ইবনে মাসউদের দাদা।

আহলাফদের মধ্যে আরও রয়েছেন: মুগীরা ইবনে শুবা, হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সাকাফি এবং মুখতার ইবনে আবি উবাইদ সাকাফি, যে দাবি করেছিল যে জিবরাঈল তার কাছে ওহী নিয়ে আসেন। সহীহ মুসলিমের ৪/১৯৭১, ফাযায়েল অধ্যায়, সাকিফের চরম মিথ্যাবাদী ও ধ্বংসকারীর আলোচনা শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে: "আসমা বিনতে আবি বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, সাকিফ গোত্রে একজন চরম মিথ্যাবাদী এবং একজন ধ্বংসকারীর আবির্ভাব ঘটবে। মিথ্যাবাদীকে তো আমরা দেখেছি, আর ধ্বংসকারী হিসেবে তুমি ছাড়া অন্য কাউকে মনে করি না'।"

ইমাম নববী বলেন: "উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, এখানে 'মিথ্যাবাদী' বলতে মুখতার ইবনে আবি উবাইদ এবং 'ধ্বংসকারী' বলতে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফকে বোঝানো হয়েছে।" (শরহে মুসলিম ৫/৬০৮)। আরও দেখুন ইবনে হাযম: (জামহারাতু আনসাবিল আরব, পৃষ্ঠা ২৬৭। ইবনে আব্দুল বারর: আল-ইস্তিআব ৩/১১২। ইবনে আল-আসির: আসাদুল গাবাহ ৪/৩১-৩৫, ৫/২৪৭। ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/২৮৯, ৯/১১৭। ইবনে হাজার: আল-ইসাবাহ ২/২৭৭। ইবনে কুতায়বাহ: আল-মাআরিফ, পৃষ্ঠা ১২৮, ১৭৩। ইবনে সাদ: আত-তবাকাতুল কুবরা ৫/৫০৩)।

২ আবু রিগাল: কিতাব শব্দের ওজনে। আল-জাওহারি এবং আস-সাগানি বলেন: "সে ছিল হাবশীদের পথপ্রদর্শক যখন তারা মক্কার দিকে অগ্রসর হয়েছিল, পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।"

ইবনে সিদাহ বলেন: "সে ছিল শোয়াইব (আলাইহিস সালাম)-এর একজন দাস এবং সে ছিল একজন যালিম কর সংগ্রাহক। তার কবর মক্কা ও তায়েফের মাঝখানে, যেখানে আজ পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপ করা হয়।" ফিরোজাবাদী এবং জুবায়দি এই দুটি বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইবনে মানযুর বলেন: "আমি জাওহারির 'সিহাহ' গ্রন্থের টীকায় একটি পাদটীকা দেখেছি যার সারমর্ম হলো: আবু রিগালের নাম ছিল যায়েদ ইবনে মুখাল্লাফ, সে সালেহ (আলাইহিস সালাম)-এর একজন দাস ছিল। সালেহ (আলাইহিস সালাম) তাকে যাকাত আদায়কারী হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। সে এমন এক কওমের কাছে আসলো যাদের একটি ছাগল ছাড়া আর কোনো দুধের পশু ছিল না। তাদের একটি শিশু ছিল যার মা মারা গিয়েছিল এবং তারা ঐ ছাগলের দুধ দিয়ে তাকে লালন-পালন করছিল। কিন্তু সে ঐ ছাগলটি ছাড়া অন্য কিছু নিতে অস্বীকার করল। তারা তাকে বলল: 'এটি ছেড়ে দিন যাতে আমরা এই শিশুটিকে বাঁচাতে পারি', কিন্তু সে অস্বীকার করল। বলা হয় যে, আকাশ থেকে তার ওপর গযব নাযিল হয়েছিল, আবার কেউ বলেন: 'ছাগলের মালিক তাকে হত্যা করেছিল'। সালেহ (আলাইহিস সালাম) তাকে না পেয়ে হজের মৌসুমে লোকদের কাছে তার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। যখন তাকে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানানো হলো, তিনি তাকে লানত দিলেন। তার কবর মক্কা ও তায়েফের মাঝে, যেখানে মানুষ পাথর ছুড়ে মারে।" (ইবনে মানযুর: লিসানুল আরব ১৩/৩১০। ফিরোজাবাদী: আল-কামুসুল মুহিত ৩/৩৮৫-৩৮৬। কাসতালানি: আল-মাওয়াহিবুল লাদুননিয়াহ ১/১৬৬। জুবায়দি: তাজুল আরুস ৭/৩৪৮। মুবারকপুরী: তুহফাতুল আহওয়াযী ৪/২৭৯। মুহাম্মদ শামসুল হক আজিমাবাদী: আওনুল মাবুদ ৮/৩৪৬-৩৪৮)।

ইবনে বুলহাইদ বলেন: "আয-যায়মাহ"-তে পৌঁছানোর আগে আপনি কিছু পাহাড় দেখবেন যেগুলোকে "রুদুমুয যায়মাহ" বলা হয়। ইতিহাসে এগুলোই আবু রিগালের কবর হিসেবে পরিচিত। ঐ স্থানগুলোর সবচেয়ে নিকটবর্তী জায়গার নাম "রাদাম"। (সহীহুল আখবার ২/১৪৪)।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: "আয-যায়মাহ" মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী পুরাতন রাস্তায় অবস্থিত। ইবনে খামিস বলেন: "পূর্বে মক্কা ও তায়েফের রাস্তাটি এমন ছিল যে, মক্কা থেকে বের হয়ে তায়েফের দিকে যাওয়ার সময় আপনি 'আশ-শারায়ে', এরপর 'ওয়াদি ইয়াদআন' (জাদআন), এরপর 'ওয়াদি সাবুহাহ', এরপর 'যায়মাহ গ্রাম', এরপর 'ওয়াদি নাখলাহ ইয়ামানিয়াহ'... ইত্যাদি অতিক্রম করবেন।" তবে ইবনে খামিস এবং হামাদ আল-জাসির মনে করেন যে, আবু রিগালের কবর "আল-মুগাম্মাস" নামক স্থানে, যা যায়মাহ-র রাস্তা থেকে ভিন্ন একটি রাস্তায় অবস্থিত।

দেখুন: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন খামিস: আল-মাজায বাইনাল ইয়ামামাহ ওয়াল হিজায, পৃষ্ঠা ২৬৮, ৩৯১। হামাদ আল-জাসির: আল-হারবির 'কিতাবুল মানাসিক'-এর ওপর টীকা, পৃষ্ঠা ৩৫২-৩৫৩।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
1- حدثنا يحيى1بن معين، أخبرنا وهب2 بن جرير، أخبرني أبي3 قال سمعت محمد4 بن إسحاق يحدث عن إسماعيل5 بن أمية، عن بجير6 بن أبي بجير قال: سمعت عبد الله بن عمرو يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول حين خرجنا معه إلى الطائف فمررنا بقبر، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا قبر أبي رغال، وكان بهذا الحرم يدفع عنه فلما خرج أصابته النقمة التي أصابت قومه بهذا المكان فدفن فيه، وآية

--------------------------------------------

1 يحيى بن معين بن عون الغطفاني مولاهم، أبو زكريا البغدادي، ثقة حافظ مشهور، إمام الجرح والتعديل، من العاشرة (ت233) /ع (ابن حجر: التقريب 2/358، وتهذيب التهذيب 11/280-288) .

2 وهب بن جرير بن حازم بن زيد، أبو عبد الله الأزدي، البصري، ثقة من التاسعة (ت206) /ع (المصدر السابق 2/338، 11/161) .

3 هو جرير بن حازم بن زيد بن عبد الله الأزدي، أبو النضر البصري، والد وهب، ثقة لكن في حديثه عن قتادة ضعف، وله أوهام إذا حدث من حفظه، من السادسة (ت170) بعدما اختلط لكن لم يحدث في حال اختلاطه/ع (المصدر السابق 1/127، 2/69) .

4 محمد بن إسحاق بن يسار، أبو بكر المطلبي المدني، نزيل العراق، إمام المغازي صدوق يدلس، ورمي بالتشيع والقدر، من صغار الخامسة (ت150) ويقال بعدها /خت م عم (المصدرالسابق 2/144 و9/38-46) .

5 إسماعيل بن أمية بن عمرو بن سعيد بن العاص بن أمية الأموي، ثقة ثبت، من الثالثة (ت144) وقيل قبلها /ع (المصدر السابق 1/67، 1/283) .

6 بجير بن أبي بجير - بجيمين مصغرا - حجازي، ويقال اسم أبيه سالم، مجهول من الثالثة /د (ابن حجر: التقريب 1/93) وفي تهذيب التهذيب (1/418) ، قال: "بجير ابن أبي بجير حجازي، روى عن عبد الله بن عمرو بن العاص، روى عنه إسماعيل ابن أمية. روى له أبو داود حديثا واحدا في قصة أبي رغال".

قال يحي بن معين: "لم أسمع أحدا يحدث عنه غير إسماعيل".

قال ابن حجر: قلت: وكذا قال النسائي.

وأما ابن المديني فقال: بجير بن سالم أبو عبيد روى عنه إسماعيل بن أمية وروح بن القاسم حديث أبي رغال، وهو من أهل الطائف مجهول لم يرو عنه غيرهما.

قال أبو داود: حديث روح بن القاسم عن إسماعيل بن أمية عن بجير، لا عن بجير مباشرة، فتبين أنه ليس له راو غير إسماعيل بن أمية.

وأما ابن أبي حاتم: فقد فرق بين بجير بن أبي بجير وبين بجير بن سالم فحكى عن أبيه أن بجير بن سالم يروي عنه يعلى بن عطاء، ولم يذكر لبجير بن أبي بجير راو غير إسماعيل.

ثم ختم ابن حجر ترجمته بقوله: وذكره ابن حبان في الثقات، وجهله ابن القطان. وقال الذهبي: بجير بن أبي بجير لم يعرفه ابن أبي حاتم بشيء، وقال ابن معين: لم أسمع أحدا حدث عنه غير إسماعيل بن أمية، وصدق في ذلك.

ثم قال: قلت: له حديث واحد انفرد ابن إسحاق به، ثم ساق حديث الباب من غير طريق أبي داود، وافق أبا داود في شيخه يحي بن معين، وقال: رواه أبو داود عن يحي بن معين فوافقناه بعلو.

وهكذا قال المزي. (انظر: البخاري: التاريخ الكبير 2/139. وابن أبي حاتم: الجرح والتعديل 2/425. والمزي: تهذيب الكمال1/19. والذهبي: ميزان الاعتدال 1/197) .

قلت: والذي يظهر لي أن بجير بن أبي بجير غير بجير بن سالم وذلك أن بجير بن سالم يروي عن عبد الله بن عمر بن الخطاب، وبجير بن أبي بجير يروي عن عبد الله بن عمرو بن العاص هذا الحديث الفرد وليس له غيره. وقد أورده المزي والذهبي في ترجمته.

وقال ابن حجر: روى له أبو داود هذا الحديث الواحد في قصة أبي رغال عن عبد الله بن عمرو بن العاص. وفرق البخاري وأبو حاتم بينهما فجعلا بجير بن أبي بجير يروي عن عبد الله بن عمرو بن العاص، وعنه إسماعيل بن أمية، وبجير بن سالم أبا عبيد يروي عن عبد الله ابن عمر بن الخطاب وعنه يعلى بن عطاء.
১- আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াহাব ইবনে জারীর, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি ইসমাইল ইবনে উমাইয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যখন আমরা তাঁর সাথে তায়েফের উদ্দেশ্যে বের হলাম। অতঃপর আমরা একটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি আবু রিগালের কবর। সে এই হারামের (পবিত্র এলাকার) কারণে রক্ষা পেত। কিন্তু যখন সে বের হলো, তখন তার কওমের ওপর যে শাস্তি আপতিত হয়েছিল এই স্থানে তাকেও তা গ্রাস করল, ফলে তাকে এখানেই দাফন করা হয়। আর এর নিদর্শন হলো...

--------------------------------------------

১. ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ইবনে আউন আল-গাতফানী, তাদের মুক্তদাস, আবু জাকারিয়া আল-বাগদাদী; নির্ভরযোগ্য হাফেজ ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তি, জারাহ ও তাদীল (বর্ণনাকারী যাচাই ও সংশোধন) শাস্ত্রের ইমাম, দশম স্তরের বর্ণনাকারী (মৃত্যু ২৩৩ হিজরি)। (ইবনে হাজার: আত-তাকরীব ২/৩৫৮, এবং তাহযীবুত তাহযীব ১১/২৮০-২৮৮)।

২. ওয়াহাব ইবনে জারীর ইবনে হাযেম ইবনে যায়িদ, আবু আব্দুল্লাহ আল-আযদী, আল-বসরী; নবম স্তরের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (মৃত্যু ২০৬ হিজরি)। (পূর্বোক্ত সূত্র ২/৩৩৮, ১১/১৬১)।

৩. তিনি হলেন জারীর ইবনে হাযেম ইবনে যায়িদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আযদী, আবু আন-নাদর আল-বসরী, ওয়াহাবের পিতা; নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, তবে কাতাদাহ থেকে তার বর্ণনায় দুর্বলতা আছে এবং যখন তিনি স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতেন তখন তাতে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিত। তিনি ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারী (মৃত্যু ১৭০ হিজরি)। শেষ বয়সে তার স্মৃতিভ্রংশ হয়েছিল, তবে স্মৃতিভ্রংশ অবস্থায় তিনি হাদিস বর্ণনা করেননি। (পূর্বোক্ত সূত্র ১/১২৭, ২/৬৯)।

৪. মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার, আবু বকর আল-মুত্তালিবি আল-মাদানী, ইরাক নিবাসী; মাগাজী (যুদ্ধাভিযান ইতিহাস) শাস্ত্রের ইমাম, সত্যবাদী তবে তাদলীস করতেন। তার বিরুদ্ধে শিয়া মতবাদ ও কাদারিয়া মতবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি পঞ্চম স্তরের ছোট পর্যায়ের বর্ণনাকারী (মৃত্যু ১৫০ হিজরি) এবং এর পরেও বলা হয়ে থাকে। (পূর্বোক্ত সূত্র ২/১৪৪ এবং ৯/৩৮-৪৬)।

৫. ইসমাইল ইবনে উমাইয়া ইবনে আমর ইবনে সাঈদ ইবনে আস ইবনে উমাইয়া আল-উমাউয়ী; নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী, তৃতীয় স্তরের (মৃত্যু ১৪৪ হিজরি), এর আগেও বলা হয়ে থাকে। (পূর্বোক্ত সূত্র ১/৬৭, ১/২৮৩)।

৬. বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর—উভয় 'জিম' বর্ণে পেশ দিয়ে—হিজাজী; বলা হয়ে থাকে যে তার পিতার নাম সালিম; তিনি তৃতীয় স্তরের মাজহুল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী। (ইবনে হাজার: আত-তাকরীব ১/৯৩)। তাহযীবুত তাহযীব (১/৪১৮) গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর হিজাজী, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে ইসমাইল ইবনে উমাইয়া বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ তার থেকে আবু রিগালের ঘটনা সম্পর্কে একটি মাত্র হাদিস বর্ণনা করেছেন।"

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "আমি ইসমাইল ছাড়া আর কাউকে তার থেকে বর্ণনা করতে শুনিনি।"

ইবনে হাজার বলেন: আমি বলছি, নাসায়ীও অনুরূপ বলেছেন।

পক্ষান্তরে ইবনে আল-মাদীনী বলেছেন: বুজাইর ইবনে সালিম আবু উবাইদ; তার থেকে ইসমাইল ইবনে উমাইয়া এবং রাওহ ইবনুল কাসিম আবু রিগালের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি তায়েফ নিবাসী এবং মাজহুল (অপরিচিত), এই দুইজন ছাড়া আর কেউ তার থেকে বর্ণনা করেননি।

আবু দাউদ বলেছেন: রাওহ ইবনুল কাসিমের হাদিসটি ইসমাইল ইবনে উমাইয়া থেকে, তিনি বুজাইর থেকে; সরাসরি বুজাইর থেকে নয়। ফলে এটি স্পষ্ট যে, ইসমাইল ইবনে উমাইয়া ছাড়া তার আর কোনো বর্ণনাকারী নেই।

আর ইবনে আবি হাতিমের কথা হলো: তিনি বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর এবং বুজাইর ইবনে সালিমের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি তার পিতার সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, বুজাইর ইবনে সালিম থেকে ইয়াহলা ইবনে আতা বর্ণনা করেন; আর বুজাইর ইবনে আবি বুজাইরের জন্য ইসমাইল ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেননি।

অতঃপর ইবনে হাজার তার জীবনী এই বলে শেষ করেছেন: ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনুল কাত্তান তাকে মাজহুল (অজ্ঞাত) বলেছেন। যাহাবী বলেছেন: বুজাইর ইবনে আবি বুজাইরকে ইবনে আবি হাতিম কোনোভাবেই চিনতে পারেননি। ইবনে মাঈন বলেছেন: ইসমাইল ইবনে উমাইয়া ছাড়া আর কাউকে তার থেকে বর্ণনা করতে শুনিনি এবং তিনি সত্য বলেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন: আমি বলছি, তার একটি মাত্র হাদিস রয়েছে যা ইবনে ইসহাক এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি আবু দাউদের পথ ছাড়া অন্য সূত্রে এই অধ্যায়ের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং তার উস্তাদ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের ব্যাপারে আবু দাউদের সাথে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন: আবু দাউদ এটি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা উচ্চতর সনদে তার সাথে একমত হয়েছি।

মিযযীও অনুরূপ বলেছেন। (দেখুন: বুখারী: আত-তারীখুল কাবীর ২/১৩৯; ইবনে আবি হাতিম: আল-জারহু ওয়াত তাদীল ২/৪২৫; মিযযী: তাহযীবুল কামাল ১/১৯; যাহাবী: মীযানুল ইতিদাল ১/১৯৭)।

আমি বলছি: আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর এবং বুজাইর ইবনে সালিম দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি। কেননা বুজাইর ইবনে সালিম বর্ণনা করেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে, আর বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে এই একক হাদিসটি বর্ণনা করেন এবং এটি ছাড়া তার আর কোনো হাদিস নেই। মিযযী এবং যাহাবী তার জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন।

ইবনে হাজার বলেছেন: আবু দাউদ তার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের সূত্রে আবু রিগালের ঘটনার এই একটি হাদিসই বর্ণনা করেছেন। বুখারী এবং আবু হাতিম এই দুইজনের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তারা বুজাইর ইবনে আবি বুজাইরকে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনাকারী এবং তার থেকে ইসমাইল ইবনে উমাইয়াকে বর্ণনাকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর বুজাইর ইবনে সালিম আবু উবাইদকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনাকারী এবং তার থেকে ইয়াহলা ইবনে আতাকে বর্ণনাকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ذلك1 أنه دفن معه غصن من ذهب إن أنتم نبشتم عنه أصبتموه، فابتدره2 الناس فاستخرجوا الغصن" 3.

والحديث أخرجه ابن حزم من طريق يحي بن معين، عن وهب بن جرير بن حازم، عن أبيه، عن محمد بن إسحاق به.

ثم قال: هذا الحديث لا يصح، لأنه عن ابن بجير وهو مجهول4.

وأخرجه إبراهيم الحربي والبيهقي كلاهما من طريق يزيد5 بن زريع، عن

--------------------------------------------

1 وآية ذلك: أي علامة ذلك (ابن الأثير: النهاية 1/88) .

2 فابتدره الناس: أي تسابقوا إليه مسرعين (الفيروزآبادي: القاموس المحيط 1/369) .

3 أبو داود: (السنن 2/161) ، كتاب الخراج والفيء والإمارة، باب نبش القبور العادية يكون فيها المال.

4 "المحلى 7/528"، وحصل خطأ في المحلى في مقامين:

الأول: جعل ابن إسحاق يروي عن بجير بن أبي بجير مباشرة، وإنما يروي عنه بواسطة إسماعيل بن أمية، كما هو واضح في حديث أبي داود.

والثاني: أنه كتب يحي بن أبي بجير، والصواب بجير بن أبي بجير.

5 يزيد بن زريع - بتقديم الزاي مصغرا- البصري، أبو معاوية، ثقة ثبت من الثامنة (ت182) /ع (ابن حجر: التقريب 2/364، وتهذيب التهذيب 11/325) .
এর চিহ্ন হলো ১ যে, তার সাথে একটি সোনার ডাল দাফন করা হয়েছে, তোমরা যদি তা খুঁড়ে বের করো তবে তা পেয়ে যাবে। অতঃপর মানুষ সেদিকে দ্রুত ধাবিত হলো ২ এবং তারা ডালটি বের করে আনল ৩।

হাদিসটি ইবনে হাজম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের সূত্রে, তিনি ওয়াহাব ইবনে জারির ইবনে হাযিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন: এই হাদিসটি সহিহ নয়, কারণ এটি ইবনে বুজাইর থেকে বর্ণিত আর তিনি হলেন মাজহুল বা অপরিচিত ৪।

এবং ইব্রাহিম আল-হারবি ও বাইহাকি উভয়েই ইয়াজিদ ৫ ইবনে জুরাই'-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১ এর আয়াত: অর্থাৎ এর নিদর্শন বা চিহ্ন (ইবনুল আসির: আন-নিহায়া ১/৮৮)।

২ মানুষ সেদিকে দ্রুত ধাবিত হলো: অর্থাৎ তারা দ্রুতগতিতে সেদিকে প্রতিযোগিতা করল (ফিরোজাবাদি: আল-কামুস আল-মুহিত ১/৩৬৯)।

৩ আবু দাউদ: (আস-সুনান ২/১৬১), কিতাবুল খারাজ ওয়াল ফায় ওয়াল ইমারা, প্রাচীন কবর খনন সংক্রান্ত অধ্যায় যাতে সম্পদ থাকে।

৪ "আল-মুহাল্লা ৭/৫২৮", এবং আল-মুহাল্লা গ্রন্থে দুটি স্থানে ভুল হয়েছে:

প্রথমটি: ইবনে ইসহাক সরাসরি বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর থেকে বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ তিনি ইসমাইল ইবনে উমাইয়ার মাধ্যমে তার থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আবু দাউদের হাদিসে স্পষ্ট।

দ্বিতীয়টি: তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুজাইর লিখেছেন, অথচ সঠিক হলো বুজাইর ইবনে আবি বুজাইর।

৫ ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' - শুরুতে ঝাই (যায়) অক্ষরটি তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে - আল-বাসরি, আবু মুয়াবিয়া, অষ্টম স্তরের একজন বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী (মৃত্যু ১৮২ হিজরি) / আ (ইবনে হাজার: আত-তাক্বরিব ২/৩৬৪ এবং তাহযিবুত তাহযিব ১১/৩২৫)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
روح1 بن القاسم، عن إسماعيل بن أمية، عن بجير بن أبي بجير، عن عبد الله بن عمرو قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما كنا عند قبر أبي رغال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا قبر أبي رغال، وكان امرأ كافرا، وكان من ثمود، وكان يسكن الحرم، وأنه خرج حتى إذا صار في هذا الموضع مات فدفنوه، ومعه غصن من ذهب، فاستخرجوه فابتدرنا فاستخرجناه". لفظ الحربي2.

ولفظ البيهقي: "عن عبد الله بن عمرو أنهم كانوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر أو مسير فمروا بقبر فقال: هذا قبر أبي رغال كان من قوم ثمود، فلما أهلك الله قومه بما أهلكهم به منعه لمكانه من الحرم فخرج حتى إذا بلغ هذا المكان أو الموضع مات ودفن معه غصن من ذهب فابتدرناه فأخرجناه" 3.

وأخرجه البيهقي أيضا من طريق أبي الأزهر4، ثنا وهب بن جرير، ثنا أبي قال: سمعت محمد بن إسحاق يحدث عن إسماعيل بن أمية عن بجير بن أبي بجير قال: سمعت عبد الله بن عمرو بن العاص قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول حين خرجنا معه إلى الطائف فمررنا بقبر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا قبر أبي فلان وكان بهذا الحرم يدفع به عنه، فلما خرج أصابته النقمة التي أصابت قومه بهذا المكان فدفن فيه، وآية ذلك أنه دفن معه غصن من ذهب إن أنتم نبشتم عنه وجدتموه معه"، فابتدره الناس فاستخرجوا منه الغصن.

ثم قال: رواه أبو داود في السنن عن يحي بن معين، عن وهب بن جرير، وقال: "قبر أبي رغال"5.

--------------------------------------------

1 روح بن القاسم التميمي العنبري، أبو غياث - بمعجمة وتحتانية خفيفة ثم مثلثة - البصري، ثقة حافظ من السادسة (ت141) /خ م د س ق. (المصدر السابق 1/254، 3/298) .

2 الحربي: (كتاب المناسك ص352- 353) .

3 البيهقي: (السنن الكبرى 4/156) .

4 هو أحمد بن الأزهر بن منيع، أبو الأزهر العبدي النيسابوري، صدوق، كان يحفظ ثم كبر، فصار كتابه أثبت من حفظه، من الحادية عشرة، (ت263) /س ق (ابن حجر: التقريب 1/10، وتهذيب التهذيب 1/11) .

وقال أبو حاتم والذهبي: "صدوق". (الجرح والتعديل لابن أبي حاتم 2/41، وميزان الاعتدال للذهبي 1/82) .

5 البيهقي: (السنن الكبرى 4/156) .
রওহ বিন কাসিম, ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ থেকে, তিনি বুজাইর বিন আবি বুজাইর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলাম। যখন আমরা আবু রিগালের কবরের নিকট পৌঁছালাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি আবু রিগালের কবর। সে একজন কাফির ব্যক্তি ছিল এবং সে সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে হারামে (পবিত্র এলাকায়) বসবাস করত। সে যখন বের হয়ে এই স্থানে পৌঁছাল, তখন সে মারা গেল এবং তারা তাকে এখানে দাফন করল। তার সাথে একটি স্বর্ণের ডাল ছিল। তোমরা তা বের করো।" তখন আমরা দ্রুত অগ্রসর হলাম এবং সেটি বের করে আনলাম। এটি হারবি-র শব্দবিন্যাস।

বায়হাকির শব্দবিন্যাস হলো: "আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোনো এক সফরে বা পথচলায় ছিলেন। তখন তারা একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: এটি আবু রিগালের কবর, সে সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। আল্লাহ যখন তার জাতিকে ধ্বংস করলেন যা দিয়ে তাদের ধ্বংস করার ছিল, তখন হারামে অবস্থানের কারণে সে রক্ষা পেয়েছিল। অতঃপর সে যখন বের হয়ে এই স্থানে বা জায়গায় পৌঁছাল, তখন সে মারা গেল এবং তার সাথে স্বর্ণের একটি ডাল দাফন করা হলো।" তখন আমরা দ্রুত সেদিকে গেলাম এবং সেটি বের করে আনলাম।

বায়হাকি এটি আবু আল-আজহারের সূত্র থেকেও বর্ণনা করেছেন, ওহাব বিন জারির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসহাককে ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বুজাইর বিন আবি বুজাইর থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যখন আমরা তাঁর সাথে তায়েফের দিকে বের হলাম এবং একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি অমুকের পিতার কবর। সে এই হারামে থাকত যা তাকে রক্ষা করত। যখন সে বের হলো, তখন তার জাতির ওপর যে আজাব আপতিত হয়েছিল, এই স্থানে তা তাকেও পাকড়াও করল এবং সে এখানেই দাফন হলো। এর প্রমাণ হলো যে তার সাথে স্বর্ণের একটি ডাল দাফন করা হয়েছে; তোমরা যদি তার কবর খনন করো তবে তার সাথেই তা পাবে।" তখন মানুষ দ্রুত এগিয়ে গেল এবং কবর থেকে ডালটি বের করে আনল।

অতঃপর তিনি বললেন: আবু দাউদ এটি সুনানে ইয়াহইয়া বিন মাইন থেকে, তিনি ওহাব বিন জারির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: "আবু রিগালের কবর"।

--------------------------------------------

১. রওহ বিন কাসিম আত-তামিমি আল-আনবারি, আবু গিয়াস - শিন এবং হালকা ইয়া সহকারে, অতঃপর সা - বাসরাবাসী, ষষ্ঠ স্তরের নির্ভরযোগ্য হাফেজ (মৃত্যু ১৪১ হিজরি) / বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ। (পূর্বোক্ত উৎস ১/২৫৪, ৩/২৯৮)।

২. আল-হারবি: (কিতাবুল মানাসিক, পৃষ্ঠা ৩৫২-৩৫৩)।

৩. আল-বায়হাকি: (আস-সুনানুল কুবরা ৪/১৫৬)।

৪. তিনি হলেন আহমদ বিন আল-আজহার বিন মানি, আবু আল-আজহার আল-আবদি আন-নিশাপুরি, সত্যবাদী। তিনি মুখস্থ রাখতেন, তবে বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় তার কিতাব তার মুখস্থ স্মৃতিশক্তির চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য ছিল। তিনি একাদশ স্তরের (মৃত্যু ২৬৩ হিজরি) / নাসাঈ, ইবনে মাজাহ (ইবনে হাজার: আত-তাকরিব ১/১০, এবং তাহজিবুত তাহজিব ১/১১)।

আবু হাতিম এবং আজ-জাহাবি বলেছেন: "সত্যবাদী"। (ইবনে আবি হাতিমের আল-জারহ ওয়াত-তাদিল ২/৪১ এবং জাহাবির মিজানুল ইতিদাল ১/৮২)।

৫. আল-বায়হাকি: (আস-সুনানুল কুবরা ৪/১৫৬)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وأخرجه المزي والذهبي في ترجمة بجير بن أبي بجير، كلاهما من طريق أحمد1 ابن الحسن بن عبد الجبار، عن يحي بن معين، عن وهب بن جرير، عن أبيه به.

ثم قالا: رواه أبو داود عن يحي بن معين فوافقناه2 بعلو.

وزاد المزي: "وهذا حديث حسن عزيز"3.

وأخرجه عبد الرزاق، عن معمر بن راشد، عن إسماعيل بن أمية مرسلا4. بلفظ: "هذا قبر أبي رغال رجل من ثمود" 5

والجواب عن هذا الحديث من وجوه:

الأول: أنه ليس في حديث أبي داود في النسخ الموجودة بين أيدينا مع شروحها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "هذا قبر أبي رغال وهو أبو ثقيف وكان من ثمود". وهو بهذا اللفظ عند المزي والذهبي.

الثاني: أن هذا الحديث مداره على بجير بن أبي بجير ولا متابع له، وقد جزم

--------------------------------------------

1 أحمد بن الحسن بن عبد الجبار بن راشد، أبو عبد الله الصوفي، روى عن يحي بن معين وغيره، وعنه جماعة. قال الدارقطني: ثقة (ت306) . (الخطيب البغدادي: تاريخ بغداد 4/82، 86. والذهبي: ميزان الاعتدال 1/91، و297. وابن حجر: لسان الميزان 1/151) .

2 الموافقة: هي أن يصل الراوي إلى شيخ أحد المصنفين من غير طريقه مع علو إسناده على إسناد المصنف. وهنا قد وصل المزي والذهبي إلى شيخ أبي داود يحي بن معين بستة رواة، ولو روياه من طريق أبي داود لكان وصلا إلى يحي بن معين بسبعة، فقد وافقا أبا داود في شيخه مع علو إسنادهما عن إسناد أبي داود.

(ابن حجر: نزهة شرح نخبة الفكر ص51. وأطيب المنح في علم المصطلح للعباد وعبد الكريم مراد ص50) .

(المزي: تهذيب الكمال 1/19. والذهبي: ميزان الاعتدال 1/297) .

4 لعل إسماعيل كان يصل الحديث تارة، ويرسله أخرى.

5 انظر: (البداية والنهاية لابن كثير 4/137) . والحديث من مسند عبد الله بن عمرو بن العاص كما هو عند أبي داود وفي الأطراف للمزي 6/281 (حديث 8607) وذخائر المواريث للنابلسي 2/167 (حديث 4458) ، وجامع الأصول لابن الأثير 11/803 (حديث 9522) ، ووقع في القاموس المحيط للفيروزآبادي، وتاج العروس للزبيدي، وعون المعبود لمحمد شمس الحق العظيم آبادي، وتحفة الأحوذي للمباركفوري، وضعيف الجامع الصغير للألباني: عن ابن عمر ولعله ابن عمرو فسقطت الواو فصار ابن عمر. انظر: (القاموس3/385- 386. وتاج العروس 7/348. وعون المعبود 8/346. وتحفة الأحوذي4/279.وضعيف الجامع الصغير6/37- 38) ، (حديث 6095) .
আল-মিযযি এবং আয-যাহাবি এটি বুজাইর বিন আবি বুজাইর-এর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনুল আব্দুল জাব্বারের সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে জারির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এরপর তাঁরা উভয়েই বলেন: আবু দাউদ এটি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা তাঁর সাথে উচ্চ সনদে মিলিত হয়েছি।

আর আল-মিযযি আরও যোগ করেছেন: "এটি একটি হাসান আযীয হাদিস।"

এবং আব্দুর রাজ্জাক এটি মা'মার বিন রাশিদ থেকে, তিনি ইসমাঈল বিন উমাইয়াহ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: "এটি আবু রিগালের কবর, যে সামুদ জাতির এক ব্যক্তি ছিল।"

এই হাদিসের উত্তর বা ব্যাখ্যা কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:

প্রথমত: আমাদের কাছে বিদ্যমান আবু দাউদের পাণ্ডুলিপি ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে এই কথাটি নেই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এটি আবু রিগালের কবর, সে ছিল সাকিফ গোত্রের পিতা এবং সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত।" অথচ এই শব্দে এটি আল-মিযযি ও আয-যাহাবির নিকট রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: এই হাদিসটির মূল ভিত্তি হলো বুজাইর বিন আবি বুজাইর এবং তার কোনো সমর্থক বর্ণনাকারী নেই, আর এটি নিশ্চিতভাবে

--------------------------------------------

১. আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনুল আব্দুল জাব্বার বিন রাশিদ, আবু আব্দুল্লাহ আস-সুফি, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে একদল রাবী বর্ণনা করেছেন। আদ-দারাকুতনি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (মৃত্যু ৩০৬ হিজরি)। (আল-খতিব আল-বাগদাদি: তারিখ বাগদাদ ৪/৮২, ৮৬; আয-যাহাবি: মিযানুল ইতিদাল ১/৯১ ও ২৯৭; ইবনে হাজার: লিসানুল মিযান ১/১৫১)।

২. আল-মুওয়াফাকাহ (ঐক্য): এটি হলো কোনো গ্রন্থকারের ওস্তাদের কাছে তাঁর (গ্রন্থকারের) পথ ছাড়া ভিন্ন পথে উচ্চ সনদের সাথে পৌঁছানো। এখানে আল-মিযযি ও আয-যাহাবি আবু দাউদের ওস্তাদ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের নিকট ছয়জন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে পৌঁছেছেন, অথচ তাঁরা যদি আবু দাউদের পথ হয়ে বর্ণনা করতেন তবে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন পর্যন্ত পৌঁছাতে সাতজন বর্ণনাকারী লাগত। সুতরাং তাঁরা আবু দাউদের ওস্তাদের ক্ষেত্রে আবু দাউদের সাথে একমত হয়েছেন এবং তাঁদের সনদ আবু দাউদের সনদের চেয়ে উচ্চতর।

(ইবনে হাজার: নুযহাতু শারহি নুখবাতিল ফিকার, পৃষ্ঠা ৫১; আল-আব্বাদ ও আব্দুল কারিম মুরাদের আতইয়াবুল মিনাহ ফি ইলমিল মুসতালাহ, পৃষ্ঠা ৫০)।

(আল-মিযযি: তাহযিবুল কামাল ১/১৯; আয-যাহাবি: মিযানুল ইতিদাল ১/২৯৭)।

৪. সম্ভবত ইসমাঈল কখনও হাদিসটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করতেন আবার কখনও মুরসাল হিসেবে।

৫. দেখুন: (ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/১৩৭)। হাদিসটি আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস-এর মুসনাদ থেকে নেওয়া হয়েছে যেমনটি আবু দাউদে এবং আল-মিযযির আল-আতরাফ-এ (৬/২৮১, হাদিস নং ৮৬০৭), আন-নাবলুসির যাখাইরুল মাওয়ারিস-এ (২/১৬৭, হাদিস নং ৪৪৫৮) এবং ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল-এ (১১/৮০৩, হাদিস নং ৯৫২২) রয়েছে। আল-ফিরোযাবাদির আল-কামুসুল মুহিত, আয-যাবিবির তাজুল আরুস, মুহাম্মাদ শামসুল হক আজিমাবাদির আউনুল মাবুদ, আল-মুবারকপুরির তুহফাতুল আহওয়াযি এবং আলবানীর যাইফ আল-জামিউস সাগির-এ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে, সম্ভবত এটি ছিল ইবনে আমর কিন্তু 'ওয়াও' অক্ষরটি পড়ে যাওয়ার কারণে ইবনে উমর হয়ে গেছে। দেখুন: (আল-কামুস ৩/৩৮৫-৩৮৬; তাজুল আরুস ৭/৩৪৮; আউনুল মাবুদ ৮/৩৪৬; তুহফাতুল আহওয়াযি ৪/২৭৯; যাইফ আল-জামিউস সাগির ৬/৩৭-৩৮, হাদিস নং ৬০৯৫)।
(খণ্ড: ১) মারউইয়াতু গাযওয়াতি হুনাইন ওয়া হিসারিত ত্বায়িফ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ابن حجر وغيره: بجهالته، ورواية المجهول مردودة عند جماهير العلماء من أهل الحديث وغيرهم1.

الثالث: أن ثمود من القبائل البائدة التي لم يبق لها عقب، ولذا كان الحجاج بن يوسف الثقفي إذا سمع من يقول بأن "ثقيفا" من بقايا ثمود يقول: كذبوا، قال الله تعالى: {وَثَمُودَ فَمَا أَبْقَى} ، [سورة النجمالآية: 51] ، أي أهلكهم الله ولم يبق منهم أحدا2.

الرابع: لعل سبب نسبة "ثقيف" إلى ثمود هو ما ذكره ابن خلدون: من أن ثمود نزلت الطائف قبل وادي القرى3.

قال: ومن ثم يقال: إن ثقيفاً من بقايا ثمود لكونهم نزلوا الطائف بعد ثمود4.

الخامس: أن الذي عليه جمهور علماء النسب وغيرهم أن "ثقيفا" فرع من هوازن القبيلة الشهيرة كما تقدم5.

السادس: أن هذا الحديث الوارد فيه أن "ثقيفاً" من ثمود لا تقوم به حجة لجهالة راويه "بجير بن أبي بجير"، وهي جهالة عينية ولا يعرف هذا الحديث إلاّ من طريقه، كما تقدم ذلك في ترجمته6.

وأما تحسين المزي لهذا الحديث ففيه نظر، وقد عقب عليه ابن كثير بقوله: قلت: تفرد به بجير بن أبي بجير، ولا يعرف إلا بهذا الحديث، ولم يرو عنه سوى إسماعيل بن أمية.

--------------------------------------------

1 ابن الصلاح: (المقدمة ص144 مع التقييد والإيضاح) . وابن حجر: (نزهة النظر ص39. والسيوطي: تدريب الراوي ص210) .

2 انظر: (الطبري: جامع البيان 27/78. وابن كثير: التفسير 4/259. والقلقشندي: نهاية الأرب ص198. والشوكاني: فتح القدير 5/117. وحمد إبراهيم الحقيل: كنز الأنساب ص149- 150) .

3 وادي القرى: هو واد بين الشام والمدينة وهو بين تيماء وخيبر، ووادي القرى والحجر والجناب منازل قضاعة ثم جهينة وعذرة وبلى، وكانت قديما منازل ثمود وعاد، وبها أهلكهم الله. (معجم البلدان لياقوت الحموي 4/338) .

وقال عاتق بن غيث البلادي: الحجر هو رأس وادي القرى، تقع شمال مدينة العلا بقرابة (22) كيلا وشمال المدينة المنورة ب (322) كيلا. وأهله اليوم قبيلة عنزة. (معجم المعالم الجغرافية ص93) .

(تاريخ ابن خلدون 2/310) .

5 انظر: ص: 28.

6 انظر: ص: 30.
ইবনে হাজার এবং অন্যান্যরা: তার অজ্ঞাত হওয়ার কারণে; আর হাদীস বিশারদ এবং অন্যান্য অধিকাংশ আলেমদের নিকট অজ্ঞাত ব্যক্তির বর্ণনা প্রত্যাখ্যানযোগ্য১।

তৃতীয়ত: সামুদ ছিল বিলুপ্ত বংশধারাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যাদের কোনো উত্তরসূরি অবশিষ্ট নেই। এজন্য হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফী যখন কাউকে বলতে শুনতেন যে, 'সাকাফ' গোত্র সামুদ জাতির অবশিষ্টাংশ, তখন তিনি বলতেন: তারা মিথ্যা বলছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর সামুদ জাতিকেও (ধ্বংস করেছেন), অতঃপর কাউকে বাকি রাখেননি।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৫১], অর্থাৎ আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কাউকে অবশিষ্ট রাখেননি২।

চতুর্থত: সাকাফ গোত্রকে সামুদ জাতির সাথে সম্পৃক্ত করার কারণ সম্ভবত সেটিই যা ইবনে খালদুন উল্লেখ করেছেন: সামুদ জাতি ওয়াদি আল-কুরা এর আগে তায়েফে বসতি স্থাপন করেছিল৩।

তিনি বলেছেন: এ কারণেই বলা হয় যে, সাকাফ গোত্র সামুদ জাতির অবশিষ্টাংশ, কারণ তারা সামুদ জাতির পর তায়েফে বসতি স্থাপন করেছিল৪।

পঞ্চমত: বংশবিদ এবং অন্যান্য অধিকাংশ আলেম যে মত পোষণ করেন তা হলো, 'সাকাফ' গোত্র বিখ্যাত 'হাওয়াজিন' গোত্রের একটি শাখা, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে৫।

ষষ্ঠত: 'সাকাফ' গোত্র সামুদ জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত এই হাদীসটি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এর বর্ণনাকারী 'বুজাইর বিন আবি বুজাইর'-এর অজ্ঞাত হওয়ার কারণে। এটি ব্যক্তি-পরিচয়গত অজ্ঞাততা এবং এই হাদীসটি তার মাধ্যম ছাড়া আর কোনো সূত্রে জানা যায় না, যেমনটি তার জীবনবৃত্তান্তে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে৬।

আর ইমাম মিযযী কর্তৃক এই হাদীসটিকে 'হাসান' (উত্তম) বলা পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। ইবনে কাসীর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: আমি বলি: বুজাইর বিন আবি বুজাইর এই বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন এবং তিনি কেবল এই হাদীসের মাধ্যমেই পরিচিত, আর তার থেকে ইসমাঈল বিন উমাইয়া ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি।

--------------------------------------------

১ ইবনুস সালাহ: (আল-মুকাদ্দিমাহ পৃষ্ঠা ১৪৪, আত-তাকিয়ীদ ওয়াল ইযাহ সহ)। এবং ইবনে হাজার: (নুযহাতুন নাযার পৃষ্ঠা ৩৯। এবং সুয়ূতী: তাদরীবুর রাবী পৃষ্ঠা ২১০)।

২ দেখুন: (তাবারী: জামিউল বায়ান ২৭/৭৮। ইবনে কাসীর: আত-তাফসীর ৪/২৫৯। কালকাশান্দী: নিহায়াতুল আরাব পৃষ্ঠা ১৯৮। শাওকানী: ফাতহুল কাদীর ৫/১১৭। এবং হামাদ ইবরাহিম আল-হাকিল: কানযুল আনসাব পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫০)।

৩ ওয়াদি আল-কুরা: এটি সিরিয়া ও মদীনার মধ্যবর্তী একটি উপত্যকা যা তাইমা ও খাইবারের মাঝখানে অবস্থিত। ওয়াদি আল-কুরা, আল-হিজর এবং আল-জানাব ছিল কুযাআ, এরপর জুহাইনা, উযরা ও বালি গোত্রের বাসস্থান। প্রাচীনকালে এগুলো সামুদ ও আদ জাতির বাসস্থান ছিল এবং এখানেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেছিলেন। (ইয়াকুত আল-হামাভীর মুজামুল বুলদান ৪/৩৩৮)।

আর আতিক বিন গাইস আল-বিলাদী বলেছেন: হিজর হলো ওয়াদি আল-কুরার উপরিভাগ, যা আল-উলা শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তরে এবং মদীনা মুনাওয়ারা থেকে ৩২২ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। বর্তমানে এখানকার অধিবাসী হলো আনাযা গোত্র। (মুজামুল মাআলিম আল-জুগরাফিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৯৩)।

(তারিখে ইবনে খালদুন ২/৩১০)।

৫ দেখুন: পৃষ্ঠা ২৮।

৬ দেখুন: পৃষ্ঠা ৩০।