(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
طبقات علماء إفريقية   (أبو العرب التميمي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: طبقات علماء إفريقية، وكتاب طبقات علماء تونس

المؤلف: محمد بن أحمد بن تميم التميمي المغربي الإفريقي، أبو العرب (ت 333هـ)

الناشر: دار الكتاب اللبناني، بيروت - لبنان

عدد الصفحات: 256

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(تنبيه: هناك جزء بالمطبوع لغير المؤلف، لن تجده في هذا الكتاب الإلكتروني)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইফরীকিয়ার আলেমদের স্তরসমূহ   (আবু আল-আরব আত-তামিমী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


কিতাব: ইফরীকিয়ার আলেমদের স্তরসমূহ, এবং তিউনিসিয়ার আলেমদের স্তরসমূহের কিতাব

লেখক: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন তামীম আত-তামীমী আল-মাগরিবী আল-ইফ্রিকী, আবু আল-আরব (মৃত্যু ৩৩৩ হিজরী)

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-লুবনানী, বৈরুত - লেবানন

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২৫৬

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

(সতর্কবার্তা: ছাপানো কপিতে মূল লেখক ব্যতীত অন্য একজনের একটি অংশ রয়েছে, যা এই ই-বুকটিতে পাবেন না)

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌مَا جَاءَ مِنَ الْفَضَائِلِ فِي إِفْرِيقِيَّةَ

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَحَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ صَاحِبُ مَظَالِمِ سُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، قَالُوا: حَدَّثَنَا سُحْنُونُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَيَأْتِيَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي مِنْ إِفْرِيقِيَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وُجُوهُهُمْ أَشَدُّ نُورًا مِنَ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ»

 

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حَسَّانٍ الْيَحْصِبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ، صلى الله عليه وسلم،
আফ্রিকিয়া প্রসঙ্গে বর্ণিত ফযীলতসমূহ

আবু আল-আরব মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে তামীম বলেন: আমাকে আহমদ ইবনে আবি সুলাইমান, সুহনুন ইবনে সাঈদের অভিযোগ বিভাগের বিচারক হাবীব ইবনে নাসর এবং ঈসা ইবনে মিসকীন বর্ণনা করেছেন; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট সুহনুন ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আন'উম থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন আফ্রিকিয়া থেকে আমার উম্মতের এমন কিছু লোক আসবে, যাদের চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের চেয়েও অধিক উজ্জ্বল হবে।»

 

আবু আল-আরব বলেন: এবং আমার নিকট ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাসান আল-ইয়াহসুবি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আন'উম থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম),...
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢)
قَالَ: «لَيَأْتِيَنَّ أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِي مِنْ أَفْرِيقِيَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وُجُوهُهُمْ أَفْضَلُ نُورًا مِنْ نُورِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ»

 

وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ سُلَيْمَانَ، وَأَبُو مُسْلِمٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْجَهْمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «لَيُحْشَرُونَ قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي مِنْ إِفْرِيقِيَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وُجُوهُهُمْ أَنْوَرُ مِنْ نُورِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ»

وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مُعَاوِيَةَ الصُّمَادِحِيُّ، عَنْ أَبِيهِ مُعَاوِيَةَ الصُّمَادِحِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: " يُحْشَرُ مِنْ إِفْرِيقِيَّةَ قَوْمٌ، وُجُوهُهُمْ مِثْلُ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ

 

وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَابِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْبُهْلُولُ بْنُ رَاشِدٍ، قَالَ: قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: " بِسَاحِلِ قَمُونِيَةَ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، يُقَالُ لَهُ: الْمُنَسْتِيرُ، مَنْ دَخَلَهُ فَبِرَحْمَةِ اللَّهِ، وَمَنْ خَرَجَ مِنْهُ فَبِعَفْوِ اللَّهِ

 

وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ غَانِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: " بِسَاحِلِ قَمُونِيَةَ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، يُقَالُ لَهُ: الْمُنَسْتِيرُ، مَنْ دَخَلَهُ فَبِرَحْمَةِ اللَّهِ، وَمَنْ خَرَجَ عَنْهُ فَبِعَفْوِ اللَّهِ

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو زَكَرِيَّاءَ يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ يُونُسَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ: ذُكِرَ لِي أَنَّ بِإِفْرِيقِيَةَ شِبْهَ جَزِيرَةٍ، هِيَ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، يَقُولُ اللَّهُ، تبارك وتعالى: " وَعِزَّتِي وَجَلالِي، لَوْلا أَنِّي كَتَبْتُ الْمَوْتَ عَلَى خَلْقِي، لأَدْخَلْتُ أَقْوَامًا، يَكُونُونَ بِهَا، الْجَنَّةَ، بِدَوَابِّهِمْ وَأَمْتِعَتِهِمْ حَتَّى لا يَنْزِعُ ثِيَابَهُمْ، إِلا الْحُورُ الْعِينُ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حَسَّانٍ الْيَحْصِبِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ
তিনি বললেন: "কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্য থেকে আফ্রিকা থেকে এমন কিছু লোক আসবে যাদের চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আলোর চেয়েও অধিক উজ্জ্বল হবে।"

 

ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুসা ইবনে সুলায়মান এবং আবু মুসলিম আবদুর রহমান ইবনুল জাহম আমাকে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন আফ্রিকা থেকে আমার উম্মতের একদল লোককে পুনরুত্থিত করা হবে, যাদের চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আলোর চেয়েও অধিক উজ্জ্বল হবে।"

ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুসা ইবনে মুয়াবিয়া আস-সুমাদিহি আমাদের বর্ণনা করেছেন তার পিতা মুয়াবিয়া আস-সুমাদিহি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আফ্রিকা থেকে একদল লোককে পুনরুত্থিত করা হবে, যাদের চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মতো হবে।"

 

ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু মুহাম্মদ খালাফ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাবেসি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: বুহলুল ইবনে রাশিদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আব্বাদ ইবনে কাসীর আমাদের বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে আবি সুলাইম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কামুনিয়ার উপকূলে জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে, যাকে আল-মুনাসতির বলা হয়। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে আল্লাহর রহমতে প্রবেশ করবে এবং যে সেখান থেকে বের হবে সে আল্লাহর ক্ষমার মাধ্যমে বের হবে।"

 

ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: খালাফ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে গানিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে লাহিআহ আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল তুফাইল থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কামুনিয়ার উপকূলে জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে, যাকে আল-মুনাসতির বলা হয়। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে আল্লাহর রহমতে প্রবেশ করবে এবং যে সেখান থেকে বের হবে সে আল্লাহর ক্ষমার মাধ্যমে বের হবে।"

আবু আল-আরব বলেন: ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু যাকারিয়া ইয়াহিয়া ইবনে সুলাইমান আল-হাফারি আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ ইবনে সুলাইমান ইবনে সামআন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আফ্রিকায় একটি উপদ্বীপ রয়েছে যা জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্যে একটি। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: "আমার ইজ্জত ও জালালের কসম! আমি যদি আমার সৃষ্টির উপর মৃত্যু অবধারিত না করতাম, তবে সেখানে বসবাসকারী একদল মানুষকে আমি তাদের বাহন ও আসবাবপত্রসহ জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিতাম, এমনকি ডাগর চোখের হুররা ছাড়া কেউ তাদের পোশাক খুলত না।"

আবু আল-আরব বলেন: ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাসসান আল-ইয়াহসুবি আমাদের বর্ণনা করেছেন তার পিতা থেকে, এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আনাস ইবনে...
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «مَنْ رَابَطَ بِالْمُنَسْتِيرِ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ، وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ» ، قَالَ أَنَسٌ: بَخٍ بَخٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: " نَعَمْ يَا أَنَسُ، وَلَهُ فِي هَذِهِ الثَّلاثَةِ الأَيَّامِ كَأَجْرِ النَّبِيِّينَ، وَالصِّدِّيقِييَن، وَالشُّهَدَاءِ، وَالصَّالِحِينَ

 

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، صَاحِبُ مَظَالِمِ سُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، قَالُوا: حَدَّثَنَا سُحْنُونُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي أَيْضًا فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ مُعَاوِيَةَ، وَسُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، سَرِيَّةً، فَقَفَلُوا، فَذَكَرُوا لِرَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، شِدَّةَ بَرْدِ أَصَابِعِهِمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «لَكِنَّ إِفْرِيقِيَّةَ أَشَدُّ بَرْدًا وَأَعْظَمُ أَجْرًا» ، قَالَ ابْنُ وَهْبٍ فِي حَدِيثِ حَبِيبِ بْنِ نَصْرٍ، وَأَحْمَدَ بْنِ دَاوُدَ، وَعِيسَى بْنِ مِسْكِينٍ، قَالَ سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ: وَحَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ سُوَيْدٍ الْمُزَنِيُّ، مِثْلَهُ

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَحَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَيْضًا عَنْ مُوسَى بْنِ مُعَاوِيَةَ الصُّمَادِحِيِّ، وَسُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ الْجَذْمِيِّ، أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَشْيَاخِهِ، أَنَّهُمْ قَالُوا لِلْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ صَاحِبِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم: إِنَّكَ ثَقُلْتَ، وَإِنَّكَ تَخْرُجُ فِي هَذِهِ الْمَغَازِي، فَقَالَ: خَفِيفًا كُنْتُ أَوْ ثَقِيلا لا أَتَخَلَّفُ عَنْهَا، لأَنَّ اللَّهَ، تبارك وتعالى، يَقُولُ: {انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالا} [التوبة: 41] ، ثُمَّ قَالَ: قَدِمَتْ سَرِيَّةٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرُوا الْبَرْدَ وَالْحَرَّ الَّذِي أَصَابَهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْبَرْدَ الشَّدِيدَ وَالأَجْرَ الْعَظِيمَ لأَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ» .

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ: وَقَدْ كَانَ الْمِقْدَادُ قَدْ دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ، وَأَمَّا قَوْلُهُمْ لَهُ:
মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মোনাসতিরে তিন দিন সীমান্ত পাহারা দেবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।" আনাস (রা.) বললেন: "চমৎকার! চমৎকার! হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "হ্যাঁ হে আনাস, আর এই তিন দিনে তার জন্য রয়েছে নবীগণ, সিদ্দিকীন, শহীদগণ ও নেককারদের অনুরূপ সওয়াব।"

 

আবু আল-আরব বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন হাবীব ইবনে নাসর (যিনি সুহনুন ইবনে সাঈদের মাযালিম বিষয়ক সঙ্গী ছিলেন), আহমাদ ইবনে দাঊদ এবং ঈসা ইবনে মিসকিন। তাঁরা বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুহনুন ইবনে সাঈদ। আবু আল-আরব বলেন: আমার কাছে আরও বর্ণনা করেছেন ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ, তিনি মূসা ইবনে মুয়াবিয়া ও সুহনুন ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইবনুল ওয়াহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব থেকে, তিনি শুরাহবিল ইবনে শারিক থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি ক্ষুদ্র বাহিনী পাঠালেন। তারা যখন ফিরে এলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তাদের আঙুলগুলোতে তীব্র শীত অনুভূত হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "কিন্তু ইফ্রিকার শীত আরও তীব্র এবং সওয়াবও অনেক বেশি।" ইবনুল ওয়াহাব হাবীব ইবনে নাসর, আহমাদ ইবনে দাঊদ এবং ঈসা ইবনে মিসকিনের বর্ণিত হাদিসে বলেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব বলেন: আমার কাছে মুয়াবিয়া ইবনে সুয়াইদ আল-মুযানী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবু আল-আরব বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবি সুলাইমান, হাবীব ইবনে নাসর এবং ঈসা ইবনে মিসকিন। তিনি বলেন: আমার কাছে আরও বর্ণনা করেছেন ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ, তিনি মূসা ইবনে মুয়াবিয়া আস-সুমাগি এবং সুহনুন ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইবনুল ওয়াহাব থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি বকর ইবনে সাওয়াদাহ আল-জাযমি থেকে বর্ণনা করেন যে, সুফিয়ান ইবনে আল-হারিস তাঁদের কাছে তাঁর শিক্ষকদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী মিকদাদ ইবনে আল-আসওয়াদকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আপনি বার্ধক্য বা অসুস্থতার কারণে ভারী হয়ে পড়েছেন, অথচ আপনি এখনও এই যুদ্ধগুলোতে বের হচ্ছেন।" তখন তিনি বললেন: "আমি হালকা থাকি বা ভারী হই, আমি এগুলো থেকে পিছিয়ে থাকব না। কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {তোমরা বের হয়ে পড়ো হালকা অবস্থায় কিংবা ভারী অবস্থায়} [তওবা: ৪১]। অতঃপর তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে একটি ক্ষুদ্র বাহিনী এল। তারা তাদের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীত ও গরমের কথা উল্লেখ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই ইফ্রিকার অধিবাসীদের জন্য রয়েছে তীব্র শীত এবং মহান সওয়াব।"

মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে তামিমি বলেন: মিকদাদ ইফ্রিকা অভিযানে প্রবেশ করেছিলেন। আর তাঁকে তাদের বলা কথাটি হলো:
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
«إِنَّكَ ثَقُلْتَ» ، فَإِنَّهُ كَانَ عَظِيمَ الْبَطْنِ، فَشُقَّ جَوْفُهُ، فَاسْتُخْرِجَ مِنْهَا شَحْمٌ، ثُمَّ شُقَّ ثَانِيَةً فَمَاتَ رحمه الله.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، عَنْ سُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ، يَذْكُرُ أَنَّ الْمِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ كَانَ غَزَا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ أَهْلَ إِفْرِيقِيَّةَ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حَسَّانٍ الْيَحْصِبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، وَمُوسَى بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم: " يَنْقَطِعُ الْجِهَادُ مِنَ الْبُلْدَانِ كُلِّهَا، فَلا يَبْقَى إِلا بِمَوْضِعٍ هُوَ فِي الْمَغْرِبِ، يُقَالُ لَهُ: إِفْرِيقِيَّةُ، فَبَيْنَمَا الْقَوْمُ بِإِزَاءِ عَدُوِّهِمْ، نَظَرُوا إِلَى الْجِبَالِ قَدْ سُيِّرَتْ، فَيَخِرُّونَ لِلَّهِ، تبارك وتعالى، سُجَّدًا، فَلا يَنْزِعُ عَنْهُمْ أَخْلاقَهُمْ، يَعْنِي: ثِيَابَهُمْ، إِلا خُدَّامُهُمْ فِي الْجَنَّةِ

 

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو شَيْخٍ الْمُفَسِّرُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " الْمُنَسْتِيرُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، يُقَالُ لَهُ: الأَنْفُ، وَدُونَهُ قَنْطَرَةٌ مِنْ قَنَاطِرِ الأَوَّلِينَ "

 

قَالَ فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ: وَحَدَّثَنِي أَبُو الْحَجَّاجِ رَبَاحُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ فَرُّوخَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: الْمُنَسْتِيرُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، فَبَيْنَمَا هُمْ فِي الصَّلاةِ إِذْ سَمِعُوا هَدَّةً، فَبَعَثُوا رَسُولا لِيَأْتِيَهُمْ بِالْخَبَرِ، فَمَا لَبِثُوا أَنِ انْصَرَفُوا، فَقَالُوا لَهُ: مَا صَرَفَكَ؟ قَالَ: سُيِّرَتِ
«নিশ্চয়ই তুমি ভারী হয়ে গিয়েছো», কারণ তিনি বড় উদর বিশিষ্ট ছিলেন। ফলে তাঁর পেট চেরা হলো এবং তা থেকে চর্বি বের করা হলো। এরপর দ্বিতীয়বার চেরা হলো এবং তিনি ইন্তেকাল করলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

আবু আল-আরব বলেন: আমার কাছে হাবিব ইবনে নাসর, আহমদ ইবনে আবি সুলাইমান এবং ঈসা ইবনে মিসকিন বর্ণনা করেছেন সুহনুন ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইবনুল ওয়াহাব থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবকে বলতে শুনেছেন যে, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ আবদুল্লাহ ইবনে সা’দের সাথে আফ্রিকার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।

আবু আল-আরব বলেন: আমার কাছে ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাসসান আল-ইয়াহসুবি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ ইবনে আনউম ও মুসা ইবনে মুয়াবিয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সমস্ত দেশ থেকে জিহাদ বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে মরক্কোর (মাগরিব) একটি স্থান ব্যতীত আর কোথাও তা অবশিষ্ট থাকবে না, যাকে বলা হয়: আফ্রিকা। এমতাবস্থায় যে দলটি তাদের শত্রুর মোকাবিলায় থাকবে, তারা দেখতে পাবে যে পাহাড়গুলো সরিয়ে দেয়া হয়েছে, তখন তারা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়বে। জান্নাতে তাদের খাদেমরা ব্যতীত আর কেউ তাদের 'আখলাক'—অর্থাৎ তাদের পোশাক—খুলে নেবে না।"

 

আবু আল-আরব বলেন: আমার কাছে ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আবু শাইখ আল-মুফাসসির বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ ইবনে আনউম থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মুনাসতির জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্যে একটি দরজা, যাকে বলা হয়: আল-আনফ (নাসিকা), আর এর সামনে পূর্ববর্তীদের একটি সেতু রয়েছে।"

 

ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ বলেন: আমার কাছে আবু আল-হাজ্জাজ রাবাহ ইবনে সাবিত বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ফাররুখ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ ইবনে আনউম থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মুনাসতির জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্যে একটি। এমতাবস্থায় যে তারা সালাতে ছিল, হঠাৎ তারা একটি বিকট শব্দ শুনতে পেল। তখন তারা খবর আনার জন্য একজন বার্তাবাহক পাঠাল। তারা ফিরে আসতে না আসতেই সে ফিরে এল। তারা তাকে জিজ্ঞেস করল: তোমাকে কিসে ফিরিয়ে আনল? সে বলল: সরিয়ে দেয়া হয়েছে..."
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
الْجِبَالُ، فَيَخِرُّونَ سُجَّدًا لِلَّهِ، عز وجل، فَيَقُولُ اللَّهُ، تبارك وتعالى: «يَا أَهْلَ مُنَسْتِيرَ، لَوْلا أَنِّي كَتَبْتُ الْمَوْتَ عَلَى خَلْقِي، لأَدْخَلْتُكُمُ الْجَنَّةَ بِأَوْسَاخِ ثِيَابِكُمْ» ، فَيَخْرُجُ عَلَيْهِمْ رِيحٌ صَفْرَاءُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْقِبْلَةِ، فَتَخْرُجُ أَرْوَاحُهُمْ، فَمَا يَنْزِعُ عَنْهُمْ أَخْلاقَهُمْ، إِلا أَزْوَاجُهُمْ وَخَدَمُهُمْ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ

قَالَ فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ: وَحَدَّثَنِي أَبُو زَكَرِيَّاءَ الْحَرَّازُ يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ الْحَفَرِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ الْبُهْلُولَ بْنَ رَاشِدٍ، يَقُولُ لِوَزِيرِ هَرْثَمَةَ بْنِ أَعْيَنَ حِينَ اسْتَشَارَهُ فِي بُنْيَانِ الْمُنَسْتِيرِ، قَالَ: فَعَدَّدَ لَهُ أَنَّ هَرْثَمَةَ بَنَى بِأَرْمِينِيَةَ، وَمِنْ غَيْرِ مَوْضِعٍ، فَقَالَ لَهُ الْبُهْلُولُ بْنُ رَاشِدٍ: مَا ذَكَرْتَ شَيْئًا إِلا وَالْمُنَسْتِيرُ أَفْضَلُ مِنْهُ، وَذَلِكَ أَنَّهُ بَلَغَنِي عَنِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، " أَنَّهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: حَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو زَكَرِيَّاءَ يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ الْحَفَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ خَالِدٍ الزَّنْجِيِّ، قَالَ: بَيْنَمَا أَقْوَامٌ يُرَابِطُونَ فِي شِبْهِ جَزِيرَةٍ، يُقَالُ لَهَا: الْمُنَسْتِيرُ، وَبِهَا سَبْخَةٌ، فِيهَا قَنْطَرَةٌ، إِذْ سَمِعُوا هَدَّةً، فَبَعَثُوا خَيْلا لَهُمْ تَأْتِيهِمْ بِالْخَبَرِ، فَرَجَعُوا إِلَيْهِمْ، فَأَخْبَرُوهُمْ أَنَّ الْجِبَالَ قَدْ سُيِّرَتْ، فَيَخِرُّونَ لِلَّهِ، تبارك وتعالى، سُجَّدًا، فَلا يَنْزِعُ عَنْهُمْ أَخْلاقَهُمْ إِلا الْحُورُ الْعِينُ.

 

وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حَسَّانٍ الْيَحْصِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي أَبُو حَسَّانٍ الْيَحْصِبِيُّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ الْجُذَامِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: " مَنْ أَتَى إِفْرِيقِيَّةَ، لَقِيَ خَيْرًا وَخَبْرًا

وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حَسَّانٍ الْيَحْصِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي
পাহাড়সমূহ; অতঃপর তারা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হবে। তখন বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ বলবেন: «হে মুনাসতীরের অধিবাসীগণ! আমি যদি আমার সৃষ্টির ওপর মৃত্যু নির্ধারণ না করতাম, তবে তোমাদের কাপড়ের ময়লাসহই তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাতাম।» অতঃপর পূর্ব দিক ও কেবলার মধ্যবর্তী স্থান থেকে তাদের ওপর একটি পীত বর্ণের (হলুদ) বাতাস প্রবাহিত হবে এবং তাদের রূহসমূহ কবজ হয়ে যাবে। ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের মধ্য থেকে তাদের স্ত্রী ও সেবিকাগণ ব্যতীত আর কেউই তাদের পরিধেয় বস্ত্রসমূহ খুলবে না।

ফুরাত ইবনে মুহাম্মাদ বলেন: আবু যাকারিয়া আল-হাররায ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান আল-হাফারী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বুহলুল ইবনে রাশিদকে হারসামা ইবনে আয়্যানের উজিরের সাথে আলাপ করতে শুনেছি যখন তিনি মুনাসতীর নির্মাণের ব্যাপারে তার পরামর্শ চেয়েছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: উজির তার নিকট হারসামা আরমেনিয়ায় এবং আরও অনেক স্থানে যা কিছু নির্মাণ করেছেন তার বর্ণনা দিলেন। তখন বুহলুল ইবনে রাশিদ তাকে বললেন: আপনি যা কিছু উল্লেখ করেছেন মুনাসতীর তার সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর তা এজন্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, "নিশ্চয়ই এটি জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্য হতে একটি দরজা।"

আবুল আরব বলেন: ফুরাত ইবনে মুহাম্মাদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান আল-হাফারী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে খালিদ আয-যানজী থেকে, তিনি বলেন: একদল লোক মুনাসতীর নামক এক উপদ্বীপে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছিল, সেখানে একটি লোনা জলাভূমি ও একটি সেতু ছিল। হঠাৎ তারা এক বিকট শব্দ শুনতে পেল। তখন তারা সংবাদ সংগ্রহের জন্য তাদের অশ্বারোহী দল পাঠাল। তারা তাদের নিকট ফিরে এসে খবর দিল যে, পাহাড়সমূহ সচল হয়ে পড়েছে। তখন তারা বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরগণ ব্যতীত আর কেউই তাদের পরিধেয় বস্ত্রসমূহ খুলবে না।

 

ফুরাত ইবনে মুহাম্মাদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাসসান আল-ইয়াহসুবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু হাসসান আল-ইয়াহসুবী যিয়াদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আনউম থেকে, তিনি বকর ইবনে সাওয়াদাহ আল-জুযামী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আফ্রিকায় আসবে, সে কল্যাণ ও সুসংবাদ লাভ করবে।"

ফুরাত ইবনে মুহাম্মাদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাসসান আল-ইয়াহসুবী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
أَبُو الْخَيَّارِ الأَسْلَمِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ خَالِدَ بْنَ حَيَّانَ بْنِ الأَعْيَنِ الْحَضْرَمِيَّ، يَقُولُ: بَلَغَنِي أَنَّ تُبَيْعًا، قَالَ: هَذِهِ الْكُدْيَةُ جَاءَتْ إِلَى اللَّهِ، تبارك وتعالى، يَوْمَ الطُّوفَانِ، فَقَالَ لَهَا: «اسْكُنِي فَإِنِّي سَأَدْفِنُ فِيكِ شُهَدَاءً» يَعْنِي: الْمَقْبَرَةَ الْعُظْمَى نَحْوَ بَابِ سَلَمٍ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي مُهَاجِرٍ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ كنوس، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «سَيَنْقَطِعُ الْجِهَادُ مِنْ كُلِّ الْبِلادِ، وَسَيُعوُد إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ، وَلَتَضْرِبَنَّ الْقَبَائِلُ مِنَ الأَفَاقِ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ، لِعَدْلِ إِمَامِهِمْ، وَرُخْصِ أَسْعَارِهِمْ وَفَتْحٍ فِيهِمْ» ، قَالَ كنوس، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ: «إِنَّ الإِمَامَ الَّذِي يَنْشُرُ الْعَدْلَ بِإِفْرِيقِيَّةَ، يَلِيهِمْ سَبْعًا وَثَلاثِينَ سَنَةً» ، قَالَ كنوس: وَغَيْرُ أَبِي زِيَادٍ، يَقُولُ: يَلِيهِمْ ثَلاثًا وَعِشْرِينَ سَنَةً.

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ، وَأَخْبَرَنِي جَبَلَةُ بْنُ حَمُّودٍ الصَّدَفِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ سُحْنُونَ بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ: «كَانَ بِإِفْرِيقِيَّةَ رِجَالٌ عُدُولٌ، بَعْضُهُمْ بِالْقَيْرَوَانِ، وَتُونُسَ وَطَرَابُلْسَ» وَذَكَرَ مِنْ فَضْلِهِمْ، وَمَا أُرِيَ مِنْهُمْ، فَقَالَ: لَوْ قُرِنُوا إِلَى مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ لَسَاوَوْهُ، يُرِيدُ: فِي الْحَالِ.

 

قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَسْطَامٍ الضَّبِّيُّ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ الْكُوفِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ، قَالَ: ذُكِرَ لأَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الرَّقَاشِيِّ، حَدِيثُ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ: «أَنَّ أَهْلَ الْمَغْرِبِ فِي الدُّنْيَا أَهْلُ الْمَغْرِبِ فِي الآخِرَةِ» ، قَالَ: قَدْ سَمِعْتُ مِنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، يُحَدِّثُ بِهِ عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، فَعَرَفْتُ أَنَّ ذَلِكَ كَذَلِكَ، فَمَا حَدَّثْتُ بِهِ أَحَدًا بَعْدُ

قَالَ: وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ
আবু আল-খাইয়ার আল-আসলামি বলেন: আমি খালিদ ইবনে হায়য়ান ইবনুল আ'ইয়ান আল-হাদরামিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তুবা' বলেছেন: মহাপ্লাবনের দিন এই টিলাটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কাছে এসেছিল। তখন তিনি একে বলেছিলেন: "তুমি স্থির থাকো, কারণ আমি শীঘ্রই তোমার মধ্যে শহীদদের দাফন করব।" অর্থাৎ: বাব-এ সালামের নিকটবর্তী বড় কবরস্থানটি।

আবু আল-আরব বলেন: আমার কাছে ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে ঈসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান ইবনে আবি মুহাজির আল-আনসারি কুনুস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আন'উম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: "শীঘ্রই সমস্ত দেশ থেকে জিহাদ বন্ধ হয়ে যাবে এবং তা ইফরীকিয়ায় (আফ্রিকা) ফিরে আসবে। দিগন্তের গোত্রসমূহ তাদের ইমামের ন্যায়বিচার, পণ্যের স্বল্পমূল্য এবং তাদের বিজয়ের কারণে ইফরীকিয়ার দিকে ছুটে আসবে।" কুনুস আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আন'উম থেকে বর্ণনা করেন: "নিশ্চয়ই যে ইমাম ইফরীকিয়ায় ন্যায়বিচার বিস্তার করবেন, তিনি সাইত্রিশ বছর তাদের শাসন করবেন।" কুনুস বলেন: আবু যিয়াদ ব্যতীত অন্য কেউ বলেন, তিনি তাদের তেইশ বছর শাসন করবেন।

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে তামিমি বলেন: আমাকে জাবালা ইবনে হাম্মুদ আস-সাদাফি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সুহনুন ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: "ইফরীকিয়ায় অনেক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন, যাদের কেউ কায়রাওয়ানে, তিউনিসে এবং ত্রিপোলিতে ছিলেন।" তিনি তাদের মর্যাদা এবং তাদের থেকে যা প্রত্যক্ষ করা হয়েছে তা উল্লেখ করে বলেন: যদি তাদেরকে মালিক ইবনে দিনারের সাথে তুলনা করা হতো, তবে তারা আধ্যাত্মিক অবস্থায় তাঁর সমকক্ষ হতেন।

 

তিনি বলেন: আমার কাছে মুহাম্মদ ইবনে বাসতাম আদ-দাব্বি আবুল হাসান আল-কুফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাকাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আর-রাকাশির নিকট সালমান আল-ফারিসি থেকে বর্ণিত আবু উসমান আন-নাহদির হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছিল যে: "দুনিয়াতে যারা পশ্চিমের অধিবাসী, আখিরাতেও তারাই পশ্চিমের অধিবাসী হবেন।" তিনি বললেন: আমি আবু উসমান আন-নাহদিকে সালমান আল-ফারিসি থেকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে বিষয়টি এমনই, এরপর আমি কাউকে আর এটি বর্ণনা করিনি।

তিনি বলেন: আমার কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে ইয়াহইয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন... থেকে।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي كُرَيْمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، قَالَ: كُنْتُ وَأَنَا غُلامٌ مَعَ عَمِّي بِقَرْطَاجَنَّةَ، فَإِذَا بِقَبْرٍ مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ بِالْحِمْيَرِيَّةِ: «أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الأَرَاشِيِّ، رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صَالِحٍ النَّبِيِّ، بَعَثَنِي إِلَى أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ، أَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ أَتَيْتُهُمْ ضُحًى، فَقَتَلُونِي ظُلْمًا، حَسِيبُهُمُ اللَّهُ» .

قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ: وَرَوَاهُ غَيْرُ دَاوُدَ.

قَالَ: وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، أَيْضًا قَالَ: حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ جَابِرِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، قَالَ: خَرَجْتُ إِلَى قَرْطَاجَنَّةَ مَعَ عَمٍّ لِي، فَأَصَبْتُ كَهَيْئَةِ الدَّرَجِ، يَعْنِي: مِثْلَ الْقَبْرِ، فَإِذَا فِيهِ رَجُلٌ مُسَجًّى عَلَيْهِ ثَوْبٌ، وَإِذَا مَكْتُوبٌ عِنْدَ رَأْسِهِ: «أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الأَرَاشِيِّ، رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ شُعَيْبٍ، إِلَى أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ، أَتَيْتُهُمْ ضُحًى، فَقَتَلُونِي ظُلْمًا، حَسِيبُهُمُ اللَّهُ» .

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ: فَاخْتَلَفَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي كُرَيْمَةَ، وَجَابِرُ بْنُ عُثْمَانَ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: صَالِحٍ، وَقَالَ الآخَرُ: شُعَيْبٍ، فَاللَّهُ أَعْلَمُ أَيُّ ذَلِكَ الصَّوَابُ.

قَالَ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو زَكَرِيَّاءَ يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ الْحَفَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي كُرَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، قَالَ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ عَمٍّ لِي بِقَرْطَاجَنَّةَ، فَمَرَرْنَا بِقَبْرٍ مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ بِالْحِمْيَرِيَّةِ: «أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الأَرَاشِيِّ، رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صَالِحٍ، بَعَثَنِي إِلَى أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ، أَتَيْتُهُمْ ضُحًى، فَقَتَلُونِي ظُلْمًا، حَسِيبُهُمُ اللَّهُ» .

قَالَ فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ: الأَرَاشُ فَخْذٌ مِنْ بُلَيٍّ.

 

قَالَ: سَمِعْتُ بَعْضَ الْمَشَايِخِ مِمَّنْ كَانَ يَرْوِي الْبِدَائِيَّ، مِنَ الأَخْبَارِ،
আবদুল মালিক ইবনে আবি কুরায়মাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বালক থাকা অবস্থায় আমার চাচার সাথে কার্টাজে ছিলাম। সেখানে একটি কবর দেখলাম যাতে হিময়ারী ভাষায় লেখা ছিল: "আমি আল্লাহর রাসূল সালেহ নবীর প্রেরিত দূত আবদুল্লাহ ইবনে আল-আরাশি। তিনি আমাকে এই জনপদের অধিবাসীদের কাছে পাঠিয়েছিলেন যাতে আমি তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আমি তাদের কাছে পূর্বাহ্নে এসেছিলাম, কিন্তু তারা অন্যায়ভাবে আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহই তাদের হিসাব গ্রহণকারী।"

তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আল-ওয়ালিদ বলেছেন: দাউদ ব্যতীত অন্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আল-ওয়ালিদ আমাকে আরও বলেছেন: দাউদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাকে জাবির ইবনে উসমান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার এক চাচার সাথে কার্টাজে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি সিঁড়ির মতো একটি কাঠামো পেলাম—অর্থাৎ কবরের মতো। তার ভেতরে একজন লোক কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় ছিলেন। তার শিয়রে লেখা ছিল: "আমি আল্লাহর রাসূল শুআইবের প্রেরিত দূত আবদুল্লাহ ইবনে আল-আরাশি। তিনি আমাকে এই জনপদের অধিবাসীদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। আমি তাদের কাছে পূর্বাহ্নে এসেছিলাম, কিন্তু তারা অন্যায়ভাবে আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহই তাদের হিসাব গ্রহণকারী।"

মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে তামিম বলেন: আবদুল মালিক ইবনে আবি কুরায়মাহ এবং জাবির ইবনে উসমান মতভেদ করেছেন। তাদের একজন বলেছেন: (নবী) সালেহ, আর অন্যজন বলেছেন: (নবী) শুআইব। আল্লাহই ভালো জানেন কোনটি সঠিক।

তিনি বলেন: ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বলেছেন: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান আল-হাফারি আমাদের বলেছেন: আবদুল মালিক ইবনে আবি কুরায়মাহ আমাদের বলেছেন: আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম আমাদের বলেছেন: আমি কার্টাজে আমার এক চাচার সাথে হাঁটছিলাম। তখন আমরা একটি কবরের পাশ দিয়ে গেলাম যাতে হিময়ারী ভাষায় লেখা ছিল: "আমি আল্লাহর রাসূল সালেহের প্রেরিত দূত আবদুল্লাহ ইবনে আল-আরাশি। তিনি আমাকে এই জনপদের অধিবাসীদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। আমি তাদের কাছে পূর্বাহ্নে এসেছিলাম, কিন্তু তারা অন্যায়ভাবে আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহই তাদের হিসাব গ্রহণকারী।"

ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ বলেন: আরাশ হলো বুলি গোত্রের একটি শাখা।

 

তিনি বলেন: আমি এমন কয়েকজন শায়খকে বলতে শুনেছি যারা প্রাচীন ইতিহাস বা সংবাদসমূহ বর্ণনা করতেন,
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
يُحَدِّثُ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الْمَلِكِ الْمَلْشُونِيِّ، أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ نَافِعٍ، كَانَ مَعَهُ فِي عَسْكَرِهِ خَمْسَةٌ وَعِشْرُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، وَأَنَّ عُقْبَةَ جَمَعَ وُجُوهَ أَصْحَابِهِ وَأَهْلَ الْعَسْكَرِ، فَدَارَ بِهِمْ حَوْلَ مَدِينَةِ الْقَيْرَوَانِ، وَأَقْبَلَ يَدْعُو لَهَا، وَيَقُولُ فِي دُعَائِهِ: «اللَّهُمَّ امْلأْهَا عِلْمًا وَفِقْهًا، وَاعْمُرْهَا بِالْمُطِيعِينَ، وَالْعَابِدِينَ، وَاجْعَلْهَا عِزًّا لِدِينِكَ، وَذُلا لِمَنْ كَفَرَ بِكَ، وَأَعِزَّ بِهَا الإِسْلامَ، وَامْنَعْهَا مِنْ جَبَابِرَةِ الأَرْضِ» ، قَالَ: «فَتِلْكَ مَعْصُومَةٌ مِنْ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ» .

وَإِنَّمَا كَانَ دُعَاءُ عُقْبَةَ لَهَا بَعْدَ مَا عَمَّرَهَا فِي غَزْوَتِهِ الثَّانِيَةِ، وَخَرَّبَ تِيكَرْوَانَ الَّتِي كَانَ اتَّخَذَهَا أَبُو الْمَهَاجِرِ دِينَارٌ قَيْرَوَانَ

 

قَالَ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي لَهِيعَةَ، أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ نَافِعٍ، لَمَّا قَدِمَ إِفْرِيقِيَّةَ وَقَفَ عَلَى وَادِي الْقَيْرَوَانِ، فَقَالَ: «يَا أَهْلَ الْوَادِي اظْعَنُوا، فَإِنَّا نَازِلُونَ، وَإِنَّا مَنْ وَجَدْنَاهُ فَقَلْنَاهُ» ، قَالَ: «فَرِئْنَ يَخْرُجْنَ مِنْ أَحْجَارِهِنَّ هَوَارِبَ، فَلَمْ يَزَالُوا يَنْظُرُونَ إِلَيْهَا حَتَّى أَوْجَعَتْهُمُ الشَّمْسُ، وَلَمْ يَرَوْا مِنْهَا شَيْئًا، فَنَزَلُوا الْوَادِي» ، قَالَ ابْنُ لَهِيعَةَ: وَكَانَ يُقَالُ: إِنَّ عُقْبَةَ بْنَ نَافِعٍ كَانَ مُسْتَجَابًا

قَالَ عِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ وَاقِدٍ الْوَاقِدِيُّ، حَدَّثَنِي الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ الرُّعَيْنِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ جُنْدِ مُضَرَ، قَالَ: " قَدِمْنَا إِفْرِيقِيَّةَ مَعَ عُقْبَةَ بْنِ نَافِعٍ، وَهُوَ أَوَّلُ النَّاسِ اخْتَلَطَ الْقَيْرَوَانَ، وَقَطَعَهَا لِلنَّاسِ مَسَاكِنَ وَدُورًا، وَبَنَى مَسْجِدَهَا وَهُوَ خَيْرُ وَالٍ وَخَيْرُ أَمِيرٍ.

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ، وَقَدْ حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَحَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ صَاحِبُ مَظَالِمِ سُحْنُونٍ، وَغَيْرُهُمَا، عَنْ سُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ وَاهِبٍ،
ইসহাক ইবনে আবি আবদিল মালিক আল-মালশুনি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উকবা ইবনে নাফে-এর সাথে তাঁর সেনাবাহিনীতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পঁচিশজন সাহাবি ছিলেন। উকবা তাঁর সঙ্গীদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সেনাবাহিনীর লোকদের একত্রিত করলেন এবং তাদের নিয়ে কায়রোয়ান শহরের চারপাশে ঘুরলেন। তিনি শহরের জন্য দোয়া করতে শুরু করলেন এবং তাঁর দোয়ায় বলছিলেন: «হে আল্লাহ! একে ইলম ও ফিকহ দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিন, একে আপনার অনুগত ও ইবাদতকারীদের দ্বারা আবাদ করুন, একে আপনার দ্বীনের জন্য সম্মানের এবং আপনার প্রতি কুফরি কারীদের জন্য লাঞ্ছনার কারণ বানান। এর মাধ্যমে ইসলামকে সম্মানিত করুন এবং একে জমিনের স্বৈরশাসকদের থেকে সুরক্ষিত রাখুন»। তিনি বলেন: «তাই এই শহরটি প্রত্যেক অবাধ্য স্বৈরশাসক থেকে সুরক্ষিত»।

উকবার এই দোয়াটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় যুদ্ধের পর শহরটি আবাদ করার সময়, যখন তিনি তিকরওয়ান ধ্বংস করেছিলেন যেটিকে আবু মুহাজির দিনার কায়রোয়ান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

 

তিনি বলেন: ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আবু লাহিআহ থেকে বর্ণনা করেন যে, উকবা ইবনে নাফে যখন ইফরীকিয়াতে আসলেন, তখন তিনি কায়রোয়ানের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে বললেন: «হে এই উপত্যকার অধিবাসীরা! তোমরা প্রস্থান করো, কারণ আমরা এখানে বসতি স্থাপন করব। এরপর আমরা যাকে পাব তাকে হত্যা করব»। তিনি বলেন: «অতঃপর দেখা গেল যে প্রাণীরা তাদের গর্ত থেকে পলায়নরত অবস্থায় বেরিয়ে আসছে। তারা সেগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল যতক্ষণ না রোদের প্রখরতা তাদের কষ্ট দিল এবং তারা সেগুলোর আর কিছুই দেখতে পেল না। এরপর তারা উপত্যকায় অবতরণ করল»। ইবনে লাহিআহ বলেন: বলা হতো যে, উকবা ইবনে নাফে ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়)।

ঈসা ইবনে মিসকিন বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ওয়াকিদ আল-ওয়াকিদি বলেছেন, মুফাদদাল ইবনে ফাদালাহ আল-রুআইনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি বলেন: মুদার গোত্রের সৈন্যবাহিনীর এক ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা উকবা ইবনে নাফে-এর সাথে ইফরীকিয়াতে এসেছি। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কায়রোয়ানের সীমানা নির্ধারণ করেছেন এবং মানুষের জন্য আবাসস্থল ও ঘরবাড়ি হিসেবে তা বন্টন করেছেন। তিনি এর মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম গভর্নর ও সর্বোত্তম আমির।"

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে তামিমি বলেন, আহমদ ইবনে আবি সুলাইমান এবং সুহনূনের অভিযোগ বিভাগের সঙ্গী হাবিব ইবনে নাসর ও অন্যান্যরা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সুহনূন ইবনে সাইদ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে,
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ ، غَزَا قَبْلَ ذَلِكَ إِفْرِيقِيَّةَ، يَعْنِي: قَبْلَ عُقْبَةَ بْنِ نَافِعٍ، فَأَتَى وَادِي قَيْرَوَانَ، فَبَاتَ عَلَيْهِ هُوَ وَأَصْحَابُهُ، حَتَّى إِذَا أَصْبَحَ وَقَفَ عَلَى رَأْسِ الْوَادِي، فَقَالَ: «يَا أَهْلَ الْوَادِي، اظْعَنُوا فَإِنَّا نَازِلُونَ» ، قَالَ ذَلِكَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ، فَجَعَلَتِ الْعَقَارِبُ وَالْحَيَّاتُ وَغَيْرُهَا، مِمَّا لا يُعْرَفُونَ مِنَ الدَّوَابِّ، تَخْرُجُ ذَاهِبَةً، وَهُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ إِلَيْهَا، مِنْ حِينِ أَصْبَحُوا حَتَّى أَوْجَعَتْهُمُ الشَّمْسُ، وَحَتَّى لَمْ يَرَوْا مِنْهَا شَيْئًا، فَنَزَلُوا الْوَادِي عِنْدَ ذَلِكَ.

قَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ: وَحَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ الْعَجْلانِ: " أَنَّ أَهْلَ إِفْرِيقِيَّةَ أَقَامُوا بَعْدَ ذَلِكَ أَرْبَعِينَ سَنَةً، وَلَوِ الْتَمَسْتَ حَيَّةً، أَوْ عَقْرَبَ بِأَلْفِ دِينَارٍ مَا وَجَدْتَ.

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ: فَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ فِي حَدِيثِهِ هَذَا: إِنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ هُوَ الَّذِي فَعَلَ هَذَا، وَغَيْرُ ابْنِ وَهْبٍ يَقُولُ: لا، بَلْ عُقْبَةُ بْنُ نَافِعٍ هُوَ الَّذِي فَعَلَ، وَعُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ صَاحِبٌ، وَعُقْبَةُ بْنُ نَافِعٍ لا صُحْبَةَ لَهُ.

 

قَالَ: وَحَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، عَنْ سُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ نَافِعٍ الْفِهْرِيَّ، قَدِمَ مِنْ عِنْدِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ فِي جَيْشٍ عَلَى غَزْوَةِ الْمَغْرِبِ، فَمَرَّ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، وَهُوَ بِمِصْرَ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو: «يَا عُقْبَةُ، لَعَلَّكَ مِنَ الْجَيْشِ الَّذِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِرِجَالِهِمْ» ، قَالَ: فَمَضَى بِجَيْشِهِ حَتَّى قَابَلَ الْبَرْبَرَ، وَهُمْ كُفَّارٌ فَقُتِلُوا جَمِيعًا.

قَالَ ابْنُ تَمِيمٍ: كَانَ هَذَا فِي غَزْوَةِ عُقْبَةَ بْنِ نَافِعٍ الثَّانِيَةِ إِفْرِيقِيَّةَ، وَقُتِلَ، رحمه الله، هُوَ وَأَصْحَابُهُ بِنَاحِيَةِ تَهُودَهْ، وَقَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ: بَلَغَنَا أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ غَزَا قَبْلَ ذَلِكَ إِفْرِيقِيَّةَ

 

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَقَرَأْتُ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الْمَلِكِ الْمَلْشُونِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مُقَاتِلٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، وَشَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، أَنَّ هَذِهِ الْبُقْعَةَ الْمَلْعُونَةَ، الَّتِي
লায়স ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, উকবা ইবনে আমির এর আগে আফ্রিকা আক্রমণ করেছিলেন, অর্থাৎ উকবা ইবনে নাফির আগে। তিনি কায়রাওয়ান উপত্যকায় আসলেন এবং তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সেখানে রাত কাটালেন। যখন ভোর হলো, তিনি উপত্যকার মুখে দাঁড়িয়ে বললেন: "হে উপত্যকার অধিবাসীরা! তোমরা এখান থেকে চলে যাও, কারণ আমরা এখানে অবস্থান করব।" তিনি এটি তিনবার বললেন। ফলে বিচ্ছু, সাপ এবং অন্যান্য অপরিচিত জীবজন্তু দলে দলে বের হয়ে যেতে লাগল। তাঁরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন, ভোর থেকে শুরু করে সূর্যের তাপ প্রখর হওয়া পর্যন্ত, এমনকি তাঁরা যখন আর কিছুই দেখতে পেলেন না, তখন তাঁরা উপত্যকায় অবতরণ করলেন।

লায়স ইবনে সাদ বলেন: জিয়াদ ইবনুল আজলান আমাকে বর্ণনা করেছেন যে: "এরপর আফ্রিকার মানুষ সেখানে চল্লিশ বছর বসবাস করেছেন, আর যদি আপনি এক হাজার দিনারের বিনিময়েও কোনো সাপ বা বিচ্ছু খুঁজতেন, তবে তা খুঁজে পেতেন না।

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে তামিম বলেন: ইবনে ওয়াহাব তাঁর এই বর্ণনায় বলেছেন: নিশ্চয়ই উকবা ইবনে আমির এটি করেছিলেন। তবে ইবনে ওয়াহাব ছাড়া অন্য বর্ণনাকারীরা বলেন: না, বরং উকবা ইবনে নাফি এটি করেছিলেন। উকবা ইবনে আমির একজন সাহাবী ছিলেন, আর উকবা ইবনে নাফি সাহাবী ছিলেন না।

 

তিনি বলেন: হাবিব ইবনে নাসর, আহমদ ইবনে আবি সুলাইমান এবং ঈসা ইবনে মিসকিন আমাকে বর্ণনা করেছেন সুহনুন ইবনে সাইদ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি লায়স ইবনে সাদ থেকে যে, উকবা ইবনে নাফি আল-ফিহরি ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে মাগরিব অভিযানের উদ্দেশ্যে একটি সেনাবাহিনী নিয়ে আসলেন। তিনি মিশরে আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁকে বললেন: "হে উকবা! সম্ভবত আপনি সেই বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত যারা পদব্রজে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তিনি বলেন: অতঃপর উকবা তাঁর বাহিনী নিয়ে এগিয়ে গেলেন এবং বার্বারদের সম্মুখীন হলেন, তারা ছিল কাফের; ফলে তারা সবাই নিহত হলো।

ইবনে তামিম বলেন: এটি ছিল আফ্রিকায় উকবা ইবনে নাফির দ্বিতীয় অভিযানে। তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা তাহুদা অঞ্চলে নিহত হন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। লায়স ইবনে সাদ বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, উকবা ইবনে আমির এর আগে আফ্রিকা আক্রমণ করেছিলেন।

 

আবুল আরব বলেন: আমি ইসহাক ইবনে আবি আব্দুল মালিক আল-মালশুনি থেকে পাঠ করেছি, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মুকাতিল থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ এবং শাহর ইবনে হাওশাব থেকে যে, নিশ্চয়ই এই অভিশপ্ত ভূখণ্ডটি, যা
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
يُقَالُ لَهُا: تَهُودَهْ، كَانَ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم، نَهَى عَنْ سُكْنَاهَا، وَقَالَ: «سَوْفَ يُقْتَلُ بِهَا رِجَالٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثَوَابُهُمْ ثَوَابُ أَهْلِ بَدْرٍ، وَأَهْلِ أُحُدٍ، وَاللَّهِ مَا بَدَّلُوا حَتَّى مَاتُوا، وَاشَوْقَاهُ إِلَيْهِمْ» .

وَقَالَ شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ: سَأَلْتُ التَّابِعِينَ عَنْ هَذِهِ الْعِصَابَةِ، فَقَالُوا: ذَلِكَ عُقْبَةُ وَأَصْحَابُهُ، قَتَلَهُمُ الْبَرْبَرُ، وَالنَّصَارَى بِتَهُودَهْ، فَمِنْهَا يُحْشَرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَسْيَافُهُمْ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ، حَتَّى يَقِفُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ، تبارك وتعالى

 

قَالَ: وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَسْطَامٍ الضَّبِّيُّ، عَنِ الْحَسَنِ. . أَحْمَدَ بْنِ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، عَنْ هُشَيْمِ بْنِ بَشِيرٍ الْوَاسِطِيِّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَلٍّ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: " لا يَزَالُ أَهْلُ الْمَغْرِبِ ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ

 

قَالَ: حَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْعُمَرِيُّ، مِنْ وَلَدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، بِالْمَدِينَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ: «وَاللَّهِ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ، لَيَبْلُغَنَّ أَوْ لَيُبَاعَنَّ الْجَمَلُ، شَكَّ فُرَاتٌ، بِمِصْرَ بِعَشَرَةِ دَنَانِيرَ، وَاللَّهِ لَيُبَاعَنَّ بِعِشْرِينَ، وَاللَّهِ لَيُبَاعَنَّ بِثَلاثِينَ، وَاللَّهِ لَيُبَاعَنَّ بِأَرْبَعِينَ، وَاللَّهِ لَيُبَاعَنَّ بِخَمْسِينَ، وَاللَّهِ لَيُبَاعَنَّ بِسِتِّينَ، وَاللَّهِ لَيُبَاعَنَّ بِسَبْعِينَ، وَاللَّهِ لَيُبَاعَنَّ بِثَمَانِينَ، وَاللَّهِ لَيُبَاعَنَّ بِمِائَةٍ، لَتُغَالِي النَّاسُ فِيهَا، وَكَأَنِّي أَسْمَعُ صَرِيرَ الْمَحَامِلِ عَلَى عَقَبَةِ الثَّنِيَّةِ، مِنْ مِصْرَ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ يَطْلُبُونَ بِهَا الْجِهَادَ وَالْعَدْلَ، وَلَيَلِيَنَّ إِفْرِيقِيَّةَ رَجُلٌ يَعْدِلُ فِيهَا ثَلاثًا وَعِشْرِينَ سَنَةً، أَوْ أَرْبَعًا وَعِشْرِينَ سَنَةً» ، الشَّكُّ مِنَ ابْنِ لَهِيعَةَ
তাকে বলা হয়: তাহুদা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে বসবাস করতে নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: «অচিরেই সেখানে আমার উম্মতের এমন কিছু লোক আল্লাহর পথে জিহাদরত অবস্থায় শহীদ হবে, যাদের প্রতিদান হবে বদর ও ওহুদ যুদ্ধের শহীদদের প্রতিদানের সমান। আল্লাহর কসম, তারা মৃত্যু পর্যন্ত তাদের অঙ্গীকার পরিবর্তন করেনি। তাদের প্রতি আমার কতই না ব্যাকুলতা!»।

শাহর ইবনে হাওশাব বলেন: আমি তাবিঈদের এই দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারা বললেন: «ইনি হলেন উকবা ও তাঁর সাথীবৃন্দ। বার্বার ও খ্রিস্টানরা তাঁদের তাহুদাতে হত্যা করেছিল। কিয়ামতের দিন তারা সেখান থেকেই পুনরুত্থিত হবেন এবং তাঁদের তলোয়ারগুলো থাকবে তাঁদের ঘাড়ে ঝুলন্ত, যতক্ষণ না তাঁরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার দুই হাতের সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন»।

 

তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে বাসতাম আদ-দাব্বি হাসান থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ইবনে সালিহ বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুশাইম ইবনে বাশির আল-ওয়াসিতি থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে মাল আন-নাহদি থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পাশ্চাত্যবাসী কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে"

 

তিনি বলেন: ফুরাত ইবনে মুহাম্মাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনায় ওমর ইবনুল খাত্তাবের বংশধর আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর আল-উমারি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া আমাদের কাছে আবু কাবিল আল-মাআফিরি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «সেই আল্লাহর কসম যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মিশরে উটের মূল্য অবশ্যই দশ দিনারে পৌঁছাবে অথবা বিক্রি হবে —ফুরাত এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন— আল্লাহর কসম তা অবশ্যই বিশে বিক্রি হবে, আল্লাহর কসম তা অবশ্যই ত্রিশে বিক্রি হবে, আল্লাহর কসম তা অবশ্যই চল্লিশে বিক্রি হবে, আল্লাহর কসম তা অবশ্যই পঞ্চাশে বিক্রি হবে, আল্লাহর কসম তা অবশ্যই ষাটে বিক্রি হবে, আল্লাহর কসম তা অবশ্যই সত্তরে বিক্রি হবে, আল্লাহর কসম তা অবশ্যই আশিতে বিক্রি হবে, আল্লাহর কসম তা অবশ্যই একশতে বিক্রি হবে। মানুষ এর মূল্য বৃদ্ধিতে প্রতিযোগিতা করবে। আর আমি যেন মিশর থেকে ইফ্রিকিয়া পর্যন্ত গিরিপথগুলোতে হাওদার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ শুনতে পাচ্ছি, তারা এর মাধ্যমে জিহাদ ও ন্যায়বিচার অন্বেষণ করবে। আর অবশ্যই একজন ব্যক্তি তেইশ বা চব্বিশ বছর ইফ্রিকিয়ার শাসনভার পরিচালনা করবেন এবং সেখানে ন্যায়বিচার করবেন», এ সংশয় ইবনে লাহিয়ার পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
قَالَ: وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ حَمَّادٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الصَّلْتِ الثَّقَفِيِّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، عليه الصلاة والسلام: " لا يَزَالُ أَهْلُ الْمَغْرِبِ ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ

 

قَالَ: وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ حَمَّادٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ، عَنْ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ الأَرْضِ مَغَارِبُهَا» ، وَذَكَرَ يَحْيَى بْنُ عُمَرَ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عِمْرَانَ الأَخْفَشِ، أَنَّ الْمَغَارِبَ الَّتِي عُنِيَتْ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: الشَّامُ

 

قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زَكَرِيَّاءَ الْحَفَرِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ عَوْنٍ الْخُزَاعِيُّ، قَالَ: وَحَدَّثَنَا أَبُو زَكَرِيَّاءَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " لا يَزَالُ عِصَابَةٌ مِنْ أُمَّتِي بِالْمَغْرِبِ يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ، لا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ، حَتَّى يَرَوْا يَوْمًا قَتَامًا، فَيَقُولُونَ: غُشِيتُمْ، فَيَبْعَثُونَ خَيْلَهُمْ يَنْظُرُونَ، فَيَرْجِعُونَ إِلَيْهِمْ، فَيَقُولُونَ: الْجِبَالُ سُيِّرَتْ فَيَخِرُّونَ سُجَّدًا، فَتُقْبَضُ أَرْوَاحُهُمْ

 

قَالَ: وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَوْنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو زَكَرِيَّاءَ الْحَفَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَبَّادُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: " سَتُجَنِّدُونَ أَجْنَادَكُمْ، وَخَيْرُ أَجْنَادِكُمُ الْجُنْدُ الْغَرْبِيُّ

 

‌‌ذِكْرُ مَنْ دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ: وَأَنَا مُبْتَدِئٌ بَعْدَمَا رَوَيْتُ فِي مَنَاقِبِ إِفْرِيقِيَّةَ، بِذِكْرِ مَنْ دَخَلَهَا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ، صَلَّى
তিনি বলেন: এবং আমার নিকট ইয়াহইয়া ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আস-সালত আস-সাকাফী থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন: "পশ্চিমের (মাগরিব) অধিবাসীরা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না কিয়ামত সংঘটিত হয়।"

 

তিনি বলেন: এবং আমার নিকট ইয়াহইয়া ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি শু'বাহ ইবনে আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি দাউদ ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জমিনের সর্বোত্তম অংশ হলো এর পশ্চিমাঞ্চলসমূহ», এবং ইয়াহইয়া ইবনে উমর, আহমাদ ইবনে ইমরান আল-আখফাশ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসে 'মাগারিব' বা পশ্চিমাঞ্চল বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা হলো: শাম।

 

তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আবি জাকারিয়া আল-হাফারী এবং ইয়াহইয়া ইবনে আউন আল-খুজায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং আমাদের নিকট আবু জাকারিয়া আল-হাফারী বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনে আব্দুস সামাদ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি: "আমার উম্মতের একটি দল পশ্চিমে (মাগরিবে) সর্বদা সত্যের ওপর লড়াই করতে থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা একদিন ঘোর অন্ধকার দেখবে। তখন তারা বলবে: তোমরা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছ। এরপর তারা তাদের অশ্বারোহী বাহিনী পাঠাবে দেখার জন্য, তারা তাদের কাছে ফিরে এসে বলবে: পাহাড়সমূহ চলমান হয়ে গেছে। তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়বে এবং তাদের রূহ কবজ করা হবে।"

 

তিনি বলেন: এবং আমার নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আউন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু জাকারিয়া আল-হাফারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মামার আব্বাদ ইবনে আব্দুস সামাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "শীঘ্রই তোমরা বিভিন্ন বাহিনীতে সংগঠিত হবে, আর তোমাদের বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো পশ্চিমা বাহিনী।"

 

‌‌সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্যে যারা ইফ্রিকিয়ায় প্রবেশ করেছেন তাদের আলোচনা

মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে তামীম বলেন: আমি ইফ্রিকিয়ার ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছি তার পরে, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের মধ্যে যারা সেখানে প্রবেশ করেছেন তাদের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَنْ كَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ فِي غَزَوَاتِهِمْ، عَلَى مَا سَمِعْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ، وَمَا بَلَغَنِي، ثُمَّ أَذْكُرُ بَعْدَ ذَلِكَ طَبَقَةً بَعْدَ طَبَقَةٍ مِمَّنْ كَانَ بِهَا مِنَ الْعُلَمَاءِ وَالْفُقَهَاءِ، وَمَا تَوْفِيقِي إِلا بِاللَّهِ.

قَدْ حَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَبْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي الْمُهَاجِرِ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاقِدٍ الْوَاقِدِيِّ، قَالَ: " لَمَّا عُزِلَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ وَوُلِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ، بَعَثَ الْمُسْلِمِينَ فِي جَرَائِدِ الْخَيْلِ، كَمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ فِي وِلايَةِ عَمْرٍو، فَأَصَابُوا مِنْ أَطْرَافِ إِفْرِيقِيَّةَ، وَغَنِمُوا، فَجَاءُوا بِالْغَنَائِمِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، فَكَتَبَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، يُخْبِرُهُ بِمَا نَالَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ عَدُوِّهِمْ، وَقُرْبِهِمْ مِنْ حَوْزِ الْمُسْلِمِينَ.

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ وَاقِدٍ الْوَاقِدِيُّ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنٍ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ: " خَرَجْتُ مِنْ مَنْزِلِي بِلَيْلٍ طَوِيلٍ أُرِيدُ الْمَسْجِدَ، فَإِذَا عُثْمَانُ فِي مُصَلَّى النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، يُصَلِّي، فَصَلَّيْتُ خَلْفَهُ، ثُمَّ جَلَسَ فَدَعَا لَيْلا طَوِيلا حَتَّى أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ، ثُمَّ قَامَ مُنْصَرِفًا إِلَى بَيْتِهِ، وَقُمْتُ فِي وَجْهِهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: يَابْنَ مَخْرَمَةَ، وَاتَّكَأَ عَلَى يَدِي، إِنِّي اسْتَخَرْتُ اللَّهَ، عز وجل، فِي لَيْلَتِي هَذِهِ فِي بَعْثَةِ الْجُيُوشِ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ، وَقَدْ كَتَبَ إِلَيَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ يُخْبِرُ بِجَرَّةِ الْمُسْلِمِينَ عَلَيْهِمْ، وَقُرْبِ حَوْزِهِمْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَقُلْتُ: خَارَ اللَّهُ لأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ وَلِلْمُسْلِمِينَ، قَالَ: فَمَا رَأْيُكَ يَابْنَ مَخْرَمَةَ؟ فَقُلْتُ: اغْزُهُمْ، قَالَ عُثْمَانُ: أَسْتَخِيرُ اللَّهَ، إِنِّي أَجْمَعُ الْيَوْمَ الأَكَابِرَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، فَأَسْتَشِيرُهُمْ، فَمَا أَجْمَعُوا عَلَيْهِ فَعَلْتُهُ، أَوْ مَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ أَكْثَرُهُمْ فَعَلْتُهُ، فَكُنْ أَنْتَ رَسُولِي إِلَيْهِمْ، وَاحْضُرْ مَعَهُمْ، فَإِنَّكَ لَسْتَ بِحَمْدِ اللَّهِ دُونَ أَحَدٍ فِي عَقْلِكَ وَرَأْيِكَ، وَإِنْ كَانَ لِلْقَوْمِ
আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক এবং সাহাবীদের মধ্যে যারা তাঁদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, সে সম্পর্কে আমি ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট থেকে যা শুনেছি এবং যা আমার কাছে পৌঁছেছে। অতঃপর আমি এর পরে পর্যায়ক্রমে (তবকা অনুযায়ী) সেখানকার আলিম ও ফকীহগণের কথা উল্লেখ করব। আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

ফুরাত বিন মুহাম্মাদ আল-আবদী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন আবুল মুহাজির আল-আনসারী আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন ওয়াকিদ আল-ওয়াকিদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন আমর বিন আল-আসকে অপসারিত করা হলো এবং পঁচিশ হিজরি সনে আব্দুল্লাহ বিন সাদকে নিযুক্ত করা হলো, তখন তিনি মুসলমানদের অশ্বারোহী বাহিনীর ছোট ছোট দল পাঠাতে শুরু করলেন, যেমনটি তারা আমরের শাসনামলে করত। তারা ইফরীকিয়ার প্রান্তসীমা থেকে আক্রমণ চালিয়ে গণিমত লাভ করল। তারা গণিমতের মাল নিয়ে আব্দুল্লাহ বিন সাদের নিকট ফিরে এল। তখন আব্দুল্লাহ বিন সাদ উসমান বিন আফফানের নিকট পত্র লিখলেন এবং তাঁকে অবহিত করলেন যে, মুসলমানরা তাদের শত্রুদের থেকে কী বিজয় অর্জন করেছে এবং শত্রুদের এলাকা মুসলমানদের সীমানার কতটা নিকটবর্তী হয়েছে।"

মুহাম্মাদ বিন ওয়াকিদ আল-ওয়াকিদী বলেন: আব্দুল্লাহ বিন জাফর আমাকে আবু আউন আব্দুল্লাহ বিন আউন থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক দীর্ঘ রাতে আমি মসজিদের উদ্দেশ্যে আমার ঘর থেকে বের হলাম। তখন উসমানকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের স্থানে সালাত আদায় করতে দেখলাম। আমি তাঁর পেছনে সালাত আদায় করলাম। এরপর তিনি বসলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দুআ করলেন, অবশেষে মুআজ্জিন আজান দিল। অতঃপর তিনি নিজের ঘরের দিকে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন: হে মাখরামার পুত্র! এরপর তিনি আমার হাতের ওপর ভর দিলেন এবং বললেন, আমি এই রাতে ইফরীকিয়াতে সৈন্যবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি। আব্দুল্লাহ বিন সাদ আমার কাছে চিঠি লিখে তাদের ওপর মুসলমানদের বিজয় অভিযান এবং তাদের অঞ্চল মুসলমানদের সীমানার নিকটবর্তী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। আমি বললাম: আল্লাহ আমীরুল মুমিনীন ও মুসলমানদের জন্য কল্যাণের ফয়সালা করুন। তিনি বললেন: হে মাখরামার পুত্র, এ বিষয়ে তোমার অভিমত কী? আমি বললাম: আপনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করুন। উসমান বললেন: আমি আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আমি আজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রবীণ সাহাবীদের একত্রিত করব এবং তাঁদের পরামর্শ নেব। তাঁরা যে বিষয়ে একমত হবেন আমি তা-ই করব, অথবা তাঁদের অধিকাংশ যে বিষয়ে একমত হবেন আমি তা-ই করব। তুমি তাঁদের কাছে আমার বার্তাবাহক হও এবং তাঁদের সাথে উপস্থিত থাকো। কেননা আল্লাহর প্রশংসায়, বুদ্ধি ও বিবেচনার দিক দিয়ে তুমি কারো চেয়ে কম নও। যদিও লোকজনের...
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
سَوَابِقُ قَدْ سَبَقُوكَ بِهَا لأَسْنَانِهِمْ، وَلِمَا أَرَادَ اللَّهُ، تبارك وتعالى، مِنْ إِسْعَادِهِمْ، وَدَخَلَ مَنْزِلَهُ فَقُلْتُ: وَاللَّهِ مَا سَمَّى لِي مَنْ أَدْعُو لَهُ، فَجَلَسْتُ عَلَى بَابِهِ فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ خَرَجَ، وَقَدْ أَحْدَثَ وُضُوءًا، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّكَ قُلْتَ لِي: اجْمَعْ، وَلَمْ تُسَمِّ لِي مَنْ أَجْمَعُ؟ ، فَقَالَ: ائْتِ عَلِيًّا، وَطَلْحَةَ، وَالزُّبَيْرَ، وَالْعَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَقُلْ لِشَيْخِكَ فَلْيَحْضُرْ، وَمُرْ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ أَبَا الأَعْوَرِ فَلْيَحْضُرْ، قَالَ: فَجَمَعْتُهُمْ لَهُ، فَخَلا بِهِمْ رَجُلا رَجُلا وَهُوَ فِي مَجْلِسِهِ فِي الْمَسْجِدِ بَعْدَ أَنْ صَلَّى الصُّبْحَ، وَطَلَعَتِ الشَّمْسُ، فَلَمْ يَزَلْ جَالِسًا يُشَاوِرُهُمْ حَتَّى مَتَعَ النَّهَارُ، ثُمَّ قَامَ إِلَى بَيْتِهِ فَتَفَرَّقُوا عَنْهُ، فَنَادَى: يَابْنَ مَخْرَمَةَ، قُلْتُ: يَا لَبَّيْكَ، قَالَ: ادْعُ

لِي أَبَا الأَعْوَرِ، فَخَرَجْتُ فِي إِثْرِهِ، فَقُلْتُ: أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ يَدْعُوكَ، قَالَ: مَا يُرِيدُ مِنِّي؟ دَعَانِي وَهُوَ يُخَالِفُ أَمْرِي، فَجَاءَ مَعِي، فَدَخَلْتُ مَعَهُ عَلَى عُثْمَانَ، فَلَمَّا دَخَلَ خَرَجْتُ، فَنَادَانِي: اجْلِسْ، فَسَمِعْتُ عُثْمَانَ يَقُولُ لأَبِي الأَعْوَرِ: مَا كَرِهْتُ أَبَا الأَعْوَرِ مِنْ بَعْثَةِ الْجُيُوشِ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ؟ فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ: لا أُغْزِيهَا أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ مَا حَمَلَتْ عَيْنِي الْمَاءَ، فَلا تَرَى لَكَ خِلافَ عُمَرَ، فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ: وَاللَّهِ مَا نَخَافُهُمْ، وَإِنَّهُمْ لَيَرْضَوْنُ أَنْ يَقَرُّوا فِي مَوْضِعِهِمْ، فَلا يَغْزُونَ، قَالَ: وَقَامَ أَبُو الأَعْوَرِ، فَقَالَ لِي عُثْمَانُ بَعْدَ مَخْرَجِهِ: مَا اخْتَلَفَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِمَّنْ شَاوَرْتُ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ غَيْرَهُ، اجْلِسْ يَا مِسْوَرُ، فَجَلَسْتُ، فَقَالَ: يَا بَابِلُ، ادْعُ لِي زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، وَمُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ، فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ طَلَعَا فَشَاوَرَهُمَا، فَرَأَيَا أَنْ تَغْزِي الْجُيُوشُ، فَقَالَ عُثْمَانُ: قَدْ أَنْهَجَ لِي رَأْيِي، فَنَدَبَ النَّاسَ إِلَى غَزْوَةِ إِفْرِيقِيَّةَ، قَالَ: فَأَسْرَعُوا، وَخَرَجَ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ، وَبَشَرٌ كَثِيرٌ مِنْ بَنِي أُمَيَّةَ، وَمِنْ بَنِي أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ فِي عِدَّةٍ مِنْ قَوْمِهِ، وَمِنْ بَنِي زُهْرَةَ: الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ، وَمِنْ بَنِي تَمِيمٍ عِدَّةٌ
তারা তাঁদের বয়সের কারণে এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁদের যে সৌভাগ্য প্রদান করতে চেয়েছেন তার মাধ্যমে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে আছেন। তারপর তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি মনে মনে বললাম: আল্লাহর কসম, আমি যাদের ডাকব তিনি তাদের নাম আমাকে বলেননি। আমি তাঁর দরজায় বসে রইলাম, কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ওজু করে বের হয়ে এলেন। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি আমাকে বলেছিলেন, 'একত্রিত কর', কিন্তু কাদের একত্রিত করতে হবে তা আপনি আমাকে নাম ধরে বলেননি। তিনি বললেন: তুমি আলী, তালহা, জুবায়ের এবং আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের কাছে যাও; আর তোমার পিতাকে বলো যেন তিনি উপস্থিত হন এবং সাঈদ ইবনে জাইদ আবু আল-আওয়ারকে নির্দেশ দাও যেন তিনিও উপস্থিত হন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁদের তাঁর কাছে একত্রিত করলাম। তিনি মসজিদে তাঁর মজলিসে বসে একে একে তাঁদের প্রত্যেকের সাথে একান্তে আলোচনা করলেন; এটি ছিল ফজরের নামাজের পর সূর্য উদিত হওয়ার সময়। তিনি দুপুর পর্যন্ত বসে তাঁদের সাথে পরামর্শ করতে থাকলেন। এরপর তিনি তাঁর বাড়ির দিকে উঠে গেলেন এবং তাঁরাও তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিলেন। তখন তিনি ডাক দিলেন: হে মাখরামার পুত্র! আমি বললাম: আমি হাজির। তিনি বললেন: আমার কাছে

আবু আল-আওয়ারকে ডেকে নিয়ে এসো। আমি তাঁর পিছু পিছু বের হলাম এবং গিয়ে বললাম: আমিরুল মুমিনিন আপনাকে ডাকছেন। তিনি বললেন: তিনি আমার কাছে কী চান? তিনি আমাকে ডেকেছেন অথচ তিনি আমার মতের বিরোধিতা করছেন। এরপর তিনি আমার সাথে আসলেন এবং আমি তাঁর সাথে উসমানের কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি প্রবেশ করলে আমি বের হয়ে যেতে চাইলাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে বললেন: বসো। আমি উসমানকে আবু আল-আওয়ারকে বলতে শুনলাম: হে আবু আল-আওয়ার! ইফরীকিয়ায় সৈন্যবাহিনী প্রেরণের ব্যাপারে আপনি কী অপছন্দ করছেন? তিনি বললেন: আমি উমরকে বলতে শুনেছি যে, যতক্ষণ আমার চোখে পানি থাকবে (অর্থাৎ আমি জীবিত থাকব), ততক্ষণ আমি কোনো মুসলিমকে সেখানে যুদ্ধের জন্য পাঠাব না। তাই আপনার জন্য উমরের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা সমীচীন হবে না। উসমান তাকে বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তাদের ভয় করি না। তারা তাদের নিজেদের জায়গায় শান্তিতে থাকতে পারলেই সন্তুষ্ট থাকবে এবং যুদ্ধ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর আবু আল-আওয়ার উঠে চলে গেলেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর উসমান আমাকে বললেন: আমি মুহাজিরদের মধ্য থেকে যাঁদের পরামর্শ নিয়েছি, তিনি ছাড়া আর কেউ আমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দ্বিমত করেননি। হে মিসওয়ার, বসো। আমি বসলাম। তারপর তিনি বললেন: হে বাবেল! আমার কাছে জাইদ ইবনে সাবিত এবং মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহকে ডেকে নিয়ে এসো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা উপস্থিত হলেন এবং তিনি তাদের সাথে পরামর্শ করলেন। তারা সৈন্য পাঠানোর পক্ষে মত দিলেন। তখন উসমান বললেন: আমার কাছে এখন বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। এরপর তিনি ইফরীকিয়া যুদ্ধের জন্য লোকজনকে আহ্বান জানালেন। বর্ণনাকারী বলেন: তারা দ্রুত সাড়া দিল এবং মারওয়ান ইবনে আল-হাকামসহ বনু উমাইয়ার বহু মানুষ অভিযানে বেরিয়ে পড়লেন। বনু আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের তাঁর গোত্রের কিছু লোকসহ বের হলেন। বনু জুহরা থেকে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা এবং আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল আসওয়াদ ইবনে আব্দ ইয়াগুস বের হলেন। আর বনু তামীম থেকেও বেশ কিছু লোক অংশ নিল।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
مِنْهُمْ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَبِيحَةَ، وَمِنْ بَنِي عَدِيٍّ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَعَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَمِنْ بَنِي سَهْمٍ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَالْمُطَّلِبُ بْنُ السَّائِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ، فِي عِدَّةٍ مِنْ بَنِي سَهْمٍ، وَمِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ: السَّائِبُ بْنُ عَامِرِ بْنِ هِشَامٍ، وَبُسْرُ بْنُ أَرْطَاةَ، وَمِنْ بَنِي هُذَيْلٍ نَفَرٌ، مِنْهُمْ: أَبُو ذُؤَيْبٍ الْهُذَلِيُّ الشَّاعِرُ، تُوُفِّيَ بِإِفْرِيقِيَّةَ فَقَامَ بِأَمْرِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ حَتَّى وَارَاهُ فِي لَحْدِهِ ".

قَالَ عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاقِدٍ الْوَاقِدِيِّ: حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْجُهَنِيُّ، عَنْ أَهْلِهِ، قَالَ: " خَرَجَ مِنْ جُهَيْنَةَ سِتُّ مِائَةٍ.

قَالَ عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاقِدٍ الْوَاقِدِيِّ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرٍ الأَسْلَمِيُّ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ جَهْمٍ، قَالَ: " خَرَجَ مِنْ أَسْلَمَ فِي غَزْوَةِ إِفْرِيقِيَّةَ ثَلاثُ مِائَةِ رَجُلٍ، مِنْهُمْ: حَمْزَةُ بْنُ عَمْرٍو الأَسْلَمِيُّ، وَسَلَمَةُ بْنُ الأَكْوَعِ ".

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ وَاقِدٍ الْوَاقِدِيُّ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: " خَرَجَ مِنْ مُزَيْنَةَ ثَمَانِ مِائَةٍ، كَانَ لِوَاؤُنَا عَلَى حَدِّهِ، يَحْمِلُهُ بِلالُ بْنُ الْحَارِثِ الْمُزَنِيُّ، قَالَ: وَخَرَجَ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ أَرْبَعُ مِائَةٍ وَخَمْسُونَ رَجُلا، وَخَرَجَ مِنْ بَنِي الدُّئَلِ، وَضَمْرَةَ، وَغِفَارٍ، وَعَبْدِ مَنَاةٍ خَمْسُ مِائَةٍ، وَخَرَجَ مِنْ غَطَفَانَ، وَفَزَارَةَ، وَمُرَّ: سَبْعُ مِائَةٍ، وَكَانَ آخِرُ مَنْ قَدِمَ عَلَيْهِ كَعْبُ بْنُ عَمْرٍو، وَهُمْ أَرْبَعُ مِائَةٍ، قَالَ: وَكَانَ هَذَا فِي سَنَةِ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ.

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ وَاقِدٍ الْوَاقِدِيُّ: وَحَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي سَبْرَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْكَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ عَبَّادٍ الدِّيلِيِّ، قَالَ: " أَغْزَانَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ إِفْرِيقِيَّةَ، فَخَرَجْنَا مَعَ النَّاسِ حَتَّى أَتَيْنَا مِصْرَ، فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، وَهُوَ أَمِيرُ مِصْرَ، وَمَنْ قَدِمَ مِنَ الْمَدِينَةِ، فَكَانُوا عِشْرِينَ أَلْفًا، فَلَمَّا
তাদের মধ্যে ছিলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সিদ্দিক এবং আবদুর রহমান ইবনে সাবিহা। বনু আদি গোত্র থেকে ছিলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব, আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব, আবদুর রহমান ইবনে জায়েদ ইবনুল খাত্তাব এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব। বনু সাহম গোত্র থেকে ছিলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এবং মুত্তালিব ইবনে সায়েব ইবনে আবি ওয়াদাআহ সহ বনু সাহম গোত্রের বেশ কিছু লোক। বনু আমির ইবনে লুআই গোত্র থেকে ছিলেন: সায়েব ইবনে আমির ইবনে হিশাম এবং বুসর ইবনে আরতাহ। আর বনু হুযায়ল গোত্রের একটি দল ছিল, যাদের মধ্যে কবি আবু জুআইব আল-হুযালীও ছিলেন; তিনি আফ্রিকায় ইন্তেকাল করেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবায়ের তার দাফন-কাফনের দায়িত্ব পালন করেন যতক্ষণ না তাকে কবরে সমাহিত করা হয়।

ঈসা ইবনে মুহাম্মদ, মুহাম্মদ ইবনে ওয়াকিদ আল-ওয়াকিদি থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু সাঈদ আল-জুহানি তার পরিবার থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "জুহায়না গোত্র থেকে ছয়শত লোক বের হয়েছিল।"

ঈসা ইবনে মুহাম্মদ, মুহাম্মদ ইবনে ওয়াকিদ আল-ওয়াকিদি থেকে বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমির আল-আসলামি আল-মুনজির ইবনে জাহম থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আফ্রিকা অভিযানে আসলাম গোত্র থেকে তিনশত লোক বের হয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন: হামজা ইবনে আমর আল-আসলামি এবং সালামাহ ইবনুল আকওয়া।"

মুহাম্মদ ইবনে ওয়াকিদ আল-ওয়াকিদি বলেছেন: কাসীর ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুজানি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মুযাইনা গোত্র থেকে আটশত লোক বের হয়েছিল, আমাদের পতাকাটি পৃথক ছিল যা বিলাল ইবনুল হারিস আল-মুজানি বহন করছিলেন। তিনি বলেন: বনু সুলাইম গোত্র থেকে চারশত পঞ্চাশ জন লোক বের হয়েছিল। বনু আদ-দুয়িল, দামরাহ, গিফার এবং আবদে মানাত গোত্র থেকে পাঁচশত লোক বের হয়েছিল। গাতাফান, ফাজারা এবং মুররা গোত্র থেকে সাতশত লোক বের হয়েছিল। সবশেষে তার কাছে যারা এসেছিলেন তারা হলেন কাব ইবনে আমর এবং তাদের সংখ্যা ছিল চারশত জন। তিনি বলেন: এটি সাতাশ হিজরি সনের ঘটনা ছিল।"

মুহাম্মদ ইবনে ওয়াকিদ আল-ওয়াকিদি বলেছেন: ইবনে আবি সাবরা জাফর ইবনে বুরকান থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনুল আসম্ম থেকে, তিনি ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে এবং তিনি রাবিআ ইবনে আব্বাদ আদ-দীলি থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উসমান ইবনে আফফান আমাদের আফ্রিকার যুদ্ধে পাঠান। আমরা লোকজনের সাথে বের হয়ে মিসরে পৌঁছলাম। অতঃপর মিসরের গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে সাদ এবং মদিনা থেকে যারা এসেছিলেন তারা অভিযানে বের হলেন। তাদের সংখ্যা ছিল বিশ হাজার। অতঃপর যখন..."
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
فَصَلَ عَبْدُ اللَّهِ مِنْ مِصْرَ، كَانَ يُقَدِّمَ الطَّلائِعَ أَمَامَهُمْ وَالْمُقَدِّمَاتِ، وَكُنْتُ أَنَا كَثِيرًا مَا أَكُونُ فِي الطَّلائِعِ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ: " رَأَيْتُ فِي كِتَابِ أَبِي بَكْرٍ السُّوسِيِّ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَعْدٍ كَانَ عَلَى مِصْرَ، وَالْخَلِيفَةُ عُثْمَانُ، فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ فِي جَيْشٍ أَكْثَرُهُمْ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، وَاسْتَخْلَفَ عَلَى مِصْرَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَحَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، عَنْ سُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ النَّفْلِ فِي الْغَزْوِ، قَالَ: " لَمْ أَرَ أَحَدًا يَمْتَنِعُهُ، غَيْرَ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ حُدَيْجٍ، نَفَّلَنَا بِإِفْرِيقِيَّةَ الثُّلُثَ بَعْدَ الْخُمُسِ، وَمَضَى مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، مِنَ الْمُهَاجِرِينَ نَاسٌ كَثِيرٌ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ: " أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ حُدَيْجٍ، غَزَا إِفْرِيقِيَّةَ ثَلاثَ غَزَوَاتٍ: أَمَّا الأُولَى فَسَنَةَ أَرْبَعٍ وَثَلاثِينَ فِي خِلافَةِ عُثْمَانَ، قَالَ: وَكَانَتْ تِلْكَ الْغَزَاةُ لا يَعْرِفُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، وَأَمَّا الثَّانِيَةُ فَسَنَةَ أَرْبَعِينَ، وَأَمَّا الثَّالِثَةُ فَسَنَةَ خَمْسِينَ.

قَالَ عِيسَى: وَسَمِعْتُ ابْنَ مَهْدِيِّ بْنِ يَزِيدَ الْقَيْسِيَّ، وَزُرَيْقَ بْنَ هِلالٍ الْخَشَنِيَّ، وَغَيْرَهُمَا مِنْ أَشْيَاخِ عَرَبِ إِفْرِيقِيَّةَ، يَقُولُ: " دَخَلَ أَبُو الْمُهَاجِرِ إِفْرِيقِيَّةَ دَخْلَتَهُ الأُولَى سَنَةَ خَمْسٍ وَخَمْسِينَ، فِي وِلايَةِ مُعَاوِيَةَ، وَدَخْلَتَهُ الثَّانِيَةَ سَنَةَ سَبْعٍ وَخَمْسِينَ، فِي وِلايَةِ مُعَاوِيَةَ، وَدَخَلَ عُقْبَةُ دَخْلَتَهُ
আবদুল্লাহ মিশর থেকে যাত্রা করলেন। তিনি তাদের সামনে অগ্রগামী দল এবং অগ্রসেনাদের পাঠাতেন; আর আমি প্রায়ই অগ্রগামী দলের অন্তর্ভুক্ত থাকতাম।

আবু আল-আরব বলেন: ফোরাত বিন মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান থেকে, তিনি বলেন: "আমি আবু বকর আল-সুসির কিতাবে দেখেছি যে, আবদুল্লাহ বিন সাদ মিশরের দায়িত্বে ছিলেন এবং খলিফা ছিলেন উসমান। এরপর আবদুল্লাহ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে এমন এক সেনাবাহিনীর সাথে যাত্রা করলেন যাদের অধিকাংশ ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী। তিনি মিশরের জন্য উকবা বিন আমির আল-জুহানিকে স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন।"

আবু আল-আরব বলেন: আহমদ বিন আবি সুলাইমান, হাবিব বিন নাসর এবং ঈসা বিন মিসকিন আমাকে বর্ণনা করেছেন সুহনুন বিন সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি খালিদ বিন আবি ইমরান থেকে, তিনি সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, তাকে যুদ্ধে নফল (অতিরিক্ত গনীমত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি কাউকে এটি করতে নিষেধ করতে দেখিনি, তবে মুয়াবিয়া বিন হুদাইজ আফ্রিকায় আমাদের এক-পঞ্চমাংশ সরিয়ে নেওয়ার পর অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশ নফল হিসেবে প্রদান করেছিলেন। সেখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুহাজির সাহাবীদের মধ্য থেকে বহু লোক উপস্থিত ছিলেন।"

আবু আল-আরব বলেন: ফোরাত বিন মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন: "মুয়াবিয়া বিন হুদাইজ আফ্রিকায় তিনটি যুদ্ধ করেছিলেন: প্রথমটি ছিল উসমানের খিলাফতকালে চৌত্রিশ হিজরিতে; তিনি বলেন: সেই যুদ্ধটি অনেক মানুষই জানত না। দ্বিতীয়টি ছিল চল্লিশ হিজরিতে এবং তৃতীয়টি ছিল পঞ্চাশ হিজরিতে।"

ঈসা বলেন: আমি ইবনে মাহদী বিন ইয়াজিদ আল-কায়সী, জুরাইক বিন হিলাল আল-খাশানি এবং আফ্রিকার অন্যান্য আরব শায়খদের বলতে শুনেছি: "আবু আল-মুহাজির মুয়াবিয়ার শাসনামলে পঞ্চান্ন হিজরিতে প্রথমবার আফ্রিকায় প্রবেশ করেন এবং সাতান্ন হিজরিতে মুয়াবিয়ার শাসনামলে দ্বিতীয়বার আফ্রিকায় প্রবেশ করেন। আর উকবা প্রবেশ করেছিলেন তার..."
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
الأُولَى سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ، فِي وِلايَةِ مُعَاوِيَةَ، وَدَخْلَتَهُ الثَّانِيَةَ سَنَةَ إِحْدَى وَسِتِّينَ، فِي خِلافَةِ يَزِيدَ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، عَنْ سُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالُوا: وَأَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ: " أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَعْدٍ غَزَا إِفْرِيقِيَّةَ، فَقُتِلَ جُرْجِيرَ، وَأَصَابَ الْفَارِسُ يَوْمَئِذٍ ثَلاثَةَ آلافِ دِينَارٍ، وَالرَّاجِلُ أَلْفَ دِينَارٍ، قَالَ: وَغَزَا الأَسَاوِدَ، فَفَتَحَ اللَّهُ لَهُ، وَغَزَا الرُّومَ، فَفَتَحَ اللَّهُ لَهُ، قَالَ: غَزَا ثَلاثَ غَزَوَاتٍ كَانَ لَهُنَّ شَأْنٌ ".

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ، فَأَمَّا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رحمه الله، فَإِنَّهُ كَرِهَ غَزْوَ إِفْرِيقِيَّةَ.

 

حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ سُحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَيْضًا، يَعْنِي: عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ شُرَيْحٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ بَلَغَ طَرَابُلُسَ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رحمه الله: " لا تَقْرَبْهَا، فَإِنَّهَا بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ جَهَنَّمَ

 

‌‌تَسْمِيَةُ مَنْ دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ عليه السلام وَمَنْ رَآهُ صلى الله عليه وسلم وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ صُحْبَةٌ

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ: دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَحَمْزَةُ بْنُ عَمْرٍو الأَسْلَمِيُّ ، وَسَلَمَةُ بْنُ الأَكْوَعِ،
প্রথমবার ছাপ্পান্ন হিজরিতে, মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনামলে; এবং তাঁর দ্বিতীয়বার প্রবেশ একষট্টি হিজরিতে, ইয়াজিদের খেলাফতকালে।

আবু আল-আরব বলেন: হাবিব ইবনে নাসর, আহমাদ ইবনে আবি সুলাইমান এবং ঈসা ইবনে মিসকিন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সুহনুন ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তাঁরা বলেন: এবং লায়স ইবনে সাদ একাধিক ব্যক্তি থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে: "আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইফরিকা (আফ্রিকা) অভিযান করেন এবং জুরজীর (গ্রেগরি) নিহত হন। সেদিন অশ্বারোহী সৈনিক তিন হাজার দিনার এবং পদাতিক সৈনিক এক হাজার দিনার লাভ করেছিল। তিনি বলেন: তিনি আসওয়াদদের (কৃষ্ণাঙ্গদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং আল্লাহ তাঁকে বিজয় দান করেন; তিনি রোমানদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেন এবং আল্লাহ তাঁকে বিজয় দান করেন। তিনি বলেন: তিনি তিনটি যুদ্ধ করেছিলেন যা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে তামিম বলেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কথা বলতে গেলে, তিনি ইফরিকা অভিযান অপছন্দ করতেন।

 

হাবিব ইবনে নাসর, ঈসা ইবনে মিসকিন এবং আহমাদ ইবনে আবি সুলাইমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সুহনুন ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে শুরাইহ আমাকে আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, আমর ইবনুল আস ত্রিপোলি (তারাবুলুস) পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে লিখেছিলেন: "তুমি এর কাছেও যেও না, কারণ এটি জাহান্নামের অন্যতম একটি দরজা।"

 

‌‌নবী (আলাইহিস সালাম)-এর যেসব সাহাবী ইফরিকা প্রবেশ করেছেন এবং যাঁরা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখেছেন যদিও তাঁদের সাহচর্যের মর্যাদা অর্জিত হয়নি, তাঁদের নামসমূহ

মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে তামিম বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে যাঁরা ইফরিকা প্রবেশ করেছেন তাঁরা হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, হামজা ইবনে আমর আল-আসলামি এবং সালামা ইবনুল আকওয়া।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
وَبِلالُ بْنُ الْحَارِثِ الْمُزَنِيُّ، وَكَعْبُ بْنُ عَمْرٍو، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، وَرَبِيعَةُ بْنُ عَبَّادٍ الدِّيلِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ الْحَارِثِ الصُّدَائِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ الْعَامِرِيُّ، وَمُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيْجٍ، وَبُسْرُ بْنُ أَرْطَاةَ، وَيُقَالُ: ابْنُ أَبِي أَرْطَاةَ، وَقَدْ جَعَلَ لَهُ مُسْنِدًا غَيْرَ وَاحِدٍ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ، وَأَبُو زَمْعَةَ الْبَلَوِيُّ، وَبِهَا مَاتَ.

 

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَارِجَةَ عَنْبَسَةُ بْنُ خَارِجَةَ، عَنْ رِشْدِينَ بْنِ سَعْدٍ الْمَهْرِيِّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، يَعْنِي: ابْنَ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي مُلَيْكٍ، عَنْ أَبِي زَمْعَةَ الْبَلَوِيِّ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، مِمَّنْ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ، حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ بِإِفْرِيقِيَّةَ، «فَأَمَرَهُمْ أَنْ يُسَوُّوا قَبْرَهُ بِالأَرْضِ» .

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَبَلَغَنِي أَنَّ قَبْرَهُ بِالْبَلَوِيَّةِ، وَلِذَلِكَ سُمِّيَتِ الْبَلَوِيَّةُ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَذَكَرَ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، أَنَّ أَبَا زَمْعَةَ الْبَلَوِيَّ دُفِنَ بِمَقْبَرَةِ بَابِ تُونُسَ بِالْبَلَوِيَّةِ، وَبِهِ سُمِّيَتِ الْبَلَوِيَّةُ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَلَقَدْ حَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِنَا أَنَّهُ حُفِرَ قَبْرٌ بِالْبَلَوِيَّةِ فِي أَرْضٍ شَدِيدَةٍ، لَمْ يَظُنُّوا أَنَّهُ حُفِرَ فِيهَا شَيْءٌ، قَالَ: فَظَهَرْنَا عَلَى رَجُلٍ مَدْفُونٍ لَمْ يَتَحَرَّكْ مِنْهُ شَيْءٌ، فَظَنُّوا أَنَّهُ أَبُو زَمْعَةَ الْبَلَوِيُّ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَدَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَبِيحَةَ، وَقَدْ رَأَى النَّبِيَّ، صلى الله عليه وسلم، وَعَمْرَو بْنَ عَوْفٍ الْمُزَنِيَّ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَقَدْ ذَكَرَ بَعْضُ الْمُحَدِّثِينَ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ نَافِعٍ لَمَّا دَخَلَهَا كَانَ مَعَهُ خَمْسَةٌ وَعِشْرُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم.

وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، فِي حَدِيثِ ابْنِ وَهْبٍ: إِنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ حُدَيْجٍ، كَانَ مَعَهُ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ الأَوَّلِينَ نَاسٌ كَثِيرٌ.
এবং বিলাল ইবনুল হারিস আল-মুজানি, কাব ইবনে আমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর, আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সিদ্দিক, রাবিয়াহ ইবনে আব্বাদ আদ-দীলি, যিয়াদ ইবনুল হারিস আস-সুদায়ি, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ আল-আমিরি, মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ, বুসর ইবনে আরতাহ—কারো মতে ইবনে আবি আরতাহ, এবং একাধিক মুহাদ্দিস তার জন্য পৃথক মুসনাদ তৈরি করেছেন—এবং আবু জামআহ আল-বালাউয়ি; তিনি এখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

আবুল আরব বলেন: ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি বলেন: আবু খারিজাহ আনবাসাহ ইবনে খারিজাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন রিশদিন ইবনে সাদ আল-মাহরি থেকে, তিনি মুয়াবিয়া অর্থাৎ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আবু মুলাইক থেকে, তিনি আবু জামআহ আল-বালাউয়ি থেকে বর্ণনা করেন—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের একজন ছিলেন এবং বৃক্ষের নিচে বায়আত গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—ইফ্রিকিয়ায় যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন তিনি তাদেরকে তার কবরটি মাটির সমান করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আবুল আরব বলেন: আমি জানতে পেরেছি যে, তার কবর বালাউয়িয়া-তে অবস্থিত, আর এ কারণেই জায়গাটির নামকরণ করা হয়েছে বালাউয়িয়া।

আবুল আরব বলেন: আহমদ ইবনে আবি সুলাইমান উল্লেখ করেছেন যে, আবু জামআহ আল-বালাউয়ি বালাউয়িয়া-এর ‘বাব তিউনিস’ কবরস্থানে সমাহিত হয়েছেন এবং তার নামানুসারেই জায়গাটির নাম বালাউয়িয়া হয়েছে।

আবুল আরব বলেন: আমাদের জনৈক সাথী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, বালাউয়িয়া-তে একটি শক্ত ভূমিতে কবর খনন করা হয়েছিল, যেখানে তারা ভাবেনি যে এর আগে কিছু খনন করা হয়েছে। তিনি বলেন: তখন আমরা সমাহিত একজন ব্যক্তির সন্ধান পেলাম যার শরীরের কোনো অংশই বিকৃত হয়নি। তারা ধারণা করলেন যে তিনি আবু জামআহ আল-বালাউয়ি।

আবুল আরব বলেন: এবং ইফ্রিকিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে সাবিহা—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছিলেন—এবং আমর ইবনে আউফ আল-মুজানি।

আবুল আরব বলেন: কোনো কোনো মুহাদ্দিস উল্লেখ করেছেন যে, উকবা ইবনে নাফে যখন সেখানে প্রবেশ করেন, তখন তার সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পঁচিশজন সাহাবী ছিলেন।

সুলাইমান ইবনে ইয়াসার ইবনে ওয়াহাব বর্ণিত হাদিসে বলেন: নিশ্চয়ই মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজের সাথে প্রথম যুগের মুহাজিরদের মধ্য থেকে অনেক লোক ছিল।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وَذَكَرَ عِيسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْمُهَاجِرِ، أَنَّهُ رَأَى فِي كِتَابِ السُّوسِيِّ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَعْدٍ، كَانَ عَلَى مِصْرَ، وَالْخَلِيفَةُ عُثْمَانُ، فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ عَلَى إِفْرِيقِيَّةَ فِي جَيْشٍ أَكْثَرُهُمْ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ: «أَنَّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي، مَاتَ بِالْقَيْرَوَانِ، وَدُفِنَ بِبَابِ نَافِعٍ» .

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَقَدْ رَوَى بَعْضُ الْمُحَدِّثِينَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، كَانَ لَمَّا غَزَا مَعَ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ، كَانَتْ مَعَهُ أُمُّ وَلَدٍ لَهُ، فَوُلِدَتْ لَهُ صَبِيَّةٌ مِنْ أُمِّ الْوَلَدِ، وَمَاتَتْ فَدَفَنَهَا فِي مَقْبَرَةِ قُرَيْشٍ بِبَابِ سَلَمٍ، فَاتَّخَذَهَا قُرَيْشٌ مَقْبَرَةً يَدْفِنُونَ فِيهَا، لِمَكَانِ تِلْكَ الصَّبِيَّةِ.

 

‌‌تَسْمِيَةُ مَنْ دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ مِنْ جِلَّةِ التَّابِعِينَ

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ، دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ مِنْ جِلَّةِ التَّابِعِينَ: مَعْبَدٌ أَخُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ، وَعَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَالْمُطَّلِبُ بْنُ السَّائِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ، وَالسَّائِبُ بْنُ عَامِرِ بْنِ هِشَامٍ، وَمَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ، وَعُقْبَةُ بْنُ نَافِعٍ الْفِهْرِيُّ، مَرَّتَيْنِ وَقُتِلَ بِهَا، وَالْحَارِثُ بْنُ الْحَكَمِ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَزُهَيْرُ بْنُ قَيْسٍ الْبَلَوِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَوْسٍ الأَنْصَارِيُّ، وَحَنَشُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّنْعَانِيُّ، وَهُوَ الَّذِي افْتَتَحَ شِبْهَ جَزِيرَةِ أَبِي شَرِيكٍ، وَقَتَلَ أَهْلَهَا، وَجَّهَهُ إِلَيْهَا أَبُو الْمَهَاجِرِ دِينَارٌ.
ঈসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল মুহাজির উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সুসির কিতাবে দেখেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ মিসরের দায়িত্বে ছিলেন এবং উসমান (রা.) ছিলেন খলিফা। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সাদ এমন এক বাহিনী নিয়ে আফ্রিকার অভিযানে বের হন যাদের অধিকাংশ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী।

আবু আল-আরব বলেন: আহমদ ইবনে সুলায়মান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: "আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি কায়রোয়ানে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে বাবু নাফিতে দাফন করা হয়।"

আবু আল-আরব বলেন: কোনো কোনো মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব যখন মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজের সাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তখন তার সাথে তার একজন উম্মু ওয়ালাদ (দাসী) ছিলেন। সেই উম্মু ওয়ালাদের গর্ভে তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে সে মারা গেলে তিনি তাকে বাবু সালামের নিকটবর্তী কুরাইশদের গোরস্তানে দাফন করেন। সেই কন্যা সন্তানের (কবরের) কারণে কুরাইশরা ওটিকে তাদের দাফনের জন্য গোরস্তান হিসেবে গ্রহণ করে।

 

‌‌বরেণ্য তাবিঈগণের মধ্যে যারা আফ্রিকায় প্রবেশ করেছেন তাদের নামসমূহ

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে তামীম বলেন, বরেণ্য তাবিঈগণের মধ্যে যারা আফ্রিকায় প্রবেশ করেছেন তারা হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের ভাই মাবাদ, আবদুর রহমান ইবনে আসওয়াদ ইবনে আবদ ইয়াগুস, আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব, মুত্তালিব ইবনে সায়িব ইবনে আবি ওয়াদাআ, সায়িব ইবনে আমির ইবনে হিশাম, মারওয়ান ইবনুল হাকাম, উকবা ইবনে নাফি আল-ফিহরি—তিনি সেখানে দুইবার প্রবেশ করেছেন এবং সেখানেই নিহত হন, হারিস ইবনুল হাকাম, আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান, আবদুর রহমান ইবনে জাইদ ইবনুল খাত্তাব, উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব, জুহাইর ইবনে কায়েস আল-বালাউয়ি, মুহাম্মদ ইবনে আউস আল-আনসারী এবং হানাশ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সানআনী; তিনিই আবু শারীক উপদ্বীপটি জয় করেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের হত্যা করেন, আবু আল-মুহাজির দিনার তাকে সেখানে প্রেরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَقَدْ حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ سُحْنُونٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ: دُعَاءٌ أَخْبَرَنِي بِهِ قَيْسُ بْنُ الْحَجَّاجِ، قَالَ: وَكَانَ يَدْعُو بِهِ حَنَشٌ، يَقُولُ ابْنُ وَهْبٍ: عَلَّمَنِيهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَيَّاشٍ عِنْدَ خُرُوجِنَا مِنْ إِفْرِيقِيَّةَ، فَذَكَرَ الدُّعَاءَ، وَنُبَيْعٌ ابْنُ امْرَأَةِ كَعْبِ الأَحْبَارِ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الْقَيْسِيُّ، الَّتِي كَانَتِ الْكَاهِنَةُ أَسَرَتْهُ، لَمَّا هَزَمَتْ حَسَّانَ بْنَ النُّعْمَانِ، وَكَانَ خَالِدٌ أَذْكَرَ مَنْ كَانَ، وَعَلِيُّ بْنُ رَبَاحٍ اللَّخْمِيُّ هُوَ وَالِدُ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ الْمِصْرِيِّ، كَانَ مَعَ مُوسَى بْنِ نُصَيْرٍ، وَالأَكْدَرِ بْنِ حَمَامٍ اللَّخْمِيِّ، سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، فَقِيهُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، وَيَحْيَى بْنُ الْحَكَمِ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَقَدْ دَخَلَهَا فِي زَمَنِ بَنِي أُمَيَّةَ، عِكْرِمَةُ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، وَكَانَ مَجْلِسُهُ فِي مُؤَخَّرِ الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ فِي غَرْبِيِّ الْمَنَارَةِ.

الْمَوْضِعُ الَّذِي يُسَمَّى بِالرَّكِيبِيَّةِ، وَلَمْ يَكُنْ عِكْرِمَةُ دَخَلَهَا غَازِيًا.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ بْنُ تَمِيمٍ: وَأَبُو مَنْصُورٍ أَحْسَبُهُ وَالِدَ يَزِيدَ بْنِ أَبِي مَنْصُورٍ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: قَدْ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مُعَاوِيَةَ الصُّمَادِحِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَيْخٌ مِنْ مُرَادٍ، قَالَ: صَلَّى بِنَا أَبُو مَنْصُورٍ بِإِفْرِيقِيَّةَ فِي رَمَضَانَ، فَأَوْتَرَ بِوَاحِدَةٍ، فَكَأَنَّ النَّاسَ أَنْكَرُوا عَلَيْهِ، فَقَالَ: «رَأَيْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، يُوتِرَانِ بِوَاحِدَةٍ» .

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ بْنُ تَمِيمٍ: أَبُو مَنْصُورٍ هَذَا مِنْ كِبَارِ التَّابِعِينَ، لأَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ هَلَكَ فِي خِلافَةِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ.

وَدَخَلَهَا خَالِدُ بْنُ ثَابِتٍ الْفَهْمِيُّ.
আবু আল-আরব বলেন: হাবিব ইবনে নাসর, ঈসা ইবনে মিসকিন এবং আহমদ ইবনে আবু সুলায়মান আমার নিকট সুহনুন থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ আমাকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: এটি একটি দুয়া যা কায়স ইবনে আল-হাজ্জাজ আমাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন: হানাশ এই দুয়াটি করতেন। ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমরা যখন আফ্রিকা থেকে বের হচ্ছিলাম তখন আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ আমাকে এটি শিখিয়েছিলেন। এরপর তিনি সেই দুয়াটির কথা উল্লেখ করেন। আর (সেখানে ছিলেন) কা'ব আল-আহবারের স্ত্রীর পুত্র নুবাই' এবং ইয়াজিদ ইবনে খালিদ আল-কায়সি—যাকে কাহিনা বন্দী করেছিলেন যখন তিনি হাসান ইবনে আল-নুমানকে পরাজিত করেন, আর খালিদ ছিলেন সমকালীনদের মধ্যে সবচেয়ে প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি। এবং আলি ইবনে রাবাহ আল-লাখমি, যিনি মুসা ইবনে আলি আল-মিসরির পিতা; তিনি মুসা ইবনে নুসাইর এবং আল-আকদার ইবনে হাম্মাম আল-লাখমির সাথে ছিলেন। মদিনাবাসীদের ফকিহ সুলায়মান ইবনে ইয়াসার এবং ইয়াহইয়া ইবনে আল-হাকামও সেখানে ছিলেন।

আবু আল-আরব বলেন: উমাইয়াদের যুগে ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমা সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। জামে মসজিদের পেছনের অংশে মিনারের পশ্চিম দিকে তাঁর বসার স্থান ছিল।

সেই স্থানটি 'রাকিবিইয়াহ' নামে পরিচিত ছিল। ইকরিমা সেখানে যোদ্ধা হিসেবে প্রবেশ করেননি।

আবু আল-আরব ইবনে তামিম বলেন: আবু মনসুর—আমি মনে করি তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবু মনসুরের পিতা।

আবু আল-আরব বলেন: আহমদ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে মুয়াবিয়া আস-সুমাদিহি আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আল-হাকাম থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুরাদ গোত্রের একজন শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মনসুর রমজান মাসে আফ্রিকায় আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন। তিনি এক রাকাত বিতর আদায় করলেন। মানুষ যেন বিষয়টি অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেন: «আমি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফকে এক রাকাত বিতর আদায় করতে দেখেছি»।

আবু আল-আরব ইবনে তামিম বলেন: এই আবু মনসুর প্রবীণ তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত, কেননা আবদুর রহমান ইবনে আউফ উসমান ইবনে আফফানের খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেছিলেন।

আর খালিদ ইবনে সাবিত আল-ফাহমি সেখানে প্রবেশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌الطَّبَقَةُ الثَّانِيَةُ مِمَّنْ دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ أَوْ كَانَ بِهَا مِنْ أَهْلِهَا

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمِيمٍ: قَدْ حَدَّثَنِي فُرَاتُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَرْسَلَ عَشَرَةً مِنَ التَّابِعِينَ، يُفَقِّهُونَ أَهْلَ إِفْرِيقِيَّةَ، مِنْهُمْ: مَوْهِبُ بْنُ حَيٍّ الْمَعَافِرِيُّ، وَأَقَامَ بِإِفْرِيقِيَّةَ حَتَّى مَاتَ بِهَا، وَحِبَّانُ بْنُ أَبِي جَبَلَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الأَعْوَرُ الْقُرَشِيُّ، مَوْلاهُمْ، وَكَانَ رَجُلا صَالِحًا اسْتَعْمَلَهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، لُيُفَقِّهَهُمْ أَيْضًا، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدٍ، مَوْلَى الأَنْصَارِ، وَهُوَ صَاحِبُ سُوقِ مَسْجِدِ الأَحْبَاشِ، كَذَا، وَهُوَ الَّذِي يُقَالُ لَهُ: تَاجِرُ اللَّهِ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَقَدْ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زَكَرِيَّاءَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: سَأَلَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ، فَأَخْبَرْتُهُ عَنْ صَدَقَتِهِ وَفِعْلِهِ، فَقَالَ: «رَأَيْتُ رَجُلا يَنْسُكُ نَسْكَ الْعَجَمِ» ، قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: يُنْكِرُ عَلَيْهِ لُبْسَ الصُّوفِ، وَلَيْسَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ، مِمَّنْ أَرْسَلَهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ.

وَمِنْ فَضَائِلِ إِسْمَاعِيلَ تَاجِرِ اللَّهِ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: حَدَّثَنِي فُرَاتٌ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي حَسَّانٍ، يَقُولُ: كَانَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمَعْرُوفُ بِتَاجِرِ اللَّهِ، يُوَجِّهُ الْمُوَلَّدَاتِ وَالأَحْمَالَ إِلَى الْمَشْرِقِ، قَالَ: فَوَجَّهَ رِفْقَةً كُلَّهَا لَهُ، فَخَرَجَ يُشَيِّعُهُمْ إِلَى قَصْرِ الْمَاءِ، فَسَمِعَ بُكَاءً، فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقِيلَ لَهُ: هَؤُلاءِ الْمُوَلَّدَاتُ اللَّائِي وَجَّهْتَ يَبْكِينَ مَعَ أَبَائِهِنَّ وَأُمَّهَاتِهِنَّ وَأَخَوَاتِهِنَّ، فَبَكَى إِسْمَاعِيلُ، وَقَالَ: «إِنَّ دُنْيَا بَلَغَتْ بِي أَنْ أُفَرِّقَ بَيْنَ الأَحِبَّةِ، إِنَّهَا لَدُنْيَا سُوءٍ، أُشْهِدُكُمْ أَنَّ كُلَّ مَنْ لَهَا أَبٌ، أَوْ أُمٌّ، أَوْ أَخٌ، أَوْ أُخْتٌ فِي هَذِهِ الرِّفْقَةِ، فَهِيَ حُرَّةٌ» ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حَسَّانٍ: فَأَنْزَلَ مِنَ الْمَحَاسِنِ سَبْعِينَ مُوَلَّدَةً.

وَمِمَّنْ بَعَثَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ: طَلْقُ بْنُ حَابَانَ يُفَقِّهُهُمْ، وَبَكْرُ بْنُ سَوَادَةَ الْجُذَامِيُّ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ رَافِعٍ التَّنُوخِيُّ، وَقَدْ كَانَ وَلِيَ قَضَاءَ إِفْرِيقِيَّةَ،
দ্বিতীয় স্তর: যারা আফ্রিকায় প্রবেশ করেছিলেন অথবা সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে যারা সেখানে ছিলেন

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে তামীম বলেন: ফুরাত ইবনে মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ আফ্রিকার অধিবাসীদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য দশজন তাবেয়ীকে পাঠিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: মাওহিব ইবনে হাই আল-মাআফিরী, যিনি আফ্রিকায় অবস্থান করেছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন; হিব্বান ইবনে আবি জাবালা; কুরাইশদের মুক্তদাস ইসমাইল ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আওয়ার, তিনি একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন যাকে উমর ইবনে আবদুল আজিজ ফিকহ শিক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন; এবং আনসারদের মুক্তদাস ইসমাইল ইবনে উবাইদ, যিনি মাসজিদুল হাবাশ বাজারের মালিক ছিলেন এবং তাকে 'আল্লাহর ব্যবসায়ী' বলা হতো।

আবু আল-আরব বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি যাকারিয়া আল-হাফারি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম থেকে এবং তিনি মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব আমাকে ইসমাইল ইবনে উবাইদ আল-আনসারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি তাঁকে তাঁর দান-সদকা ও কার্যাবলি সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন: "আমি এমন একজন লোককে দেখেছি যিনি অনারবদের মতো ইবাদত করেন।" আবু আল-আরব বলেন: তিনি তাঁর পশমি পোশাক পরিধানের সমালোচনা করছিলেন। আর ইসমাইল ইবনে উবাইদ আল-আনসারী সেই দশজনের অন্তর্ভুক্ত নন যাঁদের উমর ইবনে আবদুল আজিজ আফ্রিকায় পাঠিয়েছিলেন।

আল্লাহর ব্যবসায়ী ইসমাইলের কিছু ফজিলত।

আবু আল-আরব বলেন: ফুরাত আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাসসানকে বলতে শুনেছি যে, ইসমাইল ইবনে উবাইদ, যিনি 'আল্লাহর ব্যবসায়ী' নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি প্রাচ্যের দিকে দাসী ও পণ্যসম্ভার পাঠাতেন। তিনি বলেন: একবার তিনি নিজের একটি কাফেলা পাঠালেন এবং তাদের বিদায় জানাতে 'কাসরুল মা' পর্যন্ত গেলেন। তখন তিনি কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এটি কীসের শব্দ? তাকে বলা হলো: আপনি যে দাসীদের পাঠাচ্ছেন, তারা তাদের পিতা, মাতা এবং বোনদের বিরহে কাঁদছে। তখন ইসমাইল নিজেও কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: "দুনিয়া আমাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে আমি প্রিয়জনদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছি। এটি নিশ্চয়ই এক মন্দ দুনিয়া। আমি আপনাদের সাক্ষী রাখছি যে, এই কাফেলার মধ্যে যার পিতা, মাতা, ভাই বা বোন আছে, সে আজ থেকে মুক্ত।" আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাসসান বলেন: এর ফলে তিনি হাওদা থেকে সত্তরজন দাসীকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের মুক্ত করে দিলেন।

উমর ইবনে আবদুল আজিজ যাদেরকে ফিকহ শিক্ষার জন্য আফ্রিকায় পাঠিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন: তালক ইবনে হাবান, বকর ইবনে সাওয়াদা আল-জুযামী এবং আবদুর রহমান ইবনে রাফি আত-তানূখী, যিনি আফ্রিকার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيُّ وَاسْمُهُ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، مَاتَ بِإِفْرِيقِيَّةَ وَلَهُ بِهَا مَسْجِدٌ، وَسَعِيدُ بْنُ مَسْعُودٍ التُّجِيبِيُّ، صَاحَ يَوْمَ جُمُعَةٍ عَلَى أَمِيرِ إِفْرِيقِيَّةَ فِي مَظْلَمَةٍ، وَقَدْ خَرَجَ الأَمِيرُ مِنَ الْجَامِعِ،: أَنَا بِاللَّهِ لا بِكَ، إِنِّي بِاللَّهِ لا بِكَ، فَقَضَى الأَمِيرُ حَاجَتَهُ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ بْنُ تَمِيمٍ: وَكُلُّ هَؤُلاءِ ثِقَاةٌ عِنْدَ الْمُحَدِّثِينَ، وَقَدْ رَوَى عَنْهُمْ كُلِّهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي جَبَلَةُ بْنُ حَمُّودٍ الصَّدَفِيُّ، عَنْ سُحْنُونٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ الصُّمَادِحِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، " أَنَّ الْخَمْرَةَ كَانَتْ عِنْدَ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ حَلالا حَتَّى بَعَثَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ هَؤُلاءِ الْفُقَهَاءَ، فَعَرَفُوا أَنَّهَا حُرِّمَتْ، ثُمَّ أَيْضًا لَمَّا دَخَلَتِ الْمُسَوِّدَةُ، يَعْنِي: فَشَا ذِكْرُهَا أَنَّهَا حَرَامٌ، وَانْتَشَرَ مَعَ أَهْلِ الْمَشْرِقِ حِينَ دَخَلُوا.

 

‌‌وَمِنْ هَذِهِ الطَّبَقَةِ الثَّانِيَةِ مِمَّنْ كَانَ بِإِفْرِيقِيَّةَ

زِيَادُ بْنُ أَنْعُمٍ الْمَعَافِرِيُّ، لَقِيَ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ وَغَزَا مَعَهُ، وَرَوَى عَنْهُ ابْنُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ، وَكَانَ قَدْ عُمِّرَ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: لَقَدْ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدِّمَشْقِيِّ، قَالَ: لَمَّا قَدِمَ مُحَمَّدُ بْنُ الأَشْعَثِ إِفْرِيقِيَّةَ وَنَزَلَ الْقَيْرَوَانَ، قَالَ: هَلْ فِي بَلَدِكُمْ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ؟ قَالُوا: نَعَمْ، رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، مِنَ التَّابِعِينَ مِنْ بَقَايَا النَّاسِ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ فَجَاءَهُ، وَهُوَ شَيْخٌ كَبِيرٌ قَدْ خَرُفَ،
এবং আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি, যার নাম: আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ; তিনি আফ্রিকায় মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানে তার একটি মসজিদ রয়েছে। আর সাঈদ বিন মাসউদ আত-তুজিবি, তিনি এক জুমার দিনে আফ্রিকার আমিরের কাছে একটি জুলুমের অভিযোগ নিয়ে চিৎকার করে উঠলেন, যখন আমির জামে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর আশ্রয়ে আছি, আপনার নয়; নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর আশ্রয়ে আছি, আপনার নয়।" তখন আমির তার প্রয়োজন পূরণ করে দিলেন।

আবুল আরব বিন তামিমি বলেন: মুহাদ্দিসগণের নিকট এরা সকলেই নির্ভরযোগ্য, আর আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বিন আনআম তাদের সবার থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবুল আরব বলেন: জাবালাহ বিন হাম্মুদ আস-সাদাফি আমার নিকট সুহনুন থেকে, তিনি মুয়াবিয়া আস-সুমাদিহি থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বিন আনআম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "আফ্রিকার অধিবাসীদের নিকট মদ বৈধ ছিল যতক্ষণ না উমর বিন আবদুল আজিজ এই ফকিহদের প্রেরণ করলেন। তখন তারা জানতে পারলেন যে এটি হারাম করা হয়েছে। এরপর যখন কালো পতাকাবাহীরা প্রবেশ করল, অর্থাৎ এর হারামের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার পেল এবং প্রাচ্যবাসীদের আগমনের সাথে সাথে এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল।"

 

‌এবং আফ্রিকায় অবস্থানকারী এই দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত হলেন

জিয়াদ বিন আনআম আল-মাআফিরি; তিনি আবু আইয়ুব আনসারীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তার সাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তার থেকে তার পুত্র আবদুর রহমান এবং আফ্রিকার অধিবাসী ইয়াজিদ বিন আবি মানসুর বর্ণনা করেছেন, আর তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন।

আবুল আরব বলেন: আবদুল্লাহ বিন ওয়ালিদ আমার নিকট ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-আশআস যখন আফ্রিকায় আসলেন এবং কায়রাওয়ানে অবস্থান করলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনাদের শহরে কি হাদিস বিশারদদের কেউ আছেন?" তারা বলল: "হ্যাঁ, ইয়াজিদ বিন আবি মানসুর নামে একজন ব্যক্তি আছেন, যিনি তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত এবং সেকালের লোকদের অবশিষ্টাংশ।" তখন তিনি তাকে লোক পাঠিয়ে ডাকলেন এবং তিনি আসলেন; তিনি ছিলেন অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ এবং জরাগ্রস্ত।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَضَعُفَ فَحَادَثَهُ سَاعَةً إِلَى أَنْ ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الأَشْعَثِ شَيْئًا عَنِ النَّبِيِّ، عليه السلام أَنْكَرَهُ عَلَيْهِ يَزِيدُ، فَقَالَ لَهُ يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ: أَدْرَكْتُ النَّاسَ قَبْلَ أَنْ يَلْتَقِيَ أَبَوَاكَ، لا يَقُولُ هَذَا مِنْهُمْ إِلا عَاجِزٌ جَاهِلٌ، فَغَضِبَ مُحَمَّدُ بْنُ الأَشْعَثِ حَتَّى زَالَ عَنِ النُّمْرُقَةِ الَّتِي كَانَ عَلَيْهَا قَاعِدًا، فَأَمْهَلَهُ يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، ثُمَّ فَسَّرَهُ لَهُ وَبَيَّنَهُ، فَقَبِلَ مِنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ الأَشْعَثِ، وَقَالَ لَهُ: مَا نَعْجَلُ عَلَى الشَّيْخِ.

وَالْمُغِيرَةُ بْنُ أَبِي بُرْدَةَ الْقُرَشِيُّ، كَانَ مِمَّنْ أَوْطَنَ إِفْرِيقِيَّةَ، وَكَانَ وَجْهًا مِنْ وُجُوهِ مَنْ بِهَا، وَلَقَدْ غَزَا الْقُسْطَنْطِينَةَ، وَكَانَ عَلَى جَيْشِ إِفْرِيقِيَّةَ الَّذِينَ غَزَوُا الْقُسْطَنْطِينَةَ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ نَصْرٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَعِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، عَنْ سُحْنُونٍ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَيْضًا، يَعْنِي: عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ شُرَيْحٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صَالِحٍ، عَلَى أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي صَالِحٍ، يَذْكُرُ أَنَّهُ كَانَ مَعَهُ الْمُغِيرَةُ بْنُ أَبِي بُرْدَةَ فِي غَزْوَةِ الْقُسْطَنْطِينَةِ، فَجَاءَ خَازِنُهُ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ مِمَّنْ رَكِبَ مَعَهُ، فَقَالَ: «انْفِقْ أَصْلَحَكَ اللَّهُ مَا بَدَا لَكَ، فَوَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ مَا إِنَاءٌ أُفْرِغُهُ إِلا وَجَدْتُهُ قَدْ مُلِئَ» .

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ بْنُ تَمِيمٍ: وَكَانَ لِلْمُغِيرَةِ ابْنٌ، يُقَالُ لَهُ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمَغِيرَةِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ الْكِنَانِيُّ، هَكَذَا قَالَ، وَهُوَ عِنْدَنَا عَبْدَرِيٌّ لا شَكَّ فِيهِ، وَلَقَدْ سَأَلَ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، خَالِدَ بْنَ أَبِي عِمْرَانَ، هَلْ بِإِفْرِيقِيَّةَ أَحَدٌ مِنْ قُرَيْشٍ؟ قَالَ لَهُ: الْمُغِيرَةُ بْنُ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ: قَدْ عَرَفْتُهُ، وَقَالَ: مَا لَهُ لا يَقُومُ بِأُمُورِ النَّاسِ؟ وَذَلِكَ لَمَّا قَتَلَ ابْنُ أَبِي مُسْلِمٍ، عَامِلَ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَالْمُغِيرَةُ هُوَ جَدُّ عَمْرُونَ بْنِ زُرَارَةَ.

وَقَدْ رَوَى مَالِكٌ فِي مُوَطَّئِهِ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، مِنْ آلِ ابْنِ
এবং তিনি দুর্বল হয়ে পড়লেন, অতঃপর তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বললেন। এক পর্যায়ে মুহাম্মদ ইবনুল আশআস নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে এমন কিছু উল্লেখ করলেন যা ইয়াজিদ অস্বীকার করলেন। তখন ইয়াজিদ ইবনে আবি মনসুর তাকে বললেন: "তোমার পিতামাতা মিলিত হওয়ার পূর্ব থেকেই আমি বিজ্ঞজনদের সান্নিধ্য পেয়েছি; তাদের মধ্যে কেবল অক্ষম ও অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া কেউ এমন কথা বলে না।" এতে মুহাম্মদ ইবনুল আশআস রাগান্বিত হলেন, এমনকি তিনি যে আসনে উপবিষ্ট ছিলেন তা থেকে সরে গেলেন। অতঃপর ইয়াজিদ ইবনে আবি মনসুর তাকে কিছুক্ষণ অবকাশ দিলেন, তারপর বিষয়টি তার নিকট ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করলেন। তখন মুহাম্মদ ইবনুল আশআস তা গ্রহণ করলেন এবং তাকে বললেন: "আমরা এই শায়খের (প্রবীণ পণ্ডিত) প্রতি তাড়াহুড়ো করি না।"

আর আল-মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ আল-কুরাশী ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা ইফরীকিয়াতে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং তিনি সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি কনস্টান্টিনোপল অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং কনস্টান্টিনোপল অভিযানে লিপ্ত ইফরীকিয়ার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন।

আবু আল-আরব বলেন: হাবিব ইবনে নাসর, আহমদ ইবনে আবি সুলাইমান এবং ঈসা ইবনে মিসকিন সুহনুন থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে শুরাইহ আব্দুল আজিজ ইবনে সালিহ সূত্রে আমার নিকট আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সালিহকে উল্লেখ করতে শুনেছেন যে, তিনি কনস্টান্টিনোপল অভিযানে আল-মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহর সাথে ছিলেন। তখন তার খাজাঞ্চি এলো—আর আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সালিহও তাদের মধ্যে ছিলেন যারা তার সাথে আরোহণ করেছিলেন—সে বলল: "আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আপনার যা ইচ্ছা ব্যয় করুন। সেই সত্তার কসম যার নামে শপথ করা হয়, আমি যে পাত্রই খালি করি না কেন, দেখি যে তা পুনরায় পূর্ণ হয়ে আছে।"

আবু আল-আরব ইবনে তামিমি বলেন: আল-মুগীরাহর এক পুত্র ছিল যাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ আল-কিনানী বলা হতো। তিনি এভাবেই বলেছেন, তবে আমাদের নিকট তিনি নিঃসন্দেহে আবদারী গোত্রের। ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক খালিদ ইবনে আবি ইমরানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "ইফরীকিয়াতে কি কুরাইশ বংশের কেউ আছে?" তিনি তাকে বললেন, "আল-মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ।" তিনি বললেন, "আমি তাকে চিনি।" তিনি আরও বললেন, "মানুষের বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব সে কেন নিচ্ছে না?" এটি তখনকার ঘটনা যখন ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের গভর্নর ইবনে আবি মুসলিম নিহত হয়েছিলেন।

আবু আল-আরব বলেন: আর এই মুগীরাহ হলেন আমরুন ইবনে যুরারাহর পিতামহ।

ইমাম মালিক তার মুয়াত্তায় সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি ইবনে... এর বংশধর।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الأَزْرَقِ، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ، عليه السلام، فَقَالَ: إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ، فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا، أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ» .

وَرِفَاعَةُ بْنُ رَافِعٍ دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ فِي زَمَنِ مُوسَى بْنِ نُصَيْرٍ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: قَدْ حَدَّثَنِي فُرَاتٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حَسَّانٍ الْيَحْصِبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: دَخَلَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ إِلَى إِفْرِيقِيَّةَ فِي زَمَنِ مُوسَى بْنِ نُصَيْرٍ فِي حَاجَةٍ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ حَاجَتِهِ وَبَرَزَ لِلْخُرُوجِ، دَخَلَ عَلَى مُوسَى فَذَكَرَ الْحَدِيثَ، قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: قَالَ فُرَاتٌ: هُوَ رِفَاعَةُ بْنُ رَافِعٍ.

وَعَمْرُو بْنُ رَاشِدِ بْنِ مُسْلِمٍ الْكِنَانِيُّ، رَوَى عَنْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، مَا أَعْلَمُ رَوَى عَنْهُ غَيْرُهُ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: قَالَ فُرَاتٌ: أَظُنُّ أَصْلَهُ شَامِيًّا وَاخْتَلَطَ بِتُونُسَ وَمَاتَ بِهَا.

وَرَوَى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ مُسْلِمٍ الْغِفَارِيِّ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ مِنْ أَهْلِ الْبُلْدَانِ.

وَرَوَى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ الْهُذَلِيِّ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَأَبُو غُطَيْفٍ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ وَاسْمُهُ: بِشْرٌ، وَقَدْ تَزَوَّجَ أَبُو غُطَيْفٍ بِنْتَ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ الْجُذَامِيِّ، قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: كَذَلِكَ قَالَ لِي فُرَاتٌ.

وَيَزِيدُ بْنُ قَاسِطٍ، سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، رَوَى عَنْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ وَمَاتَ بِهَا.

وَرَوَى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ السُّفْيَانِيِّ، وَسَلْمَانُ هَذَا مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ،
আযরাক থেকে বর্ণিত যে, মুগিরা বিন আবি বুরদাহ, যিনি বনু আবদুদ দার গোত্রের সদস্য ছিলেন, তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমরা সমুদ্রে ভ্রমণ করি এবং সাথে সামান্য পানি বহন করি। যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব। তাহলে আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি?" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।"

এবং রিফায়া বিন রাফে মূসা বিন নুসাইরের যুগে আফ্রিকায় প্রবেশ করেছিলেন।

আবু আল-আরব বলেন: আমার কাছে ফুরাত বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আবদুল্লাহ বিন আবি হাসান আল-ইয়াহসুবি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বিন আনআম থেকে, তিনি মুসলিম বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আনসারদের এক ব্যক্তি মূসা বিন নুসাইরের যুগে কোনো এক প্রয়োজনে আফ্রিকায় প্রবেশ করেছিলেন। যখন তিনি তার প্রয়োজন শেষ করলেন এবং বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন, তখন তিনি মূসার কাছে প্রবেশ করলেন এবং হাদিসটি উল্লেখ করলেন। আবু আল-আরব বলেন: ফুরাত বলেছেন: তিনি হলেন রিফায়া বিন রাফে।

এবং আমর বিন রাশিদ বিন মুসলিম আল-কিনানি; তাঁর থেকে আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বর্ণনা করেছেন। আমি জানি না যে তাঁর থেকে অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন কি না।

আবু আল-আরব বলেন: ফুরাত বলেছেন: আমার ধারণা তার মূল নিবাস ছিল সিরিয়া এবং তিনি তিউনিসিয়ায় মিশে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

এবং আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বিন আনআম, জিয়াদ বিন মুসলিম আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি ছিলেন আফ্রিকার দেশগুলোর অধিবাসীদের একজন।

এবং আবদুর রহমান বিন জিয়াদ, আবু গুতাইফ আল-হুযালি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর বিন আবদুল আজিজের নিকট ছিলাম। আর আবু গুতাইফ আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁর নাম ছিল বিশর। আবু গুতাইফ বকর বিন সাওয়াদা আল-জুযামির কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। আবু আল-আরব বলেন: ফুরাত আমাকে এভাবেই বলেছিলেন।

এবং ইয়াজিদ বিন কাসিত; তিনি আবদুল্লাহ বিন উমরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাঁর থেকে আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

এবং আবদুর রহমান বিন জিয়াদ, যিনি আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন, সালমান বিন আমির আস-সুফিয়ানি থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই সালমানও আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَيَزِيدُ بْنُ نُعَيْمٍ، وَيَزِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ عَوْسَجَةَ، وَمَالِكُ بْنُ قَيْسٍ، مِنْ أَهْلِهَا، أَوْ مِمَّنْ دَخَلَهَا، وَعِمْرَانُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمَعَافِرِيُّ، رَوَى عَنْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، قَالَ: وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ أَصْحَابًا لِلنَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ أَيْضًا.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَمِنْهُمْ أَيْضًا الْمُغِيرَةُ بْنُ سَلَمَةَ، مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ، أَوْ مِمَّنْ دَخَلَهَا، قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: هَؤُلاءِ كُلُّهُمْ قَدْ رَوَى عَنْهُم، عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ.

قَالَ لِي فُرَاتٌ: كُلُّ مَنْ رَوَى عَنْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ، أَوْ مِمَّنْ دَخَلَهَا إِلا مُسْلِمَ بْنَ يَسَارٍ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: يَحْسَبُ فُرَاتٌ أَنَّهُ مُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ الْبَصْرِيُّ، وَمُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ هَذَا الَّذِي رَوَى عَنْهُ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ، هُوَ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: قَدْ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الأَنْدَلُسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: «الإِفْرِيقِيُّ» ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، لَيْسَ هَذَا مُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ الْبَصْرِيُّ، هَذَا رَجُلٌ أَرَاهُ مِنْ نَاحِيَةِ إِفْرِيقِيَّةَ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ.

وَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: مُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ، الَّذِي يَرْوِي عَنْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ، وَمِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ مَيْسَرَةُ الزَّرُودِيُّ، وَابْنُهُ بِشْرُ بْنُ مَيْسَرَةَ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: قَدْ حَدَّثَنِي فُرَاتٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِيهِ الزَّرُودِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ فُرَاتٌ: " الزَّرُودِيُّ شَيْخٌ كَانَ مِنْ أَهْلِ زَرُودٍ
এবং ইয়াজিদ ইবনে নুয়াইম, ইয়াজিদ ইবনে ইয়াকুব, সুলায়মান ইবনে আওসাজাহ এবং মালিক ইবনে কায়স—এরা আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন অথবা যারা সেখানে প্রবেশ করেছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর ইমরান ইবনে উবায়দ আল-মাআফিরি; তাঁর থেকে আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ ইবনে আনউম বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং তিনিও আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন।

আবু আল-আরব বলেন: তাদের মধ্যে আল-মুগীরাহ ইবনে সালামাহ-ও রয়েছেন, যিনি আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন অথবা যারা সেখানে প্রবেশ করেছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবু আল-আরব বলেন: এঁরা সকলেই এমন ব্যক্তি যাদের থেকে আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ ইবনে আনউম বর্ণনা করেছেন।

ফুরাত আমাকে বলেছেন: আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ যাঁর থেকেই বর্ণনা করেছেন, তিনি হয় আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন অথবা সেখানে প্রবেশ করেছিলেন; তবে মুসলিম ইবনে ইয়াসার ব্যতীত।

আবু আল-আরব বলেন: ফুরাত মনে করেন যে তিনি মুসলিম ইবনে ইয়াসার আল-বসরী, অথচ এই মুসলিম ইবনে ইয়াসার—যাঁর থেকে আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন—তিনি আফ্রিকার অধিবাসী।

আবু আল-আরব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উবায়দ আল-আন্দালুসী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "আল-ইফ্রিকী" (আফ্রিকী ব্যক্তি) মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন; ইনি মুসলিম ইবনে ইয়াসার আল-বসরী নন। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যাকে আমি আফ্রিকার অঞ্চলের মনে করি, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন।

এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: মুসলিম ইবনে ইয়াসার—যাঁর থেকে আবদুর রহমান বর্ণনা করেন—তিনি আফ্রিকার অধিবাসী একজন ব্যক্তি। আর আফ্রিকার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন মায়সারাহ আজ-জারুদী এবং তাঁর পুত্র বিশর ইবনে মায়সারাহ।

আবু আল-আরব বলেন: ফুরাত মূসা ইবনে মুয়াবিয়ার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে মায়সারাহ তাঁর পিতা আজ-জারুদীর সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। ফুরাত বলেন: "আজ-জারুদী একজন শায়খ ছিলেন যিনি জারুদ জনপদের অধিবাসী ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌وَمِمَّنْ دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ مِنَ التَّابِعِينَ الَّذِينَ هُمْ دُونَ هَؤُلاءِ فِي السِّنِّ:

يَحْيَى بْنُ سَعِيدِ بْنِ قَيْسٍ الأَنْصَارِيُّ، الَّذِي رَوَى عَنْهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، دَخَلَ إِفْرِيقِيَّةَ، وَجَالَسَ بِهَا خَالِدَ بْنَ أَبِي عِمْرَانَ التُّجِيبِيُّ التُّونُسِيَّ، وَرَوَى عَنْهُ، وَقَدْ ذَكَرْنَا حَدِيثَهُ عَنْهُ الَّذِي أَلَّفْنَاهُ مِمَّا لَيْسَ فِي مُوَطَّئِهِ، وَذَكَرْنَاهُ فِي عُلَمَاءِ أَهْلِ تُونُسَ.
এবং তাবেয়ীগণের মধ্য হতে যারা ইফরীকিয়াতে প্রবেশ করেছেন এবং যারা বয়সে এদের অপেক্ষা অনুজ ছিলেন:

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে কায়স আল-আনসারী, যাঁর নিকট থেকে মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন। তিনি ইফরীকিয়াতে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে খালিদ ইবনে আবি ইমরান আত-তুজিবি আত-তুনুসির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছিলেন। আমরা তাঁর থেকে বর্ণিত সেই হাদীসগুলো উল্লেখ করেছি যা আমরা সংকলন করেছি এবং যেগুলো তাঁর মুয়াত্তা গ্রন্থে নেই, আর আমরা তিউনিসিয়ার আলেমগণের আলোচনায় তা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَأَبُو مَعْمَرٍ عَبَّادُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ التَّيْمِيُّ، مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ، قَدِمَ الْقَيْرَوَانَ، وَكَانَ قَدْ لَقِيَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، وَالْحَسَنَ الْبَصْرِيَّ، وَغَيْرَهُمَا، وَأَخَذَ عَنْهُ نَاسٌ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ طَرَابُلُسَ وَالْقَيْرَوَانِ، وَخَرَجَ إِلَى قُسْطَنْطِينَةَ فَمَاتَ بِهَا، وَقَدْ ذَكَرْنَاهُ فِي كِتَابِنَا الَّذِي أَلَّفْنَاهُ، فِي ثِقَاةِ الْمُحَدِّثِينَ وَضِعَافِهِمْ، وَبَيَّنَّا أَمْرَهُ، وَهُوَ يَرْوِي مَنَاكِيرَ لا يَرْوِيهَا غَيْرُهُ عَنْ أَنَسٍ، وَلَكِنَّهُ مَشْهُورٌ بِكَثْرَةِ مَنْ أَخَذَ عَنْهُ.

قَالَ: وَلَقَدْ قَالَ لِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْبَغْدَادِيُّ: سَمِعْتُ مِنْ كَامِلِ بْنِ طَلْحَةَ سَنَةَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ وَمِائَتَيْنِ، قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَدَخَلَ كَامِلٌ الْمَغْرِبَ، فَسَمِعَ مِنْ أَبِي مَعْمَرٍ، وَأَبُو الأَبْيَضِ أَيْضًا قَدِمَ إِفْرِيقِيَّةَ، رَوَى عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَلَمْ يَكْثُرِ الآخِذُونَ عَنْهُ، قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: مَا عَلِمْتُ رَوَى عَنْهُ غَيْرُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حَنَشٍ، وَأَظُنُّهُ بَصْرِيًّا، وَلا عِلْمَ لِي بِحَالِهِ.
আবু মা'মার আব্বাদ ইবনে আব্দুস সামাদ আত-তাইমি ছিলেন বসরাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি কায়রাওয়ানে এসেছিলেন। তিনি আনাস ইবনে মালিক, হাসান বসরী ও অন্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ত্রিপোলি ও কায়রাওয়ানের বহু লোক তার নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। তিনি কনস্টান্টিনোপলে গমন করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। আমরা মুহাদ্দিসদের নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আমাদের রচিত গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছি এবং তার অবস্থা স্পষ্ট করেছি। তিনি আনাস (রা.)-এর সূত্রে এমন সব মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি, তবে তার থেকে ইলম গ্রহণকারীর আধিক্যের কারণে তিনি প্রসিদ্ধ।

তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে আব্দুল জব্বার আল-বাগদাদি আমাকে বলেছেন, আমি দুইশ বারো হিজরি সালে কামিল ইবনে তালহা থেকে শুনেছি। আবুল আরব বলেন: কামিল মাগরিবে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি আবু মা'মার থেকে শ্রবণ করেছেন। আবু আল-আবইয়াদও ইফরিকা এসেছিলেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে তার থেকে গ্রহণকারীর সংখ্যা অধিক ছিল না। আবুল আরব বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি হানাশ ব্যতীত আর কেউ তার থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। আমার ধারণা তিনি বসরার অধিবাসী এবং তার অবস্থা সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই।
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌وَمِمَّنْ لَهُ سِنٌّ قَدْ رَوَى عَنِ الْجِلَّةِ مِنَ التَّابِعِينَ ثُمَّ مِنْ أَهْلِ إِفْرِيقِيَّةَ

‌‌عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ الْمَعَافِرِيُّ

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ الْمَعَافِرِيُّ، سَمِعَ مِنْ جِلَّةِ التَّابِعِينَ، وَكَانَ قَدْ وَلِيَ قَضَاءَ إِفْرِيقِيَّةَ، وَكَانَ عَدْلا، صُلْبًا فِي قَضَائِهِ، وَأَنْكَرُوا عَلَيْهِ أَحَادِيثَ، ذَكَرَهَا الْبُهْلُولُ بْنُ رَاشِدٍ.

قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، يَقُولُ: جَاءَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ الإِفْرِيقِيُّ بِسِتَّةِ أَحَادِيثَ يَرْفَعُهَا إِلَى النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم ، لَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا يَرْفَعُهَا، حَدِيثُ «أُمَّهَاتِ الأَوْلادِ» ، وَحَدِيثُ «الصُّدَائِيِّ» حِينَ أَذَّنَ قَبْلَ بِلالٍ، فَأَرَادَ بِلالٌ أَنْ يُقِيمَ، فَقَالَ النَّبِيُّ، عليه السلام: «إِنَّ أَخَا صُدَاءَ قَدْ أَذَّنَ، وَمَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ» وَحَدِيثُ «إِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ رَأْسَهُ مِنْ آخِرِ سَجْدَةٍ وَاسْتَوَى جَالِسًا، فَقَدْ تَمَّتْ صَلاتُهُ وَإِنْ أَحْدَثَ» ، وَحَدِيثُ قَالَ النَّبِيُّ، عليه السلام: «لا خَيْرَ فِيمَنْ لَمْ يَكُنْ عَالِمًا، أَوْ مُتَعَلِّمًا» ، وَحَدِيثُ قَالَ النَّبِيُّ، عليه السلام: «اغْدُ عَالِمًا أَوْ مُتَعَلِّمًا وَلا تَكُنِ الثَّالِثَ فَتَهْلِكَ» وَقَوْلُ النَّبِيِّ، عليه السلام: " الْعِلْمُ ثَلاثَةٌ، وَمَا سِوَى ذَلِكَ فَضْلٌ: آيَةٌ مُحْكَمَةٌ، أَوْ سُنَّةٌ قَائِمَةٌ، أَوْ فَرِيضَةٌ عَادِلَةٌ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: فَلِهَذِهِ الْغَرَائِبِ الَّتِي لَمْ يَرْوِهَا غَيْرُهُ ضَعَّفَ ابْنُ مَعِينٍ حَدِيثَهُ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَضَّاحٍ، قَالَ: " أُسِرَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، فَفَدَاهُ أَبُو جَعْفَرٍ الْمَنْصُورُ الْخَلِيفَةُ، وَوَلاهُ قَضَاءَ إِفْرِيقِيَّةَ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَأَمَّا يَحْيَى بْنُ مُطَرِّفٍ، فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِي بِشْرٍ الدَّوْلابِيِّ، عَنْ
এবং যারা বয়োবৃদ্ধ ছিলেন এবং তাবিঈদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর যারা আফ্রিকার অধিবাসী ছিলেন

আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম আল-মাআফিরি

আবু আল-আরব বলেন: আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম আল-মাআফিরি; তিনি তাবিঈদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি আফ্রিকার বিচারকের (কাযী) দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ন্যায়পরায়ণ এবং তাঁর বিচারকার্যে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন। তবে মুহাদ্দিসগণ তাঁর বর্ণিত কিছু হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা বুহলুল ইবনে রাশিদ উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আফ্রিকার আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট ছয়টি হাদিস নিয়ে এসেছেন যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে মারফু সূত্রে সম্পৃক্ত করেন। আমি অন্য কাউকে তা মারফু হিসেবে বর্ণনা করতে শুনিনি। সেগুলো হলো: ‘উম্মাহাতুল আওলাদ’ সংক্রান্ত হাদিস; এবং সুদাঈ-এর হাদিস যখন তিনি বিলালের পূর্বে আজান দিয়েছিলেন, ফলে বিলাল একামত দিতে চাইলেন, তখন নবী আলাইহিস সালাম বললেন: “নিশ্চয়ই সুদা-এর ভাই আজান দিয়েছে, আর যে আজান দেয় সেই একামত দেয়”; এবং সেই হাদিস যে, “যখন কোনো ব্যক্তি শেষ সেজদা থেকে তার মাথা ওঠায় এবং সোজা হয়ে বসে, তখন তার সালাত পূর্ণ হয়ে গেল যদিও সে ওজু নষ্ট করে ফেলে”; এবং নবী আলাইহিস সালামের এই হাদিস: “যে ব্যক্তি আলেম নয় অথবা শিক্ষার্থী নয়, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই”; এবং নবী আলাইহিস সালামের বাণী: “তুমি আলেম হও অথবা শিক্ষার্থী হও, তৃতীয় কেউ হয়ো না, অন্যথায় তুমি ধ্বংস হবে”; এবং নবী আলাইহিস সালামের বাণী: “ইলম বা জ্ঞান হলো তিন প্রকার, আর এর অতিরিক্ত যা কিছু আছে তা অতিরিক্ত ফযিলত: সুস্পষ্ট আয়াত, অথবা প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ, অথবা ইনসাফপূর্ণ ফরয বিধান।”

আবু আল-আরব বলেন: এই সব বিরল বর্ণনার কারণে যা তিনি ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেনি, ইবনে মাঈন তাঁর হাদিসকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

আবু আল-আরব বলেন: এবং উমর ইবনে ইউসুফ আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ওয়াদদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম বন্দি হয়েছিলেন, অতঃপর খলিফা আবু জাফর আল-মানসুর তাঁর মুক্তিপণ প্রদান করেন এবং তাঁকে আফ্রিকার বিচারক নিযুক্ত করেন।”

আবু আল-আরব বলেন: আর ইয়াহইয়া ইবনে মুতাররিফ সম্পর্কে আবু বিশর আদ-দুলাবি আমাকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ، أَنَّهُ قَدِمَ، يَعْنِي: عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ زِيَادٍ عَلَى أَبِي جَعْفَرٍ بِالْكُوفَةِ، وَوَلِيَ الْقَضَاءَ لِمَرْوَانَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْوَانَ عَلَى إِفْرِيقِيَّةَ.

قَالَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ اللَّبَّادِ.

حَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَدَّادِ، قَالَ: حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ يَحْيَى أَبُو سُلَيْمَانَ الصُّوفِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو عُثْمَانَ حَاتِمُ بْنُ عُثْمَانَ الْمَعَافِرِيُّ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ الْمَعَافِرِيِّ قَاضِي إِفْرِيقِيَّةَ، وَهُوَ يَتَنَفَّسُ الصُّعَدَاءَ، حَتَّى أَتَاهُ شَابٌّ أَشْقَرُ، وَمَعُه مِخْلاةٌ فِيهَا بَصَلٌ، فَأَسَرَّ إِلَيْهِ كَلامًا، فَأَسْفَرَ وَجْهُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَقَالَ لِبَعْضِ مَنْ كَانَ بِحَضْرَتِهِ: " قُلْ لَهُمْ، يَعْنِي: أَهْلَهُ: تَبْعَثُوا إِلَيْنَا بِشَيْءٍ مِنْ هَذَا الْبَصَلِ مَعَ الْفُولِ الَّذِي كُنْتُمْ طَبَخْتُمُوهُ الْبَارِحَةَ "، فَبَعَثُوا إِلَيْهِ بِمَا أَمَرَهُمْ بِهِ، فَقَالَ لِي: «يَا أَبَا عُثْمَانَ تَقَرَّبْ» ، فَقُلْتُ لَهُ: لا، فَقَالَ: «وَلِمَ يَا أَبَا عُثْمَانَ؟ أَظَنَنْتَ ظَنًّا؟» ، قَالَ أَبُو عُثْمَانَ: فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَقَالَ لِي: «أَحْسَنْتَ يَا أَبَا عُثْمَانَ، إِذَا رَأَيْتَ الْهَدِيَّةَ دَخَلَتْ إِلَى الْقَاضِي مِنْ بَابِ دَارِهِ، فَاعْلَمْ بِأَنَّ الأَمَانَةَ خَرَجَتْ مِنْ كُوَّةِ دَارِهِ، وَلَيْسَ هُوَ هَدِيَّةٌ يَا أَبَا عُثْمَانَ، إِنَّمَا هُوَ مَوْلًى لِي، أَتَانِي بِهَذَا الْبَصَلِ مِنْ ضَيْعَتِي» ، فَقُلْتُ لَهُ: إِنِّي كُنْتُ رَأَيْتُكَ مَهْمُومًا، فَلَمَّا أَتَاكَ هَذَا الْغُلامُ انْطَلَقْتَ وَأَسْفَرَ وَجْهُكَ، قَالَ أَبُو عُثْمَانَ: فَقَالَ لِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ: «إِنِّي أَصْبَحْتُ الْيَوْمَ فَذَكَرْتُ بُعْدَ عَهْدِي بِالْمَصَائِبِ، فَخَشِيتُ أَنْ أَكُونَ سَقَطْتُ مِنْ عَيْنِ اللَّهِ، فَلَمَّا أَتَانِي هَذَا الْغُلامُ وَذَكَرَ لِي أَنَّ أَكْفَأَ عَبِيدِي وَأَقْوَامَهُمْ بِضَيْعَتِي تُوُفِّيَ، زَايَلَنِي الْغَمُّ وَانْشَرَحْتُ» .
মুয়াবিয়া বিন সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন ইদরিস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি অর্থাৎ আবদুর রহমান বিন যিয়াদ কুফায় আবু জাফরের কাছে এসেছিলেন। তিনি মারওয়ান বিন মুহাম্মদ বিন মারওয়ানের শাসনামলে ইফরিকিয়ার বিচারক (কাযী) নিযুক্ত হয়েছিলেন।

আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-লাব্বাদ বলেন।

আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাদ্দাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ বিন ইয়াহইয়া আবু সুলাইমান আস-সুফি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসমান হাতিম বিন উসমান আল-মাআফিরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইফরিকিয়ার কাযী আবদুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম আল-মাআফিরির কাছে ছিলাম, তিনি তখন গভীর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছিলেন। এমন সময় এক গৌরবর্ণ যুবক তাঁর কাছে এল, যার সাথে একটি পেঁয়াজভর্তি ঝুলি ছিল। সে তাঁর কাছে চুপিচুপি কিছু কথা বলল, এতে আবদুর রহমানের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি তাঁর উপস্থিতদের একজনকে বললেন: "তাদেরকে (অর্থাৎ তাঁর পরিবারকে) বল, গত রাতে তোমরা যে শিম রান্না করেছিলে, তার সাথে এই পেঁয়াজ থেকে কিছু আমাদের কাছে পাঠাতে।" তারা তাঁর আদেশ অনুযায়ী তা পাঠাল। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: "হে আবু উসমান, কাছে এসো।" আমি তাঁকে বললাম: "না।" তিনি বললেন: "কেন হে আবু উসমান? তুমি কি কোনো সন্দেহ পোষণ করেছ?" আবু উসমান বলেন: আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি আমাকে বললেন: "ঠিকই করেছ হে আবু উসমান। যখন তুমি দেখবে কোনো কাযীর ঘরে সদর দরজা দিয়ে হাদিয়া (উপহার) প্রবেশ করছে, তখন জেনে রেখো যে, তাঁর ঘরের জানালা দিয়ে আমানতদারি বেরিয়ে গেছে। তবে হে আবু উসমান, এটি কোনো হাদিয়া নয়; সে আমার এক মুক্তদাস, সে আমার খামার থেকে এই পেঁয়াজগুলো নিয়ে এসেছে।" আমি তাঁকে বললাম: "আমি আপনাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখেছিলাম, কিন্তু যখন এই বালকটি আপনার কাছে এল, তখন আপনি প্রফুল্ল হলেন এবং আপনার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল।" আবু উসমান বলেন: আবদুর রহমান বিন যিয়াদ আমাকে বললেন: "আজ সকালে আমি অনুধাবন করলাম যে, বিপদের সাথে আমার অনেক দিনের ব্যবধান হয়ে গেছে। ফলে আমি ভয় পেলাম যে, হয়তো আমি আল্লাহর দৃষ্টি থেকে পড়ে গিয়েছি। কিন্তু যখন এই বালকটি এসে আমাকে সংবাদ দিল যে, আমার খামারের সবচেয়ে দক্ষ ও শক্তিশালী দাসটি মারা গেছে, তখন আমার দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল এবং আমার অন্তর প্রশান্ত হলো।"
(খণ্ড: ১) তবাকাতু উলামায়ে ইফরিকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَقَالَ مُعَاوِيَةُ الصُّمَادِحِيُّ: قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي: قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ: " أَنَا أَوَّلُ مَوْلُودٍ فِي الإِسْلامِ، يَعْنِي: بَعْدَ فَتْحِ إِفْرِيقِيَّةَ، بِإِفْرِيقِيَّةَ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَقَالَ لِي فُرَاتٌ: وُلِدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ بِبَرْقَةَ، وَالْجُنْدُ دَاخِلُونَ بِإِفْرِيقِيَّةَ سَنَة خَمْسٍ وَسَبْعِينَ، أَوْ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ، وَمَاتَ يَرْحَمُهُ اللَّهُ، سَنَةَ إِحْدَى وَسِتِّينَ وَمِائَةٍ، قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَكَانَ سَبَبُ مَوْتِهِ أَنَّهُ أَكَلَ حِيتَانًا، وَشَرِبَ لَبَنًا عَلَى مَائِدَةِ الأَمِيرِ يَوْمَئِذٍ يَزِيدَ بْنِ حَاتِمٍ، وَكَانَ يُوحَنَّا الْمُتَطَبِّبُ حَاضِرًا، وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَدْ جَاوَزَ سَبْعِينَ سَنَةً، فَقَالَ يُوحَنَّا: إِنْ كَانَ الطِّبُّ حَقًّا، فَإِنَّ هَذَا الشَّيْخَ يَهْلِكُ اللَّيْلَةَ، فَلَمَّا كَانَ فِي السَّحَرِ سَمِعُوا صَيْحَةً، فَقِيلَ: مَا هَذِهِ الصَّيْحَةُ؟ قِيلَ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَاتَ، فَصَلَّى عَلَيْهِ يَزِيدُ بْنُ حَاتِمٍ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَقَدْ رَوَى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجِلَّةُ مِنْ أَهْلِ الْمَشْرِقِ: سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي وَغَيْرُهُمْ. . . وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي كِتَابِنَا الَّذِي أَلَّفْنَاهُ فِي طَبَقَاتِ الرِّجَالِ، حِكَايَاتٍ كَثِيرَةً، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَإِنَّمَا كَانَ عَزْلُ يَزِيدَ بْنِ حَاتِمٍ إِيَّاهُ عَنِ الْقَضَاءِ لأَنَّهُ سَأَلَهُ فِي حُكْمٍ أَنْ يَحْكُمَ فِيهِ بِغَيْرِ حَقٍّ، فَأَبَى عَلَيْهِ، فَعَزَلَهُ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَأَخْبَرَنِي عِيسَى بْنُ مِسْكِينٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُحْنُونٍ، أَنَّهُ قَالَ: قُلْتُ لِسُحْنُونٍ: إِنَّ أَبَا حَفْصٍ الْفَلاسِيَّ، قَالَ: «مَا سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ، يُحَدِّثَانِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ» ، فَقَالَ سُحْنُونٌ: لَمْ يَصْنَعَا شَيْئًا، عَبْدُ الرَّحْمَنِ ثِقَةٌ.

قَالَ أَبُو الْعَرَبِ: وَحَدَّثَنِي جَبَلَةُ بْنُ حَمُّودٍ، أَخْبَرَنَا سُحْنُونٌ، قَالَ: " كَانَ مَنْ يَعْرِفُ الْعِلْمَ يَبْقَى فِي صَدْرِهِ لا يَسْأَلُونَهُ عَنْهُ، يَعْنِي: أَهْلَ إِفْرِيقِيَّةَ فَيَمُوتُ
মুআবিয়াহ আস-সুমাদিহি বলেন: আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি বলেন: আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বলেছেন: "আফ্রিকা বিজয়ের পর আমিই ইসলামে আফ্রিকায় প্রথম জন্মগ্রহণকারী সন্তান।"

আবুল আরব বলেন: ফুরাত আমাকে বলেছেন: আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বারকায় জন্মগ্রহণ করেন যখন সেনাবাহিনী ৭৪ বা ৭৫ হিজরীতে আফ্রিকায় প্রবেশ করছিল। তিনি ১৬১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। আবুল আরব বলেন: তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল এই যে, তিনি তৎকালীন আমির ইয়াজিদ বিন হাতিমের দস্তরখানে মাছ খেয়েছিলেন এবং দুধ পান করেছিলেন। সে সময় ইউহান্না নামক চিকিৎসক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আবদুর রহমানের বয়স তখন সত্তর বছর পেরিয়ে গিয়েছিল। তখন ইউহান্না বলেছিলেন: চিকিৎসা বিজ্ঞান যদি সত্য হয়, তবে এই বৃদ্ধ আজ রাতেই মারা যাবেন। অতঃপর ভোররাতে যখন তারা একটি চিৎকার শুনতে পেলেন, তখন জিজ্ঞেস করা হলো: এই চিৎকার কিসের? বলা হলো: আবদুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন। অতঃপর ইয়াজিদ বিন হাতিম তাঁর জানাজার নামাজ পড়ালেন।

আবুল আরব বলেন: প্রাচ্যের বিশিষ্ট আলেমগণ আবদুর রহমানের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন: সুফিয়ান আস-সাওরি, আবদুল্লাহ বিন লাহিয়াহ, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি এবং অন্যান্যরা। আমি মনীষীগণের স্তর (তাবাকাতুর রিজাল) বিষয়ে রচিত আমার গ্রন্থে আবদুর রহমান সম্পর্কে অনেক ঘটনা উল্লেখ করেছি। ইয়াজিদ বিন হাতিম তাঁকে বিচারকের পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন মূলত এজন্য যে, তিনি তাঁকে একটি বিচারে অন্যায়ভাবে ফয়সালা করার জন্য বলেছিলেন, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন; ফলে তিনি তাঁকে পদচ্যুত করেন।

আবুল আরব বলেন: ঈসা বিন মিসকিন আমাকে মুহাম্মদ বিন সাহনুন থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি সাহনুনকে বললাম, আবু হাফস আল-ফালাসি বলেছেন: "আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান এবং আবদুর রহমান বিন মাহদীকে আবদুর রহমান বিন জিয়াদ বিন আনআম থেকে বর্ণনা করতে শুনিনি।" তখন সাহনুন বললেন: "তাঁরা সঠিক করেননি (অর্থাৎ তাঁদের বর্ণনা না করা তাঁর নির্ভরযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে না), আবদুর রহমান একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।"

আবুল আরব বলেন: জাবালা বিন হাম্মুদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, সাহনুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: "যিনি ইলম জানতেন, তা তাঁর বুকেই থেকে যেত, তারা (অর্থাৎ আফ্রিকার অধিবাসীরা) তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না, ফলে এভাবেই তিনি মৃত্যুবরণ করতেন।"