(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
الورع لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الورع

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: أبي عبد الله محمد بن حمد الحمود

الناشر: الدار السلفية - الكويت

الطبعة: الأولى، 1408 - 1988

عدد الصفحات: 127

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন আবিদ দুনিয়ার আল-ওয়ারা   (ইবন আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-ওয়ারা (সংযম ও পরহেজগারি)

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবন আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

গবেষক/সম্পাদক: আবি আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে হামাদ আল-হামুদ

প্রকাশক: আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ - ১৯৮৮

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ:

 

1 - أَخْبَرَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ الْخَارِجَةِ، وَالْحَكَمُ بْنُ مُوسَى قَالَا: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى الْخُشَنِيُّ، عَنْ صَدَقَةَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنْ هِشَامٍ الْكِنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ جِبْرِيلَ، عَنِ اللَّهِ تبارك وتعالى قَالَ: «مَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِمِثْلِ أَدَاءِ مَا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ»
আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

 

১ - হাইসাম ইবনুল খারিজাহ এবং হাকাম ইবনে মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: হাসান ইবনে ইয়াহইয়া আল-খুশানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাদাকাহ আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি হিশাম আল-কিনানী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তিনি জিবরাঈল থেকে, তিনি বরকতময় ও মহান আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «আমার বান্দা আমার প্রতি এমন কোনো কিছুর মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করে না, যা আমার পক্ষ থেকে তার ওপর ফরজকৃত দায়িত্বসমূহ পালনের সমতুল্য হতে পারে।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
2 - حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي طَارِقٍ السَّعْدِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اتَّقِ الْمَحَارِمَ، تَكُنْ مِنْ أَعْبَدِ النَّاسِ»
২ - আমাদের নিকট ফুদায়েল ইবন আব্দুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাফর ইবন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু তারিক আস-সা'দী থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন: "তুমি নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, তবেই তুমি মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হতে পারবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
3 - سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ الْأَحْمَسِيَّ يُحَدِّثُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيِّ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُنَّ وَرِعًا تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ»
৩ - আমি মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন সামুরা আল-আহমাসীকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ আল-মুহারিবী থেকে, তিনি আবু রাজা থেকে, তিনি বুরদ ইবন সিনান থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তুমি হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো, তবেই তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইবাদতকারী হতে পারবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤١)
4 - حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ يُوسُفَ الصَّبَّاغِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مِنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْبِقَ الدَّائِبَ الْمُجْتَهِدَ فَلْيَكُفَّ عَنِ الذُّنُوبِ»
৪ - আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনে মুশহির, ইউসুফ আস-সাব্বাগ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি নিরলস প্রচেষ্টাকারীকে ছাড়িয়ে যেতে পছন্দ করে, সে যেন গুনাহ থেকে বিরত থাকে।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤١)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْأَشْعَثِ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْفُضَيْلُ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «إِنَّكُمْ لَنْ تَلْقُوا اللَّهَ بِشَيْءٍ هُوَ أَفْضَلُ مِنْ قِلَّةِ الذُّنُوبِ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আল-হাসান, ইবরাহিম আল-আশআসের সূত্রে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফুদাইল, সুফিয়ান আস-সাওরির সূত্রে, তিনি হাম্মাদের সূত্রে, তিনি ইবরাহিমের সূত্রে, আর তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর সাথে এমন কোনো বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎ করবে না যা পাপের স্বল্পতার চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٢)
6 - حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: خَطَبَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بِخَنَاصِرَةَ فَقَالَ: «أَرَى أَفْضَلَ الْعِبَادَةِ اجْتِنَابَ الْمَحَارِمِ، وَأَدَاءَ الْفَرَائِضِ»
৬ - মুসান্না বিন মুয়ায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুয়ায আল-আম্বারি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুতামির বিন সুলাইমান, তিনি আলি বিন যাইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর বিন আবদুল আজিজ খানাসিরাতে আমাদের উদ্দেশে ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন: ‘আমি মনে করি হারাম কাজসমূহ বর্জন করা এবং ফরজসমূহ আদায় করাই হলো সর্বোত্তম ইবাদত।’
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٢)
7 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَزْمٌ قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ: " الْخَيْرُ فِي هَذَيْنِ: الْأَخْذِ بِمَا أَمَرَ اللَّهُ، وَالنَّهْيِ عَمَّا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ "
৭ - আমাদের নিকট খালাফ ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাজম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে বলতে শুনেছি: "কল্যাণ এই দুটির মধ্যে নিহিত: আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা গ্রহণ করা এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٢)
8 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْجَرَوِيُّ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: «مَا عَبَدَ الْعَابِدُونَ بِشَيْءٍ أَفْضَلَ مِنْ تَرْكِ مَا نَهَاهُمُ اللَّهُ عَنْهُ»
৮ - আল-হাসান ইবনে আব্দুল আজিজ আল-জারাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দামরাহ ইবনে রাবিয়াহ থেকে, তিনি রাজা ইবনে আবি সালামাহ থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, আর তিনি আল-হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «ইবাদতকারীরা আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করার চেয়ে শ্রেষ্ঠতর কোনো বিষয়ের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করেনি।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٢)
9 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ الْجَوْهَرِيُّ، عَنْ شَيْخٍ حَدَّثَهُ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لِدَاوُدَ:. . . أَنْ أَوْصِنِي قَالَ: «لَا يَرَاكَ اللَّهُ عِنْدَ مَا نَهَاكَ اللَّهُ عَنْهُ، وَلَا يَفْقِدَكَ عِنْدَ مَا أَمَرَكَ بِهِ»
৯ - মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা আল-জাওহারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন জনৈক শাইখ থেকে, যিনি তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি দাউদকে বললেন: . . . আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন: «আল্লাহ যেন তোমাকে এমন কোনো কাজে লিপ্ত না দেখেন যা থেকে তিনি তোমাকে নিষেধ করেছেন, আর আল্লাহ যেন তোমাকে এমন কোনো কাজে অনুপস্থিত না পান যা করতে তিনি তোমাকে আদেশ করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
10 - حَدَّثَنِي عَوْنُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الصَّلْتِ الشَّامِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو قُرَّةَ مُحَمَّدُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ قَالَ: «مِنْ كَانَتْ هِمَّتُهُ فِي أَدَاءِ الْفَرَائِضِ لَمْ يَكُنْ لَهُ فِي الدُّنْيَا لَذَّةٌ»
১০ - আওন ইবন ইবরাহীম ইবন আস-সালত আশ-শামী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবন আবিল হাওয়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কুররাহ মুহাম্মাদ ইবন সাবিত আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার জনৈক সাথী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যার সংকল্প ও একাগ্রতা কেবল ফরযসমূহ আদায় করার মধ্যেই নিবদ্ধ থাকে, দুনিয়াতে তার জন্য আর কোনো স্বাদ থাকে না।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
11 - حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ هِشَامِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَتْنَا سَعِيدَةُ ابْنَةُ حُكَامَةَ قَالَتْ: حَدَّثَتْنِي أُمِّي حُكَامَةُ بِنْتُ عُثْمَانَ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِيهَا، عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَشْيَةُ اللَّهِ رَأْسُ كُلِّ حِكْمَةٍ وَالْوَرَعُ سَيِّدُ الْعَمَلِ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَرَعٌ يَصُدُّهُ عَنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ إِذَا خَلَا لَمْ يَعْبَأِ اللَّهُ بِشَيْءٍ مِنْ عَمَلِهِ»
১১ - কাসিম ইবনে হিশাম ইবনে সাঈদ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদা বিনতে হুকামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার মাতা হুকামা বিনতে উসমান ইবনে দিনার তাঁর পিতা থেকে, তিনি মালিক ইবনে দিনার থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর ভীতিই হলো সকল প্রজ্ঞার মূল এবং পরহেজগারি হলো আমলের সর্দার। আর যার মধ্যে এমন পরহেজগারি নেই যা নির্জনে তাকে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে, আল্লাহ তার কোনো আমলেরই পরোয়া করেন না।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٣)
12 - حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْآدَمِيُّ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ سُلَيْمٍ حَدَّثَهُمْ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رَأْسُ التَّقْوَى الصَّبْرُ، وَحَقِيقَتُهُ، الْعَمَلُ، وَتَكْمِلَتُهُ، الْوَرَعُ»
১২ - আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-আদামি, নিশ্চয়ই ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তাকওয়ার মূল হলো ধৈর্য, এর হাকিকত হলো আমল এবং এর পূর্ণতা হলো পরহেজগারি (ওয়ারা)।’»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
46 - حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ هَاشِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْخَبَائِرِيُّ الْحِمْصِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " حُدُودُ الْإِسْلَامِ الْمُحِيطَةُ بِهِ أَرْبَعَةٌ: الْوَرَعُ وَهُوَ مِلَاكُ الْأَمْرِ، وَالشُّكْرُ فِي الرَّخَاءِ، وَهُوَ الْفَوْزُ بِالْجَنَّةِ، وَالصَّبْرُ عَلَى الشِّدَّةِ، وَهُوَ النَّجَاةُ مِنَ النَّارِ، وَالتَّوَاضُعُ، وَهُوَ شَرَفُ الْمُؤْمِنِ "
৪৬ - আল-কাসিম ইবন হাশিম আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আবদিল জাব্বার আল-খাবাইরি আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ ইবন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবন খালিদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবন আল-মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলামের পরিবেষ্টনকারী সীমারেখা হলো চারটি: পরহেজগারি, যা হলো সকল বিষয়ের মূল ভিত্তি; সচ্ছলতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, যা জান্নাত লাভের মাধ্যম; বিপদে ধৈর্য ধারণ করা, যা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়; এবং বিনয়, যা মুমিনের মর্যাদা।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٤)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلَائِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَضْلُ الْعِلْمِ خَيْرٌ مِنْ فَضْلِ الْعِبَادَةِ، وَمِلَاكُ دِينِكُمُ الْوَرَعُ»
ইসহাক ইবন ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকী‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আমর ইবন কায়স আল-মুলায়ী থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব ইবাদতের শ্রেষ্ঠত্বের চেয়ে উত্তম, এবং তোমাদের দ্বীনের মূল ভিত্তি হলো পরহেজগারি।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٧)
حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْحَارِثِ قَالَ: أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ قَيْسٍ الْأَزْدِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَلْمَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَبِيبَا اللَّهِ غَدًا، أَهْلُ الْوَرَعِ وَالزُّهْدِ»
ইসমাঈল বিন আবু আল-হারিস আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: কাসীর বিন হিশাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ঈসা বিন ইবরাহীম মুকাতিল বিন কায়স আল-আযদি থেকে, তিনি আলকামা বিন মারসাদ থেকে, তিনি সালমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আগামীকাল আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় দুই হলো—পরহেযগার ও দুনিয়াবিমুখ লোকগণ।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٧)
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشِ بْنِ عَجْلَانَ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ مُوسَى، عَنْ مَكْحُولٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِأَبِي هُرَيْرَةَ: «كُنْ وَرِعًا فِي دِينِ اللَّهِ، تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ»

খালিদ ইবনে খিদাশ ইবনে আজলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আজীজ ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে মুসা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রাকে বলেছেন: "আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে তুমি পরহেযগার হও, তবেই তুমি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হতে পারবে।"

(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٧)
حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْعَتَكِيُّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ، عَنْ جُوَيْبِرٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: قَالَ اللَّهُ لِمُوسَى عليه السلام: «لَمْ يَتَقَرَّبْ إِلَيَّ الْمُتَقَرِّبُونَ، بِمِثْلِ الْوَرَعِ»
আবু মুহাম্মদ আল-আতাকী আবদুর রহমান বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবন হাশিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুওয়াইবির থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিস সালামকে বলেছেন: «নৈকট্য অন্বেষণকারীরা পরহেযগারির মতো অন্য কোনো বিষয়ের মাধ্যমে আমার সান্নিধ্য লাভ করতে পারেনি।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٨)
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: «أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟» قَالُوا: الْمُصَلُّونَ. قَالَ: «إِنَّ الْمُصَلِّيَ يَكُونُ بَرًّا وَفَاجِرًا» . قَالُوا: الْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. قَالَ: «إِنَّ الْمُجَاهِدَ يَكُونُ بَرًّا وَفَاجِرًا» . قَالُوا: الصَّائِمُونَ. قَالَ: «إِنَّ الصَّائِمَ يَكُونُ بَرًّا وَفَاجِرًا مِنْ عُمَرَ لَكِنَّ الْوَرَعَ فِي دِينِ اللَّهِ يَسْتَكْمِلُ طَاعَةَ اللَّهِ»
খালেদ ইবনে খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: «মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কারা?» তাঁরা বললেন: সালাত আদায়কারীগণ। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই সালাত আদায়কারী পুণ্যবান হতে পারে আবার পাপাচারীও হতে পারে।’ তাঁরা বললেন: আল্লাহর পথের মুজাহিদগণ। তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই মুজাহিদ পুণ্যবান হতে পারে আবার পাপাচারীও হতে পারে।’ তাঁরা বললেন: সিয়াম পালনকারীগণ। তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই সিয়াম পালনকারী পুণ্যবান হতে পারে আবার পাপাচারীও হতে পারে; তবে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা (তাকওয়া) অবলম্বন করাই আল্লাহর আনুগত্যকে পূর্ণতা দান করে।’
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٨)
حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَكَّارٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِهِ: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مِنْ يَشَاءُ} [البقرة: 269] قَالَ: «الْوَرَعُ»
সালামা ইবনে শাবীব আমার নিকট আলী ইবনে বাক্কার থেকে, তিনি হাসান ইবনে দীনার থেকে এবং তিনি হাসান থেকে আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত দান করেন} [আল-বাকারা: ২৬৯]। তিনি বলেন: "তা হলো পরহেজগারি (ওয়ারা)।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٨)
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى الْحَسَنِ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى سَرِيرِهِ، فَقُلْتُ يَا أَبَا سَعِيدٍ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «الصَّلَاةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، وَالنَّاسُ نِيَامٌ» . قُلْتُ: فَأَيُّ الصَّوْمِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «فِي يَوْمٍ صَائِفٍ» . قُلْتُ: فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا وَأَغْلَاهَا ثَمَنًا» . قُلْتُ: فَمَا تَقُولُ فِي الْوَرَعِ؟ قَالَ: «ذَاكَ رَأْسُ الْأَمْرِ كُلِّهِ»
খালাফ ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসান (আল-বাসরী)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর শয্যায় হেলান দিয়ে ছিলেন। আমি বললাম, হে আবু সাঈদ! আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন: “গভীর রাতের সালাত, যখন মানুষ নিদ্রামগ্ন থাকে।” আমি বললাম: কোন সিয়াম শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: “তীব্র গরমের দিনের সিয়াম।” আমি বললাম: কোন দাস মুক্ত করা শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: “যা তার মালিকের নিকট সবচেয়ে বেশি মূল্যবান এবং মূল্যের দিক থেকে সবচেয়ে দামি।” আমি বললাম: ‘ওয়ারা’ (পরহেযগারী) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: “তা হলো সকল বিষয়ের মূল।”
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٩)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَبْدُ الْقُدُّوسِ قَالَ: حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ: قِيلَ لَهُ: أَتَعْرِفُ النِّيَّةَ؟ قَالَ: «مَا أَعْرِفُ النِّيَّةَ وَلَكِنِّي أَعْرِفُ الْوَرَعَ فَمَنْ كَانَ وَرِعًا كَانَ تَقِيًّا»
আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল মুগিরা আব্দুল কুদ্দুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাফওয়ান বিন আমর বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন মা'দান থেকে, তিনি বলেন: তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি নিয়ত সম্পর্কে জানেন? তিনি বললেন: "আমি নিয়ত জানি না, তবে আমি 'ওয়ারা' (পরহেজগারি) সম্পর্কে জানি। সুতরাং যে ব্যক্তি 'ওয়ারা' অবলম্বনকারী হবে, সে-ই মুত্তাকী হবে।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٩)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ النَّصِيبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ أَرْطَأَةَ قَالَ: قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ صَلَّيْتُمْ حَتَّى تَصِيرُوا مِثْلَ الْحَنَايَا وَصَلَّيْتُمْ حَتَّى تَكُونُوا أَمْثَالَ الْأَوْتَادِ، وَجَرَى مِنْ أَعْيُنِكُمُ الدُّمُوعُ أَمْثَالُ الْأَنْهَارِ مَا أَدْرَكْتُمْ مَا عِنْدَ اللَّهِ إِلَّا بِوَرَعٍ صَادِقٍ»

ইব্রাহীম ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে আইয়ুব আন-নাসীবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিসকীন ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট আরতাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে মারিয়াম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা যদি এত সালাত আদায় করো যে তোমরা ধনুকের ন্যায় হয়ে যাও এবং তোমরা এত সালাত আদায় করো যে তোমরা খুঁটির ন্যায় হয়ে যাও, আর তোমাদের চোখ থেকে যদি নদীর মতো অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়, তবুও তোমরা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা অর্জন করতে পারবে না সত্যনিষ্ঠ পরহেযগারী ব্যতীত।»

(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٩)
حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ هَاشِمٍ قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عَبَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْمُؤَدِّبُ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى الْعُمَرِيِّ فَقَالَ: عِظْنِي. فَأَخَذَ حَصَاةً مِنَ الْأَرْضِ فَقَالَ: «زِنَةُ هَذِهِ مِنَ الْوَرَعِ يَدْخُلُ قَلْبَكَ خَيْرٌ لَكَ مِنْ صَلَاةِ أَهْلِ الْأَرْضِ» قَالَ: زِدْنِي، قَالَ: «كَمَا تُحِبُّ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ لَكَ غَدًا، فَكُنْ لَهُ الْيَوْمَ»
কাসেম ইবনে হাশিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে আব্বাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসমাইল আল-মুয়াদ্দিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল-উমারির নিকট এসে বললেন: আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি মাটি থেকে একটি নুড়ি পাথর তুলে নিলেন এবং বললেন: «এই (নুড়ির) ওজন পরিমাণ পরহেজগারি তোমার অন্তরে প্রবেশ করা তোমার জন্য জমিনের অধিবাসীদের সালাতের চেয়েও উত্তম।’ তিনি বললেন: আমাকে আরও বাড়িয়ে বলুন। তিনি বললেন: ‘আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) তুমি আল্লাহকে নিজের জন্য যেমন পেতে পছন্দ করো, আজ তাঁর জন্য তেমনই হয়ে যাও।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥٠)
حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ: قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ: «لَتَرْكُ دَانِقٍ مِمَّا يَكْرَهُ اللَّهُ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ خَمْسِ مِائَةِ حَجَّةٍ»
সালামাহ ইবনে শাবিব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাহল ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনুল সায়েব থেকে, তিনি বলেন: সালাফদের (পূর্বসূরিদের) জনৈক ব্যক্তি বলেছেন: «আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা থেকে এক দানিক (সামান্য পরিমাণ) বর্জন করা আমার নিকট পাঁচশ হজ্জ আদায় করার চেয়েও অধিক প্রিয়।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥٠)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا سَلَّامُ بْنُ أَبِي مُطِيعٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: «مَا فِي الْأَرْضِ شَيْءٌ أُحِبُّهُ لِلنَّاسِ مِنْ قِيَامِ اللَّيْلِ» قَالَ: فَقَالَ أَبُو إِيَاسٍ: فَأَيْنَ الْوَرَعُ؟، قَالَ: «بَهٍ بَهٍ ذَلِكَ مِلَاكُ الْأَمْرِ»
আহমদ ইবনে ইবরাহিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সালাম ইবনে আবি মুতি‘ ইউনুসের সূত্রে হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "ভূপৃষ্ঠে এমন কোনো বিষয় নেই যা আমি মানুষের জন্য রাতের সালাত অপেক্ষা অধিক পছন্দ করি।" তিনি বলেন: তখন আবু ইয়াস বললেন: তাহলে খোদাভীতি কোথায়? তিনি বললেন: "চমৎকার, চমৎকার! ওটাই তো সকল বিষয়ের মূল ভিত্তি।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥٠)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا زَافِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ بَشِيرٍ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الضَّحَّاكِ قَالَ: «أَدْرَكْتُ النَّاسَ، وَهُمْ يَتَعَلَّمُونَ الْوَرَعَ، وَهُمُ الْيَوْمَ، يَتَعَلَّمُونَ الْكَلَامَ»
সাঈদ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফির ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাশির আবু ইসমাঈল থেকে, তিনি দাহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি মানুষকে এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, তারা পরহেজগারি শিখত; আর আজ তারা কালাম শিখছে।»
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥١)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْهَيْثَمِ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ عُمَرَ الْمَاصِرِ، عَنِ الضَّحَّاكِ قَالَ: «لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَعَلَّمُ بَعْضُنَا مِنْ بَعْضٍ، إِلَّا الْوَرَعَ»
আব্দুল্লাহ ইবনুল হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: শুআইব ইবন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক ইবন মিগওয়াল থেকে, তিনি উমর আল-মাসির থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আমাদের এমন অবস্থায় দেখেছি যে, আমাদের একে অপর থেকে পরহেযগারি ব্যতীত অন্য কিছু শিখত না।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥١)
حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عَاصِمٍ قَالَ: قَالَ النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ: «نُسُكُ الرَّجُلِ، عَلَى قَدْرِ وَرَعِهِ»
সালামাহ ইবনে শাবীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সহল ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাযর ইবনে মুহাম্মদ বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির ইবাদত তার পরহেযগারির পরিমাণ অনুযায়ী হয়।"
(খণ্ড: ১) আল-ওয়ারা লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٥١)
حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ الصَّفَّارُ قَالَ: قَالَتْ امْرَأَةٌ مِنَ الْبَصْرَةِ «حَرَامٌ عَلَى قَلْبٍ يَدْخُلُهُ حُبُّ الدُّنْيَا أَنْ يَدْخُلَهُ الْوَرَعُ الْخَفِيُّ»
হাসান ইবনুল সাব্বাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর আস-সাফফার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বসরার জনৈক নারী বলেছেন, "যে হৃদয়ে দুনিয়ার মহব্বত প্রবেশ করে, তাতে গোপন পরহেজগারি প্রবেশ করা নিষিদ্ধ।"