(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الوجل والتوثق بالعمل لابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: الوجل والتوثق بالعمل
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
المحقق: مشهور حسن آل سلمان
الناشر: دار الوطن - الرياض
الطبعة: الأولى، 1418 - 1997
عدد الصفحات: 54
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবিদ দুনিয়া বিরচিত আল-অজল ওয়াত তাওাস্সুক বিল আমল (ভীতি এবং আমলের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আল-অজল ওয়াত তাওাস্সুক বিল আমল (ভীতি এবং আমলের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া)
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
গবেষক: মাশহুর হাসান আল সালমান
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ - ১৯৯৭
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ১)
الرَّجَاءُ وَالْخَوْفُ
আশা ও ভয়
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৭)
1 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَارِثِ سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ قَالَ: قَالَ مُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ: «مَنْ رَجَا شَيْئًا طَلَبَهُ، وَمَنْ خَافَ شَيْئًا هَرَبَ مِنْهُ، مَا أَدْرِي مَا حَسْبُ رَجَاءِ امْرِئٍ عَرَضَ لَهُ بَلَاءٌ لَمْ يَصْبِرْ عَلَيْهِ لِمَا يَرْجُو، وَلَا أَدْرِي مَا حَسْبُ خَوْفِ امْرِئٍ عَرَضَتْ لَهُ شَهْوَةٌ لَمْ يَدَعْهَا لِمَا يَخْشَى»
১ - আমাদের নিকট আবু আল-হারিস সুরাইজ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে ইয়াসার বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো কিছুর আশা করে সে তা অন্বেষণ করে, আর যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভয় পায় সে তা থেকে পলায়ন করে। আমি জানি না সেই ব্যক্তির আশার স্বরূপ কী, যার নিকট কোনো পরীক্ষা বা বিপদ উপস্থিত হলে সে যা আশা করে তার বিনিময়ে তাতে ধৈর্য ধারণ করে না; আর আমি জানি না সেই ব্যক্তির ভয়ের স্বরূপ কী, যার নিকট কোনো কুপ্রবৃত্তি উপস্থিত হলে সে যা ভয় করে তার কারণে তা বর্জন করে না।»
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৭)
حُسْنُ الظَّنِّ يَعْنِي: حُسْنَ الْعَمَلِ
উত্তম ধারণা পোষণ করা মানে হলো: উত্তম আমল করা
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৭)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَاشِمِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْكُوفِيِّ قَالَ: قَالَ الْحَسَنُ ⦗ص: 28⦘: " إِنَّ قَوْمًا أَلْهَتْهُمْ أَمَانِيُّ الْمَغْفِرَةِ حَتَّى خَرَجُوا مِنَ الدُّنْيَا وَلَيْسَتْ لَهُمْ حَسَنَةٌ، يَقُولُ: إِنِّي لَحَسَنُ الظَّنِّ بِرَبِّي، وَكَذَبَ لَوْ أَحْسَنَ الظَّنَّ بِرَبِّهِ لَأَحْسَنَ الْعَمَلَ "
২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন হাশিম ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-কুফি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হাসান বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘: "নিশ্চয়ই একদল লোককে ক্ষমার মিথ্যা আশা গাফেল করে রেখেছে, এমনকি তারা দুনিয়া থেকে এমন অবস্থায় বিদায় নিয়েছে যে তাদের কোনো নেক আমল নেই। তাদের কেউ বলে: 'আমি আমার প্রতিপালকের প্রতি সুধারণা পোষণ করি', অথচ সে মিথ্যা বলেছে; যদি সে তার প্রতিপালকের প্রতি সুধারণা পোষণ করত, তবে অবশ্যই আমল সুন্দর করত।"
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৮)
التَّخْوِيفُ
ভীতিপ্রদর্শন
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৮)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: سَأَلَ الْمُغِيرَةُ بْنُ مُخَادِشٍ الْحَسَنَ فَقَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ كَيْفَ نَصْنَعُ بِمُجَالَسَةِ أَقْوَامٍ يُحَدِّثُونَا حَتَّى تَكَادَ قُلُوبُنَا تَطِيرُ؟ فَقَالَ: «أَيُّهَا الشَّيْخُ، إِنَّكَ وَاللَّهِ إِنْ تَصْحَبْ أَقْوَامًا يُخَوِّفُونَكَ حَتَّى تُدْرِكَ أَمْنًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَصْحَبَ أَقْوَامًا يُؤَمِّنُونَكَ حَتَّى تَلْحَقَكَ الْمَخَاوِفُ»
৩ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং আমার নিকট আহমাদ বিন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন আলী বিন শাকীক থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি সাঈদ বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুগীরাহ বিন মুখাদিশ আল-হাসানকে জিজ্ঞাসা করে বললেন: হে আবু সাঈদ, আমরা এমন লোকদের মজলিসে বসার ব্যাপারে কী করব যারা আমাদের নিকট এমন সব কথা বর্ণনা করেন যে আমাদের অন্তরগুলো প্রায় উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়? তিনি বললেন: «হে শায়খ, আল্লাহর শপথ! আপনি যদি এমন লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করেন যারা আপনাকে ভীত করবে যতক্ষণ না আপনি নিরাপত্তা লাভ করেন, তা আপনার জন্য এমন লোকদের সাহচর্য গ্রহণের চেয়ে উত্তম যারা আপনাকে নিরাপদ বোধ করাবে যতক্ষণ না আপনি ভীতি ও সংকটের সম্মুখীন হন।»
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الِاجْتِهَادُ فِي الْعَمَلِ
আমলে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৯)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيُّ الزَّاهِدُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مَطَرٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " يَا إِخْوَتَاهُ اجْتَهِدُوا فِي الْعَمَلِ، فَإِنْ يَكُنِ الْأَمْرُ كَمَا تَرْجُونَ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ وَعَفْوِهِ كَانَتْ لَنَا دَرَجَاتٌ، وَإِنْ يَكُنِ الْأَمْرُ شَدِيدًا كَمَا نَخَافُ وَنُحَاذِرُ لَمْ نَقُلْ: {رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ} [فاطر: 37] نَقُولُ: قَدْ عَمِلْنَا، فَلَمْ يَكُنْ يَنْفَعُنَا ذَلِكَ "
৪ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-মাদিনী আয-যাহিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবন মাতার থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: "হে আমার ভাইয়েরা! তোমরা নেক আমলের ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করো। কেননা, বিষয়টি যদি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা থেকে তোমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়, তবে আমাদের জন্য উচ্চ মর্যাদা লাভ হবে। আর যদি বিষয়টি এমন ভয়াবহ হয় যেমনটি আমরা ভয় ও শঙ্কা করি, তবে (অন্তত) আমাদের এ কথা বলতে হবে না যে: {হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের বের করে দিন, আমরা ইতিপূর্বে যে আমল করতাম তার পরিবর্তে সৎকাজ করব} [ফাতির: ৩৭]। আমরা বলব: আমরা তো আমল করেছিলাম, কিন্তু তা আমাদের কোনো উপকারে আসেনি।"
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الْجِدُّ وَالْحَذَرُ
প্রচেষ্টা ও সতর্কতা
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৯)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لِمُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ وَلِرَجُلٍ آخَرَ مِنْ قُرَيْشٍ: «الْجِدَّ الْجِدَّ، وَالْحَذَرَ الْحَذَرَ، فَإِنْ يَكُنِ الْأَمْرُ عَلَى مَا تَرْجُونَ كَانَ مَا قَدَّمْتُمْ فَضْلًا، وَإِنْ يَكُنِ الْأَمْرُ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ لَمْ تَلُومُوا أَنْفُسَكُمْ»
৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মাজীদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির এবং কুরাইশ বংশীয় অন্য এক ব্যক্তিকে বললেন: «নিষ্ঠাবান হোন, নিষ্ঠাবান হোন এবং সতর্ক হোন, সতর্ক হোন। কারণ বিষয়টি যদি আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়, তবে আপনারা যা অগ্রিম পেশ করেছেন তা অতিরিক্ত মর্যাদা হিসেবে গণ্য হবে; আর যদি বিষয়টি এর ব্যতিক্রম হয়, তবে আপনারা অন্তত নিজেদের তিরস্কার করবেন না।»
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الرَّجَاءُ لَا التَّجَرُّؤُ
আশা, দুঃসাহস নয়
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩০)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الْمُنْعِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ: «يَا بُنَيَّ ارْجُ اللَّهَ رَجَاءً لَا يُجَرِّئُكَ عَلَى مَعْصِيَتِهِ، وَخَفِ اللَّهَ خَوْفًا لَا يُؤَيِّسُكَ مِنْ رَحْمَتِهِ»
৬ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং আমাকে আবদুল মুনঈম সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, যিনি বলেন: লুকমান তাঁর পুত্রকে বলেছেন: "হে বৎস! আল্লাহর প্রতি এমন আশা পোষণ করো যা তোমাকে তাঁর অবাধ্যতায় দুঃসাহসী না করে তোলে, এবং আল্লাহকে এমন ভয় করো যা তোমাকে তাঁর রহমত থেকে নিরাশ না করে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حَدِيثُ أَنْطُونِسَ السَّائِحِ وَمَوَاعِظُهُ وَأَمْثَالُهُ
পরিভ্রমণকারী আন্তোনিসের বিবরণ, তাঁর উপদেশ ও তাঁর দৃষ্টান্তসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مَوْضُوعُ كِتَابِ أَنْطُونْيُوسَ السَّائِحِ
7 - قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا: ثُمَّ إِنَّا وَجَدْنَا فِيمَا وَضَعَ الْأَوَّلُونَ مِنْ حِكَمِهِمْ وَضَرَبُوا مِنْ أَمْثَالِهِمْ كِتَابًا فِيهِ حِكَمٌ وَأَمْثَالٌ تَحْدُو ذَا اللُّبِّ عَلَى رَفْضِ الْعَاجِلَةِ وَتَحُثُّهُ عَلَى الْأَخْذِ بِالْوَثِيقَةِ فِي الْعَمَلِ لِلْآجِلَةِ وَهُوَ الْكِتَابُ الَّذِي يُنْسَبُ إِلَى أَنْطُونِسَ السَّائِحِ فَقَالَ فِيمَا يَذْكُرُونَ.
পর্যটক আন্তোনিউসের কিতাবের বিষয়বস্তু
৭ - আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া বলেন: অতঃপর আমরা পূর্ববর্তীদের রেখে যাওয়া প্রজ্ঞা ও তাদের বর্ণিত দৃষ্টান্তসমূহের মধ্যে এমন একটি কিতাব পেয়েছি যাতে রয়েছে এমন সব হিকমত ও উপমা যা বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে নশ্বর জগত ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে এবং পরকালের কল্যাণে আমল করার ক্ষেত্রে সুদৃঢ় পথ অবলম্বনে উৎসাহিত করে। এটিই সেই কিতাব যা পর্যটক আন্তোনিউসের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়; মানুষের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তাতে বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَصِيَّةُ مَلِكٍ كَانَ مَلِكٌ بَعْدَ زَمَانِ الْمَسِيحِ عليه السلام يُقَالُ لَهُ أَنْطُونِسُ عَاشَ ثَلَاثَمِائَةِ سَنَةٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً، فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ بَعَثَ إِلَى ثَلَاثَةِ نَفَرٍ مِنْ عُظَمَاءِ أَهْلِ مِلَّتِهِ وَأَفَاضِلِهِمْ فَقَالَ لَهُمْ: فَقَدْ نَزَلَ بِي مَا تَرَوْنَ، وَأَنْتُمْ رُءُوسُ أَهْلِ مَمْلَكَتِكُمْ وَأَفَاضِلُهُمْ، وَلَا أَعْرِفُ أَحَدًا أَوْلَى بِتَدْبِيرِ رَعِيَّتِكُمْ مِنْكُمْ، وَقَدْ كَتَبْتُ لَكُمْ عَهْدًا جَعَلْتُهُ إِلَى سِتَّةِ نَفَرٍ مِنْكُمْ مِنْ أَخْيَارِكُمْ لِيَخْتَارُوا رَجُلًا مِنْهُمْ لِتَدْبِيرِ
একজন রাজার অসিয়ত। মসিহ (আলাইহিস সালাম)-এর যুগের পরে একজন রাজা ছিলেন যাঁকে আন্তোনিস বলা হতো। তিনি তিনশত বিশ বছর জীবিত ছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো, তিনি তাঁর জাতির মহান ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তিন ব্যক্তিকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁদের বললেন: তোমরা যা দেখছ তা আমার ওপর আপতিত হয়েছে। আর তোমরা তোমাদের রাজ্যের অধিবাসীদের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তোমাদের প্রজাদের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য তোমাদের চেয়ে অধিক যোগ্য কাউকে আমি জানি না, আর আমি তোমাদের জন্য একটি অঙ্গীকারনামা লিখেছি যা তোমাদের মধ্য থেকে ছয়জন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করেছি, যাতে তারা তাদের মধ্য থেকে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একজনকে মনোনীত করে নেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مُلْكِكُمْ، وَالذَّبِّ عَنْ رَعِيَّتِكُمْ، فَسَلِّمُوا ذَلِكَ لِمَنِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ مَلَؤُكُمْ، وَإِيَّاكُمْ وَالِاخْتِلَافَ، فَتُهْلِكُونَ أَنْفُسَكُمْ وَرَعِيَّتَكُمْ، قَالُوا: بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْنَا بِطُولِ مُدَّتِكَ، وَيَمْنَعُ رَعِيَّتَكَ فَقْدَ سِيَاسَتِكَ قَالَ: دَعُوا هَذِهِ الْمَقَالَةَ، وَأَقْبِلُوا عَلَى مَا وَصَفْتُ لَكُمْ مِنْ هَذَا الْعَهْدِ الَّذِي فِيهِ قِوَامُ أَمْرِكُمْ، وَصَلَاحُ دِينِكُمْ، فَإِنَّ الْمَوْتَ لَا بُدُّ مِنْهُ، فَلَمْ تَمُرَّ بِهِمْ لَيْلَةٌ حَتَّى هَلَكَ "
তোমাদের রাজত্ব এবং তোমাদের প্রজাদের রক্ষা করা; সুতরাং তোমাদের নেতৃবৃন্দ যার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেন, তার কাছেই তা সোপর্দ করো। আর তোমরা মতভেদ থেকে সাবধান থেকো, অন্যথায় তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের প্রজাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে। তারা বলল: বরং আল্লাহ আপনার দীর্ঘায়ুর মাধ্যমে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করুন এবং আপনার শাসনের অভাব থেকে প্রজাদের রক্ষা করুন। তিনি বললেন: এই কথা বাদ দাও এবং এই অঙ্গীকারনামায় আমি তোমাদের জন্য যা বর্ণনা করেছি তার প্রতি মনোনিবেশ করো, যার মধ্যে তোমাদের বিষয়ের স্থায়িত্ব এবং তোমাদের দ্বীনের কল্যাণ নিহিত আছে। কেননা মৃত্যু অনিবার্য। এরপর একটি রাতও অতিবাহিত হয়নি যে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩২)
اخْتِلَافٌ عَلَى الْمُلْكِ فَدَبَّ أُولَئِكَ الثَّلَاثَةُ نَفَرٍ إِلَى السِّتَّةِ الَّذِينَ جَعَلَ إِلَيْهِمُ اخْتِيَارَ الْمَلِكِ، فَصَارَ كُلُّ رَجُلَيْنِ مِنَ السِّتَّةِ يَدْعُوَانِ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الثَّلَاثَةِ، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ حُكَمَاؤُهُمْ وَأَهْلُ الرَّأْيِ مِنْهُمْ قَالُوا: يَا مَعْشَرَ السِّتَّةِ الَّذِينَ جُعِلَ إِلَيْهِمُ الِاخْتِيَارُ، قَدِ افْتَرَقَتْ كَلِمَتُكُمْ، وَاخْتَلَفَ رَأْيُكُمْ، وَبِحَضْرَتِكُمُ الْيَوْمَ رَجُلٌ أَفْضَلُ أَهْلِ زَمَانِكُمْ مِمَّنْ لَا يُتَّهَمُ فِي حُكْمِهِ، وَمِمَّنْ يُرْجَى الْيُمْنُ وَالْبَرَكَةُ فِي اخْتِيَارِهِ، فَمَنْ أَشَارَ إِلَيْهِ مِنْكُمْ سَلَّمْتُمْ هَذَا الْأَمْرَ لَهُ
রাজত্ব নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হলো; অতঃপর ঐ তিনজন ব্যক্তি সেই ছয়জনের নিকট গমন করল যাদের ওপর রাজা নির্বাচনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। তখন ঐ ছয়জনের প্রতি দুই ব্যক্তি সেই তিনজনের মধ্য হতে একজনের প্রতি আহ্বান জানাতে লাগল। যখন তাদের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ এবং বিজ্ঞজনেরা তা প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তারা বললেন: হে সেই ছয়জন ব্যক্তি যাদের ওপর নির্বাচনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে! তোমাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে এবং তোমাদের মতামতে বিভেদ দেখা দিয়েছে, আর আজ তোমাদের সম্মুখে এমন এক ব্যক্তি উপস্থিত আছেন যিনি তোমাদের এই জামানার শ্রেষ্ঠ মানুষ, যার ফয়সালার ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ বা সংশয় করা যায় না এবং যার নির্বাচনের মাঝে কল্যাণ ও বরকতের আশা করা যায়। অতএব তিনি তোমাদের মধ্য হতে যার দিকে ইঙ্গিত করবেন, তোমরা এই বিষয়টি তার নিকটেই সঁপে দেবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مُشَاوَرَةُ أَنْطُونْيُوسَ السَّائِحِ وَكَانَ فِي جَبَلٍ بِحَضْرَتِهِمْ رَجُلٌ سَائِحٌ يُقَالُ لَهُ أَنْطُونِسُ فِي غَارٍ مَعْرُوفٍ مَكَانُهُ، قَدْ تَخَلَّى مِنَ الدُّنْيَا وَأَهْلِهَا، فَاجْتَمَعَتْ كَلِمَتُهُمْ بِالرِّضَا بِمَنْ أَشَارَ إِلَيْهِ السَّائِحُ مِنَ الثَّلَاثَةِ نَفَرٍ
সন্ন্যাসী আন্তোনিওসের সাথে পরামর্শ। তাদের নিকটবর্তী একটি পাহাড়ে আন্তোনিওস নামে এক সন্ন্যাসী ছিলেন, যার অবস্থানস্থল হিসেবে একটি গুহা সুপরিচিত ছিল। তিনি দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীদের পরিত্যাগ করেছিলেন। অতঃপর সন্ন্যাসী উক্ত তিন ব্যক্তির মধ্যে যার প্রতি ইঙ্গিত করবেন, তাকেই সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে তারা ঐকমত্য পোষণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
، فَوَكَّلُوا بِالْمَمْلَكَةِ رَجُلًا مِنَ السِّتَّةِ، وَانْطَلَقَ الثَّلَاثَةُ نَفَرٍ إِلَى ذَلِكَ السَّائِحِ، فَاقْتَصُّوا عَلَيْهِ قِصَّتَهُمْ، وَأَعْلَمُوهُ رِضَاهُمْ بِمَنْ أَشَارَ إِلَيْهِ مِنْهُمْ، فَقَالَ لَهُمُ السَّائِحُ: مَا أَرَانِي انْتَفَعْتُ بِاعْتِزَالِي عَنِ النَّاسِ، وَإِنِّي وَإِيَّاكُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ كَانَ فِي مَنْزِلٍ غَشِيَهُ الذُّبَابُ فِيهِ، فَتَحَوَّلَ مِنْهُ إِلَى مَنْزِلٍ يَرْجُو فِيهِ السَّلَامَةَ فَغَشِيَهُ فِيهِ الْأَسَدُ، فَقَالَ: لَقَدْ كَانَ السَّبُعُ الَّذِي تَنَحَّيْتُ عَنْهُ أَيْسَرَ عَلَيَّ مِنَ السَّبُعِ الَّذِي غَشِيَنِي فِي مَنْزِلِي، وَمَا هَذَا لِي بَمَنْزِلٍ، قَالُوا: هَذَا أَمْرٌ دَعَانا إِلَيْهِ أَفَاضِلُ أَهْلِ مَمْلَكَتِكَ رَجَاءَ الْبَرَكَةِ، وَالرُّشْدِ، وَالْيُمْنِ فِي رَأْيِكَ، وَمَا عَلَيْكَ إِلَّا أَنْ تُشِيرَ إِلَى أَفْضَلِنَا فِي نَفْسِكَ فَتُوَلِّيَهُ هَذَا الْأَمْرَ قَالَ: وَمَا عِلْمِي بِأَفْضَلِكُمْ؟ وَأَنْتُمْ جَمِيعًا تَطْلُبُونَ أَمْرًا وَاحِدًا أَنْتُمْ فِيهِ سَوَاءٌ، فَطَمِعَ بَعْضُهُمْ إِنْ هُوَ أَظْهَرَ الْكَرَاهِيَةَ لِلْمَلِكِ أَنْ يُشِيرَ إِلَيْهِ
، অতঃপর তারা সেই ছয়জনের মধ্য হতে একজনকে রাজ্যের দায়িত্ব অর্পণ করল এবং সেই তিন ব্যক্তি ওই পর্যটকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। তারা তার নিকট নিজেদের বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন এবং তাকে অবহিত করলেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে যাকেই নির্দেশ করবেন, তারা তাতেই সন্তুষ্ট। তখন সেই পর্যটক তাদের বললেন: আমি দেখছি না যে মানুষের নিকট থেকে আমার এই নির্জনবাস কোনো উপকারে এসেছে। নিশ্চয়ই আমার ও তোমাদের দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে এমন এক গৃহে অবস্থান করছিল যেখানে তাকে মাছি ছেঁকে ধরেছিল; অতঃপর সে নিরাপত্তার আশায় সেখান থেকে অন্য এক গৃহে স্থানান্তরিত হলো, কিন্তু সেখানে তাকে সিংহ আক্রমণ করল। তখন সে বলল: আমি যে হিংস্র প্রাণী হতে দূরে সরে এসেছিলাম, তা আমার নিকট সেই হিংস্র প্রাণীর চেয়ে অনেক সহজ ছিল যা আমাকে আমার এই গৃহে আক্রমণ করেছে; আর এটি আমার জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল নয়। তারা বলল: এটি এমন এক বিষয় যার প্রতি আপনার রাজ্যের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আপনার সুচিন্তিত মতামতের বরকত, সঠিক দিকনির্দেশনা ও কল্যাণ লাভের প্রত্যাশায় আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। আপনার দায়িত্ব কেবল এটুকুই যে, আপনার দৃষ্টিতে আমাদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ, তাকে নির্দেশ করা এবং তার ওপর এই বিষয়ের দায়িত্বভার অর্পণ করা। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ সে সম্পর্কে আমার কী জ্ঞান আছে? অথচ তোমরা সকলেই একই বিষয় প্রার্থনা করছ যাতে তোমরা সকলে সমান। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করল যে, সে যদি রাজত্বের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে, তবে হয়তো তিনি তাকেই নির্দেশ করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
، فَقَالَ: أَمَّا أَنَا فَغَيْرُ مُشَاحٍ صَاحِبَيَّ هَذَيْنِ، وَإِنَّ السَّلَامَةَ لَدَيَّ لَفِي اعْتِزَالِ هَذَا الْأَمْرِ. قَالَ السَّائِحُ: مَا أَظُنُّ صَاحِبَيْكَ يَكْرَهَانِ اعْتِزَالَكَ عَنْهُمَا فَأُشِيرُ إِلَى أَحَدِهِمَا وَأَتْرُكُكَ قَالَ: بَلْ تَخْتَارُ لِأُمَّتِكَ مَنْ بَدَا لَكَ. قَالَ لَهُ السَّائِحُ: مَا أَرَاكَ إِلَّا قَدْ نَزَعْتَ عَنْ قَوْلِكَ، وَصِرْتُمُ الْآنَ عِنْدِي بِمَنْزِلَةٍ وَاحِدَةٍ، غَيْرَ أَنِّي سَأَعِظُكُمْ، وَأَضْرِبُ لَكُمْ أَمْثَالَ الدُّنْيَا، وَأَمْثَالَكُمْ فِيهَا، وَأَنْتُمْ أَعْلَمُ وَالْخِيَارُ لِأَنْفُسِكُمْ.
তিনি বললেন: আমার কথা যদি বলি, তবে আমি আমার এই দুই সঙ্গীর সাথে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না; আর আমার কাছে এই বিষয় থেকে দূরে থাকার মধ্যেই নিরাপত্তা নিহিত। পরিব্রাজক বললেন: আমার মনে হয় না যে আপনার দুই সঙ্গী আপনার সরে দাঁড়ানোকে অপছন্দ করবেন। সুতরাং আমি তাদের দুজনের মধ্য থেকে একজনকে নির্দিষ্ট করব এবং আপনাকে বাদ রাখব। তিনি বললেন: বরং আপনার দৃষ্টিতে যাকে উপযুক্ত মনে হয় তাকেই আপনার উম্মতের জন্য নির্বাচন করুন। পরিব্রাজক তাকে বললেন: আমি দেখছি যে আপনি আপনার পূর্বের কথা থেকে ফিরে এসেছেন, এবং এখন আপনারা আমার কাছে একই মর্যাদায় উপনীত হয়েছেন। তবে আমি আপনাদেরকে উপদেশ দেব এবং আপনাদের সামনে দুনিয়ার উদাহরণ ও তাতে আপনাদের অবস্থার দৃষ্টান্ত তুলে ধরব। আর আপনারাই অধিক অবগত এবং আপনাদের নিজেদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার আপনাদেরই।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
اغْتِنَامُ الْعُمُرِ وَالتَّوَثُّقُ بِالْعَمَلِ فَأَخْبِرُونِي: هَلْ عَرَفْتُمْ مَدَاكُمْ مِنَ الْمُلْكِ، وَغَايَتَكُمْ مِنَ الْعُمُرِ؟ قَالُوا: لَا نَدْرِي، لَعَلَّ ذَلِكَ لَا يَكُونُ إِلَّا طَرْفَةَ عَيْنٍ قَالَ: فَلِمَ تُخَاطِرُونَ بِهَذِهِ الْغِرَّةِ؟ قَالُوا: رَجَاءَ طُولِ الْمُدَّةِ قَالَ: كَمْ أَتَتْ عَلَيْكُمْ مِنْ سَنَةٍ؟ قَالُوا: أَصْغَرُنَا ابْنُ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً، وَأَكْبَرُنَا ابْنُ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ: فَاجْعَلُوا أَطْوَلَ مَا تَرْجُونَ مِنَ الْعُمُرِ مِثْلَ سِنِّكُمُ الَّتِي عَمَّرْتُمْ، قَالُوا: لَسْنَا نَطْمَعُ فِي أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، وَلَا خَيْرَ فِي الْعُمُرِ بَعْدَ ذَلِكَ قَالَ: أَفَلَا تَبْتَغُونَ فِيمَا بَقِيَ مِنْ أَعْمَارِكُمْ مَا تَرْجُونَ مِنْ مُلْكٍ لَا يَبْلَى، وَنَعِيمٍ لَا يَتَغَيَّرُ، وَلَذَّةٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَحَيَاةٍ لَا يُكَدِّرُهَا الْمَوْتُ، وَلَا تُنَغِّصُهَا الْأَحْزَانُ، وَلَا الْهُمُومُ، وَلَا الْأَسْقَامُ؟
জীবনের সদ্ব্যবহার এবং নেক আমলের মাধ্যমে পরকালকে সুনিশ্চিত করা। আমাকে বল: তোমরা কি তোমাদের আধিপত্যের পরিধি এবং তোমাদের জীবনের পরিসমাপ্তি সম্পর্কে অবগত আছো? তারা বলল: আমরা জানি না, হতে পারে তা কেবল চোখের পলক সমতুল্য। তিনি বললেন: তবে কেন তোমরা এই অসতর্কতায় ঝুঁকি নিচ্ছো? তারা বলল: দীর্ঘ জীবনের আশায়। তিনি বললেন: তোমাদের কত বছর অতিবাহিত হয়েছে? তারা বলল: আমাদের মধ্যে কনিষ্ঠতমের বয়স পঁয়ত্রিশ বছর এবং জ্যেষ্ঠতমের বয়স চল্লিশ বছর। তিনি বললেন: তবে তোমরা তোমাদের জীবনের জন্য যে দীর্ঘতম সময় আশা করছো, তাকে তোমাদের অতিবাহিত জীবনের সমপরিমাণ ধরে নাও। তারা বলল: আমরা এর চেয়ে বেশি আশা করি না, আর এরপরের জীবনে কোনো কল্যাণও নেই। তিনি বললেন: তবে কি তোমরা তোমাদের অবশিষ্ট জীবনে এমন রাজত্ব অন্বেষণ করবে না যা কখনও ক্ষয় হবে না, এমন নেয়ামত যা পরিবর্তিত হবে না, এমন তৃপ্তি যা বিচ্ছিন্ন হবে না এবং এমন এক জীবন যাকে মৃত্যু কলুষিত করবে না এবং দুঃখ-বেদনা, দুশ্চিন্তা ও ব্যাধি যাকে বিষাদময় করবে না?
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قَالُوا: إِنَّا لَنَرْجُو أَنْ نُصِيبَ ذَلِكَ بِمَغْفِرَةِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ قَالَ: قَدْ كَانَ مَنْ أَصَابَهُ الْعَذَابُ مِنَ الْقُرُونِ الْأُولَى يَرْجُونَ مِنَ اللَّهِ مَا تَرْجُونَ، وَيُؤَمِّلُونَ مَا تُؤَمِّلُونَ، وَيُضَيِّعُونَ الْعَمَلَ، حَتَّى نَزَلَتْ بِهِمُ الْعُقُوبَةُ مَا قَدْ بَلَغَكُمْ، فَلَيْسَ يَنْبَغِي لِمَنْ صَدَّقَ بِمَا أَصَابَ الْقُرُونَ الْأُولَى أَنْ يَطْمَعَ فِي رَجَاءٍ بِغَيْرِ عَمَلٍ، وَيُوشِكُ مَنْ سَلَكَ الْمَفَازَةَ بِغَيْرِ مَاءٍ أَنْ يَهْلِكَ عَطَشًا، أَرَاكُمْ تَتَّكِلُونَ عَلَى الرَّجَاءِ فِي هَلَاكِ أَبْدَانِكُمْ، وَلَا تَتَّكِلُونَ عَلَيْهِ فِي صَلَاحِ مَعَايِشِكُمْ، تُؤَثِّثُونَ لِدَارٍ قَدْ عَرَفْتُمْ مُزَايَلَتَهَا، وَتَتْرُكُونَ التَّأْثِيثَ لِدَارِ مُقَامِكُمْ، ثُمَّ قَدْ رَأَيْتُمْ مَدَائِنَكُمُ الَّتِي ابْتَنَيْتُمُوهَا، وَاعْتَدَتُّمْ فِيهَا الْأَثَاثَ وَالرِّبَاعَ، لَوْ قِيلَ لَكُمْ: إِنَّهُ سَيَنْزِلُ عَلَيْكُمْ مَلِكٌ بِجُيُوشِهِ وَجُنُودِهِ فَيَعُمُّ أَهْلَهَا بِالْقَتْلِ، وَبُنْيَانَهَا بِالْهَدْمِ، هَلْ كُنْتُمْ تَطِيبُونَ نَفْسًا بِالْمُقَامِ فِيهَا، وَالْبُنْيَانِ بِهَا؟ قَالُوا: لَا، قَالَ: فَوَاللَّهِ إِنَّ أَمْرَ هَؤُلَاءِ الْآدَمَيِّينَ لَصَائِرٌ إِلَى هَذَا وَلَكِنِّي أَدُلُّكُمْ عَلَى مَدِينَةٍ آمِنَةٍ سَلِيمَةٍ لَا يُؤْذِيكُمْ فِيهَا جَبَّارٌ، وَلَا يَغْشُمُكُمْ فِيهَا وَالٍ، وَلَا تَعْدِمُكُمْ فِيهَا الثِّمَارُ، قَالُوا: قَدْ عَرَفْنَا الَّذِي أَرَدْتَ، فَكَيْفَ وَقَدِ اشْرَأَبَّتْ أَنْفُسُنَا بِحُبِّ الدُّنْيَا؟ قَالَ: مَعَ الْأَسْفَارِ الْبَعِيدَةِ تَكُونُ الْأَرْبَاحُ الْكَثِيرَةُ، فَيَا عَجَبًا لِلْجَاهِلِ
তারা বলল: আমরা আল্লাহর ক্ষমা ও করুণার মাধ্যমে তা লাভ করার আশা করি। তিনি বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের মধ্যে যারা আজাবে নিপতিত হয়েছিল, তারাও আল্লাহর নিকট সেই আশাই করত যা তোমরা করছ এবং সেই আকাঙ্ক্ষাই পোষণ করত যা তোমরা করছ; কিন্তু তারা আমল বিনষ্ট করেছিল, পরিশেষে তাদের ওপর সেই শাস্তি আপতিত হয়েছিল যার সংবাদ তোমাদের নিকট পৌঁছেছে। সুতরাং অতীত প্রজন্মের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে, আমল ব্যতিরেকে কেবল আশার ওপর লোভ করা তার জন্য সমীচীন নয়। আর যে ব্যক্তি পানি ব্যতীত মরুভূমি পাড়ি দেয়, তৃষ্ণায় তার ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়। আমি দেখছি যে, তোমরা তোমাদের দেহের ধ্বংসের বিষয়ে (পরকালের জন্য) আশার ওপর নির্ভর করছ, অথচ তোমাদের জীবনযাত্রার সংশোধনের জন্য তার ওপর নির্ভর করছ না। তোমরা এমন এক গৃহের আসবাবপত্র গুছিয়ে রাখছ যেখান থেকে তোমাদের বিদায় নিতেই হবে, আর তোমরা তোমাদের চিরস্থায়ী আবাসের জন্য আসবাবপত্র গোছানো বর্জন করেছ। অতঃপর তোমরা কি তোমাদের সেই শহরগুলো দেখনি যা তোমরা নির্মাণ করেছ এবং যাতে আসবাবপত্র ও অট্টালিকা প্রস্তুত করেছ? যদি তোমাদের বলা হতো যে, এক রাজা তার সৈন্যসামন্ত ও বাহিনী নিয়ে তোমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করবে এবং এর অধিবাসীদের হত্যা করবে ও এর দালানকোঠাগুলো সমূলে ধ্বংস করে দেবে, তবে কি তোমরা সেখানে বসবাস ও ইমারত নির্মাণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে? তারা বলল: না। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, এই বনী আদমদের পরিণাম তো এমনই হতে চলেছে। তবে আমি তোমাদের এমন এক নিরাপদ ও শান্তিময় নগরের কথা বলছি যেখানে কোনো স্বৈরশাসক তোমাদের কষ্ট দেবে না, কোনো প্রশাসক তোমাদের ওপর জুলুম করবে না এবং যেখানে তোমাদের ফলের অভাব হবে না। তারা বলল: আপনি যা উদ্দেশ্য করেছেন তা আমরা বুঝেছি, কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব যখন আমাদের অন্তর দুনিয়ার মহব্বতে ব্যাকুল হয়ে আছে? তিনি বললেন: দীর্ঘ সফরের মাধ্যমেই তো অধিক মুনাফা অর্জিত হয়; হায়! জাহেলদের জন্য কতই না বিস্ময়!
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَالْعَالِمِ، كَيْفَ اسْتَوَيَا فِي هَلَاكِ أَنْفُسِهِمَا؟ أَلَا إِنَّ الَّذِي يَسْرِقُ وَلَا يَعْرِفُ عُقُوبَةَ السَّارِقِ أَعْذَرُ مِنَ السَّارِقِ الْعَارِفِ بِعُقُوبَتِهِ، وَيَا عَجَبًا لِلْحَازِمِ كَيْفَ لَا يَبْذُلُ مَالَهُ دُونَ نَفْسِهِ فَيَنْجُوَ بِهَا، فَإِنِّي أَرَى هَذَا الْعَالَمَ يَبْذُلُونَ أَنْفُسَهُمْ دُونَ أَمْوَالِهِمْ، كَأَنَّهُمْ لَا يُصَدِّقُونَ بِمَا يَأْتِيهِمْ بِهِ أَنْبِيَاؤُهُمْ، قَالُوا: مَا سَمِعْنَا أَحَدًا مِنْ أَهْلِ هَذِهِ الْمِلَّةِ يُكَذِّبُ بِشَيْءٍ مِمَّا جَاءَتْ بِهِ الْأَنْبِيَاءُ قَالَ: مِنْ ذَلِكَ اشْتَدَّ عَجَبِي مِنِ اجْتِمَاعِهِمْ عَلَى التَّصْدِيقِ وَمُخَالَفَتِهِمْ فِي الْفِعْلِ، كَأَنَّهُمْ يَرْجُونَ الثَّوَابَ بِغَيْرِ أَعْمَالٍ
এবং আলেম, কীভাবে তারা উভয়ে নিজেদের জীবন ধ্বংসের ক্ষেত্রে সমান হয়ে গেল? জেনে রাখুন, যে ব্যক্তি চুরি করে অথচ চোরের দণ্ডবিধি সম্পর্কে অবগত নয়, সে ওই চোর অপেক্ষা অধিক ওজরযোগ্য যে দণ্ডবিধি সম্পর্কে জানে। আর বিচক্ষণ ব্যক্তির জন্য কতই না বিস্ময়ের বিষয় যে, সে কেন নিজের জীবন রক্ষার্থে স্বীয় সম্পদ ব্যয় করে না যাতে সে মুক্তি পায়! বরং আমি দেখছি যে, এই জগতের মানুষ তাদের সম্পদের মায়ায় নিজেদের জীবনকেই বিলিয়ে দিচ্ছে, যেন তারা তাদের নিকট নবীদের আনীত বাণীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না। তারা বলল: আমরা এই মিল্লাতের কাউকে এমন দেখিনি যে নবীদের আনীত কোনো বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। তিনি বললেন: এ কারণেই আমার বিস্ময় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তারা বিশ্বাসের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কর্মের ক্ষেত্রে তার বিপরীত আচরণ করছে, যেন তারা নেক আমল ছাড়াই প্রতিদানের আশা রাখে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
التَّفَكُّرُ فِي هَلَاكِ الْعَالَمِ قَالُوا: أَخْبِرْنَا كَيْفَ أَوَّلُ مَعْرِفَتِكَ لِلْأُمُورِ مِنْ قِبَلِ الْفِكْرِ؟ قَالَ: تَفَكَّرْتُ فِي هَلَاكِ الْعَالَمِ فَإِذَا ذَاكَ مِنْ قِبَلِ أَرْبَعَةِ أَشْيَاءَ جُعِلَتْ فِيهِنَّ اللَّذَّاتُ، وَهِيَ أَبْوَابٌ مُرَكَّبَةٌ فِي الْجَسَدِ، مِنْهَا ثَلَاثَةٌ فِي الرَّأْسِ، وَوَاحِدٌ فِي الْبَطْنِ، فَأَمَّا أَبْوَابُ الرَّأْسِ فَالْعَيْنَانِ، وَالْمِنْخَرَانِ، وَالْحَنَكُ، وَأَمَّا بَابُ الْبَطْنِ فَالْفَرْجُ، فَالْتَمَسْتُ خِفَّةَ الْمَئُونَةِ عَلَيَّ فِي هَذِهِ الْأَبْوَابِ الَّتِي مِنْ قِبَلِهَا دَخَلَ الْبَلَاءُ عَلَى الْعَالَمِ فَوَجَدْتُ أَيْسَرَهَا مَئُونَةً بَابَ الْمِنْخَرَيْنِ، لِذَّتُهُ يَسِيرَةٌ، مَوْجُودَةٌ فِي الزَّهْرِ وَالنَّوْرِ وَالرَّيْحَانِ، ثُمَّ الْتَمَسْتُ الْخِفَّةَ لِمَئُونَةِ بَابِ الْحَنَكِ فَإِذَا هُوَ طَرِيقٌ لِلْجَسَدِ، وَغِذَاءٌ
জগতের বিনাশ নিয়ে চিন্তা। তাঁরা বললেন: চিন্তার মাধ্যমে বিষয়াবলি সম্পর্কে আপনার প্রথম পরিচিতি কীভাবে হয়েছিল, আমাদের অবহিত করুন? তিনি বললেন: আমি জগতের বিনাশ নিয়ে চিন্তা করলাম এবং দেখলাম যে তা চারটি বিষয়ের কারণে ঘটে যেগুলোর মধ্যে স্বাদ বা ভোগ রাখা হয়েছে। আর সেগুলো হলো শরীরের মাঝে বিন্যস্ত কিছু দ্বার; যার মধ্যে তিনটি মস্তকে এবং একটি উদরে। মস্তকের দ্বারগুলো হলো দুই চোখ এবং দুই নাসিকারন্ধ্র, এবং তালু (মুখ), আর উদরের দ্বার হলো লজ্জাস্থান। সুতরাং আমি নিজের ওপর এই দ্বারগুলোর ভার লাঘব করতে চাইলাম যেগুলোর মধ্য দিয়ে জগতের ওপর বিপদ নেমে এসেছে। ফলে আমি এগুলোর মধ্যে নাসিকারন্ধ্রের দ্বারটিকে সবচেয়ে সহজসাধ্য পেলাম; এর স্বাদ অতি সামান্য, যা ফুল, মুকুল এবং সুগন্ধি গুল্মে বিদ্যমান। এরপর আমি তালুর (মুখের) দ্বারের ভার লাঘবের পথ অন্বেষণ করলাম, তো দেখলাম তা হলো শরীরের পথ এবং খাদ্যের মাধ্যম।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
لَا قِوَامَ لَهُ إِلَّا بِمَا يُلْقَى فِيهِ، فَإِذَا تِلْكَ الْمَئُونَةُ إِذَا صَارَتْ فِي الْوِعَاءِ اسْتَوَتْ فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْمَطْعَمِ وَالْمَشْرَبِ، وَرَفَضْتُ مَا عَسِرَ فَصِرْتُ فِيمَا قَطَعْتُ عَنْ نَفْسِي مِنْ مَئُونَةِ الْوِعَاءِ وَلَذَّةِ الْحَنَكِ بِمَنْزِلَةِ رَجُلٍ كَانَ يَتَّخِذُ الرَّمَادَ مِنَ الْخَلَنْجِ وَالصَّنْدَلِ وَالْعِيدَانِ الْمُرْتَفِعَةِ، فَلَمَّا ثَقُلَ عَلَيْهِ مَئُونَةُ ذَلِكَ اتَّخَذَ الرَّمَادَ مِنَ الزُّبْلِ وَالْحَطَبِ الرَّخِيصِ، فَرَحَى ذَلِكَ عَلَيْهِ، وَنَظَرْتُ فِي مَئُونَةِ الْفَرْجِ فَإِذَا هُوَ وَالْعَيْنَانِ مَوْصُولَانِ بِالْقَلْبِ، وَإِذَا بَابُ الْعَيْنِ يَسْقِي الشَّهْوَةَ، وَهُمَا مُعِينَانِ عَلَى هَلَاكِ الْجَسَدِ، ثُمَّ تَنْقَطِعُ تِلْكَ اللَّذَّةُ عَلَى طُولِ الْعُمُرِ، فَهَمَمْتُ بِإِلْقَائِهِمَا عَنِّي وَقُلْتُ: هَلَاكُهُمَا واطِّرَاحُهُمَا أَيْسَرُ عَلَيَّ مِنْ هَلَاكِ جَسَدِي، وَأَشْفَقْتُ أَنْ يَضُرَّ ذَلِكَ بِجَمِيعِ الْجَسَدِ فَرَوَّيْتُ وَفَكَّرْتُ، فَلَمْ أَجِدْ لَهُمَا شَيْئًا أَفْضَلَ مِنَ الْعُزْلَةِ عَنِ النَّاسِ، وَكَانَ مَا بَغَضَّ إِلَيَّ مَنْزِلِي الَّذِي كُنْتُ فِيهِ فِكْرِي فِي مُقَامِي مَعَ مَنْ لَا يَعْقِلُ إِلَّا أَمْرَ دُنْيَاهُ فَاسْتَوْحَشْتُ مِنَ الْمُقَامِ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ، فَتَنَحَّيْتُ عَنْهُمْ إِلَى هَذَا الْمَنْزِلِ، فَقُطِعَتْ عَنِّي أَبْوَابُ الْخَطِيئَةِ، وَحَسَمْتُ نَفْسِي لَذَّاتٍ أَرْبَعًا، وَقَطَعْتُهُنَّ بِخِصَالٍ أَرْبَعٍ
এতে যা নিক্ষেপ করা হয় তা ছাড়া এর কোনো স্থিতি নেই। সুতরাং যখন সেই রসদ পাত্রের মধ্যে নীত হয়ে থিতু হয়, তখন আমি সেখান থেকে সহজলভ্য পানাহার গ্রহণ করি এবং যা কষ্টকর তা বর্জন করি। ফলে আহারের রসদ ও জিহ্বার স্বাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখায় আমি সেই ব্যক্তির ন্যায় হয়ে গেলাম, যে উচ্চমূল্যের কাষ্ঠ ও চন্দন কাঠ থেকে ছাই সংগ্রহ করত; অতঃপর যখন সেই ব্যয়ভার তার ওপর ভারী হয়ে উঠল, তখন সে গোবর ও সস্তা জ্বালানি কাঠ থেকে ছাই সংগ্রহ করতে শুরু করল এবং এতে তার জন্য বিষয়টি সহজ হয়ে গেল। অতঃপর আমি লজ্জাস্থানের চাহিদার প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখলাম যে সেটি ও চক্ষুদ্বয় হৃদয়ের সাথে সংযুক্ত। আর চোখের দুয়ার কুপ্রবৃত্তিকে সিঞ্চিত করে এবং তারা উভয়ই শরীরের ধ্বংস সাধনে সহায়ক। এরপর দীর্ঘ জীবনের পরিক্রমায় সেই স্বাদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই আমি তাদের উভয়কে বর্জন করার সংকল্প করলাম এবং বললাম: আমার শরীর ধ্বংস হওয়ার চেয়ে তাদের উভয়ের বিনাশ ও বর্জন করা আমার কাছে অধিক সহজ। কিন্তু আমি আশঙ্কা করলাম যে এটি সমগ্র শরীরের ক্ষতি করতে পারে, তাই আমি চিন্তা-ভাবনা করলাম। পরিশেষে আমি লোকালয় থেকে নির্জনতা অবলম্বন করার চেয়ে উত্তম আর কিছুই তাদের জন্য খুঁজে পেলাম না। আমার পূর্ববর্তী আবাসস্থলটি আমার কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, কারণ সেখানে আমাকে এমন সব লোকের সাথে থাকতে হতো যারা পার্থিব বিষয় ছাড়া কিছুই বোঝে না; ফলে তাদের মাঝে বসবাস করা আমার নিকট বিভীষিকাময় হয়ে উঠল। অতঃপর আমি তাদের থেকে দূরে সরে এই আবাসস্থলে চলে এলাম। ফলে আমার জন্য পাপের পথসমূহ রুদ্ধ হয়ে গেল এবং আমি নিজেকে চারটি স্বাদ থেকে বিরত রাখলাম এবং চারটি গুণের মাধ্যমে সেগুলোকে ছিন্ন করলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
قَطْعُ اللَّذَّاتِ قَالُوا: وَمَا اللَّذَّاتُ؟ وَبِمَاذَا قَطَعْتَهُنَّ؟
স্বাদসমূহ ছিন্ন করা। তারা বলল: আর স্বাদসমূহ কী? এবং কিসের দ্বারা আপনি সেগুলোকে ছিন্ন করেছেন?
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَالَ: اللَّذَّاتُ: الْمَالُ، وَالْبَنُونَ، وَالْأَزْوَاجُ، وَالسُّلْطَانُ، فَقَطَعْتُهُنَّ بِالْهُمُومِ، وَالْأَحْزَانِ، وَالْخَوْفِ، وَبِذِكْرِ الْمَوْتِ الْمُنَغِّصِ لِلَّذَّاتِ، وَقَطَعْتُ ذَلِكَ أَجْمَعَ بِالْعُزْلَةِ وَتَرْكِ الِاهْتِمَامِ بِأُمُورِ الدُّنْيَا، فَلَا أَحْزَنُ عَلَى أَحَدٍ هَلَكَ فِيهَا، وَلَا أَخَافُ إِلَّا اللَّهَ عز وجل وَحْدَهُ ، فَمَا خَيْرٌ فِي لَذَّةٍ وَهَذَا الْمَوْتُ يَقْفُوهَا؟ وَأَيُّ دَارٍ شَرٌّ مِنْ دَارِ الْفَجَائِعِ جِوَارًا؟ كُونُوا كَرَجُلٍ يُسَافِرُ يَلْتَمِسُ الْفَضْلَ، فَغَشَى مَدِينَتَهُ الَّتِي خَرَجَ مِنْهَا الْعَدُوُّ، فَأَصَابُوا أَهْلَهَا بِالْبَلَاءِ فِي أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ، فَسَلِمَ ذَلِكَ الرَّجُلُ فِي مَخْرَجِهِ، وَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا صَرَفَ عَنْهُ، فَأَنَا مُعْتَزِلٌ فِي مَنْزِلِي هَذَا عَنِ أَهْلِ الْخَطَايَا أَتَذَكَّرُ الْمَوْتِ الَّذِي يَكْرَهُهُ النَّاسُ، وَأَجِدُ لِذِكْرِهِ حَلَاوَةً لِلِقَاءِ رَبِّي، وَلَقَدْ عَجِبْتُ لِأَهْلِ الدُّنْيَا، كَيْفَ يَنْتَفِعُونَ بِلَذَّاتِهَا مَعَ هُمُومِهَا، وَأْحَزَانِهَا، وَمَا تُجَرِّعُهُمْ مِنْ مَرَارَتِهَا بَعْدَ حَلَاوَتِهَا.
তিনি বললেন: সুখ-ভোগ হলো: ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী এবং ক্ষমতা। তাই আমি সেগুলোকে দুশ্চিন্তা, দুঃখ-বেদনা, ভয় এবং সুখ-ভোগকে বিনষ্টকারী মৃত্যুর স্মরণের মাধ্যমে ছিন্ন করেছি। আর আমি এই সবকিছুকেই নির্জনবাস এবং পার্থিব বিষয়ের প্রতি ভ্রুক্ষেপ বর্জনের মাধ্যমে ছিন্ন করেছি। ফলে আমি দুনিয়াতে ধ্বংসপ্রাপ্ত কারো জন্য শোক করি না এবং এক মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। সুতরাং সেই সুখ-ভোগে কী কল্যাণ আছে যার পশ্চাতে মৃত্যু লেগে থাকে? আর প্রতিবেশী হিসেবে বিপদ-আপদের ঘরের চেয়ে নিকৃষ্ট ঘর আর কোনটি হতে পারে? তোমরা এমন এক ব্যক্তির ন্যায় হও যে অনুগ্রহ লাভের আশায় সফরে বের হয়েছিল, অতঃপর তার সেই শহরকে শত্রু আক্রমণ করল যেখান থেকে সে বেরিয়েছিল। এরপর তারা সেখানকার অধিবাসীদের জান ও মালের ওপর বিপর্যয় নামিয়ে আনল, কিন্তু সেই ব্যক্তি তার যাত্রাপথে নিরাপদ থাকল এবং আল্লাহ তার থেকে যা বিমুখ রেখেছেন তার জন্য তিনি আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করলেন। সুতরাং আমি আমার এই ঘরে পাপাচারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অবস্থান করছি; আমি সেই মৃত্যুকে স্মরণ করি যা মানুষ অপছন্দ করে, আর আমি এর স্মরণের মাঝে আমার রবের সাথে সাক্ষাতের মাধুর্য খুঁজে পাই। আর আমি দুনিয়াদারদের দেখে নিশ্চয়ই বিস্মিত হই যে, এর দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-বেদনা সত্ত্বেও তারা কীভাবে এর সুখ-ভোগসমূহ থেকে তৃপ্তি পায় এবং মিষ্টতার পর এটি তাদের যে তিক্ততা আস্বাদন করায় তা সত্ত্বেও (তারা এতে মত্ত থাকে)।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
قِصَّةُ صَاحِبِ الْحَيَّةِ وَاشْتَدَّ عَجَبِي مِنْ أَهْلِ الْعُقُولِ مَا يَمْنَعُهُمْ مِنَ النَّظَرِ فِي سَلَامَةِ أَبْدَانِهِمْ؟ فَإِنَّهُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُهْلِكُوا أَنْفُسَهُمْ كَمَا هَلَكَ صَاحِبُ الْحَيَّةِ، قَالُوا: أَخْبِرْنَا كَيْفَ كَانَ مَثَلُ صَاحِبِ الْحَيَّةِ؟ قَالَ: زَعَمُوا أَنَّهُ كَانَ فِي دَارِ رَجُلٍ مِنَ النَّاسِ حَيَّةٌ سَاكِنَةٌ فِي جُحْرٍ قَدْ
সাপওয়ালার কাহিনী। বুদ্ধিমানদের ব্যাপারে আমার বিস্ময় অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে—কিসে তাদেরকে নিজেদের দেহের নিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য করতে বাধা দেয়? কেননা তারা নিজেদেরকে সেভাবেই ধ্বংস করতে চায় যেভাবে সাপওয়ালা ধ্বংস হয়েছিল। তারা বলল: আমাদের জানান, সাপওয়ালার দৃষ্টান্তটি কেমন ছিল? তিনি বললেন: তারা বর্ণনা করে যে, জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে একটি গর্তে একটি সাপ বসবাস করত যা...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াজালু ওয়াত-তাওয়াসসুকু বিল আমাল লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
عَرَفُوا مَكَانَهَا، وَكَانَتْ تِلْكَ الْحَيَّةُ تَبِيضُ كُلَّ يَوْمٍ بَيْضَةً مِنْ ذَهَبٍ وَزْنُهَا مِثْقَالٌ، فَصَاحِبُ الْمَنْزِلِ مُغْتَبِطٌ مَسْرُورٌ بِمَكَانِ تِلْكَ الْحَيَّةِ، يَأْخُذُ كُلَّ يَوْمٍ مِنْ جُحْرِهَا بَيْضَةً مِنْ ذَهَبٍ، وَقَدْ تَقَدَّمَ إِلَى أَهْلِهِ أَنْ يَكْتُمُوا أَمْرَهَا، فَكَانَتْ كَذَلِكَ لِأَشْهُرٍ، ثُمَّ إِنَّ الْحَيَّةَ خَرَجَتْ مِنْ جُحْرِهَا فَأَتَتْ عَنْزًا لِأَهْلِ الدَّارِ حَلُوبًا يَنْتَفِعُونَ بِهَا فَنَهَشَتْهَا فَهَلَكَتِ الْعَنْزُ. فَجَزِعَ لِذَلِكَ الرَّجُلُ وَأَهْلُهُ، وَقَالُوا: الَّذِي نَصِيبُ مِنَ الْحَيَّةِ أَكْثَرَ مِنْ ثَمَنِ الْعَنْزِ، وَاللَّهُ يُخْلِفُ ذَلِكَ مِنْهَا. فَلَمَّا أَنْ كَانَ عِنْدَ رَأْسِ الْحَوْلِ عَدَتْ عَلَى حِمَارٍ لَهُ كَانَ يَرْكَبُهُ فَنَهَشَتْهُ فَقَتَلَتْهُ، فَجَزِعَ لِذَلِكَ الرَّجُلُ، وَقَالَ: أَرَى هَذِهِ الْحَيَّةَ لَا تَزَالُ تُدْخِلُ عَلَيْنَا آفَةً، وَسَنَصْبِرُ لِهَذِهِ الْآفَاتِ مَا لَمْ تَعْدُ الْبَهَائِمَ. ثُمَّ مَرَّ بِهِمْ عَامَانِ لَا تُؤْذِيهِمُ فَهُمْ مَسْرُورُونَ بِجِوَارِهَا، مُغْتَبِطُونَ بِمَكَانِهَا، إِذْ عَدَتْ عَلَى عَبْدٍ كَانَ لِلرَّجُلِ لَمْ يَكُنْ لَهُ خَادِمٌ غَيْرُهُ فَنَهَشَتْهُ وَهُوَ نَائِمٌ، فَاسْتَغَاثَ الْعَبْدُ بِمَوْلَاهُ فَلَمْ يُغْنِ عَنْهُ شَيْئًا حَتَّى تَفَسَّخَ لَحْمُهُ، فَجَزِعَ الرَّجُلُ وَقَالَ: أَرَى سُمَّ هَذِهِ الْحَيَّةِ قَاتِلًا لِمَنْ لَسَعَتْهُ، مَا آمَنُ أَنْ تَلْسَعُ بَعْضَ أَهْلِي. فَمَكَثَ مَهْمُومًا، حَزِينًا خَائِفًا أَيَّامًا، ثُمَّ قَالَ: إِنَّمَا كَانَ سُمُّ هَذِهِ الْحَيَّةِ فِي مَالِي، وَأَنَا أُصِيبُ مِنْهَا أَفْضَلَ مِمَّا رُزِئْتُ بِهِ، فَتَعَزَّى بِذَلِكَ عَلَى خَوْفٍ وَوَجَلٍ مِنْ شَرِّ جِوَارِهَا
তারা সেটির অবস্থান জানতে পেরেছিল। সেই সাপটি প্রতিদিন এক মিসকাল ওজনের একটি করে স্বর্ণের ডিম পাড়ত। গৃহকর্তা সেই সাপের অবস্থানের কারণে অত্যন্ত সুখী ও প্রফুল্ল ছিলেন; তিনি প্রতিদিন সেটির গর্ত থেকে একটি করে স্বর্ণের ডিম সংগ্রহ করতেন। তিনি তার পরিবারকে বিষয়টি গোপন রাখার আদেশ দিয়েছিলেন এবং কয়েক মাস এভাবেই অতিবাহিত হলো। অতঃপর সাপটি তার গর্ত থেকে বের হয়ে পরিবারের একটি দুগ্ধবতী ছাগীর নিকট আসলো যা থেকে তারা উপকৃত হতো; সাপটি সেটিকে দংশন করলে ছাগীটি মারা গেল। এতে সেই ব্যক্তি ও তার পরিবার অত্যন্ত ব্যথিত হলো এবং তারা বলল: আমরা সাপটি থেকে যা লাভ করি তা ছাগীটির মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি, আর আল্লাহ এর বিনিময়ে আমাদের প্রতিদান দেবেন। যখন বছরের শেষ সময় আসলো, তখন সাপটি তার একটি আরোহণের গাধার ওপর চড়াও হলো এবং সেটিকে দংশন করে মেরে ফেলল। এতে সেই ব্যক্তি মর্মাহত হয়ে বললেন: আমি দেখছি এই সাপটি ক্রমাগত আমাদের ওপর বিপদ বয়ে আনছে; তবে আমরা এই বিপদগুলোতে ততক্ষণ ধৈর্য ধরব যতক্ষণ না তা গবাদি পশুর সীমা অতিক্রম করে। এরপর দুই বছর যাবৎ সাপটি তাদের কোনো ক্ষতি করল না, ফলে তারা তার সান্নিধ্যে সন্তুষ্ট ও তার অবস্থানে আনন্দিত ছিল। হঠাৎ সাপটি সেই ব্যক্তির এক দাসের ওপর চড়াও হলো, যে ছাড়া তার অন্য কোনো সেবক ছিল না; সাপটি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দংশন করল। দাসটি তার মালিকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করল কিন্তু তিনি তার কোনো উপকার করতে পারলেন না, এমনকি তার শরীরের মাংস পচে খসে পড়তে লাগল। এতে লোকটি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ল এবং বলল: আমি দেখছি এই সাপের বিষ দংশিত ব্যক্তির জন্য প্রাণঘাতী, আমি এখন নিরাপদ বোধ করছি না যে এটি আমার পরিবারের কাউকে দংশন করবে। তিনি বেশ কিছু দিন চিন্তিত, বিষণ্ণ ও ভীত অবস্থায় থাকলেন। অতঃপর তিনি বললেন: এই সাপের বিষ মূলত আমার সম্পদের ওপরই আপতিত হয়েছে, আর আমি এর থেকে যা হারিয়েছি তার চেয়ে উত্তম কিছু লাভ করছি। এভাবে তিনি তার সান্নিধ্যের অনিষ্ট সম্পর্কে ভয় ও আশঙ্কার মাঝেই নিজেকে সান্ত্বনা দিলেন।