(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: -)
الناسخ والمنسوخ - النحاس   (أبو جعفر النحاس)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الناسخ والمنسوخ

المؤلف: أبو جعفر النَّحَّاس أحمد بن محمد بن إسماعيل بن يونس المرادي النحوي (ت 338هـ)

المحقق: د. محمد عبد السلام محمد

الناشر: مكتبة الفلاح - الكويت

الطبعة: الأولى، 1408

عدد الصفحات: 778

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ - আন-নাহহাস   (আবু জাফর আন-নাহহাস)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


বই: আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ

লেখক: আবু জাফর আন-নাহহাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন ইউনুস আল-মুরাদী আন-নাহবী (মৃত্যু ৩৩৮ হিজরী)

সম্পাদক: ড. মুহাম্মাদ আব্দুস সালাম মুহাম্মাদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ফালাহ - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৮

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৭৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে মিল রয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌بَابُ التَّرْغِيبِ فِي تَعَلُّمِ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ
নাসিখ ও মানসুখ শিক্ষা করার প্রতি উৎসাহ প্রদান সম্পর্কিত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৪৭)
حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي دَاوُدَ الْأَنْبَارِيُّ، بِالْأَنْبَارِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، قَالَ ⦗ص: 48⦘: دَخَلَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه الْمَسْجِدَ فَإِذَا رَجُلٌ يُخَوِّفُ النَّاسَ فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقَالُوا: رَجُلٌ يُذَكِّرُ النَّاسَ، فَقَالَ: لَيْسَ بِرَجُلٍ يُذَكِّرُ النَّاسَ وَلَكِنَّهُ يَقُولُ: أَنَا فُلَانُ ابْنُ فُلَانٍ فَاعْرِفُونِي، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ أَتَعْرِفُ النَّاسِخَ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ فَقَالَ: لَا قَالَ: فَاخْرُجْ مِنْ مَسْجِدِنَا وَلَا تُذَكِّرْ فِيهِ
আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে আবি দাউদ আল-আনবারি আনবারে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআবিয়া ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবু আল-বাখতারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘: আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন এক ব্যক্তি মানুষকে আতঙ্কিত করছে। তিনি বললেন: এটি কী? তারা বলল: এক ব্যক্তি মানুষকে নসিহত করছে। তিনি বললেন: সে মানুষকে নসিহতকারী কোনো ব্যক্তি নয়, বরং সে বলছে: "আমি অমুকের পুত্র অমুক, আমাকে চিনে রাখো।" এরপর তিনি তার কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জানো? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে আমাদের মসজিদ থেকে বের হয়ে যাও এবং এখানে আর নসিহত করো না।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৪৮)
قَالَ: أَبُو جَعْفَرٍ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي ⦗ص: 49⦘ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: انْتَهَى عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه إِلَى رَجُلٍ يَقُصُّ فَقَالَ: «أَعَلِمْتَ النَّاسِخَ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟» قَالَ: لَا قَالَ: «هَلَكْتَ وَأَهْلَكْتَ»
আবু জাফর বলেন: এবং আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সুফিয়ান আস-সাওরি বর্ণনা করেছেন, আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ আব্দুর রহমান আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জনৈক ব্যক্তির নিকট পৌঁছালেন যে কাহিনী বর্ণনা করছিল, তখন তিনি তাকে বললেন: «তুমি কি নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে অবগত আছ?» সে বলল: না। তিনি বললেন: «তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ»
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৪৯)
أَبُو جَعْفَرٍ قَالَ: وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ دَيْسَمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: مَرَّ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه بِرَجُلٍ يَقُصُّ فَقَالَ «أَعَرَفْتَ النَّاسِخَ وَالْمَنْسُوخَ؟» قَالَ: لَا قَالَ: «هَلَكْتَ وَأَهْلَكْتَ»
আবু জাফর বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে দাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবী তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) জনৈক গল্পকারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, "তুমি কি নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে অবগত আছ?" সে বলল, "না।" তিনি বললেন, "তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরকেও ধ্বংস করেছ।"
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৪৯)
قَالَ: أَبُو جَعْفَرٍ ⦗ص: 50⦘ وَحَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى {وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا} [البقرة: 269] قَالَ: «الْمَعْرِفَةُ بِالْقُرْآنِ نَاسِخِهِ وَمَنْسُوخِهِ وَمُحْكَمِهِ وَمُتَشَابِهِهِ وَمُقَدَّمِهِ وَمُؤَخَّرِهِ وَحَرَامِهِ وَحَلَالِهِ وَأَمْثَالِهِ»
আবু জাফর বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ এবং বকর ইবনে সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সলিহ আবদুল্লাহ ইবনে সলিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনে সলিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: {যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তাকে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে} [আল-বাকারাহ: ২৬৯]; তিনি বলেন: «(এর অর্থ হলো) কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; এর নাসিখ ও মানসুখ, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, মুকাদ্দাম ও মুআখখার, হারাম ও হালাল এবং এর উদাহরণসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া»
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫০)
قَالَ: أَبُو جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُبَيْطٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ ⦗ص: 51⦘، قَالَ: مَرَّ ابْنُ عَبَّاسٍ بِقَاصٍّ يَقُصُّ فَرَكَلَهُ بِرِجْلِهِ وَقَالَ: " أَتَدْرِي مَا النَّاسِخُ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ قَالَ: لَا قَالَ: «هَلَكْتَ وَأَهْلَكْتَ»
আবু জাফর বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালামাহ ইবনে নুবাইত থেকে, তিনি দাহহাক ইবনে মুজাহিম থেকে বর্ণনা করেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস এক কাহিনীকারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি কাহিনী বর্ণনা করছিলেন, তখন তিনি তাকে নিজের পা দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন: "তুমি কি নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জানো?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তুমি নিজে ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরকেও ধ্বংস করেছ।"
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَ: أَبُو جَعْفَرٍ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ دَيْسَمٍ، عَنْ مُوسَى، عَنْ أَبِي هِلَالٍ الرَّاسِبِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدًا، وَحُدِّثْتُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ: " إِنَّمَا يُفْتِي النَّاسَ أَحَدُ ثَلَاثَةٍ: رَجُلٌ يَعْلَمُ مَنْسُوخَ الْقُرْآنِ وَذَلِكَ عُمَرُ، وَرَجُلٌ قَاضٍ لَا يَجِدُ مِنَ الْقَضَاءِ بُدًّا، وَرَجُلٌ مُتَكَلِّفٌ فَلَسْتُ بِالرَّجُلَيْنِ الْمَاضِيَيْنِ وَأَكْرَهُ أَنْ أَكُونَ الثَّالِثَ "
আবু জাফর বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনে দাইসাম বর্ণনা করেছেন মূসা থেকে, তিনি আবু হিলাল আর-রাসিবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি এবং তাঁর থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: হুযাইফা বলেছেন: "মানুষের মাঝে কেবল তিন প্রকারের ব্যক্তি ফতোয়া প্রদান করেন: এমন ব্যক্তি যিনি কুরআনের মানসুখ (রহিত বিধান) সম্পর্কে অবগত—আর তিনি হলেন উমর; এমন এক বিচারক যিনি বিচারকার্য পরিচালনা করতে বাধ্য হন; এবং এমন ব্যক্তি যে অনধিকার চর্চাকারী। আমি প্রথমোক্ত দুই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত নই এবং তৃতীয় ব্যক্তি হওয়াকে অপছন্দ করি।"
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَ: أَبُو جَعْفَرٍ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ دَيْسَمٍ، عَنْ مُوسَى، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، أَنَّ عَلِيًّا، عليه السلام ⦗ص: 52⦘ دَخَلَ مَسْجِدَ الْكُوفَةِ فَرَأَى قَاصًّا يَقُصُّ فَقَالَ: «مَا هَذَا؟» فَقَالُوا: رَجُلٌ مُحَدِّثٌ، قَالَ: " إِنَّ هَذَا يَقُولُ: اعْرِفُونِي سَلُوهُ هَلْ يَعْرِفُ النَّاسِخَ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ " فَسَأَلُوهُ فَقَالَ: لَا، فَقَالَ: «لَا تُحَدِّثْ»
আবু জাফর বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে দাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবুল বাখতারি থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (আলাইহিস সালাম) ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ কুফা মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং একজন গল্পকথককে কিচ্ছা শোনাতে দেখলেন। তিনি বললেন: "এটি কী?" তারা বলল: "একজন বর্ণনাকারী ব্যক্তি।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি বলছে: 'আমাকে চেনো'। তাকে জিজ্ঞাসা করো, সে কি নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জানে?" তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল এবং সে বলল: "না।" তখন তিনি বললেন: "তুমি আর বর্ণনা করো না।"
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌بَابُ اخْتِلَافِ الْعُلَمَاءِ فِي الَّذِي يَنْسَخُ الْقُرْآنَ وَالسُّنَّةَ لِلْعُلَمَاءِ فِي هَذَا خَمْسَةُ أَقْوَالٍ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: يَنْسَخُ الْقُرْآنَ الْقُرْآنُ وَالسُّنَّةُ وَهَذَا قَوْلُ الْكُوفِيِّينَ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: يَنْسَخُ الْقُرْآنَ الْقُرْآنُ، وَلَا يَجُوزُ أَنْ تَنْسَخَهُ السُّنَّةُ وَهَذَا قَوْلُ الشَّافِعِيِّ فِي جَمَاعَةٍ مَعَهُ وَقَالَ قَوْمٌ: يَنْسَخُ السُّنَّةَ الْقُرْآنُ وَالسُّنَّةُ وَقَالَ قَوْمٌ: تَنْسَخُ السُّنَّةُ السُّنَّةَ وَلَا يَنْسَخُهَا الْقُرْآنُ وَالْقَوْلُ الْخَامِسُ: قَالَهُ مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ قَالَ: الْأَقْوَالُ قَدْ تَقَابَلَتْ فَلَا أَحْكُمُ عَلَى أَحَدِهَا بِالْآخَرِ قَالَ أَبْو جَعْفَرٍ: وَحُجَّةُ أَصْحَابِ الْقَوْلِ الْأَوَّلِ فِي أَنَّ الْقُرْآنَ يُنْسَخُ بِالْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] وَقَالَ تَعَالَى {فَلْيَحَذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور
কুরআন ও সুন্নাহকে যা রহিত করে সে বিষয়ে আলেমদের মতভেদ সংক্রান্ত অধ্যায়। এ বিষয়ে আলেমদের পাঁচটি অভিমত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন: কুরআনকে কুরআন এবং সুন্নাহ উভয়ই রহিত করে; এটি কুফাবাসীদের অভিমত। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ বলেন: কুরআনকে কেবল কুরআনই রহিত করে, আর সুন্নাহর মাধ্যমে তা রহিত হওয়া জায়েজ নয়। এটি একদল আলেমসহ ইমাম শাফেঈর অভিমত। একদল আলেম বলেছেন: সুন্নাহকে কুরআন এবং সুন্নাহ উভয়ই রহিত করে। অন্য একদল বলেছেন: সুন্নাহ কেবল সুন্নাহকেই রহিত করে এবং কুরআন তা রহিত করে না। পঞ্চম অভিমতটি হলো মুহাম্মদ বিন শুজার, তিনি বলেন: অভিমতগুলো পরস্পর বিরোধী, তাই আমি একটির ওপর অন্যটির মাধ্যমে ফয়সালা দিই না। আবু জাফর বলেন: কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা কুরআন রহিত হওয়ার বিষয়ে প্রথম মত পোষণকারীদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" [আল-হাশর: ৭] এবং মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে।" [আন-নূর
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫৪)
: 63] وَقَالَ تَعَالَى {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ} [النساء: 65] الْآيَةُ وَقَدْ أَجْمَعَ الْجَمِيعُ عَلَى أَنَّ الْقُرْآنَ إِذَا نَزَلَ بِلَفْظٍ مُجْمَلٍ فَفَسَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيَّنَهُ كَانَ بِمَنْزِلَةِ الْقُرْآنِ الْمَتْلُوِّ فَكَذَا سَبِيلُ النَّسْخِ وَاحْتَجُّوا بِآيَاتٍ مِنَ الْقُرْآنِ تَأَوَّلُوهَا عَلَى نَسْخِ الْقُرْآنِ بِالسُّنَّةِ سَتَمُرُّ فِي السُّوَرِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ عز وجل وَاحْتَجَّ مَنْ قَالَ: لَا يَنْسَخُ الْقُرْآنَ إِلَّا قُرْآنٌ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا} [البقرة: 106] ، وَبِقَوْلِهِ تَعَالَى {قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي} [يونس: 15] وَأَصْحَابُ الْقَوْلِ الْأَوَّلِ يَقُولُونَ: لَمْ يَنْسَخْهُ مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ وَلَكِنَّهُ بِوَحْيٍ غَيْرِ الْقُرْآنِ وَهَكَذَا سَبِيلُ الْأَحْكَامِ إِنَّمَا تَكُونُ مِنْ قِبَلِ اللَّهِ تَعَالَى
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, {অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে} [নিসা: ৬৫] পুরো আয়াতটি। আর সকলেই এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কুরআন যখন কোনো সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (মুজমাল) শব্দে অবতীর্ণ হতো এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা ব্যাখ্যা ও সুস্পষ্ট করে দিতেন, তখন তা পঠিত কুরআনের মর্যাদায় গণ্য হতো। রহিতকরণের (নাসখ) পদ্ধতিও তদ্রূপ। আর তারা কুরআনের এমন কিছু আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যেগুলোকে তারা সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআন রহিত হওয়ার পক্ষে ব্যাখ্যা করেছেন। আল্লাহ মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত চাইলে সূরাসমূহে তা সামনে আসবে। আর যারা বলেন যে, 'কুরআন কেবল কুরআন ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে রহিত হয় না', তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: {আমরা তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসি} [বাকারা: ১০৬]। এবং মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা: {বলুন, নিজের পক্ষ থেকে একে পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমার নেই} [ইউনুস: ১৫]। আর প্রথম মতের প্রবক্তারা বলেন: তিনি নিজের পক্ষ থেকে তা রহিত করেননি, বরং এটি ছিল কুরআন ছাড়াও অন্য কোনো ওহীর মাধ্যমে। আর বিধানসমূহের নিয়ম এমনই যে, তা কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَقَدْ رَوَى الضَّحَّاكُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، {نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا} [البقرة: 106] " نَجْعَلُ مَكَانَهَا أَنْفَعَ لَكُمْ مِنْهَا وَأَخَفَّ عَلَيْكُمْ {أَوْ مِثْلِهَا} [البقرة: 106] فِي الْمَنْفَعَةِ {أَوْ نُنْسِهَا} [البقرة: 106] يَقُولُ: أَوْ نَتْرُكُهَا كَمَا هِيَ فَلَا نَنْسَخُهَا " وَاحْتَجَّ أَصْحَابُ الْقَوْلِ الثَّالِثِ فِي أَنَّ السُّنَّةَ لَا يَنْسَخُهَا إِلَّا سُنَّةٌ بِأَنَّ السُّنَّةَ هِيَ الْمُبَيِّنَةُ لِلْقُرْآنِ فَلَا يَنْسَخُهَا، وَالْحُجَّةُ عَلَيْهِمْ أَنَّ الْقُرْآنَ هُوَ الْمُبَيِّنُ نُبُوَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْآمِرُ بِطَاعَتِهِ فَكَيْفَ لَا يَنْسَخُ قَوْلُهُ؟ ⦗ص: 55⦘ وَفِي هَذَا أَشْيَاءُ قَاطِعَةٌ قَالَ اللَّهُ عز وجل {فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تُرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ} [الممتحنة: 10] فَنُسِخُ بِهَذَا مَا فَارَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُشْرِكِينَ
আদ-দাহ্হাক ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, {আমরা তার চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে আসি} [আল-বাকারাহ: ১০৬] এর অর্থ: "আমরা তার পরিবর্তে তোমাদের জন্য অধিকতর উপকারী এবং সহজতর কিছু নির্ধারণ করি, {অথবা তার অনুরূপ} উপকারের দিক থেকে, {অথবা তা ভুলিয়ে দেই}: তিনি বলেন: অথবা আমরা তাকে তার পূর্বাবস্থায় রেখে দেই এবং তা রহিত করি না।" আর তৃতীয় মতের প্রবক্তারা এই মর্মে যুক্তি দিয়েছেন যে, সুন্নাহকে কেবল সুন্নাহই রহিত করতে পারে; কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী, তাই কুরআন তাকে রহিত করতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তি হলো, কুরআনই তো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতকে স্পষ্টকারী এবং তাঁর আনুগত্যের আদেশ দানকারী, সুতরাং তাঁর (আল্লাহর) বাণী কীভাবে রহিত করবে না? ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ আর এ বিষয়ে সুনিশ্চিত প্রমাণাদি রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তোমরা জানতে পার যে তারা মুমিন নারী, তবে তাদেরকে আর কাফিরদের কাছে ফেরত পাঠিও না} [আল-মুমতাহানাহ: ১০]। এর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদের সাথে যে চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলেন তা রহিত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫৫)
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَمِنْ هَذَا أَنَّ بَكْرَ بْنَ سَهْلٍ حَدَّثَنَا قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ الْيَهُودَ، جَاءُوا إِلَى رَسُولِ ⦗ص: 56⦘ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّ رَجُلًا مِنَّا وَامْرَأَةً زَنَيَا فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأْنِ الرَّجْمِ؟» قَالُوا: نَجْلِدُهُمْ وَيُفْضَحُونَ فَقَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبْتُمْ إِنَّ فِيهَا لَلرَّجْمَ فَذَهَبُوا فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا فَجَعَلَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ ثُمَّ قَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: ارْفَعْ يَدَكَ فَرَفَعَهَا فَإِذَا فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ قَالُوا: صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ، إِنَّ فِيهَا آيَةَ الرَّجْمِ فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: فَرَأَيْتُهُ يُجْنِئُ عَلَى الْمَرْأَةِ يَقِيهَا الْحِجَارَةَ حَكَى أَهْلُ اللُّغَةِ أَنَّهُ يُقَالُ: جَنَأَ فُلَانٌ عَلَى فُلَانٍ إِذَا أَكَبَّ عَلَيْهِ وَمِنْهُ الْحَدِيثُ: أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه جَنَأَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَوْتِهِ وَقَبَّلَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَقَالَ: «طِبْتَ حَيًّا وَمَيِّتًا» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَهَذَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَا يَكُونُ إِلَّا مِنْ قَبْلِ أَنْ يَنْزِلَ عَلَيْهِ فِي الزُّنَاةِ شَيْءٌ ثُمَّ نَسَخَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ فِعْلَهُ هَذَا بِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ} [النساء: 15] وَمَا بَعْدَهُ
আবু জাফর বলেন: এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা বকর বিন সাহল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক নাফে’ থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে আমাদের জানিয়েছেন যে, ইহুদিরা আল্লাহর রাসূল ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল যে, তাদের এক পুরুষ ও এক নারী ব্যভিচার করেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন: "রজম (পাথর মেরে হত্যা) করার বিষয়ে তোমরা তাওরাতে কী পাও?" তারা বলল: "আমরা তাদের চাবুক মারি এবং তারা অপমানিত হয়।" তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম তাদের বললেন: "তোমরা মিথ্যা বলেছ, নিশ্চয়ই তাতে রজমের বিধান রয়েছে।" এরপর তারা গিয়ে তাওরাত নিয়ে এল এবং তা উন্মুক্ত করল। তখন তাদের এক ব্যক্তি রজমের আয়াতের ওপর নিজের হাত রাখল এবং এর আগের ও পরের অংশটুকু পড়তে লাগল। তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম তাকে বললেন: "তোমার হাত তোলো।" সে হাত তুললে দেখা গেল সেখানে রজমের আয়াত বিদ্যমান। তারা বলল: "হে মুহাম্মদ, তিনি সত্য বলেছেন, নিশ্চয়ই এতে রজমের আয়াত রয়েছে।" এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের রজম করা হলো। আব্দুল্লাহ বিন উমর বলেন: আমি সেই লোকটিকে দেখলাম যে সে মহিলার ওপর ঝুঁকে পড়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিল। ভাষাবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, বলা হয় ‘অমুক ব্যক্তি অমুকের ওপর ঝুঁকে পড়েছে’ যখন সে তার ওপর উপুড় হয়ে অবনমিত হয়। আর এ থেকেই সেই হাদিসটি এসেছে যে, আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর তাঁর পবিত্র দেহের ওপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁর দুই চোখের মাঝখানে চুম্বন করলেন ও বললেন: "আপনি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পবিত্র।" আবু জাফর বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই পদক্ষেপটি কেবল ব্যভিচারীদের সম্পর্কে তাঁর ওপর কোনো ওহী নাজিল হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল। এরপর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আজ্জা তাঁর এই আমলকে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা রহিত করেছেন: {তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা অশ্লীল কাজ (ব্যভিচার) করে...} [সূরা আন-নিসা: ১৫] এবং এর পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫৭)
بَابُ أَصْلِ النَّسْخِ وَاشْتِقَاقِهِ " اشْتِقَاقُ النَّسْخِ مِنْ شَيْئَيْنِ أَحَدُهُمَا أَنَّهُ يُقَالُ: نَسَخَتِ الشَّمْسُ الظِّلَّ إِذَا أَزَالَتْهُ وَحَلَّتْ مَحَلَّهُ، وَنَظِيرُ هَذَا {فَيَنْسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ} [الحج: 52] وَالْآخَرُ مِنْ نَسَخْتُ الْكِتَابَ إِذَا نَقَلْتُهُ مِنْ نُسْخَةٍ، وَعَلَى هَذَا النَّاسِخُ وَالْمَنْسُوخُ، وَأَصْلُهُ أَنْ يَكُونَ الشَّيْءُ حَلَالًا إِلَى مُدَّةٍ ثُمَّ يُنْسَخَ فَيُجْعَلَ حَرَامًا أَوْ يَكُونَ حَرَامًا فَيُجْعَلَ حَلَالًا أَوْ يَكُونَ مَحْظُورًا فَيُجْعَلَ مُبَاحًا أَوْ مُبَاحًا فَيُجْعَلَ مَحْظُورًا، يَكُونُ هَذَا فِي الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ وَالْحَظْرِ وَالْإِطْلَاقِ وَالْإِبَاحَةِ وَالَمَنْعِ
নাসখ-এর মূলতত্ত্ব ও এর ব্যুৎপত্তি বিষয়ক অধ্যায়: "নাসখ শব্দের ব্যুৎপত্তি দুটি বিষয় থেকে এসেছে। প্রথমটি হলো, যেমন বলা হয়: ‘সূর্য ছায়াকে নাসখ করেছে’, অর্থাৎ যখন এটি ছায়াকে দূরীভূত করে তার স্থলাভিষিক্ত হয়। এর সদৃশ হলো আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আল্লাহ শয়তানের নিক্ষিপ্ত বিষয়কে রহিত করেন} [হাজ্জ: ৫২]। দ্বিতীয়টি হলো ‘আমি কিতাবটি নাসখ (অনুলিপি) করেছি’ বাক্য থেকে, যখন আমি তা এক পাণ্ডুলিপি থেকে অন্য পাণ্ডুলিপিতে স্থানান্তরিত করি। এর ওপর ভিত্তি করেই ‘নাসিখ’ (রহিতকারী) ও ‘মানসুখ’ (রহিত)-এর পরিভাষা এসেছে। এর মূল হাকিকত হলো কোনো বিষয় একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত হালাল থাকা, অতঃপর তা রহিত হয়ে হারামে পরিণত হওয়া; অথবা হারাম থাকা এবং তা হালালে রূপান্তরিত হওয়া; অথবা নিষিদ্ধ থাকা এবং তা বৈধ বা মুবাহ হওয়া; অথবা মুবাহ থাকা এবং তা নিষিদ্ধ হওয়া। এটি আদেশ, নিষেধ, বারণ, নিঃশর্ততা, বৈধতা ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫৮)
‌‌بَابُ النَّسْخِ عَلَى كَمْ يَكُونُ مِنْ ضَرْبٍ أَكْثَرُ النَّسْخِ فِي كِتَابِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ عَلَى مَا تَقَدَّمَ فِي الْبَابِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا أَنْ يَزَالُ الْحُكْمُ بِنَقْلِ الْعِبَادِ عَنْهُ مُشْتَقٌّ مِنْ نَسَخْتُ الْكِتَابَ وَيَبْقَى الْمَنْسُوخُ مَتْلُوًّا
রহিতকরণ (নাসখ) কত প্রকারের হয়ে থাকে সেই সংক্রান্ত অধ্যায়। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা-র কিতাবে অধিকাংশ নাসখ—যেমনটি এর পূর্ববর্তী অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে—হলো বান্দাদের সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে বিধান বিলুপ্ত করা; এটি ‘নাসখতুল কিতাব’ (আমি গ্রন্থটি নকল করেছি) থেকে ব্যুৎপন্ন এবং এতে রহিতকৃত বিষয়টি পঠিত হিসেবে অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫৮)
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: كَمَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْأَنْبَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ} [البقرة: 106] قَالَ: «نُزِيلُ حُكْمَهَا وَنُثْبِتُ خَطَّهَا» وَنَسْخٌ ثَانٍ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ:

আবু জাফর বলেন: যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-আনবারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ, তিনি ওয়ারকা থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, {আমি কোনো আয়াত রহিত করলে} [আল-বাকারা: ১০৬] তিনি বলেন: «আমরা তার বিধান অপসারণ করি এবং তার লিখন বহাল রাখি» এবং এটি দ্বিতীয় প্রকারের রহিতকরণ। আবু জাফর বলেন:

(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৫৯)
كَمَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ دَيْسَمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو الدُّورِيُّ، عَنِ الْكِسَائِيِّ، {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ} [الحج: 52] قَالَ: " فِي تِلَاوَتِهِ {فَيَنْسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ} [الحج: 52] قَالَ: يُزِيلُهُ فَلَا يُتْلَى وَلَا يُثْبَتُ فِي الْمُصْحَفِ " قَالَ أَبْو جَعْفَرٍ: " وَهَذَا مُشْتَقٌّ مِنْ نَسَخَتِ الشَّمْسُ الظِّلَّ، وَقَدْ زَعَمَ أَبُو عُبَيْدٍ أَنَّ هَذَا النَّسْخَ الثَّانِي قَدْ كَانَ يَنْزِلُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم السُّورَةُ فَتُرْفَعُ فَلَا تُتْلَى وَلَا تُكْتَبُ وَاحْتَجَّ أَبُو عُبَيْدٍ بِأَحَادِيثَ صَحِيحَةِ السَّنَدِ وَخُولِفَ أبو عُبَيْدٍ فِيمَا قَالَ، وَالَّذِينَ خَالَفُوهُ عَلَى قَوْلَيْنِ
যেমনটি আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইবনে দায়সাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু আমর আদ-দুরী আল-কিসাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, {এবং আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করিনি, যে যখনই কিছু পাঠ করেছে, শয়তান তার পাঠের মধ্যে কিছু নিক্ষেপ করেছে} [আল-হাজ্জ: ৫২]। তিনি (আল-কিসাঈ) বলেন: "তার তিলাওয়াতের মধ্যে। {অতঃপর আল্লাহ শয়তানের নিক্ষিপ্ত বিষয়টিকে মিটিয়ে দেন (নাসখ করেন)} [আল-হাজ্জ: ৫২]।" তিনি বলেন: "তিনি তা অপসারণ করেন, ফলে তা আর পাঠ করা হয় না এবং মুসহাফেও লিপিবদ্ধ করা হয় না।" আবু জাফর বলেন: "এটি 'সূর্য ছায়াকে বিলুপ্ত করেছে' (নাসখাতুশ শামসুয যিল্লা) কথাটি থেকে উদ্ভূত। আবু উবাইদ দাবি করেছেন যে, এই দ্বিতীয় প্রকারের নাসখ বা রহিতকরণ এমন ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কোনো সূরা অবতীর্ণ হতো, এরপর তা উঠিয়ে নেওয়া হতো, ফলে তা আর পাঠ করা হতো না এবং লেখাও হতো না। আবু উবাইদ সহীহ সনদের হাদীসসমূহ দ্বারা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন। তবে আবু উবাইদ যা বলেছেন সে বিষয়ে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে, এবং যারা তাঁর সাথে দ্বিমত করেছেন তারা দুটি মতে বিভক্ত।"
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৬০)
مِنْهُمْ مَنْ قَالَ: لَا يَجُوزُ مَا قَالَ وَلَا يُسْلَبُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ بَعْدَمَا نَزَلَ عَلَيْهِ وَاحْتَجُّوا بِقَوْلِهِ جَلَّ وَعَزَّ {وَلَئِنْ شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ} [الإسراء: 86] وَالْقَوْلُ الْآخَرُ أَنَّ أَبَا عُبَيْدٍ قَدْ جَاءَ بِأَحَادِيثَ إِلَّا أَنَّهُ قَدْ غَلَطَ فِي تَأْوِيلِهَا لِأَنَّ تَأْوِيلَهَا عَلَى النِّسْيَانِ لَا عَلَى النَّسْخِ وَقَدْ تَأَوَّلَ مُجَاهِدٌ وَقَتَادَةُ {أَوْ نُنْسِهَا} [البقرة: 106] عَلَى هَذَا مِنَ النِّسْيَانِ وَهُوَ مَعْنَى قَوْلِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَفِيهِ قَوْلَانِ آخَرَانِ: أَحَدُهُمَا: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ} [البقرة: 106] «نَرْفَعُ حُكْمَهَا» {أَوْ نُنْسِهَا} [البقرة: 106] نَتْرُكُهَا فَلَا نَنْسَخُهَا، وَقِيلَ {نُنْسِهَا} [البقرة: 106] نُبِيحُ لَكُمْ تَرْكَهَا وَعَلَى قِرَاءَةِ الْبَصْرِيِّينَ (نَنْسَأْهَا) أَحْسَنُ مَا قِيلَ فِي مَعْنَاهُ أَوْ نَتْرُكُهَا وَنُؤَخِّرُهَا فَلَا نَنْسَخُهَا وَنَسْخٌ ثَالِثٌ، وَهُوَ مِنْ نَسَخْتُ الْكِتَابَ لَمْ يَذْكُرْ أَبُو عُبَيْدٍ إِلَّا هَذِهِ الثَّلَاثَةَ
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তিনি যা বলেছেন তা বৈধ নয়, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা থেকে কোনো কিছু তাঁর থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {এবং আমি ইচ্ছা করলে তোমার কাছে যা ওহী পাঠিয়েছি তা অবশ্যই প্রত্যাহার করে নিতে পারতাম} [আল-ইসরা: ৮৬]। আর অন্য মতটি হলো, আবু উবাইদ কিছু হাদিস পেশ করেছেন ঠিকই, তবে তিনি সেগুলোর ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন; কেননা সেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা হলো বিস্মৃতি, রহিতকরণ নয়। মুজাহিদ ও কাতাদাহ {অথবা আমি তা ভুলিয়ে দেই} [আল-বাকারা: ১০৬] আয়াতটিকে বিস্মৃতির অর্থের ওপর ব্যাখ্যা করেছেন এবং এটিই সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস-এর বক্তব্যের মর্মার্থ। এ বিষয়ে আরও দুটি অভিমত রয়েছে: যার একটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি {আমি কোনো আয়াত রহিত করলে} [আল-বাকারা: ১০৬] এর ব্যাখ্যায় বলেন, "আমি এর বিধান উঠিয়ে নিই", {অথবা আমি তা ভুলিয়ে দিলে/ফেলে রাখলে} [আল-বাকারা: ১০৬] অর্থাৎ "আমি তা রেখে দিই এবং রহিত করি না"। আবার বলা হয়েছে, {অথবা আমি তা ভুলিয়ে দেই} [আল-বাকারা: ১০৬] এর অর্থ হলো: "আমি তোমাদের জন্য তা বর্জন করা বৈধ করে দিই"। আর বসরার অধিবাসীদের পাঠরীতি অনুযায়ী (নানসা’হা) এর অর্থের ক্ষেত্রে সর্বাধিক উত্তম যা বলা হয়েছে তা হলো: "অথবা আমি তা রেখে দিই এবং বিলম্বিত করি, ফলে আমি তা রহিত করি না"। আর রহিতকরণের (নাসখ) তৃতীয় অর্থটি হলো অনুলিপি করা; আবু উবাইদ কেবল এই তিনটি বিষয়ই উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَذَكَرَ غَيْرُهُ رَابِعًا فَقَالَ: تَنْزِلُ الْآيَةُ وَتُتْلَى فِي الْقُرْآنِ ثُمَّ تُنْسَخُ فَلَا تُتْلَى فِي الْقُرْآنِ وَلَا تُثْبَتُ فِي الْخَطِّ وَيَكُونُ حُكْمُهَا ثَابِتًا
এবং অন্য একজন চতুর্থ একটি প্রকার উল্লেখ করে বলেছেন: আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং কুরআনে তিলাওয়াত করা হয়, অতঃপর তা মানসুখ হয়ে যায়; ফলে তা আর কুরআনে তিলাওয়াত করা হয় না এবং লিপিতেও তা আর সাব্যস্ত থাকে না, কিন্তু তার বিধানটি বহাল থাকে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৬১)
كَمَا رَوَى الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: خَطَبَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: «كُنَّا نَقْرَأُ الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ إِنْ زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ بِمَا قَضَيَا مِنَ اللَّذَّةِ» قَالَ أَبْو جَعْفَرٍ: وَإِسْنَادُ الْحَدِيثِ صَحِيحٌ إِلَّا أَنَّهُ لَيْسَ حُكْمُهُ حُكْمَ الْقُرْآنِ الَّذِي نَقَلَهُ الْجَمَاعَةُ عَنِ الْجَمَاعَةِ وَلَكِنَّهُ سُنَّةٌ ثَابِتَةٌ وَقَدْ يَقُولُ الْإِنْسَانُ: كُنْتُ أَقْرَأُ كَذَا لِغَيْرِ الْقُرْآنِ وَالدَّلِيلُ عَلَى هَذَا أَنَّهُ قَالَ: وَلَوْلَا أَنِّي أَكْرَهُ أَنْ يُقَالَ: زَادَ عُمَرُ فِي الْقُرْآنِ لَزِدْتُهَا

যেমনটি যুহরী উবাইদুল্লাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সামনে ভাষণ প্রদান করলেন এবং বললেন: «আমরা পাঠ করতাম— বৃদ্ধ পুরুষ ও বৃদ্ধা নারী যখন ব্যভিচার করবে, তখন তোমরা তাদের উভয়কে অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে, তাদের উপভোগকৃত স্বাদের বিনিময়স্বরূপ»। আবু জাফর বলেন: এই হাদীসের সনদ সহীহ, তবে এর বিধান সেই কুরআনের বিধানের মতো নয় যা একদল মানুষ অপর একদল মানুষ থেকে (পরম্পরায়) বর্ণনা করেছেন, বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ। কোনো ব্যক্তি কুরআন ব্যতীত অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও বলতে পারে যে, 'আমি এরূপ পাঠ করতাম'। এর প্রমাণ হলো তাঁর এই কথা: «যদি আমি এই বিষয়টি অপছন্দ না করতাম যে মানুষ বলবে— উমর কুরআনে বৃদ্ধি করেছেন, তবে আমি তা এতে যুক্ত করে দিতাম»।

(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌بَابُ الْفَرْقِ بَيْنَ النَّسْخِ وَالْبَدَاءِ الْفَرْقُ بَيْنَ النَّسْخِ وَالْبَدَاءِ أَنَّ النَّسْخَ تَحْوِيلُ الْعِبَادِ مِنْ شَيْءٍ قَدْ كَانَ حَلَالًا فَيُحَرَّمُ أَوْ كَانَ حَرَامًا فَيُحَلَّلُ أَوْ كَانَ مُطْلَقًا فَيُحْظَرُ أَوْ كَانَ مَحْظُورًا فَيُطْلَقُ أَوْ كَانَ مُبَاحًا فَيُمْنَعُ أَوْ مَمْنُوعًا فَيُبَاحُ إِرَادَةَ الصَّلَاحِ لِلْعِبَادِ وَقَدْ عَلِمَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ الْعَاقِبَةَ فِي ذَلِكَ وَعَلِمَ وَقْتَ الْأَمْرِ بِهِ أَنَّهُ سَيَنْسَخُهُ إِلَى ذَلِكَ الْوَقْتِ فَكَانَ الْمُطْلَقُ عَلَى الْحَقِيقَةِ غَيْرَ الْمَحْظُورِ فَالصَّلَاةُ كَانَتْ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ إِلَى وَقْتٍ بِعَيْنِهِ ثُمَّ حُظِرَتْ فَصُيِّرَتْ إِلَى الْكَعْبَةِ وَكَذَا قَوْلُهُ جَلَّ وَعَزَّ {إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَةً} [المجادلة: 12] قَدْ عَلِمَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ أَنَّهُ إِلَى وَقْتٍ بِعَيْنِهِ ثُمَّ نَسَخَهُ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ وَكَذَا تَحْرِيمُ السَّبْتِ كَانَ فِي وَقْتٍ بِعَيْنِهِ عَلَى قَوْمٍ ثُمَّ نُسِخَ وَأُمِرَ قَوْمٌ آخَرُونَ بِإِبَاحَةِ الْعَمَلِ فِيهِ، وَكَانَ الْأَوَّلُ الْمَنْسُوخُ حِكْمَةً وَصَوَابًا ثُمَّ نُسِخَ وَأُزِيلَ بِحِكْمَةٍ وَصَوَابٍ كَمَا تُزَالُ الْحَيَاةُ بِالْمَوْتِ وَكَمَا تُنْقَلُ الْأَشْيَاءُ فَلِذَلِكَ لَمْ يَقَعِ النَّسْخُ فِي الْأَخْبَارِ لِمَا فِيهَا مِنَ الصِّدْقِ وَالْكَذِبِ؟ وَأَمَّا الْبَدَاءُ فَهُوَ تَرْكُ مَا عُزِّمَ عَلَيْهِ كَقَوْلِكَ: امْضِ إِلَى فُلَانٍ الْيَوْمَ ثُمَّ تَقُولُ: لَا تَمْضِ إِلَيْهِ فَيَبْدُو لَكَ عَنِ الْقَوْلِ الْأَوَّلِ وَهَذَا يَلْحَقُ الْبَشَرَ لِنُقْصَانِهِمْ وَكَذَا إِنْ قُلْتَ: ازْرَعْ كَذَا فِي هَذِهِ السَّنَةِ ثُمَّ قُلْتُ: لَا تَفْعَلْ، فَهَذَا الْبَدَاءِ فَإِنْ قُلْتَ: يَا فُلَانُ ازْرَعْ فَقَدْ عَلِمَ أَنَّكَ تُرِيدُ مَرَّةً وَاحِدَةً، وَكَذَا النَّسْخُ إِذَا أَمَرَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ بِشَيْءٍ فِي وَقْتِ نَبِيٍّ أَوْ فِي وَقْتٍ يُتَوَقَّعُ فِيهِ
নাসখ (রহিতকরণ) ও বাদা-এর (মত পরিবর্তন) মধ্যকার পার্থক্যের পরিচ্ছেদ: নাসখ ও বাদা-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, নাসখ হলো বান্দাদেরকে কোনো একটি বিষয় থেকে অন্য বিষয়ের দিকে পরিবর্তিত করা; যা হালাল ছিল তা হারাম করা, অথবা যা হারাম ছিল তা হালাল করা, অথবা যা নিঃশর্ত ছিল তা নিষিদ্ধ করা, অথবা যা নিষিদ্ধ ছিল তা নিঃশর্ত করা, অথবা যা বৈধ ছিল তা বারণ করা, অথবা যা বারণ করা হয়েছিল তা বৈধ করা, যা মূলত বান্দাদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে করা হয়। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী এ সবকিছুর পরিণাম সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলেন এবং তিনি জানতেন নির্দেশ প্রদানের সময়ই যে, তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এটি বলবৎ রেখে তারপর সেই সময় শেষে তা রহিত করবেন। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে নিঃশর্ত বিষয়টি নিষিদ্ধ বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন। যেমন—সালাত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে আদায় করার বিধান ছিল, এরপর তা নিষিদ্ধ করে কাবার দিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা যখন রাসূলের সাথে চুপিচুপি কথা বলবে, তখন তোমাদের চুপিচুপি কথা বলার আগে সদকা প্রদান করো” (আল-মুজাদালাহ: ১২)। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী জানতেন যে, এই বিধানটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, এরপর নির্দিষ্ট সময় শেষে তিনি তা রহিত করেছেন। তেমনিভাবে শনিবারের কাজ নিষিদ্ধ করার বিধানটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়ের ওপর ছিল, পরে তা রহিত করা হয় এবং অন্য সম্প্রদায়কে ঐ দিনে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। পূর্বের রহিতকৃত বিধানটিও হিকমত ও সঠিক ছিল, এরপর তা পুনরায় হিকমত ও সঠিক পন্থায় রহিত ও অপসারিত করা হয়েছে; যেমনটি মৃত্যু দ্বারা জীবন অপসারিত হয় এবং যেমনভাবে বিভিন্ন বস্তু স্থানান্তরিত হয়। এ কারণেই কি সংবাদ বা বিবরণের ক্ষেত্রে রহিতকরণ ঘটে না, কারণ তাতে সত্য ও মিথ্যার সংশ্লিষ্টতা থাকে? আর বাদা হলো কোনো সংকল্পকৃত বিষয় পরিত্যাগ করা। যেমন তোমার কথা: “আজ অমুকের কাছে যাও”, এরপর বললে: “তার কাছে যেও না”; অর্থাৎ তোমার প্রথম কথাটির পর তোমার কাছে নতুন কিছু প্রকাশিত হলো বা মত পরিবর্তন হলো। মানুষের অসম্পূর্ণতার কারণে এমনটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। অনুরূপভাবে যদি তুমি বলো: “এই বছর অমুক ফসল চাষ করো”, তারপর বলো: “করো না”, তবে এটিই হলো বাদা। কিন্তু তুমি যদি বলো: “হে অমুক, চাষ করো”, তবে এর দ্বারা বোঝা যায় যে তুমি একবারের কথাই বোঝাচ্ছ। রহিতকরণের বিষয়টিও ঠিক তেমনি, যখন আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী কোনো নবীর যুগে অথবা এমন কোনো সময়ে কোনো কিছুর নির্দেশ দেন যখন তা প্রত্যাশিত...
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৬৩)
نَبِيٌّ فَقَدْ عَلِمَ أَنَّهُ حِكْمَةٌ وَصَوَابٌ إِلَى أَنْ يُنْسَخَ وَقَدْ نُقِلَ مِنَ الْجَمَاعَةِ مَنْ لَا يَجُوزُ عَلَيْهِمُ الْغَلَطُ نَسْخُ شَرَائِعِ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ لَدُنْ آدَمَ صلى الله عليه وسلم إِلَى وَقْتِ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم وَهُمُ الَّذِينَ نَقَلُوا عَلَامَاتِ الْأَنْبِيَاءِ وَقَدْ غَلَطَ جَمَاعَةٌ فِي الْفَرْقِ بَيْنَ النَّسْخِ وَالْبَدَاءِ كَمَا غَلَطُوا فِي تَأْوِيلِ أَحَادِيثَ حَمَلُوهَا عَلَى النَّسْخِ أَوْ عَلَى غَيْرِ مَعْنَاهَا
নবী; ফলে এটি জানা গেছে যে, রহিত হওয়া পর্যন্ত তা হিকমত ও সঠিক বিষয়। আর এমন এক জনসমষ্টি থেকে বর্ণিত হয়েছে যাদের পক্ষে ভুল করা অসম্ভব যে, আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় পর্যন্ত নবীগণের শরীয়তসমূহ রহিত করা হয়েছে। আর তাঁরাই হলেন সেই ব্যক্তিবর্গ যারা নবীগণের নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছেন। এবং একদল লোক ‘নাসখ’ (রহিতকরণ) ও ‘বাদা’ (নতুন সিদ্ধান্তের উদ্ভব)-এর মধ্যকার পার্থক্যের ক্ষেত্রে ভুল করেছে, যেমনটি তারা সেই সব হাদিসের ব্যাখ্যায় ভুল করেছে যেগুলোকে তারা রহিতকরণের অন্তর্ভুক্ত করেছে অথবা সেগুলোর প্রকৃত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে গ্রহণ করেছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌بَابُ ذِكْرِ بَعْضِ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ
এই হাদিসসমূহের কতিপয় বর্ণনার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৬৪)
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَمِنْ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كَانَ فِيمَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ عَشْرُ رَضْعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ فَنُسِخْنَ خَمْسًا مَعْلُومَاتٍ يُحَرِّمْنَ فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُنَّ مِمَّا يُقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ» فَتَنَازَعَ الْعُلَمَاءُ هَذَا الْحَدِيثَ لِمَا فِيهِ مِنَ الْإِشْكَالِ، فَمِنْهُمْ مَنْ تَرَكَهُ وَهُوَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَهُوَ رَاوِي الْحَدِيثِ، وَلَمْ يَرْوِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ سِوَاهُ وَقَالَ: رَضْعَةٌ وَاحِدَةٌ تُحَرِّمُ وَأَخَذَ بِظَاهِرِ الْقُرْآنِ قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ {وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّضَاعَةِ} [النساء: 23]

⦗ص: 65⦘ وَمِمَّنْ تَرَكَهُ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ وَأَبُو ثَوْرٍ وَقَالَا: «يُحَرِّمُ ثَلَاثُ رَضْعَاتٍ» ؛ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «لَا تُحَرِّمُ الْمَصَّةُ وَلَا الْمَصَّتَانِ» قَالَ أَبْو جَعْفَرٍ وَفِي الْحَدِيثِ لَفْظَةٌ شَدِيدَةُ الْإِشْكَالِ وَهِيَ قَوْلُهَا: «فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُنَّ مِمَّا يُقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ» فَقَالَ بَعْضُ جِلَّةِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ: قَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ رَجُلَانِ جَلِيلَانِ أَثْبَتُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ فَلَمْ يَذْكُرَا هَذَا فِيهِ وَهُمَا الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ ⦗ص: 66⦘ رضي الله عنه، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ وَمِمَّنْ قَالَ بِهَذَا الْحَدِيثِ، وَأَنَّهُ لَا يُحَرِّمُ إِلَّا خَمْسُ رَضْعَاتٍ الشَّافِعِيُّ، فَأَمَّا الْقَوْلُ فِي تَأْوِيلِ «وَهُنَّ مِمَّا يُقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ» فَقَدْ ذَكَرْنَا رَدَّ مَنْ رَدَّهُ وَمَنْ صَحَّحَهُ قَالَ: الَّذِي يُقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ {وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّضَاعَةِ} [النساء: 23] ، فَأَمَّا قَوْلُ مَنْ قَالَ: إِنَّ هَذَا كَانَ يُقْرَأُ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَظِيمٌ؛ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ مِمَّا يُقْرَأُ لَكَانَتْ عَائِشَةُ رَحِمَهَا اللَّهُ قَدْ نَبَّهَتْ عَلَيْهِ وَلَكَانَ قَدْ نُقِلَ إِلَيْنَا فِي الْمَصَاحِفِ الَّتِي نَقَلَهَا الْجَمَاعَةُ الَّذِينَ لَا يَجُوزُ عَلَيْهِمُ الْغَلَطُ وَقَدْ قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] وَقَالَ جَلَّ وَعَزَّ {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} [القيامة: 17] وَلَوْ كَانَ بَقِيَ مِنْهُ شَيْءٌ لَمْ يُنْقَلْ إِلَيْنَا لَجَازَ أَنْ يَكُونَ مِمَّا لَمْ يُنْقَلْ نَاسِخًا لِمَا نُقِلَ فَيَبْطُلُ الْعَمَلُ بِمَا نُقِلَ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ هَذَا فَإِنَّهُ كُفْرٌ وَمِمَّا يُشْكِلُ مِنْ هَذَا
আবু জাফর বলেন: তার মধ্যে রয়েছে: যা বকর ইবনে সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার মধ্যে ছিল দশটি সুনির্দিষ্ট দুগ্ধপান, অতঃপর তা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দুগ্ধপান দ্বারা রহিত করা হয় যা বিবাহ হারাম করে। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন, তখন তা কুরআনের অংশ হিসেবে পঠিত হতো» এই হাদীসটির মধ্যে জটিলতা থাকার কারণে উলামায়ে কেরাম এটি নিয়ে দ্বিমত করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ এটি বর্জন করেছেন, আর তিনি হলেন মালিক ইবনে আনাস, যিনি এই হাদীসটির বর্ণনাকারী। আবদুল্লাহ থেকে তিনি ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। তিনি (মালিক) বলেছেন: একবার দুগ্ধপান করলেই বিবাহ হারাম হয়ে যাবে এবং তিনি কুরআনের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {এবং তোমাদের দুগ্ধ-বোনগণ} [আন-নিসা: ২৩]

⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ যারা এটি বর্জন করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল এবং আবু সাওর। তারা উভয়ে বলেছেন: «তিনটি দুগ্ধপান বিবাহ হারাম করে»; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: «একবার বা দুইবার চোষাতে বিবাহ হারাম হয় না» আবু জাফর বলেন: এই হাদীসে অত্যন্ত জটিল একটি শব্দ রয়েছে, যা হলো তাঁর (আয়েশার) উক্তি: «যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন, তখন তা কুরআনের অংশ হিসেবে পঠিত হতো» হাদীসের একদল বিশিষ্ট ইমাম বলেছেন: এই হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকরের চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য দুইজন মহান ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা এতে এই কথাটি উল্লেখ করেননি। তাঁরা হলেন কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘ রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী। আর যারা এই হাদীস অনুযায়ী মত দিয়েছেন যে পাঁচটি দুগ্ধপানের কমে বিবাহ হারাম হবে না, তাদের মধ্যে রয়েছেন শাফিয়ী। আর «তা কুরআনের অংশ হিসেবে পঠিত হতো» এই কথার ব্যাখ্যার বিষয়ে কথা হলো—যারা এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন আমরা তাদের কথা উল্লেখ করেছি। আর যারা এটি সহীহ বলেছেন তারা বলেছেন: কুরআনের যা পঠিত হয় তা হলো: {এবং তোমাদের দুগ্ধ-বোনগণ} [আন-নিসা: ২৩]। তবে যারা বলেছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পরেও এটি পঠিত হতো, তাদের কথা অত্যন্ত গুরুতর; কারণ যদি তা পঠিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতো তবে আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) অবশ্যই সেদিকে মনোযোগ আকর্ষণ করতেন এবং এটি আমাদের কাছে সেই মাসহাফসমূহের মাধ্যমে পৌঁছে যেত যা এমন এক দল বর্ণনা করেছেন যাদের ভুল করা অসম্ভব। অথচ আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {নিশ্চয় আমি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক} [আল-হিজর: ৯]। এবং তিনি মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানো আমারই দায়িত্ব} [আল-কিয়ামাহ: ১৭]। যদি এর কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকত যা আমাদের কাছে পৌঁছানো হয়নি, তবে যা আমাদের কাছে পৌঁছানো হয়নি তা যা পৌঁছানো হয়েছে তার রহিতকারী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো, ফলে যা পৌঁছানো হয়েছে তার ওপর আমল বাতিল হয়ে যেত। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই, কারণ এটি কুফরি। আর এটিও এই প্রসঙ্গের একটি জটিল বিষয়।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৬৬)
مَا رَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ قَالَ: قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى} [النجم: 1] فَلَمَّا بَلَغَ {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى} [النجم: 19] قَالَ: «فَإِنَّ شَفَاعَتَهُنَّ تُرْتَجَى» فَسَهَا ⦗ص: 67⦘ فَلَقِيَهُ الْمُشْرِكُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرْضٌ فَسَلَّمُوا عَلَيْهِ وَفَرِحُوا فَقَالَ لَهُمْ: «إِنَّمَا ذَلِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ» فَأَنْزَلَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنْسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ} [الحج: 52] الآيَةَ " وَقَالَ قَتَادَةُ: قَرَأَ «فَإِنَّ شَفَاعَتَهُنَّ تُرْتَجَى وَإِنَّهُنَّ لَهُنَّ الْغَرَانِيقُ الْعُلَا» قَالَ أَبْو جَعْفَرٍ: الْحَدِيثَانِ مُنْقَطِعَانِ وَالْكَلَامُ عَلَى التَّأْوِيلِ فِيهِمَا قَرِيبٌ فَقَالَ قَوْمٌ: هَذَا عَلَى التَّوْبِيخِ أَيْ تَتَوَهَّمُونَ هَذَا وَعِنْدَكُمْ أَنَّ ⦗ص: 68⦘ شَفَاعَتَهُنَّ تُرْتَجَى، وَمِثْلُهُ {وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلِيَّ} [الشعراء: 22] وَقِيلَ: شَفَاعَتُهُنَّ تُرْتَجَى عَلَى قَوْلِكُمْ، وَمِثْلُهُ {فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَذَا رَبِّي} [الأنعام: 78] وَمِثْلُهُ {أَيْنَ شُرَكَائِيَ} [النحل: 27] أَيْ عَلَى قَوْلِكُمْ وَقِيلَ: الْمَعْنَى وَالْغَرَانِيقِ الْعُلَا يَعْنِي الْمَلَائِكَةَ تُرْتَجَى شَفَاعَتُهُمْ فَسَهَا، يَدُلُّكَ عَلَى هَذَا الْجَوَابِ وَقِيلَ: إِنَّمَا قَالَ جَلَّ وَعَزَّ {أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ} [الحج: 52] وَلَمْ يَقُلْ: إِنَّهُ قَالَ كَذَا فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ شَيْطَانٌ مِنَ الْجِنِّ أَلْقَى هَذَا أَوْ مِنَ الْإِنْسِ وَمِمَّا يُشْكِلُ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ فِي أَنَّ قَوْلَهُ جَلَّ وَعَزَّ {وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ} [البقرة: 284]

⦗ص: 69⦘ نَسَخَهُ {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286] وَهَذَا لَا يَجُوزُ أَنْ يَقَعَ فِيهِ نَسْخٌ؛ لِأَنَّهُ خَبَرٌ وَلَكِنَّ التَّأْوِيلَ فِي الْحَدِيثِ؛ لِأَنَّ فِيهِ لَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ {وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ} [البقرة: 284] اشْتَدَّ عَلَيْهِمْ وَوَقَعَ بِقُلُوبِهِمْ مِنْهُ شَيْءٌ عَظِيمٌ فَنَسَخَ ذَلِكَ {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286] أَيْ نَسَخَ مَا وَقَعَ بِقُلُوبِهِمْ أَيْ أَزَالَهُ وَرَفَعَهُ وَمِنْ هَذَا الْمُشْكِلِ قَوْلُهُ جَلَّ وَعَزَّ {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ} [الفرقان: 68] إِلَى {وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا إِلَّا مَنْ تَابَ} [الفرقان: 69]

⦗ص: 70⦘ ثُمَّ نَسْخَهُ {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا} [النساء: 93] وَهَذَا لَا يَقَعُ فِيهِ نَاسِخٌ وَلَا مَنْسُوخٌ؛ لِأَنَّهُ خَبَرً وَلَكِنَّ تَأْوِيلَهُ إِنْ صَحَّ نَزَلَ بِنُسْخَتِهِ وَالْآيَتَانِ وَاحِدٌ يَدْلُكُ عَلَى ذَلِكَ {وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وءَامَنَ} وَمِنْ هَذَا {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ} [آل عمران: 102] قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: " نَسَخَهَا {فَاتَّقُوا اللَّهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] " أَيْ نَزَلَ بِنُسْخَتِهَا وَهُمَا وَاحِدٌ وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ: قَوْلُ ابْنِ مَسْعُودٍ: حَقُّ تُقَاتِهِ أَنْ يُطَاعَ فَلَا يُعْصَى وَأَنْ يُشْكَرَ فَلَا يُكْفَرَ وَأَنْ يُذْكَرَ فَلَا يُنْسَى قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَهَذَا لَا يَجُوزُ أَنْ يُنْسَخَ؛ لِأَنَّ النَّاسِخَ هُوَ الْمُخَالِفُ لِلْمَنْسُوخِ مِنْ جَمِيعِ جِهَاتِهِ الرَّافِعُ لَهُ الْمُزِيلُ حُكْمَهُ، وَهَذِهِ الْأَشْيَاءُ تُشْرَحُ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فِي مَوَاضِعِهَا مِنَ السُّوَرِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
লাইস ইবনে সাদ ইউনুস থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-হারিস ইবনে হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় সূরা আন-নাজম তিলাওয়াত করছিলেন— "নক্ষত্রের কসম যখন তা অস্তমিত হয়" [আন-নাজম: ১]। যখন তিনি "তোমরা কি লাত ও উযযা সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?" [আন-নাজম: ১৯] আয়াতে পৌঁছালেন, তখন বললেন: "নিশ্চয়ই তাদের শাফাআত আশা করা হয়।" এরপর তিনি ভুল করলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ তখন মুশরিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল, তাঁকে সালাম দিল এবং আনন্দিত হলো। তিনি তাদের বললেন: "এটা তো শয়তানের পক্ষ থেকে ছিল।" অতঃপর আল্লাহ প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন: "আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল বা নবী পাঠাইনি, যার মনে যখন কোনো আকাঙ্ক্ষা জেগেছে, শয়তান তার সে আকাঙ্ক্ষায় কিছু নিক্ষেপ করেনি। অতঃপর শয়তান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা মিটিয়ে দেন।" [আল-হাজ্জ: ৫২]— শেষ পর্যন্ত। কাতাদাহ বলেন: তিনি পাঠ করেছিলেন, "নিশ্চয়ই তাদের শাফাআত আশা করা হয় এবং তারা অতি উচ্চমর্যাদার অধিকারী।" আবু জাফর বলেন: এই দুটি হাদীসই মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন সনদযুক্ত), আর এগুলোর ব্যাখ্যার ব্যাপারে আলোচনা কাছাকাছি। একদল লোক বলেছেন: এটি তিরস্কারস্বরূপ, অর্থাৎ তোমরা এমনটি ধারণা কর যে তোমাদের কাছে তাদের ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ শাফাআত আশা করা হয়। এর উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: "আর আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা তুমি বলছ তা এই..." [আশ-শুয়ারা: ২২]। আবার বলা হয়েছে: "তাদের শাফাআত আশা করা হয়" এটি তোমাদের বক্তব্য অনুযায়ী বলা হয়েছে। এর উদাহরণ হলো: "যখন তিনি সূর্যকে উজ্জ্বলভাবে উদিত হতে দেখলেন, বললেন: এটি আমার রব।" [আল-আনআম: ৭৮]। আর অনুরূপভাবে: "আমার শরীকরা কোথায়?" [আন-নাহল: ২৭], অর্থাৎ তোমাদের দাবি অনুযায়ী। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো উচ্চমর্যাদার অধিকারী সত্তা অর্থাৎ ফেরেশতাগণ, যাদের শাফাআত আশা করা হয়; তিনি ভুলবশত এমনটি বলেছিলেন। এই উত্তরটি আপনাকে সেদিকেই নির্দেশ করে। আরও বলা হয়েছে: মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ তো কেবল বলেছেন, "শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু নিক্ষেপ করে" [আল-হাজ্জ: ৫২], তিনি এমনটি বলেননি যে নবী তা বলেছিলেন। সুতরাং এটি সম্ভব যে কোনো জিন শয়তান এটি নিক্ষেপ করেছিল অথবা কোনো মানুষ শয়তান। এই হাদীসের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মনে যা আছে তা যদি তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, আল্লাহ তোমাদের থেকে তার হিসাব নেবেন।" [আল-বাকারাহ: ২৮৪]

⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ যা রহিত হয়েছে এই আয়াত দ্বারা: "আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের দায়িত্ব দেন না।" [আল-বাকারাহ: ২৮৬]। অথচ এতে রহিত হওয়া সম্ভব নয়; কারণ এটি একটি সংবাদ। তবে এই হাদীসের ব্যাখ্যা হলো: যখন মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: "তোমাদের মনে যা আছে তা যদি তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, আল্লাহ তোমাদের থেকে তার হিসাব নেবেন" [আল-বাকারাহ: ২৮৪], তখন তা সাহাবীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন মনে হলো এবং তাদের অন্তরে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হলো। তখন "আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের দায়িত্ব দেন না" [আল-বাকারাহ: ২৮৬] আয়াতটি অবতীর্ণ করে তা রহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের অন্তরে যা উদয় হয়েছিল তা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তা দূর করা হয়েছে। অনুরূপ একটি জটিলতা হলো মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর বাণী: "এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না..." [আল-ফুরকান: ৬৮] থেকে "আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে। কিয়ামতের দিন তার আযাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে। তবে যে তওবা করবে সে ব্যতীত।" [আল-ফুরকান: ৬৯]

⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ এরপর বলা হয়েছে যে এটি "আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে" [আন-নিসা: ৯৩] আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে। অথচ এখানেও রহিতকারী বা রহিত হওয়ার অবকাশ নেই; কারণ এটি সংবাদ। তবে এর সঠিক ব্যাখ্যা যদি সাব্যস্ত হয় তবে তা হচ্ছে এটি তার অনুলিপি হিসেবেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আয়াত দুটি এক ও অভিন্ন। এর প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহর এই বাণী: "আর নিশ্চয়ই আমি তার প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল যে তওবা করে ও ঈমান আনে।" এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো।" [আলে ইমরান: ১০২]। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন: "এটি রহিত করেছে— 'তোমরা আল্লাহকে সাধ্যানুযায়ী ভয় করো' [আত-তাগাবুন: ১৬] আয়াতটি।" অর্থাৎ এটি তার অনুলিপি হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং দুটি বিষয় একই। এর প্রমাণ হলো ইবনে মাসউদের উক্তি: যথাযথভাবে ভয় করা হলো তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর অবাধ্য না হওয়া; তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অকৃতজ্ঞ না হওয়া; এবং তাঁকে স্মরণ করা, তাঁকে ভুলে না যাওয়া। আবু জাফর বলেন: এটি রহিত হওয়া সম্ভব নয়; কারণ রহিতকারী হলো তা যা রহিতকৃতর সম্পূর্ণ বিপরীত এবং যা পূর্বের বিধানকে বাতিল ও অপসারিত করে। ইনশাআল্লাহ, সূরাগুলোর নিজ নিজ স্থানে এই বিষয়গুলো আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌بَابُ السُّوَرِ الَّتِي فِيهَا النَّاسِخُ وَالْمَنْسُوخِ
নাসিখ ও মানসূখ সম্বলিত সূরাসমূহের পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌فَأَوَّلُ ذَلِكَ السُّورَةُ الَّتِي تُذْكَرُ فِيهَا الْبَقَرَةُ
তন্মধ্যে প্রথমটি হলো সেই সূরা যাতে গাভীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৭১)
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " فَكَانَ أَوَّلُ مَا نَسَخَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ مِنَ الْقُرْآنِ الْقِبْلَةَ وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ وَكَانَ أَكْثَرُ أَهْلِهَا الْيَهُودَ أَمَرَهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ أَنْ يَسْتَقْبِلَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ فَفَرِحَتِ الْيَهُودُ بِذَلِكَ فَاسْتَقْبَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَضْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ قِبْلَةَ إِبْرَاهِيمَ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ يَدْعُو اللَّهَ جَلَّ وَعَزَّ وَيَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ} [البقرة: 144] إِلَى قَوْلِهِ جَلَّ وَعَزَّ {فَوَلُّوا وجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} [البقرة: 144] يَعْنِي نَحْوَهُ فَارْتَابَ مِنْ ذَلِكَ الْيَهُودُ وَقَالُوا: {مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا} [البقرة: 142] فَأَنْزَلَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ {قُلْ لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ} [البقرة: 142] وَقَالَ {فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ} [البقرة: 115] وَقَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ {وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعِ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ} [البقرة: 143] " قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لِيَتَمَيَّزَ أَهْلَ الْيَقِينِ مِنْ أَهْلِ الشَّكِّ وَالرِّيبَةِ " قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَهَذَا يَسْهُلُ فِي حِفْظِ نُسَخِ هَذِهِ الْآيَةِ وَنَذْكُرُ مَا فِيهَا مِنَ الْإِطَالَةِ كَمَا شَرَطْنَا

আবু জাফর বলেন: আমাদের নিকট বকর ইবন সাহল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুয়াবিয়া ইবন সালিহ আলী ইবন আবু তালহা থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মহান আল্লাহ কুরআনের যা সর্বপ্রথম মানসুখ (রহিত) করেছিলেন তা হলো কিবলা। আর তা এভাবে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় হিজরত করলেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই ছিল ইয়াহূদী, তখন মহান আল্লাহ তাকে বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করার নির্দেশ প্রদান করেন। এতে ইয়াহূদীরা আনন্দিত হলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দশ মাসের অধিক সময় সেদিকে মুখ করে সালাত আদায় করলেন। তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর কিবলা পছন্দ করতেন। তাই তিনি আল্লাহর নিকট দুআ করতেন এবং আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করতেন। অতঃপর মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখমণ্ডলের আকাশের দিকে বারবার তাকানো লক্ষ্য করছি} [সূরা বাকারা: ১৪৪] মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল সেদিকে ফিরাও} [সূরা বাকারা: ১৪৪] পর্যন্ত। অর্থাৎ কিবলার দিকে। এতে ইয়াহূদীরা সংশয়ে নিপতিত হলো এবং বলল: {তারা যে কিবলার ওপর ছিল তা হতে কিসে তাদের ফিরিয়ে দিল?} [সূরা বাকারা: ১৪২]। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই} [সূরা বাকারা: ১৪২]। তিনি আরও বলেন: {সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই আল্লাহর মুখমণ্ডল রয়েছে} [সূরা বাকারা: ১১৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আপনি ইতিপূর্বে যে কিবলার ওপর ছিলেন তা আমি কেবল এ জন্য নির্ধারণ করেছি যাতে আমি জানতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে, আর কে তার পশ্চাৎপদে ফিরে যায়} [সূরা বাকারা: ১৪৩]।" ইবন আব্বাস বলেন: "যাতে দৃঢ় বিশ্বাসীগণ সন্দেহ ও সংশয়বাদীদের থেকে পৃথক হয়ে যায়।" আবু জাফর বলেন: এই বর্ণনাটি এই আয়াতের রহিতকরণ সংক্রান্ত বিষয় স্মরণে রাখা সহজতর করে। আর আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব যেমনটি আমরা শর্ত করেছি।

(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৭১)
فَمِنْ ذَلِكَ مَا قُرِئَ عَلَى أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ ⦗ص: 72⦘ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ وَالْكَعْبَةُ بَيْنَ يَدَيْهِ وَبَعْدَمَا هَاجَرَ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا»
সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আহমদ ইবনে আমর-এর সামনে পাঠ করা হয়েছে, ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় বাইতুল মাকদিসের দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন এবং কাবা তাঁর সামনে থাকত, আর হিজরতের পর ষোল মাস পর্যন্ত (এভাবে সালাত আদায় করেছেন)»
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - আন-নাহহাস (পৃষ্ঠা: ৭২)
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَحَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ ⦗ص: 73⦘ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ وَالْكَعْبَةُ بَيْنَ يَدَيْهِ وَبَعْدَمَا هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ صُرِفَ إِلَى الْكَعْبَةِ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَفِي حَدِيثِ الْبَرَاءِ «صَلَّى سِتَّةَ عَشَرَ أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا»
আবু জাফর বলেন: জাফর ইবনে মুজাশে‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনু নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের নিকট আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন এমতাবস্থায় যে কাবা তাঁর সামনে থাকত। আর মদিনায় হিজরতের পর ষোলো মাস পর্যন্ত (সেদিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন), এরপর তাঁকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।» আবু জাফর বলেন: আর বারা-এর হাদিসে রয়েছে «তিনি ষোলো বা সতেরো মাস সালাত আদায় করেছেন।»